Tag: US Mercenary

  • India-Russia Relations: রাশিয়ার গোপন তথ্যে বাজিমাত! ভারতবিরোধীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া বিদেশিদের ধরতে সফল এনআইএ

    India-Russia Relations: রাশিয়ার গোপন তথ্যে বাজিমাত! ভারতবিরোধীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া বিদেশিদের ধরতে সফল এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার (India-Russia Relations) গোপন তথ্যের উপর ভিত্তি করেই মায়ানমারে ভারতবিরোধী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে এনআইএ ছয় ইউক্রেনীয় এবং একজন মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করেছে। এনআইএ (NIA Arrest Foreigners) গত তিন মাস ধরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে আসছিল। অবশেষে রাশিয়ার শেয়ার করা তথ্যের ভিত্তিতে ১৩ মার্চ দিল্লি, লখনউ এবং কলকাতা বিমানবন্দর থেকে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনা ফের ভারত-রাশিয়া দৃঢ় সম্পর্কের প্রমাণ দিল।

    রাশিয়ার দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যেই বাজিমাত

    এনআইএ সূত্রে খবর, রাশিয়ার গোয়েন্দারা এই বিদেশিদের নিয়ে গোপন তথ্য পাঠিয়েছিল ভারতকে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এই বিদেশিদের ধরে এনআইএ। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকেই ভারত হয়ে মায়ানমারে যাওয়া আসা করছে মার্কিন ভাড়াটে ম্যাথু ভ্যানডাইক। এনআইএ-র প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে প্রায় তিন মাস ধরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অভিযান চালিয়েছে এনআইএ-র দল। পরে ভারতের তিনটি শহর থেকে ধরা হয়েছিল ভ্যানডাইক, ম্যাক্সিম হোনচারুক, পেট্রো হুবরা, সুকমানোভস্কি ইভান, স্টেফানকিভ মারিয়ান, স্লিভিয়াক তারাস এবং কামিনস্কি ভিক্টরকে। মার্কিন নাগরিক ম্যাথু ভ্যানডাইককে গ্রেফতার করা হয়েছিল কলকাতা থেকে।

    ইউক্রেনের গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে যোগ অভিযুক্তদের!

    মায়ানমারে ভারতবিরোধী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার কজন আবার ইউক্রেনের গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছেন আইরিশ সাংবাদিক চেয় বাওয়েস। তিনি দাবি করেন, ধৃত মারিয়ান স্টেফানকিভ ইউক্রেনের ইন্টেলিজেন্স সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। এছাড়াও নাৎসি সংগঠন ‘রাইট সেক্টরের’ সঙ্গেও মারিয়ান যুক্ত ছিল বলে দাবি করেন বাওয়েস। এদিকে ইউক্রেনের প্রাক্তন সাংসদ ভাদিম রবিনোভিচ আবার দাবি করেছেন, এই মারিয়ান ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী ইউনিট আরাটা ভলান্টিয়ারের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়াও ‘কোলো চস্তি’ নামে একটি এনজিও-র প্রতিষ্ঠাতা এই মারিয়ান। ভারতে ধৃত ইউক্রেনিয়ানদের অধিকাংশই এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন প্রাক্তন সাংসদ রবিনোভিচ। ইউক্রেনের প্রাক্তন সাংসদ দাবি করেন, মারিয়ান এবং তার সংগঠন একটা সময় ইউক্রেনে পাইপলাইন উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।

    ভুল করে সীমান্ত পার করা যায়?

    অপরদিকে দিল্লিতে অবস্থিত ইউক্রেনিয়ান দূতাবাস দাবি করেছে, ধৃতদের যেন ছেড়ে দেওয়া হয়। এই নিয়ে ইউক্রেনের যুক্তি, জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যে এই ৬ জন যুক্ত ছিল, তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের আরও দাবি, ভারতে অনেক সংরক্ষিত এলাকা আছে যেখানে বিনা অনুমতিতে যাওয়া নিষেধ, তবে সেই সব জায়গা চিহ্নিত করা নেই। এই আবহে ‘ভুল’ করে এই ইউক্রেনিয়ানরা সংরক্ষিত জায়গায় চলে গিয়ে থাকতে পারেন। তবে এখানে প্রশ্ন উঠছে, ভুল করে সংরক্ষিত জায়গায় চলে গেলেও, আন্তর্জাতিক সীমান্তও পার করা যায় ভুলবশত? রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মামলায় ধৃতদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ-র ১৮ নং ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়া বেআইনি অনুপ্রবেশ, বেআইনি অস্ত্র রাখা এবং ড্রোন প্রশিক্ষণ দেওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।

    ভ্যানের মতো ভাড়াটে সৈন্য ভয়ঙ্কর!

    ধৃতদের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মার্কিন নাগরিক ম্যাথু ভ্যানডাইকক। ভ্যানের নামে খোলা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টটিতে তার পরিচয় ‘মিডিয়া ব্যক্তিত্ব’। ইউক্রেনে বাস করে বলে লেখা রয়েছে। সোশ্য়াল মিডিয়া পোস্টে বিভিন্ন দেশে সরকার বদলের গোপন অভিযানে যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছে সে। ভেনেজুয়েলার উল্লেখও রয়েছে। ভ্যান লেখে, ‘ভেনিজুয়েলা, বর্মা (মায়ানমার), ইরান এবং অন্য স্বৈরাচারী শাসকদের বলব, আমরা আসছি। রাশিয়া, তোমাদের উৎখাত করতেও আসছি আমরা’। কয়েক মাস আগে করা একটি পোস্টে ভ্য়ান জানায়, যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছে সে। ইলন মাস্কের ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা স্টারলিঙ্ক ব্য়বহারের উল্লেখও ছিল। ইরাকে যুদ্ধেও অংশ নেয় সে। লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় সেখানেই ছিল সে। মোটরসাইকেলে চেপে উত্তর আফ্রিকা এবং পশ্চিম এশিয়া চষে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে ভ্যানের। লিবিয়ায় বিদ্রোহী যোদ্ধাদের দলে যোগ দেয় সে। সেখানে ছ’মাস জেলও খেটেছে। ২০১১ সালে যুদ্ধ শেষ হলে, জেল পালিয়ে আমেরিকায় ফিরে যেতে সফল হয়। এর পর সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধে শুরু হলে, তথ্য়চিত্র বানানোর অজুহাতে সেখানেও পৌঁছে যায় ভ্য়ান। আইএসআইএস-এর হাতে সেখানে দুই সাংবাদিক বন্ধু জেমস ফোলি এবং স্টিভেন সটলঅফকে হারায় ভ্যান। তাতেই পরিকল্পনা বদলে ফেলে সে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করে। সনস অফ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সংগঠনও তৈরি করে ভ্য়ান, যারা ভিন্ন ভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে পরামর্শ দিত। ভ্যানডাইক দাবি করে, তার সংস্থার সঙ্গে আমেরিকার সরকারের কোনও যোগ নেই। তবে উল্লেখ্য বিষয়, সব ক্ষেত্রেই মার্কিন সরকার যেদিকে ঝুঁকে থাকে, ম্যাথু ভ্যানডাইকও সেই পক্ষের হয়েই ‘কাজ’ করে।

    ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি হামলার ছক

     এনআইএ অভিযোগ করেছে, ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি হামলার ছক কষছিল এই বিদেশিরা। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, রাশিয়ার দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যের উপর ভিত্তি করে ধৃত ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিক একটি বড় দলের অংশ, যাদের মোট সংখ্যা প্রায় ১৪। এখন বাকি অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে—তারা এখনও মিয়ানমারে আছে নাকি অন্য কোথাও পালিয়ে গেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা স্বীকার করেছে যে তারা ইউরোপ থেকে বড় পরিমাণ ড্রোন মায়ানমারে পাচার করতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করেছে এবং সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এদিকে, ভারতে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, এই তদন্তে তাদের দেশ সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং তারা চান প্রক্রিয়াটি যেন “নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ” হয়। তবে মার্কিন দূতাবাস এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

  • US Mercenary in India: কলকাতায় মার্কিন ‘জঙ্গি প্রশিক্ষক’ ধরা পড়তেই চর্চায় শেখ হাসিনার ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ সতর্কবার্তা

    US Mercenary in India: কলকাতায় মার্কিন ‘জঙ্গি প্রশিক্ষক’ ধরা পড়তেই চর্চায় শেখ হাসিনার ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ সতর্কবার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবৈধ কার্যকলাপের অভিযোগে এক মার্কিন ভাড়াটে সেনাসহ (US Mercenary in India) ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে গ্রেফতারের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) পুরনো এক সতর্কবার্তা। ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে তিনি দাবি করেছিলেন, এক “শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি” তথা এক বিদেশি শক্তি বাংলাদেশ ও মায়ানমারের কিছু অংশ নিয়ে একটি “খ্রিস্টান রাষ্ট্র” গঠনের পরিকল্পনা করছে। যার কেন্দ্র হতে পারে বঙ্গোপসাগর। তখন এই মন্তব্যকে অনেকেই রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান ঘটনাপ্রবাহ—বিশেষ করে বিদেশি যোদ্ধাদের উপস্থিতি—কিছু বিশ্লেষকের মতে সেই বক্তব্যকে নতুন করে প্রাসঙ্গিক করে তুলছে।

    বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস

    পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের পরিস্থিতি। সেই আবহে ভারতে বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস হয়েছে। আমেরিকার বাসিন্দা, এক ভাড়াটে যোদ্ধাকে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। গ্রেফতার করা হয়েছে ইউক্রেনের ছয় নাগরিককেও। মিজোরাম হয়ে মায়ানমারে ঢোকার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। মায়ানমারে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে তারা যুদ্ধের কলা-কৌশল শেখাতে, অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিতে যাচ্ছিল বলে জানা যাচ্ছে। বিগত কয়েক মাস ধরে নজরদারি চালিয়ে ওই সাতজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে বলে খবর। ধৃতদের মধ্যে আমেরিকার নাগরিক ম্যাথু অ্যারন ভ্যান ডাইক (Matthew VanDyke), ইউক্রেনের নারিক হারবা পেত্রো, স্লাইভিয়াক টারাস, ইভান সুকমানোভস্কি, স্টেফানকিভ মারিয়ান, হানচারুক মাকসিম এবং কামিনস্কি ভিক্টর বলে শনাক্ত করা গিয়েছে। ধৃতদের ডিজিটাল গতিবিধি পরখ করে দেখছে এনআইএ ধৃতদের নেটওয়র্কে অন্য সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার চেষ্টাও চলছে।

    ভ্য়ানের গ্রেফতারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

    তদন্তে নেমে বেশ কিছু অডিও রেকর্ডিং হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সেখানে বিভিন্ন দেশে বিদ্রোহী সংগঠনগুলিকে সমর্থন জোগানোর কথা স্বীকার করতে শোনা গিয়েছে আমেরিকার নাগরিক ভাড়াটে সেনা ভ্যানকে। তার দাবি, বিদেশি যোদ্ধাদের বিদ্রোহে লিপ্ত করা তার উদ্দেশ্য় নয়। বরং স্থানীয় মানুষজনকে বিদ্রোহের আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করাই লক্ষ্য তার। ভেনেজুয়েলা, মায়ানমার এবং ইরানে বিদ্রোহের আগুন জ্বালাতে ভাড়াটে সৈনিকদের আহ্বানও জানায় সে। ভ্য়ানের গ্রেফতারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উত্তর-পূর্ব ভারতে সশস্ত্র উগ্রপন্থী সংগঠনগুলির যে বাড়বাড়ন্ত, তাতে তার সংযোগ পাওয়া গিয়েছে। উগ্রপন্থীদেরও সে ড্রোনের মাধ্যমে হামলা চালানো, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে ভ্য়ানের গ্রেফতারি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। ভ্যান চরবৃত্তিতে লিপ্ত ছিল কি না, তথ্য পাচার করছিল কি না, ভারতবিরোধী, নিষিদ্ধ গোষ্ঠীগুলিকে মদত জোগাচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    হাসিনার সতর্কবার্তার যোগসূত্র

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই গ্রেফতারির সঙ্গে শেখ হাসিনার সেই সতর্কবার্তার সম্ভাব্য যোগ থাকতে পারে। তিনি দাবি করেছিলেন, তাকে ক্ষমতায় ফেরাতে সাহায্যের বিনিময়ে বাংলাদেশে একটি বিদেশি ঘাঁটি তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। হাসিনা তখন বলেছিলেন, বাংলাদেশ ভেঙে একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি আরও অভিযোগ করেছিলেন, একটি শক্তিশালী দেশ বঙ্গোপসাগরে ঘাঁটি বানাতে চায়। তিনি তা হতে দিচ্ছেন না বলেই তাঁর সরকারের সামনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁকে ভোটের আগে এই ঘাঁটি বানানোর অনুমতি দেওয়ার বদলে, সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে, অভিযোগ করেছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী। তবে, কোনও বিশেষ দেশের নাম করেননি হাসিনা।

    খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র

    হাসিনা দাবি করেন, ইন্দোনেশিয়ার ভেঙে যেমন পূর্ব তিমুর তৈরি করা হয়েছিল, সেই রকমই বাংলাদেশ ও মায়ানমারের একটা অংশ নিয়ে একটা খ্রিস্টান দেশ তৈরির চক্রান্ত চলছে। হাসিনা বলেন, “ভারত মহাসগাগরের এই শান্তিপূর্ণ জায়গাটার উপর তাদের নজর। এখানে বেস বানিয়ে তারা কোথায় হামলা করতে চায়? আমার যুদ্ধ ঘরে-বাইরে, সব জায়গায়। পূর্ব তিমুরের মত বাংলাদেশের একটি অংশ নিয়ে, তারপর চট্টগ্রাম, মায়ানমার মিলে এখানে একটা খ্রিষ্টান দেশ বানাবে। বঙ্গোপসাগরে একটা ঘাঁটি করবে।” প্রাচীনকাল থেকেই বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে ব্যবসা-বাণিজ্য চলে আসছে। শেখ হাসিনা কোনও দেশের নাম না করলেও, তাঁর ইঙ্গিত যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে, সেটা স্পষ্ট ছিল। ভ্যান-এর গ্রেফতারি তাঁর সেই কথাকে ফের আলোচনায় নিয়ে এল।

    ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    মায়ানমারের গৃহযুদ্ধ: ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মায়ানমারে চলমান সংঘর্ষে বহু আন্তর্জাতিক স্বার্থ জড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দেশ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে পক্ষ নিচ্ছে—এমন অভিযোগ নতুন নয়।

    ভারতের উত্তর-পূর্ব: উত্তর-পূর্ব ভারত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক কৌশলগত করিডর। মিজোরাম এবং সংলগ্ন অঞ্চল ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে ভারতের সংযোগস্থল, পাশাপাশি চীনের প্রভাব বলয়ের কাছাকাছি। বিদেশি যোদ্ধাদের উপস্থিতি, মায়ানমারের অস্থিরতা ভারতের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত ক্রমশ একটি সংবেদনশীল ভূরাজনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে।

    ‘প্রক্সি ওয়ার’ তত্ত্ব: বিশেষজ্ঞ মহলের র মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি একটি বৃহত্তর ‘প্রক্সি ওয়ার’-এর ইঙ্গিত হতে পারে, যেখানে বড় শক্তিগুলি সরাসরি সংঘর্ষে না গিয়ে স্থানীয় গোষ্ঠীগুলিকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করে।

    মিজোরাম হয়ে মায়ানমার—নতুন করিডর?

    মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা আগেই জানিয়েছিলেন, ইউক্রেন যুদ্ধফেরত যোদ্ধারা মিজোরাম হয়ে মায়ানমারের চিন প্রদেশে যাচ্ছে এবং বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ২০০০ বিদেশি আইজলে এলেও তাদের বেশিরভাগকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি—যা সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক শক্তিগুলি মায়ানমারের গৃহযুদ্ধ এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ঘিরে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। যদিও “খ্রিস্টান রাষ্ট্র” তৈরির অভিযোগ নিয়ে এখনো কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ মেলেনি, তবুও ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে কৌতূহল ও উদ্বেগ দুটোই বাড়ছে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে মার্কিন ভাড়াটে যোদ্ধা ম্যাথিউ ভ্যানডাইক-এর গ্রেফতারি।

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share