Blog

  • US Midterm Elections: মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে, বড় ধাক্কা ট্রাম্পের রিপাবলিকান শিবিরে! অতঃকিম?

    US Midterm Elections: মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে, বড় ধাক্কা ট্রাম্পের রিপাবলিকান শিবিরে! অতঃকিম?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ঐতিহাসিক সাফল্য পেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ চলে গেল ডেমোক্র্যাটদের হাতে। এর ফলে কংগ্রেসে (US Midterm Elections) সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। আগামী দিনে নতুন আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ট্রাম্প প্রশাসনকে বিরোধীদের বাধার মুখে পড়তে হতে পারে।

    নির্বাচনের এই ফল ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্ষমতার ক্ষেত্রে (Democrats) বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে আগামী দিনে প্রশাসনিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ট্রাম্পকে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতার পথে হাঁটতে হতে পারে।

    প্রশ্ন হল, এরপর কী? নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে রিপাবলিকানদের প্রস্তাবিত একতরফা আইন আটকে দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। শুধু তা-ই নয়, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর প্রথম ১০০ ঘণ্টার জন্য একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করেছে তারা। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কর্মসূচি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে একাধিক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা।

    কী রয়েছে পরিকল্পনায়? (US Midterm Elections)

    এই পরিকল্পনায় রয়েছে মার্কিন শুল্কনীতি প্রত্যাহারের লক্ষ্যে বিল আনা, ইরানের সঙ্গে চলা যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ এবং স্বাস্থ্যবিমার খরচ কমানোর প্রস্তাব। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও এই পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।

    তবে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও নিজেদের সমস্ত প্রস্তাব সহজে আইনে পরিণত করতে পারবেন না। এর পিছনে রয়েছে দু’টি সাংবিধানিক বাধা।

    প্রথমত, সেনেটে কোনও বিল ভোটাভুটির জন্য পেশ করার ক্ষেত্রে সাধারণত অন্তত ৬০ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হয়। সেনেটের মোট আসন ১০০টি। ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ৬০টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করাতে তাঁদের রিপাবলিকানদের একাংশের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। তবে সরকারি ব্যয় ও কর সংক্রান্ত বাজেট সমন্বয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আনা কিছু বিলের ক্ষেত্রে এই নিয়মের ব্যতিক্রম রয়েছে।

    দ্বিতীয়ত, কোনও বিল কংগ্রেসে পাস হলেও প্রেসিডেন্ট চাইলে তাতে ভেটো দিতে পারেন। সেই ভেটো অগ্রাহ্য করে বিলটি কার্যকর করতে হলে প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেট—উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।

    ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তে নামতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা

    নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের হাতে গুরুত্বপূর্ণ তদন্তমূলক ক্ষমতা এসেছে। এই ক্ষমতা ব্যবহার করে তাঁরা সরকারি নথি তলব করতে পারবেন, সাক্ষীদের হাজিরার নির্দেশ দিতে পারবেন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কাজকর্ম নিয়ে কংগ্রেসীয় তদন্ত শুরু করতে পারবেন।

    ইতিমধ্যেই ট্রাম্প এবং তাঁর পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের প্রশাসনিক ক্ষমতার সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীরাও তদন্তের আওতায় আসতে পারেন।

    সম্প্রতি এক নির্বাচনী জনসভায় ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদের নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেন, “যাঁরা আমেরিকার মানুষের অর্থ চুরি করেছেন, তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন কিংবা সাধারণ মানুষের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন, নতুন কংগ্রেসের প্রথম দিন থেকেই তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।”

    ডেমোক্র্যাট দলের একাংশ বিচার বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই সংস্থাগুলির নেতৃত্বে রয়েছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশানা করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে (US Midterm Elections)।

    গত মাসে মেইনে আয়োজিত এক জনসভায় প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট নেত্রী আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ বলেন, “প্রথম দিন থেকেই এই সমস্ত সরকারি সংস্থার প্রধানদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা প্রয়োজন।”

    তৃতীয়বার ইমপিচমেন্টের মুখে ট্রাম্প?

    ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তৃতীয়বারের জন্য ইমপিচমেন্টের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন ডেমোক্র্যাট দলের কয়েকজন সদস্য। তবে এই বিষয়ে দলের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

    প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ডেমোক্র্যাটরা চাইলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাস করাতে পারেন। কিন্তু তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে সরাতে হলে সেনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই সমর্থন পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।

    কমলা হ্যারিস এবং হিলারি ক্লিন্টনের মতো ডেমোক্র্যাট নেত্রীরা অবশ্য ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে নন। তাঁদের মতে, এই বিষয়ে শক্তি ব্যয় না করে দলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক লক্ষ্যে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

    তবে ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য নিশানায় পরিণত হতে পারেন। তাঁকে অভিশংসনের দাবিতে ইতিমধ্যেই একটি প্রস্তাব এনেছেন বিদায়ী রিপাবলিকান প্রতিনিধি টমাস ম্যাসি। ইরান, ভেনেজুয়েলা, ইয়েমেন-সহ বিভিন্ন দেশে আমেরিকার সামরিক পদক্ষেপের সঙ্গে এই প্রস্তাবের সম্পর্ক রয়েছে।

    অন্যদিকে, নির্বাচনী প্রচারে জেফ্রিস একাধিকবার জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটরা পিট হেগসেথকে তাঁর পদ থেকে সরানোর চেষ্টা করবেন।

    গত মাসের শেষ দিকে এক সাক্ষাৎকারে জেফ্রিস বলেন, “প্রেসিডেন্টের উচিত পিট হেগসেথকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া। তা না হলে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে আমাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।”

    তবে হেগসেথ কিংবা ট্রাম্প—কারও বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়াকে তিনি সরাসরি সমর্থন করেছেন কি না, তা স্পষ্ট (US Midterm Elections) করেননি।

    নতুন কংগ্রেসের আগে গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন

    নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হলেও নতুন কংগ্রেসের সদস্যরা আগামী ৩ জানুয়ারির আগে শপথ নেবেন না। তার আগে বর্তমান কংগ্রেসের সদস্যরা ৯ নভেম্বর থেকে আবার অধিবেশনে বসবেন। তাঁদের সামনে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

    সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল, আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন সরকারি ব্যয় বরাদ্দ সংক্রান্ত বিল পাস করানো। কারণ ওই দিনই বর্তমান সরকারি অর্থায়নের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন অর্থ বরাদ্দের বিল পাস না হলে মার্কিন সরকারের একাধিক পরিষেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ ফের সরকারি অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    এমনটা হলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্সির সময়ে চতুর্থবারের মতো সরকারি পরিষেবা বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বছরের শেষ দিকে এই ঘটনা আমেরিকার রাজনীতিতে আরও অস্থিরতা বাড়াতে পারে।

    নিয়োগ-বরখাস্তেও বাড়বে ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব

    মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সেনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়োগের প্রস্তাব সেনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন পেলে তবেই কার্যকর হয়।

    ফলে সেনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ট্রাম্পের কাছে বড় রাজনৈতিক বাধা হয়ে উঠতে পারে। তাঁর পছন্দের প্রার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে (Democrats) নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিরোধীরা বাধা সৃষ্টি করতে পারবেন।

    গত সেপ্টেম্বরে ডেমোক্র্যাটদের সেনেট নেতা চাক শুমার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আমরা সেনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে চাই, কারণ ট্রাম্প যাতে সুপ্রিম কোর্ট এবং নিম্ন আদালতগুলিতে তাঁর পছন্দের চরম রক্ষণশীল বিচারপতিদের নিয়োগ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”

    বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন বিচারপতির বয়স অবসরের সাধারণ বয়সসীমার অনেকটাই বেশি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রক্ষণশীল বিচারপতি ক্লারেন্স টমাস এবং স্যামুয়েল আলিটো।

    তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের আগেই অবসর নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন বিচারপতি আলিটো। বিচারপতি টমাসও দায়িত্বে থেকে যেতে চান বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (US Midterm Elections)।

    রিপাবলিকানদের হাতে সেনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকতেই তাঁদের অবসরের জন্য চাপ দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁরা দায়িত্ব ছাড়বেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত তাঁদের নিজেদেরই।

    অন্যদিকে, ট্রাম্প চাইলে তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের বরখাস্ত করে নতুন ব্যক্তিদের নিয়োগ করতে পারবেন। কারণ মন্ত্রিসভার সদস্যদের সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে রয়েছে। ফলে প্রশাসনের অভ্যন্তরে রদবদলের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের বাধা দেওয়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত।

    সব মিলিয়ে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে নয়া রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আইন প্রণয়ন, প্রশাসনিক (Democrats) নিয়োগ এবং সরকারি নীতির বাস্তবায়ন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এখন বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হতে পারে হোয়াইট হাউসকে। আগামী দু’বছর আমেরিকার রাজনীতিতে এই ক্ষমতার ভারসাম্য (US Midterm Elections) কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

     

  • Nirmala Attacks Rahul: ‘বিতর্কের জন্য সংসদ তো রয়েছেই’, মক-পার্লামেন্ট নিয়ে রাহুলকে তোপ নির্মলার

    Nirmala Attacks Rahul: ‘বিতর্কের জন্য সংসদ তো রয়েছেই’, মক-পার্লামেন্ট নিয়ে রাহুলকে তোপ নির্মলার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Modi) প্রকাশ্য বিতর্কে বসার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। এবার সেই চ্যালেঞ্জের পাল্টা জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Attacks Rahul)। তাঁর প্রশ্ন, বিতর্কের জন্য আলাদা জায়গা খোঁজার প্রয়োজন কী? সংসদ তো রয়েছেই। সেখানে বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর উপস্থিত থাকার কথা। গত ৩ নভেম্বর সমাজমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্ট করে রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করেন নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। তিনি লেখেন, “রাহুলজি, আপনি প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কের জন্য একটি জায়গা বেছে নিতে বলছেন। সেই জায়গা তো আগে থেকেই রয়েছে—সংসদ, যেখানে আপনি বিরোধী দলনেতা।”

    সংসদে বিতর্কে অংশ নেওয়ার আহ্বান

    নির্মলা সীতারামন তাঁর বক্তব্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রস্তাবের কথাও উল্লেখ করেন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) এবং ইভিএম নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রস্তাব দিয়েছিলেন অমিত শাহ। সেই প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রীর প্রশ্ন, সংসদের বাইরে বিতর্কে এত আগ্রহ থাকলেও সংসদের ভিতরে আলোচনায় অংশ নিতে একই রকম উৎসাহ দেখা যায় না কেন? তাঁর অভিযোগ, সংসদে সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলার পর সেই অভিযোগের জবাব দেওয়ার সময় রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের সাংসদরা বারবার অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন। কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়া জোটের সাংসদদের বিরুদ্ধে সংসদের কাজকর্ম ব্যাহত করার অভিযোগও তোলেন তিনি। এর ফলে সংসদের একাধিক দিনের কাজকর্ম কার্যত ভেস্তে গিয়েছে বলে দাবি করেন অর্থমন্ত্রী।

    মক পার্লামেন্ট নিয়ে কটাক্ষ নির্মলার

    সীতারামনের কথায়, “উত্তর দাবি করার পাশাপাশি সেই উত্তর শোনার দায়িত্বও রয়েছে।” তাঁর বক্তব্য, সংসদে আলোচনা চলতে না দিয়ে কীভাবে বিতর্কের দাবি জানানো যায়? সম্প্রতি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে আয়োজিত মক পার্লামেন্ট নিয়েও কটাক্ষ করেন নির্মলা। তাঁর মতে, সেটি মক পার্লামেন্টের চেয়ে সংসদীয় ব্যবস্থার প্রতি উপহাসই বেশি ছিল। গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার কথা বলার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি আচরণেও তার প্রতিফলন থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    ‘অভিযোগের সঙ্গে প্রমাণও পেশ করুন’

    শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, রাহুল গান্ধীর অভিযোগের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তাঁর দাবি, একের পর এক অভিযোগের তালিকা তৈরি করলেই তা বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে না। অভিযোগের সমর্থনে নির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ সামনে আনতে হবে। সীতারামন বলেন, “আপনি যে বিষয়গুলি নিয়ে অভিযোগ তুলছেন, সেগুলির নির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পেশ করুন। একগুচ্ছ অভিযোগ একসঙ্গে তুলে ধরলেই আপনার বক্তব্যের জোর বাড়বে না।” রাহুল গান্ধীর বহুল ব্যবহৃত স্লোগান ‘ডরো মত’-এর প্রসঙ্গ টেনেও তাঁকে কটাক্ষ করেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভয় না পেয়ে তথ্য সামনে আনুন, প্রশ্নের মুখোমুখি হন এবং সংসদে থেকে সরকারের জবাব শুনুন।

    কী বলেছিলেন রাহুল গান্ধী?

    উল্লেখ্য, নির্মলা সীতারামনের এই প্রতিক্রিয়া এসেছে রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্য বিতর্কে বসার চ্যালেঞ্জের পর। বিদেশি যোগ, দেশের আর্থিক ব্যবস্থা-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। এক্স-এ নিজের পোস্টে রাহুল দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কের জন্য যে কোনও জায়গা বেছে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানানোর পর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে। তিনি প্রস্তাব দেন, দুই নেতা মুখোমুখি বসে আলোচনা করুন। সেখানে সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি দেশের যুবসমাজও উপস্থিত থাকবে। এমনকী, বিতর্কের বিচারক হিসেবে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের নামও প্রস্তাব করেন তিনি। এছাড়াও ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাকে না জানিয়েই অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আদানি মামলা এবং এপস্টিন সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাব চান তিনি। নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মানহানির মামলার প্রসঙ্গ তুলে রাহুল দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৪৫টি মামলা রয়েছে। বিদেশি যোগ নিয়ে তাঁর মন্তব্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী চাইলে আরও একটি মামলা করতে পারেন বলেও চ্যালেঞ্জ জানান তিনি। রাহুলের বক্তব্য, “সত্য সামনে আসুক। সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাক।” ফের ‘ডরো মত’ স্লোগান তুলে প্রধানমন্ত্রীকে প্রকাশ্য বিতর্কে বসার আহ্বান জানান তিনি।

    নির্মলা বনাম রাহুল

    এর আগে কানাডার সংস্থা ফেয়ারফ্যাক্সের কাছে আইডিবিআই ব্যাঙ্ক বিক্রির কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন রাহুল গান্ধী। তার প্রেক্ষিতে সমাজমাধ্যমে নির্মলা স্পষ্ট বলেছেন, আইডিবিআই ব্যাঙ্ক যখন এনডিএ সরকারের হাতে আসে, তখন ব্যাঙ্কের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। ধুঁকছিল ব্যাঙ্ক। এই পরিস্থিতির জন্য কংগ্রেসকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে নির্মলার দাবি, নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলেই আইডিবিআই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। নির্মলার অভিযোগ, কংগ্রেস ব্যাঙ্ককে নিজেদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করত। যখন ইচ্ছা-যাকে ইচ্ছা ঋণ দিয়ে দিত। এমনকী কর্মীদেরও চাপ দেওয়া হত।” অর্থমন্ত্রী সাফ বলে দেন, কংগ্রেস জমানায় আইডিবিআইকে একপ্রকার বাধ্য করা হয় বিভিন্ন ডুবে যাওয়া সংস্থায় বিনিয়োগ করাতে। রাহুল গান্ধী তাঁর এক্স পোস্টে অভিযোগ করেছেন, টাটা গোষ্ঠীকে অপরাধমূলকভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে, অথচ দেশের কোনও শিল্পপতি বা ব্যবসায়ী নেতা এ বিষয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। রাহুলের এই আক্রমণের জবাবে নির্মলা সীতারামন তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁর দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত। প্রতিটি বিষয়কে রাজনীতির রং দেওয়ার প্রবণতা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেছেন, কোনও বাণিজ্যিক বা আইনি বিরোধকে প্রমাণ ছাড়াই অপরাধমূলক বলে চিহ্নিত করা গ্রহণযোগ্য নয়। আর এবার, সংসদের ভিতরে বিতর্কের মঞ্চ বনাম সংসদের বাইরে প্রকাশ্য বিতর্ক—এই দুই অবস্থানকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে নির্মলা ও রাহুল তথা বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে।

     

     

     

     

     

     

  • Suvendu Adhikari: পরিবারতন্ত্রকে নিশানা করে ‘৪জি-৩জি-২জি’ তত্ত্ব শুভেন্দুর, শিলিগুড়ির উন্নয়নে গুচ্ছের প্রতিশ্রুতি

    Suvendu Adhikari: পরিবারতন্ত্রকে নিশানা করে ‘৪জি-৩জি-২জি’ তত্ত্ব শুভেন্দুর, শিলিগুড়ির উন্নয়নে গুচ্ছের প্রতিশ্রুতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বার্তা দিয়ে উত্তরবঙ্গে মিছিল করল বিজেপি। মঙ্গলবার শিলিগুড়িতে বিশাল মিছিলের নেতৃত্ব দিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদলকে আক্রমণ শানান রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একই সঙ্গে কংগ্রেস, আঞ্চলিক দল এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবারতন্ত্রকে নিশানা করে সামনে আনলেন ‘৪জি, ৩জি ও ২জি’ তত্ত্ব। মিছিলের মঞ্চ থেকে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নেও একাধিক প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি।

    শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্ক থেকে শুরু হয়ে এয়ারভিউ মোড়ে শেষ হয় মিছিল (Siliguri Rally)। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা, বিধায়ক নিশীথ প্রামাণিক, শঙ্কর ঘোষ-সহ বিজেপির একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি।

    মিছিল শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাম না করেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে বিরোধী শিবিরের নেতারা এখন দিল্লিতে গিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। এই প্রসঙ্গে বামপন্থী দলগুলিকেও নিশানা করেন তিনি।

    জামাতি ও মৌলবাদী শক্তির প্রভাব (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দুর কথায়, “এঁরা সবাই রাজনৈতিকভাবে পরাজিত। এখন দিল্লিতে গিয়ে একজোট হয়েছেন। বাংলাদেশে যেমন জামাতি ও মৌলবাদী শক্তির প্রভাব রয়েছে, তেমন পরিস্থিতি ভারতেও তৈরি করতে চাইছে কিছু শক্তি। দেশকে বিভক্ত করার রাজনীতি এবং উৎখাত হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক নেতৃত্ব একসঙ্গে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন।”

    বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দিমাগি নকশাল, জিহাদি, জঙ্গি কিংবা দেশবিরোধী শক্তিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, তা আমাদের জানা আছে। রাজনীতি করতে হলে নির্বাচনে লড়াই করতে হবে। নরেন্দ্র মোদি যতদিন দেশের নেতৃত্বে থাকবেন, ততদিন তোমাদের পক্ষে নির্বাচনে জয় পাওয়া কঠিন।”

    পরিবারতন্ত্র বোঝাতে নয়া তত্ত্ব

    ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধী দলগুলিকে নতুন আঙ্গিকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দেশের একাধিক রাজনৈতিক দল নির্দিষ্ট কিছু পরিবারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রবণতাকে বোঝাতেই তিনি ৪জি, ৩জি ও ২জি-র উদাহরণ সামনে আনেন।

    শুভেন্দুর ব্যাখ্যায়, নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী ও রাহুল গান্ধীকে নিয়ে ৪জি। শেখ আবদুল্লা, ফারুক আবদুল্লা ও ওমর আবদুল্লাকে নিয়ে ৩জি। একইভাবে করুণানিধি, এম কে স্ট্যালিন ও উদয়নিধি স্ট্যালিনের রাজনৈতিক পরিবারকেও ৩জি-র উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি (Suvendu Adhikari)।

    অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মুলায়ম সিং যাদব ও অখিলেশ যাদব, লালুপ্রসাদ যাদব ও তেজস্বী যাদব এবং মুফতি পরিবারের উদাহরণ টেনে ২জি-র প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর দাবি, নরেন্দ্র মোদির ক্ষেত্রে এমন পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের নজির নেই। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি দেশ ও দেশের স্বার্থ।

    মোদির নেতৃত্বে ভারতের অগ্রগতির দাবি

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ২০১৪ সালে বিশ্বের অর্থনীতিতে ভারতের অবস্থান ছিল দ্বাদশ স্থানে। বর্তমানে দেশ তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দিকে এগিয়ে চলেছে।

    করোনা অতিমারির সময় প্রতিষেধক তৈরির উদ্যোগ এবং বিভিন্ন দেশকে টিকা সরবরাহের বিষয়টিও বক্তব্যে তুলে ধরেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “অতিমারি শুরু হওয়ার মাত্র ১১ মাসের মধ্যে তিনটি প্রতিষেধক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিশ্বের ৫৫টি দরিদ্র দেশকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন (Siliguri Rally) নরেন্দ্র মোদি। এই কারণেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের জায়গায় পৌঁছেছেন।”

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ভারতীয় পড়ুয়াদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গেরও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক তৎপরতায় সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা হয়েছিল এবং প্রায় ৩০ হাজার ভারতীয়কে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল।

    পুরভোটে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী

    আসন্ন পুরসভা নির্বাচন নিয়েও যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম, ফলতা ও রেজিনগরের নির্বাচনী সাফল্যের উদাহরণ দিয়ে কলকাতা, হাওড়া ও শিলিগুড়িতেও জয়ের আশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, আগামী ফেব্রুয়ারিতে শিলিগুড়িতেও বিজেপি ভালো ফল করবে।

    শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “নন্দীগ্রাম, ফলতা ও রেজিনগরের মতো কলকাতাতেও আমরা জয় পাব। এরপর কলকাতা, হাওড়া এবং শিলিগুড়িতে রাজনৈতিক সাফল্য অর্জন করাই আমাদের লক্ষ্য।”

    উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে একগুচ্ছ ঘোষণা

    উত্তরবঙ্গকে রাজ্যের উন্নয়ন পরিকল্পনার বাইরে রাখা হবে না বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ এবং পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়নে একাধিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন তিনি।

    তাঁর ঘোষণার মধ্যে রয়েছে, রায়গঞ্জে সর্বভারতীয় চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, জলপাইগুড়িতে ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণ, বালুরঘাট, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, শিলিগুড়িতে প্রযুক্তি অথবা ব্যবস্থাপনা শিক্ষার উচ্চমানের প্রতিষ্ঠান গড়ার পরিকল্পনা, হাসিমারা, কলাইকুন্ডা, বালুরঘাট ও পুরুলিয়ায় বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ এবং সামসিং-সহ বন্ধ হয়ে থাকা ২১টি চা বাগান ফের খোলার ব্যবস্থা করা।

    উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে উন্নয়নের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যবাসী ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল পাবেন বলেও দাবি করেন তিনি। আগামী রাসপূর্ণিমায় কোচবিহারে উপস্থিত থাকার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    ভাওয়াইয়া ও বৈষ্ণব সংগীতশিল্পীদের বাদ্যযন্ত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন মুখ্যমন্ত্রী। স্থানীয় সংস্কৃতি ও শিল্পীদের পাশে থাকার বার্তাও দেন তিনি।

    পরিকাঠামো উন্নয়নে বৈঠক

    মিছিল শেষ হওয়ার পর শিলিগুড়ির পুর কমিশনার, প্রশাসক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় এবং দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্ত-সহ প্রশাসনের আধিকারিকেরা।

    বৈঠক শেষে রাজু জানান, কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত রোপওয়ে নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই প্রকল্পে রাজ্য সরকারের অনুমোদন আগেই মিলেছে বলে জানান তিনি।

    আগামী ৯ ডিসেম্বর কালিম্পং মেডিক্যাল কলেজের শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী। দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং, মিরিক ও শিলিগুড়ির হাসপাতালগুলির সংস্কার এবং আধুনিকীকরণের বিষয়েও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    লেবং গ্রাউন্ডকে আধুনিক ক্রীড়া স্টেডিয়ামে রূপান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এদিকে, দার্জিলিঙের মহাকাল মন্দির চত্বরের সৌন্দর্যায়ন, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১৯ কোটি টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে (Siliguri Rally)।

    সব মিলিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণ, পরিবারতন্ত্রের বিরোধিতা এবং উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই শিলিগুড়ির মিছিল থেকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

     

  • Indian Men Mental Health: প্রতি চারটি আত্মহত্যার ঘটনায় তিনজন পুরুষ! ভারতীয় পুরুষদের শরীর ও মনের স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

    Indian Men Mental Health: প্রতি চারটি আত্মহত্যার ঘটনায় তিনজন পুরুষ! ভারতীয় পুরুষদের শরীর ও মনের স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    প্রতি চারটি আত্মহত্যার ঘটনায় তিনজন পুরুষ! শরীরের পাশপাশি মনের ক্ষত বাড়ছে! ভারতীয় পুরুষদের জীবন যাপনের ধরনের জেরেই ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্য সঙ্কট। তাই শরীর ও মনের সমান খেয়াল রাখা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। নভেম্বর মাস জুড়ে পু্রুষদের স্বাস্থ্যের সঙ্কট নিয়ে একাধিক কর্মশালার পরিকল্পনা করছেন চিকিৎসকদের সংগঠন‌।

    কোন স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে গত কয়েক দশকে মূলত দুটো স্বাস্থ্য সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এক, অসংক্রামক রোগের প্রকোপ। দুই, মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা! এই দুই রোগের বৃদ্ধির অন্যতম কারণ অসচেতনতা এবং অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন। সমস্যা সম্পর্কে না জানা এবং তাকে অবহেলা করার জেরেই দিনের পর দিন পরিস্থিতি জটিল হয়। বড় বিপদ তৈরি হয়।

    কোন অসংক্রামক রোগের দাপট বাড়ছে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হারে অসংক্রামক রোগের দাপট বাড়ছে। আর এই অসংক্রামক রোগের তালিকায় রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ,‌ লিভারের অসুখের মতো একাধিক জটিল সমস্যা। তাঁরা জানাচ্ছেন, অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের জন্য এই ধরনের সমস্যা বাড়ছে।
    ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের একাধিক পরিসংখ্যানে জানা গিয়েছে, ভারতীয় পুরুষদের মৃত্যুর কারণ হিসাবে সবচেয়ে বেশি হলোৎঅসংক্রামক রোগ। আর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে বেশি।
    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, খুব কম বয়সি ভারতীয় তরুণদের মধ্যেও উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থুলতার মতো নানান শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই ধরনের সমস্যা হৃদরোগ, কিডনির অসুখ, লিভারের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এর জেরেই নানান শারীরিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

    কেন অসংক্রামক রোগে ভারতীয় পুরুষেরা আক্রান্ত হচ্ছেন?

    অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, খুব কম বয়স থেকেই ভারতীয়দের মধ্যে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে উঠছে। যা একাধিক অসংক্রামক রোগের কারণ হয়ে উঠছে। চটজলদি প্যাকেটজাত খাবারের অভ্যাস, শরীরে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি করছে। আবার অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় মেদ বাড়াচ্ছে। ফলে, স্থুলতার মতো সমস্যা তৈরি করছে। যা পরবর্তীতে হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা, লিভারের অসুখের মতো জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হয়ে উঠছে।

    অনিয়মিত খাবারের অভ্যাস!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে অনিয়মিত খাবার খাওয়ার অভ্যাস নানান স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করে। দিনের অধিকাংশ সময় বাড়ির বাইরে থাকার কারণ অনেক সময়েই ভারতীয় পুরুষদের খাবারে নির্দিষ্ট সময় থাকে না। খাবার খাওয়ার সময়ের ব্যবধান অনেক সময়েই বেশি হয়ে যায়। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে খাওয়ার জেরে হজমের সমস্যা সহ একাধিক সমস্যা তৈরি হয়। যা পরবর্তীতে নানান রোগের কারণ হয়ে ওঠে।

    শারীরিক কসরতের জন্য কম সময় বরাদ্দ!

    ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে শারীরিক কসরতের প্রতি অনীহা বাড়ছে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, দিনে অন্তত আধ ঘণ্টাও শারীরিক কসরত বা হাঁটাহাঁটির জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে না। দিনের অধিকাংশ সময় নির্দিষ্ট জায়গায় বসে কাজ হচ্ছে। অধিকাংশ সময় ল্যাপটপে চোখ রেখেই চলে যাচ্ছে।‌ এর ফলেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

    অপর্যাপ্ত বিশ্রাম!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে ঘুমের ঘাটতি রয়েছে। নিয়মিত আট ঘণ্টা ঘুম অধিকাংশের হয় না। এখন গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের জেরে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর উপরে আরও বেশি চাপ পড়ে। যার ফলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ু আরও ক্লান্ত হয়ে যায়। ফলে একাধিক শারীরিক ও মানসিক জটিলতা তৈরি হয়‌।

    কেন ভারতীয় পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ?

    ভারতীয় পুরুষদের শরীরের পাশপাশি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্য। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, একাধিক পরিসংখ্যান জানান দিচ্ছে, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা এবং অবসাদের মতো নানান মানসিক সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির জেরেই অনেকে চরম সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ভারতে আত্মহত্যার ঘটনা যে হারে বাড়ছে, সেটা অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সঙ্কট হতে চলেছে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কী বলছে এনসিআরবি-র তথ্য?

    ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ভারতে পুরুষদের আত্মহত্যার সংখ্যা ছিলো প্রায় ৯৭ হাজার। কিন্তু ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি।‌ প্রত্যেক বছর উদ্বেগজনক হারে আত্মহত্যার সংখ্যা বাড়ছে। প্রতি চারটি আত্মহত্যার ঘটনায় তিনজন পুরুষ!
    পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় কম বয়সি পুরুষদের মধ্যেই শুধু নয়। মধ্যবয়সি ও প্রৌঢ়দের মধ্যেও ক্রমশ আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। মানসিক স্বাস্থ্যকে অবহেলা করার জেরেই এই বিপদ ক্রমশ বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা।

    কেন বাড়ছে মানসিক সঙ্কট?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সামাজিক চাপ ভারতীয় পুরুষদের মানসিক সঙ্কট তৈরির অন্যতম কারণ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ পুরুষদের সফল হওয়ার বাড়তি বোঝা নিয়ে চলতে হয়। কর্মজীবনের ধরণ বদলে যাচ্ছে। সুনিশ্চিত দীর্ঘ চাকরির পরিবর্তে প্রতি নিয়ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে টিকে থাকার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে অনিশ্চিয়তা দেখা দিচ্ছে। লাগাতার পারিবারিক, সামাজিক এবং কর্মজীবনের চাপের ফলেই ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে আরও বেশি উদ্বেগ, হতাশা, অবসাদ তৈরি হচ্ছে।
    তবে, ভারতীয় পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে অসচেতনতাও চিন্তার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ভারতীয় পুরুষেরা হতাশা, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করতে চান না।‌ এই ধরনের সমস্যায় প্রথম থেকেই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিলে, একাধিক বড় বিপদ আটকানো সম্ভব, সে সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা নেই। ফলে আত্মহত্যার মতো বিপদ ক্রমশ বাড়ছে।

    সুস্থ থাকতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    ভারতীয় পুরুষদের দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপনের জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবন যাপনের ধরনে বদল জরুরি। অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা দরকার।‌ আবার বিশ্রাম যাতে পর্যাপ্ত হয় সেটাও নিশ্চিত জরুরি। নিয়মিত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। পাশপাশি শারীরিক কসরত নিয়মিত করতে হবে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে। দিনের কিছুটা সময় নিজের পছন্দের কাজের জন্য রাখতে হবে। সেটা গান গাওয়া, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, ছবি আঁকা বা বই পড়া এমনকি বাগান তৈরি, যেকোনো কাজ হতে পারে। এতে মানসিক চাপ, উদ্বেগ কমবে।‌ একঘেয়েমি আসবে না। ফলে শরীর ও মন ভালো থাকবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • ECI Form 6: খসড়া ভোটার তালিকায় নাম নেই? ফর্ম ৬ জমা দিলেই চূড়ান্ত তালিকায় নাম তোলার সুযোগ, জানাল নির্বাচন কমিশন

    ECI Form 6: খসড়া ভোটার তালিকায় নাম নেই? ফর্ম ৬ জমা দিলেই চূড়ান্ত তালিকায় নাম তোলার সুযোগ, জানাল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশজুড়ে ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন ফর্ম ৬ জমা (ECI Form 6) দেওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা ও বিতর্ক কাটাতে বড় পদক্ষেপ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া বাতিল এবং দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ নিয়ে বিক্ষোভের আবহে ফর্ম ৬ নিয়ে নয়া নির্দেশিকা জারি করল কমিশন। নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, খসড়া ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফর্ম ৬ জমা দিয়ে চূড়ান্ত তালিকায় নাম তোলার আবেদন করতে পারবেন। এর জন্য আগে ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল কি না সেই বিষয়টি কোনও বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

    কী বলা হল নয়া নির্দেশিকায়

    নয়া নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, কমিশনের নজরে এসেছে, বহু পুরনো ভোটার, যাঁদের নাম এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ গিয়েছে নতুন করে ফর্ম ৬ পূরণ করতে ভয় পাচ্ছেন। তাঁরা মনে করছেন, এই ফর্মটিতে প্রথমবার ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার ঘোষণা করতে হয়। তাই অনেকেরই ধারণা যে পুরনো নাম থাকা সত্ত্বেও ফর্ম ৬ জমা দিলে তা ‘ফল্স ডিক্লেয়ারেশন’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এর জেরে ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩১ নম্বর ধারায় আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছিলেন অনেকেই। এই বিতর্ক ও আশঙ্কা দূর করে কমিশন জানিয়েছে, তালিকায় নাম না থাকা ভোটাররা নতুন করে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ফর্ম ৬ জমা দিলে তা কোনওভাবেই ‘ফল্স ডিক্লেয়ারেশন’ বলে গণ্য হবে না। ইতিমধ্যেই দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।

    আইনি সুরক্ষা নিয়ে স্পষ্ট ঘোষণা

    কমিশনের নয়া নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে একটি মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট পরিষ্কার জানিয়েছিল আবেদনকারী আগে ভোটার হয়ে থাকলেও ফর্ম ৬ জমা দিতে পারেন। এ নিয়ে আশঙ্কা করার কোনও ভিত্তি নেই। কমিশনের আরও বক্তব্য, আইন অনুযায়ী কোনও ব্যক্তি অতীতে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকলেও এসআইআর প্রক্রিয়া বা তার পরে যদি নতুন করে ফর্ম ৬ জমা দেন তবে সংশ্লিষ্ট ইআরও সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন না।

  • Indian Americans: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভারতীয়-আমেরিকানদের সমর্থনে ধাক্কা রিপাবলিকানদের, সমস্যা বাড়বে ট্রাম্পের?

    Indian Americans: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভারতীয়-আমেরিকানদের সমর্থনে ধাক্কা রিপাবলিকানদের, সমস্যা বাড়বে ট্রাম্পের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভারতীয়-আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে যে সমর্থন বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল রিপাবলিকান পার্টি, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সেই অগ্রগতির বড় অংশই কার্যত হারিয়েছে (Indian Americans) দলটি। নয়া এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন আবারও বেড়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতীয়-আমেরিকান নাগরিকদের ৬২ শতাংশ আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিতে চান (US Midterms Survey)। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে রয়েছেন মাত্রই ১৯ শতাংশ।

    সোমবার প্রকাশিত এই সমীক্ষাটি করেছে কার্নেগি (Carnegie) এবং গবেষণা সংস্থা ইউগভ (YouGov)। ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে পরিচালিত ওই সমীক্ষার ফলে ফলে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন সমাজে ভারতীয়-আমেরিকানদের অবস্থান এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

    ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন বাড়ছে (Indian Americans)

    সমীক্ষা অনুযায়ী, ৬২ শতাংশ ভারতীয়-আমেরিকান নাগরিক তাঁদের নির্বাচনী এলাকার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ১৯ শতাংশ। বাকি ভোটাররা এখনও সিদ্ধান্ত নেননি অথবা ভোটদানে আগ্রহী নন।

    ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা ছিল। সেই সময় ৬২ শতাংশ ভারতীয়-আমেরিকান ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ৩০ শতাংশ জানিয়েছিলেন, তাঁরা রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে ভোট দেবেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থনের হার ছিল যথাক্রমে ৬৮ ও ২২ শতাংশ।

    এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভারতীয়-আমেরিকানদের মধ্যে যে সমর্থন রিপাবলিকান পার্টি অর্জন করেছিল, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তার উল্লেখযোগ্য অংশ হারিয়েছে দলটি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে রিপাবলিকানরা ২০২৪ সালের নির্বাচনে এই ভোটব্যাঙ্কে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে সক্ষম হলেও সাম্প্রতিক ভোটদানের প্রবণতা সেই অগ্রগতির স্থায়িত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।

    ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে অসন্তোষ

    ভারতীয়-আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে রিপাবলিকানদের সমর্থন কমার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির প্রতি অসন্তোষ।

    সমীক্ষায় বলা হয়েছে, “২০২৬ সালের গোড়ার দিকে ভারতীয়-আমেরিকানদের একটি বড় অংশ অভিবাসন নীতি, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নীতি এবং এমনকি মার্কিন-ভারত সম্পর্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। একসময় এই সম্পর্ক ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের তুলনামূলক শক্তিশালী দিকগুলির অন্যতম।”

    কার্নেগি ও ইউগভের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই সমীক্ষাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১,০০০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয়-আমেরিকান নাগরিকের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি। সমীক্ষার লেখকরা হলেন সুমিত্রা বদ্রিনাথন, দেবেশ কাপুর, অ্যানাবেল মিলার, অ্যান্ডি রবাইনা এবং মিলান বৈষ্ণব (US Midterms Survey)।

    তবে সমীক্ষার ফল বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন। আগের আইএএএস (IAAS) সমীক্ষাগুলিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটারদের পছন্দ পরিমাপ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের অক্টোবরের সমীক্ষায় মূলত কংগ্রেস নির্বাচনে ভোটদানের ইচ্ছা বা প্রবণতা যাচাই করা (Indian Americans) হয়েছে।

    রিপাবলিকান-বিরোধী মনোভাবও প্রভাব ফেলছে ভোটে

    ভারতীয়-আমেরিকানদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন বাড়লেও এর পিছনে শুধু দলের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব কাজ করছে না। রিপাবলিকান প্রার্থীর বিরোধিতাও ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষণে এই প্রবণতাকে ‘নেগেটিভ পার্টিজানশিপ’ বা বিরোধী দলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাবের ভিত্তিতে ভোটদান বলা হয়।

    সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যাঁরা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দিতে চান, তাঁদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি মূলত রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন করেন না বলেই ডেমোক্র্যাটদের বেছে নিচ্ছেন। কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানানো ভোটারদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ বলেছেন, রিপাবলিকান প্রার্থীর বিরোধিতাই তাঁদের ভোট দেওয়ার প্রধান কারণ।

    সমীক্ষায় এই প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, “দলের প্রতি সমর্থন কিছুটা ফিরে আসায় ডেমোক্র্যাটরা স্বস্তি পেতে পারেন। তবে এই পুনরুদ্ধার দলের প্রতি ভোটারদের রাজনৈতিক আনুগত্য বাড়াতে পারেনি। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয়-আমেরিকানদের মধ্যে যে সমর্থন রিপাবলিকান পার্টি অর্জন করেছিল, তা কেন ভোটের বাক্সে স্থায়ী সাফল্যে পরিণত হল না, সেই বিষয়টি দলটির বিবেচনা করা উচিত।”

    কমছে রিপাবলিকান সমর্থন

    বয়স ও লিঙ্গের ভিত্তিতেও ভারতীয়-আমেরিকান (Indian Americans) ভোটারদের রাজনৈতিক পছন্দে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

    ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সি ভারতীয়-আমেরিকান পুরুষদের মধ্যে বর্তমানে রিপাবলিকান প্রার্থীর প্রতি সমর্থন মাত্র ১৬ শতাংশ। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এই বয়সি পুরুষদের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৩২ শতাংশ।

    অন্যদিকে, ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সি পুরুষদের মধ্যে রিপাবলিকানদের সমর্থন বর্তমানে ২৩ শতাংশ। ২০২৪ সালে এই বয়সি পুরুষদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৪০ শতাংশ। একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বয়স্ক ভারতীয়-আমেরিকান মহিলাদের মধ্যেও। তাঁদের মধ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীর প্রতি সমর্থন কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ শতাংশে।

    সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রতি সমর্থনের ক্ষেত্রে ভারতীয়-আমেরিকানদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন শুধু কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানরা। তাঁদের মধ্যে ৭৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা নিজেদের নির্বাচনী এলাকার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস প্রার্থীকে ভোট দেবেন। আর, মাত্র ১২ শতাংশ জানিয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থনের কথা।

    সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভারতীয়-আমেরিকান ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থানে (US Midterms Survey) উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে এই সমীক্ষা। ২০২৪ সালে রিপাবলিকানদের দিকে যে ঝোঁক তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই কমেছে। তবে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি এই প্রত্যাবর্তন কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের নির্বাচনী সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি (Indian Americans) তাঁদের আস্থার উপর।

     

  • India Israel: রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের প্রস্তাবে ভারতের আপত্তি, পাশে ইজরায়েল, ১৮০ দেশের সমর্থনে পাশ প্রস্তাব

    India Israel: রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের প্রস্তাবে ভারতের আপত্তি, পাশে ইজরায়েল, ১৮০ দেশের সমর্থনে পাশ প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত পাকিস্তান ও বেলারুশের যৌথ উদ্যোগে আনা একটি প্রস্তাবের বিরোধিতা করল ভারত ও ইজরায়েল (India Israel)। ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে একমাত্র এই দুই দেশই প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। অন্যদিকে, প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৮০টি দেশ। কোনও (UN Arms Control Resolution) দেশ ভোটদানে বিরত থাকেনি। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের নিরস্ত্রীকরণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রথম কমিটিতে সোমবার এই ভোটাভুটি হয়।

    প্রস্তাবটির মূল উদ্দেশ্য ছিল আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক স্তরে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আরও জোরদার করা। তবে ভারতের বক্তব্য, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণকে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এটি একটি আন্তর্জাতিক বিষয়। প্রতিটি দেশের নিরাপত্তার স্বার্থ ও উদ্বেগকে বৃহত্তর বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের প্রথম সচিব অনমোল শের বেদি জানান, প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি মূলত আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার যুক্তি নিয়ে ভারত পুরোপুরি একমত নয়। তিনি বলেন, “আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত নই যে এই বিষয়টিকে প্রধানত আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক পরিসরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত।”

    রাষ্ট্রসংঘের পুরনো সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন ভারতের (India Israel)

    প্রস্তাবটির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। সেখানে রাষ্ট্রসংঘের নিরস্ত্রীকরণ কমিশনকে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আঞ্চলিক চুক্তির জন্য নতুন কিছু নীতি ও নির্দেশিকা তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

    ভারতের বক্তব্য, এই বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিশন ইতিমধ্যেই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেছে। ১৯৯৩ সালে আঞ্চলিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে নির্দেশিকা ও সুপারিশ, ১৯৯৯ সালে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত নির্দেশিকা এবং ২০১৭ সালে প্রচলিত অস্ত্রের ক্ষেত্রে আস্থা বৃদ্ধির বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিয়ে সুপারিশ গ্রহণ করা হয়েছিল।

    এই পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বেদি। তাঁর কথায়, “আমরা এই অনুরোধটি কিছুটা কৌতূহলের সঙ্গে দেখছি।”

    তিনি আরও বলেন, একই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিশন ইতিমধ্যেই তিনটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তা হলে আবার কেন সেই আলোচনাকে প্রথম থেকে শুরু করতে হবে? দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত একটি বিষয় নিয়ে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা ভারত বুঝতে পারছে না বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাষ্ট্রসংঘের নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখাই যদি এর উদ্দেশ্য না হয়, তা হলে এই পুনরাবৃত্তির যৌক্তিকতা কোথায়?

    দেশের নিরাপত্তা

    প্রস্তাবে নির্দিষ্ট অঞ্চল ও উপ-অঞ্চলের মধ্যে প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার যে কথা বলা হয়েছে, তারও বিরোধিতা করেছে ভারত।

    বেদির বক্তব্য, কোনও দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে তার ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে আটকে রাখা যায় না। বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তার স্বার্থ অনেক সময় নিজস্ব অঞ্চলের বাইরেও বিস্তৃত হয়। ফলে নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলের মধ্যে সামরিক ভারসাম্য বজায় রাখার ধারণা বাস্তবে কতটা কার্যকর, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে (India Israel)।

    তিনি বলেন, “এই প্রস্তাবের ধারণা অনুযায়ী, রাষ্ট্রগুলির নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ যেন তাদের আঞ্চলিক সীমানায় এসে থেমে যায়। বাস্তবে তা হয় না।”

    তিনি আরও জানান, বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্বার্থ ও উদ্বেগ সংকীর্ণ ভৌগোলিক সীমানার বাইরে বিস্তৃত। তাই কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চল বা উপ-অঞ্চলের মধ্যে সামরিক ভারসাম্য বজায় রাখার ধারণা বাস্তবসম্মত নয় বলেই মনে করে ভারত।

    আপত্তি ভারতের

    ‘সাধারণ ও পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণ: আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক স্তরে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক প্রস্তাবে ঠান্ডা যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া অধিকাংশ হুমকি একই ভৌগোলিক অঞ্চলের দেশগুলির মধ্যে থেকেই এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে চুক্তি গড়ে তোলার পক্ষে সওয়াল করা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক বাহিনীর সংখ্যা যতটা সম্ভব সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

    তবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রস্তাবের উল্লেখ থাকা একটি অনুচ্ছেদের বিরুদ্ধেও আলাদাভাবে ভোট দিয়েছে ভারত। ওই অনুচ্ছেদে লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশের মধ্যে আলোচনা-সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক উদ্যোগের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাবগুলিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছিল।

    এ ছাড়া, যেসব দেশের সামরিক সক্ষমতা বেশি এবং যারা সামরিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাদের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে বলেও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তবে ভারতের অবস্থান, প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয়কে শুধুমাত্র আঞ্চলিক বা উপ-আঞ্চলিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। ইজরায়েলও ভারতের সঙ্গে একই অবস্থান নিয়ে প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছে। যদিও ১৮০টি দেশের সমর্থনে রাষ্ট্রসংঘের প্রথম কমিটিতে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছে (UN Arms Control Resolution)।

    এই ভোটাভুটি আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থানকেই ফের সামনে নিয়ে এসেছে। নয়াদিল্লির মতে, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের যে কোনও আন্তর্জাতিক কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশের (India Israel) বৃহত্তর নিরাপত্তা স্বার্থ ও ভৌগোলিক সীমার বাইরের উদ্বেগগুলিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

     

  • ABVP: লাদাখ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বড় জয় এবিভিপির

    ABVP: লাদাখ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বড় জয় এবিভিপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাদাখ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেল এবিভিপি (অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ)। মোট আটটি পদের মধ্যে পাঁচটিতেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন সংগঠনের প্রার্থীরা (ABVP)। এই জয়ের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতৃত্বে এবিভিপির অবস্থান আরও শক্তিশালী হল।

    যাঁরা জয়ী হয়েছেন (ABVP)

    নির্বাচনে সভাপতি পদে (Ladakh University Elections) জয়ী হয়েছেন ডাওয়া নামগিয়াল। সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ত্সেরিং ইয়াংদোল। সাধারণ সম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন স্তানজিন রিগদোল। যুগ্ম সম্পাদক হয়েছেন রাবস্কিট দোলমা এবং ক্রীড়া সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন তেনজিন ত্সেওয়াং।

    এই নির্বাচনী ফল লাদাখে এবিভিপির সাংগঠনিক শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন বলেই মনে করছে সংগঠন। ছাত্র সংসদের আটটি পদের মধ্যে পাঁচটিতে জয় পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশা তুলে ধরার ক্ষেত্রে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবে বলেই আশা করা হচ্ছে (ABVP)।

    সংগঠনের সাফল্য

    এবিভিপি লাদাখের তরফে এই সাফল্যকে সংগঠনের সামগ্রিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। জয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি আগামী দিনে (Ladakh University Elections) তাঁরা ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন বলেও আশাপ্রকাশ করেছে এই ছাত্র সংগঠন (ABVP)।

     

  • India Pakistan Trade: পুলওয়ামা হামলার পর ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ, ৪০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি পাকিস্তানের

    India Pakistan Trade: পুলওয়ামা হামলার পর ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ, ৪০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি পাকিস্তানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার পর ২০১৯ সালে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক (India Pakistan Trade) কার্যত ছিন্ন করেছিল পাকিস্তান। এবার সেই সিদ্ধান্তের মাশুল যে কতটা চড়া, তা কার্যত স্বীকার করে নিলেন সে দেশের ব্যবসায়ী মহলের প্রতিনিধিরাই। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ রাখার কারণে গত ছ’বছরেরও বেশি সময়ে পাকিস্তানের অর্থনীতির ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সম্প্রতি এমনই দাবি করেছেন পাক-ইন্ডিয়া বিজনেস কাউন্সিলের (PIBC) চেয়ারম্যান নুর মহম্মদ কাসুরি। প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া (PTI)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ক্ষতির পরিমাণ আগের হিসাবের তুলনায় অনেকটাই বেশি।

    পণ্য পরিবহণের খরচ বেড়েছে

    কাসুরির বক্তব্য, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরায় চালু হলে দুই দেশের ব্যবসায়ী মহলই লাভবান হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ, পর্যটন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। তাঁর মতে, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ থাকায় পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের অত্যাবশ্যকীয় কাঁচামাল ও পণ্য আমদানির জন্য দূরবর্তী দেশগুলির উপর নির্ভর করতে হয়েছে। ফলে পরিবহণ খরচ, পণ্য পরিবহণের ভাড়া এবং সরবরাহের সময়—সবই বেড়েছে।

    ওষুধ ও বস্ত্রশিল্পে বিপুল ক্ষতি

    ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানের ওষুধ ও বস্ত্রশিল্পে। কাসুরির দাবি, ভারত থেকে কাঁচামাল আমদানি করতে পারলে পাকিস্তানের ওষুধ শিল্পের বছরে প্রায় ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতে পারে। অন্যদিকে, দেশে তুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় বস্ত্রশিল্পকে ব্রাজিল, মিশর, চিন এবং আমেরিকার মতো দেশ থেকে তুলো আমদানি করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে বলে দাবি তাঁর। শুধু তাই নয়, ভারতের তেল শোধনাগারগুলি ভৌগোলিকভাবে পাকিস্তানের অনেক কাছাকাছি হওয়ায় ভারত থেকে পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করলে খরচ ও সময়—দু’টোই কমতে পারে বলে মনে করেন কাসুরি। ভারতের কৃষি ও শিল্পজাত পণ্য সহজলভ্য হলে পাকিস্তানের উৎপাদন খরচও অনেকটাই কমানো সম্ভব।

    ভারতের অর্থনৈতিক গুরুত্ব স্বীকার পাকিস্তানের?

    আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রসঙ্গে কাসুরি শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময় ভারতের আর্থিক সহায়তার উদাহরণও তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, প্রতিবেশী দেশগুলি একে অপরের সঙ্কটের সময় পাশে দাঁড়ালে গোটা অঞ্চলের অর্থনীতিই উপকৃত হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে কাসুরি দাবি করেছিলেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ থাকার কারণে ছ’বছরে পাকিস্তানের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে বছরে ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। এবার সেই ক্ষতির হিসাব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ বিলিয়ন ডলারে।

    ভারতের সঙ্গে সু-সম্পর্কের গুরুত্ব

    দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক বাস্তবতাও এই পরিস্থিতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায় ৪ লক্ষ কোটি ডলারের অর্থনীতি নিয়ে ভারত যেখানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি, সেখানে পাকিস্তানের অর্থনীতির আকার তুলনায় অনেক ছোট। দীর্ঘদিন বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধ রাখার ফলে পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি, কাঁচামালের সঙ্কট এবং বাণিজ্যের সুযোগ হারানোর মতো সমস্যায় পড়তে হয়েছে পাকিস্তানকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের দাবি আসলে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে ভারতের গুরুত্বকেই আরও একবার সামনে আনছে।

  • Indian-Flagged Vessel: ওমান উপকূলে ভারতের পতাকাবাহী জাহাজে হামলা! মৃত ১ ভারতীয় নাবিক, উদ্ধার ১৩ জন

    Indian-Flagged Vessel: ওমান উপকূলে ভারতের পতাকাবাহী জাহাজে হামলা! মৃত ১ ভারতীয় নাবিক, উদ্ধার ১৩ জন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরব দুনিয়ায় (Middle East) চলমান অশান্তির আবহে ওমান উপকূলে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা। ভয়াবহ ওই হামলায় প্রাণ হারালেন এক ভারতীয় নাবিক (Indian Sailor Death)। আক্রান্ত ‘আল ইউসুফি’ (Al Jusufi) নামের পণ্যবাহী ওই জাহাজটিতে ঘটনার সময় জাহাজটিতে মোট ১৪ জন ভারতীয় নাবিক উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও একজনের মৃত্যু হয়েছে। কেন্দ্রীয় জাহাজ চলাচল মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে হামলার তীব্র নিন্দা করেছে ভারত। বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, গত ২ নভেম্বর ওমানের উপকূলের কাছে লিমাহ (Limah) এলাকায় ভারতীয় জাহাজ ‘এমএসভি আল জুসুফি’ (MSV AL JUSUFI)-তে ড্রোন হামলা হয়।

    হামলায় মৃত গুজরাটের নাবিক

    মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিদেশমন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে এই ঘটনার কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাহাজে থাকা ১৪ জন ভারতীয়ের মধ্যে ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওমানের কোস্ট গার্ড তাঁদের উদ্ধার করে। আহত অবস্থায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছে বিদেশমন্ত্রক। পাশাপাশি, ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং উদ্ধার হওয়া ভারতীয়দের পাশাপাশি মৃত নাবিকের দেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ওমান প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বিদেশমন্ত্রক। এই ঘটনায় গুজরাটের বাসিন্দা নাবিক গন্ধর নাহিম আজিজ (Gandhar Nahim Ajij)-এর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।

    হামলার নিন্দা ভারতের, উত্তেজনা প্রশমনের বার্তা

    এই হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে নিশানা করে একের পর এক হামলার ঘটনা অত্যন্ত চিন্তার। অবিলম্বে এই উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে চলতি কূটনৈতিক আলোচনা দ্রুত শেষ করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খোঁজার বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং অসামরিক পরিকাঠামোর উপর হামলা বন্ধ করতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে ওই অঞ্চলের জলপথে অবাধ ও নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচল এবং বাণিজ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    কারা এই হামলা চালিয়েছে

    কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে, কী ধরণের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়। তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করা পণ্যবাহী জাহাজগুলি ওমান উপকূল হয়েই চলাচল করে। আন্তর্জাতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ গত কয়েক মাস ধরেই অশান্ত হয়ে রয়েছে। আমেরিকা-ইরান সংঘাতের মাঝে এই জলপথ দিয়ে চলাচল করা একাধিক জাহাজে হামলা হয়েছে। তবে সেগুলি ছিল অন্য দেশের জাহাজ। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে শুরুর দিকে ভারতের পতাকাবাহী জাহাজগুলি মোটের উপর নিরাপদেই হরমুজ এবং সংলগ্ন জলপথ পেরিয়ে আসতে পারছিল। তবে গত কয়েক মাসে বার বার ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের পণ্যবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে। সোমবারের হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগও দানা বাঁধতে শুরু করেছে।

    পরপর হামলা ভারতীয় জাহাজে

    কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল সমাজমাধ্যমে জানান, গান্ধার নাহিম আজিজ নামে ওই নিহত নাবিক গুজরাতের বাসিন্দা। গোলার আঘাতে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। বাকি ১৩ জন নাবিককে নিরাপদে ওই ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ থেকে উদ্ধার করেছে ওমানের উপকূলরক্ষী বাহিনী। মন্ত্রী জানান, নাহিমের দেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ওমানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাস যোগাযোগ রাখছে। বাকি নাবিকদেরও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে দূতাবাস। উল্লেখ্য, গত মে মাসে গোলার আঘাতে ওমান উপকূলের কাছে ডুবে যায় একটি ভারতীয় জাহাজ। ওই হামলারও নিন্দা জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। তার পরে গত জুনেও ওমান উপকূলে ভারতীয় জাহাজের উপরে হামলা হয়েছিল।

    ওই অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ফেরানোর দাবি

    পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীকে (Strait of Hormuz) কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিয়ে বার বার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। পণ্যবাহী অসামরিক জাহাজে হামলা যাতে কোনও ভাবেই কাম্য নয়, তা স্পষ্ট করেছে নয়াদিল্লি। এই পরিস্থিতির জন্য পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাকেই দায়ী করে ভারত বিভিন্ন সময়ে বুঝিয়ে দিয়েছে, কূটনৈতিক পদ্ধতিতে সমস্যার সমাধানেরই পক্ষপাতী নয়াদিল্লি। ওই অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ফেরানো যে জরুরি, তা-ও স্পষ্ট করেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আরব দুনিয়ার এই সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও পারস্য উপসাগরে জাহাজে হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত অন্তত ২২ জন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ১৪ জনই নাবিক। গত মাসে এক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সমুদ্রপথে নাবিকদের সম্মিলিত নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছিলেন। নয়াদিল্লির বক্তব্য, সমুদ্রপথে নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই জলপথে অস্থিরতা বাড়লে শুধু নাবিকদের জীবন নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহও বিপর্যস্ত হতে পারে।

LinkedIn
Share