Tag: WB Election 2026

  • Amit Shah: ১৫২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১৬টিতেই জয়! অমিত শাহের প্রথম দফার পূর্বাভাসকেও ছাপিয়ে বিজেপির জয়জয়কার

    Amit Shah: ১৫২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১৬টিতেই জয়! অমিত শাহের প্রথম দফার পূর্বাভাসকেও ছাপিয়ে বিজেপির জয়জয়কার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথম দফায় ভোট হওয়া আসনগুলিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের করা ভবিষ্যৎবাণীকেও ছাপিয়ে গেল ভারতীয় জনতা পার্টি। ১৫২টি আসনের মধ্যে বর্তমান প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১১৬টি আসনেই বিজেপি প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন বা এগিয়ে রয়েছেন (এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত)। উল্লেখ্য বিধানসভার নির্বাচনী (West Bengal Elections 2026) প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) আত্মবিশ্বাসী হয়ে বলেছিলেন, “১৫২-র মধ্যে ১১০ পাবই।” এবারে ফলাফলে একই চিত্র দেখা গিয়েছে।

    পূর্বাভাস ও বর্তমান চিত্র (Amit Shah)

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) পূর্বে যে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছিলেন, গণনার প্রাথমিক ঝড়ে বিজেপি সেই গণ্ডিও অতিক্রম করে গিয়েছে। প্রথম দফার অন্তর্গত ১৫২টি আসনের মধ্যে ১১৬টিতে বিজেপির জয়লাভ করা বা এগিয়ে থাকা রাজনৈতিক মহলের অনেক সমীকরণই বদলে দিয়েছে। তবে এই ফলাফলে বিজেপি ৬টি আসন বেশি পেয়েছে বিজেপি। প্রথম পর্যায়েই বড়সড় পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। এই প্রথম পর্বে বিজেপি ১১৬টি পেলেও তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ৩২টি আসন। প্রবীণ বিজেপি নেতা শাহের বক্তব্যে সিলমোহর পড়েছে।

    শক্তিশালী নির্ণায়ক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব

    এই বিপুল ব্যবধান শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরের জন্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদি এই প্রবণতা বজায় থাকে, তবে তা চূড়ান্ত ফলাফলে (West Bengal Elections 2026) বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাথমিক এই ফলাফলের ঝোঁক বিজেপি শিবিরে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দফার এই ফলাফল সামগ্রিক নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে এক শক্তিশালী নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে। যদিও চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Suvendu Adhikari: “ডায়মন্ড হারবারেও বিজেপি প্রার্থী এগোচ্ছে, এটা ভালো সংকেত”, বললেন শুভেন্দু অধিকারী

    Suvendu Adhikari: “ডায়মন্ড হারবারেও বিজেপি প্রার্থী এগোচ্ছে, এটা ভালো সংকেত”, বললেন শুভেন্দু অধিকারী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘‘বিজেপিই সরকার গড়ছে’’, গণনার (West Bengal Elections 2026) শুরুর দিকেই আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, “ভাষার নামে আর জাতের নামে ভাগ হয়নি হিন্দু ভোট। ডায়মণ্ড হারবারেও বিজেপি প্রার্থী এগোচ্ছে,  সিদ্দিকুল্লা হারছেন, এটা খুব ভালো সংকেত। মোদিজির জয়, পশ্চিমবঙ্গের জনগণের জয়। জনগণের স্পষ্ট মতামত, বিজেপি সরকার গড়ছে।” প্রাথমিক প্রবণতার পরই মন্তব্য শুভেন্দু অধিকারী এবং সেই সঙ্গে দিলেন কর্মীদের সংযত থাকার বার্তা।

    শান্তি বজায় রাখার আবেদন (Suvendu Adhikari)

    রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে যখন রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে, ঠিক তখনই রাজ্যের শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি স্পষ্ট ভাবে বলেন, “জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন, বাংলার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং শান্তি বিঘ্নিত হওয়া কোনওভাবেই কাম্য নয়।” দলীয় কর্মীদের উস্কানিমূলক আচরণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, “ভোট গণনা একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতি এবং একে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হতে দেওয়া সকলের নৈতিক দায়িত্ব।”

    ব্যক্তিগত বা সামাজিক শত্রুতার নয়

    নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) ফলাফল পরবর্তী সময়ে রাজ্যে যে কোনও প্রকার হিংসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে শুভেন্দু কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক লড়াই কেবল আদর্শের হওয়া উচিত, ব্যক্তিগত বা সামাজিক শত্রুতার নয়। বাংলার মানুষ শান্তি চায়। গণনার দিন এবং পরবর্তী সময়ে শান্তি বজায় রাখাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।”

    ১৯৩ আসনে এগিয়ে বিজেপি

    এই মুহূর্তে বিজেপির এগিয়ে থাকা আসনসংখ্যা ১৯৩। অন্যদিকে, রাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের এগিয়ে থাকা আসনসংখ্যা ৯৩। ২৯৪ আসনের এই বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য কোনও দলের প্রয়োজন ১৪৮ আসনে জয়। ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন। অন্যদিকে তৃণমূল পেয়েছিল ২১৪টি আসন। এবারে সরকার গঠন নিয়ে বিজেপি অত্যন্ত প্রত্যয়ী।

  • Samik Bhattacharya: “শ্যমাপ্রসাদের মাটিতে প্রথমবার শ্যামাপ্রসাদের সরকার হতে চলেছে”, বললেন শমীক

    Samik Bhattacharya: “শ্যমাপ্রসাদের মাটিতে প্রথমবার শ্যামাপ্রসাদের সরকার হতে চলেছে”, বললেন শমীক


    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের প্রাক্কালে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) দলের জয় নিয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন যে, আসন্ন গণনায় ভারতীয় জনতা পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে। সংখ্যা গরিষ্ঠ আসনে এখন বিজেপি এগিয়ে। তৃণমূল কংগ্রেস টানা ১৫ বছরের শাসন ধরে রাখার পর এবার ধরাশায়ীর পথে। দলের কর্মীদের জয়ের উচ্ছ্বাসকে ধরে রাখতে কর্মীদের সংযত রাখার বার্তা দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি।

    রাজ্যের শান্তি বিঘ্নিত যাতে না হয় (Samik Bhattacharya)

    জয়ের আগাম আভাস পেয়েই দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি শমীক ভট্টাচার্য বিশেষ বার্তা—ফলাফল পরবর্তী পরিস্থিতিতে যেন কোনওভাবেই রাজ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। তিনি কর্মীদের শান্ত ও সংযত থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya) কথায়, “জয়ের আনন্দে আত্মহারা হয়ে এমন কিছু করা উচিত নয় যাতে সাধারণ মানুষের অসুবিধা হয় বা রাজ্যের শান্তি বিঘ্নিত হয়।” ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে শমীক বলেন, “২৭ দিনে আমাদের ৫৬ জন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছিলেন। ২৭ জন মহিলা ক‍্যামেরার সামনে এসে জানিয়েছিলেন যে তাঁরা গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন।”

    যে অত‍্যাচারের শিকার হয়েছিলেন

    দলের রাজ্য সভাপতি শমীক (Samik Bhattacharya)  বলেন, “এর আগের নির্বাচনগুলির পরে বিজেপি কর্মীরা যে অত‍্যাচারের শিকার হয়েছিলেন, এ বার যেন বিজেপি কর্মীরা তার পাল্টা পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা না করেন। আমরা যে অত‍্যাচারের শিকার হয়েছি, আমাদের কর্মীদের পরিবারগুলি যে যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, আমরা চাই না অন্যদের এখন সেই যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হোক। স্বাধীনতার পরে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ একটা ভিন্ন নির্বাচনের স্বাদ পেয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবে এই জয় সংসদীয় গণতন্ত্রের জয়, সামগ্রিক ভাবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতার জয়। প্রথম দিন থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে, শ্যামাপ্রসাদের মাটিতে প্রথম বার শ্যামাপ্রসাদের সরকার হতে চলেছে।”

    শান্তিপূর্ণভাবে জয়ের আনন্দ উদযাপন

    পশ্চিমবঙ্গের ভোট-সংস্কৃতির পরিবর্তন চান। অতীতে যেমন ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ উঠে এসেছিল, তার পুনরাবৃত্তি চাইছেন না তিনি। গণনা কেন্দ্রের বাইরে বা রাজ্যের কোথাও যাতে কোনও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে বিজেপি নেতৃত্ব সতর্ক দৃষ্টি রাখার কথা বলেছেন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মর্যাদা রক্ষা করে শান্তিপূর্ণভাবে জয়ের আনন্দ উদযাপনের জন্য তিনি কর্মীদের প্রতি বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন। বিজেপি কর্মীরা যাতে কোনও ভাবেই হিংসা বা অশান্তিতে জড়িয়ে না-পড়েন, যাতে তাঁরা কোনও ভাবেই হিংসার আশ্রয় না-নেন, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক করেছেন শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)।

  • Suvendu Adhikari: গণনার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য ও ডিউটি রস্টার ফাঁসের অভিযোগে কমিশনের দ্বারস্থ শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: গণনার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য ও ডিউটি রস্টার ফাঁসের অভিযোগে কমিশনের দ্বারস্থ শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামিকাল ৪ মে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) ভোট গণনা। তার ঠিক আগে গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুললেন বিধানসভার বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, “গণনার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য এবং তাঁদের ডিউটি রস্টার আগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছে, যা আদতে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন। গণনাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হবে।”

    শুভেন্দুর মূল অভিযোগ (West Bengal Election 2026)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেন্দুর দাবি, গণনা কর্মীদের তালিকা ও তাঁদের কর্মস্থলের তথ্য নির্দিষ্ট মহলের হাতে পৌঁছে গিয়েছে। তাঁর মতে, এটি ‘ইলেকশন প্রোটোকল’ বা নির্বাচনী শিষ্টাচারের গুরুতর অবমাননা। তাই তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “আমার নজরে এসেছে যে, গণনার দিনের (Counting Day) দায়িত্বে থাকা বেশ কিছু আধিকারিক তাঁদের নির্দিষ্ট ডিউটির বিবরণ, স্থান এবং পদমর্যাদার তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় সংস্থা ও সংগঠনগুলিকে জানিয়ে দিয়েছেন। আমি তথ্য পেয়েছি যে, কিছু স্প্রেডশিট এবং তালিকা প্রচার করা হচ্ছে যেখানে আধিকারিকরা স্বেচ্ছায় বা চাপের মুখে তাঁদের ‘নির্বাচন ডিউটি সংক্রান্ত তথ্য’ এবং গণনা প্রক্রিয়ায় তাঁদের নির্দিষ্ট ভূমিকা কী হবে, তা পূরণ করছেন। এই তথ্য ফাঁস হওয়ার ফলে গণনার (West Bengal Election 2026) দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে, যা নিরপেক্ষ ফল ঘোষণায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।”

    কমিশনের কাছে দাবি

    নির্বাচনী (West Bengal Election 2026) গণনাকেন্দ্রে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে জোরালো অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, যেভাবে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে তার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে, গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে যাতে কোনওভাবেই যেন গণনা প্রভাবিত না হয়। সর্বোপরি, যেসব আধিকারিক বা কর্মীরা এই তথ্য ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

    অযাচিত প্রভাবের ঝুঁকি

    যখন কোনও আধিকারিকের নির্দিষ্ট নিয়োগের তথ্য রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত কোনও সংগঠন বা ইউনিয়নের কাছে জানাজানি হয়ে যায়, তখন তা অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক প্রভাব এবং হুমকির পথ প্রশস্ত করে।

    নিরপেক্ষতার সঙ্কট 

    গণনা প্রক্রিয়ার পবিত্রতা নির্ভর করে কর্মীদের নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তার ওপর। এই গোপনীয়তা ভঙ্গ হলে তা সরাসরি ফলের নিরপেক্ষতাকে প্রভাবিত করে।

    চাপ সৃষ্টির কৌশল

    সংগঠনগুলির দ্বারা এই ধরণের ‘তথ্য সংগ্রহ’ করার বিষয়টি অনেক সময় আধিকারিকদের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি প্রচ্ছন্ন প্রচেষ্টা মাত্র, যাতে গণনার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁরা শাসক দলকে সুবিধা পাইয়ে দেন।

    অবিলম্বে কঠোর নির্দেশিকা জারির দাবি

    ভোট পরবর্তী হিংসা এবং স্ট্রংরুম পাহারা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত। তার মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীর এই নতুন অভিযোগ আগামিকালের গণনা প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিল বলেই দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। শুভেন্দু বলেন, “আমি ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে জোরালো আবেদন জানাচ্ছি। কোনও আধিকারিক যাতে কোনও সংস্থা বা সংগঠনের কাছে তাঁদের নির্ধারিত গণনা ডিউটির তথ্য প্রকাশ না করেন, সেই মর্মে অবিলম্বে কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হোক। এছাড়া, যে সমস্ত সংগঠন এই ধরণের সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি।”

    বিজেপি শিবিরের দাবি, শাসক দল প্রশাসনকে ব্যবহার করে গণনায় কারচুপি করার চেষ্টা করছে। যদিও শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং ‘হারার আগে অজুহাত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনী গণনা (West Bengal Election 2026) বিষয়ে বিরোধী দলনেতার এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন শেষ মুহূর্তে কোনো বড় পদক্ষেপ নেয় কি না।

  • CRPF: ‘সিআরপিএফের ধাক্কায় মৃত্যু হাওড়ার বৃদ্ধের’! ভিডিও প্রকাশ করে অভিষেকের মিথ্যা অভিযোগ নস্যাৎ কমিশনের

    CRPF: ‘সিআরপিএফের ধাক্কায় মৃত্যু হাওড়ার বৃদ্ধের’! ভিডিও প্রকাশ করে অভিষেকের মিথ্যা অভিযোগ নস্যাৎ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধাক্কা মেরে অতীশিপর বৃদ্ধকে মেরে ফেলেছে সিআরপিএফ (CRPF)! এমন একটি গুরুতর অভিযোগে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjees)। একই ভাবে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। এবার নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের পাল্টা সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে মৃত্যুর আসল কারণ প্রকাশ্যে এনে তৃণমূল নেতাকে পাল্টা জবাব দিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, ভোট আবহে অস্থিরতা এবং গুজব ছড়িয়ে মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলার ষড়যন্ত্র করছে তৃণমূল। ঘটনার প্রকৃত সত্যতা প্রকাশ্যে আসতেই প্রকট হয়ে গেল তৃণমূলের মানুষ ক্ষেপানোর ষড়যন্ত্র। ফের মুখ পুড়ল শাসকদলের।

    বুথের ভিতরের ভিডিও প্রকাশ (CRPF)

    নির্বাচনের দিন হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের একটি বুথে এক বৃদ্ধ ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjees) অভিযোগ করেন যে, লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআরপিএফ ধাক্কা দিয়েছে তাই পরে যান বৃদ্ধ, এরপর পরিস্থিতির চাপে ওই ভোটারের মৃত্যু হয়েছে। আর এই ঘটনার জন্য নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরাই দায়ী করেছেন অভিষেক। তবে ঘটানা যে তা ঘটেনি, তা বলেই এরপর ওই বুথের ভিতরের ভিডিও প্রকাশ করে কমিশন। একই ভাবে এই তৃণমূল নেতার সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট দেখে বেশকিছু সংবাদ মাধ্যম সংবাদ পরিবেশনও করেছে।

    কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই

    চিকিৎসকের রিপোর্ট ও প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই ভোটারের মৃত্যু হয়েছে শারীরিক অসুস্থতা বা হৃদরোগের কারণে। এর সঙ্গে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই। কমিশন এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করে এবং প্রাথমিক তদন্তের পর একটি ভিডিও তথ্য প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়। ভিডিওতে কথাও দেখা যায়নি কেন্দ্রীয় বাহিনী (CRPF) বুথের ভিতরে রয়েছেন। কমিশনের বক্তব্য-

    অসন্তোষজনক অভিযোগ

    অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjees) দাবিকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে কমিশন জানিয়েছে যে, ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য বুথগুলিতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা (CRPF) ছিল। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়কে ব্যবহার করা অনুচিত। বাহিনীর বিরুদ্ধে গুজব ছড়িয়ে যে মানুষকে বিভ্রান্ত করার একটা অপচেষ্টার প্রবণতা তৈরি হয়েছে তাও কমিশন অঙ্গিত দেয়।

    মনোবল ভাঙার চেষ্টা

    হাওড়ায় ভোটারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের তোলা অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে কমিশন। কমিশনের মতে, এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক স্বাভাবিক মৃত্যু, যার পেছনে কোনও প্রশাসনিক ত্রুটি ছিল না। তৃণমূল নেতৃত্বের (Abhishek Banerjees) দাবি, কমিশন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত না করেই এই রিপোর্ট দিয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের তরফে বলা হয়েছে, ভুয়ো দাবি করে লোক ক্ষেপানোর কাজ করছেন মমতা-অভিষেক। পরাজয় নিশ্চিত জেনেই শাসকদল সাধারণ মানুষের মৃত্যুকে নিয়ে রাজনীতি করছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর (CRPF) মনোবল ভাঙার চেষ্টা চালাচ্ছে। কমিশন এই বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে চূড়ান্ত ময়না তদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছে। তবে আপাতত কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা কোনও অভিযোগই ধোপে টেকেনি। তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের গালে সপাটে চড় পড়েছে।

  • West Bengal election 2026: ৪ মে সকাল ৮টা থেকে গণনা শুরু, কারা সরকার গড়বে স্পষ্ট হবে দুপুর ১২টার মধ্যেই?

    West Bengal election 2026: ৪ মে সকাল ৮টা থেকে গণনা শুরু, কারা সরকার গড়বে স্পষ্ট হবে দুপুর ১২টার মধ্যেই?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে  রাজ্যবাসী। গত ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল— দুই দফায় সম্পন্ন হয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ (West Bengal election 2026)। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সেই রায় এখন ইভিএম-বন্দি হয়ে স্ট্রংরুমে অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী সোমবার, ৪ মে সকাল ৮টা থেকে শুরু হতে চলেছে সেই বহুপ্রতীক্ষিত ভোট গণনা। কার হাতে উঠবে পশ্চিমবঙ্গের শাসনের  চাবিকাঠি, তার প্রাথমিক ইঙ্গিত সোমবার দুপুরের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন (Election Commission India) ইতিমধ্যে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

    গণনা কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি (West Bengal election 2026)

    নির্বাচন কমিশনের (Election Commission India) পক্ষ থেকে ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে অভূতপূর্ব নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় নির্ধারিত গণনা কেন্দ্রের চারপাশে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। স্ট্রংরুম (West Bengal election 2026) থেকে শুরু করে গণনা কক্ষ পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি থাকবে। ভোটারদের ভোট প্রথমে ইভিএমে, তারপর ভিভিপ্যাটে জমা হয়। ইভিএমের দু’টি অংশ। এক, ব্যালট ইউনিট। দুই, কন্ট্রোল ইউনিট। সব বুথেই ইভিএম মেশিনের পাশে ছিল একটি ভিভিপ্যাট মেশিন। ভোটারেরা ইভিএমে বোতাম টিপে নিজের মত জানান। তবে তিনি যেখানে ভোট দিলেন, সেই প্রার্থীর নামেই ভোটটি সংরক্ষিত হল কি না, তা ভোটারেরা দেখতে পান ভিভিপ্যাট মেশিনে।

    স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা

    ভোটগ্রহণের (West Bengal election 2026) পর ইভিএমগুলি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ‘সিল’ করে নির্দিষ্ট স্ট্রংরুমে রাখা হয়েছে। গণনার দিন সকালে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সেই সিল খোলা হবে। কমিশন সব পক্ষকে সমানে রেখেই গণনার কাজ করবে বলে জানিয়েছে। যেহেতু এই ইভিএমে আগামী সরকার গড়ার ভোট বন্দি রয়েছে তাই তাকে সবদিক থেকে সুরক্ষিত রাখাই কমিশনের একমাত্র কাজ। ৪ ঘণ্টাই স্ট্রংরুমগুলির পাহারায় থাকে কেন্দ্রীয় বাহিনী। আগে স্ট্রংরুমগুলির নিরাপত্তায় ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। ওই সংখ্যা আর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়ার জন্য ন্যূনতম ২৪ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে।

    গণনা কক্ষের বিন্যাস

    প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের (West Bengal election 2026) জন্য আলাদা আলাদা গণনা কক্ষ বা হলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যদি কোনও কক্ষ আকারে বড় হয়, তবে নিয়ম মেনে সেটিকে সুনির্দিষ্ট অংশে বিভক্ত করা হয়েছে। এককক্ষ থেকে অন্য কক্ষে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও থাকছে কড়া বিধিনিষেধ। গণনায় প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতার মেলবন্ধন করবে কমিশন। এবারের নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভারতীয় নির্বাচন কমিশন বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

    গণনা কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে থাকবে একটিই প্রবেশপথ। ঘরের দরজায় রয়েছে ‘ডবল লক সিস্টেম’। কে, কখন স্ট্রং রুমে ঢুকছেন, কখন বার হচ্ছেন, সবটাই লিখে রাখতে হচ্ছে লগবুকে। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক সেই কাজ করছেন সবসময়। স্ট্রংরুমের পাশাপাশি ভোট গোনার জন্য আলাদা ভাবে গণনাকক্ষ তৈরি করা হেয়ছে। সেটিও নিরাপত্তার বলয়ে সুরক্ষিত থাকবে। প্রতিটি কক্ষের জন্য আলাদা প্রবেশ ও বাহির পথ থাকবে, সেটাই নিয়ম।

    কিউআর কোড যুক্ত পরিচয়পত্র

    গণনাকেন্দ্রে অবৈধ প্রবেশ রুখতে এবার কমিশন নতুন প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে। ভোট গণনা কর্মী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক এজেন্ট (West Bengal election 2026)— প্রত্যেকের পরিচয়পত্রে একটি সুনির্দিষ্ট কিউআর (QR) কোড থাকবে। তিন স্তরের যাচাই পর্ব পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে এই কোড স্ক্যান করার পরেই তবেই গণনাকক্ষে প্রবেশের অনুমতি মিলবে। গণনা কক্ষে থাকবেন রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, কাউন্টিং স্টাফ, টেকনিক্যাল স্টাফ, কাউন্টিং সুপারভাইজ়ার, কমিশনের অনুমোদিত ব্যক্তি ও অবজ়ার্ভার, দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী, প্রার্থী বা তাঁদের এজেন্ট।

    ভিডিও নজরদারি ও নিষেধাজ্ঞা

    নির্বাচন কমিশনের সাফ নির্দেশ, গণনাকেন্দ্রের (West Bengal election 2026) ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং ইভিএম বা ব্যালট পেপারের ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে গোটা প্রক্রিয়াটি সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে থাকবে এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলি ভিডিওগ্রাফি করা হবে।

    ভোট গণনার পর্যায়ক্রম

    সোমবার সকাল ৮টায় যখন গণনা শুরু হবে, তখন প্রথমেই গুরুত্ব পাবে পোস্টাল ব্যালট। সাধারণত প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে পোস্টাল ব্যালটের ঝোঁক বোঝা সম্ভব হয়। এরপর সকাল ৮টা ৩০ মিনিট নাগাদ শুরু হবে ইভিএম (EVM) মেশিনে জমা পড়া ভোটের গণনা। প্রতিটি রাউন্ডের শেষে রিটার্নিং অফিসার আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল (West Bengal election 2026) ঘোষণা করবেন, যা সরাসরি কমিশনের পোর্টালে আপলোড করা হবে।

    গণনার হিসাব রাখার জন্য মূলত দু’টি ফর্ম দেওয়া হয়। ফর্ম ১৭সি এবং ফর্ম ২০। ফর্ম ১৭সি-র প্রথম অংশ পূরণ করেন প্রিসাইডিং অফিসার। সেই অংশে থাকে— মোট কত জন ভোট দিয়েছেন, কত ভোট ইভিএমে রেকর্ড হয়েছে— গণনার সময় এটি ব্যবহার হয়। দ্বিতীয় অংশ পূরণ করেন গণনা পর্যবেক্ষক। এই অংশে থাকে নোটায় কত ভোট পড়েছে, প্রতিটি প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন। দ্বিতীয় অংশের ফলাফল প্রথম অংশের মোট ভোটের সঙ্গে মিলতেই হবে

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জনমানস

    পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের এই লড়াইয়ে এবার মূলত দ্বিমুখী বা ত্রিমুখী সংঘর্ষের চিত্র ফুটে উঠেছে। একদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস তাদের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে চতুর্থবারের জন্য জনসমর্থন চাইছে, অন্যদিকে বিরোধী দল বিজেপি এবং বাম-কংগ্রেস জোট পরিবর্তনের ডাক দিয়ে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে। বুথ ফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোলগুলি ইতিমধ্যেই নানা ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছে, তবে বাংলার সাধারণ মানুষের প্রকৃত রায় জানার জন্য সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।

    ফলাফল ঘোষণার পর শান্তি ও শৃঙ্খলা

    ২০২৬ সালের এই বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal election 2026) শুধু একটি সরকার গঠনের লড়াই নয়, বরং রাজ্যের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণের এক অগ্নিপরীক্ষা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে যেন ফলাফল ঘোষণার পর শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়। আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের ললাট লিখন স্পষ্ট হবে। জনগণের রায় যে পক্ষেই যাক না কেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ গণনা প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই গণতন্ত্রের জয়গান ঘোষিত হবে— এটাই কাম্য।

  • West Bengal election 2026: ভোট মিটতেই উত্তপ্ত যাদবপুর! বিজেপি এজেন্টের বাড়িতে হামলা, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর, অভিযুক্ত তৃণমূল

    West Bengal election 2026: ভোট মিটতেই উত্তপ্ত যাদবপুর! বিজেপি এজেন্টের বাড়িতে হামলা, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর, অভিযুক্ত তৃণমূল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন-পরবর্তী (West Bengal election 2026) বা নির্বাচনকালীন উত্তেজনার আবহে ফের অশান্তির খবর সামনে এল। এক বিজেপি এজেন্টের বাড়িতে একদল দুষ্কৃতী অতর্কিতে হামলা চালায়। একইসঙ্গে স্থানীয় বিজেপি কার্যালয়েও ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা ঘটেছে যাদবপুর বিধানসভার অন্তর্গত ১৫৩ নম্বর বুথ এলাকায়। বিজেপি এজেন্টের (Bengal BJP) অফিস ও বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

    আক্রান্তের পরিচয় (West Bengal election 2026)

    অভিযোগকারী ব্যক্তি এলাকায় বিজেপির সক্রিয় কর্মী এবং বুথ এজেন্ট হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। দুষ্কৃতীরা রাতের অন্ধকারে বিজেপি কর্মীর বসতবাড়িতে চড়াও হয়। বাড়ির সদস্যদের ভয় দেখানো এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। ৫৩ নম্বর বুথের বিজেপি এজেন্ট ছিলেন শান্তনু সরকার। গড়িয়ার পঞ্চসায়রে এই হল তাঁর নির্মাণ সংস্থার অফিস। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে গাড়ির কাচ। শান্তনু সরকার বলেন, “আমার জন্য ওয়েট করছিল, বেরোলে মারবে। মিসেস-এর গাড়ির উপর ফার্স্ট বুথের ওখানে অ্যাটাক হয়।  রাতে খবর পাই আমার অফিসে অ্যাটাক হয়েছে। আমাদের এখানে কাউন্সিলর যিনি আছেন, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, উনিও উপস্থিত ছিলেন।”

    বিজেপির তরফে আরও অভিযোগ করা হয়েছে হামলাকারীরা নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে রাখাতে সিসি ক্যামেরা ভেঙে দিয়েছে। পাশাপাশি তাঁর গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এখানেই শেষ নয় শান্তনু সরকারের স্ত্রীকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিজেপি কর্মী। এই ঘটনায় তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির (Bengal BJP) পোলিং এজেন্ট ও তাঁর স্ত্রী।

    কার্যালয়ে ভাঙচুর

    ভোটের (West Bengal election 2026) পরেই একসঙ্গে শতাধিক তৃণমূল দুষ্কৃতী আক্রমণ করে। বাড়ির পাশাপাশি স্থানীয় বিজেপি দলীয় কার্যালয়েও হামলা চালানো হয়। কার্যালয়ের ভেতরে থাকা নথিপত্র নষ্ট করা এবং আসবাবপত্র তছনছ করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় নেতৃত্বের।

    বিজেপির (Bengal BJP) পক্ষ থেকে এই ঘটনার জন্য সরাসরি শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দায়ী করা হয়েছে। এই ঘটনার পিছনে রয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর। তাদের দাবি, এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত পক্ষ বা শাসকদল এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ব্যক্তিগত বিবাদ বা সাজানো ঘটনা বলে অভিহিত করেছে।

    বর্তমান পরিস্থিতি

    ঘটনার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকায় নিরাপত্তা (West Bengal election 2026) জোরদার করা হয়েছে। তবে ঘটনার দায় অস্বীকার করে তৃণমূলনেত্রী বলেন কোনও কর্মী এই ঘটনায় জড়িত নয়। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযোগ পেয়েই বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে এসেছে। বিজেপির (Bengal BJP) দাবি নির্বাচন কমিশনকে তাঁরা বিষয়টি জানাবেন।

  • Election Commission India: পুনর্নির্বাচন ও স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষ পর্যবেক্ষককে  নির্দেশ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের, কোথায় কোথায় হবে নির্বাচন?

    Election Commission India: পুনর্নির্বাচন ও স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষ পর্যবেক্ষককে  নির্দেশ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের, কোথায় কোথায় হবে নির্বাচন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটদান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Election Commission India) জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তর (Subrata Gupta) সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ডায়মন্ড হারবারের একাধিক বুথের ইভিএমে টেপ লাগিয়ে ভোট দানে বাধা দেওয়ার কারণে আরেকবার নির্বাচন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। পর্যবেক্ষককে যথাযথ ভাবে পরিদর্শনের কথা জানিয়েছেন।

    কঠোর স্ক্রুটিনির নির্দেশ (Election Commission India)

    দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোটের পরে চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের (Election Commission India) কাছে আবেদনও জানানো হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা, মগরাহাট এবং সোনারপুর এলাকায় পুনর্নির্বাচনের স্ক্রুটিনিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে (Subrata Gupta) দায়িত্ব দিয়েছেন। উল্লেখ্য এই কেন্দ্রগুলি তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংসদীয় কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। ভোটগ্রহণ পর্বে যেসব বুথ থেকে অনিয়ম বা অশান্তির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্ক্রুটিনি বা এই বিশেষ পর্যালোচনার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে কোথায় কোথায় পুনর্নির্বাচন (Re-poll) প্রয়োজন।

    নিরপেক্ষতা বজায় রাখা

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Election Commission India) স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিন্দুমাত্র গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। ভোটদাতাদের গণতান্ত্রিক অধিকার যাতে লঙ্ঘিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষককে নিরপেক্ষ ও দৃঢ় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথায় কোথায় পুনর্নির্বাচন হবে, তা স্ক্রুটিনি করে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। এ বার সেই স্ক্রুটিনি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে।

    রিপোর্ট তলব

    ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের যে ৭৭টি বুথে পুননির্বাচনের আবেদন জানানো হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে, ফলতা বিধানসভার ৩২টি, ডায়মন্ড হারবারের ২৯টি, বজবজের ৩টি এবং মগরাহাট পূর্ব বিধানসভার ১৩টি। বিশেষ পর্যবেক্ষকের কাছ থেকে প্রতিটি বিতর্কিত বুথের বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন (Election Commission India)। এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে যে, নির্দিষ্ট কোন কোন কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হবে।

    নির্দেশিকা

    নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই কমিশনের (Election Commission India) প্রাথমিক লক্ষ্য। অশান্তি বা ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ ওঠা বুথগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা এবং প্রিসাইডিং অফিসারদের ডায়েরিও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। জনমতের সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে এবং নির্বাচনকে ত্রুটিমুক্ত রাখতে নির্বাচন কমিশন যে অত্যন্ত তৎপর ও কঠোর অবস্থানে রয়েছে, এই নির্দেশ তারই প্রতিফলন। এর সবকটাতেই পর্যবেক্ষণে থাকবেন সুব্রত গুপ্ত (Subrata Gupta)।

    আর তাই ভোট পরবর্তী পর্যালোচনার (Scrutiny) জন্য ডায়মন্ড হারবারে সশরীরে উপস্থিত হয়েছেন বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। তাঁর উপস্থিতিতেই বিতর্কিত বুথগুলোর নথিপত্র এবং ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    অভিযোগের গুরুত্ব বিচার

    ভোটগ্রহণের দিন ডায়মন্ড হারবারের বিভিন্ন এলাকায় অশান্তি, ছাপ্পা ভোট এবং বিরোধীদের এজেন্টদের বাধা দেওয়ার একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। এই অভিযোগগুলো কতটা সত্য, তা যাচাই করতেই কমিশন এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে।

    কমিশনের (Election Commission India) নির্দেশে স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া চলাকালীন সংশ্লিষ্ট এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি বুথের প্রিসাইডিং অফিসারের ডায়েরি, ১৭-সি ফর্ম এবং সিসিটিভি ফুটেজ অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। যদি স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়ায় কোনও বুথে বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট বুথগুলোতে পুনর্নির্বাচনের সুপারিশ করতে পারে কমিশন।

    নিরপেক্ষতার আশ্বাস

    সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা এবং নির্বাচনের পবিত্রতা বজায় রাখতে কমিশন যে কোনও প্রকার আপস করবে না, বিশেষ পর্যবেক্ষকের এই সফর এবং তৎপরতা তারই ইঙ্গিত দেয়। ডায়মন্ড হারবারের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ওঠা বিতর্ক নিরসনে এবং নিরপেক্ষ ফলাফল নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন এখন অত্যন্ত কঠোর ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

    লোকসভার ভোটেও হয়েছিল লুট! 

    উল্লেখ্য এইসব এলাকা তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এখানে গত লোকসভার ভোটে ৭ লাখের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। বিজেপির অবশ্য দাবি, এই লোকসভার কোথাও ভোট হয়নি। মানুষকে বুথে পৌঁছাতে দেওয়া হয়নি। জাহাঙ্গীর, শাহজাহানের অনুচরা বিরাট মাত্রায় ভোট লুট করেছিল বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। একই ভাবে ২৯ এপ্রিল ফলতায় ভোট দিতে গিলে ইভিএমে টেপ লাগিয়ে বিজেপির প্রতীককে ঢেকে দেওয়া হয়। এরপর সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আপাতত নির্বাচনে মানুষের ভোটাধিকার সঠিক ভাবে যাতে হয় কমিশনের এটাই এখন প্রাথমিক লক্ষ্য।

  • Election Commission India: ইভিএম রাখা স্ট্রং রুম ও গণনা কেন্দ্রগুলির সুরক্ষায় বিশাল বাহিনী মোতায়েন কমিশনের

    Election Commission India: ইভিএম রাখা স্ট্রং রুম ও গণনা কেন্দ্রগুলির সুরক্ষায় বিশাল বাহিনী মোতায়েন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (Election Commission India) ফলাফল ঘোষণার প্রাক্কালে স্ট্রং রুম এবং গণনা কেন্দ্রগুলোর (Evm Strong Room) নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভূতপূর্ব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যে শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে ইভিএম বদল করে দেওয়ার একাধিক ইস্যুতে বিজেপির তরফে বার বার অভিযোগ করা হচ্ছে। প্রত্যেক জেলার গণনাকেন্দ্রগুলিকে নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। গণনায় যাতে কোনও কারচুপি না হয় তা নিয়ে এখন ঠেকে কমিশন ভীষণ কড়া ভূমিকায় ময়দানে রয়েছে।

    কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন (Election Commission India)

    ভোট শেষ হওয়ার পর ইভিএম (Evm Strong Room) রাখা স্ট্রং রুম এবং গণনা কেন্দ্রগুলির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের লক্ষ্য হল, ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে কোনও প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা বা কারচুপির আশঙ্কা নির্মূল করা। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়ার জন্য ন্যূনতম ২৪ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। স্ট্রংরুম এবং গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তায় আগে ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকলেও এখন সেই সংখ্যা আরও বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে মোতায়েন থাকা ২০০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে ১০০ কোম্পানি সিআরপিএফ, ২০ কোম্পানি বিএসএফ, ১৫ কোম্পানি আইটিবিপি এবং ১৫ কোম্পানি এসএসবি।

    নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, নির্বাচনে (Election Commission India) প্রতিটি স্ট্রং রুমের বাইরের পরিধিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা চব্বিশ ঘণ্টা পাহারায় থাকবেন। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে প্রতিটি গতিবিধির ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হবে। এ বার ২৯৪টি আসনের ভোট গোনা হবে মোট ৮৭টি কেন্দ্রে। এক এক জেলায় গণনা কেন্দ্র ঠিক করা হয়েছে। এই তালিকা ইতিমধ্যেই প্রকাশ করা হয়েছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ভোটগণনা হয়েছিল ৯০টি কেন্দ্রে। ২০২১ সালের নির্বাচনে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে করা হয় ১০৮টি।

    উত্তর ২৪ পরগনায় কত কেন্দ্র?

    নির্বাচনে (Election Commission India) জেলাগুলির মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনায় সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এই জেলায় ৩৩ বিধানসভায় মোট গণনা কেন্দ্র ৮টি। এগুলি হল- বারাসত কলেজ, বারাসত পিয়ারিচরণ সরকার হাই স্কুল, বসিরহাট হাই স্কুল, বসিরহাট পলিটেকনিক কলেজ, বিধাননগর কলেজ, বনগাঁর দীনবন্ধু মহাবিদ্যালয়, পানিহাটির গুরুনানক কলেজ ক্যাম্পাস এবং ব্যারাকপুরের রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজ।

    দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১২টি কেন্দ্র

    দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩১টি আসনের (Election Commission India) ভোট গোনা (Evm Strong Room) হবে ১২টি কেন্দ্রে। এই কেন্দ্রগুলি হল ঠাকুরপুকুরের বিবেকানন্দ কলেজ, কাকদ্বীপের সুন্দরবন মহাবিদ্যালয়, আলিপুরের হেস্টিংস হাউস কমপ্লেক্সের স্টেট ইনস্টিটিউট অফ ফিজিক্যাল এডুকেশন ফর উইমেন, হেস্টিংস হাউসের সিস্টার নিবেদিতা সরকারি জেনারেল ডিগ্রি কলেজ, মাল্টিপারপাস গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল, ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশন ফর উইমেন, কসবার গীতাঞ্জলি স্টেডিয়াম, দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ কলেজ, ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রতচারী বৃদ্ধাশ্রম হাই স্কুল, ক্যানিংয়ের বঙ্কিম সর্দার কলেজ, যাদবপুরের এপিসি রায় পলিটেকনিক কলেজ।

    কলকাতায় ৫টি কেন্দ্র

    কলকাতার ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গোনা (Evm Strong Room) হবে পাঁচটি কেন্দ্রে। এগুলি হল- বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে বাবা সাহেব অম্বেডকর এডুকেশন বিশ্ববিদ্যালয়, বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুল, নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম, শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল, ডায়মন্ড হারবার রোডের সেন্ট থমাস বয়েজ স্কুল। ভোটগণনা (Election Commission India) হবে।

    উত্তরবঙ্গে গণনা কেন্দ্র

    উত্তরবঙ্গে আলিপুরদুয়ারের পাঁচটি আসনের গণনা (Evm Strong Room) হবে আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে। জলপাইগুড়ির সাতটি আসনের গণনা দু’টি কেন্দ্রে হবে— উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস এবং পরিমল মিত্র স্মৃতি মহাবিদ্যালয়। কালিম্পঙের একটি আসনের গণনা হবে স্কটিশ উইনিভার্সিটিস মিশন ইনস্টিটিউশন। ঝাড়গ্রামের চারটি আসনের গণনা হবে রানি ইন্দিরা দেবী সরকারি স্কুলে।

    এ ছাড়া, কোচবিহারের ন’টি আসনের গণনা পাঁচটি কেন্দ্রে, দার্জিলিঙের পাঁচটি আসনের গণনা তিনটি কেন্দ্রে, উত্তর দিনাজপুরের ন’টি আসনের গণনা দু’টি কেন্দ্রে, দক্ষিণ দিনাজপুরে ছ’টি আসনের গণনা দু’টি কেন্দ্রে, মালদহের ১২টি আসনের গণনা দু’টি কেন্দ্রে, মুর্শিদাবাদের ২২টি আসনের গণনা ছ’টি কেন্দ্র।

    নদিয়া সহ রাঢ়বঙ্গে কত গণনা কেন্দ্র

    নদিয়ার ১৭টি আসনের গণনা (Evm Strong Room) চারটি কেন্দ্রে, হাওড়ার ১৬টি আসনের গণনা চারটি কেন্দ্রে, হুগলির ১৮টি আসনের গণনা ছ’টি কেন্দ্রে, পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি আসনের গণনা চারটি কেন্দ্রে, পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৫টি আসনের গণনা চারটি কেন্দ্রে, পুরুলিয়ার ন’টি আসনের গণনা তিনটি কেন্দ্রে, বাঁকুড়ার ১২টি আসনের গণনা তিনটি কেন্দ্রে, পূর্ব বর্ধমানের ১৬টি আসনের গণনা তিনটি কেন্দ্রে, পশ্চিম বর্ধমানের ন’টি আসনের গণনা দু’টি কেন্দ্রে এবং বীরভূমের ১১টি আসনের গণনা তিনটে কেন্দ্রে হবে।

    কমিশনের লক্ষ্য

    নির্বাচনের (Election Commission India) সামগ্রিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে এবং জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটাতে কমিশন বদ্ধপরিকর। গণনার দিন যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে, তার জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশকেও বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সংক্ষেপে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রতিটি ভোটযন্ত্রের সুরক্ষা এবং গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এখন নির্বাচন কমিশনের প্রধান অগ্রাধিকার।

  • West Bengal Elections 2026: “পুলিশের ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ বদলেছে, জ্ঞানেশ কুমারকে যারা ভ্যানিশ বলেছেন, তাঁরাই এখন ভ্যানিশ যাওয়ার দোরগোড়ায়”, তৃণমূলকে তোপ দিলীপের

    West Bengal Elections 2026: “পুলিশের ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ বদলেছে, জ্ঞানেশ কুমারকে যারা ভ্যানিশ বলেছেন, তাঁরাই এখন ভ্যানিশ যাওয়ার দোরগোড়ায়”, তৃণমূলকে তোপ দিলীপের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পুলিশের ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ বদলেছে”, শেষ দফা নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) পর রাজ্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ঠিক এমনটাই মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা এবং রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সম্প্রতি বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তৃণমূলের দৌরাত্ম্য এবং ভোট চুরিকে স্বয়ং পুলিশ কীভাবে রুখে দিয়েছে সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছেন তিনি। রাজ্যে তৃণমূলের পালা শেষ শুরু হবে বিজেপির শাসন, ঠিক এমনটাই জানালেন এই বিজেপির প্রবীণ নেতা।

    উল্লেখ্য রাজ্যে দুই দফা নির্বাচনে ৯২.৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। একদিকে তৃণমূলের লাগাম ছাড়া দুর্নীতির কারণে জনমনে ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েইছিল, অপর দিকে এসআইআর ভোটারদের ভোটদানকে ব্যাপক উৎসাহ দিয়েছে। কমিশনের কড়ানজরদারি, বাহিনীর সঠিক ব্যবহার এবং রক্তপাতবিহীন ভোট সত্যই বঙ্গবাসীর জন্য দারুণ উপহার। ফলাফল যাই আসুক মানুষ যে ভোট প্রদান করতে পেরেছেন তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক সন্তোষের চিত্র ধরা পড়েছে। এমনটাও বলছেন অভিজ্ঞ মহল।

    নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা (West Bengal Elections 2026)

    দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি জানান, তৃণমূল কংগ্রেস যাঁকে একসময় ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে বিদ্রূপ করেছিল, সেই কমিশনার অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে শান্তিপূর্ণ ও ঐতিহাসিক নির্বাচন উপহার দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “জ্ঞানেশ কুমারকে যারা ভ্যানিশ কুমার বলেছিল তারাই ভ্যানিশ হয়ে যাওয়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন। উনি এবার দুই দফায় ভোট করে খুব বড় চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন। শান্তিপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক ভোট করে দেখিয়েছেন। চাইলে প্রশাসন অনেক কিছু করতে পারে। শুধু উনি নন, কাল কেন্দ্রীয় আধা সেনা তাদের কর্তব্য করেছে। এমনকি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশও ভালো কাজ করেছে। পুলিশও চাইছে সুযোগ দেওয়া হোক। কিছু করে দেখাতে চাইছে। যারা কমিশনারকে (West Bengal Elections 2026) বিদ্রূপ করেছিল, তারাই এখন রাজনৈতিকভাবে ‘ভ্যানিশ’ হওয়ার পথে।”

    পুলিশের ভূমিকা

    বিজেপি প্রার্থী প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) এই নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকাকে বিশেষ নজরে দেখছেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ ও কলকাতা পুলিশের ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ বা শরীরী ভাষায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। পুলিশ এখন নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ চাইছে এবং প্রশাসন চাইলে যে সুষ্ঠুভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পারে, তা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি সাফ কথায় বলেন, “পুলিশ সবথেকে বেশি পাবলিক কন্ট্যাক্ট করে। ওরা পাবলিকের গালাগালি খায় মার খায়। আবার ভালো কাজ করলে প্রশংসা পায়। তারাই সবথেকে আগে বুঝতে পারে কি হতে চলেছে। নাহলে কাল কার্তিক ব্যানার্জীকে পুলিশ যেভাবে চমকেছে, সোজা কথা সোজা ভাবে বলেছে, এইভাবে পিঠ সোজা রেখে কথা বলতে আমরা সাম্প্রতিক কালে পুলিশকে দেখিনি। বিষয়টা (West Bengal Elections 2026) আমার খুব ভালো লেগেছে।”

    আগে সরকার পাল্টাক

    পুলিশের এই বদলে যাওয়া মনোভাবকে তিনি রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশও যথাযথভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। একই ভাবে সরকার গঠন এবং মন্ত্রিত্ব প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, “দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে জনগণের জন্য নতুন কোনও ইস্যু নেই। আমি সোশ্যাল মিডিয়ার চর্চায় বিশ্বাসী নই। আমি ফেসবুকের বদলে ফেস টু ফেস বেশি ভরসা রাখি। কিছু মানুষ সোস্যাল মিডিয়ায় সরকার গড়ে ভাঙে মন্ত্রিসভা গঠন করে। আমি সরকার চাই। মন্ত্রিত্ব নয়। সরকার হোক। মন্ত্রিসভা (West Bengal Elections 2026) নিয়ে পরে ভাবা যাবে। বাংলার মানুষ আগে সরকার পাল্টাক। কাল থেকে তো আবহাওয়া পাল্টে গেছে। সরকার তো পাল্টাবেই।”

    পুলিশ, পাবলিক, গ্রাম, শহর সবাই পরিবর্তনের কথা বলেছে

    তবে এই অষ্টাদশ নির্বাচনে (West Bengal Elections 2026) বাংলার ভোট পর্বে আপামার মানুষ পরিবর্তন চেয়েছেন। তাই দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, “প্রথম দফায় ১১০। অমিত শাহ বলে গিয়েছেন। দ্বিতীয় দফায় কলকাতায় ৮৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। ঐতিহাসিক ব্যাপার। বাংলার ভোটের ট্রেন্ড বলে দিচ্ছে পরিবর্তন আসছে। কিন্তু আমি সংখ্যা বলতে পারব না, তবে পর্যাপ্ত সিট আসছেই। পুলিশ, পাবলিক, গ্রাম, শহর সবাই পরিবর্তনের কথা বলেছে। বিহারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বোঝা যায়নি কে জিতবে। সংখ্যা বলা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তবে এমন সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাব, যাতে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না। বুক ফুলিয়ে সরকার চালানোর মতো মেজরিটি পাব। অন্য দল ভাঙানোর প্রশ্নই নেই। যদি কেউ নিজে থেকে আসতে চায় তাকে সসম্মানে আনা হবে।”

    দিলীপ অবশ্য সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী, তিনি বলেন, ‘‘মানুষ আর শাসক দলকে সমর্থন করবে না। সামগ্রিকভাবে, নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারি এবং পুলিশের ইতিবাচক ভূমিকা এবারের নির্বাচনে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দিতে সাহায্য করেছে।’’ আগামী ৪ এপ্রিল গণনা ওইদিন বোঝা যাবে সরকার কোন দল গঠন করছে।

LinkedIn
Share