Blog

  • Maoist Leaders: তেলঙ্গনা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ দুই মাও শীর্ষ নেতার

    Maoist Leaders: তেলঙ্গনা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ দুই মাও শীর্ষ নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রবীণ মাওবাদী নেতা দেবজি এবং মল্লা রাজু রেড্ডি, যিনি ‘সংগ্রাম’ নামেও পরিচিত, তেলঙ্গনা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। রবিবার একথা জানিয়েছেন ছত্তিশগড়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজয় শর্মা। নকশালবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এটিকে তিনি একটি বড় সাফল্য বলেই উল্লেখ করেন। সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শর্মা জানান, বসভারাজুর পর দেবজি সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব নেন এবং তিনি বহু বছর ধরে সক্রিয় ছিলেন। শর্মা বলেন, “প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বসভারাজুর পর সাধারণ সম্পাদক হওয়া দেবজি তেলঙ্গনা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।”

    শীর্ষ মাওবাদী নেতা (Maoist Leaders)

    তিনি আরও বলেন, “মল্লা রাজু রেড্ডিও ছত্তিশগড়ের আবুজমাড় অঞ্চলে এবং পার্শ্ববর্তী গড়চিরোলি এলাকায় বহু দশক ধরে সক্রিয় শীর্ষ মাওবাদী নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।” এই আত্মসমর্পণকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য আখ্যা দিয়ে শর্মা বলেন, “নকশালবিরোধী অভিযান এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমার বিশ্বাস, নকশালবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শেষ পর্যায়ে আমরা পৌঁছে গিয়েছি। শীর্ষ পর্যায়ের মাত্র একজন নেতা বাকি রয়েছেন, যিনি অত্যন্ত বয়স্ক। তাঁকে বাদ দিলে আরও এক-দু’জন আছেন, কিন্তু তাঁরা এই দু’জনের মতো সক্রিয় নন। বাকি ব্যক্তিদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চলছে।”

    অভিযানের প্রসঙ্গ

    করেগুট্টায় চলমান অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে শর্মা জানান, তল্লাশি অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী ৮৯টি আইইডি (তাৎক্ষণিক বিস্ফোরক যন্ত্র) উদ্ধার করেছে। তিনি বলেন, “সেখানে নকশালদের যে ঘাঁটি গড়ে উঠেছিল, তা ভেঙে পড়ার মুখে। আমরা সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী যে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যেই নকশালবাদ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হবে।” এ পর্যন্ত অগ্রগতির জন্য তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রণীত কৌশল এবং মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাইয়ের দেওয়া কার্যকরী স্বাধীনতাকে কৃতিত্ব দেন।

     

  • PM Modi: এআই সম্মেলনে কংগ্রেসের ‘শার্টবিহীন’ প্রতিবাদের কড়া সমালোচনা প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: এআই সম্মেলনে কংগ্রেসের ‘শার্টবিহীন’ প্রতিবাদের কড়া সমালোচনা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে সদ্য সমাপ্ত এআই সম্মেলনে কংগ্রেসের ‘শার্টবিহীন’ প্রতিবাদের কড়া সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। রবিবার তিনি একে দেশের সম্মানহানি ঘটানো লজ্জাজনক প্রদর্শন বলে অভিহিত করেন। সংবাদমাধ্যমকে সঠিকভাবে প্রতিবেদন (AI Summit) করার আহ্বানও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী এআই সম্মেলনে তাঁর বিরুদ্ধে এবং ভারত–মার্কিন অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় যুব কংগ্রেসের প্রতিবাদের নিন্দে করেন।

    কংগ্রেস পার্টির সঙ্গেই যুক্ত (PM Modi)

    মীরাটে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেখুন কী দুর্ভাগ্য। এত পুরানো একটি দলের নেতারা লজ্জা পাওয়ার বদলে, যারা দেশের অসম্মান করছে তাদের নির্লজ্জভাবে সমর্থন করছেন। এই বিষয়টি কংগ্রেস পার্টির সঙ্গেই যুক্ত।” প্রধানমন্ত্রী সরাসরি সংবাদমাধ্যমকে নিরপেক্ষভাবে প্রতিবেদন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমি সব সময় প্রার্থনা করি ঈশ্বর যেন আমাকে সংবাদমাধ্যমকে সবরকমভাবে সহ্য করার শক্তি দেন। কিন্তু আজ আমি সংবাদমাধ্যমকে অনুরোধ করছি— যখন আমরা এ ধরনের কাজের সমালোচনা করি, তখন দয়া করে এমন শিরোনাম করবেন না যে মোদি বিরোধীদের পরাজিত করেছেন। কংগ্রেসকে বাঁচানোর এই কৌশল বন্ধ করুন।”

    কংগ্রেসের পাপ রক্ষার কাজ

    নির্বাচিত প্রতিবেদন এবং কংগ্রেসের পাপ রক্ষার কাজ হচ্ছে বলে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই বিরোধীরা বিরোধী সেজে কংগ্রেসকে রক্ষা করছে। পাপ করে কংগ্রেস, ফল ভোগ করতে হয় তাদেরই। কিন্তু মিডিয়া ‘কংগ্রেস’ শব্দটি দেখে না, শুধু ‘বিরোধী’ শব্দটি দেখে। কেন? কেন কংগ্রেসকে রক্ষা করছেন (PM Modi)?” তিনি জানান, অন্য বিরোধী দলগুলি এই ঘটনায় অংশ নেয়নি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের কেউ কি এই পাপ করেছে? না (AI Summit)। ডিএমকে সদস্যরা? বিএসপি সদস্যরা? ফারুক আবদুল্লার দল? না। শুধু এবং শুধু ‘সিরফিরা’ (উন্মাদ) ও ‘বেলাগাম’ (বেপরোয়া) কংগ্রেস নেতারাই দেশ ধ্বংসে উঠেপড়ে লেগেছে।”

    বিরোধী সহকর্মীদের ধন্যবাদ

    প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসকে দেশের ওপর বোঝা বলে উল্লেখ করেন এবং প্রতিবাদটির নিন্দে করার জন্য অন্যান্য বিরোধী সহযোগীদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “আমি প্রকাশ্যে এই বিরোধী সহকর্মীদের ধন্যবাদ জানাই, যাঁরা সত্য ও দেশের মর্যাদার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।” তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসতে হলে মানুষের হৃদয় জয় করতে হয়, মহিলা সাংসদদের পাঠিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করানো নয় (PM Modi)। বাজেট অধিবেশনের সময় লোকসভায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মধ্যে কংগ্রেস মহিলা সাংসদদের তাঁর আসন ও ট্রেজারি বেঞ্চের কাছে পাঠিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, দলটি গঠনমূলক ভূমিকা নেওয়ার বদলে কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে (AI Summit)।

    কংগ্রেসের মিত্রদেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে

    তিনি বলেন, “তাঁরা নিজেরাই সংসদে কার্যকর হতে পারেন না, তাই সহকর্মীদেরও কথা বলার সুযোগ দেন না। তাঁরা সংসদ চলতে দেয় না। এতে কংগ্রেসের মিত্রদেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে, এবং তারা তা বুঝেছে। দিল্লিতে তারা যে নগ্নতা প্রদর্শন করেছে, তাতে তাদের সব মিত্র স্তম্ভিত হয়ে দূরত্ব বজায় রেখেছে।” এর আগে আজ প্রধানমন্ত্রী মোদি শতাব্দী নগর নমো ভারত স্টেশনে মিরাট মেট্রো ও নমো ভারত ট্রেনের উদ্বোধন করেন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, উত্তরপ্রদেশ বিজেপি সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী-সহ অন্য আধিকারিকরা তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন (PM Modi)। প্রধানমন্ত্রী মিরাটে প্রায় ১২,৯৩০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন এবং সেগুলি জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন (AI Summit)।

     

  • US Military Strike Threat: ফের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়াল ইরানে, সংঘর্ষ

    US Military Strike Threat: ফের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়াল ইরানে, সংঘর্ষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়াল ইরানে (Iran)। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা পাল্টা গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে এবং দেশটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছে (US Military Strike Threat)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং স্থগিত পারমাণবিক আলোচনা ঘিরে এই অস্থিরতা নতুন করে সামনে এসেছে। অর্থনৈতিক সংকট ও অতীতের বিক্ষোভ দমন অভিযানের ক্ষোভই এই আন্দোলনের মূল কারণ।

    সরকারবিরোধী স্লোগান (US Military Strike Threat)

    শনিবার ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান শোনা যায়। পরে শিক্ষার্থীরা পাল্টা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এটি ছিল সাম্প্রতিক ক্ষোভের প্রকাশ। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, তেহরানের শীর্ষ টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিড়ের মধ্যে মারামারি শুরু হয় এবং মানুষ “বি শরাফ” (ফারসি ভাষায় যার অর্থ ‘লজ্জাজনক’) বলে চিৎকার করে। পার্সিয়ান ভাষার টিভি চ্যানেল ‘ইরান ইন্টারন্যাশনালে’ প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে বড় একটি জনতা সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছে। পরে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, ওই প্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষে কয়েকজন জখম হয়েছে বলে খবর।

    “খামেনেইর মৃত্যু হোক”

    বিক্ষোভকারীদের “খামেনেইর মৃত্যু হোক” এবং “কাজ শেষ করো” ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়। তারা প্রাক্তন শাহের প্রশংসা করে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিও জানায়। ফার্স প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদল মানুষ ইরানের পতাকা নাড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছে এবং মুখোশ পরা আর একটি দলের মুখোমুখি অবস্থান করছে। স্যুট পরিহিত ব্যক্তিরা বিক্ষোভকারীদের আটকে রাখার চেষ্টা করছে (US Military Strike Threat)। ১৮ ফেব্রুয়ারিতেও এএফপি যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানিরা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে। তারা সারা দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময় নিহতদের স্মরণে জড়ো হয়েছিল।

    উত্তেজনা চরমে

    ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বর্তমানে চরমে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সীমিত হামলার নির্দেশ দিতে পারেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান- ওমানের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করলেও, ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ত্যাগ করতে হবে, এ বিষয়ে এখনও কোনও সমঝোতা হয়নি (Iran)। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে।

    ইরানে বিক্ষোভ

    ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যখন অর্থনীতি ভেঙে পড়ার প্রতিবাদে দোকানদার ও ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নামে। পরে আন্দোলন বিস্তৃত হয়ে ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার অবসান দাবি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। খামেনেই নেতৃত্বাধীন সরকার কঠোর দমনপীড়নের মাধ্যমে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করে (US Military Strike Threat)। ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ ৩,০০০-এরও বেশি মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেও দাবি করেছে, এই হিংসা “জঙ্গি কার্যকলাপ” এবং ইরানের শত্রুদের প্ররোচনায় ঘটেছে (Iran)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ৭,০০০-এরও বেশি। ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের অর্থনৈতিক দাবির বৈধতা স্বীকার করলেও “চিরশত্রু” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দাঙ্গা উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে (US Military Strike Threat)।

    ট্রাম্পের নির্দেশ

    ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম এশিয়ায় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড পাঠিয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসে গভর্নরদের সঙ্গে নৈশভোজে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের সামরিক বাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “তেহরান যদি চুক্তিতে না পৌঁছায়, তাহলে “খারাপ কিছু” ঘটবে। চুক্তির জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়েছেন। গত বছর ব্যর্থ পারমাণবিক কূটনীতি ও ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়েছিল (Iran)।

    ইরানের বক্তব্য

    ইরান জানিয়েছে, তারা শিগগিরই একটি খসড়া প্রস্তাব জমা দেবে। তবে ‘অ্যাক্সিওস’ এক প্রবীণ মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন এমন একটি চুক্তি বিবেচনা করতে প্রস্তুত, যেখানে “সীমিত, প্রতীকী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ” অনুমোদিত হতে পারে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র শূন্য মাত্রার সমৃদ্ধকরণের দাবি করেনি।” খামেনেই সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানে হামলা চালালে তা আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে (US Military Strike Threat)। তাহলে কি শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প ইরানে হামলা করবেন? তা হয়তো কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হবে (Iran)।

     

  • Pakistan ISI Bangladesh: পাকিস্তানের আইএসআইয়ের মদতে বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক, তামিলনাড়ু-মালদা থেকে ৮ জঙ্গি গ্রেফতার

    Pakistan ISI Bangladesh: পাকিস্তানের আইএসআইয়ের মদতে বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক, তামিলনাড়ু-মালদা থেকে ৮ জঙ্গি গ্রেফতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদা থেকে গ্রেফতার দুই জঙ্গির সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআই (Pakistan ISI Bangladesh)-এর যোগ মিলেছে! পশ্চিমববঙ্গ যেন সন্ত্রাসীদের আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে। দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) এক বড় সাফল্য পেয়েছে সন্ত্রাস দমনে। ভারতে জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পাকিস্তানের আইএসআই এবং বাংলাদেশ-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত মোট আট সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তামিলনাড়ুর তিরুপুর জেলা থেকে ছ’জন এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোয়েন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। দেশের জাতীয় রাজধানীকে লক্ষ্য করে একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের পর্দা ফাঁস হল বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

    তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার (Pakistan ISI Bangladesh)

    তিরুপুর থেকে গ্রেফতার হওয়া ছয় সন্দেহভাজন (Pakistan ISI Bangladesh) হল মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ শাবাত, উমর, মোহাম্মদ লিটন, মোহাম্মদ সাইদ এবং মোহাম্মদ উজ্জ্বল। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, তাদের মধ্যে অন্তত একজন বাংলাদেশি নাগরিক। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা তিরুপুরের পোশাক উৎপাদন কারখানায় কাজ করছিল এবং জাল আধার কার্ড ব্যবহার করে তাদের পরিচয় গোপন করেছিল। গোয়েন্দা তথ্য এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের ধারাবাহিক তদন্তের পর তাদের শনাক্ত করা গিয়েছে। সন্দেহজনক অনলাইন কার্যকলাপ এবং স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের ট্র্যাক করা সম্ভবপর হয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গ থেকে আরও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ এবং আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আটজনকে দিল্লিতে আনা হচ্ছে। অভিযানে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)  আটটি মোবাইল ফোন এবং ১৬টি সিম কার্ড উদ্ধার করেছে। ডিজিটাল মাধ্যম, একাধিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র খোঁজ করে দেখা হচ্ছে। একই ভাবে অন্যান্য অপারেটিভদের সঙ্গে সম্ভাব্য সংযোগের ডিভাইসগুলি এখন পরীক্ষা করা হচ্ছে।

    দেশবিরোধী প্রচারণা এবং গোয়েন্দা তথ্যের লিঙ্ক

    দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)  সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সন্দেহভাজনরা পাকিস্তান-ভিত্তিক (Pakistan ISI Bangladesh) জঙ্গি সংগঠনের সমর্থনে সোশ্যাল মিডিয়ায় কন্টেন্ট পোস্ট করছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। আরও সন্দেহ করা হচ্ছে মডিউলটি সংবেদনশীল স্থানগুলির তদারকিতে জড়িত ছিল। মেট্রো নেটওয়ার্কের অভ্যন্তর সহ দিল্লির একাধিক স্থানে উস্কানিমূলক পোস্টার লাগিয়েছিল।

    নয়াদিল্লিজুড়ে ১০টিরও বেশি স্থানে আজাদ কাশ্মীর পোস্টার দেখতে পাওয়ার পর উদ্দেশ্য সম্পর্কে আঁচ করা গিয়েছে। প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে তদন্তকারীরা তামিলনাড়ুতে অবস্থিত অপারেটিভদের কাছে পৌঁছেছেন। এই দলটি বিদেশি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে কাজ করছিল এবং সব রকম সহায়তা দিয়ে জঙ্গিদের সাহায্য করছিল।

    নতুন গোয়েন্দা তথ্যের পর দিল্লিতে সতর্কতা জারি

    লালকেল্লা এবং চাঁদনি চক এলাকার একটি মন্দির সহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলিতে লস্কর-ই-তৈবার (Pakistan ISI Bangladesh) সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

  • Yogi Adityanath: লগ্নি টানতে সিঙ্গাপুর-জাপানের উদ্দেশে রওনা যোগী আদিত্যনাথের

    Yogi Adityanath: লগ্নি টানতে সিঙ্গাপুর-জাপানের উদ্দেশে রওনা যোগী আদিত্যনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঁচ দিনের সফরে রবিবার সিঙ্গাপুর ও জাপানের উদ্দেশে রওনা দিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)। এই সফরের লক্ষ্য হল বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার (PM Modi) করা এবং উত্তরপ্রদেশকে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনৈতিক শক্তিকেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপন করা। একই সঙ্গে এই সফরকে সাংস্কৃতিক কূটনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর লক্ষ্য ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে উত্তরপ্রদেশকে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। গত আট বছরে রাজ্যে এক্সপ্রেসওয়ে, বিমানবন্দর, ডিফেন্স করিডর ও শিল্পকেন্দ্র-সহ দ্রুত পরিকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে। এখন লক্ষ্য হল, আরও বেশি করে বিদেশি সংস্থা ও উন্নত প্রযুক্তি আনা, যাতে উন্নয়নের গতি বাড়ানো যায়।

    কী বলছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা (Yogi Adityanath)

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই উদ্যোগ অনেকের কাছে মনে করিয়ে দেয় ২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির কৌশলের কথা। বৈশ্বিক সফর ও ভাইব্র্যান্ট গুজরাট সম্মেলনের মাধ্যমে মোদি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানান এবং গুজরাটে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থাকে আকৃষ্ট করেন। সুজুকি, হোন্ডা ও টয়োটার মতো জাপানি অটোমোবাইল সংস্থাগুলি সেই সময় গুজরাটে লগ্নি করে। সিঙ্গাপুরের নগর পরিকল্পনার ধারণাও অধ্যয়ন ও প্রয়োগ করা হয়। মোদি একবার বলেছিলেন, তিনি গুজরাটের মুখ হয়ে বিদেশে গিয়ে বিনিয়োগ ফিরিয়ে আনতেন। যোগী আদিত্যনাথও উত্তরপ্রদেশের জন্য একই ধরনের কৌশল প্রয়োগ করছেন—সরাসরি বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রাজ্যকে উৎপাদন, প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোর জন্য প্রস্তুত গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরছেন (Yogi Adityanath)।

    রোডশোর আয়োজন

    মুখ্যমন্ত্রী ২২ ফেব্রুয়ারির সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুরে পৌঁছবেন এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেখানে থাকবেন। এই পর্যায়ে স্মার্ট সিটি উন্নয়ন, নগর পরিবহণ ব্যবস্থা, জল ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিনিয়োগকারী রোডশোর আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে উত্তরপ্রদেশকে বিনিয়োগবান্ধব রাজ্য হিসেবে তুলে ধরা হবে। সিঙ্গাপুর চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (SICCI) এবং ভারতের ফিকি (FICCI)-র মতো ব্যবসায়িক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে (PM Modi)। পরিকাঠামো, লজিস্টিকস, আবাসন ও ডিজিটাল পরিষেবা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে মউ (MoU) স্বাক্ষরিত হতে পারে (Yogi Adityanath)। প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গাপুরে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন, বিশেষত যাঁদের শেকড় উত্তরপ্রদেশে। আধিকারিকরা মনে করেন, প্রবাসী ভারতীয়রা বৈশ্বিক সংস্থা ও দেশের সুযোগের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে পারেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর, আধুনিক আবাসন ও দক্ষ জনপরিষেবার জন্য সিঙ্গাপুর সুপরিচিত—এই মডেল থেকে শিক্ষা নিতে চায় উত্তরপ্রদেশ।

    সফর করবেন জাপানও

    ২৪ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যোগী আদিত্যনাথ জাপানের টোকিও, ইয়ামানাশি, ওসাকা ও কিয়োটো সফর করবেন। টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে “জাপান-উত্তরপ্রদেশ পার্টনারশিপ ফর ম্যানুফ্যাকচারিং, মবিলিটি, অ্যান্ড টেকনোলজি” শীর্ষক এক বড় ব্যবসায়িক সম্মেলন। অটোমোবাইল, বৈদ্যুতিক যান, ইলেকট্রনিক্স, রেল, রাসায়নিক ও লজিস্টিকস খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন (Yogi Adityanath)। জাপান ভারতের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। উত্তরপ্রদেশের ইতিমধ্যে ইয়ামানাশি প্রিফেকচারের সঙ্গে একটি সমঝোতা রয়েছে। শিল্প সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বৌদ্ধ পর্যটন, যোগ ও আয়ুর্বেদ নিয়ে আলোচনা হতে পারে (PM Modi)। সবচেয়ে আলোচিত অংশগুলির একটি হল জাপানের উচ্চগতির ম্যাগলেভ ট্রেনে মুখ্যমন্ত্রীর ১০০ কিলোমিটারের পরীক্ষামূলক যাত্রা। এই ট্রেন চৌম্বকীয় লেভিটেশন প্রযুক্তিতে ঘণ্টায় প্রায় ৬০০ কিলোমিটার বেগে চলে এবং রেললাইনের স্পর্শ ছাড়াই চলাচল করে। উত্তরপ্রদেশ যেহেতু উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা নিয়ে ভাবছে, এই অভিজ্ঞতা উচ্চগতির রেল সম্ভাবনা বুঝতে সহায়ক হবে (Yogi Adityanath)।

    বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে

    যোগীর এই সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল হতে পারে গ্রেটার নয়ডায় যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (YEIDA) অধীনে ‘জাপান সিটি’ ও ‘সিঙ্গাপুর সিটি’ গড়ে তোলার অগ্রগতি। জাপান সিটি ৫০০ একর জমিতে সেক্টর ৫এ-তে এবং সিঙ্গাপুর সিটি ৫০০ একর জমিতে সেক্টর ৭-এ গড়ে তোলা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৭০ শতাংশ জমি শিল্পের জন্য, ১২ শতাংশ আবাসনের জন্য, ১৩ শতাংশ বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য এবং ৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক কাজে ব্যবহৃত হবে। এই প্রকল্পগুলি ইপিসি মডেলে বাস্তবায়িত হবে। জাপান ও সিঙ্গাপুরের পরিকল্পনা মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে। দুই দেশের সংস্থাগুলিকে কারখানা ও অফিস তৈরির জন্য জমি দেওয়া হতে পারে। সফল হলে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে (Yogi Adityanath)। এই সফরে যোগী আদিত্যনাথ তাঁর ঐতিহ্যবাহী গেরুয়া কুর্তা-চোলা পরিধান করবেন। নাথ সম্প্রদায়ের প্রধান পুরোহিত হিসেবে গেরুয়া তাঁর নিয়মিত পোশাক। তবে এই প্রথম কোনও ভারতীয় সাংবিধানিক পদাধিকারী সরকারি সফরে গেরুয়া পোশাকে বিদেশ সফর করবেন (PM Modi)।

    গেরুয়া ত্যাগ ও আধ্যাত্মিকতার প্রতীক

    সমর্থকদের মতে, এটি ভারতের সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন। ভারতীয় ঐতিহ্যে গেরুয়া ত্যাগ ও আধ্যাত্মিকতার প্রতীক। জাপান, যা বৌদ্ধ মন্দির ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত, ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক শেয়ার করে। উত্তরপ্রদেশে সারনাথ ও কুশীনগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ তীর্থস্থান রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বৌদ্ধ পর্যটন বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী টোকিও থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরের একটি শান্ত মন্দিরেও যেতে পারেন। অনেকে মনে করেন, অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বন্ধনও এতে দৃঢ় হবে। যোগী সরকার জানিয়েছে, পরিকাঠামো ও ব্যবসার সুবিধার ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশ ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তবে প্রায় ২৩ কোটি জনসংখ্যার এই রাজ্যে দ্রুত শিল্পোন্নয়ন অপরিহার্য (Yogi Adityanath)।

    জাপান থেকে বৈদ্যুতিক যান, সেমিকন্ডাক্টর, উন্নত উৎপাদন ও উচ্চগতির রেল ব্যবস্থায় বিনিয়োগ আকর্ষণের আশা করা হচ্ছে। সিঙ্গাপুর থেকে স্মার্ট সিটি, জল পরিশোধন ও লজিস্টিক পার্কে দক্ষতা আনার লক্ষ্য রয়েছে (PM Modi)। এই বিদেশ সফর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নজর থাকবে স্বাক্ষরিত চুক্তি ও বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির ওপর। সফল হলে এটি ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের লক্ষ্যের পথে বড় পদক্ষেপ হতে পারে। একই সঙ্গে গেরুয়া পোশাক পরিহিত এক মুখ্যমন্ত্রীর বৈশ্বিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ভারতের উন্নয়নের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক শেকড়ে দৃঢ় থাকার বার্তাও বহন করতে পারে (Yogi Adityanath)।

     

  • Hindus Under Attack: দেশ-বিদেশে অব্যাহত হিন্দুদের ওপর আক্রমণ

    Hindus Under Attack: দেশ-বিদেশে অব্যাহত হিন্দুদের ওপর আক্রমণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিদেশে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন আমাদের চোখের সামনে ধীরে ধীরে (Roundup Week) সংঘটিত এক প্রকার গণহত্যার মতো (Hindus Under Attack)। বহু দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও বিস্তারকে উপেক্ষা করেছে, যার নেপথ্যে কাজ করছে উদ্বেগজনক হিন্দুবিরোধী পক্ষপাত। খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবের ওপর আক্রমণ, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য—সব মিলিয়ে হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ ও নজিরবিহীন ঘৃণার মুখোমুখি হচ্ছেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, এই সপ্তাহে আমরা এমন ঘটনাগুলির একটি চিত্র তুলে ধরছি, যাতে বিশ্বজুড়ে আরও মানুষ এই মানবাধিকার সঙ্কট সম্পর্কে সচেতন হন।

    পশ্চিমবঙ্গের ছবি (Hindus Under Attack)

    প্রথমেই দেখে নেওয়া যাক ভারতের ছবিটা। পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার জামালদহ এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, দীর্ঘদিনের হুমকি ও ব্ল্যাকমেইলের পর ১৫ বছরের এক কিশোরী আত্মহত্যা করে। মৃতা শেফালি বর্মন, জামালদহের বাসিন্দা ও জামালদহ তুলসী দেবী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। পরিবারের অভিযোগ, হুমায়ুন কবির মিঞা নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং সত্য প্রকাশ পাওয়ার পর বিচ্ছেদের জেরে শেফালিকে হুমকি দিতে থাকে (Hindus Under Attack)। দিল্লির পীরাগড়ি এলাকায় একটি পার্ক করা গাড়ির ভেতর তিন হিন্দুর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক স্বঘোষিত মুসলিম তান্ত্রিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানে আরও পাঁচটি অনুরূপ মৃত্যুর সঙ্গে তার যোগ থাকতে পারে (Roundup Week)।

    কর্নাটকের ঘটনা

    কর্নাটকের শিবমোগা জেলার ভদ্রাবতীতে জোরপূর্বক খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরের অভিযোগ উঠেছে। বি বিনয় নামে এক ব্যক্তির অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী প্রিয়াথা আর খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে তাঁকে ও তাঁদের দুই নাবালিকা কন্যাকে একই ধর্ম অনুসরণে চাপ দিচ্ছেন। পেপার টাউন থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত (Hindus Under Attack)। বিজয়পুরায় আর একটি ঘটনা সামনে আসে। নিশা চৌহান নামে এক তরুণী বাড়ি ছেড়ে ফিরে এসে পুলিশের সামনে জানান, তিনি তাঁর স্বামী মহম্মদ সেলিম সুতারের সঙ্গেই থাকবেন। গান্ধী চক থানার বাইরে তাঁর বাবা-মা কান্নায় ভেঙে পড়ে মেয়েকে বাড়ি ফেরার অনুরোধ করলেও তিনি রাজি হননি। কর্নাটকের গদাগ জেলার মুন্দারগি তালুকের শিংগাতালুর গ্রামের ঐতিহাসিক শ্রী রামালিঙ্গেশ্বর মন্দিরে মহাশিবরাত্রির সকালে মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় স্থানীয় ভক্তদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়ায় (Hindus Under Attack)।

    খবরে উত্তরপ্রদেশও

    উত্তরপ্রদেশের আমরোহায় মহাশিবরাত্রির প্রাক্কালে কানওয়ার যাত্রার শিবিরের কাছে সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন জখম হন, যার মধ্যে এক পুলিশ কনস্টেবলও রয়েছেন। অভিযোগ, মুসলিম যুবকেরা পাথর নিক্ষেপ করে। ২৯ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে (Roundup Week)। কংগ্রেস মুখপাত্র লক্ষ্মী রামচন্দ্রন তামিলনাড়ুর মন্ত্রী উদয়নিধি স্টালিনের সনাতন ধর্ম সম্পর্কিত বিতর্কিত মন্তব্যকে সমর্থন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দেন।

    বাংলাদেশের ছবি

    এদিকে, বাংলাদেশেও হিন্দুদের ওপর আক্রমণ অব্যাহত। অভিযোগ, প্রাতিষ্ঠানিক নির্যাতনের ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে সে দেশে হিন্দুরা বিলুপ্ত হতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের এক গবেষণায় এমনই দাবি করা হয়েছে। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্মদ্রোহের অভিযোগে গণআক্রমণ, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর—এসবের মাধ্যমে হিন্দুদের দেশত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ (Hindus Under Attack)। নোয়াখালির হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে একাধিক হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রতিবাদে হয় মানববন্ধন (Roundup Week)।

    কালাপানি পারের দেশেও চলছে হিন্দু নির্যাতন

    কালাপানি পারের দেশেও চলছে হিন্দু নির্যাতন। পিটারবরো শহরের একমাত্র মন্দির ও কমিউনিটি সেন্টার বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে ভারত হিন্দু সমাজের অভিযোগ। স্থানীয় কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে জায়গাটি একটি ইসলামিক সংস্থাকে দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা। সম্প্রদায়ের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হস্তক্ষেপ চেয়েছেন (Hindus Under Attack)। হিন্দু কানাডিয়ান ফাউন্ডেশন ব্রাম্পটনের মেয়র প্যাট্রিক ব্রাউন ও ন্যাশনাল পোস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে কানাডায় তোলাবাজি সংক্রান্ত একটি নিবন্ধে হিন্দু ধর্মীয় চিত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিষয়টির সঙ্গে সম্পর্কহীন।

    লেখাটিতে বলা হয়েছে, অধিকাংশ ঘৃণাজনিত অপরাধের পেছনে হিন্দুবিরোধী পক্ষপাত ও কিছু ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মতাদর্শ কাজ করে। ইসলামিক দেশগুলিতে প্রকাশ্য হিন্দুবিরোধী মনোভাবের পাশাপাশি তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রেও সূক্ষ্ম বৈষম্য বিদ্যমান বলে দাবি করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ (Roundup Week) তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

     

  • Karan Adani: ‘বিজনেস লিডার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারে সম্মানিত করণ আদানি

    Karan Adani: ‘বিজনেস লিডার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারে সম্মানিত করণ আদানি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের ‘ম্যানেজিং ইন্ডিয়া অ্যাওয়ার্ডসে’ ‘বিজনেস লিডার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন করণ আদানি (Karan Adani)। পোর্টস অ্যান্ড এসইজেড লিমিটেড এবং আদানি সিমেন্ট লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর করণকে (Aima Awards) এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে অল ইন্ডিয়া ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (এআইএমএ) আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে।

    সম্মান প্রদান (Karan Adani)

    নয়াদিল্লির তাজ প্যালেস হোটেলে অনুষ্ঠিত এআইএমএর প্লাটিনাম জয়ন্তী উদ্‌যাপনের সময় এই সম্মান প্রদান করা হয়। এদিন সংস্থাটির ৭০তম প্রতিষ্ঠা দিবস এবং ২০তম ন্যাশনাল ম্যানেজমেন্ট ডে পালিত হয়। এই ব্যবসায়ী তাঁর প্রাপ্ত পুরস্কারটি আদানি গ্রুপের কর্মীদের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। তিনি বলেন, “এই পুরস্কারে আমি সত্যিই অভিভূত। আমি এটি আদানি গ্রুপের কর্মীদের উৎসর্গ করছি। তাঁরা দিন-রাত এক করে পরিশ্রম করছেন। এটি আসলে তাদেরই পুরস্কার।”

    কী বললেন করণ

    করণ আদানি এও বলেন, “আমি আমার বাবাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি প্রতিদিন তাঁর কাছ থেকে শিখি। তাঁকে প্রতিদিন কাজ করতে দেখা আমার জন্য সৌভাগ্যের। আমার মাকেও ধন্যবাদ, তাঁর কাছ থেকে আমি সহমর্মিতা ও সততা শিখেছি। আমার তিন ভাইকেও ধন্যবাদ—আমরা একসঙ্গে কাজ করি এবং বাবার উত্তরাধিকার এগিয়ে নিয়ে যাব। আমার স্ত্রীকে ধন্যবাদ, তিনি সব সময় আমাকে সমর্থন করেন এবং এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেন। আর আমার মেয়েকে ধন্যবাদ, যে আমাকে প্রতিদিন আরও ভালো মানুষ হতে সাহায্য করছে।”

    কে, কোন পুরস্কার পেলেন

    এই অনুষ্ঠানে শিল্পপতি, নীতিনির্ধারক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের দূরদর্শীরা একত্রিত হয়ে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে ভারতের অর্থনৈতিক গতি বজায় রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। করণ আদানির পুরস্কারের উদ্ধৃতি পাঠ করেন কিরলস্কর ব্রাদার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সঞ্জয় কিরলস্কর (Aima Awards)। ২০১০ সালে চালু হওয়া ‘এআইএমএ ম্যানেজিং ইন্ডিয়া অ্যাওয়ার্ডস ব্যবসা’, মিডিয়া, শিল্পকলা ও সমাজসেবা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উৎকর্ষকে পুরস্কার দেয়(Karan Adani)। করণ ছাড়াও অন্যান্য যাঁরা পুরস্কার পেয়েছেন, তাঁরা হলেন, রোপেন ট্রান্সপোর্টেশন সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা তথা সিইও অরবিন্দ সাংকা, সহ-প্রতিষ্ঠাতা পবন গুণ্টুপল্লি এবং এসআর ঋষিকেশ। এঁরা পেয়েছেন এন্টারপ্রেনার অব দ্য ইয়ার পুরস্কার। ডিরেক্টর অব দ্য ইয়ার পুরস্কার পেয়েছেন ‘সাইয়ারা’র পরিচালক মোহিত সূরি। আউটস্ট্যান্ডিং কন্ট্রিবিউশন টু জার্নালিজম পুরস্কার পেয়েছেন এনডিটিভির সিইও তথা এডিটর-ইন-চিফ রাহুল কানওয়াল।

    আউটস্ট্যান্ডিং পিএসইউ অব দ্য ইয়ার পুরস্কার

    আউটস্ট্যান্ডিং পিএসইউ অব দ্য ইয়ার পুরস্কার দেওয়া হয়েছে কোচিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের কর্তাকে। তাঁর হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন পরিচালক (অপারেশনস) হরিকৃষ্ণন এস। ট্রান্সফরমেশনাল বিজনেস লিডার অব দ্য ইয়ার পুরস্কার পেয়েছেন আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্ক লিমিটেডের এমডি তথা সিইও ভি বৈদ্যনাথন। ইয়াং বিজনেস লিডার অব দ্য ইয়ার পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন  অনন্যা বিড়লা। তিনি স্বতন্ত্রা মাইক্রোফিন প্রাইভেট লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা, বিড়লা কসমেটিকস প্রাইভেট লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা তথা এমডি, আদিত্য বিড়লা ম্যানেজমেন্ট কর্পোরেশন প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক (Karan Adani)। এআইএমএ এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন সুনীল কান্ত মুঞ্জাল, চেয়ারম্যান, হিরো এন্টারপ্রাইজ (Aima Awards)। এমএনসি ইন ইন্ডিয়া অব দ্য ইয়ার পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন মাইক্রন টেকনোলজি অপারেশনস ইন্ডিয়া এলএলপি। পুরস্কার নেন সঞ্জয় মেহরোত্রা, চেয়ারম্যান, প্রেসিডেন্ট ও সিইও, মাইক্রন টেকনোলজি। ইন্ডিয়ান এমএনসি অব দ্য ইয়ার পুরস্কার দেওয়া হয় মাদারসন গ্রুপকে। তাদের পক্ষে পুরস্কার নেন চেয়ারম্যান বিবেক চাঁদ সেহগল।

    লাইফটাইম কন্ট্রিবিউশন

    লাইফটাইম কন্ট্রিবিউশন টু মিডিয়া পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বেনেট কোলম্যান অ্যান্ড কোং লিমিটেড কর্তা বিনীত জৈনকে। লাইফটাইম কন্ট্রিবিউশন অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে মারিকো লিমিটেডের চেয়ারম্যান হর্ষ মারিওয়ালাকে বিজনেস লিডার অব দ্য ডিকেড পুরস্কার পেয়েছেন ভারতী এন্টারপ্রাইজেসের প্রতিষ্ঠাতা তথা চেয়ারম্যান সুনীল ভারতী মিত্তল। প্রসঙ্গত, বছরের পর বছর এই পুরস্কার ব্যবসা, চলচ্চিত্র, ক্রীড়া (Aima Awards) ও গণমাধ্যম জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সম্মানিত করে আসছে (Karan Adani)।

     

  • Shivaji Jayanti: শিবাজির জন্মজয়ন্তীতে শোভাযাত্রায় হামলা কট্টর মুসলমানদের, কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ ও মধ্য প্রদেশে ব্যাপক শোরগোল

    Shivaji Jayanti: শিবাজির জন্মজয়ন্তীতে শোভাযাত্রায় হামলা কট্টর মুসলমানদের, কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ ও মধ্য প্রদেশে ব্যাপক শোরগোল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি, কর্ণাটকের বাগলকোটে শিবাজি জয়ন্তীর (Shivaji Jayanti) শোভাযাত্রায় পাথর ছোঁড়ার পর ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সময় ভক্তরা পুরাতন শহরের পাঙ্কা মসজিদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন,পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী থাকা শর্তেও আকস্মিক আক্রমণ করে মুসলিম ধর্মের স্থানীয় দুষ্কৃতীরা (Communal Incidents)। এরপর জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে লাঠিচার্জ করলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। হিন্দুদের উপর দেশ জুড়ে লাগাতার কট্টরপন্থীদের আগ্রাসন চলছে। আসুন এক নজরে দেখে নিই চিত্রটা।

    মসজিদের কাছে পৌঁছানোর সঙ্গে পাথর বর্ষণ (Shivaji Jayanti)

    পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ গোয়েল বলেন,”আমরা সকলেই ঘটনাস্থলে (Shivaji Jayanti) উপস্থিত ছিলাম। গতকাল বিকেল ৩টা থেকে ৩ টা ৩০ নাগাদ মিছিলটি শুরু হয়েছিল। মসজিদের কাছে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে দূর থেকে পাথর বর্ষণ হয়েছিল। একটি পাথরের আঘাতে একজন কনস্টেবলকে আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে। অন্যটি তাঁর কাঁধে পড়েছে। তবে কারও কোনও বড় আঘাত লাগেনি। এরপর, মিছিলটি সুষ্ঠুভাবে চলতে থাকে এবং পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকে।” গোলমালমালের (Communal Incidents) পর পুরো শহরে নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করা হয়েছিল।

    প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, “মিছিলটি অবশেষে তার নির্ধারিত পথে ফিরে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছে। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মিছিলের জন্য যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে সেই এলাকাটি সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

    একই ভাবে পুলিশ সুপার বলেছেন, “আমরা মিছিলটিও রেকর্ড করেছি। আমরা ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করছি। এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য শহরের অস্থির এলাকায় পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।” যদিও তাৎক্ষণিকভাবে এখনও কোনও রকম গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি।

    জারি ১৬৩ নম্বর ধারা

    ১৯ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাগলকোটের কিছু এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, এই বিধিনিষেধের ফলে জনসাধারণকে কোন স্থানে চারজনের বেশি লোকের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও, প্রাণঘাতী অস্ত্র বহন, জন নিরাপত্তাকে বিপন্ন করতে পারে এমন কার্যকলাপে অংশগ্রহণ এবং পূর্ব অনুমতি ছাড়া সমাবেশ, অবস্থান বিক্ষোভের কর্মসূচির পরিকল্পনা করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং যেকোনো উত্তেজনা (Communal Incidents)  মোকাবেলা করার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হিন্দু সংগঠনের নেতারাও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    অপরদিকে হায়দ্রাবাদের আম্বারপেটে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও একই রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে, পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। শিবাজি জয়ন্তী মিছিল (Shivaji Jayanti) একটি মসজিদের পাশের রাস্তা যাওয়ার মিছিলের সঙ্গীত এবং স্লোগান নিয়ে এলাকার মুসলিমদের সঙ্গে হিন্দু পক্ষের ব্যাপক তর্কবিতর্ক শুরু হয়। সেই সঙ্গে দুই পক্ষের সঙ্গে বাধে সংঘর্ষ। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কোনও হতাহত বা হিংসার খবর পাওয়া যায়নি, তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জনসাধারণকে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে প্রশাসনের তরফে।

    জব্বলপুরের দুর্গা মন্দিরে হামলা

    অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুর জেলার সিহোরায় একটি দুর্গা মন্দিরকে লক্ষ্য করে মুসলিম জনতা হামলা চালায়। সিহোরার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আজাদ চকে মন্দির এবং মসজিদটি একে অপরের বিপরীতে অবস্থিত। আরতির সময়, একদল মুসলিম নামাজের জন্য মসজিদে যান। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ হয় এবং হিংসার রূপ নেয়। উত্তেজিত মুসলিম জনতা মন্দিরের সামনের গ্রিলের উপর আক্রমণ শুরু করে এবং স্লোগান দিতে থাকে। পাথরও ছোঁড়া হয়। পরিস্থিতি ভীষণ ভাবে উত্তাল (Communal Incidents) হয়ে ওঠে। পাশের একটি ভবনের ছাদ থেকে পাথর ছোঁড়ার খবরও পাওয়া গিয়েছে। পরিস্থিতির অবনতিশীলতা মোকাবেলায় কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করা হয়েছিল। আশেপাশের স্থান থেকে আরও পুলিশকে তলব করা হয়েছিল। তবে, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়েছিল এবং ১৫ জনেরও বেশি অপরাধীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।

    হিন্দু এবং তাদের ধর্মের ওপর আক্রমণ

    হিন্দু শোভাযাত্রা (Shivaji Jayanti), মন্দির এবং উপাসনালয়গুলি মুসলিম সম্প্রদায়ের উগ্রপন্থী সদস্যদের দ্বারা ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। গত মাসে, ভারত এবং বাংলাদেশে সরস্বতী বিসর্জনের সময় ২৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছিল। হিন্দু নির্যাতনের দীর্ঘস্থায়ী ইতিহাস রয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। এই ঘটনাগুলি কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চল, রাজ্য বা উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করার পর পরিকল্পিত এই ধরনের আক্রমণ করা হয়। কট্টর মুসুলমানরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনও সুযোগ হাতছাড়া করেনি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অধিকাংশ হিংসার ঘটনাই প্রকাশ্যেই আসে না। অনেক ঘটনাই অপ্রকাশিত বা অজ্ঞাত রয়ে গেছে। অন্যদিকে ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রে হিন্দুরা নীরবে নির্যাতন ভোগ করে। দুর্গাপূজা থেকে রাম নবমী এবং হনুমান জয়ন্তী পর্যন্ত ভক্ত এবং ধর্মীয় শোভাযাত্রার উপর পাথর ছোঁড়া (Communal Incidents) এবং হামলার বিবরণ ব্যাপক ভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    কৌশল বদলে বদলে আক্রমণ হয়েছে হিন্দুদের উপর

    কৌশল পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু হিন্দুদের এবং তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্য বছরের পর বছর ধরে একই রকম থেকে গিয়েছে। কট্টর মৌলবাদীরা হিন্দু মন্দিরগুলিকে অস্তিত্বহীন বিষয়গুলিকে সামনে রেখে আক্রমণ লুণ্ঠন করা হয়েছে। আগ্রাসন এবং রক্তপিপাসুতার কারণেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুরা বিলুপ্তির পথে। বাংলাদেশও তাদেরকেই অনুসরণ করছে। মুসলিম উগ্রপন্থীরা (Communal Incidents) ভারতকে লক্ষ করে একাধিক ষড়যন্ত্র করে করছে। মুসলিম মৌলবাদীদের মোকাবেলায় একটি সমন্বিত পদ্ধতি গ্রহণ না করা এই সমস্যা আরও বাড়বে। ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিগুলিকে সরিয়ে নিজেদের অস্তিত্বকে বড় করে ভাবলেই হিন্দু সমাজ সুরক্ষিত থাকবে।

  • Naxals: ৩১ মার্চের মধ্যে আরও সক্রিয় নিরাপত্তা বাহিনী, নকশালদের স্মৃতিস্তম্ভগুলিকে ধ্বংসকর্ম চলছে জোরকদমে

    Naxals: ৩১ মার্চের মধ্যে আরও সক্রিয় নিরাপত্তা বাহিনী, নকশালদের স্মৃতিস্তম্ভগুলিকে ধ্বংসকর্ম চলছে জোরকদমে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের ৩১শে মার্চের মধ্যে নকশালমুক্ত ভারত গড়ার কেন্দ্রের লক্ষ্যের দিকে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে, নিরাপত্তা বাহিনী শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) বীজাপুর জেলায় চারটি মাওবাদী (Naxals) স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে দিয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভগুলি ফারসেগড় এবং তারেম থানা এলাকার অধীনে অবস্থিত ছিল, যেখানে সম্প্রতি বছরগুলিতে তীব্র মাওবাদী দমন অভিযান চালানো হয়েছে।

    মাওবাদীদের প্রতীক স্তম্ভগুলি

    চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ছত্তিশগড়ের বাস্তার অঞ্চল মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। তারা বিশাল অঞ্চলের উপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল এবং শত শত স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেছিল যা এই অঞ্চলে তাদের প্রভাব এবং নিয়ন্ত্রণের প্রতিনিধিত্ব করত। বস্তার অঞ্চলের পুলিশ মহাপরিদর্শক সুন্দররাজ পি বলেন, “মাওবাদীদের স্মৃতিস্তম্ভ এবং প্রতীক অপসারণ মাওবাদের প্রভাবের অবসান ঘটাবে। এই এলাকার স্বাভাবিকতা পুনরুদ্ধার, সুশাসন জোরদার এবং সমাজকে মূলধারায় একীভূত করার প্রক্রিয়া জোরদার করার জন্য এটি একটি সচেতন সিদ্ধান্ত। মাওবাদীদের (Naxals) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করার মধ্যে তাদের প্রতীক এবং মানসিক প্রভাব দূর করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আগে এই ধরনের স্মৃতিস্তম্ভগুলি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়, আধিপত্য এবং আদর্শকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য মাওবাদীরা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হতো। তাদের অপসারণ স্পষ্ট বার্তা দেয় এই অঞ্চলে রাষ্ট্রের বৈধ কর্তৃত্ব এবং আইনের শাসন ক্রমাগতভাবে শক্তিশালী হচ্ছে। ফলে মাওবাদী প্রভাব ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে।”

    ইঁটের মধ্যে থাকা মাওবাদী আদর্শকে খতম

    সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (CRPF) ডিজি জিপি সিং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেছেন, “ইঁটের মধ্যে থাকা মাওবাদী আদর্শকে এক এক করে আমরা প্রতিটি রূপের প্রকাশকে ধ্বংস করে দেব।” এই মাসের গোড়ার দিকে, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ) সুকমা (Chhattisgarh) জেলার গোগুন্ডা গ্রামে সিপিআই (মাওবাদী) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাভুলা শ্রীনিবাস ওরফে রামান্নার একটি স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলে। ৭৪ তম ব্যাটালিয়নের সহকারী কমান্ড্যান্ট বলেন,  “এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী (Naxals) প্রভাবের অধীনে ছিল এবং আগে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য আয়ত্তে ছিল না। ২০২৫ সালের নভেম্বরে একটি ফরোয়ার্ড অপারেটিং বেস স্থাপনের পর, বাহিনী সেখানে প্রবেশ করে এবং একটি যৌথ অভিযানে মাওবাদীদের সংগঠনকে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাওয়ার একটি পদক্ষেপ।

    অমিত শাহ আর ৪৪ দিন দিয়েছেন

    সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আবারও এই বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে নকশালবাদ নির্মূল করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কয়েক দশক ধরে চলে আসছে শত শত বেসামরিক নাগরিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য খুন করেছে মাওবাদ। দিল্লি পুলিশের ৭৯তম প্রতিষ্ঠা দিবসে বক্তব্য রাখার সময় শাহ এই আশ্বাস দিয়েছেন। নকশালবাদ নির্মূল করার জন্য কেন্দ্রের সময়সীমা আগামী ৪৪ দিনের মধ্যে শেষ হবে বলে জানা গিয়েছে।

    ৪৪টি নকশাল স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলা হয়েছে

    মাত্র কয়েকদিন আগে, বুধবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলি জেলায় এক বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। গড়চিরোলি পুলিশ এবং সিআরপিএফ যৌথভাবে জেলাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৪৪টি নকশাল-নির্মিত (Naxals) স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলে। এই অভিযানে ১৮টি দলের প্রায় ৮০০ জন সদস্য অংশ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে ছিল অভিজাত সি-৬০ নকশাল-বিরোধী বাহিনী, বোমা সনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয়করণ স্কোয়াড এবং সিআরপিএফ। স্মৃতিস্তম্ভগুলি বনাঞ্চলে অবস্থিত ছিল। বামপন্থী সন্ত্রাসীদের শক্ত ঘাঁটি, পেঙ্গুন্ডা, কাওয়ান্ডে এবং তুমারকোথির মতো এলাকায় ১৫টি পুলিশ পোস্ট এবং সাব-পোস্ট বাসানো হয়েছে। গডচিরোলি জেলার এটাপল্লিতে ১৮টি, হেদ্রিতে ১৭টি, ভামরাগড়ে পাঁচটি এবং জিমলাগট্ট, ধানোরা এবং পেন্ধারিতে আরও কয়েকটি স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। পুলিশ সুপার নীলোৎপল জানিয়েছেন, মাওবাদী আন্দোলনের পরিকাঠামো ধ্বংস করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই ভাঙন চালানো হয়েছে।  ক্রমাগত নিরাপত্তা অভিযানের কারণে এই অঞ্চলে মাওবাদী কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

    ১৫ দিনে ৫৩টি স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলা হয়েছে

    বিজাপুর (Chhattisgarh) এবং গড়চিরোলিতে মাও-ধ্বংস অভিযান একটি বৃহত্তর, যৌথ প্রচেষ্টার অংশ। গত ১৫ দিনেই, সিআরপিএফ ছত্তিশগড়ের সুকমা, বিজাপুর এবং বস্তারে ৫৩টি নকশাল স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করেছে। ৮ ফেব্রুয়ারি রায়পুরে অনুষ্ঠিত বামপন্থী চরমপন্থা সংক্রান্ত এক পর্যালোচনা সভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশ অনুযায়ী এটি করা হয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসীদের সহায়তায় পরিচালিত লোকেশন ম্যাপিংয়ের সাহায্যে, নিরাপত্তা বাহিনী ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ এই ধরণের সমস্ত পরিকাঠামো (Naxals) ধ্বংস করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এর পরে, জমিটি যাতে আশেপাশের বনের অংশে পরিণত হয় এবং মাওবাদী কার্যকলাপের কোনও চিহ্ন না থাকে তা নিশ্চিত করার জন্য বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

    এই অভিযানে সিআরপিএফ কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে, অভ্যন্তরীণ গ্রামগুলিতে তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি বজায় রেখেছে। সম্প্রতি ধ্বংস করা স্মৃতিস্তম্ভগুলির মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের মে মাসে নারায়ণপুরে সিপিআই (মাওবাদী) সাধারণ সম্পাদক নাম্বাল্লা কেশব রাও ওরফে বাসভরাজু এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গড়িয়াবন্দে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রামচন্দ্র প্রতাপ রেড্ডি ওরফে চালপথীর মৃত্যুর পরে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভগুলি।

    গত তিন বছরে, নিরাপত্তা বাহিনী শুধুমাত্র বাস্তারে ৫২০ জনেরও বেশি মাওবাদীকে হত্যা করেছে এবং ১০০ টিরও বেশি স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করেছে। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে, প্রায় ৬০টি স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করা হয়েছিল। তবে, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে, সংখ্যাটি ১১৩-এ পৌঁছেছে, যা তীব্র দমন-পীড়নের ইঙ্গিত দেয়।

    তেলেঙ্গনা সীমান্তের কাছে কোমাটপল্লি গ্রামে অবস্থিত ৬৪ ফুট উঁচু স্মৃতিস্তম্ভ, সবচেয়ে উঁচু স্তম্ভকে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ধ্বংস করা হয়। গ্রামটি একসময় বিশাল মাওবাদী সমাবেশের সাক্ষী ছিল। ২০২২ সালে ‘শহিদ সপ্তাহ’ সমাবেশও ছিল, যেখানে সিনিয়র মাওবাদী নেতা এবং পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মির ব্যাটালিয়ন ১-এর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। একসময় ওই এলাকাটি নিরাপত্তা বাহিনীর নাগালের বাইরে ছিল, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

    অপারেশন কাগার এবং নকশালমুক্ত ভারতের জন্য কেন্দ্রের উদ্যোগ

    ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া অপারেশন কাগারের আওতায় এই ধ্বংসযজ্ঞ একটি বৃহত্তর জাতীয় কৌশলের অংশ। কেন্দ্র  নকশালদের শক্ত ঘাঁটিগুলিতে মাওবাদী ক্যাডারদের সম্পূর্ণরূপে উৎপাটন করার জন্য অভিযান জোরদার করেছে। সরকার সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মাওবাদী ক্যাডারদের নির্মূল করার দ্বিমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে, যার সঙ্গে রাস্তা সম্প্রসারণ, পরিবহণ সুবিধা, জল, বিদ্যুৎ এবং সরকারের অন্যান্য কল্যাণমূলক প্রকল্প গ্রামবাসীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মতো উন্নয়নমুখী কাজও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    এই কৌশলের অংশ হিসেবে, কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র (গড়চিরোলি), ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ এবং তেলঙ্গনা থেকে নকশালবাদ নির্মূল করার জন্য এই অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের আওতায়, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (CRPF), এর অভিজাত কোবরা ইউনিট, জেলা রিজার্ভ গার্ডস DRG) এবং রাজ্য পুলিশ সহ প্রায় ১ লক্ষ আধা-সামরিক বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করে বামপন্থী সন্ত্রাসবাদ প্রভাবিত এলাকাগুলিতে মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নকশাল সন্ত্রাসবাদের শেষ অবশিষ্ট ঘাঁটিগুলি থেকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা যায়।

    নকশাল-প্রভাবিত জেলার সংখ্যা ১০৬ থেকে নেমে ১৮

    কেন্দ্রের নকশাল-বিরোধী অভিযানের সাফল্য ব্যাপক। ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নকশাল-প্রভাবিত জেলার সংখ্যা ১০৬ থেকে কমে ১৮-এ নেমে এসেছে। এই জেলাগুলির মধ্যে ১২টি জেলাকে নকশালবাদ (Naxals) দ্বারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত বলে মনে করা হত। তবে, এই সংখ্যা আরও কমে মাত্র ৬টি সবচেয়ে বেশি নকশাল-প্রভাবিত জেলায় দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ছত্তিশগড়ের বিজাপুর, কাঙ্কের, নারায়ণপুর এবং সুকমা, ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম এবং মহারাষ্ট্রের গধচিরোলি।

    ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার), বিহার সরকার ঘোষণা করেছে বিহার এখন নকশালমুক্ত। বিশিষ্ট মাওবাদী সুরেশ কোডা, যিনি মুস্তাকিম নামেও পরিচিত, যার বিরুদ্ধে ৩ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল, তার আত্মসমর্পণের পর বিহার মাওবাদী মুক্ত। একদিন আগে তিনি মুঙ্গের জেলা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এটি লক্ষণীয় যে, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুসারে, বামপন্থী চরমপন্থীদের (এলডব্লিউই) দ্বারা প্রভাবিত জেলার সংখ্যাও কমে সাতটিতে দাঁড়িয়েছে।

  • Pakistan Afghanistan Clashes: আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাক বিমান হামলা! জখম শতাধিক শিশু-মহিলা

    Pakistan Afghanistan Clashes: আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাক বিমান হামলা! জখম শতাধিক শিশু-মহিলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান-আফগানিস্তান (Pakistan Afghanistan Clashes) সীমান্তবর্তী  এলাকায় হামলা চালাল পাক বিমান বাহিনী। তারা হামলা চালায় লোকালয়ে।  তার জেরে হতাহত হন বহু আফগান বেসামরিক লোক। যদিও ইসলামাবাদের দাবি, একাধিক আফগান তালিবান (Taliban) জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের একটি মসজিদে আত্মঘাতী হামলার জন্য তালিবান সরকারকে দায়ী করেছে পাক সেনা।

    নারী ও শিশু সহ বহু মানুষকে হত্যা (Pakistan Afghanistan Clashes)

    আফগান (Pakistan Afghanistan Clashes) সরকারের মতে, এই হামলায়  বহু মানুষ  নিহত ও আহত হয়েছেন। আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে বলেন, “গত রাতে, তারা নাঙ্গারহার এবং পাকটিকা প্রদেশে আমাদের বেসামরিক স্বদেশিদের ওপর বোমা হামলা চালিয়েছে, নারী ও শিশু সহ বহু মানুষকে হত্যা ও আহত করেছে।”

    পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত সপ্তাহে রমজান শুরু হওয়ার পর থেকে তিনটি হামলার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “পাকিস্তান সীমান্ত অঞ্চলে পাকিস্তানি তালিবান (Taliban) এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলির সাতটি সন্ত্রাসী শিবির এবং আস্তানা লক্ষ্য করে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচনী অভিযান চালানো হয়েছে। পাকিস্তান ইসলামিক স্টেট গ্রুপের একটি সহযোগী সংগঠনকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে – যারা সম্প্রতি ইসলামাবাদের একটি মসজিদে হামলার দায় স্বীকার করেছে। যেখানে ৩১ জন নিহত এবং ১৬০ জনেরও বেশি আহত হয়েছিল। ২০০৮ সালে ম্যারিয়ট হোটেলে বোমা হামলার পর এটি ছিল ইসলামাবাদে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলির মধ্যে একটি।”

    সাতটি জঙ্গি শিবিরে হামলা

    পাকিস্তানি (Pakistan Afghanistan Clashes) সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, আফগান তালিবান সরকারকে জঙ্গি গোষ্ঠীর কার্যকলাপ পরিচালনার জন্য আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার বন্ধ করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করার সত্ত্বেও, আফগান তালিবান সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি। পাকিস্তান সব সময় এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।  পাকিস্তান-আফগান সীমান্ত অঞ্চলে এফএকে এবং এর সহযোগী সংগঠন আইএসকেপি (ISKP)  সাতটি জঙ্গি শিবির এবং আস্তানাকে তথ্য-ভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালিয়েছে।

    ২০২১ সালে তালিবানরা কাবুলের নিয়ন্ত্রণ ও সম্পূর্ণ দখলের পর থেকে আফগানিস্তান-পাকিস্তানের মধ্যে তিক্ততা বেড়েই চলছে। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে মারাত্মক সীমান্ত সংঘর্ষের ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের তীব্র অবনতি হয়েছে। পাকিস্তান আফগানিস্তানের তালিবান (Taliban) সরকারকে জঙ্গিদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়া, আফগান মাটি ব্যবহার করা সহ একাধিক অবৈধ অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ করেছে। তবে কাবুলের তালিবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

LinkedIn
Share