Tag: West Bengal police

West Bengal police

  • Malda Cash Seizure: আবার কোটি কোটি টাকা উদ্ধার রাজ্যে! মালদায় নগদের পাহাড়, গ্রেফতার ৩, মিলল সোনা ও ৯ হাজার বোতল নিষিদ্ধ সিরাপ

    Malda Cash Seizure: আবার কোটি কোটি টাকা উদ্ধার রাজ্যে! মালদায় নগদের পাহাড়, গ্রেফতার ৩, মিলল সোনা ও ৯ হাজার বোতল নিষিদ্ধ সিরাপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বীরভূমে কোটি কোটি টাকা ও সোনা উদ্ধারের ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই ফের পশ্চিমবঙ্গে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। এবার মালদা শহরের মঙ্গলবাড়ি এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে ২ কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৮০ টাকা। একই অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২০ গ্রাম সোনা, একটি ল্যাপটপ এবং পরে অন্য একটি গুদামঘর থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৯,০০০ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ। গোটা ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রবিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মালদা থানা এলাকার মঙ্গলবাড়িতে যৌথ অভিযান চালায় মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ। তদন্তকারীরা ফ্ল্যাটে ঢুকতেই চোখে পড়ে থরে থরে সাজানো ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল। বিপুল পরিমাণ নগদের কারণে টাকা গোনার জন্য তিনটি মেশিন আনা হয়। সোমবার ভোর পর্যন্ত চলে নোট গণনার কাজ। শেষ পর্যন্ত পুলিশ জানায়, মোট ২ কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৮০ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

    একই রাতে গুদামেও অভিযান, উদ্ধার ৯ হাজার বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ

    ফ্ল্যাটে তল্লাশির পাশাপাশি মালদার খইহট্টা এলাকার একটি গুদামঘরেও অভিযান চালায় তদন্তকারী দল। ভোর প্রায় ৪টে পর্যন্ত সেখানে তল্লাশি চলে। সেখান থেকে উদ্ধার হয় ৯,০০০ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই নিষিদ্ধ সিরাপ পাচার চক্রের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিপুল নগদের যোগ থাকতে পারে। যদিও অর্থের উৎস এবং পাচারচক্রের সঙ্গে ধৃতদের নির্দিষ্ট ভূমিকা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তিন জন গ্রেফতার, কারা তারা?

    এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে পিন্টু সরকার, গোপাল চাকি এবং সুশান্ত হালদার নামে তিন জনকে। পুলিশ জানিয়েছে, তিন জনেরই বাড়ি মালদা থানা এলাকায়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অর্থের উৎস, নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের নেটওয়ার্ক এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে।

    কীভাবে মিলল এই ফ্ল্যাটের খোঁজ?

    তদন্তকারীদের দাবি, এই অভিযানের সূত্রপাত গত মাসে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মেহেন্দ্রীপাড়া এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ উদ্ধারের ঘটনার পর। সেই সময় প্রায় ১,৫০০ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত চার জনকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেই মালদার মঙ্গলবাড়ির এই ফ্ল্যাটের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। এরপর তাঁদের সঙ্গে নিয়েই রবিবার রাত প্রায় ৮টা নাগাদ ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়।

    কার ফ্ল্যাট থেকে মিলল টাকা?

    পুলিশের দাবি, যে আবাসনে অভিযান চালানো হয়েছে, তার মালিক দিলীপ সাহা। ভবনের তিনতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন ধৃত পিন্টু সরকার। তদন্তে জানা গিয়েছে, পিন্টুর একটি ওষুধের ব্যবসা রয়েছে। তবে সেই ব্যবসার আড়ালে নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের সঙ্গে কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পুলিশ বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তদন্ত করছে। এছাড়াও তদন্তকারীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার উৎস সম্পর্কে ধৃতরা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। সেই কারণেই আর্থিক লেনদেন, ব্যাংক হিসাব, ব্যবসায়িক নথি এবং ডিজিটাল তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    বীরভূমের ঘটনার পর ফের চাঞ্চল্য

    কয়েক দিন আগেই বীরভূমে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর আত্মীয়ের বাড়ি থেকে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটার আগেই মালদায় আবার কোটি টাকার নগদ উদ্ধার হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে অবৈধ অর্থের উৎস এবং আন্তঃজেলা পাচারচক্রের বিস্তার নিয়ে।

    তদন্তে একাধিক দিক

    রাজ্যে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরেই নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অতীতেও একাধিকবার ফেনসিডিল-সহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ উদ্ধার হয়েছে এবং পাচারের অভিযোগে বহুজন গ্রেফতার হয়েছে। তবে কাশির সিরাপ পাচারের তদন্তে সূত্র ধরে একসঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে অত্যন্ত বিরল বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, এই চক্রের আর্থিক লেনদেন, পাচারের রুট, সম্ভাব্য সহযোগী এবং উদ্ধার হওয়া নগদের প্রকৃত উৎস—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Suvendu Adhikari: পুলিশের জন্য মেগা ঘোষণা! ১ লক্ষ নিয়োগ, পুজোতেই ২০% ডিএ, ভবানী ভবনে বড় বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: পুলিশের জন্য মেগা ঘোষণা! ১ লক্ষ নিয়োগ, পুজোতেই ২০% ডিএ, ভবানী ভবনে বড় বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য পুলিশের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, কর্মীসঙ্কট এবং পরিকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে একের পর এক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ভবানী ভবনে (Bhawani Bhavan) পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক এবং কর্মীবান্ধব করে তুলতেই এই পদক্ষেপ। নতুন নিয়োগ, ডিএ বৃদ্ধি, সপ্তম বেতন কমিশন, আধুনিক তদন্তকারী সংস্থা, বদলি নীতি- সব মিলিয়ে পুলিশের জন্য কার্যত একগুচ্ছ ‘মেগা প্যাকেজ’-এর ঘোষণা করেন তিনি। নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী খালি হাতে ভবানী ভবনে আসবেন, সেটা হয় নাকি! পরে আরও দেব, আপনারা ভালোভাবে কাজ করুন।”

    ১ লক্ষ নতুন পুলিশকর্মী নিয়োগ (Police Recruitment)

    রাজ্যে পুলিশের ঘাটতি পূরণে আগামী কয়েকটি অর্থবর্ষে ধাপে ধাপে ১ লক্ষ নতুন পুলিশকর্মী নিয়োগ (Police Recruitment) করা হবে বলে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্য, দেশের অন্যান্য বড় রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে প্রতি লক্ষ জনসংখ্যায় পুলিশকর্মীর সংখ্যা এখনও অনেক কম। সেই ঘাটতি পূরণ করতেই এই বৃহৎ নিয়োগ প্রক্রিয়া (Police Recruitment) শুরু হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় আটকে থাকা প্রায় ৪৭ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের পথও এখন পরিষ্কার। ওবিসি সংক্রান্ত আইনি জট কাটার পর দ্রুত নিয়োগ সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণ শেষ করা ১৪ হাজার কনস্টেবলকে আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই বিভিন্ন জেলায় কাজে যোগ দেওয়ানো হবে।

    পুজো থেকেই অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ (DA Hike)

    তৃণমূল সরকারের আমলে বকেয়া ডিএ নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। সরকারে আসতেই কেন্দ্র ও রাজ্যের সঙ্গে ডিএর ফারাক কমাতে প্রথম দফায় আগামী অক্টোবর (পুজোর মাস) থেকেই পুলিশকর্মীদের অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ (DA Hike)-র ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)। পাশাপাশি রাজ্য গঠিত সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশ হাতে পেলেই দ্রুত তা কার্যকর করার আশ্বাসও দেন তিনি। বহু বছর ধরে অপরিবর্তিত থাকা ১,৫০০ টাকার রেশন ভাতা বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করারও ঘোষণা করা হয়েছে, যা পুজোর সময় থেকেই কার্যকর হবে।

    এনআইএ-র আদলে গড়ে উঠছে ‘SIA’

    রাজ্যের তদন্ত ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র আদলে ‘স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি’ (SIA) গঠনের ঘোষণাও করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) দাবি, জটিল অপরাধ ও আন্তঃরাজ্য অপরাধ তদন্তে এই বিশেষ সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও দক্ষ করে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    আধুনিক পুলিশ পরিকাঠামো

    রাজ্যজুড়ে পুলিশের যানবাহন ও পরিকাঠামো উন্নয়নেও একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪ হাজার পুরনো ও বিমাহীন সরকারি পুলিশ যান ধাপে ধাপে বদলে নতুন আধুনিক গাড়ি দেওয়া হবে। এছাড়া রাজ্যের ৫৫২টি থানার মধ্যে অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০টি থানার আধুনিকীকরণের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বিশেষ অর্থ বরাদ্দের আবেদন জানানো হবে। পুলিশকর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য গুজরাতের রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অসমের তেজপুরে বিএসএফ-এর উচ্চতর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিশেষ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। নতুন ফৌজদারি আইন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণও চালু হবে।

    বদলি নীতিতে মানবিক উদ্যোগ

    পুলিশকর্মীদের দীর্ঘদিনের বদলি-সংক্রান্ত সমস্যার দিকেও নজর দিয়েছে রাজ্য সরকার। ঘোষণা অনুযায়ী-

    • মহিলা কনস্টেবলদের নিজ নিজ জেলায় পোস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে
    • মহিলা অফিসারদের পার্শ্ববর্তী জেলায় বদলির নীতি গ্রহণ করা হবে
    • যাঁরা ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজের জেলা থেকে দূরে কর্মরত, তাঁদের ধাপে ধাপে স্বজেলায় ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে

    গড়ে উঠছে অরাজনৈতিক ওয়েলফেয়ার বোর্ড

    পুলিশকর্মীদের আবাসন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, ক্রীড়া পরিকাঠামো ও সামগ্রিক কল্যাণের জন্য একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ওয়েলফেয়ার বোর্ড গঠনের কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পুলিশকর্মীদের অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যবহার না করে তাঁদের পেশাগত উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষার উপর জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি একাকী প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য কলকাতা পুলিশের পুরনো নাগরিক সহায়তা প্রকল্পও নতুন করে চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    পুলিশের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

    বক্তৃতার শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট বার্তা দেন, শক্তিশালী ও আধুনিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি যেমন চলবে, তেমনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।

  • Suvendu Adhikari: তৃণমূলের হয়ে পক্ষপাতিত্ব! এক আইপিএস-সহ ৫ পুলিশকর্তা সাসপেন্ড, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: তৃণমূলের হয়ে পক্ষপাতিত্ব! এক আইপিএস-সহ ৫ পুলিশকর্তা সাসপেন্ড, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার বর্ধিত বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে, শনিবার বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। এক আইপিএস -সহ মোট পাঁচ পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড (IPS Officer Suspended) করার কথা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁদের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সরকারের আমলে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের সঙ্গে যুক্ত কাজের অভিযোগ রয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) বক্তব্য

    এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “আগের সরকারের সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ প্রশাসনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল সরকারের আমলে একাধিক ক্ষেত্রে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। সেই সময় সনাতন ধর্মের অনুসারীদের অনুভূতিতেও আঘাত লেগেছিল।” পাশাপাশি, বিজেপি সরকার যে কোনওভাবেই প্রশাসনের রাজনৈতিক অপব্যবহার বা দুর্নীতি বরদাস্ত করবে না, তাও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। সুশাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। বিধানসভায় দেওয়া বক্তব্যের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও একই বার্তা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

    এক আইপিএস-সহ পাঁচ পুলিশকর্তা সাসপেন্ড

    সাসপেন্ড হওয়া পাঁচ পুলিশ আধিকারিকের মধ্যে রয়েছেন-  কোটেশ্বর রাও (IPS Officer Suspended)। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার পুলিশ (Diamond Harbour Police) জেলার প্রাক্তন পুলিশ সুপার। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত ছিলেন কোটেশ্বর। সাসপেন্ড করা হয়েছে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ থানার প্রাক্তন ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন, কলকাতা পুলিশের বড়তলা থানার প্রাক্তন অফিসার-ইন-চার্জ সুবর্ণ দত্ত চৌধুরী, বড়তলা থানার প্রাক্তন সাব-ইনস্পেক্টর সাধন পাণ্ডে এবং নদিয়ার কৃষ্ণনগর থানার প্রাক্তন ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ অমলেন্দু বিশ্বাস।

    ক্ষমতায় এসেই শুরু হয়েছিল কড়া পদক্ষেপ

    এটাই নতুন সরকারের প্রথম প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়, চলতি বছরের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পরপরই শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ নেন। ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই তিনি আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে তিন আইপিএস আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছিলেন। তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত কুমার গোয়েল, তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার অভিষেক গুপ্ত ও তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। শুধু সাসপেন্ড করাই নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে চলতি মাসের শুরুতে রাজ্য সরকার ওই তিন আইপিএস আধিকারিকের সাসপেনশনের মেয়াদ আরও ১২০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

    সরকারের বার্তা

    প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও আইনের শাসন বজায় রাখাই যে বর্তমান বিজেপি সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায়, তা আবারও স্পষ্ট মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) এই পদক্ষেপে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ করা বা সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বার্তাও আরও একবার স্পষ্ট করে দিল শনিবারের এই সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত।

  • Debraj Chakraborty Arrested: অযোধ্যা পাহাড়ের হোটেলে লুকিয়েও শেষরক্ষা হল না! এসটিএফের জালে দেবরাজ চক্রবর্তী

    Debraj Chakraborty Arrested: অযোধ্যা পাহাড়ের হোটেলে লুকিয়েও শেষরক্ষা হল না! এসটিএফের জালে দেবরাজ চক্রবর্তী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নজরে ছিলেন তিনি। কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী। শেষ পর্যন্ত সেই লুকিয়ে থাকাও কাজে এল না। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের যৌথ অভিযানে পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে।

    কীভাবে ধরা হল অভিষেক-ঘনিষ্ঠ দেরবাজকে?

    পুলিশ সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট-গোপালপুরের বাসিন্দা দেবরাজ চক্রবর্তী পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন। স্থানীয় রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করে তদন্তকারীরা। এরপর বিশেষ দল গঠন করে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। দেবরাজ চক্রবর্তীকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে বাগুইআটি থানায় এক প্রোমোটারের অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে সিন্ডিকেট চালানো, তোলাবাজি, জমি দখল, বেআইনি সম্পত্তি লেনদেন এবং ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার সঙ্গে যুক্ত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ।

    আগাম জামিন খারিজ হতেই গা-ঢাকা

    এর আগে হাইকোর্ট থেকে আইনি সুরক্ষা পেলেও দ্বিতীয় দফার শুনানিতে আদালত দেবরাজের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী তথা গায়িকা ও প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি আগাম জামিন পেলেও দেবরাজের ক্ষেত্রে আদালত সেই সুবিধা দেয়নি। এরপর থেকেই তাঁর গ্রেফতার প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছিল। এর পরেই, জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী।

    দেবরাজ গ্রেফতার হতেই উচ্ছ্বাস বাগুইআটিতে

    দেবরাজ গ্রেফতার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাগুইআটি এলাকায় উচ্ছ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বাজি ফাটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজারহাট-গোপালপুরের বর্তমান বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারিও। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অভিযোগ করে আসছিলেন যে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দেবরাজ চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মীয়-পরিজন ও বেনামি ব্যক্তিদের নামে হস্তান্তর করা হয়েছিল, যাতে প্রকৃত সম্পদের হিসাব গোপন রাখা যায়।

    ভয় দেখানো, তোলাবাজি, জমি দখলের অভিযোগ

    হাইকোর্টে জামিন শুনানির সময় রাজ্যের পক্ষ থেকেও একাধিক বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছিল। সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, রাজারহাট-নিউটাউন এবং সংলগ্ন এলাকায় প্রোমোটারদের ভয় দেখানো, তোলাবাজি এবং জোর করে জমি দখলের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে তোলা হয়েছে। আদালতে আরও দাবি করা হয়, ভোটের আগে কালিম্পংয়ের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট-সহ একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।

    জমি কেনাবেচায় ভয়ঙ্কর কারচুপি!

    তদন্তকারীদের দাবি, সম্পত্তি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত সুপরিকল্পিত আর্থিক কারচুপির প্রমাণ মিলছে। অভিযোগ, বাজারদরের তুলনায় অনেক কম মূল্য দেখিয়ে জমি বা সম্পত্তি হস্তান্তর করা হত। পরে নির্দিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে সেই জমিতে আবাসন প্রকল্প তৈরি করে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করা হতো। আদালতে এমনও দাবি করা হয়, প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা বাজারমূল্যের একটি জমি নথিতে মাত্র ১০ লক্ষ টাকায় দেবরাজের নামে হস্তান্তর দেখানো হয়েছিল। এই আর্থিক লেনদেনের নেপথ্যে বৃহত্তর কোনও চক্র সক্রিয় থাকতে পারে বলেও তদন্তকারীদের অনুমান।

    রাজনীতিতে আচমকা উত্থান….

    দেবরাজ চক্রবর্তীর রাজনৈতিক জীবনও যথেষ্ট ঘটনাবহুল। যুব তৃণমূল কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হলেও ২০১৩ ও ২০১৫ সালের পুরসভা নির্বাচনে দলীয় টিকিট না পেয়ে তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন। ২০১৫ সালে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে বিধাননগর পুরনিগমের ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়ী হয়ে কাউন্সিলর হন। পরে আবার তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সি ২০২১ সালে রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হন। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারির কাছে পরাজিত হন। বর্তমানে দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পত্তি এবং অর্থপাচার-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগের তদন্ত চলছে। আদালতের রক্ষাকবচ সরে যাওয়ার পর থেকেই তাঁকে ধরতে তল্লাশি শুরু করেছিল পুলিশ। শেষ পর্যন্ত পুরুলিয়া থেকে তাঁর গ্রেফতার রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

  • West Bengal Police: টেকনোলজি থেকে এআই, হাইটেক হচ্ছে বাংলা পুলিশ! রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মেগা চুক্তি

    West Bengal Police: টেকনোলজি থেকে এআই, হাইটেক হচ্ছে বাংলা পুলিশ! রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মেগা চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রযুক্তি থেকে দক্ষতা- সবদিক দিয়ে রাজ্যের পুলিশকে (West Bengal Police) আরও আধুনিক করতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। এবার রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Rashtriya Raksha University – RRU)সঙ্গে মউ (MoU) স্বাক্ষর করল রাজ্য পুলিশ। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) উপস্থিতিতে সেই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। রাজ্য পুলিশের (State Police) সার্বিক উন্নয়নের জন্যই এই চুক্তি বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা আরও উন্নত এবং প্রযুক্তিনির্ভর হবে বলে জানান তিনি। বুধবার নবান্নে এই হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তাঁর সরকার পশ্চিমবঙ্গে ‘শাসকের আইন নয়, আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠা করতে দায়বদ্ধ।

    তৃণমূল সরকারের দীর্ঘদিনের ‘উদাসীনতা’কে কটাক্ষ

    এদিন পুলিশ বাহিনীর আধুনিকীকরণে বিগত তৃণমূল সরকারের দীর্ঘদিনের ‘উদাসীনতা’ ও খামতিকে তীব্র নিশানা করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এই আধুনিক প্রশিক্ষণের প্রস্তাব প্রথম এসেছিল ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে। কিন্তু তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তা নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেনি এবং ফাইল আটকে রেখেছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে আলোচনার পর দ্রুত এই চুক্তি সম্পন্ন করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “অতীতে কলকাতা পুলিশের তুলনা করা হত স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সঙ্গে। কিন্তু আগের সরকার পুলিশকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত জনবল না দেওয়ায় সেই গৌরব হারিয়েছিল। আমরা সেই হারানো সম্মান ফিরিয়ে আনব।”

    সামরিক বাহিনীর মতো শক্তিশালী হবে পুলিশ

    শুভেন্দু বলেন, “আমরা সরকারে আসার পরে এই মউ স্বাক্ষর করার সিদ্ধান্ত নিই। তদন্তের স্বার্থে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়ার পাশপাশি আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স (AI) ব্যবহার করার সুযোগ থাকবে। এই কোর্স করার জন্য পুলিশের সাব ইনস্পেক্টর থেকে শুরু করে আইপিএস পদমর্যাদার অফিসারেরা এবং যাঁরা সন্ত্রাস-বিরোধিতায় কাজ করতে চান, তাঁরা এই কোর্স করতে পারবেন। এতে রাজ্য এবং কলকাতা পুলিশের তদন্ত, সাইবার অপরাধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমনে সাহায্য করবে।” শুভেন্দু এদিন উল্লেখ করেন, আগে এ রাজ‍্যের পুলিশের বিশেষ সুনাম ছিল গোটা বিশ্বে। কিন্তু গত কয়েক বছরে পুলিশি ব্যবস্থাই তলানিতে চলে গিয়েছে। পুলিশকে সামরিক বাহিনীর মতো শক্তিশালী করা হবে বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    কী কী আধুনিক প্রশিক্ষণ পাবে পুলিশ?

    এই চুক্তির আওতায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল থেকে শুরু করে সাব-ইন্সপেক্টর, ইন্সপেক্টর, ডব্লিউবিপিএস এবং আইপিএস অফিসাররা বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ পাবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল: সাইবার অপরাধ তদন্ত ও ডিজিটাল ফরেনসিক। ডার্ক ওয়েব নজরদারি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর পুলিশিং। সন্ত্রাস দমন, সীমান্ত গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং উপকূলীয় নিরাপত্তা। মানবপাচার বিরোধী অভিযান, ড্রোন পুলিসিং এবং কে-নাইন ডগ স্কোয়াড প্রশিক্ষণ।

    পুলিশে আরও নিয়োগ

    এদিন পুলিশে আরও নিয়োগ করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৬ হাজার কনস্টেবল ট্রেনিং নিয়ে বসে আছেন। তাঁদের জন্য নিয়োগ শুরু করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন এদিন। মেয়েদের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন তিনি। এর পাশাপাশি, তিনি জানান, রাজ্যের প্রতিটি থানাকে ধাপে ধাপে ‘১১২’ জরুরি পরিষেবার আওতায় আনা হবে এবং তৈরি করা হবে কুইক রেসপন্স টিম। রাজ্যপাল স্বয়ং এই বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে এনেছিলেন বলে জানান তিনি।

    পুলিশেরও রক্ত ঝড়বে না!

    রাজ্যের মানুষকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “জনগণের নিরাপত্তার পাশাপাশি আমাদের পুলিশ কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব। নতুন পরিকাঠামোয় আমাদের পুলিশ কর্মীদের আর অন্যায়ভাবে রক্ত ঝরবে না, হাসপাতালে যেতে হবে না। পুলিশ কর্মীদের অন ডিউটি নিরাপত্তা ও সম্মান সুনিশ্চিত রাখাটাই আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিলেন যে, রাজ্যে অপরাধ দমন ও পুলিশি ব্যবস্থার ভোলবদল করাই তাঁর উদ্দেশ্য। ফলতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিককালে ডিউটিরত পুলিশ কর্মীদের ওপর হওয়া হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ সুরক্ষার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এই মউ-এর সুফল

    মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, উত্তরপ্রদেশ, অসম, হরিয়ানা-সহ দেশের বেশিরভাগ রাজ্যই ইতিমধ্যে রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এই মউ স্বাক্ষর করে ফেলেছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুলিশ প্রশাসনে অত্যাধুনিক ও উন্নতমানের বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণের যে বিপুল প্রয়োজন রয়েছে, এই মউ-এর মাধ্যমে তা এবার এ রাজ্যে অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব হবে। এই চুক্তির ফলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশ – দুই বাহিনীই প্রভূতভাবে উপকৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

     

     

     

     

     

  • Matangini Hazra Rani Shiromani: বাংলায় প্রথম হচ্ছে দুই মহিলা স্টেট পুলিশ রিজার্ভ ফোর্স ব্যাটালিয়ন, নামকরণ মাতঙ্গিনী-রানি শিরোমণির নামে

    Matangini Hazra Rani Shiromani: বাংলায় প্রথম হচ্ছে দুই মহিলা স্টেট পুলিশ রিজার্ভ ফোর্স ব্যাটালিয়ন, নামকরণ মাতঙ্গিনী-রানি শিরোমণির নামে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইনশৃঙ্খলা-রক্ষা বাহিনীতে আরও বেশি করে মহিলাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকার। রাজ্যে এই প্রথম দু’টি বিশেষ মহিলা স্টেট পুলিশ রিজার্ভ ফোর্স ব্যাটালিয়ন (SPRF Battalions) গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দুই ব্যাটালিয়নের নাম রাখা হচ্ছে বাংলার দুই বীর স্বাধীনতা সংগ্রামী মাতঙ্গিনী হাজরা এবং রানি শিরোমণির (Matangini Hazra Rani Shiromani) নামে। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এবং বিশেষত নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় মহিলা পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা।

    নয়া মহিলা ব্যাটালিয়নের কাজ (Matangini Hazra Rani Shiromani)

    প্রশ্ন হল, কী কী দায়িত্ব পালন করবে নতুন মহিলা ব্যাটালিয়ন? সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিশেষ মহিলা ব্যাটালিয়নগুলির প্রধান দায়িত্বের মধ্যে থাকবে— নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ, দাঙ্গা-বিরোধী অভিযান চালানো, এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও উদ্ধার সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম মহিলা পুলিশ সদস্যদের দাঙ্গা দমন অভিযানে মোতায়েন করা হবে। এর মাধ্যমে রাজ্যের পুলিশ ব্যবস্থায় নারীদের ভূমিকা আরও ডানা মেলতে চলেছে। জানা গিয়েছে, মাতঙ্গিনী হাজরা মহিলা এসপিআরএফ ব্যাটালিয়নের জন্য উপযুক্ত জমি ও প্রশাসনিক সুবিধা বিবেচনা করে জায়গা বেছে নেওয়া হবে।

    মহিলা কর্মসংস্থানের নয়া সুযোগ

    এদিকে, রানি শিরোমণি মহিলা এসপিআরএফ ব্যাটালিয়ন গড়ে তোলা হবে ব্যারাকপুর পুলিশ ব্রিগেড এলাকার এসএপি (SAP) ৮ম ব্যাটালিয়নের যে ক্যাম্পাস রয়েছে, সেখানে। সেখানে আগে থেকেই যে পরিকাঠামো রয়েছে, সেটি ব্যবহার করে দ্রুত এই ইউনিটকে কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র নারীদের জন্য পৃথক পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠন রাজ্যে মহিলা কর্মসংস্থানের নয়া সুযোগ তৈরি করবে। এর (SPRF Battalions) পাশাপাশি নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ মোকাবিলা, সংবেদনশীল পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ আরও নিবিড় হবে বলেই আশা ওয়াকিবহাল মহলের। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ নারী (Matangini Hazra Rani Shiromani) ক্ষমতায়নের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কার্যক্ষমতা এবং জনসুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

     

  • UP 112 Model: মাত্র ৬.৫ মিনিটে পুলিশের সাড়া! উত্তরপ্রদেশের এই মডেলেই নজর পশ্চিমবঙ্গের

    UP 112 Model: মাত্র ৬.৫ মিনিটে পুলিশের সাড়া! উত্তরপ্রদেশের এই মডেলেই নজর পশ্চিমবঙ্গের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জরুরি পরিষেবা ও দ্রুত পুলিশি সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশের ‘ইউপি-১১২’ (UP-112) মডেল এখন দেশের বিভিন্ন রাজ্যের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। সেই মডেল কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করতে সম্প্রতি লখনউ সফরে গেল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের (West Bengal Police) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। রাজ্যের জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) সুকেশ জৈন। লখনউয়ে ‘ইউপি-১১২’ সদর দফতরে গিয়ে তাঁরা কেন্দ্রীয় কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল ব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর পরিকাঠামো এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার কার্যপ্রণালী খতিয়ে দেখেন।

    কীভাবে কাজ করে ‘ইউপি-১১২’?

    উত্তরপ্রদেশের জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থা ‘ইউপি-১১২’ (UP-112) বর্তমানে দেশের অন্যতম সফল মডেল হিসেবে পরিচিত। অপরাধ, দুর্ঘটনা, চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি, নারী নিরাপত্তা কিংবা সাধারণ মানুষের বিপদের মুহূর্তে একক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেয় এই পরিষেবা। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিদের জানানো হয়, ‘ইউপি-১১২’-এ কোনও জরুরি ফোনকল যাতে উপেক্ষিত না হয়, তার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। কোনও কল অপারেটর ব্যস্ত থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই কল অন্য উপলব্ধ অপারেটরের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হয়।

    মুহূর্তে শনাক্ত হয় কলারের অবস্থান

    প্রতিনিধিদলকে দেখানো হয় কীভাবে সিস্টেমটি কলারের অবস্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে নিকটবর্তী পুলিশের কাছে তথ্য পাঠায়। এর ফলে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছতে পারে পুলিশ। এছাড়াও, প্রতিটি জরুরি কলের জন্য ডিজিটাল রেকর্ড তৈরি করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ নথিভুক্ত থাকে। ফলে পুরো প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয়ে ওঠে, যা সাধারণ মানুষের আস্থাও বাড়ায়।

    গড় সাড়া দেওয়ার সময় মাত্র সাড়ে ৬ মিনিট

    ‘ইউপি-১১২’ (UP-112) কর্তৃপক্ষ প্রতিনিধিদলকে জানায়, উন্নত প্রযুক্তি ও সুসংহত ব্যবস্থাপনার কারণে তাদের গড় প্রতিক্রিয়া সময় প্রায় ৬.৫ মিনিট। বিশাল ভৌগোলিক বিস্তৃতির উত্তরপ্রদেশেও এই দ্রুত পরিষেবা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে।

    যোগী সরকারের পুলিশি সংস্কারের ফল

    বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)-এর আমলে উত্তরপ্রদেশে যে পুলিশি সংস্কার ও প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ হয়েছে, তারই অন্যতম সফল ফল ‘ইউপি-১১২’ (UP-112)। এক্ষেত্রে নজরদারি ব্যবস্থা, জরুরি পরিষেবা, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং পুলিশ পরিকাঠামোয় ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে জননিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গে কি চালু হবে একই মডেল?

    সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ নিজেদের জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন সফল মডেল পর্যালোচনা করছে। সেই প্রেক্ষিতেই এই সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এখনও পশ্চিমবঙ্গে সম্পূর্ণভাবে ‘ইউপি-১১২’ (UP-112) মডেল চালুর বিষয়ে কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি, তবে লখনউ সফর থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ও তথ্য ভবিষ্যতে রাজ্যের জরুরি পরিষেবা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

  • Political Violence Extortion Case: উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক খোকন দাস, কেন পাকড়াও জানেন?

    Political Violence Extortion Case: উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক খোকন দাস, কেন পাকড়াও জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক তৃণমূলের খোকন দাস গ্রেফতার। আজ, রবিবার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ উত্তরপ্রদেশের মুঘলসরাইয়ের পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় পার্ক এলাকা থেকে পাকড়াও করে (Political Violence Extortion Case) তাঁকে। হুমকি, তোলাবাজি এবং রাজনৈতিক হিংসায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে খোকনকে (Khokan Das)। অভিযোগগুলি সেই সময়কার, যখন ক্ষমতায় ছিল খোকনের দল তৃণমূল।

    খোকনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Political Violence Extortion Case)

    পুলিশ সূত্রে খবর, মুলতুবি মামলার বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর রবিবার সকালে আটক করা হয় তাঁকে। ট্রানজিট রিমান্ডের জন্য উত্তরপ্রদেশের স্থানীয় একটি আদালতে তোলা হয় খোকনকে। তৃণমূলের প্রাক্তন এই বিধায়ককে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। ২০২১ সালে তৃণমূলের প্রতীকে জিতে বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক হন খোকন। তার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনোত্তর রাজনৈতিক হিংসার একাধিক অভিযোগ ওঠে। বামেদের হটিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় আসায় সেই সময় পুলিশ খোকনের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ। রাজনৈতিক হিংসার পাশাপাশি তৃণমূলের এই প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগও রয়েছে।

    ‘আমি এখন বিজেপি নেতা’

    জানা গিয়েছে, ছাব্বিশের বিধান নির্বাচনে তৃণমূল গোহারা হেরে যেতেই খোকন নিজেকে বিজেপি নেতা বলে পরিচয় দিতে শুরু করেন। ভোটের ফল ঘোষণার পর তাঁর একটি অডিও কথোপকথন ভাইরাল হয়। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “তৃণমূল কংগ্রেস হেরে যাওয়ার পর এসব নিয়ে এত হইচই করছেন! মনে রাখবেন, আমি এখন বিজেপি নেতা।” এরপরেই তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হয় অভিযোগ। পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান খোকন। শেষমেশ রবিবার বর্ধমান জেলা পুলিশের একটি দল উত্তরপ্রদেশের মুঘলসরাইয়ের দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে তাঁকে।

    গ্রেফতার আরও এক তৃণমূল নেতা

    খোকনের বিরুদ্ধে অতীতেও তোলাবাজি এবং জমি-সংক্রান্ত অনিয়ম-সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। তদন্ত এড়ানোর চেষ্টাও করেছেন তিনি (Political Violence Extortion Case)। তবে এবার আর শেষরক্ষা হল না। উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার খোকন। এই ঘটনায় পূর্ব বর্ধমানে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। এদিকে, এদিনই পুলিশ গ্রেফতার করেছে পূর্বস্থলী উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়কেও। তাঁর (Khokan Das) বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণের ত্রিপল এবং ফুটবল উদ্ধার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। কাটোয়ার এক শীর্ষস্থানীয় তৃণমূল নেতাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে আর্থিক অনিয়মের একটি (Political Violence Extortion Case) মামলায়।

     

  • Chandranath Rath Murder Case: চন্দ্রনাথ রথ খুনে বড় মোড়, তদন্তভার নিল সিবিআই, গঠন বিশেষ সিট

    Chandranath Rath Murder Case: চন্দ্রনাথ রথ খুনে বড় মোড়, তদন্তভার নিল সিবিআই, গঠন বিশেষ সিট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের (Chandranath Rath Murder Case) তদন্তভার আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে নিল সিবিআই। রাজ্য পুলিশের সুপারিশের ভিত্তিতেই এই মামলার তদন্তভার কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে সিবিআই তদন্তের (CBI Investigation) দায়িত্ব গ্রহণ করছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই মামলার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিক পঙ্কজ কুমার সিং।

    সিবিআই সিট গঠন

    সিবিআই সূত্রে খবর, দিল্লি, পটনা, রাঁচি, ধানবাদ ও লখনউ-সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মোট সাতজন অভিজ্ঞ অফিসারকে নিয়ে গঠিত হয়েছে এই বিশেষ টিম। কলকাতা জ়োনের যুগ্ম নির্দেশকের তত্ত্বাবধানে কাজ করবে দলটি। তদন্তের প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও আধিকারিক যুক্ত করা হতে পারে। ইতিমধ্যেই মধ্যমগ্রাম থানার পাশাপাশি সিআইডি-র হাতে থাকা সমস্ত নথি দ্রুত সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    গ্রেফতার তিন অভিযুক্ত

    উল্লেখ্য, গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন চন্দ্রনাথ রথ। তদন্তে জানা গিয়েছে, তাঁর গাড়ির সামনে আচমকা একটি চারচাকা গাড়ি এসে দাঁড়ায়, ফলে তাঁর গাড়ি থেমে যায়। ঠিক সেই সময় দুই দিক থেকে বাইকে চেপে আসে হামলাকারীরা এবং চন্দ্রনাথ ও তাঁর চালককে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চন্দ্রনাথের। গুরুতর জখম চালক এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম ময়ঙ্করাজ মিশ্র, ভিকি মৌর্য ও রাজ সিং। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের মধ্যে অন্তত একজন পেশাদার শুটার। ময়ঙ্ক ও ভিকিকে বিহারের বক্সার জেলা থেকে এবং রাজকে উত্তরপ্রদেশের বালিয়া থেকে ধরা হয়েছে। আদালত ধৃতদের ১৩ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

    ৮ থেকে ৯ জন জড়িত!

    প্রথমে মামলার তদন্তে রাজ্য পুলিশ একটি সিট গঠন করেছিল, যেখানে এসটিএফ ও সিআইডি-র আধিকারিকরাও যুক্ত ছিলেন। সেই টিমই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, গোটা ঘটনায় মোট ৮ থেকে ৯ জন জড়িত থাকতে পারে। খুনে ব্যবহৃত গাড়িটি ঝাড়খণ্ড থেকে আনা হয়েছিল বলেও সন্দেহ। ওই গাড়ি থেকে বালি টোল প্লাজ়ায় অনলাইনে পেমেন্টের সূত্র ধরেই অভিযুক্তদের হদিশ মেলে বলে জানা গিয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত, ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং একাধিক সূত্রের ভিত্তিতে বিহার ও উত্তরপ্রদেশে অভিযান চালানো হয়েছিল। এবার এই বহুচর্চিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দায়িত্বে সিবিআই।

  • Assembly Election 2026: রাজ্য পুলিশে ফের রদবদল কমিশনের, এক ধাক্কায় সরানো হল ২ এডিজি, ১২ সুপারকে

    Assembly Election 2026: রাজ্য পুলিশে ফের রদবদল কমিশনের, এক ধাক্কায় সরানো হল ২ এডিজি, ১২ সুপারকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য পুলিশে ফের রদবদল। এবার নির্বাচন কমিশন (Assembly Election 2026) এক ধাক্কায় বদল করে দিল রাজ্যের ১২ জন পুলিশ সুপারকে (Election Commission)। সরানো হয়েছে কলকাতার ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কেও। সরানো হয়েছে চার পুলিশ কমশনারেটের কমিশনার, এডিজি পদমর্যাদার দু’জনকেও। ইন্দিরার জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইয়েলওয়াড় শ্রীকান্ত জগন্নাথ রাওকে। বদলে দেওয়া হল রাজ্যের ১২ পুলিশ জেলার সুপারকেও।

    এসপি বদল (Assembly Election 2026)

    বীরভূমের পুলিশ সুপার করা হয়েছে সূর্যপ্রতাপ যাদবকে। তিনি ২০১১ ব্যাচের আইপিএস। এই জেলার পুলিশ সুপার ছিলেন আমনদীপ। কোচবিহারের এসপি সন্দীপ কাররাকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২০১৬ ব্যাচের আইপিএস জসপ্রীত সিংকে। বারাসত পুলিশ জেলার নয়া এসপি হলেন ২০১২ ব্যাচের আইপিএস মিস পুষ্পা। এখানে ছিলেন প্রিয়ব্রত রায়। এক সময় কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) ছিলেন প্রিয়ব্রত। সরানো হয়েছে ডয়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার সুপারকেও। বিশপ সরকারকে সরিয়ে এই পদে বসানো হয়েছে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (সদর) ঈশানী পালকে। ইসলামপুর পুলিশ জেলার সুপার জোবি থমাসকে সরিয়ে ওই পদে বসানো হয়েছে ২০১৪ ব্যাচের আইপিএস রাকেশ সিংকে। মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার এসপি ধৃতিমান সরকারকে সরিয়ে বসানো হয়েছে ২০১৩ ব্যাচের আইপিএস সচিনকে।

    কাকে, কোথায় সরানো হল

    বেলডাঙায় অশান্তির পর সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল সানি রাজকে। পাঠানো হয়েছিল এসবিতে। মঙ্গলবার কমিশন তাঁকে পাঠিয়ে দিলেন হুগলি (গ্রামীণ)-এর পুলিশ সুপার করে। বসিরহাট পুলিশ জেলার সুপার আরিশ বিলালকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২০১৭ ব্যাচের আইপিএস অলকানন্দা ভাওয়ালকে। মালদার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অনুপম সিংকে। পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পারিজাত বিশ্বাসকে সরিয়ে ওই পদে বসানো হয়েছে ২০১২ ব্যাচের আইপিএস অংশুমান সাহাকে। পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পলাশ ঢালিকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২০১৫ ব্যাচের আইপিএস পাপিয়া সুলতানাকে। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুপার হোসেন মেহেদি রহমানকে সরিয়ে বসানো হল ২০১৬ ব্যাচের আইপিএস সুরিন্দর সিংকে। পুলিশ সুপার ছাড়াও বদল করা হয়েছে দু’জায়গার এডিজিকেও। দক্ষিণবঙ্গের নয়া এডিজি হয়েছেন ১৯৯৭ ব্যাচের আইপিএস রাজেশকুমার সিং (Election Commission)। আগে এই পদে ছিলেন রাজীব মিশ্র। উত্তরবঙ্গের এডিজি করা হয়েছে ১৯৯৭ ব্যাচের আইপিএস কে জয়রামনকে (Assembly Election 2026)। ওই পদে ছিলেন সুকেশ জৈন।

    পুলিশ কমিশনারও বদল

    চার কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনারও বদল করা হয়েছে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের নয়া সিপি হয়েছেন প্রণব কুমার। সুনীল কুমার চৌধুরীকে সরিয়ে বসানো হয়েছে তাঁকে। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের নয়া সিপি হয়েছেন অখিলেশ চতুর্বেদী। এই পদে ছিলেন আকাশ মাঘারিয়া। ব্যারাকপুরের নয়া সিপি হয়েছেন অমিতকুমার সিং। আগে ছিলেন প্রবীণ ত্রিপাঠী। সুশীলকুমার যাদবকে বসানো হয়েছে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের সিপি পদে। আগে এই পদে ছিলেন কোটেশ্বর রাও।প্রসঙ্গত, সোমবারই রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডেকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

    মমতার চিঠির পাল্টা বদলির নির্দেশ

    এদিকে, রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই বা রাজ্যের মতামত না নিয়েই পুলিশ-প্রশাসনে রদবদলে যারপরনাই ক্ষুব্ধ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এজন্য তিনি সোমবার রাতে চিঠি দেন জাতীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। চিঠিতে তিনি লেখেন, আগে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের তরফে রাজ্যের কাছে তিনজনের একটি প্যানেল চেয়ে পাঠানো হত। সেই তালিকা থেকেই কমিশন একজনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এবার সেই প্রচলিত রীতি মেনে চলা হয়নি। কমিশনের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর আর্জি, ভবিষ্যতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হোক এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক রীতি অনুসরণ করা হোক (Assembly Election 2026)। মুখ্যমন্ত্রীর এই চিঠি লেখার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নবান্নে চলে এল কমিশনের তরফে নতুন বদলির নির্দেশ (Election Commission)।

     

LinkedIn
Share