Tag: Voter List Revision

  • Supreme Court: এসআইআর বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা, ১৮ হাজারেরও বেশি আপিল বিচারাধীন!

    Supreme Court: এসআইআর বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা, ১৮ হাজারেরও বেশি আপিল বিচারাধীন!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) সংক্রান্ত মামলায় বড় সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের আগে জরুরি শুনানির (Voter List Dispute) আবেদন খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। ৬ অক্টোবর দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন। তার আগে ১৮ হাজারেরও বেশি বিচারাধীন আপিলের নিষ্পত্তি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আবেদনকারীরা। তবে শুনানির দিন এগিয়ে আনার আর্জিতে সাড়া দেয়নি আদালত। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ অক্টোবরই মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা।

    আবেদনকারীদের আইনজীবী আদালতে জানান, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের ১৮ হাজারেরও বেশি আবেদন এখনও আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে বিচারাধীন। বিধানসভা নির্বাচনের সময়েও তাঁদের অনেকে ভোট দিতে পারেননি। উপনির্বাচনের আগে আবেদনগুলির নিষ্পত্তি না হলে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের একাংশ পরপর দু’বার ভোটদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। সেই কারণেই মামলাটির দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়।

    আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)

    কিন্তু আবেদনকারীদের যুক্তিতে সাড়া দেয়নি শীর্ষ আদালত। শুনানির দিন এগিয়ে আনার আর্জির প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, “এগুলি নেহাতই উপনির্বাচন, এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।” এরপরেও মামলাটির শুনানির দিন অপরিবর্তিত রাখা হয়। ফলে ভোটের ঠিক আগের দিন শুনানি হলেও সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীরা উপনির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

    পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। বাদ পড়া ভোটারদের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। কিন্তু বিপুল সংখ্যক আবেদন এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩৮ লাখ ২০ হাজার ৬৮৩টি আপিলের মধ্যে ১ লাখ ২ হাজার ২৩১টির নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি ৩৭ লাখেরও বেশি আবেদন তখনও বিচারাধীন ছিল (Supreme Court)।

    এদিকে, নিষ্পত্তি হওয়া আপিলগুলির একটি বড় অংশেই আবেদনকারীদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তথ্যের অধিকার আইনে পাওয়া ৭ অগাস্ট পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনগুলির মধ্যে ৭৫ হাজার ৪৪৩টি ক্ষেত্রে ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এদিকে, ৭ হাজার ৩৩৯টি ক্ষেত্রে নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল থেকেছে। অর্থাৎ, ওই সময় পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনের প্রায় ৯১ শতাংশেই ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

    বিচারপতির পর্যবেক্ষণ

    এর আগে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, কোনও একটি নির্বাচনে ভোট দিতে না পারলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভোটাধিকার চিরতরে হারিয়ে যায় না। তবে আবেদন নিষ্পত্তির আগে ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে না।

    এই পরিস্থিতিতে আপিল নিষ্পত্তির (Voter List Dispute) গতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন। তার ঠিক আগের দিন, ৫ অক্টোবর মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা। আবেদনকারীদের উদ্বেগ, তার আগে বিচারাধীন আপিলগুলির নিষ্পত্তি না হলে বহু মানুষ আরও একবার ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে (Supreme Court) বঞ্চিত হতে পারেন।

     

  • EC: ‘বুথ দখল, বুথ জ্যামিং-সহ কোনও অনিয়ম চলবে না’, তৃণমূলকে স্পষ্ট জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন

    EC: ‘বুথ দখল, বুথ জ্যামিং-সহ কোনও অনিয়ম চলবে না’, তৃণমূলকে স্পষ্ট জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুয়ারে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন (EC)। তার আগে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে কড়া সতর্কবার্তা দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশন সাফ (Violence Less Vote) জানিয়ে দিয়েছে, আসন্ন নির্বাচন হতে হবে সম্পূর্ণভাবে অবাধ এবং সুষ্ঠু। কমিশন এও জানিয়েছে, কোনও ধরনের নির্বাচনী অনিয়ম—যেমন বুথ দখল, বুথ জ্যামিং, এবং ‘সোর্স জ্যামিং’ (অর্থাৎ ভোটারদের সংগঠিত হওয়া বা ভোটকেন্দ্রে পৌঁছনোয় বাধা)—সহ্য করা হবে না। নির্বাচন হতে হবে ভয়মুক্ত, হিংসামুক্ত, ভীতি প্রদর্শনমুক্ত এবং কোনও প্রলোভন বা জোরজবরদস্তি ছাড়াই।

    ভয়মুক্ত ভোটের বার্তা কমিশনের (EC)

    এক্স হ্যান্ডেলে নির্বাচন কমিশন লিখেছে, “এবার পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন অবশ্যই হবে—ভয়মুক্ত, হিংসামুক্ত, ভীতি প্রদর্শনমুক্ত, প্রলোভনমুক্ত এবং কোনও রেড, বুথ জ্যামিং বা সোর্স জ্যামিং ছাড়াই।” কমিশনের এহেন মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধী ও আঞ্চলিক বিভিন্ন দলের নেতারা। তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র এই সতর্কবার্তাকে একপ্রকার আল্টিমেটাম বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি একে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তৃণমূলের আর এক সাংসদ সাকেত গোখলে মুণ্ডপাত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। জানতে চান, একই ভাষা কি বিজেপির ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হবে?

    পশ্চিমবঙ্গে হিংসার ইতিহাস বহু পুরানো

    পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হিংসার ইতিহাস বহু পুরানো। বাম জমানা তো বটেই, তৃণমূলের আমলেও নানা স্তরের নির্বাচনকে ঘিরে অনেক ক্ষেত্রেই গণতন্ত্রের উৎসব শেষ হয়েছে শোকের আবহে। তাই কমিশনের এই সতর্কবার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে (ক্ষমতায় ছিল তৃণমূল) ১,৩০০-এরও বেশি হিংসার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। মৃত্যু হয়েছিল অন্তত ২৫ জনের। হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছিলেন। এনিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন থানায় দায়ের হয়েছিল অভিযোগ (Violence Less Vote)। বস্তুত, গত দু’দশক ধরে নির্বাচনী সংঘর্ষ ও ভীতি প্রদর্শন এ রাজ্যে একটি বড় সমস্যা হিসেবেই রয়ে গিয়েছে (EC)। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হল নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

    অগ্নিপরীক্ষা

    প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ হবে দু’দফায়—২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা কড়া হওয়ায়, আসন্ন  নির্বাচন শাসক দল ও নির্বাচন কমিশন—উভয়ের পক্ষেই হয়ে উঠেছে আক্ষরিক অর্থেই অগ্নিপরীক্ষা। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল কমিশনের। সেই বৈঠকও বেশ উত্তপ্ত হয়েছিল বলে খবর। যার জেরে দু’পক্ষের মধ্যেই অবিশ্বাস আরও বেড়ে গিয়েছে (Violence Less Vote)।তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটের আগে ৪৮৩ জন প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিককে  বদলি করা হয়েছে। এটি প্রভাবিত করতে পারে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে। কমিশন অবশ্য এই বদলিকে সমর্থন করে জানিয়েছে, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং হিংসা বা পক্ষপাত এড়ানোর জন্য এটি প্রয়োজনীয়। আরও একটি বড় বিতর্কের বিষয় হল, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (EC)। তৃণমূলের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় অসমভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, সুবিধা করে দেওয়া হয়েছে বিজেপিকে। তৃণমূলের দাবি, পর্যালোচনার জন্য থাকা ৬০ লাখ নামের মধ্যে প্রায় ২৭ লাখেরই নাম বাদ গিয়েছে। তাই রাজ্যের মোট ভোটারের সংখ্যা কমে গিয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

     

LinkedIn
Share