Tag: WB Assembly Election 2026

  • Assembly Election 2026: আজ দ্বিতীয় দফা ভোটে ভরকেন্দ্র ভবানীপুর! মমতা বনাম শুভেন্দু হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, আর কোথায় কোন হেভিওয়েট প্রার্থী?

    Assembly Election 2026: আজ দ্বিতীয় দফা ভোটে ভরকেন্দ্র ভবানীপুর! মমতা বনাম শুভেন্দু হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, আর কোথায় কোন হেভিওয়েট প্রার্থী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, ২৯ এপ্রিল রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। এই দফায় দফায় মূলত উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমানে নির্বাচন হচ্ছে। ৭ জেলার ১৪২ আসনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। ভবানীপুরে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর হাড্ডাহাড্ডি ফাইট। স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গে সর্বোচ্চ ভোটদান হয়েছে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে। প্রথম দফায় ভোট পড়েছে ৯২.৩৫ শতাংশ। রাজ্যের ১৬টি জেলায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন। এবার দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। এই পর্বে ভোট রয়েছে- পূর্ব বর্ধমান (১৬), হুগলি (১৮), হাওড়া (১৬), কলকাতা (১১), উত্তর ২৪ পরগনা (৩৩) ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৩১) ও নদিয়া (১৭) জেলায়।

    মমতা বনাম শুভেন্দু লড়াই

    দ্বিতীয় দফার ভোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোট। কারণ, এই আসন থেকে লড়াই করছেন তৃণমূলেনত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, তাঁর কঠিনতম প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গত বিধানসভা ভোটে শুভেন্দুর কাছেই নন্দীগ্রামে পরাস্ত হতে হয়েছিল মমতাকে। কাজেই, এবার কি হয় সেদিকে তাকিয়ে গোটা রাজ্য। শুধু রাজ্য নয় সারা দেশের নজর এখন ভবানীপুর আসনের দিকে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক কল্পনায় ভবানীপুর এখন আর শুধু দক্ষিণ কলকাতার একটি বিধানসভা আসন নয়। এটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক আশ্রয় ও ঘরের মাঠ। বিজেপির বেছে নেওয়া মনস্তাত্ত্বিক রণক্ষেত্র, যেখানে সেই লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত, যাকে বাংলার অনেকেই ‘সব নির্বাচনী লড়াইয়ের ভরকেন্দ্র’ বলে অভিহিত করছেন।

    লড়াইয়ে আর কোন কোন হেভিওয়েট প্রার্থীরা

    নদিয়া

    • সোহম চক্রবর্তী: করিমপুরের TMC প্রার্থী।
    • রুকবানুর রহমান: পলাশিপাড়ার TMC প্রার্থী
    • সাবিনা ইয়াসমিন: কালীগঞ্জের CPIM প্রার্থী।
    • সবুজ দাস: কল্যাণীর CPIM প্রার্থী।

    উত্তর ২৪ পরগনা

    • মধুপর্ণা ঠাকুর: বাগদার TMC প্রার্থী।
    • সোমা ঠাকুর: বাগদার BJP প্রার্থী।
    • সুব্রত ঠাকুর: গাইঘাটার BJP প্রার্থী।
    • জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক: হাবরার TMC প্রার্থী।
    • কাশেম সিদ্দিকি: আমডাঙার TMC প্রার্থী।
    • পবন সিং: ভাটপাড়ার BJP প্রার্থী।
    • তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য: নোয়াপাড়া TMC প্রার্থী।
    • অর্জুন সিং: নোয়াপাড়ার BJP প্রার্থী।
    • রাজ চক্রবর্তী: ব্যারাকপুরের TMC প্রার্থী।
    • কৌস্তভ বাগচী: ব্যারাকপুরের BJP প্রার্থী।
    • দেবদীপ পুরোহিত: খড়দার TMC প্রার্থী।
    • দেবজ্যোতি দাস: খড়দার CPIM প্রার্থী।
    • চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য: দমদম উত্তরের TMC প্রার্থী।
    • দীপ্সিতা ধর: দমদম উত্তরের CPIM প্রার্থী।
    • রত্না দেবনাথ: পানিহাটির BJP প্রার্থী।
    • কলতান দাশগুপ্ত: পানিহাটির CPIM প্রার্থী।
    • মদন মিত্র: কামারহাটির TMC প্রার্থী।
    • মানস মুখোপাধ্যায়: কামারহাটির CPIM প্রার্থী।
    • সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়: বরানগরের TMC প্রার্থী।
    • সজল ঘোষ: বরানগরের BJP প্রার্থী।
    • সায়নদীপ মিত্র: বরানগরের CPIM প্রার্থী।
    • ব্রাত্য বসু: দমদমের TMC প্রার্থী।
    • ময়ূখ বিশ্বাস: দমদমের CPIM প্রার্থী।
    • তাপস চট্টোপাধ্যায়: রাজারহাট নিউ টাউনের TMC প্রার্থী।
    • সুজিত বসু: বিধাননগরের TMC প্রার্থী।
    • অদিতি মুন্সি: রাজারহাট গোপালপুরের TMC প্রার্থী।
    • তরুণজ্যোতি তিওয়ারি: রাজারহাট গোপালপুরের BJP প্রার্থী।
    • রথিন ঘোষ: মধ্যমগ্রামের TMC প্রার্থী।
    • সব্যসাচী দত্ত: বারাসতের TMC প্রার্থী।
    • রেখা পাত্র: হিঙ্গলগঞ্জের BJP প্রার্থী।

    দক্ষিণ ২৪ পরগনা

    • আরাবুল ইসলাম: ক্যানিং পূর্বের ISF প্রার্থী।
    • বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়: বারুইপুর পশ্চিমের TMC প্রার্থী।
    • জাহাঙ্গির খান: ফলতার TMC প্রার্থী।
    • লাভলি মৈত্র: সোনারপুর দক্ষিণের TMC প্রার্থী।
    • রূপা গঙ্গোপাধ্যায়: সোনারপুর দক্ষিণের BJP প্রার্থী।
    • শওকত মোল্লা: ভাঙড়ের TMC প্রার্থী।
    • ওশাদ সিদ্দিকি: ভাঙড়ের ISF প্রার্থী।
    • জাভেদ খান: কসবার TMC প্রার্থী।
    • বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য: যাদবপুরের CPIM প্রার্থী।
    • ফিরদৌসি বেগম: সোনারপুর উত্তরের TMC প্রার্থী।
    • অরূপ বিশ্বাস: টালিগঞ্জের TMC প্রার্থী।
    • পাপিয়া অধিকারী: টালিগঞ্জের BJP প্রার্থী।
    • রত্না চট্টোপাধ্যায়: বেহালা পশ্চিমের TMC প্রার্থী।
    • সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়: মহেশতলার CPIM প্রার্থী।কলকাতা
    • ফিরহাদ হাকিম: কলকাতা বন্দরের TMC প্রার্থী।
    • রাকেশ সিং: কলকাতা বন্দরের BJP প্রার্থী।
    • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: ভবানীপুরের TMC প্রার্থী।
    • শুভেন্দু অধিকারী: ভবানীপুরের BJP প্রার্থী।
    • দেবাশিস কুমার: রাসবিহারীর TMC প্রার্থী।
    • স্বপন দাশগুপ্ত: রাসবিহারীর BJP প্রার্থী।
    • শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়: বালিগঞ্জের TMC প্রার্থী।
    • রোহন মিত্র: বালিগঞ্জের কংগ্রেস প্রার্থী।
    • নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়: চৌরঙ্গীর TMC প্রার্থী।
    • সন্তোষ পাঠক: চৌরঙ্গীর BJP প্রার্থী।
    • প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল: এন্টালির BJP প্রার্থী।
    • কুণাল ঘোষ: বেলেঘাটার TMC প্রার্থী।
    • শশী পাঁজা: শ্যামপুকুরের TMC প্রার্থী।
    • শ্রেয়া পাণ্ডে: মানিকতলার TMC প্রার্থী।
    • তাপস রায়: মানিকতলার BJP প্রার্থী।
    • অতীন ঘোষ: কাশীপুর বেলগাছিয়ার TMC প্রার্থী।
    • রিতেশ তিওয়ারি: কাশীপুর বেলগাছিয়ার BJP প্রার্থী।

    হাওড়া

    • অরূপ রায়: হাওড়া মধ্যর TMC প্রার্থী।
    • রুদ্রনীল ঘোষ: শিবপুরের BJP প্রার্থী।
    • ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়: উলুবেরিয়া পূর্বের TMC প্রার্থী।
    • হিরণ চট্টোপাধ্যায়: শ্যামপুরের BJP প্রার্থী।

    হুগলি

    • শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়: উত্তরপাড়ার TMC প্রার্থী।
    • দীপাঞ্জন চক্রবর্তী: উত্তরপাড়ার BJP প্রার্থী।
    • মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়: উত্তরপাড়ার CPIM প্রার্থী।
    • শুভঙ্কর সরকার: শ্রীরামপুরের কংগ্রেস প্রার্থী।
    • বেচারাম মান্না: সিঙ্গুরের TMC প্রার্থী।
    • ইন্দ্রনীল সেন: চন্দননগরের TMC প্রার্থী।
    • দেবাংশু ভট্টাচার্য: চুঁচুড়ার TMC প্রার্থী।
    • স্নেহাশিস চক্রবর্তী: জাঙ্গিপাড়ার TMC প্রার্থী।
    • করবী মান্না: হরিপালের TMC প্রার্থী।
    • অসিমা পাত্র: ধনেখালির TMC প্রার্থী।
    • নির্মল মাজি: গোঘাটের TMC প্রার্থী।

    পূর্ব বর্ধমান

    • সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী: মন্তেশ্বরের TMC প্রার্থী।
    • কলিতা মাঝি: আউশগ্রামের BJP প্রার্থী।
  • WB Assembly Election 2026: সকাল থেকেই শুরু দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ, কত ভোটার করবেন ভোটদান, আজ কত প্রার্থীর ভাগ্য-পরীক্ষা?

    WB Assembly Election 2026: সকাল থেকেই শুরু দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ, কত ভোটার করবেন ভোটদান, আজ কত প্রার্থীর ভাগ্য-পরীক্ষা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, দ্বিতীয় দফায় (Second Phase Polling) ভোট হচ্ছে ১৪২টি আসনে। সকাল থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে ভোটদান। বিভিন্ন বুথে ইতিমধ্যেই লম্বা লাইন চোখে পড়েছে। নির্বাচনকে (WB Assembly Election 2026) ঘিরে মানুষের মধ্যে প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজ্যে এবার দু’দফায় বিধানসভা ভোট। প্রথমটি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফা হচ্ছে আজ, বুধবার ২৯ এপ্রিল। দু’দফায় মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২৯২৬। ২৯৪টি আসনের প্রথম দফায় ভোট হয়েছে ১৫২টিতে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় ভোট হচ্ছে পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়ায়। ফল ঘোষণা হবে ৪ মে।

    কতজন ভোটার তাঁদের অধিকার প্রয়োগ করবেন?

    এই দফায় ৭টি জেলার মোট ৩,২১,৭৩,৮৩৭ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, যার মধ্যে ১,৬৪,৩৫,৬২৭ জন পুরুষ ও ১,৫৭,৩৭,৪১৮ জন মহিলা ভোটার এবং ৭৯২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। এর সঙ্গে জুড়বে ট্রাইবুনালে ‘পাশ’ করা আরও ১,৪৬৮ নাম। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী লড়ছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে। এই আসনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১৯। সবচেয়ে কম প্রার্থী লড়ছেন হুগলির গোঘাট (এসসি) আসনে। সেখানে প্রার্থী সংখ্যা ৫।

    কতজন প্রার্থীর ভাগ্য পরীক্ষা হবে?

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার ভোটে ১৪২টি আসনের জন্য লড়ছেন ১৪৪৮ জন। মনোনয়ন জমা পড়েছিল ১৪৬৩টি। তার মধ্যে ১৫ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস সব আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ১৪১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সিপিএম প্রায় ১০০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে দুজন রাজনৈতিক ময়দানে মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাতে শুভেন্দু অধিকারী জয়ী হন।

    বুথের সংখ্যা কোথায় কত

    দ্বিতীয় দফার ভোটে বুথের সংখ্যা বারাসত পুলিশ জেলায় ১৯৭৮টি, বনগাঁয় ১০২৮টি, বসিরহাটে ২০৫২টি, বিধাননগরে ৮৮৩টি, ব্যারাকপুরে ২৯২৮টি, সুন্দরবন পুলিশ জেলায় ১৭৯৮টি, বারুইপুরে ২৮২৫টি, ডায়মন্ড হারবারে ২৪৪১টি, হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ২৪৩১টি, হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ২০৮৭টি, কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলায় ২৮৪৪টি, রানাঘাট পুলিশ জেলায় ২২৯২টি, চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১৫৬৮টি, হুগলি গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ৪০৪১টি, পূর্ব বর্ধমানে ৪৪৬৫টি, আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১৯৫টি, কলকাতায় ৫১৭২টি।

    কোন কেন্দ্রে কতজন করে প্রার্থী?

    দ্বিতীয় দফার ভোটে প্রার্থীর সংখ্যা ১৯ জন প্রার্থী রয়েছেন ভাঙড় কেন্দ্রে। ১৫ জন করে প্রার্থী নোয়াপাড়া, এন্টালি, হাওড়া মধ্য কেন্দ্রে, ১৪ জন করে প্রার্থী দেগঙ্গা, সোনারপুর দক্ষিণ, বেহালা পশ্চিম, কলকাতা বন্দর, কাশীপুর-বেলগাছিয়া, বালি, ডোমজুড়জু কেন্দ্রে। ১৩ জন করে প্রার্থী বাদুড়িয়া, হাবড়া, বিজপুর, জগদ্দল, রাজারহাট-নিউটাউন, রায়দিঘি, জয়নগর (এসসি), কসবা, যাদবপুর, সোনারপুর উত্তর, মানিকতলা, হাওড়া উত্তর, আমতা কেন্দ্রে। ১২ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণগঞ্জ (এসসি), বনগাঁ উত্তর (এসসি), আমডাঙা, খড়দা, রাজারহাট-গোপালপুর, বারাসত, মগরাহাট পশ্চিম, বেহালা পূর্ব, ভবানীপুর, বালিগঞ্জ, জোড়াসাঁকো, শ্যামপুকুর, হাওড়া দক্ষিণ, শ্যামপুর, তারকেশ্বর কেন্দ্রে। ১১ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব (এসসি), হরিণঘাটা (এসসি), বনগাঁ দক্ষিণ (এসসি), গাইঘাটা (এসসি), পানিহাটি, কামারহাটি, বসিরহাট দক্ষিণ, কাকদ্বীপ, মন্দিরবাজার (এসসি), বারুইপুর পূর্ব (এসসি), টালিগঞ্জ, মেটিয়াব্রুজ, চৌরঙ্গী, বেলেঘাটা, উলুবেড়িয়া পূর্ব, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ, বাগনান, শ্রীরামপুর, চন্দননগর, হরিপাল কেন্দ্রে। ১০ জন করে প্রার্থী বাগদা (এসসি), বরাহনগর, বিধাননগর, মধ্যমগ্রাম, হাড়োয়া, বসিরহাট উত্তর, বারুইপুর পশ্চিম, ডায়মন্ড হারবার, মহেশতলা, শিবপুর, সাঁকরাইল (এসসি), চুঁচুড়া, জাঙ্গিপাড়া, ভাতার, কাটোয়া, কেতুগ্রাম কেন্দ্রে। ৯ জন করে প্রার্থী করিমপুর, পলাশিপাড়া, নাকাশিপাড়া, চাপড়া, অশোকনগর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, ব্যারাকপুর, দমদম উত্তর, দমদম, হিঙ্গলগঞ্জ (এসসি), গোসাবা (এসসি), কুলতলি (এসসি), কুলপি, রাসবিহারী, উলুবেড়িয়া উত্তর (এসসি), উদয়নারায়ণপুর, চাঁপাদানি, সিঙ্গুর, পান্ডুয়া, সপ্তগ্রাম, খানাকুল, বর্ধমান দক্ষিণ, বর্ধমান উত্তর (এসসি), মঙ্গলকোট কেন্দ্রে। ৮ জন করে প্রার্থী রানাঘাট দক্ষিণ (এসসি), স্বরূপনগর (এসসি), মিনাখাঁ (এসসি), সন্দেশখালি (এসটি), বাসন্তী (এসসি), ক্যানিং পশ্চিম (এসসি), ক্যানিং পূর্ব, মগরাহাট পূর্ব (র্বএসসি), সাতগাছিয়া, বিষ্ণুপুর (এসসি), জগৎবল্লভপুর, চণ্ডীতলা, পুরশুড়া, রায়না (এসসি), জামালপুর (এসসি), মন্তেশ্বর, পূর্বস্থলী উত্তর, গলসি (এসসি) কেন্দ্রে। ৭ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণনগর উত্তর, পাথরপ্রতিমা, সাগর, বজবজ, পাঁচপাঁলা, উত্তরপাড়া, বলাগড় (এসসি), ধনেখালি (এসসি), খণ্ডঘোষ (এসসি), কালনা (এসসি), মেমারি, পূর্বস্থলী দক্ষিণ কেন্দ্রে। ৬ জন করে প্রার্থী ফলতা, আরামবাগ (এসসি), আউশগ্রাম (এসসি) কেন্দ্রে। ৫ জন প্রার্থী গোঘাট (এসসি) কেন্দ্রে।

  • WB Assembly Polls 2026 Second Phase: দ্বিতীয় দফার ১৪২ কেন্দ্রে ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী, ৩৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন, কোন জেলায় কত?

    WB Assembly Polls 2026 Second Phase: দ্বিতীয় দফার ১৪২ কেন্দ্রে ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী, ৩৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন, কোন জেলায় কত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাত পোহালেই বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ (WB Assembly Polls 2026 Second Phase)। প্রথম দফার মতো বুধবার দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। তার জন্য একাধিক কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে মোতায়েন ৩৮ হাজার ২৯৭ রাজ্য পুলিশও। নিউটাউনে রয়েছে স্পেশাল কন্ট্রোল রুম।

    কোথায় কত বাহিনী…

    দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে মোট ২,৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার কথা জানিয়েছে কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হবে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়— মোট ৫০৭ কোম্পানি। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হচ্ছে ১১২ কোম্পানি বাহিনী। বনগাঁ পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হচ্ছে ৬২ কোম্পানি বাহিনী। বসিরহাটে ১২৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে ভোটের দিন। বিধাননগরে ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ব্যারাকপুরে থাকবে ১৬০ কোম্পানি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনে ১১৩ কোম্পানি, বারুইপুরে ১৬১, ডায়মন্ড হারবারে ১৩৫ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে দ্বিতীয় দফার ভোটে।

    আরও বাহিনী…

    হাওড়া জেলার হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় ১৪৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করছে কমিশন। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় থাকবে ১১০ কোম্পানি। নদিয়ার কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলায় ১৫৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। ওই জেলার রানাঘাট পুলিশ জেলায় থাকবে ১২৭ কোম্পানি। হুগলি জেলার চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় থাকছে ৮৩ কোম্পানি বাহিনী। হুগলি গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ভোট-দায়িত্ব সামলাবে ২৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। পূর্ব বর্ধমানে মোট ২৬০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটে মোট বুথের সংখ্যা ১৯৫টি। বাহিনী থাকবে ১৩ কোম্পানি। কলকাতায় ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতিটি কোম্পানিতে অন্তত ৭২ জন করে জওয়ান থাকেন।

    আরও পুলিশ অফিসার নিয়োগ

    দ্বিতীয় দফায় ভোটের আগে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আরও পুলিশ অফিসার নিয়োগ করেছে কমিশন। প্রথম দফার নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা ২৬ জন পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করা হয়েছে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনেও। ব্যারাকপুরে নিয়ে আসা হল অতিরিক্ত ৪ জন পুলিশ অফিসারকে। অন্যদিকে, হাওড়া-কৃষ্ণনগরে ১ জন অতিরিক্ত পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে নির্বাচন কমিশন সূত্রে। বারাসাত-বসিরহাট-বারুইপুরে অতিরিক্ত ২ জন পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করেছে কমিশন। পূর্ব বর্ধমান, চন্দননগর, হাওড়া গ্রামীণ, হাওড়া শহরে নিয়োগ করা হয়েছে অতিরিক্ত ২ জন পুলিশ অফিসার। এছাড়াও ডায়মন্ডহারবারে অতিরিক্ত ৩ জন পুলিশ অফিসারকে নিয়োগ করেছে কমিশন। আর সুন্দরবন ও বনগাঁয় অতিরিক্ত পুলিশ অফিসার নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন।

    বাহিনীর বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর

    বুধবার দ্বিতীয় দফায় ভোটের আগে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বরও প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ওয়েস্টবেঙ্গল সেক্টর ও রাজ্য ফোর্স কোঅর্ডিনেটর সিআরপিএফের আইজি হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করেছেন। ভোটের দিন কোনও সমস্যা হলে বা অভিযোগ থাকলে হেল্পলাইন নম্বরে জানানো যাবে। দুটো মোবাইল ও একটি ল্যান্ড লাইন নম্বর দেওয়া হয়েছে। মোবাইল নম্বর দুটি হল- ৮৪২০২৭২১০১, ৮৪২০২৭২৩৪৩ ও ল্যান্ড লাইন নম্বরটি হল- ০৩৩২৩৬৭১১১৭। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, ‘‘প্রথম দফার থেকেও বেশি ভোট পড়বে দ্বিতীয় দফায়। নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন ভোটাররা। শান্তিপূর্ণ ভোটই হবে দ্বিতীয় দফাতেও।’’

  • WB Election 2026: কয়লা থেকে রেশন, শিক্ষক নিয়োগ থেকে গরু পাচার! এক ঝলকে গত ১৫ বছরে তৃণমূলের দুর্নীতির ‘বর্ণমালা’

    WB Election 2026: কয়লা থেকে রেশন, শিক্ষক নিয়োগ থেকে গরু পাচার! এক ঝলকে গত ১৫ বছরে তৃণমূলের দুর্নীতির ‘বর্ণমালা’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  মাত্র আর কয়েক ঘণ্টা পরেই শেষ দফার নির্বাচন (WB Election 2026)। ভোট দেওয়ার আগে দেখে নিন এক নজরে দুর্নীতির (West Benagl Scam) ইতিকথা। ছোটবেলায় আমরা সবাই বর্ণপরিচয় পড়েছি। ‘ক’-এ কলা, ‘খ’-এ খই। গত ১৫ বছরে বাংলার শাসকদল আমাদের এক নতুন ‘বর্ণপরিচয়’ শিখিয়েছে। এই বর্ণপরিচয় আদর্শলিপি নয়, বরং দুর্নীতির এক কলঙ্কিত ইতিহাস। পশ্চিমবঙ্গের দেওয়ালে দেওয়ালে সেই নতুন অ-আ-ক-খ লেখা হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি বর্ণের সাথে জড়িয়ে আছে আপনার হকের টাকা চুরির গল্প।”

    চুরির “তৃণমূলী বর্ণপরিচয়’ 

    “কয়লা থেকে গরু, বালি থেকে চাকরি, এমনকি গরিবের হকের রেশন বা মিড-ডে মিলের চাল—কোনও কিছুই বাদ যায়নি। আমরা ভাবতাম দুর্নীতি বোধহয় দু—একটা দফতরে হয়, কিন্তু না! এরা তো রীতিমতো গবেষণার স্তরে নিয়ে গেছে বিষয়টাকে। ‘ক’ থেকে শুরু করে ‘হ’ পর্যন্ত প্রতিটি অক্ষরের পিছনে লুকিয়ে আছে হাজার হাজার কোটি টাকার কেলেঙ্কারি।

    ‘তৃণমূলী বর্ণপরিচয়’ দেখলে দেখা যাবে বর্ণমালার প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে আপনার পকেট কাটা হয়েছে আর সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ চুরি করা হয়েছে। আজকের এই ভিডিও কোনো কাল্পনিক গল্প নয়, বরং খোদ বাংলার বর্তমান অবস্থার এক নগ্ন দলিল।

    ক-এ: কয়লা চুরি ও কাটমানি (WB Election 2026)

    শুরুটা করা যাক ‘ক’ দিয়ে। বাংলার খনি থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার কয়লা পাচার হয়ে গেল, আর সেই কালো কারবারের ধোঁয়া গিয়ে পৌঁছাল খোদ রাঘববোয়ালদের দরজায়। শুধু কি কয়লা? যেকোনও সরকারি প্রকল্পের টাকা থেকে নেতাদের জন্য নির্দিষ্ট ‘কাটমানি’ রাখা এখন এক অলিখিত নিয়ম। আপনার বাড়ির ছাদ হোক বা এলাকার রাস্তা—নেতার কাটমানি না দিলে কাজ শুরু হওয়া অসম্ভব। ভোটে (WB Election 2026) কতটা প্রভাব পরে তাই এখন দেখার।

    খ-এ: খাদ্য বা রেশন দুর্নীতি (West Benagl Scam)

    খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার, কিন্তু সেই গরিবের রেশনেও থাবা বসাতে ছাড়েনি এরা। লকডাউনের সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত হাজার হাজার কুইন্টাল চাল আর গম কালোবাজারি হয়েছে। আজ রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী কেন জেল খেঁটে এসেছেন? কারণ তিনি আপনার থালার ভাতটা নিয়ে কোটি কোটি টাকার ডিল করেছেন।

    গ-এ: গরু পাচার

    বাংলার (WB Election 2026) সীমান্ত দিয়ে হাজার হাজার গরু পাচার হয়ে ভিনদেশে চলে গেল, আর তার বিনিময়ে ফুলে-ফেঁপে উঠল একশ্রেণীর নেতার ব্যাংক ব্যালেন্স। সীমান্তের ওপারে গরু পাঠাতে গিয়ে যারা মানুষের সুরক্ষাকে বাজি রেখেছে, তারা কি সত্যিই আপনার ভালো চাইবে? গ-এ গরু নয়, বরং ‘গ’ দিয়ে বাংলার কোটি কোটি টাকার আন্তর্জাতিক চোরাচালানের (West Benagl Scam)  গল্প লেখা হয়েছে।

    ঘ-এ: ঘাট ও বালি মাফিয়া

    বাংলার নদীগুলো আজ হাহাকার করছে। রাতের অন্ধকারে বেআইনিভাবে নদী থেকে বালি আর পাথর তুলে নিয়ে নদীগর্ভ উজাড় করে দিচ্ছে বালি মাফিয়ারা। গ্রামের পর গ্রাম ধসে যাচ্ছে, পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, আর এই ঘাটগুলো থেকে সিন্ডিকেটের পকেটে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ঘ-এ ঘাট আজ মাফিয়াদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    চ-এ: চাকরি চুরি

    এটি সম্ভবত বাংলার আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কলঙ্ক। ‘চ’ দিয়ে আজ চাতক পাখির মতো হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী রাজপথে বসে আছে। কারণ তাদের যোগ্যতার চাকরিটা কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে নেতার ঘনিষ্ঠদের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মেধাকে হত্যা করে টাকার জোরে অযোগ্যদের চেয়ারে বসানোই হলো এদের আসল সাফল্য।

    ছ-এ: ছাত্রভর্তিতে তোলাবাজি

    পড়াশোনার মন্দির আজ তোলাবাজির আখড়া। কলেজে ভর্তি হতে গেলেও ছাত্র পরিষদের দাদাদের মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। গরিব মেধাবী ছাত্রটি আজ তার স্বপ্নের বিষয়ে পড়তে পারছে না, কারণ তার কাছে সেই ‘ছ’-এ ছাত্রভর্তির তোলাবাজির টাকা নেই। শিক্ষাক্ষেত্রে এমন চরম নির্লজ্জতা কি আগে কেউ দেখেছে?

    জ-এ: জব কার্ড কেলেঙ্কারি

    গরিব মানুষের একশো দিনের কাজের টাকা নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে, তার নাম ‘জ’ দিয়ে জব কার্ড কেলেঙ্কারি (West Benagl Scam) । মৃত মানুষের নামে জব কার্ড বানিয়ে কিংবা কাজ না করিয়েই টাকা তুলে নিয়েছে শাসকদলের নেতারা। আজ যে সাধারণ মানুষ একশো দিনের কাজের টাকা পাচ্ছেন না, তার দায় কি ওই তৃণমূলী মেম্বার আর প্রধানদের নয়, যারা দুর্নীতির পাহাড় বানিয়ে কেন্দ্রীয় টাকা আটকে যাওয়ার পথ করে দিয়েছে?

    ট-এ: টেট (TET) দুর্নীতি

    ‘ট’ দিয়ে আজ বাংলার ঘরে ঘরে কান পাতলে শোনা যায় টেট দুর্নীতির হাহাকার। ওএমআর শিট (OMR sheet) কারচুপি করে রাতারাতি ফেল করা প্রার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাদা খাতা জমা দিয়েও অনেকে আজ চাকরি করছে, আর যারা দিনরাত এক করে পড়াশোনা করেছিল, তারা আজ গান্ধী মূর্তির পাদদেশে চোখের জল ফেলছে। টেট আজ নিয়োগের পরীক্ষা নয়, বরং টাকা কামানোর মেশিনে পরিণত হয়েছে।

    ঠ-এ: ঠিকাদারি ও সিন্ডিকেট

    যেকোনও সরকারি নির্মাণ মানেই তৃণমূলী সিন্ডিকেটের রমরমা। ‘ঠ’ দিয়ে ঠিকাদারি আজ আর মেধার লড়াই নয়, বরং কে কত বড় নেতার কাছের লোক তার প্রতিযোগিতা। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা বা ব্রিজ তৈরি হচ্ছে, আর সেই মুনাফার টাকা ভাগ হয়ে যাচ্ছে ভাইপো থেকে পাড়ার মেজো নেতা—সবার মধ্যে। এই সিন্ডিকেট ট্যাক্স না দিলে বাংলায় একটা ইঁটও গাঁথা সম্ভব নয়।

    ড-এ: ডিয়ার লটারি দুর্নীতি

    সাধারণ মানুষের (WB Election 2026) ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার নাম লটারি। ‘ড’ দিয়ে এই ডিয়ার লটারি আজ কালো টাকা সাদা করার সবচেয়ে বড় মাধ্যম। আমরা দেখছি বারবার একই প্রভাবশালী পরিবারের লোক লটারিতে কোটি টাকা জিতছে! এটা কি নিছক ভাগ্য, নাকি আপনার ঘাম ঝরানো পয়সা পকেটস্থ করার এক পরিকল্পিত নীল নকশা? লটারির নেশায় সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে, আর নেতারা কোটিপতি হচ্ছে।

    ত-এ: ত্রিপল ও ত্রাণ চুরি

    মানবিকতাও এদের কাছে ব্যবসার মাধ্যম। আমফানের সময় যখন মানুষের মাথার ছাদ উড়ে গিয়েছিল, তখন ‘ত’ দিয়ে সেই সামান্য ত্রিপলটুকুও চুরি করতে ছাড়েনি এরা। রিলিফের চাল থেকে শুরু করে ক্ষতিপূরণের টাকা—সবই চলে গেছে তৃণমূলী নেতাদের আত্মীয়স্বজনদের একাউন্টে। বিপদের দিনে যারা মানুষের হকের ত্রাণ চুরি করে, তারা মানুষের শত্রু ছাড়া আর কিছু নয়।

    ন-এ: নিয়োগ দুর্নীতি (পুরসভা)

    স্কুলের পর এবার নজর পুরসভার দিকে। ‘ন’ দিয়ে নিয়োগ দুর্নীতি আজ পুরসভাগুলোতেও থাবা বসিয়েছে। অযোগ্যদের চাকরি দিয়ে শহর বা মফস্বলের প্রশাসনকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। যোগ্য প্রার্থীরা আজও হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর নেতার প্যাডে নাম থাকা ব্যক্তিরা সরকারি চেয়ারে বসে জনগণের টাকায় মৌজ করছে।

    প-এ: প্রাথমিকে দুর্নীতি

    শিক্ষার একদম গোড়াতেই বিষ মিশিয়ে দিয়েছে এই সরকার। ‘প’ দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে যে নির্লজ্জ কারচুপি আমরা দেখলাম, তা গোটা দেশের সামনে বাংলার মাথা হেঁট করে দিয়েছে। টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে আগামীর ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব। আজ যে শিশুরা প্রাথমিক স্কুলে যাচ্ছে, তারা কী শিখবে? যখন তাদের শিক্ষকরাই মেধার বদলে টাকার জোরে চাকরি পেয়েছে!

    ব-এ: বালি পাচার

    বাংলার নদীগুলো আজ কঙ্কালসার (West Benagl Scam) । ‘ব’ দিয়ে বালি পাচার আজ এক সংগঠিত অপরাধে পরিণত হয়েছে। কোনো রয়্যালটি ছাড়াই রাতের অন্ধকারে শয়ে শয়ে ট্রাক নদী থেকে বালি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতির এই ধ্বংসলীলা আর কয়েকশ কোটি টাকার এই পাচারকাণ্ডের পিছনে রয়েছে স্থানীয় নেতা আর প্রশাসনের এক গভীর আঁতাত। বালি চুরি করে নদীগর্ভ সাবাড় করা হচ্ছে, আর নেতাদের পকেট ভরাট হচ্ছে।

    র-এ: রেশন চুরি

    মানুষের অভাব নিয়ে ব্যবসা করাই এদের দস্তুর। ‘র’ দিয়ে রেশন চুরির জাল ছড়িয়ে আছে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত। গরিবের ডিজিটাল রেশন কার্ডের চাল-গম খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। আর সাধারণ মানুষ যখন ডিলারের কাছে যাচ্ছে, তখন বলা হচ্ছে “ওপর থেকে স্টক আসেনি”। আপনার পেটের ভাত যারা কেড়ে নেয়, তাদের ক্ষমা করার জায়গা কোথায়?

    ম-এ: মিড-ডে মিল তছরূপ

    এরা এতটাই নিচে নেমেছে যে শিশুদের খাবারটুকুও ছাড়েনি। ‘ম’ দিয়ে মিড-ডে মিলের টাকায় কখনো রাজনৈতিক সভা করা হচ্ছে, কখনো আবার সেই টাকা তছরূপ করে নেতাদের পকেট গরম করা হচ্ছে। বাড়ন্ত বয়সের বাচ্চাদের পাতে ডাল-ভাতের বদলে জুটেছে চরম দুর্নীতি। শিশুদের পুষ্টি নিয়ে যারা খেলা করে, তাদের থেকে নিষ্ঠুর আর কে হতে পারে?

    স-এ: সিন্ডিকেট রাজ

    বাংলায় (WB Election 2026) আজ আইনের শাসন নয়, চলছে ‘স’ দিয়ে সিন্ডিকেট রাজ। আপনি নিজের জমিতে বাড়ি করবেন? সিন্ডিকেটের থেকে মাল নিতে হবে। আপনি ছোট ব্যবসা করবেন? সিন্ডিকেটকে তোলা দিতে হবে। এই সিন্ডিকেট আজ বাংলার অর্থনীতির গলা টিপে ধরেছে। কোনও বড় শিল্প এখানে আসতে ভয় পায় কেবল এই সিন্ডিকেট আর তোলাবাজদের ভয়ে।

    শ-এ: শিক্ষা দুর্নীতি ও সারদা

    ‘শ’ দিয়ে বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষের সর্বস্বান্ত হওয়ার ইতিহাস লেখা আছে। একদিকে সারদার মতো চিটফান্ডে সাধারণ মানুষের রক্তজল করা টাকা লোপাট, আর অন্যদিকে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিলামে তোলা। পর্ষদ সভাপতি থেকে শুরু করে শিক্ষামন্ত্রী—সবাই আজ জেল খাটছে। মেধা আজ রাজপথে কাঁদছে, আর দুর্নীতি আজ রাজপ্রাসাদে অট্টহাসি হাসছে।

    হ-এ: হান্ড্রেড ডেইজ ওয়ার্ক টাকা লুট

    সবশেষে ‘হ’—হান্ড্রেড ডেইজ ওয়ার্ক বা একশো দিনের কাজের টাকা লুট। গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের ঘামের দাম এরা নর্দমায় ছুড়ে ফেলেছে। ভুয়া মাস্টার রোল বানিয়ে কোটি কোটি টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। আজ যখন কেন্দ্র হিসাব চাইছে, তখন এরা মুখ লুকাচ্ছে আর মাশুল গুনছে বাংলার সাধারণ শ্রমিকরা। ‘হ’-এ হাহাকার আজ বাংলার গ্রামে গ্রামে।

    এটাই আজকের বাংলার বাস্তব ‘বর্ণপরিচয়’ (West Benagl Scam)। আমরা ছোটবেলায় পড়েছিলাম ‘অজগরটি আসছে তেড়ে’, আজ বাংলার প্রতিটি প্রান্তে সেই অজগরের মতো দুর্নীতি সাধারণ মানুষকে গিলে খেতে আসছে। ক-থেকে-হ, বর্ণমালার প্রতিটি অক্ষর আজ কলঙ্কিত। যারা আপনার সন্তানের শিক্ষার অধিকার বিক্রি করে দেয়, যারা আপনার ঘরের চাল চুরি করে, কিংবা যারা আপনার সারা জীবনের জমানো টাকা লটারির নামে বা চিটফান্ডের নামে লুটে নেয়—তারা কি সত্যিই আপনার বন্ধু?”

    যুবসমাজ পরিযায়ী শ্রমিক

    এই অ-আ-ক-খ দিয়ে কোনো উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব নয়। এই বর্ণপরিচয় কেবল ধ্বংস আর অন্ধকারের কথা বলে। আজ বাংলার (WB Election 2026) যুবসমাজ পরিযায়ী শ্রমিক, বাংলার মেধাবীরা রাজপথে অনশনরত, আর বাংলার কোষাগার দেউলিয়া। দেড় হাজার টাকার ভাতার মুলো ঝুলিয়ে যারা আপনার এই চরম ক্ষতিকে আড়াল করতে চাইছে, তাদের চিনে নেওয়ার সময় এসেছে। মনে রাখবেন, আজ যদি আপনি এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আওয়াজ না তোলেন, তবে আপনার আগামী প্রজন্ম আপনাকে ক্ষমা করবে না। এখন এই সব কিছুর প্রভাব ভোটে কতটা পরে তাই এখন দেখার।

  • WB Election 2026 Phase 2: বিশেষ নজর কলকাতায়! দ্বিতীয় দফার আগে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক কমিশনের, কী কী সিদ্ধান্ত হল?

    WB Election 2026 Phase 2: বিশেষ নজর কলকাতায়! দ্বিতীয় দফার আগে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক কমিশনের, কী কী সিদ্ধান্ত হল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাত পোহালেই বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। প্রথম দফার মতো বুধবার দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করতে কলকাতায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।

    বিশেষ বৈঠকে কমিশন

    শহরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার, নির্বাচন পর্যবেক্ষক-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। সূত্রের খবর, বৈঠকে যোগ দেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকরাও। পাশাপাশি, জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DEO), রিটার্নিং অফিসার (RO) সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতেই এই সমন্বয় বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

    কী নিয়ে আলোচনা?

    কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয় রেখে কীভাবে বুথে বুথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে, তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্পর্শকাতর বুথগুলিতে বিশেষ নজরদারি, রুট মার্চ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী মোতায়েন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণকে নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন যে সম্পূর্ণ প্রস্তুত, সেই বার্তাই স্পষ্ট।

    কলকাতায় আলাদা করে নজর

    কলকাতার পরিস্থিতি নিয়েও বিশেষ ভাবনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। কলকাতার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে রবিবার সমস্ত সিভিল সেক্টর অফিসার, পুলিশ সেক্টর অফিসার, জেনারেল অবজ়ার্ভার, পুলিশ অবজ়ার্ভার, স্পেশ্যাল অবজ়ার্ভার, পুলিশের সিনিয়র আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিল কমিশন। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার অজয়কুমার নন্দ। বৈঠক পর নগরপাল জানান, বুথ ধরে ধরে যে সব পরিকল্পনা রয়েছে, কোথায় কত কুইক রেসপন্স টিম, কন্ট্রোল রয়েছে, অভিযোগ জানানোর কী ব্যবস্থা আছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর দায়িত্ব কী কী, কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে কী করা হবে, এই সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে।

    বাইকে টহল পুলিশ-আধাসেনার

    সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী বুধবার, দ্বিতীয় দফার ভোটে গোটা শহর জুড়েই টহল দেবে পুলিশ-আধাসেনার বাইক। অজয় জানান, কলকাতা জুড়ে মোট ১৬০টি বাইক টহল দেবে। এই কাজ পুলিশ এবং আধাসেনা মিলে করবে। পাশাপাশি, বুথে বুথে নজরদার ক্যামেরা থাকবে। বুথের পরিস্থিতি বুঝে আরও ক্যামেরা লাগানো হতে পারে। অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ড্রোনের সংখ্যা বৃদ্ধি

    তবে শুধু কলকাতা নয়, সর্বত্রই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও কড়াকড়ি আনতে চাইছে কমিশন। কমিশন সূত্রেই খবর, স্পর্শকাতর বুথে নজরদারি চালাতে দ্বিতীয় দফায় ড্রোনের সংখ্যাও বাড়ানো হবে। এ ছাড়াও শুধু বুথ বা বুথ সংলগ্ন এলাকা নয়, এ বার বুথ‌মুখী সব রাস্তাতেও ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত‌ নিয়েছে কমিশন। মূলত কলকাতা এবং হাওড়ার মতো ঘিঞ্জি বা ঘনবসতি এলাকায় যে সমস্ত বুথ থাকবে, সেই সমস্ত বুথের ক্ষেত্রেই তা মেনে চলা হবে। ‌

  • WB Election 2026: সারি সারি দাঁড়িয়ে সাঁজোয়া যান, শেষ দফার ভোট হিংসা মুক্ত করতে বাহিনীর বিরাট চমক

    WB Election 2026: সারি সারি দাঁড়িয়ে সাঁজোয়া যান, শেষ দফার ভোট হিংসা মুক্ত করতে বাহিনীর বিরাট চমক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাইনে দাঁড়িয়ে সারি সারি সাঁজোয়া গাড়ি। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের (WB Election 2026) শেষ দফা ভোটের আগে হিংসা রুখতে কমিশনের কড়া অবস্থান। দুষ্কৃতীদের সাবধান করতে সিআরপিএফ-এর (CRPF) অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল (ADG) জিপি সিং একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করেন। তাঁর পোস্ট করা নিরাপত্তা প্রস্তুতির কিছু ছবি সময় সামাজিক মাধ্যমে বেশ আলোচিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে জেলায় জেলায় দাগি এক হাজারের বেশি অপরাধীদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ প্রশাসন। যেখানে যেখানে হিংসার ঘটনা ঘটছে জোর কদমে চলছে ধরপাকড়। ভোট লুট বন্ধ করতে কমিশন ও প্রশাসন ব্যাপক সক্রিয়।

    বিশেষ তৎপরতা গ্রহণ (WB Election 2026)

    নির্বাচনী (WB Election 2026) নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (CRPF) অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল (CRPF)  জিপি সিং একটি পোস্ট করে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার প্রাক্কালে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ তৎপরতা গ্রহণ করা হয়েছে।” সামাজিক মাধ্যমে বাহিনীর সুশৃঙ্খল প্রস্তুতি ও রণকৌশলের কিছু আলোকচিত্র শেয়ার করেছেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে কমিশন কতটা হিংসা মুক্ত নির্বাচন চায়।

    ভীতি ছাড়াই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ

    অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল জিপি সিং নিজের শেয়ার করা ছবিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানরা কঠোর নজরদারি চালাচ্ছেন। শুধু তাই নয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁরা কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এই পোস্টের (CRPF)  মূল উদ্দেশ্য হল মূলত ভোটারদের মনে আস্থা জাগানোর একটি প্রয়াস মাত্র। সাধারণ মানুষ যাতে কোনও প্রকার ভীতি ছাড়াই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারেন সেই বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ভোটারদের সাহস যোগাবে

    একই ভাবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে (WB Election 2026) শান্তি বজায় রাখতে এবং যেকোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। উচ্চপদস্থ এই আধিকারিকের (CRPF) সরাসরি তত্ত্বাবধান এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এই সক্রিয় উপস্থিতি নির্বাচনী ময়দানে নতুন মাত্রার উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। তবে এই ধরনের সাঁজোয়া যান কেবলমাত্র কাশ্মীরের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই ব্যবহার করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে এই ব্যবহার এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

  • Assembly Election 2026: মাত্র ৬ জনের নাম ‘ডিলিট’! দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করল কমিশন, ভোটাধিকার পেলেন কতজন?

    Assembly Election 2026: মাত্র ৬ জনের নাম ‘ডিলিট’! দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করল কমিশন, ভোটাধিকার পেলেন কতজন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ফের অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন (Assembly Election 2026)। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল, ভোটের দু’দিন আগে পর্যন্ত যতজনের নাম নিষ্পত্তি হবে, সেই তালিকা প্রকাশ করতে হবে। প্রথম দফার পর এবার দ্বিতীয় দফার আগেও প্রকাশ হল আরও একটি সাপ্লিমেন্টারি তালিকা। সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত যত নামের নিষ্পত্তি হয়েছে, সেই সব নাম প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোররাতে প্রকাশ হয়েছে সেই তালিকা। দ্বিতীয় তালিকায় জুড়ল ১৪৬৮ জনের নাম। বাদ পড়ল মাত্র ৬ জনের নাম।

    কীভাবে নাম চেক করবেন?

    আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। ভোটার তালিকা আগেই ফ্রিজ হয়ে গিয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২৭ তারিখ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার রাত পর্যন্ত যাঁদের আবেদনের নিষ্পত্তি হয়েছে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন বুধবার। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হয়েছে মোট ১৪৭৪ জনের। সেখান থেকে মোট ৬ জনের নাম বাদ গিয়েছে। আপনার নাম লিস্টে রয়েছে কি না দেখতে গেলে এক্ষেত্রে https://ceowestbengal.wb.gov.in/-এ যান। সেখানে সাপ্লিমেন্টরি লিস্ট বলে একটি অপশন পাবেন। সেই অপশনে ক্লিক করুন। সেখানে নিজের জেলা, বিধানসভা কেন্দ্র এবং ভাষা বেছে নিয়ে ক্যাপচা দিয়ে দিন। তাহলেই দেখতে পাবেন সেই লিস্টে নাম রয়েছে কি না। এভাবে নাম দেখতে না চাইলে নিজের ভোটার কার্ডের নম্বর দিয়েও নাম সার্চ করতে পারেন। এক্ষেত্রে ‘সার্চ ইওর নেম ইন ইলেক্টোরাল রোল’ অপশনে ক্লিক করুন। তারপর সব তথ্য দিয়ে ক্যাপচা লিখে করুন সাবমিট। আপনার নাম ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হয়ে থাকলে তথ্য চলে আসবে।

    আদালতের নির্দেশ মেনে কাজ

    বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন রয়েছে। সাত জেলার মোট ১৪২টি আসনে হবে ভোটগ্রহণ (Assembly Election 2026)। কলকাতার পাশাপাশি দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া এবং পূর্ব বর্ধমানে ভোট রয়েছে। নতুন প্রকাশিত অতিরিক্ত তালিকায় দ্বিতীয় দফার ভোটকেন্দ্রগুলির যে ভোটারদের নাম জুড়ল, তাঁরাও ভোট দিতে পারবেন। বস্তুত, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর বিবেচনাধীন তালিকায় ছিল ৬০ লক্ষাধিক নাম। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা সেই বিবেচনাধীন তালিকার নামগুলির নিষ্পত্তি করেন। তাতেও অনেক ভোটার ‘অযোগ্য’ হিসাবে বিবেচিত হয়েছিলেন। এ অবস্থায় আদালত জানিয়েছিল, চাইলে ওই ভোটারেরা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত ট্রাইবুনালে আবেদন জানাতে পারবেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের প্রথম চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। তার পর থেকে ধাপে ধাপে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

  • Bengal Assembly Election 2026: ‘‘আধ্যাত্মিক টান অনুভব করেছি’’, বঙ্গবাসীকে খোলা চিঠি প্রধানমন্ত্রীর, জনতার কাছে করলেন কোন আবেদন?

    Bengal Assembly Election 2026: ‘‘আধ্যাত্মিক টান অনুভব করেছি’’, বঙ্গবাসীকে খোলা চিঠি প্রধানমন্ত্রীর, জনতার কাছে করলেন কোন আবেদন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২৭ এপ্রিল, সোমবার রাজ্যের অষ্টাদশ বিধানসভার (Bengal Assembly Election 2026) শেষ প্রচার করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Rally)। প্রচারে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে দিয়েছেন বিশেষ বার্তা। তৃণমূলের জঙ্গলরাজ, লাগামছাড়া দুর্নীতি, নারী নির্যাতন, শিক্ষার বেহাল দশা, জীর্ণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সহ একাধিক সিন্ডিকেট রাজ ও কাটমানির কথা মনে করিয়ে দিয়ে ব্যাপক মাত্রায় ২৯ এপ্রিম ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। মোদির সাফ কথা— ‘দেশ তখনই এগিয়ে যাবে যখন পশ্চিমবঙ্গ এগিয়ে যাবে। তাই পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।’ নির্বাচনী প্রচার শেষে বাংলার জনসাধারণের জন্য খোলা চিঠিও দিয়েছেন মোদি। বঙ্গভূমিকে তীর্থ ভূমি উল্লেখ করে জয় মা কালীকে ডেকেছেন। বাংলার মঙ্গল কামনায় রাজ্যবাসীকে ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।

    সর্বদা এক পরম প্রাপ্তি (Bengal Assembly Election 2026)  

    নির্বাচনী প্রচারে (Bengal Assembly Election 2026) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi Rally) সেই খোলা চিঠিটি মার্জিত এবং প্রাঞ্জল বাংলায় বলেছেন,”

    “শ্রদ্ধেয় পরিজনগণ, জয় মা কালী,

    বাংলার পুণ্যভূমিতে পদার্পণ করা আমার কাছে সর্বদা এক পরম প্রাপ্তি। এ এক তীর্থযাত্রার সমান। আমি যখনই আপনাদের মধ্যে উপস্থিত হই, আপনাদের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ আমাকে অভিভূত করে। এই আশীর্বাদই আমাকে দেশসেবায় নিয়োজিত থাকার অদম্য শক্তি জোগায়।”

    মা-বোনেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন

    আসন্ন নির্বাচন (Bengal Assembly Election 2026) পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এক সন্ধিক্ষণ। দীর্ঘ বঞ্চনা, অরাজকতা এবং দুর্নীতির শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে এক নতুন ভোরের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে বাংলা। আমি জানি, আজ বাংলার মা-বোনেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, যুব সমাজ কর্মসংস্থানের অভাবে দিশেহারা এবং কৃষক ভাইবোনেরা তাঁদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। দুর্নীতির অন্ধকারে আজ বাংলার প্রতিভা ম্লান হয়ে পড়ছে।

    উন্নত বাংলা’ এবং ‘সোনার বাংলা’ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ

    তৃণমূলের শাসনে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের একাধিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত জনসাধারণ। নির্বাচন আবহে প্রধানমন্ত্রী (Bengal Assembly Election 2026) বলেন,  “কবিগুরুর ভাষায়— ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’— সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার সময় সমাগত। আমরা এক ‘উন্নত বাংলা’ এবং ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে ভয় নয়, ‘ভরসা’ হবে শাসনের ভিত্তি। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুফল যাতে বাংলার প্রতিটি প্রান্তের মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

    হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার

    গত ৩৪ বছর বাম শাসন আর তৃণমূলের শাসনে বাংলার সংস্কৃতিক অবক্ষয় এখন চরম সীমায়। তাই প্রধানমন্ত্রী (PM Modi Rally) বলেন, “বাংলার (Bengal Assembly Election 2026) হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার এবং এক স্বচ্ছ ও প্রগতিশীল সরকার গঠনের লক্ষ্যে আমি আপনাদের সমর্থন ও আশীর্বাদ প্রার্থী। আগামী নির্বাচনে নির্ভয়ে আপনাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। আপনাদের একটি ভোটই পারে বাংলার সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে। আসুন, আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক নতুন বাংলা গড়ে তুলি। আপনাদের সেবায় সর্বদা নিবেদিত, নরেন্দ্র মোদি।”

    আধ্যাত্মিক টান অনুভব করেছি

    ২০২৪-এর জানুয়ারিতে অযোধ্যায় রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠার আগে তিনি যে ১১ দিনের কঠোর অনুধ্যান বা অনুষ্ঠান করেছিলেন সেই কথাই বাংলা প্রসঙ্গে মনে পড়েছে। বাংলার এই নির্বাচনী প্রচারে মোদির (PM Modi Rally) অনুভূতি ঠিক একই প্রকার । একে আধ্যাত্মিক স্পন্দনের অনুভব বলেছেন। মোদির কথায়, ‘‘বাংলার প্রতিটি জনসভা ও রোড-শো-তে আমি সেই আধ্যাত্মিক টান অনুভব করেছি, যা দেবী মন্দিরে প্রার্থনার সময় পাওয়া যায়। বাংলার অলিগলিতে প্রচারের সময় যে ভালবাসা পেয়েছি, তা আমাকে নতুন শক্তিতে ভরিয়ে দিয়েছে।’’

    ভালো অভিজ্ঞতার স্মৃতি

    আবেগঘন হয়ে মোদি (PM Modi Rally) বাংলার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এতো মেসেজ, প্রশ্ন আর ছবিতে তা স্পষ্ট ভাবে বুঝতে পেরেছেন। চিঠিও অনেকে পাঠান। সেগুলিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভালো অভিজ্ঞতার স্মৃতি। মোদি তাই বলেছেন, ‘‘জনসভা বা রোড-শো-র শেষে গভীর রাতে আমি আপনাদের পাঠানো ছবি ও বার্তাগুলো নিয়ে বসি। যুবক থেকে শুরু করে প্রবীণ, সব বয়সের মানুষের যে বিপুল ভালবাসা আমি পেয়েছি, তাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।”

    যথেষ্ট ভয় দেখানো হয়েছে, এবার প্রয়োজন বিশ্বাসের

    রাজ্যের (Bengal Assembly Election 2026) যুবসমাজ, নারী সমাজ, কৃষক শ্রমিক সকলেই দীর্ঘ অন্ধকার অত্যাচার আর নিপীড়নের শাসন থেকে মুক্তি চায়। পরিবর্তনের এক বড় মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে বঙ্গবাসী। যে রাজ্যে বেকারদের কাজ নেই, মেয়েরা সুরক্ষিত নন, কৃষকতার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত, সেই রাজ্যে দ্রুত নতুন সূর্য উঠবে। তৃণমূলের শাসন থেকে বাংলা মুক্ত হবে। মানুষ নিজের অধিকার ফিরে পাবে। তাই প্রধানমন্ত্রী (PM Modi Rally) স্বয়ং লিখেছেন, “যথেষ্ট ভয় দেখানো হয়েছে, এবার প্রয়োজন বিশ্বাসের। আর সেই বিশ্বাসের নাম বিজেপি। বাংলার সেবা করা এবং বাংলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার পবিত্র কর্তব্য। বাংলার সামনে থাকা প্রতিটি প্রতিকূলতাকে সুযোগে রূপান্তর করা আমার দায়িত্ব এবং ভবিতব্য। এই দায়িত্ব থেকে আমি কখনও এক চুলও সরব না।”

    বাংলা ভাষায় মোদির লেখা চিঠি কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং বাঙালির ‘আবেগের ধমনীতে’ সাড়া ফেলে দেওয়ার এক সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। এই আবেগ ভীষণ ভাবে ভোটের অঙ্কে প্রতিফলন ঘটাবে বলে বিশ্বাস রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

  • Assembly Election 2026: হুমকি দিয়ে ভোটার কার্ড হাতানোর অভিযোগ! ফলতায় অভিষেক ঘনিষ্ঠ টিএমসি প্রার্থীকে হুঁশিয়ারি ‘সিংহম’-এর

    Assembly Election 2026: হুমকি দিয়ে ভোটার কার্ড হাতানোর অভিযোগ! ফলতায় অভিষেক ঘনিষ্ঠ টিএমসি প্রার্থীকে হুঁশিয়ারি ‘সিংহম’-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হুমকি দিয়ে ভোটার কার্ড হাতানোর অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে গেল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। দ্বিতীয় দফার ভোটের (Assembly Election 2026) আগে সোমবার সকালে ভোটারদের ভয় দেখানো এবং পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের (Jahangir Khan) বাড়িতে অতর্কিতে হানা দেয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের দুঁদে আইপিএস অফিসার তথা নির্বাচন কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা। তবে খুঁজে পাওয়া যায়নি জাহাঙ্গিরকে। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক ধারণা, গ্রেফতারি বা জিজ্ঞাসাবাদ এড়াতে প্রার্থী এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। এরপরই জাহাঙ্গিরের উদ্দেশে তাঁর পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের রীতিমতো ধমক দিতে দেখা যায় অজয় পাল শর্মাকে। তিনি বলেন, “ওর বাড়ির লোককে বলে দেবেন, উনি যা করছেন, তাতে পরে যেন কাঁদতে না হয়।”

    জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে মূলত দুটি গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে কমিশনের কাছে। সাধারণ মানুষকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া। পরিচয়পত্র কেড়ে নিয়ে ভোটারদের ভোটাধিকারে বাধা দেওয়া। কমিশন সূত্রে খবর, সোমবার সকাল ১০টা নাগাদ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে জাহাঙ্গিরের বাড়ির সদর দরজায় পৌঁছন পুলিশ পর্যবেক্ষক। তবে তল্লাশি শুরু হলেও বাড়িতে খোঁজ মেলেনি খোদ প্রার্থীর। বাড়ির সামনে তাঁর ব্যবহৃত লাল রঙের বিলাসবহুল গাড়িটি দাঁড়িয়ে থাকলেও জাহাঙ্গির খান কোথায়, সে বিষয়ে পরিবারের তরফে সদুত্তর মেলেনি। এদিন প্রচারেও দেখা যায়নি জাহাঙ্গিরকে। সম্ভবত তিনি বেপাত্তা, এমনই খবর নির্বাচন কমিশন সূত্রে।

    আইপিএস অফিসারের কড়া হুঁশিয়ারি

    তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে অভিযান চলাকালীন মেজাজ হারাতে দেখা যায় আইপিএস অজয় পাল শর্মাকে। জাহাঙ্গিরের পরিবার ও অনুগামীদের উদ্দেশে তিনি কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ওর খবর আমরা ভালোভাবেই নেব। ওকে পরিষ্কার বুঝিয়ে দেবেন যে, বারবার লোকজনকে ভয় দেখানোর যে অভিযোগ আসছে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে যেন কান্নাকাটি না করে।” এই অভিযানকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ভোটের আগে প্রার্থীকে মানসিক চাপে ফেলতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে এই অত্যাচার চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। তবে তৃণমূল যাই বলুক, জাহাঙ্গিরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ওই এলাকার সাধারণ মানুষ অবশ্য পুলিশি তৎপরতায় একটু নিশ্চিন্তে। জাহাঙ্গিরকে সমর্থন নিয়ে তৃণমূলের পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিজেপির অমিত মালব্যও। এক্স মাধ্যমে পোস্ট শেয়ার করেছেন তিনি। বলেছেন ‘ কমিশনের বার্তা পরিষ্কার: জেলায় বহাল থাকবে আইনের শাসন, চলবে না হুমকি, অভিষেক ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে তাই সময় নষ্ট নয়, দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে।’

    কে এই জাহাঙ্গির

    জেলার রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী জাহাঙ্গির। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে পরিচিত তিনি। ২০১৪ সালে অভিযেক ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই জাহাঙ্গিরের উত্থান শুরু হয়ে জেলার রাজনীতিতে। ফলতা, বজবজ পুরসভা এলাকায় ধীরে ধীরে তাঁর প্রভাব বাড়ে। জাহাঙ্গির ফলতার যুব তৃণমূলের সভাপতি হন। বজবজ বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের পর্যবেক্ষকও হন তিনি। অভিষেকের নির্দেশেই জাহাঙ্গিরের উত্থান। গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে এই জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ নতুন নয়। আগেও একাধিক ভোটে তাঁর বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    কে এই অজয় পাল শর্মা?

    অজয় পালের প্রোফাইল ঘাঁটলে যে কেউ চমকে উঠতে পারেন। তিনি ২০১১ সালের উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার। তবে তাঁর কেরিয়ার শুরু হয়েছিল অন্যভাবে। লুধিয়ানার ভূমিপুত্র অজয় আসলে একজন ডাক্তার। পাটিয়ালার সরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে তিনি ডেন্টাল সার্জারি বা বিডিএস (BDS) পাশ করেন। কিন্তু সেই পেশা ছেড়ে তিনি তুলে নেন পুলিশের উর্দি। বর্তমানে প্রয়াগরাজের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের অপরাধী দমনে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। কড়া মেজাজ আর নির্ভীক দাপটের জন্যই তাঁকে ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ উপাধি দেওয়া হয়েছে তাঁকে। দক্ষিণ ২৪ পরগণার ভোটে দুষ্কৃতীদের বুকে ত্রাস তৈরি করতে যোগীরাজ্য থেকে আনা হচ্ছে ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ এই আইপিএস অফিসারকে। দ্বিতীয় দফার (West Bengal Election Second Phase) হাইভোল্টেজ ভোটের আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক হয়ে এসেছেন অজয় পাল শর্মা (Ajay Pal Sharma Police Observer)। উত্তরপ্রদেশের পুলিশ মহলে যাঁর পরিচয় ‘সিংহম’ হিসেবে।

    কমিশনের নজরে দক্ষিণ ২৪ পরগণা

    গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ১৫২টি আসনের ভোট মোটের ওপর নির্বিঘ্নেই মিটেছে। কিন্তু আসল পরীক্ষা আগামী ২৯ তারিখ। ওই দিন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ। আর এই দফার অন্যতম স্নায়ুকেন্দ্র হল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা। ভাঙড় থেকে ক্যানিং, মিনাখাঁ থেকে বাসন্তী – এই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত বারবার রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভোট নিয়ে বরাবরই নালিশ জানায় বিরোধীরা। অভিযোগ ওঠে দেদার ছাপ্পা ও রিগিংয়ের। তাই নির্বাচন কমিশনের তরফে এবার অজয় পাল শর্মার মতো অফিসারকে এখানে পাঠানো হয়েছে। এর অর্থ হল, অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করলেই চরম ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখা।

  • Election Commission India: রাজ্য পুলিশের ডিজি পদে সিদ্ধনাথ গুপ্তের মেয়াদ বৃদ্ধি; দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে নবান্নে কেন্দ্রের সবুজ সংকেত

    Election Commission India: রাজ্য পুলিশের ডিজি পদে সিদ্ধনাথ গুপ্তের মেয়াদ বৃদ্ধি; দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে নবান্নে কেন্দ্রের সবুজ সংকেত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আবহে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহানির্দেশক (DGP) সিদ্ধনাথ গুপ্তের (Election Commission India) চাকরির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়িয়ে দিল কেন্দ্র সরকার। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    নির্বাচন কমিশনের সুপারিশে এবং ক্যাবিনেটের সিদ্ধনাথের (IPS Siddh Nath Gupta) নিয়োগ কমিটির (ACC) অনুমোদনে এই সিদ্ধান্তের কথা সোমবার রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

    আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি (Election Commission India)

    ১৯৯২ ব্যাচের আইপিএস অফিসার সিদ্ধনাথ গুপ্তের (IPS Siddh Nath Gupta) আগামী ৩০ এপ্রিল অবসরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে জনস্বার্থে এবং নির্বাচনকালীন বিশেষ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ‘অল ইন্ডিয়া সার্ভিস রুলস’ অনুযায়ী তাঁর চাকরির মেয়াদ আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

    উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল ঘটিয়েছিল। ডিজিপি পদ থেকে পীযূষ পাণ্ডেকে সরিয়ে দিয়ে ছিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission India)। তাঁর জায়গায় নিযুক্ত করা হয় সিদ্ধনাথ গুপ্তকে। সেই সময় তৎকালীন ডিজি-র পরিবর্তে সিদ্ধনাথ গুপ্তকে রাজ্যের পুলিশ প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    ২৯ এপ্রিল শেষ দফার ভোট পরিচালনা করবেন সিদ্ধনাথ

    ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পরে রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকেও বদলি করেছিল কমিশন। মুখ্যসচিব পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে দেয় তারা। তাঁর জায়গায় নিয়োগ করা হয় দুষ্মন্তকে। সরানো হয় রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও। নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব করা হয় সংঘমিত্রা ঘোষকে। তার পরে ক্রমে একঝাঁক পুলিশ কর্তা এবং আধিকারিকদের বদলি করে কমিশন। রাজ্যের ডিজি পদে বসেন সিদ্ধনাথ। তাঁর অভিজ্ঞ নেতৃত্বেই রাজ্যে প্রথম দফার ভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে কমিশন তাঁর নেতৃত্বের উপর নির্ভর করে ২৯ এপ্রিল শেষ দফার ভোট পরিচালনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কমিশনের বক্তব্য

    গত ২৩ এপ্রিল ভোট গ্রহণকে ঘিরে সিইও মনোজকুমার অগ্রবাল বলেন, ‘‘ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও গন্ডগোলের অভিযোগ নেই। সর্বত্র সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ছিল। আগে ওই সমস্ত কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যেও অশান্তি হত। বুথের বাইরে কয়েকটি অশান্তির অভিযোগ এসেছে। তবে কোথাও কোনও মৃত্যুর খবর নেই।’’

    শান্তি রক্ষা ও সমন্বয়

    দ্বিতীয় দফার ভোটের মুখে এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ স্তরে স্থায়িত্ব বজায় থাকবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ভোট চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে সিদ্ধনাথ গুপ্তের মতো (IPS Siddh Nath Gupta)  অভিজ্ঞতার ওপরই আস্থা রাখছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission India) ও প্রশাসন।

    নবান্ন সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই চিঠির পর রাজ্য পুলিশের শীর্ষ স্তরে বর্তমান কর্মপরিকল্পনা বজায় রেখেই পরবর্তী দফার নির্বাচনগুলোর প্রস্তুতি নেওয়া হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করা হচ্ছে।

LinkedIn
Share