Tag: ZeroTolerance

  • Baruipur: বারুইপুরকাণ্ডে ‘জিরো টলারেন্স নীতি, অপরাধীদের ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’, সাফ বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Baruipur: বারুইপুরকাণ্ডে ‘জিরো টলারেন্স নীতি, অপরাধীদের ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’, সাফ বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “অপরাধীদের ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট”- বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

    বারুইপুরের মর্মান্তিক ও নৃশংস নাবালিকা খুনের ঘটনাকে (Baruipur) কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। এই চরম সংবেদনশীল আবহে সোমবার রাজ্য সরকারের কড়া এবং আপসহীন অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নাবালিকা খুনের ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে রাজ্য প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলছে বলে স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ গঠন

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, বারুইপুরের এই বর্বরোচিত ঘটনার (Baruipur) গুরুত্ব এবং সংবেদনশীলতা বিচার করে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) গঠন করেছে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও ফাঁকফোকর না থাকে, তার জন্য এই দলের নেতৃত্বে রাখা হয়েছে আইজি (IG) পদমর্যাদার একজন অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ শীর্ষ পুলিশ আধিকারিককে। আইজি-র সরাসরি নেতৃত্বে পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স যৌথভাবে দিনরাত কাজ করছে। ঘটনার গভীরে গিয়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করাই মূল লক্ষ্য। মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর।

    তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান,”পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যেই অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ করেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অপরাধীদের জালে জড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর পলাতক দুই মূল অভিযুক্তের ফোনে হওয়া পারস্পরিক কথোপকথনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অডিও রেকর্ড বা সিডিআর (CDR) ইতিমধ্যেই পুলিশের হাতে। এই তথ্যপ্রমাণ মামলার গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে”।

    নির্যাতিতার পরিবারের পাশে সরকার

    তদন্তের পাশাপাশি নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের প্রতি রাজ্য সরকারের পূর্ণ সমবেদনা ও সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, ঘটনার পরেই নিজে উদ্যোগী হয়ে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওঁনার বাবার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছি। তিনি নৃশংসতার বিরুদ্ধে সঠিক ও দ্রুত বিচার চেয়েছেন। একজন অভিভাবক হিসেবে তাঁর এই দাবি অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গত। পরিবার যেভাবে জাস্টিস চেয়েছে এবং সরকার ও পুলিশের কাছ থেকে যে যে ধরণের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছে, তার সবটাই তারা পাবেন। এ বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ।”

    অপরাধীদের শাস্তির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি দেশের আইন ব্যবস্থার সর্বোচ্চ সাজার পক্ষে সওয়াল করে বলেন, “এই জঘন্য অপরাধের জন্য প্রথমটার তো বিচার দেবই, দোষীদের ফাঁসি বা ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট (Capital Punishment) দেব। কোনও অপরাধী যাতে পার না পায়, তা নিশ্চিত করা হবে।”

    স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ও হুঁশিয়ারি

    তবে শুধু অপরাধীদের শাস্তিই নয়, ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে মুখ্যমন্ত্রীকে। নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার পর স্থানীয় থানায় যে ‘মিসিং ডায়েরি’ বা নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছিল, তা নিয়ে পুলিশের তরফ থেকে কোনওরকম গড়িমসি বা গাফিলতি ছিল কি না, তা এবার মুখ্যমন্ত্রী নিজেই খতিয়ে দেখবেন। শুভেন্দু অধিকারী নিজে আগামিকাল বারুইপুরের পুলিশ সুপারের (SP) অফিসে যাচ্ছেন। নিখোঁজ ডায়েরি পাওয়ার পর লোকাল পুলিশের ঠিক কী ভূমিকা ছিল? তারা তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ করেছিল কি না? তার সম্পূর্ণ মূল্যায়ন বা অ্যাসেসমেন্ট করা হবে। বললেন মুখ্যমন্ত্রী।

    রবিবারের তাণ্ডব ও বিরোধীদের কড়া বার্তা

    নাবালিকা খুনের মূল ঘটনার (Baruipur) পাশাপাশি, গত রবিবার বারুইপুর ও সংলগ্ন এলাকায় যে ব্যাপক উত্তেজনা, ভাঙচুর ও আইন অমান্যের ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ানদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মূল খুনের মামলা ছাড়াও পুলিশ আরও তিনটি পৃথক স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে গণপিটুনি, সরকারি সম্পত্তি তথা রেললাইনে ভাঙচুর এবং পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের আহত করার ঘটনা।

    ঠিক কী ঘটেছিল?

    পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ১২ বছরের এক নাবালিকার দেহ রবিবার ভোরে পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার হয়। তাকে যৌন নির্যাতনের পর খুনের অভিযোগে কুলপি রোড ও রেললাইন অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায় উত্তেজিত জনতা। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চলে এবং গণপিটুনিতে এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়।

    মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) এই ধারাবাহিক ও কড়া বার্তার পর এটা অত্যন্ত স্পষ্ট যে, বারুইপুর কাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসন এখন অল-আউট অ্যাকশনে নামছে। একদিকে যেমন নাবালিকা খুনের মূল অপরাধীদের দ্রুত ফাঁসির কাঠে ঝোলানোর জন্য আইনি প্রস্তুতি শুরু হয়েছে, অন্যদিকে ঘটনার দিন যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এলাকায় অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও সমান্তরালভাবে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এখন দেখার, আইজি-র নেতৃত্বে গঠিত ‘সিট’-এর তদন্তে আগামী দিনে আর কী কী চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।

LinkedIn
Share