Tag: X

  • Social Media Safe Harbor: প্রতিটি পোস্টের দায় নিতে হতে পারে মেটা, ইউটিউব ও এক্স-কে! সোশ্যাল মিডিয়ার আইনি সুরক্ষা তুলে দেওয়ার ভাবনা

    Social Media Safe Harbor: প্রতিটি পোস্টের দায় নিতে হতে পারে মেটা, ইউটিউব ও এক্স-কে! সোশ্যাল মিডিয়ার আইনি সুরক্ষা তুলে দেওয়ার ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media Safe Harbor) ব্যবহারকারীদের পোস্ট, ছবি, ভিডিও কিংবা মন্তব্যের দায় এবার সরাসরি বর্তাতে পারে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলির উপর। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব এবং এক্স-এর মতো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলিকে দেওয়া আইনি সুরক্ষা বা ‘সেফ হারবার’ তুলে দেওয়ার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট নিয়মে পরিবর্তন আনার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

    ‘সেফ হারবার’ বা আইনি দায়মুক্তি!

    বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ নম্বর ধারায় সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলি ‘সেফ হারবার’ বা আইনি দায়মুক্তির সুবিধা পেয়ে থাকে। এই বিধান অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কোনও পোস্ট, ভিডিও বা মন্তব্যের জন্য সাধারণত সরাসরি দায়ী করা যায় না সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলিকে। তবে প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে সেই আইনি সুরক্ষা থেকে বাদ পড়তে পারে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলি। পরিবর্তে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী, টেলিকম এবং মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলির জন্য এই সুবিধা সীমাবদ্ধ রাখার কথা বিবেচনা করছে কেন্দ্র।

    কেন এই আইনি সুরক্ষা তুলে দেওয়ার ভাবনা?

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের একাংশের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media Safe Harbor) সংস্থাগুলি এখন আর শুধুমাত্র তথ্য আদানপ্রদানের মাধ্যম নয়। বিভিন্ন অ্যালগরিদম ব্যবহার করে কোন পোস্ট কত মানুষের কাছে পৌঁছবে, কোন ভিডিও বেশি প্রচার পাবে কিংবা কোন বিষয় ব্যবহারকারীদের সামনে তুলে ধরা হবে, তা অনেকাংশে নির্ধারণ করে এই প্ল্যাটফর্মগুলি। পাশাপাশি, সংস্থাগুলি নিজেদের কমিউনিটি গাইডলাইন অনুযায়ী বিভিন্ন পোস্ট মুছে দেয় কিংবা সেগুলির প্রচার সীমিত করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এই নীতিমালার সঙ্গে ভারতীয় আইনের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেন্দ্রের একাংশের যুক্তি, কনটেন্টের প্রচার ও প্রসারে যখন প্ল্যাটফর্মগুলির সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে, তখন ব্যবহারকারীদের পোস্টের দায় থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দেওয়া উচিত কি না, তা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট নিয়ে বিতর্ক

    এর আগেও মেটা পরিচালিত ইনস্টাগ্রামের বিরুদ্ধে ভারতে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত আপত্তিকর কনটেন্ট বা চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ মেটেরিয়াল (CSAM) অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচারের অভিযোগ উঠেছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC) দিল্লি পুলিশকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি, পকসো (POCSO) আইনের আওতায় প্রযুক্তি সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষ বাধ্যতামূলকভাবে রিপোর্ট করার দায়িত্ব পালন করেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

    সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশ

    ১৮ বছরের কম বয়সি শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে পুজোর আগেই কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শিশুদের জন্য ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী নয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আর এখানে মূল প্রশ্ন হল, ১৮ বছরের কম বয়সিরা নিজের নামে স্বাধীনভাবে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খুলতে এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের শর্তাবলিতে চুক্তিবদ্ধ হতে পারবে কি না। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক কার্যপ্রণালীতে এই বিষয়টির সম্ভাবনা নিয়ে কেন্দ্রকে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

    ভারতে কাজের ধরন বদলাতে হবে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে

    তবে এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ভারতে কাজের ধরন বদলাতে হতে পারে বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি সংস্থাগুলির। কারণ, ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কনটেন্টের জন্য সরাসরি আইনি দায় এড়ানোর সুযোগই এত দিন এই সংস্থাগুলির ব্যবসার অন্যতম ভিত্তি। ২০০০ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ নম্বর ধারায় ইন্টারনেট মধ্যস্থতাকারী সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট শর্তে আইনি দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ব্যবহারকারীরা কোনও পোস্ট, ছবি, ভিডিও বা মন্তব্য করলে তার জন্য সাধারণত সরাসরি দায়ী করা যায় না সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মকে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে এই সুরক্ষা বজায় থাকে। কেন্দ্রের আলোচনায় এখন প্রশ্ন উঠছে, এই সুবিধা কি শুধুমাত্র সেই সব সংস্থার জন্য রাখা উচিত, যারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় তথ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে? যেমন ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা, টেলিকম সংস্থা কিংবা পিয়ার-টু-পিয়ার মেসেজিং পরিষেবা।

    নতুন পণ্য আনলেও আগাম জানাতে হতে পারে

    শুধু সেফ হারবার নয়, আরও কয়েকটি বিষয়ে বদলের কথা ভাবছে কেন্দ্র। সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media Safe Harbor) বা মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে, এমন কোনও বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনলে আগাম সরকারকে জানানোর ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের ইউজারনেম ফিচার নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিরোধের পর এই ভাবনা সামনে এসেছে। ওই ফিচারের মাধ্যমে ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই ব্যবহারকারীরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন। পরিচয় জালিয়াতি, ফিশিং এবং আর্থিক প্রতারণার আশঙ্কা দেখিয়ে জুলাইয়ে ফিচারটির চালু হওয়া স্থগিত রাখতে বলেছিল মন্ত্রক। পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও ঢেলে সাজাতে চাইছে সরকার। ডিপফেক, সম্মতি ছাড়া ছড়ানো যৌন বা ব্যক্তিগত ছবি এবং পরিচয় অপব্যবহারের মতো ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত কনটেন্ট সরানোর ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বড়সড় বদলের ভাবনা কেন্দ্রের

    সব মিলিয়ে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বেআইনি ও আপত্তিকর কনটেন্টের প্রচার রুখতে প্ল্যাটফর্মগুলির দায়বদ্ধতা বাড়ানোর বিষয়ে কেন্দ্রের এই ভাবনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আইন পরিবর্তন হলে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব কিংবা এক্স— সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা কোনও বিষয়বস্তুর দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকেই। সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের আইনি কাঠামোয় বড়সড় বদলের কথা ভাবছে কেন্দ্রের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। তবে প্রস্তাবিত পরিবর্তন এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ভারতের ডিজিটাল দুনিয়ায় তার বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে।

  • Elon Musk: মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরেই বড় ধাক্কা খেলেন ইলন মাস্ক! কোন সমস্যায় পড়তে পারেন মার্কিন ধনকুবের?

    Elon Musk: মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরেই বড় ধাক্কা খেলেন ইলন মাস্ক! কোন সমস্যায় পড়তে পারেন মার্কিন ধনকুবের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা খেয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ক্ষতির নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি ইলন মাস্ক। তিনি নিজে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি (Elon Musk)। টেক্সাস, জর্জিয়া, ওহাইও কিংবা অন্য কোনও অঙ্গরাজ্যের ব্যালটেও ছিল না তাঁর নাম। তবু এই নির্বাচনের ফলের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থ গভীরভাবে জড়িয়ে ছিল (US Midterm Elections)।

    গত কয়েক বছরে রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম বড় আর্থিক পৃষ্ঠপোষক হয়ে উঠেছিলেন মাস্ক। বিপুল ব্যক্তিগত সম্পদ ব্যবহার করে রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে অর্থ জুগিয়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া এক্সকে কাজে লাগিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছেন তিনি। ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতা পেলে আমেরিকার কী পরিণতি হতে পারে, তা নিয়েও বারবার সতর্ক করেছেন তাঁর অনুগামীদের।

    কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ে সেই অর্থ, প্রভাব কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচার কোনও কিছুই কাজে আসেনি। প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান যেমন বড় ধাক্কা খেল, তেমনই রিপাবলিকানদের পরাজয় মাস্কের রাজনৈতিক কৌশলকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। বিশেষ করে টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যে, যেখানে মাস্ক বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন, সেখানেও প্রত্যাশিত ফল পেল না রিপাবলিকান শিবির।

    মাস্কের কাছে এই পরাজয় শুধু বিব্রতকর নয়। আমেরিকার ভোটারদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা, তাঁর রাজনৈতিক বিচারবুদ্ধি এবং একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে নিজের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যকে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত—সব কিছু নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

    ব্যর্থ মাস্ক (Elon Musk)

    রিপাবলিকানদের নির্বাচনী লড়াইয়ে মাস্কের আর্থিক অবদান ছিল নজিরবিহীন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রায় ৪৭৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন তিনি। এই নির্বাচনী পর্বে ব্যক্তিগতভাবে অর্থদানকারী ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই ছিলেন শীর্ষে।

    এর আগে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, অক্টোবর মাসের মধ্যেই তাঁর নির্বাচনী ব্যয়ের পরিমাণ ৩৬৬ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। রিপাবলিকানপন্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন এবং নির্বাচনী প্রচার সংস্থার মাধ্যমে এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় করা হয়।

    আমেরিকা পিএসি, সেনেট লিডারশিপ ফান্ড-সহ একাধিক রিপাবলিকানপন্থী সংগঠনের মাধ্যমে অর্থ ঢেলেছিলেন মাস্ক। উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট—কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা এবং ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের পরিকল্পনাকে বাধাহীনভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা।

    টেক্সাসের সেনেট নির্বাচনেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের বিরুদ্ধে লড়াই করেন (Elon Musk) ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো।

    টেক্সাসের সঙ্গে মাস্কের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। নিজের বাসস্থান এবং একাধিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম এই অঙ্গরাজ্যে সরিয়ে এনেছেন তিনি। টেসলা ও স্পেসএক্সের মতো সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিও রয়েছে সেখানে। ফলে টেক্সাসের সেনেট নির্বাচন তাঁর কাছে নিছক একটি রাজনৈতিক লড়াই ছিল না। যে রাজনৈতিক ব্যবস্থার কাছ থেকে তিনি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন, সেই ব্যবস্থাকে নিজের বিপুল আর্থিক ক্ষমতা দিয়ে রক্ষা করতে পারবেন কি না, তারও পরীক্ষা ছিল এই নির্বাচন। কিন্তু ভোটারদের রায় ছিল সম্পূর্ণ উল্টো।

    কেন প্যাক্সটনকে হারিয়ে জয়ী হন জেমস টালারিকো। এর ফলে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসেও ডেমোক্র্যাটদের উত্থান নতুন করে আলোচনায় আসে। জয়ের পর ভাষণে টালারিকো সেই ধনকুবের অর্থদাতাদের প্রসঙ্গ তোলেন, যাঁরা নির্বাচনী ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন। ভোটাররা গলিয়াথকে পরাজিত করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। অথচ এই ফল ঠেকাতেই কয়েকশো মিলিয়ন ডলার খরচ করেছিলেন মাস্ক। ঘটনার মধ্যে রয়েছে গভীর তাৎপর্য। যাঁর ব্যক্তিগত সম্পদ বিশ্বের বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে বিপুল প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তিনিও যে নিজের পছন্দমতো রাজনৈতিক ফল কিনে নিতে পারবেন না, তা এই নির্বাচন আবারও দেখিয়ে দিল।

    মাস্কের রাজনৈতিক বোঝা

    মাস্কের নির্বাচনী বিপর্যয়ের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে তাঁর বিতর্কিত ভূমিকার সম্পর্কও রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর প্রশাসনের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়ে ওঠেন মাস্ক। সরকারি দক্ষতা বৃদ্ধি দফতর বা ডিওজিই-র সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি প্রশাসনিক ব্যয় কমানো, অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে ফেলা এবং সরকারি কাজের গতি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। রক্ষণশীলদের একাংশের কাছে মাস্ক ছিলেন এমন এক উদ্যোক্তা, যিনি বেসরকারি শিল্পক্ষেত্রের দক্ষতা ও জবাবদিহির ধারণাকে সরকারি ব্যবস্থায় প্রয়োগ করতে পারবেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই এই উদ্যোগ বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে।

    কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ছাঁটাই, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো এবং একাধিক প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়। পাশাপাশি, নির্বাচিত প্রতিনিধি না হয়েও একজন ধনকুবের কীভাবে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে এতটা প্রভাব বিস্তার করছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে (Elon Musk)।

    প্রশাসন থেকে সরে যাওয়ার পরেও সেই বিতর্কের ছায়া পুরোপুরি কাটেনি। বরং মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে মাস্ক বুঝিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তিনি ছেড়ে দেননি।

    সমস্যা হল, এত দিনে তিনি শুধুমাত্র প্রযুক্তি ও শিল্পক্ষেত্রের একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। বরং মার্কিন রাজনীতির অন্যতম বিতর্কিত ও মেরুকরণ সৃষ্টিকারী ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন।

    একজন ব্যবসায়ীর রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে তাঁর সমস্ত গ্রাহক একমত না-ও হতে পারেন। কিন্তু কোনও ব্যবসায়ী যখন বারবার প্রকাশ্যে রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন, তখন সেই মতবিরোধ তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থাগুলির উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে।

    মাস্কের বিপদের কারণ

    মাস্কের জন্য নির্বাচনের ফল অস্বস্তিকর হয়ে ওঠার আরও একটি বড় কারণ রয়েছে। তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের সঙ্গে মার্কিন সরকারের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। স্পেসএক্সের ব্যবসার বড় অংশ সরকারি চুক্তি ও অংশীদারিত্বের উপর নির্ভরশীল। টেসলার ব্যবসাও সরকারি নীতি, নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনার দ্বারা প্রভাবিত হয়। অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত তাঁর উদ্যোগগুলির জন্যও প্রয়োজন অনুকূল সরকারি নীতি, পরিকাঠামো এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহযোগিতা। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পূর্ববর্তী ঘনিষ্ঠতার কারণে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণাধীন কংগ্রেস মাস্কের কাছে তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধাজনক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছিল।কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কাজকর্ম খতিয়ে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। এর মধ্যে সরকারি দফতরে মাস্কের পূর্ববর্তী ভূমিকা এবং তাঁর ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে সরকারি সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য সংঘাতও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

    কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় মাস্কের সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে যে ধরনের তদন্তের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম থাকত, এবার সেই পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।

    অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের তদন্তের নিশানায় থাকতে পারেন মাস্ক-সহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি।

    অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে, অবিলম্বে তাঁর ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে কিংবা সরকারি চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। তবে তাঁর জন্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে আগের তুলনায় অনেক বেশি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট।

    যে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রগুলিতে সরকারি সিদ্ধান্তের উপর বিপুল আর্থিক স্বার্থ নির্ভর করে, সেখানে এই অনিশ্চয়তা মাস্কের কাছে যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয় (US Midterm Elections)।

    এক্সকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করেও লাভ হল না

    মাস্কের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তাঁর মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া এক্সের ভূমিকা।২০২২ সালে টুইটার অধিগ্রহণ করার সময় বাক্‌স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং মতাদর্শগত সেন্সরশিপ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মাস্ক। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এক্স তাঁর রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে।

    রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থন, ডেমোক্র্যাট নেতাদের আক্রমণ এবং আমেরিকার রাজনৈতিক বিতর্কে নিজের মতামত প্রতিষ্ঠা করার জন্য বারবার এই মাধ্যমকে ব্যবহার করেছেন তিনি।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারেও রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

    বিশেষ করে টেক্সাসের সেনেট নির্বাচনে জেমস টালারিকোর বিরুদ্ধে তাঁর আক্রমণ ছিল যথেষ্ট তীব্র। ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর বিরুদ্ধে আমেরিকার গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দিতে পারে, এমন নীতির সমর্থক হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন মাস্ক। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্যও করেছিলেন। কিন্তু তাতেও টালারিকোর জয় আটকানো যায়নি। এখানেই উঠে আসছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এক্সের মাধ্যমে বাস্তবে কতটা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম মাস্ক?

    কোনও সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকশো মিলিয়ন অনুগামী থাকা মানেই যে তাঁদের প্রত্যেককে নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শের পক্ষে নিয়ে আসা সম্ভব, এমন নয়। একইভাবে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সোশ্যাল মিডিয়ার মালিক হলেই সেই মাধ্যমের ব্যবহারকারীরা মালিকের রাজনৈতিক অবস্থান মেনে নেবেন, তারও নিশ্চয়তা নেই (Elon Musk)। বরং রাজনৈতিক বিষয়ে মাস্কের ক্রমবর্ধমান প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ উল্টে তাঁর জন্য সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, মহাকাশ গবেষণা কিংবা প্রযুক্তিক্ষেত্রে তাঁর সাফল্যের প্রশংসা করেন এমন অনেক মানুষই তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে একমত নন। বারবার দলীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার ফলে নিজের অনুগামী ও গ্রাহকদের একাংশকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে তাঁর। এই নির্বাচনের ফল থেকে অবশ্য বলা যায় না যে, এক্সের রাজনৈতিক প্রভাব সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গিয়েছে। তবে এটুকু স্পষ্ট, শুধুমাত্র এই মাধ্যমকে ব্যবহার করে ভোটের ফল নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবসাতেও বাড়তে পারে রাজনৈতিক চাপ

    মাস্কের রাজনৈতিক সমস্যার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। আমেরিকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বিপুল পরিকাঠামোসমৃদ্ধ তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে। এক্সএআই এবং তাঁর বৃহত্তর প্রযুক্তি ব্যবসার মাধ্যমে এই ক্ষেত্রেও বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে মাস্কের। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য প্রচুর বিদ্যুৎ, জমি, বিনিয়োগ এবং সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা এখন আর শুধুমাত্র পরিবেশকর্মী কিংবা ডেমোক্র্যাটদের একাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

    বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বড় তথ্যকেন্দ্রের বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহার, জলসম্পদের উপর চাপ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে তার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন।

    নির্বাচনের আগে বিজনেস ইনসাইডারের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা ক্রমশ নির্বাচনী ইস্যু হয়ে উঠছে। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা এই জনমতকে নিজেদের প্রচারের কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন।

    এমন পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণাধীন কংগ্রেস প্রযুক্তি সংস্থাগুলির দ্রুত সম্প্রসারণের পথে আরও বেশি বাধা তৈরি করতে পারে। মাস্ক হয়তো ভেবেছিলেন, রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করলে তাঁর ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনার জন্য অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় থাকবে। কিন্তু নির্বাচনের ফল তাঁর সেই প্রত্যাশায় কার্যত জল ঢেলে দিয়েছে।

    মাস্কের মস্ত বড় ভুল

    মাস্কের এই রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে একটি বড় শিক্ষা রয়েছে। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর সাফল্যের অন্যতম কারণ হল নতুন সম্ভাবনা চিহ্নিত করা, বড় ঝুঁকি নেওয়া এবং প্রতিষ্ঠিত শিল্পক্ষেত্রের প্রচলিত ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষমতা।

    টেসলাকে বিশ্বের অন্যতম বড় বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা সংস্থায় পরিণত করেছেন তিনি। স্পেসএক্সকে বাণিজ্যিক মহাকাশ অভিযানের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহ প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু ব্যবসা এবং রাজনীতি এক জিনিস নয়।

    অর্থ দিয়ে নির্বাচনী বিজ্ঞাপন চালানো যায়, জনসভার আয়োজন করা যায়, প্রচারকর্মী নিয়োগ করা যায় এবং নির্বাচনী সংগঠনকে শক্তিশালী করা যায়। কিন্তু অর্থ ব্যয় করে মানুষের সমর্থন নিশ্চিত করা যায় না।

    মাস্ক সম্ভবত মনে করেছিলেন, তাঁর বিপুল সম্পদ, এক্সের উপর নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাম্পের সঙ্গে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা তাঁকে রিপাবলিকান রাজনীতির অপরিহার্য শক্তিতে পরিণত করবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল সেই ধারণার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে দিয়েছে।

    সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, কয়েকশো মিলিয়ন ডলার খরচ করেও রিপাবলিকানদের কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো আটকাতে পারেননি তিনি। নির্বাচনী অর্থের নিরিখে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের জয়ের গতি রুখতে ব্যর্থ হয়েছে।

    পরাজয়ের পর এক্সে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করেছেন মাস্ক। নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে কৌতুকের ছলে বলেছেন, তাঁর তথাকথিত মহাকাশভিত্তিক লেজার অস্ত্রও নাকি কাজ করেনি। পাশাপাশি মহাকাশেই তথ্যকেন্দ্র তৈরির সম্ভাবনা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে এই রসিকতার আড়ালে ঢাকা পড়ছে না নির্বাচনী বিপর্যয়ের বাস্তবতা।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনে দ্বিতীয় বড় পরাজিত মাস্ক?

    মধ্যবর্তী নির্বাচনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরাজিত নিঃসন্দেহে ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ, এই নির্বাচন কার্যত তাঁর রাষ্ট্রপতিত্বের উপর গণভোটে পরিণত হয়েছিল। তাঁর দল কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। তাঁর পছন্দের একাধিক প্রার্থীও পরাজিত হয়েছেন। ফলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাকি সময়ে তাঁর পক্ষে আইন প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠবে। তবে দ্বিতীয় বড় ধাক্কা যে ইলন মাস্কের, তা বলাই যায়।

    ট্রাম্পের মতো নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করার কোনও সাংবিধানিক দায়িত্ব মাস্কের ছিল না। তা সত্ত্বেও স্বেচ্ছায় কয়েকশো মিলিয়ন ডলার, নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা এবং জনপরিসরে প্রতিষ্ঠিত ভাবমূর্তিকে রিপাবলিকানদের জয়ের স্বার্থে বাজি রেখেছিলেন তিনি। বস্তুত, সেই বাজিতে হেরে গেলেন বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই নির্বাচনের ফল দেখিয়ে দিয়েছে যে বিপুল সম্পদ কিংবা শক্তিশালী সোশ্যাল মিডিয়ার মালিকানা থাকলেই সাধারণ আমেরিকানদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।

    মহাকাশে রকেট পাঠাতে পারেন মাস্ক, বিপুল সংখ্যায় বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করতে পারেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে পারেন। কিন্তু শুধুমাত্র অর্থের জোরে নির্বাচনী জয় নিশ্চিত করা তাঁর পক্ষেও সম্ভব নয়। যে ব্যক্তি প্রতিষ্ঠিত শিল্পব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিজের সাফল্যের ভিত গড়েছেন, তিনিই এবার বুঝতে পারলেন, ধনকুবেরের চেকবই (US Midterm Elections) দিয়ে গণতন্ত্রের ফল বদলে দেওয়া যায় না। ট্রাম্পের কাছে এই নির্বাচন রাজনৈতিক সতর্কবার্তা। আর মাস্কের কাছে এটি নিজের প্রভাব ও ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বোঝার বড় শিক্ষা হয়ে উঠতে পারে (Elon Musk)। রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে খরচ হওয়া বিপুল অর্থের ক্ষতির থেকেও এই উপলব্ধি তাঁর ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • PM Modi: ‘আরশোলা’ পার্টির বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করে পোস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাইল দিল্লি পুলিশ

    PM Modi: ‘আরশোলা’ পার্টির বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করে পোস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাইল দিল্লি পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া (Derogatory Posts) আপত্তিকর ও অবমাননাকর পোস্টের ঘটনায় এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। সরকারি অভিযোগে বলা হয়েছে, দেশের একটি সাংবিধানিক পদাধিকারীকে উদ্দেশ্য করে “অপমানজনক, বিদ্বেষমূলক এবং মানহানিকর” বিষয়বস্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের পরিচয় জানাও (PM Modi)

    এই ঘটনার তদন্তে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সকে সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলি আপলোড করা অ্যাকাউন্টগুলির পরিচয় জানাতে এবং দ্রুত ছবি ও ভিডিওগুলি সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। পাশাপাশি, যেসব এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে আপত্তিকর পোস্ট করা হয়েছে, সেগুলির পুরো নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং ই-মেল আইডি-সহ বিস্তারিত তথ্যও চেয়েছে পুলিশ। এছাড়াও, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলির লগ-ইন ও লগ-আউট সংক্রান্ত তথ্য, তারিখ ও সময়ের বিবরণ এবং তদন্তে সহায়ক হতে পারে এমন অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়মের ৬৩(৪) ধারার অধীনে একটি শংসাপত্র জমা দিতে এবং ভবিষ্যৎ তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট পোস্ট এবং ভিডিওগুলির সমস্ত তথ্য সংরক্ষণ করতেও এক্স-কে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত সিজেপির বিক্ষোভ এবং চলো সংসদ কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘটিত অশান্তির সময় প্রকাশিত একাধিক ভিডিও ও পোস্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, ওই পোস্টগুলিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উদ্দেশ্য করে অবমাননাকর ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছিল।

    সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি

    দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভ ও অশান্তির সময় বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষায় একাধিক বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাদের সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি দল নিয়মিতভাবে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নজরদারি চালাচ্ছে। কোথাও আপত্তিকর বা উসকানিমূলক বিষয়বস্তু নজরে এলেই সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাকে তা সরিয়ে নিতে বলে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।পুলিশের দাবি, ইতিমধ্যেই নোটিশ পাঠানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে করা একাধিক অশালীন মন্তব্য ও ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সাইবার শাখা এবং সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি দল বিক্ষোভ সংক্রান্ত সমস্ত অনলাইন কার্যকলাপের ওপর নজর রাখছে (PM Modi), যাতে কোনও উসকানিমূলক বা আইনভঙ্গকারী বিষয়বস্তু দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এর আগে দিল্লি পুলিশের দাবি ছিল, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত ৪০০-রও বেশি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলি (Derogatory Posts) সিজেপির বিক্ষোভকে সমর্থন করে ভুয়ো তথ্য, ডিপফেক ভিডিও এবং বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাচ্ছিল (PM Modi)।

     

  • Journalists Attack: ছাত্র সমাবেশে দুষ্কৃতীদের ভিড়! সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ১১

    Journalists Attack: ছাত্র সমাবেশে দুষ্কৃতীদের ভিড়! সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ১১

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতায় ছাত্র সমাবেশ চলাকালীন হিংসা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার (Journalists Attack) ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। গত ২৪ জুলাই হামলা হয় সাংবাদিকদের ওপর (Rally Violence)। শনিবার গ্রেফতারির খবর জানিয়েছেন পুলিশ কর্তারা। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কুণাল আগরওয়াল জানান, যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁরা কেউই ছাত্র নন।

    সাংবাদিক পিটিয়ে গ্রেফতার ১১ (Journalists Attack)

    তিনি বলেন, “হিংসা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মোট ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা কেউই ছাত্র নয়। তারা সকলেই গোলমাল সৃষ্টি করেছিল। ছাত্র সংগঠনের সমাবেশে উপস্থিত থেকে তারা ভাঙচুর ও হিংসাত্মক ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছিল।” গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— ইরফান খুরশেদ (৩০), আরশাদ আলি ওরফে সাজিদ (৫০), মহম্মদ মইনুদ্দিন (২৬), মহম্মদ আলমগীর ওরফে রাজু (৪৮), ইমরান আহমেদ ওরফে গোপী (১৯), খালিদ রেজা ওরফে রিঙ্কু (৪৭), জামির আহমেদ ওরফে মিনকু (৪২), মহসিন খান (৩০) এবং দীপক ভৌমিক ওরফে ভিকি (৩৮)। এছাড়াও গ্রেফতার করা হয়েছে জনৈক মহম্মদ আজাদ ও মহম্মদ আফরোজকে। পুলিশের দাবি, “মহম্মদ আজাদ ও মহম্মদ আফরোজ পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছিল। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে অন্ডালের কাছে তাদের আটক করা হয়।”

    কী বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী?

    এর আগে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতায় নিট আন্দোলনের সময় পুলিশকর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর “নৃশংস হামলা”র তীব্র নিন্দা করেন। কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে জখম হওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় তিনি জানান, আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তাঁদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন (Journalists Attack)। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজ কলকাতায় দুষ্কৃতীদের হাতে পুলিশকর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। একাধিক আহত সাংবাদিক বর্তমানে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমি হাসপাতালে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করেছি এবং শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছি। তাঁদের সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছি। ঘটনায় জড়িত প্রত্যেক দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।”

    উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা আন্দোলনের সমর্থনে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। অল ইন্ডিয়া ডেমোক্র্যাটিক স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের ব্যানারে আয়োজিত এক (Rally Violence) বিক্ষোভে কয়েকজন আন্দোলনকারীকে বোতল ছুড়তেও দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ (Journalists Attack)।

     

  • Amit Shah: শিক্ষার্থীদের স্বার্থে শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছাড়েন ধর্মেন্দ্র প্রধান, প্রশংসায় পঞ্চমুখ অমিত শাহ

    Amit Shah: শিক্ষার্থীদের স্বার্থে শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছাড়েন ধর্মেন্দ্র প্রধান, প্রশংসায় পঞ্চমুখ অমিত শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। সেই কারণে তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তিনি জানান, বিজেপির কাছে কোনও পদ নয়, দেশ, যুবসমাজ এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সর্বাগ্রে। এক্স হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে শাহ লেখেন, “ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মীদের কাছে দেশ, আমাদের যুবসমাজ এবং শিক্ষার্থীরা যে কোনও পদের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আজ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা সেই আদর্শেরই প্রতিফলন।”

    ধর্মেন্দ্র প্রধানের ভূয়সী প্রশংসা (Amit Shah)

    তিনি আরও বলেন, “মোদি সরকার দেশের যুবসমাজের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেওয়া সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয়। আমি সম্পূর্ণ নিশ্চিত, এই পদক্ষেপ নিট পরীক্ষায় সফল সমস্ত পড়ুয়ার জন্য পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।” শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের কাজেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন শাহ। তাঁর কথায়, “জাতীয় শিক্ষানীতির কার্যকর বাস্তবায়ন, প্রধানমন্ত্রী শ্রী বিদ্যালয়গুলির সম্প্রসারণ, ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদারে ধর্মেন্দ্র প্রধান গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করেছেন। উন্নত ভারত গড়ার সংকল্প বাস্তবায়নে তাঁর মেয়াদ স্মরণীয় হয়ে থাকবে (Amit Shah)।”

    শুভেন্দুর প্রতিক্রিয়া

    এদিকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, তাঁর “মন ভারাক্রান্ত”। এক্সে করা পোস্টে তিনি লেখেন, “আজ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দেওয়ায় আমার মন ভারাক্রান্ত। জনজীবনে অনেক সময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কিন্তু দেশ গঠনে তাঁর অবদান বহু প্রজন্ম মনে রাখবে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর মাধ্যমে তিনি এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেছেন, যা প্রাথমিক শিক্ষার ভিত শক্তিশালী করে, বহুমাত্রিক শিক্ষাকে উৎসাহ দেয় এবং বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতার উপযোগী দক্ষতায় দেশের যুবসমাজকে গড়ে তোলে। তাঁর লক্ষ্য শুধু শিক্ষা দেওয়া নয়, ভারতীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ বিশ্বমানের নাগরিক তৈরি করা।”

    ধর্মেন্দ্র প্রধানের বক্তব্য

    প্রসঙ্গত, ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে (Dharmendra Pradhan) এবং পরীক্ষায় অনিয়ম নিয়ে চলা আন্দোলনকে যাতে “দেশবিরোধী শক্তি” কাজে লাগাতে না পারে, সেই কারণেই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন (Amit Shah)।

     

  • Rath Yatra: রথযাত্রা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    Rath Yatra: রথযাত্রা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রথযাত্রা উপলক্ষে দেশ-বিদেশের সকল ভক্ত এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

    রাষ্ট্রপতি কী বললেন?

    শুভেচ্ছাবার্তায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, “জনবিশ্বাস অনুযায়ী মহাপ্রভু শ্রীজগন্নাথ, চক্ররাজ সুদর্শন, ভগবান বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রা রথে চড়ে ভক্তদের দর্শন দিতে বেরিয়ে আসেন।” তিনি প্রার্থনা করেন, মহাপ্রভু জগন্নাথের আশীর্বাদে দেশ ও দেশের মানুষের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি নেমে আসুক।উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন বলেন, “রথযাত্রা বিশ্বাস, ভক্তি, সমতা এবং সম্প্রীতির প্রতীক। এই উৎসব ভারতের সমৃদ্ধ সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।”

    প্রধানমন্ত্রী যা বললেন (Rath Yatra)

    রথযাত্রাকে ভারতের চিরন্তন আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, “রথযাত্রা ভারতের চিরন্তন আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রকাশ।” তাঁর কথায়, “এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহ্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভারত এবং বিশ্বের অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। এই উৎসব বিনয়, সম্মিলিত অংশগ্রহণ এবং নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শ ধারণ করে।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “মহাপ্রভু জগন্নাথ সকলকে সুস্বাস্থ্য, সুখ এবং সমৃদ্ধির আশীর্বাদ দিন। আমাদের সমস্ত প্রয়াসে তিনি শক্তি দিন এবং সমাজে ঐক্য ও সম্প্রীতির চেতনা আরও দৃঢ় করুন। জয় জগন্নাথ।”

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তা

    অন্য একটি শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মহাপ্রভু জগন্নাথের পবিত্র রথযাত্রার শুভক্ষণে আমি প্রার্থনা করি, তাঁর আশীর্বাদ যেন সকলের ওপর চিরকাল অটুট থাকে। তাঁর ঐশ্বরিক কৃপা দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনে নতুন শক্তি ও উদ্দীপনা সঞ্চার করুক।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “বিশ্বখ্যাত জগন্নাথ রথযাত্রা বিশ্বাস, আস্থা ও ভক্তির এক অনন্য প্রতীক। একই সঙ্গে এই উৎসব ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহন করে চলেছে।” তিনি সকলের সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন। প্রতি বছর রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ ভক্তের সমাগম হয়। শুধু ওড়িশার পুরীতেই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও একই উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হয় রথযাত্রা।

     

  • X Twitter Location Feature: কংগ্রেসের বহু অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হচ্ছে পাকিস্তান সহ বিদেশ থেকে! দেখাচ্ছে এক্স-এর লোকেশন ফিচার

    X Twitter Location Feature: কংগ্রেসের বহু অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হচ্ছে পাকিস্তান সহ বিদেশ থেকে! দেখাচ্ছে এক্স-এর লোকেশন ফিচার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইলন মাস্কের এক্স প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্টের (X Twitter Location Feature) অবস্থান প্রকাশ করার নতুন ফিচার চালু হওয়ায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে ভারতজুড়ে। এর ফলে দেখা গিয়েছে যে অনেক রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় অ্যাকাউন্ট, বিশেষত মোদি-বিরোধী ও কেন্দ্রীয় সরকার বিরোধী অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হচ্ছে দেশের বাইরে থেকে (Political Controversy)। বিষয়টিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিজেপি দাবি করেছে যে, বিপুল সংখ্যক কংগ্রেসপন্থী এবং হিন্দু-বিরোধী এক্স অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হচ্ছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকে। উদাহরণস্বরূপ, কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেরার অ্যাকাউন্টে উল্লেখ রয়েছে সেটি আমেরিকা-ভিত্তিক। মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের অ্যাকাউন্টে দেখা যাচ্ছে এটি আয়ারল্যান্ড-ভিত্তিক। সরকারবিরোধী বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্টকেও ভারতের বাইরের বলে দেখানো হচ্ছে, যার বেশিরভাগেরই লোকেশন হিসেবে দেখানো হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অংশ।

    কংগ্রেসকে বিঁধছে বিজেপি (X Twitter Location Feature)

    এই বিষয়টিই কংগ্রেসকে বেঁধার জন্য হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে বিজেপির। আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যর দাবি (X Twitter Location Feature), এই ধরনের কাজ-কারবার একটি বিশ্বব্যাপী যৌথ অপারেশন, যার উদ্দেশ্যই হল ভারতের সামাজিক আলোচনাকে প্রভাবিত করা এবং ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া। এক্সে তিনি লিখেছেন, “অনেক প্রো-কংগ্রেস, অ্যান্টি-হিন্দু এবং বিভাজনমূলক জাতিভিত্তিক হ্যান্ডেল আসলে ভারত থেকে পরিচালিতই হচ্ছে না। অনেকগুলি পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অংশ থেকে চালানো হচ্ছে। পরিচয় গোপন রাখার জন্য প্রায় সবাই বহুবার তাদের ইউজারনেম বদলেছে।” তিনি বলেন, “এটি কী দেখায়? ভারতের সামাজিক পরিসরকে প্রভাবিত করা, ভ্রান্ত তথ্য ছড়ানো এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে আরও গভীর করার জন্য একটি সর্বাত্মক বৈশ্বিক পরিকল্পনা। ভারতের বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র এখন উন্মোচিত হয়েছে (Political Controversy)।”

    “অ্যাবাউট দিস অ্যাকাউন্ট”

    নয়া এই ফিচারটি স্বচ্ছতা বাড়ানোর জন্য এক্সের প্রচেষ্টার অংশ। কারণ দীর্ঘদিন ধরে এই প্ল্যাটফর্মটিকে ভুয়ো তথ্য ও বিভ্রান্তির উৎস হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এখন, “অ্যাবাউট দিস অ্যাকাউন্ট” বিভাগে একটি সাধারণ ক্লিকের মাধ্যমেই যে কেউ দেখতে পারবেন, কোন দেশে অ্যাকাউন্টটি অবস্থিত, কতবার ব্যবহারকারীর নাম পরিবর্তন করা হয়েছে, এবং কোন জায়গা থেকে এক্স অ্যাপটি ডাউনলোড করা হয়েছে। বিজেপি নেতারা জানান, বেশ কিছু উদাহরণ সরকারের এই দাবিকে সমর্থন করে যে বহু এক্স হ্যান্ডেল, যেগুলি আগে সিএএর বিরুদ্ধে আন্দোলন বা এখন প্রত্যাহার করা কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে উসকে দিয়েছিল, সেগুলি বিদেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছিল (X Twitter Location Feature)।

    বিজেপি নেত্রীর বক্তব্য

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক তথা বিজেপি নেত্রী প্রীতি গান্ধী বলেন, “একই ধরনের ঘটনা দেখা গিয়েছিল নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) বিরোধী আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন এবং ২০২০ সালে দিল্লি দাঙ্গার সময়, যেখানে সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়ানো, আন্দোলনে উস্কানি দেওয়া এবং বিকৃত ভিডিও ছড়ানোর ঘটনা ঘটেছিল।” ট্যুইট-বার্তায় তিনি বলেন, “এখন পরিস্থিতির পচন এত গভীরে গিয়েছে যে কংগ্রেসের অফিসিয়াল হ্যান্ডেলগুলিও বিদেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছে। যখন দল-অনুমোদিত অ্যাকাউন্টগুলিতেই বিদেশি লগইনের চিহ্ন দেখা যায়, তখন এটি আরও বড় প্রশ্ন তোলে। কংগ্রেসের ডিজিটাল বার্তাগুলি ঠিক কে তৈরি করছে (Political Controversy)?”

    ‘দিয়া শর্মা’-‘যশিতা নাগপাল’ – এরা কারা

    সম্প্রতি আরও একটি বিস্ময়কর ঘটনা সামনে এসেছে। এগুলি হল জনৈক ‘দিয়া শর্মা’ এবং ‘যশিতা নাগপাল’ নামের দুটি অ্যাকাউন্ট। এগুলি পাকিস্তান-ভিত্তিক বলে খবর। এই দুটি অ্যাকাউন্টেই বিজেপি এবং সরকারের সমালোচনামূলক পোস্ট ছিল। মঙ্গলবার দেখা যায় ‘দিয়া শর্মা’র অ্যাকাউন্টটি সাসপেন্ড করা হয়েছে। ‘যশিতা নাগপাল’, যে নিজেকে রাজনৈতিক সাংবাদিক বলে দাবি করে, একটি পোস্টে জানায়, তাকে শুধু কংগ্রেসই নয়, অন্যান্য দলও নিয়োগ করেছিল (X Twitter Location Feature)। পোস্টে বলা হয়, “আমাকে শুধু কংগ্রেস নয়, ভারতের অন্য রাজনৈতিক দলও কয়েক মাস আগে তাদের প্রচারের কাজে লাগিয়েছিল। ভাগ্যিস, আমি যেসব অ্যাকাউন্ট বর্তমানে ব্যবহার করছি তাদের লোকেশন ঠিক সময়ে পাল্টে দিয়েছিলাম।”

    বিজেপির বক্তব্য

    অন্য একটি পোস্টে মালব্য বলেন, “এটি নতুন যুগের কংগ্রেস সমর্থকদের কাজ, যারা এখন জানা যাচ্ছে যে তারা মূলত পাকিস্তান বা বাংলাদেশি উৎসের।” তিনি বলেন, “এই হ্যান্ডেলগুলি হয় আইএসআই-যুক্ত সংগঠন, যারা ভারত-বিরোধী প্রচার চালাচ্ছে, অথবা সীমান্তের ওপার থেকে আসা ব্যক্তিরা, যারা কংগ্রেস সমর্থনের ছদ্মবেশে নিয়মিতভাবে হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ ছড়ায়।” তিনি বলেন, “এই সমর্থন আসলে ভারতীয় নয়—এটি বট নেটওয়ার্ক, এজেন্সি এবং সীমান্ত-পারের কার্যক্রমের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। এটি প্রকৃত ভোটারদের প্রতিফলিত করে না (Political Controversy)।” কেবল ভারত নয়, আমেরিকায়ও ঝড় তুলেছে এই ইস্যু। এই জাতীয় আরও বহু অ্যাকাউন্ট আফ্রিকা, নাইজেরিয়া, ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছে বলেও খবর (X Twitter Location Feature)।

LinkedIn
Share