Tag: Volcano

Volcano

  • Hayli Gubbi Volcano: ভারতের আকাশেও ছাইমেঘ, বাতিল বহু বিমান! ১২ হাজার বছর পর জাগল ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরি

    Hayli Gubbi Volcano: ভারতের আকাশেও ছাইমেঘ, বাতিল বহু বিমান! ১২ হাজার বছর পর জাগল ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বহুদিন ধরে ঘুমিয়েই ছিল। গত ১২০০০ বছর আচমকাই জেগে উঠেছে পূর্ব আফ্রিকার আগ্নেয়গিরি। ইথিয়োপিয়ার হায়েলি গুব্বি (Ethiopian Volcanic Ash)আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্নুৎপাত শুরু হয়েছে রবিবার থেকে। সেই ছাইয়ের কুণ্ডলী মেঘের সঙ্গে মিশে লোহিত সাগর পেরিয়ে উড়ে আসছে এশিয়া মহাদেশে। ভারতের রাজধানী দিল্লি-সহ উত্তর ভারতের আকাশেও কালো মেঘ জমতে শুরু করেছে। আর তার জেরে বিমান পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটছে। একাধিক সংস্থা বিমান বাতিল করেছে আপাতত। দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ৪ হাজার ৫৫০ কিলোমিটার। কিন্তু ইথিওপিয়ার (Haylie Gubbi Volcano) আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাতের জেরে দিল্লিতে বিমান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।

    ভারতে প্রবেশ করল ছাই-মেঘ

    গত ১২০০০ বছরে হায়ালি গুব্বিতে কোনও অগ্নুৎপাতের প্রমাণ নেই। রবিবার সকালে (স্থানীয় সময়ে) আচমকাই জেগে ওঠে ইথিয়োপিয়ার এই আগ্নেয়গিরি। জ্বালামুখ থেকে নির্গত ধোঁয়া, ছাই ঢেকে দিয়েছে দেশের আকাশকে। শুধু তাই নয়, লোহিত সাগর পেরিয়ে ইয়েমেন, ওমানের দিকেও এগিয়ে গিয়েছে সেই ধোঁয়া, ছাইয়ের কুণ্ডলী। সালফার ডাইঅক্সাইডমিশ্রিত ঘন ছাইমেঘ (অ্যাশ ক্লাউড) প্রায় ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা‌ বেগে উড়তে উড়তে প্রবেশ করেছে ভারতেও। ওই লাভার ছাই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে সোমবার রাতে ভারতে পৌঁছে যায়। রাত ১১টা নাগাদ উত্তর পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে ভারতের আকাশে ঢুকে যায় ওই ছাইমেঘ। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, রাজস্থানের জয়সলমের-যোধপুর অঞ্চল দিয়ে এই মেঘ প্রবেশ করেছে ভারতে। তার পরে রাজস্থান, হরিয়ানা এবং দিল্লির আকাশে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এই ‘বিষ-মেঘ’ ছড়িয়ে পড়ে। মেঘ ছড়িয়েছে গুজরাটের কিছু অংশের আকাশেও।

    কোন কোন বিমান পরিষেবা বিঘ্নিত

    এর প্রভাবে বিমান পরিষেবা ধাক্কা খেয়েছে ইতিমধ্যেই। উড়ান সংস্থাগুলির জন্য ইতিমধ্যে সতর্কবার্তা জারি করেছেন ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহন নিয়ামক কর্তৃপক্ষ ডিজিসিএ। ছাইমেঘের জেরে কেরলের কন্নুর থেকে আবুধাবিগামী ইন্ডিগোর ৬ই১৪৩৩ বিমানের যাত্রাপথ বদলে দিতে হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমেদাবাদ বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়েছে সেটি। ইন্ডিগো পরে জানায়, বিমানটি আমেদাবাদে নিরাপদেই অবতরণ করেছে। যাত্রীদের কন্নুরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রভাবিত হয়েছে আরও বেশ কিছু উড়ান‌ পরিষেবা। কোচি থেকে অন্তত দু’টি আন্তর্জাতিক বিমান বাতিল হয়েছে ছাইমেঘের জেরে। কেএলএম রয়্যাল‌ ডাচ উড়ান‌ সংস্থারও বেশ কিছু বিমান পরিষেবা বিঘ্নিত হয়েছে। ব্রিটেনের আমস্টারডাম থেকে দিল্লিমুখী কেএল ৮৭১ এবং বিপরীতমুখী কেএল ৮৭২— দু’টিই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাতিল করা হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া, স্পাইসজেট, আকাশ এয়ারের মতো উড়ান সংস্থাগুলিও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। আকাশ উড়ান বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রভাবিত এলাকাগুলিতে বিমান পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ডিজিসিএ-র সতর্কবার্তা

    উড়ান সংস্থাগুলিকে সতর্ক করে ‌দিয়েছে ডিজিসিএ-ও। আগ্নেয়গিরির ছাইমেঘ প্রভাবিত এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য বলা হয়েছে সব ভারতীয় উড়ান সংস্থাকে। প্রয়োজন অনুসারে যাত্রাপথ বদল এবং বিকল্প পরিকল্পনারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনামাফিক রুট তৈরি করে, পর্যাপ্ত জ্বালানি নিয়ে উড়ানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও ভাবে ছাইয়ের সংস্পর্শে এলে সঙ্গে সঙ্গে তা জানাতে বলা হয়েছে, যাতে ইঞ্জিনের অবস্থা জানা যায়। ধোঁয়া বা গন্ধ নিয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিমানবন্দরের কাজকর্মে কোনও রকম বাধাবিঘ্ন সৃষ্টি হলে সঙ্গে সঙ্গে রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে, অ্যাপ্রন বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ডিজিসিএ। সারাক্ষণ নজরদারি চালাতে হবে, নজরদারি চলবে স্যাটেলাইটের মাধ্যমেও।

    জনস্বাস্থ্যে প্রভাব

    আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত লাভার ছাইমিশ্রিত মেঘ দেশবাসীর স্বাস্থ্যের উপর কোনও বিরূপ প্রভাব ফেলবে না বলেই আশ্বস্ত করছেন বিশেষজ্ঞেরা। কারণ, এই ছাইমেঘ উড়ছে ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে। প্রায় ২৫০০০-৪৫০০০ ফুট উচ্চতায় উড়ছে এগুলি। ফলে মানুষের স্বাস্থ্যের উপর এই মেঘ প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছেন তাঁরা। যদিও দিল্লিতে বাতাসের গুণমান আগে থেকেই অত্যন্ত খারাপ পর্যায়ে রয়েছে। সেই বিষয়েও সতর্ক করে দিচ্ছেন‌ বিশেষজ্ঞেরা। রবিবার সকালে ইথিওপিয়ার আফার অঞ্চলে জেগে ওঠে হায়েলি গুব্বি (Hayli Gubbi) আগ্নেয়গিরিটি। সংলগ্ন আফদেরা গ্রাম সঙ্গে সঙ্গেই ধুলোয় ঢেকে যায়। এমনকি অগ্ন্যুৎপাতের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, আশেপাশের এলাকায় ভূমিকম্পও অনুভূত হয় বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, জ্বালামুখ থেকে নির্গত ধোঁয়া, ছাই প্রায় ১৪ কিলমিটার উচ্চতা পর্যন্ত আকাশে উঠে যায়।

  • New island: অগ্ন্যুৎপাত, প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্টি নয়া দ্বীপের

    New island: অগ্ন্যুৎপাত, প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্টি নয়া দ্বীপের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৪৮ ঘণ্টায় আট বার অগ্ন্যুৎপাত। তার জেরে সৃষ্টি নয়া দ্বীপের। অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় (Pacific Ocean) দেশ টোঙ্গার উত্তরে হোম রিফ আগ্নেয়গিরিতে। টোঙ্গা (Tonga) সরকার সতর্কতা জারি করে স্থানীয় বাসিন্দাদের নয়া দ্বীপ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। জানা গিয়েছে, গত ১০ দিনে আগ্নেয়গিরিটি (Volcano) অন্তত ৬০ বার অগ্ন্যুৎপাত করেছে। অগ্ন্যুৎপাতের জেরে নির্গত লাভা ও ছাই ছড়িয়ে পড়েছে প্রায় দু মাইল এলাকা জুড়ে। 

    দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে থাকা আগ্নেয়গিরি শ্রেণিটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো জীবন্ত আগ্নেয়গিরি শ্রেণি। এই আগ্নেয়গিরিশ্রেণির বিস্তৃতি নিউজিল্যান্ড (New Zealand) থেকে টোঙ্গা পর্যন্ত। এই আগ্নেয়গিরিশ্রেণির মধ্যে হোম রিফ ফের জেগে উঠেছে ১০ সেপ্টেম্বর থেকে। অগ্ন্যুৎপাত হওয়ার এগারো ঘণ্টা পরেই একটি নতুন দ্বীপ দেখা গিয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর অপারেশনাল ল্যান্ড ইমেজার-2 (OLI-2)পদ্ধতির মাধ্যমে সদ্যজাত এই দ্বীপটির ছবি তোলা হয়েছে। টোঙ্গার ভূতাত্ত্বিক বিভাগ জানিয়েছে, নয়া দ্বীপটির বিস্তৃতি প্রায় ১ একর এলাকা জুড়ে। সমুদ্রতল থেকে প্রায় ১০ মিটার উঁচুতে অবস্থান করছে দ্বীপটি। ২০ সেপ্টেম্বর ফের অগ্ন্যুৎপাত হয়। দ্বীপের বিস্তার বেড়েছে আরও ৬ একর। লেট দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে, হুঙ্গা টোঙ্গা-হুঙ্গা হাপাই (Hunga Tonga-Hunga Ha’apai) এর উত্তর-পূর্বে এবং মউঙ্গা’ওনের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থান করছে এই দ্বীপটি। আরও স্পষ্টভাবে বললে বলতে হয়, টোঙ্গা-কারমাডকের কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করছে এই দ্বীপ। এই জায়গায় থাকা তিনটি প্লেটের পরস্পরের সঙ্গে প্রচণ্ড গতিতে সংঘর্ষ হওয়ায় গভীরতম গর্তের সৃষ্টি হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে। অতিরিক্ত এই চাপই আগ্নেয়গিরিগুলিকে ফের জাগিয়ে তুলছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

    আরও পড়ুন: পুতিনের সামরিক ঘোষণার পরই রাশিয়া ছাড়ার ধুম, ‘ওয়ান ওয়ে ফ্লাইট’ টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে

    সচরাচর নব গঠিত এই দ্বীপগুলির আয়ু ক্ষণস্থায়ী। তবে কিছু কিছু দ্বীপ বছরের পর বছর টিকে রয়েছে। হোম রিফে এর আগেও চারবার  অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছিল। ১৯৮৪ ও ২০০৬ সালে অগ্ন্যুৎপাতের জেরে সৃষ্টি হয়েছিল ক্ষণস্থায়ী দ্বীপের। কিছুদিনের মধ্যেই অবশ্য সমুদ্রে ডুবে যায় সেই দ্বীপগুলি। ২০২০ সালে লেটকি আগ্নেয়গিরির (Late’iki Volcano) টানা ১২ দিনের অগ্ন্যুৎপাতের (Eruption) জেরে সৃষ্টি হওয়া দ্বীপটি তলিয়ে গিয়েছিল দু মাসের মধ্যে। যদিও ১৯৯৫ সালে ওই আগ্নেয়গিরি দ্বারা গঠিত অন্য একটি দ্বীপ প্রায় টিকে ছিল ২৫ বছর ধরে। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

     

LinkedIn
Share