Blog

  • Durga Puja: দুর্গাপুজোয় স্বেচ্ছাসেবককে শ্লীলতাহানি, গ্রেফতার এএসআই কবিরুল ইসলাম

    Durga Puja: দুর্গাপুজোয় স্বেচ্ছাসেবককে শ্লীলতাহানি, গ্রেফতার এএসআই কবিরুল ইসলাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার নিউ আলিপুর এলাকায় বিখ্যাত ‘সুরচি সঙ্ঘ’ দুর্গা পুজো (Durga Puja) মণ্ডপের বাইরে ২১ বছর বয়সী এক তরুণী স্বেচ্ছাসেবককে শ্লীলতাহানি করার গুরুতর অভিযোগে কলকাতা সশস্ত্র পুলিশের এক  এএসআই-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম কবিরুল ইসলাম, যিনি নথিপত্রে কবিরুল হাসান মণ্ডল নামেও পরিচিত। কলকাতা সশস্ত্র পুলিশের ৩য় ব্যাটালিয়নের ‘বি’ কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। গত ১৭ অক্টোবর রাত ১১টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে এই অনভিপ্রেত ঘটনাটি ঘটে। সেই সময় ওই তরুণী সুরচি সঙ্ঘের বহির্গমন বা এক্সিট গেটের কাছে একটি চেয়ারে বসে নিজের স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    ভিডিও ভাইরাল ও আইনি ব্যবস্থা

    অভিযোগ অনুযায়ী, ডিউটিতে থাকা অবস্থাতেই ওই পুলিশ কর্মকর্তা তরুণীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ও আপত্তিজনক শারীরিক স্পর্শের মাধ্যমে অশালীন আচরণ করেন। ঘটনাটির একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ব্যস্ত রাস্তার ওপর পুলিশ কর্মকর্তার এই ধরনের আচরণের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়তেই চারদিকে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ অক্টোবর ওই নির্যাতিতা তরুণী নিউ আলিপুর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানান। তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৭৫(২) ধারায় শ্লীলতাহানির একটি মামলা দায়ের করে।

    পুলিশের তদন্ত ও পরিবারের অবগতি

    লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর নিউ আলিপুর থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে (Durga Puja) এবং অভিযুক্ত এএসআই কবিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে পুলিশ প্রশাসন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অভিযুক্তের পরিবারকেও তার গ্রেপ্তারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে যে ঘটনাটির বিষয়ে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে পরবর্তী সমস্ত প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

  • Yusuf Pathan: বরোদার সেই বিতর্কিত জমি অবশেষে উপহার হিসেবে পেলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান

    Yusuf Pathan: বরোদার সেই বিতর্কিত জমি অবশেষে উপহার হিসেবে পেলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুজরাট সরকারের পক্ষ থেকে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার এবং রাজনীতিবিদ ইউসুফ পাঠানকে (Yusuf Pathan) একটি বড় স্বস্তি দেওয়া হয়েছে। বরোদার তন্দলজা এলাকায় অবস্থিত ৯৭৮ বর্গমিটারের একটি বিতর্কিত পৌর কর্পোরেশন বা মিউনিসিপ্যাল প্লট আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য সরকার। এই জমিটি নিয়ে বরোদায় দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা ও আইনি লড়াই চলছিল। ইউসুফ পাঠানের পরিবারের বাসভবনের পাশেই অবস্থিত এই সম্পত্তি ঘিরে অতীতে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বরোদা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এর আগে এই জমিতে অননুমোদিত দখলের অভিযোগ এনে নোটিশ পাঠিয়েছিল এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। তবে সম্প্রতি সমস্ত আইনি জটিলতা পাশ কাটিয়ে রাজ্য সরকারের বিশেষ অনুমোদনের মাধ্যমে এই জমিটি হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    উপহার ও বিশেষ মূল্যের শর্তে জমি বরাদ্দ

    নতুন সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বরোদার এই বিতর্কিত জমির সম্পূর্ণ অংশটি সাধারণ নিলাম প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে ইউসুফ পাঠানকে (Yusuf Pathan) প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে মোট ৯৭৮ বর্গমিটার জমির মধ্য থেকে ঠিক ৫০০ বর্গমিটার জমি তাকে সম্পূর্ণ আবাসিক ব্যবহারের জন্য ‘উপহার’ বা বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। বাকি থাকা ৪৭৮ বর্গমিটার জমি সাধারণ মূল্যে নয়, বরং নির্ধারিত মূল্যায়ন মূল্যের মাত্র ৫৫ শতাংশ দামে তাকে হস্তান্তর করা হবে। বরোদা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের স্থায়ী কমিটি ও সাধারণ বোর্ডে এই বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তকে বরোদার অন্য কোনো মামলার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত হিসেবে গণ্য করা হবে না এবং রাজ্য সরকার মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনকে এর সমপরিমাণ মূল্যের আরেকটি জমি ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করবে।

    রাজনৈতিক সমীকরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি

    বরোদার এই জমি বরাদ্দ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। অতীতে বরোদা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এই জমির বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকার বেশি নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং বিনা নিলামে জমি হস্তান্তরের বিরোধিতা করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং আইনি লড়াইয়ে ইউসুফ পাঠানের (Yusuf Pathan) পক্ষ থেকে মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরেই এই বড় সিদ্ধান্তটি এল। দীর্ঘদিনের এই বিরোধ মিটে যাওয়ায় সাবেক এই তারকা ক্রিকেটারের আইনি জটিলতার অবসান ঘটেছে। বরোদা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সরকারি শর্তগুলো পূরণ সাপেক্ষে এই সম্পত্তি হস্তান্তরের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া খুব দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

  • India: ২৭ দেশের ৪০০ শিক্ষাবিদের আবেদন, বিশৃঙ্খলা থেকে ভারতকে রক্ষা করুন

    India: ২৭ দেশের ৪০০ শিক্ষাবিদের আবেদন, বিশৃঙ্খলা থেকে ভারতকে রক্ষা করুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের ২৭টি দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চারশোর বেশি ভারতীয় (India) বংশোদ্ভূত শিক্ষাবিদ, গবেষক ও শিক্ষার্থী একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। “স্পেয়ার ইন্ডিয়া ফ্রম অ্যানার্জি” বা বিশৃঙ্খলা থেকে ভারতকে রক্ষা করুন শীর্ষক এই বিবৃতিতে তারা ভারতের গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হার স্বীকার না করে বা আদালতের রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করে রাস্তায় বিশৃঙ্খল আন্দোলন গড়ে তোলার প্রবণতা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর (India) জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই স্বাক্ষরকারীরা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো দেশের এমআইটি, অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ, প্রিন্সটন ও হার্ভার্ডের মতো বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

    সংবিধান বনাম রাজপথের রাজনীতি

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে স্বাধীনতার পর থেকে গত সাত দশকে ভারতের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং বিচার বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মন্তব্য করার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। শিক্ষাবিদরা ড. বি আর আম্বেদকরের সেই পুরনো সতর্কবার্তার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, যেখানে তিনি সাংবিধানিক পথ ছেড়ে বিপ্লব বা রাজপথের ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নেওয়াকে ‘অরাজকতার ব্যাকরণ’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও ক্ষোভ থাকতেই পারে, তবে তা কোনোভাবেই সংসদীয় প্রক্রিয়া বা সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে হিংসাত্মক উপায়ে সমাধান করা উচিত নয়।

    সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

    এই বিবৃতিটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন ভারতের (India) নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন বা ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া নিয়ে দেশজুড়ে পরিকল্পিত রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু করেছে বিরোধীরা। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে এই সংশোধনের প্রতিবাদে দিল্লিতে সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত মিছিল, সুপ্রিম কোর্টে মামলা এবং যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের নামে বিশঙ্খলা করা হচ্ছে।প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন এটিকে একটি রুটিন প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই দেশের বাইরে থাকা বিশিষ্ট ভারতীয় শিক্ষাবিদরা বিতর্কিত রাজপথের আন্দোলনের বদলে আলাপ-আলোচনা ও সাংবিধানিক উপায়ে দেশ পরিচালনার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।

  • Russia Ukraine War: ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অচল রাশিয়ার ‘গুগল’, চরম ভোগান্তিতে লাখ লাখ মানুষ

    Russia Ukraine War: ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অচল রাশিয়ার ‘গুগল’, চরম ভোগান্তিতে লাখ লাখ মানুষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার (Russia Ukraine War) প্রধান ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘Yandex’ (যা ‘রাশিয়ার গুগল’ নামে সুপরিচিত)-এর গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সেন্টারগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সা্যাসোভো ও কালুগা অঞ্চলে অবস্থিত ইয়ানডেক্সের ৫টি প্রধান ডেটা সেন্টারের মধ্যে ৩টিতেই পর পর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় প্রতিষ্ঠানটির একটি ডেটা সেন্টার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে এবং অন্যগুলোতে গুরুতর অগ্নিকাণ্ড ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে রাশিয়া জুড়ে এক নজিরবিহীন ডিজিটাল সংকট তৈরি হয়েছে।

    স্তব্ধ ব্যাংকিং ও দৈনন্দিন সেবা

    হামলার পর থেকে ‘Yandex Pay’ সহ প্রায় ৮৪টি ক্লাউড সার্ভিস ও অ্যাপ বিকল হয়ে পড়েছে। ফলে রাশিয়ার লাখ লাখ সাধারণ মানুষ চরম বিপদে পড়েছেন। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যম বন্ধ থাকায় মানুষ তাদের জমানো টাকা তুলতে পারছেন না এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটাও করতে পারছেন না। এর পাশাপাশি অ্যাপের মাধ্যমে ট্যাক্সি বুকিং ও রাইড শেয়ারিং পুরোপুরি থমকে গেছে। ফলে মস্কোর বহু ট্যাক্সিচালক তাদের দৈনিক আয় দেখতে বা টাকা তুলে নিতে পারছেন না। শুধু তা-ই নয়, স্মার্ট হোমের ডিজিটাল লক অচল হয়ে যাওয়ায় অনেক মানুষ নিজেদের বাড়িতে প্রবেশ করতেই সমস্যায় পড়ছেন। একই সাথে খাবার ডেলিভারি এবং অনলাইন ট্র্যাফিক ম্যাপের মতো প্রতিদিনের জরুরি পরিষেবাগুলোও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

    ইউক্রেনের প্রতিশোধ

    ইউক্রেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাশিয়া (Russia Ukraine War) এর আগে ইউক্রেনের বিভিন্ন ইন্টারনেট পরিকাঠামো ও ডেটা সেন্টারে আক্রমণ চালিয়ে প্রায় ১ লাখ পরিবারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ তুলেছিলেন যে রাশিয়া ইউক্রেনকে ডিজিটাল বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে। তারই প্রতিশোধমূলক উত্তর হিসেবে ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো রাশিয়ার প্রধান ডিজিটাল পরিকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। ইয়ানডেক্স ছাড়াও রাশিয়ার সর্ববৃহৎ ব্যাংক Sberbank এবং প্রযুক্তি সংস্থা VK-এর ডেটা সেন্টারেও হামলা হয়েছে।

    সরকারের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ উদ্বেগ

    ইয়ানডেক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় তাদের কোনো কর্মী নিহত হননি, তবে সা্সোভো অঞ্চলের হামলায় ৯ জন আহত হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত অন্যান্য ডেটা সেন্টারে কাজের চাপ স্থানান্তর করে ব্যাকআপ তৈরির চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও ইয়ানডেক্স একটি বড় কোম্পানি এবং এখনই কোনো সরকারি সাহায্যের কথা বলা তাড়াহুড়ো হবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, রাশিয়ার সমস্ত বড় ডেটা সেন্টার মস্কো ও তার কাছাকাছি অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত থাকায় এই ধরনের ড্রোন হামলা বারবার হলে রাশিয়ার (Russia Ukraine War) পুরো ইন্টারনেট ব্যবস্থাই ভেঙে পড়তে পারে।

  • ABVP: ‘অরাজকতা রুখুন, গণতন্ত্রকে গ্রহণ করুন’—লখনউয়ে এবিভিপির বিশাল ছাত্র সমাবেশ

    ABVP: ‘অরাজকতা রুখুন, গণতন্ত্রকে গ্রহণ করুন’—লখনউয়ে এবিভিপির বিশাল ছাত্র সমাবেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অরাজকতা রুখুন, গণতন্ত্রকে গ্রহণ করুন’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ে বিশাল ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। রবিবার, ১৮ অক্টোবর, লখনউ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাজরতগঞ্জের গান্ধী চৌক পর্যন্ত এই মিছিলে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ও সংগঠনের সদস্য অংশ নেন। গণতন্ত্র এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা রক্ষার বার্তাই ছিল এই কর্মসূচির মূল বক্তব্য। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এবিভিপির সর্বভারতীয় সম্পাদক অভয় প্রতাপ সিং, কাশী প্রান্তের সম্পাদক শিবম সিং, গোরক্ষ প্রান্তের সম্পাদক মঙ্গল গুপ্ত, অবধ প্রান্তের সম্পাদক অর্পণ কুশওয়াহা এবং কানপুর প্রান্তের সম্পাদক দীনেশ যাদব।

    গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তনের অধিকার

    সমাবেশ থেকে এবিভিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তনের অধিকার একমাত্র জনগণের হাতে। ভোটের মাধ্যমেই সরকার গঠন বা পরিবর্তন সম্ভব; রাস্তায় শক্তি প্রদর্শন, জনতার চাপ কিংবা অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী। বাংলাদেশ ও নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের অনুকরণে ভারতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির প্রচেষ্টাও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন সংগঠনের নেতারা।

    নির্বাচন কমিশন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা নিয়ে বক্তব্য

    নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে উপযুক্ত প্রমাণ-সহ সাংবিধানিক ও আইনি পদ্ধতিতে তার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে জানায় এবিভিপি। সংগঠনের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন বা সুপ্রিম কোর্টের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থে প্রশ্ন তোলা কিংবা প্রতিষ্ঠানগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রসঙ্গেও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে সংগঠনটি। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা প্রমাণ-সহ যথাযথ সাংবিধানিক মঞ্চে পেশ করা উচিত। কেরল, পাঞ্জাব ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থানের পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন তোলে এবিভিপি। সংগঠনের আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যার ফলে ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়।

    ‘জনগণের ভোটেই নির্ধারিত হবে সরকারের ভবিষ্যৎ’

    এবিভিপির সর্বভারতীয় সম্পাদক অভয় প্রতাপ সিং বলেন, ভারতের গণতন্ত্রের ভিত্তি হল জনগণের আস্থা, ভোটাধিকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা। রাজনৈতিক মতবিরোধ গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হলেও, জনতার চাপ বা অরাজকতার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ থাকলে প্রমাণ পেশ করে আইনি ও সাংবিধানিক পথ অনুসরণ করতে হবে। বাংলাদেশ ও নেপালের ঘটনাপ্রবাহের অনুকরণে ভারতে সরকার পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি করা সম্ভব বলে যাঁরা মনে করেন, তাঁদের বুঝতে হবে যে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র ভারতীয় জনগণের। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরাখণ্ড, কেরল ও ওড়িশায় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এবিভিপির সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, লখনউয়ের সমাবেশে ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপক উপস্থিতি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদার প্রতি তাঁদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

    ‘জাতি গঠনে যুবসমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ’

    এবিভিপির অবধ প্রান্তের সম্পাদক অর্পণ কুশওয়াহা বলেন, ভারতের যুবসমাজের শক্তির উৎস দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সভ্যতাগত চেতনা এবং জাতির প্রতি কর্তব্যবোধ। বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ভারতের বাস্তবতার সঙ্গে এক করে দেখা দেশের স্বতন্ত্র সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যকে উপেক্ষা করার শামিল। তাঁর বক্তব্য, ভারতের যুবসমাজ নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে গর্বিত এবং দেশের সমস্যার সমাধানে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিশ্বাসী। যুবসমাজের ভূমিকা শুধু পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নিজেদের চিন্তাভাবনা, আচরণ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ গঠনেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। লখনউয়ের এই ছাত্র সমাবেশের মাধ্যমে যুবসমাজ জাতীয় স্বার্থ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছে বলে দাবি করে এবিভিপি। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা রক্ষায় দেশের ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

  • India China: চিনা গোয়েন্দাদের ‘অ্যাকাডেমিক’ পরিচয়ের ফাঁদ! সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগ

    India China: চিনা গোয়েন্দাদের ‘অ্যাকাডেমিক’ পরিচয়ের ফাঁদ! সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনা গোয়েন্দাদের কৌশলী ফাঁদে পড়ে দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগ উঠল এক উচ্চপদস্থ সেনা (India China) আধিকারিকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের দাবি, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের শিক্ষাবিদ বা অ্যাকাডেমিশিয়ান পরিচয় দিয়ে ওই মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাঁদের প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্ত মহিলা তেলঙ্গানার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে জম্মুর গান্ধীনগর থানা এলাকার অধীনে বসবাস করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে গান্ধীনগর থানায় ২৯০/২০২৬ নম্বর এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে ভারতীয় সরকারি গোপনীয়তা আইন, ১৯২৩-এর ৩ ও ৫ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৫২ ও ৬১(২) নম্বর ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।

    পরিবেশ ও ভূ-রাজনীতি থেকে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়

    প্রাথমিক তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা প্রথমে পরিবেশ ও ভূ-রাজনীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ এবং নিবন্ধ লেখার জন্য ওই মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ধীরে ধীরে তাঁকে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়েও লেখালেখি করতে উৎসাহিত করা হয় বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের অনুমান, শিক্ষাবিদ পরিচয়ের আড়ালে ওই ব্যক্তিরা কৌশলে মহিলার কাছ থেকে কৌশলগত ও সামরিক কার্যকলাপ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে থাকতে পারেন। গোয়েন্দা মহলে এই ধরনের কৌশলকে ‘ইন্টেলেকচুয়াল ট্র্যাপ’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক ফাঁদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এনক্রিপ্টেড মাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদানের সন্দেহ

    সূত্রের দাবি, একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই মহিলার গতিবিধি ও যোগাযোগের উপর নজরদারি শুরু হয়। অভিযোগ, দেশের নিরাপত্তার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ নথি, ছবি এবং ইলেকট্রনিক তথ্য সংগ্রহ, নিজের কাছে রাখা ও অন্যের কাছে পাঠানোর সঙ্গে তিনি যুক্ত থাকতে পারেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে ওই তথ্য পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। চিন-সহ একাধিক বিদেশি দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উঠে এসেছে বলে তদন্ত সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

    এখনও স্পষ্ট নয় তথ্য পাচারের পরিমাণ

    তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ঠিক কী ধরনের নথি বা তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল, সন্দেহভাজন বিদেশি যোগাযোগগুলির পরিচয় কী এবং বাস্তবে কতটা তথ্য আদানপ্রদান হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনও বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি। অভিযুক্তের কাছ থেকে কোনও নথি বা ইলেকট্রনিক সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে কি না, কিংবা তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে কি না, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। কীভাবে ওই মহিলার সঙ্গে বিদেশি যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল, সেই যোগাযোগের প্রকৃতি কী ছিল এবং দেশের নিরাপত্তার উপর এর কোনও প্রভাব পড়েছে কি না—এখন সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

  • Europe Crisis: ইউরোপের পাঁচ দেশে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ

    Europe Crisis: ইউরোপের পাঁচ দেশে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, আবাসন সংকট, শিক্ষা খাতে সমস্যা এবং সরকারি পরিষেবার অবনতির অভিযোগে উত্তাল ইউরোপের (Europe Crisis) একাধিক দেশ। গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্স, আলবেনিয়া, ইতালি, পর্তুগাল ও বেলজিয়ামে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক দেশে পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ করতে হয়েছে। কোথাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন দু’পক্ষেরই অনেকে, কোথাও আবার গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জনজীবনের নানা সমস্যা নিয়ে ক্ষোভের পাশাপাশি রাজনৈতিক মেরুকরণও তীব্র হয়েছে। বামপন্থী দল, শ্রমিক সংগঠন ও ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন দেশে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে বিক্ষোভের কারণ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রতিটি দেশে আলাদা।

    ফ্রান্স: বিক্ষোভের আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ঐতিহাসিক ভবন

    ইউরোপের চলতি অস্থিরতার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতির খবর মিলেছে ফ্রান্স থেকে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষক সংকট, স্কুলের পরিকাঠামোর দুরবস্থা, বৈষম্য এবং সরকারি পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ থেকে পথে নামেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও শ্রমিক সংগঠন CGT-র হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে ৮ লক্ষের মধ্যে।

    অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ মিছিলের পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে একদল বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দোকানপাটে লুটপাট, গাড়ি ও ভবনে আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটে। লিমোজ শহরের ১৪০ বছরেরও বেশি পুরনো ঐতিহাসিক টাউন হল আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্সেইয়ের টাউন হলে ভাঙচুরের পাশাপাশি লিয়ঁর একটি পর্যটন দফতরেও অগ্নিসংযোগের খবর সামনে এসেছে।

    প্যারিস, মার্সেই, নিস, নঁত, বোর্দো, লিল, তুলুজ-সহ একাধিক শহরে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হয়েছে বলে দাবি। সুপারমার্কেট, ফার্মেসি, পোশাকের দোকান এবং বৈদ্যুতিন পণ্যের বিপণিও হামলার লক্ষ্য হয়। প্যারিসে মুখোশধারী কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ক্যামেরা বিচ্ছিন্ন করে দোকানের কাচ ভেঙে ভিতরে ঢোকার অভিযোগ উঠেছে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। সাঁ-এতিয়েন শহরে জনতা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণে ১৭ বছরের এক কিশোরের ডান হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমনকী হাতটি হারানোরও খবর পাওয়া গিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর দাবি, চরম বামপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধীরা হিংসা ছড়ানোর জন্য দায়ী। তাঁর বক্তব্য, রাস্তায় হিংসার মাধ্যমে কোনও রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না। প্রতিবেদনে তাঁর উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, প্রায় ১,২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১৫০ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁও সরকারি সম্পত্তি ও জনসাধারণের উপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    এদিকে, ফ্রান্সের রাজনীতিতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। জাতীয়তাবাদী নেত্রী মারিন ল্য পেন বামপন্থী নেতা জঁ-লুক মেলঁশোঁর আন্দোলনের বিরুদ্ধে হিংসাকে বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, মেলঁশোঁ বিক্ষোভকারীদের লুটপাট থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্সের ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলিও ‘ইয়েলো অ্যান্ড ইয়ুথ’ ব্যানারে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি।

    বিক্ষোভের সঙ্গে প্যালেস্তাইনপন্থী আন্দোলন, অভিবাসন, জাতীয় পরিচয় এবং বামপন্থী রাজনীতির সম্পর্ক নিয়েও বিতর্ক বেড়েছে। তবে এসব রাজনৈতিক যোগসূত্র ও অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

    আলবেনিয়া: টানা পাঁচ দিন বিক্ষোভ, আহত বহু

    ফ্রান্সের পাশাপাশি আলবেনিয়াতেও সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্র হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগের দাবিতে টানা পাঁচ দিন ধরে বিক্ষোভ চলেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে ক্ষোভের জেরে উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও আন্দোলনে যোগ দেন।

    বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, পেট্রলবোমা, মলোটভ ককটেল ও আতশবাজি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। পাল্টা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে। কয়েকটি গাড়ি ও আবর্জনার পাত্রে আগুন লাগানো হয়। সুপ্রিম কোর্ট, ব্যাঙ্ক এবং ডাকঘরও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে বলে দাবি।

    আলবেনিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, সর্বশেষ সংঘর্ষে ৩৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন পুলিশকর্মী এবং ১৭ জন বিক্ষোভকারী। পুলিশ প্রধান স্কেন্দের হিতার বক্তব্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের মধ্যে ১৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৩৮৮ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাঁচ দিনে ১৩২ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সাত পুলিশকর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

    এই আন্দোলনের পিছনে রয়েছে আরও কিছু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষ। আলবেনিয়ার দক্ষিণ উপকূলে একটি বিলাসবহুল পর্যটন প্রকল্পকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধিতা চলছে। প্রকল্পটির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের প্রতিষ্ঠিত একটি বিনিয়োগ সংস্থার যোগসূত্র রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী রামা পদত্যাগের দাবি নাকচ করে বিরোধী রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে সংঘর্ষে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। দুরেস শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ডাকঘরের জানলা ভাঙচুর এবং জ্বলন্ত ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা অবরোধের খবর পাওয়া গিয়েছে।

    ইতালি: মিলান ও বোলোনিয়ায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

    ইতালিতেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন হাজার হাজার মানুষ। মিলান ও বোলোনিয়ায় বিক্ষোভ চলাকালীন সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভকারীরা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং তরুণদের জন্য উন্নত অর্থনৈতিক সুযোগের দাবি তোলেন।

    পর্তুগাল: আবাসন সংকট ও বাড়িভাড়ার প্রতিবাদে মিছিল

    পর্তুগালের রাজধানী লিসবনেও আবাসনের ক্রমবর্ধমান খরচ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে পথে নামেন কয়েক হাজার মানুষ। দেশের বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন CGTP-র ডাকে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, মজুরি ও পেনশন বাড়াতে হবে এবং সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। পাশাপাশি বাড়িভাড়ার ঊর্ধ্বগতি এবং সাশ্রয়ী আবাসনের অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আবাসন আন্দোলনের কর্মীরা। বামপন্থী দল ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এই অসন্তোষকে কেন্দ্র করে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পর্তুগালের বিক্ষোভের মূল কেন্দ্র ছিল আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়। অন্যান্য দেশের মতো একই ধরনের হিংসাত্মক পরিস্থিতি সর্বত্র তৈরি হয়েছিল, এমন দাবি করার মতো তথ্য প্রতিবেদনে নেই।

    বেলজিয়াম: শিক্ষা সংস্কার নিয়ে ছাত্র বিক্ষোভ

    বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসেও ছাত্র বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। কয়েকশো তরুণ-তরুণী শিক্ষার খরচ বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষাকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলতে পারে—এমন সংস্কারের আশঙ্কায় প্রতিবাদে অংশ নেন। কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একটি গাড়ি উল্টে দেওয়ার ঘটনার পর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। লিয়ঁজ শহরেও শিক্ষা খরচ এবং পড়াশোনার প্রয়োজনীয় উপকরণের নাগাল নিয়ে ছাত্র বিক্ষোভ হয়। প্রতিবেশী ফ্রান্সের আন্দোলন বেলজিয়ামের প্রতিবাদকে কিছুটা প্রভাবিত করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    অর্থনৈতিক ক্ষোভ, রাজনৈতিক মেরুকরণ

    ফ্রান্স থেকে আলবেনিয়া, ইতালি, পর্তুগাল ও বেলজিয়াম—পাঁচটি দেশের বিক্ষোভের পিছনে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান, আবাসন, শিক্ষা এবং সরকারি পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ। কোথাও আন্দোলন সরকারবিরোধী রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে, কোথাও আবার ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠন নিজেদের নির্দিষ্ট দাবিতে পথে নেমেছে। বিভিন্ন দেশে বামপন্থী দল ও সংগঠনগুলির ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও, সব দেশের অস্থিরতাকে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক পরিকল্পনার ফল হিসেবে দেখার আগে পৃথকভাবে ঘটনাগুলি যাচাই করা জরুরি। একইভাবে, ফ্রান্সে বামপন্থী ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যে কথিত যোগসূত্র নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তারও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, ইউরোপের এই ঘটনাপ্রবাহ দেখিয়ে দিচ্ছে—অর্থনৈতিক চাপ ও জনপরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে দ্রুত উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

  • Chorbagan Pandal Stampede: চোরবাগানে পদপিষ্টের ঘটনা! আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    Chorbagan Pandal Stampede: চোরবাগানে পদপিষ্টের ঘটনা! আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার উত্তরে অবস্থিত চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে এক ভয়াবহ পদপিষ্টের (Chorbagan Pandal Stampede) ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দুর্গাপূজার মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় এবং সংকীর্ণ প্রস্থান গেটের কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর পেয়েই রাজ্য সরকার এবং প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।

    ক্ষতিপূরণ ও সরকারি চাকরির ঘোষণা

    এই শোচনীয় দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা (Chorbagan Pandal Stampede) জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা এবং পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। পাশাপাশি, এই দুর্ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন, তাদের প্রত্যেককে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একজন বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি (SIT) গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

    এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় (Chorbagan Pandal Stampede) গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং কলকাতার উদ্দেশ্যে তাঁর পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করে আহতদের দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে দুর্গোৎসবের বাকি দিনগুলিতে সমস্ত পুজো কমিটিকে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়ে আরও বেশি সতর্ক থাকার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে জোর দেওয়া হচ্ছে।

  • France Protest: বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, পুড়ল ১৪০ বছরের ঐতিহাসিক টাউন হল

    France Protest: বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, পুড়ল ১৪০ বছরের ঐতিহাসিক টাউন হল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্তমানে ফ্রান্সজুড়ে (France Protest) সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং চরম মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এক তীব্র বিক্ষোভ ও আন্দোলন শুরু হয়েছে। রাজধানী প্যারিস সহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরে এই আন্দোলন চরম হিংসাত্মক রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভের জেরে ফ্রান্সের (France Protest) লিমোগেস শহরের প্রায় ১৪০ বছরের পুরনো একটি ঐতিহাসিক টাউন হল সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অবাক করা বিষয় হলো, যে ভবনটি অতীতে দুটি বিশ্বযুদ্ধ সফলভাবে পার করে টিকে ছিল, তা আধুনিক ফ্রান্সের এই সংঘর্ষের হাত থেকে রক্ষা পেল না।
    বিক্ষোভের কারণ ও হিংসাত্মক পরিস্থিতি
    মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে ইউরোপজুড়ে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে গেছে। এর প্রতিবাদে এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ফ্রান্সের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। তবে এই আন্দোলন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মুখোশধারী কিছু বিক্ষোভকারী জোর করে সরকারি ভবন ও বিভিন্ন দোকানে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। রাজধানী প্যারিস, মার্সেই, নিস, লিমোগেস এবং বোর্দোসহ বহু শহরে ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই সহিংস সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ১,২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় ১৫০ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়া সেন্ট-এটিয়েন শহরে পুলিশের ছোঁড়া গ্রেনেডের আঘাতে এক ১৭ বছর বয়সী কিশোরের হাত উড়ে গেছে।
    রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
    ফ্রান্সের (France Protest) প্রধানমন্ত্রী এই চরম মাত্রার হিংসার তীব্র নিন্দা করেছেন। অন্যদিকে, দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সোশ্যাল মিডিয়ায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, যারা সরকারি অফিস বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং কঠোর আইনি শাস্তি দেওয়া হবে। সামনেই দেশটির রাষ্ট্রপতি নির্বাচন থাকায় এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনেও বড় ধরনের উত্তাপ সৃষ্টি করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি বর্তমান সরকারের নীতির কড়া সমালোচনা করে এই পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনকেই দায়ী করেছে।
  • BJP: ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির এগিয়ে থাকার পূর্বাভাস

    BJP: ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির এগিয়ে থাকার পূর্বাভাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়ে গেছে। এর মাঝেই সংবাদমাধ্যম ‘নিউজ১৮’ (News18) এবং ‘পিভ্যালু অ্যানালিটিক্স’-এর যৌথ উদ্যোগে একটি বিশাল মেগা সমীক্ষা প্রকাশ করা হয়েছে। এই সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে যে, উত্তরপ্রদেশে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আবারও বিপুল সাফল্যের সঙ্গে ক্ষমতায় ফিরতে পারে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) তথা এনডিএ (NDA) জোট। সাধারণ মানুষের মতামত এবং ট্রেন্ডের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই প্রতিবেদনে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কাজের খতিয়ানও তুলে ধরা হয়েছে।

     সমীক্ষার মূল ফলাফল ও ভোট শতাংশ

    সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, যদি এই মুহূর্তে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে রাজ্যের প্রায় ৬৬.৬ শতাংশ মানুষ ভারতীয় জনতা পার্টি এবং তার শরিক দলগুলিকে ভোট দেবেন বলে মত প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি (SP) ও কংগ্রেস জোটের পক্ষে সমর্থন রয়েছে ২৬.৪ শতাংশ মানুষের। পাশাপাশি, মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি বা বিএসপি-র পক্ষে মত দিয়েছেন ৫.৪ শতাংশ উত্তরদাতা। যদিও বিরোধী দলগুলি তাদের পুরনো ভোটব্যাঙ্কের একটি অংশ ধরে রাখতে সফল হয়েছে, তবুও সামগ্রিক ভোটের হিসেবে শাসকদল বিজেপি বিরোধীদের চেয়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে রয়েছে। ভোটের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিগত ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যারা বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের প্রায় ৯১.২ শতাংশ মানুষ এখনও এই জোটের প্রতিই অনুগত রয়েছেন। একইভাবে, এসপি-কংগ্রেস জোটের পুরনো ভোটারদের ৮৫.৩ শতাংশ এখনও তাদের সঙ্গেই রয়েছে। তবে দলবদলের ক্ষেত্রে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে বিজেপি (BJP) । আগের নির্বাচনে এসপি-কংগ্রেসের ভোটদাতা ছিলেন এমন ১২.৬ শতাংশ মানুষ এখন বিজেপির পক্ষে মত দিয়েছেন। এছাড়া, যারা ২০২২ সালের নির্বাচনে ভোটদানে বিরত ছিলেন, সেই নতুন বা নিষ্ক্রিয় ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৫৮ শতাংশ মানুষ এখন বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন, যা শাসকদলের শক্তি আরও বৃদ্ধি করেছে।

    মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যোগী আদিত্যনাথের (Yogi Adityanath) জনপ্রিয়তা

    উত্তরপ্রদেশের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সাধারণ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য এবং জনপ্রিয় নেতা হিসেবে উঠে এসেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ৬৬.২ শতাংশ মানুষ তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির প্রধান তথা বিরোধী নেতা অখিলেশ যাদবকে সমর্থন জানিয়েছেন ২৪.৪ শতাংশ উত্তরদাতা। এছাড়াও, সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৬৬.৬ শতাংশ মনে করছেন যে আসন্ন নির্বাচনে এনডিএ জোটই পুনরায় সরকার গঠন করবে এবং ৬৫.২ শতাংশ মানুষ মনে করেন উত্তরপ্রদেশে বিজেপির তৃতীয়বারের মতো সরকারে আসা উচিত। যোগী সরকারের সামগ্রিক কার্যকলাপে প্রায় ৭৭.১ শতাংশ মানুষ নিজেদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন, যেখানে মাত্র ১৩.৫ শতাংশ মানুষ সরকারের সমালোচনা করেছেন।

    আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে জনমত

    উন্নয়ন এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা অর্জন করেছে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৭৪ শতাংশ মানুষ রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এরপর পরিকাঠামো উন্নয়নে ৬৮.৬ শতাংশ এবং সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প সাধারণ মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছানোর বিষয়ে ৬৬.৩ শতাংশ মানুষ ইতিবাচক মত দিয়েছেন। বিশেষ করে বর্তমান বিজেপি ভোটারদের প্রায় ৮৯.৬ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। রাজ্যের সাতটি আলাদা অঞ্চলেই এনডিএ জোটের অবস্থান শক্তিশালী বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে। দোয়াব, রুহেলখেল্ণ্ড, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ এবং অবধ অঞ্চলে শাসকদলের ভোট শতাংশ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। সব মিলিয়ে, সাধারণ মানুষের এই মতামতের প্রতিফলন যদি ইভিএমেও দেখা যায়, তবে ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক ময়দানে বিজেপি ফের বড় জয় পেতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

LinkedIn
Share