Tag: us iran

  • Strait of Hormuz: আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি! হরমুজ প্রণালী খুলল ইরান, শান্তির দিকে নিয়ে যায় এমন প্রতিটি পদক্ষেপকে স্বাগত জানাল ভারত

    Strait of Hormuz: আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি! হরমুজ প্রণালী খুলল ইরান, শান্তির দিকে নিয়ে যায় এমন প্রতিটি পদক্ষেপকে স্বাগত জানাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) খুলে দিল ইরান। বৃহস্পতিবার ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে দশদিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তারপরই শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত নেয় ইরান। তবে, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তেহরানের ওপর সবরকম নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখা হবে বলে জানিয়েছন ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। শান্তির পথে এগিয়ে নিয়ে যায় এমন প্রতিটি পদক্ষেপকেই তারা স্বাগত বার্তা নয়াদিল্লির।

    ইরানের ঘোষণা

    শুক্রবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (Abbas Araghchi) বলেন, “লেবাননে যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালী সকল বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা করা হল। যা ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থা কর্তৃক পূর্ব ঘোষিত পথ ধরেই চালিত হবে।” এর ফলে সব বাণিজ্যিক জাহাজ এখন আবার স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে। লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত জানায় তেহরান। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের জেরে মাসাধিক কাল যাবৎ অবরুদ্ধ ছিল হরমুজ প্রণালী। জ্বালানি সংকটে ভুগেছে গোটা পৃথিবী। তবে ‘বন্ধু’ ভারতকে আলাদা ‘ছাড়পত্র’ দিয়েছে তেহরান। এখনও পর্যন্ত ভারতের পতাকাবাহী মোট ৮টি জাহাজ হরমুজ পেরিয়েছে।

    ট্রাম্পের বার্তা

    ইরানের এই ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সোশ্যাল মিডিয়ায় তেহরানকে ধন্যবাদ জানান। ট্রাম্প তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখে জানান,“ইরান এই মুহূর্তে ঘোষণা করল যে, হরমুজ় প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে। এবার জাহাজ পারাপার করতে পারবে। ধন্যবাদ।” তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ আপাতত বহাল থাকবে। ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হলেও ইরানের ক্ষেত্রে মার্কিন নৌ অবরোধ “পূর্ণ শক্তিতে” চালু থাকবে, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান চুক্তি সম্পূর্ণ হয়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মার্কিন অবরোধ জারি থাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এখনও সময় লাগতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

    ইরানের হুঁশিয়ারি

    ট্রাম্পের এই শর্ত শুনেই ক্ষুব্ধ ইরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হরমুজ তাঁরা ফের বন্ধ করে দিতে পারেন। কালিবাফ সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘মার্কিন অবরোধ চললে হরমুজ প্রণালীও খোলা হবে না।’’ শান্তির আলোচনা নিয়ে ট্রাম্প একের পর এক ভুয়ো দাবি করে চলেছেন বলেও অভিযোগ করেন কালিবাফ। অন্য দিকে, ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হয়েছে বটে, কিন্তু সেখান দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলিকে তাদের সঙ্গে আলোচনা এবং সহযোগিতা করতে হবে। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও জানিয়েছে, ‘শত্রু দেশের’ রণতরী বা অন্য কোনও জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। তাদের জন্য জলপথ বন্ধই রাখা হয়েছে।

    শান্তির পথে সকলকে স্বাগত ভারতের

    যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বিশ্বে বারবারই শান্তির পক্ষে সওয়াল করেছে ভারত। এবারও একই পথে হাঁটল নয়াদিল্লি। শুক্রবার সাপ্তাহিক সংবাদিক সম্মেলনে বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানাই। শান্তির পথে প্রতিটি পদক্ষেপকে আমরা স্বাগত জানাই।” হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করার জন্য ইজরায়েলের অনুরোধ এবং হামাসকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে ভারতের নীতি সম্পর্কে একটি প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “আমাদের একটি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়ার অধীনেই এই বিষয়গুলো সমাধান করা হয়।” উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের মাঝেই ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে শান্তি বৈঠকের ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৩৪ বছর পর হতে চলেছে দু’দেশের ঐতিহাসিক এই বৈঠক। তার আগেই ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। এই পদক্ষেপকে শান্তি প্রক্রিয়ায় প্রথম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। যদিও এই সংঘাতে সরাসরি জড়িত ইজরায়েল বা হেজবোল্লার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও বিবৃতি আসেনি।

    জ্বালানি সংকট রুখতে সাহায্য ভারতের

    জ্বালানি সংকট নিয়ে এদিন দিল্লির তরফে বলা হয়, ভারত তার প্রতিবেশী দেশগুলোর অনুরোধ অনুযায়ী তাদের জ্বালানির চাহিদা মেটাতেও সহায়তা প্রদান করছে। রণধীর বলেন, “আমাদের বেশ কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে জ্বালানি সম্পদ সরবরাহের অনুরোধ এসেছে। আমরা ইতোমধ্যেই অনেক দেশকে জ্বালানি সম্পদ সরবরাহ করছি। তবে, এটি আমাদের নিজেদের প্রয়োজন এবং এখানে আমাদের সম্পদের প্রাপ্যতা মাথায় রেখেই করা হচ্ছে।” জয়সওয়াল জানান, “আমরা মার্চ মাসে বাংলাদেশকে ২২,০০০ মেট্রিক টন হাই-স্পিড ডিজেল সরবরাহ করেছি। শ্রীলঙ্কার বিষয়ে বলতে গেলে, আমরা গত মাসে তাদের কাছে ৩৮,০০০ মেট্রিক টন পেট্রোলিয়াম পণ্য পাঠিয়েছি। এক সপ্তাহ আগে আমাদের বিদেশমন্ত্রী মরিশাস সফর করেছেন। সে সময় এই বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং আমরা বর্তমানে মরিশাসের জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি, তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি সরকারি-পর্যায়ের চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছি।” বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, নেপাল ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন এবং নেপালের মধ্যে। এই চুক্তিগুলোর অধীনে নেপালকে পেট্রোলিয়াম পণ্য তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। জয়সওয়াল বলেন, “প্রতিবেশী প্রথম নীতিকে প্রাধান্য দিয়ে একইভাবে, ভুটানের সঙ্গেও আমাদের একটি বোঝাপড়া ও অংশীদারিত্ব রয়েছে। আমরা তাদের জ্বালানি পণ্যও সরবরাহ করছি।”

  • F 15 Aircraft: আমেরিকায় ভেঙে পড়া এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্য উদ্ধার জীবিত?

    F 15 Aircraft: আমেরিকায় ভেঙে পড়া এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্য উদ্ধার জীবিত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার আকাশসীমায় ভেঙে পড়া একটি এফ-১৫ (F 15 Aircraft) যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে (Missing Crew Member) অবশেষে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে ওই সদস্যের কোনও হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে তাঁকে জীবিত ফিরে পাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে সংশ্লিষ্ট মহল।

    মূল ঘটনাক্রম (F 15 Aircraft)

    কয়েকদিন আগে যান্ত্রিক ত্রুটি বা কোনও বিশেষ কারণে একটি এফ-১৫ বিমান (F 15 Aircraft) দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। দুর্ঘটনার পর বিমানের একজন ক্রু সদস্য নিখোঁজ হয়ে যান। তাঁর খোঁজে নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর বিশেষ উদ্ধারকারী দল দিনরাত অভিযান চালায়। অবশেষে সূত্রের খবর অনুযায়ী, তাঁকে একটি দুর্গম এলাকা থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

    আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে ওই অঞ্চলে দফায় দফায় বিমান হানা চালাচ্ছিল মার্কিন বায়ুসেনা। তেমনই এক অভিযানের সময় যান্ত্রিক ত্রুটি বা শত্রুপক্ষের পালটা আঘাতের ফলে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ে। তারপর থেকেই ওই বিমানের পাইলটের কোনও হদিস মিলছিল না। আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তিনি হয়তো ইরানীয় বাহিনীর হাতে বন্দি হয়েছেন অথবা দুর্ঘটনায় তাঁর প্রাণহানি হয়েছে।

    বর্তমান পরিস্থিতি ও সরকারি বয়ান

    উদ্ধার হওয়া ক্রু সদস্যকে (F 15 Aircraft) দ্রুত চিকিৎসার জন্য স্থানীয় সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর (Missing Crew Member) বা কোনও সরকারি সূত্রের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত অফিশিয়ালি কোনও কনফার্মেশন বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

    প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর জানানো হয়েছে, ওই পাইলট শারীরিকভাবে অত্যন্ত বিধ্বস্ত হলেও তাঁর প্রাণহানি ঘটেনি। বর্তমানে তিনি মার্কিন সামরিক চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এই উদ্ধার অভিযানের সাফল্যকে পেন্টাগন তাদের রণকৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখছে।

    যদিও এই বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক কড়া প্রতিক্রিয়া মেলেনি, তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা যে নতুন মাত্রা পাবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আমেরিকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিজেদের সেনা সদস্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা যে কোনও পদক্ষেপ করতে দ্বিধা করবে না।

    তদন্তের নির্দেশ

    কীভাবে ওই আধুনিক যুদ্ধবিমানটি (F15 Aircraft) ভেঙে পড়ল এবং নিখোঁজ সদস্য কীভাবে রক্ষা পেলেন, তা খতিয়ে দেখতে গড়া হয়েছে  উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। সরকারি আধিকারিকরা (Missing Crew Member) জানিয়েছেন, সমস্ত তথ্য যাচাই করার পরেই তাঁরা বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করবেন।

LinkedIn
Share