Blog

  • Grand Durga Visarjan Procession: শ্রীনগরের লালচকে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, উৎসবে মাতল কাশ্মীরের বাঙালি সমাজ

    Grand Durga Visarjan Procession: শ্রীনগরের লালচকে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, উৎসবে মাতল কাশ্মীরের বাঙালি সমাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কয়েক দশকের বিরতির পর জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগরের কেন্দ্রস্থল লালচকে দুর্গাপুজোর বর্ণাঢ্য বিসর্জন শোভাযাত্রা ঘিরে তৈরি হল উৎসবের আবহ (Grand Durga Visarjan Procession)। মহারাজা বাজার থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি ঐতিহাসিক ঘণ্টাঘর হয়ে আমিরা কদল পর্যন্ত যায়। শোভাযাত্রায় দুর্গা, কালী, লক্ষ্মী এবং গণেশের প্রতিমা নিয়ে অংশ নেন (Srinagar) ভক্তরা। পরে ঝিলম নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দশমীর অনুষ্ঠান। আয়োজকদের মতে, শ্রীনগরের বুকে এত বড় মাপের ধর্মীয় শোভাযাত্রা কয়েক দশক ধরে দেখা যায়নি। দীর্ঘ বিরতির পর লালচক এলাকায় প্রকাশ্যে দুর্গাপুজোর উৎসব উদ্‌যাপনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

    সহযোগিতার প্রশংসা (Grand Durga Visarjan Procession)

    দুর্গাপুজোর আয়োজন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ এবং নিরাপত্তাবাহিনীর সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন ভক্তরা। তাঁদের বক্তব্য, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সহায়তায় শ্রীনগরে এ বার আরও বড় পরিসরে উৎসব উদ্‌যাপন সম্ভব হয়েছে। বাঙালি সম্প্রদায়ের সদস্য প্রসেন মণ্ডল বলেন, “সবাই আমাদের সহযোগিতা করেছেন। এখানে কোনও বৈষম্য নেই। আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। স্থানীয় কাশ্মীরি বাসিন্দা থেকে শুরু করে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী—সকলেই আমাদের পাশে রয়েছেন। আমরা এখানে থাকি এবং কাজ করি। সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলার পরিবেশ তৈরি হওয়ায় এ বার আরও বড় পরিসরে উৎসব পালন করতে পেরেছি।”

    ভূস্বর্গে বদলের ছবি

    বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে ঘিরে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবেগের পাশাপাশি শ্রীনগরের কেন্দ্রস্থলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণও নজর কেড়েছে। বিজয়া দশমী উপলক্ষে প্রচলিত আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসব পালন করেন ভক্তরা। শোভাযাত্রার শেষ পর্বে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন মহিলারা। দুর্গাপুজোর সমাপ্তি উপলক্ষে প্রচলিত এই আচারকে ঘিরেও দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ। আয়োজকদের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব সম্পন্ন হওয়া সামাজিক সম্প্রীতি ও জননিরাপত্তা বজায় রাখার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে ((Grand Durga Visarjan Procession))।

    বেজায় খুশি কাশ্মীরি পণ্ডিতরাও

    শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের সদস্যরাও এই আয়োজনকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে উৎসবে যোগ দেওয়ায় পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিদিতা নামে এক তরুণী কাশ্মীরি পণ্ডিত বলেন, “আমার জন্ম ২০১০ সালে। এখানে এমন প্রতিমা বিসর্জন আমি আগে কখনও দেখিনি। কাশ্মীরে এই প্রথম এমন অভিজ্ঞতা হল। বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পেরে এবং এই সম্প্রীতির সাক্ষী হতে পেরে আমি খুব খুশি। আমরা লালচক পর্যন্ত হেঁটেছি, ঘণ্টাঘরে গিয়েছি এবং আমিরা কদল হয়ে ফিরেছি। কাশ্মীরে ইতিবাচক পরিবর্তন সত্যিই চোখে পড়ছে।”

    শোভাযাত্রা দেখতে ভিড় স্থানীয় বাসিন্দাদের

    শোভাযাত্রা দেখতে পথের দু’পাশে জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা। উৎসব দেখার পাশাপাশি তাঁরা ভক্তদের শুভেচ্ছাও জানান। ব্যস্ত শহরকেন্দ্রের মধ্যে দিয়ে শোভাযাত্রা নির্বিঘ্নে এগিয়ে নিয়ে যেতে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি উৎসবের সামাজিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি এই ধরনের আয়োজন পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে তুলতে সাহায্য করে বলেও মনে করছেন (Srinagar) অংশগ্রহণকারীরা।

    ‘কাশ্মীরিয়ত’

    ঝিলম নদীতে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। ভক্তদের কাছে এই আয়োজন কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠানের শেষ পর্ব নয়, বরং কাশ্মীরের বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সহাবস্থানেরও প্রতীক। এই ঐতিহ্যকে প্রায়ই ‘কাশ্মীরিয়ত’ নামে উল্লেখ করা হয়। শ্রীনগরের এই শোভাযাত্রায় বিভিন্ন পটভূমির মানুষের অংশগ্রহণ ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান এবং সামাজিক সংহতির একটি প্রকাশ্য ছবি তুলে ধরে। কয়েক দশক পর শহরের কেন্দ্রস্থলে এমন আয়োজন ঘিরে স্থানীয়দের উৎসাহও ছিল উল্লেখযোগ্য ((Grand Durga Visarjan Procession))।

  • PM Modi Attacks Congress: ‘কংগ্রেস ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, দলকে নিয়ন্ত্রণ করছে দিমাগি নকশালরা’, আক্রমণ প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi Attacks Congress: ‘কংগ্রেস ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, দলকে নিয়ন্ত্রণ করছে দিমাগি নকশালরা’, আক্রমণ প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভারতের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Attacks Congress)। তাঁর অভিযোগ, ‘দিমাগি নকশালরা’ কংগ্রেসের চিন্তাভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এর ফলে দলটি কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। বৃহস্পতিবার একটি সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কংগ্রেসের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে সরব হন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, দেশের সাফল্য ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে তুলে ধরার পরিবর্তে কংগ্রেস নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। রাহুল (Modi to Rahul) গান্ধীকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রশ্ন, আর কতদিন নিজেদের ‘ব্যর্থ প্রোডাক্ট’ লঞ্চ করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে হাত শিবির? একই সঙ্গে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশিদের হস্তক্ষেপে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

    ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের নেতৃত্বে প্রতিবাদের আবহেই প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মোদি বলেন, “যখন গোটা বিশ্ব নতুন বিশ্বব্যবস্থার সন্ধান করছে, তখন কিছু মানুষ ভারতে বিশৃঙ্খলার স্বপ্ন দেখছেন।” কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিদেশের মাটিতে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রত্যাশা করার অভিযোগও তোলেন তিনি। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, নিজেদের ‘ব্যর্থ পণ্য’কে সামনে আনতে কংগ্রেস আর কত দিন দেশের স্বার্থকে বাজি রাখবে?

    ‘বিক্ষোভের আওয়াজে চাপা পড়ছে অন্য বিরোধীদের বক্তব্য’

    প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যুক্তিসংগত বক্তব্য তুলে ধরতে চাওয়া বিরোধী নেতাদের কণ্ঠস্বর কংগ্রেসের হট্টগোলে চাপা পড়ছে। তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে যাঁরা বৈধ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিজেদের বক্তব্য জানাতে চান, কংগ্রেসের বিক্ষোভ ও হইচইয়ের কারণে তাঁদের বক্তব্য মানুষের কাছে পৌঁছতে পারছে না। কংগ্রেসের আদর্শগত অবস্থান নিয়ে আক্রমণ আরও তীব্র করে মোদি দাবি করেন, একসময় যারা জঙ্গলে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালাত, তারাই এখন কংগ্রেসের চিন্তাভাবনার মধ্যে ঢুকে পড়েছে এবং দেশের ক্ষতি করার পথে এগোচ্ছে। এই প্রসঙ্গেই তিনি ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন।

    ‘পরিবারতন্ত্রই কংগ্রেসের বোঝা’

    কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পরিবারতন্ত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দেশের উন্নয়ন, সাফল্য এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্জনকে রাজনৈতিক সংঘাতের বিষয় করে তোলা হচ্ছে। নেতৃত্বের বারবার ব্যর্থতা থেকে নজর ঘোরাতেই এই কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মোদির দাবি, কংগ্রেসের অন্দরেও দলের সমস্যাগুলি সম্পর্কে প্রবীণ নেতারা অবগত। কিন্তু অসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও তাঁরা প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। তিনি বলেন, “এই পরিবার কংগ্রেস দলের কাছে বোঝা হয়ে উঠেছে। দলের প্রবীণ নেতারাও বিষয়টি উপলব্ধি করছেন।” প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, কংগ্রেসের এই রাজনৈতিক আচরণ সরকারের সমালোচনা করতে চাওয়া অন্য নেতাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং গণতান্ত্রিক পরিসরকে দুর্বল করছে।

    ‘ব্যর্থ প্রোডাক্ট লঞ্চ করতে আর কত চেষ্টা করবে কংগ্রেস?’

    রাহুল গান্ধীর নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও তাঁকে লক্ষ্য করেই কংগ্রেসের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার বারবার চেষ্টা নিয়ে কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। মহাকাশ গবেষণায় একের পর এক উৎক্ষেপণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শ্রীহরিকোটায় এক বছরে যত উৎক্ষেপণ হয়, তার চেয়েও বেশি বার কংগ্রেস তাদের নেতাকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “কংগ্রেস তাদের ব্যর্থ প্রোডাক্ট লঞ্চ করার জন্য দেশের স্বার্থকে আর কতদিন বাজি রাখবে, তা আমি জানি না। শ্রীহরিকোটায় এক বছরে যত লঞ্চ হয়, কংগ্রেস তার নেতাকে লঞ্চ করার ব্যর্থ চেষ্টা তার চেয়েও বেশি বার করে।” এখানেই থামেননি মোদি। তাঁর অভিযোগ, একটি পরিবারকে ব্যর্থতার দাগ থেকে বাঁচাতে গিয়ে কংগ্রেস দেশের সাফল্য, গৌরব ও উন্নয়নকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। আঙুর টক হওয়ার উপমা টেনে তিনি বলেন, কংগ্রেস এখন নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতার জেরে গোটা ব্যবস্থাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইছে।

    কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ বলেও কটাক্ষ

    এদিন কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ বলেও আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, অন্য রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় কংগ্রেস। ক্ষমতা হারানোর পর দলটির রাজনৈতিক অবস্থানেও ক্ষোভ ও বিরূপ মনোভাবের প্রতিফলন দেখা যায় বলে দাবি করেন তিনি। মোদির বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু সেই মতপার্থক্যের কারণে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি কিংবা উন্নয়নের সাফল্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলা উচিত নয়। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন এই মন্তব্য ঘিরে কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়ার দিকে। রাহুল গান্ধীকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণ জাতীয় রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাতকে আরও তীব্র করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সংসদ অচল করার অভিযোগ

    সংসদে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মোদি। তাঁর অভিযোগ, সংসদের কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে কংগ্রেস বিরোধী শিবিরের তরুণ সাংসদদের নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে। একই সঙ্গে বিরোধী শিবিরের অন্য নেতাদের গুরুত্ব কমিয়ে একজন নেতাকেই বারবার সামনে রাখা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রশাসনিক দুর্বলতা তুলে ধরা কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের দাবি জানিয়ে আয়োজিত প্রতিবাদগুলিকে কংগ্রেস রাজনৈতিক সংঘাতে পরিণত করছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। সবশেষে কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ বলে কটাক্ষ করেন মোদি। তাঁর বক্তব্য, দলের এই রাজনৈতিক কৌশল অন্য বিরোধী নেতাদের নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার পথে বাধা সৃষ্টি করছে। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Tibet Earthquake: তিব্বতে ৭.০ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, মৃত অন্তত ১৬, ধ্বংস শতাধিক বাড়ি

    Tibet Earthquake: তিব্বতে ৭.০ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, মৃত অন্তত ১৬, ধ্বংস শতাধিক বাড়ি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনের তিব্বতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণ হারালেন অন্তত ১৬ জন। আহত হয়েছেন আরও ৫৪ জন। বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিট নাগাদ ৭.০ মাত্রার এই ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উত্তর তিব্বতের নাগকু শহর ও সংলগ্ন এলাকায়। সরকারি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পের জেরে অন্তত ৩৩৯টি বাড়ি এবং ২০টি পশু রাখার শেড ভেঙে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা জানতে চলছে তল্লাশি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য আশ্রয়, খাবার ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজও শুরু করেছে প্রশাসন।

    নাগকুতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, উদ্ধারকাজে ১,৬০০ জন

    ভূমিকম্পের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে নাগকু শহর ও তার আশপাশের এলাকায়। নাগকু প্রশাসনের মিডিয়া দফতর জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩৩৯টি বাড়ি ও ২০টি পশু রাখার শেড ধসে পড়ার খবর মিলেছে। বহু পরিবার ঘরছাড়া হয়েছেন। দুর্গম ও উচ্চ পার্বত্য এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানোও যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের হয়ে উঠেছে।

    উদ্ধার ও ত্রাণের কাজে সাহায্য করতে স্থানীয় জেলা থেকে ১,৬০০-রও বেশি মানুষকে পাঠানো হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কাজ করছেন তাঁরা। মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

    ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য বিপুল পরিমাণ জরুরি সামগ্রী পাঠিয়েছে প্রশাসন। এর মধ্যে রয়েছে ১,০০০টি প্রিফ্যাব্রিকেটেড আবাসন ইউনিট, প্রায় ৩,০০০টি তাঁবু, ভাঁজ করা বিছানা, টর্চ এবং শীতের পোশাক। তিব্বতের এই পার্বত্য অঞ্চলে ঠান্ডার মধ্যে বহু মানুষ ঘরছাড়া হওয়ায় অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    ধসের জেরে বন্ধ জাতীয় সড়ক, ব্যাহত রেল পরিষেবা

    ভূমিকম্পের প্রভাবে তিব্বতের একাধিক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে স্থানীয় রেল কর্তৃপক্ষও জরুরি পদক্ষেপ করেছে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    অন্যদিকে, ভূমিকম্পের জেরে পাহাড় থেকে পাথর গড়িয়ে পড়ায় জাতীয় সড়ক ৩১৭-এর একটি অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাস্তা থেকে পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে। আপাতত ওই অংশ দিয়ে শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবার গাড়ি, উদ্ধারকারী দল এবং প্রশাসনের ত্রাণবাহী যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

    যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা এবং দুর্গত এলাকাগুলিতে দ্রুত পৌঁছনোর জন্য রাস্তা পরিষ্কারের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং প্রতিকূল আবহাওয়া উদ্ধারকাজের গতি কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    কোথায় ছিল ভূমিকম্পের উৎস? জানাল ইউএসজিএস

    মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উপকেন্দ্র ছিল নাগকু শহর থেকে প্রায় ১৯১ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়।

    উত্তর তিব্বতের এই অঞ্চলটি উচ্চ পার্বত্য এবং তুলনামূলকভাবে কম জনবসতিপূর্ণ। তবে ভূমিকম্পের তীব্রতা এবং একাধিক বাড়ি ধসে পড়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

    প্রাথমিক কম্পনের পর অন্তত সাতটি পরবর্তী কম্পন বা আফটারশকেরও রেকর্ড পেয়েছে USGS। সেগুলির মাত্রা ছিল ৪.৩ থেকে ৫.২-এর মধ্যে। প্রতিটি আফটারশকের উৎপত্তি হয়েছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ১০ কিলোমিটার গভীরে।

    তুষারপাতের পূর্বাভাস, বাড়ছে উদ্ধারকাজের চ্যালেঞ্জ

    ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত তিব্বতের এলাকায় আগামী তিন দিন ধরে থেমে থেমে তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে চিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া। এর ফলে উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    বিশেষত যাঁরা বাড়ি হারিয়ে অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের জন্য ঠান্ডা থেকে সুরক্ষা এবং পর্যাপ্ত আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই তাঁবু, অস্থায়ী আবাসন, বিছানা ও শীতের পোশাক সরবরাহের উপর জোর দিচ্ছে প্রশাসন।

    উদ্ধারকাজে সর্বশক্তি প্রয়োগের নির্দেশ শি জিনপিংয়ের

    ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সর্বশক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার, আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্গত পরিবারগুলিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উপর জোর দিয়েছেন তিনি। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারী দলগুলি।

    চিনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এই অঞ্চলে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি। তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে নাগকুর দূরত্ব ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি।

    প্রাণহানি, বাড়িঘর ধসে পড়া এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ঘটনায় উত্তর তিব্বতের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আপাতত উদ্ধারকাজ, আহতদের চিকিৎসা এবং ঘরছাড়া পরিবারগুলির জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

  • India on Saudi Attack: সৌদিতে বিমানবন্দর ও তেলকূপে হামলায় মৃত এক ভারতীয়, নিন্দা নয়াদিল্লির

    India on Saudi Attack: সৌদিতে বিমানবন্দর ও তেলকূপে হামলায় মৃত এক ভারতীয়, নিন্দা নয়াদিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো, বিমানবন্দর ও তেলকূপে ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানাল ভারত। এই হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক-সহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আটজন, যাঁদের মধ্যে দু’জন ভারতীয়। বুধবার রাতে সৌদি আরবের দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তি আহত হন। তাঁদের মধ্যে ভারতীয়, পাকিস্তানি, বাংলাদেশিও রয়েছেন। ২১ অক্টোবর সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সৌদি আরামকোর শায়বাহ তেলকূপেও হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। এই হামলার ঘটনায় নিন্দা করেছে ভারত।

    সৌদির ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা

    বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর এই ধরনের হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। অবিলম্বে এই হামলা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশটির সরকার ও জনগণের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছে নয়াদিল্লি। হামলায় নিহত ভারতীয় নাগরিকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়েছে। রিয়াধে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা করছে বলেও জানানো হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই হামলার নিন্দা করে বিবৃতি দিয়েছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, ‘‘আমরা আবারও জোর দিয়ে বলছি, সাধারণ নাগরিক এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর উপর এ ধরনের হামলা কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে এমন হামলা বন্ধ হওয়া উচিত। সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে আমরা সে দেশের জনগণ এবং সরকারের পাশে আছি। আশা করি, দ্রুত ওই অঞ্চলে শান্তি এবং স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে।’’

    হামলার নেপথ্যে কারা 

    রিয়াধে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তারা হামলার ঘটনা সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে। শুধু তা-ই নয়, নিহত এবং আহত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তবে কে বা কারা এই হামলার নেপথ্যে রয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও অতীতে সৌদির বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার দায় স্বীকার করেছিল ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। সৌদি আরবের অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, হামলার ফলে কিং ফাহদ বিমানবন্দরে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা মূল্যায়ন করে দেখা হচ্ছে। বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ ছিল। তবে কিছুক্ষণ পরে আবার পরিষেবা স্বাভাবিক হয় বিমানবন্দরের।

    সৌদি-আরবে অশান্তি চেষ্টা

    চলতি মাসে প্রায় প্রতি দিনই সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে হুথি। দিন কয়েক আগেই রিয়াধ থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে দামাম বিমানবন্দরে হামলা চালায় ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী। গত কয়েক দিন ধরেই সৌদির রাজধানী রিয়াদে কিং খলিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে নিশানা করে যাচ্ছে হুথি গোষ্ঠী। গত ১০ অক্টোবর বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তারা। তাতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়। জখম হন তিন শতাধিক। জখমদের মধ্যে রয়েছে ১১ জন ভারতীয়ও। হামলার নিন্দা জানিয়েছিল ভারতও। সৌদির দামাম বিমানবন্দর এবং জ্বালানি সংস্থা আরামকোর বেশ কয়েকটি শোধনাগারেও হামলা চালায় হুথি।

    নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা মোদির

    পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে ইতিমধ্যেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই নেতা ভারত-ইজরায়েল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং দুই দেশের বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের বিবৃতি অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়। অবিলম্বে ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার উপর তাঁরা জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি পুনরায় স্পষ্ট করে দেন, আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিক পথেই এই সংকটের সমাধান খুঁজে বের করা উচিত।

    আটকে পড়া ওমরাহ যাত্রীদের ফেরাতে উদ্যোগ

    পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির অবনতির জেরে বিমান পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরবে আটকে পড়া ভারতীয় ওমরাহ যাত্রীদের দেশে ফেরাতে তৎপর হয়েছে কেন্দ্র। রিয়াধ ও জেদ্দায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস বিমান সংস্থা এবং ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে প্রায় ৩,০০০ আটকে পড়া ওমরাহ যাত্রী উপলব্ধ বিমান পরিষেবার মাধ্যমে সৌদি আরব থেকে ভারতে ফিরেছেন। পাশাপাশি, আগে থেকেই উপলব্ধ বিমানের টিকিট বুক করা আরও ১০,০০০-এর বেশি ওমরাহ যাত্রীও ওই সময়ের মধ্যে দেশে ফিরেছেন। বাকি যাত্রীদের দ্রুত দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তার জন্য ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে এবং নিয়মিত সতর্কবার্তা ও পরামর্শ জারি করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক।

     কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফেরানোর বার্তা

    সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় বহু ভারতীয় তীর্থযাত্রী আটকে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তাঁদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি। আটকে পড়া যাত্রীদের ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত বিমানের ব্যবস্থা করারও আহ্বান জানিয়েছেন ওয়েইসি। পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে একদিকে সৌদি আরবে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে আটকে পড়া তীর্থযাত্রীদের দেশে ফেরানো—এই দুই বিষয়েই তৎপরতা বাড়িয়েছে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর বার্তাও দিয়েছে ভারত সরকার।

  • Suvendu Adhikari: নতুন সরকারের প্রথম গঙ্গাসাগর মেলা, প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে শনিবার কাকদ্বীপে শুভেন্দু, কী কী পরিকল্পনা?

    Suvendu Adhikari: নতুন সরকারের প্রথম গঙ্গাসাগর মেলা, প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে শনিবার কাকদ্বীপে শুভেন্দু, কী কী পরিকল্পনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭-এর প্রস্তুতি, সুন্দরবনের উন্নয়ন এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রশাসনিক পরিকাঠামো—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে শনিবার কাকদ্বীপ সফরে যাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি কাকদ্বীপ স্টেডিয়াম ময়দানে একটি জনসভায় বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে তাঁর। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন সরকারের অধীনে প্রথম গঙ্গাসাগর মেলা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ২০২৭ সালে। তাই মেলার প্রস্তুতি থেকে শুরু করে সুন্দরবন এলাকার উন্নয়ন, একাধিক বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭: নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোয় বিশেষ নজর

    প্রশাসনিক সূত্রে খবর, শনিবার কাকদ্বীপে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সামগ্রিক পরিস্থিতি, চলতি উন্নয়নমূলক কাজ, প্রশাসনিক পরিকাঠামো এবং সুন্দরবনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি, গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭-এর প্রস্তুতি বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    প্রতিবছর মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে গঙ্গাসাগরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। এই বিপুল জনসমাগম সামলাতে নিরাপত্তা, পরিবহণ, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো একাধিক ক্ষেত্রে প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে হয়। বিশেষ করে কচুবেড়িয়া থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত যাতায়াত, নদীপথে পারাপার, পানীয় জল, বিদ্যুৎ এবং চিকিৎসা পরিষেবা সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সেই কথা মাথায় রেখে আসন্ন মেলার জন্য আগাম পরিকল্পনা এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। নতুন সরকারের অধীনে গঙ্গাসাগর মেলাকে আরও সুশৃঙ্খল ও আকর্ষণীয় করে তোলার ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।

    মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন মন্ত্রী ও প্রশাসনিক কর্তারা

    মুখ্যমন্ত্রীর কাকদ্বীপ সফরের আগে কাকদ্বীপ স্টেডিয়াম ময়দানে গিয়ে সভাস্থলের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা, সাগরের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক, সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার-সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকেরা। জনসভার আয়োজন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।

    এরপর মহকুমা শাসকের দফতরে প্রশাসনিক বৈঠকও করেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা বলেন, ‘শনিবার কাকদ্বীপে আসবেন মুখ্যমন্ত্রী। তার আগে সমস্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকও করা হয়েছে।’

    জাতীয় মেলার স্বীকৃতি ও পৃথক সুন্দরবন জেলা নিয়ে জল্পনা

    গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। ফলে আসন্ন প্রশাসনিক বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে কোনও আলোচনা হয় কি না, তা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা এখনও জানা যায়নি।

    অন্যদিকে, সুন্দরবনের উন্নয়ন, প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন এবং পৃথক সুন্দরবন জেলা গঠনের সম্ভাবনা নিয়েও বিভিন্ন মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সুন্দরবন এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যার প্রেক্ষিতে এই বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তবে শনিবারের বৈঠকে এ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রশাসনিক বৈঠকে জেলা পরিষদের আধিকারিকদের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

    সব মিলিয়ে, গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭-এর প্রস্তুতি, সুন্দরবনের উন্নয়ন এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রশাসনিক পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাকদ্বীপ সফর ঘিরে প্রত্যাশা বাড়ছে। প্রশাসনিক বৈঠকে কী কী বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

  • India at UN: রাষ্ট্রসংঘে ভারতের কড়া বার্তা! ‘যাচাইহীন অভিযোগে কলঙ্কিত করা যাবে না বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে’

    India at UN: রাষ্ট্রসংঘে ভারতের কড়া বার্তা! ‘যাচাইহীন অভিযোগে কলঙ্কিত করা যাবে না বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কড়া অবস্থান নিল নয়াদিল্লি। যাচাই না করা অভিযোগ, অসম্পূর্ণ পরিসংখ্যান এবং নির্দিষ্ট দেশ সম্পর্কে পর্যবেক্ষণহীন রিপোর্টের ভিত্তিতে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল ভারত। একইসঙ্গে ভারতের বক্তব্য, মানবাধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনা ও সহযোগিতায় নয়াদিল্লি প্রস্তুত। তবে সেই প্রক্রিয়া হতে হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং তথ্যনির্ভর। মানবাধিকারকে কোনও দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি বা বেছে বেছে নিশানা করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বা জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনা চলাকালীন ভারতের এই অবস্থান সামনে আসে। সেখানে বিদেশ মন্ত্রকের ডেপুটি সেক্রেটারি বরখা তামরাকার ভারতের বক্তব্য তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, যাচাই না করা অভিযোগকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরা এবং মানবিক উদ্বেগের ভিত্তিতে পাঠানো যোগাযোগকে দেশের বিরুদ্ধে রায়ের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

    ‘যাচাইহীন অভিযোগ দিয়ে ভারতকে কলঙ্কিত করা যাবে না’

    রাষ্ট্রসংঘে ভারতের প্রতিনিধি বরখা তামরাকার বলেন, “যাচাই না করা অভিযোগ, অসম্পূর্ণ পরিসংখ্যান কিংবা ভারত সম্পর্কে কোনও দেশ-নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ নেই এমন রিপোর্টকে ব্যবহার করে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির যে কোনও প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে ভারত।”

    একইসঙ্গে তিনি জানান, নির্দিষ্ট এবং যথাযথ নথিপত্র-সহ উপস্থাপিত ঘটনার বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাখ্যা দিতে ভারত প্রস্তুত। অর্থাৎ, মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে আলোচনার দরজা বন্ধ করতে চাইছে না নয়াদিল্লি। বরং ভারতের আপত্তি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই সেগুলিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতায়।

    ভারতের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই সহযোগিতার ভিত্তি হতে হবে আলোচনা, পরামর্শ, পারস্পরিক সহযোগিতা, নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতা। কোনও নির্দিষ্ট দেশকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলার উদ্দেশ্যে মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়কে ব্যবহার করা হলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

    রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট নিয়ে ভারতের আপত্তি কোথায়?

    জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনা ঘিরে ভারতের মূল আপত্তি রিপোর্ট ও অভিযোগের তথ্যগত ভিত্তি নিয়ে। ভারতের বক্তব্য, রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও বিশেষ প্রতিবেদক তাঁদের রিপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে কখনও কখনও অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি বা পক্ষের জমা দেওয়া তথ্যের উপর নির্ভর করেন। সেই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা না হলে তাকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

    তামরাকার রাষ্ট্রসংঘের সদস্য দেশগুলির প্রতিনিধিদের রিপোর্টের বক্তব্য যথাযথভাবে উদ্ধৃত করার আহ্বান জানান। তাঁর কথায়, কোনও মানবিক উদ্বেগের ভিত্তিতে পাঠানো যোগাযোগকে অতিরঞ্জিত করে একটি দেশের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায়ের মতো তুলে ধরা উচিত নয়।

    এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার বিরোধিতা করার পরিবর্তে তার পদ্ধতি ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নয়াদিল্লির অবস্থান, মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগের গুরুত্ব থাকলেও প্রতিটি অভিযোগের মূল্যায়ন হওয়া উচিত প্রামাণ্য তথ্য, নির্দিষ্ট ঘটনা এবং যাচাইযোগ্য নথির ভিত্তিতে।

    সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ ও বিচারব্যবস্থার কথা তুলে ধরল ভারত

    ভারতের প্রতিনিধি আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষাকবচগুলির কথাও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, ভারত একটি প্রাণবন্ত গণতন্ত্র, যেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত এবং নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত।

    ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনও ব্যক্তির বেআইনি আটক বা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগের ক্ষেত্রে বিচারবিভাগের হস্তক্ষেপ চাওয়ার সুযোগও রয়েছে। বিশেষত, হেবিয়াস কর্পাস বা বন্দি-উপস্থাপন সংক্রান্ত রিটের মাধ্যমে আদালত কোনও ব্যক্তিকে আটক রাখার বৈধতা খতিয়ে দেখতে পারে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারে।

    ভারতের বক্তব্য, এই স্বাধীন বিচারব্যবস্থা নাগরিকের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে কোনও নির্দিষ্ট ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তার প্রকৃত মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথি পরীক্ষা করা জরুরি বলেও ভারতের অবস্থান থেকে স্পষ্ট।

    তথ্যের অধিকার থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, কী কী যুক্তি ভারতের?

    মানবাধিকার রক্ষায় ভারতের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার উল্লেখ করেন বরখা তামরাকার। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    • ● তথ্যের অধিকার আইন (RTI): সরকারি কাজকর্মে স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    • ● জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC): মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পদক্ষেপের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক মঞ্চ রয়েছে।

    • ● রাজ্য মানবাধিকার কমিশন: রাজ্যস্তরেও মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

    • ● স্বাধীন বিচারব্যবস্থা: নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষায় আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ রয়েছে।

    • ● স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ: প্রশাসনের কাজকর্মের উপর নজরদারি, অভিযোগ প্রকাশ্যে আনা এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলি তুলে ধরার ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক সংগঠনগুলির ভূমিকা রয়েছে।

    ভারতের মতে, এই ব্যবস্থাগুলি সম্মিলিতভাবে নাগরিকের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কোনও মূল্যায়ন করতে হলে এই প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার বাস্তব তথ্যও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

    দিল্লিতে যুব বিক্ষোভ ঘিরে রাষ্ট্রসংঘের বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

    ভারতের এই কড়া অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে দিল্লিতে যুবকদের বিক্ষোভ ঘিরে মানবাধিকার সংক্রান্ত বিতর্কও। মঙ্গলবার জেনিভায় রাষ্ট্রসংঘের ২০ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞ দিল্লিতে যুবকদের কথিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের উপর পুলিশের বারবার কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    বিক্ষোভ চলাকালীন মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে অভিযোগ উঠেছে, তার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান তাঁরা। তাঁদের বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ এবং অভিযোগগুলির যথাযথ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্ন।

    অন্যদিকে, ভারতের বক্তব্য, যাচাইহীন বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে কোনও দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। তবে দিল্লির বিক্ষোভ ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলির বিষয়ে ভারতের বক্তব্য এবং রাষ্ট্রসংঘের বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ—দুটি বিষয়কেই পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য নির্দিষ্ট ঘটনা, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ খতিয়ে দেখা জরুরি।

    ককরোচ জনতা পার্টি বিতর্কেও রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টকে ‘শোনা কথা’ বলেছিল ভারত

    রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত রিপোর্ট নিয়ে ভারতের আপত্তি এই প্রথম নয়। এর আগে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের এক বিশেষ প্রতিবেদকের রিপোর্টেরও বিরোধিতা করেছিল নয়াদিল্লি।

    সেই রিপোর্টে ভারতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ‘শোনা কথা’ বা ‘হিয়ারসে’ বলে অভিহিত করেছিল ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য ছিল, অজ্ঞাত পরিচয় সূত্রের উপর নির্ভর করে এবং যাচাই না করা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিরুদ্ধে বিস্তৃত অভিযোগ তোলা কোনওভাবেই নির্ভরযোগ্য প্রমাণের বিকল্প হতে পারে না।

    ভারতের প্রতিনিধি সেই সময় বলেছিলেন, “অজ্ঞাত এবং যাচাই না করা দাবির উপর ভিত্তি করে বিশ্বের বৃহত্তম যুব জনসংখ্যার বিরুদ্ধে এমন বিস্তৃত অভিযোগ কোনও প্রমাণ নয়। এটি রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টের মোড়কে সাজানো শোনা কথা।”

    এই অবস্থানের সঙ্গে বর্তমান বক্তব্যেরও মিল রয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই ভারতের মূল আপত্তি রিপোর্টের তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, অভিযোগ যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মঞ্চের নিরপেক্ষতা নিয়ে।

    জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন প্রসঙ্গ

    আলোচনায় জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের বিষয়টিও উঠে এসেছে। ভারত জানিয়েছে, নয়াদিল্লি International Convention for the Protection of All Persons from Enforced Disappearance-এর স্বাক্ষরকারী।

    এই কনভেনশন জোরপূর্বক গুমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার কাঠামো। তবে কোনও আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করা এবং সেটির অধীনে পূর্ণাঙ্গ আইনগত বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করা এক বিষয় নয়। কোনও রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে কনভেনশনের আইনগত বাধ্যবাধকতার পরিধি নির্ধারণে তার অনুমোদন বা অনুসমর্থনের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ।

    তাই ভারতের স্বাক্ষরকারী হওয়ার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য হলেও, একে কনভেনশনের সমস্ত বাধ্যবাধকতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণ করার সমতুল্য হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

     

  • MIB Advisory: টিভি চ্যানেলগুলিকে কেন্দ্রের কড়া বার্তা! জঙ্গিদমন অভিযান নিয়ে লাইভ সম্প্রচারে সতর্কতা, এআই ব্যবহারেও বিধি আরোপ

    MIB Advisory: টিভি চ্যানেলগুলিকে কেন্দ্রের কড়া বার্তা! জঙ্গিদমন অভিযান নিয়ে লাইভ সম্প্রচারে সতর্কতা, এআই ব্যবহারেও বিধি আরোপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলগুলির জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। জঙ্গি দমন অভিযান চলাকালীন সরাসরি সম্প্রচার, হিংসাত্মক ঘটনার দৃশ্য দেখানো এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে পারে এমন বিতর্কমূলক অনুষ্ঠান নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলিকে সতর্ক করেছে মন্ত্রক। একইসঙ্গে টেলিভিশন সংবাদ পরিবেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার নিয়েও নির্দিষ্ট সীমারেখা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বুধবার, ২১ অক্টোবর এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    মন্ত্রকের বক্তব্য, টেলিভিশনে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইন ও সম্প্রচারবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ক্ষেত্রে নিয়ম না মানার অভিযোগ সামনে আসার পরেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রের স্পষ্ট বার্তা, সংবাদ পরিবেশনের নামে এমন কোনও বিষয় প্রচার করা যাবে না, যা দেশের নিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি কিংবা সংবেদনশীল পরিস্থিতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    জঙ্গি দমন অভিযানের লাইভ সম্প্রচারে সতর্কতা

    নতুন নির্দেশিকায় সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান সংক্রান্ত খবর পরিবেশনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। অভিযান চলাকালীন সরাসরি সম্প্রচার এড়িয়ে চলতে হবে সংবাদমাধ্যমগুলিকে। এ ধরনের অভিযানের সময় টেলিভিশনে প্রচারিত তথ্য বা দৃশ্য নিরাপত্তা বাহিনীর কাজকে প্রভাবিত করতে পারে। সেই কারণে অভিযানের গতিবিধি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য কিংবা ঘটনাস্থলের এমন কোনও বিবরণ প্রচার করা উচিত নয়, যা অভিযানের স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে।

    পাশাপাশি, অপরাধ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং হিংসাত্মক ঘটনার খবর দেখানোর ক্ষেত্রেও সংযম বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরতে গিয়ে অতিরিক্ত হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর দৃশ্য বারবার দেখানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

    সংবাদ পরিবেশনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত দর্শকদের নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া। উত্তেজনা তৈরি করা বা দর্শক টানার জন্য ঘটনার সংবেদনশীল দিকগুলিকে অতিরঞ্জিত করা কোনওভাবেই কাম্য নয়—নির্দেশিকার মূল বক্তব্য এমনটাই।

    সাম্প্রদায়িক ও দেশবিরোধী মনোভাব ছড়ায়, এমন বিতর্কে নিষেধাজ্ঞার বার্তা

    টেলিভিশনের বিতর্কমূলক অনুষ্ঠান নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এমন কোনও আলোচনা, বিতর্ক বা প্যানেল শো সম্প্রচার করা যাবে না, যা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ কিংবা দেশবিরোধী মনোভাবকে উৎসাহিত করে।

    বর্তমানে বিভিন্ন সংবাদচ্যানেলে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে সরাসরি বিতর্কের চল রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং উস্কানিমূলক মন্তব্য আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। এর ফলে প্রকৃত বিষয়টি আড়ালে চলে যাওয়ার পাশাপাশি সামাজিক বিভাজনও বাড়তে পারে।

    এই পরিস্থিতিতে আলোচনার বিষয়বস্তু, অতিথিদের বক্তব্য এবং সঞ্চালকের ভূমিকার উপর সম্পাদকীয় নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে মন্ত্রক। তবে নির্দেশিকার এই অংশের মূল লক্ষ্য কেবল বিতর্কের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং সম্প্রচারের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক বা দেশবিরোধী মনোভাব ছড়িয়ে পড়া আটকানো।

    এআই দিয়ে সংবাদ পরিবেশনেও লাগাম

    টেলিভিশন সংবাদে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়তে থাকায় এই প্রযুক্তি নিয়েও সতর্ক করেছে কেন্দ্র। এআই-নির্ভর গ্রাফিক্স, ভার্চুয়াল সংবাদ উপস্থাপক এবং অন্যান্য কৃত্রিমভাবে তৈরি দৃশ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমগুলিকে নির্দিষ্ট নীতি মেনে চলতে বলা হয়েছে।

    মন্ত্রকের নির্দেশ, সংবাদ তৈরির ক্ষেত্রে এআই-কে সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবেই ব্যবহার করতে হবে। এই প্রযুক্তির প্রয়োগ যেন খবরের নির্ভুলতা, সত্যতা এবং সংবেদনশীলতা নষ্ট না করে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সম্প্রচারকারী সংস্থার।

    বিশেষ করে, কৃত্রিমভাবে তৈরি কোনও ছবি বা দৃশ্য যদি বাস্তব ঘটনার ছবি হিসেবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়, তাহলে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সংবেদনশীল ঘটনা, অপরাধ কিংবা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সঙ্গে সম্পর্কিত খবরের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভুল আরও গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এআই-নির্ভর উপাদান ব্যবহারের আগে তার যথার্থতা যাচাই এবং সম্পাদকীয় পর্যালোচনার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ভারতের মানচিত্র থেকে যৌন নির্যাতনের শিকারদের পরিচয়—একাধিক বিষয়ে নির্দেশ

    নতুন নির্দেশিকায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতের মানচিত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ও প্রামাণ্য মানচিত্র ব্যবহার করতে হবে। মানচিত্রের ভুল উপস্থাপনা যাতে বিভ্রান্তি তৈরি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলিকে।

    যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিচয় গোপন রাখার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবাদ পরিবেশনের সময় তাঁদের পরিচয় প্রকাশ পেতে পারে, এমন কোনও তথ্য বা দৃশ্য সম্প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

    এ ছাড়া সাম্প্রদায়িকভাবে সংবেদনশীল ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির সময় তথ্য যাচাই, ভাষার ব্যবহার এবং দৃশ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধ ও হিংসার খবরের ক্ষেত্রেও সংযত এবং দায়িত্বশীল উপস্থাপনার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রচারবিধি মানার ক্ষেত্রে আইডিসি-র পর্যবেক্ষণ

    মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ইন্টার-ডিপার্টমেন্টাল কমিটি বা আন্তঃবিভাগীয় কমিটি (IDC) সম্প্রচার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে দেখেছে। কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, একাধিক টেলিভিশন চ্যানেলে একই বিষয় নিয়ে প্রায় একই ধরনের খবর এবং দৃশ্য সম্প্রচার করা হচ্ছিল।

    এই পরিস্থিতিতে আইন ও সম্প্রচারবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে আরও কঠোর হওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। পাশাপাশি, টেলিভিশনের পর্দায় অনুপযুক্ত আচরণ এবং আপত্তিকর ভাষার ব্যবহার যেন ক্রমশ স্বাভাবিক বিষয় হয়ে না ওঠে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    অর্থাৎ, কেবল খবরের বিষয়বস্তু নয়, সংবাদ পরিবেশনের ভাষা, উপস্থাপনার ধরন এবং সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের মানও এই নির্দেশিকার আওতায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    সম্পাদকীয় নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ, নিয়ম ভাঙলে আইনি পদক্ষেপ

    নির্দেশিকা কার্যকর করতে সংবাদমাধ্যমগুলির অভ্যন্তরীণ সম্পাদকীয় ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার কথা বলেছে মন্ত্রক। সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা, প্রযোজনা, সম্প্রচার এবং টেলিকাস্টের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে।

    এর অর্থ, সম্প্রচারের আগে কোনও খবরের তথ্য, ভাষা, ছবি বা ভিডিও যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের। বিশেষত, সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান, হিংসাত্মক ঘটনা, সাম্প্রদায়িক সংঘাত এবং এআই-নির্ভর সংবাদ উপাদানের ক্ষেত্রে এই নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ।

    মন্ত্রক সতর্ক করে জানিয়েছে, নির্দেশিকা লঙ্ঘন করলে কেবল সতর্কবার্তাতেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রয়োজনে কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্কস (রেগুলেশন) অ্যাক্ট, ১৯৯৫-এর অধীনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

    সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন

    কেন্দ্রের এই নির্দেশিকা সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার অবকাশ তৈরি করেছে। একদিকে, সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানের সময় সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ না করা এবং হিংসাত্মক ঘটনার ক্ষেত্রে সংযম বজায় রাখা জননিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, সাম্প্রদায়িক বা দেশবিরোধী মনোভাবের সংজ্ঞা প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতার প্রশ্নও তাৎপর্যপূর্ণ।

    এআই-নির্ভর সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রেও তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং দর্শকদের বিভ্রান্ত না করার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়বে, সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় দায়বদ্ধতাও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    সব মিলিয়ে, কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য হল টেলিভিশন সংবাদ পরিবেশনে আইন মেনে চলা, সংবেদনশীল বিষয়ে সংযম বজায় রাখা এবং এআই-সহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারকে দায়িত্বশীল কাঠামোর মধ্যে রাখা। তবে এই নির্দেশিকা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয় এবং নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কী ধরনের পদক্ষেপ করা হয়, তার উপরেই এর প্রভাব অনেকাংশে নির্ভর করবে।

  • CJP Leaders Peace Bond: আইন অমান্যের অভিযোগে আদালতের কড়া অবস্থান! কঠোর কঠোর শর্তসাপেক্ষে মুক্তি সিজেপির দুই নেতার

    CJP Leaders Peace Bond: আইন অমান্যের অভিযোগে আদালতের কড়া অবস্থান! কঠোর কঠোর শর্তসাপেক্ষে মুক্তি সিজেপির দুই নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারবার আইন অমান্য, নিষিদ্ধ ঘোষিত স্থানে বিক্ষোভের ডাক এবং শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা—এই সমস্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে কড়া অবস্থান নিল দিল্লির আদালত। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হলেও, তার জন্য আদালতে লিখিত মুচলেকা দিতে হয়েছে তাঁদের। ভবিষ্যতে জনশান্তি বিঘ্নিত করবেন না, আইন মেনে চলবেন এবং আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ ঘোষিত থাকা পর্যন্ত যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেবেন না—এই মর্মে অঙ্গীকার করেছেন দুই নেতা। তাঁদের মুক্তির সিদ্ধান্তে শর্ত আরোপের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ আদালত।

    যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে বিতর্ক, সাত দিন হেফাজতে থাকার পর মুক্তি

    গত ১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশের অভিযোগে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছিল। অভিযোগ, এর আগেও শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা দেওয়ার পরেও তাঁরা ফের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ওই এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন। সেই ঘটনার পর তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হয় এবং সাত দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকতে হয়।

    বুধবার, ২১ অক্টোবর, দিল্লির স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (SEM) আদালতে মুক্তির আবেদন নিয়ে শুনানি হয়। সেখানে দুই নেতা পৃথক লিখিত মুচলেকা জমা দেন। ভবিষ্যতে শান্তিভঙ্গ করবেন না এবং আদালতের প্রতি আস্থা বজায় রাখবেন বলে তাঁরা জানান। এরপরই তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং সমপরিমাণ জামিনদারের বন্ডে মুক্তির নির্দেশ দেন স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ঋতু রাজ, যিনি দিল্লি পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদেও রয়েছেন।

    লিখিত অঙ্গীকারে কী জানালেন সিজেপির দুই নেতা?

    আদালতে জমা দেওয়া পৃথক মুচলেকায় দুই নেতা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    • ● শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকার: তাঁরা কোনও ধরনের শান্তিভঙ্গ করবেন না বলে জানিয়েছেন।

    • ● যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক নয়: আইন অনুযায়ী যন্তর মন্তর নিষিদ্ধ ঘোষিত থাকা পর্যন্ত সেখানে বিক্ষোভের ডাক দেবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    • ● সংবিধানের কাঠামো মেনে আন্দোলন: ভবিষ্যতে কোনও প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ হলে তা সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

    • ● বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা: তাঁরা জানিয়েছেন, বিচারব্যবস্থা এবং তার সমস্ত অঙ্গ, এমনকী স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রতিও তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

    এই অঙ্গীকারগুলির ভিত্তিতেই আদালত মনে করেছে, আপাতত তাঁদের আরও কিছু দিন হেফাজতে রাখার প্রয়োজন নেই। তবে মুক্তি মানেই যে তাঁদের বিরুদ্ধে চলা আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেল, তা নয়।

    আদালতের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন, নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন আইনজীবী

    শুনানির সময় দিল্লি পুলিশের আইনজীবী ১৯ অক্টোবর সংবাদমাধ্যমে দেওয়া দুই নেতার কিছু বক্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন। পুলিশের অভিযোগ ছিল, ওই বক্তব্যগুলি স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই নেতার হয়ে উপস্থিত আইনজীবী মৌখিকভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণের পুনরাবৃত্তি হবে না বলেও আদালতকে আশ্বাস দেওয়া হয়।

    উল্লেখ্য, ১৯ অক্টোবরের নির্দেশে ম্যাজিস্ট্রেট দুই নেতার আচরণ নিয়ে গুরুতর আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ ছিল, তাঁদের কাজকর্মে আইনের প্রতি কোনও সম্মান দেখা যাচ্ছে না। নিষিদ্ধ ঘোষিত স্থানে বারবার বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার বিষয়টিও আদালতের উদ্বেগ বাড়িয়েছিল।

    এই প্রেক্ষাপটে বুধবারের শুনানি তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে আদালত মুক্তির ক্ষেত্রে লিখিত অঙ্গীকারকে গুরুত্ব দিয়েছে, অন্যদিকে আইন অমান্য এবং শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগকে উপেক্ষা করেনি।

    আরও তিন দিন হেফাজতে রাখার আর্জি খারিজ

    সিজেপির দুই নেতাকে আরও তিন দিন হেফাজতে রাখার আবেদন জানিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। কিন্তু স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সেই আবেদন মঞ্জুর করেননি।

    ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-র ১৩৫(৩) ধারায় বিবেচিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার উদ্দেশ্য নতুন করে দেওয়া শান্তির মুচলেকা এবং লিখিত অঙ্গীকারের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব বলে মনে করেছে আদালত। সেই কারণে এই পর্যায়ে তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজত অব্যাহত রাখার প্রয়োজন নেই বলে নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এখানে আদালতের অবস্থানটি গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তির সিদ্ধান্তকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি হিসেবে দেখা যাবে না। বরং আদালত মনে করেছে, আপাতত শান্তি বজায় রাখার নিশ্চয়তা আদায়ের জন্য বন্ড ও লিখিত অঙ্গীকার যথেষ্ট হতে পারে। ভবিষ্যতে সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের প্রশ্ন উঠতে পারে।

    দিল্লি হাইকোর্টেও প্রশ্নের মুখে দুই নেতা

    এর আগে বুধবারই দিল্লি হাইকোর্টে বিচারপতি সুব্রামনিয়ম প্রসাদ দুই নেতার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আগের শান্তির মুচলেকা ভঙ্গের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁরা ফের একই ধরনের পদক্ষেপ করলেন এবং প্রচলিত আইনি প্রতিকারের পথ অনুসরণ না করে সরাসরি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন করেন বিচারপতি।

    এর পরেই সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা তাঁদের আবেদন প্রত্যাহার করে নেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, হাইকোর্ট থেকে আবেদন প্রত্যাহারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লিখিত অঙ্গীকার জমা দিয়ে তাঁরা মুক্তি পান।

    এই ঘটনাপ্রবাহ থেকে স্পষ্ট, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি এবং পূর্ববর্তী মুচলেকা মেনে চলার বিষয়টি দুই নেতার আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে। তবে হাইকোর্টে আবেদন প্রত্যাহার করাকে আদালতের কোনও চূড়ান্ত রায় বা তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

    ২৩ অক্টোবর ফের শুনানি, জামিনদারদের যাচাই করবে পুলিশ

    মুক্তি পেলেও সিজেপির দুই নেতার বিরুদ্ধে চলা প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। আগামী ২৩ অক্টোবর ফের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

    দুই নেতার জামিনদারদের পরিচয় ও নথিপত্র যাচাই করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দিল্লি পুলিশকে। ফলে তাঁদের মুক্তির পরবর্তী আইনি পরিস্থিতিও নজরে থাকবে।

    সব মিলিয়ে, এই ঘটনায় আদালতের বার্তা স্পষ্ট—প্রতিবাদ বা রাজনৈতিক কর্মসূচির অধিকার থাকলেও তা আইন ও জনশৃঙ্খলার সীমার মধ্যে থাকতে হবে। পূর্ববর্তী মুচলেকা, নিষিদ্ধ ঘোষিত স্থানে প্রবেশের অভিযোগ এবং আদালতের মর্যাদা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের প্রেক্ষিতে সিজেপির দুই নেতাকে কঠোর শর্তে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই আইনি অবস্থানকেই সামনে এনেছে। এখন দেখার, আগামী শুনানিতে পুলিশ কী রিপোর্ট জমা দেয় এবং দুই নেতা তাঁদের দেওয়া অঙ্গীকার কতটা মেনে চলেন।

  • France Protests: ফ্রান্সে হিংসাত্মক বিক্ষোভ, ভারতীয়দের জন্য দূতাবাসের সতর্কবার্তা! প্যারিস-সহ একাধিক শহরে কার্ফু

    France Protests: ফ্রান্সে হিংসাত্মক বিক্ষোভ, ভারতীয়দের জন্য দূতাবাসের সতর্কবার্তা! প্যারিস-সহ একাধিক শহরে কার্ফু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, সরকারি পরিষেবার অবনতি এবং শিক্ষাব্যবস্থার একাধিক সমস্যা ঘিরে উত্তপ্ত ফ্রান্স। রাজধানী প্যারিস-সহ মার্সেই ও লিয়ঁর মতো শহরে বিক্ষোভ ঘিরে হিংসা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক এবং দেশটিতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, এমন ভারতীয়দের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে প্যারিসে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। বিক্ষোভের এলাকা এড়িয়ে চলা, জনবহুল স্থানে না যাওয়া এবং ফরাসি প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ভারতীয় দূতাবাসের পরামর্শ, কী জানানো হয়েছে?

    বুধবার সন্ধ্যায় জারি করা পরামর্শে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ফ্রান্সের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় স্তরে কার্ফু জারির বিষয়টি বিবেচনা করে ভারতীয় নাগরিকদের সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    দূতাবাসের তরফে আরও বলা হয়েছে, যেখানে বিক্ষোভ চলছে, সেই এলাকাগুলি থেকে দূরে থাকতে হবে। ফরাসি প্রশাসন এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যে নির্দেশিকা জারি করছে, তা যথাযথভাবে মেনে চলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

    বিক্ষোভের কারণে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে পরিবহণ পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। তাই যাতায়াতের পরিকল্পনা করার আগে সরকারি সূত্র থেকে সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার কথা বলেছে দূতাবাস। বিশেষ করে পর্যটক, পড়ুয়া, কর্মসূত্রে ফ্রান্সে থাকা ভারতীয় এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য এই সতর্কবার্তা গুরুত্বপূর্ণ।

    জরুরি প্রয়োজনে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর ও ইমেল:

    • ● ফোন: +33 6 48 34 00 63

    • ● ইমেল: cons.paris@mea.gov.in

    কেন অশান্ত ফ্রান্স? ক্ষোভের কেন্দ্রে জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষা

    ফ্রান্সে সাম্প্রতিক অশান্তির পিছনে একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি, সরকারি পরিষেবার অবনতি এবং শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। সেই অসন্তোষ থেকেই শুরু হওয়া বিক্ষোভের একাংশ হিংসাত্মক রূপ নিয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে।

    প্যারিস, মার্সেই ও লিয়ঁর মতো শহরে বিক্ষোভ চলাকালীন লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর সামনে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হয়েছে। কয়েকটি বড় শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় এখনও কার্ফু জারি রয়েছে।

    এই অশান্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ছাত্রছাত্রীদের ক্ষোভ। স্কুলগুলিতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের অভাব, পরিকাঠামোর দুর্বলতা এবং শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মীর ঘাটতি নিয়ে অভিযোগ তুলেছে পড়ুয়াদের একাংশ। বিশেষত আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলির স্কুলে এই সমস্যাগুলি বেশি প্রকট বলে দাবি উঠেছে।

    পাশাপাশি, দীর্ঘক্ষণ স্কুলে থাকতে হওয়া নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে পড়ুয়াদের মধ্যে। অনেক ক্ষেত্রে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত স্কুলের সময়সূচি ক্লান্তিকর হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পদ্ধতির জটিলতা এবং সেই ব্যবস্থার ন্যায্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।

    অর্থাৎ, এই বিক্ষোভ শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়। এর পিছনে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি পরিষেবার মান এবং শিক্ষার সুযোগ নিয়ে জমে থাকা অসন্তোষও।

    দু’রাত শান্তি, তবুও কাটেনি উদ্বেগ

    সপ্তাহান্তে অশান্তির পর পরপর দু’রাত ফ্রান্সে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল। তবে তাতে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। একাধিক বড় শহরের কিছু অংশে কার্ফু এখনও বহাল রয়েছে। নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ায় পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ও শনিবার আরও বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলির পাশাপাশি ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ফ্রান্সে বড়সড় আন্দোলনের জন্ম দেওয়া ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলির তরফেও বিক্ষোভের ডাক এসেছে।

    উল্লেখ্য, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ঘিরে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করেছিল। সেই আন্দোলনের স্মৃতি এখনও ফরাসি প্রশাসনের কাছে উদ্বেগের কারণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে বড় জমায়েত হলে অশান্তি আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা, শনিবার বড় নিরাপত্তা অভিযান

    প্যারিসে বৃহস্পতিবারের জন্য পরিকল্পিত একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হবে না বলে বুধবার জানিয়েছে শহরের পুলিশ। জননিরাপত্তার ঝুঁকি এবং সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে, ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানিয়েছেন, বিক্ষোভ চলাকালীন এবং তার পরে আটক হওয়া ২,৫০০ জনের মধ্যে ১৭৪ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরও ৯১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে বুধবার ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। শনিবার ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান চালানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। বিক্ষোভের আড়ালে ছোট ছোট দুষ্কৃতী গোষ্ঠীর হিংসাত্মক কার্যকলাপ যাতে ফের বড় আকার না নেয়, তা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।

    প্রশাসনের আশঙ্কা, অল্প কয়েকটি গোষ্ঠীর হিংসাত্মক কার্যকলাপও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু দুর্বলতা সামনে এসেছে বলেও মনে করা হচ্ছে।

    ইতালিতেও ভারতীয়দের জন্য সতর্কবার্তা

    ফ্রান্সের আগে চলতি সপ্তাহেই ইতালিতে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শ জারি করেছিল সেখানকার ভারতীয় দূতাবাস। ইতালিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবার মান নিয়ে বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে ওই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

    সেখানেও ভারতীয় নাগরিকদের জনবহুল এলাকা এবং বিক্ষোভস্থল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজ রাখার কথা বলা হয়।

    ফ্রান্স ও ইতালি—দুই দেশেই বিক্ষোভের জেরে ভারতীয় দূতাবাসগুলির এই সতর্কবার্তা বিদেশে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

    ফ্রান্সে যাওয়া ভারতীয়দের কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন?

    বর্তমান পরিস্থিতিতে ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয়দের পাশাপাশি পর্যটক ও পড়ুয়াদেরও কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

    • ● বিক্ষোভস্থল এড়িয়ে চলুন: মিছিল, জমায়েত বা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে, এমন এলাকায় যাবেন না।

    • ● কার্ফুর নিয়ম মানুন: স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী চলাফেরা করুন।

    • ● যাতায়াতের খবর রাখুন: ট্রেন, বাস এবং অন্যান্য পরিবহণ পরিষেবার সম্ভাব্য পরিবর্তন সম্পর্কে সরকারি সূত্র থেকে জেনে নিন।

    • ● সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করুন: স্থানীয় প্রশাসন ও ভারতীয় দূতাবাসের নতুন বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখুন।

    • ● জরুরি যোগাযোগের তথ্য সঙ্গে রাখুন: প্রয়োজন হলে দ্রুত ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

    সব মিলিয়ে, ফ্রান্সে আপাতত পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও নতুন করে বিক্ষোভের ডাক এবং কয়েকটি শহরে কার্ফু বহাল থাকায় উদ্বেগ রয়ে গিয়েছে। আগামী কয়েক দিনে প্রশাসন পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, তার উপরই নির্ভর করছে অশান্তি কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে। ফ্রান্সে থাকা ভারতীয়দের ক্ষেত্রে তাই আপাতত সতর্কতা, সরকারি নির্দেশ মেনে চলা এবং পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজ রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

  • Bharatiya Jan Sangh Foundation Day: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন থেকে মোদির ভারত— জনসংঘের ৭৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রা

    Bharatiya Jan Sangh Foundation Day: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন থেকে মোদির ভারত— জনসংঘের ৭৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতার পরবর্তী ভারতের রাজনীতিতে কংগ্রেসের আধিপত্যের মধ্যেই একটি বিকল্প জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লিতে তাঁর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতীয় জনসংঘ। সেই সংগঠন পরবর্তী সময়ে জনতা পার্টির সঙ্গে মিশে যায় এবং ১৯৮০ সালে আত্মপ্রকাশ করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আজ নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। জনসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন ‘নেশন ফার্স্ট’ বা ‘রাষ্ট্র আগে’ ভাবনা কীভাবে সময়ের সঙ্গে বদলে গিয়ে বর্তমান বিজেপির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তি তৈরি করেছে, সেই ইতিহাস তাৎপর্যপূর্ণ।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও জনসংঘের প্রতিষ্ঠা

    ১৯৫০ সালে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে লিয়াকত-নেহরু চুক্তির বিরোধিতা করে কেন্দ্রীয় শিল্প ও সরবরাহমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর লক্ষ্য ছিল, দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়, জাতীয় ঐক্য এবং ভারতীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক বিকল্প তৈরি করা।

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক ব্যক্তিত্বের সহযোগিতায়, বিশেষত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের মতো নেতাদের সঙ্গে নিয়ে, ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠা করেন ভারতীয় জনসংঘ। জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ একীকরণের দাবিও সংগঠনটির রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে ওঠে। শ্যামাপ্রসাদের বক্তব্য ছিল, একটি দেশে দুটি সংবিধান, দুটি প্রধান এবং দুটি পতাকা থাকতে পারে না।

    ১৯৫৩ সালে কাশ্মীরে তাঁর মৃত্যুকে জনসংঘের রাজনৈতিক আন্দোলনে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হয়। জাতীয় সংহতি, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা এবং কাশ্মীরের সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে তাঁর অবস্থান পরবর্তী কয়েক দশক ধরে বিজেপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে থাকে।

    জনসংঘ থেকে বিজেপি: রাজনৈতিক বিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ

    ১৯৫১–১৯৬৭: জনসংঘের উত্থান

    প্রথম সাধারণ নির্বাচনে তিনটি আসন পায় জনসংঘ। পরে দীনদয়াল উপাধ্যায় ‘একাত্ম মানবদর্শন’-এর ধারণাকে দলের আদর্শগত ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন। ১৯৬৭ সালে একাধিক রাজ্যে কংগ্রেসবিরোধী জোট সরকারেও অংশ নেয় জনসংঘ।

    ১৯৭৫–১৯৭৭: জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন

    ইন্দিরা গান্ধীর ঘোষিত জরুরি অবস্থার বিরোধিতায় জনসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ১৯৭৭ সালে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্য গড়তে জনতা পার্টিতে মিশে যায় জনসংঘ। অটলবিহারী বাজপেয়ী ও লালকৃষ্ণ আডবাণীর মতো নেতারা পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান।

    ১৯৮০–১৯৯৬: বিজেপির আত্মপ্রকাশ ও বিস্তার

    জনতা পার্টির অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের পর প্রাক্তন জনসংঘ নেতারা ১৯৮০ সালে বিজেপি গঠন করেন। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন অটলবিহারী বাজপেয়ী। ১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মাত্র দুটি আসন পেলেও, আডবাণীর নেতৃত্বে রাম জন্মভূমি আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের প্রসারের সঙ্গে দলের রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। ১৯৯৬ সালে বিজেপি লোকসভার বৃহত্তম একক দল হয়ে ওঠে।

    ১৯৯৮–২০০৪: এনডিএ সরকারের অধ্যায়

    বাজপেয়ীর নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) সরকার দেখায়, কংগ্রেসের বাইরে থাকা একটি জোটও পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পন্ন করতে পারে। পারমাণবিক সক্ষমতা, অর্থনৈতিক সংস্কার ও পরিকাঠামো উন্নয়ন এই সময়ের উল্লেখযোগ্য বিষয়।

    ২০১৪ থেকে বর্তমান: সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও আদর্শগত কর্মসূচি

    নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিজেপি। ২০১৯ সালে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ এবং ২০২৪ সালে রামমন্দিরের উদ্বোধন দলের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে তুলে ধরা হয়।

    অর্থনৈতিক দর্শন: স্বদেশি থেকে আত্মনির্ভর ভারত

    জনসংঘের অর্থনৈতিক দর্শন গড়ে উঠেছিল নেহরুর রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পরিকল্পনা ও বৃহৎ সরকারি শিল্পকেন্দ্রিক মডেলের বিকল্প হিসেবে। ছোট ব্যবসা, কৃষি, গ্রামীণ শিল্প এবং স্থানীয় উৎপাদনের উপর জোর দিয়েছিল দলটি। অতিরিক্ত সরকারি নিয়ন্ত্রণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভরতার বিরোধিতা করে স্বদেশি অর্থনীতির পক্ষে সওয়াল করা হয়েছিল।

    দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ‘একাত্ম মানবদর্শন’-এর পাশাপাশি ‘অন্ত্যোদয়’—সমাজের প্রান্তিকতম মানুষের উন্নয়ন—এই রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হয়ে ওঠে।

    তবে বর্তমান বিজেপির অর্থনৈতিক নীতি আগের জনসংঘের মডেলের হুবহু প্রতিরূপ নয়। বিশ্বায়ন, প্রযুক্তি ও বেসরকারি বিনিয়োগের বাস্তবতা মেনে নিয়ে সরকার একদিকে বাজারনির্ভর বৃদ্ধির উপর জোর দিয়েছে, অন্যদিকে মহাসড়ক, রেল, বন্দর এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোয় সরকারি মূলধনী ব্যয় বাড়িয়েছে।

    এই পরিবর্তনের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিক হল:

    • ● আত্মনির্ভর ভারত: দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সরবরাহ-শৃঙ্খলে ভারতের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য।

    • ● প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI): নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়াতে আর্থিক প্রণোদনা।

    • ● ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার: আধার, ইউপিআই এবং ডিজিলকারের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিষেবা প্রদান ও আর্থিক লেনদেনের ডিজিটাল সম্প্রসারণ।

    • ● কর ও ব্যবসায়িক সংস্কার: জিএসটি, করব্যবস্থার পরিবর্তন এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ।

    • ● অন্ত্যোদয় থেকে কল্যাণমূলক পরিষেবা: আবাসন, শৌচাগার, রান্নার গ্যাস, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যবিমা ও কৃষি সহায়তার মতো প্রকল্পের মাধ্যমে সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর।

    অর্থাৎ, জনসংঘের স্বদেশি ভাবনা বর্তমান বিজেপির কাছে কেবল আমদানি কমানো বা দেশীয় পণ্য ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং দেশীয় উৎপাদন, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে তা যুক্ত হয়েছে।

    ‘লাভার্থী’ রাজনীতি ও বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি

    ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে জাতপাতভিত্তিক সমীকরণ, নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর সমর্থন এবং আঞ্চলিক জোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিজেপি সেই পরিচিত সমীকরণের পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপকদের একটি বৃহত্তর ভোটার গোষ্ঠী হিসেবে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছে। এই গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক পরিভাষায় ‘লাভার্থী’ বলা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, উজ্জ্বলা যোজনা, স্বচ্ছ ভারত অভিযান এবং পিএম-কিষান প্রকল্পের মতো কর্মসূচির সুবিধাপ্রাপকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে দলটি সামাজিক ভিত্তি বিস্তারের চেষ্টা করেছে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পাঠানো বা ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT), আধারভিত্তিক পরিষেবা এবং ডিজিটাল যোগাযোগ এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    এর পাশাপাশি বুথস্তরে ‘পন্না প্রমুখ’ ব্যবস্থা—ভোটার তালিকার নির্দিষ্ট পৃষ্ঠার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী—এবং ধারাবাহিক প্রচার বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে সাহায্য করেছে। নির্বাচনের সময়সীমার বাইরে গিয়েও ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার এই কৌশল দলটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

    সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দিয়ে বিজেপি প্রশাসনিক পরিষেবা প্রদানকে রাজনৈতিক বার্তার অংশ করে তুলেছে। তবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন, সুবিধার প্রকৃত বণ্টন এবং তার নির্বাচনী প্রভাবের মূল্যায়ন করতে হলে সরকারি তথ্য ও স্বাধীন পর্যালোচনাও গুরুত্বপূর্ণ।

    ৩৭০ অনুচ্ছেদ থেকে রামমন্দির: আদর্শগত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন

    দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির একাধিক আদর্শগত প্রতিশ্রুতি বিরোধীদের কাছে রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সরকার গঠনের পর দলটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে।

    • ● ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ, ২০১৯: জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার করা হয় এবং রাজ্যটিকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ—এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পুনর্গঠন করা হয়। বিজেপি একে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পূর্ণ একীকরণের দাবির বাস্তবায়ন হিসেবে তুলে ধরে।

    • ● রামমন্দির, ২০২৪: অযোধ্যায় রামমন্দিরের উদ্বোধন দীর্ঘদিনের রাম জন্মভূমি আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি। সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে এটি বিজেপির রাজনৈতিক বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

    • ● নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA): পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের, আইন নির্ধারিত শর্তপূরণকারী ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সহজ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইনটি নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কও রয়েছে।

    • ● পরিকাঠামো ও জাতীয় নিরাপত্তা: মহাসড়ক, বিমানবন্দর, রেল যোগাযোগ এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোর উন্নয়নকে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    • ● বিদেশনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থান: জি২০ সভাপতিত্ব, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকারের পদক্ষেপকে ভারতের বিশ্বমঞ্চে প্রভাব বৃদ্ধির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বিজেপি।

    এই কর্মসূচিগুলি দলের মূল সমর্থকদের কাছে আদর্শগত ধারাবাহিকতার প্রতীক। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলি এর বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবিধানিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলেছে। ফলে এই পদক্ষেপগুলির তাৎপর্য বুঝতে হলে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও তার বাস্তব প্রভাব—দুই দিকই বিচার করা প্রয়োজন।

    বিজেপির সামনে পরবর্তী চ্যালেঞ্জ কী?

    উত্তর-পূর্ব ভারতের মতো অঞ্চলে সংগঠন বিস্তার, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) এবং দলিত ভোটারদের মধ্যে সমর্থন বৃদ্ধির চেষ্টা বিজেপিকে জাতীয় স্তরে আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক ভিত্তি গড়তে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় বিরোধী দলগুলিও বৃহত্তর জোট গঠনের পথে হেঁটেছে। ‘ইন্ডিয়া’ (I.N.D.I.A.) জোট তার অন্যতম উদাহরণ।

    তবে রাজনৈতিক সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদি শাসনগত সাফল্যে পরিণত করার জন্য কর্মসংস্থান, কৃষকের আয়, মূল্যবৃদ্ধি, বৈষম্য, ক্ষুদ্র ব্যবসার সমস্যা এবং সরকারি পরিষেবার গুণমানের মতো বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। কল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি তার কার্যকারিতা ও আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯০১ সালের ৬ জুলাই। ২০২৬ সালে তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী এবং জনসংঘের প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পূর্তির প্রেক্ষাপট এই রাজনৈতিক যাত্রাকে নতুন করে পর্যালোচনার সুযোগ করে দিয়েছে।

    সব মিলিয়ে, জনসংঘ থেকে বিজেপির যাত্রা কেবল একটি রাজনৈতিক দলের উত্থানের ইতিহাস নয়। এটি জাতীয়তাবাদী আদর্শ, অর্থনৈতিক চিন্তা, সাংগঠনিক কৌশল এবং কল্যাণমূলক শাসনের পরিবর্তিত রূপেরও ইতিহাস। ১৯৫১ সালে যে ‘নেশন ফার্স্ট’ ভাবনাকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজকের বিজেপির কাছে তার পরবর্তী পরীক্ষা হল—জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্যকে কর্মসংস্থান, সমৃদ্ধি, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং নাগরিক পরিষেবার বাস্তব ফলাফলে কতটা রূপান্তরিত করা যায়।

LinkedIn
Share