Blog

  • Ram Mandir: ‘মন্দিরের টাকায় মসজিদের পাঁচিল!’, রাম মন্দির বিতর্কে সপা-কে নজিরবিহীন তোপ যোগী আদিত্যনাথের

    Ram Mandir: ‘মন্দিরের টাকায় মসজিদের পাঁচিল!’, রাম মন্দির বিতর্কে সপা-কে নজিরবিহীন তোপ যোগী আদিত্যনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক : অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান চুরি বিতর্ককে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে তুমুল পারদ চড়ল। দানবাক্স থেকে টাকা গায়েব হওয়ার ঘটনা নিয়ে বিজেপি সরকারকে যখন সমাজবাদী পার্টি (SP) ও কংগ্রেস কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই অযোধ্যার মাটি থেকে বিরোধীদের অতীত মনে করিয়ে দিয়ে পাল্টা নজিরবিহীন আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের।

    যোগীর বিস্ফোরক অভিযোগ (Ram Mandir)

    অযোধ্যার এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) বলেন, “সমাজবাদী পার্টির নেতারা একসময় মন্দিরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে ভক্তদের দেওয়া অনুদানের টাকা পকেটে পুরতেন। এরপর সেই মন্দিরের অনুদানের টাকা ডাইভার্ট করে মসজিদের পাঁচিল তৈরিতে ব্যবহার হত।”

    বিরোধীদের গিরগিটির সাথে তুলনাও করলেন ইউপির মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্য়নাথ। “কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি এখন অযোধ্যার প্রতি ভক্তির কথা বলছে! অথচ এই কংগ্রেসই একসময় সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে বলেছিল ভগবান রামের কোনও অস্তিত্ব নেই। আর সমাজবাদী পার্টি তো রামভক্ত কারসেবকদের উপর গুলি চালিয়েছিল। আজ হঠাৎ তাদের রামভক্তি জেগে উঠল কী করে?” প্রশ্ন যোগীর।

    ‘সনাতন ধর্মের ভাবাবেগে আঘাত!’ সুর চড়াল সমাজবাদী পার্টি

    অন্যদিকে, রাম মন্দিরের (Ram Mandir) দানবাক্স থেকে কোটি কোটি টাকার অনুদান এবং সোনা-রুপোর গয়না গায়েব হওয়ার ঘটনাকে  ‘বিরাট কেলেঙ্কারি’ বলে উল্লেখ সমাজবাদী পার্টির (SP)। সপা সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবের কাঠগড়ায় যোগী সরকার। অভিযোগ,”সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগের দান ও কোটি কোটি টাকার অনুদান ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারেনি মন্দির ট্রাস্ট। দানবাক্স থেকে টাকা গায়েব হয়ে যাওয়া আসলে কোটি কোটি সনাতনীদের ভাবাবেগে বড় আঘাত। রাজ্যের বিজেপি সরকার বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলার মতো আসল সমস্যা থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই বিরোধীদের উপর উল্টে আক্রমণ করছে। মেরুকরণের রাজনীতি করছে।”

    চুরির ঘটনায় যোগীর কঠোর অবস্থান

    রাম মন্দিরের (Ram Mandir) অনুদান চুরি নিয়ে নিজের অবস্থান আগেই স্পষ্ট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)। তাঁর সাফ বার্তা, “কাউকেই রেয়াত করা হবে না। মন্দিরের ট্রাস্ট নিজেই চুরির ঘটনাটি সরকারের নজরে এনে তদন্ত চেয়েছিল। সরকার অবিলম্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। ইতিমধ্যেই ঘটনায় জড়িত ৮ জনকে শনাক্ত করে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে ও তাদের গ্রেফতারও করা হয়েছে।” উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, “অপরাধীদের যখন শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, তখন গুটি কয়েক মানুষের পাপের জন্য পুরো রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টকে বদনাম করার এবং অযোধ্যাকে অপমান করার কোনও অধিকার বিরোধীদের নেই।”

    এদিকে, ২০২৭-এই রয়েছে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে তপ্ত রাজনীতি। উত্তরপ্রদেশে নিজেদের ঘাঁটি শক্ত করতে মরিয়া বিরোধীরা, বারাবার সরকারের দিকেই আঙুল তুলছে। যদিও বিরোধীদের চক্রান্তে একেবারেই কান দিতে নারাজ যোগী সরকার। বিরোধীদের বারবার নিজেদের জায়গা বুঝিয়ে দিচ্ছেন ‘বুলডোজার বাবা’। এখন দেখার কোন দিকে মোড় নেয় এই বিতর্ক?

  • Puri Rath Yatra: পুরীর রথযাত্রা উৎসব বিঘ্নহীন করতে মোতায়েন ১২ হাজার পুলিশ, ভক্তদের নিরাপত্তায় উড়বে ড্রোনও

    Puri Rath Yatra: পুরীর রথযাত্রা উৎসব বিঘ্নহীন করতে মোতায়েন ১২ হাজার পুলিশ, ভক্তদের নিরাপত্তায় উড়বে ড্রোনও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৬ জুলাই শুরু হচ্ছে পুরীর রথযাত্রা উৎসব। এই উপলক্ষে প্রতি বছর লাখ লাখ ভক্ত সমাগম ঘটে ওড়িশার এই শহরে। বিশ্বখ্যাত পুরীর রথযাত্রাকে (Puri Rath Yatra) ঘিরে এবার আরও কড়া প্রশাসন। রথযাত্রা উৎসব নির্বিঘ্নে ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরী জুড়ে। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জল, স্থল এবং আকাশ-তিন ক্ষেত্রেই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার বলয় তৈরি করছে ওড়িশা পুলিশ।

    ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও ড্রোন প্রযুক্তি (Rath Yatra Security)

    ওড়িশা পুলিশের ডিজিপি (DGP) ওয়াই বি খুরানিয়ার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠকে ভক্তদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আকাশপথে কড়া নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হবে ড্রোন। অনাকাঙ্ক্ষিত ড্রোনের উড়ান রুখতে সাহায্য নেওয়া হচ্ছে অ্যান্টি-ড্রোন (anti-drone)  প্রযুক্তির সাহায্যও। সমুদ্রে ও উপকূলীয় এলাকায় কড়া নজরদারির জন্য ভারতীয় নৌবাহিনী (Indian Navy), কোস্ট গার্ড এবং ওড়িশা মেরিন পুলিশ একযোগে কাজ করবে। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতির জন্য জাহাজে কুইক রেসপন্স টিম (QRT) মোতায়েন থাকবে। রথে রশিতে টান পড়ার সময় ভক্তদের হুড়োহুড়ি (stampede) এড়াতে তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ ব্যারিকেড ও সুশৃঙ্খল দেবদর্শনের ব্যবস্থা।

    নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা

    মেলা প্রাঙ্গণের পাশাপাশি গোটা পুরী শহরকে সুরক্ষিত রাখতে প্রায় ১২,০০০ পুলিশ কর্মী দিনরাত ডিউটি করবেন। ওড়িশা পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনী (CRPF, BSF) এবং আরপিএফও। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় হাই অ্যালার্টে থাকবে বেশ কিছু বিশেষ দল, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল (Bomb Disposal Squad), স্নিফার ডগ বা কে-৯ স্কোয়াড (Sniffer Dogs / K-9 Squad), এনএসজি (NSG) প্রশিক্ষিত বিশেষ কমান্ডো বাহিনী (SOG), এবং স্পেশাল টেকনিক্যাল ইউনিট (STU)।

    অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা

    উৎসবে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে পকেটমার, ছিনতাইকারী বা ট্রেনের ভেতরে দুষ্কর্ম করা দুষ্কৃতীরা যাতে মাথাচাড়া দিতে না পারে, সেজন্যও বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চিহ্নিত ও দাগী অপরাধীদের ছবি বড় বড় পাবলিক প্লেস, রেল স্টেশন ও থানায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ও আরপিএফ (RPF) তাদের সহজেই শনাক্ত করতে পারে। পুলিশের পক্ষ থেকে পুরী শহরের সমস্ত হোটেল, লজ, ধর্মশালা, মঠ এবং বাস স্ট্যান্ডগুলিতে নিয়মিত তল্লাশি ও চেকিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব (Puri Rath Yatra) যাতে শান্তিপূর্ণ এবং বিঘ্নহীনভাবে শেষ হয়, তাই সবরকম প্রস্তুতি সেরে রেখেছে ওড়িশা প্রশাসন।

  • FIR Against Abhishek: ‘সেবাশ্রয়’ নাকি সর্বনাশের আখড়া? অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের তৃতীয় এফআইআর

    FIR Against Abhishek: ‘সেবাশ্রয়’ নাকি সর্বনাশের আখড়া? অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের তৃতীয় এফআইআর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজ্ঞাপনের চোখা চমক বনাম বাস্তবের করুণ ছবি! বিনামূল্যে চিকিৎসারই পুরস্কার? সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার বদলে আস্ত পা-টাই খোয়ালেন অসহায় মহিলা। প্রশ্নের মুখে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্প ‘সেবাশ্রয়’। সেবাশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যেই এবার আরও চাপ বাড়ল তৃণমূলের এই নেতার। পা খুইয়ে রবীন্দ্রনগর থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR Against Abhishek) দায়ের দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলার আক্রার বাসিন্দা মালতী বিশ্বাসের। ‘সেবাশ্রয়ে’র অনিয়ম ও গাফিলতি নিয়ে সাংসদের বিরুদ্ধে এটি তৃতীয় এফআইআর (FIR Against Abhishek)। পাশাপাশি, অভিষেকের আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায়-সহ ১১ জনের বিরুদ্ধেও দায়ের হয়েছে এফআইআর (FIR)।

    ‘সেবাশ্রয়ে’র ভুল ওষুধেই মর্মান্তিক পরিণতি?

    রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘সেবাশ্রয়ে’র বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি অভিযোগ সামনে আসছে। হাতুড়ে কিংবা মেডিক্যাল পড়ুয়াদের দিয়ে চিকিৎসা থেকে করানো থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ (Expired) ওষুধ বিলি করার মতো মারাত্মক সব অভিযোগ রয়েছে অভিষেকের বিরুদ্ধে। মালতীর ঘটনাই তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। ঘটনার সূত্রপাত মাস দু’য়েক আগেই। হাঁটুর তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে এলাকার একটি ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরে গিয়েছিলেন মালতী। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষার পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে কিছু ওষুধ দেন। অভিযোগ, সেই ওষুধ খাওয়ার পর থেকেই তাঁর পায়ের অবস্থার চরম অবনতি হয়, যন্ত্রণা আরও ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে।

    বিনামূল্যে চিকিৎসার নামে মোটা টাকা দাবি!

    শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে মালতি বাধ্য হন অন্য একটি সেবাশ্রয় ক্যাম্পে। অভিযোগ, সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁর চিকিৎসার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা চান। তাহলে, সাংসদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ক্যাম্পেনিংয়ের কী হল? অভিযোগ, টাকা দিতে না চাওয়ায় মালতীকে সরকারি হাসপাতালে রেফার করে দেন ওই ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরের কর্তারা। এরপর মালতি ছুটেছেন এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। প্রথমে এমআর বাঙুর (M.R. Bangur), পরে সেখান থেকে চিত্তরঞ্জন হাসপাতাল ও শেষে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ। সেখানেই মালতীর পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, সংক্রমণ পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়া আটকাতে ডান পা-টি কেটে বাদ দেওয়া (Amputation) ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।

    বাদ পড়ল পা, তাও মুখে কুলুপ ‘সেবাশ্রয়’

    মালতির করুণ পরিণতির পর বহুবার অভিষেক ও সেবাশ্রয় ক্যাম্পের ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও, তাঁরা বিষয়টি পাত্তাই দিতে চাননি বলে অভিযোগ। অবশেষে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাসের উপস্থিতিতে পুলিশের দ্বারস্থ হন অসহায় মালতির পরিবার।

    স্বাস্থ্যভবনের ভূমিকা

    এদিকে ঘটনাটি সামনে আসতেই তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরে। নড়েচড়ে বসেছেন স্বাস্থ্য কর্তারা। ভুক্তভোগী মহিলা ও তাঁর পরিবারকে সমস্ত নথিপত্র-সহ সোমবার সকাল ১১টায় সরাসরি স্বাস্থ্যভবনে (Swasthya Bhawan) ডেকে পাঠানো হয়েছে। এবার তাঁদের মুখেই পুরো অভিযোগ শুনবেন স্বাস্থ্য দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা।

    চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ধুমধাম করে ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন অভিষেক। কিন্তু বাস্তবে একের পর এক ক্যাম্পে অনিয়ম, চিকিৎসায় চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। খোদ সাংসদ এবং তাঁর পিএর নামে এফআইআর দায়ের হওয়ায় এই প্রকল্পের বিশ্বাসযোগ্যতা এখন খাদের কিনারে। রাজ্যে পালাবদলের পর যেভাবে একের পর এক মামলায় জর্জরিত হচ্ছেন অভিষেক, তাতে তাঁর চাপ যে আরও কয়েকগুণ বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।

  • MHA order on National Anthem and National Song: ‘একটুও ভুল উচ্চারণ চলবে না’, কেন্দ্রীয় দফতর থেকে লোকভবন, দেশের গানের মর্যাদা রক্ষায় নয়া নির্দেশিকা কেন্দ্রের

    MHA order on National Anthem and National Song: ‘একটুও ভুল উচ্চারণ চলবে না’, কেন্দ্রীয় দফতর থেকে লোকভবন, দেশের গানের মর্যাদা রক্ষায় নয়া নির্দেশিকা কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গীতের অবমাননা রুখতে এবার কড়া কেন্দ্রীয় সরকার। ‘আর চলবে না কোনও ভুল উচ্চারণ’, একেবারে সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিল সরকারি নির্দেশিকা। দেশের জাতীয় সঙ্গীত (National Anthem) ‘জন গণ মন’ এবং জাতীয় গীত (National Song) ‘বন্দে মাতরম্‌’ গাওয়া বা বাজানোর ক্ষেত্রে সুর এবং উচ্চারণে যাতে কোনও ভুল না হয়, তা নিশ্চিত করতে কড়া নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA)। গত ৯ জুলাই দেশের সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারি অফিস এবং লোকভবনে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকাও পাঠানো হয়েছে।

    কী রয়েছে নির্দেশিকায় (MHA order on National Anthem and National Song)?

    আর ভুল উচ্চারণ ও শব্দ বদল করা চলবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় সঙ্গীত (National Anthem) এবং জাতীয় গীত (National Song) গাওয়ার সময় ভুল উচ্চারণ করা বা শব্দের হেরফের করা চলবে না। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক তাদের ওয়েবসাইটে সঠিক শব্দ এবং উচ্চারণের একটি গাইডলাইনও প্রকাশ করেছে।

    সঠিক নিয়ম

    আমাদের দেশের কিছু রাজ্যে জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি নিজস্ব ‘রাজ্য সঙ্গীত’ (State Song) গাওয়ারও চল রয়েছে। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, যদি কোনও অনুষ্ঠানে রাজ্য সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত বা জাতীয় গীত বাজানো হয়, তবে জাতীয় সঙ্গীত এবং জাতীয় গীত-দুটিই একসঙ্গে গাইতে বা বাজাতে হবে। প্রথমে গাইতে হবে জাতীয় গীত (বন্দে মাতরম্‌), আর ঠিক তারপরেই গাইতে হবে জাতীয় সঙ্গীত (জন গণ মন)। গত জানুয়ারি মাসের একটি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছিল, সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় গীতের ছয়টি স্তবক বা প্যারা গাইতেই হবে, যার জন্য সময় লাগবে ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড।

    কোন কোন অনুষ্ঠানে বাধ্যতামূলক?

    নতুন নির্দেশিকায় (MHA Order) বেশ কিছু বিশেষ অনুষ্ঠানের তালিকা দেওয়া হয়েছে, যেখানে জাতীয় গীত (বন্দে মাতরম্‌), আর জাতীয় সঙ্গীত (জন গণ মন) বাধ্যতামূলক। এগুলি হল, রাষ্ট্রপতি যখন কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে আসবেন এবং অনুষ্ঠান শেষে চলে যাবেন, রেডিও (AIR) এবং দূরদর্শনে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ঠিক আগে এবং পরে, নিজ নিজ রাজ্যে রাজ্যপাল বা লেফটেন্যান্ট গভর্নর (LG) যখন কোনও বড় সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং বিদায় নেবেন, এবং প্যারেডের সময় যখন জাতীয় পতাকা সম্মানসহকারে সামনে নিয়ে আসা হবে।

    সোজা কথায়, জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গীত গাওয়ার সময় উচ্চারণ একদম নিখুঁত হওয়া বাধ্যতামূলক। আর কোনও অনুষ্ঠানে দুটিই থাকলে, প্রথমে বন্দে মাতরম্‌ (জাতীয় গীত) এবং তার ঠিক পরেই জন গণ মন (জাতীয় সঙ্গীত) গাইতে বা বাজাতে হবে।

  • RSS: শতবর্ষ উপলক্ষে শাখা সম্প্রসারণে জোর, বেলগাভির বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা আরএসএসের

    RSS: শতবর্ষ উপলক্ষে শাখা সম্প্রসারণে জোর, বেলগাভির বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা আরএসএসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, রবিবার কর্নাটকের বেলগাভিতে শেষ হল আরএসএসের (RSS) তিন দিনব্যাপী সর্বভারতীয় প্রান্ত প্রচারক বৈঠক (Prant Pracharak Baithak)। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সরসংঘচালক মোহন ভাগবত এবং সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবালে। শুক্রবার শুরু হওয়া এই বৈঠকে মোট ২২৬ জন পদাধিকারী অংশ নিয়েছিলেন। সংঘের তরফে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চের পর দেশের বিভিন্ন স্তরে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ শিবিরগুলির পর্যালোচনা করা হয় বৈঠকে। এ বছর দেশজুড়ে মোট ৮৩টি সংঘ শিক্ষা বর্গ এবং ১২টি কার্যকর্তা বিকাশ বর্গের আয়োজন করা হয়েছে। এসব প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেন সব মিলিয়ে ১৮ হাজার ৮৪২ জন স্বয়ংসেবক। শাখা পরিচালনা, সংঘের কর্মপদ্ধতি, গ্রামীণ উন্নয়ন, পরিবার জাগরণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ-সহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

    বৈঠকের আলোচ্যসূচি (RSS)

    বৈঠকে শাখা স্তরে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি আগামী সেপ্টেম্বর মাসে সর্বাধিক সংখ্যক নতুন শাখা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হয়। সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে ইতিমধ্যে সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির মূল্যায়নের পাশাপাশি বাকি নির্ধারিত কর্মসূচির পরিকল্পনাও বৈঠকে চূড়ান্ত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে যাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে উঠেছে, তাঁদের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং পঞ্চস্তরীয় সামাজিক রূপান্তরের উদ্যোগে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ২০২৬-২৭ সালের জন্য সরসংঘচালক মোহন ভাগবতের সফরসূচি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

    অযোধ্যার শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দির প্রসঙ্গ

    বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কিত একাধিক বিষয়ও বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল। বিশেষ করে জনশুমারিকে ঘিরে তথ্য, জনসংখ্যাগত ভারসাম্যহীনতা থেকে (RSS) উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ, মাদকাসক্তির ক্রমবর্ধমান ক্ষতিকর প্রভাব এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে অগ্রাধিকারভিত্তিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সন্ত শিরোমণি রবিদাস মহারাজের ৬৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির পরিকল্পনাও করা হয়েছে। বৈঠকে অযোধ্যার শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দিরের দানবাক্সের অর্থ গণনায় অনিয়মের ঘটনায় উপস্থিত সকলেই গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, তীর্থ ক্ষেত্র ন্যাসের আবেদনের ভিত্তিতে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল এবং পুলিশের তরফে যে তদন্ত চলছে, তা দ্রুত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছবে (Prant Pracharak Baithak)। তাঁদের আশা, ভবিষ্যতে এমন কোনও ঘটনা ঘটবে না, যাতে রামমন্দিরের প্রতি দেশ-বিদেশের কোটি কোটি ভক্তের গভীর (RSS) বিশ্বাসে টোল পড়ে।

     

  • One Tunnel, One Highway: ১৪,১১৫ কোটি টাকার মাস্টারপ্ল্যানে আমূল বদলে যাচ্ছে দিল্লি-এনসিআর, যোগীরাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা

    One Tunnel, One Highway: ১৪,১১৫ কোটি টাকার মাস্টারপ্ল্যানে আমূল বদলে যাচ্ছে দিল্লি-এনসিআর, যোগীরাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশ এবং দিল্লির বুকে এক অভূতপূর্ব পরিকাঠামো উন্নয়নের জোয়ার আসতে চলেছে। যাতায়াতের কষ্ট দূর করতে এবং বাণিজ্যকে এক ধাক্কায় রকেটের গতি দিতে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট প্রায় ১৪,১১৫ কোটি টাকার দুটি মেগা সড়ক প্রকল্পের (One Tunnel, One Highway) সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে। এই প্রকল্পের হাত ধরে একদিকে যেমন দিল্লির যানজট কমবে, তেমনই উত্তরপ্রদেশের (UP) বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলের অর্থনীতিতে ঘটতে চলেছে বিরাট বিপ্লব। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের সময় বাঁচবে, ব্যবসার লজিস্টিক খরচ কমবে, তেমনি চোখ ধাঁধানো উন্নতি দেখা যাবে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়।

    কানপুর-কাবরাই গ্রিনফিল্ড হাইওয়ে (Kanpur Kabrai Greenfield Highway Cabinet)

    উত্তরপ্রদেশবাসীর জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দের খবর হলো, যোগী রাজ্য পেতে চলেছে এক দুর্দান্ত অর্থনৈতিক করিডর। এই প্রজেক্টের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৭,১৪৫.১৪ কোটি টাকা। ১১৭.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই হাইওয়েটি হবে সম্পূর্ণ ‘অ্যাক্সেস-নিয়ন্ত্রিত গ্রিনফিল্ড হাইওয়ে’। যার ফলে সাড়ে ৩ ঘণ্টার রাস্তা পার হতে সময় লাগবে মাত্রই ৯০ মিনিট।

    অর্থনৈতিক বিপ্লব

    কানপুর-কাবরাই গ্রিনফিল্ড হাইওয়ে করিডরটি ভোপাল-কানপুর ইকোনমিক করিডরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চলেছে। এর ফলে বুন্দেলখণ্ড এক্সপ্রেসওয়ে, কানপুর রিং রোড, NH-34 এবং NH-35-এর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে উঠবে। মধ্যপ্রদেশের খনি ও কৃষি অঞ্চলের পণ্য সরাসরি পৌঁছে যাবে উত্তরপ্রদেশের শিল্পতালুকে।

    ৬ লেনের আধুনিক সুড়ঙ্গ (6 Lane Modern Tunnel)

    দিল্লি-এনসিআর এবং গুরুগ্রামের বাসিন্দাদের প্রতিদিনের ট্রাফিক জ্যামের নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে তৈরি হচ্ছে ৬ লেনের আধুনিক টানেল। আনুমানিক ৬,৯৬৯.৬৭ কোটি টাকা খরচে তৈরি হচ্ছে ৮.১ কিলোমিটার দীর্ঘ ৬ লেনের এই টানেলটি। এই সুড়ঙ্গ দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে দক্ষিণ দিল্লির নেলসন ম্যান্ডেলা মার্গকে সরাসরি যুক্ত করবে। আইজিআই (IGI) বিমানবন্দর, বসন্ত কুঞ্জ এবং দ্বারকার মধ্যে যাতায়াত হবে জলভাত। এর সঙ্গেই তৈরি হতে চলা ‘এমস-মহিপালপুর এলিভেটেড করিডর’ যুক্ত হলে নয়ডা, গাজিয়াবাদ এবং পূর্ব দিল্লির দিকে যাওয়া আরও সহজ হয়ে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এই টানেলটি তৈরির সময় কাজ পাবেন প্রায় ১৭.৩৪ লাখ মানুষ (UP Government)।

    শিল্পে ব্যাপক উন্নতি!

    পরিকাঠামো ও আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই প্রকল্প (One Tunnel, One Highway) উত্তরপ্রদেশের ভোল বদলে দেবে। দ্বারকা টানেলের ফলে দক্ষিণ দিল্লি ও গুরুগ্রাম সংলগ্ন এলাকার ফ্ল্যাট ও জমির দাম এবং ভাড়া বাড়বে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় ঘরবাড়ি কেনার জন্য সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীদের ঢল নামবে। কানপুর-কাবরাই হাইওয়ের কারণে লজিস্টিক ও পণ্য পরিবহণের খরচ এক ধাক্কায় অনেকখানি কমে যাবে, যা কোম্পানিগুলোকে দ্রুত ডেলিভারি দিতে সাহায্য করবে। উন্নত সড়ক যোগাযোগের কারণে বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলে নতুন গুদামঘর (Warehousing), বড় বড় হোটেল, মল এবং লজিস্টিক হাব গড়ে উঠবে, যা কর্পোরেট দুনিয়াকে এখানে বিনিয়োগ করতে বাধ্য করবে। কেন্দ্রের এই ১৪,১১৫ কোটি টাকার মাস্টারপ্ল্যান শুধু রাস্তাই তৈরি করছে না, বরং দিল্লি-এনসিআর এবং উত্তরপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলের ভাগ্য বদলে এক নতুন অর্থনৈতিক করিডর তৈরি করছে। এবার যাতায়াত হবে সুপারফাস্ট, আর ব্যবসা ও কর্মসংস্থানে আসবে জোয়ার!

  • Uniform Civil Code: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের পথে বাংলা, গঠিত হল উচ্চপর্যায়ের কমিটি

    Uniform Civil Code: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের পথে বাংলা, গঠিত হল উচ্চপর্যায়ের কমিটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের দিকে আরও একধাপ এগোল পশ্চিমবঙ্গ। উত্তরাখণ্ড, গুজরাত ও অসমের পর, এবার সেই পথেই হাঁটছে বাংলা (UCC In West Bengal)। ইতিমধ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে ৯ জনের একটি বিশেষ কমিটি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) বিলের খসড়া তৈরি করতে কমিটি গঠন করা হবে। সেইমতোই জারি হয়েছে কমিটি গঠনের বিজ্ঞপ্তি।

    কারা রয়েছেন কমিটিতে?

    অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) চালুর বিষয়ে বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের (UCC In West Bengal)। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে রয়েছেন, মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায় (Tathagata Roy), আবাসিক কমিশনার দুষ্যন্ত নারিয়ালা, আইএএস অফিসার শত্রুঘ্ন সিং, স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ, বঙ্গবাসী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা রত্না ভট্টাচার্য, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ডিন গোপাল চন্দ্র মিশ্র, কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী ওসমান গনি মল্লিক এবং বেঙ্গল সম্ভোগের প্রাক্তন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নির্মাল্য ভট্টাচার্য।

    ঠিক কী কাজ করবে কমিটি?

    কমিটির কাজ বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মতামত নেওয়া। নবান্ন সূত্রে খবর, এই আইনের রূপরেখা ঠিক করতে যে কমিটি গঠন করা হচ্ছে, তার সদস্যরা এবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে সরাসরি সাধারণ মানুষের মতামত সংগ্রহ করবেন। এক্ষেত্রে মূল বিলের খসড়া তৈরির ক্ষেত্রে আমজনতার মতামতকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

    ইতিমধ্যেই অসম এবং উত্তরপ্রদেশের মডেল অনুসরণ করে একটি প্রাথমিক ড্রাফট তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে এই আইন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকায় তাড়াহুড়ো করতে চায় না প্রশাসন। সেই কারণেই কমিটি দেড় মাসের মধ্যে সব পক্ষের মতামত যাচাই করে রাজ্যের কাছে জমা দেবে চূড়ান্ত সুপারিশপত্র। এই কমিটি গঠনের জন্য রাজ্যের আইন দফতর ইতিমধ্যেই জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। এরই মধ্যে, দিল্লিতে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন কমিটির প্রধান রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই। বৈঠকে মূলত এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি রাজ্যে কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় চালু করা যায়, তার আইনি ও প্রশাসনিক রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাও হয়েছে।

    কী এই ইউসিসি (Uniform Civil Code)?

    বর্তমানে আমাদের দেশে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, সম্পত্তি বণ্টন, সন্তান দত্তক নেওয়া বা উত্তরাধিকারের মতো বিষয়গুলি বিভিন্ন ধর্মের মানুষ তাঁদের নিজস্ব ধর্মীয় আইন অনুযায়ী পালন করেন। কিন্তু অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) চালু হয়ে গেলে দেশের সমস্ত নাগরিক–তিনি যে ধর্ম, জাতি কিংবা লিঙ্গেরই হোন না কেন, সবার জন্য একটিই মাত্র আইন কার্যকর হবে।

    মূল উদ্দেশ্য (UCC In West Bengal)

    এই বিধি প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য হল, আইনের চোখে সমতা – ধর্ম কিংবা জাতি নির্বিশেষে দেশের সব মানুষকে একই আইনের ছায়ায় নিয়ে আসা। এবং নারীর অধিকার রক্ষা। বিভিন্ন ধর্মীয় নিয়মে নারীরা সম্পত্তি বা ডিভোর্সের ক্ষেত্রে যে বৈষম্যের শিকার হন, তা দূর করে পুরুষ ও নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করাও এই বিধি প্রণয়নের উদ্দেশ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হলে সব ধর্মের আলাদা আইন বন্ধ হয়ে যাবে। তখন দেশ বা রাজ্যের প্রত্যেক নাগরিকের বিয়ে, ডিভোর্স কিংবা সম্পত্তির অধিকার, একটি মাত্র সরকারি আইন দিয়েই পরিচালিত হবে। এক কথায়, চালু হয়ে যাবে “এক দেশ, এক আইন”।

  • Hindus Under Attack: হিন্দু আচার, ধর্মান্তর, হিংসায় বিপন্ন হিন্দুরা, দেখুন এই সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: হিন্দু আচার, ধর্মান্তর, হিংসায় বিপন্ন হিন্দুরা, দেখুন এই সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত দেশের পাশাপাশি বিদেশেও। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে আসছে, যা খুবই উদ্বেগজনক (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, সর্বত্র হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক অপরাধ, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, ধর্মীয় স্থাপনায় চুরি এবং বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে (Roundup Week)। আসুন, ৫ থেকে ১১ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত  সপ্তাহে বিভিন্ন ঘটনার ছবিটা দেখে নেওয়া যাক এক ঝলকে।

    ধর্মান্তরের অভিযোগকে ঘিরে উত্তেজনা (Hindus Under Attack)

    পুনের ঐতিহাসিক মহাত্মা ফুলে ওয়াড়ায় বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ মেধা কুলকার্নির ঐতিহ্যবাহী বট পূর্ণিমার আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তথাকথিত প্রগতিশীল মহলের একাংশের সমালোচনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ইতিহাস ও জাতিভিত্তিক বিভাজনের প্রসঙ্গ তুলে হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। উত্তরপ্রদেশের শামলি জেলায় জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগকে ঘিরে দুটি পৃথক মামলার জেরে উত্তেজনা বেড়েছে। প্রথম মামলাটি জুনের শুরুতে এক বিশিষ্ট ওষুধ ব্যবসায়ীর ছেলেকে কেন্দ্র করে দায়ের হয়। দ্বিতীয় ঘটনাটি সামনে আসে জুলাইয়ের শুরুতে, যেখানে একটি রাজপুত পরিবার তাদের ৩৫ বিঘা পৈতৃক জমি দখলের হুমকি এবং ধর্মান্তরের চাপের অভিযোগ তোলে। উভয় ক্ষেত্রেই পরিবারের সদস্যরা বাঘরার যোগ সাধনা আশ্রমের প্রধান স্বামী যশবীর মহারাজের দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি পুলিশি পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে প্রয়োজনে গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন (Hindus Under Attack)।

    কৃষি উৎসবকে কেন্দ্র করে হিংসা

    কর্নাটকের হাভেরি জেলার হাঙ্গাল তালুকের নরেগাল গ্রামে শতাব্দীপ্রাচীন সনাতনী কৃষি উৎসব কারা হুন্নিমে উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ, একটি বিবাদকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ইসলামি সম্প্রদায়ের একদল দুষ্কৃতী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী হিন্দুদের ওপর বিনা প্ররোচনায় হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এই ঘটনায় অন্তত আটজন জখম হন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। কর্নাটকেরই বেঙ্গালুরুর জিগানিতে একটি ভাড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বছর তিরিশের অক্ষতা ইন্দরাগির দেহ। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। বাড়িটি বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের সঙ্গী জনৈক নানা সাব এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক। তাঁর খোঁজে চলছে তল্লাশি। কর্নাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গের কেশর আমদানি এবং তিলক পরার রীতি নিয়ে করা মন্তব্যকে ঘিরে (Hindus Under Attack) বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেছিলেন, বিশ্বের অধিকাংশ কেশর ইসলামি দেশগুলি থেকে আমদানি হয়, তাই হিন্দুদের তিলক পরা বন্ধ করা উচিত। সমালোচকদের মতে, অধিকাংশ হিন্দুই দৈনন্দিন তিলকের জন্য বিশুদ্ধ কেশর ব্যবহার করেন না, ফলে তাঁর বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন

    এদিকে, বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় নিবন্ধন থাকলেই আর বিদেশি অর্থ নেওয়া সাধারণ অনুমতি হিসেবে গণ্য হবে না। এখন থেকে বিদেশি অনুদানের উদ্দেশ্য, অর্থের প্রকৃত ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপর বিশেষ নজর রাখা হবে। নিয়ম না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে বিদেশি অর্থপুষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের একাংশ আপত্তি জানিয়েছে (Roundup Week)। একই সঙ্গে ধর্মান্তর, রাজনৈতিক প্রচার এবং আন্দোলনে বিদেশি অর্থ ব্যবহারের ওপর সরকারের কড়াকড়িও চর্চায় এসেছে। চেন্নাইয়ের তাম্বরমে বছর ছাপ্পান্নর মহম্মদ ইউসুফকে গ্রেফতার করা হয়েছে বছর বারোর এক নাবালিকাকে টানা চার মাস ধরে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগে। নির্যাতিতার বাবা তাঁরই গুদামের কর্মী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে শিশু সুরক্ষা এবং অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে (Hindus Under Attack)।

    বহির্বিশ্বের ছবি

    বহির্বিশ্বের ছবিটাও খুব একটা ভিন্ন নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু আমেরিকানদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রচারের অভিযোগে আবারও আলোচনায় এসেছেন স্বঘোষিত সাংবাদিক পিটার ফ্রিডরিখ। অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে তিনি আমেরিকার বিভিন্ন শহরে ঘুরে সিটি কাউন্সিল-সহ বিভিন্ন জনমঞ্চে হিন্দু সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য করছেন। আটলান্টা, পালো অল্টো-সহ একাধিক শহরে তাঁর বক্তব্যের টার্গেট হয়েছে হিন্দুদের বিভিন্ন সংগঠন, যার মধ্যে কোয়ালিশন অব হিন্দুস অব নর্থ আমেরিকাও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির দাবি, তাঁর অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন এবং হিন্দু সমাজের কণ্ঠরোধের উদ্দেশ্যেই এই প্রচার চালানো হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও ঘৃণাজনিত অপরাধ কেবল প্রত্যক্ষ হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বিভিন্ন দেশে (Roundup Week) সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্তরেও বৈষম্যের অভিযোগ ওঠে। সব মিলিয়ে, তামাম বিশ্বে (Hindus Under Attack) খুব একটা সুখে নেই হিন্দুরা।

     

  • Manipur Violence: মণিপুরে ফের অশান্তি, কান্তো সাবালে পরিত্যক্ত মেইতেই বাড়িতে আগুন, বড় সংঘর্ষ এড়াল নিরাপত্তা বাহিনী

    Manipur Violence: মণিপুরে ফের অশান্তি, কান্তো সাবালে পরিত্যক্ত মেইতেই বাড়িতে আগুন, বড় সংঘর্ষ এড়াল নিরাপত্তা বাহিনী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি রাজ্য মণিপুরে (Manipur Violence)। শনিবার, ১১ জুলাই কান্তো সাবাল গ্রামে মেইতেইদের একাধিক পরিত্যক্ত বাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইম্ফল (Kuki Miscreants) পশ্চিম জেলায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, প্রায় ২০০ জন সন্দেহভাজন কুকি জঙ্গি লেইমাখং এলাকার কান্তো সাবাল গ্রামের দিকে মিছিল করে এসে পরিত্যক্ত বাড়িগুলিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

    দ্রুত হস্তক্ষেপ করে নিরাপত্তা বাহিনী (Manipur Violence)

    ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। মণিপুর পুলিশ জানিয়েছে, বিকেলের দিকে প্রায় ৬০০ জনের একটি দল কান্তো সাবালের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত হস্তক্ষেপ করে। সময়মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হওয়ায় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের আশঙ্কা এড়ানো গিয়েছে। পুলিশের দাবি, দুষ্কৃতীরা আরও কয়েকটি পরিত্যক্ত বাড়িতে আগুন লাগানোর চেষ্টা করলেও, নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এই ঘটনায় প্রাণহানির কোনও খবর নেই। ইতিমধ্যেই একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকায় শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।

    মেইতেই বাড়িতে আগুন

    কান্তো সাবালের বাসিন্দা থোকচোম রেবুবালা দেবী সংবাদমাধ্যমকে জানান, শনিবার দুপুরে ২০০-রও বেশি কুকি সম্প্রদায়ের মানুষ একটি মিছিল নিয়ে গ্রামের সেই অংশে প্রবেশ করেন, যেখানে এখন মেইতেই সম্প্রদায়ের প্রবেশে বিধিনিষেধ রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আশপাশের পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে এসে ওই দলটি পরিত্যক্ত বাড়িগুলিতে আগুন লাগিয়ে দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যায় (Manipur Violence)। তিনি আরও জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে স্থানীয় মেইতেই বাসিন্দারা ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের আটকে দেয়, যাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে না ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, এই ঘটনায় মোট চারটি পরিত্যক্ত মেইতেই বাড়ি পুড়ে খাক হয়ে গিয়েছে। এদিকে, ঘটনাস্থলের একাধিক ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ভিডিওগুলিতে কান্তো সাবালের পরিত্যক্ত বাড়িগুলিকে আগুনে জ্বলতে দেখা গিয়েছে।স যদিও ভিডিওগুলির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    এই ঘটনাকে ঘিরে মণিপুরে ঘটে চলা জাতিগত উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইম্ফল পশ্চিম জেলার স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সম্ভাব্য যে কোনও (Kuki Miscreants) অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে (Manipur Violence)।

     

  • Nitin Gadkari:  ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির মধ্যে পরিবহণ ক্ষেত্রে গভীর সহযোগিতার আহ্বান নীতিনের, জোর টেকসই ও ভবিষ্যতমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর

    Nitin Gadkari:  ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির মধ্যে পরিবহণ ক্ষেত্রে গভীর সহযোগিতার আহ্বান নীতিনের, জোর টেকসই ও ভবিষ্যতমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির মধ্যে পরিবহণ ক্ষেত্রে আরও গভীর সহযোগিতার আহ্বান জানালেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গডকরি (Nitin Gadkari)। তাঁর মতে, ব্রিকসের (BRICS) সদস্য দেশগুলির সম্মিলিত শক্তি বিশ্বব্যাপী উদ্ভাবনী, অংশীদারিত্বমূলক এবং দায়িত্বশীল পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার এক অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে।

    পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রকের বিবৃতি (Nitin Gadkari)

    সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রকের জারি করা বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নাগপুরে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পরিবহণ মন্ত্রীদের বৈঠকে বিভিন্ন সদস্য দেশের পরিবহণ মন্ত্রী, প্রতিনিধিদলের প্রধান, শীর্ষ আধিকারিক এবং প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান নীতিন। তিনি জানান, এই বৈঠক উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলির মধ্যে পরিবহণ সহযোগিতা আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের মূল ভাবনা ‘স্থিতিশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নির্মাণ’—এই বিষয়কে সামনে রেখেই এগোচ্ছে বলে জানান গডকরি। তাঁর কথায়, ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ বা ‘সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার’—এই ভারতীয় দর্শনের ভিত্তিতেই মানবকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী ব্রিকস পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, আধুনিক ও দক্ষ পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে পারে বলেও জানান তিনি।

    পরিবহণে জোর গডকরির

    অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে পরিবহণ ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে গডকরি বলেন, “সড়ক, রেল, সমুদ্র ও বিমান—সব ক্ষেত্রেই ভারতের দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সড়ক নেটওয়ার্ক ভারতের রয়েছে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকারযুক্ত দ্রুতগামী মহাসড়ক এবং বহুমাধ্যমভিত্তিক যোগাযোগ (Nitin Gadkari) ব্যবস্থারও উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ঘটেছে।” দিল্লি-দেরাদুন অর্থনৈতিক করিডর, সোনমার্গ সুড়ঙ্গ এবং ১০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি নতুন দ্রুতগামী মহাসড়ক নির্মাণের মতো প্রকল্পগুলির উল্লেখ করে তিনি (BRICS) জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের সঙ্গে পরিকাঠামো উন্নয়নের সমন্বয় ঘটানোর দিকেই ভারত বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে সংকর বার্ষিক আর্থিক মডেলের সফল প্রয়োগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    পণ্য পরিবহণের দক্ষতা বৃদ্ধিতে জোর

    রেল ক্ষেত্রেও ব্যাপক আধুনিকীকরণের কথা উল্লেখ করেন গডকরি। তিনি জানান, বিস্তৃত গেজ রেলপথের প্রায় সম্পূর্ণ বিদ্যুতায়ন, বন্দে ভারত ট্রেন পরিষেবার সম্প্রসারণ, মুম্বই-আহমেদাবাদ উচ্চগতির রেল প্রকল্পের অগ্রগতি এবং নতুন পাম্বান সেতুর মতো টেকনোলজি দেশের রেল ব্যবস্থাকে নয়া উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। এছাড়া ‘সামুদ্রিক অমৃতকাল ভিশন ২০৪৭’, ‘ই-নাবিক’, ‘ই-সমুদ্র’ এবং সবুজ নৌপরিবহণ উদ্যোগের মাধ্যমে সামুদ্রিক পরিকাঠামো ও পণ্য পরিবহণের দক্ষতা বৃদ্ধির দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানান (Nitin Gadkari) তিনি। টেকসই পরিবহণ ব্যবস্থার লক্ষ্যে বৈদ্যুতিক বাস পরিষেবা, সবুজ নগর পরিবহণ প্রকল্প এবং আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণে ‘উড়ান’ প্রকল্পের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর মতে, ‘প্রধানমন্ত্রী গতি শক্তি জাতীয় মহাপরিকল্পনা’ সমন্বিত বহুমাধ্যমভিত্তিক পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে পরিবহণ ব্যয় কমিয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়িয়েছে।

    কী বললেন গডকরি

    সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে গডকরি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের নগদবিহীন চিকিৎসার জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী-রাহাত’ প্রকল্প চালু হয়েছে। পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য, পৌর বর্জ্য, উড়ন্ত ছাই, ইস্পাতের অবশিষ্টাংশ, বাঁশের নিরাপত্তা ব্যারিয়ার এবং ব্যবহারের অযোগ্য পুরোনো টায়ার পুনর্ব্যবহার করে সড়ক নির্মাণে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ব্রিকস দেশগুলির সামনে পরিকাঠামোয় অর্থায়ন, যানজট, দূষণ, সড়ক নিরাপত্তা এবং শেষ প্রান্ত পর্যন্ত যোগাযোগ নিশ্চিত করার মতো একাধিক অভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন গডকরি। এই সমস্যাগুলির সমাধানে পারস্পরিক জ্ঞান বিনিময়, দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং সবুজ হাইড্রোজেন, বৈদ্যুতিক যান, বিকল্প জ্বালানি, ডিজিটাল পরিবহণ ব্যবস্থা ও টেকসই বহুমাধ্যমভিত্তিক পরিকাঠামো নিয়ে যৌথ গবেষণার ক্ষেত্রে ভারত সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে (Nitin Gadkari)। বৈঠকের ফল নিয়ে আশাবাদী গডকরি বলেন, এই আলোচনা ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে পরিবহণ সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবসম্মত ও উদ্ভাবনী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি, পরিবেশ রক্ষা এবং (BRICS) টেকসই ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সকল সদস্য দেশকে একযোগে কাজ করার আহ্বানও জানান কেন্দ্রীয় এই মন্ত্রী (Nitin Gadkari)।

     

LinkedIn
Share