Tag: US Visa

US Visa

  • US Visa Bond: বাংলাদেশিদের ভিসা বন্ড! আমেরিকায় যেতে গেলে দিতে হতে পারে ১৫০০০ ডলার

    US Visa Bond: বাংলাদেশিদের ভিসা বন্ড! আমেরিকায় যেতে গেলে দিতে হতে পারে ১৫০০০ ডলার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার ভিসা (US Visa Bond) পেতে এখন থেকে আরও বেশি অর্থ খরচ করতে হবে বাংলাদেশের নাগরিকদের। এবার থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ দিতে হবে। ভারতীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ১৩ লক্ষ টাকারও বেশি। সেখানে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় সাড়ে ১৮ লক্ষ। মার্কিন ভিসা বন্ড দেওয়ার শর্তযুক্ত দেশের তালিকা প্রায় তিন গুণ বাড়িয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। সর্বশেষ বাংলাদেশ-সহ আরও ২৫টি দেশকে এই তালিকায় যুক্ত করেছে মার্কিন বিদেশ দফতর। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকেই এই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।

    কোন কোন দেশ ভিসা-বন্ডের আওতায়

    আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড (US Visa Bond) জমা দেওয়ার নিয়ম আগেই চালু করেছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মঙ্গলবার বাংলাদেশ, ভেনেজুয়েলা-সহ আরও কয়েকটি দেশকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মার্কিন বিদেশ দফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই নিয়ম আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। তালিকাভুক্ত দেশগুলোর বেশিরভাগই আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার। বাংলাদেশের পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজিরিয়া, নেপাল ও উগান্ডা-সহ একাধিক দেশ। মার্কিন বিদেশ দফতর জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর পাসপোর্টধারীরা যদি বি-১/বি-২ (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার জন্য যোগ্য হন, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের সময় তাদের ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে। ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ইন্টারভিউয়ের ভিত্তিতে কনস্যুলার অফিসার বন্ডের অঙ্ক নির্ধারণ করবেন। আবেদনকারীদের মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বন্ড প্রদানে সম্মতি জানাতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশনা ছাড়া আগাম কোনও অর্থ জমা না দিতে সতর্ক করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

    ভিসা বন্ড কী

    ভিসা বন্ড (US Visa Bond) হলো একটি আর্থিক নিশ্চয়তা, যা সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে কিছু দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে নেওয়া হয়-যাতে তারা ভিসার শর্ত, বিশেষ করে অনুমোদিত থাকার সময়সীমা মেনে চলেন। প্রতি বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হাজারো বিদেশি পড়ুয়া, পর্যটক ও কর্মীকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে সেটিকে ভিসা ওভারস্টে হিসেবে গণ্য করা হয়।

    কেন নেওয়া হয় ভিসা বন্ড

    ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, ভিসার (Visa Bond For Bangladesh) মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও অনেকেই আমেরিকায় থেকে যাচ্ছেন। সেই প্রবণতায় রাশ টানতেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি হোয়াইট হাউসের। দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় এসেই অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ইতিমধ্যেই তাঁর প্রশাসন আমেরিকায় থাকা বহু অবৈধবাসীকে ফেরত পাঠিয়েছে। তা ছাড়া এইচ-১বি ভিসা, গ্রিন কার্ডের জন্যও আরও কড়া নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এমনকি ভিসা আবেদনকারীর সমাজমাধ্যমের পোস্টের উপরেও নজর রাখছেন মার্কিন অভিবাসন দফতরের আধিকারিকরা।

    কীভাবে ফেরত পাওয়া যাবে ভিসা বন্ড

    এই ভিসা বন্ড (US Visa Bond) নীতি একটি পাইলট কর্মসূচির আওতায় গত আগস্টে প্রথম চালু করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যে সব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার হার বেশি, মূলত সে সব দেশকেই এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ভিসা বন্ড স্থায়ীভাবে কেটে রাখা হবে না। এটি একটি ফেরতযোগ্য জামানত। নিচের পরিস্থিতিতে বন্ডের টাকা ফেরত পাওয়া যাবে অনুমোদিত সময়ের মধ্যে বা তার আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে, ভিসা পাওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করলে বা মার্কিন বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে। তবে কেউ যদি নির্ধারিত সময়ের বেশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন অথবা সেখানে গিয়ে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করেন (যেমন রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম), তাহলে বন্ডের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে।

    বাংলাদেশিদের জন্য মাত্র তিনটি বিমানবন্দর

    ভিসা বন্ড (US Visa Bond) প্রদানকারী যাত্রীদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি বিমানবন্দর নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশি যাত্রীরা কেবল নিম্নোক্ত বিমানবন্দরগুলো দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন। সেগুলো হল- বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট ও ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। এই নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনও পথে প্রবেশ বা বের হলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা বন্ড ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে। এই নতুন নিয়মের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

LinkedIn
Share