Blog

  • BJP: এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনের পালটা কলকাতার রাজপথে বিজেপি, মিছিলে নীতিন নবীন-শুভেন্দু-শমীক

    BJP: এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনের পালটা কলকাতার রাজপথে বিজেপি, মিছিলে নীতিন নবীন-শুভেন্দু-শমীক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর (ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন) ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের লাগাতার আন্দোলনের পালটা এবার রাজপথে নামল বিজেপি (BJP)। সোমবার কলকাতায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ স্লোগান সামনে রেখে পদযাত্রা করে গেরুয়া শিবির। কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু হয়ে মিছিল শেষ হয় ধর্মতলায় গিয়ে। এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। তাঁর সঙ্গে মিছিলে হাঁটেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। জাতীয় পতাকা হাতে কয়েকশো দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকও এই পদযাত্রায় অংশ নেন (Kolkata Rally)।

    সোমবার বিকেলে কলকাতায় পৌঁছন নীতিন নবীন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপর দু’জনে কলেজ স্ট্রিটে পৌঁছন। তাঁদের ঘিরে তখন থেকেই এলাকায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড় জমতে শুরু করে। নির্ধারিত সময়ে কলেজ স্কোয়ার থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। মিছিলের সামনের সারিতে জাতীয় পতাকা হাতে দেখা যায় নীতিন নবীন, শুভেন্দু এবং শমীককে। কলেজ স্ট্রিট থেকে মধ্য কলকাতার বিভিন্ন রাস্তা ধরে মিছিল এগিয়ে যায় ধর্মতলার দিকে।

    গণতন্ত্র রক্ষার বার্তা (BJP)

    কর্মসূচি শুরুর আগে বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বিরোধীদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীরা গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। সেই প্রবণতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কাছে গণতন্ত্র রক্ষার বার্তা পৌঁছে দিতেই এই পদযাত্রার আয়োজন। তিনি বলেন, “সত্যের পক্ষে এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে রয়েছেন মানুষ।”

    একই সুর শোনা যায় বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিংয়ের গলায়ও। তাঁর অভিযোগ, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। এই কাজে বিদেশি শক্তির আর্থিক মদত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই সরব বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতেও একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে বিরোধী শিবির। বিভিন্ন রাজ্যে পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন। এই আন্দোলনের পালটা হিসেবে দেশজুড়ে জনসংযোগ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিজেপি। দলের পক্ষ থেকে একাধিক শহরে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচির কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

    মমতা-রাহুলকে নিশানা

    সোমবার কলকাতার পাশাপাশি বিহারের ভাগলপুরেও একই ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নেন নীতিন নবীন। সেখানে এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল নেত্রী তথা বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করেন তিনি। বিজেপির এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে হায়দরাবাদে জাতীয় পতাকা কাঁধে পদযাত্রায় অংশ নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও (BJP)।

    তবে কলকাতায় বিজেপির এই পদযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাম শিবির। সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা এই কর্মসূচির প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীদের আন্দোলনের তেমন কোনও প্রভাব এ রাজ্যে পড়েনি। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর মাত্র ছ’মাস হয়েছে। তাহলে এখনই কলকাতায় এই ধরনের মিছিলের প্রয়োজনীয়তা কোথায়, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

    রাজনৈতিক মহলের মতে, এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের লাগাতার প্রতিবাদের আবহে বিজেপির এই পদযাত্রা নিছক একটি সাংগঠনিক কর্মসূচি নয়, বরং পালটা রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টাও (Kolkata Rally)। একদিকে বিরোধীদের আন্দোলনের মোকাবিলা, অন্যদিকে দলের নেতা-কর্মীদের সক্রিয়তা বাড়ানো এবং জনসমক্ষে নিজেদের (BJP) অবস্থান তুলে ধরাই ছিল এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। বিহার থেকে কলকাতা, পরপর দুই রাজ্যে নীতিন নবীনের কর্মসূচি ঘিরে এসআইআরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত যে আরও বিস্তৃত হচ্ছে, তা স্পষ্ট।

     

  • Bombay HC: ভারতে থেকে প্রতিবাদে অংশ নিতে পারবেন না, ইমরান খানকে কড়া বার্তা বম্বে হাইকোর্টের!

    Bombay HC: ভারতে থেকে প্রতিবাদে অংশ নিতে পারবেন না, ইমরান খানকে কড়া বার্তা বম্বে হাইকোর্টের!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের নাগরিক নন, তিনি বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক হিসেবে বিশেষ পরিচয়পত্রধারী। তাই ভারতের নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় তাঁর সরাসরি কোনও প্রভাব পড়ে না। এই যুক্তিতেই অভিনেতা ইমরান খানকে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নিয়ে কড়া বার্তা দিল বম্বে হাইকোর্ট (Bombay HC)। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভারতীয় নাগরিক না হওয়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিবাদে অংশগ্রহণের অধিকার তাঁর নেই।

    সোমবার প্রধান বিচারপতি মহেশ চন্দ্র ত্রিপাঠীর নেতৃত্বাধীন বিচারপতিদের বেঞ্চে ইমরানের দায়ের করা একটি মামলার শুনানি হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার (SIR Remarks) অভিযোগে মুম্বইয়ের বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন দফতর তাঁর উদ্দেশে ভারত ছাড়ার যে নোটিশ জারি করেছিল, তাকে চ্যালেঞ্জ করেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিনেতা। ওই নোটিশের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের মেয়াদ আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে আদালত।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ (Bombay HC)

    শুনানির সময় ইমরানের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সঙ্গে অভিনেতার কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, “আপনি বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক হিসেবে বিশেষ পরিচয়পত্রধারী। আপনি ভারতীয় নাগরিক নন। নির্বাচনী তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় আপনার কোনও প্রভাব পড়ছে না। সুতরাং, এই প্রতিবাদে অংশ নেওয়া বা বিক্ষোভ প্রদর্শনের অধিকার আপনার নেই।”

    এমনকী, অভিনেতাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতেও বলে আদালত। বিচারপতিদের মতে, তাঁর কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষকে প্ররোচিত করার শামিল।

    কেন্দ্রীয় সরকারের হয়ে আদালতে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অনিল সিং জানান, ইমরান খান বিভিন্ন সাক্ষাৎকার এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক বক্তব্য প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ওই বক্তব্যগুলির উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ নাগরিকদের উসকানি দেওয়া।

    কড়া বার্তা আদালতের

    শুনানিতে প্রধান বিচারপতি আরও স্পষ্ট করে দেন, ভারতে বসবাস করলেও বিশেষ পরিচয়পত্রধারী কোনও ব্যক্তি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এভাবে সমালোচনা বা প্রতিবাদে অংশ নিতে পারেন না বলে আদালত মনে করে। তিনি বলেন, “এই ধরনের আচরণ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আপনি আমেরিকায় গিয়ে সেখানে প্রতিবাদে অংশ নিতে পারেন, এমনকী ভোটও দিতে পারেন। কিন্তু ভারতে এভাবে কোনও বিষয়ে প্রতিবাদ করা মেনে নেওয়া হবে না।”

    এর পাশাপাশি, ইমরানের ভারতীয় নাগরিকত্বের আবেদন না করার বিষয়টিও আদালতের নজরে আসে। অভিনেতার জীবনের একটা বড় অংশ ভারতে কেটেছে। এখানেই তাঁর পড়াশোনা ও কর্মজীবন। সেই প্রসঙ্গ তুলে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “ছোটবেলা থেকেই আপনি ভারতে রয়েছেন। এখানে পড়াশোনা করেছেন, কাজ করেছেন এবং জীবনের প্রায় সবকিছুই এখানে। তা হলে ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করছেন না কেন?”

    আদালত আরও জানায়, ইমরান যদি বিশেষ পরিচয়পত্রধারী হিসেবেই ভারতে বসবাস চালিয়ে যেতে চান, তা হলে ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না বলে তাঁকে লিখিত অঙ্গীকার দিতে হবে (Bombay HC)।

    প্রধান বিচারপতির কথায়, “আপনি যদি এই পরিচয়পত্রধারী হিসেবেই ভারতে থাকতে চান, তা হলে লিখিতভাবে জানাতে হবে যে ভবিষ্যতে আর এই ধরনের প্রতিবাদে অংশ নেবেন না।”

    নিঃশর্ত ক্ষমাও চাওয়ার নির্দেশ

    শুধু লিখিত অঙ্গীকার নয়, নিঃশর্ত ক্ষমাও চাইতে হবে অভিনেতাকে। আদালতের মতে, একজন পরিচিত তারকা হিসেবে ইমরানের বক্তব্য ও আচরণের প্রভাব অনেক বেশি। তাঁর অনুগামীর সংখ্যাও যথেষ্ট। তাই প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করার আগে তাঁর আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।

    প্রধান বিচারপতি বলেন, “একজন তারকার কাছ থেকে অন্তত এইটুকু দায়িত্ববোধ প্রত্যাশিত। আপনি এই দেশেই কাজ করেছেন, এখান থেকেই পরিচিতি ও স্বীকৃতি পেয়েছেন। আপনার প্রচুর অনুগামী রয়েছেন (SIR Remarks)। আপনার প্রতিটি বক্তব্যের প্রভাব পড়তে পারে। তাই এ দেশে কাউকে প্ররোচিত করার অধিকার আপনার নেই। আপনার জীবিকা ও উপার্জনের উৎসও এই দেশ।”

    উল্লেখ্য, বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক হিসেবে বিশেষ পরিচয়পত্রধারীদের ভারতে বসবাস ও অন্যান্য অধিকার নিয়ে এই মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে বম্বে হাইকোর্ট। আপাতত (Bombay HC) ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁর ভারত ছাড়ার নোটিশের উপর বহাল থাকছে স্থগিতাদেশ।

     

  • Mahadev Betting Scam: মহাদেব বেটিং চক্রের চাঁই সৌরভ চন্দ্রকরকে ওমান থেকে ভারতে ফেরাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, নিশানায় সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি উপ্পল

    Mahadev Betting Scam: মহাদেব বেটিং চক্রের চাঁই সৌরভ চন্দ্রকরকে ওমান থেকে ভারতে ফেরাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, নিশানায় সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি উপ্পল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৬ হাজার কোটি টাকার মহাদেব অনলাইন বেটিং চক্রের অন্যতম প্রধান মাথা সৌরভ চন্দ্রকরকে ওমান থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে সফল হল ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। রবিবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিশেষ দল তাঁকে ভারতে নিয়ে আসে (Mahadev Betting Scam)। এই ঘটনায় তদন্তে বড়সড় অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এবার তদন্তকারীদের নজর মহাদেব বেটিং চক্রের আর এক সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি উপ্পলের দিকে। তদন্তকারীদের দাবি, উপ্পল বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাইয়ে রয়েছেন। তাঁকে দ্রুত ভারতে প্রত্যর্পণের জন্য সে দেশের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

    আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার জারি করা রেড কর্নার নোটিশের ভিত্তিতে গত জুন মাসের শেষ দিকে ওমানের রাজধানী মাসকাটে রয়্যাল ওমান পুলিশ সৌরভকে আটক করে। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি ওমান কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর প্রত্যর্পণের আবেদন জানায়। সেই আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিশেষ দল তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনে। সোমবার তাঁকে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে বিশেষ আদালতে পেশ করার কথা। চন্দ্রকর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দু’টি মামলার পাশাপাশি ইডির একটি পৃথক মামলায়ও অভিযুক্ত (Money Laundering Case)। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ছত্তিশগড়ের জুয়া নিষিদ্ধকরণ আইনের আওতায় অভিযোগপত্র জমা পড়েছে।

    রবি উপ্পলকে ফেরানোর তৎপরতা (Mahadev Betting Scam)

    সৌরভকে ভারতে ফিরিয়ে আনার পর তদন্তের পরবর্তী লক্ষ্য উপ্পল। ছত্তিশগড়ের ভিলাইয়ের বাসিন্দা উপ্পল ২০১৯ সালে চন্দ্রকরের সঙ্গে দেশ ছেড়ে দুবাইয়ে চলে যান। মহাদেব অনলাইন বেটিং ব্যবসার সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং অন্যতম মালিক হিসেবে তাঁর নাম উঠে এসেছে তদন্তে।

    ২০২৩ সালের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার রেড কর্নার নোটিশের ভিত্তিতে দুবাইয়ে তাঁকে আটক করা হয়েছিল। যদিও ৪৫ দিনের মধ্যেই তিনি মুক্তি পান। পরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের একাংশের দাবি, তাঁর কাছে ভানুয়াতুর পাসপোর্ট রয়েছে এবং তিনি সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, উপ্পল ফের দুবাইয়ে ফিরে এসেছেন।

    ইডির এক আধিকারিক জানান, “আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে উপ্পল বর্তমানে আবার দুবাইয়ে রয়েছেন। তাঁকে ভারতে ফেরানোর জন্য প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলছে। যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা জোরদার চেষ্টা চালাচ্ছি।”

    তদন্তকারীদের দাবি, এই বেটিং চক্রে চন্দ্রকর ও উপ্পলের ভূমিকা ছিল আলাদা। চন্দ্রকর মূলত ব্যবসার প্রচার এবং দৈনন্দিন পরিচালনার দায়িত্ব সামলাতেন। অন্যদিকে, উপ্পলের বিরুদ্ধে কয়েকশো কোটি টাকার হাওয়ালা লেনদেন পরিচালনা এবং ছত্তিশগড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার অভিযোগ রয়েছে। এই মামলার আর এক অভিযুক্ত বিকাশ ছাপারিয়াকেও দুবাই থেকে ভারতে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে ইডি।

    কীভাবে চলত মহাদেব বেটিং চক্র?

    তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, মহাদেব অনলাইন বুক ছিল দেশের অন্যতম বৃহৎ অবৈধ অনলাইন বেটিং চক্র। ভারতের বাইরে থেকে এই ব্যবসা পরিচালিত হলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্তৃত ছিল এর নেটওয়ার্ক। ফ্র্যাঞ্চাইজি বা শাখাভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৩২০০টি প্যানেল ও শাখা ব্যবহার করে গ্রাহক সংগ্রহ এবং বাজির টাকা আদায় করা হত। ক্রিকেট, ফুটবল, তাসের খেলা-সহ বিভিন্ন খেলার উপর বাজি ধরার সুযোগ দেওয়া হত এই ব্যবস্থায়।

    ছত্তিশগড়ে কংগ্রেস পরিচালিত সরকারের আমলে এই বেটিং চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলের নামও এই মামলায় অভিযুক্ত ও সুবিধাভোগী হিসেবে উঠে এসেছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের এবং গ্রেফতারির ঘটনা ঘটেছে। তবে বাঘেল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, জুয়া ও বাজি সংক্রান্ত বিষয় মূলত রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত।

    ৯৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি অপরাধলব্ধ অর্থের হিসাব

    এই বেটিং চক্রের আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ তদন্তকারীদের কাছেও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। ইডির সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, মহাদেব অনলাইন বুক এবং স্কাই এক্সচেঞ্জ ও লোটাস ৩৬৫-এর মতো সহযোগী প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে গত প্রায় ১০ বছরে প্রায় ৯৪,৪০০ কোটি টাকার অপরাধলব্ধ অর্থ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে সংস্থাটি আদালতে জানিয়েছে, এই হিসাব প্রাথমিক এবং নতুন তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তা পরিবর্তিত হতে পারে।

    তদন্তকারীদের দাবি, বিভিন্ন ভুয়ো বা অন্যের পরিচয়ে খোলা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রথমে বাজির টাকা জমা করা হত। পরে একাধিক লেনদেনের স্তর তৈরি করে সেই অর্থের উৎস আড়াল করা হত। শেষ পর্যন্ত হাওয়ালা চ্যানেলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, এই অর্থের একটি অংশ ছত্তিশগড়ের সরকারি আধিকারিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ঘুষ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, যাতে অবাধে এই অবৈধ ব্যবসা (Mahadev Betting Scam) চালানো যায়।

    সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, গ্রেফতার ১৪

    মহাদেব বেটিং মামলায় আর্থিক তছরুপের তদন্তে এখনও পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে ইডি। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি এই মামলায় ছ’টি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। সেখানে মোট ১১৬ জন ব্যক্তি ও সংস্থার নাম অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে ১৪ জনকে। বাজেয়াপ্ত ও আটক করা সম্পত্তির মূল্য ২,১০০ কোটি টাকারও বেশি বলে সাম্প্রতিক তদন্তের তথ্যে উঠে এসেছে।

    এই তদন্তের সূত্রেই চন্দ্রকরের বিপুল বিলাসবহুল জীবনযাপনও নজরে আসে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাস আল খাইমায় তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই অনুষ্ঠানে অতিথিদের যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত বিমান ব্যবহারের পাশাপাশি বিপুল অর্থ ব্যয়ের তথ্যও তদন্তকারীদের নজরে আসে।

    সৌরভকে দেশে ফিরিয়ে আনার ফলে মহাদেব বেটিং চক্রের আর্থিক লেনদেন, রাজনৈতিক যোগসূত্র এবং সম্ভাব্য সুবিধাভোগীদের বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে (Money Laundering Case) উপ্পলকে ভারতে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই প্রধান অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে এই বিপুল অবৈধ বেটিং সাম্রাজ্যের নেপথ্যে থাকা গোটা চক্রের (Mahadev Betting Scam) আরও অনেক অজানা তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে।

     

  • India’s 1st Bullet Train: ২৫০ কিমি গতিতে ছুটবে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন! ৮টি কোচে সফর করতে পারবেন ৫৫৭ জন যাত্রী

    India’s 1st Bullet Train: ২৫০ কিমি গতিতে ছুটবে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন! ৮টি কোচে সফর করতে পারবেন ৫৫৭ জন যাত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। এবার ভারতের মাটিতেই তৈরি হচ্ছে প্রথম দেশীয় প্রযুক্তির বুলেট ট্রেন (India’s 1st Bullet Train)। মুম্বই-আমেদাবাদ হাইস্পিড রেল করিডরের জন্য তৈরি এই অত্যাধুনিক ট্রেনের উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বেঙ্গালুরুর ভারত আর্থ মুভার্স লিমিটেড (BEML)-এর কারখানায়। বিদেশি প্রযুক্তির উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীলতা কাটিয়ে ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের হাত ধরেই তৈরি হচ্ছে এই ট্রেন। দেশের আবহাওয়া, জলবায়ু এবং রেল চলাচলের বিশেষ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এর নকশা তৈরি করা হয়েছে।

    কত গতিতে ছুটবে বুলেট ট্রেন?

    নতুন এই বুলেট ট্রেনের সর্বোচ্চ পরীক্ষামূলক গতি ঘণ্টায় ২৮০ কিলোমিটার। তবে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেনটি ঘণ্টায় ২৪৯ কিলোমিটার গতিতে চলবে। ট্রেনটির মোট দৈর্ঘ্য হবে ২০২ মিটার। থাকবে মোট ৮টি কোচ। এর মধ্যে চারটি মোটর কার এবং চারটি ট্রেলার কার। একসঙ্গে মোট ৫৫৭ জন যাত্রী সফর করতে পারবেন। বিশেষভাবে সক্ষম এবং চলাফেরায় অসুবিধা রয়েছে এমন যাত্রীদের জন্যও থাকছে দুটি নির্দিষ্ট আসন। ট্রেনটিতে সাতটি স্ট্যান্ডার্ড ক্লাসের কোচ থাকবে, যেখানে ৩×২ আসন বিন্যাসে বসার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি একটি এক্সিকিউটিভ ক্লাসের কোচে থাকবে ২×২ আসন বিন্যাস। ট্রেনের দু’প্রান্তেই থাকবে চালকের কেবিন। অত্যাধুনিক অনবোর্ড কন্ট্রোল সিস্টেমের মাধ্যমে ট্রেন পরিচালনা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যবস্থা থাকবে।

    যাত্রীদের আরামের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

    যাত্রীদের আরামদায়ক সফরের কথা মাথায় রেখে ট্রেনের ভিতরের নকশা তৈরি করা হয়েছে। থাকবে প্রশস্ত আসন, পর্যাপ্ত লেগরুম এবং আধুনিক অভ্যন্তরীণ সজ্জা। প্রতিটি কোচের মধ্যে সংযোগকারী বিশেষ সিল করা গ্যাংওয়ে থাকবে, যার সাহায্যে যাত্রীরা সহজেই এক কোচ থেকে অন্য কোচে যেতে পারবেন। প্রতিটি আসনের সারির পাশে থাকবে বড় জানালা। ফলে যাত্রাপথের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন যাত্রীরা। আধুনিক এলইডি আলো, মাথার উপরে লাগেজ রাখার জায়গা এবং বড় ব্যাগ রাখার জন্য আলাদা স্ট্যান্ডের ব্যবস্থাও থাকছে। মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ চার্জ দেওয়ার জন্য প্রতিটি আসনের কাছে থাকবে পৃথক পাওয়ার আউটলেট। এছাড়াও পরিবেশবান্ধব বায়ো-ডাইজেস্টার টয়লেট থাকবে ট্রেনটিতে। এর ফলে বর্জ্যের পরিবেশগত প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।

    থাকছে আধুনিক তথ্য ও বিনোদন ব্যবস্থা

    যাত্রাপথে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে প্রতিটি কোচে থাকবে এলসিডি ডিসপ্লে। ইংরেজি, হিন্দি এবং আঞ্চলিক ভাষায় ট্রেনের বিভিন্ন তথ্য দেখতে পারবেন যাত্রীরা। পাশাপাশি থাকবে পাবলিক অ্যাড্রেস এবং স্বয়ংক্রিয় ঘোষণার ব্যবস্থা। যাত্রীদের বিনোদনের জন্য থাকছে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই নির্ভর ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম। এর মাধ্যমে আগে থেকে লোড করা বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন তাঁরা। জরুরি পরিস্থিতিতে ট্রেনের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য থাকবে বিশেষ ইমার্জেন্সি টক-ব্যাক ইউনিট।

    বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা

    সকলের যাতায়াত সহজ করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ট্রেনের মেঝে এবং প্ল্যাটফর্মের উচ্চতা একই রাখা হবে, যাতে সহজেই ওঠানামা করা যায়। ট্রেনের দরজায় থাকবে প্রত্যাহারযোগ্য ফুটস্টেপ, যা প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের মধ্যবর্তী ফাঁক কমাতে সাহায্য করবে। বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের উপযোগী করে তৈরি করা হবে দরজা ও শৌচাগার। দৃষ্টিহীন যাত্রীদের জন্য থাকবে ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখা নির্দেশিকা ও তথ্যচিহ্ন। সারা বছর যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে প্রতিটি কোচে থাকবে ডুয়াল-ইউনিট এইচ-ভ্যাক ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে কোচের ভিতরের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। পাশাপাশি শব্দদূষণ কমানোর জন্য ট্রেনের বডি এবং মেঝেতে বিশেষ সাউন্ড ইনসুলেশন ও নয়েজ ড্যাম্পিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

    শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি

    ২৫ কেভি এসি ওভারহেড বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় চলবে এই বুলেট ট্রেন। শক্তি সাশ্রয়ের জন্য থাকছে অত্যাধুনিক রিজেনারেটিভ ব্রেকিং সিস্টেম। ট্রেনের গতি কমানোর সময় উৎপন্ন শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুতে রূপান্তর করে বৈদ্যুতিক গ্রিডে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ফলে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো সম্ভব হবে। এছাড়াও ট্রেনের সামনের অংশ এবং সম্পূর্ণ বডি বিশেষ অ্যারোডাইনামিক পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছে। কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে এর নকশা তৈরি করেছেন ইঞ্জিনিয়াররা। এর ফলে বাতাসের বাধা কমবে, টানেলের মধ্যে প্রবেশের সময় বায়ুর চাপজনিত শব্দ ও অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। সব মিলিয়ে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই বুলেট ট্রেন ভারতের রেল পরিকাঠামোয় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে চলেছে। গতি, আরাম, নিরাপত্তা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মেলবন্ধনে ভারতের হাইস্পিড রেল পরিষেবাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

  • INDI Bloc Rally:  ‘ক্ষতিপূরণ দেবে কে?’ ইন্ডি জোটের সমাবেশে ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতির দাবি দিল্লির ব্যবসায়ীদের

    INDI Bloc Rally: ‘ক্ষতিপূরণ দেবে কে?’ ইন্ডি জোটের সমাবেশে ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতির দাবি দিল্লির ব্যবসায়ীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উৎসবের মরশুমে রাজধানী দিল্লিতে ইন্ডি জোটের (INDI Bloc Rally) সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক ব্যবসায়িক ক্ষতির অভিযোগ উঠল। রবিবার রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের সমাবেশের জেরে দিল্লিতে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করল ব্যবসায়ীদের সংগঠন চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CTI)। সংগঠনের দাবি, সমাবেশের কারণে আশপাশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাজার বন্ধ থাকায় কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় ব্যবসা-বাণিজ্য। ব্যবসায়ীদের দাবি, দীপাবলির পর সমাবেশ করার জন্য আগেই বিরোধী নেতাদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। এমনকী, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকেও একাধিক চিঠি দিয়ে সমাবেশ পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিল সিটিআই। কিন্তু সেই আবেদন কার্যকর হয়নি। ফলে উৎসব ও কেনাকাটার মরশুমে ব্যবসায়ীদের বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ।

    প্রায় আড়াই লক্ষ দোকান সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল

    সিটিআই-এর চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েলের দাবি, ১ নভেম্বর দিল্লিতে সরাসরি প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে। সংগঠনের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, খুচরো ও পাইকারি ব্যবসায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮,৮০০ কোটি টাকা। রামলীলা ময়দানের পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ব্যবসায়িক কাজকর্ম প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। কাশ্মীরি গেট, মোরি গেট, চাঁদনি চক, চাওড়ি বাজার, খারি বাওলি, নয়াবাজার, সদর বাজার, আজমেরি গেট, দরিয়াগঞ্জ, পাহাড়গঞ্জ, কমলা মার্কেট, জামা মসজিদ, ভাগীরথ প্যালেস, লাজপত রাই মার্কেট, কিনারি বাজার, দারিবা কালান, বল্লিমারান, ফতেপুরি, কনট প্লেস, পালিকা বাজার, গাফফার মার্কেট এবং করোলবাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলিতে দোকানপাট বন্ধ ছিল বলে দাবি ব্যবসায়ী সংগঠনের। সিটিআই-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বাজারগুলিতে প্রায় ৩ লক্ষ দোকান রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় আড়াই লক্ষ দোকান সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। ফলে প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবসায়িক কার্যকলাপ স্তব্ধ হয়ে যায়।

    পণ্য পরিবহণও ব্যাহত

    শুধু খুচরো ও পাইকারি ব্যবসা নয়, পরিবহণ ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাতেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বলে দাবি সংগঠনের। তাদের হিসেব অনুযায়ী, ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হওয়ায় এই ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, হোটেল, রেস্তরাঁ, গেস্ট হাউস এবং পর্যটন শিল্পে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। মধ্য দিল্লির ২ হাজারেরও বেশি হোটেল, রেস্তরাঁ, গেস্ট হাউস ও ধাবায় বুকিং বাতিল হয়েছে বলেও জানিয়েছে সিটিআই। সমাবেশের প্রভাব পড়েছে অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের উপরেও। বণিক মহলের দাবি, প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন শ্রমিক, পণ্য ওঠানো-নামানোর কর্মী, অটো ও ই-রিকশা চালক, ফুটপাতের বিক্রেতা, কুলি এবং দিনমজুর, তাঁরা এক দিনের রোজগার হারিয়েছেন। এই ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

     

  • Kolkata Film Festival: নতুন লোগো প্রকাশে শুরু কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের প্রস্তুতি! ফোকাস কান্ট্রি আয়ারল্যান্ড, ফিল্ম বাজার ঘিরে এবার বিশেষ চমক কলকাতায়

    Kolkata Film Festival: নতুন লোগো প্রকাশে শুরু কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের প্রস্তুতি! ফোকাস কান্ট্রি আয়ারল্যান্ড, ফিল্ম বাজার ঘিরে এবার বিশেষ চমক কলকাতায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজো, কালীপুজো, ছট, জগদ্ধাত্রী তারপর বড়দিন! কলকাতা এখন উৎসব মুখর। ডিসেম্বরে তিলোত্তমা মাতবে চলচ্চিত্র উৎসবে (Kolkata Film Festival)। ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল শহরে। এখন তার প্রস্তুতিই তুঙ্গে। রবিবার উন্মোচিত হল ৩২ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লোগো। জানানো হল, চেনা মঞ্চ ছেড়ে এবার ইতিহাসের শহরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে বসতে চলেছে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী আসর। উৎসব ঘিরে এবার রয়েছে চমকের পর চমক। দক্ষিণী ছবির মহাতারকা রজনীকান্ত থেকে প্রভাস, বলিউডের অক্ষয় কুমার, সঞ্জয় দত্ত, অনুপম খের, পরেশ রাওয়াল, কঙ্গনা রানাউত- উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে চলা তারকাদের তালিকা দীর্ঘ। সব মিলিয়ে ডিসেম্বরে কলকাতা দেখতে চলেছে তারকার মেলা।

    কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের নতুন লোগো

    রবিবার নন্দনে ২- প্রেক্ষাগৃহে সাংবাদিক বৈঠকে উৎসবের নতুন লোগো প্রকাশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির সূচনা হল। পরিচালক সন্দীপ রায়ের পরিকল্পনায় তৈরি হয়েছে এবারের লোগো। সেটির উদ্বোধন করেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। উপস্থিত ছিলেন টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ এবং উৎসব কমিটির পদাধিকারীরা। সাংবাদিক বৈঠকের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন মিঠুন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎ, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী-সহ বিশিষ্টরা। এ’বছর কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের ফোকাস কান্ট্রি আয়ারল্যান্ড। ৫ নভেম্বর থেকে www.kiff.in ওয়েবসাইট থেকে চলচ্চিত্র উৎসব সংক্রান্ত সব তথ্য পাওয়া যাবে, আবেদন করা যাবে কার্ডেরও।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য অতিথিদের তালিকা

    লোগো প্রকাশের মঞ্চ থেকেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য অতিথিদের তালিকা প্রকাশ্যে এনে কার্যত চমক দেন মহাগুরু। তাঁর কথায়, রজনীকান্ত, প্রভাস, অক্ষয় কুমার, সঞ্জয় দত্ত, পরেশ রাওয়াল, অনুপম খের, জনি লিভার এবং কঙ্গনা রানাউতের মতো তারকাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। পাশাপাশি পরিচালক অনুরাগ বসু ও মধুর ভাণ্ডারকরও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। তবে এই তালিকার আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত ঘোষণা উৎসব কমিটির তরফে এখনও বাকি। তবে এবারের উৎসবে মোট কতগুলি ছবি দেখানো হবে, কোন কোন দেশের ছবি জায়গা পাবে, কিংবা প্রতিযোগিতা বিভাগের তালিকায় কারা থাকবে- সে বিষয়ে এখনও মুখ খোলেনি আয়োজকরা। প্রসেনজিৎ জানিয়েছেন, ছবি বাছাইয়ের কাজ চলছে। প্রথম সাংবাদিক বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল লোগো প্রকাশ এবং উৎসবের প্রাথমিক পরিকল্পনা জানানো । নির্দিষ্ট সময়ে বাকি তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

    পরিবেশগত বিধিনিষেধের প্রশ্ন

    এবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে আয়োজনের সিদ্ধান্ত ঘিরে পরিবেশগত বিধিনিষেধের প্রশ্নে উৎসব কমিটির এক কর্তা আশ্বস্ত করেছেন, পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম মেনেই অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে। কোনও আইন বা বিধি লঙ্ঘন করা হবে না। উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, উদ্বোধনের দিনে যে ছবি প্রদর্শিত হবে, প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে সেটি অন্য কোনও প্রেক্ষাগৃহে আবারও দেখানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে। অর্থাৎ ভিক্টোরিয়ায় উদ্বোধনী আয়োজন হলেও দর্শকদের জন্য ছবিটি দেখার বিকল্প ব্যবস্থা রাখার ভাবনা রয়েছে কমিটির। উৎসবের থিম মিউজিক এবং বিশেষ প্রোমো তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন রাতুল শঙ্কর ও অতনু।

    ‘ফিল্ম বাজার’-এর আয়োজন

    কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবকে কেন্দ্র করে এবার বড় আকারে ‘ফিল্ম বাজার’ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যোগাযোগ ও কাজের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে। সবমিলিয়ে এবারের কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুধু ছবির প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ভিক্টোরিয়ার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে উদ্বোধন, মহাতারকাদের সম্ভাব্য উপস্থিতি, আয়ারল্যান্ডকে ফোকাস কান্ট্রি নির্বাচন এবং ফিল্ম বাজারের পরিকল্পনা জমজমাট কলকাতা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি।

    ডেলিগেট কার্ডের জন্য নাম নথিভুক্তকরণ

    ডেলিগেট কার্ডের জন্য নাম নথিভুক্তকরণ এবং আবেদন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রাথমিক তথ্য জানানো হয়েছে। উৎসব কমিটির সদস্য অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ জানান, আগামী ৫ নভেম্বর থেকে উৎসবের নিজস্ব ওয়েবসাইটে আবেদন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে। অনলাইনে আবেদনের পাশাপাশি প্রচলিত পদ্ধতিতেও ডেলিগেট কার্ড সংগ্রহের সুযোগ থাকবে।

    চলচ্চিত্র উৎসব উৎসাহী মুখ্যমন্ত্রী

    হাওড়ার সাঁতরাগাছি থেকে নতুন একটি ট্রেনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবছর বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু৷ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, ‘চলতি বছরের কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অনেক জাতীয় স্তরের কর্মসূচি পালন করা হবে। প্রবাসী ভারতীয় সম্মেলন হবে।” প্রতি বছরই দুর্গাপুজো শেষ হতেই কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এ বার রাজনৈতিক পালাবদলের পরে প্রথম চলচ্চিত্র উৎসব। ফলে এবারের উৎসব ঘিরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্র মহলে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর থেকে আগ্রহ দ্বিগুণ হয়েছে সিনেমাপ্রেমীদের৷ চলচ্চিত্রপ্রেমী থেকে শুরু করে সিনেদুনিয়ার কলাকুশলীরা, সকলেই এখন ১৭ ডিসেম্বরের দিকে তাকিয়ে। রবিবারের সাংবাদিক সম্মেলনে উৎসবের লোগো প্রকাশের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল প্রস্তুতি পর্ব।

    নন্দন চত্বরে পরিবর্তনের ছোঁয়া

    বদলের বাংলায় নন্দন চত্বরেও এল পরিবর্তন। শহরের সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ফলকের উপরে সাদা রং করে দেওয়া হয়েছে। তবে অক্ষত রয়েছে জ্যোতি বসুর নামাঙ্কিত ফলক। ১৯৮০–তে নন্দনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু যা স্থাপন করেছিলেন। তার ঠিক বছর পাঁচেক পর ১৯৮৫–তে সত্যজিৎ রায় নন্দনের উদ্বোধন করেছিলেন। ২০১১–তে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হয়। ২০১৬–য় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ফলকও লাগানো হয়েছিল নন্দন–রবীন্দ্রসদন চত্বরে সৌন্দর্যায়নের কাজের পরে। ২০২৬–এ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ফের পালাবদল হয়েছে। ১৫ বছরের তৃণমূলের শাসন শেষে রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রিত্বে হতে চলেছে ৩২তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। মিঠুন চক্রবর্তী জানিয়েছেন যে এখানে নতুন ফলক আবার বসবে। মিঠুন জানান সেখানে বাংলার কারুরই নাম আসবে, তবে কার কী নামের ফলক বসবে, সেটা তিনি এখনই জানাতে চাননি।

  • Suvendu Adhikari: ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লাখ মতুয়াকে নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা শুভেন্দুর, ঠাকুরনগরের উন্নয়নে ৫০ কোটি

    Suvendu Adhikari: ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লাখ মতুয়াকে নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা শুভেন্দুর, ঠাকুরনগরের উন্নয়নে ৫০ কোটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মতুয়া সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের নাগরিকত্বের দাবি পূরণে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় যোগ্য আড়াই লাখ আবেদনকারীকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছেন তিনি (Suvendu Adhikari)। মতুয়া সম্প্রদায়ের (Matua People) সার্বিক উন্নয়নের জন্য ৫০ কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য পরিষেবা, সামাজিক সুরক্ষা, নাগরিক পরিকাঠামো এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নয়নেও একাধিক উদ্যোগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

    উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমার ঠাকুরনগরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মতুয়া গোসাঁই সম্মেলন ২০২৬-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকার গঠনে মতুয়া সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই এই সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবিদাওয়া পূরণ এবং সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাঁর সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    আড়াই লাখ আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব (Suvendu Adhikari)

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অধীনে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ নাগরিকত্ব পেয়েছেন। অথচ যোগ্য আবেদনকারীর সংখ্যা ঢের বেশি। এই পরিস্থিতিতে শুনানি ও আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “আমরা শুনানির প্রক্রিয়া দ্রুত করব এবং ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লাখ আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করব।”

    মতুয়াদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “এই সরকার আপনাদের জন্য।” তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের অন্য রাজ্যগুলিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকর করে যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হলেও এ রাজ্যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আইনের বিরোধিতা করেছিলেন। এর ফলে মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু যোগ্য মানুষ নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

    শুভেন্দু আরও ঘোষণা করেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়া তফসিলি জাতিভুক্ত যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ম মেনে তফসিলি জাতির শংসাপত্রও দেওয়া হবে। এর ফলে নাগরিকত্ব পাওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁদের সুবিধা হবে বলেও জানান তিনি।

    মতুয়া উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ

    মতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য বরাদ্দ ৫০ কোটি টাকা দিয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা, সামাজিক সুরক্ষা, নাগরিক পরিকাঠামো এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সরকারি নিয়ম ও নির্ধারিত পদ্ধতি মেনেই এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হবে।

    শুভেন্দু বলেন, “স্বাস্থ্য পরিষেবা, সামাজিক সুরক্ষার ভাতা এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আপনারা যা প্রয়োজন মনে করবেন, নিয়ম মেনে সরকার তার ব্যবস্থা করবে। এই সরকার আপনাদেরই।”

    এ দিন প্রস্তাবিত অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আর্থিক সহায়তার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মতুয়া মহিলারা মাসে ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। ৬০ বছরের বেশি বয়সি পুরুষদের মাসিক দেড় হাজার টাকা করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মতুয়া সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজের সমন্বয়ের জন্য পৃথক মতুয়া উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের বিষয়টিও বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি (Suvendu Adhikari)।

    ঠাকুরনগরকে পৃথক পুরসভা করার উদ্যোগ

    মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ঠাকুরনগরের পরিকাঠামোগত উন্নয়নেও একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ঠাকুরনগরকে পৃথক পুরসভার মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আগামী রাজ্য বাজেটে এই প্রস্তাব বিবেচনা করা হতে পারে। পৃথক পুরসভা গঠিত হলে এলাকার নাগরিক পরিষেবা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নতি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু। চাঁদপাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। হাসপাতালটির নামকরণ করা হবে মতুয়া সম্প্রদায়ের শ্রদ্ধেয় আধ্যাত্মিক নেত্রী বড়মার নামে। এই হাসপাতাল তৈরি হলে ঠাকুরনগর এবং আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    মতুয়া মহাতীর্থে নতুন মন্দির

    মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণের উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মতুয়া মহাতীর্থে একটি নতুন মন্দির নির্মাণের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, তীর্থক্ষেত্রের ট্রাস্টের অর্থেই এই মন্দির তৈরি করা হবে। মন্দিরের ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানেও তিনি নিজে উপস্থিত থাকতে চান।

    মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আজ ঘোষণা করছি, মতুয়া মহাতীর্থে একটি নতুন মন্দির নির্মাণ করা হবে। ট্রাস্টের অর্থেই এই মন্দির তৈরি হবে। ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানে আমি নিজে উপস্থিত থাকব।”

    মন্দির নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোরও চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

    মতুয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সমাবেশ বারুণী মেলাকে জাতীয় স্তরে পরিচিত করে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে রাজ্য সরকারের। ঠাকুরবাড়ি মন্দিরের সম্প্রসারণের জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। মতুয়া সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নয়নেও সরকার সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

    মতুয়া ভোটের গুরুত্ব যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ

    রাজ্যের রাজনীতিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং জলপাইগুড়ি জেলার একাধিক বিধানসভা ও লোকসভা কেন্দ্রে এই সম্প্রদায়ের ভোট রাজনৈতিক দলগুলির কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে বিজেপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল। ওই নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ১৮টি আসনে জয়ী হয়েছিল দলটি। পরবর্তী সময়েও রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে মতুয়া ভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থেকেছে।

    এই সম্প্রদায়ের কাছে নাগরিকত্বের প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মতুয়া পরিবারের একটা বড় অংশের পূর্বপুরুষের শিকড় অধুনা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে। দেশভাগ এবং পরবর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে আসা বহু পরিবারের কাছে নাগরিকত্ব, পুনর্বাসন এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলি এখনও (Matua People) গুরুত্বপূর্ণ।

    উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে প্রণীত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অনুযায়ী, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে অথবা নিপীড়নের আশঙ্কায় ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নির্দিষ্ট যোগ্য ব্যক্তিদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার বিশেষ সুযোগ রয়েছে।

    মমতাকে দুষলেন শুভেন্দু

    ঠাকুরনগরে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রকৃত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়নি। বরং সম্প্রদায়ের সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে বিভাজন তৈরি করা হয়েছিল।

    মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতা করে আগের সরকার প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে আসা যোগ্য শরণার্থীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথেও বাধা সৃষ্টি করেছিল।

    শুভেন্দু বলেন, “আগের মুখ্যমন্ত্রী মতুয়াদের এবং তাঁদের সমাজকে বিভক্ত করেছিলেন। তাঁদের জন্য কোনও কাজই করেননি। বরং সরাসরি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতা করেছিলেন। আগামী দিনে আমি তাঁদের জন্য কাজ করব।”

    ঠাকুরবাড়ির অভ্যন্তরে ভবিষ্যতে আর কোনও বিভাজন থাকবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মতুয়া সমাজের ঐক্য বজায় রাখা এবং সম্প্রদায়ের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকার কাজ করবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

    মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শুভেন্দু বলেন, তাঁদের সমর্থনেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠিত হয়েছে। ঠাকুরনগরের জন্য কিছু করতে পারলে সেটাকেই নিজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    মতুয়া সম্প্রদায়ের উত্থান

    মতুয়া সম্প্রদায়ের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে। হরিচাঁদ ঠাকুরের নেতৃত্বে অবিভক্ত বাংলায় এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। মূলত নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের মানুষকে সংগঠিত করে সামাজিক সাম্য, মর্যাদা এবং ধর্মীয় সংস্কারের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই আন্দোলনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    পরবর্তীকালে হরিচাঁদ ঠাকুরের পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুর এই আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করেন। তাঁদের শিক্ষা ও আদর্শের ভিত্তিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের স্বতন্ত্র ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচিতি গড়ে ওঠে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষত তফসিলি জাতিভুক্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। নমঃশূদ্র সম্প্রদায় (Matua People) পশ্চিমবঙ্গে তফসিলি জাতির অন্তর্ভুক্ত।

    দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ থেকে বহু পরিবারের ভারতে চলে আসার কারণে মতুয়া সমাজের একাংশের কাছে নাগরিকত্ব, পুনর্বাসন ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্ন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    সব মিলিয়ে নাগরিকত্ব, আর্থিক সহায়তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ধর্মীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের একাধিক প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে মতুয়া সম্প্রদায়ের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন শুভেন্দু।

     

  • Bangladesh: ফের অশান্তির আগুন বাংলাদেশে, পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তাল পদ্মাপারের দেশ

    Bangladesh: ফের অশান্তির আগুন বাংলাদেশে, পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তাল পদ্মাপারের দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বাংলাদেশ। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পথে নেমেছেন পোশাক (Bangladesh) কারখানার শ্রমিকরা। রবিবার সকাল থেকে ঢাকা, মিরপুর, গাজিপুর, সাভার, আশুলিয়া-সহ একাধিক শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভে শামিল হন শ্রমিকরা। তাঁদের দাবি, ন্যূনতম মাসিক মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। বিক্ষোভকে (Garment Workers Protest) কেন্দ্র করে একাধিক জায়গায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ বাঁধে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাজিপুরে মোতায়েন করা হয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের।

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প সে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। সেই শিল্পের শ্রমিকদের একাংশের এই আন্দোলন ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। মিরপুরের ১০ নম্বর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। মিরপুরের ১১ নম্বর এলাকায় একটি মেট্রো স্টেশনের নীচে পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বেলা পৌনে ১২টা নাগাদ ওই ঘটনা ঘটে।

    উত্তপ্ত বাংলাদেশ, আগুন (Bangladesh) 

    গাজিপুরেও পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কোনাবাড়ি এলাকায় একটি পুলিশ বক্সে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। সফিপুর বাজার, চন্দ্রাপল্লি বিদ্যুৎ, মৌচাক ও তেলিচালা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান শ্রমিকরা। আন্দোলনের জেরে ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। আশুলিয়া ও সাভারেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গাজিপুরে পাঁচ প্লাটুন সীমান্তরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে উৎপাদন ক্ষেত্রেও। গাজিপুর ও সাভার এলাকার অন্তত ৮০টি পোশাক কারখানায় রবিবার ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিক অসন্তোষের জেরে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্যোগী হয়েছে বাংলাদেশের সরকারও। শ্রমিকদের দাবি ও মজুরি সংক্রান্ত সমস্যা খতিয়ে দেখতে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সেই ঘোষণার পরেও বিক্ষোভ থামেনি। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় রবিবার রাতে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে উপস্থিত (Bangladesh) ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন-সহ সরকারের একাধিক প্রতিনিধি।

    রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা!

    এদিকে, এই অশান্তির পিছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশের সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সন্দেহ, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের একাংশ এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।

    সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠক শেষে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই ঘটনার পিছনে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তাঁর কথায়, “এটা স্পষ্টতই আওয়ামী ফ্যাসিবাদের লোকেদের কাজ। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে এসব করা হয়েছে। পোশাক উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, যাতে অস্থিরতা তৈরি না হয়, সেই বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।”

    পোশাক শিল্পে ঘনাতে পারে দুর্দিন!

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রফতানি আয়ের একটি বড় অংশ আসে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে। এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন বিপুল সংখ্যক শ্রমিক। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব শুধু কারখানার উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, দেশের রফতানি বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের মজুরির দাবি এবং শিল্পের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন বাংলাদেশ সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ (Garment Workers Protest)।

    শ্রমিক অসন্তোষের জেরে নিজের সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সফর বাতিল করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। পরিস্থিতি (Bangladesh) সামাল দিতে সরকার কী পদক্ষেপ করে এবং শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এখন সেটাই দেখার।

     

  • Germany Left Wing Protests: জার্মানির বিভিন্ন শহরে তরুণদের বিক্ষোভের জেরে অশান্তি, ফ্রাঙ্কফুর্টে দোকানপাটে লুটপাট-ভাঙচুর

    Germany Left Wing Protests: জার্মানির বিভিন্ন শহরে তরুণদের বিক্ষোভের জেরে অশান্তি, ফ্রাঙ্কফুর্টে দোকানপাটে লুটপাট-ভাঙচুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভের জেরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে জার্মানির একাধিক শহরে। গত ৩১ অক্টোবর বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা চালু করার বিরোধিতা, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন হাজার হাজার মানুষ। কয়েকটি শহরে সেই বিক্ষোভ হিংসাত্মক সংঘর্ষের (Germany Left Wing Protests) চেহারা নেয়। ফ্রাঙ্কফুর্টে মুখ ঢাকা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দোকানপাটে লুটপাট, বাণিজ্যিক সম্পত্তি ভাঙচুর এবং জরুরি পরিষেবার কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে (Shops Looted)।

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জার্মানিতে নতুন করে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, বামপন্থী চরমপন্থী সংগঠন এবং বিদেশের কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ থাকা সংগঠনগুলি সাধারণ মানুষের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা করতে পারে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালীন একাধিক দোকানের কাচ ভাঙা হয়। জরুরি পরিষেবার কর্মীদের লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। হামবুর্গেও বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেয়।

    বিক্ষোভের নেতৃত্বে তরুণ প্রজন্ম (Germany Left Wing Protests)

    জার্মানির বামপন্থী প্রচার সংগঠন ‘জেন জি রেগেল্ট’-এর উদ্যোগে দেশের ৩৪টি শহরে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং মিউনিখের মতো বড় শহরগুলিতেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। সংগঠনটির নামের অর্থ, ‘নতুন প্রজন্মই এবার দায়িত্ব নেবে’।

    বিক্ষোভকারীদের মূল দাবিগুলির মধ্যে ছিল বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা চালুর প্রস্তাব প্রত্যাহার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ। সরকারি পরিষেবাগুলির উন্নতি এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।

    তবে ফ্রাঙ্কফুর্টে বিক্ষোভের মূল দাবিগুলিকে ছাপিয়ে যায় লুটপাট, ভাঙচুর এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা। এক প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ অনুযায়ী, শহরের অন্তত দু’টি দোকানে লুটপাট চালানো হয় এবং আরও কয়েকটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠলে ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ সাধারণ মানুষকে সংঘর্ষপ্রবণ এলাকাগুলি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় পুলিশের তরফে জানানো হয়, শহরের কেন্দ্রস্থলে একাধিক দোকানের কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে, জরুরি পরিষেবার কর্মীদের লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা ছোড়া হচ্ছে। পথচারীদের ওই এলাকা থেকে সরে যাওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয় (Germany Left Wing Protests)।

    বামপন্থী সংগঠনগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    এই বিক্ষোভে বামপন্থী চরমপন্থী সংগঠনগুলির সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। জার্মানির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য, উগ্র বামপন্থী রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের কিছু অংশ এবং বিদেশের কয়েকটি চরমপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠন বিক্ষোভের সমর্থনে জনমত সংগঠিত করার চেষ্টা করেছে।

    এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং দেশের বৃহত্তর ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষমতা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    প্রশাসনের আশঙ্কা, বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবার বিরোধিতা, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে কিছু সংগঠন বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

    তবে বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক সংগঠন বা অংশগ্রহণকারীকে চরমপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করার মতো কোনও তথ্য সামনে আসেনি। অধিকাংশ শহরে জমায়েত শান্তিপূর্ণ ছিল বলেই প্রশাসন জানিয়েছে।

    তরুণদের ক্ষোভের কেন্দ্রে অর্থনৈতিক সঙ্কট

    ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানি বর্তমানে একাধিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি মন্থর। অন্যদিকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক পরিষেবার উপর সরকারি ব্যয় বাড়ানোর দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। এর পাশাপাশি অবসর গ্রহণকারী প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমে যাওয়ার ফলে পেনশন ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, এই অর্থনৈতিক চাপের বড় অংশ বহন করতে হচ্ছে তরুণ প্রজন্মকে। অথচ তাঁদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বার্লিনের একটি বিক্ষোভসভায় আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিখ বলেন, “যুদ্ধ এবং জোরজবরদস্তির পরিবর্তে আমরা আজ শান্তি ও স্বাধীনতার দাবিতে পথে নেমেছি।” তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় সরকারি সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানান। একই সঙ্গে বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা চালুর বিরোধিতাও করেন (Germany Left Wing Protests)। মিউনিখের এক তরুণ বিক্ষোভকারী স্টিভও সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের উদ্বেগের কোনও সমাধান সরকার দিচ্ছে না। উল্টে সরকারি ব্যয় কমানো হচ্ছে এবং আমাদের উপর আরও বেশি আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।” সরকার বিক্ষোভকারীদের দাবির (Shops Looted) বিষয়ে পদক্ষেপ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

    প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম মানুষের উপস্থিতি

    আন্দোলনের উদ্যোক্তারা দেশজুড়ে প্রায় ১ লক্ষ ৮২ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে উপস্থিতির সংখ্যা ছিল অনেক কম। ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও বার্লিনে পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, তিন শহর মিলিয়ে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল আনুমানিক ১৮ হাজার। অন্যদিকে আন্দোলনের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই তিন শহরের জন্য প্রায় ৩৬ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের দাবি করা হয়েছিল। অর্থাৎ উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা এবং বাস্তব উপস্থিতির মধ্যে যথেষ্ট ফারাক ছিল।

    ফ্রান্সের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা

    জার্মানির হেসে প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোসেক তরুণদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। উল্লেখ্য, এই প্রদেশের রাজধানী ভিসবাডেন এবং বৃহত্তম শহর ফ্রাঙ্কফুর্ট।

    ফ্রান্সে সাম্প্রতিক অতীতে তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভের সময় লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে পোসেক বলেন, “ফ্রান্সের সেই দৃশ্যগুলি আমাদের সকলের মনে রয়েছে। দোকান লুট করা, বাড়িতে আগুন লাগানো, পুলিশের গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া এবং পুলিশকর্মীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এই ক্ষেত্রে ফ্রান্সকে কোনওভাবেই আদর্শ হিসেবে তুলে ধরা উচিত নয়।”

    তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দাবিদাওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন যাতে বৃহত্তর আইনশৃঙ্খলার সমস্যায় পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করতে চাইছে (Germany Left Wing Protests) প্রশাসন।

    আগে থেকেই সতর্ক ছিল ব্যবসায়ী মহল

    বিক্ষোভের সম্ভাব্য প্রভাবের কথা মাথায় রেখে জার্মানির বিভিন্ন শহরের ব্যবসায়ীরা আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। কয়েকটি দোকানের সামনের অংশ কাঠের পাটাতন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। কোথাও আবার নির্ধারিত সময়ের আগেই দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বার্লিনের অভিজাত কেনাকাটার এলাকা কুরফ্যুরস্টেনডামেও একাধিক ব্যবসায়ী একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতীরা ভাঙচুর ও লুটপাট চালাতে পারে (Shops Looted)।

    ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও বিতর্ক

    এই আন্দোলন আদৌ জার্মানির বৃহত্তর ছাত্রসমাজের মতামত তুলে ধরছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দেশের জাতীয় ছাত্র সংগঠন বুন্ডেসশুলারকনফারেঞ্জ এই উদ্যোগ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, আগামী ২০ নভেম্বর তারা পৃথকভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে।

    অন্যদিকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামোর বেহাল দশাও অনেক ছাত্রছাত্রীকে আন্দোলনে যোগ দিতে উৎসাহিত করেছে।

    বার্লিনের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া শন বেকার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ঢুকে বিভিন্ন ঘর দেখলে মনে হয় যেন কোনও পরিত্যক্ত বাড়িতে প্রবেশ করেছি। অথচ এই জায়গাতেই আমাদের নিয়মিত পড়াশোনা করার কথা।”

    ইউরোপজুড়েই বাড়ছে তরুণদের আন্দোলন

    ২০২৬ সালে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে একাধিক বিক্ষোভ কর্মসূচি দেখা গিয়েছে। ফ্রান্সে বামপন্থী ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলির অংশগ্রহণে হওয়া কয়েকটি বিক্ষোভ হিংসাত্মক সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনায় পর্যবসিত হয়েছে।

    জার্মানির সাম্প্রতিক আন্দোলনের মূল দাবি ছিল শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি, জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস এবং বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবার বিরোধিতা। কিন্তু ফ্রাঙ্কফুর্টের হিংসাত্মক ঘটনা গোটা আন্দোলনের চরিত্র, এর সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলির ভূমিকা এবং (Germany Left Wing Protests) সাধারণ মানুষের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলির অশান্তি ছড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

     

  • Next Generation Corvettes Deal: বাড়ছে ভারতের নৌসেনার শক্তি, ৫৩,৮৬৬ কোটি টাকায় তৈরি হবে ৮টি যুদ্ধজাহাজ! গার্ডেনরিচ পেল ৫টির বরাত

    Next Generation Corvettes Deal: বাড়ছে ভারতের নৌসেনার শক্তি, ৫৩,৮৬৬ কোটি টাকায় তৈরি হবে ৮টি যুদ্ধজাহাজ! গার্ডেনরিচ পেল ৫টির বরাত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় নৌসেনার সামুদ্রিক শক্তি আরও বাড়াতে বড়সড় পদক্ষেপ করল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ শিল্পকে নতুন গতি দিতে গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (GRSE) এবং গোয়া শিপইয়ার্ড লিমিটেডের (GSL) সঙ্গে মোট ৫৩,৮৬৬.৫০ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর করল কেন্দ্র। এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় নৌসেনার জন্য তৈরি হবে ৮টি নেক্সট জেনারেশন করভেট (Next Generation Corvettes বা NGC)। সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, নয়াদিল্লির কর্তব্য ভবন-২-এ প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের উপস্থিতিতে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

    কোন সংস্থা কতগুলি যুদ্ধজাহাজ তৈরি করবে?

    চুক্তি অনুযায়ী, কলকাতার রাষ্ট্রায়ত্ত যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ সংস্থা জিআরএসই তৈরি করবে ৫টি নেক্সট জেনারেশন করভেট। অন্যদিকে, বাকি ৩টি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে গোয়ার জিএসএল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই প্রকল্পে প্রথমবার ভারতীয় নৌসেনার নিজস্ব নকশায় যুদ্ধজাহাজ তৈরি করা হবে এবং প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিরক্ষা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি (DPSUs) সেগুলি নির্মাণ করবে। ভারতের নিজস্ব যুদ্ধজাহাজের নকশা তৈরি এবং নির্মাণের সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    কী কী বিশেষ ক্ষমতা থাকবে নেক্সট জেনারেশন করভেটে?

    আধুনিক যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হবে এই ৮টি যুদ্ধজাহাজ। অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র এবং আধুনিক সেন্সর স্যুটে সজ্জিত থাকবে নেক্সট জেনারেশন করভেটগুলি। ফলে আকাশপথ, সমুদ্রপৃষ্ঠ এবং সমুদ্রের গভীরে—তিনটি ক্ষেত্রেই সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা থাকবে এই যুদ্ধজাহাজগুলির।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক নৌযুদ্ধে শুধুমাত্র শক্তিশালী অস্ত্র থাকাই যথেষ্ট নয়। শত্রুপক্ষের গতিবিধি শনাক্ত করা, দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং বিভিন্ন সামরিক ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত সেন্সর ও অস্ত্র ব্যবস্থার সমন্বয় এই করভেটগুলিকে বহুমুখী সামুদ্রিক অভিযানে কার্যকর করে তুলবে।

    ভারতীয় নৌসেনার শক্তি কতটা বাড়বে?

    নতুন করভেটগুলি অন্তর্ভুক্ত হলে ভারতীয় নৌসেনার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অভিযান চালানোর ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে—

    • ● সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের সুরক্ষা: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নজরদারি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    • ● অ্যান্টি-সারফেস ওয়ারফেয়ার: শত্রুপক্ষের জলযান ও যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো।

    • ● অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার: শত্রু ডুবোজাহাজ শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনে সেগুলির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান।

    • ● উপকূলীয় প্রতিরক্ষা: ভারতের দীর্ঘ উপকূলরেখার নিরাপত্তা আরও মজবুত করা।

    • ● অগভীর জলে যুদ্ধ: উপকূল সংলগ্ন অগভীর জলসীমায় সামরিক অভিযান পরিচালনা।

    • ● সামুদ্রিক নজরদারি: গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখা এবং সন্দেহজনক গতিবিধির উপর নজর রাখা।

    ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান নৌ-তৎপরতা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের কৌশলগত গুরুত্বের প্রেক্ষাপটে এই যুদ্ধজাহাজগুলি ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় জলসীমা থেকে শুরু করে বিস্তৃত সমুদ্রাঞ্চলে নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে নতুন সক্ষমতা তৈরি হবে।

    ১০ বছরে বিপুল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

    এই প্রকল্পের গুরুত্ব শুধু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। ভারতের দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্প, বেসরকারি শিপইয়ার্ড, শিল্প সহযোগী সংস্থা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রের (MSMEs) জন্যও বড় সুযোগ তৈরি হতে চলেছে।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে এই প্রকল্পের মাধ্যমে—

    • ● জাহাজ নির্মাণ সংস্থাগুলিতে প্রায় ৭২ লক্ষ কর্মদিবস কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

    • ● সহযোগী শিল্প এবং এমএসএমই ক্ষেত্রগুলিতে প্রায় ৪৬০ লক্ষ কর্মদিবস কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

    অর্থাৎ, প্রত্যক্ষভাবে শিপইয়ার্ডের পাশাপাশি যন্ত্রাংশ উৎপাদন, ইলেকট্রনিক্স, বিশেষায়িত সরঞ্জাম, প্রযুক্তি ও বিভিন্ন সহায়ক শিল্পের সঙ্গেও যুক্ত হবে বিপুল সংখ্যক কর্মী ও সংস্থা। ফলে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের সরবরাহ শৃঙ্খল আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বড় পদক্ষেপ

    এই প্রকল্পে দেশীয় উপকরণ, ভারতীয় প্রযুক্তি, সরঞ্জাম এবং দক্ষ মানবসম্পদের ব্যবহারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর ফলে বিদেশি প্রযুক্তি ও আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের সঙ্গেও এই প্রকল্পের সরাসরি যোগ রয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় নৌসেনার নিজস্ব নকশায় যুদ্ধজাহাজ তৈরি এবং দেশীয় শিল্প সংস্থাগুলির মাধ্যমে তার নির্মাণ—প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

    সব মিলিয়ে, ৫৩,৮৬৬.৫০ কোটি টাকার এই চুক্তি শুধুমাত্র ৮টি যুদ্ধজাহাজ কেনার প্রকল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, দেশীয় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা। বিশেষ করে কলকাতার জিআরএসই-র হাতে ৫টি করভেট নির্মাণের দায়িত্ব আসায় বাংলার প্রতিরক্ষা শিল্পের কাছেও এই প্রকল্পের গুরুত্ব যথেষ্ট।

LinkedIn
Share