Blog

  • Nepal-Tibet Flash Flood: নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ হড়পা বানে মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯, এখনও নিখোঁজ ২৯০ ভারতীয় সহ ১,৪৬৮! নতুন বিপদ ‘ব্যারিয়ার লেক’

    Nepal-Tibet Flash Flood: নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ হড়পা বানে মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯, এখনও নিখোঁজ ২৯০ ভারতীয় সহ ১,৪৬৮! নতুন বিপদ ‘ব্যারিয়ার লেক’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল ও তিব্বত। হিমবাহ ধসের পর বরফ-পাথরের বিশাল ধস এবং জলস্রোতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এখনও পর্যন্ত ৪৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুই দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও ১,৪৬৮ জন নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে ভোতে কোশি নদীর উৎসের কাছে তৈরি হওয়া একটি নতুন ‘ব্যারিয়ার লেক’। সেটি ভেঙে গেলে ফের ভয়াবহ বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নেপাল পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, হেলিকপ্টারে ৫০ জন বিদেশি-সহ ৭৯৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। স্থলপথে আরও ৭৯৬ জনকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নেপালে ৯১০ জন এবং তিব্বতে ৫৫৮ জনের এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি।

    ২৯০ ভারতীয় এখনও নিখোঁজ

    বন্যার জেরে নেপালে ২৯০ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। তাঁদের মধ্যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী এবং বিভিন্ন রাজ্য থেকে যাওয়া পর্যটকরাও রয়েছেন। ভারত ইতিমধ্যেই ৮৪ জন নাগরিককে উদ্ধার করেছে। তাঁদের মধ্যে ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৬৩ জন কর্মী এবং তামিলনাড়ুর ২১ জন রয়েছেন। পাশাপাশি তিব্বতের দিকে আটকে থাকা প্রায় ২০০ ভারতীয়ও ভারতের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, নেপাল সরকার, বিভিন্ন মন্ত্রক, রাজ্য সরকার, পর্যটন সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজ ভারতীয়দের সন্ধানে জরুরি পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তার জন্য ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুমও চালু করা হয়েছে।

    উদ্ধার ১১ ভারতীয় পর্যটক

    নেপালের রসুয়া জেলা থেকে ২৭ জন বিদেশি পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ১১ জন ভারতীয়। এছাড়া চার জন দক্ষিণ কোরীয়, দুই জন ইতালীয় এবং দুই জন মার্কিন নাগরিক ছিলেন। নেপাল আর্মির হেলিকপ্টারে তাঁদের কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বন্যার কারণে দিল্লি-কাঠমান্ডু বাস পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

    নতুন ব্যারিয়ার লেক নিয়ে বড় আশঙ্কা

    উদ্ধারকাজ চলার মধ্যেই নতুন বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভোতে কোশি নদী ব্যবস্থার উৎসের কাছে তৈরি হয়েছে একটি প্রাকৃতিক ব্যারিয়ার লেক। চিনা কর্তৃপক্ষের অনুমান, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে প্রায় ২০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমেছিল। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল সেখানে জমতে পারে। প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে ফের প্রবল জলস্রোত নেমে আসতে পারে। নেপালের জল ও আবহাওয়া দফতর ভোতে কোশি এবং ত্রিশুলি নদীর তীরবর্তী মানুষকে সতর্ক করে নদীর কাছ থেকে দূরে নিরাপদ জায়গায় থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

    হিমবাহ ধসেই বিপর্যয়, ভূমিকম্প নয়

    প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প বলে মনে করা হলেও নেপালি কর্তৃপক্ষ এবং মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থার সংশোধিত বিশ্লেষণে জানা গিয়েছে, ভূমিকম্প নয়, হিমবাহ ধস এবং বরফ-পাথরের ধসই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। হিমবাহ ধসের পর লহেন্দে নদীর গতিপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেই প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে বিপুল জল, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ ভোতে কোশি এবং ত্রিশুলি নদী ব্যবস্থার দিকে নেমে আসে।

    ধ্বংসস্তূপে চাপা রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎ প্রকল্প

    বন্যায় নেপালের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেত্রাবতী থেকে রাসুওয়াগাধি পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার রাস্তার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু কংক্রিট ও ঝুলন্ত সেতু ভেসে গিয়েছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩৫টি মোটরযোগ্য সেতু, ৪৫টি ঝুলন্ত সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রিশুলি ও দেবীঘাট-সহ একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতির মুখে পড়েছে।

    এদিকে হাসপাতাল, উদ্ধারকেন্দ্র এবং নদীর তীরে নিখোঁজ পরিজনদের খুঁজছেন অসংখ্য পরিবার। বহু এলাকায় এখনও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। নেপাল আর্মি, পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং হেলিকপ্টার ও ড্রোনের সাহায্যে উদ্ধার অভিযান চলছে। ধ্বংসের পূর্ণ চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়। তবে শত শত পরিবার এখনও প্রিয়জনের খবরের অপেক্ষায়, আর নতুন ব্যারিয়ার লেকের আশঙ্কায় বিপর্যয় আরও ভয়াবহ আকার নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

  • Suvendu Adhikari: ৪৩ হাজার শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ, প্রতি থানায় ৪টি ‘১১২’ গাড়ি! বাংলার পুলিশে বড় বদলের ঘোষণা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ৪৩ হাজার শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ, প্রতি থানায় ৪টি ‘১১২’ গাড়ি! বাংলার পুলিশে বড় বদলের ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা শূন্যপদ পূরণ এবং থানাগুলির পরিকাঠামো ঢেলে সাজাতে বড়সড় উদ্যোগের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য পুলিশে বর্তমানে প্রায় ৪৩ হাজার পদ খালি রয়েছে। পর্যাপ্ত পুলিশকর্মীর অভাবে একাধিক থানা সিভিক ভলান্টিয়ারের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি কাটাতে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু নিয়োগ নয়, পুলিশের গাড়ি, থানার পরিকাঠামো, মহিলা থানা, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা এবং জরুরি পরিষেবায় পুলিশের পৌঁছনোর সময় কমানো—একাধিক ক্ষেত্রে একসঙ্গে পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন তিনি।

    প্রতি এক লক্ষে পুলিশ মাত্র ১০৬ জন!

    রাজ্যে পুলিশের লোকবল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শুভেন্দু জানান, পশ্চিমবঙ্গে প্রতি এক লক্ষ মানুষের জন্য বর্তমানে মাত্র ১০৬ জন পুলিশকর্মী রয়েছেন। দেশের বহু রাজ্যের তুলনায় এই সংখ্যা যথেষ্ট কম বলেই দাবি করেছেন তিনি। সরকারের লক্ষ্য আগামী দিনে প্রতি এক লক্ষ মানুষের জন্য পুলিশের সংখ্যা অন্তত ২০০-তে নিয়ে যাওয়া। সেই লক্ষ্যে প্রথম ধাপে ৪৩ হাজার শূন্যপদ পূরণের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পুলিশ পদ তৈরি করার সম্ভাবনাও রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সুপ্রিম কোর্টের জট কেটে গিয়েছে। নিয়োগ শুরু করুন। পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান এখানে রয়েছেন। আপনাকে বলছি, পুলিশে ম্যানপাওয়ার বাড়াতে হবে। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করব।”

    মহিলা থানা ও সাইবার অপরাধে বাড়তি গুরুত্ব

    নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ মোকাবিলায় রাজ্যের মহিলা থানাগুলিকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তদন্তের জন্য প্রশিক্ষিত কর্মী এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় রাজ্য পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন শুভেন্দু। তবে শুধু তদন্ত নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।সাইবার প্রতারণার ভয়াবহতা বোঝাতে একটি ঘটনার উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেউ হয়তো পিএফ ও গ্র্যাচুইটির টাকা জমিয়ে রেখেছিলেন, নাতনিকে ডাক্তার করবেন বলে। মাত্র ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে সব টাকা চলে গেল।”

    বিপর্যয় মোকাবিলায় আসছে ২০০ সদস্যের ‘অর্জুন’

    প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অগ্নিকাণ্ড এবং বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত কাজ করার জন্য সিভিল ডিফেন্সের অধীনে ২০০ সদস্যের একটি বিশেষ বাহিনী গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই বাহিনীর নাম রাখা হয়েছে ‘অর্জুন’। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্য সৈনিক বোর্ডের মাধ্যমে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত ৮০ জন প্রাক্তন সেনাকর্মীকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী দিনে অগ্নিবীরদেরও এই বাহিনীতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    আমফানের সময় গাছ কেটে রাস্তা পরিষ্কার করতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল বলে অভিযোগ তুলে পুরনো অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, “আগের সরকারের মন্ত্রী থাকাকালীন দেখেছিলাম, আমফানের সময় তিনদিনে একটাও গাছ সরাতে পারেনি। ৩০০ পুলিশের ওডিএমজি পাঠিয়েছিল ওড়িশা পুলিশ, তারা এসে ১২ ঘণ্টায় কাজ করে দিয়েছিল। আমরা দাঁড়িয়ে দেখলাম।” নতুন বাহিনীর মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার ও রাস্তা পরিষ্কারের কাজ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    চার হাজার পুরনো পুলিশ গাড়ি বদলের পরিকল্পনা

    রাজ্য পুলিশের যানবাহনের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পুলিশের ডিজির সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন যে প্রায় ৪ হাজার পুলিশ গাড়ি বদলানো প্রয়োজন। একসঙ্গে এতগুলি গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই ধাপে ধাপে পুরনো গাড়ি সরিয়ে নতুন গাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু বলেন, “একসঙ্গে চার হাজার গাড়ি দিতে না পারলেও বছরে এক হাজার করে দেব। পুলিশের লজিস্টিক্স এবং পরিকাঠামো বাড়ানো হবে।”

    প্রতিটি থানায় ৪টি করে ‘১১২’ গাড়ি

    জরুরি পরিষেবায় পুলিশের ‘রেসপন্স টাইম’ কমানোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, উত্তরপ্রদেশে জরুরি ফোন পাওয়ার প্রায় ৬ মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কলকাতায় রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা তুলনামূলক ভাল হওয়ায় সাড়া দ্রুত মিললেও রাজ্যের বহু এলাকায় পরিস্থিতি ভিন্ন।শুভেন্দুর দাবি, রাজ্যের বহু জায়গায় পুলিশের গড় রেসপন্স টাইম প্রায় তিন ঘণ্টা। এই সময় কমাতে প্রতিটি থানায় জরুরি পরিষেবা নম্বর ‘১১২’-এর জন্য চারটি ডেডিকেটেড গাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবারের বাজেটে এর জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “বেঙ্গল পুলিশে লোকবল বাড়াতে হবে। প্রতি থানায় ৪টি ১১২ ডেডিকেটেড গাড়ি দিতে হবে। এবারের বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্যের ৫৫২টি থানায় একটি করে ১১২ গাড়ি পৌঁছে যাবে পুজোর আগেই। মহালয়াতেই ব্রিগেডে ৫৫২টি গাড়ির উদ্বোধন করা হবে।” পরবর্তী বাজেটে থানাপিছু আরও দু’টি গাড়ি দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

    দুর্নীতিতে কড়া বার্তা, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর হিংসা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে দুর্নীতি দমন শাখার কাজেও আরও নজরদারি বাড়ানোর বার্তা দিয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ, নারী নির্যাতন এবং পকসো আইনের আওতায় আসা অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন শুভেন্দু। তাঁর বার্তা, “রাষ্ট্রবিরোধীদের শায়েস্তা করতে কারও কথা শুনবেন না। আরজি কর বা পকসো আইনের আওতায় যে সব ঘটনা ঘটবে, তার মোকাবিলা করতে কারও নির্দেশের অপেক্ষা করার দরকার নেই। যত কঠোর হতে হয় হবেন, আপনাদের হয়ে শিল্ড হয়ে দাঁড়াব আমি।”

    পুলিশকর্মীদের রেশন ভাতা বাড়ল

    পুলিশ বাহিনীর নিচুতলার কর্মীদের জন্য আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উৎসবের মাসে পুলিশকর্মীদের রেশন ভাতা ১,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করা হয়েছে বলে ঘোষণা করেন তিনি। পুজোর মাসেই ৩৮ শতাংশ ডিএ-সহ আগাম বেতন দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ১৫ বছর চাকরি সম্পূর্ণ করা নিচুতলার পুলিশকর্মীদের নিজস্ব জেলা অথবা সংলগ্ন জেলায় পোস্টিংয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    তবে বাহিনীর একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। ঝাড়গ্রামের এক কনস্টেবলকে ৫ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা-সহ ধরার প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, “এসিবি অনেককে ধরছে, তার মধ্যে ঝাড়গ্রামে এক কনস্টেবলও ৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা-সহ ধরা পড়েছে। এই লোভগুলো সম্বরণ করতে হবে।”

    নিয়োগ থেকে পরিকাঠামো—পুলিশ ব্যবস্থায় বড় রদবদলের ইঙ্গিত

    সব মিলিয়ে রাজ্য পুলিশের ক্ষেত্রে একাধিক স্তরে পরিবর্তনের পরিকল্পনা সামনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একদিকে ৪৩ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ, অন্যদিকে পুরনো গাড়ি বদল, থানার পরিকাঠামো উন্নয়ন, মহিলা থানা ও সাইবার ইউনিটকে শক্তিশালী করা এবং ‘১১২’ পরিষেবার রেসপন্স টাইম কমানোর উদ্যোগ—সব মিলিয়ে পুলিশ ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্য সরকার। এখন নজর থাকবে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড কত দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে এবং শূন্যপদ পূরণের ক্ষেত্রে সরকার কতটা দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ করে।

  • Nepal Flash Floods: ‘বোমা বিস্ফোরণের মতো’—২,০০০ ফুট চওড়া হিমবাহ ভেঙেই নেপালে ভয়াবহ বন্যা! কী অনুমান বিশেষজ্ঞদের?

    Nepal Flash Floods: ‘বোমা বিস্ফোরণের মতো’—২,০০০ ফুট চওড়া হিমবাহ ভেঙেই নেপালে ভয়াবহ বন্যা! কী অনুমান বিশেষজ্ঞদের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিমালয়ের প্রায় ১৭,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে বিশাল একটি হিমবাহের অংশ ভেঙে পড়ার ফলেই নেপালের হিমালয়-সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা (Nepal Flash Floods) হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বুধবারের এই বিপর্যয়ে নেপাল ও তিব্বতের বিস্তীর্ণ এলাকায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। নেপাল ও তিব্বতে এই ভয়াবহ বন্যায় ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১,৫০০ জন এখনও নিখোঁজ। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, প্রায় ৩০০ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে খবর পাওয়া যায়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন ভারতীয়কে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে।

    হিমবাহ ধসেই ভয়াবহ বন্যা!

    বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এটি একটি ‘আইস অ্যাভাল্যাঞ্চ’ বা হিমবাহ ধসের ঘটনা হতে পারে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে, প্রায় ২,০০০ ফুট চওড়া হিমবাহের একটি অংশ প্রায় পরিষ্কারভাবে মূল হিমবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১৭,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে ভেঙে পড়া বরফের সেই বিশাল অংশ প্রায় ৪,০০০ ফুট নিচে উপত্যকার তলায় আছড়ে পড়ে। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগারির ভূতত্ত্ববিদ ড্যানিয়েল শুগার স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, হিমবাহের ওই অংশটি প্রায় এক কিলোমিটার উল্লম্ব দূরত্ব অতিক্রম করে উপত্যকায় পড়ে। প্রচণ্ড অভিঘাতে বরফ কার্যত গুঁড়িয়ে গিয়ে জল, বরফ ও পাথরের ধ্বংসাবশেষের ভয়াবহ স্রোত তৈরি করে। শুগারের কথায়, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে “যেন একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে”—ভেঙে যাওয়া হিমবাহের বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে চারদিকে।

    কীভাবে বরফের ধস ভয়াবহ বন্যায় পরিণত হল?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এত উচ্চতা থেকে বিশাল বরফের খণ্ড নীচে পড়ায় প্রচুর সম্ভাব্য শক্তি তৈরি হয়। ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ সাইমন কুকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রচণ্ড আঘাতে বরফ গুঁড়িয়ে গিয়ে দ্রুতগতির জল ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে পরিণত হতে পারে। এই স্রোত উপত্যকা দিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে লহেন্দে খোলা বা নদীতে গিয়ে পড়ে। পরে তা ভোটেকোশি নদী হয়ে নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। আচমকা নেমে আসা সেই স্রোতে বসতি, রাস্তা, সেতু এবং জলবিদ্যুৎ পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের তরফে আরও একটি বন্যার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে। কারণ, লহেন্দে খোলার উজানে এখনও একটি বড় বাধা আটকে রয়েছে বলে জানা গেছে।

    ভূমিকম্প নাকি হিমবাহ ধস?

    বিপর্যয়ের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। বুধবার ভোরে ওই অঞ্চলে ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। ফলে ভূমিকম্পের সঙ্গে হিমবাহ ধসের কোনও সম্পর্ক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আবার জলবায়ু ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এটি বরফ-পাথরের ধস -এর ফলও হতে পারে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে কোনও একটি কারণকে চূড়ান্তভাবে দায়ী করা ঠিক হবে না।

    উষ্ণ হচ্ছে হিমালয়, বাড়ছে বিপদের আশঙ্কা

    এই বিপর্যয়ের সঙ্গে হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তিত জলবায়ুর সম্পর্ক নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক পর্বত উন্নয়ন সংস্থা আইসিআইএমওডি (ICIMOD)-এর বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ১৪ মাসে লহেন্দে খোলা এলাকায় একই ধরনের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। গত বছরের একটি আকস্মিক বন্যার সঙ্গে তিব্বতের একটি হিমবাহ-হ্রদের জল উপচে পড়ার সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিশেষজ্ঞ শশ্বত সান্যালের মতে, নেপালের দিকের একটি হিমবাহ থেকে বরফ-পাথরের ধস নেমে নদীর গতিপথ আটকে দেওয়ার পর আচমকা সেই বাধা ভেঙে গিয়ে ভয়াবহ স্রোত তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তাঁর মতে, দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা হিমালয়ে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ দ্রুত বরফ হারাচ্ছে। এর ফলে বন্যা, ভূমিধস, হিমবাহ-সংক্রান্ত বিপর্যয় এবং আকস্মিক জলস্রোতের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।

    এখনও কতজন ভারতীয় নিখোঁজ?

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে আটকে রয়েছেন তামিলনাড়ুর ৩৭ জন, পশ্চিমবঙ্গের ৩২ জন, কেরলের ৩৩ জন এবং বিভিন্ন রাজ্যের ৬১ জন বাসিন্দা। ত্রিশূলী নদীর উপর নির্মীয়মাণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করা ৭৩ জন ভারতীয়ও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন। অন্য দিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, এই রাজ্যের ৩২ জন বাসিন্দার সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা যায়নি। তাঁদের নাম-ঠিকানাও প্রকাশ করেছে রাজ্য প্রশাসন। রাজ্য প্রশাসনের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেট এলাকার ছ’জন বাসিন্দার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকার তিন বাসিন্দার এখনও খোঁজ নেই। কলকাতার চার বাসিন্দাও এই ৩২ জনের তালিকায় রয়েছেন।

    উদ্ধারকাজে বড় বাধা

    ভয়াবহ বন্যায় নেপাল ও তিব্বতে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আরও শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক, শ্রমিক এবং তীর্থযাত্রীও রয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলি ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর চেষ্টা চালালেও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, বিপুল পরিমাণ পলি ও ধ্বংসাবশেষ এবং এখনও অস্থিতিশীল পাহাড়ি পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। হিমালয়ের দুর্গম উপত্যকায় বসবাসকারী মানুষের কাছে এই বিপর্যয় ফের প্রমাণ করে দিল—পাহাড়ের অনেক উপরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে নীচের জনপদে জল, বরফ ও পাথরের ভয়াবহ মৃত্যুফাঁদ তৈরি করতে পারে।

  • Mohan Bhagwat in US: ‘খোলা আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান ও মতবিনিময়ের’ জন্যই ম্যাডিসন স্কোয়ারে সমাবেশ, অনুষ্ঠানকে স্বাগত মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেনের

    Mohan Bhagwat in US: ‘খোলা আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান ও মতবিনিময়ের’ জন্যই ম্যাডিসন স্কোয়ারে সমাবেশ, অনুষ্ঠানকে স্বাগত মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আরএসএস-এর সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতকে (Mohan Bhagwat in US) নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)। বুধবার তারা জানায়, অনুষ্ঠানটি ‘খোলা আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান ও মতবিনিময়ের’ ভাবনায় আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, আরএসএস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী যে কেউ এই আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সরসংঘচালক ড. মোহন ভাগবতের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠান নিয়ে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির বিরোধিতার কড়া জবাব দিলেন মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেন। আগামী ২৯ অগাস্ট ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আয়োজিত হতে চলা এই অনুষ্ঠানের বিরোধিতার জন্য মামদানি ও তাঁর সমর্থকদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপির প্রতি বিরোধিতাকেই দায়ী করেছেন তিনি।

    অনুষ্ঠানটি ভারতীয় ভাবধারার প্রতিফলন

    প্রচার বিভাগের প্রধান তথা প্রবীণ নেতা সুনীল আম্বেকর এক বিবৃতিতে বলেন, নিউইয়র্কের ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’ একটি আন্তঃধর্মীয় সমাবেশ। সেখানে সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মের মানুষের সামনে আরএসএস-এর ভাবনা ও দর্শন তুলে ধরবেন। আম্বেকরের কথায়, “খোলা আলোচনা ও পারস্পরিক সম্মানের পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান ভারতীয় ভাবধারার প্রতিফলন, যা মূলত অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সকলকে স্বাগত জানায়।” তিনি আরও বলেন, ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নানা সম্প্রদায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে RSS যে সংলাপ ও যোগাযোগের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং অভিন্ন উদ্দেশ্য গড়ে তোলার চেষ্টা করে আসছে, এই উদ্যোগও সেই ধারারই অংশ। আরএসএস-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “সংগঠনের দর্শন ও ভাবনা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী যে কেউ এই ধরনের উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিতে পারেন।”

    ভাগবতের অনুষ্ঠানের মূল ভাবনাকে সমর্থন

    ২৬ অগাস্ট ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে মিলবেন লেখেন, মোহন ভাগবতকে নিয়ে আয়োজিত ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানটির বিরোধিতা করছেন মামদানি এবং তাঁর মতো সমাজতন্ত্রীরা, কারণ তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপির বিরোধী। তাঁর দাবি, বিষয়টি “বেশ স্পষ্ট”। অনুষ্ঠানের বিরোধীদের সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শ নিয়েও কটাক্ষ করেন মিলবেন। তাঁর বক্তব্য, ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন “সমাজতান্ত্রিক স্লোগানের জবাব দেয় না, তারা পুঁজিবাদের নিয়মে চলে”। তাই তাঁর মতে, অনুষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়েই হবে। মামদানি ও তাঁর “সমাজতন্ত্রীদের দল”-কে উদ্দেশ করে মিলবেন বলেন, তাঁরা যদি এই অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেন, তাহলে পুঁজিবাদী পদ্ধতিতে অর্থ সংগ্রহ করে নিজেরাই ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন ভাড়া নিয়ে পাল্টা সমাবেশ করতে পারেন। ভাগবতের অনুষ্ঠানের মূল ভাবনাকেও সমর্থন করেছেন মিলবেন। অনুষ্ঠানের ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস’ বা ‘সর্বজনীন একতা’ (Universal Oneness) ভাবনাটি তাঁর পছন্দ হয়েছে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে ভারতকে ঘিরে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে অর্থবহ আলোচনা অনুষ্ঠানের অংশ হোক, এমন আশাও প্রকাশ করেন মার্কিন এই গায়িকা।

    ২৯ অগাস্ট ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে ভাগবতের অনুষ্ঠান

    ড. মোহন ভাগবত আগামী ২৯ অগাস্ট ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে প্রায় ৫,০০০ ভারতীয়-আমেরিকানের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। আরএসএস (RSS)-এর শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে তাঁর আন্তর্জাতিক সফরের অংশ হিসেবেই এই অনুষ্ঠান। ২৫ অগাস্ট থেকে শুরু হওয়া তাঁর ১৭ দিনের সফরে আমেরিকা, কানাডা ও ইউকে রয়েছে। ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’ (Universal Oneness Celebration) নামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফোরাম (American Hindus for Engagement and Dialogue Forum)। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ভারতীয় ঐতিহ্য, ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপকে সামনে আনা। অনুষ্ঠানে হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন প্রতিনিধি, মন্দির, যোগ সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের উপস্থিত থাকার কথা। রাখিবন্ধন উপলক্ষেও অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ঐক্য, নাগরিক দায়িত্ব ও বিশ্বসম্প্রীতি নিয়ে বক্তব্যের আয়োজন করা হয়েছে।

    সর্বজনীন একতার পথে যাত্রা

    ভাগবতের এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চলছে। ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’, ‘ইন্ডিয়ান আমেরিকান মুসলিম কাউন্সিল’ এবং ‘ইন্টারফেইথ সেন্টার অফ নিউ ইয়র্ক’-সহ বেশ কয়েকটি আন্তঃধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠন ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধানের অংশগ্রহণের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, তিনি এই সমাবেশকে সমর্থন করেন না। তবে একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কোনও বেসরকারি অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করে তা বাতিল করার আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের রয়েছে কি না। আরএসএস-এর ভাবনাকে তিনি “বর্জনমূলক” বলে মন্তব্য করে বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের ধারণার সঙ্গে তার পার্থক্যের কথাও তুলে ধরেছেন। তবে, আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফোরামের তরফে ইতিমধ্যেই ড. মোহন ভাগবতকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়েছে, “সর্বজনীন একতার পথে যাত্রা শুরু হচ্ছে।” ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানের পর নিউইয়র্কে আরও দু’টি ব্যক্তিগত কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ভাগবতের। এরপর তাঁর আন্তর্জাতিক সফরের পরবর্তী পর্ব শুরু হবে।

     

  • CM Suvendu Adhikari: ‘ফিরে আসুন রাজ্যে, পাশে আছে সরকার’! নিউটাউনে প্রযুক্তি ক্যাম্পাস উদ্বোধন করে পরিযায়ীদের বার্তা শুভেন্দুর

    CM Suvendu Adhikari: ‘ফিরে আসুন রাজ্যে, পাশে আছে সরকার’! নিউটাউনে প্রযুক্তি ক্যাম্পাস উদ্বোধন করে পরিযায়ীদের বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার যে সমস্ত দক্ষ ও মেধাবী যুবক-যুবতী কর্মসংস্থানের কারণে বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ কিংবা বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন, তাঁদের রাজ্যে ফিরে আসার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। কলকাতার নিউটাউনের সিলিকন ভ্যালি হাবে চালু হল লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T) এবং এলটিআইমাইন্ডট্রি (LTIMindtree)-র অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ক্যাম্পাস ‘আনন্দ নিকেতন।’ বৃহস্পতিবার প্রদীপ জ্বালিয়ে এই মেগা প্রজেক্টের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় ৭ লক্ষ ৪৮ হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে তৈরি হয়েছে এই অফিস। উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, নিউটাউনের এই ক্যাম্পাসে প্রায় ৫৮০০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একইসঙ্গে তাঁর কথায়, “দয়া করে ফিরে আসুন। এখানে ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।”

    বাংলায় এখন শিল্পের অমৃতকাল

    বদলের বাংলায় এখন শিল্পের অমৃতকাল। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে বড় দিশা দেখতে চলেছে বাংলা। এদিন এল অ্যান্ড টি-র প্রযুক্তি ক্যাম্পাস উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই ক্যাম্পাস নিউটাউন সিলিকন ভ্যালি হাবে তৈরি হয়েছে যেটা আমাদের যুব সমাজকে এগিয়ে দেবে। ৭ লক্ষের বেশি বর্গ ফুটের আয়তনের একটি অফিস তৈরি হয়েছে এখানে যেখানে হাই স্কিলের মানুষ আছেন। এই প্রজেক্ট এর পর যুব সমাজ তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে তাদের রাজ্যে ফিরে আসবেন বাইরে তাদের থাকতে হবে না। গ্লোবাল ডিজিটাল ইকোনমির ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ এটা। এখন রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার চলছে। সরকার নরেন্দ্র মোদির দেখানো পথে চলছে। আমাদের লক্ষ্য স্থির বাংলায় উন্নয়ন করা।” এদিন নিউটাউনে এল অ্যান্ড টির অফিস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া।

    যুব সমাজ চায় বাংলায় কাজ পেতে

    মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও বলেন, “এই বাংলায় অনেক শিক্ষিত বেকার আছে। এখানে দরকার শিল্প। এখানে যুব সমাজ চায় বাংলায় কাজ পেতে। আগে এখানে কাজের পরিস্থিতি ছিল না। এখন সরকার রাজ্যকে নতুন ভাবে তৈরি করার কাজ করছে। আমাদের সরকার আগামীদিনে সাহায্য করবে ছোট বড় উদ্যোক্তাদের। এআই, তথ্য প্রযুক্তি , ডিজিটাল ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে এই ধরনের উদ্যোগ। আগামী দিনে সরকার আপনাদের পাশে থাকবে। আমি আশা রাখি এই গ্রুপ আগামীদিনে আরও বেশি করে এখানে বিনিয়োগ করবে। রাজ্য সরকার কথা দিচ্ছে আপনাদের পাশে সরকার থাকবে।”

    রাখি বন্ধন বাংলার মানুষকে বেঁধে রাখবে

    মুখ্যমন্ত্রীর কথায়,“এই বছর রাখি পূর্ণিমা শুধু একটা উৎসব না। এবছর সরকার রাখি বন্ধন পালন করবে যা বাংলার মানুষকে বেঁধে রাখবে। আগামিকাল চার হাজারের বেশি কার্যক্রম হবে দেশ জুড়ে রাখি বন্ধন উৎসব এর জন্য। এবার বিজেপি সরকার দেশপ্রেমের বন্ধনে রাখি বন্ধন উৎসব পালন করবে।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি আমার সকল ভাই বোনদের বলবো যারা চলে গেছিলেন বাইরের রাজ্যে দেশে তারা ফিরে আসুন। এরাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার কাজ করছে। আগামীদিনে কাজের সুযোগ বাড়বে আসবে। সরকার আপনাদের সঙ্গে আছে ফিরে আসুন। সকলকে শুভেচ্ছা। সকলে আসুন যার যা লাগবে সেটা দিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আছে আপনাদের পাশে।”

  • Onion Price Surge: দিল্লিতে ভর্তুকিতে ৩৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি, দাম নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রের ‘কন্দ এক্সপ্রেস’

    Onion Price Surge: দিল্লিতে ভর্তুকিতে ৩৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি, দাম নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রের ‘কন্দ এক্সপ্রেস’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পেঁয়াজের লাগামছাড়া দাম (Onion Price Surge) নিয়ন্ত্রণে এবার বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। আজ, বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানী দিল্লিতে ভর্তুকি দিয়ে প্রতি কেজি ৩৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে শুরু করেছে সরকার। বর্তমানে দিল্লিতে খুচরো বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। এই পরিস্থিতিতে জোগান বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে আনতেই সরকারি মজুত থেকে পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ভর্তুকি মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি (Onion Price Surge)

    এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ নিয়ে প্রথম বিশেষ রেল রেক ইতিমধ্যেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী বৃহস্পতিবার ভর্তুকি মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বলে জানিয়েছেন ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের এক প্রবীণ আধিকারিক।

    ২০২৬ সালের জন্য দেশের বিভিন্ন পেঁয়াজ উৎপাদনকারী রাজ্যে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন পেঁয়াজের বাফার মজুত রাখা হয়েছে। সেই মজুত থেকেই বাজারে পেঁয়াজ ছাড়া হচ্ছে। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, নাফেড, এনসিসিএফ এবং কেন্দ্রীয় ভান্ডারের মাধ্যমে খুচরো বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে।

    এনসিসিএফের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অনিস জোসেফ চন্দ্র বুধবার সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “আগামীকাল দিল্লিতে বিক্রি শুরু হবে। এরপর সপ্তাহান্তের মধ্যে এই পরিষেবা এনসিআর অঞ্চলেও বাড়ানো হবে।”

    এনসিসিএফের কাছে প্রায় ৬২ হাজার টন পেঁয়াজের বাফার মজুত রয়েছে। তার মধ্যে মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে ৪০০ টন পেঁয়াজ বিশেষ ‘কন্দ এক্সপ্রেসে’র মাধ্যমে দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। ট্রেনটি এদিনই দিল্লিতে এসে পৌঁছেছেও বলে খবর।

    এনসিসিএফ দিল্লির ১০০টি কেন্দ্রীয় ভান্ডারের দোকানের মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি করবে। মাদার ডেয়ারির ৩০০টি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমেও পেঁয়াজ বিক্রির বিষয়েও আলোচনা চলছে। ভ্রাম্যমাণ গাড়ির মাধ্যমেও পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ১৫টি গাড়ি নামানো হবে। শনিবার থেকে সেই সংখ্যা বেড়ে হবে ৪০ (Onion Price Surge)। চন্দ্র জানান, রেলপথে আসা পেঁয়াজের একটি অংশ চণ্ডীগড়, লুধিয়ানা, বারাণসী এবং অন্যান্য শহরেও বিক্রি করা হবে।

    পেঁয়াজের বাফার মজুত

    নাফেডের কাছেও ৫৫ হাজার টনের কিছু কম পেঁয়াজের বাফার মজুত রয়েছে। তারাও দিল্লির পাশাপাশি কোচি, গুয়াহাটি-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রে পেঁয়াজ বিক্রি করবে। দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ রেল রেকের মাধ্যমে রাজধানীতে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ পাঠাচ্ছে। এই বিশেষ রেল পরিষেবার নাম দেওয়া হয়েছে ‘কন্দ এক্সপ্রেস’।

    প্রথম বিশেষ রেল রেকটিতে ৮০০ টন পেঁয়াজ রয়েছে। সেটি ইতিমধ্যেই নাসিক থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছে। দিল্লির পাশাপাশি চেন্নাই, এরনাকুলাম, মাদুরাই এবং গুয়াহাটিতেও বিশেষ রেকের মাধ্যমে পেঁয়াজ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও ওই রুটগুলির জন্য এখনও বুকিং করা হয়নি।

    এক মাসে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২৮ শতাংশ

    গত এক মাসে পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২৫ জুলাই সর্বভারতীয় গড় খুচরো দাম ছিল প্রতি কেজি ৩৪ টাকা ৮০ পয়সা। ২৫ অগাস্ট তা বেড়ে হয়েছে ৪৪ টাকা ৭২ পয়সা। অর্থাৎ এক মাসে দাম বেড়েছে ২৮ শতাংশেরও বেশি।

    এক বছর আগের তুলনায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। গত বছর একই সময়ে পেঁয়াজের গড় খুচরো দাম ছিল কেজি প্রতি ২৮ টাকা ৬৭ পয়সা। সেই তুলনায় বর্তমানে দাম বেড়েছে প্রায় ৫৬ শতাংশ (Onion Price Surge)।

    বিভিন্ন বড় শহরে দাম আরও বেশি। বুধবার চেন্নাই এবং কলকাতায় পেঁয়াজের খুচরো দর ছিল কেজি প্রতি ৬০ টাকা। এক বছর আগে এই দুই শহরে দাম ছিল যথাক্রমে ৩৫ টাকা এবং ৩২ টাকা। দিল্লিতে বর্তমানে পেঁয়াজের দাম ৫৫ টাকা কেজি, যেখানে এক বছর আগে ছিল ৩৩ টাকা। মুম্বইয়ে দাম ৪৮ টাকা, এক বছর আগেও যা ছিল ৩২ টাকা। রাঁচিতে পেঁয়াজের দাম বেড়ে হয়েছে ৩৮ টাকা, গত বছর ছিল ২৫ টাকা।

    পাইকারি বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী দাম

    খুচরো বাজারের পাশাপাশি পাইকারি বাজারেও পেঁয়াজের দাম দ্রুত বেড়েছে। মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ অগাস্ট পেঁয়াজের সর্বভারতীয় গড় পাইকারি দাম ছিল কেজি প্রতি ৩৬ টাকা ৭৩ পয়সা। এক বছর আগে এই দাম ছিল ২২ টাকা ৫৪ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরে পাইকারি দাম বেড়েছে ৬৩ শতাংশ।

    শুধু গত এক মাসেই পাইকারি দামে ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে।

    সরকারি আধিকারিকদের মতে, অগাস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে পেঁয়াজের দামে সাধারণত যে মরশুমি বৃদ্ধি দেখা যায়, এবারও তার প্রভাব পড়েছে। এর সঙ্গে উৎসবের মরশুমে চাহিদা বৃদ্ধি, আবহাওয়াজনিত সমস্যা, সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং মানুষের ভোগের ধরন বদলে যাওয়াও দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ (Onion Price Surge)।

    চাহিদা মেটাতে পেঁয়াজের ঘাটতি নেই, দাবি কেন্দ্রের

    দাম বাড়লেও আগামী কয়েক মাসে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত পেঁয়াজ রয়েছে বলে দাবি করেছে কেন্দ্র। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ কৃষিবর্ষে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হতে পারে প্রায় ৩ কোটি ৭ লাখ ৩০ হাজার টন। আগের বছর উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ৩ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার টন।

    অর্থাৎ উৎপাদন মোটের উপর আগের বছরের কাছাকাছিই রয়েছে। ফলে পর্যাপ্ত মজুত ও সরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে আগামী দিনে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলেই আশা (Onion Price Surge) কেন্দ্রের।

     

  • Nepal Flash Floods: “১৩৩ নয়, ৩০০-রও বেশি ভারতীয় নিখোঁজ”, বললেন নেপালের মন্ত্রী

    Nepal Flash Floods: “১৩৩ নয়, ৩০০-রও বেশি ভারতীয় নিখোঁজ”, বললেন নেপালের মন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে (Nepal Flash Floods) মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৭৮। বুধবারের এই বিপর্যয়ের পর এখনও নিখোঁজ প্রায় ৮০০ জন। তাঁদের মধ্যে ৩০০-রও বেশি ভারতীয় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল (Shishir Khanal)। ভয়াবহ বন্যায় হিমালয়ের পাদদেশের এই দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    নেপালের বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য (Nepal Flash Floods)

    নেপালের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, বন্যায় বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। এখনও বহু মানুষের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সংবাদ সংস্থাকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে এবং এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। বিপর্যয়ের সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি কতটা, তা নির্ধারণের চেষ্টা করছি।”

    ভারত ও চিনের মাঝখানে অবস্থিত স্থলবেষ্টিত নেপাল হড়পা বান-প্রবণ দেশ। প্রতি বছর বহু ভারতীয় পর্যটক ও তীর্থযাত্রী নেপালে যান। এর আগে জানা গিয়েছিল, নিখোঁজ ৭৫০-রও বেশি মানুষের মধ্যে অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার অন্তত ৫০ জন তীর্থযাত্রীও ছিলেন।

    পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। বিপদে পড়া ভারতীয়দের সাহায্যের জন্য দু’টি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে—৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং ৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০।

    নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিপর্যয়ের এই সময়ে কাঠমান্ডুকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

    ইতিমধ্যেই নেপালে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত। ভারতের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নেপালের বিদেশমন্ত্রী বলেন, “মাননীয় বিদেশমন্ত্রী এবং ভারত সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমাদের বন্যা-ত্রাণের কাজে সাহায্যের জন্য ভারত যে উদার মানবিক সাহায্য এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী পাঠিয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Nepal Flash Floods)। এই কঠিন সময়ে ভারতের দ্রুত পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্ব এবং পারস্পরিক সংহতির শক্তি তুলে ধরেছে।”

    ভারতের ৩ রাজ্যে সতর্কতা

    এদিকে নেপালের পরিস্থিতির জেরে ভারতের উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তিনটি রাজ্যেরই সঙ্গে নেপালের সীমান্ত রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখছে প্রশাসন। আগামী ২৪ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে।

    বন্যার আশঙ্কাপ্রবণ এলাকাগুলিতে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দল মোতায়েন করা হয়েছে। নেপাল থেকে ভারতে প্রবাহিত নদীগুলির জলস্তরের উপরও কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

    জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট জ্ঞানেশ্বর সিংহ সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “কেন্দ্রীয় জল কমিশন গণ্ডক নদীতে জলস্তর বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে পরামর্শ জারি করেছিল। সেই কারণে সকাল থেকেই আমরা নিয়মিত বিরতিতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং নদীগুলির জলস্তরের উপর বিশেষ নজর রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। রাজ্য সরকারগুলিও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে।”

    নেপালের পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। নিখোঁজদের সন্ধানে (Shishir Khanal) উদ্ধারকাজ জোরদার করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্যগুলিতেও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জোরদার করা হয়েছে প্রস্তুতি (Nepal Flash Floods)।

     

  • R-37M Missile: গতি ম্যাক ৬, পাল্লা ৪০০ কিমি! রাশিয়ার থেকে ৩০০টি আর-৩৭এম ‘অ্যাওয়াক্স-কিলার’ কিনছে ভারত?

    R-37M Missile: গতি ম্যাক ৬, পাল্লা ৪০০ কিমি! রাশিয়ার থেকে ৩০০টি আর-৩৭এম ‘অ্যাওয়াক্স-কিলার’ কিনছে ভারত?

    সুশান্ত দাস

    ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তি আরও বাড়াতে রুশ আর-৩৭এম ভেরি-লং-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল কেনার বিষয়ে ভারত এগোচ্ছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। প্রায় ৩০০টি আর-৩৭এম ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। চুক্তিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমানে এই ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    ন্যাটো নামকরণ ‘এএ-১৩ অ্যাক্সহেড’

    ন্যাটো নামকরণ অনুযায়ী, আর-৩৭এম মিসাইলকে ‘এএ-১৩ অ্যাক্সহেড’ বলা হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্র সুখোই-৩০ এমকেআই-তে যুক্ত হলে ভারতীয় বায়ুসেনা হাতে থাকা প্রচলিত আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় আরও অনেক বেশি দূরপাল্লার একটি অস্ত্র পাবে। তবে সর্বোচ্চ ঘোষিত পাল্লা এবং বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর পাল্লা এক বিষয় নয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি কোন উচ্চতা থেকে ছোড়া হচ্ছে, উৎক্ষেপণের সময় বিমানের গতি কত, লক্ষ্যবস্তু কত দূরে এবং লক্ষ্য কীভাবে গতিপথ পরিবর্তন করছে—এসব বিষয়ের উপর প্রকৃত কার্যকর পাল্লা নির্ভর করে।

    কেন এত শক্তিশালী আর-৩৭এম?

    আর-৩৭এম মূলত কাছাকাছি দূরত্বের বিমানযুদ্ধ বা ডগফাইটের জন্য তৈরি নয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হল শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ আকাশযানকে অনেক দূর থেকেই আক্রমণ করা।

    এই তালিকায় রয়েছে—

    • ● এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (অ্যাওয়াক্স) বিমান
    • ● আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার বিমান
    • ● ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্ল্যাটফর্ম
    • ● আকাশে থাকা কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল প্ল্যাটফর্ম

    এই ধরনের বিমান সরাসরি শত্রু যুদ্ধবিমানের মতো আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন না করলেও আধুনিক বিমানযুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    অ্যাওয়াক্স বিমানগুলি বিশাল এলাকার আকাশ পর্যবেক্ষণ করে শত্রু বিমান শনাক্ত ও অনুসরণ করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ট্যাঙ্কার বিমান যুদ্ধবিমানগুলিকে দীর্ঘসময় আকাশে থাকার সুযোগ দেয়। ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্ল্যাটফর্মগুলি শত্রুর রেডার, যোগাযোগ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে এই সহায়ক বিমানগুলিকে দূরপাল্লা থেকে সরিয়ে দিতে পারলে গোটা শত্রু বিমান অভিযানের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

    আর-৩৭এমকে কেন ‘অ্যাওয়াক্স কিলার’ বলা হয়?

    আর-৩৭এম এমন লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলি সাধারণত যুদ্ধবিমানের তুলনায় অনেক পিছনে অবস্থান করে। একটি অ্যাওয়াক্স বিমান সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্রের সামনের সারিতে থাকে না। নিরাপদ দূরত্বে থেকে সেটি বিশাল এলাকার আকাশ পর্যবেক্ষণ করে এবং নিজেদের যুদ্ধবিমানকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে। দূরপাল্লার আর-৩৭এম-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র সেই তুলনামূলক নিরাপদ দূরত্বকেই চ্যালেঞ্জ করতে পারে। একইভাবে আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার কিংবা ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমানও শত্রুর বিমানবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্ল্যাটফর্মগুলির উপর দূর থেকে হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে শত্রুকে তার যুদ্ধবিমান ও সহায়ক বিমানগুলিকে আরও পিছনে সরিয়ে রাখতে হতে পারে। এই কারণেই আর-৩৭এম-কে অনেক সময় ‘অ্যাওয়াক্স কিলার’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

    আর-৩৭এম ক্ষেপণাস্ত্রের মারণ ক্ষমতা কত দূর?

    আর-৩৭এম-এর পাল্লা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন পরিসংখ্যান পাওয়া যায়। কিছু রিপোর্টে ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত সর্বোচ্চ পাল্লার কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তবে কার্যকর পাল্লা পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল। উৎক্ষেপণের উচ্চতা, যুদ্ধবিমানের গতি, লক্ষ্যবস্তুর দূরত্ব এবং লক্ষ্যবস্তুর গতিবিধি—সবকিছুই ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। আর-৩৭এম-এর সর্বোচ্চ গতি প্রায় ম্যাক ৬ পর্যন্ত বলে উল্লেখ করা হয়। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪.০৬ মিটার, ওজন প্রায় ৫১০ কিলোগ্রাম এবং এতে প্রায় ৬০ কেজির ফ্র্যাগমেন্টেড ওয়ারহেড রয়েছে। অর্থাৎ আকার ও ওজন—দুই দিক থেকেই এটি অত্যন্ত বড় আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র।

    কীভাবে লক্ষ্য খুঁজে নেয় আর-৩৭এম?

    আর-৩৭এম ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এর উন্নত নির্দেশনা ব্যবস্থা। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্রটি ইনারশিয়াল ন্যাভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করে এগোতে পারে। উড়ানের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরে থেকে লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান সম্পর্কে নতুন তথ্যও পাওয়া যায়। এরপর লক্ষ্যবস্তুর কাছে পৌঁছলে ক্ষেপণাস্ত্রের নিজস্ব রেডার সিকার সক্রিয় হয়ে লক্ষ্যকে অনুসরণ করতে পারে। অর্থাৎ উৎক্ষেপণকারী সুখোই-৩০ এমকেআই-কে পুরো উড়ানজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে একইভাবে লক্ষ্যবস্তুর দিকে নির্দেশ করে যেতে হয় না। শেষ পর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্রের নিজস্ব রেডার ব্যবস্থা লক্ষ্য শনাক্ত করে আঘাত হানতে পারে।

    সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমানের সঙ্গে আর-৩৭এম-এর সমন্বয় কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতের কাছে বিপুল সংখ্যায় থাকা সুখোই-৩০ এমকেআই ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান যুদ্ধবিমান। বিভিন্ন দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্র বহনে সক্ষম এই যুদ্ধবিমানের সঙ্গে আর-৩৭এম যুক্ত হলে ভারতের দূরপাল্লার আকাশযুদ্ধের ক্ষমতা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে বড় আকারের সুখোই-৩০ এমকেআই-এর শক্তিশালী রেডার, দীর্ঘসময় আকাশে থাকার ক্ষমতা এবং বড় অস্ত্র বহনের সক্ষমতার সঙ্গে অত্যন্ত দীর্ঘপাল্লার আর-৩৭এম-এর সমন্বয় একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষমতা তৈরি করতে পারে। এর ফলে শুধু শত্রু যুদ্ধবিমান নয়, শত্রুর পিছনের সারিতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ আকাশযানকেও লক্ষ্য করার সুযোগ বাড়বে।

    চিন ও পাকিস্তানের মোকাবিলায় কেন দরকার দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র?

    আধুনিক আকাশযুদ্ধে বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ বা বিআরআর যুদ্ধের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। অর্থাৎ যুদ্ধবিমানগুলি একে অপরের খুব কাছে গিয়ে লড়াই করার পরিবর্তে অনেক দূর থেকেই প্রতিপক্ষকে শনাক্ত ও আঘাত করার চেষ্টা করছে। চিনের পিএল-১৫-এর মতো দীর্ঘপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এই প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করেছে। পাকিস্তানও আধুনিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দিকে এগিয়েছে। ভারত নিজস্ব দীর্ঘপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র, বিশেষ করে অস্ত্র পরিবারের উন্নত সংস্করণ নিয়েও কাজ করছে। কিন্তু দেশীয় এই প্রকল্পগুলির উন্নয়ন ও পরীক্ষা চলতে থাকায় আর-৩৭এম-এর মতো ইতিমধ্যে তৈরি ও ব্যবহৃত একটি অস্ত্র দ্রুত দীর্ঘপাল্লার আকাশযুদ্ধের সক্ষমতা দিতে পারে।

    ‘সুপার সুখোই’-এর সঙ্গে ভয়ঙ্কর সমন্বয়

    ভারত ইতিমধ্যেই সুখোই-৩০ এমকেআই-কে আরও আধুনিক করে তোলার জন্য ‘সুপার সুখোই’ আধুনিকীকরণ কর্মসূচি নিয়ে এগোচ্ছে। এই আধুনিকীকরণের আওতায় বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এর মধ্যে রয়েছে—

    • ● উন্নত এইএসএ রেডার
    • ● অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা
    • ● উন্নত অ্যাভিওনিক্স
    • ● নতুন সেন্সর ও মিশন ব্যবস্থা
    • ● দেশীয় ও বিদেশি দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রের সংযুক্তি
    • ● দেশীয় অ্যাস্ট্রা ক্ষপণাস্ত্র পরিবারের বিভিন্ন সংস্করণের সংযুক্তি
    • ● ব্রহ্মোস-এর দীর্ঘপাল্লার সংস্করণের মতো অস্ত্রের সংযুক্তি
    • ● আর-৩৭এম-এর মতো অতিদূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য সংযুক্তি

    ফলে সুখোই-৩০ এমকেআই আগামী বহু বছর ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান যুদ্ধবিমান হিসেবে কার্যকর থাকার সুযোগ পাবে।

    সুখোই-৩০ এমকেআই-তে আর-৩৭এম যুক্ত হলে ভারতের কী লাভ?

    আর-৩৭এম সংযুক্তির সম্ভাব্য গুরুত্ব শুধু নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ভারতীয় বায়ুসেনার আকাশযুদ্ধের কৌশলেও আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।

    এর মাধ্যমে—

    • ● প্রথমত, ভারতীয় যুদ্ধবিমান আরও দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সুযোগ পাবে।
    • ● দ্বিতীয়ত, শত্রুর অ্যাওয়াক্স, ট্যাঙ্কার এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক প্ল্যাটফর্মের উপর চাপ তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।
    • ● তৃতীয়ত, শত্রুর বিমানবাহিনীকে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক বিমান আরও পিছনে সরিয়ে রাখতে বাধ্য করা যেতে পারে।
    • ● চতুর্থত, স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় ভারতের আকাশ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হতে পারে।
    • ● পঞ্চমত, উন্নত রেডার, সেন্সর এবং নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধব্যবস্থার সঙ্গে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হলে ভারতীয় বায়ুসেনার সমন্বিত আকাশ অভিযান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

    ইউক্রেন যুদ্ধেও ব্যবহৃত হয়েছে আর-৩৭এম

    আর-৩৭এম ইতিমধ্যেই রুশ যুদ্ধবিমানগুলির সঙ্গে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার মিগ-৩১ এবং বিভিন্ন সুখোই যুদ্ধবিমান। ইউক্রেন যুদ্ধে আর-৩৭এম ব্যবহারের বিভিন্ন রিপোর্টও সামনে এসেছে। সেই অভিজ্ঞতা আধুনিক বিমানযুদ্ধে অত্যন্ত দীর্ঘপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতি শত্রু যুদ্ধবিমানকে নিজেদের অবস্থান, গতি এবং পরিচালন এলাকার বিষয়ে আরও সতর্ক হতে বাধ্য করতে পারে।

    বদলে যেতে পারে আঞ্চলিক আকাশযুদ্ধের সমীকরণ

    ভারতের সুখোই-৩০ এমকেআই বহরে আর-৩৭এম যুক্ত হওয়ার খবর সত্যি হলে তা শুধু ভারতীয় বায়ুসেনার অস্ত্রভাণ্ডারেই নতুন সংযোজন হবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার আকাশশক্তির ভারসাম্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আধুনিক বিমানযুদ্ধে শুধু কতগুলি যুদ্ধবিমান রয়েছে, সেটাই এখন মূল বিষয় নয়। কোন বিমান কত দূর থেকে লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে, কত দূরের লক্ষ্যকে আঘাত করতে পারে এবং কত দ্রুত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য পেতে পারে—এসব বিষয়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    কোনও পক্ষই চুক্তি নিয়ে খোলসা করেনি

    এই জায়গাতেই আর-৩৭এম এবং ‘সুপার সুখোই’-এর সম্ভাব্য সমন্বয় তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে প্রায় ৩০০টি আর-৩৭এম কেনার ১.২ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি এবং নির্দিষ্ট সরবরাহের সময়সীমা নিয়ে প্রকাশ্য সরকারি বিবৃতি না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে রিপোর্টভিত্তিক সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি হিসেবেই দেখা উচিত। চূড়ান্ত চুক্তি, অস্ত্রের সংখ্যা, সংযুক্তিকরণের সময়সূচি এবং বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য সামনে এলে ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশযুদ্ধের প্রকৃত সক্ষমতা আরও স্পষ্ট হবে।

  • Amit Shah: ‘ভারত কোনও ধর্মশালা নয়’, অনুপ্রবেশমুক্ত দেশ গড়ার বার্তা শাহের

    Amit Shah: ‘ভারত কোনও ধর্মশালা নয়’, অনুপ্রবেশমুক্ত দেশ গড়ার বার্তা শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকার ভারতকে “অনুপ্রবেশমুক্ত” করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত ২৫ অগাস্ট কথাগুলি বলেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তাঁর দাবি, বেআইনি অনুপ্রবেশ দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং জন-ভারসাম্যের ক্ষেত্রে (Infiltrator Free Nation) বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। গোয়েন্দা ব্যুরোর জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, ভারত কোনও ধর্মশালা বা আশ্রয়কেন্দ্র নয়। তাঁর বক্তব্য, দেশের মাটিতে বসবাসের অধিকার কেবল নাগরিকদেরই রয়েছে। তিনি বলেন, “খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মোদি সরকার দেশকে অনুপ্রবেশমুক্ত করবে।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত আট মাসে তিনি দেশের সমস্ত সীমান্তবর্তী রাজ্য সফর করেছেন। সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে চার দফা কৌশল সংক্রান্ত একটি নথিও রাজ্যগুলির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।সন্ত্রাসবাদ নির্মূল এবং তার “৩৬০ ডিগ্রি নেটওয়ার্ক” ভেঙে দিতে দৈনন্দিন নিরাপত্তা অভিযানে প্রহার কৌশল কার্যকর করার আহ্বান জানান শাহ।

    নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও জনবিন্যাসের সঙ্গে অনুপ্রবেশের যোগ (Amit Shah)

    শাহ তাঁর বক্তব্যে অনুপ্রবেশের বিষয়টিকে বৃহত্তর জাতীয় নিরাপত্তার কাঠামোর মধ্যে তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি শুধু সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং জনবিন্যাস পরিবর্তনের উপরও পড়ে। সরকার অল্প সময়ের মধ্যেই দেশকে অনুপ্রবেশমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করবে বলেও জানান তিনি। সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি, বেআইনি অভিবাসন রোধ এবং অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে প্রযুক্তির ব্যবহার—এই বিষয়গুলিও সরকারের নিরাপত্তা পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। শাহ বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তাকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এগোতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাজ্য পুলিশের বাহিনী, কেন্দ্রীয় তদন্ত ও গোয়েন্দা সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের উপর জোর দেন তিনি।

    চার দফা সীমান্ত নিরাপত্তা কৌশল

    গত আট মাসে সমস্ত সীমান্তবর্তী রাজ্য সফরের কথা উল্লেখ করে শাহ জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে চার দফা কৌশল সম্বলিত একটি নথি রাজ্যগুলিকে দেওয়া হয়েছে। অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং তার সঙ্গে যুক্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা বাড়ানোই এই কৌশলের লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

    সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এর আগে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে ড্রোন, রাডার, স্মার্ট ক্যামেরা-সহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলেছিলেন শাহ। অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতেই এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা।

    সন্ত্রাস দমনে প্রহার কৌশল

    সন্ত্রাসবাদ নির্মূল এবং তার সম্পূর্ণ সহযোগী নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে দৈনন্দিন নিরাপত্তা অভিযানে প্রহার কৌশল কার্যকর করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    শাহের বক্তব্য, শুধু বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসবাদী ঘটনা মোকাবিলা করলেই হবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সামগ্রিক কৌশল গ্রহণ করতে হবে। বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপরও জোর দেন তিনি।

    তাঁর দাবি, নকশালবাদ, জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদ—এই বড় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলির বিরুদ্ধে সরকার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। এই অগ্রগতির জন্য বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ বাহিনী, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসাও করেন শাহ।

    নকশালবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও উত্তর-পূর্বের অশান্তি

    শাহ বলেন, নকশালবাদ, জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহ ছিল দেশের তিনটি বড় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ। তাঁর দাবি, সরকার এই সমস্যাগুলির মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে।

    একই সঙ্গে মাদক, নকশালবাদ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অশান্তির মতো সমস্যার গুরুত্ব আগের সরকারগুলির আরও আগে উপলব্ধি করা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, এই সমস্যাগুলি মোকাবিলায় দেরি হওয়ায় দেশকে কয়েক দশক ধরে তার পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে।

    কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের উদাহরণ হিসেবে পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন শাহ। তাঁর দাবি, এক রাতের মধ্যেই সংগঠনটির সম্পূর্ণ ক্যাডার কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয় এবং সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করা হয়। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার যৌথ পদক্ষেপের মাধ্যমে সংগঠিত নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার উদাহরণ হিসেবে তিনি বিষয়টি তুলে ধরেন (Infiltrator Free Nation)।

    বিদেশে পালিয়ে থাকা ২৭৪ অভিযুক্তকে দেশে ফেরানো

    বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা পলাতকদের ভারতীয় আইনের আওতায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন শাহ (Amit Shah)।

    তাঁর বক্তব্য, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ২৭৪ জন পলাতককে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ভারতীয় আইনের মুখোমুখি করার জন্য প্রতিটি রাজ্যকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণের আহ্বান জানান তিনি।

    একই সঙ্গে বহু সংস্থার সমন্বিত কেন্দ্রের আধুনিকীকরণের কথাও উল্লেখ করেন শাহ। তাঁর মতে, এই প্ল্যাটফর্ম বিভিন্ন স্তরে কার্যকর ফলাফল দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। সংগঠিত অপরাধ ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান এবং সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে দেখা হচ্ছে।

    এক বছরের মধ্যে নতুন ফৌজদারি আইন পুরোপুরি কার্যকর

    দেশের তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন আগামী এক বছরের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করা হবে বলে জানান শাহ।

    তাঁর দাবি, নতুন আইন কার্যকর হলে ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তির গতি বাড়বে। এমনকি তিন বছরের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দোষী সাব্যস্ত করার হার ২৫ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সংক্রান্ত আলোচনাকে শুধু বর্তমান হুমকির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরে সম্ভাব্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের পূর্বাভাস দেওয়ার উপরও জোর দেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, কোনও ঝুঁকি বড় হুমকিতে পরিণত হওয়ার আগেই তা চিহ্নিত করে তার মোকাবিলার কৌশল তৈরি করতে হবে।

    পুলিশিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্য বিশ্লেষণের উপর জোর

    তরুণ পুলিশ ও নিরাপত্তা আধিকারিকদের আরও বেশি করে তথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের আহ্বান জানান শাহ।

    তাঁর মতে, বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্যকে একত্রিত করে বিশ্লেষণ করতে হবে এবং অপরাধের ধরন ও প্রবণতা চিহ্নিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিতে হবে। এর মাধ্যমে এমন একটি পূর্বাভাসভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হবে, যেখানে বড় ধরনের হুমকি তৈরি হওয়ার আগেই সম্ভাব্য বিপদ চিহ্নিত করা যাবে।

    নিরাপত্তা সংস্থাগুলিও এখন একাধিক উৎস থেকে (Infiltrator Free Nation) তথ্য একত্রিত করে উন্নত বিশ্লেষণাত্মক প্রযুক্তির সাহায্যে অপরাধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির ধরন শনাক্ত করার দিকে এগোচ্ছে (Amit Shah)।

    মাদকমুক্ত ভারতের জন্য তিন স্তরের কৌশল

    শাহের বক্তব্যে মাদকবিরোধী অভিযানও গুরুত্ব পেয়েছে। দেশের সমস্ত রাজ্যের পুলিশকে মাদক নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিভঙ্গি সংক্রান্ত ২০২৬-২০২৯ নথি বাস্তবে কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের অপব্যবহার থেকে রক্ষা করার উপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    মাদকমুক্ত ভারত গড়তে শনাক্তকরণ, ব্যাহত করা এবং ধ্বংস—এই তিন স্তরের কৌশল গ্রহণের প্রস্তাব দেন শাহ। এর মাধ্যমে মাদক চক্র শনাক্ত করা, তাদের কার্যকলাপ ব্যাহত করা এবং শেষ পর্যন্ত বেআইনি মাদক ব্যবসাকে সহায়তা করে এমন গোটা পরিকাঠামো ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    শাহের বক্তব্যের বিবরণ অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সফল লড়াই করতে পারে একমাত্র ভারত।”

    ভবিষ্যতের সঙ্কটের পূর্বাভাস দেওয়ার বার্তা

    বিশ্বজুড়ে ঘটে চলা পরিবর্তন থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে জাতীয় নিরাপত্তা নীতি তৈরি করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন শাহ।ভবিষ্যতের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা, জ্বালানি সঙ্কট, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, বাড়তে থাকা জঙ্গিবাদ, সাইবার যুদ্ধ, অনুপ্রবেশ এবং মাদক চক্রের মতো বিষয়গুলিকে বিবেচনায় রাখার কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য, সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলি প্রথম পর্যায়েই চিহ্নিত করে বড় সঙ্কটে পরিণত হওয়ার আগেই তা মোকাবিলা করতে হবে। তাঁর লক্ষ্য—একটি নিরাপদ, অনুপ্রবেশমুক্ত এবং মাদকমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা (Amit Shah)।

    সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত নিরাপত্তায় শাহের বার্তা

    সাম্প্রতিক মাসগুলিতে অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক বক্তব্য দিয়েছেন শাহ। ২২ মে তিনি জানান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার সীমান্তে এক বছরের মধ্যে স্মার্ট সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ড্রোন, রাডার, স্মার্ট ক্যামেরা-সহ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো এবং অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধ করাই এই ব্যবস্থার লক্ষ্য (Infiltrator Free Nation)।

    ২৬ মে দেশজুড়ে অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা জানায় সরকার। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাভলেকরকে কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়। বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে জনসংখ্যার পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা কমিটি খতিয়ে দেখবে বলে জানানো হয়।

    ২৮ মে শাহ দাবি করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে নিয়মিত অনুপ্রবেশ হয়েছে এবং এখন অনুপ্রবেশকারীরা নিজেরাই ফিরে যেতে শুরু করেছেন। তিনি অনুপ্রবেশকারীদের স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। বেআইনি অভিবাসন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর বৃহত্তর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থানেরই অংশ হিসেবে এই মন্তব্যকে দেখা হচ্ছে।

    যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর জোর

    জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলনে শাহের বক্তব্যে সরকারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতির একাধিক দিক উঠে আসে। অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত নজরদারি থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদ, নকশালবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ, মাদক এবং বিদেশে পালিয়ে থাকা অভিযুক্ত—সব ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের উপর জোর দেন তিনি।

    একই সঙ্গে প্রযুক্তি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আরও বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর মতে, নিরাপত্তা নীতিকে শুধু বর্তমান হুমকির মোকাবিলায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরে কী ধরনের নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আসতে পারে, তারও আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে।

    শাহের বক্তব্যের মূল বার্তা হল, কোনও হুমকি বড় সঙ্কটে পরিণত হওয়ার আগেই তা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসবাদ এবং মাদক পাচারের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আগাম গোয়েন্দা তথ্যের (Infiltrator Free Nation) উপর নির্ভর করে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী করাই সরকারের (Amit Shah) লক্ষ্য।

     

     

  • Nepal Flash Floods: ভোটে কোশীর কাছেই নিখোঁজ কলকাতার পর্যটক দল, নেপালের হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যবাসীকে নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী

    Nepal Flash Floods: ভোটে কোশীর কাছেই নিখোঁজ কলকাতার পর্যটক দল, নেপালের হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যবাসীকে নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের হড়পা বানে (Nepal Flash Flood) ভয়ঙ্কর বিপর্যয়। উদ্বেগ বাড়ছে বাংলায়। নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয়ের মধ্যে ৭১ জনই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। তাঁদের মধ্যে কলকাতার একটি ট্রাভেল ক্লাবের সঙ্গে কৈলাস-মানসরোবর যাত্রায় (Kailash Mansarovar yatra) যাওয়া ৩০ পর্যটক রয়েছেন। খোঁজ নেই ওই দলের দুই ম্যানেজারেরও। তাঁদের সঙ্গে শেষ বার যোগাযোগ হয়েছিল বুধবার সকাল ৮টা নাগাদ। নেপালের এই হড়পা বান ও বিপর্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একইসঙ্গে দিয়েছেন পাশে থাকার বার্তা।

    রাজ্যবাসীর পাশে থাকার বার্তা শুভেন্দুর

    নেপালে বিপর্যয়ের খবর পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লেখেন, “নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ফলে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয়কর মর্মান্তিক ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, সেই সমস্ত শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই। নেপালের মানুষের পাশে আমরা আছি।” কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নিতে যাওয়া তীর্থযাত্রীদের অধিকাংশই নিখোঁজ। ১০০-রও বেশি ভারতীয় পর্যটক নিখোঁজ। এই খবর শুনেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্য সরকার প্রতিবেশী নেপালের পাশে রয়েছে। তিনি লেখেন, “১০০-রও বেশি ভারতীয় পর্যটক তথা কৈলাস মানসরোবর যাত্রায় যাওয়া তীর্থযাত্রীদের নিখোঁজ হওয়ার খবরে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে যারা নেপাল ভ্রমণে গিয়েছেন, সেই সকল তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের অথবা কর্মসূত্রে যাওয়া ব্যবসায়ী ও কর্মীরা যারা এই দুর্যোগের দিনে বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন, সেই সকল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।”

    মানস সরোবর যাত্রায় কলকাতার দল

    ‘চলো যাই’ নামে কলকাতার ওই ট্রাভেল ক্লাবের তরফে জানা গিয়েছে, ৩০ জনের দলে এক আমেরিকা-প্রবাসী ভারতীয়ও রয়েছেন। দলে আছেন কলকাতার কসবার কয়েক জন বাসিন্দা। এছাড়া, চন্দননগর এবং বারাসতের কয়েক জন পর্যটকও নেপালে আটকে পড়েছেন বলে খবর। তবে তাঁদের বিস্তারিত পরিচয় এখনও মেলেনি। পর্যটকদের দলটি ২১ আগস্ট কলকাতা থেকে রওনা হয়েছিল। ২২ আগস্ট পৌঁছয় নেপালে। মঙ্গলবার কাঠমান্ডুতে থাকার পর বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্ত পেরিয়ে মানসরোবরের দিকে যাওয়ার কথা ছিল। সকাল পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। কয়েক জন পর্যটক সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ও বিভিন্ন ভিডিও-ও পোস্ট করেছিলেন। তার পর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

    পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    দলের দুই ম্যানেজার জয়ন্ত সান্যাল ও নৃপেন সরকারের ফোনে রোমিং পরিষেবা ছিল। তবু তাঁদের ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ হড়পা বানের জেরে নেপালের ভোটে কোশী (Bhote Koshi River) নদীর জল হঠাৎ বেড়ে যায়। সেকেন্ডের মধ্যে ধুলিস্যাৎ হয় একাধিক গ্রাম। যে এলাকায় বিপর্যয় ঘটেছে গতকাল, পর্যটকদের রুটও সেই অঞ্চলের মধ্যেই পড়ে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পর্যটকদের খোঁজে নেপালের সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল সংস্থার তরফে হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি। বিপর্যয়ের পরে ওই এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও কার্যত অচল। ফলে পর্যটকেরা কোথাও নিরাপদ জায়গায় আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

    বিভিন্ন এলাকায় আটকে পর্যটকরা

    হুগলির আরামবাগ থেকে যাওয়া আরও ৬৫ জন পর্যটক নেপালের চেতনপার্ক এলাকায় আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে অবশ্য যোগাযোগ রয়েছে। বিপর্যয়স্থল থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে থাকায় সরাসরি হড়পা বানের কবলে পড়েননি এই পর্যটকেরা। তবে নেপালের বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় পর্যটকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। নেপালে ছবির শুটিং করতে গিয়ে আটকে পড়েছেন অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রীও। তাঁদের সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ করা যায়নি। ছেলে তমোঘ্ন জানিয়েছেন, তাঁরা বিপর্যস্ত এলাকার কাছাকাছি নেই। মূল সমস্যা যোগাযোগ এবং বিমান পরিষেবায়। তাঁদের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে আপাতত আশঙ্কার কারণ নেই।

    রাজ্য সরকারের হেল্পলাইন নম্বর

    পশ্চিমবঙ্গ সরকার কাঠমাণ্ডুতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সমন্বয় রেখে কাজ করছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাঁরা আটকে পড়েছেন, তাঁদের সকলের নিরাপত্তা, দ্রুত উদ্ধার এবং সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গের ঠিক কতজন ব্যক্তি নিখোঁজ বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তা বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। আটকে পড়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং দ্রুত সহায়তা ও উদ্ধারকাজ নিশ্চিত করতে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের তরফে জরুরি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে।

    ভারতীয় দূতাবাস, নেপাল (ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ) হল:

    +৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং +৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০

    ভবানী ভবনে পৃথক পুলিশ কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। এই নম্বরগুলি হল:

    ০৩৩২৪৭৯৩৩১১ এবং ৯১৪৭৮৯০১৮১।

    নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রবল বৃষ্টি এবং ভোটে কোশী নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে যাওয়ার জেরে এই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলের তোড়ে সেতু, গ্রাম এবং একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু মানুষ নিখোঁজ হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় আটকে পড়েছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

LinkedIn
Share