Blog

  • PM Modi: ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর, কৃষক থেকে পেশাজীবী—সব ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনার বার্তা মোদির

    PM Modi: ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর, কৃষক থেকে পেশাজীবী—সব ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনার বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-ব্রিটেনের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচনার পর স্বাক্ষরিত হয়েছিল ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) এবং সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তি। আজ, বুধবার থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয় গেল এই দুই চুক্তি। এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) একে ভারত-ব্রিটেন সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই দুই চুক্তির ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং ব্যবসা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি, পরিষেবা ও দক্ষ পেশাজীবীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে উন্মোচিত হবে নতুন দিগন্ত।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী? (PM Modi)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি ভারত-ইউকে অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। বিস্তৃত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি এবং সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তি কার্যকর হওয়ার ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। এই চুক্তিগুলি আমাদের যৌথ লক্ষ্যকে বাস্তব রূপ দেবে এবং দুই দেশের মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।” তিনি এও বলেন, “এই বাণিজ্য চুক্তি ভারতের কৃষক, উদ্যোক্তা এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য নতুন গতি এনে দেবে। ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিল্পক্ষেত্র ব্রিটেনের বাজারে আরও ভালো প্রবেশাধিকার পাবে। পাশাপাশি প্রযুক্তি, পেশাদার পরিষেবা এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে দক্ষ ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগও আরও বিস্তৃত হবে।”

    ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

    প্রধানমন্ত্রী জানান, সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তিটি বিশেষভাবে সেই সব ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যাঁরা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্রিটেনে কাজ করতে যান। তাঁর কথায়, “সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত এই চুক্তি ব্রিটেনে অস্থায়ীভাবে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা নিয়ে আসবে। একই সঙ্গে এটি ভারতীয় সংস্থাগুলির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও বাড়াবে। এই পদক্ষেপ আমাদের দুই গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস এবং বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনভিত্তিক ভবিষ্যতমুখী অংশীদারিত্বের প্রতিফলন (PM Modi)।” প্রসঙ্গত, প্রায় তিন বছর ধরে দফায় দফায় আলোচনার পরে গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মারের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বুধবার থেকে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলেই আশা ওয়াকিবহাল মহলের।

    মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

    মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি কার্যকর হয়েছে সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত দ্বৈত অবদান সংক্রান্ত চুক্তিও। এই ব্যবস্থার ফলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্রিটেনে কর্মরত ভারতীয় কর্মীদের একই সময়ে দুই দেশের সামাজিক সুরক্ষা তহবিলে অর্থ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে অনেকটাই মুক্তি মিলবে। ফলে তাঁদের আর্থিক সাশ্রয় হবে এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমবে। একই সঙ্গে ভারতীয় সংস্থাগুলিও কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছতে পারবে (FTA)। ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য হওয়া হাজার হাজার পণ্যের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে দেওয়া বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু পণ্য বাণিজ্য নয়, পরিষেবা খাত, ডিজিটাল বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পেশাজীবীদের চলাচল, মেধাস্বত্ব এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ও এই চুক্তির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে (PM Modi)।

    কী কী সুবিধে মিলবে

    চুক্তি অনুযায়ী, মূল্যমানের নিরিখে ভারতের প্রায় ৯৯ শতাংশ রফতানি পণ্য ব্রিটেনের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। ফলে দেশের বস্ত্রশিল্প, রেডিমেড পোশাক শিল্প, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতো শিল্প, রত্ন ও গয়না শিল্প, সামুদ্রিক পণ্য, টেক-সামগ্রী, রাসায়নিক শিল্প এবং কৃষিজ পণ্যের রফতানিতে বড় ধরনের সুবিধা মিলবে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও আরও শক্তিশালী হবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের (FTA)। অন্যদিকে, ভারত ধাপে ধাপে ব্রিটেন থেকে আমদানি হওয়া কিছু নির্বাচিত পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে। এর মধ্যে রয়েছে স্কচ হুইস্কি, জিন এবং কিছু বিলাসবহুল গাড়ি। এর ফলে আগামী দিনে ভারতীয় বাজারে এই পণ্যগুলির দাম কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও শুল্ক হ্রাস ধাপে ধাপে কার্যকর হবে, তাই এর প্রভাবও পর্যায়ক্রমে দেখা যাবে (PM Modi)।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ফলে শুধু পণ্য রফতানিই নয়, তথ্যপ্রযুক্তি, আর্থিক পরিষেবা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদের আদানপ্রদানও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা, পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য পেশাদার পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির জন্য ব্রিটেনের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

    শিল্প-বাণিজ্য মহলের প্রতিক্রিয়া

    ভারত ও ব্রিটেনের শিল্প ও বাণিজ্য মহলও এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। বিভিন্ন শিল্প সংগঠনের মতে, এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে দুই দেশের বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৪৮ বিলিয়ন পাউন্ড। অনুমান, ২০৩০ সালের মধ্যে এই অঙ্ক দ্বিগুণ হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতেও এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে (PM Modi)। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি শুধু দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককেই আরও সুদৃঢ় করবে না, বরং ভবিষ্যতে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, শিক্ষা, পরিষেবা এবং দক্ষ মানবসম্পদ বিনিময়ের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার নতুন ভিত্তি তৈরি করবে। ফলে ভারত ও ব্রিটেনের কৌশলগত সম্পর্ক আরও (FTA) শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিও নতুন গতি পাবে বলে আশা (PM Modi)।

     

  • Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২০ লাখ টাকা, ভিটেয় ফিরতেই গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা

    Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২০ লাখ টাকা, ভিটেয় ফিরতেই গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী দমনে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক থাকা কুখ্যাত মাওবাদী নেতা (Maoist Commander) রবীন্দ্র গঞ্জুকে অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুরেন্দ্র গঞ্জু এবং মুকেশ গঞ্জু নামেও পরিচিত এই শীর্ষ মাওবাদী নেতার মাথার ওপর ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা (Jharkhand) হয়েছিল। এর মধ্যে ঝাড়খণ্ড পুলিশের পক্ষ থেকে ১৫ লাখ টাকা এবং জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএর পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। লাতেহার জেলার চন্দওয়া থানার অন্তর্গত হেসলা মৌজার বানঝিটোলা গ্রামে পৈতৃক বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    গ্রেফতার মাও নেতা (Jharkhand) 

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সূত্র মারফত জানা যায়, বহু বছর ধরে আত্মগোপন করে থাকা রবীন্দ্র গঞ্জু গোপনে নিজের গ্রামে ফিরেছেন। তার পরেই লাতেহার জেলা পুলিশ, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী এবং কোবরা ২০৯ ব্যাটালিয়নের যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু করে। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালানো হয়। তার পরেই গ্রেফতার করা হয় ওই ২০ লাখি মাওবাদীকে। তাঁর কাছ থেকে একটি একে-৫৬ অ্যাসল্ট রাইফেল, একটি পিস্তল, আরও একটি রাইফেল, ২৩৯ রাউন্ড গুলি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও অন্যান্য আপত্তিকর সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, উদ্ধার হওয়া এই অস্ত্র ও নথি ভবিষ্যতের তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    স্বঘোষিত আঞ্চলিক কমান্ডার

    রবীন্দ্র গঞ্জু নিষিদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী)-এর আঞ্চলিক কমিটির সদস্য এবং স্বঘোষিত আঞ্চলিক কমান্ডার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছিলেন। প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি আত্মগোপন করেছিলেন। এই সময় লাতেহার, গুমলা, লোহরদাগা, চতরা, পালামু, গড়ওয়া, রাঁচি-সহ ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় তিনি প্রভাব বিস্তার করেন। ২০১৯-২০ সালের মধ্যে তাঁর নেতৃত্বাধীন মাওবাদী বাহিনী রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছিল (Jharkhand)। নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে একের পর এক শীর্ষ মাওবাদী নেতা নিহত, গ্রেফতার বা আত্মসমর্পণ করলেও, রবীন্দ্র গঞ্জু দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নাগালের বাইরে ছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের অনেকেই নিহত, গ্রেফতার অথবা আত্মসমর্পণ করায় তিনি কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন (Maoist Commander)।

    বিপজ্জনক মাওবাদী নেতা

    লাতেহারের পুলিশ সুপার কুমার গৌরব জানিয়েছেন, রবীন্দ্র গঞ্জু ঝাড়খণ্ডের অন্যতম বিপজ্জনক মাওবাদী নেতা। পুলিশের দাবি, অন্তত ১৮ জন পুলিশকর্মীকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়াও, লাতেহার, গুমলা, লোহরদাগা, পালামু, রাঁচি-সহ বিভিন্ন জেলার থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ১৫৪টিরও বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে এই মামলার সংখ্যা ১৫৬ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।রবীন্দ্র গঞ্জুর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষকে হত্যা, পুলিশ ক্যাম্পে হামলা, টহলদারি বাহিনীর ওপর অতর্কিত আক্রমণ, শক্তিশালী বিস্ফোরক ব্যবহার করে হামলা, তোলাবাজি ও অবৈধ চাঁদা আদায়, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের অস্ত্র লুট, উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বাধা সৃষ্টি এবং সন্ত্রাসমূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ (Jharkhand)।

    সন্ত্রাসে অর্থ জোগানোর মামলা

    জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাও দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসে অর্থ জোগান এবং তোলাবাজির একাধিক মামলায় রবীন্দ্র গঞ্জুর খোঁজ চালাচ্ছিল। তদন্তে জানা যায়, তোলাবাজির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থে তিনি নিজের গ্রামে বাড়ি তৈরি করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আগে তাঁর বাড়ি বাজেয়াপ্ত ও সিল করে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মাওবাদী সংগঠনের আর্থিক জোগান বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন (Maoist Commander)। ঝাড়খণ্ডে গত এক দশকের একাধিক রক্তক্ষয়ী মাওবাদী হামলার সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে। ২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর লাতেহারের চন্দওয়ার লুকাইয়া মোড়ে পুলিশের একটি টহলদার গাড়ির ওপর হামলায় একজন এএসআই এবং তিন জন হোমগার্ডের মৃত্যু হয়। অভিযোগ, নিজের স্ত্রী গ্রেফতার হওয়ার প্রতিশোধ নিতেই রবীন্দ্র গঞ্জু এই হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। স্থানীয় কয়েকজনকে এলাকায় নজরদারি চালানো এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য মাথাপিছু পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে আসে।

    শক্তিশালী বিস্ফোরণেও তাঁর নাম

    ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি বারওয়াডিহ থানার কাটিয়া জঙ্গলে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনায়ও তাঁর নাম উঠে আসে। ওই হামলায় ১২ জন নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন, গুরুতর জখম হন ১৪ জন। বিস্ফোরক বিছিয়ে রেখে নিরাপত্তা বাহিনীকে টার্গেট করে এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে লাতেহার-লোহরদাগা সীমান্তবর্তী বুলবুল জঙ্গলে পরিচালিত “অপারেশন ডাবল বুলে”র তদন্তেও রবীন্দ্র গঞ্জুর নাম উঠে আসে। ওই অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছিল। পরে ২০২২ সালের জুন মাসে এই মামলার তদন্তভার নেয় এনআইএ (Jharkhand)। এক কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুধাকরণের সঙ্গে যুক্ত তদন্তেও রবীন্দ্র গঞ্জুর নাম সামনে আসে। অন্য এক মাওবাদী কর্মীর তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র এবং মাওবাদী সাহিত্য তদন্তকারীদের দেয় নতুন তথ্য। পুলিশ সুপার কুমার গৌরব জানিয়েছেন, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়। তিনি বলেন, “রবীন্দ্র গঞ্জুর জিজ্ঞাসাবাদ থেকে ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আরও পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এই গ্রেফতার মাওবাদী সংগঠনের জন্য বড় ধাক্কা এবং তাদের অবশিষ্ট সাংগঠনিক ও সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে (Maoist Commander)।”

    পুলিশের বক্তব্য

    কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশের তরফে পঙ্কজ কুমার বলেন, “এলাকায় এখন হাতে গোনা কয়েকজন মাওবাদী সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের সামনে দু’টি পথ খোলা রয়েছে—আত্মসমর্পণ করা অথবা নিরাপত্তা বাহিনীর যে অভিযান চলছে, তার মুখোমুখি হওয়া।” নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, রবীন্দ্র গঞ্জুর গ্রেফতার ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো এবং আর্থিক নেটওয়ার্কের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁকে জেরা করা হলে আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে মাওবাদী দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও সুবিধা করে দিতে পারে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের (Jharkhand)।

     

  • Madan Mitra: মমতার ‘ভাঙা হাট’! ক্ষমতা টলতেই ছায়াসঙ্গীদের প্রস্থান, সঙ্গ ছাড়লেন মদনও?

    Madan Mitra: মমতার ‘ভাঙা হাট’! ক্ষমতা টলতেই ছায়াসঙ্গীদের প্রস্থান, সঙ্গ ছাড়লেন মদনও?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০১১ সাল, বিশ্বস্ত সৈনিকদের নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতার শপথের সঙ্গেই শপথ নেন তাঁর বিশ্বস্ত সৈনিকরাও। কিন্তু আজ সেই সব সৈনিকরাই সঙ্গ নিলেন অন্য ‘রাজার’। তাসের ঘরের মতো ভাঙছে কালীঘাটের দুর্গ। ২০১১ সালে যে সমস্ত বিশ্বস্ত, লড়াকু সৈনিকদের কাঁধে ভর করে বাংলায় পরিবর্তনের ইতিহাস লিখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ক্ষমতা টলমল করতেই আজ একে একে তাঁরাই সঙ্গ ছাড়ছেন দলনেত্রীর। তৃণমূলে এখন শুধুই ভাঙা-গড়ার খেলা। আর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়লেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra)। মদনের হাত ছাড়ার সঙ্গেই এবার চূড়ান্ত রূপ নিল কালীঘাট তৃণমূলের ভাঙন। বিধানসভায় ‘ঋতব্রত তৃণমূলে’ যোগ দিলেন মদন। স্পষ্ট করে দিলেন- দলের এই ভরাডুবি এবং ভাঙনের জন্য দায়ী আর কেউ নন, খোদ ভাইপো।

    ক্ষমতা যেতেই সঙ্গত্যাগ (Madan Mitra Leaves TMC)!

    যুব কংগ্রেসের আমল থেকে মমতার ছায়ার মতো পাশে থাকা মদন মিত্রও আর কালীঘাটের প্রতি আস্থা রাখতে পারলেন না। তৃণমূলের চরম সঙ্কটের দিনগুলোতেও তিনি কালীঘাটের পথ ছাড়েননি, বিশ্বস্ত সেনাপতির মতো আগলে রেখেছিলেন নেত্রীকে। কিন্তু সেই মদন মিত্রের সঙ্গত্যাগই প্রমাণ করে দিল, কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের অন্দরের ফাটল এখন কতটা চওড়া। বুধবার দুপুরে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর হাত ছাড়লেন মদন মিত্র (Madan Mitra Leaves TMC)। সরাসরি বিধানসভায় গিয়ে যোগ দিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিক্ষুব্ধ শিবিরে। সম্প্রতি মদন মিত্রের (Madan Mitra) স্ত্রী ও দুই ছেলেকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED) তলব করে। ইডি-র তলবের পরপরই সন্দীপন সাহার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন মদন মিত্র। এই দুই ঘটনার পর থেকেই জল্পনা তুঙ্গে ওঠে, যা বুধবার দুপুরে কামারহাটির বিধায়কের সঙ্গ বদলের মাধ্যমে সত্য প্রমাণিত হলো। মমতার সঙ্গ ছাড়ার পর মদন মিত্রের গলায় ঝরে পড়েছে তীব্র ক্ষোভ আর হতাশা। তাঁর সাফ কথা- ‘‘দল যখন ডুবছে, তখন সংগঠন টানার মতো মহাবলী কাউকে দরকার ছিল। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। অহঙ্কার, একনায়কতন্ত্র এবং ভুল সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আজ দল ও দলের কর্মীদের এই চরম বিপর্যয়ের মুখে দাঁড় করিয়েছেন অভিষেকই।’’

    মদনের অভিযোগ

    মদন মিত্রের (Madan Mitra) অভিযোগ, ‘‘আমি তো চুনোপুঁটি, অভিষেক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয় না। দল এখন চলছে হিটলারি কায়দায়। ‘ক্যামাক স্ট্রিট’ যা বলবে, তা না শুনলেই পুলিশের ভয় দেখানো হয়।’’ ভোটের ভরাডুবির পুরো দায় অভিষেকের উপর চাপিয়ে মদনের দাবি, “একটা লোকের জন্য গোটা দল, যারা ২১৩টি আসন পেয়েছিল, সর্বনাশ হয়ে গেল”। দলের ডুবন্ত সংগঠনকে টেনে তুলতে অভিষেককে সরানোর জন্য তিনি একাধিকবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনুনয়-বিনয় করেছিলেন, কিন্তু নেত্রী সেই পরামর্শে কান দেননি বলেও অভিযোগ উঠছে। তিনি আরও বলেন, ‘‘ইডি-র চেয়ে বেশি ভয় ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ইডি ধরলে তবু কথা বলে জিজ্ঞেস করবে, কিন্তু অভিষেক কখন কোথায় তাড়িয়ে দেবে কে জানে!’’

    অভিষেককে তীব্র খোঁচা মদনের

    মমতার সঙ্গ ছেড়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও রণকৌশল নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন মদন মিত্র (Madan Mitra)। তাঁর মতে, ‘‘জনসংযোগহীন এই চটকদার রাজনীতি দিয়ে আর যাই হোক, বিজেপিকে পরাস্ত করা সম্ভব নয়। এখনই হাল ধরা না গেলে, ভবিষ্যতে কখনও বিজেপি-কে হারানো যাবে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে বিজেপি-কে হারানো যাবে না। হিটলারি কায়দায়, প্লেন থেকে নেমে, কোমরে হাত দিয়ে চার তারিখ দেখে নেব, হুইসল বাজবে- এসবে দল চলে না। রাজনীতি করতে গেলে মানুষের কাছে যেতে হবে।’’

    ‘আদালত তৃণমূলের সম্মান বাঁচিয়েছে’

    ভোটের ফলাফল ও আদালতের সাম্প্রতিক কিছু হস্তক্ষেপের প্রতি ইঙ্গিত করে মদন মিত্রর দাবি, “আদালতের জন্যই অন্তত দলের সম্মানটুকু রক্ষা পেয়েছে। বাদাম-মুড়িওয়ালাই ৩-৪ হাজার লোক থাকে। সম্মানটাতো বাঁচল”।

    দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ

    উত্তর ২৪ পরগনার সাতজন মন্ত্রীর দুর্নীতি এবং নিজের বিরুদ্ধে ওঠা চাকরি বিক্রির অভিযোগের প্রসঙ্গেও সরব হন মদন মিত্র। তিনি সাফ জানান, যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে যে তিনি টাকা বা গয়না নিয়ে চাকরি দিয়েছেন, তবে মাথা পেতে নেবেন। এই বিষয়ে তিনি সরাসরি গণভোট করানোর চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দেন।

    কোণঠাসা কালীঘাট

    তৃণমূলে এই ভাঙা-গড়ার খেলা অবশ্য মদন মিত্রকে দিয়ে শুরু হয়নি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের উপর অনাস্থা প্রকাশ করে এই বিদ্রোহের সূত্রপাত করেছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর একে একে সেই বিক্ষুব্ধ শিবিরেই নাম লিখিয়েছেন উত্তরবঙ্গের দাপুটে নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ থেকে শুরু করে বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডলের মতো পুরনো ও শীর্ষ নেতৃত্ব। অন্যদিকে মঙ্গলবারই শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘‘ক্যামাক স্ট্রিটই দলটাকে শেষ করে দিল।’’ আর আজ মদন মিত্রের সঙ্গত্যাগ। আবারও প্রমাণ করে দিল যে, পুরনো নেতাদের এই ক্ষোভ কতটা গভীর।

    বিপন্ন তৃণমূল কর্মীরা

    কালীঘাট তৃণমূলের হাত ছাড়ার পাশাপাশি দলের বর্তমান শোচনীয় অবস্থার কথাও তুলে ধরে মদন মিত্র। তিনি জানান, ‘‘আজ দলের লক্ষ লক্ষ ছেলে ঘরছাড়া, মারপিট চলছে, ফুটপাতে ঘুমাচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, নেতাদের মূল কাজ হবে এই অসহায় কর্মীদের জন্য লঙ্গরখানা খোলা।’’ দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা মদন মিত্রের এই সঙ্গত্যাগ ও সরাসরি বিদ্রোহ প্রকাশ কালীঘাট শিবিরের জন্য যে এক বিরাট বড় ধাক্কা, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০১১ সালের সেই সোনালী অধ্যায়ের কাণ্ডারীদের এভাবে একে একে বিদায় নেওয়া এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা বিশ্বস্ত দুর্গে ফাটল, এটাই প্রমাণ করে- কালীঘাটপন্থী তৃণমূল আজ অস্তিত্বের সঙ্কটে। আর এই ভাঙনের খেলায় লাভ কার হবে, তা সময়ই বলবে।

  • Mira Bhattacharya Security: রাজ্য-রাজনীতিতে সৌজন্যের বার্তা! বুদ্ধ-জায়া মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা ফেরাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    Mira Bhattacharya Security: রাজ্য-রাজনীতিতে সৌজন্যের বার্তা! বুদ্ধ-জায়া মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা ফেরাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য-রাজনীতিতে সৌজন্যের বার্তা। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও আসতে শুরু করেছে বদল। এবার সেই তালিকায় যোগ হল একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের (Buddhadeb Bhattacharjee) স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যের (Mira Bhattacharya) জন্য ফের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। রাজনৈতিক মতাদর্শে বিস্তর ফারাক থাকা সত্ত্বেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)সম্মান প্রদর্শনের এই সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

    শীঘ্রই পাম অ্যাভিনিউয়ের ফ্ল্যাটে ফের নিরাপত্তারক্ষী

    ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট প্রয়াত হন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তাঁর মৃত্যুর পর পাম অ্যাভিনিউয়ের ৫৯এ নম্বরের ছোট্ট ফ্ল্যাটেই আগের মতো বসবাস করে আসছেন তাঁর স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য। তবে মীরা দেবীর জীবনযাত্রায় কোনও জৌলুস আসেনি। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অত্যন্ত সাধারণ ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করছেন, যা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের রাজনৈতিক জীবনেরও অন্যতম পরিচয় ছিল। সূত্রের খবর, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মৃত্যুর পর তৎকালীন রাজ্য সরকার ওই ফ্ল্যাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নেয়। সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর সেই অবস্থান বদলাতে চলেছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। খুব শীঘ্রই পাম অ্যাভিনিউয়ের ফ্ল্যাটে ফের নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হবে।

    সহজ-সরল জীবনযাত্রা মীরা-দেবীর

    বর্তমানে মীরা দেবী একাই থাকেন ওই ফ্ল্যাটে। স্বামী বুদ্ধদেব থাকাকালীন যেমন সহজ ও সাধারণ জীবনযাত্রা ছিল এখনও তাই। এই ছোট্ট ফ্ল্যাট বদলানোর কথা স্বয়ং জ্যোতি বসুও নাকি একসময়ে বলেছিলেন। কিন্তু বুদ্ধবাবু চেয়েছিলেন এখানেই থাকতে। স্বামীর মৃত্যুর পর মীরা দেবীও সেই সিদ্ধান্তেই অটল থেকেছেন। রাজ্যে পরিবর্তনের পর তাকে স্বাগতও জানিয়েছিলেন। মতাদর্শগত ফারাক মাথায় রেখেও নতুন সরকারের প্রশংসা করতে দেখা যায় তাঁকে। প্রার্থনা করেছিলেন, ২০১১ সালের আগে যেমন সিন্ডিকেট রাজ ছিল না, সেই পরিস্থিতিই যেন ফিরে আসে বাংলায়। ভোটের সময় যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল গেরুয়া শিবির, তা পূরণ হবে বলেই আশা প্রকাশ করেন মীরা।

    রাজনৈতিক সৌজন্যের অনন্য নজির

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং রাজনৈতিক সৌজন্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। কারণ, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং শুভেন্দু অধিকারী সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিনিধি। তবুও রাজনৈতিক বিরোধিতাকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা সম্মানের পথে বাধা হতে দেননি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি এই সম্মান প্রদর্শন বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে বলেই মত অনেকের।

  • Baruipur Case: বারুইপুরকাণ্ডে নির্যাতিতার বাবা পেলেন চাকরি, ‘সরকারের কিছু দায়িত্ব রয়েছে’ বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    Baruipur Case: বারুইপুরকাণ্ডে নির্যাতিতার বাবা পেলেন চাকরি, ‘সরকারের কিছু দায়িত্ব রয়েছে’ বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকা স্কুল ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় (Baruipur Case) গোটা রাজ্য তোলপাড়। এই কঠিন পরিস্থিতিতে মৃত ছাত্রীর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিহত ছাত্রীর বাবাকে সরকারি চাকরির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর।

    সরকারি চাকরি-আর্থিক সাহায্য

    রবিবার মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পরই মঙ্গলবার সরাসরি বারুইপুর পুলিশ সুপারের দফতরে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রথম থেকেই বারুইপুরের ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিহত ওই ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সবরকমের সাহায্য়ের আশ্বাস দিয়েছেন। এদিন, পীড়িত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহত নাবালিকা ছাত্রীর বাবাকে সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছে। তাকে সরকারি কারা দফতরে নিয়োগের ঘোষণা। পাশাপাশি পরিবারকে সরকারি আর্থিক সাহায্যও প্রদান করা হয়।

    কী বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)?

    পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পরিবারকে বলে এসেছি কাস্টডি ট্রায়াল এবং কনভিকশন এক্সিকিউশন মুখ্যমন্ত্রীর মনিটরিংয়ে হবে। একটা দৃষ্টান্তমূলক নজির এই কেসে রাখা হবে। সরকারের পক্ষ দিয়ে কিছু দায়িত্ব রয়েছে। সেটা নিয়ে আমি বলব না। কিছু অ্যাসিস্ট্যান্সের বিষয় থাকে, যদি ফ্যামিলি রাজি থাকে। ফ্যামিলি রাজি ছিল। সরকার পাশে দাঁড়িয়েছে।”

    আইনি পদক্ষেপ ও এনকাউন্টার

    বারুইপুরকাণ্ডে (Baruipur Case) কড়া অ্যাকশন নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। ইতিমধ্যেই ঘটনায় জড়িত চারজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পুনর্নির্মাণ (Reconstruction)-এর সময় এনকাউন্টারে মারা গিয়েছে এক অভিযুক্ত।

    সুরক্ষায় নতুন পুলিশ ফাঁড়ি, সিসিটিভি

    নাবালিকা ছাত্রীর মৃত্যুর পর সূর্যপুর এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছিল। পরিবারের আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করেন। পুরো এলাকাকে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর তড়িঘড়ি এই হস্তক্ষেপে স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ। ভয় অনেকটাই কমেছে। এবার নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, বলছেন এলাকাবাসীরা।

    কৃতজ্ঞতা প্রকাশ নিহতের বাবার

    মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর মৃত ছাত্রীর বাবা বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে জানান এবং সরকারের সহযোগিতার কথা নিশ্চিত করেন। চাকরি পাওয়ার পর তিনি জানিয়েছেন,”এই মুহূর্তে তাদের মানসিক অবস্থা একদম ভাল নেই। তিনি মানসিকভাবে কিছুটা থিতু হলে তবেই সরকারের দেওয়া কারা দফতরের কাজে যোগ দেবেন”। সরকারি চাকরি ও আর্থিক সাহায্য দিয়ে প্রশাসন বোঝাতে চেয়েছে যে, এই কঠিন সময়ে তারা পরিবারের অভিভাবক হিসেবে পাশে রয়েছে। নিহতের বাবার জন্য কারা দফতরের চাকরিটি পরিবারের ভবিষ্যৎ আর্থিক অনটন দূর করতে সাহায্য করবে। তবে এই মুহূর্তে কন্যাসন্তানকে হারানোর শোক এতটাই গভীর যে, নিহতের পিতা এখনই কাজে যোগ দিতে পারছেন না। মানসিকভাবে কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর তিনি এই দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। অন্যদিকে, স্কুলের লাইব্রেরিটি নিহত নাবালিকার স্মৃতিকে চিরকাল এলাকায় বাঁচিয়ে রাখবে।

  • PM Modi: ‘পুতিনকে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন মোদি’, দাবি পোল্যান্ডের মন্ত্রীর

    PM Modi: ‘পুতিনকে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন মোদি’, দাবি পোল্যান্ডের মন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে সওয়াল করে আসছে ভারত (PM Modi)। এবার সেই অবস্থানকে আরও একবার সামনে এনে পোল্যান্ডের উপ-বিদেশমন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ তেওফিল বারতোশেভস্কি দাবি করেছেন, ২০২২ সালের শেষ দিকে (Nuclear Strike) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেনে কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার নয়াদিল্লিতে ভারত-পোল্যান্ড যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে বারতোশেভস্কি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অত্যন্ত সম্মানিত নেতা। সোভিয়েত ইউনিয়নের সময় থেকে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। সেই কারণেই প্রেসিডেন্ট পুতিন প্রধানমন্ত্রী মোদির পরামর্শ গুরুত্ব দিয়ে শোনেন।

    বারতোশেভস্কির মুখে মোদি-স্তুতি (PM Modi)

    তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশ্বের এমন কয়েকজন নেতার অন্যতম, যাঁদের কথা প্রেসিডেন্ট পুতিন গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেন। ২০২২ সালের শেষ দিকে ইউক্রেনে কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার থেকে পুতিনকে বিরত রাখতে প্রধানমন্ত্রী মোদি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট পুতিনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন এমন নেতাদের মধ্যে মোদি অন্যতম। এই সংঘাত থামাতে ভারত ইতিবাচক ভূমিকা নিতে পারে।” এই মন্তব্যের জেরে ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উজবেকিস্তানে এসসিও (সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছিলেন, “আজকের যুগ যুদ্ধের নয়।” এরপর থেকেই ভারত ধারাবাহিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমি দেশগুলির রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় যোগ না দিয়ে নিজস্ব কূটনৈতিক অবস্থানও বজায় রেখেছে।

    ভারত-প্রশস্তি শোনা গিয়েছে পুতিনের গলায়ও

    এদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি—উভয়ের সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। ২০২৪ সালে তিনি কিয়েভ সফর করেন এবং বিভিন্ন বহুপাক্ষিক বৈঠকেও জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পশ্চিমি দেশগুলির চাপ সত্ত্বেও, ভারত রাশিয়া থেকে (Nuclear Strike) বিশেষ ছাড়ে অপরিশোধিত খনিজ তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে। ভারতের বক্তব্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, গত মাসে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ভারতকে ‘মহান দেশ বলে উল্লেখ করেছিলেন, প্রশংসা করেছিলেন ভারতের স্বাধীন বিদেশনীতির।

    ‘ভারত গুরুত্বপূর্ণ দেশ’

    ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গেও ভারতের অবস্থানের প্রশংসা করেন বারতোশেভস্কি। তিনি জানান, ভারত যেমন (PM Modi) সংযম, আলোচনা এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে, পোল্যান্ডও একই পথ অনুসরণ করছে। তাঁর কথায়, “আপনারা একটি বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ দেশ। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাসের ওপর ভারতের নির্ভরতা অনেক বেশি। পোল্যান্ডও ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে। আমরা তাদের জানিয়েছি, আমাদের পছন্দ কূটনৈতিক সমাধান। প্রধানমন্ত্রী মোদিও একই কাজ করছেন। আমরা যুক্তির কথা বলার চেষ্টা করছি, যদিও তার ফল সীমিত।” রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারতের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিও যে (Nuclear Strike) পোল্যান্ডের সমর্থন রয়েছে, এদিন তা-ও আরও (PM Modi) একবার জানিয়ে দেন বারতোশেভস্কি।

     

  • West Bengal Corruption Investigation: ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার দুর্নীতির তদন্তে গঠিত বিশেষ কমিশন, মাথায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি

    West Bengal Corruption Investigation: ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার দুর্নীতির তদন্তে গঠিত বিশেষ কমিশন, মাথায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে সরকারে আসে তৃণমূল। ২০২৬ পর্যন্ত একাধারে মসনদে রাজ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তৃণমূলের এই অপশাসনের রাজত্বে সামনে এসেছে ভূরি ভূরি দুর্নীতির অভিযোগ। আর্থিক দুর্নীতি থেকে, লটারি, শিক্ষা ও কয়লা- দুর্নীতির অভিযোগে বর্তমানে জেলেও রয়েছেন তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট। এবার পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে ওঠা একাধিক আর্থিক কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির পাহাড় খতিয়ে দেখতে বড়সড় পদক্ষেপ রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকারের (West Bengal Corruption Investigation)। বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময়ের সমস্ত দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে একটি ‘বিশেষ কমিশন’ (Special Commission) গঠন নবান্নের।

    নবান্নের বিজ্ঞপ্তি

    সরকারের জারি করা সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দফতর, প্রকল্প এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ওঠা যাবতীয় দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখবে এই কমিশন। এই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশনের (Special Commission) চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু।

    স্ক্যানারে কোন কোন দফতর?

    নবান্ন সূত্রের খবর, ২০১১ থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত গত দেড় দশকে শিক্ষা, খাদ্য ও জোগান, ত্রাণ ও বিপর্যয় মোকাবিলা, পুরসভা, পঞ্চায়েত, আবাসন, মৎস্য-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরে ওঠা দুর্নীতির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করবে এই কমিশন। কমিশনের তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে, আমফান-পরবর্তী ত্রাণ বণ্টনে আর্থিক অনিয়ম এবং বিভিন্ন কর্মসংস্থান প্রকল্পে ওঠা তছরুপের অভিযোগ। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগে অনিয়ম, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দুর্নীতি এবং মিড-ডে মিল প্রকল্পের আর্থিক গরমিল। সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অপব্যবহার, সরকারি হাসপাতাল এবং চিকিৎসা শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত বেনিয়মের অভিযোগ।

    শুধুই আর্থিক নয়, তদন্তে ক্ষমতার অপব্যবহারও

    কমিশনের তদন্তের এক্তিয়ার শুধু আর্থিক দুর্নীতিতেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি, বরং এর পরিধি অনেকটাই বিস্তৃত। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত বেআইনি গ্রেফতার বা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগগুলোও এবার খতিয়ে দেখা হবে। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বেআইনি নির্মাণ রুখতে প্রশাসনের একাংশের নিষ্ক্রিয়তা বা মদত ছিল কি না? তা-ও তদন্তের আওতায় থাকবে। পুরসভার নিয়ম লঙ্ঘন করে কীভাবে একের পর এক বেআইনি নির্মাণ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল? তার নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের চিহ্নিত করা হবে।

    কারা থাকছেন কমিটিতে?

    সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এই বিশেষ কমিশনের (Special Commission) প্রশাসনিক কাঠামোও অত্যন্ত মজবুত করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে এই বিশেষ টিমে থাকছেন একজন প্রবীণ আইপিএস (IPS) আধিকারিক। থাকছেন একজন আইএএস (IAS) বা ডব্লিউবিসিএস (WBCS) আধিকারিক। প্রযুক্তিগত ও রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয়ে কমিশনকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবেন পশ্চিমবঙ্গ রাজস্ব পরিষেবা (WBRS)-র একজন আধিকারিক। প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে কমিশন আরও সদস্য নিয়োগ করতে পারবে।

    সিভিল কোর্টের ক্ষমতা ও টাকা উদ্ধারের সুপারিশ

    কমিশনকে তদন্তের সুবিধার্থে দেওয়া হয়েছে বিশেষ ‘সিভিল কোর্ট’ বা দেওয়ানি আদালতের সমতুল্য ক্ষমতা। ফলে কমিশন প্রয়োজনে, যে কোনও ব্যক্তি বা সরকারি আধিকারিককে তলব করে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। প্রয়োজনীয় গোপন নথি তলব ও সাক্ষ্যও গ্রহণ করতে পারবে। এছাড়াও তদন্তের স্বার্থে রাজ্যের যে কোনও প্রান্তে বসে শুনানি ও অনুসন্ধান চালানোর অবাধ অধিকার থাকবে কমিশনের কাছে। এরইমধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির মাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বা অপচয় হয়েছে, তা কীভাবে উদ্ধার (Recovery) করা সম্ভব? সেই বিষয়েও সরকারকে নির্দিষ্ট সুপারিশ করতে পারবে এই কমিশন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কমিশনকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্টের সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ফলে বিগত দেড় দশকের একাধিক হেভিওয়েট দুর্নীতির তদন্তে এই বিশেষ কমিশনের ভূমিকা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতি ও প্রশাসনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মোড় ঘোরানো হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

  • Taslima Nasrin Kolkata Return: বাম-তৃণমূলের ১৯ বছরের ‘অচলাবস্থা’ ভাঙল নতুন সরকার, সশরীরে কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা

    Taslima Nasrin Kolkata Return: বাম-তৃণমূলের ১৯ বছরের ‘অচলাবস্থা’ ভাঙল নতুন সরকার, সশরীরে কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে কাটল দীর্ঘ ১৯ বছরের নির্বাসন দশা। ‘দ্বিতীয় ঘরে’ ফিরছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। বাম আমল থেকে শুরু করে তৃণমূল জমানা- যে কলকাতার মাটি ছোঁয়ার অনুমতি মেলেনি বারবার, অবশেষে সেই প্রিয় শহরেই সশরীরে ফিরছেন বাংলাদেশের বিতর্কিত তথা লড়াকু সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার (West Bengal Government) ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মধ্যেই তাঁর ফেরার এই পথ সুগম হলো। জীবিতাবস্থায় কলকাতায় ফেরার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন লেখিকা।

    কে তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)?

    তসলিমা নাসরিন পেশায় চিকিৎসক হলেও মূলত একজন প্রখ্যাত ও আপসহীন সাহিত্যিক। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া এই লেখিকা তাঁর ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে নারীবাদ, ধর্মীয় মৌলবাদ ও মানবাধিকারের সপক্ষে সোচ্চার হয়েছেন। ১৯৯৩ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হওয়া নির্যাতনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তিনি লিখেছিলেন তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘লজ্জা’। এই বইটির প্রকাশের পর থেকেই ধর্মীয় মৌলবাদীদের রোষানলে পড়েন তিনি, তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা হয় ফতোয়া।

    কেন রাজ্য (কলকাতা) ছাড়তে হয়েছিল?

    বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin) কলকাতাকেই নিজের দ্বিতীয় বাড়ি বানিয়েছিলেন। কিন্তু এখানেও শান্তিতে থাকতে দেওয়া হয়নি তাঁকে। ২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে কলকাতায় তসলিমার উপস্থিতির বিরুদ্ধে এবং তাঁর ভিসা বাতিলের দাবিতে কিছু উগ্রপন্থী সংগঠন শহরে ব্যাপক হাঙ্গামা ও হিংসাত্মক আন্দোলন সৃষ্টি করে। তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার আইন-শৃঙ্খলার অবনতির দোহাই দিয়ে কার্যত তসলিমা নাসরিনকে তড়িঘড়ি কলকাতা ছাড়তে বাধ্য করে। পরবর্তীকালে তৃণমূলের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনেও সেই অচলাবস্থা কাটেনি। এমনকী বইমেলায় তাঁর বই প্রকাশ নিয়েও বারবার জট তৈরি হয়েছে। মূলত রাজনৈতিক ও ধর্মীয় চাপের কারণেই কোনও সরকারই তাঁকে কলকাতায় ফেরানোর ঝুঁকি নিতে চায়নি।

    বিজেপি সরকারকে ধন্যবাদ

    কলকাতায় ফেরার অনুমতি পেয়েই বর্তমান রাজ্য সরকারকে (West Bengal Government) ধন্যবাদ জানিয়েছেন তসলিমা (Taslima Nasrin)। তিনি বলেন, ‘‘আগের সরকারগুলি যে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি অথবা নিতে চায়নি, নতুন সরকার সেই অচলাবস্থা ভাঙার চেষ্টা করেছে। একজন লেখককে তাঁর প্রিয় শহর থেকে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় চাপে নির্বাসিত করে রাখা কোনও গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য গৌরবের বিষয় নয়।’’ নিজের বিখ্যাত ‘প্রশ্ন’ কবিতার কথা স্মরণ করে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,  একসময় ভেবেছিলেন মৃত্যুর পরই হয়ত কলকাতা তাঁকে গ্রহণ করবে, কিন্তু জীবিত অবস্থায় ফিরতে পারার আনন্দই আলাদা। এই প্রত্যাবর্তনের জন্য তিনি কলকাতার সাধারণ মানুষ ও বিজেপি সরকারকে কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন।

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালেই রাজ্যসভায় এই বিষয়ে সওয়াল করেছিলেন সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। কেন তসলিমাকে কলকাতা থেকে বিতারণ? তা নিয়ে সুর চড়িয়েছিলেন বামেদের বিরুদ্ধেও। তসলিমার এই প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থেই বাম ও তৃণমূল সরকার এতদিন লেখিকাকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল। তিনি বাংলাদেশে হিন্দু নিপীড়ন, হিন্দুদের উপরে অত্যাচারের বিরুদ্ধে বই লিখেছিলেন৷ সেই বই আবার বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বাজেয়াপ্ত করিয়েছিলেন৷ প্রকৃত সত্য যাতে সামনে না আসে৷’’ সব মিলিয়ে, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর তসলিমা নাসরিনের এই ঘরে ফেরা শুধু এক ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন নয়, বরং মুক্তচিন্তা ও বাকস্বাধীনতার এক নতুন জয় বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

  • India Indonesia: ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে নয়া পদক্ষেপ, রুপি-রুপিয়ায় বাণিজ্য জোরদার করছে ভারত-ইন্দোনেশিয়া

    India Indonesia: ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে নয়া পদক্ষেপ, রুপি-রুপিয়ায় বাণিজ্য জোরদার করছে ভারত-ইন্দোনেশিয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ করল ভারত ও ইন্দোনেশিয়া (India Indonesia)। দুই দেশ নিজেদের মুদ্রায় বাণিজ্য দ্রুত বাড়ানোর সিদ্ধান্তে জোর দিচ্ছে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং (Local Currency Settlement Framework) গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সর্বাঙ্গীণ কৌশলগত অংশীদারিত্বে’র পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। ৬ ও ৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাকার্তা সফরের সময় এই উদ্যোগ নতুন করে গতি পায়। ওই সফরেই দুই দেশ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও বিস্তারের রূপরেখা তৈরি করে।

    স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন (India Indonesia)

    এই অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং ব্যাঙ্ক ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দুই দেশের রফতানিকারী ও আমদানিকারীরা সরাসরি ভারতীয় টাকা (রুপি) এবং ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়ায় বাণিজ্যিক লেনদেন করতে পারবেন। ফলে মার্কিন ডলারের মাধ্যমে লেনদেনের প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে। এই ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি হয় ২০২৪ সালের ৭ মার্চ দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মউয়ের (MoU) মাধ্যমে। সেটাই গতি পেল প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক জাকার্তা সফরের পর। এর লক্ষ্য, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল করা এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো। স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের ফলে ব্যবসায়ীরা ডলারে অর্থ রূপান্তরের অতিরিক্ত খরচ এড়াতে পারবেন। পাশাপাশি বিনিময় হারের ওঠানামার ঝুঁকিও কমবে, যার ফলে সীমান্ত পেরিয়ে বাণিজ্য আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে (Local Currency Settlement Framework)।

    মোদির জাকার্তা সফর

    সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম দু’মাসে ইন্দোনেশিয়ায় স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ১৬৩ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৮৪৫ কোটি মার্কিন ডলারে। এতে বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থার প্রতি ব্যবসায়িক আস্থারও প্রতিফলন ঘটেছে। এই উদ্যোগের উল্লেখ প্রথম করা হয় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তোর ভারত সফরের সময় প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে। ২০২৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত ভারত-ইন্দোনেশিয়া যৌথ কমিশনের বৈঠকেও বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। সেই বৈঠক থেকেই মোদির জাকার্তা সফর, এবং আর্থিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ভিত্তি তৈরি হয় (India Indonesia)। ইন্দোনেশিয়া দূতাবাসের ডেপুটি চিফ ইউধো সাসোংকো জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক সংহতি, স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক সহযোগিতাই বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্কের প্রধান ভিত্তি। অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকেও একসূত্রে বাঁধার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া। ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদান ব্যবস্থা এবং ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দ্রুত প্রতিক্রিয়া কোডভিত্তিক অর্থপ্রদান ব্যবস্থাকে সংযুক্ত করার কাজ এগোচ্ছে।

    কী সুবিধে হবে

    এই সংযোগ চালু হলে দুই দেশের পর্যটক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সরাসরি ভারতীয় টাকা বা ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়ায় খুচরো লেনদেন করতে পারবেন। এতে ডলারের ওপর নির্ভরতা আরও কমবে এবং সীমান্ত পেরিয়ে ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবার ব্যবহার বাড়বে (India Indonesia)। একই সঙ্গে দুই দেশই নিজেদের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রা প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ভারত পরীক্ষামূলকভাবে ই-রুপি চালু করেছে, অন্যদিকে ব্যাঙ্ক ইন্দোনেশিয়া তাদের ডিজিটাল রুপিয়া প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। তবে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ালেও ভারত ও ইন্দোনেশিয়া ডলারকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়ার পথে হাঁটছে না। বরং লেনদেনের খরচ কমানো, দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্যকে আরও শক্তিশালী করা এবং আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে দুই দেশই আমেরিকার সঙ্গে তাদের কৌশলগত ও আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখছে (Local Currency Settlement Framework)।

    ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষেত্রে সতর্ক নীতি

    ভারত যেমন বেসরকারি ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষেত্রে সতর্ক নীতি অনুসরণ করছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রার ওপর জোর দিচ্ছে, তেমনই ইন্দোনেশিয়াও বিকেন্দ্রীভূত ক্রিপ্টোকারেন্সির বদলে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ভারতীয় টাকা-ইন্দোনেশীয় রুপিয়া ভিত্তিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ডিজিটাল পরিকাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং আর্থিক সংযোগকে কেন্দ্র করে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া চাইছে ভবিষ্যতের জন্য আরও শক্তিশালী এবং বহুমুখী অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে (India Indonesia)।

     

LinkedIn
Share