Tag: World Alzheimer’s Day

World Alzheimer’s Day

  • World Alzheimer’s Day: ৪০ পেরোলেই সাবধান! অ্যালজাইমারের ঝুঁকি কমাতে এই ৫ অভ্যাস আজ থেকেই বদলান

    World Alzheimer’s Day: ৪০ পেরোলেই সাবধান! অ্যালজাইমারের ঝুঁকি কমাতে এই ৫ অভ্যাস আজ থেকেই বদলান

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    জীবনভর দায়িত্ব পালনের পরে, নিশ্চিন্তে অবসর যাপন! কিন্তু প্রৌঢ়কালে সেই নিশ্চিন্ত আরামের অবসরে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে স্মৃতিশক্তি! বয়স বাড়লেই বাড়ছে স্মৃতিহ্রাসের সমস্যা। পরিস্থিতি এমন হচ্ছে, নিজের নাম ঠিকানা মনে পড়ছে না। এমনকি সন্তানের মুখও অপরিচিত হয়ে উঠছে। বেঁচে থাকলেও, এক অর্থহীন যাপন হয়ে উঠছে। স্বাভাবিক ছন্দে আর জীবন কাটছে না।‌
    ভারতে অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠেছে অ্যালজাইমার। ২১ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড অ্যালজাইমার ডে! বিশ্ব জুড়ে এই রোগের দাপট বাড়ছে। বাদ নেই ভারত। ডিমেনশিয়া, অ্যালজাইমারের মতো স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যায় আক্রান্ত বহু ভারতীয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স চল্লিশের চৌকাঠ পেরোলেই আগাম সতর্ক থাকা জরুরি। জীবন যাপনের ধরণে এমন কিছু অভ্যাস আয়ত্ত করতে হবে, যাতে অ্যালজাইমারের মতো স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি কমে।

    ভারতে এই সমস্যা কতখানি প্রবল?

    গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজ-র তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ৪২ লাখ মানুষ অ্যালজাইমারের মতো রোগে আক্রান্ত। গোটা বিশ্বে এই রোগে আক্রান্তের একটা বড় অংশ ভারতীয়। ১৯৯০ সালের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণের বেশি আক্রান্ত।‌ এই সংখ্যা ক্রমশ উর্ধ্বমুখী। ভারতে প্রতি বছর কয়েক লাখ মানুষ নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ, এই পরিসংখ্যান জানান দিচ্ছে, ভারতে এই রোগের দাপট ক্রমশ বাড়ছে। চল্লিশের পরেই এই রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই মধ্য বয়স থেকেই শরীর ও মনের যথেষ্ট যত্ন নেওয়া জরুরি। তবেই এই রোগের মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

    কেন ভারতে অ্যালজাইমারের প্রকোপ বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের গড় আয়ু বেড়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির জন্য এক কমবেশি সকলেই গড়ে ৮০ বছরের বেশি বেঁচে থাকেন। দীর্ঘ জীবনের জন্য স্বাস্থ্য সঙ্কট ও নানান রকম তৈরি হয়। তবে, অ্যালজাইমার অনেক সময়েই ৬০ বছরের শুরুতেই দেখা দেয়। দীর্ঘদিন অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের জন্য এই সমস্যা দ্রুত হয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অস্বাস্থ্যকর জীবন বলতে শারীরিক অভ্যাসের পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও বলা হয়েছে।

    ভারতীয়দের মধ্যে ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, স্ট্রোকের মতো রোগের প্রকোপ মারাত্মক। এই রোগ একদিকে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। স্নায়ুর নানান জটিল রোগের কারণ হয়ে ওঠে। স্মৃতিশক্তি ভালো রাখার জন্য মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুর সক্রিয় থাকা জরুরি। তাই স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন প্রয়োজন।

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের অ্যালজাইমারের অন্যতম কারণ মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি। বহু ভারতীয় একাকিত্বে ভোগেন। তাঁদের সামাজিক যোগাযোগ কম হয়। দীর্ঘদিন একাকিত্বে ভুগলে স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা দেখা দেয়। নিয়মিত বন্ধু ও পরিবারের মধ্যে যোগাযোগ না থাকলে, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। তাছাড়া ভারতীয়দের ধূমপান এবং মদ্যপানের অভ্যাস অ্যালজাইমারের মতো রোগের নেপথ্যে থাকে বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই দুই অভ্যাস স্নায়ুর উপরে গভীর প্রভাব ফেলে। এরফলে মস্তিষ্কের সক্রিয়তা কমে যায়।

    চল্লিশের পরে কোন পাঁচ কাজে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স চল্লিশের চৌকাঠ পেরিয়ে গেলেই কয়েকটি অভ্যাস তৈরি করা প্রয়োজন। জীবন যাপনের ধরনে বাড়তি সচেতনতা এবং যত্ন জরুরি।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা রাতারাতি তৈরি হয় না। বরং দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে তৈরি হয়। তারপরে হঠাৎ সেটা সমক্ষে আসে। তাই আগাম, সতর্কতা জরুরি।‌ কয়েকটি অভ্যাস পরিবর্তন করলে বড় বিপদ কমানো সহজ হবে।

    মস্তিষ্কের নতুন কাজ প্রয়োজন!

    মস্তিষ্কের সক্রিয়তা ধরে রাখতে মস্তিষ্ককে নতুন কাজ দেওয়া জরুরি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, একটা বয়সের পরে মস্তিষ্ক নতুন কাজ কিছু পায় না। কারণ, অধিকাংশ মানুষ একঘেয়ে জীবন কাটিয়ে যান। নতুন কিছু শেখেন না। ফলে, মস্তিষ্কের স্নায়ুর মধ্যেও সক্রিয়তা কমে যায়। ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে।
    চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, বয়স চল্লিশ হলে নতুন কিছু শেখার সুযোগ কমে। ফলে, মস্তিষ্কের স্নায়ুর সক্রিয়তাও কমে। এটা করলে চলবে না। বরং চল্লিশের পরে নতুন কিছু শেখা জরুরি।‌ নতুন ভাষা, নতুন ধরনের রান্না কিংবা বাদ্যযন্ত্র, ছবি আঁকা কিংবা দাবার মতো খেলা, এমন কিছু শেখা জরুরি, যাতে মস্তিষ্ককে নতুন কিছু মনে রাখতে হয়, মস্তিষ্ক নতুন কাজ পায়। তাহলে স্নায়ু সতেজ ও সক্রিয় থাকবে।

    সামাজিক সক্রিয়তা বজায় রাখা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বহু ভারতীয়ের জীবন যাপনের অন্যতম বড় সঙ্কট হলো, পেশাগত জীবনে অত্যন্ত ব্যস্ত হয়ে পড়ায়, সামাজিক যোগাযোগ কমে যায়। পরিবার ও বন্ধু বৃত্ত ক্রমশ ছোটো হয়ে যায়। অনেক সময়েই সেটা একাকিত্বের কারণ হয়ে ওঠে। তাই তাঁদের পরামর্শ, সামাজিক সক্রিয়তার উপরে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করার জন্য প্রত্যেক সপ্তাহে কিছুটা সময় বরাদ্দ করতে হবে। এতে নিজের মনের ভাব সহজে প্রকাশ করা যাবে। মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষন্নতা কমবে। এর ফলে, মস্তিষ্কের উপরেও বাড়তি চাপ পড়বে না। আবার পরিবারের অন্যদের কথা শুনলে, কিংবা বন্ধুদের সমস্যা বা অভিজ্ঞতার কথা শুনলে, মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বাড়বে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কথা বলা, কথা‌ শোনা, মতামত দেওয়া মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। ফলে, স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যায় ঝুঁকি কমে।

    পর্যাপ্ত ঘুমের সময় জরুরি!

    পেশাগত চাপ ও একাধিক কারণে মধ্য বয়সীদের ঘুমের অভাব, অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেকেই নিয়মিত ৮ ঘণ্টাও ঘুমোনোর সুযোগ পান না। দীর্ঘমেয়াদি এই সমস্যা মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতে গভীর প্রভাব ফেলে। মস্তিষ্ক দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কার্যশক্তি কমতে থাকে। ফলে, স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। চল্লিশের পরে সেদিকে বাড়তি খেয়াল রাখা প্রয়োজন। চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, রাতে অন্তত ৮-৯ ঘণ্টা ঘুম জরুরি। ঘুমের অভাব যাতে না‌ হয়, সেদিকে খেয়াল রেখেই নিয়মিত কাজের তালিকা তৈরি করা দরকার।

    ব্রেন হেলথ রুটিন তৈরি জরুরি!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স চল্লিশ পেরোলেই ব্রেইন হেলথ রুটিন তৈরি জরুরি। অর্থাৎ, এমন একটা জীবন যাপন, যেখানে শরীর মন মস্তিষ্কের যথাযথ যত্ন হবে। অর্থাৎ, নিয়মিত ৩০ মিনিট হাঁটা বা যোগাভ্যাসের জন্য বরাদ্দ থাকবে। যাতে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হরমোনের ভারসাম্যের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে। দিনে অন্তত ২০ মিনিট পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য বরাদ্দ করতে হবে। পরিবারের সকলের সঙ্গে বসে গল্প করা বা খাওয়া দাওয়া করা যেতে পারে। তাহলে সামাজিক যোগাযোগ নিবিড় হবে। অন্তত ৩০ মিনিট গল্পের বই পড়া বা নতুন কিছু শেখার রেওয়াজ করতে হবে। অর্থাৎ দিনের তিরিশ মিনিট নতুন গল্পের বই পড়া বা বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা ছবি আঁকার জন্য বরাদ্দ করতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য এলাকার যেকোনো কাজে অংশগ্রহণ করতে হবে। এর ফলে বিভিন্ন নতুন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ হবে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বাড়বে।
    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে, স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতেও একটা নিয়ম জরুরি। ব্রেইন হেলথ রুটিন মেনে চললে, সেই কাজ সহজ হবে।

    স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স বাড়লে নিজের শরীরের বাড়তি যত্ন নিতে হবে। ডায়াবেটিস, রক্তচাপের মতো সমস্যা থাকলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমবে। স্নায়ুর জটিলতা দেখা দেবে। তাই এমন কিছু খাবার খাওয়া প্রয়োজন যাতে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। আবার, ধূমপান, মদ্যপানের মতো অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ জীবন যাপনের জন্য প্রথম থেকেই স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • World Alzheimer’s Day: নিজের লোককেও চিনতে পারছেন না? সব ভুলে যাচ্ছেন? সময় থাকতে সতর্ক হন

    World Alzheimer’s Day: নিজের লোককেও চিনতে পারছেন না? সব ভুলে যাচ্ছেন? সময় থাকতে সতর্ক হন

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বিশ্ব জুড়ে বদলে যাচ্ছে বয়স্কদের সমস্যা। শুধু শরীর নয়, একাধিক মানসিক সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। আবার এমন কিছু সমস্যা রয়েছে, যা শরীর আর মন দুটো দিকেরই ক্ষতি করছে। তেমনই এক স্বাস্থ্য সমস্যা হল অ্যালজাইমার্স। ২১ সেপ্টেম্বর ছিল বিশ্ব অ্যালজাইমার্স সচেতনা দিবস (World Alzheimer’s Day)। এই উপলক্ষ্যে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রথম থেকেই সতর্কতা বড় বিপদ এড়াতে পারে। ভালো মানের জীবন যাপনের জন্য প্রথম উপসর্গ দেখা দিলেই সচেতন হওয়া জরুরি।

    অ্যালজাইমার্স কী? 

    চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, অ্যালজাইমার্স এক ধরনের স্মৃতিশক্তি হারানোর সমস্যা। মানসিক, স্নায়বিক একাধিক সমস্যার কারণে মস্তিষ্কে এই সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত ষাটোর্ধ্ব মানুষদের এই রোগ বেশি হয়। নিত্যদিনের ঘটনা এই রোগে আক্রান্তরা মনে রাখতে পারেন না। সাধারণ ঘটনা এমনকি নিজের পরিবারের সদস্যদের চিনতেও তাঁদের অসুবিধা হয়। আর এই সমস্যার জেরে তাঁদের শারীরিক ক্ষমতাও কমতে থাকে। ফলে, তাঁদের জীবন যাপনের মান কমে (World Alzheimer’s Day)।

    ভারতে অ্যালজাইমার্স আক্রান্ত কতজন? 

    সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতে অ্যালজাইমার্স সমস্যা বাড়ছে (World Alzheimer’s Day)। প্রায় ৮০ লাখের বেশি প্রবীণ নাগরিক অ্যালজাইমার্সের সমস্যায় ভুগছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রথম থেকে রোগ নির্ণয় করতে না পারার জেরে তাঁদের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গিয়েছে।

    কোন ধরনের উপসর্গ এই রোগের জানান দেয়? 

    স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া এই রোগের অন্যতম লক্ষণ হলেও একাধিক উপসর্গ রোগের ইঙ্গিত দেয়। এমনই জানাচ্ছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই রোগে আক্রান্তদের ব্যবহারের পরিবর্তন দেখা যায়। অতিরিক্ত রাগ, কাছের মানুষদের অকারণে দুর্ব্যবহার করা, মানসিক অবসাদে ভোগার মতো উপসর্গ এই রোগের জানান দেয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগী একাকিত্বে ভোগেন। ফলে, সমস্যা আরও বেড়ে যায়। তাছাড়া অ্যালজাইমার্সের (World Alzheimer’s Day) মতো সমস্যা দেখা দিলে পেশির শক্তি কমতে থাকে। স্নায়ু ও পেশির একাধিক সমস্যা হতে থাকে। হাত-পা কাঁপতে থাকে। বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে অসুবিধা হয়। অনেক সময় লেখার ক্ষমতা থাকে না। এছাড়াও খুব অল্প দিন আগের ঘটে যাওয়া কোনও ঘটনা কিংবা খুব পরিচিত মানুষের নাম মনে রাখতে না পারার মতো সমস্যা প্রবীণ মানুষদের বারবার হলে সতর্ক থাকা জরুরি।

    কীভাবে মোকাবিলা সম্ভব? 

    চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, অ্যালজাইমার্সের (World Alzheimer’s Day) মতো সমস্যা থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি সম্ভব নয়। কিন্তু এই ধরনের সমস্যা যেন বাড়াবাড়ি না হয়, সেটা নিশ্চিত করা যেতে পারে। তাই এক্ষেত্রে রোগী ও কেয়ার গিভার, দুজনের যত্ন প্রয়োজন। 
    অ্যালজাইমার্স আক্রান্তের সব সময় দেখভালের একজন মানুষ প্রয়োজন। আর তিনিই হলেন কেয়ার গিভার। তাঁর যত্ন সমানভাবে জরুরি। অ্যালজাইমার্স আক্রান্ত যাকে সবচেয়ে বেশি ভরসা করেন, তিনিই হন কেয়ার গিভার। সাধারণত পরিবারের কোনও সদস্য কেয়ার গিভারের দায়িত্ব পালন করেন। তাই রোগী ও কেয়ার গিভারের সম্পর্ক যত গভীর হবে, সমস্যা তত কম হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 
    চিকিৎসকদের পরামর্শ, নিয়মিত খবরের কাগজ পড়ার অভ্যাস করতে হবে। অ্যালজাইমার্স আক্রান্তদের পড়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে বিশেষ সাহায্য করে। তাই আক্রান্তের নিয়মিত বই এবং খবরের কাগজ পড়া দরকার। তাছাড়া, খুব সাধারণ হিসাব, যেমন সহজ যোগ, বিয়োগ নিয়মিত করা দরকার। এতে আক্রান্তের মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকবে।
    নিয়মিত বাইরে যাওয়া, অন্তত এক ঘণ্টা খোলা মাঠ কিংবা পার্কে সময় কাটানো দরকার। তাতে আক্রান্তের একাকিত্ব বোধ কাটবে। কথা বলার ক্ষমতা বজায় থাকবে। 
    তবে, আক্রান্তের এই যত্ন ও থেরাপির পাশাপাশি কেয়ার গিভারের যত্ন নেওয়া জরুরি। কারণ, সব সময় আক্রান্তকে ছোট ছোট জিনিস মনে করিয়ে দিতে হয়। খাবার খাওয়া, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নাম ও পরিচয় বারবার দেওয়ার কাজও করতে হয়। অবিরত এই খেয়াল রাখার জন্য কেয়ার গিভারের মধ্যেও অবসাদ, ক্লান্তির মতো নানান সমস্যা দেখা দেয়। তাই তার প্রয়োজনীয় বিশ্রাম এবং বিনোদন জরুরি। যাতে একঘেয়েমি গ্রাস না করে। 
    আর এই সম্পর্কে সচেতনতা প্রসারের জন্য একাধিক কর্মশালার প্রয়োজন বলে জানাচ্ছে বিশেষজ্ঞ মহল।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share