Blog

  • ISRO privatisation: ইসরো কি বেসরকারি হাতে যাচ্ছে? সব জল্পনায় জল ঢেলে বড় বার্তা মহাকাশ গবেষণা সংস্থার

    ISRO privatisation: ইসরো কি বেসরকারি হাতে যাচ্ছে? সব জল্পনায় জল ঢেলে বড় বার্তা মহাকাশ গবেষণা সংস্থার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO) কি ধীরে ধীরে বেসরকারি সংস্থার হাতে চলে যাচ্ছে? মহাকাশ ক্ষেত্রে চলতে থাকা সংস্কারের জেরে কি ইসরোর গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে? এই ধরনের জল্পনা এবং রিপোর্টকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুল বলে সরাসরি খারিজ করল ইসরো। রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর এক সরকারি বিবৃতিতে দেশের শীর্ষ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইসরোকে বেসরকারিকরণ করা হচ্ছে না এবং ভবিষ্যতেও তার গুরুত্ব কমানো হবে না।

    ইসরোকে ঘিরে জল্পনা কেন?

    ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে গত কয়েক বছরে বেসরকারি সংস্থার প্রবেশ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। স্যাটেলাইট তৈরি, উৎক্ষেপণযান, প্রোপালশন সিস্টেম, গ্রাউন্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার থেকে শুরু করে মহাকাশ-ভিত্তিক পরিষেবা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখন বেসরকারি সংস্থা এবং স্টার্ট-আপগুলি কাজ করছে।

    এই পরিবর্তনের জেরে ইসরোর কর্মী এবং বিজ্ঞানীদের একাংশের মধ্যে সংস্থাটির ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল। বিশেষ করে ইসরোর পরিণত প্রযুক্তি শিল্পের হাতে তুলে দেওয়া, উৎপাদন ও কিছু পরিচালনমূলক দায়িত্ব বেসরকারি বা অন্যান্য সংস্থার হাতে দেওয়ার মতো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই ইসরোর এই স্পষ্টীকরণ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

    ‘ইসরোর ভূমিকা কমছে না’

    ইসরো জানিয়েছে, মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়ানোর অর্থ কোনওভাবেই ইসরোর ভূমিকা কমিয়ে দেওয়া নয়। বরং সরকারের মহাকাশ সংস্কারের মূল লক্ষ্য হল একটি বৃহত্তর, শক্তিশালী এবং বহুমুখী ভারতীয় মহাকাশ-ইকোসিস্টেম তৈরি করা। এই ব্যবস্থায় ইসরো, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা, স্টার্ট-আপ এবং শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিজেদের দক্ষতা অনুযায়ী একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে।

    ইসরোর বক্তব্য অনুযায়ী, উন্নত মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি বিকাশ, জাতীয় ও কৌশলগত মিশন, মহাকাশবিজ্ঞান ও অনুসন্ধান এবং গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাধুনিক মহাকাশ সক্ষমতা তৈরির ক্ষেত্রে ইসরোর মূল ভূমিকা অক্ষুণ্ণ থাকবে। অর্থাৎ, বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণকে ইসরোর বিকল্প হিসেবে নয়, বরং ভারতের সামগ্রিক মহাকাশ ক্ষমতা বাড়ানোর একটি মাধ্যম হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    কেন বেসরকারি সংস্থাকে দেওয়া হচ্ছে পরিণত প্রযুক্তি?

    এই সংস্কারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ম্যাচিওর বা পরিণত প্রযুক্তি শিল্পের হাতে তুলে দেওয়া। কোনও প্রযুক্তি যখন গবেষণা ও পরীক্ষার পর্যায় পেরিয়ে নির্ভরযোগ্য এবং বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের উপযোগী হয়ে ওঠে, তখন সেটি বেসরকারি শিল্পের মাধ্যমে আরও বেশি পরিমাণে তৈরি ও বাণিজ্যিকীকরণের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। ইসরোর যুক্তি, এর অর্থ সেই প্রযুক্তির ক্ষেত্র থেকে সংস্থা সরে যাচ্ছে না।

    বরং বেসরকারি সংস্থা উৎপাদন, বিনিয়োগ, বাণিজ্যিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছনোর কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। অন্যদিকে ইসরোর বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদরা নিজেদের আরও বেশি সময় দিতে পারবেন নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি এবং এখনও গবেষণার সীমান্তে থাকা জটিল মহাকাশ প্রকল্পে। সহজ কথায়, পুরনো ও পরিণত প্রযুক্তির বৃহৎ উৎপাদনের দায়িত্ব শিল্পের হাতে দিয়ে ইসরো আরও উন্নত প্রযুক্তির গবেষণায় মনোনিবেশ করতে চাইছে।

    ২০২০ থেকেই শুরু মহাকাশ ক্ষেত্রে বড় সংস্কার

    ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের সূচনা হয় ২০২০ সালে। এরপর Indian Space Policy 2023-এর মাধ্যমে সংস্কারের কাঠামো আরও স্পষ্ট ও প্রাতিষ্ঠানিক করা হয়। পাশাপাশি বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বা FDI-এর নিয়মও শিথিল করা হয়েছে। এই নীতির মাধ্যমে মহাকাশ ক্ষেত্রের প্রায় গোটা ভ্যালু চেনেই বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

    এর মধ্যে রয়েছে—

    • ● স্যাটেলাইট তৈরি
    • ● উৎক্ষেপণযান নির্মাণ
    • ● প্রোপালশন প্রযুক্তি
    • ● গ্রাউন্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার
    • ● মহাকাশ-ভিত্তিক পরিষেবা
    • ● পৃথিবী পর্যবেক্ষণ
    • ● যোগাযোগ ব্যবস্থা
    • ● মহাকাশ প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহার

    ইসরোর ভাষায়, এই পরিবর্তনকে ‘বেসরকারিকরণ’ নয়, বরং ‘ইকোসিস্টেম সম্প্রসারণ এবং সক্ষমতার বহুগুণ বৃদ্ধি’ হিসেবে দেখা উচিত।

    ২০২০-তে হাতে গোনা স্টার্ট-আপ, এখন ৪৫০-এর বেশি

    সংস্কারের ফলে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোগের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ইসরোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশে মহাকাশ ক্ষেত্রে স্টার্ট-আপের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। বর্তমানে সেই সংখ্যা ৪৫০-এর বেশি। এই সংস্থাগুলি উৎক্ষেপণযান, স্যাটেলাইট, প্রোপালশন, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, যোগাযোগ এবং বিভিন্ন মহাকাশ-ভিত্তিক পরিষেবা নিয়ে কাজ করছে। এর ফলে ভারতীয় মহাকাশ ক্ষেত্র এখন শুধুমাত্র সরকারি গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি বড় শিল্প ও প্রযুক্তি ইকোসিস্টেমে পরিণত হচ্ছে।

    কৌশলগত পরিকাঠামো থাকবে সরকারের নিয়ন্ত্রণেই

    তবে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়লেও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ও কৌশলগত সক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনও আপস করা হচ্ছে না বলে ইসরো স্পষ্ট করেছে। সংস্থার বক্তব্য, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাকাশ পরিকাঠামো এবং কৌশলগত সক্ষমতার মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতেই থাকবে।

    কিছু ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাকে পরিষেবা বা পরিচালনমূলক কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও তা জাতীয় নিরাপত্তা, নিরাপত্তা বিধি এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অধীনেই হবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একদিকে যেমন বেসরকারি বিনিয়োগ ও দক্ষতাকে কাজে লাগানো হবে, অন্যদিকে দেশের কৌশলগত মহাকাশ সক্ষমতার উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।

    ইসরোর কর্মীদেরও বার্তা

    ইসরোর এই বিবৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সংস্থার কর্মী ও বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তা। সংস্কারের ফলে ইসরোর দায়িত্ব ধীরে ধীরে কমে যাবে এবং বেসরকারি সংস্থাগুলি সেই জায়গা দখল করবে—এমন আশঙ্কা যে তৈরি হয়েছিল, তা দূর করার চেষ্টা করেছে ইসরো। বরং সংস্থার বক্তব্যের সারমর্ম হল—বেসরকারি শিল্প যত বেশি পরিণত প্রযুক্তির উৎপাদন ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা সামলাবে, ইসরো তত বেশি মনোযোগ দিতে পারবে কঠিন, কৌশলগত এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির গবেষণায়।

    আসলে ‘ইসরোর জায়গা নেওয়া’ নয়, ‘ইসরোর কাজের পরিধি বাড়ানো’

    বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভারতের মহাকাশ সংস্কারের লক্ষ্য মূলত সরকারি সংস্থাকে সরিয়ে দেওয়া নয়। বরং ইসরোর গবেষণা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে দেশের শিল্পশক্তি, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেমকে যুক্ত করা। এর ফলে ইসরোর সামনে আরও জটিল মহাকাশ অভিযান, উন্নত উৎক্ষেপণ প্রযুক্তি, মহাকাশ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রযুক্তি তৈরির সুযোগ বাড়তে পারে।

    একই সঙ্গে শিল্পের মাধ্যমে পরিণত প্রযুক্তির উৎপাদন বাড়লে ভারতের বাণিজ্যিক মহাকাশ বাজারও দ্রুত সম্প্রসারিত হতে পারে। তাই ইসরোর সাম্প্রতিক বার্তাটি মূলত একটি বিষয় পরিষ্কার করছে—ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু তার অর্থ ইসরোর অবসান বা বেসরকারিকরণ নয়। বরং লক্ষ্য হল ইসরোকে তার মূল গবেষণা ও কৌশলগত দায়িত্বে আরও বেশি মনোনিবেশ করার সুযোগ দিয়ে গোটা ভারতীয় মহাকাশ ব্যবস্থাকে আরও বড় করে তোলা।

  • Nadimul Haque ED Raid: তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ নাদিমুল হকের ৭ ঠিকানায় ইডি, তদন্তের কেন্দ্রে বেআইনি লেনদেন

    Nadimul Haque ED Raid: তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ নাদিমুল হকের ৭ ঠিকানায় ইডি, তদন্তের কেন্দ্রে বেআইনি লেনদেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার সকালেই কলকাতা থেকে দিল্লি, এমনকী রাঁচিতেও একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। অভিযানের কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হক। ইডি সূত্রে খবর, বেআইনি আর্থিক লেনদেন, হিসাব-বহির্ভূত টাকা লেনদেন এবং সন্দেহজনক উৎস থেকে অর্থের জোগানের অভিযোগের তদন্তেই এই অভিযান।

    কলকাতা, দিল্লি ও রাঁচিতে একযোগে অভিযান

    তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, নাদিমুল হকের সঙ্গে যুক্ত মোট সাতটি ঠিকানায় এদিন তল্লাশি চালানো হয়। কলকাতার পার্ক সার্কাস, দিল্লির একাধিক ঠিকানা এবং রাঁচির একটি ঠিকানাও রয়েছে এই তালিকায়। তাঁর সঙ্গে যুক্ত উর্দু সংবাদপত্রের দফতর এবং তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কাজকর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি জায়গাতেও ইডির আধিকারিকরা পৌঁছন।

    কলকাতায় পার্ক সার্কাসের ১২, দরগা রোডে অবস্থিত ‘আখবার-এ-মাশরিক প্রাইভেট লিমিটেড’-এর দফতরে সকালে ইডির একটি দল যায়। দফতরটি তালাবন্ধ থাকলেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে তদন্তকারীরা সেখানে প্রবেশ করেন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অফিসের বিভিন্ন নথি, আর্থিক কাগজপত্র এবং লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হয়।

    সংবাদপত্রের আর্থিক লেনদেন নিয়ে নজর

    ইডি সূত্রের দাবি, ওই উর্দু সংবাদপত্রের দফতর থেকে একাধিক আর্থিক লেনদেন হয়েছে। তার মধ্যে কিছু লেনদেনের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে খবর।

    কোন উৎস থেকে টাকা এসেছে, কার সঙ্গে কী উদ্দেশ্যে আর্থিক লেনদেন হয়েছে এবং প্রতিটি লেনদেনের পক্ষে যথাযথ নথি রয়েছে কি না—মূলত এই বিষয়গুলিই তদন্তকারীদের নজরে বলে জানা গিয়েছে। বেনামি বা সন্দেহজনক উৎস থেকে কোনও বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    দিল্লিতেও নাদিমুল হকের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি

    কলকাতার পাশাপাশি দিল্লিতেও তল্লাশি চালায় ইডি। রাজধানীর ৬১, সাউথ অ্যাভিনিউয়ে নাদিমুল হকের একটি অফিস রয়েছে। ওই দফতর তৃণমূল কংগ্রেসের দিল্লিকেন্দ্রিক সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কাজকর্মে ব্যবহৃত হয় বলে জানা যায়। সোমবার সকাল থেকেই সেখানে ইডির আধিকারিকরা নথিপত্র পরীক্ষা করেন।

    এর পাশাপাশি দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদের সরকারি বাংলোতেও তদন্তকারীরা পৌঁছন বলে সূত্রের খবর। তাঁর বিভিন্ন দফতর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, সেই বিষয়টিই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে জানা গিয়েছে।

    তল্লাশির সময় বেশ কিছু নথি এবং আর্থিক রেকর্ড পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানা গেলেও, অভিযানের শেষে ঠিক কী কী নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও ইডির তরফে বিস্তারিত কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    বিধাননগর থানার মামলার সূত্রেই তদন্ত?

    ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধাননগর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার ভিত্তিতেই এই তদন্তের সূত্রপাত। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট একটি এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট বা ECIR দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে বলে খবর।

    অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বেআইনি আর্থিক লেনদেন, হিসাব-বহির্ভূত লেনদেন এবং সন্দেহজনক উৎস থেকে অর্থের জোগান। সেই সূত্র ধরে নাদিমুল হকের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তি, সংস্থা ও সম্পত্তির আর্থিক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।

    ফের সক্রিয় ইডি, নজরে একাধিক আর্থিক মামলা

    সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক আর্থিক অনিয়ম এবং অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্তে ফের সক্রিয় হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তারই মধ্যে নাদিমুল হকের একাধিক ঠিকানায় এই তল্লাশি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

    এর আগে রবিবার সকালে উত্তর কলকাতায় স্টক ট্রেডিং এবং মানি মার্কেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যবসায়ী পরিবারের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। ওই অভিযানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পরিবর্তে কলকাতা পুলিশের কর্মীরা ইডির আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ইডির পূর্বাঞ্চলীয় দফতরের একটি দল প্রথমে ফুলবাগান থানায় যায়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে তদন্তকারীরা ফুলবাগান থানার পুলিশকর্মীদের সঙ্গে কাঁকুড়গাছির ‘শিবম’ ভবনে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেন।

    ২৯০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির মামলাতেও তল্লাশি

    অন্যদিকে, প্রায় ২৯০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ঋণ জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তেও গত ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়েছিল ইডি। অভিযোগ রয়েছে, ঝাড়খণ্ডে ৬৬ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থা বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছিল।

    তদন্তকারীদের অভিযোগ, ঋণের একটি অংশ নির্দিষ্ট প্রকল্পে ব্যবহার না করে অন্য গ্রুপ সংস্থা এবং ব্যক্তিগত কাজে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই অর্থপাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।

    রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে কৌতূহল

    নাদিমুল হকের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিগত ঠিকানা, সংবাদপত্রের দফতর এবং তৃণমূলের রাজনৈতিক কাজকর্মে ব্যবহৃত অফিস—একাধিক জায়গা এই তদন্তের আওতায় আসায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সংবাদপত্রের দফতর থেকে হওয়া আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

    তবে এখনও পর্যন্ত ইডির তল্লাশি থেকে কী কী তথ্য বা নথি পাওয়া গিয়েছে, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। একইভাবে, তদন্তের ভিত্তিতে নাদিমুল হক বা অন্য কোনও ব্যক্তি কিংবা সংস্থার বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ করা হবে, সেটিও স্পষ্ট নয়।

    এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নাদিমুল হকও প্রকাশ্যে কোনও বক্তব্য দেননি। ফলে ইডির অভিযোগ, তল্লাশিতে পাওয়া তথ্য এবং তদন্তের পরবর্তী গতিপথ সম্পর্কে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর অবকাশ নেই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আনুষ্ঠানিক বিবৃতির দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

  • Mohan Bhagwat: “বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য, ভিন্নতাকে সম্মান করাই ভারতীয় সভ্যতার মূল কথা”, লন্ডনে বললেন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য, ভিন্নতাকে সম্মান করাই ভারতীয় সভ্যতার মূল কথা”, লন্ডনে বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতের সভ্যতাগত পরিচয়ের মূলে রয়েছে বৈচিত্র্য ও ঐক্যের সহাবস্থান। মানুষের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তাকে সম্মান করা উচিত। কারণ এই বৈচিত্র্য আসলে একই অন্তর্নিহিত ঐক্যের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ।” রবিবার লন্ডনে আয়োজিত ‘একাত্মতা উদ্‌যাপন’ অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)।

    তিনি বলেন, বৈচিত্র্য স্বাভাবিক বিষয়। তাই মানুষের মধ্যে কী কী পার্থক্য রয়েছে, তার বদলে কোন বিষয়গুলি তাঁদের একসূত্রে বাঁধে, সেদিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, “হিন্দু সভ্যতা সবসময় এই উপলব্ধির উপর প্রতিষ্ঠিত যে, অস্তিত্ব মূলগতভাবে এক, যদিও তা বিভিন্ন রূপে প্রকাশিত হয়। বৈচিত্র্য স্বাভাবিক; এই পার্থক্যগুলি একই অন্তর্নিহিত ঐক্যের বিভিন্ন প্রকাশ বা অলংকারমাত্র।”

    ভারতের অগ্রগতির সঙ্গে শান্তির সম্পর্ক (Mohan Bhagwat)

    ভারতের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন ভাগবত। তাঁর দাবি, ভারত এগিয়ে গেলে স্বৈরশাসন বা যুদ্ধের জন্ম হয় না। বরং ভারতের অগ্রগতি শান্তি, সমৃদ্ধি, আনন্দ এবং ভ্রাতৃত্বের বার্তা বহন করে।

    ভাগবত বলেন, “ভারত এগিয়ে গেলে কখনও কোনও স্বৈরশাসকের সৃষ্টি হয় না। ভারত এগিয়ে গেলে কখনও কোনও যুদ্ধ শুরু হয় না। ভারত সমগ্র মানবজাতির মধ্যে শান্তি, আনন্দ, সমৃদ্ধি ও ভ্রাতৃত্ব এবং প্রকৃতির সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলে।”

    তাঁর মতে, শাসক, সরকার কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থা সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে, কিন্তু জাতি হিসেবে ভারতের অস্তিত্ব অব্যাহত থেকেছে।

    তিনি বলেন, “কখনও আমাদের প্রজাতন্ত্র ছিল। কখনও আমরা অন্যদের শাসনের অধীনে ছিলাম। কখনও স্বাধীনতার জন্য আমরা দীর্ঘ সংগ্রাম করেছি। কিন্তু সবসময়ই আমরা একটি জাতি হিসেবে ছিলাম।”

    হিন্দু রাষ্ট্র’ সম্পর্কে আরএসএসের অবস্থান ব্যাখ্যা

    ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ভাগবত বলেন, এই শব্দবন্ধকে শুধুমাত্র একটি রাষ্ট্রের ধারণা হিসেবে দেখলে হবে না।

    তিনি বলেন, “রাষ্ট্র মানেই জাতি নয়। রাষ্ট্রের প্রথমেই একটি উদ্দেশ্য থাকে। হিন্দু রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য কী? বিশ্বের কাছে এই সত্য তুলে ধরা যে বৈচিত্র্য স্বাভাবিক এবং ঐক্যই সত্য। এতে সমগ্র বিশ্বেরই কল্যাণ হবে।”

    ভাগবতের বক্তব্য, হিন্দু পরিচয়কে শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের সংকীর্ণ অর্থে দেখলে হবে না। এটি একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত ধারণা।

    তিনি (Mohan Bhagwat) বলেন, “হিন্দু মূলত একটি সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত পরিচয়—জীবন, অস্তিত্ব এবং বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে বোঝার একটি পদ্ধতি।”

    ঐক্যের জন্য একরূপতা জরুরি নয়

    ঐক্য মানেই যে সকলকে একই রকম হতে হবে, এমন ধারণাও খারিজ করেন ভাগবত। তাঁর মতে, বৈচিত্র্য বজায় রেখেই ঐক্য সম্ভব।

    তিনি বলেন, “সকলকে একরকম করে দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা আমাদের নেই, কারণ ঐক্যের জন্য একরূপতা অপরিহার্য নয়। আমাদের সভ্যতাগত উপলব্ধি হল বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য—আমরা বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করি (RSS)।”

    সব পথকেই স্বীকৃতি দেয় হিন্দু চিন্তা

    হিন্দু চিন্তাধারা কোনও একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় পথ অনুসরণ করার জন্য মানুষকে বাধ্য করে না এবং অন্যদের ধর্মান্তরিত করারও চেষ্টা করে না বলে দাবি করেন ভাগবত।

    তিনি বলেন, “আমরা যখন ‘হিন্দু’ বলি, তখন সংকীর্ণ অর্থে কোনও একটি ধর্মকে বোঝাই না। হিন্দুদের মধ্যে বহু ধর্মীয় ধারা ও পরম্পরা রয়েছে, কিন্তু অন্তর্নিহিত হিন্দু চিন্তা সব পথকেই গ্রহণ করে।”

    তাঁর বক্তব্য, একই সত্যে পৌঁছনোর জন্য মানুষের বিভিন্ন পথ থাকতে পারে এবং হিন্দু চিন্তাধারা সেই সহাবস্থানকে স্বীকৃতি দেয়।

    ভাগবত বলেন, “আমরা যখন বলি হিন্দু কোনও ধর্ম নয়, তার অর্থ এই নয় যে হিন্দু ধর্ম থাকতে পারে না। হিন্দু ধর্ম বলে, অন্যান্য ধর্মগুলিও সত্য।”

    প্রকৃতির প্রতিও হিন্দু জীবনদর্শনে গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “একজন হিন্দু পরিবার, সম্প্রদায়, সমাজ এবং মানবতার সঙ্গে যুক্ত। একজন হিন্দু শুধু উপাসনা করে না, প্রকৃতিকেও ভালোবাসে।”

    বিভাজনের বদলে ঐক্যের জায়গাগুলিতে জোর দেওয়ার আহ্বান

    মানুষ একে অপরকে শত্রু হিসেবে দেখা বন্ধ করলে সংঘাত অনেক বেশি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন ভাগবত।

    তিনি (Mohan Bhagwat) বলেন, “অন্যকে সীমাবদ্ধ করা বা জয় করার চেষ্টা না করে আমাদের উপলব্ধি করা উচিত যে, শেষ পর্যন্ত আমরা সকলেই একই বিষয়গুলি অর্জন করতে চাই। তাই প্রশ্ন হওয়া উচিত অন্যকে কীভাবে পরাজিত করা যায়, তা নয়; বরং কীভাবে আমরা সবাই একসঙ্গে সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারি, তা।”

    সমাজের প্রতি তাঁর আহ্বান, মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে এমন বিষয়গুলির পরিবর্তে যে বিষয়গুলি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে, সেগুলিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

    ভাগবত বলেন, “যে বিষয়গুলি আমাদের বিভক্ত করে, তার পরিবর্তে যে বিষয়গুলি আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে, সেগুলির উপর গুরুত্ব দিন (RSS)।”

    ব্রিটিশ হিন্দুদের আনুগত্য নিয়ে ভাগবতের বক্তব্য

    ব্রিটেনে বসবাসকারী হিন্দুদের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য রাখেন ভাগবত। তাঁর মতে, একজন মানুষ যে দেশে বসবাস ও কাজ করেন, সেই দেশের প্রতি তাঁর আনুগত্য থাকা স্বাভাবিক।

    তিনি বলেন, “এখানে কোনও সংঘাত নেই। যদি কখনও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তাহলে এটা স্পষ্ট যে ব্রিটিশ হিন্দু ব্রিটেনের পক্ষেই থাকবে।”

    এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আপনার কর্মভূমি যেখানে, আপনার আনুগত্যও সেখানে; আর জন্মভূমি সেই জায়গা, যেখানে আপনি আপনার মূল্যবোধ পেয়েছেন।”

    তরুণ প্রজন্ম নিয়ে আশাবাদী ভাগবত

    ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রসঙ্গেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভাগবত। তাঁর মতে, সমাজকে আরও ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার তাগিদ তরুণদের মধ্যে রয়েছে এবং সেই কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর তাঁর আস্থা ক্রমশ বাড়ছে।

    তিনি বলেন, “আমি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর আরও বেশি আস্থা রাখি, কারণ এই পৃথিবীকে আরও ভালো জায়গায় পরিণত করার তাগিদ তাদের মধ্যে রয়েছে। তাদের লক্ষ্য দিন, পদ্ধতি নয়। তারা দ্রুত সর্বজনীন নৈতিকতা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করবে।”

    সমাজের সেবা করতে হলে সেই কাজে এগিয়ে আসার মানসিকতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি (Mohan Bhagwat)। তাঁর মতে, তরুণ প্রজন্ম সামাজিক বিভাজন অতিক্রম করে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে সক্ষম।

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে বিদেশে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বর্তমানে ব্রিটেনে রয়েছেন ভাগবত। আজ, ৭ সেপ্টেম্বরই শেষ হবে তাঁর (Mohan Bhagwat) লন্ডন সফর।

  • Swaminarayan Temple: ‘নয়া উচ্চতায় ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক’, প্যারিসের স্বামীনারায়ণ মন্দির উদ্বোধনে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    Swaminarayan Temple: ‘নয়া উচ্চতায় ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক’, প্যারিসের স্বামীনারায়ণ মন্দির উদ্বোধনে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ফ্রান্সের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়া উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব দুই দেশের জন্যই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ (Swaminarayan Temple)।

    রবিবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্যারিসে স্বামীনারায়ণ মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্যারিসের এই নতুন মন্দির দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দাঁড়িয়ে থাকবে।

    ভারত ও ফ্রান্সের সম্পর্ক (Swaminarayan Temple)

    তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত ও ফ্রান্সের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমার বন্ধু রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল মাক্রঁর সঙ্গে আমরা দুই দেশ মিলে একটি বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছি।”

    প্রযুক্তি, এআই, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত ও ফ্রান্স নতুন গতি ও শক্তি নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে চলেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৬ সালকে দুই দেশ উদ্ভাবনের ভারত-ফ্রান্স বর্ষ হিসেবে উদযাপন করছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আমাদের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।”

    ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়েও বর্তমানে ব্যাপক আলোচনা চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্রান্সে ভারতীয় সেনাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস আজও সেখানকার মানুষের হৃদয়ে জীবন্ত (Swaminarayan Temple)। ফরাসি পণ্ডিতদের সংস্কৃত জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। রোমাঁ রোলাঁর রামকৃষ্ণ পরমহংস ও স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে লেখা দুই দেশের সমাজকে আরও কাছাকাছি এনেছিল বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

    ‘মা’-এর আধ্যাত্মিক যাত্রা

    তিনি আরও বলেন, প্যারিস থেকে পুদুচেরির শ্রীঅরবিন্দ আশ্রম পর্যন্ত ‘মা’-এর আধ্যাত্মিক যাত্রা অসংখ্য ভারতীয় ও ফরাসি সাধক-অনুসন্ধানীকে অনুপ্রাণিত করেছে। কয়েক দশক আগে শ্রীল প্রভুপাদ স্বামীও ফ্রান্স সফর করেছিলেন। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের মাধ্যমে তাঁর সেই সফর ভারত ও ফ্রান্সের আধ্যাত্মিক যোগাযোগে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল বলে জানান মোদি।

    যোগও দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে আইফেল টাওয়ারের সামনে যোগচর্চার ছবি ফ্রান্সে যোগের বিপুল জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    প্যারিসের স্বামীনারায়ণ মন্দিরকে ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ সাংস্কৃতিক সম্পর্কের নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই মন্দির ভারতে নির্মিত এবং ফ্রান্সে প্রতিষ্ঠিত। এর বহু পাথর ভারতে খোদাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের প্রাচীন কারুশিল্পের সঙ্গে ফ্রান্সের আধুনিক প্রযুক্তির এক সুন্দর সমন্বয় ঘটেছে।”

    ভারতীয় সংস্কৃতির মূল্যবোধের বার্তা

    নবনির্মিত এই মন্দির থেকে ভারতীয় সংস্কৃতির যে মূল্যবোধের বার্তা ছড়িয়ে পড়বে, তা সমগ্র ইউরোপের মানুষের উপকারে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। ভবিষ্যতে সময়-সুযোগ হলে তিনি নিজে মন্দিরটি পরিদর্শন করে শ্রদ্ধা জানাবেন বলেও জানান মোদি।

    তিনি বলেন, “এই মহিমান্বিত বিএপিএস মন্দিরের মাধ্যমে আমাদের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যুক্ত হল।”

    স্বামীনারায়ণ মন্দিরগুলি বরাবরই ভক্তির পাশাপাশি সমাজসেবার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্যারিসের মন্দিরটিও একইভাবে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক প্রকল্পের কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে বিএপিএসের মন্দির প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের প্রাচীন চিন্তাধারা ও মানবিক মূল্যবোধও সেখানে পৌঁছে যায় (Swaminarayan Temple)।

    প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “আজ ফ্রান্সে একটি মহিমান্বিত মন্দির প্রস্তুত হয়েছে। এটি শুধু ফ্রান্সের বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে না, ভারত ও ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককেও নতুন শক্তি দেবে।”

     

  • Suvendu Adhikari: ৯ সেপ্টেম্বর গোলপার্ক থেকে যাদবপুর ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র ডাক শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ৯ সেপ্টেম্বর গোলপার্ক থেকে যাদবপুর ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র ডাক শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে যাদবপুর। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর, বুধবার, গোলপার্ক থেকে যাদবপুর ৮বি পর্যন্ত ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র ডাক দেওয়া হয়েছে। এই মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন বিজেপি নেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    রাখি পূর্ণিমার বিকেলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে যাদবপুর থানা পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে ‘১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম’ গাওয়ার কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক একাধিক বিতর্কিত ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতেও উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু।

    ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ (Suvendu Adhikari)

    এবার দ্বিতীয় দফায় ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র (Gerua Samman Yatra) ডাক দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক থেকে শুরু হয়ে ঢাকুরিয়া হয়ে যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে পৌঁছবে মিছিল। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জাতীয়তাবাদী চিন্তাভাবনা এবং প্রশাসনিক নজরদারি আরও জোরদার করার বার্তা দিতেই এই কর্মসূচি বলে দাবি আয়োজকদের।

    রাখির দিনের কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু তৃণমূল কংগ্রেসের পাশাপাশি পূর্বতন বাম শাসনকেও নিশানা করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, কমিউনিস্টদের আমলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কিংবা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছবি স্থান পেত না। তাঁর দাবি, সেই সময় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ‘তোজোর কুকুর’ এবং রবীন্দ্রনাথকে ‘বুর্জোয়া কবি’ বলা হয়েছিল।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলগুলিতে ভয় দেখানোর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “এখানকার ৯০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী রাষ্ট্রবাদী ও দেশপ্রেমিক। অথচ চে গেভারার গেঞ্জি পরা কিছু গোষ্ঠী রানাঘাটের পড়ুয়ার মতো পরিণতি করার হুমকি দিয়ে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের জোর করে মিছিলে নিয়ে যায়। তৃণমূলের ২৬ হাজার চাকরি চুরি কিংবা পিএসসি-এসএসসি দুর্নীতি নিয়ে তাদের মুখে স্লোগান নেই, তাদের মুখে একটাই স্লোগান— ‘আজাদি’!”

    ফায়দা লোটার ধান্ধা!

    তৃণমূল জমানার সমালোচনা করতে গিয়ে যাদবপুরের বহুচর্চিত স্বপ্নদীপের অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “র‌্যাগিংয়ের প্রতিবাদে আমি যখন এখানে এসেছিলাম, আমার গাড়ির ওপর লাফিয়ে পড়ে মাওবাদী পরিচয় দিয়ে আমাকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন পুলিশমন্ত্রী ফোন করে গ্রেফতার হওয়া দুই মাওবাদীকে ছাড়িয়ে দেন। তৃণমূল ও বামেদের এই গোপন বোঝাপড়ার উদ্দেশ্য ছিল একটাই— নির্বাচনে ‘নো ভোট টু বিজেপি’ স্লোগান তুলে তার ফায়দা লোটা।”

    গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত প্রস্তাবিত মিছিলে সাধারণ মানুষকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। রবিবার ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ নিয়ে একটি পোস্ট প্রকাশ্যে আসে। সেখানে জানানো হয়েছে, ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেল ৩টেয় মিছিল শুরু হবে। গোলপার্ক থেকে শুরু হয়ে মিছিল শেষ হবে যাদবপুরে গিয়ে।

    আয়োজকদের বক্তব্য, গেরুয়া শুধুমাত্র একটি রং নয়, এটি ত্যাগ, আত্মনিবেদন এবং সনাতন ঐতিহ্যের প্রতীক। সেই গেরুয়া রঙের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং তার তাৎপর্য নতুন করে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি। এর আগে একাধিকবার শুভেন্দু জানিয়েছেন, গেরুয়া রংকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। কয়েক দিন আগে একটি সংবাদপত্রে ‘গেরুয়া তাণ্ডব’ শব্দবন্ধের ব্যবহার নিয়েও তিনি তীব্র আপত্তি জানান। তাঁর মতে, গেরুয়ার সঙ্গে ‘তাণ্ডব’ শব্দ জুড়ে দেওয়া হলে গেরুয়ার মাহাত্ম্যই খাটো করা হয়।

    তবে ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র পিছনে আরও একটি উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। গোলপার্ক থেকে মিছিল শুরু করে যাদবপুরে শেষ করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক অশান্তির বিরুদ্ধে সরাসরি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে তাদের মত।

    ‘প্রতিষ্ঠিত’ হচ্ছে রাষ্ট্রবাদ

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দেশবিরোধিতা’র সুরের বিরুদ্ধে সরব হয়ে সেখানে ‘রাষ্ট্রবাদ’ প্রতিষ্ঠার কথা আগেই বলেছিলেন শুভেন্দু। সেই অবস্থানেরই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। শনিবার ক্যাম্পাসের দেওয়াল থেকে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির একাধিক স্লোগান মুছে তার জায়গায় রাষ্ট্রবাদী স্লোগান লিখেছেন গেরুয়াপন্থী ছাত্ররা।

    ফলে আগামী সপ্তাহে গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ (Gerua Samman Yatra) শুধুমাত্র একটি মিছিল নয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবাদী রাজনৈতিক অবস্থান আরও দৃঢ় করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে এই কর্মসূচিকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে রাজনৈতিক উত্তাপ কতটা বাড়ে, এখন সেটাই দেখার (Suvendu Adhikari)।

     

  • World Map: বদলে যাচ্ছে বিশ্বের মানচিত্র! আফ্রিকা যে গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে ১৪ গুণ বড়, দেখাবে নয়া মানচিত্র

    World Map: বদলে যাচ্ছে বিশ্বের মানচিত্র! আফ্রিকা যে গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে ১৪ গুণ বড়, দেখাবে নয়া মানচিত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমরা ছোটবেলা থেকে যে বিশ্বমানচিত্র দেখে অভ্যস্ত, বাস্তব পৃথিবীর সঙ্গে তার অনেকটাই পার্থক্য রয়েছে (World Map)। বিশেষ করে দেশ ও মহাদেশের প্রকৃত আয়তন সম্পর্কে প্রচলিত মানচিত্র অনেক সময় বিভ্রান্তিকর ছবি তুলে ধরে (India)। সেই সমস্যা কাটাতেই বহুল ব্যবহৃত মারকেটর মানচিত্রের পরিবর্তে ‘ইক্যুয়াল আর্থ’ অভিক্ষেপ ব্যবহারের উদ্যোগকে সমর্থন করেছে রাষ্ট্রসংঘ।

    পৃথিবী গোলাকার, কিন্তু মানচিত্র সমতল। ফলে গোল পৃথিবীকে সমতল কাগজে তুলে ধরতে গেলে কোনও না কোনও ক্ষেত্রে বিকৃতি ঘটবেই। ১৫৬৯ সালে ফ্লেমিশ মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মারকেটর তৈরি করেছিলেন তাঁর বিখ্যাত মানচিত্র-অভিক্ষেপ। মূলত সমুদ্রপথে নৌচলাচলের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এটি তৈরি হয়েছিল। নির্দিষ্ট কম্পাস-দিক বরাবর যাত্রাপথকে সরলরেখায় দেখানো যেত বলে নাবিকদের কাছে এই মানচিত্র বিশেষ কার্যকর ছিল (India)।

    কিন্তু এর একটি বড় সমস্যা হল, উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর দিকে যেতে যেতে ভূখণ্ডের আকার অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে দেখা যায়। ফলে উচ্চ অক্ষাংশে অবস্থিত দেশ ও অঞ্চল বাস্তবের তুলনায় অনেক বেশি বড় বলে মনে হয়।

    আফ্রিকা কি সত্যিই গ্রিনল্যান্ডের মতো ছোট? (World Map)

    প্রচলিত মারকেটর মানচিত্রের সবচেয়ে পরিচিত বিভ্রান্তিগুলির একটি হল আফ্রিকা ও গ্রিনল্যান্ডের তুলনা। মানচিত্রে দুটিকে প্রায় একই আকারের বলে মনে হতে পারে। অথচ বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়।

    একই ধরনের বিকৃতি রাশিয়া, কানাডা, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার ক্ষেত্রেও দেখা যায়। উচ্চ অক্ষাংশে অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলগুলিকে বাস্তবের তুলনায় বড় দেখায়। অন্যদিকে বিষুবরেখার কাছাকাছি থাকা আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার মতো অঞ্চল তুলনামূলকভাবে ছোট দেখায়।

    ভারতের ক্ষেত্রেও পার্থক্য রয়েছে। ইক্যুয়াল আর্থ মানচিত্রে ভারতকে প্রচলিত মানচিত্রের তুলনায় সামান্য বড় দেখা যায়।

    কেনিয়ার ভূগোলবিদ কিয়োকো মুয়েন্দো বিবিসিকে বলেন, “মানচিত্র শুধু স্থান খুঁজে বের করার উপকরণ নয়। এগুলি কোনও অঞ্চলকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে কীভাবে দেখা হবে, সেই ধারণাকেও প্রভাবিত করে।”

    কী এই ইক্যুয়াল আর্থ মানচিত্র?

    ২০১৮ সালে একদল মানচিত্রবিদ ইক্যুয়াল আর্থ অভিক্ষেপ তৈরি করেন। মারকেটর মানচিত্রের মূল উদ্দেশ্য যেখানে নৌচলাচলের পথ সহজ করে দেখানো, সেখানে ইক্যুয়াল আর্থের লক্ষ্য হল পৃথিবীর বিভিন্ন ভূখণ্ডের আপেক্ষিক আয়তনকে আরও নির্ভুলভাবে তুলে ধরা।

    দুটি মানচিত্র পাশাপাশি রাখলে পার্থক্যটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ইক্যুয়াল আর্থ মানচিত্রে আফ্রিকাকে অনেক বড় দেখায়। অন্যদিকে মারকেটর মানচিত্রের তুলনায় উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপকে কিছুটা ছোট দেখা যায়। দক্ষিণ আমেরিকাও তার প্রকৃত আয়তনের কাছাকাছি আকার পায়। মেরু অঞ্চলের অতিরঞ্জিত আকারও অনেকটাই কমে আসে। ভারতকেও তুলনামূলকভাবে সামান্য বড় দেখা যায়।

    এই নতুন অভিক্ষেপের ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশ বাস্তবে কতটা ভূখণ্ড দখল করে রয়েছে, সে সম্পর্কে আরও বাস্তবসম্মত ধারণা পাওয়া যায়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলিও ইক্যুয়াল আর্থ অভিক্ষেপ গ্রহণ করেছে (World Map)।

    ইক্যুয়াল আর্থও কি নিখুঁত?

    তবে ইক্যুয়াল আর্থ মানচিত্রও পুরোপুরি নিখুঁত নয়। আয়তনকে বেশি নির্ভুলভাবে দেখাতে গিয়ে এটি মারকেটর মানচিত্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হারিয়েছে।

    পৃথিবীর পৃষ্ঠের সরলরেখাগুলি এখানে মারকেটর মানচিত্রের মতো একইভাবে কাজ করে না। বিভিন্ন স্থানের প্রকৃত দূরত্বও এই মানচিত্রে সব ক্ষেত্রে নিখুঁতভাবে মাপা সম্ভব নয়। কারণ গোল পৃথিবীকে সমতল মানচিত্রে রূপান্তর করার সময় আয়তন, আকার, দূরত্ব এবং দিক—সবকিছুকে একসঙ্গে সম্পূর্ণ নির্ভুল রাখা সম্ভব নয়।

    ইউসিএল-এর মানচিত্রবিদ্যার অধ্যাপক জেমস চেশায়ার বলেন, “একটি মানচিত্র আয়তন, আকার, দূরত্ব ও দিক—প্রতিটিকে বিভিন্ন মাত্রায় সঠিক রাখতে পারে, কিন্তু সবকিছুকে একই সঙ্গে নিখুঁতভাবে সংরক্ষণ করতে পারে না।”

    পিটার্স মানচিত্রের ভূমিকা কী?

    দেশ ও মহাদেশের প্রকৃত আয়তন সম্পর্কে বিভ্রান্তি দূর করার আরেকটি প্রচেষ্টা হল পিটার্স অভিক্ষেপ। জার্মান ইতিহাসবিদ আরনো পিটার্স ১৯৭০-এর দশকের গোড়ায় এটি তৈরি করেন। তবে এর ভিত্তি ছিল স্কটিশ মানচিত্রবিদ জেমস গ্যাল ১৮৫৫ সালে বর্ণিত একটি অভিক্ষেপ (World Map)।

    ইক্যুয়াল আর্থের মতো পিটার্স মানচিত্রও বিভিন্ন দেশ ও মহাদেশের প্রকৃত আয়তন সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে ন্যায্য ধারণা দেয়। তবে এর জন্য ভূখণ্ডের আকারে কিছু পরিবর্তন ঘটে। মেরু অঞ্চলের ভূখণ্ডকে চেপে দেখানো হয় এবং বিষুবরেখার কাছাকাছি অঞ্চলকে অপেক্ষাকৃত প্রসারিত দেখানো হয়। ফলে, উদাহরণ হিসেবে, রাশিয়াকে প্রচলিত মানচিত্রের তুলনায় অনেক ছোট দেখায়।

    তাহলে কি নিখুঁত বিশ্বমানচিত্র বলে কিছু নেই?

    আসলে পৃথিবীর কোনও একটিমাত্র নিখুঁত সমতল মানচিত্র সম্ভব নয়। গোল পৃথিবীকে পুরোপুরি সমতল করে দেখাতে গেলে কোনও না কোনও ধরনের বিকৃতি ঘটবেই।

    মারকেটর মানচিত্র দিকনির্দেশ ও নৌচলাচলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর, কিন্তু ভূখণ্ডের আয়তনকে বিকৃত করে। পিটার্স মানচিত্র আয়তনকে বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে আসে, কিন্তু ভূখণ্ডের আকৃতি বিকৃত করে। আর ইক্যুয়াল আর্থের লক্ষ্য হল বিভিন্ন ভূখণ্ডের আয়তনের আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত চিত্র তুলে ধরা (India)।

    অর্থাৎ, পৃথিবীকে মানচিত্রে তুলে ধরার ক্ষেত্রে কোনও একটি পদ্ধতিই সব দিক থেকে নিখুঁত নয়। কোন মানচিত্র ব্যবহার করা হবে, তা নির্ভর করে সেটি কোন উদ্দেশ্যে তৈরি বা ব্যবহার করা হচ্ছে তার উপর (World Map)।

     

  • Ketan Agarwal Murder Case: কেতন আগরওয়াল হত্যার ষড়যন্ত্রে তৃতীয় গ্রেফতার, পুলিশ হেফাজতে ঋত্বিক হিঙ্গে

    Ketan Agarwal Murder Case: কেতন আগরওয়াল হত্যার ষড়যন্ত্রে তৃতীয় গ্রেফতার, পুলিশ হেফাজতে ঋত্বিক হিঙ্গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আবাসন ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে বছর বাইশের এক যুবককে গ্রেফতার করল পুনে (Pune) গ্রামীণ পুলিশ। এই নিয়ে কেতন হত্যাকাণ্ডে (Ketan Agarwal Murder Case) গ্রেফতার করা হল মোট তিনজনকে। ধৃতের নাম ঋত্বিক হিঙ্গে। তাকে মামলায় সহ-অভিযুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    যা বলছে পুলিশ (Ketan Agarwal Murder Case)

    পুলিশের দাবি, ঋত্বিকের সঙ্গে চেতন চৌধরীর বন্ধুত্ব ছিল। তদন্তে জানা গিয়েছে, চেতনের সঙ্গে কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। গত ১৮ জুন পুনে জেলার লোহাগড় দুর্গে সিয়া ও চেতন কেতনকে ধাক্কা দিয়ে খাদের মধ্যে ফেলে দেন বলে অভিযোগ। ঘটনায় মৃত্যু হয় কেতনের।

    পুনে গ্রামীণ পুলিশের সুপার সন্দীপ সিং গিল বলেন, “তদন্ত চলাকালীন জানা যায়, কেতনকে হত্যার পরিকল্পনায় ঋত্বিকও জড়িত ছিল।”

    আর এক পুলিশ আধিকারিক জানান, প্রথমে কেতনের হাত-পা ভেঙে ফেলা হয় এবং পরে তাকে খুন করার যে পরিকল্পনা সিয়া ও চেতন করেছিল, সে সম্পর্কে ঋত্বিক আগে থেকেই জানত। অভিযোগ, ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে কেতনকে হত্যার পর চেতন ঋত্বিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে গোটা ঘটনা জানায়।

    তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, হত্যার দিন সিয়া ও চেতন একাধিকবার ঋত্বিককে তাদের সঙ্গে লোহাগড় যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল। তবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ঋত্বিক। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেতনের ফোন থেকে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরেই পুলিশ ঋত্বিকের কাছে পৌঁছয়।

    বিড জেলার বাসিন্দা ঋত্বিক পুনের বালেওয়াড়ি এলাকায় একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। গত মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই চেতনের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তে জানা গিয়েছে (Ketan Agarwal Murder Case)।

    ঋত্বিক ঠিক কতটা বিষয়টি জানত এবং হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সে সরাসরি যুক্ত ছিল কি না, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, “ঘটনার আগে কেতনকে খুন করার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে এই বন্ধু জানত। ঘটনার পর তাকে হত্যার বিষয়টিও জানানো হয়েছিল। তার ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে।”

    সিয়ার কীর্তি

    তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, এর আগে বালিতে কেতন ও সিয়ার বিয়ের আগের ছবি তোলার অনুষ্ঠানও নষ্ট করে দিয়েছিল সিয়া। অভিযোগ, সে কেতনের পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে পুনে-মুম্বই মহাসড়কের একটি খাবারের বিপণি এলাকার শৌচাগারে ফেলে দিয়েছিল।

    পুলিশের দাবি, কেতনকে লোহাগড় দুর্গের খাদের দিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার কয়েক দিন আগে সিয়া ও চেতন কীভাবে হত্যার পরিকল্পনা কার্যকর করবে, তার মহড়াও দিয়েছিল। পুনের লুল্লানগর এলাকার একটি ক্লাবের লাউঞ্জের কাছাকাছি খোলা জায়গায় ওই মহড়া হয়েছিল বলে তদন্তে জানা গিয়েছে।

    গত ১৮ জুন বাগদত্তা সিয়া গোয়েলের সঙ্গে লোহাগড় দুর্গে বেড়াতে ও ছবি তুলতে গিয়েছিলেন পুনের ব্যবসায়ী কেতন। দুর্গের কিনারায় ছবি তোলার সময় কেতন পা পিছলে খাদে পড়ে যান বলে প্রথমে দাবি করেছিল সিয়া। সেই কারণে শুরুতে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখা হয়েছিল।

    কিন্তু কেতনের বোন সিয়াকে ঘটনাটি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তার বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপরই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশে যোগাযোগ করার পর কেতনের মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। পরে খুন ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সন্দেহে সিয়া এবং চেতনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জের!

    কেতনের পরিবারের অনুরোধে পুলিশ প্রথমে ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য খতিয়ে দেখে এবং বহু ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরপর তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সিয়া ও চেতনের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল।

    এদিকে, জুন মাসের প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও দুর্গের আশপাশের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে হুডি পরা এক ব্যক্তিকে কেতন ও সিয়ার গাড়ি এবং তাদের গতিবিধি অনুসরণ করতে (Pune) দেখা যায়। ওই ব্যক্তির পোশাকের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা শেষ পর্যন্ত তাকে চেতন বলে শনাক্ত করেন (Ketan Agarwal Murder Case)। এরপর তার গতিবিধি অনুসরণ করেই তদন্ত আরও এগিয়ে যায়।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে একাধিক ঘটনার উল্লেখ

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে একাধিক ঘটনার উল্লেখ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত তো বটেই, বিদেশেও হিন্দুদের উপর হামলা, হুমকি, ধর্মান্তরের চাপ, মন্দির ও মূর্তির অবমাননা এবং বৈষম্যের অভিযোগ ক্রমেই সামনে আসছে (Hindus Under Attack)। ৩০ অগাস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬—এই সময়সীমার ঘটনাবলি নিয়ে প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে ভারত ও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার একাধিক ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে (Weekly Roundup)। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ধরনের নিপীড়ন ধীরে ধীরে গুরুতর মানবাধিকার সংকটের রূপ নিচ্ছে।

    গণেশ শোভাযাত্রায় ডিম ছোড়ার অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    মুম্বইয়ের মাজগাঁও এলাকায় গণেশ মূর্তি নিয়ে শোভাযাত্রায় ডিম ছোড়ার অভিযোগে বছর বাইশের দানিশ শের খানকে গ্রেফতার করেছে বাইকুল্লা পুলিশ। পুলিশের দাবি, ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং পাঁচটি পৃথক তদন্তকারী দলের তৎপরতায় তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ঘটনার কথা স্বীকার করেছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    তামিলনাড়ু সরকার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

    তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় এবং তাঁর দল টিভিকে-কে ঘিরে প্রতিবেদনে ধর্মীয় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে খ্রিস্টধর্মীয় মৌলবাদের প্রভাবের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    আরএসএসের পথসঞ্চালনে অংশ নেওয়ায় শিক্ষক সাসপেন্ড

    আরএসএসের পথসঞ্চালনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে কর্নাটকের দুই সরকারি স্কুলশিক্ষককে সাসপেন্ড করাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস সরকার আরএসএসের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে সরকারি কর্মীদের নিশানা করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুনসাগির সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গুরুংরাজ যোশী এবং সুরপুর তালুকের কুপি সরকারি নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অন্না সাহেব দেশমুখকে কর্নাটক শিক্ষা দফতর সাসপেন্ড করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আরএসএসের পথসঞ্চালনে অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

    ধর্মান্তরের জন্য অর্থ দেওয়ার অভিযোগ

    কান্দিভলি পশ্চিমের সঞ্জয় নগরে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরের জন্য হিন্দুদের ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে স্থানীয় কর্মীরা আটক করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক। ঘটনাটি ২১ অগাস্টের বলে দাবি করা হয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অভিযোগ, ঘটনার ১০ দিন পরেও কান্দিভলি পুলিশ এফআইআর দায়ের করেনি। রাজনৈতিক চাপের কারণে পুলিশ তদন্তে গড়িমসি করছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

    তেলঙ্গনায় নার্সের মৃত্যু, ধর্ষণ-খুনের অভিযোগ

    তেলঙ্গনার রঙ্গারেড্ডি জেলার থুক্কুগুড়ায় বছর একুশের বেসরকারি হাসপাতালের নার্স শিরিষাকে তাঁর কর্মস্থলের আবাসনে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ২৯ আগস্ট ভোরে। যৌন নির্যাতনের পর তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে।অভিযোগের প্রায় ৩০ ঘণ্টার মধ্যে ৩৪ বছর বয়সি বাইক মেকানিক মহম্মদ সানাউল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। প্রযুক্তিগত তথ্য, ঘটনাস্থলের পুনর্গঠন এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগোয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। চিকিৎসা পরীক্ষায় ধর্ষণ ও একাধিক আঘাতের প্রমাণ মিলেছে বলেও দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    বাংলাদেশি হিন্দুদের নিয়ে পোস্ট করা অ্যাকাউন্টে পুলিশের নোটিশ

    ‘ভয়েস অব বাংলাদেশি হিন্দুস’ নামে একটি এক্স অ্যাকাউন্ট বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে তথাকথিত অত্যাচারের ঘটনা তুলে ধরে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তপারের সম্ভাব্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় নাগরিক ও প্রশাসনকে সতর্ক করে থাকে অ্যাকাউন্টটি। প্রতিবেদনের দাবি, এই অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারীদের মুম্বই এবং মধ্যপ্রদেশ পুলিশ নোটিশ দিয়েছে।

    বাংলাদেশ

    প্রতিবেদনে বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলা ও নিপীড়নের অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাকতের একটি গবেষণার উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। মন্দিরে হামলা ও মূর্তির অবমাননা, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণহামলা, নারীকে ধর্ষণ বা জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে হিন্দুদের ভয় দেখানো ও দেশ ছাড়তে বাধ্য করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করা হয়েছে।

    নাবালককে মসজিদে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ

    ২৭ অগাস্ট বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জে নাবালক সৌরভ চন্দ্র রায়কে চুরির অভিযোগে চাপারহাট আল-হেরা জামে মসজিদের ভিতরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্থানীয় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সাজুর দাবি, চুরির অভিযোগটি ভিত্তিহীন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌরভকে প্রথমে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে তাঁকে মসজিদের বারান্দায় নিয়ে গিয়ে ফের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সৌরভের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর হিন্দু পরিচয় নিশ্চিত করার পর তাঁকে আরও নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়।

    হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের অভিযোগ

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বহু অপরাধের পেছনে ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে সৃষ্টি বিদ্বেষ কাজ করে। মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলিতে হিন্দুবিদ্বেষের প্রকাশ অপেক্ষাকৃত স্পষ্ট হলেও, নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে পরিচয় দেওয়া রাষ্ট্রগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম বৈষম্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের উপর ধীরে ধীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে (Weekly Roundup)। পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে এই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও, প্রতিবেদনের দাবি—হিন্দু উৎসবের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের সামগ্রিক চিত্র এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে (Hindus Under Attack) নীতির প্রয়োগের পার্থক্য বিবেচনা করলে ‘দ্বৈত মানদণ্ডে’র প্রশ্ন উঠতেই পারে।

     

  • NIA: ২০১৩ সালের ঝিরম উপত্যকা হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত ১০ মাওবাদী

    NIA: ২০১৩ সালের ঝিরম উপত্যকা হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত ১০ মাওবাদী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের জগদলপুরের একটি বিশেষ জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) আদালত ২০১৩ সালের ঝিরম উপত্যকা হত্যাকাণ্ডের মামলায় ১০ জন মাওবাদীকে দোষী সাব্যস্ত করেছে (Jheeram Valley Massacre)। ২০১৩ সালের ওই মাওবাদী হামলায় রাজ্যের শীর্ষ কংগ্রেস নেতা-সহ অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছিলেন।

    দোষী সাব্যস্ত ১০ জন হলেন—প্রমীলা মোদিয়াম, চৈতু লেকাম ওরফে মুন্না, সুমিত্রা ওরফে সুমিত্রা পুনেম মোদিয়াম, মুক্কা মাণ্ডভি, কোসা কাভাসি ওরফে কোসারাম, আয়াতা মার্কাম, মাদকমি দেবা, জোগা মাদকমি, বানজামি সন্না ওরফে চামরু ওরফে ডেঙ্গা এবং মহাদেব নাগ। তদন্ত অনুযায়ী, এঁদের অধিকাংশই অপেক্ষাকৃত নিম্নস্তরের কমান্ডার অথবা সশস্ত্র গেরিলা।

    দোষী সাব্যস্তদের আইনজীবী অরবিন্দ চৌধুরী রায়দানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর আদালত সাজা ঘোষণা করবে। একই সঙ্গে দোষী সাব্যস্তদের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলেও তিনি জানান।

    হামলায় আহত শিব সিং ঠাকুর বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান করেন। তবে তাঁর অভিযোগ, নিম্নস্তরের মাওবাদীদের গ্রেফতার করে তাঁদের বিরুদ্ধে বিচার চালানোর মধ্যে দিয়েই জাতীয় তদন্ত সংস্থা মূলত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে। তাঁর কথায়, “হামলার আগে তাঁরা আমাদের নেতাদের নাম জানতে চেয়েছিল। এরপরই তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। এর পিছনে নিশ্চিতভাবেই একটি ষড়যন্ত্র ছিল। সেই ষড়যন্ত্রের আসল সত্য সামনে আসা দরকার। তাহলেই আমরা এই ঘটনার পূর্ণ পরিসমাপ্তি দেখতে পাব।”

    কী ঘটেছিল ঝিরম উপত্যকায়? (NIA)

    দেশের অন্যতম ভয়াবহ মাওবাদী হামলার ঘটনাটি ঘটে ২০১৩ সালের ২৫ মে। সুকমা জেলার দরভা থানার প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে কংগ্রেস নেতাদের একটি কনভয়ে বড়সড় হামলা চালায় মাওবাদীরা।

    সুকমায় ‘পরিবর্তন যাত্রা’র একটি সভা শেষ করে কনভয়টি ফিরছিল। সেই সময় রাজ্যে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার চালাচ্ছিল কংগ্রেস। ওই বছরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।

    অভিযোগ, কনভয়টি ঝিরম উপত্যকার কাছে পৌঁছতেই মাওবাদীদের কমিউনিস্ট পার্টি-সংক্রান্ত সশস্ত্র সদস্যরা প্রথমে রাস্তার নীচে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের ফলে রাস্তায় বড় গর্ত তৈরি হয় এবং পরিবর্তন যাত্রার গাড়িগুলি থেমে যেতে বাধ্য হয় (NIA)।

    এরপর শুরু হয় নির্বিচারে গুলিবর্ষণ, গ্রেনেড হামলা এবং বেছে বেছে হত্যাকাণ্ড। হামলায় ২৪ জনের মৃত্যু হয় এবং ৩৫ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর জখম হন। পরে আহতদের কয়েকজনেরও মৃত্যু হয়।

    নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন ছত্তিশগড় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নন্দকুমার পটেল এবং রাজ্যের প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা মহেন্দ্র কর্মা। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিদ্যাচরণ শুক্লও হামলায় গুরুতর জখম হন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়।

    এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন মহেন্দ্র কর্মা। তিনি মাওবাদী সশস্ত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে রাজ্য-সমর্থিত ‘সালওয়া জুডুম’ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ওই আন্দোলনে স্থানীয় যুবকদের অস্ত্র দেওয়ার অভিযোগ ছিল। পরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আন্দোলনটিকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।

    ৩৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

    ঘটনার তদন্তভার পরে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে যায়। নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩৯ জন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, চলতি বছরের জানুয়ারিতে তেলঙ্গানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করা বর্ষে সুক্কা ওরফে দেবা ওই সময় দরভা বিভাগীয় কমিটির দায়িত্বে ছিলেন। নিষিদ্ধ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকেই (Jheeram Valley Massacre) হামলাটি পরিচালনার জন্য সামগ্রিক কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত করেছিল বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা (NIA)। Jheeram Valley Massacre,

     

  • Mount Everest: এভারেস্টে বরফ গলছে প্রস্রাবের তাপেও, বড় ভূমিকা জ্বালানি পোড়ানোর

    Mount Everest: এভারেস্টে বরফ গলছে প্রস্রাবের তাপেও, বড় ভূমিকা জ্বালানি পোড়ানোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ এভারেস্টে প্রতি বছর পর্বতারোহীদের আনাগোনার সঙ্গে বাড়ছে পরিবেশের উপর চাপ। নতুন এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, পর্বতারোহীদের প্রস্রাব থেকেও উৎপন্ন তাপ খুম্বু হিমবাহের বরফ গলনে ভূমিকা রাখছে (Mount Everest)। তবে মানুষের তৈরি তাপের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা জ্বালানি পোড়ানোর।

    এভারেস্টের (Human Urine) মূল শিবির খুম্বু হিমবাহের উপরেই গড়ে ওঠে। প্রতি বছর সেখানে প্রায় ১,৬০০টি তাঁবু ফেলা হয়। রান্নাঘর, স্নানের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র, তারবিহীন ইন্টারনেট এবং কিছু ক্ষেত্রে মেঝে গরম রাখার ব্যবস্থাও থাকে। এসব থেকে উৎপন্ন তাপ হিমবাহের উপরিভাগ ও মাটির তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

    নেপাল ও আমেরিকার একদল বিজ্ঞানীর গবেষণা আঞ্চলিক পরিবেশ পরিবর্তন বিষয়ক গবেষণা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের পাশাপাশি এভারেস্টে মানুষের সরাসরি কর্মকাণ্ডও হিমবাহ গলনের গতি বাড়াচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

    নেপালে গত ২৬ অগাস্ট হড়পা বানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং ১,২০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ওই বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে হিমবাহ-উৎসারিত হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঘটনাকে দায়ী করা হয়।

    প্রস্রাবের তাপেও গলছে বরফ (Mount Everest)

    উচ্চতার কারণে এভারেস্টে ওঠা পর্বতারোহীদের বেশি পরিমাণে জল পান করতে হয়। ফলে প্রস্রাবের পরিমাণও বাড়ে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের পর্বতারোহণের মরশুমে প্রতিদিন প্রায় ৬,৭৬৬ লিটার প্রস্রাব জমা হয়েছিল।

    গবেষক খিম লাল গৌতম ও তাঁর সহকর্মীদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ প্রস্রাব শরীর থেকে প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বের হয়। ফলে এতে থাকা তাপের একটি অংশ আশপাশের বরফ গলতে সাহায্য করে।

    গবেষণায় হিসাব করে দেখা গিয়েছে, ওই তাপ সম্পূর্ণভাবে বরফে পৌঁছলে সংশ্লিষ্ট পর্বতারোহণ মরশুমে প্রায় ১৫৪ টন বরফ গলতে পারত। তবে বাস্তবে তাপের পুরোটা বরফে পৌঁছয় না। এর একটি বড় অংশ বাতাস ও আশপাশের পাথরে ছড়িয়ে যায়।

    সবচেয়ে বড় কারণ জ্বালানি পোড়ানো

    তবে গবেষকদের মতে, এভারেস্টের বরফ গলার ক্ষেত্রে প্রস্রাব সবচেয়ে বড় সমস্যা নয়। মূল সমস্যা হল মূল শিবিরকে ঘিরে বিপুল জ্বালানির ব্যবহার।

    ২০২৩ সালের মরশুমে রান্না, উত্তাপ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সেখানে প্রায় ৮২৪টি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের সিলিন্ডার, ১৮,৯৩৫ লিটার কেরোসিন এবং ৫,১৩০ লিটার পেট্রোল ব্যবহার করা হয়। মানুষের কর্মকাণ্ড থেকে সৃষ্ট বরফ গলার প্রায় ৯৪ শতাংশের জন্য এই জ্বালানি ব্যবহারকে দায়ী করা হয়েছে। প্রস্রাবের কারণে গলার অংশ মাত্র প্রায় ৬ শতাংশ (Mount Everest)।

    দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে হিমালয়

    বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় হিমালয় দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠছে। ২০১৯ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর হিমবাহের বরফ ক্ষয়ের হার তার আগের সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

    গবেষকদের আরও দাবি, খুম্বু হিমবাহের অন্যান্য অংশের তুলনায় মূল শিবির এলাকায় তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। সেখানে প্রতি বছর তাপমাত্রা প্রায় ০.২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    সরিয়ে নেওয়া হতে পারে এভারেস্টের মূল শিবির

    গবেষক দলটি বর্তমান মূল শিবির অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখেছে। এ জন্য বর্তমান শিবিরের দক্ষিণ-পশ্চিমে দুটি সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।

    তবে শিবির সরিয়ে নিলেও নতুন জায়গায় নানা ধরনের ব্যবস্থাপনা ও পরিবহনগত সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি নতুন এলাকাতেও মানুষের কর্মকাণ্ড পরিবেশের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

    গবেষকদের পরামর্শ, হিমবাহ রক্ষায় আরও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে এবং সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে (Human Urine)। প্রয়োজনে মূল শিবিরের কিছু অংশ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে মানুষের কর্মকাণ্ড থেকে তৈরি অতিরিক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সমস্যার আরও অবনতি হতে পারে (Mount Everest)।

     

LinkedIn
Share