Tag: Waqf Property

  • Lakshagraha: হিন্দুদের বড় জয়, মহাভারত আমলের লাক্ষাগৃহ আর ওয়াকফ সম্পত্তি নয়, আদালতের রায়ে বড় পদক্ষেপ সরকারের

    Lakshagraha: হিন্দুদের বড় জয়, মহাভারত আমলের লাক্ষাগৃহ আর ওয়াকফ সম্পত্তি নয়, আদালতের রায়ে বড় পদক্ষেপ সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশ সরকার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাগপতের প্রাচীন লাক্ষাগৃহ (Lakshagraha) সাইটটিকে ওয়াকফ সম্পত্তির তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাগপত সিভিল কোর্টের দেওয়া একটি রায়কে কার্যকর করতেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আদালতের ওই রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে, এই স্থানটি প্রকৃতপক্ষে মহাভারত আমলের ঐতিহাসিক লাক্ষাগৃহ, কোনও দরগাহ বা মুসলিম কবরস্থান (Waqf Property) নয়।

    বিবাদের প্রেক্ষাপট ও আদালতের রায় (Lakshagraha)

    এই বিবাদের সূত্রপাত হয়েছিল প্রায় পাঁচ দশক আগে, ১৯৭০ সালে। সে সময় মুকিম খান নামে এক ব্যক্তি মেরঠ আদালতে একটি পিটিশন দাখিল করে দাবি করেছিলেন যে, বরনাওয়ার প্রায় ৩৬ বিঘা জমিতে বদরুদ্দিনের মাজার এবং একটি কবরস্থান রয়েছে। অন্যদিকে, লাক্ষাগৃহ (Lakshagraha) গুরুকুলের প্রতিষ্ঠাতা ব্রহ্মচারী কৃষ্ণদত্ত মহারাজ এই দাবির বিরোধিতা করেন।

    দীর্ঘ ৫৪ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালত মুসলিম পক্ষের (Waqf Property)  দাবি খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, ওই স্থানে কোনও ঐতিহাসিক মাজারের অস্তিত্ব নেই এবং এটি একটি প্রাচীন টিলা যা লাক্ষাগৃহ হিসেবে স্বীকৃত।

    উমিদ (UMEED) পোর্টাল ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ

    বিতর্কটি নতুন করে দানা বাঁধে যখন ২০২৫ সালে সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রকের ডিজিটাল পোর্টাল ‘উমিদ’-এ এই স্থানটিকে ভুলবশত একটি দরগাহ (Waqf Property) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে এটিকে তালিকাভুক্ত করায় স্থানীয় হিন্দু সংগঠন এবং গুরুকুল কর্তৃপক্ষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।

    আদালতের রায়ের পর বাগপত জেলা প্রশাসন রাজ্য সরকারকে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠায়। জেলা সংখ্যালঘু কল্যাণ আধিকারিক কৈলাশচাঁদ তিওয়ারি জানান যে, আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। এরপরই উত্তরপ্রদেশ সরকার উমিদ পোর্টালে লাক্ষাগৃহের (Lakshagraha) নাম ওয়াকফ তালিকা থেকে মুছে ফেলার নির্দেশ দেয়।

    লাক্ষাগৃহের ঐতিহাসিক গুরুত্ব

    মহাভারত অনুযায়ী, পাণ্ডবদের পুড়িয়ে মারার জন্য কৌরবরা মোম, বাঁশ ও অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ দিয়ে এই ‘লাক্ষাগৃহ’ (Lakshagraha) নির্মাণ করেছিল। বাগপতের বরনাওয়া (Barnawa) নামক এই স্থানটি ঐতিহাসিকভাবে ‘বারাণাবত’ নামে পরিচিত ছিল। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ASI) এই টিলাটিকে (Waqf Property) একটি সংরক্ষিত স্থান হিসেবে ঘোষণা করেছে। খননকার্যের সময় এখানে প্রাচীন সভ্যতার বহু নিদর্শন পাওয়া গেছে যা এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব প্রমাণ করে।

    পঞ্চগ্রামের তাৎপর্য

    মহাভারত যুদ্ধে রক্তপাত এড়াতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পাণ্ডবদের জন্য কৌরবদের কাছে যে পাঁচটি গ্রাম বা ‘প্রস্থ’ চেয়েছিলেন, বাগপত বা ‘ব্যঘ্রপ্রস্থ’ (Lakshagraha) ছিল তার মধ্যে একটি। অন্য গ্রামগুলো হল:

    • ইন্দ্রপ্রস্থ (দিল্লি)
    • স্বর্ণপ্রস্থ (সোনিপত)
    • পানপ্রস্থ (পানিপত)
    • তিলপ্রস্থ (তিলপত)
    • ব্যঘ্রপ্রস্থ (বাগপত)

    বর্তমানে যদিও মুসলিম পক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছে, তবে সরকারের এই পদক্ষেপ হিন্দুদের জন্য একটি বড় আইনি ও সাংস্কৃতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে ডিজিটাল নথিকরণের (Waqf Property) চেয়ে বিচারবিভাগীয় রায় এবং ঐতিহাসিক প্রমাণই অগ্রাধিকার পাবে।

  • Waqf Properties: ডিজিটাইজেশন ড্রাইভের সমাপ্তি, উমিদ পোর্টালে আপলোড ৫.১৭ লক্ষেরও বেশি ওয়াক্‌ফ সম্পত্তির নথি

    Waqf Properties: ডিজিটাইজেশন ড্রাইভের সমাপ্তি, উমিদ পোর্টালে আপলোড ৫.১৭ লক্ষেরও বেশি ওয়াক্‌ফ সম্পত্তির নথি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওয়াক্ফ সম্পত্তির (Waqf Properties) বিবরণ কেন্দ্রীয় সরকারের ‘উমিদ’ পোর্টালে নথিভুক্ত করার সময়সীমা শেষ হয়েছে শনিবার। ছয় মাসব্যাপী এই উদ্যোগে প্রথমবারের মতো দেশের পাঁচ লাখেরও বেশি ওয়াক্‌ফ সম্পত্তিকে একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা সম্ভব হয়েছে। ৬ জুন কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু ‘উমিদ’ (UMEED) আইন, ১৯৯৫-এর অধীনে পোর্টালটি উদ্বোধন করেছিলেন। সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “ভারতের মোট ৫,১৭,০৪০ ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি পোর্টালে আপলোডের জন্য নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্যে ২,১৬,৯০৫ সম্পত্তি অনুমোদিত হয়েছে। ২,১৩,৯৪১ সম্পত্তি প্রস্তুতকারীদের দ্বারা জমা পড়লেও যাচাইয়ের সময়সীমা শেষ হওয়ার কারণে প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় রয়ে গিয়েছে। মাত্র ১০,৮৬৯ সম্পত্তির আবেদন যাচাইয়ে বাতিল হয়েছে।

    ‘উমিদ’ পোর্টালে নথিভুক্তের ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড়

    ওয়াক্ফ সম্পত্তি (Waqf Properties) সরকারি পোর্টালে নথিভুক্ত করার জন্য গত ৬ জুন একটি নির্দেশিকা জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই নির্দেশিকায় ‘উমিদ’ পোর্টালের কথা বলা হয়। নির্দেশিকায় বলা হয়, ভারত জুড়ে সব ওয়াক্ফ সম্পত্তির বিবরণ ছ’মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পোর্টালে নথিভুক্ত করতে হবে। সেই সময়সীমা শেষ হয় ৬ ডিসেম্বর। শনিবার রাত ১২টার আগে পর্যন্ত ওয়াক্ফ সম্পত্তি নথিভুক্ত করা যায় কেন্দ্রীয় পোর্টালে। সুপ্রিম কোর্ট আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, এই সময়সীমা আর বাড়ানো সম্ভব নয়। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশ মনে করিয়ে দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, ওয়াক্ফ সম্পত্তির বিবরণ সংশ্লিষ্ট পোর্টালে ‘আপলোড’ করার ক্ষেত্রে সময়সীমার ব্যাপারে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড়ের কথাও জানিয়েছেন কিরেন।

    শেষ মুহূর্তে ওয়াক্ফ সম্পত্তির নথিভুক্তকরণ

    কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রক জানিয়েছে, সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আপলোডের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিভিন্ন রিভিউ মিটিং, প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও উচ্চস্তরের হস্তক্ষেপে শেষ মুহূর্তে আপলোডের হার দ্রুত বাড়ে। ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া সফল করতে কেন্দ্র, বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর ওয়াক্‌ফ বোর্ড ও সংখ্যালঘু দফতরের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে ওয়ার্কশপ আয়োজন করে। দিল্লিতে দুই দিনের মাস্টার ট্রেনার কর্মশালাও অনুষ্ঠিত হয়, যাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও, রাজ্যভিত্তিক প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক টিম মোতায়েন করা হয় এবং সমন্বয়গত সমস্যার সমাধানে সাতটি জোনাল মিটিং আয়োজন করা হয়। আপলোড চলাকালীন প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য মন্ত্রক একটি বিশেষ হেল্পলাইনও চালু করে। পোর্টাল চালুর পর থেকে মন্ত্রকের সচিব চন্দ্রশেখর কুমার ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি আপলোডের অগ্রগতি তদারকিতে ২০টিরও বেশি রিভিউ মিটিং পরিচালনা করেন।

    ‘উমিদ’ পোর্টালে নথিভুক্ত না করলে কী হবে

    সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, অনেক মুতাওয়ালিস (যাঁরা ওয়াক্ফ সম্পত্তি দেখভাল করেন) নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পত্তি ‘উমিদ’ পোর্টালে (UMEED) নথিভুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সময়ের মধ্যে তা সম্পন্ন করতে পারেননি, তাঁদের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারেন। আগামী তিন মাস তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক বা কঠোর পদক্ষেপ করা হবে না! আরোপ করা হবে না জরিমানাও। উল্লেখ্য, নিয়ম অনুসারে, যাঁরা ওয়াক্ফ সম্পত্তি আপলোড করবেন না, তাঁদের ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। যাঁরা এই পোর্টালে সম্পত্তি নথিভুক্ত করবেন না, তাঁদের সম্পত্তির অবস্থা বাতিল করা হবে এবং পরে ওয়াক্ফ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে পুনরায় নথিভুক্তকরণ করা যাবে। সেই ক্ষেত্রেই বিশেষ ছাড় দিয়েছে কেন্দ্র। মন্ত্রক জানিয়েছে, এই পর্বের সমাপ্তি ভারতের ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং একীভূত ডিজিটাল কাঠামো প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

LinkedIn
Share