Blog

  • PM Modi in Australia: ‘দুধে চিনির মতো মিশে সমাজকে আরও মিষ্টি করে তোলেন ভারতীয়রা’ মেলবোর্নে প্রবাসীদের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী মোদি

    PM Modi in Australia: ‘দুধে চিনির মতো মিশে সমাজকে আরও মিষ্টি করে তোলেন ভারতীয়রা’ মেলবোর্নে প্রবাসীদের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভারতীয়রা ‘দুধে চিনির মতো’ মিশে গিয়ে সেই সমাজকে আরও সমৃদ্ধ ও মধুর করে তোলে। অস্ট্রেলিয়া সফরের শেষ দিনে মেলবোর্নে প্রবাসী ভারতীয়দের এক বিশাল সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Australia)। ভারতীয় সম্প্রদায়ের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে প্রবাসীদের ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী (PM Modi Praises Indian Diaspora) বলেন, “আমরা ভারতীয়রা দুধে মিশে যাওয়া চিনির মতো। আমরা যেখানে যাই, সেখানে ভালোবাসা, সংস্কৃতি ও ঐক্যের মাধুর্য ছড়িয়ে দিই। বাড়ির দুধ অস্ট্রেলিয়ার হতে পারে, কিন্তু সেই দুধের চা ভারতীয়। ডাল-সবজি অস্ট্রেলিয়ার হলেও তার ফোড়ন ভারতীয় মশলার।”

    ‘হাউসফুল, একেবারে ব্লকবাস্টার’ অনুষ্ঠান

    মেলবোর্নের প্রবাসী ভারতীয়দের উচ্ছ্বসিত উপস্থিতি দেখে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানটিকে ‘হাউসফুল’ এবং ‘ব্লকবাস্টার’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, এর আগে দু’বার সিডনিতে ভারতীয়দের সঙ্গে দেখা হলেও এবার মেলবোর্নবাসীদের সঙ্গে ‘ফ্ল্যাট হোয়াইট কফি’ পান করার ইচ্ছা পূরণ হয়েছে তাঁর। প্রধানমন্ত্রী জানান সেন্টার ফর অস্ট্রেলিয়া-ইন্ডিয়া রিলেশন-এর মৈত্রী গ্র্যান্ট কর্মসূচির জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকার ১০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার বরাদ্দের ঘোষণা করেছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত করবে।

    ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের নেপথ্যে প্রবাসীরাই

    মোদি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৪ সালে তাঁর প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় ২৮ বছর পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী সে দেশে গিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, পরবর্তী সফরের জন্য আর ২৮ বছর অপেক্ষা করতে হবে না। সেই প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১২ বছরে এটি তাঁর তৃতীয় অস্ট্রেলিয়া সফর। তিনি বলেন, “অনেকে ভাবতে পারেন এই সম্পর্কের উন্নতির কৃতিত্ব আমার। কিন্তু না, এর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব আপনাদের, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের।” প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারতের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোগ মন্ত্রক এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার টেকনিক্যাল অ্যান্ড ফারদার এডুকেশন -এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় ভুবনেশ্বরে সেন্টার অফ এক্সিলেন্স ইন মাইনিং ইকুইপমেন্ট, টেকনোলজি সার্ভিস গড়ে তোলা হবে। ভারতের জাতীয় ভোকেশনাল কাউন্সিল ও অস্ট্রেলিয়ার স্কিলস কোয়ালিটি অথরিটির মধ্যে দক্ষতা প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নে সহযোগিতা শুরু হবে। অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার বিশ্ববিদ্যালয় বেঙ্গালুরুতে এবং ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে গুরগাঁওয়ে ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য অনুমোদনপত্র প্রদান করা হয়েছে, যা উচ্চশিক্ষায় দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে। বিজ্ঞান-গবেষণা উদ্ভাবন ক্ষেত্রে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে যাতে প্রবাসীদের ভূমিকা রয়েছে। জিও সায়েন্স অস্ট্রেলিয়া ও জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার মধ্যে ভূ-বিজ্ঞান গবেষণা ও খনিজ অনুসন্ধানে সহযোগিতার চুক্তি হয়েছে।

    ‘লিটল ইন্ডিয়া’য় ভারতীয় সংস্কৃতির ছোঁয়া

    মেলবোর্ন ও আশপাশের এলাকায় ভারতীয় সংস্কৃতির বিস্তারের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শহরের বিভিন্ন বাজার ও এলাকাকে কেউ ‘লিটল ইন্ডিয়া’, আবার কেউ ‘মিনি ইন্ডিয়া’ নামে চেনেন। সেখানে ভারতীয় সংস্কৃতি, ব্যবসা এবং উৎসবের আবহ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। হাস্যরসের ছলে তিনি বলেন, একটি বাজারের ভিডিওতে দেখেছেন সেখানে সারা বছরই ছাড়ের অফার চলে। “সেলের চক্রে পড়ে মানুষ ঘ্যাঁচাক্কর হয়ে যায়” মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর। অস্ট্রেলিয়ায় ভারতীয়দের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সপ্তাহান্তে কোথাও সত্যনারায়ণ পূজা, কোথাও গুরুদ্বারে অরদাস, কোথাও শিশুদের ভাংড়া বা ভরতনাট্যম পরিবেশনা, আবার কোথাও ক্রিকেট টুর্নামেন্ট—সব মিলিয়ে ভারতীয় সংস্কৃতি জীবন্ত হয়ে রয়েছে মেলবোর্নে। এছাড়া কয়েক দিনের মধ্যেই মেলবোর্নে শুরু হতে চলা ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের জন্যও শুভেচ্ছা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী ভারতীয়রাই অস্ট্রেলিয়দের মধ্যে ভারতীয় চলচিত্র ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটিয়েছে। তারই ফলে কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এবং অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ফিল্ম স্কুলের মধ্যে চলচ্চিত্র শিক্ষা, যৌথ কর্মশালা, গবেষণা ও স্বল্পমেয়াদি কোর্স পরিচালনার জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোয় ভারতের অগ্রগতি

    এদিন প্রবাসীদের সামনে ভারতের উন্নয়নের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বর্তমানে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ৫জি বাজারে পরিণত হয়েছে এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে ৬জি উন্নয়নের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। তিনি জানান, গত ১২ বছরে ভারতের মেট্রো পরিষেবা দুই ডজনেরও বেশি শহরে বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন ১ কোটি ২৫ লক্ষের বেশি মানুষ মেট্রোয় যাতায়াত করেন। এছাড়া নমো ভারত র‌্যাপিড রেল এবং বন্দে ভারত ট্রেনের মতো আধুনিক রেল পরিষেবাও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ভাষণের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একবিংশ শতাব্দীর ভারত এখন ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে। তাঁর কথায়, “একটি স্বপ্ন পূরণ হলে আরেকটি নতুন স্বপ্ন জন্ম নেয়। একটি লক্ষ্য অর্জিত হলে আরও বড় লক্ষ্য সামনে আসে। ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও সংকল্প নিয়ে ভারত আজ ‘গ্রো মোর, অ্যচিভ মোর’-এর মন্ত্রে এগিয়ে চলেছে।”

  • PM Modi in Australia: মোদির ঐতিহাসিক সাফল্য! শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে ভারতকে ইউরেনিয়াম দিতে রাজি অস্ট্রেলিয়া, স্বাক্ষরিত একাধিক চুক্তি

    PM Modi in Australia: মোদির ঐতিহাসিক সাফল্য! শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে ভারতকে ইউরেনিয়াম দিতে রাজি অস্ট্রেলিয়া, স্বাক্ষরিত একাধিক চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সারলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Australia)। মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে খনিজ (Critical Minerals), বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হল। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষা, গবেষণা ও সংস্কৃতি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোট ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলি ভারত-অস্ট্রেলিয়ার কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ-কে আরও শক্তিশালী করবে।

    জ্বালানি ও পারমাণবিক সহযোগিতা

    সূত্রের খবর, জ্বালানি ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত-অস্ট্রেলিয়া জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও নির্ভরযোগ্য ও টেকসই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিভিল নিউক্লিয়ার এগ্রিমেন্ট-এর প্রশাসনিক ব্যবস্থা চূড়ান্ত হওয়ায় এবার শান্তিপূর্ণ কাজে ভারতের জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে খুলে গেল। ইউরেনিয়াম সরবরাহ নিয়ে দুই দেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে ভারত অস্ট্রেলিয়ার থেকে এলএনজি (LNG), কয়লা এবং ডিজেল আমদানিও বাড়াবে।

    ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইউরেনিয়াম চুক্তি

    যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, অস্ট্রেলিয়া শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ভারতকে ইউরেনিয়াম সরবরাহ করবে। দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক শক্তি ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা ভারতের পরিচ্ছন্ন শক্তির লক্ষ্যে নতুন গতি আনবে। মেলবোর্নে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত শুধু ঘনিষ্ঠ অংশীদারই নয়, বরং একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইউরেনিয়াম চুক্তির মাধ্যমে ভারতের জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে অস্ট্রেলীয় ইউরেনিয়াম। দীর্ঘমেয়াদে কার্বন নিঃসরণও কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভারতের জ্বালানি সরবরাহের উৎস আরও বহুমুখী হবে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার সময় গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দিতে পারে। ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সেই লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করবে অস্ট্রেলিয়ার বিশাল ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার।

    শুধু জ্বালানি নয়, কৌশলগত বার্তাও

    ভারতের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার খনিজসম্পদ খাতের জন্যও এটি নতুন বাজার সৃষ্টি করবে। বাণিজ্যে চিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দিল্লিকেই নতুন বাজার হিসেবে বেছে নিল ক্যানবেরা। ২০১৪ সালে ভারত-অস্ট্রেলিয়া পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সরবরাহ করা জ্বালানি যাতে শুধু শান্তিপূর্ণ কাজে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থানে ছিল অস্ট্রেলিয়া। এই চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে এর ভূরাজনৈতিক তাৎপর্য। ভারত ও অস্ট্রেলিয়া উভয়ই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করছে। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরেনিয়াম চুক্তিকে শুধু বাণিজ্যিক নয়, বরং বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্বের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তায় বড় অগ্রগতি

    প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করতে তৎপর দুই দেশই। সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষা স্টার্টআপ এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ডিফেন্স ইনোভেশন করিডর গড়ে তোলা হবে। সন্ত্রাসবাদ দমনে দুই দেশের সহযোগিতার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছ। সূত্রের খবর, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে মেরিটাইম সিকিউরিটি রোডম্যাপ তৈরি করার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে সামুদ্রিক নজরদারি ও উপকূলীয় নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ আরও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি ২০২৮-২৯ শিক্ষাবর্ষে একজন ভারতীয় সেনা আধিকারিককে অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স কলেজে নিয়োগ করা হতে পারে। দুই দেশ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে জয়েন্ট ডিক্লারেশন অন ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি কোঅপারেশন ঘোষণা করেছে, যা ২০০৯ সালের নিরাপত্তা ঘোষণার নবীকরণ। এর মাধ্যমে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে যৌথ মহড়া, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সামরিক শিল্প, সাইবার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা আরও বাড়বে। ভারতের কোস্ট গার্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মেরিটাইম বর্ডার কমান্ড-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও সরবরাহ শৃঙ্খল

    এছাড়াও ভারত-অস্ট্রেলিয়া ক্রিটিক্যাল মিনারেল করিডর গড়ে তোলা হবে। সূত্রের খবর, ভারত-অস্ট্রেলিয়া PACTS চুক্তির আওতায় সাইবার নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তি-সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা বাড়াতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডাকে নিয়ে একটি ত্রিপাক্ষিক প্রযুক্তি অংশীদারিত্বে সম্মতি জানানো হয়েছে। ভারতের গগনযান কর্মসূচিকে সমর্থন করতে কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জে একটি অস্থায়ী স্পেস ট্র্যাকিং টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দুই দেশই পরিচ্ছন্ন শক্তি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীল ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফেরত

    অস্ট্রেলিয়া ভারতের হাতে তিনটি মূল্যবান প্রত্নবস্তু ফিরিয়ে দিয়েছে। এগুলির মধ্যে রয়েছে তামিলনাড়ুর ১১-১২ শতকের গ্রানাইটের নন্দী মূর্তি, ১১ শতকের ভদ্রকালীর ত্রিশূল এবং ১২ শতকের ষড়ানন কার্তিকেয়ের বাসাল্ট মূর্তি। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের জন্য অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এবং অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ফিল্ম স্কুলের মধ্যে চলচ্চিত্র শিক্ষা, যৌথ কর্মশালা, গবেষণা ও স্বল্পমেয়াদি কোর্স পরিচালনার জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন গতি

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইকোনমিক কর্পোরেশন অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট (ECTA)-এর ইতিবাচক ফলাফলকে স্বাগত জানান। এই সফরে অনুষ্ঠিত সিইও ফোরামে- প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অন্যতম সেরা গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরেন। বিশেষ করে সবুজ হাইড্রোজেন, সৌর প্যানেল, বায়ু শক্তি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন ও অবকাঠামো ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। গান্ধীনগরের পণ্ডিত দীনদয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতায় রুফটপ সোলার ট্রেনিং অ্যাকাডেমি চালু হচ্ছে যেখানে ২,০০০ মহিলা ও যুবক-যুবতীকে সৌর প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

  • Suvendu Adhikari: সরকারি হাসপাতালে কড়া নজরদারি! স্বাস্থ্যভবন থেকে ডিজিটাল মনিটরিং চালু করলেন শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: সরকারি হাসপাতালে কড়া নজরদারি! স্বাস্থ্যভবন থেকে ডিজিটাল মনিটরিং চালু করলেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও সাধারণ মানুষের কাছে আরও কার্যকর করে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার নবান্নে যাওয়ার পথে আচমকাই স্বাস্থ্যভবনে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে স্বাস্থ্য দফতরের মন্ত্রী ও শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা, পরিকাঠামো, রোগী পরিষেবা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন তিনি। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই রাজ্যের ১৫ থেকে ১৬টি সরকারি ও জেলা হাসপাতালকে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ (ওপিডি), ওয়ার্ড, এমনকি রান্নাঘর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত অংশে নজরদারি চালানো হবে। তিনি বলেন, “রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবায় কোনও ধরনের অনিয়ম বা দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বরদাস্ত করা হবে না।”

    স্বাস্থ্যভবনে অত্যাধুনিক কন্ট্রোল রুম

    হাসপাতালগুলির উপর সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য স্বাস্থ্যভবনে একটি আধুনিক কন্ট্রোল রুম চালু হয়েছে। এই কন্ট্রোল রুম থেকে লাইভ ফিডের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সাধারণ রোগী প্রতিদিন হাসপাতালে আসেন না। কিন্তু কোনও ব্যক্তি যদি বারবার একই হাসপাতালে ঘোরাফেরা করেন, তাহলে তাঁকে সহজেই চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তাঁর দাবি, সরকারি হাসপাতালকে সম্পূর্ণভাবে দালালমুক্ত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    কর্মীদের জন্য আলাদা রঙের পরিচয়পত্র

    রোগী ও তাঁদের পরিবারের সুবিধার্থে হাসপাতালের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মীদের জন্য পৃথক রঙের ল্যামিনেটেড পরিচয়পত্র চালুর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নার্স, নিরাপত্তারক্ষী, ট্রলি চালক-সহ বিভিন্ন কর্মীর আলাদা ব্যাজ থাকলে সাধারণ মানুষ সহজেই তাঁদের পরিচয় বুঝতে পারবেন এবং বিভ্রান্তির সুযোগ কমবে।

    প্রতিটি বড় হাসপাতালে আধুনিক ট্রমা কেয়ার সেন্টার

    দুর্ঘটনা বা বড়সড় বিপর্যয়ের সময় দ্রুত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে প্রতিটি বড় সরকারি হাসপাতালে আধুনিক ট্রমা কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই কেন্দ্রগুলিতে মাত্র এক মিনিটের মধ্যে অন্তত ২৫০ জন আহতকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার মতো পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। একইসঙ্গে দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের পরিজনদের কথা মাথায় রেখে হাসপাতাল চত্বরে স্বল্প খরচে বা বিনামূল্যে রাত্রিযাপনের আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে প্রতিটি ইউনিটের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হচ্ছে।

    এসএসকেএমে বাড়ছে বেড ও আইসিইউ

    এসএসকেএম হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সেখানে ইতিমধ্যেই ১০০টি নতুন বেড চালু হয়েছে। দুর্গাপুজোর আগেই আরও ২৫০টি বেড যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের আইসিইউ বেড ১১২ থেকে বাড়িয়ে অন্তত ২০০ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বার্ন ইউনিটেও দক্ষ চিকিৎসক নিয়োগ করে পরিষেবা আরও উন্নত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

    রোগীদের খাবারের বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ

    সরকারি হাসপাতালের রোগীদের খাবারের মান উন্নয়নের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের আমলে ২০১৭ সালের পর থেকে রোগীদের খাদ্য বরাদ্দ আর বাড়ানো হয়নি। বর্তমান সরকার সেই বরাদ্দ ৫৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০ টাকা করেছে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল, আইসিইউ-তে ভর্তি শিশু এবং আইসিডিএস প্রকল্পের অন্তর্গত গর্ভবতী মহিলাদের পুষ্টি সংক্রান্ত বরাদ্দও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

    বেসরকারি হাসপাতালের ফ্রি বেড নিয়ে কড়া বার্তা

    সরকারি জমিতে তৈরি বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে চুক্তি অনুযায়ী দরিদ্র মানুষের জন্য ১৫ শতাংশ বেড সংরক্ষিত রাখার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন তা কার্যকর হয়নি বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারের চাপের মুখে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলি আপাতত ১০ শতাংশ বিনামূল্যের বেড চালু করতে সম্মত হয়েছে।

    নিউটাউনে ২,০০০ শয্যার আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল

    স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নিউটাউনে আদানি গোষ্ঠীর সহযোগিতায় ২,০০০ শয্যার একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল গড়ে তোলার ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই হাসপাতালের ১,০০০টি শয্যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

    দুর্নীতির তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশ

    স্বাস্থ্য দফতরের অতীতের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, তদন্তকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি আইন মেনে দ্রুত সরবরাহ করতে হবে এবং তদন্তের স্বার্থে পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, স্বাস্থ্য পরিষেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতেই এগোবে প্রশাসন।

  • PM Modi: ‘‘টি২০-র মতো দ্রুত, টেস্টের মতো দীর্ঘ’’, ভারত-অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্কের গভীরতা বোঝাতে ক্রিকেটের উপমা মোদির মুখে

    PM Modi: ‘‘টি২০-র মতো দ্রুত, টেস্টের মতো দীর্ঘ’’, ভারত-অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্কের গভীরতা বোঝাতে ক্রিকেটের উপমা মোদির মুখে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ককে আরও গভীর এবং বহুমাত্রিক বলে উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার ক্রিকেটের উপমায় দুই দেশের কূটনৈতিক অংশীদারিত্ব ব্যাখ্যা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে তিনি (India Australia Relations) জানান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্কে ক্রিকেট এক বিশেষ কূটনৈতিক ভাষা হিসেবে কাজ করে এবং দুই দেশের বৈঠকও অনেকটা ক্রিকেট ম্যাচের মতো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আজ আমরা বিশ্বের ক্রীড়া রাজধানী মেলবোর্নে রয়েছি। এখানে খেলাধুলার কথা না বলা ঠিক যেন ক্রিকেট ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট বা বল কোনওটাই না করা। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্কে ক্রিকেট একটি কূটনৈতিক ভাষা।’’

    ক্রিকেটের উপমা (PM Modi)

    তিনি আরও বলেন, ‘‘অনেক দিক থেকেই আমাদের বৈঠক ক্রিকেটের মতো। আমাদের আলোচ্যসূচি এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের মতো লক্ষ্যনির্ভর, আমাদের সিদ্ধান্ত কুড়ি ওভারের ম্যাচের মতো দ্রুত, আর আমাদের অংশীদারিত্ব পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচের মতো দীর্ঘস্থায়ী এবং গভীর।’’ যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী কয়েক বছরে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া উভয় দেশই অলিম্পিক এবং কমনওয়েলথ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মতো বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরের আয়োজন করবে। তিনি বলেন, ‘‘এর ফলে শুধু দুই দেশের ক্রীড়া সহযোগিতাই আরও শক্তিশালী হবে না, ক্রীড়া পরিকাঠামোয় বিনিয়োগেরও নতুন নতুন সুযোগও তৈরি হবে।’’

    যৌথ বিবৃতি

    ভারত-অস্ট্রেলিয়া বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও এবং অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে সংঘটিত সন্ত্রাসবাদী হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তাঁরা সন্ত্রাসবাদ এবং সন্ত্রাসকে উৎসাহিত করে এমন হিংসাত্মক মৌলবাদের সব ধরনের রূপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও জানান তাঁরা(PM Modi)। দুই নেতা জানান, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় সব দেশের সমন্বিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগ জরুরি। রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা কমিটির তালিকাভুক্ত জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, তাদের সহযোগী, মদতদাতা এবং অর্থ জোগানদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ারও ডাকও দেন তাঁরা।

    সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহমত দুই দেশই

    সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও একমত হয় ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। জঙ্গি হুমকি সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানো, অনলাইন উগ্রপন্থা, সন্ত্রাসে নতুন প্রযুক্তির অপব্যবহার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত হুমকি মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি পহেলগাঁও ও বন্ডাই সমুদ্রসৈকতের হামলা-সহ সব ধরনের জঙ্গি হামলার নিন্দাও করেন তাঁরা। এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে পরমাণু সহযোগিতা ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের দ্রুত বিকাশমান কৌশলগত অংশীদারিত্বে পরমাণু সহযোগিতার নয়া মাত্রা যুক্ত হল (PM Modi)।

    উগ্রপন্থা মোকাবিলায় সহযোগিতা

    জানা গিয়েছে, ভারত-অস্ট্রেলিয়া উভয় দেশই উগ্রপন্থা মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের অঙ্গীকার করেছে। দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হবে অনলাইন উগ্রপন্থা, সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করে এমন সহিংস চরমপন্থা, নতুন ও উদীয়মান প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে সৃষ্ট নিরাপত্তা হুমকি, সন্ত্রাসে অর্থায়নের নেটওয়ার্ক, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিকাঠামো এবং বিস্তৃত সামুদ্রিক অঞ্চলে উদ্ভূত হুমকির মোকাবিলা করা (India Australia Relations)। শীর্ষ বৈঠকে নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার এই নতুন কাঠামো আরও জোরদার হওয়ার পাশাপাশি কৌশলগত ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।

    পরমাণু সহযোগিতার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক চুক্তি

    এর আগে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছিলেন, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া পরমাণু সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এর ফলে দুই দেশের দ্রুত বিকাশমান অংশীদারিত্বে কৌশলগত পারমাণবিক সহযোগিতার একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হল (PM Modi)। প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফরের মাধ্যমে ভারত-অস্ট্রেলিয়া যৌথ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গতিশীল হবে বলেই আশা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের। এই অংশীদারিত্বই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পরিচালনার প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে ভারত-অস্ট্রেলিয়া যৌথ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। এই কাঠামোর ভিত্তিতেই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পরিচালিত হয়। উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া সফর শেষ করে ত্রিদেশীয় সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে বুধবার মেলবোর্নে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে (India Australia Relations) উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ক্যাঙারুর দেশ অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে সেখানকার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)।

  • PM Modi: অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ীদের ভারতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ীদের ভারতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ীদের ভারতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সেই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত যৌথ অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপরও জোর দেন (India Backs CECA Deal) তিনি।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)

    বৃহস্পতিবার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়া-ভারত প্রধান এক্সিকিউটিভ কর্তাদের ফোরাম এবং অর্থনৈতিক রোডম্যাপ ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সঙ্গে যৌথভাবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি এই আহ্বান জানান। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ শিল্পপতি, প্রধান এক্সিকিউটিভ আধিকারিক এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠান শেষে এক্স হ্যান্ডেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দু’হাজার তেইশ সাল থেকে এই ফোরাম উল্লেখযোগ্য গতি পেয়েছে, যা আমাদের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের প্রতি ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি এই আলোচনায় যোগ দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।”

    ভারতে বিনিয়োগের আহ্বান

    মোদি জানান, বৈঠকে বিমান চলাচল, পরিবহণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা, আর্থিক পরিষেবা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং দক্ষতা উন্নয়ন-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, “ভারত প্রবৃদ্ধি ও উদ্ভাবনের জন্য অতুলনীয় সুযোগ এনে দিয়েছে। আমি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ভারতে বিনিয়োগ এবং নতুন উদ্ভাবনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি (PM Modi)।” ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতের শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নীতিগত সংস্কার, ডিজিটাল রূপান্তর এবং দ্রুত বিস্তৃত উদ্ভাবনভিত্তিক পরিবেশের কথা তুলে ধরে বলেন, এগুলি অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়িক অংশীদারদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে (India Backs CECA Deal)।

    ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি

    প্রধানমন্ত্রী এও জানান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক। উৎপাদন শিল্প, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, খনিশিল্প, পরিকাঠামো, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), আর্থিক প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল অর্থনীতির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের বিশাল বাজার এবং অস্ট্রেলিয়ার দক্ষতার সমন্বয় উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে বলেও জানান তিনি। দীর্ঘমেয়াদি লগ্নির সুযোগ কাজে লাগাতে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানান মোদি (PM Modi)। উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষতা উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতে কার্যক্রম সম্প্রসারণ ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এবং আন্তর্জাতিক সুযোগ কাজে লাগাতে সহায়ক হবে।

    গুরুত্বপূর্ণ খনিজ কাজে লাগানোয় জোর

    অর্থনৈতিক রোডম্যাপ ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানেও নরেন্দ্র মোদি ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে থাকা স্বাভাবিক সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, অর্ধপরিবাহী, এআই, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং প্রতিরক্ষা খাতে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এই অনুষ্ঠানে দুই দেশের দু’শোরও বেশি প্রধান এক্সিকিউটিভ আধিকারিক ও শিল্পোদ্যোগী অংশ নেন। মোদি বলেন, “গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, দৃঢ় জনসংযোগ এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক বোঝাপড়া ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করতে মজবুত ভিত তৈরি করেছে (PM Modi)।” ব্যবসায়িক নেতাদের রেয়ার আর্থ খনিজ, লিথিয়াম, ব্যাটারি, ইলেকট্রনিক্স, বৈদ্যুতিক যানবাহন, অর্ধপরিবাহী, এআই এবং প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খলের মতো ক্ষেত্রে উভয় দেশের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক সমস্যার সমাধান তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

    বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের অগ্রগতি

    দু’হাজার বাইশ সালে কার্যকর হওয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য চুক্তির ভিত্তিতে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সমন্বিত অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি।” তিনি আরও জানান, দ্বিপাক্ষিক ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে নিজ নিজ বিশেষ দক্ষতাকে ভিত্তি করে গতিশীল অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন। বর্তমানে দুই দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য চুক্তির ওপর ভিত্তি করে আরও বিস্তৃত যৌথ অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। দু’হাজার পঁচিশ-ছাব্বিশ অর্থবর্ষে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে পণ্য ও পরিষেবা মিলিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দু’হাজার চারশো দশ কোটি মার্কিন ডলার। প্রসঙ্গত, ইন্দোনেশিয়া সফর শেষে (India Backs CECA Deal) ত্রিদেশীয় সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে বুধবার অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। সফরের শেষ পর্যায়ে তিনি যাবেন নিউজিল্যান্ডে।

     

  • Allahabad HC: শরিয়ত আইন নয়, পকসো ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনই প্রাধান্য পাবে, রায় ইলাহাবাদ হাইকোর্টের

    Allahabad HC: শরিয়ত আইন নয়, পকসো ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনই প্রাধান্য পাবে, রায় ইলাহাবাদ হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শরিয়ত আইন বা মুসলিম ব্যক্তিগত আইন কখনওই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন (Prohibition of Child Marriage Act, 2006) এবং পকসো আইন (Protection of Children from Sexual Offences Act, 2012)-কে অগ্রাহ্য করতে পারে না। শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত আইনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সম্প্রতি এক মামলায় এই রায় দিয়েছে ইলাহাবাদ হাইকোর্ট (Allahabad HC)। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশে বিয়ের ন্যূনতম বয়স সবার জন্য একই। মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ বছর এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ বছর। বিচারপতি জেজে মুনির এবং আচল সচদেব-এর ডিভিশন বেঞ্চ ১ জুলাই ২০২৬ এই রায় দেয়। একইসঙ্গে উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের কাকোর থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআর খারিজের আবেদনও আদালত খারিজ করে দেয়।

    কোন মামলার প্রেক্ষাপটে এই রায়

    মামলার সূত্রপাত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ। অভিযোগ, বুলন্দশহরের সুনপেদা বক্সুয়া গ্রামে ১৬ বছরের এক মুসলিম কিশোরীর বিয়ের খবর পেয়ে পুলিশ ও চাইল্ডলাইন কর্মীরা সেখানে পৌঁছে বাল্যবিবাহ (Child Marriage Acts) রুখতে উদ্যোগ নেন। কিশোরীকে অস্থায়ীভাবে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি (CWC)-র সামনে পেশ করার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু অভিযুক্তরা ওই কিশোরীকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যান এবং সরকারি কর্মীদের হুমকি ও বাধা দেন বলে অভিযোগ। পরে কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী কোনও মেয়ে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছলে, অর্থাৎ সাধারণভাবে ১৫ বছর বয়সের পর, তার বিয়ে বৈধ। তাঁদের বক্তব্য ছিল, মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্ট, ১৯৩৭ এবং ইন্ডিয়ান মেজরিটি অ্যাক্ট, ১৮৭৫-এ সেই অবস্থান স্বীকৃত রয়েছে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন তাদের ব্যক্তিগত আইনের ওপর প্রাধান্য পায় না।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    অভিযুক্তদের এই যুক্তি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে হাইকোর্ট জানায়, ব্যক্তিগত আইন কোনওভাবেই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন বা পকসো আইনের বিধানকে খর্ব করতে পারে না। আদালত পর্যবেক্ষণ করে, ১৮ বছরের কম বয়সি কোনও ব্যক্তির সঙ্গে যৌন সম্পর্ক পকসো আইনে অপরাধ। ফলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে অনুমোদন করলে তা কার্যত পকসো আইনের লঙ্ঘনকে স্বীকৃতি দেওয়ার সামিল হবে। রায়ে বিচারপতি জেজে মুনির বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের ক্ষেত্রে বিয়ের বৈধ বয়স নির্ধারণ করেছে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন। ধর্মের ভিত্তিতে এর কোনও ব্যতিক্রম হতে পারে না। শরিয়ত আইনে বয়ঃসন্ধিকে বিয়ের উপযুক্ত বয়স হিসেবে ধরা হলেও, তা বর্তমান আইনি কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    ধর্মীয় আইন পকসো-র ওপরে নয়

    আদালত আরও জানায়, পিসিএমএ (PCMA) এবং পকসো (POCSO)—দুই আইনই জনস্বাস্থ্য, শিশু সুরক্ষা এবং জাতীয় নীতির ভিত্তিতে প্রণীত বিশেষ আইন। তাই কোনও ব্যক্তিগত আইন, প্রথা বা ধর্মীয় রীতিনীতি এই আইনগুলির প্রয়োগে বাধা হতে পারে না। পরবর্তী সময়ে প্রণীত এবং সর্বজনীনভাবে প্রযোজ্য আইন হিসেবে পিসিএমএ-ই কার্যকর হবে। একইসঙ্গে আদালত জানায়, পুলিশ ও চাইল্ডলাইন কর্মীরা আইন অনুযায়ী বাল্যবিবাহ রুখতে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের কাজে বাধা, হামলা ও সরকারি কর্তব্যে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগে প্রাথমিকভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধের উপাদান রয়েছে। তাই তদন্ত বন্ধ করার কোনও কারণ নেই। আদালত তদন্তের ওপর জারি থাকা অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করে দেয়।

    ব্যক্তিগত আইনের ঊর্ধ্বে নাবালকদের সুরক্ষা

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন হাইকোর্টে এ বিষয়ে ভিন্নমত থাকলেও ইলাহাবাদ হাইকোর্টের এই রায় শিশু অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, ধর্ম বা ব্যক্তিগত আইনের ঊর্ধ্বে রয়েছে নাবালকদের সুরক্ষা এবং দেশের শিশু সুরক্ষা আইন। বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, নাবালিকাদের নিরাপত্তা ও বাল্যবিবাহ রোধে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে প্রশাসনকে। অনেক ক্ষেত্রেই পরিবার নাবালিকা মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে নাবালিকারা নিজেরাই পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করছে বলে অভিযোগ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব ঘটনা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় না। সন্তান প্রসবের সময় হাসপাতালে বিষয়টি ধরা পড়ে। আদালত জানায়, বাল্যবিবাহের খবর পাওয়া মাত্রই তা আটকাতে হবে। পাশাপাশি বিয়ের পরও যদি কোনও নাবালিকার ঘটনা সামনে আসে, তাহলে সংশ্লিষ্ট স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পকসো ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। তদন্তে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।

    বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন

    ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনটির নানা ধারা ২০০৬ সালে সংশোধন করা হলেও এখনও কিছু ফাঁক রয়ে গিয়েছে বলে আগে বহুবার জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই ফাঁকগুলি মেরামতের পাশাপাশি আইন প্রযুক্তকারীদের সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও বলেছে শীর্ষ আদালত। বলা হয়েছে, বাল্যবিবাহের মূল কারণগুলি চিহ্নিত করে তার সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে। ২০০৬ সালের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনের ‘মূল ভাবনা’র কথাও সময় বিশেষে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে শীর্ষ আদালতের তরফে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে অপরাধীর শাস্তি শেষ পন্থা হিসেবে অবলম্বন করতে হবে। এমনকী অপ্রাপ্তবয়স্কদের পছন্দের জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ইচ্ছাও এই আইনের পথে অন্তরায় হতে পারে না। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনের পথ রোধ করতে পারে না ব্যক্তি অধিকারের আইন। বাল্যবিবাহের পাশাপাশি নাবালিকাদের বাগ্‌দান বন্ধ করা প্রয়োজনীয়তার কথাও বলে আদালত।

  • US: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলায় উত্তপ্ত ইরান, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র

    US: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলায় উত্তপ্ত ইরান, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের (Iran) বিরুদ্ধে ফের নতুন করে সামরিক হামলা চালাল আমেরিকা (US)। বুধবার দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে হুমকি সৃষ্টি করতে পারে—এমন সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতির সমঝোতা ‘শেষ’ বলে ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর আন্তর্জাতিক নৌপথ নিরাপদ রাখতে নতুন করে এই সামরিক অভিযান শুরু করা হয়েছে।

    মার্কিন বাহিনীর কৈফিয়ত (US)

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতার ওপর ইরানের হুমকি মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে অতিরিক্ত হামলা শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড।” আরও বলা হয়, “আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ ও অসামরিক নাবিকদের ওপর সাম্প্রতিক অযৌক্তিক হামলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনছে।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন আধিকারিক জানান, বুধবারের হামলা মঙ্গলবারের তুলনায় আরও বিস্তৃত পরিসরে পরিচালিত হয়েছে (US)।এদিকে বাহরিনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানোর কথা জানিয়ে নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং কাছের কোনও নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

    কী বলছেন ট্রাম্প

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থেকে নিকটস্থ নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।” এদিকে, কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রকেট ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “একটি সতর্কবার্তা দিচ্ছি। আজ রাতেই আমরা তাদের (ইরানের) ওপর কঠোর হামলা চালাব (US)।” পরে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানে বিস্ফোরণের কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করে ট্রাম্প লেখেন, “গতকালের জাহাজে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। আবার এমন কিছু ঘটলে এর জবাব আরও ভয়াবহ হবে (Iran)।” এর আগে তিনি বলেন, “যা কিছু ঘটবে, খুব দ্রুতই ঘটবে।” একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইলে “কাজটি পুরোপুরি শেষও করে দিতে পারে।” অন্তর্বর্তী সমঝোতা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “এটি খুবই আকর্ষণীয় প্রশ্ন। আমার কাছে মনে হয়, বিষয়টি শেষ হয়ে গিয়েছে। আমি তাদের সঙ্গে আর কোনও আলোচনা করতে চাই না।” তিনি আরও বলেন, “ইরানের সঙ্গে যদি নতুন কোনও চুক্তিও করি, সেটি টিকবে কি না, আমি নিশ্চিত নই। আমি তাদের খুবই অসৎ বলে মনে করি (US)।”

    একের পর এক জায়গায় হামলা

    তবে ট্রাম্পের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি আবার পুরোপুরি যুদ্ধের রূপ নেবে বলে তিনি মনে করেন না। একই সঙ্গে স্থায়ী সমঝোতা নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা হবে কি না, সেটিও এখনও অনিশ্চিত বলেই জানান তিনি। বুধবারের হামলায় ইরানের দক্ষিণ উপকূলজুড়ে একাধিক শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী থেকে ওমান উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত বিভিন্ন এলাকায় হামলা হয়েছে। হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইরানের বৃহত্তম বন্দর বন্দর আব্বাস। সেখানে ইরানের নৌবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শহরটিতে অন্তত আটটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে, এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে (Iran)। এছাড়া উত্তরের আককালা এলাকার একটি রেলসেতুতেও হামলার খবর দিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইরানশাহর বিমানবন্দরে হামলায় ফায়ার ব্রিগেডের এক কর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা।

    প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি ইরানের

    চাবাহার, কোনারাক, সিরিক, জাস্ক, বুশেহর এবং আবু মুসা দ্বীপ-সহ একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছে। কয়েকটি বন্দরে ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্যও প্রকাশ করেছে দেশটির গণমাধ্যম। চাবাহারে একটি হাসপাতালেও আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে (US)। মার্কিন হামলার পর কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “শহিদ খামেনি আমাদের শিখিয়েছেন আমেরিকাকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, এবং মিথ্যা একদিন ধ্বংস হবেই। ইরানিদের কঠোর জবাবের জন্য অপেক্ষা করুন।” ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক ঘাঁটিগুলিতে বড় ধরনের পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। এর আগে ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচলের বিষয়ে ইরানের দায়িত্ব স্বীকার করা অন্তর্বর্তী সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করেছে ওয়াশিংটন।

    আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সংঘাতের প্রভাব

    মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালীতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার জেরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হামলার দায় ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করলেও, বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় চাপ সৃষ্টি করতে তেহরান এই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে থাকে। ইরান বুধবার দাবি করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগের হামলার জবাবে তারা বাহরিন ও কুয়েতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে আমেরিকার তরফে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি (Iran)। এদিকে, নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। বুধবার লেনদেন শেষে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি এক ডলারের বেশি বেড়ে ৭৯ দশমিক ২৮ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। তবে এপ্রিলের শেষ দিকে ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারের বেশি যে সর্বোচ্চ মূল্য ছিল, বর্তমান দর এখনও তার ঢের নীচে রয়েছে (US)।

     

  • Samik-Sukanta Reaction: বারুইপুর ‘এনকাউন্টার’ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা, বিরোধীদের অভিযোগে কড়া জবাব শমীক-সুকান্তর

    Samik-Sukanta Reaction: বারুইপুর ‘এনকাউন্টার’ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা, বিরোধীদের অভিযোগে কড়া জবাব শমীক-সুকান্তর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্তের পুলিশি গুলিতে মৃত্যুর পর রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। একদিকে পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে বিজেপি, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রকৃত মূল অভিযুক্তকে আড়াল করতেই এই ‘এনকাউন্টার’ ঘটানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

    ‘অপরাধীর ঠাঁই জেল বা মৃত্যু’— শমীকের কড়া বার্তা

    বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং কোনও অপরাধীকে রেহাই দেওয়া হবে না।’’ তাঁর বক্তব্য, খুন বা ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িতদের পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক, আইনের আওতায় আনা হবে। শমীকের আরও দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যে অপরাধচক্র ও দৌরাত্ম্য চলছিল, তার বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে। কোনও রাজনৈতিক নেতার আশ্রয় বা প্রভাব খাটিয়ে কেউ পার পাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিল বিজেপি

    তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, মূল অভিযুক্তকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যেই পুলিশের এই পদক্ষেপ। সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘তৃণমূলের বক্তব্যের আর জনসমর্থন বা বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। গত ১৫ বছরের শাসনকালে রাজ্যের মানুষ তাদের কার্যকলাপ দেখেছেন।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যেকের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে কামদুনি-সহ অতীতের একাধিক ঘটনায় তৃণমূলের ভূমিকা মানুষ ভোলেনি। তাই এই ধরনের অভিযোগকে সাধারণ মানুষ গুরুত্ব দেবে না।’’

    কামদুনি মামলার ফাইল পুনরায় খোলার দাবি

    বারুইপুর কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে কামদুনি গণধর্ষণ মামলারও উল্লেখ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘কামদুনি মামলার ফাইল নতুন করে খোলা হোক এবং সেই মামলার তদন্তের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করা হোক।’’ তাঁর অভিযোগ, সেই ঘটনায় নির্যাতিতারা পূর্ণ বিচার পাননি এবং তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকে গিয়েছে।

    নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের আশ্বাস

    শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ধর্ষণ ও নারীর বিরুদ্ধে নৃশংস অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও রকম শিথিলতা দেখানো হবে না। জনগণ সেই প্রতিশ্রুতির উপর আস্থা রেখেই সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছেন। ফলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে।’’

    পুলিশের পদক্ষেপের পাশে সুকান্ত মজুমদার

    ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার পক্ষেই সওয়াল করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তার বক্তব্য, কোনও অভিযুক্ত যদি পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায়, তাহলে পুলিশ পাল্টা গুলি চালাতেই বাধ্য। সুকান্ত বলেন, ‘‘পুলিশের দিকে গুলি ছুড়লে পুলিশ তো আর জয়নগরের মোয়া ছুড়বে না, পাল্টা গুলিই চালাবে।’’

    কী দাবি পুলিশের?

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে অপরাধস্থলে ঘটনাক্রমের পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, রাত প্রায় ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ সে আচমকা এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এরপর পুলিশের দিকেই গুলি চালায় বলে দাবি তদন্তকারীদের। পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালানো হলে অভিযুক্ত গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে পুলিশের ‘এনকাউন্টার’ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের বার্তা দিচ্ছে শাসক বিজেপি।

  • FIFA World Cup 2026: শেষ আটের লড়াই শুরু! জেনে নিন ভারতীয় সময়ে কখন কোন দল কাদের বিরুদ্ধে খেলবে?

    FIFA World Cup 2026: শেষ আটের লড়াই শুরু! জেনে নিন ভারতীয় সময়ে কখন কোন দল কাদের বিরুদ্ধে খেলবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জমে উঠল বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) নকআউট পর্বের খেলা। কাপ স্পর্শ করার থেকে মাত্র তিন কদম দূরে দাঁড়িয়ে আটটি দল। লক্ষ্য একটাই, পথটা কঠিন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখার আশায় ফুটবলপ্রেমীরা। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ (FIFA World Cup 2026) এই বছর আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোতে যুগ্মভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বছর বিশ্বকাপে মোট ৪৮টি দল অংশ নিয়েছিল। ফিফা বিশ্বকাপে নক আউট ম্যাচগুলি চলছে, কিন্তু এই তিনটি আয়োজক দেশই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছে। তিনটি দেশকেই প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে হারের মুখে পড়তে হয়েছে। শেষ ষোলো পর্ব সমাপ্ত হতেই ঠিক হয়ে গিয়েছে, কোন আট দল কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে।

    কোন কোন দল কোয়ার্টার ফাইনালে

    আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম, মরক্কো, নরওয়ে এবং সুইৎজারল্যান্ড জায়গা পেয়েছে শেষ আটে। এ ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে ইউরোপ। কোয়ার্টারে জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপের ছ’টি টিম। আফ্রিকা থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছে মরক্কো। লাতিন আমেরিকা থেকে রয়েছে গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে শেষ আটের পূর্ণাঙ্গ সূচিও। কোন দল কাদের বিরুদ্ধে খেলবে? ভারতীয় সময়ে কখন, কাদের ম্যাচ? কোন ম্যাচে বেশি নজর থাকবে? রইল বিস্তারিত সূচি।

    বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের সূচি

    কোয়ার্টার ফাইনাল ১ – ফ্রান্স বনাম মরক্কো, বস্টন, ভারতীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১.৩০ (ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শুক্রবার)

    কোয়ার্টার ফাইনাল ২ – স্পেন বনাম বেলজিয়াম, লস অ্যাঞ্জেলেস, ভারতীয় সময় শুক্রবার রাত ১২.৩০ (ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শনিবার)

    কোয়ার্টার ফাইনাল ৩ – নরওয়ে বনাম ইংল্যান্ড, মায়ামি, ভারতীয় সময় শনিবার রাত ২.৩০ (ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রবিবার)

    কোয়ার্টার ফাইনাল ৪ – আর্জেন্টিনা বনাম সুইৎজারল্যান্ড, ভারতীয় সময় রবিবার সকাল ৬.৩০

    কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে কারা

    চলতি বিশ্বকাপে দেখা গিয়েছে কোনও প্রতিপক্ষই সহজ নয়। বর্তমানে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলেও চমক দিয়েছে কেপ ভের্দে, প্যারাগুয়ে, কঙ্গোর মতো টিমগুলি। তবে শেষ আটে সবচেয়ে বেশি ফোকাসে ফ্রান্স বনাম মরক্কো (France vs Morocco) ম্যাচ। এর পাশাপাশি দুরন্ত ফর্মে থাকা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কী ভাবে জ্বলে ওঠেন নরওয়ের আর্লিং হাল্যান্ড (Erling Haaland), সে দিকেও নজর থাকবে। স্পেন ও বেলজিয়াম (Spain vs Belgium), দুই দলকেই নিজের সেরা ছন্দে দেখা যায়নি। শেষ আটে ফর্মে ফেরাই লক্ষ্য তাদের। অন্য দিকে, লিওনেল মেসির (Lionel Messi) আর্জেন্টিনা কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে তৈরি সুইৎজারল্যান্ড। তাই রাত জাগতে প্রস্তুত ফুটবলপ্রেমী কলকাতা।

     

     

     

     

     

  • West Bengal Investment: ৩০ বছর পর বাংলায় ফের মিৎসুবিশি! সেমিকন্ডাক্টর-ইভি প্রকল্পে নজর, দুই সপ্তাহের মধ্যেই জমি দেখাবে রাজ্য

    West Bengal Investment: ৩০ বছর পর বাংলায় ফের মিৎসুবিশি! সেমিকন্ডাক্টর-ইভি প্রকল্পে নজর, দুই সপ্তাহের মধ্যেই জমি দেখাবে রাজ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় নতুন শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও জোরালো হতে পারে। প্রায় তিন দশক পর ফের পশ্চিমবঙ্গে বড় বিনিয়োগের আগ্রহ দেখাল জাপানের বিশ্বখ্যাত সংস্থা মিৎসুবিশি কেমিক্যাল। সংস্থাটি রাজ্যে সেমিকন্ডাক্টর এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV) শিল্পের জন্য উৎপাদন ইউনিট গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই সম্ভাব্য প্রকল্প নিয়ে বুধবার নবান্নে রাজ্যের শিল্প ও অর্থ দফতরের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন সংস্থার শীর্ষ আধিকারিকরা।

    নবান্নে বৈঠক, জমি চিহ্নিত করার প্রস্তুতি

    বুধবার নবান্নে মিৎসুবিশি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন তেরুয়ো ফুজিতা এবং তোমাফুমি কোয়ামা। তাঁদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বৈঠকে মূলত রাজ্যে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার সম্ভাবনা, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো এবং জমি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে শিল্পমন্ত্রী জানান, সম্ভাব্য প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জাপানি প্রতিনিধিদল আবার কলকাতায় আসবে। সেই সফরে সম্ভাব্য শিল্পাঞ্চল ও জমি সরেজমিনে দেখানো হবে।

    কেন ভারতের দিকে ঝুঁকছে মিৎসুবিশি?

    বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইন পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে ভারতকে এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে দেখছে বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা। বিশেষ করে চিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎপাদন ঘাঁটি তৈরির কৌশলের অংশ হিসেবে ভারতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে মিৎসুবিশি কেমিক্যালও। সংস্থাটি সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে ব্যবহৃত আল্ট্রা-পিওর কেমিক্যাল এবং ইভি ব্যাটারির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তৈরিতে বিশ্বস্ত নাম। দেশে একের পর এক চিপ উৎপাদন প্রকল্প এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পের সম্প্রসারণের ফলে এই বাজারে নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে চায় জাপানি সংস্থাটি। সেই কারণেই ভারতে একটি বৃহৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার সম্ভাব্য গন্তব্যগুলির তালিকায় উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ।

    ১৯৯৭-এর পর ফের বাংলায় প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা

    মিৎসুবিশি কেমিক্যালের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সম্পর্ক নতুন নয়। ১৯৯৭ সালে হলদিয়ায় সংস্থাটি পিউরিফায়েড টেরেফথ্যালিক অ্যাসিড (PTA) প্ল্যান্ট স্থাপন করেছিল। এরপর দীর্ঘ সময় নতুন কোনও বড় বিনিয়োগ হয়নি। প্রায় ৩০ বছর পর আবার বাংলায় উৎপাদন কেন্দ্র গড়ার আগ্রহকে শিল্পমহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে।

    বাংলার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অসম

    তবে এই প্রকল্পের দৌড়ে পশ্চিমবঙ্গ একা নয়। সূত্রের খবর, কলকাতায় আসার আগে মিৎসুবিশির প্রতিনিধিরা অসম সরকারের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। ইতিমধ্যেই অসমে টাটা গোষ্ঠীর সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প এগোচ্ছে, ফলে সেই রাজ্যও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পবান্ধব নীতি, জমি, পরিকাঠামো, কর-সুবিধা এবং দ্রুত অনুমোদনের মতো বিষয়গুলিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে কোন রাজ্যে মিৎসুবিশি তাদের বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

    জুলাইতেই বাংলায় একাধিক বড় বিনিয়োগের ঘোষণা

    নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু মিৎসুবিশি নয়, চলতি জুলাই মাসেই আরও কয়েকটি বড় শিল্প প্রকল্পের ঘোষণা হতে চলেছে।

    • লাক্স কোজি: আগামী ১১ জুলাই ডানকুনিতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে নতুন উৎপাদন কেন্দ্রের ঘোষণা হতে পারে।
    • আমূল: ১৮ জুলাই হাওড়ার সাঁকরাইলে নতুন দই উৎপাদন ইউনিটের শিলান্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে।
    • শ্যাম স্টিল: ২৭ জুলাই বাঁকুড়ার মেজিয়ায় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ইস্পাত প্রকল্পের ঘোষণা হওয়ার কথা।

    শিল্পমহলের একাংশের মতে, যদি এই ঘোষণাগুলি বাস্তবায়নের পথে এগোয় এবং মিৎসুবিশির প্রকল্পও পশ্চিমবঙ্গে আসে, তাহলে রাজ্যের শিল্পায়ন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তা একটি বড় মোড় ঘোরানো পদক্ষেপ হতে পারে।

LinkedIn
Share