Blog

  • Shyamaprasad Mukherjee: প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুলপাঠ্যে শ্যামাপ্রসাদ অধ্যায়! নবান্ন থেকে একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Shyamaprasad Mukherjee: প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুলপাঠ্যে শ্যামাপ্রসাদ অধ্যায়! নবান্ন থেকে একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত কেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyamaprasad Mukherjee) ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে বঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) উদ্যোগে শ্যামাপ্রসাদকে ঘিরে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে তৈরি হয়েছে বিশেষ কমিটি। বৃহস্পতিবার সেই কমিটির প্রথম বৈঠক ছিল। তাতে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyamaprasad Mukherjee) ঐতিহাসিক অবদান, রাষ্ট্রবাদী দর্শন ও দেশপ্রেমকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে বছরভর একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে চলেছে রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। নিউ টাউনের ইকো পার্কে (Eco Park) ১২৫ ফুট উঁচু দণ্ডায়মান মূর্তি ও সংগ্রহশালা নির্মাণ, পৈতৃক ভিটে সংস্কার, বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত পাঠ্যক্রমে তাঁর ইতিহাস অন্তর্ভুক্তি এবং স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ—রাজ্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের সরকারি কমিটির প্রথম বৈঠকেই চূড়ান্ত ছাড়পত্র পেল এই সব প্রকল্প।

    নতুন প্রজন্মের সামনে শ্যামাপ্রসাদ

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের সভাগৃহে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা পর্যালোচনা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-সহ রাজ্যের অর্থমন্ত্রী-সহ একাধিক মন্ত্রী, বিধায়ক প্রতিনিধি, মুখ্যসচিবের নেতৃত্বাধীন শীর্ষ আমলা ও আধিকারিকেরা। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক দফতরের প্রতিনিধি এবং রাজ্যের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়-সহ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতি ও আদর্শের সঙ্গে যুক্ত বহু চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গ। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের পাঠ্যক্রমে শ্যামাপ্রসাদের জীবন ও রাজনৈতিক ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, দেশ ও সমাজের প্রতি অবদান এবং আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।

    হিডকো-কে শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি নির্মাণের অনুমতি

    বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নিউ টাউনের ইকো পার্কে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ ফুট উঁচু দণ্ডায়মান মূর্তি বসানোর জন্য ইতিমধ্যে জমি নির্বাচন ও ভূমিপূজন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবারের বৈঠকে হিডকো (HIDCO)-র তরফে একটি বিশেষ পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রস্তাবিত মূর্তি, মিউজিয়াম এবং আনুষঙ্গিক পরিকাঠামোর পুরো রূপরেখা ও নকশা কমিটির সামনে তুলে ধরা হয়। আগামী ৬ জুলাই যাতে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা যায়, সে কথা মাথায় রেখে হিডকো-কে অবিলম্বে নির্মাণকাজ শুরু করার প্রশাসনিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    জিরাটে শ্যামাপ্রসাদের লাইব্রেরি

    হুগলির জিরাটে শ্যামাপ্রসাদের (Shyamaprasad Mukherjee) পৈতৃক ভিটেতে রাজ্য সরকারের কেনা ৩০ ডেসিমেল জায়গায় জোড়া প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। সেখানে তৈরি হতে চলেছে ‘স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়’-এর নামাঙ্কিত একটি আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন লাইব্রেরি এবং একটি সুসজ্জিত সংগ্রহশালা।

    প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ্যক্রমে শ্যামাপ্রসাদ

    নতুন প্রজন্মকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গঠন ও স্বাধীন ভারতের উন্নয়নে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা চেনাতে বড় পদক্ষেপ করছে স্কুল শিক্ষা দফতর। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সিলেবাসে শ্যামাপ্রসাদের অবদান যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বাধীন ভারতে প্রথম শিল্প ও শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তাঁর সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক ভাবনা, গঠনমূলক চিন্তাধারা এবং দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তারিত ভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে পাঠ্যসূচিতে। তাঁর আত্মবলিদান পড়ানো হবে স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সর্বস্তরে।

    শ্যামাপ্রসাদকে নিয়ে প্রকাশ পাবে দুটি বিশেষ গ্রন্থ

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বছরব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুটি বই প্রকাশের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়ের সক্রিয় উদ্যোগে রামকৃষ্ণ মিশনের একটি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করা হয়েছে। এই পাণ্ডুলিপি যৌথ ভাবে সরকারি উদ্যোগে মুদ্রণ ও প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের গণশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতকে নোডাল এজেন্সি করে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় একটি পূর্ণাঙ্গ পুস্তিকা প্রকাশের জন্য বিশেষ কমিটি তৈরি হয়েছে। এ ছাড়াও সাধারণ মানুষ, গবেষক, ইতিহাসবিদ কিংবা বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কাছ থেকে পরামর্শ ও প্রস্তাব সংগ্রহের জন্য তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তরফে একটি বিশেষ ডিজিটাল পোর্টাল চালু করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট ১৫ থেকে ৩০ দিনের সময়সীমায় যে কেউ সেখানে নিজেদের প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন।

    শ্যামাপ্রসাদকে নিয়ে রাজনীতি

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উজ্জ্বল জীবনী ও তাঁর আত্মবলিদান এতদিন প্রচারের আলোয় আনা হয়নি। এর নেপথ্যে রাজনীতি হয়েছে। কিন্তু এবার বঙ্গে বিজেপি সরকার আসায় ‘ভারত কেশরী’র অবদানকে প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে। এবছরটা তাঁর ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী। তাই বছরভর উদযাপনের সুদীর্ঘ পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। তারই প্রথম ধাপ হিসেবে বৃহস্পতিবার শ্যামাপ্রসাদ সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি বৈঠকে বসে। শুভেন্দু জানান, স্বাধীনতা আন্দোলন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রতিষ্ঠা, কাশ্মীর নীতি এবং স্বাধীন ভারতের পরিকাঠামো গঠনে শ্যামাপ্রসাদের অবিস্মরণীয় ভূমিকা স্মরণ করার মাধ্যমেই ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ ও ‘এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর স্বপ্নপূরণে নতুন উদ্দীপনা সঞ্চারিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

     

     

     

     

  • NRS: এনআরএসে নার্সের রহস্যমৃত্যু! স্বাধীন তদন্ত কমিটি গড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    NRS: এনআরএসে নার্সের রহস্যমৃত্যু! স্বাধীন তদন্ত কমিটি গড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (NRS) কর্মরত নার্সের রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার রাতে হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হয় রূপালি বর্মণের। প্রাথমিকভাবে তাঁর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন (Nurse Death) মেলেনি। কোনও সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়নি। তাই অনুমানের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধরে নিয়ে তদন্ত এগোতে নারাজ স্বাস্থ্য দফতর ও পুলিশ। পরিবারের দাবি মেনে রূপালির দেহের ময়নাতদন্ত হচ্ছে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে করা হচ্ছে।

    হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী (NRS)

    বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি মৃত নার্সের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, ওয়ার্ডের রোগী এবং অন্য কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন। কয়েক ঘণ্টা হাসপাতালে থাকার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “স্বামী ও ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। ওঁরা চেয়েছিলেন, তাই মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্ত হবে। আমার ফোন নম্বর বাড়ির লোককে দেওয়া হয়েছে। যে কোনও ঘটনারই তদন্ত হবে, আলাদা কিছু নয়। কেউ কোনও সন্দেহ করছেন না।”

    তদন্ত কমিটি

    জানা গিয়েছে, সাতটি বিভাগের প্রধানকে নিয়ে ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। নার্সিং, স্ত্রীরোগ-সহ সংশ্লিষ্ট সাতটি বিভাগের প্রধানরা কমিটিতে থাকবেন। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে সাত দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য ভবনে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে রূপালি কোনও ধরনের মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। মানসিক বিভাগের প্রধানকেও তদন্ত কমিটিতে রাখার কথা বলা হয়েছে। হাসপাতালে ময়নাতদন্ত না করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে কেন ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে, সে বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “মৃত মহিলার স্বামী চেয়েছেন, তাই করা হচ্ছে। এ নিয়ে কোনও কথা নয়। তিনটের মধ্যে ময়নাতদন্ত শুরু হবে। বিভাগীয় তদন্তও করা হবে।”

    পুলিশ দেখবেন পুলিশ

    বুধবার নাইট শিফটে ছিলেন রূপালি। স্ত্রীরোগ বিভাগে কাজে যোগ দেওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই তাঁর আর খোঁজ মিলছিল না। সহকর্মীরা খোঁজ করতে গিয়ে বাথরুমের দরজা বন্ধ অবস্থায় দেখতে পান। ভিতর থেকে কোনও সাড়া না পাওয়ায় দরজা ভেঙে রূপালিকে উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে হাসপাতালের তরফে খবর দেওয়া হয় তাঁর পরিবারকে। রূপালির আচরণ নিয়ে সহকর্মীদের বক্তব্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সহকর্মী ও রোগীদের অনেকেই জানিয়েছেন, তিনি হাসিখুশি স্বভাবের ছিলেন। রূপালির আকস্মিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তাঁর সহকর্মীরাও। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “সকলেই বলেছেন, উনি খুবই হাসিখুশি ছিলেন। কী হয়েছে হঠাৎ, তদন্ত করে তা খুঁজে দেখা পুলিশের কাজ। তাঁরা বিষয়টি দেখবেন (NRS)।”

    তদন্তে সব সম্ভাবনাই!

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার খবর পেয়ে বুধবারই হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। পরে এন্টালি থানার পুলিশ এবং গোয়েন্দা বিভাগের হত্যাকাণ্ড শাখার তদন্তকারী দলও সেখানে যায়। প্রাথমিক তদন্তে রূপালির শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। উদ্ধার হয়নি কোনও সুইসাইড নোটও। তাই আত্মহত্যার সম্ভাবনা সামনে রেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে না পুলিশ। রূপালির বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে। বছরখানেক আগে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। স্বামী রাহুল দাসের সঙ্গে দমদম থানা এলাকায় থাকতেন তিনি। মৃত্যুর আগে তাঁর আচরণে কোনও অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে (Nurse Death), ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সমস্ত সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, পুলিশের তদন্ত এবং (NRS) তদন্ত কমিটির রিপোর্ট—এই তিন দিকের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই করা হবে পরবর্তী পদক্ষেপ।

     

  • Vande Mataram: ঐতিহাসিক! প্রথমবার ‘বন্দে মাতরম্’ দিয়ে শুরু লোকসভার কার্যক্রম, জাতীয় গানের পরই শেষ অধিবেশন

    Vande Mataram: ঐতিহাসিক! প্রথমবার ‘বন্দে মাতরম্’ দিয়ে শুরু লোকসভার কার্যক্রম, জাতীয় গানের পরই শেষ অধিবেশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিহাসের সাক্ষী থাকল ভারতের সংসদ। বাদল অধিবেশনের শেষ দিনে বৃহস্পতিবার প্রথম ‘বন্দে মাতরম্’ গান (Vande Mataram in Lok Sabha) পরিবেশনের মাধ্যমে লোকসভার কার্যক্রম শুরু হল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী-সহ লোকসভার প্রায় পূর্ণাঙ্গ উপস্থিতির মধ্যেই জাতীয় গান পরিবেশিত হয়। ‘বন্দে মাতরম্’-এর ছয়টি স্তবক পরিবেশনের পর লোকসভার অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি (sine die) করে দেওয়া হয়। একইভাবে জাতীয় গানের পর এদিনই রাজ্যসভার কার্যক্রমও শেষ হয়। তবে ঐতিহাসিক সূচনার মধ্যেও রাজনৈতিক উত্তেজনা কমেনি। ২০ জুলাই অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই একাধিক ইস্যুতে বারবার অচল হয়েছে সংসদের কাজ। শেষ দিনেও বিরোধীরা বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

    ‘বন্দে মাতরম্’-কে আইনি সুরক্ষা

    সংসদে এই প্রথম অধিবেশনের শেষ দিন ছয়টি স্তবক ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হল। কয়েক দিন আগে এই জাতীয় স্তোত্রকে আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিলে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্মতি দিয়েছেন। এক্ষেত্রে গানের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও প্রোটোকল নিয়েও কেন্দ্র আগে নির্দেশিকা জারি করেছিল। নতুন আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া আটকানো বা ব্যাহত করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে ‘বন্দে মাতরম্’ জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে তুলনীয় আইনি সুরক্ষা পেল। এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম্’ পরিবেশনের জন্য নির্দিষ্ট প্রোটোকলও জারি করেছিল। ২৮ জানুয়ারির নির্দেশিকায় রাষ্ট্রপতির আগমন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং রাজ্যপালদের ভাষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে গানটির ছয়টি স্তবক পরিবেশনের কথা বলা হয়।

    রাজনৈতিক টানাপড়েনে ভরা

    শেষ দিনের সূচনাটা যতটা তাৎপর্যপূর্ণ, অধিবেশনের শেষটা ততটাই রাজনৈতিক টানাপড়েনে ভরা। সকাল থেকেই বিরোধী সাংসদদের স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ চত্বর। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা এ বার তাঁর স্বাভাবিক বিদায়ী ভাষণও দেননি। অধিবেশনে সংসদের কাজকর্ম এবং উৎপাদনশীলতার হিসেব তুলে ধরার রীতিও তাই এ বার দেখা গেল না। ২০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বাদল অধিবেশনের অধিকাংশ দিনই বারবার থমকে গিয়েছে। দিল্লিতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে পড়ুয়াদের আন্দোলনে পুলিশের পদক্ষেপ এবং অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে বিরোধীরা আলোচনার দাবি জানিয়ে সরব ছিলেন। সরকারের সঙ্গে বিরোধীদের এই টানাপড়েনে সংসদের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়েছে।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রস্তুত, বিরোধীরা অপ্রস্তুত

    বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আলোচনায় বসার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিলেন। বিরোধীদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন তিনি। ছাত্রদের ইস্যুতে আলোচনার জন্য বিরোধীদের সঙ্গে পরামর্শ করে সময় বরাদ্দের জন্য তিনি স্পিকারকে অনুরোধও করেছিলেন। কিন্তু শেষ দিনেও সেই আলোচনার পথ মসৃণ হল না। সংসদ চত্বরের মকর দ্বারে এ দিন বিজেপি এবং বিরোধীদের পৃথক কর্মসূচি দেখা যায়। রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে স্লোগান তোলে বিজেপি। অন্য দিকে নিজেদের দাবিতে সরব থাকে বিরোধী দলগুলি। ওঠে দলিত প্রসঙ্গ। ফলে রাজনৈতিক সংঘাতের আবহেই শেষ হয় বাদল অধিবেশন। গোটা বাদল অধিবেশনে বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে দফায় দফায় মুলতুবি হয়ে গিয়েছে লোকসভা এবং রাজ্যসভার অধিবেশন। শাহের বিবৃতির দাবিতে অনড় অবস্থান নিয়েছিল বিরোধী দলগুলি। এই আবহে বুধবার শাহ বলেন, “আমি সংসদীয় মন্ত্রী হিসাবে গোড়া থেকেই আলোচনা শুরুর জন্য বিরোধীদের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু বিরোধীরা পালাচ্ছেন। তাঁরা আসলে আলোচনা চান না।’’ শাহের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রাহুল বলেন, “ছাত্রদের উপর কে গুলি চালাল? পেরেক লাগানো লাঠি দিয়ে ছাত্রদের মারার নির্দেশ কে দিল? যদি অমিত শাহ এই নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তা হলে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। আমরা তাঁর বক্তৃতা শুনতে আগ্রহী নই।”

    ১২টি বিল পাশের দাবি সরকারের

    বাদল অধিবেশনের বড় অংশই অচলাবস্থার কারণে নষ্ট হলেও সরকারের দাবি, এই সময়ের মধ্যে সংসদে মোট ১২টি বিল পাশ হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভকেই সংসদের কাজ ব্যাহত হওয়ার জন্য দায়ী করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনায় বসা বা সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করার ক্ষেত্রে সরকারের কোনও অনীহা ছিল না। তবে বিরোধীদের লাগাতার প্রতিবাদ ও হট্টগোলের কারণে সংসদের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়েছে। শেষ দিনেও সেই রাজনৈতিক অচলাবস্থার কোনও ব্যতিক্রম দেখা যায়নি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সরব হন। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাহুল গান্ধী যথাযথভাবে আলোচনায় অংশ নেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিজেপির অন্যান্য নেতারাও সংসদে বিরোধীদের আচরণ নিয়ে সরব হন। পাশাপাশি পাঞ্জাব ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান তাঁরা। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ একাধিক জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে সংসদে পর্যাপ্ত আলোচনা ও সরকারের জবাব পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

     

     

     

  • TMC: আরজি করকাণ্ডে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ, গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ

    TMC: আরজি করকাণ্ডে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ, গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি করকাণ্ডে (TMC) তথ্যপ্রমাণ লোপাট ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক তৃণমূলের নির্মল ঘোষ (Nirmal Ghosh)। সম্প্রতি এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তাঁর পাশাপাশি আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও শুরু হয়েছে তদন্ত।

    নতুন করে মামলা দায়ের (TMC)

    গত রবিবার আরজি করের নিহত  চিকিৎসক-পড়ুয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির লোকসংস্কৃতি ভবনে একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। সেখানে নিহত চিকিৎসকের মা-বাবার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। স্মরণসভা থেকেই তিনি ঘোষণা করেন, ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী কমিটি গঠন করা হবে। নতুন করে মামলা দায়ের করে সেই মামলার ভিত্তিতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। এর পরের দিন, সোমবার ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে নিহত চিকিৎসকের বাবা নতুন করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া এফআইআরে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, তথ্যপ্রমাণ লোপাট-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই নির্মলকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর।

    শ্মশানে দেহ সৎকারের ঘটনা

    আরজি করকাণ্ডের পর ঘোলা থানার নাটাগড় কদমতলা শ্মশানে দেহ সৎকারের ঘটনাকে ঘিরে আগেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল। ওই ঘটনায় নির্মল ছাড়াও সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবিও উঠেছে (TMC)। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নির্যাতিতার দেহ সৎকারের ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূতভাবে তৎপরতা দেখানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, সৎকারের তালিকায় দেহটির ক্রম ছিল তিন নম্বরে। কিন্তু রাতারাতি সেই ক্রম বদলে এক নম্বরে করে দ্রুত দেহ সৎকার করা হয়। এমনকী শ্মশানের নির্ধারিত খরচও পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। মৃতার পরিবারের কোনও নিকটাত্মীয়ের বাধ্যতামূলক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে (Nirmal Ghosh)।

    সৎকারের প্রক্রিয়ায় নিয়ম ভাঙা হয়েছিল!

    এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা ওই দিনের ঘটনাক্রম, শ্মশানে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং সৎকারের প্রক্রিয়ায় কোনও নিয়ম ভাঙা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন (TMC)। প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুলাই নির্মলের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার ঠিক এক মাসের মাথায় গ্রেফতার হলেন নির্মল স্বয়ং। তবে তীর্থঙ্করের গ্রেফতারির কারণ ছিল ভোট-পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত একটি মামলা। আর আরজি কর কাণ্ডে তথ্যপ্রমাণ লোপাট ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে নির্মলকে (TMC)।

     

  • Air India Pilot: মাদক পরীক্ষায় পাইলটের রিপোর্ট পজিটিভ! মাঝআকাশে বিপত্তির ঘটনায় এয়ার ইন্ডিয়াকে কড়া বার্তা কেন্দ্রের

    Air India Pilot: মাদক পরীক্ষায় পাইলটের রিপোর্ট পজিটিভ! মাঝআকাশে বিপত্তির ঘটনায় এয়ার ইন্ডিয়াকে কড়া বার্তা কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India Pilot) একটি বিমানে মাঝআকাশে একাধিক বিপত্তির ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্র। ঘটনার পরে বিমানের দায়িত্বে থাকা (Marijuana) পাইলটের মাদক পরীক্ষার নিশ্চিতকরণ পরীক্ষায় গাঁজার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। একই সঙ্গে বিমানে থাকা ২০ জন যাত্রী এবং চার কেবিন কর্মীও আহত হয়েছেন বলে খবর। এয়ার ইন্ডিয়ার এআই ২৩৭৯ বিমানটি গত মঙ্গলবার ফুকেট থেকে দিল্লির উদ্দেশে উড়েছিল। ওড়িশার আকাশসীমার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় বিমানটিতে একাধিক সতর্কবার্তা দেখা দেয়। বিমানের তিনটি জলচাপ-নির্ভর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, দরজা এবং উল্লম্ব নিয়ন্ত্রণ পাখনা সংক্রান্ত সতর্কবার্তাও পাওয়া গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। এর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে আসে। ঘটনার পর কেন্দ্র এয়ার ইন্ডিয়াকে পরিচালনগত নজরদারি আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছে। বিমান চলাচলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সংস্থাকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। ঘটনার তদন্তে যার বা যাদের গাফিলতি প্রমাণিত হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র (Air India Pilot)।

    উদ্বেগ বাড়ছে বিমান নিরাপত্তা নিয়ে

    ওই ঘটনায় ২০ জন যাত্রী এবং চারজন কেবিন কর্মী আহত হন। বিমানটি দিল্লিতে অবতরণের পর আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এর আগে ঘটনার দিন অন্তত ১৪ জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে খবর।ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ গত বছরের জুনে আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনায় ২৬০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই দুর্ঘটনার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন এখনও প্রকাশিত হয়নি। এক সরকারি আধিকারিক বলেন, “গত জুনের আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনায় ২৬০ জনের প্রাণহানি হয়েছিল। সেই ঘটনার চূড়ান্ত রিপোর্ট এখনও প্রকাশিত হয়নি। তার মধ্যেই এয়ার ইন্ডিয়াকে ঘিরে এমন একটি ঘটনা ঘটল।” ওই আধিকারিক আরও জানান, এআই ২৩৭৯-এর ঘটনা সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তদন্তের পর যাঁদের দোষ প্রমাণিত হবে, তাঁদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।

    পাইলটের মাদক পরীক্ষায় গাঁজার উপস্থিতি

    ঘটনার পর আরও গুরুতর তথ্য সামনে এসেছে। ফুকেট-দিল্লি বিমানের দায়িত্বপ্রাপ্ত পাইলটের প্রথম মাদক পরীক্ষার ফল নিয়ে সন্দেহ হওয়ার পর নিশ্চিতকরণ পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষায়ই গাঁজার উপস্থিতি ধরা পড়ে (Air India Pilot)। তদন্তকারীদের কাছে পাইলট দাবি করেছেন, ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে তাঁকে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, ওই ওষুধ খাওয়ার ফলেই মাদক পরীক্ষার ফল ইতিবাচক এসেছে (Marijuana)। তবে তাঁর এই দাবি এবং পরীক্ষার ফল—দুই বিষয়ই এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। এদিকে বিমানের কেবিন কর্মীরাও পাইলটের আচরণ নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। তদন্তকারীদের মতে, বিমানটি হঠাৎ উচ্চতা খোয়ানোর পেছনে একাধিক বিরল প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল, নাকি পাইলটের আচরণের কোনও ভূমিকা ছিল, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে। ঘটনার সময় বিমানটি সাময়িকভাবে এমন অবস্থায় চলে গিয়েছিল, যেখানে বিমানের ভিতরে যাঁরা সিটবেল্ট পরেননি, তাঁদের কেউ কেউ আহত হন। কো-পাইলটকে পরিস্থিতি সামলে বিমানটি নিরাপদে দিল্লিতে নামাতে হয় (Air India Pilot)।

    মাদক পরীক্ষা আরও কড়া করার নির্দেশ

    ঘটনার পর কেন্দ্রীয় সরকার বেসামরিক বিমান চলাচল দফতরকে বিমান চলাচলের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মাদক পরীক্ষা সংক্রান্ত বর্তমান নিয়ম আরও কঠোর করার নির্দেশ দেয় (Air India Pilot)। বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষার আওতায় আরও বেশি সংখ্যক বিমানকর্মীকে আনার পাশাপাশি নিষিদ্ধ মাদক গ্রহণের অভিযোগে ধরা পড়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আরও কঠোর করার কথাও বলা হয়েছে। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইতিমধ্যেই বিমানকর্মীদের মাদক গ্রহণ সংক্রান্ত পরীক্ষার নিয়ম পর্যালোচনা করছে। কেন্দ্র এয়ার ইন্ডিয়াকেও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সংস্থার পরিচালন ব্যবস্থায় নজরদারি বাড়াতে হবে এবং বিমানের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন (Marijuana) নিশ্চিত করতে হবে। ঘটনাটি নিয়ে বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থাও প্রযুক্তিগত, পরিচালনগত, চিকিৎসা এবং মানবিক—সব দিক খতিয়ে দেখছে (Air India Pilot)।

    এ কী কাণ্ড!

    জানা গিয়েছে, ডিজিসিএ (বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদফতর) ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ওই ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া গুরুতর নিরাপত্তাজনিত ঘটনার তদন্ত করছে। অভিযোগ, বিমান যখন উড়ছিল, তখন পাইলট-ইন-কমান্ড ককপিট ছেড়ে যাত্রী কেবিনে প্রবেশ করেন এবং সেখানে ধূমপান করার চেষ্টা করেন। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই পাইলট যাত্রী কেবিনে গিয়ে একটি আপৎকালীন বেরনোর দরজার কাছে গিয়ে মেঝেতে বসে পড়েন এবং কেবিন ক্রু সদস্যদের কাছে একটি লাইটার চান। অভিযোগ, কেবিন ক্রুরা তাঁকে ককপিটে ফিরে যেতে বলেন। এনিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

  • Imran Khan: মারা গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান? পাক সাংবাদিকের নতুন দাবিতে ফের জল্পনা

    Imran Khan: মারা গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান? পাক সাংবাদিকের নতুন দাবিতে ফের জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের (Imran Khan) মৃত্যু নিয়ে নতুন দাবি ঘিরে দেশটিতে (Pakistan) ফের একবার উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানি সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খানের দাবি, দেশটির সামরিক বাহিনীর তিন প্রবীণ আধিকারিক মনে করেন, জেলেই হয়তো ইমরানের মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই খবরের সত্যতা যাচাই করা যায়নি। সাংবাদিক নিজেও জানিয়েছেন, তাঁর সূত্রগুলির কেউই ব্যক্তিগতভাবে ইমরানকে দেখেননি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক, এমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত সাংবাদিক ওয়াজাহাত ১০ আগস্ট প্রকাশিত একটি ইউটিউব ভিডিওয় এই দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, রাওয়ালপিন্ডিতে পাক সেনাবাহিনীর জেনারেল সদর দফতরে কর্মরত প্রবীণ আধিকারিকদের কাছ থেকেই এই তথ্য পেয়েছেন তিনি।

    সাংবাদিকের দাবি (Imran Khan)

    ওয়াজাহাতের দাবি, অন্তত তিনজন আধিকারিক আলাদাভাবে তাঁকে জানিয়েছেন যে ইমরান আর আমাদের মধ্যে নেই। তবে একইসঙ্গে তিনি কবুল করেছেন, তাঁর কোনও সূত্রই ইমরানকে নিজের চোখে দেখেননি। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, তথ্যটি নিশ্চিত নয় এবং তিনি আশা করছেন, দাবিটি সত্য নয়। ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর পরিবার, আইনজীবী, দলের নেতারা এবং চিকিৎসকরা নানা সমস্যার কথা জানিয়ে আসছেন। তাঁর বোনেরা এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতারা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ চেয়ে বারবার আবেদন করেছেন। একইসঙ্গে তাঁর শারীরিক অবস্থার চিকিৎসা মূল্যায়নের দাবিও জানিয়েছে দলটি। ২০২৩ সালের ৫ অগাস্ট থেকে জেলে রয়েছেন ইমরান। বর্তমানে ১৯ কোটি পাউন্ডের আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তিনি ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকেও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দু’জনেই তাঁদের সাজাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। ইমরানের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৯ মে-র বিক্ষোভ-সংক্রান্ত একাধিক মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। ওই বিক্ষোভের সময় পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর দলের সমর্থকরা সামরিক কাঠামোয় হামলা চালিয়েছিলেন।

    মৃত্যুর দাবি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা

    ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এবং পাকিস্তানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চলা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ নেতা সোহেল আফ্রিদির দাবি, ২০ লাখেরও বেশি মানুষ রাস্তায় নামতে প্রস্তুত। আফ্রিদির বক্তব্য, তাঁদের দাবি অসাংবিধানিক নয় এবং ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগকে রাজনৈতিক বার্তা আদান-প্রদানের কাজে ব্যবহার করা হবে না। পাকিস্তানের তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদ অভিমুখে দীর্ঘ পদযাত্রা করার কথা ঘোষণা করেছে। ইমরানের পরিবার ও চিকিৎসকদের তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া না হলে তার আগেই বিক্ষোভের হুমকিও দিয়েছে দলটি। ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ এখনও বড় প্রশ্ন হয়ে থাকায় নতুন এই দাবি ফের সেই প্রশ্নই সামনে (Pakistan) এনেছে—ইমরান কি সত্যিই মারা গিয়েছেন? তবে বর্তমানে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে তাঁর মৃত্যুর কোনও নির্ভরযোগ্য নিশ্চিতকরণ নেই।

    এর আগেও ছড়িয়েছিল একই ধরনের গুজব

    ইমরানের মৃত্যুর গুজব এই প্রথম নয়। গত বছরের নভেম্বরেও তাঁর পরিবার এবং দলীয় কর্মীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে সমস্যায় পড়ার পর একই ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে ২ ডিসেম্বর সেই জল্পনার অবসান ঘটে। ইমরানের বোন উজমা খানুম আদিয়ালা জেলে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। সাক্ষাতের পর তিনি জানান, ইমরান শারীরিকভাবে ভালো আছেন। তবে তাঁকে একাকী রাখা হয়েছিল বলে জানান তিনি। নভেম্বরেই ফের একটি বড় মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। আফগানিস্তান টাইমস দাবি করেছিল, আদিয়ালা জেলের ভেতরে ইমরানকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জেলে নির্যাতনের পর ৭২ বছর বয়সী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে, এবং তাঁর মরদেহ জেলের বাইরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে পাক প্রশাসন এই দাবি অস্বীকার করে জানায়, ইমরান জীবিত রয়েছেন (Imran Khan)।

    ভুয়া সরকারি বিবৃতিতেও ইমরানের মৃত্যুর দাবি

    ২০২৫ সালের মে মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি হিসেবে একটি ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, বিচারাধীন অবস্থায় ইমরানের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকার নিশ্চিত করেছে (Pakistan)। তবে নথিটিতে বেশ কিছু অসঙ্গতি ছিল, যা এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। “৪২৭/২০২৫” নম্বর উল্লেখ থাকলেও, এতে যথাযথ তারিখ ছিল না। পাশাপাশি নথিতে বানান, বিরামচিহ্ন, ভাষা ও বিন্যাসের একাধিক ভুল দেখা যায়। পাকিস্তানের বা আন্তর্জাতিক কোনও বড় সংবাদমাধ্যম, বিদেশমন্ত্রক কিংবা প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেও এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি। পরে নথিটিকে প্রকৃত সরকারি বিবৃতি নয়, বরং এডিটেড ও বিকৃত ছবি হিসেবে শনাক্ত করা হয়। জেলে ইমরানের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে আরও কিছু দাবির মধ্যেই এটিও ছড়িয়েছিল। ফলে তাঁর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যের বহর আরও বেড়ে যায়।

    কারাগারে হামলার দাবিও ছিল ভুয়া

    ইমরানের কারাবাসকে ঘিরে শুধু মৃত্যুর গুজবই নয়, আরও নানা দাবি ছড়িয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কথিত চিকিৎসা প্রতিবেদন ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, জেলে ইমরান যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন (Imran Khan)। পাক এমিরেটস সামরিক হাসপাতালের নামে প্রচারিত ওই নথিতে গুরুতর আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পাশাপাশি এইচআইভি, হেপাটাইটিস এবং অন্যান্য যৌন-সংক্রমণের পরীক্ষার কথাও বলা হয়। পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের অনুমোদন ছাড়া ইমরানের মুক্তি সম্ভব নয় বলেও দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু নথিটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি ছিল। এতে ২০২৫ সালের ৩ মে তারিখ উল্লেখ করা হলেও, সেটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে তার আগের দিনই, ২ মে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সরকারি তথ্য অনুযায়ী ইমরানের চিকিৎসা পরীক্ষা ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের চিকিৎসকরা করেছিলেন, পাক এমিরেটস সামরিক হাসপাতালে নয়।

    ভুয়া তথ্য!

    এই সব অসঙ্গতি থেকেই এটি স্পষ্ট হয় যে চিকিৎসা প্রতিবেদনটি আদতে ভুয়া। ইমরানের আইনজীবীরা যৌন নির্যাতনের দাবির স্বপক্ষে নিশ্চিত করে কোনও বিবৃতি দেয়নি। নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম কিংবা সরকারি কোনও বিবৃতিতেও এই দাবির সমর্থন মেলেনি (Imran Khan)। ইমরানের মৃত্যু, স্বাস্থ্য এবং জেলে তাঁর সঙ্গে আচরণ নিয়ে বারবার গুজব ছড়িয়েছে মূলত তখনই, যখন তাঁর পরিবার ও সমর্থকেরা তাঁর সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে বাধার মুখে (Pakistan) পড়েছেন। ওয়াজাহাত সাঈদ খানের সর্বশেষ দাবিও সেই পুরনো প্রশ্নকে ফের একবার সামনে এনেছে (Imran Khan)।

  • Red Fort Blast: দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণের দায় আল-কায়েদার! এনআইএ-র দাবিই স্বীকৃতি পেল রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে

    Red Fort Blast: দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণের দায় আল-কায়েদার! এনআইএ-র দাবিই স্বীকৃতি পেল রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লালকেল্লার কাছে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে (Red Fort Blast) আল কায়েদা-যোগের অভিযোগ তুলল রাষ্ট্রপুঞ্জ। এই কথা আগেই উল্লেখ করেছিল ভারত। এ বার সেই একই কথা বলল রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারী দল। সম্প্রতি প্রকাশিত তাদের দ্বিবার্ষিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে দিল্লির লালকেল্লায় হামলার সঙ্গে আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (AQIS)-এর যোগ রয়েছে।

    আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা-ই দায়ী

    গত বছরের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের এক নম্বর গেটের কাছে একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, রাস্তা থেকে ৪০ ফুট নীচে থাকা মেট্রো স্টেশনও কেঁপে উঠেছিল। ওই বিস্ফোরণে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। জখম হন আরও অনেকে। তদন্তে উঠে আসে ফরিদাবাদের ‘চিকিৎসক মডিউল’-এর তথ্য। তবে গত বছরের নভেম্বরের ওই বিস্ফোরণের জন্য আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা (একিউআইএস)-কেই দায়ী করল রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ। অভিযোগ, এই জঙ্গিগোষ্ঠী বাংলাদেশেও তাদের শাখা (সেল) বিস্তারের চেষ্টা করছিল।

    এনআইএ-র দাবিই সত্য!

    গত মে মাসে ওই বিস্ফোরণ কাণ্ডে চার্জশিট জমা দেয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। তদন্তে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) জানিয়েছে, হামলার মূল অভিযুক্ত ছিলেন উমর উন-নবি, যিনি ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। বিস্ফোরণের সময়ই তাঁর মৃত্যু হয়। ২০২৬ সালের মে মাসে এনআইএ এই ঘটনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। চার্জশিটে বলা হয়, আনসার-উল-হিন্দ (এজিইউএইচ) নামে আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখার এক সহযোগী সংগঠন এই হামলা চালিয়েছে। এ বার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের রিপোর্টেও উঠে এল দিল্লির গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ। চলতি সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাকশনস মনিটরিং টিম’ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছরের নভেম্বরে দিল্লির লালকেল্লার কাছে হামলার নেপথ্যে ছিল আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখাই।

    দক্ষিণ এশিয়ায় আল কায়েদার নেটওয়ার্ক বিস্তারের আশঙ্কা

    রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে বলা হয়েছে, আল কায়েদা ধীরে ধীরে একটি বিচ্ছিন্ন ও খণ্ডিত সংগঠন থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় সক্রিয় একটি আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। বড় ইউনিটের পরিবর্তে ছোট ও ছড়ানো সেলের মাধ্যমে তারা লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, আল কায়েদার নেতৃত্বের একটি অংশ আফগানিস্তানের কাবুলে অবস্থান করছে। তাদের কাছে আফগানিস্তানের জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি তালিবান ও আল কায়েদার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ইঙ্গিত হতে পারে। বাংলাদেশকেও আল কায়েদা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তারের জন্য ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে বলে রিপোর্টে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

    রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র নিয়েও সতর্কতা

    গত বছরের নভেম্বরে গুজরাতের আমেদাবাদ থেকেও তিন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক। ওই জঙ্গিরা প্রাণঘাতী রাসায়নিক ‘রাইসিন’ তৈরির চেষ্টা করছিলেন। এই রাসায়নিক জৈব অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহার হয়। ওই ঘটনার তদন্তেও জঙ্গিদের ‘আইএস’ যোগের কথা উঠে এসেছিল। রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টেও তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নজরদারি সংস্থার উদ্বেগ, আল কায়েদা এবং আইএসআইএল (দায়েশ) অনেক দিন ধরেই রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রযুক্তিগত বাধার কারণে তারা এখনও সেই অস্ত্র তৈরি করে উঠতে পারেনি। এ প্রসঙ্গেই গুজরাতে ধৃত জঙ্গিদের কথা উল্লেখ করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। তাদের দাবি, আইএসআইএল (দায়েশ)-এর একটি শাখাই ওই তিন ধৃতকে ‘রাইসিন’ তৈরির দায়িত্ব দিয়েছিল।

    ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে নজরদারির সুপারিশ

    সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগানের ক্ষেত্রেও নতুন প্রবণতা নিয়ে সতর্ক করেছে রাষ্ট্রসংঘ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার বাড়ছে। আল কায়েদা এবং আইএসআইএল (দায়েশ) ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির আর্থিক লেনদেন শনাক্ত করতে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় একটি পৃথক ‘ডিজিটাল কারেন্সি অ্যাড্রেস’ সংক্রান্ত তথ্য রাখার সুপারিশ করেছে রাষ্ট্রসংঘের পর্যবেক্ষক দল। একই সঙ্গে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সন্ত্রাসে অর্থ জোগানের সম্ভাবনা নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। প্রকৃত অর্থদাতা বা আল্টিমেট বেনেফিসিয়াল ওনার শনাক্ত করার জন্য ফাইনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF)-এর সুপারিশ কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ব্যবহার বৃদ্ধি

    রাষ্ট্রসংঘের প্রতিবেদনে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ও তাদের সমর্থকদের দ্বারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। পর্যবেক্ষক দলের তথ্যমতে, বোমা তৈরি এবং লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য এসব সংগঠনের সদস্যরা চ্যাটজিপিটি (ChatGPT)-সহ বিভিন্ন এআই টুলের ব্যবহার বাড়িয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্স’ (আইএসআইএল-কে বা ISIL-K) বিভিন্ন ভাষায় দ্রুত প্রচারমূলক বার্তা অনুবাদ ও ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে এআই ব্যবহার করছে, যার ফলে তারা আরও ব্যাপক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছতে পারছে। লালকেল্লা বিস্ফোরণ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের এই রিপোর্ট প্রকাশের পর তদন্তে আল কায়েদার উপমহাদেশীয় শাখা (AQIS) ও তার সহযোগী সংগঠনগুলির ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন করে নজরদারি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

  • Annapurna Yojana: আগামী ১৭ তারিখ থেকে অ্যাকাউন্টে টাকা! এক বাড়িতে একাধিক জন কি পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা?

    Annapurna Yojana: আগামী ১৭ তারিখ থেকে অ্যাকাউন্টে টাকা! এক বাড়িতে একাধিক জন কি পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা মিলবে ১৭ অগাস্ট থেকে। যোগ্য প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে আসবে ৩০০০ টাকা, ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি, কারা টাকা পাবেন না, অভিযোগ থাকলে কোথায় ও কীভাবে জানাবেন, তাও জানিয়ে দিলেন তিনি। এবার অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়মও শিথিল করেছে রাজ্য সরকার। উদ্দেশ্য একটাই, যাতে আরও মহিলা এই আর্থিক যোজনার সুবিধা পান। তিনি এটাও জানিয়েছেন যে এখনও ভেরিফিকেশন চলছে। আর যাঁদের নাম ভেরিফায়েড হয়ে যাবে, তাঁরা আগামীতেও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেতে থাকবেন।

    কারা কারা এই টাকা পাবেন

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari on Annapurna Yojana) বলেন, “আমাদের যাঁরা যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন তাঁদের বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে, আগেই বলা আছে। কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের কোনও বিধিবদ্ধ সংস্থা বা সরকারি আন্ডার টেকিং, পঞ্চয়েত বা পৌরসভা, সরকারি বা সরকারি সাহাজ্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানএর শিক্ষক বা শিক্ষকর্মী, স্থানীয় সরকারি চাকরিতে যুক্ত বা পেনশন পান; এঁরা এর মধ্যে থাকবেন না।” তবে এখানেই শেষ নয়। তিনি আরও বলেন, “যে পরিবার আয়কর দেয়, অর্থাৎ আয় বছরে ১২ লক্ষ টাকা সেই পরিবার এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন না। এবং যে মহিলা নিজে ১০ হাজার টাকার বেশি উপার্জন করেন, তাকেও এই বিবেচনার মধ্যে প্রাথমিক ভাবে নিয়ে আসা হয়নি। কিন্তু এই ক্ষেত্রে যে পরিবারের পুরুষরা ক্যাজুয়াল বা চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন, সেই বাড়ির মহিলারা বিবেচিত হবেন।” যদি যোগ্যতার মাপকাঠি পূর্ণ হয়, তাহলে এক বাড়িতে একাধিক মহিলা টাকা পেতে পারেন। এক্ষত্রে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সের একটি পরিবারের একাধিকজন এই যোজনায় আবেদন করতে পারবেন। এরপর সরকার সমস্ত তথ্য যাচাই করার পর টাকা দেওয়ার কথা বিবেচনা করবে।

    অভিযোগ পোর্টাল-এর ব্যবস্থা

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আগামী ১৭ অগাস্ট বিকেলে মন্ত্রী মালতী রাভা রায় অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা প্রাপকদের সংখ্যা ঘোষণা করবেন। জুলাই মাসে এই ৩ কক্ষের বাড়ি কিংবা জমির পরিমাণ সংক্রান্ত ক্রাইটেরিয়ার কারণে যেসব মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ পাওয়ার থেকে বিরত ছিলেন, অগাস্ট মাসে টাকা দেওয়া হলে তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই সুবিধা পাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ”৩ কক্ষ বিশিষ্ট বাড়ির ক্ষেত্রে অনেক মহিলার নাম আগে বাদ পড়ে গিয়েছিল। গ্রামীণ ক্ষেত্রে এই ৩ কক্ষের বাড়ির বিষয়টি শিথিল করা হয়েছে। ফলে গ্রামীণ এলাকার মহিলারা এবার আরও বেশি সংখ্যায় সুযোগ পাবেন।” এ ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী জানান একটি অভিযোগ পোর্টালও রাখা হবে। তিনি বলেন, “ভেরিফিকেশনে যাঁরা যোগ্য, তাঁদের টাকা ১৭ তারিখ থেকে দেওয়া হবে। এর পরও একটা অভিযোগ পোর্টাল রাখব আমরা। যেখানে যে কেউ আগামীতে অভিযোগ করতে পারবেন। এই অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে আমরা সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিডিওদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হবে।”

  • ISI agent Rana Rauf: হাবড়ায় ধৃত পাকিস্তানি চর রানার নোটবুকে ৬ পাক এজেন্টের নাম! স্বাধীনতা দিবসে নাশকতার ছক?

    ISI agent Rana Rauf: হাবড়ায় ধৃত পাকিস্তানি চর রানার নোটবুকে ৬ পাক এজেন্টের নাম! স্বাধীনতা দিবসে নাশকতার ছক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসের আগে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে ধৃত সন্দেহভাজন পাকিস্তানি চর রানা রউফ খালিদ ওরফে সানি ওরফে ওয়াহাব আলমকে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF)। তদন্তকারীদের দাবি, রানার নোটবুক ও ডায়েরি থেকে অন্তত ৬ জন আন্তর্জাতিক স্তরের পাক এজেন্টের নাম মিলেছে। তাঁদের মধ্যে ৫ জন নেপালের এবং ১ জন বাংলাদেশের বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে খবর, কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার সেনা ছাউনি, বিএসএফ ক্যাম্প, গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন, রেলপথ এবং সামরিক পরিকাঠামোর ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে বিদেশে থাকা যোগাযোগকারীদের কাছে পাঠাত রানা। তদন্তকারীদের নজরে এসেছে ফোর্ট উইলিয়ামের ম্যাপ, ছবি ও ভিডিও সংগ্রহের অভিযোগও। বিএসএফ ও ভারতীয় সেনার গতিবিধি এবং ভারতীয় রেলের নেটওয়ার্ক সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ।

    মোবাইল ভেঙেও রক্ষা হল না

    তদন্তে উঠে এসেছে, নিজের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনের তথ্য মুছে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছিল রানা। নেপালে গিয়ে ব্যবহৃত মোবাইলটি ভেঙে ফেলারও অভিযোগ রয়েছে। তবে তার কাছে থাকা দুটি সিমকার্ড নষ্ট করতে পারেনি সে। সেই সিমকার্ড এখন তদন্তকারীদের হাতে রয়েছে। এদিকে রানার নোটবুক ও ডায়েরি পরীক্ষা করতেই তদন্তের পরিধি আরও বাড়ে। সেখানে কাশিফ, হানিফ চৌধুরি, সোহায়েল, জেডি এবং হারুণ সফদার নামে পাঁচ ব্যক্তির নাম পাওয়া গিয়েছে বলে এসটিএফ সূত্রে দাবি। তাঁরা নেপালে অবস্থান করছে বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। একই সঙ্গে বাংলাদেশে থাকা পাভেল নামে আরও এক সন্দেহভাজন পাক এজেন্টের নামও উঠে এসেছে।

    নেপাল হয়ে বাংলাদেশ যাওয়ার ছক

    তদন্তকারীদের দাবি, কাঠমান্ডুতে একটি গোপন বৈঠকের পর বনগাঁ হয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল রানার। হাবড়া থেকে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে সেখান থেকে নেপালের কাঠমান্ডু যাওয়ার পরিকল্পনাও তার ছিল বলে জানা গিয়েছে। বাংলাদেশের যশোরে পাভেল নামে ওই সন্দেহভাজন এজেন্ট রানার জন্য একটি নতুন মোবাইল নিয়ে অপেক্ষা করছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সেই ফোনে পুরনো সিমকার্ড ঢুকিয়ে ফের নেপাল ও পাকিস্তানে যোগাযোগ করার পরিকল্পনা ছিল বলে এসটিএফ-এর অনুমান।

    ‘ওয়াহাব আলম’ পরিচয়ে ভারতীয় নথি

    মঙ্গলবার রাতে হাবড়ার চোংদা মোড় থেকে রানাকে আটক করে এসটিএফ। তপসিয়ার বাসিন্দা ‘ওয়াহাব আলম’ পরিচয়ে নিজের ভারতীয় পরিচয় প্রমাণের জন্য আধার ও ভোটার কার্ডও দেখিয়েছিল সে। কিন্তু তার পরিচয়, এনআরসি এবং নথিপত্র সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হতেই একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। দীর্ঘ জেরার পর শেষ পর্যন্ত রানা নিজেকে পাকিস্তানি নাগরিক বলে স্বীকার করে বলে তদন্তকারীদের দাবি। তার কাছ থেকে পাকিস্তানের পাসপোর্টও উদ্ধার হয়েছে। নগদ মাত্র ৩৫০ টাকা পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    আরও এক সঙ্গী গ্রেফতার

    রানাকে সাহায্য করার অভিযোগে কলকাতার তপসিয়া এলাকা থেকে মহম্মদ ইজাজ নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। তদন্তকারীদের দাবি, কলকাতার পূর্ব দিকের আরও দুই বাসিন্দা রানার চরবৃত্তির কাজে সহযোগিতা করত। তাঁদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, রানা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকার ছবি এবং ভিডিও সংগ্রহ করে নেপালে থাকা যোগাযোগকারীদের কাছে অ্যাপের মাধ্যমে পাঠাত। পরে সেই তথ্য পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর কাছে পৌঁছত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    স্বাধীনতা দিবসে নাশকতার আশঙ্কা?

    রানাকে ঘিরে তদন্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ১৫ অগাস্টকে কেন্দ্র করে। বারাসত আদালতের সরকারি আইনজীবী প্রসেনজিৎ রানা জানিয়েছেন, স্বাধীনতা দিবসের দিন নাশকতার কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আদালতে সরকারি পক্ষের তরফে এমন আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে। তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, রানার মোবাইলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কার একাধিক নম্বর ছিল। ওই নম্বরগুলির সঙ্গে চ্যাটও হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে গ্রেফতারের আগে বহু চ্যাট এবং নম্বর মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। সরকারি আইনজীবীর দাবি, দুই পাকিস্তানি নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে ভারতে ঢুকে কলকাতায় অবস্থান করছিল বলে তদন্তে তথ্য উঠে এসেছে। তাঁদের গতিবিধির মধ্যে কলকাতা ও আশপাশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানও ছিল। মুছে দেওয়া নথি ও ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

    আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সন্ধানে তদন্ত

    রানার নোটবুক থেকে নেপাল ও বাংলাদেশের সন্দেহভাজন এজেন্টদের নাম উঠে আসায় তদন্তের পরিধি এখন আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছেছে। নেপাল ও বাংলাদেশে থাকা সন্দেহভাজনদের সঙ্গে রানার যোগাযোগ কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তাঁরা কার হয়ে কাজ করত এবং সংগৃহীত তথ্য কোথায় পাঠানো হত—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, আন্তর্জাতিক স্তরে ছড়িয়ে থাকা এই সন্দেহভাজন নেটওয়ার্কের বিষয়ে বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে নেপাল ও বাংলাদেশ সরকারকেও তথ্য জানানো হচ্ছে। রানাকে ১৪ দিনের জন্য এসটিএফ হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। তার জেরা এবং উদ্ধার হওয়া নথি, সিমকার্ড, ডিজিটাল যোগাযোগ ও নোটবুকের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চক্রের আরও সদস্য এবং তাদের সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

  • Calcutta High Court: ওবিসি সংরক্ষণে কলকাতা হাইকোর্টের বড় নির্দেশ, বাতিল তৃণমূল জমানার ‘এ’, ‘বি’ শ্রেণির শংসাপত্র

    Calcutta High Court: ওবিসি সংরক্ষণে কলকাতা হাইকোর্টের বড় নির্দেশ, বাতিল তৃণমূল জমানার ‘এ’, ‘বি’ শ্রেণির শংসাপত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গে চালু হওয়া অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (OBC) সংরক্ষণ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। ২০১০ সালের পর জারি হওয়া অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির ‘এ’ এবং ‘বি’ শ্রেণির শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এর ফলে ওই শংসাপত্রের ভিত্তিতে সংরক্ষণের সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে তৈরি হল অনিশ্চয়তা। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি অনুজ সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশের ফলে ২০১০ সালের পর জারি হওয়া সংশ্লিষ্ট শংসাপত্রগুলির বৈধতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে ২০২৪ সালের রায়েও হাইকোর্ট ২০১০ সালের পর তৈরি হওয়া অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির শংসাপত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল এবং সেই সময়ের রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের মূল নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি।

    সংরক্ষণ নিয়ে সমস্যায় চাকরিপ্রার্থী ও পড়ুয়ারা (Calcutta High Court)

    এই নির্দেশের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে চাকরিপ্রার্থী এবং পড়ুয়াদের উপর। বিশেষ করে যাঁরা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির ‘এ’ বা ‘বি’ শ্রেণির শংসাপত্রের ভিত্তিতে চাকরি, নিয়োগ পরীক্ষা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুবিধা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁদের সামনে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে আগের রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছিল, ইতিমধ্যে চাকরি পেয়ে গিয়েছেন বা চাকরিতে যোগদানের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ওই নির্দেশের প্রভাব পড়বে না।

    ২০১০ সালের পর থেকেই বিতর্ক

    ২০১০ সালের পর পশ্চিমবঙ্গে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকাকে মূলত ‘এ’ এবং ‘বি’—এই দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। পরবর্তী সময়ে সেই তালিকা তৈরি এবং তার আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ২০২৪ সালের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ২০১০ সালের পর তৈরি হওয়া প্রায় ১২ লক্ষ অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ওই শংসাপত্রগুলি যথাযথ আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করে তৈরি করা হয়নি। ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যায়। কিন্তু শীর্ষ আদালত কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ করেনি। ফলে রাজ্যের অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে আইনি জট আরও জটিল হয়ে ওঠে (Calcutta High Court)।

    নতুন তালিকা নিয়েও প্রশ্ন

    এর পর রাজ্য সরকার নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকায় পরিবর্তন আনে। ‘এ’ এবং ‘বি’ শ্রেণির তালিকায়ও রদবদল করা হয়। কিন্তু নতুন তালিকা তৈরির পদ্ধতি নিয়েও কলকাতা হাইকোর্টে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, সীমিত সংখ্যক মানুষের নমুনার ভিত্তিতে সমীক্ষা চালিয়ে বহু জনগোষ্ঠীকে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন তালিকা নিয়েও আদালতে মামলা হয় এবং বিষয়টি ফের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

    বদলাতে চলেছে সংরক্ষণ কাঠামো

    সাম্প্রতিক নির্দেশের ফলে পশ্চিমবঙ্গে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণ কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ‘এ’ এবং ‘বি’—এই দুই শ্রেণির ভিত্তিতে যে ব্যবস্থা এত দিন চলছিল, আদালতের নির্দেশে তার আইনি ভিত্তি নতুন করে (OBC) প্রশ্নের মুখে পড়ল। ফলে আগামী দিনে রাজ্য সরকার কীভাবে নতুন সংরক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করে এবং বর্তমানে সংরক্ষণের আওতায় থাকা চাকরিপ্রার্থী ও পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটাই দেখার (Calcutta High Court)।

     

LinkedIn
Share