Tag: us politics

us politics

  • US Midterm Election: মার্কিন কংগ্রেসে ধাক্কা ট্রাম্পের! ডেমোক্র্যাটদের জয়ে ভারতের জন্য কী কী নতুন সম্ভাবনা তৈরি হল?

    US Midterm Election: মার্কিন কংগ্রেসে ধাক্কা ট্রাম্পের! ডেমোক্র্যাটদের জয়ে ভারতের জন্য কী কী নতুন সম্ভাবনা তৈরি হল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদল। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে (US Midterm Election) কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিল ডেমোক্র্যাটরা। ৪ নভেম্বর প্রকাশিত নির্বাচনের ফলাফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর রিপাবলিকান দলের কাছে বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ট্রাম্প দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এই প্রথম মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারাল রিপাবলিকানরা।

    মানুষের ক্ষোভের মুখে ট্রাম্প

    মূল্যবৃদ্ধি, অর্থনীতির অস্থিরতা, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং সরকারি স্তরে দুর্নীতির অভিযোগ—একাধিক ইস্যুতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটেছে নির্বাচনের ফলাফলে। আর এই ফলাফলের দিকে বিশেষ নজর ছিল ভারতেরও। কারণ, গত কয়েক মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি, বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি পড়েছে ভারতের রফতানি ও অর্থনীতিতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের এই জয় ভারতের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসতে পারে। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্কের সমস্ত জটিলতা যে রাতারাতি মিটে যাবে, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই।

    ট্রাম্পের ক্ষমতায় লাগাম, বাড়বে সিদ্ধান্তে বাধা?

    ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পদে থাকবেন ট্রাম্প। তবে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় তাঁর সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে বাণিজ্য ও অভিবাসন নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে বাড়তে পারে কংগ্রেসের নজরদারি। তদন্ত, শুনানি, বাজেট সংক্রান্ত ক্ষমতা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের উপর নজরদারির মাধ্যমে ট্রাম্পের বিতর্কিত নীতির রাজনৈতিক মূল্য বাড়াতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও চাপে পড়তে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    বাণিজ্য ও শুল্কনীতি: ভারতের জন্য কি মিলবে স্বস্তি?

    ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে অন্যতম বাণিজ্য। ট্রাম্পের আগ্রাসী শুল্কনীতির জেরে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে বড়সড় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একসময় ভারতীয় পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানো হয়েছিল। পরে অধিকাংশ ভারতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে সেই শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা এবং ভারতীয় কৃষিপণ্যের বাজারে মার্কিন প্রবেশাধিকার—এই দুই বিষয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই জটিলতা রয়েছে দুই দেশের মধ্যে। ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেসে এবার মার্কিন ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির উপর অতিরিক্ত শুল্কের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ফলে ভারতের উপর শুল্কের চাপ কমানোর বিষয়ে আলোচনার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ডেমোক্র্যাটরাও সব ক্ষেত্রে মুক্ত বাণিজ্যের সমর্থক নন। তাই অবিলম্বে শুল্ক প্রত্যাহারের সম্ভাবনা এখনও স্পষ্ট নয়।

    রুশ তেল আমদানি: চাপ কি কমবে ভারতের উপর?

    রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার কারণে ভারতের উপর একাধিকবার চাপ তৈরি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। রুশ তেল কেনা দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসে ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় ৪৪ শতাংশ এসেছিল রাশিয়া থেকে। ফলে রুশ তেল আমদানিকে কেন্দ্র করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কনীতির প্রভাব ভারতের অর্থনীতির উপর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয় আপাতত ভারতের উপর মার্কিন চাপ কিছুটা কমাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি সম্পর্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

    এইচওয়ান বি ভিসা: ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের জন্য আশার আলো?

    ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এইচওয়ান বি ভিসা। নির্দিষ্ট কিছু নতুন এইচওয়ান বি ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে ১ লক্ষ ডলারের অতিরিক্ত ফি আরোপের প্রস্তাব ঘিরে মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এর ফলে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ফেডারেল আদালত এই ফি কার্যকরের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS) ফি ছাড়াই জমা পড়া কিছু আবেদন অনুমোদন করতে শুরু করেছে। এবার কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় দক্ষ বিদেশি কর্মীদের উপর বিধিনিষেধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির কর্মী নিয়োগে এই নীতির প্রভাব খতিয়ে দেখা হতে পারে। ফলে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও অভিবাসন নীতির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এখনও প্রেসিডেন্টের প্রশাসনিক ক্ষমতার আওতায় রয়েছে।

    প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা: বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও আমেরিকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুব বেশি পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে দুই দেশ ১০ বছরের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কাঠামোতে সম্মত হয়েছিল। এর আওতায় কৌশলগত সহযোগিতা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদান এবং যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের বিষয়গুলি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে ভারত ও আমেরিকার অভিন্ন উদ্বেগ দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি। আমেরিকায় রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় শিবিরের মধ্যেই ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন রয়েছে। তাই কংগ্রেসে ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও এই ক্ষেত্রে বড়সড় নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

    ভারতের জন্য কৌশলগত সুবিধা, নাকি বাড়বে অনিশ্চয়তা?

    মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয় ভারতের সামনে আলোচনার নতুন দরজা খুলে দিতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সমস্ত নীতি যে বদলে যাবে, তা নয়। বাণিজ্য, বাজারে প্রবেশাধিকার, অভিবাসন এবং রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক—এই বিষয়গুলিতে দুই দেশের মতপার্থক্য থেকেই যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে ভারতের বিদেশনীতি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা করা উচিত নয়। বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিকল্প অংশীদারিত্ব বাড়ানো, দেশীয় উৎপাদন শক্তিশালী করা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির উপর জোর দিতে হবে। সব মিলিয়ে, মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয় ট্রাম্পের একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ভারতের জন্য তা আলোচনার নতুন সুযোগ তৈরি করলেও ওয়াশিংটনের ভবিষ্যৎ নীতির অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটবে না। এটাই ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল থেকে ভারতের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

  • Indian Americans: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভারতীয়-আমেরিকানদের সমর্থনে ধাক্কা রিপাবলিকানদের, সমস্যা বাড়বে ট্রাম্পের?

    Indian Americans: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভারতীয়-আমেরিকানদের সমর্থনে ধাক্কা রিপাবলিকানদের, সমস্যা বাড়বে ট্রাম্পের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভারতীয়-আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে যে সমর্থন বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল রিপাবলিকান পার্টি, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সেই অগ্রগতির বড় অংশই কার্যত হারিয়েছে (Indian Americans) দলটি। নয়া এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন আবারও বেড়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতীয়-আমেরিকান নাগরিকদের ৬২ শতাংশ আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিতে চান (US Midterms Survey)। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে রয়েছেন মাত্রই ১৯ শতাংশ।

    সোমবার প্রকাশিত এই সমীক্ষাটি করেছে কার্নেগি (Carnegie) এবং গবেষণা সংস্থা ইউগভ (YouGov)। ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে পরিচালিত ওই সমীক্ষার ফলে ফলে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন সমাজে ভারতীয়-আমেরিকানদের অবস্থান এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

    ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন বাড়ছে (Indian Americans)

    সমীক্ষা অনুযায়ী, ৬২ শতাংশ ভারতীয়-আমেরিকান নাগরিক তাঁদের নির্বাচনী এলাকার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ১৯ শতাংশ। বাকি ভোটাররা এখনও সিদ্ধান্ত নেননি অথবা ভোটদানে আগ্রহী নন।

    ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা ছিল। সেই সময় ৬২ শতাংশ ভারতীয়-আমেরিকান ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ৩০ শতাংশ জানিয়েছিলেন, তাঁরা রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে ভোট দেবেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থনের হার ছিল যথাক্রমে ৬৮ ও ২২ শতাংশ।

    এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভারতীয়-আমেরিকানদের মধ্যে যে সমর্থন রিপাবলিকান পার্টি অর্জন করেছিল, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তার উল্লেখযোগ্য অংশ হারিয়েছে দলটি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে রিপাবলিকানরা ২০২৪ সালের নির্বাচনে এই ভোটব্যাঙ্কে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে সক্ষম হলেও সাম্প্রতিক ভোটদানের প্রবণতা সেই অগ্রগতির স্থায়িত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।

    ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে অসন্তোষ

    ভারতীয়-আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে রিপাবলিকানদের সমর্থন কমার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির প্রতি অসন্তোষ।

    সমীক্ষায় বলা হয়েছে, “২০২৬ সালের গোড়ার দিকে ভারতীয়-আমেরিকানদের একটি বড় অংশ অভিবাসন নীতি, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নীতি এবং এমনকি মার্কিন-ভারত সম্পর্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। একসময় এই সম্পর্ক ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের তুলনামূলক শক্তিশালী দিকগুলির অন্যতম।”

    কার্নেগি ও ইউগভের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই সমীক্ষাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১,০০০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয়-আমেরিকান নাগরিকের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি। সমীক্ষার লেখকরা হলেন সুমিত্রা বদ্রিনাথন, দেবেশ কাপুর, অ্যানাবেল মিলার, অ্যান্ডি রবাইনা এবং মিলান বৈষ্ণব (US Midterms Survey)।

    তবে সমীক্ষার ফল বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন। আগের আইএএএস (IAAS) সমীক্ষাগুলিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটারদের পছন্দ পরিমাপ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের অক্টোবরের সমীক্ষায় মূলত কংগ্রেস নির্বাচনে ভোটদানের ইচ্ছা বা প্রবণতা যাচাই করা (Indian Americans) হয়েছে।

    রিপাবলিকান-বিরোধী মনোভাবও প্রভাব ফেলছে ভোটে

    ভারতীয়-আমেরিকানদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন বাড়লেও এর পিছনে শুধু দলের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব কাজ করছে না। রিপাবলিকান প্রার্থীর বিরোধিতাও ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষণে এই প্রবণতাকে ‘নেগেটিভ পার্টিজানশিপ’ বা বিরোধী দলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাবের ভিত্তিতে ভোটদান বলা হয়।

    সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যাঁরা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিতে চান, তাঁদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি মূলত রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন করেন না বলেই ডেমোক্র্যাটদের বেছে নিচ্ছেন। কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানানো ভোটারদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ বলেছেন, রিপাবলিকান প্রার্থীর বিরোধিতাই তাঁদের ভোট দেওয়ার প্রধান কারণ।

    সমীক্ষায় এই প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, “দলের প্রতি সমর্থন কিছুটা ফিরে আসায় ডেমোক্র্যাটরা স্বস্তি পেতে পারেন। তবে এই পুনরুদ্ধার দলের প্রতি ভোটারদের রাজনৈতিক আনুগত্য বাড়াতে পারেনি। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয়-আমেরিকানদের মধ্যে যে সমর্থন রিপাবলিকান পার্টি অর্জন করেছিল, তা কেন ভোটের বাক্সে স্থায়ী সাফল্যে পরিণত হল না, সেই বিষয়টি দলটির বিবেচনা করা উচিত।”

    কমছে রিপাবলিকান সমর্থন

    বয়স ও লিঙ্গের ভিত্তিতেও ভারতীয়-আমেরিকান (Indian Americans) ভোটারদের রাজনৈতিক পছন্দে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

    ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সি ভারতীয়-আমেরিকান পুরুষদের মধ্যে বর্তমানে রিপাবলিকান প্রার্থীর প্রতি সমর্থন মাত্র ১৬ শতাংশ। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এই বয়সি পুরুষদের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৩২ শতাংশ।

    অন্যদিকে, ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সি পুরুষদের মধ্যে রিপাবলিকানদের সমর্থন বর্তমানে ২৩ শতাংশ। ২০২৪ সালে এই বয়সি পুরুষদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৪০ শতাংশ। একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বয়স্ক ভারতীয়-আমেরিকান মহিলাদের মধ্যেও। তাঁদের মধ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীর প্রতি সমর্থন কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ শতাংশে।

    সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রতি সমর্থনের ক্ষেত্রে ভারতীয়-আমেরিকানদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন শুধু কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানরা। তাঁদের মধ্যে ৭৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা নিজেদের নির্বাচনী এলাকার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস প্রার্থীকে ভোট দেবেন। আর, মাত্র ১২ শতাংশ জানিয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থনের কথা।

    সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভারতীয়-আমেরিকান ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থানে (US Midterms Survey) উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে এই সমীক্ষা। ২০২৪ সালে রিপাবলিকানদের দিকে যে ঝোঁক তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই কমেছে। তবে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি এই প্রত্যাবর্তন কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের নির্বাচনী সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি (Indian Americans) তাঁদের আস্থার উপর।

     

  • Trump Iran War: ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা! ইরান যুদ্ধ থামাতে সেনেটে ঐতিহাসিক ভোট, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাড়ছে রিপাবলিকান অস্বস্তি

    Trump Iran War: ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা! ইরান যুদ্ধ থামাতে সেনেটে ঐতিহাসিক ভোট, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাড়ছে রিপাবলিকান অস্বস্তি

    সুশান্ত দাস

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অন্যতম বড় রাজনৈতিক ধাক্কা দিল মার্কিন সেনেট। ৫০-৪৮ ভোটে সেনেট একটি ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ (War Powers Resolution) অনুমোদন করেছে, যার লক্ষ্য কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান চালানো বন্ধ করা। ঘটনাটিকে ঐতিহাসিক বলে মনে করছেন মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ, ১৯৭৩ সালে ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম মার্কিন কংগ্রেসের নিম্ন কক্ষ— হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস (House of Representatives) বা প্রতিনিধি পরিষদ এবং উচ্চকক্ষ সেনেট— কোনও প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাব পাস করল। যদিও এই প্রস্তাব অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করতে পারবে না, তবুও এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক গুরুতর রাজনৈতিক সতর্কবার্তা বলে মনে করা হচ্ছে।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই ভোট?

    মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। কিন্তু গত কয়েক দশকে একাধিক প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন সামরিক অভিযান চালিয়েছেন সরাসরি কংগ্রেসের পূর্ণ অনুমোদন ছাড়াই। ইরানের বিরুদ্ধে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীদের দাবি, ট্রাম্প কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছেন। সেই কারণেই ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কয়েকজন রিপাবলিকান সেনেটরও এবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এই ভোট কেবল ইরান যুদ্ধ নিয়ে নয়; এটি মূলত প্রেসিডেন্ট বনাম কংগ্রেস— কার হাতে যুদ্ধ সংক্রান্ত চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকবে, সেই সাংবিধানিক প্রশ্নকেও সামনে এনে দিয়েছে।

    ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া: ‘অর্থহীন ও ভুল সময়ের সিদ্ধান্ত’

    সেনেটে ভোটাভুটির পর ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশাল-এ (Truth Social) তিনি এই প্রস্তাবকে “ভুল সময়ের এবং অর্থহীন” বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও দাবি করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ইরানকে “সাহায্য ও মানসিক সমর্থন” জোগাচ্ছে এবং রিপাবলিকান দলের কয়েকজন সদস্য তাঁর কাজকে আরও কঠিন করে তুলছেন। ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া থেকেই স্পষ্ট, তিনি এই ভোটকে কেবল প্রতীকী ঘটনা হিসেবে দেখছেন না; বরং এটিকে নিজের রাজনৈতিক কর্তৃত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচনা করছেন।

    রিপাবলিকান শিবিরেই ফাটল

    সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, চারজন রিপাবলিকান সেনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। তাঁরা হলেন— লিসা মার্কাওস্কি, সুজান কলিন্স, র‌্যান্ড পল, বিল ক্যাসিডি। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট সেনেটর জন ফেটারম্যান John Fetterman ট্রাম্পের অবস্থানকে সমর্থন করে প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিভাজন দেখিয়ে দিচ্ছে যে ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরে ক্রমশ অসন্তোষ বাড়ছে।

    যুদ্ধের খরচ নিয়ে উদ্বেগ

    ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে আরেকটি বড় সমস্যা হল যুদ্ধের বিপুল অর্থনৈতিক ব্যয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেটের আবেদন জানিয়েছেন। পেন্টাগনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই খরচ হয়েছে ১১.৩ বিলিয়ন ডলার।

    এর ফলে রিপাবলিকানদের মধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—

    • ● যুদ্ধ কতদিন চলবে?
    • ● শেষ লক্ষ্য কী?
    • ● মার্কিন করদাতাদের অর্থ কতটা ব্যয় হবে?
    • ● আর এই সংঘর্ষ কি আরেকটি “অনন্ত যুদ্ধ”-এ পরিণত হতে চলেছে?

    ট্রাম্পের নতুন ইরান চুক্তি নিয়েও ক্ষোভ

    যুদ্ধের পাশাপাশি ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নতুন ইরান চুক্তিও বিতর্কের কেন্দ্রে।খবরে বলা হয়েছে, চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের পুনর্গঠনের জন্য প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল নিয়ে আলোচনা চলছে। রিপাবলিকান দলের রক্ষণশীল ও কট্টরপন্থী অংশের মতে, যুদ্ধ করে আবার ইরানকে অর্থ সাহায্য দেওয়ার যুক্তি ভোটারদের কাছে ব্যাখ্যা করা কঠিন হবে।

    ফলে ট্রাম্প এখন দুই দিক থেকেই চাপের মুখে—

    • ● যুদ্ধপন্থীরা চুক্তি নিয়ে অসন্তুষ্ট।
    • ● যুদ্ধবিরোধীরা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অসন্তুষ্ট।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জন্য কতটা বিপজ্জনক?

    রাজনৈতিকভাবে এটাই সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন (Midterm Elections) যত এগিয়ে আসছে, ততই রিপাবলিকান প্রার্থীরা নিজেদের আসন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন। ইতিহাস বলছে, দীর্ঘস্থায়ী বিদেশি যুদ্ধ প্রায়শই ক্ষমতাসীন দলের জন্য রাজনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

    ১. স্বাধীন ভোটারদের দূরে সরিয়ে দিতে পারে

    মার্কিন নির্বাচনে ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ বা নির্দলীয় ভোটারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি তাঁদের মধ্যে এই ধারণা তৈরি হয় যে ট্রাম্প কংগ্রেসকে উপেক্ষা করে দেশকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে ফেলেছেন, তাহলে বহু সুইং স্টেটে রিপাবলিকান প্রার্থীরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

    ২. ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সংঘর্ষ

    ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্থানের অন্যতম ভিত্তি ছিল ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি। তিনি বহুবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে আমেরিকাকে আর বিদেশি যুদ্ধের জালে জড়াবেন না। কিন্তু ইরান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিরোধীরা সহজেই প্রশ্ন তুলতে পারবে— “যে নেতা অন্তহীন যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনিই কি নতুন যুদ্ধ শুরু করলেন?” এই প্রশ্ন রিপাবলিকান ভোটব্যাঙ্কের একটি অংশকে বিচলিত করতে পারে।

    ৩. রিপাবলিকান ঘাঁটিতেই বিভাজন

    র‌্যান্ড পলের মতো নেতারা প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন সামনে এসেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই বিভাজন যদি আরও বাড়ে, তাহলে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

    ৪. যুদ্ধের ব্যয় বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে

    মুদ্রাস্ফীতি, ঋণ এবং বাজেট ঘাটতির মতো অর্থনৈতিক ইস্যুগুলি ইতিমধ্যেই ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তার মধ্যে আরও ৮০ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধ ব্যয় অনুমোদনের প্রশ্ন উঠলে ডেমোক্র্যাটরা এটিকে বড় নির্বাচনী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

    কংগ্রেস কি সত্যিই ট্রাম্পকে থামাতে পারবে?

    বাস্তবিক অর্থে এখনই নয়। এই প্রস্তাব মূলত রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। প্রেসিডেন্ট চাইলে এটিকে উপেক্ষা করতে পারেন অথবা ভেটো দিতে পারেন।

    তবে কংগ্রেসের হাতে আরও শক্তিশালী অস্ত্র রয়েছে—

    • ● যুদ্ধের অর্থ বরাদ্দ আটকে দেওয়া,
    • ● প্রতিরক্ষা বাজেটে শর্ত আরোপ করা,
    • ● নতুন আইন পাস করার চেষ্টা করা।

    ফলে যুদ্ধ বন্ধ না হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, তা স্পষ্ট।

    ট্রাম্পে বাড়ছে অনাস্থা!

    সেনেটের ৫০-৪৮ ভোট শুধু একটি প্রতীকী প্রস্তাব নয়। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের প্রকাশ্য অনাস্থার বার্তা। ১৯৭৩ সালের পর এই প্রথম কংগ্রেসের দুই কক্ষ একসঙ্গে কোনও প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সেনা সরানোর আহ্বান জানাল। তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধ থামবে না, কিন্তু রাজনৈতিক অভিঘাত গভীর। রিপাবলিকান শিবিরে ফাটল, যুদ্ধের বাড়তি খরচ, ইরান চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ এবং সাংবিধানিক প্রশ্ন— সব মিলিয়ে ট্রাম্প এমন এক বিতর্কের মুখে পড়েছেন যা আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাঁর দলের জন্য বড় বোঝা হয়ে উঠতে পারে। ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন একটাই— ইরান যুদ্ধ কি ট্রাম্পের জন্য নতুন বিদেশনীতি সংকট, নাকি সেটাই ২০২৬ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দুর্বলতা হয়ে উঠবে?

LinkedIn
Share