মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্দরে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা প্রকাশ্যে এসেছে। সেনাপ্রধান (US Army Chief) জেনারেল র্যান্ডি জর্জের পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মূলত প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের (Defence Secretary Pete Hegseth) সঙ্গে গভীর মতপার্থক্যের জেরেই তাঁকে সরে যেতে হল বলে জানা গেছে।
নীতিগত সংঘাত (US Army Chief)
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের গৃহীত বেশ কিছু সামরিক সংস্কার এবং নীতির সঙ্গে একমত হতে পারছিলেন না জেনারেল র্যান্ডি জর্জ (US Army Chief)। বিশেষ করে বাহিনীর আধুনিকীকরণ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তনের বিষয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঠান্ডা লড়াই চলছিল।
নেতৃত্বের ধরণ নিয়ে বিতর্ক
ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে প্রতিরক্ষা সচিব হিসেবে হেগসেথের কাজের ধরণ এবং সামরিক কর্মকর্তাদের প্রতি তাঁর কঠোর অবস্থান সেনাপ্রধানের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছিল (Defence Secretary Pete Hegseth)। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের রদবদল নিয়ে দুজনের মধ্যে চূড়ান্ত মতবিরোধ (US Army Chief) তৈরি হয়।
প্রায় চার দশকের সামরিক জীবনে জর্জ ইরাক ও আফগানিস্তানে একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেছেন। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর তথ্য অনুসারে, আফগানিস্তানে তিনি দুর্গম উপত্যকাগুলো থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের তত্ত্বাবধান করেছেন। মার্কিন বাহিনী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা
জেনারেল জর্জের (US Army Chief) এই আকস্মিক বিদায় মার্কিন সেনাবাহিনীর চেন অফ কমান্ডের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে সেনাপ্রধানের এই প্রস্থানকে অনেকেই ‘বিপজ্জনক’ বলে মনে করছেন।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে জানা গিয়েছে, হেগসেথ এবং জর্জের মধ্যকার উত্তেজনার কারণ সেনাবাহিনীর দিকনির্দেশনা নিয়ে কোনও মৌলিক মতবিরোধ ছিল না। বরং, সামরিক কর্মকর্তারা বলেছেন, এই বিরোধের মূল কারণ ছিল সেনাবাহিনীর প্রতি হেগসেথের দীর্ঘদিনের অসন্তোষ, কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধ এবং মার্কিন সেনা সচিব ড্যানিয়েল পি ড্রিসকলের সাথে তার তিক্ত সম্পর্ক।
রাজনৈতিক প্রভাব
সমালোচকদের একাংশের মতে, পেন্টাগনের প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর যে চেষ্টা চলছে, এই পদত্যাগ তারই একটি বড় প্রতিফলন। জেনারেল র্যান্ডি জর্জের পদত্যাগ কেবল একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিদায় নয়, বরং এটি মার্কিন সামরিক নেতৃত্বের অভ্যন্তরে বাড়তে থাকা ফাটলের বহিঃপ্রকাশ। হোয়াইট হাউস এখন এই শূন্যস্থান পূরণে কাকে বেছে নেয় এবং হেগসেথের সাথে নতুন সেনাপ্রধানের রসায়ন কেমন হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সারা বিশ্ব।
