Tag: WB Police

WB Police

  • WB Police: পালাবদলের পরে বড় রদবদল পুলিশে, ১৭৯ অফিসারের বদলি ও পদোন্নতি বাংলায়

    WB Police: পালাবদলের পরে বড় রদবদল পুলিশে, ১৭৯ অফিসারের বদলি ও পদোন্নতি বাংলায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর পুলিশ প্রশাসনে বিরাট রদবদল। একসঙ্গে কলকাতা এবং রাজ্য পুলিশে ১৭৯ জন আইপিএস-ডব্লিউবিপিএস-কে বদলি করার নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। বদলি করা হল কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট সিপি (ট্রাফিক) রূপেশ কুমারকে। বিধানসভা ভোটের আগে এই রূপেশকে ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জ্যাক’ বলেছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে সরানো হয়েছে এসটিএফে। রাজ্যের উচ্চপদস্থ কর্তাদের রদবদলের নোটিশ জারি করেছে হোম অ্যাফেয়ার্স দফতর। রাজ্য হোম অ্যাফেয়ার্স দফতেরের নোটিশ অনুযায়ী, ১৭৯ আইপিএস বদলির পাশাপাশি, একাধিক পুলিশ সুপারের বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১২টি পুলিশ জেলার এসপি বদল করা হচ্ছে।

    কাকে কাকে বদলি

    অন্য দিকে এত দিন ফাঁকা ছিল কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম)। সেই পদেও নিয়োগ করা হয়েছে। সেখানকার যুগ্ম কমিশনারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বদলি হয়েছেন আইপিএস মুরলীধর শর্মা। মুরলীধরকে আইজি (আইবি) পদে বসানো হয়েছে। বিধানসভা ভোটের আগে গত এপ্রিলে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার পদ থেকে সরানো হয়েছিল মুরলীধরকে। তার আগে মুরলীধরকে ভোটের পর্যবেক্ষক হিসাবে তামিলনাড়ুতে পাঠানোর কথা বলেছিল কমিশন। পরে সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয় তারা। বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার পদেই থেকে যান মুরলী। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি জেলায় পুলিশ সুপারকেও বদলি করা হয়েছে। আইপিএস কুণাল আগরওয়ালকে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) নিয়োগ করা হয়েছে। সেখানে এত দিন ছিলেন যুগ্ম কমিশনার পদের এক আধিকারিক। ওই পদে ছিলেন সোমা দাস মিত্র। তাঁকে বদলি করা হয়েছে আইজি (পলিসি) পদে। রূপেশকে কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক) থেকে ডিআইজি (এসটিএফ) করা হয়েছে।

    রুটিন মাফিক বদলি

    নির্বাচনের আচরণবিধি লাগু হওয়ার পরে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশে বিরাট রদবদল করেছিল নির্বাচন কমিশন। ভোট মেটার পরে নতুন সরকারের সময়ে এই প্রথম এত বড় মাপের রদবদল করা হলো। রুটিনমাফিক এই বদলির সিদ্ধান্ত বলেই নবান্ন সূত্রে খবর। নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাঁকুড়া, মালদা রেঞ্জ-সহ একাধিক বিভাগের আইজিপি (ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ) পদে রদবদল হয়। পাশাপাশি একাধিক জেলার পুলিশ সুপার পদেও বদলি করা হয়েছে।

    কোথায় কোথায় বদলি

    • রাজেশ কুমার যাদবকে বাঁকুড়া রেঞ্জের আইজিপি থেকে এসটিএফ-এর আইজিপি।
    • গৌরব শর্মাকে ট্রাফিক আইজিপি পদ থেকে এসটিএফ-এর আইজিপি করা হয়েছে।
    • সুকেশ কুমার জৈনকে আইবি থেকে সিসিডব্লু-এর আইজিপি করা হল।
    • শীশ রাম ঝাঝারিয়া সংগঠন শাখা থেকে এসভিএসপিএ-র ডিরেক্টর হলেন।
    • মুরলীধর শর্মাকে আইবি-র আইজিপি হিসেবে নিযুক্ত করা হল।
    • শুভঙ্কর সিনহাকে সরকার কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পদ থেকে আইজিপি করা হয়েছে (প্রভিশনিং)।
    • কুণাল আগরওয়ালকে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) পদে রাখা হয়েছে।
    • ভি. সলোমন নেসাকুমারকে আইজিপি (পার্সোনেল) পদ দেওয়া হয়েছে।
    • শঙ্খশুভ্র চক্রবর্তীকে আইজি হোম গার্ড পদ দেওয়া হয়েছে।
    • উৎপল কুমার নস্করকে আইজিপি কারেকশনাল সার্ভিসেস-এ নিযুক্ত করা হয়েছে।
    • ফারহাত আব্বাস হলেন আইজিপি ট্রেনিং।
    • অঞ্জন চক্রবর্তীকে করা হল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির ডিরেক্টর।
    • রণেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় হলে আইবি-র আইজি।
    • স্বপন সরকারকে করা হল আইজিপি, অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চ (ACB)।
    • সঙমিত লেপচার পদোন্নতি করে আইজিপি, আর্মড পুলিশ (উত্তরবঙ্গ) করা হয়েছে।
    • মেহমুদ আখতার পদোন্নতি পেয়ে আইজি ট্রাফিক।
    • অজয় কুমার ঠাকুরের পদোন্নতি হয়ে আইজিপি, সিআইডি করা হয়েছে।
    • সোমা দাস মিত্র পদোন্নতি পেয়ে হলেন আইজিপি (পলিসি)।
    • কৃষ্ণকলি লাহিড়ীর পদোন্নতি পেয়ে আইজি, সিসিডব্লু করা হয়েছে।
    • শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা পদোন্নতি পেয়ে আইজিপি র‍্যাঙ্কে বহাল হলেন।
    • সূর্যপ্রতাপ যাদব বীরভূমের এসপি থেকে হলেন কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ট্রাফিক)।
    • বারাসত পুলিশ জেলার এসপি পুষ্পা হলেন পূর্ব বর্ধমানের এসপি।
    • ওয়াই রঘুবংশী কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার এসপি পদ থেকে হলেন STF উত্তরবঙ্গের এসপি।
    • ঈশানী পাল ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলা থেকে কলকাতা পুলিশের ডিসি (সাউথ ওয়েস্ট) হলেন।
    • অতুল ভি. হলেন কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার এসপি।
    • সায়ক দাসকে পূর্ব বর্ধমানের এসপি থেকে কলকাতা পুলিশের ডিসি (নর্থ) করা হল।
    • সুজাতা কুমারী বীণাপাণিকে জলপাইগুড়ির এসপি পদে বহাল করা হয়েছে।
    • জে. মার্সিকে বারাসত পুলিশ জেলার এসপি করা হল।
    • চন্দ্রশেখর বর্ধন হলেন ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার এসপি।
    • অভিষেক গুপ্ত হলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের এসপি।
    • প্রিয়ব্রত রায় হলেন পশ্চিমবঙ্গ ট্রাফিক পুলিশের এসপি।
    • শুভেন্দ্র কুমার বারুইপুর পুলিশ জেলার এসপি হলেন।
    • সুবিমল পাল হলেন কলকাতা পুলিশের ডিসি (ইস্ট সাবার্বান ডিভিশন)।
    • বিদিত রাজ ভুন্ডেশকে বীরভূমের এসপি পদ দেওয়া হয়েছে।
    • ভি. সি. সতীশ পাসুমার্তি বাঁকুড়ার এসপি পদ পেলেন।
    • সৌম্যদীপ ভট্টাচার্যকে এসটিএফ মালদার এসপি পদ দেওয়া হয়েছে।
    • চিন্ময় মিত্রকে করা হল কলকাতা পুলিশের ডিসি (রিজার্ভ ফোর্স)।
    • অমিত ভার্মা হলেন হাওড়া (গ্রামীণ)-এর এসপি।
    • সানি রাজ হলেন পুরুলিয়ার এসপি।
    • কুনওয়ার ভূষণ সিং হুগলি (গ্রামীণ)-এর এসপি।
    • চারু শর্মা শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি।
    • ইন্দ্র বদন ঝা SRP, শিলিগুড়ি। কল্যাণ সিনহা রায় আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ।
    • মণীশ জোশী কলকাতা পুলিশের ডিসি (ওয়্যারলেস)।
    • জয়ন্ত মুখোপাধ্যায় SRP, খড়গপুর।
    • অম্লান ঘোষ হোম গার্ড সংগঠনের সিনিয়র স্টাফ অফিসার।
    • দেবরাজ দাস বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে ডিসি।
    • পল্লবতী শারন্যা ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি।
  • Missing Children List: ১২,৪৫৫ জনের নেই হদিস, নিখোঁজ শিশুদের তালিকায় দেশের মধ্যে শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ!

    Missing Children List: ১২,৪৫৫ জনের নেই হদিস, নিখোঁজ শিশুদের তালিকায় দেশের মধ্যে শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ভারতে নিখোঁজ শিশুর পরিসংখ্যান। সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে ভারতের নিখোঁজ শিশুদের সংকটের (Missing Children List) একটি ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে এই নিয়ে তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে ভারতে মোট ৩৩৫৭৭ জন শিশু নিখোঁজ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এই সংখ্যাটা ১২,৪৫৫ জন। এখনও পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি বহু শিশু। তবে অনেক দিন ধরে জমে থাকা মামলার তথ্যের উপর নির্ভর করে এই পরি সংখ্যানকে তুলে ধরা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর (এনসিআরবি) সূত্রেও উপলব্ধ। বাংলার শিশু সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিয়ে ইতিমধ্যে সমাজকর্মী এবং গবেষকদের কপালে বিরাট চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। এই পরিসংখ্যানে পশ্চিমবঙ্গে শিশু সুরক্ষার কী অবস্থা? তা জানতে গেলে সত্যই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়।

    শিশু নিখোঁজ তালিকায় শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ (Missing Children List)

    মমতার রাজত্ব যেখানে মা মাটি মানুষের নামে উন্নয়ন হয় আর সেই রাজ্য এখন শিশু নিখোঁজ ও পাচারে (Missing Children List) এগিয়ে। গত এক দশকের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পশ্চিমবঙ্গ আবারও নিখোঁজ শিশুদের তালিকায় দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। ২০২২ সালের এনসিআরবি (NCRB) তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ থেকে ১২,৪৫৫ জন শিশু নিখোঁজ হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৮৫% মেয়ে। মোট মেয়েদের পরিসংখ্যান ১০,৫৭১ জন। এখনও পর্যন্ত ৬,৯৯৪ জনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাজ্যে উদ্ধার বা খুঁজে পাওয়ার হার প্রায় ৫২ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি দুটি মামলার মধ্যে একটিরও সমাধান হচ্ছে না। উল্লেখ্য ২০২৩ সালের মধ্যে রাজ্যে সকল বয়সের নিখোঁজ ব্যক্তিদের মোট মামলার প্রায় ১.২ লক্ষে পৌঁছে গিয়েছিল। তখন পুনরুদ্ধারের মামলায় হার ছিল ৫২ শতাংশ।

    পশ্চিমবঙ্গ কেন শীর্ষে? প্রধান কারণ কী?

    • ১> ভৌগোলিক অবস্থান: বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ ও উন্মুক্ত সীমান্ত থাকায় এটি মানব পাচারের একটি প্রধান করিডর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দীর্ঘ সীমান্তে কাটা তার নেই, নদী, জঙ্গল এবং সমুদ্র থাকায় অবাধে চোরা কারবার, শিশু পাচার (Missing Children List) কাজ হয়ে থাকে। এই এলাকাকে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে উল্লেখ যোগ্য পাচারের জায়গা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে রিপোর্টে। ফলে রাজ্যের শাসক দলের ওপর দায় অবশ্যই বর্তায়।
    • ২> পাচার চক্র: দরিদ্রতা, কর্মসংস্থান এবং বেকারত্বের তাগিতে মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ব্যাপাক ভাবে শিশু পাচারে (Missing Children List) এগিয়ে। জেলাগুলোতে দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে পাচারকারীরা সক্রিয় থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশুদের পাচার করে দিল্লি, মুম্বই, মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে চলে যাওয়া হয়। ইটভাটা, খামারের মতো গৃহস্থলি বা বাণিজ্যিক সংস্থায় যৌন কর্মীর মতো কাজে নিযুক্ত করা হয়।
    • ৩> পুলিশের এফআইআর-এ দেরি: অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডায়েরি না করে ২৪-৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করে, যা পাচারকারীদের রাজ্য পার হওয়ার সুযোগ করে দেয়। কিন্তু নিখোঁজ শিশুর (Missing Children List) খোঁজ দ্রুত নিলে হয়তো উদ্ধার কাজ সহজ হয়।
    • ৪> লিঙ্গ বৈষম্য: নিখোঁজ শিশুদের মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশই মেয়ে। এদের মূলত পরিচারিকার কাজ, জোরপূর্বক বিয়ে বা যৌন ব্যবসায় ব্যবহারের জন্য পাচার করা হয়।
    • ৫> সরকারি উদ্যোগ: কেন্দ্রীয় সরকার ‘অপারেশন মুসকান’ এবং ‘ট্র্যাক চাইল্ড’ (TrackChild) পোর্টালের মতো ব্যবস্থা নিলেও রাজ্যগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং সঠিক তথ্য আপলোড না করার ফলে এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলের কেন্দ্র-বিরোধী নীতির কারণেও সঠিক তথ্য সামনে উঠে আসছে না বলে জানা গিয়েছে রিপোর্টে।

    জাতীয় পোর্টাল তৈরির নির্দেশ

    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারকে রাজ্যজুড়ে নিখোঁজ শিশুদের (Missing Children List) তদন্তের সমন্বয় সাধনের জন্য একটি জাতীয় পোর্টাল তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার এবং পুলিশ প্রশাসন এই বিষয়ে তথ্য দিতে খুব একটা উৎসাহী নয়। বেশির ভাগ কেসে নিষ্ক্রিয়তা এবং দেরি অপরাধীদের অপরাধকে প্রশ্রয় দেয়। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই ঘটনা ব্যাপক ভাবে ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে।

    সাতটি রাজ্যে পরিসংখ্যান শূন্য!

    প্রতিবেদনটিতে সতর্ক করা হয়েছে যে, ৩৩,৫৭৭ সংখ্যাটি কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি ৩৩,৫৭৭টি পরিবারের হাহাকার। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং শিশুদের (Missing Children List) সুরক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক ও সামাজিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। আশ্চর্যজনকভাবে দেশের সাতটি রাজ্য জানিয়েছে তাদের রাজ্যে কোনো শিশু নিখোঁজের তথ্য নেই। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ১৪০ কোটির দেশে এটি কার্যত অসম্ভব। এই ঘটনা মূলত মামলা নথিভুক্ত না করা (Underreporting) বা তথ্য গোপনের ইঙ্গিত দেয়।

    জাতীয় ট্র্যাকিং সিস্টেমও তথ্য নেই

    সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই তথ্য সার্বিক ভাবে পাচার, নির্যাতন, হত্যার বিষয়কে সমাজতাত্ত্বিকরা ইঙ্গিত করেছেন। মমতার রাজত্বে এই তথ্য শাসক দলকে ব্যাপক ভাবে চাপে ফেলেছে। এই তথ্য কেবল এক বছরের তথ্য নয়, বরং গত কয়েক বছরের জমে থাকা অমীমাংসিত মামলার প্রতিফলন। শিশুদের নিখোঁজের (Missing Children List) ঘটনা যদি প্রশাসন নথিভুক্ত না করে, পুলিশ যদি অভিযোগ দায়ের না করে তাহলে জাতীয় ট্র্যাকিং সিস্টেমও আপলোড হয় না। ফলে বাস্তব পরিসংখ্যান অধরাই থেকে যায়। বাংলার আমজনতার অবশ্য দাবি তৃণমূলের রাজত্বে পুলিশ কোন অভিযোগকেই এফআইআর করতে চায় না। রাজ্যের ভাবমূর্তি দেশের সামনে খারাপ হবে এই ভাবনার জায়গা থেকে অপরাধ, অভিযুক্ত, দুষ্কৃতীদের প্রচারের আলোয় নিয়ে না আসার একটি বড় শক্তি শাসক দলের অন্দরে রয়েছে।

  • Calcutta High Court: “পুলিশ এবং অভিযুক্তদের যোগসাজশ ভাঙতে হবে” তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

    Calcutta High Court: “পুলিশ এবং অভিযুক্তদের যোগসাজশ ভাঙতে হবে” তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাসপেন্ড করলেও বেতনের একটা অংশ পেয়ে রীতিমতো আরাম করবে পুলিশ। তাই পুলিশ এবং অভিযুক্তদের যোগসাজশ ভাঙতে হবে। ঠিক এভাবেই তীব্র ভর্ৎসনা করলেন কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta high court) বিচারপতি। পূর্ব মেদিনীপুরে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মামলা দায়ের হলে হাইকোর্টের বিচারপতির এই মন্তব্যে তীব্র শোরগোল পড়ে যায়। বার বার শাসক-বিরোধীদের পাশাপাশি বিচারপতিদেরও এই ধরনের মন্তব্যে পুলিশ-প্রশাসনের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কতটা থাকবে, এই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। 

    পুলিশকে কেন ভর্ৎসনা কোর্টের (Calcutta high court)?

    নিম্ন আদালতে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে, পুলিশ একটি চার্জশিট জমা করে। কিন্তু পরে দেখা যায় চার্জশিটে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের বদলে মার্চ মাসের তারিখ উল্লেখ করা রয়েছে। পুলিশের গাফিলতির বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন চার্জশিটে অভিযুক্তরা। এই মামলার শুনানির সময় বিচারপতি (Calcutta high court) তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, “সাসপেন্ড করলে বেতনের একটা অংশ পেয়ে পুলিশ আরামেই থাকবে। সেই সঙ্গে অভিযুক্তদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বেআইনি কাজ করবে। পুলিশ এবং অভিযুক্তদের এই যোগসাজশকে ভাঙতে হবে।” পুলিশ কর্মীদের আরও কড়া প্রশিক্ষণের কথা বলে তীব্র ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি। বিচারপতির এই মন্তব্যে পুলিশের ভূমিকা এবং কাজের ধরন নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। তাহলে কি পুলিশ দোষীদের আড়াল করে অপরাধকে পরোক্ষে মদত করছে। বিচারপতির এই মন্তব্যে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

    মামলা কী ছিল?

    জানা গেছে, ২০১৪ সালে তমলুক থানার অন্তর্গত এক এলাকায় মোবাইলের টাওয়ার বসানোর কথা বলেছিল এক সংস্থা। সেই সংস্থার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করে মামলা দায়ের করা হয়। প্রতারণার মূল অভিযোগ ছিল নিউটাউনের এক সংস্থার বিরুদ্ধে। পুলিশ তদন্তে নেমে ১৫ জনকে গ্রেফতার করে। কিন্তু সময়মতো পুলিশ চার্জশিট দিতে পারেনি। নিম্ন আদালতে সেই চার্জশিট জমা হয় ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে। কিন্তু তার পরেও দেখা যায়, সিটে তারিখ রয়েছে ২০২২ সালের মার্চ মাসের। আর এই মামলায় সঠিক ভাবে তদন্ত না করার অভিযোগে ফের মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta high court)। আর তারপরই বিচারপতি পুলিশের তীব্র সমালোচনা করেন। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Civic Volunteers: দায়িত্বপূর্ণ কাজ সিভিক ভলান্টিয়ারদের দেওয়া যাবে না! নয়া নির্দেশিকা রাজ্য পুলিশের

    Civic Volunteers: দায়িত্বপূর্ণ কাজ সিভিক ভলান্টিয়ারদের দেওয়া যাবে না! নয়া নির্দেশিকা রাজ্য পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হাইকোর্টের নির্দেশে এবার রাজ্য পুলিশের তরফে সিভিক ভলান্টিয়ারদের (Civic Volunteers) নিয়ে সার্কুলার জারি করা হল। এই সার্কুলারে পরিষ্কার বলা হয়েছে যে, আইনশৃঙ্খলাজনিত কোনও দায়িত্বপূর্ণ কাজ সিভিক ভলান্টিয়ারদের দেওয়া যাবে না (West Bengal Police)। ২৯ মার্চের মধ্যে সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়ে গাইডলাইন তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট।  সেই মতো শুক্রবার সার্কুলার জারি করে রাজ্য পুলিশ। তাতে হাইকোর্টের নির্দেশ মাফিক কোন কোন কাজে সিভিক ভলান্টিয়ারকে (Civic Volunteers) ব্যবহার করা যাবে, সেই সম্পর্কিত তথ্য স্পষ্টভাবে নথিবদ্ধ করা হয়েছে। 

    কেন নির্দেশিকা

    সম্প্রতি জেলায় সিভিক ভলান্টিয়ারদের (Civic Volunteers) দিয়ে স্কুলে পড়ানোর বিষয়টি সামনে আসতেই বিতর্ক তৈরি হয়। শিক্ষক হিসেবে সিভিক ভলান্টিয়ারদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায়। আবার তাঁদের কাজ কী? সেই প্রশ্নও ওঠে। এরপরই আদালত নির্দেশ দেয় সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা তৈরি করতে হবে। সেই অনুযায়ী, নয়া গাইডলাইন তৈরি করা হল।

    নির্দেশিকায় যা বলা হয়েছে

    ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পুলিশকে সহযোগিতা করবেন সিভিক ভলান্টিয়াররা (Civic Volunteers)। পাশাপাশি বিভিন্ন উৎসবে ভিড় সামলাতে, বেআইনি পার্কিং রুখতে এবং মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশকে সাহায্যকারীর ভূমিকায় থাকবেন সিভিক ভলান্টিয়াররা। তবে নির্দেশিকায় যে বিষয়টি সবচেয়ে নজর কেড়েছে, তা হল, আইনশৃঙ্খলাজনিত কোনও দায়িত্বপূর্ণ কাজ সিভিক ভলান্টিয়ারদের দেওয়া যাবে না। একেবারে স্পষ্ট ভাষায় এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    আরও পড়ুন: ফের ৪ শতাংশ হারে ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা কেন্দ্রের! আন্দোলন আরও তীব্র করার হুঁশিয়ারি রাজ্য সরকারি কর্মীদের

    রাজ্য পুলিশে বর্তমানে ১ লক্ষ ৭ হাজার ১৫ জন সিভিক ভলান্টিয়ার (Civic Volunteers) রয়েছেন। কলকাতা পুলিশ এলাকায় রয়েছেন ৬ হাজার ৯৩২ জন। ২০১২ সালে চুক্তিভিত্তিক এই সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়োগ করা হয়। সিভিক ভলান্টিয়ারদের ন্যূনতম শিক্ষা যোগ্যতা আগে ছিল মাধ্যমিক উত্তীর্ণ। পরে তা আরও কমিয়ে অষ্টম শ্রেণি করা হয়। সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগে নেওয়া হয় না কোনও পরীক্ষাও। সিভিক ভলান্টিয়ারদের বেতন ৯ হাজার টাকা। আর কম্পিউটার সম্পর্কে জ্ঞান আছে এমন সিভিক ভলান্টিয়াররা থানায় ডেটা এন্ট্রির কাজ করেন। আবার রাস্তায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ, লাইন সামলানো এবং যান নিয়ন্ত্রণের কাজ করেন সিভিক ভলান্টিয়ারা। থানাতেও মোতায়েন রাখা থাকে। তাঁরা পুলিশ অফিসারদের সহযোগিতা করেন। সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাছে কোনও অস্ত্র থাকে না।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share