Blog

  • Bankim Chandra: ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কে সোনিয়াকে চিঠি বঙ্কিমচন্দ্রের বংশধরের, নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি

    Bankim Chandra: ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কে সোনিয়াকে চিঠি বঙ্কিমচন্দ্রের বংশধরের, নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বন্দে মাতরম’ সম্পূর্ণ গাওয়া নিয়ে বিতর্কের জেরে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বংশধর তথা পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক বিজেপির সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও যন্ত্রণা প্রকাশ করে তিনি সোনিয়ার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সুমিত্র ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নৈহাটি কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছেন। চিঠিতে সুমিত্র অভিযোগ করেন, ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ পরিবেশনা থামানোর চেষ্টা আসলে “ঐতিহাসিক ভুলের নির্লজ্জ পুনরাবৃত্তি”। তাঁর দাবি, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ গাওয়ার সময় কংগ্রেস কর্মীদের থামানোর বারবার চেষ্টা তাঁকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।

    ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ সংস্করণ (Bankim Chandra)

    সুমিত্রর কথায়, “আজ, ১৫ আগস্ট ২০২৬, স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষপূর্তির এই পবিত্র সকালে, যখন দেশের প্রতিটি মানুষ ভারতমাতাকে শ্রদ্ধা জানাতে নিবেদিত, তখন সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সদর দফতরে যা ঘটেছে, তা শুধু দুর্ভাগ্যজনক নয়, বরং ঐতিহাসিক ভুলের নির্লজ্জ পুনরাবৃত্তি।” তিনি এও বলেন, “বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ সংস্করণ কংগ্রেস কর্মীরা যখন গাইছিলেন, তখন তাঁদের অস্বস্তি, অসন্তোষ এবং বারবার থামানোর চেষ্টা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। একজন সাধারণ ভারতীয় নাগরিক, দেশপ্রেমিক এবং সর্বোপরি ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের সরাসরি বংশধর হিসেবে গভীর বেদনা, শূন্যতা ও যন্ত্রণা নিয়ে আমি এই চিঠি লিখছি।” কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগও তুলেছেন বিজেপি বিধায়ক। ১৯৩৭ সালে মুসলিম লিগের অধিবেশনে মহম্মদ আলি জিন্নার ‘বন্দে মাতরম’-কে মুসলিমবিরোধী আখ্যা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, সেই আপত্তির জেরে কংগ্রেস সরকারি অনুষ্ঠানে গানটির প্রথম দু’টি প্রকৃতিবন্দনামূলক স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, সেই আপসের ছায়া এখনও কংগ্রেসের মতাদর্শ ও আচরণে দেখা যায়।

    দ্বিচারিতা নতুন কিছু নয়

    চিঠিতে সুমিত্র লেখেন, “ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, আপনাদের কথিত দ্বিচারিতা নতুন কিছু নয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ১৯৩৭ সালের অক্টোবরে আপনারাও মহম্মদ আলি জিন্নার অযৌক্তিক আপত্তির কাছে নতিস্বীকার করে এই চিরন্তন দেশাত্মবোধক গানকে খণ্ডিত করেছিলেন। সেই আপসের ছায়া এখনও আপনাদের মতাদর্শে দৃশ্যমান এবং আজ আপনাদের আচরণে তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।” ঘটনার জেরে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আবেগেও আঘাত লেগেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “আজকের এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আবেগ গভীরভাবে আহত হয়েছে। বিষয়টি আপনাকে জানানো আমার নৈতিক কর্তব্য বলে মনে করি।” সোনিয়ার উদ্দেশে তাঁর আবেদন, “বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের বংশধর হিসেবে অত্যন্ত বিনীত কিন্তু দৃঢ় ভাষায় আমি আপনাকে আত্মসমালোচনা করে আমার সমস্ত দেশবাসীর কাছে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে, আপনার আচরণের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। যে নেতৃত্ব নিজের স্বাধীনতার মন্ত্রকেই সম্মান করতে ব্যর্থ হয়, ইতিহাসে তাঁর স্থান বিস্মৃতির অন্ধকারে।”

    অমিত মালব্যর অভিযোগ

    এর আগে বিজেপি নেতা অমিত মালব্য অভিযোগ করেছিলেন, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের সদর দফতরে ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ পরিবেশনা বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় তাঁর দাবি, অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের প্রথম স্তবকগুলি গাওয়ার পর সোনিয়া “অসন্তুষ্ট” হয়ে তা থামানোর কথা বলেছিলেন। রাহুলও (গান্ধী) গান শেষ করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন মালব্য। তবে পরে তাঁদের জানানো হয় যে গানটি চলবে এবং শেষ পর্যন্ত ‘বন্দে মাতরম’ পূর্ণাঙ্গ পরিবেশন করা হয়। এই ঘটনার নিন্দা করে মালব্য অভিযোগ করেন, গান্ধী পরিবারের সঙ্গে সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস ও সভ্যতাগত শিকড়ে প্রতিষ্ঠিত ভারতের ধারণার সম্পর্ক বরাবরই অস্বস্তিকর। ঘটনা প্রসঙ্গে সুমিত্র বলেন, “তাঁর কাজ সত্যিই লজ্জাজনক। এটি দেশের প্রতি অপমান। গোটা ভারত এবং বাঙালি সম্প্রদায়ের প্রতি অপমান। আমার গোটা পরিবার এতে ব্যথিত হয়েছে। আমার মনে হয়েছে, এত বছর ভারতে বসবাস করেও সোনিয়া গান্ধী তাঁর ইতালীয় সংস্কৃতিকে ভুলতে পারেননি।”

    সোনিয়াকে ই-মেলে চিঠি

    তিনি জানান, বিষয়টি জানিয়ে সরাসরি সোনিয়াকে ই-মেলে চিঠি পাঠিয়েছেন এবং দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকেও তার প্রতিলিপি দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “দেখা যাক, তাঁরা বিষয়টি বুঝতে পারেন কি না।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন, ভারতের রাষ্ট্রপতি বা অন্য কোনও সরকারি আধিকারিককে তিনি চিঠি দেননি, যাঁকে এই ঘটনার জন্য দায়ী মনে করেছেন, তাঁকেই সরাসরি জানিয়েছেন এবং দলের প্রধানকে প্রতিলিপি পাঠিয়েছেন।

     

  • Yug Nirman Yojana: যুগ নির্মাণ যোজনার তিন দিনের শিবিরে হল যজ্ঞ-প্রবচন দান

    Yug Nirman Yojana: যুগ নির্মাণ যোজনার তিন দিনের শিবিরে হল যজ্ঞ-প্রবচন দান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হুগলির ব্যান্ডেলে হয়ে গেল যুগ নির্মাণ যোজনার (Yug Nirman Yojana) তিন দিনের শিবির। শুক্রবার শুরু হওয়া এই শিবিরে কর্মকর্তারা ছাড়াও, যোগ দিয়েছিলেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৫০ জন ভক্ত। এঁদের অনেকেই গায়ত্রী মন্ত্রে দীক্ষিত (Puja Pravachan)। তিনি দিনের এই শিবিরে হিন্দু সংস্কার মেনে হয়েছে পুংসবন সংস্কার-যজ্ঞ এবং প্রবচন দান। রীতি মেনে হয়েছে দীপ যজ্ঞও। সংস্থার তরফে শিবির পরিচালনা করেন গোকুল মুন্দ্রা এবং সঞ্জীব ব্যানার্জি।

    যুগ নির্মাণ যোজনার লক্ষ্য (Yug Nirman Yojana)

    যুগের পরিবর্তন ও মানবকল্যাণের লক্ষ্যে পণ্ডিত শ্রীরাম শর্মা আচার্য ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন যুগ নির্মাণ যোজনা। এটি শান্তিকুঞ্জ, হরিদ্বার এবং অল ওয়ার্ল্ড গায়ত্রী পরিবারের একটি সামাজিক ও আধ্যাত্মিক আন্দোলন। এর মূল লক্ষ্য মানুষের চিন্তা ও চরিত্রের উন্নতি ঘটিয়ে পৃথিবীতে শান্তি ও সদ্‌ভাব প্রতিষ্ঠা করা। মানুষের মধ্যে দেবত্ব প্রতিষ্ঠা করাও এই সংস্থার লক্ষ্য। যুগ নির্মাণ যোজনা হিন্দুদের এক ছাতার তলায় নিয়ে আসতে বছরভর নানা অনুষ্ঠান করেন। প্রতিটি মানুষেরই যে গায়ত্রী মন্ত্রে দীক্ষিত হওয়ার অধিকার রয়েছে, সকলেই যে নিত্য গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ করতে পারেন, সেই আন্দোলনের বীজই সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে প্রাণপাত করছেন যুগ নির্মাণ যোজনার কর্তারা।

    পরিপাটি ব্যান্ডেলের আশ্রম

    বাংলায় যুগ নির্মাণ যোজনার একাধিক কেন্দ্র রয়েছে। তবে সব চেয়ে বেশি পরিচিত কলকাতা ও ব্যান্ডেলের কেন্দ্রগুলি। কলকাতায় রয়েছে মা গায়ত্রীর অনিন্দ্যসুন্দর বিগ্রহ। আর ব্যান্ডেলের আশ্রমে সব মিলিয়ে রয়েছে পাঁচটি মন্দির। একটিতে রয়েছেন মা কালী, অন্যটির অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা দুর্গা। একটি মন্দির রয়েছে মহাকালের। এই মন্দিরে রয়েছে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের রেপ্লিকাও। এখানে মা গায়ত্রীর মন্দির রয়েছে দু’টি। একটি রয়েছে মায়ের এক মুখী মূর্তি, আর অন্যটিতে রয়েছে মায়ের পঞ্চমুখী বিগ্রহ। মন্দিরগুলিতে নিত্য অন্নভোগ হয়। সেই ভোগই প্রসাদ হিসেবে পরম শ্রদ্ধায় গ্রহণ করেন ভক্তরা। যুগ নির্মাণ যোজনার প্রধান কেন্দ্র হরিদ্বারে। সেখানে রয়েছে রাম আচার্য এবং তাঁর স্ত্রীর সমাধিস্থল। সেই সমাধিস্থলের অনুকরণেই ব্যান্ডেলেও বানানো হয়েছে হয়েছে একটি স্মৃতিসৌধ। এই সৌধের মাঝেই রয়েছে অখণ্ড জ্যোতির রেপ্লিকা। এই নামে সংস্থার একটি মাসিক পত্রিকাও রয়েছে। দেশ-বিদেশের একাধিক ভাষায় নিয়মিত প্রকাশিত হয় এই পত্রিকা। ব্যান্ডেলের এই আশ্রমে রয়েছে বিরাট গো-শালা, যজ্ঞ-শালা, এবং সবজি খেত।

    কর্মকর্তাদের বক্তব্য  

    সংস্থার তরফে সঞ্জীববাবু বলেন, “প্রতি বছর চার থেকে পাঁচবার আমাদের শিবির হয়। শিবিরে হিন্দু রীতি মেনে যাগ-যজ্ঞ-সহ নানা অনুষ্ঠান হয়। হয় প্রবচন দানও (Yug Nirman Yojana)। শিবিরে যোগ দেওয়া ভক্তদের জন্য আশ্রমের তরফে নিখরচায় খাওয়া-দাওয়া এবং থাকার ব্যবস্থা করা হয়। ভক্তরা স্বেচ্ছায় প্রণামী হিসেবে যা দেন, তাই আশ্রম চালানোর পাথেয়।” গোকুলবাবু বলেন, “হিন্দু ধর্ম বাঁচাতে আমাদের ভরসা মা গায়ত্রী। আমরা তাঁরই নাম জপ-ধ্যান করি। ভক্তরা চাইলে আমরা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে দীক্ষা-সহ নানা শুভ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে দিয়ে আসি। ভক্তদের সামর্থ্য না থাকলে আমরাই জিনিসপত্র নিয়ে (Puja Pravachan) গিয়েও দীক্ষা দান করে আসি। আমরা এভাবেই সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে চাই গায়ত্রী আন্দোলনের ঢেউ (Yug Nirman Yojana)।”

     

  • Hindus Under Attack:  হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন, ভারতজুড়ে একাধিক ঘটনার অভিযোগ

    Hindus Under Attack:  হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন, ভারতজুড়ে একাধিক ঘটনার অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিদেশে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের (Hindus Under Attack) ওপর হামলার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলেই অভিযোগ। বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দুদের ওপর নিপীড়ন, ধর্মান্তরে বাধ্য করা, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি (Weekly Round up) অপবিত্র করা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্যের মতো অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের দাবি, এই ঘটনাগুলির সামগ্রিক মাত্রা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যথেষ্ট আলোচনা হয়নি।

    ৯ অগাস্ট থেকে ১৫ অগাস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে ভারতে হিন্দুদের ওপর হামলা ও বৈষম্যের অভিযোগে ছ’টি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার সম্ভব হয়নি।

    অবৈধ অভিবাসনবিরোধী পুলিশের অভিযান (Hindus Under Attack)

    বেঙ্গালুরুতে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী পুলিশের অভিযানে বৈধ নথিপত্র ছাড়া বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের উপস্থিতির বিষয়টি সামনে এসেছে।

    শনিবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ। ইলেকট্রনিক সিটি ও হোয়াইটফিল্ড বিভাগের অভিযানে যাচাই ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২,৮৯৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা জোরদারের পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করাই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল বলে জানানো হয়েছে।

    হিন্দুত্ববাদী কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

    আহিল্যানগর পুরসভার বিদ্যুৎ দফতরের চুক্তিভিত্তিক কর্মী ধীরজ কাচারুসিংহ রাজপুত ওরফে পরদেশিকে মুকুন্দনগরে একদল মুসলিম মারধর করে বলে অভিযোগ। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।

    তাঁর স্ত্রী ও কয়েকটি হিন্দু সংগঠনের অভিযোগ, মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকায় কপালে তিলক পরায় তাঁকে আলাদা করে চিহ্নিত করে মারধর করা হয়েছিল। ঘটনাটিকে তাঁরা পরিকল্পিত হামলা হিসেবে দাবি করেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের ফল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

    কানওয়ার যাত্রা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

    প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, বামপন্থী সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ নিয়মিতভাবে কানওয়ারিয়া ও কানওয়ার যাত্রাকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরে। এর মাধ্যমে মুসলিমদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন এবং ধর্মনিরপেক্ষতার একটি বিশেষ রাজনৈতিক ব্যাখ্যা প্রচার করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    দ্য ওয়্যারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট হিন্দুবিদ্বেষী প্রচারের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি লেখাকে তুলনামূলকভাবে পরোক্ষ পদ্ধতিতে একই ধরনের বক্তব্য তুলে ধরার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেখক আকাশ জোশী প্রথমে উচ্চ-মধ্যবিত্ত ও গাড়ির মালিকদের দৃষ্টিতে কানওয়ারিয়াদের যানজট এবং নিরাপত্তার জন্য সমস্যা হিসেবে দেখিয়েছেন। পরে তিনি দাবি করেন, ২০১৪ সালের পর, অর্থাৎ কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকারি কর্তৃপক্ষ কানওয়ার যাত্রীদের যাত্রা সহজ করার চেষ্টা করছে।

    বেঙ্গালুরুতে কৌতুক অনুষ্ঠান বাতিল

    বেঙ্গালুরুর চার্চ স্ট্রিটের দ্য কমেডি থিয়েটারে নাসিফ আখতারের প্রস্তাবিত কৌতুক অনুষ্ঠান “ডিসরাপ্টেড” অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। হিন্দু সংগঠনগুলির আপত্তির পর অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয় (Hindus Under Attack)।

    সংগঠনগুলির আশঙ্কা ছিল, অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু হিন্দু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে। তাঁদের আপত্তির পরেই অনুষ্ঠান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে খবর।

    তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ধর্মীয় মতাদর্শ নিয়ে বিতর্ক

    তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন এখন মতাদর্শের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তামিলাগা ভেত্রি কাজাগমের প্রতিষ্ঠাতা তথা মুখ্যমন্ত্রী বিজয় জোসেফ  সংবিধাননির্ভর ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি তাঁর আনুগত্যের কথা বলেন। তবে একই সঙ্গে তাঁর দল রাজনৈতিক পরিসরে খ্রিস্টধর্মকে ক্রমশ বেশি করে জায়গা দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    দিল্লিতে কিশোরকে হত্যা, কানওয়ার যাত্রার যোগসূত্রের দাবি

    দিল্লির আদর্শনগরের লালবাগ বস্তিতে ১২ অগাস্ট বুধবার রাতে ১৬ বছর বয়সী নীরজকে প্রথমে ছুরি মেরে এবং পরে গুলি করে খুন করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আমান মুল্লার সঙ্গে বিবাদের পর এই হামলা ঘটে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, নীরজ একটি কারখানায় কাজ করতেন। ১১ আগস্ট কানওয়ার যাত্রা থেকে ফিরেছিলেন তিনি। তাঁর কানওয়ার যাত্রায় অংশগ্রহণের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে হামলার সম্ভাবনার কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, কিছু ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের মধ্যে থাকা হিন্দুবিদ্বেষী মনোভাব থেকে বিভিন্ন বিদ্বেষমূলক অপরাধের জন্ম হয়। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কেবল প্রকাশ্য ধর্মীয় বিদ্বেষ নয়, আপাতদৃষ্টিতে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরে থাকা সূক্ষ্ম বৈষম্যও হিন্দুবিদ্বেষকে উৎসাহিত করতে পারে।

    দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারে ধীরে ধীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের যুক্তি, নিষেধাজ্ঞার পেছনে দূষণ নিয়ন্ত্রণের কারণ দেখানো হলেও, আদতে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর আরোপিত অন্যান্য বিধিনিষেধের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে বিষয়টি নিয়ে দ্বৈত মানদণ্ডের প্রশ্ন উঠতে পারে (Hindus Under Attack)।

    প্রতিবেদনে উল্লিখিত ঘটনাগুলির ক্ষেত্রে অভিযোগ, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং মতামতকে তথ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, আদালতের নথি এবং স্বাধীন সংবাদসূত্র দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন (Weekly Round up)। বিশেষ করে ধর্মীয় বিদ্বেষ, হত্যাকাণ্ড ও অবৈধ অভিবাসনসংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্তের ফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Hindus Under Attack)।

     

  • Direct Action Day: ৭৮-এ পা ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র, জেনে নিন হিন্দু নিপীড়নের রক্তাক্ত ইতিহাস

    Direct Action Day: ৭৮-এ পা ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র, জেনে নিন হিন্দু নিপীড়নের রক্তাক্ত ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র (Direct Action Day) ৭৮তম বার্ষিকী মনে করিয়ে দেয়, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ কত দ্রুত একটি সভ্যতাকে গ্রাস করতে পারে। ১৯৪৬ সালের ১৬ অগাস্ট মুসলিম লীগের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি অল্প সময়ের মধ্যেই উপমহাদেশের ইতিহাসে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহতম হিংসার অন্যতম ঘটনায় পরিণত হয় (Calcutta Horrors History)। আজ, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নতুন করে হামলা ও নিপীড়নের অভিযোগ সামনে আসায়, ১৯৪৬-এর সেই অন্ধকার দিনের স্মৃতি ফের আলোচনায় এসেছে।

    পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞের অভিযোগ (Direct Action Day)

    ১৯৪৬ সালের ১৬ অগাস্টের ঘটনাকে আকস্মিক দাঙ্গা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই—এমনটাই দাবি করা হয়েছে এই ঐতিহাসিক বিশ্লেষণে। মুসলিম লীগের নেতা মুহাম্মদ আলি জিন্নাহর ডাইরেক্ট অ্যাকশনের আহ্বানকে হিন্দু সমাজের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শন, আতঙ্ক সৃষ্টি এবং পাকিস্তান গঠনের দাবি মেনে নিতে চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    রমজানের ১৭তম দিনের সঙ্গে কর্মসূচিটির সময় মিলে যাওয়াকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামের ইতিহাসে বদরের যুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে এই দিনের সম্পর্ককে সামনে রেখে দাবি করা হয়েছে, কর্মসূচিটির মধ্যে ধর্মীয় বিজয়ের ঐতিহাসিক বয়ানের রাজনৈতিক ব্যবহার ছিল।

    কলকাতায় কর্মসূচির আগে ব্যাপক প্রস্তুতির অভিযোগও উঠে আসে। বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হুসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৬ অগাস্ট সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিলেন এবং বিপুল সংখ্যক মুসলিমের সমাবেশ নিশ্চিত করেছিলেন।এর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ব্যবস্থাকে কার্যত অচল করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

    কলকাতা ময়দানের বিশাল সমাবেশে প্রায় এক লাখ মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। অভিযোগ, সেখানে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীকে সংযত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সমাবেশে যারা যোগ দিয়েছিল, তাদের হাতে ছিল লোহার রড, লাঠি এবং অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র। সমাবেশ শেষ হওয়ার পর সংগঠিত দলগুলি কলকাতার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার হত্যাযজ্ঞ ইতিহাসে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস’ নামে পরিচিত।

    ৭২ ঘণ্টার ভয়াবহতা

    পরবর্তী তিন দিনে কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে হিন্দুদের দোকানপাট লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এরপর আবাসিক এলাকাগুলিতেও হামলা শুরু হয়। আমহার্স্ট স্ট্রিট, বোরতলা ও জোড়াসাঁকোর মতো হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

    মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব পাওয়া যায়। অপেক্ষাকৃত কম হিসাবেও প্রায় চার হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা বলা হয়, আবার কিছু সূত্রে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। মাত্র তিন দিনের মধ্যে এক লাখেরও বেশি হিন্দু গৃহহীন হয়ে পড়েছিলেন।

    হামলার নৃশংসতার বিবরণ ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। নারী ও শিশুদের ওপর নৃশংসতা, হত্যা, অঙ্গহানি এবং মৃতদেহের ওপর পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ফিলিপ ট্যালবট সেই সময়ের কলকাতার রাস্তায় বিকৃত ও ক্ষতবিক্ষত দেহ, ঠেলাগাড়িতে স্তূপ করে রাখা মৃতদেহ এবং নর্দমায় পড়ে থাকা মরদেহের ভয়াবহ দৃশ্যের বর্ণনা করেছিলেন (Direct Action Day)।

    হামলার লক্ষ্য শুধু মানুষ বা সম্পত্তি ছিল না। হিন্দু মন্দিরে হামলা, ধর্মীয় প্রতীক অপবিত্র করা এবং ধর্মীয় গ্রন্থ পোড়ানোর অভিযোগও রয়েছে। কলকাতা ভবিষ্যতে পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী হতে পারে—এই ধারণা থেকেই হিন্দুদের উপস্থিতি মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ।

    গোপাল পাঁঠার নেতৃত্বে হিন্দু প্রতিরোধ

    এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতিতে গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, যিনি গোপাল পাঁঠা নামে পরিচিত, হিন্দুদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অনুগামী, এবং ‘ভারতীয় জাতীয় বাহিনী’র নেতা ছিলেন। তাঁর সংগঠনে ৭০০ থেকে ৮০০ জন সদস্য ছিলেন (Calcutta Horrors History)।

    স্থানীয় কুস্তিগির ও মাংসের দোকানের মালিক হিসেবে পরিচিত গোপাল পরিস্থিতি বুঝে বিভিন্ন শ্রেণির হিন্দু যুবকদের সংগঠিত করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অভিবাসী শ্রমিক, দুধওয়ালা, কামার এবং মারওয়াড়ি ব্যবসায়ীরা। আর্থিক সাহায্যও মিলেছিল বিভিন্ন মহল থেকে।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন সেনাদের কাছ থেকে সংগৃহীত অস্ত্র এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় জোগাড় করা অস্ত্র ব্যবহার করে তাঁর বাহিনী ১৮ অগাস্ট পাল্টা প্রতিরোধ শুরু করে। প্রথমে হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চলগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পরে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে তোলাই ছিল তাঁদের কৌশল।

    এই পাল্টা প্রতিরোধের ফলে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হয়। তিন দিনের মধ্যে মুসলিম পক্ষের হতাহতের সংখ্যা হিন্দুদের মৃত্যুর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যায়। এরপর সোহরাওয়ার্দী গোপালের কাছে অভিযান বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়ে দূত পাঠান। ২১ অগাস্ট সোহরাওয়ার্দী সরকারকে বরখাস্ত করা হয়। সাময়িক প্রশমিত হয় কলকাতার হিন্দু জনসংখ্যার ওপর তাৎক্ষণিক হুমকি।

    সোহরাওয়ার্দী ও মুসলিম লীগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র ঘটনাপ্রবাহে সোহরাওয়ার্দীর ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। তৎকালীন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর হাতে স্বরাষ্ট্র ও তথ্য দফতরের দায়িত্বও ছিল। ফলে আইনশৃঙ্খলা এবং সরকারি প্রচারের ওপর তাঁর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ ছিল।

    জানা গিয়েছে, ভয়ঙ্কর হিংসার সময়ও পুলিশকে নিষ্ক্রিয় থাকার নির্দেশ দিয়ে সোহরাওয়ার্দী কার্যত হামলাকারীদেরই সাহায্য করেছিলেন। দাঙ্গার সময় তিনি পুলিশ নিয়ন্ত্রণকক্ষগুলিতে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পরিচালনা করছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে কয়েকটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে।

    মুসলিম লীগের রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, এই হত্যাযজ্ঞের উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু-মুসলিম সহাবস্থানকে অসম্ভব করে তুলে দেশভাগের পক্ষে বাস্তব পরিস্থিতি তৈরি করা। অর্থাৎ দ্বিজাতিতত্ত্বকে রাজনৈতিক বাস্তবতায় রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই হিংসার ভূমিকা ছিল।

    কলকাতার বাইরে বাংলার গ্রামাঞ্চলেও হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে ১৯৪৬ সালের অক্টোবরে নোয়াখালির ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড একই ধরনের সংগঠিত হিংসার উদাহরণ (Calcutta Horrors History)।

    বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ঘটনাকে ১৯৪৬-এর সঙ্গে তুলনা

    ২০২৪ সালের অগাস্টে ক্ষমতাচ্যুত হন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপর বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগ নতুন করে সামনে আসে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দু’হাজারেরও বেশি হিন্দুবিরোধী হিংসার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১৫২টি মন্দিরে হামলা এবং ২৩ জন হিন্দুর মৃত্যুও রয়েছে (Direct Action Day)।

    এই ঘটনাগুলিকে ১৯৪৬ সালের কলকাতার হিংসার সঙ্গে তুলনা করে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে হিন্দুদের বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে সংগঠিত হামলার ধারা এখনও দেখা যায়।

    বাংলাদেশের জনসংখ্যায় হিন্দুদের অনুপাতের পরিবর্তনকেও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৪০ সালে যেখানে হিন্দুদের অনুপাত প্রায় ২৮ শতাংশ ছিল, বর্তমানে তা প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের নিপীড়ন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং দেশত্যাগের মতো কারণ।

    ২০২১ সালে দুর্গাপুজোর সময় হামলা, ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধের রায়ের পর জামাত-সমর্থিত হিংসার অভিযোগ এবং ২০২৪ সালের শেখ হাসিনা-পরবর্তী হামলাকে একই ধারার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা অভিযোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এই ধরনের হামলা আরও দ্রুত সংগঠিত হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন

    হিন্দুদের ওপর হিংসার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া নিয়েও সমালোচনা হয়েছে বারংবার। পশ্চিমি সরকার এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলি হিন্দুবিরোধী হিংসাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় না—এমন অভিযোগ তুলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ধরনের নীরবতা হামলাকারীদের জবাবদিহির বাইরে থাকার সুযোগ করে দেয়।

    বীর সাভারকরের পুরনো সতর্কবার্তাকেও এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় আনা হয়েছে। তাঁর দাবি ছিল, কংগ্রেসের তোষণনীতির পরিণতি শেষ পর্যন্ত হিন্দুদের জন্য ভয়াবহ হতে পারে। পরবর্তী ইতিহাসের আলোকে সেই আশঙ্কাকে নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে (Direct Action Day)।

    ইতিহাসের শিক্ষা কী?

    ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এখনও পুরোপুরি গ্রহণ করা হয়নি—এমনটাই এই বিশ্লেষণের মূল বক্তব্য (Calcutta Horrors History)। সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, রাজনৈতিক স্বার্থ এবং ধর্মীয় পরিচয়ের সংঘাত যখন একসঙ্গে কাজ করে, তখন একটি সমাজে সহাবস্থান গুরুতরভাবে বিপন্ন হতে পারে।

    হিন্দুদের বিরুদ্ধে হিংসার ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কারণ নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা না করলে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা কঠিন—এমন দাবিও করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্তরে সক্রিয় আদর্শগত নেটওয়ার্কগুলির ভূমিকা নিয়েও সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।

    ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে দিবস তাই শুধু অতীত স্মরণের দিন নয়, ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তাও বলে অভিমত প্রতিবেদন লেখকের। ১৯৪৬ সালের ১৬ অগাস্ট কলকাতার রাস্তায় সাম্প্রদায়িকতার যে আগুন জ্বলেছিল, তার রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিধ্বনি এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে অতীতের ঘটনাগুলিকে স্বীকার করা, বিশ্লেষণ করা এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা (Direct Action Day)।

     

  • Ashish Banerjee: প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু, খুন নাকি আত্মহত্যা, কী বলছে পুলিশ?

    Ashish Banerjee: প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু, খুন নাকি আত্মহত্যা, কী বলছে পুলিশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রহস্যমৃত্যু বীরভূমের রামপুরহাটের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ashish Banerjee)। রবিবার সকালে বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় (TMC)। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। সূত্রের খবর, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়েছে। আশিস আত্মহত্যা করেছেন কি না, করলে তার কারণই বা কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। রামপুরহাটের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ায় বাড়ি আশিসের। বাড়ি লাগোয়া একটি দলীয় কার্যালয়ও রয়েছে। রবিবার সকালে সেখানেই মেলে তাঁর ঝুলন্ত দেহ। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রামপুরহাট থানার পুলিশও। দেহ উদ্ধার করে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য।

    টানা বিধায়ক (Ashish Banerjee)

    ২০০১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা রামপুরহাটের বিধায়ক ছিলেন আশিস। রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায়ও একাধিকবার ঠাঁই হয়েছিল তাঁর। রাজ্যের প্রাক্তন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী এবং কৃষিমন্ত্রী ছিলেন আশিস। মন্ত্রিসভায় বিরাট কোনও দায়িত্ব কোনওদিনই পাননি আশিস। মমতা সরকারের আমলে রাজ্য বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারও ছিলেন তিনি। বীরভূমের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন আশিস। অনুব্রত মণ্ডল বীরভূম জেলা তৃণমূলের সভাপতি থাকাকালীন তাঁর সঙ্গেই কাজ করেছেন তিনি। তবে জেলার রাজনীতিতে অনুব্রতের প্রভাবের কারণে আশিসের রাজনৈতিক উত্থানের সুযোগ সীমিত ছিল বলেও ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    বগটুই গণহত্যায় অস্বস্তিতে ছিলেন আশিস

    ২০২২ সালে রামপুরহাটের বগটুইয়ে গণহত্যার ঘটনায় রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিতে পড়েছিল তৃণমূল। সেই সময় আশিসকেও নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল। যদিও নিজের বিধানসভা এলাকায় ভোটের ফল নিয়ে তিনি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলেন (TMC)। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁকে প্রার্থী করেছিলেন মমতা। বিজেপি প্রার্থী ধ্রুব সাহার কাছে ২৪ হাজারেরও বেশি ভোটে হেরে যান তিনি (Ashish Banerjee)। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির অভিযোগে একের পর এক নেতা ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। একাধিক প্রাক্তন বিধায়ক ও কাউন্সিলর গ্রেফতার হয়েছেন। দলের অনেক নেতার সঙ্গে কালীঘাটের দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলেও রাজনৈতিক মহলের খবর। ভোটে হেরে যাওয়ার পর আশিসকে আর সেভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যাচ্ছিল না।

    মৃত্যুর কারণ

    তাঁর মৃত্যুর পিছনে রাজনৈতিক বা অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে কী লেখা রয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। আশিসের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে শোকপ্রকাশ করেছেন অনুব্রত। বলেন, “এত ভালো লোক। কেন এই কাজ করলেন, বুঝতে পারছি না। ওঁর কোনও শত্রু নেই। কারও সঙ্গে ঝগড়া নেই। কোনও মানসিক চাপই ছিল না। উনি কারও সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটিতেই যেতেন না। আমি প্রচণ্ড দুঃখ পেয়েছি (TMC)। ওঁর সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয়। খুব নিরীহ, শান্ত লোক ছিলেন। আশিস (Ashish Banerjee) কোনও দুর্নীতিতে ছিলেন বলে আমার মনে হয় না।”

     

  • Atal Bihari Vajpayee: অটলবিহারী বাজপেয়ী, রাজনীতিতে এক বিরল যুগের উপখ্যান

    Atal Bihari Vajpayee: অটলবিহারী বাজপেয়ী, রাজনীতিতে এক বিরল যুগের উপখ্যান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee) ছিলেন একাধারে কৃতী সাংবাদিক, কবি, অসাধারণ বক্তা, নিষ্ঠাবান দলীয় কর্মী এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ স্বয়ংসেবক। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, স্নেহশীল ও (Death Anniversary) আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তাঁর সংস্পর্শে যাঁরা এসেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই কোনও না কোনওভাবে সমৃদ্ধ হয়ে ফিরেছেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি হাজার নয়, লাখ লাখ মানুষের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে গিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণের সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় রাজনীতির এমন একটি অধ্যায়ের অবসান হয়েছে, যেখানে প্রতিযোগিতা বা সংঘাতের পরিবর্তে সমঝোতা, সৌহার্দ্য এবং ক্ষমতার প্রতি আসক্তির পরিবর্তে দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা গুরুত্ব পেত।

    বহুরূপে বাজপেয়ী (Atal Bihari Vajpayee)

    ভগবদ্গীতায় বলা হয়েছে, যে জন্মগ্রহণ করে তার মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু অটলবিহারী বাজপেয়ীর মতো রাষ্ট্রনায়কের প্রয়াণে পৃথিবী ও মানবসমাজ আরও দরিদ্র হয়ে পড়ে। কেউ তাঁকে পিতৃসম ব্যক্তিত্ব বলেছেন, কেউ রাষ্ট্রনায়ক, কেউ প্রকৃত গণতন্ত্রী। কারও কাছে তিনি ছিলেন অসাধারণ বক্তা, আবার কারও কাছে স্নেহের ‘বাবজি’। প্রখ্যাত গায়িকা লতা মঙ্গেশকর তাঁকে ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করতেন। মার্কিন নাগরিকদের কাছে অটলবিহারী বাজপেয়ী স্মরণীয় ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে ‘স্বাভাবিক মিত্রতা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করার জন্য। চিনে তাঁকে স্মরণ করা হয় এমন একমাত্র ভারতীয় নেতা হিসেবে, যিনি মাও সে তুং থেকে দেং শিয়াওপিং এবং হু চিনতাও—চিনের নেতৃত্বের পরপর তিন প্রজন্মের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনি মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদানের জন্য স্মরণীয়। অনেকেই হয়তো জানেন না, তাঁকে দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’। কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারাও তাঁকে এমন এক নেতা হিসেবে স্মরণ করেন, যিনি আন্তরিকভাবে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিলেন। সমকালীন ভারতের কাছে অটলবিহারী বাজপেয়ীর প্রয়াণ তাই এক অপূরণীয় ক্ষতি।

    ক্ষমতার রাজনীতি নয়, দেশের প্রতি ভালোবাসা

    অটলবিহারী বাজপেয়ী এমন এক ধরনের রাজনীতির চর্চা করতেন, যা আজকের দিনে বিরল। তাঁর কাছে ক্ষমতার প্রতি ভালোবাসার চেয়ে দেশের প্রতি ভালোবাসা ছিল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর রাজনীতিতে আবেগ, অনুভূতি ও মানবিকতার জায়গা ছিল—যেখানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাজনীতির মধ্যেও সহমর্মিতা বজায় থাকত। তিনি প্রতিপক্ষকে অসম্মান করতেন না, অন্যের মতকে অগ্রাহ্য করতেন না এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কটূক্তির রাজনীতিতেও বিশ্বাসী ছিলেন না। তাঁর জীবন ছিল খোলা বইয়ের মতো স্বচ্ছ। ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনৈতিক জীবনের মধ্যে তাঁর কোনও দ্বিচারিতা ছিল না। মহাত্মা গান্ধীর মতোই তাঁর জীবন ছিল সবার সামনে উন্মুক্ত (Atal Bihari Vajpayee)। সবাই তাঁকে ভালোবাসতেন, তাঁর প্রতি যত্নশীল ছিলেন এবং নিজের বিশ্বাসের প্রতি তাঁর দৃঢ়তার প্রশংসা করতেন। কিন্তু এত জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে কখনও দলের ঊর্ধ্বে ভাবেননি। একজন প্রকৃত স্বয়ংসেবক হিসেবে দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলতেন। কোনও সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত মতের অমিল থাকলেও, একজন শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মী হিসেবে তিনি তা মেনে নিতেন। বিশিষ্ট রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ওয়াল্টার অ্যান্ডারসন একবার বলেছিলেন, রাজনীতি ও শৃঙ্খলা সাধারণত পাশাপাশি চলে না, অটলবিহারী বাজপেয়ী ছিলেন তার একমাত্র ব্যতিক্রম।

    রাজনৈতিক অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে সৌহার্দ্যের রাজনীতি

    সামাজিক জীবনে অস্পৃশ্যতার প্রথা আমরা অনেকটাই দূর করতে পেরেছি। কিন্তু তার পরিবর্তে রাজনীতিতে এক নতুন ধরনের অস্পৃশ্যতা তৈরি হয়েছে। দুই ভিন্ন দলের মানুষ যেন পরস্পরের মতের সঙ্গে একমত হওয়া তো দূরের কথা, একে অপরের সঙ্গে চোখে চোখ রেখেও কথা বলতে পারেন না।

    অটলবিহারী বাজপেয়ী এর সম্পূর্ণ বিপরীত রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর প্রতিপক্ষের প্রতিও ছিল সৌহার্দ্য। এমনকি পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর মতো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতিও তিনি প্রশংসাসূচক মন্তব্য করতে দ্বিধা করতেন না।

    নেহরু একসময় বলেছিলেন, অটলবিহারী বাজপেয়ী একদিন তাঁর জায়গায় অধিষ্ঠিত হবেন। নেহরুর মৃত্যুর পর বাজপেয়ী তাঁর প্রতি যে আন্তরিক ও উজ্জ্বল শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেছিলেন, তাতেও তাঁর রাজনৈতিক উদারতার পরিচয় পাওয়া যায়। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এই গুণ ধরে রেখেছিলেন।

    কর্মীদের প্রতি ছিল গভীর মমতা

    দলীয় কর্মীদের প্রতি অটলবিহারী বাজপেয়ীর ছিল বিশেষ মমত্ববোধ। তিনি যে পদেই থাকুন না কেন, কখনও অহংকার প্রকাশ করতেন না (Atal Bihari Vajpayee)।

    অযোধ্যার তথাকথিত ‘বিতর্কিত’ কাঠামো ভেঙে পড়ার কয়েক মাস পরে বাজপেয়ীর সাক্ষাৎকার নিতে গিয়েছিলেন এক সাংবাদিক। তিনি প্রায় ১৫ মিনিট ধরে ওই সাংবাদিকের সমস্ত তিক্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন ঠান্ডা মাথায়, তাঁর আচরণ কিংবা অভিব্যক্তিতে রাগের লেশ মাত্র ছিল না (Death Anniversary)।

    সংবিধান নিয়ে সচেতনতার প্রয়োজন

    অটলবিহারী বাজপেয়ীর সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল ২০০০ সালে সংবিধানের কার্যকারিতা পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা। সংবাদমাধ্যমের একাংশ সেই কমিটিকে সংবিধান পুনর্বিবেচনার কমিটি হিসেবে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরেছিল। অথচ এর উদ্দেশ্য ছিল সংবিধান কীভাবে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, তা খতিয়ে দেখা।

    বিআর আম্বেদকর সংবিধান প্রণয়নের সময় সতর্ক করে বলেছিলেন, সংবিধান যতই ভালো হোক, তা যদি খারাপ মানুষের হাতে পড়ে, তাহলে তার উদ্দেশ্য সফল হবে না। প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারী হলেন দেশের মানুষ।

    প্রাক্তন ব্রিটিশ কূটনীতিক কার্নে রস তাঁর ‘নেতৃত্বহীন বিপ্লব’ গ্রন্থে লিখেছেন, গণতন্ত্র ভোটদাতা অর্থাৎ জনগণ এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি অর্থাৎ সরকারের মধ্যে একটি চুক্তির ব্যবস্থা করে। গণতন্ত্র আসলে ভোটদাতা ও নির্বাচিতের মধ্যে একটি প্রত্যক্ষ সমঝোতা।

    সাধারণ মানুষ সাধারণত সংবিধানের সেই অংশটুকুই জানেন, যা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। ১৯৫০ সালে সংবিধান কার্যকর হওয়ার পরেও সাধারণ মানুষকে সংবিধান সম্পর্কে শিক্ষিত করার জন্য যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

    সংবিধান সচেতনতা

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে ২০১৫ সালে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, প্রতি বছর ২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবস পালন করা হবে। এর উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে সংবিধানের মূল্য ও তাৎপর্য সম্পর্কে সচেতন করা।

    সমাজের বৃহৎ অংশের মধ্যে সংবিধান সম্পর্কে এই অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে দেশের ভিতরে ও বাইরে থাকা কিছু সংগঠন নানা ধরনের অপব্যবহার করছে। আম্বেদকর এই ধরনের অপব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা হারানোর পেছনে নিজেদের কিছু মানুষের বিশ্বাসঘাতকতাও ছিল। ভবিষ্যতে যদি নিজেদের মানুষই আবার বিশ্বাসঘাতকতা করে, তাহলে স্বাধীনতা বিপন্ন হতে পারে এবং দেশকে ফের পরাধীনতার দিকে (Atal Bihari Vajpayee) ঠেলে দিতে পারে। তাই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি থেকে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

    সংবিধান পরিচালনার সামনে চার বড় চ্যালেঞ্জ

    সংবিধাননির্ভর শাসনব্যবস্থার সামনে চারটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথম চ্যালেঞ্জ বিচারব্যবস্থা। সংবিধানের তিনটি প্রধান অঙ্গের মধ্যে বিচারব্যবস্থা বর্তমানে এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা জানি, বিচার পেতে দেরি হওয়া মানেই বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়া। আবার কেউ কেউ মনে করেন, অতিদ্রুত বিচার করাও কখনও কখনও ন্যায়বিচারকে ব্যাহত করতে পারে।

    রাম জন্মভূমি মামলায় এলাহাবাদ হাইকোর্ট বিতর্কিত জমি তিন ভাগে ভাগ করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রায় বৈধ কি না, তা নির্ধারণের জন্য মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে যায়। কিন্তু বিরোধী পক্ষ মসজিদ ইসলাম ধর্মের অবিচ্ছেদ্য অংশ কি না, সেই প্রশ্ন তুলে রায় বিলম্বিত করার চেষ্টা করে।

    বিষয়টি যখন শুনানির জন্য ওঠে, তখন প্রধান বিচারপতি মাত্র কয়েক মিনিট সময় দিয়ে জানান, এটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয় নয়। এর ফলে মন্দিরপন্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয় এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বড় আকারের বিক্ষোভ দেখা দেয়। লাখ লাখ মানুষ সেই বিক্ষোভে অংশ নিয়ে দেখিয়ে দেন যে তাঁদের কাছে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ আসে আমলাতন্ত্র থেকে। এখানে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি নয়, গোটা আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার কথাই বলা হচ্ছে। এই ব্যবস্থা অনেক সময় উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ও এই বিষয়ে মন্তব্য করেছিলেন। একটি ব্যবস্থা হিসেবে আমলাতন্ত্রের জবাবদিহির অভাব সাংবিধানিক শাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে (Death Anniversary)।

    আম্বেদকরের সতর্কবার্তা

    আম্বেদকর এই বলে সতর্ক করেছিলেন যে, রাজনৈতিক দলগুলি যদি দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের মতাদর্শ বা দলীয় স্বার্থকে ওপরে স্থান দেয়, তাহলে দ্বিতীয়বারও দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন হতে পারে।

    অটলবিহারী বাজপেয়ীর কাছে দেশ ছিল মন্দিরের মতো। তিনি মনে করতেন, আমরা সেই মন্দিরের পুরোহিত এবং রাষ্ট্রপুরুষের সেবায় আমাদের জীবন উৎসর্গ করতে হবে। এটাই ছিল তাঁর রাজনীতির মূল দর্শন।

    ১৯৯৭ সালে ক্ষমতায় মাত্র ১৩ দিন থাকার পর পরাজিত হয়ে সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন, “দল আসবে, দল যাবে, সরকার আসবে, সরকার যাবে, কিন্তু দেশকে থাকতে হবে এবং গণতন্ত্রকে চিরকাল থাকতে হবে (Atal Bihari Vajpayee)।”

    আজ পরিস্থিতি বদলেছে। জাতীয় রাজনীতিতে একটি দলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত হয়েছে এবং অধিকাংশ দলই আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এর অন্যতম কারণ পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির বিস্তার। জাত, ভাষা, অঞ্চল ইত্যাদির ভিত্তিতে তৈরি পরিচয় আজ রাজনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। এটি শুধু ভারতের নয়, বিশ্বেরও একটি বড় রাজনৈতিক প্রবণতা। সংবিধানের পক্ষে এই বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

    বাইরের চাপও বড় চ্যালেঞ্জ

    তৃতীয় চ্যালেঞ্জ আসে বাইরে থেকে। এমন এক শ্রেণির উদারপন্থী বুদ্ধিজীবী ও সংগঠন রয়েছে, যারা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর ব্যবহার করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। তাঁদের কাজকর্ম জনগণ ও রাষ্ট্রের মধ্যে সংবিধানের মাধ্যমে তৈরি হওয়া মৌলিক সমঝোতার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

    বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের মধ্যে যেমন সত্যিই জনকল্যাণে কাজ করা সংগঠন রয়েছে, তেমনই কিছু সংগঠন ব্যবস্থার অপব্যবহারও করে।

    শবরীমালা মামলার কথাই ধরা যাক। শবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী নারীদের প্রবেশাধিকার নিয়ে এমন ব্যক্তিরাও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, যাঁরা নিজেরাই সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় বিশ্বাসের অনুসারী নন। কেরলের মতো একটি মাতৃতান্ত্রিক সমাজকে বাইরে থেকে লিঙ্গসমতার শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ও এই বিতর্ককে আরও জটিল করে তোলে বলে অভিযোগ।

    সংবিধানের ২৫ থেকে ৩০ নম্বর অনুচ্ছেদ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে, যার মধ্যে হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও রয়েছে, নিজেদের ঐতিহ্য অনুযায়ী পরিচালনার অধিকার দেয় (Atal Bihari Vajpayee)।

    রাফাল চুক্তির ক্ষেত্রেও আদালতে যাওয়া পক্ষগুলির মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারকে অভিযুক্ত করা। আদালত অভিযোগগুলি খারিজ করে জানিয়েছিল যে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। তবে কিছু বুদ্ধিজীবী ও বেসরকারি সংগঠন নিজেদের স্বার্থে ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ।

    কবিতায় আশ্রয় খুঁজতেন অটলজি

    অটলবিহারী বাজপেয়ী শুধু রাজনীতিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন কবিও। রাজনীতির কোলাহল ও সংঘাতের মধ্যে তিনি কবিতার কাছে আশ্রয় নিতেন। তাঁর নিজের কথায়, তাঁর কবিসত্তা তাঁকে রাজনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার শক্তি দিত, বিশেষ করে যেসব সমস্যা তাঁর বিবেককে স্পর্শ করত।

    তিনি ছিলেন গভীর আবেগপ্রবণ এবং বিনয় তাঁর চরিত্রের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। রাজনীতিতে এমন বিনয়ী মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। নিজের কবিতায় তিনি ঈশ্বরের কাছে এমন উচ্চতায় না পৌঁছনোর প্রার্থনা করেছিলেন, যেখানে পৌঁছে তিনি নিজের মানুষের কাছ থেকেই দূরে সরে যাবেন।

    সাফল্য ও ব্যর্থতাকে কীভাবে সমানভাবে গ্রহণ করতে হয়, অটলজি নিজের জীবন দিয়ে তা দেখিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, জয় ও পরাজয়কে সমভাবে গ্রহণ করতে পারাই একজন প্রকৃত নেতার লক্ষণ।

    ‘অজাতশত্রু’

    আজকের কঠিন রাজনৈতিক পরিবেশে সত্য কথা বলা সহজ নয়। কিন্তু অটলবিহারী বাজপেয়ী সততা, সহনশীলতা ও সমঝোতার রাজনীতি চর্চা করেছিলেন। রাজনীতিক হিসেবে তিনি এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন যে তাঁর ব্যক্তিগত শত্রু প্রায় ছিল না। তাই তাঁকে বলা হত ‘অজাতশত্রু’।

    তিনি নিজের কাছে সৎ ছিলেন এবং দেশের মানুষের কাছেও ছিলেন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। তিনি কখনও মনে করতেন না যে তিনিই সবসময় সঠিক। কারণ, কেউ যদি মনে করেন তিনিই সর্বদা ঠিক, সেখান থেকেই বিদ্বেষের সূচনা হয়।

    অটলবিহারী বাজপেয়ী তাঁর জীবন ও রাজনীতির মাধ্যমে আমাদের সামনে একটি জীবন্ত দৃষ্টান্ত রেখে গিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণের সঙ্গে একটি যুগের অবসান ঘটেছে। সত্যিই তাঁর মতো আর একজন অটলবিহারী বাজপেয়ীকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। কিন্তু (Death Anniversary) তিনি যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করেছিলেন—ইতিবাচকতার রাজনীতি, সহমর্মিতা ও মর্যাদার রাজনীতি এবং বিনয়ের রাজনীতি—তা আগামী দিনেও আমাদের পথ দেখাবে (Atal Bihari Vajpayee)।

     

  • Dimagi Naxals: ‘দিমাগি নকশাল’দের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করার ডাক প্রধানমন্ত্রীর, প্রাক্তন নকশাল-অধ্যুষিত এলাকায় উন্নয়নের দাবি

    Dimagi Naxals: ‘দিমাগি নকশাল’দের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করার ডাক প্রধানমন্ত্রীর, প্রাক্তন নকশাল-অধ্যুষিত এলাকায় উন্নয়নের দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লালকেল্লা থেকে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) নকশাল সমস্যার একটি নতুন রূপের কথা তুলে ধরলেন। তিনি এর নাম দিয়েছেন “দিমাগি নকশাল” (Dimagi Naxals)। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, জঙ্গলে সক্রিয় সশস্ত্র নকশালদের অনেকটাই নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। তবে নকশালপন্থী মানসিকতায় প্রভাবিত কিছু মানুষ এখনও প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন। তাঁদের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ‘মাওবাদী হিংসা শেষ নিঃশ্বাস নিচ্ছে’ (Dimagi Naxals)

    নকশাল হিংসার অতীতের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের পর বছর দেশের একাধিক অঞ্চলকে আতঙ্কের মধ্যে রেখেছিল ‘লাল সন্ত্রাস’। মাওবাদী হিংসার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে গিয়ে ৩,৫০০-এরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের অভিযানে নিহত নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা যুদ্ধের কারণে প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যার থেকেও বেশি। ২০১৪ সালে তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই দেশ থেকে নকশালবাদ নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলেও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০১৪ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার পর দেশকে নকশালমুক্ত করার শপথ নিয়েছিলাম। আমি খুশি যে মাওবাদী হিংসা এখন তার শেষ নিঃশ্বাস নিচ্ছে।”

    ক্ষমতার অলিন্দে ‘দিমাগি নকশাল’

    প্রধানমন্ত্রীর দাবি, একাধিক জঙ্গল এলাকা থেকে সশস্ত্র নকশালদের হটাতে সরকার সফল হয়েছে। তবে তাঁর অভিযোগ, মাওবাদী চিন্তাধারায় প্রভাবিত কিছু মানুষ অতীতে সরকারি কমিটি এবং ক্ষমতার অলিন্দে জায়গা করে নিয়েছিলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বছরের পর বছর নকশাল মানসিকতার মানুষ ক্ষমতার অলিন্দে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তাঁরা সরকারি কমিটিতে উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন। মাওবাদী চিন্তাধারা নীতিনির্ধারণেও প্রভাব ফেলেছিল।” প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই ‘দিমাগি নকশাল’রা এখন হিংসা ও অশান্তি তৈরির সুযোগ খুঁজছে এবং সমাজকে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “এই ‘দিমাগি নকশাল’দের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করতে হবে এবং যুবসমাজকে মূলস্রোতের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে (Dimagi Naxals)।”

    প্রাক্তন নকশাল-অধ্যুষিত এলাকায় উন্নয়নের দাবি

    নকশাল হিংসায় একসময় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, মাওবাদীদের উপস্থিতির কারণে যে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিকে একসময় উন্নয়নের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করা হত, সেখানেও এখন অগ্রগতি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হিংসার কারণে যে অঞ্চলগুলি দীর্ঘদিন পিছিয়ে ছিল, সেখানে এখন উন্নয়নের গতি বেড়েছে এবং রাষ্ট্রের উপস্থিতিও আরও শক্তিশালী হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই পরিবর্তন দেখিয়ে দিচ্ছে যে দেশ একসময় যেখানে বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়েছিল, সেখানেই এখন উন্নয়নের ধ্বজা উড়ছে (PM Modi)। একসময় নকশাল হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত সেই অঞ্চলগুলিতেই এখন উন্নয়নের নতুন ছবি দেখা যাচ্ছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী (Dimagi Naxals)।

     

  • Independence Day 2026: স্বাধীনতার লড়াইয়ে যাঁরা জাগিয়েছিলেন দেশ, তাঁদের সেরা ১২ বাণী

    Independence Day 2026: স্বাধীনতার লড়াইয়ে যাঁরা জাগিয়েছিলেন দেশ, তাঁদের সেরা ১২ বাণী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, ১৫ অগাস্ট ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস (Independence Day)। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই দীর্ঘ প্রায় দুই শতকের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল ভারত। সেই স্বাধীনতা সহজে আসেনি। অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম, কারাবরণ এবং রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে দেশের স্বাধীনতা। স্বাধীনতা দিবসের সকালে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জাতীয় পতাকা উত্তোলন থেকে শুরু করে নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের। তাঁদের লড়াই শুধু একটি পরাধীন দেশকে মুক্ত করার জন্য ছিল না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাধীন, মর্যাদাপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক ভারত গড়ার স্বপ্নও ছিল। স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষে সেইসব বীরের কিছু অমর উক্তি আজও নতুন করে দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করে।

    একনজরে দেখে নেওয়া যাক তাঁদের সেই বাণী—

    ভগৎ সিং

    “স্বাধীনতা মানুষের অবিচ্ছিন্ন অধিকার। ওরা আমাকে মেরে ফেলতে পারে, কিন্তু আমার বিশ্বাস, আমার চিন্তাকে ওরা কখনও মারতে পারবে না।”

    মহাত্মা গান্ধী

    “প্রথমে তারা তোমাকে উপেক্ষা করবে, তারপর তোমাকে দেখে হাসবে। তারপরে সংঘর্ষে লিপ্ত হবে। শেষে কিন্তু জয় তোমারই হবে।”

    জওহরলাল নেহরু

    “পুঁজিবাদী সমাজের শক্তিগুলিকে যদি নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, তাহলে ধনীরা আরও ধনী এবং দরিদ্ররা আরও দারিদ্রতার স্বীকার হবে।”

    ভীম রাও আম্বেদকর

    “কোনও সম্প্রদায়ের অগ্রগতি আমি সেই সম্প্রদায়ের নারীর অগ্রগতির নিরিখে পরিমাপ করি।”

    নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু

    “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।”

    স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম কিংবদন্তি বিপ্লবী চন্দ্রশেখর আজাদের কণ্ঠেও ধ্বনিত হয়েছিল অদম্য আত্মবিশ্বাস—

    চন্দ্রশেখর আজাদ

    “দুশমন কি গোলিও কা হাম সামনা করেঙ্গে / আজাদ হি রহে হ্যায়, আজাদ হি রহেঙ্গে।”

    দেশের ঐক্য ও নাগরিকের অধিকার-কর্তব্য নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছিলেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল।

    সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল

    “এদেশের সমস্ত নাগরিককে মনে রাখতে হবে যে তারা ভারতীয় এবং এই দেশে তাদের সমস্ত অধিকার রয়েছে, সমস্ত কর্তব্যও রয়েছে।”

    বিপ্লবীদের মুখে দেশমাতৃকার জন্য আত্মত্যাগের যে অঙ্গীকার শোনা যেত, তারই প্রতিধ্বনি রয়েছে রামপ্রসাদ বিসমিলের বিখ্যাত পংক্তিতে—

    রামপ্রসাদ বিসমিল

    “সরফরোশি কি তমন্না অব হামারে দিল মে হ্যায় / দেখনা হ্যায় জোর কিতনা বাজু-ই-কাতিল মে হ্যায়”

    স্বরাজের দাবিকে সাধারণ মানুষের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে বাল গঙ্গাধর তিলকের বিখ্যাত উক্তি আজও স্মরণীয়।

    বাল গঙ্গাধর (লোকমান্য) তিলক

    “স্বরাজ আমার জন্মগত অধিকার এবং আমি সেটা অর্জন করবই।”

    নারী জাগরণ, শিক্ষা এবং সমাজের সামগ্রিক অগ্রগতির প্রশ্নেও স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতারা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রেখে গিয়েছেন। সরোজিনী নাইডুর কথায় উঠে এসেছিল সেই প্রত্যয়ের কথা।

    সরোজিনী নাইডু

    “আমরা গভীর আন্তরিকতা, বক্তৃতায় আরও সাহস এবং কর্মে আন্তরিকতা চাই।”

    অল্প বয়সেই দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন ক্ষুদিরাম বসু। মৃত্যুকে ভয় না পাওয়ার সেই অদম্য মানসিকতার পরিচয় মেলে তাঁর কথায়—

    ক্ষুদিরাম বসু

    “আমি গীতাপাঠ করেছি। আমার মৃত্যুভয় নেই।”

    স্বাধীনতা সংগ্রামের আর এক অগ্নিযুগের বিপ্লবী ছিলেন মাস্টারদা সূর্য সেন। তাঁর আহ্বানে ছিল লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প—

    মাস্টারদা সূর্য সেন

    “লক্ষ্যে পোঁছানোর আগে মৃত্যুর হিমশীতল তোমাদের স্পর্শ করলে তোমরা অনুগামীদের হাতে এই অন্বেষণ এর ভার তুলে দেবে-যেমন আমি তোমাদের হাতে তুলে দিচ্ছি। প্রিয় বন্ধুরা-এগিয়ে চল-কখনও পিছিয়ে যেও না। ওই দেখা যাচ্ছে স্বাধীণতার নবারুণ। উঠে-পড়ে লাগো। কখনও হতাশ হয়ো না। সাফল্য আমাদের সুনিশ্চিত।”

    স্বাধীনতার স্বপ্ন শুধু রাজনৈতিক মুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন এক ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে ভয় থাকবে না, জ্ঞান হবে মুক্ত এবং মানুষের চিন্তা ও কর্ম কোনও সংকীর্ণতার মধ্যে আবদ্ধ থাকবে না। তাঁর ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’ কবিতার সেই অমর প্রার্থনা আজও স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ মনে করিয়ে দেয়—

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির,
    জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর
    আপন প্রাঙ্গণতলে দিবসশর্বরী
    বসুধারে রাখে নাই খণ্ড ক্ষুদ্র করি,
    যেথা বাক্য হৃদয়ের উৎসমুখ হতে
    উচ্ছ্বসিয়া উঠে, যেথা নির্বারিত স্রোতে
    দেশে দেশে দিশে দিশে কর্মধারা ধায়
    অজস্র সহস্রবিধ চরিতার্থতায়,
    যেথা তুচ্ছ আচারের মরুবালুরাশি
    বিচারের স্রোতঃপথ ফেলে নাই গ্রাসি,
    পৌরুষেরে করে নি শতধা, নিত্য যেথা
    তুমি সর্ব কর্ম চিন্তা আনন্দের নেতা,
    নিজ হস্তে নির্দয় আঘাত করি, পিতঃ;
    ভারতেরে সেই স্বর্গে করো জাগরিত॥”

    উন্নত ভারতের স্বপ্নের প্রতীক

    স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষে এই বাণীগুলি তাই শুধুমাত্র ইতিহাসের পাতায় থাকা কিছু উক্তি নয়। এগুলি আত্মত্যাগ, সাহস, অধিকার, কর্তব্য, ঐক্য এবং একটি উন্নত ভারতের স্বপ্নের প্রতীক। জাতীয় পতাকার তলায় দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণ করার পাশাপাশি তাঁদের আদর্শকে মনে রাখাই হতে পারে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অন্যতম সার্থকতা।

  • Suvendu Adhikari on Red Road: বন্দে মাতরম থেকে শ্যামাপ্রসাদের ট্যাবলো, স্বাধীনতা দিবসে বর্ণাঢ্য রেড রোড, বাংলাকে হারানো গৌরব ফেরানোর অঙ্গীকার মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari on Red Road: বন্দে মাতরম থেকে শ্যামাপ্রসাদের ট্যাবলো, স্বাধীনতা দিবসে বর্ণাঢ্য রেড রোড, বাংলাকে হারানো গৌরব ফেরানোর অঙ্গীকার মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার রেড রোডে ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি দেশবাসীকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক সংকীর্ণতা দূরে সরিয়ে রেখে হাতে হাত মিলিয়ে বাংলা গড়ার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সকলকে একসঙ্গে বাংলার উন্নয়নে কাজ করতে হবে। কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, সুরক্ষা এবং নগরায়নের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে ফের তার পুরনো গৌরবের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। রেড রোডে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়কেরা।

    রাজনৈতিক সংকীর্ণতা দূর করুন

    বদলের বাংলায় রেড রোডে ইতিহাস। স্বাধীনতা দিবসে রেড রোডে বাজল বন্দে মাতরম। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদানের পর পতাকা উত্তোলন করেন। কর্মক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ১৪ জন আইপিএসকে ‘মুখ্যমন্ত্রীর পদক’ প্রদান করেন। তার আগে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে ভিডিওবার্তায় সকলকে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘আসুন রাজনৈতিক সংকীর্ণতা দূরে সরিয়ে রেখে, হাতে হাত মিলিয়ে বাংলা গড়ার কাজ করি।’’ তাঁর বক্তব্যে বাংলার উন্নয়নের জন্য দলমত নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণের উপর জোর দেওয়া হয়। স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গ গৌরবের মাটি। এই মাটিতেই জন্মেছেন বীর বিপ্লবী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ক্ষুদিরাম বসু এবং মাতঙ্গিনী হাজরার মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীরা। তাঁদের আত্মত্যাগ ও আদর্শকে সামনে রেখে নতুন বাংলা গড়ার সংকল্প নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

    উন্নয়ন ও ঐক্যের বার্তা

    শুভেন্দুর কথায়, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মহিলাদের ক্ষমতায়ন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং পরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে আবারও দেশের অন্যতম অগ্রণী রাজ্যে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য। স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকেই উন্নয়ন ও ঐক্যের বার্তা দিয়ে সেই লক্ষ্যে সকলকে একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, ‘‘কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, সুরক্ষাকে সুদৃঢ় করতে চাই। যে সংকল্প নিয়ে সরকারে এসেছি, তাকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করব।’’ এই প্রথমবার রেড রোডে প্যারেডে কম্যান্ডার এবং সহকারী দু’জনে ছিলেন। কুচকাওয়াজের পর মোট ১২টি ট্যাবলো প্রদর্শিত হয়। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্য়ায়ের ট্যাবলো দেখানো হয়। তারপর একে একে অন্নামৃত, কন্যারত্ন ও অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির, দুর্গাশক্তি বাহিনী, কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভার ট্যাবলো প্রদর্শিত হয়।

    পুলিশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী

    স্বাধীনতা দিবসে রেড রোডের নিরাপত্তায় এবছরই পুলিশের সঙ্গে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কলকাতাজুড়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব অতিরিক্ত প্রায় তিন হাজার পুলিশ। রেড রোডকে ১৩টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেক সেক্টরের দায়িত্বে একজন করে ডিসি পদমর্যাদার পুলিশকর্তা। ১৩টি জোনের আওতায় ৮০টি সেক্টর। এ ছাড়াও নিরাপত্তার দায়িত্বে পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, ২০ জন ডিসি, ৪০ জন অ‌্যাসিস্ট‌্যান্ট পুলিশ কমিশনার। সারা শহরজুড়ে টহল দিচ্ছে ন’টি পিসিআর ভ্যান, তিনটি কুইক রেসপন্স টিম। নজরদারির জন্য শহরে ১৯টি পুলিশ পিকেট, মেট্রো স্টেশনে ২৫টি পিকেট, ২৪টি পিকেট শহরের বিভিন্ন বাজার ও শপিং মলে, কালীঘাট মন্দির ছাড়াও সাতটি ধর্মস্থানে। শহরের ২৩টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় নাকা চেকিংয়ের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। যে কোনওরকম নাশকতা এড়াতে দর্শকদের সঙ্গে মিশে রয়েছে সাদা পোশাকের পুলিশ।

    দূরদর্শনে শুভেন্দুর বক্তব্য

    দীর্ঘ ২০ বছর পর বাংলার কোনও মুখ্যমন্ত্রী আবারও বার্তা দিলেন দূরদর্শনে। শুভেন্দু অধিকারী এদিন প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে। দূরদর্শনে তাঁর বক্তব্য সম্প্রচারিত হয় দিল্লিতে লালকেল্লার অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার ঠিক পরেই। বক্তব্যের শুরুতেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে স্মরণ করলেন তিনি। তারপর নিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নাম। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বন্দে মাতরম। প্রিয় পশ্চিমবঙ্গ বাসী, আজ স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষপূর্তির পবিত্র দিনে প্রতিটি নাগরিককে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি সেই সকল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যাঁদের সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতার মুক্ত আকাশ।’ এরপরই একে একে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বিনয়-বাদল দীনেশের নাম।

    বিকশিত ভারতে পশ্চিমবঙ্গ অন্যতম চালিকাশক্তি

    আড়াই মিনিটের এই বার্তায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক জয় নয়, বরং দেশকে আরও এগিয়ে যাওয়ার এক পবিত্র অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকারকে সঙ্গে নিয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর স্বপ্ন দেখেছেন। সেই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে পশ্চিমবঙ্গ হবে অন্যতম চালিকাশক্তি। সেই লক্ষ্যে যুব সমাজের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা, মা-বোনেদের আরও স্বনির্ভর করে তোলা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, কৃষি-শিল্প থেকে সমাজের প্রতিটি স্তরে উন্নয়ন পৌঁছে দিতে আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর।’

    এই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মুখ্যমন্ত্রী তেরঙার তাৎপর্যও এদিনের বার্তায় তুলে ধরেন। তিনি জানান, এটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের গর্ব। জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গানের মর্যাদাও অক্ষুন্ন রাখার কথা বলেন শুভেন্দু। উল্লেখ্য, এর আগে ২০০৬ সালে স্বাধীনতা দিবসে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য দূরদর্শনে বার্তা দিয়েছিলেন। তারপর বাংলার আর কোনও মুখ্যমন্ত্রী স্বাধীনতা দিবসে দুরদর্শনে বক্তব্য রাখেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় দুরদর্শনে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ বন্ধ ছিল ১৫ বছর। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবার চালু হল সেই রীতি। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এবারের স্বাধীনতা দিবসটা অন্যরকম। রয়েছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম তারা উদযাপন করছে ১৫ অগাস্ট। মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর এই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

     

     

  • Aurobindo Ghosh: বিপ্লবী থেকে ঋষি! সংগ্রাম থেকে যোগের পথে, ভারতের ইতিহাসে রহস্য নায়ক অরবিন্দ ঘোষ

    Aurobindo Ghosh: বিপ্লবী থেকে ঋষি! সংগ্রাম থেকে যোগের পথে, ভারতের ইতিহাসে রহস্য নায়ক অরবিন্দ ঘোষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথম জীবনে তিনি ছিলেন বিপ্লবী নায়ক। কাঁপন ধরিয়ে ছিলেন ব্রিটিশ শাসকের বুকে। জীবনের দ্বিতীয় পর্বে সেই তিনিই হয়ে উঠলেন যোগী ও দার্শনিক। আধ্যাত্মিকতার আলো জ্বেলে দিলেন অসংখ্য মানুষের প্রাণে। প্রথম জীবনের দুর্ধর্ষ বিপ্লবী অরিবিন্দ ঘোষ (Aurobindo Ghosh), পরে তিনিই ঋষি অরবিন্দ। ১৫ আগস্ট (15 August), ভারতের স্বাধীনতা দিবস তাঁরও জন্মতারিখ। থিয়েটার রোডের মামার বাড়িতে (এখন অরবিন্দ ভবন) অরবিন্দর জন্ম ১৮৭২ সালের ১৫ আগস্ট। তা হলেও, জেলের অ্যাডমিশন রেজিস্টারে শ্রীঅরবিন্দর ঠিকানা ঘোষপাড়া, কোন্নগর, হুগলি। বিংশ শতকের শুরুতেই বিপ্লবী নেতা অরবিন্দ ঘোষের নেতৃত্বে বাংলা সহ ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ওঠে বিপ্লববাদের ঢেউ।

    আগামী প্রজন্মের প্রেরণা ঋষি অরবিন্দ

    স্বাধীনতা সংগ্রামী দার্শনিক ঋষি অরবিন্দের ১৫৩-তম জন্ম বার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় আজ পালিত হচ্ছে। দেশকে ব্রিটিশ শাসনের হাত থেকে মুক্ত করতে অরবিন্দ ঘোষ যোগ দিয়েছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলনে। বন্দেমাতরম সংবাদপত্র সম্পাদনের পাশাপাশি বহু জাতীয়তাবাদী পত্র-পত্রিকার সম্পাদনার কাজ করেছেন তিনি। আলিপুর বোমা মামলায় এক বছর জেল বন্দি থাকার পর মুক্তি পেয়ে তিনি ফিরে যান আধ্যাত্মিক জীবনে। হয়ে ওঠেন ঋষি অরবিন্দ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ ঋষি অরবিন্দের জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে শাহ (Amit Shah on Rishi Aurobindo) বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামে ঋষি অরবিন্দের চেতনা এবং আধ্যাত্মিকতা ও দর্শনে তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত ও আলোকিত করে।

    বিপ্লবী অরবিন্দ, আলিপুর বোমা মামলা

    অরবিন্দের বাবা ছিলেন চিকিৎসক কৃষ্ণধন ঘোষ। মা স্বর্ণলতা দেবী ছিলেন রাজনারায়ণ বসুর কন্যা। দার্জিলিংয়ের ইংরেজি স্কুলে লেখাপড়ার সূত্রপাত তাঁর। এরপর পড়াশোনা ইংল্যান্ডে। ইংল্যান্ডে থাকার সময়ই ইতালি ও আয়ারল্যান্ডের ভাবধারার সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তবে দেশে স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন ভারতে ফেরার পর। ১৮৯০-তে কংগ্রেসের নরমপন্থী আন্দোলের কট্টর সমালোচনার মধ্য দিয়ে। সংগ্রামশীল জাতীয়তাবাদী মতবাদের অন্যতম নেতা ছিলেন তিনি। ভারতীয় যুব সমাজকে নিজের লেখা, বক্তব্যের মাধ্যমে বিপ্লবী মতাদর্শে দীক্ষিত করার কাজ করেছেন তিনি। বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে স্বদেশি আন্দোলনে উজ্জ্বল ভূমিকার জন্য তিনি দেশের প্রথম সারির নেতা হিসেবে পরিচিত পেয়েছিলেন তিনি। দেশমাতৃকার মুক্তিই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। অরবিন্দ জাতীয়তাবাদকে ধর্মের আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। দেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি ততদিনে বিপ্লবী গুপ্ত সংগঠনগুলির নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন। গীতার নিষ্কাম কর্মের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি তরুণ সমাজকে দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। ১৯০৮-এ আলিপুর বোমা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেফতার হন তিনি। ১৯০৯ সালে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান অরবিন্দ।

    জেলের অভ্যন্তরেই নারায়ণ দর্শন

    জেলে থাকার সময়ই তাঁর রাজনৈতিক ভাবাদর্শে আধ্যাত্মিকার সংস্পর্শ ঘটে। তাঁর জীবনে পরিবর্তন শুরু হয়। আধ্যাত্মিকতার টানে জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর তিনি যেন এক অন্য মানুষ! ঋষি শ্রীঅরবিন্দ। রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে চলে যান সুদূর পণ্ডিচেরিতে। গোটা বিশ্বের সামনে আর্বিভূত হন এক মহান ভারতীয় যোগী ও দার্শনিক। । ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় শ্রীঅরবিন্দ আশ্রম। ১৯৫০ সালের ৫ ডিসেম্বর ৭৮ বছর বয়সে প্রয়াত হন ঋষি শ্রীঅরবিন্দ। ভারতের স্বাধীনতার বয়স তখন আড়াই বছর।

LinkedIn
Share