Tag: Username Feature

  • WhatsApp Username Feature: গোপনীয়তায় গুরুত্ব! হোয়াটসঅ্যাপে ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে বিতর্ক, প্রতারণার আশঙ্কায় উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের

    WhatsApp Username Feature: গোপনীয়তায় গুরুত্ব! হোয়াটসঅ্যাপে ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে বিতর্ক, প্রতারণার আশঙ্কায় উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জনপ্রিয় ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ ধাপে ধাপে বিশ্বজুড়ে তাদের বহু প্রতীক্ষিত ‘ইউজারনেম’ (Username) ফিচার চালু করছে। মেটা-অধীন এই সংস্থার দাবি, নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা আর নিজের মোবাইল নম্বর শেয়ার না করেও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। তবে ফিচারটি আনুষ্ঠানিকভাবে সবার জন্য চালু হওয়ার আগেই এটি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিশেষ করে ভারতে প্রতারণা, পরিচয় জালিয়াতি এবং গোপনীয়তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞেরা।

    দ্রুত ইউজারনেম সংরক্ষণ

    হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, প্রত্যেক ব্যবহারকারী একটি স্বতন্ত্র ইউজারনেম বেছে নিতে পারবেন। প্রয়োজনে সেই ইউজারনেম পরিবর্তন বা সম্পূর্ণ মুছেও ফেলা যাবে। সংস্থার দাবি, বর্তমানে তাদের প্ল্যাটফর্মে তিনশো কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে। ফলে পছন্দের ইউজারনেম অন্য কেউ নিয়ে নেওয়ার আগে দ্রুত সেটি সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সংস্থার নতুন সিইও কুনাল শাহও ইতিমধ্যেই নিজের ইউজারনেম সংরক্ষণ করেছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ তিনি লেখেন, “সঠিক সময়টাই সবকিছু। ফিচারটি সবার জন্য চালু হওয়ার আগেই আমি আমার ইউজারনেম নিশ্চিত করেছি। আপনিও দ্রুত নিজেরটি সংরক্ষণ করুন।”

    সুবিধার পাশাপাশি বাড়ছে উদ্বেগ

    হোয়াটসঅ্যাপের দাবি, এই ফিচারের মূল লক্ষ্য ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরের গোপনীয়তা আরও শক্তিশালী করা। তবে সমালোচকদের মতে, এই সুবিধাই আবার প্রতারকদের জন্য নতুন অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে জনপরিচিত ব্যক্তিদের নামের সঙ্গে মিল রেখে ভুয়ো ইউজারনেম তৈরি করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা, ভুয়ো বিনিয়োগ প্রকল্পে যুক্ত করা কিংবা প্রতারণামূলক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আমন্ত্রণ জানানোর আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

    অনকুর ওয়ারিকুর কড়া সতর্কবার্তা

    উদ্যোক্তা ও জনপ্রিয় মোটিভেশনাল স্পিকার অনকুর ওয়ারিকু এই ফিচার নিয়ে সরব হয়েছেন। এক্স-এ তিনি লিখেছেন, ভারতে যদি যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অপব্যবহার রোধের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে এই ফিচার বড় ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, “ভারতের মতো দেশে সঠিক অ্যান্টি-অ্যাবিউজ সিস্টেম ছাড়া এই ফিচার বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। প্রতারকরা খুব সহজেই জনপরিচিত ব্যক্তিদের মতো দেখতে ইউজারনেম তৈরি করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারবে।” ওয়ারিকু আরও দাবি করেন, অতীতে তাঁর মুখ ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি ভুয়ো বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মানুষকে বিনিয়োগ সংক্রান্ত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে টানার ঘটনা ঘটেছে। সেই কারণে তিনি মেটার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইও করেছেন। তাঁর কথায়, “আমি নিজে দেখেছি এই ধরনের প্রতারণা কত বড় আকার ধারণ করেছে এবং আমাদের দেশে কত সহজে তা পরিচালিত হয়। তাই একজন জনপরিচিত ব্যক্তি হিসেবে এই ফিচার নিয়ে আমার উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।”

    সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

    ওয়ারিকুর পোস্টের পর বহু ব্যবহারকারী একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, আদৌ হোয়াটসঅ্যাপে ইউজারনেম ফিচারের প্রয়োজন ছিল কি না। একজন ব্যবহারকারী লেখেন, “হোয়াটসঅ্যাপ তো শুধুই একটি মেসেজিং অ্যাপ হওয়ার কথা ছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়। অপ্রয়োজনীয় ফিচার যোগ করতে গিয়ে অ্যাপটির মূল চরিত্রই বদলে যাচ্ছে।” আরেকজনের মতে, “গোপনীয়তার কথা বলে এই ফিচার আনা হলেও বাস্তবে যদি সত্যিই ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার কথা ভাবা হতো, তাহলে এমন ব্যবস্থা করা উচিত ছিল যাতে শুধুমাত্র কনট্যাক্ট লিস্টে থাকা ব্যক্তিরাই কল বা মেসেজ করতে পারেন।”

    হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    সমালোচনার জবাবে হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, পরিচয় জালিয়াতি রোধে বিশিষ্ট জনপরিচিত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষভাবে ইউজারনেম সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হবে। পাশাপাশি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট এবং প্রতারণা রুখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করার কথাও সংস্থা জানিয়েছে। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র পরিচিত ব্যক্তিদের ইউজারনেম সংরক্ষণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। একই রকম বানান, অতিরিক্ত অক্ষর বা বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ইউজারনেম তৈরি করা এখনও সম্ভব হতে পারে। তাই শক্তিশালী যাচাইকরণ ব্যবস্থা, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং প্রতারণামূলক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করার কার্যকর প্রযুক্তি প্রয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি।

    নজর নিরাপত্তার দিকে

    হোয়াটসঅ্যাপের ইউজারনেম ফিচার নিঃসন্দেহে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত নম্বর গোপন রাখার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে এটি পরিচয় জালিয়াতি, ভুয়ো অ্যাকাউন্ট এবং অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার বিষয়, ধাপে ধাপে বিশ্বব্যাপী এই ফিচার চালুর সঙ্গে সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ কতটা কার্যকরভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে পারে এবং ব্যবহারকারীদের আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

LinkedIn
Share