Tag: west bengal political news

  • Suvendu Slams Mamata: ‘‘এত চুরি করেছেন…’’, মমতার গাড়িতে হামলাকে ‘জনরোষ’ বললেন শুভেন্দু, হালিশহর গেলেন মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Slams Mamata: ‘‘এত চুরি করেছেন…’’, মমতার গাড়িতে হামলাকে ‘জনরোষ’ বললেন শুভেন্দু, হালিশহর গেলেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ, কাদা ও জুতো ছোড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। রবিবারের ঘটনার পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাস’ চালানোর অভিযোগ তুলেছেন। পাল্টা মমতার বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, মমতার গাড়িকে ঘিরে যে বিক্ষোভ হয়েছিল, তা বিজেপির পরিকল্পিত নয়, বরং স্থানীয় মানুষের ‘স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষ’।

    কী বলেছেন শুভেন্দু?

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এদিন মুখ খোলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “উনি জেড প্লাস ক্যাটিগরি পান। আমরা প্রত্যাহার করিনি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ১৫ বছর ছিলেন। বয়সও হয়েছে। ওনাকে যতটা সম্ভব পূর্ণ নিরাপত্তা এবং ওনার সম্মান রাখা উচিত। সে কাজ পুলিশ করেছে। পুলিশ খারাপ কিছু করেনি।” রবিবারের ঘটনাকে সামনে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপির ‘সন্ত্রাস’ চলছে। নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই পুলিশকে ব্যবহার করে ‘লুম্পেন’দের জড়ো করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মমতার গাড়িতে কাদা ও জুতো ছোড়ার ঘটনায় বিজেপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও শুভেন্দুর দাবি, ঘটনাস্থলে বিজেপির কোনও পতাকা বা পরিচিত মুখ দেখা যায়নি। তাঁর বক্তব্য, গোটা ঘটনাই স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কটাক্ষের সুর আরও চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এত চুরি করেছেন, চোর তো শুনতেই হবে। এরপর থেকে কানে যে ইয়ারফোনগুলো লাগায়, সেগুলো ব্যবহার করুন, তাহলে আর চোর শুনতে পাবেন না।”

    হালিশহর গেলেন শুভেন্দু

    এই রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই সোমবার হালিশহরে মৃত কর্মী বীরজু কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন শুভেন্দু অধিকারীর। হালিশহরে গেলেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন নৈহাটির বিজেপি বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়, নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিংহ, জগদ্দলের বিজেপি বিধায়ক রাজেশ কুমার, বীজপুরের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে কেবল সমবেদনা জানানোই নয়, সেই সঙ্গে প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করলেন তিনি। স্পষ্ট করে দিলেন, হেফাজতে মৃত্যু কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রাথমিকভাবে ওই থানার আইসি (IC)-কে ক্লোজ করার এবং তদন্তকারী অফিসারকে (IO) সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী জানান, মৃতের স্ত্রীর জন্য রাজ্য সরকারের হোম মিনিস্টারের কোটায় ‘অ্যাটেনডেন্ট’ পদে চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি, পরিবারের ভবিষ্যতের কথা ভেবে মুখ্যমন্ত্রী রিলিফ ফান্ড থেকে ১০ লক্ষ টাকার একটি চেক মৃতের স্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন, ওই টাকা যেন সন্তানদের নামে ফিক্সড ডিপোজিট করে তাদের পড়াশোনার খরচ চালানো হয়।

    “আপনার জন্য বাড়ির দরজা বন্ধ”

    সেই পরিবারের সঙ্গে মমতার যোগাযোগ এবং তাঁর সেখানে যাওয়া নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।  শুভেন্দুর দাবি, বীরজু কেওটের পরিবারের পক্ষ থেকে মমতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাঁর কথায়, “বাড়ির লোক বলছে, না আমরা ডাকিনি৷ উনি যুক্ত হন, চাই না আমরা৷ আপনাকে ওই বাড়ির লোক দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে, আপনি বলছেন না আমি দরজা ভেঙে ঢুকব৷ বাড়ির লোক বলছে পুলিশের তদন্তে আস্থা আছে, উনি এক আইনজীবী নিয়ে নাটক করতে গিয়েছেন। পুলিশকে না জানিয়ে গিয়েছেন। পরিবারের লোক আপনার জন্য বাড়ির দরজা বন্ধ করে দিয়েছে৷”

    “আজ তো অভয়ার বাড়িতে যেতে পারতেন”

    রবিবার আরজি কর-কাণ্ডের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভাতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলকে নিশানা করেন শুভেন্দু। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে দু’বছর আগে ওই রাতেই তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটে। পানিহাটির বাসিন্দা ওই চিকিৎসকের স্মরণসভায় যোগ দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আজ তো অভয়ার বাড়িতে যেতে পারতেন। হাত জোড় করে বলতেন ক্ষমা করে দিন। রত্নাদি ক্ষমা করে দিতেন।”

    মমতাকে তোপ শমীকেরও

    এদিকে, মমতার গাড়িতে হামলার ঘটনায় বিজেপির কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, ঘটনাটির সঙ্গে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত কোনও বিজেপি কর্মী যুক্ত নন। একইসঙ্গে তিনি অতীতের রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলকেও আক্রমণ করেন। শমীক বলেন, “দূর দূর পর্যন্ত বিজেপির কোনও কর্মী এর সঙ্গে যুক্ত নন। শুভেন্দু অধিকারীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছিল, সেই অত্যাচার বিজেপি কিন্তু তৃণমূলের ওপর করেনি। কিন্তু পাথর ছোড়া, কাদা ছোড়া এ তো তৃণমূলের শেখানো সংস্কৃতি।”

    মমতার গাড়িতে হামলা, প্রাক্তন ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টাপাল্টি আক্রমণ এবং বিজেপি-তৃণমূলের পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়ল। এরই মধ্যে হালিশহরে শুভেন্দুর কর্মসূচিকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

  • TMC Leader: গ্রেফতার প্রাক্তন মন্ত্রী তৃণমূলের উদয়ন গুহ, কোন মামলায় পুলিশের জালে উত্তরবঙ্গের ‘ক্রিমিনাল’?

    TMC Leader: গ্রেফতার প্রাক্তন মন্ত্রী তৃণমূলের উদয়ন গুহ, কোন মামলায় পুলিশের জালে উত্তরবঙ্গের ‘ক্রিমিনাল’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা (TMC Leader) উদয়ন গুহকে বুধবার কলকাতার ফুলবাগানের ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার করল কোচবিহার জেলা পুলিশ। উদয়নকে (Udayan Guha) ধরে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় ফুলবাগান থানায়। সেখান থেকে কোচবিহারে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে পুলিশ।

    উদয়নের বিরুদ্ধে অভিযোগ (TMC Leader)

    পুলিশ সূত্রে খবর, উদয়নের বিরুদ্ধে নির্বাচনোত্তর হিংসা, তোলাবাজি, প্রতারণা এবং দুর্নীতির অভিযোগ-সহ একাধিক মামলা রয়েছে। বর্তমানে তাঁকে একটি তোলাবাজির মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের শিশু বিভাগ নির্মাণের সময় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নাম করে অর্থ তোলার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। ১২ জুন দায়ের হয় অভিযোগ। তার পাঁচ দিনের মাথায়ই পুলিশের জালে ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রয়াত নেতা কমল গুহের ছেলে উদয়ন। কোচবিহার জেলা পুলিশের একটি সূত্রের খবর, অবাস যোজনায় মেলা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে উদয়নের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, আবাস যোজনায় বিপুল পরিমাণ টাকা কাটমানি পেয়েছেন তৃণমূলের এই নেতা। শুধু কাটমানি বাবদই তিনি কুড়ি কোটি টাকা তুলেছেন বলে অভিযোগ। এহ বাহ্য।

    তৃণমূলেরই বিক্ষুব্ধদের দাবি

    তৃণমূলের এই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ বিস্তর। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর কোচবিহারে সংঘটিত ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায়ও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এ সংক্রান্ত তদন্তেও উঠে এসেছে উদয়নের নাম। রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকার সময় একধিকবার বিরোধীদের নিশানা করে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন উদয়ন। তৃণমূলেরই বিক্ষুব্ধদের দাবি, উদয়ন এতটাই ক্ষমতাশালী যে উত্তরবঙ্গের কাজকর্ম তাঁকে না জানিয়ে করা যেত না। টাকা না দিলে কোনও কাজই হত না। ধরা পড়ার পর অবশ্য উদয়ন দাবি করেন, যে মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই মামলায় তাঁর আগাম জামিন রয়েছে। তাঁকে বেআইনিভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে উত্তরবঙ্গের এই ‘দাপুটে’ নেতা (এখন আর অবশ্য দাপট নেই) বলেন, “আমি জানিই না কেন আমায় গ্রেফতার করা হয়েছে।”

    উদয়নের ‘পালিয়ে’ আসার কারণ

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দিনহাটা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীর কাছে হেরে যান উদয়ন। তার পর থেকেই তিনি ছিলেন কলকাতায়, তাঁর ফ্ল্যাটে। তারপর থেকে তাঁকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশের মতে, উদয়ন কোচবিহারে থাকলে সমস্যায় পড়তেন (TMC Leader)। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যেভাবে ‘কলঙ্কিত’ (অভিযোগ) তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়া হচ্ছে এবং ডিম ছুড়ে মারা হচ্ছে, সেই জনরোষের শিকার হতে পারতেন উদয়নও। তাই তৃণমূলের কোচবিহারের এই নেতা কলকাতায় ‘পালিয়ে’ এসেছিলেন বলে অসমর্থিত সূত্রের খবর (Udayan Guha)।

    ‘এক নম্বরের নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’

    দিনহাটার বিধায়ক বিজেপির অজয় রায়ের দাবি, উদয়নের বিরুদ্ধে খুন, ভোট-পরবর্তী হিংসা, আবাস যোজনায় দুর্নীতি এবং অন্যান্য একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, “উনি (উদয়ন) অনেক দুর্নীতি করেছেন। উনি এক নম্বরের নটোরিয়াস ক্রিমিনাল। অনেক আগেই ওঁকে গ্রেফতার করা উচিত ছিল। ভেবেছিলেন বেঁচে যাবেন। কিন্তু আইন সবার জন্য এক, এটা পরিষ্কার।” উত্তরবঙ্গে এক সময় দাপিয়ে ফরওয়ার্ড ব্লক করতেন উদয়ন। কমল গুহের পর কোচবিহারে (TMC Leader) তিনিই ধরেছিলেন এই বাম দলের রাশ। ২০১১ সালে ফরওয়ার্ড ব্লকের টিকিটে জিতে বিধানসভায়ও গিয়েছিলেন কমল-পুত্র। ২০১৫ সালে ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে উদয়ন যোগ দেন তৃণমূলে। ২০১৬ সালে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে দিনহাটা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। পরে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় জায়গা পান উদয়ন। তাঁকে করা হয় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী। সেই উদয়নই গ্রেফতার হলেন বুধ-দুপুরে। এই (Udayan Guha) নিয়ে গত সরকারের চার মন্ত্রীর হাতে পড়ল (TMC Leader) ‘হাতকড়া’। উদয়নের পূর্বসূরিরা হলেন, সুজিত বসু, দিলীপ মণ্ডল এবং উজ্বল বিশ্বাস।

     

  • BJP Wins Bengal: বঙ্গজয়ের পর বিজেপির মহাপরিকল্পনা! রবীন্দ্রজয়ন্তীতেই শপথ বাংলার নতুন বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর?

    BJP Wins Bengal: বঙ্গজয়ের পর বিজেপির মহাপরিকল্পনা! রবীন্দ্রজয়ন্তীতেই শপথ বাংলার নতুন বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অঙ্গ-কলিঙ্গের পর বঙ্গ-জয় বিজেপির (BJP Wins Bengal)। ১৫ বছরের তৃণমূল সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছে। ২০০-র বেশি আসন নিয়ে বাংলায় ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। আজ পশ্চিমবঙ্গ পদ্ম-ময়। রাজ্যে পালাবদলের পর এবার নতুন সরকার গঠনের (BJP Government Formation Bengal) পালা। সেই নিয়ে জোর প্রস্তুতি বিজেপির অন্দরে। আর সেই প্রক্রিয়াকে ত্বরাণ্বিত করতে রাজ্যে আসছেন রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। পরিষদীয় দলের বৈঠক, মুখ্যমন্ত্রীর নাম নির্ধারনের পর তাঁরা যাবেন রাজ্যপালের কাছে। বিজেপি সূত্রে খবর, আজ, মঙ্গলবার বাংলায় আসছেন রাজনাথ সিং। পরিষদীয় দলের বৈঠক করবেন তিনি। নিউটাউনের হোটেলে বিজয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তাঁরা। সেখানে পরিষদীয় দলের বৈঠক হবে। আর সেই বৈঠকেই ঠিক হতে পারে পরিষদীয় দলের নেতার নাম। অর্থাৎ, ওই বৈঠকেই চূড়ান্ত হবে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম। তারপরই তাঁরা সরকার গঠনের জন্য লোকভবনে যাবেন তাঁরা। বিজেপি সূত্রে খবর, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীতে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকার শপথগ্রহণ করতে পারে৷

    ২৫ বৈশাখেই নতুন সরকারের শপথ?

    বিজেপি সূত্রে খবর, আগামী শনিবার, ৯ মে, নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ হতে পারে। ৯ মে-ই বিজেপি-র মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিতে পারেন পশ্চিমবঙ্গে। ওই দিন ২৫ বৈশাখও, অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিবস। যা জানা যাচ্ছে, রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায়ী সরকারের মেয়াদ ৭ মে পর্যন্ত। ফলে মুখ্যমন্ত্রী বাছাই পর্ব দীর্ঘায়িত করা যাবে না। মমতা ইস্তফা দিলেই বিজেপির পরিষদীয় দলের নেতাকে ডেকে পাঠাবেন রাজ্যপাল এন রবি। তিনি সরকার গঠনের নির্দেশ দেবেন। কিন্তু হিসেব মতো ৭ মে সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, ফলে ২ দিন দেরী হলে কোনও সাংবিধানিক সমস্যা হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সব মিলিয়ে বাঙালি আবেগকে ধরতে কোনও জায়গায় খামতি রাখছে না বিজেপি। প্রচারপর্বে বার বার বিজেপি-র গায়ে ‘বাংলাবিরোধী’, ‘অবাঙালি’ তকমা সেঁটে দেওয়া হয়। সেই তকমা কাটিয়ে বেরোতেই ২৫ বৈশাখ নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করানো হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। সেদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, বিজেপি বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং বিশিষ্ট ব্যাক্তিরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।

    বাঙালিয়ানায় মাতলেন মোদি…

    সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে উপস্থিত হয়ে বিজেপির কর্মীদের শুভেচ্ছা জানান মোদি। মোদির সাজে ছিল স্পষ্ট বাঙালিয়ানার ছাপ। তাঁর পরণে ছিল সাদা পাঞ্জাবি, ধাক্কাপাড়ের কোরা ধুতি। পাঞ্জাবির পকেটে গোঁজা ছিল ধুতির কোঁচা। একেবারে বাঙালি কায়দায়। এক কথায়, একেবারে বাঙালিবাবু সেজে জনগণের সামনে হাজির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর দেখা যায় মঞ্চে উঠে নিতিন নবীনের হাত থেকে দুর্গার ছবি উপহার নেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, শপথের দিন নির্ধারণের ক্ষেত্রেও বিশেষ ভাবনা রয়েছে বিজেপির। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলায় পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। আজ থেকে বাংলা ভয়মুক্ত হল।” তাঁর ঘোষণা, মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু হবে। সেই সঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা শান্তি পেল।

    নির্বাচন কমিশনের তৎপরতা

    এদিকে, কমিশন সূত্রে খবর, আজ (মঙ্গলবার) আসছেন নির্বাচন কমিশনের প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি এসবি যোশী ও সেক্রেটারি সুজিত কুমার মিশ্র। এদিনই ২০২৬ সালের রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে। আগামিকাল, বুধবার সকালে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল এবং প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এসবি যোশী রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে সেই তালিকা নিয়ে উপস্থিত হবেন। এরপর গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশিত হবে।

  • Suvendu Adhikari: খেজুরিতে জোড়া মৃত্যু, খুনের অভিযোগ শুভেন্দুর, সোমবার বনধের ডাক

    Suvendu Adhikari: খেজুরিতে জোড়া মৃত্যু, খুনের অভিযোগ শুভেন্দুর, সোমবার বনধের ডাক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি থানার ভাঙনমারি গ্রামে দু’জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতদের পরিবার দাবি করছে, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত খুন। যদিও পুলিশ এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনও স্পষ্ট বিবৃতি দেয়নি। মৃতদের মধ্যে একজন হলেন সুজিত দাস, অপরজন সুধীর পাইক। সুজিতের বাবা শশাঙ্ক শেখর দাস অভিযোগ করেছেন, “এটা বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনা নয়। আমার ছেলেকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে (Khejuri)। এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।” একই অভিযোগ তুলেছেন সুধীর পাইকের পরিবারের সদস্যরাও। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ গোপন করছে।

    সুসংগঠিত খুন দাবি শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari)

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মহরম উপলক্ষে শুক্রবার রাতে ভাঙনমারিতে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। শনিবার সকালে সেই অনুষ্ঠানস্থলের কাছেই সুজিত ও সুধীরের দেহ উদ্ধার হয়। তাঁদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পরিবারের দাবি। ঘটনার পর এলাকা পরিদর্শনে যান স্থানীয় বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিক, পরে পৌঁছান বিরোধী দলনেতা ও নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি দাবি করেন, “এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং সুসংগঠিত খুন। এই ঘটনার তদন্ত নিরপেক্ষভাবে করতে হবে।” তাঁর আরও দাবি, “ময়নাতদন্ত রাজ্য সরকারি হাসপাতালে হলেও কোনও আপত্তি নেই, তবে সেখানে কেন্দ্রীয় হাসপাতালের একজন চিকিৎসক উপস্থিত থাকতে হবে। পরিবারের সদস্যদেরও ময়নাতদন্তের সময় থাকতে দিতে হবে।”

    অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাঁদের হত্যা করা হয় দাবি বিজেপির

    এছাড়াও তিনি (Suvendu Adhikari) বলেন, “হিন্দু হওয়ার কারণেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁদের হত্যা করেছে। কাউকে ছাড়া হবে না।” শুভেন্দু ঘোষনা করেছেন, শনিবার দুপুর ১২টা থেকে ২টো পর্যন্ত খেজুরিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া সোমবার হিন্দু সংগঠনগুলির ডাকে খেজুরিতে বন্‌ধ পালিত হবে। খেজুরির জনকা থেকে বিদ্যাপীঠ মোড় পর্যন্ত মিছিলে তিনি নিজেই নেতৃত্ব দেবেন। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সুজিত ও সুধীর ওই রাতে অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিলেন। সেখানেই অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাঁদের হত্যা করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খেজুরি জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

LinkedIn
Share