Blog

  • India Indonesia Ties: নতুন উচ্চতায় ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক! ব্রহ্মোস ও অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত জাকার্তার

    India Indonesia Ties: নতুন উচ্চতায় ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক! ব্রহ্মোস ও অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত জাকার্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন উচ্চতায় পৌঁছল ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ক (India Indonesia Ties)। দু দিনের বাণিজ্যিক সফরে ইন্দোনেশিয়া (BrahMos Deal)গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সফরে প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals), প্রযুক্তি, ডিজিটাল সংযোগ, সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) এবং শিক্ষা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশ একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, ইন্দোনেশিয়ার ভারতের তৈরি ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং অ্যাস্ট্রা বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত।

    ব্রহ্মোস নিয়ে চুক্তি

    ইন্দোনেশিয়া ভারত-রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল সিস্টেম কিনতে প্রায় ৬৩০ মিলিয়ন ডলারের বড় চুক্তি করেছে। ফিলিপিন্সের পর দ্বিতীয় এশিয়া মহাদেশের দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া এই অত্যাধুনিক অস্ত্র সংগ্রহ করল। কূটনীতিকদের একাংশের মতে পাকিস্তান, চিন এবং বাংলাদেশকে আটকাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম দেশের সঙ্গে এই কৌশলগত সম্পর্ক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বৈঠকে উভয় নেতা দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার অঙ্গীকার করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “এই চুক্তি শুধু অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় নয়, বরং আমাদের দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাস ও নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রতীক।” প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোও এই চুক্তিকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির মাইলফলক বলে অভিহিত করেন। ব্রহ্মোস চুক্তির আওতায় ভারতের ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেস ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে এবং ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড (বিডিএল) বেসরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থা রিপাবলিকর্পের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই মিসাইল সিস্টেম ইন্দোনেশিয়ার উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ও সমুদ্রসীমা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে। সুপারসনিক গতির এই ক্রুজ মিসাইল সমুদ্র ও স্থল উভয় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ইন্দোনেশিয়া এর আগে ব্রহ্মোসের কিছু সংস্করণ কিনলেও এবারের চুক্তি আরও বড় আকারের এবং অতিরিক্ত ব্যাটারি সংযোজনসহ।

    ক্ষেপণাস্ত্র ‘অস্ত্র’ নিয়ে আশ্বাস

    একই বৈঠকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য অস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র ‘অস্ত্র’ (Astra) নিয়ে। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই অত্যাধুনিক মিসাইল ইন্দোনেশিয়ার বিমানবাহিনীর সু-৩০ ফাইটার জেটে যুক্ত করা হবে। এর ফলে ইন্দোনেশিয়ার বিমান বাহিনীর আকাশ যুদ্ধের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। অস্ত্র মিসাইল দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম এবং আধুনিক যুদ্ধবিমানের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। দুই দেশের মধ্যে এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মুখে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলছে। ইন্দোনেশিয়া এই অঞ্চলের বৃহত্তম দেশ এবং তার সমুদ্রসীমা বিশাল। ব্রহ্মোস ও অস্ত্রের মতো অস্ত্র সংগ্রহ তাদের নৌ ও বিমান শক্তিকে আরও দুর্ভেদ্য করে তুলবে।

    নতুন যুগের সূচনা

    মঙ্গলবার জাকার্তার মেরদেকা প্রাসাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Jakarta) এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর বৈঠকের পর এই ঘোষণা করা হয়। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে তিন দেশের সফরের প্রথম পর্যায় হিসেবে ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এরপর তিনি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফর করবেন। যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “২০১৮ সালে গড়ে ওঠা ভারত-ইন্দোনেশিয়া সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব আজ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। উন্নয়ন, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও শিক্ষাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমি নিশ্চিত, ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কের এক নতুন স্বর্ণযুগের সূচনা হল।”

    সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে চুক্তি

    প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার কোস্ট গার্ড ভারত মহাসাগরে যৌথভাবে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে কাজ করবে। দুই দেশই একটি মুক্ত, উন্মুক্ত ও আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “ইন্দো-প্যাসিফিক নিয়ে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে। ভারত সবসময়ই আসিয়ান (ASEAN)-এর কেন্দ্রীয় ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।” অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো বলেন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া এমন একটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল চায়, যা হবে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক।

    গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে সিদ্ধান্ত

    বৈঠকে প্রতিরক্ষার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, কৃষি, স্বাস্থ্য, টেলিকম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও উদ্ভাবন, নির্বাচন পরিচালনা এবং মহাকাশ সহযোগিতা-সহ প্রায় এক ডজন ক্ষেত্রে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত হল ক্রিটিক্যাল মিনারেলস নিয়ে অংশীদারিত্ব। ভারত ইন্দোনেশিয়ার স্টিল, নিকেল এবং রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ করবে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলগত খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

    সাবাং বন্দরের উন্নয়ন

    এছাড়া মালাক্কা প্রণালীর প্রবেশমুখে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাবাং বন্দর যৌথভাবে উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশ। ভারতের গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের কাছাকাছি অবস্থিত এই বন্দর ভবিষ্যতে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সামুদ্রিক যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ব্লু ইকোনমি, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং বন্দর উন্নয়নেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    ইন্দোনেশিয়ায় ইউপিআই

    দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (IIM) বেঙ্গালুরু ইন্দোনেশিয়ায় তাদের একটি ক্যাম্পাস স্থাপন করবে। পাশাপাশি ভারতের ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (UPI)-কে ইন্দোনেশিয়ার ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে, যাতে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা ও পর্যটকদের লেনদেন আরও সহজ হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “ভারতের ইউপিআই ইন্দোনেশিয়ার পেমেন্ট সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে। এর ফলে ব্যবসা করা যেমন সহজ হবে, তেমনই ভ্রমণকারীদের জন্যও আর্থিক লেনদেন অনেক সুবিধাজনক হবে।”

    পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

    বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে ভারত মনে করে, সংলাপ ও কূটনীতির গুরুত্ব আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় বেশি। ফিলিস্তিন ইস্যুতে ভারত এখনও দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান (Two-State Solution) এবং স্থায়ী শান্তির পক্ষে তার অবস্থান বজায় রেখেছে।” ভারতীয় কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফরে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সংক্রান্ত চুক্তিগুলি শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই আরও মজবুত করবে না, বরং সমগ্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি এবং প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

     

     

     

     

  • Sebashray Medicine Scam: মাটি খুঁড়ে উদ্ধার কোটি টাকার ওষুধ! ‘সেবাশ্রয়’ ঘিরে আরও বিপাকে অভিষেক

    Sebashray Medicine Scam: মাটি খুঁড়ে উদ্ধার কোটি টাকার ওষুধ! ‘সেবাশ্রয়’ ঘিরে আরও বিপাকে অভিষেক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ ‘ভাইপো’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে পরিচালিত ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পকে ঘিরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হল। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্প নিয়ে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তারই মধ্যে এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার পারুলিয়া কোস্টাল থানায় নতুন করে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)। অভিযোগে শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন, তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী, প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি, তৎকালীন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক এবং স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় দায়ের হওয়া এই অভিযোগে বিজেপি নেতার দাবি, ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পের নামে ওষুধ কেনা, সংরক্ষণ এবং ব্যবহারে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ ওষুধের উৎস, ব্যবহার এবং কেন সেগুলি মাটির নীচে চাপা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে।

    মাটি খুঁড়ে ওষুধ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই নতুন অভিযোগ

    অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১০ জুন ডায়মন্ড হারবারের সরিষা-হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা মাটি খুঁড়ে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করেন। পরে পারুলিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করলেও, অভিযোগ অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও পৃথক মামলা রুজু করা হয়নি। বিজেপির অভিযোগ, ওই উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলির সঙ্গে ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পের সরাসরি যোগ রয়েছে। তাই পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসতে পারে।

    কার কার বিরুদ্ধে অভিযোগ?

    নতুন অভিযোগে প্রথমেই নাম রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁকে প্রকল্পের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী সুমিত রায়, অয়ন ঘোষ দস্তিদার, জাহাঙ্গির খান, শামিম আহমেদ মোল্লা, গৌতম অধিকারী, মেহবুব গায়েন-সহ একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে অভিযোগপত্রে। এছাড়াও তৎকালীন জেলাশাসক এবং স্বাস্থ্য দফতরের কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে।

    কী কী অভিযোগ তুলেছে বিজেপি?

    অভিজিৎ দাস ববির অভিযোগ, সরকারি ও জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্য শিবিরের নামে বিপুল পরিমাণ ওষুধ খোলা বাজার থেকে কেনা হয়েছিল কি না, সেই প্রক্রিয়ায় কোনও আর্থিক অনিয়ম বা তছরুপ হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোটি কোটি টাকার ওষুধ কী কারণে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, বিষয়টি শুধুমাত্র ওষুধ সংরক্ষণের গাফিলতি নয়, বরং এর সঙ্গে ওষুধ পাচার বা অন্য কোনও বেআইনি আর্থিক লেনদেন জড়িত থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে পুলিশের কাছে।

    মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নিয়েও প্রশ্ন

    বিজেপি নেতার দাবি, উদ্ধার হওয়া ওষুধের মধ্যে কিছু ওষুধের মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছিল, আবার কিছু ওষুধের মেয়াদ তখনও বাকি ছিল। তাঁর অভিযোগ, এর ফলে প্রশ্ন উঠছে, ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পে রোগীদের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও দেওয়া হয়েছিল কি না। এছাড়াও তিনি দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া কিছু ওষুধের বাজারদর এবং সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য (MRP)-এর মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যবধান ছিল। তাঁর অভিযোগ, যে ওষুধের প্রকৃত বাজারমূল্য তুলনামূলকভাবে কম, তার এমআরপি অনেক বেশি দেখানো হয়েছে। এ ধরনের ওষুধ স্থানীয় সংস্থার তৈরি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় বা অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে কি না, সেই বিষয়েও তদন্তের দাবি তুলেছেন।

    বিজেপি নেতার দাবি

    অভিজিৎ দাস ববির বক্তব্য, কারা এই বিপুল পরিমাণ ওষুধ মাটির নীচে চাপা দিয়েছিল, তাদের পরিচয় প্রকাশ হওয়া প্রয়োজন। তাঁর দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর এমন কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে কোটি কোটি টাকার ওষুধ গোপনে মাটির নীচে চাপা দিতে হল? তাঁর মতে, এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিল এবং তাদের ভূমিকা কী, তা তদন্ত করলেই প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।

    এখনও দলের প্রতিক্রিয়া মেলেনি

    এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি পুলিশের তরফেও নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করা হবে, সে সম্পর্কেও এখনও কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত এগোলে এই ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।

  • New Delhi Terror Module: দিল্লিতে পাক মদতপুষ্ট দুই জঙ্গি মডিউল ভেঙে দিল পুলিশ, গ্রেফতার ৬

    New Delhi Terror Module: দিল্লিতে পাক মদতপুষ্ট দুই জঙ্গি মডিউল ভেঙে দিল পুলিশ, গ্রেফতার ৬

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানী দিল্লিতে (New Delhi Terror Module) পাকিস্তান-সমর্থিত দুই পৃথক জঙ্গি মডিউলের হদিশ পেল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। এই ঘটনায় মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি হ্যান্ডলার শাহজাদ ভাট্টির নির্দেশে কাজ করছিল। একটি মডিউলের লক্ষ্য ছিল দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা বা পুলিশ প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো, অন্যটি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অস্ত্র পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ঘটনার তদন্ত চলছে। ধৃতদের জেরা করে পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক এবং ভারতে তাদের সহযোগীদের সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

    আইএসআই-এর প্রচ্ছন্ন মদতে চলত কাজ

    দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার প্রমোদ সিং কুশওয়াহ জানান, প্রথম মডিউলটি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর হ্যান্ডলার রানা হুনাইনের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছিল। রানা হুনাইন শাহজাদ ভাট্টির ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলেও দাবি পুলিশের। এই মডিউলকে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা পুলিশ ভবনে পেট্রোল বোমা হামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এই মামলায় বিজয় ঘাট এলাকা থেকে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে তিনটি পেট্রোল বোমা এবং ২,০০০ টাকা উদ্ধার হয়েছে। ধৃতরা হল উত্তরপ্রদেশের মুজফ্‌ফরনগরের বাসিন্দা ২৪ বছরের দানিশ ওরফে চাঁদ মিয়া এবং ২০ বছরের সালমান। পুলিশের দাবি, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দানিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে রানা হুনাইনের সংস্পর্শে আসে। তাকে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও পুলিশ প্রতিষ্ঠানের রেকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই কাজ সম্পন্ন করলে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। দানিশের বন্ধু সালমানকে হামলার ভিডিও ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাকেও ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি।

    অমৃতসর থেকে অস্ত্রের চালান সংগ্রহ

    অন্যদিকে, দ্বিতীয় মডিউলটি সীমান্ত (Pak Based Terror Module) পেরিয়ে পাকিস্তান থেকে ড্রোনের মাধ্যমে পাঠানো অস্ত্র ভারতে পৌঁছে দেওয়ার কাজে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ। এই চক্রটি আইএসআই-এর আরেক হ্যান্ডলার হাসান গুজ্জরের নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছিল। গুজ্জরও শাহজাদ ভাট্টির সহযোগী বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই মামলায় কালিন্দি কুঞ্জ এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে তিনটি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি পাঞ্জাবের অমৃতসর থেকে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম তায়্যাব (২৭), জুবায়ের খান (২৪), আলি ফজল (২৬) এবং মালকিয়াত সিং (৩৬)। তদন্তে জানা গিয়েছে, তায়্যাবও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে হাসান গুজ্জরের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে। গুজ্জরের নির্দেশে জুবায়ের খান অমৃতসর থেকে অস্ত্রের চালান সংগ্রহ করে এবং পরে তা আলি ফজলের হাতে তুলে দেয়। অভিযোগ, দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশে ক্রেতাদের কাছে সেই অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা ছিল। এছাড়া পাকিস্তান থেকে পাঠানো অর্থ ভারতে জঙ্গি কার্যকলাপ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলেও দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ।

  • Suvendu Adhikari: নবান্নে সারলেন সিটের সঙ্গে জরুরি বৈঠক, পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: নবান্নে সারলেন সিটের সঙ্গে জরুরি বৈঠক, পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের আবহের মধ্যেই মঙ্গলবার বারুইপুর সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি তদন্তের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি।

    বারুইপুর নিয়ে নবান্নে জরুরি বৈঠক শুভেন্দুর

    মুখ্যমন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুর রওনা হওয়ার আগে মঙ্গলবার সকালে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, এখনও কী কী তথ্য সামনে এসেছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে— সেই সমস্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরপর বারুইপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর আগেই পৌঁছল বিজেপির প্রতিনিধি দল

    মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে মঙ্গলবার সকালে নির্যাতিতার বাড়িতে পৌঁছন বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল। দলে ছিলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং বিজেপি মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রী ফাল্গুনী পাত্র। তাঁরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর অগ্নিমিত্রা পাল দাবি করেন, আগের সরকার আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয়নি। তাঁর কথায়, বর্তমান সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করেছে এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্যাতিতার পরিবার সরকারের ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্ট এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য, ‘‘আমরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আসিনি। এই কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’’ একইসঙ্গে লকেট চট্টোপাধ্যায়ও আশ্বাস দেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।

    তদন্তে গতি, গণধর্ষণের ধারাও যুক্ত

    বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনায় খুনের পাশাপাশি গণধর্ষণের ধারাও যুক্ত করেছে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীরা ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অপরাধের প্রকৃত উদ্দেশ্য, ঘটনার পরিকল্পনা এবং অন্য কারও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। এখন পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম আনন্দ সর্দার, প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দার। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে ইতিমধ্যেই আদালতে পেশ করে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তৃতীয় অভিযুক্তকে মঙ্গলবার আদালতে তোলা হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মোট চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

    তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের প্রতিনিধিরাও গেলেন

    মঙ্গলবার সকালে বিজেপির প্রতিনিধি দল বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে পৌঁছয় তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া স্থানীয় সাংসদ সায়নী ঘোষ এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ একাধিক নেতা। এলাকায় প্রবেশকে কেন্দ্র করে প্রথমে পুলিশের সঙ্গে প্রতিনিধি দলের সদস্যদের বচসা বাধে। পরে স্থানীয় সাংসদ হওয়ার কারণে শুধুমাত্র সায়নী ঘোষকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়। তিনি পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান এবং প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

    রবিবার থেকেই উত্তপ্ত বারুইপুর

    গত রবিবার স্থানীয় একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পর থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় বারুইপুরে। দফায় দফায় বিক্ষোভে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। সেই উত্তেজনার মধ্যেই কিশোরীর খুনের সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যুও হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এই ঘটনার পর থেকেই পুলিশ ও এসআইটি যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

    মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

    সোমবারই শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, নির্যাতিতার পরিবারের সমস্ত ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর বক্তব্য, “নির্যাতিতার বাবা যা যা চেয়েছেন, সবটাই করা হবে। পরিবার আমাদের উপর আস্থা রেখেছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” মঙ্গলবারের সফরে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করতে পারেন বলেই প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

  • Baaz Battalions: ভবিষ্যতের ড্রোন যুদ্ধের জন্য বিশেষ ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’ গড়ছে ভারতীয় সেনা, কী বিশেষত্ব?

    Baaz Battalions: ভবিষ্যতের ড্রোন যুদ্ধের জন্য বিশেষ ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’ গড়ছে ভারতীয় সেনা, কী বিশেষত্ব?

    সুশান্ত দাস

    ভবিষ্যতের যুদ্ধ যে ড্রোনকেন্দ্রিক হতে চলেছে, সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই বড় পদক্ষেপ করল ভারতীয় সেনাবাহিনী। এবার সেনার বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন অপারেশনকে আরও শক্তিশালী করতে গড়ে তোলা হচ্ছে বিশেষ ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’ (Baaz Battalions)। এই নতুন ইউনিটের মূল কাজ হবে দীর্ঘক্ষণ আকাশপথে নজরদারি, নির্ভুল লক্ষ্যভেদ, লইটারিং মিউনিশন পরিচালনা এবং আধুনিক ড্রোন যুদ্ধ পরিচালনা (Indian Army Drone Warfare)। সদ্যপ্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী এই উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছেন। অপারেশন সিঁদুর-এর অভিজ্ঞতা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক সংঘর্ষ বিশ্লেষণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সেনা সূত্রের দাবি। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এখন শুধু স্থলসেনাই নয়, আকাশে থাকা মানববিহীন ড্রোনও যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।

    কেন আলাদা ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’?

    এতদিন ভারতীয় সেনার বিভিন্ন ইনফ্যান্ট্রি, আর্টিলারি বা অন্যান্য ইউনিটের সঙ্গে ছোট ড্রোন ডিটাচমেন্ট যুক্ত থাকত। তাদের প্রধান কাজ ছিল নজরদারি, শত্রুপক্ষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং আর্টিলারিকে লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করা। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, ড্রোনের ব্যবহার এখন অনেক বেশি বিস্তৃত।

    বর্তমানে ড্রোনের মাধ্যমে—

    • ● শত্রুপক্ষের গভীরে নজরদারি চালানো যায়।
    • ● ট্যাঙ্ক, বাঙ্কার ও আর্টিলারি ধ্বংসে নির্ভুল হামলা চালানো সম্ভব।
    • ● লয়টারিং মিউনিশন বা কামিকাজে (সুইসাইড ড্রোন) হিসেবে সরাসরি আঘাত হানা যায়।
    • ● একসঙ্গে বহু ড্রোন ব্যবহার করে সোয়ার্ম অ্যাটাক (Swarm Attack) চালানো যায়।
    • ● হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন (Battle Damage Assessment) করা সম্ভব।
    • ● ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে শত্রুর যোগাযোগ ব্যবস্থা শনাক্ত ও ব্যাহত করা যায়।

    এই বহুমুখী দায়িত্ব পালনের জন্যই শুধুমাত্র ড্রোন অপারেশনের উদ্দেশ্যে পৃথক, বিশেষ প্রশিক্ষিত এবং স্বাধীন ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

    কী কাজ করবে বাজ ব্যাটালিয়ন?

    সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন বাজ ব্যাটালিয়ন (Baaz Battalions) আধুনিক ড্রোন যুদ্ধের প্রায় সমস্ত ক্ষেত্রেই কাজ করবে।

    এই ইউনিটগুলির প্রধান দায়িত্বের মধ্যে থাকবে—

    • ● দীর্ঘমেয়াদি ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেল্যান্স ও রিকনেস্যান্স (ISR) পরিচালনা।
    • ● দূরপাল্লার আকাশ নজরদারি।
    • ● নির্ভুল ড্রোন হামলা।
    • ● লয়টারিং মিউনিশন পরিচালনা।
    • ● আর্টিলারি ও ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয়।
    • ● ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ও কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থার সঙ্গে যৌথ অভিযান।
    • ● আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা—উভয় ধরনের অভিযানে পদাতিক বাহিনীকে সহায়তা।

    প্রতিটি ব্যাটালিয়নে এক ধরনের নয়, বরং একাধিক শ্রেণির মানববিহীন আকাশযান (UAV) মোতায়েন করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

    ‘অশ্বিনী’ প্রকল্পের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?

    অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সেনার অশ্বিনী (Ashini) প্রকল্প থাকতেই আবার নতুন ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’-এর প্রয়োজন কেন? আসলে দুটি উদ্যোগের উদ্দেশ্য এক নয়। অশ্বিনী প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নের কাছে ছোট আকারের ট্যাকটিক্যাল ড্রোন পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এগুলি মূলত সীমিত দূরত্বে নজরদারি, শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হয়।

    অন্যদিকে, বাজ ব্যাটালিয়ন (Baaz Battalions) হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও বিশেষায়িত ড্রোন যুদ্ধ ইউনিট। এগুলির কাজ শুধুমাত্র নজরদারিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, দীর্ঘপাল্লার অপারেশন, নির্ভুল হামলা, লয়টারিং মিউনিশন ব্যবহার এবং বৃহৎ পরিসরে ড্রোন যুদ্ধ পরিচালনাই হবে মূল লক্ষ্য। সহজভাবে বললে, অশ্বিনী যেখানে সামনের সারির সেনাদের হাতে ‘চোখ’ তুলে দেয়, সেখানে Baaz Battalions ভারতীয় সেনার পূর্ণাঙ্গ ড্রোন যুদ্ধক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি করা হচ্ছে।

    ভবিষ্যতের যুদ্ধের প্রস্তুতি

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, অপারেশন সিন্দুর-এর অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক সংঘর্ষের সাম্প্রতিক প্রবণতা ভারতীয় সেনাকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন আর কেবল সহায়ক প্রযুক্তি নয়, বরং যুদ্ধের অন্যতম নির্ণায়ক অস্ত্র। সেই কারণেই ড্রোনকে শুধুমাত্র নজরদারির মাধ্যম হিসেবে না দেখে, গোয়েন্দা অভিযান, নির্ভুল আঘাত, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং সমন্বিত যুদ্ধ পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসছে ভারতীয় সেনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’ গঠন সেই দীর্ঘমেয়াদি সামরিক রূপান্তরেরই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

  • PM Modi on Shyama Prasad: ‘অনন্য জাতি-নির্মাতা, তাঁর জীবন জন আন্দোলনের প্রেরণা’, শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে বিদেশ থেকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন মোদির

    PM Modi on Shyama Prasad: ‘অনন্য জাতি-নির্মাতা, তাঁর জীবন জন আন্দোলনের প্রেরণা’, শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে বিদেশ থেকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রবাদী সরকার হলে রাষ্ট্রনায়করা সম্মান পায়। তাদের বিচারধারা দর্শন অনুযায়ী সরকার চালিত হয়। কলকাতায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই অভিমত প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মিলন মেলায় সোমবার সাড়ম্বরে পালিত হয় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (PM Modi on Shyama Prasad) জন্মজয়ন্তী। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকীতে আজ তাঁকে স্মরণ করছে গোটা দেশ। দেশের চারদিকে যে বিচারধারা ছড়িয়ে পড়েছে, তার বীজকে আজ স্মরণ করছে দেশ।”

    বাংলায় শ্যামপ্রসাদের জন্মদিন পালন

    বিজেপির প্রাণপুরুষ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। অথচ তাঁর রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেই এতদিন ধুমধাম করে বিজেপি শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিন পালন করতে পারেনি বলে অভিযোগ। বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পরে বিজেপির উদ্যোগে সরকারি ও দলগত ভাবে শ্যামাপ্রসাদের ১২৫তম জন্মদিবস উদযাপন ছিল নজরকাড়া। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিদেশ থেকে ভার্চুয়ালি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সশরীর এ দিন হাজির ছিলেন কলকাতায়। বাংলায় বিজেপি ক্ষমতা দখলের পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন এ রাজ্যে শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ ফুট উঁচু মূর্তি বসবে। একই সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিন ৬ জুলাইকে সরকারি ছুটি হিসেবেও ঘোষণা করেন তিনি। তার জন্য সোমবার কলকাতায় এসে বাং‍লার মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন শাহ। ইএম বাইপাসের ধারে মিলন মেলা প্রাঙ্গণে শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলে‍ন, ‘এ রাজ্যে বিজেপির সরকার তৈরির পরে আমি শুভেন্দুদাকে ফোন করে বলেছিলাম, শ্যামাপ্রসাদের একটি মূর্তি বানানোর জন্য এবং তাঁর জন্মদিনকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করার জন্য। মুখ্যমন্ত্রী কথা রেখেছেন।’

    বাংলাকে পাকিস্তান হতে দেয়নি

    সোমবারই ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড সফরে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ ভিডিয়ো বার্তায় তিনি বলেন, ‘৬ জুলাই জাতীয়তাবাদ এবং নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শে বিশ্বাসী কোটি কোটি দেশবাসীর কাছে বিশেষ একটি দিন। তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল পাণ্ডিত্য, জনসেবা এবং উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধের এক অসাধারণ মিশ্রণ। আধুনিক ভারতের খুব কম নেতার মধ্যেই এতগুলি গুণ একসঙ্গে দেখা যায়।’ প্রধানমন্ত্রীর সংযোজন, ‘শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ায় তাঁর যে দূরদর্শী ভাবনা ছিল, তা আজও আমাদের নতুন উদ্দীপনা জোগাচ্ছে। শ্রেষ্ঠ ভারতের যে স্বপ্ন শ্যামাপ্রসাদ দেখেছিলেন, আজ আমাদের কাঁধে তা পূরণ করার দায়িত্ব। বাংলাকে ভারত থেকে আলাদা করার চক্রান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু উনি জনমত তৈরি করেন, আন্দোলন করেন। পশ্চিমবঙ্গের পবিত্র ভূমি থেকে জাতীয়তাবাদের যে তুফান গোটা বাংলাকে পাকিস্তান হতে দেয়নি, সেই বিস্মৃত অধ্যায় আজ সবার সামনে তুলে ধরতে হবে।’ মোদির কথায়, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন একটি জন আন্দোলনের প্রেরণা যুগিয়েছে। ভারতে এক দার্শনিক আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে। জনসঙ্ঘ যে সময় তৈরি হয়, সেই সময় চারিদিকে কংগ্রেসের জয়জয়কার জনপ্রিয়তা ছিল। ভিন্ন ভাবধারার কোনও জায়গা ছিল না। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সেই প্রতিকূলতাকে চ্যালেঞ্জ করেই সংগঠন তৈরি করেছেন।

    ভারতের ঐক্য, মর্যাদা এবং অগ্রগতির জন্য নিবেদিত

    সমাজমাধ্যমে ‘ভারত কেশরী’ শ্যামাপ্রসাদের উদ্দেশে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনে জ্ঞানচর্চা, সাহস এবং জাতির সেবার প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের সংকল্প ছিল। তিনি ভারতের ঐক্য, মর্যাদা এবং অগ্রগতির জন্য নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন।’’ প্রয়াত জনসঙ্ঘ-প্রতিষ্ঠাতার অবদান সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র জুড়ে বিস্তৃত ছিল জানিয়ে মোদি লিখেছেন, ‘‘তিনি (শ্যামাপ্রসাদ) ছিলেন একজন অসাধারণ চিন্তাবিদ এবং শিক্ষাবিদ, যিনি উদ্ভাবনমুখী ও ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষাকে সমর্থন করেছিলেন। শিল্পমন্ত্রী হিসেবে তিনি শিল্পে স্বনির্ভরতার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ক্ষেত্র এবং তাঁর সম্পর্কিত জীবিকা যেন সমৃদ্ধ হয়, তা নিশ্চিত করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে দুর্ভিক্ষের সময় তাঁর মানবিক প্রচেষ্টা সঙ্কটাপন্ন মানুষের প্রতি তাঁর গভীর সহানুভূতির প্রতিফলন। সর্বোপরি, ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতার প্রতি তাঁর অটল অঙ্গীকার আজও অনুপ্রেরণার এক চিরস্থায়ী উৎস হয়ে রয়েছে। আমরা যখন একটি বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছি, তাঁর দূরদর্শিতা আমাদের পথকে আলোকিত করে চলেছে।’’

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর রহস্যমৃত্যু

    শ্যামাপ্রসাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কলকাতায় এসে ভারত ভাগের ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে নিশানা করলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে। তুললেন, শ্যামাপ্রসাদের ‘রহস্যমৃত্যু’র প্রসঙ্গও। সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববাংলা মেলা প্রাঙ্গণে শাহের বক্তৃতায় গোড়াতেই এসেছে নেহরুর মন্ত্রিসভা থেকে শ্যামাপ্রসাদের ইস্তফার ঘোষিত ও প্রত্যক্ষ কারণ— ১৯৫০ সালের এপ্রিল মাসে স্বাক্ষরিত ‘নেহেরু-লিয়াকত (পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী) চুক্তি’ বা ‘দিল্লি চুক্তি’। শাহ বলেন, ‘‘আমি সেই পদত্যাগপত্র দেখেছি। চুক্তিটি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় অধ্যয়ন করে বলেছিলেন যে, তাতে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বসবাসকারী হিন্দুদের কথা চিন্তাই করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘ভারতে থেকে যাওয়া মুসলমানদের কথা চিন্তা করা হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান, বাংলাদেশের হিন্দুদের কথা ভাবা হয়নি। এই চুক্তি একতরফা। তাই আমি ইস্তফা দিচ্ছি।’’ জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রসঙ্গ তুলে শাহের মন্তব্য, ‘‘শ্যামাপ্রসাদ যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেই স্বপ্নই পূরণ করছেন।’’ সেই সঙ্গে তাঁর প্রতিশ্রুতি, ‘‘ভারতের জমি থেকে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে বার করে ভারতকে পূর্ণ সুরক্ষিত বানাব।’’ নেহরুর জমানায় কাশ্মীরের জেলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘সন্দেহজনক মৃত্যু’ হয়েছিল জানিয়ে শাহ বলেন, ‘‘কিন্তু কংগ্রেস কোনও দিন তার তদন্ত করায়নি।’’

    মৃত্যুর ৬৩ বছর পরে শ্যামাপ্রসাদকে স্মরণ তাঁর রাজ্যের

    ৬৩ বছর পরে শ্যামাপ্রসাদের দলের সরকার সিএএ এনে হিন্দুদের নাগরিকত্ব দিচ্ছে জানিয়ে শাহ বলেন, ‘‘শুভেন্দু আমাদের রোজ বলছেন। তাঁকে বলছি, নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ যেটুকু বাকি আছে, তা-ও দ্রুত করে দেব।’’ মৃত্যুর ৬৩ বছর পরে শ্যামাপ্রসাদের নিজের রাজ্যে তাঁর স্মারক তৈরি হচ্ছে জানিয়ে শাহ সোমবার বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গকে আবার যিনি সমগ্র ভারতের প্রেরণাকেন্দ্র বানানোর কাজ শুরু করেছেন, আমার সেই মিত্র পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অনেক অভিনন্দন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দলের সরকার হল। তাঁর বিচারধারার সরকার হল। দেশভক্তদের সরকার হল। তাই শ্যামাপ্রসাদের নিজের রাজ্যে তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করা হচ্ছে।’’

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ইনস্টিটিউট

    সোমবার দুপুরে নিউ টাউনের ইকো পার্কে শ্যামাপ্রসাদের (Amit Shah on Shyama Prasad) মূর্তির ভিত্তিস্থাপন করেন শাহ। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি শুধু শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি প্রতিষ্ঠার ভূমিপুজো নয়। এটা সোনার বাংলার সঙ্কল্পকে বাস্তবায়িত করার ভূমিপুজো। শুভেন্দু অধিকারীকে অনেক অনেক অভিনন্দন। যেখানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত গবেষণা করার জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ইনস্টিটিউটও হবে।’ শাহের দাবি, শ্যামাপ্রসাদ এমন বীজ বপন করেছিলেন ভারতীয় জনসঙ্ঘের রূপে, যা ভারতের সব জাতীয়তাবাদী শক্তিকে একত্রিত করেছিল। তাঁর বপন করা বীজ আজ বটবৃক্ষের রূপ নিয়ে গোটা দেশকে ফল দিচ্ছে। এদিন ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতেও যান শাহ।

    শ্যামাপ্রসাদ মিউজিয়াম

    এর সূত্র ধরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘হুগলির জিরাটে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটেটি সরকার কিনে নিয়েছে। সেখানে মিউজিয়াম হবে। সূর্যকে যেমন চাপা দিয়ে রাখা যায় না, তেমনই শ্যামাপ্রসাদের আদর্শকেও চাপা দিয়ে রাখা যাবে না।’ বন্দে মাতরম রচনার ১৫০ বছর, শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ বছর জন্মদিবস এসেছে একই বছরে। শাহের কথায়, ‘এই ঘটনা বিধির বড় সঙ্কেত। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যে বন্দে মাতরমের রচনা করেছিলেন, তার মাধ্যমে ভারতের সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের ভিত তৈরির কাজ হয়েছিল। এর চেয়ে ভাল মণিকাঞ্চন যোগ কোথাও হয় না।’’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ হোক, অখণ্ড ভারতের সঙ্কল্প হোক, সব বিচারধারার একটাই গঙ্গোত্রী— শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

     

     

     

     

     

  • Shyama Prasad Mukherjee In Syllabus: স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, এবার বাংলার পাঠ্যসূচিতে জুড়ছেন শ্যামাপ্রসাদ, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    Shyama Prasad Mukherjee In Syllabus: স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, এবার বাংলার পাঠ্যসূচিতে জুড়ছেন শ্যামাপ্রসাদ, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার থেকে সিলেবাসেও শ্যামাপ্রসাদ! শিক্ষাব্যবস্থায় বড় বদল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। সোমবার ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তীতে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাংলার পাঠ্যসূচিতে জুড়ছেন শ্যামাপ্রসাদ (Shyama Prasad Mukherjee In Syllabus)।

    স্কুল স্তরের পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছেন ‘ভারত কেশরী’ তথা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shyama Prasad Mukherjee In Syllabus)। এদিন মিত্র ইনস্টিটিউশনে জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমনটাই ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)।

    সিলেবাসে শ্যামাপ্রসাদের (Shyama Prasad Mukherjee In Syllabus) কোন কোন অধ্যায়?

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বাংলার বর্তমান প্রজন্মকে রাজ্যের সঠিক ইতিহাস এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাঠ্যবইয়ে মূলত যে বিষয়গুলির উপর জোর দেওয়া হবে-

    • পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি ও ইতিহাস: ভারতের স্বাধীনতার প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গঠনে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’-এর প্রেক্ষাপট।
    • দেশপ্রেম ও অখণ্ড ভারত: ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাষ্ট্রপ্রেম এবং অখণ্ড ভারতের যে রাজনৈতিক ভাবনা, তা শিক্ষার্থীদের পড়ানো হবে।
    • শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাপ্রসারে উপাচার্য হিসেবে তাঁর যে অসামান্য অবদান ও কর্মজীবন, এবার থেকে তাও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে চর্চিত হবে।

    আর কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আরও বলেন, “ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অসীম রাষ্ট্রপ্রেম এবং পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের মূল স্রোতে ধরে রাখার যে ঐতিহাসিক ভূমিকা, তা বর্তমান প্রজন্মের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জানা জরুরি। এবার থেকে স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরেই তাঁর এই অবদান আনুষ্ঠানিকভাবে পড়ানো হবে।”

    মিত্র ইনস্টিটিউশনের জন্য অনুদান

    এদিন নিজের বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) স্মৃতিবিজড়িত স্কুল ‘মিত্র ইনস্টিটিউশন’-এর দুর্দশা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন “অতীতে এই ঐতিহ্যবাহী স্কুলের দিকে কেউ নজর দেয়নি”। এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে স্কুলের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা সরকারি অনুদানেরও ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    জিরাটে তৈরি হবে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি

    পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) আদি পৈতৃক ভিটে হুগলির জিরাটে একটি আধুনিক ও বৃহৎ লাইব্রেরি (গ্রন্থাগার) তৈরি করার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে গবেষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাঁর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আরও বেশি পড়াশোনা করার সুযোগ পাবেন, বলেই মনে করছেন তিনি।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই শিক্ষাব্যবস্থা ও সিলেবাসে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছিল। শুভেন্দু অধিকারীর এই মেগা ঘোষণার পর এটা স্পষ্ট যে, নতুন সরকার বাংলার জন্ম-ইতিহাস এবং শ্যামাপ্রসাদের অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কোমর বেঁধে নেমেছে।

  • PM Modi in Indonesia: ‘সোনালি অধ্যায়ের’ সূচনা! সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পেলেন মোদি, ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কে নতুন দিগন্ত

    PM Modi in Indonesia: ‘সোনালি অধ্যায়ের’ সূচনা! সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পেলেন মোদি, ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কে নতুন দিগন্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য, ব্লু ইকোনমি এবং প্রযুক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল নয়াদিল্লি ও জাকার্তা। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবয়ো সুবিয়ান্তোর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘সোনালি অধ্যায়’-এর সূচনা হল। তাঁর দাবি, এই নতুন অধ্যায় শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, ২১ শতকের বিশ্ব ও মানবতার জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। মোদির কথায়, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস যত বাড়ছে, ততই প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলে যাচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় জোর

    বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিনিময় কর্মসূচি, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ভারত মহাসাগরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশের কোস্ট গার্ড যৌথভাবে কাজ করবে। এর পাশাপাশি ব্লু ইকোনমি, বন্দর উন্নয়ন এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণেও একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

    মোদিকে ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান

    এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘বিনতাং আদিপূর্ণা মেডেল অব অনার’ প্রদান। সম্মান গ্রহণের পর মোদি বলেন, এই স্বীকৃতি তাঁর ব্যক্তিগত নয়, ১৪০ কোটিরও বেশি ভারতীয়র সম্মান। একই সঙ্গে এটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, ইন্দোনেশিয়া সরকার এবং সে দেশের জনগণের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

    ২০১৮ সালের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী

    মোদি জানান, ২০১৮ সালে গঠিত ভারত-ইন্দোনেশিয়ার কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ এখন আরও শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়েছে। উন্নয়ন, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে।

    স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও নতুন সহযোগিতা

    দুই দেশের আলোচনায় স্বাস্থ্য পরিষেবাও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারতের সাশ্রয়ী ও উন্নত মানের ওষুধ ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকদের কাছে আরও সহজলভ্য করা হবে। শুধু তাই নয়, ইন্দোনেশিয়ার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতেও ভারত সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, মিড-ডে মিল এবং গণবণ্টন ব্যবস্থার অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার

    দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব বৈঠকের শেষে প্রতিরক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ব্লু ইকোনমি, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও বাণিজ্য-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ককে আরও কৌশলগত গুরুত্ব দেবে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশের সমন্বয়কে নতুন মাত্রা দেবে।

  • Himanta Biswa Sarma: অসমে অসমীয়া-বাঙালি হিন্দু বিভাজন কমানোর দাবি, হিমন্তর বার্তা ঘিরে নয়া সমীকরণ

    Himanta Biswa Sarma: অসমে অসমীয়া-বাঙালি হিন্দু বিভাজন কমানোর দাবি, হিমন্তর বার্তা ঘিরে নয়া সমীকরণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসমের রাজনীতিতে বহু দশক ধরে অসমীয়া ও বাঙালি সম্প্রদায়ের সম্পর্ক ছিল সংবেদনশীল এবং বিতর্কিত। ভাষা, অভিবাসন, জনসংখ্যার পরিবর্তন, নাগরিকত্ব এবং কর্মসংস্থানকে ঘিরে একাধিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘাতের ফলে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার (Himanta Biswa Sarma) নেতৃত্বে সেই সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে বলেই দাবি রাজ্যের শাসক শিবিরের। বিশেষ করে বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তু এবং অনুপ্রবেশকারী মুসলিম অভিবাসীদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরার রাজনৈতিক বার্তা এই পরিবর্তনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবেই সামনে এসেছে।

    কী বলছে হিমন্তর সরকার (Himanta Biswa Sarma)

    সরকারের বক্তব্য, ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে পূর্ব পাকিস্তান বা পরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দুদের সঙ্গে অর্থনৈতিক কারণে সীমান্ত পেরিয়ে আসা বেআইনি অভিবাসীদের এক শ্রেণিতে ফেলা উচিত নয়। এই অবস্থানকে সামনে রেখেই গত কয়েক বছরে অসমে নাগরিকত্ব, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে রাজনৈতিক প্রচার চালানো হয়েছে। সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমে আইডিয়া এক্সচেঞ্জ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হিমন্ত সন্দেহভাজন ভোটারদের প্রসঙ্গে বলেন, “এখন বাঙালি হিন্দুদের সংখ্যা এক লাখেরও নীচে নেমে এসেছে। এক সময় এই সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে চার লাখ। ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে, এবং আমি মনে করি খুব শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।” তিনি এও বলেন, “আমাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে একজনও বাঙালি হিন্দু নেই। এটাই সবচেয়ে ভালো খবর। সবার আধার হয়েছে। আগে যেখানে সাড়ে চার লাখের মতো মানুষ ছিলেন, এখন তা এক লাখেরও নীচে নেমে এসেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধগুলির নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।”

    যা বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    এই অনুষ্ঠানেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এক সময় হিন্দু ও মুসলিম—দুই সম্প্রদায় মিলিয়ে এই সংখ্যা ছিল ১২ থেকে ১৪ লাখের মধ্যে। বর্তমানে তা কমে ৩.৫৪ লাখ হয়েছে এবং তার মধ্যে বাঙালি হিন্দুর সংখ্যা এক লাখেরও কম। তবে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (nrc) প্রকাশিত হলে প্রথমদিকে আবার কিছু মানুষের নাম বাদ পড়তে পারে। সেই পরিস্থিতিতে বাঙালি হিন্দুরা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় আবেদন করতে পারবেন। বিষয়টি কিছুটা জটিল হলেও, আমরা ধাপে ধাপে এর সমাধান করছি।” রাজ্য সরকারের অবস্থান অনুযায়ী, ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (caa) নাগরিকত্ব পাওয়ার একটি আইনি পথ তৈরি করেছে। সেই কারণেই বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুদের বিষয়টি বেআইনি অনুপ্রবেশের প্রশ্নের থেকে (Himanta Biswa Sarma) আলাদা করে দেখা উচিত বলেই দাবি সরকারের।

    নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ

    এই অবস্থানের পাশাপাশি অসম চুক্তিতে নির্ধারিত ২৪ মার্চ ১৯৭১-কে বেআইনি অনুপ্রবেশ চিহ্নিত করার গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা হিসেবেও বারবার তুলে ধরা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় নাগরিক পঞ্জির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরে যাঁরা প্রকৃত অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পৃথক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে অসমীয়া হিন্দু এবং বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস কমানোর চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। অসমের শাসক দল বিজেপির দাবি, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজনকে ব্যবহার করলেও, বর্তমানে সেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে এবং ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে তৈরি (Himanta Biswa Sarma) হয়েছে নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ।

    গলেছে অসমীয়া-বাঙালি হিন্দু সম্পর্কের বরফ

    এই পরিবর্তনের প্রতিফলন বিভিন্ন জনসভায়ও দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে পদ্ম শিবিরের তরফে। ২০২৫ সালের অগাস্টে শিলচরে হিমন্তর সভায় বিপুল জনসমাগম হয়েছিল। একইভাবে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে তাঁর একাধিক সভায়ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। শাসক শিবিরের মতে, অসমে ভাষাগত বিভাজনের পরিবর্তে হিন্দু সমাজের বৃহত্তর ঐক্যের বার্তাই এখন রাজনৈতিকভাবে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে নাগরিকত্ব, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে ভিন্নমতও রয়েছে। ফলে এই ইস্যু এখনও জাতীয় রাজনীতিতে বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে (Himanta Biswa Sarma)।

    অনুপ্রবেশকারী ও উদ্বাস্তুদের মধ্যে পার্থক্য

    প্রসঙ্গত, অনেক আগেই হিমন্ত অনুপ্রবেশকারী ও উদ্বাস্তুদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণে সোচ্চার হয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, হিন্দু বাঙালিরা, যাঁরা নিজেদের ‘ধর্ম’ রক্ষার জন্য পৈতৃক সম্পত্তি এবং শত শত বছরের বংশানুক্রমিক সম্পদ খুইয়েছিলেন, তাঁরা অবশেষে তাঁদের বহু-প্রত্যাশিত স্বীকৃতি পাচ্ছেন। অসমের মুখ্যমন্ত্রী বারবার আশ্বাস দিয়েছিলেন, কোনও হিন্দু বাঙালিকে ‘বিদেশি’ আখ্যা দেওয়া হবে না বা হয়রানির শিকার হতে হবে না। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, “হিন্দু বাঙালিদের বিদেশি হিসেবে সন্দেহ করার কোনও কারণ নেই, কারণ তাঁরা ১৯৭১ সালের আগেই এসেছেন। তাই অসমে সিএএর কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই।” ২০১৯ সালে অসমে যখন জাতীয় এনআরসির ত্রুটিপূর্ণ খসড়া প্রকাশিত হয়, এবং প্রায় ১২ লাখ হিন্দু বাঙালির নাম বাদ পড়ে তালিকা থেকে, তখনই হিমন্ত জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই প্রক্রিয়াটি ছিল ‘মৌলিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ’। নতুন করে এনআরসি করার ডাকও দিয়েছিলেন অসমের পদ্ম-মুখ্যমন্ত্রী (Himanta Biswa Sarma)।

     

LinkedIn
Share