Blog

  • Nepal Flood: নেপালে বুধিগণ্ডকী নদীতে ভয়াবহ বন্যা, নিখোঁজ অন্তত ১০, ভেসে গেল ৬টি সেতু

    Nepal Flood: নেপালে বুধিগণ্ডকী নদীতে ভয়াবহ বন্যা, নিখোঁজ অন্তত ১০, ভেসে গেল ৬টি সেতু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের গোর্খা জেলায় বুধিগণ্ডকী নদীর অববাহিকায় রবিবার ভোরে ভয়াবহ বন্যায় (Nepal Flood) অন্তত ১০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে ছ’টি সেতু। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক জনবসতি। প্রাণ বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন বহু বাসিন্দা। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি, উদ্ধার কাজ এবং বিপন্নদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করেছে নিরাপত্তাবাহিনী (Budhi Gandaki River)। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ভোর ৪টে নাগাদ গোর্খা জেলার উত্তরাংশে আছড়ে পড়ে বন্যা। নদীর জলস্তর কখনও বাড়ছে, কখনও কমছে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকেরা।

    ১০ জন নিখোঁজ (Nepal Flood)

    গোর্খার সহকারী মুখ্য জেলা আধিকারিক নেত্র প্রসাদ শর্মা সংবাদ সংস্থাকে জানান, বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে ১০ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। তিনি বলেন, “আজ সকালে জেলার উত্তরাংশে বন্যা আছড়ে পড়ার পর থেকে ১০ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। নদীর জলস্তর ক্রমাগত বাড়ছে এবং কমছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সতর্কতা জারি রয়েছে। নদীর গতিপ্রবাহের উপর আমরা নিরন্তর নজর রাখছি।”

    প্রশাসন সূত্রে খবর, বন্যায় ভেসে গিয়েছে ছ’টি সেতু। এর মধ্যে দু’টি মোটরযান চলাচলের উপযোগী সেতু এবং চারটি ঝুলন্ত সেতু। আরুঘাট, ত্রিপুরাসুন্দরী এবং সোতি-মানবু এলাকার সেতুগুলির ক্ষতি হয়েছে অথবা সেগুলি সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন শর্মা।

    ধারছে গ্রামীণ পুরসভার ১ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে সংযোগকারী একটি বেইলি সেতুও বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে। এ ছাড়া মাচ্ছিখোলা ও কারাউজা, ঠাডোভরিয়াং ও জগৎ এবং ঘট্টেখোলা ও ফিলিমের মধ্যে থাকা একাধিক সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    চুমনুব্রি গ্রামীণ পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাইনিউ ও বাগার এলাকায় প্রায় ৩৫টি বাড়ি বন্যার জলে ভেসে গিয়েছে। জগৎ, সাল্লেরি, দোভান এবং ঘট্টেখোলা এলাকার জনবসতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাজারেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে।

    ব্যাপক ক্ষতি

    চুমনুব্রি গ্রামীণ পুরসভার উপপ্রধান লক্ষ্মী গুরুং জানিয়েছেন, বন্যার জেরে এলাকার বাজারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, “বুধিগণ্ডকীর বন্যা ভোতেকোশী নদীর বন্যার স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। কয়েক ডজন বাড়ি জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে। এই মুহূর্তে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।”

    স্থানীয় বাসিন্দাদের বিবরণ অনুযায়ী, রবিবার ভোর ৪টে নাগাদ আশপাশের ছোট নদী ও জলধারা থেকে বিকট গর্জনের শব্দ শুনে চুমলিং ও লোকপা-সহ নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে শুরু করেন। স্থানীয় হোটেলগুলিতে থাকা পর্যটকেরাও নিরাপদ জায়গায় চলে যান।

    উদ্ধারকাজে সেনা

    বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ। তিনি জানিয়েছেন, তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য নেপাল সেনার একটি দলকে আকাশপথে এবং স্থলপথে দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়েছে (Nepal Flood)।

    ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য হেলিকপ্টারও নামানো হয়েছে। কাঠমান্ডু থেকে একটি যৌথ দ্রুত প্রতিক্রিয়াদলকে আকাশপথে দুর্গত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে নেপাল সেনার তরফে জানানো হয়, ছ’জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। কাঠমান্ডু থেকে দুর্গত এলাকার দূরত্ব প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার।

    নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং জানিয়েছেন, উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহায়তার জন্য হেলিকপ্টার-সহ নিরাপত্তাবাহিনীর বিভিন্ন দল মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁর সতর্কবার্তা, নদীর জলস্তর এখনও ওঠানামা করছে এবং ঘোলা বন্যার জল ঘট্টেখোলা এলাকার কয়েকটি বাড়িতে ঢুকে পড়েছে।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে গুরুং চুমনুব্রি গ্রামীণ পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ন্যাকচেট ও ফিলিম বাজারের মধ্যে সংযোগকারী সেতু ভেঙে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    বুধিগণ্ডকী নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে সিরদিবাস, জগৎ, সাল্লেরি, খোরলাবেসি, মাচ্ছাখোলা, সোতি, আরখেত এবং আরুঘাট এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে বলা হয়েছে।

    জরুরি সাহায্যের প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ১২৩৪ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন মন্ত্রী। নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করতে এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যেতে প্রশাসনের তরফে মাইকে প্রচারও চালানো হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, গত ২৬ অগাস্ট নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোতেকোশী নদীর ভয়াবহ বন্যার পর ফের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ল দেশটি। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রাসুয়া ও ত্রিশূলী নদী এলাকায় বন্যায় ১,৪৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ৫,২৮৫ জন নিখোঁজ ছিলেন বলে জানানো হয়েছিল (Budhi Gandaki River)।

    বর্তমানে গোর্খা জেলায় বুধিগণ্ডকী নদীর জলস্তরের উপর নজর রাখছে প্রশাসন। দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকারী দল কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে (Nepal Flood)।

     

  • Suvendu Adhikari: রাজ্যে জরুরি পরিষেবায় সাড়া দিতে সময় কমানোর লক্ষ্যমাত্রা শুভেন্দুর, ৯০০ গাড়ি নামাল পুলিশ

    Suvendu Adhikari: রাজ্যে জরুরি পরিষেবায় সাড়া দিতে সময় কমানোর লক্ষ্যমাত্রা শুভেন্দুর, ৯০০ গাড়ি নামাল পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে হবে রাজ্যের পুলিশকে। বর্তমানে জরুরি পরিষেবায় সাড়া দিতে পুলিশের গড়ে প্রায় ৯০ মিনিট সময় লাগে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেই সময় কমিয়ে আনার লক্ষ্যে নতুন জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা চালু করল রাজ্য সরকার। শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এক অনুষ্ঠানে জরুরি সাড়া প্রদান সহায়তা ব্যবস্থা চালু করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ব্যবস্থার অধীনে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ৯০০টি যানবাহন (Police Reform)। তার মধ্যে রয়েছে ৪৫০টি চারচাকার গাড়ি এবং সমসংখ্যক মোটরবাইক।

    পুলিশের কর্মদক্ষতা (Suvendu Adhikari)

    অনুষ্ঠানে কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের কর্মদক্ষতার তুলনা টেনে শুভেন্দু বলেন, কলকাতা পুলিশের হাতে বেশি সংখ্যক কর্মী ও যানবাহন থাকায় তারা ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে পারে। রাজ্য পুলিশের ক্ষেত্রেও একই রকম দ্রুত পরিষেবা নিশ্চিত করার উপর জোর দেন তিনি।

    পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও গুজরাট ছয় থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেয়। বাংলা কেন তা করতে পারবে না?” দ্রুত পরিষেবা দেওয়ার জন্য পুলিশকর্মীদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, ৯০০টি যানবাহন দিয়ে এই উদ্যোগের সূচনা হল মাত্র। আগামী এক বছরের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি থানায় চারটি করে মোটরবাইক এবং চারটি করে গাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এই যানবাহন চালানোর জন্য ১,৫০০ জন চালক নিয়োগের প্রস্তাবেও রাজ্য মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে বলে জানান তিনি।

    থানার পরিকাঠামো উন্নয়নেও জোর

    রাজ্যের একাধিক থানার বেহাল পরিকাঠামো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, অনেক থানায় ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। কলকাতার ওয়াটগঞ্জ ও একবালপুর থানা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ওই থানাগুলির ভবন প্রায় একশো বছরের পুরনো বলে মনে হয়েছে। পাশাপাশি, সেখানে পর্যাপ্ত নজরদারি ক্যামেরা এবং অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রেরও অভাব রয়েছে। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই সমস্ত কিছুরই পরিবর্তন করতে হবে।”

    উপনির্বাচনে শান্তি বজায় রাখায় পুলিশের প্রশংসা

    সম্প্রতি রাজ্যের দু’টি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় পুলিশকর্তাদের প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রক্তপাত ছাড়া ভোটপর্ব শেষ করার জন্য পুলিশকর্তাদের কৃতিত্ব দেন তিনি। রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা এবং ভারতীয় পুলিশ পরিষেবার আধিকারিক জাভেদ শামিম-সহ একাধিক পদস্থ আধিকারিকের ভূমিকার প্রশংসা করেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)।

    জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের সঙ্গে অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের আরও ভালো সমন্বয়ের উপরেও জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ করা সম্ভব হবে।

    ১১ হাজারেরও বেশি কনস্টেবল নিয়োগ

    পুলিশে নিয়োগ প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের সরকারের তুলনায় বর্তমান সরকার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এনেছে। দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যে ১১ হাজারেরও বেশি পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে।

    মাদকাসক্তি এবং মহিলাদের উপর হামলার ঘটনায় রাজ্য সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা ফের স্পষ্ট করেন শুভেন্দু। এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কোনওরকম আপস করা হবে না বলে জানান (Police Reform) তিনি।

    আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুনের শিকার চিকিৎসকের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন রাজ্যের প্রথম পদ্ম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, দেখে নেওয়া যাক সাপ্তাহিক ছবি

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, দেখে নেওয়া যাক সাপ্তাহিক ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দুধর্মের উপর হামলা, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও বৈষম্যের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে (Hindus Under Attack)। ২০২৬ সালের ৪ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সময়কালের ঘটনাবলী নিয়ে প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে ভারতে হিন্দু ধর্মীয় স্থান, উৎসব ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ঘিরে কয়েকটি বিতর্কের পাশাপাশি বাংলাদেশে এক হিন্দু মিষ্টি ব্যবসায়ী ও তাঁর বৃদ্ধা মায়ের উপর হামলার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটির প্রকাশকদের দাবি, হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক আচরণ, ধর্মীয় স্থানে ভাঙচুর, জমি দখল, জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ, হিংসা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের মতো ঘটনা বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাঁদের মতে, এই ধরনের ঘটনা মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

    ধর্মীয় স্থান ও উৎসব ঘিরে বিতর্ক (Hindus Under Attack)

    প্রতিবেদনে ভারতের একাধিক ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে সংবাদমাধ্যমে বিতর্কিত ব্যক্তির সাক্ষাৎকার দেওয়া, এক তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার, ধর্মীয় স্থানের কাছে খাদ্য গ্রহণ নিয়ে বিতর্ক, বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দে মাতরম বিষয়ক আলোচনা সভায় বিঘ্ন এবং ধর্মীয় স্থানের কাছে কবরস্থানের জন্য জমি বরাদ্দের বিরোধ অন্যতম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যম দ্য কুইন্টে শরজিল ইমামের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনটির লেখকদের অভিযোগ, সাক্ষাৎকারে শরজিল ইমামের বক্তব্য এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে তাঁকে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। শরজিল ইমাম বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত। তাঁকে সাক্ষাৎকার দেওয়া এবং তাঁর বক্তব্য উপস্থাপনের ধরন নিয়ে অন্য একটি সংবাদমাধ্যমেও সমালোচনা প্রকাশিত হয়েছে। তবে সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যকে সমর্থন করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

    তরুণীর অভিযোগে শরীরচর্চার প্রশিক্ষক গ্রেফতার

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চেন্নাইয়ের ওত্তেরি এলাকার বাসিন্দা বছর সাতাশের শরীরচর্চার প্রশিক্ষক ইমতিয়াজ শরিফকে সচিবালয় কলোনি থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার পর তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক কলেজপড়ুয়া তরুণীর সঙ্গে নিজের ছবি প্রকাশ করেছিলেন। ঘটনাটির বিস্তারিত এবং অভিযোগের পরবর্তী আইনি অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে আর কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।

    আমিষ খাবার খাওয়া নিয়ে বিতর্ক

    কর্নাটকের কুদালসঙ্গমে শিবমন্দিরের কাছে কয়েকজনের আমিষ খাবার খাওয়ার ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। কুদালসঙ্গম জগজ্যোতি বসবন্নের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। প্রতিবেদনের দাবি, ঘটনাটি নিয়ে বিজেপির নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা এবং ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি (Hindus Under Attack)।

    বন্দে মাতরম বিষয়ক আলোচনা সভায় বিঘ্ন

    কেরলের কাসারগড়ে কেরল কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দে মাতরম বিষয়ক দু’দিনের একটি আলোচনা সভা চলাকালীন বিক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে। ওই অনুষ্ঠানে রাজ্যপালও বক্তাদের মধ্যে ছিলেন।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২৫ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এফআইআর নথিভুক্ত করেছে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রকৃতি, তাঁদের বক্তব্য এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

    জমি বরাদ্দ নিয়ে আপত্তি

    কর্নাটকের মঙ্গলুরুর মুডুশেদ্দে গ্রামে মুসলিম সম্প্রদায়ের কবরস্থানের জন্য দুই একর জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রস্তাবিত জমিটি জারান্দায়া দৈবস্থান নামে পরিচিত একটি ধর্মীয় স্থান, একটি পবিত্র নাগবন এবং কাছাকাছি অবস্থিত জৈন উপাসনাস্থলের নিকটে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও কয়েকটি হিন্দু সংগঠনের আপত্তি, ওই এলাকার ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব রক্ষার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে। প্রতিবেদনের বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, জমি বরাদ্দের স্থান নির্বাচন ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে উদ্বেগ তৈরি করছে। তবে জমি বরাদ্দের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, সরকারি বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে নেই।

    বাংলাদেশে হামলার অভিযোগ

    বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মীয় স্থানে ভাঙচুর, জমি দখল, ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জনতার হামলা, নারীদের উপর যৌন হিংসা এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের মতো ঘটনা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। প্রতিবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাকাতের একটি সমীক্ষার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা লুপ্ত হয়ে যেতে পারে (Hindus Under Attack)।

    আক্রান্ত ব্যবসায়ী ও তাঁর মা

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝিনাইদহ জেলার ফুলহারি ইউনিয়নের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে সুব্রত দই-মিষ্টি ভান্ডারের মালিক সুব্রত বাবু ও তাঁর শতায়ু মা হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। সুব্রতবাবুর বক্তব্য, কয়েকজন লোক দাম না দিয়েই এর আগেও তাঁর দোকান থেকে জোর করে দই নিয়ে গিয়েছিলেন। ৫ অক্টোবর তারা ফের দোকানে এসে টাকা না দই-মিষ্টি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। এরপরেই দুষ্কৃতীরা প্রথমে সুব্রত ও পরে তাঁর বৃদ্ধা মায়ের উপর হামলা চালান বলে অভিযোগ। তবে অভিযুক্তদের পরিচয়, পুলিশের পদক্ষেপ, মামলা নথিভুক্ত হয়েছে কি না এবং আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

    ধর্মীয় বিদ্বেষ-বৈষম্য নিয়ে প্রতিবেদনের দাবি

    প্রতিবেদনের লেখকদের মতে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ কখনও সরাসরি হিংসা বা ধর্মীয় স্থানে হামলার মাধ্যমে প্রকাশ পায়, আবার কখনও আইন, প্রশাসন, প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরের বিভিন্ন আচরণের মধ্য দিয়ে সূক্ষ্মভাবে প্রকাশিত হতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, এই ধরনের বৈষম্য শনাক্ত করতে আইন, নীতি ও ঘটনাগুলির ধারাবাহিক ধরন বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। লেখকদের দাবি, পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও হিন্দু উৎসবের ক্ষেত্রে তার প্রয়োগ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে পরিবেশগত নিয়মের প্রয়োগের মধ্যে তুলনা করা দরকার (Hindus Under Attack)। তবে আতশবাজি ব্যবহারের উপর বিধিনিষেধ সাধারণত বায়ুদূষণ, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার যুক্তিতে আরোপ করা হয়। কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তকে ধর্মীয় বৈষম্য হিসেবে চিহ্নিত করতে হলে তার আইনি ভিত্তি, প্রয়োগের ধরন এবং তুলনামূলক তথ্য যাচাই করা জরুরি।

    মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় নিরপেক্ষ তদন্তের গুরুত্ব

    ভারত ও বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ ধরনের ঘটনায় অভিযোগ, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং যাচাই করা তথ্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রাখা জরুরি। উল্লেখ্য, প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত, পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এবং প্রাসঙ্গিক নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সামগ্রিক বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়া রোধ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ (Hindus Under Attack)।

     

  • Turkey Muslims: ইস্তাম্বুলে জাপানি সাংস্কৃতিক উৎসবে হামলা, আগেভাগেই বন্ধ করতে হল অনুষ্ঠান

    Turkey Muslims: ইস্তাম্বুলে জাপানি সাংস্কৃতিক উৎসবে হামলা, আগেভাগেই বন্ধ করতে হল অনুষ্ঠান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তুরস্কের ইস্তাম্বুলে জাপানি সংস্কৃতি উদ্‌যাপনের একটি উৎসবে হামলার অভিযোগ একদল ইসলামপন্থী বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে (Turkey Muslims)। গত ৪ অক্টোবর ‘কোনোহাফেস্ট’ নামের দু’দিনের এই উৎসবে হামলা চালিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মারধর, বিভিন্ন স্টল ভাঙচুর এবং সরঞ্জাম নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। হামলাকারীদের মুখে শোনা যায় ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলেও হিংসা ও ভাঙচুরের জেরে নির্ধারিত সময়ের আগেই উৎসব বন্ধ করে দিতে (Istanbul) বাধ্য হন আয়োজকেরা। ঘটনায় কয়েক জন সামান্য আহত হয়েছেন বলেও খবর।

    ইস্তাম্বুলের উমরানিয়ে এলাকায় ৩ ও ৪ অক্টোবর আয়োজিত হয়েছিল এই উৎসব। জাপানের জনপ্রিয় সংস্কৃতি, অ্যানিমে, মাঙ্গা, ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন ছিল উৎসবের মূল আকর্ষণ। অনুষ্ঠানে বহু দর্শকের পাশাপাশি পরিবার ও শিশুরাও উপস্থিত ছিল। আচমকা হামলার জেরে উৎসবের পরিবেশ দ্রুত বদলে যায় আতঙ্কে।

    আয়োজকদের দাবি (Turkey Muslims)

    আয়োজকদের দাবি, উৎসব শুরুর আগেই এর বিরুদ্ধে প্রচার শুরু হয়েছিল। ‘উমরানিয়ে এনজিও প্ল্যাটফর্ম’ নামে পরিচয় দেওয়া একটি গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টার ছড়িয়ে উৎসব বাতিলের দাবি তোলে। পরিবারগুলিকে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং অনুষ্ঠান বন্ধের দাবিতে সই সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    প্রচারপত্রে লেখা হয়েছিল, “আমরা আর নীরব থাকব না! আমরা সমস্ত পরিবারকে আহ্বান জানাচ্ছি।” বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, এই উৎসব শিশুদের কাছে খারাপ উদাহরণ তৈরি করছে এবং তাদের মূল্যবোধের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।

    পরবর্তী সময়ে ওই গোষ্ঠীর সদস্যরা উৎসবস্থলের কাছে জড়ো হয়ে একটি বিবৃতি পাঠ করেন। তাঁদের অভিযোগ, উৎসবের পোশাক, পরিবেশনা এবং সংশ্লিষ্ট জীবনযাপন তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক কাঠামো, জাতীয় পরিচয় ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    তাঁদের আরও দাবি, জাপানি জনপ্রিয় সংস্কৃতির এই আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে তুর্কি সংস্কৃতি থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে এবং তাদের মধ্যে পরিচয়সংক্রান্ত বিভ্রান্তি তৈরি করছে। ভবিষ্যতেও যাতে এই ধরনের অনুষ্ঠান না হয়, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে পদক্ষেপ করার আহ্বান জানানো হয়।

    বিক্ষোভ চলাকালীন বিভিন্ন ব্যানারে তুরস্কের ইতিহাস, শালীনতা ও ঐতিহ্য রক্ষার পক্ষে স্লোগান লেখা ছিল। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—“আদর্শ খুঁজলে নিজের ইতিহাসের দিকে তাকান”, “আমাদের নায়ক সুলতান দ্বিতীয় মেহমেদ”, “প্রদর্শনবাদ নয়, শালীনতার পক্ষে” এবং “আমরা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে অনুকরণের হাতে তুলে দেব না”।

    বিক্ষোভকারীরা তুরস্ক সরকারের ‘পরিবার ও জনসংখ্যার দশক’ উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। এই কর্মসূচিতে (Turkey Muslims) পরিবারকেন্দ্রিক নীতি ও ঐতিহ্যগত সামাজিক মূল্যবোধের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সেপ্টেম্বর মাসে তুরস্কের ১৫টি প্রদেশে পরিচালিত ‘আমার পরিবার সুরক্ষিত’ অভিযানকেও সমর্থন জানিয়েছিল ওই গোষ্ঠী। এই অভিযানে অন্তর্ভুক্তি ও সমানাধিকারের দাবিতে সরব এলজিবিটিআই-প্লাস গোষ্ঠী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের টার্গেট করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

    বিক্ষোভকারীদের তাণ্ডব

    বিবৃতি পাঠের পর বিক্ষোভকারীরা ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিতে দিতে উৎসবের দিকে এগিয়ে যান। এরপর অংশগ্রহণকারীদের উপর হামলা চালানো হয় এবং বিভিন্ন স্টল ও সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে দর্শকদের মধ্যে। কয়েক জন সামান্য আহত হন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। যদিও ততক্ষণে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয় উদ্যোক্তাদের।

    এই ঘটনা তুরস্কের জনজীবনে ইসলামি রক্ষণশীলতার প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সরকার দীর্ঘদিন ধরেই ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক কাঠামো এবং জাতীয় পরিচয়কে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এই ধরনের নীতির ফলে কিছু সাংস্কৃতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতি বিরূপ মনোভাব আরও বেড়েছে।

    বিক্ষোভকারীরা কোনোহাফেস্টের বিরোধিতাকে তুর্কি ও ইসলামি মূল্যবোধ রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরলেও, অভিযোগ, ঘটনাটি কেবল প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকেনি। উৎসবে উপস্থিত মানুষজন এবং তাঁদের ব্যবহৃত সরঞ্জামও সরাসরি হামলার লক্ষ্য হয়ে ওঠে।

    এই ঘটনা তুরস্কে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রভাবকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সামাজিক টানাপোড়েনেরও ইঙ্গিত। দেশটির তরুণদের মধ্যে জাপানি অ্যানিমে, মাঙ্গা, ভিডিও গেম এবং চরিত্রভিত্তিক পোশাক পরার প্রতিযোগিতা বা কসপ্লের জনপ্রিয়তা ক্রমশ বেড়েছে। বিভিন্ন সম্মেলন, বিষয়ভিত্তিক সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আগ্রহ প্রকাশ পায়।

    তুরস্কে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে উদ্বেগ

    রক্ষণশীল ধর্মীয় বা জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে যেসব গোষ্ঠীর জীবনযাপন ও কার্যকলাপের সংঘাত তৈরি হয়, তাদের প্রতি আচরণ নিয়ে তুরস্কে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। খ্রিস্টান-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুরাও বিভিন্ন সময়ে বিরূপ মনোভাবের মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ (Turkey Muslims)।

    ঐতিহাসিক খ্রিস্টান উপাসনালয় হায়া সোফিয়া এবং চোরা কমপ্লেক্সকে মসজিদে রূপান্তরিত করার বিষয়ে এরদোয়ান সরকারের সিদ্ধান্তও আন্তর্জাতিক স্তরে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। এই সিদ্ধান্তগুলি তুরস্কের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

    এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনোহাফেস্টে হামলার বিষয়ে প্রশাসনের কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি। গ্রেফতার বা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও কোনও তথ্য মেলেনি।

    পরিবার ও শিশুদের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি শান্তিপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিংসার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি ইসলামপন্থী কট্টরপন্থীদের সহনশীলতা এবং ভিন্ন বিশ্বাস ও জীবনযাপনের মানুষের সঙ্গে সহাবস্থানের মানসিকতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে (Istanbul)।

    একটি শান্তিপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া পরিবার ও শিশুদের উপস্থিতিতেই এই হামলার অভিযোগ ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বিপজ্জনক দিকটি সামনে এনেছে। ধর্মের চরমপন্থী ব্যাখ্যা যখন অসহিষ্ণুতাকে উসকে দেয়, তখন তা সামাজিক সম্প্রীতি, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির স্বাধীনতাকে বিপন্ন করতে পারে (Turkey Muslims) বলেই মত সংশ্লিষ্টমহলের।

     

  • CJP: লখনউয়ে বিক্ষোভের মাঝে পুলিশের বিরুদ্ধে পোশাক ছেঁড়ার অভিযোগ, ব্লাউজের বোতাম খোলার দাবি ঘিরে বিতর্ক

    CJP: লখনউয়ে বিক্ষোভের মাঝে পুলিশের বিরুদ্ধে পোশাক ছেঁড়ার অভিযোগ, ব্লাউজের বোতাম খোলার দাবি ঘিরে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওয় দাবি করা হয়েছে, পুলিশের বিরুদ্ধে পোশাক ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলার সময় এক মহিলা বিক্ষোভকারী ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের ব্লাউজের বোতাম খুলছিলেন (CJP)। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক মহিলা সাংবাদিকের বক্তব্য ঘিরেই এই বিতর্কের সূত্রপাত।

    সাংবাদিকের বক্তব্য (CJP)

    প্রকাশিত ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, বিক্ষোভস্থল থেকে খবর সংগ্রহ করছিলেন এক মহিলা সাংবাদিক। সেই সময় কয়েক জন মহিলা অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁদের পোশাক ছিঁড়ে দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহিলাদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সাংবাদিক তাঁদের বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করেন (Police Controversy)। ভিডিওয় ওই সাংবাদিককে বলতে শোনা যায়, “হ্যাঁ, হ্যাঁ, উনি আমার সামনেই পোশাক ছিঁড়েছেন।” এরপরই নিজের বক্তব্য সংশোধন করে তিনি এক মহিলার আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সাংবাদিককে আরও বলতে শোনা যায়, “এভাবে নিজেকে নির্যাতিত হিসেবে তুলে ধরবেন না, ম্যাডাম। উনি আমার সামনে ব্লাউজের বোতাম খুলছেন, আর বলছেন পুলিশ তাঁর পোশাক ছিঁড়ে দিয়েছে। মিথ্যা বলবেন না।”

    পোশাক ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ

    সাংবাদিকের অভিযোগ, পুলিশের বিরুদ্ধে পোশাক ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলার সময় ওই মহিলা তাঁর সামনেই ব্লাউজের বোতাম খুলছিলেন। তবে ভিডিওয়  সাংবাদিকের বক্তব্য ও ঘটনাস্থলে তাঁর অভিজ্ঞতার বিবরণ সামনে এলেও, অভিযোগের সমস্ত দিক স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয় (CJP)। উল্লেখ্য, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ওই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল। বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তা নিয়ে সাংবাদিকের প্রকাশ্য প্রশ্ন তোলার ঘটনাই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত ভিডিওয় মূলত সাংবাদিকের বক্তব্য (Police Controversy) এবং বিক্ষোভকারী মহিলার সঙ্গে তাঁর কথোপকথন তুলে ধরা হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করতে হলে ঘটনার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন (CJP)।

     

  • Election Commission: নির্বাচন কমিশনের পাশে ১২৪ প্রাক্তন আমলা, ভোটার তালিকা সংশোধনের পক্ষে খোলা চিঠি

    Election Commission: নির্বাচন কমিশনের পাশে ১২৪ প্রাক্তন আমলা, ভোটার তালিকা সংশোধনের পক্ষে খোলা চিঠি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে ‘কারচুপিমুক্ত’ রাখার দাবি তুলে ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সমর্থনে সরব হলেন ১২৪ জন প্রাক্তন আমলা ও আধিকারিক। গত (SIR) ১০ অক্টোবর, শনিবার, প্রাক্তন ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবা, ভারতীয় বিদেশ পরিষেবা-সহ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার আধিকারিকেরা দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে একটি (Election Commission) খোলা চিঠি প্রকাশ করেন। সেখানে তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুললে তার স্বপক্ষে যথাযথ প্রমাণও দিতে হবে। শুধু রাজনৈতিক অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত নয় বলেও মত তাঁদের। গত ৭ অক্টোবর ৪২ জন প্রাক্তন বিচারপতিও নির্বাচন কমিশনের সমর্থনে একই ধরনের একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছিলেন। বিরোধীদের তরফে কমিশনকে নিশানা করার প্রবণতার সমালোচনা করে তাঁরা অভিযোগ করেছিলেন, এই ধরনের প্রচেষ্টা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।

    অতীতের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থা (Election Commission)

    খোলা চিঠিতে প্রাক্তন আধিকারিকেরা জানান, দীর্ঘ কর্মজীবনে তাঁরা নির্বাচন পরিচালনা করেছেন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেছেন। তাঁদের মতে, একসময় বুথ দখল, হিংসা, ব্যালট বাক্স লুট এবং ভুয়ো ভোটদানের মতো ঘটনা ছিল নির্বাচনের পরিচিত সমস্যা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে নির্বাচনী ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ১৯৮৯ সালে বুথ দখলকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

    এই প্রসঙ্গে বিহারের ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, ১৯৫১ সালের পর বিহারে ওই নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটদানের হার নথিভুক্ত হয়েছিল। বিশেষ করে, রেকর্ড সংখ্যক মহিলা ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। পাশাপাশি, রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রথমবার কোনও কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন হয়নি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রাক্তন আধিকারিকেরা লিখেছেন, “কারচুপিপূর্ণ নির্বাচন দেখতে কেমন, তা আমরা জানি। এমন সময়ে আমরা কাজ করেছি, যে সময়ের কথা আপনারা শুধু সিনেমায় দেখেছেন—বুথে আগ্নেয়াস্ত্রের দাপট, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনুগামীদের দৌরাত্ম্য, ব্যালট বাক্স ভরে দেওয়া বা লুট করা এবং ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া। বুথ দখল এতটাই সাধারণ ঘটনা ছিল যে ১৯৮৯ সালে সংসদ একে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। যখন হিংসা কথা বলে, তখন গণতন্ত্র নীরব হয়ে যায়।”

    ভোটে কারচুপি ঠেকাতে একাধিক সুরক্ষাব্যবস্থা

    নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে চিঠিতে ভোটগ্রহণের বিভিন্ন সুরক্ষাব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আধিকারিকদের বক্তব্য, প্রতিটি প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতিনিধি ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। ভোট গণনার পর স্বাক্ষরিত নথিও তাঁরা পান। ভোটযন্ত্র সিল করার সময় নির্বাচনী প্রতিনিধিদের স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং যন্ত্রগুলি নিরাপদ কক্ষে রাখা হয়, যেখানে প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা নজরদারি করতে পারেন (Election Commission)।

    এ ছাড়া, ভোটযন্ত্রে গণনা করা ভোটের সঙ্গে কাগজের ভোট-স্লিপ মিলিয়ে দেখার ব্যবস্থাও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করে। ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্টও এই সুরক্ষাব্যবস্থাকে বহাল রেখেছিল বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রাক্তন আধিকারিকদের কথায়, “কর্মকর্তারা সাধু হয়ে গিয়েছিলেন বলে এই পরিবর্তন ঘটেনি। বরং নির্বাচন কমিশনের তৈরি করা ব্যবস্থা কাউকেই অন্ধভাবে বিশ্বাস করে না বলেই এটি সম্ভব হয়েছে। প্রতিটি প্রার্থীর প্রতিনিধি প্রতিটি বুথের ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রদত্ত ভোটের গণনার স্বাক্ষরিত নথি সঙ্গে নিয়ে যান। ভোটযন্ত্রগুলিতে প্রতিনিধিদের স্বাক্ষর-সহ সিল করা হয় এবং সেগুলিকে নিরাপদ কক্ষে পাহারার মধ্যে রাখা হয়, যেখানে প্রার্থীদের নজরদারির সুযোগ থাকে।”

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনে বড় ধরনের কারচুপি করতে হলে হাজার হাজার সরকারি আধিকারিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিকে একযোগে নীরব থাকতে হবে। অথচ এমন কোনও ষড়যন্ত্রের প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি বলে দাবি তাঁদের।

    নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাঠামো নিয়েও ওঠা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, কমিশনকে একাধিক সদস্যের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে, যাতে কোনও এক ব্যক্তির হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত না হয়। ১৯৯৫ সালে সুপ্রিম কোর্টও এই কাঠামো বহাল রেখেছিল। তিন নির্বাচন কমিশনার বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিটি বিষয় বিবেচনা করেন। ফলে কমিশনারদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেই তাকে অস্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া যায় না।

    ভোটার তালিকা পরিষ্কারে বিশেষ নিবিড় সংশোধন জরুরি

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার পক্ষেও সওয়াল করেছেন প্রাক্তন আধিকারিকেরা। তাঁদের দাবি, বিহারে ২০০৩ সালের পর থেকে ভোটার তালিকার এমন নিবিড় সংশোধন হয়নি। সাম্প্রতিক প্রক্রিয়ায় প্রায় ২২ লাখ মৃত ভোটারের নাম, সাত লাখের মতো দ্বৈত নাম নথিভুক্তি এবং স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া বহু মানুষের নাম চিহ্নিত করা হয়েছে (SIR)।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, অন্যের নামে ভোটদান আটকাতে এই ধরনের নাম বাদ দেওয়া জরুরি। আধিকারিকদের কথায়, “পরিমার্জন না করা ভোটার তালিকা ভোটারকে সুরক্ষা দেয় না, বরং জালিয়াতকে সুরক্ষা দেয় (Election Commission)।”

    বিশেষ নিবিড় সংশোধনের মাধ্যমে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে—এমন আশঙ্কাও খারিজ করেছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, খসড়া ভোটার তালিকা চূড়ান্ত নয়। তালিকায় কারও নাম না থাকলেই যে তাঁর নাম স্থায়ীভাবে বাদ পড়েছে, এমন নয়। কোনও নাম বাদ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ দিতে হবে এবং নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি, সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দু’টি স্তরে আপিলের ব্যবস্থাও রয়েছে।

    প্রাক্তন আধিকারিকদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার নতুন ভোটারের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলিও বুথ স্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কাজ করার জন্য নিজেদের প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারে।

    চিঠিতে তাঁদের বক্তব্য, “বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া আসলে ভোটার তালিকা পরিষ্কার করার একটি প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে তালিকা পরিমার্জন করা হয় এবং ভোট দেওয়ার অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় কিছু অসুবিধা তৈরি হতে পারে। কিন্তু ভারতের গণতন্ত্রকে আরও সুস্থ করে তোলার জন্য নেওয়া বড় উদ্যোগগুলির ক্ষেত্রে এই ধরনের অসুবিধা স্বাভাবিক।”

    সুপ্রিম কোর্টের নজরদারি ও নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা

    বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেছেন প্রাক্তন আধিকারিকেরা। তাঁদের দাবি, আদালত এই প্রক্রিয়া বন্ধ করেনি। তবে বিহারের খসড়া ভোটার তালিকায় নাম না থাকা ৬৫ লাখ মানুষের নাম এবং তাঁদের নাম বাদ পড়ার কারণ প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছিল।

    এ ছাড়া, অনলাইনে দাবি জানানোর সুযোগ, পরিচয়পত্র হিসেবে আধার গ্রহণ এবং আপিলের ক্ষেত্রে বিনামূল্যে আইনি সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। কোনও বেআইনি পদ্ধতি ব্যবহারের প্রমাণ মিললে এই সংশোধন প্রক্রিয়া বাতিল হতে পারে বলেও আদালত সতর্ক করেছিল বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আধিকারিকেরা আরও জানান, ২০২৬ সালের ২৭ মে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের অধীনে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বহাল রাখে। একই সঙ্গে ভুলবশত তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়।

    রাজনৈতিক ফলের ভিত্তিতে কমিশনকে বিচার করা উচিত নয়

    প্রাক্তন আধিকারিকদের মতে, নির্বাচনের ফল পছন্দসই না হলেই নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যুক্তিযুক্ত নয়। তাঁদের বক্তব্য, একই কমিশনের অধীনে হিমাচল প্রদেশ, কর্নাটক, তেলঙ্গানা, ঝাড়খণ্ড এবং জম্মু ও কাশ্মীরে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনে পরাজয়ের মুখে পড়েছে। এমনকি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও শাসক দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল।

    তাঁরা নাগরিকদের ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম যাচাই করার আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বাবা-মা, প্রতিবেশী এবং কর্মসূত্রে অন্যত্র বসবাসকারী পরিযায়ী শ্রমিকদেরও তালিকায় নাম রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করতে সাহায্য করার আহ্বান জানিয়েছেন। কারও নাম না থাকলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে দাবি জানিয়ে নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করতে বলা হয়েছে।

    বুথ স্তরের আধিকারিকদের ভূমিকাও চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের অনেকেই শিক্ষক এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। ভোটার তালিকার তথ্য আপডেট করতে তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করেন বলে উল্লেখ করেছেন প্রাক্তন আধিকারিকেরা (Election Commission)।

    চিঠির শেষে তাঁরা লিখেছেন, “সব কিছু নিয়েই প্রশ্ন তুলুন। কিন্তু কেউ যখন বলেন নির্বাচন ‘কারচুপিপূর্ণ’, তখন তাঁর কাছে এমন প্রমাণ চান, যার পক্ষে তিনি শপথ করে দাঁড়াতে পারবেন।”

    তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে। তবে অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ থাকা জরুরি এবং তা আইনি পথে জানানো উচিত। ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি জানানো কিংবা হাইকোর্টে নির্বাচনী আবেদন দাখিল করার মতো বৈধ পথও রয়েছে।

    চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে, প্রমাণ ছাড়া বারবার নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগ তুললে গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হতে পারে। কোনও দল জিতলে যে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে নিরপেক্ষ বলা হচ্ছে, সেই একই ব্যবস্থাকে পরাজয়ের পর (SIR) অসৎ বলে দাগিয়ে দেওয়া উচিত নয় বলেও মত প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন আধিকারিকেরা।

     

  • India Slams UN: আরশোলাদের প্রতিবাদে শামিল লোকজনকে আটক নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের উদ্বেগে ক্ষুব্ধ দিল্লি, ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ’, তোপ ভারতের

    India Slams UN: আরশোলাদের প্রতিবাদে শামিল লোকজনকে আটক নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের উদ্বেগে ক্ষুব্ধ দিল্লি, ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ’, তোপ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শত শত সমর্থককে আটক করার ঘটনায় রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দফতরের উদ্বেগকে ‘দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ’ বলে আক্রমণ করল ভারত (India Slams UN)। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দফতরের (ওএইচসিএইচআর) মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে নয়াদিল্লির দাবি, এই উদ্বেগের কোনও ভিত্তি নেই। বরং বিশ্বের অন্যত্র হওয়া বৃহৎ বিক্ষোভের দিকেও রাষ্ট্রসংঘের নজর দেওয়া উচিত।

    মুখের মতো জবাব ভারতের (India Slams UN)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় রাষ্ট্রসংঘের ভারতের সরকারি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। এখানে সংবিধান শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করেছে। শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং মুক্ত সংবাদমাধ্যম এই অধিকারকে সুরক্ষিত রাখে। অন্য সব গণতান্ত্রিক দেশের মতো ভারতেও জনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধের আওতায় নাগরিকেরা এই অধিকার প্রয়োগ করেন। অন্যদিকে, প্রশাসন আইন মেনেই কাজ করে এবং যে কোনও অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ সবার জন্য খোলা রয়েছে (Delhi Detentions Remarks)।”

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ধর্না দিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সিজেপির নেতা-কর্মী- সমর্থকেরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিরোধী দলের নেতারাও। সেই সময় দিল্লি পুলিশ প্রায় তিন হাজার মানুষকে আটক করে। বিক্ষোভকারীদের রাজধানীতে প্রবেশের ঢল আটকাতে ইন্টারনেট পরিষেবা এবং যাতায়াত ব্যবস্থার উপরেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। দিল্লি মেট্রো, বাস ও রেল পরিষেবাও এই বিধিনিষেধের আওতায় আসে।

    শনিবার রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দফতরের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান এক বিবৃতিতে জানান, দিল্লিতে বৃহৎ বিক্ষোভের আগে ও চলাকালীন বিক্ষোভকারী, আন্দোলনের নেতা, নাগরিক সমাজের সংগঠনের সদস্য, আইনজীবী এবং সাংবাদিকদের গণ-আটকের খবর নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন।

    তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার যাতে সম্পূর্ণভাবে সম্মান করা হয় এবং কার্যকর করা হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।” তাঁর আরও বক্তব্য, “শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের উপর বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা ও আনুপাতিকতার কঠোর মানদণ্ড পূরণ করা আবশ্যক (India Slams UN)।”

    রাষ্ট্রসংঘের ‘অনাকাঙ্খিত জ্ঞান’

    শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোরও আহ্বান জানান রাষ্ট্রসংঘের ওই মুখপাত্র। পাশাপাশি, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত উদ্বেগ ও অভিযোগগুলির সমাধানে কর্তৃপক্ষকে অর্থবহ আলোচনায় বসার পরামর্শ দেন তিনি।

    তবে রাষ্ট্রসংঘের এই মন্তব্যে আপত্তি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পাল্টা বক্তব্য, “ওএইচসিএইচআরের উদ্বেগ ভিত্তিহীন এবং তা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপের শামিল। এই পরিস্থিতিতে, নিরপেক্ষতা ও পক্ষপাতহীনতার দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্বের অন্যত্র সংঘটিত বৃহৎ বিক্ষোভগুলির প্রতিও ওএইচসিএইচআরের একই রকম গুরুত্ব দেওয়া উচিত।”

    এদিকে, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করার অনুমতি চেয়ে সিজেপির আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। শনিবার সকালে মুম্বই থেকে দিল্লিতে পৌঁছনোর পরই আটক করা হয় দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে (Delhi Detentions Remarks)।

    পুলিশের হাতে আটক হওয়া অধিকাংশকেই পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে সিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে এখনও ছাড়া হয়নি বলেই খবর (India Slams UN)।

     

  • Suvendu Adhikari: মহালয়ায় দুর্গাপুজোর বর্ণাঢ্য সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর হাতে, ড্রোনের আলোয় দেবী বন্দনা

    Suvendu Adhikari: মহালয়ায় দুর্গাপুজোর বর্ণাঢ্য সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর হাতে, ড্রোনের আলোয় দেবী বন্দনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও উজ্জ্বল করে তুলে ধরতে মহালয়ার দিন বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Suvendu Adhikari)। শনিবার কলকাতার রেড রোড থেকে ইডেন গার্ডেন্স পর্যন্ত খোলা জিপে শোভাযাত্রায় অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার আগে রেড রোডে আয়োজিত পদযাত্রায় অংশ নেন তিনি। বাংলার লোকসংস্কৃতি, নাচ-গান, কয়েক হাজার ঢাকির বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি এবং প্রায় তিন হাজার ড্রোনের বিশেষ আলোক প্রদর্শনীতে উঠে আসে দেবী দুর্গার আগমনের ছবি (Mahalaya 2026)। ইডেন গার্ডেন্সে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকেই পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার দিনক্ষণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রবিবার থেকেই পুজো কমিটিগুলি অনুদান বাবদ এক লাখ টাকা করে পেতে শুরু করবে।

    এদিন বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ রেড রোড থেকে শুরু হয় মুখ্যমন্ত্রীর খোলা জিপে শোভাযাত্রা। রেড রোড থেকে ইডেন গার্ডেন্স পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে বাংলার বিভিন্ন জেলার শিল্পীরা নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরেন। ছৌ নাচ, বাউল গান, ভাওয়াইয়া-সহ নানা লোকসংগীত ও লোকনৃত্যের পরিবেশনায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ইডেন গার্ডেন্সে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান।

    ড্রোনের আলোয় দেবীর আগমনী (Suvendu Adhikari)

    ইডেন গার্ডেন্সে কয়েক হাজার ঢাকির একযোগে ঢাক বাজানো এবং শঙ্খধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। এরপর আকাশে প্রায় তিন হাজার ড্রোনের বিশেষ প্রদর্শনীতে ফুটিয়ে তোলা হয় দেবী দুর্গার আগমনের নানান দৃশ্য। রাজ্য প্রশাসনের দাবি, বাংলায় এই ধরনের ড্রোন প্রদর্শনী নজিরবিহীন। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিল্পীদের পুজোর গান পরিবেশনেরও আয়োজন করা হয়।

    রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য, বাংলার সংস্কৃতি এবং শিল্পকলাকে দেশ-বিদেশের মানুষের সামনে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরা। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

    পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান

    ইডেন গার্ডেন্সের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রবিবার থেকেই দুর্গাপুজো কমিটিগুলির জন্য রাজ্য সরকারের আর্থিক অনুদান দেওয়ার কাজ শুরু হবে। প্রতিটি পুজো কমিটি এক লাখ টাকা করে অনুদান পাবে। নতুন পুজো কমিটিগুলিকেও অনুদান দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবার রাজ্যে মোট ১২ হাজার ৪০০-রও বেশি দুর্গাপুজো হচ্ছে। তবে তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে কলকাতার ২০০-রও বেশি পুজো কমিটি সরকারি অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি (Suvendu Adhikari)।

    দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার উদ্যোগ

    মহালয়া উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দুর্গাপুজো বাংলার সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসব আজ বিশ্বের মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছে।” দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত করে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বাংলার ঐতিহ্য ও পরম্পরার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাজ্য মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, পিতৃপক্ষের পরিবর্তে মাতৃপক্ষের সূচনাকে কেন্দ্র করেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। মহালয়ার সকালে গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটে তর্পণের পাশাপাশি মহিষাসুরমর্দিনী শোনানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করার জন্য রাজ্যপালকেও ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    আগামী চার দিন ধরে মালদহ, দিঘা, দুর্গাপুর, কোচবিহার, বিষ্ণুপুর-সহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে। ষষ্ঠীর আগে পর্যন্ত এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলার লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হবে। অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে আমন্ত্রণ জানানোর কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    বিসর্জনেও বাংলার ঐতিহ্য বজায় রাখার আবেদন

    দুর্গাপুজোর বিসর্জন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২৪ তারিখের মধ্যে প্রতিমা নিরঞ্জন সম্পন্ন করার জন্য তিনি আবেদন জানিয়েছেন। বাংলার ঐতিহ্য ও পরম্পরা মেনে বিভিন্ন ঘাটে বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি। পুজো কমিটিগুলিকে পুরস্কৃত করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

    বক্তব্যের শেষে সকলকে দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “এবারের দুর্গাপুজো সকলের কাছে মধুময় হয়ে উঠুক।” একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতবিরোধী শক্তিকে পরাস্ত করে বিকশিত ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথাও তুলে (Mahalaya 2026) ধরেন তিনি।

     

  • India: ২০৩১ সালের মধ্যে ৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে ভারতের দ্রুত পণ্য সরবরাহের বাজার, লাভের অঙ্কে বড় চ্যালেঞ্জ

    India: ২০৩১ সালের মধ্যে ৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে ভারতের দ্রুত পণ্য সরবরাহের বাজার, লাভের অঙ্কে বড় চ্যালেঞ্জ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী কয়েক বছরে ব্যাপক সম্প্রসারণের পথে এগোতে পারে ভারতের (India) দ্রুত পণ্য সরবরাহের বাজার। রেডসিয়ার স্ট্র্যাটেজি কনসালট্যান্টস এবং গুগলের যৌথ সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে এই (Quick Commerce Market) বাজারের আকার বর্তমানের তুলনায় পাঁচ থেকে সাত গুণ বেড়ে ৭০ বিলিয়ন থেকে ৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে। ভারতীয় মুদ্রায় যার অঙ্ক কয়েক লাখ কোটি টাকা। ২০২৬ অর্থবর্ষে এই বাজারের বার্ষিক মোট অর্ডারমূল্য প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার বা ১.১ লাখ কোটি টাকা।

    তবে এই বিপুল বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাস্তবায়িত করতে হলে প্রতি বছর ৪১ থেকে ৪৮ শতাংশ হারে বাজারের সম্প্রসারণ প্রয়োজন। আর সেই লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে প্রতিটি পণ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহকেন্দ্রের দৈনিক অর্ডার, পরিচালন ব্যয় এবং লাভের হিসাব।

    মহানগর ও নতুন পণ্যই বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি (India)

    সমীক্ষার ফল তুলে ধরে রেডসিয়ার স্ট্র্যাটেজি কনসালট্যান্টসের অংশীদার কুশল ভাটনগর জানিয়েছেন, পাড়াভিত্তিক সরবরাহকেন্দ্রের বিস্তার, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাইরের বিভিন্ন পণ্যের বিক্রি এবং ডিজিটাল পরিষেবার প্রসার এই বাজারের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

    বর্তমানে মাসে অন্তত একবার কেনাকাটা করেন এমন গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ২.৫ থেকে ৩ কোটি। ২০৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে সেই সংখ্যা ১০ কোটিরও বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস। এর ফলে ভারতের মোট খুচরো বাজারে দ্রুত পণ্য সরবরাহের অংশীদারি বর্তমানের দেড় শতাংশেরও কম থেকে বেড়ে প্রায় ৫ শতাংশে পৌঁছতে পারে।

    এই বৃদ্ধিতে মহানগরগুলির ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে। বাজারের অতিরিক্ত বৃদ্ধির প্রায় ৬০ শতাংশ আসতে পারে মহানগরগুলি থেকে। বর্তমানে মহানগরের মোট খুচরো কেনাকাটার প্রায় ৬ শতাংশ এই পরিষেবার মাধ্যমে হলেও আগামী দিনে তা বেড়ে ২০ থেকে ২৩ শতাংশ হতে পারে।

    একই সঙ্গে প্রসাধনসামগ্রী, বৈদ্যুতিন পণ্য এবং পোশাকের মতো পণ্যের বিক্রিও দ্রুত বাড়বে বলে অনুমান। এই ক্ষেত্রের বাজারমূল্য বর্তমানে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২১ থেকে ২৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে।

    উৎসবের মরসুমেও এই বাজারের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছরের তুলনায় উৎসবকেন্দ্রিক বিক্রি ১১০ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস। অনলাইন মাধ্যমে উৎসবের সময় হওয়া মোট কেনাকাটার প্রায় ১৮ শতাংশ আসতে পারে এই দ্রুত সরবরাহ পরিষেবা থেকে।

    বাজারের সিংহভাগ তিন সংস্থার দখলে

    বর্তমানে ভারতের দ্রুত পণ্য সরবরাহের বাজার মূলত তিনটি বড় সংস্থার নিয়ন্ত্রণে। মোট অর্ডার মূল্যের ৮৫ থেকে ৯৫ শতাংশ তাদের দখলে রয়েছে।

    এই বাজারে প্রায় ৪৬ শতাংশ অংশীদারি নিয়ে এগিয়ে রয়েছে ব্লিঙ্কিট। জেপ্টোর অংশীদারি প্রায় ২৫ থেকে ২৯ শতাংশ এবং সুইগি ইনস্টামার্টের ২২ থেকে ২৭ শতাংশ। অন্য দিকে, ফ্লিপকার্ট মিনিটস এবং অ্যামাজন নাও—দুই সংস্থারই বাজারের অংশীদারি এখনও ৫ শতাংশের কম। তবে দ্রুত পরিষেবা সম্প্রসারণ করছে (India) তারা।

    ২০২৬ সালের গোড়ার হিসাব অনুযায়ী, এই ক্ষেত্রের মাসিক মোট পণ্য বিক্রির মূল্য প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। প্রতিদিন অর্ডারের সংখ্যা প্রায় ৭৮ লাখ।  গড় অর্ডারমূল্য ৪৬০ টাকা এবং সারা দেশে দ্রুত পণ্য সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ গুদাম বা সংরক্ষণকেন্দ্রের সংখ্যা ৬,২৮০-রও বেশি।

    এ ছাড়া, বড় সংস্থাগুলির ব্যবসায়িক মডেলেও পরিবর্তন এসেছে। আগে অন্য বিক্রেতাদের পণ্য একত্রিত করে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হলেও এখন অনেক সংস্থা নিজেরাই পণ্যের মজুত ও বিক্রির নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে। এতে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হচ্ছে। পাশাপাশি, নিজেদের ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রি করে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত মোট মুনাফার হার অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে। সেখানে দেশের বড় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে এই হার সাধারণত ৩ থেকে ৫ শতাংশ।

    লাভের মুখ দেখতে দিনে অন্তত ১,২০০ থেকে ১,৫০০ অর্ডার জরুরি

    বাজারের আকার বাড়লেই যে সংস্থাগুলি লাভজনক হয়ে উঠবে, তা নয়। প্রতিটি সরবরাহকেন্দ্রের আয়-ব্যয়ের হিসাবই এখানে বড় চ্যালেঞ্জ। একটি কেন্দ্রকে লাভ-ক্ষতির সমতা অর্জন করতে সাধারণত প্রতিদিন ১,২০০ থেকে ১,৫০০টি অর্ডার সামলাতে হয়।

    প্রথম সারির মহানগরগুলিতে একটি কেন্দ্র প্রতিদিন প্রায় ১,৬০০টি অর্ডার সামলাতে পারে। সেখানে প্রতি অর্ডারে গড় খরচ প্রায় ২৭ টাকা। অন্য দিকে, মহানগরের বাইরের কেন্দ্রগুলিতে দৈনিক গড় অর্ডার প্রায় ৯৫০টি এবং প্রতি অর্ডারের খরচ প্রায় ৩১ টাকা।

    একটি নতুন কেন্দ্র তৈরি করতে ১৫ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। নতুন কেন্দ্রগুলিকে প্রথম চার থেকে আট মাস পর্যন্ত লোকসানও গুনতে হয়। তবে দেড় বছর বা তার বেশি সময় ধরে চালু থাকা পরিণত কেন্দ্রগুলির ক্ষেত্রে কেন্দ্রভিত্তিক পরিচালন মুনাফার হার ৫ থেকে ৮ শতাংশে পৌঁছতে পারে।

    কিন্তু দ্রুত সম্প্রসারণের খরচ সামগ্রিক লাভের উপর চাপ তৈরি করছে। ২০২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে ব্লিঙ্কিট ১৮০টিরও বেশি নতুন সরবরাহকেন্দ্র চালু করেছে। এর ফলে সংস্থাটির সমন্বিত পরিচালন মুনাফার হার কমে ঋণাত্মক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

    বিজ্ঞাপন ও অতিরিক্ত পরিষেবায় আয় বাড়ানোর চেষ্টা

    শেষ পর্যায়ে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার খরচ সামলাতে সংস্থাগুলি এখন বিজ্ঞাপন, সুবিধা-শুল্ক এবং কেন্দ্রের ভিতরে ছোট খাবারের দোকানের মতো বিকল্প আয়ের উপর জোর দিচ্ছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতি অর্ডারে ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত সুবিধা-শুল্ক নেওয়া হচ্ছে।

    জেপ্টোর বিজ্ঞাপন থেকে আয় গত দুই বছরে ৪৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১,৬৩৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধি দেখিয়ে দিচ্ছে, পণ্য বিক্রির পাশাপাশি বিজ্ঞাপনও দ্রুত সরবরাহ সংস্থাগুলির আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠছে (Quick Commerce Market)।

    তবে সমীক্ষার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৭০ থেকে ৯০ বিলিয়ন ডলারের বাজার গড়ে তুলতে হলে মোট অর্ডারমূল্যের অন্তত ৩০ শতাংশ বা তার বেশি আসতে হবে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাইরের বিভাগগুলি থেকে। সেই সঙ্গে গড় অর্ডারমূল্য ৪৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০০ টাকা বা তার বেশি হতে হবে (India)।

    তবে বেশি দামের পণ্যের ক্ষেত্রে নতুন সমস্যাও রয়েছে। বিশেষ করে পোশাকের মতো পণ্যে ফেরত দেওয়ার হার ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে পণ্য ফেরত নেওয়া, পুনরায় মজুত করা এবং সরবরাহের খরচ বাড়ার আশঙ্কা থাকছে।

    নিয়মকানুনের কড়াকড়ি, আপত্তি খুচরো ব্যবসায়ীদের

    দ্রুত পণ্য সরবরাহের বাজার যত বড় হচ্ছে, ততই বাড়ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির নজরদারি। ভারতীয় খাদ্য সুরক্ষা ও মান কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি সরবরাহকেন্দ্রকে খাদ্য ব্যবসায়ী হিসেবে প্রয়োজনীয় রাজ্যভিত্তিক লাইসেন্স নিতে হয়।

    তেলঙ্গানার খাদ্য সুরক্ষা সংস্থা টিজি সেফের পরিদর্শনের পরে হায়দরাবাদে ইনস্টামার্ট, জেপ্টো এবং ফ্লিপকার্টের কয়েকটি কেন্দ্রের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়। মুম্বইয়ের ধারাভিতেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিদর্শনে উঠে আসা সমস্যার মধ্যে ছিল শীতলীকরণ কক্ষে নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় রাখতে না পারা এবং পোকামাকড়ের উপদ্রব।

    অন্য দিকে, দ্রুত পণ্য সরবরাহকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে অনৈতিক মূল্য নির্ধারণের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রতিযোগিতা কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রোডাক্টস ডিস্ট্রিবিউটর্স ফেডারেশন। সংগঠনটির দাবি, দেশের ৭৫ থেকে ৮০টি শহরে ২ লাখেরও বেশি ছোট মুদির দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে এই সংখ্যাটি সংগঠনটির নিজস্ব দাবি, এর স্বাধীন যাচাইয়ের বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

    এ ছাড়া, রাজস্থান ও কর্নাটকে দ্রুত সরবরাহকারী সংস্থাগুলিকে কর্মীদের নথিভুক্ত করা এবং তাঁদের কল্যাণমূলক প্রকল্পে অর্থ দেওয়ার নিয়ম চালু হচ্ছে। পণ্য সংরক্ষণকেন্দ্র থাকা প্রতিটি রাজ্যে পৃথক পণ্য ও পরিষেবা কর নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।

    প্রস্তাবিত ব্যবসায়ী ছাড়ের হার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ব্যবসায়ীদের একাংশ ২ অক্টোবর ‘ইউপিআই বর্জন দিবস’ পালনের ডাক দিয়েছিল। প্রস্তাবিত ছাড়ের হার ছিল ০.৫ থেকে ১.১ শতাংশ। পরে অর্থ মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনার পর সেই প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।

    এদিকে, চলতি মাসে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নীতিগত সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.৫০ শতাংশ করার বিষয়টিও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বজায় থাকলে পরিবারের হাতে খরচ করার মতো অর্থ কমতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে দ্রুত পণ্য সরবরাহের মতো সুবিধানির্ভর পরিষেবার চাহিদাতেও।

    আগামী দিনে নজর থাকবে যে বিষয়গুলিতে

    বাজারের ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির পূর্বাভাস ঘিরে এখনও কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়। ৯০ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বাজারমূল্য বলতে কর ও অন্যান্য শুল্ক-সহ মোট অর্ডারমূল্য বোঝানো হয়েছে, নাকি পণ্য ফেরত ও বাতিলের হিসাব বাদ দেওয়ার পরে প্রকৃত বিক্রিমূল্য—তা পরিষ্কার নয়।

    একই ভাবে, দ্রুত সম্প্রসারণ বজায় রেখেও ছোট সংস্থাগুলি পরিচালন মুনাফায় পৌঁছতে পারবে কি না, অথবা দ্বিতীয় সারির শহরগুলিতে পর্যাপ্ত অর্ডার না থাকলেও ভর্তুকি ছাড়া সরবরাহকেন্দ্র চালানো সম্ভব হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

    এই পরিস্থিতিতে কয়েকটি সূচকের দিকে নজর রাখা জরুরি। প্রথমত, নতুন সরবরাহকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি কেন্দ্রে দৈনিক অর্ডার কতটা বাড়ছে। দ্বিতীয়ত, সংস্থাগুলির পরিচালন মুনাফার হার কোন দিকে যাচ্ছে। তৃতীয়ত, মোট অর্ডারের মধ্যে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাইরের পণ্যগুলির অংশীদারি কতটা বাড়ছে (India)।

    পাশাপাশি, প্রতিযোগিতা কমিশনের সিদ্ধান্ত, একাধিক রাজ্যে পণ্য মজুত রাখা সংস্থাগুলির জন্য একক নিবন্ধনের সম্ভাবনা নিয়ে পণ্য ও পরিষেবা কর পরিষদের সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন রাজ্যে গিগ কর্মীদের কল্যাণ তহবিল সংক্রান্ত নিয়মও বাজারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

    সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে ভারতের দ্রুত পণ্য সরবরাহের বাজারে বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ১৪২ শতাংশ (Quick Commerce Market)। আগামী ত্রৈমাসিকগুলিতে পুরনো সরবরাহকেন্দ্রগুলি কতটা লাভজনক হয়ে উঠছে এবং নতুন কেন্দ্র খোলার খরচ কতটা সামলানো যাচ্ছে, তার উপরেই নির্ভর করবে ২০৩১ অর্থবর্ষের মধ্যে এই বাজার ৭০ থেকে ৯০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে কি না।

     

  • Ajinkya Shinde: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক, দিল্লিতে আটক আরশোলা পার্টির একাধিক নেতা, নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী

    Ajinkya Shinde: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক, দিল্লিতে আটক আরশোলা পার্টির একাধিক নেতা, নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জ্ঞানেশ কুমারকে কেন্দ্র করে বিতর্কের আবহে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচির আগেই আটক করা হয়েছে সংগঠনের তিন প্রধান মুখ অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে। তাঁদের অনুপস্থিতিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে (Ajinkya Shinde)। এদিকে, বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ব্যারিকেড, কাঁটাযুক্ত প্রতিবন্ধক এবং বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছে রাজধানীকে (Cockroach Janta Party Protest)।

    অভিযোগ, দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথেই আটক করা হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির দেড় হাজারেরও বেশি সমর্থককে। দলের নেতাদেরও দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পর আটক করা হয়। বিক্ষোভের মধ্যেই ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও গুরুগাঁওয়ের বাড়ি থেকে আটক করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেত্রী নেহা বোরার মতো আরও কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে খবর।

    গ্রেফতারির আশঙ্কা (Ajinkya Shinde)

    গ্রেফতারির আশঙ্কা আগেই করেছিলেন দীপকে। সেই কারণে শুক্রবার রাতেই একটি ভিডিও রেকর্ড করে রেখেছিলেন তিনি। সেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা যত দিন আটক থাকবেন, তত দিন যন্তর মন্তরের বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেবেন সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অজিঙ্ক শিন্ডে।

    ভিডিওতে অভিজিৎকে বলতে শোনা যায়, “আপনারা যদি এই ভিডিওটা দেখছেন, তার অর্থ আমি, আশুতোষ ও সৌরভ—আমরা তিনজনই গ্রেফতার হয়ে গিয়েছি। আমাদের পর এই আন্দোলনে অজিঙ্ক নেতৃত্ব দেবেন। আপনারা যাঁরাই এই ভিডিওটি দেখছেন, তাঁরা এ বার থেকে অজিঙ্ক শিন্ডেকে অনুসরণ করুন। আমি, আশুতোষ ও সৌরভের পর উনিই এখান থেকে ককরোচ জনতা পার্টিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।”

    যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা

    প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং মোতায়েন করা হয়েছে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর বিপুল সংখ্যক কর্মী। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চল্লিশ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। যন্তর মন্তর ও তার আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভকারীদের জমায়েত আটকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    কর্তব্যপথ সংলগ্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার কথাও জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক বিধিনিষেধের পাশাপাশি ট্রেন চলাচল নিয়েও নিয়ন্ত্রণের খবর সামনে এসেছে। দুপুর পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে কোনও ট্রেন প্রবেশ করবে না বলে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন (Ajinkya Shinde)।

    এমন পরিস্থিতিতেও আন্দোলনকারীদের পিছিয়ে না আসার বার্তা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলের নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বলেন, “দিল্লি পুলিশ যদি আপনাদের আটকানোর চেষ্টা করে, তা হলে যেখানে আপনাদের আটকানো হবে, সেই জায়গাটাই আপনাদের যন্তর মন্তর হয়ে উঠবে।” দীপকে আটক হওয়ার পর তিনিই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

    কেন ফের আন্দোলনে ককরোচ জনতা পার্টি?

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে ককরোচ জনতা পার্টি। সংগঠনের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়ম হয়েছে। সেই দাবিতে বিভিন্ন সময়ে বিক্ষোভ ও জনসমাবেশ করেছে তারা। গত ২ অক্টোবর মুম্বইয়েও এই ইস্যুতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল।

    এ বার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হলেও, প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকায় দিল্লি পুলিশ সেই কর্মসূচির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জনস্বার্থের কথা উল্লেখ করেই অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

    জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে একটি ইংরেজি দৈনিকের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পদ্ধতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী দশ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন।

    এই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ককরোচ জনতা পার্টির দাবি, গোটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং অনিয়মের অভিযোগের জবাব দিতে হবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে। সেই দাবিতেই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জারি রেখেছে সংগঠনটি।

    দিল্লিতে একের পর এক নেতা ও সমর্থক আটক হওয়ার পর আন্দোলন কোন পথে এগোয়, এখন সেটাই দেখার। নেতৃত্বে অজিঙ্ক শিন্ডেকে সামনে রেখে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party Protest)। অন্যদিকে, প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে  (Ajinkya Shinde) ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

LinkedIn
Share