Tag: West Bengal Politics

West Bengal Politics

  • Suvendu Adhikari: মণীশ গুপ্তকে বাঁচাতেই কি ধামাচাপা? ৩৩ বছর পর বিধানসভায় ২১ জুলাইয়ের বিস্ফোরক রিপোর্ট পেশ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: মণীশ গুপ্তকে বাঁচাতেই কি ধামাচাপা? ৩৩ বছর পর বিধানসভায় ২১ জুলাইয়ের বিস্ফোরক রিপোর্ট পেশ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২১ জুলাই (21 July)। ১৯৯৩ সালের এই অভিশপ্ত দিনেই পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন যুব কংগ্রেসের ১৩ জন কর্মী। বাম জমানার সেই (Suvendu Adhikari) নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সালে বাংলায় পরিবর্তনের পর ক্ষমতায় এসেই ওই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের জন্য বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার, যে সরকারের চালিকা শক্তি ছিলেন মমতা স্বয়ং। টানা ১৫ বছর মুখ্যমন্ত্রী পদে ছিলেন মমতা। তার পরেও আলোর মুখ দেখেনি সেই তদন্ত রিপোর্ট। প্রশ্ন হল, কেন দিনের আলো দেখেনি সেই রিপোর্ট? কেনই বা রাখা হয়েছিল ফাইল বন্দি করে? শেষমেশ সোমবার, ৩৩তম ২১ জুলাইয়ের প্রাক্কালে সেই রহস্যের কুয়াশা কাটল। সৌজন্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। নিয়ম মেনে রাজ্য বিধানসভায় ২১ জুলাই কমিশনের সেই বহু প্রতীক্ষিত রিপোর্ট পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পরেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। রিপোর্ট তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত বিস্ফোরক সব তথ্য সামনে এনেছেন, যা তৃণমূল সরকারের ভূমিকাকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্নের সামনে।

    মণীশ গুপ্তের নির্দেশেই চলেছিল গুলি (Suvendu Adhikari)

    বিধানসভায় তদন্ত রিপোর্টটি পড়ে শুনিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই কোনওরকম উসকানি ছাড়াই আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর অত্যন্ত বিশ্বস্ত স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তের নির্দেশেই সেদিন পুলিশ গুলি চালিয়েছিল। যদিও মণীশ গুপ্তকে ওপর থেকে কে এই নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা কমিশন জানতে পারেনি। রিপোর্টের সূত্র ধরে শুভেন্দু আরও জানান, মেয়ো রোড, রেড রোড এবং ডোরিনা ক্রসিং— যেখানে যেখানে পুলিশের বন্দুক থেকে গুলি ছুটেছিল, তা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ছিল। কারণ, সেই জায়গাগুলি রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণ থেকে অনেকটাই দূরে। বিক্ষোভকারীরা মহাকরণ ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়তে পারে, প্রশাসনের এই আশঙ্কা সম্পূর্ণ কাল্পনিক ছিল। অথচ, পুলিশের গুলিতে যুবকদের যে মৃত্যু হয়েছিল, তার কোনও যথার্থতা বা আইনি বৈধতা কমিশন খুঁজে পায়নি। এমনকি মহাকরণ থেকেও এই সংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি রহস্যজনকভাবে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে, যার কোনও সদুত্তর মেলেনি।

    প্রধান সাক্ষী মমতাকেই ডাকেনি কমিশন!

    এই রিপোর্টের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ এবং চাঞ্চল্যকর বিষয় হল সাক্ষীদের তালিকা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, বিমান বসু, প্রদীপ ভট্টাচার্য, সৌগত রায়, মদন মিত্র এবং তৎকালীন পুলিশ কর্তা-সহ মোট ৪৪ জনকে তলব করেছিল কমিশন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, যে মমতার নেতৃত্বে সেদিন মহাকরণ অভিযান হয়েছিল এবং যিনি নিজেকে এই ঘটনার প্রধান সাক্ষী বলে দাবি করেন, তাঁকেই শুনানির জন্য ডাকেনি কমিশন! এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “হয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই বলে দিয়েছিলেন তাঁকে যেন না ডাকা হয়। আসলে আইন অনুযায়ী এই তদন্ত হয়েছিল বলে কমিশনই মনে করে না।” এর পাশাপাশি প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। পঙ্কজবাবু এই কমিশনে সাক্ষ্য দিতে সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন। তিনি সাফ জানিয়েছিলেন, যাঁর নির্দেশে যুবকদের বুকে গুলি চলেছিল, সেই মণীশ গুপ্তকে মমতা নিজের মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়েছেন এবং বিদ্যুৎমন্ত্রী করেছেন। তাই এই কমিশনের সামনে সাক্ষ্য দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং প্রহসন মাত্র (Suvendu Adhikari)।

    ক্ষমতার লোভ ও বিপুল সম্পত্তি

    বিধানসভায় দাঁড়িয়ে পূর্বতন সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “২১ জুলাইকে ব্যবহার করে অনেকে অনেক কিছু (21 July) করে নিয়েছেন। রাজনৈতিক পদ কিংবা ক্ষমতা পাওয়া তো বটেই, চার্টার্ড ফ্লাইটে ঘুরে বেড়ানো এবং হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে বিপুল সম্পত্তির মালিক হওয়া— সবই হয়েছে এই দিনটিকে পুঁজি করেই। কিন্তু ২১ জুলাইয়ের আসল সত্যিটা কী ছিল, তা পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ আজও জানতে পারেনি।” শুভেন্দুর স্পষ্ট অভিযোগ, তৃণমূল সরকার প্রতি বছর ২১ জুলাই শহিদ দিবস পালনের নামে বিশাল তোড়জোড় এবং আবেগের বিস্ফোরণ ঘটালেও, আদতে শহিদদের পরিবারকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়ার কোনও মানসিকতাই তাদের ছিল না। নিজের মন্ত্রিসভার সদস্য মণীশ গুপ্ত ফেঁসে যেতে পারেন, এই ভয়েই দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই তদন্ত রিপোর্ট ধামাচাপা দিয়ে ফাইল বন্দি করে রেখে দিয়েছিলেন। শহিদদের আবেগকে স্রেফ ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থেই ব্যবহার করা হয়েছে।

    তৃণমূলের ত্রিমুখী ভাঙন

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই রিপোর্ট প্রকাশের নেপথ্যে রয়েছে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ। ক’দিন আগেই লোকসভায় তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ তথা এনসিপিআই নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিতে তিনি দাবি করেছিলেন, মণীশ গুপ্তকে আড়াল করতেই ২১ জুলাইয়ের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তাই প্রকৃত বিচার চেয়ে তিনি রিপোর্টটি জনসমক্ষে আনার অনুরোধ জানান। কাকলির সেই পত্র পাওয়ার পরের দিনই মুখ্যমন্ত্রী এই পদক্ষেপ নিলেন। এর ফলে মঙ্গলবার, একুশে জুলাইয়ের দিন বাংলায় নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যেতে চলেছে বলেই অভিমত ওয়াকিবহাল মহলের। এবার আর এক ছাতার তলায় নয়, তৃণমূলের তিনটি আলাদা গোষ্ঠী পৃথকভাবে এই দিনটি পালন করবে। কালীঘাট শিবিরের কর্মসূচি পালিত হবে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর কর্মসূচি পালিত হবে ধর্মতলায়, গান্ধী মূর্তির পাদদেশে এবং দিল্লির রাজঘাটে শ্রদ্ধা জানাবেন লোকসভার বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা, যাঁরা সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন এনসিপিআই পার্টিতে (Suvendu Adhikari)।

    এর ঠিক আগের দিন সোমবার বিকেলে তথ্যপ্রমাণ সহ এই রিপোর্ট আমজনতার দরবারে পেশ করার কথা ঘোষণা করেছিলেন শুভেন্দু। তিনি বলেছিলেন, “যাঁরা ১৫ বছর সরকারে ছিলেন, তাঁরা এই সুপারিশ কতটা কার্যকর করেছেন আর কতটা ধামাচাপা দিয়েছেন, তা এবার বাংলার মানুষ নিজের চোখে দেখবেন।” মুখ্যমন্ত্রীর এই রিপোর্ট (21 July) প্রকাশের পর রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ যে আরও খানিক উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য (Suvendu Adhikari)।

     

  • High Court: হাইকোর্টে ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূলের! আপাতত ফ্রিজই থাকবে তিন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট

    High Court: হাইকোর্টে ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূলের! আপাতত ফ্রিজই থাকবে তিন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা হাইকোর্টে (High Court) বড় ধাক্কা খেল কালীঘাট তৃণমূল শিবির। ইডির ফ্রিজ করা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। কিন্তু সোমবার সেই আবেদন খারিজ করে দিল বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই মুহূর্তে ইডির সিদ্ধান্তে কোনও হস্তক্ষেপ করা হবে না। ফলে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (TMC Bank Account) আপাতত ফ্রিজ অবস্থাতেই থাকবে।

    ৪৪০ কোটি টাকার তিন অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ

    ইডি (ED) তৃণমূলের যে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (TMC Bank Account) ফ্রিজ করেছে, ওই তিনটি অ্যাকাউন্টে মোট প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। এই অর্থ দলীয় সাংগঠনিক কাজ এবং দৈনন্দিন খরচে ব্যবহার করার অনুমতি চেয়ে আদালতের (High Court) দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট শিবির। পাশাপাশি, ইডির সিদ্ধান্তের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের আবেদনও জানানো হয়। তবে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি।

    আগের নির্দেশই বহাল

    ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আপাতত আগের নির্দেশই কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ, ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্টগুলির অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী আদালতের নির্দেশ মেনেই চলতে হবে। ইডির সিদ্ধান্তে এই মুহূর্তে কোনও পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।

    স্পেশ্যাল অফিসারের তত্ত্বাবধানে চলবে অ্যাকাউন্ট

    এর আগে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষে ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। আদালত একজন স্পেশ্যাল অফিসার নিয়োগ করে জানায়, তাঁর তত্ত্বাবধানেই অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালিত হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে যে কোনও দু’জনের স্বাক্ষর করা চেকে স্পেশ্যাল অফিসারের পাল্টা স্বাক্ষর থাকলেই ব্যাঙ্ক থেকে অর্থ তোলা যাবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্পেশ্যাল অফিসার অ্যাকাউন্টগুলির দায়িত্বে থাকবেন।

    ভেঙে খান-খান তৃণমূল

    বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন তীব্র হয়েছে। দলের একাধিক বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অনাস্থা জানিয়ে পৃথক শিবিরে যোগ দিয়েছেন। আলাদা হয়েছে কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত তৃণমূল। পাশাপাশি, তৃণমূলের ২০ জন সাংসদও এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ায় দলীয় নেতৃত্ব, তহবিল এবং নির্বাচনী প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে বিরোধ আরও প্রকট হয়েছে। দলীয় নেতৃত্ব, তহবিল এবং সংগঠন নিয়ে চলা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহেই এই মামলার শুনানি ঘিরে নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের। সোমবারের নির্দেশে স্পষ্ট, আপাতত ইডির ফ্রিজ করার সিদ্ধান্তই বহাল থাকছে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে এই বিষয়ে নতুন কোনও নির্দেশ আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

  • Suvendu Adhikari: ‘২০৯’-এর টার্গেট! রেজিনগরে পদ্ম ফোটানোর ডাক শুভেন্দুর, বললেন ‘যা চাইবেন দু’হাত ভরে দেব’

    Suvendu Adhikari: ‘২০৯’-এর টার্গেট! রেজিনগরে পদ্ম ফোটানোর ডাক শুভেন্দুর, বললেন ‘যা চাইবেন দু’হাত ভরে দেব’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের রেজিনগর উপনির্বাচনকে সামনে রেখেই রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র করে তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কর্মিসভা থেকে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ২০৯-এ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করার পাশাপাশি রেজিনগরের মানুষের জন্য একাধিক উন্নয়ন প্রতিশ্রুতিও দিলেন তিনি। একই সঙ্গে নাম না করেই নিশানা করলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে।

    ‘যা চাইবেন দু’হাত ভরে দেব’

    রেজিনগরের কর্মিসভা থেকেই কার্যত উপনির্বাচনের প্রচারের সূচনা করে দেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামে জয় নিয়ে তিনি একেবারেই আত্মবিশ্বাসী। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামটা আমার উপর ছেড়ে দিন। ওখানে কত ভোটে জিতব আমি জানি। সীমা নেই, অনেক বড় ভোটে জিতব।” এরপরই রেজিনগরের মানুষের উদ্দেশে একের পর এক প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “রেজিনগরটা দেবেন তো? একটা নয়, দুটো ব্রিজ দেব। পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরাব। যত আবাস লাগে দেব। যা চাইবেন দু’হাত ভরে দেব। নন্দীগ্রাম জিতে ২০৮ বিধায়ক হবে বিজেপির। এবার সংখ্যাটা ২০৯ হবে কিনা রেজিনগরের উপর নির্ভর করবে।”

    পদ্ম ফোটানোর লক্ষ্যে…

    রেজিনগর দীর্ঘদিন ধরেই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এখান থেকে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর ১ লক্ষ ২৩ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হন। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল ৫১ শতাংশেরও বেশি। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী বাপন ঘোষ পেয়েছিলেন প্রায় ৬৪ হাজার ভোট, যা মোট ভোটের প্রায় ২৭ শতাংশ। তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছিল ১৭ শতাংশের কিছু বেশি ভোট। এই পরিসংখ্যান সত্ত্বেও উপনির্বাচনে রেজিনগর থেকেই পদ্ম ফোটানোর বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি নেতৃত্ব।

    হুমায়ুনকে নাম না করেই আক্রমণ

    সভা থেকে হুমায়ুন কবীরের নাম উচ্চারণ না করেই তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, “কাকে পাঠাবেন বিধানসভায়? যে ঝগড়া করবে, ধমকাবে, কমিউনিটির কথা বলবে, হিন্দু-মুসলমান করবে, মন্দির-মসজিদ করবে, না উন্নয়ন চাইবেন?” এরপর আরও কড়া সুরে তিনি বলেন, “দম্ভটা ভাঙতে হবে, অহঙ্কারটা ভাঙতে হবে। কার অহঙ্কার ভাঙতে হবে নামটা বললাম না। সামঝদারো কা ইশারা কাফি হ্যা। নাম বললে অনেকে হিরো হয়। তাই নাম বলার দরকার নেই।” উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “উন্নয়ন যদি চান, হাতে কাজ, পেটে ভাত, মাথায় ছাদ, আরও স্কুল, আরও কলেজ, আরও রাস্তা, আরো ব্রিজ, ঘরে ঘরে জল, কৃষকের অধিকার, পরিযায়ী শ্রমিকরা বাড়ি ফিরবে– যদি চান তাহলে পদ্ম ফোটাতে হবে। ৮ বিধায়ক দিয়েছেন, ৯ জন চাই। রেজিনগরটা চাই।”

    আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কড়া বার্তা

    বহরমপুরের রবীন্দ্র সদনে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গেও কড়া অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এখানে কিছু ভাষণবাজি হয়েছে। কিন্তু কোনও বড় ঘটনা হয়নি। কোথাও পুলিশ খারাপ কাজ করলে কিংবা প্রশাসন খারাপ কাজ করলে আমাকে জানান। আমি ব্যবস্থা নেব। (কিন্তু) থানার সামনে গিয়ে কেউ বলবে, ‘এই করব, ওই করব’, কেউ বলবে, ‘জেলে ৪৭০০ লোকের জায়গা হয়, আমি তার থেকে বেশি লোক নিয়ে যাব’, দয়া করে এই সব ভাষণবাজি আর করবেন না।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যও ছিল হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পাল্টা জবাব।

    পুলিশের উদ্দেশে ‘ডু ইট নাউ’ নির্দেশ

    পুলিশ প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “ধুলিয়ান, সামশেরগঞ্জ, বেলডাঙা, রেজিনগর, শক্তিপুরের মতো ঘটনা ঘটলে কাউকে ফোন করার দরকার নেই। ভারতীয় ন্যয় সংহিতাতে যা বলা আছে, আপনি যে শৃঙ্খলিত বাহিনীর ট্রেনিং নিয়ে এসেছে সেই অনুযায়ী ডু ইট নাউ। পরিষ্কার খোলা ছুট দেওয়া হয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী সোমবার থেকেই রাজ্যে গুন্ডাদমন আইন কার্যকর হবে। তাঁর কথায়, “ট্রেন, বাস জ্বালানো, পুলিশকে মারধর— এ সব এ বার অতীত। নারীসুরক্ষা, পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মামলার বিচার হবে দ্রুত। শমসেরগঞ্জ, ধুলিয়ানে যা হয়েছে, সে সব আর হবে না। হলেই কড়া ব্যবস্থা।”

    নারী সুরক্ষায় জোর

    নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “নারী, শিশু কন্যাদের উপর অত্যাচার কার্যত ব্যধিতে পরিণত হয়েছে। এ ব্যধিকে কী করে মুক্ত করতে হয় আপনাদের বন্ধু শুভেন্দু জানে।” পুলিশের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, “থানায় থানায় মহিলা হেল্প ডেস্ক চালু হয়েছে, দুর্গা স্কোয়াড মাঠে নেমেছে। আপনারা বারুইপুরে পুলিশ মন্ত্রীর ভূমিকা দেখেছেন। আরও দেখতে পাবেন।” এরপর পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “আজই বলেছি নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির যত পুরনো কেস আছে সব বের করুন। চার্জশিট না হলে তা করুন, এফআইআর না হলে তা করুন। ছাড়া হবে না কাউকে।”

    ‘ফলতা মডেল’-এর উদাহরণ

    বক্তৃতার শেষদিকে একাধিকবার ‘ফলতা মডেল’-এর উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ফলতার মানুষ যেমন পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন, তেমনই রেজিনগরেও উন্নয়নের পক্ষে মানুষ ভোট দেবেন। বারুইপুরের সাম্প্রতিক পুলিশি পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ফলতার মানুষ কথা দিয়েছিল রেখেছে। বারুইপুরের ওই ছোট্ট মেয়েটির পরিবারের লোকেরাও সংখ্যালঘু। ওনারা আমার উপর আস্থা রেখেছেন। বাকিরাও রাখুন। ফল হাতেনাতে পাবেন।” রেজিনগরের উপনির্বাচনকে ঘিরে এখন থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। একদিকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক বার্তা— দুইয়ের মিশেলেই বিজেপির প্রচারের সুর স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

  • West Bengal BJP: তৃণমূলের প্রাক্তন ৩ সাংসদের উপর বড় ভরসা বিজেপির, রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা

    West Bengal BJP: তৃণমূলের প্রাক্তন ৩ সাংসদের উপর বড় ভরসা বিজেপির, রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় রাজনৈতিক চমক। সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইককে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার উপনির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করল বিজেপি। বৃহস্পতিবার রাতেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তরফে তিন জনের নাম অনুমোদনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

    বিজেপির প্রার্থী তালিকায় সুখেন্দু-সুস্মিতা-প্রকাশ

    বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের রাজ্যসভার উপনির্বাচনের জন্য সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের নাম অনুমোদন করা হয়েছে। দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিংহের স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, এই তিন নেতাই সম্প্রতি রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। সেই শূন্য হওয়া তিনটি আসনেই এবার বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লড়বেন তাঁরা। অর্থাৎ, প্রার্থী একই থাকলেও বদলে গিয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে গিয়ে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক।

    কেন নেওয়া হল তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদদের?

    তৃণমূলের প্রাক্তন তিন সাংসদকে বিজেপিতে অন্তর্ভুক্ত করার কারণ ব্যাখ্যা করেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল যেখানে কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতার বদলে সংঘাতকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এর ফলে রাজ্যের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। শমীক জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের উপর আস্থা রেখেই এই তিন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

    ‘সাধুরও একটা অতীত থাকে’

    তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের দলে নেওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “ব্যতিক্রম তো থাকবেই। ব্যতিক্রমী ঘটনা ব্যতিক্রমী চরিত্রের সঙ্গে দলও নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়। পার্টির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।” তিনি আরও বলেন, যারা দুর্নীতি, চাকরি বিক্রি, সিন্ডিকেট রাজ বা সাধারণ মানুষের অধিকার খর্ব করার সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁদের জন্য বিজেপির দরজা খোলা। পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, “এদের নামের আগে দলত্যাগী বা তৃণমূলী শব্দ ব্যবহার করবেন না। প্রত্যেকেরই একটা অতীত আছে। সাধুরও একটা অতীত থাকে। এই মুহূর্তে সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকের একমাত্র পরিচয়, তারা বিজেপি করবে।”

    বিজেপিতে যোগ দিয়েই মমতাকে নিশানা সুখেন্দুর

    দলে যোগ দেওয়ার পরই তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন সুখেন্দু শেখর রায়। তিনি বলেন, “শি ইজ ফিনিশড, ওই দল শেষ। এখন বেকার চর্চার দরকার নেই।” একই সঙ্গে বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল— দুই সরকারেরই সমালোচনা করে সুখেন্দু বলেন, “আগের সরকারগুলি, বিশেষ করে ৩৪ বছরের বাম সরকার এবং ১৫ বছরের তৃণমূল সরকার মিলে ৪৯ বছরে পশ্চিমবঙ্গকে মরুভূমি বানিয়ে গিয়েছে।” কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সম্পর্ক নিয়েও তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “কেন্দ্রবিরোধী জিহাদ মেন বসে গিয়েছিল। সেটাই রাজনীতিতে পরিণত হয়েছিল। যেন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, ভারতের মানচিত্র থেকে বাংলা বাইরে বলে মনে হচ্ছিল।”

    নবান্নে ইউসুফ পাঠান, শতাব্দী-সহ একাধিক নেতা

    অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ শতাব্দী রায়, খলিলুর রহমান এবং আবু তাহের খানও। এদিনই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, কয়েক দিন আগেই তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সাক্ষাতের পর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রসেনজিতের বৈঠক ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।

  • TMC Party Fund: তৃণমূলের তহবিল থেকে ১৬০ কোটি টাকা দিয়েই বিমান ও হেলিকপ্টার কিনেছিল কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন! দাবি ইডির

    TMC Party Fund: তৃণমূলের তহবিল থেকে ১৬০ কোটি টাকা দিয়েই বিমান ও হেলিকপ্টার কিনেছিল কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন! দাবি ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় তহবিলের ব্যাঙ্ক লেনদেন তদন্তে নেমে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পাওয়ার দাবি করেছে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, দলীয় অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের খোঁজ মিলেছে। ইডির দাবি, এই বিপুল অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চার্টার্ড বিমান পরিষেবা প্রদানকারী কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন এবং তাদের সহযোগী সংস্থাগুলির অ্যাকাউন্টে গিয়েছে।

    কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশনকে ঘিরে কী দাবি ইডির?

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতাকে চার্টার্ড বিমান ও হেলিকপ্টার পরিষেবা দিত। ইডির অভিযোগ, দলীয় তহবিল থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যবহার করেই সংস্থাটি একটি বিমান এবং একটি অগুস্টা হেলিকপ্টার কিনেছিল। পরে সেই উড়ানযানগুলিই আবার তৃণমূলের নেতাদের কাছে ভাড়ায় ব্যবহার করা হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই আর্থিক লেনদেনের প্রকৃতি, অর্থের উৎস এবং পরিষেবার বিনিময়ে অর্থপ্রদানের পদ্ধতি নিয়েই এখন বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে ইডি।

    কলকাতার একাধিক জায়গায় তল্লাশি

    মঙ্গলবার কলকাতার সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, রাজারহাট-নিউটাউন, সল্টলেক-সহ একাধিক এলাকায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায় ইডির বিভিন্ন দল। তদন্তের অংশ হিসেবে কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশনের মালিকের অফিস ও বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। পাশাপাশি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তি, সংস্থার আর্থিক নথি এবং ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্যও খতিয়ে দেখা হয়। সল্টলেকের একটি সংস্থার অফিস এবং তাদের পরিচালকদের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। ইডির দাবি, ওই সংস্থারও চার্টার্ড বিমান পরিষেবার সঙ্গে যোগ রয়েছে। এছাড়া সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশনের কর্ণধার-সহ সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তাকেও জেরা করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।

    চার্টার্ড বিমানের খরচের উৎস খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থা

    ইডির তদন্তে এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার্টার্ড বিমান ব্যবহারের খরচ কীভাবে মেটানো হতো এবং সেই অর্থের উৎস কী ছিল। বিমান ভাড়ার বাবদ কত টাকা দেওয়া হয়েছে, কতদিন পরিষেবা নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথিপত্রের সত্যতা যাচাই করছে তদন্তকারী সংস্থা। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় অ্যাকাউন্টে কোন কোন উৎস থেকে অর্থ জমা পড়েছে, সেই বিষয়েও বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে বলে জানা গিয়েছে।

    শিক্ষা ও রেশন মামলার অর্থের যোগ খতিয়ে দেখছে ইডি

    ইডি সূত্রে দাবি, শিক্ষা দুর্নীতি এবং রেশন দুর্নীতির মামলার সঙ্গে যুক্ত কোনও অর্থ দলীয় তহবিলে এসেছে কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বিভিন্ন আর্থিক নথি, ব্যাঙ্ক ট্রানজ্যাকশন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির হিসাব পরীক্ষা করছেন।

    পুরনো অভিযোগও তদন্তের আওতায়

    তদন্তে প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্বের অভিযোগকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। তিনি দাবি করেছিলেন, চার্টার্ড বিমানের খরচের জন্য ব্যবহৃত অর্থের উৎস ছিল কাটমানি ও তোলাবাজির টাকা। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।

    তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া এখনও নেই

    এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। অন্যদিকে, ইডির বক্তব্য, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সমস্ত আর্থিক লেনদেন এবং উদ্ধার হওয়া নথি বিশদে পরীক্ষা করার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • Sebashray Medicine Scam: মাটি খুঁড়ে উদ্ধার কোটি টাকার ওষুধ! ‘সেবাশ্রয়’ ঘিরে আরও বিপাকে অভিষেক

    Sebashray Medicine Scam: মাটি খুঁড়ে উদ্ধার কোটি টাকার ওষুধ! ‘সেবাশ্রয়’ ঘিরে আরও বিপাকে অভিষেক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ ‘ভাইপো’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে পরিচালিত ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পকে ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হল। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্প নিয়ে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তারই মধ্যে এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার পারুলিয়া কোস্টাল থানায় নতুন করে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)। অভিযোগে শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন, তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী, প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি, তৎকালীন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক এবং স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় দায়ের হওয়া এই অভিযোগে বিজেপি নেতার দাবি, ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পের নামে ওষুধ কেনা, সংরক্ষণ এবং ব্যবহারে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ ওষুধের উৎস, ব্যবহার এবং কেন সেগুলি মাটির নীচে চাপা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে।

    মাটি খুঁড়ে ওষুধ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নতুন অভিযোগ

    অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১০ জুন ডায়মন্ড হারবারের সরিষা-হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা মাটি খুঁড়ে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করেন। পরে পারুলিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করলেও, অভিযোগ অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও পৃথক মামলা রুজু করা হয়নি। বিজেপির অভিযোগ, ওই উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলির সঙ্গে ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পের সরাসরি যোগ রয়েছে। তাই পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসতে পারে।

    কার কার বিরুদ্ধে অভিযোগ?

    নতুন অভিযোগে প্রথমেই নাম রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁকে প্রকল্পের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়, অয়ন ঘোষ দস্তিদার, জাহাঙ্গির খান, শামিম আহমেদ মোল্লা, গৌতম অধিকারী, মেহবুব গায়েন-সহ একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে অভিযোগপত্রে। এছাড়াও তৎকালীন জেলাশাসক এবং স্বাস্থ্য দফতরের কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।

    কী কী অভিযোগ তুলেছে বিজেপি?

    অভিজিৎ দাস ববির অভিযোগ, সরকারি ও জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্য শিবিরের নামে বিপুল পরিমাণ ওষুধ খোলা বাজার থেকে কেনা হয়েছিল কি না, সেই প্রক্রিয়ায় কোনও আর্থিক অনিয়ম বা তছরুপ হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোটি কোটি টাকার ওষুধ কী কারণে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, বিষয়টি শুধুমাত্র ওষুধ সংরক্ষণের গাফিলতি নয়, বরং এর সঙ্গে ওষুধ পাচার বা অন্য কোনও বেআইনি আর্থিক লেনদেন জড়িত থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে পুলিশের কাছে।

    মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নিয়েও প্রশ্ন

    বিজেপি নেতার দাবি, উদ্ধার হওয়া ওষুধের মধ্যে কিছু ওষুধের মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছিল, আবার কিছু ওষুধের মেয়াদ তখনও বাকি ছিল। তাঁর অভিযোগ, এর ফলে প্রশ্ন উঠছে, ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পে রোগীদের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও দেওয়া হয়েছিল কি না। এছাড়াও তিনি দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া কিছু ওষুধের বাজারদর এবং সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য (MRP)-এর মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যবধান ছিল। তাঁর অভিযোগ, যে ওষুধের প্রকৃত বাজারমূল্য তুলনামূলকভাবে কম, তার এমআরপি অনেক বেশি দেখানো হয়েছে। এ ধরনের ওষুধ স্থানীয় সংস্থার তৈরি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় বা অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে কি না, সেই বিষয়েও তদন্তের দাবি তুলেছেন।

    বিজেপি নেতার দাবি

    অভিজিৎ দাস ববির বক্তব্য, কারা এই বিপুল পরিমাণ ওষুধ মাটির নীচে চাপা দিয়েছিল, তাদের পরিচয় প্রকাশ হওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর এমন কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে কোটি কোটি টাকার ওষুধ গোপনে মাটির নীচে চাপা দিতে হল? তাঁর মতে, এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিল এবং তাদের ভূমিকা কী, তা তদন্ত করলেই প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।

    এখনও দলের প্রতিক্রিয়া মেলেনি

    এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি পুলিশের তরফেও নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করা হবে, সে সম্পর্কেও এখনও কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত এগোলে এই ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।

  • Suvendu Adhikari: নবান্নে সারলেন সিটের সঙ্গে জরুরি বৈঠক, পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: নবান্নে সারলেন সিটের সঙ্গে জরুরি বৈঠক, পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের আবহের মধ্যেই মঙ্গলবার বারুইপুর সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি।

    বারুইপুর নিয়ে নবান্নে জরুরি বৈঠক শুভেন্দুর

    মুখ্যমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুর রওনা হওয়ার আগে মঙ্গলবার সকালে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, এখনও কী কী তথ্য সামনে এসেছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে— সেই সমস্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরপর বারুইপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর আগেই পৌঁছল বিজেপির প্রতিনিধি দল

    মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে মঙ্গলবার সকালে নির্যাতিতার বাড়িতে পৌঁছন বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল। দলে ছিলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং বিজেপি মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী ফাল্গুনী পাত্র। তাঁরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর অগ্নিমিত্রা পাল দাবি করেন, আগের সরকার আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয়নি। তাঁর কথায়, বর্তমান সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করেছে এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্যাতিতার পরিবার সরকারের ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্ট এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য, ‘‘আমরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আসিনি। এই কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’’ একইসঙ্গে লকেট চট্টোপাধ্যায়ও আশ্বাস দেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।

    তদন্তে গতি, গণধর্ষণের ধারাও যুক্ত

    বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনায় খুনের পাশাপাশি গণধর্ষণের ধারাও যুক্ত করেছে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীরা ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অপরাধের প্রকৃত উদ্দেশ্য, ঘটনার পরিকল্পনা এবং অন্য কারও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। এখন পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম আনন্দ সর্দার, প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দার। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে ইতিমধ্যেই আদালতে পেশ করে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তৃতীয় অভিযুক্তকে মঙ্গলবার আদালতে তোলা হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মোট চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

    তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের প্রতিনিধিরাও গেলেন

    মঙ্গলবার সকালে বিজেপির প্রতিনিধি দল বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে পৌঁছয় তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া স্থানীয় সাংসদ সায়নী ঘোষ এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ একাধিক নেতা। এলাকায় প্রবেশকে কেন্দ্র করে প্রথমে পুলিশের সঙ্গে প্রতিনিধি দলের সদস্যদের বচসা বাধে। পরে স্থানীয় সাংসদ হওয়ার কারণে শুধুমাত্র সায়নী ঘোষকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান এবং প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

    রবিবার থেকেই উত্তপ্ত বারুইপুর

    গত রবিবার স্থানীয় একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পর থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় বারুইপুরে। দফায় দফায় বিক্ষোভে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। সেই উত্তেজনার মধ্যেই কিশোরীর খুনের সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যুও হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এই ঘটনার পর থেকেই পুলিশ ও এসআইটি যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

    মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

    সোমবারই শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, নির্যাতিতার পরিবারের সমস্ত ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর বক্তব্য, “নির্যাতিতার বাবা যা যা চেয়েছেন, সবটাই করা হবে। পরিবার আমাদের উপর আস্থা রেখেছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” মঙ্গলবারের সফরে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করতে পারেন বলেই প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

  • Election Commission: রাজ্যসভার তিন শূন্য আসনে ২৪ জুলাই উপনির্বাচন, বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণে বাড়ছে জল্পনা

    Election Commission: রাজ্যসভার তিন শূন্য আসনে ২৪ জুলাই উপনির্বাচন, বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণে বাড়ছে জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার তিন শূন্য আসনে উপনির্বাচন (Rajya Sabha Bypolls) হবে আগামী ২৪ জুলাই। এমনই ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। তৃণমূল কংগ্রেসের তিন প্রাক্তন সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইকের পদত্যাগের জেরে এই আসনগুলি খালি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই তিন আসনে কারা প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে জোর জল্পনা চলছিল। কমিশনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর সেই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।

    নির্বাচনী নির্ঘণ্ট (Election Commission)

    নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৪ জুলাই। ১৫ জুলাই যাচাই করা হবে মনোনয়নপত্র, ১৭ জুলাই পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন প্রার্থীরা। ২৪ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোট নেওয়া। ওই দিনই বিকেল ৫টা থেকে শুরু হবে ভোটগণনা। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করা হবে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল গোহারা হারতেই দলে ভাঙন শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ভাঙনের গতি। পরিষদীয় দল এবং সংসদীয় দলের একাংশ আলাদা পথ বেছে নেয়। পরবর্তী কালে একাধিক নেতা নতুন রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেন। এই ডামাডোলের বাজারে ৮ জুন রাজ্যসভার সাংসদ পদে ইস্তফা দেন সুখেন্দুশেখর রায়। ১০ জুন পদত্যাগ করেন সুস্মিতা দেব। আর তার ঠিক পরের দিনই ইস্তফা দেন প্রকাশচিক বরাইক।

    পদত্যাগীরা কী পদ্মশিবিরে?

    পদত্যাগের পর বরাইক প্রকাশ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। আর, সুস্মিতা অসমে গিয়ে সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে বৈঠক করেন। সুখেন্দুশেখরকেও লোকসভায় তৃণমূল ছেড়ে আসা বিদ্রোহী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে দেখা যায়। এসব নিয়েই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা (Election Commission) জল্পনা। এদিকে, বর্তমান বিধানসভায় বিধায়ক সংখ্যার নিরিখে বিজেপির অবস্থান অনেকটাই শক্তিশালী। ২০৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে দলটি যদি তিনটি আসনেই প্রার্থী দেয় এবং নিজেদের ভোট অক্ষুণ্ণ রাখতে পারে, তাহলে তিন প্রার্থীর ঝুলিতে যথাক্রমে ৭০, ৬৯ এবং ৬৯টি করে ভোট পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি ক্রস ভোটিং হলে বিজেপির পালে জয়ের হাওয়া আরও জোরালো হতে পারে বলে অভিমত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

    তিন আসনেই ফুটতে পারে পদ্ম

    এদিকে, বিজেপির কোনও প্রার্থীকে হারাতে হলে বিরোধী শিবিরের প্রার্থীকে অন্তত ৭০টি ভোট নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ৮০ জন বিধায়ক থাকলেও, দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন সেই সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে। দুই শিবির একজোট হয়ে প্রার্থী (Rajya Sabha Bypolls) দিলে একটি আসনে লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনাকে খুব একটা জোরালো বলে মনে করছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশই (Election Commission)।

     

  • TMC Posts Loyalty Row: চন্দ্রিমার ইস্তফায় কালীঘাটে জোর ধাক্কা, তৃণমূলের সব সাংগঠনিক পদ ছাড়লেন মমতার ‘ছায়াসঙ্গী’, কারণ জানেন?

    TMC Posts Loyalty Row: চন্দ্রিমার ইস্তফায় কালীঘাটে জোর ধাক্কা, তৃণমূলের সব সাংগঠনিক পদ ছাড়লেন মমতার ‘ছায়াসঙ্গী’, কারণ জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গোহারা হারের পরে পরেই তৃণমূলের (TMC Posts Loyalty Row) অন্দরে শুরু হয়ে যায় ভাঙন। তার জেরে একের পর এক নেতা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে তৈরি করে ফেলেন তৃণমূলেরই আরও একটি (Chandrima Bhattacharya) গোষ্ঠী। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের এই গোষ্ঠীই আপাতত নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করছে। তৃণমূলে ‘ভাতিজা’র উত্থানের যে ক্ষোভ সঞ্চিত হচ্ছিল, দল হারতেই তা উগরে দেয় গলিত লাভা। তার জেরে একের পর তৃণমূল নেতা বদলাতে থাকেন শিবির। এবং সেই কারণেই কালীঘাটে শুরু হয় ক্ষয়, আর ফুলে ফেঁপে উঠতে শুরু করে ঋতব্রতর শিবির।

    মমতা শিবিরে চন্দ্রিমা-ধাক্কা (TMC Posts Loyalty Row)

    এহেন আবহে ফের একবার বড় ধাক্কা খেল মমতা শিবির। দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা মমতার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। মাত্র এক মাস আগে তাঁকে দলের রাজ্য সভানেত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব নিয়েওছিলেন। তার পর এদিন সেই পদ-সহ দলের সমস্ত দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন তিনি। মমতাকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে চন্দ্রিমা শুধু রাজ্য সভানেত্রীর পদ থেকেই নয়, দলের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক হিসেবের অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীর দায়িত্ব এবং নির্বাচন কমিশনে দলের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি চেয়েছেন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, চিঠিতে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে নয়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, চন্দ্রিমার এহেন পদক্ষেপের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।

    বিশ্বাসের বুকে ছুরি!

    সোমবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনে মমতা ও ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন দু’পক্ষের মধ্যে আসল তৃণমূল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াই রয়েছে। তার ঠিক আগে চন্দ্রিমার ইস্তফা মমতার শিবিরের পক্ষে বড় অস্বস্তির কারণ। বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর দলের যখন ছন্নছাড়া দশা, ঠিক তখনই মমতা নয়া সাংগঠনিক কমিটি গঠন করে তার দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা ‘অতি-বিশ্বস্ত’ চন্দ্রিমার ওপর।  পরাজয়ের পরেও দলের প্রায় প্রতিটি কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাই তাঁর এই সিদ্ধান্তে আরও চড়েছে রাজনৈতিক জল্পনার পারদ। চন্দ্রিমার পদত্যাগের নেপথ্যে তাঁর ছেলে সৌরভ বসুর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থানও অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরে যোগ দিয়েছেন সৌরভ। তারপর থেকেই দলের অন্দরে শুরু হয় নানা জল্পনা। অভিযোগ ওঠে, চন্দ্রিমা বাইরে থেকে মমতা-ঘনিষ্ঠ থাকলেও ভেতরে ভেতরে তিনি সাহায্য করছেন বিদ্রোহী শিবিরকে। যদিও এই অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছেন চন্দ্রিমা (TMC Posts Loyalty Row)।

    ক্ষোভ উগরে দিলেন চন্দ্রিমা

    ইস্তফা দেওয়ার পর নিজের ক্ষোভ ও অভিমানের কথা (Chandrima Bhattacharya) প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন চন্দ্রিমা। তাঁর বিরুদ্ধে প্রচার করা হচ্ছিল যে তিনি নাকি তৃণমূল ভবনের চাবি ঋতব্রতদের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন চন্দ্রিমা। তিনি বলেন, ‘‘আমি চাবি তুলে দেওয়ার কে? এই অধিকার তো নির্বাচন কমিশন বা আদালতের। যখন আমার আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন এই পদে আর না থাকাই শ্রেয়। সবাই সঙ্গ ছেড়ে গেলেও আমি মমতাদির সঙ্গ ছাড়িনি। কিন্তু ওঁর মনে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে আমি ওঁর মনকে ভারাক্রান্ত করতে চাই না।’’

    তৃণমূল ভবনের দখল

    প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ঋতব্রতপন্থী নেতারা তপসিয়ায় অবস্থিত তৃণমূল ভবনের দখল নেওয়ার পর থেকেই এই বিতর্ক তৈরি হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই চন্দ্রিমাকে ঘিরে নানা অভিযোগ ওঠে। শেষ পর্যন্ত সেই অপবাদই তাঁর পদত্যাগের অন্যতম কারণ বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের। শুধু সাংগঠনিক ক্ষোভ নয়, দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন চন্দ্রিমা। অর্থ ও স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিমন্ত্রী থাকলেও, আদতে পুরো দায়িত্ব পাননি বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। চন্দ্রিমার কথায়, ‘‘আমি ছিলাম হাফপ্যান্ট বা বারমুডা মন্ত্রী। রাজ্যবাসী যে বাজেট একটু পরে জেনেছে, আমি তা জেনেছি (TMC Posts Loyalty Row) একটু আগে। সরকারি আধিকারিকরাই সব জানতেন।’’ এই মন্তব্যে প্রাক্তন মন্ত্রীর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের (Chandrima Bhattacharya)।

    চন্দ্রিমার রাজনৈতিক জীবন

    দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চন্দ্রিমা মমতার অন্যতম বিশ্বস্ত মুখ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। স্বাস্থ্য, অর্থ ও আইন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বস্তুত চোখ বুজে তুলে দিয়েছিলেন চন্দ্রিমার ওপর। ২০১৭ সালে উপনির্বাচনে দক্ষিণ কাঁথি কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২১ সালে দক্ষিণ দমদম কেন্দ্র থেকেও জয়ী হন তিনি। যদিও তীরে এসে তরী ডোবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে। দক্ষিণ দমদম কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীর কাছে গোহারা হারেন মমতার ‘কাছের লোক’ চন্দ্রিমা।

    চন্দ্রিমার পরবর্তী পদক্ষেপ

    নিজের বাহান্ন বছরের রাজনৈতিক জীবনের এই মোড়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট করেননি চন্দ্রিমা। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মনে অভিযোগের চেয়ে অভিমানই বেশি। যদিও তৃণমূলের এই ক্রান্তিকালে চন্দ্রিমার মতো একজন হেভিওয়েট নেত্রী দলের সব সাংগঠনিক পদ ছেড়ে দেওয়ার রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ শুনানির ঠিক আগে তাঁর এই (Chandrima Bhattacharya) ইস্তফা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আরও বেআব্রু করে দিল বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের (TMC Posts Loyalty Row)।

     

LinkedIn
Share