Blog

  • Calling Name Presentation: ১ নভেম্বর থেকে অজানা নম্বর থেকেও ফোন এলে দেখা যাবে কলারের নাম! বাধ্যতামূলক হচ্ছে সিএনএপি পরিষেবা

    Calling Name Presentation: ১ নভেম্বর থেকে অজানা নম্বর থেকেও ফোন এলে দেখা যাবে কলারের নাম! বাধ্যতামূলক হচ্ছে সিএনএপি পরিষেবা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফোনে আর অচেনা নম্বর দেখে চিন্তায় পড়তে হবে না! আগামী ১ নভেম্বর, ২০২৬ থেকে দেশে ৪জি ও তার পরবর্তী প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্কে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হতে চলেছে কলারের নাম শনাক্তকরণ পরিষেবা (Calling Name Presentation)। কেন্দ্রের টেলিযোগাযোগ দফতর (DoT) টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে এই নির্দেশ দিয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় ফোন আসার সঙ্গে সঙ্গেই স্ক্রিনে কলারের মোবাইল নম্বরের পাশাপাশি তাঁর নামও দেখা যাবে। এই পরিষেবার নাম কলিং নেম প্রেজেন্টেশন (CNAP)। এর মাধ্যমে টেলিকম সংস্থার গ্রাহক-তথ্যভাণ্ডারে নথিভুক্ত নাম ব্যবহার করে কলারের পরিচয় সামনে আনা হবে। মূলত অজানা নম্বর থেকে আসা ফোন শনাক্ত করা এবং প্রতারণামূলক কল মোকাবিলায় এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    কীভাবে কাজ করবে নতুন ব্যবস্থা?

    টেলিযোগাযোগ দফতর-এর নির্দেশ অনুযায়ী, ফোন এলে মোবাইলের স্ক্রিনে প্রথমে দেখা যাবে কলারের নম্বর। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে প্রদর্শিত হবে কলারের নাম। নম্বরটি ফোনের কনট্যাক্টে সেভ করা থাকলে সেখানে থাকা নাম দেখা যাবে। আর নম্বরটি সেভ করা না থাকলে, দেশীয় কলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট টেলিকম সংস্থার গ্রাহক-তথ্যভাণ্ডারে নথিভুক্ত নাম দেখানো হবে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক কলের ক্ষেত্রে স্ক্রিনে ‘ইন্টারন্যাশনাল কল’ লেখা দেখা যাবে।

    কোন কোন নেটওয়ার্কে চালু হবে?

    প্রাথমিকভাবে ৪জি এবং ৫জি-সহ উন্নত প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্কে সিএনএপি পরিষেবা ডিফল্টভাবে চালু করা হবে। অর্থাৎ, গ্রাহকদের আলাদা করে এই পরিষেবা সক্রিয় করার আবেদন করতে হবে না। তবে ২জি, ৩জি এবং ল্যান্ডলাইন নেটওয়ার্কে এই ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি পরবর্তী পর্যায়ে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে। তবে কলারের নাম দেখা গেলেই যে ফোনটি সম্পূর্ণ নিরাপদ, তা নয়। প্রতারণার ঝুঁকি এড়াতে ব্যক্তিগত তথ্য, ওটিপি বা ব্যাঙ্কের গোপন তথ্য কাউকে জানানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

    ব্যবসায়িক নম্বরের ক্ষেত্রে কী হবে?

    ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং বাল্ক সংযোগের ক্ষেত্রে টেলিকম সংস্থাগুলি গ্রাহকদের পছন্দের নাম দেখানোর সুযোগ দিতে পারে। তবে সেই নাম অবশ্যই নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নথিভুক্ত হতে হবে। যেমন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রি থেকে নথিভুক্ত ট্রেডমার্ক অথবা জিএসটি পোর্টালে নথিভুক্ত ব্যবসায়িক নাম ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে নাম ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করবে টেলিকম সংস্থাগুলি। ইতিমধ্যে যাঁরা সংযোগ নিয়েছেন, তাঁদের পছন্দের নাম যুক্ত করতে আবেদন করতে হবে।

    গোপনীয়তা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা

    কলারের নাম প্রদর্শনের পাশাপাশি গ্রাহকদের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে নির্দেশিকায়। টেলিকম সংস্থাগুলিকে নিরাপত্তা-নির্ভর প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কল শেষ হওয়ার পর নাম যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত প্রশ্ন-উত্তর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কলারের নাম সংরক্ষণ করা যাবে না। এছাড়া, যাঁরা কলিং লাইফ আইডেন্টিফিকেশন রেসট্রিকশন (CLIR) পরিষেবা ব্যবহার করেন, তাঁদের নাম প্রদর্শন করা হবে না। গত কয়েক মাসে ৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্কে এই পরিষেবার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছে। টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (TRAI)-এর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির সুপারিশও এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে।

     

     

     

     

     

  • Millben Targets Dipke: ২০২৯-এও জিতবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি! ফের দীপকেকে আক্রমণ মার্কিন গায়িকা মিলবেনের

    Millben Targets Dipke: ২০২৯-এও জিতবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি! ফের দীপকেকে আক্রমণ মার্কিন গায়িকা মিলবেনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের কক্‌রোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে নিশানা করলেন মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেন (Millben Targets Dipke)। বুধবার রাতে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমেরিকার সমর্থনের কোনও প্রয়োজন নেই। তাঁর পাশে রয়েছেন দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ। একই সঙ্গে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও মোদির জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন তিনি।

    দীপকের উদ্দেশে মিলবেন

    প্রধানমন্ত্রী মোদির (Mary Millben about PM Modi) প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনের জন্য পরিচিত মিলবেন দীপকের উদ্দেশে লেখেন, “সত্য সকলকে মুক্তি দেয়। আপনাকেও।” তাঁর অভিযোগ, আমেরিকাভিত্তিক অনুদানদাতারা রাজনৈতিক সাফল্য না এলে দীপকের পাশ থেকে সরে যাবেন। তাঁর বক্তব্য, “আইনহীনতা কখনও জয়ী হয় না।” এর পরেই সিজেপি নেতাকে নিজের রাজনৈতিক কৌশল পরিবর্তনের পরামর্শ দেন মিলবেন। দীপকের মার্কিন শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রতিভাকে ইতিবাচক কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভারতের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা নিতে দীপকের উচিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসা। তাঁর মতে, সঠিক কাজ করার সাহসের প্রমাণ দিতে হলে দীপককে আগামী দিনে নিজের পদক্ষেপের মাধ্যমে তা দেখাতে হবে।

    মোদির পাশে ভারতীয়রা, দাবি মিলবেনের

    ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী মোদির জনসমর্থনের পক্ষে সওয়াল করেছেন মার্কিন গায়িকা। তাঁর দাবি, মোদি আমেরিকার সমর্থনের উপর নির্ভরশীল নন। বরং দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষের সমর্থন পেয়ে আসছেন তিনি। মিলবেনের কথায়, “প্রধানমন্ত্রীর আমেরিকার সমর্থনের প্রয়োজন নেই। তাঁর পাশে রয়েছেন ১৫০ কোটি ভারতীয় নাগরিক।” ২৫ বছরের জনজীবন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১২ বছরের দায়িত্ব এবং পরপর তিনটি লোকসভা নির্বাচনে জয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, ২০২৯ সালেও মোদি জয়ী হবেন।

    কী নিয়ে সংঘাত দীপকে ও মিলবেনের?

    মিলবেন ও দীপকের এই বাক্‌যুদ্ধের সূত্রপাত বিদেশি অনুদান এবং ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। এর আগে মিলবেন অভিযোগ করেছিলেন, আমেরিকাভিত্তিক কিছু অনুদানদাতা ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অস্থির করার উদ্দেশ্যে দীপক ও তাঁর দলকে অর্থ জোগাচ্ছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, বিদেশি অনুদানদাতারা কখনও কখনও আমেরিকায় শিক্ষিত ব্যক্তিদের বেছে নিয়ে তাঁদের উগ্রপন্থী করে তোলেন এবং পরে নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য অর্থ সাহায্য করেন।মমিলবেনের অভিযোগের জবাবে দীপকে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে বিদেশি নাগরিকদের হস্তক্ষেপের অধিকার কে দিয়েছে? তাঁর বক্তব্য, ভারতীয়রা নিজেদের সমস্যার সমাধান নিজেরাই করতে সক্ষম। দীপকে আরও দাবি করেন, বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর পড়াশোনার খরচ মিটেছিল বৃত্তি ও শিক্ষাঋণের মাধ্যমে। বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন।

    মোদিকে সম্মান মেরি মিলবেনের

    মেরি মিলবেন একজন আফ্রিকান-আমেরিকান অভিনেত্রী ও গায়িকা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি তাঁর সমর্থন বহুবার প্রকাশ্যে এসেছে। ২০২৩ সালে মোদির রাষ্ট্রীয় আমেরিকা সফরের সময় তিনি ভারতের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেছিলেন। সম্প্রতি মোদির ২৫ বছরের জনজীবনের প্রশংসা করে তাঁকে ‘ভারতীয় স্বপ্নের উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

     

  • US Teen’s Plot To Kill Indians: রাইফেলে যান্ত্রিক ত্রুটি, তাই রক্ষা! শিকাগোর হিন্দু মন্দিরে ভারতীয়দের হত্যার ছক ১৯ বছরের যুবকের

    US Teen’s Plot To Kill Indians: রাইফেলে যান্ত্রিক ত্রুটি, তাই রক্ষা! শিকাগোর হিন্দু মন্দিরে ভারতীয়দের হত্যার ছক ১৯ বছরের যুবকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় একটি হিন্দু মন্দিরে বিপুল সংখ্যক ভারতীয়কে হত্যার (US Teen’s Plot To Kill Indians) পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ১৯ বছরের এক যুবককে। অভিযুক্তের নাম আলেকজান্দ্রোস পাপোরাকিস। পেশায় তিনি একটি টাকো বেল (Taco Bell) রেস্তরাঁর ক্যাশিয়ার। গত ১১ অক্টোবর শিকাগোর শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর স্বামী বালাজি মন্দিরে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে তিনি গিয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। কিন্তু তাঁর রাইফেলে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এর মধ্যেই তাঁর এক সহকর্মী সময়মতো পুলিশকে খবর দেওয়ায় সম্ভাব্য বড়সড় হত্যাকাণ্ড এড়ানো সম্ভব হয়। অভিযুক্তের লক্ষ্য ছিল মন্দিরে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক ভারতীয়কে হত্যা করা। রবিবার মন্দিরটিতে সাধারণত তিন হাজারেরও বেশি ভক্তের সমাগম হয়। তার উপর নবরাত্রি উপলক্ষে ভক্তদের ভিড় আরও বাড়ার সম্ভাবনা ছিল। সেই পরিস্থিতিতে হামলার পরিকল্পনা আরও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারত বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

    সহকর্মীদের কাছে প্রকাশ্যে ভারতীয়দের হত্যার হুমকি

    আদালতে জমা দেওয়া নথি এবং সহকর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, পাপোরাকিস কর্মস্থলে নিজেকে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী (White Supremacist) বলে পরিচয় দিতেন। তিনি সহকর্মীদের কাছে ভারতীয়দের হত্যা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলেও অভিযোগ। এমনকী, ১১ অক্টোবরের রবিবারকে তিনি ‘বিশেষ দিন’ বলে উল্লেখ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবীরা। তবে তাঁর বয়স কম হওয়ায় সহকর্মীরা প্রথমে এই হুমকিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেননি বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু ১১ অক্টোবর সংশোধিত এআর-ধাঁচের রাইফেল নিয়ে তিনি মন্দিরের উদ্দেশে রওনা হন বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, মন্দিরে পৌঁছে তিনি গুলি চালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু রাইফেলটি জ্যাম হয়ে যাওয়ায় গুলি বেরোয়নি। এরপর তিনি মায়ের বাড়িতে ফিরে যান এবং কীভাবে রাইফেলের ত্রুটি সারানো যায়, তা জানতে ইন্টারনেটে খোঁজাখুঁজি করেন। এরই মধ্যে এক সহকর্মীকে ফোন করে গণহত্যার পরিকল্পনার কথা জানায় আলেকজান্দ্রোস। সেই সহকর্মী পুলিশকে বিষয়টি জানালে তদন্ত শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত মন্দিরে ফিরে যাওয়ার আগেই পাপোরাকিসকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    বাড়ি থেকে উদ্ধার ৩০০ রাউন্ড গুলি, নাৎসি প্রতীক

    অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তদন্তকারীরা বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর সামগ্রী উদ্ধার করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৩০০ রাউন্ড গুলি, বডি আর্মার, একটি গ্যাসের ক্যানিস্টার এবং নাৎসি প্রতীক ও স্বস্তিকা-চিহ্নযুক্ত একাধিক সামগ্রী। গ্যাসের ক্যানিস্টারে দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে অবমাননাকর শব্দও লেখা ছিল বলে জানা গিয়েছে। এ ছাড়াও উদ্ধার হয়েছে একটি ইস্তাহার বা ম্যানিফেস্টো। সেখানে অভিযুক্ত নিজেকে ‘অরোরা শুটার’ বলে উল্লেখ করেছেন। লেখায় ভারতীয়, ইহুদি, আফ্রিকান-আমেরিকান-সহ বিভিন্ন অশ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর প্রতি তাঁর বিদ্বেষের প্রতিফলন রয়েছে। নিজেকে ‘শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী নব্য-নাৎসি’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিদিন গণহত্যার কল্পনা করার কথাও ওই লেখায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

    এই ঘটনা আমেরিকায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক এবং হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষত, ধর্মীয় উৎসবের সময় মন্দিরে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তদন্তকারীদের কাছে এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অভিযুক্তের সঙ্গে কোনও বৃহত্তর উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল কি না এবং হামলার পরিকল্পনায় অন্য কেউ যুক্ত ছিল কি না। এই ঘটনা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বর্ণবিদ্বেষী ও নব্য-নাৎসি মতাদর্শের বিস্তার নিয়ে তুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

  • Suvendu on Recruitment: চতুর্থীর সন্ধ্যায় ৪৫ হাজার চাকরির ঘোষণা শুভেন্দুর! বোনাস পাবেন বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকরাও

    Suvendu on Recruitment: চতুর্থীর সন্ধ্যায় ৪৫ হাজার চাকরির ঘোষণা শুভেন্দুর! বোনাস পাবেন বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকরাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেবীপক্ষের শুরুতেই সুখবর। বুধবার, চতুর্থীর সন্ধ্যায় ৪৫ হাজার নিয়োগের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu on Recruitment)। একই সঙ্গে পুজোর জন্য বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকদের ৫ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণাও করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, ‘এটাই তো আসল পরিবর্তন। রাজ্যএ ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল। ’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বুধবার তাঁকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সর্বসম্মত প্রস্তাব পাশ করল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মন্ত্রিসভা। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এ কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মন্ত্রিসভার বিশেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক অবদানের প্রশংসা করার পাশাপাশি রাজ্যে বিপুল কর্মসংস্থান এবং চা-শ্রমিকদের জন্য বিশেষ বোনাস ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।

    প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ধন্যবাদ

    শুভেন্দু জানান, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ও দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘ ২৫ বছরের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাবটি অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হবে। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল ইংরাজি এবং বাংলায় এই প্রস্তাব প্রধামন্ত্রীর দফতরে পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বাংলাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দেওয়া থেকে শুরু করে শান্তিনিকেতনকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দেওয়ার কাজ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।’’ স্বামী বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম, ইসকন থেকে শুরু করে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধার কথাও এদিন স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের সব স্কুল ও মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং তা চালুও হয়ে গিয়েছে। ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ বড় ভূমিকা নেবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    রাজ্যে কোথায় কত নিয়োগ

    কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এদিন বড়সড় ঘোষণা করেছে রাজ্য মন্ত্রিসভা (Bengal Cabinet)। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মোট ৪৫ হাজার ১৮৫টি নতুন শূন্যপদে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল শিক্ষা দফতরেই নিয়োগ হবেন ৩৩ হাজার ১৯৯ জন। প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, সহকারী শিক্ষক থেকে শুরু করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শুভেন্দুর ঘোষণা অনুযায়ী, স্কুলেই সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হচ্ছে। ৩৩,১৯১ জনের মধ্যে অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার (প্রাইমারি) ৪৪৩২ জন, আপার প্রাইমারিতে ৬০৫২ জন, অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার ১২,৩৪৩ জন, ফার্স্ট গ্রেড টিচার ১০৩২ জন, অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার (পিজি) ২৩ জন, এবং ৪,৩৯৪ জন হেডমাস্টার নিয়োগ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরে ৭ হাজার ১১৯ জন, পুলিশে ৯৯৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন দফতরে ১ হাজার ৮৮৬ জন কর্মী নিয়োগ করা হবে। অর্থ দফতর এই পদগুলিতে ছাড়পত্র দিয়েছে এবং নিয়ম মেনে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    কবে শুরু হবে নিয়োগ-প্রক্রিয়া

    নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার কথা বলা হলেও, কোন পদে কবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে, আবেদন করার যোগ্যতা কী হবে এবং পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি কী—সেই বিষয়ে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা করতে হবে। চাকরিপ্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট দফতরের সরকারি বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মহালয়াতেই রাজ্যের ১১ হাজার পুলিশ কনস্টেবলের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, নভেম্বরের শেষে আরও ৯ হাজার চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এরই মধ্যে ৪৫ হাজার চাকরি নিয়ে বড় সুখবর দিয়েছেন তিনি।

    চা-শ্রমিকদের জন্য বোনাসের ঘোষণা

    উত্তরবঙ্গের বন্ধ চা-বাগানগুলির শ্রমিকদের মুখে হাসি ফোটাতে বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে রাজ্য। ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বন্ধ থাকা ২১ টি চা-বাগানের ১৯ হাজার ৫২৪ জন শ্রমিককে ৫ হাজার টাকা করে পুজো বোনাস দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন হল শ্রমিকরা কাজ হারিয়েছেন। বেতন বা বোনাস পাওয়ার প্রশ্নই নেই। আর তাই বন্ধ চা শ্রমিকদের জন্য মানবিক সরকারের ছোট্ট প্রয়াস।’’ যাঁদের বয়স ৬০ ছরের নীচে, মূলত তাঁরাই শ্রম দফতরের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা পাবেন। পাশাপাশি, উৎসবের মরশুমে দুর্গাপুজো থেকে ছটপুজো পর্যন্ত সাধারণ রেশনের ৩৫ কেজি চালের সঙ্গে এই পরিবারগুলিকে অতিরিক্ত 50 কেজি করে চাল দেওয়া হবে। চা-শ্রমিকদের পরিকাঠামো উন্নয়নে ৩১২ কোটি টাকার একটি প্রকল্পেও ছাড়পত্র মিলেছে বলে নবান্ন জানিয়েছে।

    পুজো থেকে ফুটবল

    রাজ্যের দুর্গাপুজো নিয়ে পরিসংখ্যান দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত বছর রাজ্যে ৪৫ হাজার পুজো হলেও এ বছর তা বেড়ে ৫৮ হাজার হয়েছে। একেবারে শেষ মুহূর্তে আরও ৮০০টি ক্লাবকে পুজোর অনুমতি ও অনুদান দেওয়া হয়েছে। হিন্দু সমাজকে ‘অপমান’ করার অভিযোগে কড়া আইনি ব্যবস্থার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি ওসব ভয়টয় করার লোক নই। সিপিএমের সূর্য যখন মধ্যগগনে তখন আমি লক্ষণ শেঠকে হারিয়েছি। আমি দু’বার মমতা ব্যানার্জিকে হারিয়েছি ওর বাড়িতে এসে।” এর পাশাপাশি পুজোয় অগ্নিবিধি মেনে চলতে এবং মণ্ডপগুলিকে বিপদমুক্ত রাখতে দমকলের একটি সচেতনতামূলক প্রচার ভিডিও-ও এদিন প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য বড় বড় ফুটবল ম্যাচ সুষ্ঠভাবে আয়োজনের প্রসঙ্গ উঠলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতা ফুটবল ভালবাসে। এ বিষয়ে ক্রীড়ামন্ত্রীকে সবরকম স্বাধীনতা দেন তিনি।

     

     

     

  • Pandal Hopping Health Risks: সারারাত ঠাকুর দেখার প্ল্যান? এই নিয়মগুলি না মানলেই বাড়তে পারে বিপদ!

    Pandal Hopping Health Risks: সারারাত ঠাকুর দেখার প্ল্যান? এই নিয়মগুলি না মানলেই বাড়তে পারে বিপদ!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শহর থেকে জেলা, সেজে উঠেছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের মেজাজে! রাস্তা জুড়ে মানুষের ঢল! দুর্গাপুজোর আনন্দে মেতেছে আট থেকে আশি, সব বয়সের মানুষ!
    দুর্গাপুজোয় রাত জেগে মণ্ডপে মণ্ডপে ঠাকুর দেখা বাঙালির বহু দিনের অভ্যাস। কিন্তু একটানা দীর্ঘক্ষণ জেগে থাকা, ভিড়ের মধ্যে হাঁটাহাঁটি, অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া, কম জল খাওয়া এবং ক্লান্ত শরীর নিয়ে ফেরার পথে যাতায়াত—সব মিলিয়ে শরীরের উপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। বিশেষত শিশু, প্রবীণ এবং আগে থেকে অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। তাই রাত জেগে প্রতিমা দর্শন করলে কয়েকটি দিকে, বাড়তি নজর না রাখলেই বিপদ বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    রাত জেগে ঠাকুর দেখার কী বিপদ আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা?

    ঘুমের ঘাটতি ও মানসিক ক্লান্তি!

    রাত জেগে ঠাকুর দেখা মানেই পর্যাপ্ত ঘুমের ব্যাঘাত! এর জেরেই একাধিক সমস্যা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ঘুম কম হলে পরের দিন ঝিমুনি, মাথাব্যথা, মনোযোগের অভাব, খিটখিটে মেজাজ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে অস্থিরতা, বিরক্তি এবং মনোযোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    জলশূন্যতা ও দুর্বলতা

    প্রতিমা দর্শন মানেই ভিড়ে হাঁটতে হয়! ভিড় ঠেলে এক প্যান্ডেল থেকে আরেক প্যান্ডেল যাওয়া। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘক্ষণ হাঁটা, ঘাম হওয়া, গরমে ভিড়ের মধ্যে থাকা এবং পর্যাপ্ত জল না খাওয়ার ফলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা ও প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।

    শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ ও অ্যালার্জি

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, দূষণ এবং নানান পরিবেশগত সমস্যার কারণে শিশু থেকে বয়স্ক কম বেশি সকলেই ফুসফুসের নানান সমস্যায় ভোগেন। উৎসবের মরশুমে ভিড় এলাকায় ভাইরাসজনিত সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে। তাই একনাগাড়ে ধুলো, ধোঁয়া ও দূষণ থেকে হাঁপানি বা অ্যালার্জির উপসর্গও বেড়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা।

    পায়ে ব্যথা ও পেশির ক্লান্তি

    ভিড় ঠেলে ঠাকুর দেখা বাঙালির দুর্গা পুজোর চির পরিচিত ছবি। কিন্তু অনেক সময়েই অতিরিক্ত ভিড়ের জন্য প্রতিমা দর্শনের জন্য কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটা বা দাঁড়িয়ে থাকার ফলে পায়ের পেশিতে ব্যথা, কোমরে অস্বস্তি, পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া এবং আগে থেকে থাকা হাঁটু বা কোমরের সমস্যার বেড়ে যেতে পারে।

    হজমের গোলমাল ও রক্তে শর্করার ওঠানামা

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষত হজমের গোলমাল দেখা দেয়। তার উপরে উৎসবের দিনে অনেক সময়েই খাবারের অনিয়মিত দেখা দেয়। ঠিকমতো খাবার না খাওয়া, আবার অনিয়মিত খাবার, অতিরিক্ত ভাজাভুজি, মশলাদার খাবার এবং রাতের দেরিতে ভারী খাবার খাওয়া বিপদ বাড়ায়। এতে অম্বল, গ্যাস ও পেটের অস্বস্তি হতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে খাবার ও ওষুধের সময়ের পরিবর্তনে রক্তে শর্করার মাত্রাও ওঠানামা করতে পারে।

    হৃদরোগীদের জন্য বাড়তি সতর্কতা

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ঘুমের ঘাটতি, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ ও জলের ঘাটতি, একসঙ্গে হলে শরীরের উপর চাপ বাড়তে পারে। তবে রাত জাগলেই হার্টের বড় সমস্যা হবে, এমন নয়। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ঘাম হলে সেটিকে ক্লান্তি ভেবে উপেক্ষা করা উচিত নয়।

    বিপদ এড়াতে কী কী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন?

    চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সাধারণ স্বাস্থ্য-পরামর্শের ভিত্তিতে পুজোর রাতে কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা জরুরি। ঘুমের ঘাটতি এড়ানো, পর্যাপ্ত জল পান এবং ভিড়ের মধ্যে বিরতি নেওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    ঘুমের সময়ের সঙ্গে আপস নয়!

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রাত জেগে ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা এমনভাবে করতে হবে, যাতে পর্যাপ্ত ঘুম হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত অন্তত ৭ ঘণ্টা এবং ৬–১২ বছরের শিশুদের ৯–১২ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। পরপর কয়েক রাত ঘুম কমিয়ে ঠাকুর দেখতে বেরোনো এড়িয়ে চলুন। বরং একটা রাত ঠিকমতো ঘুম না হলে, পরের দিন অন্তত যাতে পর্যাপ্ত ঘুম হয় সেদিকে নজর দিতে হবে।

    পর্যাপ্ত জল পান করুন

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিমা দর্শনে বেরনোর সময় সঙ্গে জলের বোতল রাখতে হবে। তেষ্টা পাওয়ার অপেক্ষা না করে নিয়মিত জল পান করতে হবে। অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীরের অবস্থা অনুযায়ী তরল গ্রহণ করুন। অপ্রয়োজনীয়ভাবে এনার্জি ড্রিঙ্ক বা অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় খাবেন না।

    খাবারের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ঠিকমতো খাবার খেলে তবেই শরীরের একাধিক সমস্যা এড়ানো সহজ হয়। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, ঠাকুর দেখতে বেরোনোর আগে হালকা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া দরকার। দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকা চলবে না । রাস্তার খাবার খেলে পরিষ্কারভাবে তৈরি, ভালোভাবে রান্না করা খাবার বেছে নিতে হবে এবং নিরাপদ পানীয় জল ব্যবহার করতে হবে।

    শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে কী বিশেষ সতর্কতা জরুরি?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রাত জাগার পরিবর্তে সন্ধ্যার দিকে ঠাকুর দেখানোর পরিকল্পনা ভালো। শিশুর ঘুম, খাবার ও জল খাওয়ার দিকে নজর রাখতে হবে। ভিড়ে মাস্ক ব্যবহার এবং ক্লান্ত হলে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। প্রবীণদের ক্ষেত্রেও বাড়তি নজরদারি জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির সমস্যা থাকলে দীর্ঘক্ষণ হাঁটা ও ভিড়ের মধ্যে থাকার পরিকল্পনা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে। চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া ওষুধের সময় বা মাত্রা পরিবর্তন করা উচিত নয়। এতে বিপদ বাড়তে পারে।

  • Durga Puja 2026: মোট ৫৭,৫০০টি দুর্গাপুজোর অনুমোদন, প্রতিটি কমিটিকে ১ লক্ষ টাকা অনুদানের ঘোষণা! বিরাট উদ্যোগ শুভেন্দু-সরকারের

    Durga Puja 2026: মোট ৫৭,৫০০টি দুর্গাপুজোর অনুমোদন, প্রতিটি কমিটিকে ১ লক্ষ টাকা অনুদানের ঘোষণা! বিরাট উদ্যোগ শুভেন্দু-সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে দুর্গাপুজোর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পুজো (Durga Puja 2026) কমিটিগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোয় প্রায় ১২,৪০০টি অতিরিক্ত পুজোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এর ফলে রাজ্যে মোট দুর্গাপুজোর সংখ্যা বেড়ে হল প্রায় ৫৭,৫০০। পাশাপাশি প্রতিটি পুজো কমিটিকে ১ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। পুজোর অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের যাতে অযথা প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে পুজোর অনুমতি ও প্রশাসনিক বিধিনিষেধ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে বর্তমান পদক্ষেপের তুলনা টেনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়।

    ২০২৫ সালের তুলনায় বেড়েছে পুজোর সংখ্যা

    সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাজ্যে প্রায় ৪৫,০০০টি কমিউনিটি দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হয়েছিল। চলতি বছরে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫৭,৫০০ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নতুন করে অনুমোদন পাওয়া পুজো কমিটিগুলিও উৎসব আয়োজনের অনুমতি পেয়েছে। কলকাতায় অতিরিক্ত পুজোর সংখ্যা প্রায় ৪০০ বলে জানানো হয়েছে। নতুন পুজোর অনুমোদন এবং আর্থিক সহায়তার ফলে বিভিন্ন এলাকার পুজো উদ্যোক্তারা উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের বছরের তুলনায় এ বছর ১২,৪০০টি পুজো বেড়েছে। পুজোর অনুমতি পেতে উদ্যোক্তাদের যাতে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ঘুরতে না হয়, সেই ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলেও তাঁর বক্তব্য।

    পুজো কমিটিকে ১ লক্ষ টাকা করে অনুদান

    দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিতে আর্থিক সহায়তা দিতে প্রতিটি পুজো কমিটিকে ১ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। ১১ অক্টোবর থেকে অনুদান বণ্টন শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ২০০টিরও বেশি পুজো কমিটি এই অনুদান নিতে অস্বীকার করেছে। তাদের একাংশের অনুরোধ, শহরের বড় পুজোর পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের পুজো কমিটি এবং মহিলাদের পরিচালিত পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হোক। প্যান্ডেল নির্মাণ, আলোকসজ্জা, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং অন্যান্য আয়োজনের খরচ সামলাতে এই অনুদান পুজো উদ্যোক্তাদের কাজে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    দেবীপক্ষে উৎসবে ভেসেছে রাজ্য

    দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য ও ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পিতৃপক্ষ চলাকালীন পুজোর উদ্বোধন না করে দেবীপক্ষের সূচনার সঙ্গে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তা মেনে নিয়েছে পুজো উদ্যোক্তাগুলি। প্রচলিত হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, পিতৃপক্ষ পূর্বপুরুষদের স্মরণের সময়। মহালয়ার মধ্য দিয়ে পিতৃপক্ষের অবসান ঘটে এবং দেবীপক্ষের সূচনা হয়। দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছে রাজ্য সরকার। সেই মতোই দেবীপক্ষের শুরু থেকেই উৎসবে ভেসেছে রাজ্যবাসী।

    জেলায় ভার্চুয়ালি নয়, সরাসরি পুজো উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী

    এবার দুর্গোৎসবে শুধু কলকাতা নয়, জেলার পুজোতেও বিশেষ গুরুত্ব মুখ্যমন্ত্রীর। ভার্চুয়ালি নয়, সরাসরি পুজোমণ্ডপে উপস্থিত হয়ে উদ্বোধনের কর্মসূচি নিয়েছেন তিনি। তৃতীয়ার দিন নদিয়ার রানাঘাট থেকে জেলা সফরে পুজো উদ্বোধন কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক পুজোর উদ্বোধন করেছিলেন তিনি। পঞ্চমীতে দ্বিতীয় দফায় জেলা সফরে বেরিয়ে মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব মেদিনীপুরের পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেবেন মুখ্যমন্ত্রী। সপ্তমীতেও জেলা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে পরপর কয়েক দিন জেলা সফরের কর্মসূচি সাজানো হয়েছে। প্রশাসনিক কাজকর্মের পাশাপাশি উৎসবের দিনগুলিতে জেলার মানুষের সঙ্গে সরাসরি জনসংযোগেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া, নন্দীগ্রাম-সহ একাধিক এলাকায় পাঁচটি দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর।দুর্গাপুজোর আবহকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে ষষ্ঠীর আগের চার দিন দুর্গাপুর, বিষ্ণুপুর, শিলিগুড়ি, কোচবিহার, মালদহ, বহরমপুর এবং দীঘায় বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে। কলকাতায় বড় পুজোর পাশাপাশি জেলা ও মফস্বলের উৎসবেও যাতে সমানভাবে সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি হয়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানানো হয়েছে।

    বিদ্যুতের চাহিদা ও নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি প্রস্তুতি

    বিপুল সংখ্যক পুজো এবং আলোকসজ্জার কারণে রাজ্যে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যুৎ দফতরের অনুমান অনুযায়ী, উৎসবের দিনে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৪,০০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। যাদবপুর পুলিশ ডিভিশনের অধীনে প্রায় ৬৮৫টি দুর্গাপুজো পরিচালনার দায়িত্ব রয়েছে।

    প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

    রাজ্যে পুজোর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং ভিড় সামলানো প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। পুজোর অনুমোদন দ্রুত দেওয়া এবং আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি উৎসবের দিনগুলিতে নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা কতটা সম্ভব হয়, সেদিকেও নজর থাকবে। পুজো উদ্যোক্তাদের কাছে এখন বড় প্রশ্ন, প্রশাসনিক সহযোগিতার পাশাপাশি বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা ও যান চলাচলের ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।

  • India At UN: সন্ত্রাসবাদকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি ভারতের, রাষ্ট্রপুঞ্জে জোরালো সওয়াল

    India At UN: সন্ত্রাসবাদকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি ভারতের, রাষ্ট্রপুঞ্জে জোরালো সওয়াল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক লড়াইকে আরও শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রপুঞ্জের (UN) মঞ্চে সন্ত্রাসবাদকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানাল ভারত (India At UN)। গত ১২ অক্টোবর রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ষষ্ঠ কমিটির বৈঠকে এই অবস্থান স্পষ্ট করে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ, তদন্ত এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে প্রতিটি রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্বের উপর জোর দিয়েছে ভারত। মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ ও শাস্তি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রস্তাবিত কাঠামো নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে ভারত জানিয়েছে, যে সমস্ত সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড (India on Terrorism) মানবতাবিরোধী অপরাধের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে, সেগুলিকে যথাযথভাবে এই অপরাধের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী মিশনের তরফে সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় আইন ও বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ, তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি করার প্রাথমিক দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রেরই। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের ভৌগোলিক অধিক্ষেত্র ও জাতীয় বিচারব্যবস্থার অগ্রাধিকার বজায় রাখার পাশাপাশি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিকেও সম্মান জানাতে হবে।

    নতুন আন্তর্জাতিক চুক্তি নিয়ে ভারতের অবস্থান

    মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ ও শাস্তি নিশ্চিত করতে নতুন কোনও আন্তর্জাতিক চুক্তি তৈরি হলে তা যেন ইতিমধ্যে কার্যকর থাকা আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থার পরিপূরক হয়, সেই দাবি জানিয়েছে ভারত। বিদ্যমান আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর বিধানগুলিকে হুবহু নতুন চুক্তিতে স্থানান্তরের বিরোধিতাও করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের মতে, এই ধরনের আন্তর্জাতিক কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের সর্বজনস্বীকৃত নীতি, দেশগুলির জাতীয় স্তরে আইন প্রয়োগ ও বিচার পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানবতাবিরোধী অপরাধের মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি দেশের আইনগত অধিকার ও সার্বভৌমত্বের ভারসাম্য বজায় রাখার উপরও জোর দিয়েছে ভারত।

    সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় নিরাপত্তা পরিকাঠামো জোরদার

    রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সন্ত্রাসে অর্থায়নের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্যস্তরের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দিয়েছে ভারত। পাশাপাশি, গোয়েন্দা তথ্যের আদানপ্রদান, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর আধুনিকীকরণ এবং সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমেও দেশের নিরাপত্তা পরিকাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভূত নতুন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিও ভারতের নিরাপত্তা কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাষ্ট্রপুঞ্জের ষষ্ঠ কমিটিতে ভারতের বক্তব্যের মূল সুর, সন্ত্রাসবাদ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে। তবে নতুন কোনও আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা গড়ে তোলার সময় বিদ্যমান চুক্তির সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি এড়িয়ে জাতীয় বিচারব্যবস্থা, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্বীকৃত নীতিগুলিকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।

  • UPI Transaction: ২,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে এমডিআর চালুর সিদ্ধান্ত স্থগিত, দীপাবলির পর কার্যকর হতে পারে নতুন নিয়ম

    UPI Transaction: ২,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে এমডিআর চালুর সিদ্ধান্ত স্থগিত, দীপাবলির পর কার্যকর হতে পারে নতুন নিয়ম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীপাবলির আগে ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিয়ে ২,০০০ টাকার বেশি মূল্যের নির্দিষ্ট ইউপিআই (UPI Transaction) মার্চেন্ট লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) চালুর প্রস্তাবিত সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখল ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI)-এর ইউপিআই অ্যান্ড সার্ভিসেস স্টিয়ারিং কমিটি। নতুন নিয়ম কার্যকর করার সম্ভাব্য সময় দীপাবলির পর, অর্থাৎ ৮ নভেম্বর, ২০২৬-এর পরে। তবে কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর এই সংক্রান্ত কাঠামো বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ১৫ অক্টোবর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উৎসবের মরশুমে ব্যবসায়ীদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ এড়াতে তা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে মনে করা হচ্ছে। দীপাবলি ও বিয়ের মরশুমে খুচরো বাজারে কেনাকাটা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এই সময় ছোট দোকানদার থেকে শুরু করে বড় ব্যবসায়ীরা বিক্রি বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্য মজুত, কর্মী নিয়োগ এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় সামলাতে ব্যস্ত থাকেন। এই পরিস্থিতিতে নতুন লেনদেন-সংক্রান্ত খরচ চালু হলে ব্যবসায়ীদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারত। সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যাওয়ায় আপাতত সেই আশঙ্কা কিছুটা কমল।

    ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির দাবি মেনে সিদ্ধান্ত?

    প্রস্তাবিত MDR কাঠামো নিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির তরফে আপত্তি জানানো হয়েছিল। কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (CAIT) উৎসবের মরশুমের পরে নতুন নিয়ম চালুর পক্ষে সওয়াল করে। সংগঠনটির মতে, উৎসবের ঠিক আগে মার্চেন্টদের উপর নতুন চার্জ কার্যকর হলে ব্যবসায়িক খরচ ও লেনদেনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। নিয়ম কার্যকরের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ায় ব্যবসায়ী, খুচরো বিক্রেতা এবং পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারীরা নতুন কাঠামো সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এই সিদ্ধান্তকে এমডিআর চালুর প্রস্তাব বাতিল হিসেবে দেখার কোনও কারণ নেই। আপাতত শুধু কার্যকর করার সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    সাধারণ গ্রাহকদের ইউপিআই লেনদেন কি বিনামূল্যেই থাকবে?

    প্রস্তাবিত কাঠামোয় সমস্ত ইউপিআই লেনদেনের উপর চার্জ বসানোর কথা বলা হয়নি। বরং নির্দিষ্ট কিছু উচ্চমূল্যের মার্চেন্ট লেনদেনের ক্ষেত্রেই এমডিআর প্রযোজ্য হওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

    প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী—

    • ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে (P2P) লেনদেন: বিনামূল্যেই থাকবে।
    • ২,০০০ টাকা পর্যন্ত মার্চেন্ট লেনদেন: এমডিআর থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
    • যোগ্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী: ইউপিআই কিউআর কোডের মাধ্যমে মাসে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পি২পিএম শ্রেণির ব্যবসায়ীরা অব্যাহতির আওতায় থাকবেন।
    • ২,০০০ টাকার বেশি নির্দিষ্ট মার্চেন্ট লেনদেন: প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী এমডিআর প্রযোজ্য হতে পারে।

    প্রস্তাবিত কাঠামোয় উল্লেখিত হিসাব অনুযায়ী, লেনদেনের সংখ্যার নিরিখে ব্যক্তি থেকে ব্যবসায়ীর কাছে হওয়া প্রায় ৯৫–৯৬ শতাংশ ইউপিআই লেনদেনই এই চার্জের আওতার বাইরে থাকবে। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ছোটখাটো কেনাকাটা, দোকানে কিউআর কোড স্ক্যান করে টাকা দেওয়া কিংবা পরিচিতদের কাছে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে আপাতত বিনামূল্যে লেনদেনের ব্যবস্থাই বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রস্তাবিত নিয়মে মার্চেন্টদের গ্রাহকদের কাছ থেকে এমডিআর আদায় করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, এই চার্জ কার্যকর হলেও তা ব্যবসায়ীদের উপর প্রযোজ্য হওয়ার কথা; গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কথা নয়।

    প্রস্তাবিত এমডিআর-এর হার কত?

    প্রস্তাবিত কাঠামোয় নির্দিষ্ট উচ্চমূল্যের মার্চেন্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে ০.৪ শতাংশ MDR ধার্য করার কথা বলা হয়েছে। ৭৫,০০০ টাকা বা তার বেশি মূল্যের লেনদেনে এই চার্জের সর্বোচ্চ সীমা ৩০০ টাকা রাখার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়াও কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের জন্য পৃথক হার বা ছাড়ের ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে। যেমন—

    • রেল, টেলিকম, বিমা, জ্বালানি, ইউটিলিটি এবং কৃষি উপকরণ: নির্দিষ্ট লেনদেনে ৫ টাকার ফ্ল্যাট চার্জের প্রস্তাব।
    • পুঁজিবাজার সংক্রান্ত লেনদেন: ০.০২ শতাংশ হারে ছাড়যুক্ত MDR, যার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমা প্রযোজ্য।

    অর্থাৎ, সব ধরনের ব্যবসার জন্য একই হারে চার্জ বসানোর প্রস্তাব নেই। লেনদেনের ধরন, ব্যবসার ক্ষেত্র এবং প্রযোজ্য ছাড়ের ভিত্তিতে চার্জের কাঠামো আলাদা হতে পারে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ছাড়ের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পাড়ার দোকান, রাস্তার ধারের বিক্রেতা এবং ছোট খুচরো ব্যবসায়ীদের কাছে ইউপিআই কিউআর কোড এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থপ্রদানের মাধ্যম। অতিরিক্ত খরচের চাপ থেকে এই ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা দেওয়াই প্রস্তাবিত ছাড়ের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    ইউপিআই ব্যবস্থার আর্থিক স্থায়িত্ব কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় ইউপিআই বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মোবাইল ফোন ও কিউআর কোডের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা পাঠানোর সুবিধা শহর থেকে ছোট শহর এবং গ্রামীণ এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশে সক্রিয় ইউপিআই ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৫ কোটির বেশি। মাসিক লেনদেনের মোট মূল্য প্রায় ৩০ লক্ষ কোটি টাকা এবং এর মধ্যে মার্চেন্ট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৯ লক্ষ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিপুল লেনদেনের পরিকাঠামো পরিচালনা করতে ব্যাঙ্ক, পেমেন্ট অ্যাগ্রিগেটর এবং অন্যান্য পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাকে নিয়মিত বিনিয়োগ করতে হয়। প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো বজায় রাখা, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা, প্রতারণা প্রতিরোধ এবং আরও বেশি ব্যবসায়ীকে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় আনার জন্য খরচ প্রয়োজন। এত দিন ইউপিআই লেনদেনে এমডিআর না থাকায় এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলির জন্য সরাসরি মার্চেন্ট-সাইড রাজস্বের একটি সম্ভাব্য উৎস সীমিত ছিল। প্রস্তাবিত কাঠামোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু লেনদেনে সীমিত চার্জ চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে সাধারণ ব্যবহারকারী এবং যোগ্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ছাড় বজায় রাখার কথাও বলা হয়েছে। মূল চ্যালেঞ্জ হল, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে পরিষেবাটিকে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী রাখা।

    উৎসবের মরশুমে স্বস্তি, ভবিষ্যতে নতুন নিয়ম

    দীপাবলির আগে এমডিআর চালুর সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা বর্তমান নিয়মে আরও কিছুদিন লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে মার্চেন্ট ও পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলি নতুন নিয়ম সম্পর্কে নিজেদের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করার সময় পাবে। তবে নতুন কাঠামো কার্যকর হওয়ার আগে কোন ধরনের লেনদেনে কত চার্জ লাগবে, কোন ব্যবসায়ী ছাড় পাবেন এবং কীভাবে চার্জ গণনা করা হবে—এই বিষয়গুলি স্পষ্ট করা জরুরি।প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে নিয়মটি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা দীপাবলির পর চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। সংশোধিত তারিখ আলাদাভাবে জানানো হবে। সব মিলিয়ে, প্রস্তাবিত MDR কাঠামো বাতিল না করে তার বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে উৎসবের মরশুমে ব্যবসায়ীরা সাময়িক স্বস্তি পেলেন। অন্যদিকে, সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বিনামূল্যে ইউপিআই লেনদেনের সুবিধা বজায় রাখা এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা—এই দুই লক্ষ্যকে একসঙ্গে সামনে রেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা রয়েছে।

  • Suvendu Adhikari: হলদিয়ায় আসছে পেপসি, হরিণঘাটায় হবে ক্যাম্পা কোলা! বাংলায় শিল্পায়নে এক জোড়া বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: হলদিয়ায় আসছে পেপসি, হরিণঘাটায় হবে ক্যাম্পা কোলা! বাংলায় শিল্পায়নে এক জোড়া বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর আবহেই পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্প বিনিয়োগের একাধিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি দেশের বৃহত্তম ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে নদিয়ার হরিণঘাটায় ক্যাম্পা কোলার নতুন কারখানা তৈরির ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। হলদিয়ায় আরও দুটি শিল্পপ্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। রাজ্যে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আমদানি নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে এই উদ্যোগগুলি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

    হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটির ফেনল-অ্যাসিটোন কারখানা

    হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের সম্পূর্ণ অধীনস্থ সংস্থা অ্যাডপার্মা প্রাইভেট লিমিটেড এই ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্রটি তৈরি করেছে। প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে ওঠা এই কারখানা দেশের বৃহত্তম ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্র বলে জানানো হয়েছে।

    শিল্পপ্রকল্পটির উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হলদিয়ায় ইতিমধ্যেই ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ পাইপলাইনে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই কারখানা চালু হওয়ায় রাসায়নিকের জন্য বিদেশ থেকে আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যপূরণেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

    শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে হলদিয়ার শিল্পাঞ্চলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কারখানায় সরাসরি প্রায় ৪০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। পরোক্ষভাবে কাজ পেয়েছেন আরও প্রায় ১,০০০ জন। ফলে স্থানীয় অর্থনীতি এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    হরিণঘাটায় ক্যাম্পা কোলা, ২৮ অক্টোবর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

    রাজ্যে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় ঘোষণা এসেছে ক্যাম্পা কোলাকে ঘিরে। নদিয়ার হরিণঘাটায় এই পানীয় সংস্থার কারখানা তৈরি করতে চলেছে রিলায়েন্স গোষ্ঠী। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৮ অক্টোবর, বুধবার প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।

    রাজ্যে শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে। এর আগে লাক্স কোজি এবং আমূলের মতো সংস্থার কারখানা ঘিরেও রাজ্যে শিল্প সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথা সামনে এসেছে। পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

    বিনিয়োগ টানতে শিল্পপতিদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রাখছে রাজ্য সরকার। মুকেশ আম্বানি ও গৌতম আদানির মতো শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠকের কথাও উঠে এসেছে। নিউটাউনে আদানি গোষ্ঠীর হাসপাতাল প্রকল্পের পাশাপাশি রাজ্যে নতুন শিল্প ও পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    হলদিয়ায় পেপসির প্ল্যান্ট, তৈরি হবে চিকিৎসা সরঞ্জামও

    হলদিয়াকে ঘিরে আরও দুটি শিল্পপ্রকল্পের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রায় ৯৮ একর জমিতে পেপসির উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে উঠবে। অন্যদিকে, প্রায় ৫০ একর জমিতে চিকিৎসা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি তৈরির কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই দ্বিতীয় প্রকল্পের সঙ্গে প্রভিস কোম্পানির নাম উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে হলদিয়ার শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ক্ষেত্রের পরিধি আরও বাড়তে পারে। রাসায়নিক শিল্পের পাশাপাশি পানীয় এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনের মতো পৃথক ক্ষেত্রেও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে স্থানীয় কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সহায়ক শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্রেও নতুন কাজের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

    এ ছাড়া হলদিয়ায় আইডব্লিউএল এবং আইওসিএলের প্ল্যান্টের জন্যও কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এই প্রকল্পগুলির বিনিয়োগের অঙ্ক ও বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি।

    শ্রমিকদের চিকিৎসায় ৫০ শয্যার ট্রমা সেন্টার

    শিল্প বিনিয়োগের পাশাপাশি হলদিয়ার শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা পরিষেবার উন্নয়নেও জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে হলদিয়ায় ৫০ শয্যার একটি ট্রমা সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

    শিল্পাঞ্চলে কাজ করার সময় দুর্ঘটনা ঘটলে শ্রমিকদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়াই এই কেন্দ্র তৈরির অন্যতম উদ্দেশ্য। উন্নত জরুরি চিকিৎসার পরিকাঠামো গড়ে উঠলে দুর্ঘটনাগ্রস্ত শ্রমিকদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ভাতার বদলে দক্ষতা ও স্বনির্ভরতায় জোর

    শিল্পপ্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্থানীয় যুবক-যুবতীদের শিল্পের উপযোগী করে তুলতে প্রশিক্ষণ এবং স্কিল ডেভেলপমেন্টের উপর জোর দেন।

    তাঁর বক্তব্য, আর্থিক সহায়তার উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে স্বনির্ভর হয়ে ওঠা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভাতা নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে আত্মনির্ভর হতে হবে। এটাই আজ আমাদের শপথ হওয়া উচিত।’

    রাজ্যে নতুন শিল্পপ্রকল্প তৈরি হলে সেই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য স্থানীয় যুবক-যুবতীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরি করা গেলে একদিকে যেমন সংস্থাগুলির কর্মী নিয়োগ সহজ হবে, তেমনই স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।

    দীপাবলির আগে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার ইঙ্গিত

    রাজ্যে আরও বিনিয়োগ টানতে নতুন শিল্পনীতি তৈরির কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। দিওয়ালির আগেই সেই নীতি ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে নতুন শিল্পনীতির নির্দিষ্ট রূপরেখা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

    পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক দীর্ঘদিনের। রাজ্যের ক্ষমতার পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে শিল্পের অভাব ও কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগের বিষয়টি উঠে এসেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন বিনিয়োগ, উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন এবং পরিকাঠামো উন্নয়নকে সামনে রেখে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির বার্তা দিচ্ছে রাজ্য সরকার।

    হলদিয়ার ফেনল-অ্যাসিটোন কারখানা, হরিণঘাটায় ক্যাম্পা কোলার প্রকল্প এবং হলদিয়ায় প্রস্তাবিত পেপসি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন কেন্দ্র—সব মিলিয়ে রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই উদ্যোগগুলির দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে প্রকল্পগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, কতটা কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং স্থানীয় যুবক-যুবতীরা সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগাতে পারেন, তার উপর।

  • Shah Attacks Rahul: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে চতুর্থ পরাজয়ের জন্য প্রস্তুত থাকুক কংগ্রেস, রাহুলকে নিশানা শাহের

    Shah Attacks Rahul: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে চতুর্থ পরাজয়ের জন্য প্রস্তুত থাকুক কংগ্রেস, রাহুলকে নিশানা শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরপর নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য কংগ্রেসকে আত্মসমীক্ষার পরামর্শ দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Shah Attacks Rahul)। মঙ্গলবার কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে তিনি বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ খুঁজতে হবে দলের ভিতরেই। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR)-কে দায়ী করে রাজনৈতিক ব্যর্থতা আড়াল করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আরও একটি পরাজয়ের জন্য রাহুল গান্ধীকে প্রস্তুত থাকার কটাক্ষও করেন শাহ। রাহুলকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বললেন, ‘এসআইআর-কে দোষ দিচ্ছেন কেন? আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পরে থেকেই কংগ্রেস হারছে।’ গুজরাটের গান্ধীনগর পুরসভার ৪৪টি আসনের মধ্যে ৩৮টিতেই জিতেছে বিজেপি। ৫টি আসন গিয়েছে কংগ্রেসের ঝুলিতে। একটিতে জয়ী হয়েছেন নির্দল প্রার্থী। তার পরেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী আর কংগ্রেসকে একযোগে তুলোধনা করেন শাহ।

    এসআইআর-কে দায়ী করার যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়

    নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এসআইআর-কে কেন্দ্র করে রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের প্রতিবাদের মধ্যেই এই মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধন শুরু হওয়ার আগেও বিভিন্ন নির্বাচনে কংগ্রেস পরাজিত হয়েছে। ফলে প্রতিটি নির্বাচনী ব্যর্থতার জন্য এসআইআর-কে দায়ী করার যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। অমিত শাহ বলেন, “আমি বিষয়টি স্পষ্ট করে বলতে চাই এবং বিশেষ করে রাহুলজিকে জানাতে চাই, কংগ্রেস গত ৪১ বছরে গুজরাটে একটিও নির্বাচনে জয় পায়নি। ১৯৮৫ সালে শেষবার জিতেছিল তারা। তার পর থেকে গুজরাটে ধারাবাহিক ভাবে পরাজয়ের মুখে পড়েছে কংগ্রেস।” রাহুল গান্ধীকে আত্মসমীক্ষার পরামর্শ দিয়ে শাহের বক্তব্য, গুজরাটে কংগ্রেসের পরাজয়ের কারণ এসআইআর কি না, তা আগে খতিয়ে দেখা উচিত। নির্বাচন কমিশনকে দোষারোপ করার পরিবর্তে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা প্রয়োজন।

    ২০২৯-এর পরাজয় নিয়েও কটাক্ষ

    কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণের সুর আরও চড়িয়ে শাহ বলেন, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের জন্যও রাহুল গান্ধিকে প্রস্তুত থাকতে হবে। তাঁর অভিযোগ, রাহুল বারবার অসত্য প্রচার করছেন। এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের সমর্থনে বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনও প্রমাণ তুলে ধরেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরির উপনির্বাচনে কংগ্রেসের পরাজয়ের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন শাহ। তাঁর যুক্তি, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হলেও তার আগেও কংগ্রেস নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। এমনকী ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের সময়েও দলটি হেরেছে বলে দাবি করেন তিনি। কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থানকে আক্রমণ করে শাহ দলটির বিরুদ্ধে নেতিবাচক রাজনীতি, গণতন্ত্রবিরোধী এবং সংবিধানবিরোধী আচরণের অভিযোগ তোলেন। তাঁর মতে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরিবর্তে কংগ্রেসের উচিত নিজেদের নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো এবং নির্বাচনী কৌশলের দুর্বলতা চিহ্নিত করা।

    গুজরাটের পুরসভা নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের দাবি

    গুজরাটের স্থানীয় নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যকেও নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, তিনটি স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় মোট ১০৪টি আসনের মধ্যে ৯০টিতে জয় পেয়েছে বিজেপি। এই তিনটি সংস্থার মধ্যে রয়েছে দুটি পুরসভা এবং একটি পুরনিগম। গান্ধীনগর পুরনিগমে বিজেপি ৪৪টি আসনের মধ্যে ৩৮টিতে জয় পেয়েছে বলে জানান শাহ। তাঁর আরও দাবি, আগের নির্বাচনের তুলনায় এই পুরনিগমে বিজেপির ভোটের হার ১০ শতাংশ বেড়েছে। আম আদমি পার্টিকেও কটাক্ষ করেন তিনি। শাহের দাবি, দলটি ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রতিটি আসনেই জামানত হারিয়েছে। গুজরাটের নির্বাচনী ফলাফলকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি রাজ্যের ভোটারদের সমর্থনের প্রতিফলন বলে দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি, রাজস্থানের স্থানীয় নির্বাচনেও বিজেপি ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।  মঙ্গলবার গুজরাট পুরভোটে গান্ধীনগর–সহ তিন পুরসভায় বিজেপির জয়জয়কারকে তুলে ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তোপ— ‘এটা জনাদেশ, সার–এফেক্ট নয়, আর এটা যত তাড়াতাড়ি কংগ্রেস বুঝবে, ততই ভালো!’

    এসআইআর ঘিরে সংঘাত অব্যাহত

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিরোধীদের সংঘাত ক্রমশ বাড়ছে। রাহুল গান্ধী-সহ ইন্ডিয়া জোটের নেতারা এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, অমিত শাহের বক্তব্য, নির্বাচনে ধারাবাহিক পরাজয়ের কারণ খুঁজতে কংগ্রেসকে নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবস্থান পর্যালোচনা করতে হবে। গুজরাটের নির্বাচনী ফলাফল এবং বিভিন্ন রাজ্যে উপনির্বাচনে কংগ্রেসের পারফরম্যান্সের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদের যুক্তিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন তিনি। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই রাজনৈতিক বাক্‌যুদ্ধ আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের অভিযোগের পাশাপাশি কংগ্রেসের নেতৃত্ব ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে বিজেপির আক্রমণ—দুই বিষয়ই জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক হয়ে উঠেছে।

     

LinkedIn
Share