Blog

  • BSF Land Transfer: চিকেনস্ নেকে বড় সিদ্ধান্ত! বিএসএফকে ১২০ একর জমি দিল রাজ্য, বাড়ছে সীমান্ত নিরাপত্তা

    BSF Land Transfer: চিকেনস্ নেকে বড় সিদ্ধান্ত! বিএসএফকে ১২০ একর জমি দিল রাজ্য, বাড়ছে সীমান্ত নিরাপত্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা, সামরিক লজিস্টিকস এবং সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও জোরদার করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার উত্তরবঙ্গের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিকেনস নেক করিডর এলাকায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF)-কে ১২০ একর জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ চিকেনস্ নেক?

    বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের মাঝে অবস্থিত মাত্র ২২ কিলোমিটার চওড়া এই করিডরটি ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বের আটটি রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করে। চিকেনস্ নেক বা সিলিগুড়ি করিডর ভারতের জন্য এক ধরনের লাইফলাইন। এই সরু ভূখণ্ডটি বিচ্ছিন্ন হলে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সামরিক ও কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ভারতের অন্যতম সংবেদনশীল ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচিত।

    জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় পদক্ষেপ

    তাই বহুদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রতিরক্ষা মহল এই অঞ্চলকে বিশেষ নজরে রাখছে। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে তাই শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত অবকাঠামো উন্নয়নের বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জমি হস্তান্তরের মূল উদ্দেশ্য হল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং সীমান্ত নজরদারি আরও শক্তিশালী করা। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই প্রকল্পে এবার গতি আনতে উদ্যোগী হয়েছে নতুন রাজ্য সরকার।

    জাতীয় সড়কও কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে

    শুধু জমি হস্তান্তরই নয়, রাজ্য সরকার উত্তরবঙ্গ ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ৭টি জাতীয় সড়কের অংশ রাজ্যের গণপূর্ত দফতর থেকে কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। এই রাস্তা হস্তান্তর করা হবে জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI) এবং জাতীয় মহাসড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন কর্পোরেশন লিমিটেড (NHIDCL)-এর কাছে। এই সাতটি রাস্তার মধ্যে পাঁচটিই চিকেনস নেক করিডরের মধ্য দিয়ে গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

    • ● সেবক – কালিম্পং – সিকিম সীমান্ত (১০ নম্বর জাতীয় সড়ক)
    • ● শিলিগুড়ি – কার্শিয়াং – দার্জিলিং
    • ● হাসিমারা – জয়গাঁও (ভুটান সীমান্ত)
    • ● চ্যাংরাবাঁধ (বাংলাদেশ সীমান্ত)

    বিশেষ করে ১০ নম্বর এবং ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কে দীর্ঘদিন ধরেই ধস, অতিবৃষ্টি এবং ভূমিধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে। এর ফলে সিকিম এবং দার্জিলিঙের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে, যা সরবরাহ ব্যবস্থা, পর্যটন এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পরিবহণে বড় প্রভাব ফেলে।

    উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগে যুগান্তকারী পরিবর্তন

    মুখ্যসচিবের দফতর থেকে জারি করা সরকারি প্রেস নোটে বলা হয়েছে, এই সাতটি রাস্তা উন্নয়নের ফলে উত্তরবঙ্গ, ডুয়ার্স, দার্জিলিং পাহাড়, সিকিম, ভুটান এবং বাংলাদেশ সীমান্তের সঙ্গে যোগাযোগ আরও মজবুত হবে। এছাড়াও মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার সঙ্গে জাতীয় সড়ক সংযোগ উন্নত হবে। বিশেষ করে ঘোজাডাঙা আন্তর্জাতিক সীমান্ত পর্যন্ত সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন বাণিজ্য ও সীমান্ত লজিস্টিকসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন।

    দীর্ঘদিন আটকে থাকা প্রকল্পে গতি

    সরকারি মহলের দাবি, আগের সরকারের আমলে এই জমি হস্তান্তর এবং রাস্তা উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক প্রস্তাব দীর্ঘদিন ধরে ফাইলবন্দি ছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকেনস নেক করিডরে অবকাঠামো শক্তিশালী হলে শুধু সীমান্ত নিরাপত্তাই নয়, জরুরি পরিস্থিতিতে সেনা মোতায়েন, সরঞ্জাম পরিবহণ এবং দ্রুত সামরিক প্রতিক্রিয়াও অনেক সহজ হবে।

  • Russian Oil Imports: ট্রাম্পের চাপে নত নয়! রাশিয়া থেকে কেনা বন্ধ করবে না ভারত, বার্তা মোদি সরকারের

    Russian Oil Imports: ট্রাম্পের চাপে নত নয়! রাশিয়া থেকে কেনা বন্ধ করবে না ভারত, বার্তা মোদি সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া থেকে তেল (Russian Oil Imports) কেনা বন্ধ করবে না ভারত, মার্কিন চাপ উড়িয়ে স্পষ্ট জানাল মোদি সরকার। কেন্দ্রের বক্তব্য, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থই সর্বাগ্রে, তাই আমেরিকার ‘ওয়েভার’ থাক বা না থাক, রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা চলবে আগের মতোই। সোমবার, ১৮ মে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের জয়েন্ট সেক্রেটারি (মার্কেটিং ও অয়েল রিফাইনারি) সুজাতা শর্মা বলেন, “আমেরিকার ওয়েভার নিয়ে আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই যে, ওয়েভারের আগেও আমরা রাশিয়া থেকে তেল কিনেছি, ওয়েভারের সময়ও কিনেছি, এখনও কিনছি।”

    দেশবাসীর স্বার্থকেই প্রাধান্য

    সুজাতা শর্মা স্পষ্ট করে জানান, ভারতের তেল কেনার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাণিজ্যিক যুক্তি, অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে নেওয়া হয়। তাঁর কথায়, “অপরিশোধিত তেলের কোনও ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই ওয়েভার থাক বা না থাক, ভারতের জ্বালানি সরবরাহে তার কোনও প্রভাব পড়বে না।” উল্লেখ্য, মার্চ মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার সমুদ্রপথে রফতানিকৃত তেল কেনার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের একটি লাইসেন্স বা ছাড় দিয়েছিল। পরে সেটির মেয়াদ বাড়ানো হলেও ১৬ মে তা শেষ হয়ে যায়। তবে বাস্তবে ভারত কখনওই রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করেনি। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড় মূল্যে রুশ তেল পাওয়া শুরু হলে ভারত বড় পরিমাণে সেই তেল আমদানি করতে শুরু করে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেও ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির ২০ শতাংশের বেশি এসেছে রাশিয়া থেকে। কেন্দ্র বারবার জানিয়েছে, কোন দেশ থেকে কত তেল কেনা হবে, তা সম্পূর্ণভাবে ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত এবং জাতীয় স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল।

    বিশ্ববাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখাই লক্ষ্য

    ভারত বর্তমানে তার মোট চাহিদার ৮০ শতাংশেরও বেশি অপরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে তুলনামূলক সস্তায় তেল পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই কেনার নীতি নিয়েছে নয়াদিল্লি। মজার বিষয় হল, অতীতে মার্কিন প্রশাসন নিজেই স্বীকার করেছিল যে ভারত রাশিয়ার তেল কিনে চলায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুবিধা হয়েছে। গত বছর ভারতের বিদেশ মন্ত্রকও জানিয়েছিল, আমেরিকা অনানুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে রুশ তেল কেনা চালিয়ে যেতে বলেছিল, যাতে বিশ্ববাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল থাকে। তবে পরবর্তীতে অবস্থান বদলে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার ইস্যুতে ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নেয় আমেরিকা। বর্তমান পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না।

  • RG Kar Incident: ‘মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ’! আরজি কর কাণ্ডে অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষের বিপক্ষে আইনি প্রক্রিয়া শুরুর বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    RG Kar Incident: ‘মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ’! আরজি কর কাণ্ডে অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষের বিপক্ষে আইনি প্রক্রিয়া শুরুর বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত তথা সেখানকার প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে দোষী সাব্যস্ত করার প্রক্রিয়া শুরুর অনুমতি ইডিকে (ED) দিল রাজ্য সরকার। সোমবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে নিজেই সে কথা জানালেন। পাশাপাশি, রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের বিশেষ সচিবের সই করা নিদের্শের প্রতিলিপিও সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। আরজি কর কাণ্ডের ‘ন্যায় বিচার’-এর লক্ষ্যে এটি একটি ‘মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ’ বলে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন।

    আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়

    সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “আজ আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে একটি মহতী ও সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।” তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ‘বোন অভয়া’র নৃশংস খুন ও ধর্ষণের ঘটনার পর থেকেই রাজ্যবাসী ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় ছিল। সেই মামলায় তৎকালীন সুপার সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকার আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আগের সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এবং অনৈতিকভাবে এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে রেখেছিল। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তদন্তকে ধীরগতির করার চেষ্টা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়” এবং কোনওভাবেই সত্য চাপা দিয়ে রাখা যাবে না।

    কেন রাজ্যের অনুমতি প্রয়োজন

    যেহেতু সন্দীপ সরকারি কর্মচারী, তাই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করার অনুমতি রাজ্য সরকারের থেকে নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে ইডি সেই প্রয়োজনীয় অনুমতি পায়নি। এত দিন তা আটকে ছিল। অবশেষে রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ১০ দিনের মধ্যে সেই প্রয়োজনীয় অনুমতি সরকারের তরফ থেকে দিয়ে দেওয়া হল। সন্দীপকে দোষী সাব‍্যস্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে কার্যত ইডির সামনে এখন আর কোনও বাধা রইল না। শুভেন্দু আরও লেখেন, ‘আমি চাই, বোন অভয়ার প্রকৃত দোষীরা দ্রুত চিহ্নিত হোক। কঠোরতম শাস্তি পাক এবং বাংলার মানুষ ন্যায়বিচার প্রত্যক্ষ করুক। বোন অভয়ার আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।’

    আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক গাফিলতি

    আরজি কর কাণ্ড রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল। ‘অভয়া’ নামে পরিচিত ওই তরুণীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল প্রশাসন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। তদন্ত চলাকালীন আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক গাফিলতি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সেই সময় থেকেই সন্দীপ ঘোষের নাম ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, হাসপাতালের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আর্থিক লেনদেন এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছিল। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের জন্য সরকারের অনুমতি প্রয়োজন ছিল। এবার সেই ‘স্যানকশন অফ প্রসিকিউশন’ মঞ্জুর হওয়ায় তদন্ত আরও দ্রুত এগোবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

    কোন কোন ধারায় অভিযুক্ত সন্দীপ

    প্রতিলিপিতে উল্লেখ করা আছে, পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় রাজ্যপাল এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা নথিপত্র ও তথ্যপ্রমাণা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পরীক্ষা করার পর, প্রাথমিক ভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং কর্তব্যে গাফিলতি, যা ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার ১২০বি ধারার সঙ্গে পঠিত ৪২০ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৮ (২০১৮ সালের সংশোধিত দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন)-এর ৭ ধারার অধীনে দণ্ডনীয় অপরাধ। এটি আর্থিক দুনীর্তি প্রতিরোধ আইন, ২০০২-এর ধারা ২(১)(য়)-এর অধীনে নির্ধারিত অপরাধের আওতাভুক্ত। এর ফলেই সন্দীপ-সহ মা তারা ট্রেডার্স, ইশান ক্যাফে এবং খামা লোহা-র বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

    আরও কারা কারা জড়িত

    পানিহাটির সদ্যনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক তথা নির্যাতিতার মা তাঁর মেয়েকে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত ছিলেন আরও অনেকে, এমন অভিযোগ এবং তাঁদের প্রত্যেককে তদন্তের আওতায় আনার জন্য নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি মুখবন্ধ খামে চিঠি পাঠিয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন। কর্তব্যরত অবস্থায় তাঁর মেয়েকে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে জেলে বন্দি রয়েছে সঞ্জয় রায়। কিন্তু সে একা নয়, আরও অনেকে ওই ঘটনায় যুক্ত ছিলেন বলে দীর্ঘ দিন ধরেই দাবি করছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। ওই তরুণীর মৃতদেহ তড়িঘড়ি নিয়ে এসে সৎকার করে তথ্য-প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার ঘটনায় পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পুরপ্রধান সোমনাথ দে এবং প্রতিবেশী সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাও সন্দেহজনক বলে অভিযোগ রয়েছে।

    অন্যায়ের বিরুদ্ধে নয়া সরকারের “জিরো টলারেন্স” নীতি

    শাসকদলের দাবি, সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতি এবং প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি গ্রহণ করেছে। সেই ধারাবাহিকতাতেই আরজি কর মামলায় এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশের দাবি, এই ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও প্রশাসনের বক্তব্য, গোটা প্রক্রিয়া আইনি কাঠামোর মধ্যেই চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকরী, অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের যে নির্দেশ দিয়েছেন, তার প্রতিলিপিটি রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের প্রধান সচিব, সহকারী অধিকর্তা, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, সিজিও কমপ্লেক্স, এমএসও এবং ডিএফকেও পাঠানো হয়েছে। রাজ্যবাসীর একাংশ এই ঘোষণাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। কারণ দীর্ঘদিন ধরে এই মামলায় দ্রুত বিচার এবং প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবি উঠছিল।

  • Bengal Re-industrialisation Roadmap: বাংলার হৃত গৌরব ফেরাতে পুনঃশিল্পায়নের নীল নকশা করছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার

    Bengal Re-industrialisation Roadmap: বাংলার হৃত গৌরব ফেরাতে পুনঃশিল্পায়নের নীল নকশা করছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বিপুল ভোটে জিতে তৃণমূল সরকারকে টান মেরে কুর্সি থেকে ফেলে দিয়েছে বিজেপি।  সপ্তাহখানেকের কিছু বেশি সময় ধরে বাংলায় রাজও করতে শুরু করেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পদ্ম-দল। ঝমাঝম (Bengal Re-industrialisation Roadmap) শব্দ করে এগিয়ে চলেছে রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকার। পালাবদলের সরকার যখন দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে নানা ক্ষেত্রে, ঠিক তখনই নয়াদিল্লি নীরবে (Jobs Investment) এমন এক দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পুনর্গঠন পরিকল্পনার কাজ শুরু করেছে, যা পূর্ব- ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগগুলির একটি হতে পারে।

    দীর্ঘমেয়াদি নকশা তৈরির নির্দেশ

    আধিকারিকদের মতে, কেন্দ্রীয় বিভিন্ন মন্ত্রক এবং নীতি আয়োগকে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি নকশা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। স্বাধীনতার আগে যে রাজ্যটি উপমহাদেশের বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল, সাতের দশকের পর থেকে ধীরে ধীরে কমে যায় তার শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্ব। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ তথা অর্থমন্ত্রকের প্রাক্তন শীর্ষ আধিকারিক অশোক লাহিড়ী, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হননি। অথচ ২০২১ সালে বালুরঘাট থেকে তিনি জয়ী হয়েছিলেন বিরাট ব্যবধানে। এই অশোকই নিতে চলেছেন নীতি আয়োগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আধিকারিকরা জানান, উৎপাদন শিল্পের পুনরুজ্জীবন, লজিস্টিক ব্যবস্থা, নগর পরিকাঠামো, নদীপথ বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে ‘পুনঃশিল্পায়ন রোডম্যাপে’র প্রাথমিক আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

    কী বলছে বিজেপি?

    শিল্পপতি তথা বিজেপির প্রবীণ নেতা শিশির বাজোরিয়া বলেন, “একটা ভুল ধারণা আছে যে বাংলার মানুষ শুধুই চাকরির পেছনে ছোটে। কিন্তু অনেকে ভুলে যান, এটাই স্যার আরএন মুখার্জির মার্টিন অ্যান্ড বার্ন, স্যার পিসি রায়ের বেঙ্গল কেমিক্যালস এবং ঘনশ্যাম দাস বিড়লার মতো উদ্যোক্তাদের ভূমি। আমরা সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চাই। কলকাতা আমাদের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির স্বাভাবিক কেন্দ্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এবং পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার।” স্বাধীনতার সময় (Bengal Re-industrialisation Roadmap) জিডিপির নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ ছিল দেশের দ্বিতীয় ধনী রাজ্য। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ষষ্ঠ স্থানে, যার অর্থনীতি ২২১ বিলিয়ন মার্কিন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। একসময় কলকাতা ছিল ভারতের বাণিজ্যিক পুঁজিবাদের সদর দফতর—পাটকল, ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থা, চা নিলাম কেন্দ্র, ব্যস্ত নদীবন্দর এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পূর্ব-ভারতকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত করত।

    ধসে পড়ে শিল্পের ভিত্তি

    কিন্তু পরবর্তী কালে অতিবামপন্থী নকশালপন্থী আন্দোলন, কড়া শ্রমিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলা থেকে পুঁজি সরে যেতে শুরু করে অন্যত্র। যার জেরে ধসে পড়ে ক্রমক্ষীয়মান শিল্পের ভিত্তি। অবনতি দেখা দেয় সামগ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। বাজোরিয়া বলেন, “অর্থনৈতিক উদারীকরণের পরে যখন পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য দ্রুত শিল্প বিনিয়োগ আকর্ষণ করছিল, তখন বাংলা বড় মাপের উৎপাদন শিল্পে লগ্নি টানতে ব্যর্থ হয়। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের মতো ঘটনা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তী সব সরকারই শিল্প সম্প্রসারণের বদলে কল্যাণমূলক রাজনীতির দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে (Jobs Investment), অবশ্য দু’টি ক্ষেত্র তুলনামূলকভাবে উজ্জ্বল ছিল (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। প্রথমত, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিষেবা খাত—সল্টলেক ও নিউটাউনের আইটি হাবে বহু নতুন সংস্থা আসে। পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত দক্ষতা, কম ভাড়া এবং উন্নত সামাজিক পরিবেশের কারণে কলকাতা আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ত, কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পখাত।

    বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

    ভারতীয় বিদেশ বাণিজ্য সংস্থার (IIFT) প্রাক্তন ডাব্লুটিও (WTO) চেয়ার অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ধর বলেন, “এই ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৮-১০ শতাংশ। এর উন্নয়ন হলে কৃষকদের আয় বাড়বে এবং বাংলার বাইরে কাজের জন্য মানুষের যাতায়াত কমবে। উদ্যানপালন, নতুন ধরনের চা, ব্যান্ডেলের প্রসেসড চিজের মতো পণ্য রফতানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।” এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত শীর্ষ আধিকারিকদের মতে, প্রস্তাবিত নকশা কয়েকটি প্রধান খাতে জোর দেবে। প্রথমত, লজিস্টিক ও সংযোগ ব্যবস্থা। বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযোগকারী পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থানকে এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি বলে অনুমান। কলকাতা এবং হলদিয়াকে কেন্দ্র করে বন্দর-সংযুক্ত পরিকাঠামো, মালবাহী করিডর এবং বহুমুখী পরিবহণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে।দ্বিতীয়ত, উৎপাদন শিল্পের ক্লাস্টার গড়ে তোলা। ইঞ্জিনিয়ারিং, রাসায়নিক শিল্প, ফাউন্ড্রি, বস্ত্রশিল্প এবং ইলেকট্রনিক্স অ্যাসেম্বলি পুনরুজ্জীবনের জন্য বিশেষ শিল্পাঞ্চল এবং কর-ভিত্তিক উৎসাহ দানের কথা ভাবা হচ্ছে (Jobs Investment)। কিছু নীতিনির্ধারক পূর্ব-ভারতের খনিজ সম্পদ অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্স করিডরের পক্ষেও সওয়াল করছেন (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। তৃতীয়ত, শক্তি ও ভারী শিল্প। কয়লা ও লৌহ আকরিক সমৃদ্ধ অঞ্চলের নিকটবর্তী হওয়া, বন্দরের সুবিধা এবং বঙ্গোপসাগরীয় জ্বালানি রুটের কাছে অবস্থান—এসবকে শক্তিনির্ভর শিল্প ও ডাউনস্ট্রিম শিল্পের জন্য বড় সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সর্বোপরি, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া হবে, বিশেষ করে সেই তরুণ বাঙালিদের জন্য যারা কাজের খোঁজে দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতে চলে যাচ্ছেন।

    অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা

    অর্থনীতিবিদরা অবশ্য সতর্ক করে দিচ্ছেন এই বলে যে, পশ্চিমবঙ্গে এখনও জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সংবেদনশীলতা, পুরনো শিল্প পরিকাঠামো, দুর্বল পুর-অর্থনীতি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে। নির্বাচনী ফলের পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা বাড়লেও, তা অনেকটাই নির্ভর করবে নীতিগত স্পষ্টতা এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতার ওপর (Bengal Re-industrialisation Roadmap)। অধ্যাপক ধর বলেন, “একবিংশ শতাব্দীতে পুনঃশিল্পায়ন মানে শুধু কারখানা খুলে দেওয়া নয়। এজন্য বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, প্রযুক্তিগত অভিযোজন, আর্থিক গভীরতা এবং নিয়ন্ত্রক বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রয়োজন। এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গকে গুজরাট, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু এবং কর্নাটকের মতো প্রতিষ্ঠিত শিল্প-রাজ্যগুলির সঙ্গে (Jobs Investment) প্রতিযোগিতা করতে হবে।”

     

  • Sona Pappu Arrest: প্রোমোটার, পুলিশকর্তার পর তোলাবাজি-জমি দুর্নীতি তদন্তে ইডির জালে ‘কসবার ত্রাস’ সোনা পাপ্পু, এবার কি কোনও হেভিওয়েট?

    Sona Pappu Arrest: প্রোমোটার, পুলিশকর্তার পর তোলাবাজি-জমি দুর্নীতি তদন্তে ইডির জালে ‘কসবার ত্রাস’ সোনা পাপ্পু, এবার কি কোনও হেভিওয়েট?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ কলকাতার বহুল চর্চিত ব্যবসায়ী (প্রকারম্তরে সমাজবিরোধী) তথা ‘কসবার ত্রাস’ বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু অবশেষে গ্রেফতার হলেন। সোমবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর দফতরে হাজিরা দেওয়ার পর টানা প্রায় ৯ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আর্থিক প্রতারণা, তোলাবাজি, জমি দখল, বেআইনি নির্মাণ এবং হাওয়ালা লেনদেন-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছিল বহুদিন ধরেই।

    কাঁকুলিয়ার বোমাবাজি ঘটনায় উঠে আসে নাম

    ভোটের আগেই নানা বিতর্কে নাম জড়িয়েছিল কসবার এই ব্যবসায়ীর। বিশেষ করে গোলপার্কের কাঁকুলিয়া এলাকা এবং রবীন্দ্র সরোবর থানা সংলগ্ন এলাকায় বোমাবাজি, গুলি চালানো, ভাঙচুর ও অশান্তির ঘটনায় তাঁর নাম উঠে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই অশান্তির নেপথ্যে ছিলেন সোনা পাপ্পু এবং তাঁর ঘনিষ্ঠরা। যদিও অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই কার্যত আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন তাঁকে খুঁজে না পাওয়ায় তদন্তকারীদের সন্দেহ ছিল, তিনি ভিনরাজ্যে গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে এই সময়ের মধ্যেই দু’বার ফেসবুক লাইভে এসে সোনা পাপ্পু দাবি করেছিলেন, তিনি পলাতক নন এবং কোনও বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁর বক্তব্য ছিল, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। কিন্তু তদন্ত থেমে থাকেনি।

    হঠাৎ ইডি দফতরে হাজিরা, সঙ্গে স্ত্রী

    সোমবার সকালে আচমকাই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সল্টলেকের ইডি অফিসে পৌঁছে যান সোনা পাপ্পু। উল্লেখযোগ্য বিষয়, তিনি কোনও নতুন নোটিস ছাড়াই নিজে থেকে হাজিরা দেন বলে জানা গিয়েছে। অতীতে একাধিকবার তাঁকে তলব করা হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন। ইডি সূত্রের দাবি, হাজিরা দেওয়ার পর তদন্তকারীরা তাঁকে জমি দখল, আর্থিক লেনদেন, নগদ টাকার উৎস, সম্পত্তি কেনাবেচা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক যোগাযোগ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কিন্তু তদন্তে অসহযোগিতা, অসংলগ্ন উত্তর এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের অভিযোগে শেষ পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

    বাড়িতে তল্লাশি: নগদ, অস্ত্র, গয়না উদ্ধার

    এর আগেই সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল নগদ টাকা, সোনা-রুপোর গয়না, সম্পত্তির নথি এবং একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে ইডি। তদন্তকারীদের দাবি, ওই অস্ত্রটি ব্যবসায়ী জয় কামদারের মাধ্যমে কেনা হয়েছিল। পরে অস্ত্রটি গড়িয়াহাট থানায় জমা করা হয়। শুধু নগদ বা অস্ত্র নয়, উদ্ধার হওয়া নথি ঘেঁটে বেশ কিছু সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের হদিশও পেয়েছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, নির্মাণ সংস্থা ও প্রোমোটারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তোলা হত এবং সেই অর্থ একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে যেত।

    জয় কামদার ও শান্তনু সিনহা বিশ্বাস যোগ

    এই মামলায় আগেই গ্রেফতার হয়েছেন বেহালার ব্যবসায়ী তথা সান কনস্ট্রাকশন-এক মালিক জয় কামদার। প্রোমোটার জয় কামদারের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছিল বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর। তদন্তে উঠে আসে, সোনা পাপ্পু, জয় কামদার এবং কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস-এর মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে তোলাবাজি, জমি দখল এবং আর্থিক লেনদেনে এই চক্র সক্রিয় ছিল। গত মাসে ফার্ন রোডে শান্তনুর বাড়িতেও হানা দেয় ইডি। পরে তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়। যদিও সিজিও-তে হাজিরা দিয়ে সোনা পাপ্পু দাবি করেছিলেন, তিনি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে চেনেন না এবং কোনওদিন দেখেননি। কিন্তু তদন্তকারীদের দাবি, ফোন রেকর্ড, আর্থিক লেনদেন এবং একাধিক সাক্ষ্যপ্রমাণে তাঁদের যোগসূত্র মিলেছে।

    তদন্তে হাওয়ালা লেনদেনের সূত্রও

    ইডি সূত্রে খবর, মামলার তদন্তে হাওয়ালা চক্রের যোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সোনা পাপ্পুর আর্থিক নেটওয়ার্ক কেবল স্থানীয় স্তরে সীমাবদ্ধ ছিল না বলেই সন্দেহ তদন্তকারীদের। বিভিন্ন ব্যবসায়ী, নির্মাণ সংস্থা এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারী মহলের মতে, এই গ্রেফতার শুধু একজন ব্যবসায়ীর গ্রেফতার নয়—কলকাতার রিয়েল এস্টেট, তোলাবাজি এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেনের একটি বড় নেটওয়ার্কের পর্দাফাঁসের সূচনা হতে পারে।

    রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য

    ভোটপর্ব শেষ হতেই সোনা পাপ্পুর গ্রেফতার রাজনৈতিক মহলেও চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন অধরা থাকার পর তাঁর আচমকা হাজিরা এবং তারপর গ্রেফতার—এই গোটা ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, সোনা পাপ্পুর জেরা থেকে আরও বেশ কিছু প্রভাবশালী নাম সামনে আসতে পারে। ফলে আগামী কয়েক দিনে এই মামলায় নতুন গ্রেফতার বা আরও তল্লাশির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন আদালতে পেশ করে সোনা পাপ্পুকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারে ইডি। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, এই চক্রের আর্থিক লেনদেন, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং প্রশাসনিক ছত্রচ্ছায়ার পূর্ণ ছবি সামনে আনা।

  • Daily Horoscope 19 May 2026: সব কাজেই সুনাম পেতে পারেন এই রাশির জাতকরা

    Daily Horoscope 19 May 2026: সব কাজেই সুনাম পেতে পারেন এই রাশির জাতকরা

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) অতিরিক্ত বিলাসিতার জন্য খরচ বাড়তে পারে।

    ২) গুরুজনদের সদুপদেশে কর্মক্ষেত্রে উন্নতি।

    ৩) পুরনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা হতে পারে।

    বৃষ

    ১) নিজের ভুল সংশোধন করার ফলে ব্যবসায় উন্নতি ও বিপুল অর্থপ্রাপ্তির যোগ।

    ২) গুরুজনের শরীর নিয়ে চিন্তা থাকবে।

    ৩) ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটবে দিনটি।

    মিথুন

    ১) কাজের চাপ বাড়তে পারে।

    ২) বন্ধুদের সহায়তায় ব্যবসায় উন্নতি।

    ৩) সবাই আপনার প্রশংসা করবে

    কর্কট

    ১) সহকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করায় মানসিক চাপ বাড়বে।

    ২) প্রেমে কষ্ট বাড়তে পারে।

    ৩) ধৈর্য ধরতে হবে।

    সিংহ

    ১) সব কাজেই সুনাম পেতে পারেন।

    ২) ব্যবসায় কর্মচারীদের দ্বারা ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ৩) বাণীতে সংযম রাখুন।

    কন্যা

    ১) দাম্পত্য কলহের কারণে মন চঞ্চল হতে পারে।

    ২) কোনও ঝুঁকিপ্রবণ কাজ করতে হতে পরে।

    ৩) দুশ্চিন্তা বাড়বে।

    তুলা

    ১) প্রিয়জনের সঙ্গে বিবাদ নিয়ে চিন্তা হতে পারে।

    ২) গরিব মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করুন।

    ৩) কর্মক্ষেত্রে বাধা।

    বৃশ্চিক

    ১) শত্রুভয় কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

    ২) ব্যবসায় ফল নিয়ে চিন্তা থাকবে।

    ৩) সবাইকে বিশ্বাস করবেন না।

    ধনু

    ১) কাজের ক্ষেত্রে প্রচুর চিন্তা থাকবে।

    ২) ব্যবসার ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকুন, বুদ্ধিভ্রংশ হতে পারে।

    ৩) ডাক্তারের কাছে যেতে হতে পারে।

    মকর

    ১) বাড়িতে অশান্তির সম্ভাবনা ও সেই কারণে আপনার মানহানি হতে পারে।

    ২) আপনার বক্তব্য সকলের মন জয় করতে সক্ষম হবে।

    ৩) আধ্যাত্মিকতায় মনোনিবেশ করুন।

    কুম্ভ

    ১) নম্র স্বভাবের জন্য কর্মস্থলে পদন্নোতি।

    ২) বাসস্থান পরিবর্তন নিয়ে খরচ বৃদ্ধি।

    ৩) কর্মক্ষেত্রে বাধা।

    মীন

    ১) কোনও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ না করাই ভালো হবে।

    ২) ভ্রমণে সমস্যা বাড়তে পারে, একটু সাবধান থাকুন।

    ৩) ভেবেচিন্তে কথা বলুন।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Ramakrishna 650: “হইতেছে। যেখানে কাম নাই সেখানে ঈশ্বর বর্তমান। এই কথা মনে করিয়া কি ঠাকুরের ঈশ্বরের উদ্দিপন হইতেছে?”

    Ramakrishna 650: “হইতেছে। যেখানে কাম নাই সেখানে ঈশ্বর বর্তমান। এই কথা মনে করিয়া কি ঠাকুরের ঈশ্বরের উদ্দিপন হইতেছে?”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    দ্বাদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ১৩ই এপ্রিল

    ঈশ্বরকোটির কি কর্মফল, প্রারব্ধ আছে? যোগবাশিষ্ঠ

    শ্রীনাথ ডাক্তার (বন্ধুদের প্রতি) — সকলেই প্রকৃতির অধীন। কর্মফল কেউ এড়াতে পারে না! প্রারব্ধ!

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) — কেন, — তাঁর নাম করলে, তাঁকে চিন্তা করলে, তাঁর শরণাগ্য হলে —

    শ্রীনাথ — আজ্ঞে, প্রারব্ধ কোথা যাবে? — পূর্ব পূর্ব জন্মের কর্ম (Kathamrita)।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — খানিকটা কর্ম ভোগ হয়। কিন্তু তাঁর নামের গুণে অনেক কর্মপাশ কেটে যায়। একজন পূর্বজন্মের কর্মের দরুন সাত জন্ম কানা হত; কিন্তু সে গঙ্গাস্নান করলে। গঙ্গাস্নানে মুক্তি হয়। সে ব্যক্তির চক্ষু যেমন কানা সেইরকমই রইল, কিন্তু আর যে ছজন্ম সেটা হল না।

    শ্রীনাথ — আজ্ঞে, শাস্ত্রে তো আছে, কর্মফল কারুরই এড়াবার জো নাই। [শ্রীনাথ ডাক্তার তর্ক করিতে উদ্যত।]

    শ্রীরামকৃষ্ণ (মণির প্রতি) — বল না, ঈশ্বরকোটির আর জীবকোটির অনেক তফাত। ঈশ্বরকোটির অপরাধ হয় না; বল না।

    মণি চুপ করিয়া আছেন; মণি রাখলাকে বলিতেছেন, “তুমি বল।”

    কিয়ৎক্ষণ পরে ডাক্তারেরা চলিয়া গেলেন। ঠাকুর শ্রীযুক্ত রাখাল হালদারের সহিত কথা কহিতেছেন।

    হালদার — শ্রীনাথ ডা: বেদান্ত চর্চা করেন — যোগবাশিষ্ঠ পড়েন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— সংসারী হয়ে, ‘সব স্বপ্নবৎ’ — এ-সব মত ভাল নয়।

    একজন ভক্ত — কালিদাস বলে সেই লোকটি — তিনিও বেদান্ত চর্চা করেন; কিন্তু মোকদ্দমা করে সর্বস্বান্ত।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) — সব মায়া — আবার মোকদ্দমা! (রাখালের প্রতি) জনাইয়ের মুখুজ্জে প্রথমে লম্বা লম্বা কথা বলছিল; তারপর শেষকালে বেশ বুঝে গেল! আমি যদি ভাল থাকতুম ওদের সঙ্গে আর খানিকটা কথা কইতাম। জ্ঞান জ্ঞান কি করলেই হয়?

    কামজয় দৃষ্টে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের রোমাঞ্চ

    হালদার — অনেক জ্ঞান দেখা গেছে। একটু ভক্তি হলে বাঁচি। সেদিন একটা কথা মনে করে এসেছিলাম। তা আপনি মীমাংসা করে দিলেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (ব্যগ্র হইয়া) — কি কি?

    হালদার — আজ্ঞে, এই ছেলেটি এলে বললেন যে — জিতেন্দ্রিয়।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) — হাঁ গো, ওর (ছোট নরেনের) ভিতর বিষয়বুদ্ধি আদপে ঢোকে নাই! ও বলে কাম কাকে বলে তা জানি না (Kathamrita)।

    (মণির প্রতি) “হাত দিয়ে দেখ আমার রোমাঞ্চ হচ্চে!”

    কাম নাই, এই শুদ্ধ অবস্থা মনে করিয়া ঠাকুরের রোমাঞ্চ হইতেছে। যেখানে কাম নাই সেখানে ঈশ্বর বর্তমান। এই কথা মনে করিয়া কি ঠাকুরের ঈশ্বরের উদ্দিপন হইতেছে? * * *

    রাখাল হালদার বিদায় লইলেন।

  • CM Suvendu Adhikari: বিগত তৃণমূল সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নেতৃত্বে দুটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন শুভেন্দু অধিকারীর

    CM Suvendu Adhikari: বিগত তৃণমূল সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নেতৃত্বে দুটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন শুভেন্দু অধিকারীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের কার্যকালে সংঘটিত বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুটি পৃথক উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি (BJP West Bengal)। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে, নিরপেক্ষতা ও আইনি উৎকর্ষ বজায় রাখতে এই দুটি কমিটির নেতৃত্ব প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের দুজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির ওপর।

    দোষীদের আইনের আওতায় আনতে পদক্ষেপ (CM Suvendu Adhikari)

    নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিগত শাসনামলে রাজ্যের বিভিন্ন স্তরে যে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তার সুনির্দিষ্ট ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত আবশ্যক। সাধারণ মানুষের করের অর্থের অপচয় রোধ করতে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গঠিত কমিটি দুটির মধ্যে একটি কমিটি বিগত বছরগুলোতে শিক্ষা ও অন্যান্য সরকারি দফতরে হওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাই করবে এবং দ্বিতীয় কমিটিটি বিভিন্ন সরকারি (BJP West Bengal) প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক অসঙ্গতির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবে।”

    অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নেতৃত্বে এই তদন্ত

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) দৃঢ়তার সঙ্গে আরও বলেন, “আমাদের সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় বিশ্বাসী নয়, বরং আইনের শাসন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় দায়বদ্ধ। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নেতৃত্বে এই তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হবে। তদন্তের অগ্রগতি এবং কমিটির সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে প্রশাসন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”

    নারী এবং শিশুকন্যাদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার জন্য গঠিত কমিশনের নেতৃত্ব দেবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়। এই কমিশনে তাঁর সঙ্গে সদস্যসচিব রূপে কাজ করবেন আইপিএস অফিসার দময়ন্তী সেন।

    যথাযথ ধারা অনুযায়ী আমরা অ্যাকশনও নেব (CM Suvendu Adhikari)

    রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) বলেন, “আমি আশা করব, এই কমিশন তার ফাংশনিং শুরু করার ৩০ দিনের মধ্যেই সুপারিশগুলি দিতে শুরু করবে। তার ভিত্তিতে পুলিশের পক্ষ থেকে এফআইআর রুজু করা হবে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার যথাযথ ধারা অনুযায়ী আমরা অ্যাকশনও নেব। মিশন পুরো অফিস চালু করে দিলে, ডেডিকেটেড পোর্টালের মাধ্যমে অভিযোগ জানানো যাবে। পুরনো যে অভিযোগ বা এফআইআর যেগুলো পড়ে আছে, সেগুলো কালেক্ট করা হবে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি), এসসি কমিশন, এসটি কমিশন, ওবিসি কমিশন, সংখ্যালঘু কমিশন, শিশু ও নারী অধিকার কমিশন, রাজ্য এবং কেন্দ্রের যত সুপারিশ এখনও পর্যন্ত পড়ে রয়েছে, সেগুলো কমিশন প্রাথমিক ভাবে নিয়ে নেবে।”

    রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম লগ্ন থেকেই নতুন বিজেপি সরকার (BJP West Bengal) যেভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছে, এই কমিটি গঠন তারই একটি বাস্তব প্রতিফলন। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের দিয়ে তদন্ত করানোর এই সিদ্ধান্ত যেমন একদিকে তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে, তেমনই অন্যদিকে রাজ্যে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • NEET UG 2026: প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব এনটিএর চেয়ারম্যানকে

    NEET UG 2026: প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব এনটিএর চেয়ারম্যানকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জিজ্ঞাসাবাদ ও পর্যালোচনা বৈঠকের জন্য তলব করা হল এনটিএর (NTA) চেয়ারম্যান প্রদীপ কুমার জোশী এবং শিক্ষামন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের। ২১ মে ওই বৈঠকে তাঁদের হাজির থাকতে বলেছে সংসদের পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটি অন (NEET UG 2026) এডুকেশন, উইমেন, চিলড্রেন, ইয়ুথ অ্যান্ড স্পোর্টস। জানা গিয়েছে, দ্বিগ্বিজয় সিংয়ের নেতৃত্বাধীন এই সংসদীয় প্যানেল পূর্ববর্তী জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার বিতর্কের পর গঠিত কে রাধাকৃষ্ণণ (K Radhakrishnan) কমিটির সুপারিশ করা সংস্কারগুলির বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করবে। শিক্ষামন্ত্রকের উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব বিনীত জোশীকেও ডেকে পাঠানো হয়েছে। বিতর্ক-সংক্রান্ত অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতের পরীক্ষা সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করতেই তলব করা হয়েছে তাঁকে।

    বৈঠকে গুরুত্ব কোন কোন বিষয়ে (NEET UG 2026)

    ওই বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে এনটিএর জবাবদিহি ব্যবস্থা, পরীক্ষার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার ওপর জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রস্তাবিত সংস্কার। ৩ মে নিট ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা নিয়েছিল এনটিএ (NTA)। নাম নথিভুক্ত করেছিলেন প্রায় ২৩ লাখ শিক্ষার্থী। পরীক্ষার পরপরই অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। বিতর্কের জেরে পরীক্ষা বাতিল করে দেয় এনটিএ। পরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ঘোষণা করেন, ওই পরীক্ষাটি ফের নেওয়া হবে ২১ জুন। তিনি এও জানান, আগামী বছর থেকে নিট পরীক্ষা হবে কম্পিউটার-ভিত্তিক পদ্ধতিতে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা যাতে বাড়ে এবং অসদুপায়ের সম্ভাবনা কমে, তাই এই ব্যবস্থা। সূত্রের খবর, নিট বিতর্ক ছাড়াও কমিটি শিক্ষাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI)  ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা করবে। বৈঠকে অংশ নেবেন আইআইটি মাদ্রাজ-সহ আরও কয়েকটি সংস্থার প্রতিনিধিরা।

    কারা থাকবেন বৈঠকে

    আর একটি বৈঠকে কমিটি আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি এবং ন্যাশনাল কমিশন ফর মাইনোরিটি এডুকেশনাল ইনস্টিটিউটের আধিকারিকদের সঙ্গে সংরক্ষণ নীতি, শিক্ষকের শূন্যপদ এবং ন্যাশনাল এডুকেশন পলিশি-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে। এছাড়াও শিক্ষক প্রশিক্ষণ সংস্কার, ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশনের কার্যকারিতা এবং মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের সঙ্গে সম্পর্কিত সুপারিশগুলিও পর্যালোচনা করা হবে (NEET UG 2026)। নিট ইউজি ২০২৬ বিতর্কের জেরে লাখ লাখ শিক্ষার্থী প্রভাবিত হওয়ায়, সংসদীয় পর্যালোচনায় এনটিএর কার্যক্রম কঠোর নজরদারির মুখে পড়তে চলেছে। আগামী দিনের আলোচনা ও সংস্কার প্রস্তাবগুলি ভারতের পরীক্ষা ব্যবস্থায় আস্থা (NTA), স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে (NEET UG 2026)।

     

  • PM Modi: “কঠিন সময়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল নরওয়ে”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “কঠিন সময়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল নরওয়ে”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “কঠিন সময়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিল নরওয়ে। এটি (Terrorism) দুই দেশের শক্তিশালী সম্পর্কের প্রতিফলন।” সোমবার কথাগুলি বললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের সঙ্গে বৈঠকের পর মোদি জানান, ভারত ও নরওয়ে উভয়েই নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেই কঠিন সময়ে নরওয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিল, যা প্রকৃত বন্ধুত্বের পরিচয়।” প্রধানমন্ত্রী জানান, সামরিক সংঘাতের মাধ্যমে কোনও বিরোধের সমাধান সম্ভব নয়—এই বিশ্বাস দুই দেশেরই।

    বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার প্রয়োজন (PM Modi)

    তিনি বলেন, “আমরা একমত যে সামরিক সংঘাতের মাধ্যমে কোনও সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।” প্রধানমন্ত্রী জানান, ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়া-সহ সংঘাতপীড়িত অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে ভারত ও নরওয়ে। তিনি বলেন, “আমরা ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির দিকে নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপকে সমর্থন করি।” প্রধানমন্ত্রী জানান, উদীয়মান আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার প্রয়োজন। তিনি বলেন, “ভারত ও নরওয়ের অভিমত হল, গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার হওয়া উচিত।”

    সন্ত্রাসবাদের মূলোৎপাটন

    সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সব ধরনের সন্ত্রাসবাদকে শেকড় থেকে নির্মূল করা তাঁদের যৌথ অঙ্গীকার। তিনি বলেন, “সব ধরনের সন্ত্রাসবাদকে শেকড় থেকে নির্মূল করা আমাদের যৌথ প্রতিশ্রুতি।” সুইডেন সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী দু’দিনের সফরে নরওয়েতে পৌঁছন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান স্টোরে এবং নরওয়ের প্রবীণ নেতারা। প্রসঙ্গত, এই (PM Modi) সফরটি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম নরওয়ে সফর এবং চার দশকেরও বেশি সময় পরে এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এই নর্ডিক দেশ সফর।দুই রাষ্ট্রনেতা ১৯ মে অসলোয় অনুষ্ঠিত তৃতীয় নর্ডিক-ইন্ডিয়া সামিটেও যৌথভাবে অংশ নেবেন। এই সম্মেলনে ভারত ও নর্ডিক দেশগুলির নেতারা অংশ নেবেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, সুইডেন এবং নরওয়ের প্রধানরা। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী রাজা হেরাল্ড ফাইভ (Harald V) এবং রানি সনজার (Sonja) সঙ্গেও (Terrorism) সাক্ষাৎ করবেন। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারত-নরওয়ে ব্যবসা ও গবেষণা (PM Modi) সম্মেলনেও ভাষণ দেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

     

LinkedIn
Share