Tag: west Bengal assembly

west Bengal assembly

  • Suvendu Adhikari: ‘সোনার বাংলার সূচনা’, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী

    Suvendu Adhikari: ‘সোনার বাংলার সূচনা’, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা বাংলার ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা হল। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শুভেন্দুকে শপথবাক্য পাঠ করালেন রাজ্যপাল আরএন রবি। শপথবাক্য পাঠের পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন শুভেন্দু। প্রধানমন্ত্রীর মুখেও চওড়া হাসি। পিঠ চাপড়ে অভিনন্দন জানান রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে। এর পরে একে একে রাজ্যপাল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী-সহ মঞ্চে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন তিনি।

    শুভেন্দুর সঙ্গে শপথ নিলেন কারা

    এদিন শুভেন্দুর পর মন্ত্রী হিসবে একে একে শপথ নিলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু। মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া আরও পাঁচ জন বিধায়ক এদিন শপথ নেন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে। যদিও এখনও কারও দফতর ঘোষণা হয়নি।

    শপথ অনুষ্ঠানে চাঁদের হাট

    শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ছিলেন বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি। ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী। ছিলেন নিতিন গড়কড়ি। তালিকায় রয়েছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং, অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্দু, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মাণিক সাহা এবং নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেফিউ রিও। এছাড়াও মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী খেম চন্দ সিং ও উপমুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপজেনও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। রাজস্থানের উপমুখ্যমন্ত্রী দিয়া কুমারী এবং মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেও ছিলেন। মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু।

    নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা কলকাতা

    অনুষ্ঠান উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে কলকাতাকে। প্রায় ৪০০০ পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ২০টি প্রবেশদ্বার তৈরি করা হয়েছে। তবে খুশির আবহাওয়ার মাঝেও উত্তর ২৪ পরগনায় বিজেপি কর্মী চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে চাপা উত্তেজনা রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কর্মীদের আপাতত বিজয় মিছিল থেকে বিরত থেকে সংযম বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ থেকেই বাংলায় শুরু হচ্ছে এক নতুন প্রশাসনিক অধ্যায়।

    শপথের সকালে শুভেন্দুর বার্তা

    এদিন শপথের সকালেই তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুভেন্দু লিখলেন ‘‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক ভোর। আজ, স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গে সর্বপ্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠাতাদের স্বপ্ন পূরণ করছি। আজকের দিনটি দশকের পর দশকের দুঃশাসনের অবসান এবং উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির ‘ডাবল ইঞ্জিন’ যুগের সূচনা করল। আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সোনার বাংলা’ যুগের সূচনা হল।’’ তিনি আরও লেখেন, ‘‘এই ঐতিহাসিক রায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতি পশ্চিমবঙ্গের জনগণের রাখা অটল আস্থারই প্রমাণ। অঙ্গ-কলিঙ্গ-বঙ্গ অঞ্চল জুড়ে জাতীয়তাবাদী বিজেপি সরকারের পক্ষে নির্ণায়ক জনরায়ের মাধ্যমেই এখন বিকশিত ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। আমাদের কর্মীরা তাঁদের রক্ত ​​ও ঘাম দিয়ে এই বিজয়কে সিক্ত করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার এবং জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাই এটিকে সম্ভব করেছে। ভয়ের পরিবর্তে অগ্রগতিকে বেছে নেওয়ায় আমি পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে প্রণাম জানাই। আমরা একসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গকে পুনর্গঠন করব।’’

  • Suvendu Adhikari: “আরজি কর থেকে সন্দেশখালি, সব ফাইল খুলব” মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আর কী কী বললেন শুভেন্দু?

    Suvendu Adhikari: “আরজি কর থেকে সন্দেশখালি, সব ফাইল খুলব” মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আর কী কী বললেন শুভেন্দু?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘কথা কম, কাজ বেশি’- পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজেপি তাঁর নামে সিলমোহর দেওয়ার পরই সেই বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে বিজেপির নব-নির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠকের পরে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য় বিজেপির সংকল্পপত্রে যা যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি পূরণ করা হবে। বন্ধ করা হবে অনুপ্রবেশ। নিশ্চিত করা হবে মহিলাদের সুরক্ষা। সেইসঙ্গে শুভেন্দু দাবি করেন, ২০৩১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৬০ শতাংশ ভোট পেতে হবে বিজেপিকে। শুক্রবার সন্ধ্যায় লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ন রবির কাছে সরকার গঠনের দাবি জানালেন শুভেন্দু অধিকারী।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর, নারী নিরাপত্তা নিয়ে সরব

    রাজ্যে সরকার গঠনের আগে থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিলেন ভাবী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আরজি কর থেকে সন্দেশখালি, সব ফাইল খুলব। সব দুর্নীতির তদন্ত হবে।” তিনি জানান, এই সব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য বিশেষ কমিশন গঠন করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু অপরাধ বা নারী নিরাপত্তার প্রশ্নই নয়, প্রশাসনিক স্তরে হওয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “যাঁরা সরকারি অর্থ নয়ছয় করেছেন এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কমিশন গঠন করা হবে। কেউ ছাড় পাবে না।”

    বিজেপির নিহত কর্মীদের স্মরণ

    এদিন বক্তব্যের শুরুতেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, “সুনীল বনসল, ভূপেন্দ্র যাদব, অমিত মালব্য, মঙ্গল সিং সকলকে ধন্যবাদ। মোদিজি জিন্দাবাদ।” এরপরই আবেগঘন সুরে বিজেপির নিহত কর্মীদের স্মরণ করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “আমি স্মরণ করতে চাই ৩২১ জন বিজেপি কর্মীকে, যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন। যাঁরা ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন, তাঁদের সব স্বপ্ন পূরণ হবে।” রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ‘পরিবর্তন’ এবং ‘ন্যায়বিচার’-এর প্রসঙ্গ। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একাধিক পুরনো অভিযোগ ও মামলার তদন্তে গতি আসতে পারে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা।

    রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষে

    মুখ্যমন্ত্রী যে শুভেন্দুই হচ্ছেন, তা নিয়ে কৌতূহল থাকলেও খুব একটা সংশয় ছিল না পদ্মশিবিরে। ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে তাঁকেই সবচেয়ে জোরালো দাবিদার বলে মনে করা হচ্ছিল। কারণ, তিনি পর পর দু’বার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ভোটের লড়াইয়ে পরাস্ত করেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েন। জিতেছিলেন ১৯৫৬ ভোটে। নিজের ঘরের মাঠে মমতাকে হারানোর পর এ বার মমতার পাড়ায় এসে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, দু’টি কেন্দ্র থেকে তিনি ভোটে লড়েছেন। মমতার বিরুদ্ধে শুধু জয়ই পাননি, আগের চেয়ে সেই জয়ের ব্যবধানও অনেক বাড়িয়েছেন। ভবানীপুরে মমতাকে শুভেন্দু হারিয়েছেন ১৫ হাজারের বেশি ভোটে। এবার তাঁর রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষে বসার পালা।

  • West Bengal Assembly: নতুন করে সাজছে বিধানসভা! মন্ত্রীদের ঘর থেকে খুলে ফেলা হল মমতার ছবি

    West Bengal Assembly: নতুন করে সাজছে বিধানসভা! মন্ত্রীদের ঘর থেকে খুলে ফেলা হল মমতার ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় ভোটপর্ব মিটেছে। ১৫ বছর পর ফের একবার ক্ষমতার পালাবদলের সাক্ষী রইল বঙ্গভূমি। শনিবারই নতুন সরকার গড়বে বিজেপি। ইস্তফা না-দিলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর মন্ত্রিসভা এখন ‘প্রাক্তন’। বিধানসভার (West Bengal Assembly) স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ বা মুখ্য সচেতক, এবং ডেপুটি চিফ হুইপের ঘরগুলি আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ঢুকতে পারবেন না কেউই। বিধানসভা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মূলত এই নির্দেশ বহাল থাকছে। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পরে আবার পুনরায় কাজ কর্ম শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সরল মমতার ছবি

    ইতিমধ্যেই বিধানসভার মন্ত্রীদের ঘর থেকে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্ত ছবি খুলে ফেলা হয়েছে। এখনও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেননি মমতা। এরইমধ্যে দেশের সংবিধান মেনে আগের সরকার ভেঙে দিয়েছেন রাজ্যপাল আরএন রবি। করেছেন ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের (২) নম্বর দফার (খ) উপ-দফা মারফত প্রাপ্ত ক্ষমতার প্রয়োগ। ইতিমধ্যে বিবৃতি জারি করে পুরনো বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা। তবে, সরকার ভেঙে দিলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে বরখাস্ত করেননি রাজ্যপাল আরএন রবি। আসলে কোনও মুখ্যমন্ত্রী ভোটে পরাজিত হয়েও যে রীতি এবং রেওয়াজ মেনে রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা না-দিতে পারেন, তেমন ‘অভিনব’ পরিস্থিতির কথা সংবিধান প্রণেতাদেরও মাথায় আসেনি। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এই পরিস্থিতিকে একটা ‘ফ্রিকিশ ইনসিডেন্ট’ (খামখেয়াল) হিসেবে দেখা যেতে পারে। কারণ, রাজ‍্যের বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হল মানে মন্ত্রিসভার আর অস্তিত্ব রইল না। স্বাভাবিকভাবেই মুখ্যমন্ত্রীও হয়ে গেলেন প্রাক্তন।

    সাজছে বিধানসভা

    ইতিমধ্যে বিধানসভায় বিভিন্ন মন্ত্রীদের ঘরে বা অন্যত্র কোথাও কোনও সমস্যা থাকলে সেখানে মেরামতির কাজ চলছে। যেমন কোনও সুইচ বোর্ডের সমস্যা থাকলে, কোথাও শীততাপ যন্ত্রের সমস্যা থাকলে মেরামত করার কাজ চলছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ চলছে গোটা বিধানসভাজুড়েই। একইভাবে বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে বারবার প্রয়োজনীয় পরিদর্শন করছেন পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও করছেন। নতুন নতুন নির্দেশও দেওয়া হচ্ছে কর্মীদের। সূত্রের খবর, ওখানেই তৈরি হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়। গোটা বিধানসভায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশি বন্দোবস্ত। এমনকি, মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের করিডরের সামনে বসানো হয়েছে পুলিশ প্রহরা।

  • Suvendu Adhikari: নজিরবিহীন! চ্যাংদোলা করে বার করা হল বিজেপি বিধায়কদের, ”ওরা মার্শাল নয়, তৃণমূলের গুন্ডা” বললেন শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: নজিরবিহীন! চ্যাংদোলা করে বার করা হল বিজেপি বিধায়কদের, ”ওরা মার্শাল নয়, তৃণমূলের গুন্ডা” বললেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তপ্ত বিধানসভা, শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) পর এবার বিধানসবার বিশেষ অধিবেশনে সাসপেন্ড বিজেপির শঙ্কর ঘোষ (Shankar Ghosh)। নজিরবিহীন ঘটনা বিধানসভায়। চলল শাসকের তুঘলকি শাসন। মার্শাল ডেকে বিধানসভা (West Bengal Assembly) থেকে বার করে দেওয়া হল শঙ্কর ঘোষকে। শঙ্কর ঘোষের পর সাসপেন্ড করা হয় অগ্নিমিত্রা পাল। তারপর মিহির গোস্বামী, অশোক দিন্দা, বঙ্কিম ঘোষকেও সাসপেন্ড করা হয়। মিহির গোস্বামীকে কার্যত চ্যাংদোলা করে বার করা হয়। প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি বিধায়করা।

    নেত্রীর নির্দেশেই হেনস্থা!

    বাঙালি হেনস্থার প্রতিবাদে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন চলছিল। প্রশ্নত্তোর পর্ব এর আগে বয়কট করেছিল বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য রাখার সময় সরব হয়ে ওঠেন বিজেপি বিধায়করা। দু পক্ষই একে অপর পক্ষকে চোর চোর স্লোগান দিতে শুরু করেন। সেই সময় বিরোধীদের উদ্দেশে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় অনুরোধ করেন, বিধানসভার মর্যাদা রক্ষা করতে। বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে আসনে ফিরে যেতে নির্দেশ দেন স্পিকার। ‘শুভেন্দু অধিকারীকে কেন গোটা অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করা হল, এমন প্রশ্নই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তুলেছিলেন শঙ্কর ঘোষ। পরিস্থিত জটিল দেখে বিজেপি বিধায়কদের উদ্দেশে অধ্যক্ষ বলেন, তারা যেন বিধানসভার বাইরে গিয়ে স্লোগান তোলেন। শুধু স্পিকার নন নিজের দলের বিধায়কদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”বিজেপি বিধায়করা যখন বলবে তখন কাউকে বলতে দেবে না।” তাই হয়, গণতন্ত্র বিসর্জন দিয়ে দলনেত্রীর কথামতো চলতে থাকে বিধানসভা।

    বিরোধী দলনেতাকে সাসপেন্ড অযৌক্তিক

    এদিন, রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সাসপেনশন নিয়ে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের দু’রকমের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায় বিজেপি। শুভেন্দু এ প্রসঙ্গে বলেন, “স্পিকারের ভয়েস রেকর্ডিংও তো তাই বলেছে যে মঙ্গলবার পর্যন্ত সাসপেনশন। পরে টাইপ করে দিয়েছে। আসলে নেত্রীর নির্দেশ বিরোধী দলনেতাকে বাইরে রাখবেন। আমাদের বিধায়করা ভিতরে ঢুকবে, বুঝিয়ে দেবে, বিজেপিতে একজন শুভেন্দু নেই।” বিজেপির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, গত মঙ্গলবার অধিবেশনের শেষ দিন শুভেন্দু অধিকারীকে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছিলেন, নির্দিষ্ট ওই দিনের জন্যই শুভেন্দু অধিকারীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কিন্তু পরে স্পিকার বাইরে এসে জানান, এই সেশন যতদিন চলবে, ততদিন পর্যন্তই শুভেন্দু অধিকারীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এই নিয়েই ধোঁয়াশা তৈরি হয়। বিজেপির বক্তব্য, স্পিকার কীভাবে বিধানসভার ভিতরে এক কথা বলতে পারেন, বাইরে আরেক কথা বলতে পারেন? এই গোটা বিষয়টিই পরিষ্কার নয়। । যদিও বিধানসভার তরফ থেকে স্পষ্ট করেই বলে দেওয়া হয়েছে এবার, কেবল ওই দিনের জন্য নয়, গোটা অধিবেশন পর্বের জন্যই শুভেন্দু অধিকারীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

    গণতন্ত্রের হত্যা!

    বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বিধানসভা (West Bengal Assembly) কক্ষে পৌঁছনোর আগে থেকেই বিজেপি বিধায়কদের স্লোগান দিতে শোনা যায়। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে সাসপেন্ড করা নিয়ে সরব হন বিজেপি বিধায়করা। মুখ্যমন্ত্রী অধিবেশন কক্ষে পৌঁছনোর পরে বিরোধিতা আরও জোরাল হয় বিজেপির। শঙ্কর ঘোষকে কার্যত টেনে হিঁচড়ে বাইরে বের করার চেষ্টা হয়। পড়ে যান তিনি। বিধানসভা কক্ষে অশান্তি যখন তুঙ্গে, অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, স্লোগান দিতে হলে বাইরে বেরিয়ে যান, বাইরে গিয়ে স্লোগান দিন। মার্শালকে অধ্যক্ষ নির্দেশ দেন, যাঁরা অশান্তি করছেন, তাঁদের বাইরে বের করে দিতে হবে। এর পরেই মার্শালের সঙ্গে বিজেপি বিধায়কদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। প্রবল অশান্তি, ঠেলাঠেলিতে পড়ে যান শঙ্কর ঘোষ। অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। মেঝেতে শুয়ে পড়েন শঙ্কর। শঙ্কর ঘোষের পড়ে যাওয়ার ভিডিয়ো শেয়ার করে শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, ‘আজ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় গণতন্ত্রকে হত্যা করলো মমতা ও তাঁর প্রশাসন।’ শঙ্কর ঘোষের মাথায় চোট লাগে। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) । বিরোধী দলনেতা বলেন, ওরা মার্শাল নয়, তৃণমূলের গুন্ডা। জানা গিয়েছে, শঙ্করকে জে এন রায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

  • West Bengal Assembly: বিধানসভার ফ্লোরে ফেলে মার, মহিলা বিধায়কদের গায়ে হাত! বড় অভিযোগ বিজেপির

    West Bengal Assembly: বিধানসভার ফ্লোরে ফেলে মার, মহিলা বিধায়কদের গায়ে হাত! বড় অভিযোগ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোম-সকালে ধুন্ধুমারকাণ্ড বিধানসভায় (West Bengal Assembly)। পাঁজাকোলা করে বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়া হল বিজেপি (BJP MLAs Suspended) বিধায়ক মনোজ ওঁরাওকে। ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। সেদিন একটি বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন বিজেপি বিধায়করা। মন্ত্রীর জবাব না শুনেই বিধানসভা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন পদ্ম-বিধায়করা। সেই কারণে রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়া হয় বিজেপি বিধায়কদের বক্তব্য। এরই প্রতিবাদে সোমবার বিধানসভায় তুমুল বিক্ষোভ দেখান গেরুয়া বিধায়করা। এদিন অধিবেশনের শুরুতেই ওই বিষয়ে পয়েন্ট অফ অর্ডার তোলেন অশোক লাহিড়ি।

    অশোকের বক্তব্য (West Bengal Assembly)

    তিনি বলেন, “কোন আইনে তাঁর বক্তব্য রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়া হল, তা জানাতে হবে অধ্যক্ষকে।” অধ্যক্ষের বদলে এর জবাব দিতে শুরু করেন তৃণমূলের চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এর পরেই শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ। পরিস্থিতি সামলাতে মার্শাল ডাকেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। মার্শালের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন মনোজ। তাঁকে পাঁজাকোলা করে বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়া হয়। মনোজ এবং অগ্নিমিত্রা পল, দীপক বর্মন এবং শঙ্কর ঘোষকে পুরো অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়। গণতন্ত্রের কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে এই অভিযোগ তুলে বিধানসভার বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিজেপি বিধায়করা।

    কী বললেন শঙ্কর

    বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “বিধানসভার ভিতরে অত্যাচার চালানো হচ্ছে। এর আগে মনোজ টিগ্গা, দেবলীনা হেমব্রম, আবদুল মান্নানদের মেরে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আবারও আমাদের হাসপাতালে পাঠাতে চায়। মার্শাল দিয়ে আমাদের ওপর আক্রমণ করা হল! বাংলার এই অপশাসন থেকে যদি মুক্তি দিতে না পারি, তাহলে আমরা বিজেপি কর্মীই নই।” তিনি বলেন, “ফ্লোরের মধ্যে আমাদের ফেলে মারা হয়েছে। মহিলা বিধায়কদের গায়েও হাত তুলেছে (BJP MLAs Suspended)। তারপর টানতে টানতে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে (West Bengal Assembly)। এমনকি, আগের দিনও এরা একই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল।”

    তুমুল হট্টগোল

    জানা গিয়েছে, এদিন বিজেপির পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক শঙ্করকে ‘মেনশন’ পর্বে বলতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এই অভিযোগ তুলেই স্পিকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিজেপি বিধায়করা। পালটা চিৎকার শুরু করেন তৃণমূল বিধায়করা। এই সময় স্পিকার বিজেপি বিধায়কদের সাসপেন্ড করার হুঁশিয়ারি দেন। অভিযোগ, এই সময় কাগজ ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানান বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মন। শুরু হয় তুমুল হট্টগোল। তার পরেই মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের আবেদনের ভিত্তিতে চলতি অধিবেশনের জন্য বিজেপির চার বিধায়ককে সাসপেন্ড করেন স্পিকার।

    ডাকা হল মার্শাল

    সাসপেন্ড হওয়া বিজেপি বিধায়কদের বিধানসভা থেকে বের করে দিতে মার্শাল ডাকেন স্পিকার। সেই সময় বিধানসভার নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে বিধায়কদের ধাক্কাধাক্কি হয় বলে অভিযোগ। ঠেলাঠেলির চোটে বিধানসভা কক্ষেই পড়ে যান বিধায়ক শঙ্কর। তাঁর চশমা ভেঙে যায়। বিধানসভা কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয় বিজেপি বিধায়ক মিহির গোস্বামীকে (West Bengal Assembly)। এরই মধ্যেই তৃণমূল বিধায়ক অসীমা পাত্রের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বিজেপির অগ্নিমিত্রা। ক্রমেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন অরূপ এবং বিজেপি বিধায়করা। এই হট্টগোলের মধ্যেই তৃণমূল পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ বক্তৃতা দিতে শুরু করেন। তিনি নিশানা করেন পদ্ম শিবিরকে (BJP MLAs Suspended)। এই সময় বিধানসভার নিরাপত্তারক্ষীরা ঘিরে রাখেন বিজেপি বিধায়কদের। আলোচনা শুরু হয় নেতাজি সুভাষ ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল নিয়ে।

    আসরে শুভেন্দু

    বিধানসভায় যখন এই সব কাণ্ড চলছে, তখন বিধানসভা কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী (West Bengal Assembly)। তিনি ব্যস্ত ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবসের একটি কর্মসূচিতে। বিজেপি বিধায়কদের সাসপেনশনের খবর পেয়ে বিধানসভায় চলে আসেন তিনি। এরপর পুরো ঘটনাটি শোনেন বিজেপি বিধায়কদের কাছ থেকে। তারপর তিনি বিধায়কদের ভাঙা চশমা, ঘড়ি নিয়ে অভিযোগ জানাতে যান অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। অধ্যক্ষের সঙ্গে তুমুল তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন শুভেন্দু। ওয়েলে নেমে স্লোগান দিতে থাকেন বিজেপি বিধায়করা। এই সময় শুভেন্দুকে নিজের আসনে গিয়ে বসতে বলেন অধ্যক্ষ। সে কথা কানে না তুলে নিজের বক্তব্যই পেশ করতে থাকেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক (West Bengal Assembly)। এভাবে কিছুক্ষণ চলার পর বিধানসভা কক্ষ থেকে ওয়াক আউট করেন বিজেপি বিধায়করা। বাইরে বেরিয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন তাঁরা। তাঁদের হাতে তখন ধরা, ‘চুপ বিধানসভা চলছে’ লেখা পোস্টার (BJP MLAs Suspended)।

    বড় অভিযোগ শুভেন্দুর

    শুভেন্দু বলেন, “সিকিউরিটি মার্শাল আমাকে গোল করে ঘিরে রেখেছিল। ২০ জন মহিলা সিকিউরিটি দিয়ে সার্কেল করে রাখা হয়। ওরা চেয়েছিল আমি মহিলা নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে হাতাহাতি করি। কিন্তু হাতদুটো ট্রাউজারের পকেটে ঢুকিয়ে রেখেছিলাম। আমি ঠিক করেই রেখেছিলাম, হাত বের করব না। ১৫ মিনিট ধরে ধর্না চালিয়েছিলাম।” প্রসঙ্গত, গত সোমবারও অধিবেশন চলাকালীন (West Bengal Assembly) সাসপেন্ড করা হয়েছিল মনোজকে।

  • Anubrata Mondal: অনুব্রত ইস্যুতে উত্তাল বিধানসভা, বিজেপির ওয়াকআউট! ডিজিপিকে চিঠি জাতীয় মহিলা কমিশনের

    Anubrata Mondal: অনুব্রত ইস্যুতে উত্তাল বিধানসভা, বিজেপির ওয়াকআউট! ডিজিপিকে চিঠি জাতীয় মহিলা কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাল বিজেপি। এক পুলিশ অফিসারকে দেওয়া বীরভূমের ওই তৃণমূল নেতার সাম্প্রতিক হুমকির ঘটনায় বিধানসভায় আলোচনা দাবি করেন বিজেপি বিধায়করা। কিন্তু বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন, এই যুক্তি দিয়ে বিরোধীদের প্রস্তাব খারিজ করে দেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরেই বিজেপির বিধায়করা বিক্ষোভে শামিল হন। ওয়াকআউট করেন তাঁরা। অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেফতার করতে হবে, বুধবার এই দাবিতে উত্তাল হয় বিধানসভা। বিজেপি বিধায়করা বিক্ষোভ দেখিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

    কেন নিশানায় অনুব্রত

    বোলপুরের আইসি-কে ফোন করে হুমকি, কদর্য ভাষায় তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে কথা- গোটা বিষয়ে চলতি মাসের শুরু থেকেই তপ্ত বাংলার রাজনীতি। ঘরে-বাইরে চাপে পড়তে হয়েছে অনুব্রত মণ্ডলকে। দলের নির্দেশে ক্ষমাও চেয়েছেন, দিয়েছেন হাজিরাও। কিন্তু বিষয়টি থিতিয়ে পড়তে দিতে নারাজ বিজেপি। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিধানসভা উত্তাল করেন বিজেপি বিধায়করা। মঙ্গলবার অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal) ইস্যুতে বিধানসভায় মুলতবি প্রস্তাব আনে বিজেপি। অধিবেশনের শুরুতেই মহিলা বিজেপি বিধায়করা অনুব্রত মণ্ডলের কুকথা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের দাবি, অনুব্রত মোবাইলে যেভাবে পুলিশ অফিসার ও তাঁর মা এবং স্ত্রীর প্রতি কদর্য ভাষা ব্যবহার করেছেন, তাতে মহিলা সমাজ অপমানিত। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কী পদক্ষেপ করা হয়েছে।

    ওয়াকআউট বিজেপি বিধায়কদের

    আইসিকে কদর্যভাষায় হুমকি দিয়েও ধরাছোঁয়ার বাইরে কেষ্ট। বুধবার বিজেপি বিধায়করা প্রশ্ন তোলেন, অনুব্রত (Anubrata Mondal) কীভাবে সরকারি কর্মচারীকে গালি দিয়েও রুরাল ডেভলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকবেন? বিজেপি একটি মুলতুবি প্রস্তাব আনে। কিন্তু সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি বিধায়করা তখন বিক্ষোভ দেখিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। শুরু হয় ওয়াকআউট। প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই বিজেপির হাত ধরে একটি অডিও ক্লিপ সামনে আসে। তাতেই শোনা যায় বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন অনুব্রত। ছেড়ে কথা বলা হয়নি তাঁর পরিবারের মহিলা সদস্যদেরও। এই অডিও ক্লিপ ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে যায় রাজনৈতিক মহলে।

     বিজেপি বিধায়কদের প্রশ্ন

    এদিন অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করে বাইরে এসে সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রস্তাব পাঠ করেন ডাবগ্রাম – ফুলবাড়ির বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়। কেন এখনও অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি রাজ্য সরকার সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিজেপির মহিলা বিধায়কদের সঙ্গে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে শিখাদেবী বলেন, ‘যে ভাবে একজন পুলিশ আধিকারিকের মা ও স্ত্রীর প্রতি যে নোংরা ভাষা অনুব্রত মণ্ডল প্রয়োগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রীর হাত তাঁর মাথায় থাকায় এখনও তাঁকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। কোনও মহিলার মান সম্মান বলে কিছু জানেন না উনি। অথচ সরকারের কোনও হেলদোল নেই। তৃণমূল কংগ্রেস করে বলে সে সব দিক থেকে ছাড় পেয়ে যাচ্ছে।’

    জাতীয় মহিলা কমিশনের চিঠি

    অনুব্রতর অডিওকাণ্ডে (Anubrata Mondal Viral Audio Controversy) এবার রিভিউ অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট চাইল জাতীয় মহিলা কমিশন। ৫ দিনের মধ্যে তথ্য-সহ রিপোর্ট জমা দিতে হবে। বীরভূমের পুলিশ সুপারকে চিঠি দিল জাতীয় মহিলা কমিশন। অডিওকাণ্ডে এর আগেই পুলিশের অ্যাকশন টেকেন রিপোর্টে অসন্তোষপ্রকাশ করেছিল কমিশন। সূত্রের খবর, পুলিশের রিপোর্টের সঙ্গে দেওয়া হয়নি কোনও এফআইআর কপি। রিপোর্টের সঙ্গে দেওয়া হয়নি অভিযুক্তর মেডিক্যাল রিপোর্টও।

    রিভিউ অ্যাকশন রিপোর্ট তলব

    অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) অডিও ভাইরাল হওয়ার পর ডিজিকে চিঠি পাঠায় কমিশন। কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, জানতে চাওয়া হয়। মহিলা কমিশনের চিঠির উত্তর দেন বীরভূমের পুলিশ সুপার। আর এবার রিভিউ অ্যাকশন রিপোর্ট চাওয়া হল। জাতীয় মহিলা কমিশনের নির্দেশ, অবিলম্বে অভিযুক্তর মোবাইল বাজেয়াপ্ত করতে হবে। গোটা ঘটনায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। যা ধারা আছে তার সঙ্গে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৭৯, ৩৫২ ও ৭৪ নম্বর ধারা যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে তারা। এর মধ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৭৪ নম্বর ধারা জামিন অযোগ্য। চিঠিতে জাতীয় মহিলা কমিশন উল্লেখ করেছে, ‘আইসি-র মোবাইল বাজেয়াপ্ত, অথচ অভিযুক্তর কোনও ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত হয়নি! একই অপরাধ কোনও সাধারণ নাগরিক করলে, তাকে থাকতে হত জেলে এক্ষেত্রে অভিযুক্ত খোলামেলা ঘুরে বেড়াচ্ছে, আইন প্রভাবশালীর ক্ষেত্রে বিপরীত হতে পারে না। উর্দি পরা বাহিনী রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা অপরাধীদের থেকে নিজের পরিবারকে রক্ষা করতে না পারলে, তাতে বিপজ্জনক বার্তা যায়।’

  • West Bengal Assembly: ‘‘ধর্মাচরণে বাধা তৈরি করছে রাজ্য’’, বিধানসভা বয়কট করলেন বিজেপি বিধায়করা

    West Bengal Assembly: ‘‘ধর্মাচরণে বাধা তৈরি করছে রাজ্য’’, বিধানসভা বয়কট করলেন বিজেপি বিধায়করা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা প্রশ্নে বিধানসভায় (West Bengal Assembly) মুলতুবি প্রস্তাব আনলেন প্রধান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির দাবি, ভারতের মাটিতে স্বাধীনভাবে নিজের নিজের ধর্মচর্চা করার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। সেই অধিকারে বাধা দেওয়া হচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষের তরফে এটি করা হচ্ছে৷ শুক্রবার, বিধানসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বের শেষে মুলতুবি প্রস্তাব আলোচনার জন্য ওঠে। কিন্তু, আলোচনায় বিরোধী দলের কোনও সদস্যই প্রস্তাবটি পাঠ করার সুযোগ পাননি। এরপর হট্টোগোল শুরু হয়। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিধানসভা বয়কট (BJP Walk Out) করেন বিজেপির বিধায়করা। 

    ধর্মাচরণে বাধা

    বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, ‘‘ধর্মাচরণে বাধা তৈরি করছে রাজ্য়। এ ব্যাপারে বিধানসভায় (West Bengal Assembly) আলোচনা চেয়েছিলাম। অথচ অধ্যক্ষ নিজেই সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিলেন। গরিষ্ঠতা, দম্ভ, অহঙ্কার দিয়ে বিধানসভার মধ্যেও বিরোধীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা হচ্ছে। বাধ্য হয়েই ওয়াকআউট।’’ এ ব্যাপারে অধ্যক্ষর প্রতিক্রিয়া অবশ্য জানা যায়নি। বুধবার রাজ্যের নারী ও শিশু সুরক্ষা নিয়ে বলতে না দেওয়ার অভিযোগে বিধানসভা বয়কট করেছিলেন গেরুয়া বিধায়করা। আর শুক্রবার ‘ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে’- অভিযোগে কক্ষে মুলতুবি প্রস্তাব আনা হয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারী, শঙ্কর ঘোষ, মনোজ ওঁরাও, অশোক দিন্দা, দীপক বর্মণ একযোগে এই অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন।

    আরও পড়ুন: ১৪০ কোটি ভারতবাসীর গর্ব! বন্ধু অ্যালবানিজের সঙ্গে রোহিতদের দেখে খুশি মোদি

    ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ

    শুভেন্দুর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার বীরভূমের পুরন্দরপুরে বজরংবলীর মূর্তি ও মন্দির ভাঙা হয়েছে। এ ব্যাপারেই আলোচনা চাওয়া হয়েছিল। তাঁর কথায়, ‘‘ভারতীয় সংবিধানের ধর্মের স্বাধীনতার কথা বলা আছে। ২৫, ২৬, ২৭, ২৮ ধারা বারেবারে লঙ্ঘিত হচ্ছে। যেমন ফালাকাটা, গার্ডেনরিচ, রাজাবাজার, নোদাখালি, বেলডাঙা- বিশেষ সম্প্রদায় হিন্দুদের অনুষ্ঠানে বাধা তৈরি করছে। অবিলম্বে এই জিনিস বন্ধ করা উচিত। অথচ রাজ্য এ বিষয়ে ব্যর্থ। সভায় এ বিষয়ে আলোচনার দাবি জানালে তা খারিজ করা হয়।’’ শুভেন্দু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘‘শতাংশের হিসেব দেখলে সবচেয়ে বেশি ভোট আমরা হিন্দু জনগোষ্ঠী এবং জনজাতিদের পেয়েছি। আমরা যদি তাদের ধর্ম পালনে নিরাপত্তা দিতে না-পারি, তাদের কথা বিধানসভায় বলতে না-পারি, তাহলে কী মূল্য আছে আমাদের!’’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Incident: বিধানসভায় শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাৎ আরজি করে নির্যাতিতার বাবা-মায়ের, কী কথা হল?

    RG Kar Incident: বিধানসভায় শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাৎ আরজি করে নির্যাতিতার বাবা-মায়ের, কী কথা হল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে দেখা করতে বিজেপি নেতা সজল ঘোষের (Sajal Ghosh) সঙ্গে বিধানসভায় গেলেন আরজি করের (RG Kar Incident) নির্যাতিতা চিকিৎসকের বাবা-মা (RG Kar victim’s family)। সেখানে পৌঁছেই শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। মঙ্গলবার বেলা ১২টা ২০ মিনিট নাগাদ বিধানসভায় পৌঁছান নির্যাতিতার বাবা-মা। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন দু’জনেই। শুভেন্দু ছাড়া সেখানে বিজেপির অন্য বিধায়করাও ছিলেন।

    কান্নায় ভেঙে পড়লেন নির্যাতিতার মা

    এদিন শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন নির্যাতিতার (RG Kar Incident) মা। তিনি বলেন, ‘‘আমার পাশে সবাই দাঁড়াচ্ছে, আগামী দিনে আপনাদেরও আমার পাশে চাই। আমার মেয়েটা এমন কী অপরাধ করল, যে তাঁকে এমন নির্মম ভাবে মারা হল?’’ এরপরই তিনি আরও বলেন, ‘‘দেখতে দেখতে ১০০ দিন পেরিয়ে গেল। কিন্তু আজও জানতে পারলাম না, সেই রাতে আমার মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছিল।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমার মেয়েটা কী অপরাধ করল! হাসপাতাল ওর দ্বিতীয় বাড়ি ছিলাম। আমি বলতাম, হাসপাতালে গেটে ঢুকে ফোন করবি, আমার আর চিন্তা থাকবে না। সুরক্ষিত জায়গায় তাকে নৃশংসভাবে খুন করা হল।’’ কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন নির্যাতিতার বাবাও। এরপর রুমাল দিয়ে তাঁর চোখের জল মুছিয়ে দেন শুভেন্দু। নির্যাতিতার বাবার কথা শুনে কেঁদে ফেলেন বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরিও।

    আরও পড়ুন: কলকাতাতেও বিষ-বাতাস! রাজ্যে শীতের আমেজ, সপ্তাহান্তে বৃষ্টির সম্ভাবনা উপকূলে

    পাশে থাকার বার্তা শুভেন্দুর

    এরপরই শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) আশ্বাস দিয়ে জানান, নির্যাতিতার (RG Kar Incident) বিচারের দাবিতে আগামী ১০ ডিসেম্বর শান্তিপূর্ণভাবে, আইন এবং গণতন্ত্র মেনে বিধানসভার ভিতরে এবং বাইরে বিজেপি বিধায়করা ধর্নায় বসবেন। অভিযুক্তদের দ্রুত এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিও জানাবেন তাঁরা। শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‘১০ তারিখে সারাদিন রাজ্যপালের সামনে ধরনা দেব আমরা। ৫ দিন পুলিশের হাতে ছিল এই তদন্ত। থানার ওসি আর হাসপাতালের সুপার জেলে, এমন ঘটনা বিশ্বে বিরল। আমরা সবাই আছি আপনার সঙ্গে।’’ প্রসঙ্গত, গত ৯ অগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের জরুরি বিভাগে চারতলার সেমিনার হল থেকে পড়ুয়া চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। সেই ঘটনায় উত্তাল হয় গোটা রাজ্য। এমনকী, প্রতিবাদের আঁচ রাজ্য থেকে দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও পৌঁছয়। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচার চলছে এই মামলার।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • West Bengal Assembly: ‘রাজনৈতিক লিফলেট’! বিধানসভায় বাংলা ভাগ বিরোধী প্রস্তাবকে আক্রমণ শুভেন্দুর

    West Bengal Assembly: ‘রাজনৈতিক লিফলেট’! বিধানসভায় বাংলা ভাগ বিরোধী প্রস্তাবকে আক্রমণ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার বিধানসভায় (West Bengal Assembly) বাংলা ভাগ বিরোধী প্রস্তাব তোলে শাসক দল। এ দিন প্রস্তাবটি পেশ করেন রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এই প্রস্তাবকে সমর্থন করলেও শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানিয়েছেন, কেউ এই বাংলা ভাগ চায়নি। শাসক দলের আনা প্রস্তাব আসলে রাজনৈতিক লিফলেট। প্রস্তাবের বিপক্ষে বক্তব্য রাখতে উঠে শুভেন্দু বলেন, “যে প্রস্তাব আনা হয়েছে, তা মনে হচ্ছে রাজনৈতিক দলের লিফলেট।” নন্দীগ্রামের বিধায়ক আরও বলেন, “রাজ্য থেকে নির্বাচিত সাংসদ, মন্ত্রী কখনও কেউ রাজ্য বিভাজনের কথা বলেননি।” ‘অখণ্ড পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের প্রস্তাব’ আনার জন্য মন্ত্রী শোভনদেবকে অনুরোধ করেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)।

    কী বলছেন দুবরাজপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপ সাহা?

    অন্যদিকে, দুবরাজপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপ সাহা ‘মাধ্যম’-কে ফোনে বলেন, ‘‘বিজেপি উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়ন চেয়েছে। আমরা উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন চাই। রাজ্য সরকার দীর্ঘ ১২-১৩ বছর ধরে উত্তরবঙ্গকে বঞ্চিত করেছে। উত্তর-পূর্ব উন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছিলেন, উত্তরবঙ্গকে উত্তরপূর্ব উন্নয়ন পর্ষদের সঙ্গে যুক্ত করার, যাতে বিশেষ প্যাকেজ পায় এই অঞ্চল। কিন্তু রাজ্যের শাসক দল এটার অপব্যাখা করছে। সুকান্তবাবুর এমন উদ্যোগকে অপব্যাখা করে, পশ্চিমবঙ্গকে বিজেপি ভাগ করতে চায়, এধরনের একটা বিভ্রান্তকর বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। এর প্রতিবাদ আমরা জানিয়েছি বিধানসভায়।’’

    সারবত্তাহীন বিবৃতি রাজ্যের মন্ত্রীর (West Bengal Assembly)

    সোমবার সকালে বিধানসভার (West Bengal Assembly) অধিবেশন শুরু হওয়ার পরেই বিজেপি তরফে প্রথম বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ দিনাজপুরের তপনের বিধায়ক বুধিরাই টুডু। তিনি এদিন বিধানসভায় জানান যে সুকান্ত মজুমদারের মন্তব্যকে অপব্যাখা করা হচ্ছে। প্রস্তাবের পক্ষে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “বিরোধী দল জানে না কী চায়। কেউ বলছেন রাজ্য চাই। কেউ বলছেন ভাগ চাই।” তবে রাজ্যের মন্ত্রীর এমন মন্তব্যের যে সারবত্তা একেবারেই নেই তা মেনে নিচ্ছেন সকলেই। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ‘‘বিজেপি বারবার উত্তরবঙ্গের বঞ্চনার কথা তুলে ধরছে। উন্নয়ন চাওয়া মানেই তো রাজ্যভাগ নয়। দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরবঙ্গকে বঞ্চনা করে আসছে বর্তমান রাজ্য সরকার।’’

    রাজ্য সরকার সত্যিই কি উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন চায় না?

    প্রসঙ্গত, বালুরঘাট কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয় বারের জন্য জিতে উত্তর-পূর্ব উন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী হন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। সম্প্রতি, সুকান্তবাবু প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে উত্তরবঙ্গের কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিকে উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রকল্পগুলির অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এতেই রে রে করে মাঠে নেমে পড়েছে শাসক দল। বিজেপি বাংলা ভাগ করতে চাইছে বলে মিথ্যাচারও শুরু করে ঘাসফুল শিবির। এতেই প্রশ্ন উঠছে, রাজ্য সরকার সত্যিই কি উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন চায় না?

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ। 

     

  • BJP: ‘এত দাম খাব কী, মমতা যাবে কি!’ মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিধানসভায় ওয়াকআউট বিজেপির

    BJP: ‘এত দাম খাব কী, মমতা যাবে কি!’ মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিধানসভায় ওয়াকআউট বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিধানসভায় ওয়াকআউট করলেন বিজেপি (BJP) বিধায়করা, নেতৃত্বে ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিধানসভায় এদিন স্লোগান তোলা হয় ‘এত দাম খাব কী, মমতা যাবে কি?’ এর পাশাপাশি এদিন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদের অভিনব বিক্ষোভও দেখায় গেরুয়া শিবির। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগে এদিন বিধানসভার সামনে প্রতীকী সবজি বিক্রি করতে দেখা যায় বিজেপি বিধায়কদের। তাঁদের দাবি, ৪০ টাকার আলু এদিন ১০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।

    দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে গরিব মানুষের অসুবিধা হচ্ছে

    বিধানসভার চলতি অধিবেশনে অনেকবারই বিজেপির বিধায়করা অভিযোগ তুলেছেন, বিভিন্ন জরুরি বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব আনা হলেও, সে সব বিষয়ে আলোচনার সুযোগ দেননা স্পিকার। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগও তুলেছে গেরুয়া শিবির। শুক্রবার মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনার জন্য মাত্র ২০ মিনিট সময় বরাদ্দ করেন স্পিকার। বিজেপির (BJP) পরিষদীয় দলের তরফ থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে গরিব মানুষের অসুবিধা হচ্ছে। কালোবাজারি বন্ধ এবং ফড়েদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়। পুরুলিয়ার জয়পুরের বিজেপি বিধায়ক নরহরি মাহাতো প্রস্তাবটি বিধানসভায় পাঠ করেন।

    অভিনব নামতা পাঠ করলেন শুভেন্দু (BJP)

    বিজেপি (BJP) বিধায়কদের গলায় ছিল এদিন সবজির প্ল্যাকার্ড। অভিনব কায়দায় ২০-এর ঘরের নামতা পড়তে শোনা যায় বিরোধী দলনেতাকে। শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, ‘‘২০ এক্কে পাউচ, ২০ দু’গুণে আলু, তিন ২০ টমেটো,  পাঁচ ২০ ক্যাপসিকম, সাত ২০ রসুন, আট ২০ আদা, নয় ২০ মটরশুটি, ২০ দশে মুরগি!’’ পরে বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল অভিযোগ করেন, ‘‘চাষিরা দাম পাচ্ছেন না অথচ মানুষ বাজারে সব্জি কিনতে পারছেন না। কারণ, মাঝে ফড়েরা দালালি করছে। এই কারণেই ফসলের দাম বৃদ্ধি।’’
     

    আরও পড়ুন: বিজেপির লাগাতার বয়কটে ধর্ম নিয়ে নিজের মন্তব্য থেকে পিছু হটলেন ফিরহাদ

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share