Blog

  • T20 World Cup 2026: স্নায়ুযুদ্ধে বাজিমাত বুমরার, ফিল্ডিংয়েও চমক! সঞ্জুই সেরা, বেথেলের লড়াই ব্যর্থ করে ফাইনালে ভারত

    T20 World Cup 2026: স্নায়ুযুদ্ধে বাজিমাত বুমরার, ফিল্ডিংয়েও চমক! সঞ্জুই সেরা, বেথেলের লড়াই ব্যর্থ করে ফাইনালে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘরের মাঠে ইতিহাস গড়ার পথে ভারত। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রুদ্ধশ্বাস সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল ভারতীয় ব্রিগেড। সঞ্জু স্যামসনের বিধ্বংসী ব্যাটিং, বোলারদের মাথা ঠান্ডা রাখা পারফরম্যান্স, আর দুরন্ত ফিল্ডিংয়ের ওপর ভর করেই জয় এল টিম ইন্ডিয়ার। অবিশ্বাস্য অনুভূতি, ম্যাচ শেষে বললেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। তাঁর কথায়, ‘‘ভারতের মাটিতে খেলা, এরকম অসাধারণ একটা দলকে নেতৃত্ব দেওয়া, দেশে বিশ্বকাপ খেলা, আমেদাবাদে ফাইনালে খেলতে যাচ্ছি। আমার মনে হয় দলের ছেলেদের কাছে এটা বিশেষ এক অনুভূতি।’’

    সঞ্জুর ব্যাটে রানের পাহাড়

    টসে জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। কিন্তু তাঁর সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করেন সঞ্জু স্যামসন। মাত্র ৪২ বলে ৮৯ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। ইনিংসের শুরুতে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক মিড-অফে একটি সহজ ক্যাচ ফেলে দেওয়ায় তিনি জীবন পান। স্যামসন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলের ভিত গড়েন। সঞ্জুর ক্যাচ ফেলে ভারতকে নিজে হাতে ফাইনালের দরজা খুলে দেন ইংরেজ অধিনায়ক। সঞ্জুর ইনিংস দেখে দারুণ খুশি ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার। বলেন, ‘‘দলের প্রয়োজনে যেমন খেলার দরকার ছিল সঞ্জু সেরকমটাই খেলেছে।’’ ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিয়ে সঞ্জু স্যামসনও জানান, ‘‘বড় স্কোর করাই লক্ষ্য ছিল, সেই কারণেই নিজের ফর্মকে কাজে লাগতে চেয়েছি প্রথম থেকেই।’’

    মিডল অর্ডারের ঝোড়ো ক্যামিও ইনিংস

    এদিন ইশান কিষাণের ১৮ বলে ৩৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস পাওয়ার প্লে-তে রানের গতি বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, শিবম দুবের ২৫ বলে ৪৩ রানের মারকুটে ইনিংস ইংল্যান্ডের স্পিনারদের কার্যকারিতা অনেকটাই কমিয়ে দেয়। কেবল টপ-অর্ডারই নয়, ভারতের নিচের সারির ব্যাটসম্যানরাও জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। হার্দিক পান্ডিয়া ও তিলক বর্মার দ্রুত সংগ্রহ করা ছোট ছোট ইনিংসগুলি সমানভাবে কার্যকর ছিল। শেষ তিন ওভারে তাঁরা ৪০-এর বেশি রান যোগ করে স্কোরবোর্ডে ইংল্যান্ডের জন্য বিশাল চাপ সৃষ্টি করে, যা রান তাড়ার কাজ আরও কঠিন করে তোলে। মিডল অর্ডারের ঝোড়ো ক্যামিও ইনিংসগুলোর সৌজন্যে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২৫৩/৭ রানের পাহাড় গড়ে ভারত।

    বেথেলের লড়াই

    একটা সময় মনে করা হয়েছিল হাসতে হাসতে জিতবে ভারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৭ রানে রুদ্ধশ্বাস জয়। টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে স্বস্তি অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের। ২৫৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডকে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন তরুণ তুর্কি জ্যাকব বেথেল। মাত্র ৪৮ বলে ১০৫ রানের এক অবিশ্বাস্য শতরান করেন তিনি। তাঁকে দেখে মনে হচ্ছিল, এভাবেই রান চেজ করতে হয়। ইংল্যান্ড একসময় ম্যাচ প্রায় কেড়ে নিচ্ছিল, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ম্যাচ শেষে সে কথা মেনে নিলেন ভারত অধিনায়ক। সূর্য বলেন, ‘‘আমি তো হ্যারি ব্রুককে বললাম তোমাদের হারাতে গেলে আর কত রান করতে হবে? তবে সত্যি উইকেটটা দারুণ ছিল। ওরা যেভাবে ব্যাটিং করেছে, ওদের কৃতিত্ব কেড়ে নিতে চাই না। ওরা সব সময়ই ম্যাচে ছিল। রান তাড়া করে চাপে রেখেছিল। খুব স্নায়ুর চাপে ছিলাম। কেউ যদি হৃদস্পন্দন মাপত, ১৬০-১৭৫ পেতই। তবে এটা খেলার অঙ্গ। দারুণ সেমিফাইনাল হয়েছে। ফাইনালে উঠে আমরা খুশি।’’

    বুম বুম বুমরা

    শেষ মুহূর্তে জসপ্রীত বুমরা, হার্দিক পান্ডিয়া এবং অর্শদীপ সিং দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন। এদিনের ম্যাচে প্রায় ৫০০ রান উঠেছে। সেখানে জসপ্রীত বুমরা প্রমাণ করেছেন কেন তিনি টি২০ বোলিংয়ের এক অদ্বিতীয় মানদণ্ড। যখন ওয়াংখেড়ের শিশিরে অন্যান্য বোলাররা লড়াই করছিলেন, বুমরার ১৮তম ওভারটি ছিল নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের দারুণ দৃষ্টান্ত। শেষ ১৮ বলে ৪৫ রান দরকার থাকা সত্ত্বেও তিনি মাত্র ৬ রান দেন। সূর্য বলেন,‘‘এইরকম পরিস্থিতিতে বুমরা কতটা সক্ষম বোলার নতুন করে কাউকে বলে দিতে হয় না।’’

    ফিল্ডিং ম্যাজিক

    ক্রিকেট অভিধানে একটি প্রবাদ আছে, ‘ক্যাচেজ উইন ম্যাচেজ’। বৃহস্পতি রাতে দুটো ক্যাচ পার্থক্য গড়ে দিল। এক, হ্যারি ব্রুকের ক্যাচ মিস। দ্বিতীয়, বাউন্ডারি লাইনে অক্ষর প্যাটেলের দুরন্ত ক্যাচ। এই দুটো মুহূর্ত ছাড়া দুই দলের মধ্যে বিশেষ পার্থক্য নেই। বাউন্ডারি লাইনে অক্ষর প্যাটেলের অবিশ্বাস্য কিছু ফিল্ডিং রান বাঁচানোর পাশাপাশি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। চলতি বিশ্বকাপে ভারতকে ভুগিয়েছে ফিল্ডিং। ক্যাচ পড়েছে। চার গলেছে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ ছেড়েছে ভারত। আগের ম্যাচের পরেও দলের ফিল্ডিংয়ে খুশি ছিলেন না সূর্য। সেই ফিল্ডিংই ওয়াংখেড়েতে জিতিয়েছে। অক্ষর প্যাটেলের দুর্দান্ত ক্যাচ, হার্দিক পাণ্ডিয়ার রান আউটের জেরে জিতেছে ভারত।

    দর্শকদের কুর্নিশ সূর্য-র

    খেলা শুরুর আগে থেকে যে ভাবে ওয়াংখেড়ের দর্শকেরা তাঁদের সমর্থন করেছেন তার জন্য দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভারত অধিনায়ক। বলেন, ‘‘আমরা ওয়ার্ম আপ করার সময়ই মাঠের ৭৫-৮০ শতাংশ ভরে গিয়েছিল। সেটা থেকেই বোঝা যায় সকলে ভারতের জয়ের জন্য কতটা আগ্রহী ছিলেন।’’ ওয়াংখেড়েতে যেন চাঁদের হাট বসেছিল। সস্ত্রীক ধোনি, সপরিবারে রণবীর কপূর, সপরিবারে অম্বানিরা, কে এল রাহুল, রোহিত শর্মা, অনিল কপূর – কে আসেননি ভারতের জয় দেখতে? ভারতের সাফল্য উদযাপন করতে? তাঁদের সামনেই ‘হিরো’ হয়ে যাচ্ছিলেন ২২ বছরের এক ইংরেজ তরুণ। ভারতের বিশ্বসেরা বোলিংকে নিয়ে ছিনিমিনি খেললেন বেথেল। বরুণ চক্রবর্তী ৪ ওভারে দিলেন ৬৪ রান। অর্শদীপ ৪ ওভারে ৫১। শিবম দুবে ১ ওভারে ২২। শেষে সেই ত্রাতা বুমরা। ফের একবার ১৪০ কোটি ভারতীয়কে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করলেন বুম বুম বুমরা…।

  • RN Ravi: রাজ্যপাল পদে ইস্তফা আনন্দ বোসের, অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে তামিলনাড়ুর রাজ্যপালকে

    RN Ravi: রাজ্যপাল পদে ইস্তফা আনন্দ বোসের, অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে তামিলনাড়ুর রাজ্যপালকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটমুখী বাংলায় আচমকাই পদত্যাগ করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। আজ, বৃহস্পতিবারই ইস্তফা দেন আনন্দ বোস। এ রাজ্যের (West Bengal) অন্তর্বর্তী রাজ্যপালের দায়িত্ব দেওয়া হল তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আরএন রবিকে (RN Ravi)। তামিলনাড়ুর পাশাপাশি বাংলার দায়িত্বও সামলাবেন তিনি। রাজ্যপাল পদে আসীন হওয়ার আগে রবি ছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এবং আইবিতে। এ রাজ্যে দুয়ারে বিধানসভা নির্বাচন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের আগে প্রাক্তন আইপিএস অফিসারকে অন্তর্বর্তী রাজ্যপালের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।

    মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া (RN Ravi)

    ঘটনায় যারপরনাই বিস্ময় এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, এর কারণ তাঁর জানা নেই। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগাম কোনও পরামর্শ ছাড়াই আরএন রবির নয়া রাজ্যপাল হিসেবে আসন্ন নিয়োগের বিষয়ে জানিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিত, এই পরিবর্তনটি হয়তো নির্বাচনী স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকারকে তিনি এমন একটি সরকার হিসেবে বর্ণনা করেন, যা ক্রমশ পদত্যাগের মাধ্যমে চিহ্নিত হয়ে উঠছে।

    বোস-বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক

    বোসের সঙ্গে বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সম্পর্ক ছিল অম্ল-মধুর। দায়িত্ব নেওয়ার পরে পরেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নানা বিষয়ে মনান্তর হয়েছে রাজ্যপালের। পরে আবার মিটমাটও হয়ে গিয়েছে। ওদিকে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রবির সঙ্গে সে রাজ্যের (RN Ravi) স্টালিন সরকারের ‘সংঘাতে’র খবরও প্রায়ই শিরোনাম হয়েছে সংবাদ মাধ্যমের। গত বছর স্বাধীনতা দিবসে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রবির চা-চক্রে অংশ নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী স্টালিন। এ নিয়ে রীতিমতো বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছিলেন তিনি। রাজ্যপালের নাম না করে ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল যিনি প্রতিনিয়ত তামিলনাড়ুর জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজ করছেন, তাঁর আমন্ত্রণে সাড়া দেবেন না মুখ্যমন্ত্রী। চেন্নাইয়ের রাজভবনে রাজ্যের অন্য মন্ত্রীরাও যাবেন না বলে জানানো হয়েছিল সেই বিজ্ঞপ্তিতে। তারপর ২০২৩ সাল থেকে রাজ্যপালের চা চক্র এড়িয়েই চলছে তামিলনাড়ুর স্টালিন সরকার।

    দায়িত্ব আরএন রবির হাতে

    কয়েক বছর আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে রাজ্যপালকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছিল তামিলনাড়ু সরকার। এর পরে বিধানসভায় পাশ হওয়া ১০টি বিল রাজ্যপাল আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও করেছিল স্টালিন সরকার। শেষমেশ সুপ্রিম নির্দেশে ২০২৫ সালের শুরুতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে বিলগুলিতে স্বাক্ষর করেছিলেন রবি। তারপরেও রবির সঙ্গে স্টালিন সরকারের সম্পর্ক আক্ষরিক অর্থেই অহি-নকুলের। চলতি বছরের শুরুতে তামিলনাড়ু বিধানসভায় জাতীয় সঙ্গীত অবমাননার অভিযোগও তোলেন রাজ্যপাল। সরকারের লিখিত ভাষণ পাঠ না করেই অধিবেশন ছেড়ে চলেও গিয়েছিলেন (West Bengal) রবি। এহেন রবির ওপরই বর্তেছে বঙ্গের রাজ্যপালের দায়িত্বও, তাও আবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে আগে (RN Ravi)।

    এখন দেখার, কোথাকার জল কোথায় গড়ায়!

     

  • Bullet Train: ২০৩৯-৪০ সালের মধ্যে ভারতে ৭,০০০ কিমি উচ্চ-গতির বুলেট ট্রেন ও আরও ২১,০০০ কিমি সম্প্রসারণের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা স্থির

    Bullet Train: ২০৩৯-৪০ সালের মধ্যে ভারতে ৭,০০০ কিমি উচ্চ-গতির বুলেট ট্রেন ও আরও ২১,০০০ কিমি সম্প্রসারণের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা স্থির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের হাই-স্পিড রেল (High-Speed Rail) নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য একটি উচ্চাভিলাষী রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ২০৩৯-৪০ সালের মধ্যে দেশে ৭,০০০ কিলোমিটার উচ্চ গতির বুলেট ট্রেন করিডর (Bullet Train) তৈরি করা হবে। সেই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী রেল করিডর (High Speed Rail Corridors) নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে ২১,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

    নতুন করিডর অনুমোদন (Bullet Train)

    কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যেই ৪,০০০ কিলোমিটার বিস্তৃত ৭টি নতুন উচ্চ-গতির যাত্রী করিডর (High Speed Rail Corridors) নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন। এই প্রকল্পের জন্য আনুমানিক ১৬ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে এবং যা আগামী ১০ বছরের মধ্যে এটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। তবে কাজের বাৎসরিক লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে তিনি আরও জানিয়েছেন, “এই লক্ষ্য পূরণের জন্য ভারতীয় রেলকে প্রতি বছর প্রায় ৫০০ কিলোমিটার উচ্চ-গতির রেললাইন চালু করতে হবে। এটি কার্যত প্রতি বছর একটি করে ‘মুম্বই-আহমেদাবাদ’ বুলেট ট্রেন (Bullet Train) প্রকল্পের সমান কাজ করার মতো কাজ হবে।”

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উচ্চগতি সম্পন্ন বুলেট ট্রেন সম্পর্কে আরও বলেছেন, “আমরা এই প্রকল্পকে প্রথমে ৩,০০০ কিলোমিটার করিডর (High Speed Rail Corridors) অনুমোদন করব, এরপর তাকে ৭০০০ কিমিতে, তারপর ১৫০০০ কিমি এবং তাকেই আরও ২১০০০ কিমি পর্যন্ত পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসব। সবটাই ২০৩৯-৪০ সালের মধ্যে মোট নেটওয়ার্ক (Bullet Train) গড়ে তোলা হবে।” ভারতীয় রেলের জন্য এই অভূতপূর্ব সাফল্য সত্যই প্রগতির এক নতুন অধ্যায়।

    মুম্বই-আহমেদাবাদ প্রকল্প প্রেরণা

    ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন (Bullet Train) প্রকল্প মুম্বই-আহমেদাবাদ করিডোর থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পরবর্তী প্রকল্পগুলো (High Speed Rail Corridors) দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। সাধারণ দৃষ্টিতে ১৬০ কিমি প্রতি ঘণ্টার বেশি গতিতে ট্রেন চালানো প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত জটিল। তবে ভারত সাফল্যের সঙ্গে এই ব্যবস্থাকে আয়ত্ত করছে। এই উচ্চ-গতির রেল নেটওয়ার্ক শুধুমাত্র যাতায়াত ব্যবস্থায় বিপ্লব আনবে না, বরং ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী করতে এবং লজিস্টিকস ও পরিকাঠামো খাতের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।

  • RSS: “সনাতন ধর্ম কেবল একটি ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, বরং এটি একটি জীবনধারা,” বললেন মোহন ভাগবত

    RSS: “সনাতন ধর্ম কেবল একটি ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, বরং এটি একটি জীবনধারা,” বললেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) জোর দিয়ে বলেছেন যে, সনাতন ধর্মের উন্নতি ও পুনরুত্থানের যে নিরন্তর প্রক্রিয়া চলছে। সংঘ তার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বলেন, “সনাতন ধর্ম কেবল একটি ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, বরং এটি একটি জীবনধারা যা বিশ্বজুড়ে মানবতাকে পথ দেখায়। সংঘকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে বরং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখুন যাতে এটি আরও ভালোভাবে বোঝা যায়।”

    সনাতন ও ভারত (RSS)

    মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) উল্লেখ করে বলেন, “ভারত ও সনাতন ধর্ম একে অপরের পরিপূরক। ভারতের অস্তিত্ব ও পরিচিতি সনাতন ধর্মের আদর্শের ওপর ভিত্তি করেই টিকে আছে। ভারত জাগরিত হলে সনাতন ধর্মও জাগরিত হয়। সনাতন জাগ্রহ হলে দেশ এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।” রাজস্থানে সংঘের (RSS) একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখলেন মোহন ভাগবত।

    সংঘের ভূমিকা

    সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “সংঘ (RSS) কোনো নতুন মতাদর্শ প্রচার করছে না, বরং সনাতন ধর্মের প্রাচীন ও শাশ্বত মূল্যবোধগুলোকেই সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে।” তিনি তাই স্বয়ংসেবকদের আহ্বান করে বলেন, “তারা ব্যক্তি চরিত্রের উন্নয়নের মাধ্যমে সমাজ গঠনে ব্রতী হন। সমাজ গঠন আর পুনঃনির্মাণ হলে ভারত রাষ্ট্রও সঙ্ঘবদ্ধ হবে।”

    তিনি এই প্রসঙ্গে আরও বলেন, “বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা চলছে, তার সমাধান কেবল সনাতন ধর্মের প্রদর্শিত ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ অর্থাৎ বিশ্বই এক পরিবার দর্শনের মাধ্যমেই সম্ভব। আরএসএস এই একতার ভাবধারাকে শক্তিশালী করতেই নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।”

    সাংস্কৃতিক জাগরণ

    ভাগবত (Mohan Bhagwat) আধ্যাত্মিক এবং সাংস্কৃতিক জাগরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি মনে করেন, যখন প্রতিটি ভারতীয় নিজের শিকড় ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে, তখনই ভারত প্রকৃত অর্থে ‘বিশ্বগুরু’র আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারবে।

    ভারতের সাংস্কৃতিক সংহতি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং দাদা গুরু ঐতিহ্যের অবদান শীর্ষক একটি জাতীয় স্তরের সিস্পোজিয়াম ৭ এবং ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। যোধপুর বিশ্ববিদ্যালয় রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয় প্রাকৃত ভারতী ইন্সটিউট এবং সামাজিক সাংস্কৃতিক অধ্যায়ন কেন্দ্র সহ বেশ কয়েকটি নামীদামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জ্ঞান অংশীদার হিসেবে অংশগ্রহণ করবে। বিভিন্ন আচার্য সন্ন্যাসী এবং বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থাকবেন। এখানে সরসংঘ (RSS) চালক বিশেষ ভাষণ রাখবেন বলে জানা গিয়েছে।

  • Daily Horoscope 06 March 2026: চাকরিতে সুখবর আসতে পারে এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 06 March 2026: চাকরিতে সুখবর আসতে পারে এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) কোনও ভয় আপনাকে হতবুদ্ধি করে ফেলতে পারে।

    ২) আবেগের বশে কাজ করলে বিপদ হতে পারে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    বৃষ

    ১) প্রেমে মাত্রাছাড়া আবেগ ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

    ২) কর্মক্ষেত্রে জটিলতা কাটতে পারে।

    ৩) সতর্ক থাকবেন সব বিষয়ে।

    মিথুন

    ১) বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।

    ২) প্রেমের ক্ষেত্রে দিনটি শুভ।

    ৩) বাণীতে সংযম জরুরি।

    কর্কট

    ১) অতিরিক্ত পরিশ্রমে শারীরিক দুর্বলতার যোগ।

    ২) মাত্রাছাড়া রাগ আপনার ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

    ৩) সবাইকে ভালোভাবে কথা বলুন।

    সিংহ

    ১) ভ্রমণের পক্ষে দিনটি শুভ নয়।

    ২) মা-বাবার সঙ্গে বিরোধে মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে।

    ৩) প্রতিকূল কাটবে দিনটি।

    কন্যা

    ১) কুটিরশিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অগ্রগতি হতে পারে।

    ২) আপনার রসিকতা অপরের বিপদ ডেকে আনতে পারে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    তুলা

    ১) দুপুর নাগাদ ব্যবসা ভালো হবে।

    ২) ইচ্ছাপূরণ হওয়ার দিন।

    ৩) দিনটি মোটামুটি কাটবে।

    বৃশ্চিক

    ১) ব্যবসায় ক্ষতি হতে পারে।

    ২) বাড়তি খরচের জন্য সংসারে বিবাদ হতে পারে।

    ৩) আশাপূরণ।

    ধনু

    ১) চাকরিতে সুখবর আসতে পারে।

    ২) রক্তচাপ নিয়ে চিন্তা বাড়তে পারে।

    ৩) ধৈর্য ধরতে হবে।

    মকর

    ১) শরীর খারাপ থাকায় কর্মে ক্ষতির আশঙ্কা।

    ২) আপনার সহিষ্ণু স্বভাবের জন্য সংসারে শান্তি রক্ষা পাবে।

    ৩) গুরুজনের পরামর্শ মেনে চলুন।

    কুম্ভ

    ১) কাজের চাপে সংসারে সময় না দেওয়ায় বিবাদ হতে পারে।

    ২) ব্যবসায় কিছু পাওনা আদায় হতে পারে।

    ৩) আশা পূরণ।

    মীন

    ১) সন্তান-স্থান শুভ।

    ২) আজ কোনও সুসংবাদ পাওয়ার জন্য মন ব্যাকুল থাকবে।

    ৩) ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটবে দিনটি।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Ramakrishna 597: “বালিশ কোলে করিয়া যেন বাৎসল্যরসে আপ্লুত হইয়া ছেলেকে দুধ খাওয়াইতেছেন!”

    Ramakrishna 597: “বালিশ কোলে করিয়া যেন বাৎসল্যরসে আপ্লুত হইয়া ছেলেকে দুধ খাওয়াইতেছেন!”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    দশম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৩শে অক্টোবর
    ঠাকুরের পরমহংস অবস্থা—চতুর্দিকে আনন্দের কোয়াসাদর্শন —
    ভগবতীর রূপদর্শন—যেন বলছে, ‘লাগ্‌ ভেলকি’

    বেলা ৩টা। ঠাকুরের (Ramakrishna) কাছে ২/১টি ভক্ত বসিয়া আছেন। তিনি ‘ডাক্তার কখন আসিবে’ আর ‘কটা বেজেছে’ বালকের ন্যায় অধৈর্য হইয়া বারবার জিজ্ঞাসা করিতেছেন। ডাক্তার আজ সন্ধ্যার পরে আসিবেন।

    হঠাৎ ঠাকুরের বালকের ন্যায় অবস্থা হইয়াছে। বালিশ কোলে করিয়া যেন বাৎসল্যরসে আপ্লুত হইয়া ছেলেকে দুধ খাওয়াইতেছেন! ভাবাবিষ্ট বালকের ন্যায় হাসিতেছেন (Kathamrita)— আর-একরকম করিয়া কাপড় পরিতেছেন!

    মণি প্রভৃতি অবাক্‌ হইয়া দেখিতেছেন।

    কিয়ৎক্ষণ পরে ভাব উপশম হইল। ঠাকুরের খাবার সময় হইয়াছে, তিনি একটু সুজি খাইলেন।

    মণির কাছে নিভৃতে অতি গুহ্যকথা বলিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— এতক্ষণ ভাবাবস্থায় কি দেখছিলাম জান?—তিন-চার ক্রোশ ব্যাপী সিওড়ে যাবার রাস্তার মাঠ। সেই মাঠে আমি একাকী!—সেই যে পনের-ষোল বছরের ছোকরার মতো পরমহংস বটতলায় দেখেছিলাম, আবার ঠিক সেইরকম দেখলাম!

    “চতুর্দিকে আনন্দের কোয়াসা!—তারই ভিতর থেকে ১৩/১৪ বছরের একটি ছেলে উঠলো মুখটি দেখা যাচ্ছে! পূর্ণর রূপ। দুইজনেই দিগম্বর!—তারপর আনন্দে মাঠে দুইজনে দৌড়াদৌড়ি আর খেলা!

    “দৌড়াদৌড়ি করে পূর্ণর জলতৃষ্ণা পেল (Kathamrita)। সে একটা পাত্রে করে জল খেলে। জল খেয়ে আমায় দিতে আসে। আমি বললাম, ‘ভাই, তোর এঁটো খেতে পারব না।’ তখন সে হাসতে হাসতে গিয়ে গ্লাসটি ধুয়ে আর-একগ্লাস জল এনে দিলে।”

    ‘ভয়ঙ্করা কালকামিনী’ — দেখাচ্ছেন, সব ভেলকি 

    ঠাকুর আবার সমাধিস্থ। কিয়ৎক্ষণ পরে প্রকৃতিস্থ হইয়া আবার মণির সহিত কথা কহিতেছেন —

    “আবার অবস্থা বদলাচ্ছে! — প্রসাদ খাওয়া উঠে গেল! সত্য-মিথ্যা এক হয়ে যাচ্ছে! আবার কি দেখছিলাম জান? ঈশ্বরীয় রূপ! ভগবতী মূর্তি — পেটের ভিতর ছেলে — তাকে বার করে আবার গিলে ফেলছে! — ভিতরে যতটা যাচ্ছে, ততটা শূন্য হয়! আমায় দেখাচ্ছে যে, সব শূন্য!

    “যেন বলছে, লাগ্‌! লাগ্‌! লাগ্‌ ভেলকি! লাগ!”

    মণি ঠাকুরের কথা ভাবিতেছেন! ‘বাজিকরই সত্য আর সব মিথ্যা।’

    সিদ্ধাই ভাল নয় — নিচু ঘরের সিদ্ধাই

    শ্রীরামকৃষ্ণ — আচ্ছা, তখন পূর্ণকে আকর্ষণ কল্লাম, তা হল না কেন? এইতে একটু বিশ্বাস কমে যাচ্ছে!

  • Nitish Kumar: রাজ্যসভাতেই যাচ্ছেন নীতীশ কুমার! সকালে পোস্ট, দুপুরে মনোনয়ন জমা দিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী

    Nitish Kumar: রাজ্যসভাতেই যাচ্ছেন নীতীশ কুমার! সকালে পোস্ট, দুপুরে মনোনয়ন জমা দিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যসভাতেই যাচ্ছেন নীতীশ কুমার (Nitish Kumar)। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। তাঁর সঙ্গেই মনোনয়ন জমা দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। বিধানসভার সচিব খ্যাতি সিং-এর দফতরে মনোনয়নপত্র জমা দেন তাঁরা। সেখানে হাজির ছিলেন বিহারের এনডিএ মন্ত্রিসভার দুই উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরি এবং বিজয়কুমার সিং।

    রাজ্যসভায় যাওয়ার ইচ্ছা

    বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে নিজেই রাজ্যসভায় যাওয়ার কথা জানান নীতীশ কুমার। ওই পোস্টে নীতীশ নিজের সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে লিখেছেন, “সংসদীয় রাজনীতি শুরু করার পর বিহারের দুই কক্ষেরই সদস্য হওয়ার বাসনা ছিল আমার। একই ভাবে সংসদের দুই কক্ষের সদস্যও হতে চেয়েছিলাম আমি। সেই কারণে, এই নির্বাচনে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হতে চাইছি।” প্রসঙ্গত, এর আগে লোকসভা, বিহারের আইনসভার উচ্চকক্ষ বিধান পরিষদ এবং নিম্নকক্ষ বিধানসভার সদস্য হিসেবে একাধিক বার নির্বাচিত হলেও আগে কখনও রাজ্যসভায় যাননি নীতীশ।

    নতুন সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন

    গত নভেম্বর মাসেই দশম বারের জন্য বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন নীতীশ। মাঝের কিছু সময় বাদ দিলে ২০ বছর পাটনার কুর্সিতে ছিলেন তিনিই। সমাজমাধ্যমের পোস্টে সে কথা উল্লেখ করে নীতীশ লেখেন, “দুই দশকেরও বেশি আপনারা ধারাবাহিক ভাবে আমার উপর ভরসা এবং বিশ্বাস রেখেছেন। এই শক্তির জোরে আমি বিহারের সেবা করতে পেরেছি।” তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে যিনিই বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হোন, তাঁর প্রতি সমর্থন থাকবে বলে জানিয়েছেন নীতীশ। ওই পোস্টেই তিনি বিহারবাসীর উদ্দেশে লিখেছেন, “আপনাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে। এবং উন্নত বিহার গড়ে তোলার জন্য এক সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আমার দায়বদ্ধতা একই রকমের থাকবে।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “নতুন সরকারের প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন থাকবে।”

    নীতীশের জয় নিশ্চিত

    আগামী ১৬ মার্চ বিহারের পাঁচটি-সহ ১০ রাজ্যের ৩৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচন হবে। একই দিনে নির্বাচন হবে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি রাজ্যসভা আসনেও। তবে প্রতিটি আসনের জন্য এক জনই মনোনয়ন জমা দিলে নির্বাচনের প্রয়োজন পড়বে না। বিধায়কসংখ্যার নিরিখে (বিজেপির ৮৯ জন বিধায়ক, জেডিইউ-র ৮৫) দু’টি আসনে বিজেপির, আর দু’টি আসনে জেডিইউ-র জয় নিশ্চিত। কারণ বিহারের ৪১ জন বিধায়কের প্রথম পছন্দের ভোট পেলেই রাজ্যসভায় যেতে পারবেন কেউ। তবে পঞ্চম আসনটি জিততে গেলে এনডিএ শিবিরকে আরও তিন বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। বিহারের বিরোধী দলগুলি (কংগ্রেস, আরজেডি, বাম) যদি আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মিম এবং মায়াবতীর বিএসপি-র সঙ্গে বোঝাপড়া করতে পারে, তা হলে পঞ্চম আসনটি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র অনুকূলে যেতে পারে।

    পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে

    বিহারের দীর্ঘতম সময়ের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ জাতীয় রাজনীতিতে চলে গেলে বিহারে মুখ্যমন্ত্রীর পদে কে বসবেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। এ ক্ষেত্রে বিধায়ক সংখ্যার হিসেবে এগিয়ে থাকা বিজেপি প্রথম বার মুখ্যমন্ত্রী পদ পেতে চলেছে বলে আঁচ মিলেছে। সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজেপির যে নেতাদের নাম উঠে আসছে তাঁদের মধ্যে পয়লা নম্বরে রয়েছেন, বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী সম্রাট চৌধরি। উপমুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন নীতীশের পুত্র নিশান্ত কুমার। নীতীশ-পুত্রের সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদানের বিষয়টি দু’দিন আগেই জানিয়েছেন দলের এক প্রবীণ নেতা। শারওয়ান কুমার নামের ওই জেডিইউ নেতা পিটিআই-কে জানান, দু’-এক দিনের মধ্যেই সক্রিয় রাজনীতিতে নিশান্তের আনুষ্ঠানিক যোগদান সম্পন্ন হবে। দলের তরফে তাঁকে বড় দায়িত্বও দেওয়া হবে। তবে ‘বড় দায়িত্ব’ বলতে তিনি ঠিক কী বোঝাচ্ছেন, তা স্পষ্ট হয়নি।

  • Iran-Israel Conflict: যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার বদলা! মার্কিন তেলবাহী জাহাজে মিসাইল ছুড়ল ইরান

    Iran-Israel Conflict: যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার বদলা! মার্কিন তেলবাহী জাহাজে মিসাইল ছুড়ল ইরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টর্পেডো দেগে ইরানের (Iran-Israel Conflict) যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়েছে আমেরিকা। এর বদলা নেবে বলে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। বুধবারের ওই যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরান আমেরিকার একটি তেলবাহী জাহাজে (Attack On US Tanker) ক্ষেপণাস্ত্র দেগেছে বলে দাবি। পারস্য উপসাগরের উত্তরাংশে আমেরিকার একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরানের ‘রেভোলিউশনারি গার্ড’। ইরানের দাবি, হামলার পরে আগুন ধরে গিয়েছে ওই জাহাজে। তবে এই হামলার বিষয়ে আমেরিকার তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। জানা যায়নি ওই ট্যাঙ্কারে কত জন ছিলেন, সেটিতে করে কী ধরনের পণ্য নিয়ে আসা হচ্ছিল।

    ইরানি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন হামলা

    ভারত মহাসাগরে বুধবার রাতে মার্কিন একটি সাবমেরিন ইরানের ফ্রিগেট আইরিশ ডেনা (IRIS Dena)-কে টর্পেডো হামলায় ডুবিয়ে দেয় বলে খবর। জাহাজটি ভারতের বিশাখাপত্তনম থেকে নৌ মহড়া শেষে ইরানে ফিরছিল। শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই হামলা হয়। হামলায় অন্তত ৮৭ জন ইরানি নাবিক নিহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া ৬০ জনের বেশি নাবিক এখনও নিখোঁজ। জাহাজটির কমান্ডারসহ প্রায় ৩২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, টর্পেডো আঘাতের পর জাহাজটির পেছনের অংশে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি ডুবে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন নৌবাহিনী তাদের শক্তিশালী মার্ক-৪৮ (Mark-48) টর্পেডো ব্যবহার করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনও মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডো ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের জাহাজ ডুবিয়েছে।

    “কঠিন মূল্য দিতে হবে”: ইরানের হুঁশিয়ারি

    ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই হামলাকে “নির্মম নৌ সন্ত্রাস” বলে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “ভারতের নৌবাহিনীর অতিথি হিসেবে থাকা ফ্রিগেট ডেনা আন্তর্জাতিক জলসীমায় কোনও সতর্কতা ছাড়াই আক্রমণের শিকার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই ঘটনার জন্য কঠিন মূল্য দেবে।”

    পারস্য উপসাগরে পাল্টা হামলার দাবি

    এর কয়েক ঘণ্টা পরেই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) দাবি করে, তারা পারস্য উপসাগরে একটি মার্কিন তেলবাহী জাহাজে (Attack On US Tanker) হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি তারা জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ রুট হওয়ায় এই ঘোষণায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলা এবং ইরানের পাল্টা ড্রোন-মিসাইল আক্রমণে গত কয়েক দিনে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ইরানে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে খবর। এছাড়া মার্কিন সেনাবাহিনীর ৬ জন সদস্যও নিহত হয়েছে। ইরান ইতিমধ্যে ইজরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি, দূতাবাস এবং জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

    নিখোঁজ ভারতীয় নাবিক

    মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ওমানের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় রাজস্থানের নাগৌর জেলার এক ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ হয়ে গেছেন। পরিবারের দাবি, হামলার পর থেকেই তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ নাবিকের নাম দলীপ সিং। তিনি রাজস্থানের নাগৌর জেলার খিনওয়াতানা গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২২ জানুয়ারি ‘স্কাইলাইট’ সংস্থার পরিচালিত ওই তেলবাহী ট্যাঙ্কারে কাজে যোগ দেন তিনি। ১ মার্চ সকালে ওমানের খাসাব বন্দরে নোঙর করা অবস্থায় জাহাজটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। বিস্ফোরণে জাহাজের সামনের অংশে বড়সড় ক্ষতি হয়। সেই সময় দলীপ সিং জাহাজের ফরোয়ার্ড সেকশনে কর্মরত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিহারের বাসিন্দা আশিস কুমার। হামলার পর আশিসের দেহ উদ্ধার করা হলেও দলীপ সিং এখনও নিখোঁজ বলে জানিয়েছেন তাঁর ভাই দেবেন্দ্র সিং।

    এক হাজারের বেশি ভারতীয় নাবিক আটকে

    দেবেন্দ্র জানান, জাহাজের অধিকাংশ নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হলেও আশিস কুমার এবং দলীপ সিং-সহ তিনজন নিখোঁজ হয়ে যান। ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষবার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল দলীপের। জানা গেছে, নাগৌরেরই আর এক নাবিক সুনীল কুমার ওই জাহাজে কর্মরত ছিলেন। তিনি দলীপ সিংয়ের ডিউটি শুরুর আগেই নিজের শিফট শেষ করেছিলেন। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও আশপাশের জলসীমায় ৩৭টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে প্রায় এক হাজারের বেশি ভারতীয় নাবিক আটকে রয়েছেন। হরমুজ প্রণালীতে সংঘাতের জেরে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

    ভারতীয় নাবিকদের পাশে কেন্দ্র

    সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে কর্মরত অন্তত তিনজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের জাহাজ পরিবহণ মন্ত্রক একটি বিশেষ ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন করেছে। এই দল ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং তাদের পরিবারের পাশে থাকার কাজ করবে। বিদেশ মন্ত্রকও একটি কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিক বসবাস করেন এবং তাঁদের নিরাপত্তা সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরান ইজরায়েল, মার্কিন ঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরিন, কুয়েত, জর্ডন ও সৌদি আরবসহ একাধিক উপসাগরীয় দেশে হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

  • Cooch Behar: কোচবিহারে বিজেপির রথযাত্রা ঘিরে তুমুল উত্তেজনা, খাগড়াবাড়িতে রথ ভাঙচুর! কাঠগড়ায় তৃণমূল

    Cooch Behar: কোচবিহারে বিজেপির রথযাত্রা ঘিরে তুমুল উত্তেজনা, খাগড়াবাড়িতে রথ ভাঙচুর! কাঠগড়ায় তৃণমূল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কোচবিহারের (Cooch Behar) খাগড়াবাড়ি এলাকা। বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা বা রথযাত্রাকে (BJP Ratha Yatra) কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, বুধবার রাতে তাদের রথ লক্ষ্য করে ভাঙচুর চালিয়েছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা।

    স্পর্শকাতর এলাকা (Cooch Behar)!

    বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় তৃণমূল নেতা সায়নদীপ গোস্বামী ও তাঁর অনুগামীরা বুধবার রাতে অতর্কিতে রথের (BJP Ratha Yatra) ওপর হামলা চালায়। উল্লেখ্য, খাগড়াবাড়ির (Cooch Behar) যে অংশে এই উত্তেজনা ছড়িয়েছে, সেখানেই কিছুদিন আগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল। এলাকাটি অত্যন্ত রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর, তাই বিরোধীদের কাজকর্মকে বারবার টার্গেট করে গণতান্ত্রিক অধিকারকে নস্যাৎ করছে বলে বিজেপির অভিযোগ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই খাগড়াবাড়ি এলাকায় পরিবেশ থমথমে। রাস্তার দু’ধারে লাঠি ও বাঁশ হাতে দু’পক্ষের প্রচুর কর্মী-সমর্থক জড়ো হয়েছে। যে কোনও সময় বড়সড় সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

    রাজনৈতিক চাপানউতোর

    বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, “তৃণমূল ধারাবাহিকভাবে কোচবিহার (Cooch Behar) এই অঞ্চলে সন্ত্রাস চালানোর চেষ্টা করছে। অনুপ্রবেশকারীদের মদত নিয়ে তারা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে।” অন্যদিকে, তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, “কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ রয়েছে, তারই প্রতিফলন হতে পারে এই ঘটনা।” তবে প্রশাসনিক ভাবে এলাকার আইন শৃঙ্খলা যে বিঘ্নিত হয়েছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। ভোটের মুখে কোচবিহারের এই অশান্তি প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। পুলিশ বর্তমানে কড়া নজরদারিতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতিন প্রসাদের শীতলকুচি (Cooch Behar) থেকে এই রথযাত্রার সূচনা করার কথা ছিল। সেই উদ্দেশ্যে রথটি কোচবিহারের জেলা কার্যালয় থেকে পুণ্ডিবাড়ির দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় মহিষবাথান এলাকায় আক্রমণের মুখে পড়ে। স্থানীয়দের অবশ্য অভিযোগ, একটি বোলেরো গাড়িতে আসা ৭-৮ জন দুষ্কৃতী হঠাৎ রথটি থামিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। বিজেপির দাবি, স্থানীয় তৃণমূল যুব নেতা সায়নদীপ গোস্বামীর নেতৃত্বেই এই হামলা চালানো হয়েছে। অবিলম্বে এই তৃণমূল নেতার গ্রেফতারি চান।

    বিজেপির প্রতিক্রিয়া

    ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপি বিধায়ক সুকুমার রায়ের নেতৃত্বে কর্মীরা পুণ্ডিবাড়ি মোড়ে (Cooch Behar) পথ অবরোধ করে। সুকুমারবাবু বলেন, “তৃণমূল কাপুরুষের মতো অন্ধকারে হামলা চালিয়েছে। ক্ষমতা থাকলে সামনে এসে লড়াই করুক।” ঘটনার পর নিরাপত্তার খাতিরে ক্ষতিগ্রস্ত রথটি পুনরায় জেলা কার্যালয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্ধারিত সূচি মেনেই রথ শীতলকুচি যাবে।

    তৃণমূলের পাল্টা দাবি

    হামলার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোচবিহার (Cooch Behar) জেলা তৃণমূল সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক। তাঁর দাবি, “স্রেফ প্রচারের আলোয় থাকার জন্যই বিজেপি নিজেরা গাড়ি ভাঙচুর করে তৃণমূলের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ থাকতে পারে, যার দায় তৃণমূলের নয়।”

    দু’পক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা

    ঘটনার খবর পেয়ে পুণ্ডিবাড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূলের পক্ষ থেকেও পাল্টা বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়ায় দু’পক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসন পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। গত ১ মার্চ থেকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন কোচবিহার (Cooch Behar) থেকে পরিবর্তন যাত্রার (BJP Ratha Yatra) সূচনা করেছেন। রাজ্যে একসঙ্গে ৯টি জায়গা থেকে এই রথ বের হয়েছে। কোচবিহারে এই রকম ভাবে রথযাত্রার উপর হামলার ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছে রাজ্যজুড়ে।

  • India’s NOTAM: ভীত পাকিস্তান! দক্ষিণ সীমান্তে বিমানবাহিনীর মহড়া, নোটাম জারি করল ভারত

    India’s NOTAM: ভীত পাকিস্তান! দক্ষিণ সীমান্তে বিমানবাহিনীর মহড়া, নোটাম জারি করল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আঞ্চলিক উত্তেজনার আবহে পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন দক্ষিণ সেক্টরে বিমানবাহিনীর মহড়ার জন্য নোটাম (Notice to Airmen) জারি করেছে ভারত। আজ ৫ মার্চ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত নির্দিষ্ট আকাশসীমা সংরক্ষিত থাকবে বলে সরকারি বিমান চলাচল সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, এটি ভারতীয় বিমানবাহিনীর নির্ধারিত মহড়ার অংশ এবং অসামরিক বিমান চলাচলকে নিরাপদ রাখতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই এই নোটাম (India’s NOTAM) জারি করা হয়েছে। সামরিক মহড়ার আগে নির্দিষ্ট আকাশসীমা সংরক্ষণের এই প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত রীতি।

    অতিরিক্ত নজরদারি

    নিরাপত্তা সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতের এই পদক্ষেপকে ঘিরে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ সীমান্ত, অর্থাৎ রাজস্থান–সিন্ধ সংলগ্ন অঞ্চলে মহড়া ঘিরে ইসলামাবাদ অতিরিক্ত নজরদারি শুরু করেছে বলে খবর। পাকিস্তান বর্তমানে আফগানিস্তান ও ইরান সীমান্তে বাড়তি নজরদারি চালাচ্ছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার জেরে আরব সাগরেও নৌ-সতর্কতা বজায় রাখতে হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের নতুন নোটাম জারির পর পাকিস্তান অতিরিক্ত বিমান ও স্থলসেনা মোতায়েন করেছে বলে নিরাপত্তা মহলের দাবি। এক শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকের কথায়, একাধিক ফ্রন্টে চাপ সামলাতে গিয়ে পাকিস্তানের সামরিক ক্ষমতা “চাপের মুখে” রয়েছে। এই আবহে ভারতীয় বায়ুসেনার মহড়া পাকিস্তানকে চাপে ফেলেছে। তবে এটি, নিয়মিত অনুশীলনের অঙ্গ বলে জানিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা।

    ভারতের ভয়ে কাঁপছে পাকিস্তান

    উল্লেখ্য, ভারত–পাকিস্তান সীমান্তের দক্ষিণ অংশ অতীতে বহুবার সামরিক মহড়া করেছে, বিশেষত উত্তেজনার সময়। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত বার্তা দেওয়ার অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিয়মিত নোটাম জারির প্রবণতা বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত। ‘অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক দিক থেকে পাকিস্তান এখন অনেকটা ব্যাকফুটে। এটাই পাকিস্তানে হামলা চালানোর আদর্শ সময়। ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের দক্ষিণে ভারত নোটাম জারি করেছে মানে প্রস্তুতি নিচ্ছে’। এই ভয়ে আকাশসীমা বন্ধ করেছে পাকিস্তান। করাচি-লাহোর রুটে নোটাম জারি করেছে ইসলামাবাদ।

LinkedIn
Share