Blog

  • OIC: সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ওআইসিকে রাষ্ট্রপুঞ্জে কড়া জবাব ভারতের, ‘আক্রান্ত ও সন্ত্রাসীকে আলাদা করতে ব্যর্থ’

    OIC: সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ওআইসিকে রাষ্ট্রপুঞ্জে কড়া জবাব ভারতের, ‘আক্রান্ত ও সন্ত্রাসীকে আলাদা করতে ব্যর্থ’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ভারতের পদক্ষেপ নিয়ে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাল ভারত। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর (OIC) রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতীয় জনতা পার্টির সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব বলেন, সন্ত্রাসবাদের জন্য দায়ী ব্যক্তি এবং সন্ত্রাসের শিকারদের মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের ষষ্ঠ কমিটিতে আন্তর্জাতিক আইনি বিষয় নিয়ে (Pakistan Terror Infrastructure) আলোচনা চলাকালীন এই মন্তব্য করেন দেব। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় ভারতের জাতীয় বক্তব্য পেশ করছিলেন তিনি। এর আগে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার হয়ে সৌদি আরব একটি বক্তব্য পেশ করে। সেই বক্তব্যেরই জবাব দেন ভারতীয় সাংসদ।

    সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত (OIC)

    ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করে দেব বলেন, পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ভারত “সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত” পদক্ষেপ করেছে। তাঁর কথায়, “আমি এখন ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার সভাপতির দেওয়া সেই বক্তব্যের জবাব দিচ্ছি, যেখানে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতের সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এই অঞ্চল থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী হামলার পরিকল্পনা ও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার অবস্থানের সমালোচনা করে দেব আরও বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক যে বক্তা সত্য ও কল্পনার মধ্যে পার্থক্য করতে পারছেন না এবং আক্রান্ত ও অপরাধীর মধ্যেও তফাত করতে পারছেন না।” তিনি বলেন, “পাকিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে আসা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজের নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখার পূর্ণ অধিকার ভারতের রয়েছে। সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত থাকার পরিণতি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”

    পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ তুলল ভারত

    রাষ্ট্রপুঞ্জে নিজের বক্তব্যে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং তার ভয়াবহ মানবিক মূল্যও তুলে ধরেন দেব। তাঁর বক্তব্য, ভারতের কাছে সন্ত্রাসবাদের হুমকি কোনও তাত্ত্বিক বিষয় নয়, বরং এটি “প্রতিনিয়ত এবং প্রতিদিনের বাস্তবতা”। দেবের মতে, সন্ত্রাসবাদ শুধু দেশের নিরাপত্তাকেই প্রভাবিত করে না, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং মানবাধিকারকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ প্রসঙ্গে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হওয়া সন্ত্রাসবাদী হামলার কথা উল্লেখ করেন তিনি। ওই হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। দেব এই হামলাকে ভারতের সার্বভৌমত্বের উপর পরিকল্পিত আক্রমণ বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিম সীমান্তের ওপার থেকে সমর্থন পাওয়া সংগঠনগুলিই এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছিল। দেব বলেন, “সন্ত্রাসবাদ রাষ্ট্রপুঞ্জের মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। নিরীহ নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে নিশানা করার কোনওভাবেই ন্যায্যতা থাকতে পারে না। ভালো সন্ত্রাসবাদ ও খারাপ সন্ত্রাসবাদের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। ভারত সন্ত্রাসবাদী হামলাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অবস্থানও পুনরায় তুলে ধরে তিনি বলেন, “একটিও হামলা অনেক বেশি, আর একটি প্রাণহানিও অনেক বেশি (OIC)।”

    জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির মন্তব্যের বিরোধিতা

    জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মন্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন দেব। তিনি ওই মন্তব্যকে “অযাচিত উল্লেখ” বলে অভিহিত করেন। দেব বলেন, “ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার সভাপতির উচিত পাকিস্তানের বেআইনি দখলের দিকে আরও বেশি নজর দেওয়া। বিশেষ করে রাওয়ালাকোটে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড, নৃশংস হিংসা এবং সেখানে বসবাসকারী মানুষের মৌলিক অধিকার অস্বীকার করার বিষয়গুলি অত্যন্ত স্পষ্ট।” ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার বিরুদ্ধে “ইচ্ছাকৃত অন্ধত্বের” অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের অবস্থান পক্ষপাতিত্ব ও অসহিষ্ণুতারই প্রতিফলন।

    সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি

    রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবিরই অংশ। দেব দ্রুত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক সর্বাঙ্গীণ কনভেনশন গ্রহণের দাবি জানান। ভারত ১৯৯৬ সালেই এই প্রস্তাব প্রথম উত্থাপন করেছিল। শুধু সন্ত্রাসবাদীদের নয়, তাদের সংগঠক, অর্থদাতা এবং মদতদাতাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। এছাড়াও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি কীভাবে নতুন প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে সদস্য সংগ্রহ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা, প্রচার, হামলার পরিকল্পনা এবং অর্থসংগ্রহ করছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত। রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি পরিচিতিমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়া ১৫ সদস্যের ভারতীয় সংসদীয় প্রতিনিধিদলের অন্যতম (Pakistan Terror Infrastructure) সদস্য বিপ্লব কুমার দেব। জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাকিস্তান-সংযুক্ত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারত ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মধ্যে চলতে থাকা কূটনৈতিক মতপার্থক্যের আবহেই রাষ্ট্রপুঞ্জে তাঁর এই বক্তব্য সামনে এল (OIC)।

     

  • Madrasa Service Commission: মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত, এবার মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগও স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে

    Madrasa Service Commission: মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত, এবার মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগও স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে রাজ্য সরকার। মাদ্রাসায় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের দায়িত্বে থাকা মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন (Madrasa Service Commission) আর থাকছে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক বৈঠকে জানিয়েছেন, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এবার থেকে অনুমোদিত মাদ্রাসাগুলিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমেই হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন তুলে দেওয়া হয়েছে, ওটা স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।” সরকারের যুক্তি, একই নিয়োগ কাঠামোর আওতায় স্কুল ও মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ হলে প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সমতা বাড়বে। নিয়োগের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা ব্যবস্থা থাকার কারণে যে প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা তৈরি হত, তা কমানো সম্ভব হবে। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত এমন একটা সময়ে এল, যখন মাদ্রাসাগুলির অনুমোদন, পরিকাঠামো এবং নিয়োগ ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে রাজ্যে ২৫২টি বেসরকারি, অনুদানহীন ও এখনও স্বীকৃতির অপেক্ষায় থাকা মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর, ওই মাদ্রাসাগুলির অধিকাংশই মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলায় অবস্থিত।

    কেন এই সিদ্ধান্ত? (Madrasa Service Commission)

    গত কয়েক বছর ধরে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ এবং মাদ্রাসাগুলির স্বীকৃতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে নথিতে প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলেও বাস্তবে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে। অননুমোদিত ও বেসরকারিভাবে পরিচালিত মাদ্রাসাগুলির তথ্য যাচাই করতেও রাজ্য সরকার সম্প্রতি সমীক্ষা ও তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে। অতীতে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে হওয়া নিয়োগ নিয়েও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নিয়োগের ক্ষেত্রে পৃথক কমিশনের বদলে একক ব্যবস্থার দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    কী কী বদল আসতে পারে?

    এত দিন সাধারণ স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ এবং মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগ পৃথক কমিশনের মাধ্যমে পরিচালিত হত। নতুন ব্যবস্থায় মাদ্রাসার অনুমোদিত উচ্চ মাদ্রাসা, সিনিয়র মাদ্রাসা এবং জুনিয়র হাই মাদ্রাসায় শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগের দায়িত্ব স্কুল সার্ভিস কমিশনের হাতে যাওয়ার কথা। এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। প্রথমত, মাদ্রাসা ও সাধারণ স্কুলের জন্য পৃথক নিয়োগ প্রক্রিয়ার বদলে একই কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ পরিচালিত হতে পারে। মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগের জন্য পৃথক মেধাতালিকার পরিবর্তে অভিন্ন নিয়োগ কাঠামো চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, আবেদন, পরীক্ষা, মেধাতালিকা এবং পরবর্তী ধাপগুলি স্কুল সার্ভিস কমিশনের নির্ধারিত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। তবে মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগের নতুন বিধি, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়সসীমা ও পরীক্ষার ধাপ সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি। তৃতীয়ত, চাকরিপ্রার্থীদের আলাদা করে দু’টি নিয়োগ ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। একই ধরনের পরীক্ষা ও নিয়োগ কাঠামো চালু হলে আবেদন ও প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও সুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    চাকরিপ্রার্থীদের কী সুবিধা?

    একক কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ পরিচালিত হলে আবেদন থেকে মেধাতালিকা প্রকাশ পর্যন্ত প্রক্রিয়া আরও কেন্দ্রীভূত হবে। ফলে একই ধরনের নিয়ম মেনে নিয়োগ পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের মতে, আলাদা কমিশনের পরিবর্তে একটি কেন্দ্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থার ফলে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে। ভবিষ্যতে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাধারণ স্কুল ও মাদ্রাসার বিভিন্ন শূন্যপদের জন্য আবেদন করার সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নতুন করে নিয়োগবিধি প্রকাশ করতে হবে (Madrasa Service Commission)। বর্তমানে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও একাধিক পরিবর্তন চলছে। সংরক্ষণ নীতির পরিবর্তনের কারণে শিক্ষক নিয়োগের আগের তালিকা বাতিল করে নতুন তালিকা প্রকাশের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে মাদ্রাসা নিয়োগকে নতুন ব্যবস্থায় কীভাবে যুক্ত করা হবে, তা কমিশনের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির উপরই নির্ভর করবে।

    মাদ্রাসা বোর্ডের ক্ষেত্রেও কি বদল?

    মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্তির সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশাসনিক কাঠামোয়ও পরিবর্তন আসতে পারে বলে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে নিয়োগ কমিশন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ভূমিকা এক বিষয় নয়। তাই মাদ্রাসা বোর্ডকে সরাসরি স্কুল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আনা হচ্ছে—এমন কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা সরকারি ভাবে স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। নতুন ব্যবস্থায় মূল পরিবর্তনটি আপাতত শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করেই। স্কুল সার্ভিস কমিশনের অধীনে মাদ্রাসার নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, তার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রকাশের পরই বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে (Madrasa Service Commission)।

    পরীক্ষার ধরন কী হবে?

    মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগে আগের বয়সসীমা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা একই থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনও নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়নি। তাই ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সসীমা বা সংরক্ষিত শ্রেণির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ছাড় বজায় থাকবে—এমন তথ্য এখনই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। একইভাবে লিখিত পরীক্ষা, বাছাই, সাক্ষাৎকার এবং অন্যান্য ধাপ স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রচলিত কাঠামো অনুযায়ী হবে কি না, সেটিও নতুন নিয়োগবিধি প্রকাশের পর স্পষ্ট হবে। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের অধীনে পূর্বে যে নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলি শুরু হয়েছিল, সেগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। বকেয়া নিয়োগ এবং নতুন নিয়োগ—দুই ক্ষেত্রেই কী নিয়ম কার্যকর হবে, সেই বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট নির্দেশিকার অপেক্ষায় রয়েছেন প্রার্থীরা। সব মিলিয়ে, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত করে স্কুল সার্ভিস কমিশনের অধীনে মাদ্রাসার নিয়োগ নিয়ে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের সূচনা হল। তবে এই সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রয়োগ নির্ভর করবে নতুন নিয়োগবিধি ও সরকারি বিজ্ঞপ্তির উপর (Madrasa Service Commission)।

     

  • Pakistan-Linked Espionage Probe: পাকিস্তানে তথ্যপাচার! গুপ্তচরবৃত্তি, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের নজরে ১৩ নৌসেনাকর্মী-সহ ১৮ জন

    Pakistan-Linked Espionage Probe: পাকিস্তানে তথ্যপাচার! গুপ্তচরবৃত্তি, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের নজরে ১৩ নৌসেনাকর্মী-সহ ১৮ জন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিন কয়েক আগেই বাঙালি এক নৌসেনাকর্মীকে পাকিস্তানে তথ্যপাচারের (Pakistan-Linked Espionage Probe) অভিযোগে তামিলনাড়ু থেকে গ্রেফতার করেছিল অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআই)। শুধু ওই নৌসেনাকর্মীই নন, গোয়েন্দাদের সন্দেহের তালিকায় উঠে এসেছে আরও ১৮ জনের নাম। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনই নৌসেনাকর্মী। ‘অপারেশন ফায়ারওয়াল-২০২৬’-এর আওতায় দেশের ১০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তল্লাশি চালিয়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, অভিযুক্তদের কয়েকজন পাকিস্তান-ভিত্তিক গোয়েন্দা অপারেটিভদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিশাখাপত্তনমের নৌঘাঁটি ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত স্থাপনা সম্পর্কে সংবেদনশীল তথ্য আদানপ্রদান করে থাকতে পারেন। এখনও পর্যন্ত বিশাখাপত্তনমের নৌ-প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    অপারেশন ফায়ারওয়াল-২০২৬

    দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত খবর পাক গোয়েন্দা সংস্থার হাতে কারা পৌঁছে দিচ্ছেন, একের পর এক ঘটনায় তা প্রকাশ্যে আসতেই অভিযানে নামে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল। অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ফায়ারওয়াল ২০২৬’। ১২টি দলে ভাগ হয়ে দেশের ১০ রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তল্লাশি চালাচ্ছে তারা। মূলত অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে চরবৃত্তির অভিযোগে নৌসেনাকর্মী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে। সূত্রের খবর, অন্ধ্রপ্রদেশ ছাড়াও তল্লাশি চালানো হচ্ছে কেরল, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, গোয়া, দিল্লি, গুজরাট, তামিলনাড়ু, বিহার এবং ছত্তিশগড়ে। মূলত ‘এনক্রিপ্টেড’ প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে পাক হ্যান্ডলার বা গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।

    গ্রেফতার দু’জন

    পুলিশের দাবি, বিশাখাপত্তনমের নৌঘাঁটির কর্মী প্রদীপ মুখার্জিকে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোর থেকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, পাকিস্তান-যোগ থাকা এক ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করার জন্য প্রয়োজনীয় ওটিপি তিনি শেয়ার করেছিলেন। পাশাপাশি পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য আদানপ্রদানের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, অন্নম সাই বরপ্রসাদ নামে এক ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বিশাখাপত্তনমে নৌসেনার আধিকারিকদের জন্য চুক্তিভিত্তিক চালক হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে তিনি পাকিস্তান-যোগ থাকা এক ব্যক্তির কাছে সংবেদনশীল তথ্য পাঠিয়েছিলেন। দু’জনকেই ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

    ১০ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অভিযান

    তদন্ত শুরু হয় ২ সেপ্টেম্বর। অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পুলিশ স্টেশনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (UAPA) এবং সরকারি গোপনীয়তা আইন (Official Secrets Act)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এফআইআর-এ অভিযোগ করা হয়, কিছু ব্যক্তি এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিশাখাপত্তনম-সহ বিভিন্ন এলাকার প্রতিরক্ষা স্থাপনা ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থান সম্পর্কে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ ও পাচার করছিলেন। এরপর ১ অক্টোবর শুরু হয় ‘অপারেশন ফায়ারওয়াল-২০২৬’। অভিযানে অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি কেরল, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, গুজরাত, গোয়া, দিল্লি, তামিলনাড়ু, ছত্তীসগঢ় এবং বিহারে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের ১২টি দল তল্লাশি চালায়। স্থানীয় পুলিশ, রাজ্য পুলিশের সন্ত্রাসদমন শাখা এবং নৌসেনার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। তদন্তকারীরা ১৮ জনের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন। তাঁদের কাছ থেকে বেশ কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। ডিজিটাল যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে এখনও পর্যন্ত অন্তত দু’জনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।

    বিশাখাপত্তনমে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ

    বিশাখাপত্তনমের নৌ-প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান-যোগ থাকা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ২০১৯ সালের একটি মামলায় বিদেশি এজেন্ট এবং স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে নৌ-প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ওঠে। ওই মামলা পরে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-এর হাতে যায়। ২০২৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে বিশাখাপত্তনমের একটি বিশেষ এনআইএ আদালত ওই মামলায় গ্রেফতার হওয়া ১৫ জনের মধ্যে আটজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। এছাড়াও ২০২১ সালের জানুয়ারিতে অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল একটি পৃথক গুপ্তচরবৃত্তির মামলা দায়ের করে। ২০২৩ সালের মে মাসে সেটিও এনআইএ-এর হাতে যায়। ওই মামলায় ভারতীয় নৌসেনার যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন সংক্রান্ত শ্রেণিবদ্ধ তথ্য পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছিল। সিম কার্ড, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট এবং আর্থিক লেনদেন ব্যবহারের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় ছিল।

    ডিজিটাল ও আর্থিক নথি বিশ্লেষণ

    ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এনআইএ (NIA) জানায়, ওই পৃথক মামলায় প্রতারণার মাধ্যমে সিম কার্ড, ওটিপি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অভিযোগে এক অভিযুক্তকে বিশেষ আদালত সাজা দিয়েছে। তবে বর্তমান ‘অপারেশন ফায়ারওয়াল-২০২৬’-এর সঙ্গে আগের মামলাগুলির কোনও প্রত্যক্ষ যোগসূত্র এখনও প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ১৮ জনকে ঘিরে চলা বর্তমান তদন্তে আরও তথ্য সংগ্রহ এবং ডিজিটাল ও আর্থিক নথি বিশ্লেষণের কাজ চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সন্দেহভাজনদের ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়নি।

     

     

     

     

     

     

  • CM Suvendu Adhikari: নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে বিজেপির বড় জয়ে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু, তীব্র কটাক্ষ সেলিমকে

    CM Suvendu Adhikari: নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে বিজেপির বড় জয়ে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু, তীব্র কটাক্ষ সেলিমকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের দুই হাইভোল্টেজ বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে বিজেপির বিপুল জয় নিয়ে একশো শতাংশ আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার রাতে কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, দুই কেন্দ্রেই বিরোধী হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বামেদের কার্যত কোনও অস্তিত্ব নেই (CM Suvendu Adhikari)। রেজিনগরে পরিযায়ী শ্রমিকদের একটি বড় অংশ (Nandigram Rejinagar By-Polls) এবার ভোট দিতে না আসায় গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় ভোটদানের হার প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর দাবি, তা সত্ত্বেও ওই কেন্দ্রে ৭৯ থেকে ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু মহিলা ও যুব সম্প্রদায়ের ভোট বিজেপির পক্ষে গিয়েছে বলেই দাবি তাঁর। শুভেন্দুর কথায়, “নন্দীগ্রাম তো ২০২১ সাল থেকেই বিজেপির সঙ্গে আছে। রেজিনগরে তৃণমূল বা বামেদের কোনও অস্তিত্ব ছিল না। সিপিএম পঞ্চম বা ষষ্ঠ স্থানে নোটার নীচেও থাকতে পারে।”

    সংখ্যালঘু ভোটে উন্নয়ন প্রকল্পের প্রভাব (CM Suvendu Adhikari)

    সংখ্যালঘু ভোট নিজেদের দিকে টানার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলেও দাবি করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, বয়স্ক সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি অংশ কংগ্রেস অথবা হুমায়ুন কবীরের ছেলেকে ভোট দিয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু সংখ্যালঘু মহিলাদের বড় অংশ বিজেপিকে সমর্থন করেছেন বলে দাবি তাঁর। বিরোধীদের দাবি খারিজ করে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, অন্নপূর্ণা বা আবাস যোজনার মতো সরকারি প্রকল্পে কোনও ধর্মীয় ভেদাভেদ করা হয়নি। তাঁর দাবি, “এক কোটি ৫৮ লাখ অন্নপূর্ণা প্রাপকের মধ্যে ২৪ লাখ মুসলিম মহিলা রয়েছেন। আমার বিশ্বাস ৯০ শতাংশ মুসলিম মহিলা বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন।”

    আবাস যোজনার ১৭ হাজার বাড়ির তালিকাতেও ১০ হাজারের বেশি সংখ্যালঘু পরিবার এবং ৬-৭ হাজার সনাতনী পরিবার রয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রভাবেই রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী এক লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হবেন। নন্দীগ্রামেও গতবারের তুলনায় পাঁচ-ছ’গুণ বেশি ব্যবধানে বিজেপি জিতবে বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন (CM Suvendu Adhikari) শুভেন্দু।

    সেলিমকে নিশানা শুভেন্দুর

    বামেদের ভোটপ্রাপ্তি এবং সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের ভোটে কারচুপির অভিযোগ নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। সেলিমের রাজনৈতিক পরাজয়ের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর দাবি, ২০১৯ সালে রায়গঞ্জ, ২০২১ সালে চণ্ডীতলা এবং ২০২৪ সালে মুর্শিদাবাদে পরাজিত হয়েছেন সেলিম।

    শুভেন্দু বলেন, “যেখানে মুসলমান ভোট বেশি আছে, বেছে বেছে সেখানে গিয়ে দাঁড়াতে হয়। অথচ মুখে বলেন ধর্মনিরপেক্ষ পার্টি!”

    সেলিমকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমি ওঁকে বলব কলকাতা কর্পোরেশনের নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে লড়তে। যদি জমানত রাখতে পারেন, তাহলে বুঝব উনি একটা বিরাট মাপের নেতা হয়েছেন।”

    তৃণমূলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বার্তা

    অন্যদিকে, আইনি লড়াই নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। তৃণমূলের তথ্যপ্রযুক্তি শাখার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে তাঁর দাবি, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টার নামে মিথ্যা অভিযোগ তোলার ঘটনায় নির্দিষ্টভাবে মানহানি ও অপরাধমূলক মামলা করা হয়েছে।

    আসন্ন পুরসভা নির্বাচন নিয়েও রাজ্য প্রশাসনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ফেব্রুয়ারি মাসে (Nandigram Rejinagar By-Polls) মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই রাজ্যের সব পুরসভায় নির্বাচন সম্পন্ন করার সময়সীমা তৈরি হচ্ছে।

    ভোটযন্ত্রের ঘাটতি বা নির্বাচন সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে শুভেন্দুর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন। রাজ্য সরকার শুধুমাত্র পরিকাঠামোগত সহায়তা (CM Suvendu Adhikari) করে। নির্বাচন পরিচালনায় মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীদের কোনও ভূমিকা থাকে না বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি।

     

  • Aframax Rio: কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা! জ্বলল ট্যাঙ্কার, নিরাপদে উদ্ধার ২৩ ভারতীয় নাবিক

    Aframax Rio: কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা! জ্বলল ট্যাঙ্কার, নিরাপদে উদ্ধার ২৩ ভারতীয় নাবিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলে সোচির কাছে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় আগুন ধরে গেল লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে। জাহাজটিতে থাকা ২৩ জনই ভারতীয়। হামলার পর জরুরি উদ্ধার অভিযানে তাঁদের সকলকেই নিরাপদে বার করে আনা হয়েছে। হতাহতের খবর নেই। রাশিয়ার পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, মঙ্গলবার কৃষ্ণসাগরে সোচির কাছে ট্যাঙ্কারটিতে ‘নৌ ড্রোন’ দিয়ে হামলা চালানো হয়। জাহাজটির নাম ‘আফ্রাম্যাক্স রিও’ (Aframax Rio)। হামলার পর তেল জ্বলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে সমুদ্রেও। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে প্রথম দিকে দমকলকর্মীরা জাহাজটির কাছে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করতে পারেননি। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে ফের অভিযান শুরু করা হয়।

    পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে

    রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের সিরিয়াস ফেডারেল টেরিটরির প্রশাসন প্রথমে ট্যাঙ্কারে আগুন লাগার খবর জানায়। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকার সৈকত সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। সিরিয়াস ফেডারেল টেরিটরির প্রশাসনিক প্রধান দিমিত্রি প্লিশকিন জানিয়েছেন, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে এলাকায় জল ও বায়ুর গুণমান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, বায়ুর মান পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, দূষণকারী পদার্থের ঘনত্ব সর্বোচ্চ অনুমোদিত মাত্রার তুলনায় অনেকটাই কম রয়েছে এবং তা জনস্বাস্থ্যের জন্য কোনও হুমকি তৈরি করছে না। ঘটনার পর দমকল ও জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলি পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যায়। ২৩ জন ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

    কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজও যুদ্ধের নিশানায়

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। গত কয়েক দিনে রোমানিয়ার উপকূলের কাছে পণ্যবাহী জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। তার এক দিন পরেই সোচির কাছে এই তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা ভাবাচ্ছে কূটনীতিকদের। ইউক্রেন রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলাকে তাদের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে দেখিয়ে আসছে। অন্যদিকে রাশিয়াও ইউক্রেনের বন্দর ও বাণিজ্যিক পরিকাঠামোয় হামলা চালাচ্ছে। ফলে কৃষ্ণসাগরে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

  • Nobel Prize: মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে কাজ, পদার্থবিদ্যায় নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন

    Nobel Prize: মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে কাজ, পদার্থবিদ্যায় নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাবিশ্বের বিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে এমন বিরল এক ধরনের মহাজাগতিক কণা নিউট্রিনোর রহস্য উন্মোচনে অসামান্য অবদানের জন্য পদার্থবিদ্যায় এ বছর নোবেল পুরস্কার (Nobel Prize) পেলেন বেলজিয়ান বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন। মঙ্গলবার তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়।

    নিউট্রিনো নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশ (Nobel Prize)

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ ৮২ বছরের হালজেন জানান, ২০১৩ সালে মহাজাগতিক নিউট্রিনো নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশের পর থেকেই তাঁকে নোবেল পুরস্কারের অন্যতম সম্ভাব্য প্রাপক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। প্রতি বছর তাঁর মনে হতো, নোবেল পাওয়ার সম্ভাবনা ২০ ভাগের মধ্যে এক ভাগ।

    সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমাকে শুধু এত দিন বেঁচে থাকতে হতো। আর তাই আমি এখানে।” হালজেন জানান, এই গবেষণা ছিল বিপুল সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টার ফল। নোবেল কমিটির তরফে ফোন আসার সময় তিনি নতুন একটি গবেষণা প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছিলেন। ইতালি থেকে ফোনে নোবেল কমিটির সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, “আমি আশা করি, এই পুরস্কারটি প্রস্তাবটি অনুমোদন পেতে সাহায্য করবে।” পুরস্কার ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে সেই ফোনালাপ সম্প্রচার করা হয়। তাঁর মন্তব্যে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে।

    নিউট্রিনো গবেষণায় নতুন জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথ

    নিউট্রিনো হল অতি ক্ষুদ্র মহাজাগতিক কণা। এদের কোনও বৈদ্যুতিক আধান নেই এবং ভর অত্যন্ত সামান্য। ফলে সরাসরি শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু এই কণা সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে। সূর্যের মতো নক্ষত্র থেকে নিউট্রিনো নির্গত হয় এবং প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি নিউট্রিনো আমাদের শরীরের মধ্য দিয়েও চলে যায়।

    বিজ্ঞানীরা সরাসরি এই রহস্যময় কণাগুলিকে দেখতে পারেন না। তাই অন্য পদার্থের কণার সঙ্গে নিউট্রিনোর সংঘর্ষের সময় কী ঘটে, তা পরিমাপ করে তাঁদের অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়। নিউট্রিনো খুব কম ক্ষেত্রেই অন্য কণার সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তাই সংঘর্ষ শনাক্ত করার সম্ভাবনা বাড়াতে বিজ্ঞানীরা বিশাল আকারের শনাক্তকারী যন্ত্র তৈরি করেন।

    হালজেনের ধারণা ছিল, অ্যান্টার্কটিকার বিস্তীর্ণ বরফকেই এমন একটি শনাক্তকারী হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। নোবেল কমিটির মতে, তাঁর গবেষণা অ্যান্টার্কটিকায় ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই পর্যবেক্ষণকেন্দ্র থেকেই দূরবর্তী ছায়াপথ থেকে আসা উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনোর প্রথম সন্ধান পাওয়া যায়।

    আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্সের চিফ এক্সিকিউটিভ মাইকেল মোলোনি বলেন, “অ্যান্টার্কটিকার এই পরীক্ষা মহাবিশ্বকে বোঝার এক বিপ্লবী পদ্ধতি, যা এর আগে আমাদের হাতে ছিল না।”

    বরফের নীচে বিশাল পর্যবেক্ষণকেন্দ্র

    পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের বরফের সঙ্গে কোনও নিউট্রিনোর সংঘর্ষ হলে সেখানে আলোর ঝলক তৈরি হয়। বিশেষ সেন্সর সেই আলোর সংকেত ধরে ফেলে। স্বচ্ছ বরফের কারণে অত্যন্ত ক্ষীণ সংকেতও শনাক্ত করা সহজ হয়। মহাজাগতিক রশ্মি ও বিকিরণের হস্তক্ষেপ থেকে যন্ত্রপাতিকে সুরক্ষিত রাখতে সেন্সরগুলি প্রায় ৮,২০০ ফুট বা ২,৫০০ মিটার গভীরে বরফের নীচে স্থাপন করা হয়েছে।

    নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হালজেন বলেন, “মানুষ সব সময় ভাবত, এটি একটি চমৎকার ধারণা, ঠিকই, কিন্তু এটি কখনও কাজ করবে না। সবচেয়ে বড় বিস্ময় হল, আমরা সত্যিই এটিকে কার্যকর করতে পেরেছি।”

    হালজেনের গবেষণা বিজ্ঞানীদের এমন এক রহস্যময় নিউট্রিনো জগতের পর্দা সরাতে সাহায্য করেছে, যা অন্যান্য ছায়াপথ এবং সামগ্রিকভাবে মহাবিশ্বের বিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহন করে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন।

    তবে এই গবেষণার কাজ ছিল অত্যন্ত ধীর ও শ্রমসাপেক্ষ। কারণ গবেষকদের মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা নিউট্রিনো এবং পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে নির্গত নিউট্রিনোর মধ্যে পার্থক্য করতে হয়েছিল (Nobel Prize)।

    হালজেন বলেন, “আমরা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩,০০০ আধানযুক্ত কণা শনাক্ত করি। প্রতি সেকেন্ডের সেই ৩,০০০ কণার মধ্যে আমাদের এমন একটি কণা খুঁজে বের করতে হয়, যা প্রতিদিন মাত্র একবার পাওয়া যায়। আর মাসে এমন একটি কণা পাওয়া যায়, যার বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে পারি। এটাই সমস্যাটির গাণিতিক বাস্তবতা।”

    তিনি বলেন, “এই গবেষণা দেখিয়েছে যে নিউট্রিনো জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্ভব—এটি বাস্তব এবং এটি করা যায়। এটি আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে, তা আমরা ভবিষ্যতেই দেখতে পাব। তবে মহাবিশ্বের দিকে তাকানোর কোনও নতুন জানালাই কখনও হতাশ করেনি।”

    অ্যান্টার্কটিকার এই পর্যবেক্ষণকেন্দ্রকে তিনি তুলনা করেছেন বরফ দিয়ে তৈরি একটি বিশাল চোখের সঙ্গে, যা আলোর বদলে নিউট্রিনোর মাধ্যমে মহাবিশ্বকে দেখতে পারে।

    ১৪ দেশের ৪০০-রও বেশি বিজ্ঞানীর সম্মিলিত গবেষণা

    আমেরিকার জাতীয় বিজ্ঞান ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এবং উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনায় আইসকিউব নিউট্রিনো পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের গবেষণায় ১৪টি দেশের ৪০০-রও বেশি বিজ্ঞানী যুক্ত রয়েছেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য এরিকএম উইলকটস এক বিবৃতিতে বলেন, “আইসকিউব বিশ্বের অন্য কোনও দূরবীক্ষণযন্ত্রের মতো নয়। আর ফ্রান্সিস হালজেনের মতো বিজ্ঞানীও আর কেউ নেই। প্রায় এক মাইল বরফের নীচে নিউট্রিনো শনাক্তকারী যন্ত্র তৈরির তাঁর ধারণা এক অসাধারণ আন্তর্জাতিক ও বহু-প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার জন্ম দিয়েছে এবং মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের চিন্তাভাবনায় মৌলিক পরিবর্তন এনেছে।”

    বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্টডে ভেভার সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, হালজেন হলেন নোবেল পুরস্কারজয়ী ১১তম বেলজিয়ান। তিনি এই পুরস্কারকে মহাবিশ্বের ক্ষুদ্রতম উপাদানগুলির মাধ্যমে তার বৃহত্তম রহস্যগুলির ওপর আলো ফেলার কাজে উৎসর্গ করা একটি জীবনের স্বীকৃতি বলে অভিহিত করেন।

    স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের মহাসচিব এলেন মুনস পুরস্কার ঘোষণা করেন। তিনিই এই মর্যাদাপূর্ণ অ্যাকাডেমির নেতৃত্ব দেওয়া এবং নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা প্রথম (Nobel Prize) মহিলা।

    নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য

    এ বছর নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ১২ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান। এই অর্থ কোনও একক পুরস্কারপ্রাপক, একাধিক পুরস্কারপ্রাপকের ছোট দল অথবা কোনও প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হতে পারে। গত বছর পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন তিন বিজ্ঞানী। অতিপারমাণবিক কণার অদ্ভুত আচরণ এবং কোয়ান্টাম টানেলিং নিয়ে তাঁদের গবেষণা অত্যন্ত সংবেদনশীল পরিমাপের পথ খুলে দেয়, যা চৌম্বকীয় অনুরণন চিত্রগ্রহণ প্রযুক্তিতে কাজে লাগে। একই গবেষণা উন্নত মোবাইল ফোন এবং আরও দ্রুতগতির কম্পিউটার তৈরির ভিত্তিও তৈরি করে। এ বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শুরু হয় সোমবার চিকিৎসাবিজ্ঞানের পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে। মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে, তা বোঝার ক্ষেত্রে আলো ব্যবহারকারী একটি প্রযুক্তি তৈরিতে অবদানের জন্য তিন বিজ্ঞানীকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল দেওয়া হয়েছে। বুধবার রসায়ন এবং বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। শুক্রবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর সোমবার ঘোষণা করা হবে অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার (Nobel Prize) প্রাপকের নাম।

     

  • PM Modi: ২০৪৭-এর মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার সংকল্প, ২৫ বছরের প্রশাসনিক যাত্রায় মোদি বললেন, “আমরা করবই”

    PM Modi: ২০৪৭-এর মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার সংকল্প, ২৫ বছরের প্রশাসনিক যাত্রায় মোদি বললেন, “আমরা করবই”

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে তাঁর অঙ্গীকার ফের স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। বুধবার প্রশাসনের প্রধান হিসেবে তাঁর টানা ২৫ বছরের যাত্রা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমরা অবশ্যই তা অর্জন করব। আমরা করবই, আমরা করবই, আমরা করবই।” জাতীয় রাজধানীর ইন্দিরা গান্ধী ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘সেবা জ্যোতি’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জীবনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মোদি। তিনি বলেন, “আজ যখন পিছন ফিরে তাকাই, তখন শুধু কৃতজ্ঞতার অনুভূতিই জাগে। প্রত্যেক ব্যক্তি এবং প্রত্যেক ঘটনা (Viksit Bharat) আমাকে কিছু না কিছু শিখিয়েছে। আমি তাঁদের প্রত্যেকের কাছে কৃতজ্ঞ।”

    অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া শিক্ষার কথা (PM Modi)

    নিজের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া শিক্ষার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “যে আমাকে জয় এনে দিয়েছে, সে আমাকে বিনয়ী হতে শিখিয়েছে; যে আমাকে ফেলে দিয়েছে, সে আবার উঠে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। শুভাকাঙ্ক্ষীরা আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন, আর সমালোচকরা নিজের ভিতরে আরও গভীরভাবে তাকাতে শিখিয়েছেন। যাঁরা আমাকে সমর্থন করেছেন, তাঁরা বিশ্বাসের শক্তি দেখিয়েছেন, আর যাঁরা বিরোধিতা করেছেন, তাঁরা গণতন্ত্রের শক্তি বুঝতে সাহায্য করেছেন।”

    নিজেকে কখনও একা মনে হয়নি বলেও জানান মোদি। তিনি বলেন, “আমি কখনও অনুভব করিনি যে আমি একা। অসংখ্য স্বয়ংসেবক রয়েছেন, যাঁরা ভারতের সাংস্কৃতিক আত্মার রক্ষক। তাঁদের একমাত্র উদ্দেশ্য ভারতসেবা। তাঁরা এই চেতনা নিয়েই বাঁচেন এবং প্রতি মুহূর্তে নিজেদের মনে করিয়ে দেন—‘আমরা সেবক। আমরা মানবতার সেবক।’” দেশের প্রতি নিষ্ঠা ও কর্তব্যে অবিচল থাকা প্রত্যেক স্বয়ংসেবক ও কর্মীকে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।

    ভূমিকম্প, চন্দ্রযান থেকে করোনা—অভিজ্ঞতাই দিয়েছে শিক্ষা

    নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার উল্লেখ করে মোদি জানান, ২০০১ সালের ভুজ ভূমিকম্প তাঁকে পুনর্গঠনের কাজে দৃঢ় থাকার শিক্ষা দিয়েছে। চন্দ্রযান অভিযান তাঁকে ব্যর্থতা থেকে উঠে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। করোনা মহামারি তাঁকে দেশের সম্মিলিত চেতনার গুরুত্ব উপলব্ধি করিয়েছে। সুখ-দুঃখ মেশানো অভিজ্ঞতার মধ্যেও এগিয়ে যেতে তাঁকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে সংবাদমাধ্যম।

    ভারতের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও নিজের শক্তির উৎস হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “বেদ থেকে বিবেকানন্দ পর্যন্ত যে দেশ মহান চিন্তাকে ধারাবাহিকভাবে ধারণ করেছে, যে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হাজার হাজার বছর ধরে বিস্তৃত, যে দেশ মানবতার প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করেছে—এমন একটি দেশের সেবা করার সময় আমি কখনও নিজেকে (Viksit Bharat) একা মনে করিনি।”

    তিনি বলেন, ৭ অক্টোবরের দিনটি শুধু অতীতের স্মৃতিচারণের দিন নয়, ভবিষ্যতের জন্য নতুন করে সংকল্প নেওয়ার দিনও। তাঁর কথায়, “এই দিন সেই প্রতিশ্রুতি আবারও স্মরণ করার দিন। এই দিন সেই সংকল্প প্রকাশ করার দিন, যা বলে—‘আমরা অবশ্যই তা অর্জন করব।’ আমরা অর্জন করব, আমরা করবই (PM Modi), আমরা করবই, আমরা করবই।”

    পুষ্পবৃষ্টিতে মোদিকে স্বাগত

    ‘সেবা সংকল্প অভিযানে’র অংশ হিসেবে বিজেপি আয়োজিত ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা’য় যোগ দিতে পৌঁছনোর সময় মোদিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান দলের কর্মী-সমর্থকেরা। ফুল ছিটিয়ে, বিজেপির পতাকা হাতে এবং ‘ভারত মাতা কি জয়’, ‘স্বাগত হ্যায়, ভাই স্বাগত হ্যায়; মোদি জি কা স্বাগত হ্যায়’ স্লোগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। মোদির আগমনের মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করতে বহু মানুষকে মোবাইল ফোন বের করতেও দেখা যায়।

    সভায় বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন প্রধানমন্ত্রীকে প্রশাসনের প্রধান হিসেবে ২৫ বছর পূর্ণ করার জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, “মানুষ আপনাকে আশীর্বাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, যাতে আপনি আগের মতোই একই নিষ্ঠার সঙ্গে দেশসেবা চালিয়ে যেতে পারেন।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা আপনাকে ধারাবাহিকভাবে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এবং সাফল্য কামনা করছি, যাতে আপনি বিকশিত ভারতের সংকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।”

    নিতিন নবীনের দাবি, গত ২৫ বছর ধরে মোদি নিজের জীবনকে প্রদীপের মতো জ্বালিয়ে ১৪০ কোটি ভারতীয়ের জীবনে উন্নয়ন, আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন। তিনি বলেন, “আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আপনার দীর্ঘ ও সফল জনজীবনের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা এবং শুভেচ্ছা জানাই।”

    সংগ্রাম থেকে প্রশাসনের শীর্ষে

    বিজেপির জাতীয় সভাপতি বলেন, “আজ সমস্ত ভারতীয় এবং বিজেপির সমস্ত কর্মীর কাছে একটি অবিস্মরণীয় দিন। আজ এমন এক ব্যক্তিত্বের ২৫ বছরের যাত্রার সাক্ষী থাকার দিন, যাঁর পথচলা সংগ্রামের মধ্যে শুরু হয়েছিল (PM Modi) এবং যিনি প্রতিটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে এগিয়ে গিয়েছেন।”

    নবীনের বক্তব্য, তপস্যা, নিষ্ঠা (Viksit Bharat) ও সংকল্পের মাধ্যমে মোদি জনসেবাকেই জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাঁর কথায়, “তাঁর কাছে জনসেবা হয়ে উঠেছিল দেশসেবার পথ। সেই সংকল্প নিয়ে রাজনীতি ও ক্ষমতাকে সেবার মাধ্যম করে তিনি দেশসেবার পথে এগিয়ে গিয়েছেন।”

    প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্যের উল্লেখ করে নবীন দাবি করেন, লোকসভা নির্বাচনের আগে দেশের সামনে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হওয়া ভারতের ইতিহাসে মোদিই প্রথম ব্যক্তি, এবং পরে জনগণ বিজেপিকে বিপুল জনাদেশ দিয়ে তাঁকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করে (PM Modi)।

    ২০০১-এ গুজরাট, ২০১৪-তে দিল্লি

    নরেন্দ্র মোদি ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার শপথ নেন। সেই সময় গুজরাট ভয়াবহ ভুজ ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলাচ্ছিল। পাশাপাশি রাজ্যটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ছিল।

    ২০১৪ সাল পর্যন্ত গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকার পর জাতীয় রাজনীতিতে আসেন মোদি। তারপর তিন দফায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর প্রশাসনের প্রধান হিসেবে তাঁর টানা ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক প্রস্তাবেও উল্লেখ করা হয়েছে (Viksit Bharat)। তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়ে ভারতের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসরও সম্প্রসারিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি গ্লোবাল সাউথে ভারতের ভূমিকা আরও দৃশ্যমান করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে তাঁর (PM Modi) সরকার।

     

  • Siliguri Corridor: মাটির নিচে রেল, বাঙ্কার, নতুন হাইওয়ে: শিলিগুড়ি করিডরকে দুর্ভেদ্য করতে ভারতের সাত স্তরের মাস্টারপ্ল্যান

    Siliguri Corridor: মাটির নিচে রেল, বাঙ্কার, নতুন হাইওয়ে: শিলিগুড়ি করিডরকে দুর্ভেদ্য করতে ভারতের সাত স্তরের মাস্টারপ্ল্যান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একমাত্র স্থলপথের যোগসূত্র শিলিগুড়ি করিডর। এই সংকীর্ণ পথটিকে আরও মজবুত করতে বহুস্তরীয় কৌশলগত পরিকাঠামো গড়ে তুলছে কেন্দ্র। বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান ভারত-বিরোধী মনোভাব ও নিরাপত্তা অস্থিরতা এবং চিনের আগ্রাসী সামরিক তৎপরতার মধ্যে এই উদ্যোগ বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ সামরিক পরিকাঠামো, অতিরিক্ত রেললাইন, বিকল্প হাইওয়ে, সীমান্ত সড়ক ও নতুন সেনা স্থাপনা— সব মিলিয়ে ‘চিকেন নেক’ বলে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডরকে ‘‘ফর্টেস’’ বা দুর্গে পরিণত করার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। মূল লক্ষ্য একটাই: কোনও একটি রুট বন্ধ হয়ে গেলেও যেন উত্তর-পূর্বের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগ অচল না হয়।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর?

    • ● সবচেয়ে সংকীর্ণ জায়গায় করিডরের প্রস্থ মাত্র ২২ কিলোমিটার
    • ● নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটান সীমান্তের খুব কাছে, পাশেই চিনের চুম্বি উপত্যকা
    • ● রেললাইন, হাইওয়ে, সামরিক ঘাঁটি ও লজিস্টিক রুট ঘনীভূত থাকায় একটি রুটে বিঘ্ন ঘটলেই বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে

    তাই এখন একটি রাস্তা, রেলপথ বা স্থাপনার ওপর নির্ভর না করে একাধিক সমান্তরাল রুট ও সুরক্ষিত স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলেই তৈরি হচ্ছে সাত স্তরের নিরাপত্তা কাঠামো।

    সাত স্তরের নিরাপত্তা কাঠামো

    ১. ভূগর্ভে গোলাবারুদ ও সামরিক সম্পদের সুরক্ষা

    বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৯৭ কোটি টাকার সেনা পরিকাঠামো প্যাকেজে রয়েছে:

    • ● ১২টি ভূগর্ভস্থ আর্মি ও এয়ার ডিফেন্স গোলাবারুদ মজুত কেন্দ্র
    • ● ১টি ভূগর্ভস্থ লং রেঞ্জ গোলাবারুদ মজুত কেন্দ্র
    • ● ২১টি ওভারগ্রাউন্ড লং রেঞ্জ ভূপৃষ্ঠস্থ ফায়ারিং পজিশন
    • ● ১২টি বোমা আশ্রয়কেন্দ্র (বাঙ্কার)
    • ● দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্টোরেজ স্পেস

    করিডরে জায়গা কম বলে মাটির নিচের স্থাপনা একইসঙ্গে সুরক্ষিত ও জায়গা-সাশ্রয়ী।

    ২. সুরক্ষিত কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক

    সংকটকালেও সামরিক সিদ্ধান্ত ও যোগাযোগ যাতে বজায় থাকে, সেটাই এই স্তরের উদ্দেশ্য। এর জন্য তৈরি হয়েছে বা হচ্ছে:

    • ● ৫টি ভূগর্ভস্থ কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার
    • ● ৬টি ভূগর্ভস্থ কমিউনিকেশন সেন্টার
    • ● আরও কয়েকটি ভূগর্ভস্থ লং রেঞ্জ গোলাবারুদ মজুত কেন্দ্র

    আকাশপথে হামলা, ড্রোন বা ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতেও অপারেশনাল ধারাবাহিকতা রক্ষাই লক্ষ্য।

    ৩. ছ’লেনের রেলপথ: করিডরের নিচে ‘দ্বিতীয় লাইফলাইন’

    এই পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভূগর্ভস্থ রেলপথ।

    • ● ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, এই কৌশলগত করিডরের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা চলছে, যাতে থাকছে ভূগর্ভস্থ ট্র্যাক ও বিদ্যমান রেল পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ
    • ● রুট: টিন মাইল হাট (দুমদুমি) থেকে রাঙ্গাপানি হয়ে বাগডোগরা
    • ● ট্র্যাক থাকবে মাটির ২০ থেকে ২৪ মিটার নিচে
    • ● প্রকল্পটি ‘স্পেশাল রেলওয়ে প্রজেক্ট’ হিসেবে বিজ্ঞপ্তিভুক্ত। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে দুমদুমি (টিন মাইল হাট)–রাঙ্গাপানি–বাগডোগরা অংশের দৈর্ঘ্য ৩৫.৭৬ কিলোমিটার
    • ● বর্তমান ডাবল লাইনকে চার লাইনে উন্নীত করার পাশাপাশি যোগ হবে দুটি ভূগর্ভস্থ লাইন, অর্থাৎ মোট ছ’টি লাইন (চারটি ওপরে, দুটি নিচে)

    ওপরের কোনও অংশ জটিলতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা নিরাপত্তাজনিত কারণে বিঘ্নিত হলে সুরক্ষিত বিকল্প রেলপথ কাজে লাগবে। এতে সামরিক রসদ চলাচলও নির্বিঘ্ন থাকবে।

    ৪. হাইওয়ের জাল: এক রুটের ওপর নির্ভরতা কমানো

    • ● প্রস্তাবিত গোরক্ষপুর–শিলিগুড়ি এক্সপ্রেসওয়ের বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (DPR) তৈরির কাজ চলছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে সংসদে এ কথা জানায় কেন্দ্র
    • ● শিলিগুড়ির সঙ্গে গুয়াহাটি ও শিলং সংযোগকারী বড় হাইওয়ে উদ্যোগেরও ঘোষণা হয়েছে

    একাধিক হাইওয়ে ও সেতু থাকলে সাধারণ ট্রাফিক, লজিস্টিক্স, জরুরি চলাচল ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ ভাগ হয়ে যেতে পারবে।

    ৫. সিকিমমুখী এনএইচ-১০ ও পার্শ্ববর্তী সংযোগ সড়ক

    • ● সেবক থেকে রংপো পর্যন্ত এনএইচ-১০ উন্নয়নের পরিকল্পনা
    • ● প্রধান হাইওয়েগুলির মধ্যে অতিরিক্ত সংযোগ সড়ক, যাতে সিকিম সেক্টরে যাওয়ার বিকল্প পথ মেলে

    শিলিগুড়ি শুধু উত্তর-পূর্বের প্রবেশদ্বার নয়, উত্তর ও উত্তর-পূর্ব সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক কেন্দ্রও। ভারী যান চলার মতো বিকল্প রাস্তা তাই সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ পাঠানোয় বাড়তি নমনীয়তা দেবে।

    ৬. সীমান্ত সড়কে নিরাপত্তার জাল

    • ● ইন্দো-নেপাল বর্ডার রোড কর্মসূচির আওতায় ফতেপুর–গালগালিয়া সড়ক (৭৯.৫ কিলোমিটার)
    • ● ইন্দো-নেপাল সীমান্তে আরও সড়কের প্রস্তাব, যা টহলদারি ও সংযোগ বাড়াবে
    • ● ভুটান সীমান্ত বরাবর সংযোগ উন্নয়নেরও পরিকল্পনা

    দুর্গম সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পৌঁছতে পারবে, সীমান্ত-পারের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে প্রতিক্রিয়াও দ্রুততর হবে।

    ৭. ভারত-ভুটান-চিন ত্রিসংযোগস্থল ঘিরে কৌশলগত সংযোগ

    সিকিম ও ভুটান সীমান্তের সংবেদনশীল পথে দ্রুত পৌঁছনো ও সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে অতিরিক্ত সামরিক স্থাপনার পরিকল্পনা রয়েছে। শিলিগুড়ি করিডর সিকিম-ভুটান-চিন ত্রিসংযোগের কাছেই, আর চুম্বি উপত্যকা ভারত ও ভুটান সীমান্তের নিকটে। তাই শিলিগুড়ির সুরক্ষাকে বিচ্ছিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, সিকিম, ভুটান ও পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণ একই সূত্রে বাঁধা।

    কেন এই ‘রেজিলিয়েন্স’ কৌশল?

    এই পরিকল্পনার মূল ভাবনা একটি বিশাল দুর্গ গড়া নয়, বরং এমন ব্যবস্থা তৈরি করা যেখানে কোনও একটি রাস্তা, রেললাইন, সেতু বা সামরিক স্থাপনা দুর্বলতম বিন্দু হয়ে উঠবে না।

    • ● একটি হাইওয়ে বন্ধ হলে অন্য রুট দিয়ে যান চলবে
    • ● ওপরের রেলপথ বিঘ্নিত হলে ভূগর্ভস্থ লাইন বিকল্প হবে
    • ● ভূপৃষ্ঠের সামরিক স্থাপনা হুমকির মুখে পড়লেও ভূগর্ভস্থ কমান্ড, যোগাযোগ ও গোলাবারুদ কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ কাজ চালিয়ে যাবে

    সব মিলিয়ে বার্তা স্পষ্ট: একাধিক স্তরের সুরক্ষা ও একাধিক পথ থাকলে চোকপয়েন্টকে ‘চোক’ করা অনেক কঠিন।

  • Lionel Messi Farewell Match: মেসি যুগের অবসান! গোল করলেন-করালেন, শেষ যুদ্ধেও বিজয়ী ফুটবলের রাজপুত্র

    Lionel Messi Farewell Match: মেসি যুগের অবসান! গোল করলেন-করালেন, শেষ যুদ্ধেও বিজয়ী ফুটবলের রাজপুত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষ বাঁশি বাজতেই মেসিকে (Lionel Messi Farewell Match) ঘিরে ধরলেন সতীর্থরা। রেফারি ও প্রতিপক্ষের ফুটবলাররাও এগিয়ে এসে শুভেচ্ছা জানালেন। এরই মাঝে মেসির সঙ্গে সেলফি তোলার আবদারও এল কয়েকজনের কাছ থেকে। আবেগঘন মুহূর্তে শেষ হল আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ। এই ম্যাচটা যে শুধুই আর পাঁচটা ফুটবল ম্যাচের মতো হত না, তা স্পষ্ট ছিল আগে থেকেই। আর এদিন বুয়েনস আইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টাল স্টেডিয়াম সেজেছিল আর্জেন্তিনার মহাতারকা লিওনেল মেসিকে বিদায় জানাতে। বেনিনের বিরুদ্ধে ফ্রেন্ডলি ম্যাচে শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামলেন আর্জেন্তিনার লিও মেসি। আর সেই আবেগঘন রাতে চোখের জল, গোল এবং সতীর্থদের ভালোবাসায় পূর্ণ হলো মেসির বিদায়।

    মনুমেন্টালে বিশেষ আয়োজন

    এদিন ভোরে ম্যাচ শুরুর আগেই মনুমেন্টালে ছিল বিশেষ আয়োজন। মাঠে তুলে ধরা হয় বিশাল ১০ নম্বরের জার্সি আর তাতে লেখা গ্রাসিয়াস। পাশাপাশি গ্যালারি ভরে গিয়েছিল আকাশি ও সাদা রঙে। উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টিনার প্রাক্তন তারকা দি মারিয়াও এবং ফ্রান্সের প্রাক্তন তারকা ডেভিড ত্রেজেগেকেও। এদিন তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও ও সিরোকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন লিও। ঠিক তখনই গোটা স্টেডিয়াম যেন আবেগে ভেসে যায়। জাতীয় সংগীত চলাকালীন চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি মেসি। পাশাপাশি আবেগে ভেসে যায় কোচ লিওনেল স্কালোনিও। পাশে দাঁড়িয়েছিলেন আরও এক বিদায়ী তারকা নিকোলাস ওতামেন্দি।

    মেসি-স্কালোনি মায়া

    আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগেই হয়ে গিয়েছিল। তা সত্ত্বেও দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে রাজকীয় বিদায়ের সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়নি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সেই মতো মঙ্গলবার (ভারতীয় সময় বুধবার ভোররাতে) বেনিনের বিরুদ্ধে শেষবারের জন্য নীল-সাদা জার্সিতে মাঠে নামেন মেসি। ম্যাচ শেষে মেসিকে বুকে টেনে নেন কোচ লায়োনেল স্কালোনি। সেসময় দু’জনের চোখই ছলছলে। আসলে গত কয়েক বছর এই জুটির হাত ধরেই একের পর এক সাফল্যের পথে হেঁটেছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তাই মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে আবেগাপ্লুত কোচ স্কালোনিও। মেসির নেতৃত্বে বিশ্বকাপ ও জোড়া কোপা আমেরিকা জয়ের স্বাদ পায় আর্জেন্তিনা। মার্কিন মুলুকে দল ফাইনালে পৌঁছালেও খেতাবি লড়াইয়ে স্পেনের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের। এরপরই বাবার মৃত্যুতে ভেঙে পড়েন লিও। তারই জেরে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন বাঁ পায়ের জাদুকর।

    মেসির পায়ে বল গর্জে উঠল মনুমেন্টাল

    খেলা শুরু হওয়ার পর মেসির পায়ে বল এলেই গর্জে ওঠে মনুমেন্টাল। সপ্তম মিনিটে বক্সের বাইরে সতীর্থের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে গোলের উদ্দেশ্যে শট নেন লিও। তবে বেনিনের গোলরক্ষক তা আটকে দেন। এরপর দশম মিনিটে ফের বিশেষ শ্রদ্ধা জানানো হয় মেসিকে। আতশবাজিতে আলোকিত হয়ে ওঠে গোটা স্টেডিয়াম। গ্যালারির প্রত্যেক দর্শক উঠে দাঁড়িয়ে পড়েন। বেঞ্চে থাকা দুই দলের কোচ ও ফুটবলাররাও উঠে দাঁড়িয়ে মেসিকে সম্মান জানিয়ে হাততালি দিতে থাকেন। ১০ নম্বর জার্সিধারী মেসিও সেই আবেগঘন মুহূর্ত উপভোগ করলেন। গ্যালারির দর্শকদের দিকে হাত নেড়ে তাঁদের অভিবাদন গ্রহণ করলেন তিনি। প্রথমার্ধে একাধিকবার আক্রমণে উঠে এলেও গোল পায়নি আর্জেন্টিনা। হাফটাইমের পর অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও ভালোভাবে নিজেদের হাতে নেয় আর্জেন্টিনা। মেসির বাড়ানো ক্রস থেকেই গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন নিকোলাস ওতামেন্দি। এই ম্যাচটি ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে ওতামেন্দির শেষ ম্যাচ। এরপর আর্জেন্তিনার দ্বিতীয় গোলটি আসে নিকো পাজের পা থেকে। ডান দিক থেকে ভিতরে ঢুকে দুরন্ত বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি।

    বিদায়ী ম্য়াচে গোল লিওনেল মেসির

    অবশেষে আসে ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ৬৯ মিনিটে আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পায়। এরপর বল বসিয়ে এগিয়ে লিও। তারপর নিখুঁত শটে ডানদিকের উপরের কোণ দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। এই গোলের সঙ্গে সঙ্গে আর্জেন্টিনার বাকি খেলোয়াড়রা ছুটে এসে ঘিরে ধরেন অধিনায়ককে। বিদায়ের এই ম্যাচে নিজের নামের আরও একটি গোল যোগ করলেন মেসি। লিওনেল মেসির ১২৬তম আন্তর্জাতিক গোল। মনুমেন্টালে উপস্থিত সমর্থকেরা যে আজ মেসির জন্য এসেছেন, এই মুহূর্তে তাঁদের আবেগ যেন সার্থক আতশবাজি, গান, চোখের জল আর মেসি- মেসি ধ্বনিতে শেষ হয় এক ঐতিহাসিক ম্যাচ। নীল-সাদা জার্সিতে দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের যাত্রার শেষ অধ্যায়ে মেসি রেখে গেলেন গোলের স্মৃতি।

    নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে কী বললেন মেসি

    ম্যাচ শেষের পর ড্রোন শো এবং সংগীতানুষ্ঠানের পর ফ্যান ও টিমমেটদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন লিওনেল মেসি। তিনি বলেন, “আমার ইচ্ছে করছে সারা জীবন খেলা চালিয়ে যেতে, কারণ আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাটাই সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি। গত বিশ্বকাপটা ছিল অসাধারণ। আমরা স্বপ্ন পূরণের খুব কাছাকাছি ছিলাম, খুবই কাছাকাছি। আমরা আমাদের সর্বস্ব দিয়েছি, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা আমাদের জন্য প্রচণ্ড চাপের ছিল। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর অনেক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব তৈরি হয়েছিল। আবেগগত এবং শারীরিক দিক থেকে আমরা আমাদের শেষ সীমায় পৌঁছে গিয়েছিলাম। আমরা সারাজীবন ধরে লড়াই করেছি। এতে কোনও সন্দেহ নেই যে আমি এবং আমার সকল সতীর্থ এই জার্সির জন্য সবসময় নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি।” মেসির কথায়, “সারাদেশে ঘুরে ঘুরে খেলার এই ব্যাপারটা আমি খুব মিস করব। আমরা যেখানেই গিয়েছি, প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি। এই সবকিছুর জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। এটা হয়তো আমার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন। কিন্তু, আমি এই প্রজন্মের সমর্থনে তোমাদের পাশে থাকব। আমরা সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকব। যখন আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি, তখন আমরা অন্য সবার চেয়ে শক্তিশালী। এমন কিছু লোক আছে যারা জাতীয় দলের সাফল্য দেখতে চায় না। আমাদের তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা একটি অসাধারণ দল ছিলাম, আর সে কারণেই আমরা যা জিতেছি তা জিতেছি।” মনুমেন্টালের গ্যালারি থেকে মহাতারকার জন্য তখন একটাই বার্তা, গ্রাসিয়াস লিও।

  • US House Honour Indian Pilot: ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা ঠেকানো ভারতীয় পাইলটকে সম্মান জানাতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

    US House Honour Indian Pilot: ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা ঠেকানো ভারতীয় পাইলটকে সম্মান জানাতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পিছন থেকে আসছিল একের পর এক আঘাত। প্রথমে ভেবেছিলেন, বিমানের বড় কোনও ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু পর পর আঘাত আসতেই বুঝতে পারেন, বিমানে কিছু হয়নি। ককপিটে তাঁর সঙ্গে যিনি আছেন, তিনি কিছু করছেন। এর পর সহকারী পাইলটকে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন ফ্লাইদুবায়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছার। কিন্তু মাথায় আঘাতের কারণে তাঁর চোখ ঝাপসা হয়ে যায়। প্রায় কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না। ফলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছিল। মনে মনে আওড়াচ্ছিলেন হনুমান চল্লিশা। হঠাতই সঞ্জীবনী মন্ত্রে তাঁর মাথায় কাজ করে উপস্থিত বুদ্ধি। কোনওরকমে খুলে দেন ককপিটের দরজা। বেঁচে যায় ১৭৪ জন বিমানযাত্রীর জীবন। ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা ঠেকিয়ে যাত্রীদের জীবন রক্ষায় অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দেন স্মিত। এবার, ভারতীয় পাইলটকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানাতে উদ্যোগী হল মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস।

    মার্কিন কংগ্রেসে সাহসিকতার পুরস্কার

    স্মিতের সাহসিকতার পাশাপাশি ফ্লাইটের ক্রু ও যাত্রীদের ভূমিকাকেও স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব আনা হয়েছে মার্কিন কংগ্রেসে। গত ৫ অক্টোবর কংগ্রেসম্যান জোশ গটহাইমার এইচ রেস ১৬১২ নামে প্রস্তাবটি হাউসে উত্থাপন করেন। এতে মাইকেল ম্যাককল এবং ডন বেকন সহ-প্রস্তাবক হিসেবে রয়েছেন। ৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রস্তাবটি হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও তা পূর্ণাঙ্গ হাউসে পাস হয়নি। প্রস্তাবটির শিরোনাম— ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার এবং ফ্লাইদুবাই ফ্লাইট ১০৭৩-এর ক্রু ও যাত্রীদের সম্মান জানানো এবং বিমানটিতে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার প্রচেষ্টার নিন্দা জানানো (Honouring Captain Smit Machchhar and the crew and passengers of Flydubai Flight 1073)।

    মাঝ আকাশে ককপিটে সন্ত্রাসী হামলা

    ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড়ে যায় ফ্লাইদুবাই ফ্লাইট ১০৭৩। বিমানে ছিলেন প্রায় ১৭৪ জন যাত্রী, যাঁদের মধ্যে ২৭ জন শিশু এবং চারজন মার্কিন নাগরিক ছিলেন। উড়ানের মাঝপথে বিমানের ফার্স্ট অফিসার বা সহকারী পাইলট ককপিটে ক্যাপ্টেন মচ্ছারের ওপর জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে হামলা করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর মাত্র ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে বিমানটি ১৪ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতা হারায়। পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয় এবং বিমানটি একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিল বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন মচ্ছার প্রতিরোধ চালিয়ে যান। একপর্যায়ে তিনি ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। তাঁর এই পদক্ষেপই পরিস্থিতি বদলে দেয়। বিমানে থাকা অফ-ডিউটি পাইলটরা ককপিটে ঢুকতে পারেন এবং কেবিন ক্রু ও যাত্রীরা মিলে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি। বিমানে থাকা সমস্ত যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে মাটিতে নামতে সক্ষম হন।

    ‘অসাধারণ সাহসিকতার’ প্রশংসা

    মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপিত প্রস্তাবে ক্যাপ্টেন মচ্ছারের সাহসিকতার বিশেষভাবে প্রশংসা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নিজের জীবন বিপন্ন করে তিনি বিমানে থাকা প্রত্যেক মানুষের জীবন রক্ষায় “অসাধারণ সাহসিকতা” দেখিয়েছেন। একই সঙ্গে অফ-ডিউটি পাইলট, কেবিন ক্রু এবং যাত্রীদেরও প্রশংসা করা হয়েছে। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই ককপিট সুরক্ষিত করা এবং বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করানো সম্ভব হয়েছিল।

    ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে চিহ্নিত

    ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে মার্কিন প্রস্তাবে। ৩ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে যে ফার্স্ট অফিসার বিমানটিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ক্যাপ্টেন মচ্ছারকে কুঠার দিয়ে আক্রমণ করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানানো হয়। তবে হামলার উদ্দেশ্য, ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি এবং এর সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মার্কিন হাউসের প্রস্তাবে ঘটনাটিকে “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” হিসেবে নিন্দা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তার ওপর এই হামলাকে গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও দ্রুত তদন্তের দাবি

    ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও দ্রুত তদন্তের জন্য সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের এই প্রস্তাব। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলকে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত রাখার কথাও বলা হয়েছে।

    গুরুতর আহত অবস্থাতেও হাল ছাড়েননি

    ঘটনার পর ক্যাপ্টেন মচ্ছারের সাহসিকতার আরও কিছু বিবরণ সামনে আসে। গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি বুঝতে পারেন, ককপিটের দরজা খুলতে পারলে অন্যরা সেখানে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি নিজেকে সামলে দরজার কাছে পৌঁছন এবং সেটি খুলতে সক্ষম হন। তাঁর এই সিদ্ধান্তই অন্যদের হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত বিমানটি ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়। হাসপাতালের শয্যা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলার সময় মচ্ছার সেই মুহূর্তের কথা জানান। আহত অবস্থাতেও কীভাবে নিজেকে উঠে দাঁড়িয়ে দরজার কাছে পৌঁছনোর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছিলেন, সেই অভিজ্ঞতার কথা তিনি তুলে ধরেন। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ক্যাপ্টেন মচ্ছার সুস্থ হয়ে উঠছেন। তাঁর সাহসিকতার জন্য ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের বিভিন্ন মহল থেকেও প্রশংসা এসেছে।

    আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথে ভারতীয় পাইলট

    ফ্লাইট ১০৭৩-এর ঘটনা শুধু একজন পাইলটের ব্যক্তিগত সাহসিকতার গল্প নয়। এটি আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে। একজন ভারতীয় ক্যাপ্টেন, অফ-ডিউটি পাইলট, কেবিন ক্রু এবং সাধারণ যাত্রীরা একসঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করে সম্ভাব্য বড় ধরনের প্রাণহানি রুখে দেন। মার্কিন কংগ্রেসের প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত হাউসে পাস হলে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের সাহসিকতা আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন কংগ্রেসের স্বীকৃতি পাবে। তবে সেই স্বীকৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত—গুরুতর আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন মচ্ছার হাল ছাড়েননি। তিনি ককপিটের দরজা পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। আর সেই কয়েক মুহূর্তের সাহসই ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন বাঁচানোর পথ খুলে দিয়েছিল।

LinkedIn
Share