Blog

  • Aurobindo Ghosh: বিপ্লবী থেকে ঋষি! সংগ্রাম থেকে যোগের পথে, ভারতের ইতিহাসে রহস্য নায়ক অরবিন্দ ঘোষ

    Aurobindo Ghosh: বিপ্লবী থেকে ঋষি! সংগ্রাম থেকে যোগের পথে, ভারতের ইতিহাসে রহস্য নায়ক অরবিন্দ ঘোষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথম জীবনে তিনি ছিলেন বিপ্লবী নায়ক। কাঁপন ধরিয়ে ছিলেন ব্রিটিশ শাসকের বুকে। জীবনের দ্বিতীয় পর্বে সেই তিনিই হয়ে উঠলেন যোগী ও দার্শনিক। আধ্যাত্মিকতার আলো জ্বেলে দিলেন অসংখ্য মানুষের প্রাণে। প্রথম জীবনের দুর্ধর্ষ বিপ্লবী অরিবিন্দ ঘোষ (Aurobindo Ghosh), পরে তিনিই ঋষি অরবিন্দ। ১৫ আগস্ট (15 August), ভারতের স্বাধীনতা দিবস তাঁরও জন্মতারিখ। থিয়েটার রোডের মামার বাড়িতে (এখন অরবিন্দ ভবন) অরবিন্দর জন্ম ১৮৭২ সালের ১৫ আগস্ট। তা হলেও, জেলের অ্যাডমিশন রেজিস্টারে শ্রীঅরবিন্দর ঠিকানা ঘোষপাড়া, কোন্নগর, হুগলি। বিংশ শতকের শুরুতেই বিপ্লবী নেতা অরবিন্দ ঘোষের নেতৃত্বে বাংলা সহ ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ওঠে বিপ্লববাদের ঢেউ।

    আগামী প্রজন্মের প্রেরণা ঋষি অরবিন্দ

    স্বাধীনতা সংগ্রামী দার্শনিক ঋষি অরবিন্দের ১৫৩-তম জন্ম বার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় আজ পালিত হচ্ছে। দেশকে ব্রিটিশ শাসনের হাত থেকে মুক্ত করতে অরবিন্দ ঘোষ যোগ দিয়েছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলনে। বন্দেমাতরম সংবাদপত্র সম্পাদনের পাশাপাশি বহু জাতীয়তাবাদী পত্র-পত্রিকার সম্পাদনার কাজ করেছেন তিনি। আলিপুর বোমা মামলায় এক বছর জেল বন্দি থাকার পর মুক্তি পেয়ে তিনি ফিরে যান আধ্যাত্মিক জীবনে। হয়ে ওঠেন ঋষি অরবিন্দ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ ঋষি অরবিন্দের জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে শাহ (Amit Shah on Rishi Aurobindo) বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামে ঋষি অরবিন্দের চেতনা এবং আধ্যাত্মিকতা ও দর্শনে তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত ও আলোকিত করে।

    বিপ্লবী অরবিন্দ, আলিপুর বোমা মামলা

    অরবিন্দের বাবা ছিলেন চিকিৎসক কৃষ্ণধন ঘোষ। মা স্বর্ণলতা দেবী ছিলেন রাজনারায়ণ বসুর কন্যা। দার্জিলিংয়ের ইংরেজি স্কুলে লেখাপড়ার সূত্রপাত তাঁর। এরপর পড়াশোনা ইংল্যান্ডে। ইংল্যান্ডে থাকার সময়ই ইতালি ও আয়ারল্যান্ডের ভাবধারার সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তবে দেশে স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন ভারতে ফেরার পর। ১৮৯০-তে কংগ্রেসের নরমপন্থী আন্দোলের কট্টর সমালোচনার মধ্য দিয়ে। সংগ্রামশীল জাতীয়তাবাদী মতবাদের অন্যতম নেতা ছিলেন তিনি। ভারতীয় যুব সমাজকে নিজের লেখা, বক্তব্যের মাধ্যমে বিপ্লবী মতাদর্শে দীক্ষিত করার কাজ করেছেন তিনি। বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে স্বদেশি আন্দোলনে উজ্জ্বল ভূমিকার জন্য তিনি দেশের প্রথম সারির নেতা হিসেবে পরিচিত পেয়েছিলেন তিনি। দেশমাতৃকার মুক্তিই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। অরবিন্দ জাতীয়তাবাদকে ধর্মের আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। দেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি ততদিনে বিপ্লবী গুপ্ত সংগঠনগুলির নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন। গীতার নিষ্কাম কর্মের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি তরুণ সমাজকে দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। ১৯০৮-এ আলিপুর বোমা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেফতার হন তিনি। ১৯০৯ সালে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান অরবিন্দ।

    জেলের অভ্যন্তরেই নারায়ণ দর্শন

    জেলে থাকার সময়ই তাঁর রাজনৈতিক ভাবাদর্শে আধ্যাত্মিকার সংস্পর্শ ঘটে। তাঁর জীবনে পরিবর্তন শুরু হয়। আধ্যাত্মিকতার টানে জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর তিনি যেন এক অন্য মানুষ! ঋষি শ্রীঅরবিন্দ। রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে চলে যান সুদূর পণ্ডিচেরিতে। গোটা বিশ্বের সামনে আর্বিভূত হন এক মহান ভারতীয় যোগী ও দার্শনিক। । ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় শ্রীঅরবিন্দ আশ্রম। ১৯৫০ সালের ৫ ডিসেম্বর ৭৮ বছর বয়সে প্রয়াত হন ঋষি শ্রীঅরবিন্দ। ভারতের স্বাধীনতার বয়স তখন আড়াই বছর।

  • PM Modi on Independence Day:  ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘শক্তির সপ্তধারা’র ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

    PM Modi on Independence Day: ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘শক্তির সপ্তধারা’র ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্যে ‘সপ্তসিন্ধু’র এক বিশাল মাহাত্ম্য রয়েছে। সাতটি নদীর অববাহিকাতেই গড়ে উঠেছিল প্রাচীন ভারতের সভ্যতা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi on Independence Day) দেশের ৮০ তম স্বাধীনতা দিবসে সেই আদি রসটাকেই ফিরিয়ে আনতে চাইলেন আধুনিক অর্থনীতির ময়দানে। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগামী দিনে দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে গেলে যে নতুন গতির প্রয়োজন, তার মূল চালিকাশক্তি হবে এই ‘সপ্তধারা’ (PM Modi Saptdhara Vision)। তাঁর কথায়, “বিগত সাত দশকে যা সম্ভব হয়নি, আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে এই সপ্তধারার শক্তিতে আমরা সেই অধরা স্বপ্ন সত্যি করব।”

    সাত দফা সংস্কার কর্মসূচি

    ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে ‘শক্তির সপ্তধারা’ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সপ্তসিন্ধুর প্রসঙ্গ টেনে জানিয়েছেন, এই সাতটি ধারাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার যে লক্ষ্য স্থির করেছে মোদি সরকার, তার কান্ডারি হয়ে থাকবে সাত শক্তি। মোদি জানিয়েছেন, স্বপ্ন সফল করার জন্য সাতটি ক্ষেত্রেই জোর দেওয়া হচ্ছে। দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে সাত দফা সংস্কার কর্মসূচির কথা বলেছেন মোদি।

    উৎপাদন শক্তি: এই কর্মসূচির মধ্যে প্রথমেই রয়েছে উৎপাদন শক্তি। দেশের নানা প্রান্তে উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে জোর দেবে সরকার। তবেই বিকাশের পথ প্রশস্ত হবে। প্রধানমন্ত্রী কথায়, দুনিয়া যখন কেবল নিজের কথা ভাবছে, তখন ভারত শুধু অন্যের তৈরি জিনিসের বাজার হয়ে বসে থাকতে পারে না। খরচে, গুণমানে আর বিপুল উৎপাদনে ভারতীয় পণ্যকে বিশ্বের দরবারে সেরা হতে হবে। ভারতকে হয়ে উঠতে হবে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জোগানদার বা গ্লোবাল সাপ্লায়ার।

    কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ: ভারতের মাটি ও কৃষকের হাতে যে জাদু আছে, তাকে বিশ্বের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়াই দ্বিতীয় লক্ষ্য। এখন আর কেবল দেশের পেট ভরানো নয়, ভারতীয় কৃষকের উৎপাদিত ফসল যাবে বিদেশের বাজারে। ফ্রি ট্রেড চুক্তিগুলোকে কাজে লাগিয়ে ভারতীয় মশলা, মিলেট, ট্র্যাডিশনাল খাবার, শাকসবজি আর ফুলকে বিশ্বের দরবারে এক একটি বিশ্বমানের ‘ব্র্যান্ড’ করে তোলাই এখন আসল চ্যালেঞ্জ।

    প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন: প্রযুক্তির মাঠে ভারত যে পিছিয়ে নেই, তা ইউপিআই (UPI) আর ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার দিয়েই প্রমাণ হয়ে গেছে। কিন্তু মোদীর চোখ এখন আরও দূরে। এআই (AI), কোয়ান্টাম টেকনোলজি, স্পেস, রোবোটিক্স এবং ডেটা সেন্টারের মতো ভবিষ্যতের প্রযুক্তিকে ভারতে ডানা মেলতে হবে। লক্ষ্য একটাই – দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ ৬জি যেন পৌঁছে যায় ভারতের শেষ প্রান্তের মানুষটির কাছেও।

    গতিশক্তি: যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হলে উন্নয়ন অধরাই থেকে যায়। তাই গতিশক্তি প্রকল্পে জোর দেওয়া হচ্ছে দেশের আধুনিকতম গণপরিবহনে। বুলেট ট্রেন ও হাই-স্পিড রেলে যেমন শহরের সঙ্গে শহর জোড়া হবে, ঠিক তেমনই নজর থাকবে ‘পোর্ট-লেড ডেভেলপমেন্ট’ বা বন্দরভিত্তিক বাণিজ্যের ওপর।

    প্রতিরক্ষা: ভারতের প্রতিরক্ষা খাতকে স্বাবলম্বী করা এই রূপরেখার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিদেশ থেকে স্রেফ আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র কিনে আনা নয়, ভারত নিজে সেই সমস্ত হাইপারসনিক প্রযুক্তির অস্ত্র তৈরি করবে এবং বিশ্বের বাজারে অন্যতম বড় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবে।

    অর্থনীতি: অর্থনীতির ক্ষেত্রে দু’ধরনের বিষয়ে জোর দেওয়ার কথা বলেছেন মোদি— পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি (গ্রিন ইকোনমি) এবং সমুদ্রবান্ধব অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি)। প্রথমটির ক্ষেত্রে পরিবেশের ক্ষতি না-করে কর্মসংস্থান তৈরি এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির উপায় সন্ধান হবে সরকারের প্রাধান্য। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে সমুদ্র, নদী বা যে কোনও জলাশয়ের জলকে কাজে লাগিয়ে অর্থনীতির উন্নয়নের কথা বলা হয়। তবে সমুদ্র বা পরিবেশের ক্ষতি না করা এ ক্ষেত্রেও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

    সফ্‌ট পাওয়ার: সফ্‌ট পাওয়ার বলতে ভারতের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনীতির মাধ্যমে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলা হয়। মোদf উল্লেখ করেছেন যোগা, আয়ুর্বেদ এবং পর্যটনের কথা। সামরিক শক্তি প্রয়োগ না করেই এগুলির মাধ্যমে দেশকে বিশ্বের দরবারে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। মোদি সেই ক্ষমতার কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন স্বাধীনতা দিবসের উদ্‌যাপনে। হস্তশিল্প, চলচ্চিত্র, ভিএফএক্স, অ্যানিমেশন, গেমিং এবং ডিজিটাল কন্টেন্টকে কাজে লাগিয়ে ভারতের সৃজনশীল অর্থনীতিকে গ্লোবাল ব্র্যান্ড করার কথা বলেছেন তিনি। বিদেশি শিল্পীদের ভারতে পারফর্ম করার ইচ্ছার কথা উল্লেখ করে দেশের ক্রমবর্ধমান ‘কনসার্ট ইকোনমি’-র কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    ‘পাঁচ প্রতিজ্ঞা’ থেকে ‘সপ্তসিন্ধু’

    এর আগে ২০২২ সালে দেশের ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে লালকেল্লা থেকে ‘পাঁচ প্রতিজ্ঞা’-র কথা বলেছিলেন মোদি। এ বার শক্তির সপ্তধারায় জোর দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করলেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি কেবল পরিকল্পনার কথা বলেই থেমে থাকেননি, ভারতীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রাও বেঁধে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী এক দশকের মধ্যে বিশ্বের ‘ফর্চুন ৫০০’ তালিকায় ভারতের ৫০টি কোম্পানিকে দেখতে চান তিনি। পাশাপাশি বিশ্বের শীর্ষ ৫টি ব্যাঙ্কের মধ্যে অন্তত একটি ভারতীয় ব্যাঙ্ক এবং বিশ্বের ৫টি বৃহত্তম ফার্মা কোম্পানির মধ্যে একটি ভারতীয় ফার্মা কোম্পানি থাকার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছেন। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসন এবং সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে জানান, পুরনো নিয়ম ও নীতি দিয়ে ভারত আর চলতে পারে না, ২০৪৭-এর উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা মাথায় রেখে নতুন নিয়ম তৈরি করতে হবে।

  • PM Modi in Red Fort: তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই বিকশিত ভারত-এর স্বপ্নপূরণ! লাল কেল্লায় ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গঠনে জোর প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi in Red Fort: তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই বিকশিত ভারত-এর স্বপ্নপূরণ! লাল কেল্লায় ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গঠনে জোর প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের তরুণ প্রজন্মই ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ সম্ভব করে তুলতে পারে। ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে দিল্লির লালকেল্লা থেকে দেশের তরুণ প্রজন্মকেই বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Red Fort)। তিনি জানান, দেশকে নিয়ে তিনি যে স্বপ্ন দেখেছেন, তা সত্যি করার জন্য তরুণ প্রজন্মের উপর ভরসা রাখা হয়েছে।

    তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতিও চোখে পড়ল

    স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লালকেল্লায় দর্শকাসনে তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। কিছু দিন আগে এই লালকেল্লাতেই নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল হয়েছিল তরুণ প্রজন্ম। কিছু দিন আগে দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে শামিল হয়েছিল তরুণ প্রজন্ম। সংসদ ভবন অভিযানেও বহু তরুণ-তরুণী যোগ দিয়েছিলেন। সেই সময়ে বার বার সমাজমাধ্যমে ভিডিয়োবার্তার মাধ্যমে যুবসমাজের পাশে থাকার কথা বলেছিলেন মোদি। স্বাধীনতা দিবসের উদ্‌যাপনের কেন্দ্রেও রাখা হল সেই প্রজন্মকেই। শনিবার প্রথমে রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মোদি। তার পর লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

    ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গঠনে জোর

    শনিবার দেশ জুড়ে ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস পালিত হচ্ছে। এ বারের লালকেল্লার অনুষ্ঠানে ‘যুবশক্তি’ এবং ২০৪৭-এর ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, তরুণ প্রজন্মকে প্রাধান্য দিয়েই স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখান থেকে মোদি (PM Modi On Independence Day) বলেন, ‘‘আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মের উপর আমার ভরসা আছে।’’ বিকশিত ভারতের স্বপ্ন সফল করার জন্য দেশের নারীশক্তি, কৃষক, শ্রমিক সকলের সহযোগিতাই চেয়েছেন তিনি। তবেই ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়া যাবে। দ্রুত অগ্রগতি এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ পরিকল্পনার উপরেও প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েছেন। “দ্রুত পালটাচ্ছে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্র। রকেট গতিতে বদলাচ্ছে প্রযুক্তি। ভারত শুধু বাজার হয়ে থাকবে না। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হবে। ড্রোন থেকে শুরু করে কাউন্টার ড্রোন সিস্টেম, হাইপারসোনিক মিসাইল টেকনোলজিতে আত্মনির্ভর হবে দেশ”, শনিবার লালকেল্লায় বার্তা মোদির। মোদি বলেন, “আমাদের কর্ম সংস্কৃতি বদল ঘটানোর সময় এসেছে। ছোট কলকবজা থেকে বড় পণ্য তৈরি করতে হবে। পণ্য়ের গুণমানে কোনও আপস নয়। ৫ দশকে যা হয়নি তা ৫ বছরে হয়েছে। উৎপাদন ক্ষেত্রের উন্নতি করতে হবে। শক্তির সপ্তধারার আহ্বান জানাচ্ছি।”

    বিশেষ এআই প্রশিক্ষণ

    যুবসমাজের জন্য নতুন প্রকল্প ঘোষণা করতে গিয়ে মোদি জানান, বিশ্ব জুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঝড়ের গতিতে চলছে। তাই দেশের এক কোটি যুবক-যুবতীকে প্রতি বছর বিশেষ এআই প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের শক্তি উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় কাজে লাগানো হবে। দেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে একমাত্র তরুণরাই সফল করতে পারেন বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তরুণদের সহযোগিতার আর্জি মোদির

    তরুণদের বিশেষ বার্তা মোদির, “দেশের উন্নতিতে নেতৃত্ব দিন তরুণরা। আপনাদের দেওয়া ১-২ ঘণ্টা সময়ে আরও এগিয়ে যাবে দেশ। আপনার মনে হতে পারে এই ১-২ ঘণ্টা সময়ে কী-ই বা হবে। দেশে জনগণনার কাজ চলছে। সেনসাসের কাজে অংশ নিন।” মহিলা সংরক্ষণ বিলের পক্ষে সওয়াল করে মোদি বলেন, “মহিলা সংরক্ষণ বিল আনা হয়েছে। বিল পাশ করাতে সহযোগিতা করুন। বিকশিত ভারত তখনই হবে যখন মহিলারাও বিধানসভা, লোকসভায় আসার সুযোগ পাবেন।”

    কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের বার্তা মোদির

    মোদি বলেন, “অনেকে বলছেন ইউক্রেনে যুদ্ধ হচ্ছে। গ্যাস পাবেন না। পেট্রল পাম্পে তেল পাবেন না। কিছু লোকের আনন্দ হচ্ছিল দেশবাসীকে ভয় দেখিয়ে। চাষিদের ভয় দেখানো হচ্ছে ইউরিয়া পাবেন না। তবে যাতে কারও কোনও সমস্যা না হয় ভারত প্রস্তুত ছিল। করোনা থেকে জ্বালানি নিয়ে অপপ্রচার করেছেন বিরোধীরা।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালে দেশের মাত্র ৭০টি শহরে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে সেই পরিষেবা প্রায় ৭০০টি শহরে পৌঁছে গিয়েছে। রেলপথের বৈদ্যুতিকরণের কাজও সম্পূর্ণ হয়েছে । দেশে হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  তিনি বলেন, ‘বিশ্বমাণের উৎপাদন করতে হবে। রফতানিতে নজর দিতে হবে। গ্লোবাল ব্র্যান্ড তৈরি করতে হবে।

    পরমাণু পথে ভারত

    মোদি বলেন, “ভারতে ৩ সেমি কন্ডাক্টর প্লান্ট কাজ করছে। ভারতে তৈরি সেমি কন্ডাক্টর রপ্তানি হচ্ছে। আগামী দিনে ৮টি সেমি কন্ডাক্টর প্লান্ট হবে। ৫টি নতুন পরমাণু চুল্লি এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পরমাণু শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে ভারত। আমাদের নিজেদের ক্ষমতাবৃদ্ধি করতে হবে। নিজের স্বার্থ নিজেকে রক্ষা করতে হবে।” যুদ্ধের আবহে আত্মনির্ভর ভারতের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর। বলেন, “নিজেদের স্বার্থ নিজেদের রক্ষা করতে হবে। অন্যের উপর ভরসা করে দেশ গড়া যায় না।”

    মোদির মুখে নেহরু-শ্যামাপ্রসাদ

    মাও সন্ত্রাস দমন প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “অস্ত্রধারী মাওবাদীদের নিমূল করার লক্ষ্যে দেশ। মাও সন্ত্রাসে শহিদ হয়েছেন ৩ হাজার পুলিশ। মাওবাদী মানসিকতার মানুষ সব জায়গায় রয়েছে। জঙ্গলে যারা বন্দুক হাতে লড়াই করে তাদের চেয়েও বেশি ভয়ংকর ‘মস্তিষ্ক নকশাল’। তাদের নির্মূল করা এখনও বাকি।” ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ দ্রুত কাজ করছে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, জওহরলাল নেহরু, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নাম দিয়ে লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসে ভাষণ শেষ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

  • Independence Day 2026: আজ ৮০তম স্বাধীনতা দিবস, ১৮৫৭-র বিদ্রোহ থেকে লালকেল্লায় প্রথম তেরঙা, ফিরে দেখা সংগ্রামের ইতিহাস

    Independence Day 2026: আজ ৮০তম স্বাধীনতা দিবস, ১৮৫৭-র বিদ্রোহ থেকে লালকেল্লায় প্রথম তেরঙা, ফিরে দেখা সংগ্রামের ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ ১৫ অগাস্ট। স্বাধীনতা দিবস। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই দীর্ঘ ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল ভারত। স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক এই দিন। দিল্লির লালকেল্লা থেকে দেশের প্রত্যন্ত প্রান্ত—জাতীয় পতাকার রঙে সেজে উঠেছে ভারত। স্বাধীনতা অর্জনের এই পথ অবশ্য সহজ ছিল না। বহু আন্দোলন, বিদ্রোহ, আত্মত্যাগ এবং অসংখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামীর লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে এসেছে ১৯৪৭-এর ১৫ অগাস্ট। আজকের দিনে তাই ফিরে দেখা যাক ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

    ১৮৫৭-র বিদ্রোহ: স্বাধীনতার প্রথম বড় স্ফুলিঙ্গ

    ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ইতিহাসে এটি সিপাই বিদ্রোহ বা ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ হিসেবেও পরিচিত। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া এই বিদ্রোহ দ্রুত বিস্তৃত আকার নেয়। মঙ্গল পাণ্ডে, বাহাদুর শাহ জাফর, রানি লক্ষ্মীবাই, নানা সাহেব-সহ বহু নেতা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। উত্তর ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে বিদ্রোহের আগুন।

    স্বদেশি আন্দোলন: বিদেশি পণ্য বর্জনের ডাক

    ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে স্বদেশি ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বিদেশি পণ্য বর্জন করে দেশীয় পণ্য ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয় দেশবাসীকে। বিশেষ করে বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনের সময় স্বদেশি আন্দোলন ব্যাপক জনসমর্থন পায়। বাল গঙ্গাধর তিলকের মতো নেতারা দেশীয় শিল্প ও পণ্যের প্রসারে জোর দেন। স্বদেশি ভাবনা পরবর্তীকালে স্বাধীনতা আন্দোলনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

    ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলন

    স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষ পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল ভারত ছাড়ো আন্দোলন। ১৯৪২ সালের ৮ অগাস্ট বম্বেতে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির অধিবেশনে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ব্রিটিশদের উদ্দেশে ওঠে ‘ভারত ছাড়ো’ স্লোগান। আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে অবিলম্বে স্বাধীনতা অর্জন। দেশজুড়ে ব্যাপক গণআন্দোলন শুরু হয় এবং বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী গ্রেফতার হন।

    ভারতের প্রথম জাতীয় পতাকা থেকে আজকের তেরঙা

    স্বাধীন ভারতের জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপ একদিনে তৈরি হয়নি। ১৯০৬ সালের ৭ অগাস্ট কলকাতার পার্সি বাগান স্কোয়ারে একটি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। সেই পতাকায় ছিল সবুজ, হলুদ ও লাল রং। পরবর্তীতে জাতীয় পতাকার নকশায় একাধিক পরিবর্তন আসে। ১৯২১ সালে পিঙ্গালি বেঙ্কাইয়া তেরঙার নকশা উপস্থাপন করেন। বর্তমান জাতীয় পতাকায় রয়েছে গেরুয়া, সাদা ও সবুজ রং এবং মাঝখানে ২৪টি কাঁটাযুক্ত নীল অশোকচক্র। ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই সংবিধান সভা ভারতের জাতীয় পতাকার বর্তমান নকশা গ্রহণ করে। স্বাধীনতার পর ১৫ অগাস্ট দিল্লির লালকেল্লায় প্রথমবার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু।

    ‘জনগণমন’ কীভাবে জাতীয় সঙ্গীত হল?

    ভারতের স্বাধীনতার সময় কোনও আনুষ্ঠানিক জাতীয় সঙ্গীত ছিল না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১১ সালে ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ রচনা করেন। পরবর্তীতে এর প্রথম স্তবক ‘জনগণমন’ নামে পরিচিত হয়। ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধান সভা ‘জনগণমন’-কে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করে।

    জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ইতিহাস

    স্বাধীনতা আন্দোলনে ‘বন্দে মাতরম’ শুধু একটি গান ছিল না, বরং তা হয়ে উঠেছিল দেশাত্মবোধ ও জাতীয়তাবাদের অন্যতম শক্তিশালী প্রতীক। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’-এ গানটি রচনা করেন। ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধান সভা ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

    র‌্যাডক্লিফ লাইন ও দেশভাগ

    স্বাধীনতার সঙ্গে ভারতীয় ইতিহাসে যুক্ত হয়ে আছে দেশভাগের গভীর বেদনা। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমারেখা নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয় ব্রিটিশ আইনজীবী স্যার সিরিল র‌্যাডক্লিফকে। পাঞ্জাব ও বাংলা ভাগের সীমারেখা নিয়ে কাজ শেষ হওয়ার পর ১৯৪৭ সালের ১৭ অগাস্ট তা প্রকাশ্যে আসে। স্বাধীনতার মাত্র দু’দিন পর প্রকাশিত সেই সীমারেখা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন ও বাসস্থানকে বদলে দেয়।

    ১৫ অগাস্ট ১৯৪৭: স্বাধীন ভারতের জন্ম

    অবশেষে আসে সেই ঐতিহাসিক দিন—১৫ অগাস্ট, ১৯৪৭। দীর্ঘ ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ভারত। একই সঙ্গে দেশভাগের ফলে জন্ম নেয় পাকিস্তান। ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন প্রথমে ১৯৪৮ সালের ৩০ জুন ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের পর ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় এগিয়ে আনা হয়। ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা অর্জন করে ভারত।

    লালকেল্লায় প্রথম তেরঙা উত্তোলন

    স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট দিল্লির লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। স্বাধীনতার প্রথম প্রভাতে জাতির উদ্দেশে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন তিনি। সেই ভাষণে নেহরুর কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল স্বাধীন ভারতের নতুন যাত্রার প্রত্যয়—“গোটা পৃথিবী যখন ঘুমোচ্ছে, তখন ভারত জাগবে নতুন জীবন ও স্বাধীনতা নিয়ে।” আজ ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে সেই আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও স্বপ্নকেই ফের স্মরণ করছে দেশ। স্বাধীনতার ইতিহাস শুধু অতীতের একটি অধ্যায় নয়— এটি ভারতীয় গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় চেতনার ভিত্তি।

  • Independence Day 2026: স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা তুলছেন? জেনে নিন তেরঙা ব্যবহারের এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলি

    Independence Day 2026: স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা তুলছেন? জেনে নিন তেরঙা ব্যবহারের এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশজুড়ে আজ ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের আবহ। শহর থেকে গ্রাম, আবাসন থেকে ক্লাব, সরকারি দফতর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—সর্বত্রই জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দেশাত্মবোধক গান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে দেশের স্বাধীনতা দিবস। ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির হাত ধরে গত কয়েক বছর ধরে বাড়ি বাড়িও পৌঁছেছে জাতীয় পতাকার আবেগ।

    তবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শুধু উৎসবের বিষয় নয়। দেশের জাতীয় পতাকার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম ও মর্যাদাবিধি। Flag Code of India এবং জাতীয় পতাকার নির্দিষ্ট মান সংক্রান্ত নির্দেশিকায় পতাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিধি রয়েছে। ফলে স্বাধীনতা দিবসে তেরঙা উত্তোলনের আগে জেনে রাখা জরুরি—কী করা যায় এবং কোন কাজগুলি জাতীয় পতাকার মর্যাদার পরিপন্থী।

    বাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলতে পারবেন?

    হ্যাঁ। সাধারণ নাগরিক নিজের বাড়ি, অফিস, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কিংবা কর্মস্থলেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে পারেন। সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও নিয়ম মেনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা যায়। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় তার মর্যাদা ও সম্মানের বিষয়টি সর্বাগ্রে রাখতে হবে। পতাকা যেন কোনওভাবেই মাটিতে না পড়ে বা মেঝেতে স্পর্শ না করে, সেদিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে।

    জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় যে বিষয়গুলি মনে রাখবেন

    • ১. তেরঙার সঠিক দিক বজায় রাখতে হবে
      জাতীয় পতাকা কখনও উল্টো করে উত্তোলন করা যাবে না। অনুভূমিকভাবে প্রদর্শনের ক্ষেত্রে গেরুয়া রং থাকবে উপরে, সাদা মাঝখানে এবং সবুজ নীচে।
    • ২. পতাকার মর্যাদা সর্বোচ্চ
      জাতীয় পতাকা দেশের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও গৌরবের প্রতীক। তাই পতাকা উত্তোলন বা প্রদর্শনের সময় যথাযথ সম্মান বজায় রাখা আবশ্যিক।
    • ৩. পতাকা যেন মাটিতে না লাগে
      জাতীয় পতাকা কখনও মাটিতে, মেঝেতে বা জলে পড়ে থাকা অবস্থায় রাখা যাবে না। উত্তোলন, নামানো এবং সংরক্ষণের সময়ও পতাকার যাতে কোনও অসম্মান না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
    • ৪. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব
      স্কুল-কলেজে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য ও দেশাত্মবোধের সঙ্গে সম্পর্কিত কর্মসূচি পালন করা হয়। শিক্ষার্থীদের শপথ পাঠের মতো কর্মসূচিও স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের অংশ হতে পারে।
    • ৫. পতাকা যেন অন্য কোনও পতাকার তুলনায় নিচে না থাকে
      জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে তার অবস্থান ও মর্যাদা বজায় রাখতে হবে। অন্য কোনও পতাকা বা প্রতীকের তুলনায় তেরঙাকে অসম্মানজনক অবস্থানে রাখা যাবে না।

    জাতীয় পতাকা দিয়ে পোশাক বা টেবিল ক্লথ? একেবারেই নয়

    জাতীয় পতাকাকে পোশাক, ইউনিফর্মের অংশ, টেবিল ক্লথ, রুমাল বা সাজসজ্জার সাধারণ উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। একইভাবে তেরঙাকে কোনও ফেস্টুন বা এমন কোনও অলঙ্করণে ব্যবহার করা যাবে না, যাতে জাতীয় পতাকার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়।জাতীয় পতাকার ওপর কোনও লেখা, স্লোগান, ছবি বা নকশা আঁকা বা ছাপানোও করা যাবে না।

    পতাকার উপরে ফুল-মালা বা অন্য বস্তু রাখা যাবে না

    জাতীয় পতাকার উপরে ফুল, মালা কিংবা অন্য কোনও বস্তু রাখা যাবে না। পতাকাকে এমন কোনও কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়, যাতে সেটি অন্য কোনও বস্তু বহন করার মাধ্যম হয়ে যায়।

    ছেঁড়া বা নষ্ট পতাকা ব্যবহার নয়

    স্বাধীনতা দিবসের আবেগে অনেক বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে পতাকা উত্তোলন করা হয়। কিন্তু সেই পতাকা ব্যবহারের উপযোগী কি না, তা আগে দেখে নেওয়া জরুরি। ছেঁড়া, নোংরা বা ক্ষতিগ্রস্ত জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা উচিত নয়।

    ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়া জাতীয় পতাকাকেও যথাযথ মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে নিষ্পত্তি করতে হবে।

    জাতীয় পতাকার সঙ্গে কোনও ধরনের অসম্মান নয়

    তেরঙার উপর পা দেওয়া, ইচ্ছাকৃতভাবে মাটিতে ফেলে রাখা, মেঝেতে টেনে নিয়ে যাওয়া কিংবা অন্য কোনওভাবে অবমাননা করা সম্পূর্ণ অনুচিত। স্বাধীনতা দিবসের আনন্দের মধ্যেও জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    স্বাধীনতা দিবসের উৎসব হোক, কিন্তু মর্যাদা বজায় রেখেই

    জাতীয় পতাকা শুধু তিনটি রঙের কাপড় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস, অসংখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামীর আত্মত্যাগ এবং ভারতীয়দের জাতীয় পরিচয়। তাই ১৫ অগাস্ট বাড়ির ছাদে, স্কুলে, ক্লাবে কিংবা কর্মস্থলে তেরঙা উত্তোলনের সময় উৎসবের পাশাপাশি তার মর্যাদা রক্ষার দায়িত্বও প্রত্যেক নাগরিকের। মনে রাখুন—স্বাধীনতা দিবসে তেরঙা উত্তোলন যেমন গর্বের, তেমনই সেই তেরঙার সম্মান রক্ষা করাও প্রত্যেক ভারতীয়র দায়িত্ব।

  • Rahul Gandhi: প্রধানমন্ত্রীর বিদেশনীতি নিয়ে সমালোচনাকে সস্তা রাজনৈতিক নাটক বানিয়েছেন রাহুল, দাবি বিজেপির

    Rahul Gandhi: প্রধানমন্ত্রীর বিদেশনীতি নিয়ে সমালোচনাকে সস্তা রাজনৈতিক নাটক বানিয়েছেন রাহুল, দাবি বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশনীতিকে উপহাস করতে গিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) যে ভাষা প্রয়োগ করেছেন তা ‘অস‌ংযত ও অশালীন’ বলে অভিযোগ করল বিজেপি (BJP Attacks Rahul)। এমন ভাষার ব্যবহার তাঁর পদমর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। এই প্রসঙ্গে রাহুলের উদ্দেশে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী বলেন, ‘‘মনে হয় এবার অন্তত ওঁর সাবালকের মতো আচরণ করা উচিত।’’

    রাহুলকে পরিণত হতে বার্তা

    দিল্লিতে বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের নতুন মঞ্চ ‘রচনাত্মক কংগ্রেস’-এর প্রথম জাতীয় সম্মেলনে রাহুল দাবি করেছিলেন, মোদি সরকারের একের পর এক জনবিরোধী সিদ্ধান্তে দেশের আমজনতার আক্রোশ ক্রমশ বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘‘আমজনতার প্রতিবাদ, বিক্ষোভের কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না!’’ সেই সঙ্গে মোদি সরকারের বিদেশনীতিরও কড়া সমালোচনা করেন রাহুল। তাঁর মতে, আরএসএস এবং বিজেপির বর্তমান কর্তারা হলেন ‘একদল ভাঁড়’। প্রহ্লাদ শুক্রবার অভিযোগ করেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে আদতে ভারতের জনগণকে অপমান করেছেন রাহুল।’’ এর পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘‘রাহুল গান্ধী, আপনি কবে পরিণত হবেন? ভারত চালানোর জন্য পরিণত নেতৃত্ব প্রয়োজন, অপেশাদার নাট্যাভিনয় নয়। গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত একটি সরকারকে ‘ভাঁড়’ বলা প্রমাণ করে যে আপনি সীমা লঙ্ঘন করছেন।’’

    ব্যর্থ স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ানের মতো আচরণ রাহুলের

    রাহুল ছাড়াও কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির প্রসঙ্গ টেনে মোদির বিরুদ্ধে মন্তব্য করায় বিষয়টি আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে। বিজেপির অভিযোগ, বিদেশনীতি নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনার পরিবর্তে রাহুল গান্ধী ব্যক্তিগত ইঙ্গিত ও রসিকতার আশ্রয় নিয়েছেন। বিজেপির দাবি, সরকারের বিদেশনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কিংবা প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কূটনীতি নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন তোলার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কিন্তু সেই সমালোচনা তথ্য, নীতি ও কূটনৈতিক ফলাফলের ভিত্তিতে হওয়া উচিত, ব্যক্তিগত ইঙ্গিত বা মঞ্চস্থ করা রাজনৈতিক রসিকতার মাধ্যমে নয়। বিজেপি সাংসদ বাঁসুরি স্বরাজ রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তাঁর আচরণ তাঁকে ‘লোকসভার বিরোধী দলনেতার চেয়ে ব্যর্থ স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ানের মতো’ বেশি তুলে ধরেছে। তাঁর অভিযোগ, রাহুল গান্ধী ‘লকার-রুম টক’ এবং ‘সস্তা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য’-এর আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁর মতে, দেশের মানুষ এমন একজন বিরোধী দলনেতা প্রত্যাশা করেন যিনি সাংবিধানিক পদটির মর্যাদা বজায় রাখবেন।

    ব্যক্তিগত ইঙ্গিত বা কটাক্ষ কেন

    বিজেপি নেতা শেহজাদ পুনাওয়ালাও রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক বিতর্ক আর কতটা নীচে নামতে পারে। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে এবং তাঁকে কঠোরভাবে আক্রমণ করাও বিরোধীদের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু একজন মহিলা বিদেশি রাষ্ট্রনেতাকে টেনে এনে ব্যক্তিগত রসিকতা করা কোনওভাবেই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা বা রসবোধের পরিচয় নয়। বিজেপির বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কিংবা কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি নিয়ে বিরোধীরা যতটা আগ্রাসী সমালোচনা করতে চান, করতে পারেন। কিন্তু ব্যক্তিগত ইঙ্গিত বা কটাক্ষ দিয়ে সেই রাজনৈতিক বক্তব্যের শক্তি বাড়ে না, বরং মূল ইস্যু থেকে আলোচনা সরে যায়।

    কার্যকর রাজনৈতিক বার্তার অভাব

    এখানেই ‘রচনাত্মক কংগ্রেস’ নামের অনুষ্ঠান নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ‘রচনাত্মক বিরোধিতা’র অর্থ হওয়া উচিত বেকারত্ব, অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা, বিদেশনীতি এবং প্রশাসনিক কার্যকলাপ নিয়ে সরকারকে তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে জবাবদিহির মুখে দাঁড় করানো। লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর কাছে সেই রাজনৈতিক মঞ্চ এবং সাংবিধানিক সুযোগ দুটোই রয়েছে। তাই তাঁর সমালোচনা ব্যক্তিগত কটাক্ষের পরিবর্তে নীতি, তথ্য ও সরকারের বাস্তব ফলাফলের উপর কেন্দ্রীভূত হলে তা আরও কার্যকর রাজনৈতিক বার্তা দিতে পারত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

  • Bastar: বদলাচ্ছে বস্তার! বন্দুক হাতে জঙ্গল থেকে ফ্যাশন শো-এর মঞ্চে, প্রাক্তন মহিলা নকশালদের নয়া জীবনের বার্তা

    Bastar: বদলাচ্ছে বস্তার! বন্দুক হাতে জঙ্গল থেকে ফ্যাশন শো-এর মঞ্চে, প্রাক্তন মহিলা নকশালদের নয়া জীবনের বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একসময় বস্তারের জঙ্গলে হাতে অস্ত্র নিয়ে ঘুরতেন। আজ সেই মহিলারাই আত্মসমর্পণের পর পা রাখলেন ফ্যাশন র‍্যাম্পে। জাতীয় হ্যান্ডলুম দিবস উপলক্ষে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে আয়োজিত একটি আদিবাসী ফ্যাশন শো-তে অংশ নিলেন বস্তারের ওই একদল মহিলা। ঐতিহ্যবাহী তাঁতের পোশাকে তাঁদের আত্মবিশ্বাসী র‍্যাম্প ওয়াক দর্শকদের নজর কাড়ে। তাঁদের হাঁটার সময় দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। কারও কারও র‍্যাম্পে কিছুক্ষণ থেমে পোশাক প্রদর্শন করতে দেখা যায়। পরে ঘুরে আবার মঞ্চের দিকে ফিরে এসে হাসিমুখে দর্শকদের অভিবাদন গ্রহণ করেন তাঁরা।

    জঙ্গল থেকে ফ্যাশন র‍্যাম্পে

    সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদা নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকা ওই মহিলারা রঙিন ঐতিহ্যবাহী তাঁতের পোশাকে র‍্যাম্পে হাঁটছেন। তাঁদের চলাফেরায় ছিল আত্মবিশ্বাস ও স্বচ্ছন্দতা। তবে তাঁদের কাছে এই অনুষ্ঠান শুধুমাত্র একটি ফ্যাশন শো ছিল না। বরং এটি ছিল তাঁদের জীবনের আমূল পরিবর্তনের একটি প্রতীক। একসময় নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে বস্তারের জঙ্গলে সশস্ত্র জীবন কাটানো এই মহিলারা আত্মসমর্পণের পর ধীরে ধীরে মূলস্রোতের সমাজে ফিরে এসেছেন।

    আত্মসমর্পণের পর নতুন জীবনের সন্ধান

    বস্তারে আত্মসমর্পণকারী প্রাক্তন নকশালদের পুনর্বাসন ও জীবিকার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তাঁদের স্বনির্ভর করে তুলতে জীবিকামূলক প্রকল্প, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। র‍্যাম্পে তাঁদের উপস্থিতিও সেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার একটি ইতিবাচক ছবি তুলে ধরেছে। অস্ত্রের জীবন ছেড়ে সমাজের সামনে নিজেদের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন তাঁরা। এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ছত্তিশগড় সরকার বস্তারে নকশাল হিংসার অবসান এবং উন্নয়নের উপর জোর দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই সম্প্রতি দাবি করেছেন, কয়েক দশকের নকশাল সমস্যার পর বস্তার এখন নকশালমুক্ত হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। এএনআই-কে সাই বলেন, “৪০-৫০ বছর পর আমাদের বস্তার অঞ্চল অবশেষে নকশালমুক্ত হয়েছে। এখন উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” এই আবহে প্রাক্তন মহিলা নকশালদের হাতে অস্ত্রের পরিবর্তে ঐতিহ্যবাহী তাঁতের পোশাক নিয়ে র‍্যাম্পে হাঁটার দৃশ্য বস্তারের পরিবর্তিত বাস্তবতার একটি মানবিক ছবি তুলে ধরেছে।জঙ্গল থেকে র‍্যাম্পে তাঁদের এই যাত্রা শুধু পোশাক বা ফ্যাশনের গল্প নয়—এটি আত্মসমর্পণ, পুনর্বাসন, আত্মনির্ভরতা এবং মূলস্রোতের সমাজে ফিরে আসার এক প্রতীকী কাহিনি।

  • Partition Horrors Remembrance Day: ‘‘মানুষ শূন্য থেকে নিজেদের জীবন নতুন করে গড়ে তুলেছিল’’ দেশভাগের ‘বিভীষিকা’কে স্মরণ প্রধানমন্ত্রীর

    Partition Horrors Remembrance Day: ‘‘মানুষ শূন্য থেকে নিজেদের জীবন নতুন করে গড়ে তুলেছিল’’ দেশভাগের ‘বিভীষিকা’কে স্মরণ প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসের আগে শুক্রবার দেশভাগের কথা স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ সেই ভয়াবহ স্মৃতিকে মনে করে শুক্রবার ‘পার্টিশন হররস রিমেমব্রেন্স ডে’ (Partition Horrors Remembrance Day) বা দেশভাগের ভয়াবহতা স্মরণ দিবস উপলক্ষে দেশভাগের শিকার মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi on Partition)। তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ বহু মানুষের জীবন ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল, পরিবারকে বাস্তুচ্যুত করেছিল এবং অসীম দুর্ভোগের কারণ হয়েছিল। সমাজমাধ্যমে এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশভাগের সময় ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও সাধারণ মানুষ অসীম সাহস ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছিলেন। ঘরবাড়ি, সম্পদ ও প্রিয়জন হারিয়েও তাঁরা নতুন করে জীবন শুরু করেন এবং পরবর্তীকালে দেশের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

    দেশভাগের ভয়ঙ্কর স্মৃতিচারণা প্রধানমন্ত্রীর

    দেশভাগের পরবর্তী দাঙ্গা ও ব্যাপক হিংসাত্মক ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছিলেন, তাঁদের স্মরণে মোদি সরকার ২০২॥ সাল থেকে ১৪ অগাস্ট দিনটিকে ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস’ (Partition Horrors Remembrance Day) হিসেবে পালন করে আসছে। এদিন এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “আজ আমরা ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মৃতি দিবস’ পালন করছি। দেশভাগের ফলে যাঁরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন, তাঁদের সকলের সাহসিকতাকে আমরা স্মরণ করছি। ইতিহাসের সেই মুহূর্তটি বহু মানুষের জীবন ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল, বহু পরিবার নিজেদের ভিটেমাটি ও প্রিয়জনদের হারিয়েছিল এবং অকথ্য যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছিল মানুষকে।”

    দেশে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্যকে সুদৃঢ় করার আহ্বান

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “সেই চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষ শূন্য থেকে নিজেদের জীবন নতুন করে গড়ে তুলেছিল ৷ প্রতিকূলতাকে সাফল্যে পরিণত করেছিল ৷ দেশের অগ্রগতিতে উল্লেখযোগ্য অবদানও রেখেছেন তাঁরা।” তাঁর মতে, সেইসব মানুষদের জীবনগাথা সকলকে অদম্য মানসিক শক্তির কথা মনে করিয়ে দেয় । মোদি বলেন, “এই দিনটি যেন আমাদের দেশে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করে ৷ প্রধানমন্ত্রী লেখেন, দেশভাগের স্মৃতি আমাদের মানুষের অসীম মানসিক শক্তির কথা মনে করিয়ে দেয়। এই দিনটি দেশে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার সংকল্পকে গভীর করুক এবং একটি ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার প্রেরণা দিক।

    গভীর বেদনা ও স্মৃতির প্রতীক

    ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে ভারত। স্বাধীনতার সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের পাশাপাশি দেশভাগের যন্ত্রণা ভারতীয় ইতিহাসে এক গভীর ক্ষত তৈরি করে। দেশভাগের ফলে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক হিংসা, প্রাণহানি ও উদ্বাস্তু সংকট দেখা দেয়। ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম গণ-অভিবাসনের ঘটনা ছিল ১৯৪৭-এর দেশভাগ। প্রায় ২ কোটি মানুষ এর ফলে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত হন বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক হিসাব থেকে জানা যায়। লক্ষ লক্ষ পরিবারকে তাঁদের পূর্বপুরুষের ভিটে, গ্রাম, শহর ও সম্পত্তি ছেড়ে অজানা জায়গায় নতুন করে জীবন শুরু করতে হয়েছিল। দেশভাগের সেই ভয়াবহ অধ্যায় আজও ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে গভীর বেদনা ও স্মৃতির প্রতীক। তবে সেই অন্ধকার সময় পেরিয়ে উদ্বাস্তু মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রাম ও সাফল্যও দেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

  • CAG Report of Kejriwal Govt: অব্যবহৃত অর্থ থেকে অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি, কেজরিওয়াল সরকারের আমল নিয়ে ক্যাগ রিপোর্টে একাধিক প্রশ্ন

    CAG Report of Kejriwal Govt: অব্যবহৃত অর্থ থেকে অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি, কেজরিওয়াল সরকারের আমল নিয়ে ক্যাগ রিপোর্টে একাধিক প্রশ্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন আম আদমি পার্টি (AAP) সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে ২০২৪-২৫ সালের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG)-এর রিপোর্ট। সম্প্রতি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা বিধানসভায় রিপোর্টটি পেশ করেন। রিপোর্টে একদিকে যেমন দিল্লির অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি কমার বিষয়টি উঠে এসেছে, অন্যদিকে বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থ অব্যবহৃত থাকা, মূলধনী ব্যয় কমে যাওয়া এবং ভর্তুকির উপর নির্ভরতা বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    দেশের তুলনায় পিছিয়ে দিল্লির অর্থনৈতিক বৃদ্ধি

    ক্যাগ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধির তুলনায় দিল্লির মাথাপিছু আঞ্চলিক আয়-এর বৃদ্ধির হার কম ছিল। ২০১৫-২৫ সময়ে দিল্লির মাথাপিছু জিএসডিপি-এর বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির হার (CAGR) ছিল ৬.৩৯ শতাংশ। একই সময়ে দেশের মাথাপিছু জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.১৪ শতাংশ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, দিল্লি দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ ও পরিকাঠামো তৈরিকে যথেষ্ট অগ্রাধিকার দেয়নি। এর ফলে ভবিষ্যতে রাজধানীর অর্থনৈতিক বৃদ্ধির উপর প্রভাব পড়তে পারে।

    অর্ধেকেরও বেশি কমেছে মূলধনী ব্যয়

    দিল্লির পরিকাঠামোগত উন্নয়নে মূলধনী ব্যয়ের পতনকে বিশেষভাবে তুলে ধরেছে ক্যাগ। ২০২১-২২ সালে দিল্লিতে মূলধনী প্রকল্পে খরচ হয়েছিল ₹৮,৩১১ কোটি। ২০২৪-২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ₹৩,৬৯৫ কোটি। শুধু সড়ক পরিবহণ পরিকাঠামোতেই ব্যয় এক বছরে ₹১,৪৪৮ কোটি থেকে কমে ₹৩৯০ কোটি হয়েছে। ২০২৪-২৫ সালে মোট ব্যয়ের মাত্র ৬.৫৩ শতাংশ মূলধনী খাতে খরচ হয়েছে। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৩-২৪ সালে এই খাতে ব্যয় হয়েছিল ₹৬,৮৫৫ কোটি।

    বরাদ্দের প্রায় ২৩ শতাংশই খরচ হয়নি

    রিপোর্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হল, ২০২৪-২৫ সালে দিল্লি সরকারের জন্য মোট ₹৮০,৭৯৮.৮১ কোটি বাজেট বরাদ্দ করা হলেও খরচ হয়েছে মাত্র ₹৬১,৯১১.১৯ কোটি।অর্থাৎ ₹১৮,৮৮৭.৬২ কোটি খরচ হয়নি। এর মধ্যে ₹১১,২৬৩.৩৪ কোটি ফেরত দেওয়া হয় এবং আরও ₹৭,৬২৪.২৮ কোটি মার্চ ২০২৫-এর শেষে ল্যাপ্স করে যায়। ক্যাগ-এর হিসাবে, বিধানসভা যে অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছিল তার ২৩.৩৮ শতাংশ ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যয়ের হিসাব তৈরি করা দুর্বল বাজেট পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়। এমনকি অর্থবর্ষের মাঝামাঝি সময়ে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করা হলেও মূল বাজেটের বরাদ্দের সমপরিমাণ ব্যয়ও সরকার করতে পারেনি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এক খাত থেকে অন্য খাতে অর্থ সরিয়েও হয়নি পূর্ণ ব্যয়

    বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ অর্থ এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে সরানো হয়েছিল। কিন্তু সেই পুনর্বিন্যাসের পরও পুরো অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হয়নি। ক্যাগ জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ সালে ছয়টি অনুদানের অধীনে ১৬টি উপ-খাতে মোট ₹১,৪৪৫.৭২ কোটি অর্থ অব্যবহৃত থেকে যায়। এর মধ্যে ₹৮৮৯.১০ কোটি ছিল পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সরানো অর্থ। রিপোর্টের মতে, এই ঘটনাও বাজেট তৈরির ক্ষেত্রে ত্রুটির ইঙ্গিত দেয়।

    ভর্তুকিতে বাড়ছে ব্যয়

    অন্যদিকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও মূলধনী খাতে ব্যয় কমলেও ভর্তুকির ক্ষেত্রে দিল্লি সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ক্যাগ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ সালে দিল্লির মোট রাজস্ব ব্যয়ের ১০.১৮ শতাংশ ভর্তুকিতে খরচ হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ভর্তুকির অংশ ছিল সবচেয়ে বেশি—মোট ভর্তুকি ব্যয়ের প্রায় ৬৭ থেকে ৭৩ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ সালে ভর্তুকি ব্যয় ₹২৫০ কোটি বা ৫.১৭ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ভর্তুকিতে ₹৩৬১ কোটি, নগরোন্নয়ন ও জল ভর্তুকিতে ₹২২ কোটি এবং শিক্ষা ভর্তুকিতে ₹৩৮ কোটি বৃদ্ধি হয়েছে।

    দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থায়িত্ব নিয়ে সতর্কতা

    ক্যাগ সতর্ক করেছে, ভর্তুকিতে অতিরিক্ত ব্যয় দীর্ঘমেয়াদে দিল্লির আর্থিক স্থায়িত্বের উপর চাপ তৈরি করতে পারে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক খাতে প্রয়োজনীয় ব্যয়ের জন্য অর্থের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রিপোর্টে রাজস্ব বাড়ানো, ব্যয়ের উপর আরও নিয়ন্ত্রণ, কাঠামোগত সংস্কার এবং সময়মতো হিসাব ও রিপোর্টিংয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে আরও বাস্তবসম্মত ও প্রয়োজনভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ করার পরামর্শও দিয়েছে ক্যাগ। সব মিলিয়ে, ক্যাগ-এর এই রিপোর্ট দিল্লির প্রাক্তন আপ সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বাজেট পরিকল্পনা এবং সরকারি অর্থের ব্যবহার নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ অব্যবহৃত থাকা এবং মূলধনী ব্যয় কমে যাওয়ার বিষয়টি রাজধানীর দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে পারে।

  • Kalighat Temple: কালীঘাট মন্দিরের জন্য আলাদা পুলিশ ফাঁড়ি, এই প্রথম কোনও ধর্মস্থানের জন্য এমন উদ্যোগ

    Kalighat Temple: কালীঘাট মন্দিরের জন্য আলাদা পুলিশ ফাঁড়ি, এই প্রথম কোনও ধর্মস্থানের জন্য এমন উদ্যোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এই প্রথম কোন ধর্মীয় স্থানের জন্য আলাদা পুলিশ ফাঁড়ি তৈরি সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। বদলের বাংলায় কালীঘাট মন্দিরের (Kalighat Temple) সুরক্ষায় বেনজির পদক্ষেপ। কালীঘাট মন্দিরের জন্য আলাদা পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির সিদ্ধান্ত লালবাজারের (Lalbazar)। বৃহস্পতিবার এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করেছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) অজয় নন্দ। শুধু মন্দির চত্বর এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে আলাদা পুলিশ ফাঁড়ি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কেন আলাদা পুলিশ ফাঁড়ি

    কথায় বলে , ‘কালী কলকাত্তাওয়ালি’। আর কলকাতাকে মা কালীর শহর করে তুলেছে কালীঘাট মন্দির। সতীর ৫১ পীঠের অন্যতম কালীঘাট। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে কালীঘাট মন্দিরের অসামান্য মাহাত্ম্য রয়েছে। এই মন্দিরের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। বাইরে থেকে কলকাতায় এলে একবার অন্তত কালীঘাট মন্দির দর্শন প্রায় সবাই করেন। পীঠ মাহাত্ম্য অনুসারে কালীক্ষেত্র কলকাতার বারাণসীর সমতুল। ভক্তদের বিশ্বাস কলকাতার অভিভাবক রূপে কালীঘাটে বিরাজ করছেন মা কালী। সোম থেকে রবি, প্রতিদিনই এই মন্দিরে থাকে উপচে পড়া ভিড়। পুলিশ কমিশনারের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অতীতে কালীঘাট মন্দিরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন নিরাপত্তাগত ঝুঁকি দেখা গিয়েছে। সেকারণেই ফাঁড়ি তৈরির সিদ্ধান্ত। পুলিশকর্মীরা মন্দিরের নিরাপত্তার পাশাপাশি ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছ্যন্দের দিকটাও দেখবেন।

    জঙ্গিদের নিশানায় কালীঘাট মন্দির!

    কলকাতা পুলিশের দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দর্শনার্থীদের সুবিধা এবং মন্দিরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কথা মাথায় রেখে পৃথক পুলিশ ফাঁড়ি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া মন্দির চত্বরে নাশকতা এবং জঙ্গি হামলার আশঙ্কার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যে একাধিক বিদেশি জঙ্গির হদিশ পাওয়া গিয়েছে। পাকিস্তান বা বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত কোনও জঙ্গি মডিউল কি তাহলে বাংলার ধর্মস্থানগুলিকে টার্গেট করছে? কলকাতা পুলিশের পদক্ষেপে সেই প্রশ্নও জোরাল হচ্ছে।

    কতজন পুলিশকর্মী থাকবেন ফাঁড়িতে

    কলকাতা পুলিশের তরফে প্রাথমিক ভাবে জানানো হয়েছে, একজন ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে ২০ জন পুলিশকর্মী থাকবেন কালীঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে। তার মধ্যে দু’জন সাব ইনস্পেক্টর (এসআই) বা সার্জেন্ট পদমর্যাদার। তা ছাড়াও আট জন কনস্টেবল এবং পাঁচ জন মহিলা কনস্টেবল থাকবেন। কালীঘাট থানার আওতায় থাকবে কালীঘাট পুলিশ ফাঁড়ি। একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার (এসিপি) পুলিশ ফাঁড়ির প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাবেন। পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) বা ডিসি সাউথ সমস্ত দিকটা দেখভাল করবেন।

LinkedIn
Share