Blog

  • Rebel TMC MPs: তৃণমূলে বড় ভাঙনের ইঙ্গিত! ১৯ সাংসদের সমর্থন নিয়ে সোমে স্পিকারের দোরে যাওয়ার পরিকল্পনা ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের

    Rebel TMC MPs: তৃণমূলে বড় ভাঙনের ইঙ্গিত! ১৯ সাংসদের সমর্থন নিয়ে সোমে স্পিকারের দোরে যাওয়ার পরিকল্পনা ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরও প্রবল হল তৃণমূল কংগ্রেসে (Rebel TMC MPs) বড়সড় ভাঙনের জল্পনা। দলের ২৮ লোকসভা সাংসদের মধ্যে ১৯ জনের সমর্থন পাওয়ার দাবি করে বিদ্রোহী শিবির জানিয়েছে, তারা সোমবারই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla) সঙ্গে দেখা করে নিজেদের আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি চাইবে। তারা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদনও জানাবে।

    বিদ্রোহীদের বক্তব্য (Rebel TMC MPs)

    বিদ্রোহী সাংসদদের অন্যতম জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার দাবি, তাঁদের গোষ্ঠী কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে লোকসভায় নেতা এবং শতাব্দী রায়কে উপনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানাবে। তাঁর বক্তব্য, রবিবার দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বিদ্রোহী সাংসদদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বসুনিয়ার দাবি, এখনও পর্যন্ত ১৯ জন সাংসদ তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন এবং আরও কেউ যোগ দিতে চাইলে, দরজা খোলা রয়েছে। তাঁদের লক্ষ্য, এনডিএর অংশ হয়ে সংসদে শাসক জোটের পাশে বসা এবং উন্নয়নের স্বার্থে কেন্দ্রের পাশে থাকা নিশ্চিত করা।

    অভিষেকের জন্যই দল গাড্ডায়!

    তাঁর অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। বসুনিয়ার কথায়, “আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল। পরে দল কর্পোরেট সংস্থার মতো পরিচালিত হতে শুরু করে এবং নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়।” এই কারণেই বহু নেতা ও সাংসদ ক্ষুব্ধ বলেও দাবি (Rebel TMC MPs) তাঁর। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে এবং কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার রয়েছে। ফলে নিজেদের লোকসভা কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রের সহযোগিতা পাওয়া জরুরি বলেই তাঁরা এনডিএর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বসুনিয়া এও (Om Birla) জানান, প্রথমে স্পিকারের কাছে আলাদা ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি চাওয়া হবে। এরপর প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের কাছেও ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানানো হবে (Rebel TMC MPs)।

    বিদ্রোহ চারিদিকে!

    এদিকে তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি আরও বেড়েছে। প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। এর আগেই তিনি প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত নেতাদের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হবে। তৃণমূলের আর এক বর্ষীয়ান নেতা অনুব্রত মণ্ডলও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন। ছাব্বিশের নির্বাচনে দলের ভরাডুবির জন্য রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাককেও দায়ী করেছেন (Om Birla) তিনি। উল্লেখ্য, বিদ্রোহী শিবিরের তরফে এসব দাবি করা হলেও (Rebel TMC MPs), শনিবার দুপুর পর্যন্তও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি তৃণমূলের পক্ষ থেকে।

     

  • El Nino: তৈরি ‘এল নিনো’, শক্তিশালী হয়ে উঠছে উষ্ণ বায়ুর প্রভাব! ভারতের বর্ষা মঙ্গলে অশনি সংকেত

    El Nino: তৈরি ‘এল নিনো’, শক্তিশালী হয়ে উঠছে উষ্ণ বায়ুর প্রভাব! ভারতের বর্ষা মঙ্গলে অশনি সংকেত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামনেই বর্ষা। তার আগে এক বড় আশঙ্কার কথা শোনাল ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD)। প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’ (El Nino) পরিস্থিতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে নিশ্চিত করেছেন আবহাওয়াবিদরা। শুধু তাই নয়, সতর্কবার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, চলতি বছর বর্ষার মরশুম (Weather Update) যত এগোবে, এটি আরও বেশি শক্তিশালী ও দাপুটে হয়ে ওঠার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই আবহাওয়া পরিস্থিতির জেরে ভারতে বর্ষার মানচিত্র পুরো বদলে যেতে পারে। এর জেরে বিলম্বিত বর্ষা থেকে, কম বৃষ্টিপাত ও অসময়ে অতিবৃষ্টির সঙ্কট তৈরি হতে পারে। সেই সঙ্গে প্রাণান্তকর গরমে ছটফট করতে পারে মানুষ।

    ভারতে বর্ষার উপর এল-নিনো-র প্রভাব

    দেশে বর্ষার উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়াগত পরিবর্তনের কথা জানাল ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। আইএমডি-র বুলেটিন অনুযায়ী, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের জলপৃষ্ঠের তাপমাত্রা (Sea Surface Temperatures) স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ‘এল নিনো’ সক্রিয় হওয়ার নির্দিষ্ট সীমারেখা অতিক্রম করে গিয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, সমুদ্রপৃষ্ঠের এই উষ্ণায়নের সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলও সমান্তরালভাবে সাড়া দিতে শুরু করেছে। এর অর্থ, সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের এই যৌথ বা কাপল্ড সিস্টেমটি এখন সম্পূর্ণভাবে ‘এল নিনো’র গ্রাসে চলে গিয়েছে। বুলেটিন অনুযায়ী, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে আনুষ্ঠানিকভাবে এল নিনো (El Nino) পরিস্থিতির সূচনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, চলতি দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মরশুমে এই এল নিনো আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    আরও শক্তিশালী হবে ‘এল নিনো’

    মৌসম ভবনের বুলেটিনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বর্তমানে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মরশুমে এটি আরও শক্তিশালী রূপ ধারণ করতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মাসগুলিতে ‘এল নিনো’র তীব্রতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, জুন ২০২৬-এ মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ‘এল নিনো’র জন্য নির্ধারিত মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতি পরিমাপের অন্যতম প্রধান সূচক তথা ‘নিনো ৩.৪ ইনডেক্স’ (Niño 3.4 index)-এর গত তিন মাসের গড় তাপমাত্রা +০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে চলে গিয়েছে, যা ‘এল নিনো’র আনুষ্ঠানিক আগমনকে সিলমোহর দেয়। এ ছাড়াও, প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশেও তাপমাত্রার ব্যাপক অসঙ্গতি বা উষ্ণতা লক্ষ্য করা গেছে, যার অর্থ গভীরের এই গরম জল আগামী দিনগুলিতে অনবরত সমুদ্রপৃষ্ঠে উঠে এসে ‘এল নিনো’কে আরও বেশি শক্তিশালী করে তুলবে।

    দেশে বর্ষার উপর কী প্রভাব?

    সাধারণত ‘এল নিনো’ হল একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রশান্ত মহাসাগরের জলপৃষ্ঠের অতিরিক্ত উষ্ণায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারতের আবহাওয়ার ইতিহাসে এই ‘এল নিনো’র রেকর্ড মোটেও ভাল নয়। ঐতিহাসিকভাবে, ‘এল নিনো’ সক্রিয় থাকলে ভারতে বর্ষার বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই কমে যায়। এর ফলে দেশের একাধিক রাজ্যে তীব্র দাবদাহ, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক মরশুম এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভয়াবহ খরার (Drought) ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। তবে আইএমডি জোর দিয়ে বলেছে যে, ভারতের বর্ষা কেবল ‘এল নিনো’র ওপর নির্ভর করে না, অন্যান্য অনেক আঞ্চলিক উপাদানও এর সঙ্গে জড়িত।

    ‘এল নিনো’ কী?

    সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব থেকে পশ্চিমে বয়ে চলা হাওয়া গরম জলকে ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু কয়েক বছর পরপর এই হাওয়া দুর্বল হয়ে পড়লে গরম জল উল্টো অভিমুখে, অর্থাৎ দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলের দিকে চলে যায়। প্রশান্ত মহাসাগরের এই অস্বাভাবিক উষ্ণ হয়ে ওঠার চেনা নামই হল ‘এল নিনো’। গ্রীষ্মকালে ভারতের ভূখণ্ড প্রচণ্ড উত্তপ্ত হলে ভারত মহাসাগর থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস দেশের দিকে ছুটে আসে, যা বর্ষা ডেকে আনে। কিন্তু এল নিনো এই বাতাসের গতিপথকে ভারত থেকে দূরে, প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। ফলে মেঘ ও বৃষ্টির চাকা থমকে যায়। তথ্য বলছে, ১৯৫১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে হওয়া প্রায় ৬০ শতাংশ এল নিনোর বছরগুলিতেই ভারতে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশ কমে গিয়েছিল।

    ভারতের নিজস্ব ‘রক্ষাকবচ’

    এল নিনো এলেই যে খরা হবে, তা নয়। অনেক সময় ভারতের ত্রাতা হয়ে ওঠে ভারত মহাসাগর নিজেই। একে বলা হয় ‘ইন্ডিয়ান ওশেন ডাইপোল’ বা আইওডি (IOD)।

    • পজিটিভ আইওডি : যখন পূর্ব আফ্রিকার উপকূলবর্তী পশ্চিম ভারত মহাসাগর উত্তপ্ত হয় এবং ইন্দোনেশিয়ার দিকের পূর্ব অংশ শীতল থাকে। এই পরিস্থিতি এল নিনোর নেতিবাচক প্রভাবকে রুখে দিয়ে ভারতে বাড়তি বৃষ্টির জোগান দেয়।
    • নেগেটিভ আইওডি: এর উল্টো পরিস্থিতি বর্ষাকে আরও দুর্বল করে। ২০০২ এবং ২০১৫ সালের মতো এল নিনো ও নেগেটিভ আইওডির যুগলবন্দি ভারতের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ খরা ডেকে এনেছিল।
    • নিরপেক্ষ আইওডি: আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে ভারত মহাসাগরে ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ বা আইওডি (IOD) পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ‘নিরপেক্ষ’ বা নিউট্রাল অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা জুড়েই এই পরিস্থিতি বজায় থাকার সম্ভাবনা। নিরপেক্ষ আইওডি থাকার অর্থ হল – এটি এবার ‘এল নিনো’র ক্ষতিকারক প্রভাবকে কমাতেও পারবে না, আবার বাড়িয়ে তুলতেও ভূমিকা নেবে না।
  • Suvendu Adhikari: ‘বেলডাঙার পুনরাবৃত্তি নয়’, মালদার মঞ্চ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর, এনআইএ তদন্তে আপত্তি প্রত্যাহার

    Suvendu Adhikari: ‘বেলডাঙার পুনরাবৃত্তি নয়’, মালদার মঞ্চ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর, এনআইএ তদন্তে আপত্তি প্রত্যাহার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার অশান্তির (Beldanga Violence) ঘটনাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের আইনি টানাপড়েনে নয়া মোড়। বেলডাঙা হিংসার ঘটনায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএর তদন্তের বিরুদ্ধে আগের রাজ্য সরকারের করা আপত্তি বর্তমান সরকার (Suvendu Adhikari) প্রত্যাহার করে নেওয়ায় মামলার তদন্তে এনআইএর রাস্তা আরও (Beldanga Violence) মসৃণ হল। একই সময়ে মালদায় প্রশাসনিক বৈঠক থেকে আইন-শৃঙ্খলা, সীমান্ত নিরাপত্তা, সামাজিক প্রকল্প এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, ভবিষ্যতে সামশেরগঞ্জ, মোথাবাড়ি বা বেলডাঙার মতো অশান্তির পুনরাবৃত্তি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

    এনআইএকে দিয়ে তদন্ত (Suvendu Adhikari)

    বেলডাঙার অশান্তির ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলায় আদালত জানিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে এনআইএকে দিয়ে তদন্ত করাতে পারে এবং প্রয়োজনে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিরিক্ত সাহায্যও চাইতে পারে। হাইকোর্টের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যায়। কার্যত নিরাশ হয়ে ফিরতে হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে। শীর্ষ আদালত এনআইএ তদন্তের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি। পরে কেস ডায়েরি এবং ধৃত অভিযুক্তদের হস্তান্তর নিয়েও রাজ্য পুলিশ এবং এনআইএর মধ্যে টানাপড়েন শুরু হলে আদালতের নির্দেশে সমস্ত নথি ও অভিযুক্তদের তুলে দেওয়া হয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে।

    বেলডাঙাকাণ্ড

    ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিধানসভা ভোটের আগে বেলডাঙায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। ভাঙচুর, রেল অবরোধ, জাতীয় সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার মতো ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জও করতে হয়। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে মামলার তদন্তভার নেয় এনআইএ।

    শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠক

    এদিকে, মালদায় প্রশাসনিক বৈঠক (Suvendu Adhikari) থেকে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, ভবিষ্যতে সামশেরগঞ্জ, মোথাবাড়ি বা বেলডাঙার মতো অশান্তির পুনরাবৃত্তি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বিএসএফ এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি নিজেও বিএসএফের আউটপোস্ট পরিদর্শনে যাবেন (Beldanga Violence)।

    সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প

    প্রশাসনিক বৈঠকে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রায় ৫০ লাখ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পৌঁছতে শুরু (Beldanga Violence) করেছে। বার্ধক্য ভাতা এবং বিধবা ভাতাও পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় স্থানান্তরের বিষয়েও ফের আশ্বাস দেওয়া হয়, যাতে রাজ্যের বাইরে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকরাও স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা পান।

    প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির তৃণমূলের বিধায়ক-সাংসদ

    উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চাঁচল ও গাজোলকে পুরসভার আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে বৈঠকে (Suvendu Adhikari)। যদিও চলতি বর্ষায় কাজ শুরু করা সম্ভব না হলেও আগামী বর্ষার আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করবে বলেও জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং দুই দিনাজপুর জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে একাধিক তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদের উপস্থিতি নজর কেড়েছে। বিশেষ করে বিরোধী শিবিরের জনপ্রতিনিধিদেরও প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো এবং অতিরিক্ত আড়ম্বর এড়িয়ে ছিমছাম সরকারি বৈঠকের আয়োজন রাজনৈতিক মহলে নতুন বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে (Beldanga Violence)। গত কয়েক (Beldanga Violence) বছরের তুলনায় প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে এই পরিবর্তন নিয়েও শুরু হয়েছে জোর চর্চা (Suvendu Adhikari)।

     

  • Elon Musk: বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার ইলন মাস্ক, রেকর্ড গড়ে শেয়ার বাজারে পা রাখল স্পেসএক্স, মূল্যায়ন ছাড়াল ২ লক্ষ কোটি ডলার

    Elon Musk: বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার ইলন মাস্ক, রেকর্ড গড়ে শেয়ার বাজারে পা রাখল স্পেসএক্স, মূল্যায়ন ছাড়াল ২ লক্ষ কোটি ডলার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশ গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতের শীর্ষ জায়ান্ট ‘স্পেসএক্স’ (SpaceX) বিশ্ব শেয়ার বাজারে তাদের প্রথম পা রেখেই এক ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার ইতিহাসের বৃহত্তম ‘আইপিও’ (Initial Public Offering) বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাব সম্পন্ন করে নাসদাক (Nasdaq) এবং নাসদাক টেক্সাসে এসপিসিএস্ক (SPCX) টিকারে তালিকাভুক্ত হয়েছে ইলন মাস্কের এই প্রতিষ্ঠানটি।

    শেয়ারের দাম ২২ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ১৬৫ ডলারে পৌঁছায় (Elon Musk)

    আইপিও-তে প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩৫ ডলার। এর মাধ্যমে রেকর্ড ৭৫ বিলিয়ন ডলার পুঁজি সংগ্রহ করে স্পেসএক্স (SpaceX), যার ফলে শুরুতেই কোম্পানির মোট বাজার মূল্যায়ন দাঁড়ায় প্রায় ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার।

    শুক্রবার সকালে বাজার খোলার পর থেকেই স্পেসএক্সের শেয়ারের ব্যাপক চাহিদা দেখা যায়। প্রথম দিনেই শেয়ারের দাম ২২ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ১৬৫ ডলারে পৌঁছায়। এর ফলে কোম্পানির সামগ্রিক বাজার মূল্য ২ ট্রিলিয়ন (২ লাখ কোটি) ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়, যা বিশ্বের একাধিক বড় বড় কর্পোরেট সংস্থাকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। আর এই অভাবনীয় সাফল্যের হাত ধরেই স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক (Elon Musk) বিশ্বের প্রথম অফিশিয়াল ‘ট্রিলিয়নেয়ার’ (১ লাখ কোটি ডলারের মালিক) হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখালেন।

    শুক্রবার সকালে শেয়ার বাজারের উদ্বোধনী ঘণ্টা বাজিয়ে এই ঐতিহাসিক যাত্রার সূচনা করেন ইলন মাস্ক এবং স্পেসএক্সের প্রেসিডেন্ট ও সিওও (COO) গোয়েন শটওয়েল। এ সময় মাস্ক টেক্সাস থেকে এবং শটওয়েল নিউ ইয়র্কের নাসদাক কেন্দ্র থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন।

    মোট রাজস্ব আয় ১৮.৭ বিলিয়ন ডলার

    ২০০২ সালে যখন স্পেসএক্স যাত্রা শুরু করেছিল, তখন মানবজাতিকে বহু-গ্রহের বাসিন্দা (multiplanetary) করার স্বপ্নকে অনেকেই দুঃসাহসিক বা অসম্ভব বলে মনে করেছিলেন। গত দুই দশকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরি, লাখ লাখ গ্রাহকের কাছে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া এবং মার্কিন সরকারের লাভজনক সব চুক্তি হাতিয়ে নিয়ে মহাকাশ শিল্পকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে এই সংস্থা (Elon Musk)। যদিও সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিকগুলোতে কোম্পানিটি কিছুটা পরিচালন লোকসানের মুখোমুখি হয়েছিল, তবুও মূলত স্টারলিংক এবং রকেট উৎক্ষেপণ সেবার অভাবনীয় বৃদ্ধির ওপর ভর করে গত বছর তাদের মোট রাজস্ব আয় ১৮.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল।

    দ্বিতীয় শীর্ষ ধনীর তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি সম্পত্তির মালিক মাস্ক

    ১২ জুন শেয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হতেই ইলন মাস্কের সম্পদ এক ধাক্কায় ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করে। স্পেসএক্সের (SpaceX) সিংহভাগ মালিকানার পাশাপাশি টেসলা এবং অন্যান্য লাভজনক সংস্থায় মাস্কের যে শেয়ার রয়েছে, তা মিলিয়ে বর্তমানে কাগজে-কলমে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। এই বিশাল অঙ্কের সম্পদ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির (GDP) চেয়েও বেশি। বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী গুগলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ যার সম্পদ প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে মাস্ক (Elon Musk) এখন দ্বিতীয় শীর্ষ ধনীর তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি সম্পদের মালিক।

    মঙ্গলে মানব অভিযান ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি প্রধান উদ্দেশ্য

    আন্তর্জাতিক বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ বিনিয়োগকারী ও বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক ফান্ডের তুমুল আগ্রহের কারণেই স্পেসএক্সের আইপিও এতটা সফল হয়েছে। কোম্পানির শেয়ারের আবেদন বা সাবস্ক্রিপশন নির্ধারিত সীমার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ছিল। এই লিস্টিংয়ের ফলে স্পেসএক্সের শুরুর দিকের কর্মকর্তা ও কর্মীরাও বিপুল আর্থিক রিটার্ন পেতে চলেছেন, যা কোম্পানির ভেতরেই হাজার হাজার নতুন মিলিওনেয়ার তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    তবে ইলন মাস্কের (Elon Musk) লক্ষ্য কেবল বাণিজ্যিক মুনাফায় সীমাবদ্ধ নয়। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, “মঙ্গলে মানব অভিযান এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তির আরও আধুনিকায়নের জন্য বিপুল পুঁজি সংগ্রহ করতেই স্পেসএক্সকে শেয়ার বাজারে আনা হয়েছে। আগামী দিনে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য মহাকাশের কক্ষপথে ১ লাখেরও বেশি স্যাটেলাইট স্থাপন এবং মহাশূন্যেই ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ডেটা সেন্টার’ গড়ে তোলার মতো বড় সব পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ায় একদিকে যেমন স্পেসএক্সের (SpaceX) তহবিল শক্তিশালী হলো, অন্যদিকে পাবলিক কোম্পানি হিসেবে এখন থেকে তাদের ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও অনেক বৃদ্ধি পাবে।

  • Suvendu in Malda: দুই নতুন পুরসভা, এমসের সঙ্গে মেডিক্যাল কলেজ, গঙ্গার ভাঙন রোধ থেকে সীমান্ত সমস্যা, মালদায় একগুচ্ছ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu in Malda: দুই নতুন পুরসভা, এমসের সঙ্গে মেডিক্যাল কলেজ, গঙ্গার ভাঙন রোধ থেকে সীমান্ত সমস্যা, মালদায় একগুচ্ছ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সবার জন্য উন্নয়ন,সবার জন্য সরকার। সবার সঙ্গে কথা বলেই তৈরি হবে রাজ্যে উন্নয়নের গতিপথ। শুক্রবার বিকেলে মালদায় চার জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে প্রশাসনিক কর্তাদের সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu in Malda)৷ এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে৷ তাঁদের অনেকে অ্যাপিলেট ট্র্যাইবুনালে আবেদন করেছেন, অনেকে আবার সিএএ-তে আবেদন করেছেন ৷ যতদিন না তাঁরা যথাযথ বিচার পাচ্ছেন, তাঁদের কাউকে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা হবে না ৷ এক্ষেত্রে ধর্ম, বর্ণ কিংবা রাজনৈতিক পরিচিতি বিচার্য নয়, বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী ৷ জানান, উত্তরবঙ্গে তৈরি হবে দুটি এমস্। মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মুর্শিদাবাদে সীমান্ত সমস্যাও দ্রুত মিটিয়ে ফেলা হবে, বলে দাবি শুভেন্দুর।

    মালদা জেলায় দুটি নতুন পুরসভা নির্মাণ

    এদিন মালদা জেলায় দুটি নতুন পুরসভা নির্মাণের কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ তিনি বলেন, ‘‘মালদা জেলায় চাঁচল ও গাজোল পুরসভার দাবি বহুদিনের ৷ প্রাথমিকভাবে এই দুটি পুরসভা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৷ তার প্রাথমিক কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে ৷ বাকিটা বাজেটে ঘোষিত হবে ৷”

    গঙ্গা ভাঙন রোধের কাজ

    আগামী বর্ষার আগেই গঙ্গা ভাঙন রোধের কাজ করার আশ্বাসও দেন ৷ মালদা, মুর্শিদাবাদের বন্যা ও ফি বছর নদী ভাঙন এই দুই জেলার বাসিন্দাদের কাছে একটা আতঙ্ক। এতদিন এ নিয়ে কেন্দ্র–রাজ্য পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপ করেছে। শুক্রবার শুভেন্দু জানান, এখন থেকে এই দুই জেলায় বন্যা ও ভাঙন রোধে কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করবে।

    চার জেলায় নতুন মেডিক্যাল কলেজ

    একইসঙ্গে চার জেলায় নতুন মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণের জন্য কাজ শুরু করতে স্বাস্থ্য কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান৷ শুভেন্দু এদিন জানান, দক্ষিণ দিনাজপুরে মেডিক্যাল কলেজের প্রস্তাব রয়েছে ৷ তা দ্রুত খতিয়ে দেখতে হবে ৷ একইসঙ্গে আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও মেডিক্যাল কলেজ করতে হবে ৷

    উত্তরবঙ্গে এমস্

    উত্তরবঙ্গে এমস্ হাসপাতাল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোনওরকম সমস্যা হবে না, বলেও এদিন মত প্রকাশ করেন শুভেন্দু । সূত্রের খবর, এমস্ হাসপাতাল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সম্ভবত রায়গঞ্জের মাটিকেই বেছে নেওয়া হবে। এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। চার জেলায় আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোর মান উন্নত করার ব্যাপারে জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    সরকারি প্রকল্পের সুবিধা

    মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘‘ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৫০ লক্ষের বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা ঢুকে গিয়েছে ৷ এই প্রক্রিয়া এখন চলবে ৷ একইভাবে বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা-সহ অন্যান্য সামাজিক প্রকল্পগুলি নিয়েও আমরা চিন্তাভাবনা করছি ৷” শুভেন্দু এদিন আরও জানান, রাজ্য সরকার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় যুক্ত হয়েছে ৷ প্রত্যেক গরিব মানুষ এবার সরকারি বাড়ি পাবেন ৷ আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে তার নতুন তালিকা তৈরিও হয়ে যাবে ৷ বিধায়ক ও প্রশাসনিক কর্তাদের সহযোগিতায় এই কাজ হবে ৷ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘বিগত সরকার চার মাসের বাজেট করে গিয়েছিল ৷ আগামী ১৮ জুন বিধানসভার অধিবেশন শুরু হবে ৷ ২২ তারিখ পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হবে ৷” রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের বক্তব্য, ‘‘আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন রাজ্যে জনকল্যাণ শিবির হবে ৷ বিধায়ক, সাংসদ ও বিডিওরা শিবিরগুলি পর্যবেক্ষণ করবেন ৷ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে অনেক ভুয়ো খবর ছড়িয়েছে ৷ সেসব বাদ দিয়ে মানুষকে এই স্কিম নিয়ে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে ৷ এই প্রকল্পের কার্ড গোটা ভারতে কাজ করে ৷ একইভাবে আমরা রেশন কার্ডেও এই ব্যবস্থা চালু করার কথা ভাবছি ৷ তার ফলে রাজ্যের বাইরে থাকলেও ওই কার্ডে রেশন তোলা যাবে৷”

    পুলিশকে বার্তা শুভেন্দুর

    পুলিশের উদ্দেশেও বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ তাঁর বার্তা, ‘‘ক্রশিং ছাড়া জাতীয় সড়ক জুড়ে ব্যারিকেড লাগানো যাবে না ৷ যানজটের জন্য কালিয়াচক-ফরাক্কায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকে ৷ ওভারলোডিং সংক্রান্ত অনেক অভিযোগও আসে ৷ এসব চলবে না ৷ কোথাও কোনও সমস্যা থাকলে তা যাত্রীরা সোশাল মিডিয়ায় জানাতে পারবেন ৷ যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা সরকার নেবে ৷ প্রতিটি থানায় মহিলাদের জন্য হেল্প ডেস্ক চালু করতে হবে ৷ আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় 12 হাজার কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে ৷ প্রায় ৪ হাজার ভিলেজ পুলিশও নিয়োগ হবে ৷ মোথাবাড়ি, কালিয়াচক, বেলডাঙা, সামশেরগঞ্জের মতো ঘটনা আর যাতে না ঘটে তার জন্য পুলিশকে দায়িত্ব নিতে হবে ৷” পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, ‘‘কোনও রাজনৈতিক দল আন্দোলন করার অধিকার হারাক তা আমরা চাই না ৷”

    সীমান্ত সমস্যা সমাধান

    মুখ্যমন্ত্রী এদিন সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়েও মন্তব্য করেন ৷ বিএসএফ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন ৷ এক্ষেত্রে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চেয়েছেন শুভেন্দু ৷ ধরা পড়া বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত ডিপোর্ট করার নির্দেশ দেন ৷ তিনি জানান, সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলিকে সাজিয়ে তোলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ সাহায্য করতে প্রস্তুত ৷ তার সুযোগ জেলাশাসকদের নিতে হবে৷ দুই দিনাজপুর ও মালদায় বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। ক্ষমতায় এসেই বিজেপি সরকার ঘোষণা করেছিল যে, উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে বিএসএফকে জমি হস্তান্তর করা হবে। এদিনের বৈঠকে এখনও পর্যন্ত কত জমি বিএসএফকে হস্তান্তর করা হলো, তা জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী।

    বিরোধী বিধায়কদের সমান গুরুত্ব

    এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো উত্তরের তিন জেলার তৃণমূলের সব বিধায়কই উপস্থিত ছিলেন। বিরোধী দলের বিধায়কদের অভাব–অভিযোগ মন দিয়ে শোনেন শুভেন্দু। মালদা মেডিক্যাল কলেজে হার্ট কেয়ার ইউনিট, মালদা বিমান বন্দরের জন্য জমি, কালিয়াচকে দমকল কেন্দ্র, মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে বিড়ি শ্রমিকদের জন্যে বন্ধ হয়ে থাকা হাসপাতালের আধুনিকীকরণ–সহ বিভিন্ন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। কালিয়াচক, মোথাবাড়ি, বেলডাঙ্গায় বিগত দিনের গন্ডগোল প্রসঙ্গ উত্থাপন করে শুভেন্দু বলেন, ‘আশা করব আগামীতে এই ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।’ এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে তিনি বিরোধী বিধায়কদেরও সাহায্য চান। এদিন দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে এক বেনজির সৌজন্যের আবহ তৈরি হয়েছিলো মালদার প্রশাসনিক বৈঠকে।

  • Ballistic Missile Defence: আইসিবিএম ধ্বংসের ক্ষমতা! টানা ৩ সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ডিআরডিও-র, বিশ্বের এলিট ক্লাবে ভারত!

    Ballistic Missile Defence: আইসিবিএম ধ্বংসের ক্ষমতা! টানা ৩ সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ডিআরডিও-র, বিশ্বের এলিট ক্লাবে ভারত!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যোগ হল। দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে (Ballistic Missile Defence বা BMD) ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে টানা তিনটি সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)।

    অভিনন্দন রাজনাথ সিংয়ের

    একইসঙ্গে প্রথমবারের মতো মাঝারি পাল্লার অ্যান্টি-শিপ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থারও সফল পরীক্ষা হয়েছে। এই সাফল্যের পর ভারত এখন বিশ্বের সেই নির্বাচিত দেশগুলির তালিকায় উঠে এসেছে, যারা দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এমনকি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং শুক্রবার এই সাফল্যের কথা ঘোষণা করে ডিআরডিও-র বিজ্ঞানী, শিল্প অংশীদার এবং সশস্ত্র বাহিনীকে অভিনন্দন জানান। সামাজিক মাধ্যম এক্সে (X) তিনি জানান, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিচালিত একাধিক জটিল পরীক্ষায় ভারতের বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা সফলভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

    কী কী পরীক্ষা চালানো হয়েছে?

    ১০ এবং ১১ জুন ধারাবাহিকভাবে তিনটি ফ্লাইট টেস্ট পরিচালনা করে ডিআরডিও। এই পরীক্ষাগুলির মূল লক্ষ্য ছিল ভারতের বহুস্তরীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, পরীক্ষার সময় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রগুলি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুকে সফলভাবে শনাক্ত, অনুসরণ এবং ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এই ব্যবস্থাগুলি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতের আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির মোকাবিলা করা যায়। সরকারি সূত্রের দাবি, পরীক্ষিত দুটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র শত্রুপক্ষের ২,০০০ থেকে ৫,০০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রকে সাধারণত ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইল (IRBM) বলা হয়।

    এক্সো-অ্যাটমোস্ফেরিক ও এন্ডো-অ্যাটমোস্ফেরিক প্রতিরক্ষা

    সূত্রের খবর, পরীক্ষায় ব্যবহৃত দুটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে একটি বায়ুমণ্ডলের বাইরে (Exo-atmospheric) এবং অন্যটি বায়ুমণ্ডলের ভিতরে (Endo-atmospheric) শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম। এই দুই স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভারতের বিএমডি শিল্ডকে আরও শক্তিশালী করবে। কোনও শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র প্রথম স্তরের প্রতিরোধ ভেদ করলেও দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করবে। ফলে সাফল্যের সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

    প্রথমবার সফল অ্যান্টি-শিপ প্রতিরক্ষা পরীক্ষা

    ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পরীক্ষার পাশাপাশি মাঝারি পাল্লার অ্যান্টি-শিপ ডিফেন্স সিস্টেমেরও প্রথম সফল ফ্লাইট টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। যদিও সরকার এখনও এই প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতীয় নৌবাহিনীর সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষত ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    কেন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষায় জোর দিচ্ছে ভারত?

    গত কয়েক বছরে ভারত তার কৌশলগত প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোকে দ্রুত শক্তিশালী করার পথে এগিয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। গত বছর ডিআরডিও অগ্নি-৫ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি উন্নত সংস্করণের কাজ শুরু করে, যা ভূগর্ভস্থ শক্তিশালী বাঙ্কার বা সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করতে সক্ষম হবে বলে জানা যায়। অন্যদিকে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ভারতীয় নৌবাহিনী তাদের তৃতীয় অরিহন্ত শ্রেণির পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন আইএনএস অরিদ্ধমানকে (INS Aridaman) অন্তর্ভুক্ত করে। এই সাবমেরিন হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম।

    পাকিস্তান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাব

    প্রতিরক্ষা সূত্রের মতে, পাকিস্তানও সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে জোর দিচ্ছে। ফাতাহ-১ (Fatah-I), ফাতাহ-২ (Fatah-II) এবং চিনা প্রযুক্তিভিত্তিক পি২৮২-র (P282) মতো ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন ভারতের কৌশলগত পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। শুধু পাকিস্তান নয়, এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দ্রুত পরিবর্তিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটেও ভারত তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধে আক্রমণাত্মক সক্ষমতার পাশাপাশি কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    বিশ্বের কোন এলিট ক্লাবে ভারত?

    রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভারত এখন সেই সীমিত সংখ্যক দেশের দলে যোগ দিয়েছে, যাদের কাছে দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আইসিবিএম মোকাবিলার সক্ষমতা রয়েছে। যদিও তিনি নির্দিষ্টভাবে দেশগুলির নাম উল্লেখ করেননি, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে এই ধরনের উন্নত ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিফেন্স প্রযুক্তি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চিন এবং ইজরায়েলের মতো কয়েকটি দেশের কাছেই রয়েছে। ভারতের সাম্প্রতিক সাফল্য সেই তালিকায় তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

    ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিতে নতুন অধ্যায়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা তিনটি সফল পরীক্ষা শুধু প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা নীতির একটি নতুন দিকও তুলে ধরেছে। দেশটি এখন শুধু শক্তিশালী আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে না, পাশাপাশি সম্ভাব্য শত্রুর দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার সক্ষমতাও দ্রুত গড়ে তুলছে। ডিআরডিওর এই সাফল্য ভবিষ্যতে ভারতের সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ঢাল নির্মাণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে আইসিবিএম স্তরের হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতার দাবি ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

  • Madan Mitra: সিআইডির পর এবার মদন মিত্রের বাড়িতে পৌঁছল ইডি! কেন কামারহাটির বিধায়কের বাড়িতে তল্লাশি?

    Madan Mitra: সিআইডির পর এবার মদন মিত্রের বাড়িতে পৌঁছল ইডি! কেন কামারহাটির বিধায়কের বাড়িতে তল্লাশি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় শনিবার সকালে মদন মিত্রর (Madan Mitra) বাড়িতে পৌঁছল ইডি। এদিন তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের কামারহাটি, ভবানীপুরের ঠিকানায় যায় ইডি আধিকারিকরা। সন্তোষপুরের একটি ক্লাব ও বেলেঘাটার একটি ফ্ল্যাটেও পৌঁছেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল। এখনও পর্যন্ত খবর মোট ৮টি জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছ ইডি (ED Raid)। শুক্রবারই মদন মিত্রের বাড়িতে যায় সিআইডি-র একটি দল। বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডের জন্যই তাঁর বাড়িতে গোয়েন্দারা এসেছিলেন বলে জানান মদন।

    কেন মদন মিত্রর বাড়িতে ইডি

    সিআইডি-র পর রাত পোহাতেই আবার মদন মিত্রের বাড়িতে হানা দিল ইডি। পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেই তাঁর বাড়িতে অভিযান চলছে বলে জানা যাচ্ছে। পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রচণ্ড সক্রিয় ইডি। তারা ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছে। আর সেই মামলাতেই আবার মদন মিত্রের বাড়িতে গেল ইডি। তারা সেখানে তল্লাশি চালাচ্ছে বলেই জানা যাচ্ছে। শনিবার সকাল থেকেই কলকাতা ও তার আশপাশের ৬ থেকে ৭টি জায়গায় অভিযান চালিয়েছে ইডি। মদনের ভবানীপুর এবং কালীঘাটের বাড়িতে সকাল থেকে তল্লাশি চলছে বলে সূত্রের খবর। মদন কোন বাড়িতে আছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। জানা গিয়েছে, অয়ন শীলের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মদন মিত্রের বাড়িতে এই অভিযান।

    সই-জাল কাণ্ডে মদনের বাড়িতে সিআইডি

    বাড়িতে সিআইডি প্রসঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র বলেন, ‘‘আমার বাড়িতে এসেছিল সিআইডি। সই জাল কাণ্ড নিয়ে আমাকে সহযোগিতা করতে বলে। আমাকে নোটিস নিতে বলেছে। আমাকে বলেছে আপনি এই নোটিসটা শুধু রিসিভ করে নিন। আমি রিসিভ করলাম। আমাকে একটা নোটিস দিয়ে চলে গেছে। দেড় মিনিট ছিল।’’ শুক্রবার বিধায়কদের সই জালিয়াতি কাণ্ডে কুণাল ঘোষকেও তলব করে সিআইডি। রবিবার বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে ভবানী ভবনে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রবিবার বেলা ১২টায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ফের সিআইডি দফতরে যেতে বলা হয়েছে।

  • Abhishek Banerjee: বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনী, ৫ ঘণ্টা ধরে অভিষেকের বাড়িতে অভিযান পুলিশের, কোন মামলায়?

    Abhishek Banerjee: বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনী, ৫ ঘণ্টা ধরে অভিষেকের বাড়িতে অভিযান পুলিশের, কোন মামলায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার ভোররাতে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাড়িতে হঠাৎ পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভোর ৩টার কিছু পরে রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ এবং শালবনি থানার একাধিক আধিকারিকের উপস্থিতিতে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোররাতেই পুলিশের একাধিক গাড়ি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়। শালবনি থানার আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন মহিলা পুলিশকর্মীরাও। তবে কোন মামলার তদন্তে এই অভিযান চালানো হয়েছে, তা নিয়ে সকাল পর্যন্ত সরকারি ভাবে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

    দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা, পরে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ

    প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাড়িতে প্রবেশের আগে দীর্ঘক্ষণ ধরে দরজায় ডাকাডাকি করেন পুলিশ আধিকারিকেরা। প্রথমে কোনও সাড়া না পাওয়ায় তালা ভাঙার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। পরে বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হলে পুলিশ ভিতরে প্রবেশ করে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে পুলিশ ও তদন্তকারী আধিকারিকরা বাড়ির ভিতরে অবস্থান করেন। এদিকে বাড়ির বাইরে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা গোটা এলাকা ঘিরে রাখেন, যার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ আরও বাড়ে। সকাল ৭টার পর কয়েকজন পুলিশ আধিকারিককে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পরে তাঁরা ফের ভিতরে প্রবেশ করেন। শেষ পর্যন্ত সকাল ৮টার কিছু পরে পুলিশ বাহিনী বাড়ি ছাড়ে।

    খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    পুলিশি তৎপরতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি কিছু সময় সেখানে অবস্থান করেন। পুলিশ বাহিনী বাড়ি ছাড়ার পর তিনিও সেখান থেকে চলে যান। মমতার উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বাড়ে। যদিও তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করেননি।

    একের পর এক তদন্তের মুখে অভিষেক

    উল্লেখযোগ্যভাবে, গত কয়েকদিন ধরেই একাধিক মামলায় তদন্তকারী সংস্থার নজরে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি তাঁকে বিধানসভার সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে সেদিন সন্ধ্যায় তিনি ভবানী ভবনে সিআইডি দফতরে হাজিরা দেন। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে জেরা। রাত সাড়ে ১১টার পরে তিনি ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান। এই মামলায় গ্রেফতারি বা কঠোর পদক্ষেপের আশঙ্কায় তিনি আগে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালত জানিয়েছে, মামলার পরবর্তী শুনানি দু’সপ্তাহ পরে হবে। ততদিন পর্যন্ত সিআইডি তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না। তবে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    শুক্রবারও গিয়েছিল সিআইডি

    শুক্রবারও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছেছিল সিআইডির একটি দল। তবে সেবারের তদন্ত ছিল অন্য একটি মামলাকে কেন্দ্র করে। একটি বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে সল্টলেক সাইবার থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের তদন্তে তাঁর হাতে নোটিস তুলে দিতে গিয়েছিলেন গোয়েন্দারা। তখন তিনি বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা যায়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর অভিষেক বাড়ি ফিরলে তাঁকে নোটিস দেওয়া হয়। সেই মামলায় আগামী ১৬ জুন তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সামনে আরও একাধিক হাজিরা

    তদন্তকারী সংস্থাগুলির তৎপরতার মধ্যে আগামী কয়েকদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যস্ততা আরও বাড়তে চলেছে। সূত্রের খবর, সই জালিয়াতি মামলায় তাঁকে ফের ১৪ জুন ভবানী ভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনি তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি ১৫ জুন তাঁকে তলব করেছে।

    কোন মামলায় অভিযান…

    শনিবারের অভিযানের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে শালবনি থানার পুলিশের উপস্থিতি। কলকাতার কালীঘাটে অবস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনি থানার আধিকারিকরা কেন পৌঁছেছিলেন, কোন মামলার সূত্রে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সূত্রের খবর, অর্থের বিনিময়ে টিকিট দেওয়ার অভিযোগে তদন্ত করতে এসেছিল শালবনী থানার পুলিশ। অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ। সেই সূত্রেই অভিষেকের বাড়িতে হাজির হয় পুলিশ। শালবনির পুলিশকর্মীদের সঙ্গে কালীঘাট থানার পুলিশও উপস্থিত ছিল বলে জানা গিয়েছে। ফলে তদন্তের পরিধি এবং মামলার প্রকৃতি নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে প্রশাসনিক স্তর— সব জায়গাতেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। আগামী দিনে তদন্তকারী সংস্থাগুলি কী তথ্য প্রকাশ করে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

  • Ramakrishna 668: “ভক্তেরা ফুল ও মালা আনিয়া দিয়াছেন, ঠাকুরের হৃদয়মধ্যে নারায়ণ, তাঁহারই বুঝি পূজা করিতেছেন”

    Ramakrishna 668: “ভক্তেরা ফুল ও মালা আনিয়া দিয়াছেন, ঠাকুরের হৃদয়মধ্যে নারায়ণ, তাঁহারই বুঝি পূজা করিতেছেন”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    বুদ্ধদেব কি ঈশ্বরের অস্তিত্ব মানতেন? নরেন্দ্রকে শিক্ষা

    দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ২২শে এপ্রিল

    ঠাকুরের আত্মপূজা—গুহ্যকথা—মাস্টার, হীরানন্দ প্রভৃতি সঙ্গে

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) অন্তর্মুখ। কাছে হীরানন্দ ও মাস্টার বসিয়া আছেন। ঘর নিস্তব্ধ। ঠাকুরের শরীরে অশ্রুতপূর্ব যন্ত্রণা; ভক্তেরা যখন এক-একবার দেখেন, তখন তাঁহাদের হৃদয় বিদীর্ণ হয়। ঠাকুর কিন্তু সকলকেই ভুলাইয়া রাখিয়াছেন। বসিয়া আছেন সহাস্যবদন!

    ভক্তেরা ফুল ও মালা আনিয়া দিয়াছেন। ঠাকুরের হৃদয়মধ্যে নারায়ণ, তাঁহারই বুঝি পূজা করিতেছেন। এই যে ফুল লইয়া মাথায় দিতেছেন। কণ্ঠে, হৃদয়ে, নাভিদেশে। একটি বালক ফুল লইয়া খেলা করিতেছে।

    ঠাকুরের যখন ঈশ্বরীয়ভাব উপস্থিত হয়, তখন বলেন যে, শরীরের মধ্যে মহাবায়ু ঊর্ধ্বগামী হইয়াছে। মহাবায়ু উঠিলে ঈশ্বরের অনুভূতি হয়,—সর্বদা বলেন। এইবার মাস্টারের সহিত কথা কহিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টারের প্রতি) — বায়ু কখন উঠেছে জানি না (Kathamrita)।

    “এখন বালকভাব। তাই ফুল নিয়ে এই রকম কচ্ছি। কি দেখছি জানো? শরীরটা যেন বাঁখারিসাজানো কাপড়মোড়া, সেইটে নরছে। ভিতরে একজন আছে বলে তাই নড়ছে।

    “যেন কুমড়ো-শাঁসবিচি ফেলা। ভিতরে কামাদি-আসক্তি কিছুই নাই। ভিতর সব পরিষ্কার। আর —”

    ঠাকুরের (Ramakrishna) বলিতে কষ্ট হইতেছে। বড় দুর্বল। মাস্টার তাড়াতাড়ি ঠাকুর কি বলিতে যাইতেছেন একটা আন্দাজ করিয়া বলিতেছেন, “আর অন্তরে ভগবান দেখছেন।”

    শ্রীরামকৃষ্ণ — অন্তরে বাহিরে, দুই দেখছি। অখণ্ড সচ্চিদানন্দ! সচ্চিদানন্দ কেবল একটা খোল আশ্রয় করে এই খোলের অন্তরে-বাহিরে রয়েছেন! এইটি দেখছি।

    মাস্টার ও হীরানন্দ এই ব্রহ্মদর্শনকথা শুনিতেছেন। কিয়ৎক্ষণ পরে ঠাকুর তাঁহাদের দিকে দৃষ্টি করিয়া কথা কহিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টার ও হীরানন্দের প্রতি)—তোমাদের সব আত্মীয়বোধ হয় (Kathamrita)। কেউ পর বোধ হয় না।

  • Mamata Banerjee FIR: ভোটের আগে ‘উস্কানিমূলক’ ভাষণ! মমতার ‘১ সেকেন্ডে’ মন্তব্যের বিরুদ্ধে গুরুতর ধারায় মামলা

    Mamata Banerjee FIR: ভোটের আগে ‘উস্কানিমূলক’ ভাষণ! মমতার ‘১ সেকেন্ডে’ মন্তব্যের বিরুদ্ধে গুরুতর ধারায় মামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের আইনি বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সুপ্রিমো তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের আগে কলকাতার ধর্মতলায় আয়োজিত একটি রাজনৈতিক সভায় দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, ওই সভা থেকে তিনি এমন কিছু ‘উস্কানিমূলক’ এবং ‘বিভ্রান্তিকর’ মন্তব্য করেছিলেন, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৭ জুন হেয়ার স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন তুষার কান্তি দাস নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্তও শুরু হয়েছে।

    কী ঘটেছিল ধর্মতলার সভায়?

    এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে কলকাতার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের ধরনা মঞ্চে একটি রাজনৈতিক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন (তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগকারীর দাবি, ওই সভায় দেওয়া তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কিছু বক্তব্য জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং মানুষকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করার সম্ভাবনা ছিল। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের মন্তব্যের ফলে রাজ্যের নিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

    ঠিক কী বলেছিলেন মমতা?

    অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ওই সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বক্তব্য। মঞ্চ থেকে তিনি বলেছিলেন, “আমরা আছি বলে আপনারা সবাই ভালো আছেন। যদি আমরা না থাকি তখন এক সেকেন্ড লাগবে! একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে না, তখন ঘিরে ফেললে ১ সেকেন্ডে একদম ১২টা বাজিয়ে দেবে। যদি নিজেদের ১৩টা বাজাতে না চান তাহলে বিজেপির অপ্রচারে ভুল বুঝবেন না।” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই তা দ্রুত সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ ছিল, একজন মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এই ধরনের মন্তব্য শোভা পায় না এবং তা সামাজিক বিভাজন ও উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। অন্যদিকে তৃণমূল সমর্থকদের একাংশ দাবি করেছিলেন, বক্তব্যের নির্দিষ্ট অংশকে প্রসঙ্গবিচ্ছিন্নভাবে তুলে ধরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে।

    কোন কোন ধারায় মামলা দায়ের?

    হেয়ার স্ট্রিট থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩-এর তিনটি ধারার উল্লেখ করা হয়েছে।

    • ধারা ১৯৬(১): বিভিন্ন সম্প্রদায়, গোষ্ঠী বা শ্রেণির মধ্যে শত্রুতা বৃদ্ধি করা অথবা সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগ।
    • ধারা ৩৫১(২): অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন বা উস্কানিমূলক আচরণের অভিযোগ।
    • ধারা ৩৫২: ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান বা প্ররোচনা দিয়ে শান্তিভঙ্গের পরিস্থিতি তৈরি করার অভিযোগ।

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারাগুলির মধ্যে কয়েকটি গুরুতর প্রকৃতির এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনি জটিলতা বাড়তে পারে।

    তদন্তভার সাব-ইন্সপেক্টরের হাতে

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ পাওয়ার পর হেয়ার স্ট্রিট থানা মামলাটি নথিভুক্ত করেছে এবং তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাব-ইন্সপেক্টর হিমাদ্রি কাঞ্জিলালকে। তদন্তকারী আধিকারিক ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট নথি, ভিডিও ফুটেজ এবং সভার বক্তব্য সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ওই দিনের সভার ভিডিও রেকর্ডিং, বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রতিলিপি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। বক্তব্যের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট, তার সম্ভাব্য প্রভাব এবং অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলির সত্যতা যাচাই করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে।

    তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া এখনও নেই

    এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এফআইআর প্রসঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। দলীয় নেতৃত্বও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। তবে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন তদন্তের অগ্রগতির দিকে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং পুলিশ পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে এই মামলার ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি। একইসঙ্গে, এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

LinkedIn
Share