Tag: West Bengal BJP

West Bengal BJP

  • Rajnath Singh: পুরভোটের আগে বঙ্গ বিজেপিতে তৎপরতা, ১৫-১৬ সেপ্টেম্বর বাংলায় নিতিন নবীন-রাজনাথ

    Rajnath Singh: পুরভোটের আগে বঙ্গ বিজেপিতে তৎপরতা, ১৫-১৬ সেপ্টেম্বর বাংলায় নিতিন নবীন-রাজনাথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজো মিটলেই কলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুরসভায় বেজে যাবে ভোটের বাদ্যি। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই ঘর গোছাতে শুরু করে দিয়েছে বঙ্গ বিজেপি (Rajnath Singh)। দফায় দফায় সাংগঠনিক বৈঠক, নতুন কমিটি গঠন এবং শীর্ষ নেতৃত্বের সফর—সব মিলিয়ে পুরভোটের প্রস্তুতিতে জোরকদমে ময়দানে নামতে চাইছে গেরুয়া শিবির। এই আবহেই (Municipality Elections) আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর দু’দিনের সফরে বাংলায় আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। পরের দিন, ১৬ সেপ্টেম্বর কলকাতায় আসার কথা প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের। একই সময়ে কলকাতায় দুই শীর্ষ নেতার উপস্থিতিকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    আসছেন রাজনাথও (Rajnath Singh)

    বিজেপি সূত্রে খবর, ১৬ সেপ্টেম্বর কলকাতায় এসে একটি সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দেবেন রাজনাথ। তবে তাঁর সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হতে চলেছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক। এদিকে, ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলায় এসে নিতিন নবীনও রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করবেন। তাঁর সঙ্গে থাকবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সাংগঠনিক) বিএল সন্তোষ।

    সদ্য গঠিত রাজ্য কার্যকরী কমিটি এবং কোর কমিটি নিয়েও এই সফরে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে খবর। রাজ্য সভাপতি নির্বাচনের প্রায় ১৪ মাস পর পূর্ণাঙ্গ রাজ্য কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করেছে বঙ্গ বিজেপি। সেখানে পুরনো ও নতুন নেতৃত্বের একাধিক মুখকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তৈরি হয়েছে নতুন কোর কমিটিও।

    সূত্রের দাবি, রাজনাথ এবং নিতিন নবীন—দুই শীর্ষ নেতা রাজ্য কোর কমিটি ও নতুন রাজ্য কমিটির সদস্যদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করবেন। পুরসভা নির্বাচনে শাসকদলের মোকাবিলায় বিজেপির কৌশল কী হবে, কোন কোন ইস্যুকে সামনে রেখে প্রচারে নামা হবে, সংগঠনকে কীভাবে আরও সক্রিয় করা হবে—এসব বিষয়েই আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা।

    ‘সেবা’ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা

    পুরভোটের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত মাসব্যাপী ‘সেবা’ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে এই কর্মসূচি কীভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হবে, তার সাংগঠনিক রূপরেখাও শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকে চূড়ান্ত হতে পারে বলে বিজেপি সূত্রে খবর (Rajnath Singh)।

    বিশেষ করে পুজোর পর কলকাতা ও হাওড়া-সহ একাধিক পুরসভায় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে এই বৈঠকগুলিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পদ্ম শিবিরের বঙ্গ শাখা। রাজ্য নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই সাংগঠনিক স্তরে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। এবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে সেই প্রস্তুতিকে আরও গতি দেওয়াই লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

    নিতিন নবীনের ক্ষেত্রে এই সফরের গুরুত্ব আরও বেশি। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম বাংলা সফর। কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পরপরই তাঁর এই সফর এবং তার আগে বঙ্গ বিজেপির পূর্ণাঙ্গ রাজ্য কার্যকরী কমিটি ঘোষণা—দুই ঘটনাকে একই সূত্রে দেখছে দলের একাংশ। ফলে পুরভোটের আগে রাজ্য বিজেপির সংগঠন ও রণকৌশল নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কী বার্তা দেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

    রাজনাথের সফরের তাৎপর্য

    অন্যদিকে, রাজনাথের কলকাতা সফরও আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে (Municipality Elections) তাঁর বৈঠক হলে সেখানে পুরভোটের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে সাংগঠনিক পরিস্থিতি—একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সব মিলিয়ে ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর বিজেপির এই দুই হেভিওয়েট নেতার সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে (Rajnath Singh)।

     

  • Suvendu Adhikari: ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান চলবে না, যাদবপুরে গেরুয়া সম্মান যাত্রা শেষে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান চলবে না, যাদবপুরে গেরুয়া সম্মান যাত্রা শেষে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’র মতো দেশবিরোধী স্লোগান কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না—যাদবপুরে গেরুয়া (Saffron) সম্মান যাত্রা শেষে এমনই কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার গোলপার্ক থেকে যাদবপুরের এইট বি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত দীর্ঘ মিছিলের নেতৃত্ব দেন তিনি। মিছিল শেষে এইট বি বাসস্ট্যান্ডের মঞ্চে দাঁড়িয়ে গেরুয়াকে অপমানকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, গেরুয়া ও দেশের মর্যাদাকে যাঁরা অপমান করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

    গেরুয়াময় যাদবপুর (Suvendu Adhikari)

    বুধবার দুপুর থেকেই যাদবপুর কার্যত গেরুয়া রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। গেরুয়া পোশাক পরে এবং হাতে গেরুয়া পতাকা নিয়ে মিছিলে যোগ দেন বহু সাধু-সন্ত। শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলে মিছিল। আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই যাত্রায় বিভিন্ন সময়ে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিও ওঠে। কপালে গেরুয়া তিলক, হাতে ডমরু নিয়ে সাধু-সন্তদের অংশগ্রহণে মিছিলের আবহ ছিল ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ভাবধারায় পরিপূর্ণ।

    গোলপার্ক থেকে মিছিল শুরু হয়ে যাদবপুরের এইট বি বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছয়। সেখানে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, যাদবপুরের মতো জায়গায় দেশবিরোধী কার্যকলাপ বা গেরুয়ার অবমাননা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, “আমি শপথ নিয়েছি এই যাদবপুরে, যেখানে উৎকর্ষের কেন্দ্র, যেখানে ঋষি অরবিন্দের ভূমি, এখানে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি গ্যাংকে আর কিষেনজিকে রেড স্যালুট দেওয়া লোকেদের এবং যাঁরা গেরুয়া তাণ্ডব লিখেছেন, তাঁদের শিকড়-সহ তুলে ফেলব আমি।”

    তবে বক্তব্যের এই অংশ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, যাদবপুর দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্র আন্দোলন, রাজনৈতিক মতাদর্শের সংঘাত এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্র। সেই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

    শুভেন্দুর ‘তিন সত্যি’

    মঞ্চ থেকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। বলেন, “আপনারা জানেন, ২০১১-য় পণ করেছিলাম কমিউনিস্টকে সরাব। আমি পণ করেছিলাম মোদিজির নেতৃত্বে ছাব্বিশে জামাতি সরকারকে সরাব। আপনাদের সাহায্যে সেটা হয়েছে (Suvendu Adhikari)।”

    এর পরেই স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রীচৈতন্য এবং স্বামী প্রণবানন্দের প্রসঙ্গ তুলে গেরুয়ার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “আপনারা সঙ্গে থাকুন স্বামী বিবেকানন্দের মাটি, শ্রীচৈতন্য ও প্রণবানন্দের ভূমিতে গেরুয়াই হবে, গেরুয়াই হবে, গেরুয়াই হবে।”

    শুধু বুধবারের কর্মসূচি নয়, আগামী দিনেও যাদবপুরে একাধিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। পশ্চিমবঙ্গ সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের ডাকে আরও দু’বার যাদবপুরে আসার কথা জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, একবার বেদপাঠের আসরে এবং অন্যবার হনুমান চল্লিশা পাঠের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। যাদবপুরে তিন দিন ধরে বেদপাঠের আয়োজন করা হবে বলেও জানান শুভেন্দু।

    তিনি বলেন, “এখানে পশ্চিমবঙ্গ সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের ডাকে দু’বার আসব। দেশ ও গেরুয়াকে যাঁরা অপমান করছেন, তাঁদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য একবার বেদপাঠ করতে আসব। আর একবার হনুমান চল্লিশা পাঠ করতে আসব।”

    যাদবপুরে আয়োজিত এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রবাদী মানুষদের যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “আশা করব, সব রাষ্ট্রবাদী মানুষ তাতে অংশগ্রহণ করবেন।” তিন দিন ধরে বেদপাঠের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    গুরুত্বপূর্ণ বিল

    এদিনের সভায় উচ্চশিক্ষা দফতর সংক্রান্ত বিষয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সেই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না বলে বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপন করার কথা জানান (Saffron) তিনি। তাঁর দাবি, পরের দিন বিধানসভায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আসতে চলেছে এবং সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশেষ অধিবেশন বসবে। বদলির নীতি চালু করার বিষয়েও তিনি বক্তব্য রাখবেন বলে জানান।

    শুভেন্দু বলেন, “উচ্চশিক্ষা দফতর যা করছে, তা এখন বলব না। কাল বিধানসভায় বলব। কাল ঐতিহাসিক বিল আসতে চলেছে। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিশেষ অধিবেশন বসবে। বদলির নীতি চালু করছে সরকার। আমি বলেছি, আমাকে ১০-১৫ মিনিট কথা বলার সময় দিতে হবে।”

    এদিনের মিছিলের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজ। শুভেন্দু অধিকারীর পাশে তাঁকে মিছিলে হাঁটতে দেখা যায়। সঙ্গে ছিলেন কয়েকশো সাধু-সন্ত। রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী তাপস রায়ও মিছিলে শুভেন্দুর পাশে ছিলেন বলে আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে। যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়কেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    ‘বন্দে মাতরম’

    মিছিল এইট বি বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছনোর পর সকলে ‘বন্দে মাতরম’ গান। এরপর মঞ্চ থেকে ফের যাদবপুরকে স্বামী বিবেকানন্দের ভূমি হিসেবে উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, এই ভূমিতে গেরুয়ার উপস্থিতিই থাকবে।

    শুভেন্দু বলেন, “গেরুয়ার অপমান সহ্য করব না। পরিষ্কার বার্তা দিয়ে গেলাম। যাদবপুর থেকে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি, রেড স্যালুট কী করে সাফ করতে হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তা জানে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমি শপথ নিয়েছি, এই যাদবপুরে, যা ঋষি অরবিন্দের ভূমি, সেখানে কিষেনজিকে রেড স্যালুট দেওয়া লোকদের শিকড়-সহ তুলব।”

    এর আগে ২০১১ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি (Suvendu Adhikari)। কমিউনিস্টদের সরানোর পাশাপাশি জামাতের সরকার সরানোর সংকল্পের কথাও বলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ ও সহযোগিতাতেই সেই রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।

    গেরুয়া সম্মান যাত্রা

    এদিনের গেরুয়া সম্মান যাত্রাকে কেন্দ্র করে যাদবপুরে ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একদিকে সাধু-সন্তদের উপস্থিতি, বেদপাঠ, হনুমান চল্লিশা পাঠ এবং গেরুয়া পতাকা—অন্যদিকে দেশবিরোধী স্লোগান ও রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ, সব মিলিয়ে এদিনের কর্মসূচিটি রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

    শুভেন্দুর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে গেরুয়ার মর্যাদা রক্ষা (Saffron), সনাতন সংস্কৃতির প্রসার এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপের বিরোধিতার বিষয়। যাদবপুরে এই কর্মসূচির মাধ্যমে সেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বার্তাই আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি। আগামী দিনে বেদপাঠ ও হনুমান চল্লিশা পাঠের কর্মসূচি ঘিরে যাদবপুরে রাজনৈতিক উত্তাপ কতটা বাড়ে, এখন সেটাই দেখার (Suvendu Adhikari)।

     

  • Nitin Nabin: নয়া কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর প্রথম বঙ্গ সফরে নিতিন নবীন, যোগ দেবেন সাংগঠনিক বৈঠকে

    Nitin Nabin: নয়া কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর প্রথম বঙ্গ সফরে নিতিন নবীন, যোগ দেবেন সাংগঠনিক বৈঠকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। ১৫ সেপ্টেম্বর দু’দিনের সফরে বাংলায় আসার কথা তাঁর। সঙ্গে থাকবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বিএল সন্তোষ (BL Santosh)। দলীয় সূত্রে খবর, এই সফরে মূলত সাংগঠনিক বৈঠকেই জোর দেওয়া হবে। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে শুরু করে দলের সাংগঠনিক অবস্থান—সব কিছুই খতিয়ে দেখবেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

    সাংগঠনিক বৈঠক (Nitin Nabin)

    দলীয় সূত্রের খবর, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর টানা দু’দিন বিভিন্ন স্তরের সাংগঠনিক বৈঠক করবেন নিতিন নবীন। রাজ্য নেতৃত্বের পাশাপাশি জেলা নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তাঁর। সংগঠনের কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, বুথস্তরে দলের প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছে, ঘাটতিই বা কোথায়—সেই সব বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট নেওয়া হবে বলে খবর।

    এই সফরে আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচন এবং পুরসভা নির্বাচন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। নির্বাচনের আগে দলের সাংগঠনিক শক্তি আরও মজবুত করা, তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে সক্রিয় করা এবং কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোই মূল লক্ষ্য বলে বিজেপি সূত্রে খবর। এর পাশাপাশি জনসংযোগ কর্মসূচি কীভাবে আরও জোরদার করা যায়, সেই বিষয়েও রাজ্য নেতৃত্বকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারেন নিতিন নবীন।

    ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত এক মাস ধরে রাজ্যজুড়ে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির নিরবচ্ছিন্ন কার্যকালের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই কর্মসূচি পালিত হবে। নিতিন নবীনের বঙ্গ সফরে এই কর্মসূচির প্রস্তুতি এবং রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

    দু’দিনের সফরসূচি চূড়ান্ত

    উল্লেখ্য, গত অগাস্টেই জানা গিয়েছিল, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলায় আসতে পারেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। প্রথমে তাঁর তিন দিনের সফরের কথা থাকলেও, পরে কর্মসূচিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়। শেষ পর্যন্ত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে দু’দিনের সফরসূচি চূড়ান্ত হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

    এর আগে নিতিন নবীনের (Nitin Nabin) সফর কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় সাংগঠনিক কর্মসূচি রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্স-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকা এবং দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলাতেও তাঁর যাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানা গিয়েছিল। তবে বর্তমান সফরসূচিতে মূল গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সাংগঠনিক বৈঠককে।

    দলীয় সূত্রে খবর, বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে নিতিন নবীনকে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হবে। রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বের কাছ থেকে সংগঠনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে রিপোর্ট নেওয়ার পাশাপাশি কার্যকর্তাদের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলবেন তিনি। বুথস্তরে দলের প্রস্তুতি, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং আগামী দিনের কর্মসূচি নিয়ে তাঁদের মতামত শোনার কথা রয়েছে।

    শুধু রিপোর্ট নেওয়াই নয়, দলের কর্মীদের উদ্দেশেও প্রয়োজনীয় বার্তা দিতে পারেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। নির্বাচনের আগে কীভাবে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করা যায়, কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে বাড়ানো সম্ভব এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ আরও নিবিড় করার কৌশল কী হবে—সেই বিষয়েও দিকনির্দেশ দিতে পারেন তিনি।

    দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের আগে নিতিন নবীনের (Nitin Nabin) এই বঙ্গ সফরকে তাই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর রাজ্যে তাঁর প্রথম সফরে সাংগঠনিক বৈঠকের পাশাপাশি (BL Santosh) নির্বাচনী প্রস্তুতিও যে বিশেষ গুরুত্ব পাবে, তা বলাই বাহুল্য।

  • BJP: নতুন জাতীয় কমিটিতে বড়সড় রদবদল বিজেপির, বাংলায় গুরুত্ব উত্তরবঙ্গের

    BJP: নতুন জাতীয় কমিটিতে বড়সড় রদবদল বিজেপির, বাংলায় গুরুত্ব উত্তরবঙ্গের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সর্বভারতীয় সংগঠনে বড়সড় রদবদল করল বিজেপি (BJP)। সোমবার দলের নয়া  জাতীয় পদাধিকারীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে একদিকে যেমন একাধিক অভিজ্ঞ নেতাকে তাঁদের পুরনো দায়িত্বেই রাখা হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা দেওয়া হয়েছে নতুন মুখকে। বিশেষ নজর কেড়েছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুই নেতার অন্তর্ভুক্তি (New National Committee)। জাতীয় সহ-সভাপতি পদে জায়গা পেয়েছেন মধুছন্দা কর এবং জাতীয় সম্পাদক করা হয়েছে আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গাকে। ফলে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে বাংলার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গও বিশেষ গুরুত্ব পেল বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

    নয়া কমিটিতে কারা (BJP)

    নতুন কমিটি ঘোষণা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। সোমবার থেকেই নতুন কমিটি দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করেছে। আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, রাজ্যগুলিতে সাংগঠনিক বিস্তার বাড়ানো এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে দলের প্রভাব বাড়ানোই নতুন কমিটির অন্যতম লক্ষ্য বলেই অনুমান। নতুন তালিকায় জাতীয় সহ-সভাপতি পদে একাধিক পুরনো মুখকে বহাল রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া, তীর্থ সিং রাওয়াত, রাম মাধব, বৈজয়ন্ত জয় পাণ্ডা, ডি. পুরানদ্বেশ্বরী, রেখা বর্মা, বর্ষাবেন নরেন্দ্রভাই জোশী, ভারতী প্রবীণ পাওয়ার, মনপ্রীত সিং বাদল, লাল সিং আর্য, এম নাগরাজ এবং তারিক মনসুর। এই তালিকায়ই নতুন করে জায়গা পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মধুছন্দা। জাতীয় সহ-সভাপতিদের তালিকায় মোট ১৩ জনের মধ্যে পাঁচ জন মহিলা রয়েছেন। ফলে সংগঠনের শীর্ষস্তরে মহিলা নেতৃত্বকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাও এই তালিকা থেকে স্পষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মধুছন্দার অন্তর্ভুক্তি রাজ্য সংগঠনের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    বাংলার প্রতিনিধিত্ব

    জাতীয় সম্পাদক পদেও বাংলার প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজকে জাতীয় সম্পাদক করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের এই বিজেপি নেতার সর্বভারতীয় সংগঠনে অন্তর্ভুক্তি আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক গুরুত্ব আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরবঙ্গকে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে তুলে ধরা হয়। সেই অঞ্চলের এক সাংসদকে জাতীয় স্তরের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়ার ফলে উত্তরবঙ্গে দলীয় সংগঠন আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা (BJP)। জাতীয় সাধারণ সম্পাদক পদেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে রাখা হয়েছে। বিনোদ তাওড়ে, সুনীল বনশল, বিপ্লব কুমার দেব, স্মৃতি ইরানি, সতীশ পুনিয়া, গজেন্দ্র প্যাটেল, হরিশ দ্বিবেদী এবং সঞ্জয় ভাটিয়া এই পদে থাকছেন। আট জন জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে একমাত্র মহিলা হিসেবে জায়গা পেয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। তাঁর অন্তর্ভুক্তি নতুন কমিটির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক। এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। এবার দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় তাঁকে জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হল।

    জাতীয় সাধারণ সম্পাদক

    জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিএল সন্তোষকেও বহাল রাখা হয়েছে। সংগঠনের ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের ভূমিকার উপর দল যে আস্থা রাখছে, নতুন তালিকায়ও তার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। জাতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিবপ্রকাশ ও সওদান সিংকে (New National Committee)। জাতীয় সম্পাদকদের তালিকায়ও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম রয়েছে। কবিতা পাটিদার, কে সুরেন্দ্রন, ভোলা সিং, প্রদীপ বর্মা, জগদীশ ঈশ্বরভাই প্যাটেল, সন্দীপ পাঠক, ফ্যাংনন কোন্যাক, সঙ্গীতা যাদব, অনিল অ্যান্টনি, এম ভেঙ্কটেশন, মনোজ টিগ্গা, সিদ্ধার্থ শম্ভু, স্বদেশ সিং, মৃগাঙ্ক দেব বর্মন, রোহন গুপ্ত এবং জয় প্রকাশকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায়ও বিভিন্ন রাজ্য ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব রাখার চেষ্টা করা হয়েছে (BJP)। দলের আর্থিক কাঠামোয়ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে জাতীয় কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর সহকারী হিসেবে জাতীয় যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ পদে রাজেশ মঙ্গলকে রাখা হয়েছে। পীযূষের মতো অভিজ্ঞ নেতাকে দলের আর্থিক দায়িত্বে আনা নতুন কমিটির অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত।

    কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তন

    কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তন হয়েছে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকছেন তরুণ চুগ। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সম্পাদক করা হয়েছে মহেন্দ্র পাণ্ডেকে। উত্তর-পূর্ব ভারতের সংগঠনের ক্ষেত্রেও পৃথক দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। উত্তর-পূর্ব সমন্বয়কের দায়িত্ব পেয়েছেন সম্বিত পাত্র এবং যুগ্ম সমন্বয়কের দায়িত্ব পেয়েছেন রাজীব বব্বর। দলের বিভিন্ন শাখায়ও নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যুব মোর্চার সভাপতি হয়েছেন হেমাঙ্গ যোশী। মহিলা মোর্চার দায়িত্ব পেয়েছেন রূপকুমারী চৌধুরি। অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির মোর্চার দায়িত্বে রয়েছেন অমরপাল মৌর্য। কৃষক মোর্চার সভাপতি হয়েছেন বংশীলাল গুর্জর। তফশিলি জাতি মোর্চার দায়িত্ব পেয়েছেন শিবেশ কুমার রাম এবং তফশিলি জনজাতি মোর্চার সভাপতি হয়েছেন মান্নালাল রাওয়াত। সংখ্যালঘু মোর্চার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুঁওয়ার বাসিত আলিকে। গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রেও নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। গণমাধ্যম আহ্বায়ক হয়েছেন অনিল বলুনি। সহ-আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন আশিস ঊষা আগরওয়াল, প্রদীপ ভাণ্ডারী এবং সিদ্ধার্থ যাদব। সোশ্যাল মিডিয়ার আহ্বায়ক করা হয়েছে দীপক মাসকেকে। সহ-আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন প্রীতি গান্ধী, শিবানন্দ দ্বিবেদী, অলোক ভাট এবং অরুণ যাদব।

    ভারসাম্য রাখার চেষ্টা

    সব মিলিয়ে নতুন জাতীয় কমিটিতে অভিজ্ঞতা ও নতুন নেতৃত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব (New National Committee)। পুরনো মুখের উপর আস্থা রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্য, মহিলা নেতৃত্ব এবং সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে মধুছন্দা এবং মনোজের অন্তর্ভুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মনোজের জাতীয় সম্পাদক হওয়া উত্তরবঙ্গের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের (BJP)। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এখনও দূরে। কিন্তু তার আগেই জাতীয় স্তরে সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিজেপি। নতুন কমিটির দায়িত্ব বণ্টন থেকে স্পষ্ট, রাজ্যভিত্তিক সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি মহিলা, যুব, কৃষক, অনগ্রসর শ্রেণি, তফশিলি জাতি, তফশিলি উপজাতি এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে দলের সাংগঠনিক উপস্থিতি বাড়ানোর উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও নতুন দুই মুখকে জাতীয় দায়িত্ব দিয়ে (New National Committee) রাজ্যে দলের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে পদ্ম-শিবির (BJP)।

     

  • BJP: ১০০ দিনে সরকারের খতিয়ান নিয়ে প্রচারে বিজেপি, শাহের সফর ঘিরে পদ্ম শিবিরে তৎপরতা তুঙ্গে

    BJP: ১০০ দিনে সরকারের খতিয়ান নিয়ে প্রচারে বিজেপি, শাহের সফর ঘিরে পদ্ম শিবিরে তৎপরতা তুঙ্গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বিজেপি (BJP) সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে ৪১ পাতার বিশেষ বই প্রকাশ করল বঙ্গ বিজেপি। ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংকল্প এবং সাফল্যের ১০০ দিন’ (Sankalp Achievements) শীর্ষক এই বইয়ে নয়া সরকারের প্রথম ১০০ দিনের বিভিন্ন কাজ, সামাজিক প্রকল্প, বিনিয়োগ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশ রুখতে গৃহীত পদক্ষেপের খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। বইয়ের প্রচ্ছদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের পরিকল্পনা, এই বইয়ের তথ্য নিয়েই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাবেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা।

    প্রথম ১০০ দিনের সাফল্য (BJP)

    রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনের সাফল্যকে সামনে রেখে জনসংযোগ বাড়ানোই পদ্মশিবিরের মূল লক্ষ্য। নিউটাউনে আয়োজিত প্রশিক্ষণ শিবিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা কত মানুষ পেয়েছেন, রাজ্যে কত বিনিয়োগ এসেছে এবং উন্নয়নমূলক ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, প্রকাশিত বইটিতে এ সংক্রান্ত একাধিক পরিসংখ্যানও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা। নতুন রাজ্য সরকার ক্ষমতায় আসার পর মহিলাদের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার এই প্রকল্প চালু করেছে। সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২৮ লাখেরও বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে এই আর্থিক সহায়তা পৌঁছনোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীও জানিয়েছিলেন, দেড় মাসের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মহিলা এই সুবিধা পেয়েছেন এবং যোগ্য বাকি প্রাপকদেরও প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পরে প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।

    একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প

    শুধু অন্নপূর্ণা যোজনাই নয়, বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, নারীকল্যাণ, কর্মসংস্থান এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথাও বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে খবর। জুন মাসে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরগুলিতেও অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, সুকন্যা সমৃদ্ধি, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে সাহায্য করা হয়েছিল (Sankalp Achievements)। শিল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রথম ১০০ দিনের সাফল্যের হিসাব সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি। রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ, শিল্পের সম্ভাবনা এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতিকে সরকারের সাফল্যের অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে বইয়ে উল্লিখিত মোট বিনিয়োগের অঙ্ক দলীয় প্রকাশনার পরিসংখ্যান হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে (BJP)।

    সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ

    সীমান্ত সুরক্ষাও এই প্রচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের বিষয়টি নতুন সরকারের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফকে দ্রুত হস্তান্তর করা হবে। পরে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৭২.৬ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে মোট ১,০২৪.৭৫ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুপ্রবেশ রোখার বিষয়টিও বিজেপির প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, বিএসএফকে জমি দেওয়া এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বারবার জানিয়েছে রাজ্য সরকার। দলীয় প্রকাশনায় কতজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বা এই বিষয়ে কতগুলি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানও রাখা হয়েছে বলে দাবি বিজেপির।

    সংগঠন নিয়ে কড়া বার্তা

    ১০০ দিন পূর্তির এই প্রচারের পাশাপাশি সংগঠন নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। নিউটাউনের প্রশিক্ষণ শিবিরে দলীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তোলাবাজি বা কাটমানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল কোনওরকম আপস করবে না। শিবিরে তিনি বলেন, “বিধায়ক বা জেলা স্তরের কোনও নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজি বা কাটমানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল তাঁকে বরখাস্ত করতে দ্বিধা করবে না।” এই বক্তব্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অনুমতি নিয়েই বলা হয়েছে বলেও জানান শমীক। দলীয় সূত্রের দাবি, বর্তমানে বিজেপির বিধায়কদের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ জন দল ছেড়ে চলে গেলেও, সংগঠনের উপর তার বিশেষ প্রভাব পড়বে না—এমন বার্তাও শিবিরে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ব্যক্তির চেয়ে সংগঠনই যে বড়, এই অবস্থানও স্পষ্ট করতে চাইছেন রাজ্য নেতৃত্ব। ক্ষমতায় আসার পর দলের অভ্যন্তরে ‘শুদ্ধিকরণে’র যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার সঙ্গেও এই বার্তার যোগ রয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা (BJP)।

    দুর্নীতির অভিযোগে সাসপেন্ড বহু নেতা-কর্মী

    বিজেপির অন্দরে ইতিমধ্যেই একাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দলবিরোধী কার্যকলাপ, তোলাবাজি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, সাসপেন্ডের সংখ্যা আড়াইশো ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে জেলা স্তরের সংগঠন নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের মধ্যে। কয়েকটি জেলায় সভাপতিরা সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও (Sankalp Achievements) দলের অন্দরে আলোচনা রয়েছে। সেই কারণেই খুব শীঘ্রই এক ডজনেরও বেশি জেলা সভাপতিকে সরিয়ে সাংগঠনিক স্তরে বড়সড় রদবদল করা হতে পারে বলে খবর।

    বঙ্গ সফরে আসছেন শাহ!

    এমন আবহে শাহের সম্ভাব্য বঙ্গ সফর ঘিরে রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়ছে। বিজেপি সূত্রে খবর, তিন দিনের সফরে আগামী ২০ অগাস্ট কলকাতায় আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ২১ ও ২২ অগাস্ট তাঁর একাধিক দলীয় ও সরকারি কর্মসূচি থাকতে পারে। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি, প্রশাসনিক কাজকর্ম এবং রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সেই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। শুধু প্রশাসনিক বৈঠক নয়, শাহ নবান্নেও যেতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। সেখানে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গ বিজেপির কোর কমিটি এবং রাজ্য কমিটির বর্ধিত বৈঠকেও উপস্থিত থাকতে পারেন শাহ। ফলে তাঁর সফরকে একই সঙ্গে প্রশাসনিক এবং সাংগঠনিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পদ্ম নেতৃত্ব।

    বিজেপির অন্দরে তৎপরতা তুঙ্গে

    আগামী ১৯ অগাস্ট রাজ্যে বিজেপি সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। সেই উপলক্ষে একদিকে যেমন সরকারের কাজের প্রচারকে তৃণমূল স্তরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে তেমনি সংগঠনের ভিতরে শৃঙ্খলা ফেরাতে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে (BJP)। ১০০ দিনের সাফল্যের খতিয়ান সম্বলিত বই সামনে রেখে নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি প্রচার, সামাজিক প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তথ্য তুলে ধরা, সীমান্ত সুরক্ষায় জমি হস্তান্তরের পরিসংখ্যান জানানো এবং সরকারের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। তার মধ্যেই শাহের সম্ভাব্য সফর এবং জেলা স্তরে সাংগঠনিক (Sankalp Achievements) রদবদলের জল্পনা—সব মিলিয়ে সরকারের ১০০ দিন পূর্তিকে কেন্দ্র করে রাজ্য বিজেপির অন্দরে তৎপরতা এখন তুঙ্গে (BJP)।

  • BJP Rally: ‘অরাজকতা মানা হবে না’, সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিবাদে জাতীয় পতাকা হাতে কলকাতার রাজপথে বিজেপি

    BJP Rally: ‘অরাজকতা মানা হবে না’, সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিবাদে জাতীয় পতাকা হাতে কলকাতার রাজপথে বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত শুক্রবার নিট আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ধর্মতলায় উত্তেজনা, হিংসা এবং সাংবাদিক নিগ্রহের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার কলকাতার দুই প্রান্তে জাতীয় পতাকা হাতে পালটা মিছিল করল বঙ্গ বিজেপি (BJP Rally)। দলীয় পতাকার পরিবর্তে জাতীয় পতাকা (National Flag March) নিয়েই শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা এবং গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত দুটি পৃথক মিছিলের আয়োজন করা হয়।

    দুই প্রান্তে বিজেপির মিছিল (BJP Rally)

    বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলার উদ্দেশে মিছিল (BJP Rally) শুরু হয়। এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়, বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ, শঙ্কুদেব পণ্ডা, তমোঘ্ন ঘোষ-সহ একাধিক বিজেপি নেতা ও কর্মী। একই সময়ে গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত আরও একটি মিছিল (BJP Rally) বের করা হয়।

    হিংসা ও সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিবাদ

    বিজেপির অভিযোগ, গত শুক্রবার নিট আন্দোলনের নামে ধর্মতলায় অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। আন্দোলনের সময় হিংসা ছড়ানো, সাংবাদিকদের উপর হামলা এবং দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তারা। এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই জাতীয় পতাকা হাতে (National Flag March) পথে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি বিজেপির।

    বিজেপি নেতাদের বক্তব্য

    মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, “নিট আন্দোলনের নামে অরাজকতা বা দেশবিরোধী স্লোগান কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যারা হিংসা ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এর আগে কংগ্রেস সরকারের আমলে বহুবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল।” বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের প্রশ্ন, যারা হিংসায় জড়িত, তারা কীভাবে নিজেদের ছাত্র বলে দাবি করতে পারে? তিনি অভিযোগ করেন, সিপিএম, কংগ্রেস এবং তৃণমূল একসঙ্গে আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিও জানান তিনি।

    ‘পড়ুয়াদের ব্যবহার করা হচ্ছে’ 

    বিজেপি নেত্রী তথা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলের অভিযোগ, দেশের পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। পড়ুয়াদের সামনে রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    কড়া পদক্ষেপের দাবি

    মিছিল থেকে অভিযুক্তদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে অসম্মান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলে বিজেপি পালটা স্লোগান দেয়। আন্দোলনের নামে হিংসা ও অরাজকতার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেয় দলের নেতৃত্ব।

  • West Bengal BJP: তৃণমূলের প্রাক্তন ৩ সাংসদের উপর বড় ভরসা বিজেপির, রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা

    West Bengal BJP: তৃণমূলের প্রাক্তন ৩ সাংসদের উপর বড় ভরসা বিজেপির, রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় রাজনৈতিক চমক। সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইককে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার উপনির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করল বিজেপি। বৃহস্পতিবার রাতেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তরফে তিন জনের নাম অনুমোদনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

    বিজেপির প্রার্থী তালিকায় সুখেন্দু-সুস্মিতা-প্রকাশ

    বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের রাজ্যসভার উপনির্বাচনের জন্য সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের নাম অনুমোদন করা হয়েছে। দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিংহের স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, এই তিন নেতাই সম্প্রতি রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। সেই শূন্য হওয়া তিনটি আসনেই এবার বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লড়বেন তাঁরা। অর্থাৎ, প্রার্থী একই থাকলেও বদলে গিয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে গিয়ে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক।

    কেন নেওয়া হল তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদদের?

    তৃণমূলের প্রাক্তন তিন সাংসদকে বিজেপিতে অন্তর্ভুক্ত করার কারণ ব্যাখ্যা করেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল যেখানে কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতার বদলে সংঘাতকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এর ফলে রাজ্যের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। শমীক জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের উপর আস্থা রেখেই এই তিন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

    ‘সাধুরও একটা অতীত থাকে’

    তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের দলে নেওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “ব্যতিক্রম তো থাকবেই। ব্যতিক্রমী ঘটনা ব্যতিক্রমী চরিত্রের সঙ্গে দলও নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়। পার্টির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।” তিনি আরও বলেন, যারা দুর্নীতি, চাকরি বিক্রি, সিন্ডিকেট রাজ বা সাধারণ মানুষের অধিকার খর্ব করার সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁদের জন্য বিজেপির দরজা খোলা। পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, “এদের নামের আগে দলত্যাগী বা তৃণমূলী শব্দ ব্যবহার করবেন না। প্রত্যেকেরই একটা অতীত আছে। সাধুরও একটা অতীত থাকে। এই মুহূর্তে সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকের একমাত্র পরিচয়, তারা বিজেপি করবে।”

    বিজেপিতে যোগ দিয়েই মমতাকে নিশানা সুখেন্দুর

    দলে যোগ দেওয়ার পরই তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন সুখেন্দু শেখর রায়। তিনি বলেন, “শি ইজ ফিনিশড, ওই দল শেষ। এখন বেকার চর্চার দরকার নেই।” একই সঙ্গে বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল— দুই সরকারেরই সমালোচনা করে সুখেন্দু বলেন, “আগের সরকারগুলি, বিশেষ করে ৩৪ বছরের বাম সরকার এবং ১৫ বছরের তৃণমূল সরকার মিলে ৪৯ বছরে পশ্চিমবঙ্গকে মরুভূমি বানিয়ে গিয়েছে।” কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সম্পর্ক নিয়েও তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “কেন্দ্রবিরোধী জিহাদ মেন বসে গিয়েছিল। সেটাই রাজনীতিতে পরিণত হয়েছিল। যেন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, ভারতের মানচিত্র থেকে বাংলা বাইরে বলে মনে হচ্ছিল।”

    নবান্নে ইউসুফ পাঠান, শতাব্দী-সহ একাধিক নেতা

    অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ শতাব্দী রায়, খলিলুর রহমান এবং আবু তাহের খানও। এদিনই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, কয়েক দিন আগেই তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সাক্ষাতের পর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রসেনজিতের বৈঠক ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।

  • West Bengal BJP: ট্রামের ‘পুনর্জন্ম’ কলকাতায়, অত্যাধুনিক বিদেশি মডেলে গড়াবে ঐতিহ্যের চাকা!

    West Bengal BJP: ট্রামের ‘পুনর্জন্ম’ কলকাতায়, অত্যাধুনিক বিদেশি মডেলে গড়াবে ঐতিহ্যের চাকা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নব কলেবরে ফিরতে চলছে কলকাতার ঐতিহাসিক ট্রাম পরিষেবা (Kolkata Tram)। অন্তত এমনই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকার (West Bengal BJP)। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন জানিয়েছে, প্রায় দু’বছর আগে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের নেওয়া ট্রাম পরিষেবা প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে এবার আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির ট্রাম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারের দাবি, এশিয়ার প্রাচীনতম চলমান ট্রাম নেটওয়ার্ককে শুধুমাত্র ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবে নয়, বরং পরিবেশবান্ধব ও কার্যকর গণপরিবহণ ব্যবস্থার একটি অংশ হিসেবে পুনর্গঠন করা হবে।

    তৃণমূল জমানায় ট্রামের কফিনে শেষ পেরেক (West Bengal BJP)

    উল্লেখ্য, তৃণমূল জমানায় গত কয়েক বছরে ধাপে ধাপে কলকাতার ট্রাম পরিষেবা সঙ্কুচিত করা হয়েছিল। একের পর এক রুট বন্ধ হওয়া, একাধিক ট্রাম ডিপোকে বাস ডিপোয় রূপান্তর, বিভিন্ন সেতুতে ট্রাম চলাচলে নিষেধাজ্ঞা—সব মিলিয়ে একসময় শহরের বিস্তীর্ণ অংশে ছড়িয়ে থাকা ট্রাম নেটওয়ার্ক সীমিত হয়ে পড়ে। ২০২৪ সালে তৎকালীন তৃণমূল সরকার কার্যত অধিকাংশ ট্রাম পরিষেবা বন্ধ করে শুধুমাত্র ময়দান-এসপ্ল্যানেডের একটি ছোট ঐতিহ্যবাহী রুট পর্যটনের উদ্দেশ্যে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। তৎকালীন পরিবহণ দফতরের যুক্তি ছিল, কলকাতার ব্যস্ত ও সংকীর্ণ রাস্তায় ধীরগতির ট্রাম যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে। পাশাপাশি মূল্যবান ডিপো জমি অন্য কাজে ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনায় ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের নেওয়া সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র জনমত গড়ে ওঠে। ঐতিহ্য সংরক্ষণকর্মী, পরিবেশবিদ, নাগরিক সংগঠন এবং বহু নিয়মিত যাত্রী ট্রাম বন্ধের বিরোধিতায় সোচ্চার হন। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়। আদালত ট্রাম পরিষেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি পরামর্শদাতা কমিটিও গঠন করে এবং ট্র্যাক সংরক্ষণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। এমনকি বিটুমিনের নীচে চাপা পড়ে যাওয়া ট্রামলাইন পুনরুদ্ধারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

    ছবি বদলাচ্ছে বিজেপির আমলে

    নয়া বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে ট্রাম পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং জানান, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন শহরে ব্যবহৃত আধুনিক ট্রামের আদলে কলকাতায় নতুন প্রজন্মের ট্রাম চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই কিছু প্রস্তাব এসেছে এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে (Kolkata Tram)। পরিবহণ দফতরের মতে, দীর্ঘদিন অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ডিপোয় পড়ে থাকা পুরানো ট্রামগুলির অধিকাংশই প্রায় অচল হয়ে গিয়েছে। সেগুলি সংস্কার করতে হলে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। পরিষেবাও তেমন মিলবে না। তাই বিদেশ থেকে হালকা, শক্তি-সাশ্রয়ী এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নতুন ট্রাম আমদানির পরিকল্পনা করা হচ্ছে (West Bengal BJP)। সরকারি সূত্রে খবর, নতুন ট্রামগুলিতে উন্নতমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আধুনিক যাত্রীসুবিধা এবং জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি থাকবে। শুধু তাই নয়, এগুলি বর্তমান ট্রাফিক ব্যবস্থার সঙ্গে পাল্লাও দিতে পারবে।

    পদ্ম সরকারের পরিকল্পনা

    বর্তমানে কলকাতায় মাত্র দু’টি রুটে ট্রাম চলাচল করছে—এসপ্ল্যানেড থেকে শ্যামবাজার এবং এসপ্ল্যানেড থেকে গড়িয়াহাট। ভবিষ্যতে কোন কোন রুট ফের চালু করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষাও করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ঐতিহাসিক এসপ্ল্যানেড-খিদিরপুর রুটকে। ময়দানের সবুজ পরিবেশ ঘেঁষে চলা এই রুট বহু বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের কাছে সমান জনপ্রিয়। এছাড়া ট্রামলাইন, ডিপো এবং সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণের পাশাপাশি কলকাতা মেট্রোর সঙ্গে সাযুজ্য রেখে বহুমুখী গণপরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকারের মতে, এতে শহরের পরিবহণ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে, এবং ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দূষণ কমানোর ক্ষেত্রে।

    ‘চলন্তিকা’ ফেরাতে বিজেপি সরকারের উদ্যোগ

    ১৮৭৩ সালে যাত্রা শুরু করা কলকাতার ট্রাম পরিষেবা ১৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শহরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। একসময় এটি ছিল কলকাতার অন্যতম প্রধান গণপরিবহণ ব্যবস্থা। নয়া উদ্যোগের মাধ্যমে সেই ঐতিহ্যকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে ভবিষ্যৎমুখী পরিবহণ ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করার লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্যের পালাবদলের সরকার (West Bengal BJP)।

    ট্রামওয়েজ ইউজার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির বক্তব্য

    অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী, ট্রাম অনুরাগী তথা কলকাতা ট্রামওয়েজ ইউজার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেবাশিস ভট্টাচার্য এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, “নাগরিকদের সর্বসম্মত অভিমত হল, কলকাতা ট্রামওয়েজের অন্তর্ঘাতের কাহিনি দুর্নীতি থেকেই শুরু হয়েছিল এবং সেখানেই শেষ হয়েছে। ট্রাম ডিপোগুলি বিশাল এবং সেগুলি রয়েছে শহরের প্রধান রাস্তাগুলির পাশে, গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে। ব্রিটিশরা মূলত ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ট্রাম ব্যবস্থার সম্প্রসারণের জন্য বিশাল পরিমাণ জমি কিনেছিল।” তিনি জানিয়েছিলেন, হাইকোর্টও বিচক্ষণতার সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছে, ট্রাম ডিপোগুলিতে (Kolkata Tram) কেন বহুতল ভবন রয়েছে? শহর পরিকল্পনাবিদরা এই ভেবে উদ্বিগ্ন যে, একবার জমি বিক্রি হয়ে গেলে ভবিষ্যতে রেললাইনের পাশে ট্রাম ডিপো পুনর্নির্মাণের আর কোনও সুযোগ থাকবে না।

    কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

    বছর তিনেক আগে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ট্রাম পরিষেবা (West Bengal BJP) এবং তার সঙ্গে জড়িত সম্পত্তি রক্ষার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। মামলার শুনানিতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম ট্রামডিপো একের পর এক বন্ধ হয়ে যাওয়াকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিয়েছিলেন। শহরের এই ঐতিহ্যবাহী পরিবহণ ব্যবস্থা সংরক্ষণে জোর দিয়ে ট্রামওয়েজের জমি এবং সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশও জারি করেছিল আদালত। উল্লেখ্য, হাইকোর্টে মামলাটি দায়ের করেছিলেন জনৈক সুলগ্না মুখোপাধ্যায়। আরটিআইয়ের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, ট্রামওয়েজের একাধিক জমি ও সম্পত্তি বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে। তার পরেই তিনি দ্বারস্থ হন হাইকোর্টের। আদালত জানিয়েছিল, সরকারি জমি বিক্রির আগে নিশ্চিত করতে হবে যে তা সরকারি কাজ বা সাধারণ মানুষের কোনও প্রয়োজনেই আর ব্যবহারযোগ্য নয়। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না করে সরকারি সম্পত্তি বিক্রি করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছিল আদালত। ট্রামওয়েজের জমি যখন বেসরকারি সংস্থাকে বিক্রি করা হয়েছিল, তখন কেউ কেন প্রতিবাদ করেননি, সেই প্রশ্নও তুলেছিল হাইকোর্ট।

    আদালতের সেই পর্যবেক্ষণের পরে (Kolkata Tram)ও, তৃণমূলের রাজত্বে দৈন্যদশা ঘোচেনি ট্রামের। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমেই পরিসর ছোট হয়ে এসেছিল শহর কলকাতার এই পরিবেশ বান্ধব যানের। রাজ্যে পালাবদল হতেই ফের স্বমহিমায় ফিরতে চলছে (West Bengal BJP) ট্রাম।

    আজ্ঞে হ্যাঁ, নব কলেবরে!

     

  • West Bengal BJP: বিতর্ক নয়, বাজেটের সাফল্য পৌঁছে দিতে হবে মানুষের কাছে, বিজেপি বিধায়কদের কড়া বার্তা নেতৃত্বের

    West Bengal BJP: বিতর্ক নয়, বাজেটের সাফল্য পৌঁছে দিতে হবে মানুষের কাছে, বিজেপি বিধায়কদের কড়া বার্তা নেতৃত্বের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের (West Bengal BJP) বিভিন্ন জনকল্যাণকামী পদক্ষেপ এবং সাম্প্রতিক বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলি (Budget Benefits) সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার ওপর বিশেষ জোর দিল পদ্ম-দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সম্প্রতি দলীয় বিধায়কদের নিয়ে আয়োজিত দু’দিনের বিশেষ বৈঠকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়ানোর বদলে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রচারেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

    ‘ডুজ অ্যান্ড ডোন্টজে’র পাঠ (West Bengal BJP)

    দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে নেতৃত্ব পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ডিম ছোড়া, দলীয় কার্যালয় দখল কিংবা কোনও ধরনের উসকানিমূলক কার্যকলাপ বিজেপি সমর্থন করে না। তার বদলে সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত, বাজেটের ঘোষণা এবং প্রশাসনিক সাফল্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিধায়কদের। বাজেটে সরকারি কর্মীদের জন্য ডিএর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে চালু থাকা ১৮ শতাংশ ডিএর সঙ্গে আরও ২০ শতাংশ বাড়িয়ে মোট হার ৩৮ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা। এর পাশাপাশি নয়া কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এক লাখ চাকরি সৃষ্টির পরিকল্পনার কথাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারলে সরকারের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে।

    বিধায়কদের সতর্ক-বার্তা

    বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় নেতা সুকান্ত মজুমদার, সুনীল বনসল, অমিত মালব্য এবং অমিতাভ চক্রবর্তী-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। বৈঠকে নবনির্বাচিত বিধায়কদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রথমবার নির্বাচিত বিধায়কদের বিধানসভা ও সাংগঠনিক কাজের বিভিন্ন দিক সম্পর্কেও শিখিয়ে-পড়িয়ে নেওয়া হয় (West Bengal BJP)। দল এবং সরকারের ভূমিকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা, সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা এবং শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে রাজনৈতিক কাজ পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার কথাও মনে করিয়ে দেন পদ্ম নেতারা। কোথাও যাতে তোলাবাজি বা অনিয়মের অভিযোগ না ওঠে, সেই বিষয়েও (Budget Benefits) বিধায়কদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর (West Bengal BJP)।

  • Suvendu Adhikari: নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শুক্রবার, একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়নের পথে ডাবল ইঞ্জিন সরকার

    Suvendu Adhikari: নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শুক্রবার, একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়নের পথে ডাবল ইঞ্জিন সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে স্বাধীনতার পর বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামের বিধায়ক, জায়ান্ট কিলার শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি (Suvendu Adhikari) করতে চলেছেন নয়া মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক (Cabinet Meeting)। এই বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা তুঙ্গে। এই প্রথম বৈঠকেই বঙ্গবাসীর জন্য বেশ কিছু বড় প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হতে পারে। গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল পরিচালিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যে যে কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে রাজ্যবাসীকে প্রাপ্য সরকারি অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে, সেগুলি দ্রুত বাস্তবায়িত করা হবে।

    সোমবার বিকেল ৫টায় বৈঠক (Suvendu Adhikari)

    বিজেপি সূত্রে খবর, নয়া মুখ্যমন্ত্রী সরকার পরিচালনা করবেন মহাকরণ থেকে। তবে মহাকরণে সংস্কারের কাজ চলায় আপাতত বিধানসভায়ই বসবেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। ইতিমধ্যেই বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর নামে বিশেষ ফলকও বাসানো হয়েছে। সোমবার নবান্ন সভাঘরে প্রথম বড় বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের ডিজিপি, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) থেকে শুরু করে সব জেলার পুলিশ সুপারদের নিয়ে বৈঠকে বসতে চলেছেন বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার বিকেল ৫টায় এই বৈঠক হবে। এরপর শুক্রবার নবান্নেই বিজেপি সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট (Cabinet Meeting) বৈঠকের সম্ভাবনা। নবান্নেই বসবে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক।

    আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প

    দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু করেনি। এই বৈঠকে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত হতে পারে রাজ্যে এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের প্রয়োগ নিশ্চিত করা। এর ফলে সাধারণ মানুষ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।

    সরকারি কর্মচারীদের ডিএ (DA)

    বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে। প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই ডিএ নিয়ে কোনও ইতিবাচক ঘোষণা বা কিস্তি মেটানোর পরিকল্পনা করা হতে পারে।

    কৃষক ও যুবকদের জন্য প্রকল্প

    কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘পিএম কিষান নিধি’র সুবিধা রাজ্যের প্রতিটি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের জন্য নতুন কোনও রূপরেখা তৈরি করা হতে পারে।

    প্রশাসনিক রদবদল

    নবান্নের অন্দরে এবং পুলিশ প্রশাসনে বড়সড় রদবদল ঘটিয়ে প্রশাসনকে আরও গতিশীল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ব্রিগেডে শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari)  সঙ্গে শপথ নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু। প্রোটেম স্পিকার হিসেবে শপথ নেবেন তাপস রায়। বুধ ও বৃহস্পতিবার শপথ নেবেন বাকি বিধায়করা। শুভেন্দুর নেতৃত্বে এই প্রথম মন্ত্রিসভার (Cabinet Meeting) বৈঠকটি মূলত ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারে’র উন্নয়নমূলক মডেলকে সামনে রেখে পরিচালিত হতে পারে। যেখানে কেন্দ্রের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিকে দ্রুত রাজ্যে কার্যকর করাই হবে নয়া সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

LinkedIn
Share