Blog

  • SIM Cards Rule: আগামী সপ্তাহ থেকে সিম কার্ডের নতুন নিয়ম! সর্বোচ্চ কয়টি সংযোগ রাখতে পারবেন?

    SIM Cards Rule: আগামী সপ্তাহ থেকে সিম কার্ডের নতুন নিয়ম! সর্বোচ্চ কয়টি সংযোগ রাখতে পারবেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একজন ব্যক্তি নিজের নামে সর্বোচ্চ কতগুলি মোবাইল সংযোগ রাখতে পারবেন, সেই নিয়ম কার্যকর করতে এবার আরও কড়া পদক্ষেপ করল কেন্দ্র সরকার। আগামী ২৪ অগাস্ট থেকে নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে নতুন সিম নেওয়ার ক্ষেত্রে টেলিকম সংস্থাগুলিকে সংযোগ দেওয়া বন্ধ করতে হবে। কেন্দ্রের এই নির্দেশে গ্রাহকদের জন্য নতুন করে সিম নেওয়ার ক্ষেত্রে নজরদারি আরও বাড়তে চলেছে। টেলিকম সংস্থাগুলিকে পাঠানো ১৭ অগাস্টের নির্দেশিকায় কেন্দ্রীয় টেলিকম দফতর (DoT) জানিয়েছে, কোনও গ্রাহক নির্ধারিত সীমার বেশি মোবাইল সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করলে তা শনাক্ত করার জন্য প্রযুক্তিগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা করতে হবে। ওই গ্রাহককে জানাতেও হবে যে তাঁর নামে ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ সংখ্যক সংযোগ রয়েছে।

    একজনের নামে সর্বোচ্চ কতটি সিম?

    এই সীমা অবশ্য নতুন নয়। এক দশকেরও বেশি সময় আগে কেন্দ্রীয় টেলিকম দফতর (DoT) একজন ব্যক্তির নামে সর্বোচ্চ ৯টি মোবাইল সংযোগ রাখার সীমা নির্ধারণ করেছিল। এই নিয়ম বিভিন্ন টেলিকম সংস্থা এবং সার্ভিস এরিয়া মিলিয়েই প্রযোজ্য। তবে জম্মু ও কাশ্মীর, অসম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে সর্বোচ্চ সীমা ৬টি সংযোগ। নতুন পরিবর্তন হল, এবার এই সীমা বাস্তবে কার্যকর করার জন্য টেলিকম সংস্থাগুলিকে আরও কঠোরভাবে গ্রাহকের আগের সংযোগ যাচাই করতে হবে।

    নতুন সিম নিতে কী তথ্য দিতে হবে?

    নতুন সংযোগ নেওয়ার সময় গ্রাহককে কাস্টমার অ্যাপলিকেশন ফর্ম (Customer Application Form বা CAF)-এ নিজের নামে ইতিমধ্যে থাকা মোবাইল নম্বরগুলির তথ্য দিতে হবে। অন্য কোনও টেলিকম সংস্থা বা অন্য কোনও টেলিকম সার্ভিস এরিয়ায় নেওয়া সংযোগও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। শীঘ্রই ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকমিউনিকেশন (DoT) ফোটো বেসড আইডেন্টিফিকেশন ফিচার চালু করতে চলেছে। এই ফিচারের মাধ্যমে সহজেই চিহ্নিত করা যাবে যে একজনের নামে কতগুলি সিম আছে।

    কীভাবে গ্রাহককে শনাক্ত করা হবে?

    সিমের নির্ধারিত সীমা কার্যকর করতে টেলিকম সংস্থাগুলিকে সরকারের ডিজিটাল ইন্টিলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম (Digital Intelligence Platform বা DIP)-এর মাধ্যমে গ্রাহকের তথ্য যাচাই করতে হবে। বিভিন্ন টেলিকম সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য একত্রিত করে এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কোনও ব্যক্তির নামে কতগুলি মোবাইল সংযোগ রয়েছে, তা যাচাই করা যাবে।  এছাড়াও ২৩ অগাস্ট থেকে ডিজিটাল ইন্টিলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম -এ নির্ধারিত সীমায় পৌঁছে যাওয়া গ্রাহকদের ক্ষেত্রে একটি ছবি-ভিত্তিক শনাক্তকরণ সুবিধা চালু করা হবে। নতুন সংযোগ দেওয়ার আগে অপারেটররা এই তথ্য ব্যবহার করে গ্রাহকের সংযোগের সংখ্যা যাচাই করতে পারবেন। কেউ নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে থাকলে তাঁকে আর নতুন সিম দেওয়া হবে না।

    ভুল করে অতিরিক্ত সিম দেওয়া হলে কী হবে?

    নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করার জন্য টেলিকম সংস্থাগুলিকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কোনও গ্রাহকের নির্ধারিত সীমার বেশি সংযোগ ভুল করে সক্রিয় হয়ে গেলে, সেই সংযোগ এক দিনের জন্য অবিলম্বে স্থগিত করা হতে পারে। পরে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় টেলিকম দফতর (DoT)-এর বক্তব্য, এই নির্দেশের মূল উদ্দেশ্য হল গ্রাহকদের নির্ধারিত সীমার মধ্যেই মোবাইল সংযোগ ব্যবহার নিশ্চিত করা। নিয়ম কার্যকর করার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স সার্ভিস এরিয়া (Licensed Service Area বা LSA)-এর মাধ্যমে তা মোকাবিলা করা হবে।

    কেন এই কড়া বার্তা?

    সিম কার্ড নিয়ে জালিয়াতি-প্রতারণা ক্রমশ বাড়ছে।  কখনও ভুয়ো নথি দিয়ে সিম কার্ড তুলে অপরাধমূলক কাজকর্ম করা হচ্ছে, কখনও আবার অন্যের সিম ব্যবহার করে অপরাধ ঘটানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এবার সরকার সিম কার্ড নিয়ে কড়া অবস্থান কেন্দ্রের। গত বছরের জুন মাসে নতুন টেলিকম আইন চালু করে কেন্দ্র। ওই আইন অনুসারে, ন’টির বেশি সিম ব্যবহার করা অপরাধ। প্রথম বার আইন ভাঙলে, সর্বাধিক ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। পরে একই অপরাধ করলে জরিমানার অঙ্ক বৃদ্ধি পেয়ে দু’লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এমনকি তিন বছর পর্যন্ত জেলও হতে পারে এই অপরাধের কারণে।

  • Amit Shah on Chicken’s Neck: ‘চিকেনস নেক’ ঘিরে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা! কীভাবে ওই করিডরকে নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলছে ভারত, স্পষ্ট করলেন শাহ

    Amit Shah on Chicken’s Neck: ‘চিকেনস নেক’ ঘিরে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা! কীভাবে ওই করিডরকে নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলছে ভারত, স্পষ্ট করলেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের নিরাপত্তায় শিলিগুড়ি করিডরের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই চিকেনস নেকের (Amit Shah on Chicken’s Neck) নিরাপত্তায় ত্রিকোণ সুরক্ষা গ্রিড বানিয়েছে ভারত সরকার। শুক্রবার শিলিগুড়ির রানিডাঙ্গায় সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-এর উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কথা জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ৩ দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসেছেন তিনি। প্রথম দিন রয়েছেন শিলিগুড়িতে। সেখানে দাঁড়িয়েই বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার চিকেনস নেকের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অনেক ব্যবস্থা নিচ্ছে, বলে বার্তা দেন শাহ। শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা নয়, প্রশাসনিক পরিকাঠামো থেকে দিল্লির সঙ্গে দ্রুত রেল যোগাযোগ, শিলিগুড়িকে ঘিরে একাধিক পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি ।

    চিকেনস নেকের সুরক্ষায় ত্রি-কোণ গ্রিড

    দেশের মানচিত্রে উত্তরবঙ্গ একটি সরু ফালি। অথচ কৌশলগত গুরুত্বে গোটা দেশের কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ভারতীয় ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সেতু শিলিগুড়ি করিডর, ‘চিকেনস নেক’। শুক্রবার শিলিগুড়িতে এসে সেই করিডরের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা নিয়েই বড় বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানান ৮ রাজ্যকে যোগ করা অত্যন্ত সংবেদনশীল জায়গা এটি। নেপাল, ভূটান এবং বাংলাদেশ সীমান্ত এর সঙ্গে জড়িত। এটা রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত। তাঁর ঘোষণা, “শিলিগুড়ি করিডর সুরক্ষিত রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।” শাহ জানান, শিলিগুড়ি করিডর ও সমগ্র দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি বিশেষ ‘ত্রিকোণীয় নিরাপত্তা গ্রিড’ তৈরি করেছে। চোপড়া, কিষাণগঞ্জ ও ধুবড়ি- এই তিন ঘাঁটি থেকে সমগ্র করিডরে নজরদারি, সামরিক উপস্থিতি ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই ক্রিকোণীয় সুরক্ষা গ্রিড চিকেন্স নেকের সিকিউরিটির দিক থেকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমেই পুরো এলাকার উপর কন্ট্রোল রাখা সম্ভব হচ্ছে। নিয়মিত ‘তিস্তা প্রহার’ এর মতো সামরিক অনুশীলনের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে।

    মমতা-সরকারকে নিশানা

    নিজের বক্তব্যের সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিকবার আক্রমণ করেন অমিত শাহ। তিনি জানান, আগে একাধিকবার এই ধরনের অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আসার জন্য অনুরোধ জানান হয়েছে। পালাবদলের পরে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু এসেছেন জানিয়ে অমিত শাহ বলেন, ‘শুভেন্দুজি বলছিলেন, এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী এসএসবির অনুষ্ঠানে এলেন। কিন্তু আগেও আমন্ত্রণ জানানো হতো। তিনি আসতেন না।’ সীমান্ত পরিকাঠামো উন্নয়ন ও জমি সংক্রান্ত বিষয়ে অমিত শাহ পূর্বতন সরকারের সমালোচনা এবং বর্তমান সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

    শুভেন্দু-সরকারের প্রশাংসা

    শাহ মনে করিয়ে দেন, অনুপ্রবেশকারীদের আটকাতে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়া দরকার। কিন্তু সেই কাজটাই এত দিন আটকে ছিল জমি না পাওয়ার জন্য। তৃণমূল নেত্রীকে আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘২০১৪ থেকে ১১২৯ একর জমি চাইছি। তাঁর হাতে-পায়ে ধরে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু জমি দেননি।’ অমিত শাহ সোজাসুজি বলে দিলেন, ‘এখন ফোন করলেই কাজ হয়ে যায়, চিঠি পরে পাঠানো হয়।’ শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রথম দিন থেকেই সীমান্ত সুরক্ষায় জোর দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শিলিগুড়ি করিডরের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে অমিত শাহ বলেন, ‘চিকেনস নেককে সুরক্ষিত করতে ৫৬০ একর জমির প্রয়োজন ছিল। শুভেন্দুজি মুখ্যমন্ত্রী হয়েই সেই অনুমোদন দিয়েছলেন।’

    দিল্লি-শিলিগুড়ি রেল করিডর

    তিনি আরও জানান, শুধু সেনা বা এজেন্সির মাধ্যমে কোনও জায়গার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বরং তার জন্য় স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ খুবই জরুরি। তাই ২০২৬-২৭ বাজেটে দিল্লি-শিলিগুড়ি রেল করিডর তৈরি করার কথা বলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এদিনের অনুষ্ঠানে প্রায় ১৮৯ কোটি টাকার একাধিক নতুন প্রশাসনিক ও আবাসিক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরও উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গৌরব মোহন, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর অধিকর্তা মহেশ দীক্ষিত, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ডঃ রাজেন্দ্র কুমার, এসএসবি-র ডিজি সঞ্জয় সিংঘল এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অন্যান্য শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা।

    ‘বন্দে মাতরমের’ প্রসঙ্গ

    সীমান্ত সুরক্ষা ও দেশের নিরাপত্তার কথা বলতে গিয়ে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরমের’ প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। অমিত শাহের কথায়, ‘স্বাধীনতার পরেও পুরো বন্দে মাতরম গাওয়া হতো না। আমার দুঃখ হতো। নতুন নিয়মে জাতীয় গানকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।’ এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গীর কথা আরও ভালো ভাবে জানতে পারবে বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিন এসএসবি-র জওয়ানদের ভূয়সী প্রশংসা করে শাহ বলেন, ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর মণিপুর, জম্মু-কাশ্মীর, ত্রিপুরা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এসএসবি জওয়ানরা অসামান্য সেবা দিয়েছেন। কারগিল যুদ্ধের পর ‘ওয়ান বর্ডার, ওয়ান ফোর্স’ নীতি অনুযায়ী ২০০১ সাল থেকে ১,৭৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-নেপাল সীমান্ত এবং ২০০৪ সাল থেকে ৭০০ কিলোমিটার (প্রকৃতপক্ষে ৬৯৯ কিমি) দীর্ঘ ভারত-ভূটান সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে এসএসবি। কাঁটাতারহীন উন্মুক্ত সীমান্তে বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে প্রীতি বজায় রেখে দিবারাত্রি কাজ করা অত্যন্ত কঠিন, যা এসএসবি জওয়ানরা নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছেন।

    বিকশিত ভারতে পশ্চিমবঙ্গের অবদান

    অমিত শাহের পরে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এসএসবি-র গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁকে আমন্ত্রণ করার জন্য কৃতজ্ঞতাও জানান। অমিত শাহকে চাণক্যর সঙ্গে তুলনা করে শুভেন্দু বলেন, ‘তিনি চাণক্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজির নেতৃত্বে অমিত শাহজি সীমান্ত সুরক্ষিত করেছেন।’ ২০৪৭-এ বিকশিত ভারতে পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বেশি অবদান থাকবে বলে আশা শুভেন্দুর।

  • Mohan Bhagwat’s US Visit: ভাগবতের মার্কিন সফরের আগে ইউএসসিআইআরএফ-এর অবস্থান ঘিরে বিতর্ক, আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি

    Mohan Bhagwat’s US Visit: ভাগবতের মার্কিন সফরের আগে ইউএসসিআইআরএফ-এর অবস্থান ঘিরে বিতর্ক, আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সরসংঘচালক ড. মোহন ভাগবতের আসন্ন ব্রিটেন, আমেরিকা ও কানাডা সফর ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আগামী ২৫ আগস্ট থেকে তাঁর বিদেশ সফর শুরু হওয়ার কথা। এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন— ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশানাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (USCIRF)—আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে।

    আরএসএস-এর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত প্রচার

    ইউএসসিআইআরএফ-এর তরফে ওয়াশিংটনের কাছে আরএসএস নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক না করার আর্জি জানানো হয়েছে। তাঁদের কূটনৈতিক সৌজন্যও না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটির বর্তমান চেয়ারম্যান পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসক আসিফ মাহমুদ। ইউএসসিআইআরএফ-এর কমিশনার জিন মিলস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-এ দেওয়া এক বার্তায় আরএসএস সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আরএসএস-এর সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি দাবি করেন, ভারত সরকারের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আরএসএস নেতাদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বা কূটনৈতিক সৌজন্য দেওয়া উচিত নয়। উল্লেখ্য, আরএসএস-এর শতবর্ষ উদযাপনের আবহেই ড. মোহন ভাগবতের এই বিদেশ সফর। আরএসএস-এর প্রচারপ্রমুখ সুনীল আম্বেকর জানিয়েছেন, বিদেশের বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠন ও ভারতীয় প্রবাসী সংগঠনের আমন্ত্রণে ২৫ আগস্ট থেকে আমেরিকা, কানাডা ও ব্রিটেনে সফর করবেন ভাগবত। সফরে তিনি ভারতীয় প্রবাসী এবং স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলে জানা গিয়েছে।

    ইউএসসিআইআরএফ-এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

    চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত ইউএসসিআইআরএফ-এর বার্ষিক রিপোর্টেও ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছিল। রিপোর্টে আরএসএস-সহ কয়েকটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘টার্গেটেড স্যাংশন’-এর সুপারিশ করা হয়। সেই রিপোর্ট অবশ্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিল ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ইউএসসিআইআরএফ-এর রিপোর্টকে ‘বিকৃত ও বাছাই করা’ চিত্র তুলে ধরার অভিযোগে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত সমালোচনা’ চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ইউএসসিআইআরএফ-এর উচিত আমেরিকায় হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর ও হামলা, ভারতকে লক্ষ্য করে বাছাই করা সমালোচনা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় প্রবাসীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা ও ভয় দেখানোর মতো ঘটনাগুলির দিকেও নজর দেওয়া। ভাগবতের সফরের ঠিক আগে আরএসএস-এর বিরুদ্ধে ইউএসসিআইআরএফ-এর এই অবস্থানকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে আগেও সংস্থাটির রিপোর্টের নিরপেক্ষতা ও তথ্যসূত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

  • India Japan Defence Deal: নজরে চিন! ইন্দো-প্যাসিফিকে শক্তি বাড়াচ্ছে ভারত, জাপানের সঙ্গে সমুদ্র নিরাপত্তায় নতুন চুক্তি

    India Japan Defence Deal: নজরে চিন! ইন্দো-প্যাসিফিকে শক্তি বাড়াচ্ছে ভারত, জাপানের সঙ্গে সমুদ্র নিরাপত্তায় নতুন চুক্তি

    সুশান্ত দাস

    ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমশ বদলে যাচ্ছে নিরাপত্তার সমীকরণ। আর সেই পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার পথে হাঁটল ভারত ও জাপান। সমুদ্র নিরাপত্তা, সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সামরিক রসদ সরবরাহ— একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশ। ২০ অগাস্ট নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বৈঠকে বসেন। বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার একাধিক পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। জুলাই ২০২৬-এ ভারত ও জাপানের শীর্ষ নেতৃত্বের যৌথ বিবৃতির পরেই দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। দুই দেশই জানিয়েছে, ভারত-জাপান বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

    সমুদ্র নিরাপত্তায় নতুন সমঝোতা

    বৈঠকের অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত হল ভারত ও জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মধ্যে সমুদ্র নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর। এই সমঝোতার মাধ্যমে ভারতীয় নৌবাহিনী এবং জাপানের সামুদ্রিক আত্মরক্ষা বাহিনীর মধ্যে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আরও বাড়বে। সমুদ্র এলাকায় নজরদারি ও পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য আদানপ্রদান, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান এবং মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

    বিশেষ করে সামুদ্রিক ক্ষেত্র সম্পর্কে সচেতনতা বা এমডিএ-র ক্ষেত্রে তথ্য আদানপ্রদান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি, গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো হবে। পারস্পরিক নৌসফর, যৌথ সামরিক মহড়া, কর্মী ও বিশেষজ্ঞদের আদানপ্রদান এবং সামরিক রসদ সহায়তার বিষয়েও সহযোগিতা হবে। প্রয়োজনে একে অপরের বন্দর এবং জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের পরিকাঠামো ব্যবহারের সুযোগও তৈরি হবে।

    জাপানি প্রযুক্তি, ভারতীয় উৎপাদন ক্ষমতা

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ ক্ষেত্রেও বড় সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ভারত ও জাপান। দুই দেশ মাইন প্রতিরোধ ও মোকাবিলা সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করবে। পাশাপাশি জাপানের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ভারতের উৎপাদন ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে যৌথভাবে নৌবাহিনীর জাহাজের নকশা ও নির্মাণের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হবে। মেক ইন ইন্ডিয়া কর্মসূচির আওতায় জাপান কীভাবে ভারতের জাহাজ নির্মাণ পরিকাঠামো ব্যবহার করতে পারে, সেই বিষয়েও আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়াও দুই দেশের জাহাজ মেরামত কেন্দ্র পরস্পরের জন্য ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। খুব শীঘ্রই জাহাজ মেরামত সংক্রান্ত একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে দুই দেশ।

    বাড়বে সামরিক মহড়ার পরিধি

    ভারত ও জাপানের সামরিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হল যৌথ মহড়া। বৈঠকে দুই দেশের সেনাবাহিনীর ‘ধর্ম গার্ডিয়ান’ এবং নৌবাহিনীর ‘জাইমেক্স’ মহড়ার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়াও চলতি বছর হতে চলা দুই দেশের বিমানবাহিনীর যৌথ মহড়া ‘বীর গার্ডিয়ান ২৬’ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এই মহড়ায় এবার বিশেষ নজর থাকবে। কারণ প্রথমবার জাপানের বিমান আত্মরক্ষা বাহিনীর যুদ্ধবিমান ভারতে এসে যৌথ মহড়ায় অংশ নেবে। আগামী দিনে ভারত ও জাপান যৌথ সামরিক মহড়ার জটিলতা এবং পরিধি আরও বাড়াবে। মহড়ায় মানবহীন ব্যবস্থা যুক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প সময়ের নোটিসেও যৌথ অনুশীলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। দুই দেশের বিশেষ অভিযান বাহিনীর মধ্যেও যোগাযোগ ও প্রশিক্ষণ বিনিময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভারতের সমন্বিত থিয়েটার কমান্ড ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর জাপানের সঙ্গে এই ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।

    প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত

    ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জাপানের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত নীতির সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতায় জাপানের আরও বড় ভূমিকার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি। দুই দেশের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে জাপানের স্টেলথ রণতরীতে ব্যবহৃত বিশেষ ইউনিকর্ন রেডোম অ্যান্টেনা ব্যবস্থা। এটিকে ভারত ও জাপানের মধ্যে প্রথম প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম হস্তান্তর প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। একইসঙ্গে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে আরও আলোচনা করে ভবিষ্যতে নতুন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। উন্নত প্রতিরক্ষা গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়বে। ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও এবং জাপানের সংস্থার মধ্যে যৌথ গবেষণা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়াও দুই দেশ একটি প্রতিরক্ষা শিল্প মঞ্চ গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে।

    ইন্দো-প্যাসিফিকে তৃতীয় দেশগুলির সঙ্গেও সহযোগিতা

    শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, অন্যান্য দেশের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে চায় ভারত ও জাপান। ফেব্রুয়ারিতে ভারত, জাপান ও ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর মধ্যে প্রথম ত্রিদেশীয় পাসেক্স মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রী। আগামী দিনে উচ্চপর্যায়ের সফর, সামরিক মহড়া এবং অন্যান্য উদ্যোগের মাধ্যমে তৃতীয় দেশগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় যৌথভাবে অবদান রাখাই এর লক্ষ্য। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সহযোগী দেশগুলিতে দ্রুত মানুষ এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিতে ইন্দো-প্যাসিফিক লজিস্টিক নেটওয়ার্ক বা আইপিএলএন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে এই ব্যবস্থার দ্বিতীয় টেবিলটপ মহড়া অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

    দ্রুত হবে ভারত-জাপান ‘টু প্লাস টু’ বৈঠক

    ভারত ও জাপানের মধ্যে চতুর্থ বিদেশ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক, যা ‘টু প্লাস টু’ বৈঠক নামে পরিচিত, দ্রুত আয়োজনের বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে। চলতি বছর টোকিওতে এই বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও সম্মত হয়েছে দুই দেশ। এর মাধ্যমে দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করতে চায় নয়াদিল্লি ও টোকিও।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নজরদারির জন্য নতুন গোষ্ঠী

    ভারত ও জাপানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরিধি দ্রুত বাড়ছে। তাই বিভিন্ন উদ্যোগকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি নতুন ওয়ার্কিং গ্রুপ বা কার্যকরী গোষ্ঠী গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ডিজি বা যুগ্মসচিব পর্যায়ের এই গোষ্ঠী দুই দেশের মধ্যে সামরিক কর্মসূচি, গোয়েন্দা তথ্য, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা শিল্প সংক্রান্ত সহযোগিতার সমন্বয় করবে। বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা এবং সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের পথ তৈরি করাও এই গোষ্ঠীর অন্যতম দায়িত্ব হবে। তবে দুই দেশের নিজস্ব নীতি ও সার্বভৌম সিদ্ধান্তকে সম্মান করেই এই সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

    জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

    নয়াদিল্লিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আগে ভারতের জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে গিয়ে দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া ভারতীয় সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। এরপর তাঁকে তিন বাহিনীর সমন্বিত গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। ভারত সফরের সময় মুম্বইয়ে গিয়ে পশ্চিম নৌ কমান্ড এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ আইএনএস চেন্নাই-ও পরিদর্শন করেন তিনি। সব মিলিয়ে, সমুদ্র নিরাপত্তা থেকে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ, সামরিক মহড়া থেকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি—একাধিক ক্ষেত্রে ভারত ও জাপানের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে চলেছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে দুই দেশের এই কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

  • Meta Lawsuit: মেটার বিরুদ্ধে ২৯টি মার্কিন অঙ্গরাজ্যের মামলা, ১.৪ লাখ কোটি ডলার ক্ষতির আশঙ্কা, জুকারবার্গের সামনে বড় আইনি চ্যালেঞ্জ

    Meta Lawsuit: মেটার বিরুদ্ধে ২৯টি মার্কিন অঙ্গরাজ্যের মামলা, ১.৪ লাখ কোটি ডলার ক্ষতির আশঙ্কা, জুকারবার্গের সামনে বড় আইনি চ্যালেঞ্জ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে দীর্ঘদিন ধরে সোশাল মিডিয়ার নীতিমালা ও বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা মেটার (Meta) চিফ এক্সিকিউটিভ মার্ক জুকারবার্গ (Zuckerberg) এবার আমেরিকায় বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। দেশটির ২৯টি অঙ্গরাজ্য মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলায় এমন কিছু প্রতিকারের দাবি জানানো হয়েছে, যার ফলে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আর্থিক দায়ের মুখে পড়তে পারে সংস্থাটি।ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে চলা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তরুণ ইউজারদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে মেটা ইচ্ছাকৃতভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে স্ক্রলিং, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়া এবং অ্যালগরিদম-নির্ভর সুপারিশের মতো বিভিন্ন সুবিধা তৈরি করেছে। অঙ্গরাজ্যগুলির অভিযোগ, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের দীর্ঘ সময় এবং অনেক ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে উৎসাহিত করার মতো করেই ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামকে নকশা করা হয়েছে।

    সম্ভাব্য সর্বোচ্চ আর্থিক দায় (Meta)

    তবে ১ দশমিক ৪ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের অঙ্কটি মেটার ওপর ইতিমধ্যেই আরোপিত কোনও জরিমানা নয়। আদালতে দাখিল করা নথিতে উল্লিখিত অভিযোগ ও প্রযোজ্য শাস্তির ভিত্তিতে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ আর্থিক দায় হিসাব করে এই অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। মেটা এই দাবিকে “অবাস্তব” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার আইনজীবী মেগান ও’নিলের মতে, বাস্তবসম্মত অঙ্ক ১৯৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে। বিচারক ইভন গনজালেস রজার্সও ১ দশমিক ৪ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি এই হিসাবকে “অযৌক্তিক” বলে মন্তব্য করেছেন। শেষ পর্যন্ত মেটাকে কত অর্থের আর্থিক দায় বহন করতে হবে, তা আদালতের পর্যবেক্ষণ ও বিচারকের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে।

    ভারতে মেটার কার্যকলাপ নিয়েও বাড়ছে প্রশ্নের বহর

    ভারতে মেটার কার্যক্রমও ক্রমশ সরকারি ও জনপর্যায়ের নজরদারির মধ্যে পড়ছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ, ক্ষতিকর বিষয়বস্তু এবং পরিচালনাগত ত্রুটি নিয়ে বহুদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে।

    ২০২৬ সালের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি পোস্ট সাময়িকভাবে ব্লক করে দিয়েছিল ফেসবুক। এরপর ভারত সরকার মেটার কর্তাদের তলব করে। পরে মেটা ক্ষমা চেয়ে জানায়, ঘটনাটি ছিল পরিচালনাগত ভুলের ফল।

    বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ও প্ল্যাটফর্মের দায়বদ্ধতা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ২০২৬ সালের অগাস্টে জুকারবার্গ ভারতীয় কর্তাদের কাছেও ক্ষমা চান। তাঁর প্ল্যাটফর্মে শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান, কৃত্রিমভাবে তৈরি (Meta) ভুয়া ভিডিও এবং অন্যান্য পরিচালনাগত ত্রুটির উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এই ক্ষমাপ্রার্থনা করা হয়।

    বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন সরকারি আধিকারিকরা জানান, মেটা তাদের প্ল্যাটফর্মে নির্দিষ্ট ধরনের বিষয়বস্তুর প্রচার বাড়ানোর জন্য অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেছে। এর ফলে ভারতে আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—অর্থের বিনিময়ে যদি কোনও বিষয়বস্তুকে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে কোটি কোটি ভারতীয় ইউজারের সামনে কোন বিষয়বস্তু দৃশ্যমান হবে, সেই সিদ্ধান্তে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলি কতটাই বা নিরপেক্ষ?

    ভারত সোশাল মিডিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করেছে। সরকারি সংস্থা বা আদালতের নোটিশ পাওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যে বেআইনি বিষয়বস্তু সরিয়ে ফেলার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। ফলে ভারতের মতো মেটার অন্যতম বৃহৎ বাজারে সংস্থাটির জন্য নিয়ন্ত্রক পরিবেশ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ভারত সরকার সতর্ক করেছে, দেশের আইন লঙ্ঘন করলে মেটা তার দায়মুক্তির আইনি সুরক্ষাও হারাতে পারে।

    মেটার এআইয়ের কৌশলেও বড় ধাক্কার আশঙ্কা

    মামলাটির প্রভাব শুধু সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। মেটার ক্রমবর্ধমান এআই-ভিত্তিক পরিকল্পনার উপরও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।

    মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলি আদালতের কাছে এমন নির্দেশ দাবি করছে, যার ফলে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের পরিচালনপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হতে পারে। এর মধ্যে অল্পবয়সী ইউজারদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধ, সুপারিশ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং স্ক্রলিংয়ের মতো সুবিধায় নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয় রয়েছে।

    ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া সংগ্রহ করা ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলার দাবিও জানানো হয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ওই তথ্য ব্যবহার করে প্রশিক্ষিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল ও অ্যালগরিদমের ক্ষেত্রেও এই নির্দেশ প্রযোজ্য হতে পারে।

    আদালত যদি মনে করে শিশুদের তথ্য বেআইনিভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং পরে সেই তথ্য এআইয়ের মডেল বা অ্যালগরিদম প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হয়েছে, তাহলে মেটাকে তার এআই পরিকাঠামোর কিছু অংশ শনাক্ত, পর্যালোচনা, পরিবর্তন এমনকি প্রয়োজনে বাতিলও করতে হতে পারে (Meta)।

    সাক্ষ্য দিতে পারেন জুকারবার্গ ও মোসেরি

    পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ ধরে চলতে পারে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া। সেখানে মেটা কর্তা জুকারবার্গ এবং ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরির সাক্ষ্য দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মেটার বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মী এবং প্রযুক্তি ও মনোবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরাও সাক্ষ্য দিতে পারেন।

    তরুণ ইউজারদের ওপর ইনস্টাগ্রামের প্রভাব নিয়ে এর আগেও জুকারবার্গকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। অন্য একটি মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি দাবি করেছিলেন, ইনস্টাগ্রামকে আসক্তি তৈরির জন্য নয়, বরং ইউজারদের উপকারে আসার মতো করে তৈরি করা হয়েছিল।

    ২৯ অঙ্গরাজ্যের অভিযোগ

    ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সি-সহ ২৯টি অঙ্গরাজ্যের অভিযোগ, মেটা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নিরাপত্তা সম্পর্কে ইউজারদের বিভ্রান্ত করেছে এবং এমন কিছু সুবিধা জেনেশুনে তৈরি করেছে, যা তরুণ ইউজারদের আরও বেশি সময় প্ল্যাটফর্মে কাটাতে উৎসাহিত করে। এসব কার্যকলাপের মাধ্যমে মেটা অঙ্গরাজ্যগুলির ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে (Zuckerberg)।

    অন্য একটি মামলায় ২৯টি অঙ্গরাজ্যই অভিযোগ করেছে, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে মেটা শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষাসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় আইন লঙ্ঘন করেছে।

    মেটা অবশ্য সব অভিযোগই অস্বীকার করেছে। সংস্থার দাবি, অঙ্গরাজ্যগুলির প্রধান আইন কর্তারা পর্যাপ্ত প্রমাণ হাজির করতে পারেননি এবং যে পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করা হচ্ছে, তা অভিযোগের তুলনায় অসমানুপাতিক। কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিজেদের ভূমিকারও সাফাই দিয়েছে মেটা। পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মের নকশা, বয়স যাচাই এবং ইউজারদের প্রতারণার অভিযোগও অস্বীকার করেছে সংস্থাটি।

    বড় প্রযুক্তি সংস্থা এবং এআইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা

    এই মামলার রায় মেটার জন্য শুধু বিপুল আর্থিক ক্ষতির প্রশ্নই নির্ধারণ করবে না, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কার্যপদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে কি না, সেটিও নির্ধারণ করতে পারে (Meta)।

    এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল, মামলাটি এআই শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে। আদালত যদি এমন নির্দেশ দেয়, বেআইনিভাবে সংগ্রহ করা তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষিত এআই মডেল মুছে ফেলতে বা পরিবর্তন করতে হবে, তাহলে ভবিষ্যতে বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি কীভাবে এআই সিস্টেম তৈরি, প্রশিক্ষণ ও পরিচালনা করবে, তার ওপরও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জুকারবার্গের জন্য এটি নিজের দেশের মাটিতেই এক বড় আইনি পরীক্ষা। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সোশাল মিডিয়া সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান এখন এমন এক আদালত-লড়াইয়ের মুখোমুখি, যা শুধু মেটার আর্থিক অবস্থাকেই নয়, সংস্থাটির ভবিষ্যতের অন্যতম (Zuckerberg) প্রধান বাজি এআই -কেন্দ্রিক কৌশলেরও একটি অংশকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে (Meta)।

     

  • Imran Khan: কারাগারে ফিরলেন ইমরান খান! হাসপাতাল থেকে ফের আদিয়ালা জেলে প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী

    Imran Khan: কারাগারে ফিরলেন ইমরান খান! হাসপাতাল থেকে ফের আদিয়ালা জেলে প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিকিৎসকদের পরীক্ষার পর ফের জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হল পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে (Imran Khan)। শুক্রবার ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল থেকে তাঁকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদিয়ালা জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আপাতত তাঁকে জেল হেফাজতেই রাখা নিরাপদ। ইমরান খানকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য আদিয়ালা জেল থেকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ছয় সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল তাঁকে পরীক্ষা করে। পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, ইমরান খানকে হাসপাতালে ভর্তি করার মতো জরুরি পরিস্থিতি নেই। এরপরই তাঁকে ফের আদিয়ালা জেলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাঁর নির্ধারিত সেলে রাখা হয়।

    চিকিৎসা নিয়ে আইনি টানাপোড়েন

    ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে তাঁর পরিবার ও দলের দীর্ঘদিনের মতবিরোধ রয়েছে। তাঁর আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা বারবার অভিযোগ করেছেন, জেলে থাকাকালীন তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যথাযথভাবে হচ্ছে না। অন্যদিকে, পাক কর্তৃপক্ষের দাবি, চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্টে এমন কোনও গুরুতর পরিস্থিতির কথা বলা হয়নি যার জন্য অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন। ইমরানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক-সহ একটি মেডিক্যাল প্যানেলকে তাঁকে পরীক্ষা করার অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল। এদিকে, ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের করা আবেদন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার অফিস আপত্তির কারণে ফেরত দিয়েছে বলে খবর। আপত্তিগুলি সংশোধন করে সরকার ফের আবেদন জানাতে পারে।

    চোখের সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ

    ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে জানুয়ারির শেষ দিকে তাঁর ডান চোখে সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন ধরা পড়ার পর। এরপর চিকিৎসার জন্য তাঁকে একাধিকবার ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (PIMS)-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইমরানের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে কোনও বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়েছে। এমনকি প্রয়োজনে তাঁকে বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসা করানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ফেডারেল মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী।

    টানা ৩ বছর জেলে ইমরান

    ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে জেলে রয়েছেন ইমরান খান। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন তিনি। যদিও পাকিস্তান সরকার সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন প্রাক্তন ক্রিকেট তারকা ইমরান খান। তবে ২০২২ সালে সংসদে অনাস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি। ২০২৩ সালের ৯ মে তাঁর প্রথম গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক বিক্ষোভ ও হিংসার ঘটনা ঘটে। পরে ওই বছরের ৫ আগস্ট দুর্নীতির মামলা, যার মধ্যে তোষাখানা মামলাও ছিল, সেই মামলায় তাঁকে ফের গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে একাধিক মামলা ও সাজা নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ইমরান।

  • Amit Shah in North Bengal: ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে পরপর ২ বৈঠক! উত্তরবঙ্গে অমিত শাহ, নজরে সীমান্ত নিরাপত্তা ও পাহাড়

    Amit Shah in North Bengal: ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে পরপর ২ বৈঠক! উত্তরবঙ্গে অমিত শাহ, নজরে সীমান্ত নিরাপত্তা ও পাহাড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিন দিনের সফরে উত্তরবঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার রাতে বিশেষ বিমানে শিলিগুড়িতে পৌঁছন তিনি। বাগডোগরা বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, বিশাল লামা এবং দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা। উত্তরবঙ্গ সফরে অমিত শাহের কর্মসূচির কেন্দ্রে থাকছে সীমান্ত নিরাপত্তা, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ এবং পাহাড়ের একাধিক সমস্যা।

    বিমানবন্দর থেকে অমিত শাহ সুকনার একটি হোটেলে যান। সেখানেই রাতে থাকার পর শুক্রবার সকালে তাঁর সশস্ত্র সীমা বল বা এসএসবি-র সুকনা শিবিরে যাবেন। সেখানে ‘চিকেনস নেক’ করিডরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে পরপর দু’টি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই বৈঠকগুলিতে বিএসএফ-এর শীর্ষ আধিকারিকদেরও উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    নজরে ‘চিকেনস নেক’, বাড়ছে নিরাপত্তার গুরুত্ব

    উত্তরবঙ্গ সফরে অমিত শাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে এসএসবি শিবিরের বৈঠকগুলিকে। ভারতীয় ভূখণ্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগের ক্ষেত্রে শিলিগুড়ি করিডর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র কয়েক দশক কিলোমিটার প্রশস্ত এই করিডরই মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের স্থল যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ। ফলে এই এলাকার নিরাপত্তা, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক কৌশলগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে কেন্দ্রের বিশেষ নজর রয়েছে। শুক্রবারের বৈঠকে সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি, নজরদারি এবং গুরুত্বপূর্ণ করিডরের সুরক্ষা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। উত্তরবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমান্ত ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি ‘চিকেনস নেক’-এর কৌশলগত গুরুত্বও আলোচনায় উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

    কাওয়াখালি ময়দানে বিএনএস প্রদর্শনীর উদ্বোধন

    এসএসবি শিবিরে বৈঠক শেষ করে অমিত শাহের শিলিগুড়ির কাওয়াখালি ময়দানে যাওয়ার কথা। সেখানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস নিয়ে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ রাজ্য সরকারের একাধিক মন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা। আগামী ২৬ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী। সাধারণ মানুষের কাছে নতুন ফৌজদারি আইন সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ভারতীয় দণ্ডবিধি বা আইপিসি-র পরিবর্তে কার্যকর হওয়া ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় কোন পুরনো ধারার পরিবর্তে কোন নতুন ধারা এসেছে, প্রদর্শনীর মাধ্যমে তা তুলে ধরা হবে। নতুন আইন এবং তার বিভিন্ন পরিবর্তন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

    দলীয় বৈঠক, শনিবার পাহাড় নিয়ে পরপর দুই বৈঠক

    শুক্রবারের সরকারি কর্মসূচি শেষ করে ফের সুকনার হোটেলে ফিরে যাওয়ার কথা অমিত শাহের। সেখানে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক বিষয় নিয়েও সেই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। তবে সফরের শেষ দিন শনিবারও ব্যস্ত কর্মসূচি রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। সুকনার হোটেলেই পাহাড়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে পরপর দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার কথা তাঁর। পাহাড়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, স্থানীয় সমস্যা এবং প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সেখানে আলোচনা হতে পারে।

    সমস্ত বৈঠক ও কর্মসূচি শেষ করে শনিবারই দিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা অমিত শাহের। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ করিডরের নিরাপত্তা, অন্যদিকে পাহাড়ের সমস্যা এবং নতুন ফৌজদারি আইন নিয়ে জনসচেতনতা—সব মিলিয়ে অমিত শাহের উত্তরবঙ্গ সফরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একইসঙ্গে গুরুত্ব পাচ্ছে।

  • Indian Sailors Captured: ইয়েমেন ও সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুদের তাণ্ডব, পৃথক হামলায় অপহৃত ২২ ভারতীয় নাবিক

    Indian Sailors Captured: ইয়েমেন ও সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুদের তাণ্ডব, পৃথক হামলায় অপহৃত ২২ ভারতীয় নাবিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য। ইয়েমেন ও সোমালিয়ার উপকূলের কাছে পৃথক দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে সেগুলি দখল করেছে সশস্ত্র জলদস্যুরা। দুই ঘটনায় মোট ২২ জন ভারতীয় নাগরিক জলদস্যুদের কবলে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পরপর এই দুই ঘটনায় পূর্ব আফ্রিকার ‘হর্ন অফ আফ্রিকা’ অঞ্চল সংলগ্ন এডেন প্রণালী জলসীমায় ফের সক্রিয় হয়ে ওঠা সোমালি দস্যুদের  নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    ইয়েমেন উপকূলে তেলবাহী ট্যাঙ্কার দখল

    প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে এডেন প্রণালীতে। ইয়েমেন উপকূল থেকে প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছয় সশস্ত্র জলদস্যু দখল করে নেয় ইরিত্রিয়ার পতাকাবাহী তেলজাত পণ্য পরিবহণকারী ট্যাঙ্কার এমটি সিবু ১। জাহাজটিতে মোট ২০ জনের কর্মী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন ভারতীয়, একজন সিরীয়, একজন সুদানি, একজন ইরাকি এবং আরও একজনের জাতীয়তা নিশ্চিত নয়। ডিরেক্টরেট অফ মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিএমএ) রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে জাহাজের সমস্ত কর্মী নিরাপদ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে জাহাজ ও নাবিকদের বর্তমান অবস্থান এবং সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

    ঘটনার পর রিক্রুটমেন্ট ও প্লেসমেন্ট সার্ভিস লাইসেন্স-প্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে ডিএমএ। পাশাপাশি ই-নাবিক অনলাইন মেরিন ক্যাজুয়ালটি রিপোর্টিং সিস্টেমের মাধ্যমে নিয়মিত আপডেট দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এসকেএস কৃষিভ মেরিন সার্ভিসের সুমিত কান্ত সিং জানিয়েছেন, তাঁদের সংস্থা জাহাজটির চারজন কর্মীকে নিয়োগ করেছিল। সংশ্লিষ্ট চার কর্মীর তথ্যও ডিএমএ-র কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

    সোমালিয়া উপকূলে দ্বিতীয় জাহাজ ছিনতাই

    অন্যদিকে, সোমবার সোমালিয়ার পন্টল্যান্ড অঞ্চলের আইল প্রদেশের মারায়া এলাকার কাছে দ্বিতীয় হামলাটি ঘটে। আট জলদস্যু ক্যামেরুনের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ এমভি লুতুফ  দখল করে নেয়। হামলার সময় জাহাজটি উপকূল থেকে মাত্র ৩.৫ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল।  এক সোমালি আধিকারিক সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছেন, জাহাজটি দখলের পর জলদস্যুরা সেটিকে নুগাল উপকূলের দিকে নিয়ে যায়।

    এমভি লুতুফ-এ মোট ১০ জনের কর্মী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয়, একজন তুরস্কের নাগরিক, একজন জর্জিয়ার নাগরিক এবং দুইজন সার্বিয়ান নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। জাহাজটির মালিক পোলার মুভমেন্ট শিপিং। জানা গিয়েছে, জাহাজটিতে যোগাযোগ ও স্যাটেলাইট সংক্রান্ত সরঞ্জামের পাশাপাশি অস্ত্রও ছিল। এগুলি মোগাদিশুতে একটি তুর্কি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য পাঠানো হচ্ছিল বলে দাবি করেছেন ওই সোমালি আধিকারিক।

    এপ্রিলেও একই ধরনের জাহাজ ছিনতাই

    তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এমভি লুতুফ ছিনতাইয়ের সঙ্গে যুক্ত জলদস্যুরা সম্ভবত সেই একই গোষ্ঠীর সদস্য, যারা চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এমভি স্বার্ড নামে একটি জাহাজ ছিনতাই করেছিল। এপ্রিলের ওই ঘটনায় জলদস্যুরা জাহাজটিকে পন্টল্যান্ডের দাঙ্গোরয়ো জেলার অন্তর্গত গারমাল-এর কাছাকাছি উপকূলের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। তবে এমভি লুতুফ, তার কর্মী এবং জাহাজে থাকা পণ্য ও অস্ত্রের বর্তমান অবস্থা এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনা নিয়ে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

    ফের কি বাড়ছে সোমালি জলদস্যুদের দাপট?

    একই সময়ে ইয়েমেন ও সোমালিয়া উপকূলে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যু হামলা এবং ২২ জন ভারতীয়ের জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে এডেন প্রণালী, সোমালিয়া ও আফ্রিকার হর্ন সংলগ্ন জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এই ধরনের হামলা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। পরপর দুটি ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। দুই জাহাজের কর্মীদের নিরাপত্তা এবং তাঁদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

  • Jadavpur Chaos: বুধবার রাতে কী ঘটেছিল? যাদবপুরের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত উপাচার্যের

    Jadavpur Chaos: বুধবার রাতে কী ঘটেছিল? যাদবপুরের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত উপাচার্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাদবপুরে (Jadavpur University) ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। গঠন করা হচ্ছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। আজ, ২১ অগাস্ট কমিটির ঘোষণা করা হবে। বুধবার রাত থেকেই উত্তপ্ত যাদবপুর। বৃহস্পতিবার সকালেও এবিভিপি (ABVP) ও বাম ছাত্র সংগঠনের মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। অশান্তির রেশ পড়ে নন্দলাল বসুর তৈরি ফলকেও। ফলক ভেঙে ফেলার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন একাধিক প্রাক্তনী এবং প্রাক্তন অধ্যাপক। গত দুই দিন ধরে চলা এই অশান্তির ঘটনারই তদন্ত করতে কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটির কী কী কাজ হবে, কোন কোন বিষয়ে তদন্ত করা হবে, সেই সংক্রান্ত কয়েকটি সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য (Chiranjib Bhattacharya)।

    কী কী জানিয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য?

    • ১. উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ২১ অগাস্টের মধ্যে এই কমিটি গঠন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
    • ২. ১৯ অগাস্ট রাতে এবং ২০ অগাস্টের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ভাঙচুর এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগে যাদবপুর থানায় পুলিশ অভিযোগ দায়ের করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
    • ৩. ক্যাম্পাসে শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা করতে আগামী সোমবার বিকেল ৩টায় সমস্ত স্টেকহোল্ডারকে নিয়ে বৈঠক করা হবে।
    • ৪. ১৯ অগাস্ট রাতের ঘটনার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা হবে। তদন্ত কমিটির হাতে সেই ফুটেজ তুলে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসে বেআইনিভাবে প্রবেশ করা বাইরের ব্যক্তি-সহ ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের সনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।
    • ৫. বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনও নিরাপত্তা সংক্রান্ত গাফিলতি হয়েছিল কি না, সেটাও তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে। গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কী ঘটেছিল

    বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur Chaos) একাধিক ছাত্র সংগঠন সূত্রে খবর, ফ্যাকাল্টি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করেই প্রাথমিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। বাম ও দক্ষিণপন্থী ছাত্রসংগঠনের সংঘর্ষ চলে প্রায় সারা রাত। মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বহিরাগতেরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। বুধবার রাতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন বলে দাবি। দক্ষিণপন্থী ছাত্রদের দেখতে রাতেই হাসপাতালে গিয়েছিলেন যাদবপুর এলাকার বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। রাতে যাদবপুর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। এবিভিপি-র কেন্দ্রীয় কর্মসমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারী দাবি করেন, “অতিবাম ও দিমাগি নকশালেরা দলিত শিক্ষার্থীদের উপরে আক্রমণ চালিয়েছে।” তাঁদের অভিযোগ, এবিভিপি-র ছাত্রনেতা নিখিল দাসের উপরে হামলা চালিয়ে তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা করা হয়েছে।

  • Minor mothers: নাবালিকা মায়ের সংখ্যায় দেশে দ্বিতীয় পশ্চিমবঙ্গ! ভয়াবহ পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে, নড়েচড়ে বসছে প্রশাসন

    Minor mothers: নাবালিকা মায়ের সংখ্যায় দেশে দ্বিতীয় পশ্চিমবঙ্গ! ভয়াবহ পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে, নড়েচড়ে বসছে প্রশাসন

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    কেউ চোদ্দ বছর বয়সি আবার কেউ সতেরো! ইতিমধ্যেই তাঁরা মা! কেউ দুই সন্তানের আবার কেউ তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন! রাজ্য জুড়ে নাবালিকা মায়ের পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে! তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রসবকালে মায়ের মৃত্যু! এই জোড়া বিপদে কপালে ভাঁজ স্বাস্থ্য মহলে! স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারোদ্বত মুখোপাধ্যায় অবশ্য জানিয়েছেন, দ্রুত পরিস্থিতি সামলানোর জন্য প্রশাসন সব রকমভাবে তৎপর হবে। নাবালিকা বিয়ে রুখতে হবে। নাবালিকা মায়ের সংখ্যা কমবে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই মা হওয়ার জেরেই স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। ফলে, প্রসূতি মৃত্যুর মতো ঘটনাও বাড়ছে। একাধিক সন্তানের জন্ম দেওয়ার জেরে মায়ের প্রাণ সংশয় বাড়ছে। নাবালিকা বিয়ে রুখতে প্রশাসন সব রকম ভাবেই তৎপর থাকবে।

    কী বলছে পরিসংখ্যান? কেন বাড়ছে উদ্বেগ?

    সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্য জুড়ে মারাত্মক হারে বেড়েছে নাবালিকা মায়ের সংখ্যা। দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে পশ্চিমবঙ্গ। ঝাড়খণ্ডের পরেই নাবালিকা মায়ের নিরিখে রাজ্যের স্থান দ্বিতীয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের একাধিক জেলায় সমীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, প্রতি চারজন মায়ের মধ্যে একজন মা নাবালিকা। বিশেষত, কোচবিহার, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ জেলায় নাবালিকা মায়ের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেশি। কোচবিহারে নাবালিকা মায়ের সংখ্যা রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। ২৭.৩ শতাংশ নাবালিকা মা এই জেলায়! বীরভূম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ২৫ শতাংশ এবং মুর্শিদাবাদে ২০ শতাংশ।‌ এই পরিসংখ্যান দেখে উদ্বিগ্ন রাজ্য প্রশাসন।

    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্যে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় যথেষ্ট উদ্বিগ্ন প্রশাসন। একাধিক জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকেই প্রসূতি মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। কেন প্রসূতি মৃত্যু এই তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়েই জানা যাচ্ছে, প্রসূতি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নাবালিকা। তাই মায়ের মৃত্যুর ঘটনা বেশি দেখা যাচ্ছে। মা প্রাপ্ত বয়স্ক না হলে, মায়ের শারীরিক গঠন ঠিক মতো হয় না। এর ফলে সন্তান ধারণ করলে একাধিক সমস্যা তৈরি হয়। প্রসবকালে অতিরিক্ত রক্তপাতের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যায়। স্নায়ুর জটিলতা তৈরি হয়। সবমিলিয়ে মায়ের প্রাণ সংশয় তৈরি হয়। আবার স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম সমস্যা হয়ে উঠেছে, একাধিক প্রসব। তাঁরা জানাচ্ছেন, একদিকে নাবালিকা মা, আরেক দিকে আট থেকে দশটি সন্তান প্রসবের চাপ, সব মিলিয়ে মায়ের স্বাস্থ্য চূড়ান্ত অবহেলিত হচ্ছে। এর ফলেই প্রসূতি মৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

    কেন রাজ্যের এই পরিস্থিতি?

    প্রশাসনের একাংশ জানাচ্ছেন, সব মহলের তৎপরতার অভাবের জেরেই রাজ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকেই পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক ছিলো। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিলো, নাবালিকা মায়ের নিরিখে দেশে দ্বিতীয় স্থানে পশ্চিমবঙ্গ। ১৬ শতাংশ নাবালিকা মা এই রাজ্যে। ২০২৪ সালের আরেকটি পরিসংখ্যানেও একই রকম পরিস্থিতি জানান দেয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফেও একাধিকবার রাজ্যকে এই নিয়ে সতর্ক করা হয়। কিন্তু সব মহলের তৎপরতার অভাব যে স্পষ্ট সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। গত এক দশকে এই রাজ্যে নাবালিকা বিয়ে রুখতে রাজ্য প্রশাসন ব্যর্থ ছিলো। তাই রাজ্য জুড়ে নাবালিকা মায়ের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

    নয়া কোন পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন?

    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্য জুড়ে প্রচার কর্মসূচি চালানো হবে। প্রাপ্ত বয়স্ক মা দুটি সন্তানের জন্ম দিলে কী ধরনের সরকারি সাহায্য পেতে পারেন, সেই সম্পর্কে লাগাতার প্রচার কর্মসূচি নেওয়া হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে আশা কর্মীরা প্রসূতির স্বাস্থ্যের খবর রাখবেন। যাতে প্রসূতি মৃত্যু আটকানো সহজ হয়। তাছাড়া নাবালিকা বিয়ে রুখতে সচেতনতার পাশপাশি আইন মাফিক কড়া পদক্ষেপ যাতে নেওয়া হয়, সেটাও প্রশাসনের সব মহল দেখবেন। পুলিশের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হবে। স্কুল স্তর থেকেই নাবালিকা বিয়ে এবং নাবালিকা মা হওয়ার বিপদ সম্পর্কে একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হবে।
    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রশাসনের সব মহলের সমান তৎপরতা থাকলে নাবালিকা বিয়ে আটকানো সম্ভব হবে। তবেই নাবালিকা মায়ের সংখ্যা কমবে। রাতারাতি পরিস্থিতি পরিবর্তন হবে না। কারণ, এই প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি। নাবালিকা বিয়ে ও কিশোরী মায়ের সংখ্যা বৃদ্ধির সমস্যা শুধু স্বাস্থ্য সঙ্কট নয়। বরং এটা জটিল সামাজিক সমস্যা। তাই এই সমস্যা সমাধানে সব মহলের সমান সমন্বয় এবং তৎপরতা জরুরি। তবেই রাজ্যের পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব।

LinkedIn
Share