মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশনীতিকে উপহাস করতে গিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) যে ভাষা প্রয়োগ করেছেন তা ‘অসংযত ও অশালীন’ বলে অভিযোগ করল বিজেপি (BJP Attacks Rahul)। এমন ভাষার ব্যবহার তাঁর পদমর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। এই প্রসঙ্গে রাহুলের উদ্দেশে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী বলেন, ‘‘মনে হয় এবার অন্তত ওঁর সাবালকের মতো আচরণ করা উচিত।’’
রাহুলকে পরিণত হতে বার্তা
দিল্লিতে বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের নতুন মঞ্চ ‘রচনাত্মক কংগ্রেস’-এর প্রথম জাতীয় সম্মেলনে রাহুল দাবি করেছিলেন, মোদি সরকারের একের পর এক জনবিরোধী সিদ্ধান্তে দেশের আমজনতার আক্রোশ ক্রমশ বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘‘আমজনতার প্রতিবাদ, বিক্ষোভের কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না!’’ সেই সঙ্গে মোদি সরকারের বিদেশনীতিরও কড়া সমালোচনা করেন রাহুল। তাঁর মতে, আরএসএস এবং বিজেপির বর্তমান কর্তারা হলেন ‘একদল ভাঁড়’। প্রহ্লাদ শুক্রবার অভিযোগ করেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে আদতে ভারতের জনগণকে অপমান করেছেন রাহুল।’’ এর পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘‘রাহুল গান্ধী, আপনি কবে পরিণত হবেন? ভারত চালানোর জন্য পরিণত নেতৃত্ব প্রয়োজন, অপেশাদার নাট্যাভিনয় নয়। গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত একটি সরকারকে ‘ভাঁড়’ বলা প্রমাণ করে যে আপনি সীমা লঙ্ঘন করছেন।’’
ব্যর্থ স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ানের মতো আচরণ রাহুলের
রাহুল ছাড়াও কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির প্রসঙ্গ টেনে মোদির বিরুদ্ধে মন্তব্য করায় বিষয়টি আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে। বিজেপির অভিযোগ, বিদেশনীতি নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনার পরিবর্তে রাহুল গান্ধী ব্যক্তিগত ইঙ্গিত ও রসিকতার আশ্রয় নিয়েছেন। বিজেপির দাবি, সরকারের বিদেশনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কিংবা প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কূটনীতি নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন তোলার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কিন্তু সেই সমালোচনা তথ্য, নীতি ও কূটনৈতিক ফলাফলের ভিত্তিতে হওয়া উচিত, ব্যক্তিগত ইঙ্গিত বা মঞ্চস্থ করা রাজনৈতিক রসিকতার মাধ্যমে নয়। বিজেপি সাংসদ বাঁসুরি স্বরাজ রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তাঁর আচরণ তাঁকে ‘লোকসভার বিরোধী দলনেতার চেয়ে ব্যর্থ স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ানের মতো’ বেশি তুলে ধরেছে। তাঁর অভিযোগ, রাহুল গান্ধী ‘লকার-রুম টক’ এবং ‘সস্তা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য’-এর আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁর মতে, দেশের মানুষ এমন একজন বিরোধী দলনেতা প্রত্যাশা করেন যিনি সাংবিধানিক পদটির মর্যাদা বজায় রাখবেন।
ব্যক্তিগত ইঙ্গিত বা কটাক্ষ কেন
বিজেপি নেতা শেহজাদ পুনাওয়ালাও রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক বিতর্ক আর কতটা নীচে নামতে পারে। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে এবং তাঁকে কঠোরভাবে আক্রমণ করাও বিরোধীদের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু একজন মহিলা বিদেশি রাষ্ট্রনেতাকে টেনে এনে ব্যক্তিগত রসিকতা করা কোনওভাবেই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা বা রসবোধের পরিচয় নয়। বিজেপির বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কিংবা কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি নিয়ে বিরোধীরা যতটা আগ্রাসী সমালোচনা করতে চান, করতে পারেন। কিন্তু ব্যক্তিগত ইঙ্গিত বা কটাক্ষ দিয়ে সেই রাজনৈতিক বক্তব্যের শক্তি বাড়ে না, বরং মূল ইস্যু থেকে আলোচনা সরে যায়।
কার্যকর রাজনৈতিক বার্তার অভাব
এখানেই ‘রচনাত্মক কংগ্রেস’ নামের অনুষ্ঠান নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ‘রচনাত্মক বিরোধিতা’র অর্থ হওয়া উচিত বেকারত্ব, অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা, বিদেশনীতি এবং প্রশাসনিক কার্যকলাপ নিয়ে সরকারকে তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে জবাবদিহির মুখে দাঁড় করানো। লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর কাছে সেই রাজনৈতিক মঞ্চ এবং সাংবিধানিক সুযোগ দুটোই রয়েছে। তাই তাঁর সমালোচনা ব্যক্তিগত কটাক্ষের পরিবর্তে নীতি, তথ্য ও সরকারের বাস্তব ফলাফলের উপর কেন্দ্রীভূত হলে তা আরও কার্যকর রাজনৈতিক বার্তা দিতে পারত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।









