Tag: YouTube

YouTube

  • Social Media Safe Harbor: প্রতিটি পোস্টের দায় নিতে হতে পারে মেটা, ইউটিউব ও এক্স-কে! সোশ্যাল মিডিয়ার আইনি সুরক্ষা তুলে দেওয়ার ভাবনা

    Social Media Safe Harbor: প্রতিটি পোস্টের দায় নিতে হতে পারে মেটা, ইউটিউব ও এক্স-কে! সোশ্যাল মিডিয়ার আইনি সুরক্ষা তুলে দেওয়ার ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media Safe Harbor) ব্যবহারকারীদের পোস্ট, ছবি, ভিডিও কিংবা মন্তব্যের দায় এবার সরাসরি বর্তাতে পারে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলির উপর। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব এবং এক্স-এর মতো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলিকে দেওয়া আইনি সুরক্ষা বা ‘সেফ হারবার’ তুলে দেওয়ার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট নিয়মে পরিবর্তন আনার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

    ‘সেফ হারবার’ বা আইনি দায়মুক্তি!

    বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ নম্বর ধারায় সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলি ‘সেফ হারবার’ বা আইনি দায়মুক্তির সুবিধা পেয়ে থাকে। এই বিধান অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কোনও পোস্ট, ভিডিও বা মন্তব্যের জন্য সাধারণত সরাসরি দায়ী করা যায় না সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলিকে। তবে প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে সেই আইনি সুরক্ষা থেকে বাদ পড়তে পারে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলি। পরিবর্তে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী, টেলিকম এবং মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলির জন্য এই সুবিধা সীমাবদ্ধ রাখার কথা বিবেচনা করছে কেন্দ্র।

    কেন এই আইনি সুরক্ষা তুলে দেওয়ার ভাবনা?

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের একাংশের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media Safe Harbor) সংস্থাগুলি এখন আর শুধুমাত্র তথ্য আদানপ্রদানের মাধ্যম নয়। বিভিন্ন অ্যালগরিদম ব্যবহার করে কোন পোস্ট কত মানুষের কাছে পৌঁছবে, কোন ভিডিও বেশি প্রচার পাবে কিংবা কোন বিষয় ব্যবহারকারীদের সামনে তুলে ধরা হবে, তা অনেকাংশে নির্ধারণ করে এই প্ল্যাটফর্মগুলি। পাশাপাশি, সংস্থাগুলি নিজেদের কমিউনিটি গাইডলাইন অনুযায়ী বিভিন্ন পোস্ট মুছে দেয় কিংবা সেগুলির প্রচার সীমিত করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এই নীতিমালার সঙ্গে ভারতীয় আইনের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেন্দ্রের একাংশের যুক্তি, কনটেন্টের প্রচার ও প্রসারে যখন প্ল্যাটফর্মগুলির সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে, তখন ব্যবহারকারীদের পোস্টের দায় থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দেওয়া উচিত কি না, তা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট নিয়ে বিতর্ক

    এর আগেও মেটা পরিচালিত ইনস্টাগ্রামের বিরুদ্ধে ভারতে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত আপত্তিকর কনটেন্ট বা চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ মেটেরিয়াল (CSAM) অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচারের অভিযোগ উঠেছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC) দিল্লি পুলিশকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি, পকসো (POCSO) আইনের আওতায় প্রযুক্তি সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষ বাধ্যতামূলকভাবে রিপোর্ট করার দায়িত্ব পালন করেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

    সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশ

    ১৮ বছরের কম বয়সি শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে পুজোর আগেই কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শিশুদের জন্য ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী নয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আর এখানে মূল প্রশ্ন হল, ১৮ বছরের কম বয়সিরা নিজের নামে স্বাধীনভাবে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খুলতে এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের শর্তাবলিতে চুক্তিবদ্ধ হতে পারবে কি না। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক কার্যপ্রণালীতে এই বিষয়টির সম্ভাবনা নিয়ে কেন্দ্রকে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

    ভারতে কাজের ধরন বদলাতে হবে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে

    তবে এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ভারতে কাজের ধরন বদলাতে হতে পারে বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি সংস্থাগুলির। কারণ, ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কনটেন্টের জন্য সরাসরি আইনি দায় এড়ানোর সুযোগই এত দিন এই সংস্থাগুলির ব্যবসার অন্যতম ভিত্তি। ২০০০ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ নম্বর ধারায় ইন্টারনেট মধ্যস্থতাকারী সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট শর্তে আইনি দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ব্যবহারকারীরা কোনও পোস্ট, ছবি, ভিডিও বা মন্তব্য করলে তার জন্য সাধারণত সরাসরি দায়ী করা যায় না সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মকে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে এই সুরক্ষা বজায় থাকে। কেন্দ্রের আলোচনায় এখন প্রশ্ন উঠছে, এই সুবিধা কি শুধুমাত্র সেই সব সংস্থার জন্য রাখা উচিত, যারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় তথ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে? যেমন ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা, টেলিকম সংস্থা কিংবা পিয়ার-টু-পিয়ার মেসেজিং পরিষেবা।

    নতুন পণ্য আনলেও আগাম জানাতে হতে পারে

    শুধু সেফ হারবার নয়, আরও কয়েকটি বিষয়ে বদলের কথা ভাবছে কেন্দ্র। সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media Safe Harbor) বা মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে, এমন কোনও বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনলে আগাম সরকারকে জানানোর ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের ইউজারনেম ফিচার নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিরোধের পর এই ভাবনা সামনে এসেছে। ওই ফিচারের মাধ্যমে ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই ব্যবহারকারীরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন। পরিচয় জালিয়াতি, ফিশিং এবং আর্থিক প্রতারণার আশঙ্কা দেখিয়ে জুলাইয়ে ফিচারটির চালু হওয়া স্থগিত রাখতে বলেছিল মন্ত্রক। পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও ঢেলে সাজাতে চাইছে সরকার। ডিপফেক, সম্মতি ছাড়া ছড়ানো যৌন বা ব্যক্তিগত ছবি এবং পরিচয় অপব্যবহারের মতো ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত কনটেন্ট সরানোর ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বড়সড় বদলের ভাবনা কেন্দ্রের

    সব মিলিয়ে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বেআইনি ও আপত্তিকর কনটেন্টের প্রচার রুখতে প্ল্যাটফর্মগুলির দায়বদ্ধতা বাড়ানোর বিষয়ে কেন্দ্রের এই ভাবনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আইন পরিবর্তন হলে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব কিংবা এক্স— সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা কোনও বিষয়বস্তুর দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকেই। সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের আইনি কাঠামোয় বড়সড় বদলের কথা ভাবছে কেন্দ্রের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। তবে প্রস্তাবিত পরিবর্তন এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ভারতের ডিজিটাল দুনিয়ায় তার বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে।

  • POJK Protests: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভোট ঘিরে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, রেশ পৌঁছল ইসলামাবাদেও

    POJK Protests: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভোট ঘিরে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, রেশ পৌঁছল ইসলামাবাদেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের (POJK Protests) নীলম উপত্যকার আথমুকাম তহশিলে বিক্ষোভকারীদের উপর পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিচালনায় এক বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। রাজা এহসান নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা অঞ্চলে। ব্যাপক হিংসা, কম ভোট পড়া এবং ভোটে কারচুপির অভিযোগের মধ্যেই শেষ হয়েছে পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের তথাকথিত বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা (News Portals Banned)। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আথমুকাম তহশিলে বিক্ষোভকারীদের উপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিচালনার সময় এহসানের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ভোটপর্ব চলাকালীন ওই এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

    নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি (POJK Protests)

    রবিবার শেষ হওয়া দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, তীব্র অশান্তি এবং ভোটারদের কম অংশগ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। মোট ২১টি আসনে ভোটগ্রহণের কথা ছিল। এর মধ্যে মুজফফরাবাদ বিভাগের ৯টি আসনের পাশাপাশি ছিল ১২টি উদ্বাস্তু আসনও। এই উদ্বাস্তু আসনের মানদণ্ডের বিরুদ্ধে ভোটের দিনও তীব্র বিক্ষোভ চলে। অভিযোগ, এর মাধ্যমে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতির কারণে একাধিক এলাকা কার্যত উত্তেজনার মধ্যেই ছিল। পরিস্থিতির বিস্তার এতটাই বেড়েছে যে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের অশান্তির আঁচ এখন গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতেও পৌঁছে গিয়েছে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডিতেও।

    একাধিক কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ব্যাহত

    ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে নতুন করে বিক্ষোভের আবহেই নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। স্থানীয় প্রতিরোধের তীব্রতা স্পষ্ট হয়েছে একাধিক নির্বাচনী এলাকায়। রাস্তা অবরোধ এবং ব্যাপক বিক্ষোভের কারণে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয়। সূত্রের খবর, এলএ-২৭ কোটলিতে বিক্ষোভকারীরা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরোধ করায় নির্বাচনী কর্মী ও ভোটগ্রহণ সামগ্রী কেন্দ্রে পৌঁছতে পারেনি। ফলে ওই আসনে ভোটগ্রহণ পুরোপুরি স্থগিত করতে বাধ্য হয় প্রশাসন। একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয় এলএ-২৮ মুজফফরাবাদ-২ অর্থাৎ লেচরাট এলাকায়। সেখানে ৭১টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী আধিকারিক ও ভোটগ্রহণের সামগ্রী পৌঁছতে পারেনি। অন্যান্য কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায়ও কর্মীরা ভোটকেন্দ্রে পৌঁছতে ব্যর্থ হন বলে খবর। এর ফলে ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী গোষ্ঠী এবং বিক্ষোভকারী বিভিন্ন সংগঠন নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

    দিনভর বিক্ষোভ, দীর্ঘ মিছিলের ডাক

    এদিকে পাক সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় দিনভর বিক্ষোভ চলেছে। ডি-চকে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান-বিক্ষোভ করেন। মুজফফরাবাদের দিকে বিরাট মিছিল করার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। রাওয়ালাকোট থেকেও বিক্ষোভ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর বিক্ষিপ্ত গুলিচালনার খবর মিলেছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিক্ষোভস্থল ড্রেক ইদগাহে প্রায় ৫০ দিন ধরে অবস্থান চলছে। সেখানেও আন্দোলনকারীরা নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছেন। নারী ও শিশুরাও বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চলবে। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে কয়েক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা। ফলে ভোটের দিনও সেই অশান্তির প্রভাব স্পষ্ট ছিল (POJK Protests)।

    ভারতের অবস্থান

    এই অস্থিরতার মধ্যেই ভারত ফের জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের সমগ্র কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ। ভারতের বক্তব্য, ওই অঞ্চলগুলির যে অংশ বর্তমানে পাকিস্তানের “অবৈধ ও জোরপূর্বক দখলে” রয়েছে, সেটিও ভারতেরই অংশ। ২৮ জুলাই নয়াদিল্লি ওই অঞ্চলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে পাকিস্তানের অবৈধ দখল আড়াল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে চলা “গুরুতর” মানবাধিকার লঙ্ঘন আড়াল করারও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে ভারত।

    ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে ছড়াল বিক্ষোভ

    ২ আগস্ট, রবিবার বিকেল ৫টা থেকে রাওয়ালপিন্ডি প্রেস ক্লাবের বাইরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল পড়ুয়ারা। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের পড়ুয়াদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হন। পুলিশ সেখানে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জও করা হয় এবং বহু মানুষকে আটক করা হয়। তবে ওই ঘটনায় গুলিচালনার কোনও খবর পাওয়া যায়নি। করাচি, ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডিতেও বড় জমায়েতের খবর এসেছে। বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানান। সূত্রের খবর, বিক্ষোভ চলাকালীন বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও ছাত্রনেতাকে আটক করে পুলিশ।

    ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা

    পাকিস্তানে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের উপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার অভিযোগ উঠেছে। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান অশান্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ এবং প্রতিবেদন সম্প্রচারের পর দেশটির বিভিন্ন সংবাদ ওয়েবসাইটে অ্যাক্সেস রেস্ট্রিকটেড করা বলে জানা গিয়েছে (News Portals Banned)। স্থানীয় ও আঞ্চলিক ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটগুলিকে আটকে দেওয়ার পাশাপাশি দেশের কিছু অংশে আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যমের পরিষেবায়ও অ্যাক্সেস বন্ধ করা হয়েছে বলে খবর (POJK Protests)। সাম্প্রতিক বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষের বাড়তে থাকা ক্ষোভ নিয়ে যে সংবাদমাধ্যমগুলি প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, মূলত তাদের উপরই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দল, তার নেতা তথা জেলে থাকা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং সরকারের সমালোচক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে খবর। এদিকে ২৭ জন কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে ইউটিউব জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনে না চললে তাঁদের চ্যানেল সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

    নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি মুজফফরাবাদে চলা হিংসা নিয়ে জরুরি তথ্য প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের এক নিরস্ত্র সাধারণ নাগরিককে রাস্তায় টেনে নিয়ে গিয়ে মারধর করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।কমিটির দাবি, সাধারণ পোশাকে থাকা এক ব্যক্তিও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভকারীদের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র চালাচ্ছিলেন। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিষদের ২ অগাস্ট পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মোট ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জুলাইয়ের আগে ৩৩ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু এবং ২৭ জুলাইয়ের পর রাওয়ালাকোট, মিরপুর ও মুজফফরাবাদে আরও ৪৩ জনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির। এই পরিস্থিতিতে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি রাষ্ট্রসংঘ, রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দফতর, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছে। সংগঠনের দাবি, প্রকাশিত ভিডিওগুলি খতিয়ে দেখে ঘটনার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হোক এবং অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করা হোক। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির কাছেও পরিস্থিতির অবনতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণের আবেদন জানানো (News Portals Banned) হয়েছে। আহত ব্যক্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও সহায়তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি (POJK Protests)।

     

LinkedIn
Share