Blog

  • Russian Oil Tanker: চিনে না গিয়ে ভারতের দিকে আসছে একাধিক রুশ তেলবাহী ট্যাঙ্কার

    Russian Oil Tanker: চিনে না গিয়ে ভারতের দিকে আসছে একাধিক রুশ তেলবাহী ট্যাঙ্কার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রওনা হয়েছিল চিনের উদ্দেশে। মাঝপথে দিক পরিবর্তন করে ভারতের দিকে আসছে রাশিয়ার তেলবাহী অন্তত সাতটি ট্যাঙ্কার। ব্লুমবার্গের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় নয়াদিল্লি নতুন করে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার পর এই পরিবর্তন ঘটেছে। জাহাজ-ট্র্যাকিং সংস্থা ভর্টেক্সা লিমিটেডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই জাহাজগুলির রুট পরিবর্তন হয়েছে তখনই, যখন ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সাময়িক ছাড়পত্র পায়, যার ফলে সমুদ্রে আটকে থাকা ‘নিষিদ্ধ’ রুশ তেল কেনা সম্ভব হয়েছে।

    আসছে তেলবাহী জাহাজ (Russian Oil Tanker)

    এই সাতটি ট্যাঙ্কারের মধ্যে অ্যাকোয়া টিটান নামের একটি মাঝারি আকারের তেলবাহী জাহাজ শনিবার (২১ মার্চ) নিউ মাঙ্গালোর বন্দরে পৌঁছনোর কথা। এটি জানুয়ারির শেষদিকে বাল্টিক সাগরের একটি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, চিনের রিঝাও বন্দরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। তবে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ভারত আমেরিকার ছাড়পত্র পাওয়ার কয়েকদিন পরে এটি হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে। সুয়েজম্যাক্স জৌজৌ এন নামের আর একটি ট্যাঙ্কার গুজরাটের জামনগরের সিক্কা বন্দরের দিকে আসছে। ২৫ মার্চ পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এটিও মার্চের শুরুতে পথ বদল করেছিল।

    হরমুজ প্রণালী বন্ধ

    এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এমন একটি সময়ে, যখন ইরানের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অথচ, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহণের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যায়। বর্তমানে ইরান এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে ভারত রাশিয়ার তেল কেনা বাড়িয়ে দিয়েছে। বছরের শুরুতে কিছুটা কমানোর পর, মাত্র এক সপ্তাহেই ভারত প্রায় ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল রুশ তেল কিনে ফেলেছে। জানুয়ারিতে রাশিয়া থেকে ভারতের মোট তেল আমদানি কমে নেমে গিয়েছিল ২১ শতাংশে। কারণ তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল ভারতের।

    রুশ তেল কেনার অনুমতি দেওয়ায় প্রতিযোগিতা

    নয়াদিল্লি যখন রুশ তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছিল, তখন চিন কম দামে সেই তেল কিনে নেওয়ার সুযোগ লুফে নিয়েছিল। এখন আমেরিকা অন্যান্য দেশকে রুশ তেল কেনার অনুমতি দেওয়ায় প্রতিযোগিতা গিয়েছে বেড়ে। রাশিয়ার তেল আসা ভারতের স্বস্তির কারণ হবে। কারণ ভারত মোট জ্বালানির প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালী ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের ৪০–৫০ শতাংশ  অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে আসে। এলএনজি আমদানির প্রায় অর্ধেক এবং অধিকাংশ এলপিজি সরবরাহও এই পথ দিয়েই হয়। এদিকে, যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে ভারত ইতিমধ্যেই রান্নার গ্যাসের সঙ্কটে পড়েছে। তার জেরে মুম্বই এবং বেঙ্গালুরুর কিছু রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখতে হয়েছে।

    হরমুজ প্রণালী

    জানা গিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত ভারতীয় পতাকাবাহী তিনটি ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে দেশে পৌঁছেছে। পারাপারের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ২০টি জাহাজ। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, ইরানের সঙ্গে ভারতীয় জাহাজ চলাচল নিয়ে কোনও সর্বজনীন ব্যবস্থা নেই। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার তেলবাহী সাতটি ট্যাঙ্কারের আগমন ভারতের স্বল্পমেয়াদি জ্বালানি সঙ্কট কিছুটা লাঘব করবে বলেই অনুমান।

     

  • I-PAC Case Hearing: ‘মুখ্যমন্ত্রী যা করেছেন, তা মোটেও সুখকর নয়’, আইপ্যাক-কাণ্ডে মমতার ভূমিকায় বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট

    I-PAC Case Hearing: ‘মুখ্যমন্ত্রী যা করেছেন, তা মোটেও সুখকর নয়’, আইপ্যাক-কাণ্ডে মমতার ভূমিকায় বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টে (SC) ফের ভর্ৎসনার মুখে রাজ্য। ‘ইডির তদন্তে কোনও মুখ্যমন্ত্রীর ঢুকে পড়াটা অনভিপ্রেত ঘটনা’! আইপ্যাক-কাণ্ড (I-PAC Case Hearing) নিয়ে মামলার শুনানিতে মন্তব্য শীর্ষ আদালতের। বুধবার আইপ্যাক মামলার শুনানি চলাকালীন আরও সময় চাইল রাজ্য। ইডি-র তরফে যে হলফনামা দেওয়া হয়েছে তার উত্তর দেওয়ার জন্য সময় চাওয়া হল। বাড়তি সময় চাওয়ার তীব্র বিরোধিতা করা হয় ইডি-র তরফে। ৪ সপ্তাহ সময় ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে, জানান বিচারপতি মিশ্র।

    সময় নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে

    বুধবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়া বেঞ্চে ফের সময় চেয়ে আবেদন জানান রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার বক্তব্য, “সময় নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ।” সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার বক্তব্য,“এটা অত্যন্ত আশ্চর্যের ব্যাপার, যে একজন মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে হস্তক্ষেপ করছেন। ৪ সপ্তাহ পরেও তাঁরা কিছু জমা দেওয়ার জন্য সময় চাইছেন।”

    আদালত কীভাবে চলবে, সেটা তার বিষয়

    ইতিমধ্যেই রাজ্যকে যে আদালত চার সপ্তাহ সময় দিয়ে দিয়েছে, তা রাজ্যকে স্মরণ করান বিচারপতি। বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল তখন বলেন, “আমরা রিজয়েনডার জমা দিতে চাই।” ৪ সপ্তাহ সময় ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে, জানান বিচারপতি মিশ্র। আমরা শুনব, শুনানি শুরু করুন, মন্তব্য বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর। রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান সওয়াল করেন, ‘ইডি যে রিজয়েন্ডার জমা দিয়েছে, তাতে মূল মামলার আবেদনের থেকেও বেশি কথা বলা হয়েছে।’ সঙ্গে তিনি জানান, আদালত যদি সময় না দিতে চায়, আদালত তা করতেই পারে। এতেই ক্ষিপ্ত হন বিচারপতি মিশ্র। বলেন, ‘আপনারা আদালতকে এটা বলতে পারেন না যে, আদালতে কীভাবে শুনানি চালাবে। কেউ সময় নিয়েছে বলে আপনাকেও সময় নিতে হবে… এটা কোনও যুক্তি হতে পারে না, মামলা হবে কিনা সেটা নিয়ে যুদ্ধ চলতে পারে না।’

    ইডি-র মামলা নিয়ে প্রশ্ন রাজ্যের

    রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দেওয়ান ইডির মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে সওয়াল শুরু করেন। রাজ্যের আইনজীবীর বক্তব্য, ইডি কোনও জুরিস্টিক এনটিটি নয় এবং সেই কারণে ইডি সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে কোনও পিটিশন দাখিল করতে পারে না। দ্বিতীয়ত, যদি ইডির মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার কোনও সুযোগ না থাকে, তবে ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে করা পিটিশনটি গ্রহণযোগ্য নয়। ইডি আদৌ কোনও পিটিশন দাখিল করতে পারে কি না, তা এখানে বিবেচ্য। আর্টিকেল ৩২ অনুযায়ী সংবিধানের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হওয়ার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার অধিকার একজন নাগরিক বা ব্যক্তির থাকতে পারে অথবা একটি লিগ্যাল কর্পোরেট সংস্থার থাকতে পারে। যদি তা না হয়, তাহলে এই মামলা করা যায় না। রাজ্যের তরফে বলা হয়, “আমরা বলছি, কেন্দ্রীয় সরকার এক্ষেত্রে মামলা করতে পারে। কিন্তু কোনও দফতর নয় বা সিআইডি বা ইডির মত সংস্থা নয়। যদি তারা করেন, তাহলে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৫ ধারা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ গঠন করে এ ধরনের সংস্থার ক্ষমতা এক্তিয়ার সব নতুন করে ঠিক করতে হবে।”

    এটা মোটেই সুখকর চিত্র নয়

    সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা অভিযোগ করেন, “যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী জোর করে তদন্ত চলাকালীন ঢুকেছেন, তা অত্যন্ত ‘আনইউজুয়াল।’এর আগে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা পেশ করে ইডি। হলফনামায় ইডি-র তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়, রাজ্য় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষীদের মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়াতেই তল্লাশি বন্ধ করতে বাধ্য হয় ইডি অফিসাররা, হলফনামায় এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি, কোনও তদন্তকারী সংস্থা কখনওই তল্লাশি চলাকালীন কোনও তৃতীয় ব্যক্তিকে সেখানে প্রবেশ করতে এবং জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারে না, সেটাও উল্লেখ করে ইডি। বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র বলেন, “একজন মুখ্যমন্ত্রী যেখানে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সি তদন্ত করছে, সেখানে বলপূর্বক ঢুকে পড়ছেন, এটা মোটেই সুখকর চিত্র নয়। যদি আর্টিকেল ৩২ বা আর্টিকেল ২২৬ অনুযায়ী মামলা করা না যায়, তাহলে কী করা যাবে? কাল অন্য কোনও মুখ্যমন্ত্রী একই কাজ করতে পারেন।”

    মামলা স্থগিত নয়, রাজ্যের আর্জি খারিজ

    আইপ্যাক মামলায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তল্লাশি চলাকালীন হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডি এই মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ চেয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের তৎকালীন ডিজিপি রাজীব কুমার এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ কুমারকেও এই মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। শুনানির সময় পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইডির হলফনামার জবাব জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছে। তবে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, এই মামলাকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে রাজ্য। ইডি ইতিমধ্যেই দুই সপ্তাহ আগে তাদের প্রতিক্রিয়া আদালতে দাখিল করেছে। এদিন আইপ্যাক মামলা স্থগিত করার রাজ্যের সিদ্ধান্তকে খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে ইডির অভিযোগের জবাব দিতে রাজ্যকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

  • Seat Selection: ডোমেস্টিক ফ্লাইটে ৬০ শতাংশ আসন বিনামূল্যে বেছে নেওয়া যাবে, নির্দেশ কেন্দ্রের

    Seat Selection: ডোমেস্টিক ফ্লাইটে ৬০ শতাংশ আসন বিনামূল্যে বেছে নেওয়া যাবে, নির্দেশ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খুব শিগগিরই অতিরিক্ত চার্জ থেকে খানিক হলেও স্বস্তি পেতে চলেছেন ভারতের বিমানযাত্রীরা (Seat Selection)। কারণ সরকার এয়ারলাইন্স সংস্থাগুলিকে সিট পছন্দের দরুন অতিরিক্ত ফি তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে (Airlines)। সরকারের এই পদক্ষেপে টিকিটের মূল ভাড়া অবশ্য কমছে না, তবে নিশ্চিত করা হয়েছে যে,  আন্তঃদেশীয় উড়ান বা ডোমেস্টিক ফ্লাইটে অন্তত ৬০ শতাংশ আসন বিনামূল্যে বেছে নেওয়া যাবে। এর ফলে বুকিংয়ের পরে বা ওয়েব চেক-ইনের সময় পছন্দের সিটের জন্য অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার দীর্ঘদিনের প্রথার অবসান ঘটবে।

    অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া যাবে না (Seat Selection)

    এক নির্দেশিকায় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক এয়ারলাইন্সগুলিকে জানিয়েছে, যে কোনও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে অন্তত ৬০ শতাংশ আসনের ওপর অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া যাবে না। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA)-এর মাধ্যমে জারি করা এই নির্দেশের উদ্দেশ্য হল ন্যায্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং টিকিট বুকিং বা ওয়েব চেক-ইনের সময় যাত্রীদের যে লুকোনো খরচের সম্মুখীন হতে হয়, তা কমানো। এতদিন পর্যন্ত মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ আসন বিনামূল্যে পাওয়া যেত। তাই অধিকাংশ পছন্দের আসনের জন্য যাত্রীদের অতিরিক্ত টাকা দিতে হত।

    কী বলছেন অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী

    অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী কে রামমোহন নাইডু জানিয়েছেন, সরকারের এই পদক্ষেপ যাত্রীসুবিধা বাড়ানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। তিনি বলেন, “৬০ শতাংশ আসন বিনামূল্যে মিলবে। পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে বসার নিশ্চয়তা, এবং ক্রীড়া সরঞ্জাম, বাদ্যযন্ত্র ও পোষ্য প্রাণী বহনের জন্য এটি একটি স্বচ্ছ ও স্পষ্ট নিয়ম।” মন্ত্রক এয়ারলাইন্সগুলিকে এও নির্দেশ দিয়েছে, একই পিএনআরে সফরকারী যাত্রীদের সম্ভব হলে পাশাপাশি আসনে বসাতে হবে। এই পদক্ষেপের জেরে বিশেষভাবে সুবিধা হবে পরিবার ও দলগত যাত্রীদের। এতদিন একসঙ্গে বসার জন্য অতিরিক্ত টাকা দিতে হত এঁদের।

    যাত্রীবান্ধব নীতি প্রণয়ন করতে হবে

    সরকারি নির্দেশের পর এয়ারলাইন্সগুলিকে অতিরিক্ত পরিষেবার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও যাত্রীবান্ধব নীতি প্রণয়ন করতে হবে (Seat Selection)। ডিজিসিএ-কে ক্রীড়া সরঞ্জাম ও বাদ্যযন্ত্র পরিবহণ সহজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।  যদিও তা নিরাপত্তা ও পরিচালনাগত নিয়ম মেনেই করতে হবে। পোষ্য প্রাণী বহনের ক্ষেত্রেও, যা নিয়ে আগে অনেক বিভ্রান্তি ছিল, এখন এয়ারলাইন্সগুলিকে পরিষ্কার ও প্রকাশ্য নির্দেশিকা দিতে হবে। সরকার যাত্রী অধিকারের আরও কঠোর প্রয়োগে জোর দিয়েছে, বিশেষ করে ফ্লাইট দেরি, বাতিল বা বোর্ডিং অস্বীকারের ক্ষেত্রে। এয়ারলাইন্সগুলিকে তাদের ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, বুকিং প্ল্যাটফর্ম এবং বিমানবন্দর কাউন্টারে যাত্রীদের এসব অধিকার স্পষ্টভাবে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সচেতনতা বাড়াতে যাত্রীদের আঞ্চলিক ভাষায় তাঁদের অধিকার সম্পর্কে জানাতে হবে।

    অতিরিক্ত ফি নেওয়ায় পুঞ্জীভূত হচ্ছিল ক্ষোভ

    এই নির্দেশটি এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন সিট নির্বাচন-সহ বিভিন্ন পরিষেবার জন্য অতিরিক্ত ফি নেওয়ায় এয়ারলাইন্সগুলির বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত হচ্ছিল ক্ষোভ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হল এয়ারলাইন্স পরিষেবায় স্বচ্ছতা ও একরূপতা আনা এবং যাত্রীদের অতিরিক্ত খরচের বোঝা কমানো। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহণ খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে এবং বর্তমানে এটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম বাজার, যেখানে প্রতিদিন পাঁচ লাখেরও বেশি যাত্রী বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। এই প্রেক্ষাপটে মন্ত্রক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যাত্রীসুবিধাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই সাশ্রয়ী খাবারের জন্য উড়ান যাত্রী ক্যাফে এবং বিমানবন্দরে বিনামূল্যে ওয়াইফাইয়ের মতো পরিষেবা দিতে হবে (Seat Selection)। এই নতুন পদক্ষেপ বিমান সফরকে আরও যাত্রীবান্ধব করে তুলবে বলেই আশা সংশ্লিষ্ট মহলের (Airlines)।

     

  • Assembly Election 2026: একঝাঁক জেলখাটাদের ফের প্রার্থী করল তৃণমূল! জানেন কারা কারা টিকিট পেলেন?

    Assembly Election 2026: একঝাঁক জেলখাটাদের ফের প্রার্থী করল তৃণমূল! জানেন কারা কারা টিকিট পেলেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেউ জেল খেটেছেন সারদা দুর্নীতিতে! কেউ জেল খেটেছেন চাকরি দুর্নীতিতে! আবার কেউ জেলে গিয়েছিলেন রেশন দুর্নীতিতে এরকম একঝাঁক প্রভাবশালী জেলখাটাদের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ফের প্রার্থী করল তৃণমূল। রেশন দুর্নীতি হোক কিংবা নিয়োগ দুর্নীতি, একাধিক মামলায় নাম জড়িয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যাবিনেট মন্ত্রী ও বিধায়কদের। নিয়োগ মামলায় নাম জড়ায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। নাম জড়িয়েছিল বিদায়ী বিধায়ক পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর। অপরদিকে, রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। নিয়োগ মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন বড়ঞাঁর প্রাক্তন বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ। এদের অনেকেই জেল খেটে এসেছেন।

    প্রার্থী কুনাল ঘোষ

    বেলেঘাটা থেকে কুনাল ঘোষকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। ২০১৩ সালে সারদা চিটফান্ডে কাণ্ডে জেলে গিয়েছিল কুনাল ঘোষ৷ প্রায় ৩৪ মাস জেলে ছিলেন কুনাল ঘোষ। ২০১৬ সালে জামিনে মুক্ত হয় কুনাল ঘোষ৷ আজ যে তৃণমূল দলের হয়ে প্রার্থী হচ্ছেন কুনাল ঘোষ সেই তৃণমূল সরকারের পুলিশই গ্রেফতার করেছিল কুনালকে। তার আগে কান্নাকাটি করল কুনাল বলেছিলেন ‘মমতা দি পুলিশ পাঠিয়ে আমাকে ধরে নিয়ে যাক’৷ সে ভিডিও এখনও ভাইরাল সোশালে৷ সে সময় মমতার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেছিল কুনাল।

    প্রার্থী মদন মিত্র

    মদন মিত্রকে কামারহাটিতে প্রার্থী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সারদা চিটফান্ড কাণ্ডে গ্রেফতার হয়ে ২০১৪ সালে জেলে যান মদন মিত্র। প্রায় ২ বছর জেলে থাকার পর ২০১৬ সালে জামিনে মুক্তি পান মদন৷ মদন মিত্রকে জেরার পর গ্রেফতার করেছিো সিবিআই৷

    প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক

    জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে হাবড়া থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কয়েক শ কোটি টাকার রেশন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। খাদ্য দফতরের প্রাক্তন মন্ত্রী ছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। রেশন দুর্নীতিতে গ্রেফতার হওয়ার আগে বনমন্ত্রকেরও দায়িত্ব সামলেছেন জ্যোতিপ্রিয়। ২০২৩ সালে রেশন দুর্নীতি মামলায় জেল হয় জ্যোতিপ্রিয়র। ২০২৫ সালে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন, তারপরই তাকে প্রার্থী করল তৃণমূল কংগ্রেস।

    প্রার্থী ফিরহাদ হাকিম

    ফিরহাদ হাকিমকে কলকাতা বন্দর থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই ফিরহাদ হাকিমের ঘুস নেওয়ার ভিডিও এখনও সোশাল মিডিয়াতে জ্বলজ্বল করছে৷ নারদা কেসে ঘুস নেওয়ার অপরাধে অভিযুক্ত ফিরহাদ। ২০২১ সালে জেলেও যান ফিরহাদ, কিছুদিন পর জামিন পান। তারপর বুক ঠুঁকে তৃণমূলের সরকারের হয়ে কলকাতার মেয়র হন ফিরহাদ৷ এবার তিনি কলকাতা বন্দরের প্রার্থী।

    দুর্নীতিমুক্ত বাংলা চায় বিজেপি

    বাংলার প্রধান বিরোধী দল বিজেপি দুর্নীতিমুক্ত বাংলা, স্থায়ী উন্নয়ন, শিল্প সবকে গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী তালিকা তৈরি করেছে। সেখানে জেলখাটা, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত প্রার্থীদের আবারও টিকিট দিয়ে নিজেদের মানসিকতা স্পষ্ট করছে তৃণমূল। এঁরা বাইচান্স জিতে ফিরলে ঠিক সেটাই করবে যেটা এত বছর ধরে বাংলায় করে এসেছে৷ বাংলার উন্নয়ন এঁদের কাছে গৌণ। দুর্নীতি থেকে বাঁচতে তাই এবার বিজেপিকে জেতানোই বাংলার মানুষের একমাত্র উপায়।

  • West Bengal Election 2026: রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনে ফের বড় রদবদল করল কমিশন, সরানো হল ৫ ডিআইজি, ১১ ডিএমকেও

    West Bengal Election 2026: রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনে ফের বড় রদবদল করল কমিশন, সরানো হল ৫ ডিআইজি, ১১ ডিএমকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) ঢাকে কাঠি পড়ার পরেই শুরু হয়েছে পুলিশ-প্রশাসনে রদবদল। আগেই সরানো হয়েছিল মুখ্যসচিব, ডিজি এবং সিপিকে। এবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission) সরিয়ে দিল ১১ জেলাশাসক, এক পুক-কমিশনার, পাঁচ জায়গার ডিআইজিকে। সরানো হয়েছে কলকাতার দুই ডিইওকে-ও। নয়া নির্দেশিকায় সরানো হয়েছে রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ এবং জলপাইগুড়ির ডিআইজিকে। বুধবার কমিশনের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে এই রদবদলের কথা। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের মতে, ভোট যাতে শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ হয়, সেই জন্যই এই পদক্ষেপ জরুরি।

    প্রশাসনে রদবদল (West Bengal Election 2026)

    রায়গঞ্জের ডিআইজি পদে বসানো হয়েছে রথোদ অমিতকুমার ভারতকে। মুর্শিদাবাদ অঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অজিত সিং যাদবকে। বর্ধমানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শ্রীহরি পাণ্ডেকে। প্রেসিডেন্সি অঞ্চলে বসানো হয়েছে কঙ্কর প্রসাদ বারুইকে। জলপাইগুড়ির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অঞ্জলি সিংকে। কমিশনের নির্দেশ, এই বদলি অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে এবং তা বাস্তবায়নের রিপোর্টও জমা দিতে হবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যাঁদের এই বদলির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন তাঁদের কোনওভাবেই ভোট সংক্রান্ত দায়িত্বে নিয়োগ করা যাবে না।

    সরানো হল একঝাঁক জেলাশাসককেও

    এদিকে, এদিনই একঝাঁক জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে অপসারণ করল নির্বাচন কমিশন। সরানো হয়েছে কলকাতার দুই ডিইওকে-ও। এই মর্মে নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে কমিশনের তরফে। এই নির্দেশিকা জারির ঘণ্টাখানেক আগেই একটি নির্দেশিকা জারি করে রাজ্যের পাঁচ ডিআইজিকে সরিয়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। নয়া নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, রাজ্যের ১১ জেলায় নয়া জেলাশাসক নিয়োগ করার বিষয়। এই তালিকায় রয়েছেন কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, দুই ২৪ পরগনা, দার্জিলিং এবং আলিপুরদুয়ার। এঁরা সবাই সংশ্লিষ্ট জেলার নির্বাচনী আধিকারিকের দায়িত্বে ছিলেন। কমিশনের নির্দেশের প্রেক্ষিতে কোচবিহারের নয়া জেলাশাসক হয়েছেন জিতেন যাদব। জলপাইগুড়িতে এই পদে বসানো হয়েছে সন্দীপ ঘোষকে।

    প্রশাসনে বদল উত্তরেও

    উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসক হয়েছেন বিবেক কুমার (West Bengal Election 2026)। মালদায় ওই পদে বসানো হয়েছে রাজনবীর সিং কপূরকে। মুর্শিদাবাদের নয়া জেলাশাসক পদে বসানো হয়েছে আর অর্জুনকে। নদিয়ার নয়া জেলাশাসক হয়েছেন শ্রীকান্ত পাল্লি, পূর্ব বর্ধমানে ওই পদে বসানো হয়েছে শ্বেতা আগরওয়ালকে, উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক হয়েছেন শিল্পা গৌরিসারিয়া। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক পদে বসানো হয়েছে অভিষেক কুমার তিওয়ারিকে, দার্জিলিংয়ের নয়া জেলাশাসক হয়েছেন হরিচন্দ্র পানিকর, আলিপুরদুয়ারে ওই পদে বসানো হয়েছে টি বালাসুব্রহ্মণ্যমকে (Election Commission)।

    সরানো হল কলকাতার দুই ডিইওকে

    বদলে দেওয়া হয়েছে কলকাতার দুই নির্বাচনী আধিকারিককেও। দিন কয়েক আগেই উত্তর কলকাতার ডিইও পদে বসানো হয়েছিল পুরসভার কমিশনারকে। নয়া নির্দেশিকায় ডিইও পদে বসানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসককে (West Bengal Election 2026)। প্রসঙ্গত, কলকাতার ক্ষেত্রে নিয়মটা অবশ্য আলাদা। কলকাতায় জেলাশাসক না থাকায় কোনও দফতরের আইএএস পদমর্যাদার আধিকারিককে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, এবার থেকে উত্তর কলকাতার ডিইও হবেন তিনিই, যিনি পুরসভার কমিশনার থাকবেন। বুধবার পুর কমিশনার সুমিত গুপ্তের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্মিতা পাণ্ডেকে। আর দক্ষিণ কলকাতার নয়া ডিইও হয়েছেন রণধীর কুমার।

    কমিশনের বক্তব্য

    কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, অবিলম্বে এই নির্দেশিকা কার্যকর করা হবে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টের মধ্যে এই আধিকারিকদের কাজে যোগদানের সম্মতিসূচক রিপোর্ট পাঠাতে বলেছে কমিশন। নির্বাচন কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যেসব আধিকারিককে পদ থেকে সরানো হয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের নিয়োগ করা যাবে না ভোট সংক্রান্ত কোনও পদে (West Bengal Election 2026)। প্রসঙ্গত, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে রাজ্যের নয়া মুখ্যসচিব পদে বসানো হয়েছে দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে। ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস দুষ্মন্ত। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব পদে বসানো হয়েছে সঙ্ঘমিত্রা ঘোষকে। তিনি ছিলেন হোম ও হিল অ্যাফেয়ার্সের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি। ১৯৯৭ ব্যাচের আইএএস তিনি। আগে স্বরাষ্ট্রসচিব পদে ছিলেন জগদীশ প্রসাদ মিনা। তাঁকে সরিয়েই বসানো হয়েছে সঙ্ঘমিত্রাকে।

    জ্ঞানেশকে চিঠি মমতার

    উল্লেখ্য যে, সোমবার রাতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পাঠানো চিঠিতে রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছিলেন, এক তরফা রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক অফিসার ও পুলিশ কর্তাদের না বদলাতে। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন যে জ্ঞানেশ কানে তোলেননি, তার প্রমাণ মিলল ওই চিঠি পাওয়ার পরপরই নির্বাচন কমিশন সরিয়ে দেয় (Election Commission) পুলিশ-প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিককে (West Bengal Election 2026)।

  • Supreme Court: দত্তক নেওয়া মায়েরাও শিশুর বয়স নির্বিশেষে ১২ সপ্তাহের ছুটির অধিকারী, ‘সুপ্রিম’ রায়

    Supreme Court: দত্তক নেওয়া মায়েরাও শিশুর বয়স নির্বিশেষে ১২ সপ্তাহের ছুটির অধিকারী, ‘সুপ্রিম’ রায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সামাজিক সুরক্ষা আইনের একটি বিধান বাতিল করে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ওই বিধানে দত্তক নেওয়া মায়ের মাতৃত্বকালীন সুবিধা সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল শুধুমাত্র তিন মাসের কম বয়সি শিশুর ক্ষেত্রে। শীর্ষ আদালত এই শ্রেণিবিভাগকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে (Maternity Leave)।

    ‘হামসা নন্দিনী নান্দুরি বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’ মামলা (Supreme Court)

    ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ, ‘হামসা নন্দিনী নান্দুরি বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’ মামলায় বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ রায় দেয়, সোশ্যাল সিকিউরিটি কোড ২০২০-এর ধারা ৬০(৪) সংবিধানের ১৪ এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করছে। এই দুই অনুচ্ছেদ সমতা ও জীবনের অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। আদালত রায় দেয়, দত্তক নেওয়া মায়েরা শিশুর বয়স নির্বিশেষে ১২ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ছুটির অধিকারী।

    আদালতের নির্দেশ

    প্রসঙ্গত, আগে এই সুবিধা সীমাবদ্ধ ছিল শুধুমাত্র তিন মাসের কম বয়সি শিশু দত্তক নেওয়া মহিলাদের ক্ষেত্রে। যার ফলে অধিকাংশ দত্তক গ্রহণকারী অভিভাবক এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতেন। ২০২০ সালের আইনের ধারা ৬০(৪)-এ বলা ছিল, “যে নারী আইনত তিন মাসের কম বয়সি শিশু দত্তক নেন বা কমিশনিং মাদার, তিনি শিশুটিকে হস্তান্তরের তারিখ থেকে ১২ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন সুবিধা পাবেন।” আদালতের নির্দেশ, এখন এই ধারা হবে, “যে নারী আইনত কোনও শিশুকে দত্তক নেন বা কমিশনিং মাদার, তিনি শিশুকে হস্তান্তরের তারিখ থেকে ১২ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন সুবিধা পাবেন।”

    দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে অভিভাবকের প্রয়োজন কম নয় 

    আদালত মনে করে, শিশুর বয়সের ভিত্তিতে দত্তক নেওয়া মায়েদের মধ্যে পার্থক্য করার কোনও যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি নেই। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “মাতৃত্বকালীন সুবিধার উদ্দেশ্য সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়ার সঙ্গে নয়, বরং মাতৃত্বের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত (Supreme Court)।” আদালত এও জানায়, দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে দায়িত্ব, পরিচর্যার প্রয়োজন এবং মানসিক অভিযোজন শিশুর বয়স নির্বিশেষে প্রায় একই থাকে। দত্তক গ্রহণ সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে প্রজনন স্বাধীনতার একটি বৈধ রূপ এবং এটি জৈবিক পিতামাতার তুলনায় গৌণ নয় (Maternity Leave)।

    রায়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক

    রায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ভারতের আইনি কাঠামোয় খুব কম বয়সি শিশুকে দত্তক নেওয়ার বাস্তব অসুবিধা। আদালত জানিয়েছে, কোনও শিশুকে আইনিভাবে দত্তকের জন্য মুক্ত ঘোষণা করতে করতে সাধারণত তিন মাসের বেশি সময় লেগে যায়। তাই আগের বিধানটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। শীর্ষ আদালতের রায়ে বলা হয়, “এই বয়সসীমা বিধানটিকে কার্যত অর্থহীন ও অপ্রয়োগযোগ্য করে তোলে।” বেঞ্চ জানিয়েছে, শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থই নীতিনির্ধারণের মূল হওয়া উচিত। দত্তক পরিবারের সঙ্গে শিশুর মানিয়ে নেওয়ার জন্য সময়, যত্ন ও মানসিক বন্ধন প্রয়োজন, যা কেবল আইনি প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ নয়। আদালতের রায়, বড় বয়সের শিশুকে দত্তক নেওয়া মায়েদের ছুটি না দেওয়া মাতৃত্বকালীন যত্ন এবং শিশুর বিকাশ—দু’টিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই রায়ের পর আদালতের নির্দেশ, ধারা ৬০(৪) এমনভাবে পড়তে হবে যাতে সব দত্তক গ্রহণকারী মা ও কমিশনিং মাদার শিশুকে হস্তান্তরের তারিখ থেকে ১২ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন সুবিধা পান (Supreme Court)।

    পিতৃত্বকালীন যত্ন

    এদিকে, আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা হিসেবে পিতৃত্বকালীন ছুটি চালু করার বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানায়। আদালত বলে, সন্তানের যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব উভয় অভিভাবকের মধ্যে ভাগ হওয়া উচিত এবং তা তাঁদের ও শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন। শীর্ষ আদালত নির্দেশে জানিয়েছে, “আমরা কেন্দ্রকে পিতৃত্বকালীন ছুটিকে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য একটি বিধান আনার আহ্বান জানাচ্ছি (Maternity Leave)। এই ছুটির সময়সীমা এমনভাবে নির্ধারণ করা উচিত, যাতে তা অভিভাবক ও শিশুর প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় (Supreme Court)।”

  • NIA Arrests: কলকাতায় ধৃত মার্কিন ম্যাথিউ ভ্যান ডাইক আসলে কি ‘সিআইএ মার্সেনারি’! ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য সতর্কবার্তা

    NIA Arrests: কলকাতায় ধৃত মার্কিন ম্যাথিউ ভ্যান ডাইক আসলে কি ‘সিআইএ মার্সেনারি’! ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য সতর্কবার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে নাশকতা ও অস্থিরতা তৈরির ছক! মায়ানমারের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ ও সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার ৭ বিদেশি। সম্প্রতি ৬ ইউক্রেনীয় ও এক  মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইন ইউএপিএ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে মার্কিন নাগরিক—ম্যাথিউ অ্যারন ভ্যান ডাইককে ( Matthew Aaron Van Dyke)। ম্যাথিউ অতীতে একাধিক যুদ্ধে জড়িয়েছিলেন। সিআইএ-তে ও যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এখান থেকেই গোয়েন্দাদের সন্দেহ, সিআইএ-র হয়ে গোপন, কালো-তালিকাভুক্ত অভিযানের সদস্য হতে পারে এই ভ্যান ডাইক।

    বিমানবন্দর থেকে আটক

    ভ্যান ডাইককে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে আটক করে ব্যুরো অফ ইমিগ্রেশন। একইসঙ্গে লখনউ ও দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ইউক্রেনীয় নাগরিকদের আটক করা হয়। তাঁরা হলেন হুব্রা পেট্রো, স্লাইভিয়াক তারাস, ইভান সুকমানোভস্কি, স্টিফানকিভ মারিয়ান, হনচারুক মাকসিম এবং কামিনস্কি ভিক্টর। এরা সকলেই পর্যটক ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরে তারা গুয়াহাটি হয়ে মিজোরামে যান এবং অনুমতি ছাড়া সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করেন। এনআইএ-এর দাবি, তারা কেবল পর্যটক ছিলেন না। বরং তাদের উদ্দেশ্য ছিল মায়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে তারা উত্তর-পূর্ব ভারতে হামলা চালাতে সক্ষম হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মোট ১৫ জন বিদেশি নাগরিক এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত । আরও ৮ জন ইউক্রেনীয় নাগরিকের খোঁজ চলছে।

    যুদ্ধক্ষেত্রে ভ্যান ডাইক

    ম্যাথিউ ভ্যান ডাইক প্রথম আলোচনায় আসেন লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের সময়। তিনি বিদ্রোহীদের পক্ষে যুদ্ধ করেন এবং পরে মুয়াম্মার গাদ্দাফির বাহিনীর হাতে বন্দি হন। ছয় মাস কারাবাসের পরও তিনি এই পথ ছাড়েননি। তিনি জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি থেকে সিকিউরিটি স্টাডিজ নিয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি সিআইএ (Central Intelligence Agency)-তে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে পলিগ্রাফ পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় তার সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। লিবিয়ার পর তিনি সিরিয়ায় গিয়ে বিদ্রোহীদের সহায়তা করেন এবং পরে ইরাকে সক্রিয় হন। ২০১৪ সালে তিনি সনস অফ লির্বাটি (Sons of Liberty International) নামে একটি সংস্থা গঠন করেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ইউক্রেনের পক্ষে কাজ করছিলেন। পরবর্তীতে তার কার্যকলাপ মায়ানমার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, যা ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের কাছে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চল।

    ভারতের জন্য সতর্কবার্তা

    এনআইএ-এর অভিযোগ, ভ্যানডাইক ও তাঁর সহযোগীরা ইউরোপ থেকে ড্রোন এনে ভারত হয়ে মায়ানমারে পাঠানোর চেষ্টা করছিলেন। এছাড়া তাঁরা মিজোরামের সীমান্ত ব্যবহার করে অবৈধভাবে মায়ানমারে প্রবেশ করেন। অভিযোগ, এই দলটি ড্রোন প্রযুক্তি—বিশেষ করে ড্রোন পরিচালনা, সংযোজন ও জ্যামিং প্রযুক্তি—নিয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল মায়ানমারের সামরিক জুন্টার বিরুদ্ধে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা। এই ঘটনা ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত। সংরক্ষিত এলাকায় বিদেশিদের প্রবেশ এবং সেগুলিকে সম্ভাব্য “প্রক্সি যুদ্ধের” ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

    ভ্যানডাইক আদতে সিআইএ-র এজেন্ট!

    ভ্যান ডাইক সিআইএ-র এজেন্ট—এমন কোনও প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। তবে তাঁর কার্যকলাপ একটি বড় বাস্তবতা সামনে আনে— ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত এমন কিছু কার্যক্রম, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, এবং সার্বিকভাবে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। গোয়েন্দাদের মতে, সিআইএ-র দুটি পৃথক ভাগ আছে। একটি ‘ইন্টেলিজেন্স গ্যাদারিং’ বা গুপ্তচরবৃত্তি অন্যটি ‘ব্ল্যাক অপস্’। প্রথম বিভাগ যেখানে গোপনে তথ্য জোগাড় করে, সেখানে দ্বিতীয় বিভাগটি আন-স্যাংশান্ড বা অননুমোদিত অপারেশনে (পোশাকি নাম ব্ল্যাক অপস্) অংশ নেয়। অর্থাৎ, যে কালো-তালিকাভুক্ত অপারেশগুলিতে সরাসরি যুক্ত হতে পারে না, বা অনুমতি দিতে পারে না সিআইএ। এমন ক্ষেত্রে মার্সেনারি বা ভাড়াটে সৈনিকদের ব্যবহার করে তারা। এটি ‘ডিপ স্টেট’-এর অংশ।  ধরা পড়লে দায় এড়ানোয় প্রথামাফিক নিয়ম। গোয়েন্দাদের দাবি, ভ্যান ডাইক সিআইএ-র ‘ব্ল্যাক অপস্’ (CIA Black Ops) সদস্য হতে পারে।

    কী বলছে এনআইএ?

    গোয়েন্দাদের এও ধারণা যে, এই ভ্যান ডাইক মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’ হতে পারে। কী এই ডিপ স্টেট? বেআইনিভাবে অর্থ-অস্ত্র জোগান দিয়ে কোনও দেশে অস্থিরতা তৈরি করা এবং সেখানে ক্ষমতার পালাবদল ঘটানো।  এটাই হল ডিপ স্টেটের আসল উদ্দেশ্য। যা আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে করে এসেছে। এনআইএ-র দাবি, এই নেটওয়ার্ক ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছিল, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। পুরো ঘটনায় আন্তর্জাতিক যোগসাজশের ইঙ্গিত মিলেছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যাথু ভ্যানডাইক এক অত্যন্ত বিপজ্জনক ভাড়াটে সৈন্য। ‘সন্স অফ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি ভাড়াটে যোদ্ধা গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সে। ২০১১ সালের লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে গদ্দাফির বিরুদ্ধে লড়াই করা থেকে শুরু করে, ইরাকে আইএসআইএস জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় সেনাকে ড্রোন যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিয়েছে এই গোষ্ঠী বলে শোনা যায়।

    ভারতের স্পষ্ট বার্তা

    এই গ্রেফতারের মাধ্যমে ভারত পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে—দেশের মাটি কোনোভাবেই বিদেশি সংঘাত বা প্রক্সি যুদ্ধের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না, তা যে দেশের নাগরিকই হোক না কেন। সোমবার দিল্লির পাটিয়ালা হাউজ-এর বিশেষ আদালত অভিযুক্তদের ১১ দিনের এনআইএ হেফাজতে পাঠিয়েছে। তাদের ২৭ মার্চ পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মামলায় ধৃতদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ-র ১৮ নং ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়া বেআইনি অনুপ্রবেশ, বেআইনি অস্ত্র রাখা এবং ড্রোন প্রশিক্ষণ দেওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।

    ইউক্রেনের বিরোধিতা

    মায়ানমারে গিয়ে ভারতবিরোধী সন্ত্রাসবাদীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মামলায় গ্রেফতার হয়েছে ৭ বিদেশি। তাদের মধ্যে ৬ জনই ইউক্রেনিয়ান। এই আবহে দিল্লিতে অবস্থিত ইউক্রেনিয়ান দূতাবাস দাবি করল, ধৃতদের যেন ছেড়ে দেওয়া হয়। এই নিয়ে ইউক্রেনের যুক্তি, জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যে এই ৬ জন যুক্ত ছিল, তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের আরও দাবি, ভারতে অনেক সংরক্ষিত এলাকা আছে যেখানে বিনা অনুমতিতে যাওয়া নিষেধ, তবে সেই সব জায়গা চিহ্নিত করা নেই। এই আবহে ‘ভুল’ করে এই ইউক্রেনিয়ানরা সংরক্ষিত জায়গায় চলে গিয়ে থাকতে পারেন। তবে এখানে প্রশ্ন উঠছে, ভুল করে সংরক্ষিত জায়গায় চলে গেলেও আন্তর্জাতিক সীমান্তও পার করা যায় ভুলবশত? ধৃত ইউক্রেনিয়ানদের ৩ জনকে লখনউ এবং ৩ জনকে দিল্লি বিমানবন্দরে ধরেছিল ইমিগ্রেশন ব্যুরো। পরে তাদের এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। ভারতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

  • WB Assembly Election 2026: বঙ্গে ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের সংখ্যা আরও কমল, দাঁড়াল ৪০ লাখের কাছাকাছি

    WB Assembly Election 2026: বঙ্গে ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের সংখ্যা আরও কমল, দাঁড়াল ৪০ লাখের কাছাকাছি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের সংখ্যা আরও কমল (WB Assembly Election 2026)। এই সংখ্যাটা ছিল ৬০ লাখের কাছাকাছি। সোমবার পর্যন্ত কতজনের তথ্য নিষ্পত্তি হয়ে যাচ্ছে (CEO), তা জানিয়ে দিল রাজ্যের সিইও-র দফতর। জানা গিয়েছে, এই সংখ্যাটা কমবেশি ২০ লাখ। অর্থাৎ, বাকি প্রায় ৪০ লক্ষের মতো। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নিষ্পত্তির কাজ করছেন ৭০৫ জন বিচারপতি। কমিশন জানিয়েছে, তারাও চায়, বিবেচনাধীনের তালিকায় থাকা বাকি ভোটারদের তথ্যের নিষ্পত্তি হোক দ্রুত। এক সপ্তাহের মধ্যেই বিবেচনাধীন প্রথম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

    এসআইআর ছাঁকনিতে আটকে যাঁরা (WB Assembly Election 2026)

    এ রাজ্যে এসআইআর নামক ছাঁকনিতে আটকে গিয়েছিল ৬৩ লাখ ভোটারের নাম। এঁদের অনেকে মৃত, কেউ অন্যত্র চলে গিয়েছেন, কেউ আবার গরহাজির, কারও আবার অন্য জায়গায় নাম রয়েছে। এছাড়াও বিবেচনাধীন ছিলেন ৬০ লাখ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এঁদের নথি খতিয়ে দেখছেন ওই বিচারকরা। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানান, এখনও পর্যন্ত ২০ লাখ ভোটারের তথ্যের নিষ্পত্তি হয়েছে।

    বিবেচনাধীন ভোটার

    এসআইআরের প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছিল, রাজ্যে সব চেয়ে বেশি সংখ্যক বিবেচনাধীন ভোটার রয়েছে মুর্শিদাবাদ এবং মালদায়। প্রকাশিত তালিকায় দেখা গিয়েছে, মালদায় ভোটার সংখ্যা ২৯ লাখ ৮৬ হাজার ২০৩। বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছেন ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮০ জন। প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক তালিকা নিয়ে ভোটারদের কোনও অভাব-অভিযোগ থাকলে বিচার করবে ট্রাইব্যুনাল (WB Assembly Election 2026)। এই ট্রাইব্যুনালে থাকবেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ও কয়েকজন বিচারক। তালিকা নিষ্পত্তির জন্য কলকাতা হাইকোর্ট যেসব বিচারককে দায়িত্ব দিয়েছে, তাতে হস্তক্ষেপ করতে বারণ করেছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।

    রবিবারই বঙ্গে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তার পরেই প্রশ্ন ওঠে, বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ৬০ লাখের কিছু বেশি ভোটারের তথ্য যাচাই করে নিষ্পত্তি করতে আর কতদিন সময় পাবেন বিচারকরা। কমিশন সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট কেন্দ্রের মনোনয়ন জমা (CEO) দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম উঠবে, তাঁরাই পারবেন ভোট দিতে (WB Assembly Election 2026)।

     

  • Iran Israel Conflict: ইজরায়েলি হানায় নিহত ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি, বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার সোলাইমানি

    Iran Israel Conflict: ইজরায়েলি হানায় নিহত ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি, বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার সোলাইমানি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যুর পরে ইরানের (Iran Israel Conflicts) হয়ে মূলত সামনে এসেছিলেন আলি লারিজানি (Ali Larijani)। ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আমেরিকাকে ক্রমাগত আক্রমণ শানিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তাঁকে হত্যা করতে তৎপর হয়ে উঠেছিল ইজরায়েল ও আমেরিকা। অবশেষে এল সাফল্য। নিহত ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি। ইজরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানি। এই খবর নিশ্চিত করেছে তেহরানও। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’ বিবৃতি জারি করে লারিজানির মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। সেই বিবৃতিতে লারিজানিকে ‘শহিদ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। লারিজানির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে লারিজানির মৃত্যুর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

    দেশসেবার জন্য প্রাণ উৎসর্গ

    শুধু লারিজানি নন, ইজরায়েলি হামলায় একই সঙ্গে মৃত্যু হয়েছে তাঁর পুত্র এবং দেহরক্ষীরও। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপ-প্রধান আলিরেজা বায়েতও প্রয়াত হয়েছেন ইজরায়েল হামলায়। লারিজানির ওপর ইজরায়েলি হামলার সময় তাঁর সঙ্গেই ছিলেন আলিরেজা। একই হামলায় আলি লারিজানির ছেলে মোর্তেজা লারিজানিও (Morteza Larijani) প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানির (Gholam Reza Soleimani) মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করেছে ইরান। তাঁদের প্রতি শোকজ্ঞাপন করেছে কাউন্সিল। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের অগ্রগতি এবং ইসলামি বিপ্লবের জন্য আজীবন লড়াই করেছেন লারিজানি। দেশসেবার জন্য এই মৃত্যু তাঁর দীর্ঘ দিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেছে। দেশের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করার পর তিনি ‘শহিদের মর্যাদা’ অর্জন করেছেন।

    লারিজানির মৃত্যুর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি

    মঙ্গলবার দুপুরে (ভারতীয় সময়) ইজরায়েলের তরফে দাবি করা হয়, বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন লারিজানি! সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজ দাবি করেছেন, লারিজানি নিহত হয়েছেন। তবে ইরান সেই সময় ইজরায়েলের দাবি উড়িয়ে দেয়। তেহরান-সহ ইরানের বেশ কয়েকটি জায়গায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল বাহিনী। ইরানের সরকারি সংবাদসংস্থা তাসমিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সে দেশের সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক মেজর জেনারেল আমির হাতানি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, লারিজানির মৃত্যুর প্রতিশোধ হবে ‘চূড়ান্ত এবং দুঃখজনক’।

    ট্রাম্পকে ‘নির্মূল’ করে দেওয়ার সরাসরি হুমকি

    দিন কয়েক আগেই এক্স হ্যান্ডলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘নির্মূল’ করে দেওয়ার সরাসরি হুমকি দিয়েছিলেন লারিজানি। তাঁর বার্তা ছিল, ‘‘আপনার থেকেও বড়রা ইরানকে নির্মূল করতে পারেনি। নিজেরটা দেখুন, না হলে আপনাকেই নির্মূল করে দেওয়া হবে।’’ সেই বার্তা প্রকাশ্যে আসার পরই শোরগোল পড়ে যায়। সোমবার লারিজানি ঘোষণা করেন, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের বিরুদ্ধে সমস্ত মুসলিম দেশের ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত। তার আগেই তাঁর মাথার দাম ঠিক করে রেখেছিল আমেরিকা। কিছুদিন আগেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই-সহ (Mojtaba Khamenei) দেশের প্রশাসনের শীর্ষ ১০ জন কর্মকর্তার ছবি প্রকাশ করে তাঁদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছিল আমেরিকা। সেই তালিকার একেবারে উপরের দিকেই ছিলেন ইরানের নিরাপত্তা উপদেষ্টা।

    কে ছিলেন আলি লারিজানি?

    আলি লারিজানি (Ali Larijani) ইরানের রাজনীতির অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব (Secretary of Iran’s Supreme National Security Council) হিসেবে তিনি দেশের নিরাপত্তা ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রী, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার প্রধান, সংসদের স্পিকার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ২০২৫ সালে আবার সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান লারিজানি। দেশের রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় রক্ষায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতেন। লেফটেন্যান্ট লারিজানি ছিলেন সদ্যনিয়ত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের অন্যতম বিশ্বস্ত সঙ্গী। লারিজানির মৃত্যু ইরানের রাজনীতিতে বড় শূন্যতা তৈরি করল বলেই মনে করা হচ্ছে।

    রেজা সোলাইমানি কে?

    তরুণ বয়সে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরে যোগ দেন রেজা সোলেইমানি। ধীরে ধীরে পদোন্নতি পেয়ে তিনি ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় একটি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার হন। পরে আইআরজিসির কয়েকটি ডিভিশনের নেতৃত্ব দেন। ২০১৯ সাল থেকে বাসিজ বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন গোলাম রেজা সোলেইমানি। আইআরজিসির অধীন এই স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক বাহিনীতে আনুমানিক সাড়ে চার লাখ সদস্য রয়েছে। এ বাহিনীর নেতা হিসেবে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত ছিলেন সোলাইমানি। ইরান সরকারের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত সোলাইমানির ওপর যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও কানাডাসহ একাধিক দেশ ও সংস্থার নিষেধাজ্ঞা ছিল।

    ইরানের শীর্ষ স্তরের নেতাদের ‘নির্মূল’ করাই লক্ষ্য

    ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বার বার লারিজানিকে ‘দুর্বৃত্তদের প্রধান’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, ইরানের শীর্ষ স্তরের নেতাদের ‘নির্মূল’ করাই লক্ষ্য। তবে এ-ও জানান, কাজটা সহজ নয়। নেতানিয়াহুর কথায়, ‘‘এক বারে ঘটবে না। সহজ হবে না। তবে আমরা যদি লক্ষ্যে অবিচল থাকতে পারি তবে ইরানের মানুষ তাদের নেতৃত্বকে উৎখাত করতে পারবে।’’ ইজরায়েল দাবি করেছে, ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) পরিকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হামলায় আলি লারিজানি ও রেজা সোলেইমানি দুই নেতাকে নিশানা করা হয়েছিল।

  • West Bengal Elections 2026: ‘টাকার বিনিময়ে আসন বিক্রি’! কোথাও গণইস্তফা, কোথাও জ্বলল আগুন, প্রার্থী ঘোষণা হতেই তৃণমূলে শুরু বিদ্রোহ

    West Bengal Elections 2026: ‘টাকার বিনিময়ে আসন বিক্রি’! কোথাও গণইস্তফা, কোথাও জ্বলল আগুন, প্রার্থী ঘোষণা হতেই তৃণমূলে শুরু বিদ্রোহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৭ মার্চ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে তৃণমূল। আর এই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন দিকে শাসকদলের অন্দরে শুধু হয়েছে চাপানউতোর। কারও অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে আসন বিক্রি হয়েছে। কেউ বলছেন, দল তাঁকে ব‍্যবহার করে তেজপাতা করে দিয়েছে। কেউ টিকিট না পেয়ে ‘তৃণমূল হারবে’ বলে দলকে হুঁশিয়ারিও দিয়ে রাখলেন। কেউ আবার বিদ্রোহ ঘোষণা করে ছাড়লেন দল! সব মিলিয়ে প্রার্থীতালিকা নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় তৃণমূল।

    তমলুকে ইস্তফা সাংগঠনিক জেলা মহিলা সভানেত্রীর

    দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে পদ ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন পূর্ব মেদিনীপুরের তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা নেত্রী শিবানী দে কুণ্ডু। নন্দকুমার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিও তিনি। তমলুক সাংগঠনিক জেলা মহিলা সভানেত্রীও তিনি। মঙ্গলবার রাতেই সোশ্যাল মিডিয়াতে পদ ছাড়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। শিবানী দে কুণ্ডুর দাবি, জেলায় মহিলা প্রার্থীদের গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এই কারণেই পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, মহিলাদের ৫০% আসন সংরক্ষণের কথা দল বললেও কার্যক্ষেত্রে তা দেখা যায়নি। এই কারণেই পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিবানী। বুধবারেই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি নেবেন বলেও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছেন নন্দকুমার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি।

    আরাবুল-শওকত নিয়ে ভাঙড়-ক্যানিংয়ে অস্বস্তি তৃণমূলে

    আবার ভোটের মুখে গরম ভাঙড়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখিয়ে দল ছাড়লেন আরাবুল ইসলাম। তাঁর নিশানায় মমতা, ফিরহাদ, শওকত। দলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ আরাবুলের। দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক কাইজার-ও। সব মিলিয়ে ভাঙড়ে তৃণমূলের অস্তিত্বের সঙ্কট! ক্যানিং পূর্বের বদলে ভাঙড় থেকে প্রার্থী করা হয়েছে সওকত মোল্লাকে। যা নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা চৌমাথা বাজারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁর অনুগামীরা। ক্যানিং পূর্বের প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ তৃণমূলের। তাঁদের দাবি, ক্যানিং পূর্বে শওকত মোল্লাকে প্রার্থী করতে হবে। টিকিট না পেয়ে বিদ্রোহী আমডাঙার ৩ বারের তৃণমূল বিধায়ক রফিকুর রহমান। আমডাঙা-কাঁকিনাড়া রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ তাঁর অনুগামীদের।

    খণ্ডঘোষে গণ-ইস্তফা, মন্তেশ্বরে বোমাবাজি, মিনাখাঁয় আগুন

    প্রার্থী ঘোষণা হতেই মঙ্গলবার প্রকাশ্যে খণ্ডঘোষ ও মন্তেশ্বরের তৃণমূল নেতৃত্বের ঝামেলা৷ একদিনে মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর নাম ঘোষণার পরেই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর কোন্দলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে চলল বোমাবাজি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যেতে হয় । ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন বলে খবর। অন্যদিকে, খণ্ডঘোষ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী নবীন বাগের নাম ঘোষণার পরেই ক্ষোভ বাড়তে থাকে দলের অন্দরে। নেতা কর্মীদের একাংশ সাফ হুঁশিয়ারি দেন, প্রার্থী বদল না হলে খণ্ডঘোষের ব্লক সভাপতি, একাধিক অঞ্চল সভাপতি, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ-সহ একাধিক তৃণমূল নেতা দলের পদ ছেড়ে নির্বাচনে নিষ্ক্রিয় থাকবেন৷ যার জেরে এদিন রাত পর্যন্ত সরগরম খণ্ডঘোষ ও মন্তেশ্বর বিধানসভা এলাকা। মিনাখাঁয় ঊষারানি মণ্ডলকে প্রার্থী করেছে দল। প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই সেখানে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রার্থী বদলের দাবি জানিয়ে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ তৃণমূলের একাংশের। হাড়োয়ায় রোড অবরোধ। বাঁশ-লাঠি দিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ। ঘটনায় জখম তৃণমূলের ২ কর্মী। জখম তৃণমূল কর্মীরা হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি।

    “আমি কি চাকর নাকি”, টিকিট না পেয়ে বিদ্রোহী বিধায়ক

    প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতে না হতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবায় সামনে এল তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীকোন্দল। বিপ্রদাসপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা। ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছেন বিপ্রদাসপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান এবং তাঁর অনুগামীরাই। ভোটের মুখে শাসকদলের এই প্রকাশ্য কোন্দল ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। উপপ্রধানের অভিযোগ, বর্তমান বিধায়ক তথা প্রার্থী সুব্রত মণ্ডলের অনুগামীরা এই হামলা চালিয়েছেন। টিকিট না পেয়ে বিক্ষুব্ধ চুঁচুড়ার তিনবারের বিধায়ক অসিত মজুমদার। প্রতিক্রিয়ায় বললেন, ‘আমরা তো চুনোপুটি লোক, তাহলে আমাদের সঙ্গে কেন কথা বলবে?’ ‘আমি মনে করেছি খামতি নেই, ওরা মনে করেছে আমার খামতি আছে। না হলে তিনবার আমাকে দিল এবার দিল না কেন? দলের লোকের আমাকে ভালোবাসে, ওদের মন ভেঙে গেছে। ধন্যবাদ জানালাম দলকে।’ অসিত বলেন, “রাজনীতি আর করব না। রাজনীতি থেকে বিশ্রাম নিলাম।” এরপরেই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, “দল কাজ করতে বললে কী করবেন?” উত্তরে তিনি বলেন, “দল কাজ করতে বললেই করতে হবে নাকি, আমি কি চাকর নাকি?”

    “এবার তৃণমূল হারবে”, টিকিট না পেয়ে হুঁশিয়ারি বিধায়কের

    জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ আসনে পরপর চারবার জয়ী হওয়ার পরেও বিধায়ক খগেশ্বর রায়কে ছাব্বিশের ভোটে প্রার্থী করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁর জায়গায় প্রার্থী করা হল এশিয়াডে সোনা জয়ী স্বপ্না বর্মনকে৷ সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন খগেশ্বর। জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা করেন তিনি। বিদায়ী বিধায়ক বলেন, “আমার প্রতি যে অবিচার হল, তার জন্য দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলাম। রাজগঞ্জ আসন এবার তৃণমূল হারবে। এখানে দলের ভিত আমি তৈরি করেছি। অন্য দলে যাব কি না তা এখনও চিন্তা করিনি। তবে দলকে চিঠি পাঠালাম। দেখি দল কী সিদ্ধান্ত জানায়।” তাঁর আক্ষেপ, “টাকার কাছে হেরে গেলাম!” প্রার্থী ঘোষণা হতেই রাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। কিছু জায়গায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি ‘বহিরাগত’ বা ‘অরাজনৈতিক’ প্রার্থী হঠানোর স্লোগানও ওঠে।

LinkedIn
Share