Blog

  • Chhattisgarh: শিবলিঙ্গ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, ছত্তিশগড়ে খ্রিস্টান ফোরামের সভাপতি গ্রেফতার

    Chhattisgarh: শিবলিঙ্গ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, ছত্তিশগড়ে খ্রিস্টান ফোরামের সভাপতি গ্রেফতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভগবান শিব ও শিবলিঙ্গকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে ছত্তিশগড় (Chhattisgarh) খ্রিস্টান ফোরামের সভাপতি অরুণ পান্নালালকে গ্রেফতার করল রায়পুর পুলিশ (Shivling Remarks)। ৭ অগস্ট রাতে বছর পঁচাত্তরের পান্নালালকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর মন্তব্যে হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে বলে অভিযোগ পুলিশের। অভিযোগ, হংসরাজ গোয়েল নামে এক ব্যক্তির ফেসবুক পোস্টে ভগবান শিবকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন পান্নালাল। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপির মুখপাত্র অমিত চিনমানি সিভিল লাইনস থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পোস্ট ও মন্তব্যের পর্দার ছবি এবং তার ঠিকানাও পুলিশের কাছে জমা দেন তিনি। এর পর পান্নালাল এবং হংসরাজ গোয়েলের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা বা বিদ্বেষ উসকে দেওয়া, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে কাজ করা এবং শান্তিভঙ্গের প্ররোচনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমানের মতো অভিযোগে মামলা হয়েছে।

    বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পান্নালাল (Chhattisgarh)

    সিভিল লাইনস থানার পরিদর্শক যমন দেওয়াঙ্গন জানান, শুক্রবার রাতে পান্নালালকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন শনিবার, ৮ অগাস্ট তাঁকে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করা হলে আদালত তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। দেওয়াঙ্গন বলেন, “শুক্রবার রাতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার তাঁকে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করা হয়। আদালত তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে।” পুলিশ কর্তা তারকেশ্বর পটেল জানান, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়ার পরেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের কাজে সাইবার শাখা-সহ পুলিশের একাধিক দলকে কাজে লাগানো হয় (Chhattisgarh)। পটেল বলেন, “ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা একটি পোস্ট নিয়ে সিভিল লাইনস থানায় অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়। এরপর তদন্ত শুরু হয়। সাইবার শাখা এবং পুলিশের অন্যান্য দলের সহায়তায় তল্লাশি ও প্রযুক্তিগত নজরদারি চালানো হয়। এই মামলায় অভিযুক্ত অরুণ পান্নালালকে গ্রেফতার করা হয়েছে (Shivling Remarks)।”

    পুলিশি পদক্ষেপকে সমর্থন মুখ্যমন্ত্রীর

    পান্নালালের গ্রেফতারি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই। তাঁর বক্তব্য, সনাতন ধর্মে শ্রদ্ধেয় ভগবান শিব এবং শিবলিঙ্গকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। সাই বলেন, “আমাদের সনাতন ধর্মে শ্রদ্ধেয় ভগবান শিব ও শিবলিঙ্গকে নিয়ে তিনি আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে, তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে (Chhattisgarh)।” এদিকে মামলা দায়েরের পর রায়পুরে পান্নালালের বাড়ির বাইরে বজরং দলের একদল কর্মী বিক্ষোভ দেখান। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

     

  • PM Modi: ভারতের বিকৃত মানচিত্র নিয়ে আপত্তি, লভলিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: ভারতের বিকৃত মানচিত্র নিয়ে আপত্তি, লভলিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্লাসগোর একটি রেস্তোরাঁয় ভারতের বিকৃত মানচিত্র প্রদর্শনের (Distorted India Map) প্রতিবাদ করায় কমনওয়েলথ গেমসে রুপোজয়ী বক্সার লভলিনা বরগোহাঁইয়ের দেদার প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ক্রীড়া সাফল্য উদ্‌যাপনের সময়ও দেশের মানচিত্রের গুরুত্বের বিষয়টি নজরে রাখার জন্য লভলিনার এই উদ্যোগ দীর্ঘদিন মানুষের মনে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রবিবার নিজের বাসভবনে কমনওয়েলথ গেমসের পদকজয়ী ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে এক ঘরোয়া আলাপচারিতায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে সেই কথোপকথনের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়।

    ভারতের বিকৃত মানচিত্র (PM Modi)

    গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৭৫ কেজি বিভাগে রুপোর পদক জিতেছিলেন অসমের লভলিনা। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে মজা করে তাঁকে রেস্তোরাঁর কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বচসার বিষয়টি জানতে চান মোদি। তিনি বলেন, “কী হয়েছিল, রেস্তরাঁর লোকজনের সঙ্গে ঝগড়া করছিলেন?” হেসে লভলিনা জানান, গেমসে সাফল্য পাওয়ার পর ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা রেস্তোরাঁয় গিয়ে উদ্‌যাপন করছিলেন। সেখানেই তিনি ভারতের একটি বিকৃত মানচিত্র দেখতে পান। তাঁর কথায়, “স্যার, সেটি আনন্দের মুহূর্ত ছিল। আমরা সাফল্য উদ্‌যাপন করছিলাম। কিন্তু ভারতের বিকৃত মানচিত্রটি দেখে আমার ভালো লাগেনি। আমি তাঁদের বিষয়টি বিনয়ের সঙ্গে জানিয়েছিলাম এবং তাঁরা পরে সেটি সংশোধনও করেন।”

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

    লভলিনার এই সচেতনতার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা যখন সাফল্য উদ্‌যাপন করছিলেন এবং গেমস শেষ হয়ে গিয়েছিল, সেই সময়ও আপনি ওই মানচিত্রের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন। আমি সত্যি বলছি, ওই ভিডিওটি সাধারণ কোনও ঘটনা ছিল না। বহুদিন ধরে মানুষ একে মনে রাখবে।” ঘটনাটি সামনে আসে গ্লাসগোর ওই রেস্তরাঁয় প্রদর্শিত ভারতের মানচিত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চল অনুপস্থিত থাকার পর। সহ-খেলোয়াড়দের সঙ্গে সাফল্য উদ্‌যাপন করার সময় বিষয়টি লভলিনার নজরে পড়ে। তিনি রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের কাছে আপত্তি জানান। পরে কর্তৃপক্ষ মানচিত্রটি সংশোধন করতে সম্মত হয় (PM Modi)। গ্লাসগোতেই লভলিনা প্রথম কমনওয়েলথ গেমস পদক অর্জন করেন। প্রতিযোগিতায় তিনি অলিম্পিক পদকজয়ী মীরাবাই চানুর সঙ্গে ভারতের পতাকাবাহকদের অন্যতম ছিলেন।

    কমনওয়েলথ গেমসে ঐতিহাসিক সাফল্য

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপচারিতায় ক্রীড়াবিদরা গেমসের আগে ও গেমস চলাকালীন (Distorted India Map) তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা জানান। পাশাপাশি পদকজয়ীদের সঙ্গে বিভিন্ন হালকা মুহূর্তও ভাগ করে নেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ২৩ জুলাই থেকে ২ অগাস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। পদক তালিকায় ভারত ছিল চতুর্থ স্থানে (PM Modi)। এদিকে, গ্লাসগোয় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য ভারতের পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের কৃতিত্বের প্রশংসাও করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাওয়ার জন্য ক্রীড়াবিদদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) লেখেন, “যাঁরা খেলবেন, তাঁরাই এগিয়ে যাবেন। সব সময় ভারতের জন্য গলা মেলান। ভারত মাতা কি জয়!” ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ভারত মোট ৩৯টি পদক জিতেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এবারের প্রতিযোগিতায় ভারতের অংশগ্রহণ ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত। কুস্তি, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, হকি এবং শুটিংয়ের মতো ভারতের পদকসমৃদ্ধ বেশ কয়েকটি খেলা এবারের সূচিতে ছিল না।

    বক্সিংয়ে দুর্দান্ত সাফল্য ভারতের

    গ্লাসগো থেকে ভারতের বক্সিং দল ফিরেছে মোট ১০টি পদক নিয়ে। এর মধ্যে রয়েছে (Distorted India Map) ৭টি সোনা এবং ৩টি রুপো। সোনাজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন প্রীতি পাওয়ার (৫৪ কেজি), জ্যাসমিন লাম্বোরিয়া (৫৭ কেজি), সাক্ষী চৌধুরী (৫১ কেজি), প্রিয়া ঘাংহাস (৬০ কেজি), অরুন্ধতী চৌধুরী (৭০ কেজি), সচিন সিওয়াচ (৬০ কেজি) এবং অঙ্কুশ পাংঘাল (৮০ কেজি)। রুপো জিতেছেন যদুমণি সিং (৫৫ কেজি), অলিম্পিক পদকজয়ী লভলিনা বরগোঁহাই (৭৫ কেজি) এবং নরেন্দর বেরওয়াল (৯০ কেজির বেশি)। ভারতের বক্সিং দলের সোনাজয়ী সাক্ষী চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “কমনওয়েলথ গেমসের সমস্ত পদকজয়ীকে আমাদের সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমরা অত্যন্ত গর্বিত। তাঁর সঙ্গে দেখা করার অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী। তাঁর সঙ্গে দেখা করে আমরা খুবই আনন্দিত।” এবারের সাতটি সোনা কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় মহিলা বক্সারদের সর্বকালের সেরা সাফল্যও এনে দিয়েছে।

    জুডোতেও ভারতের নজির

    জুডোতেও নিজেদের সেরা কমনওয়েলথ গেমস সাফল্য অর্জন করেছে ভারত। গ্লাসগোয় ভারত ১২টি জুডো ইভেন্টে অংশ নিয়ে মোট চারটি পদক জিতেছে—দুটি সোনা, একটি রুপো এবং একটি ব্রোঞ্জ। ২০২২ সালের প্রতিযোগিতায় তিনটি পদক পেলেও, সেবার একটিও সোনা জিততে পারেনি ভারত। ভারতের জুডো সাফল্যের অন্যতম প্রধান মুখ খেলো ইন্ডিয়ার ক্রীড়াবিদ অস্মিতা দে এবং হর্ষ সিং। তাঁরা জুডোয় কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম সোনা জিতে ইতিহাস তৈরি করেছেন। অস্মিতা প্রথম ভারতীয় মহিলা জুডোকা হিসেবে কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জেতেন। আর হর্ষ সিং প্রথম ভারতীয় পুরুষ জুডোকা হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। অ্যাথলেটিক্স থেকে ভারত (PM Modi) পেয়েছে ১০টি পদক। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি রুপো এবং পাঁচটি ব্রোঞ্জ। ভারতের গুলভীর সিং কমনওয়েলথ গেমসের এক আসরে ব্যক্তিগতভাবে দু’টি পদকজয়ী প্রথম ভারতীয় ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড ক্রীড়াবিদ হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। পুরুষদের ১০ হাজার মিটার দৌড়ে তিনি রুপো এবং ৫ হাজার মিটারে ব্রোঞ্জ জিতেছেন (Distorted India Map)।গ্লাসগোর এই সাফল্যকে দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সীমিত সংখ্যক খেলায় অংশ নিয়েও ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের এমন সাফল্য আগামী দিনে দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে আরও বড় প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

     

  • Indian Professor Deepak Dhar: হকিংদের পাশে এবার ভারতীয় বিজ্ঞানী, ২০২৬-এর ডিরাক মেডেল পেলেন দীপক ধর

    Indian Professor Deepak Dhar: হকিংদের পাশে এবার ভারতীয় বিজ্ঞানী, ২০২৬-এর ডিরাক মেডেল পেলেন দীপক ধর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে ফের এক বড় স্বীকৃতি ভারতের। বিশিষ্ট ভারতীয় তাত্ত্বিক পদার্থবিদ দীপক ধরকে ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ ডিরাক মেডেলে সম্মানিত করেছে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল ফিজিক্স (ICTP)। পরিসংখ্যানগত বলবিদ্যায় (Statistical Mechanics) তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ১৯৮৫ সালে চালু হওয়া এই পুরস্কার তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যা ও গণিতে অসামান্য অবদানের জন্য দেওয়া হয়। অতীতে এই সম্মানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বিশ্বখ্যাত বহু বিজ্ঞানী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্টিফেন হকিং-সহ পদার্থবিজ্ঞানের একাধিক কিংবদন্তি। ২০২৬ সালে দীপক ধর-সহ মোট চার জন বিজ্ঞানীকে ডিরাক মেডেলের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক কণার সমন্বয়ে গঠিত জটিল ব্যবস্থাগুলি কীভাবে সম্মিলিতভাবে আচরণ করে, তা নিয়ে গবেষণা করে যে শাখা, সেটিই পরিসংখ্যানগত বলবিদ্যা। আধুনিক বিজ্ঞানে এই ক্ষেত্রের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জটিল নেটওয়ার্ক এমনকি আর্থিক বাজারের মতো বিষয় বুঝতেও এই গবেষণার বিভিন্ন ধারণা কাজে লাগছে।

    ছোট শহর থেকে বিশ্বমঞ্চে

    ১৯৫১ সালে উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ে জন্ম দীপক ধরের। হিন্দি-মাধ্যম পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা দীপকের মা চাইতেন ছেলে আইএএস অফিসার হোক। কিন্তু তাঁর বাবার উৎসাহেই বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। বাবা নিয়মিত বাড়িতে বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা নিয়ে আসতেন। তার মধ্যে ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং অফ সায়েন্স’ (Understanding Science) নামের একটি পত্রিকা কিশোর দীপকের মনে বিশেষ প্রভাব ফেলেছিল। সেই কৌতূহলই পরবর্তীতে তাঁকে নিয়ে যায় বিশ্বের অন্যতম সেরা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে। ইলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পর তিনি আইআইটি কানপুর থেকে এমএসসি করেন। এরপর পাড়ি দেন আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে (Caltech)। সেখানে তিনি রিচার্ড ফাইনম্যান ফেলোশিপ পান। বিশ্বখ্যাত পদার্থবিদ রিচার্ড ফাইনম্যানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগও হয় তাঁর। ফাইনম্যানের সঙ্গে সহকারী হিসেবে পড়াতেন দীপক ধর। ১৯৭৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকেই পিএইচডি সম্পূর্ণ করেন তিনি।

    বিদেশে কেরিয়ার নয়, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত

    পিএইচডি শেষ করার পর বিদেশে থেকে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু দীপক ধর বেছে নেন অন্য পথ। দেশে ফিরে যোগ দেন টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চে (TIFR)-এ। পরবর্তী কয়েক দশক ধরে ভারতেই গবেষণা চালিয়ে যান তিনি। আইআইএসইআর পুনেতেও (IISER Pune) প্রায় আট বছর অধ্যাপনা করেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য ছাত্রছাত্রীকে পড়ানোর পাশাপাশি ভারতে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণার ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। টাটা-তে কাজের সময় কোনও আনুষ্ঠানিক গুরুর অধীনে না থেকেও দেশের শক্তিশালী তাত্ত্বিক পদার্থবিদদের একটি গবেষণা-সমাজের অংশ হয়ে ওঠেন তিনি। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিসংখ্যানগত পদার্থবিদ্যার নানা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানে কাজ করেছেন।

    ‘দীপক ধরের বার্নিং অ্যালগরিদম’ ও আন্তর্জাতিক সম্মান

    দীপক ধরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অবদান হল বার্নিং অ্যালগরিদম-এর স্যান্ডপাইল মডেল (Dhar’s burning algorithm। Sandpile model)। জটিল ব্যবস্থার আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানমহলে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ডিরাক মেডেলই দীপক ধরের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নয়। ২০২২ সালে তিনি বল্টসম্যান মেডেল (Boltzmann Medal) পান এবং এই সম্মান পাওয়া প্রথম ভারতীয় হন। স্ট্যাটিসটিক্যাল পদার্থবিদ্যায় (Statistical Physics) এটি অন্যতম সর্বোচ্চ মর্যাদার পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই সময় নিজের সাফল্য সম্পর্কে ধর বলেছিলেন, “আমি বল্টসম্যান মেডেল পাওয়া প্রথম ভারতীয়, কিন্তু পরিসংখ্যানগত পদার্থবিদ্যায় ভালো কাজ করা প্রথম ভারতীয় নই।” ২০২৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মভূষণ প্রদান করে।

    ডিরাক মেডেলের বিশেষ মর্যাদা

    প্রখ্যাত পদার্থবিদ পল ডিরাক-এর নামে এই পুরস্কার চালু করে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল ফিজিক্স। ১৯৮৫ সাল থেকে প্রতি বছর তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যা ও গণিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই মেডেল দেওয়া হয়। এই পুরস্কারের একটি বিশেষ নিয়ম হল—নোবেল, ফিল্ডস বা উলফ পুরস্কারজয়ীদের ডিরাক মেডেল দেওয়া হয় না। তবে অতীতে বহু ডিরাক মেডেলজয়ী পরবর্তীকালে এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারগুলির কোনও না কোনওটি পেয়েছেন। দীপক ধরের সাফল্যের তাৎপর্য তাই শুধু একটি পুরস্কার পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উত্তরপ্রদেশের একটি ছোট শহরে বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা পড়ে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরি হওয়া এক ছাত্র পরবর্তীতে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পদার্থবিদ রিচার্ড ফাইনম্যানের সঙ্গে কাজ করেছেন, বিদেশে উজ্জ্বল কেরিয়ারের সুযোগ পেয়েও দেশে ফিরে এসেছেন এবং ভারতীয় বিজ্ঞানচর্চায় কয়েক দশক ধরে অবদান রেখে চলেছেন। ২০২৬-এর ডিরাক মেডেল সেই দীর্ঘ যাত্রারই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তাঁর গল্প একই সঙ্গে প্রমাণ করে—কৌতূহল, অধ্যবসায় এবং দেশের মাটিতে থেকে বিজ্ঞানচর্চার প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে ছোট শহর থেকেও বিশ্ববিজ্ঞানের মঞ্চে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব।

  • ABVP: উমর খালিদের বই নিয়ে আলোচনা সভা বাতিল জেএনইউতে, কী বলছে এবিভিপি?

    ABVP: উমর খালিদের বই নিয়ে আলোচনা সভা বাতিল জেএনইউতে, কী বলছে এবিভিপি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের তরফে অভিযুক্ত উমর খালিদকে (Umar Khalid) নিয়ে একটি বই আলোচনা সভার আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আজ ১০ অগাস্ট বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ওই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। তবে (ABVP) অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) জেএনইউ শাখার তীব্র আপত্তি ও ধারাবাহিক প্রতিবাদের পর শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে।

    খালিদের বিরুদ্ধে গুচ্ছের অভিযোগ (ABVP)

    খালিদ ২০২০ সালের দিল্লি হিংসা মামলায় অভিযুক্ত। ২০১৬ সালে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়ার ঘটনায়ও তাঁর নাম জড়িয়েছিল। কাশ্মীর নিয়ে নানা সময় তাঁর করা বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। জেএনইউয়ের এবিভিপির অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে খালিদের বইকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে তাঁর পক্ষে একটি ইতিবাচক বয়ান তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। অনুষ্ঠানের পোস্টার প্রকাশ্যে আসার পরেই সংগঠনটি এ ব্যাপারে সরব হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুষ্ঠানটি অবিলম্বে বাতিল করার দাবিও জানানো হয়।

    এবিভিপির প্রতিবাদ

    এবিভিপির পক্ষ থেকে লাগাতার প্রতিবাদ ও চাপ তৈরির পর অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে বলে সংগঠনটির দাবি। একইসঙ্গে, গুরুতর দেশবিরোধী কার্যকলাপ ও হিংসার মামলায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে মহিমান্বিত করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের জন্য প্রাথমিকভাবে অনুমতি দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক আধিকারিকদেরও নিন্দা করেছে তারা। এবিভিপি (ABVP) জেএনইউয়ের সভাপতি ময়ঙ্ক পাঞ্চাল বলেন, “গুরুতর দেশবিরোধী কার্যকলাপ ও হিংসার সঙ্গে যুক্ত মামলায় অভিযুক্ত কোনও ব্যক্তিকে মহিমান্বিত করার মঞ্চ জেএনইউ চত্বর হতে পারে না। আমরা এই কর্মসূচির বিরুদ্ধে সরব হয়েছি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্পষ্টভাবে আমাদের আপত্তির কথা জানিয়েছি। কর্মসূচি বাতিল হওয়া এবিভিপির ধারাবাহিক প্রচেষ্টার জয়।”

    দেশবিরোধী মানসিকতার প্রতিবাদ

    এবিভিপির জেএনইউয়ের সম্পাদক প্রবীণ পীযূষ বলেন, “দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতার পক্ষে এবিভিপি সবসময় দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। দেশবিরোধী মানসিকতাকে স্বাভাবিক করে তোলার যে কোনও প্রচেষ্টার আমরা তীব্র বিরোধিতা করব। এবিভিপি জেএনইউ এই কর্মসূচির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে আওয়াজ তুলেছিল এবং শেষ পর্যন্ত কর্মসূচিটি বাতিল হয়েছে।” প্রসঙ্গত, পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি (Umar Khalid) করা হয়, আয়োজকদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করে অনুমতি নেওয়া (ABVP) হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ‘আদিবাসী দিবস’ পালনের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

     

  • Assam Floods: অসমে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০০, ৭ জেলায় ১.৩৭ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

    Assam Floods: অসমে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০০, ৭ জেলায় ১.৩৭ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত অসম (Assam Floods)। রাজ্যে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০০। এখনও পর্যন্ত সাতটি জেলায় ১ লক্ষ ৩৭ হাজারেরও বেশি মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। জলের তলায় চলে গিয়েছে শত শত গ্রাম। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ জোরদার করেছে প্রশাসন। অসম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (ASDMA)-র সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যের ৪৫৬টি গ্রাম বর্তমানে প্লাবিত। বন্যার জেরে ১১,৯৩৩.৪৬ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফসল ও গবাদি পশুরও।

    সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গোলাঘাট

    বর্তমানে অসমের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা গোলাঘাট। সেখানে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ বন্যার প্রভাবে পড়েছেন। শিবসাগরে প্রায় ৪০ হাজার এবং জোরহাটে ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মৃত্যুর সংখ্যার নিরিখে শিবসাগর সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে। সেখানে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। কাছাড়ে ২২ জন, করিমগঞ্জে ৯ জন এবং গোলাঘাটে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ধেমাজি, নগাঁও, উদালগুড়ি, শোণিতপুর এবং কার্বি আংলংয়েও বন্যাজনিত মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। জেলা প্রশাসনগুলির পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় জলস্তর ও পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। দুর্গতদের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী ও চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজও চলছে।

    ত্রাণ শিবিরে ৪৯ হাজারের বেশি মানুষ

    বন্যার্তদের জন্য ছয়টি জেলায় মোট ১২৫টি ত্রাণশিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু করেছে রাজ্য প্রশাসন। বর্তমানে প্রায় ৪৯,০৬১ জন সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গত মানুষের কাছে খাবার, পানীয় জল, প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে প্রশাসনের পাশাপাশি উদ্ধারকারী দলগুলিও কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও সাহায্যের হাত বাড়ানো হয়েছে। ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই রবিবার অসমের বন্যাদুর্গতদের জন্য ৫ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন। তিনি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে ফোনে কথা বলে বন্যা পরিস্থিতি ও ত্রাণ কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করেন।

    ব্যাপক ক্ষতি কৃষিকাজে

    বন্যার জেরে অসমের বিভিন্ন জেলায় কৃষিজমি ও গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যোরহাটেও বন্যার প্রভাব মারাত্মক। এর আগে সেখানে ৩০৪টি গ্রামের প্রায় ১.৬৬ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন নদীর জলস্তর নিয়ে এখনও উদ্বেগ রয়েছে। নতুন করে বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য এখন উদ্ধার ও ত্রাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং আরও প্রাণহানি রোধ করা। একইসঙ্গে বন্যা দুর্গতদের পুনর্বাসনের প্রস্তুতিও শুরু করেছে প্রশাসন।

  • Suvendu Slams Mamata: ‘‘এত চুরি করেছেন…’’, মমতার গাড়িতে হামলাকে ‘জনরোষ’ বললেন শুভেন্দু, হালিশহর গেলেন মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Slams Mamata: ‘‘এত চুরি করেছেন…’’, মমতার গাড়িতে হামলাকে ‘জনরোষ’ বললেন শুভেন্দু, হালিশহর গেলেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ, কাদা ও জুতো ছোড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। রবিবারের ঘটনার পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাস’ চালানোর অভিযোগ তুলেছেন। পাল্টা মমতার বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, মমতার গাড়িকে ঘিরে যে বিক্ষোভ হয়েছিল, তা বিজেপির পরিকল্পিত নয়, বরং স্থানীয় মানুষের ‘স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষ’।

    কী বলেছেন শুভেন্দু?

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এদিন মুখ খোলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “উনি জেড প্লাস ক্যাটিগরি পান। আমরা প্রত্যাহার করিনি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ১৫ বছর ছিলেন। বয়সও হয়েছে। ওনাকে যতটা সম্ভব পূর্ণ নিরাপত্তা এবং ওনার সম্মান রাখা উচিত। সে কাজ পুলিশ করেছে। পুলিশ খারাপ কিছু করেনি।” রবিবারের ঘটনাকে সামনে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপির ‘সন্ত্রাস’ চলছে। নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই পুলিশকে ব্যবহার করে ‘লুম্পেন’দের জড়ো করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মমতার গাড়িতে কাদা ও জুতো ছোড়ার ঘটনায় বিজেপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও শুভেন্দুর দাবি, ঘটনাস্থলে বিজেপির কোনও পতাকা বা পরিচিত মুখ দেখা যায়নি। তাঁর বক্তব্য, গোটা ঘটনাই স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কটাক্ষের সুর আরও চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এত চুরি করেছেন, চোর তো শুনতেই হবে। এরপর থেকে কানে যে ইয়ারফোনগুলো লাগায়, সেগুলো ব্যবহার করুন, তাহলে আর চোর শুনতে পাবেন না।”

    হালিশহর গেলেন শুভেন্দু

    এই রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই সোমবার হালিশহরে মৃত কর্মী বীরজু কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন শুভেন্দু অধিকারীর। হালিশহরে গেলেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন নৈহাটির বিজেপি বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়, নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিংহ, জগদ্দলের বিজেপি বিধায়ক রাজেশ কুমার, বীজপুরের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাস এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে কেবল সমবেদনা জানানোই নয়, সেই সঙ্গে প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করলেন তিনি। স্পষ্ট করে দিলেন, হেফাজতে মৃত্যু কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রাথমিকভাবে ওই থানার আইসি (IC)-কে ক্লোজ করার এবং তদন্তকারী অফিসারকে (IO) সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী জানান, মৃতের স্ত্রীর জন্য রাজ্য সরকারের হোম মিনিস্টারের কোটায় ‘অ্যাটেনডেন্ট’ পদে চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি, পরিবারের ভবিষ্যতের কথা ভেবে মুখ্যমন্ত্রী রিলিফ ফান্ড থেকে ১০ লক্ষ টাকার একটি চেক মৃতের স্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন, ওই টাকা যেন সন্তানদের নামে ফিক্সড ডিপোজিট করে তাদের পড়াশোনার খরচ চালানো হয়।

    “আপনার জন্য বাড়ির দরজা বন্ধ”

    সেই পরিবারের সঙ্গে মমতার যোগাযোগ এবং তাঁর সেখানে যাওয়া নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।  শুভেন্দুর দাবি, বীরজু কেওটের পরিবারের পক্ষ থেকে মমতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাঁর কথায়, “বাড়ির লোক বলছে, না আমরা ডাকিনি৷ উনি যুক্ত হন, চাই না আমরা৷ আপনাকে ওই বাড়ির লোক দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে, আপনি বলছেন না আমি দরজা ভেঙে ঢুকব৷ বাড়ির লোক বলছে পুলিশের তদন্তে আস্থা আছে, উনি এক আইনজীবী নিয়ে নাটক করতে গিয়েছেন। পুলিশকে না জানিয়ে গিয়েছেন। পরিবারের লোক আপনার জন্য বাড়ির দরজা বন্ধ করে দিয়েছে৷”

    “আজ তো অভয়ার বাড়িতে যেতে পারতেন”

    রবিবার আরজি কর-কাণ্ডের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভাতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলকে নিশানা করেন শুভেন্দু। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে দু’বছর আগে ওই রাতেই তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটে। পানিহাটির বাসিন্দা ওই চিকিৎসকের স্মরণসভায় যোগ দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আজ তো অভয়ার বাড়িতে যেতে পারতেন। হাত জোড় করে বলতেন ক্ষমা করে দিন। রত্নাদি ক্ষমা করে দিতেন।”

    মমতাকে তোপ শমীকেরও

    এদিকে, মমতার গাড়িতে হামলার ঘটনায় বিজেপির কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, ঘটনাটির সঙ্গে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত কোনও বিজেপি কর্মী যুক্ত নন। একইসঙ্গে তিনি অতীতের রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলকেও আক্রমণ করেন। শমীক বলেন, “দূর দূর পর্যন্ত বিজেপির কোনও কর্মী এর সঙ্গে যুক্ত নন। শুভেন্দু অধিকারীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছিল, সেই অত্যাচার বিজেপি কিন্তু তৃণমূলের ওপর করেনি। কিন্তু পাথর ছোড়া, কাদা ছোড়া এ তো তৃণমূলের শেখানো সংস্কৃতি।”

    মমতার গাড়িতে হামলা, প্রাক্তন ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টাপাল্টি আক্রমণ এবং বিজেপি-তৃণমূলের পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়ল। এরই মধ্যে হালিশহরে শুভেন্দুর কর্মসূচিকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

  • Russia-India Train Proposal: হরমুজ এড়িয়ে ভারত পর্যন্ত রেলপথ! রাশিয়ার প্রস্তাবে নতুন বাণিজ্য করিডরের ভাবনা

    Russia-India Train Proposal: হরমুজ এড়িয়ে ভারত পর্যন্ত রেলপথ! রাশিয়ার প্রস্তাবে নতুন বাণিজ্য করিডরের ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার জেরে হরমুজ প্রণালী ও বসফরাস প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যপথ নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতিতে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত একটি বিকল্প রেলপথ (Russia-India Train Proposal) তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী মারাত খুসনুলিন। তাঁর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে রাশিয়া থেকে স্থলপথে ভারত পর্যন্ত সরাসরি পণ্য পরিবহনের নতুন একটি করিডর তৈরি হতে পারে। রুশ সংবাদ সংস্থা তাস-কে (TASS) দেওয়া সাক্ষাৎকারে খুসনুলিন বলেন, ভারত মহাসাগর পর্যন্ত রেল যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। তাঁর মতে, বসফরাস ও হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি ভবিষ্যতে বিকল্প স্থলপথ খোঁজার প্রয়োজন তৈরি করতে পারে।

    কোন পথে যেতে পারে রেললাইন?

    রাশিয়ার প্রস্তাবিত সম্ভাব্য রুটটি তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে পৌঁছতে পারে। খুসনুলিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত পর্যন্ত পৌঁছনোর সুযোগ তৈরি করে এমন যে কোনও বিকল্প পথই বিবেচনা করা যেতে পারে।

    বাধা হতে পারে পাকিস্তান

    এই পরিকল্পনার (Russia-India Train Proposal) সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জই হতে পারে পাকিস্তান। রাশিয়া থেকে প্রস্তাবিত এই স্থলপথ ভারত পর্যন্ত পৌঁছতে গেলে পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে রেলপথ তৈরি ও পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসলামাবাদের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতায় এই সহযোগিতা আদায় করা কতটা সম্ভব, সেটিই হতে পারে প্রকল্পটির অন্যতম বড় প্রশ্ন।

    এখনও পরিকল্পনার স্তরেই

    রাশিয়ার এই প্রস্তাব এখনও কোনও চূড়ান্ত প্রকল্প নয়। এখনও নির্দিষ্ট রুট, নির্মাণ ব্যয় কিংবা সময়সীমা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আপাতত এটিকে একটি সম্ভাব্য বিকল্প করিডর নিয়ে রাশিয়ার কৌশলগত ভাবনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে বাস্তবে এই ধরনের রেলপথ তৈরি হলে রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। সমুদ্রপথের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দুই দেশকে সরাসরি স্থলপথে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। এই প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যাপ্তি বোঝাতে বিশ্বের দীর্ঘতম মালবাহী রেলপথগুলির অন্যতম চিন-স্পেনের ইউই-মাদ্রিদ (Yiwu–Madrid) রেলপথের উদাহরণ দেওয়া যায়। প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটটি একাধিক দেশ পেরিয়ে চিন ও স্পেনকে যুক্ত করেছে।

    কেন হরমুজ নিয়ে এত উদ্বেগ?

    রাশিয়ার এই প্রস্তাবের পেছনে অন্যতম বড় কারণ হল হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সংঘাতের পর ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনরিরি গার্ড কোর (IRGC) পাল্টা সামরিক অভিযান চালানোর পাশাপাশি আমেরিকা ও ইজরায়েল-সমর্থক দেশগুলির সঙ্গে যুক্ত জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার হুমকি ও পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ। এই পথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি-এর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা দেখা দিলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় প্রভাব পড়তে পারে।

    বসফরাস প্রণালী নিয়েও সমস্যা

    রাশিয়ার জন্য আর একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হল বসফরাস। তুরস্কের নিয়ন্ত্রণাধীন এই প্রণালী কৃষ্ণসাগরকে মারমারা সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। রাশিয়ার পণ্য রফতানি এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে এই পথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই খুসনুলিনের প্রস্তাব শুধু নতুন একটি রেলপথ তৈরির পরিকল্পনা নয়। যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা বা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সমুদ্রপথ বন্ধ বা ব্যাহত হলে যাতে বিকল্প ব্যবস্থা থাকে, সেই লক্ষ্যেই স্থলপথে এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে চাইছে মস্কো। অন্য দিকে, রাশিয়ার থেকে তেল কেনে এমন দেশগুলির উপর চাপ বাড়িয়েছে আমেরিকাও। ৮৬-১১ ভোটে বিল পাশ হয়েছে সেনেটে। সেখানে ভারত ও চিনের মতো দেশগুলির উপরে ১০০ শতাংশ ট্যারিফ চাপানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত রেলপথ তৈরি হলে রাশিয়ার সুবিধা অনেক। সমুদ্রপথের বিকল্প হিসেবে যেমন স্থলপথ ব্যবহার করা যাবে, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের উপর নির্ভরতা কমবে। নিষেধাজ্ঞা বা যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলেও এশিয়ার বাজারের বাণিজ্য করতে কোনও অসুবিধা হবে না।

    ভারতের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    রাশিয়ার প্রস্তাবিত রেল করিডর বাস্তবায়িত হলে ভারতের জন্যও তা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগও বাড়তে পারে। বিশেষ করে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে এই ধরনের করিডর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভবিষ্যতে যদি সত্যিই ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে স্থলপথে রেল যোগাযোগ তৈরি হয়, তাহলে পর্যটকদের যাতায়াতের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। বর্তমানে রাশিয়া-ভারত বাণিজ্যের একটি বড় অংশ সমুদ্রপথের উপর নির্ভরশীল। বিকল্প স্থলপথ তৈরি হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় একটি নতুন পথ যোগ হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ এড়িয়ে পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মতো একাধিক দেশের ভূখণ্ড পেরিয়ে এমন বিশাল রেলপথ তৈরি করা প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও কূটনৈতিক—তিন দিক থেকেই অত্যন্ত কঠিন। তাই আপাতত রাশিয়ার প্রস্তাবকে ভবিষ্যতের একটি সম্ভাব্য ‘প্ল্যান-বি’ (Plan B) হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ভারতমুখী এই বিকল্প রেল করিডরের ধারণা আগামী দিনে আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

  • Dengue Vaccine: ডেঙ্গি ভ্যাকসিন প্রস্তুত, কিন্তু চলতি বছরেই নয়! বর্ষায় রোগ ঠেকাতে কী করবেন?

    Dengue Vaccine: ডেঙ্গি ভ্যাকসিন প্রস্তুত, কিন্তু চলতি বছরেই নয়! বর্ষায় রোগ ঠেকাতে কী করবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ডেঙ্গি মোকাবিলায় টিকা প্রস্তুত। কিন্তু এখনই সহজলভ্য হবে না। তাই রোগের মোকাবিলায় চলতি বছরে এখনও ডেঙ্গি ভ্যাকসিনকে হাতিয়ার করতে পারছে না স্বাস্থ্য দফতর। কিন্তু রাজ্য জুড়ে বর্ষার দাপট রয়েছে। তাই মশাবাহিত রোগের প্রকোপও বাড়ছে। শহর থেকে জেলা, সর্বত্র ডেঙ্গি মোকাবিলা প্রয়োজন! তাই চলতি বছরেও আগাম সচেতনতা না থাকলে, ডেঙ্গি মোকাবিলা আগের মতোই কঠিন হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য মহলের একাংশ।

    ডেঙ্গি কি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে মশাবাহিত রোগের দাপট রয়েছে। ম্যালেরিয়া এবং ডেঙ্গির মতো মশাবাহিত রোগ মোকাবিলায় তৎপর স্বাস্থ্য দফতর। তবে, পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক নয়। স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, দেশ জুড়েই বর্ষার মরশুমে ডেঙ্গি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মুম্বাই থেকে দিল্লি, দেশের একাধিক বড় শহরে মশাবাহিত এই রোগের প্রকোপ বেড়েছে। ডেঙ্গি আক্রান্তের তালিকায় রয়েছেন বলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও। কলকাতাতেও এই মরশুমে ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। বিশেষত নদীয়া, বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, উত্তর এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়ার মতো একাধিক জেলায় চলতি বছরে ইতিমধ্যেই ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। বাদ নেই কলকাতা। কলকাতার একাধিক জায়গায় বিশেষত শোভাবাজার, বেলগাছিয়া, গিরিশ পার্ক, যাদবপুর, কসবার মতো জনবহুল এলাকায় ডেঙ্গির প্রকোপ রয়েছে। তবে, স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং, সতর্ক থাকা জরুরি। যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই থাকে।

    ডেঙ্গি রুখতে কোন পথে হাঁটতে চায় রাজ্য?

    রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ডেঙ্গি ভ্যাকসিন তৈরি হলেও, সেই টিকাকরণ প্রক্রিয়া এখনি শুরু করা যাবে না। কারণ, এখনও কয়েকটি ধাপ রয়েছে। নিয়ম মাফিক সেগুলো পার করলে তবেই ডেঙ্গি মোকাবিলায় টিকা করণ শুরু হবে। তাই চলতি বছরে সাবেকি পদ্ধতিতেই ডেঙ্গি মোকাবিলা হবে বলে জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য জুড়ে বাড়ি বাড়ি প্রচার কর্মসূচিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক বাড়িতে কেউ জ্বরে আক্রান্ত কিনা, সেটার খবর নেওয়া হচ্ছে। এলাকার কোথায় জল জমে রয়েছে, সে সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যাতে সংক্রমণ দাপট বাড়াতে না পারে। পরিবারের কেউ ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে, বাকিদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাতে সংক্রমণ বেশি ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। তাছাড়া, ডেঙ্গি রুখতে এলাকা পরিষ্কারে বাড়তি নজরদারির পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষজ্ঞরা। প্রশাসনের একাংশ জানাচ্ছেন, জমা জল ডেঙ্গি মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বর্ষার মরশুমে দ্রুত সমস্ত নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে, জনসচেতনতাও প্রয়োজন। বাড়ি ও এলাকার আশপাশে নোংরা ফেলা চলবে না। জল যাতে না জমে সেদিকে নজর দিতে হবে। গাছ লাগালে বাগান পরিষ্কার রাখার দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। টব বা চৌবাচ্চায় যাতে জল জমে না থাকে, সেটা নজর দেওয়া জরুরি। কারণ, পরিষ্কার বদ্ধ জমা জলে ডেঙ্গির মশার দাপট বাড়ে। তাই সেদিকে বাড়তি নজরদারি জরুরি‌।

    সুস্থ থাকতে কী পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সুস্থ থাকতে সতর্ক থাকা জরুরি। মশার কামড় রুখতে হাত ও পা ঢাকা পোশাক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই মাঠে বা বাগানে খেলার সময়ে শিশুদের মশা কামড়ায়। এর থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই খেলতে যাওয়ার সময় বিশেষত শরীর ভালোভাবে ঢাকা দেওয়া পোশাক পরা জরুরি। তাছাড়া নিয়মিত মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনো প্রয়োজন। তাতে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমে। তাঁদের পরামর্শ, তিন দিন একটানা জ্বর থাকলে একেবারেই অবহেলা করা যাবে না। বরং, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা জরুরি। রোগ নির্ণয় হলে চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা যায়‌। এতে রোগীর শারীরিক জটিলতা কমে। আবার সংক্রমণ আটকানোও সহজ হয়। পরিবারের কেউ ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে, তাকে আলাদা ঘরে মশারি টাঙিয়ে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।‌ তাহলে রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি, নিজের বাড়ি এবং এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিয়েও সচেতন থাকা প্রয়োজন।

  • World Indigenous Day: প্রকৃতিই প্রথম পবিত্র স্থান! বিশ্ব আদিবাসী দিবসে উঠে আসুক জনজাতি ঐতিহ্যের কথা

    World Indigenous Day: প্রকৃতিই প্রথম পবিত্র স্থান! বিশ্ব আদিবাসী দিবসে উঠে আসুক জনজাতি ঐতিহ্যের কথা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতি বছর ৯ অগাস্ট পালিত হয় বিশ্ব আদিবাসী দিবস (World Indigenous Day)। বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও স্বাতন্ত্র্যকে তুলে ধরাই এই দিনের মূল উদ্দেশ্য। ভারতের ক্ষেত্রেও এই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের জনজাতি সম্প্রদায়গুলি বহন করে চলেছে বহু প্রাচীন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য। ভারতের জনজাতি বা তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৃহত্তর হিন্দু ঐতিহ্যের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই ইতিহাস, নৃতত্ত্ব ও রাজনীতির আলোচনার বিষয়। এই সম্পর্কের মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান, পারস্পরিক প্রভাব এবং বহু অভিন্ন পবিত্র ঐতিহ্য। মধ্য, পূর্ব, পশ্চিম ও হিমালয়-সংলগ্ন ভারতের বহু জনজাতি ঐতিহাসিকভাবে মহাদেব বা শিব, শক্তির স্থানীয় রূপ, গ্রামদেবতা, পূর্বপুরুষের আত্মা, পাহাড়, বন, নদী ও পবিত্র বনভূমির আরাধনা করে এসেছে।

    প্রকৃতিই প্রথম পবিত্র স্থান

    ভারতের প্রাচীনতম জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি বড় অংশ জনজাতি সমাজে (Janajatiya Culture) সংরক্ষিত রয়েছে। বন, পাহাড়, নদী উপত্যকা ও মালভূমিতে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বসবাস করতে গিয়ে তাঁরা প্রকৃতি, পূর্বপুরুষ ও স্থানীয় দেবতাকে কেন্দ্র করে নিজস্ব ধর্মীয় পরম্পরা গড়ে তুলেছেন। সংগঠিত মন্দির সংস্কৃতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার বহু আগে থেকেই পবিত্র বন, পাহাড়, নদী, গুহা ও প্রাচীন গাছ ছিল উপাসনার স্থান। প্রকৃতি তাঁদের কাছে শুধু জীবিকার উৎস নয়, আধ্যাত্মিক বিশ্বাসেরও কেন্দ্র।

    পবিত্র ভূদৃশ্য ও প্রকৃতির প্রতীক

    বিভিন্ন জনজাতি অঞ্চলের পাহাড়, নদী, বন ও উপত্যকার সঙ্গে স্থানীয় দেবতা, পূর্বপুরুষ এবং ধর্মীয় কাহিনি জড়িয়ে রয়েছে। গাছ, পশুপাখি, সূর্য, চাঁদ, মাটি ও নদীর মতো প্রাকৃতিক উপাদানও অনেক সম্প্রদায়ের কাছে পবিত্র প্রতীক। পবিত্র বন বা ‘সেক্রেড গ্রোভ’-কে ঘিরে উপাসনা ও নানা আচার আজও বহু জায়গায় প্রচলিত। একইসঙ্গে এই বনগুলি স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

    জনজাতি ঐতিহ্যে মহাদেব

    শিবকে শুধু মহাজাগতিক দেবতা নয়, বন, পাহাড়, পশু, সাধক, শিকারি ও জনজাতি মানুষের সঙ্গেও যুক্ত দেবতা হিসেবে দেখা হয়। ‘মহাদেব’, ‘পশুপতি’, ‘গিরিশ’, ‘কিরাত’ ও ‘ভূতেশ্বর’-এর মতো উপাধিতে তাঁর সঙ্গে জঙ্গল, পাহাড়, পশুজগৎ ও জনবসতির প্রান্তবর্তী জীবনের সম্পর্কের প্রতিফলন পাওয়া যায়। বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় দেবতা ও প্রকৃতি-কেন্দ্রিক বিশ্বাসের সঙ্গে শিব-আরাধনার সাংস্কৃতিক সংযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই সম্পর্ক সব সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে একরকম নয়, প্রত্যেকের নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে।

    শক্তির স্থানীয় রূপ

    শক্তি বা দেবী-উপাসনাতেও জনজাতি সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ছাপ রয়েছে। বহু স্থানীয় দেবীকে উর্বরতা, কৃষি, বন, নদী, রোগ থেকে সুরক্ষা, মাটি ও জীবনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। কোথাও তাঁরা গ্রামরক্ষাকারী, কোথাও ফসলের রক্ষক, আবার কোথাও পাহাড় বা অরণ্যের অধিষ্ঠাত্রী শক্তি। এই স্থানীয় দেবী-পরম্পরার সঙ্গে বৃহত্তর শক্তি-উপাসনার বিভিন্ন ধারারও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।

    নিজস্ব ঐতিহ্যের স্বাতন্ত্র্য

    তবে জনজাতি সংস্কৃতিকে শুধুমাত্র বৃহত্তর কোনও ধর্মীয় কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় না। প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষা, দেবতা, লোককথা, আচার, উৎসব ও সামাজিক রীতি রয়েছে। কোথাও প্রকৃতি ও পূর্বপুরুষের উপাসনা প্রধান, কোথাও স্থানীয় দেবতার গুরুত্ব বেশি, আবার কোথাও শিব-শক্তির সঙ্গে স্থানীয় বিশ্বাসের মেলবন্ধন ঘটেছে। এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই রয়েছে ভারতের জনজাতি সংস্কৃতির নিজস্ব পরিচয়।

    ঔপনিবেশিক শ্রেণিবিন্যাস ও ভিন্ন বয়ান

    ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশ প্রশাসন ভারতের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে সামাজিক ও ধর্মীয় শ্রেণিতে ভাগ করার চেষ্টা করে। বহু জটিল স্থানীয় বিশ্বাসকে তখন নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মধ্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। বিভিন্ন ঔপনিবেশিক নথি ও গবেষণায় কখনও জনজাতি সমাজকে মূলধারার ভারতীয় সংস্কৃতি থেকে পৃথক হিসেবে দেখানো হয়েছে, আবার কখনও বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিসরের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের কথাও উঠে এসেছে। ফলে জনজাতি পরিচয় নিয়ে একাধিক বয়ান তৈরি হয়।

    গবেষণা ও পরিচয়ের প্রশ্ন

    আধুনিক ইতিহাস ও নৃতত্ত্বের গবেষণায় জনজাতি ধর্মীয় ঐতিহ্যকে প্রকৃতি, পূর্বপুরুষ, স্থানীয় দেবতা, সামাজিক কাঠামো এবং বৃহত্তর ভারতীয় সংস্কৃতির পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে দেখার চেষ্টা করা হয়। আধুনিক ভারতেও জনজাতি পরিচয়, ধর্মীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য নিয়ে আলোচনা রয়েছে। নিজস্ব ভাষা, আচার ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের দাবি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই বৃহত্তর ভারতীয় সাংস্কৃতিক পরিসরের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রশ্নও আলোচিত।

    সংবিধানে স্বীকৃতি

    ভারতের সংবিধান তফসিলি উপজাতি (Tribal Culture India) সম্প্রদায়গুলির জন্য বিশেষ সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছে। তাঁদের সামাজিক, শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্ব আদিবাসী দিবস তাই শুধু অধিকার ও পরিচয়ের কথা বলার দিন নয়; এটি বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রাচীন সংস্কৃতি, প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক এবং পবিত্র ঐতিহ্যকে স্মরণ করারও দিন। ভারতের জনজাতি সমাজের প্রকৃতি-কেন্দ্রিক জীবনদর্শন, পবিত্র বন, স্থানীয় দেবদেবী, পূর্বপুরুষের স্মরণ, লোকাচার ও উৎসব দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বৃহত্তর ভারতীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক যোগাযোগ যেমন এই ইতিহাসের একটি দিক, তেমনই প্রতিটি জনজাতি সম্প্রদায়ের নিজস্ব পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অভিন্ন বিশ্বাস ও পবিত্র ঐতিহ্যের এই বহুস্বরই ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

  • Mamata Banerjee: মমতাকে ঘিরে নজিরবিহীন বিক্ষোভ, ছোড়া হল কাদা-জুতো! ‘মরে যেতাম’- বলছেন ভয়ে কাতর মমতা?

    Mamata Banerjee: মমতাকে ঘিরে নজিরবিহীন বিক্ষোভ, ছোড়া হল কাদা-জুতো! ‘মরে যেতাম’- বলছেন ভয়ে কাতর মমতা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এতদিন যে নেত্রীকে চোখে হারাতেন সাধারণ মানুষ, যে নেত্রীকে বসিয়েছিলেন শীর্ষ আসনে, আজ তাঁরই কনভয়ে লক্ষ্য করে ছোড়া হল জুতো-কাদা! উঠল চোর স্লোগানও। সত্যিই তো ভাবতেই অবাক লাগে। আসলে কী বলুন তো? এত বছরের দীর্ঘ তৃণমূল শাসনে যে পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি হয়েছে, যেভাবে রাজ্যের জনগণকে দিনের পর দিন শোষণ করে এসেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সাধের নেতারা, আজ তারই পরিণাম হয়তো ভোগ করছেন তাঁরা। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ কতদিনই বা আর চাপা থাকতে পারে? এবার আসা যাক মূল কথায়।

    ডিমের পর এবার ‘কাদা-থেরাপি’?

    রবিবার হালিশহরে (Halisahar) পুলিশি হেফাজতে নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান মমতা।সেখানে ‘কালীঘাট তৃণমূল সুপ্রিমো’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) দেখা মাত্রই ধেয়ে আসে জনরোষ। বীজপুর থানা এলাকার হালিশহরে পৌঁছনো মাত্রই সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তৃণমূল নেত্রীকে। তাঁর কনভয় লক্ষ্য করে ছোড়া হয় কাদা-জুতো। গাড়ির কাচে কাদা লেপে দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। দেওয়া হয় চোর স্লোগান। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই এলাকাকে রাজনৈতিক স্বার্থে উত্তপ্ত করতেই সেখানে যান মমতা (Mamata Banerjee)।

    আমরা সবাই মরে যেতাম!

    সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের মুখে পড়ে নিজের চিরাচরিত ক্ষোভ আর ধরে রাখতে পারেননি নেত্রী। উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “মাথা ফেটে যেত, আমরা সবাই মরে যেতাম! পুলিশের সামনে এমন হামলা আগে কখনও দেখিনি। পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল। পুলিশ শুধুমাত্র বিজেপিকেই সুরক্ষা দেয়।”

    কল্যাণের অভিযোগ

    উল্লেখ্য এদিন তাঁর সঙ্গে ঘটনাস্থলে (Halisahar) উপস্থিত ছিলেন দোলা সেন (Dola Sen) এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “বাইরে থেকে বিজেপির লোকজনকে জোগাড় করেছেন মূল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আইসি। আমাদের গাড়ি লক্ষ্য করে অনবরত অশালীন গালিগালাজ করা হয়। বড় বড় ইট ছুড়ে মারা হয়। গাড়িটির অবস্থা দেখলেই বোঝা যাবে- পুরো গাড়িতে ইট মারতে মারতেই ধাওয়া করা হয়েছে।”

    তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু

    ঘটনার সূত্রপাত হালিশহর (Halisahar) থানার লকআপে বিরজু কেয়ট নামে এক তৃণমূল কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। নিহত বিরজুর স্ত্রী জেনি শর্মা কেয়ট নদিয়ার কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর। কয়েক দিন আগে হালিশহরের এক মহিলার দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিরজুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ভয় দেখানো, আর্থিক প্রতারণা এবং বেআইনি অস্ত্র আইনের মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরে ব্যারাকপুর আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। এর পর শনিবার সকালে থানা হেফাজতে থাকা অবস্থাতেই তিনি আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে দাবি পুলিশের। তড়িঘড়ি তাকে কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন বিরজুকে। যদিও পুলিশের এই দাবি মানতে নারাজ বিরজুর পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, থানা হেফাজতে বেধড়ক মারধরের ফলেই মৃত্যু হয়েছে বিরজুর। যদিও মারধর ও পুলিশি নির্যাতনের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ। এদিন এই বিরজুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলে মমতা(Mamata Banerjee)।

    মমতাকে দেখতেই ক্ষোভের বন্যা

    এদিন মমতা (Mamata Banerjee) ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। নেত্রীর কনভয় আটকে চারদিক থেকে দেওয়া হয় চোর স্লোগান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। হালিশহরের (Halisahar) এই ঘটনা নিছক একটি রাজনৈতিক বিক্ষোভের ছবি নয়, বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভেরও বহিঃপ্রকাশ বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। এক সময় যাঁর সভায় মানুষের ঢল নামত, সেই নেত্রীর কনভয় ঘিরেই উঠল চোর স্লোগান, ছোড়া হল কাদা-জুতো। ফলে হালিশহরের (Halisahar) এই বিক্ষোভ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর সকলের।

LinkedIn
Share