Blog

  • Kashmiri Pandit: ‘চাকরি ছাড়ো, নয় মরো’! ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি-চিঠি জঙ্গিদের, ভূস্বর্গে বাড়ছে উদ্বেগ

    Kashmiri Pandit: ‘চাকরি ছাড়ো, নয় মরো’! ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি-চিঠি জঙ্গিদের, ভূস্বর্গে বাড়ছে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়ের দশকের আতঙ্ক যেন আবারও ফিরে আসছে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Kashmiri Pandit) জীবনে! সেই সময় হুমকি-বার্তা আসত দেওয়ালে টাঙানো তালিকা কিংবা ছাপা কাগজের মাধ্যমে (Jammu Kashmir)। এখন সেসবই আসছে আরও আধুনিক পদ্ধতিতে। কাশ্মীর উপত্যকায় কর্মরত প্রায় ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে লক্ষ্য করে নতুন করে হুমকি জারি হয়েছে। অভিযোগ, তাঁদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা এবং গাড়ির নথিভুক্তির তথ্য পর্যন্ত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবেই তৈরি করা হচ্ছে আতঙ্কের পরিবেশ।

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বক্তব্য (Kashmiri Pandit)

    মুম্বইয়ে বসবাসকারী এক কাশ্মীরি পণ্ডিত, যাঁর পরিবারের সদস্যরা এখনও শ্রীনগরে রয়েছেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেন, “নব্বইয়ের দশকেও এটাই ছিল তাদের কাজের ধরন। শুধু তখন ইন্টারনেট ছিল না। তালিকা টাইপ করে দেওয়ালে সাঁটিয়ে দেওয়া হত।”

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের অভিযোগ, লস্কর-ই-তইবার সঙ্গে যুক্ত ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল (ইউএলসি) এর নামে জারি করা একাধিক হুমকিপত্রের জেরে উপত্যকায় কর্মরত প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত এক মাসেরও বেশি সময়ে অন্তত পাঁচটি হুমকির ঘটনা সামনে এসেছে। সর্বশেষ হুমকিতে সরকারি চাকরিতে থাকা কাশ্মীরি পণ্ডিতদের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। তা না হলে প্রাণঘাতী পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

    এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বিভিন্ন সংগঠন এবং উপত্যকায় পরিবারের সদস্যদের রেখে মুম্বই ও দিল্লিতে বসবাসকারী সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। কাশ্মীরি পণ্ডিত অ্যাসোসিয়েশন এবং অল ইন্ডিয়া কাশ্মীরি সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে উপত্যকায় এখনও পরিবারের সদস্য রয়েছেন এমন একাধিক কাশ্মীরি পণ্ডিত জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের হুমকির ঘটনা বেড়েছে।

    দিল্লিতে বসবাসকারী এক কাশ্মীরি পণ্ডিত আইনজীবী, যাঁর পরিবারের সদস্যরা জম্মুতে থাকেন, বলেন, “আমার পরিবার সরকারি কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত নয়। আমরা ব্যবসায়ী পরিবার। এবার হুমকির লক্ষ্য সরকারি কর্মীরা। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে কাশ্মীরে কাশ্মীরি পণ্ডিতরা নিরাপদ। উপত্যকায় এই ধরনের হুমকি এখন যথেষ্ট সাধারণ হয়ে উঠেছে।”

    বিপুল তথ্য ফাঁসের অভিযোগ

    ৭ সেপ্টেম্বর সমাজের পক্ষের এক কণ্ঠস্বর সাবা কৌল সোশ্যল মিডিয়ায় এই ঘটনাকে “বিরাট এবং উদ্বেগজনক নিরাপত্তা সংকট” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, ইউএলসি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের আওতায় কর্মরত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের হুমকি দিয়েছে। একই সঙ্গে কর্মীদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা এবং গাড়ির নথিভুক্তির তথ্য অনলাইনে ফাঁস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

    কৌল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপালের দফতরের কাছে ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন (Jammu Kashmir)।

    শ্রীনগরভিত্তিক এক প্রবীণ সাংবাদিকও জানিয়েছেন, হুমকিপত্রগুলি প্রথমে গোপন ইন্টারনেটভিত্তিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে সেগুলি হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের মতো বার্তাবাহক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে উপত্যকায় থাকা কর্মীদের পাশাপাশি জম্মু এবং দেশের অন্যত্র বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

    এক মাসে পঞ্চম হুমকি

    ১ সেপ্টেম্বর ইউএলসির নামে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উদ্দেশে একটি হুমকিপত্র প্রকাশ্যে আসে। এক মাসের মধ্যে এটি ছিল পঞ্চম হুমকি বলে দাবি করা হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়, নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি বৈঠকের পরে প্রশাসন অভিবাসী কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের হালকা অস্ত্র দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।

    এর আগে ৭ অগাস্টের একটি হুমকিপত্রেও কাশ্মীরি পণ্ডিত সরকারি কর্মীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকার দাবি করা হয়েছিল। তাঁদের পরিবার, অবস্থান এবং কর্মস্থলের বিবরণ সংগঠনের হাতে রয়েছে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি কর্মীরা জম্মুতে চলে গেলেও তাঁদের নিশানা করা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।

    কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মী ও সমাজকর্মী রাকেশ হান্ডুর দাবি, প্রায় ৬ হাজার প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের কর্মী গত প্রায় ১৫ বছর ধরে কাশ্মীর উপত্যকায় কাজ করছেন। তাঁদের অনেকেই ভাড়া বাড়িতে থাকেন। তাঁর বক্তব্য, শ্রীনগরের জেওয়ান, অনন্তনাগের মাট্টান এবং ভীরিনাগে মোট ৬ হাজার ৪২টি আবাসন নির্মাণ করা হলেও গত তিন বছরে মাত্র প্রায় ৮০০টি আবাসন বরাদ্দ করা হয়েছে।

    হান্ডু অবিলম্বে বিভিন্ন অস্থায়ী আবাসন ও ভাড়াবাড়ির নিরাপত্তা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি হুমকির উৎস খুঁজে বের করতে তদন্ত এবং “ফিরে আসা ও পুনর্বাসনের অধিকার” নিশ্চিত করার জন্য একটি নীতির দাবিও তুলেছেন। তাঁর মতে, সেই নীতিতে চাকরির নিরাপত্তার পাশাপাশি জমির অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে (Kashmiri Pandit)।

    আবাসন নিয়েও প্রশ্ন

    ৭ সেপ্টেম্বর আরও একটি বার্তায় হান্ডু কুলগামের চৌগাম সড়কের নওয়া এলাকায় সংখ্যালঘু প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজ কর্মীদের জন্য তৈরি অস্থায়ী আবাসনের ছবি প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু আবাসন বিচ্ছিন্ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। কোথাও সঠিক রাস্তা ও নিকাশি ব্যবস্থা নেই, কোথাও নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ, আবার কোথাও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা ঘেরাও নেই।

    কাশ্মীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি রয়েছে বলে প্রশাসনের দাবির সঙ্গে এই বাস্তবতার তুলনা করে হান্ডু প্রশ্ন তোলেন, “এই স্বাভাবিকতা কার জন্য?” তাঁর যুক্তি, যে কর্মী হুমকিপত্র পেয়েছেন, তাঁর কাছে স্বাভাবিকতার অর্থ শুধু চাকরিতে থাকা নয়। তাঁর প্রয়োজন নিরাপদ ছাদ, সুরক্ষিত আবাসন এবং সম্পূর্ণ পরিকাঠামো।

    ৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের সাইবার অপরাধ শাখার কাছে দেওয়া অভিযোগে হান্ডু ৫ সেপ্টেম্বরের হুমকিপত্রের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের দাবি জানান। তাঁর দাবি, চিঠিতে স্থানীয় বাসিন্দা নন এমন কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং লিঙ্গ বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে তাঁদের নিশানা করার কথা বলা হয়েছে। চিঠিতে “তাদের মরদেহের ব্যাগ তাদের নিজ নিজ বাড়িতে পাঠানো হবে”—এমন ভয়াবহ ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে (Jammu Kashmir) বলেও জানান তিনি।

    পুনর্বাসন নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিরাপত্তা

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকায় ফিরিয়ে আনার জন্য পরবর্তীকালে সরকারি চাকরির মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০০৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন প্যাকেজ ঘোষণা করে। সেই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় অর্থায়নে ৩ হাজার সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের নভেম্বরে আরও ৩ হাজার সরকারি চাকরি অনুমোদন করা হয়। ফলে দুই প্রকল্প মিলিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থায়নে মোট পদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ হাজার।

    তবে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ধরনের হুমকিপত্র প্রকাশ্যে এলে শুধু উপত্যকায় কর্মরত ব্যক্তিরাই নন, জম্মু-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়।

    অগাস্টের একটি হুমকিতে ছ’জন সরকারি কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে না আনা হলেও, বাস্তবে তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের প্রতিনিধিত্বকারী পানুন কাশ্মীর ওই ব্যক্তিদের এবং তাঁদের পরিবারের জন্য অবিলম্বে নিরাপত্তা মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের আহ্বায়ক অগ্নিশেখর বলেন, হুমকির পাশাপাশি ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ করা অত্যন্ত “গুরুতর উদ্বেগের” বিষয় (Kashmiri Pandit)।

    হুমকি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদেরই বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, অথচ জম্মু-কাশ্মীরে কর্মরত প্রবীণ হিন্দু আধিকারিকরা একই ধরনের হুমকির মুখে পড়ছেন না। তাঁর অভিযোগ, এই হুমকি উপরাজ্যপাল-নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভয় তৈরি করে রাজ্যের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার একটি “ষড়যন্ত্রের” অংশ হতে পারে।

    বিজেপি অবশ্য এই বক্তব্য সরাসরি খারিজ করেছে। দলের জাতীয় গণমাধ্যমের সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা প্রদীপ ভাণ্ডারি ফারুক আবদুল্লার বিরুদ্ধে জঙ্গিদের প্রতি “নরম মনোভাব” নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের মন্তব্য কাশ্মীরি হিন্দুদের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা ও নিরাপত্তা-সংকটকে খাটো করে দেখায়।

    অন্যদিকে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা তাঁর বাবার থেকে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। অগাস্টে প্রথম হুমকি সামনে আসার পর তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে এবং নতুন হুমকিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। যারা এর পিছনে রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি। দ্বিতীয় হুমকির পরও ওমর জানান, হুমকির উৎস কোথায়, তা নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে খুঁজে বের করতে হবে।

    ফিরছে নয়ের দশকের স্মৃতি?

    আটের দশকের শেষ এবং নয়ের দশকের গোড়ায় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের বিস্তারের সময় লক্ষ্য করে হত্যা, হুমকি এবং স্থানীয় মসজিদ থেকে সতর্কবার্তার পর বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত উপত্যকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। তাঁরা বাড়িঘর ও সম্পত্তি ফেলে জম্মু এবং ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে আশ্রয় নেন (Kashmiri Pandit)।

    সরকারি চাকরির মাধ্যমে তাঁদের উপত্যকায় ফিরিয়ে আনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজ তারই অন্যতম অংশ। কিন্তু ২০২২ সালে চাদুরার তহসিল দফতরের ভিতরে কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মী রাহুল ভাটের হত্যাকাণ্ড এখনও সেই নিরাপত্তা ঝুঁকির ভয়াবহ স্মারক হয়ে রয়েছে।

    তাই বর্তমান হুমকিগুলিকে শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসনের সাফল্য কি শুধু কতগুলি চাকরি দেওয়া হয়েছে বা কতগুলি বাড়ি তৈরি হয়েছে, সেই হিসাবেই নির্ধারিত হবে? নাকি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে তাঁরা উপত্যকায় নিরাপদে বসবাস ও কাজ করতে পারছেন কি না?

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের জন্য প্রত্যাবর্তন তখনই অর্থবহ হবে (Jammu Kashmir), যখন চাকরি ও আবাসনের পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থাও ফিরবে। সাম্প্রতিক হুমকি সেই আস্থার জায়গাটিকেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে বই কি! (Kashmiri Pandit)।

     

  • NIA: পিএনবির কারেন্সি চেস্টে ১৭ কোটির জালনোট! গ্রেফতার ব্যাঙ্কের ম্যানেজার, নেপাল-যোগ খতিয়ে দেখছে এনআইএ

    NIA: পিএনবির কারেন্সি চেস্টে ১৭ কোটির জালনোট! গ্রেফতার ব্যাঙ্কের ম্যানেজার, নেপাল-যোগ খতিয়ে দেখছে এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের (PNB) এক কর্তাকে গ্রেফতার করেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)। তার জেরে উত্তরপ্রদেশে জাল নোট উদ্ধারের অন্যতম বড় ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে। মঙ্গলবার এনআইএর শীর্ষ আধিকারিকরা জানান, ব্যাঙ্কের একটি কারেন্সি চেস্টের ভিতর থেকে উদ্ধার হওয়া ১৭.২৯ কোটি টাকা মূল্যের জাল নোট (Fake Currency Case) বৃহত্তর কোনও চক্রের অংশ কি না, এবং সেই চক্র আনুষ্ঠানিক ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে কাজ করছিল কি না, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এনআইএর হাতে গ্রেফতার পিএনবির ম্যানেজার (NIA)

    সোমবার জগাধরি কারেন্সি চেস্টের ম্যানেজার অমিত কুমারকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। এই মামলায় নাম থাকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত তিনি। সাহারানপুরের সোফিয়া মার্কেট এলাকার ব্যাঙ্কের কারেন্সি চেস্টে ভারতীয় জাল নোট শনাক্ত হওয়ার পর পিএনবির যে তিন আধিকারিক তদন্তকারীদের নজরে আসেন, অমিত তাঁদের অন্যতম।

    পিএনবি কর্তার এই গ্রেফতারি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সন্দেহভাজন জাল নোট কোনও ব্যক্তিগত বাহক, গোপন আস্তানা বা সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার হয়নি; বরং তা উদ্ধার হয়েছে ব্যাঙ্কের কারেন্সি চেস্টের ভিতর থেকেই। তাই প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে জাল নোটগুলি ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় ঢুকল এবং তার কোনও অংশ পরবর্তী কালে বৈধ ব্যাঙ্কিং চ্যানেলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল কি না।

    এনআইএ জানিয়েছে, মামলাটি পিএনবির কারেন্সি চেস্টে জাল নোট সংক্রান্ত একটি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত। তদন্তের মাধ্যমে পুরো “ষড়যন্ত্রের সম্পূর্ণ চিত্র” উদঘাটন এবং অন্যান্য অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

    তদন্তে তিন পিএনবি আধিকারিক

    তদন্তে চিহ্নিত তিন পিএনবি আধিকারিক হলেন— সিনিয়র ডিভিশনাল ম্যানেজার রবি কুমার কানসে, সোফিয়া মার্কেট কারেন্সি চেস্টের ম্যানেজার সুশীল কুমার এবং জগাধরি কারেন্সি চেস্টের ম্যানেজার অমিত কুমার। প্রাথমিক তদন্তে তাঁদের তথাকথিত যোগসূত্র সামনে আসার পর ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সাসপেন্ড করেন তিনজনকেই।

    পরবর্তী কালে এসআইটি (SIT) এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চ তিন আধিকারিকের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও বিভিন্ন নথি বাজেয়াপ্ত করে। তাঁদের যোগাযোগ, গতিবিধি এবং অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে বের করতে ওই সব সামগ্রী পরীক্ষা করা হচ্ছে।

    এনআইএর হাতে তদন্তভার

    ৩ সেপ্টেম্বর তদন্তভার নেওয়ার পর এনআইএ মামলাটি নতুন করে নথিভুক্ত করেছে। এর আগে ২৯ অগাস্ট সদর বাজার থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ধারা ১৭৮-এর অধীনে মূল এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। জাল নোট উদ্ধারের আগে মুদ্রাগুলি কীভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গিয়েছিল, সেই গোটা গতিপথ পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন (Fake Currency Case) তদন্তকারীরা।

    কীভাবে জাল নোট ঢুকল মুদ্রা সরবরাহ ব্যবস্থায়?

    তদন্ত থেকে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ৬ জুলাই সাহারানপুর থেকে ১১১ কোটি টাকা মূল্যের মুদ্রা কারেন্সি-হ্যান্ডলিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) জয়পুর দফতরে পাঠানো হয়েছিল। ওই চালানে লেখা ছিল— ৫০০ টাকার নোটের ১,৯০০ বান্ডিল এবং ২০০-এর ৮০০ বান্ডিল।

    চালানটির প্যাকিং ও পাঠানোর প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এক গৃহপরিচারকের হাতে। তবে ঠিক কোন পর্যায়ে সন্দেহের তালিকায় থাকা জাল নোটগুলি মুদ্রা সরবরাহ ব্যবস্থায় ঢুকেছিল, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    জাল নোটের অনিয়ম ধরা পড়ার আগে কারেন্সি চেস্ট থেকে ব্যাঙ্কের বিভিন্ন শাখা এবং এটিএম-এ ওই নোটগুলির কিছু অংশ পাঠানো হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে (NIA)। এই তদন্তের অন্যতম বড় প্রশ্ন হল—সন্দেহমূলক জাল নোটের কতটা ইতিমধ্যেই বাজারে ঢুকে পড়েছে। কারেন্সি চেস্টের বাইরে কত পরিমাণ নোট গিয়েছিল, আদৌ গিয়েছিল কি না—তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

    নেপালের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্রের তদন্ত

    তদন্তে সম্ভাব্য আন্তঃসীমান্ত যোগসূত্রের দিকটিও সামনে এসেছে। তিন অভিযুক্তের যোগাযোগ ও গতিবিধি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তাঁদের সঙ্গে নেপাল সীমান্তের কাছাকাছি বা সীমান্তের ওপারে সক্রিয় (Fake Currency Case) কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল কি না, তা-ও যাচাই করা হচ্ছে। অভিযুক্তরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন—এই আশঙ্কার কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত লুকআউট নোটিশ জারি করা হয়েছিল।

    তবে নেপালের সঙ্গে কোনও নিশ্চিত যোগসূত্র এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তদন্তকারীরা আপাতত একে তদন্তের একটি সম্ভাব্য দিক হিসেবেই দেখছেন। সাহারানপুরের এসএসপি অভিনন্দন এর আগে তল্লাশির সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ জারির কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। পুলিশের আশঙ্কা ছিল, অভিযুক্তরা নেপালে পালিয়ে যেতে পারেন। সেই (NIA) কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ জারি করা হয়।

     

  • Asian Games 2026: এশিয়ান গেমসে পাঁচতারা হোটেল নয়, নাগোয়ায় নির্ধারিত আবাসনেই থাকবেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা

    Asian Games 2026: এশিয়ান গেমসে পাঁচতারা হোটেল নয়, নাগোয়ায় নির্ধারিত আবাসনেই থাকবেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদেশ সফরে সাধারণত পাঁচতারা হোটেলেই থাকার অভ্যাস ভারতীয় ক্রিকেট দলের। কিন্তু ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমসে (Asian Games 2026) সেই চেনা ছবি দেখা যাবে না। জাপানের নাগোয়ায় আয়োজকদের নির্ধারিত আবাসনেই থাকবেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। তবে হোটেল পাঁচতারা না হলেও সেখানে থাকার ব্যবস্থা নিয়ে আপাতত সন্তুষ্ট ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। এশিয়ান গেমসের জন্য ভারতীয় ক্রিকেট দলের হোটেল নিয়ে এর আগে তৈরি হয়েছিল কিছুটা ধোঁয়াশা। আয়োজকদের দেওয়া আবাসন নিয়ে বিসিসিআই-এর অসন্তোষ রয়েছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে সেই জল্পনায় জল ঢেলে বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজীব শুক্লা জানিয়েছেন, নাগোয়ায় আয়োজকদের নির্ধারিত হোটেলেই থাকবেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা এবং থাকার ব্যবস্থা নিয়ে বোর্ড সন্তুষ্ট।

    পাঁচতারা হোটেল না হলেও আলাদা ঘর ক্রিকেটারদের

    রাজীব শুক্লা জানিয়েছেন, ভারতীয় দলের প্রতিটি ক্রিকেটারের জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা সাধারণত ভারতীয় ক্রিকেটাররা পান, তার সবটা না থাকলেও অন্তত টুইন-শেয়ারিং বা দু’জনের সঙ্গে একই ঘরে থাকার প্রয়োজন হবে না। বোর্ডের পক্ষ থেকে হোটেলের ছবি ও ভিডিও আগেই দেখে নেওয়া হয়েছে। ক্রিকেটারদের স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজীব শুক্ল।

    কেন টোকিও বা ওসাকায় নয়

    ভারতীয় দলকে টোকিও কিংবা ওসাকায় রাখার পরিবর্তে নাগোয়াতেই রাখার সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে মূলত যাতায়াতের বিষয়টি। নাগোয়া থেকে টোকিও কিংবা ওসাকা—দুই শহরই বুলেট ট্রেনে প্রায় দেড় ঘণ্টা দূরে। ফলে প্রতিদিন দীর্ঘ যাতায়াত করলে ক্রিকেটারদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। রাজীব শুক্লা বলেন, আয়োজকদের মূল উদ্দেশ্য ছিল এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়া সমস্ত দলকে একই জায়গায় রাখা। কিছু দল টোকিও এবং কিছু দল ওসাকায় থাকলে গোটা আয়োজনের সমন্বয়ও কঠিন হয়ে যেত। তাই নাগোয়াতেই থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    হোটেলের চেয়ে বেশি চিন্তা মাঠ নিয়ে

    ভারতীয় দলের আবাসন নিয়ে আলোচনা হলেও বিসিসিআই-এর কাছে আসল উদ্বেগ ছিল মাঠ, উইকেট এবং ড্রেসিংরুমের ব্যবস্থা নিয়ে। রাজীব শুক্লা জানিয়েছেন, সেই সমস্যাগুলিও ইতিমধ্যে মিটিয়ে ফেলা হয়েছে। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) একটি দল নাগোয়ায় গিয়ে মাঠ ও অন্যান্য পরিকাঠামো পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শনের পর মাঠ, উইকেট এবং ড্রেসিংরুমের ব্যবস্থা নিয়ে এসিসি-ও সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন বিসিসিআই-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট। ভারতীয় ক্রিকেট দলের আবাসন ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, এশিয়ান গেমসের আয়োজক কমিটি এবং জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। বিসিসিআই-ও গোটা প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখছে। অর্থাৎ, পাঁচতারা হোটেল না হলেও ক্রিকেটারদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং খেলার প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নিশ্চিত করার দিকেই আপাতত বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ভারতীয় বোর্ড। ফলে এশিয়ান গেমস ২০২৬-এ নাগোয়াতেই দেখা যাবে ভারতীয় ক্রিকেট দলের অভিযান।

  • Nitin Nabin: নয়া কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর প্রথম বঙ্গ সফরে নিতিন নবীন, যোগ দেবেন সাংগঠনিক বৈঠকে

    Nitin Nabin: নয়া কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর প্রথম বঙ্গ সফরে নিতিন নবীন, যোগ দেবেন সাংগঠনিক বৈঠকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। ১৫ সেপ্টেম্বর দু’দিনের সফরে বাংলায় আসার কথা তাঁর। সঙ্গে থাকবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বিএল সন্তোষ (BL Santosh)। দলীয় সূত্রে খবর, এই সফরে মূলত সাংগঠনিক বৈঠকেই জোর দেওয়া হবে। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে শুরু করে দলের সাংগঠনিক অবস্থান—সব কিছুই খতিয়ে দেখবেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

    সাংগঠনিক বৈঠক (Nitin Nabin)

    দলীয় সূত্রের খবর, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর টানা দু’দিন বিভিন্ন স্তরের সাংগঠনিক বৈঠক করবেন নিতিন নবীন। রাজ্য নেতৃত্বের পাশাপাশি জেলা নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তাঁর। সংগঠনের কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, বুথস্তরে দলের প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছে, ঘাটতিই বা কোথায়—সেই সব বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট নেওয়া হবে বলে খবর।

    এই সফরে আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচন এবং পুরসভা নির্বাচন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। নির্বাচনের আগে দলের সাংগঠনিক শক্তি আরও মজবুত করা, তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে সক্রিয় করা এবং কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোই মূল লক্ষ্য বলে বিজেপি সূত্রে খবর। এর পাশাপাশি জনসংযোগ কর্মসূচি কীভাবে আরও জোরদার করা যায়, সেই বিষয়েও রাজ্য নেতৃত্বকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারেন নিতিন নবীন।

    ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত এক মাস ধরে রাজ্যজুড়ে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির নিরবচ্ছিন্ন কার্যকালের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই কর্মসূচি পালিত হবে। নিতিন নবীনের বঙ্গ সফরে এই কর্মসূচির প্রস্তুতি এবং রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

    দু’দিনের সফরসূচি চূড়ান্ত

    উল্লেখ্য, গত অগাস্টেই জানা গিয়েছিল, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলায় আসতে পারেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। প্রথমে তাঁর তিন দিনের সফরের কথা থাকলেও, পরে কর্মসূচিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়। শেষ পর্যন্ত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে দু’দিনের সফরসূচি চূড়ান্ত হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

    এর আগে নিতিন নবীনের (Nitin Nabin) সফর কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় সাংগঠনিক কর্মসূচি রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্স-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকা এবং দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলাতেও তাঁর যাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানা গিয়েছিল। তবে বর্তমান সফরসূচিতে মূল গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সাংগঠনিক বৈঠককে।

    দলীয় সূত্রে খবর, বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে নিতিন নবীনকে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হবে। রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বের কাছ থেকে সংগঠনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে রিপোর্ট নেওয়ার পাশাপাশি কার্যকর্তাদের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলবেন তিনি। বুথস্তরে দলের প্রস্তুতি, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং আগামী দিনের কর্মসূচি নিয়ে তাঁদের মতামত শোনার কথা রয়েছে।

    শুধু রিপোর্ট নেওয়াই নয়, দলের কর্মীদের উদ্দেশেও প্রয়োজনীয় বার্তা দিতে পারেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। নির্বাচনের আগে কীভাবে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করা যায়, কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে বাড়ানো সম্ভব এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ আরও নিবিড় করার কৌশল কী হবে—সেই বিষয়েও দিকনির্দেশ দিতে পারেন তিনি।

    দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের আগে নিতিন নবীনের (Nitin Nabin) এই বঙ্গ সফরকে তাই যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর রাজ্যে তাঁর প্রথম সফরে সাংগঠনিক বৈঠকের পাশাপাশি (BL Santosh) নির্বাচনী প্রস্তুতিও যে বিশেষ গুরুত্ব পাবে, তা বলাই বাহুল্য।

  • Kolkata Guest Houses: নিউ মার্কেটের হোটেলে আগুনের জের! কলকাতার ৯১৯টি গেস্ট হাউসকে বন্ধের নোটিস পুরনিগমের

    Kolkata Guest Houses: নিউ মার্কেটের হোটেলে আগুনের জের! কলকাতার ৯১৯টি গেস্ট হাউসকে বন্ধের নোটিস পুরনিগমের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর মুখে কলকাতায় বন্ধ হতে পারে ৯১৯টি গেস্ট হাউস! মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর গেস্ট হাউসগুলি (Kolkata Guest Houses) পরিদর্শনে গিয়ে হতচকিত হয়ে গিয়েছে কলকাতা পুরনিগমের প্রতিনিধি দল। কোথাও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ নেই। কোথাও গেস্ট হাউস চালানোর বৈধ লাইসেন্সই নেই। এর পরেই পুর কমিশনারকে এই গেস্ট হাউসগুলি বন্ধ করার সুপারিশ (KMC Send Notice) করেছে দলটি। মাপকাঠি পূরণ করলে তবেই আবার গেস্ট হাউস খোলার ছাড়পত্র দেওয়া হবে। পুরসভার পরীক্ষায় পাশ করেছে মাত্র ৪১টি গেস্ট হাউস। কলকাতায় মোট ৩ হাজার ৭০০ গেস্ট হাউস রয়েছে।

    কেন নোটিস গেস্টহাউসগুলিকে

    বীরভূমের তারাপীঠ এবং মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর পর হোটেলগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৯৬০টি গেস্ট হাউসে এখনও পর্যন্ত পরিদর্শনে গিয়েছে পুরনিগম, দমকল, সিইএসসি-র যৌথ দল। ৯৬০টি গেস্ট হাউসের মধ্যে ৯১৯টি গেস্ট হাউজকে বন্ধ করে দেওয়ার নোটিস পাঠানো হয়েছে। ৪১টি গেস্ট হাউস ঠিক আছে বলে মনে করছে কলকাতা পুরনিগম। পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, যে গেস্ট হাউসগুলিকে নোটিস পাঠানো হয়েছে, সেগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় ত্রুটি রয়েছে। শুধু তাই নয়, কিছু হোটেল বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই চালানো হচ্ছিল। সেই বাড়িগুলির অবস্থা, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা, আবাসিরকদের থাকার ঘরের অবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, প্রবেশ-প্রস্থানের পথ, বিদ্যুতের সংযোগ খতিয়ে দেখেছেন আধিকারিকেরা। তবে, সামনে উৎসবের মরশুম। তাই পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে পৌরনিগম বার্তা দিয়েছে, শর্তাবলী মেনে এবং অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ আধুনিক ও ত্রুটিমুক্ত করে আবেদন জানালে পুনরায় হোটেল খোলার অনুমতি দেওয়া হবে।

    অগ্নি নির্বাপণ দফতরের সচিব বদল

    রাজ্যে পরপর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার মধ্যেই অগ্নি নির্বাপণ দফতরের প্রধান সচিব বদল করেছে নবান্ন। অগ্নি নির্বাপণ দফতরের প্রধান সচিবের পদ থেকে খলিল আহমেদকে সরানো হয়েছে। তাঁর জায়গায় ওঙ্কার সিং মীনাকে অগ্নি নির্বাপণ দফতরের প্রধান সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতদিন কৃষি দফতরের সচিবের দায়িত্বে ছিলেন ওঙ্কার সিং মীনা। দেবীপ্রসাদ করণমকে কৃষি দফতরের সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরপর অগ্নিকাণ্ড ও অগ্নি সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্নের আবহে দমকল দফতরের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে এই বদল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। নিউ মার্কেট এলাকায় ‘শিখা ইন’-এ আগুন লাগার পরে ওই এলাকা-সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় হোটেল, গেস্ট হাউসগুলিকে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছিল। কেন হোটেলগুলি বন্ধ করে দেওয়া হবে না, তা ব্যাখ্যা করে শনিবারের মধ্যে তাঁদের জবাব দিতে হবে।

  • KMC Suspend Licenses: পচা মাংস, দুধে ভেজাল, মেয়াদ উত্তীর্ণ মশলা, নিষিদ্ধ রং! অন্তত ৪০টি রেস্তরাঁ, দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড

    KMC Suspend Licenses: পচা মাংস, দুধে ভেজাল, মেয়াদ উত্তীর্ণ মশলা, নিষিদ্ধ রং! অন্তত ৪০টি রেস্তরাঁ, দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ’ কর্মসূচির সূচনাপর্ব থেকে শুরু হয়েছিল অভিযান। ১–৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার বিভিন্ন রেস্তরাঁ ও খাবারের দোকানে খাদ্য সুরক্ষা দফতর অভিযান চালায়। তাতেই সামনে এল চরম সত্য। ইএম বাইপাসের ধারে সিমলা বিরিয়ানি থেকে শুরু করে নাগেরবাজারের আরসালান- কলকাতার ৪০টি রেস্তোরাঁ-হোটেলের লাইসেন্স (KMC Suspend Licenses) বাতিল করল কলকাতা পুরসভা। তার মধ্যে রয়েছে বলরাম মল্লিকের মিষ্টির দোকানও। কেবল বলরাম মল্লিক নয়, একাধিক মিষ্টির দোকানেরও লাইসেন্স সাসপেন্ড করেছে কলকাতা পুরনিগম। কোথাও পচা খাবার, মেয়াদ উত্তীর্ণ মশলা, কোথাও আবার খাবারে বিষাক্ত রং। মিষ্টির দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে তৈরি হত মিষ্টি। বাঙালির প্রিয় মিষ্টিতে ব্যবহৃত দুধেও ছিল ভেজাল।

    কী জানাল কলকাতা পুরসভা

    কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানালেন, বিধিভঙ্গের অভিযোগে ৪০টি খাদ্যবিপণির লাইসেন্স (Trade License Suspend For Food Safety) সাসপেন্ড করা হয়েছে। স্মিতা মঙ্গলবার ডন জিওভানি’স, করিম’স, গিরিশচন্দ্র দে, বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক, মিষ্টিমুখ, আরসালান, শিমলা ফুড-সহ কয়েকটি নামী রেস্তরাঁ, মিষ্টির দোকান ও খাদ্যবিপণির নাম করেছেন। তবে পুরসভার তরফে যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে পুর কমিশনার উল্লিখিত কয়েকটি নাম অনুপস্থিত। অর্থাৎ লাইসেন্স সাসপেন্ডের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। স্মিতার কথা, ‘‘সরাসরি স্থায়ী ভাবে লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থা নেই। দু’সপ্তাহের জন্য লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে।’’ তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট রেস্তরাঁ ও খাদ্যবিপণিগুলি খাদ্যসুরক্ষা বিধি নিশ্চিত করার বিষয়ে যত দ্রুত পদক্ষেপ এবং আবেদন করবে, তাঁরাও তত দ্রুত বিষয়টি যাচাই করে লাইসেন্স পুনর্বহাল সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু করবেন।

    ফ্রিজের মধ্যে আরশোলা

    ১–৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার বিভিন্ন রেস্তরাঁ ও খাবারের দোকানে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযানে পচা ও বাসি মাছ-মাংস, ছত্রাক ধরা ছানা ও মিষ্টি, খাবারে নিষিদ্ধ রঙের ব্যবহারের মতো ঘটনা চিহ্নিত হয়েছে বলে জানান পুর কমিশনার। বিভিন্ন রেস্তরাঁ, মিষ্টির দোকান, বেকারি এমনকি বিভিন্ন নামী শপিং মলের ফুড কোর্টে মিলিয়ে ৫৯২টি ঠিকানায় অভিযানে ১,২২৪ কেজি নিম্নমানের খাবার নষ্ট করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ‘‘মিষ্টির দোকানের ক্ষেত্রে অনেক ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যবিধির লঙ্ঘন চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরা ফ্রিজের মধ্যে আরশোলাও পেয়েছি।’’ পুরসভা সূত্রের খবর, হোটেল-রেস্তরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ডের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বেশি করে যে কারণটি উঠে এসেছে, তা হল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি।

    লাইসেন্স সাসপেন্ড হল কাদের

    কলকাতা পুরসভার তালিকা থেকে জানা যাচ্ছে, যে সব রেস্তরাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড হয়েছে তাদের তালিকায় রয়েছে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় সরণির রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার হসপিটালিটি প্রাইভেট লিমিটেড, লেক ভিউ রোডের এশিয়া হাউস, গোল্ডেন গেট, রামমোহন সরণির দাদা বৌদি হোটেল, পার্ক স্ট্রিটের ডন জিওভিনি’স, মির্জা গালিব স্ট্রিটের করিমস, সল্ট লেকের চৌরাসিয়া চাট, বেনিয়াপুকুরের ‘মেরাকি বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারি’, জেপটো লিমিটেড, শ্রী ব্রজরাজ, এশিয়া হাউস, এফ অ্যান্ড বি মার্কেটিং লিমিটেড (চায়গ্রাম), ডেনজং কিচেন, সোফিয়া হোটেল, ডায়মন্ড পার্কের গঙ্গা, বিরিয়ানি কর্নার, শম্ভু অয়েল মিল, মিস্ট অ্যান্ড মরসেলস প্রভৃতি। পুরসভার কোপে পড়া মিষ্টির দোকানের তালিকায় রয়েছে গিরিশ চন্দ্র দে অ্যান্ড কোং, কালীপুর রোডের শ্রী কৃষ্ণ সুইটস, বিএল সাহা রোডের বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক, ধাপা রোডের মাতৃ মিষ্টান্ন ভান্ডার, ক্রিস্টোফার রোডের শীতলা মিষ্টান্ন ভান্ডার, মিঠাই ভান্ডার, শক্তি মিষ্টান্ন ভান্ডার ইত্যাদি।

    মিষ্টির দোকানে কোথায় সমস্যা

    খাবার প্রস্তুতকারী ও পরিবেশনকারীদের বার্ষিক শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রতিষেধক টিকাদানের নথি পাওয়া যায়নি। রেফ্রিজারেটরে রাখা কোনও প্রস্তুত বা অর্ধ-প্রস্তুত খাবারে প্রস্তুতের তারিখের ট্যাগ (Date tag) পাওয়া যায়নি। ব্যবহৃত ভোজ্যতেল ফেলার বা নষ্ট করার বিষয়ে কোনও কাগজপত্র বা নথি পাওয়া যায়নি। ঢাকনাবিহীন আবর্জনার পাত্র (ডাস্টবিন) পাওয়া গেছে। তাপমাত্রা সঠিকভাবে দেখা যায় এমন কোনও ফ্রিজার পাওয়া যায়নি। খাবার প্রস্তুতকারী বা পরিবেশনকারীরা কোনো ধরনের টুপি বা অ্যাপ্রন পরে ছিলেন না। বেশিরভাগ খাবারই খোলা বা ঢাকনাবিহীন অবস্থায় রেক বা ফ্রিজারে রাখা ছিল। রান্নাঘরের বাইরে আলুর সবজি তৈরি হচ্ছিল এবং নিচু জলজ/জলাভূমির সংলগ্ন জায়গায় বস্তায় আলু রাখা ছিল।

    তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ

    লাইসেন্স বাতিলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি করে যে কারণটি উঠে এসেছে, তা হল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি। আরশোলা, ইঁদুর, পোকামাকড় পাওয়া যাচ্ছে। পচা খাবার রাখা থাকতে দেখা গিয়েছে, ছত্রাকযুক্ত পনির, মাছ-মাংসও পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন জায়গায় কালারিং এজেন্ট ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। দেওয়াল রং করতে ব্যবহৃত কার্সিনোজেনিক ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে মিষ্টির দোকান থেকে বিরিয়ানির রেস্তরাঁ এবং খাবারের হোটেলগুলিতে। এই কার্সিনোজেনিক থেকে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেছেন রাজ্যের বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। তাঁর কথায়, “বিগত দিনের সরকার এসব দেখত না। আমাদের সরকার, জনগণের সরকার। জনগণের স্বাস্থ্য, সুরক্ষার দায়িত্ব আমাদের। সব বিভাগকে বলা রয়েছে, সব হোটেল, রেস্তরাঁর খাবারের গুণমান যাচাই করতে হবে। পানীয় জলের মানদণ্ডও দেখা হবে। যাঁদের উতরোতে পারবেন, থাকবেন। যাঁরা পারবেন না তুলে দেওয়া হবে।”

    কীভাবে পুনরায় মিলবে লাইসেন্স

    গত কয়েকদিন ধরেই কলকাতার একাধিক রেস্তরাঁ, হোটেল, শপিং মলের ফুড কোর্টে অভিযান চলছিল। অভিযান চালাচ্ছিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর, পুরসভাগুলি। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, গত সাত দিনে ১৬৭টি রেস্তরাঁ এবং খাবারের হোটেলে হানা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ১৩০০ কেজি খাদ্য সামগ্রী নষ্ট করা হয়েছে, যেগুলি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ৪০টি রেস্তরাঁ এবং খাবারারে দোকানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। সেই তালিকায় একাধিক নামী রেস্তরাঁ রয়েছে। তবে এই লাইসেন্স সাসপেনশন সাময়িক বলে জানা যাচ্ছে। আগামী কাল একটি কর্মশালা হবে। সেখানে সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে সকলকে। তার পর আবার নতুন করে আবেদন জানাতে হবে। তাতে যদি সব ঠিক থাকে, তাহলে ফুড লাইসেন্স দেওয়া হবে আবার।

  • Touchscreen Typing Nerve Problems: মোবাইলে লাগাতার টাইপ করছেন? বুড়ো আঙুল-কবজির এই অসাড়তা হতে পারে বিপদের ইঙ্গিত

    Touchscreen Typing Nerve Problems: মোবাইলে লাগাতার টাইপ করছেন? বুড়ো আঙুল-কবজির এই অসাড়তা হতে পারে বিপদের ইঙ্গিত

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    অফিসের কাজ হোক কিংবা সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিস, ইলেকট্রিক বিল থেকে বন্ধুর সঙ্গে গপ্প-আড্ডা, সবকিছুই এখন হাতের মুঠোয়! কয়েকটি ক্লিক আর টাইপের যাবতীয় কাজ চলছে। কিন্তু লাগাতার টাচ স্ক্রিনের ব্যবহার, টাইপ করে যাওয়ার জেরেই স্বাস্থ্য সঙ্কট বাড়তে চলেছে। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত দিনের দীর্ঘ সময় টাচ স্ক্রিনে একনাগাড়ে কাজ করলে হাতের আঙুল এবং কবজির স্নায়ুতে একধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অনেকেই হাতের কিছু অংশে অসাড়তার সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দীর্ঘসময় অতিরিক্ত টাচ স্ক্রিনের ব্যবহার এই ধরনের সমস্যা তৈরি করছে।

    কেন এই অসাড়তা হতে পারে?

    স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হাতের কব্জি মধ্যে একটি স্নায়ু রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যার নাম মিডিয়ান নার্ভ। টাচ স্ক্রিনের লেখার সময় কবজি একটি নির্দিষ্ট ভাবে বাঁকানো থাকে। এর ফলে ওই স্নায়ু এবং কবজির কোষগুলো ফুলে যায়। এর জেরেই এক ধরনের অসাড়তা তৈরি হয়। তাছাড়া হাতে বুড়ো আঙুলের সাহায্যে দীর্ঘসময় টাইপ চালিয়ে গেলে, এক কাজ করার জন্য হাতের আঙুলের স্নায়ু্র কার্যক্ষমতাও কমতে থাকে। ফলে অসাড় হয়ে যায়।

    কীভাবে বুঝবেন এই অসাড়তার সমস্যা প্রকট হচ্ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই স্নায়ু অসাড় হয়ে যাওয়া প্রাথমিক পর্বে বোঝা যায় না। অনেকেই সমস্যাকে এড়িয়ে যান। কিন্তু কয়েকটি উপসর্গে নজর দিলেই পরিস্থিতি আগাম সামাল দেওয়া সহজ হয়‌।
    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, হাতের বুড়ো আঙুল, তর্জনী ও মধ্যমায় ঝিনঝিন ব্যথা করলে কখনোই অবহেলা করা উচিৎ নয়। কারণ, এই তিনটে আঙ্গুল টাইপ করতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়। লাগাতার টাচ স্ক্রিনে টাইপ করার জেরে এই তিন আঙুলেই প্রথম প্রভাব পড়ে।
    হাত অবশ হয়ে যাওয়ার জেরে রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিলে বুঝতে হবে স্নায়ুর অসাড়তার রোগ জটিল হচ্ছে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
    পাশপাশি হাত থেকে জিনিস বারবার পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে স্নায়ুর অসাড়তা বাড়ছে।

    কাদের এই ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন অনেকক্ষণ মোবাইলে টাইপ করেন বা একই আঙুল দিয়ে বারবার স্ক্রল করেন তাঁদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
    যাঁরা দিনের অধিকাংশ সময় ফোন শক্ত করে ধরে রাখেন, কিংবা কবজি দীর্ঘক্ষণ বাঁকানো অবস্থায় রাখেন তাঁদের স্নায়ুর অসাড়তার সমস্যা হতে পারে। পাশপাশি, একই ধরনের হাতের কাজ বারবার করলে স্নায়ুর অসাড়তা বাড়তে পারে। তবে, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা বা রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস আছে তাঁদের এই ধরনের স্নায়ুর সমস্যা তৈরি হতে পারে।

    কীভাবে এই রোগের ঝুঁকি কমাবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি দিকে নজর দিলে এই রোগের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে।

    • ১. চিকিৎসকদের পরামর্শ, একটানা টাইপ করা উচিৎ নয়। দীর্ঘ সময়ের কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করতে হবে। মাঝেমধ্যে হাত-কবজিকে বিশ্রাম দিতে হবে।
    • ২. বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কব্জি সোজা রাখতে হবে। দীর্ঘসময় কবজি বাঁকিয়ে রাখার জন্য স্নায়ুর অসাড়তা সমস্যা আরও বাড়ছে। তাঁদের পরামর্শ, ফোন ব্যবহার করার সময় কবজি অতিরিক্ত সামনে বা পিছনে বাঁকিয়ে রাখা যাবে না।
    • ৩. স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, একই বুড়ো আঙুল দিয়ে দীর্ঘক্ষণ টাইপ না করে দুই হাতের আঙুল ব্যবহার করলে বা ভয়েস টাইপিং ব্যবহার করা যেতে পারে।
    • ৪. ব্যথা বা ঝিনঝিনি শুরু হলে জোর করে কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিৎ নয় এমনটাই পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, একনাগাড়ে কাজ চালিয়ে গেলে স্নায়ুর উপরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর ফলেই নানান সমস্যা তৈরি হয়।
  • GTA: পাহাড়ে উন্নয়নের বার্তা, জিটিএর আর্থিক অনিয়মে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

    GTA: পাহাড়ে উন্নয়নের বার্তা, জিটিএর আর্থিক অনিয়মে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাহাড় তথা সমগ্র উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার প্রথমবার কালিম্পং সফরে যাওয়ার কথা থাকলেও, খারাপ আবহাওয়া এবং দৃশ্যমানতা কম থাকায় হেলিকপ্টার নিয়ে কালিম্পঙে নামতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত শিলিগুড়ির উত্তরকন্যা থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কালিম্পংবাসীর সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই পাহাড়ের জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (GTA) আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও কড়া বার্তা দেন।

    জিটিএতে বিপুল বরাদ্দ (GTA)

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, পাহাড়ে বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের জন্য ২৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কালিম্পঙে একটি মেডিক্যাল কলেজ তৈরির কথাও ঘোষণা করেন তিনি। খুব শীঘ্রই নিজে উপস্থিত থেকে ওই মেডিক্যাল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৬ অক্টোবর ফের পাহাড়ে আসার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

    এদিন উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। এদিকে, কালিম্পং টাউন হলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা, সাংসদ রাজু বিস্তা এবং কালিম্পঙের বিধায়ক ভরত ছেত্রী।

    ভার্চুয়াল মাধ্যমে কালিম্পংবাসীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি দশ মিনিট ধরে অবতরণের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু জ্বালানি কম থাকায় উত্তরকন্যায় ফিরে আসতে হয়। আমি ৬ অক্টোবর ফের পাহাড়ে আসব। ২২ সেপ্টেম্বর কোচবিহার ও জলদাপাড়ায় গন্ডার দিবস পালন করতেও আসব। ২ অক্টোবর বক্সায় আসব। ৬ অক্টোবর দার্জিলিং যাব। ফেরার সময় কালিম্পং হয়ে ফিরব।”

    জিটিএ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জিটিএ-র সমস্যার সমাধান করে দিয়েছি। আমি স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামাকে পাহাড়ের সমস্ত বিষয়ে কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছি। কালিম্পঙে একটি মেডিক্যাল কলেজ বরাদ্দ হয়েছে। আমি নিজে তার শিলান্যাস করব। এটা কালিম্পংবাসীর জন্য বড় উপহার।”

    বিপর্যয় মোকাবিলায় ২৫৪ কোটি

    পাহাড়ের বিপর্যয় মোকাবিলার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের মুখ্যসচিব রাজেশ সিনহাকে পাহাড়ের বিপর্যয় নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। সম্প্রতি মিরিকে বড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের খুব সাবধানে কাজ করতে হবে। জিটিএর চেয়ারম্যান ও সভাসদরা পদত্যাগ করেছেন। জিটিএর বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। ২৫৪ কোটি টাকা বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য জিটিএকে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসক সেই কাজ করবেন। মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক এবং বাকি সভাসদদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করতে হবে। স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেখছেন। বাকি উন্নয়নের কাজ দ্রুত শুরু করতে হবে।”

    ২০২৫ সালের হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়বাসীদের এদিন তিন লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। সরকারের তরফে আগেই পুনর্বাসনের জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল। এবার বাড়ি তৈরির জন্য আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তায় একাধিক ঘোষণা

    কালিম্পং জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসঙ্গেও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ ১৮ হাজার ৫০৩ জনকে স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১ লাখ ১৫ হাজার ৩১১ জন সেই কার্ড পেয়েছেন বলে জানানো হয়। ১২৩ জন ওই কার্ডের মাধ্যমে ১১ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছেন। যাঁরা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আসবেন না, তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনায় অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দেন তিনি।

    কালিম্পঙের ১৫ হাজার মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেয়েছেন। কেউ যাতে এই প্রকল্প থেকে বাদ না পড়েন, সেই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী, সাংসদ রাজু বিস্তা এবং বিধায়ক ভরত ছেত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয় (GTA)।

    অন্যদিকে, অন্নপূর্ণা যোজনার অধীনে মহিলাদের প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ওই টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে অন্নপূর্ণা দিবস উপলক্ষে বিশেষ কিস্তি দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    পাহাড়ে কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো বাড়াতে পুলিশের বিশেষ বিভাগে অন্তত এক হাজার কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দ্রুত প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়। এর মধ্যে ৩০০টি পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। একশো দিনের কাজের প্রকল্পের পরিধি গ্রামীণ এলাকার পাশাপাশি শহরাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্যও বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বিধবা ও বার্ধক্য ভাতাও মাসে এক হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা করা হয়েছে।

    চা বাগানের উন্নয়নে ৩২০ কোটি টাকা

    চা বাগান ও চা শ্রমিকদের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাহাড়ের বন্ধ, রুগ্ণ এবং সমস্যায় জর্জরিত চা বাগানগুলির স্থায়ী সমাধানে কেন্দ্র ও তাদের প্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।

    অসমের আদলে পশ্চিমবঙ্গেও ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনা ২০২১’ পুরোদমে চালু করা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের রাজ্য সরকার এই প্রকল্প কার্যকর করেনি।

    এই প্রকল্পের আওতায় পাহাড় থেকে তরাই অঞ্চলের চা বাগানগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে ৩২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে কাজ চালানো হবে। পাশাপাশি দুর্গাপুজো, দীপাবলি এবং ভাইফোঁটার আগেই চা শ্রমিকদের ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে শ্রম দফতর থেকে উপযুক্ত নির্দেশিকা জারির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে (GTA)।

    তিস্তায় উদ্ধারকারী দল, তৈরি হবে ৮,৩২৫টি বাড়ি

    দুর্গত এলাকার নিরাপত্তার জন্য তিস্তার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্জুন বাহিনী-সহ উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    পাশাপাশি আগামী ছ’মাসের মধ্যে কালিম্পং জেলার ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় ৮,৩২৫টি নতুন বাড়ি তৈরির তালিকা প্রস্তুত হয়েছে (Suvendu Adhikari) বলেও জানান তিনি।

    বিশিষ্টদের সম্মাননা

    অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কালিম্পং জেলার পদ্মশ্রী প্রাপক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চলচ্চিত্র পরিচালক এবং প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানান মুখ্যমন্ত্রী। সম্মানিতদের মধ্যে ছিলেন পদ্মশ্রী প্রাপক জি এস ইয়েনজোন, পদ্মশ্রী প্রাপক একলব্য শর্মা, প্রয়াত পদ্মশ্রী প্রাপক কাজী সিংয়ের স্ত্রী দুর্গা সিং, চলচ্চিত্র নির্মাতা তুলসী ঘিমিরে, স্বাধীনতা সংগ্রামী লোকরাজ আগরওয়াল, মিরিক কলেজের অধ্যক্ষ শেরাপ ভুটিয়া এবং আধ্যাত্মিক নেতা মোহন প্রিয় আচার্য।

    জিটিএর দুর্নীতিতে এফআইআর ও গ্রেফতারের হুঁশিয়ারি

    উন্নয়নের ঘোষণার পাশাপাশি জিটিএর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও এদিন সরাসরি কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক পর্যালোচনার সময় তিনি জানান, তদন্ত শেষ হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে এবং প্রয়োজনে গ্রেফতারও করা হবে। সরকারি তহবিল কিংবা জনগণের করের টাকা বেআইনিভাবে আত্মসাৎ করা হয়ে থাকলে সেই অর্থও উদ্ধার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জিটিএতে (GTA) যে সমস্ত দুর্নীতি হয়েছে, তার কোনওটাকেই আমরা ছাড়ব না।”

    তাঁর দাবি, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।

    অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত

    তদন্ত কমিটির গঠন সম্পর্কেও বিস্তারিত জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে এবং আইপিএস আধিকারিক কালিয়াপ্পন জয়রামনকে কার্যকরী সদস্য করে ওই কমিটি কাজ করছে। কমিটির সদস্যরা পাহাড় ও উত্তরবঙ্গের সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন বলেও জানান তিনি।

    শিক্ষক নিয়োগ থেকে পানীয় জল প্রকল্প, নজরে একাধিক অভিযোগ

    জিটিএর অধীনে শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে পানীয় জল প্রকল্প—বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে চার শতাধিক শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, অমৃত প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে অসঙ্গতি এবং পাহাড়ের বিভিন্ন জনজাতির উন্নয়নের জন্য গঠিত উন্নয়ন পর্ষদগুলির তহবিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    লেপচা ও তামাং বোর্ড-সহ মোট ১১টি উন্নয়ন পর্ষদের অর্থ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

    কালিম্পংবাসীকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নিশ্চিন্তে থাকুন, যারা দুর্নীতি করেছে (Suvendu Adhikari), তাদের একজনকেও ছেড়ে দেওয়া হবে না।”

    জনগণের টাকা ফেরত নেব”

    তদন্ত শেষ হওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়েও স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলেই এফআইআর করা হবে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে। পাশাপাশি আত্মসাৎ করা সরকারি অর্থ অভিযুক্তদের কাছ থেকে আদায় করা (GTA) হবে বলেও জানান তিনি।

    সরকারি অর্থের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জনগণের করের টাকা কিংবা সরকারি তহবিলের অর্থ বেআইনিভাবে সরানো হয়ে থাকলে তা ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করবে সরকার।”

    পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরেই জিটিএর প্রশাসনিক কাঠামো, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক রয়েছে। সেই আবহে উত্তরকন্যা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই (GTA) বার্তা জিটিএর উপর নতুন করে (Suvendu Adhikari) প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করল বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • BCCI Associate Partners: ম্যাচপিছু সর্বোচ্চ দর ১.৩১ কোটি! বিসিসিআইয়ের অ্যাসোসিয়েট পার্টনার ক্যাম্পা কোলা, সঙ্গে আর কারা?

    BCCI Associate Partners: ম্যাচপিছু সর্বোচ্চ দর ১.৩১ কোটি! বিসিসিআইয়ের অ্যাসোসিয়েট পার্টনার ক্যাম্পা কোলা, সঙ্গে আর কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) স্পনসরশিপ তালিকায় যুক্ত হল তিনটি বড় নাম—রিলায়েন্স কনজিউমার প্রোডাক্টসের পানীয় ব্র্যান্ড ক্যাম্পা কোলা (Campa Cola), এসবিআই লাইফ (SBI Life) এবং চ্যাটজিপিটি (ChatGPT)। বিসিসিআই সূত্রে খবর, ভারতের মাটিতে আয়োজিত দ্বিপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলির জন্য এই তিন সংস্থা অ্যাসোসিয়েট পার্টনার (BCCI Associate Partners) হিসেবে যুক্ত হয়েছে। সূত্রের খবর, মোট ৩৫টি ম্যাচের জন্য এই অংশীদারিত্ব কার্যকর হবে এবং চুক্তির মেয়াদ চলবে ২০২৮ সালের মার্চ পর্যন্ত। গত আগস্টে আগের টাইটেল স্পনসরশিপ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এখনও নতুন টাইটেল স্পনসর খুঁজছে বিসিসিআই।

    অ্যাসোসিয়েট পার্টনারদের দর কত

    অ্যাসোসিয়েট পার্টনার হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে বেশি দর দিয়েছে ক্যাম্পা কোলা (Campa Cola)। তাদের প্রস্তাব ছিল ম্যাচপিছু ১.৩১ কোটি টাকা। এরপর এসবিআই লাইফ (SBI Life) এবং চ্যাটজিপিটি (ChatGPT)—দুই সংস্থাই ম্যাচপিছু ১.২ কোটি টাকা করে দর দিয়েছে। অ্যাসোসিয়েট পার্টনারের অধিকার পেতে ক্যাম্পা কোলা-কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছিল বিসলরি (Bisleri) এবং ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (Indian Oil Corporation)-এর সঙ্গে। জানা গিয়েছে, দুই সংস্থাই ম্যাচপিছু ১.২ কোটি টাকা করে দরপত্র দিয়েছিল। বিসিসিআইয়ের স্পনসরশিপ কাঠামো নতুন করে সাজানোর প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই চুক্তি হল। গত জুলাইয়ে বোর্ড টাইটেল স্পনসর এবং অ্যাসোসিয়েট পার্টনারের অধিকার নিয়ে দরপত্র আহ্বান করেছিল। এর আওতায় ছিল ভারতের মাটিতে আয়োজিত টিম ইন্ডিয়ার আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং রনজি ট্রফির মতো ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতাও।

    টাইটেল স্পনসর-এর খোঁজে বিসিসিআই

    টাইটেল স্পনসরশিপের জন্য দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ১৩ আগস্ট। অন্যদিকে, অ্যাসোসিয়েট পার্টনারদের জন্য প্রথমে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হলেও পরে তা বাড়িয়ে ৭ সেপ্টেম্বর করা হয়। টাইটেল স্পনসর চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলতে থাকায় অ্যাসোসিয়েট পার্টনারদের অধিকারও একই সময়ে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনটি অ্যাসোসিয়েট পার্টনারের নাম চূড়ান্ত হলেও বিসিসিআইয়ের জন্য এখনও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টাইটেল স্পনসরশিপ খালি রয়েছে। ভারতের মাটিতে আয়োজিত দ্বিপাক্ষিক ম্যাচ এবং বিসিসিআইয়ের নির্দিষ্ট অন্যান্য ক্রিকেট কার্যক্রমের স্পনসরশিপ অধিকারকে ঘিরে এই চুক্তি হবে।

    স্পনসরদের কাছে গুরুত্ব

    ক্যাম্পা কোলা (BCCI with Campa Cola)-র এই চুক্তি রিলায়েন্স কনজিউমার প্রোডাক্টসের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। অধিক প্রচারিত ক্রীড়া ইভেন্টের মাধ্যমে বাজারে ব্র্যান্ডটির উপস্থিতি আরও বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি নতুন পদক্ষেপ। একইভাবে, এসবিআই লাইফ-ও ভারতীয় ক্রিকেটের বিপুল টেলিভিশন ও ডিজিটাল দর্শকসংখ্যাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ব্র্যান্ডের প্রচার বাড়ানোর সুযোগ পাবে। সব মিলিয়ে, ম্যাচপিছু ১.২ কোটি থেকে ১.৩১ কোটি টাকা পর্যন্ত দর ওঠা থেকেই স্পষ্ট, ভারতের দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট ম্যাচের বিজ্ঞাপন ও স্পনসরশিপ অধিকার এখনও সংস্থাগুলির কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। এবার নজর নতুন টাইটেল স্পনসরের দিকে—কোন সংস্থা শেষ পর্যন্ত বিসিসিআইয়ের সেই বড় স্পনসরশিপ অধিকার পায়, সেটাই দেখার।

  • West Bengal Conversion Row: বিনামূল্যে পড়াশোনা নাকি ধর্মীয় প্রচার! ‘হিলিং’ ও প্রার্থনা সভার আড়ালে ধর্মান্তরণের অভিযোগ

    West Bengal Conversion Row: বিনামূল্যে পড়াশোনা নাকি ধর্মীয় প্রচার! ‘হিলিং’ ও প্রার্থনা সভার আড়ালে ধর্মান্তরণের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধর্মান্তরণকে ‘অত্যন্ত গুরুতর বিষয়’ বলে আগেই চিহ্নিত করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। এর আগে একাধিক বার আদালত জানায়, বেআইনি ভাবে কাউকে ধর্মান্তরিত করা অপরাধ।পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মান্তরণ (West Bengal Conversion Row) সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ, হাসনাবাদ, বাঁকুড়ার সোনামুখী এবং জলপাইগুড়িতে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে খ্রিস্টান ধর্মীয় সংগঠন বা ধর্মপ্রচারকদের বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। কোথাও বিদেশি নাগরিকের ধর্মীয় কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কোথাও বিনামূল্যে পড়ানোর কেন্দ্রকে ঘিরে প্রতিবাদ হয়েছে, আবার কোথাও প্রার্থনা ও ‘হিলিং’ কর্মসূচির আড়ালে ধর্মান্তরণের অভিযোগ উঠেছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে অভিযোগ এবং প্রমাণিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রাখাও জরুরি।

    হিঙ্গলগঞ্জে বিদেশি নাগরিককে ঘিরে বিতর্ক

    সাম্প্রতিক ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভা এলাকায়। অভিযোগ, আর্জেন্টিনার এক নাগরিক বেশ কয়েক মাস ধরে ওই এলাকায় ছিলেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি বাংলা ভাষা শিখেছিলেন এবং এলাকার কয়েকটি ‘হাউস চার্চ’-এর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করেছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অভিযোগ করেন, ওই বিদেশি নাগরিক স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছিলেন। বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর গ্রামবাসীরা ওই ব্যক্তিকে তাঁর ধর্মীয় কর্মকাণ্ড এবং এলাকায় থাকার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন করেন। তাঁর কাছে প্রয়োজনীয় অনুমতি রয়েছে কি না, ধর্মীয় কার্যকলাপের সঙ্গে তিনি যুক্ত কি না—তা নিয়েও স্থানীয়রা জানতে চান।

    পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ, আর্থিকভাবে দুর্বলরাই নজরে

    হিঙ্গলগঞ্জের সান্দেলেরবিল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কথিত ধর্মীয় সমাবেশের খবর পেয়ে পুলিশ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাঁদের মধ্যে দু’জন বিদেশি নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন দেশ থেকে আসা কয়েকজন একটি বাড়িতে জড়ো হয়ে আদিবাসী এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষকে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, কলকাতার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, বাংলাদেশ এবং আর্জেন্টিনা থেকেও লোকজন নিয়মিত ওই বাড়িতে আসতেন। আর্থিকভাবে দুর্বল সুন্দরবন-সংলগ্ন পরিবারের মানুষকে টাকা বা অন্য কোনও সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে। তবে পুলিশ এখনও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয়, তাঁদের এলাকায় আসার উদ্দেশ্য এবং ধর্মান্তরণের অভিযোগের কোনও বাস্তব ভিত্তি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।

    হাসনাবাদে বিনামূল্যে কোচিং কেন্দ্র ঘিরে প্রতিবাদ

    একই ধরনের বিতর্ক দেখা দিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদ এলাকাতেও। একটি খ্রিস্টান পরিচালিত বিনামূল্যের কোচিং সেন্টারে শিশুদের পড়াশোনা করানো হলেও সেখানে যিশু ও বাইবেল সংক্রান্ত (Christian Conversion Activities) বিভিন্ন ধর্মীয় উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ করেন। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ওই কেন্দ্রে গিয়ে কার্যকলাপ বন্ধের দাবি জানান। প্রতিবাদকারীদের একজন সুপর্ণা বেরার অভিযোগ, শিশুদের বিনামূল্যে পড়ানোর পাশাপাশি সেখানে খ্রিস্টান ধর্মীয় বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাদের জানানো হচ্ছিল। কেন্দ্রের দেওয়ালে যিশুর ছবি থাকার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে এই ধরনের কার্যকলাপ চলছিল। তবে এতদিন স্থানীয়রা সংগঠিতভাবে প্রতিবাদ করেননি। সম্প্রতি স্থানীয়দের একাংশ একত্রিত হয়ে এর বিরোধিতা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

    শিশুদের বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগই উদ্দেশ্য!

    অন্যদিকে, কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, মূল উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়া। স্থানীয় বাসিন্দারা আপত্তি জানানোর পর কেন্দ্রের কার্যক্রম নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলেও তিনি জানান। ধর্মীয় কার্যকলাপ নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তি থাকলে তা চালিয়ে যাওয়া হবে না বলেও ওই ব্যক্তি ইঙ্গিত দেন।

    সোনামুখীতেও ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঘিরে উত্তেজনা

    বাঁকুড়ার সোনামুখীতেও একটি খ্রিস্টান ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে আয়োজকদের বিরোধের ঘটনা সামনে এসেছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘হিলিং’ বা প্রার্থনা সভার আড়ালে স্থানীয় মানুষ এবং আদিবাসীদের ধর্মান্তরণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় একটি সংগঠনের সদস্যরা অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে আয়োজকদের কাছে বিভিন্ন বই ও বিতরণ করা সামগ্রী সম্পর্কে জানতে চান। কথোপকথনের সময় তাঁরা প্রশ্ন করেন, ওই বইগুলির মধ্যে বাইবেল রয়েছে কি না এবং অনুষ্ঠানে আসলে কী ধরনের বিষয় শেখানো হচ্ছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বিতরণ করা সামগ্রী প্রার্থনার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দু’পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়।

    জলপাইগুড়িতে ধর্ম নিয়ে তর্কে মুখোমুখি মহিলা ও ধর্মপ্রচারক

    জুলাই মাসে জলপাইগুড়িতেও ধর্মপ্রচারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার একটি ভিডিও সামনে আসে। সেখানে এক বাঙালি মহিলা এক খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকের সঙ্গে ধর্ম নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। ভিডিওতে ওই মহিলাকে সনাতন ধর্মের উৎপত্তি ও পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা যায়। তিনি বলেন, সনাতন ধর্মের কোনও একক প্রতিষ্ঠাতা নেই এবং ‘সনাতন’ কোনও ব্যক্তির নাম নয়, এটি একটি ধর্মীয় ঐতিহ্য। ঘটনাটি ধর্মীয় প্রচার, বিশ্বাস এবং ধর্মান্তরণ নিয়ে স্থানীয় স্তরে তৈরি হওয়া উত্তেজনারই আরেকটি উদাহরণ হিসেবে সামনে আসে।

    ধর্মান্তরণ নিয়ে বাড়ছে স্থানীয়দের প্রতিবাদ

    হিঙ্গলগঞ্জ, হাসনাবাদ, সোনামুখী এবং জলপাইগুড়ির ঘটনাগুলিকে একসঙ্গে দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট—ধর্মীয় প্রচার ও ধর্মান্তরণের অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় স্তরে প্রতিক্রিয়া বাড়ছে। কোথাও বিদেশি নাগরিকের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, কোথাও শিশুদের পড়াশোনার সঙ্গে ধর্মীয় বিষয়বস্তু যুক্ত করার অভিযোগ উঠছে, আবার কোথাও প্রার্থনা বা ‘হিলিং’ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। প্রতিবাদকারীদের বক্তব্য, আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবার, আদিবাসী সম্প্রদায় বা শিশুদের শিক্ষা, চিকিৎসা, সাহায্য কিংবা প্রার্থনার নামে ধর্মীয়ভাবে প্রভাবিত করা উচিত নয়। তাঁদের অভিযোগ, টাকা বা অন্য কোনও সুবিধার বিনিময়ে ধর্ম পরিবর্তনের চেষ্টা হলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

    ধর্মীয় প্রচার-ধর্মীয় শিক্ষা বা প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরণ!

    তবে ধর্মীয় প্রচার বা ধর্মীয় শিক্ষা এবং বেআইনি বা প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরণের মধ্যে আইনি পার্থক্য রয়েছে। কোনও ব্যক্তিকে জোর করে, প্রতারণার মাধ্যমে বা অবৈধ প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ম পরিবর্তনে বাধ্য করা হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণ প্রয়োজন। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিতে স্থানীয়দের প্রতিবাদ যেমন ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রদায়ের উদ্বেগের বিষয়টি সামনে আনছে, তেমনই অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

LinkedIn
Share