Tag: voter id

voter id

  • Voter ID for Panchayat: পঞ্চায়েতের কল্যাণমূলক প্রকল্পে আধার নয়, এবার ভোটার কার্ড! সুবিধা পেতে বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক যাচাই

    Voter ID for Panchayat: পঞ্চায়েতের কল্যাণমূলক প্রকল্পে আধার নয়, এবার ভোটার কার্ড! সুবিধা পেতে বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক যাচাই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রামীণ এলাকার কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তনের ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েতি রাজমন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং। এবার থেকে আধার কার্ডের পরিবর্তে ভোটার পরিচয়পত্র বা EPIC-কে উপভোক্তাদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রধান নথি হিসেবে ব্যবহার করার কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে শুধু ভোটার কার্ড (Voter ID for Panchayat) থাকলেই হবে না, আর্থিক সুবিধা ও সরকারি অনুদান পেতে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে বায়োমেট্রিক যাচাইও। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রকের অধীন বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে উপভোক্তাদের ভোটার পরিচয়পত্রের নম্বর এবং বায়োমেট্রিক প্রমাণীকরণ প্রয়োজন হবে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টনে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং ভুয়ো উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতেই এই দ্বৈত যাচাইকরণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ।

    আধারের পরিবর্তে ভোটার কার্ড কেন?

    নতুন ব্যবস্থার পিছনে পরিচয় যাচাইয়ের বর্তমান পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কেন্দ্র। দ্রুত নথি তৈরি বা পরিচয় সংক্রান্ত অনিয়মের সম্ভাবনা রুখতে আরও শক্তিশালী যাচাইকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে। ভোটার কার্ডের তথ্যের সঙ্গে শারীরিক বায়োমেট্রিক যাচাই যুক্ত হলে উপভোক্তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করছে কেন্দ্র। এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন দেশজুড়ে নতুন করে চালু হতে চলেছে প্রধানমন্ত্রী বিকশিত গ্রাম স্বরাজ যোজনা (PM VGSY)। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া এই প্রকল্পটি রাষ্ট্রীয় গ্রাম স্বরাজ অভিযানকে প্রতিস্থাপন করবে। ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    গ্রামীণ উন্নয়নে একাধিক প্রকল্পে জোর

    পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রক সরাসরি কৃষি বা আবাসন প্রকল্পের মতো নগদ আর্থিক অনুদান প্রদানকারী মন্ত্রক না হলেও গ্রামীণ প্রশাসন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রধানমন্ত্রী বিকশিত গ্রাম স্বরাজ যোজনা এবং স্বামিত্ব (SVAMITVA) প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকার পরিকাঠামো ও পরিষেবা উন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। স্বামিত্ব প্রকল্পের আওতায় ড্রোন প্রযুক্তির সাহায্যে গ্রামের বসতবাড়ি ও জমির মানচিত্র তৈরি করে বাসিন্দাদের সম্পত্তির মালিকানা সংক্রান্ত কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে জমি সংক্রান্ত বিবাদ কমার পাশাপাশি নিজেদের সম্পত্তির ভিত্তিতে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পাওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, গ্রাম পঞ্চায়েত উন্নয়ন পরিকল্পনা বা জিপিডিপি-র মাধ্যমে পানীয় জল, নিকাশি, পরিচ্ছন্নতা, রাস্তার আলো-সহ বিভিন্ন স্থানীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি eGramSwaraj এবং PANCHAM-এর মতো ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি কাজকর্মের স্বচ্ছতা ও সাধারণ মানুষের পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    স্বচ্ছতা বাড়ানোই লক্ষ্য, কবে থেকে কার্যকর?

    কেন্দ্রের দাবি, ভোটার পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ যুক্ত হলে গ্রামীণ এলাকার উপভোক্তাদের তথ্যভাণ্ডার আরও নির্ভুল ও নিরাপদ হবে। পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপব্যবহার এবং অনিয়ম কমানো সম্ভব হবে। nএদিকে, গ্রামীণ উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে নিজেদের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বাড়ানোর উপরেও জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। তবে নতুন পরিচয় যাচাইকরণ ব্যবস্থা ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে এবং বর্তমানে বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া উপভোক্তাদের ক্ষেত্রে কী নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা এখনও প্রকাশের অপেক্ষায়। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যগুলির জন্য এই সংক্রান্ত বাস্তবায়ন নির্দেশিকা প্রকাশ করা হতে পারে।

  • Bombay HC: জাল নথিতে আধার-প্যান- ভোটার কার্ড, ভারতে গভীরে অনুপ্রবেশ বিদেশিদের! কড়া তদন্তের নির্দেশ বম্বে হাইকোর্টের

    Bombay HC: জাল নথিতে আধার-প্যান- ভোটার কার্ড, ভারতে গভীরে অনুপ্রবেশ বিদেশিদের! কড়া তদন্তের নির্দেশ বম্বে হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাল নথি জমা দিয়ে আধার কার্ড, প্যান কার্ড ও ভোটার পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে বিদেশি নাগরিকেরা ভারতের অভ্যন্তরে গভীর পর্যন্ত অনুপ্রবেশ করতে পেরেছে। এই কাজে সাহায্যকারীদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়ে এমনই পর্যবেক্ষণ করেছে বম্বে হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ, বিদেশি নাগরিকদের ভারতে প্রবেশ ও বসবাসের সুযোগ করে দেওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে (Bombay HC)। অপরাধে তাঁদের যোগসূত্র প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। বিচারপতি এএস গড়করি এবং বিচারপতি কমল খাতার ডিভিশন বেঞ্চ ১২ অক্টোবরের রায়ে ভারতীয় স্বতন্ত্র পরিচয় কর্তৃপক্ষকে (ইউআইডিএআই) প্রয়োজনীয় আধার নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ২০১৮ সালে নবি মুম্বইয়ের সন্ত্রাসবিরোধী শাখা (এটিএস) বাংলাদেশের নাগরিকদের বেআইনি বসবাস সংক্রান্ত যে মামলা করেছিল, সেই তদন্তের স্বার্থেই এই নথি চাওয়া হয়েছিল (Aadhaar Voter IDs)। রায়ে আদালত বলেছে, “ভারতের সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকারী বিদেশি নাগরিকেরা দেশের অভ্যন্তরে গভীর পর্যন্ত প্রবেশ করেছে।” আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিযুক্তেরা জাল নথি জমা দিয়ে প্যান কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র এবং আধার কার্ড সংগ্রহ করেছিলেন। এর মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন। বিষয়টিকে গুরুতর উদ্বেগের বলে উল্লেখ করে দ্রুত তদন্ত শেষ করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে আদালত।

    গ্রেফতার পাঁচ বাংলাদেশি (Bombay HC)

    মামলার সূত্রপাত ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রায়গড় জেলার পানভেলের জুইগাঁও এলাকায় অভিযান চালায় এটিএস। সেখানে পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিক বেআইনিভাবে বসবাস করছেন বলেও অভিযোগ। অভিযানে পাঁচ জনকেই গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, মহম্মদ আলাউদ্দিন ওরফে মুন্না বা মাস্টার উসমান আনসারি, প্রবীণ আনন্দ পাটিল, অজয় ভীমরাও সুরভে এবং বিশাল জনার্দন শেড়গের সহায়তায় অভিযুক্তেরা ভারতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এই পরিচয়পত্র তৈরির জন্য অভিযুক্তেরা আধার কার্ডের আবেদন করার সময় যে নথি জমা দিয়েছিলেন, সেগুলি হাতে পাওয়ার জন্য ২০১৮ সালে বিচার আদালতে ফৌজদারি বিবিধ আবেদন নম্বর ১৭৭ দায়ের করে প্রসিকিউশন পক্ষ। ওই বছরের ৪ এপ্রিল নবি মুম্বইয়ের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক পাঁচ অভিযুক্তের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করার নির্দেশ দেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে।

    অভিযুক্তের আধার নথি পায়নি তদন্তকারী সংস্থা

    তদন্তকারী সংস্থা ইয়াসিন জালাল শেখ, মহম্মদ রফিক আজ্জু শেখ, জামাল ইসমাইল হুসেন-সহ আরও এক অভিযুক্তের আধার সংক্রান্ত নথি পেয়েছিল। কিন্তু বাকার হাসান শেখ নামে অন্য এক অভিযুক্তের নথি কর্তৃপক্ষ দেননি। এর পর ২০১৯ সালে সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্দেশ জারির আবেদন জানিয়ে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় এটিএস। ২০১৯ সালের রিট পিটিশন নম্বর ৬০১৯-এ আধার আইন, ২০১৬-এর ৩৩(১) ধারা উল্লেখ করে বাকার হাসান শেখের পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য ও আধার যাচাইকরণের নথি প্রকাশের দাবি জানানো হয় (Bombay HC)। আট বছরেরও বেশি সময় আগে শুরু হওয়া তদন্তে আধার নথি পাওয়ার এই দাবি অবশেষে হাই কোর্টে নিষ্পত্তির পর্যায়ে পৌঁছয়।

    সাহায্যকারীদেরও জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

    রায়ের সপ্তম অনুচ্ছেদে আদালত বিদেশি নাগরিকদের ভারতে প্রবেশ এবং সরকারি পরিচয়পত্র সংগ্রহে সহায়তাকারীদের ভূমিকা নিয়ে পৃথকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিচারপতিদের নির্দেশ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এবং সহ-অভিযুক্তদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। অপরাধে তাঁদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা চালাতে হবে। আদালত আরও স্পষ্ট করে বলেছে, “তদন্তকে তার যৌক্তিক পরিণতি পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে।” এটিএসের আবেদন মঞ্জুর করে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, বাকার হাসান শেখের আধার কার্ড পাওয়ার জন্য জমা দেওয়া নথি রায়টি আদালতের সরকারি ওয়েবসাইটে আপলোড হওয়ার তারিখ থেকে দু’সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ করতে হবে (Aadhaar Voter IDs)। মহারাষ্ট্র সরকার বনাম ভারতীয় স্বতন্ত্র পরিচয় কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য মামলায় এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটির নম্বর রিট পিটিশন ৬০১৯/২০১৯। আপাতত আদালতের নির্দেশ এক অভিযুক্তের আধার সংক্রান্ত নথি প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, পর্যবেক্ষণে বিদেশি নাগরিকদের ভারতীয় পরিচয়পত্র পেতে সাহায্যকারী ব্যক্তিদের ভূমিকার বিষয়টিও উঠে এসেছে। তদন্তে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তাঁদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছে আদালত (Bombay HC)।

     

  • SIR: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে বিশেষ উদ্যোগ, জানুন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ

    SIR: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে বিশেষ উদ্যোগ, জানুন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) প্রক্রিয়া শেষ হওয়া রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে (SIR) যোগ্য ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ (Voter List Name Deleted) পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই এই নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর লিখিতভাবে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাজ্যগুলির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে ভিডিও বৈঠকেও বিষয়টি ফের জানানো হয়েছে।

    কেন বিশেষ উদ্যোগের নির্দেশ? (SIR)

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ নাম, অর্থাৎ ৭১ শতাংশেরও বেশি অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত এবং অন্যান্য শ্রেণিতে পড়েছে।

    প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ নাম বাদ পড়েছে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের মৃত্যুর কারণে। এই সংখ্যা মোট বাদ পড়া নামের ২০ শতাংশের সামান্য বেশি। এছাড়া প্রায় ১ কোটি ১ লাখ নাম একাধিকবার থাকার কারণে চিহ্নিত হয়েছে, যা মোট বাদ পড়া নামের প্রায় ৭.৬ শতাংশ।

    বিশেষ নিবিড় সংশোধন ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এমন ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে যোগ্য ভোটারদের চিহ্নিত করতে আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংশোধনের সময় কোনও যোগ্য ভোটারের নাম অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ পড়ে থাকলে তা চিহ্নিত করে ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

    ২৯ সেপ্টেম্বরের নির্দেশে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক এবং ভোটার নিবন্ধন আধিকারিকদের বলা হয়েছে, বাদ পড়া ভোটারদের পাশাপাশি নতুন করে যোগ্য হওয়া তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদেরও ধারাবাহিক সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করতে।

    এর জন্য বিশেষ নিবিড় সংশোধনের আগে এবং পরে তৈরি হওয়া ভোটার তালিকার তুলনা করতেও বলা হয়েছে। যাঁদের নাম সংশোধনের সময় বাদ পড়েছে, কিন্তু এখনও ভোটার তালিকায় থাকার যোগ্যতা রয়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ফর্ম ৬ নিয়ে বিতর্ক কোথায়?

    বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় ফর্ম ৬-এর ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

    জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী ১০ মাসের মধ্যে ১৪ বার এমন কিছু সিদ্ধান্তের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন, যেগুলি তাঁদের অজ্ঞাতসারে কমিশনের নামে নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ফর্ম ৬ সংক্রান্ত পরিবর্তনও ছিল।

    জুলাই মাসে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সঙ্গে যুক্ত করে ফর্ম ৬-এর কাগজের সংস্করণে একটি পৃথক ঘোষণাপত্র যুক্ত করা হয়। সেখানে আবেদনকারী অথবা তাঁর বাবা-মায়ের নাম আগের বিশেষ নিবিড় সংশোধনের ভোটার তালিকার সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, সেই তথ্য জানতে চাওয়া হয়।

    অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রেও আবেদনকারী বা তাঁর বাবা-মায়ের নাম আগের বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর প্রকাশিত ভোটার তালিকায় ছিল কি না, তা জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল (SIR)।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগাস্টে সান্ধু এই পরিবর্তনকে অননুমোদিত ও বেআইনি বলে অভিহিত করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ফর্ম ৬ ভোটার নিবন্ধন বিধিমালা, ১৯৬০-এর সঙ্গে সংযুক্ত এবং ওই বিধিমালায় সংশোধন করার ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে রয়েছে (Voter List Name Deleted)।

    পরে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানায়, ফর্ম ৬-এ কোনও সংশোধন করা হয়নি। আধিকারিকদের দাবি, বিহারে বিশেষ নিবিড় সংশোধন শুরু হওয়ার সময় অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রটি সম্পূর্ণ কমিশনের অনুমোদনেই যুক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের জন্যও তা অনুমোদিত হয়।

    অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল, তার কারণ হিসেবে কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের করা কিছু পরিবর্তনের কথা জানানো হয়। আবেদনকারীদের যাতে দু’বার বৈদ্যুতিন স্বাক্ষর করতে না হয়, সেই কারণেই ওই পরিবর্তন করা হয়েছিল বলে আধিকারিকরা জানান।

    অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে?

    না। ২৯ সেপ্টেম্বরের নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রটি শুধুমাত্র বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর্যায়ে প্রযোজ্য ছিল।

    যেসব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ নিবিড় সংশোধন ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে, সেখানে প্রথমবার ভোটার হতে চলা যোগ্য নাগরিক এবং সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের ভোটার নিবন্ধন বিধিমালা, ১৯৬০ অনুযায়ী প্রচলিত সরকারি ফর্ম ব্যবহার করতে হবে (SIR)।

    তামিলনাড়ুর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অর্চনা পটনায়কও স্পষ্ট করেছেন, ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যুক্ত ঘোষণাপত্রটি বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় কার্যকর থাকবে। সংশোধনবহির্ভূত সময়ে প্রচলিত সরকারি ফর্মই ব্যবহার করা হবে।

    নাম বাদ পড়েছে কি না, কীভাবে জানবেন?

    নির্বাচন কমিশনের ভোটার অনুসন্ধান পরিষেবার মাধ্যমে অনলাইনে নিজের নাম ও নিবন্ধনের অবস্থা যাচাই করা যায়।

    প্রথমে নির্বাচন কমিশনের ভোটার অনুসন্ধান পরিষেবায় যেতে হবে। এরপর “ভোটার তালিকায় অনুসন্ধান” বিকল্পটি বেছে নিতে হবে।

    নাম খোঁজার জন্য কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে—

    ১. ভোটার পরিচয়পত্র নম্বরের মাধ্যমে—নিজের ভোটার পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে রাজ্য নির্বাচন করতে হবে।

    ২. ব্যক্তিগত তথ্যের মাধ্যমে—নিজের নাম, আত্মীয়ের নাম, বয়স, লিঙ্গ এবং বিধানসভা কেন্দ্রের তথ্য দিয়ে অনুসন্ধান করা যাবে।

    ৩. মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে—নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে এককালীন গোপন সংকেতের মাধ্যমে যাচাই করা যাবে।

    ভোটার তালিকায় নাম দেখা গেলে ধরে নিতে হবে, নিবন্ধন সক্রিয় রয়েছে। নাম না থাকলে যোগ্য ভোটার ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে নতুন করে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।

    নাম ফের যোগ করবেন কীভাবে?

    সাধারণত নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ফর্ম ৬ ব্যবহার করা হয়। বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের পুনরায় তালিকাভুক্ত করতেও এই ফর্ম ব্যবহার করা হয়েছে।

    যোগ্য ভোটাররা নির্বাচন কমিশনের ভোটার পরিষেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইনে অথবা ভোটার সহায়তা অ্যাপের মাধ্যমে ফর্ম ৬ জমা দিতে পারেন। যাঁদের নাম বাদ পড়েছে কিন্তু ভোটার হিসেবে থাকার সব যোগ্যতা রয়েছে, তাঁরাও ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।

    তবে কোনও ভোটার একই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ঠিকানা পরিবর্তন করলে অথবা অন্য বিধানসভা কেন্দ্রে চলে গেলে এবং নিজের ভোটার নিবন্ধন স্থানান্তর করতে চাইলে ফর্ম ৬ নয়, ফর্ম ৮ ব্যবহার করতে হয় (SIR)।

    কীভাবে পূরণ করবেন ফর্ম ৬?

    প্রথমে নির্বাচন কমিশনের ভোটার পরিষেবা পোর্টালে যেতে হবে অথবা ভোটার সহায়তা অ্যাপ খুলতে হবে (Voter List Name Deleted)।

    এরপর নতুন ভোটার নিবন্ধন বা ফর্ম ৬-এর বিকল্পটি বেছে নিতে হবে।

    নির্ধারিত ব্যক্তিগত ও বাসস্থানের তথ্য পূরণ করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী জন্মতারিখের প্রমাণ-সহ অন্যান্য নথি আপলোড করতে হবে।

    আবেদন জমা দেওয়ার পরে প্রাপ্ত স্বীকৃতি বা আবেদন নম্বরটি সংরক্ষণ করতে হবে। এই নম্বরের মাধ্যমে আবেদনের অগ্রগতি জানা যাবে।

    বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকরা বিদেশি ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ফর্ম ৬এ ব্যবহার করবেন।

    অফলাইনে ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার পদ্ধতি

    ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক, সহকারী ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক অথবা বুথস্তরের আধিকারিকের কাছ থেকে ফর্ম ৬ সংগ্রহ করা যায়। নির্বাচন কমিশনের সরকারি মাধ্যমেও এই ফর্ম পাওয়া যায়।

    প্রয়োজনীয় নথির প্রতিলিপি-সহ পূরণ করা ফর্ম সংশ্লিষ্ট ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক বা সহকারী আধিকারিকের কাছে সরাসরি জমা দেওয়া যায়। ডাকযোগেও পাঠানো যায়। সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্র এলাকার বুথস্তরের আধিকারিকের কাছেও ফর্ম জমা দেওয়া যায়।

    প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের ভোটার সহায়তা নম্বর ১৯৫০-এ যোগাযোগ করা যাবে।

    কারা ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারবেন?

    ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে হলে সাধারণত চারটি শর্ত পূরণ করতে হবে।

    ১. আবেদনকারীকে ভারতের নাগরিক হতে হবে।

    ২. ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য নির্ধারিত যোগ্যতার তারিখগুলির মধ্যে—১ জানুয়ারি, ১ এপ্রিল, ১ জুলাই অথবা ১ অক্টোবর—যে কোনও একটি তারিখে তাঁর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।

    ৩. যে বিধানসভা কেন্দ্র বা ভোটকেন্দ্রের এলাকার ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে চাইছেন, সেখানে তাঁকে সাধারণভাবে বসবাস করতে হবে।

    ৪. অন্য কোনও কারণে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য তিনি অযোগ্য না হয়ে থাকেন।

    আধিকারিকদের কী করতে বলেছে কমিশন?

    বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় বাদ পড়ে যাওয়া যোগ্য ভোটারদের চিহ্নিত করতে একাধিক পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    প্রথমত, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের আগে থাকা ভোটার তালিকার সঙ্গে সংশোধনের পরে তৈরি চূড়ান্ত তালিকা মিলিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের চিহ্নিত করতে হবে।

    এছাড়াও এমন ঘটনাগুলি খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে, যেখানে কোনও ভোটারের নাম অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হওয়ার প্রমাণ নেই, তিনি একাধিকবার তালিকাভুক্ত নন এবং তাঁর মৃত্যুও হয়নি—তবুও তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে (SIR)।

    এই ধরনের ক্ষেত্রে আধিকারিকদের ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ফর্ম ৬ পূরণে সাহায্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এই বিশেষ উদ্যোগে রাজনৈতিক দল এবং তাদের বুথস্তরের প্রতিনিধিদের সাহায্য নেওয়ার জন্যও রাজ্য নির্বাচন কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।

    এর মূল লক্ষ্য হল, সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ পড়া সমস্ত যোগ্য ভোটার যাতে নির্ধারিত ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের নাম ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করা।

    নাম না থাকলে ভোটারদের কী করা উচিত?

    বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পরে ভোটার তালিকায় নিজের নাম খুঁজে না পেলে প্রথমে নির্বাচন কমিশনের ভোটার অনুসন্ধান পরিষেবার মাধ্যমে নিজের নিবন্ধনের অবস্থা যাচাই করতে হবে।

    যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও নাম না থাকলে ভোটার পরিষেবা পোর্টাল, ভোটার সহায়তা অ্যাপ অথবা সংশ্লিষ্ট ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক, সহকারী ভোটার নিবন্ধন আধিকারিক কিংবা বুথস্তরের আধিকারিকের মাধ্যমে ফর্ম ৬ জমা দিতে হবে।

    নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ নির্দেশ থেকে স্পষ্ট, বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে সংশোধিত তালিকা থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের চিহ্নিত করে তাঁদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দেওয়াই লক্ষ্য। তবে (Voter List Name Deleted) বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর্যায় শেষ হয়ে যাওয়ার পরে ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নিয়মিত সরকারি প্রক্রিয়াই কার্যকর থাকবে (SIR)।

     

  • Donald Trump: ভারতের ভোটব্যবস্থার উদাহরণ টেনে আমেরিকায় কড়া ভোটার-আইডি আইন চাইলেন ট্রাম্প

    Donald Trump: ভারতের ভোটব্যবস্থার উদাহরণ টেনে আমেরিকায় কড়া ভোটার-আইডি আইন চাইলেন ট্রাম্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের প্রস্তাবিত ‘সেভ আমেরিকা আইন’ (America Act) পাশ করার দাবি তুললেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এ বার সেই দাবির স্বপক্ষে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য, ভারতে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখানোর নিয়ম রয়েছে। সেই তুলনা টেনেই আমেরিকায় ভোটার পরিচয় যাচাই এবং নাগরিকত্বের প্রমাণ সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্পের দাবি, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সম্প্রতি তাঁর প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র ছাড়া আমেরিকায় কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। ট্রাম্প লেখেন, “চলতি মাসের গোড়ায় ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আমাদের প্রশাসনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন—বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র ছাড়া আমেরিকায় কীভাবে নির্বাচন হতে পারে?”

    ট্রাম্পের মুখে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ (Donald Trump)

    ভারতের সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ভারতের শেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছিলেন এবং ১ শতাংশেরও কম ভোট ডাকযোগে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর আরও দাবি, প্রত্যেক ভোটারকেই বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখাতে হয়েছিল। ট্রাম্প বলেন, “ভারতের শেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ছিল! ১ শতাংশেরও কম ভোট ডাকযোগে দেওয়া হয়েছিল এবং প্রত্যেক ভোটারকেই বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখাতে হয়েছিল।” ভারতের উদাহরণ টেনে ট্রাম্প ফের তাঁর প্রস্তাবিত ‘সেভ আমেরিকা আইন’ পাশ করাতে ডাক দেন কংগ্রেসকে। তিনি লেখেন, “আমাদের এখনই সেভ আমেরিকা আইন পাশ করতে হবে!” ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরও। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে ট্রাম্প “সম্পূর্ণ সঠিক” কথা বলেছেন। ভারতের শেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটারের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে গোর বলেন, প্রত্যেক ভোটারের পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। একই সঙ্গে আমেরিকান কংগ্রেসকে সেভ আমেরিকা আইন পাশ করার আহ্বান জানান তিনি।

    ‘সেভ আমেরিকা আইন’

    আমেরিকায় নির্বাচনী নিয়ম আরও কঠোর করার ক্ষেত্রে এই প্রস্তাবিত আইনটি ট্রাম্পের (Donald Trump) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হয়ে উঠেছে। ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ের পাশাপাশি ভোট দেওয়ার যোগ্যতা হিসেবে নাগরিকত্বের প্রমাণ দেওয়ার মতো বিষয়ও এই উদ্যোগের আওতায় রয়েছে। ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার সঙ্গে আমেরিকার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার তুলনা করে ট্রাম্প মূলত আমেরিকায় ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম আরও কঠোর করার পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে চাইছেন (America Act)। ভারতের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণ এবং পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থাকে সামনে রেখে তাঁর এই রাজনৈতিক প্রচার নতুন করে দুই দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার পার্থক্য নিয়েও জন্ম দিয়েছে গভীর চর্চার (Donald Trump)।

     

  • Hindus Under Attack: ধর্মান্তর, মন্দির, নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক বিতর্কের জেরে সরগরম দেশ, বিপন্ন হিন্দুরা!

    Hindus Under Attack: ধর্মান্তর, মন্দির, নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক বিতর্কের জেরে সরগরম দেশ, বিপন্ন হিন্দুরা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত দেশের পাশাপাশি বিদেশেও। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে আসছে, যা খুবই উদ্বেগজনক (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, সর্বত্র হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন।

    ঘটনার ঘনঘটা (Hindus Under Attack)

    দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক অপরাধ, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, মন্দিরে চুরি এবং হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে (Roundup Week)। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মান্তর, মন্দির, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, নিরাপত্তা এবং মতপ্রকাশকে ঘিরে একের পর এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কর্নাটক, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, তামিলনাড়ু এবং মহারাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া একাধিক ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন, প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছে কঠোর পদক্ষেপের। ১২ থেকে ১৮ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত  সপ্তাহে বিভিন্ন ঘটনার ছবিটা একবার দেখে নেওয়া যাক।

    জিম জিহাদ নিয়ে নয়া বিতর্ক

    কর্নাটকে তথাকথিত “লাভ জিহাদ” ও ধর্মান্তর সংক্রান্ত বিতর্কের পর এবার “জিম জিহাদ” নিয়ে নয়া বিতর্ক শুরু হয়েছে। একাধিক হিন্দু সংগঠনের অভিযোগ, ইসমাইল নামে এক মুসলমান জিম প্রশিক্ষক ফিটনেস প্রশিক্ষণের আড়ালে হিন্দু মহিলাদের টার্গেট করতেন। এই বিষয়ে তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কর্নাটকেরই চিক্কাবল্লাপুর জেলায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি গুরুতর ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ, পাকিস্তানের নাগরিক ফারাহ নাজ এবং তাঁর ছেলে মহম্মদ ফারদিন নিজেদের পাকিস্তানি পরিচয় গোপন রেখে ভুয়ো তথ্যের মাধ্যমে ভারতীয় ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড-সহ একাধিক পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছিলেন। পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনাকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পক্ষে উদ্বেগজনক বলে দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    মূর্তি ভাঙচুরের জেরে উত্তেজনা

    কর্নাটক হাইকোর্ট আফিফা ফাতিমা নামে এক পুষ্টিবিদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি ফৌজদারি মামলাও খারিজ করে দিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় হিন্দু সমাজ এবং ভারতের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল। বিচারপতি এম নাগপ্রসন্ন সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক রিপোর্ট বাতিল করে দেন (Hindus Under Attack)। কর্নাটকের ধারওয়াড় জেলার আম্বলিকোপ্পা গ্রামে ভগবান বীরালিঙ্গেশ্বরের মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু ভাঙচুরের ঘটনা নয়, তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের ওপর সরাসরি আঘাত।

    মাংস বিক্রেতাকে গ্রেফতার

    উত্তরাখণ্ডের টেহরি গাড়োয়াল জেলার জাখনিধার বাজারের বছর পঁয়ত্রিশের এক মাংস বিক্রেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে শ্লীলতাহানির অভিযোগে। এক হিন্দু নাবালিকাকে নিজের দোকানের ভেতরে নিয়ে গিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনের অধীনে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। এই ঘটনায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনার। বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন থানায় বিক্ষোভ দেখিয়ে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। উত্তরপ্রদেশের বেরেলি জেলার মিরগঞ্জ এলাকায় বছর একান্নর এক খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারককে ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি প্রলোভন দেখিয়ে হিন্দুদের ধর্মান্তরের চেষ্টা করছিলেন। হিন্দু দেবদেবীদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যও করেছিলেন তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হলে পাঠানো হয় বিচারবিভাগীয় হেফাজতে।

    মহা দীপম প্রজ্বলন

    তামিলনাড়ুতে মাদ্রাজ হাই কোর্টের নির্দেশে তিরুপ্পরাঙ্কুন্দ্রম পাহাড়ে ঐতিহ্যবাহী মহা দীপম প্রজ্বলনের অনুমতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তামিলনাড়ু প্রগতিশীল লেখক ও শিল্পী সংঘের আপত্তির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে হিন্দু মুন্নানি। সংগঠনের দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুরুগন ভক্তদের দীর্ঘদিনের ইচ্ছার প্রতিফলনই এই মহা দীপম প্রজ্বলন (Roundup Week)। তামিল চলচ্চিত্র জগতেও ভগবান মুরুগনকে কেন্দ্র করে মতাদর্শগত বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে জুনিয়র এনটিআরকে নিয়ে ভগবান মুরুগনের জীবনভিত্তিক একটি মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র তৈরির প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে পরিচালক ভেট্রি মারানের নতুন ছবিতে ভগবান মুরুগনের দেবত্বকে অস্বীকার করার অভিযোগ উঠেছে। ছবিতে মুখ্য চরিত্রে রয়েছেন অভিনেতা ধনুষ। সমালোচকদের দাবি, ভেট্রি মারান ইভি রামাস্বামীর মতাদর্শের সমর্থক (Roundup Week)।

    মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ

    তামিলনাড়ুর পুদুক্কোট্টাই জেলায় লিঙ্গামালাই পাহাড়ের প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো শিবমন্দির ও তার সংলগ্ন জমি দখলের অভিযোগ তুলে জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে হিন্দু মুন্নানি। সংগঠনের অভিযোগ, ওই পাহাড়ের নাম পরিবর্তন করে “সাভেরিয়ার মালাই” করারও চেষ্টা চলছে (Hindus Under Attack)। মহারাষ্ট্রের আহিল্যানগরে হিন্দুত্ববাদী কর্মী তথা রাষ্ট্রীয় শ্রীরাম সেবা সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সাগর বেগের প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর। গত ডিসেম্বরে জার্মান বেকারি বিস্ফোরণ মামলার সহ-অভিযুক্ত বান্টি জাহাগিরদারের হত্যার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে অভিযোগ (Hindus Under Attack)।

    পাক পদক্ষেপের জেরে বিতর্ক

    এদিকে পাকিস্তানের প্রাক-ইসলামিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নিবন্ধ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক বলে তুলে ধরা হলেও, ভারতের ঐতিহাসিক স্থান ও শহরের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগকে ভিন্ন মানদণ্ডে বিচার করা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই সব ঘটনার অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং তদন্ত বা বিচারপ্রক্রিয়া চলছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই বিষয়গুলির আইনানুগ নিষ্পত্তি হবে (Roundup Week)।

     

LinkedIn
Share