Tag: yoga benefits

  • PM Modi: আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে ‘সুস্থ বার্ধক্যের’ বার্তা, যোগচর্চার মাধ্যমে মানব সম্ভাবনা ধরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে ‘সুস্থ বার্ধক্যের’ বার্তা, যোগচর্চার মাধ্যমে মানব সম্ভাবনা ধরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২১ জুন, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস (Yoga Day)। এই উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে অনুষ্ঠিত ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) বলেন, যোগ শুধু শরীরচর্চা নয়, এটি মানুষের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক শক্তি এবং জীবনধারাজনিত রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার অন্যতম কার্যকর উপায়। তিনি বলেন, “বয়স বাড়লেও যেন মানুষের সম্ভাবনা ও কর্মক্ষমতা কমে না যায়, সেই লক্ষ্যেই যোগচর্চাকে জীবনের অংশ করে তুলতে হবে।”

    আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা (PM Modi)

    এবারের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের থিম ছিল ‘যোগা ফর হেল্দি এজিং’ (Yoga for Healthy Ageing) । এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই থিমকে শুধুমাত্র প্রবীণদের জন্য সীমাবদ্ধ ভাবা উচিত নয়। বরং সব বয়সের মানুষের জন্যই এটি আজীবন সুস্থতা ও স্বাস্থ্যের অনুপ্রেরণা হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ৪০ বছর বয়সে ২০ বছরের তুলনায় আরও বেশি নমনীয় হওয়া, ৫০ বছরে ৩০ বছরের তুলনায় আরও বেশি উদ্যমী থাকা এবং ৭০ বছরে ৫০ বছরের তুলনায় জীবনধারাজনিত রোগের বিরুদ্ধে আরও বেশি করে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। এই লক্ষ্য পূরণে যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।” তিনি (PM Modi) এও বলেন, “নিয়মিত যোগচর্চা শরীরকে নমনীয় রাখে, শক্তির মাত্রা বাড়ায় এবং মানসিক চাপমুক্ত জীবনযাপনে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি মানুষকে নিজের শরীর ও মনের প্রতি আরও সচেতন হতে শেখায়, যা সুস্থ জীবনযাপনের ভিত তৈরি করে।”

    একতার বার্তা

    প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, বর্তমানে যোগ বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে একতার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। ভৌগোলিক সীমারেখা ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য অতিক্রম করে যোগ আজ একটি বৈশ্বিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “হিমালয় থেকে ভারত মহাসাগর, উত্তর-পূর্ব ভারত ও বাংলা থেকে সৌরাষ্ট্র—আজ গোটা দেশ যেন যোগের শক্তিতে উজ্জীবিত।” ২১ জুন বিশ্বের দীর্ঘতম দিনগুলির একটি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের কারণে এই দিনটি এখন বিশ্বের বৃহত্তম সম্মিলিত উদযাপনের দিনে পরিণত হয়েছে।” বিশ্ববাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যোগ মানুষের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে (Yoga Day), সবাইকে একসূত্রে বাঁধে। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আমি সমগ্র মানবজাতিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।”

    অনন্য আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা

    পশ্চিমবঙ্গে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই রাজ্য শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস, স্বামী বিবেকানন্দ এবং মহান যোগসাধক লাহিড়ী (শ্যামাচরণ লাহিড়ী) মহাশয়ের মতো আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বদের স্মৃতিবিজড়িত। তাঁদের সাধনাভূমিতে সম্মিলিত যোগাভ্যাস এক অনন্য আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা।” আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানেরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। বলেন, “আজ যোগ দিবসে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান সত্যিই প্রশংসনীয় এবং অনুকরণীয় উদ্যোগ।”

     

  • Yoga Benefits: ডায়াবেটিস থেকে ডিপ্রেশন— সবকিছুর মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের মুশকিল আসান হতে পারে যোগাভ্যাস!

    Yoga Benefits: ডায়াবেটিস থেকে ডিপ্রেশন— সবকিছুর মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের মুশকিল আসান হতে পারে যোগাভ্যাস!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    স্বাস্থ্য সমস্যা শুধুই শরীরে আটকে থাকছে না। একাধিক শারীরিক অসুবিধার পাশপাশি দেশ জুড়ে বাড়ছে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের একাংশের নানান শারীরিক অসুখের পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। মন ও শরীরের একাধিক সমস্যা ঠেকাতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার যোগাভ্যাস। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে তরুণ প্রজন্মের একাংশ নানান স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা যাচ্ছে, তাঁদের অধিকাংশের স্বাস্থ্য সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে জীবন যাপনের ধরন। অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন ও খাদ্যাভাসের জেরেই তাঁরা নানান ধরনের স্বাস্থ্য সঙ্কটের সম্মুখীন হচ্ছেন। তাঁদের সুস্থ জীবন যাপনের সাহায্য করবে যোগাভ্যাস।

    তরুণ প্রজন্মের কোন সমস্যা মোকাবিলায় বাড়তি সাহায্য করবে যোগাভ্যাস?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং অতিরিক্ত ওজনের মতো সমস্যায় ভুগছেন। এই সমস্ত শারীরিক সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ দিনের অধিকাংশ সময় বসে কাজ করেন। হাঁটাচলা কিংবা দৌড়াদৌড়ির সুযোগ কম। তার পাশপাশি আধুনিক খাদ্যাভাসে অতিরিক্ত প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট থাকে। চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। অধিকাংশ কম বয়সী ছেলেমেয়েরা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগের সমস্যা বাড়ছে।
    এই ধরনের শারীরিক সমস্যার পাশপাশি ভারতের তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ মানসিক চাপ, অবসাদ, উদ্বেগ, বিষন্নতার মতো সমস্যায় ভোগেন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পেশাগত জীবনে মারাত্মক প্রতিযোগিতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানান টানাপড়েন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে। ভারতে যে হারে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে, তাতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। শরীর ও মনের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে সুস্থ জীবন যাপন করতে তাই যোগাভ্যাস আধুনিক জীবনে অত‌্যন্ত জরুরি হয়ে যাচ্ছে।

    মানসিক সমস্যার জেরে হচ্ছে শারীরিক ক্ষতি

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির জেরে শারীরিক সমস্যা আরও বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যোগাভ্যাস শরীর এবং মনের উপরে একসঙ্গে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত যোগাভ্যাস করলে একদিকে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে, আবার রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। তাছাড়া, যোগাভ্যাস স্নায়ু সক্রিয় রাখে। পেশির দূর্বলতা কমায়। আবার যোগাভ্যাস হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। একদিকে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হওয়ার জেরে উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকায় স্নায়ুঘটিত সমস্যা কমবে। পেশির দূর্বলতা কমলে দিনভরের ক্লান্তি দূর হবে। যেকোনো কাজে বাড়তি উৎসাহ পাওয়া যাবে। এর পাশপাশি হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখলে যোগাভ্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর তাই মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা খুবই জরুরি। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ার নেপথ্যে অন্যতম কারণ, হরমোনের ভারসাম্যের অভাব। যোগাভ্যাস স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে নিয়মিত যোগাভ্যাস বজায় থাকলে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষন্নতা কমবে।

    কেন যোগাভ্যাসেই বাড়তি গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শিশু থেকে বয়স্ক, যেকোনো বয়সেই সুস্থ জীবন যাপনের জন্য যোগাভ্যাস জরুরি‌। তবে ভারতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে হারে স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে, সেটা রুখতে যোগাভ্যাসেই ভরসা রাখছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, যেকোনো ওষুধের উপরে দীর্ঘদিন নির্ভর করে জীবন কাটালে, তার নানান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বরং দীর্ঘ সুস্থ জীবনযাপনের জন্য সুস্থ অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা প্রয়োজন। তাই যোগাভ্যাসে বাড়তি ভরসা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দিনের নির্দিষ্ট সময়ে তিরিশ থেকে চল্লিশ মিনিট এই যোগাভ্যাস করলে, শরীরের পাশপাশি মন ভালো থাকবে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বাড়বে। কোনো নির্দিষ্ট ওষুধে শরীরের পাশপাশি মনের জটিলতা কমাতে পারবে না। মস্তিষ্ক, স্নায়ু সক্রিয় রাখার জন্য ওষুধ নয়। বরং ভালো অভ্যাস দীর্ঘ জীবন যাপন সহজ করবে। যোগাভ্যাস রোগ রুখতে সাহায্য করে। তাই বিশেষজ্ঞরা আধুনিক জীবনের স্বাস্থ্য সঙ্কট ঠেকাতে যোগাভ্যাসেই গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    কখন যোগাভ্যাস করলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যোগাভ্যাসের জন্য দিনের নির্দিষ্ট সময় বেছে নেওয়া জরুরি। তাহলেই নিয়মিত এই অভ্যাস জারি রাখা সহজ হবে। তাঁদের পরামর্শ, প্রত্যেক দিন সকালে যোগাভ্যাস করলে শরীর ও মনে বাড়তি উপকার পাওয়া যায়। খালি পেটে সকালে যোগাভ্যাস করলে একদিকে হজম শক্তি বাড়ে। দিনভর মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। মনে রাখতে সুবিধা হয়। যোগাভ্যাস মনে ইতিবাচক শক্তি গড়ে তোলে। তাই সকালে যোগাভ্যাস করলে দিনভর কাজ করার ইচ্ছে থাকে। মানসিক অবসাদ ও বিষন্নতা রুখতেও সাহায্য করে। তবে সকালে যোগাভ্যাস করতে কোনো সমস্যা থাকলে সন্ধ্যায় যোগাভ্যাস করা যায়। তবে সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখা জরুরি, যাতে ভারি খাবার খাওয়ার পরে যোগাভ্যাস করা না হয়‌‌। অতিরিক্ত ভারি খাবার খাওয়ার পরে অন্তত দু’ঘণ্টা যোগাভ্যাস করা উচিৎ নয়। এতে শারীরিক অস্বস্তি তৈরি হতে পারে‌।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
LinkedIn
Share