Blog

  • Vande Mataram Row: বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবককে অনুমোদন! কংগ্রেসকে তুলোধনা শাহ-নবীনের

    Vande Mataram Row: বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবককে অনুমোদন! কংগ্রেসকে তুলোধনা শাহ-নবীনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবক গাওয়া নিয়ে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে তুষ্টিকরণের রাজনীতি করে আসছে এবং পুরো জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পরিবর্তে শুধু প্রথম দুই স্তবক (Vande Mataram Row) গাওয়ার সিদ্ধান্ত সেই রাজনীতিরই প্রতিফলন। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তকে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বৃহস্পতিবার শাহ বলেন, কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থবিরোধী। তাঁর দাবি, ১৯৩৭ সালের কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে দলের বর্তমান নেতৃত্ব বন্দে মাতরমের শুধু প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার অবস্থান বজায় রেখেছে।

    শাহি-কথা (Vande Mataram Row)

    সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাহ (Amit Shah) বলেন, “গতকাল (বুধবার) কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী কমিটি একটি বিস্ময়কর এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৯৩৭ সালের দলের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে তারা মহান গান বন্দে মাতরমের মাত্র দু’টি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” শাহের দাবি, ১৯৩৭ সালে রাজনৈতিক কারণে বন্দে মাতরমের পরিবেশন সীমিত করার সিদ্ধান্ত পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলেছিল। তাঁর অভিযোগ, এর ফলে দ্বিজাতিতত্ত্বের ধারণা শক্তিশালী হওয়ার পরিবেশ তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত দেশভাগের পথ প্রশস্ত হয়।

    শাহ বলেন, “আমি গোটা দেশকে মনে করিয়ে দিতে চাই, ১৯৩৭ সালে মুসলিম তুষ্টিকরণের জন্য কংগ্রেস বন্দে মাতরমকে দুই ভাগে ভাগ করে দেশভাগের ভিত্তি তৈরি করেছিল। সেখান থেকেই দ্বিজাতিতত্ত্ব শক্তিশালী হয় এবং শেষ পর্যন্ত দেশভাগ হয়, পাকিস্তানের জন্ম হয়।” কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সমস্ত সরকারি দফতরে জাতীয় সঙ্গীত বন্দে মাতরম পরিবেশনের যে আহ্বান জানানো হয়েছে, কংগ্রেস তার পক্ষে না থাকায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, বন্দে মাতরমের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে এই গানকে সামনে রেখে লড়াই করা দেশপ্রেমিকদের ঐতিহ্যের প্রতিও কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত অসম্মানজনক।

    কংগ্রেসের যুক্তি

    তবে কংগ্রেস তাদের অবস্থান থেকে সরেনি। দলের কার্যনির্বাহী কমিটির ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল জানান, সেই সময় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, দলের কর্মীরা এখনও সেটিই অনুসরণ করবেন (Vande Mataram Row)। বেণুগোপাল বলেন, “আমাদের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার। ১৯৩৭ সালের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেখানে মহাত্মা গান্ধী, পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু এবং সর্দার প্যাটেল-সহ সেই সময়ের দলের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আমরা সেটিই মেনে চলব। আমাদের কংগ্রেস কর্মীরা সেই সিদ্ধান্তই অনুসরণ করবেন। এটাই আমাদের অবস্থান।”

    তাল কাটে কংগ্রেসের স্বাধীনতা দিবস পালনের অনুষ্ঠানে

    গত ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিতর্ক আরও তীব্র হয়। কংগ্রেসের সদর দফতরে বন্দে মাতরম পরিবেশনের সময় দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার কথাবার্তার দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপি নেতারা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জাতীয় গানের প্রতি অসম্মানের অভিযোগ তোলেন। বিজেপির অভিযোগ ছিল, পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম (Vande Mataram Row) পরিবেশন নিয়ে কংগ্রেস আপত্তি জানিয়েছে। যদিও সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে কংগ্রেস। এর পরেই বিষয়টি বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতের রূপ নেয়। জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় প্রতীকের ব্যবহার, স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস এবং জাতীয়তাবাদের ব্যাখ্যা নিয়ে দুই দলের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়।

    কংগ্রেসের আত্মপক্ষ সমর্থন

    কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও দলের সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করেন। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য মেনেই বন্দে মাতরমের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ পরিবেশন করছে। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে গান্ধী, নেহরু ও প্যাটেলের মতো নেতাদের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গানের মতো বিষয়কে বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন খাড়্গে। এদিকে কেন্দ্রীয় সরকার নির্দিষ্ট সরকারি অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরম পরিবেশনের জন্য একটি নির্দিষ্ট বিধি বা রীতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় গানটির মর্যাদা ও পরিবেশন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আইনগত সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়েও সংসদে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে বিতর্কটি এখন শুধু কতগুলি স্তবক গাওয়া হবে, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। জাতীয় প্রতীক, স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস, অতীতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং জাতীয়তাবাদ নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিও এই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে।

    কংগ্রেসকে ‘মুসলিম লিগ’-এর সঙ্গে তুলনা গিরিরাজ সিংয়ের

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংও কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর দাবি, বন্দে মাতরমের বিরোধিতা আসলে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বিরোধিতা। তিনি বলেন, “এটি শুধু বন্দে মাতরমের বিরোধিতা নয়, আমাদের বিপ্লবীদের বিরোধিতাও। এখন কংগ্রেস মুসলিম লিগে পরিণত হয়েছে। এটি গান্ধীজির কংগ্রেস নয় (Amit Shah), এটি সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস।”

    ১৫ অগাস্ট কংগ্রেসের সদর দফতরে পুরো বন্দে মাতরম পরিবেশনের সময় সোনিয়া, রাহুল এবং খাড়্গের প্রতিক্রিয়া নিয়েও কটাক্ষ করেন গিরিরাজ। তিনি বলেন, “১৫ অগস্ট কংগ্রেস দফতরে পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম পরিবেশনের সময় সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়্গের মুখের দিকে তাকান। মনে হচ্ছিল, কেউ যেন তাঁদের জোর করে বিষ পান করাচ্ছে (Vande Mataram Row)।”

    কংগ্রেসকে নিশানা নিতিন নবীনেরও

    বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীনও কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বন্দে মাতরমের মতো পবিত্র মাতৃভূমির বন্দনার প্রতি কংগ্রেসের অবস্থান দেশের জন্য আত্মবলিদান দেওয়া শহিদদের প্রতি অসম্মানের সমান। তিনি বলেন, “ভারতমাতার পবিত্র বন্দনার এই অসম্মান সেই হাজার হাজার শহিদের প্রতি অবজ্ঞা, যাঁরা এই গানকে হৃদয়ে ধারণ করে দেশের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আজ কংগ্রেস নতুন মুসলিম লিগে পরিণত হয়েছে। এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক অবস্থান রক্ষা নয়, বরং সেই ভোটব্যাঙ্কের প্রতি ক্ষুধার প্রমাণ, যার বেদিতে কংগ্রেস বারবার দেশের আত্মসম্মান বন্ধক রেখেছে (Amit Shah)।”

    ফলে বন্দে মাতরমের কতগুলি স্তবক পরিবেশন করা হবে, সেই প্রশ্নটি এখন নিছক সাংস্কৃতিক বা আনুষ্ঠানিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই। জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তরাধিকার, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ব্যাখ্যাকে কেন্দ্র করে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে বিজেপি-কংগ্রেসের সংঘাত (Vande Mataram Row)।

     

  • Bengal ANTF-ATS: মাদক চক্র ও জঙ্গি কার্যকলাপে লাগাম! এএনটিএফ-এটিএস গড়ছে রাজ্য, হাজারের বেশি নতুন পদে অনুমোদন

    Bengal ANTF-ATS: মাদক চক্র ও জঙ্গি কার্যকলাপে লাগাম! এএনটিএফ-এটিএস গড়ছে রাজ্য, হাজারের বেশি নতুন পদে অনুমোদন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাদক পাচার থেকে জঙ্গি কার্যকলাপ—দুই ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় রাজ্যের পুলিশি পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার পথে হাঁটল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বুধবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে অ্যান্টি নারকোটিক্স টাস্ক ফোর্স (ANTF) এবং অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS) গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এই দুই বিশেষায়িত বাহিনীর কাজ পরিচালনার জন্য এক হাজারেরও বেশি নতুন পদ তৈরির অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রশাসনিক সূত্রের মতে, রাজ্যে মাদক পাচারের চক্র এবং জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আরও দ্রুত ও সমন্বিত অভিযান চালানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত। নতুন পরিকাঠামোর ফলে তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং আন্তঃজেলা অভিযান আরও সংগঠিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

    চার জেলায় এএনটিএফ থানা, তৈরি হবে ৫৯১টি পদ

    রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তার তত্ত্বাবধানে অ্যান্টি নারকোটিক্স টাস্ক ফোর্স গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাহিনীর কার্যক্রমকে জেলা স্তরে আরও কার্যকর করতে দুর্গাপুর, মালদা, খড়্গপুর ও নদিয়ায় চারটি পৃথক এএনটিএফ থানা তৈরি করা হবে। এই চারটি থানাকে কেন্দ্র করে পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে মোট ৫৯১টি নতুন পদ তৈরির অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। ফলে নিষিদ্ধ মাদকের প্রবেশ, আন্তঃরাজ্য পাচার এবং মাদকচক্রের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে তা ভাঙার ক্ষেত্রে বিশেষায়িত পুলিশি অভিযান আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।

    জঙ্গি দমনে এটিএস, ৪৬১টি স্থায়ী পদ

    মাদকবিরোধী ব্যবস্থার পাশাপাশি জঙ্গি কার্যকলাপ মোকাবিলায় অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড বা এটিএস গঠনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে রাজ্য সরকার। এমন সময়ে এই বিশেষ বাহিনীর জন্য পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ৪৬১টি স্থায়ী পদ তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, রাজ্যে যখন পাক আইএসআই গুপ্তচর থেকে জঙ্গি মডিউলের খোঁজ মিলতে শুরু করেছে। এর পাশাপাশি এটিএস-এর তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত কাজের জন্য আরও ৫ জন কর্মী নিয়োগ করা হবে। অর্থাৎ মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী দুই বিশেষায়িত কাঠামোকে শক্তিশালী করতে মোট এক হাজারেরও বেশি নতুন পদ তৈরির পথে এগোল রাজ্য।

    মহিলা কমিশনেও বাড়ছে কর্মী

    শুধু মাদক ও সন্ত্রাস মোকাবিলা নয়, প্রশাসনিক এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে বুধবার একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। নারী নির্যাতন ও হয়রানি সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কমিশনে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৬৮টি নতুন পদ তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের আইন বিভাগের অধীনে ওয়েস্ট বেঙ্গল লিগ্যাল সার্ভিস ক্যাডারে ৬ জন ল’ অফিসার নিয়োগ করা হবে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাঁদের মোতায়েন করা হবে। আসানসোল ও দুর্গাপুর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের জন্যও একটি করে, অর্থাৎ মোট ২টি ল’ অফিসার পদ তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    পুলিশ ফাঁড়ি থেকে বিসিএস—একাধিক ক্ষেত্রে নতুন পদ

    প্রশাসনিক পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে একাধিক ক্ষেত্রেও পদ তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। বারুইপুরের সূর্যপুরে নতুন গ্রামীণ পুলিশ ফাঁড়ির জন্য ১৯টি পদ তৈরি করা হবে। কলকাতা হাইকোর্টের কার পুলের জন্য তৈরি হচ্ছে ১০টি চালক পদ। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (WBPSC)-এর সদস্য সংখ্যা ৬ থেকে বাড়িয়ে ১০ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ

    এদিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, বন্যা কবলিত এলাকায় মন্ত্রী ও বিধায়কদের রাতেই পৌঁছে গিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘাটাল সার্কিট বাঁধ বরাবর নারায়ণী ও দুধের বাঁধ খালের মোহনায় দুটি পাম্প হাউস তৈরির জন্য ২৪.৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনে জরুরি নদীবাঁধ এবং স্লুইস সংস্কারের জন্য ৩.১০ কোটি টাকার জমি কেনার সিদ্ধান্তও হয়েছে।

    ২,২৫০ কোটি টাকার কৃষি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প

    এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্কের (ADB) সহায়তায় রাজ্যে ২,২৫০ কোটি টাকার ‘পশ্চিমবঙ্গ সমন্বিত চাষ, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং কার্বন ক্রেডিট প্রকল্প’ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কৃষি, পরিবেশ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে একসঙ্গে যুক্ত করে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

    শিল্প পার্কে জমি, ৬৮ হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের দাবি

    শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রেও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। ডব্লিউবিআইডিসিএলের অধীনে থাকা ৮টি শিল্প পার্কের ২৪টি ইউনিটে ৪৬৩.১৪ একর এবং ৬,৩৯৭.২৩ বর্গফুট জমি বিভিন্ন সংস্থাকে দীর্ঘমেয়াদি লিজে দেওয়ার অনুমোদন হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৬২,৭১২টি কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ডব্লিউবিআইআইডিসি-র অধীনে থাকা ৪টি শিল্প পার্কের ৯টি ইউনিটে ৭৮.১৭ একর জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে আরও ৫,৮৭২টি কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই ক্ষেত্র মিলিয়ে শিল্পখাতে ৬৮ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা।

    চা-বাগানে পর্যটন ব্যবসার পরিসর বাড়ল

    চা শিল্পের সঙ্গে পর্যটনকে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও নীতিগত পরিবর্তন এনেছে রাজ্য। ‘চা পর্যটন ও আনুষঙ্গিক ব্যবসা নীতি, ২০১৯’ সংশোধন করে চা-বাগানের মোট জমির সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ, তবে সর্বাধিক ১৫০ একর জমি পর্যটন ও সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একদিকে মাদক ও জঙ্গি দমনে বিশেষায়িত বাহিনী গঠন, অন্যদিকে প্রশাসন, বন্যা মোকাবিলা, শিল্পায়ন ও পর্যটনে একাধিক সিদ্ধান্ত—বুধবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যের পুলিশি ও প্রশাসনিক পরিকাঠামো ঢেলে সাজানোর একাধিক পদক্ষেপের অনুমোদন মিলল।

  • Pak High Commission Delhi: ইসলামাবাদকে পাল্টা! দিল্লিতে পাক হাইকমিশনের বাইরে বুলডোজার, ভাঙা হল অনুমোদিত সীমানার বাইরের কাঠামো

    Pak High Commission Delhi: ইসলামাবাদকে পাল্টা! দিল্লিতে পাক হাইকমিশনের বাইরে বুলডোজার, ভাঙা হল অনুমোদিত সীমানার বাইরের কাঠামো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাল্টা পদক্ষেপের পথে হাঁটল নয়াদিল্লি। ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের (Indian High Commission) বাইরে ব্যারিকেড সরানোর তিন দিনের মধ্যেই দিল্লিতে পাকিস্তানি (Pak High Commission Delhi) ভিসা বিভাগের বাইরের কাঠামোও ভাঙা হল। দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের (India Pakistan) অনুমোদিত সীমানার বাইরে তৈরি একাধিক কাঠামো ও ব্যারিকেড বৃহস্পতিবার ভেঙে সরিয়ে দিল প্রশাসন। সরকারি আধিকারিকদের দাবি, ওই কাঠামোগুলি হাইকমিশনের অনুমোদিত সীমানার বাইরে ছিল। জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থাগুলি জেসিবি মেশিন ব্যবহার করে হাইকমিশনের বাইরের রাস্তার ধারে তৈরি কাঠামো ও ব্যারিকেড সরিয়ে দেয়। ভিসা বিভাগের সামনে দর্শনার্থীদের জন্য তৈরি কিউ-ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থাও এই অভিযানের আওতায় পড়ে।

    কূটনৈতিক প্রত্যাঘাত!

    দিল্লির কূটনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে পাকিস্তান হাইকমিশনের (Pakistan High Commission) বাইরে প্রশাসনের পদক্ষেপ ঘিরে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ দিল্লির চাণক্যপুরীতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে থাকা বেশ কিছু কাঠামো এবং ব্যারিকেড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, ওই নির্মাণ এবং ব্যারিকেডগুলির একটি অংশ পাকিস্তান হাইকমিশনের অনুমোদিত সীমানার বাইরে তৈরি করা হয়েছিল। সেই কারণেই সেগুলি সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এই পদক্ষেপের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপড়েনের আবহও জড়িয়ে রয়েছে। কারণ, মাত্র তিন দিন আগেই ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে থাকা নিরাপত্তা ব্যারিকেড এবং পার্কিং পোল সরিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তান। তার পরেই দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে একই ধরনের পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    কোন কোন জায়গা ভাঙা হল

    বৃহস্পতিবার প্রশাসনের তরফে বুলডোজার ব্যবহার করে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরের লেন বরাবর তৈরি করা বেশ কিছু কাঠামো ও ব্যারিকেড সরিয়ে দেওয়া হয়। ওই কাঠামোর মধ্যে পাকিস্তানি হাইকমিশনের ভিসা বিভাগের কাছে থাকা কিউ ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাও ছিল। ফলে হাইকমিশনের ভিসা সংক্রান্ত পরিষেবা নেওয়ার জন্য যে অংশে সাধারণ মানুষ অপেক্ষা করতেন, সেই জায়গাতেও ভাঙার কাজ চালানো হয়েছে। ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গিয়েছে, পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরের পাকা জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে ভাঙা ধাতব রেলিং, গেট, ধাতব কাঠামোর বিভিন্ন অংশ, ছাদের শিট, ইট এবং কংক্রিট ও প্লাস্টারের টুকরো। বাইরের কাঠামোর বেশ কিছু অংশ সম্পূর্ণ ভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাঙা হয়েছে করুগেটেড বা ঢেউখেলানো ছাদ এবং সাদা ধাতব বেড়ার একাংশও। এর ফলে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে থাকা নিরাপত্তা পরিধির একটি বড় অংশও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাস্তার পাশে থাকা ট্র্যাফিক বোলার্ড, ধাতব ব্যারিকেড এবং অন্যান্য অস্থায়ী কাঠামোও তুলে ফেলা হয়। এতদিন এগুলিই কার্যত হাইকমিশন চত্বরকে বাইরের রাস্তা থেকে আলাদা করে রেখেছিল।

    মূল গেটে কিছুই করা হয়নি

    ভিসা বিভাগের বাইরের অংশেও ভাঙচুরের চিহ্ন স্পষ্ট দেখা যায়। পরিষেবা দেওয়ার জানালাগুলির আশপাশের ফ্যাসাডের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও প্লাস্টার খসে পড়েছে, কোথাও আবার ইট ও গাঁথনির অংশ ভেঙে রয়েছে। ভিসা বিভাগের কাউন্টারগুলি অবশ্য এখনও দেখা যাচ্ছে। সেই কাউন্টারগুলির চারপাশেও ভাঙা বেড়া এবং নির্মাণসামগ্রী ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে পাকিস্তান হাইকমিশনের মূল প্রবেশপথে কোনও বড় ধরনের পরিবর্তন করা হয়নি। সাদা দেওয়াল, গম্বুজের মতো নকশা এবং পাকিস্তানের প্রতীক-চিহ্ন লাগানো বড় ধাতব গেট-সহ প্রধান প্রবেশপথটি অক্ষত রয়েছে। হাইকমিশনের চৌহদ্দির কিছু অংশে কাঁটাতারের বেড়াও দেখা গিয়েছে।

    ‘টিট-ফর-ট্যাট’ নীতি

    এই পদক্ষেপের সময়কালও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। মাত্র তিন দিন আগে ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশনের বাইরে থাকা নিরাপত্তা ব্যারিকেড সরিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বলে খবর। তার পরেই দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরের কাঠামো সরানোর ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে ‘টিট-ফর-ট্যাট’ কূটনৈতিক পদক্ষেপের জল্পনা তৈরি হয়েছে। এর আগে সীমান্তের ওপার থেকে সমানে ভারত-বিরোধী কাজ চালিয়ে যাওয়া এবং সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার জন্য ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জল চুক্তি বাতিল করে। যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও বারবার কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে দুই দেশ।

    কাশ্মীর নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যে আপত্তি

    এরই মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূ সার্জিও গোরের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান বুধবার আমেরিকার কাছে আপত্তি জানিয়েছে। শ্রীনগর সফরের সময় গোর জম্মু ও কাশ্মীরকে ‘ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ’ বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিরও প্রশংসা করেন তিনি। গোরের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান ইসলামাবাদে মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ন্যাটালি বেকারকে তলব করে প্রতিবাদ জানায়। পাকিস্তান গোরের এই মন্তব্যকে “তথ্যগতভাবে ভুল” এবং কাশ্মীর বিরোধ নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থানের পরিপন্থী বলে অভিহিত করে। ইসলামাবাদের দাবি, ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্য করা হয়েছে। পাকিস্তানের তরফে বলা হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর সংক্রান্ত বিষয়টি রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ও ওই অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের চাহিদা অনুযায়ী নিষ্পত্তি হওয়ার অপেক্ষায়। আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কে আমেরিকার ঘোষিত অবস্থানের সঙ্গে গোরের মন্তব্যের মিল নেই। যদিও দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের বাইরে কাঠামো ভাঙার সঙ্গে পাকিস্তানের ওই প্রতিক্রিয়ার সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, দিল্লির পদক্ষেপের মূল কারণ ছিল অনুমোদিত সীমানার বাইরে নির্মিত কাঠামো এবং ব্যারিকেড তৈরি।

  • Biometric Verification: জাল সিম ও বার্নার ফোনে সাইবার জালিয়াতি রুখতে সিম যাচাই ব্যবস্থায় বড় বদলের প্রস্তুতি কেন্দ্রের

    Biometric Verification: জাল সিম ও বার্নার ফোনে সাইবার জালিয়াতি রুখতে সিম যাচাই ব্যবস্থায় বড় বদলের প্রস্তুতি কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাল সিম কার্ড ও বারবার বদলে ফেলা মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে সাইবার জালিয়াতি রুখতে দেশের সিম কার্ড (Fake Sim Cards) যাচাই ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রের টেলিযোগাযোগ দফতর (ডিওটি)।  নয়া ব্যবস্থায় প্রস্তাবিত কাঠামোর অধীনে গ্রাহকদের ফিজিক্যাল সিম ও ই-সিম (eSIM) উভয়ই সংগ্রহের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক (Biometric Verification) বা আঙুলের ছাপ যাচাইকরণ বাধ্যতামূলক করা হবে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রক একটি নতুন যাচাই ব্যবস্থা তৈরি করছে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় সিম কার্ড চালু করার আগেই গ্রাহকের পরিচয় ও নথিপত্র তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা হবে। সিমের পাশাপাশি ই-সিম নেওয়ার ক্ষেত্রেও একই ধরনের কঠোর যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে। বর্তমানে সিম চালু হওয়ার পর একাধিক ধাপে পরিচয় যাচাই করা হতে পারে। নতুন ব্যবস্থায় সেই প্রক্রিয়ার পরিবর্তে সিম দেওয়ার আগেই গ্রাহকের পরিচয় ও তথ্য যাচাই সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের ধারণা, এর ফলে জাল বা চুরি করা পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বেআইনিভাবে নেওয়া সিমের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

    নতুন ব্যবস্থায় জৈবিক পরিচয় যাচাই (Biometric Verification)

    নতুন সিম সংযোগ নেওয়ার সময় গ্রাহককে জৈবিক পরিচয় যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে। গ্রাহক সিম নিন কিংবা ই-সিম নিন, উভয় ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।

    ই-সিমকেও এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা থেকে স্পষ্ট, ফিজিক্যাল ও ডিজিটাল—দুই ধরনের সিম সংযোগের ক্ষেত্রেই একই যাচাই নীতি কার্যকর করতে চাইছে সরকার। এর ফলে ফিজিক্যাল সিম এবং ই-সিম চালুর প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা ফাঁকফোকর ব্যবহার করে প্রতারকদের জালিয়াতি করার সুযোগ কমবে (Biometric Verification)।

    জাল সিম ও বার্নার ফোনে নজর

    অনলাইন আর্থিক প্রতারণা, ভুয়ো পরিচয়ে যোগাযোগ, প্রতারণামূলক বার্তা পাঠানো, তোলাবাজি এবং বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধে জাল সিম ও বার্নার ফোনকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে অপরাধীরা। অপরাধ করার পর নম্বর বা সিম ফেলে দিয়ে নতুন সংযোগ নেওয়াও তাদের পরিচিত কৌশল (Biometric Verification)।

    সরকারের প্রস্তাবিত কঠোর যাচাই ব্যবস্থার লক্ষ্য হল, অপরাধীদের পক্ষে সহজে এমন পরিচয়হীন মোবাইল সংযোগ পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করা, যা অপরাধ করার পর দ্রুত ফেলে দেওয়া যায়।

    টেলিযোগাযোগ নিরাপত্তা আরও জোরদার করার বৃহত্তর পরিকল্পনারই অংশ এই উদ্যোগ। মোবাইল সংযোগের অপব্যবহার করে সাইবার অপরাধ ঠেকানো এবং দেশের টেলিযোগাযোগ পরিকাঠামোকে আরও সুরক্ষিত করাই এর মূল লক্ষ্য।

    নতুন যাচাই ব্যবস্থার কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার পর টেলিযোগাযোগ দফতর এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে পারে (Fake Sim Cards)।

     

  • Hockey World Cup: পাকিস্তানকে হারিয়ে হকি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারত, শাহী অভিনন্দন হরমনপ্রীতদের

    Hockey World Cup: পাকিস্তানকে হারিয়ে হকি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারত, শাহী অভিনন্দন হরমনপ্রীতদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রুপের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ হকির (Hockey World Cup 2026) কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল ভারত (Indian Hockey Team)। ভারতের এই জয়ের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) ভারতীয় দলকে অভিনন্দন জানান। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের জন্য টিম ইন্ডিয়াকে অভিনন্দন। দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের মাধ্যমে ভারতীয় দল দেশের দীর্ঘদিনের আধিপত্য বজায় রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই নিয়ে পাকিস্তানকে ৭০ বার হারাল ভারত। বিশ্বকাপ থেকেও ছিটকে গেল পাকিস্তান।

    হকির টার্ফে ভারতীয়দের দাপট

    ২০১৬ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শেষ বার পাকিস্তানের (India vs Pakistan) কাছে হেরেছিল ভারতীয় হকি দল। তার পর থেকে হকির টার্ফে ভারতীয়দের দাপট। বিশ্বকাপেও অব্যাহত রইল হরমনপ্রীত সিংদের দাপট। ইংল্যান্ডের কাছে ওয়েলস আগেই হেরে যাওয়ায় ভারতীয় দলের জন্য ড্রই যথেষ্ট ছিল। ভারতীয় দল অবশ্য জয়ের লক্ষ্য নিয়েই খেলতে নেমেছিল। কারণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই আলাদা উত্তেজনা। ভারতীয় শিবিরও হালকা ভাবে নেয়নি এই ম্যাচ। শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণে পাকিস্তানের রক্ষণকে ব্যস্ত করে রাখে ক্রেগ ফুলটনের দল। ফলও পায় দ্রুত। ৫ মিনিটেই পেনাল্টি কর্ণার থেকে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত। পিছিয়ে পড়ার পর পাকিস্তান পাল্টা আক্রমণে ভারতের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করে। গোটা দুয়েক ভাল আক্রমণও করে। কিন্তু লাভ হয়নি। ১১ মিনিটে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত। অভিষেকের ক্রশ মনদীপ সিং-এর স্টিকে দিক বদলে গোলে চলে যায়।

    কোন গ্রুপে খেলবে ভারত?

    বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী, প্রথম পর্ব থেকে মোট আটটি দল দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে। সেই আট দলকে চারটি করে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। এরপর প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে। ফলে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে। পুল-ডি-তে দ্বিতীয় হয়ে শেষ করা ভারত দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবে পুল-ই-তে। এই গ্রুপে ভারতের সঙ্গে থাকবে পুল-এ-র শীর্ষ দুই দল। অর্থাৎ, ভারতের পরবর্তী ম্যাচগুলিতে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দলগুলির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয় পেলেও ভারতের সামনে পরীক্ষা আরও কঠিন হতে চলেছে।

    ভারতের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস

    পুল-এ-তে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, আর্জেন্টিনা, নিউজিল্যান্ড এবং জাপান। এই গ্রুপ থেকে ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত করেছে নেদারল্যান্ডস। ফলে ভারতীয় দল যে দ্বিতীয় রাউন্ডে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ডাচদের মুখোমুখি হবে, তা নিশ্চিত। টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ভারতকে এবার নিজেদের সেরা হকি খেলতে হবে। ভারতের দ্বিতীয় রাউন্ডের একটি প্রতিপক্ষ নিশ্চিত—নেদারল্যান্ডস। অন্য দলটি হবে আর্জেন্টিনা অথবা নিউজিল্যান্ড। এরপর পুল-ই-তে ভারতকে শীর্ষ দুইয়ের মধ্যে শেষ করতে হবে সেমিফাইনালে ওঠার জন্য।

  • Sergio Gor on Kashmir: ‘জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ’, প্রথমবার শ্রীনগর সফরে বার্তা মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের

    Sergio Gor on Kashmir: ‘জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ’, প্রথমবার শ্রীনগর সফরে বার্তা মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ—কাশ্মীরের মাটিতে দাঁড়িয়ে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই কথা জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর (Sergio Gor on Kashmir)। জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে এই প্রথম অবস্থান স্পষ্ট করল আমেরিকা। মুখ পুড়ল পাকিস্তানের, ভারত সরকারের পাশেই দাঁড়াল ট্রাম্প সরকার। জম্মু-কাশ্মীর সফরে এসে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা দিলেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। বুধবার শ্রীনগরে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে সাক্ষাতের পর গোর বলেন, “জম্মু-কাশ্মীর ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।” ৩৭০ ধারা বাতিল এবং পহেলগাঁও হামলার পর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এটিই আমেরিকার কোনো শীর্ষ প্রতিনিধির প্রথম একক সফর। তাঁর এই মন্তব্যের ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের অবস্থান আরও জোরাল হলো বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত-এর সঙ্গে বৈঠক

    বুধবার নিজের প্রথম ভূস্বর্গ সফরে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এরপর সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ গোর জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আলোচনায় জম্মু-কাশ্মীরের অগ্রাধিকার এবং ভারত ও আমেরিকার মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়েছে। পর্যটন, উদ্যানপালন এবং নতুন অর্থনীতির ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান ওমর আবদুল্লা। সাক্ষাতের পর ওমর আবদুল্লা ‘এক্স’-এ লেখেন, গোরের সঙ্গে তাঁর “খুব ভালো আলোচনা” হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ

    প্রায় ১৫ বছর পর কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরের কোনও মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি বৈঠক হল। ২০১১ সালে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত টিমোথি রোমার মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেনেথ জাস্টার কাশ্মীরে শেষবার পৃথক সফরে এসেছিলেন। ২০১৯ সালে কেন্দ্রের তরফে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর এবং পাহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর এই প্রথম কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কাশ্মীরে সফর করলেন। ওমর আবদুল্লার পাশে দাঁড়িয়ে গোর বলেন, “আমি ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং এটি ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই প্রথমবার এখানে এসে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এটি অবিশ্বাস্য রকম সুন্দর জায়গা।”

    কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

    গোরের সঙ্গে বৈঠকের আগে ওমর আবদুল্লা বলেন, তিনি কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধানের জন্য তিনি আমেরিকার কাছে কোনও অভিযোগ জানাবেন না বলেও স্পষ্ট করেন। ওমর বলেন, “আমাদের সমস্যার সমাধান ওয়াশিংটন থেকে আসবে না, এর সমাধান করতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকেই।” বিদেশি রাষ্ট্রদূতের কাছে নিজের দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা তাঁর অভ্যাস নয় বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, জম্মু-কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা অবশ্যই হবে, তবে তিনি কোনও অভিযোগ জানাবেন না বা আমেরিকার কাছ থেকে কোনও সমস্যার সমাধান চাইবেন না। গোরের সফরে জম্মু-কাশ্মীরের পাশাপাশি লাদাখ সফরও রয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি লাদাখে যাবেন। জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহার সঙ্গেও কথা বলেন গোর।

    বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে কাশ্মীর নিরাপদ

    গত কয়েক দশক ধরে সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কার কারণে আমেরিকা কাশ্মীর উপত্যকায় মার্কিন নাগরিকদের জন্য ‘লেভেল ৪’ বা ‘ভ্রমণ না করার’ নির্দেশিকা বলবৎ রেখেছে। তবে গোরের সফরের আগে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি আবেদন জানিয়েছিলেন, আমেরিকা যেন এই কঠোর ভ্রমণ সতর্কতা পুনর্বিবেচনা করে তুলে নেয়, কারণ উপত্যকার হাজার হাজার পরিবার পুরোপুরি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। এই প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আশ্বাস দিয়ে বলেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে এলাকাটিকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে অসাধারণ সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাই হোয়াইট হাউসের সুপারিশক্রমে জারি হওয়া ভ্রমণ সতর্কতা শিথিল করা উচিত কি না, সেই বিষয়টি আমেরিকা এবার পুনর্বিবেচনা করে দেখবে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা অর্থনৈতিক সহযোগিতা গভীর করার এবং এমন সব সুযোগ সৃষ্টির উপায় নিয়ে আলোচনা করেছি, যা আমাদের উভয় দেশের জন্যই পারস্পরিকভাবে লাভজনক হবে।’’ পূর্ব লাদাখ এবং লেহ্ অবশ্য এই নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন নয়।

    কাশ্মীরে ঘুরতে যেতে পারবেন মার্কিন নাগরিকরা!

    ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর (US Ambassador in Kashmir) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ভূস্বর্গ কাশ্মীরে দাঁড়িয়ে ভারত সরকার প্রসঙ্গে তাঁর এই মত যথেষ্ট গুরুপূর্ণ। কাশ্মীরকে ভারতের অঙ্গ বলে তাঁর ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে তাৎপর্যবহ। বুধবার গোর জানিয়েছেন, কাশ্মীর নিয়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা খানিক শিথিল করতে পারে আমেরিকা। তার কারণ ব্যাখ্যা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ গোর জানান, ওই এলাকায় শান্তি এবং নিরাপত্তা রক্ষায় উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ করা হয়েছে। সেই দিকটি মাথায় রেখেই কাশ্মীর ভ্রমণ নিয়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র যদি এই সতর্কতা শিথিল করে, তবে তা বিদেশি পর্যটকদের কাছে কাশ্মীরকে একটি নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সফর

    ভারত ও আমেরিকার মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার সময়েই গোরের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও গোরের আলোচনা হয়েছে। মার্কিন দূতের এই উচ্চপর্যায়ের সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন কেন্দ্র জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে এটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার সাত বছর পূর্ণ হয়েছে। ভারত বরাবরই বলে এসেছে, জম্মু ও কাশ্মীর দেশের অবিচ্ছেদ্য ও অখণ্ড অংশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান বারবার এই অঞ্চলে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করে এসেছে। বৃহস্পতিবার গোর লাদাখে যাবেন, যা হবে ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষ এবং চীনের সঙ্গে সীমান্ত অচলাবস্থার পর এই অঞ্চলে কোনো মার্কিন দূতের প্রথম সফর।

     

     

     

  • Jadavpur University: যাদবপুরে জেনারেল বডির বৈঠক ঘিরে এবিভিপি-বামপন্থী পড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ

    Jadavpur University: যাদবপুরে জেনারেল বডির বৈঠক ঘিরে এবিভিপি-বামপন্থী পড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জেনারেল বডির বৈঠককে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University)। বুধবার রাতের ওই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা। বৈঠক চলাকালীন এবিভিপি এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ফেটসু-ঘনিষ্ঠ পড়ুয়াদের মধ্যে প্রথমে বচসা এবং পরে হাতাহাতি হয়। তার পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হাতাহাতি রূপ নেয় সংঘর্ষের। ঘটনায় দু’পক্ষেরই একাধিক পড়ুয়া জখম হয়েছেন বলে (Left Student) দাবি। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসাও করাতে হয়েছে বলে খবর। যদিও ঠিক কী কারণে আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠল, তা নিয়ে দু’পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা।

    এবিভিপির অভিযোগ (Jadavpur University)

    আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপির অভিযোগ, জেনারেল বডির বৈঠক চলাকালীন তাঁদের কয়েকজন সদস্যকে ঘিরে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে সেই ঘটনা হাতাহাতির আকার নেয়। সংগঠনের দাবি, তাঁদের কয়েকজন পড়ুয়াকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। সংগঠনের আরও অভিযোগ, সাধারণ সভার নামে ডেকে পরিকল্পিতভাবে এসএফআই এবং ডিএসও-ডিএসএফ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। আক্রমণ করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি সভাপতি নিখিল রায়ের উপরেও। বর্তমানে তিনি গুরুতর অবস্থায় কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। এদিকে, ফেটসুর অভিযোগ, এবিভিপি-ঘনিষ্ঠ কয়েকজন পড়ুয়া বৈঠকে এসে উসকানিমূলক মন্তব্য করেন। তাঁদের আচরণের জেরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তার পরেই তা আকার নেয় সংঘর্ষের।

    জখম এবিভিপির ছাত্র নেতা

    বামপন্থী পড়ুয়াদের মারে জখম হয়েছেন এবিভিপির অর্ণব দাস। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রের দাবি, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা ওই জেনারেল বডির বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠন সংক্রান্ত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল। তাঁর কথায়, “আজকে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা জেনারেল বডি বৈঠকে তাঁরা ঠিক করেন কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত মানবেন না। আমরা বলেছি, নির্বাচন ছাড়া এমন কোনও সিদ্ধান্ত হবে না। সর্বোপরি, আমাদের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে কোনও রাজনীতি চলবে না। আমি বলেছিলাম, ইউনিয়ন রুমে (Jadavpur University) এরকম স্লোগান লেখা থাকবে না, কারণ ইউনিয়ন হয়নি। তার পরেই ওরা আচমকা এসে আমাকে ধাক্কাধাক্কি করতে থাকে। আমার চশমা ছিটকে পড়ে। আমাকে সিনিয়ররা বাঁচাতে এলে তাঁরাও জখম হন।”

    বিরোধীদের অভিযোগ

    অর্ণবের আরও দাবি, ঘটনার প্রথম দিকে ৭০ থেকে ৮০ জনের জমায়েত হয়েছিল। পরে যখন মারধর শুরু হয়, তখন সেখানে প্রায় ২০ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে এবিভিপি। ঘটনাস্থলে বহিরাগতদের উপস্থিতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকার বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আরএসএসের এই ছাত্র সংগঠন। অন্যদিকে, ফেটসুর সদস্য বৈদিক সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের একটা সাংগঠনিক বৈঠক চলছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের একটি সংগঠনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরকারী ঠিক করার জন্যই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেখানে একটি নির্দিষ্ট ছাত্রগোষ্ঠী বারবার উসকানিমূলক মন্তব্য করতে থাকে। তারপরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং মারধর শুরু হয়।” বৈদিকের পাল্টা অভিযোগ, তাঁদের কয়েকজন পড়ুয়াকেও মারধর করা হয়েছে। বাঁশ এবং গাছের মোটা ডাল নিয়ে তাঁদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও দাবি তাঁর। তিনি জানান, কয়েকজনকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে টেনে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে। এমন অভিযোগ করেছে তাঁর সংগঠন ফেটসু-ও (Left Student)।

    জেনারেল বডির বৈঠক কীভাবে?

    এই ঘটনার পাশাপাশি জেনারেল বডি বৈঠকের বৈধতা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবিভিপির বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনও ছাত্র ইউনিয়ন থাকার কথা নয়। তাহলে কীভাবে জেনারেল বডির বৈঠক ডাকা হল, সেই প্রশ্ন তুলেছে তারা। সংগঠনের প্রশ্ন, নির্বাচন না হলে ছাত্র ইউনিয়নের নামে কোনও বৈঠক বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈধতা থাকে কি (Jadavpur University)? ফেটসুর পাল্টা বক্তব্য, নির্বাচন না হলেও ছাত্রদের সাংগঠনিক কাজকর্ম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না। সাংগঠনিক এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনেই ওই বৈঠক ডাকা হয়েছিল বলে দাবি করেছে তারা। তাদের বক্তব্য, ছাত্রদের সংগঠন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করতেই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। ঘটনার পর বুধবার রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে সরব হন বিজেপি বিধায়ক শর্বরী চক্রবর্তী। জেনারেল বডির বৈঠকের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান এবং নকশাল-মাওবাদী রাজনীতির অভিযোগও তোলেন তিনি।

    বিধায়কের বক্তব্য

    শর্বরী বলেন, “কোনও ইউনিয়ন নেই। তারপরেও কী করে জিবির বৈঠক ডাকা হয়েছে? কে ডেকেছে বৈঠক? আমি সৃজন ভট্টাচার্যকে জিজ্ঞেস করছি, কে ডেকেছে জিবির বৈঠক (Left Student)?” যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “যাদবপুরকে নকশাল এবং দেশবিরোধী শক্তি, মাওবাদী দিয়ে আপনারা ভর্তি করে রাখবেন? কী ভেবেছেন, কী? এমনটা চলবে না। যাদবপুরে তো নয়ই।” ঘটনায় অভিযুক্ত কয়েকজনের নাম প্রকাশ্যে উল্লেখ করে তাঁদের পুলিশের কাছে হাজির করার দাবিও জানান শর্বরী। তাঁর বক্তব্য, “এক ঘণ্টার মধ্যে যদি যাদবপুর থানায় সারেন্ডার না করান… আমি কিন্তু যেখানে লুকিয়ে আছে, সেখান থেকে টেনে বের করব (Jadavpur University)।”

    থানায় বিক্ষোভ এবিভিপির

    এরপর ওই এলাকার বিজেপি কর্মী এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি সদস্যরা মিলে রাতে স্থানীয় থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান। এবিভিপির দাবি, তাঁদের বিক্ষোভ ছিল শান্তিপূর্ণ। একইসঙ্গে তাদের দাবি, ক্যাম্পাসের ভিতরে হামলা বা আগুন লাগানোর যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।এবিভিপির কেন্দ্রীয় কর্মসমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারী বলেন, ‘‘দলিত প্রেমের কথা বলা বাম, অতিবাম ও দিমাগি নকশালরা দলিত শিক্ষার্থীদের উপরে হামলা চালিয়ে তাঁদের বলে দলিতদের বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার অধিকার নেই।’’ তাঁর দাবি, এবিভিপির ছাত্রনেতা নিখিল দাসের উপরে হামলা চালিয়ে তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা হয়েছে। শুভব্রত জানান, বেশ কয়েকজনের নামে এফআইআর করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘যাদবপুরে গণতান্ত্রিকভাবে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে।’’ যদিও শর্বরীর অভিযোগ এবং এবিভিপির বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয় বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। ঘটনার সঙ্গে সংগঠনের কোনও যোগ নেই বলেও স্পষ্ট করেছে এসএফআই। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএফআইয়ের শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আজকের জিবি মিটিংয়ে এসএফআইয়ের কোনও ছাত্র উপস্থিত ছিলেন না। এই জিবি মিটিংটি ফেটসুর পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে এএফএসইউ এবং ডিএসএফের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।”

    ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ

    জেনারেল বডি বৈঠককে কেন্দ্র করে ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গেও এবিভিপিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শুভদীপ। তিনি বলেন, “কেউ যদি দেশবিরোধী স্লোগান দিয়ে থাকে, তাহলে এবিভিপিকে বলব অভিযোগ না করে পুরো বিষয়টি উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাতে। তাঁরা নিজেরা কেন ব্যবস্থা নেবেন? পুরো বিষয়টি দেখার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের (Jadavpur University)।” অন্যদিকে, ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে এবিভিপি। সংগঠনের দাবি, বুধবার রাতের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বহিরাগতদের প্রবেশ, ছাত্র সংগঠনের কার্যকলাপ এবং জেনারেল বডি বৈঠকের বৈধতা নিয়েও কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে হবে।

    রাজনৈতিক চাপানউতোর

    সব মিলিয়ে, জেনারেল বডির বৈঠক ঘিরে বুধবার রাতের সংঘর্ষ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। একদিকে বৈঠকের বৈধতা এবং ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে হামলা এবং পাল্টা হামলা এবং উসকানির অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন, তা স্পষ্ট করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই (Left Student) পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় বৃহস্পতিবারের প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে ঘিরেও বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে (Jadavpur University)।

     

  • Income Tax Department: বিদেশে বিপুল অর্থ পাঠিয়েও নামমাত্র লেনদেন, ৩৯৪ সংস্থার বিরুদ্ধে আয়কর দফতরের যাচাই অভিযান

    Income Tax Department: বিদেশে বিপুল অর্থ পাঠিয়েও নামমাত্র লেনদেন, ৩৯৪ সংস্থার বিরুদ্ধে আয়কর দফতরের যাচাই অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নামমাত্র বা কোনও ব্যবসায়িক লেনদেন না দেখিয়েও, গত তিন বছরে বিদেশে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর অভিযোগে একাধিক সংস্থার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিস্তারিত যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করল আয়কর দফতর (Income Tax Department)। প্রাথমিক অনুসন্ধানে এমন বেশ কিছু সংস্থার হদিশ মিলেছে, যাদের ঘোষিত ব্যবসার পরিমাণের সঙ্গে বিদেশে পাঠানো অর্থের চোখে পড়ার মতো কোনও সামঞ্জস্য নেই। ফিল্ড লেভেলের গোয়েন্দা তথ্য এবং বিদেশে পাঠানো অর্থ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সংস্থাগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেই খবর (Remittances)।

    আয়কর দফতরের তৎপরতার সূত্রপাত (Income Tax Department)

    আয়কর দফতরের এই পদক্ষেপের সূত্রপাত একটি ভুয়ো দাতব্য ট্রাস্টের গোষ্ঠীকে ঘিরে তল্লাশি অভিযান থেকে। অভিযোগ, ওই ট্রাস্টগুলির মাধ্যমে ভুয়ো অনুদান ও চাঁদার বিনিময়ে হিসাবের খাতায় সাজানো লেনদেন দেখানো হত। তল্লাশি অভিযানের পর তদন্তকারীদের নজরে আসে আরও বিস্তৃত একটি নেটওয়ার্ক, যার সঙ্গে বিদেশে অর্থ পাঠানোর মতো সন্দেহজনক লেনদেন জড়িয়ে রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তদন্তে উঠে এসেছে, বিদেশে অর্থ পাঠানো সংস্থাগুলির একটি অংশ হয় আয়কর রিটার্নই জমা দেয়নি, নয়তো খুব সামান্য ব্যবসায়িক লেনদেন দেখিয়ে রিটার্ন জমা দিয়েছে। অথচ সেই সংস্থাগুলির মাধ্যমেই বিদেশে পাঠানো হয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। ঘোষিত ব্যবসার পরিমাণ এবং বিদেশে পাঠানো অর্থের মধ্যে কোনও সুস্পষ্ট সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়নি।

    সন্দেহ যেখানে যেখানে

    শুধু অর্থের পরিমাণই নয়, বিদেশে টাকা পাঠানোর যে কারণগুলি দেখানো হয়েছিল, সেগুলিও তদন্তকারীদের সন্দেহের কারণ হয়ে উঠেছে। পণ্য পরিবহণের খরচ, সফটওয়্যার আমদানি এবং পরামর্শ পরিষেবার মূল্য মেটানোর মতো বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বিদেশে অর্থ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু প্রাথমিক অনুসন্ধানে সেই লেনদেনগুলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির বাস্তব ব্যবসায়িক কার্যকলাপের সামঞ্জস্যও স্পষ্ট হয়নি। ফিল্ড লেভেলের আরও কিছু তথ্য আয়কর দফতরের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তদন্তকারীদের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির অনেকগুলিই তাদের নথিতে যে ঠিকানা উল্লেখ করেছিল, বাস্তবে সেখানে তাদের কোনও কার্যক্রম ছিল না। অর্থাৎ কাগজে-কলমে অস্তিত্ব থাকলেও, বাস্তবে সংস্থাগুলির ব্যবসায়িক উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

    তথ্য বিশ্লেষণের সময় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। দেখা গিয়েছে, তুলনামূলকভাবে অল্প সংখ্যক পেশাজীবীর কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক ১৫সিবি ফর্মের শংসাপত্র জারি করা হয়েছে। একই সময়ে বিদেশে পাঠানো অর্থের প্রাপক হিসেবেও একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সংস্থার নাম বারবার উঠে এসেছে। ফলে অর্থের উৎস, প্রেরক সংস্থা, শংসাপত্র প্রদানকারী পেশাজীবী এবং বিদেশি প্রাপকদের মধ্যে কোনও সংগঠিত যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে (Income Tax Department)। বিদেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে ১৫সিবি ফর্মের শংসাপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬২ সালের আয়কর বিধির ৩৭বিবি নিয়মের সঙ্গে পাঠযোগ্য ১৫সিবি ফর্মের বিধান অনুযায়ী, বিদেশে অর্থ পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষককে হিসাবের খাতা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথির ভিত্তিতে ওই অর্থের উপর কর প্রযোজ্য কি না, তা যাচাই করতে হয়। ২০২৬ সালের আয়কর বিধিতে এর সমতুল্য ব্যবস্থা রয়েছে ২২০ নম্বর নিয়মের সঙ্গে পাঠযোগ্য ১৪৬ নম্বর ফর্মে।

    দেশজুড়ে যাচাই অভিযান

    এই নিয়মের প্রেক্ষিতে তদন্তকারীদের মূল প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষক কিংবা পেশাজীবীরা শংসাপত্র দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় মাত্রায় যাচাই-বাছাই এবং সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন কি না। কারণ, বিদেশে পাঠানো অর্থের প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বাস্তবতা এবং কর সংক্রান্ত দায় সম্পর্কে যথাযথ পরীক্ষা না করে শংসাপত্র দেওয়া হয়ে থাকলে তা আর্থিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলতে পারে (Remittances)। ১৮ অগাস্ট, মঙ্গলবার, আয়কর দফতর বিদেশে পাঠানো অর্থ সংক্রান্ত এই দেশজুড়ে বিস্তারিত যাচাই অভিযান শুরু করেছে। অভিযানের আওতায় শুধু সন্দেহজনক সংস্থাগুলিই নয়, তাদের পিছনে থাকা ব্যক্তিরাও রয়েছেন। একই সঙ্গে যে পেশাজীবীরা ১৫সিবি ফর্মের শংসাপত্র জারি করেছেন, তাঁদের ভূমিকাও আলাদা করে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে (Income Tax Department)।

    বিদেশে পাঠানো হয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ

    দেশের স্থলসীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অবস্থিত এবং বিদেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছে—এমন সংস্থাগুলিকেও এই অভিযানের আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে তদন্তের পরিধি শুধু বড় শহর বা আর্থিক কেন্দ্রগুলিতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে থাকা সন্দেহজনক সংস্থাগুলির লেনদেনও একইভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আয়কর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশজুড়ে মোট প্রায় ৩৯৪টি সংস্থাকে এই যাচাইয়ের আওতায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে দেশের স্থলসীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে অবস্থিত প্রায় ১১৭টি সংস্থাও রয়েছে। পাশাপাশি ৩৬ জন পেশাজীবীর ভূমিকা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাঁদের জারি করা শংসাপত্রের ভিত্তি, সংশ্লিষ্ট লেনদেনের নথি এবং অর্থ পাঠানোর উদ্দেশ্য—সবই যাচাই করা হবে।

    হিসাবরক্ষকদের ভূমিকা

    দফতরের বক্তব্য, ১৫সিবি বা ১৪৬ নম্বর ফর্মে শংসাপত্র দেওয়ার সময় হিসাবরক্ষকদের যথাযথ সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা এবং পেশাগত বিচারবোধ প্রয়োগ করা প্রত্যাশিত। বিদেশে অর্থ পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের মূল নথি, বাস্তব তথ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় ভালোভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। আয়কর দফতর জানিয়েছে, এই ধরনের শংসাপত্র আর্থিক ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শুধু নথি পূরণ বা আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করাই যথেষ্ট নয়, শংসাপত্র দেওয়ার আগে লেনদেনের প্রকৃত চরিত্র যাচাই করাও জরুরি।

    যেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আয়কর দফতর

    প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এখন আরও বিস্তৃত তদন্ত চালানো হচ্ছে। সন্দেহজনক সংস্থাগুলি আদৌ বাস্তবে ব্যবসা করত কি না, তাদের ঘোষিত লেনদেন এবং বিদেশে পাঠানো অর্থের মধ্যে কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, বিদেশি প্রাপকদের সঙ্গে তাদের যোগসূত্র কী, এবং শংসাপত্র প্রদানকারী পেশাজীবীরা কতটা যথাযথ যাচাই করেছিলেন—এই সব প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছে আয়কর দফতর (Income Tax Department)। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে বিদেশে অর্থ পাঠানোর এই নেটওয়ার্কের প্রকৃত পরিধি এবং এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা আরও (Remittances) স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত প্রায় ৩৯৪টি সংস্থা এবং ৩৬ জন পেশাজীবীকে ঘিরে চলা দেশজুড়ে এই যাচাই অভিযানের পরবর্তী ফলাফলের দিকেই নজর রয়েছে দেশবাসীর (Income Tax Department)।

     

  • Bastar Victims: “বস্তার ৪০ বছর নকশাল হিংসায় জ্বলেছে, আর সেই দিন চাই না” চিদম্বরমকে জবাব মাও-হিংসার শিকার পরিবারের

    Bastar Victims: “বস্তার ৪০ বছর নকশাল হিংসায় জ্বলেছে, আর সেই দিন চাই না” চিদম্বরমকে জবাব মাও-হিংসার শিকার পরিবারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদম্বরমের ‘দিমাগি নকশাল’ মন্তব্যকে ঘিরে এবার সরব হলেন ছত্তিশগড়ের বস্তারে নকশাল হিংসার শিকার পরিবারগুলি। তাঁদের অভিযোগ, দিল্লিতে বসে এমন মন্তব্য করা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক, কারণ বস্তারের বহু মানুষ নকশাল হামলায় তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। নকশাল হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত বস্তারের স্থানীয় বাসিন্দাদের সংগঠন ‘বস্তার শান্তি সমিতি’ মঙ্গলবার রাজধানীতে সাংবাদিক বৈঠক করে চিদম্বরমের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানায়। তাঁরা জানান, নকশাল হামলা, অ্যামবুশ এবং আইইডি বিস্ফোরণে কেউ পরিবারের সদস্যকে হারিয়েছেন, কেউ আবার নিজের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হারিয়েছেন।

    বস্তারে এসে দেখুন!

    কাঁকেরের বাসিন্দা কামেশ্বর কুমার সিনহার বাবা ১৮ আগস্ট নকশালদের আইইডি বিস্ফোরণে নিহত হন। চিদম্বরমের ‘দিমাগি নকশাল’ সংক্রান্ত পোস্টে ক্ষুব্ধ কামেশ্বর বলেন, “আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি। বস্তারে এসে দেখুন, এখানে কেউ এমন মন্তব্য করছে না। মানুষ আক্রান্ত পরিবার এবং জওয়ানদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। রাজধানী থেকে এমন কথা শুনে আমি খুবই ব্যথিত। তাই দিল্লিতে এসে তাঁকে প্রশ্ন করতে চেয়েছি, কীভাবে তিনি এমন কথা বলতে পারেন।”

    বহু মহিলা স্বামীকে হারিয়েছেন

    বস্তারের কাঁকেরের বাসিন্দা আরতিও চিদম্বরমের মন্তব্যের বিরোধিতা করেন। তাঁর স্বামী ছিলেন নিরাপত্তাবাহিনীর এসটিএফ জওয়ান। সুকমায় নকশালদের অ্যামবুশে তিনি নিহত হন। আরতি বলেন, “আমার স্বামী নিরাপত্তাবাহিনীতে ছিলেন। সুকমায় নকশালদের হামলায় তিনি নিহত হন। বস্তারে আমার মতো বহু মহিলা রয়েছেন, যাঁরা তাঁদের স্বামীকে হারিয়েছেন। এখন বস্তার শান্তির পথে এগোচ্ছে। কিন্তু দিল্লিতে বসে রাজনৈতিক নেতারা এমন কথা বলছেন। আমরা চাই না অতীতের পরিস্থিতি আবার ফিরে আসুক।”

    ৪০ বছর নকশাল হিংসায় জ্বলেছে বস্তার

    নকশাল হামলায় দুই পা হারানো এবং মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পাওয়া কাঁকেরের বাসিন্দা তরুণ কুমারও চিদম্বরমের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের মানসিকতা বস্তারকে ফের কয়েক দশক পিছিয়ে দিতে পারে। তরুণ বলেন, “বস্তার ৪০ বছর নকশাল হিংসায় জ্বলেছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য হাজার হাজার মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। আজ যখন বস্তার উন্নতির পথে এগোচ্ছে, তখন কি তাকে আবার সেই নরকের দিকে ঠেলে দিতে চান? এই মানসিকতা বস্তারকে ৪০ বছর পিছিয়ে দেবে। আবার হিংসা, গুলির লড়াই শুরু হবে এবং জওয়ানরা প্রাণ হারাবেন।” বস্তারের আর এক নকশাল-হিংসার শিকার বাসিন্দা সিয়ারাম বলেন, শান্তির পথে এগিয়ে চলা বস্তারের মানুষ এমন মন্তব্যে ব্যথিত। তাঁর কথায়, “আমরা চেয়েছিলাম তিনি আমাদের পাশে দাঁড়ান। কিন্তু তিনি তাঁদের সমর্থনে কথা বলছেন। ‘দিমাগি নকশাল’ নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য আমরা পছন্দ করি না। তাই প্রতিবাদ জানাতেই দিল্লিতে এসেছি।”

    কোন প্রসঙ্গে এই মত

    প্রসঙ্গত, স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার প্রাচীর থেকে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, জঙ্গলে অস্ত্র হাতে নেওয়া নকশালদের পরাস্ত করা হয়েছে, তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এখনও ‘দিমাগি নকশাল’ রয়েছে, যাদের “চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন” করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর বিরোধী দলগুলির একাংশ এর সমালোচনা করে। এরপর চিদম্বরম সমাজমাধ্যমে লেখেন, “দিমাগি নকশাল হিসেবে আমি গর্বিত!” কংগ্রেস এবং চিদম্বরমের বক্তব্য, ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দটি রাজনৈতিক অপমানসূচক শব্দ হিসেবে বিজেপি বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। তাঁদের মতে, এটি ‘আরবান নকশাল’, ‘আন্দোলনজীবী’ এবং ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’-এর মতোই একটি রাজনৈতিক তকমা।

    কী বলেছিলেন মোদি

    গত শনিবার জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পরে ভাষণে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে সাফল্যের কথা জানিয়ে মোদী বলেছিলেন, ‘জঙ্গলে অস্ত্র হাতে লড়াই করা মাওবাদীদের অনেকটাই নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও কিছু দিমাগি নকশাল রয়েছেন। তাঁদের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করা প্রয়োজন।’ ‘দিমাগি নকশাল’-রা নানা ভাবে ভুল বুঝিয়ে সমাজে সমাজে অশান্তি ও বিভাজনের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি।মাওবাদী চিন্তাধারার মানুষজন জনজীবনে তো বটেই, এমনকী বিভিন্ন সরকারি কমিটিতেও দীর্ঘদিন ধরে ছিলেন বলেও অভিযোগ করেছিলেন মোদি। তাঁর কথায়, ‘সেই চিন্তাধারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগেও প্রভাব ফেলেছিল।’ এখানেই থামেননি তিনি। ‘দিমাগি নকশালরা’ এখনও সক্রিয় বলে অভিযোগ করে বলেছিলেন, ‘তারা এখন সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। হিংসার রাস্তা খুঁজছে।’

    কিরেন রিজিজুর দাবি

    বিরোধীদের একাংশের দাবি, সমালোচকদের নিশানা করতে আগেও নানা তকমা ব্যবহার করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি নেতারা। রিজিজুর দাবি, বিরোধীদের উদ্দেশে এমন মন্তব্য করেননি প্রধানমন্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনটি শ্রেণির কথা লিখেছেন তিনি। প্রথমত, যাঁরা মাওবাদীদের সমর্থন করার পাশাপাশি ভারতীয় সংবিধানকে মানেন না। দ্বিতীয়ত, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পাশে দাঁড়ান এবং ৩৭০ ধারাকে সমর্থন করেন। তৃতীয়ত, যাঁরা ‘চিকেনস নেক’ কেটে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার কথা বলেন। রিজেজুর কথায়, ‘তাঁরাই দিমাগি নকশাল।’

    কী বলেছিলেন চিদাম্বরম

    তবে বস্তারের নকশাল-হিংসার শিকার পরিবারগুলির বক্তব্য, রাজধানী থেকে রাজনৈতিক মন্তব্য করার আগে তাঁদের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা এবং নকশাল হামলায় প্রাণ হারানো সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তাকর্মীদের অভিজ্ঞতাকেও বিবেচনায় রাখা উচিত। এদিকে, ‘দিমাগি নকশাল’ বিতর্ককে কেন্দ্র করে ১৮ আগস্ট কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেন, কংগ্রেস ক্রমশ একটি “মাওবাদী দলে” পরিণত হচ্ছে। ফলে চিদম্বরমের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।

  • India Women Fighter Pilots: অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ভারতের মহিলা ফাইটার পাইলটরাও!

    India Women Fighter Pilots: অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ভারতের মহিলা ফাইটার পাইলটরাও!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরে শুধু যুদ্ধের পরিকল্পনা বা কৌশলগত দায়িত্বেই ছিলেন না ভারতীয় বায়ুসেনার মহিলা ফাইটার পাইলটরা। সরাসরি যুদ্ধ অভিযানেও অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা। পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে (PoJK) জঙ্গি ঘাঁটি এবং পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামোয় হামলার জন্য পরিচালিত একাধিক মিশনে মহিলা পাইলটরা অংশ নেন। প্রতিরক্ষা সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমে এমনই দাবি করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অপারেশন সিঁদুরের সময় এক মহিলা ফাইটার পাইলট সুখোই সু-৩০ (Su-30MKI) যুদ্ধবিমান উড়িয়েছিলেন। এই যুদ্ধবিমান ব্রহ্মোস (BrahMos) ও র‌্যামপেজ  (Rampage) -এর মতো অত্যাধুনিক এয়ার-টু-গ্রাউন্ড অস্ত্র বহনে সক্ষম। তবে ওই নির্দিষ্ট অভিযানে কোন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, তা প্রকাশ করেনি প্রতিরক্ষা সূত্র। অস্ত্র ব্যবহারের বিস্তারিত এখনও গোপনীয় বলে জানানো হয়েছে। সূত্রের দাবি, হামলার পর পাকিস্তান কয়েকটি জায়গা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহ করে সেগুলির ধরন ও উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা করতে পারে। সেই কারণেই ব্যবহৃত অস্ত্রের নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে।

    একাধিক মহিলা পাইলট ছিলেন অপারেশন সিঁদুরে

    সম্প্রতি ১৫ অগস্ট মুক্তি পেয়েছে  ডিসকভারির দুই পর্বের তথ্যচিত্র ‘Declassified: Operation Sindoor’। ২০২৫ সালের মে মাসে ৮৮ ঘণ্টার ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের নেপথ্যের পরিকল্পনা ও সামরিক অভিযানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে ওই তথ্যচিত্রে। সেখানে এক মহিলা অফিসারের বক্তব্যও রয়েছে, যদিও তাঁর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, অপারেশন সিঁদুরে একাধিক মহিলা ফাইটার পাইলট অংশ নিয়েছিলেন। তাঁরা সুখোই-৩০ এবং রাফাল (Rafale)— দুই ধরনের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালনা করেন। কেউ ককপিটের সামনের আসনে বসে পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, আবার কেউ পিছনের আসনে বসে উইপন সিস্টেম অপারেটর (WSO) হিসেবে অভিযানে যুক্ত ছিলেন। প্রতিরক্ষা সূত্রের ব্যাখ্যা, ফাইটার স্ট্রিমে যোগ দেওয়ার পর পুরুষ ও মহিলা পাইলটের মধ্যে কার্যত কোনও পার্থক্য থাকে না। একই প্রশিক্ষণ, একই অপারেশনাল দায়িত্ব এবং একই ধরনের যুদ্ধ মিশনে তাঁদের নিয়োগ করা হয়।

    ৭ মে-র ব্রিফিংয়ের বাইরেও ছিল মহিলা অফিসারদের ভূমিকা

    অপারেশন সিঁদুরের সময় মহিলা অফিসারদের ভূমিকা প্রথম থেকেই নজর কেড়েছিল। ৭ মে-র সাংবাদিক বৈঠকে ভারতীয় সেনার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এবং বায়ুসেনার হয়ে সামনে এসেছিলেন উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং। তাঁরা অপারেশনের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক এই তথ্য সামনে আসায় স্পষ্ট হচ্ছে, মহিলা অফিসারদের ভূমিকা শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযান সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁরা ভারতের প্রথম সারির যুদ্ধবিমান নিয়ে সরাসরি অপারেশনাল মিশনেও অংশ নিয়েছিলেন।

    প্রথম দিনেই ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা

    ২০২৫ সালের ৭ মে ভোরে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা জঙ্গি পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে এই অভিযান চালানো হয়। প্রথম দফায় মোট ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিকে টার্গেট করে ভারত। এর মধ্যে পাকিস্তানের মুরিদকেতে থাকা মারকাজ তৈবা ছিল লস্কর-ই-তৈবার গুরুত্বপূর্ণ সদর দফতর ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। বাহাওয়ালপুরের মারকাজ সুবহানাল্লা ছিল জইশ-ই-মহম্মদের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি। এছাড়াও মুজফফরাবাদ, কোটলি, শিয়ালকোট এবং ভিম্বরে একাধিক জঙ্গি পরিকাঠামোয় হামলা চালানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ের নয়টি টার্গেটের মধ্যে মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরে হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। অন্য লক্ষ্যগুলিতে ভারতীয় সেনা লয়টারিং মিউনিশন এবং দূরপাল্লার আর্টিলারি ব্যবহার করে আঘাত হানে।

    বালাকোটের তুলনায় অনেক বড় অভিযান

    মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরে হামলার তাৎপর্য ছিল যথেষ্ট বেশি। মুরিদকে দীর্ঘদিন ধরেই লস্কর-ই-তৈবার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে বাহাওয়ালপুর ছিল জইশ-ই-মহম্মদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ২০১৯ সালের বালাকোট অভিযানে পাকিস্তানের মাটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ জঙ্গি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেছিল ভারত। কিন্তু অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর জুড়ে একসঙ্গে নয়টি টার্গেটে হামলা চালানো হয়। এরপর অভিযান আরও বিস্তৃত হয়। পাকিস্তান পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ শুরু করলে সংঘাত জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলার গণ্ডি পেরিয়ে পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামোকেও লক্ষ্য করে। ভারতীয় বায়ুসেনা বিভিন্ন পর্যায়ে দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ব্রহ্মোস, স্ক্যাল্প-সহ একাধিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা উঠে এসেছে।

    পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতেও ব্রহ্মোস হামলা?

    অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তী পর্যায়ে সুখোই-৩০ এমকেআই থেকে ব্রহ্মোস উৎক্ষেপণ বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পাকিস্তানের একাধিক সামরিক পরিকাঠামোয় হামলা চালানো হয়েছিল। এর মধ্যে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিও ছিল বলে জানা যায়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও পরে প্রকাশ্যে দাবি করেন যে ভারতীয় ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছিল, যার মধ্যে রাওয়ালপিন্ডির একটি সামরিক ঘাঁটিও ছিল।

    অর্থাৎ, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বায়ুসেনার মহিলা ফাইটার পাইলটদের ভূমিকা শুধুমাত্র প্রতীকী বা সহায়ক ছিল না। প্রতিরক্ষা সূত্রের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ অভিযানে সরাসরি অপারেশনাল কমব্যাট মিশনের অংশ ছিলেন। তবে কোন পাইলট কোন নির্দিষ্ট মিশনে কোন অস্ত্র ব্যবহার করেছেন, তার বিস্তারিত এখনও সামরিক গোপনীয়তার আওতায় রয়েছে।

LinkedIn
Share