Tag: unsung heroes

  • Unsung Heroes: সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের ৪৫ ‘আনসাং হিরোজ’ পাচ্ছেন পদ্ম-সম্মান, চেনেন এঁদের?

    Unsung Heroes: সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের ৪৫ ‘আনসাং হিরোজ’ পাচ্ছেন পদ্ম-সম্মান, চেনেন এঁদের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চণ্ডীগড়ের রাস্তায় সাইকেল-ভ্যানে করে আবর্জনা সংগ্রহ করা বছর অষ্টাশির অবসরপ্রাপ্ত এক আইপিএস আধিকারিক, বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠাকারী এক বাস কন্ডাক্টর, ২,০০০-এরও বেশি নার্সকে প্রশিক্ষণ দেওয়া ব্যক্তি (Republic Day 2026), এশিয়ার প্রথম মানব দুগ্ধ ব্যাঙ্ক গড়ে তোলা এক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, এবং ছত্তিশগড়ের নকশাল-প্রভাবিত এলাকায় স্কুল প্রতিষ্ঠা করা বুড়রি ঠাটি—এই চারজন-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পর্দার আড়ালে থাকা সমাজের ৪৫ জন নায়ককে (Unsung Heroes) প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ‘আনসাং হিরোজ’ বিভাগে পদ্মশ্রী (Padma Awards) পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

    পরিচ্ছন্নতা অভিযান 

    অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস আধিকারিক ইন্দরজিৎ সিং সিধু (Unsung Heroes) চণ্ডীগড়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাচ্ছেন। তিনি সাইকেল-ভ্যানে করে শহরের রাস্তাঘাট থেকে নিজে হাতে আবর্জনা সংগ্রহ করেন। কর্নাটকের অঙ্কে গৌড়া পেশায় ছিলেন বাস কন্ডাক্টর। তবে বইয়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসাই ‘পুস্তকমানে’র ভিত্তি তৈরি করে। বর্তমানে এটি ভারতের অন্যতম বৃহৎ বিনামূল্যে উন্মুক্ত গ্রন্থাগার, যেখানে ২০টিরও বেশি ভাষায় ২০ লাখেরও বেশি বই রয়েছে। এই গ্রন্থাগারে দুর্লভ পাণ্ডুলিপি, সাময়িকী ও অভিধানও সংরক্ষিত রয়েছে। এই অবদানের জন্য তাঁকেও পদ্মশ্রী দেওয়া হচ্ছে। এই তালিকায় রয়েছেন বুড়রি ঠাটি (Unsung Heroes), যিনি ছত্তিশগড়ের নকশাল-প্রভাবিত দুর্গম এলাকায় স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। রাস্তা ও বিদ্যুতের অভাব এবং লাগাতার হুমকির মধ্যেও ‘বড়ি দিদি’ নামে পরিচিত ঠাটি একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে নারী ও শিশুদের জীবন বদলে দিয়েছেন (Republic Day 2026)।

    কারা পাচ্ছেন পদ্ম পুরস্কার

    মুম্বইয়ের বিশিষ্ট নবজাতক বিশেষজ্ঞ ডা. আরমিদা ফার্নান্দেজকেও পদ্মশ্রী সম্মানে (Padma Awards) ভূষিত করা হচ্ছে। এশিয়ার প্রথম মানব দুগ্ধ ব্যাঙ্ক স্থাপনকারী এই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ভারতের দরিদ্র শহুরে এলাকায় মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের উন্নতিতে আজীবন কাজ করেছেন (Unsung Heroes) । তিনি ২,০০০-এরও বেশি নার্স ও চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। ফার্নান্দেজ লোকমান্য তিলক মিউনিসিপ্যাল জেনারেল (এলটিএমজি) হাসপাতাল, সায়ন-এর নিওনাটোলজি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং অবসরপ্রাপ্ত ডিন (Padma)। এক সরকারি আধিকারিক বলেন, “এই প্রত্যেক পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিই অত্যন্ত সাধারণ পটভূমি থেকে উঠে আসা অনুপ্রেরণামূলক গল্পের নায়ক। ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি ও কঠিন পরিস্থিতি অতিক্রম করে তাঁরা শুধু নিজেদের কর্মক্ষেত্রেই কৃতিত্ব অর্জন করেননি, সমাজের বৃহত্তর স্বার্থেও কাজ করেছেন।”

    রোগনির্ণয়ের জন্য সাশ্রয়ী ‘কে-৩৯’ র‍্যাপিড টেস্ট উদ্ভাবন

    উত্তরপ্রদেশের শ্যাম সুন্দরকে (Unsung Heroes) চিকিৎসাবিজ্ঞানে যুগান্তকারী অবদানের জন্য পদ্মশ্রী দেওয়া হচ্ছে। কালাজ্বর বিষয়ে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই বিশেষজ্ঞ দ্রুত রোগনির্ণয়ের জন্য সাশ্রয়ী ‘কে-৩৯’ র‍্যাপিড টেস্ট উদ্ভাবন করেন এবং মিল্টেফোসিনের মুখে খাওয়ার চিকিৎসা পদ্ধতির পথপ্রদর্শক। এর ফলে ভারতে এই প্রাণঘাতী রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় সাফল্য এসেছে (Republic Day 2026)।এই তালিকায় রয়েছেন, তামিলনাড়ুর ডা. পুনিয়ামূর্তি নাটেসান, যিনি বৈজ্ঞানিক এথনো-ভেটেরিনারি মেডিসিনে পথিকৃৎ,  লাদাখের ডা. পদ্মা গুরমেত, প্রাচীন হিমালয়ান চিকিৎসা পদ্ধতি সোয়া-রিগপায় অসামান্য কাজের জন্য, এবং জম্মু ও কাশ্মীরের ব্রিজ লাল ভাট, তাঁর বহুমুখী সমাজসেবার জন্য। মহারাষ্ট্রের ভিখল্যা লাডাকিয়া ধিন্দাকে বিরল তারপা বাদ্যযন্ত্রের ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য পদ্মশ্রী দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশের ভগবানদাস রাইকোয়ারকে বুন্দেলখণ্ডের ঐতিহ্যবাহী বুন্দেলি ওয়ার আর্ট সংরক্ষণে আজীবন অবদানের জন্য এই সম্মানে ভূষিত করা হচ্ছে (Padma Awards)।

    পদ্ম সম্মান প্রাপকদের তালিকা

    এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, এবার কারা পাচ্ছেন ‘আনসাং হিরোজ’ (Unsung Heroes) বিভাগে পদ্ম সম্মান। সমাজকর্মে পুরস্কার পাচ্ছেন ব্রিজলাল ভাট, হ্যালি ওয়ার, ইন্দরজিৎ সিং সিধু, তেচি গুবিন, এস জি সুসিলাম্মা, নিলেশ মাণ্ডেলওয়ালা, শিল্পকলায় পাচ্ছেন, ধর্মিকলাল, কে পাজানিভেল, চিরঞ্জি লাল যাদব, ইউম্নাম যাত্রা সিং, বিশ্ববন্ধু, থিরুভারুর ভক্তবৎসলম, টাগা রাম ভীল, সিমাঞ্চল পাত্র, রাজস্তাপাথি কালিয়াপ্পা গাউন্ডার, রঘুবীর খেদকর, আর কৃষ্ণন, পোখিলা লেখথেপি, ওথুভার থিরুথানি স্বামিনাথন, নুরউদ্দিন আহমেদ, মির হাজিভাই কাসম্ভাই, খেম রাজ সুন্দরিয়াল। চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে পাচ্ছেন ডা. শ্যাম সুন্দর, ডা. পুন্নিয়ামূর্তি নাটেসান (তামিলনাড়ু), আর্মিদা ফার্নান্দেজ (মহারাষ্ট্র), ডা. কুমারস্বামী থানগরাজ (তেলঙ্গানা), ডা. পদ্মা গুরমেট (জম্মু ও কাশ্মীর), সুরেশ হানাগাভাড়ি, রামচন্দ্র গদবোলে ও সুনীতা গদবোলে। ক্রীড়াক্ষেত্রে পাচ্ছেন ভগবান দাস রায়খওয়ার, ভিকল্যা লাডাক্যা ধিন্ডা, কৃষি ও পরিবেশ ক্ষেত্রে পাচ্ছেন শিররাং দেবাবা লাড, কোল্লাকাল দেবকী আম্মা। প্রাণিসম্পদ ক্ষেত্রে পাচ্ছেন রামা রেড্ডি। এই তালিকায় রয়েছেন পশুচিকিৎসা বিজ্ঞান, জিনতত্ত্ব, দেশীয় চিকিৎসা পদ্ধতি এবং বনসৃজন ক্ষেত্রে কাজ করা বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব।

    পুরস্কারপ্রাপকদের কাজ তুলে ধরতে ভিডিও

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এই পুরস্কারপ্রাপকদের কাজ তুলে ধরতে ভিডিও প্রকাশ করতে শুরু করেছে। ওই সব ভিডিওয় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্যানিটেশন, স্থায়িত্ব, জীবিকা সৃষ্টির পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে তাঁদের দীর্ঘদিনের অবদানের কথা তুলে ধরা হয়েছে।অনেক পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রান্তিক সমাজ থেকে উঠে এসেছেন (Unsung Heroes)। এঁদের মধ্যে রয়েছেন পিছিয়ে পড়া ও দলিত সম্প্রদায়, আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দারাও (Padma Awards)। পুরস্কারপ্রাপকদের কাজের ক্ষেত্র অত্যন্ত বিস্তৃত। এর মধ্যে রয়েছেন হিমোফিলিয়ার মতো স্থানীয় স্বাস্থ্যসমস্যা মোকাবিলায় কাজ করা চিকিৎসকরা, নবজাতকদের চিকিৎসকরা, যাঁরা ভারতে প্রথম মানব দুধ ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করেন, সমাজকর্মী, যাঁরা দিব্যাঙ্গজন, নারী, শিশু, দলিত ও আদিবাসীদের নিয়ে কাজ করছেন, আদিবাসী ভাষা, দেশীয় মার্শাল আর্ট ও সীমান্ত (Republic Day 2026) রাজ্যগুলিতে জাতীয় সংহতি রক্ষায় কাজ করা কর্মীরা এবং লুপ্তপ্রায় শিল্পকলা ও বস্ত্র-ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত সম্পদ রক্ষায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা।

     

LinkedIn
Share