Tag: West bengal health

West bengal health

  • Kolkata Swine Flu: ১৯ জন হাসপাতালে! কলকাতায় বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু, শিশুদের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে বড় সতর্কতা

    Kolkata Swine Flu: ১৯ জন হাসপাতালে! কলকাতায় বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু, শিশুদের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে বড় সতর্কতা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের দাপট রয়েছে! কিন্তু তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে একাধিক ভাইরাস ঘটিত অসুখ। কলকাতায় বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু রোগের দাপট। ফলে উদ্বেগ আরও বাড়ছে‌।
    সোয়াইন ফ্লু সহ স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে নানান রোগের দাপট বাড়ছে। অনেক সময়েই ভাইরাস চরিত্র বদল করছে। ফলে অবস্থা আরও জটিল হয়ে যাচ্ছে।

    কী বলছে স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু রোগের প্রকোপ। কলকাতার একাধিক হাসপাতালে ১৯ জন সোয়াইন ফ্লু আক্রান্তের চিকিৎসা চলছে। আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসক মহল। তবে স্বাস্থ্য কর্তারা জানাচ্ছেন, আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। সোয়াইন ফ্লু আক্রান্ত হলেও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। রোগ যাতে আরও ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেদিকে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষত শিশুদের মধ্যে যাতে রোগের প্রকোপ না বাড়ে সেদিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    কোন বিপদ নিয়ে উদ্বিগ্ন চিকিৎসকেরা?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, গত পনেরো দিনে রাজ্য জুড়ে একাধিক ভাইরাস ঘটিত অসুখের দাপট উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।‌ বর্ষার মরশুমে ভাইরাসের দাপট বাড়ে। তার সঙ্গে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত অসুখের দাপট ও বাড়ে। তবে চলতি বছরে বাড়তি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ভাইরাসের চরিত্র বদল। মরশুমের চেনা ভাইরাস ঘটিত অসুখ হঠাৎ করেই জটিল হয়ে উঠছে। সংক্রমণের শক্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে। রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করতেই অনেকটা সময় চলে যাচ্ছে। যার জেরে শিশুদের ভোগান্তি বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার মতো সোয়াইন ফ্লু-তেও শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, আগাম সতর্ক না থাকলে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

    স্কুল থেকেই কি সংক্রমণ বেশি ছড়াচ্ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুদের মধ্যে সহজেই যেকোন ভাইরাস ঘটিত রোগের সংক্রমণ ঘটে। কারণ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি প্রাপ্ত বয়স্কদের তুলনায় কম থাকে। ফলে, শিশুরা সহজেই আক্রান্ত হয়। শিশুদের স্কুল থেকেই রোগ সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি‌ ঝুঁকি থাকে। এমনটাই মনে করছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, দিনভর পাশপাশি বসে থাকা, হাতে স্পর্শ, খাবার ভাগ করে নেওয়া হয়। অনেক সময়েই শিশুরা হাঁচি-কাশির সময়ে ঠিকমতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে না। আবার অনেক সময়েই খাবার খাওয়ার আগে বা পরে ঠিকমতো হাত ধোয়া হয় না। যার জেরেই আরও বেশি সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই স্কুল থেকে সহজেই শিশুরা ভাইরাস ঘটিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া কিংবা সোয়াইন ফ্লু-র মতো ভাইরাসের পাশপাশি মরশুমের নানান ভাইরাস ও সংক্রমণের ক্ষমতা বাড়াচ্ছে। নিজেদের চরিত্র বদল করছে। এর জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।

    কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন?

    জ্বর হলেই বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, জ্বর হলেই বাড়তি সজাগ থাকতে হবে। কোনো রকম অবহেলা করা চলবে না। ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়া-সোয়াইন ফ্লু হোক কিংবা বর্ষার মরশুমের সাধারণ ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণ, প্রধান উপসর্গ হলো জ্বর। তাই রোগ নির্ণয়ের জন্য জ্বর হলেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি। নির্দিষ্ট শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই রোগ নির্ণয় সম্ভব হয়। তাই কেন জ্বর হয়েছে, সেটা জানা জরুরি।
    পাশপাশি, বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মাথা ব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। কারণ, পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে। যেকোনো সময়েই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কাজ কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই শ্বাসকষ্ট হলে হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি।

    আক্রান্তের থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকা!

    পরিবারের কেউ জ্বর বা অন্য কোনো ভাইরাস ঘটিত রোগে আক্রান্ত হলে শিশুদের আলাদা থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। আবার শিশুদের শিশুদের শরীরে ঢুকে ভাইরাস চরিত্র বদল করতে পারে। তাই আক্রান্তের থেকে শিশুকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা জরুরি।

    স্কুল যাওয়ার বিধি-নিষেধ!

    শিশুর সর্দি-কাশি হলে স্কুলে না পাঠানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, যেকোনো ভাইরাসে আক্রান্ত শিশু স্কুল বা যেকোনো ভিড় জায়গায় গেলে, সংক্রমণ যেমন ছড়াবে, তেমনি আক্রান্ত শিশুর ও শারীরিক পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। ভাইরাস আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। ক্লান্তি বাড়তে পারে। ফলে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে।

    ভিড় এড়িয়ে চলা!

    যেকোনো ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, পার্ক, মেলা বা এমন যেসব জায়গায় ভিড় হয়, সেখানে গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই কয়েক দিন সেই সব জায়গা এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।

    মাস্ক পরা জরুরি!

    বাইরে মাস্ক পরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, সোয়াইন ফ্লু সহ একাধিক ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে। তাই মাস্ক ব্যবহার জরুরি।

    স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা!

    খাবার খাওয়ার আগে ও পরে ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই মরশুমের একাধিক ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।

  • Coronavirus Alert: ফের কি ফিরছে করোনা আতঙ্ক? রাজ্যে চিকিৎসকের মৃত্যু ঘিরে উদ্বেগ, সতর্ক থাকার পরামর্শ

    Coronavirus Alert: ফের কি ফিরছে করোনা আতঙ্ক? রাজ্যে চিকিৎসকের মৃত্যু ঘিরে উদ্বেগ, সতর্ক থাকার পরামর্শ

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    পুরোনো আতঙ্ক কি ফের ফিরে আসছে? এই নিয়ে উদ্বেগে সাধারণ মানুষ থেকে চিকিৎসকদের একাংশ। দিন কয়েক আগে রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে এক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে! আর তারপরেই ফের আতঙ্ক বাড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আগাম সতর্কতা না থাকলে ফের বিপদ বাড়তে পারে‌।

    কেন আবার করোনা নিয়ে উদ্বেগ?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগে দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক সন্দীপ বাগ মারা যান। জানা যায়, তাঁর শরীরে করোনা সদৃশ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। ওই চিকিৎসক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ওই চিকিৎসকের ফুসফুসের কার্যক্ষমতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। ডেথ সার্টিফিকেটে অবশ্য মৃত্যুর কারণ হিসাবে, ম্যাসিভ অ্যাকিউট মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্রাকশন’ অর্থাৎ গুরুতর হার্ট অ্যাটাকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সংক্রমণ থেকে হার্টের একটি বড় অংশে রক্ত সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলেই এই পরিণতি ঘটে। তবে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা শেষ হয়ে যাওয়ার নেপথ্যে করোনার মতো ভাইরাস সক্রিয় ছিল বলেই জানা যায়। তাঁর বয়স ছিল ৪৩ বছর। হঠাৎ এই মৃত্যুতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের মৃত্যুর পরে বাড়তি সতর্কতার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ।

    করোনা পরিস্থিতি কতখানি উদ্বেগজনক?

    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তবে অবশ্যই সতর্কতা ও সচেতনতা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাছাড়া করোনা টিকা করণ হয়ে গিয়েছে। ফলে, ২০১৯ সালের মতো পরিস্থিতি আর হয়তো তৈরি হবে না। সংক্রমণ ঘটলেও রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। মৃত্যু মিছিল আটকানো যাবে। কারণ এই ভাইরাসের প্রতিষেধক নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা সম্পর্কেও এখন ধারণা রয়েছে। তাছাড়া রাজ্যে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, এমন কোনো তথ‌্য নেই। তাই অযথা উদ্বিগ্ন বা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কিন্তু অবশ্যই সচেতনতা জরুরি।

    কী পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা?

    করোনা মহামারির দাপট যাতে ফের ফিরে না আসে, তার জন্য প্রথম থেকেই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণ রুখতে সচেতনতা জরুরি। করোনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সেই সচেতনতা জারি রাখতে হবে।

    চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, ফের মাস্ক ব্যবহারের অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে হবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, করোনা ফুসফুসের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা শেষ করেই এই ভাইরাস মৃত্যু ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই মাস্ক করোনা রুখতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে‌। হাতে তালু দিয়ে করোনা নাক ও মুখে প্রবেশ করে। আর সেখান থেকেই এই ভাইরাস শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তাই করোনা সংক্রমণ রুখতে অন্যতম হাতিয়ার মাস্ক। নাক ও মুখ ঢাকা মাস্ক পরে তবেই বাইরে যাওয়া উচিত। বিশেষত বয়স্কদের অবশ্যই বাইরে ভিড় এলাকায় যাওয়ার আগে মাস্ক পরা প্রয়োজন। বয়স্কদের করোনা বাড়তি বিপদ তৈরি করতে পারে। তাই ষাটোর্ধ্বদের বেশি সচেতন থাকতে হবে।

    হাত পরিষ্কারের স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মেনে চলতে হবে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের পরামর্শ, বাইরে থেকে ফিরলেই ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার খাওয়ার আগে এবং পরেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাত পরিষ্কার করতে হবে। যাতে হাতে ভাইরাসের সংক্রমণ না হয়। যাতে হাত থেকে শরীরের ভিতরে ভাইরাস সংক্রমিত না হতে পারে।

    তাছাড়া জ্বর, সর্দি-কাশি হলে একেবারেই অবহেলা করা উচিৎ নয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বর্ষার মরশুমে অনেকেই জ্বর-সর্দি-কাশিতে কাবু হচ্ছেন‌। অনেক সময়েই সেটা সাধারণ ভাইরাস ঘটিত জ্বর । কিন্তু দিন দুয়েক টানা জ্বর থাকলে সেটা অবহেলা করা যাবে না।‌ কারণ, তাতে করোনার মতো ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটলে প্রথম থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। প্রথমেই রোগ চিহ্নিত করে চিকিৎসা শুরু করলে বড় বিপদ আটকানো সহজ হবে। পাশপাশি চিকিৎসা দ্রুত শুরু হলে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকিও কমবে।

  • Flood in Bengal: বন্যায় টিকার আকাল! রোগীকে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে ছুটতে হচ্ছে অন্য হাসপাতালে

    Flood in Bengal: বন্যায় টিকার আকাল! রোগীকে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে ছুটতে হচ্ছে অন্য হাসপাতালে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টানা বৃষ্টিতে জেরবার রাজ্যবাসী। একাধিক জায়গায় জমা জলে (Flood in Bengal) ভোগান্তি বাড়ছে‌। হাওড়া, হুগলি, মেদিনীপুর সহ রাজ্যের বহু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। আর তার মধ্যেই রেবিস ভ্যাকসিন, অ্যান্টি ভেনম টিকার আকাল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই পরিস্থিতি স্বাস্থ্য পরিষেবায় যথেষ্ট সমস্যা তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা চিকিৎসকদের একাংশের।

    কোন ভ্যাকসিনের চাহিদা বাড়ছে? কেন বাড়ছে? (Flood in Bengal)

    রাজ্যের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতির ফলে অধিকাংশ জায়গায় জল জমছে। এই পরিস্থিতিতে সাপের উপদ্রব বাড়ে। আবার ইঁদুর, ছুঁচোর উপদ্রবও বাড়ে। বিশেষত গ্রামীণ এলাকায় সাপে কামড়ানো, ইঁদুর কিংবা ছুঁচোয় কামড়ানোর মতো ঘটনা বাড়তে থাকে। আবার এর সঙ্গে কুকুর কামড়ানোর মতো ঘটনাও ঘটে। যেহেতু খাবার এবং জলের চাহিদা বাড়ে, মানুষের মতো অন্যান্য প্রাণীরাও অস্থির হয়ে থাকে। তাদের বাসস্থানের সমস্যা হয়। আর জমা জলের জেরে অনেক সময়েই ঘরের ভিতরেও সাপ ঢুকে আসে। শিশু থেকে প্রবীণ, সকলের বিপদ বাড়ে। তাই এই সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রেবিস এবং অ্যান্টি ভেনম টিকার প্রয়োজনীয়তা বেশি। এই সময়ে জেলাস্তরের হাসপাতালে এই ধরনের টিকার চাহিদা বাড়ে। বিশেষত পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, মালদা সহ একাধিক জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চলতি সপ্তাহে এই টিকার চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই টিকাগুলির জোগান‌ বাড়েনি। তাই অনেক সময়েই ভোগান্তি বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশের আশঙ্কা, টিকার জোগান না বাড়ালে পরিস্থিতি বিপজ্জনক (Vaccination problem) হয়ে উঠতে পারে। 

    কেন আশঙ্কিত চিকিৎসক মহল? 

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদা, মুর্শিদাবাদ কিংবা পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলার একাধিক প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাপে কামড়ানো এবং ইদুরে কামড়ানোর মতো ঘটনা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। কিন্তু বন্যাবিধ্বস্ত (Flood in Bengal) পশ্চিম মেদিনীপুর এবং হাওড়ার একাধিক জায়গায় প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রেবিস কিংবা অ্যান্টি ভেনম টিকা নেই। ফলে রোগীকে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতাল ছুটতে হচ্ছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে রোগীর ভোগান্তি আরও বাড়ছে। এমনকী প্রাণহানির আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছে, মহকুমা কিংবা জেলা হাসপাতালেও পর্যাপ্ত টিকা নেই। তাই একাধিক হাসপাতালে রোগীকে ঘুরতে হচ্ছে। পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলেই আশঙ্কা করছে চিকিৎসক মহল! তাঁরা জানাচ্ছেন, কুকুর, ইঁদুর কামড়ানোর পরে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে রেবিস ভ্যাকসিন না দিলে প্রাণ সংশয় তৈরি হয়। পাশপাশি সাপে কামড়ানো ব্যক্তির মৃত্যু রুখতে পারে একমাত্র অ্যান্টি ভেনম টিকা। তাই যত দ্রুত এই টিকা দেওয়া হবে, রোগীর প্রাণ সংশয় তৈরি হবে না। তাই এই টিকা প্রত্যেক হাসপাতালে এবং স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পর্যাপ্ত থাকা জরুরি। এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতাল ছুটতে ছুটতে সময় পেরিয়ে গেলে মর্মান্তিক পরিণতি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে চিকিৎসকদের একাংশ। 

    কী বলছেন স্বাস্থ্যকর্তারা? (Flood in Bengal) 

    প্রত্যেক বছরে হুগলি, হাওড়া কিংবা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার একাধিক অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই ধরনের সমস্যা সম্পর্কে স্বাস্থ্য প্রশাসনের ওয়াকিবহাল থাকা উচিত বলেই মনে করছে চিকিৎসকদের একাংশ। কিন্তু তার পরেও কেন এই সব টিকার আকাল (Vaccination problem)? এই প্রশ্নের অবশ্য কোনও উত্তর দিতে চাননি স্বাস্থ্য ভবনের কর্তারা। এক স্বাস্থ্যকর্তা বলেন, “সব সময় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রত্যেক জেলার হাসপাতালে যাতে ঠিকমতো জীবনদায়ী ওষুধ ও ভ্যাকসিন পৌঁছতে পারে, সে দিকে নজর রয়েছে।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • West Bengal Health: উপাচার্য থেকে স্বাস্থ্য অধিকর্তা, একাধিক স্থায়ী পদ ফাঁকা! কোথায় প্রশাসনের সক্রিয়তা?

    West Bengal Health: উপাচার্য থেকে স্বাস্থ্য অধিকর্তা, একাধিক স্থায়ী পদ ফাঁকা! কোথায় প্রশাসনের সক্রিয়তা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের (West Bengal Health) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থায়ী নিয়োগ নেই। যার ফলে স্বাস্থ্য দফতরের নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও আটকে থাকছে। এমনই অভিযোগ উঠছে প্রশাসনের অন্দরে। প্রশাসনের কর্তারা জানাচ্ছেন, এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায়।

    কী অভিযোগ উঠছে? (West Bengal Health)

    রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের মূল গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদেই স্থায়ী নিয়োগ নেই দীর্ঘদিন। গত পাঁচ মাস রাজ্যের স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী উপাচার্য নেই। তিন মাস রাজ্যের স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তার স্থায়ী নিয়োগ হয়নি। আর সাত মাস ধরে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ স্বাস্থ্য অধিকর্তার স্থায়ী আসন ফাঁকা। আর এর জেরেই বাড়ছে জটিলতা। 
    প্রশাসনের একাংশ জানাচ্ছেন, স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী উপাচার্য না থাকায় আটকে থাকছে একাধিক সিদ্ধান্ত। বিশ্ব‌বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচি থেকে পরীক্ষাপদ্ধতি, কোনও বিষয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।‌ পাশপাশি, স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা না থাকায় রাজ্যের একাধিক মেডিক্যাল কলেজের কাজ আটকে রয়েছে। শিক্ষক-চিকিৎসকদের বদলি থেকে মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়াদের একাধিক সমস্যার সমাধানে কোনও কার্যকরী সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।‌ কারণ, স্থায়ী স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা (West Bengal Health) না থাকায় কাজ আটকে যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি‌ সমস্যা হচ্ছে স্বাস্থ্য অধিকর্তার পদ‌ ফাঁকা থাকায়। রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কিন্তু মাসের পর মাস এই পদ ফাঁকা রয়েছে। ফলে শহর থেকে জেলা, রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামোগত এবং পরিষেবা সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত আটকে থাকছে। কাজ‌ বন্ধ থাকছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্বাস্থ্য পরিষেবায়।

    কেন কাঠগড়ায় প্রশাসনের সক্রিয়তা? (West Bengal Health)

    রাজ্যের সরকারি চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মাসের পর মাস তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ ফাঁকা থাকলেও স্থায়ী নিয়োগ নিয়ে কোনও সক্রিয়তা দেখাচ্ছে না প্রশাসন।‌ অভিযোগ, রাজ্যের শাসক দলের একাংশ চিকিৎসা ব্যবস্থার সবটুকু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতেই স্থায়ী নিয়োগে অনিহা দেখাচ্ছে। রাজ্যের শিক্ষক-চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েক মাস আগে স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা পদে স্থায়ী নিয়োগের জন্য ইন্টারভিউ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরে মাসের পর মাস কেটে গিয়েছে। কিন্তু নিয়োগ‌ হয়নি। শিক্ষক-চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করে এই পদে নিয়োগ করা‌ হয়। রাজ্যের চিকিৎসকদের একাংশের প্রশ্ন, প্রশাসন‌ (West Bengal Health) কি একজনও যোগ্য শিক্ষক-চিকিৎসক বাছাই করতে পারল না?

    কী বলছে রাজ্য প্রশাসন? (West Bengal Health)

    রাজ্য প্রশাসনের কর্তারা অবশ্য এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ। প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তা (West Bengal Health) জানান, স্বাস্থ্য পরিষেবায় কোনও প্রভাব পড়ছে না।‌ নিয়মমাফিক কাজ হচ্ছে। তবে, গুরুত্বপূর্ণ পদে দ্রুত স্থায়ী নিয়োগ হবে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ

  • Swasthya Sathi: স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে বাড়ছে হয়রানি! শুধু অস্ত্রোপচার নয়, সাধারণ পরীক্ষাতেও জটিলতা!

    Swasthya Sathi: স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে বাড়ছে হয়রানি! শুধু অস্ত্রোপচার নয়, সাধারণ পরীক্ষাতেও জটিলতা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য‌বাসী নিখরচায় পাবেন স্বাস্থ্য পরিষেবা।‌ শুধু সরকারি হাসপাতালেই নয়, বেসরকারি হাসপাতালেও অস্ত্রোপচার থেকে যে কোনও শারীরিক পরীক্ষা হবে বিনামূল্যে। এমনই প্রতিশ্রুতি ছিল রাজ্য সরকারের। কিন্তু বাস্তবের পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। স্বাস্থ্য সাথী (Swasthya Sathi) কার্ড নিয়ে হয়রানি বাড়ছে। বেসরকারি হাসপাতালে তো বটেই। অভিযোগ উঠছে, সরকারি হাসপাতালেও পিপিপি মডেলে গড়ে ওঠা পরীক্ষা কেন্দ্রে স্বাস্থ্য সাথীর কার্ডে পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে না।‌ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য সাথী পরিষেবা রাস্তার হোর্ডিংয়েই আটকে রয়েছে। 

    কী সমস্যায় পড়ছেন ভুক্তভোগীরা? (Swasthya Sathi) 

    ভুক্তভোগীদের একাংশের অভিযোগ, বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে ভর্তি করাতে বিস্তর হয়রানি পোহাতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই জরুরি পরিস্থিতিতেও স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে ভর্তি নিতে নারাজ বেসরকারি হাসপাতাল।‌ আবার যে কোনও অস্ত্রোপচার, গলব্লাডার থেকে হৃদযন্ত্র, স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে করাতে হলে অতিরিক্ত সময় অপেক্ষা করতে হয়। এবার সেই তালিকায় সংযোজন হচ্ছে নানা শারীরিক পরীক্ষা। এমআরআই, সিটি স্ক্যানের মতো শারীরিক পরীক্ষার পাশপাশি যে কোনও সাধারণ রক্ত পরীক্ষার ক্ষেত্রেও ভোগান্তি বাড়ছে। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, যে কোনও স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে যে কোনও শারীরিক পরীক্ষা করাতে হলে সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ের শিক্ষক-চিকিৎসকের অনুমতি প্রয়োজন। এমন কর্তৃপক্ষ লিখিত অনুমতি দিলে তবেই স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে (Swasthya Sathi) শারীরিক পরীক্ষা করানো যাবে। কিন্তু ভুক্তভোগীদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ জায়গায় সহকারী অধ্যাপক স্তরের শিক্ষক-চিকিৎসক থাকেন না। এমন বহু সরকারি হাসপাতালে এই পর্যায়ের চিকিৎসক নেই। সেখানে তাই সাধারণ মানুষ পরিষেবা পাচ্ছেন না। সরকারি হাসপাতালের পিপিপি মডেলে তৈরি পরীক্ষাগারেও মোটা টাকার বিনিময়ে একাধিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে বাধ্য হচ্ছেন রাজ্যবাসী। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, এমন সরকারি জটিলতা যেখানে, সেখানে কেন বারবার খোদ প্রশাসনিক প্রধান বলেন, এ রাজ্যের মানুষ বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা পান।

    কী বলছেন স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা? (Swasthya Sathi) 

    স্বাস্থ্যকর্তারা অবশ্য হয়রানির অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, স্বাস্থ্য সাথীর (Swasthya Sathi) অপব্যবহার রুখতেই এই কড়া পদক্ষেপ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেক ক্ষেত্রেই অপ্রয়োজনীয় ভাবে সিটি স্ক্যান, এমআরআই সহ একাধিক ব্যয়বহুল স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। যার জেরে সাধারণ মানুষের পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের সুবিধা রাজ্যবাসী ঠিক মতো পান। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশের বক্তব্য, কোন ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা রোগীকে কখন করাতে হবে, সেটা তো চিকিৎসকেরা সিদ্ধান্ত নেবেন।‌ অনেক জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হয়। তখন কীভাবে নির্দিষ্ট পদাধিকারীর লিখিত অনুমতির জন্য রোগী অপেক্ষা করবেন। এই ধরনের সিদ্ধান্তে আসলে সাধারণ মানুষের হয়রানি বাড়বে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • West Bengal Health: মেডিক্যাল কলেজগুলির বিশেষজ্ঞ কোর্সে প্রায় সমস্ত আসন খালি! কেন এই অনীহা?

    West Bengal Health: মেডিক্যাল কলেজগুলির বিশেষজ্ঞ কোর্সে প্রায় সমস্ত আসন খালি! কেন এই অনীহা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সরকারি হাসপাতালে রোগীর অনুপাতে চিকিৎসকের সংখ্যা অনেকটাই কম। দীর্ঘদিনের অভিযোগ, চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়। এমনকি জরুরি অস্ত্রোপচারের দিন পেতেও মাসের পর মাস কেটে যায়। এসএসকেএম, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মতো প্রথম সারির সরকারি হাসপাতাল হোক কিংবা পিছিয়ে পড়া কোনও জেলার হাসপাতাল, রোগী-ভোগান্তির চিত্র সর্বত্র এক। সেই ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট মহল। তবে, চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্য প্রশাসনের সক্রিয়তার অভাবের জেরেই স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আগামী দিনে আরও ভোগান্তি বাড়বে (West Bengal Health)।

    কেন বাড়তি ভোগান্তির আশঙ্কা? (West Bengal Health) 

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিতে সম্প্রতি স্নাতকোত্তর পর্বের বিশেষজ্ঞ কোর্সে প্রায় সমস্ত আসন খালি। অধিকাংশ বিভাগেই পড়ুয়া নেই। বিশেষত কার্ডিওভাসকুলার সার্জারি, কার্ডিওথোরাসিক সার্জারি, পেডিয়াট্রিক সার্জারি, নিউরো সার্জারি এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ারের মতো বিভাগে একেবারেই পড়ুয়া নেই। 
    শিক্ষক-চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শল্য চিকিৎসায় স্নাতকোত্তর পাশ করার পরে কার্ডিওথোরাসিক সার্জারি, কার্ডিওভাসকুলার সার্জারি, পেডিয়াট্রিক সার্জারির মতো বিষয়গুলিতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার জন্য পড়াশোনা হয়। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্তারা জানাচ্ছেন, সর্বশেষ কাউন্সেলিংয়ে এই বিভাগগুলিতে দশজন করেও পড়ুয়া পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ বিভাগ একেবারেই শূন্য। অর্থাৎ, চিকিৎসকেরা এই সমস্ত বিভাগে বিশেষজ্ঞ হওয়ার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলছেন। এর ফলে সরাসরি প্রভাব পড়বে স্বাস্থ্য পরিষেবায়। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে (West Bengal Health)। 
    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্যের অধিকাংশ হাসপাতালেই হৃদরোগের অস্ত্রোপচার কিংবা স্নায়ুর জটিল অস্ত্রোপচার করতে অপেক্ষা করতে হয়। রোগী দীর্ঘ অপেক্ষার পরে পরিষেবা পান। তার কারণ, চিকিৎসকের অভাব। তার উপরে এই প্রবণতা চলতে থাকলে সেই অপেক্ষার সময় আরও দীর্ঘ হবে। সবচেয়ে করুণ পরিস্থিতি শিশু বিভাগে। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল শিশু শল্য বিভাগ ও চিকিৎসকের অভাবে ভুগছে। এ বছরেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পর্যাপ্ত পাওয়া গেল না। ফলে, এর জেরে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

    কেন অনীহা ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসায়? (West Bengal Health) 

    প্রবীণ চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্যের পরিস্থিতির জন্য চিকিৎসক পড়ুয়াদের মধ্যে এই অনীহা তৈরি হয়েছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, গত দশ বছরে রাজ্যে একাধিক চিকিৎসক হেনস্থার ঘটনা ঘটেছে। শারীরিক নিগ্রহের শিকার হওয়ার পরে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রশাসনকে পাশে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপের নির্দশন খুবই কম। যার ফলে, চিকিৎসক পড়ুয়াদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করার ইচ্ছে কমেছে। পেডিয়াট্রিক সার্জারি হোক কিংবা জরুরি চিকিৎসা, এই ধরনের বিভাগে কাজ করার ক্ষেত্রে নানান জটিলতা তৈরি হয়। রোগীর প্রাণ বাঁচাতে কখনোই ১০০ শতাংশ সাফল্য পাওয়া যায় না। কিন্তু সব সময় রোগী মৃত্যুর দায় চিকিৎসকের নয়। চিকিৎসায় গাফিলতিতে রোগী মারা যান, এমনটাও নয়। এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা করতে হলে চিকিৎসকের সুরক্ষা নিশ্চিত থাকা জরুরি। পরিস্থিতি অন্যরকম হলে যদি চিকিৎসকদের নিগ্রহের শিকার হতে হয়, তাহলে এই ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসার প্রতি তরুণ চিকিৎসকদের আরও বেশি অনীহা তৈরি হবে বলেই মনে করছেন রাজ্যের চিকিৎসক মহল। অধিকাংশ চিকিৎসক সংগঠন জানাচ্ছে, এ রাজ্যে সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে। জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা করার মতো পরিবেশ ও পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। আর সে দায়িত্ব প্রশাসনের। সেই কাজ রাজ্য প্রশাসন ঠিকমতো করতে না পারলে আগামী দিনে এ রাজ্যে জটিল চিকিৎসা আর হবে না (West Bengal Health) বলেই আশঙ্কা করছেন রাজ্যের অধিকাংশ প্রবীণ চিকিৎসক।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Dengue: ডেঙ্গি বেড়ে চার গুণ! সল্টলেক, রাজারহাট, নিউটাউনের ডেঙ্গি সংক্রমণে উদ্বেগে বাসিন্দারা

    Dengue: ডেঙ্গি বেড়ে চার গুণ! সল্টলেক, রাজারহাট, নিউটাউনের ডেঙ্গি সংক্রমণে উদ্বেগে বাসিন্দারা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঝে মধ্যেই লাগাতার বৃষ্টি। কয়েক দিন আবার সূর্যের তাপে বাইরে থাকাই কষ্টকর হয়ে ওঠে। ফের শুরু হয় বৃষ্টি। গোটা অগাস্ট মাস জুড়ে কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় এমনই আবহাওয়া চলছে। আর এই আবহাওয়াতেই বংশবিস্তার করছে ডেঙ্গির মশা। যার জেরে সল্টলেক, নিউটাউন, রাজারহাট, বাগুইআটির মতো একাধিক জায়গায় কার্যত লাল সতর্কতা জারি হতে চলেছে।

    কী বলছে সাম্প্রতিক সমীক্ষা? 

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ইতিমধ্যেই হয়েছে চারগুণ! ফলে, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ অগাস্ট পর্যন্ত রাজারহাট, সল্টলেক, নিউটাউন এলাকায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৪৬ জন। কিন্তু ২০২৩ সালের ২৭ অগাস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ৫০৪ জন। অর্থাৎ কয়েকগুণ বেশি। তার মধ্যে অগাস্টের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহেই ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন ১৮০ জন। ফলে, পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই জানাচ্ছে বিশেষজ্ঞ মহল।

    কেন বাড়ছে ডেঙ্গি? 

    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্যের মধ্যে উত্তর চব্বিশ পরগনা ডেঙ্গিপ্রবণ জেলা। প্রত্যেক বছর উদ্বেগ বাড়ায় এই জেলা। এই জেলায় আক্রান্ত ও মৃত্যহার বেশি থাকে। সল্টলেক, রাজারহাট, নিউটাউনের মতো এলাকা উত্তর চব্বিশ পরগনার মধ্যেই রয়েছে। তাই বিশেষ নজরদারি হচ্ছে। রোগ নির্ণয় বেশি হচ্ছে বলেই জানা যাচ্ছে। তাই বাস্তব পরিস্থিতি স্পষ্ট হচ্ছে। কিন্তু জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই সব এলাকায় ডেঙ্গি সংক্রমণ উর্ধ্বমুখী হওয়ার পিছনে রয়েছে একাধিক কারণ। প্রথমত, এই সব এলাকায় একাধিক নির্মীয়মাণ বহুতল রয়েছে। বর্ষার জমা জল সাত দিনের বেশি থাকার ঝুঁকি এই এলাকায় সবচেয়ে বেশি। সেখানেই ডেঙ্গি রোগ বহনকারী মশা বংশবিস্তার করে। পাশপাশি নিয়মিত ব্লিচিং পাউডার ছেটানো কিংবা মশা মারার ওষুধ দেওয়ার কাজও হয় না। ফলে, বিপদ বাড়ে। এছাড়াও, সল্টলেক এলাকায় একাধিক ফুলের নার্সারি রয়েছে। প্রচুর টব থাকে। সেগুলোতেও বর্ষার জল জমছে। বাড়ছে মশার দাপট। অনেক সময়েই নার্সারিতে ঠিকমতো নজরদারি হয় না। ফলে, ডেঙ্গি সংক্রমণ বাড়ছে। এর পাশাপাশি, রাস্তার অবস্থাও বেহাল। বহু জায়গায় বৃষ্টির পরে জল জমে থাকছে। সেখানেও মশার উপদ্রব বাড়ছে।

    কীভাবে হবে মোকাবিলা? 

    স্বাস্থ্য কর্তারা অবশ্য জনসচেতনতার উপরই জোর দিচ্ছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, সল্টলেক, রাজারহাট, নিউটাউনের মতো এলাকায় ডেঙ্গি সংক্রমণ বাড়ছে। তাই জ্বর হলে আর অবহেলা করা চলবে না। দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে। রোগ নির্ণয় দ্রুত হলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। তবে, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনসচেতনতার পাশপাশি প্রশাসনিক তৎপরতাও জরুরি। বিশেষত ডেঙ্গি মশার বৃদ্ধি যাতে না হয়, সেদিকে নজরদারি প্রয়োজন। পুর প্রশাসনকে নিয়মিত এলাকা পরিদর্শন করতে হবে। কোনও জায়গা বন্ধ থাকলে, সেই জায়গায় প্রশাসনকে ঢুকে দেখতে হবে জল যাতে না জমে। রাস্তা মেরামত করতে হবে, নিকাশি ব্যবস্থা ভালো করতে হবে। যাতে কোনও পরিস্থিতিতেই জল না জমে। সেই নজরদারির দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। সেই কাজে গাফিলতি থাকলে ডেঙ্গি সংক্রমণ বাড়বেই।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Corona Virus: করোনায় ফের একের পর এক শিশুমৃত্যু! চিন্তার ভাঁজ চিকিৎসক মহলে!

    Corona Virus: করোনায় ফের একের পর এক শিশুমৃত্যু! চিন্তার ভাঁজ চিকিৎসক মহলে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের করোনা (Corona Virus) ভাইরাসের চোখ রাঙানি! পর পর শিশুমৃত্যু। তাই উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা। এমনিতেই রাজ্যে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার দাপট অব্যাহত। তার মধ্যেই করোনার প্রকোপ চিন্তা বাড়াচ্ছে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

    কী বলছে স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট (Corona Virus)? 

    স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে রাজ্যে পর পর তিনজন শিশু করোনা (Corona Virus) আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন তিনেক আগেই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে সাত মাসের শিশু মারা যায়। তারপরেই আরেকটি ন’মাসের শিশুর মৃত্যু হয়। এর পরে দিন দুয়েক আগে কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালে আরেক শিশুর মৃত্যু হয়। এই তিনজনের ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে করোনা আক্রান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 
    স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানান, শিশুদের পাশপাশি ফের বয়স্কদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ইতিমধ্যেই ১০-১২ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। তার মধ্যে অনেকের বয়স ষাট বছরের বেশি। তবে প্রত্যেকের কোমরবিডিটি রয়েছে বলেই জানাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। 
    যে তিন শিশুর সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে, তাদের অন্যান্য শারীরিক জটিলতা ছিল বলেও দাবি করেছে স্বাস্থ্য ভবন। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কিডনি ও নিউমোনিয়ার সমস্যায় ভুগছিল ওই তিন শিশু। কিন্তু রাজ্যে একদিকে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার দাপট। তার মধ্যেই করোনায় নতুন করে আক্রান্ত বৃদ্ধি বাড়তি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

    কাদের বাড়তি সতর্কতা (Corona Virus) জরুরি বলে পরামর্শ বিশেষজ্ঞ মহলের? 

    চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, সকলের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি। কিন্তু পাঁচ বছরের কম বয়সিদের বিশেষ সতর্কতা জরুরি। কারণ, সম্প্রতি শিশুদের নিয়েই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, জ্বর তিনদিনের বেশি থাকলে একেবারেই অবহেলা করা চলবে না। অনেক সময়েই জ্বর সামান্য কমলে, ফের জ্বর হচ্ছে। বার বার এমন হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সর্দি-কাশি কিংবা বমির মতো উপসর্গ থাকলে বাড়তি নজরদারি জরুরি। তাছাড়া, যেসব শিশুদের কিডনি, হার্ট কিংবা ফুসফুসের কোনও সমস্যা রয়েছে, তাদের বাড়তি খেয়াল রাখতে হবে। কারণ, তাদের যেমন সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে, তেমনি আক্রান্ত হলে শারীরিক জটিলতাও বেশি হতে পারে। তাই জ্বর কিংবা সর্দি হলে একেবারেই বাইরে যাওয়া চলবে না। তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল (Corona Virus) হতে পারে। এমনই জানাচ্ছে চিকিৎসক মহল।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Dengue: সরকারি হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত কিট! ডেঙ্গি পরীক্ষা করাতে গিয়ে নাজেহাল রোগীরা!

    Dengue: সরকারি হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত কিট! ডেঙ্গি পরীক্ষা করাতে গিয়ে নাজেহাল রোগীরা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত কয়েক বছরের ধাক্কার পরেও বদল হয়নি পরিস্থিতি। সরকারি হিসাবে গত বছরে এ রাজ্যের প্রায় ৭০ হাজার মানুষ ডেঙ্গি (Dengue) আক্রান্ত হয়েছিলেন। কিন্তু তারপরেও এ বছরে কি বিশেষ হেলদোল দেখা যাচ্ছে? রোগ মোকাবিলায় সরকার কি সক্রিয়তা দেখাচ্ছে? ডেঙ্গির বিষয়ে সাম্প্রতিক রোগী হয়রানির অভিযোগ এই প্রশ্নগুলোকে আরও জোরালো করছে।

    কী অভিযোগ তুলছেন ভুক্তভোগীরা (Dengue)? 

    এ রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা রোগী ও পরিবারের একাংশের অভিযোগ, চলতি সপ্তাহে একাধিক সরকারি হাসপাতালে জ্বর, কাশি এবং হাতে-পায়ে যন্ত্রণার মতো উপসর্গ নিয়ে গেলেও ডেঙ্গি (Dengue) পরীক্ষা হয়নি। হাসপাতালের তরফে তাদের জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই। তাই ডেঙ্গি পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে মেডিক্যাল কলেজ কিংবা বাইরে থেকে ডেঙ্গি পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া দরকার। 
    ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই অভিজ্ঞতা হচ্ছে জেলার হাসপাতালগুলোতে। যার জেরে ডেঙ্গির উপসর্গ নিয়েই রোগীকে থাকতে হচ্ছে। সামান্য পরীক্ষা করানোর জন্য অসুস্থ ব্যক্তি কয়েক কিলোমিটার দূরের হাসপাতালে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক সময় এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যেতে হচ্ছে। আর তার পরে পরীক্ষা করে জানা যাচ্ছে তার সংক্রমণ হয়েছে কিনা। এতেই বাড়ছে বিপদ।

    কোন বিপদের আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞ মহল (Dengue)? 

    ডেঙ্গি প্রতিরোধে সবচেয়ে জরুরি সময় মতো সংক্রমণ আটকানো এবং রোগীর চিকিৎসা করা। এমনই জানাচ্ছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মহল। কিন্তু যেভাবে ডেঙ্গি পরীক্ষা করতেই বাড়তি সময় ব্যয় হচ্ছে, তাতে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে। এমনটাই আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তারা জানাচ্ছে, ডেঙ্গির উপসর্গ থাকা ব্যক্তির যদি সংক্রমণ হয়ে থাকে, আর তিনি এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতাল বিনা চিকিৎসায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তাতে একদিকে তাঁর সময় মতো চিকিৎসার সুযোগ কমছে। তাঁর শরীরের অবনতি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। তেমনি তাঁর থেকে, তাঁর পরিবার ও এলাকার মানুষের মধ্যে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। ডেঙ্গির মতো সংক্রামক রোগ রুখতে তাই উপসর্গ থাকা রোগীর দ্রুত রোগ নির্ণয় সবচেয়ে জরুরি। ডেঙ্গি (Dengue) আক্রান্ত নিশ্চিত হলে রোগীকে আলাদাভাবে রাখা এবং তার চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি। সামান্য পরীক্ষার জন্য যদি রাজ্যবাসীকে শুধুমাত্র মেডিক্যাল কলেজ নির্ভর হতে হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়ানক হবে বলেই তাদের আশঙ্কা। জেলা হাসপাতাল নয়। ডেঙ্গি পরীক্ষার কিট স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পর্যাপ্ত রাখতে হবে। তবেই দ্রুত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় সম্ভব হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এমনটাই মনে করছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মহল।

    কী বলছেন স্বাস্থ্যকর্তারা (Dengue)? 

    স্বাস্থ্যকর্তারা অবশ্য জানাচ্ছেন, জুলাই মাস থেকে রাজ্যে ডেঙ্গি (Dengue) পরীক্ষার চাহিদা বেড়েছে। গত এক মাসে ডেঙ্গিতে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ৭০০-র কাছাকাছি। আগস্টের প্রথম সপ্তাহেও সেই ধারা এক রকম আছে। তাই অনেক হাসপাতাল বিশেষত নদিয়া, উত্তর চব্বিশ পরগনা ও হুগলি জেলার কিছু হাসপাতালে সাময়িক সঙ্কট হয়েছিল। কিন্তু তা মিটে গিয়েছে বলেও দাবি করছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্তারা। পাশপাশি তাঁরা জানান, রাজ্য সরকারের তরফে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কিট যাতে পাওয়া যায় এবং ডেঙ্গি রোগীর যাতে কোনও রকম অসুবিধা না হয়, তা নিশ্চিত করতে তৎপর স্বাস্থ্য ভবন। এমনই জানিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Dengue: ডেঙ্গি মোকাবিলায় নেই নয়া দিশা! শুধু গতানুগতিক ফিভার ক্লিনিক সমস্যা রুখতে পারবে?

    Dengue: ডেঙ্গি মোকাবিলায় নেই নয়া দিশা! শুধু গতানুগতিক ফিভার ক্লিনিক সমস্যা রুখতে পারবে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ডেঙ্গি সংক্রমণ চিন্তা বাড়াচ্ছে। গত কয়েক দিনে রাজ্যে সাত জন ডেঙ্গি (Dengue) আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। আর তার পরেই বৈঠকে বসেন স্বাস্থ্য সচিব। কিন্তু বৈঠকে গতানুগতিক কিছু সিদ্ধান্ত ছাড়া, পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন কোনও দিশা নেই বলেই মনে করছে প্রশাসনের একাংশ।

    কী সিদ্ধান্ত (Dengue) হল স্বাস্থ্য সচিবের বৈঠকে? 

    নদিয়া, কলকাত সহ একাধিক জেলায় ডেঙ্গি (Dengue) আক্রান্তের মৃত্যুর পরেই নড়েচড়ে বসছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম বৈঠকে বসেছিলেন। এই বৈঠকে স্বাস্থ্য অধিকর্তা ছাড়াও ছিলেন রাজ্যের সমস্ত সরকারি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ এবং সরকারি হাসপাতালের সুপার। এছাড়াও একাধিক স্বাস্থ্য কর্তা এই বৈঠকে ছিলেন। এই বৈঠকে স্বাস্থ্য সচিব জানান, জ্বর নিয়ে হাসপাতালে কেউ এলেই, তার ডেঙ্গি পরীক্ষা করতে হবে। প্রত্যেক বছরের মতোই হাসপাতালে ফিভার ক্লিনিক চালু হবে। আক্রান্তের চিকিৎসার ক্ষেত্রে শয্যার যাতে সঙ্কট না হয়, তার আগাম ব্যবস্থা করতে হবে। অকারণ রেফার চলবে না। ডেঙ্গি আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য বিসি রায় শিশু হাসপাতালকে বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাশপাশি, রক্তের সঙ্কট আটকাতে প্লেটলেট সংক্রান্ত যে নির্দেশ স্বাস্থ্য দফতর দিয়েছিল, অর্থাৎ, দশ হাজারের কম হলে তবেই প্লেটলেট দেওয়া হবে, সেই নির্দেশ মেনে কাজ করতে হবে বলে এদিন ফের জানান স্বাস্থ্য সচিব। 
    সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে উত্তর চব্বিশ পরগনা, নদিয়া এবং হুগলি জেলার উপরে বাড়তি নজরদারির কথা বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব জানিয়েছেন, নদিয়া ও উত্তর চব্বিশ পরগনা, এই দুই জেলার বর্ডার এলাকায় বাড়তি নজর দিতে হবে। সংক্রমণ রুখতে প্রয়োজনীয় মোকাবিলা করতে হবে।

    কতখানি কার্যকরী এই সিদ্ধান্ত (Dengue)? 

    ডেঙ্গি মোকাবিলায় এই গতানুগতিক ফিভার ক্লিনিক পর্যাপ্ত নয় বলেই মনে করছে প্রশাসনের একাংশ। তারা জানাচ্ছে, প্রত্যেক বছর ফিভার ক্লিনিক খোলা হয়। কিন্তু তারপরেও রোগী ভোগান্তি অব্যাহত থাকে। ডেঙ্গি (Dengue) রুখতে প্রত্যেক এলাকায় প্রশাসনের সক্রিয়তা জরুরি। যা হয় না। বর্ষার মরশুমে অধিকাংশ জায়গায় জল জমছে। রাস্তা, পার্ক, বসতি এলাকা অপরিচ্ছন্ন। আর তার জেরেই বাড়ছে মশার উৎপাত। মশা দমন করতে না পারলে ডেঙ্গি কমানো মুশকিল। আর এই কাজের জন্য স্বাস্থ্য ও পুর, পঞ্চায়েত দফতরের একসঙ্গে সক্রিয়তা জরুরি। যে সব জেলা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে, অর্থাৎ, হুগলি, নদিয়া, উত্তর চব্বিশ পরগনা, এই সব জেলার বাসিন্দারা নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানালেও কাজ হয় না। তাই এই সব এলাকায় মশার উপদ্রব বেশি। চিন্তা বাড়ায় ডেঙ্গি সংক্রমণ। তাছাড়া, রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত আসে না। ফলে, একদিকে আক্রান্তের চিকিৎসা দেরিতে শুরু হয়, আরেকদিকে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, গতানুগতিক কিছু সিদ্ধান্ত নয়। ডেঙ্গি মোকাবিলায় প্রশাসনের হাতে কলমে কাজ করতে হবে। যার অভাব রয়েছে। তার জেরেই ভোগান্তি বাড়বে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share