Tag: us

us

  • US Midterm Elections: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তলানিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, মূল্যবৃদ্ধি ও ইরান যুদ্ধ ঘিরে বাড়ছে ক্ষোভ

    US Midterm Elections: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তলানিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, মূল্যবৃদ্ধি ও ইরান যুদ্ধ ঘিরে বাড়ছে ক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের (US Midterm Elections) আগে বড়সড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। এর জেরে একাধিক জনমত সমীক্ষায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কয়েকটি সমীক্ষায় তাঁর অনুমোদনের হার ৩১ থেকে ৩৪ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। ফলে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা রিপাবলিকানদের কাছে কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    মূল্যবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ

    ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের অসন্তোষ ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানির খরচ এবং পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বহু মানুষ। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্টের ভূমিকা নিয়েও সন্তুষ্ট নন অধিকাংশ ভোটার। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-নরক-এর সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মাত্র ১৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর প্রতি সমর্থনের হার ২৬ শতাংশ। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ৬৫ শতাংশের মতে, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পের নীতিই বহুলাংশে দায়ী। কর্মসংস্থানের ছবিও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। সেপ্টেম্বরে মার্কিন অর্থনীতিতে মাত্র ২৯ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রত্যাশার তুলনায় এই সংখ্যা অনেকটাই কম। ফলে মার্কিন শ্রমবাজারের শক্তি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

    ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন অত্যন্ত কম

    ফিনান্সিয়াল টাইমস-ফোকালডেটার একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন অত্যন্ত কম। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ভোটারদের ৪৫ শতাংশের ধারণা, ট্রাম্পের অবস্থান রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী জয়ের সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলছে। অন্যদিকে, দেশের অর্থনীতি ভুল পথে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি উত্তরদাতা। এপি-নরক-এর ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের সমীক্ষা অনুযায়ী, ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে। প্রায় ৪৬ শতাংশের দাবি, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর সময়ের তুলনায় তাঁদের পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। জ্বালানি ও খাবারের খরচ বহন করা নিয়েও প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প

    ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আরেকটি বড় রাজনৈতিক সমস্যা হয়ে উঠেছে ইরানের সঙ্গে সংঘাত। যুদ্ধের মেয়াদ, আর্থিক ব্যয় এবং তার কৌশলগত পরিণতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মূল্য দেওয়া সার্থক হয়নি। মাত্র ২৮ শতাংশ এই সংঘাত মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এমনকী, রিপাবলিকান সমর্থকদের একাংশের মধ্যেও যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণে বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে তেল ও জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মার্কিন পরিবারগুলির দৈনন্দিন ব্যয়ে। প্রথমদিকে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানকে ঘিরে সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় যুদ্ধের আর্থিক ও কৌশলগত মূল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সমীক্ষায় প্রায় ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন, ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিন চলতে পারে। রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও এই আশঙ্কা রয়েছে।

    শুল্কনীতি নিয়েও বাড়ছে বিরোধিতা

    ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি ও আমদানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তও জনসমর্থন হারানোর অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। সমীক্ষায় প্রায় ৬৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছেন। জানুয়ারিতে এই মত পোষণকারীর হার ছিল ৫৮ শতাংশ। অন্য দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩০ শতাংশের কাছাকাছি উত্তরদাতা। প্রশাসনের দাবি, শুল্কনীতি মার্কিন শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। কিন্তু বিরোধীদের বক্তব্য, এই নীতির ফলে আমদানি করা পণ্য ও বিভিন্ন উপকরণের খরচ বাড়তে পারে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের উপরেই পড়বে।

    হিস্পানিক ভোটারদের সমর্থনেও ভাঙন

    ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল হিস্পানিক বা লাতিনো বংশোদ্ভূত মার্কিন ভোটারদের মধ্যে সমর্থন কমে যাওয়া। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন ট্রাম্পের জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সমীক্ষায় মাত্র ২৪ শতাংশ হিস্পানিক মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মাত্র ২৬ শতাংশ হিস্পানিক ভোটার। অন্যদিকে, ৫২ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। বয়স্ক ভোটারদের মধ্যেও রিপাবলিকানদের ব্যবধান কমেছে। ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সি ভোটারদের মধ্যে রিপাবলিকানদের এগিয়ে থাকার ব্যবধান নেমে এসেছে মাত্র দুই শতাংশে। গত ডিসেম্বরে এই ব্যবধান ছিল আট শতাংশ। অন্যদিকে, ৫০ বছরের কম বয়সি ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা ১৮ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন।

    কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা নিয়ে উদ্বেগ

    আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সেনেটের ৩৫টি আসনে নির্বাচন হবে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই সামান্য। ফলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে ফলের পরিবর্তনই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করতে পারে। সাম্প্রতিক নির্বাচনী মূল্যায়নে ১৮টি প্রতিনিধি পরিষদের আসনের লড়াই ডেমোক্র্যাটদের অনুকূলে সরে গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেই মূল্যায়ন অনুযায়ী, নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা ৯ থেকে ১৯টি আসন বাড়াতে পারেন। মূল্যবৃদ্ধি, দুর্বল কর্মসংস্থান, ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ এবং হিস্পানিক ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে সমর্থন হ্রাস—সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে কঠিন পরিস্থিতির মুখে রিপাবলিকানরা। ট্রাম্পের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হল, অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে ভোটারদের আস্থা ফেরানো এবং দলের নির্বাচনী সমর্থন ধরে রাখা।

     

  • Trump Putin Deal: পুতিনের সঙ্গে তেল চুক্তি ট্রাম্পের, রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় ক্ষুব্ধ জেলেনস্কি

    Trump Putin Deal: পুতিনের সঙ্গে তেল চুক্তি ট্রাম্পের, রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় ক্ষুব্ধ জেলেনস্কি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাশিয়ার সঙ্গে তেল সরবরাহ চুক্তির কথা ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়া অবিলম্বে ৩ লক্ষ টনেরও বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। একই সঙ্গে মস্কোর উপর জারি থাকা জ্বালানি-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। জেলেনস্কির কথায়, এই পদক্ষেপ ‘সৎ নয়, অংশীদারদের প্রতি অযোগ্য এবং দুর্বল সিদ্ধান্ত’। রাশিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার পর মার্কিন প্রশাসনের এই অবস্থান পরিবর্তন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

    ডিজেল সরবরাহে বড় ঘোষণা ট্রাম্পের

    সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাশিয়া অবিলম্বে ৩ লক্ষ টনেরও বেশি ডিজেল জ্বালানি আমেরিকা-সহ আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে আরও ৫ লক্ষ টন এবং পরবর্তী পর্যায়ে ১০ লক্ষ টন ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে সরবরাহের পরিমাণ আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও দাবি করেছেন তিনি। ক্রেমলিনের তরফেও জানানো হয়েছে, আমেরিকা-সহ আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহের জন্য রাশিয়া প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে, শুক্রবার মার্কিন অর্থ দফতর একটি অস্থায়ী লাইসেন্স জারি করেছে, যার মাধ্যমে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত রুশ ডিজেল আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে। ট্রাম্পের বক্তব্য, মার্কিন নাগরিকদের পাশাপাশি কৃষক, পশুপালক ও পণ্য পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত ট্রাকচালকদের জন্য জ্বালানির দাম কমানো তাঁর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

    হরমুজ প্রণালিতে সঙ্কট, ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানির দাম

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ-পরিবহণে বিঘ্ন। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে লক্ষ্য করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার পর তেহরানের তরফে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ অবরুদ্ধ করার ঘটনা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে আমেরিকায় সাধারণ পেট্রোলের গড় দাম ৪৬ শতাংশেরও বেশি বেড়ে প্রতি গ্যালনে ৪.৩৭ ডলারে পৌঁছেছে। ডিজেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৬৭ শতাংশ, প্রতি গ্যালন ৬.২৮ ডলারে। রুশ তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকেও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ী করেছেন ট্রাম্প। যদিও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের ক্ষেত্রে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনা ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে রিপাবলিকান পার্টিকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

    যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা, অমীমাংসিত ভূখণ্ডের প্রশ্ন

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে শুক্রবার মায়ামিতে বৈঠকে বসেন মার্কিন ও ইউক্রেনীয় আলোচকেরা। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, শীতের আগে সংঘাত প্রশমিত করা এবং যুদ্ধের অবসানের সম্ভাব্য পথ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। এর আগে গত মাসে উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার মস্কো ও কিয়েভ সফর করেছিলেন। তবে দীর্ঘদিনের আলোচনাতেও যুদ্ধের অবসানের প্রশ্নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। যুদ্ধবিরতির পথে অন্যতম বড় বাধা ইউক্রেনের ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধ। রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাসের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করে আসছে। অন্যদিকে, জেলেনস্কি ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ড রাশিয়ার হাতে তুলে দিতে নারাজ। তাঁর আশঙ্কা, ওই অঞ্চলগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে ভবিষ্যতে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সুযোগ পাবে মস্কো। বর্তমানে ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ রাশিয়ার দখলে রয়েছে।

    নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও পুনর্গঠন নিয়েও আলোচনা

    উইটকফের বক্তব্য অনুযায়ী, মায়ামির বৈঠকে ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, ভবিষ্যতে সংঘাত এড়াতে ইউক্রেন ও ইউরোপের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনের পুনর্গঠন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এরই মধ্যে ইউক্রেনে রুশ হামলায় প্রাণহানির ঘটনা যুদ্ধের অবসানের দাবিকে আরও জোরালো করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সামনের সারির শহর ক্রামাতোরস্কে বাসে রুশ হামলায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একদিকে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সমঝোতার পথে হাঁটছে ওয়াশিংটন, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। এই দুই পদক্ষেপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা ট্রাম্পের বিদেশনীতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

  • Mohan Bhagwat in US: ‘সতর্ক থাকুন’! ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে নিউইয়র্কের মেয়রকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আর্জি হিন্দু সংগঠনের

    Mohan Bhagwat in US: ‘সতর্ক থাকুন’! ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে নিউইয়র্কের মেয়রকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আর্জি হিন্দু সংগঠনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat in US) নিউইয়র্ক সফর এবং ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে তাঁর প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানের আগে নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করল হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন (HAF)। নিউইয়র্ক প্রশাসনের কাছে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ২৯ আগস্ট ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে ভাগবতের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই কয়েকটি মহল থেকে বিরোধিতা এবং অনুষ্ঠান বাতিলের দাবি উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিন্দু অধিকার ও শিক্ষা বিষয়ক সংগঠন এইচএএফ (HAF)আমেরিকার হিন্দু সম্প্রদায়কে ‘সতর্ক থাকতে’ এবং চারপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

    মামদানিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আর্জি

    সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম-এ দেওয়া এক বার্তায় এইচএএফ (HAF) হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি সকলের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও সংযত আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আয়োজিত ‘ইউনিভার্সাল ওয়ননেস সেলিবরেশন (Universal Oneness Celebration)’ অনুষ্ঠানটি আয়োজনে বাধা দেওয়া হবে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি (Zohran Mamdani)-র উদ্দেশে হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন -এর বার্তা, অনুষ্ঠানে উপস্থিত নিউইয়র্কের প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাঁর দায়িত্ব। একইসঙ্গে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের নাগরিক অধিকারও রক্ষা করতে হবে।

    অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেছেন মামদানি

    ভাগবতের অনুষ্ঠানের বিষয়ে প্রকাশ্যেই নিজের আপত্তির কথা জানিয়েছেন মামদানি। তবে একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, কোনও বেসরকারি অনুষ্ঠান বাতিল করার আইনি ক্ষমতা শহর প্রশাসনের আদৌ রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এক সাংবাদিক বৈঠকে মামদানি বলেন, তিনি এই সমাবেশকে সমর্থন করেন না। তবে একটি বেসরকারি অনুষ্ঠান বাতিল করার ক্ষেত্রে শহর প্রশাসনের কোনও আইনি এখতিয়ার রয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। নিজের ভারতীয়-আমেরিকান পরিচয়ের কথাও তুলে ধরেন নিউইয়র্কের মেয়র। তাঁর বক্তব্য, তাঁর পরিবারের কাছে ভারতের পরিচয় ছিল একটি বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ হিসেবে, যেখানে প্রত্যেকেরই জায়গা রয়েছে। মামদানির অভিযোগ, বর্জনমূলক রাজনৈতিক আন্দোলনের উত্থান তাঁকে উদ্বিগ্ন করছে।

    নিউইয়র্কে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন

    এই পরিস্থিতিতে মার্কিন গায়িকা-অভিনেত্রী মেরি মিলবেন মেয়র মামদানি-সহ সমালোচকদের পাল্টা আক্রমণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি-র প্রতি বিরোধিতার কারণেই মামদানি ও অন্যান্য সমালোচকরা ভাগবতের অনুষ্ঠানকে নিশানা করছেন। ২৯ আগস্টের নির্ধারিত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    প্রচার বন্ধের অসফল প্রয়াস

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর প্রধান মোহন ভাগবতের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যায় আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফোরাম (American Hindus for Engagement and Dialogue Forum)-এর সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট। এই সংগঠন ভাগবতের অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। তবে পুনরায় তাদের অ্যাকাউন্ট চালু করেছে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স। বুধবার সংগঠনটির @AheadForum1 হ্যান্ডেলটি হঠাৎই অনুপলব্ধ হয়ে যায়। অ্যাকাউন্টটি বন্ধ হওয়ার পর সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, ঘটনাটি সম্ভবত ভুলবশত ঘটেছে। তাদের বক্তব্য ছিল, সংগঠনের যোগাযোগমূলক প্রচারে ‘সার্বজনীন শান্তি, একতা, সম্প্রীতি’ এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপের বার্তা তুলে ধরা হয়।

    বিশ্বসম্প্রীতি নিয়ে ভয় কেন

    পরে অ্যাকাউন্টটি পুনরায় চালু হলে আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফোরাম X-এ পোস্ট করে জানায়, “আমরা আবার ফিরে এসেছি!” একই সঙ্গে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার এবং ‘বট’ সরিয়ে দেওয়ার জন্য সমাজ-মাধ্যম-কে ধন্যবাদ জানায় তারা। সংগঠনটির অভিযোগ, তাদের বিরোধীরা বিভ্রান্তিকরভাবে বট ব্যবহার করে X-এর অ্যালগরিদমকে প্রভাবিত করে অ্যাকাউন্টটি ব্লক করানোর চেষ্টা করেছিল। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ভারতীয় ঐতিহ্য, ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপকে সামনে আনা। অনুষ্ঠানে হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন প্রতিনিধি, মন্দির, যোগ সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের উপস্থিত থাকার কথা। রাখিবন্ধন উপলক্ষেও অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ঐক্য, নাগরিক দায়িত্ব ও বিশ্বসম্প্রীতি নিয়ে বক্তব্যের আয়োজন করা হয়েছে।

    কেন বন্ধ করা হয়েছে অ্যাকাউন্ট

    তবে X-এর পক্ষ থেকে অ্যাকাউন্টটি কেন সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আসেনি। পাশাপাশি, এই পদক্ষেপের সঙ্গে ভাগবতের নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে চলা প্রতিবাদের সরাসরি কোনও যোগসূত্রেরও প্রকাশ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বেশ কয়েকটি নাগরিক অধিকার সংগঠন ভাগবতের অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে। তাদের অভিযোগ, আরএসএস একটি ‘বর্জনমূলক সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী’ মতাদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আরএসএসের শতবর্ষ উদযাপনের বছরেই আন্তর্জাতিক সফরে বেরিয়েছেন মোহন ভাগবত। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ব্রিটেন—এই তিন দেশ নিয়ে তাঁর এই সফর। বিদেশে বিভিন্ন সংগঠনের আমন্ত্রণে এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

  • Mohan Bhagwat in US: ‘খোলা আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান ও মতবিনিময়ের’ জন্যই ম্যাডিসন স্কোয়ারে সমাবেশ, অনুষ্ঠানকে স্বাগত মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেনের

    Mohan Bhagwat in US: ‘খোলা আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান ও মতবিনিময়ের’ জন্যই ম্যাডিসন স্কোয়ারে সমাবেশ, অনুষ্ঠানকে স্বাগত মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আরএসএস-এর সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতকে (Mohan Bhagwat in US) নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)। বুধবার তারা জানায়, অনুষ্ঠানটি ‘খোলা আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান ও মতবিনিময়ের’ ভাবনায় আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, আরএসএস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী যে কেউ এই আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সরসংঘচালক ড. মোহন ভাগবতের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠান নিয়ে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির বিরোধিতার কড়া জবাব দিলেন মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেন। আগামী ২৯ অগাস্ট ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আয়োজিত হতে চলা এই অনুষ্ঠানের বিরোধিতার জন্য মামদানি ও তাঁর সমর্থকদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপির প্রতি বিরোধিতাকেই দায়ী করেছেন তিনি।

    অনুষ্ঠানটি ভারতীয় ভাবধারার প্রতিফলন

    প্রচার বিভাগের প্রধান তথা প্রবীণ নেতা সুনীল আম্বেকর এক বিবৃতিতে বলেন, নিউইয়র্কের ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’ একটি আন্তঃধর্মীয় সমাবেশ। সেখানে সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মের মানুষের সামনে আরএসএস-এর ভাবনা ও দর্শন তুলে ধরবেন। আম্বেকরের কথায়, “খোলা আলোচনা ও পারস্পরিক সম্মানের পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান ভারতীয় ভাবধারার প্রতিফলন, যা মূলত অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সকলকে স্বাগত জানায়।” তিনি আরও বলেন, ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নানা সম্প্রদায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে RSS যে সংলাপ ও যোগাযোগের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং অভিন্ন উদ্দেশ্য গড়ে তোলার চেষ্টা করে আসছে, এই উদ্যোগও সেই ধারারই অংশ। আরএসএস-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “সংগঠনের দর্শন ও ভাবনা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী যে কেউ এই ধরনের উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিতে পারেন।”

    ভাগবতের অনুষ্ঠানের মূল ভাবনাকে সমর্থন

    ২৬ অগাস্ট ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে মিলবেন লেখেন, মোহন ভাগবতকে নিয়ে আয়োজিত ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানটির বিরোধিতা করছেন মামদানি এবং তাঁর মতো সমাজতন্ত্রীরা, কারণ তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপির বিরোধী। তাঁর দাবি, বিষয়টি “বেশ স্পষ্ট”। অনুষ্ঠানের বিরোধীদের সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শ নিয়েও কটাক্ষ করেন মিলবেন। তাঁর বক্তব্য, ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন “সমাজতান্ত্রিক স্লোগানের জবাব দেয় না, তারা পুঁজিবাদের নিয়মে চলে”। তাই তাঁর মতে, অনুষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়েই হবে। মামদানি ও তাঁর “সমাজতন্ত্রীদের দল”-কে উদ্দেশ করে মিলবেন বলেন, তাঁরা যদি এই অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেন, তাহলে পুঁজিবাদী পদ্ধতিতে অর্থ সংগ্রহ করে নিজেরাই ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন ভাড়া নিয়ে পাল্টা সমাবেশ করতে পারেন। ভাগবতের অনুষ্ঠানের মূল ভাবনাকেও সমর্থন করেছেন মিলবেন। অনুষ্ঠানের ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস’ বা ‘সর্বজনীন একতা’ (Universal Oneness) ভাবনাটি তাঁর পছন্দ হয়েছে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে ভারতকে ঘিরে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে অর্থবহ আলোচনা অনুষ্ঠানের অংশ হোক, এমন আশাও প্রকাশ করেন মার্কিন এই গায়িকা।

    ২৯ অগাস্ট ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে ভাগবতের অনুষ্ঠান

    ড. মোহন ভাগবত আগামী ২৯ অগাস্ট ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে প্রায় ৫,০০০ ভারতীয়-আমেরিকানের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। আরএসএস (RSS)-এর শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে তাঁর আন্তর্জাতিক সফরের অংশ হিসেবেই এই অনুষ্ঠান। ২৫ অগাস্ট থেকে শুরু হওয়া তাঁর ১৭ দিনের সফরে আমেরিকা, কানাডা ও ইউকে রয়েছে। ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’ (Universal Oneness Celebration) নামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফোরাম (American Hindus for Engagement and Dialogue Forum)। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ভারতীয় ঐতিহ্য, ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপকে সামনে আনা। অনুষ্ঠানে হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন প্রতিনিধি, মন্দির, যোগ সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের উপস্থিত থাকার কথা। রাখিবন্ধন উপলক্ষেও অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ঐক্য, নাগরিক দায়িত্ব ও বিশ্বসম্প্রীতি নিয়ে বক্তব্যের আয়োজন করা হয়েছে।

    সর্বজনীন একতার পথে যাত্রা

    ভাগবতের এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চলছে। ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’, ‘ইন্ডিয়ান আমেরিকান মুসলিম কাউন্সিল’ এবং ‘ইন্টারফেইথ সেন্টার অফ নিউ ইয়র্ক’-সহ বেশ কয়েকটি আন্তঃধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠন ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধানের অংশগ্রহণের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, তিনি এই সমাবেশকে সমর্থন করেন না। তবে একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কোনও বেসরকারি অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করে তা বাতিল করার আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের রয়েছে কি না। আরএসএস-এর ভাবনাকে তিনি “বর্জনমূলক” বলে মন্তব্য করে বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের ধারণার সঙ্গে তার পার্থক্যের কথাও তুলে ধরেছেন। তবে, আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফোরামের তরফে ইতিমধ্যেই ড. মোহন ভাগবতকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়েছে, “সর্বজনীন একতার পথে যাত্রা শুরু হচ্ছে।” ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানের পর নিউইয়র্কে আরও দু’টি ব্যক্তিগত কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ভাগবতের। এরপর তাঁর আন্তর্জাতিক সফরের পরবর্তী পর্ব শুরু হবে।

     

  • Mohan Bhagwat in US: গোটা বিশ্ব একটি পরিবার! ম্যাডিসন স্কোয়্যারে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস’ অনুষ্ঠানের আয়োজন, নিউইয়র্কে মোহন ভাগবত

    Mohan Bhagwat in US: গোটা বিশ্ব একটি পরিবার! ম্যাডিসন স্কোয়্যারে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস’ অনুষ্ঠানের আয়োজন, নিউইয়র্কে মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউ ইয়র্কে পা রাখলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat in US)। সংগঠনের শতবর্ষ উদযাপনে তিনটি দেশে সফর করছেন তিনি। তাঁর ১৭ দিনের সফরের প্রথম পর্বে মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে পৌঁছলেন ভাগবত। ‘তিলক’ পরিয়ে আমেরিকার মাটিতে অভ্যর্থনা জানানো হয় তাঁকে। আমেরিকা ছাড়াও কানাডা এবং ইউকে-তেও যাবেন তিনি। আগামী শনিবার নিউ ইয়র্কের ‘ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন’-এ ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলেব্রেশনস’ (Universal Oneness Celebrations) নামে এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন মোহন ভাগবত। সংঘের তরফে জানানো হয়েছে, আরএসএস-এর শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে আয়োজিত নানা কর্মসূচির অংশ হিসেবেই ভাগবতের এই সফর। সফরকালে তিনি প্রবাসী ভারতীয় এবং বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

    রাখি বন্ধনের আবহে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস’ অনুষ্ঠান

    ‘আমেরিকান হিন্দুস ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ’ (AHEAD) ফোরাম’-এর তরফে রাখিবন্ধন উৎসবের প্রেক্ষাপটে এক বিশাল কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের বার্তা দেওয়া হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন আধ্যাত্মিক বিষয়েও বক্তব্য রাখবেন অনেকে। অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও থাকবে। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষও অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সঙ্গে ঐক্য, নাগরিক দায়িত্ব এবং বিশ্বশান্তির বার্তা তুলে ধরা হবে বলে আয়োজকদের দাবি।

    ভাগবতের সফরের উদ্দেশ্য

    আরএসএস-এর (RSS Chief Event in US) প্রচার প্রমুখ সুনীল আম্বেকর ‘এক্স’-এ পোস্ট করে জানান যে, প্রবাসীদের আমন্ত্রণে ২৫ অগাস্ট থেকে আমেরিকা, কানাডা ও ইউকে সফর করছেন আরএসএস প্রধান। আরএসএস সূত্রে জানানো হয়েছে, এই সফরের উদ্দেশ্য হল, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত, হিন্দু সমাজ এবং আরএসএস সম্পর্কে সঠিক ও ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরা। ‘আমেরিকান হিন্দুস ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ’ (AHEAD) ফোরাম’-এর দাবি, গোটা বিশ্ব একটি পরিবার, এই কালজয়ী এবং সর্বজনীন বার্তা দিতেই তরা নিউ ইয়র্কের সভাটি করছে। কৃত্রিম বিভাজন, ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতার বন্ধন, পারস্পরিক সম্মান, সম্প্রীতি এবং ঐক্যের চেতনাকে জোরাল করে তোলাই লক্ষ্য।

    ভাগবতের অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি মেয়র মামদানির

    তবে ভাগবতের নিউইয়র্ক সফর এবং ম্যাডিসন স্কোয়্যারের অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আরএসএস-এর অনুষ্ঠানের প্রতি তাঁর সমর্থন নেই এবং তিনি ‘বিভাজনমূলক মতাদর্শ’-এর বিরোধী। অনুষ্ঠানটি বাতিল করা উচিত কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে মামদানি বলেন, কোনও বেসরকারি অনুষ্ঠান বাতিল করার ক্ষমতা শহর প্রশাসনের রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। মামদানির বক্তব্য, তিনি নিউইয়র্কের প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান মেয়র। তাঁর পরিবার তাঁকে এমন একটি বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের ধারণা দিয়েছে, যেখানে সকলের জন্য জায়গা রয়েছে। কোনও মানুষ বা গোষ্ঠীকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করে এমন মতাদর্শের তিনি বিরোধিতা করেন বলেও জানান। বিখ্যাত পরিচালক মীরা নায়ার এবং শিক্ষাবিদ মেহমুদ মামদানির ছেলে জোহরান। তাঁর মতে, নিউইয়র্কও জাতি, ধর্ম ও পরিচয় নির্বিশেষে সকলকে সমান সুযোগ দেওয়ার নীতিতে বিশ্বাসী।

    আরএসএস নিয়ে ইউএসসিআরএফ-এর মন্তব্য

    ভাগবতের আমেরিকা সফরের আগে ‘ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ (USCIRF) আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানায়। গত ১৯ অগাস্ট সংস্থাটি মার্কিন সরকারকে আরএসএস নেতাদের সরকারি পর্যায়ে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সৌজন্য না দেখানো এবং তাঁদের সঙ্গে সরকারি বৈঠক না করারও পরামর্শ দেয়। ইউএসসিআরএফ-এর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায় ভারত। ২০ অগাস্ট বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ‘ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’-কে ‘পক্ষপাতদুষ্ট সংগঠন’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সংস্থাটি ভারত সম্পর্কে ভুল ও উসকানিমূলক মন্তব্য করে আসছে। ফলে তাদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও জানান তিনি।

    মার্চের রিপোর্টেও আরএসএস নিয়ে সুপারিশ

    ইউএসসিআরএফ-এর মার্চ মাসে প্রকাশিত বার্ষিক রিপোর্টেও ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই রিপোর্টে আরএসএস এবং র (R&AW)-সহ কয়েকটি সংগঠন ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। তবে ভারত সরকার সেই রিপোর্টকে ‘বিকৃত ও বেছে নেওয়া তথ্যনির্ভর’ বলে প্রত্যাখ্যান করে। সরকারের বক্তব্য ছিল, রিপোর্টটি এমন কিছু সূত্রের উপর নির্ভর করেছে যাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং ভারতের পরিস্থিতির একটি একপেশে ছবি তুলে ধরা হয়েছে।

    ২০১৮ সালেও আমেরিকা সফর করেছিলেন ভাগবত

    এর আগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরেও আমেরিকা সফর করেছিলেন মোহন ভাগবত। সে সময় শিকাগোয় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে ৬০টি দেশের প্রায় ২,৫০০ প্রতিনিধি অংশ নিয়েছিলেন। উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল বক্তব্যও রাখেন ভাগবত। এবারও আগামী ২৯ অগাস্ট নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনে সভা রয়েছে ভাগবতের। সেখানে ৫০০০ মানুষের সামনে বক্তৃতা করার কথা তাঁর।

  • Indian Americans: ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮ নভেম্বর ‘দীপাবলি দিবস’, উৎসবে যোগ দেওয়ার আহ্বান বাসিন্দাদের

    Indian Americans: ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮ নভেম্বর ‘দীপাবলি দিবস’, উৎসবে যোগ দেওয়ার আহ্বান বাসিন্দাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট অ্যাসেম্বলি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের ৮ নভেম্বরকে ‘দীপাবলি দিবস’ (Deepawali) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের বাসিন্দাদের আলোর উৎসব দীপাবলি উদ্‌যাপনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে ভারতীয়-আমেরিকান (Indian Americans) সম্প্রদায়ের কাছে দীপাবলির গভীর সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে তুলে ধরার পাশাপাশি ঐক্য, উদারতা, ইতিবাচকতা, জ্ঞান ও আত্মবিশ্লেষণের মতো সর্বজনীন মূল্যবোধের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এই স্বীকৃতি ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সভ্যতাগত সমৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ‘সফট পাওয়ারে’রও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    দীপাবলির সর্বজনীন বার্তাকে স্বীকৃতি (Indian Americans)

    ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট অ্যাসেম্বলি ২০ অগাস্ট, বৃহস্পতিবার, এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করে। অ্যাসেম্বলি সদস্য দর্শনা প্যাটেল এবং অ্যাশ কালরা প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। দীপাবলিকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়-আমেরিকান এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বৃহত্তর ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের প্রতি অ্যাসেম্বলি তার “গভীরতম শ্রদ্ধা” প্রকাশ করেছে।

    প্রস্তাবে বলা হয়েছে, “অ্যাসেম্বলি চলতি বছরের দীপাবলি উৎসবকে রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের এই আনন্দময় উদ্‌যাপনের দিনে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করছে।”

    আমেরিকাজুড়ে দীপাবলির সাংস্কৃতিক গুরুত্ব ক্রমশ বাড়তে থাকার সময়েই ক্যালিফোর্নিয়ার এই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ ও জৈন সম্প্রদায়ের মানুষ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক রীতি ও ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে দীপাবলি উদ্‌যাপন করেন।

    প্রস্তাবে দীপাবলিকে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন উৎসব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই উৎসব পরিবার, বন্ধু ও বিভিন্ন সম্প্রদায়কে একত্রিত করে। উদারতা, ঐক্য, আনন্দ, কৃতজ্ঞতা এবং আত্মবিশ্লেষণকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই উৎসব বিভিন্ন সম্প্রদায় নিজেদের ঐতিহ্য অনুযায়ী পালন করে। সাধারণত ঘরবাড়ি মোমবাতি, তেলের প্রদীপ, মাটির প্রদীপ দিয়ে আলোকিত করা হয়। অনেক জায়গায় আতশবাজিও পোড়ানো হয় দীপাবলি উদ্‌যাপনের অন্যতম অংশ হিসেবে।

    প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই ঐতিহ্যগুলির মধ্যে নিহিত রয়েছে অশুভের বিরুদ্ধে শুভর জয়ের বৃহত্তর বার্তা। একই সঙ্গে সংগ্রাম অতিক্রম করা, নেতিবাচকতা থেকে মুক্তি, ইতিবাচকতা ও বিনয়কে গ্রহণ করা এবং ব্যক্তিগত প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের প্রতি সদয় থাকার মতো মূল্যবোধের সঙ্গেও দীপাবলির সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, “যাঁরা দীপাবলি উদ্‌যাপন করেন, তাঁদের কাছে এই উৎসব জ্ঞান, বিকাশ ও সুখের প্রতি অঙ্গীকারের সময়। এটি আত্মবিশ্লেষণেরও সময়, যা প্রজ্ঞা, দয়া এবং পরিবর্তনের গুরুত্বকে তুলে ধরে।”

    ভারতীয়-আমেরিকানদের অবদানেও জোর

    ক্যালিফোর্নিয়ার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে ভারতীয়-আমেরিকান সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও অ্যাসেম্বলি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে। ২০২৬ সালের দীপাবলিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে জাতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের উৎসবে অংশ নেওয়ার এবং দীপাবলির সঙ্গে যুক্ত মূল্যবোধগুলি বোঝার আহ্বান জানানো হয়েছে (Indian Americans)।

    প্রস্তাবে দীপাবলিকে সুস্বাস্থ্য, সম্পদ, জ্ঞান, শান্তি ও সমৃদ্ধি উদ্‌যাপনের একটি সুযোগ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবার, বন্ধু ও বৃহত্তর সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    ফলে ২০২৬ সালের ৮ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দীপাবলি দিবস’ হিসেবে পালিত হবে। রাজ্যের বাসিন্দাদের উৎসবে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি আলো, আশা ও ইতিবাচকতার বার্তাকে উপলব্ধি করার আহ্বান জানিয়েছে স্টেট অ্যাসেম্বলি।

    ভারতীয়-আমেরিকান সম্প্রদায়ের কাছে এই স্বীকৃতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর মাধ্যমে তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে (Deepawali) গভীরভাবে যুক্ত একটি উৎসবকে সরকারি স্তরে মর্যাদা দেওয়া হলো। ক্যালিফোর্নিয়ার পাশাপাশি পেনসিলভানিয়া, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি এবং টেক্সাসও বিভিন্ন সময়ে দীপাবলিকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং সরকারি পর্যায়ে উৎসব উদ্‌যাপনের উদ্যোগও নিয়েছে (Indian Americans)।

     

  • FCRA Bill: বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণে প্রস্তাবিত আইন নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যের সমালোচনা, কড়া জবাব ভারতের

    FCRA Bill: বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণে প্রস্তাবিত আইন নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যের সমালোচনা, কড়া জবাব ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণে প্রস্তাবিত সংশোধনী আইন (FCRA Bill) নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাইলি মুরের সমালোচনা (US) খারিজ করে দিল ভারত। ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, আইন প্রণয়ন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। একই সঙ্গে মন্ত্রকের বক্তব্য, বিদেশি অর্থায়ন নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের একাধিক দেশের নিজস্ব আইন রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আমেরিকাও। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ভারতে আইন প্রণয়নের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রয়েছে। তাই দেশের অভ্যন্তরীণ আইনকে তার যথাযথ সাংবিধানিক ও আইনি প্রেক্ষাপটে বিচার করা উচিত।” তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজেদের আইনি কাঠামোর মাধ্যমে বিভিন্ন সংগঠনের কাছে বিদেশি অনুদানের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। আমেরিকায়ও বিদেশি অর্থায়ন নিয়ন্ত্রণের জন্য নিজস্ব আইন রয়েছে।”

    গির্জার নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে যেতে পারে, দাবি মুরের (FCRA Bill)

    গত ৪ অগস্ট এক বিবৃতিতে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য রাইলি মুর দাবি করেছিলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনী কার্যকর হলে ভারতের সরকার গির্জা এবং ধর্মীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। বিশেষ করে কোনও প্রতিষ্ঠানের বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে নিবন্ধন বাতিল হয়ে গেলে অথবা তার পুনর্নবীকরণ না হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। মুরের অভিযোগ, এই ধরনের বিধান খ্রিস্টান সংগঠনগুলির ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ভারত সরকারকে প্রস্তাবিত আইনটি পুনর্বিবেচনার আহ্বানও জানান তিনি। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, এই সংশোধনী ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    কী রয়েছে প্রস্তাবিত সংশোধনীতে?

    প্রস্তাবিত বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে ২০১০ সালের বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনে পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে। ভারতে ব্যক্তি, সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির বিদেশি অনুদান গ্রহণ ও ব্যবহারের বিষয়টি এই আইনের আওতায় নিয়ন্ত্রিত হয়। বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, নিরাপত্তা, জনস্বার্থ বা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান যাতে কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করাই এই আইনের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, কোনও প্রতিষ্ঠানের বিদেশি অনুদান গ্রহণের নিবন্ধন বাতিল হলে, প্রতিষ্ঠানটি স্বেচ্ছায় তা সমর্পণ করলে অথবা নিবন্ধনের মেয়াদ পুনর্নবীকরণ না হলে, সরকার মনোনীত কোনও কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে ওই প্রতিষ্ঠানের বিদেশি অনুদান এবং সংশ্লিষ্ট সম্পদ পরিচালনা করতে পারবে (FCRA Bill)। তবে উপাসনাস্থল বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ওই সম্পদ পরিচালনার সময় তাদের ধর্মীয় চরিত্র অক্ষুণ্ণ রাখার কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে।

    সম্পদ সুরক্ষাই উদ্দেশ্য, দাবি কেন্দ্রের

    কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, প্রস্তাবিত সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য হল বিদেশি অনুদানের মাধ্যমে তৈরি জনসম্পদ সুরক্ষিত রাখা এবং বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের চলমান দাতব্য কার্যক্রম যাতে আইন মেনে পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিত করা (FCRA Bill)। সরকারের মতে, কোনও প্রতিষ্ঠান বিদেশি অনুদান গ্রহণের যোগ্যতা হারালে তার সম্পদ ও কার্যক্রম যাতে অনিয়মের শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্যই এই পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সুষ্ঠু প্রশাসন নিশ্চিত করাও সংশোধনীর অন্যতম লক্ষ্য (US)। তবে প্রস্তাবিত আইন নিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহল এবং আন্তর্জাতিক স্তরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের আশঙ্কা, এর ফলে বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর সরকারের নজরদারির পরিধি আরও বাড়বে। রাইলি মুরের মন্তব্যের পর বিদেশমন্ত্রকের এই বক্তব্যই বিষয়টি নিয়ে ভারতের প্রথম সরকারি প্রতিক্রিয়া। মন্ত্রক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আইন প্রণয়ন ভারতের অভ্যন্তরীণ নীতিগত বিষয় (US) এবং প্রস্তাবিত সংশোধনীকে দেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইনি কাঠামোর পরিপ্রেক্ষিতেই বিচার করা উচিত (FCRA Bill)।

     

  • Dallas Gita Event: ডালাসে ঐতিহাসিক গীতা পাঠ! ১৮ দেশের অংশগ্রহণ, একসঙ্গে উচ্চারিত হল শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ৭০০ শ্লোক

    Dallas Gita Event: ডালাসে ঐতিহাসিক গীতা পাঠ! ১৮ দেশের অংশগ্রহণ, একসঙ্গে উচ্চারিত হল শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ৭০০ শ্লোক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাস (Dallas Gita Event) শহরে অনুষ্ঠিত হল এক ঐতিহাসিক ও ব্যতিক্রমী শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পারায়ণ অনুষ্ঠান। অবধূত দত্ত পীঠমের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী গণপতি সচ্চিদানন্দ স্বামীজি-র (Sri Ganapathy Sachchidananda Swamiji) নেতৃত্বে কিউটেক্স (CUTEX) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার ভক্ত, ছাত্রছাত্রী এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। স্বামীজির যুক্তরাষ্ট্রে আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ১৮টি দেশের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল—হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী স্মৃতি থেকে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ৭০০টি শ্লোক একযোগে আবৃত্তি করেন। পুরো অডিটোরিয়াম ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের আবহে মুখর হয়ে ওঠে।

    সমগ্র বিশ্বই একটি পরিবার

    ডালাসে এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—অর্থাৎ, ‘সমগ্র বিশ্বই একটি পরিবার’। এই আদর্শকে সামনে রেখেই বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা তুলে ধরা হয়। শ্রী গণপতি সচ্চিদানন্দ স্বামীজি বলেন, “ঈশ্বর ভারতকে আশীর্বাদ করুন, আমেরিকাকে আশীর্বাদ করুন এবং সমগ্র বিশ্বকে আশীর্বাদ করুন।” তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয়দের দায়িত্ব দুই দেশের মধ্যে আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় করা। অনুষ্ঠানে বিশ্বশান্তির উদ্দেশ্যে বিশেষ প্রার্থনারও আয়োজন করা হয়। স্বামীজি জানান, এই গীতা পারায়ণ প্রতিটি পরিবারের শান্তি, সমাজের কল্যাণ এবং বিশ্বের সমৃদ্ধি ও শান্তির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দেশটি আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশ ও সুযোগ করে দিয়েছে। তাঁর আহ্বান, শান্তি, সমৃদ্ধি, স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

    মার্কিন মুলুকে নিয়মিত গীতাপাঠ

    আমেরিকায় গীতাপাঠ অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং এটি ভারতীয় প্রবাসীদের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের একটি বড় অংশ। টেক্সাসের ডালাসে, শিকাগো বা মিশিগানের মতো শহরে শয়ে শয়ে মানুষের একসঙ্গে গীতা আবৃত্তির মতো বড় ইভেন্ট নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এদিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় স্বামীজির আশীর্বাদ এবং সর্বজনীন শান্তির মন্ত্র ‘লোকাঃ সমস্তাঃ সুখিনো ভবন্তু’ উচ্চারণের মধ্য দিয়ে। যার অর্থ—“সমস্ত বিশ্বের সকল প্রাণী সুখী, সুস্থ ও শান্তিতে থাকুক।”

  • Iran US War: ইরানে ৪০০ এয়ার ডিফেন্স ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার পাঠাচ্ছে চিন! হতাশার সুর ট্রাম্পের, অস্বীকার করল বেজিং

    Iran US War: ইরানে ৪০০ এয়ার ডিফেন্স ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার পাঠাচ্ছে চিন! হতাশার সুর ট্রাম্পের, অস্বীকার করল বেজিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধের আবহে ইরানকে শক্তিশালী করতে পাকিস্তানের মাধ্যমে চিনের তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য প্রায় ৪০০টি এয়ার ডিফেন্স ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার (MANPADS) পাঠানো হতে পারে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে চিন। একইভাবে পাকিস্তানও এই প্রতিবেদন অস্বীকার করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পাকিস্তান হয়ে ইরানের কাছে প্রথম চালান পৌঁছতে পারে। চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আওতায় চিনের তৈরি ৩০০ থেকে ৪০০টি ম্যান-পোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (MANPADS) কেনার কথা রয়েছে।

    প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইরানের উদ্যোগ

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তিটি হংকং-ভিত্তিক এক মধ্যস্থতাকারী সংস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। যদি এই সরবরাহ বাস্তবায়িত হয়, তবে তা ইরানের স্বল্প-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পর নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটিকে ইরানের অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে, পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে ইসলামাবাদ নিজেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরলেও, অন্যদিকে পাকিস্তান ইরানকে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের মে মাসে এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছিল যে, মার্কিন হামলা থেকে রক্ষা করতে পাকিস্তান তাদের বিমানঘাঁটিতে ইরানের সামরিক বিমান রাখার অনুমতি দিয়েছিল। তবে চিনের বিদেশ মন্ত্রক এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, “সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চিন সবসময় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংঘাতের অবসানে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে।”

    ট্রাম্পের হতাশার সুর

    ইরানের কাছে চিনের অস্ত্র সরবরাহের সম্ভাব্য খবর নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যদি চিন সত্যিই ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে তিনি অত্যন্ত হতাশ হবেন। এক সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে বেজিং এই সংঘাতে জড়াবে না। ট্রাম্পের কথায়, “তিনি (শি জিনপিং) খুব দৃঢ়ভাবে আমাকে বলেছেন যে তাঁরা এতে অংশ নেবেন না। যদি তাঁরা তা করেন, তাহলে আমি অবশ্যই হতাশ হব। তিনি সম্ভবত ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসছেন।” এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, শি জিনপিং তাঁকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন যে চিন তেহরানে অস্ত্র পাঠাচ্ছে না। একই সঙ্গে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানকে অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলির ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

  • Indian Students: আমেরিকার বদলে ইউরোপে ঝুঁকছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা, জানুন কারণ

    Indian Students: আমেরিকার বদলে ইউরোপে ঝুঁকছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা, জানুন কারণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একসময় বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতীয় পড়ুয়াদের (Indian Students) প্রথম পছন্দ ছিল আমেরিকা। উন্নত শিক্ষা, গবেষণার সুযোগ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কারণে বহু দশক ধরে দেশটি ছিল ভারতীয় শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের গন্তব্য। দীর্ঘদিনের চেনা এই ছবিটাই বদলে যাচ্ছে দ্রুত। কড়া অভিবাসন নীতি, ভিসা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ইউরোপের নতুন সুযোগ-সুবিধার কারণে ক্রমশ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে (US) ঝুঁকছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা। খবরে প্রকাশ, শিক্ষা পরামর্শদাতা সংস্থা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্তারা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করছেন। বিশেষ করে জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, স্পেন এবং আয়ারল্যান্ড এখন আমেরিকা, কানাডা ও ব্রিটেনের বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে।

    ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার (Indian Students)

    এই পরিবর্তন অবশ্য নতুন নয়। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে প্রায় এক লাখ কুড়ি হাজার ভারতীয় শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ইউরোপে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে ৪৫ শতাংশ। একই সময়ে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও আয়ারল্যান্ডে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার বেড়েছে প্রায় ৬৮.৩৩ শতাংশ। শিক্ষা-প্রযুক্তি সংস্থা জ্ঞানধনের তথ্য বলছে, আমেরিকাকে উচ্চশিক্ষার জন্য বেছে নেওয়া ভারতীয় শিক্ষার্থীর হার ২০২৩ সালে ছিল ৫৪ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা নেমে আসে ২৬ শতাংশে, ২০২৫ সালে তা আরও কমে দাঁড়ায় ২০ শতাংশে। একই সময়ে ইউরোপে পড়াশোনার প্রবণতা দ্রুত বেড়েছে। ২০২৪ সালে শুধু জার্মানিতেই ছিলেন ৪৩ হাজারেরও বেশি ভারতীয় শিক্ষার্থী। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা আরও অনেকটাই বাড়বে বলেই আশা বিশেষজ্ঞদের। বিদেশে উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত সংস্থা ‘আপগ্র্যাড স্টাডি অ্যাব্রড’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপ বিদেশে পড়াশোনার দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। জার্মানি ও ফ্রান্সে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেন্নাইয়ের বছর বাইশের এক প্রযুক্তিবিদ্যায় স্নাতকের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আমেরিকায় পাঠাতে চাইলেও, তিনি শেষ পর্যন্ত স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য বেছে নেন জার্মানিকেই।

    ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব

    জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির পর ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রতি ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে (Indian Students)। এই চুক্তিতে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য সহজতর ভিসা ব্যবস্থা, পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগের স্পষ্ট রূপরেখা এবং ভারতীয় শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি সংক্রান্ত একাধিক পদক্ষেপের কথা রাখা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক কর্তা সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেন, “ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন গতিশীলতা কাঠামো বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ, যার লক্ষ্য ভারতীয় শিক্ষার্থী ও দক্ষ জনশক্তিকে আকৃষ্ট করে ইউরোপকে আন্তর্জাতিক প্রতিভার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।” বিদেশে পড়াশোনার প্ল্যাটফর্ম লিপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা অনব কুমার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “প্রথমবারের মতো একটি বড় অর্থনৈতিক জোট স্পষ্টভাবে বলছে, তারা বৃহৎ পরিসরে ভারতীয় মেধাকে স্বাগত জানাতে চায়।” তাঁর দাবি, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে ভারত থেকে ইউরোপে শিক্ষার্থী ও কর্মীর সংখ্যা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে (US)।

    কম খরচও বড় কারণ

    শুধু সুযোগ-সুবিধা নয়, খরচের দিক থেকেও ইউরোপ এখন অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। শিক্ষা পরামর্শদাতা সংস্থা কেসি ওভারসিজের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পড়ার খরচ আমেরিকার তুলনায় ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কম। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতীয় মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বিদেশে পড়াশোনার খরচও বেড়েছে। ফলে অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থীকে খাবারে কাটছাঁট করা, গণপরিবহণের বদলে হেঁটে যাতায়াত করা কিংবা অতিরিক্ত কাজ করে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতে হচ্ছে। ইউরোপ স্টাডি সেন্টারের পরিচালক শিবরামন পাণ্ডিয়ান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ইউরোপ এখন সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন চুক্তির পর আমাদের কাছে অনুসন্ধানের সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে।” স্টুডেন্ট অ্যাকোমোডেশন সংস্থা ইউনিভার্সিটি লিভিংয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন আধিকারিক ময়ঙ্ক মহেশ্বরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি-সহ ইউরোপের একাধিক দেশ কম শিক্ষাব্যয়, পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ, উন্নত কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিকভাবে ভালো সুবিধার কারণে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করছে।” বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী নিজের পেশাগত লক্ষ্য অনুযায়ী দেশ বেছে নিচ্ছেন (Indian Students)। যেমন, প্রযুক্তি-শিক্ষার্থীদের কাছে জার্মানি, কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্যের জন্য নেদারল্যান্ডস, ব্যবস্থাপনা শিক্ষার জন্য ফ্রান্স এবং কম খরচে গবেষণার সুযোগের জন্য পর্তুগাল জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

    আমেরিকার কড়া নীতিতে কমছে আগ্রহ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের প্রতি আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি আমেরিকার কঠোর অভিবাসন নীতিও এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে যে ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার মেয়াদ পর্যন্ত থাকার অনুমতি পান, তার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়সীমার ভিসা চালুর প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে (US)। এছাড়া শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি, ভিসা নবীকরণে কড়াকড়ি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ওপর বাড়তি নজরদারি এবং ভিসার শর্ত ভাঙলে দ্রুত বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপও করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ক্যাম্পাসে আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের উদ্যোগ নিতেও দেখা গিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থী আমেরিকাকে আগের মতো নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হিসেবে দেখছেন না। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ভারত থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮ হাজার শিক্ষার্থী গেলেও, ২০২৫ সালে সেই সংখ্যাটাই কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ২৬ হাজারে।

    ইউরোপে আগ্রহ বাড়লেও চ্যালেঞ্জ রয়ে গিয়েছে

    ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আবেদন ও ভর্তি বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডসে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২,৬৩০। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তা বেড়ে প্রায় ৩,৭০০-তে পৌঁছেছে। দেশটিতে ভারতীয়রা এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের অন্যতম বৃহত্তম শিক্ষার্থী গোষ্ঠী। আইনডহোভেন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইতালির পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিও ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে (Indian Students)।স্পেনও এখন নয়া গন্তব্য হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ইউনিভার্সিটি লিভিংয়ের ইউরোপীয় শিক্ষার্থী পরিস্থিতি প্রতিবেদনের তথ্য  অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে ১,০৮৭ জন ভারতীয় শিক্ষার্থী রয়েছেন। তুলনামূলক কম জীবনযাত্রা ব্যয়, শিক্ষার্থী-বান্ধব ভিসা ব্যবস্থা এবং ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার সুযোগ বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ইউরোপে পড়াশোনা করলেই চাকরি নিশ্চিত নয়। প্রয়োজন দক্ষতা, স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতামূলক যোগ্যতা (US)।

    চাকরির সুযোগ

    পাণ্ডিয়ান বলেন, “কেউ যদি বলে এই দেশে পড়লেই চাকরি পাবেন, তা অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না। শুধু ওই দেশে পড়াশোনা করলেই চাকরির অধিকার তৈরি হয় না। প্রয়োজন দক্ষতা অর্জন। তবেই সুযোগের দরজা খুলবে।” শিক্ষার্থীদের একাংশ আবার ভাষাগত সমস্যা, আবাসনের সঙ্কট, চাকরির প্রতিযোগিতা এবং নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউরোপের কিছু দেশে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান এবং বিদেশিদের প্রতি কঠোর মনোভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তবুও কম খরচ, ইংরেজি মাধ্যমে বাড়তে থাকা পাঠ্যক্রম, স্পষ্ট কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং তুলনামূলক সহজ অভিবাসন নীতির কারণে ইউরোপ এখন ভারতীয় শিক্ষার্থীদের কাছে আমেরিকা, কানাডা এবং ব্রিটেনের বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে (Indian Students)।

     

LinkedIn
Share