Tag: Yoga

Yoga

  • PM Modi: উজবেকিস্তানে যোগ অনুষ্ঠানে মোদি, দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও মজবুত করার বার্তা

    PM Modi: উজবেকিস্তানে যোগ অনুষ্ঠানে মোদি, দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও মজবুত করার বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উজবেকিস্তানের (Uzbekistan) রাজধানী তাশখন্দে ‘যোগ ফেডারেশন অব উজবেকিস্তান’ আয়োজিত একটি যোগ অনুষ্ঠানে আজ, রবিবার অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। উজবেকিস্তানে দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রয়েছেন তিনি। ২৯ অগাস্ট তাশখন্দে পৌঁছনোর পর এটি ছিল মধ্য এশিয়ার এই দেশে তাঁর চতুর্থ সফর। চলতি সফরে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শওকত মিরজিয়য়েভের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের মতো একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন দুই নেতা। ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখাও নির্ধারণ করা হবে।

    ভারত-ময় উজবেকিস্তান (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে উজবেকিস্তানের রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভবন ভারতীয় জাতীয় পতাকার তেরঙ্গা রঙে সেজে ওঠে। এর মধ্যে ছিল তাশখন্দের অন্যতম পরিচিত হিলটন হোটেলও। যোগ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের পাশাপাশি তাশখন্দের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। যোগপ্রেমীদের সঙ্গে দলীয় ছবিতেও অংশ নেন তিনি। মধ্য এশিয়ার একটি দেশে প্রধানমন্ত্রীর যোগ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ভারতের সাংস্কৃতিক প্রভাবের শক্তিকেই তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও সুস্থতার ক্ষেত্রে যোগের গুরুত্ব যে গোটা বিশ্ব স্বীকার করেছে, তারও প্রতিফলন ঘটেছে এই অনুষ্ঠানে।

    দুই দেশের সেতু

    তাশখন্দের বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীর যোগ অনুষ্ঠানের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, ভারত ও উজবেকিস্তানের সম্পর্ক আরও গভীর করতে যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর তাশখন্দের বাসিন্দা ক্রিস্টিনা বলেন, “এটি দারুণ একটি অভিজ্ঞতা ছিল। বিশেষ করে এত বড় একজন ব্যক্তি উজবেকিস্তানে এসেছেন, তাঁর সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে থাকা সত্যিই অসাধারণ অভিজ্ঞতা। আমার মনে হয়, যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এটি দুই দেশকে আরও কাছাকাছি আনবে এবং বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করবে (PM Modi)।”

    আর এক বাসিন্দা মারিয়ামও অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন। সংবাদ মাধ্যমে তিনি বলেন, “এটি খুবই সুন্দর একটি অনুভূতি। এখানে এসে আমি সুস্থ ও অত্যন্ত আনন্দিত বোধ করছি। এ বছর আন্তর্জাতিক যোগ দিবস-সহ আমরা অনেক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। আজকের অনুষ্ঠানটিও খুব ভালো হয়েছে। এখানে আমন্ত্রিত হয়ে এই অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা ভারতীয় যোগকেন্দ্রে আমাদের দলের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়েছি।”

    ভারতের সফট পাওয়ারের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ যোগ

    ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ভারতের ‘সফট পাওয়ার’ সপ্তধারার সপ্তম শক্তি। যোগের পাশাপাশি হস্তশিল্প, চলচ্চিত্র, অ্যানিমেশন, খেলাধুলা ও ডিজিটাল বিষয়বস্তু এবং বৃহত্তর সৃজনশীল ক্ষেত্রকে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন তিনি।

    উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শওকত মিরজিয়য়েভের সঙ্গে প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা এবং দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন দুই নেতা।

    গত কয়েক বছরে নয়াদিল্লি ও তাশখন্দের দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট মিরজিয়য়েভের ভারত সফর এবং ২০১৯ সালে ভাইব্র্যান্ট গুজরাট বিশ্ব সম্মেলনে তাঁর অংশগ্রহণ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়।

    উজবেকিস্তান সফর শেষ করে কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের আমন্ত্রণে (Uzbekistan) বিশকেকে যাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি অংশ নেবেন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনে (PM Modi)।

     

  • Kanwar Yatra 2026: শুধু তীর্থযাত্রা নয়, সুস্থ-ভারসাম্যপূর্ণ জীবনের শিক্ষাও দেয় কাঁওয়ার যাত্রা

    Kanwar Yatra 2026: শুধু তীর্থযাত্রা নয়, সুস্থ-ভারসাম্যপূর্ণ জীবনের শিক্ষাও দেয় কাঁওয়ার যাত্রা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সনাতন ঐতিহ্যে কাঁওয়ার যাত্রা (Kanwar Yatra 2026) শুধুমাত্র ভগবান শিবের প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা নিবেদনের একটি ধর্মীয় আচার নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শৃঙ্খলা, আত্মসংযম, সেবা, সমষ্টিগত চেতনা এবং প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মতো (Environmental Responsibility) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধও। আধুনিক বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকেও এই তীর্থযাত্রাকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, মানসিক সুস্থতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতার একটি জীবন্ত উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়। তাই শ্রাবণ মাসের কয়েক দিনের মধ্যে এই মূল্যবোধ সীমাবদ্ধ না রেখে সেগুলিকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলাই সময়ের দাবি।

    কাঁওয়ার যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক (Kanwar Yatra 2026)

    কাঁওয়ার যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করা। শত শত কিলোমিটার হাঁটার ফলে হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস, পেশি এবং শরীরের বিপাকীয় ব্যবস্থা সক্রিয় থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানও মনে করে, নিয়মিত হাঁটা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা এবং হৃদ্‌যন্ত্রের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই কাঁওয়ার যাত্রার বার্তা শুধু তীর্থযাত্রার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা হওয়া উচিত। মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রেও এই যাত্রা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। সমবেত প্রার্থনা, ভক্তিগীতি, “বোল বম”-এর ধ্বনি এবং একই উদ্দেশ্য নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে চলার মধ্যে দিয়ে ইতিবাচক আবেগ ও সামাজিক সংযোগের অনুভূতি শক্তিশালী হয়। মনোবিজ্ঞানের মতে, সামাজিক অংশগ্রহণ, ধ্যান, প্রার্থনা এবং যোগাভ্যাস মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ ও আবেগগত সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বর্তমান সময়ে মানসিক চাপ, অবসাদ ও একাকিত্ব যখন ক্রমশ বাড়ছে, তখন দৈনন্দিন জীবনে এই ইতিবাচক অনুশীলনগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

    সুশৃঙ্খল জীবনযাপনেরও উৎকৃষ্ট উদাহরণ

    কাঁওয়ার যাত্রা একটি সুশৃঙ্খল জীবনযাপনেরও উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তীর্থযাত্রীরা নির্দিষ্ট দৈনন্দিন রুটিন মেনে চলেন, সাধারণ নিরামিষ খাবার গ্রহণ করেন, আত্মসংযম অনুশীলন করেন এবং আধ্যাত্মিক লক্ষ্যের প্রতি নিবেদিত থাকেন। এই শৃঙ্খলা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত জীবনযাপন এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ যদি স্থায়ীভাবে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে ওঠে, তাহলে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ও কর্মদক্ষতা—দু’টিই উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হতে পারে। এই তীর্থযাত্রার রয়েছে গভীর সামাজিক তাৎপর্যও। বিভিন্ন জাতি, ভাষা, বয়স ও আর্থিক অবস্থার মানুষ একটি অভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে পাশাপাশি হাঁটেন। যাত্রাপথে বিভিন্ন সেবাশিবিরে কোনও বৈষম্য ছাড়াই সকলের জন্য খাবার, পানীয় জল এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এই ঐতিহ্য ভারতীয় নিঃস্বার্থ সেবা ও সামাজিক সম্প্রীতির ভাবনাকে তুলে ধরে। একই সহযোগিতা ও স্বেচ্ছাসেবার মানসিকতা যদি সারা বছর হাসপাতাল, বিদ্যালয়, বৃদ্ধাশ্রম, পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচি এবং অন্যান্য সামাজিক উদ্যোগে বজায় থাকে, তাহলে সমাজ আরও সহানুভূতিশীল ও সংকট মোকাবিলায় সক্ষম হবে (Kanwar Yatra 2026)।

    জল ও জলসম্পদের প্রতি শ্রদ্ধা

    গঙ্গা বা অন্য কোনও পবিত্র নদীর জল বহন করার ঐতিহ্যের মধ্যেও জল ও জলসম্পদের প্রতি শ্রদ্ধার সাংস্কৃতিক বার্তা রয়েছে। জলসংকট যখন গোটা বিশ্বের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ, তখন এই ঐতিহ্য মানুষকে জলের অপচয় বন্ধ করা, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ এবং নদী ও অন্যান্য জলাশয় পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সচেতন করতে পারে। বিশ্বাস ও পরিবেশ সংরক্ষণের এই সমন্বয় বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তীর্থযাত্রার সময়ে সীমিত সম্পদের মধ্যে জীবনযাপন, প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানো এবং অনেক তীর্থযাত্রীর তুলনামূলকভাবে কম বৈদ্যুতিন যন্ত্র ব্যবহারও আধুনিক জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে “ডিজিটাল ডিটক্স” (প্রযুক্তিনির্ভরতা থেকে সাময়িক বিরতি)-র ধারণা বিশ্বজুড়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিবারগুলি যদি প্রতি সপ্তাহে সচেতনভাবে কিছু সময় মোবাইল ফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থেকে আলোচনা, বই পড়া, প্রকৃতির সান্নিধ্য এবং পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন কাজে সময় কাটায়, তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সম্পর্ক উভয়ই আরও শক্তিশালী হতে পারে (Kanwar Yatra 2026)।

    জীবনের ভারসাম্যের প্রতীক

    দুই কাঁধে সমানভাবে ভারসাম্য রেখে কাঁওয়ার বহন করাও শুধু শারীরিক ভারসাম্যের বিষয় নয়, এটি জীবনের ভারসাম্যের একটি প্রতীক হিসেবেও দেখা যায়। কাঁওয়ারের ভার যেমন দুই দিকে সমানভাবে বণ্টিত হওয়া প্রয়োজন, তেমনই জীবনে কাজ ও বিশ্রাম, অধিকার ও দায়িত্ব, বস্তুগত অগ্রগতি ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাও জরুরি। সব মিলিয়ে কাঁওয়ার যাত্রাকে শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে না দেখে বছরে একবারের জীবন-পরিচালনার প্রশিক্ষণ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। তীর্থযাত্রার সময়ে যে স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলি অনুসরণ করা হয়—নিয়মিত হাঁটা, যোগ ও ধ্যান, সুশৃঙ্খল জীবনযাপন, নিঃস্বার্থ সেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ—সেগুলি যদি প্রতিদিনের জীবনের অংশ হয়ে ওঠে, তাহলে এই ঐতিহ্যের প্রভাব আরও ব্যাপক, দীর্ঘস্থায়ী ও অর্থবহ হবে।

    কাঁওয়ার যাত্রার প্রকৃত বার্তা

    কাঁওয়ার যাত্রার প্রকৃত বার্তা হল, ধর্ম শুধু উপাসনার আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষকে সহনাগরিক, সমাজ এবং প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল জীবনযাপনের অনুপ্রেরণাও দেয়। যখন শৃঙ্খলা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠবে, সেবা হয়ে উঠবে স্বাভাবিক প্রবৃত্তি, পরিবেশ রক্ষা হবে দায়িত্ব এবং স্বাস্থ্য পাবে অগ্রাধিকার—তখনই কাঁওয়ার যাত্রার প্রকৃত উদ্দেশ্য পূর্ণতা পাবে। তখন এটি আর শুধু শ্রাবণ মাসের একটি ধর্মীয় তীর্থযাত্রা হয়ে (Environmental Responsibility) থাকবে না, বরং আরও সুস্থ, ভারসাম্যপূর্ণ, সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল ভারত গড়ার ধারাবাহিক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে (Kanwar Yatra 2026)।

     

  • Yoga Benefits: ডায়াবেটিস থেকে ডিপ্রেশন— সবকিছুর মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের মুশকিল আসান হতে পারে যোগাভ্যাস!

    Yoga Benefits: ডায়াবেটিস থেকে ডিপ্রেশন— সবকিছুর মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের মুশকিল আসান হতে পারে যোগাভ্যাস!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    স্বাস্থ্য সমস্যা শুধুই শরীরে আটকে থাকছে না। একাধিক শারীরিক অসুবিধার পাশপাশি দেশ জুড়ে বাড়ছে মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের একাংশের নানান শারীরিক অসুখের পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। মন ও শরীরের একাধিক সমস্যা ঠেকাতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার যোগাভ্যাস। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে তরুণ প্রজন্মের একাংশ নানান স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা যাচ্ছে, তাঁদের অধিকাংশের স্বাস্থ্য সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে জীবন যাপনের ধরন। অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন ও খাদ্যাভাসের জেরেই তাঁরা নানান ধরনের স্বাস্থ্য সঙ্কটের সম্মুখীন হচ্ছেন। তাঁদের সুস্থ জীবন যাপনের সাহায্য করবে যোগাভ্যাস।

    তরুণ প্রজন্মের কোন সমস্যা মোকাবিলায় বাড়তি সাহায্য করবে যোগাভ্যাস?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং অতিরিক্ত ওজনের মতো সমস্যায় ভুগছেন। এই সমস্ত শারীরিক সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ দিনের অধিকাংশ সময় বসে কাজ করেন। হাঁটাচলা কিংবা দৌড়াদৌড়ির সুযোগ কম। তার পাশপাশি আধুনিক খাদ্যাভাসে অতিরিক্ত প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট থাকে। চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। অধিকাংশ কম বয়সী ছেলেমেয়েরা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগের সমস্যা বাড়ছে।
    এই ধরনের শারীরিক সমস্যার পাশপাশি ভারতের তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ মানসিক চাপ, অবসাদ, উদ্বেগ, বিষন্নতার মতো সমস্যায় ভোগেন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পেশাগত জীবনে মারাত্মক প্রতিযোগিতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানান টানাপড়েন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে। ভারতে যে হারে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে, তাতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। শরীর ও মনের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে সুস্থ জীবন যাপন করতে তাই যোগাভ্যাস আধুনিক জীবনে অত‌্যন্ত জরুরি হয়ে যাচ্ছে।

    মানসিক সমস্যার জেরে হচ্ছে শারীরিক ক্ষতি

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির জেরে শারীরিক সমস্যা আরও বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যোগাভ্যাস শরীর এবং মনের উপরে একসঙ্গে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত যোগাভ্যাস করলে একদিকে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে, আবার রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। তাছাড়া, যোগাভ্যাস স্নায়ু সক্রিয় রাখে। পেশির দূর্বলতা কমায়। আবার যোগাভ্যাস হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। একদিকে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হওয়ার জেরে উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকায় স্নায়ুঘটিত সমস্যা কমবে। পেশির দূর্বলতা কমলে দিনভরের ক্লান্তি দূর হবে। যেকোনো কাজে বাড়তি উৎসাহ পাওয়া যাবে। এর পাশপাশি হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখলে যোগাভ্যাস খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর তাই মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা খুবই জরুরি। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ার নেপথ্যে অন্যতম কারণ, হরমোনের ভারসাম্যের অভাব। যোগাভ্যাস স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে নিয়মিত যোগাভ্যাস বজায় থাকলে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষন্নতা কমবে।

    কেন যোগাভ্যাসেই বাড়তি গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শিশু থেকে বয়স্ক, যেকোনো বয়সেই সুস্থ জীবন যাপনের জন্য যোগাভ্যাস জরুরি‌। তবে ভারতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে হারে স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে, সেটা রুখতে যোগাভ্যাসেই ভরসা রাখছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, যেকোনো ওষুধের উপরে দীর্ঘদিন নির্ভর করে জীবন কাটালে, তার নানান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বরং দীর্ঘ সুস্থ জীবনযাপনের জন্য সুস্থ অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে ওঠা প্রয়োজন। তাই যোগাভ্যাসে বাড়তি ভরসা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দিনের নির্দিষ্ট সময়ে তিরিশ থেকে চল্লিশ মিনিট এই যোগাভ্যাস করলে, শরীরের পাশপাশি মন ভালো থাকবে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বাড়বে। কোনো নির্দিষ্ট ওষুধে শরীরের পাশপাশি মনের জটিলতা কমাতে পারবে না। মস্তিষ্ক, স্নায়ু সক্রিয় রাখার জন্য ওষুধ নয়। বরং ভালো অভ্যাস দীর্ঘ জীবন যাপন সহজ করবে। যোগাভ্যাস রোগ রুখতে সাহায্য করে। তাই বিশেষজ্ঞরা আধুনিক জীবনের স্বাস্থ্য সঙ্কট ঠেকাতে যোগাভ্যাসেই গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    কখন যোগাভ্যাস করলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যোগাভ্যাসের জন্য দিনের নির্দিষ্ট সময় বেছে নেওয়া জরুরি। তাহলেই নিয়মিত এই অভ্যাস জারি রাখা সহজ হবে। তাঁদের পরামর্শ, প্রত্যেক দিন সকালে যোগাভ্যাস করলে শরীর ও মনে বাড়তি উপকার পাওয়া যায়। খালি পেটে সকালে যোগাভ্যাস করলে একদিকে হজম শক্তি বাড়ে। দিনভর মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। মনে রাখতে সুবিধা হয়। যোগাভ্যাস মনে ইতিবাচক শক্তি গড়ে তোলে। তাই সকালে যোগাভ্যাস করলে দিনভর কাজ করার ইচ্ছে থাকে। মানসিক অবসাদ ও বিষন্নতা রুখতেও সাহায্য করে। তবে সকালে যোগাভ্যাস করতে কোনো সমস্যা থাকলে সন্ধ্যায় যোগাভ্যাস করা যায়। তবে সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখা জরুরি, যাতে ভারি খাবার খাওয়ার পরে যোগাভ্যাস করা না হয়‌‌। অতিরিক্ত ভারি খাবার খাওয়ার পরে অন্তত দু’ঘণ্টা যোগাভ্যাস করা উচিৎ নয়। এতে শারীরিক অস্বস্তি তৈরি হতে পারে‌।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Sibi George: নরওয়ের সাংবাদিককে মুখের মতো দিল ভারতের বিদেশমন্ত্রক, কী বললেন সিবি জর্জ?

    Sibi George: নরওয়ের সাংবাদিককে মুখের মতো দিল ভারতের বিদেশমন্ত্রক, কী বললেন সিবি জর্জ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নরওয়ের রাজধানী অসলোয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলোচনায় ভারতের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো, সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং বৈচিত্র্যের পক্ষে সওয়াল করল (Sibi George) বিদেশমন্ত্রক (MEA)।   সোমবার এই আলোচনা হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নরওয়ে সফরের সময়। এই সময় সে দেশের সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয় ভারতে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিয়ে (Norway Journalist Row)। অসলোয় বিদেশমন্ত্রকের সেক্রেটারি (ওয়েস্ট) সিবি জর্জ নরওয়ের সাংবাদিকের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। নরওয়ের এক সাংবাদিক বারবার ভারতের বিশ্বাসযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক আস্থার প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করেন, “আমরা কেন আপনাদের বিশ্বাস করব?”

    কী বললেন জর্জ (Sibi George)?

    এর জবাবে জর্জ বলেন, “আমাদের একটি সংবিধান আছে, যা জনগণের অধিকার এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে। আমাদের দেশে নারীদের সমান অধিকার রয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৪৭ সালেই আমরা নারীদের ভোটাধিকার দিয়েছিলাম। আমরা একসঙ্গে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, এবং তাঁরাও সেই স্বাধীনতা পেয়েছেন।” তিনি এও বলেন, “অনেক দেশে নারীদের ভোটাধিকার ভারতের বহু দশক পরে এসেছে। কারণ আমরা সমতা ও মানবাধিকারে বিশ্বাস করি। মানবাধিকারের সবচেয়ে বড় উদাহরণ কী? সরকার পরিবর্তনের অধিকার, ভোট দেওয়ার অধিকার। আর সেটাই ভারতে হচ্ছে। এ নিয়ে আমরা গর্বিত।” প্রশ্নোত্তর-পর্বে ওই সাংবাদিক বারবার বাধা দিলে জর্জ দৃঢ়ভাবে বলেন,
    “দয়া করে আমায় উত্তর দিতে দিন, বাধা দেবেন না। আপনি প্রশ্ন করেছেন—এটি আমার প্রেস কনফারেন্স। আপনি জানতে চেয়েছেন কেন একটি দেশ ভারতের ওপর ভরসা করবে, আমায় সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে দিন।”

    ভারতে রয়েছে আইনের শাসন

    ভারতের বহু ভাষাভিত্তিক এবং প্রাণবন্ত সংবাদমাধ্যমের প্রসঙ্গ তুলে জর্জ (Sibi George) বলেন, “আপনারা জানেন প্রতিদিন কত খবর প্রকাশিত হয়? শুধুমাত্র দিল্লিতেই অন্তত ২০০টি টিভি চ্যানেল রয়েছে—ইংরেজি, হিন্দি-সহ একাধিক ভাষায়। মানুষ ভারতের ব্যাপ্তি সম্পর্কে বোঝেন না।” তিনি বলেন, “ভারত এমন একটি দেশ, যে আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। আমরা সবসময় নিয়ম মেনে চলেছি। আমরা নিয়ম অনুযায়ী কাজ করি। এটাই ভারতের সুনাম।”

    কোভিড-১৯-পর্বে ভারতের সাহায্য

    কোভিড-১৯-পর্বে ভারতের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মতো কার্যকলাপ এবং গণিত, সংস্কৃতি ও বিশ্ব ঐতিহ্যে ভারতের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন জর্জ। তিনি (Sibi George) বলেন, “চারদিকে তাকালেই আপনি ভারতের সংযোগ দেখতে পাবেন। আপনার ফোনে যে সংখ্যা ব্যবহার করেন, তার উৎপত্তিও ভারতে। ‘শূন্যে’র উৎপত্তিও ভারতে। দাবার উৎপত্তি ভারতে। এই সভ্যতা নিয়ে আমরা গর্বিত (Norway Journalist Row)। আজ বিশ্ব যে যোগব্যায়ামকে সম্মান করে, তারও জন্ম ভারতে। ভারতের মহাকাব্য ও প্রাচীন গ্রন্থ রয়েছে।”

     

LinkedIn
Share