মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জেতা ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) থেকে বিদায় নিল সেনেগাল। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত বেলজিয়ামকে দাঁড়াতে দেয়নি তারা। কিন্তু তার পরেই হঠাৎ তিন মিনিটের ঝড়ে ০-২ থেকে ২-২ করল বেলজিয়াম। খেলা গড়াল অতিরিক্ত সময়ে। যখন দেখে মনে হচ্ছে খেলা টাইব্রেকারে যাবে তখনই নাটক। শেষ মিনিটে পেনাল্টি পেল বেলজিয়াম। ঠান্ডা মাথায় গোল করলেন অধিনায়ক ইউরি টিয়েলেম্যানস। ৩-২ গোলে সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম। অন্য ম্যাচে হ্যারি কেনের জোড়া গোলে বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছল ইংল্যান্ড। লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠে দাপট দেখাল আমেরিকাও। গোটা ম্যাচ জুড়ে বসনিয়া ও হারজেগোভিনা তাদের তাড়া করে গেল। এমনকি, ১০ জন হয়ে যাওয়ার পরেও আমেরিকাকে হারাতে পারল না তারা। বসনিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ। মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় আয়োজক দেশও উঠল প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে।
মন জিতলেও স্বপ্নভঙ্গ সেনেগালের
সাইডলাইনের পাশে বসে থাকা সাদিয়ো মানেকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না আর বিশ্বকাপে নেই তাঁর দেশ। হয়তো শেষ বারের মতো তিনিও বিশ্বকাপ খেলে ফেললেন। বিশ্বাস হচ্ছিল না সিয়াটলের স্টেডিয়ামের ৬৬ হাজার দর্শকের অর্ধেকের। যাঁদের গায়ে ছিল সবুজ জার্সি। হাতে সিংহ। আফ্রিকার এই দেশের ফুটবল দলকে বলা হয় ‘দ্য লায়ন্স’। সেই সিংহ হুঙ্কার দিলেও শিকার করতে পারল না। ৮৫ মিনিটের আগে সেনেগালের সমর্থকদের অনেকেই শেষ ষোলোর ম্যাচের টিকিট কাটতেও হয়তো শুরু করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার দেশে ফেরার বিমানের টিকিট কাটতে হবে তাঁদের। প্রথম ৮৫ মিনিট বোঝা যায়নি সেনেগালের প্রতিপক্ষ দলের নাম বেলজিয়াম। যে দলটা কয়েক বছর আগেও ফিফা ক্রমতালিকায় এক নম্বরে ছিল। অবশ্য দলটার সোনালি প্রজন্ম প্রায় শেষের পথে। দেখে মনে হচ্ছিল, কেভিন দ্য ব্রুইন, থিবো কুর্তোয়ারা শেষ ম্যাচ খেলে ফেললেন। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজা না পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে হালকা নিতে নেই। সেই ভুলটাই করল সেনেগাল। ৮৬ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে ট্রসার্ডের ক্রস পায়ের টোকায় জালে জড়িয়ে দেন লুকাকু। প্রথম পোস্টেই ছিলেন গোলরক্ষক দিয়াও। গোটা ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছেন তিনি। কিন্তু সেই শট বাঁচাতে পারলেন না। ৮৯ মিনিটের মাথায় আবার ট্রসার্ডের ক্রস। এ বার বেরিয়ে পাঞ্চ করার চেষ্টা করেন দিয়াও। কিন্তু তিনি হাত লাগানোর আগেই হেড করেন টিয়েলেম্যানস। বল গোলে ঢোকে। দু’টি গোলের ক্ষেত্রেই সেনেগালের রক্ষণ দায়ী। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষে আরও একটি ভুল করল সেনেগালের রক্ষণ। বল বার করতে গিয়ে টিয়েলেম্যানসকে ফাউল করেন কামারা। ভার রিপ্লে দেখে পেনাল্টি দেন রেফারি। সকলে ভেবেছিলেন লুকাকু শট মারবেন। কিন্তু দায়িত্ব নেন অধিনায়ক। ঠান্ডা মাথায় গোল করে বেলজিয়ামকে পরের রাউন্ডে তোলেন তিনি।
ভালো খেলেও ইংল্যান্ডের কাছে হার কঙ্গোর
ফুটবল বিশ্বের সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত হয়ে থাকতে পারে এ বারের বিশ্বকাপ। বুধবারের ইংল্যান্ড-ডিআর কঙ্গো ম্যাচ সেই পরিবর্তনের উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে। ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়নদের বাড়তি সমীহ করেনি প্রথম বার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কঙ্গো। বরং আগ্রাসী ফুটবল খেলছে। প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা ডিফেন্সকে ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করেছে। আফ্রিকার দেশের রক্ষণও পাল্লা দিয়ে লড়াই করেছে। গোলরক্ষক লিয়োনেল এমপাসি দুরন্ত খেললেন। বেশ কয়েকটা ভাল সেভ করলেন। কঙ্গোর রক্ষণের প্রাচীর ভাঙতে হিমশিম খেলেন জুড বেলিংহ্যাম, মার্কাসরা। ম্যাচের ৭ মিনিটে ব্রায়ান সিপেনগার দুরন্ত গোলে এগিয়ে যায় কঙ্গো। বক্সের মধ্যে অরক্ষিত অবস্থায় বল পান সিপেনগা। তাঁর ডান পায়ের শক্তিশালী শট আটকাতে পারেননি জর্ডন পিকফোর্ড। পিছিয়ে পড়ার পর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। ৪ মিনিট পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে আটকে রেখেছিল কঙ্গো। সমতা ফেরান সেই কেন। ৭৫ মিনিটে বক্সের মধ্যে অ্যান্টনি গর্ডনের ভাসিয়ে দেওয়া বলে হেড দিয়ে গোল করেন কেন। এমপাসি চেষ্ট করেও আটকাতে পারেননি। কেনই ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন ৮৬ মিনিটে। সেই গর্ডনের পাস থেকেই বক্সের মধ্যে বল পান ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ডান পায়ের জোরাল শটে পরাস্ত করেন কঙ্গোর গোলরক্ষককে।
শেষ ষোলোয় আয়োজক আমেরিকা
মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় আয়োজক দেশ আমেরিকাও পৌঁছল শেষ ষোলোয়। ১০ জনের আমেরিকাকেও হারাতে পারল না বসনিয়া ও হার্জ়েগোভিনা। লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠে বিপুল জনসমর্থন নিয়েই প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের ছাড়পত্র আদায় করে নিল আমেরিকা। ২০০২-এর পর আবার বিশ্বকাপের নক-আউটে এগোল তারা। প্রথম থেকেই আক্রমণে যাচ্ছিল আমেরিকা। টিলমানের ক্রস ধরে গোল করেও ফেলেছিলেন বালোগুন। কিন্তু অফসাইডের জন্য তা বাতিল হয়। প্রথমার্ধের একেবারে শেষে বসনিয়ার রক্ষণের ভুলে বল পেয়ে গোল করেন বালোগুন। তবে দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই, ৬৪ মিনিটে সেই বালোগুনই লাল কার্ড দেখেন। বিশ্বকাপের নক-আউটে গোল ও লাল কার্ড, এর আগে শুধু ছিল জিনেদিন জিদানের। ২০০৬-এর সালের ফাইনালে ইটালির বিরুদ্ধে। বালোগুন উঠে যাওয়ার পর থেকে ১০ জনে খেলতে হয় আমেরিকাকে। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপে তাঁর তিনটি গোল হয়ে গেলেও প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে খেলতে পারবেন না তিনি। ১০ জনের আমেরিকাকে বেশ কিছুক্ষণ চাপে রেখেছিল বসনিয়া ও হার্জ়েগোভিনা। কিন্তু দশ জনেও পাল্টা আক্রমণের কৌশল নেয় আমেরিকা। তারা আরও একটি গোল করলেও তা অফসাইডে বাতিল হয়। তবে ৮২ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে আমেরিকাকে ২-০ এগিয়ে দেন টিলমান। তখনই আমেরিকার জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।
