Tag: West Bengal government

West Bengal government

  • Women Free Bus Travel: কথা দিয়েছিলেন শুভেন্দু, আজ থেকে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য শূন্য ভাড়া, কীভাবে মিলবে সুবিধা?

    Women Free Bus Travel: কথা দিয়েছিলেন শুভেন্দু, আজ থেকে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য শূন্য ভাড়া, কীভাবে মিলবে সুবিধা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য জুড়ে মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত পরিষেবা সোমবার, ১ জুন থেকে কার্যকর হল। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই প্রকল্প চালুর ঘোষণা করেছিল। সেই ঘোষণামতো আজ থেকে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি পরিবহণ সংস্থার বাসে মহিলাদের আর কোনও ভাড়া দিতে হচ্ছে না।

    কোন কোন বাসে মিলবে এই সুবিধা?

    রাজ্যের সমস্ত সরকারি বাস পরিষেবাতেই এই সুবিধা কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • ● এনবিএসটিসি (NBSTC)
    • ● এসবিএসটিসি (SBSTC)
    • ● ডব্লিউবিটিসি (WBTC)
    • ● সিটিসি (CTC)

    শহর ও শহরতলির ছোট রুট থেকে শুরু করে দূরপাল্লার বাস—সব ক্ষেত্রেই মহিলারা বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন। অর্থাৎ হাওড়া-মানিকতলা থেকে দীঘা-দার্জিলিং—সব সরকারি বাস রুটেই এই সুবিধা প্রযোজ্য। বাসে উঠলে মহিলা যাত্রীদের ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’ (Zero Value Ticket) দেওয়া হচ্ছে, যা বিনামূল্যে যাত্রার সরকারি নথি হিসেবে কাজ করবে।

    আসছে ‘পিঙ্ক কার্ড’

    প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং অপব্যবহার রুখতে রাজ্য সরকার শীঘ্রই মহিলাদের জন্য বিশেষ ‘পিঙ্ক কার্ড’ (Pink Card) চালু করবে। এই স্মার্ট কার্ডটি মূলত একটি ‘ফ্রি ট্রাভেল পাস’ হিসেবে কাজ করবে। বাসে ওঠার পর কন্ডাক্টরের কাছে থাকা ই-পস (e-POS) মেশিনে কার্ড সোয়াইপ বা QR কোড স্ক্যান করলেই যাত্রী ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’ সংগ্রহ করতে পারবেন। সরকারের মতে, মহিলাদের পরিচয়ে অন্য কেউ যাতে বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই কার্ড চালু করা হচ্ছে।

    পিঙ্ক কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা

    পিঙ্ক কার্ড পেতে হলে—

    • ● আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
    • ● কোনও নির্দিষ্ট বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
    • ● কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে।
    • ● এটি হস্তান্তরযোগ্য নয় (Non-transferable)।
    • ● যাঁর নামে কার্ড ইস্যু হবে, শুধুমাত্র তিনিই তা ব্যবহার করতে পারবেন।

    কীভাবে আবেদন করবেন?

    পিঙ্ক কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে অফলাইন ও অনলাইন—দুই পদ্ধতিতেই।

    অফলাইনে

    নিম্নলিখিত সরকারি দফতর থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করা যাবে—

    • ● বিডিও (BDO) অফিস
    • ● এসডিও (SDO) অফিস
    • ● পুরসভা (Municipality) অফিস

    অনলাইনে

    সরকারের নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে।

    প্রয়োজনীয় নথি

    আবেদনের সময় জমা দিতে হবে—

    • ● আধার কার্ড
    • ● ভোটার কার্ড
    • ● রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি
    • ● ঠিকানার প্রমাণপত্র

    পিঙ্ক কার্ড না থাকলেও কি ফ্রি ভ্রমণ করা যাবে?

    হ্যাঁ। বর্তমানে পিঙ্ক কার্ড তৈরি ও বিতরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। তাই কার্ড হাতে না পাওয়া পর্যন্ত মহিলারা পরিচয়পত্র দেখিয়েই বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন। বাসে উঠে কন্ডাক্টরকে বৈধ পরিচয়পত্র দেখালে তিনি একটি ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’ প্রদান করবেন। এ বিষয়ে বাসকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি বাসে ইতিমধ্যেই নির্দেশিকা ও তথ্যপত্র টাঙানো হয়েছে।

    কোন পরিচয়পত্র দেখাতে হবে?

    সরকার অনুমোদিত নিম্নলিখিত পরিচয়পত্রগুলির মধ্যে যেকোনও একটি দেখালেই বিনামূল্যে যাতায়াত করা যাবে—

    • ● আধার কার্ড (Aadhaar Card)
    • ● ভোটার পরিচয়পত্র (Voter ID/EPIC)
    • ● প্যান কার্ড (PAN Card)
    • ● ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving Licence)
    • ● পাসপোর্ট (Passport)
    • ● এমজিএনআরইজিএ জব কার্ড (MGNREGA Job Card)
    • ● ছবিসহ যেকোনও সরকারি বা পেনশন সংক্রান্ত পরিচয়পত্র

    আপাতত কী করতে হবে?

    পিঙ্ক কার্ড চালু না হওয়া পর্যন্ত মহিলা যাত্রীদের শুধু বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখলেই হবে। সরকারি বাসে উঠে পরিচয়পত্র দেখিয়ে ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’ সংগ্রহ করেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াত করা যাবে।

  • Suvendu Adhikari: রাত পোহালেই সম্প্রসারণ নয়া মন্ত্রিসভার, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Adhikari: রাত পোহালেই সম্প্রসারণ নয়া মন্ত্রিসভার, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষমেশ সম্প্রসারণ হচ্ছে রাজ্যের প্রথম বিজেপি মন্ত্রিসভার।  সোমবার শপথ নেবেন ৩৫ জন মন্ত্রী (35 Ministers)। রবিবারই এ কথা জানান রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    মুখ্যমন্ত্রীর পোস্ট (Suvendu Adhikari)

    এক্স হ্যান্ডেলে করা পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যপাল আরএন রবি (R. N. Ravi) আগামিকাল (সোমবার) সকাল ১১টায় নবান্নে নতুন মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। তিনি বলেন, “আগামিকাল পশ্চিমবঙ্গের জনগণের রায়ে নির্বাচিত জাতীয়তাবাদী সরকারের একটি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত হবে। মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ৩৫ জন মন্ত্রী আগামিকাল সকাল ১১টায় নবান্নে শপথ নেবেন। মাননীয় রাজ্যপাল শ্রী আরএন রবি তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।” জানা গিয়েছে, বিজেপির কয়েকজন প্রবীণ নেতা রাজ্য প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব পেতে চলেছেন। ১৮ মে পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নারীদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা তদন্ত ও মোকাবিলা করার জন্য দু’টি কমিশন গঠনের অনুমোদন দিয়েছে। একথাও জানান রাজ্যের পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। দু’টি কমিশনেরই প্রধান হবেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা। কমিশনগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবে ১ জুন থেকে।

    প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি কমিশন

    মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মন্ত্রিসভা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে (Suvendu Adhikari) একটি কমিশন গঠনের অনুমোদন দিয়েছে, যার প্রধান হবেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিত বসু। নারীদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা নিয়ে তদন্তের জন্য একটি কমিশন গঠনের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে, যার প্রধান হবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চ্যাটার্জি।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং নাগরিকদের অধিকার রক্ষার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (35 Ministers)। তিনি বলেন, “উভয় কমিশনই ১ জুন থেকে কাজ শুরু করবে (Suvendu Adhikari)।”

     

  • Cervical Cancer Vaccine: মেয়ের বয়স ১৪? বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা দিচ্ছে রাজ্য সরকার, কোথায় পাওয়া যাবে? জানালেন শুভেন্দু

    Cervical Cancer Vaccine: মেয়ের বয়স ১৪? বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা দিচ্ছে রাজ্য সরকার, কোথায় পাওয়া যাবে? জানালেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের মহিলাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। জরায়ুমুখ ক্যানসার (Cervical Cancer) প্রতিরোধে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল বিনামূল্যে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস বা সংক্ষেপে এইচপিভি (Human Papillomavirus, HPV) টিকাকরণ কর্মসূচি। শনিবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতাল থেকে এই রাজ্যব্যাপী অভিযানের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে জাতীয় এইচপিভি টিকাকরণ কর্মসূচি চালু হয়েছিল। এবার সেই জাতীয় উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গও।

    প্রথম পর্যায়ে ২৩৫টি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকাকরণ

    শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রথম ধাপে রাজ্যের ২৩৫টি সরকারি হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, মহকুমা হাসপাতাল এবং ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এইচপিভি টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বাংলায় পৌঁছেছে ৭ লক্ষ ৭২ হাজার ৬৫০ ডোজ টিকা। সরকারের লক্ষ্য, শহর থেকে গ্রাম—রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। সেই কারণে ধাপে ধাপে (Phased Expansion Plan) টিকাকরণ কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে এসএসকেএম হাসপাতালে ১০০টি নতুন শয্যারও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    কারা এই টিকা পাবে?

    বর্তমান পর্যায়ে এই বিনামূল্যের টিকাকরণ কর্মসূচি শুধুমাত্র ১৪ বছর বয়সি কিশোরীদের জন্য চালু করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, কৈশোরের এই বয়সকে এইচপিভি টিকা নেওয়ার জন্য ‘গোল্ডেন উইন্ডো’ বলা হয়। কারণ ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার আগেই শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতে জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। যেসব পরিবারের কন্যাসন্তানের বয়স ১৪ বছর, তারা নিকটবর্তী সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে যোগাযোগ করে টিকা নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এইচপিভি টিকা?

    চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, এইচপিভির কিছু উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ স্ট্রেন জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রধান কারণ। বিশেষ করে এইচপিভি টাইপ ১৬ এবং ১৮ বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ জরায়ুমুখ ক্যানসারের জন্য দায়ী। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এইচপিভি ভ্যাকসিন এই ভাইরাসজনিত ক্যানসারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই টিকা জরায়ুমুখ ক্যানসার ছাড়াও গলা, মলদ্বার এবং অন্যান্য এইচপিভি-সম্পর্কিত ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম।

    বিধাননগরে উদ্বোধন

    শনিবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। শনিবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য, স্থানীয় বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং ইন্দ্রনীল খাঁ। অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, মহিলাদের মধ্যে হওয়া বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যানসার (সার্ভাইক্যাল ক্যানসার) অন্যতম মারাত্মক, যা প্রতি বছর গড়ে প্রায় দেড় লক্ষ মহিলাকে আক্রান্ত করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃহৎ পরিসরে এইচপিভি টিকাকরণ চালু হওয়ায় ভবিষ্যতে জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রকোপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এই উদ্যোগ। এর ফলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কিশোরী দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক রোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পাবে।

  • Suvendu Adhikari: রোগী রেফার! ডাক্তার নেই? সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা নজর রাখতে চালু কন্ট্রোল রুম-হেল্পলাইন, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: রোগী রেফার! ডাক্তার নেই? সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা নজর রাখতে চালু কন্ট্রোল রুম-হেল্পলাইন, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির পরিষেবা আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। হাসপাতালগুলিতে দালালচক্র, অপ্রয়োজনীয় রেফার, পরিষেবার গাফিলতি ও রোগী হয়রানির অভিযোগ রুখতে স্বাস্থ্যভবনে ২৪ ঘণ্টার বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালুর ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতাল থেকে জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে টিকাকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই উদ্যোগের কথা জানান। তাঁর বক্তব্য, সরকারি হাসপাতালগুলিতে পরিষেবার মান উন্নত করতে এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে এই কন্ট্রোল রুম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

    রাজ্যের হাসপাতালগুলির উপর নজরদারি

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যভবনে খোলা হওয়া এই কন্ট্রোল রুম থেকে রাজ্যের হাসপাতালগুলির উপর সর্বক্ষণ নজরদারি চালানো হবে। রোগী বা তাঁদের পরিবারের সদস্যরা নির্দিষ্ট হেল্পলাইন নম্বরের মাধ্যমে হাসপাতাল সংক্রান্ত যে কোনও অভিযোগ সরাসরি জানাতে পারবেন। হাসপাতালের বেডের অভাব, চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্যা, ওষুধের ঘাটতি, কর্মীদের দুর্ব্যবহার কিংবা অন্য কোনও অনিয়মের অভিযোগও সেখানে নথিভুক্ত করা যাবে। প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের সমস্ত জেলা হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল কলেজকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসক উপস্থিত আছেন কি না, রোগীরা যথাযথ পরিষেবা পাচ্ছেন কি না, হাসপাতাল চত্বরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হচ্ছে কি না, কোথাও দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে কি না অথবা অযথা রোগীদের অন্যত্র রেফার করা হচ্ছে কি না— সেসব বিষয়েও নজর রাখা হবে।

    ‘‘দালালচক্র যাতে না চলে’’, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “হাসপাতালে কোনও দালালচক্র যাতে না চলে এবং কোনও রোগীকে অকারণে রেফার না করা হয়, তা নিশ্চিত করতে আমরা পেশাদার কর্মী নিয়োগ করছি। এ বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি থাকবে।” অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, সম্প্রতি এক মুমূর্ষু রোগীকে রেফার করার ঘটনায় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সুপারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা আরও উন্নত করতে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা বজায় রাখার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে মানবসম্পদের ঘাটতি দূর করা জরুরি।

    সরকারি হাসপাতাল ঘিরে একাধিক অভিযোগ

    উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের একাধিক সরকারি হাসপাতালকে ঘিরে চিকিৎসা পরিষেবার মান, রোগী পরিষেবা ও প্রশাসনিক গাফিলতি নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর সরাসরি নজরদারি বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ। সরকারের দাবি, নতুন এই কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকার সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিস্থিতিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোথাও কোনও সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রশাসনের মতে, স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও জনমুখী করে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করাও সরকারের অন্যতম উদ্দেশ্য। এখন এই কন্ট্রোল রুম কতটা কার্যকরভাবে কাজ করে এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কতটা দ্রুত ফল পাওয়া যায়, সেদিকেই নজর থাকবে।

  • Amit Shah Praises Suvendu: বিএসএফকে দ্রুত জমি, অনুপ্রবেশে জিরো টলারেন্স! শুভেন্দুর সরকারের ভূয়সী প্রশংসায় অমিত শাহ

    Amit Shah Praises Suvendu: বিএসএফকে দ্রুত জমি, অনুপ্রবেশে জিরো টলারেন্স! শুভেন্দুর সরকারের ভূয়সী প্রশংসায় অমিত শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ ও সীমান্ত সুরক্ষায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ করেছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক তৎপরতার এবার ভূয়সী প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিএসএফ-কে দ্রুত জমি হস্তান্তর এবং অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের কড়া অবস্থানের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ভূয়সী প্রশংসা অমিত শাহর

    বৃহস্পতিবার গান্ধিনগরে নিজের সংসদীয় ক্ষেত্রের এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পূর্বতন সরকারের সমালোচনাও করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন প্রতিদিন সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটত। কিন্তু রাজ্যে আমাদের সরকার আসার পর সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-কে জমি দেওয়ার প্রক্রিয়াও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর কথায়, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে রাজ্য ও কেন্দ্রের সমন্বিত উদ্যোগ ইতিমধ্যেই ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে।

    সাত দিনের মধ্যেই ৬০০ হেক্টর জমি হস্তান্তর

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বড়সড় পরিবর্তন শুরু হয়েছে বলে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত দিনের মধ্যেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ৬০০ হেক্টর জমি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর হাতে তুলে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাজ্য সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করেছে এবং কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ শুরু করেছে। অমিত শাহ বলেন, “অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কেন্দ্র সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও সেই নীতিতেই কাজ করছে।”

    ‘চিকেন’স নেক’ করিডরের ১২১ হেক্টর জমিও হস্তান্তর

    সভা থেকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উত্তরবঙ্গের কৌশলগত ‘চিকেন’স নেক’ করিডর এলাকার ১২১ হেক্টর জমিও ভারত সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই করিডরটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগ রক্ষা করে। ফলে এলাকাটির নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্র। অমিত শাহের দাবি, এই জমি হস্তান্তরের ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ আরও দ্রুত এগোবে।

    তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ

    এদিনের বক্তব্যে প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের কড়া সমালোচনাও করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, পূর্বতন সরকারের আমলে প্রতিদিনই পশ্চিমবঙ্গে অবাধ অনুপ্রবেশ চলত এবং সীমান্ত সুরক্ষার প্রশ্নে প্রশাসনিক উদাসীনতা ছিল স্পষ্ট।
    অমিত শাহ বলেন, বিজেপি বিধানসভা নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। তিনি দাবি করেন, নতুন সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

    দ্রুত শুরু হবে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিএসএফ-এর হাতে জমি হস্তান্তরের ফলে সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে। দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বহু এলাকায় বেড়া নির্মাণের কাজ আটকে ছিল বলে কেন্দ্রের দাবি। কেন্দ্র মনে করছে, সীমান্তে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা, অতিরিক্ত চৌকি নির্মাণ এবং কাঁটাতারের বেড়া অনুপ্রবেশ অনেকটাই কমিয়ে আনবে।

    জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ

    রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করতে প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই উদ্দেশ্যে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিশেষ ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশও জারি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে অমিত শাহ বলেন, “কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি ও আইন প্রয়োগের ফলে অনুপ্রবেশকারীদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু অনুপ্রবেশকারী স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যেতে শুরু করেছেন।”

    দেশজুড়ে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার পরিকল্পনা

    সভা থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা দেশ থেকেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে বহিষ্কার করার ব্যাপারে কেন্দ্র সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, “যাঁরা স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রশাসন সহযোগিতা করবে। কিন্তু দেশের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না।” অমিত শাহের দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অভিযানের ফলে অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং বড়সড় অভিযান শুরু হওয়ার আগেই অনেকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অমিত শাহের এই বক্তব্যকে সামনে রেখে বিজেপি নেতৃত্ব সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ রোধে সরকারের কঠোর অবস্থানকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে।

  • Suvendu Adhikari Announcements: বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম, জনসংযোগে ‘আপনার সরকারকে বলুন’, কল্যাণীর প্রশাসনিক সভা থেকে একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari Announcements: বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম, জনসংযোগে ‘আপনার সরকারকে বলুন’, কল্যাণীর প্রশাসনিক সভা থেকে একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নতুন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana) কার্যকর করার সরকারি প্রক্রিয়া বুধবার থেকেই শুরু হচ্ছে। কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, বুধবার থেকেই প্রকল্পের আবেদনপত্র বা ফর্ম প্রকাশ করা হবে এবং তা অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই পূরণ করা যাবে। পাশাপাশি ‘মা ক্যান্টিন’-এ সপ্তাহে দু’দিন মাছ-ভাত চালু, ‘দিদিকে বলো’-র নাম পরিবর্তন, মহিলাদের বিনামূল্যে বাসযাত্রা এবং আয়ুষ দফতরকে পৃথক করার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করেন তিনি।

    কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠকে কী আলোচনা হল

    মঙ্গলবার কল্যাণীর এপিজে আব্দুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া ও হুগলি জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে তিনি জানান, বর্তমানে চালু থাকা ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-য় এবং ‘স্বাস্থ্যসাথী’-কে আয়ুষ্মান ভারতের কাঠামোয় রূপান্তরের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে উপভোক্তাদের একটি নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করতে হবে। বুধবার নবান্নে সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী, মুখ্যসচিব, অর্থসচিব এবং অন্যান্য আধিকারিকদের উপস্থিতিতে সেই ফর্ম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, যত দ্রুত নথিভুক্তিকরণ হবে, তত দ্রুত উপভোক্তারা প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

    ১ জুন থেকেই টাকা পাঠানোর প্রস্তুতি

    প্রশাসন সূত্রে খবর, আগামী ১ জুন থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তার টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মাসিক ৩ হাজার টাকা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ফর্ম পূরণ ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চলাকালীন সাধারণ মানুষ যাতে আর্থিক সমস্যায় না পড়েন, সে দিকেও গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, যতদিন পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া শুরু না হচ্ছে, ততদিন পুরনো ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর টাকা আগের নিয়মেই উপভোক্তারা পাবেন।

    অনলাইন-অফলাইন দুই ব্যবস্থাতেই ফর্ম জমা

    শুভেন্দু জানান, বুধবার থেকেই সাধারণ মানুষ ফর্মের প্রতিলিপি সংগ্রহ করতে পারবেন। আবেদন প্রক্রিয়াকে সহজ করতে অনলাইন ও অফলাইন—দুই ব্যবস্থাই রাখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র জনগণের উপর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হবে না। বিধায়কেরা নিজ উদ্যোগে ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন। পাশাপাশি বিডিওদের নেতৃত্বে সরকারি কর্মীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে সহায়তা করবেন।

    নাগরিকত্ব নিয়ে স্পষ্ট বার্তা

    অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা কারা পাবেন, সে বিষয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ দেশের বৈধ নাগরিকদের জন্যই বরাদ্দ।

    মা ক্যান্টিনে সপ্তাহে দু’দিন মাছ-ভাত

    সামাজিক কল্যাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে ‘মা ক্যান্টিন’-এ নতুন খাদ্যতালিকার ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ৪০০টি মা ক্যান্টিন চালু রয়েছে বলে জানান তিনি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সপ্তাহে দু’দিন ৫ টাকাতেই মাছ-ভাত দেওয়া হবে। বাকি পাঁচ দিন আগের মতোই ডিম-ভাত মিলবে একই মূল্যে। এই সিদ্ধান্তকে সাধারণ মানুষের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছে রাজ্য সরকার।

    ‘দিদিকে বলো’-র নতুন নাম ‘আপনার সরকারকে বলুন’

    রাজ্যের জনপ্রিয় জনসংযোগ কর্মসূচি ‘দিদিকে বলো’-র নাম পরিবর্তনের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী সপ্তাহ থেকে পরিষেবাটির নতুন নাম হবে ‘আপনার সরকারকে বলুন’। তিনি জানান, পুরনো টোল-ফ্রি নম্বরও পরিবর্তন করা হবে এবং পরিষেবা চালুর দিন এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। পরিষেবার নতুন নাম নির্ধারণ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)।

    মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাসযাত্রা

    মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, সরকারি বাসে আপাতত সমস্ত মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা কার্যকর করা হচ্ছে। মন্ত্রিসভা আগেই এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। পরবর্তী সময়ে এই পরিষেবার জন্য বিশেষ কার্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

    ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচি পালন করবে রাজ্য

    কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষিত ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচিও রাজ্যে পালন করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এই কর্মসূচির আওতায় পরিবেশ ও বন দফতর প্রত্যেক বিধায়ককে গাছ বিতরণের জন্য চারাগাছ সরবরাহ করবে। এছাড়া ১৫, ১৬ ও ১৭ জুন রাজ্যজুড়ে জনকল্যাণ শিবির আয়োজনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা হবে।

    বিশ্ব যোগ দিবস ও আয়ুষ দফতর নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত

    ২১ জুন বিশ্ব যোগ দিবস রাজ্যজুড়ে পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই কর্মসূচির দায়িত্বে থাকবে আয়ুষ দফতর এবং ক্রীড়া দফতর। এদিন তিনি আরও জানান, নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে আয়ুষ দফতরকে স্বাস্থ্য দফতর থেকে আলাদা করা হবে। মন্ত্রিসভায় বিষয়টি অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পৃথক দফতর গঠনের মাধ্যমে আয়ুষ পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করা এবং জাতীয় স্তরের সুযোগ-সুবিধা রাজ্যে কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

  • Govt Job Age Limit: কথামতো কাজ নতুন সরকারের! চাকরির পরীক্ষায় বৃদ্ধি পেল বয়সের ঊর্ধ্বসীমা, বিজ্ঞপ্তি জারি নবান্নের

    Govt Job Age Limit: কথামতো কাজ নতুন সরকারের! চাকরির পরীক্ষায় বৃদ্ধি পেল বয়সের ঊর্ধ্বসীমা, বিজ্ঞপ্তি জারি নবান্নের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল সরকারের নিয়োগ দুর্নীতির জেরে রাজ্যে দীর্ঘদিন বন্ধ সরকারি চাকরির পরীক্ষা। শিক্ষিত, মেধাবী, যোগ্য প্রার্থীদের বয়সও বেড়ে গিয়েছে। তাদের কথা মাথায় রেখেই রাজ্যে পালাবদলের পর বৃদ্ধি করা হল সরকারি চাকরিতে (Govt Job Age Limit) আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা। ঘোষণা আগেই করে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এ বার সরকারি বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়ে গেল নবান্ন থেকে। গ্রুপ এ, গ্রুপ বি, গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি— প্রতিটি ক্ষেত্রেই চাকরির আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে যারা সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাঁদের মুখে হাসি ফুটল।

    বিজ্ঞপ্তিতে কী জানানো হল

    রাজ্যের অর্থ দফতরের অডিট শাখার জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গ্রুপ এ চাকরিতে আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি করে ৪১ বছর করা হয়েছে। তবে এ-ও বলা হয়েছে, গ্রুপ এ-র কোনও চাকরির ক্ষেত্রে আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা আগে থেকেই ৪১ বছরের বেশি থাকলে, তাতে কোনও বদল হবে না। গ্রুপ বি চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি করে ৪৪ বছর করা হয়েছে। গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি চাকরিতে আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি পেয়ে হচ্ছে ৪৫ বছর। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১১ মে থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। ২০১৫ সালের পরে পশ্চিমবঙ্গে কোনও নিয়োগ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে বহু শিক্ষিত যুবক-যুবতীর চাকরির আবেদনের জন্য বয়ঃসীমা পেরিয়ে গিয়েছে। সে কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    বিভিন্ন পদে কত বয়সের ঊর্ধ্বসীমা

    সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, গ্রুপ ‘এ’ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা বাড়িয়ে ৪১ বছর করা হয়েছে। তবে কোনও নির্দিষ্ট পদ বা পরিষেবায় আগে থেকেই যদি ৪১ বছরের বেশি বয়সসীমা কার্যকর থাকে, তাহলে সেই উচ্চতর সীমা অপরিবর্তিত থাকবে। গ্রুপ ‘বি’ পদে নিয়োগের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা করা হয়েছে ৪৪ বছর। অন্যদিকে, গ্রুপ ‘সি’ এবং গ্রুপ ‘ডি’ পদে আবেদনের ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে ৪৫ বছর নির্ধারণ করেছে রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন নিয়মিত নিয়োগ না হওয়ার কারণে রাজ্যের বহু যোগ্য যুবক-যুবতী পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগই পাননি। তাঁদের বয়স বেড়ে গিয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে তাঁদের সামনে ফের একবার নতুন করে আশার আলো জেগে উঠল। রাজ্যে ক্ষমতায় এলে কর্মসংস্থানের বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছিল বিজেপি। কথা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

  • TMC Rule: তৃণমূল রাজত্বে ইস্যু হওয়া সব কাস্ট সার্টিফিকেট ফের যাচাই করার নির্দেশ রাজ্যের

    TMC Rule: তৃণমূল রাজত্বে ইস্যু হওয়া সব কাস্ট সার্টিফিকেট ফের যাচাই করার নির্দেশ রাজ্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০১১ সাল থেকে রাজ্যে ইস্যু হওয়া সমস্ত কাস্ট সার্টিফিকেট ফের যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যে পালাবদলের সরকার। ওই শংসাপত্রগুলির সত্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। শুভেন্দু অধিকারী সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী জেলাশাসকদের ১.৬৯ কোটি তফশিলি জাতি (SC), তফশিলি উপজাতি (ST) এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (OBC) শংসাপত্র (Caste Certificates) আবার যাচাই করতে হবে। গত কয়েক বছরে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজত্বে (TMC Rule) ইস্যু হওয়া বহু কাস্ট সার্টিফিকেট নিয়ে অভিযোগ ওঠার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের নির্দেশিকা (TMC Rule)

    ১৪ মে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের সচিবের জারি করা এক নির্দেশে বলা হয়েছে, “আপনারা অবগত আছেন যে ২০১১ সাল থেকে প্রায় ১.৬৯ কোটি কাস্ট সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে। বর্তমানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ২০১১ সালের পর ইস্যু হওয়া কিছু শংসাপত্রের সত্যতা ও বৈধতা বিভিন্ন মহলে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।” নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, “অতএব, মহকুমা শাসকদের (যাঁরা সার্টিফিকেট দেন) ২০১১ সাল থেকে ইস্যু হওয়া সমস্ত কাস্ট সার্টিফিকেট পুনরায় যাচাই করার পরামর্শ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।” যেসব ব্যক্তির নাম বিশেষ সংশোধিত তালিকা (SIR) প্রক্রিয়ার সময় ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের দেওয়া শংসাপত্রও খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনে বাতিল করা হতে পারে।

    ‘দুয়ারে সরকার’

    উল্লেখ্য, ১.৬৯ কোটির মধ্যে প্রায় ৪৭.৮০ লাখ শংসাপত্র ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পের মাধ্যমে পাওয়া আবেদনের ভিত্তিতে ইস্যু করা হয়েছিল। চিঠি অনুযায়ী, এই পর্বে কিছু দ্বিতীয় প্রজন্মের কাস্ট সার্টিফিকেটও ইস্যু হয়ে থাকতে পারে। মোট শংসাপত্রের মধ্যে প্রায় ১ কোটি তফশিলি জাতির জন্য, ২১ লাখ তফশিলি উপজাতির জন্য এবং ৪৮ লাখ অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির জন্য ইস্যু করা হয়েছিল। প্রসঙ্গত (TMC Rule), ‘দুয়ারে সরকার’ ছিল তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের একটি জনসংযোগমূলক কর্মসূচি। এটি চালু হয়েছিল ১ ডিসেম্বর, ২০২০। এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল গ্রাম পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং ওয়ার্ড স্তরে বিশেষ শিবিরের আয়োজন করে সরকারি প্রকল্প, কাস্ট সার্টিফিকেট এবং অন্যান্য জনসেবামূলক সুবিধা সরাসরি নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে।

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সচিব আরও জানান, ফের যাচাই করার সময় যদি দেখা যায় যে কোনও শংসাপত্র বেআইনিভাবে ইস্যু (Caste Certificates) করা হয়েছে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতি (শনাক্তকরণ) আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ৯ ও ১০ এবং ১৯৯৫ সালের সংশ্লিষ্ট বিধির ৩ থেকে ৭ নম্বর নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে (TMC Rule)।

     

  • Vande Mataram in Schools: সোমবার থেকে রাজ্যের সব সরকারি স্কুলে বাধ্যতামূলক রাষ্ট্র গীত ‘বন্দেমাতরম’, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Vande Mataram in Schools: সোমবার থেকে রাজ্যের সব সরকারি স্কুলে বাধ্যতামূলক রাষ্ট্র গীত ‘বন্দেমাতরম’, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুলে এবার বাধ্যতামূলকভাবে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’-র পাশাপাশি রাষ্ট্র গীত ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়ার নির্দেশ আসতে চলেছে। স্কুল শুরুর আগে প্রার্থনা সঙ্গীত হিসেবেই গাওয়া হবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই জাতীয় গান। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেন, “সব বিদ্যালয়ে আগামী সোমবার থেকে প্রার্থনা সঙ্গীত হচ্ছে বন্দেমাতরম। নবান্নে (Nabanna) গিয়েই এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করব।”

    আগামী সোমবার থেকেই নতুন নিয়ম কার্যকর

    প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই শিক্ষা দফতরের তরফে এই সংক্রান্ত বার্তা রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (ডিআই) এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন জেলার স্কুল পরিদর্শক ও শিক্ষকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও নতুন নির্দেশ পৌঁছে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে আগামী সোমবার থেকেই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বর্তমানে গরমের ছুটির কারণে অধিকাংশ স্কুল বন্ধ থাকলেও, প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। আলিপুরদুয়ার জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক লক্ষ্মনা গোলে জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইতিমধ্যেই হোয়াটসঅ্যাপ মারফত নির্দেশ এসেছে। খুব দ্রুত লিখিত নির্দেশিকাও পৌঁছে যাবে স্কুলগুলিতে।

    নির্দেশ মানা হচ্ছে কিনা, সেই রিপোর্ট জমা করতে হবে

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শুধু ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করাই নয়, স্কুলে এই নির্দেশ মানা হচ্ছে কি না, সেই রিপোর্টও শিক্ষা দফতরে জমা দিতে হবে। অর্থাৎ, প্রার্থনার সময় রাষ্ট্রগীত গাওয়া হয়েছে কি না, তার নজরদারিও থাকবে প্রশাসনের। এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই শিক্ষা মহল এবং অভিভাবকদের মধ্যে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এতদিন অধিকাংশ স্কুলে প্রার্থনার সময় জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ গাওয়া হত। অনেক স্কুলে আবার জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি নিজস্ব প্রার্থনা সঙ্গীতও ছিল। এর আগে পূর্বতন সরকারের আমলে বাধ্যতামূলকভাবে রাজ্য সঙ্গীত ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ গাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার জাতীয় সঙ্গীতের পর রাষ্ট্র গান ‘বন্দেমাতরম’ গান গাওয়া হবে।

    ‘‘জাতীয় চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ’’

    শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশ অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ (এবিআরএসএম)-এর নেতা অসীম দাস বলেন, “সাম্প্রদায়িকতার অজুহাতে এতদিন এই রাষ্ট্রগীতকে স্কুলে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ‘বন্দেমাতরম’ আমাদের জাতীয় চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। স্কুলে এটি চালু হওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ।” আলিপুরদুয়ার জেলার স্কুল পরিদর্শক (প্রাথমিক) লক্ষ্মণা গোলে বলেন, ‘‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদের একটা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ দিয়ে বিষয়টি কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন।” ওই আধিকারিকের কথায়, এরপরেই ওই নির্দেশিকা বিভিন্ন স্কুল শিক্ষকদের গ্রুপে পাঠানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত লিখিত অর্ডার হাতে আসবে। এরপরেই সমস্ত স্কুলগুলিতে তা পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

    ‘‘বিকৃত ইতিহাস বদলের এটাই সঠিক সময়’’

    রাজনৈতিক মহলেও এই সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) বলেন, “বিকৃত ইতিহাস বদলের এটাই সঠিক সময়। নতুন প্রজন্মের সামনে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।” রাজ্যের নতুন সরকারের এই পদক্ষেপ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নজর থাকছে, নবান্ন থেকে জারি হওয়া চূড়ান্ত নির্দেশিকায় জাতীয় সঙ্গীত, রাষ্ট্রগীত এবং স্কুলগুলির নিজস্ব প্রার্থনা সঙ্গীত নিয়ে কী স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

  • Suvendu on Mamata-Abhishek Security: শুভেন্দুর প্রথম বড় নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত! মমতা পাচ্ছেন বিশেষ সুরক্ষা, কমছে অভিষেকের নিরাপত্তা

    Suvendu on Mamata-Abhishek Security: শুভেন্দুর প্রথম বড় নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত! মমতা পাচ্ছেন বিশেষ সুরক্ষা, কমছে অভিষেকের নিরাপত্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে ধারাবাহিকভাবে একাধিক বৈঠক করেন শুভেন্দু। প্রথমে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক, তারপর জেলাশাসক এবং উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। শীর্ষ পুলিশকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে আলোচনা করেন শুভেন্দু। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে রাজনীতিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে তিনি নির্দেশ দেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান নিরাপত্তা বলয় একই রকম বহাল থাকবে। তবে একইসঙ্গে, মুখ্যমন্ত্রী এও জানান, যাঁদের বাস্তবিক নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই, তাঁদের জন্য অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র প্রভাব বা মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য সরকারি অর্থ ব্যয় কেন করা হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এই সিদ্ধান্তের জেরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    মমতার নিরাপত্তায় গুরুত্ব

    প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন, যাতায়াত এবং জনসভা বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ফাঁকফোকর বা গাফিলতি যেন না থাকে, সে বিষয়েও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করছে। বিশেষ করে ভোটপর্বের পর শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনায় রাজ্যের হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। শুভেন্দুর স্পষ্ট নির্দেশ ছিল— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়ে কোনওরকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী। ওঁর নিরাপত্তা একই রকম বহাল থাকবে। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যাতে কোনো রকম শিথিলতা বা ওঁর প্রতি কোনো অসম্মান না হয়, তা দেখার জন্য আমি প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি। এই সম্মান ওঁর প্রাপ্য।’’

    অভিষেকের নিরাপত্তায় কাটছাঁট

    অন্যদিকে, একই সময়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা বলয়ে বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, তাঁর জন্য বরাদ্দ অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিশেষ পাইলট কারের সুবিধা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। নবান্ন সূত্রে খবর, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ হিসেবে যে নিরাপত্তা প্রটোকল প্রযোজ্য, ভবিষ্যতে অভিষেকের ক্ষেত্রেও সেই ব্যবস্থাই বহাল থাকবে। প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা বলয়ে ছিলেন অভিষেক। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই তাঁর নিরাপত্তা ধাপে ধাপে কমানো শুরু হয়। সোমবার বিকেলেই এই সংক্রান্ত প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুধু অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী নয়, পাইলট কারের সুবিধাও তুলে নেওয়া হচ্ছে। এতদিন অভিষেকের সঙ্গে পাইলট কার চলতে দেখা গেলেও সরকারি নির্দেশের পর আর সেই সুবিধা থাকবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনেই তাঁর নিরাপত্তা পুনর্গঠন করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি।

    শুভেন্দুর ইতিবাচক বার্তা

    ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই অভিষেকের নিরাপত্তা বলয়ে কাটছাঁট শুরু হয়। তৃণমূল সরকারের আমলে কড়া নিরাপত্তায় মোড়া থাকত ক্যামাক স্ট্রিট এলাকা। কিন্তু সরকার বদলের পর প্রথমেই তাঁর দফতরের সামনে থেকে পুলিশ প্রহরা তুলে নেওয়া হয়। পরে বাড়ির সামনের নিরাপত্তাও কমানো হয়। শান্তিনিকেতনে তাঁর বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশের স্ক্যানার-সহ অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম। শুধু অভিষেক নন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের নিরাপত্তাতেও পরিবর্তন আসে। ১৮৮এ, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে তাঁর বাড়ির সামনে থাকা অতিরিক্ত নিরাপত্তা কমানো হয়। রাজ্যে পালাবদলের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর বাড়ির গলির মুখে থাকা ‘সিজার্স ব্যারিকেড’ সরিয়ে দেওয়া হয়, পরে লালবাজারের তরফেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করা হয়। রাজনৈতিক মতভেদ থাকা সত্ত্বেও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি শুভেন্দু অধিকারীর এই সম্মান প্রদর্শনকে ইতিবাচক বলেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। প্রশাসনিক স্তরে এই নির্দেশ জারি করে তিনি যেমন সৌজন্য ও পরম্পরার বার্তা দিয়েছেন, তেমনই স্পষ্ট করেছেন যে রাজ্যে ভিভিআইপি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পক্ষপাতের কোনও স্থান থাকবে না।

LinkedIn
Share