Tag: US immigration

  • H-1B Visa: ‘এটা কর, জরিমানা নয়’! ট্রাম্পের ১ লক্ষ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি উড়িয়ে দিল মার্কিন আদালত

    H-1B Visa: ‘এটা কর, জরিমানা নয়’! ট্রাম্পের ১ লক্ষ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি উড়িয়ে দিল মার্কিন আদালত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত নতুন এইচ-১বি (H-1B) ভিসা ফি বড় ধাক্কা খেল আদালতে। সোমবার ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্পের ঘোষিত ১ লক্ষ ডলারের (প্রায় ৮৬ লক্ষ টাকা) অতিরিক্ত এইচ-১বি ভিসা ফি বাতিল করে দিয়েছে। আদালতের মতে, এই ফি কার্যত একটি ‘কর’ (Tax), যা আরোপ করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই এবং এর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনও নেওয়া হয়নি। এই রায়কে মার্কিন প্রযুক্তি শিল্প, স্বাস্থ্য পরিষেবা খাত এবং বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিদ্ধান্তটি ভারতীয় আইটি পেশাজীবীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এইচ-১বি ভিসার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের মধ্যে ভারতীয়রাই অন্যতম।

    কী ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত?

    গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ঘোষণার মাধ্যমে নতুন এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য ১ লক্ষ ডলারের অতিরিক্ত ফি আরোপ করেন। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, দীর্ঘদিন ধরে এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার হয়েছে এবং এই উচ্চ ফি বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রবণতা কমাতে সাহায্য করবে। সাধারণত এইচ-১বি ভিসার জন্য নিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে বিভিন্ন খাতে মোট ২,০০০ থেকে ৫,০০০ ডলারের মধ্যে ফি দিতে হতো। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই খরচ এক লাফে কয়েকগুণ বেড়ে যেত।

    আদালত কী বলেছে?

    ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল বিচারক লিও সোরোকিন রায়ে বলেন, প্রশাসন এই অর্থকে ‘জরিমানা’ (Penalty) হিসেবে উল্লেখ করলেও বাস্তবে এটি একটি কর (Tax)। বিচারকের পর্যবেক্ষণ, “এই ১ লক্ষ ডলারের অর্থপ্রদানের প্রকৃতি ও প্রয়োগ বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে এটি একটি কর, নাম যাই দেওয়া হোক না কেন।” তিনি আরও বলেন, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী নতুন কর আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে এমন আর্থিক বোঝা চাপাতে পারেন না, যদি না কংগ্রেস সেই ক্ষমতা প্রদান করে।

    কারা মামলা করেছিল?

    ক্যালিফোর্নিয়া-সহ মোট ২০টি ডেমোক্র্যাট-শাসিত রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এই নীতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। তাদের যুক্তি ছিল, এই বিপুল ফি আমেরিকার অর্থনীতি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, প্রযুক্তি শিল্প এবং গবেষণা ক্ষেত্রের জন্য ক্ষতিকর হবে। বহু সংস্থা বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ থেকে সরে আসতে বাধ্য হবে, যার ফলে শ্রমিক সংকট আরও তীব্র হবে।

    এইচ-১বি ভিসার উপর কী প্রভাব পড়েছিল?

    আদালতে জমা পড়া নথি অনুযায়ী, নতুন ফি কার্যকর হওয়ার পর এইচ-১বি (H-1B) ভিসার আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৮৫টি ক্ষেত্রে ১ লক্ষ ডলারের ফি জমা পড়েছিল। এটি দেখায় যে বিপুল ব্যয়বহুল এই নীতি নিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে আবেদন করা থেকে নিরুৎসাহিত করেছিল।

    রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় শিবিরের সমর্থন

    রায়ের পর শুধু ডেমোক্র্যাটরাই নয়, কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান ডন বেয়ার বলেন, এই ফি চালু থাকলে এমন অনেক হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র মারাত্মক সমস্যায় পড়ত, যারা ইতিমধ্যেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতির মুখোমুখি। অন্যদিকে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মাইক ললারও আদালতের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে স্বাস্থ্যক্ষেত্রের কর্মীদের এই ফি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি দ্বিদলীয় উদ্যোগে আইন প্রস্তাব করেছিলেন।

    রাজ্যগুলির প্রতিক্রিয়া

    ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা বলেন, এই নীতি আমেরিকার দক্ষ কর্মী আকর্ষণের ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছিল। তার বক্তব্য, “এই কর ছিল আমেরিকার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মক্ষেত্রের চাহিদা পূরণে সহায়তা করা উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন প্রতিভাদের আকর্ষণ ও ধরে রাখার ক্ষমতার বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত।”

    হোয়াইট হাউসের অবস্থান

    আদালতের রায়ে ট্রাম্প প্রশাসন সন্তুষ্ট নয়। হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে তারা উচ্চতর আদালতে এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করবে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স বলেন, “এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার কয়েক দশক ধরে চলেছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশেষে সেই সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।” প্রশাসনের দাবি, বিদেশি কর্মীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রেসিডেন্টকে পর্যাপ্ত ক্ষমতা দেয় এবং সেই ক্ষমতার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

    ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    এইচ-১বি ভিসার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী দেশগুলির মধ্যে ভারত শীর্ষে। প্রতি বছর হাজার হাজার ভারতীয় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, চিকিৎসক এবং অন্যান্য দক্ষ পেশাজীবী এই ভিসার মাধ্যমে আমেরিকায় কাজের সুযোগ পান। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১ লক্ষ ডলারের অতিরিক্ত ফি বহাল থাকলে ভারতীয় আইটি সংস্থা এবং মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগ অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠত। আদালতের এই রায় সেই আশঙ্কা আপাতত দূর করেছে।

    এইচ-১বি ভিসা কী?

    এইচ-১বি (H-1B) হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা, যা উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য বরাদ্দ।

    প্রতি বছর—

    • ● ৬৫,০০০টি সাধারণ এইচ-১বি ভিসা দেওয়া হয়।
    • ● অতিরিক্ত ২০,০০০টি ভিসা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে।
    • ● সাধারণত এই ভিসার মেয়াদ ৩ থেকে ৬ বছর পর্যন্ত হয়।
    • ● প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল, গবেষণা এবং আর্থিক পরিষেবা খাতে এই ভিসার চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

    ভবিষ্যতে কী হতে পারে?

    আদালতের এই রায় আপাতত ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে বড় বাধা তৈরি করলেও আইনি লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না। হোয়াইট হাউস আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে বিষয়টি ভবিষ্যতে ফেডারেল আপিল আদালত বা প্রয়োজনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে। তবে আপাতত আদালতের সিদ্ধান্ত বিদেশি দক্ষ কর্মী, মার্কিন নিয়োগকারী সংস্থা এবং বিশেষ করে ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • Indian In America: ট্রাম্পের অভিবাসী কল্যাণ তালিকায় রয়েছে পাকিস্তান, চিন! জানেন কেন নেই ভারত?

    Indian In America: ট্রাম্পের অভিবাসী কল্যাণ তালিকায় রয়েছে পাকিস্তান, চিন! জানেন কেন নেই ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকায় থাকা অভিবাসীরা কতটা সরকারি সাহায্য পান, তার খতিয়ান তুলে ধরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে ওই অভিবাসীদের দেশের নামও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ১২০টি দেশের তালিকায় পাকিস্তান, বাংলাদেশ, চিন, নেপাল, ভুটানের নাম থাকলেও নেই ভারতের নাম। চার্টটির শিরোনাম ছিল ‘Immigrant welfare recipient rates by country of origin’। এতে দেশভিত্তিকভাবে দেখানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশের কত শতাংশ অভিবাসী পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে কোনো না কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা গ্রহণ করে।

    কারা কত সহায়তা

    কর্মসূত্রে বা অন্য কারণে বিভিন্ন দেশের মানুষ দীর্ঘ সময় বা পাকাপাকি ভাবে আমেরিকায় থাকেন। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মানলে তবেই তাঁরা নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন। না-হলে অভিবাসী হিসাবে থাকতে হয় তাঁদের। আমেরিকায় বসবাসকারী অভিবাসীদের জন্য সরকারি কোষাগার থেকে কিছু অর্থ খরচ করা হয়। এই অর্থ তাঁদের সামগ্রিক উন্নয়নে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন দেশের কতগুলি অভিবাসী পরিবার সরকারি সুবিধা পেয়েছে, তালিকায় তার উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারতের প্রতিবেশী দেশ নেপাল। সে দেশের ৮১.৪ শতাংশ অভিবাসী পরিবার আমেরিকার সরকারি সাহায্য পেয়েছে। তার পর যথাক্রমে রয়েছে ইয়েমেন (৭৫.২), সোমালিয়া (৭১.৯)। তালিকায় রয়েছে আফগানিস্তান (৬৮.১), বাংলাদেশ (৫৪.৮), পাকিস্তান (৪০.২), চিন (৩২.৯) শতাংশ। কিন্তু কোথাও নেই ভারতের নাম।

    কেন নেই ভারত?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উচ্চ আয় ও তুলনামূলক কম ওয়েলফেয়ার নির্ভরতা। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় আমেরিকানরা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি আয়কারী জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অন্যতম। ফলে তাদের মধ্যে সরকারি সহায়তা নেওয়ার হার তুলনামূলকভাবে কম। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় আমেরিকানদের মধ্যম পারিবারিক আয় যুক্তরাষ্ট্রের গড় আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। এই কারণেই উচ্চ সহায়তা গ্রহণকারী দেশগুলোর তালিকায় ভারতের নাম উঠে আসেনি। আমেরিকায় সরকারি সাহায্য তাঁরাই পান, যাঁদের রোজগার কম। তাই সকল অভিবাসী পরিবারকে সরকারি সাহায্য করা হয় না। আমেরিকায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের সংখ্যার বিচারে ভারতের স্থান দ্বিতীয়। আবার রিপোর্ট বলছে, ভারতীয় অভিবাসীরাই আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি রোজগার করে থাকেন। সে দিক দিয়ে দেখলে তাঁদের সরকারি সাহায্য না পেলেও চলে।

    যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় আমেরিকানদের চিত্র

    ২০২৩ সালের মার্কিন সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫২ লক্ষ মানুষ নিজেদের ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এরা যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম এশীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী, যা মোট এশীয় জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ। এই শ্রেণিতে ভারতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূতরাও অন্তর্ভুক্ত।

    আয়ের পরিসংখ্যান কী বলছে?

    ২০২৩ সালে ভারতীয় পরিবারপ্রধানদের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ১,৫১,২০০ ডলার। সব এশীয় পরিবারপ্রধানের ক্ষেত্রে এই আয় ছিল ১,০৫,৬০০ ডলার। ভারতীয় অভিবাসী পরিবারপ্রধানদের মধ্যম আয় ছিল ১,৫৬,০০০ ডলার, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ভারতীয় পরিবারপ্রধানদের আয় ছিল ১,২০,২০০ ডলার। ব্যক্তিগত আয়ের ক্ষেত্রেও ভারতীয়রা এগিয়ে। ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী ভারতীয় আমেরিকানদের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ৮৫,৩০০ ডলার। সব এশীয় গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই আয় ছিল ৫২,৪০০ ডলার। পূর্ণকালীন কর্মীদের মধ্যে ভারতীয়দের মধ্যম আয় ১,০৬,৪০০ ডলার, যেখানে এশীয়দের সামগ্রিক গড় ৭৫,০০০ ডলার।

    শিক্ষার প্রভাব

    উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতাও ভারতীয় আমেরিকানদের সাফল্যের অন্যতম কারণ। ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ভারতীয় আমেরিকানদের ৭৭ শতাংশের স্নাতক বা তার ঊর্ধ্বতন ডিগ্রি রয়েছে। এর মধ্যে ৩১ শতাংশের স্নাতক এবং ৪৫ শতাংশের স্নাতকোত্তর বা তার বেশি ডিগ্রি আছে। সব এশীয় গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই হার ৫৬ শতাংশ। অভিবাসী ও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া—উভয় শ্রেণির ভারতীয়দের মধ্যেই উচ্চশিক্ষার হার প্রায় সমান।

    দারিদ্র্য ও গৃহস্বত্ব

    দারিদ্র্যের হার কম হওয়াও ভারতের অনুপস্থিতির আরেকটি কারণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয়দের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন। সব এশীয় গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই হার ১০ শতাংশ। অভিবাসী ও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া—উভয় ক্ষেত্রেই ভারতীয়দের দারিদ্র্যের হার একই, ৬ শতাংশ। বাড়ির মালিকানার ক্ষেত্রেও ভারতীয়রা এশীয় গড়ের কাছাকাছি। ভারতীয় পরিবারপ্রধানদের ৬২ শতাংশ নিজস্ব বাড়ির মালিক। অভিবাসী ভারতীয়দের মধ্যে এই হার ৬৩ শতাংশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ভারতীয়দের মধ্যে ৫৪ শতাংশ।

    ভারতীয়দের দাপট

    দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় এসেই অভিবাসন নীতি কঠোর করার বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। অভিবাসীদের জন্য সরকারি ব্যয়বরাদ্দ কাটছাঁট করার কথাও বলেছেন। এই আবহে তাঁর এই তালিকা প্রকাশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় ভারতের নাম সেই তালিকায় না-থাকা। তবে, বিশেষজ্ঞদের মতে এর পিছনে রয়েছে মার্কিন মুলুকে ভারতীয়দের দাপট। উচ্চ আয়, উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কম দারিদ্র্যের হার—এই তিনটি প্রধান কারণের সম্মিলিত প্রভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা ওয়েলফেয়ার বা সরকারি সহায়তার ওপর তুলনামূলকভাবে কম নির্ভরশীল। সেই কারণেই ট্রাম্প প্রকাশিত অভিবাসী কল্যাণ তালিকায় ভারত জায়গা পায়নি।

     

     

     

  • Illegal Indian Immigrants: ২০১৬ থেকে অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীদের সংখ্যা কমছে আমেরিকায়, বলছে সমীক্ষা

    Illegal Indian Immigrants: ২০১৬ থেকে অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীদের সংখ্যা কমছে আমেরিকায়, বলছে সমীক্ষা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয়বারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে ফেরার পর থেকেই ‘অবৈধ অভিবাসন’ (Illegal Indian Immigrants) এবং অনুপ্রবেশের মতো ইস্যু নিয়ে রণংদেহী মূর্তি ধারণ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আবহে ক’দিন আগেই কলম্বিয়া সহ বেশ কিছু দেশে ‘অবৈধ অভিবাসীদের’ ফিরিয়ে দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। আমেরিকায় বসবাসকারী অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। এই নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ‘ভারত সঠিক কাজ করবে।’ ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১৮,০০০ ভারতীয় নাগরিককে চিহ্নিত করেছে যারা অবৈধভাবে মার্কিন মুলুকে প্রবেশ করেছে।

    কী ভাবছে ভারত?

    অবৈধভাবে বাস (Illegal Indian Immigrants) করা বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প সরকার। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও এই নিয়ে কথা বলেছেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। এই আবহে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছিল, কোনও ভারতীয় নাগরিক যদি অবৈধ ভাবে আমেরিকায় বসবাস করে থাকে তাহলে তাদের ফেরত নিতে কোনও আপত্তি নেই ভারতের। প্রধানমন্ত্রী মোদিও বলেন যে, ভারত অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের ফিরিয়ে নেবে এবং “মানব পাচারের ইকোসিস্টেম”-কে আটকাতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। মোদি জানান, যে ভারতীয়রা অবৈধভাবে মার্কিন মুলুকে রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই সাধারণ পরিবারের সন্তান, যারা বড় স্বপ্ন ও প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে প্রলুব্ধ হয়ে সাত-সমুদ্র পাড়ে ছুটে আসে। এ প্রসঙ্গেই সম্প্রতি জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির অ্যাবি বুদিমান এবং দেবেশ কাপুরের একটি নতুন গবেষণাপত্র অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীদের সংখ্যা, গণনা, প্রবেশের পদ্ধতি, অবস্থান এবং প্রবণতার উপর আলোকপাত করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীর সংখ্যা

    অবৈধ অভিবাসীরা (Illegal Indian Immigrants) যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার ৩ শতাংশ এবং বিদেশি জনগণের মধ্যে ২২ শতাংশ। তবে, অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীদের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন অনুমান রয়েছে, কারণ গণনার পদ্ধতি ভিন্ন। পিউ রিসার্চ সেন্টার এবং নিউ ইয়র্কের সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ (CMS) ২০২২ সালে প্রায় ৭,০০,০০০ ভারতীয়ের কথা বলেছিল। মেক্সিকো এবং এল সালভাদরের পর ভারত থেকেই বেশি অবৈধ অভিবাসী রয়ছে আমেরিকায়। অন্যদিকে, মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট (MPI) ৩,৭৫,০০০ জনের সংখ্যা অনুমান করেছে। এদের হিসেব অনুযায়ী, আমেরিকায় অবৈধ অভিবাসীর ক্ষেত্রে ভারতের স্থান পঞ্চমে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (DHS) সরকারি তথ্য এক ভিন্ন চিত্র দেখায়। তাদের হিসেব অনুযায়ী, ২০২২ সালে অবৈধ ভারতীয়দের সংখ্যা ২,২০,০০০ বলে জানিয়েছে।

    অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীর সংখ্যা কমেছে

    ভারতীয় অভিবাসীরা (Illegal Indian Immigrants) মোট অবৈধ অভিবাসী জনসংখ্যার একটি ছোট অংশ গঠন করে। পিউ এবং সিএমএস এর অনুমান যদি সঠিক হয়, তবে প্রায় এক চতুর্থাংশ ভারতীয় অভিবাসী অবৈধভাবে বসবাস করছে, যা অভিবাসন প্রবণতার সঙ্গে মেলে না। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ২০২২ সালে রিপোর্ট করেছে যে, ২০১৬ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত অবৈধ ভারতীয়দের সংখ্যা ৬০ শতাংশ কমে গিয়েছে। এটি ৫,৬০,০০০ থেকে ২,২০,০০০-তে নেমে এসেছে। তবে, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে ভারতীয়দের সংখ্যা বেড়েছে, যার মানে হতে পারে যে প্রকৃত সংখ্যা বর্তমানে আরও বেশি।

    অবৈধ ভারতীয়রা কোথায় বসবাস করছে

    গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভারতীয় অভিবাসীদের (Illegal Indian Immigrants) সবচেয়ে বড় জনসংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া (১,১২,০০০), টেক্সাস (৬১,০০০), নিউ জার্সি (৫৫,০০০), নিউ ইয়র্ক (৪৩,০০০) এবং ইলিনয় (৩১,০০০)-তে বাস করে। এ রাজ্যগুলির পাশাপাশি, ওহাইও, মিশিগান, নিউ জার্সি এবং পেনসিলভানিয়াতে ভারতীয়দের অবৈধ অভিবাসীদের উল্লেখযোগ্য অংশ বাস করছে। দেখা গিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা মেনে, যারা সীমান্তে আটক হয় এবং দেশে ফিরলে শাস্তি পাওয়ার শঙ্কা থাকে, তারা আমেরিকায় গিয়ে শরণার্থী হতে পারে।

    শরণার্থীর সংখ্যা 

    ২০০১ সাল থেকে পাঞ্জাবি ভাষায় কথা বলা বহু ভারতীয়রা শরণার্থী হিসেবে আবেদন করেছে। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতীয় শরণার্থীর সংখ্যা দশগুণ বেড়েছে। সংখ্যায় ৫,০০০ থেকে ৫১,০০০-এর উপরে পৌঁছেছে। সম্প্রতি আবার নিউ ইয়র্ক এবং নিউ জার্সির একাধিক গুরুদ্বারে অভিযান চালিয়েছিল মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট। অবৈধভাবে মার্কিন মুলুকে বসবাস করা শিখ সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছিল। উল্লেখ্য, এর আগে নিয়ম ছিল, অবৈধ অভিবাসী ধরতে কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো যাবে না। তবে ক্ষমতায় আসার পরে আমেরিকার সেই নিয়মকে বাতিল করেন ট্রাম্প। এই আবহে অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীদের ধরতে মার্কিন মুলুকের গুরুদ্বারে অভিযান চালানো হয়।

    ভারতীয়রা কেন অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন

    বিদেশে সফল হওয়ার আশা নিয়ে বহু ভারতীয় আমেরিকায় পাড়ি দিয়েছে। ভারতীয়দের অবৈধ অভিবাসন মূলত “সম্পত্তি-সম্পন্ন” শ্রেণির লোকদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যারা এ ধরনের দীর্ঘ ও বিপজ্জনক যাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতা রাখেন। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৬,০০০ ভারতীয়কে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

LinkedIn
Share