Blog

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে একাধিক ঘটনার উল্লেখ

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে একাধিক ঘটনার উল্লেখ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত তো বটেই, বিদেশেও হিন্দুদের উপর হামলা, হুমকি, ধর্মান্তরের চাপ, মন্দির ও মূর্তির অবমাননা এবং বৈষম্যের অভিযোগ ক্রমেই সামনে আসছে (Hindus Under Attack)। ৩০ অগাস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬—এই সময়সীমার ঘটনাবলি নিয়ে প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে ভারত ও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার একাধিক ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে (Weekly Roundup)। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ধরনের নিপীড়ন ধীরে ধীরে গুরুতর মানবাধিকার সংকটের রূপ নিচ্ছে।

    গণেশ শোভাযাত্রায় ডিম ছোড়ার অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    মুম্বইয়ের মাজগাঁও এলাকায় গণেশ মূর্তি নিয়ে শোভাযাত্রায় ডিম ছোড়ার অভিযোগে বছর বাইশের দানিশ শের খানকে গ্রেফতার করেছে বাইকুল্লা পুলিশ। পুলিশের দাবি, ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং পাঁচটি পৃথক তদন্তকারী দলের তৎপরতায় তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ঘটনার কথা স্বীকার করেছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    তামিলনাড়ু সরকার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

    তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় এবং তাঁর দল টিভিকে-কে ঘিরে প্রতিবেদনে ধর্মীয় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে খ্রিস্টধর্মীয় মৌলবাদের প্রভাবের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    আরএসএসের পথসঞ্চালনে অংশ নেওয়ায় শিক্ষক সাসপেন্ড

    আরএসএসের পথসঞ্চালনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে কর্নাটকের দুই সরকারি স্কুলশিক্ষককে সাসপেন্ড করাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস সরকার আরএসএসের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে সরকারি কর্মীদের নিশানা করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুনসাগির সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গুরুংরাজ যোশী এবং সুরপুর তালুকের কুপি সরকারি নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অন্না সাহেব দেশমুখকে কর্নাটক শিক্ষা দফতর সাসপেন্ড করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আরএসএসের পথসঞ্চালনে অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

    ধর্মান্তরের জন্য অর্থ দেওয়ার অভিযোগ

    কান্দিভলি পশ্চিমের সঞ্জয় নগরে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরের জন্য হিন্দুদের ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে স্থানীয় কর্মীরা আটক করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক। ঘটনাটি ২১ অগাস্টের বলে দাবি করা হয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অভিযোগ, ঘটনার ১০ দিন পরেও কান্দিভলি পুলিশ এফআইআর দায়ের করেনি। রাজনৈতিক চাপের কারণে পুলিশ তদন্তে গড়িমসি করছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

    তেলঙ্গনায় নার্সের মৃত্যু, ধর্ষণ-খুনের অভিযোগ

    তেলঙ্গনার রঙ্গারেড্ডি জেলার থুক্কুগুড়ায় বছর একুশের বেসরকারি হাসপাতালের নার্স শিরিষাকে তাঁর কর্মস্থলের আবাসনে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ২৯ আগস্ট ভোরে। যৌন নির্যাতনের পর তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে।অভিযোগের প্রায় ৩০ ঘণ্টার মধ্যে ৩৪ বছর বয়সি বাইক মেকানিক মহম্মদ সানাউল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। প্রযুক্তিগত তথ্য, ঘটনাস্থলের পুনর্গঠন এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগোয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। চিকিৎসা পরীক্ষায় ধর্ষণ ও একাধিক আঘাতের প্রমাণ মিলেছে বলেও দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    বাংলাদেশি হিন্দুদের নিয়ে পোস্ট করা অ্যাকাউন্টে পুলিশের নোটিশ

    ‘ভয়েস অব বাংলাদেশি হিন্দুস’ নামে একটি এক্স অ্যাকাউন্ট বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে তথাকথিত অত্যাচারের ঘটনা তুলে ধরে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তপারের সম্ভাব্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় নাগরিক ও প্রশাসনকে সতর্ক করে থাকে অ্যাকাউন্টটি। প্রতিবেদনের দাবি, এই অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারীদের মুম্বই এবং মধ্যপ্রদেশ পুলিশ নোটিশ দিয়েছে।

    বাংলাদেশ

    প্রতিবেদনে বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলা ও নিপীড়নের অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাকতের একটি গবেষণার উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। মন্দিরে হামলা ও মূর্তির অবমাননা, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণহামলা, নারীকে ধর্ষণ বা জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে হিন্দুদের ভয় দেখানো ও দেশ ছাড়তে বাধ্য করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করা হয়েছে।

    নাবালককে মসজিদে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ

    ২৭ অগাস্ট বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জে নাবালক সৌরভ চন্দ্র রায়কে চুরির অভিযোগে চাপারহাট আল-হেরা জামে মসজিদের ভিতরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্থানীয় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সাজুর দাবি, চুরির অভিযোগটি ভিত্তিহীন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌরভকে প্রথমে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে তাঁকে মসজিদের বারান্দায় নিয়ে গিয়ে ফের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সৌরভের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর হিন্দু পরিচয় নিশ্চিত করার পর তাঁকে আরও নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়।

    হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের অভিযোগ

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বহু অপরাধের পেছনে ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে সৃষ্টি বিদ্বেষ কাজ করে। মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলিতে হিন্দুবিদ্বেষের প্রকাশ অপেক্ষাকৃত স্পষ্ট হলেও, নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে পরিচয় দেওয়া রাষ্ট্রগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম বৈষম্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের উপর ধীরে ধীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে (Weekly Roundup)। পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে এই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও, প্রতিবেদনের দাবি—হিন্দু উৎসবের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের সামগ্রিক চিত্র এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে (Hindus Under Attack) নীতির প্রয়োগের পার্থক্য বিবেচনা করলে ‘দ্বৈত মানদণ্ডে’র প্রশ্ন উঠতেই পারে।

     

  • NIA: ২০১৩ সালের ঝিরম উপত্যকা হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত ১০ মাওবাদী

    NIA: ২০১৩ সালের ঝিরম উপত্যকা হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত ১০ মাওবাদী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের জগদলপুরের একটি বিশেষ জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) আদালত ২০১৩ সালের ঝিরম উপত্যকা হত্যাকাণ্ডের মামলায় ১০ জন মাওবাদীকে দোষী সাব্যস্ত করেছে (Jheeram Valley Massacre)। ২০১৩ সালের ওই মাওবাদী হামলায় রাজ্যের শীর্ষ কংগ্রেস নেতা-সহ অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছিলেন।

    দোষী সাব্যস্ত ১০ জন হলেন—প্রমীলা মোদিয়াম, চৈতু লেকাম ওরফে মুন্না, সুমিত্রা ওরফে সুমিত্রা পুনেম মোদিয়াম, মুক্কা মাণ্ডভি, কোসা কাভাসি ওরফে কোসারাম, আয়াতা মার্কাম, মাদকমি দেবা, জোগা মাদকমি, বানজামি সন্না ওরফে চামরু ওরফে ডেঙ্গা এবং মহাদেব নাগ। তদন্ত অনুযায়ী, এঁদের অধিকাংশই অপেক্ষাকৃত নিম্নস্তরের কমান্ডার অথবা সশস্ত্র গেরিলা।

    দোষী সাব্যস্তদের আইনজীবী অরবিন্দ চৌধুরী রায়দানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর আদালত সাজা ঘোষণা করবে। একই সঙ্গে দোষী সাব্যস্তদের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলেও তিনি জানান।

    হামলায় আহত শিব সিং ঠাকুর বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান করেন। তবে তাঁর অভিযোগ, নিম্নস্তরের মাওবাদীদের গ্রেফতার করে তাঁদের বিরুদ্ধে বিচার চালানোর মধ্যে দিয়েই জাতীয় তদন্ত সংস্থা মূলত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে। তাঁর কথায়, “হামলার আগে তাঁরা আমাদের নেতাদের নাম জানতে চেয়েছিল। এরপরই তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। এর পিছনে নিশ্চিতভাবেই একটি ষড়যন্ত্র ছিল। সেই ষড়যন্ত্রের আসল সত্য সামনে আসা দরকার। তাহলেই আমরা এই ঘটনার পূর্ণ পরিসমাপ্তি দেখতে পাব।”

    কী ঘটেছিল ঝিরম উপত্যকায়? (NIA)

    দেশের অন্যতম ভয়াবহ মাওবাদী হামলার ঘটনাটি ঘটে ২০১৩ সালের ২৫ মে। সুকমা জেলার দরভা থানার প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে কংগ্রেস নেতাদের একটি কনভয়ে বড়সড় হামলা চালায় মাওবাদীরা।

    সুকমায় ‘পরিবর্তন যাত্রা’র একটি সভা শেষ করে কনভয়টি ফিরছিল। সেই সময় রাজ্যে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার চালাচ্ছিল কংগ্রেস। ওই বছরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।

    অভিযোগ, কনভয়টি ঝিরম উপত্যকার কাছে পৌঁছতেই মাওবাদীদের কমিউনিস্ট পার্টি-সংক্রান্ত সশস্ত্র সদস্যরা প্রথমে রাস্তার নীচে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের ফলে রাস্তায় বড় গর্ত তৈরি হয় এবং পরিবর্তন যাত্রার গাড়িগুলি থেমে যেতে বাধ্য হয় (NIA)।

    এরপর শুরু হয় নির্বিচারে গুলিবর্ষণ, গ্রেনেড হামলা এবং বেছে বেছে হত্যাকাণ্ড। হামলায় ২৪ জনের মৃত্যু হয় এবং ৩৫ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর জখম হন। পরে আহতদের কয়েকজনেরও মৃত্যু হয়।

    নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন ছত্তিশগড় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নন্দকুমার পটেল এবং রাজ্যের প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা মহেন্দ্র কর্মা। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিদ্যাচরণ শুক্লও হামলায় গুরুতর জখম হন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়।

    এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন মহেন্দ্র কর্মা। তিনি মাওবাদী সশস্ত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে রাজ্য-সমর্থিত ‘সালওয়া জুডুম’ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ওই আন্দোলনে স্থানীয় যুবকদের অস্ত্র দেওয়ার অভিযোগ ছিল। পরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আন্দোলনটিকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।

    ৩৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    ঘটনার তদন্তভার পরে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে যায়। নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩৯ জন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তেলঙ্গানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করা বর্ষে সুক্কা ওরফে দেবা ওই সময় দরভা বিভাগীয় কমিটির দায়িত্বে ছিলেন। নিষিদ্ধ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকেই (Jheeram Valley Massacre) হামলাটি পরিচালনার জন্য সামগ্রিক কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত করেছিল বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা (NIA)। Jheeram Valley Massacre,

     

  • Mount Everest: এভারেস্টে বরফ গলছে প্রস্রাবের তাপেও, বড় ভূমিকা জ্বালানি পোড়ানোর

    Mount Everest: এভারেস্টে বরফ গলছে প্রস্রাবের তাপেও, বড় ভূমিকা জ্বালানি পোড়ানোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ এভারেস্টে প্রতি বছর পর্বতারোহীদের আনাগোনার সঙ্গে বাড়ছে পরিবেশের উপর চাপ। নতুন এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, পর্বতারোহীদের প্রস্রাব থেকেও উৎপন্ন তাপ খুম্বু হিমবাহের বরফ গলনে ভূমিকা রাখছে (Mount Everest)। তবে মানুষের তৈরি তাপের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা জ্বালানি পোড়ানোর।

    এভারেস্টের (Human Urine) মূল শিবির খুম্বু হিমবাহের উপরেই গড়ে ওঠে। প্রতি বছর সেখানে প্রায় ১,৬০০টি তাঁবু ফেলা হয়। রান্নাঘর, স্নানের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র, তারবিহীন ইন্টারনেট এবং কিছু ক্ষেত্রে মেঝে গরম রাখার ব্যবস্থাও থাকে। এসব থেকে উৎপন্ন তাপ হিমবাহের উপরিভাগ ও মাটির তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

    নেপাল ও আমেরিকার একদল বিজ্ঞানীর গবেষণা আঞ্চলিক পরিবেশ পরিবর্তন বিষয়ক গবেষণা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের পাশাপাশি এভারেস্টে মানুষের সরাসরি কর্মকাণ্ডও হিমবাহ গলনের গতি বাড়াচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

    নেপালে গত ২৬ অগাস্ট হড়পা বানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং ১,২০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ওই বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে হিমবাহ-উৎসারিত হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঘটনাকে দায়ী করা হয়।

    প্রস্রাবের তাপেও গলছে বরফ (Mount Everest)

    উচ্চতার কারণে এভারেস্টে ওঠা পর্বতারোহীদের বেশি পরিমাণে জল পান করতে হয়। ফলে প্রস্রাবের পরিমাণও বাড়ে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের পর্বতারোহণের মরশুমে প্রতিদিন প্রায় ৬,৭৬৬ লিটার প্রস্রাব জমা হয়েছিল।

    গবেষক খিম লাল গৌতম ও তাঁর সহকর্মীদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ প্রস্রাব শরীর থেকে প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বের হয়। ফলে এতে থাকা তাপের একটি অংশ আশপাশের বরফ গলতে সাহায্য করে।

    গবেষণায় হিসাব করে দেখা গিয়েছে, ওই তাপ সম্পূর্ণভাবে বরফে পৌঁছলে সংশ্লিষ্ট পর্বতারোহণ মরশুমে প্রায় ১৫৪ টন বরফ গলতে পারত। তবে বাস্তবে তাপের পুরোটা বরফে পৌঁছয় না। এর একটি বড় অংশ বাতাস ও আশপাশের পাথরে ছড়িয়ে যায়।

    সবচেয়ে বড় কারণ জ্বালানি পোড়ানো

    তবে গবেষকদের মতে, এভারেস্টের বরফ গলার ক্ষেত্রে প্রস্রাব সবচেয়ে বড় সমস্যা নয়। মূল সমস্যা হল মূল শিবিরকে ঘিরে বিপুল জ্বালানির ব্যবহার।

    ২০২৩ সালের মরশুমে রান্না, উত্তাপ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সেখানে প্রায় ৮২৪টি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের সিলিন্ডার, ১৮,৯৩৫ লিটার কেরোসিন এবং ৫,১৩০ লিটার পেট্রোল ব্যবহার করা হয়। মানুষের কর্মকাণ্ড থেকে সৃষ্ট বরফ গলার প্রায় ৯৪ শতাংশের জন্য এই জ্বালানি ব্যবহারকে দায়ী করা হয়েছে। প্রস্রাবের কারণে গলার অংশ মাত্র প্রায় ৬ শতাংশ (Mount Everest)।

    দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে হিমালয়

    বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় হিমালয় দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে। ২০১৯ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর হিমবাহের বরফ ক্ষয়ের হার তার আগের সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

    গবেষকদের আরও দাবি, খুম্বু হিমবাহের অন্যান্য অংশের তুলনায় মূল শিবির এলাকায় তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। সেখানে প্রতি বছর তাপমাত্রা প্রায় ০.২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    সরিয়ে নেওয়া হতে পারে এভারেস্টের মূল শিবির

    গবেষক দলটি বর্তমান মূল শিবির অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখেছে। এ জন্য বর্তমান শিবিরের দক্ষিণ-পশ্চিমে দুটি সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।

    তবে শিবির সরিয়ে নিলেও নতুন জায়গায় নানা ধরনের ব্যবস্থাপনা ও পরিবহনগত সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি নতুন এলাকাতেও মানুষের কর্মকাণ্ড পরিবেশের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

    গবেষকদের পরামর্শ, হিমবাহ রক্ষায় আরও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে এবং সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে (Human Urine)। প্রয়োজনে মূল শিবিরের কিছু অংশ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে মানুষের কর্মকাণ্ড থেকে তৈরি অতিরিক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সমস্যার আরও অবনতি হতে পারে (Mount Everest)।

     

  • Warmest Year: ২০২৬-এর অগাস্টে বিশ্ব ও ভারত—দুই জায়গাতেই উষ্ণতার নতুন রেকর্ড

    Warmest Year: ২০২৬-এর অগাস্টে বিশ্ব ও ভারত—দুই জায়গাতেই উষ্ণতার নতুন রেকর্ড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের অগাস্ট মাসে বিশ্ব ও ভারত—দুই ক্ষেত্রেই তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বৈশ্বিক জলবায়ু প্রতিবেদন এবং ভারতের আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অগাস্ট ছিল বিশ্বের উষ্ণতম অগাস্ট (Warmest Year)। একই সঙ্গে চলতি বছরই পৃথিবীর উষ্ণতম বছর হিসেবে নয়া রেকর্ড গড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে (India)।

    জলবায়ুবিজ্ঞান বিশ্লেষণকারী সংস্থা ‘ক্লাইমেট ব্রিঙ্কে’র তৈরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানীদের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত কোপার্নিকাস-ইসিএমডব্লিউএফ-এর ইআরএ৫ তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অগাস্টে প্রাক্-শিল্প যুগের তুলনায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। ২০২৪ সালের অগাস্টে তৈরি আগের রেকর্ডের তুলনায় এই বৃদ্ধি যথেষ্ট বেশি।

    মানবসৃষ্ট কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সূচনা হওয়ার আগের সময়কে প্রাক্-শিল্প যুগের মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। জলবায়ুবিজ্ঞানীদের মতে, চলতি বছরের আট মাসের তথ্য হাতে আসায় এবং বছরের বাকি সময়ের এল নিনো পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্বাভাস আরও নির্ভরযোগ্য হওয়ায় ২০২৬ সালের এখনও পর্যন্ত উষ্ণতম বছর হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৭৫ শতাংশ।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছর প্রাক্-শিল্প যুগের তুলনায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কমবেশি ০.০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বেশি থাকার পথে রয়েছে। ২০২৪ সালে বিশ্বে বার্ষিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির সর্বোচ্চ হার ছিল ১.৫৫ থেকে ১.৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। ফলে চলতি বছরের সম্ভাব্য বৃদ্ধি সেই রেকর্ডকেও ছাপিয়ে যেতে পারে।

    কলকাতায় উষ্ণতা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি (Warmest Year)

    বৈশ্বিক প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, গত বছর ভারতের মহানগরগুলির মধ্যে কলকাতায় উষ্ণতা বৃদ্ধির হার ছিল সর্বাধিক। প্রাক্-শিল্প যুগের বৈশ্বিক মানদণ্ডের তুলনায় কলকাতার তাপমাত্রা ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বেঙ্গালুরু, সেখানে বৃদ্ধির হার ১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এক প্রবীণ অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত ৫০ বছরের প্রবণতার সঙ্গেই এই তথ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাঁর কথায়, সর্বশেষ রাষ্ট্রসংঘের বিশ্লেষণ ব্যবহার করে প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ১৮৫৮ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে গড় তাপমাত্রা প্রায় ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। বিশ্বে এই বৃদ্ধির হার কলকাতাতেই সবচেয়ে বেশি ছিল। এরপর ছিল তেহরান ও মস্কো।

    ১৯০১ সালের পর ভারতে উষ্ণতম অগাস্ট

    ভারতের আবহাওয়া দফতরও জানিয়েছে, দেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা বিশ্বের সামগ্রিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    ভারতের আবহাওয়া দফতরের মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, ১৯০১ সালে দেশজুড়ে তাপমাত্রার নথি সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালের অগাস্টই ভারতে উষ্ণতম অগাস্ট (Warmest Year)।

    আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, অগাস্টে ভারতের জাতীয় গড় তাপমাত্রা ২৮.০১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। দীর্ঘমেয়াদি স্বাভাবিক গড় ২৭.৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তুলনায় তা ০.৬৭ ডিগ্রি বেশি। শুধু দিনের তাপমাত্রাই নয়, রাতের গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রাতেও নতুন রেকর্ড হয়েছে। তা ২৪.৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যেখানে স্বাভাবিক গড় ২৩.৬৮ ডিগ্রি। ১২৫ বছরের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ রাতের গড় তাপমাত্রা।

    ভারতের আবহাওয়া দফতরের প্রাক্তন মহাপরিচালক কেজে রমেশ বলেন, ভারতের তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা বিশ্বব্যাপী প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ, বিশ্ব এবং ভারত—উভয় জায়গাতেই এ বছরের আগস্ট ছিল উষ্ণতম।

    ১.৫ ডিগ্রির সীমা পেরিয়ে বিপদের আশঙ্কা

    ২০১৫ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে দেশগুলি সর্বসম্মতভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে প্রাক্-শিল্প যুগের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্যে সম্মত হয়েছিল। কারণ, এই সীমা অতিক্রম করলে পাহাড়ি অঞ্চল, সমুদ্রসংলগ্ন এলাকা এবং নিচু ভূমিতে বসবাসকারী মানুষের উপর অত্যন্ত ভয়াবহ জলবায়ুগত প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে জলজ বাস্তুতন্ত্রও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সম্প্রতি প্রকাশিত রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবী স্থায়ীভাবে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণায়নের যুগে প্রবেশ করতে চলেছে। সর্বোত্তম পরিস্থিতিতেও গড় তাপমাত্রা প্রায় ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে স্থিত হতে পারে। আবার কয়েকটি জলবায়ু মডেল অনুযায়ী, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি হতে পারে।

    ‘ক্লাইমেট ট্রেন্ডসে’র জলবায়ু প্রভাব বিভাগের প্রধান কার্তিকী নেগি বলেন, বিশ্ব ও ভারত—দুই জায়গাতেই অগাস্টকে এখনও পর্যন্ত উষ্ণতম অগাস্ট হিসেবে ঘোষণা করা ভবিষ্যতের উষ্ণ পৃথিবী কেমন হতে পারে, তার একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। তাঁর মতে, জলবায়ু পরিবর্তন এল নিনোর সৃষ্টি করে (India) না। তবে এটি পৃথিবীর স্বাভাবিক উষ্ণতার ভিত্তি আরও বাড়িয়ে দেয় এবং শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে (Warmest Year)।

     

  • PM Modi: ‘অর্ধেক জল, অর্ধেক বাতাস—গ্লাস পুরো ভরা’, ১৩ বছর পরে এসআরসিসিতে নিজের পুরনো বার্তা স্মরণ মোদির

    PM Modi: ‘অর্ধেক জল, অর্ধেক বাতাস—গ্লাস পুরো ভরা’, ১৩ বছর পরে এসআরসিসিতে নিজের পুরনো বার্তা স্মরণ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৩ বছর পর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রীরাম কলেজ অফ কমার্সে (SRCC) ফিরে নিজের পুরনো ‘অর্ধেক ভরা গ্লাসে’র উদাহরণ স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শনিবার সন্ধ্যায় এসআরসিসির শতবর্ষ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ২০১৩ সালের সেই বক্তৃতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি বরাবর সম্ভাবনার দিকটি দেখেছেন। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ওই কলেজে বক্তৃতা দিয়েছিলেন মোদি। হাতে এক গ্লাস জল তুলে তিনি বলেছিলেন, আশাবাদীরা সেটিকে অর্ধেক ভরা এবং হতাশাবাদীরা অর্ধেক খালি বলবেন। কিন্তু তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল আলাদা—গ্লাসটি অর্ধেক জলে এবং অর্ধেক বাতাসে পূর্ণ। শনিবার সেই প্রসঙ্গ ফের তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি গ্লাসটিকে পুরো ভরা হিসেবে দেখি—অর্ধেক জল এবং অর্ধেক বাতাস।’’ তাঁর দাবি, ২০১৩ সালের সেই বক্তব্যের প্রভাব এখনও অনুভব করা যায়। সেই সময় বিজেপি বিরোধী আসনে ছিল এবং কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার। তা সত্ত্বেও তিনি ওই কলেজের মঞ্চকে রাজনৈতিক সমালোচনার জন্য ব্যবহার করেননি বলেও জানান। তাঁর কথায়, যা বলেছিলেন, তা বিশ্বাস থেকেই বলেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে সেই পথেই এগিয়েছেন।

    উন্নয়নের গতি এখন অনেক বেশি’ (PM Modi)

    শনিবারের বক্তৃতার বড় অংশ জুড়ে ছিল ২০১৩ সালের ভারত এবং বর্তমান ভারতের তুলনা। পাশাপাশি ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ করবে ভারত।

    ২০১৩ সালের পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময় সংবাদপত্রের শিরোনামে থাকত সীমান্তে সেনা নিহত হওয়া, ১০ শতাংশের কাছাকাছি মূল্যবৃদ্ধি এবং দুর্নীতির মতো বিষয়। দেশের সর্বত্র ‘পলিসি প্যারালাইসিসে’র আলোচনা ছিল এবং ভারতকে বিশ্বের ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’ অর্থনীতির তালিকায় রাখা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    এর বিপরীতে বর্তমান ভারতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘কয়েক দিন আগেই প্রথম ত্রৈমাসিকের জিডিপির পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্ব যখন সংকটের মধ্যে রয়েছে, সেই সময় এই পরিসংখ্যান ভারতের শক্তি স্পষ্ট করে।’’

    তাঁর দাবি, যারা ভারতকে ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভে’র মধ্যে দেখতে চেয়েছিলেন, তাঁরা বর্তমান পরিসংখ্যান মেনে নিতে পারছেন না। গাড়ি বিক্রি, নির্মাণ, উৎপাদন এবং শিল্পক্ষেত্রের কার্যকলাপ বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরেন তিনি। মোদির বক্তব্য, ভারত শুধু বাড়ছে না, দ্রুত গতিতেও এগিয়ে চলেছে।

    তবে প্রথম ত্রৈমাসিকে ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে ইতিমধ্যেই কয়েকজন অর্থনীতিবিদ এবং বিরোধী নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের সরাসরি নাম না করে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের ‘নাখোশ ফুফাজি’ বা সবকিছুর মধ্যে নেতিবাচক দিক দেখতে অভ্যস্ত মানুষ হিসেবে কটাক্ষ করেন (PM Modi)।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়েও বার্তা

    দেশের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এখন সন্ত্রাসবাদ শেষ পর্যায়ে। তারা যদি সাহস দেখায়, তাহলে সেনাবাহিনী ভিতরে ঢুকে তাদের শেষ করে দেয়।’’ সীমান্তের ওপারে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুরে’র প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।

    বিরোধীদের কটাক্ষ

    মোদির বক্তব্য নিয়ে কংগ্রেসের তরফেও তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। কংগ্রেস সাংসদ তথা মুখপাত্র পবন খেরা এক্স-এ লেখেন, বক্তৃতাটি এতটাই বিরক্তিকর ছিল যে ‘‘পেঁয়াজও কেঁদে ফেলত’’।

    কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমারের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় শুধু ২০১৩ এবং ২০৪৭ সালের কথা বলেছেন। কিন্তু ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষের বর্তমান সমস্যাগুলি নিয়ে কথা বলেননি।

    ১৩ বছর পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এসআরসিসিতে মোদি

    ২০১৩ সালে এসআরসিসিতে মোদি এসেছিলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। তখন গুজরাটে তাঁর চতুর্থ দফার মুখ্যমন্ত্রিত্বের কয়েক সপ্তাহ কেটেছে এবং জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। সেই সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ১২ বছর পূর্ণ হয়েছিল।

    ১৩ বছর পর শনিবার তিনি সেই এসআরসিসিতে ফিরলেন টানা তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে রয়েছেন তিনি। আগামী মাসে গুজরাট ও কেন্দ্র—দুই পর্যায়ের দায়িত্ব মিলিয়ে সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর ২৫ বছর পূর্ণ হবে (PM Modi)।

    ২০১৩ সালের এসআরসিসি বক্তৃতার বিষয় ছিল ‘এমার্জিং বিজনেস মডেলস ইন দ্য গ্লোবাল সিনারিও (Emerging Business Models in the Global Scenario)’। তবে সেই বক্তৃতা শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে সেটি কার্যত একটি শাসন-ভাবনার ঘোষণাপত্র হয়ে উঠেছিল।

    তখন মোদি বলেছিলেন, সমাজের একটি অংশ, বিশেষ করে রাজনৈতিক মহলের অনেকে দেশের যুবসমাজকে শুধু ‘নতুন প্রজন্মের ভোটার’ হিসেবে দেখেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল ভারতকে বোঝানো যে দেশের যুবসমাজ আসলে ‘নতুন যুগের শক্তি’।

    ঘটনাচক্রে শনিবার ছিল শিক্ষক দিবস। এদিনই ওই কলেজে বক্তৃতা দেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৩ সালে গুজরাটের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেছিলেন, কোনও ব্যবসায়ী বিদেশে পণ্য রফতানি করতে গেলে ডলার ও পাউন্ড নিয়ে আসেন। কিন্তু একজন শিক্ষক বিদেশে গেলে তিনি একটি গোটা প্রজন্মকে গড়ে তোলেন।

    এর আগে (SRCC) এপ্রিল মাসে নিজের বাসভবনে এসআরসিসির পরিচালন পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। শতবর্ষ উপলক্ষে (PM Modi) একটি স্মারক ডাকটিকিটও প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

     

  • BLA: বালুচিস্তানে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ২৫ পাক সেনা নিহতের দাবি বিএলএ-র, পাল্টা অভিযানে ৫০ ‘জঙ্গি’ নিহতের দাবি ইসলামাবাদের

    BLA: বালুচিস্তানে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ২৫ পাক সেনা নিহতের দাবি বিএলএ-র, পাল্টা অভিযানে ৫০ ‘জঙ্গি’ নিহতের দাবি ইসলামাবাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বালুচিস্তানে ফের বড় ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল পাক সেনা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (BLA)। সংগঠনের দাবি, পৃথক দু’টি হামলায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অন্তত ২৫ জন সদস্য নিহত (Pakistani Soldiers Killed) হয়েছেন। এর মধ্যে জিয়ারত ক্রস এলাকায় সামরিক কনভয়ে হামলা চালিয়ে ১৮ জনকে হত্যার দাবি করেছে বিএলএ। এদিকে, হাজিকা এলাকায় আরও একটি হামলায় সাত পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর দ্রুত পাল্টা অভিযান শুরু করে পাক সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, বালুচিস্তানের মাস্তুং, সিবি, কোয়েটা ও কালাত জেলার বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গিদের ঘাঁটিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বিএলএ এবং তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর সদস্য রয়েছে বলে দাবি করেছে পাক সামরিক বাহিনী। ফলে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বালুচিস্তানে নতুন করে নিরাপত্তা সংকট তীব্র হয়েছে।

    সশস্ত্র তৎপরতা আরও জোরদার করেছে বিএলএ (BLA)

    গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তানি সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র তৎপরতা আরও জোরদার করেছে বিএলএ। সংগঠনটির দাবি, তাদের ‘ফাতেহ স্কোয়াডে’র সদস্যরা জিয়ারত ক্রস এলাকায় একটি সামরিক কনভয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলায় দু’টি সামরিক যান ধ্বংস করা হয় এবং ১৮ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। আরও পাঁচ সেনা আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে পেরেছে বলেও জানিয়েছে বিএলএ।

    এই হামলার মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের চালানো সবচেয়ে বড় এবং দুঃসাহসিক হামলাগুলির একটি সামনে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। হামলার পর বিএলএর নিজস্ব গণমাধ্যম শাখা ‘হাক্কাল’ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে বিস্ফোরণ, গুলির শব্দ এবং আগুনে জ্বলতে থাকা একটি সামরিক ট্রাকের দৃশ্য দেখা গিয়েছে। ভিডিওর কয়েকটি দৃশ্যে সশস্ত্র যোদ্ধাদের সামরিক যানগুলির কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাক থেকে অস্ত্র সরিয়ে নিতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    আলোচনায় বিএলএর ফাতেহ স্কোয়াড এবং এসটিওএস

    জিয়ারত ক্রসের হামলার পর ফের আলোচনায় এসেছে বিএলএর বিশেষ যুদ্ধ ইউনিট ‘ফাতেহ স্কোয়াড’। বালুচিস্তানের দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় এই বাহিনী মূলত গেরিলা কৌশল, অতর্কিত হামলা এবং হাইরিস্কের সামরিক অভিযানে সক্রিয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    এর আগেও বড় হামলায় এই ইউনিটের নাম সামনে এসেছিল। ২০২৫ সালের মার্চে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ রেল পরিষেবা জাফর এক্সপ্রেস ছিনতাইয়ের ঘটনায় ফাতেহ স্কোয়াড জড়িত ছিল বলে দাবি করেছিল বিএলএ। ওই ঘটনায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল।

    অন্যদিকে হাজিকা এলাকায় পৃথক হামলায় বিএলএ দাবি করেছে, তাদের ‘স্পেশাল ট্যাকটিক্যাল অপারেশনস স্কোয়াড’ (STOS) একটি দূর-নিয়ন্ত্রিত যান ব্যবহার করে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে সাত পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন বলে সংগঠনটির দাবি। যদিও এই দাবিরও সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হামলাগুলির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে পাকিস্তানি সেনা সদস্যদের মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দৃশ্য দেখা গিয়েছে বলে সাংবাদিকদের পোস্টে দাবি করা হয়েছে। এই সব ভিডিওর সত্যতা এবং প্রেক্ষাপটও যাচাই করা যায়নি।

    ফের সামনে ‘অপারেশন হেরোফে’র স্মৃতি

    বালুচিস্তানে সাম্প্রতিক হিংসতার মাত্রা পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত মাসে বিএলএ দাবি করেছিল, পাকিস্তানি বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন এলাকায় তারা ৩৬টি অভিযান চালিয়েছে এবং এসব অভিযানে ৩৩ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। এসব পরিসংখ্যানও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ২০২৪ সালে বিএলএর চালানো ‘অপারেশন হেরোফে’র কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছে। ওই অভিযানে বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ পরিকাঠামোকে টার্গেট করেছিল। করাচি-কোয়েটা সড়কের বিভিন্ন অংশে হামলার পাশাপাশি মাস্তুংয়ের একটি রেলস্টেশনেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। ওই অভিযানে ২৫ জনেরও বেশি পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং প্রচুর সেনাকর্মী জখম হওয়ার কথা জানিয়েছিল বিএলএ।

    পাল্টা অভিযানে পাকিস্তানের জবাব

    বিএলএর সাম্প্রতিক হামলার পর দ্রুত পাল্টা অভিযান চালায় পাক সেনা (Pakistani Soldiers Killed)। সেনাবাহিনীর দাবি, বালুচিস্তানের একাধিক জেলায় জঙ্গিদের আস্তানা লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। এতে প্রায় ৫০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তাদের বক্তব্য, নিহতদের মধ্যে বিএলএ (BLA) সদস্যদের পাশাপাশি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন টিটিপির সদস্যও রয়েছে। ফলে বালুচিস্তানের সংঘাত শুধু বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর জঙ্গিবাদ ও নিরাপত্তা সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গিয়েছে।

    বালুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলন চলছে। বালুচ সংগঠনগুলির অভিযোগ, ওই প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আকছার মানবাধিকার লঙ্ঘন, জোরপূর্বক গুম এবং রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটছে। পাকিস্তান সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে।

    আফগানিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া বালুচিস্তান ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক (BLA) থেকেও পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে স্বায়ত্তশাসন থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ স্বাধীনতার দাবিতে বিভিন্ন বালুচ সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছে।

    বিএলএ-সহ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির সাম্প্রতিক তৎপরতা এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পাল্টা অভিযান সেই পুরনো সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে। দু’পক্ষের হতাহতের দাবি যদি আরও বড় আকার নেয়, তাহলে বালুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে সড়ক, রেলপথ ও সামরিক কনভয়কে লক্ষ্য করে হামলা বাড়লে ঝুঁকির মুখে (Pakistani Soldiers Killed) পড়তে পারে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও (BLA)।

     

  • Lashkar Commander Killed: ইউসমার্গে যৌথবাহিনীর অভিযানে নিকেশ লস্কর কমান্ডার ইয়াসির, খতিয়ে দেখা হচ্ছে জঙ্গি-যোগ

    Lashkar Commander Killed: ইউসমার্গে যৌথবাহিনীর অভিযানে নিকেশ লস্কর কমান্ডার ইয়াসির, খতিয়ে দেখা হচ্ছে জঙ্গি-যোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের বাডগাম জেলায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে খতম লস্কর-ই-তৈবার এক পাকিস্তানি কমান্ডার (Lashkar Commander Killed)। নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রের দাবি, নিহত জঙ্গির নাম ইয়াসির। শনিবার মধ্য কাশ্মীরের ইউসমার্গের দুর্গম উচ্চ পার্বত্য এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযানের সময় এই সংঘর্ষের (Gunfight) ঘটনা ঘটে। সূত্রের খবর, এলাকায় জঙ্গিদের উপস্থিতি সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর তল্লাশি অভিযান শুরু করে যৌথ নিরাপত্তাবাহিনী। অভিযানে স্পেশাল ফোর্সেস এবং ৫৩ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের সদস্যরা অংশ নেন। তল্লাশির সময় জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলির লড়াই শুরু হয়। সংঘর্ষেই ইয়াসিরের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছিল ইয়াসির (Lashkar Commander Killed)

    নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ইয়াসির লস্কর-ই-তৈবার সুলেমান মুসা গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিল। প্রায় এক বছর আগে সে ওই গোষ্ঠী থেকে আলাদা হয়ে যায়। এরপর নিজের মতো করে জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছিল সে। কিছুদিন ধরে ইউসমার্গ এলাকায় তার গতিবিধির উপর নজর রাখছিল একাধিক নিরাপত্তা সংস্থা। গোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ওই এলাকায় লস্করের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অপারেটিভ হিসেবে ইয়াসিরের প্রভাব বাড়ে বলেও সূত্রের দাবি। ইউসমার্গের উঁচু এলাকায় তার উপস্থিতির খবর পেয়েই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানই শেষ পর্যন্ত গড়ায় এনকাউন্টারে। ইয়াসিরের মৃত্যুর পর এবার তার জঙ্গি নেটওয়ার্ক নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। লস্কর-ই-তৈবার অন্য সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ কতটা ছিল, ওই অঞ্চলে সে কী ধরনের কার্যকলাপ চালাত এবং সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে তার কোনও ভূমিকা ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীরে সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গিবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই ইউসমার্গের এই অভিযান বলে মনে করা হচ্ছে (Lashkar Commander Killed)।

    কে এই সুলেমান মুসা?

    সুলেমান মুসা, যিনি হাশিম মুসা নামেও পরিচিত, ২০২৫ সালে পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত জঙ্গি হামলার অন্যতম মূলচক্রী হিসেবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে পরিচিত ছিল (Gunfight)। হামলার কয়েক মাস পরে শ্রীনগরের দাচিগাম অরণ্য এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিকেশ হয় মুসা (Lashkar Commander Killed)।

     

  • Suvendu on Teachers’ Day: প্রতি জেলায় ২টি ‘সিএম শ্রী’ স্কুল, সিলেবাসে ইতিহাস ও দেশপ্রেমে জোর রাজ্য সরকারের

    Suvendu on Teachers’ Day: প্রতি জেলায় ২টি ‘সিএম শ্রী’ স্কুল, সিলেবাসে ইতিহাস ও দেশপ্রেমে জোর রাজ্য সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী প্রজন্মের মনে দেশপ্রেম ও রাজ্যের প্রকৃত ইতিহাস গেঁথে দিতে এবার রাজ্য সরকার সিলেবাসে (School Syllabus) রদবদল আনছে। শিক্ষক দিবসের (Teachers’ Day) মঞ্চ থেকে পাঠ্যক্রমের আমূল পরিবর্তন ও শিক্ষায় একগুচ্ছ সংস্কারের রূপরেখা পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বর্তমান পাঠ্যসূচির সমালোচনা করে তিনি জানান, অতীতে রাজ্যের সঠিক ইতিহাস ঢেকে রাখা হয়েছিল। শনিবার নিউ টাউনে (Teachers’ Day) অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে রাজ্যের ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে বড় ঘোষণাও করেন তিনি। কেন্দ্রের ‘সেন্ট্রাল স্কুল’ ও ‘জহর নবোদয় বিদ্যালয়’-এর ধাঁচে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় অন্তত দুটি করে অত্যাধুনিক মডেল স্কুল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই বিশেষ বিদ্যালয়গুলির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সিএম শ্রী ইনস্টিটিউট’ (CM Shri Institute)।

    এ রাজ্য কীভাবে সৃষ্টি হল, জানবে নতুন প্রজন্ম

    মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, প্রচলিত পাঠ্যবইয়ে ‘টাটাদের রাজ্য থেকে তাড়িয়ে দেওয়াকে মহৎ কর্ম’ বলে দাবি করে এক পৃষ্ঠা জুড়ে রাখা হলেও, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন কীভাবে পশ্চিমবঙ্গের জন্ম হয়েছিল—তার কোনও উল্লেখই নেই। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shyamaprasad Mukherjee) ও স্বামী প্রণবানন্দের অবদানকে আড়াল করার সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আপনি আজ পশ্চিমবঙ্গে বসে বাক্‌স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, পোশাক ও খাদ্যাভ্যাসের স্বাধীনতা ভোগ করছেন। অথচ এ রাজ্য কীভাবে সৃষ্টি হল, তা নতুন প্রজন্ম জানাবে না? একদল যখন ভারত ভাগ করেছিল, তখন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কীভাবে পাকিস্তান ভাগ করে পশ্চিমবঙ্গকে রক্ষা করেছিলেন—তা ছাত্র-ছাত্রীদের জানতে দেওয়া হবে না?”

    মাতঙ্গিনী হাজরার কাহিনী পাঠ্যবইয়ে

    একই সঙ্গে ১৯৪২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হাতে শাঁখা ও জাতীয় পতাকা নিয়ে গুলি খেতে খেতে মাতঙ্গিনী হাজরার ‘বন্দে মাতরম্’ (Vande Mataram) ধ্বনি দেওয়ার মতো আত্মত্যাগের ইতিহাসও পাঠ্যক্রমে সবিস্তারে ফিরিয়ে আনার কথা বলেন তিনি। জাতীয়তাবোধ ও মূল্যবোধ পুনরুজ্জীবিত করতে রাজ্য সরকার যে কোনও কার্পণ্য করবে না, সেই কথাও মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের অন্তরাত্মায় গাথা ‘বন্দে মাতরম্’ সংগীতটি প্রতিটি স্কুলের প্রার্থনাসভায় গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সরকার যে কোনও আপস বা রফা করবে না, তা-ও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

    ‘সংস্কৃত দিবস’ উদযাপন

    শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের ধারাবাহিকতার কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রসারের পাশাপাশি প্রাচীন সংস্কৃত ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন, যার জন্য ‘সংস্কৃত দিবস’ উদযাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশের বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের ধারা অক্ষুণ্ন রেখে রাজ্যজুড়ে এই সমস্ত সংস্কারমূলক পদক্ষেপ সফল করতে শিক্ষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছে পূর্ণ সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

    ‘সিএম শ্রী’ প্রতিষ্ঠান চালু

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ‘সিএম শ্রী’ প্রতিষ্ঠানগুলিতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষার মাধ্যমে পড়ুয়াদের ভর্তি করা হবে। স্কুলগুলিতে থাকবে সেরা মানের শিক্ষক, আধুনিক ডিজিটাল ল্যাব ও স্মার্ট বোর্ড। পাশাপাশি, রাজ্যজুড়ে প্রথম দফায় ১ হাজার ১৯৭টি সাধারণ বিদ্যালয়ে আধুনিক পঠনপাঠনের সুবিধার্থে স্মার্ট বোর্ড বসানোর কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। ক্রীড়া পরিকাঠামোর প্রসারে উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিমাঞ্চলে দুটি বড় ক্রীড়া কেন্দ্র (Sports Institutes) তৈরির কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এখানেও এসএসসি-র মাধ্যমে নিয়োগ করা হবে। শুভেন্দুর কথায়, ‘প্রচুর ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর নিয়োগ করা হবে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে ছাত্রছাত্রীরা যাতে আগামী দিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সফল হতে পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’ প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতের প্রাচীনতম খেলাধুলো, খোখো, হাডুডু, ফুটবল ইত্যাদি খেলাধুলো প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে ফিরে আসুক। এছাড়া মেধাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার জন্য ‘স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’ চালু রাখার বিষয়টিতেও সিলমোহর দেন তিনি।

    বিগত তৃণমূল সরকারকে নিশানা

    পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে শিক্ষা পরিকাঠামোর চরম বেহাল দশাকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকার ক্ষমতায় এসেই জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) গ্রহণ করেছে, যা অত্যন্ত দরকারি ছিল। শিক্ষা দফতরের বৈঠকে জানতে পারি, রাজ্যে এখনও প্রায় ১৯ হাজার এমন স্কুল রয়েছে যেখানে ন্যুনতম পরিকাঠামোটুকু নেই; এমনকি পরিশ্রুত পানীয় জল বা ছাত্রীদের জন্য পরিচ্ছন্ন বাথরুম পর্যন্ত নেই।” এই পরিস্থিতি বদলাতে প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্যের প্রতিটি বিদ্যালয়ে দ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং ছাত্রীদের জন্য পৃথক শৌচাগার নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে। কেবল পাঠ্যবইয়ের পড়াশোনা নয়, শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের জন্য বিদ্যালয়গুলিতে তবলা সহ সাংস্কৃতিক ও এক্সট্রা-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসের সরঞ্জাম সরবরাহ করে স্কুলগুলিকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

    মোবাইল ফোনের ভয়ঙ্কর কু-প্রভাব

    মুখ্যমন্ত্রী ছাত্রছাত্রীদের উপর মোবাইল ফোনের ভয়ঙ্কর কু-প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করেন। এক্ষেত্রে, তিনি গুজরাটের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। শুভেন্দু বলেন, “মোবাইল ফোনের ভয়ঙ্কর কু-প্রভাব রয়েছে ছাত্রছাত্রীদের উপর। গুজরাটে ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। এ সব সিদ্ধান্ত নিলে আমার ভোট কমে যেতে পারে।” মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘গুজরাটে দেখুন, প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল ফোনে হাত দিতে দেওয়া হয় না। ভয়ঙ্কর ক্ষতি করছে মোবাইল ফোন। রাত দেড়টা-দু’টোর আগে বাচ্চারা ঘুমোতে যায় না, সারাক্ষণ মোবাইল ঘাঁটছে। বাবা-মা শুয়ে পড়েছে, আড়াল হতেই মোবাইল ঘাঁটা আরম্ভ করে দিচ্ছে।’ তাঁর কথায়, ‘এই সমস্ত সংস্কার যদি না করেন, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষক দিবসের কোনও মানেই থাকবে না।’ শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগত মানোন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ দেশের মধ্যে ৩১ নম্বর স্থানে অবস্থান করছে, তবে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আগামী তিন বছরের মধ্যে রাজ্যকে সেরা দশের তালিকায় নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

  • India Belgium Defence Deal: ডাঙায় ট্যাঙ্ক, আকাশে ড্রোন থেকে সামুদ্রিক মাইন, ১০ বড় চুক্তি ভারত-বেলজিয়ামের! বদলে যেতে পারে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন

    India Belgium Defence Deal: ডাঙায় ট্যাঙ্ক, আকাশে ড্রোন থেকে সামুদ্রিক মাইন, ১০ বড় চুক্তি ভারত-বেলজিয়ামের! বদলে যেতে পারে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন

    সুশান্ত দাস

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও বেলজিয়ামের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর হতে চলেছে। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডে ওয়েভারের ভারত সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে প্রায় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন বেলজিয়ামের ১৫টি প্রতিরক্ষা সংস্থার প্রতিনিধিরা। অস্ত্র, গোলাবারুদ, ড্রোন, কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মাইন প্রতিরোধ প্রযুক্তি এবং উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি—একাধিক ক্ষেত্রে এই অংশীদারিত্ব গড়ে উঠছে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ভারত শুধুমাত্র বিদেশ থেকে তৈরি অস্ত্র কেনার পথে হাঁটছে না। বরং যৌথভাবে প্রযুক্তি তৈরি, ভারতে উৎপাদন এবং ভবিষ্যতে রফতানির সুযোগ তৈরি করার দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে। ফলে ভারত-বেলজিয়াম প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দেশের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

    জোর জোরাওয়ার ট্যাঙ্কে বেলজিয়ামের ৩১০৫ টারেট

    ভারতীয় সেনার হালকা ট্যাঙ্ক জোরাওয়ার প্রকল্পে ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বেলজিয়াম-ভিত্তিক জন ককেরিল ডিফেন্স-এর ৩১০৫ টারেটের। এই টারেটে রয়েছে ১০৫ মিলিমিটার কামান। জোরাওয়ারের প্রাথমিক প্রোটোটাইপেও এই টারেট ব্যবহার করা হয়েছে।

    উচ্চ পার্বত্য ও দুর্গম এলাকায় যুদ্ধের কথা মাথায় রেখেই জোরাওয়ার ট্যাঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারত-চিন সীমান্তের মতো উচ্চ উচ্চতার অঞ্চলে দ্রুত মোতায়েনের জন্য এই হালকা ট্যাঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    এই প্রকল্পে বেলজিয়ামের সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ ভারতের স্থলযুদ্ধের সক্ষমতা আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ। ওআইপি সেন্সর সিস্টেম ভারতীয় অংশীদারদের সঙ্গে সাঁজোয়া যানের জন্য উন্নত ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে।

    অন্যদিকে, জন ককেরিল ডিফেন্স উচ্চ পার্বত্য এলাকায় ব্যবহারের উপযোগী উন্নত ট্যাঙ্ক টারেট প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। টারেটের পরীক্ষা ও সংযুক্তিকরণের কাজ এগোচ্ছে। ভবিষ্যতে ভারতে উৎপাদনের লক্ষ্যে জন ককেরিল ভারতীয় সংস্থা ইলেক্ট্রো নিউম্যাটিক্স অ্যান্ড হাইড্রলিক্স-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে।

    ভারতে তৈরি হবে ৭০ মিলিমিটার রকেট

    ভারত-বেলজিয়াম প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আরেকটি বড় ক্ষেত্র হল ৭০ মিলিমিটার রকেট। বেলজিয়ামের থ্যালেস এবং ভারতের কল্যাণী স্ট্র্যাটেজিক সিস্টেমস লিমিটেড এই বিষয়ে চুক্তি করেছে।

    এই অংশীদারিত্বের আওতায় আনগাইডেড এবং লেজার-গাইডেড—দুই ধরনের রকেট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। থ্যালেস প্রযুক্তিগত জ্ঞান সরবরাহ করবে এবং ভারতে উৎপাদন, পরীক্ষা ও সিস্টেম সংযুক্তিকরণের দায়িত্ব নেবে কল্যাণী স্ট্র্যাটেজিক সিস্টেমস। লক্ষ্য হল ২০২৭ সালের গোড়ার দিকে প্রথম সম্পূর্ণ ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি রকেট প্রস্তুত করা।

    থ্যালেসের প্রযুক্তি অনুযায়ী, এই ধরনের রকেট আকাশ, স্থল এবং সমুদ্র—তিন ধরনের অভিযানে ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এর ব্যবহারযোগ্যতা রয়েছে। দেশেই উৎপাদন বাড়লে আমদানির উপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি ভবিষ্যতে রফতানির সুযোগও তৈরি হতে পারে।

    সমুদ্রের মাইন শনাক্ত করবে রোবোটিক ব্যবস্থা

    ভারত-বেলজিয়াম প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় সামুদ্রিক নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো এবং বেলজিয়ামের এক্সাইল রোবোটিক্স জলের নিচে থাকা মাইন শনাক্ত, চিহ্নিত এবং নিষ্ক্রিয় করার প্রযুক্তি নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে।

    আধুনিক নৌযুদ্ধে সামুদ্রিক মাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হুমকি। তুলনামূলক কম খরচে সমুদ্রপথ, বন্দর এবং নৌঘাঁটির প্রবেশপথ বিপজ্জনক করে তুলতে পারে এই ধরনের মাইন। তাই সেগুলি শনাক্ত ও সরিয়ে ফেলার ক্ষমতা একটি আধুনিক নৌবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ভারতের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বেশি। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তার গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। তাই আন্ডারওয়াটার রোবোটিক্স, স্বয়ংক্রিয় সামুদ্রিক ব্যবস্থা, বন্দর সুরক্ষা, জলের নিচের পরিকাঠামোর নিরাপত্তা এবং মেরিন ডিজেল ইঞ্জিন—বিভিন্ন ক্ষেত্রেও দুই দেশ সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।

    বছরে ১০ কোটি রাউন্ড গোলাবারুদ তৈরির পরিকল্পনা

    প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আরও বড় পদক্ষেপ হতে পারে বেলজিয়ামের লাক্রোয়া এবং ভারতের টেম্বো ক্লাসিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর চুক্তি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভারতে একটি নতুন উৎপাদন লাইন তৈরি করা হবে। সেখানে বছরে প্রায় ১০ কোটি রাউন্ড গোলাবারুদ তৈরির প্রস্তাব রয়েছে।

    প্রকল্পটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি ইউরো, অর্থাৎ প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত কারখানায় দুই ধরনের গোলাবারুদের জন্য সম্পূর্ণ উৎপাদন লাইন থাকবে। পাশাপাশি আরও দুই ধরনের ক্যালিবারের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও টুলিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ ও কারখানা স্থাপনের কাজ ২০২৮ ও ২০২৯ সালে করা হবে।

    এই প্রকল্প সফল হলে ভারতে সামরিক গোলাবারুদের বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে বিদেশি প্রযুক্তি ও ভারতীয় উৎপাদন পরিকাঠামোর সমন্বয়ের একটি বড় উদাহরণ তৈরি হবে।

    ড্রোন ও কাউন্টার-ড্রোনেও নজর

    আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে মধ্যপ্রাচ্য—বিভিন্ন সংঘাতে সস্তা ও ছোট ড্রোন থেকে শুরু করে উন্নত স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা যুদ্ধক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলেছে। ফলে ভারতও ড্রোন এবং কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তিকে প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে। এই ক্ষেত্রেও বেলজিয়ামের এফএন হার্স্টাল এবং কল্যাণী স্ট্র্যাটেজিক সিস্টেমস ভারতে যৌথ উৎপাদন কেন্দ্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে।

    প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় থাকতে পারে—

    • ● নজরদারি ড্রোন
    • ● কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তি
    • ● স্বয়ংক্রিয় প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম
    • ● উন্নত সেন্সর ও ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ব্যবস্থা

    অর্থাৎ, দুই দেশের সহযোগিতা শুধু প্রচলিত অস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং নতুন প্রজন্মের স্বয়ংক্রিয় ও মানবহীন যুদ্ধপ্রযুক্তির দিকেও বিস্তৃত হচ্ছে।

    শুধু অস্ত্র কেনা নয়, প্রযুক্তি তৈরি ও উৎপাদনেও জোর

    ভারত-বেলজিয়াম প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক সম্ভবত এখানেই। ভারত এখন বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে শুধু প্রস্তুত অস্ত্র বা সরঞ্জাম কেনার পরিবর্তে প্রযুক্তি হস্তান্তর, যৌথ উন্নয়ন এবং দেশীয় উৎপাদনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

    জোরাওয়ারের টারেট, ৭০ মিলিমিটার রকেট, গোলাবারুদ উৎপাদন, মাইন প্রতিরোধ প্রযুক্তি এবং ড্রোন-কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভারতীয় সংস্থাগুলিকে অংশীদার করা হচ্ছে।

    এর ফলে একদিকে বিদেশি সংস্থার উন্নত প্রযুক্তি ভারতে আসবে, অন্যদিকে ভারতীয় সংস্থাগুলি উৎপাদন, পরীক্ষা, সংযুক্তিকরণ এবং ভবিষ্যতে প্রযুক্তির আরও উন্নয়নে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে।

    সামরিক সহযোগিতার জন্য সরকারি কাঠামোও তৈরি

    শুধু শিল্পক্ষেত্রেই নয়, দুই দেশের সরকারও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে একটি লেটার অব ইনটেন্ট স্বাক্ষর করেছে।

    এর আওতায় রয়েছে—

    • ● সামরিক পর্যায়ে পারস্পরিক আদানপ্রদান
    • ● আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ
    • ● যৌথ সামরিক মহড়া
    • ● প্রতিরক্ষা গবেষণায় সহযোগিতা
    • ● সামুদ্রিক নিরাপত্তায় সমন্বয়

    পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বেশি শিল্প সংস্থাকে এই অংশীদারিত্বে যুক্ত করা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ভারত-বেলজিয়াম প্রতিরক্ষা চুক্তি?

    ভারতের জন্য এই সহযোগিতার গুরুত্ব তিনটি স্তরে দেখা যায়। প্রথমত, প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের দেশীয় উৎপাদন বাড়বে। দ্বিতীয়ত, বিদেশি প্রযুক্তির সঙ্গে ভারতীয় শিল্পের সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে। তৃতীয়ত, দেশীয় উৎপাদন বাড়লে ভবিষ্যতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা পণ্য বিদেশে রফতানির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

    বিশেষ করে ড্রোন, কাউন্টার-ড্রোন, আন্ডারওয়াটার রোবোটিক্স এবং উন্নত সেন্সরের মতো প্রযুক্তি ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সেই জায়গায় বেলজিয়ামের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ভারতের বৃহৎ উৎপাদন পরিকাঠামো একসঙ্গে কাজ করলে দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প-ইকোসিস্টেম তৈরি হতে পারে।

    অর্থাৎ, ভারত-বেলজিয়াম প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বার্তা শুধু নতুন অস্ত্র কেনা নয়—‘বিদেশি প্রযুক্তি + ভারতীয় উৎপাদন + যৌথ উন্নয়ন’-এর মাধ্যমে আগামী দিনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শক্তি গড়ে তোলা।

  • Chocolate Made India Gate: মোদির কাছে পৌঁছনোর আগেই ভেঙে গেল চকোলেটের ‘ইন্ডিয়া গেট’! আবার পাঠাবে বেলজিয়াম

    Chocolate Made India Gate: মোদির কাছে পৌঁছনোর আগেই ভেঙে গেল চকোলেটের ‘ইন্ডিয়া গেট’! আবার পাঠাবে বেলজিয়াম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার নিয়ে এসেছিলেন এক অভিনব উপহার—পুরোটাই বেলজিয়ান চকোলেট (India Gate in Chocolate) দিয়ে তৈরি ইন্ডিয়া গেটের প্রতিকৃতি। কিন্তু ভারতে পৌঁছনোর আগেই সেই ‘মিষ্টি উপহার’-এ ঘটে বিপত্তি। দীর্ঘ যাত্রার ধকল সামলাতে না পেরে ভেঙে যায় চকোলেটের তৈরি ইন্ডিয়া গেট। শুক্রবার বেলজিয়ামের দূতাবাসের তরফে সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ ভেঙে যাওয়া চকোলেটের ভাস্কর্যের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। দূতাবাস জানায়, প্রধানমন্ত্রী ডি ওয়েভার এই বিশেষ উপহারটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যাত্রাপথেই সেটি ভেঙে যায়। দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়, উপহারটি ভেঙে গেলেও তা প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে ডি ওয়েভার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বেলজিয়ামে এর একটি ‘ব্যাক-আপ’ প্রতিকৃতিও রয়েছে। ফলে নতুন করে তৈরি করে সেটি ভারতে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    ‘কূটনীতির জন্য চকোলেট দারুণ, তবে যাত্রার জন্য নয়’

    বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে এই অভিনব উপহারের কথা জানান ডি ওয়েভার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উপযুক্ত একটি উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। সেই কারণেই বিশ্বের অন্যতম সেরা বেলজিয়ান চকোলেট দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল ইন্ডিয়া গেটের প্রতিকৃতি। তবে মজার ছলে ডি ওয়েভার বলেন, “আসল ইন্ডিয়া গেট প্রায় এক শতাব্দী ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু তার চকোলেট সংস্করণটি বেলজিয়াম থেকে ভারতে আসার পথটুকুও টিকতে পারল না।” এরপরই তাঁর রসিক মন্তব্য, “কূটনীতির জন্য চকোলেট দারুণ, কিন্তু কূটনৈতিক যাত্রার জন্য যে খুব একটা ভালো নয়, তা আমরা বুঝতে পেরেছি।” তবে উপহারটি শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী মোদির হাতে তুলে দেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী ডি ওয়েভার। তিনি জানান, বেলজিয়ামে এর আরেকটি প্রতিকৃতি প্রস্তুত রয়েছে এবং যে কোনওভাবে সেটি অক্ষত অবস্থায় মোদির কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য।

    কেন বেছে নেওয়া হল ইন্ডিয়া গেট?

    চকোলেট দিয়ে ইন্ডিয়া গেট তৈরির সিদ্ধান্তের পিছনেও রয়েছে গভীর ঐতিহাসিক তাৎপর্য। ডি ওয়েভারের কথায়, ইন্ডিয়া গেট ভারত ও বেলজিয়ামের অতীতের যৌথ ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের প্রতীক। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্ল্যান্ডার্স ফিল্ডসে বহু ভারতীয় সেনা যুদ্ধ করেছিলেন এবং প্রাণ দিয়েছিলেন। সেই ভারতীয় সৈনিকদের সাহস ও আত্মত্যাগের স্মৃতিও বহন করে এই উপহার। ডি ওয়েভার বলেন, এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে ফ্ল্যান্ডার্সে লড়াই করা ভারতীয় সেনাদের সাহস ও আত্মত্যাগ বেলজিয়াম এখনও ভোলেনি। তাঁদের সেই অবদান দুই দেশেরই যৌথ ইতিহাসের অংশ। তাঁর মতে, এই স্মৃতি আরও একবার মনে করিয়ে দেয়—শান্তি কখনওই নিশ্চিত বা চিরস্থায়ী ধরে নেওয়া যায় না। ফলে শেষ পর্যন্ত চকোলেটের ইন্ডিয়া গেট ভেঙে গেলেও, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ভারত-বেলজিয়ামের বন্ধুত্ব, ইতিহাস এবং কূটনৈতিক বার্তাটি অটুটই রয়ে গেল।

LinkedIn
Share