Blog

  • Jiu-jitsu to Capt Smit: মাথার সেলাই দেখে চমকে উঠল বিশ্ব! সুস্থ হয়ে উঠলে জিউ-জিৎসু শেখাব, ভারতীয় পাইলটকে ইউএই প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রস্তাব

    Jiu-jitsu to Capt Smit: মাথার সেলাই দেখে চমকে উঠল বিশ্ব! সুস্থ হয়ে উঠলে জিউ-জিৎসু শেখাব, ভারতীয় পাইলটকে ইউএই প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েলগামী বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা রুখে দিয়ে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর (Captain Smit Machchhar)। তাঁর সাহসিকতার স্বীকৃতি দিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। তবে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সকলের নজর কাড়ল তাঁর মাথার পিছনে থাকা সেলাইয়ের দীর্ঘ দাগ। পাইলটের ভয়াবহ আঘাতের চিহ্ন দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। সেই সাক্ষাতেই স্মিতকে সুস্থ হয়ে ওঠার পর জিউ-জিৎসু (Jiu-jitsu to Capt Smit) শেখানোর প্রস্তাব দিলেন তিনি।

    জিউ-জিৎসু শেখানোর প্রস্তাব

    বুধবার ইউএই-তে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছর এবং ফ্লাইদুবাইয়ের (Fly Dubai Attack) অন্যান্য কর্মীদের সম্মানিত করা হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইজরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে হামলার ঘটনায় ১৭৪ জন যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তাঁরা। সেই সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘ফার্স্ট ক্লাস অর্ডার অফ জায়েদ ২’ সম্মান। অনুষ্ঠানে স্মিতের বাঁ হাত ছিল স্লিংয়ে বাঁধা। মাথার পিছনে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল সেলাইয়ের দীর্ঘ দাগ। তাঁর এই শারীরিক অবস্থা থেকেই হামলার ভয়াবহতা সম্পর্কে প্রথমবার স্পষ্ট ধারণা পেল বিশ্ব। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে স্মিতের সঙ্গে ইউএই-র প্রেসিডেন্টের কথোপকথনের একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। সেখানে প্রেসিডেন্টকে স্মিতের মাথার আঘাতের দাগ ও হাতের স্লিংয়ের দিকে নজর দিতে দেখা যায়। স্মিত কবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন, তা জানতে চান তিনি। উত্তরে ভারতীয় পাইলট জানান, সুস্থ হতে সম্ভবত আরও দু’মাস সময় লাগতে পারে। এরপরই প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমার একটা পরিকল্পনা আছে। তুমি সুস্থ হয়ে উঠলে আমি তোমার সঙ্গে একটি সেশন করতে চাই। তোমাকে লড়াই করতে শেখাব—একটি জিউ-জিৎসু সেশন।” প্রেসিডেন্টের এই প্রস্তাবে হেসে ফেলেন স্মিত। তিনি বলেন, “এটা আমার কাছে সবচেয়ে বড় সম্মান।” এরপর দু’জনকে হাসিমুখে আলিঙ্গন করতেও দেখা যায়।

    মাথায় কুড়ুলের আঘাত, তবুও হাল ছাড়েননি স্মিত

    ঘটনাটি ঘটে যখন বিমানটি ইজরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে চলেছিল। অভিযোগ, সেই সময় ৩৮ বছর বয়সি স্মিত মাচ্ছরের উপর পিছন থেকে ক্র্যাশ অ্যাক্স বা ভারী কুড়ুল দিয়ে হামলা চালান তাঁর ওমানি সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি। বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তেল আভিভের একটি বহুতলে বিমানটি আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া সত্ত্বেও স্মিত দমে যাননি। প্রচণ্ড যন্ত্রণা ও দ্রুত রক্তক্ষরণের মধ্যেও তিনি ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। এরপর বিমানকর্মী ও যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে কাবু করেন। এই তীব্র বিশৃঙ্খলার মধ্যে মাত্র দু’মিনিটে বিমানটি প্রায় ১৭ হাজার ফুট নীচে নেমে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিমানে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলটের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    ভেঙে গিয়েছিল মাথার খুলি

    এই হামলায় স্মিতের মাথার খুলি ভেঙে যায়। তাঁর বাঁ হাতেও গুরুতর আঘাত লাগে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর ‘ডিপ্রেসড স্কাল ফ্র্যাকচার’ হয়েছিল। এই ধরনের আঘাতে খুলির ভাঙা হাড়ের একটি অংশ ভিতরের দিকে মস্তিষ্কের দিকে ঢুকে যায়। সৌদি আরবে জরুরি চিকিৎসার সময় চিকিৎসকেরা তাঁর খুলির পুনর্গঠন করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ইউএই-তে নিয়ে যাওয়া হয়। মাথা ও হাতের পাশাপাশি তাঁর হাত-পা, বুক এবং পেটের উপরিভাগেও আঘাতের চিহ্ন ছিল। স্মিত মাচ্ছরের মাথার আঘাতের একটি ক্লোজ-আপ ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন ব্রিটেনের অতি-ডানপন্থী নেতা টমি রবিনসন। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, সব নায়ক কেপ পরে থাকেন না, কেউ কেউ যুদ্ধের ক্ষতচিহ্ন বহন করেন। ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরকে নায়ক হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেন তিনি।

    জিউ-জিৎসু কী

    জিউ-জিৎসু একটি মার্শাল আর্ট বা আত্মরক্ষার কৌশল। ইউএই-তে, বিশেষত আবু ধাবিতে, এই খেলার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। দেশটি আন্তর্জাতিক স্তরেও জিউ-জিৎসুর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ইউএই-র এই সম্মান স্মিতের প্রাপ্ত স্বীকৃতির তালিকায় আরও একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। গুজরাট সরকার তাঁকে ‘বিশিষ্ট গুজরাট গরিমা’ সম্মানে ভূষিত করেছে। অন্যদিকে, ইজরায়েল সরকারও তাঁকে বেসামরিক সাহসিকতার জন্য প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। গত সপ্তাহে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরকে ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মশাল প্রজ্বলনের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মাথায় গুরুতর আঘাত, শরীরে অসংখ্য ক্ষত—সবকিছুকে উপেক্ষা করে ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন রক্ষায় স্মিতের ভূমিকা আজ আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত। তাঁর সাহসিকতার কাহিনি আরও একবার প্রমাণ করল, বিপদের মুহূর্তে দায়িত্ববোধ ও উপস্থিত বুদ্ধিই হয়ে উঠতে পারে বহু মানুষের জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

  • Spain: স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, মৃত অন্তত ৬৮! পরিবহণমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব কর্মী সংগঠন

    Spain: স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, মৃত অন্তত ৬৮! পরিবহণমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব কর্মী সংগঠন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্পেনে পরপর দু’টি ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় বিপর্যস্ত রেল পরিষেবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বুধবার মধ্য স্পেনের কাস্তিয়া-লা মানচা অঞ্চলে দু’টি ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে (Spain)। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন যাত্রী। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দেশে দ্বিতীয় প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনার পর (Train Crash) পরিবহণমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তের পদত্যাগ দাবি করেছে দেশের শ্রমিক সংগঠন সিএসআইএফ। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দ্রুত, নিরপেক্ষ, কঠোর ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিও জানিয়েছে তারা। দুর্ঘটনার জেরে রেলপথের নিরাপত্তা, পরিকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং কর্মীদের কাজের পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে তিনদিনের জাতীয় শোক পালনের কথা ঘোষণা করেছে স্পেন সরকার। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।

    দায় এড়ানোর চেষ্টা, অভিযোগ শ্রমিক সংগঠনের

    সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সিএসআইএফ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার দায় স্বীকার করার পরিবর্তে পরিবহণমন্ত্রী রেলকর্মীদের উপর দায়িত্ব চাপানোর চেষ্টা করছেন। রেল পরিকাঠামোর দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থা আদিফের ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ বিভাগের এক কর্মীকে সম্ভাব্য বলির পাঁঠা হিসেবে তুলে ধরা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে দোষী বিবেচনা না করার এবং নির্দোষ বলে গণ্য হওয়ার আইনি অধিকার বজায় রাখার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি, গত সেপ্টেম্বরেই আদিফের কর্মীদের অতিরিক্ত কাজের সময় নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে সিএসআইএফ। সংগঠনটির বক্তব্য, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে রেল পরিকাঠামোর উন্নয়ন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পুরনো ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য আরও অর্থ বরাদ্দ করা প্রয়োজন। তবে পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি পরিবহণমন্ত্রী পুয়েন্তে।

    কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?

    বুধবার কাস্তিয়া-লা মানচা অঞ্চলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সরকারি রেল সংস্থা রেনফের একটি ট্রেন গিয়ে ধাক্কা মারে বেসরকারি সংস্থা ইরিওর একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের পিছনে। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে তল্লাশি চালান উদ্ধারকারীরা। হতাহতের সংখ্যা এবং দুর্ঘটনার ভয়াবহতার কারণে ঘটনাটিকে ২০১৩ সালের পর ইউরোপের অন্যতম প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিবহণমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রায় ৬৯ কিলোমিটার রেলপথে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরে নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে ফের ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী পরিস্থিতিকে ‘ব্যাখ্যাতীত’ বলে উল্লেখ করেছেন। এরপর রেনফের ট্রেনটি প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে দাঁড়িয়ে থাকা ইরিওর ট্রেনটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ঠিক কী ধরনের ত্রুটি হয়েছিল এবং কেন ফের ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তদন্তে সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হবে বলে মনে করা হচ্ছে (Spain)।

    পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস সানচেজের

    প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হবে এবং তদন্তে কোনও গাফিলতি বা ব্যবস্থাগত ত্রুটি ধরা পড়লে তা সংশোধনের পদক্ষেপ করবে সরকার। মাদ্রিদের দক্ষিণে দুর্ঘটনাস্থলের কাছে এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। উদ্ধারকারী দল ও জরুরি পরিষেবার কর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। চলতি বছরে স্পেনে ঘটে যাওয়া দু’টি প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনার কারণ পরস্পরের থেকে আলাদা বলেই প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সানচেজ। তবে দেশের দ্রুতগতির রেল পরিষেবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও মজবুত করা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্বীকার করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দ্রুতগতির রেল পরিষেবার উপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে যদি নিরাপত্তা আরও জোরদার করার প্রয়োজন হয়, আমরা তা করব। এক বছরে এই ধরনের দু’টি দুর্ঘটনা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” এদিকে, আগামী মাসে নির্ধারিত নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার চালাচ্ছিল বিরোধী দল পিপলস পার্টি। দুর্ঘটনার শোকের আবহে বৃহস্পতিবারের জন্য নির্ধারিত প্রচার কর্মসূচি বাতিল করেছে দলটি।

    দ্বিতীয় প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা

    স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে গত জানুয়ারিতে ঘটে যাওয়া আর একটি রেল দুর্ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। সেই ঘটনায় ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তার কয়েক মাসের মধ্যেই ফের এত বড় দুর্ঘটনা ঘটায় দেশের রেল নিরাপত্তা এবং দ্রুতগতির রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সিএসআইএফের দাবি, রেল ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের পাশাপাশি কর্মীদের কাজের পরিবেশ উন্নত করা এবং নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। সরকারের বক্তব্য, জানুয়ারির দুর্ঘটনার তদন্ত থেকে আলাদাভাবে সাম্প্রতিক ঘটনার অনুসন্ধান করা হবে। তদন্তে যে সমস্ত ত্রুটি সামনে আসবে, সেগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    ভারতীয় নাগরিকদের জন্য জরুরি যোগাযোগ নম্বর জারি

    স্পেনে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, গত ২৮ অক্টোবর তোলেদোর উর্দা এলাকার কাছে দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেনগুলিতে কোনও ভারতীয় নাগরিক যাত্রা করে থাকলে, তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দূতাবাসের যোগাযোগ করা উচিত (Spain)। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাস দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিক ও তাঁদের পরিবারের জন্য জরুরি যোগাযোগের তথ্য (Train Crash) জানিয়েছে। প্রয়োজনে ভারতীয় নাগরিকেরা দূতাবাসের সঙ্গে +34650339008 নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। এ ছাড়া cons.madrid@mea.gov.in-এ ইমেল পাঠিয়েও সাহায্য চাওয়া যাবে। দুর্ঘটনায় কোনও ভারতীয় নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে দ্রুত দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার আবেদনও জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস।

     

  • Muhammad Yunus: হাসিনার পতনের দু’দিন আগেই ইউনুসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল!

    Muhammad Yunus: হাসিনার পতনের দু’দিন আগেই ইউনুসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দু’দিন আগেই নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসকে (Muhammad Yunus) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বুধবার, ২৮ অক্টোবর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে তিনি এই দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, হাসিনা সরকারের পতন (Hasina Ouster) এবং ইউনুসকে ক্ষমতার শীর্ষে নিয়ে আসার পরিকল্পনা অত্যন্ত গোপনে তৈরি হয়েছিল।

    শফিকুলের দাবি, হাসিনার বিদায়ের পর অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ইউনুসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বাংলাদেশের সাংবাদিক কাদারুদ্দিন শিশির। ছাত্রনেতাদের হয়ে ইউনুসকে এই দায়িত্ব গ্রহণের আমন্ত্রণ জানানোর জন্যই শিশিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে তাঁর বক্তব্য।

    আলমের কথায়, “হাসিনা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের কাছে পৌঁছতে ছাত্রনেতাদের একজন বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন ছিল। কাদারুদ্দিন শিশির সেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।” তাঁর আরও দাবি, গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে পরিচালনা করা হয়েছিল এবং হাতে গোনা কয়েকজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউই এই পরিকল্পনার কথা জানতেন না।

    আলমের বিস্ফোরক দাবি (Muhammad Yunus)

    আলমের বক্তব্য, ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী ইউনুসের সঙ্গে ছাত্রনেতাদের প্রাথমিক আলোচনা শুরু করানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন শিশির। হাসিনা দেশ ছাড়ার দু’দিন আগেই এই যোগাযোগ ও আলোচনা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

    আলম আরও বলেন, “হাসিনা তখনও দু’দিন ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু গণহত্যা ও অপহরণের অভিযোগে অভিযুক্ত তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এই পরিকল্পনার কোনও খবরই পায়নি। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে শিশির এবং আমাদের পুরো এএফপি দলকে সম্ভবত আয়নাঘরে বন্দি হতে হত।”

    ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। তার আগে জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের একটি বড় দল প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দিকে এগিয়ে গেলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী হাসিনাকে জানায়, বিক্ষোভকারীদের আর আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

    এরপর হাসিনা পদত্যাগ করেন এবং ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত দেশ ছাড়েন। প্রথমে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে তাঁদের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় (Muhammad Yunus)। পরে সামরিক পরিবহণ বিমানে তাঁরা বাংলাদেশ ছাড়েন। মানবিক কারণে ভারতে আশ্রয় পান হাসিনা।

    হিন্দু সংগঠনগুলিকে ‘হাসিনার পোষা কুকুর’ বলেছিলেন আলম

    হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসে। বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন এবং সংখ্যালঘু প্রতিনিধিরা একাধিক ঘটনার কথা তুলে ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    তবে আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিয়ে তাদের শেখ হাসিনা সরকারের “পোষা কুকুর” বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার অভিযোগ এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে তখনও প্রশ্ন উঠছিল।

    এর পাশাপাশি, আলম দাবি করেছিলেন, শেখ হাসিনার (Muhammad Yunus) শাসনকালের তুলনায় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশে হিন্দুরা বেশি নিরাপদে রয়েছেন। সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁর এই বক্তব্যও বিতর্কের জন্ম (Hasina Ouster) দিয়েছিল।

     

  • NVS-03 Launch: ন্যাভিককে পুনরুজ্জীবিত করতে শুক্রে ইসরোর-র এনভিএস-০৩ উৎক্ষেপণ, এবার নতুন কৌশলে নজর মহাকাশ বিজ্ঞানীদের

    NVS-03 Launch: ন্যাভিককে পুনরুজ্জীবিত করতে শুক্রে ইসরোর-র এনভিএস-০৩ উৎক্ষেপণ, এবার নতুন কৌশলে নজর মহাকাশ বিজ্ঞানীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের নিজস্ব স্যাটেলাইট-ভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থা ‘ন্যাভিক’ (NavIC)-কে ফের সক্রিয় ও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)। আগামী ৩০ অক্টোবর, শুক্রবার রাত ১১টা ৫১ মিনিটে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হবে নেভিগেশন স্যাটেলাইট এনভিএস-০৩ (NVS-03 Launch)। জিএসএলভি-এফ১৮ (GSLV-F18) রকেটের মাধ্যমে মহাকাশে পাঠানো হবে এই স্যাটেলাইট। ভারতের জিএসএলভি রকেটের এটি ২০তম উড়ান। প্রায় ৫০ মিটার লম্বা এবং উৎক্ষেপণের সময় প্রায় ৪২০ টন ওজনের এই রকেটের মাধ্যমে প্রায় ২,২৫০ কেজি ওজনের এনভিএস-০৩-কে জিওসিঙ্ক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে স্থাপন করা হবে।

    কেন ভালভ নিয়ে বাড়তি সতর্কতা?

    গত বছর এনভিএস-০২ (NVS-02) স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভালভ না খোলায় স্যাটেলাইটটির (ISRO NVS-03 Satellite) প্রপালশন ব্যবস্থা প্রত্যাশিতভাবে কাজ করতে পারেনি। এর ফলে স্যাটেলাইটটি নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছতে ব্যর্থ হয় এবং কক্ষপথেই আটকে থাকে। এই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই উৎক্ষেপণের আগেই এনভিএস-০৩ (NVS-03)-এর পাইরোটেকনিক ভালভ খুলে রাখার পরিকল্পনা করেছে ইসরো। উৎক্ষেপণের আগেই ভালভ খুলে রাখলে পরবর্তী সময়ে সেই ভালভ খোলার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য যান্ত্রিক সমস্যা এড়ানো যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এর ফলে উৎক্ষেপণের সময় চাপের পরিবর্তন বা জ্বালানি ও গ্যাস লিকের মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে কি না, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নতুন পদ্ধতির কার্যকারিতা নির্ভর করবে উৎক্ষেপণের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলি কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করছে, তার উপর।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এনভিএস-০৩ উৎক্ষেপণ?

    ভারতের নিজস্ব আঞ্চলিক ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা (Indian Regional Navigation Satellite System)-এর আধুনিক সংস্করণ হল ন্যাভিঅ্যাক (Navigation with Indian Constellation)। দেশের ভৌগোলিক সীমানার পাশাপাশি তার বাইরে প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় অবস্থান নির্ণয়, দিকনির্দেশ এবং সময় নির্ধারণের পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে আমেরিকার জিপিএস-সহ বিদেশি ন্যাভিগেশন ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব।

    কী কী বিশেষত্ব রয়েছে এনভিএস-০৩ স্যাটেলাইটে?

    ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা ‘ন্যাভিক’-এর পরবর্তী প্রজন্মের স্যাটেলাইট সিরিজের অংশ এনভিএস-০৩। এই সিরিজের মূল লক্ষ্য, দেশের নেভিগেশন পরিষেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ব্যবস্থাটিকে আরও কার্যকর করে তোলা। এনভিএস-০৩-এ থাকছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি পারমাণবিক ঘড়ি (Atomic Clock), পাশাপাশি সংগ্রহ করা অন্যান্য ঘড়িও। স্যাটেলাইটটিতে আগে ব্যবহৃত এল৫ ও এস ব্যান্ডের সিগন্যালের পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে এল১ সিগন্যাল। এর ফলে আরও বেশি ধরনের ব্যবহারকারীর যন্ত্রের সঙ্গে ন্যাভিকের সামঞ্জস্য বাড়তে পারে। বিশেষ করে সাধারণ নাগরিকদের নেভিগেশন পরিষেবা এবং কৌশলগত ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উৎক্ষেপণ?

    ভারতের নিজস্ব আঞ্চলিক নেভিগেশন ব্যবস্থা ন্যভিঅ্যাক বর্তমানে একাধিক সমস্যার মুখে। পুরনো হয়ে যাওয়া স্যাটেলাইট, পারমাণবিক ঘড়ির ত্রুটি এবং নতুন স্যাটেলাইট পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যর্থতার কারণে এই ব্যবস্থায় কার্যকর স্যাটেলাইটের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কমে গিয়েছে। ফলে পর্যাপ্ত সংখ্যক কার্যকর স্যাটেলাইটের মাধ্যমে স্বতন্ত্র অবস্থান নির্ণয় পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, মৌলিক অবস্থান নির্ণয়ের পরিষেবা দিতে কক্ষপথে অন্তত চারটি সচল উপগ্রহ প্রয়োজন। ২০১৬ সালের মার্চে উৎক্ষেপিত আইআরএনএসএস-১এফ (IRNSS-1F) স্যাটেলাইটের পারমাণবিক ঘড়িতে ত্রুটি দেখা দেওয়াও ন্যাভিকের সমস্যাগুলির অন্যতম কারণ। যদিও বিভিন্ন সামাজিক প্রয়োজনে স্যাটেলাইটটির কক্ষপথে থাকা অবস্থায় পরিষেবা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ইসরো আশ্বাস দিয়েছে।

    কী ঘটেছিল এনভিএস-০২ তে

    এর আগে ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি জিএসএলভি এফ-১৫ (GSLV-F15) রকেটে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল এনভিএস-০২ কে। উপগ্রহটি সফলভাবে রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয় এবং তার সৌরপ্যানেলও খুলে যায়। কিন্তু নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছনোর জন্য প্রয়োজনীয় অরবিট-রেইজিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ইসরোর বিশেষজ্ঞ কমিটির তদন্তে জানা যায়, উপগ্রহের অরবিট-রেইজিং ইঞ্জিনের অক্সিডাইজার লাইনের পাইরো ভালভে প্রয়োজনীয় ড্রাইভ সিগন্যাল পৌঁছয়নি। ফলে ইঞ্জিন চালু করা যায়নি। মূল ও বিকল্প—দুই সংযোগপথের অন্তত একটি করে কন্ট্যাক্ট বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াই এর সম্ভাব্য কারণ বলে মনে করা হয়। এই ধরনের ত্রুটি যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে, তার জন্য সংযোগ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা ও বিকল্প ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে কমিটি। ইসরোর দাবি, সেই সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংশোধন ইতিমধ্যেই করা হয়েছে।

    এনভিএস-০৩ সফল হলেও এখনই স্বস্তি নয়

    এনভিএস-০৩ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা গেলে ন্যভিঅ্যাক-এর উপগ্রহভিত্তিক পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। কিন্তু শুধু উৎক্ষেপণ সফল হলেই যে ন্যাভিগেশন পরিষেবা পুরোপুরি ফিরে আসবে, তা নয়। উপগ্রহটিকে প্রথমে নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছতে হবে, প্রয়োজনীয় কক্ষপথ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং পরিষেবা দেওয়ার উপযুক্ত কি না, তা যাচাই করতে হবে।

    সামনে কী পরিকল্পনা ইসরোর?

    শুধু এনভিএস-০৩ উৎক্ষেপণ করলেই ন্যাভিকের সমস্ত সমস্যা মিটে যাবে না। ব্যবস্থাটিকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে প্রয়োজন অতিরিক্ত কার্যকর স্যাটেলাইট। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এনভিএস-০৪ ও এনভিএস-০৫ স্যাটেলাইট তৈরির কাজও উন্নত পর্যায়ে রয়েছে। ফলে আগামী দিনে পরবর্তী স্যাটেলাইটগুলির সফল উৎক্ষেপণ এবং কক্ষপথে সেগুলির কার্যকারিতা নিশ্চিত করাই ন্যাভিককে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে। এনভিএস-০৩-এর উৎক্ষেপণ সেই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে চলেছে।

     

     

     

     

  • Israel Election Results: ইজরায়েলের নির্বাচনে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা, ৫৩ আসন পেয়েও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে নেতানিয়াহু

    Israel Election Results: ইজরায়েলের নির্বাচনে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা, ৫৩ আসন পেয়েও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে নেতানিয়াহু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের প্রাথমিক ফল (Israel Election Results) ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার পথে থাকলেও এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে (Netanyahu) পারেনি। এদিকে, প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক সংখ্যা ছুঁতে ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির আসনসংখ্যা এবং তাদের অবস্থানই নতুন সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত আংশিক হিসাব অনুযায়ী, ইজরায়েলের ১২০ আসনবিশিষ্ট সংসদে নেতানিয়াহুর জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫৩। অন্যদিকে, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। আরব নেতৃত্বাধীন দু’টি দল মিলিয়ে পেতে পারে ১৯টি আসন, যা তাদের সরকার গঠনের আলোচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। ফলে কোনও শিবিরই এখনও পর্যন্ত এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থানে নেই।

    নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশের আগে তাই দু’টি প্রশ্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নেতানিয়াহু কি আরও একবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন? নাকি আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির সমর্থন নিয়ে বিরোধীরা বিকল্প সরকার গঠনের চেষ্টা করবে? শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোবে ইজরায়েলের রাজনীতি, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের জোট আলোচনা এবং রাজনৈতিক সমঝোতার উপর।

    সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে আট আসন দূরে নেতানিয়াহুর জোট (Israel Election Results)

    প্রাথমিক ফলে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তার দক্ষিণপন্থী ও অতি-রক্ষণশীল ধর্মীয় দলগুলির জোট এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনসংখ্যা থেকে তারা আটটি আসন পিছিয়ে রয়েছে। ফলে বর্তমান জোটের বাইরে অন্য কোনও দলের সমর্থন আদায় করা নেতানিয়াহুর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

    এতদিনের রাজনৈতিক সমীকরণে তাঁর প্রধান সহযোগী ছিল দক্ষিণপন্থী ও অতি-রক্ষণশীল দলগুলি। কিন্তু নির্বাচনের ফল বলছে, এই দলগুলির সম্মিলিত শক্তি দিয়ে সরকার গঠন করা সম্ভব নাও হতে পারে। অন্য দলগুলির সমর্থন পাওয়া অথবা নতুন কোনও রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছনো ছাড়া তাঁর সামনে বিকল্প সীমিত।

    তবে সরকার গঠনের দৌড় থেকে নেতানিয়াহু এখনই ছিটকে গিয়েছেন, এমনটা বলা যায় না। তিনি আরও বিস্তৃত জোট গঠনের চেষ্টা করতে পারেন, বিরোধী শিবিরের কোনও অংশের সঙ্গে সমঝোতার পথ খুঁজতে পারেন অথবা রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলাকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন (Israel Election Results)।

    বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ। নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলি যদি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নির্বাচন এবং অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে না পারে, তা হলে তাদের পক্ষে বিকল্প সরকার গঠন কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সেই সুযোগে নেতানিয়াহু নতুন করে সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করতে পারেন।

    আরব দলগুলির সমর্থনে কি বিকল্প সরকার গঠন সম্ভব?

    নির্বাচনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির সম্মিলিত আসনসংখ্যা বৃদ্ধি। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জয়েন্ট লিস্ট পেতে পারে ১২টি আসন এবং রা’আম পেতে পারে সাতটি আসন। সব মিলিয়ে ১৯টি আসন তাদের হাতে থাকায় সরকার গঠনের আলোচনায় এই দলগুলি নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে।

    বিরোধী জোটের ৪৮টি আসনের সঙ্গে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির ১৯টি আসন যোগ হলে মোট আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ৬৭। অর্থাৎ, এই দলগুলি একযোগে সমর্থন দিলে ৬১ আসনের প্রয়োজনীয় সীমা অতিক্রম করা সম্ভব। কিন্তু সংখ্যার এই সমীকরণ বাস্তবে কার্যকর করা সহজ নয়।

    বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা অতীতে আরব দলগুলির সঙ্গে সরাসরি জোট গঠন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। ফলে সরকার গঠনের জন্য তাঁদের আগের অবস্থান থেকে সরে এসে নিরাপত্তা, সরকারি ব্যয়, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং অন্যান্য নীতিগত বিষয়ে সমঝোতা করতে হতে পারে।

    অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান আরব নাগরিক এবং তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে বিরোধী সরকার গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন। জয়েন্ট লিস্টের নেতারাও নেতানিয়াহুর প্রত্যাবর্তন আটকানোর লক্ষ্যে বিকল্প সরকার গঠনে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্পষ্ট (Israel Election Results)।

    তবে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রশ্নে ঐকমত্য থাকলেই যে আরব দলগুলি সরকারে যোগ দেবে, তা নয়। তারা মন্ত্রিসভায় যোগ না দিয়েও সংসদে বিকল্প সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন করতে পারে। এই ধরনের সংখ্যালঘু সরকার গঠিত হলে তাকে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সংসদের সমর্থন বজায় রাখার জন্য রাজনৈতিক সমঝোতার উপর নির্ভর করতে হবে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলি?

    এবারের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির সম্ভাব্য ১৯টি আসন তাদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এর ফলে একদিকে যেমন নেতানিয়াহুর জোটের সরকার গঠনের হিসাব জটিল হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই আরব দলগুলির সঙ্গে সহযোগিতা করতে অনিচ্ছুক বিরোধী নেতাদের উপরও চাপ বেড়েছে।

    আরব ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণও এই ফলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ভোটদানের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সংসদে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে এবং পরবর্তী সরকার গঠনের আলোচনায় তাদের প্রভাব বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    বিরোধীদের কাছে এই দলগুলির সমর্থন সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের একটি বাস্তবসম্মত পথ খুলে দিতে পারে। কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি এবং আরব রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য সেই সম্ভাবনায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে (Netanyahu)।

    ফলে ইজরায়েলের রাজনীতিতে এখন মূল প্রশ্ন হল, নেতানিয়াহুর বিরোধী দলগুলি কি তাঁকে সরানোর লক্ষ্যে একজোট হতে পারবে, নাকি নিজেদের মতপার্থক্যের কারণে বিকল্প সরকার গঠনের সুযোগ হারাবে (Israel Election Results)?

    কী হবে নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ?

    নতুন সরকার গঠনের পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছেন ইজরায়েলের রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজগ। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর তিনি বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং কাকে প্রথমে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সাংবিধানিক নিয়ম ও নির্ধারিত সময়সীমা মেনে অন্য কোনও নেতাকেও সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

    নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত নেতানিয়াহুর তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা। অর্থাৎ, সরকার গঠন নিয়ে টানাপড়েন চললেও প্রশাসনিক কাজকর্ম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে না। তবে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অচলাবস্থা বজায় থাকলে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    আলোচনার মাধ্যমে কোনও কার্যকর জোট তৈরি করা সম্ভব না হলে ইজরায়েলে ফের সাধারণ নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

    কোন তিনটি সম্ভাবনা সামনে?

    বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রথমত, নেতানিয়াহু নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করে সরকার গঠন করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির আরব দলগুলির সমর্থনে বিকল্প সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারে। তৃতীয়ত, কোনও পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর ফের নির্বাচনের প্রয়োজন হতে পারে (Netanyahu)।

    তবে এই মুহূর্তে কোনও সম্ভাবনাকেই নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না। নির্বাচনে কোন দল সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে, তার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কোন রাজনৈতিক শিবির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত করতে পারছে। ইজরায়েলের পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবে, তার উত্তর মিলবে আগামী দিনের রাজনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতার মধ্যেই (Israel Election Results)।

     

  • Malaria in West Bengal: অক্টোবরের শেষেও বৃষ্টি! বাড়ছে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি, শীতেও কি বাড়বে সংক্রমণ? উদ্বেগে স্বাস্থ্য মহল

    Malaria in West Bengal: অক্টোবরের শেষেও বৃষ্টি! বাড়ছে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি, শীতেও কি বাড়বে সংক্রমণ? উদ্বেগে স্বাস্থ্য মহল

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বর্ষার মরশুম শেষ হলেও বৃষ্টি পিছু ছাড়ছে না। নিম্নচাপের জেরে আকাশে কালো মেঘ জমাট বাঁধছে। হেমন্তের শুরুতেও রাজ্যজুড়ে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির উপস্থিতি টের পাওয়া যাচ্ছে। আর তার মাঝেই বিপদ বাড়াচ্ছে ম‌্যালেরিয়া। ডেঙ্গির প্রকোপ নিয়ে চিন্তিত স্বাস্থ্য দফতর। রাজ্যের একাধিক জেলায় ডেঙ্গি রুখতে সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আর তার মাঝেই ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে ম্যালেরিয়া। বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, শীতেও রেহাই পাওয়া যাবে না। বরং, সতর্ক না হলেই বড় বিপদ ঘটতে পারে।

    শীতেও কি দাপট দেখাতে পারে ম্যালেরিয়া?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতের মরশুম এলেই মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমে যাবে, এমনটা একেবারেই নয়। বছরভর মশাবাহিত রোগের দাপট রয়েছে। শীতে কিছুটা কমলেও, একেবারে হবে না, একথা বলা যায় না। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, চলতি বছরে শীতকালেও রাজ্যের একাধিক জেলায় ম্যালেরিয়ার দাপট চলবে। এই বছরে কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, নদীয়া এবং মুর্শিদাবাদে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে বিভিন্ন এলাকায় জল জমছে। ফলে মশাবাহিত রোগের দাপট ও জারি রয়েছে। মশার বংশবিস্তারের জেরেই ম্যালেরিয়ার দাপট বেড়েছে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাই শীতকালেও মশাবাহিত এই রোগের প্রকোপ থাকবে।

    রাজ্যে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কতখানি?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখনো পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি মানুষ এই রাজ্যে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ জেলায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ যথেষ্ট উদ্বেগজনক। পাশপাশি মালদা, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারের মতো জেলাগুলোতেও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। বর্ষার মরশুমে ডেঙ্গির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ম্যালেরিয়ার দাপট বেড়েছে।‌ তাই সেই এলাকাগুলোয় শীতকালেও মশাবাহিত রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি থাকবে।

    আবহাওয়ার পরিবর্তনের জেরেই কি ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়ছে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন ম্যালেরিয়ার মতো রোগের দাপট বাড়ানোর অন্যতম কারণ। বিশেষত, ভাইরাস ঘটিত একাধিক রোগের চরিত্র বদল হচ্ছে। ম‌্যালেরিয়ারও চরিত্র বদল হয়েছে। সংক্রমণের পরেও চরিত্র বদল করছে। অনেক সময়েই তাই আক্রান্তের শরীরে নতুন ধরনের জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
    তাছাড়া শীতের মরশুমেও ম্যালেরিয়া সংক্রমণ অব্যহত থাকছে। তার অন্যতম কারণ মশার বংশবিস্তার ক্রমশ হচ্ছে। লাগাতার বৃষ্টির জেরে জমা জলের সমস্যা থাকছে। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় অক্টোবরের শেষ সপ্তাহেও জমা জলের সমস্যা থাকছে। এর জেরে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। তাই শীতেও মশা বাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে।

    শিশুদের কি ম্যালেরিয়ার টিকা দেওয়া যাবে?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়া রুখতে শিশুদের টিকা দেওয়া যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মতো শিশুদের ম্যালেরিয়ার টিকা দেওয়া যেতে পারে। সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও সুপারিশ রয়েছে। শিশুর পাঁচ বছর বয়সের পরে এই টিকাকরণ করা সম্ভব। তবে কতগুলো ডোজ দিতে হবে, সে নিয়েও নির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে প্রয়োজন অনুযায়ী, শিশুকে ম্যালেরিয়ার টিকা দেওয়া যেতে পারে।
    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করলেই শিশুর ম্যালেরিয়ার টিকাকরণ সম্পর্কে সমস্ত তথ্য পাওয়া যাবে। ভারতে এই টিকা করণের ব্যবস্থা কেমন সে সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া সহজ হবে।

    শীতের মরশুমে ম্যালেরিয়ার দাপট কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    জমা জল পরিষ্কারে বাড়তি নজর!

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ম্যালেরিয়ার দাপট কমাতে বাড়ির আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করা জরুরি।‌ প্রত্যেকের মধ্যে এই নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। কারণ, বাগান, ছাদ কিংবা বাড়ির আশপাশের এলাকা পরিষ্কার না হলে মশার বংশবিস্তার সহজ হয়। তখন মশাবাহিত রোগের দাপট ও বাড়ে। তাই শীতের মরশুমে ম্যালেরিয়ার দাপট কমাতে আশপাশ পরিষ্কারের দিকে বাড়তি নজর দিতে হবে। আগাছা পরিষ্কার ও অপ্রয়োজনীয় জল জমতে না দেওয়ার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। বাগান থাকলে অবশ্যই সেটা পরিচ্ছন্ন করার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

    সন্ধ্যার পরে হাত-পা ঢাকা পোশাক পরা জরুরি!

    মশার কামড় এড়াতে হাত-পা ঢাকা পোশাক পরতে হবে। বিশেষত সন্ধ্যার পরে বাইরে গেলে হাত-পা ঢাকা পোশাক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    দ্রুত রোগ নির্ণয়, না হলেই সংক্রমণের দাপট বৃদ্ধি!

    জ্বর হলে একেবারেই অবহেলা করা চলবে না।‌ চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা করিয়ে জ্বরের কারণ জানতে হবে। তবেই রোগ চিহ্নিত হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করা যাবে। ম্যালেরিয়ার মতো রোগ প্রথম ধাপে চিহ্নিত না হলে, এলাকায় ক্রমশ সংক্রমণ বাড়বে। এর ফলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠবে। তাছাড়া রোগ নির্ণয় দেরিতে হলেও, চিকিৎসা শুরু করলেও দেরি হয়ে যায়। তার জেরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • PM-Kisan Scheme: ৩০ অক্টোবর কৃষকদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে পিএম-কিষানের ২৪তম কিস্তির টাকা, বরাদ্দ ১৮,৬৮০ কোটি

    PM-Kisan Scheme: ৩০ অক্টোবর কৃষকদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে পিএম-কিষানের ২৪তম কিস্তির টাকা, বরাদ্দ ১৮,৬৮০ কোটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৃষকদের জন্য বড় ঘোষণা। আগামী ৩০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি (PM-Kisan) প্রকল্পের ২৪তম কিস্তির টাকা প্রকাশ করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গুজরাটের বনসকাঁঠা জেলার ভিলডি শহরে আয়োজিত একটি জাতীয় স্তরের অনুষ্ঠানে এই অর্থ বিতরণ করা হবে। বুধবার এই কথা জানিয়েছেন গুজরাটের কৃষিমন্ত্রী জিতু ভাঘানি। কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রকল্পের আওতায় দেশের ৯.৩৪ কোটিরও বেশি কৃষক পরিবারের জন্য মোট ১৮,৬৮০ কোটি টাকার বেশি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

    ১,০৫১ কোটি টাকার বেশি আর্থিক সাহায্য

    প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি (PM-Kisan) প্রকল্পে গুজরাটের ৫২.৩৩ লক্ষেরও বেশি কৃষক পরিবার পাবে ১,০৫১ কোটি টাকার বেশি আর্থিক সাহায্য। এই উপলক্ষে আয়োজিত ‘পিএম কিষান উৎসব দিবস’-এর প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, পিএম-কিষান প্রকল্পের অধীনে যোগ্য কৃষক পরিবারগুলিকে বছরে ৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তিনটি সমান কিস্তিতে সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা পাঠানো হয়। এখনও পর্যন্ত প্রকল্পের আগের ২৩টি কিস্তিতে দেশজুড়ে ৪.৪৭ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। গুজরাতে উপভোক্তাদের দেওয়া হয়েছে ২৪,১৩৭ কোটি টাকার বেশি।

    বায়ো-সিএনজি প্ল্যান্টেরও শিলান্যাস

    কৃষকদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি ৩০ অক্টোবর গুজরাটে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন প্রধানমন্ত্রী। বনস ডেয়ারির উদ্যোগে থারাদ ও রাধনপুরে তৈরি হতে চলা দুটি কমপ্রেসড বায়োগ্যাস (CBG) প্ল্যান্টের শিলান্যাস করবেন তিনি। থারাদের প্ল্যান্টে প্রতিদিন ৭৫ টন গোবর প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা থাকবে। অন্যদিকে, রাধনপুরের প্ল্যান্টে দৈনিক ১০০ টন গোবর প্রক্রিয়াকরণ করা যাবে। এই দুটি প্ল্যান্ট চালু হলে ‘বনস মডেল’-এর অধীনে বায়ো-সিএনজি প্ল্যান্টের সংখ্যা বেড়ে হবে ছয়। সব মিলিয়ে এই প্ল্যান্টগুলিতে প্রতিদিন ৫১৫ টন গোবর প্রক্রিয়াকরণ করা সম্ভব হবে। গোবর থেকে উৎপাদিত বায়ো-সিএনজি ভর্তুকিযুক্ত দামে বিক্রি করা হয়। বর্তমানে বনসকাঁঠানা ডেয়ারি প্রতিদিন প্রায় ৬,১০০ কেজি বায়ো-সিএনজি সরবরাহ করছে। ছয়টি প্ল্যান্টের মাধ্যমে বছরে আনুমানিক ৩৩,৪০০ থেকে ৩৪,৬০০ টন কার্বন নির্গমন কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    উদ্বোধন হবে গবেষণা কেন্দ্র ও আলু প্রক্রিয়াকরণ প্রকল্পের

    ৩০ অক্টোবর ৩২৮.৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি ‘ভারত বোভাইন ব্রিডিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ (BBBRC)-এরও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বনস ডেয়ারির নতুন আলু প্রক্রিয়াকরণ প্রকল্পের সম্প্রসারিত অংশ এবং তাদের আল্ট্রা-হাই টেম্পারেচার (UHT) ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় স্টোরেজ ও রিট্রিভাল সিস্টেমের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তাঁর। এই উপলক্ষে গুজরাট জুড়ে ৩৪টি জেলা স্তরের এবং ২,১০০-রও বেশি ক্লাস্টার স্তরের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। মূল অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচার দেখানো হবে বিভিন্ন জায়গায়। কৃষি ও উদ্যানপালন দফতরের একাধিক সরকারি প্রকল্পের অনুমোদনপত্রও উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

    ৩১ অক্টোবর জাতীয় ঐক্য দিবসের অনুষ্ঠানে মোদি

    ৩০ ও ৩১ অক্টোবর দু’দিনের গুজরাট সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ৩১ অক্টোবর নর্মদা জেলার একতা নগরে জাতীয় ঐক্য দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

  • Vedanta Invest in Bengal: ৮০ হাজার কোটির বিনিয়োগ! আসানসোলে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা গড়তে আগ্রহী বেদান্ত

    Vedanta Invest in Bengal: ৮০ হাজার কোটির বিনিয়োগ! আসানসোলে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা গড়তে আগ্রহী বেদান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় বড় শিল্প গড়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেন বেদান্ত গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান অনিল আগরওয়াল (Anil Agarwal Vedanta)। বুধবার নবান্নে এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল রাজ্যে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। সূত্রের খবর, আসানসোলে (Asansol) অ্যালুমিনিয়াম কারখানা (aluminium smelter) গড়তে চান অনিল। অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও ভাবছে বেদান্ত। দুই ক্ষেত্র মিলিয়ে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। রাজ্যে বিনিয়োগ করার জন্য বেদান্ত গ্রুপের চেয়ারম্যানকে বার্তা দিয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রী। বুধবার কলকাতায় ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্সের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন অনিল আগরওয়াল।

    ৩ বছরের মধ্যে আসানসোলে অ্যালুমিনিয়াম কারখানার ভাবনা

    বাংলা তথা কলকাতার সঙ্গে অনিলের (Vedanta Invest in Bengal) পুরনো সম্পর্ক রয়েছে। বড়বাজারের তুলাপট্টিতে ছিল অনিলদের পারিবারিক দোকান। কলকাতাতেই কেটেছে ছোটবেলার বেশ কয়েকটি বছর। সেই শহরে ফের কিছু করতে চান অনিল। বাংলার সঙ্গে নতুন বন্ধনে বাঁধতে চান। সূত্রের খবর, আসানসোলে (Asansol) অ্যালুমিনিয়াম কারখানা (aluminium smelter) গড়তে চায় বেদান্ত। প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজও দ্রুত এগিয়ে নিতে আগ্রহী তারা। কয়লার জোগান এবং চালু পরিকাঠামোর সুবিধা থাকায় প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলির জন্য আসানসোলকেই সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করছে বেদান্ত। তা ছাড়া আসানসোলে গোষ্ঠীর প্রায় ৩০০ একর জমি রয়েছে। সেখানে কারখানা গড়া সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে প্রকল্পের জন্য আরও জমির প্রয়োজন হতে পারে। অনিল আগরওয়াল জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সমীক্ষার ফল অনুকূল হলে এবং সরকারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া গেলে ৩ বছরের মধ্যে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলি চালু করা সম্ভব হতে পারে।

    কর্মসংস্থানের পরিসর বাড়ানোর লক্ষ্যে রাজ্য সরকার

    মুখ্যমন্ত্রীও বৈঠকে কর্মসংস্থানের বিষয়টিতেই বিশেষ জোর দিয়েছেন। নবান্ন সূত্রে খবর, অনিলকে তিনি বলেছেন, রাজ্যে ১০ হাজার মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি করতে হবে। বেদান্তার বিবৃতিতেও বিনিয়োগ ও ১০ হাজার কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনার কথা জানানো হয়েছে। বাংলায় শিল্পে বিনিয়োগ টানার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কাজের সুযোগ বাড়ানো রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলেছেন, তিনি শ্রমনিবিড় শিল্পে বিনিয়োগ টানতে আগ্রহী। সেই প্রেক্ষাপটে খনি ও ধাতুশিল্পের আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী বেদান্তর আগ্রহ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে বিনিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পরেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আগরওয়াল। আসানসোলে বড় কারখানা হলে তার চারপাশে ছোট ও মাঝারি শিল্পের সুযোগও তৈরি হতে পারে। আগরওয়ালের বক্তব্য, অ্যালুমিনিয়ামকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে নানা পণ্য তৈরির উদ্যোগ নিতে পারবেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁর মতে, বড় শিল্পের সঙ্গে সরবরাহকারী সংস্থা ও ছোট উদ্যোগের যোগসূত্র তৈরি হলে কর্মসংস্থানের পরিসরও বাড়বে। বুধবার কলকাতায় ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স এবং তার ইয়ং লিডার্স ফোরামের অনুষ্ঠানেও বাংলার শিল্পসম্ভাবনার কথা বলেছেন বেদান্তা চেয়ারম্যান। দক্ষ কর্মী, মেধাসম্পদ এবং শিল্পের দীর্ঘ ঐতিহ্যকে রাজ্যের বড় শক্তি হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। বিনিয়োগ, উদ্যোগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগাতে সরকারের সঙ্গে শিল্পমহলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

  • RSS: ভারতীয় সমাজে বিভেদ-অবিশ্বাস ছড়ানোর চেষ্টা করছে কিছু শক্তি, অভিযোগ আরএসএস নেতার

    RSS: ভারতীয় সমাজে বিভেদ-অবিশ্বাস ছড়ানোর চেষ্টা করছে কিছু শক্তি, অভিযোগ আরএসএস নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় সমাজে বিভেদ তৈরি করা এবং দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা ও সেনাবাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থায় চিড় ধরানোর চেষ্টা করছে কিছু শক্তি। বুধবার মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) এক কর্মী সমাবেশে এমনই অভিযোগ করলেন সঙ্ঘের সহ-সরকার্যবাহ অতুল লিমায়ে। তাঁর দাবি, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করা এই শক্তিগুলির (Social Divide) মোকাবিলা করতে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা প্রচারের জন্য নিজস্ব পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। ইন্দোরে ‘চরৈবেতি একত্রীকরণ’ নামে আয়োজিত ওই সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লিমায়ে বলেন, কোনও দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছতে হলে সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। নাগরিক কর্তব্য পালনের পাশাপাশি গণতন্ত্র, সংবিধান, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা থাকা প্রয়োজন।

    কোনও ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের নাম না করেই তিনি অভিযোগ করেন, “কিছু শক্তি এখন সমাজের মানসিকতায় প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। ছোটখাটো মতপার্থক্যকে বড় করে দেখানো হচ্ছে, নানা বিতর্ক উসকে দেওয়া হচ্ছে। সমাজের এক অংশের সঙ্গে অন্য অংশের বিরোধ তৈরি করার চেষ্টা চলছে।” লিমায়ের দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করাই এই শক্তিগুলির উদ্দেশ্য। তাঁর বক্তব্য, ছাপা সংবাদমাধ্যম, বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল মাধ্যমের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্র, শিল্পকলা এবং সাহিত্যের মাধ্যমেও জনজীবনে প্রভাব বিস্তারের জন্য তারা নিজস্ব পরিকাঠামো তৈরি করেছে।

    ধর্মান্তরণ ও জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ (RSS)

    সমসাময়িক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে লিমায়ে ধর্মান্তরণ, জনবিন্যাসের পরিবর্তন এবং বিদেশি অর্থসাহায্যে পরিচালিত এমন কিছু আন্দোলনের প্রসঙ্গের উল্লেখ করেন, যেগুলি তাঁর মতে সামাজিক জীবনে বিভাজন তৈরি করছে। সীমান্তবর্তী ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। আরএসএসের এই নেতার বক্তব্য, সমাজে বিভেদ সৃষ্টিকারী শক্তিগুলিকে প্রতিহত করতে হলে জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারার প্রসার ঘটাতে হবে। সেই লক্ষ্যে নিজস্ব বক্তব্য ও জনমত গড়ে তোলার উপরেও জোর দেন তিনি।লিমায়ে বলেন, “আমাদের নিজস্ব বয়ান তৈরি করতে হবে। তার জন্য শিক্ষাক্ষেত্র ও বৌদ্ধিক পরিসরে কাজ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত ধারণা ও আলোচনার ক্ষেত্রেও সক্রিয় হতে হবে।” তাঁর দাবি, শিক্ষাজগৎ, সাহিত্য, শিল্পকলা, সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তুলে সামাজিক ঐক্য বজায় রাখা এবং উন্নত ভারত গঠনের লক্ষ্যে নিজস্ব ব্যবস্থা তৈরি করতে আরএসএসের (RSS) স্বেচ্ছাসেবকদের আহ্বান জানান তিনি।

    ইন্দোরে আরএসএসের বার্ষিক বৈঠক

    এমন এক সময়ে ইন্দোরে আরএসএসের কর্মীদের এই সমাবেশ হল, যখন সংগঠনটির সর্বোচ্চ সাংগঠনিক সংস্থা অখিল ভারতীয় কার্যকরী মণ্ডলের বার্ষিক বৈঠক আগামী ২ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশের এই শহরেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তিনদিনের ওই বৈঠকে আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবত-সহ সারা দেশ থেকে প্রায় ৪৫০ জন পদাধিকারী যোগ দেবেন বলে সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে (Social Divide)। সঙ্ঘের (RSS) কর্মকর্তাদের মতে, সংগঠনের প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির পর্যালোচনা হবে এই বৈঠকে। পাশাপাশি নতুন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়বস্তু, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং মাদক সমস্যার মতো বিষয় নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

     

  • Indranil Sen Arrested: ‘‘সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি’’, ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারিতে কীসের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর?

    Indranil Sen Arrested: ‘‘সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি’’, ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারিতে কীসের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “তদন্তকারী সংস্থাগুলি নিশ্চয়ই তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে। সেই প্রমাণের ভিত্তিতেই আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হয়েছে।” বুধবার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তৃণমূলের ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে এমনই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ইন্দ্রনীলের (Indranil Sen Arrested) বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং কলকাতা পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছিল।  প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ তুলেও আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনায় শুধু ইন্দ্রনীল নন, আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন। তিনি বলেন, “আমি বহু রাজনৈতিক সভায় বলেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদতে এই ঘটনা ঘটেছে। একা তো আর কেউ টাকা নেননি! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীরও ভাগ থাকতে পারে।” ইন্দ্রনীলের সঙ্গে (ED) মমতার ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গও তোলেন পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দু’জনে একসঙ্গে ঘুরতেন এবং গানও গাইতেন। শুভেন্দুর কটাক্ষ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ইন্দ্রনীল সেন একে অন্যের পরিপূরক ছিলেন। যা পরিণতি হওয়ার, তা-ই হচ্ছে। সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি। দুর্নীতিতে জড়িতদের সকলকেই জেলে যেতে হবে। ঠিক সময়ে বড় জায়গাতেও হাত পড়বে।”

    প্রসঙ্গত, দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হন চন্দননগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen Arrested)। এদিন সল্টলেকের ইডি দফতরে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে বেরোনোর পরেই তাঁকে আটক করে গাড়িতে তোলে কলকাতা পুলিশ। পরে তাঁকে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে (ED)।

    ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Indranil Sen Arrested)

    দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর বিশেষ দর্শন এবং বিশেষ পাস বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। অথচ এই ধরনের বাণিজ্যিক কার্যকলাপের জন্য ইউনেস্কোর কোনও অনুমোদন বা চুক্তি ছিল না বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

    এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের কাছে প্রথম অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। বৌবাজার থানায় দায়ের হওয়া সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়। পরে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

    তদন্তের অংশ হিসেবে এর আগে একাধিক বার ইন্দ্রনীলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর কসবার বাড়ি এবং সিঙ্গুরের বাগানবাড়ি-সহ একাধিক ঠিকানায় তল্লাশিও চালানো হয়। দুর্গাপুজো ও লক্ষ্মীপুজোর পরে ফের তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই বুধবার তিনি তদন্তকারী সংস্থার দফতরে পৌঁছন (Indranil Sen Arrested)।

    ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার দুর্নীতির সন্দেহ

    প্রাথমিক তদন্তে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তদন্তকারীদের অনুমান। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর বিশেষ দর্শনের আয়োজন এবং বিশেষ প্রবেশপত্র বিক্রির নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। প্রচারে ইউনেস্কোর নাম ও স্বীকৃতিকে এমনভাবে ব্যবহার করা হয়, যাতে সাধারণ মানুষের মনে ওই আয়োজনের সঙ্গে সংস্থাটির সরাসরি যোগসূত্র থাকার ধারণা তৈরি হয়।

    ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধেও এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তিনি ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ, ওই সংস্থার মাধ্যমেই পাস বিক্রি এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হয়েছিল। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর সংস্থাটি গড়ে ওঠে বলে জানা গিয়েছে।

    আগাম জামিনের আবেদন খারিজ

    তদন্ত চলাকালীন গ্রেফতারি এড়াতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন ইন্দ্রনীল। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এর পর তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে শুনানি পিছিয়ে যায় এবং নতুন করে বেঞ্চ গঠনের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে খবর, আগামী সোমবার নতুন বেঞ্চে ইন্দ্রনীলের আগাম জামিনের আবেদন সংক্রান্ত মামলার শুনানি হওয়ার কথা।

    উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুরনিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় গত ১১ মে রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল (ED)। এ বার দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল সরকারের আর এক প্রাক্তন মন্ত্রী (Indranil Sen Arrested)।

     

LinkedIn
Share