Blog

  • Israel: ইজরায়েলে স্থাপিত হবে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের বিশাল মূর্তি; পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস মহারাষ্ট্র সরকারের

    Israel: ইজরায়েলে স্থাপিত হবে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের বিশাল মূর্তি; পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস মহারাষ্ট্র সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ইজরায়েলের (Israel) মধ্যকার কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বীর মারাঠা যোদ্ধা ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের একটি বিশাল মূর্তি এবার স্থাপিত হতে চলেছে ইজরায়েলে। সম্প্রতি শিবাজী মহারাজের (Chhatrapati Shivaji Maharaj) রাজ্যাভিষেক দিবস উপলক্ষে মুম্বাইতে নিযুক্ত ইজরায়েলের কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাচ এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাটি করেছেন। মহারাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে এই ঐতিহাসিক উদ্যোগে সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

    দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক (Israel)

    মুম্বইতে ইজরায়েলের (Israel) কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাচ মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবনে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। সেখানেই তিনি ইজরায়েলের কোনও একটি বড় শহরে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের (Chhatrapati Shivaji Maharaj) এই স্মারক ও মূর্তি স্থাপনের প্রস্তাবটি পেশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবিশ এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ইজরায়েল সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন এবং একে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক বলে অভিহিত করেছেন।

    ইয়ানিভ রেভাচ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভারতে আসার পর তিনি মারাঠা সাম্রাজ্যের বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস এবং ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের সুশাসন, সাহস ও দূরদর্শিতা সম্পর্কে বিশদ পড়াশোনা করেন। তিনি ভারত ও ইজরায়েলের ইতিহাসের মধ্যে এক গভীর মিল খুঁজে পেয়েছেন। তিনি বলেন, “উভয় দেশকেই নিজেদের অস্তিত্ব ও ভূমির সুরক্ষায় দীর্ঘ লড়াই করতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঐতিহাসিক জেরুজালেম সফরের পর দুই দেশের জনগণকে আরও কাছাকাছি আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এই মূর্তি স্থাপন কেবল একটি প্রকল্প নয়, এটি দুই দেশের মানুষের আবেগ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে আরও মজবুত করবে।”

    ইজরায়েলে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের মহিমান্বিত

    এই মূর্তি নির্মাণের জন্য ঐতিহাসিক তথ্যসূত্র, নকশা ও শৈল্পিক পরামর্শের ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্র সরকারের সাহায্য চেয়েছে ইজরায়েল প্রশাসন। পরবর্তীতে এটিকে একটি ‘জনগণের প্রকল্প’ (People’s Project) হিসেবে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই খুশির খবরটি ভাগ করে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ লিখেছেন, “এটি অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের সংবাদ। ইজরায়েলে (Israel) ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের (Chhatrapati Shivaji Maharaj) মহিমান্বিত মূর্তি স্থাপনের এই ঐতিহাসিক উদ্যোগকে সফল করতে মহারাষ্ট্র সরকার সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।” প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই স্মারক গড়ে উঠলে তা বিশ্বমঞ্চে মারাঠা ঐতিহ্যকে যেমন সম্মানিত করবে, তেমনই দুই দেশের বন্ধুত্বে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

  • Banaras Road Rail Over Bridge: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! গতি পাচ্ছে হাওড়ার বেনারস রোড রেল ওভার ব্রিজ প্রকল্প; আজ থেকে ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ

    Banaras Road Rail Over Bridge: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! গতি পাচ্ছে হাওড়ার বেনারস রোড রেল ওভার ব্রিজ প্রকল্প; আজ থেকে ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তর হাওড়াবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে গতি পেতে চলেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেনারস রোড রেল ওভার ব্রিজ (Banaras Road Rail Over Bridge) প্রকল্প। আজ, রবিবার থেকেই সালকিয়া এবং লিলুয়ার বামুনগাছির সংযোগকারী এই ঐতিহাসিক সেতুতে ভারী ও মাঝারি ধরনের সব রকম যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। রেল (Railway) ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের এই সিদ্ধান্তের ফলেই দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা নতুন সেতুর সংযোগকারী রাস্তা বা ‘অ্যাপ্রোচ রোড’ নির্মাণের মূল কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

    সেতুটির কাঠামো অত্যন্ত জীর্ণ ও বিপজ্জনক (Banaras Road Rail Over Bridge)

    ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই বেনারস ব্রিজটি উত্তর হাওড়ার অন্যতম প্রধান জীবনরেখা। প্রতিদিন সালকিয়া, লিলুয়া, বামুনগাছি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার মানুষ এবং অসংখ্য যানবাহন এই সেতুর ওপর দিয়েই যাতায়াত করে। তবে দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সেতুটির কাঠামো অত্যন্ত জীর্ণ ও বিপজ্জনক হয়ে পড়েছিল। বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে বার বার সেতুর দুর্বলতার বিষয়টি সামনে আনার পর, পূর্ব রেল (Railway) এখানে একটি নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

    রেল (Railway) সূত্রের খবর, নতুন সেতুর মূল কাঠামোর সিংহভাগ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে মূল জটিলতা তৈরি হয়েছিল অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ নিয়ে। ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সমস্যার কারণে এই কাজ শুরুই করা যাচ্ছিল না। এই সড়ক নির্মাণের জন্য সেতুর (Banaras Road Rail Over Bridge) ওপর যানবাহন চলাচলে আংশিক বা সম্পূর্ণ বিধিনিষেধ আরোপের প্রয়োজন ছিল। রেল কর্তৃপক্ষ একাধিক বার প্রশাসনের কাছে এর অনুমতি চাইলেও, দীর্ঘদিন ধরে সেই প্রক্রিয়াটি ঝুলে ছিল বলে অভিযোগ।

    ভারী ও মাঝারি গাড়ির প্রবেশ নিষিদ্ধ

    তবে রাজ্যে প্রশাসনিক পটপরিবর্তনের পর এই থমকে থাকা প্রকল্পের জট কাটে। প্রশাসন, রেল এবং ট্র্যাফিক বিভাগের মধ্যে বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর ধাপে ধাপে ট্র্যাফিক (Banaras Road Rail Over Bridge) নিয়ন্ত্রণ করে প্রকল্পের বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আজ থেকে বেনারস ব্রিজে ভারী ও মাঝারি গাড়ির প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলো। এর আগেই এই রুট দিয়ে বাস চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল।

    তবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে যাতে বড় ধরনের ভোগান্তি না হয়, সে কথা মাথায় রেখে আপাতত টোটো, রিকশা, মোটরবাইক এবং অন্যান্য হালকা যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামী প্রায় দু’মাস ধরে এই অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণের কাজ চলবে। এই সময়ে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু সময়ের জন্য সেতুতে সম্পূর্ণ ট্র্যাফিক ব্লক করা হতে পারে, যাতে বাকি পরিকাঠামোগত কাজ দ্রুত শেষ করা যায়। সব কিছু ঠিকঠাক চললে খুব শিগগিরই নতুন সেতুটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

    নিরাপদ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা পাবেন (Banaras Road Rail Over Bridge)

    এই মেগা প্রজেক্টের কাজ শুরু হওয়া প্রসঙ্গে উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই বলেন, “পূর্ববর্তী প্রশাসনের আমলে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও, রেলকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা করা হয়নি। সেই উদাসীনতার কারণেই বামুনগাছি-বেনারস ব্রিজ এবং বাঙালবাবু-চাঁদমারি ব্রিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলি দীর্ঘদিন ধরে আটকে পড়েছিল। তবে আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ধাপে ধাপে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ করে দ্রুত সমস্ত কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। মানুষের সাময়িক কিছু অসুবিধা হলেও, ভবিষ্যতে তাঁরা আরও নিরাপদ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা পাবেন।”

    প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে একবাক্যে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারাও। দীর্ঘদিন ধরে জীর্ণ ও দুর্বল সেতুর কারণে যেমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল, তেমনই নিত্যদিনের যানজটের সমস্যায় ভুগতে হচ্ছিল সাধারণ মানুষকে। স্থানীয়দের মতে, নতুন সেতুটি পুরোপুরি চালু হলে শুধু যাতায়াতের সময়ই কমবে না, বরং উত্তর হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকার অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তন আসবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহণ এবং জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রেও এর অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দীর্ঘমেয়াদি সুফলের স্বার্থে এই সাময়িক অসুবিধা মেনে নিতে সানন্দেই প্রস্তুত হাওড়াবাসী।

  • Abhishek Banerjee: “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একজন একনায়ক, তাঁর জন্যই দল ভাঙছে”, বিস্ফোরক অভিযোগে TMC সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সম্পাদক আজমল সিদ্দিকী

    Abhishek Banerjee: “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একজন একনায়ক, তাঁর জন্যই দল ভাঙছে”, বিস্ফোরক অভিযোগে TMC সংখ্যালঘু সেলের রাজ্য সম্পাদক আজমল সিদ্দিকী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও তীব্র হলো। এবার দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্র ও চরম দুর্নীতির অভিযোগ এনে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) থেকে পদত্যাগ করলেন দলের রাজ্য সংখ্যালঘু সেলের সম্পাদক আজমল সিদ্দিকী। শনিবার তিনি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে পদত্যাগপত্র পাঠান। একই সঙ্গে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) ‘একনায়ক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।

    হজ যাত্রা শেষ করে মাত্র দুদিন আগেই কলকাতায় ফিরেছেন আজমল সিদ্দিকী। ফিরে এসেই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন এই সংখ্যালঘু নেতা। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি দলের বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন।

    “একজনের অহংকারেই দল ধ্বংস হচ্ছে (Abhishek Banerjee)

    পদত্যাগ করার পর সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলেছেন আজমল সিদ্দিকী। তিনি বলেন, “আজ তৃণমূল কংগ্রেস যদি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার মুখে দাঁড়িয়ে থাকে, তবে তার জন্য দায়ী শুধুমাত্র একজন মানুষ— তিনি হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওঁর একনায়কতান্ত্রিক মনোভাব এবং আমাদের ওপর চালানো দমনপীড়ন আর সহ্য করা যাচ্ছিল না। ১২-১৩ বছর পুরনো মিথ্যে মামলা (TMC) দিয়ে আমাদের হেনস্থা করা হয়েছে, টাকা দাবি করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অসহনীয়।”

    নানারকম অনৈতিক কাজ ও কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত

    তৃণমূলে (TMC) এখন আর কোনও কাজ করার পরিবেশ নেই দাবি করে তিনি আরও বলেন, “হজ থেকে ফেরার পরই আমি সিদ্ধান্ত নিই যে এই দল এখন কেবলই কলঙ্ক বয়ে আনছে। দলের অধিকাংশ সদস্যই নানারকম অনৈতিক কাজ ও কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত। একের পর এক দুর্নীতি সামনে আসছে, ভবিষ্যতে আরও আসবে। এই দলে থাকা আমাদের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছিল, কারণ মানুষের জন্য এখানে কোনও প্রকৃত কাজ হচ্ছে না।”

    তোষামোদকারীদের গুরুত্ব, ব্রাত্য যোগ্যরা

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো চিঠিতে আজমল সিদ্দিকী উল্লেখ করেছেন যে, গত কয়েক বছর ধরে দলে একনায়কতন্ত্র (TMC) কায়েম হয়েছে এবং দলের পুরনো ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের ক্রমাগত কোণঠাসা করা হচ্ছে। দলীয় স্তরে যোগ্যতার কোনো মূল্যায়ন নেই অভিযোগ করে তিনি বলেন, “এটি এখন শুধু নামেই একটি দল, এখানে ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো কাজ করা অসম্ভব। যারা কেবল তোষামোদ বা চাটুকারিতা করে ওপরে উঠেছে, তারাই এখন দলে রাজত্ব করছে। তৃণমূলের যে গণতান্ত্রিক চরিত্র ছিল, যেখানে আলোচনা ও সম্মিলিত সিদ্ধান্তের সুযোগ থাকত, তা এখন পুরোপুরি বিলুপ্ত (Abhishek Banerjee)।”

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ধোঁয়াশা

    তৃণমূল ছাড়ার পর তিনি ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন কিনা, তা নিয়ে অবশ্য এখনই খোলসা করতে চাননি আজমল। তিনি (Abhishek Banerjee) জানান, “ভবিষ্যত নিয়ে এখনই কিছু ভাবিনি। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো বাংলার উন্নয়ন—রাজ্যে শিল্প আসুক, গরিব মানুষের কর্মসংস্থান হোক, এটাই আমরা চাই।”

    উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের (TMC) অন্দরে যে চরম বিদ্রোহ শুরু হয়েছে, আজমলের পদত্যাগ তাকে আরও উস্কে দিল। এর আগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৫৮ জন বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক বিধানসভায় পৃথক বিরোধী গোষ্ঠী হিসেবে স্পিকারের স্বীকৃতি পেয়েছেন। সেই রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেই সংখ্যালঘু সেলের এই হেভিওয়েট নেতার পদত্যাগ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ জোড়া-ফুল শিবিরের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

  • RSS: সঙ্ঘের ‘শতাব্দী বর্ষ’ উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের পারস্পরিক ঐক্যের সঙ্কল্প, বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসের আয়োজন মুম্বইয়ে

    RSS: সঙ্ঘের ‘শতাব্দী বর্ষ’ উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের পারস্পরিক ঐক্যের সঙ্কল্প, বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসের আয়োজন মুম্বইয়ে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হিন্দু সমাজের নেতৃত্ব, চিন্তাবিদ, শিল্পোদ্যোগী, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ এবং সমাজকর্মীদের অন্যতম বৃহত্তম আন্তর্জাতিক মঞ্চ ‘বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেস’ (WHC) এবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ভারতে। ১৮ থেকে ২০ ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই মেগা সম্মেলন বসবে মুম্বইয়ের ঐতিহ্যবাহী জিও ওয়ার্ল্ড কনভেনশন সেন্টারে। বিশ্বমঞ্চে হিন্দু সমাজের জাগরণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতি এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে যৌথ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণই এই আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য। এবারের সম্মেলনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, ২০২৬ সালটি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) শতবর্ষ পূর্তি তথা ‘শতাব্দী বর্ষ’। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে সামনে রেখে ২০২৬ বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসের মূল ভাবনা বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে— “সমানং ব্রতং সহ চিত্তম” (Shared Commitment: Collective Resolve)। অর্থাৎ, বৈশ্বিক স্তরে হিন্দুদের পারস্পরিক ঐক্য, অভিন্ন সঙ্কল্প এবং সম্মিলিত প্রয়াসকে আরও শক্তিশালী করাই এর উদ্দেশ্য।

    দায়িত্বে অজয় পিরামল (WHC)

    এবারের বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসের চেয়ারম্যান (WHC) বা সভাপতি মনোনীত হয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি তথা পিরামল গ্রুপের চেয়ারম্যান শ্রী অজয় পিরামল। তাঁর সঙ্গে কো-চেয়ারম্যান বা সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন শ্রী বিশদ মফাতলাল এবং শ্রী মহেশ ভাগচন্দকা। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, তিন দিনব্যাপী এই মূল অধিবেশনের পাশাপাশি সমান্তরালভাবে সাতটি বিশেষ ক্ষেত্রে পৃথক কনফারেন্স বা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই ক্ষেত্রগুলি হল:

    • ওয়ার্ল্ড হিন্দু ইকোনমিক ফোরাম (অর্থনৈতিক মঞ্চ)
    • হিন্দু এডুকেশন কনফারেন্স (শিক্ষা)
    • হিন্দু মিডিয়া কনফারেন্স (গণমাধ্যম)
    • হিন্দু পলিটিক্যাল কনফারেন্স (রাজনীতি)
    • হিন্দু উইমেন কনফারেন্স (মহিলা নেতৃত্ব)
    • হিন্দু ইয়ুথ কনফারেন্স (যুব সমাজ)
    • হিন্দু অর্গানাইজেশনাল কনফারেন্স (প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি)

    বিশ্বমঞ্চে ক্রমবর্ধমান প্রভাব

    সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের মুম্বই অধিবেশনে বিশ্বজুড়ে ৬০টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় ৪,৫০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ২০১৪ সালে নয়াদিল্লিতে প্রথম বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেস (WHC) অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১৮ সালে শিকাগো এবং ২০২৩ সালে ব্যাংককে এই সম্মেলন হয়। পূর্ববর্তী সম্মেলনগুলিতে সব মিলিয়ে ৬০টি দেশের প্রায় ৬,৫০০ প্রতিনিধি এবং বহু বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, আধ্যাত্মিক গুরু ও শিক্ষাবিদ অংশ নিয়েছিলেন। চার বছর অন্তর আয়োজিত এই মঞ্চটি ‘যথা ধর্মস্ততো জয়ঃ’ অর্থাৎ যেখানে ধর্ম, সেখানেই জয় আদর্শকে সামনে রেখে কাজ করে।

    ঐক্যবদ্ধ সঙ্কল্পের গতি আরও বাড়াতে হবে

    সম্মেলনের মূল রূপকার ও চিন্তাবিদ স্বামী বিজ্ঞানানন্দ বলেন, “গত এক শতাব্দীতে বিশ্বজুড়ে হিন্দু সমাজ (WHC) নিজেদের প্রতিষ্ঠা ও গ্রহণযোগ্যতা বিপুলভাবে বাড়িয়েছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলির মুখোমুখি হতে এবং সনাতন সভ্যতার মূল্যবোধ টিকিয়ে রাখতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ সঙ্কল্পের গতি আরও বাড়াতে হবে। আরএসএসের (RSS) শতবর্ষ উদযাপনের এই ক্ষণটি সমস্ত হিন্দুর জন্য নিজেদের সভ্যতার শেকড়ে ফেরার এক অনন্য সুযোগ।”

    বিশ্বজনীন আকাঙ্ক্ষার মেলবন্ধন

    চেয়ারম্যান অজয় পিরামল জানান, বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেস এমন এক অনন্য মঞ্চ যেখানে সনাতন চিন্তাধারার সঙ্গে বিশ্বজনীন আকাঙ্ক্ষার মেলবন্ধন ঘটে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হিন্দুদের মেধা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক শক্তিকে একত্রিত করে একটি সমৃদ্ধ ও ন্যায়পরায়ণ সমাজ গঠনে এই সম্মেলন অনুঘটকের কাজ করে। ডিসেম্বরের এই মেগা আয়োজনকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ে এখন থেকেই প্রস্তুতি তুঙ্গে। সংশ্লিষ্টমহলের মতে, আগামী দশকের অন্যতম প্রভাবশালী ও সুদূরপ্রসারী আন্তর্জাতিক সম্মেলন হতে চলেছে এই বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেস (WHC) ২০২৬।

  • LPG: বিশ্বের মধ্যে সব চেয়ে সস্তায় রান্নার গ্যাস পাচ্ছে ভারতীয় পরিবারগুলি, উজ্জ্বলা যোজনায় আরও বাড়ানো হল ভর্তুকির পরিমাণ

    LPG: বিশ্বের মধ্যে সব চেয়ে সস্তায় রান্নার গ্যাস পাচ্ছে ভারতীয় পরিবারগুলি, উজ্জ্বলা যোজনায় আরও বাড়ানো হল ভর্তুকির পরিমাণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কটের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও, ভারতের সাধারণ মানুষ বিশ্বের উন্নত দেশ এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির তুলনায় অনেক কম দামে রান্নার গ্যাস (LPG) পাচ্ছেন। রবিবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের তরফে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    সিলিন্ডার প্রতি প্রায় ৭০০ টাকা ভর্তুকি (LPG)

    মন্ত্রক জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে রবিবার থেকে ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সিলিন্ডার প্রতি ২৯ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে এই বৃদ্ধির পরেও ভারতের সাধারণ মানুষকে সিলিন্ডার প্রতি বাজারের প্রকৃত দামের চেয়ে অনেক কম টাকা দিতে হচ্ছে। দিল্লিতে বর্তমানে একটি ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৯৪২ টাকা। ‘প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা’র (PMUY) সুবিধাভোগীরা সিলিন্ডার প্রতি ৩০০ টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ভর্তুকি (DBT) পাওয়ায় আদতে তাঁরা গ্যাস পাচ্ছেন মাত্র ৬৪২ টাকায়। অথচ বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে সঙ্কটের জেরে একটি ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের প্রকৃত সরবরাহ খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬০০ টাকারও বেশি। অর্থাৎ সরকার সিলিন্ডার প্রতি প্রায় ৭০০ টাকার বিপুল আর্থিক বোঝা নিজে বহন করে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিচ্ছে।

    বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা

    ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি ১৪.২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ভারতের প্রতিবেশী এবং বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশে ভারতের চেয়ে অনেক বেশি।

    • ভারত: ৬৪২ টাকা (উজ্জ্বলা গ্রাহক), ৯৪২ টাকা (সাধারণ গ্রাহক)
    • পাকিস্তান: ১,০৪৬ টাকা
    • নেপাল: ১,২০৭ টাকা
    • বাংলাদেশ: ১,২২৫ টাকা
    • শ্রীলঙ্কা: ১,২৪১ টাকা
    • আমেরিকা (USA): ১,৭৫৫ টাকা
    • অস্ট্রেলিয়া: ১,৭৬৫ টাকা
    • কানাডা: ২,৪১১ টাকা

    পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কট এবং হরমুজ প্রণালীর চ্যালেঞ্জ

    ফেব্রুয়ারি মাসে পশ্চিম এশিয়ায় সঙ্কট শুরু হওয়ার আগে সৌদি আরামকো নির্ধারিত রান্নার গ্যাসের আন্তর্জাতিক চুক্তি মূল্য (Saudi CP) ছিল টন প্রতি ৫৪৩ মার্কিন ডলার। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) অবরুদ্ধ বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জুন মাসে এই দাম প্রায় ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে টন প্রতি ৭৯০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৫৪ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমেই দেশে আসে। এই সঙ্কটের মধ্যেও ভারত অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তার নিজস্ব পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারগুলির মাধ্যমে এই প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি আমদানি করে চলেছে। তাই দেশে রান্নার গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়নি।

    সরকারি ভর্তুকি ও ক্ষতিপূরণ

    বর্তমানে দিল্লিতে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ৩,১১৩.৫০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতি মাসে সরাসরি দর পরিবর্তিত হলেও, ঘরোয়া সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে সরকার দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। গত অর্থবর্ষের শেষে ঘরোয়া এলপিজিতে তেল সংস্থাগুলির মোট আন্ডার-রিকভারি অর্থাৎ আন্তর্জাতিক দাম ও খুচরো দামের ফারাক দাঁড়িয়েছে ৬০,০০০ কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে ৩০,০০০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ অনুমোদন করেছে। এর পাশাপাশি ১০.৫৮ কোটিরও বেশি উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহককে বছরে প্রথম ৪টি রিফিলের জন্য ৩০০ টাকা করে অতিরিক্ত সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে সাধারণ মানুষকে এই মূল্যবান খনিজ সম্পদের ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে এবং রান্নার ক্ষেত্রে শক্তি-দক্ষ পদ্ধতি অবলম্বন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • Hindus Under Attack: রাশ টানা যায়নি হিন্দু নির্যাতন, লাভ জেহাদে, দেখুন এই সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: রাশ টানা যায়নি হিন্দু নির্যাতন, লাভ জেহাদে, দেখুন এই সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অব্যাহত হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ। ভারত তো বটেই, বিশ্বের বহু অঞ্চলেও এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে আসছে, যা খুবই উদ্বেগজনক (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, সর্বত্র হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক ৩১ মে থেকে ৬ জুন, ২০২৬ – পর্যন্ত পর্বে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার জলছবি।

    বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী (Hindus Under Attack)

    কর্নাটকে, বিশেষত বেঙ্গালুরু ও রাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মহলের দাবি, এই রাজ্যে ২০ লাখেরও বেশি নথিভুক্তহীন অভিবাসী অবৈধভাবে বসবাস করছে। বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা, জনসংখ্যাগত ভারসাম্য, অবৈধ বসতি গঠন এবং অনুপ্রবেশকারী চক্রের নেপথ্যে যে রাজনৈতিক মদত রয়েছে, সেই অভিযোগকেই মান্যতা দেয়। এর জেরে শুরু হয়ে নতুন করে বিতর্ক। চলতি বছর বকরি ইদ উপলক্ষে নমাজ আদায়, সংযম ও আইন মেনে ধর্মীয় আচার পালনের প্রত্যাশা থাকলেও, দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা, হিংসা এবং জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। বহু হিন্দু সংগঠন ও নাগরিকের দাবি, ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বারবার এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

    ছাত্রীকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ

    ইডির টিটিআই (TTI) সংক্রান্ত তদন্তের পর ভারতে পরিচালিত বিদেশি চার্চ-সমর্থিত ধর্মান্তর কার্যকলাপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তে টিটিআইয়ের আর্থিক কাঠামোর পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চার্চ, মিশনারি সংগঠন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কও আলোচনায় এসেছে। উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এক ছাত্রীকে ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে বিয়ে করার এবং পরে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি ধর্মীয় পরিচয় গোপন করেছিল। পরিচয় দিয়েছিল হিন্দু বলে। প্রেমের সেই ফাঁদে পায় দেয় ওই ছাত্রী। তার পরেই খসে পড়ে অভিযুক্তের মুখোশ। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ (Hindus Under Attack)।

    বকরি ইদে হিংসা

    তামিলনাড়ুর স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেজি অরুণরাজ কবি-সন্ত তিরুভাল্লুভরকে গেরুয়া পোশাকে চিত্রিত করার বিরোধিতা করেছেন (Roundup Week)। একটি অনুষ্ঠানে তিরুভাল্লুভরের গেরুয়া বস্ত্রপরিহিত প্রতিকৃতি প্রদর্শনের পর তিনি জানান, ‘তিরুক্কুরাল’ সমগ্র মানবজাতির নৈতিক ও আদর্শগত মূল্যবোধের প্রতীক। তাই এঁকে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখা উচিত নয়। উত্তরপ্রদেশের বালরামপুরে বকরি ইদের দিন ধনরাজ মৌর্য নামে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন মুসলমান যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, আসিফ, সাজিদ, মাজিদ এবং সলিম-সহ কয়েকজনের মারের চোটে গুরুতর জখম হাসপাতালে ভর্তি হন ধনরাজ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই মারা যান তিনি। আসিফদের হাতে তাঁর পরিবারের সদস্যরাও আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ (Hindus Under Attack)।

    ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হতে চাপ

    উত্তরাখণ্ডের দেরাদুন জেলার বিকাশনগরে এক মহিলাকে ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে ধর্ষণ এবং (Roundup Week) পরে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হতে চাপ দেওয়ার অভিযোগে দানিশ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তেলঙ্গানার নারায়ণপেটে এক কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কয়েকটি সংগঠন ঘটনাটিকে ‘লাভ জেহাদে’র পরিণতি বলে দাবি করলেও, পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন। লাভ জেহাদের অভিযোগের সত্যতাও নিশ্চিত হয়নি। তবে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও পকসো আইনের বিভিন্ন ধারায় গ্রেফতার করে আদালতের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে ফাসিউদ্দিন নামে বছর আঠারোর এক সদ্য যুবককে (Hindus Under Attack)।

    পুনর্বহাল, ক্ষতিপূরণের দাবি

    কাঞ্চিপুরমের বরদরাজা পেরুমল মন্দিরে বৈকাসি ব্রহ্মোৎসব উপলক্ষে নির্ধারিত ইয়ালি বাহন শোভাযাত্রা বাতিল হওয়ায় ভক্তদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হয়েছে, হিন্দু রিলিজিয়াস অ্যান্ড চ্যারিটেবল এনডাওমেন্টস (HR&CE) বিভাগের আধিকারিকরা মন্ত্রীর নির্দেশেই শতাব্দীপ্রাচীন এই শোভাযাত্রা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঘটনায় সৃষ্টি হয়েছে বিতর্কের। উইপ্রো টেকনোলজিসের পুনে অফিসের এক প্রাক্তন কর্মী কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, ধর্মীয় বৈষম্য এবং জবরদস্তিমূলক আচরণের অভিযোগ এনে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি নোটিশও পাঠিয়েছেন। পুনর্বহাল, ক্ষতিপূরণ ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন। অভিযোগে তিনি ‘কর্পোরেট জেহাদে’র প্রসঙ্গও উত্থাপন করেছেন (Roundup Week)। অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ (Hindus Under Attack)।

    হিন্দুবিরোধী মনোভাবের জন্ম

    অনেকের মতে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অধিকাংশ বিদ্বেষমূলক অপরাধের পেছনে কাজ করে নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে উৎসারিত হিন্দুবিরোধী মনোভাব। তাঁদের দাবি, ইসলামি রাষ্ট্রগুলিতে হিন্দুবিরোধী বৈষম্য তুলনামূলকভাবে দৃশ্যমান হলেও, ভারত-সহ কিছু ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও আরও সূক্ষ্ম ধরনের হিন্দুবিরোধী প্রবণতা রয়েছে, যা হিন্দুদের প্রতি বিদ্বেষ ও বৈষম্যের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। দৈনন্দিন জীবনে থাকা এমন সব সূক্ষ্ম বৈষম্য অবশ্য সহজে চোখে পড়ে না। তবে প্রচলিত আইন, নীতিমালা ও বিভিন্ন ঘটনার ধারা বিশ্লেষণ করলে এই বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের ওপর ধাপে ধাপে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গের উল্লেখ করা যায়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটি বাহ্যিকভাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপিত হলেও, অন্যান্য উৎসবের ক্ষেত্রে ভিন্ন নীতি অনুসরণ (Roundup Week)এবং নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় এতে দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ ওঠে (Hindus Under Attack)।

     

  • Cockroach Janta Party: যন্তর-মন্তরে ককরোচ পার্টির প্রথম সমাবেশ, ভিড় কই, দাবিই বা কী?…

    Cockroach Janta Party: যন্তর-মন্তরে ককরোচ পার্টির প্রথম সমাবেশ, ভিড় কই, দাবিই বা কী?…

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত কয়েক মাস ধরেই ভারতের হতাশ তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছে ককরোচ জনতা পার্টি, সংক্ষেপে সিজেপি (Cockroach Janta Party)। ভাইরাল ভিডিও, ইনফ্লুয়েন্সার নেটওয়ার্ক, ইনস্টাগ্রামে প্রচার এবং সরকারবিরোধী বার্তার মাধ্যমে সংগঠনটি নিজেদের দেশের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল যুব আন্দোলন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছে। তাদের নেতৃত্ব বারবার দাবি করেছে, সংগঠনের অনুসারীর সংখ্যা কয়েক কোটি এবং এটি একটি তৃণমূলভিত্তিক গণআন্দোলনের প্রতিফলন।

    ককরোচ জনতা পার্টি, প্রশ্ন যেখানে (Cockroach Janta Party)

    তবে ৬ জুন, দিল্লির যন্তর-মন্তরে (Jantar Mantar) আয়োজিত সংগঠনের প্রথম বড় বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সেই দাবির সঙ্গে বাস্তবের বড় ফারাকটাই তুলে ধরে। পরীক্ষা সংক্রান্ত বিতর্ক ও অনিয়মের তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল অনলাইন ক্ষোভকে বাস্তব রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের সক্ষমতা প্রদর্শন করা। কিন্তু সমাবেশের ভিড় নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়—ককরোচ জনতা পার্টি কি সত্যিই একটি গণভিত্তিক আন্দোলন, নাকি এটি মূলত অ্যালগরিদম, ভাইরাল কনটেন্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভরশীল একটি ডিজিটাল ঘটনা?

    সমাবেশে লোকজন কই?

    সিজেপি (Cockroach Janta Party) কোনও প্রচলিত রাজনৈতিক দল বা ছাত্র সংগঠন থেকে গড়ে ওঠেনি। বরং ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবকেন্দ্রিক সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থা, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ তরুণদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুল পরিমাণ ফলোয়ার রয়েছে দাবি করে প্রথমবারের মতো বড় জনসমাবেশের আয়োজন করায় ৬ জুনের বিক্ষোভকে অনেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুহূর্ত হিসেবে দেখেছিলেন। প্রশ্ন উঠেছিল, কোটি কোটি অনলাইন ফলোয়ার কি হাজার হাজার মানুষকে রাজপথে নামিয়ে আনতে পারবে? সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব কি রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে? ভাইরাল জনপ্রিয়তা কি দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের ভিত্তি হতে পারবে? বিক্ষোভের জমায়েত দেখে অবশ্য এই সব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। বিস্তৃত প্রচার ও একাধিক ইনফ্লুয়েন্সারের সক্রিয় অংশগ্রহণ সত্ত্বেও, যন্তর-মন্তরের সমাবেশে উপস্থিতি সংগঠনের দাবি করা বিশাল ফলোয়ারের সংখ্যার তুলনায় নিতান্তই নগন্য (Jantar Mantar)।

    সংগঠনের শক্তি

    বিক্ষোভে ছাত্রছাত্রী, চাকরিপ্রার্থী, অভিভাবক ও সমর্থকদের দেখা গেলেও, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইউটিউবার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্বও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অনেকে অনুষ্ঠানের দৃশ্যপট মোবাইলবন্দি করে তৈরি করছিলেন অনলাইন কনটেন্ট (Cockroach Janta Party)। তাই অনেকের কাছে পুরো পরিবেশটি রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি একটি বড় ইনফ্লুয়েন্সার সমাবেশের আকারও নেয়। সিজেপির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা ও ইনফ্লুয়েন্সারদের ওপর ব্যাপক নির্ভরতা। প্রচলিত ছাত্র আন্দোলনের মতো বিশ্ববিদ্যালয় বা স্থানীয় সাংগঠনিক নেটওয়ার্কের পরিবর্তে এই সংগঠনের শক্তি মূলত এসেছে অনলাইন প্রচার ও ভাইরাল হওয়া কনটেন্ট থেকে (Jantar Mantar)।

    কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থনে সভা নয়

    সমাবেশে ককরোচ আঁকা মুখোশ, পোস্টার, শিল্পকর্ম এবং সোশ্যাল মিডিয়াভিত্তিক নানা প্রতীক ব্যাপকভাবে দেখা যায়। সমাবেশে অংশ নেওয়া অনেকের কাছে এটি সমমনা সমর্থক ও অনলাইন পরিচিতদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ হিসেবেও বিবেচিত হয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, এটি ডিজিটাল আন্দোলনের একটি মৌলিক সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া অনায়াস হলেও, সেই সমর্থনকে দীর্ঘমেয়াদি ফিল্ড লেভেলের সংগঠনে রূপ দেওয়া অনেক বেশি কঠিন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার অনিশ্চয়তা এবং নিয়োগ ও ভর্তি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন (Cockroach Janta Party)। তাঁদের অনেকেই জানান, এটি কোনও রাজনৈতিক দলের সমর্থনে নয়। শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত ত্রুটি-বিচ্যুতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই তাঁরা উপস্থিত হয়েছেন (Jantar Mantar)।

    সরকারবিরোধী কণ্ঠ

    অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অনেকে আবার এমনও জানিয়েছে, বহু সমর্থক বাস্তবে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার পরিবর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক, শেয়ার ও হ্যাশট্যাগ ব্যবহারের মধ্যেই নিজেদের সমর্থন সীমাবদ্ধ রাখেন। সিজেপির উত্থানের সঙ্গে প্রতিষ্ঠাতা অভিজিতের নাম অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় এই ইনফ্লুয়েন্সার অতীতে বিভিন্ন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছেন। বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য যোগাযোগ এবং নিজেকে সরকারবিরোধী কণ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করা নিয়ে বিভিন্ন মহলে চর্চার বিষয় হয়েছেন তিনি। বিদেশি ভাষ্যকার এবং পাকিস্তানের কিছু কর্মীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের (Cockroach Janta Party)। সংগঠনটি যদি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের চেষ্টা করে, তাহলে নেতৃত্ব, আদর্শ, অর্থায়ন, নেটওয়ার্ক ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে (Jantar Mantar)। যন্তর-মন্তরের কর্মসূচিতে প্রধান দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।

    দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক উদ্যোগ? 

    সমালোচকদের একাংশের মতে, কেবল একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করলেই শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, তা নয়। এতে একটি বৃহত্তর প্রশ্ন সামনে আসে—প্রতীকী জবাবদিহি কি যথেষ্ট, নাকি বাস্তব সংস্কারের জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট নীতিগত প্রস্তাব, প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা এবং দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক উদ্যোগ? বিক্ষোভে এই প্রশ্নগুলির সুস্পষ্ট উত্তর মেলেনি। ৬ জুনের এই কর্মসূচি হয়তো তাৎক্ষণিক দাবির চেয়ে বেশি আলোচিত হবে ডিজিটাল যুগের আন্দোলনের শক্তি ও সীমাবদ্ধতার প্রতিফলন হিসেবে। সিজেপি অনলাইন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসতে, সংবাদমাধ্যমের মনোযোগ আকর্ষণ করতে এবং তরুণদের মধ্যে একটি পরিচিত ব্র্যান্ড গড়ে তুলতে সফল হয়েছে।

    ভাইরাল জনপ্রিয়তা বনাম বাস্তব রাজনৈতিক শক্তি

    কিন্তু সেই জনপ্রিয়তা দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে পারবে কি না, তা এখনই বলা যাবে না (Cockroach Janta Party)। সংগঠনটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এলেও কোটি কোটি অনলাইন ব্যবহারকারীর দাবি এবং বাস্তব জনসমাগমের ব্যবধানই এই কর্মসূচির সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে (Jantar Mantar)। ভবিষ্যতে সেই ব্যবধান কমানো সম্ভব হবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত এই জমায়েত একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল জনপ্রিয়তা এবং বাস্তব রাজনৈতিক শক্তি সবসময় এক নয় (Cockroach Janta Party)।

     

  • Nitin Nabin: “ভারতের যুবসমাজ বিদেশি মাটিতে বসে থাকা কিছু মানুষের হাতের পুতুল নয়”, ককরোচ সমর্থকদের তোপ নীতিন নবীনের

    Nitin Nabin: “ভারতের যুবসমাজ বিদেশি মাটিতে বসে থাকা কিছু মানুষের হাতের পুতুল নয়”, ককরোচ সমর্থকদের তোপ নীতিন নবীনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল যুগের ক্ষমতা ব্যবহার করে তরুণদের নেতিবাচক দিকে প্ররোচিত করার চেষ্টা ভারতে সফল হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন (Nitin Nabin)। রবিবার ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে দলের একটি অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য এমন একটি সময়ে এল, যখন দিল্লির প্রধান প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে হাজার কিলোমিটার দূর থেকে একটি বড় ধরনের সমাবেশ চলছে। এই সমাবেশের নেতৃত্বে রয়েছেন ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে, যিনি বিদেশফেরত একজন রাজনৈতিক ব্যঙ্গশিল্পী। এর আগে তিনি আম আদমি পার্টির (AAP) সোশ্যাল মিডিয়া টিমে কাজ করতেন।

    ভারতের যুবসমাজ ইতিবাচক রাজনীতি করবে (Nitin Nabin)

    এই নব্য আন্দোলনকারীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের দিকে ইঙ্গিত করে নীতিন নবীন (Nitin Nabin) বলেন, “এই যুবসমাজের কঠোর পরিশ্রম ও শক্তির ওপর ভর করেই দেশ এগিয়ে চলেছে… তাই আমি তাঁদের সতর্ক করতে চাই যাঁরা এই দেশের যুবসমাজকে নেতিবাচক রাজনীতির দিকে টেনে নিয়ে যেতে চান। ভারতের যুবসমাজ ইতিবাচক রাজনীতি করবে। আমরা অবশ্যই গণতান্ত্রিক উপায়ে সব ধরনের প্রতিবাদ করব, কিন্তু গণতন্ত্রের মানদণ্ড ধ্বংস হতে দেব না।”

    বোস্টন ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ (PR) বিভাগের গ্র্যাজুয়েট দিপকে আমেরিকায় থাকাকালীন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party) নামক ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল তৈরি করে নজর কাড়েন। তিনি এটিকে একটি ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ বলে দাবি করেছিলেন। শুক্রবার সকালে তিনি দিল্লিতে নামেন এবং কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত সেন্ট্রাল দিল্লি জেলার যন্তর মন্তরের দিকে রওনা দেন। সেখানে তিনি এমন কিছু রাজনৈতিক মন্তব্য করেন, যেগুলিকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের অনেকেই পাতি এবং চর্বিতচর্বণ আখ্যা দিয়েছেন।

    যুবসমাজ গুটি কয়েক মানুষের হাতের পুতুল নয়

    ঝাড়খণ্ডে দলীয় বৈঠকে অংশ নিতে আসা নীতিন নবীন (Nitin Nabin) তীব্র সমালোচনা করেন সেইসব বিত্তশালী ও ক্ষমতালোভী অভিজাত টুকরে টুকরে গ্যাংকে, যাঁরা ‘জেন-জি’ (Gen-Z) ট্যাগ ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সুপরিকল্পিতভাবে প্রচার চালাচ্ছেন। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি বলেন, “বিদেশি মাটিতে বসে থাকা কিছু মানুষ ভাবছেন যে তাঁরা ভারতের যুবসমাজকে দিকনির্দেশনা দেবেন। ভারতের যুবসমাজ কৃষকদের সঙ্গে গ্রামের চাতালে বসে, গ্রামের মেঠো পথে থাকে, আমাদের কোচিং ইনস্টিটিউট এবং কলেজের ক্যাম্পাসে থাকে। ভারতের যুবসমাজ গুটি কয়েক মানুষের হাতের পুতুল হয়ে এগিয়ে যাবে না।” উল্লেখ্য, দিপকের ককরোচ জনতা পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলি মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই লাখ লাখ ফলোয়ার পেয়ে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় থাকা মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলির হ্যান্ডেলের ফলোয়ারকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।

    কখনওই বরদাস্ত করা হবে না

    রাঁচির এই অনুষ্ঠানে নবীন (Nitin Nabin) আরও বলেন, “আজ দেশের মানুষের কাছে একটি বড় বার্তা দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল মাধ্যমকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। ডিজিটাল মাধ্যম দেশ ও যুবসমাজের উন্নয়নের কাজে লাগানো যায়। কিন্তু দেশের যুব সমাজকে নেতিবাচক দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করা কখনওই বরদাস্ত করা হবে না। তাই আমি বলব, আমার দেশের যুবসমাজ, একটি উন্নত ভারত গড়তে হলে আপনাদের সবাইকে জেগে উঠতে হবে…”

    বিজেপির এই কর্তা দু’দিনের সফরে ঝাড়খণ্ডে গিয়েছেন। আজ, রবিবার তাঁর বোকারো স্টিল সিটিতে যাওয়ার কথা। এরপর তিনি রাঁচিতে বিজেপির জেলা ইন-চার্জ, জেলা সভাপতি এবং দলের বিশেষ মিডিয়া ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এদিকে, যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীরা সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE) এবং ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (NEET-UG) পরীক্ষায় ওঠা অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি করেছেন।

  • Gilgit Baltistan Elections: গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন, পাক উদ্যোগে কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    Gilgit Baltistan Elections: গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন, পাক উদ্যোগে কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রে সাধারণ নির্বাচন (Gilgit Baltistan Elections) আয়োজনের কড়া প্রতিবাদ জানাল ভারত। বিদেশমন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দে করে বলা হয়েছে, এই অঞ্চল ভারতের (India) অংশ, যা পাকিস্তান অবৈধ ও জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে।

    কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের (Gilgit Baltistan Elections)

    পাকিস্তান সরকার জানিয়েছিল, ছ’বছর পরে গিলগিট-বাল্টিস্তান বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন হবে ২ জুন। এর পরেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত। সরকারি বিবৃতিতে বিদেশমন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, “ভারত সরকার ফের তার সুপরিচিত অবস্থান স্পষ্ট করছে যে, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলসমূহ, যার মধ্যে তথাকথিত গিলগিট-বাল্টিস্তানও অন্তর্ভুক্ত, ১৯৪৭ সালে জম্মু-কাশ্মীরের সম্পূর্ণ, বৈধ ও অপরিবর্তনীয় ভারতের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তির ফলে ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ।” বিদেশমন্ত্রক এও জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং পাকিস্তানের দখলে থাকা গিলগিট-বাল্টিস্তানও সেই দাবিরই অন্তর্ভুক্ত।

    দখল করা এলাকা খালি করুক পাকিস্তান

    পাকিস্তানকে অবৈধভাবে দখল করে রাখা অঞ্চল খালি করার আহ্বান জানিয়ে ভারত বলেছে, ওই অঞ্চলের চরিত্র বা প্রশাসনিক অবস্থার কোনও ধরনের বাস্তব পরিবর্তন আনার চেষ্টা তারা প্রত্যাখ্যান করে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভারত সরকার পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা অঞ্চলে কোনও ধরনের বাস্তব পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং জোর দিয়ে বলে যে, এসব পদক্ষেপ পাকিস্তানের অবৈধ দখলদারিত্বের সত্যকে আড়াল করতে পারবে না। পাকিস্তানকে এই ভারতীয় ভূখণ্ড খালি করতেই হবে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে (Gilgit Baltistan Elections), এই ধরনের উদ্যোগ মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক শোষণ এবং স্বাধীনতা হরণের মতো গুরুতর সমস্যাগুলি ঢাকতে পারবে না।

    মানবাধিকার কর্মীর বক্তব্য

    এদিকে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানবাধিকার কর্মী আমজাদ আইয়ুব মির্জা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ওই অঞ্চলে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে, ক্রমশ চাপ বাড়ছে রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর। তাঁর দাবি, অন্য রাজনৈতিক কর্মীদেরও গ্রেফতার এবং আটক করা হচ্ছে। গিলগিট-বাল্টিস্তান আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির বহু সদস্যকে জেলে পাঠানো হচ্ছে স্রেফ তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও অর্থনৈতিক অধিকারের দাবিকে দমন করতে।

    গিলগিট-বাল্টিস্তান

    প্রসঙ্গত, গিলগিট-বাল্টিস্তান পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের একটি অঞ্চল বলে দাবি করে ভারত, যদিও প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে পাকিস্তান।ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলটি জম্মু-কাশ্মীরের দেশীয় রাজ্যের অংশ ছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত (India) স্বাধীন হওয়ার পর এবং দেশভাগের সময়, তৎকালীন শাসক মহারাজা হরি সিং জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার দলিলে সই করেছিলেন। যদিও তারপর থেকে গিলগিট-বাল্টিস্তান এবং তথাকথিত “আজাদ জম্মু-কাশ্মীর” পাকিস্তানের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গিলগিট-বাল্টিস্তান পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। পাক সরকার এলাকাটি শাসন করলেও, বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ওই এলাকার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল (Gilgit Baltistan Elections)। পাক সরকারের বিরুদ্ধে বাসিন্দাদের ক্ষোভের পারা ক্রমেই বাড়ছে (India)।

     

  • UP 112 Model: মাত্র ৬.৫ মিনিটে পুলিশের সাড়া! উত্তরপ্রদেশের এই মডেলেই নজর পশ্চিমবঙ্গের

    UP 112 Model: মাত্র ৬.৫ মিনিটে পুলিশের সাড়া! উত্তরপ্রদেশের এই মডেলেই নজর পশ্চিমবঙ্গের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জরুরি পরিষেবা ও দ্রুত পুলিশি সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশের ‘ইউপি-১১২’ (UP-112) মডেল এখন দেশের বিভিন্ন রাজ্যের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। সেই মডেল কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করতে সম্প্রতি লখনউ সফরে গেল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের (West Bengal Police) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। রাজ্যের জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) সুকেশ জৈন। লখনউয়ে ‘ইউপি-১১২’ সদর দফতরে গিয়ে তাঁরা কেন্দ্রীয় কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল ব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর পরিকাঠামো এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার কার্যপ্রণালী খতিয়ে দেখেন।

    কীভাবে কাজ করে ‘ইউপি-১১২’?

    উত্তরপ্রদেশের জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থা ‘ইউপি-১১২’ (UP-112) বর্তমানে দেশের অন্যতম সফল মডেল হিসেবে পরিচিত। অপরাধ, দুর্ঘটনা, চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি, নারী নিরাপত্তা কিংবা সাধারণ মানুষের বিপদের মুহূর্তে একক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দ্রুত সাহায্য পৌঁছে দেয় এই পরিষেবা। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিদের জানানো হয়, ‘ইউপি-১১২’-এ কোনও জরুরি ফোনকল যাতে উপেক্ষিত না হয়, তার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। কোনও কল অপারেটর ব্যস্ত থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই কল অন্য উপলব্ধ অপারেটরের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হয়।

    মুহূর্তে শনাক্ত হয় কলারের অবস্থান

    প্রতিনিধিদলকে দেখানো হয় কীভাবে সিস্টেমটি কলারের অবস্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে নিকটবর্তী পুলিশের কাছে তথ্য পাঠায়। এর ফলে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছতে পারে পুলিশ। এছাড়াও, প্রতিটি জরুরি কলের জন্য ডিজিটাল রেকর্ড তৈরি করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ নথিভুক্ত থাকে। ফলে পুরো প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হয়ে ওঠে, যা সাধারণ মানুষের আস্থাও বাড়ায়।

    গড় সাড়া দেওয়ার সময় মাত্র সাড়ে ৬ মিনিট

    ‘ইউপি-১১২’ (UP-112) কর্তৃপক্ষ প্রতিনিধিদলকে জানায়, উন্নত প্রযুক্তি ও সুসংহত ব্যবস্থাপনার কারণে তাদের গড় প্রতিক্রিয়া সময় প্রায় ৬.৫ মিনিট। বিশাল ভৌগোলিক বিস্তৃতির উত্তরপ্রদেশেও এই দ্রুত পরিষেবা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে।

    যোগী সরকারের পুলিশি সংস্কারের ফল

    বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)-এর আমলে উত্তরপ্রদেশে যে পুলিশি সংস্কার ও প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ হয়েছে, তারই অন্যতম সফল ফল ‘ইউপি-১১২’ (UP-112)। এক্ষেত্রে নজরদারি ব্যবস্থা, জরুরি পরিষেবা, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং পুলিশ পরিকাঠামোয় ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে জননিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গে কি চালু হবে একই মডেল?

    সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ নিজেদের জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন সফল মডেল পর্যালোচনা করছে। সেই প্রেক্ষিতেই এই সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এখনও পশ্চিমবঙ্গে সম্পূর্ণভাবে ‘ইউপি-১১২’ (UP-112) মডেল চালুর বিষয়ে কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি, তবে লখনউ সফর থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ও তথ্য ভবিষ্যতে রাজ্যের জরুরি পরিষেবা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

LinkedIn
Share