Blog

  • Suvendu Adhikari on Jadavpur: যাদবপুরের বয়েজ হস্টেল চত্বরে ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন! ভিডিও প্রকাশ, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari on Jadavpur: যাদবপুরের বয়েজ হস্টেল চত্বরে ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন! ভিডিও প্রকাশ, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস চত্বরকে বিকৃত প্রচার এবং ভারত-বিরোধী মনোভাব ছড়ানোর মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। যাদবপুর ক্যাম্পাসে কোনওভাবেই দেশবিরোধী কার্যকলাপ বরদাস্ত করবে না রাজ্য সরকার। স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari on Jadavpur)। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের ছাত্রদের হস্টেল চত্বরে দেশবিরোধী দেওয়াল লিখন বা ছবি রয়েছে! শুভেন্দু অধিকারী জানান, মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ সেলে এমনই কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই অভিযোগগুলি এসেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশের তরফে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কিছু আপত্তিকর ভিডিয়ো এবং ছবি পেয়েছেন তিনি। যদি তা সত্যি হয় অবিলম্বে পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    ক্যাম্পাস চত্বরে ‘আপত্তিকর’ ভিডিও

    সোমবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের ‘আপত্তিকর’ ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আর্টস ডিভিশন বয়েজ হস্টেল’-এর চত্বরে আপত্তিকর, দেশবিরোধী দেওয়াল লিখন এবং ছবি আঁকার অভিযোগ পেয়েছেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উচ্চশিক্ষা দফতরের প্রধান সচিব এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘তদন্তের প্রথম ধাপ হিসেবে ওই হস্টেল চত্বরে গিয়ে বিষয়টা যাচাই করতে হবে। যদি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা যায়, তবে এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে হবে।’’ মুখ্যমন্ত্রীর মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ এবং মর্যাদার সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই হবে সকলকে। তার পরেই যাদবপুরের হস্টেল চত্বরের এই সব দেওয়াল লিখনের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, ‘‘যদি এমন দেশবিরোধী বার্তা এবং বিকৃত মানসিকতার ছবির উপস্থিতি প্রমাণিত হয়, তবে অবিলম্বে সেই দেওয়াল লিখন মুছে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে।’’ কারা এ ধরনের দেওয়াল লিখন বা ছবি আঁকার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের চিহ্নিত করে কঠোর প্রশাসনিক এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশবিরোধী কার্যকলাপে ‘জিরো টলারেন্স’

    শুভেন্দু স্পষ্ট করেছেন, ‘‘কোনও অবস্থাতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস চত্বরকে বিকৃত প্রচার এবং ভারত-বিরোধী মনোভাব ছড়ানোর মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।’’ মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, রাজ্যের যে কোনও প্রান্তের যে কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তাঁর সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করে চলে। সংশ্লিষ্ট দফতর এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবশ্যই সেই কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হবে। তাঁর বার্তা, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে অবশ্যই মেধা এবং শৃঙ্খলার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বজায় রাখতে হবে। নজর রাখতে হবে যাতে কখনওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি অসামাজিক কার্যকলাপের ক্ষেত্র হয়ে না-ওঠে।’’

    যাদবপুরে জাতীয়বাদ প্রতিষ্ঠা

    যাদবপুরের অশান্তি নিয়ে আগেই মুখ খুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ও বাইরে জাতীয়বাদ প্রতিষ্ঠা করবেনই। শুভেন্দু অভিযোগ করেন, ‘‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দে মাতরম্‌ গাইতে দেয় না। জাতীয় পতাকা ওড়ে না সেখানে। শিক্ষা দফতরকে ঢুকতে দেয়নি। সিসিক্যামেরা লাগাতে দেয় না। দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রবাদের সঙ্গে কোনও আপস নয়। যাঁরা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান তুলছেন, তাঁদের মুখ সেলাই করে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। এ রাজ্যে থাকতে গেলে বন্দে মাতরম্‌ গাইতে হবে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘পুলওয়ামার ঘটনা নিয়ে চুপ থাকেন। অপারেশন সিঁদুরের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন। কিন্তু এখন বিজেপি শাসিত রাজ্যে তা চলবে না।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবার রাখির দিন দেশপ্রেম দিবসের ঘোষণা করেছে সরকার। গোটা পশ্চিমবঙ্গে চার হাজার অনুষ্ঠান হবে। এমনকী সেদিন যাদবপুরে সম্পূর্ণ বন্দেমাতরম গাওয়া হবে বলেও জানান ।

    ‘‘কিষেনজি রেড স্যালুট চলবে না”

    গত কয়েকদিন ধরে সংবাদ শিরোনামে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংঘর্ষ। গেরুয়াপন্থী ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের মধ্যে অশান্তি, প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দেশের নামী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে বিশিষ্ট শিল্পী নন্দলাল বসুর আঁকা এমব্লেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়তে থাকে। এনিয়ে আরও একবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ‘‘যাদবপুরে কিষেনজি রেড স্যালুট চলবে না। সব ডকুমেন্ট আছে। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সোমবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই যাদবপুর ইস্যুতে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘যাদবপুরে কিছু হয়নি। সব স্বাভাবিক রয়েছে। আজও ক্লাস হয়েছে। কোনও সমস্যা নেই।”

    যাদবপুর নিয়ে মিথ্যা প্রচার

    মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট দাবি, যাদবপুরে নতুন করে কিছুই ঘটেনি। একটি বিশেষ সংবাদ মাধ্যমের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা প্রচারের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘যাদবপুরে কী হয়েছে? কিছুই তো হয়নি। একটি নির্দিষ্ট চ্যানেল এবং তাদের প্রিন্ট মিডিয়ার নিজেদের স্বার্থ আছে। আমাদের কোনও স্বার্থ নেই।” ওই সংবাদ মাধ্যমের নির্বাচনী সমীক্ষা যে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে, তাও মনে করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ওই সংবাদ মাধ্যমের টক শো-তে যারা যায়, তারা বলছিল যে বিজেপি কীভাবে লড়বে! এরা তো হিন্দুদের দল, দেড়শো আসনে লড়ছে, ১১০-১২০টি আসন পেতে পারে। ওই বড় মিডিয়া গ্রুপের সব প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষা ডাহা ফেল করেছে। তাই ওরা এখন এসব হজম করতে পারছে না। আমি এসব নিয়ে কথা বলতে একেবারেই আগ্রহী নই। আমাকে দেশভক্ত নাগরিকরাই মুখ্যমন্ত্রী বানিয়েছেন, ওরা বানায়নি।”

  • Sleep Apnea: নাক ডাকা শুধু বিরক্তিকর নয়, বড় বিপদেরও ইঙ্গিত! কোন ৬ লক্ষণে বুঝবেন ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’?

    Sleep Apnea: নাক ডাকা শুধু বিরক্তিকর নয়, বড় বিপদেরও ইঙ্গিত! কোন ৬ লক্ষণে বুঝবেন ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ঘুমিয়ে পড়লেই বিকট নাক ডাকার আওয়াজ! এ নিয়ে দাম্পত্য কলহ, পারিবারিক অশান্তির হাজার কাহিনী কমবেশি সকলের জানা! কিন্তু এই তীব্র নাক ডাকার আওয়াজ ডেকে আনতে পারে একাধিক স্বাস্থ্য সঙ্কট। এমনকি বাড়িয়ে দেয় প্রাণ সংশয়! নাক ডাকা তাই পাশের জনের অসুবিধার কারণ শুধু নয়। নিজের স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের ইঙ্গিত বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নাক ডাকার এই সমস্যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় স্লিপ অ্যাপনিয়া বলা হয়‌। ঘুমের মধ্যে শরীরে অক্সিজেন ঠিকমতো পৌঁছতে না পারার জেরেই এই নাক ডাকার আওয়াজ তৈরি হয়। পরিবারের কেউ অতিরিক্ত নাক ডাকলে যথেষ্ট সতর্ক থাকা জরুরি। না হলেই বড় বিপদ হতে পারে।

    কেন নাক ডাকার আওয়াজ নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ঘুমের মধ্যে শরীরে অক্সিজেনের প্রবেশ নিয়ে সমস্যা হলেই নাক ডাকার আওয়াজ তৈরি হয়। শ্বাসনালীতে অক্সিজেন ঢুকতে বাধা পেলেই এই ধরনের আওয়াজ হয়। স্লিপ অ্যাপনিয়া হলো এমন একটা রোগ, যেখানে ঘুমের মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাস বাধা প্রাপ্ত হয়। স্বাভাবিক ভাবে হয় না। কখনও কখনও কয়েক মুহূর্তের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। যা খুবই বিপজ্জনক।

    কাদের এই রোগ হতে পারে?

    • চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সাধারণত বয়স পঞ্চাশের চৌকাঠ পেরোলে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এই রোগের জটিলতাও বাড়ে। তবে যেকোনও বয়সেই এই সমস্যা তৈরি হতে পারে। এমনকি শিশুদের মধ্যেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
    • স্থূলতার সমস্যায় আক্রান্তদের স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যা বেশি হয়। অতিরিক্ত ওজনের জেরে গলায় চর্বি জমে। ঘুমের মধ্যে শ্বাসনালীর কাজ স্বাভাবিক ভাবে হয় না। তখন স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
    • গলা কিংবা জিভে সমস্যা থাকলে কিংবা টনসিলের কোনও সমস্যা থাকলে স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই সর্দি-কাশিতে দীর্ঘদিন ভুগলে স্লিপ অ্যাপনিয়া দেখা দিতে পারে।
    • পরিবারের কেউ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ভুগলে এই রোগ বংশানুক্রমিক ভাবেও হতে পারে।
    • শরীরে হরমোন ঘটিত ভারসাম্যের অভাবের জেরেও‌ স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

    কীভাবে বুঝবেন আপনি স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত কিনা?

    পরিবারের কেউ স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত কিনা বোঝার জন্য কয়েকটি উপসর্গের দিকে নজর দিলে সহজেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

    • কেউ ঘুমের মধ্যে জোরে বারবার নাক ডাকলে স্লিপ অ্যাপনিয়ায় আক্রান্ত। এটা এই সমস্যার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ‌।
    • ঘুমের মধ্যে খুব অল্প সময়ের জন্য দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কিনা, হঠাৎ হাঁসফাঁস করে ঘুম ভেঙে যাচ্ছে কিনা, এটা পরিবারের অন্য সদস্যদের নজরে রাখা জরুরি।‌ কারণ এগুলো গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত।
    • রাতে পর্যাপ্ত ঘুমোনোর পরেও দিনভর ক্লান্তি বা ঘুমঘুম ভাব থাকলে, এটাও স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।
    • সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরেই মাথা যন্ত্রণা, মনে রাখার ক্ষমতা কমতে থাকার মতো সমস্যা স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ।
    • তবে শিশুদের ক্ষেত্রে কয়েকটি উপসর্গ আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, শিশুর যেকোনও কাজে মনোযোগের অভাব, বিছানায় বারবার প্রস্রাব করে ফেলার অভ্যাস স্লিপ অ্যাপনিয়ার জানান দেয়।

    কেন এই রোগ স্বাস্থ্য বিপর্যয় ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দীর্ঘদিন স্লিপ অ্যাপনিয়ার চিকিৎসা না হলে এই রোগ একাধিক স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করতে পারে। ঘুমের মধ্যে দম আটকে আসার জেরে অনেক সময়েই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।‌ অর্থাৎ স্লিপ অ্যাপনিয়া প্রাণ সংশয় তৈরি করতে পারে।
    তাছাড়া, স্লিপ অ্যাপনিয়া হলে পর্যাপ্ত গভীর ঘুম হয় না। ফলে, শরীরের প্রয়োজনীয় বিশ্রাম হয় না। এর জেরেই মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। স্নায়ুর উপরে চাপ বাড়ে। ফলে, স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা বাড়ে। স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে থাকে। আবার শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। স্লিপ অ্যাপনিয়ার জেরে রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত হতে থাকে। এর ফলে একদিকে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা হতে পারে। আবার হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই নাক ডাকার মতো সমস্যাকে কখনই হালকা ভাবে নিয়ে অবহেলা করা উচিৎ নয় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আসলে এটা। বড় সমস্যার ইঙ্গিত।

    কীভাবে এই সমস্যার মোকাবিলা করবেন?

    রোগ চিহ্নিত করা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্লিপ অ্যাপনিয়া কমানোর প্রথম ধাপ হলো সচেতনতা। এটা একটা স্বাস্থ্য সমস্যা, এটাই অধিকাংশ সময় চিহ্নিত করণ হয় না। ফলে, সমস্যার সমাধান হয় না। বরং আরও বিপদ বাড়তে থাকে।

    ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা!

    স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা কমাতে হলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি।‌ হঠাৎ করেই ওজন কমে যাবে না। বরং, নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেয়ে ওজন কমাতে হবে। প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। তেলেভাজা জাতীয় খাবার খাওয়া চলবে না।

    পর্যাপ্ত শারীরিক কসরত করতে হবে!

    স্লিপ অ্যাপনিয়ার বিপদ কমাতে নিয়মিত শারীরিক কসরত জরুরি। প্রত্যেক দিন দুবেলা অন্তত তিরিশ মিনিট হাঁটা কিংবা যোগাভ্যাস জরুরি। এতে স্নায়ু ও পেশির সক্রিয়তা বজায় থাকবে। শরীরে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আবার বাড়তি মেদ জমবে না। ফলে স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যাও কাবু হবে।

    অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ছাড়তে হবে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত ধূমপান করলে কিংবা মদ্যপান করলে স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই এই রোগের প্রকোপ কমাতে মদ্যপান ও ধূমপান‌ ত্যাগ করতে হবে।

    প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা জরুরি!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যা কতখানি গুরুতর, সেটা নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। তাই পরিবারের কেউ এই সমস্যায় আক্রান্ত হলে‌ চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট শরীরিক পরীক্ষার মাধ‌্যমে পরিস্থিতি কতখানি গুরুতর সেটাও স্পষ্ট বোঝা যাবে। যাতে অন্যান্য বড় বিপদ আটকানো সহজ হয়।

  • Piyush Goyal: ভারতে জাপানি সংস্থার সংখ্যা দ্বিগুণ করার আহ্বান পীযূষ গোয়েলের

    Piyush Goyal: ভারতে জাপানি সংস্থার সংখ্যা দ্বিগুণ করার আহ্বান পীযূষ গোয়েলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার লক্ষ্যে বড়সড় প্রস্তাব দিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল (Piyush Goyal)। ভারতে জাপানি সংস্থাগুলির উপস্থিতি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি চলতি দশকের মধ্যে দেশে সক্রিয় জাপানি সংস্থার সংখ্যা (Infra Energy Tech) দ্বিগুণ করার কথা বলেছেন। জাপানে ভারতের এখনও পর্যন্ত বৃহত্তম ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন গোয়েল। দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ককে বিনিয়োগ, উৎপাদন, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের আরও শক্তিশালী ভিত্তিতে পরিণত করাই তাঁর সফরের অন্যতম লক্ষ্য।

    ভারতে জাপানি ব্যবসার পরিসর দ্বিগুণ করার লক্ষ্য (Piyush Goyal)

    বর্তমানে ভারতে ১,৪০০-র বেশি জাপানি সংস্থা কাজ করছে। তবে গোয়েলের মতে, দুই বৃহৎ এশীয় অর্থনীতির সম্ভাবনার তুলনায় এই উপস্থিতি এখনও খুবই সীমিত। জাপান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জাপান-ইন্ডিয়া বিজনেস কনসালটেটিভ কমিটি এবং টোকিওয় ভারতীয় দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি বলেন, চলতি দশকেই ভারতে জাপানি সংস্থাগুলির উপস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হওয়া উচিত। গোয়েল বলেন, “আমি মনে করি, চলতি দশকের মধ্যে বর্তমানে ভারতে কাজ করা জাপানি সংস্থার সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়া উচিত।” ২৪ থেকে ২৭ অগাস্ট পর্যন্ত চার দিনের সফরে তিনি ২০০-র বেশি সদস্যের একটি ভারতীয় ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই দলে উৎপাদন, অর্ধপরিবাহী শিল্প, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, ইস্পাত, গাড়ি শিল্প, আর্থিক পরিষেবা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং প্রযুক্তি-নির্ভর নতুন উদ্যোগের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

    জাপানকে পরবর্তী প্রবৃদ্ধির অংশীদার হিসেবে দেখছে ভারত

    ভারতের দ্রুত সম্প্রসারিত অর্থনীতি এবং উৎপাদনভিত্তিক পরিকাঠামোকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে জাপানি সংস্থাগুলির সামনে তুলে ধরেছেন গোয়েল। তাঁর বক্তব্য, ভারত ও জাপান পরস্পরের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে জাপানের দক্ষতা ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। জাপানি সংস্থাগুলিকে ভারতের উন্নয়নের যাত্রায় আরও ঘনিষ্ঠভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গোয়েল বলেন, ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তির সময় ভারত ৪ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থনীতি থেকে ৩০ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে (Infra Energy Tech)। দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে তিনি জাপানের ‘কাইজেন’ বা ধারাবাহিক উন্নতির নীতির কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, ভারতের সঙ্গে জাপানের সহযোগিতা শুধু পণ্য বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। উৎপাদন, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং ভারতকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও যৌথ উদ্যোগ বাড়াতে হবে (Piyush Goyal)।

    অর্ধপরিবাহী, এআই ও উন্নত উৎপাদনে নজর

    গোয়েলের চার দিনের সফরে টোকিও, নাগোয়া এবং ওসাকায় সরকারি ও ব্যবসায়িক স্তরে একাধিক বৈঠক রয়েছে। টোকিওয় তিনি জাপানের বড় শিল্পগোষ্ঠী ও শিল্প সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এছাড়া জাপান বিজনেস ফেডারেশনের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এই সংগঠনের সঙ্গে জাপানের ১,৫০০-র বেশি ব্যবসায়িক সংস্থা যুক্ত রয়েছে। টোকিও পর্বে অর্ধপরিবাহী শিল্প, এআই, নতুন উদ্যোগ এবং বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ নিয়ে পৃথক আলোচনা হচ্ছে। জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেইয়ের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন গোয়েল। পাশাপাশি জাপান সরকারের শীর্ষ কর্তাব্যক্তি ও সংসদীয় নেতাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক রয়েছে। ভারতকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান উৎপাদন ও প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গেই এই উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ। সূক্ষ্ম উৎপাদন, গাড়ি প্রযুক্তি, রোবোটিক্স, ইলেকট্রনিক্স এবং শিল্পক্ষেত্রে উদ্ভাবনে জাপানের দক্ষতা ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা কর্মসূচির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

    নাগোয়া ও ওসাকায় বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরবে ভারত

    পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিনিধি দল যাবে জাপানের গাড়ি ও শিল্প উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র নাগোয়ায়। সেখানে মধ্য জাপান অর্থনৈতিক ফেডারেশন এবং নাগোয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে ব্যবসায়িক প্রদর্শনী ও বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন গোয়েল। আইচি প্রদেশের প্রশাসনিক নেতৃত্ব এবং গাড়ি ও ইস্পাত শিল্পের বড় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। সফরের শেষ পর্বে ওসাকায় বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের নিয়ে একাধিক কর্মসূচি হবে। ইলেকট্রনিক্স, শিল্প সরঞ্জাম এবং ভোগ্যপণ্য খাতের জাপানি সংস্থাগুলির সঙ্গেও বৈঠক করবেন ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। এই বৈঠকগুলির মাধ্যমে ভারতের উৎপাদন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং ভোক্তা বাজারে বিনিয়োগের সুযোগগুলি তুলে ধরার পাশাপাশি জাপানি (Infra Energy Tech) বিনিয়োগকারীদের ভারতের দ্রুত বিকাশমান নতুন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলির সঙ্গে যুক্ত করাই লক্ষ্য (Piyush Goyal)।

    ওষুধ, জ্বালানি ও পরিকাঠামোয়ও বাড়ছে সহযোগিতা

    টোকিওয় জাপানের একাধিক সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পীযূষ গোয়েল। তাঁদের মধ্যে রয়েছে মেইজি সেইকা ফার্মা এবং সুমিতোমো কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরা। মেইজি সেইকার সঙ্গে বৈঠকে ভারতে তাদের উৎপাদন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সুমিতোমোর সঙ্গে আলোচনায় জ্বালানি রূপান্তর, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং শিল্প পরিকাঠামোয় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সুমিতোমো কর্পোরেশনের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শিনগো উএনোর সঙ্গে বৈঠকের পর গোয়েল বলেন, “ভারতের বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সম্প্রসারিত উৎপাদন ব্যবস্থা আরও বৃহত্তর সহযোগিতার বিপুল সুযোগ তৈরি করছে। এর ফলে ভারত-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে।” মেইজি সেইকা ফার্মার সভাপতি ও প্রতিনিধি পরিচালক তোষিয়াকি নাগাসাতোর সঙ্গেও বৈঠক করেন গোয়েল। সেখানে ওষুধ শিল্পে ভারত-জাপান সহযোগিতা বাড়ানো এবং ভারতে সংস্থাটির উৎপাদন ও গবেষণা-উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। গোয়েল বলেন, ভারতের ওষুধ শিল্পের পরিকাঠামো জাপানি অংশীদারদের জন্য উৎপাদন বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি অর্জনের বড় সুযোগ তৈরি করছে। মিতসুবিশি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি পরিচালক জুরো বাবার সঙ্গেও বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী। ভারতে মিতসুবিশি কর্পোরেশনের নয় দশকেরও বেশি সময়ের উপস্থিতির ভিত্তিতে পরিবহণ, জ্বালানি এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। গোয়েল বলেন, “শিল্পের প্রবৃদ্ধি এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খলকে সমর্থন করে এমন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের অবস্থান শক্ত করার লক্ষ্য

    ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে (Piyush Goyal) বিশ্বের বড় সংস্থাগুলি বর্তমানে তাদের সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কয়েকটি উৎপাদনকেন্দ্রের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর প্রবণতাও বাড়ছে (Infra Energy Tech)। ভারতের কাছে এই পরিস্থিতি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির বিকল্প উৎপাদনকেন্দ্র এবং রফতানি কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাপানি বিনিয়োগ শুধু মূলধনই আনবে না, এর সঙ্গে উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, আধুনিক শিল্পকৌশল এবং আন্তর্জাতিক মূল্য শৃঙ্খলের সঙ্গে আরও (Infra Energy Tech) গভীর সংযোগও তৈরি হতে পারে। ভারত-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের পরবর্তী পর্যায়ে এই সহযোগিতাকেই আরও (Piyush Goyal) বিস্তৃত করতে চাইছে নয়াদিল্লি।

     

  • Kashmiri Pandits: জম্মুতে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ফের হুমকি, চিঠিতে বাড়ির নম্বর-ঠিকানারও উল্লেখ

    Kashmiri Pandits: জম্মুতে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ফের হুমকি, চিঠিতে বাড়ির নম্বর-ঠিকানারও উল্লেখ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Kashmiri Pandits) লক্ষ্য করে ফের হুমকি চিঠি ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে জম্মুতে। রবিবার, ২৩ আগস্ট, প্রকাশ্যে আসা এই চিঠিতে প্রায় ছয় জন কাশ্মীরি পণ্ডিতের ব্যক্তিগত তথ্য, বাড়ির নম্বর ও রাস্তার নাম উল্লেখ রয়েছে। এর প্রায় দু’সপ্তাহ আগে একই সম্প্রদায়ের কর্মীদের সতর্ক করে একটি হুমকি চিঠি প্রকাশ্যে এসেছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি চিঠিটির সত্যতা যাচাই করছে। পাশাপাশি, এর পিছনে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। জম্মুর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী পণ্ডিতদের এই স্পর্শকাতর ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে দুষ্কৃতীদের হাতে পৌঁছল, তা নিয়ে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির অন্দরে বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

    চিঠিতে নাম ও ঠিকানা

    চিঠিতে জম্মুর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Fresh Threat to Kashmiri Pandits) নাম উল্লেখ করে তাঁদের ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাসবাদী’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। দিল্লিতে তাঁদের ‘প্রভুদের’ হয়ে কাজ করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। কাশ্মীরে ‘আরএসএসের এজেন্ডা’ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ‘আহমেদ বিলাল’-এর নামে স্বাক্ষর করা চিঠিতে বলা হয়েছে, “আপনারা যেখানেই থাকুন, যেখানেই যান, আমরা আপনাদের প্রতিটি পদক্ষেপের উপর নজর রাখছি।” চিঠিটি ‘ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল’ বা ইউএলসি-এর নামে প্রকাশিত হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সন্দেহ, এটি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার (LeT) একটি ফ্রন্ট সংগঠন হতে পারে। চিঠিতে উপত্যকায় থেকে যাওয়া কাশ্মীরি পণ্ডিত এবং উপত্যকা ছেড়ে জম্মু-সহ অন্যত্র চলে যাওয়া পণ্ডিতদের মধ্যে বিভাজন তৈরিরও চেষ্টা করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, যারা উপত্যকায় থেকে গিয়েছেন তাঁরা নিরাপদ, কিন্তু সরকারি চাকরির জন্য উপত্যকায় ফিরে আসা অভিবাসী কাশ্মীরি পণ্ডিতরা হামলার নিশানায় রয়েছেন।

    কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ

    এর আগে চলতি মাসেই প্রথম হুমকি চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর জম্মু-কাশ্মীর সরকার বিভিন্ন দফতরকে কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল। তাঁদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়। আগের চিঠিতে রাজস্ব দফতরের কয়েকজন কর্মীর নাম ও ফোন নম্বর উল্লেখ ছিল। পুলিশ সূত্রের দাবি, সন্ত্রাসবাদীদের সম্পত্তির বিরুদ্ধে সরকারি পদক্ষেপের সঙ্গে ওই কর্মীদের কাজকে যুক্ত করে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এর প্রায় এক সপ্তাহ আগে, ৩১ জুলাই, কুলগামে একটি ইটভাটায় দুই পরিযায়ী শ্রমিককে জঙ্গিরা হত্যা করে। জুলাই মাসে হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একটি পোস্টার প্রকাশ করার পর ইউএলসি সংগঠনটি নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরে আসে। এদিকে, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকায় ফেরানো ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারের উদ্যোগের মধ্যেই এই নতুন হুমকি সামনে এল। প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের আওতায় সরকারি চাকরি পেয়ে বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত ইতিমধ্যেই উপত্যকায় ফিরেছেন।

  • Baloch Liberation Army: বালোচিস্তানে সেনা কনভয়ে হামলা, ১৩ পাক সেনা নিহত, দাবি বিএলএর

    Baloch Liberation Army: বালোচিস্তানে সেনা কনভয়ে হামলা, ১৩ পাক সেনা নিহত, দাবি বিএলএর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশের (Pakistani Military Convoy) মাস্তুং জেলায় সেনাবাহিনীর একটি কনভয়ে ভয়াল হামলা এবং পরবর্তী অতর্কিত হামলায় ১৩ জন সামরিক সদস্য নিহত এবং অন্তত ১০ জন জখম হয়েছেন বলে দাবি করেছে বালোচ লিবারেশন আর্মি (Baloch Liberation Army)।

    সংগঠনের মুখপাত্র জিয়েন্দ বালোচ জানিয়েছেন, ২২ অগাস্ট রাতে মাস্তুং জেলার খাদকোচা এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি সাঁজোয়া গাড়িকে বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে আর একটি সাঁজোয়া গাড়ি ও কনভয়ের সঙ্গে থাকা অন্যান্য যানবাহনের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

    জিয়েন্দ বালোচ বলেন, “এই ভয়াবহ হামলায় দখলদার বাহিনীর ১৩ জন সদস্য নিহত এবং ১০ জনেরও বেশি জখম হয়েছে।” তিনি জানান, এই অভিযানে সংগঠনটির বিশেষ কৌশলগত অভিযান দল অংশ নেয়।

    এর আগে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র বালোচিস্তান পোস্টকে জানিয়েছিল, বিস্ফোরণে একটি সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংস এবং আর একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে সশস্ত্র ব্যক্তিরা সেনা কনভয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে আরও একটি সামরিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের।

    হামলার পর অনির্দিষ্টকালের কারফিউ (Baloch Liberation Army)

    হামলার পর ২৩ অগাস্ট সকাল ৭টা থেকে খাদকোচা ও আশপাশ এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে বালোচিস্তান স্বরাষ্ট্র দফতর। স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের মধ্যে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক ও বাজারে যাতায়াত করাও বন্ধ রাখা হয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এবং এলাকায় চলমান অভিযানের কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে (Pakistani Military Convoy)।

    এদিকে ২৩ অগাস্ট তুরবাতের হায়রাবাদ এলাকায় পৃথক একটি হামলায় তিন পাক সেনা নিহত এবং আরও তিনজন জখম হয়েছে বলেও দাবি করেছে বালোচ লিবারেশন আর্মি। যদিও সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, হায়দরাবাদে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একটি তল্লাশি দলের ওপর হামলা হলেও তিন সদস্যই আহত হয়েছেন।

    কর্তাদের বক্তব্য, তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা ছ’জন সশস্ত্র ব্যক্তি একটি গ্রেনেড নিক্ষেপের পর গুলি চালায়। পরে বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি চালালে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    বালোচ লিবারেশন আর্মির আরও দাবি করেছে, নোশকি, কালাত, খারান, ওয়াশুক, জেহরি ও চাগাইসহ বিভিন্ন এলাকায় তারা আরও আটটি অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানের বিস্তারিত তথ্য সংগঠনটির পরবর্তী সাপ্তাহিক বিবৃতিতে জানানো হবে বলেও দাবি করা হয়েছে (Baloch Liberation Army)।

    সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংস

    স্থানীয় সূত্রে খবর, খাদকোচায় সামরিক কনভয়ের অংশ হিসেবে চলাচলকারী একটি বড় সাঁজোয়া গাড়ি বিস্ফোরণে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। অন্য একটি সাঁজোয়া গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে সশস্ত্র ব্যক্তিরা কনভয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালালে আরও একটি সামরিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    আঞ্চলিক সূত্রগুলি জানিয়েছে, দুই সামরিক সদস্যের মরদেহ এবং আটজন আহত সেনাকে মাস্তুংয়ের নওয়াব গাউস বখশ রাইসানি মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্য আহতদের হেলিকপ্টারে করে কোয়েটার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও খবর (Pakistani Military Convoy)। তবে এই হামলায় হতাহতের বিষয়ে পাক কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিক কিছু বলেননি।

    খাদকোচা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

    খাদকোচায় সর্বশেষ হামলার আগে ১৭ জুলাই ওই একই এলাকায় বড় ধরনের আর একটি হামলা হয়েছিল। সেদিন কোয়েটা থেকে করাচির দিকে যাওয়া ১৮টিরও বেশি বাস ও নিরাপত্তাবাহিনীর যানবাহন নিয়ে গঠিত একটি কনভয়ে হামলা হয়। সেই হামলার দায়ও বালোচ লিবারেশন আর্মি স্বীকার করেছিল এবং বহু সামরিক সদস্য নিহত বা আহত হওয়ার দাবি করেছিল সংগঠনটি।

    এদিকে ২২ অগাস্ট রাতেই মাস্তুং জেলার খাদকোচার কাছে আনজেরি ক্রস এলাকায় জাতীয় মহাসড়ক এন-২৫-এর একটি সেতু বিস্ফোরণে ধ্বংস করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা বিস্ফোরক ব্যবহার করে সেতুটিতে হামলা চালায়। যদিও, হতাহতের খবর  মেলেনি।

    সেতুটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা মহাসড়কে যান চলাচলে এর কী প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি কর্তৃপক্ষ। বালোচিস্তানকে (Baloch Liberation Army) করাচি ও পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথগুলির একটি হল এই মহাসড়ক (Pakistani Military Convoy)।

    এক সপ্তাহের মধ্যে এটি সেতুতে তৃতীয় হামলার ঘটনা বলে জানা গিয়েছে। ২১ অগাস্ট খুজদারের জিদি এলাকায় একটি সেতু বিস্ফোরণে ধ্বংস করা হয় বলে খবর মিলেছে। এর আগে খারানের সোটাগান এলাকায় খারান-করাচি মহাসড়কের একটি সেতু ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভেঙে ফেলার খবরও পাওয়া যায়।

    তবে সেতুগুলিতে চালানো এসব হামলার কোনওটির দায় স্বীকার করে সোমবার সন্ধে (Baloch Liberation Army) পর্যন্তও বিবৃতি দেয়নি কোনও সংগঠন (Pakistani Military Convoy)।

     

  • Annapurna Yojana: দুর্গাপুজোর আগেই সব যোগ্য মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণার টাকা! বড় বার্তা রাজ্য বিজেপি সভাপতির

    Annapurna Yojana: দুর্গাপুজোর আগেই সব যোগ্য মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণার টাকা! বড় বার্তা রাজ্য বিজেপি সভাপতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা থেকে কোনও যোগ্য মহিলা বঞ্চিত হবেন না। প্রত্যেকেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রাপ্য টাকা পেয়ে যাবেন। স্পষ্ট জানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচাৰ্য। রবিবার হাওড়ায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমনই দাবি করেন তিনি। তিনি সরকারের প্রতিনিধি নন জানিয়ে শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) এও বলেন, ‘‘মানুষের অভিযোগ, দুঃখ কষ্টের কথার পাশাপাশি আমাদের দলের সংকল্পপত্রের কথা সরকারকে স্মরণ করানো আমার দায়িত্ব। ভরসা রাখুন।’’ তাঁর কথায়, ‘‘প্রায় ৫০ লক্ষ আরও মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ উপভোক্তা এখনও টাকা পাননি। সকলেই টাকা পাবেন।’’

    কোথাও কোথাও অন্তর্ঘাতের চেষ্টা চলছে

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প পর্যালোচনার পর নতুন করে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করেছে বিজেপি সরকার। যোগ্য উপভোক্তাদের বাছাই করতে নতুন করে আবেদন নেওয়া হয় এবং অনলাইন-সহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে আবেদন যাচাই করা হয়েছে। সেই যাচাই প্রক্রিয়ার পরই উপভোক্তাদের টাকা দেওয়ার কথা। তবে টাকা পেতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়া নিয়ে রাজ্যজুড়ে একাধিক জায়গায় যখন বিক্ষোভ চলছে, তখনই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। অন্নপূর্ণা যোজনার যোগ্য মহিলাদের টাকা পেতে দেরি হওয়ার জন্য তিনি ‘সিস্টেমের সমস্যা’র পাশাপাশি কোথাও কোথাও অন্তর্ঘাতের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘সিস্টেমে কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি এবং সমস্যা রয়েছে। কোথাও কোথাও অন্তর্ঘাতের চেষ্টা চলছে। সেই কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’’

    তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে নিশানা

    এদিন শমীক ভট্টাচার্য আগের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়েও তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে প্রকল্পে নানা অনিয়ম হয়েছিল। এমনকি পুরুষেরাও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। বিজেপি সভাপতির বক্তব্য, অন্নপূর্ণা যোজনায় সেই ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। বঙ্গ পদ্ম সেনাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই বলেছেন আরও পঞ্চাশ লক্ষ মহিলা শীঘ্রই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন। কিন্তু অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে একটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এটা কাঙ্খিত নয়। দুর্গাপুজোর মধ্যেই সমস্ত যোগ্য মহিলারাই তিন হাজার টাকা করে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়ে যাবেন।’’

    কারা পাবেন অন্নপূ্র্ণার টাকা

    যাঁরা ইনকাম ট্যাক্স দেন না, সরকারি কর্মচারী নন, যাঁদের সরকারের থেকে অন্য কোনও রোজগার নেই, এই ধরনের একজন মহিলাও অন্নপূর্ণা যোজনার আওতার বাইরে থাকবেন না বলেও বার্তা দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বললেন, ‘‘সরকার কাউকে বঞ্চিত করবে না। এই সরকার সকলের সরকার। বিভাজনের সরকার নয়। বাংলার প্রকৃত যোগ্য মহিলারা সবাই অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা করে পাবেন।’’ এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন। প্রয়োজনে আরও ২০ থেকে ৩০ লক্ষ মহিলাকে প্রকল্পের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। সেই সংখ্যাই আরও বাড়তে পারে বলে রবিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন শমীক।

    ফের খুলেছে অন্নপূর্ণা পোর্টালও

    অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়া নিয়ে এখনও অনেকের মনে অনেক প্রশ্ন। রাজ্যজুড়ে একাধিক জায়গায় বহু মহিলা যেমন সরকারকে ধন্যবাদও জানাচ্ছে, তেমনই কিছু কিছু জায়গায় রয়েছে অসন্তোষ। এই আবহে রাজ্য বিজেপি সভাপতির আশ্বাসে সন্তুষ্ট সাধারণ মানুষ। অন্নপূর্ণা যোজনার স্ট্যাটাস (Annapurna Yojana Status) নিয়ে নানা জায়াগায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সেই ভ্রম দূর করতে ২০ অগাস্ট থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার সোশ্যাল রেজিস্ট্রি পোর্টাল (Social Registry Portal) ফের খুলে দেওয়া হয়েছে। আবারও দেখা যাচ্ছে স্ট্যাটাস। রাজ্য সরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যাঁদের আপাতত বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের নামের পাশে কারণ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই কারণ দেখে আবার ক্লেইম ও অবজেকশন করতে পারবেন। কিন্তু, স্ট্যাটাস চেক (Annapurna Yojana Status Check) করতে গিয়ে অনেকেই দেখতে পাচ্ছেন ‘আন্ডার প্রসেস’ (Under Process)।

    ‘আন্ডার প্রসেস’-এর পরে অ্যাপ্রুভড

    মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি দূর করতে,বিজেপির তরফে একটি অন্নপূর্ণা বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যাঁদের আন্ডার প্রসেস দেখাচ্ছে, তাঁদের কিছুই করতে হবে না। অর্থাৎ তাঁদের নতুন করে কোথাও কোনও আবেদন করতে হবে না। যাঁদের ফার্দার ভেরিফিকেশন, রিজেক্টেড মে বি ফার্দার ভেরিফিকেশন ইত্যাদি দেখাচ্ছে, কেবলমাত্র তাঁরা সোশ্যাল রেজিস্ট্রি পোর্টালে গিয়ে ক্লেম করবেন। রাজ্য সরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগস্ট মাসে মোট ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। ১০ জুলাই পর্যন্ত যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের অ্যাকাউন্টেই টাকা ঢুকবে ১৭ আগস্ট থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত। কিন্তু, দেখা গিয়েছে ২০ আগস্টের পরেও অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। মূলত, যাঁদের স্ট্যাটাস আন্ডার প্রসেস রয়েছে, তাঁদের আবেদন অ্যাপ্রুভড হচ্ছে। তারপরই ঢুকছে তিন হাজার টাকা। এই প্রক্রিয়া গোটা আগস্ট মাসজুড়ে চলতে পারে বলে সূত্রের খবর। মুখ্যমন্ত্রী বারবার জানিয়ে দিয়েছেন, যোগ্যরা প্রত্যেকেই টাকা পাবেন।

  • JK SIA: ফের শুরু ১৯৯৮-এর কাশ্মিরী পণ্ডিতদের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত, নজরে টিকালাল টাপলু-বিচারপতি গঞ্জুর খুন

    JK SIA: ফের শুরু ১৯৯৮-এর কাশ্মিরী পণ্ডিতদের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত, নজরে টিকালাল টাপলু-বিচারপতি গঞ্জুর খুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৯৮ সালের ওয়ান্ধামা হত্যাকাণ্ডের (Wandhama Massacre) তদন্ত ফের শুরু করেছে জম্মু-কাশ্মীর (JK SIA) রাজ্য তদন্তকারী সংস্থা। ওই হত্যাকাণ্ডে ২৩ জন কাশ্মীরি পণ্ডিত নিহত হয়েছিলেন। উপত্যকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসবাদের তুঙ্গপর্বে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের লক্ষ্য করে চালানো একাধিক হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত মামলার তদন্ত নতুন করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।

    সূত্রের খবর, কাশ্মীরি পণ্ডিত নেতা টিকালাল টাপলু এবং বিচারপতি নীলকণ্ঠ গঞ্জুর হত্যার মামলার তদন্তও জোরদার করেছে তদন্তকারী সংস্থা। এর আগে কাশ্মীরি পণ্ডিত নার্স সরলা ভাট এবং লেখক সর্বানন্দ কৌল প্রেমী ও তাঁর ছেলে বীরেন্দ্র কৌলের হত্যার মামলাও নতুন করে খোলা হয়েছিল।

    ওয়ান্ধামা হত্যাকাণ্ড ও টাপলুর হত্যার ঘটনায় কয়েক দিন আগে কাশ্মীর উপত্যকার একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীরা এখন হামলায় জড়িত জঙ্গি এবং তাঁদের সহযোগীদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রত্যেকের ভূমিকা নির্ধারণের চেষ্টা করছেন।

    ওয়ান্ধামায় নিহত ২৩ কাশ্মীরি পণ্ডিত (JK SIA)

    ১৯৯৮ সালের ২৫ জানুয়ারি গান্দেরবল জেলার ওয়ান্ধামা গ্রামের কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারগুলির বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায় ভারী অস্ত্রে সজ্জিত জঙ্গিরা। হামলায় ২৩ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ৯ জন মহিলা এবং ৪ জন শিশুও।

    প্রজাতন্ত্র দিবসের আগের দিন এবং রমজান মাসের অন্যতম পবিত্র রাত শবে কদরের সময় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মামলাটির নিষ্পত্তি হয়নি (JK SIA)।

    নতুন করে তদন্ত শুরু করার ঘটনাটি উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদের সময়কালের বহু বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা মামলাগুলির পুনর্তদন্তের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের পুরনো হত্যাকাণ্ডের একাধিক মামলায় সাম্প্রতিক সময়ে তৎপরতা বেড়েছে তদন্তকারী সংস্থার।

    জুন মাসে সরলা ভাট হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৭৩৭ পাতার অভিযোগপত্র পেশ করে ওই সংস্থা। ১৯৯০ সালের ওই হত্যাকাণ্ডে জেলবন্দি জম্মু-কাশ্মীর মুক্তি ফ্রন্টের প্রধান ইয়াসিন মালিককে মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (Wandhama Massacre)।

    এর পর অগাস্ট মাসে কাশ্মীরি পণ্ডিত লেখক সর্বানন্দ কৌল প্রেমী ও তাঁর ছেলে বীরেন্দ্র কৌলের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জম্মু-কাশ্মীরের ন’টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়।

    টিকালাল টাপলু ও বিচারপতি গঞ্জুর মামলায়ও নজর

    কাশ্মীরের বিশিষ্ট আইনজীবী এবং তৎকালীন জম্মু-কাশ্মীর বিজেপির সহ-সভাপতি টিকালাল টাপলুকে ১৯৮৯ সালের সেপ্টেম্বরে শ্রীনগরে তাঁর বাড়ির কাছে গুলি করে হত্যা করা হয়। উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদের উত্থানের সময় কাশ্মীরি পণ্ডিতদের লক্ষ্য করে চালানো প্রথম দিকের একাধিক হত্যাকাণ্ডের মধ্যে টাপলুর হত্যাও ছিল অন্যতম (JK SIA)।

    বিচারপতি নীলকণ্ঠ গঞ্জুর হত্যাকাণ্ডের তদন্তও নতুন করে জোরদার করা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর মুক্তি ফ্রন্টের জঙ্গি মকবুল ভাটকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন বিচারপতি গঞ্জু।

    ১৯৮৯ সালের ৪ নভেম্বর শ্রীনগরের হরি সিং স্ট্রিটে সন্দেহভাজন জম্মু-কাশ্মীর মুক্তি ফ্রন্টের জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হন বিচারপতি গঞ্জু। তার আগে তাঁর বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছিল।

    কয়েক দশকের পুরনো মামলায় ফের তৎপরতা

    আটের দশকের শেষ এবং নয়ের দশকের সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অমীমাংসিত মামলাগুলিকে ফের তদন্তের আওতায় আনার বৃহত্তর উদ্যোগের মধ্যেই এই পদক্ষেপ। সরলা ভাট এবং সর্বানন্দ কৌল প্রেমীর হত্যার মামলায় সাম্প্রতিক তদন্ত ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। একটি মামলায় অভিযোগপত্র পেশের পাশাপাশি একাধিক জায়গায় তল্লাশিও চালানো হয়েছে। আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারী সংস্থা কয়েক দশকের পুরনো একাধিক মামলার সূত্র খতিয়ে দেখছে। জীবিত অভিযুক্ত, জঙ্গি এবং তাঁদের সহযোগীদের শনাক্ত করতে সন্ধান করা হচ্ছে (Wandhama Massacre) নতুন সূত্রের।

    ফলে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের হত্যার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত মামলা ফের সক্রিয় তদন্তের আওতায় এল। ওয়ান্ধামা হত্যাকাণ্ড, টিকালাল টাপলু ও বিচারপতি নীলকণ্ঠ গঞ্জুর হত্যার পুনর্তদন্ত সেই প্রক্রিয়াকেই আরও বিস্তৃত করল (JK SIA) বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Suvendu Adhikari: স্কুল-কলেজে ফিরছে এনসিসি, আসছে অত্যাধুনিক ‘অর্জুন বাহিনী’, বড় সিদ্ধান্ত নয়া মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: স্কুল-কলেজে ফিরছে এনসিসি, আসছে অত্যাধুনিক ‘অর্জুন বাহিনী’, বড় সিদ্ধান্ত নয়া মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যজুড়ে শিক্ষা, সুরক্ষা এবং বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তনের বার্তা দিলেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রবিবার গার্ডেনরিচে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গে এনসিসি বা ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর পুনরুজ্জীবিত করা থেকে শুরু করে নতুন বিশেষ উদ্ধারকারী ‘অর্জুন বাহিনী’ (Arjun Bahini) গঠন এবং অগ্নিবীরদের জন্য সরকারি চাকরিতে বিশেষ সংরক্ষণের জোড়া ঘোষণা প্রকাশ্যে আনেন মুখ্যমন্ত্রী।

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফেরানো হচ্ছে এনসিসি (Suvendu Adhikari)

    শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রাবস্থা থেকেই শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা এবং দেশপ্রেমের পাঠ ছড়িয়ে দিতে এনসিসি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিগত সরকার আমাদের রাজ্যের স্কুল ও কলেজ থেকে পরিকল্পিতভাবে এনসিসি তুলে দিয়েছিল। আর তার বদলে শুরু করেছিল জয়হিন্দ বাহিনী। অত্যন্ত খারাপ মানসিকতা ও সংকীর্ণ ভাবনা নিয়ে ওই কাজটা করা হয়েছিল। অথচ এনসিসিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিলে ছাত্রাবস্থা থেকেই ছেলেমেয়েদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ, নিয়মানুবর্তিতা এবং নির্ভেজাল রাষ্ট্রপ্রেম তৈরি হয়। আমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে এই বিষয়ে চিঠি লিখব।”

    তিনি জানান, এনসিসি চালুর জন্য নির্দিষ্ট সামরিক প্রোটোকল রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের আধিকারিকদের নির্দেশিকা অনুযায়ী রাজ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে ফের আবেদন জানানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে চিঠি পাঠানো হবে।

    অগ্নিবীরদের জন্য ২০ শতাংশ সংরক্ষণ

    প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি রাজ্যের কর্মসংস্থান ও রাজ্য সুরক্ষায় প্রাক্তন সেনাদের যুক্ত করার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, “রাজ্যের প্রতিটি স্কুল-কলেজে যাতে এনসিসির কাজকর্ম আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, সরকার সেই ব্যবস্থা করবে। এর পাশাপাশি আমরা বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছি – পুলিশ, দমকলবাহিনী, বন দফতর এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীতে অগ্নিবীরদের জন্য ২০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হচ্ছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে এই অগ্নিবীরদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”

    বিপর্যয় মোকাবিলায় সেপ্টেম্বরেই নামছে ‘অর্জুন বাহিনী’

    তারাতলার সাম্প্রতিক ভয়াবহ গোডাউন দুর্ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের নতুন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী গঠনের নীল নকশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, উদ্ধারকাজ ও বিপর্যয় সামলাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত ‘অর্জুন বাহিনী’ তৈরি করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “আমাদের তো এত বড় শহর, এত বেআইনি নির্মাণ হয়েছে এত বছর ধরে, এখানে আরও অত্যাধুনিক ব্যবস্থা থাকা দরকার যে কোনও রকম বিপর্যয়ের মোকাবিলা করতে। সেই কারণে অর্জুন বাহিনী তৈরি করা হচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে তারা কাজ শুরু করবে।” তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই তিনি নিজে এই বাহিনীর সূচনা ও ফ্ল্যাগ-অফ করবেন।

    এই বাহিনীর জন্য ইতিমধ্যেই আধুনিক ভবন, ক্যাম্পাসের পাশাপাশি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) মতো উচ্চপ্রযুক্তির সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে কোনো জীবিত ব্যক্তি আটকে আছেন কি না, তা জানার হাই-টেক ক্যামেরা, বিশেষ উদ্ধারকারী গাড়ি এবং গ্যাস কাটারের মতো আধুনিক সরঞ্জাম-সহ উন্নতমানের পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

    সৈনিক বোর্ডের মাধ্যমে সাময়িক ২০০ জওয়ান মোতায়েন

    অগ্নিবীরদের প্রথম ব্যাচ চাকরিতে যোগ দিতে দিতে আগামী বছরের জানুয়ারি মাস গড়িয়ে যাবে। তাই অন্তর্বর্তী সময়ে উদ্ধারকাজের শূন্যতা মেটাতে রাজ্য সৈনিক বোর্ড থেকে ২০০ জন প্রশিক্ষিত প্রাক্তন সেনাকর্মীকে এনলিস্ট করা হয়েছে। এই দলের ১০০ জন কলকাতায়, ৫০ জন উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চল দার্জিলিংয়ে এবং ৫০ জন দক্ষিণবঙ্গের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা কাকদ্বীপে মোতায়েন থাকবেন।

    আগের সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য ভারত সরকার প্রচুর টাকা দিয়েছিল, কিন্তু আগের সরকার সেই অর্থ সঠিকভাবে খরচই করেনি। আমরা সেই ফান্ড ব্যবহার করে নতুন করে পরিকাঠামো তৈরি করছি। তারাতলার ঘটনায় আমরা দেখেছি এনডিআরএফ যেভাবে ২২ জন মানুষকে জীবন্ত উদ্ধার করেছে, তা একটা বিরাট অর্জন। কলকাতা পুলিশের ভূমিকাও সেখানে প্রশংসনীয় ছিল। এর আগে আমফানের সময় আপনারা দেখেছেন, একটানা তিন দিন ধরে কলকাতার রাস্তা থেকে (Arjun Bahini) উপড়ে পড়া গাছই সরাতে পারেনি তখনকার প্রশাসন। শেষে ওড়িশার বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দলকে এনে শহর পরিষ্কার করাতে হয়েছিল।”

    প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও আত্মনির্ভর পশ্চিমবঙ্গের রূপরেখা

    রাজ্যের আর্থিক উন্নতি ও প্রতিরক্ষা উৎপাদনের সম্ভাবনা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)-এর মতো সংস্থা স্বাবলম্বী ভারতের প্রতীক। ‘অপারেশন সিঁদুরে’র মতো সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের উদাহরণ দিয়ে তিনি লখনউয়ে তৈরি হওয়া ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, বাংলায়ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত উৎপাদনের বিশাল সুযোগ রয়েছে।

    তিনি বলেন, “আমরা তো একসময় রাজ্য হিসেবে পুরোপুরি ‘নির্ভরশীল পশ্চিমবঙ্গ’ হয়ে গিয়েছিলাম। সবাই কেবল ভাতা-নির্ভর হয়ে পড়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংজি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজির নেতৃত্বে ভারত এখন স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভর হচ্ছে।”

    তিনি (Suvendu Adhikari) জানান, নতুন এই প্রশাসনিক রূপরেখায় কোনো অনভিজ্ঞ কর্মীকে দায়িত্ব দেওয়া হবে না। তিন মাস থেকে এক বছরের কঠোর পেশাদার প্রশিক্ষণ ছাড়া কাউকে এই জাতীয় ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত (Arjun Bahini) করা হবে না।

     

  • One Nation One Election: ভাবনায় ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’! ২০২৯ লোকসভার সঙ্গেই ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচন?

    One Nation One Election: ভাবনায় ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’! ২০২৯ লোকসভার সঙ্গেই ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই ২২টি এনডিএ-শাসিত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচন করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’-এর প্রথম ধাপ ২০৩৪-এর পরিবর্তে ২০২৯ সালেই শুরু হতে পারে বলে সূত্রের খবর। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তা ভেঙে দিয়ে লোকসভা নির্বাচনের সময়ের সঙ্গে ভোটের সময়সূচি মিলিয়ে দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ (One Nation One Election) সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটি (JPC) বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, বিধায়ক, সরকারি আধিকারিক এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে একসঙ্গে নির্বাচন করাতে কী ধরনের সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তন প্রয়োজন, তা-ও খতিয়ে দেখছে কমিটি।

    কীভাবে ২২টি রাজ্যকে ২০২৯-এর ভোটচক্রে আনা হতে পারে?

    বিবেচনায় থাকা ২২টি এনডিএ-শাসিত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে ১১টিতে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগের দুই বছরের মধ্যে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। অন্যদিকে অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচলপ্রদেশ, সিকিম এবং ওড়িশায় লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই বিধানসভা নির্বাচন হয়। প্রস্তাবটি কার্যকর করতে হলে বাকি কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা স্বাভাবিক মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে দিতে হতে পারে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যে এনডিএ সরকার ক্ষমতায় থাকলে এবং তারা এই পরিকল্পনায় সম্মতি দিলে ২০২৯ সালের জানুয়ারির মধ্যেই বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংবিধানের ১৭৪(২)(বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দিতে পারেন। সাধারণত মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার পরামর্শেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিধানসভা ভেঙে গেলে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নতুন নির্বাচন করতে হয়। এর ফলে কয়েকটি রাজ্যে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ কয়েক বছর পর্যন্ত কমে যেতে পারে। যেমন গোয়া, গুজরাট, মণিপুর, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে প্রায় তিন বছর পর্যন্ত মেয়াদ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, রাজস্থান ও ত্রিপুরায় এই মেয়াদ কমার পরিমাণ প্রায় চার বছর হতে পারে।

    একসঙ্গে নির্বাচনের পক্ষে কয়েক এনডিএ মুখ্যমন্ত্রী

    এই পরিকল্পনার প্রতি ইতিমধ্যেই কয়েকটি এনডিএ-শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সমর্থন জানিয়েছেন। গোয়া, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীরা সংসদীয় কমিটির সঙ্গে আলোচনায় নির্বাচনগুলির সময়সূচি সমন্বয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে বিধানসভার মেয়াদে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে দিল্লি সরকার প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় স্তরে নির্বাচনের সময়সূচি এক করার জন্য দিল্লির মেয়াদে উপযুক্ত সমন্বয় প্রয়োজন হলে সরকার ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে তা বিবেচনা করবে। ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের সঙ্গে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচন করতে হলে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ প্রায় এক বছর কমাতে হতে পারে। যৌথ সংসদীয় কমিটি ইতিমধ্যে মহারাষ্ট্র, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, পঞ্জাব, হিমাচলপ্রদেশ, কর্নাটক, গুজরাট, দিল্লি, গোয়া এবং উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে আলোচনা করেছে। বিধানসভা আগাম ভেঙে দেওয়া, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন এবং নির্বাচনী সময়সূচি সমন্বয়ের সাংবিধানিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    বিরোধীদের আপত্তি: গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন

    বিধানসভাগুলির মেয়াদ আগাম শেষ করার সম্ভাবনা সামনে আসায় ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচিত রাজ্য সরকারের মেয়াদ কমিয়ে দিলে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন, দলের অবস্থানের কোনও পরিবর্তন হয়নি। কংগ্রেস ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’-এর বিরোধী। তাঁর দাবি, এই প্রস্তাব অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক এবং জবাবদিহির পরিপন্থী। কংগ্রেস ও ডিএমকে-র সাংসদরা ২০২৪ সালে সংসদে বিলগুলি পেশ করার সময়ই আপত্তি জানিয়েছিলেন। কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারও যৌথ সংসদীয় কমিটি-র সামনে হাজির হয়ে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। পাঞ্জাব, হিমাচলপ্রদেশ, কর্নাটক, মিজোরাম এবং তেলঙ্গানার মতো বিরোধী-শাসিত রাজ্যগুলিতেও ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। তবে এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলির মতো এই রাজ্যগুলির সরকারগুলি স্বেচ্ছায় বিধানসভার মেয়াদ কমাতে আগ্রহী হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

    কী রয়েছে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ বিলের প্রস্তাবে?

    ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ ব্যবস্থার জন্য ২০২৪ সালে সংবিধান (১২৯তম সংশোধনী) বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল আনা হয়। তৎকালীন আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিলটি পেশ করেন। পরে ২৬৯ জন সাংসদ বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর পক্ষে ভোট দেন এবং ১৯৬ জন এর বিরোধিতা করেন। প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনীতে ৮২, ৮৩, ১৭২ এবং ৩২৭ নম্বর অনুচ্ছেদে পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। এর লক্ষ্য হল লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলির নির্বাচনকে একটি নির্দিষ্ট সময়চক্রে নিয়ে আসা। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনও সাধারণ নির্বাচনের পর লোকসভার প্রথম বৈঠকের পর যে বিধানসভাগুলি নির্বাচিত হবে, তাদের মেয়াদ প্রয়োজন অনুযায়ী সামঞ্জস্য করা যেতে পারে, যাতে পরবর্তী সময়ে লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই ওই বিধানসভাগুলির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই পরিকল্পনার ভিত্তি মূলত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ওই কমিটি গঠিত হয়েছিল। বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও গবেষণার পর কমিটি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে রিপোর্ট জমা দেয়। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যৌথ সংসদীয় কমিটি-র মেয়াদ সম্প্রতি শীতকালীন অধিবেশন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে আরও আলোচনা ও পরামর্শের পরই ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ নিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ সামনে আসবে। ২০২৯ সালেই একসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন হবে কি না, এখন সেই প্রশ্নই জাতীয় রাজনীতিতে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

  • Ajit Doval: সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে দিল্লির বার্তা পৌঁছে দিতে বেজিং গেলেন অজিত ডোভাল

    Ajit Doval: সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে দিল্লির বার্তা পৌঁছে দিতে বেজিং গেলেন অজিত ডোভাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের (Xi Jinping) সম্ভাব্য ভারত সফরের আগেই সোমবার বেজিং গিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval)। চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে চলা ভারত-চিন সীমান্ত বিরোধের অবসানে ২০০৩ সালে গড়ে ওঠা এই ব্যবস্থার অধীনে এটি হবে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম বৈঠক। ভারত ও চিনের মধ্যে ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ।

    জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফরের ঠিক আগে ডোভালের বেজিং সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও ভারত বা চিন—কোনও পক্ষই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে শি-র সফরের কথা ঘোষণা করেনি, সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে চিনের প্রেসিডেন্টের। সে ক্ষেত্রে সাত বছর পর প্রথম বার ভারতে আসবেন শি। গত বছর তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল তাঁর।

    অরুণাচলে ভারত-চিন সেনার মুখোমুখি অবস্থান (Ajit Doval)

    চিনের বিশেষ প্রতিনিধির সঙ্গে সীমান্ত বৈঠকের জন্য ডোভালের এই সফরের মধ্যেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অরুণাচল প্রদেশে ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে সাম্প্রতিক মুখোমুখি অবস্থানের খবর সামনে এসেছে। চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির তথাকথিত অনুপ্রবেশের মাত্রা নিয়ে এখনও প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। শনিবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ফের একবার স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, সীমান্তের পরিস্থিতিই সামগ্রিক ভারত-চিন সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণ করবে।

    জয়শঙ্কর বলেন, “আমার মনে হয়, ২০২০ সালের গ্রীষ্ম থেকে ২০২৪ সালের শরৎ কাল পর্যন্ত আমরা অত্যন্ত খারাপ একটি সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। এর প্রধান কারণ ছিল সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি।” লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সামরিক অচলাবস্থার প্রসঙ্গেই এই মন্তব্য করেন তিনি। ওই সংঘাতের জেরে গত ছ’দশকের মধ্যে ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

    সীমান্তে কি মিলবে সমাধানের পথ?

    ২০২৪ সালের অক্টোবরে লাদাখে সামরিক মুখোমুখি অবস্থানের অবসান ঘটাতে দুই দেশ সম্মত হওয়ার পর রাশিয়ায় জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই বৈঠকে দুই নেতা স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ মেটানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ করার বিষয়ে একমত হন।

    এর পর ভারত ও চিনের মধ্যে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা ফের চালু করা, চিনা নাগরিকদের জন্য ভিসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা এবং সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় চালুর মতো একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে এখনও চোখে পড়ার মতো কোনও অগ্রগতি হয়নি।

    ডোভালের বেজিং সফরে যদি সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কোনও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়, তা হলে আগামী মাসে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও জিনপিংয়ের সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পথ আরও মসৃণ হতে পারে।

    বৈঠকের আলোচনায় কী থাকবে?

    বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠকে মূলত দু’টি বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। প্রথমত, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পূর্ব লাদাখ ও অরুণাচল প্রদেশের পরিস্থিতি পর্যালোচনা। দ্বিতীয়ত, সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর জন্য কার্যকর ব্যবস্থা খুঁজে বের করা (Ajit Doval)।

    গত ৬ অগাস্ট নয়াদিল্লিতে ভারত-চিন সীমান্ত বিষয়ক কর্মব্যবস্থা সংক্রান্ত পরামর্শ ও সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ভারতের বিবৃতি অনুযায়ী, বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আগের বৈঠকের পর দুই দেশ সীমান্তের সীমানা নির্ধারণ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সীমান্ত-পারাপার সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে।

    ডোভালের আসন্ন বেজিং সফরে সেই আলোচনাই আরও (Xi Jinping) এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা, উত্তেজনা কমানো এবং ভারত-চিন সম্পর্ককে স্বাভাবিক পথে ফেরানোর বিষয়ে দু’দেশের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে, সেটাই দেখার (Ajit Doval)।

LinkedIn
Share