Blog

  • Indian Americans: ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮ নভেম্বর ‘দীপাবলি দিবস’, উৎসবে যোগ দেওয়ার আহ্বান বাসিন্দাদের

    Indian Americans: ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮ নভেম্বর ‘দীপাবলি দিবস’, উৎসবে যোগ দেওয়ার আহ্বান বাসিন্দাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট অ্যাসেম্বলি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের ৮ নভেম্বরকে ‘দীপাবলি দিবস’ (Deepawali) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের বাসিন্দাদের আলোর উৎসব দীপাবলি উদ্‌যাপনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে ভারতীয়-আমেরিকান (Indian Americans) সম্প্রদায়ের কাছে দীপাবলির গভীর সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে তুলে ধরার পাশাপাশি ঐক্য, উদারতা, ইতিবাচকতা, জ্ঞান ও আত্মবিশ্লেষণের মতো সর্বজনীন মূল্যবোধের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এই স্বীকৃতি ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সভ্যতাগত সমৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ‘সফট পাওয়ারে’রও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    দীপাবলির সর্বজনীন বার্তাকে স্বীকৃতি (Indian Americans)

    ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট অ্যাসেম্বলি ২০ অগাস্ট, বৃহস্পতিবার, এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করে। অ্যাসেম্বলি সদস্য দর্শনা প্যাটেল এবং অ্যাশ কালরা প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। দীপাবলিকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়-আমেরিকান এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বৃহত্তর ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের প্রতি অ্যাসেম্বলি তার “গভীরতম শ্রদ্ধা” প্রকাশ করেছে।

    প্রস্তাবে বলা হয়েছে, “অ্যাসেম্বলি চলতি বছরের দীপাবলি উৎসবকে রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের এই আনন্দময় উদ্‌যাপনের দিনে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করছে।”

    আমেরিকাজুড়ে দীপাবলির সাংস্কৃতিক গুরুত্ব ক্রমশ বাড়তে থাকার সময়েই ক্যালিফোর্নিয়ার এই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ ও জৈন সম্প্রদায়ের মানুষ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক রীতি ও ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে দীপাবলি উদ্‌যাপন করেন।

    প্রস্তাবে দীপাবলিকে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন উৎসব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই উৎসব পরিবার, বন্ধু ও বিভিন্ন সম্প্রদায়কে একত্রিত করে। উদারতা, ঐক্য, আনন্দ, কৃতজ্ঞতা এবং আত্মবিশ্লেষণকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই উৎসব বিভিন্ন সম্প্রদায় নিজেদের ঐতিহ্য অনুযায়ী পালন করে। সাধারণত ঘরবাড়ি মোমবাতি, তেলের প্রদীপ, মাটির প্রদীপ দিয়ে আলোকিত করা হয়। অনেক জায়গায় আতশবাজিও পোড়ানো হয় দীপাবলি উদ্‌যাপনের অন্যতম অংশ হিসেবে।

    প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই ঐতিহ্যগুলির মধ্যে নিহিত রয়েছে অশুভের বিরুদ্ধে শুভর জয়ের বৃহত্তর বার্তা। একই সঙ্গে সংগ্রাম অতিক্রম করা, নেতিবাচকতা থেকে মুক্তি, ইতিবাচকতা ও বিনয়কে গ্রহণ করা এবং ব্যক্তিগত প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের প্রতি সদয় থাকার মতো মূল্যবোধের সঙ্গেও দীপাবলির সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, “যাঁরা দীপাবলি উদ্‌যাপন করেন, তাঁদের কাছে এই উৎসব জ্ঞান, বিকাশ ও সুখের প্রতি অঙ্গীকারের সময়। এটি আত্মবিশ্লেষণেরও সময়, যা প্রজ্ঞা, দয়া এবং পরিবর্তনের গুরুত্বকে তুলে ধরে।”

    ভারতীয়-আমেরিকানদের অবদানেও জোর

    ক্যালিফোর্নিয়ার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে ভারতীয়-আমেরিকান সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও অ্যাসেম্বলি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে। ২০২৬ সালের দীপাবলিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে জাতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের উৎসবে অংশ নেওয়ার এবং দীপাবলির সঙ্গে যুক্ত মূল্যবোধগুলি বোঝার আহ্বান জানানো হয়েছে (Indian Americans)।

    প্রস্তাবে দীপাবলিকে সুস্বাস্থ্য, সম্পদ, জ্ঞান, শান্তি ও সমৃদ্ধি উদ্‌যাপনের একটি সুযোগ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবার, বন্ধু ও বৃহত্তর সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    ফলে ২০২৬ সালের ৮ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দীপাবলি দিবস’ হিসেবে পালিত হবে। রাজ্যের বাসিন্দাদের উৎসবে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি আলো, আশা ও ইতিবাচকতার বার্তাকে উপলব্ধি করার আহ্বান জানিয়েছে স্টেট অ্যাসেম্বলি।

    ভারতীয়-আমেরিকান সম্প্রদায়ের কাছে এই স্বীকৃতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর মাধ্যমে তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে (Deepawali) গভীরভাবে যুক্ত একটি উৎসবকে সরকারি স্তরে মর্যাদা দেওয়া হলো। ক্যালিফোর্নিয়ার পাশাপাশি পেনসিলভানিয়া, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি এবং টেক্সাসও বিভিন্ন সময়ে দীপাবলিকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং সরকারি পর্যায়ে উৎসব উদ্‌যাপনের উদ্যোগও নিয়েছে (Indian Americans)।

     

  • Amit Shah: পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক, গঠিত হল স্থায়ী কমিটি

    Amit Shah: পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক, গঠিত হল স্থায়ী কমিটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দার্জিলিং পাহাড়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে বসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। শনিবার দার্জিলিংয়ের সুকনায় অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুং ও রোশন গিরি এবং দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ত। পাহাড়ের (Sukna Talks) রাজনৈতিক সমস্যা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং উন্নয়নের রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    বিজেপি সরকারের পদক্ষেপ (Amit Shah)

    রাজ্যে পালাবদলের পর পাহাড়ের সমস্যা নিয়ে এই প্রথম ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের আয়োজন করা হল। বৈঠকে পাহাড়ের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে একটি রোডম্যাপ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল, পাহাড়ের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে একটি স্থায়ী কমিটি গঠন। ওই কমিটির শীর্ষে রয়েছেন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রাক্তন ডিজি তথা প্রাক্তন আইপিএস পঙ্কজকুমার সিং। এ দিনের আলোচনায় তিনি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন করেন। তবে কমিটিতে কতজন সদস্য থাকবেন এবং তার গঠনতন্ত্র কী হবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

    দীর্ঘদিন ধরে গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়েছে দার্জিলিং পাহাড়। এই আন্দোলনকে ঘিরে পাহাড়ের রয়েছে রক্তক্ষরণের দীর্ঘ ইতিহাস। তৃণমূল জমানায় জিটিএ (গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) পরিচালনার ক্ষেত্রেও একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছিল। আর্থিক দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম এবং পর্যটন ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা নিয়ে সরব হয়েছিলেন পাহাড়ের মানুষ।

    শনিবারের বৈঠকে অতীতের সেই ব্যর্থতার বিষয়গুলি যেমন আলোচনায় উঠে এসেছে, তেমনই বর্তমান সরকারের ‘ডাবল ইঞ্জিন’ নীতির মাধ্যমে পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যের কথাও স্পষ্ট করা হয়েছে। পাহাড়ের রাজনৈতিক সমস্যার পাশাপাশি শিক্ষা, পর্যটন, পরিবহণ এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

    শাহি আশ্বাস

    বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Amit Shah) আশ্বাস দিয়েছেন, পাহাড়ের যে কোনও সমস্যার সমাধান সাংবিধানিক পথেই করা হবে। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে পর্যটন এবং পরিবহণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাহাড়ের সমস্যার সাংবিধানিক সমাধানের পথেই সম্মতি জানিয়েছেন বিমল গুরুং এবং রোশন গিরিও।

    পাহাড়ের উন্নয়নের কাজ কতটা এগোল, তা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে বলেও বৈঠকে জানানো হয়েছে। শাহ স্বয়ং নিয়মিত পর্যালোচনা বৈঠক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন (Sukna Talks)। ফলে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপড়েনের অবসান ঘটিয়ে পাহাড়ে স্থায়ী সমাধানের পথে এই বৈঠক কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, এখন সেটাই দেখার (Amit Shah)।

     

  • Mohan Bhagwat: ভাগবতের কানাডা সফরের অনুমতি চেয়ে কার্নিকে চিঠি শতাধিক হিন্দু সংগঠনের

    Mohan Bhagwat: ভাগবতের কানাডা সফরের অনুমতি চেয়ে কার্নিকে চিঠি শতাধিক হিন্দু সংগঠনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কানাডায় আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat) সফরের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে চিঠি দিল শতাধিক কানাডীয় (Canada Visit) হিন্দু সংগঠন ও নাগরিক অধিকার গোষ্ঠী। ভাগবতকে কানাডায় প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা করার যে দাবি উঠেছে, তা প্রত্যাখ্যান করে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত যেন রাজনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে নয়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নেওয়া হয়—চিঠিতে এমনই আবেদন জানানো হয়েছে।

    কানাডা সরকারকে চিঠি (Mohan Bhagwat)

    কার্নির পাশাপাশি জননিরাপত্তা মন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারী, অভিবাসন মন্ত্রী লেনা মেটলেজ দিয়াব এবং বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দের কাছেও চিঠির প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে। আরএসএস প্রধানকে কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি এবং সংগঠনটিকেও নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে কিছু খালিস্তানপন্থী নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাংসদ, যাঁদের মধ্যে জেনি কোয়ান ও হিদার ম্যাকফারসন রয়েছেন। কিছু ইসলামপন্থী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনও একই দাবি তুলেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, কানাডার বৃহৎ হিন্দু জনগোষ্ঠীর কাছে ভাগবতের প্রস্তাবিত সফর “যথেষ্ট আগ্রহের বিষয়”। শতাধিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, “আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারী ১০১টিরও বেশি কানাডীয় সংগঠন ও নাগরিক অধিকার গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবতের কানাডা সফরের প্রস্তাবের প্রতি আমাদের সমর্থন জানাতে লিখছি। এই সফর কানাডার হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, যার মধ্যে হিন্দু ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত ১০ লাখেরও বেশি কানাডীয় নাগরিক রয়েছেন।”

    আরএসএস ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন

    চিঠিতে আরএসএসকে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, জনপরিসরে মতপ্রকাশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সামাজিক প্রকল্প এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য সংগঠনটি পরিচিত। সেখানে আরও বলা হয়েছে, “তাই আমরা নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাংসদ জেনি কোয়ান ও হিদার ম্যাকফারসন এবং কয়েকটি সংগঠনের সাম্প্রতিক সেই আহ্বান নিয়ে উদ্বিগ্ন, যেখানে কানাডা সরকারকে ভাগবতকে দেশে প্রবেশ করতে না দেওয়া এবং তাঁকে প্রবেশের অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।”

    ভাগবতের (Mohan Bhagwat) কানাডা সফর ঠেকানোর এই প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করেছে স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলি। তাদের বক্তব্য, ভাগবতের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি তোলা হয়েছে, সেগুলির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। দুই সাংসদের তরফে ভাগবতের বিরুদ্ধে ঘৃণাত্মক বক্তব্যের ইতিহাস, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসাকে সমর্থন, পরিকল্পিতভাবে ভয় দেখানো এবং সন্ত্রাসবাদী বা অপরাধমূলক সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের মতো অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।

    চিঠিতে যা লেখা হয়েছে

    এই বিষয়ে চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, “গুরুতর অভিযোগের জন্য বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।”

    আরও বলা হয়েছে, “এগুলি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। স্পষ্ট, বিশ্বাসযোগ্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ ছাড়া এগুলিকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে ব্যবহার করা বা সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা উচিত নয় (Canada Visit)।”

    চিঠিতে কানাডীয় কর্তৃপক্ষকে অভিযোগগুলির সমর্থনে থাকা প্রমাণ খুঁজে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তা যথাযথ আইনি ও সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল্যায়ন করতে হবে।

    ভাগবতের উপস্থিতি কানাডার জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে কিংবা সামাজিক অশান্তির কারণ হতে পারে—এমন আশঙ্কাও খারিজ করেছে সংগঠনগুলি। তাদের প্রশ্ন, কানাডায় ভাগবত বা আরএসএসের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার নির্দিষ্ট কোনও নজির রয়েছে কি না। তাঁর কানাডা সফর জননিরাপত্তাকে বিপন্ন করবে—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, “কানাডার অভিবাসন ও জননিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত আইন, বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে হওয়া উচিত,  অনুমান বা রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিত্তিতে নয়।”

    হিন্দু সংগঠনগুলির বক্তব্য

    সংগঠনগুলির বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনাও বৈধ। তবে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও বিদেশি নেতাকে কানাডায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে তা (Mohan Bhagwat) বহুত্ববাদ ও ন্যায়সঙ্গত আচরণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলতে পারে।

    চিঠিতে আরও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, যথেষ্ট প্রমাণ ছাড়াই ভাগবতকে কানাডায় প্রবেশ করতে না দিলে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর তার বৃহত্তর প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে কানাডীয় হিন্দু ও তাঁদের সংগঠনগুলির সঙ্গে অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে—এমন ধারণা তৈরি হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    সংগঠনগুলির বক্তব্য, “কানাডার বহুসাংস্কৃতিক ব্যবস্থা এই নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত যে বিভিন্ন ধর্ম ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মানুষ জনজীবনে পূর্ণাঙ্গভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। অন্য সব ধর্মীয় বা অ-ধর্মীয় পটভূমির কানাডীয়দের মতো হিন্দুরাও মর্যাদা, নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সংগঠনের অধিকার এবং আইনের চোখে সমতার অধিকারী।”

    “হিন্দুফোবিয়া”য় উদ্বেগ

    ভাগবতের বিরুদ্ধে চলা প্রচারাভিযানকে কিছু কানাডীয় হিন্দু “হিন্দুবিরোধী পক্ষপাত” বা “হিন্দুফোবিয়া” হিসেবে দেখছেন বলেও চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কয়েকটি সংগঠন বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মতামত দিয়ে কানাডার সব নাগরিক কিংবা সমস্ত কানাডীয় হিন্দুর অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করা উচিত নয়।

    চিঠিতে ভাগবতের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, “ভাগবতের বক্তব্যের মূল গুরুত্ব সব সময় সামাজিক সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক পরিচয়, সমাজসেবা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগের উপর ছিল। তাই আমরা রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সংগঠনগুলিকে তাঁদের প্রকাশ্য বক্তব্যে দায়িত্বশীল হওয়ার এবং এমন ভাষা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানাই, যা কানাডার বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায়গুলির মধ্যে বিভাজন আরও গভীর করতে পারে (Mohan Bhagwat)।”

    চিঠির শেষাংশে সংগঠনগুলি বলেছে, “কানাডার প্রয়োজন আরও আলোচনা, বিভাজন নয়; আরও প্রমাণ, অভিযোগ নয়; আরও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক চাপ নয়; এবং তার বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি আরও সম্মান। কোনও একটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক নেতাকে স্বাগত জানানোর বৈধ অধিকারকে স্তব্ধ করার প্রচেষ্টা নয়। আমরা সম্মানের সঙ্গে কানাডা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, মোহন ভাগবতের প্রস্তাবিত সফর বিবেচনার সময় সমতা, বহুত্ববাদ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সংগঠনের অধিকার এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার নীতিগুলি বজায় রাখা হোক।”

    চিঠিতে যারা স্বাক্ষর করেছে

    এই যৌথ উদ্যোগে কানাডা ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন, কানাডিয়ান আর্য সমাজ, ব্র্যাম্পটন হিন্দু সোসাইটি, হিন্দু সোসাইটি অব কানাডা, হিন্দু মিশন অব কানাডা, হিন্দু সভা টেম্পল, হিন্দু স্বয়ংসেবক সংঘ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ কানাডা-সহ একাধিক মন্দির, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক সংগঠন অংশ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে (Canada Visit)।

    চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ভাগবতের প্রস্তাবিত সফরকে কেন্দ্র করে ভারতবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী—ইসলামপন্থী, বামপন্থী ও খালিস্তানপন্থী সংগঠনগুলির সমন্বয়ে একটি প্রচারাভিযান চালানো হচ্ছে। অনলাইন আবেদন, লিখিত আবেদন এবং প্রতিবাদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্য—এই তিন দেশের সরকারের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

    তবে ভাগবতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং বিভিন্ন সংগঠনের পাল্টা দাবিগুলি চিঠিতে উল্লিখিত বক্তব্যের ভিত্তিতেই এসেছে, এগুলির সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাধীন যাচাই ও প্রমাণের মূল্যায়ন প্রয়োজন (Mohan Bhagwat)।

     

  • ISRO Transformation: বড় রদবদল ইসরোর কাজে, রকেট-স্যাটেলাইট তৈরির দায়িত্ব যাচ্ছে বেসরকারি সংস্থার হাতে!

    ISRO Transformation: বড় রদবদল ইসরোর কাজে, রকেট-স্যাটেলাইট তৈরির দায়িত্ব যাচ্ছে বেসরকারি সংস্থার হাতে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে কেন্দ্র। ভবিষ্যতে রকেট ও নিয়মিত ব্যবহারের উপগ্রহ তৈরির মতো রুটিন উৎপাদনমূলক কাজ থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে গবেষণা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক অভিযান এবং বিশেষ পরিকাঠামো তৈরিতে আরও বেশি মন দিতে চলেছে ইসরো (ISRO)। সেই সঙ্গে রকেট ও উপগ্রহের উৎপাদন এবং বাণিজ্যিক পরিচালনার বড় অংশ তুলে দেওয়া হবে বেসরকারি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট শিল্পক্ষেত্রের হাতে। একটি সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইন-স্পেস-এর চেয়ারম্যান ড. পবন গোয়েঙ্কা এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই রূপান্তর ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে এবং আগামী দিনে ভারতের মহাকাশ শিল্পে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    রকেট তৈরির দায়িত্ব আর নেবে না ইসরো

    পবন গোয়েঙ্কার কথায়, ভবিষ্যতে ইসরো নিজে আর কোনও লঞ্চ ভেহিকল তৈরি করবে না। তাঁর বক্তব্য, রকেট নির্মাণের কাজ বেসরকারি সংস্থা অথবা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার হাতে চলে যাবে। এর ফলে কয়েক দশক ধরে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে যে মডেল কার্যকর ছিল, তাতে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। এতদিন গবেষণা থেকে শুরু করে রকেটের নকশা, উৎপাদন এবং উৎক্ষেপণ—প্রায় প্রতিটি স্তরেই ইসরোর কেন্দ্রীয় ভূমিকা ছিল। নতুন ব্যবস্থায় ইসরো মূলত প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

    এসএসএলভি দিয়ে শুরু হয়েছে পরিবর্তন

    এই প্রক্রিয়ার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উঠে এসেছে স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিক্যল বা এসএসএলভি (SSLV)। ইতিমধ্যেই এসএসএলভি-র প্রযুক্তি ও উৎপাদনের অধিকার নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এটি ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি হস্তান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির। ভবিষ্যতে আরও বড় রকেটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের মডেল কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এবার পিএসএলভি ও এলভিএম ৩-র পালা?

    পরবর্তী ধাপে ভারতের দুই গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চ ভেহিকল—পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিক্যল বা পিএসএলভি (PSLV) এবং লঞ্চ ভেহিক্যল মার্ক-৩ বা সংক্ষেপে এলভিএম-৩ (LVM3) —বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া এগোতে পারে। এলভিএম-৩ বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী কার্যকরী রকেট। ভারী উপগ্রহ উৎক্ষেপণের পাশাপাশি ভারতের ভবিষ্যৎ মানব মহাকাশ অভিযানেও এই পরিবারের রকেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে এসএসএলভি-এর মতো এবার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন গোয়েঙ্কা। অর্থাৎ, এই পর্বে বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলিই মূলত উৎপাদনের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ পাবে।

    গবেষণায় আরও বেশি মন দেবে ইসরো

    এই পরিবর্তনের ফলে ইসরোর চরিত্রও ধীরে ধীরে বদলাবে। শুধু রকেট ও উপগ্রহ তৈরির দায়িত্ব পালনকারী সংস্থা হিসেবে নয়, বরং একটি গবেষণা ও উন্নয়ন বা গবেষণা-কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসরোকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন প্রযুক্তি তৈরি, বৈজ্ঞানিক মহাকাশ অভিযান, বিশেষায়িত উপগ্রহ এবং এমন উন্নত পরিকাঠামো নির্মাণে ইসরো গুরুত্ব দেবে, যেগুলি বেসরকারি সংস্থার পক্ষে একা তৈরি করা কঠিন। কোনও প্রযুক্তি পরীক্ষিত ও পরিণত হয়ে গেলে তা বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে। সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেসরকারি শিল্প বাণিজ্যিক পরিষেবা চালাতে পারবে। গোয়েঙ্কা জানান, ইতিমধ্যেই ইসরো ১২০টি প্রযুক্তি বেসরকারি ক্ষেত্রের হাতে হস্তান্তর করেছে।

    নতুন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রও বেসরকারি হাতে যেতে পারে

    শুধু রকেট উৎপাদন নয়, ভারতের একটি নতুন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বও বেসরকারি শিল্পের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গোয়েঙ্কার বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী চার-পাঁচ মাসের মধ্যে এই উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের অপারেটর চূড়ান্ত হতে পারে। এর ফলে ভারতের মহাকাশ পরিকাঠামোতেও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের পরিমাণ বাড়বে।

    ২০৩৩ সালের মধ্যে ৪৪ বিলিয়ন ডলারের মহাকাশ অর্থনীতি

    ভারতের এই নীতির পিছনে রয়েছে আরও বড় অর্থনৈতিক লক্ষ্য। বর্তমানে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতির আকার প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার। সরকারের লক্ষ্য, ২০৩৩ সালের মধ্যে সেটিকে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া। এই লক্ষ্য পূরণে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন গোয়েঙ্কা। প্রথমত, মহাকাশ পরিষেবায় সরকারের চাহিদা বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রচলিত মহাকাশ শিল্পের বাইরের ক্ষেত্রগুলিতে মহাকাশ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় মহাকাশ পরিষেবা ও প্রযুক্তির প্রসার ঘটাতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে একজন ‘অ্যাঙ্কর কাস্টমার’ বা প্রধান ক্রেতা হিসেবে কাজ করতে হবে বলেও মত দিয়েছেন তিনি।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও বাড়ছে বেসরকারি মহাকাশ সংস্থার ভূমিকা

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র ইতিমধ্যেই এই পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বেসরকারি সংস্থাগুলির কাছ থেকে ৩১টি উপগ্রহের অর্ডার দিয়েছে। একই বৃহত্তর কর্মসূচির আওতায় আরও ২১টি উপগ্রহ তৈরি করার কথা ইসরোর। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা, নজরদারি, যোগাযোগ এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা প্রয়োজনেও বেসরকারি মহাকাশ সংস্থার তৈরি উপগ্রহের ব্যবহার বাড়তে পারে।

    বদলাচ্ছে মহাকাশ ব্যবসার মডেল

    ভারত শুধু বেসরকারি সংস্থাকে রকেট বা উপগ্রহ তৈরির সুযোগ দিতে চাইছে না, বরং মহাকাশ সম্পদের মালিকানা এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন মডেলের দিকে এগোচ্ছে। এই মডেলে বেসরকারি সংস্থাগুলি নিজেরাই উপগ্রহের মালিক হবে। সেই উপগ্রহ থেকে সংগৃহীত তথ্য, ডেটা ও পরিষেবা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে তারা আয় করতে পারবে। ফলে আগামী দিনে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতিতে শুধু উৎক্ষেপণ পরিষেবা নয়, স্যাটেলাইট ডেটা, স্পেস-ভিত্তিক পরিষেবা, যোগাযোগ, নজরদারি এবং বিভিন্ন শিল্পে মহাকাশ প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে নতুন যুগের সূচনা?

    স্বাধীনতার পর থেকে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির বিকাশে ইসরোর ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয়। সীমিত সম্পদ ও পরিকাঠামোর মধ্যে নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরি করে ভারত আজ বিশ্বে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এবার সেই মডেলেই বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। রুটিন উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কাজের বড় অংশ শিল্পক্ষেত্রের হাতে তুলে দিয়ে ইসরো যদি গবেষণা ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির দিকে আরও বেশি মন দিতে পারে, তাহলে চাঁদ, মঙ্গল, মানব মহাকাশ অভিযান, গভীর মহাকাশ গবেষণা এবং নতুন প্রজন্মের উৎক্ষেপণ প্রযুক্তিতে ভারতের সক্ষমতা আরও বাড়তে পারে। অর্থাৎ, রকেট তৈরি থেকে প্রযুক্তি তৈরি—ইসরোর ভূমিকার এই পরিবর্তনই ভারতের পরবর্তী মহাকাশ অভিযানের অন্যতম বড় ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

  • 26/11 Trial: ২৬/১১ হামলায় হাফিজ সইদ-সহ ৬ পাকিস্তানি নাগরিকের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের সাহায্য চাইছে মুম্বই পুলিশ

    26/11 Trial: ২৬/১১ হামলায় হাফিজ সইদ-সহ ৬ পাকিস্তানি নাগরিকের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের সাহায্য চাইছে মুম্বই পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই হামলার (26/11 Trial) মামলায় পাকিস্তানে থাকা ছয় পলাতক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা ‘প্রোক্লেমেশন অর্ডার’ কার্যকর করতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাইল মুম্বই পুলিশ। এই ছয় অভিযুক্তের মধ্যে রয়েছে লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদ (Hafiz Saeed) এবং জাকি-উর-রহমান লখভি। মুম্বই পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানানো হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫৬ ধারায় এই আবেদন করা হয়েছে। বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি উজ্জ্বল নিকাম শুক্রবার একটি অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে আর্জি

    শুক্রবার ২৬/১১ মামলার বিশেষ আদালতে সরকারি আইনজীবী উজ্জ্বল নিকম জানান, গত জুলাইয়ে জারি হওয়া প্রোক্লেমেশন অর্ডার নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। নিকম আদালতকে জানান, পাকিস্তানে থাকা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রোক্লেমেশন অর্ডার কার্যকর করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। গত ৩ আগস্ট মন্ত্রক সেই আবেদন গ্রহণ করেছে এবং পরবর্তী অগ্রগতির রিপোর্ট দিতে সময় চেয়েছে। আদালতের নির্দেশে যাঁদের বিরুদ্ধে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাঁরা হলেন—হাফিজ সইদ, জাকি-উর-রহমান লখভি, সাজিদ মীর, আবু আলকামা, আসিম ওরফে আবু কাহাফা এবং মেজর আবদুর রহমান পাশা। প্রত্যেকেই পাকিস্তানি নাগরিক। মুম্বই হামলায় তাঁদের কথিত ভূমিকার উল্লেখ রয়েছে হামলার একমাত্র জীবিত জঙ্গি আজমল কাসাব এবং পরে রাজসাক্ষী হওয়া ডেভিড কোলম্যান হেডলির বয়ানে।

    অনুপস্থিতিতেই হতে পারে বিচার

    ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS), ২০২৩-এর ৩৫৬ ধারায়, কোনও অভিযুক্ত বিচার এড়াতে দীর্ঘদিন আত্মগোপন করলে এবং তাঁকে দ্রুত গ্রেফতার করার সম্ভাবনা না থাকলে আদালত তাঁর অনুপস্থিতিতেই পূর্ণাঙ্গ ফৌজদারি বিচার চালাতে পারে। সেই আইনি ব্যবস্থার আওতাতেই এবার ২৬/১১ মামলার বাকি অভিযুক্তদের বিচার এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০০৮ সালের নভেম্বরে ১০ জন পাকিস্তানি জঙ্গি মুম্বইয়ে একের পর এক হামলা চালিয়ে শহরকে ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। তাজ হোটেল, ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে ছয়জন ছিলেন মার্কিন নাগরিক। একমাত্র জীবিত ধৃত জঙ্গি আজমল কাসাবকে গণহত্যা এবং ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মৃত্যুদণ্ডের সাজা কার্যকর করে ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর পুণের ইয়েরওয়াড়া কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁর ফাঁসি হয়।

    প্রোক্লেমেশন অর্ডার কার্যকর হওয়ার অপেক্ষা

    ২৬/১১ হামলার সঙ্গে যুক্ত মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপকে মামলার বিচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে। ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রোক্লেমেশন অর্ডার কার্যকর হলে পাকিস্তানে থাকা অভিযুক্তদের অনুপস্থিতিতেই বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ আরও সুগম হতে পারে। বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি উজ্জ্বল নিকামের প্রতিনিধিত্বে পুলিশ শুক্রবার পলাতক অভিযুক্তদের অনুপস্থিতিতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য চলতি বছরের জুলাই মাসে জারি করা ঘোষণাপত্রের ওপর একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন দাখিল করেছে। সন্ত্রাস মামলার শুনানি চলা বিশেষ আদালতে নিকাম বলেন, “পাকিস্তানে বসবাসকারী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ঘোষণাপত্র জারির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে (এমএইচএ) চিঠি দিয়েছি। ৩ আগস্ট এমএইচএ আমাদের অনুরোধটি স্বীকার করে নিয়েছিল এবং এর অবস্থা জানানোর জন্য সময় চেয়েছিল।” হাফিজের বিরুদ্ধে ট্রায়াল ইন অ্যাবসেনশিয়া শুরু হলে যদি হাফিজ সইদ এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহলে তাকে যখনই ভারতে আনা হবে, তখনই তাকে শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

    পাকিস্তানে বাড়ানো হল হাফিজের নিরাপত্তা!

    ভারত যখন লস্কর প্রধান হাফিজের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়ার গতি বাড়াচ্ছে তখনই পাকিস্তানে ‘বন্দি’ হাফিজের নিরাপত্তা আগের থেকেও বাড়িয়ে দিয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। যে বাড়িতে হাফিজ রয়েছে, সেখান নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আইবি গোয়েন্দা অফিসারদের মতে, এর আগে, বহুবার হাফিজকে খুন করার চেষ্টা দেখা গিয়েছে অতীতে। হাফিজ ঘনিষ্ঠ অনেকেই খুন হয়েছে, যার জেরেই তড়িঘড়ি আইএসআই হাফিজের নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। জানা যাচ্ছে, হাফিজকে ঘিরে টার্গেট গত কয়েক মাসে বেড়ে গিয়েছে। যার জেরে হাফিজকে লস্করের ট্রেনিং ক্যাম্পেও যেতে দেওয়া হচ্ছে না পাকিস্তানের নিরাপত্তার খাতিরে। শুধু তাই নয়, লস্করের যে জায়গায় উগ্রপন্থায় যুবকদের মগজধোলাই হয়, সেই ক্যাম্পেও হাফিজ যাচ্ছে না বলে খবর। আর এই সবই তার নিরাপত্তা বাড়িয়ে তোলার জেরে হয়েছে। এর আগে, এই সমস্ত জায়গায় হাফিজের আনাগোনা ছিল।

    কোথায় রয়েছেন হাফিজ?

    প্রসঙ্গত, পাকিস্তান দাবি করছে, লাহোরের কোট লখপত জেলে নাকি ‘বন্দি’ রয়েছে হাফিজ সইদ। তবে ভারতীয় গোয়েন্দাদের মতে, জেলে নয়, লাহোরের মোহাল্লা জোহার এলাকার এক সেফ হাউজ-এ হাফিজকে রেখে দিয়েছে পাকিস্তান। যে সেফ হাউজকে কার্যত দুর্গের মতো করে নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে শেহবাজ শরিফ, আসিম মুনিরের দেশ। আরও একটি রিপোর্ট দাবি করছে, লাহোরের মিঞা মীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একটি বাড়িতে হাফিজকে নিয়ে রাখা হচ্ছে। সেখানে তার নিরাপত্তা বাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একদিকে, অপারেশন সিঁদুরে গুঁড়িয়ে যাওয়া তাদের জঙ্গি শিবিরকে ফের গড়ে তোলার চেষ্টায় রয়েছে লস্কর ই তৈবা, তারই মাঝে হাফিজ সইদকে কোনও জঙ্গি ট্রেনিং সেন্টারে দেখা যাচ্ছে না। জানা গিয়েছে, সে শুধু ভিডিয়ো কল-এ কথা বলে ক্যাডারদের সঙ্গে। তাও শুধু বড় মাপের বৈঠকেই এমন কল হয়, সেখানে কড়া নিরাপত্তা থাকে।

  • Modi Govt: সোশাল মিডিয়ায় ভুয়ো তথ্য ঠেকাতে কুইক রেসপন্স টিম গড়ছে কেন্দ্র, ২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ

    Modi Govt: সোশাল মিডিয়ায় ভুয়ো তথ্য ঠেকাতে কুইক রেসপন্স টিম গড়ছে কেন্দ্র, ২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভুয়ো, বিভ্রান্তিকর ও বিকৃত তথ্য (Fake News) দ্রুত শনাক্ত করে তার মোকাবিলা করতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক ও দফতর গড়ছে কুইক রেসপন্স টিম। সরকারি এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নাগরিকদের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা (Modi Govt) এবং গুজব, মিথ্যা তথ্য ও ভুয়ো খবরের দ্রুত মোকাবিলা করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

    কুইক রেসপন্স টিমের নজর (Modi Govt)

    নতুন ব্যবস্থার আওতায় কোনও মন্ত্রক বা দফতরের নীতি, প্রকল্প, কর্মসূচি, সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশিত সন্দেহজনক পোস্ট ও আলোচনার উপর নজর রাখবে সংশ্লিষ্ট দফতরের সোশাল ও ডিজিটাল মাধ্যমের দল। কোনও পোস্টে তথ্য ভুয়ো, বিভ্রান্তিকর, তথ্যগতভাবে ভুল, বিকৃত, প্রেক্ষিত-বহির্ভূত অথবা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির আশঙ্কা থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কুইক রেসপন্স টিমের নজরে আনা হবে। এর পর ওই টিম তথ্য যাচাই করে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে জবাব দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের নতুন মাধ্যম শাখা থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দেওয়া হবে।

    সরকারের নির্দেশ, এই ধরনের ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলিকে দু’ঘণ্টার মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানানোর চেষ্টা করতে হবে। ডিজিটাল মাধ্যমে কোনও ভুল তথ্য অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেই এই দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, কৃষি এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত দফতর ইতিমধ্যেই তাদের কুইক রেসপন্স টিম গঠন করেছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।

    কুইক রেসপন্স টিমের কাজ

    প্রয়োজনে কুইক রেসপন্স টিম সরকারি তথ্য যাচাই শাখার সঙ্গেও সমন্বয় সাধন করবে। ফলে কোনও তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সরকারের পক্ষ থেকে তার জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও একটি স্তর যুক্ত হবে (Fake News)। অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়া তথ্য, ব্যাপক জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়, সংবেদনশীল নীতি, জনসাধারণের সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কা, আইনি জটিলতা, পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর জন্য প্রচার কিংবা একাধিক মন্ত্রকের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে হলে তা উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে পাঠানো হবে। প্রয়োজনে, সেখান থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    কেন্দ্রের উদ্বেগ

    সোশাল মিডিয়ায় ভুয়ো ও ক্ষতিকর তথ্য ছড়ানো নিয়ে কেন্দ্রের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে বিকৃত ভিডিও, এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি বিষয়বস্তু এবং বিভ্রান্তিকর পোস্ট কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত এবং কার্যকর সরকারি যোগাযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন আধিকারিকরা (Modi Govt)।

    চলতি মাসের গোড়ায়ই তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক সোশাল মিডিয়া সংস্থা মেটার সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে। মেটার বিভিন্ন মাধ্যমে এআই দিয়ে তৈরি ক্ষতিকর বিষয়বস্তু এবং পরিচয় বা সতর্কীকরণ ছাড়াই প্রকাশিত জাল ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়। বিষয়বস্তু যাচাই ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আরও বেশি মানবীয় নজরদারি এবং ভারতের বিভিন্ন ভাষা ও স্থানীয় প্রেক্ষাপটকে যথাযথ ভাবে বিবেচনার জন্য আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষেও সওয়াল করেছে কেন্দ্র (Modi Govt)।

    এই কাঠামোর লক্ষ্য

    নয়া এই কাঠামোর লক্ষ্য হল, কোনও ভুয়ো তথ্য ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর সরকারের তরফে প্রতিক্রিয়া জানানোর পরিবর্তে শুরু থেকেই তার উপর নজর রাখা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক ও দফতরগুলি নিয়মিতভাবে তথ্য পর্যবেক্ষণ, যাচাই এবং প্রয়োজনীয় জবাব দেওয়ার জন্য পৃথক ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। ফলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া মিখ্যা তথ্যের মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও কাজে আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে (Fake News)। সরকারের লক্ষ্য হল, বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আগেই সঠিক ও যাচাই করা তথ্য দ্রুততম সময়ে নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া (Modi Govt)।

     

  • Bengal Aawas Plus: আবাস প্লাসে নাম নথিভুক্তির সুযোগ, ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত করা যাবে আবেদন

    Bengal Aawas Plus: আবাস প্লাসে নাম নথিভুক্তির সুযোগ, ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত করা যাবে আবেদন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  “পাকা বাড়ি, নিরাপদ পরিবার, সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার”—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে জোরকদমে চলছে ‘আবাস প্লাস ২০২৪ সমীক্ষা’ (Bengal Aawas Plus)। প্রান্তিক ও যোগ্য গ্রামীণ পরিবারগুলির মাথার উপর পাকা ছাদ নিশ্চিত করতে তৎপর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর (Digital Application)। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আবাসন যোজনা-গ্রামীণের আওতায় ইতিমধ্যেই রাজ্যে ৩৮ লাখ পরিবারের নাম নথিভুক্ত হয়েছে।

    আবেদনের সুযোগ (Bengal Aawas Plus)

    প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যে সমস্ত যোগ্য পরিবার এখনও সমীক্ষা বা আবেদন প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে পারেনি, তারা আগামী ৩১ অগাস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবে। আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক, সহজ ও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল ব্যবস্থার সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।

    সাধারণ নাগরিকেরা নিজেদের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে ‘আবাস প্লাস ২০২৪’ এবং ‘আধারফেসআরডি’—এই দু’টি অ্যাপ ব্যবহার করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

    প্রয়োজনীয় নথি

    আবেদনের সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতের কাছে রাখা জরুরি। এগুলি হল— আধার কার্ড, একশো দিনের কাজের জব কার্ড, আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য। আবেদন করতে গিয়ে কোনও সমস্যা হলে বা অতিরিক্ত তথ্যের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় অথবা বিডিও অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। সাহায্যের জন্য দু’টি হেল্পলাইন নম্বর চালু রয়েছে—৮২৮২০৮২৮২০ এবং ১৮০০ ৮৮৯১৪৫১। আবাস প্লাস সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য রাজ্য সরকারের পঞ্চায়েত দফতরের সরকারি ওয়েবসাইটেও নজর রাখতে বলা হয়েছে।

    চলছে সমীক্ষা

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত আড়াই মাস ধরে রাজ্যের বিভিন্ন গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকায় আবাস প্লাসের সমীক্ষার কাজ চলছে। তবে এখনও কোনও যোগ্য পরিবার সমীক্ষার আওতার বাইরে থেকে গেলে দ্রুত বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার আবেদন জানানো হয়েছে (Bengal Aawas Plus)।

    রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, কোনও যোগ্য পরিবার যাতে সমীক্ষা থেকে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক স্তরে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। যাঁদের এখনও সমীক্ষা হয়নি, তাঁদের নিজেদের নাম, গ্রামের নাম, গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লকের নাম এবং মোবাইল নম্বর নির্দিষ্ট ই-মেল ঠিকানায় পাঠানোর কথাও জানানো হয়েছে।

    প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখার পরামর্শ 

    গত এক মাস ধরে বিধায়ক, গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যোগ্য কোনও পরিবার যাতে আবাস প্লাসের সমীক্ষা থেকে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

    যোগ্য গ্রামীণ পরিবারগুলিকে দ্রুত নিজেদের নাম (Digital Application) সমীক্ষার আওতায় এসেছে কি না, তা যাচাই করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত রাখার পরামর্শও দিয়েছে প্রশাসন (Bengal Aawas Plus)।

     

  • Amit Shah on CAA: সিএএ-তে আবেদনকারী বাংলাদেশি শরণার্থীদের ৬ মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব, বড় ঘোষণা শাহের

    Amit Shah on CAA: সিএএ-তে আবেদনকারী বাংলাদেশি শরণার্থীদের ৬ মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব, বড় ঘোষণা শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ভারতে আসা এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর অধীনে আবেদন করা হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীদের আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকত্ব (CAA Citizenship) দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah on CAA)। শুক্রবার শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম সংলগ্ন কাওয়াখালিতে এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, “বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীরা আগামী ছয় মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব পাবেন। এটা আমার প্রতিশ্রুতি।” তিনি জানান, সিএএ-র আওতায় যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার জেলাশাসককে সিএএ-র অধীনে যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

    আটটি সীমান্তবর্তী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে বিশেষ ক্ষমতা

    নাগরিকত্ব পাওয়া নিয়ে বেশ কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। সেইসব জটিলতা কেটে যাবে। সেই বার্তাও এদিন দিয়েছেন শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সমস্ত শরণার্থীকে মর্যাদার সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।” বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আটটি সীমান্তবর্তী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জেলাশাসকদের সিএএ-র অধীনে পড়ে থাকা আবেদনগুলি প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা দেয়। এর আগে এই আবেদনগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটির মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণ করা হত। ওই কমিটিতে জনগণনা দফতর, গোয়েন্দা ব্যুরো এবং ডাক বিভাগের আধিকারিকরাও থাকতেন। অমিত শাহ জানান, সিএএ-র অধীনে যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গের ৮ জন জেলা শাসককে ক্ষমতা দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তাঁর দাবি, সমস্ত যোগ্য শরণার্থীকে মর্যাদার সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

    সিএএ প্রসঙ্গে মমতাকে নিশানা শাহ-র

    নরেন্দ্র মোদি সরকার নাগরিকত্ব আইন চালু করেছে। বাংলা-সহ ভারতে আসা হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে আগেই বার্তা দিয়েছে বিজেপি সরকার। বাংলাদেশ থেকে এই বাংলাতেও অনেক শরণার্থী এসেছেন অতীতে। তাঁদেরও নাগরিকত্ব দেওয়া হবে, সেই কথা জানানো হয়েছিল। অনেকেই সিএএ-তে আবেদন করে ভারতের নাগরিকত্ব পাচ্ছেন। কিন্তু নাগরিকত্ব পাওয়া নিয়ে বেশ কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ সামনে আসছিল। এবার বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন হয়েছে। ডবল ইঞ্জিন সরকার বাংলার উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। শিলিগুড়িতে (Amit Shah in Siliguri) ফের নাগরিকত্ব নিয়ে বড় বার্তা দিলেন শাহ। এদিন সিএএ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন শাহ। তাঁর দাবি, CAA চালুর সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আইন কার্যকর হতে দেবেন না বলে মন্তব্য করেছিলেন। শাহ বলেন, “মমতাদিদি সিএএ কার্যকর করতে রাজি হননি। দেশের সুরক্ষার ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করছেন মমতা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আপনাকেও যেতে হয়েছে, আপনার সরকারকেও যেতে হয়েছে। এখন এখানে বিজেপির সরকার রয়েছে।” নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) অনুযায়ী—বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে প্রবেশ করা যোগ্য হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সিএবং খ্রিষ্টান অভিবাসীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার আইনি সুযোগ রয়েছে।

    শ্যামাপ্রসাদ-এর সংকল্প

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বার্তা দিতেন। কংগ্রেস সেই বিষয়কে গুরুত্ব দিতে নারাজ ছিল! স্বাধীনতার সময় জওহরলাল নেহরু ও লিয়াকতের চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু সেসময় হিন্দু শরণার্থীরা, বিশেষ করে বাংলার হিন্দুরা আরও কোণঠাসা হয়েছিলেন বলে মত রাজনীতিকদের একাংশের। ভিটেমাটি-সহ সব কিছুই হারিয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছিলেন। এদিন অমিত শাহ বলেন, “সেই চুক্তি যখন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পড়েছিলেন, তিনি বলেন কংগ্রেস পূর্ব পাকিস্তান ও পাকিস্তানের হিন্দুদের কথা চিন্তা করেননি। ভারতের মুসলমানের চিন্তা করেছেন কিন্তু হিন্দুদের কথা বলেনি।” শাহ জোর গলায় এদিন বলেন, “এখন শ্যামাপ্রসাদের দলের সরকার সিএএ এনে হিন্দুদের নাগরিক করছেন। আমরা বাকিদেও নাগরিকত্ব দেব।”

    অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বহিষ্কার

    ভারতের নতুন তিনটি ফৌজদারি আইনের ওপর শিলিগুড়িতে আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে বক্তব্য দেওয়ার সময় পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বহিষ্কার করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করবে এবং তাদের রাজ্য থেকে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে অমিত শাহ বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে সরকার ‘শনাক্ত, বাতিল এবং বহিষ্কার’ (ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট) নীতি অনুসরণ করবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি বাংলার মানুষকে আবারও প্রতিশ্রুতি দিতে চাই যে, প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করা হবে এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিতাড়িত করা হবে।’ বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘস্থলসীমান্ত থাকায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বাংলাদেশ থেকে হওয়া অভিবাসন ও অনুপ্রবেশের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি রাজনৈতিক ইস্যু। ভারতীয় জনতা পার্টি(বিজেপি) প্রতিনিয়ত রাজ্যে অনুপ্রবেশ রোধ এবং সিএএ বাস্তবায়নকে তাদের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক এজেন্ডা হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।

  • ED: বীণা বিজয়নের বিরুদ্ধে হাওলা-তদন্তে নয়া মোড়, বিরোধী দলনেতার পদ ছাড়ুন পিনারাই, দাবি বিজেপির

    ED: বীণা বিজয়নের বিরুদ্ধে হাওলা-তদন্তে নয়া মোড়, বিরোধী দলনেতার পদ ছাড়ুন পিনারাই, দাবি বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের মেয়ে বীণা বিজয়নের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের তদন্ত আরও জোরদার করেছে ইডি(ED)। তদন্তে হাতে লেখা খাতা ও বিভিন্ন বৈদ্যুতিন নথি থেকে বিপুল পরিমাণ হিসাব-বহির্ভূত অর্থ লেনদেন এবং সম্ভাব্য হাওলা কারবারের সূত্র মিলেছে বলে দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এই সংস্থার। একই সঙ্গে বিদেশি মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে (FEMA Violations)।

    বড় দাবি ইডির (ED)

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সম্প্রতি বাজেয়াপ্ত করা হাতে লেখা খাতা এবং বৈদ্যুতিন নথিতে দেশের বাইরে অর্থ পাঠানোর পাশাপাশি বৈধ ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার বাইরে একটি অভ্যন্তরীণ আর্থিক নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। নথিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাইয়ে ৩ লাখ ৪৯ হাজার দিরহাম, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৫ লাখ টাকা, পাঠানোর উল্লেখ রয়েছে। এই অর্থের প্রকৃত উৎস কী এবং শেষ পর্যন্ত কোথায় তা গিয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দাবি, বাজেয়াপ্ত নথিতে মোট ২০ কোটি ৫ লাখ টাকার দেশীয় আর্থিক লেনদেনের তথ্য রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, বীণার জানা ও বৈধ আয়ের উৎসের তুলনায় এই লেনদেনের পরিমাণ অনেক বেশি। বীণার কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতিতে একটি ইন্টারনেট সংযোগের যন্ত্র এবং ভুয়ো পরিচয়ে নথিভুক্ত একটি সিম কার্ডের ছবি পাওয়া গিয়েছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি। তদন্তকারীদের সন্দেহ, হাওলা লেনদেনের সমন্বয় করতে অনুসরণ করা কঠিন এমন ইন্টারনেটভিত্তিক ফোনালাপের জন্য এগুলি ব্যবহার করা হতে পারে।

    সিম কার্ডের মালিকের পরিচয়

    তদন্তে ওই সিম কার্ডের মালিকের পরিচয়ও সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে ইডি। কার্ডটি কোঝিকোড়ের ডিওয়াইএফআই নেতা নন্দুলালের নামে নথিভুক্ত ছিল। নন্দুলালের দাবি, বীণা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু মহম্মদ রিয়াসের অনুরোধেই তিনি সিমটি সংগ্রহ করেছিলেন। দু’জনের সঙ্গেই তাঁর পরিচয় রয়েছে বলে স্বীকার করলেও, সিম কার্ডটি ঠিক কী কাজে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ২০২৪ সাল থেকে বীণা ওই সিম কার্ড ব্যবহার করছিলেন। হাওলা লেনদেন সংক্রান্ত যোগাযোগের জন্যই এটি ব্যবহার করা হতে পারে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। তাঁদের মতে, সিমটি একটি বেতার ইন্টারনেট সংযোগের যন্ত্রে ঢুকিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফোন করা হত।

    বিদেশি মুদ্রা ও অর্থপাচার তদন্তের সূত্রপাত

    আরও একটি বিষয় তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। মহম্মদ রিয়াস কেরলের পর্যটনমন্ত্রী থাকাকালীন নন্দুলাল কোঝিকোড় জেলা পর্যটন উন্নয়ন পরিষদের গন্তব্য ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। সম্প্রতি নন্দুলালের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সিম কার্ডটি সংগ্রহের সময় ব্যবহার করা পরিচয়পত্রের প্রতিলিপি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। বীণার মালিকানাধীন এবং বর্তমানে বন্ধ তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শদাতা সংস্থা এক্সালজিক সলিউশন্সকে ঘিরে ওঠা একটি কর্পোরেট জালিয়াতির মামলাকে কেন্দ্র করেই মূলত এই বিদেশি মুদ্রা ও অর্থপাচার তদন্তের সূত্রপাত। গুরুতর জালিয়াতি তদন্ত দফতরের প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ ওঠে, ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেডের কাছ থেকে এক্সালজিক সলিউশন্স প্রতি মাসে ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা করে বেআইনি অর্থ পেয়েছিল। অভিযোগ, বিনিময়ে সংস্থাটি কোনও প্রকৃত পরিষেবা দেয়নি।

    বীণার পরিবারের দাবি

    বীণার হাতে লেখা নথিতে যাঁদের নাম উঠে এসেছে, তাঁদের কয়েকজনকে লক্ষ্য করে কোঝিকোড়ে সাম্প্রতিক তল্লাশি চালানোর পর তদন্ত আরও বিস্তৃত করেছে ইডি। অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন এবং বিদেশি মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইনের আওতায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও খবর। তদন্তের স্বার্থে বীণাকে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে বলেও সূত্রের খবর (ED)। তবে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই অভিযোগ ও তদন্তের ফল প্রত্যাখ্যান করেছেন সিপিআই(এম)-এর নেতারা এবং বীণার পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে (FEMA Violations)। এদিকে বীণাকে ঘিরে কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেডের অর্থপাচার তদন্তে ইডির নয়া তথ্য সামনে আসার পর পিনারাই বিজয়ন কেরল বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদ থেকে ইস্তফা দিন – এমন দাবি তুলেছে বিজেপি।

    বিজেপির বক্তব্য

    পদ্ম শিবিরের রাজ্য সহ-সভাপতি শোন জর্জ বলেন, পিনারাই বিজয়নের উচিত তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়ানো—এটাই দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান। তাঁর দাবি, ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উম্মেন চান্ডির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর পিনারাই বিজয়ন যে ভাষায় তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছিলেন, তিনি সেই একই যুক্তি এবার বিজয়নের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করছেন। শোন জর্জ বলেন, “যদি তাঁর মধ্যে সামান্যও লজ্জাবোধ অবশিষ্ট থাকে, তাহলে পিনারাই বিজয়নের উচিত অবিলম্বে বিরোধী দলনেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ানো।” তিনি আরও বলেন, “যদি কোনও লজ্জা অবশিষ্ট থাকে… যদি কোনও লজ্জা অবশিষ্ট থাকে (FEMA Violations), তাহলে পিনারাই বিজয়নের উচিত বিরোধী দলনেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত থাকা (ED)।”

     

  • HinduPACT to USCIRF: ভাগবতের মার্কিন সফরের পক্ষে সওয়াল, আরএসএসকে ঘিরে ইউএসসিআইআরএফ-এর সমালোচনার প্রতিবাদ হিন্দুপ্যাক্ট-এর

    HinduPACT to USCIRF: ভাগবতের মার্কিন সফরের পক্ষে সওয়াল, আরএসএসকে ঘিরে ইউএসসিআইআরএফ-এর সমালোচনার প্রতিবাদ হিন্দুপ্যাক্ট-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের আসন্ন মার্কিন সফর (Mohan Bhagwat’s US Visit) নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (USCIRF)-এর কয়েকজন সদস্যের প্রকাশ্য আপত্তির তীব্র সমালোচনা করল হিন্দু অধিকারকেন্দ্রিক সংগঠন হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT)। সংগঠনটির দাবি, ইউএসসিআইআরএফ (USCIRF)-এর বক্তব্যে নিরপেক্ষতার অভাব রয়েছে। এই মন্তব্য আরএসএস (RSS) ও ভারতকে ঘিরে একটি ‘একপেশে’ প্রচারের অংশ।

    মার্কিন মুলুকে হিন্দু-বিদ্বেষ নিয়ে কেন বলে না ইউএসসিআইআরএফ

    এক বিবৃতিতে হিন্দু প্যাক্ট -এর (HinduPACT to USCIRF) অভিযোগ, ইউএসসিআইআরএফ -এর চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ এবং কমিশনার জিন মিলসের বক্তব্যে ভারসাম্যের পরিবর্তে আরএসএস-এর বিরুদ্ধে অভিযোগকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু-বিদ্বেষ, মন্দিরে ভাঙচুর এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত সমস্যাগুলির প্রতি একই ধরনের গুরুত্ব দেওয়া হয় না। হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT) আরও দাবি করেছে, আরএসএস-কে ঘিরে ইউএসসিআইআরএফ -এর অবস্থানের সঙ্গে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন (Council on American-Islamic Relations বা CAIR), ইন্ডিয়ান-আমরিকানমুসলি কাউন্সিল (Indian American Muslim Council বা IAMC)এর মতো সংগঠনের অবস্থানের মিল রয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, এই গোষ্ঠীগুলি দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও হিন্দু সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে একপেশে প্রচার চালিয়ে আসছে।

    আরএসএস-এর সামাজিক কাজ

    হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT)-এর বিবৃতিতে আরএসএস-এর সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। হিন্দু প্যাক্টের দাবি, শিক্ষা, ত্রাণ, গ্রামীণ উন্নয়ন, স্বেচ্ছাসেবা এবং সামাজিক সংগঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, শুধুমাত্র রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত অভিযোগের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ-কে বিচার করা উচিত নয়। ইউএসসিআইআরএফ কমিশনার জিন মিলসের আরএসএস সদস্যদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে হিন্দু প্যাক্ট। তাদের দাবি, কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর পদক্ষেপের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রমাণ, প্রক্রিয়াগত ন্যায়বিচার এবং নিরপেক্ষ তদন্ত থাকা জরুরি। তাদের মতে, আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা ‘গিল্ট বাই অ্যসোসিয়েশন’ (guilt by association)-এর সমান।

    কেন হিন্দুদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার

    মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat’s US Visit) নিউ ইয়র্ক সফরের আগেই বড় অস্বস্তি। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন সেদেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক উপদেষ্টা সংস্থার এক কর্তা। পাশাপাশি ওই সংস্থা ওয়াশিংটনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন- যেন আরএসএস নেতাদের কোনও কূটনৈতিক সৌজন্য দেখানো না হয় বা তাঁদের সঙ্গে কোনও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক না করা হয়। এ প্রসঙ্গে হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT) -এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অজয় শাহ বলেন, “ইউএসসিআইআরএফ তার নিরপেক্ষতার দায়িত্বকে ক্ষুণ্ণ করেছে। মোহন ভাগবত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। তাঁর সফরকে অপপ্রচারের মাধ্যমে বিতর্কিত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও দাবি করেন, আরএসএস দীর্ঘদিন ধরে ত্রাণ, শিক্ষা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং সামাজিক সংগঠনের ক্ষেত্রে কাজ করেছে। মার্কিন মাটিতে হিন্দু সম্প্রদায়কে হেয় করার জন্য কোনও সরকারি অর্থপুষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী মোদিকেও অসম্মান!

    এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইউএসসিআইআরএফ কমিশনার জিন মিলসের মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। মিলস জানান, কমিশনের চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আরএসএস-এর সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আরএসএস হল একটি মূল সংগঠন, যার সহযোগী বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে খ্রিস্টান ও মুসলিম-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। পোস্টটিতে উল্লেখ, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সদস্য। এটি ভারতের এমন একটি মূল সংগঠন যার বিভিন্ন উপ-গোষ্ঠী খ্রিস্টান ও মুসলিম-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আর এখন আরএসএস নেতা মোহন ভাগবত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনা করছেন।” এর আগে মার্চ মাসে ‘ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে ভারতের সমালোচনা করা হয়েছিল এবং আরএসএস ও ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং’ (র)-সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার ওপর ‘সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের সুপারিশ করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক এই মন্তব্যগুলো সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। ভারত এই প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ‘ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’-এর বিরুদ্ধে “প্রশ্নবিদ্ধ উৎস ও আদর্শিক বয়ানের” ওপর ভিত্তি করে দেশটির একটি “বিকৃত ও বাছাইকৃত” ছবি তুলে ধরার অভিযোগ এনেছে।

    নিরপেক্ষ আচরণের দাবি হিন্দু প্যাক্ট-এর

    ‘আমেরিকান হিন্দুস ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ’-এর আয়োজনে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশনস’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের ২৯ আগস্ট নিউ ইয়র্ক সফরে যাবেন। হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT)-এর বক্তব্য, মোহন ভাগবতের মার্কিন সফর আমেরিকার জন্য কোনও হুমকি নয়, বরং ধর্মীয় স্বাধীনতার নামে হিন্দু সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে একতরফা অবস্থান নেওয়াই বড় প্রশ্ন তৈরি করছে। সংগঠনটি মার্কিন জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ নাগরিকদের ইউএসসিআইআরএফ-এর বক্তব্যকে সমালোচনামূলকভাবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT) জানিয়েছে, মোহন ভাগবতের সফরকে ঘিরে ইউএসসিআইআরএফ-এর সমালোচনাকে তারা প্রত্যাখ্যান করছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু সংগঠনগুলির প্রতি সমান মর্যাদা ও নিরপেক্ষ আচরণের দাবি জানাচ্ছে।

     

     

     

LinkedIn
Share