Blog

  • Dharmatala Rally: আন্দোলনের নামে বর্বরতার বিরুদ্ধে ধর্মতলায় মহামিছিল, জাতীয় পতাকা হাতে রাজপথে ছাত্র-শিক্ষকরা

    Dharmatala Rally: আন্দোলনের নামে বর্বরতার বিরুদ্ধে ধর্মতলায় মহামিছিল, জাতীয় পতাকা হাতে রাজপথে ছাত্র-শিক্ষকরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্দোলনের নামে বর্বরতার বিরুদ্ধে এবার সরব ছাত্র, শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষক ও শিক্ষাকর্মীরা। নিট প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে ধর্মতলায় সাম্প্রতিক আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের উপর হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুর এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে আক্রমণের অভিযোগ ঘিরে এখনও উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই মঙ্গলবার জাতীয় পতাকা হাতে হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত জোড়া মহামিছিলের (Dharmatala Rally) আয়োজন করে ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ’। এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় রাজ্যের অনেক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। আয়োজকদের দাবি, এটি কোনও রাজনৈতিক শক্তিপ্রদর্শনের মঞ্চ নয়; বরং গণতন্ত্র, শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষার সামাজিক উদ্যোগ।

    পথে শিক্ষা জগৎ

    ধর্মতলার সাম্প্রতিক অশান্তির পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের আড়ালে সাংবাদিকদের উপর হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুর, পুলিশকে লক্ষ্য করে আক্রমণ এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রতিবাদের অধিকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ হলেও হিংসা ও নৈরাজ্য কখনওই গণতন্ত্রের ভাষা হতে পারে না। সেই কারণেই ছাত্র, শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের একাংশ রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানান।

    জোড়া মহামিছিল

    মঙ্গলবার দুপুর থেকেই হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষক, শিক্ষাকর্মী ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে দুটি প্রান্ত থেকে ধর্মতলার উদ্দেশে শুরু হয় পদযাত্রা (Dharmatala Rally)। ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ’-এর ডাকে আয়োজিত এই মহামিছিলে অংশ নেয় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP), অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ, ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল, বিদ্যা ভারতী, শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাস, ইতিহাস সংকলন সমিতি-সহ সঙ্ঘ পরিবারের একাধিক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

    সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা

    মহামিছিলে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে ওঠে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলা, ক্যামেরা ভাঙচুর কিংবা সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখানোর ঘটনা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁদের মতে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শর্ত এবং সেই স্বাধীনতার উপর আঘাত কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

    বাম-কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    মিছিলে (Dharmatala Rally) অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের আড়ালে বাম ও কংগ্রেস পরিকল্পিতভাবে অশান্তির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছে। তাঁদের দাবি, দিল্লির ‘সংসদ চলো’ অভিযানে যেমন নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠেছিল, কলকাতার ঘটনাতেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গিয়েছে। এছাড়াও কিছু বামপন্থী সংগঠন ছাত্রদের আবেগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি এবং দেশবিরোধী শক্তির মদতপুষ্ট প্রচারকে উৎসাহিত করছে বলেও অভিযোগ তোলেন আন্দোলনকারীরা।

    বিদেশি শক্তির মদতের আশঙ্কাও

    দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে কলকাতার ধর্মতলা- প্রতিবাদের নামে যেখানেই হিংসা বা নৈরাজ্যের ঘটনা ঘটুক, তার কড়া নিন্দা হওয়া উচিত বলেই মত মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের। তাঁদের দাবি, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার নেপথ্যে বিদেশি শক্তির মদতের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মত তাঁদের।

    গণতন্ত্রের নামে হিংসা নয়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের বার্তা

    হাওড়া থেকে ধর্মতলা ও শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা – জাতীয় পতাকার ছায়ায় আয়োজিত এই দুই মহামিছিল থেকে উঠে আসে একটাই বার্তা। প্রতিবাদের অধিকার গণতন্ত্রের শক্তি হলেও, সেই অধিকারের আড়ালে হিংসা, ভাঙচুর, সাংবাদিক নিগ্রহ কিংবা অরাজকতার কোনও স্থান নেই। মতের লড়াই হতে পারে, কিন্তু গণতন্ত্রের পথ কখনওই বর্বরতার পথ হতে পারে না – এই বার্তাই রাজপথ থেকে তুলে ধরল ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চে’র এই মহামিছিল।

  • BJP Leaders on Instagram: প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বার্তার পর ইনস্টাগ্রামে সক্রিয় বিজেপি নেতারা, যুবসমাজের কাছে পৌঁছতে জোর প্রচার

    BJP Leaders on Instagram: প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বার্তার পর ইনস্টাগ্রামে সক্রিয় বিজেপি নেতারা, যুবসমাজের কাছে পৌঁছতে জোর প্রচার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাম্প্রতিক নিট ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কের পর যুবসমাজের সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ আরও জোরদার করতে ইনস্টাগ্রামকে প্রধান রাজনৈতিক প্রচারের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পথেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির (BJP Leaders on Instagram) একাধিক শীর্ষ নেতা ইনস্টাগ্রামে তাঁদের সক্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছেন। দলীয় সূত্রের দাবি, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের ইনস্টাগ্রাম রিলের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে আরও বেশি যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেন। এরপর থেকেই বিভিন্ন মন্ত্রী ও বিজেপি নেতার অ্যাকাউন্টে ধারাবাহিকভাবে রিল, ভিডিও এবং রাজনৈতিক বার্তা প্রকাশের হার বেড়েছে।

    সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রচারের গুরুত্ব

    নিট ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের পর সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রচারের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম তরুণদের মধ্যে মতামত গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উঠে এসেছে। সম্প্রতি ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সিজেপি (CJP) চলতি বছরের মে মাসে একটি অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বর্তমানে ইনস্টাগ্রামে তাদের অনুসরণকারীর সংখ্যা ২ কোটি ৬০ লক্ষেরও বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সেলফি-স্টাইল ভিডিও প্রকাশ করে পরীক্ষা সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে তরুণদের মতামতের জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানান। ২০১৪ সাল থেকে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী মোদির সম্প্রতি একটি মধ্যরাতের ভিডিও প্রকাশের পর প্রায় ১০ লক্ষ নতুন অনুসরণকারী যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে তাঁর ইনস্টাগ্রাম অনুসরণকারীর সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি ৫০ লক্ষ। বিজেপির সরকারি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের অনুসরণকারী প্রায় ৯৫ লক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে দলটি প্রশ্নপত্র ফাঁস, সংসদে পাবলিক এক্সামিনেশন সংশোধন বিল (Prevention of Unfair Means) সংক্রান্ত ভিডিও ও রিল প্রকাশ করছে। এসব পোস্টে বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিলের আলোচনা ব্যাহত করার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

    প্রহ্লাদ জোশীর ইনস্টা-বার্তা

    নবনিযুক্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী ইনস্টাগ্রামে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, পাবলিক এক্সামিনেশন আইন (Prevention of Unfair Means) কার্যকর করার মাধ্যমে পরীক্ষা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান করা হয়েছে। একটি পোস্টে তিনি বলেন, পরীক্ষাব্যবস্থাকে স্থায়ীভাবে আরও শক্তিশালী করতে সরকার প্রস্তুত এবং তথ্যভিত্তিক আলোচনার পক্ষেই তারা। তিনি আরও দাবি করেন, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এবং কংগ্রেসের কয়েকজন সাংসদও সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা চেয়েছেন, কিন্তু একজন ব্যক্তির অহংকারের কারণে সেই আলোচনা হচ্ছে না।

    নাড্ডার ভিডিও বার্তা

    প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডাও সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেছেন। তাঁর পোস্টে সিজপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিট ইস্যুতে বৈঠকের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। আগে যেখানে তাঁর পোস্টের সংখ্যা ছিল খুবই কম, এখন প্রায় প্রতিদিনই একাধিক ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে।

    মন্ত্রিদের ইনস্টা-বার্তা

    প্রধানমন্ত্রীর দফতরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ইনস্টাগ্রামে প্রতিদিন একাধিক পোস্ট করে সংশোধনী বিল, ছাত্রদের উদ্দেশে ধৈর্য ধরার আহ্বান এবং সরকার আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে—এমন বার্তা তুলে ধরছেন। আগে যেখানে সপ্তাহে চার-পাঁচটি পোস্ট করতেন, এখন প্রতিদিনই একাধিক পোস্ট প্রকাশ করছেন তিনি। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আনা বিল নিয়ে ধারাবাহিক ভিডিও পোস্ট করছেন। তাঁর বক্তব্যে পরীক্ষায় দুর্নীতিকে “জাতীয় সমস্যা” হিসেবে উল্লেখ করে সব রাজনৈতিক দলকে বিল সমর্থনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রতিদিন এক ডজনেরও বেশি পোস্ট দেখা যাচ্ছে।

    পরীক্ষায় দুর্নীতি “জাতীয় সমস্যা”

    অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনও সরকারের অবস্থান তুলে ধরে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত করতে ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্ক ফোর্স গঠনের ঘোষণা করেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গয়ালও সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে বিরোধীদের বিষয়টি রাজনৈতিক ইস্যু না করে সংসদীয় আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মহিলা ও শিশু উন্নয়নমন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ ও পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে একাধিক পোস্ট করেছেন। তাঁর পোস্টে “হেমন্ত ইস্তফা দো” স্লোগান এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার সিবিআই তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

    ইনস্টা-যোগ অমিত মালব্য-র

    বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যও আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ইনস্টাগ্রামে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। আন্দোলনের বিভিন্ন ভিডিওর উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সেখানে ৩৭০ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল, “আজাদ কাশ্মীর”-এর দাবি, হিন্দু দেবদেবী সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য এবং দিল্লি দাঙ্গার অভিযুক্তদের মুক্তির দাবির মতো স্লোগান শোনা গেছে। তাঁর বক্তব্য, যদি ভিডিওগুলি সত্য হয়, তবে আন্দোলন ছাত্রদের প্রকৃত দাবি থেকে সরে গিয়েছিল। মালব্য আরও দাবি করেন, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের সর্বাধিক অভিযোগ ইন্ডিয়া জোটশাসিত রাজ্যগুলিতে সামনে এসেছে। তাঁর তালিকায় জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, কেরল ও কর্নাটকের নাম রয়েছে। সোমবার লোকসভায় সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে বিদ্যমান আইনে সংশোধনী বিল পেশ করেছে। প্রস্তাবিত সংশোধনে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ₹৫০ লক্ষ পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

  • Supreme Court: ডিজিটাল অ্যারেস্ট প্রতারণায় অভিযুক্তদের সহজে জামিন নয়, সাফ জানাল সুপ্রিম কোর্ট

    Supreme Court: ডিজিটাল অ্যারেস্ট প্রতারণায় অভিযুক্তদের সহজে জামিন নয়, সাফ জানাল সুপ্রিম কোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল অ্যারেস্টের (Digital Arrest) নামে প্রতারণার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের ভয় দেখিয়ে তাঁদের আজীবনের সঞ্চয় হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এবার আরও কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সোমবার শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ডিজিটাল অ্যারেস্ট (Digital Arrest) প্রতারণার মামলায় অভিযুক্তদের সহজে জামিন দেওয়া হবে না। শুধুমাত্র অসাধারণ বা ব্যতিক্রমী কারণ প্রমাণ করতে পারলেই জামিনের আবেদন বিবেচনা করা হবে। আদালতের মতে, এই প্রতারণা সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধগুলির একটি।

    জামিনের আবেদন খারিজ

    প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ এক অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে এই মন্তব্য করে। অভিযুক্তের দাবি ছিল, তিনি শুধু মূল অভিযুক্তকে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে সাহায্য করেছিলেন এবং এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলে রয়েছেন। তবে আদালতের মতে, তিনি প্রতারণা চক্রের একজন সক্রিয় সহযোগী। তাই তাঁর জামিনের আবেদন নাকচ করা হয়।

    ‘সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অপরাধ’

    শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) জানায়, ডিজিটাল অ্যারেস্ট (Digital Arrest) প্রতারণা মানুষের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অপরাধ, বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রতারকরা ভয় দেখিয়ে প্রবীণদের সারাজীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয় হাতিয়ে নিচ্ছে। তাই এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের নমনীয়তা দেখানো যাবে না।

    নিম্ন আদালতগুলিকেও বার্তা

    সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) শুধু নিজের অবস্থানই স্পষ্ট করেনি, পাশাপাশি দেশের সব হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতকেও কড়া বার্তা দিয়েছে। আদালতের মতে, ডিজিটাল অ্যারেস্ট (Digital Arrest) সংক্রান্ত মামলায় জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে এবং অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    কঠোর আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

    গত শুক্রবারও একই বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, ডিজিটাল অ্যারেস্ট (Digital Arrest) ও সাইবার প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন সংক্রান্ত কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। আদালতের মতে, এই ধরনের অপরাধকে ডাকাতি বা লুঠের মতোই গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

    সিবিআই তদন্ত ও সমন্বয়ের নির্দেশ

    ডিজিটাল অ্যারেস্ট প্রতারণার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে গত বছর থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বিশেষ করে প্রবীণদের লক্ষ্য করে হওয়া প্রতারণার তদন্তে সিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলারও নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। তদন্তকারী সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল অ্যারেস্ট ও সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ৩,০০০ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই বিপুল আর্থিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ দমনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • Dilip Ghosh: ‘রাস্তা নেই, অথচ ফিট সার্টিফিকেট!’ পঞ্চায়েত দুর্নীতিতে বিস্ফোরক দাবি দিলীপ ঘোষের

    Dilip Ghosh: ‘রাস্তা নেই, অথচ ফিট সার্টিফিকেট!’ পঞ্চায়েত দুর্নীতিতে বিস্ফোরক দাবি দিলীপ ঘোষের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েই এগোচ্ছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। তৃণমূল সরকারের আমলে পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রকল্পে টেন্ডার ছাড়াই কাজ, অর্থের অনিয়ম, কাগজে রাস্তা তৈরি দেখিয়ে ফিট সার্টিফিকেট দেওয়া-সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ (Panchayat Corruption) সামনে এসেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুরনো প্রকল্পগুলির পর্যালোচনা, অডিট এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, জানালেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।

    হুগলিতে পর্যালোচনা বৈঠক

    সোমবার হুগলির চুঁচুড়ার রবীন্দ্রভবনে জেলার পঞ্চায়েতগুলিকে নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত সচিব ড. পি. উল্গানাথন, জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি, জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধারা এবং দফতরের অন্যান্য আধিকারিকরা।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা

    বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, ‘‘তৃণমূল সরকারের সময়ের একাধিক প্রকল্পের কাজ এখন পুনরায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগের কিছু টেন্ডার ও কাজ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সবকিছুর রিভিউ চলছে। টেন্ডার ছাড়াই অনিয়ম (Panchayat Corruption) করে কাজ হয়েছে। টাকারও গরমিল হয়েছে। কোথাও ফিট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে, অথচ রাস্তা তৈরি হয়নি- এমন অভিযোগও এসেছে। একাধিক ইঞ্জিনিয়ারকে বদলিও করা হয়েছে। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

    খতিয়ে দেখা হচ্ছে আবাসের অভিযোগও

    আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও সরব হন মন্ত্রী। তাঁর কথায়, এই সংক্রান্ত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

    আদিনাথে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা

    আদিনাথে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, ‘‘যে সব প্রাচীন সংস্কৃতি রয়েছে, সেগুলি ফিরে আসবে। কাশী বিশ্বনাথ, মহাকালেশ্বর হলে আদিনাথ কেন হবে না? গত কয়েক বছরে দুর্গাপুজো ও কালীপুজোর উপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। সব ক্ষেত্রেই এফআইআর হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অফিসারদের সাসপেন্ডও করা হয়েছে।’’

    আলুর দাম নিয়ে কী বললেন?

    আলুর মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আগের সরকারের নীতির ফলে রাজ্যে বিপুল পরিমাণ আলু উদ্বৃত্ত হয়েছিল। গত কয়েক বছর আলু বাইরে পাঠানো বন্ধ ছিল। ফলে প্রায় ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন আলু উদ্বৃত্ত হয়েছে। এখন সেই আলু অন্য রাজ্যে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। হিমঘর মালিক ও ব্যবসায়ীদের ভর্তুকি দেওয়ার জন্য অর্থ দফতরে তিনবার ফাইল পাঠিয়েছি। কৃষি বিপণন দফতরের পক্ষ থেকেও ভর্তুকির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’’

    প্রকল্পগুলির সার্ভে চলছে

    তিনি আরও জানান, ‘‘বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে নতুন করে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে ও পরে হওয়া প্রকল্পগুলির কাজের সার্ভে চলছে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার-সহ বিভিন্ন প্রকল্পে নতুন করে উপভোক্তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। জেলার পর জেলা পর্যালোচনা বৈঠকের মাধ্যমে প্রকল্পগুলির অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’

    খাজনা আদায়ে জোর

    নকশালবাড়িতে গত তিন মাসে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা খাজনা আদায়ের প্রসঙ্গ তুলে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘হুগলিতেও রাজস্ব আদায় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগে যে রাজস্ব আদায় হওয়ার কথা ছিল, তার অনেকটাই আদায় হতো না। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী দিনে খাজনা আদায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।’’ সব মিলিয়ে, পঞ্চায়েত স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিল বিজেপি সরকার। তৃণমূল আমলের বিভিন্ন প্রকল্পে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ (Panchayat Corruption) খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়নেও নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।

  • India-US Relations: ভারতের সঙ্গে ফের পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতায় ইচ্ছুক ট্রাম্প প্রশাসন! আগ্রহ এআই, প্রতিরক্ষা নিয়েও, কারণ কী?

    India-US Relations: ভারতের সঙ্গে ফের পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতায় ইচ্ছুক ট্রাম্প প্রশাসন! আগ্রহ এআই, প্রতিরক্ষা নিয়েও, কারণ কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে। বিশেষ করে অসামরিক পারমাণবিক শক্তি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-র মতো ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা দ্রুত বাড়ছে বলে জানালেন মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক। এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন ভারতকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবেই দেখছে। এই মন্তব্য করেছেন মার্কিন বিদেশ দফতরের সহকারী সচিব এস পল কাপুর। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হুভার ইনস্টিটিউশনে ভারতকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মার্কিন বিদেশ সচিব কন্ডোলিজা রাইস এবং ভারতে নিযুক্ত প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড সি মালফোর্ড।

    ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক

    সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এস পল কাপুর বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক স্তরেই সীমাবদ্ধ নেই। এই সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান তৈরি করছে এবং এমন গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) শক্তিশালী করছে, যা শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘‘আমরা প্রতিরক্ষা এবং বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ করছি। পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী বিশ্বস্ত AI (Trusted AI) এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তির গ্রহণ ও উন্নয়নেও একসঙ্গে কাজ করছি।’’

    কেন গুরুত্বপূর্ণ অসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা?

    ভারতের বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মার্কিন সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের অসামরিক পারমাণবিক শক্তি খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় আগ্রহী। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন পারমাণবিক শিল্পের শীর্ষ আধিকারিকদের একটি প্রতিনিধিদল ভারতে এসে বেসরকারি শিল্পের সঙ্গে সম্ভাব্য অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করে। এই আগ্রহ আরও বেড়েছে, কারণ ভারত সম্প্রতি ‘শান্তি’ (SHANTI) আইন প্রণয়ন করে পারমাণবিক প্রকল্পে দায়বদ্ধতা (Liability) সংক্রান্ত বিধিতে পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে বিদেশি সংস্থাগুলির জন্য ভারতীয় বাজারে কাজ করার পরিবেশ তুলনামূলকভাবে আরও অনুকূল হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সম্পর্ক ইতিমধ্যেই শক্ত ভিতের উপর

    ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ২০২৫ সালে দুই দেশ একটি নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব কাঠামোতে স্বাক্ষর করে, যার লক্ষ্য স্থল, নৌ, বায়ু, মহাকাশ এবং সাইবার—সব ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সমন্বয় ও আন্তঃকার্যক্ষমতা (Interoperability) বৃদ্ধি করা। ২০০২ সালের পর থেকে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একাধিক অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

    • ● অ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার
    • ● চিনুক হেভি-লিফট হেলিকপ্টার
    • ● সি-১৭ গ্লোবমাস্টার পরিবহণ বিমান
    • ● সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস
    • ● পি-৮আই সামুদ্রিক নজরদারি বিমান
    • ● এম-৭৭৭ আল্ট্রা-লাইট হাউইৎজার

    এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শুধুমাত্র অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; যৌথ মহড়া, প্রযুক্তি স্থানান্তর, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং গবেষণার ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।

    এআই ও উদীয়মান প্রযুক্তিতে নতুন সমীকরণ

    বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি আগামী দিনের প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তারা ভারতের সঙ্গে বিশ্বস্ত এআই-এর মতো ক্ষেত্রেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায়। এর লক্ষ্য নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তিগত পরিবেশ তৈরি করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-এর ক্ষেত্রে ভারতীয় সফটওয়্যার দক্ষতা এবং মার্কিন প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব একত্রিত হলে বিশ্ববাজারে দুই দেশই বড় সুবিধা পেতে পারে।

    ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়ছে

    বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা কেবল অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয় নয়। এর পেছনে রয়েছে বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার হিসেবে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে ওয়াশিংটন। প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক শক্তি, এআই এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের মতো ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা বাড়িয়ে দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাইছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন, উন্নত প্রযুক্তি ভাগাভাগি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং এআই-ভিত্তিক উদ্ভাবনে ভারত-মার্কিন সহযোগিতা আরও দৃশ্যমান হতে পারে।

  • One Officer One Car Policy: এক অফিসার, এক গাড়ি! সরকারি খরচে লাগাম টানতে বড় সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের

    One Officer One Car Policy: এক অফিসার, এক গাড়ি! সরকারি খরচে লাগাম টানতে বড় সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি গাড়ির অপব্যবহার রুখতে এবং সরকারি খরচ কমাতে বড় পদক্ষেপ নরেন্দ্র মোদি সরকারের (Modi Government)। এবার কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের ব্যয় বিভাগ (Department of Expenditure) ‘ওয়ান অফিসার, ওয়ান অফিসিয়াল কার’ নীতি (One Officer One Car Policy) কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। নতুন অফিস মেমোর‍্যান্ডাম (Office Memorandum) অনুযায়ী, কোনও আধিকারিককে একবার সরকারি গাড়ি বরাদ্দ করা হলে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পেলেও আর দ্বিতীয় সরকারি গাড়ি পাবেন না। এর অর্থ, কোনও আধিকারিক যদি নিজের মন্ত্রক বা দফতরের পাশাপাশি অন্য কোনও মন্ত্রক, বিভাগ, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (PSU) বা স্বশাসিত সংস্থার অতিরিক্ত দায়িত্বও পান, তবুও তাঁর জন্য আলাদা সরকারি গাড়ি বরাদ্দ করা হবে না। প্রতিটি যোগ্য আধিকারিকের জন্য থাকবে মাত্র একটি সরকারি গাড়ি।

    সব মন্ত্রক ও দফতরকে কড়া নির্দেশ

    এই নীতি (One Officer One Car Policy) কঠোরভাবে কার্যকর করার জন্য কেন্দ্রের সমস্ত মন্ত্রক ও দফতরকে নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রক। পাশাপাশি, যে সরকারি গাড়িগুলি ব্যবহার করা হচ্ছে না, সেগুলিকে নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে দিতে হবে, অপ্রয়োজনীয়ভাবে কোনও সরকারি গাড়ি ব্যবহার করা যাবে না বলেও নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে।

    কী নতুন নির্দেশ?

    নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের আধিকারিকরা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (PSU), স্বশাসিত সংস্থা বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িও নিয়মিত ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। কোনও আধিকারিক সরকারি কাজে ওই সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে সফরে গেলে, সেই সফরের সময় সংশ্লিষ্ট সংস্থার গাড়ি ব্যবহার করা যাবে।

    ২০২২ সালের নির্দেশিকা আরও কড়াভাবে কার্যকর

    ব্যয় বিভাগ জানিয়েছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জারি হওয়া সরকারি নির্দেশিকাগুলিকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই নতুন অফিস মেমোর‍্যান্ডাম জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সব মন্ত্রক ও দফতরে যাতে একই নিয়মে এই নীতি কার্যকর হয়, সেই উদ্দেশ্যেই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত?

    কেন্দ্রীয় সরকারের (Modi Government) বক্তব্য, সরকারি সম্পদের সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই নীতির মূল উদ্দেশ্য। একজন আধিকারিকের জন্য একাধিক সরকারি গাড়ি বরাদ্দের প্রবণতা বন্ধ করা, প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনা এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, এই নীতির ফলে অপ্রয়োজনীয় সরকারি গাড়ির সংখ্যা কমবে, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ হ্রাস পাবে এবং সরকারি অর্থের আরও কার্যকর ব্যবহার সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সরকারি গাড়ির অপব্যবহার রোধের পাশাপাশি প্রশাসনিক জবাবদিহি ও আর্থিক শৃঙ্খলাও আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।

  • CJP Protest: খুনের দায়ে অভিযুক্ত ১০১ জন উপস্থিত সিজেপি বিক্ষোভে! চাঞ্চল্যকর দাবি দিল্লি পুলিশের

    CJP Protest: খুনের দায়ে অভিযুক্ত ১০১ জন উপস্থিত সিজেপি বিক্ষোভে! চাঞ্চল্যকর দাবি দিল্লি পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টি (CJP Protest)-র আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করল দিল্লি পুলিশ। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অন্তত ১০১ জন খুনের মামলার অভিযুক্ত ছিলেন। মোট ২,৮৭৩ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ৯৮৯ জন গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত। দিল্লি পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম (FRS)-সহ আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বিক্ষোভে উপস্থিত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, নারী নির্যাতন, শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ (POCSO), মাদক সংক্রান্ত অপরাধ এবং অস্ত্র আইনের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

    বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের সংখ্যা

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে—

    • ১০১ জন খুনের মামলার অভিযুক্ত
    • ৬২ জন খুনের চেষ্টার মামলায় অভিযুক্ত
    • ২৮৪ জন ডাকাতি ও লুটপাটের মামলায় অভিযুক্ত
    • ৬১ জন ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত
    • ৬ জন পকসো আইনের মামলায় অভিযুক্ত
    • ২৫ জন নারী নির্যাতন সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত
    • ২২৯ জন অস্ত্র আইনের মামলায় অভিযুক্ত
    • ১৩৫ জন ছিনতাইয়ের মামলায় অভিযুক্ত
    • ১৯ জন অপহরণের মামলায় অভিযুক্ত
    • ৬৭ জন এনডিপিএস (মাদকদ্রব্য) আইনের মামলায় অভিযুক্ত

    দিল্লি পুলিশের দাবি, এদের মধ্যে অনেকেই পুনরাবৃত্ত অপরাধী (Repeat Offender)।

    ২০ জুলাইয়ের সংঘর্ষে আহত ১১৮ পুলিশকর্মী

    গত ২০ জুলাই সিজেপি-র ডাকা ‘চলো সংসদ’ (Chalo Sansad March) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সেই সংঘর্ষে ১১৮ জনেরও বেশি পুলিশকর্মী আহত হন বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। আহতদের মধ্যে ছিলেন স্পেশাল কমিশনার, জয়েন্ট কমিশনার, অতিরিক্ত কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার (DCP), অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার, এসিপি-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক এবং বেশ কয়েকজন মহিলা পুলিশকর্মী। অন্যদিকে, ওই সংঘর্ষে প্রায় ৬০ জন বিক্ষোভকারীও আহত হন। উল্লেখ্য, ওই ঘটনার পাঁচ দিন পর তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপরই সিজেপি তাদের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করে।

    প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর পোস্টের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ

    দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আন্দোলন চলাকালীন এবং ২০ জুলাইয়ের সংঘর্ষের পর সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে একাধিক অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেই প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে নোটিস পাঠিয়ে ওই ধরনের পোস্ট ও ভিডিও অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের দাবি, বিষয়টি নিয়ে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন করে আপত্তিকর কনটেন্ট সামনে এলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলিকে তা সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হচ্ছে।

  • MMSBY Scheme: রাজ্যে চালু ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’, বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিখরচা চিকিৎসা

    MMSBY Scheme: রাজ্যে চালু ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’, বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিখরচা চিকিৎসা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে চালু হল ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’ (MMSBY Scheme)। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ঘোষণা অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় থাকলেও যাঁরা আর্থসামাজিক অবস্থার কারণে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না, তাঁদের জন্যই এই নতুন স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal)। রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর স্বাস্থ্য দপ্তর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এই প্রকল্পে (MMSBY Scheme) যোগ্য পরিবার বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাবে।

    কী কী সুবিধা মিলবে?

    নতুন প্রকল্পে (MMSBY Scheme) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রাখা হয়েছে- বছরে প্রতি পরিবার সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ফ্লোটার ভিত্তিক ক্যাশলেস চিকিৎসা পাবে। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের নামে পৃথক স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হবে এবং তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। পরিবারের সদস্য সংখ্যার কোনও ঊর্ধ্বসীমা থাকবে না। আগে থেকে থাকা (Pre-existing) রোগের চিকিৎসাও এই বিমার আওতায় থাকবে। সরকারি ও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পভুক্ত তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলিতে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা মিলবে। চিকিৎসার জন্য আধারভিত্তিক পরিচয় যাচাই এবং আয়ুষ্মান ভারত পরিচয়পত্র  (Ayushman Bharat Health Account) ব্যবহার বাধ্যতামূলক। চিকিৎসা হবে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের নির্ধারিত প্যাকেজ অনুযায়ী। চিকিৎসার খরচ আগে দিয়ে পরে ফেরত (রিএমবার্সমেন্ট) নেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে না।

    কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না?

    স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিম্নলিখিত ব্যক্তি বা পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না- যাঁদের বার্ষিক পারিবারিক আয় ৮ লক্ষ টাকার বেশি, পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য প্রকল্প (WBHS), কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প (CGHS), ইএসআই (ESI) বা অন্যান্য কেন্দ্র বা রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতাভুক্ত নির্দিষ্ট কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা, সরকারি সংস্থা ও বিভিন্ন গ্রুপ মেডিক্যাল ইন্স্যুরেন্স-এর আওতায় থাকা কর্মচারীরা, মেডিক্যাল অ্যালাউন্সপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা, পরিবারের ৭০ বছরের বেশি বয়সী সদস্যরা, SIR-এ নাম বাদ গেলে এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না। যেমন আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধাও পাওয়া যাবে না।

    এসআইআর বা সিএএ-সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে কী নিয়ম?

    বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সিএএ বা এসআইআর-সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে কোনও আবেদন বিচারাধীন থাকলে, শুধুমাত্র সেই কারণে কাউকে এই প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হবে না। অন্য সব যোগ্যতা পূরণ করলে তিনি মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার সুবিধা পাবেন। তবে পরে SIR-এ নাম বাদ গেলে আর এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না।

    কারা দেখভাল করবে এই প্রকল্প (MMSBY Scheme)?

    স্বাস্থ্য দফতরই হবে এই প্রকল্পের নোডাল দফতর। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে স্টেট হেলথ এজেন্সি (State Health Agency)।

    কবে থেকে কার্যকর?

    গত ২২ জুলাই রাজ্য (West Bengal) মন্ত্রিসভা এই প্রকল্পে অনুমোদন দেয়। এরপর ২৫ জুলাই স্বাস্থ্য দফতর আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেই বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি সোমবার প্রকাশ্যে আসে। নতুন এই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় থাকা কিন্তু আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধাবঞ্চিত বহু পরিবার বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ পাবে বলে রাজ্য সরকারের আশা।

  • Bangladeshi Infiltration: বাংলাদেশি অনুপ্রবেশে টেলিগ্রাম নেটওয়ার্ক! সীমান্ত পার হওয়ার কৌশল, হিন্দি শেখানো থেকে ভুয়ো নথির যোগ

    Bangladeshi Infiltration: বাংলাদেশি অনুপ্রবেশে টেলিগ্রাম নেটওয়ার্ক! সীমান্ত পার হওয়ার কৌশল, হিন্দি শেখানো থেকে ভুয়ো নথির যোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশে (Bangladeshi Infiltration) সহায়তার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল টেলিগ্রামভিত্তিক একাধিক অনলাইন নেটওয়ার্ক। এসব টেলিগ্রাম গ্রুপে সীমান্ত পার হওয়ার বিভিন্ন উপায়, স্থানীয় সমাজে মিশে যাওয়ার কৌশল, এমনকি প্রাথমিক হিন্দি ভাষা শেখানোর মতো তথ্যও ভাগ করে নেওয়া হতো। পাশাপাশি, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর কীভাবে নজর এড়িয়ে বসবাস করা যায়, সে সম্পর্কেও নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছিল। সম্প্রতি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির হাতে উঠে এসেছে এমনই তথ্য। এই নেটওয়ার্কগুলির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে সরকার। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, চলমান অভিযানে ইতিমধ্যেই এমন কয়েকটি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    একাধিক টেলিগ্রাম চ্যানেলের সন্ধান

    তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, কিছু টেলিগ্রাম চ্যানেলে “হাউ টু এন্টার ইন্ডিয়া ” (How to Enter India) এবং “হান্ড্রেড ওয়ান ওয়েস টু বাইপাস ইন্ডিয়ান সিকিউরিটি” (101 Ways to Bypass Indian Security)-এর মতো শিরোনামে পোস্ট ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হতো। এখানে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের মতে, এসব গ্রুপ কেবল আলোচনা চালানোর জন্য ছিল না; বরং অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সীমান্ত পার হওয়া এবং দেশের ভিতরে বসতি গড়ে তুলতে সহায়ক তথ্য সরবরাহ করা হত। এই নেটওয়ার্কের বিস্তার ও কার্যপদ্ধতি খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। একই সঙ্গে, সংগঠিত চক্রগুলি কীভাবে এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

    স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সহজে যোগাযোগের পরামর্শ

    তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, কয়েকটি গ্রুপে প্রাথমিক হিন্দি ভাষার পাঠ এবং ভারতে প্রবেশের পর স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শও দেওয়া হতো। তদন্তকারীদের ধারণা, এই ধরনের তথ্য অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত মিশে যেতে সাহায্য করেছে। পরিচয় যাচাইয়ের সময় সন্দেহ এড়াতে সহায়তা করার জন্যও প্রচার চালানো হত। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এখন খতিয়ে দেখছে, এই কার্যকলাপের পিছনে সীমান্তপারের সংগঠিত দালালচক্র বা মানব পাচার চক্রের কোনও ভূমিকা রয়েছে কি না। তদন্তে আরও দেখা হচ্ছে, এই টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলির সঙ্গে এমন মধ্যস্থতাকারীদের যোগাযোগ ছিল কি না, যারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর যাতায়াত, অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থা এবং জাল পরিচয়পত্র সংগ্রহে সহায়তা করত।

    ভারতের পূর্ব সীমান্ত-ই প্রবেশ পথ!

    পূর্ববর্তী একাধিক পুলিশি তদন্তেও উঠে এসেছিল যে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা সীমান্ত পার হওয়া এবং দেশের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানোর জন্য দালালচক্র ও মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর করত। তদন্তকারী সংস্থার মতে, সাম্প্রতিক তথ্য সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরদার করেছে। সরকারি সূত্রের বক্তব্য, ভারতের পূর্ব সীমান্ত দীর্ঘ এবং ভৌগোলিকভাবে জটিল হওয়ায় নজরদারি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সীমান্তে ব্যাপক বেড়া নির্মাণ এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও সংগঠিত চক্রগুলি নানা উপায়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

    নক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার!

    তদন্তে উঠে আসা তথ্যের পর আবারও এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও টেলিগ্রাম বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের ব্যবহৃত একটি বৈধ মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ব্যক্তিগত চ্যানেল এবং বৃহৎ গ্রুপ পরিচালনার সুবিধা কখনও কখনও অপরাধচক্রের অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তদন্তকারীরা স্পষ্ট করেছেন, তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শুধুমাত্র সেই নির্দিষ্ট চ্যানেলগুলি, যেগুলির বিরুদ্ধে অবৈধ কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে; প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে সামগ্রিকভাবে কোনও অভিযোগ করা হচ্ছে না।

    নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসেও টেলিগ্রামের ব্যবহার!

    আগেও সাময়িকভাবে টেলিগ্রামের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কেন্দ্র। নিট (NEET-UG) পরীক্ষা নিয়ে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্র। অভিযোগ, টেলিগ্রামের মাধ্যমেই পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিভ্রান্তিকর ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস’-এর প্রমাণ তৈরির জন্য মেসেজ এডিটিং-এর অপব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ। , কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ভারতীয় সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (I4C)-এর সাহায্যে টেলিগ্রামে প্রতারণা ও ভুয়ো প্রচারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। এবার দেখা গেল অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরাও টেলিগ্রামের সাহায্য নিচ্ছে।

    তদন্তে প্রাপ্ত প্রমাণই চূড়ান্ত

    তদন্তকারী সংস্থাগুলি আরও খতিয়ে দেখছে, এই অনলাইন গ্রুপগুলির সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি ভারতে প্রবেশের পর অন্য কোনও বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন কি না। তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, শুধুমাত্র কোনও টেলিগ্রাম গ্রুপের সদস্য হওয়া মানেই অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ নয়। এ ধরনের অভিযোগ প্রতিষ্ঠার জন্য চলমান তদন্তে প্রাপ্ত প্রমাণই চূড়ান্ত ভিত্তি হবে।

    সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার

    এই ঘটনার পর আবারও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, আইনের আওতায় থেকে সংগঠিত অনলাইন অপরাধচক্রের ওপর আরও কার্যকর নজরদারি এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির দাবি জোরালো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্ত পরিকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি গোয়েন্দা-তথ্যভিত্তিক অভিযান, নথিপত্র যাচাই, দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সমন্বয় অপরিহার্য।

    বিদেশি নাগরিকদের পরিচয় যাচাই

    সরকারি সংস্থাগুলি বিভিন্ন রাজ্যে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিদেশ মন্ত্রকও জানিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের নাগরিকত্ব যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। টেলিগ্রামভিত্তিক এই কথিত সহায়ক নেটওয়ার্কের তদন্ত এখনও চলছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলির লক্ষ্য, এই চ্যানেলগুলির পরিচালনাকারীদের শনাক্ত করা, নেটওয়ার্কটির প্রকৃত পরিসর নির্ধারণ করা এবং এটি বৃহত্তর কোনও সংগঠিত আন্তঃসীমান্ত অনুপ্রবেশ চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা।

  • Narendra Modi: মোদির ফেসবুক ভিডিও ব্লক! ‘টেকনিক্যাল গ্লিচ’, পরে ক্ষমা চাইল মেটা

    Narendra Modi: মোদির ফেসবুক ভিডিও ব্লক! ‘টেকনিক্যাল গ্লিচ’, পরে ক্ষমা চাইল মেটা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফেসবুক থেকে হঠাৎ-ই উধাও প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) ভিডিও বার্তা! মঙ্গলবার ভোরের দিকে ভারতে কিছু সময়ের জন্য ব্লক হয়ে যায় নরেন্দ্র মোদির ভিডিও বার্তা। এরপরেই মেটার (Meta) তরফে একটি বার্তা সামনে আসে। মেটার তরফে জানানো হয়- ‘‘আইনি অনুরোধের ভিত্তিতে (Legal Request) এই অঞ্চলে ভিডিওটি আটকে রাখা হয়েছে।’’ যদিও পরে সেই ভুল সংশোধন করে নেয় মেটা। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিডিওটি আবার চালু করে মেটা (Meta) জানায়, কোনও আইনি নির্দেশের কারণে নয়, বরং প্রযুক্তিগত ত্রুটির (Technical Glitch) জেরে ভুলবশত এমনটা হয়েছিল। ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ক্ষমাও চেয়েছে সংস্থা।

    ‘ভুল করে সরানো হয়েছিল ভিডিও

    ঘটনা প্রসঙ্গে মেটার (Meta) এক মুখপাত্র জানান, ‘‘ভিডিওটি ভুলবশত সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। পরে সেই ত্রুটি সংশোধন করা হয়েছে এবং ভিডিওটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত সমস্যার ফল, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’’

    ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কেন্দ্র

    সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় সরকার এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। মেটার দেওয়া ব্যাখ্যা এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওটি সরানো হয়েছিল? তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে মেটার প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ডেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যাও চাওয়া হতে পারে বলেও খবর সূত্রের।

    মেটা ও ইনস্টাগ্রামের শীর্ষ কর্তাদের তলব!

    সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) ভিডিও সাময়িকভাবে ব্লক হওয়ার ঘটনায় মেটা এবং ইনস্টাগ্রামের গ্লোবাল প্রধানদের তলব কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY)। ভিডিওটি কেন ব্লক হয়েছিল? কীভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হল? সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

    কোন ভিডিওটি ব্লক হয়েছিল?

    ২৩ জুলাই আপলোড করা ওই ভিডিওতে ছাত্র-যুবদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকা ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তিনি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রোধে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন এবং কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছিলেন। ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধ রুখতে সরকার আরও কঠোর আইন আনতে চলেছে। প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান আনা হবে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন আইনে বিশেষ আদালত এবং আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে।
    সরকারের পদক্ষেপের ফলে প্রায় ২২ লক্ষ পড়ুয়ার শিক্ষাবর্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ও কল্যাণের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নয়।’’

    লক্ষ লক্ষ মানুষ দেখেছিলেন ভিডিওটি

    ভিডিওটি প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষ তা দেখেছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার ভোরের দিকে হঠাৎ-ই ফেসবুকে ভিডিওটি দেখা বন্ধ হয়ে যায়। তখন ব্যবহারকারীদের জানানো হয়, আইনি অনুরোধের ভিত্তিতে ভিডিওটি এই অঞ্চলে দেখানো হচ্ছে না। পরে অবশ্য মেটা জানায়, সেই বার্তাটিও প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল ছিল। ভুল বুঝতে পেরে ভিডিওটি দ্রুত পুনরুদ্ধার করা হয় এবং সংস্থা সরকারের কাছে ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশও করে। এখন কেন্দ্রীয় সরকার গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজন হলে মেটার কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে।

LinkedIn
Share