Tag: West Bengal Industry

  • West Bengal Investment: পুজোর আগেই বাংলায় শিল্পবিপ্লব! হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটির প্ল্যান্ট সহ এলঅ্যান্ডটির জোড়া প্রকল্প, নিউটাউনে আদানির হাসপাতাল

    West Bengal Investment: পুজোর আগেই বাংলায় শিল্পবিপ্লব! হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটির প্ল্যান্ট সহ এলঅ্যান্ডটির জোড়া প্রকল্প, নিউটাউনে আদানির হাসপাতাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের গতি আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে একের পর এক বড় প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানান, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো বা এলঅ্যান্ডটি গোষ্ঠী রাজ্যে দু’টি নতুন প্রকল্প নিয়ে আসছে। পাশাপাশি, হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস এলাকায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি একটি বড় প্ল্যান্টের উদ্বোধনের প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। এর পাশাপাশি নিউটাউনে ২ হাজার শয্যার আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল তৈরির জন্য আদানি গোষ্ঠীর প্রস্তাবে রাজ্য সরকারের নীতিগত সম্মতির কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    নিউটাউনে এলঅ্যান্ডটির বড় পরিকাঠামো প্রকল্প

    মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি মাসের ২৭ তারিখ সকাল সাড়ে ১১টায় নিউটাউনের সিলিকন ভ্যালিতে এলঅ্যান্ডটি গোষ্ঠীর একটি বড় পরিকাঠামো প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক পরিকাঠামো-কেন্দ্রিক নিউটাউনে এই প্রকল্পকে রাজ্যের শিল্প ও বিনিয়োগ পরিবেশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে প্রশাসন। এর পর দুর্গাপুজোর সময় শিল্পশহর হলদিয়াতেও এলঅ্যান্ডটির আরও একটি বড় শিল্প প্রকল্পের উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ পুজোর মরসুমের আগে ও চলাকালীন পরপর একাধিক বড় প্রকল্পের উদ্বোধনের মাধ্যমে রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা দিতে চাইছে রাজ্য সরকার।

    হলদিয়ায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার প্ল্যান্ট

    পুজোর আবহে শিল্পশহর হলদিয়ায় এলঅ্যান্ডটি-র আরও একটি বৃহৎ শিল্প প্রকল্পের উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস এলাকায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি বিশাল প্ল্যান্ট আগামী ১৪ অক্টোবর উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের উদ্বোধনের সম্ভাব্য দিনক্ষণ নিয়ে শিল্পপতি পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের আলোচনা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় রাজ্যে এসে মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পরেই প্রকল্পের উদ্বোধনের সময়সূচি নিয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, পুজোর মরসুম শুরু হওয়ার আগে শিল্পক্ষেত্রে একাধিক বড় প্রকল্পের উদ্বোধন বাংলার বিনিয়োগ পরিবেশ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। প্রকল্পগুলি বাণিজ্যিকভাবে চালু হলে শিল্পোন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে আশা করছে রাজ্য সরকার।

    নিউটাউনে ২ হাজার শয্যার হাসপাতাল, ১ হাজার শয্যায় বিনামূল্যে চিকিৎসা

    শিল্প বিনিয়োগের পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোতেও বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। নিউটাউনে ২ হাজার শয্যার একটি আন্তর্জাতিক মানের অত্যাধুনিক হাসপাতাল তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে আদানি গোষ্ঠী। এই প্রকল্পে রাজ্য সরকারের লিখিত সম্মতির কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রস্তাবিত হাসপাতালের বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে এর বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা। মোট ২ হাজার শয্যার মধ্যে ১ হাজার শয্যা আর্থিক ভাবে দুর্বল ও দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে রাখা হবে। বাকি ১ হাজার শয্যায় বাণিজ্যিক স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আদানি গোষ্ঠীর ম্যানেজিং ডিরেক্টর করণ আদানি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হাসপাতাল প্রকল্পের বিস্তারিত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেই আলোচনার পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে লিখিত সম্মতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    দ্রুত কাজ শুরু করতে আগ্রহী আদানি গোষ্ঠী

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানিও নিউটাউনের হাসপাতাল প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ১০০ শতাংশ বিনিয়োগ আদানি গোষ্ঠী নিজেদের তহবিল থেকেই করবে বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু। এই হাসপাতাল বাস্তবায়িত হলে নিউটাউন তথা কলকাতার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় একটি বড় সংযোজন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ১ হাজার শয্যায় বিনামূল্যে চিকিৎসার পরিকল্পনা কার্যকর হলে অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসার সুযোগ বাড়বে।

    ডানকুনি থেকে পুরুলিয়া, শিল্প বিনিয়োগের বিস্তার

    রাজ্য সরকারের দাবি, নতুন শিল্প প্রকল্পগুলি শুধু কলকাতা ও হলদিয়াকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ডানকুনি থেকে পুরুলিয়া—রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হাজার কোটি টাকার একাধিক বিনিয়োগ প্রকল্পের কাজ এগোচ্ছে। শিল্প পরিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান এবং আনুষঙ্গিক শিল্পের প্রসার ঘটানোর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এরই মধ্যে রবিবার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সে প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রেও প্রায় ৩,৪০০ কোটি টাকার প্রকল্পের ঘোষণা হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের উপস্থিতিতে ওই ঘোষণা হওয়ায় রাজ্যে প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্ভাবনাকেও নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    পুজোর আগে বিনিয়োগের একাধিক বার্তা

    সব মিলিয়ে, পুজোর আগে পরপর শিল্প প্রকল্পের উদ্বোধন, হলদিয়ায় বড় বিনিয়োগ, নিউটাউনে আদানি গোষ্ঠীর হাসপাতাল প্রস্তাব এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে নতুন প্রকল্প—এই একাধিক পদক্ষেপকে রাজ্যের শিল্পায়নের গতি বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে তুলে ধরছে নবান্ন। রাজ্য সরকারের প্রত্যাশা, নতুন প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে বাংলায় বিনিয়োগের পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে শিল্প উৎপাদন, পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তৈরি হবে নতুন সুযোগ। পুজোর মরসুমের আগে এই ধারাবাহিক ঘোষণার মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রে ‘বিনিয়োগবান্ধব বাংলা’র বার্তাই আরও জোরালো করতে চাইছে রাজ্য সরকার।

  • Rajnath Singh: বাংলায় শিল্পে ফিরছে ‘সুদিন’! শুভেন্দুকে পাশে নিয়ে সাড়ে ৩ হাজার কোটির ৫ প্রকল্পের শিলান্যাস রাজনাথের

    Rajnath Singh: বাংলায় শিল্পে ফিরছে ‘সুদিন’! শুভেন্দুকে পাশে নিয়ে সাড়ে ৩ হাজার কোটির ৫ প্রকল্পের শিলান্যাস রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে শিল্পক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। কলকাতা থেকে রবিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীন পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রাউনফিল্ড সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে জাহাজ নির্মাণ, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং শিল্প পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলে দাবি কেন্দ্রের। অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত ছিলেন। এদিনের কর্মসূচিতে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের পরিবেশ নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স বা জিআরএসই-র সম্প্রসারণ এবং যন্ত্র ইন্ডিয়া লিমিটেডের নতুন পরিকাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

    ‘কারখানা বন্ধ হওয়ার দিন অতীত’, রাজনাথের বার্তা

    কলকাতার অনুষ্ঠানে রাজনাথ সিং বলেন, পশ্চিমবঙ্গ এখন শিল্প ও উন্নয়নের নতুন পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। তাঁর কথায়, বাংলায় কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া বা শিল্পে তালা ঝোলার সময় এখন অতীত। তার পরিবর্তে নতুন প্রকল্প, বিনিয়োগ এবং শিল্প পরিকাঠামো গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজনাথ বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বাংলায় উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চলছে। তৈরি হচ্ছে নতুন সুযোগও।” তাঁর দাবি, এই পাঁচটি প্রকল্প বাংলার শিল্প পরিকাঠামোয় নতুন গতি আনবে এবং একই সঙ্গে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করবে।

    কী রয়েছে পাঁচ প্রকল্পে?

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচটি প্রকল্পের মধ্যে তিনটি গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE) এবং দুটি যন্ত্র ইন্ডিয়া লিমিটেডের অধীনে রয়েছে। জিআরএসই-র সম্প্রসারণ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে রায়চকে নতুন শিপইয়ার্ড, হাওড়ায় টিম্বার পন্ড শিপবিল্ডিং ফেসিলিটি এবং দামোদর কমপ্লেক্স শিপ বিল্ডিং ফেসিলিটি। অন্যদিকে যন্ত্র ইন্ডিয়ার প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে ৩,০০০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন হাইড্রলিক ওপেন ডাই ফোর্জিং প্রেস এবং একটি রেডিয়াল ফোর্জিং প্ল্যান্ট। এই প্রকল্পগুলিতে বিপুল বিনিয়োগের ফলে জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বাংলার ভূমিকা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    রায়চকে তৈরি হবে ২০০ মিটার দীর্ঘ যুদ্ধজাহাজ

    জিআরএসই-র সম্প্রসারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল রায়চকে নতুন শিপইয়ার্ড। রাজনাথ সিং জানান, সেখানে প্রায় ২০০ মিটার দীর্ঘ যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা তৈরি করা হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য পরিকল্পিত পরবর্তী প্রজন্মের ডেস্ট্রয়ার নির্মাণের দরপত্রে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে জিআরএসই আরও শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, হাওড়ার টিম্বার পার্ক এবং দামোদর কমপ্লেক্সের পরিকাঠামোও জাহাজ নির্মাণের সম্পূর্ণ ‘ভ্যালু চেইন’-কে আরও শক্তিশালী করবে। অর্থাৎ জাহাজের নকশা ও নির্মাণ থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপাদান ও পরিষেবা সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত শিল্পগুলিও এর ফলে উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    এমএসএমই-তে বাড়বে কাজের সুযোগ

    এই প্রকল্পগুলিকে শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্প্রসারণ হিসেবে দেখছে না কেন্দ্র। জিআরএসই-র নতুন পরিকাঠামোকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমই ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ইঞ্জিনিয়ারিং, ধাতু, যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহণ এবং বিভিন্ন সহায়ক শিল্পের চাহিদা বাড়লে রাজ্যের শিল্পাঞ্চলগুলিও তার সুফল পেতে পারে।

    আত্মনির্ভর ভারত ও ‘মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’-এ জোর

    রাজনাথ সিং বলেন, পাঁচটি প্রকল্পই ভারতের ‘আত্মনির্ভরতা’, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর লক্ষ্যকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর যে পরিকল্পনা কেন্দ্র নিয়েছে, এই প্রকল্পগুলি তারই অংশ বলে জানান তিনি। জিআরএসই-র সাম্প্রতিক সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। নবরত্ন মর্যাদা পাওয়ায় সংস্থাটিকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, নবরত্ন জিআরএসই এবং যন্ত্র ইন্ডিয়া লিমিটেড শুধু পশ্চিমবঙ্গের জন্য নয়, গোটা দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ।

    নেক্সট জেনারেশন অফশোর পেট্রোল ভেসেলে ৮০ শতাংশের বেশি দেশীয় উপাদান

    ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে দেশীয় প্রযুক্তি ও উপাদানের ব্যবহার কতটা বাড়ছে, তার উদাহরণ হিসেবে নেক্সট জেনারেশন অফশোর পেট্রোল ভেসেল নির্মাণের কথাও তুলে ধরেন রাজনাথ সিং। তিনি জানান, এই ধরনের জাহাজে ৮০ শতাংশের বেশি দেশীয় সরঞ্জাম থাকার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বিদেশের উপর ভারতের নির্ভরতা দ্রুত কমছে।

    জিআরএসই-র সম্প্রসারণে নতুন শিল্প সম্ভাবনা

    জিআরএসই ইতিমধ্যেই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় জাহাজ নির্মাণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সংস্থার উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্টের সঙ্গে হুগলি নদীর দুই পাড়ে থাকা দুটি ছোট শিপইয়ার্ড এবং রায়চকের প্রায় ৩২ একর নদী তীরবর্তী জমি ব্যবহারের জন্য লিজ চুক্তি করা হয়েছে। এই পরিকাঠামো যুক্ত হলে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে কলকাতা ও হাওড়াকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ইঞ্জিনিয়ারিং ও সহায়ক শিল্পগুলিও নতুন অর্ডার পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

    মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা রাজনাথকে

    অনুষ্ঠানে জিআরএসই-র সম্প্রসারণে বিপুল বিনিয়োগকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাংলায় বিনিয়োগ আনার প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য রাজনাথ সিংকে ধন্যবাদ জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে রাজ্যে বিনিয়োগ ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প আনার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বের প্রশংসাও করেন তিনি।

    সব মিলিয়ে কলকাতা থেকে শুরু হওয়া এই পাঁচ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্প, জাহাজ নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট এমএসএমই ক্ষেত্রের সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হল। কেন্দ্রের দাবি, এই বিনিয়োগ শুধু কয়েকটি কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াবে না, বরং বাংলাকে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও জাহাজ নির্মাণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

  • Suvendu Adhikari: শিল্পে পিছিয়ে বাংলা, বদলের বার্তা সরকারের, বস্ত্রশিল্পে বিনিয়োগ টানতে গুচ্ছের সংস্কারের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: শিল্পে পিছিয়ে বাংলা, বদলের বার্তা সরকারের, বস্ত্রশিল্পে বিনিয়োগ টানতে গুচ্ছের সংস্কারের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রে গত পাঁচ দশকে যে পিছিয়ে পড়ার ছবি তৈরি হয়েছে, তা বদলে রাজ্যকে নতুন শিল্পায়নের পথে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিলেন পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে ‘টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি কনফারেন্সে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যে শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য সেই পরিস্থিতি বদলে পশ্চিমবঙ্গকে বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা (Industrial Investment)। ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারে’র হাত ধরে রাজ্য উন্নয়নের নতুন পর্বে প্রবেশ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    বিনিয়োগের আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)

    শিল্পপতি, উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী মহলের কাছে বাংলায় বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৩৪ বছরের বাম শাসন এবং পরবর্তী ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময় রাজ্যে শিল্পের গতি কার্যত থমকে গিয়েছিল। এর জেরে অর্থনৈতিক অগ্রগতির একাধিক সম্ভাবনা হাতছাড়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তবে সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন করে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “বিগত ৫০ বছরে বাংলা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। এখন ‘অমৃত কাল’ ও ডাবল ইঞ্জিন সরকারের নেতৃত্বে আমরা শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করছি। তোলাবাজি ও মাফিয়ারাজের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। বাংলা এখন এগোতে প্রস্তুত, তাই নির্ভয়ে এখানে বিনিয়োগ করুন।”

    অর্থনীতিতে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন

    শিল্পায়নের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলার সম্পর্কের বিষয়টিও এদিন গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যে গুন্ডাগিরি, তোলাবাজি এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপ বন্ধ করা গেলে শিল্পপতিদের মধ্যে আস্থা আরও বাড়বে। সেই আস্থা থেকেই নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং রাজ্যে শিল্পের প্রসার ঘটবে। শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল উন্নতি ঘটানো সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলেও জানান তিনি। আগামী এক থেকে দু’বছরের মধ্যেই রাজ্যের অর্থনীতিতে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, সেই সময়ের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে রাজ্যের আকর্ষণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বর্তমান সরকার মানুষের সরকার এবং নির্বাচনের আগে প্রকাশিত সংকল্পপত্রে যে প্রতিশ্রুতিগুলি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ

    কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে বস্ত্র ও চা শিল্পের প্রসার এবং নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে রাজ্যের সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। আগামী ২৪ থেকে ২৮ অগাস্ট কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর রাজ্য সফরের সময় বস্ত্রশিল্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। ওই বৈঠকে শিল্পের সমস্যা, সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে সরাসরি আলোচনা হতে পারে বলেও জানান তিনি। বস্ত্রশিল্পকে কেন্দ্র করে রাজ্যে নতুন শিল্পায়নের পরিকল্পনার কথাও এদিন স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই শিল্পে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী তাঁত, পোশাক এবং বস্ত্রশিল্পকে আধুনিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করে বৃহত্তর শিল্পক্ষেত্র তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, দ্রুত অনুমোদন এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজতর ব্যবস্থা চালু করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে (Industrial Investment)।

    ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেম’

    বিশেষ করে ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। বড় শিল্প প্রকল্পের জন্য বিনিয়োগকারীদের যাতে একাধিক দফতর, পুরসভা বা পঞ্চায়েতের বিভিন্ন স্তরে অনুমোদনের জন্য ঘুরতে না হয়, সেই ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেমে’র মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিল্পপতিদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও সহজ এবং সময়সাশ্রয়ী করা হবে (Suvendu Adhikari)। জমি সংক্রান্ত নীতিতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জমি ক্রয় নীতি ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে বলেও জানান রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। খুব শীঘ্রই নতুন ভূমি উন্নয়ন নীতি আনার পরিকল্পনার কথাও জানান শুভেন্দু। শিল্প স্থাপনের প্রক্রিয়া আরও সরল করতে প্রয়োজনে বিধানসভায় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের জন্য জমি, অনুমোদন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জটিলতা কমিয়ে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবেশ তৈরি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

    একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ

    রাজ্যে ইতিমধ্যেই একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠী বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, লাক্স কোজি, আমূল, শ্যাম স্টিল এবং অমিত মেটালিক্স-সহ একাধিক সংস্থা পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে বা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্যাবিনেট বৈঠকের পর আগামী এক মাসের মধ্যে অন্তত ২৫ জন শিল্পপতির হাতে নতুন শিল্প প্রকল্পের জন্য জমি তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি (Suvendu Adhikari)। শিল্পায়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়টিকেও সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, নতুন শিল্প হলে একদিকে যেমন বিনিয়োগ বাড়বে, তেমনই সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। এর ফলে রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতি পাবে এবং পশ্চিমবঙ্গ আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে (Industrial Investment)।

    বৃহত্তর শিল্পক্ষেত্র তৈরির আশ্বাস

    তাঁত ও বস্ত্রশিল্পের ক্ষেত্রে বাংলার ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক শিল্প কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। রাজ্যের দীর্ঘদিনের তাঁতশিল্প ও পোশাক উৎপাদনকে আধুনিক প্রযুক্তি, বাজার এবং বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত করে বৃহত্তর শিল্পক্ষেত্র তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি। প্রশাসনিক সংস্কার, দ্রুত অনুমোদন, জমি নীতির পরিবর্তন এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ—এই চারটি বিষয়কে সামনে রেখে বস্ত্রশিল্পে নতুন বিনিয়োগের দরজা খুলতে চাইছে রাজ্য সরকার। মিলন মেলা প্রাঙ্গণে টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি কনফারেন্সের মঞ্চ থেকে তাই একই সঙ্গে তিনটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী—শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানো। তাঁর দাবি, এই তিন ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনতে পারলে পশ্চিমবঙ্গ আগামী দিনে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় শিল্প ও বিনিয়োগকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। আগামী এক থেকে দু’বছরের মধ্যে সেই (Industrial Investment) পরিবর্তনের প্রতিফলন রাজ্যের অর্থনীতিতে দেখা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

     

  • Prasun Mukherjee: কাটতে চলেছে বঙ্গের হা-শিল্প দশা? নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রবাসী শিল্পপতির বৈঠকের পর বাড়ছে আশা

    Prasun Mukherjee: কাটতে চলেছে বঙ্গের হা-শিল্প দশা? নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রবাসী শিল্পপতির বৈঠকের পর বাড়ছে আশা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাটতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের হা-শিল্প দশা? নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং শিল্পপতি প্রসূন মুখোপাধ্যায়ের (Prasun Mukherjee) সৌজন্যমূলক বৈঠক ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমহলে শুরু হয়েছে নতুন করে জল্পনা। সোমবার এই বৈঠক হয়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সম্ভাব্য শিল্প বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের দিক থেকে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি (Prasun Mukherjee)

    মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রধান শুভেন্দু শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে বহুজাতিক সংস্থা ‘ইউনিভার্সাল সাকসেস এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডে’র  চেয়ারম্যান প্রসূন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিনিয়োগ ঘোষণার খবর সামনে না এলেও, এই বৈঠককে ঘিরে ভবিষ্যতে বড় শিল্প প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে করা পোস্টে জানান, প্রসূন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ অত্যন্ত আনন্দদায়ক ছিল। তিনি নবান্নে এসেছিলেন সৌজন্যমূলক বৈঠক করতে। মুখ্যমন্ত্রীর আশা, ভবিষ্যতে দু’পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে, যা পশ্চিমবঙ্গের প্রবৃদ্ধি ও কৌশলগত উন্নয়নের নয়া দিগন্ত উন্মোচন করবে।

    কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী?

    তিনি এও জানান, এই ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে রাজ্যের মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর থেকেই শিল্প ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত মহলে প্রসূন-শুভেন্দুর এই বৈঠক নিয়ে চড়ছে আগ্রহের পারদ। এদিকে, রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগের ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই মিলেছে। সম্প্রতি গুজরাটের দুগ্ধ সমবায় সংস্থা আমূল হাওড়ার সাঁকরাইলে বড় লগ্নির কথা ঘোষণা করেছে। সেখানে দেশের অন্যতম বৃহৎ দই উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। সংস্থাটি উত্তরবঙ্গেও ব্যবসা সম্প্রসারণের রূপরেখা তৈরি করছে (Prasun Mukherjee)।

    বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

    এহেন পরিস্থিতিতে সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাঙালি শিল্পপতি প্রসূনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠককে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য শিল্প সহযোগিতার সূচনা হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই (Suvendu Adhikari) বৈঠকের ফলশ্রুতিতে অদূর ভবিষ্যতে রাজ্যে নয়া বিনিয়োগ, শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের কতটা সুযোগ সৃষ্টি হয়, এখন সেটাই দেখার (Prasun Mukherjee)।

     

  • Samik Bhattacharya: ফের সিঙ্গুরে টাটা? শিল্পের হারানো অধ্যায় ফিরিয়ে আনতে বড় বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

    Samik Bhattacharya: ফের সিঙ্গুরে টাটা? শিল্পের হারানো অধ্যায় ফিরিয়ে আনতে বড় বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় দুই দশক আগে সিঙ্গুর থেকে টাটা মোটরসের ন্যানো প্রকল্প সরে যাওয়ার ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই ঘটনার জেরে রাজ্যের শিল্প ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে দেশ-বিদেশে যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল, তা বদলাতে এবার সিঙ্গুরে ফের টাটা গোষ্ঠীকে ফিরিয়ে আনার ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শুক্রবার এক সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শমীক বলেন, টাটা গোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন শুধুমাত্র একটি শিল্প প্রকল্পের ফিরে আসা হবে না, বরং তা পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। তাঁর বক্তব্য, “আমরা চাই টাটারা আবার সিঙ্গুরে ফিরুক। এর মাধ্যমে দেশ ও বিশ্বের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে যে পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত এবং এখানে শিল্প স্থাপনের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে।”

    ন্যানো প্রকল্পের প্রস্থান ও তার প্রভাব

    ২০০৮ সালে সিঙ্গুরে টাটা মোটরসের ন্যানো প্রকল্প ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘাত তৈরি হয়। জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের জেরে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে গুজরাটে স্থানান্তরিত হয়। সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহকে দেশের শিল্পমহলের একাংশ পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-বিরোধী মনোভাবের প্রতীক হিসেবে দেখেছিল। শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, ন্যানো প্রকল্প চলে যাওয়ার পর রাজ্য সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল। তাঁর মতে, সিঙ্গুরে টাটা প্রকল্পের সমাপ্তি শুধু একটি শিল্প উদ্যোগের অবসান ছিল না, বরং তা বাংলার শিল্পোন্নয়নের পথেও বড় ধাক্কা দিয়েছিল। তিনি বলেন, “টাটার প্রস্থান রাজ্যের বিনিয়োগ পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করেছে। অনেক কর্পোরেট সংস্থার মধ্যে এই ধারণা তৈরি হয়েছিল যে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নেই।”

    শিল্পায়নের পথে নতুন বার্তা

    বিজেপির রাজ্য সভাপতির মতে, টাটা গোষ্ঠী অটোমোবাইল শিল্পে ফিরুক বা অন্য কোনও ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করুক, মূল লক্ষ্য হল বাংলায় বৃহৎ শিল্পের পুনরুজ্জীবন। তিনি মনে করেন, টাটা গোষ্ঠীর মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বস্ত শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ নতুন করে শিল্পপতিদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। শমীকের বক্তব্য, “টাটাদের প্রত্যাবর্তন শুধু একটি সংস্থার ফিরে আসা নয়। এটি হবে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-সম্ভাবনার উপর নতুন করে আস্থা স্থাপনের প্রতীক। দেশ ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এর একটি শক্তিশালী বার্তা যাবে।” তাঁর দাবি, ন্যানো প্রকল্পের পরবর্তী সময়ে রাজ্যে কাটমানি সংস্কৃতি, সিন্ডিকেট রাজ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ শিল্প পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছিল। ফলে বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে রাজ্য পিছিয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে শিল্পের প্রতি আস্থা পুনর্গঠন জরুরি বলে মনে করছে বিজেপি।

    সিঙ্গুরে বড় ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব গড়ার পরিকল্পনা

    শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, সিঙ্গুরে কৃষকরা জমি ফিরে পেলেও সেই জমি আর আগের মতো কৃষিকাজের উপযোগী নেই, কারণ দীর্ঘদিনে তার চরিত্র বদলে গিয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে ওই এলাকায় একটি শিল্পকেন্দ্র বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর দাবি, সেখানে ইতিমধ্যেই প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের পাশে সরকার থাকবে। সিঙ্গুরকে শিল্পোন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য, যাতে পশ্চিমবঙ্গে আবারও ভারী শিল্পের বিকাশ ঘটানো যায়।

    সিঙ্গুরের রাজনৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্ব

    সিঙ্গুর শুধুমাত্র একটি শিল্প প্রকল্পের স্থান নয়, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জমি আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় আসার পথ সুগম হয়েছিল। তবে বিজেপির মতে, যে সিঙ্গুর একসময় শিল্প ও জমি আন্দোলনের সংঘাতের প্রতীক হয়ে উঠেছিল, সেই সিঙ্গুরকেই এখন শিল্প প্রত্যাবর্তনের প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। শমীক বলেন, “সিঙ্গুরকে শিল্পের বিদায়ের প্রতীক থেকে শিল্পের প্রত্যাবর্তনের প্রতীকে রূপান্তরিত করা গেলে তা পশ্চিমবঙ্গের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে।”

    জমি নীতি নিয়েও ইঙ্গিত

    শিল্পায়নের প্রসঙ্গে জমি অধিগ্রহণ নীতির প্রশ্নও উত্থাপন করেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, সুস্পষ্ট ও কার্যকর ভূমিনীতি ছাড়া বৃহৎ শিল্পায়ন সম্ভব নয়। পূর্ববর্তী সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “শিল্পপতিদের পক্ষে বাড়ি বাড়ি ঘুরে জমি সংগ্রহ করা বাস্তবসম্মত নয়।” যদিও সম্ভাব্য নতুন ভূমিনীতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। তাঁর বক্তব্য, সরকার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে এবং আগামী দিনে তার ফল দৃশ্যমান হবে।

    রাজ্যের প্রাকতিক সম্পদও নজর শমীকের

    শমীক ভট্টাচার্য বলেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর দাবি, রাজ্যে অশোকনগর তেলক্ষেত্র, রানাঘাটের প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার এবং ম্যাঙ্গানিজ আকরিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ইতিমধ্যেই চিহ্নিত হয়েছে। পাশাপাশি, বিষ্ণুপুর বা কালিম্পং অঞ্চলের কোথাও সোনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান, পুরুলিয়ায় বিরল খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা রাজ্যের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার অনুরোধ করা হয়েছে। তাঁর মতে, এই খনিজ সম্পদের সুষ্ঠু নিলাম হলে পশ্চিমবঙ্গ উল্লেখযোগ্য আর্থিক লাভের মুখ দেখতে পারে।

    বিজেপির শিল্পায়ন রূপরেখা

    বিজেপির দাবি, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বৃহৎ বিনিয়োগ আকর্ষণ করাই তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণে সিঙ্গুরকে আবার শিল্প মানচিত্রে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বের মতে, টাটা গোষ্ঠীর মতো একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন সম্ভব হলে তা শুধু সিঙ্গুর নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গের বিনিয়োগ পরিবেশ সম্পর্কে নতুন বার্তা দেবে। একইসঙ্গে দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের কাছেও রাজ্যকে একটি শিল্প-বান্ধব গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে সাহায্য করবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকা সিঙ্গুরকে ঘিরে আবারও শিল্পায়নের নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। টাটা গোষ্ঠীর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন আদৌ বাস্তবায়িত হয় কি না, তা ভবিষ্যৎই বলবে। তবে বিজেপি ইতিমধ্যেই সিঙ্গুরকে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প পুনর্জাগরণের প্রতীক হিসেবে সামনে আনতে শুরু করেছে।

  • Shamik Bhattacharya: ‘‘১০০ দিনের মধ্যে শিল্পক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হবে’’ বণিক মহলকে আশ্বাসবার্তা শমীকের

    Shamik Bhattacharya: ‘‘১০০ দিনের মধ্যে শিল্পক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হবে’’ বণিক মহলকে আশ্বাসবার্তা শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন সরকার বাংলায় বিনিয়োগের (West Bengal Industry) বন্ধ দুয়ার খুলে দিতে বদ্ধপরিকর। সোমবার কলকাতার ‘ভারত চেম্বার অফ কমার্স’ (Bharat Chamber of Commerce)-এর মঞ্চ থেকে রাজ্যের শিল্পমহল ও বণিকসভাকে আশ্বাস দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। বণিকমহল ও বঙ্গবাসীকে ‘১০০ দিনের’ প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। কলকাতার বুক থেকে বিগত বাম ও তৃণমূল জমানায় বড় বড় কর্পোরেট কোম্পানিগুলির রাজ্য ছাড়ার ঐতিহাসিক ধাক্কাকে চূড়ান্ত লজ্জাজনক ও দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যা দেন শমীক।

    বাংলায় শিল্পের জোয়ার আনতে ম্যাজিক

    এদিন ‘ভারত চেম্বার অফ কমার্স’-এর অনুষ্ঠানে রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেন, “আজ এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছি। আগামী মাত্র ১০০ দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রে আমরা এমন কিছু বৈপ্লবিক পদক্ষেপ করতে চলেছি, যা দেখার পর আপনারা প্রত্যেকে আমাদের নতুন সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করতে বাধ্য হবেন।’’ ব্যবসায়ী ও পুঁজিপতিদের আশ্বস্ত করে রাজ্য বিজেপি সভাপতি মনে করিয়ে দেন, “এই মাটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পবিত্র ভূমি। এটাই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ-বান্ধব অঞ্চল হওয়ার যোগ্য ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিগত জমানার অপশাসনে বাংলার সেই বিপুল সম্ভাবনা কোনও দিন ডানা মেলতেই পারেনি। আমরা এবার যা প্রয়োজনীয়, ঠিক তাই করব।’’

    শিল্পের স্বার্থে সময়োপযোগী ও কড়া আইন

    শমীক জানান, খুব দ্রুত এমন সময়োপযোগী ও কড়া আইন তৈরি করা হবে, যা এ রাজ্যের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের জন্য চূড়ান্ত লাভদায়ক এবং সুরক্ষামূলক হবে। তবে শমীকের সংযোজন, এই কর্মযজ্ঞ কেবল একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে একা করতে পারা সম্ভব নয়। রাজ্যের বুদ্ধিজীবী ও আমজনতাকেও এই পরিবর্তনের পক্ষে জোরালো সওয়াল করতে হবে।

    ক্ষুদ্র শিল্পের নামে কী হচ্ছে?

    এদিন বাংলার শিল্পায়নের (Industrial Sector of Bengal) বেহাল দশা বোঝাতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা ‘এমএসএমই’ (MSME) সেক্টরের বর্তমান করুণ অবস্থার এক জ্বলন্ত উদাহরণ টানেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “আমি নতুন ও বড় বিনিয়োগকারীদের বাংলায় আসার জন্য খোলা আহ্বান জানাচ্ছি। কিন্তু আমাদের রাজ্যে ক্ষুদ্র শিল্পের নামে কী হচ্ছে? একটা সাধারণ পানের দোকান বা চায়ের দোকানকেও এমএসএমই-র তালিকায় রেজিস্টার্ড করিয়ে সংখ্যা বাড়িয়ে বাহবা নেওয়া হচ্ছে! এটাই কি আমাদের কাম্য ছিল? আমাদের এর চেয়ে অনেক উন্নত ও খাঁটি এমএসএমই পরিকাঠামো গড়তে হবে।”

    ভূমি নীতি তৈরি করা জরুরি

    এদিনের অনুষ্ঠান থেকে উত্তরবঙ্গের (North Bengal) দীর্ঘদিনের বঞ্চনা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, উত্তরবঙ্গের পর্যটন (Tourism) থেকে শুরু করে বিশ্ববিখ্যাত চা শিল্প (Tea Industry) – কোনও কিছু নিয়েই আগে সঠিক পরিকল্পনা করা হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে ধুঁকছেন গরিব চা শ্রমিকেরা, ক্ষোভে ফুঁসছেন টেক্সটাইল বা বস্ত্রশিল্পের কারিগররা। একই সঙ্গে শমীক বলেন,  “নতুন শিল্প গড়ার স্বার্থে রাজ্যে একটি অত্যন্ত সুসংহত এবং যুগোপযোগী ‘ল্যান্ড পলিসি’ বা ভূমি নীতি তৈরি করা জরুরি।”

    মহারাষ্ট্রের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তুলনামূলক খতিয়ান

    মহারাষ্ট্রের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তুলনামূলক খতিয়ান দিয়ে শমীক আক্ষেপের সুরে জানান, এক সময় শিল্পে ও অর্থনীতিতে মহারাষ্ট্রের সঙ্গে সমানে সমানে টক্কর দিত পশ্চিমবঙ্গ। আর আজ দেশের মোট এফডিআই (FDI)-এর প্রায় ৩৬ শতাংশ যাচ্ছে একা মহারাষ্ট্রে, সেখানে কলকাতায় সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের হার তলানিতে ঠেকে মাত্র ০.৬ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে! এই চরম লজ্জার অবসান ঘটাতে নতুন ডাবল ইঞ্জিন সরকার পরিকাঠামো ক্ষেত্রে এক বিশাল ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছে।

    বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ভয়হীন পরিবেশ চাই

    শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা এখন এক চূড়ান্ত ডিজিটাল যুগে (Digital Age) বাস করছি। আমাদের রাজ্যকে দ্রুত ডেটা সেন্টার (Data Centers) শিল্পে অংশ নিতে হবে এবং বাইরে থেকে আসা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ভয়হীন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা নিরপেক্ষ প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করে দিতে হবে। বিনিয়োগকারীরা এ রাজ্যে কোটি কোটি টাকা ঢালতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু বিগত সরকার প্রস্তুত ছিল না। তবে এবার আমরা তৈরি।”

    বিগত সরকারের গাফিলতি

    উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে খনিজ তেলের সন্ধান মেলা সত্ত্বেও তা নিয়ে বিগত সরকারের গড়িমসি এবং পরিকাঠামো স্তরের চূড়ান্ত ব্যর্থতা নিয়ে এদিন সুর চড়ান রাজ্য বিজেপি সভাপতি। তাঁর দাবি, পূর্বতন সরকারের কোনও সুনির্দিষ্ট দূরদর্শিতা না থাকায় সেই প্রকল্পের কাজ থমকে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইএম বাইপাসের ওপর চিংড়িঘাটা মেট্রো লাইনের কাজ বছরের পর বছর ধরে কেন আটকে রাখা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শমীক। তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, রাজ্য পালাবদলের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যেই রাজ্যে শিল্প বান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হবে। গড়ে তোলা হবে আত্মনির্ভর বাংলা।

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share