Tag: USA

USA

  • US Iran War: হরমুজ অবরোধ আমেরিকার! কাদের জাহাজ আটকাবে মার্কিন সেনা? কারা ছাড় পাবে?

    US Iran War: হরমুজ অবরোধ আমেরিকার! কাদের জাহাজ আটকাবে মার্কিন সেনা? কারা ছাড় পাবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবরুদ্ধ হরমুজ। সোমবার ভারতীয় সময় অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকেই হরমুজ প্রণালীতে ‘অবরোধ’ শুরু করল আমেরিকা। তবে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে সায় দেয়নি ব্রিটেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেবেছিলেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার ইরান যুদ্ধের শুরুতেই নিঃশর্ত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন। কিন্তু স্টার্মার তাঁর আশা পূরণ করেননি। এবার ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালী অবরোধের সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করল লন্ডন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সোমবার বিকেল থেকে হরমুজ অবরোধের যে সিদ্ধান্ত ট্রাম্প নিয়েছেন, তাতে তাঁর সায় নেই, পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন ব্রিটিশ বাহিনী ইরানের বন্দর অবরোধের অভিযানে শামিল হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।

    কাদের আটাকানো হবে, কারা ছাড় পাবে

    ট্রাম্পের নির্দেশের পর আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড সমাজমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, হরমুজে অবরোধ নিরপেক্ষ ভাবে সকল দেশের উপরেই প্রয়োগ করা হবে। যে সমস্ত জাহাজ ইরানের কোনও না কোনও বন্দরে প্রবেশ করার চেষ্টা করবে বা সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করবে, সেগুলিকেই আটকানো হবে। আরব উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের ইরানি বন্দরগুলির ক্ষেত্রেও এই নির্দেশ প্রযোজ্য হবে। তবে ইরানের বন্দরের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ না-রেখে যে জাহাজগুলি হরমুজ দিয়ে যাতায়াত করবে, তাদের বাধা দেবে না মার্কিন সেনা। তাদের জলপথে যাতায়াতের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হবে না।

    ট্রাম্পের নির্দেশ

    মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, অবরোধ শুরুর আগে আনুষ্ঠানিক একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নাবিকদের বিস্তারিত তথ্য দিয়ে দেওয়া হয়। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে শুল্ক দিয়ে যে সমস্ত দেশ হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে তিনি পদক্ষেপ করবেন। সেই ভাবনা থেকেই অবরোধ শুরু করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহণের জন্য ইরানকে শুল্ক দেওয়া ‘বেআইনি’ বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকা-ইজরায়েলের বিরুদ্ধে সংঘাত শুরুর পর হরমুজের জলে যে মাইন পেতেছিল ইরানের সেনা, সেগুলিও ধ্বংস করার কাজ আমেরিকা শুরু করবে। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘যারা বেআইনি শুল্ক দেয়, তাদের কেউ নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবে না। আর আমাদের উপর ইরান থেকে কেউ যদি কোনও হামলা করে বা গুলি চালায়, শান্তিপূর্ণ ভাবে যাতায়াতকারী কোনও জাহাজের উপর যদি হামলা হয়, আমরা তাদের নরকে পাঠাব।’’

    ইরানের পাল্টা

    ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা দিয়েছে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী। বলা হয়েছে, হরমুজের দিকে কোনও সামরিক জাহাজ যদি এগিয়ে আসে, তা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসাবে ধরা হবে এবং কঠোর ভাবে তার জবাব দেওয়া হবে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ আমেরিকার উদ্দেশে বলেছেন, ‘‘তোমরা যদি যুদ্ধ করো, আমরাও করব। তোমরা যদি যুক্তি নিয়ে এগিয়ে আসো, আমরাও যুক্তি দিয়ে বিবেচনা করব।

  • US Iran War: ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকা সমঝোতা ব্যর্থ, হরমুজ প্রণালী ঘিরে বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা

    US Iran War: ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকা সমঝোতা ব্যর্থ, হরমুজ প্রণালী ঘিরে বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুরুতেই ব্যর্থ ‘ইসলামাবাদ টক্‌স’ (Islamabad Talk Collapses)। ফলে নতুন করে ইরান বনাম আমেরিকা-ইজরায়েলের যুদ্ধ (US Iran War) বাধা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশ। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ থামাতে গত ১১ এপ্রিল ‘ইসলামাবাদ টক্‌স’ আয়োজিত হয় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানে। সেখানে যোগ দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ও ইরানি পার্লামেন্টের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। বেশ কিছু ক্ষণ পর শান্তি বৈঠক থেকে বেরিয়ে দু’পক্ষই জানিয়ে দেয় যে আলোচনা ফলপ্রসু হয়নি। পরে এই নিয়ে আলাদা আলাদা করে বিবৃতি দিয়েছেন ভান্স ও গালিবাফ। সেখানে একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপাতে দেখা গিয়েছে তাঁদের।

    বৈঠক ভেঙে যাওয়ার প্রেক্ষাপট

    এই বৈঠককে গত কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর একটি বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছিল। বৈঠক শেষে ভ্যান্স স্পষ্টভাবে জানান, “ইরান আমাদের চূড়ান্ত প্রস্তাব মানতে অস্বীকার করেছে।” অন্যদিকে তেহরানের অভিযোগ—মার্কিন দাবি “অতিরিক্ত” এবং “আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী”। ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য আমেরিকার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভান্স। তা ছাড়াও ইসলামাবাদে গিয়েছিলেন বিশেষ মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেড কাশনার। ভান্স তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, ‘‘আমরা কোনও সমঝোতায় পৌঁছোতে পারিনি। এই খবর আমেরিকার চেয়ে ইরানের জন্য বেশি খারাপ। সমঝোতা ছাড়াই আমরা আমেরিকায় ফিরে যাচ্ছি। আমাদের শর্তগুলো খুব পরিষ্কার ভাবে ওঁদের জানিয়েছি, কী আমরা চাই এবং কী চাই না। যতটা সম্ভব স্পষ্ট করেই আমাদের অবস্থান জানিয়েছি। ওরা সেটা মানতে চায়নি।’ বৈঠক চলাকালীন ট্রাম্পের সঙ্গে অনবরত যোগাযোগ রেখেছিলেন ভান্সরা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, ৬ থেকে ১২ বার ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁদের ফোনে কথা হয়েছে। ট্রাম্পের বলে দেওয়া প্রস্তাবগুলিই ইরানের সামনে রেখেছিলেন ভান্স। তাতে ইরানের জবাব, তাদের অবস্থান ফোনেই ট্রাম্পকে তিনি জানান। তবে শেষ পর্যন্ত কোনও সুরাহা হল না।

    আলোচনা ভাঙার পিছনে কারণ

    ইসলামাবাদ বৈঠকের ব্যর্থতা শুধু একটি কূটনৈতিক পরাজয় নয়—এটি পুরো পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। হরমুজ প্রণালী এখন বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ‘চোকপয়েন্ট’। যুদ্ধ থামার বদলে পরিস্থিতি আরও জটিল ও অস্থির হয়ে উঠছে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়নি, কিন্তু পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। যে কোনও সময় আবার বড় আকারে হামলা শুরু হতে পারে। ইসলামাবাদে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে।

    পারমাণবিক চুক্তি

    একটি জায়গাতেই ইরান-আমেরিকা (US Iran War) আলোচনা ধাক্কা খেয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ভান্স। জানিয়েছেন, ইরানের কাছ থেকে পারমাণবিক বোমা তৈরি না-করার নিশ্চয়তা চান তাঁরা। তা মেলেনি। ভান্সের কথায়, ‘‘সহজ সত্যিটা হল, আমরা ইরানের কাছ থেকে পরমাণু বোমা তৈরি না-করার বিষয়ে একটা ইতিবাচক নিশ্চয়তা চাই। ওদের বলতে হবে যে, ওরা বোমা বানাবে না এবং পরমাণু বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা উপাদানও হাতে রাখবে না। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মূল লক্ষ্য এটাই। সেই সমঝোতাতেই আমরা পৌঁছোতে চেয়েছি। ভান্সের এই বিবৃতির পর ইরান দাবি করেছে, আমেরিকার অবাস্তব, অযৌক্তিক দাবির কারণেই পাকিস্তানে আয়োজিত বৈঠক ভেস্তে গিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ইরান যেন স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা ত্যাগ করে। কিন্তু ইরান এটিকে তার সার্বভৌম অধিকারে হস্তক্ষেপ বলে প্রত্যাখ্যান করে।

    হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ

    হরমুজ প্রণালী—বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবহনের পথ—এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। ইরান দাবি করে, তারা এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায় করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর সম্পূর্ণ বিরোধিতা করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ইঙ্গিত দেন, ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে “নৌ অবরোধ” (Naval Blockade) ব্যবহার করা হতে পারে। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে, ইরানের তেল রফতানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে—যার বড় প্রভাব পড়বে চীন ও ভারতের মতো দেশগুলিতে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ। কয়েকটি জাহাজই কেবল ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ইরানের পাতা মাইন (naval mines) বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    লেবানন ইস্যু

    ইরান চেয়েছিল লেবানন-এ হেজবোল্লাহ-র বিরুদ্ধে ইজরায়েল-এর হামলা বন্ধ হোক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল জানায়, এটি আলাদা বিষয়—এবং হামলা চলতেই থাকবে।

    বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব

    তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। সরবরাহ চেইন ব্যাহত হচ্ছে। বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে কাতার ও কুয়েত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, কারণ তারা সম্পূর্ণভাবে এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপগুলি চোখে পড়েতে পারে। বেড়ে যাবে মার্কিন নৌবাহিনীর টহল ও জাহাজ আটক-এর ঘটনা। ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোতে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা। ইরানের পক্ষ থেকে প্রক্সি যুদ্ধের বিস্তার ঘটতে পারে।

  • PM Modi’s Oil Diplomacy: মার্কিন ৩০ দিনের ছাড়ে রুশ তেল কেনা, মোদির ‘কৌশলগত তেল কূটনীতির’ সাফল্য দাবি বিজেপির

    PM Modi’s Oil Diplomacy: মার্কিন ৩০ দিনের ছাড়ে রুশ তেল কেনা, মোদির ‘কৌশলগত তেল কূটনীতির’ সাফল্য দাবি বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় রিফাইনারিগুলিকে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের অস্থায়ী ছাড় দেওয়ার ঘোষণা করেছে। মার্কিন এই ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির “কৌশলগত তেল কূটনীতির” (PM Modi’s Oil Diplomacy) বড় সাফল্য বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। শুক্রবার বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে বলেন, “যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ এগোচ্ছে, তখন রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস ভারতের কৌশলগত সংযম ও স্পষ্টতার সঙ্গে নেওয়া সিদ্ধান্ত দেখতে পারে না।”

    ৩০ দিনের অস্থায়ী ছাড়

    মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবার জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্বালানি নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তেল ও গ্যাস উৎপাদন রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। তিনি বলেন, “বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ট্রেজারি বিভাগ ভারতীয় রিফাইনারিগুলিকে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের একটি অস্থায়ী ছাড় দিচ্ছে।” বেসেন্ট আরও বলেন, “ভারত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং আমরা আশা করি নয়াদিল্লি যুক্তরাষ্ট্রের তেল কেনাও বাড়াবে। ইরানের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছে, এই সাময়িক ব্যবস্থা তা কিছুটা কমাতে সাহায্য করবে।” তিনি জানান, এই ছাড়টি ইচ্ছাকৃতভাবে স্বল্পমেয়াদি রাখা হয়েছে এবং এটি মূলত সমুদ্রে আটকে থাকা তেলের চালান সংক্রান্ত লেনদেনের অনুমতি দেয়, ফলে রাশিয়ার সরকার এতে বড় ধরনের আর্থিক লাভ পাবে না।

    কংগ্রেসের সমালোচনা

    এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে প্রদীপ ভান্ডারি বলেন, “রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস ‘তেলের ঘাটতি’ নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়িয়ে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করেছিল। এই সিদ্ধান্ত তাদের মুখে বড় ধাক্কা। ভারত ইতিমধ্যেই রাশিয়ার তেল কিনছে এবং সরবরাহে কোনও বিঘ্ন ঘটেনি।” একই সঙ্গে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের সমালোচনা করে বিজেপি বলেছে, এই সিদ্ধান্ত তাদের মুখে “ডিম ছুঁড়ে মারার” মতো। ভান্ডারি আরও দাবি করেন, ২০১৩ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরান থেকে তেল কেনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ ছাড় চেয়েছিল।

  • Rafale Jets: রাফাল নিয়ে অপপ্রচার চিনের! এআই ছবি-ভুয়ো ভিডিও ব্যবহার বেজিংয়ের, দাবি মার্কিন রিপোর্টে

    Rafale Jets: রাফাল নিয়ে অপপ্রচার চিনের! এআই ছবি-ভুয়ো ভিডিও ব্যবহার বেজিংয়ের, দাবি মার্কিন রিপোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন রাফাল যুদ্ধবিমান নিয়ে নিজেদের স্বার্থে ভুয়ো প্রচার চালিয়েছিল চিন। বিস্ফোরক রিপোর্ট প্রকাশ করে দাবি আমেরিকার। আমেরিকা-চিন অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিশনের পেশ করা রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে, এআই ব্যবহার করে এবং ভুয়ো সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলিকে কাজে লাগিয়ে রাফালে ধ্বংসের খবর ছড়িয়েছিল চিন। সঙ্গী হয় পাকিস্তানও। কিন্তু আমেরিকার রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, রাফাল নিয়ে মিথ্যা প্রচার চালিয়েছে চিন। প্রাথমিকভাবে বেজিংয়ের উদ্দেশ্য ছিল, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে রাফালের জনপ্রিয়তা কমিয়ে বিকল্প হিসেবে নতুন প্রযুক্তির চিনা জে-৩৫ যুদ্ধবিমানকে তুলে ধরা। তাই অপারেশন সিঁদুরের সময়টাকেই হাতিয়ার করে চিন।

    কেন অপপ্রচার চালায় চিন

    চলতি বছর মে মাসে অপারেশন সিঁদুর চলাকালীনই রাফাল যুদ্ধবিমান নিয়ে অপপ্রচার শুরু করে চিন। ভারত-পাক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পাকিস্তান দাবি করেছিল, ভারতীয় বায়ুসেনার অন্তত ৩টি রাফাল যুদ্ধবিমান নামিয়েছে তারা। শুরুতে পাকিস্তানের সেই দাবি নিয়ে ভারত মুখ খোলেনি। এবার জানা গেল, ভারতীয় বায়ুসেনার গর্ব রাফাল যুদ্ধবিমানের সুনাম নষ্ট করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় জঘন্য ষড়যন্ত্র করেছে চিন। সম্প্রতি ‘আমেরিকা-চিন ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিওরিটি রিভিউ কমিশন’-এর এক রিপোর্টে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, নিজেদের পঞ্চম প্রজন্মের জে-৩৫ যুদ্ধবিমানের বিক্রি বাড়াতে মরিয়া বেজিং, ভারতের রাফাল যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে মিথ্যে অপপ্রচার চালিয়েছে।

    ভুয়ো সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার

    রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় থেকেই চিন এই ‘তথ্য যুদ্ধ’ শুরু করেছিল। এআই দিয়ে তৈরি ভাঙা রাফালের ছবি গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে ভুয়ো সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছে চিন, এমনটাই দাবি আমেরিকা-চিন অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিশনের পেশ করা রিপোর্টে। ভুয়ো ছবি দেখিয়ে দাবি করা হয়, পাকিস্তানের ব্যবহার করা জে-৩৫ যুদ্ধবিমানের সামনে টিকতে পারেনি ভারতীয় রাফাল যুদ্ধবিমান। ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। আসলে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারতের সাফল্যকে খাটো করে এবং রাফালকে দুর্বল প্রমাণ করে ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলির কাছে নিজেদের যুদ্ধবিমান বেচতে চেয়েছিল শি জিনপিংয়ের দেশ। আমেরিকার রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, বিনা উস্কানিতে পাকিস্তানের হামলার পরে ভারত যখন তার যোগ্য জবাব দিচ্ছিল, তখন নেপথ্যে থেকে পাকিস্তানের হয়ে এই ডিজিটাল যুদ্ধ চালায় চিন। এমনকি এই সুযোগে পাকিস্তানের কাছে ৪০টি জে-৩৫ বিমান বিক্রির প্রস্তাবও দেয় তারা।

    ফ্রান্সের সংস্থার দাবি

    চিনের এই হীন চক্রান্ত ফাঁস হতেই আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাফাল প্রস্তুতকারী ফরাসি সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশনের কর্তারা বলছেন, অপারেশন সিঁদুরের পর বিভিন্ন দেশে গিয়ে রাফাল সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে চিন ও পাকিস্তান। ওই দেশগুলি যাতে রাফাল না কেনে সেটা নিশ্চিত করতে চাইছে ওই দুই দেশ। তাদের মূল উদ্দেশ্য, রাফাল যুদ্ধবিমানের ‘সুখ্যাতি’ নষ্ট করা। ফ্রান্সের শীর্ষকর্তারা দাবি করেছেন, রাফাল নিয়ে পাকিস্তানের দাবি সত্যি নয়। রাফাল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ফ্রান্স দাবি করে, তাদের যুদ্ধবিমান নিখুঁত। রাফালের বিরুদ্ধে ভুয়ো প্রচার অভিযান চলছে এবং ফরাসি আধিকারিকেরা তার মোকাবিলার চেষ্টা করছেন, দাবি করেছিল সে দেশের সরকার। সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ফরাসি গোয়েন্দা সূত্র উল্লেখ করে একটি রিপোর্টে জানিয়েছিল, রাফাল যুদ্ধবিমানের বিক্রি কমানোর জন্য চিনের মদতে এই ধরনের প্রচার চলছে। এ বার মার্কিন রিপোর্টও একই দাবি জানাল। রাফাল নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ফ্রান্সের একটি চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। ভারত-পাক সংঘাতের পর সেই চুক্তি স্থগিত হয়ে যায়। রাফাল জেটের কার্যক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান হয়ে ওঠে ইন্দোনেশিয়া সরকার। মার্কিন রিপোর্টে দাবি, এতেও চিনের হস্তক্ষেপ রয়েছে। পাকিস্তান চিনের তৈরি জে-৩৫ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে। ২০২৫ সালের জুন মাসে পাকিস্তানের কাছে আরও ৪০টি জে-৩৫ যুদ্ধবিমান, কেজে-৫০০ বিমান এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে চিন। প্রায় একইসঙ্গে পাকিস্তান প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দও বৃদ্ধি করেছে।

    দেশের ভিতরে অপপ্রচার

    বিজেপি নেতা অমিত মালব্য এই রিপোর্টের প্রেক্ষিতে প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতের ভিতরে কারা সেদিন চিনের এই মিথ্যা আখ্যানের পালে হাওয়া দিয়েছিল? কারা কয়টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে জানতে চেয়েছিল? তিনি কারও নাম করেননি, তবে তিনি যে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর কথাই বলতে চেয়েছেন, তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। অপারেশন সিঁদুরে ভারতের কাছে বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, আকাশ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, ব্রহ্মস মিসাইল, রাফাল যুদ্ধবিমানের মতো অস্ত্রের সামনে পাকিস্তানের হাল খারাপ হয়ে গিয়েছিল। আর সেই পরিস্থিতিতে নিজেদের মুখ বাঁচাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যে এবং ভুয়ো দাবি করছিল পাকিস্তান। ইসলামাবাদ দাবি করছিল যে ভারতের নাকি যুদ্ধবিমান গুলি করে নামিয়েছে। প্রমাণ হিসেবে দাবি করছিল যে “সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই দাবি ঘুরে বেড়াচ্ছে।” তারই মধ্যে এখন মার্কিন কংগ্রেসের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, রাফাল ধ্বংস করার যে দাবি করছিল পাকিস্তান, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও জাল ছিল। এর পিছনে চিনের একটি বড় ষড়যন্ত্র ছিল। মার্কিন কমিশন এটিকে চিনের ব্যাপক ‘গ্রে জোন কৌশল’-র অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে, যেখানে সরাসরি সামরিক সংঘাত ছাড়াই ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন করা হয়।

  • PM Modi: রাষ্ট্রসংঘের সভায় যোগ দিতে আমেরিকা যাবেন না মোদি! সুকৌশলে কি বার্তা ট্রাম্পকে?

    PM Modi: রাষ্ট্রসংঘের সভায় যোগ দিতে আমেরিকা যাবেন না মোদি! সুকৌশলে কি বার্তা ট্রাম্পকে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুচিন্তিত পদক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi)। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে (UNGA Session) যোগ দেবেন না প্রধানমন্ত্রী। তাঁর পরিবর্তে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ভাষণ দেবেন। এর আগে ঠিক ছিল, ২৬ সেপ্টেম্বর মোদি ভাষণ দেবেন। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাঁর পরিবর্তে বিদেশমন্ত্রী ভাষণ দেবেন ২৭ সেপ্টেম্বর। মার্কিন শুল্ক নিয়ে দ্বন্দ্বের মাঝে সুপরিকল্পিত ভাবে আমেরিকা সফর এড়িয়ে গেলন প্রধানমন্ত্রী মোদি এমনই অনুমান রাজনৈতিক মহলের।

    কেন গেলেন না মোদি

    প্রথমত, এই সময় মার্কিন সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরর সঙ্গে সাক্ষাৎ না করে বেরিয়ে এলে, তা সরাসরি বিরোধ বা সংঘাতের সামিল হত। যা ভারত এখনও পর্যন্ত এড়িয়ে গিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা কোনও মন্তব্যের প্রকাশ্যে প্রত্যাঘাতের পথে হাঁটেনি ভারত। পাল্টা শুল্ক চাপায়নি। শুধু চুপ করে বসে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে দিল্লি। ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা হলে করমর্দন করতে হত, সৌজন্যতা বজায়ের জন্য সেই কাজ করলে জনমানসে ভুল বার্তা যেত। বিশেষ করে, ট্রাম্প যখন ‘‘চিন রাশিয়ার কাছে ভারতকে হারিয়ে ফেলেছি’’ বলে দাবি করে বসেছেন। দ্বিতীয়ত, হতেই পারে, মোদি আমেরিকা যাচ্ছেন শুনে ট্রাম্প আগবাড়িয়ে আচমকা ঘোষণা করে বসলেন। বলে দিতেই পারেন যে, মোদির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তাঁরা দেখা করতে চলেছেন। মোদি রাজি হয়েছেন এরকম নানা কথা। এমনকি বৈঠকের দিনক্ষণ জায়গাও প্রকাশ করে ফেলতে পারতেন। কারণ অতীতে এমন অনেক কিছুই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ বন্ধে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথা বারবার দাবি করেছেন ট্রাম্প, যা আদতে মিথ্যে বলে দাবি করেছে ভারত।

    শেষ কবে রাষ্ট্রসংঘে মোদি

    জুলাই মাসে প্রকাশিত তালিকায় জানা গিয়েছিল চিন, পাকিস্তান, বাংলাদেশের প্রশাসনিক প্রধানদের সঙ্গে ২৩ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে চলা রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। কিন্তু এবার জানা গেল, মোদির পরিবর্ত হিসেবে জয়শঙ্করের কথা। প্রসঙ্গত, এবারের অধিবেশনে প্রথম বক্তব্য রাখার কথা ব্রাজিলের। এরপরই আমেরিকার প্রতিনিধি হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভাষণ দেবেন। ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের পর এটাই রাষ্ট্রসংঘে তাঁর অধিবেশন। নিউ ইয়র্কে হতে চলা ওই অধিবেশনে ট্রাম্প কী বলবেন, সেদিকে কড়া নজর থাকবে নয়াদিল্লির। তথ্য বলছে, শেষবার ২০২১ সালে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় গিয়েছিলেন মোদি। গত বছর রাষ্ট্রসংঘের হেডকোয়ার্টারেও তিনি যান। তবে সভায় যোগ দেননি। তারপর ২০২২ সাল থেকেই রাষ্ট্রসংঘের ডিবেটে ভারতের হয়ে ময়দানে নেমেছেন এস জয়শংকর। শুক্রবারই রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার উচ্চ পর্যায়ের ডিবেটে স্পিকারদের নাম প্রকাশ্যে আসে। সেখানে লেখা রয়েছে ভারতের তরফে এক ‘মন্ত্রী’ সেখানে যো দেবেন। জানা যাচ্ছে, ২৭ সেপ্টেম্বর, যেদিন দেশে দুর্গাপুজোর পঞ্চমী পালিত হবে, সেদিন রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখবেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর।

    এক ঢিলে দুই পাখি

    শুল্কযুদ্ধের আবহে ট্রাম্পের নানা বক্তব্যে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের বিবিধ টানাপোড়েন সামনে এসেছে। সম্প্রতি এসসিও বৈঠকে মোদিকে পুতিন ও জিনপিংয়ের পাশে দেখে ট্রাম্প সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছে রাশিয়া ও ভারতকে অন্ধকার চিনের কাছে হারিয়ে ফেলেছি।’ বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ‘এই পোস্ট নিয়ে কিছু বলার নেই এখনও পর্যন্ত।’ এর আগে প্রাক্তন মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন বলেছেন, ট্রাম্প ও মোদির সম্পর্ক শেষ হয়ে গিয়েছে। এবার ফের ট্রাম্পকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুলতে দেখা গিয়েছে। পরে ট্রাম্প ব্যাখ্যা করে বলেছেন, তাঁর এই ধরনের মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর হতাশা। এই আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন মুলুকে পা রাখলে নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। মার্কিন কূটনীতির কারবারিরা মোদি-ট্রাম্পকে পাশাপাশি বসিয়ে আলোচনার চেষ্টা করবেন। তখন প্রধানমন্ত্রী মোদির সামনে একটা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব-অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। মোদি সুকৌশলে সেই রাস্তাই বন্ধ করে দিলেন। একই সঙ্গে এক ঢিলে দুই পাখি মারল দিল্লি। এক, ট্রাম্পের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা এড়ানো গেল। দুই, ট্রাম্পকে ঘুরিয়ে বার্তা দেওয়া হল যে, ভারত মাথা নত করবে না।

  • India: গত জুলাই মাসে ইউক্রেনে সবচেয়ে বেশি ডিজেল রফতানি করেছে ভারত, উঠে এল রিপোর্টে

    India: গত জুলাই মাসে ইউক্রেনে সবচেয়ে বেশি ডিজেল রফতানি করেছে ভারত, উঠে এল রিপোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে জুলাই মাসে সর্বাধিক ডিজেল সরবরাহ করেছে ভারত (India)। ইউক্রেনের সংস্থা নাফতোরাইনক–এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ওই মাসে ইউক্রেন যে পরিমাণ ডিজেল আমদানি করেছে, তার ১৫.৫ শতাংশই এসেছে ভারতের থেকে। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গড়ে প্রতিদিন ২,৭০০ টন ডিজেল ভারত থেকে বিভিন্ন রুট ধরে পৌঁছেছে ইউক্রেনে। এক বছরের ব্যবধানে এ হারে ভারতের ডিজেল সরবরাহে বিপুল বৃদ্ধি দেখা গেছে।

    বিভিন্ন রুটে ইউক্রেনে (Ukraine) পৌঁছেছে ভারতের ডিজেল

    ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইউক্রেনে (Ukraine) ডিজেল রফতানিতে ভারতের (India) অংশীদারিত্ব ছিল মাত্র ১.৯ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে সেই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০.২ শতাংশে, অর্থাৎ মাত্র এক বছরে প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে ভারতের ডিজেল রফতানি। ভারতে পরিশোধিত ডিজেল মূলত রোমানিয়া ও তুরস্কের মাধ্যমে ইউক্রেনে প্রবেশ করেছে। রোমানিয়া থেকে পৌঁছেছে ট্যাঙ্কার-এর মাধ্যমে এবং তুরস্কের মারমারা এরিগলিসি বন্দর থেকে রফতানি হয়ে ইউরোপের এই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে পৌঁছেছে জ্বালানি।দেখা যাচ্ছে ওই মাসে স্লোভাকিয়া থেকে ইউক্রেন ডিজেল আমদানি করেছে ১৫ শতাংশ, গ্রীস থেকে ১৩.৫ শতাংশ, তুরস্ক থেকে ১২.৪ শতাংশ, লিথুয়ানিয়া থেকে ১১.৪ শতাংশ, অন্যান্য দেশ থেকে ৩২.২ শতাংশ।

    কেন এই ঘটনা এত তাৎপর্যপূর্ণ?

    ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসন একাধিকবার ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরোক্ষ মদতদাতা হিসেবে ভারত কাজ করছে। রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখায় ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের উপর চাপ বাড়িয়েছে (India)। রাশিয়া থেকে তেল কেনার জেরে ভারতীয় পণ্যে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা এর ফলে আমেরিকায় রফতানি হওয়া ভারতীয় পণ্যে মোট শুল্ক দাঁড়াচ্ছে ৫০ শতাংশে। এই আবহে ইউক্রেনের ডিজেল আমদানিতে ভারতের অংশীদারিত্বের এই বৃদ্ধি শুধু বাণিজ্যিক সাফল্য নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা। পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কে চাপ থাকলেও, ভারত ইউক্রেনের সর্ববৃহৎ ডিজেল সরবরাহকারী হিসেবে উঠে এসেছে — যা বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

  • Indian Economy: বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হবে ভারত! ২০৩৮ সালের মধ্যে উত্থান, দাবি রিপোর্টে

    Indian Economy: বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হবে ভারত! ২০৩৮ সালের মধ্যে উত্থান, দাবি রিপোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে (Indian Economy) পরিণত হতে পারে ভারত। ‘আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং’ (ইওয়াই) নামে একটি বেসরকারি সংস্থার রিপোর্টে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। ট্রাম্প (Donald Trump) বলেছিলেন ‘ডেড ইকোনমি’ (Dead Economy), সেই ভারতের অর্থনীতি নিয়ে এবার বড় দাবি করল ‘আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং’। তাদের দাবি, ২০৩৮ সালের মধ্যে ভারতের অর্থনীতির মোট মূল্য হবে ৩৪.২০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    ভারতের শক্তি কী

    সংস্থার প্রধান নীতি উপদেষ্টা ডি কে শ্রীবাস্তব বলেন, “ভারতের শক্তি হল, তার তরুণ এবং দক্ষ কর্মী এবং শক্তিশালী সঞ্চয় ও বিনিয়োগের হার। গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগুলিতে স্থিতিস্থাপকতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে, ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশ বিকশিত ভারত হওয়ার যে লক্ষ্যে তার অনেক কাছে পৌঁছে যাবে।” সংস্থার রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, উচ্চ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের হার এবং ক্রমহ্রাসমান সরকারি ঋণের কারণে আগামী ১৩ বছরের মধ্যে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে (Indian Economy) খুব সহজেই পৌঁছতে পারে। এই মুহূর্তে ভারতের অর্থনীতির মোট মূল্য ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার পেরিয়ে গিয়েছে। বৃহত্তম অর্থনীতির তালিকায় জাপানকে টপক ভারত এখন চতুর্থ স্থানে। একমাত্র আমেরিকা, চিন এবং জার্মানিই ভারতের চেয়ে এগিয়ে।

    কতটা এগোবে ভারত

    ‘আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং’-এর রিপোর্ট আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) অনুমানের উপর ভিত্তি করে তৈরি। ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি হল এর জনসংখ্যা। ২০২৫ সালে ভারতের গড় বয়স মাত্র ২৮.৮ বছর। সঞ্চয় হারের দিক থেকেও ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে (Indian Economy) রয়েছে। সরকারের ঋণ-জিডিপি অনুপাত ২০২৪ সালে ৮১.৩ শতাংশ থেকে কমে ২০৩০ সালের মধ্যে ৭৫.৮ শতাংশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে তার সমকক্ষ দেশগুলিতে ঋণের মাত্রা বাড়ছে। আইএমএফের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের অর্থনীতি ২০.৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

    ভারতের এই উত্থানের কারণ

    ভারতীয় অর্থনীতির (Indian Economy) এ-হেন উত্থানের নেপথ্যে একাধিক যুক্তি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সমীক্ষক সংস্থা। তাদের দাবি, বর্তমানে এ দেশের জনগণের গড় বয়স ২৮.৮ বছরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই অবস্থায় আমজনতার আর্থিক সঞ্চয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে লগ্নি করছেন তাঁরা, যা দেশের আর্থিক বৃদ্ধির সূচককে ক্রমশ উপরের দিকে উঠতে সাহায্য করছে। দ্বিতীয়ত, গত কয়েক বছরে সরকারি ঋণ এবং মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপির (গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট) অনুপাত বেশ অনেকটাই কমেছে। গত বছর (পড়ুন ২০২৪) এই সূচক দাঁড়িয়েছিল ৮১.৩ শতাংশে। ২০৩০ সালের মধ্যে সেটা ৭৫.৮ শতাংশে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ‘ইওয়াই ইকোনমিক’। এর জেরে আর্থিক শক্তির নিরিখে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশে পরিণত হওয়া ভারতের পক্ষে সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ‘অগস্ট-২০২৫’ শীর্ষক আর্থিক রিপোর্টে ‘আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডার’ বা আইএমএফ-কে (IMF) উদ্ধৃত করেছে সংশ্লিষ্ট সমীক্ষক সংস্থা। সেখানে বলা হয়েছে, ২০২৮-’৩০ সালের মধ্যে ভারত ও আমেরিকার আর্থিক বৃদ্ধির হার যদি ৬.৫ এবং ২.১ শতাংশে স্থির থাকে, তা হলে ২০৩৮ সালের মধ্যে ক্রয়ক্ষমতার নিরিখে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাপিয়ে যাবে নয়াদিল্লি। অর্থাৎ, পিপিপি-র (পড়ুন পারচেজ়িং পাওয়ার প্যারিটি) দিক দিয়ে একে উঠে আসবে ভারত।

  • Droupadi Murmu: কাছাকাছি ভারত-চিন! মার্চে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ‘গোপন’ চিঠি লেখেন চিনা প্রেসিডেন্ট

    Droupadi Murmu: কাছাকাছি ভারত-চিন! মার্চে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে ‘গোপন’ চিঠি লেখেন চিনা প্রেসিডেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি বছরের মার্চ মাসে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে (Droupadi Murmu) একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চিঠির মাধ্যমে ভারত-চিন সম্পর্ক নতুন করে কোন পথে এগোতে পারে, তার সম্ভাবনা যাচাই করতে চেয়েছিল বেজিং। ভারতের এক শীর্ষ প্রশাসনিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।

    চিঠি পৌঁছায় মোদির হাতে

    প্রতিবেদন অনুসারে, রাষ্ট্রপতির দফতকে (Droupadi Murmu) পাঠানো সেই চিঠি পরে পৌঁছে যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে। তার কয়েক মাসের মধ্যেই, জুন মাসে, ভারত-চিন সীমান্ত সংঘাতের উত্তাপ কিছুটা কমে আসে এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগে নামে উভয় দেশ। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সম্প্রীতির পিছনে বড় একটি ভূমিকায় ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসনের শুল্কনীতি।

    শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে ভারত ও চিনের একসঙ্গে কাজ করা উচিত

    চিনের বার্তা ছিল স্পষ্ট (Droupadi Murmu)— যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে ভারত ও চিনের একসঙ্গে কাজ করা উচিত, কারণ এই দুই দেশেরই সামনে অভিন্ন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ দাঁড় করিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সেই বার্তাই পরোক্ষভাবে তুলে ধরা হয়েছে শি জিনপিংয়ের (Chinese President) চিঠিতে। চিঠি প্রকাশ্যে আসার কিছুদিন পরেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর সম্মেলনে যোগ দিতে চিন সফরে যান। প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, সম্মেলনের পাশাপাশি মোদির সঙ্গে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেরও পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা রবিবার অনুষ্ঠিত হতে পারে।

    ভারতের ওপর শুল্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আমেরিকার বিরোধী দল

    মার্চ থেকে অগাস্ট— এই কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক কূটনীতির পরিমণ্ডলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে। রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির কারণে ভারতের পণ্যের উপর প্রায় ৫০ শতাংশ আমেরিকান শুল্ক চাপানো হয়, যা মোদি প্রশাসনের জন্য চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, চিন (Chinese President) রাশিয়া থেকে ভারতের তুলনায় অনেক বেশি তেল আমদানি করলেও, তাদের বিরুদ্ধে এখনও কোনো শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেনি ট্রাম্প প্রশাসন। এই বৈষম্য নিয়ে আমেরিকার বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে। কারণ, গত দুই দশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চিনের প্রভাব ঠেকাতে ভারতকে কৌশলগতভাবে পাশে চেয়েছিল আমেরিকা। এখন সেই ভারতই যদি বাণিজ্য নীতিতে কোণঠাসা হয়, তা হলে সেই কৌশলগত বোঝাপড়ার ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

    চিন তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আমেরিকার ‘দাদাগিরি’র বিরোধিতা করে আসছে

    চিন বারবার তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আমেরিকার ‘দাদাগিরি’র বিরোধিতা করে আসছে। ভারতও একইসঙ্গে বিশ্ব কূটনীতিতে নিজস্ব ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। এই প্রেক্ষাপটে, দু’দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু করা, কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় শুরু করা এবং সীমান্ত সংক্রান্ত দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলির সমাধানে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মতো বিষয়গুলিতে সাম্প্রতিক সময়ে অগ্রগতি হয়েছে। কয়েক দিন আগেই চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই ভারতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্জীবিত করতে চাইছে এবং এর পেছনে তাদের স্পষ্ট ও কৌশলগত স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে।

  • India Post: শুল্ক-সংঘাতের আবহে কড়া পদক্ষেপ ভারতের, বিধিনিষেধ জারি আমেরিকায় পাঠানো চিঠি-পার্সেলের ক্ষেত্রে

    India Post: শুল্ক-সংঘাতের আবহে কড়া পদক্ষেপ ভারতের, বিধিনিষেধ জারি আমেরিকায় পাঠানো চিঠি-পার্সেলের ক্ষেত্রে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ট্রাম্পের শুল্ক-সংঘাতের (USA Mail) জেরে এবার মোক্ষম অস্ত্র প্রয়োগ করল নরেন্দ্র মোদির ভারত। আমেরিকায় কোনও চিঠি বা পার্সেল পাঠানোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করল ভারতীয় ডাক বিভাগ (India Post)। চলতি মাসের শেষ থেকেই কার্যকর হচ্ছে নয়া এই নিয়ম। কয়েকটি ক্ষেত্রে অবশ্য ছাড় দেওয়া হয়েছে।

    কী বলছে ডাক বিভাগ? (India Post)

    ডাক বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ২৯ অগাস্ট থেকে আমেরিকায় পাঠানো সব ডাক পণ্যে তাদের মূল্যের ভিত্তিতে শুল্ক আরোপ করা হবে। সেই শুল্ক নির্ধারণ করা হবে আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক শক্তি আইনের অধীনে। তাতে বলা হয়েছে, কেবলমাত্র ১০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের উপহার সামগ্রী থাকবে শুল্কমুক্ত। গত ৩০ জুলাই একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তাতে বলা হয়, ৮০০ মার্কিন ডলার মূল্য পর্যন্ত কোনও সামগ্রী আমেরিকার বাইরে পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনও শুল্ক গুণতে হত না। তবে এবার সেই নিয়ম পাল্টে যাচ্ছে। শুল্কমুক্ত পরিষেবা স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওই নির্দেশিকায় বলা হয়, ২৯ অগাস্ট থেকে আমেরিকায় যত ভারতীয় পণ্য ঢুকবে, সবের ওপর ইন্টারন্যাশনাল এমার্জেন্সি ইকনমিক পাওয়ার অ্যাক্টের আওতায় শুল্ক চাপবে। কেবলমাত্র ১০০ মার্কিন ডলার মূল্যের জিনিসপত্রই শুল্কমুক্ত থাকবে। নয়া নির্দেশিকায় বলা হয়, আমেরিকার শুল্ক বিভাগ ও সীমান্তরক্ষা বিভাগের অনুমোদনপ্রাপ্ত কোনও ‘যোগ্য পক্ষ’ই শুল্ক আদায় করতে বা তা কমাতে পারবে। কিন্তু এই যোগ্য পক্ষ কারা, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি ওই নির্দেশিকায়। কী প্রক্রিয়ায় শুল্ক নেওয়া হবে, তা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। এ সবের প্রেক্ষিতেই পদক্ষেপ করে ভারত।

    ভারতীয় ডাক বিভাগের খবর

    জানা গিয়েছে, ভারতীয় ডাক বিভাগ ২৯ অগাস্ট থেকে পরিষেবা স্থগিতের কথা জানালেও, সোমবার ২৫ অগাস্টের পর থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনও চিঠি বা সামগ্রীর বুকিং হবে না। বিমান সংস্থাগুলি জানিয়েছে, ২৫ অগাস্টের পরে তারা আমেরিকায় আর কোনও পার্সেল নিয়ে যেতে পারবে না। জানা গিয়েছে, সেই কারণেই ভারতীয় ডাক বিভাগ আমেরিকার জন্য সব রকমের সামগ্রীর বুকিং স্থগিত রাখছে (USA Mail)। সম্প্রতি আমেরিকা শুল্কনীতিতে বড়সড় পরিবর্তন করেছে। এটি কার্যকর হওয়ার কথা চলতি মাসের শেষের দিক থেকে। এহেন আবহে ভারতও (India Post) আমেরিকার সঙ্গে আপাতত ডাক যোগাযোগ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    বুকিং ফি ফেরত

    ডাক বিভাগ সূত্রে খবর, যেসব উপভোক্তা ইতিমধ্যেই আমেরিকায় পার্সেল পাঠানোর জন্য বুকিং করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হচ্ছে নয়া নিয়ম। ওই সব উপভোক্তার পার্সেল পাঠানো যাবে না বলেই জানিয়েছে ডাক বিভাগ। তবে বুকিং বাবদ তাঁদের যা খরচ হয়েছে, তা ফেরত দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে ডাক বিভাগের তরফে জারি করা বিবৃতিতে। ডাক বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব আমেরিকায় পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে (USA Mail)।

    শুল্ক-সংঘাত

    শুল্ক-সংঘাতের জেরে সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে ভারত ও আমেরিকার। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে দিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহেও মস্কো থেকে নিয়মিত অপরিশোধিত তেল কিনে চলেছে ভারত। তাই শাস্তিস্বরূপ দু’দফায় ভারতের ওপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করছেন ‘হাউডি মোদি’র আয়োজক তথা ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ, ২৫ অগাস্ট থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা নয়া ওই শুল্ক হার। সেই প্রেক্ষিতেই আপাতত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডাক পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ডাক বিভাগ। ভারতীয় ডাক বিভাগের (India Post) তরফে জানানো হয়েছে, মার্কিন নয়া শুল্কনীতির জেরে আপাতত ডাক পরিষেবা বন্ধ থাকলেও, চিঠি, নথি এবং ১০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের উপহার পাঠানো যাবে আমেরিকায়। ডাক বিভাগের তরফে আরও জানানো হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ ও সে দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা বিভাগের তরফে কিছু জানানো হলে, সে ব্যাপারে সকলকে অবহিত করা হবে।

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্ত

    এদিকে, কেবল ভারত নয়, আমেরিকায় ডাক পরিষেবা স্থগিত করেছে ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি, সুইডেন এবং বেলজিয়ামের মতো দেশগুলিও। ব্রিটেনের রয়্যাল মেইলও জানিয়েছে, তারাও ২৫ অগাস্ট থেকে আমেরিকায় চালান পাঠানো বন্ধ করবে। এই দেরি হওয়ার কারণ হল, নয়া শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগে পৌঁছনো পার্সেলগুলির জন্য কিছুটা সময় দেওয়া। নর্ডিক লজিস্টিকস কোম্পানি পোস্টনর্ড ও ইতালির ডাক বিভাগ ঘোষণা করেছে, ৩০ অগাস্ট থেকে একই ধরনের (USA Mail) স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে। পোস্টইউরোপ (৫১টি ইউরোপীয় সরকারি ডাক সংস্থার সমিতি) জানিয়েছে, যদি ২৯ অগাস্টের মধ্যে কোনও সমাধান সূত্র না মেলে, তবে এর সব সদস্যই সম্ভবত একই পদক্ষেপ করবে (India Post)।

  • Russia: শুল্ক যুদ্ধে আমেরিকাকে কড়া জবাব! রাশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যের পথে ভারত

    Russia: শুল্ক যুদ্ধে আমেরিকাকে কড়া জবাব! রাশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যের পথে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ট্রাম্পের শুল্ক হুঁশিয়ারির পরে ভারত–রাশিয়া বাণিজ্য যেন আরও বাড়ছে (Russia)। কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, মূলত আমদানি হচ্ছে — অর্থাৎ ভারত কিনছে (Free Trade), অথচ ভারত থেকে সে অর্থে রফতানি হচ্ছে না। ফলে বাণিজ্য অনুপাতে একটি ভারসাম্যহীনতা রয়েছে, যা নিয়ে কথা বলাই যায়। এই ভারসাম্যহীনতা নিরসনের জন্য মস্কোতে ‘মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’র ওপর জোর দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি রাশিয়ান সংস্থাগুলির কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা ভারত থেকে পণ্য ও পরিষেবা কেনে।

    কী বললেন জয়শঙ্কর?

    রাশিয়ার (Russia) প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মান্টুরভ-এর সঙ্গে মস্কোতে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেন জয়শঙ্কর। সেখানেই তিনি বলেন, দুই দেশকেই বাণিজ্যে আরও বৈচিত্র্য আনতে হবে এবং নিজেদের উদ্যোগগুলি সম্প্রসারিত করতে হবে। স্পষ্ট ভাষায় জয়শঙ্কর বলেন, “শুল্ক এবং অন্য বাধার অপরাসণে সরবরাহ সহজ করতে হবে। আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহণ করিডর, উত্তর সমুদ্রপথ এবং চেন্নাই-ভ্লাদিভোস্তক করিডরের মাধ্যমে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি উভয় সংস্থাগুলির আর্থিক বিনিময় মসৃণ করতে হবে।” নিজের বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “আমাদের আরও বেশি করে নিজেদের মধ্যে ব্যবসা বাড়াতে হবে।”

    মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (Free Trade) শর্তাবলী চূড়ান্ত করেছে রাশিয়া

    প্রসঙ্গত, বিদেশমন্ত্রী এ দিনই নিশ্চিত করেছেন যে, মস্কোতে তাঁর এই বৈঠকের সময় রাশিয়ার (Russia) কর্তৃপক্ষ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির শর্তাবলী চূড়ান্ত করেছে। এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। রাশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হলে, আমেরিকাকে কূটনৈতিকভাবে আরও জোরালো জবাব দেওয়া যাবে এবং ভারতের বহু পণ্য ও পরিষেবা রাশিয়াতে রফতানি করা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য যে, বিগত চার বছরে ভারত–রাশিয়া বাণিজ্য পাঁচ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বাণিজ্যিক সম্পর্কই চক্ষুশূল হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই কারণেই তিনি ভারতের উপর শুল্ক বাড়িয়েছেন।

    বাণিজ্য ৭০০ শতাংশ বেড়েছে (Russia)

    ২০২১ সালে বাণিজ্য ছিল ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২৪ অর্থবর্ষে ভারত–রাশিয়া বাণিজ্য দাঁড়িয়েছে ৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রাশিয়া থেকে ভারত মূলত হাইড্রোকার্বন আমদানি করে। নয়া দিল্লিতে রাশিয়ান দূতাবাস জানিয়েছে, বিগত পাঁচ বছরে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ৭০০ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই একটি বড় ভারসাম্যহীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা জয়শঙ্কর উল্লেখ করেছেন — রাশিয়া থেকে কেবল আমদানি হচ্ছে, কিন্তু রফতানি বাড়ছে না। তাই জয়শঙ্কর বলেন, ভারতীয় পণ্য ও পরিষেবার রফতানির জন্য মস্কোকে তাদের বাজার আরও বিস্তৃত করতে হবে। পরবর্তীকালে ভারত–রাশিয়া ব্যবসায়িক ফোরাম-এ তিনি বলেন, “ভারতীয় অংশীদারদের সঙ্গে আপনারা বিনিয়োগ করুন এবং নতুনভাবে কাজ শুরু করুন। কারণ, এভাবেই একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠবে।”

    শুল্ক চাপানো অনৈতিক, বললেন রাশিয়ার ডেপুটি চিফ অফ মিশন রোমান বাবুশকিন

    অন্যদিকে, ভারতের উপর যে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাকে ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘একতরফা’ বলে উল্লেখ করেন রাশিয়ার ডেপুটি চিফ অফ মিশন রোমান বাবুশকিন (Russia)। তিনি বলেন, “আমেরিকার বাজারে ঢুকতে সমস্যা হলে, রাশিয়া ভারতকে রফতাবিতে স্বাগত জানাচ্ছে। যারা নিষেধাজ্ঞা চাপাচ্ছে, তাদেরই ক্ষতি হচ্ছে। ভারতের জন্য পরিস্থিতি কঠিন। কিন্তু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর আস্থা আছে আমাদের। জ্বালানি ক্ষেত্রে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সহযোগিতা বজায় থাকবে বলে আত্মবিশ্বাসী আমরা।”

LinkedIn
Share