Blog

  • Tarique Rahman: তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য দু’বার আমন্ত্রণ করা হয়েছে, জানাল নয়াদিল্লি

    Tarique Rahman: তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য দু’বার আমন্ত্রণ করা হয়েছে, জানাল নয়াদিল্লি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে (Tarique Rahman) ভারত সরকার দু’বার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। একটি আমন্ত্রণ ছিল দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য। অন্যটি ছিল বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানিয়েছেন।

    নয়াদিল্লিতে (India) গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে তারেক রহমান যোগ দেননি। একই সঙ্গে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এখনও ভারত সফরে যাননি তিনি। তাঁর প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে এখনও কোনও নিশ্চিত বার্তাও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ভারত।

    রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। পরে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁকে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। অর্থাৎ, তিনি দু’টি আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন—একটি দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য এবং অন্যটি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের জন্য।” তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে আমরা এখনও কিছু শুনিনি।”

    ব্রিকসের আমন্ত্রণ নিয়ে বাংলাদেশের বক্তব্য (Tarique Rahman)

    ভারতের এই বক্তব্যের আগে বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাঁর দাবি, আমন্ত্রণটি দেওয়া হয়েছিল বিমসটেকের চেয়ারম্যানকে।

    হুমায়ুন কবিরের কথায়, “আমরা কীভাবে যাব? বাংলাদেশের সরকারের কাউকে কি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল? আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কে আপনাদের বলেছে যে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল? বিমসটেকের চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।”

    ভারত অবশ্য জানিয়েছে, ব্রিকসের সম্প্রসারিত অধিবেশনে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভুটান, ভারত, মায়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডকে নিয়ে গঠিত বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান বাংলাদেশ।

    এর আগে জুলাই মাসেও বাংলাদেশের (Tarique Rahman) বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছিল, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

    দ্বিপাক্ষিক সফরেই জোর ঢাকার

    বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আগে থেকেই বলা হয়েছে, তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর বহুপাক্ষিক কোনও সম্মেলনকে কেন্দ্র করে না হয়ে দ্বিপাক্ষিক সফর হওয়াই প্রত্যাশিত। হুমায়ুন কবিরও জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ঢাকা।

    আগস্টের শেষ দিকে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে সফরের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দুই দেশ পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সময়সূচিতে একমত হলেই সফরটি হবে।

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকা একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে। ভারত জানিয়েছে, প্রত্যর্পণের অনুরোধটি পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে তারেক রহমান

    ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই তারেক রহমানের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কর্মসূচি হতে চলেছে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা তাঁর। এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখবেন তিনি।

    সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর। এই অধিবেশনের সভাপতি বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য, “আস্থা পুনর্গঠন, পরিবর্তন পরিচালনা: সবার জন্য কার্যকর একটি রাষ্ট্রসংঘ”।

    নিউইয়র্ক সফরে তারেক রহমান বাংলাদেশের (Tarique Rahman) দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলি বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নিয়েও একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করার কথা (India) রয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এ বছরের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশেষ আলোচনা হবে বলেও বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

     

  • India new Zealand Trade Deal: ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকরের পথে আরও এক ধাপ, আইন পাস নিউজিল্যান্ডের সংসদে

    India new Zealand Trade Deal: ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকরের পথে আরও এক ধাপ, আইন পাস নিউজিল্যান্ডের সংসদে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকরের জন্য প্রয়োজনীয় আইন পাস করেছে নিউজিল্যান্ডের (India new Zealand Trade Deal) সংসদ। বুধবার ৯৩-২৯ ভোটে বিলটি পাস হয়। বিরোধী লেবার পার্টিও বিলটির পক্ষে (Tariff Relief) ভোট দিয়েছে।

    চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হলে ভারতে রফতানি করা নিউজিল্যান্ডের প্রায় ৯৫ শতাংশ পণ্যের উপর শুল্ক হয় তুলে দেওয়া হবে, নয়তো তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনেই নিউজিল্যান্ডের মোট রফতানির ৫৭ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। পরবর্তী সময়ে এই সুবিধার ক্ষেত্র আরও বাড়বে।

    নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী টড ম্যাকলে বলেন, “রফতানিকারীদের জন্য এর সুফল তাৎক্ষণিক এবং উল্লেখযোগ্য। আমরা আশা করছি, এই উচ্চমানের চুক্তি চলতি বছরেই কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে এই মেয়াদে ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে।”

    শুল্ক তুলে নেওয়ার কথা (India new Zealand Trade Deal)

    চুক্তি অনুযায়ী, ভারত থেকে নিউজিল্যান্ডে আমদানি করা পণ্যের উপরও চুক্তি কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই শুল্ক তুলে নেওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে নিউজিল্যান্ডের বাজারে ভারতীয় পণ্যের দাম কমার সুযোগ তৈরি হবে।

    চুক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টিও রয়েছে। নিউজিল্যান্ড আগামী ১৫ বছরে ভারতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করবে। এই বিনিয়োগ বাড়াতে ভারত নিউজিল্যান্ডের বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থাও গড়ে তুলবে (India new Zealand Trade Deal)।

    ভারত ও নিউজিল্যান্ড চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। চুক্তিটি কার্যকর করার আগে দুই দেশকেই নিজেদের আইনি ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

    দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ

    দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া এক বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩.৯৯ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার, যা ভারতকে নিউজিল্যান্ডের পণ্য ও পরিষেবার নবম বৃহত্তম রফতানি বাজারে পরিণত করেছে।

    নতুন চুক্তির ফলে ফল, মধু, কাঠ, উল, মৎস্যজাত পণ্য, মদ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের পণ্য ভারতে আরও সুবিধাজনক বাজার-প্রবেশাধিকার পাবে। অন্যদিকে, ভারতীয় পণ্যও নিউজিল্যান্ডের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাবে।

    উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডের সংসদে চুক্তি কার্যকরের জন্য আইন পাস হলেও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি এখনও কার্যকর হয়নি। দুই দেশের নিজ (Tariff Relief) নিজ অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই তা কার্যকর হবে (India new Zealand Trade Deal)।

     

  • India Pakistan Navy Ship Collision: আরব সাগরে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজকে ধাক্কা পাকিস্তানের নৌযানের! পাক কূটনীতিককে ডেকে কড়া প্রতিবাদ দিল্লির

    India Pakistan Navy Ship Collision: আরব সাগরে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজকে ধাক্কা পাকিস্তানের নৌযানের! পাক কূটনীতিককে ডেকে কড়া প্রতিবাদ দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরব সাগরে ভারত ও পাকিস্তানের নৌবাহিনীর দুই জাহাজের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে ফের কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হল। মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উত্তর আরব সাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটনাটি ঘটে। বুধবার নয়াদিল্লিতে পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত।

    ভারতীয় সরকারি সূত্রের দাবি, ওই সময় ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ নিয়মিত নজরদারি মিশনে ছিল। সেই সময় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একটি জাহাজ দ্রুত গতিতে ভারতীয় জাহাজটির কাছে চলে আসে এবং ‘অপেশাদার ও অনিরাপদ’ পদ্ধতিতে গতিপথ পরিবর্তন করে। এর জেরেই দুই জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ হয় বলে ভারতীয় সূত্রের দাবি। তবে ঘটনায় কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই।

    পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব

    ঘটনার পর বুধবার পাকিস্তান হাইকমিশনের চার্জ দ্যা’ফেয়ার্সকে বিদেশ মন্ত্রকে তলব করে ভারত। পাকিস্তানি নৌ-ইউনিটের আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার’ বলে উল্লেখ করে শক্ত প্রতিবাদ জানানো হয়। একইসঙ্গে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকেও পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের কাছে একই বিষয় উত্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ১৯৯১ সালের চুক্তির প্রসঙ্গ কেন?

    ঘটনাটিকে শুধু নৌ-দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছে না নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি নৌ-জাহাজের আচরণ ১৯৯১ সালের ভারত-পাকিস্তান ‘অ্যাডভান্স নোটিশ অন মিলিটারি এক্সারসাইজেস, ম্যানুভার্স অ্যান্ড ট্রুপস মুভমেন্টস’ চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে বিপজ্জনক পরিস্থিতি এড়ানো এবং আস্থা তৈরির ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই ওই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে ২০১১ সালেও পাকিস্তানি নৌজাহাজের ঝুঁকিপূর্ণ গতিবিধি নিয়ে ভারত একই ১৯৯১ সালের চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

    আন্তর্জাতিক জলসীমায় সংঘর্ষ, তদন্তের অপেক্ষা

    এবারের ঘটনাটি কোনও দেশের territorial waters-এ নয়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে। এখনও পর্যন্ত দুই নৌযানের নাম বা সংঘর্ষের ঠিক আগের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত সরকারি তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও বুধবার পর্যন্ত ঘটনার কোনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং দুই পক্ষের গতিবিধি নিয়ে আরও তথ্য ও তদন্তের অপেক্ষা রয়েছে।

    প্রাণহানি বা বড় ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ভারত-পাকিস্তানের মতো সংবেদনশীল সামরিক সম্পর্কে আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুই দেশের যুদ্ধজাহাজের এমন সংঘর্ষকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সমুদ্রে সামরিক ইউনিটগুলির নিরাপদ দূরত্ব, যোগাযোগ এবং নির্ধারিত প্রোটোকল মেনে চলার বিষয়টি ফের সামনে এসেছে।

  • Hilsa: উলটপূরাণ! প্রথমবার ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করছে বাংলাদেশ, ওপার বাংলায় যাচ্ছে ৭০০ টন ‘রুপোলি শস্য’

    Hilsa: উলটপূরাণ! প্রথমবার ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করছে বাংলাদেশ, ওপার বাংলায় যাচ্ছে ৭০০ টন ‘রুপোলি শস্য’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে ইলিশ (Hilsa) বাণিজ্যের চেনা ছবিটাই যেন বদলে যাচ্ছে। গত বছর বাংলাদেশ (Bangladesh) থেকে ভারত যে পরিমাণ ইলিশ আমদানি করেছিল, তার চার গুণেরও বেশি ইলিশ এবার বাংলাদেশে রফতানি করতে চলেছে ভারত। চলতি বছরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ৬৫০ থেকে ৭০০ টন পর্যন্ত ইলিশ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    গত দু’মাসে পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে ঢুকেছে। চলতি সপ্তাহান্তের মধ্যে আরও ১৫০ থেকে ২০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছেন পেট্রাপোলের ছাড়পত্রের কাজের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরা। তাঁদের দাবি, চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরু থেকেই এই রফতানি শুরু হয়েছে।

    অধিকাংশ ইলিশ এসেছে গুজরাট থেকে (Hilsa)

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বাংলাদেশে যাওয়া অধিকাংশ ইলিশ এসেছে গুজরাট থেকে। সেগুলি ভারুচ বন্দর দিয়ে পাঠানো হয়েছে। কিছু ইলিশ আবার হাওড়ার পাইকারি মাছের বাজার হয়ে বাংলাদেশে গিয়েছে। প্রায় সমস্ত রফতানিই করেছেন হাওড়ার ব্যবসায়ীরা।

    হাওড়া পাইকারি মাছ বাজারের সম্পাদক সৈয়দ মকসুদ আনোয়ার বলেন, “আমরা সাধারণত বাংলাদেশে বোয়াল, রুই, পার্শে ও ট্যাংরা-সহ বিভিন্ন ধরনের মাছ রফতানি করি। সেখানে ইলিশের জোগান কম থাকায় এই প্রথম ভারতীয় ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেছি। গুজরাট থেকে বিপুল পরিমাণ ইলিশ আসার পর তার কিছুটা বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিই। বাংলাদেশের বাজারে সেই ইলিশ ভালো সাড়া পায়। পরে আরও ইলিশ রফতানি শুরু করি। এখনও পর্যন্ত ৫০০ টন ইলিশ রফতানি করেছি। দু’দিন আগে গুজরাটে আরও ৫০০ টন ইলিশের বড়সড় জোগান এসেছে। তার মধ্যে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ টন বাংলাদেশে পাঠাব আশা করছি।”

    গুজরাটের ইলিশে ডিম বা মাছের ডিমের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কলকাতায় এই ইলিশের চাহিদা সীমিত। তবে এই বৈশিষ্ট্যই বাংলাদেশি ক্রেতাদের কাছে গুজরাতের ইলিশকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারের মাছ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলিতে এই ইলিশের ডিম সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। পরে তা ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে রফতানি করা হয়। ওই দেশগুলিতে প্রচুর বাংলাদেশি বসবাস করেন।

    কী বলছেন বাংলাদেশের আমদানিকারী 

    বাংলাদেশের এক আমদানিকারী বলেন, “ইলিশের ডিম বের করে নেওয়ার পর মাছের মাংস শুকিয়ে নুন দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। তাজা ইলিশের মতো করে এই মাছ খাওয়া হয় না।”

    পেট্রাপোলের ছাড়পত্রের কাজের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশে যাওয়া অধিকাংশ ইলিশের ওজন ৭০০ গ্রাম থেকে দেড় কিলোগ্রামের মধ্যে। গুণমানের উপর নির্ভর করে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যে রয়েছে (Hilsa)।

    পেট্রাপোল ছাড়পত্রকর্মী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, “মাছগুলির প্রয়োজনীয় খাদ্যমান পরীক্ষা করা হয়। প্রাণী কোয়ারেন্টাইন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শংসাপত্র নেওয়া হয়। পণ্য পাঠানোর আগে সমস্ত প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া মেনে চলা হয়।”

    ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় অভ্যন্তরীণ মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা প্রদীপ দে-র মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের ইলিশের উৎপাদন, প্রাপ্যতা এবং ক্রেতাদের চাহিদার ধরনে পরিবর্তনের প্রতিফলন এই ঘটনায় দেখা যাচ্ছে।

    প্রদীপ বলেন, “ইলিশের বিপরীতমুখী বাণিজ্যপ্রবাহ দেখাচ্ছে যে, দেশের অভ্যন্তরে মাছের পর্যাপ্ত জোগান, গুণমান এবং সরবরাহ ব্যবস্থা যদি চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা হলে ভারত প্রতিবেশী দেশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহকারী হিসেবে উঠে আসতে পারে।”

    পদ্মা-মেঘনার ইলিশ ভারতে আনার দাবি

    এদিকে বাংলাদেশে ভারতীয় ইলিশের রফতানি চললেও বাংলাদেশ থেকে পদ্মা ও মেঘনার ইলিশ ভারতে আনার দাবিতে তৎপরতা চালাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। মাছ আমদানিকারী সমিতির সম্পাদক ও সৈয়দ মকসুদ আনোয়ার অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে বাংলাদেশ সফর করেছেন। সেখানে বাংলাদেশের বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান এবং ভারতীয় হাইকমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পদ্মা ও মেঘনার ইলিশ ভারতে রফতানির বিষয়টি তুলে ধরেন তাঁরা।

    মকসুদ বলেন, “আমরা রফতানির জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ইলিশ ঠিক করে দেওয়ার অনুরোধ করেছি। তবে (Bangladesh) কোনও সময়সীমা নির্ধারণের দাবি জানাইনি। কারণ নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে বরাদ্দ করা ইলিশের (Hilsa) সামান্য অংশই ভারতে পৌঁছতে পারে।”

     

  • India: মাসুদ আজহারের মাথার দাম ঘোষণা নিয়ে পাকিস্তানকে কটাক্ষ ভারতের, কী বলল নয়াদিল্লি?

    India: মাসুদ আজহারের মাথার দাম ঘোষণা নিয়ে পাকিস্তানকে কটাক্ষ ভারতের, কী বলল নয়াদিল্লি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারের (Masood Azhar) বিরুদ্ধে পুরস্কার ঘোষণাকে ‘লোকদেখানো পদক্ষেপ’ বলে আখ্যা দিয়ে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিল ভারত (India)। নয়াদিল্লির বক্তব্য, নিজেদের মাটিতে নিষিদ্ধ জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে এই ধরনের ‘ভাঁওতা ঘোষণা’ করে কোনও লাভ নেই।

    মঙ্গলবার ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে সাংবাদিক বৈঠকে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মাসুদ আজহার প্রসঙ্গে বলেন, “পাকিস্তানের এই ধরনের লোকদেখানো কৌশল এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা নতুন কিছু নয়। অতীতেও আমরা একই ধরনের কৌশল দেখেছি।”

    তিনি এও বলেন, “সন্ত্রাসবাদে মদতদাতা একটি রাষ্ট্র যখন এই ধরনের ভাঁওতা দেয়, তখন তার ফাঁপা চরিত্র আমরা সকলেই জানি। পাকিস্তানের উচিত পদক্ষেপ করা, এমন ঘোষণা নয়, যার কোনও বাস্তব ফল নেই।”

    পাকিস্তান সম্প্রতি মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে তাঁকে গ্রেফতার বা দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়তা করলে ৭০ লাখ পাকিস্তানি রুপি পুরস্কারের কথা জানিয়েছে। পাকিস্তানের ফেডারেল তদন্ত সংস্থার ২০২৬ সালের ‘রেড বুক’-এও আজহারের নাম রয়েছে।

    মাসুদ আজহার (India)

    ভারতের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই ওয়ান্টেড মাসুদ আজহার। ২০০১ সালের সংসদে হামলা, ২০১৬ সালের পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা বিস্ফোরণ-সহ একাধিক জঙ্গি হামলার সঙ্গে তার নাম জড়িয়েছে। ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর মাসে কাঠমান্ডু থেকে কান্দাহারগামী আইসি-৮১৪ বিমান ছিনতাইয়ের পর যাত্রীদের মুক্তির বিনিময়ে ভারত আজহার-সহ তিন জঙ্গিকে মুক্তি দিয়েছিল।

    পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করে আসছে, আজহারের বর্তমান অবস্থান তাদের জানা নেই এবং সে আফগানিস্তানে পালিয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, নয়াদিল্লির অভিযোগ, পাকিস্তানই জইশ-ই-মহম্মদ প্রধানকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। আফগানিস্তানের তালিবান সরকারও আজহার আফগানিস্তানে রয়েছে বলে পাকিস্তানের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

    ২০২৫ সালের মে মাসে পহেলগাঁও হামলার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ভারত বাহাওয়ালপুরে জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান ঘাঁটিতে হামলা চালায়। সেই হামলায় আজহারের কয়েকজন আত্মীয় নিহত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে (India)।

    এফএটিএফের চাপ

    এদিকে, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ও আর্থিক অপরাধ দমনের নজরদারি সংস্থা এফএটিএফের চাপের মধ্যেই পাকিস্তানের এই ঘোষণা সামনে এসেছে। আগামী মাসে বৈঠকে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে।

    সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ঠেকাতে যথেষ্ট ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান এফএটিএফের বর্ধিত নজরদারির ‘ধূসর তালিকা’য় ছিল। বিশেষ করে জইশ-ই-মহম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈবার মতো সংগঠনের অর্থায়ন নিয়ে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আন্তর্জাতিক চাপের পর পাকিস্তান ওই দুই সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছিল (India)।

    ২০১৯ সালের মে মাসে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মাসুদ আজহারকে (Masood Azhar) আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। চিন আপত্তি তুলে নেওয়ার পরেই পরিষ্কার হয়েছিল তার তালিকাভুক্তির পথ।

     

  • UPI: বড় অঙ্কের ইউপিআই লেনদেনেও গ্রাহকের মাশুল নেই, ২ হাজার টাকার বেশি বাণিজ্যিক পেমেন্টে বসছে নতুন হার

    UPI: বড় অঙ্কের ইউপিআই লেনদেনেও গ্রাহকের মাশুল নেই, ২ হাজার টাকার বেশি বাণিজ্যিক পেমেন্টে বসছে নতুন হার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিত্যদিনের ডিজিটাল লেনদেনকে সাধারণ মানুষের জন্য মাশুলমুক্ত রাখার বিষয়টি স্পষ্ট করে নয়া কাঠামো ঘোষণা করল কেন্দ্র। নতুন নিয়মে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে ইউপিআইয়ের (UPI) মাধ্যমে টাকা পাঠানো বা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনও মাশুল দিতে হবে না। লেনদেনের অঙ্ক যতই বড় হোক, এই পরিষেবা বিনামূল্যেই থাকবে। অর্থ মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি লেনদেনে কোনও লেনদেন মাশুল, প্ল্যাটফর্ম মাশুল বা গোপন মাশুল আরোপ করা যাবে না (P2P Transaction)। নয়া কাঠামোটি ২০০৭ সালের পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস আইনের আওতায় চালু করা হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন মাশুল কাঠামো কার্যকর হবে। তবে সাধারণ গ্রাহকদের উপর এর সরাসরি কোনও মাশুল চাপছে না।

    বন্ধু-পরিজনকে টাকা পাঠানো থাকছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (UPI)

    বন্ধু, আত্মীয় বা পরিবারের সদস্যকে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠালে কোনও অতিরিক্ত খরচ হবে না। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে সমস্ত লেনদেনই মাশুলমুক্ত থাকবে। অর্থের পরিমাণের উপরও কোনও সীমা ধরে মাশুল বসানো হবে না। এই ধরনের লেনদেন ইউপিআইয়ের মোট লেনদেনের পরিমাণের প্রায় ৭০ শতাংশ। লেনদেনের সংখ্যার হিসাবে এর অংশ প্রায় ৩৭ শতাংশ।

    ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দোকানে পেমেন্টেও মাশুল নেই

    দোকান, ব্যবসায়ী বা পরিষেবা প্রদানকারীকে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত পেমেন্ট করলেও কোনও মাশুল লাগবে না। এই ক্ষেত্রে গ্রাহক বা ব্যবসায়ী—কাউকেই বণিক ছাড়ের হার দিতে হবে না। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর পরেও ব্যক্তি থেকে ব্যবসায়ীর প্রায় ৯৬ শতাংশ লেনদেন মাশুলের আওতার বাইরে থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন এবং ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত শূন্য-মাশুল ব্যবস্থা।

    ২ হাজার টাকার বেশি পেমেন্টে ব্যবসায়ীর উপর ০.৪ শতাংশ মাশুল

    তবে ২ হাজার টাকার বেশি মূল্যের নির্দিষ্ট ব্যক্তি-থেকে-ব্যবসায়ী ইউপিআই লেনদেনে ০.৪ শতাংশ বণিক ছাড়ের হার কার্যকর হবে। ৭৫ হাজার টাকা বা তার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে এই মাশুল সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। অর্থাৎ ৭৫ হাজার টাকার বেশি লেনদেন হলেও নির্ধারিত মাশুল ৩০০ টাকার বেশি হবে না।

    এই মাশুল গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়ার কথা নয়। এটি ব্যবসায়ীর দিকের পেমেন্ট ব্যবস্থার অংশীদারদের মধ্যে বণ্টিত হবে। অর্থমন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, এই মাশুল সরকার বা জাতীয় পেমেন্ট কর্পোরেশন সংগ্রহ করবে না; ব্যাংক ও পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী-সহ পেমেন্ট ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশীদারের মধ্যে তা বণ্টিত হবে।

    ছোট দোকান ও রাস্তার ব্যবসায়ীদের জন্য ছাড়

    ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য শূন্য-মাশুলের সুবিধা বহাল থাকছে। কোনও ছোট ব্যবসায়ী ইউপিআইয়ের কিউআর কোডের মাধ্যমে মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করলে ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি-থেকে-ব্যবসায়ী শ্রেণির আওতায় তাঁর সমস্ত লেনদেনেই শূন্য বণিক ছাড়ের হার প্রযোজ্য থাকবে। ফলে রাস্তার হকার, পাড়ার ছোট মুদিখানা এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উপর নতুন মাশুলের চাপ পড়বে (UPI) না।

    রেল, টেলিকম, বিমা ও জ্বালানিতে আলাদা হার

    কিছু অত্যাবশ্যক পরিষেবার ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকার বেশি ইউপিআই পেমেন্টে ০.৪ শতাংশের পরিবর্তে প্রতি লেনদেনে ৫ টাকা হারে বণিক ছাড়ের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রেল পরিষেবা, টেলিকম, বিমা, জ্বালানি এবং কৃষি-উপকরণ সংক্রান্ত পেমেন্ট।

    সরকারের হিসাবে, এই ক্ষেত্রগুলি ইউপিআইয়ের ব্যক্তি-থেকে-ব্যবসায়ী লেনদেনের সংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ এবং ব্যবসায়ী লেনদেনের মোট মূল্যের প্রায় ৪৬ শতাংশ জুড়ে রয়েছে।

    মিউচুয়াল ফান্ড ও শেয়ারবাজারে আরও কম হার

    মিউচুয়াল ফান্ড, সিকিউরিটিজ, শেয়ারবাজারের দালাল ও ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে বণিক ছাড়ের হার আরও কম রাখা হয়েছে। এখানে হার হবে ০.০২ শতাংশ এবং প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত মাশুল নেওয়া যাবে।

    ইউপিআই অ্যাপে গোপন মাশুলও নয়

    নতুন কাঠামোয় ইউপিআই অ্যাপগুলিকে কোনও প্ল্যাটফর্ম মাশুল বা গোপন মাশুল বসানোর অনুমতি দেওয়া হবে না। পাশাপাশি ব্যাংকগুলিকে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ীরা যেন নতুন বণিক মাশুলের খরচ কোনওভাবেই গ্রাহকের উপর চাপিয়ে না দেন (P2P Transaction)।

    সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর ফলে মোট বাণিজ্যিক ইউপিআই লেনদেনের মাত্র প্রায় ৪ শতাংশ প্রভাবিত হবে। অধিকাংশ লেনদেন হয় ২ হাজার টাকার নীচে থাকবে, নয়তো ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত শূন্য-মাশুল ব্যবস্থার আওতায় পড়বে।

    ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি হবে বিশেষ তহবিল

    ছোট ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইউপিআই ব্যবহারের প্রসার ঘটাতে একটি বিশেষ তহবিলও গঠন করা হবে। মোট সংগৃহীত বণিক ছাড়ের হারের ৫ শতাংশ এই তহবিলে রাখা হবে। গ্রামীণ ও আধা-শহরাঞ্চলে ইউপিআইয়ের ব্যবহার বাড়ানো এবং ছোট ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় আরও বেশি করে আনার কাজে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।

    নতুন কাঠামোর মূল লক্ষ্য হল সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ইউপিআই পরিষেবা বিনামূল্যে রেখে বড় অঙ্কের বাণিজ্যিক লেনদেন থেকে (P2P Transaction) পেমেন্ট ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি পরিকাঠামো ও সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করা (UPI)।

     

  • Nandigram-Reginagar By Election: নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে উপনির্বাচন, নামছে ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী! ১০০% বুথে ওয়েব কাস্টিং

    Nandigram-Reginagar By Election: নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে উপনির্বাচন, নামছে ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী! ১০০% বুথে ওয়েব কাস্টিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের দুই নজরকাড়া বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করল নির্বাচন কমিশন। আগামী ৬ অক্টোবর এই দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। তার আগে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে মোট ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নন্দীগ্রামে থাকবে ৩৭ কোম্পানি এবং রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি বাহিনী।

    নির্বাচন কমিশনের তরফে মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরকে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিস্তারিত হিসাব জানানো হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনই নয়, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ১০০ শতাংশ বুথেই ওয়েব কাস্টিং করা হবে। ফলে ভোটগ্রহণের সময় বুথগুলির পরিস্থিতির উপর সরাসরি নজরদারির ব্যবস্থাও থাকছে।

    নন্দীগ্রামে ৩৭, রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি

    কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে মোতায়েন করা হবে ৩৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। রেজিনগরে থাকবে ৩৪ কোম্পানি। অর্থাৎ দুই কেন্দ্রে সব মিলিয়ে ৭১ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকছে। সাধারণত এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীতে প্রায় ১০০ জন অফিসার ও জওয়ান থাকেন। সেই হিসেবে দুই কেন্দ্রে কয়েক হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।

    বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রায় ১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আগে থেকেই রয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। সেই বাহিনীর মধ্য থেকেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের জন্য ৭১ কোম্পানি নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

    ১০০ শতাংশ বুথে ওয়েব কাস্টিং

    নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতেও জোর দিচ্ছে কমিশন। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের প্রতিটি বুথে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। নন্দীগ্রামে মোট বুথ রয়েছে ২৮২টি এবং রেজিনগরে বুথের সংখ্যা ৩১৫টি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা বুথের পাশাপাশি সংলগ্ন স্পর্শকাতর এলাকাতেও নজরদারি চালাবেন। ভোটের আগে এলাকায় রুট মার্চ এবং এরিয়া ডমিনেশনের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    কেন উপনির্বাচন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে?

    এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। ফলে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন প্রয়োজন হয়।

    অন্যদিকে, রেজিনগর আসনটি খালি হয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-র প্রধান হুমায়ুন কবীরের পদত্যাগের পর। তিনিও রেজিনগরের পাশাপাশি নওদা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। পরে নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেন তিনি।

    তৃণমূলের প্রতীক-জটিলতায় নজর

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি তৃণমূলের প্রতীক নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে কালীঘাট ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়—দুই শিবিরের দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন উভয় পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছে। তবে প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

    এই পরিস্থিতিতেই দুই শিবির আলাদা করে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। কালীঘাট তৃণমূলের তরফে নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান (দে) এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করা হয়েছে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির নন্দীগ্রামে মহম্মদ এতেশামুল হক এবং রেজিনগরে সফিউদ্দিন শেখকে প্রার্থী করেছে।

    ফলে প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে যেমন রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে, তেমনই দুই কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াও কমিশনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    ৬ অক্টোবর ভোট, ৯ অক্টোবর গণনা

    নির্বাচন কমিশনের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর-সহ চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ছয়টি বিধানসভা কেন্দ্রে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হবে। ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর

    নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, আজ, ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। ১৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র পরীক্ষা হবে এবং ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন। এরপরই দুই কেন্দ্রের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা স্পষ্ট হবে।

    নন্দীগ্রামে পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন হরি লাল চৌহান এবং সাধারণ পর্যবেক্ষক সন্তোষ দাস। রেজিনগরে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছেন এম বি বোরলিঙ্গাইয়া এবং সাধারণ পর্যবেক্ষক হর্ষল পঞ্চোলী।

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং আসন্ন উপনির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহে কমিশনের এই বিপুল নিরাপত্তা আয়োজনের ফলে ভোটের প্রস্তুতি এখন আরও তুঙ্গে।

  • Kidney disease in India: ভারতে ১৬ শতাংশ মানুষ কিডনির রোগে আক্রান্ত! কোন ৪ অভ্যাসে বাড়ছে অসুখের ঝুঁকি?

    Kidney disease in India: ভারতে ১৬ শতাংশ মানুষ কিডনির রোগে আক্রান্ত! কোন ৪ অভ্যাসে বাড়ছে অসুখের ঝুঁকি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভারতে বাড়ছে কিডনির রোগ! ভারতীয়দের একাংশ ক্রনিক কিডনি ডিজিজে আক্রান্ত হচ্ছেন। কিডনির সমস্যা বয়সের সীমানায় আটকে থাকছে না। তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও কিডনির রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য মহল। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আগাম সতর্কতা না নিলে দীর্ঘ সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব নয়। এমনকি সংসদীয় কমিটিতেও সম্প্রতি এই নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    কেন উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল?

    বিশ্বের একাধিক পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে কিডনির রোগের প্রকোপ বাড়ছে। বাদ নেই ভারতও। আধুনিক ব্যস্ত জীবনের সঙ্গী হয়ে আসছে নানান রোগ। তেমনি একটি জটিল শারীরিক সমস্যা হল কিডনির রোগ।

    কিডনির ক্রনিক অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন ৩০ থেকে ৮০—যেকোনও বয়সের মানুষ। কম বয়সিদের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে কিডনির অসুখ বাড়ছে। আর তার ফলেই জটিলতা আরও বাড়ছে।

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা ‘নেফ্রোলজি’-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৬ শতাংশ ভারতীয় কিডনির অসুখে ভুগছেন। বিশ্বের মোট কিডনির অসুখে আক্রান্তের একটি বড় অংশ ভারতীয়।

    শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ ভারতেও কিডনির অসুখের প্রকোপ মারাত্মক। গত কয়েক বছরে গ্রামে কিডনির অসুখে আক্রান্তের সংখ্যা শহুরে পরিসংখ্যানকে ছাপিয়ে গিয়েছে।

    কেন ভারতীয়দের মধ্যে কিডনির অসুখ বাড়ছে?

    ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ মারাত্মক। খুব কম বয়সে, এমনকি স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও ডায়াবেটিসের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে।

    ১৫ বছরের কম বয়সিদের মধ্যেও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের দাপট উদ্বেগজনক। আর তার জেরেই কিডনির অসুখের প্রকোপও বাড়ছে।

    রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকলে কিডনির উপর চাপ বাড়ে। কিডনির কার্যকারিতাও কমে। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে কিডনির অসুখের বোঝা কমানো যাবে না।

    উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা!

    ভারতীয়দের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাও বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই সমস্যা আরও বেশি।

    অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং লাগাতার মানসিক চাপের জেরেই তরুণ ভারতীয়দের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বাড়ছে বলে চিকিৎসকদের একাংশের মত।

    উচ্চ রক্তচাপ কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট করে। তাই ভারতীয়দের কিডনির রোগ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টিও উঠে আসছে।

    অতিরিক্ত ধূমপান!

    ধূমপান একাধিক রোগের কারণ। মুখ ও গলার ক্যান্সার, ফুসফুসের একাধিক সংক্রমণ এবং ক্যান্সারের নেপথ্যে থাকে ধূমপানের মতো অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস।

    তেমনি কিডনির অসুখের কারণ হিসাবেও ধূমপানের অভ্যাসের কথা জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক।

    বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই অনেকের মধ্যে ধূমপানের অভ্যাস তৈরি হচ্ছে। যার ফলে পরবর্তী জীবনে একাধিক রোগ দেখা দিচ্ছে। ধূমপান কিডনির একাধিক জটিল অসুখের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

    চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ওষুধ সেবন!

    ভারতে অন্যতম বড় অসচেতনতা হল, ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস। জ্বর, গায়ে ব্যথা, মাথা যন্ত্রণা বা হজমের গোলমাল—যে কোনও সমস্যায় অনেকে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ কিনে খান।

    দীর্ঘমেয়াদি এই অভ্যাস অত্যন্ত বিপজ্জনক বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়ার জেরে শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

    বিশেষত ব্যথা কমানোর ওষুধ বা পেনকিলারের অতিরিক্ত ব্যবহারের প্রভাব কিডনির উপর পড়তে পারে। লাগামছাড়া ভাবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া পেনকিলারের মতো ওষুধ খেলে কিডনির অসুখের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    কিডনির অসুখ নিয়ে কী নয়া সুপারিশ সংসদীয় কমিটির?

    সম্প্রতি সংসদীয় কমিটিতে ভারতে কিডনির অসুখের প্রকোপ বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে কমিটির সদস্যেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক বলেই তাঁরা জানিয়েছেন। তাঁদের পরামর্শ, কিডনির অসুখ রুখতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি।

    ২০ বছর বয়স থেকেই বছরে নিয়ম মেনে কিডনির পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিডনির রোগ রয়েছে কি না, তা প্রথম পর্বেই জানা গেলে জটিলতা কমানোর সুযোগ থাকবে।

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নির্দিষ্ট কিছু রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনির অসুখের প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কিডনি ঠিকমতো ফিল্টার করতে পারছে কি না, নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে সেটাও বোঝা সম্ভব।

    তাই কিডনির অসুখের জটিলতা রুখতে প্রতি বছর শারীরিক পরীক্ষা করানো জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কম বয়সিদের মধ্যে কিডনির অসুখ নিয়ে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন বলেই জানিয়েছে সংসদীয় কমিটি। তাঁদের বক্তব্য, ভবিষ্যতের ভারতের উন্নতির জন্য তরুণ প্রজন্মের দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে হবে।

    একদিকে রোগ নিয়ে সচেতনতা প্রয়োজন। তাহলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। আবার রোগ হয়েছে কি না, সেটাও যাচাই করা জরুরি। তবেই প্রাথমিক পর্ব থেকেই রোগের মোকাবিলা করা যাবে।

  • BRICS Delhi Summit: দিল্লি সম্মেলনে ব্রিকসের ঐক্য ধরে রাখল ভারত, পাঁচ বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য

    BRICS Delhi Summit: দিল্লি সম্মেলনে ব্রিকসের ঐক্য ধরে রাখল ভারত, পাঁচ বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল যুদ্ধ, বাণিজ্যিক উত্তেজনা এবং পশ্চিম এশিয়া নিয়ে সদস্য দেশগুলির তীব্র মতপার্থক্যের মধ্যেও জোটের ঐক্য ধরে রাখা। একই সঙ্গে চিন ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ অবস্থানের কারণে ব্রিকসকে (BRICS Delhi Summit) কোনওভাবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী জোটে পরিণত হতে না দেওয়াও ছিল নয়াদিল্লির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

    ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, যখন জোটের দুই সদস্য দেশের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ জড়িয়ে রয়েছে। সম্মেলনের মাত্র কয়েক মাস আগেই পশ্চিম এশিয়া নিয়ে মতবিরোধের কারণে ব্রিকসের বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক থেকে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। রিও দে জেনেইরোতে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের বৈঠকেও ঐকমত্যে পৌঁছনো যায়নি। ফলে পাঁচ সদস্যের জোট (Global South) থেকে ২০২৫ সালে ১১ সদস্যের ব্রিকসে পরিণত হওয়ার পর বিভিন্ন দেশের পরস্পরবিরোধী ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

    ঐকমত্যের ভিত্তিতে নয়াদিল্লি ঘোষণা (Global South)

    কিন্তু সেই আশঙ্কা অনেকটাই দূর করে ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার ব্রিকস নেতারা ঐকমত্যের ভিত্তিতে নয়াদিল্লি ঘোষণা গ্রহণ করেন। শুধু তাই নয়, পহেলগাঁও জঙ্গি হামলারও সম্মিলিত নিন্দা জানায় জোট। একই সঙ্গে ভারত ব্রিকসের বৃহত্তর কর্মসূচিকে উন্নয়নশীল বিশ্বের স্বার্থকেন্দ্রিক রাখতে সক্ষম হয় এবং জোটটিকে সরাসরি পশ্চিম-বিরোধী মঞ্চে পরিণত হতে দেয়নি।

    অর্থনীতিবিদ ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেফ্রি স্যাকস সম্মেলনকে সফল বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর কথায়, ঘোষণা প্রমাণ করেছে যে ব্রিকসের দেশগুলি বিশ্বমঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছে। ভারতের জি২০ সভাপতিত্বের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “অত্যন্ত কঠিন সময়েও নয়াদিল্লি আবারও ঐকমত্য গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।”

    তিন দিনে, অর্থাৎ সম্মেলনের আগের দিন এবং সম্মেলনের দুই দিনে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে ১৫টি আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। ফলে সম্মেলনটি ভারতের জন্য বহুপাক্ষিক কূটনীতির পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারেরও গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে ওঠে।

    ইরান-সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বৈঠকের মঞ্চ হল নয়াদিল্লি

    সম্মেলনের সামনে সবচেয়ে (BRICS Delhi Summit) তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ ছিল পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এই সংঘাত নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থানে ছিল। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। ফলে ব্রিকসের অভ্যন্তরেও দুই দেশের অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাজনরেখায় পরিণত হয়েছিল।

    এর আগে বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে পশ্চিম এশিয়া নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কড়া ভাষা চেয়েছিল। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি কিছু অবস্থানের বিরোধিতা করেছিল।

    ফলে সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রনেতাদের বৈঠক থেকে ঐকমত্যের ঘোষণা আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। পর্যবেক্ষক গবেষণা ফাউন্ডেশনের গবেষণা ও বিদেশনীতি বিভাগের সহ-সভাপতি হর্ষভি পন্তও সম্মেলনের আগে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে ইরান-সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উত্তেজনা যৌথ ঘোষণা আটকে দিতে পারে।

    কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই বিভাজন ব্রিকসের বৃহত্তর ঐক্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি দু’দেশই পশ্চিম এশিয়ায় সংযমের আহ্বান জানানো ব্রিকসের বিবৃতিতে সই করে (BRICS Delhi Summit)।

    এর পর সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আবু ধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সংঘাত শুরুর পর দুই দেশের মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকগুলির অন্যতম।

    ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য এখানেই—ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দ্বন্দ্বকে বৃহত্তর ব্রিকস-বিভাজনে পরিণত হতে না দেওয়া এবং নয়াদিল্লিকে দুই দেশের আলোচনার মঞ্চ হিসেবে তুলে ধরা।

    ঐকমত্য ফিরিয়ে এনে ব্রিকসকে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি দিল ভারত

    ভারতের দ্বিতীয় এবং সম্ভবত আরও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য ছিল ব্রিকসের প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা।

    জোট সম্প্রসারিত হওয়ার পর ঐকমত্যে পৌঁছনো কঠিন হয়ে উঠেছিল। ২০২৫ সালের রিও দে জেনেইরো বৈঠক থেকে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তৎকালীন সভাপতি ব্রাজিলের পক্ষ থেকে পরিবর্তে সভাপতির বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছিল।

    তাই নয়াদিল্লি সম্মেলনের সামনে বড় প্রশ্ন ছিল—আগে যে কাজ সম্ভব হয়নি, তা কি এবার করা যাবে? উত্তর মিলেছে ইতিবাচকভাবেই। নয়াদিল্লি ঘোষণা শুধু ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ে ঐকমত্যের কথা জানায়নি, বরং বিশ্ব শাসনব্যবস্থার সংস্কার, উন্নয়ন অর্থায়ন, বাণিজ্য, ডিজিটাল জনপরিকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সরবরাহ শৃঙ্খল-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথাও বলেছে।

    ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বেরও প্রশংসা করা হয়েছে এবং সম্মেলন আয়োজনের জন্য নয়াদিল্লিকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

    এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত কোনও জোটের ক্ষেত্রে সম্মেলনের যৌথ ঘোষণা নিছক আনুষ্ঠানিক দলিল নয়। মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও সদস্য দেশগুলি যে প্রতিষ্ঠানটির ভিতরে থেকে একটি সাধারণ অবস্থানে পৌঁছতে পারে, এই ঘোষণা তারই প্রমাণ।

    হর্ষভি পন্ত সম্মেলনের আগে বলেছিলেন, ব্রিকসের বিশ্বাসযোগ্যতা এখানে বড় পরীক্ষার মুখে। তাঁর মতে, “অনেক দেশ ব্রিকসের দিকে অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে।” যৌথ বিবৃতি প্রকাশে ব্যর্থতা সেই আশাকে দুর্বল করতে পারত (BRICS Delhi Summit)।

    পহেলগাঁও হামলার নিন্দা ভারতের বড় কূটনৈতিক সাফল্য

    নয়াদিল্লি ঘোষণায় ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিলের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে ওই হামলায় ২৬ জন নিহত এবং বহু মানুষ জখম হন।

    ব্রিকসের সদস্য দেশগুলি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ওই জঙ্গি হামলার নিন্দা করেছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে জোট। সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিদের চলাচল, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয়ের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে “জিরো টলারেন্স” নীতির কথাও বলা হয়েছে।

    গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ঘোষণায় পাকিস্তানের নাম করা হয়নি। কিন্তু পহেলগাঁও হামলাকে নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে সম্মিলিতভাবে সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে নিন্দা করা হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, “সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তি এবং তাদের সমর্থকদের জবাবদিহির আওতায় এনে প্রাসঙ্গিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।”

    চিনের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই অবস্থান ভারতের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নয়াদিল্লি পহেলগাঁও হামলাকে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, নিরাপদ আশ্রয় এবং আন্তর্জাতিক জবাবদিহির বৃহত্তর কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করতে পেরেছে (Global South)।

    বৃহত্তর ব্রিকস কর্মসূচিতে ভারতের অগ্রাধিকার

    ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকসের আলোচনায় উন্নয়নশীল দেশগুলির উদ্বেগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কার, উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের দাবি গুরুত্ব পেয়েছে।

    তবে প্রদত্ত প্রতিবেদনে তৃতীয় সাফল্যটি আলাদা করে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। পরবর্তী অংশে সরাসরি চতুর্থ সাফল্য হিসেবে ব্রিকসকে আমেরিকা-বিরোধী জোটে পরিণত হতে না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে (BRICS Delhi Summit)।

    ব্রিকসকে আমেরিকা-বিরোধী জোটে পরিণত হতে দিল না ভারত

    ভারতের আর একটি বড় সাফল্য ছিল তুলনামূলকভাবে সূক্ষ্ম। উন্নয়নশীল দেশগুলির উদ্বেগকে সামনে রাখলেও নয়াদিল্লি ব্রিকসকে সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিম-বিরোধী জোটে পরিণত হতে দেয়নি।

    নয়াদিল্লি ঘোষণা বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কার এবং উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির বৃহত্তর প্রতিনিধিত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের দাবিও তোলা হয়েছে। পাশাপাশি চিন ও রাশিয়া রাষ্ট্রসংঘে, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদে, ভারত ও ব্রাজিলের বৃহত্তর ভূমিকার আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করে বলে ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানেও উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

    একই সঙ্গে একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও সুরক্ষাবাদী পদক্ষেপের সমালোচনা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী একতরফা চাপের বিরোধিতা করে বলা হয়েছে, এর ফলে উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আরও উন্মুক্ত, ন্যায্য এবং নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্যব্যবস্থার পক্ষেও অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

    রাশিয়া আমেরিকার কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে এবং ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত। অন্যদিকে চিন বিশ্ব বাণিজ্য ও প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে আমেরিকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এই দুই দেশের চাপ ব্রিকসকে পশ্চিম-বিরোধী জোটের দিকে ঠেলে দিতে পারত।

    কিন্তু প্রাক্তন কূটনীতিক বীণা সিকরি শনিবার ভারতের অবস্থানকে পশ্চিম-বিরোধী নয়, বরং পশ্চিমের বাইরে থাকা অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর কথায়, “আমরা পশ্চিম-বিরোধী নই; আমরা এক পৃথিবী হিসেবে বাঁচতে চাই।” নয়াদিল্লি ঘোষণাতেও সেই ভারসাম্যই স্পষ্ট হয়েছে (Global South)।

    যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেও বৈচিত্র্যময় জোটকে সামলাল ভারত

    ভারতের পঞ্চম সাফল্যটি সবচেয়ে বিস্তৃত। ২০২৬ সালের ব্রিকস আর আগের পাঁচ সদস্যের জোট নয়। সম্প্রসারণের ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের দেশগুলি একই মঞ্চে এসেছে।

    চলতি বছরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে, কারণ জোটের দুই সদস্য সরাসরি বড় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে ব্যস্ত। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরান।

    এই যুদ্ধগুলির প্রভাব যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও পড়েছে। জ্বালানি বাজার, নৌপরিবহণ, সরবরাহ শৃঙ্খল, খাদ্যনিরাপত্তা এবং মূল্যবৃদ্ধি—সব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

    তার মধ্যেও নয়াদিল্লি ঘোষণায় পরস্পরবিরোধী স্বার্থগুলিকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম এশিয়া নিয়ে সর্বোচ্চ সংযম ও কূটনীতির আহ্বান জানানো হয়েছে এবং একই সঙ্গে আমাদের নিজ নিজ জাতীয় অবস্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বৃহত্তর আন্তর্জাতিক বিরোধের ক্ষেত্রে আলোচনা, পরামর্শ এবং কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও গুরুত্ব পেয়েছে স্থিতিস্থাপকতা, উন্নয়ন, সরবরাহ শৃঙ্খল, প্রযুক্তি এবং অর্থায়ন।

    যুদ্ধ, অর্থনৈতিক বিভাজন এবং বৃহৎ শক্তিগুলির প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ব্রিকস যখন ভেঙে পড়ার আশঙ্কার মুখে, তখন ভারত ঐকমত্য গড়ে তুলে উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফলাফল নিশ্চিত করেছে। নয়াদিল্লি দেখিয়ে দিয়েছে, গভীর (BRICS Delhi Summit) মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ব্রিকসকে কার্যকর রাখা সম্ভব।

    এখন পরবর্তী পরীক্ষা চিনের। ২০২৭ সালে ব্রিকসের সভাপতিত্ব চিনের হাতে যাবে। ভারত যে ঐকমত্য তৈরি (Global South) করেছে, বেজিং সেটি কতটা ধরে রাখতে পারে, সেটিই দেখার।

     

  • Operation Sindoor: ‘অপারেশন সিঁদুরে’র পর ফের তৈরি জঙ্গিঘাঁটি! প্রকাশ্যে বাহাওয়ালপুর, সাওয়াই নালা, মুজফফরাবাদে নির্মাণের ছবি

    Operation Sindoor: ‘অপারেশন সিঁদুরে’র পর ফের তৈরি জঙ্গিঘাঁটি! প্রকাশ্যে বাহাওয়ালপুর, সাওয়াই নালা, মুজফফরাবাদে নির্মাণের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরে ধ্বংস হওয়া পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি ফের গড়ে তোলা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা একাধিক এক্সক্লুসিভ ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে ওই ঘাঁটিগুলিতে নতুন করে নির্মাণকাজের চিহ্ন। নতুন ইট ও নতুন দেওয়াল দিয়ে ফের কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে ওই সংবাদ প্রতিবেদনে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) সময় ভারতের হামলায় বাহাওয়ালপুর, সাওয়াই নালা এবং মুজফফরাবাদে থাকা জঙ্গি পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছিল। এবার সেখানেই নতুন করে নির্মাণের প্রমাণ মিলেছে।

    লস্কর-ই-তৈবার সাওয়াই নালা শিবিরের ছবি (Operation Sindoor)

    প্রতিবেদনে প্রকাশিত প্রথম ভিডিয়োটি লস্কর-ই-তৈবার সাওয়াই নালা শিবিরের বলে দাবি করা হয়েছে। এই শিবিরটি জঙ্গিদের থাকার জন্য ব্যবহৃত (POK) হত। অপারেশন সিঁদুরের সময় শিবিরটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে সেখানেই ফের শুরু হয়েছে নির্মাণকাজ।

    দ্বিতীয় যে ছবি সামনে এসেছে, সেটি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজফফরাবাদের সাইদা বিলাল শিবিরের। এই ঘাঁটিটি জইশ-ই-মহম্মদের অন্যতম কেন্দ্র। অপারেশন সিঁদুরের সময় এখানেও হামলা চালানো হয়। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছিল। এখন সেখানেও নতুন ইট দিয়ে নতুন করে দেওয়াল নির্মাণের ছবি দেখা যাচ্ছে।

    ধ্বংস হওয়া ঘাঁটি ফের গড়ে তোলার চেষ্টা?

    প্রতিরক্ষামন্ত্রকের রিপোর্টেও ওই জঙ্গিঘাঁটিগুলির উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর অভিযানে এই জঙ্গি পরিকাঠামোগুলি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছিল।

    তবে নতুন করে নির্মাণের ছবি সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তানের মাটিতে ফের জঙ্গি পরিকাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু হয়েছে কি না। নতুন দেওয়াল এবং ইটের কাঠামো সেই সম্ভাবনারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

    অপারেশন সিঁদুরে ভারতের অবস্থানে বড় পরিবর্তন’

    গত মাসে প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানে বলেছিলেন, অপারেশন সিঁদুর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের কৌশলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। তাঁর বক্তব্য, এই অভিযানে শুধু সীমান্তের কাছাকাছি থাকা জঙ্গিঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করা হয়নি, প্রতিবেশী দেশের গভীরে থাকা জঙ্গিদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    অপারেশন সিঁদুর চালানো হয়েছিল পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর। নারাভানে বলেন, জঙ্গিদের যারা মদত দেয়, তারা দেশের যে প্রান্তেই থাকুক না কেন, ভারতীয় পদক্ষেপ থেকে তাদেরও রেহাই নেই—এই বার্তাই ওই অভিযানের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।

    তিনি বলেন, এর আগে ভারতের সামরিক প্রতিক্রিয়া মূলত সীমান্তের কাছাকাছি থাকা জঙ্গিঘাঁটিগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। উরি এবং পুলওয়ামার হামলার পরের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে নারাভানে বলেন, “এর আগে যখনই এই ধরনের হামলা হয়েছে—উরির পর কিংবা পুলওয়ামার পর বালাকোটে হামলার সময়—আমরা মূলত সীমান্তের কাছাকাছি থাকা জঙ্গিঘাঁটিগুলিকেই টার্গেট করতাম।”

    সির ক্রিকে পাকিস্তানের তৎপরতা নিয়েও মন্তব্য

    সির ক্রিক এলাকায় পাকিস্তানের তৎপরতা বৃদ্ধি এবং তথাকথিত ‘অপারেশন আবাবিল’ চালানোর খবর নিয়েও প্রশ্ন করা (Operation Sindoor) হয়েছিল প্রাক্তন সেনাপ্রধানকে। নারাভানে জানান, এই ধরনের কার্যকলাপ হয়ে থাকে। তবে ওই অভিযান সম্পর্কে তাঁর কাছে সম্পূর্ণ তথ্য নেই।

    ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়েও বার্তা নারাভানের

    ভারত-চিন সম্পর্কের প্রসঙ্গে নারাভানে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সাম্প্রতিক বৈঠককে দুই দেশের দীর্ঘদিনের (POK) সীমান্ত বিরোধের প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে।

    তিনি জানান, এটি দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম দফার আলোচনা। অর্থাৎ এই বৈঠক প্রথমবারের ঘটনা নয়। তাঁর মতে, এই (Operation Sindoor) আলোচনার ক্ষেত্রে মূল বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি—ভারত ও চিনের মধ্যে এখনও সীমান্ত বিরোধ রয়েছে।

     

LinkedIn
Share