Blog

  • LPG Distributors: দিল্লিতে এলপিজি সরবরাহ বন্ধের প্রতিবাদ-ধর্মঘটে আপত্তি, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার আর্জি এফএলডিআইয়ের

    LPG Distributors: দিল্লিতে এলপিজি সরবরাহ বন্ধের প্রতিবাদ-ধর্মঘটে আপত্তি, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার আর্জি এফএলডিআইয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডি জোটের সমাবেশের আগে এলপিজি সরবরাহ ও ডেলিভারি বন্ধ রেখে প্রতিবাদ এবং অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাকের বিরোধিতা করল ফেডারেশন অফ এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর্স অফ ইন্ডিয়া (FLDI)। গ্রাহকদের অসুবিধা এড়াতে সমস্ত এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরকে নিয়মিত সরবরাহ ও ডেলিভারি পরিষেবা চালু রাখার আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি (LPG Distributors)।

    এফএলডিআইয়ের বক্তব্য (LPG Distributors)

    জারি করা বিবৃতিতে এফএলডিআই জানিয়েছে, ডিস্ট্রিবিউটরদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে তেল বিপণন সংস্থাগুলি (OMCs) এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে। সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাসও মিলেছে বলে দাবি সংগঠনের। তাই আলোচনার সমস্ত পথ ব্যবহার করার আগেই প্রতিবাদ বা ধর্মঘটের পথে হাঁটাকে বাস্তবসম্মত বলে মনে করছে (Rahul Gandhi) না তারা। এফএলডিআইয়ের বক্তব্য, ডিস্ট্রিবিউটরদের ন্যায্য দাবিগুলি নিয়ে অর্থবহ আলোচনা, নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত এবং ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রয়োজন। তবে এই প্রক্রিয়া চলাকালীন সাধারণ গ্রাহকদের এলপিজি পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। সংবাদ সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে সংগঠনটি জানিয়েছে, ধর্মঘট বা কর্মসূচির আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সমস্ত ডিস্ট্রিবিউটর যেন সরবরাহ ও ডেলিভারি স্বাভাবিক রাখেন। কোনও পরিবার যাতে রান্নার গ্যাস নিয়ে সমস্যায় না পড়ে, সেই বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।

    ইন্ডি জোটের সমাবেশ ঘিরে ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কা

    এদিকে, উৎসবের মরশুমে দিল্লিতে ইন্ডি জোটের সমাবেশকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শনিবার চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CTI) কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কাছে ১ নভেম্বরের সমাবেশ পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানায়। সিটিআইয়ের দাবি, দীপাবলির আগে কেনাকাটার ব্যস্ত সময়ে এই সমাবেশের কারণে দিল্লিতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সংগঠনের চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল জানিয়েছেন, অক্টোবর মাসেই কনট প্লেস, ইন্ডিয়া গেট এবং মধ্য দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ, মিছিল ও রাস্তা বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের আনুমানিক ৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, উৎসবের মরশুমে যান চলাচলে বাধা এবং বাজারে ক্রেতাদের যাতায়াত কমে গেলে ব্যবসায়িক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে (LPG Distributors)।

    ‘ভোট চুরি’ ইস্যুতে ইন্ডি জোটের সমাবেশ

    উল্লেখ্য, নির্বাচনে তথাকথিত ‘ভোট চুরি’র অভিযোগকে কেন্দ্র করে নিজেদের আন্দোলন আরও জোরদার করতেই রামলীলা ময়দানে সমাবেশের আয়োজন করছে ইন্ডি জোট। এর পাশাপাশি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করছে বিরোধী জোট। এই পরিস্থিতিতে একদিকে ডিস্ট্রিবিউটরদের দাবি নিয়ে (Rahul Gandhi) আলোচনা, অন্যদিকে উৎসবের মরশুমে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড সচল রাখা—দিল্লিতে দুই বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এফএলডিআইয়ের সাফ কথা, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হোক, কিন্তু তার জন্য সাধারণ মানুষের এলপিজি পরিষেবা কোনওভাবেই ব্যাহত করা যাবে না (LPG Distributors)।

     

  • Baranaga Death Case: উইপ্রো কর্মীর রহস্যমৃত্যু, সম্পর্কের পরিচয় গোপনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য

    Baranaga Death Case: উইপ্রো কর্মীর রহস্যমৃত্যু, সম্পর্কের পরিচয় গোপনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার বরানগরে বছর চব্বিশের এক (Baranaga Death Case) তরুণীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম ঈশা সাউ। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা উইপ্রোয় কর্মরত ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, এক মুসলিম যুবক নিজেকে হিন্দু পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পরে ওই যুবকের প্রকৃত ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে এই (Wipro Employee Murder Probe) অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়নি। তরুণীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    কীভাবে শুরু হয়েছিল সম্পর্ক? (Baranaga Death Case)

    পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত যুবক নিজেকে হিন্দু বলে পরিচয় দেওয়ায় ঈশা তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পরে যুবকের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দু’জনের মধ্যে অশান্তি ও বিবাদের সূত্রপাত হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। তবে সম্পর্কের বিষয়ে ঠিক কী ঘটেছিল, তা এখনও জানা যায়নি।

    মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল?

    পরিবারের অভিযোগ, গত ৪ অক্টোবর ভোরে বরানগরের নবীনচন্দ্র দাস রোডে তাঁদের বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, ভোর সাড়ে ৩টে থেকে ৪টের মধ্যে অভিযুক্ত যুবক আরও তিন-চার জনকে সঙ্গে নিয়ে ওই আবাসনে আসেন। তাঁদের বাড়িতে ঢুকতে বাধা দিলে ঈশার মাকে মারধর ও গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ।

    পরিবারের আরও দাবি, এরপর অভিযুক্ত ও তাঁর সঙ্গীরা ঈশার সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন এবং তাঁকে পাঁচতলা ভবনের ছাদের দিকে নিয়ে যান। অভিযোগ, সেখানে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভবন থেকে পড়ে যান তরুণী।

    তবে কীভাবে তিনি নীচে পড়ে গেলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    বিকট শব্দ শুনে ছুটে আসেন আবাসিকরা

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিকট শব্দ শুনে আবাসনের বাসিন্দারা বাইরে বেরিয়ে এসে ভবনের নীচে রক্তাক্ত অবস্থায় ঈশাকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্ত ও তাঁর সঙ্গীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। তাঁদের ব্যবহৃত কয়েকটি মোটরবাইক ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে (Baranaga Death Case)।

    খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বরানগর থানার পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় ঈশাকে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ

    তরুণীর মৃত্যুর পিছনে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা জানতে তদন্ত করছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মৃত্যুর আগে ঈশাকে কোনও ধরনের ভয় দেখানো বা জোরজবরদস্তি করা হয়েছিল কি না। সম্পর্কের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত নিজের পরিচয় ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করেছিলেন কি না। ছাদে যাওয়ার পর ঠিক কী ঘটেছিল। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ সরাসরি জড়িত ছিলেন কি না। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং আবাসনের নজরদারি ক্যামেরার ছবি থেকে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যায় কি না।

    ঘটনার ধারাবাহিকতা পুনর্গঠন করতে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ফোনের তথ্য, নজরদারি ক্যামেরার ছবি এবং ফরেনসিক প্রমাণ পরীক্ষা করা হতে পারে।

    নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পরিবারের

    ঈশার মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে তাঁর পরিবার। ঘটনাটি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিচয় গোপনের অভিযোগ এবং তরুণীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সামনে আনার দাবিও উঠেছে (Wipro Employee Murder Probe)।

    তবে এখনও পর্যন্ত তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ্যে আসেনি। মৃত্যুর কারণ কিংবা কারও অপরাধমূলক দায় সম্পর্কে পুলিশ কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। ফলে পরিবারের অভিযোগ ও প্রকৃত ঘটনা—দু’টি বিষয়ই তদন্তের ফলের ভিত্তিতে যাচাই করা জরুরি (Baranaga Death Case)।

     

  • Naseeruddin Shah: কলকাতার সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র-টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানে অশান্তি, নাসিরুদ্দিন শাহের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক

    Naseeruddin Shah: কলকাতার সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র-টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানে অশান্তি, নাসিরুদ্দিন শাহের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানে (এসআরএফটিআই) আন্দোলনের নামে হিংসাত্মক ঘটনার জেরে পড়ুয়াদের সম্মিলিত ভবিষ্যৎ বিপন্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য সন্তোষ আজমেরার উপর শারীরিক হামলার কয়েক দিন পর অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহের (Naseeruddin Shah) মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের দাবি, ৫০০-র বেশি পড়ুয়ার নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং শিক্ষাগত ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতেই সাম্প্রতিক নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে (Srfti Controversy)। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের অধীন এই প্রতিষ্ঠানের একটি রিপোর্টে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা জোরদার করতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর বিরোধিতা করেছিলেন পড়ুয়াদের একাংশ। ফলে তাঁদের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, এই বিরোধিতার জেরে গোটা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়া ও কর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে।

    আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে নাসিরুদ্দিন (Naseeruddin Shah)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিয়োয় নাসিরুদ্দিন শাহ আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ান। তাঁর অভিযোগ, “বাংলার নির্বাচনে জয়ের পর বিজেপি যেন তাদের বিশ্বাস ও নীতির সঙ্গে একমত নন, এমন প্রত্যেকের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে উঠেপড়ে লেগেছে।” পড়ুয়াদের তিনি ওই দলের প্রতিহিংসার শিকার বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, “দেশের ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের হয় মগজধোলাই করার, নয়তো ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বিজেপি।” তবে অভিনেতার বক্তব্য, “আমি আপনাদের কথা দিতে পারি, এমনটা হতে দেব না।”

    শাহের মন্তব্যের জবাবে বিজেপির সাংসদ তথা মুখপাত্র রাহুল সিনহা তাঁর বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করেছেন। এই মন্তব্যের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের যোগ থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সিনহার দাবি, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর শাহ বিদেশি শক্তি এবং কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিআই(এম)-সহ বিরোধী দলগুলির সঙ্গে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়ে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। এদিকে, প্রতিষ্ঠানের সূত্রের অভিযোগ, অভিনেতা মিথ্যা কথা বলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করছেন, যার ফলে পড়ুয়াদের ক্ষতি এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, এই ঘটনায় শাহ সরাসরি সংশ্লিষ্ট পক্ষ নন এবং ক্ষতির দায়ও তাঁকে বহন করতে হবে না।

    প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে অশান্তির সূত্রপাত। ওই দিন যথাযথ অনুমতি নিয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের সময় বিক্ষোভকারী পড়ুয়ারা মূল প্রেক্ষাগৃহে ঢুকে পড়েন। এর জেরে হাতাহাতি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর পরেই উপাচার্যের উপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে (Naseeruddin Shah)।

    প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ

    ঘটনার পর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। আহত পড়ুয়াদের চিকিৎসার খরচও প্রতিষ্ঠান বহন করে বলে জানা গিয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে মূল ফটকের উচ্চতা বাড়ানো, বেড়ার তার বসানো এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের মতো পদক্ষেপ করা হয়। একই সঙ্গে মহিলা পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

    তবে ৪ অক্টোবর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ওই দিন প্রায় ২৫০ জন পড়ুয়া রাত ১১টা পর্যন্ত মূল ফটকে উপাচার্য আজমেরাকে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ। ৬ অক্টোবর থেকে অন্তত ৫০-৬০ জন পড়ুয়া প্রায় দু’দিন তাঁর দফতর দখল করে রাখেন। সেই সময় তাঁর চেয়ার ভাঙচুর করা হয় এবং ঘরের ভিতরেও তাণ্ডব চালানো হয় বলে অভিযোগ। ১৫ অক্টোবর শুভম নামে এক পড়ুয়া আজমেরার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ধস্তাধস্তি করেন বলে দাবি প্রতিষ্ঠানের। পরের দিন তাঁর দফতর লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটে।

    প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ

    প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালীন অনুমতি ছাড়াই মিছিল করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। সেই মিছিলে ক্যাম্পাসের বাইরের রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও অংশ নিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পুলিশ সংযত থাকার অনুরোধ জানালেও বিক্ষোভকারীরা উসকানিমূলক স্লোগান দেন বলে অভিযোগ।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অসদাচরণের অভিযোগে ছ’জন পড়ুয়াকে এক বছরের জন্য প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নিরাপদ ও ভয়মুক্ত শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ক্লাস স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে পড়ুয়াদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য বলে দাবি প্রতিষ্ঠানের।

    এদিকে, চলচ্চিত্র পরিচালক পায়েল কাপাডিয়াও পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছেন (Srfti Controversy)। বিজেপির আদর্শগত অভিভাবক হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলির কথিত হামলার অভিযোগের জেরে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনায় চলচ্চিত্র মহল ও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে (Naseeruddin Shah)।

     

  • CJP Opposition Ecosystem: দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ভুয়ো সাংবাদিক আইডি-এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও নিয়ে বিতর্ক, তদন্তে একাধিক অভিযোগ

    CJP Opposition Ecosystem: দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ভুয়ো সাংবাদিক আইডি-এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও নিয়ে বিতর্ক, তদন্তে একাধিক অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় আয়োজিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ভুয়ো সাংবাদিক পরিচয়পত্র বিক্রি, রাজনৈতিক প্রচার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে (CJP Opposition Ecosystem)। অভিযোগ, সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা বা সংবাদমাধ্যমে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই কয়েক হাজার টাকার বিনিময়ে সংবাদকর্মীর পরিচয়পত্র, সদস্যপদ শংসাপত্র এবং অন্যান্য নথি দেওয়া হচ্ছিল। বিক্ষোভের সময় সরকার ও দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর প্রচার করার অভিযোগও উঠেছে (Independent Journalists)। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বিরোধী শিবিরের সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে ঘিরে এই অভিযোগগুলি সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনকে জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ হিসেবে তুলে ধরা হলেও, অভিযোগ, এর প্রচারে রাজনৈতিক বার্তা, সোশ্যাল মিডিয়ায় সংগঠিত প্রচার এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহৃত হয়েছে।

    পরিচয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন (CJP Opposition Ecosystem)

    অভিযোগ, ‘ইন্ডিয়ান প্রেস ইউনিয়ন’, ‘নিড২৪’ এবং ‘এফএনএফ’-এর মতো সংগঠন ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাংবাদিক পরিচয়পত্র, প্রতিবেদকের পরিচিতি, সদস্যপদ শংসাপত্র এবং গাড়ির স্টিকার বিক্রির ব্যবস্থা ছিল। পরিচয়পত্রের দাম ঘোরাফেরা করেছে ৫৯৯ টাকা থেকে ১,৭৯৯ টাকার মধ্যে। কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবেদকের পরিচিতি তৈরির জন্য ৯৯৯ টাকা এবং ডিস্ট্রিক্ট ব্যুরো চিফ ব্যবহারের জন্য বার্ষিক ২৫ হাজার টাকার সদস্যপদের কথা বলা হয়েছে।

    ‘হিন্দ মিডিয়া নেটওয়ার্ক’ নামে একটি ওয়েবসাইটে ৫৯৯ টাকায় সংবাদকর্মীর পরিচয়পত্র ও প্রতিবেদকের পরিচিতির পাশাপাশি ৩,৫০০ টাকায় মাইক্রোফোনের সরঞ্জাম বিক্রির বিজ্ঞাপন থাকার অভিযোগ উঠেছে। ‘নিড২৪ নিউজ’-এর ক্ষেত্রে প্রতিবেদকের পরিচিতি এবং ডিস্ট্রিক্ট ব্যুরো চিফ ডেজিগনেশন দেওয়ার জন্য পৃথক মূল্য নির্ধারণের কথা সামনে এসেছে।

    অভিযোগের আরও একটি দিক হল, কয়েকটি সদ্য তৈরি সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট নিজেদের প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যম হিসেবে তুলে ধরতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি সাক্ষাৎকারের ভিডিও ব্যবহার করেছিল। একটি সংগঠন ২০১৬ সাল থেকে কাজ করার দাবি করলেও, সেই দাবির সমর্থনে পর্যাপ্ত প্রমাণ মেলেনি বলেই উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ভিডিও নিয়ে গ্রেফতার

    বিক্ষোভ ঘিরে বিভ্রান্তিকর প্রচারের অভিযোগের মধ্যে দিল্লি পুলিশ ২৪ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। অভিযোগ, তিনি সহকারী পুলিশ কমিশনার বিবেক ভগতকে এক মহিলা বিক্ষোভকারীর সঙ্গে অসদাচরণ করতে দেখা যাচ্ছে—এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছিলেন।

    ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামের ‘নিউজ আইনা টুডে’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো হয়। সেটিকে আসল সিসিটিভি ফুটেজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ভিডিওতে এক পুলিশকর্মীর আপত্তিকর আচরণের দৃশ্যের সঙ্গে সহকারী পুলিশ কমিশনার বিবেক ভগতের ছবি, নাম ও পদবি দেখানো হয়েছিল। এর ফলে ওই পুলিশ আধিকারিককে মিথ্যাভাবে জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।

    ৪ অক্টোবর পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়া পর্যবেক্ষণকারী দল ভিডিওটি চিহ্নিত করে। এর পর সাইবার থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়। তদন্তে অ্যাকাউন্টটির সঙ্গে হরিয়ানার পালওয়ালের বাসিন্দা নাদিম আহমেদ আমিনের যোগসূত্র মেলে। তাঁকে ৫ অক্টোবর মেওয়াট থেকে আটক করা হয় (CJP Opposition Ecosystem)।

    জিজ্ঞাসাবাদে আমিন স্বীকার করেছেন বলে তদন্তকারীদের দাবি, ৩ অক্টোবর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সরঞ্জাম ব্যবহার করে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা, বিক্ষোভকারীদের উত্তেজিত করা এবং অশান্তি সৃষ্টি করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল বলে অভিযোগ। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মনজিৎ শেওরানের বক্তব্য, এই প্রচারের লক্ষ্য ছিল বিশৃঙ্খলা তৈরি করা এবং দাঙ্গা উসকে দেওয়া (Independent Journalists)।

    অভিযোগকারী মহিলার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও বিতর্ক

    সহকারী পুলিশ কমিশনার বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তোলা এক মহিলার পরিচয় নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, তিনি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিলেও, বাস্তবে ছিলেন সিজেপির সক্রিয় কর্মী।

    রোজি নামের ওই মহিলা সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত মুখ। তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ৬১ হাজারেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে। ৩ অক্টোবর অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মী নেহা বোরাকে আটক করার সময় বিবেক ভগত তাঁর সঙ্গে অসদাচরণ করেছিলেন বলে অভিযোগ রোজির। পরে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই পুলিশ আধিকারিককে ‘যৌন নিপীড়ক’ বলে আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ।

    ৬ সেপ্টেম্বর সিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া পরিচালনাকারী দলের পরিচয় প্রকাশ করে একটি পোস্ট করা হয়েছিল। সেখানে রোজিকে প্রচার ও সংবাদ সংগ্রহের সমন্বয়কারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন পোস্টেও সিজেপির প্রতি সমর্থনের পরিচয় পাওয়া যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

    ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে বিতর্ক

    সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২০ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনবিরোধী আন্দোলন এবং উত্তর-পূর্ব দিল্লির দাঙ্গার প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। অভিযোগ, সেই সময়ও বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক বিক্ষোভ, উত্তেজনামূলক ভাষণ এবং বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। পরে যান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

    ২০২০ সালের দাঙ্গায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং কয়েকশো মানুষ জখম হয়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন গোয়েন্দা ব্যুরোর কর্মী অঙ্কিত শর্মা এবং পুলিশকর্মী রতনলাল। উপ-পুলিশ কমিশনার অমিত শর্মাও গুরুতর আহত হন।

    দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখা দাঙ্গার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ৫২/২০২০ নম্বর এফআইআর দায়ের করেছিল। প্রসিকিউশনের বক্তব্য ছিল, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জির বিরোধিতায় আয়োজিত বিক্ষোভের আড়ালে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হয়েছিল। উমর খালিদ, শার্জিল ইমাম, তাহির হুসেন, খালিদ সাইফি, ইশরাত জাহান, গুলফিশা ফতিমা, নাতাশা নারওয়াল, দেবাঙ্গনা কলিতা, আথার খান এবং সফুরা জারগর-সহ একাধিক ব্যক্তির নাম ওই মামলায় উঠে আসে। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও আইনি অবস্থান পৃথকভাবে বিবেচ্য।

    বর্তমান বিক্ষোভকে ঘিরে একই ধরনের পরিকল্পনার অভিযোগ উঠলেও, দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য তদন্তের ফল প্রয়োজন (CJP Opposition Ecosystem)।

    সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন

    এই বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা। গণতন্ত্রে সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব হল জনসাধারণকে তথ্য দেওয়া, ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজের পর্যালোচনা করা। সেই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তথ্যের নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা এবং সম্পাদকীয় স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    কিন্তু অর্থের বিনিময়ে সাংবাদিক পরিচয়পত্র দেওয়া হলে প্রকৃত সংবাদকর্মী ও রাজনৈতিক প্রচারকর্মীর মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে, কোনও ব্যক্তি নিজেকে স্বাধীন সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে রাজনৈতিক যোগসূত্র গোপন করলে বা যাচাই না করা তথ্যকে সত্য হিসেবে প্রচার করলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ভিডিওকে আসল প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হলে সেই বিপদ আরও বাড়ে। এমন ভিডিও জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে, কোনও ব্যক্তির ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তেজনা ছড়াতে পারে। সংবাদমাধ্যমের পরিচয় ব্যবহার করে নিষিদ্ধ বা সীমাবদ্ধ এলাকায় প্রবেশ কিংবা নিয়ম ভাঙার চেষ্টা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।

    দিল্লি পুলিশের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র সংক্রান্ত নিয়ম কঠোর করার সিদ্ধান্তের পর কিছু সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার নিজেদের স্বাধীন সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেছেন বলেও অভিযোগ (Independent Journalists)।

    সব মিলিয়ে, বিক্ষোভ ঘিরে ভুয়ো পরিচয়পত্র, রাজনৈতিক প্রচার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ভিডিও ব্যবহারের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ এবং প্রকৃত সাংবাদিকতার পরিচয় সুরক্ষিত রাখাই এখন গুরুত্বপূর্ণ (CJP Opposition Ecosystem)।

     

  • Arunachal Pradesh: অরুণাচলে বাঁধবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে তাণ্ডব, আগুনে পুড়ল জলবিদ্যুৎ সংস্থার দফতর-থানা

    Arunachal Pradesh: অরুণাচলে বাঁধবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে তাণ্ডব, আগুনে পুড়ল জলবিদ্যুৎ সংস্থার দফতর-থানা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্যাপক হিংসা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের জেরে উত্তপ্ত অরুণাচল প্রদেশের (Arunachal Pradesh) পূর্ব সিয়াং জেলার পাসিঘাট এলাকা। প্রস্তাবিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার এই ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত জনতার হামলায় জাতীয় জলবিদ্যুৎ নিগমের একটি দফতর, স্থানীয় থানার ভবন এবং পুলিশের সাতটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে একাধিক পুলিশকর্মী জখম হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়তে হয় পুলিশকে (Mob Attacks)।

    প্রস্তাবিত সিয়াং উচ্চ বহুমুখী প্রকল্পের বিরোধিতায় ১২ ঘণ্টার বন্‌ধকে কেন্দ্র করে অশান্তির সূত্রপাত। সিয়াং, পূর্ব সিয়াং ও উচ্চ সিয়াং—এই তিন জেলায় বন্‌ধের প্রভাব পড়ে। একাধিক এলাকায় দোকানপাট ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। ব্যাহত হয় স্বাভাবিক জনজীবন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশকে বাড়ির ভিতরেই থাকতে হয়।

    প্রশাসনের দাবি, বন্‌ধের নামে বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করে। পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয় এবং নিরাপত্তারক্ষীদের কাজে বাধা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। তার পরেও অশান্তি থামেনি। রণগড় মোড়ে পুলিশের কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পাসিঘাটের থানা ও জলবিদ্যুৎ নিগমের দফতরেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

    রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িতেও হামলা (Arunachal Pradesh)

    হিংসার সময় একাধিক রাজনৈতিক নেতার বাড়ি এবং আবাসনেও হামলা এবং ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপি বিধায়ক নিনং এরিং, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির বিধায়ক ওনি প্যানিয়াং এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি কলিং মোয়ং।

    সিয়াং জেলার পুলিশ সুপার কামদাম শিখোমের বক্তব্য, উচ্চ সিয়াং জেলার গেকু ও কোমকার এলাকা থেকে ১৫০ থেকে ২০০ জনের একটি দল ডিতে-ডিমে এলাকায় জড়ো হয়েছিল। তারা সিয়াং জেলায় ঢোকার চেষ্টা করে। ওই দলের সদস্যদের হাতে ছিল দা, লাঠি, গুলতি-সহ বিভিন্ন সামগ্রী। তারা পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙা, নিরাপত্তাকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া এবং জেলাশাসকের জারি করা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ।

    প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার পূর্ব সিয়াংয়ের জেলাশাসক জয়ন্তী পার্টিন বন্‌ধ অবৈধ ঘোষণা করেন। শুক্রবার বন্‌ধ শেষ হওয়ার পরেও পাসিঘাটের বিভিন্ন এলাকায় একদল লোক জোর করে বন্‌ধ কার্যকর করার চেষ্টা করেন। তার জেরেই পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    কেন প্রকল্পের বিরোধিতা?

    সিয়াং উচ্চ বহুমুখী প্রকল্পের বিরোধিতায় স্থানীয় কয়েকটি সংগঠন ও বিক্ষোভকারী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চালাচ্ছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, প্রকল্পের বিরোধিতায় আগের আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হওয়া ১০ জনকে মুক্তি দিতে হবে, সিয়াং অঞ্চল থেকে নিরাপত্তাবাহিনী প্রত্যাহার করতে হবে এবং প্রকল্পের প্রাক্‌সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

    এই দাবিগুলিকে সামনে রেখে তিন জেলায় বন্‌ধের ডাক দেওয়া হয়। গেকু যুব সংগঠন এবং জন অধিকার সংগঠনের সিয়াং শাখা এই কর্মসূচিকে সমর্থন করে বলে খবর।

    বিক্ষোভের কয়েকটি কর্মসূচিতে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পরিচয় সামনে আনা হয়। পাসিঘাট-রানাঘাট সড়কে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ থেকে ‘আজাদি’ স্লোগান-সহ একাধিক আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে স্লোগানগুলির প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

    চিনের সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতির আবহে প্রকল্পের গুরুত্ব

    অরুণাচল প্রদেশে (Arunachal Pradesh) প্রস্তাবিত এই প্রকল্পকে ঘিরে বিতর্ক এমন সময়ে বাড়ল, যখন ভারত-চিন সীমান্তে নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় চিনের পরিকাঠামো নির্মাণের মোকাবিলায় ভারতও সড়ক, যোগাযোগ ও অন্যান্য কৌশলগত পরিকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।

    সিয়াং উচ্চ বহুমুখী প্রকল্পকে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। চিনের দিক থেকে ইয়ারলুং সাংপো নদীর উজানে জল নিয়ন্ত্রণ ও পরিকাঠামো নির্মাণের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় ভারতের জলনিরাপত্তা জোরদার করাও এই প্রকল্পের অন্যতম কৌশলগত উদ্দেশ্য।

    সিয়াং উচ্চ বহুমুখী প্রকল্প

    সিয়াং উচ্চ বহুমুখী প্রকল্প অরুণাচল প্রদেশের উচ্চ সিয়াং জেলায় সিয়াং নদীর উপর প্রস্তাবিত ১১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বৃহৎ জলবিদ্যুৎ ও পরিকাঠামো প্রকল্প। জাতীয় জলবিদ্যুৎ নিগমের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে ভারতীয় উপমহাদেশের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির অন্যতম হয়ে উঠতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ জল সংরক্ষণের ক্ষমতা বর্ষাকালে নদীর জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এর ফলে অরুণাচল প্রদেশ ও অসমের ভাটির এলাকায় বন্যার ঝুঁকি কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

    এছাড়া, উজানে চিনের বাঁধ থেকে হঠাৎ জল ছাড়া বা আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হলে জলাধারটি জলপ্রবাহের প্রভাব সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে প্রকল্পের পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে (Mob Attacks)।

    প্রকল্পটির সমর্থকদের মতে, এটি অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান এবং স্বনিযুক্তির সুযোগ বাড়াতে পারে। তবে প্রকল্পের বিরোধীদের দাবি, তাঁদের উদ্বেগ ও দাবিগুলির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সমীক্ষা ও উন্নয়নের কাজ বন্ধ রাখা উচিত।

    বিক্ষোভ ঘিরে হিংসা, সরকারি সম্পত্তিতে (Arunachal Pradesh) অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়েছে। প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশাসন, স্থানীয় বাসিন্দা ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনার পথ কতটা প্রশস্ত হয়, এখন সেটাই দেখার।

     

  • Jamia Millia Islamia: জামিয়ায় বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, অনলাইনে ক্লাসের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

    Jamia Millia Islamia: জামিয়ায় বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, অনলাইনে ক্লাসের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালুর দাবিতে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া (Jamia Millia Islamia) বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষ বাধে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কয়েক জন অনশনেও বসেছিলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পরেই অনলাইনে ক্লাস চালানোর সিদ্ধান্ত নেন (Students Guards Clash) কর্তৃপক্ষ।

    উত্তেজনার সূত্রপাত (Jamia Millia Islamia)

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, বিক্ষোভরত পড়ুয়ারা যে তাঁবুগুলির নীচে অবস্থান করছিলেন, সেগুলি সরাতে শুরু করেন নিরাপত্তারক্ষীরা। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন পুনর্বহাল করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে এই দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছেন তাঁরা।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মেহতাব আলম রিজভির অভিযোগ, শুক্রবার কংগ্রেসের দুই সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ি এবং ইমরান মাসুদ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করেন। তাঁর দাবি, তাঁরা পাঁচিল টপকে ক্যাম্পাসে ঢুকে পরিবেশ উত্তপ্ত করেন। তাঁদের উপস্থিতি পড়ুয়াদের উসকে দিয়েছে বলেও অভিযোগ রিজভির। তাঁর বক্তব্য, পড়ুয়াদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ঘটনায় দিল্লি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    তবে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠন এআইএসএ। সংগঠনের অভিযোগ, কোনও প্ররোচনা ছাড়াই অনশনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কর্তৃপক্ষ।

    হিংসার জেরে ভাঙা হয়েছিল ছাত্র সংসদ

    উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে ক্যাম্পাসে হিংসার জেরে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া ছাত্র সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় হিংসার কারণে পঠনপাঠনও ব্যাহত হয়। আন্দোলনকারীরা এখন ওই ছাত্র সংসদ পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছেন (Jamia Millia Islamia)।

    এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে ভারতবিরোধী স্লোগান লেখাকে কেন্দ্র করেও সম্প্রতি উত্তেজনা ছড়ায়। ওই স্লোগানের সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরের যোগ রয়েছে বলে দাবি ওঠে। ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিজেপি।

    গত ২১ অক্টোবর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে লেখা চিঠিতে সিপিআই(এম)-এর সাংসদ জন ব্রিটাস প্রায় দু’দশক ধরে (Students Guards Clash) বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। বাক্‌স্বাধীনতা ও সংগঠন গঠনের সাংবিধানিক অধিকার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ছাত্র অধিকার সংক্রান্ত নির্দেশিকা এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে লিংডো কমিটির সুপারিশের উল্লেখ করে ছাত্র সংসদ পুনর্বহালের পক্ষে সওয়াল করেন (Jamia Millia Islamia) তিনি।

     

  • Health Minster Of Bengal: পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজাতে জরুরি বৈঠক! সরকারি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাতে জোর রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

    Health Minster Of Bengal: পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজাতে জরুরি বৈঠক! সরকারি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাতে জোর রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি হাসপাতালের (Govt Hospital) পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজাতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর আশা, বেসরকারি হাসপাতালের মতো পরিষেবার বন্দোবস্ত করতে হবে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও (Sharadwat Mukherjee) তাই সচেষ্ট। সেই লক্ষ্যে প্রথমেই তিনি সরকারি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাতে জোর দিলেন। হাসপাতাল চত্বর ও তার ভিতরের অংশের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে পুরসভা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ রক্ষায় জোর

    শুক্রবার স্বাস্থ্য ভবনে বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা করে তিনি জানান, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব যেমন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা স্বাস্থ্য দফতরের ওপর বর্তায়, তেমনই হাসপাতাল চত্বর বা বাইরের ক্যাম্পাসের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং নিকাশি ব্যবস্থার দায়িত্ব স্থানীয় পুরসভা বা লোকাল বডির। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, কোনও সরকারি হাসপাতালে ঢুকে রাস্তায় নোংরা দেখলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে কেন হাসপাতাল চত্বর পুরসভা দেখবে। কিন্তু প্রশাসনিক কাঠামোগত নিয়মে রাস্তাঘাট লোকাল বডির অধীনস্থ হওয়ায় পুরসভা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে মেলবন্ধন থাকা অত্যন্ত জরুরি। কোথাও যেন কোনও ফাঁক না থাকে, সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

    কোন কোন হাসপাতালে বিশেষ নজর

    যে সমস্ত হাসপাতালে রোগীর চাপ বা ভিড় অত্যন্ত বেশি, সেই হাসপাতালগুলোতে সাফাইয়ের কাজ আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসএসকেএম, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, এনআরএস, আরজি কর কিংবা বর্ধমান, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ ও উত্তরবঙ্গের মতো বড় মেডিক্যাল কলেজগুলোতে বর্তমানে পুরসভা বা মিউনিসিপ্যালিটি থেকে দিনে একবার জঞ্জাল বা বর্জ্য পদার্থ সংগ্রহ করা হলেও, তা বাড়িয়ে দিনে অন্তত দু’বার করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মূল দায়িত্ব নন-মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্টদের ওপর রয়েছে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে সুদৃঢ় করা, পরিকল্পনা মাফিক তা পরিচালনা করা এবং নির্দিষ্ট ফল প্রাপ্তির লক্ষ্যেই এদিনের ওই বৈঠকে সাফাইকর্মী থেকে শুরু করে অধ্যক্ষ এবং নার্সিং স্টাফ—সকলকেই উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানান মন্ত্রী।

  • India-European Union Free Trade: যৌথ উদ্ভাবন ও উৎপাদনে জোর! ভারত-ইইউ কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে দিল্লি সফরে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদল

    India-European Union Free Trade: যৌথ উদ্ভাবন ও উৎপাদনে জোর! ভারত-ইইউ কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে দিল্লি সফরে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ভারতে কর্মরত রাষ্ট্রদূত জঁ-এরিক পাকে বলেছেন, আগামী ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিদেশ বিষয়ক কমিটি (AFET)-এর প্রতিনিধিদলের আসন্ন সফরের দিকে তিনি আগ্রহের সঙ্গে তাকিয়ে রয়েছেন। ইইউ-ভারত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে “একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন পাকে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিদেশ বিষয়ক কমিটি (AFET)-এর একটি প্রতিনিধিদল আগামী ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নয়াদিল্লি সফর করবে। এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কমিটির চেয়ারম্যান ডেভিড ম্যাকঅ্যালিস্টার (David McAllister)। ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সইয়ের আগের প্রস্তুতি এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করা নিয়ে আলোচনা করতে তারা ভারত সরকার, সংসদ ও শিল্পপতিদের সাথে বৈঠক (India-European Union Free Trade) করবেন। এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসেছিলেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্টা।

    একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক

    পাকে ইইউ-ভারত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে “একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও ভূ-রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির মধ্যে এর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরেছেন পাকে। তাঁর কথায়, “বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, গবেষণা ও উদ্ভাবন—এই ক্ষেত্রগুলোতে অভূতপূর্ব অগ্রগতির মুহূর্তে ভারতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব করা একটি সম্মানের বিষয়। আমাদের যৌথ কর্মসূচি কেবল আকাঙ্ক্ষামূলক নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি একটি বাস্তব অঙ্গীকার, যা উভয় পক্ষের নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্ভাবন, সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতা আনবে।”

     ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা

    সম্প্রতি ভারত ও জার্মানির মধ্যে গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার হলে যৌথ উদ্ভাবন, নতুন পণ্যের বিকাশ এবং ভারতে উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হবে। এমনই আশার কথা শুনিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তাঁর মতে, জার্মানির উন্নত প্রযুক্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতার সঙ্গে ভারতের দক্ষ মানবসম্পদ এবং সাশ্রয়ী উৎপাদন ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটলে বিশ্ববাজারে দুই দেশই বড় সুবিধা পেতে পারে। বার্লিন গ্লোবাল ডায়ালগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারত-জার্মানি সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক আস্থার কথা তুলে ধরেন গোয়েল। তিনি বলেন, ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্পন্ন হওয়ার ফলে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বিশেষ করে গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই চুক্তি নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ বাজারে ভারতের বাণিজ্যিক চুক্তির আওতা রয়েছে। আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে তা বিশ্বের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (GDP) প্রায় ৭৫ শতাংশের সমতুল্য বাজারে পৌঁছতে পারে বলে জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে বাস্তব বিনিয়োগ, শিল্প সহযোগিতা এবং নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ গড়ে তোলা যায়, তা নিয়েই মূলত আলোচনা করেন গোয়েল।

    বার্লিনে ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক গোয়েলের

    ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বাজারে প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণ, সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে জানালেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। শনিবার বার্লিনে ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক বৈঠকের পর গোয়েল জানান, ভারত-জার্মানি অংশীদারিত্বের ক্রমবর্ধমান গতি এবং ভারতীয় শিল্পের সামনে তৈরি হওয়া নতুন সুযোগগুলি নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বস্ত্রশিল্প থেকে শুরু করে ওষুধ, ইঞ্জিনিয়ারিং, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং উদীয়মান প্রযুক্তি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ করে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলিকে (এমএসএমই) এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জার্মান সংস্থাগুলির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

    দুই পক্ষের পরিপূরক শক্তিকে একত্রিত করার সুযোগ

    সমাজমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লেখেন, ভারতীয় সংস্থাগুলিকে গুণমান, নিয়ম মেনে চলা এবং নির্ভরযোগ্যতার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে হবে। এর মাধ্যমে প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী এবং বিশ্বের আস্থাভাজন অংশীদার হিসেবে ভারতের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। গোয়েল বলেন, দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারতের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে গবেষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও গভীর করা সম্ভব। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি উন্নত উৎপাদন, ইঞ্জিনিয়ারিং, তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা ক্ষেত্রে দুই পক্ষের পরিপূরক শক্তিকে একত্রিত করার সুযোগ তৈরি করবে বলেও জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এর ফলে উভয় পক্ষের মানুষের সমৃদ্ধি বাড়বে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।

  • Sharjeel Imam: শরজিল ইমামের সংবিধান-ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, আলোচনায় পুরনো সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টও

    Sharjeel Imam: শরজিল ইমামের সংবিধান-ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, আলোচনায় পুরনো সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সংবিধান, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ এবং হিন্দু ধর্মীয় আচার নিয়ে শরজিল ইমামের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের বক্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতীয় সংবিধানকে ‘ফ্যাসিবাদী’ এবং মুসলিমদের মর্যাদাপূর্ণ অস্তিত্বের পথে বাধা বলে অভিহিত করেছেন বলে একটি নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে (Sharjeel Imam)। একই সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতাকে ‘মিথ্যা ও ফাঁদ’ বলে উল্লেখ করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তাঁর পুরনো সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট সামনে এনে সমালোচকেরা তাঁর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন (Anti Hindu Rhetoric)।

    সংবিধান ও ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য (Sharjeel Imam)

    প্রকাশিত নিবন্ধের দাবি, সাক্ষাৎকারে শরজিল ভারতীয় সংবিধানের কাঠামোকে মুসলিমদের মর্যাদাপূর্ণ অস্তিত্বের পথে বাধা হিসেবে দেখিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নিবন্ধটির লেখক দাবি করেছেন, ইমাম ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থাকে বৃহত্তর জাতীয়তাবাদী কাঠামোর অংশ বলে মনে করেন এবং সেই কাঠামোর সঙ্গে হিন্দুত্ববাদী ভাবধারার সম্পর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।

    এ ছাড়া, ভারতের প্রাচীন হিন্দু সভ্যতাভিত্তিক জাতীয় পরিচয়ের ধারণাকেও তিনি প্রশ্ন করেছেন বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশভাগের জন্য কংগ্রেসের অভ্যন্তরে ব্রাহ্মণ্যবাদী শক্তিকে দায়ী করা এবং মুসলিম লিগের ভূমিকা সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক অবস্থান নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    তবে এসব বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট, সাক্ষাৎকারের সম্পূর্ণ প্রতিলিপি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই না করে অভিযোগগুলিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।

    দুর্গাপুজো সংক্রান্ত পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন

    শরজিল ইমামের পুরনো সোশ্যাল মিডিয়ার কার্যকলাপের উল্লেখ করে সমালোচকেরা দাবি করেছেন, হিন্দু ধর্মীয় আচার এবং প্রতিমা উপাসনা নিয়ে তাঁর আপত্তি নতুন নয়। ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বরের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।

    সমালোচকদের বক্তব্য, ওই পোস্টে দুর্গাপুজো এবং প্রতিমা উপাসনা সম্পর্কে অবমাননাকর ধর্মতাত্ত্বিক পরিভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল। তাঁদের মতে, নিজেকে মার্ক্সবাদী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির এমন ধর্মীয় অবস্থান তাঁর ঘোষিত রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।

    তবে মূল পোস্টের সম্পূর্ণ পাঠ এবং তার প্রেক্ষাপট যাচাই করা জরুরি। শুধু সমালোচকদের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তির সামগ্রিক রাজনৈতিক বা ধর্মীয় অবস্থান নির্ধারণ করা সমীচীন নয়।

    ‘শিরক’ ধারণা ও জাতীয়তাবাদ নিয়ে বিতর্ক

    নিবন্ধটিতে ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বরের আর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের উল্লেখ রয়েছে। সেখানে শরজিল ‘শিরকে’র বিভিন্ন মতাদর্শগত রূপ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

    ইসলামি ধর্মতত্ত্বে শিরক বলতে আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে উপাসনা বা ঐশ্বরিক মর্যাদায় অংশীদার করার ধারণাকে বোঝানো হয়। সমালোচকদের দাবি, সংশ্লিষ্ট পোস্টে প্রতিমা উপাসনা, জাতীয়তাবাদ, মানবতাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং বস্তুবাদকে এই ধারণার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল।

    নিবন্ধটির লেখকের মতে, জাতীয়তাবাদকে ‘ওয়াতান-পরস্তি’, মানবতাবাদকে ‘ইনসান-পরস্তি’ এবং বস্তুবাদকে ‘মাদ্দা-পরস্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করার মাধ্যমে ইমাম একাধিক মতাদর্শের সমালোচনা করেছেন। লেখক আরও দাবি করেছেন, বস্তুবাদকে শিরকের অন্তর্ভুক্ত করা মার্ক্সবাদের বস্তুবাদী ভিত্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক (Sharjeel Imam)।

    তবে এই ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট পোস্টের মূল বক্তব্য, তার পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং পরিভাষাগুলির ব্যবহারের ওপর নির্ভরশীল। তাই মূল নথি যাচাই ছাড়া এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন।

    মার্ক্সবাদ ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন

    নিজেকে মার্ক্সবাদী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এবং একই সঙ্গে ইসলামি ধর্মতাত্ত্বিক পরিভাষা ব্যবহার করার বিষয়টি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের বক্তব্য, মার্ক্সবাদের বস্তুবাদী দর্শনের সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাসের নির্দিষ্ট কিছু ব্যাখ্যার মধ্যে মতাদর্শগত টানাপোড়েন রয়েছে।

    এদিকে, কোনও ব্যক্তি নিজেকে মার্ক্সবাদী হিসেবে পরিচয় দিলেই তাঁর ধর্মীয় পরিচয় বা বিশ্বাস পরিত্যাগ করতে হবে—এমন অতিসরল সিদ্ধান্ত টানা যায় না। মতাদর্শ, ধর্মীয় পরিচয় এবং রাজনৈতিক অবস্থানের পারস্পরিক সম্পর্ক বিচার করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পূর্ণ বক্তব্য ও যুক্তি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    বিতর্কের কেন্দ্রে সংবিধান, পরিচয় ও সহাবস্থান

    শরজিলকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ভারতীয় সংবিধান, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মীয় পরিচয়ের প্রশ্ন। সমালোচকেরা তাঁর বক্তব্যকে হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করছেন। তবে তাঁর বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য নির্ধারণের জন্য সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকার, মূল সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপট যাচাই করা জরুরি (Anti Hindu Rhetoric)।

    একটি বহুধর্মীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবিধান, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে বিতর্ক স্বাভাবিক। সেই বিতর্কে কোনও ব্যক্তির বক্তব্যের সমালোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু অভিযোগ, মতামত এবং যাচাই করা তথ্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখাও সমান (Sharjeel Imam) গুরুত্বপূর্ণ।

     

  • Gwalior Madrasa Raid: গোয়ালিয়রের মাদ্রাসায় অনিয়মের অভিযোগ, ২৬ শিশু উদ্ধার, তালা ঝোলাল  প্রশাসন

    Gwalior Madrasa Raid: গোয়ালিয়রের মাদ্রাসায় অনিয়মের অভিযোগ, ২৬ শিশু উদ্ধার, তালা ঝোলাল  প্রশাসন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধর্মীয় শিক্ষার নামে পরিচালিত একটি মাদ্রাসায় শিশুদের আবাসন, পড়াশোনা, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক গুরুতর অনিয়মের (Gwalior Madrasa Raid) অভিযোগ উঠল। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের ঝাঁসি রোডে অবস্থিত দার-উল-কোরান মাদ্রাসায় পরিদর্শন চালিয়ে একাধিক অসংগতি সামনে এনেছে প্রশাসন। শুক্রবারের ওই পরিদর্শনে উদ্ধার করা হয়েছে সাত থেকে ১৩ বছর বয়সি ১৮ বালক এবং চার থেকে ১৩ বছর বয়সি আট বালিকাকে (Girls Rescued)। গভীর রাতে মহকুমা শাসক অতুল সিং, ঝাঁসি রোডের নগর পুলিশ আধিকারিক এবং জেলা শিক্ষা আধিকারিকের উপস্থিতিতে মাদ্রাসাটি সিল করে দেওয়া হয়। শিশুদের শিশু কল্যাণ কমিটির তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। মধ্যপ্রদেশ রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন, শিক্ষা দফতর, নারী ও শিশু উন্নয়ন দফতর এবং শিশু কল্যাণ কমিটির যৌথ দল মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করে। কমিশনের চেয়ারপার্সন চিকিৎসক নিবেদিতা শর্মার নেতৃত্বে এই অভিযান চলে। শিশুদের প্রকৃত সংখ্যা, আবাসনের ব্যবস্থা, পড়াশোনা, কর্মীদের উপস্থিতি এবং প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখেন আধিকারিকেরা।

    দু’টি ঘরে বহু শিশু, শৌচাগারে দরজা নেই (Gwalior Madrasa Raid)

    পরিদর্শনে শিশুদের থাকার পরিবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। ছোট ছোট ঘরে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছিল তাদের। মেঝেতে চাদর পেতে রাত কাটানোর ব্যবস্থা ছিল। রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতাও সন্তোষজনক ছিল না। শৌচাগারগুলিতেও দরজা ছিল না। শিশুদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, স্বাস্থ্যবিধি এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাবও নজরে এসেছে তদন্তকারীদের। পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন কমিশনের চেয়ারপার্সন নিবেদিতা শর্মা। তাঁর কথায়, “এভাবে শিশুদের শৈশব কেড়ে নেওয়া যায় না। আপনারা প্রতিষ্ঠান চালাতে পারেন, কিন্তু প্রত্যেককে নিয়ম মানতেই হবে।”

    তিনি আরও জানান, সরকারি কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই মাদ্রাসাটিকে আবাসিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুরা সেখানে সারাদিন থাকলেও, তারা বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ভর্তি বলে দেখানো হয়েছে। অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও তাদের উত্তীর্ণ করানোর ব্যবস্থা চলছিল। কয়েক জন বালিকাকে আদৌ বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়নি বলেও অভিযোগ সামনে এসেছে। কমিশনের চেয়ারপার্সনের বক্তব্য, পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা না থাকা এবং মাত্র দু’টি ঘরে এত শিশুকে রাখা তাদের প্রতি নিষ্ঠুরতার শামিল। কয়েক জন শিশু নিজেরাই জানিয়েছে, তারা সেখানে থাকতে চায় না এবং তাদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে।

    মসজিদের কুঠুরিতে আট বালিকা

    পরিদর্শনের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক ছিল বালিকাদের থাকার ব্যবস্থা। মসজিদের পিছনে এক কোণে ছোট একটি ঘরে আট বালিকাকে পাওয়া গিয়েছে। সেখানে পৌঁছতে চারটি দরজা পেরোতে হয়। বালিকাদের দেখাশোনার জন্য এক জন শিক্ষিকা প্রতিদিন প্রায় দু’ঘণ্টার জন্য আসতেন বলে জানা গিয়েছে। ঘরটিতে ঘুমোনোর জন্য কেবল চাদরের ব্যবস্থা ছিল। নিরাপত্তার জন্য লাগানো নজরদারি ক্যামেরাগুলিও বন্ধ ছিল। ফলে বালিকাদের নিরাপদ আবাসন, নিয়মিত তত্ত্বাবধান এবং মহিলা কর্মীর পর্যাপ্ত উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জরুরি পরিস্থিতিতে শিশুদের সাহায্য পাওয়ার ব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠানে বাইরের লোকজনের প্রবেশের উপর কীভাবে নজর রাখা হয়, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    নথিতে গরমিল!

    মাদ্রাসার নথিতে ৪২ বালক এবং ১৫ বালিকার নাম রয়েছে। অর্থাৎ, নথি অনুযায়ী মোট পড়ুয়ার সংখ্যা ৫৭। অথচ পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিল মাত্রই ২৬ শিশু। প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের দাবি, শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় অনেক শিশু বাড়ি চলে গিয়েছিল। তবে নথিভুক্ত সংখ্যা ও বাস্তবে উপস্থিত শিশুদের সংখ্যার মধ্যে এত বড় ব্যবধান কেন, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। পরিদর্শনের সময় শিশুদের ভর্তি সংক্রান্ত নথি, উপস্থিতির খাতা এবং প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সংক্রান্ত কাগজপত্র নিজেদের হেফাজতে নেন আধিকারিকেরা। নথিতে থাকা বাকি শিশুরা কোথায় থাকে, কীসের ভিত্তিতে তাদের উপস্থিতি নথিভুক্ত করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানে শিশুদের আসা-যাওয়ার হিসাব কীভাবে রাখা হয়, তাও জানার চেষ্টা চলছে (Girls Rescued)। অভিযোগ, মাদ্রাসায় বালিকা থাকার বিষয়টিও আড়াল করার চেষ্টা হয়েছিল। পরিদর্শনকারী দলকে প্রথমে কয়েক জন জানিয়েছিলেন, সেখানে কোনও বালিকা নেই। কিন্তু পরে তল্লাশির সময় একটি ঘরে আট বালিকাকে পাওয়া যায় (Gwalior Madrasa Raid)।

    দুই বালিকার অভিযোগে বাড়ল উদ্বেগ

    পরিদর্শনের সময় কমিশনের সদস্যরা শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন। দুই বালিকা জানায়, তারা মাদ্রাসায় থাকতে চায় না এবং তাদের মারধর করা হয়েছে। তারা আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ করেছে। শিশুদের নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনা করে অভিযোগগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    এর পর শিশুদের শিশু কল্যাণ কমিটির তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। তদন্তকারীদের মতে, কোনও আবাসিক প্রতিষ্ঠানে শিশুদের রাখা হলে তাদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।

    নিবন্ধন ও স্বীকৃতির নথি নিয়ে প্রশ্ন

    পরিদর্শনের সময় মাদ্রাসা পরিচালনাকারীদের কাছে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ও সরকারি স্বীকৃতি সংক্রান্ত নথি চাওয়া হয়। যদিও, প্রয়োজনীয় নথি দেখানো যায়নি বলে অভিযোগ। সেখানে শিশুদের কোরান পড়ানো হয় বলে জানা গিয়েছে। সাধারণ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কতটা দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় এসেছে।

    মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মহম্মদ সাবিরের দাবি, ৩৫ থেকে ৩৬ বছর ধরে ওয়াকফ বোর্ডের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, সেখানে প্রায় ৪০ বালক এবং ১৪ থেকে ১৫ বালিকা পড়াশোনা করে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি হিন্দি, ইংরেজি ও উর্দুও পড়ানো হয় (Gwalior Madrasa Raid)।

    বিদ্যালয়ে ভর্তি থাকলেও নিয়মিত পড়াশোনা নিয়ে সংশয়

    তদন্তে আরও উঠে এসেছে, কিছু শিশুর নাম বিদ্যালয়ে নথিভুক্ত থাকলেও, তারা নিয়মিত ক্লাসে যায় না বলে অভিযোগ। বিদ্যালয়ের নথিতে তাদের উপস্থিতি দেখানো হয় এবং সরাসরি পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।

    বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শিক্ষা দফতরকে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন কমিশনের চেয়ারপার্সন। উপস্থিতির নথিতে জালিয়াতির প্রমাণ মিললে বিষয়টি শুধু মাদ্রাসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হতে পারে।

    শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি করার মূল উদ্দেশ্য নিয়মিত ও যথাযথ শিক্ষা নিশ্চিত করা। সেই উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে কি না, তা-ই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    ধর্মীয় বইয়ের বিষয়বস্তুও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

    মাদ্রাসায় শিশুদের কাছ থেকে মাসে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো বলে জানা গিয়েছে। পরিদর্শনের সময় একটি ঘরে রাখা বইপত্র পরীক্ষা করেন কমিশনের চেয়ারপার্সন। সেখান থেকে কয়েকটি হিন্দি ও উর্দু বই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

    অভিযোগ উঠেছে, কয়েকটি হিন্দি বইয়ে হিন্দুধর্ম, ইহুদিধর্ম ও খ্রিস্টধর্মের বিরুদ্ধে বক্তব্য রয়েছে। তবে বইগুলিতে ঠিক কী লেখা রয়েছে এবং শিশুদের কী ধরনের বিষয়বস্তু পড়ানো হচ্ছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় (Gwalior Madrasa Raid)।

    মাদ্রাসা সিল করাই শেষ পদক্ষেপ নয়

    দার-উল-কোরান মাদ্রাসা সিল করার ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। কোনও ধর্মীয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের রাখার ক্ষেত্রে নিরাপদ আবাসন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সম্মানজনক আচরণ (Girls Rescued) এবং নিয়মিত শিক্ষার নিশ্চয়তা থাকা জরুরি।

    পরিদর্শনে উঠে আসা অনিয়ম এবং শিশুদের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের চিহ্নিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে মাদ্রাসা সিল করা হলেও, এর পর প্রয়োজন কার্যকর নজরদারি, শিশুদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা যাচাই এবং তাদের অধিকার সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করা। শিশুদের ভবিষ্যৎ যাতে কোনওভাবেই অনিশ্চয়তার মুখে না পড়ে, তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব (Gwalior Madrasa Raid)।

     

LinkedIn
Share