Blog

  • Suvendu Adhikari: ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লাখ মতুয়াকে নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা শুভেন্দুর, ঠাকুরনগরের উন্নয়নে ৫০ কোটি

    Suvendu Adhikari: ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লাখ মতুয়াকে নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা শুভেন্দুর, ঠাকুরনগরের উন্নয়নে ৫০ কোটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মতুয়া সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের নাগরিকত্বের দাবি পূরণে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় যোগ্য আড়াই লাখ আবেদনকারীকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছেন তিনি (Suvendu Adhikari)। মতুয়া সম্প্রদায়ের (Matua People) সার্বিক উন্নয়নের জন্য ৫০ কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য পরিষেবা, সামাজিক সুরক্ষা, নাগরিক পরিকাঠামো এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নয়নেও একাধিক উদ্যোগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

    উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমার ঠাকুরনগরে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মতুয়া গোসাঁই সম্মেলন ২০২৬-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকার গঠনে মতুয়া সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই এই সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবিদাওয়া পূরণ এবং সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাঁর সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    আড়াই লাখ আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব (Suvendu Adhikari)

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অধীনে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ নাগরিকত্ব পেয়েছেন। অথচ যোগ্য আবেদনকারীর সংখ্যা ঢের বেশি। এই পরিস্থিতিতে শুনানি ও আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “আমরা শুনানির প্রক্রিয়া দ্রুত করব এবং ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লাখ আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করব।”

    মতুয়াদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “এই সরকার আপনাদের জন্য।” তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের অন্য রাজ্যগুলিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকর করে যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হলেও এ রাজ্যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আইনের বিরোধিতা করেছিলেন। এর ফলে মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু যোগ্য মানুষ নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

    শুভেন্দু আরও ঘোষণা করেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়া তফসিলি জাতিভুক্ত যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ম মেনে তফসিলি জাতির শংসাপত্রও দেওয়া হবে। এর ফলে নাগরিকত্ব পাওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁদের সুবিধা হবে বলেও জানান তিনি।

    মতুয়া উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ

    মতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য বরাদ্দ ৫০ কোটি টাকা দিয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা, সামাজিক সুরক্ষা, নাগরিক পরিকাঠামো এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সরকারি নিয়ম ও নির্ধারিত পদ্ধতি মেনেই এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হবে।

    শুভেন্দু বলেন, “স্বাস্থ্য পরিষেবা, সামাজিক সুরক্ষার ভাতা এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আপনারা যা প্রয়োজন মনে করবেন, নিয়ম মেনে সরকার তার ব্যবস্থা করবে। এই সরকার আপনাদেরই।”

    এ দিন প্রস্তাবিত অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আর্থিক সহায়তার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মতুয়া মহিলারা মাসে ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। ৬০ বছরের বেশি বয়সি পুরুষদের মাসিক দেড় হাজার টাকা করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মতুয়া সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজের সমন্বয়ের জন্য পৃথক মতুয়া উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের বিষয়টিও বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি (Suvendu Adhikari)।

    ঠাকুরনগরকে পৃথক পুরসভা করার উদ্যোগ

    মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ঠাকুরনগরের পরিকাঠামোগত উন্নয়নেও একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ঠাকুরনগরকে পৃথক পুরসভার মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আগামী রাজ্য বাজেটে এই প্রস্তাব বিবেচনা করা হতে পারে। পৃথক পুরসভা গঠিত হলে এলাকার নাগরিক পরিষেবা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নতি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু। চাঁদপাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। হাসপাতালটির নামকরণ করা হবে মতুয়া সম্প্রদায়ের শ্রদ্ধেয় আধ্যাত্মিক নেত্রী বড়মার নামে। এই হাসপাতাল তৈরি হলে ঠাকুরনগর এবং আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    মতুয়া মহাতীর্থে নতুন মন্দির

    মতুয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণের উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মতুয়া মহাতীর্থে একটি নতুন মন্দির নির্মাণের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, তীর্থক্ষেত্রের ট্রাস্টের অর্থেই এই মন্দির তৈরি করা হবে। মন্দিরের ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানেও তিনি নিজে উপস্থিত থাকতে চান।

    মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আজ ঘোষণা করছি, মতুয়া মহাতীর্থে একটি নতুন মন্দির নির্মাণ করা হবে। ট্রাস্টের অর্থেই এই মন্দির তৈরি হবে। ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানে আমি নিজে উপস্থিত থাকব।”

    মন্দির নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোরও চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

    মতুয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সমাবেশ বারুণী মেলাকে জাতীয় স্তরে পরিচিত করে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে রাজ্য সরকারের। ঠাকুরবাড়ি মন্দিরের সম্প্রসারণের জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। মতুয়া সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলির উন্নয়নেও সরকার সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

    মতুয়া ভোটের গুরুত্ব যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ

    রাজ্যের রাজনীতিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং জলপাইগুড়ি জেলার একাধিক বিধানসভা ও লোকসভা কেন্দ্রে এই সম্প্রদায়ের ভোট রাজনৈতিক দলগুলির কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে বিজেপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল। ওই নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ১৮টি আসনে জয়ী হয়েছিল দলটি। পরবর্তী সময়েও রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে মতুয়া ভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থেকেছে।

    এই সম্প্রদায়ের কাছে নাগরিকত্বের প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মতুয়া পরিবারের একটা বড় অংশের পূর্বপুরুষের শিকড় অধুনা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে। দেশভাগ এবং পরবর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে আসা বহু পরিবারের কাছে নাগরিকত্ব, পুনর্বাসন এবং সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলি এখনও (Matua People) গুরুত্বপূর্ণ।

    উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে প্রণীত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অনুযায়ী, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে অথবা নিপীড়নের আশঙ্কায় ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নির্দিষ্ট যোগ্য ব্যক্তিদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার বিশেষ সুযোগ রয়েছে।

    মমতাকে দুষলেন শুভেন্দু

    ঠাকুরনগরে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রকৃত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়নি। বরং সম্প্রদায়ের সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে বিভাজন তৈরি করা হয়েছিল।

    মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতা করে আগের সরকার প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে আসা যোগ্য শরণার্থীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথেও বাধা সৃষ্টি করেছিল।

    শুভেন্দু বলেন, “আগের মুখ্যমন্ত্রী মতুয়াদের এবং তাঁদের সমাজকে বিভক্ত করেছিলেন। তাঁদের জন্য কোনও কাজই করেননি। বরং সরাসরি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতা করেছিলেন। আগামী দিনে আমি তাঁদের জন্য কাজ করব।”

    ঠাকুরবাড়ির অভ্যন্তরে ভবিষ্যতে আর কোনও বিভাজন থাকবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মতুয়া সমাজের ঐক্য বজায় রাখা এবং সম্প্রদায়ের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকার কাজ করবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

    মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শুভেন্দু বলেন, তাঁদের সমর্থনেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গঠিত হয়েছে। ঠাকুরনগরের জন্য কিছু করতে পারলে সেটাকেই নিজের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    মতুয়া সম্প্রদায়ের উত্থান

    মতুয়া সম্প্রদায়ের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে। হরিচাঁদ ঠাকুরের নেতৃত্বে অবিভক্ত বাংলায় এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। মূলত নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের মানুষকে সংগঠিত করে সামাজিক সাম্য, মর্যাদা এবং ধর্মীয় সংস্কারের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল এই আন্দোলনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    পরবর্তীকালে হরিচাঁদ ঠাকুরের পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুর এই আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করেন। তাঁদের শিক্ষা ও আদর্শের ভিত্তিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের স্বতন্ত্র ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচিতি গড়ে ওঠে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষত তফসিলি জাতিভুক্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। নমঃশূদ্র সম্প্রদায় (Matua People) পশ্চিমবঙ্গে তফসিলি জাতির অন্তর্ভুক্ত।

    দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ থেকে বহু পরিবারের ভারতে চলে আসার কারণে মতুয়া সমাজের একাংশের কাছে নাগরিকত্ব, পুনর্বাসন ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্ন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    সব মিলিয়ে নাগরিকত্ব, আর্থিক সহায়তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ধর্মীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের একাধিক প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে মতুয়া সম্প্রদায়ের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন শুভেন্দু।

     

  • Bangladesh: ফের অশান্তির আগুন বাংলাদেশে, পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তাল পদ্মাপারের দেশ

    Bangladesh: ফের অশান্তির আগুন বাংলাদেশে, পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তাল পদ্মাপারের দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বাংলাদেশ। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পথে নেমেছেন পোশাক (Bangladesh) কারখানার শ্রমিকরা। রবিবার সকাল থেকে ঢাকা, মিরপুর, গাজিপুর, সাভার, আশুলিয়া-সহ একাধিক শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভে শামিল হন শ্রমিকরা। তাঁদের দাবি, ন্যূনতম মাসিক মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। বিক্ষোভকে (Garment Workers Protest) কেন্দ্র করে একাধিক জায়গায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ বাঁধে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাজিপুরে মোতায়েন করা হয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের।

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প সে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। সেই শিল্পের শ্রমিকদের একাংশের এই আন্দোলন ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। মিরপুরের ১০ নম্বর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। মিরপুরের ১১ নম্বর এলাকায় একটি মেট্রো স্টেশনের নীচে পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বেলা পৌনে ১২টা নাগাদ ওই ঘটনা ঘটে।

    উত্তপ্ত বাংলাদেশ, আগুন (Bangladesh) 

    গাজিপুরেও পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কোনাবাড়ি এলাকায় একটি পুলিশ বক্সে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। সফিপুর বাজার, চন্দ্রাপল্লি বিদ্যুৎ, মৌচাক ও তেলিচালা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান শ্রমিকরা। আন্দোলনের জেরে ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। আশুলিয়া ও সাভারেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গাজিপুরে পাঁচ প্লাটুন সীমান্তরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে উৎপাদন ক্ষেত্রেও। গাজিপুর ও সাভার এলাকার অন্তত ৮০টি পোশাক কারখানায় রবিবার ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিক অসন্তোষের জেরে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্যোগী হয়েছে বাংলাদেশের সরকারও। শ্রমিকদের দাবি ও মজুরি সংক্রান্ত সমস্যা খতিয়ে দেখতে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সেই ঘোষণার পরেও বিক্ষোভ থামেনি। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় রবিবার রাতে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে উপস্থিত (Bangladesh) ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন-সহ সরকারের একাধিক প্রতিনিধি।

    রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা!

    এদিকে, এই অশান্তির পিছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশের সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সন্দেহ, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের একাংশ এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।

    সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠক শেষে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই ঘটনার পিছনে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তাঁর কথায়, “এটা স্পষ্টতই আওয়ামী ফ্যাসিবাদের লোকেদের কাজ। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে এসব করা হয়েছে। পোশাক উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, যাতে অস্থিরতা তৈরি না হয়, সেই বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।”

    পোশাক শিল্পে ঘনাতে পারে দুর্দিন!

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রফতানি আয়ের একটি বড় অংশ আসে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে। এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন বিপুল সংখ্যক শ্রমিক। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব শুধু কারখানার উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, দেশের রফতানি বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের মজুরির দাবি এবং শিল্পের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন বাংলাদেশ সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ (Garment Workers Protest)।

    শ্রমিক অসন্তোষের জেরে নিজের সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সফর বাতিল করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। পরিস্থিতি (Bangladesh) সামাল দিতে সরকার কী পদক্ষেপ করে এবং শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এখন সেটাই দেখার।

     

  • Germany Left Wing Protests: জার্মানির বিভিন্ন শহরে তরুণদের বিক্ষোভের জেরে অশান্তি, ফ্রাঙ্কফুর্টে দোকানপাটে লুটপাট-ভাঙচুর

    Germany Left Wing Protests: জার্মানির বিভিন্ন শহরে তরুণদের বিক্ষোভের জেরে অশান্তি, ফ্রাঙ্কফুর্টে দোকানপাটে লুটপাট-ভাঙচুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভের জেরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে জার্মানির একাধিক শহরে। গত ৩১ অক্টোবর বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা চালু করার বিরোধিতা, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন হাজার হাজার মানুষ। কয়েকটি শহরে সেই বিক্ষোভ হিংসাত্মক সংঘর্ষের (Germany Left Wing Protests) চেহারা নেয়। ফ্রাঙ্কফুর্টে মুখ ঢাকা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দোকানপাটে লুটপাট, বাণিজ্যিক সম্পত্তি ভাঙচুর এবং জরুরি পরিষেবার কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে (Shops Looted)।

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জার্মানিতে নতুন করে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, বামপন্থী চরমপন্থী সংগঠন এবং বিদেশের কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ থাকা সংগঠনগুলি সাধারণ মানুষের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা করতে পারে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালীন একাধিক দোকানের কাচ ভাঙা হয়। জরুরি পরিষেবার কর্মীদের লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। হামবুর্গেও বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেয়।

    বিক্ষোভের নেতৃত্বে তরুণ প্রজন্ম (Germany Left Wing Protests)

    জার্মানির বামপন্থী প্রচার সংগঠন ‘জেন জি রেগেল্ট’-এর উদ্যোগে দেশের ৩৪টি শহরে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং মিউনিখের মতো বড় শহরগুলিতেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। সংগঠনটির নামের অর্থ, ‘নতুন প্রজন্মই এবার দায়িত্ব নেবে’।

    বিক্ষোভকারীদের মূল দাবিগুলির মধ্যে ছিল বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা চালুর প্রস্তাব প্রত্যাহার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ। সরকারি পরিষেবাগুলির উন্নতি এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।

    তবে ফ্রাঙ্কফুর্টে বিক্ষোভের মূল দাবিগুলিকে ছাপিয়ে যায় লুটপাট, ভাঙচুর এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা। এক প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ অনুযায়ী, শহরের অন্তত দু’টি দোকানে লুটপাট চালানো হয় এবং আরও কয়েকটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠলে ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ সাধারণ মানুষকে সংঘর্ষপ্রবণ এলাকাগুলি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় পুলিশের তরফে জানানো হয়, শহরের কেন্দ্রস্থলে একাধিক দোকানের কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে, জরুরি পরিষেবার কর্মীদের লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা ছোড়া হচ্ছে। পথচারীদের ওই এলাকা থেকে সরে যাওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয় (Germany Left Wing Protests)।

    বামপন্থী সংগঠনগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    এই বিক্ষোভে বামপন্থী চরমপন্থী সংগঠনগুলির সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। জার্মানির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য, উগ্র বামপন্থী রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের কিছু অংশ এবং বিদেশের কয়েকটি চরমপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠন বিক্ষোভের সমর্থনে জনমত সংগঠিত করার চেষ্টা করেছে।

    এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং দেশের বৃহত্তর ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষমতা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    প্রশাসনের আশঙ্কা, বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবার বিরোধিতা, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে কিছু সংগঠন বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

    তবে বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক সংগঠন বা অংশগ্রহণকারীকে চরমপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করার মতো কোনও তথ্য সামনে আসেনি। অধিকাংশ শহরে জমায়েত শান্তিপূর্ণ ছিল বলেই প্রশাসন জানিয়েছে।

    তরুণদের ক্ষোভের কেন্দ্রে অর্থনৈতিক সঙ্কট

    ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানি বর্তমানে একাধিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি মন্থর। অন্যদিকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক পরিষেবার উপর সরকারি ব্যয় বাড়ানোর দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। এর পাশাপাশি অবসর গ্রহণকারী প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমে যাওয়ার ফলে পেনশন ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, এই অর্থনৈতিক চাপের বড় অংশ বহন করতে হচ্ছে তরুণ প্রজন্মকে। অথচ তাঁদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বার্লিনের একটি বিক্ষোভসভায় আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিখ বলেন, “যুদ্ধ এবং জোরজবরদস্তির পরিবর্তে আমরা আজ শান্তি ও স্বাধীনতার দাবিতে পথে নেমেছি।” তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় সরকারি সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানান। একই সঙ্গে বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা চালুর বিরোধিতাও করেন (Germany Left Wing Protests)। মিউনিখের এক তরুণ বিক্ষোভকারী স্টিভও সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের উদ্বেগের কোনও সমাধান সরকার দিচ্ছে না। উল্টে সরকারি ব্যয় কমানো হচ্ছে এবং আমাদের উপর আরও বেশি আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।” সরকার বিক্ষোভকারীদের দাবির (Shops Looted) বিষয়ে পদক্ষেপ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

    প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম মানুষের উপস্থিতি

    আন্দোলনের উদ্যোক্তারা দেশজুড়ে প্রায় ১ লক্ষ ৮২ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে উপস্থিতির সংখ্যা ছিল অনেক কম। ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও বার্লিনে পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, তিন শহর মিলিয়ে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল আনুমানিক ১৮ হাজার। অন্যদিকে আন্দোলনের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই তিন শহরের জন্য প্রায় ৩৬ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের দাবি করা হয়েছিল। অর্থাৎ উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা এবং বাস্তব উপস্থিতির মধ্যে যথেষ্ট ফারাক ছিল।

    ফ্রান্সের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা

    জার্মানির হেসে প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোসেক তরুণদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। উল্লেখ্য, এই প্রদেশের রাজধানী ভিসবাডেন এবং বৃহত্তম শহর ফ্রাঙ্কফুর্ট।

    ফ্রান্সে সাম্প্রতিক অতীতে তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভের সময় লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে পোসেক বলেন, “ফ্রান্সের সেই দৃশ্যগুলি আমাদের সকলের মনে রয়েছে। দোকান লুট করা, বাড়িতে আগুন লাগানো, পুলিশের গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া এবং পুলিশকর্মীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এই ক্ষেত্রে ফ্রান্সকে কোনওভাবেই আদর্শ হিসেবে তুলে ধরা উচিত নয়।”

    তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দাবিদাওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন যাতে বৃহত্তর আইনশৃঙ্খলার সমস্যায় পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করতে চাইছে (Germany Left Wing Protests) প্রশাসন।

    আগে থেকেই সতর্ক ছিল ব্যবসায়ী মহল

    বিক্ষোভের সম্ভাব্য প্রভাবের কথা মাথায় রেখে জার্মানির বিভিন্ন শহরের ব্যবসায়ীরা আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। কয়েকটি দোকানের সামনের অংশ কাঠের পাটাতন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। কোথাও আবার নির্ধারিত সময়ের আগেই দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বার্লিনের অভিজাত কেনাকাটার এলাকা কুরফ্যুরস্টেনডামেও একাধিক ব্যবসায়ী একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতীরা ভাঙচুর ও লুটপাট চালাতে পারে (Shops Looted)।

    ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও বিতর্ক

    এই আন্দোলন আদৌ জার্মানির বৃহত্তর ছাত্রসমাজের মতামত তুলে ধরছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দেশের জাতীয় ছাত্র সংগঠন বুন্ডেসশুলারকনফারেঞ্জ এই উদ্যোগ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, আগামী ২০ নভেম্বর তারা পৃথকভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে।

    অন্যদিকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামোর বেহাল দশাও অনেক ছাত্রছাত্রীকে আন্দোলনে যোগ দিতে উৎসাহিত করেছে।

    বার্লিনের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া শন বেকার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ঢুকে বিভিন্ন ঘর দেখলে মনে হয় যেন কোনও পরিত্যক্ত বাড়িতে প্রবেশ করেছি। অথচ এই জায়গাতেই আমাদের নিয়মিত পড়াশোনা করার কথা।”

    ইউরোপজুড়েই বাড়ছে তরুণদের আন্দোলন

    ২০২৬ সালে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে একাধিক বিক্ষোভ কর্মসূচি দেখা গিয়েছে। ফ্রান্সে বামপন্থী ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলির অংশগ্রহণে হওয়া কয়েকটি বিক্ষোভ হিংসাত্মক সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনায় পর্যবসিত হয়েছে।

    জার্মানির সাম্প্রতিক আন্দোলনের মূল দাবি ছিল শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি, জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস এবং বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবার বিরোধিতা। কিন্তু ফ্রাঙ্কফুর্টের হিংসাত্মক ঘটনা গোটা আন্দোলনের চরিত্র, এর সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলির ভূমিকা এবং (Germany Left Wing Protests) সাধারণ মানুষের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলির অশান্তি ছড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

     

  • Next Generation Corvettes Deal: বাড়ছে ভারতের নৌসেনার শক্তি, ৫৩,৮৬৬ কোটি টাকায় তৈরি হবে ৮টি যুদ্ধজাহাজ! গার্ডেনরিচ পেল ৫টির বরাত

    Next Generation Corvettes Deal: বাড়ছে ভারতের নৌসেনার শক্তি, ৫৩,৮৬৬ কোটি টাকায় তৈরি হবে ৮টি যুদ্ধজাহাজ! গার্ডেনরিচ পেল ৫টির বরাত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় নৌসেনার সামুদ্রিক শক্তি আরও বাড়াতে বড়সড় পদক্ষেপ করল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ শিল্পকে নতুন গতি দিতে গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (GRSE) এবং গোয়া শিপইয়ার্ড লিমিটেডের (GSL) সঙ্গে মোট ৫৩,৮৬৬.৫০ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর করল কেন্দ্র। এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় নৌসেনার জন্য তৈরি হবে ৮টি নেক্সট জেনারেশন করভেট (Next Generation Corvettes বা NGC)। সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, নয়াদিল্লির কর্তব্য ভবন-২-এ প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের উপস্থিতিতে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

    কোন সংস্থা কতগুলি যুদ্ধজাহাজ তৈরি করবে?

    চুক্তি অনুযায়ী, কলকাতার রাষ্ট্রায়ত্ত যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ সংস্থা জিআরএসই তৈরি করবে ৫টি নেক্সট জেনারেশন করভেট। অন্যদিকে, বাকি ৩টি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে গোয়ার জিএসএল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই প্রকল্পে প্রথমবার ভারতীয় নৌসেনার নিজস্ব নকশায় যুদ্ধজাহাজ তৈরি করা হবে এবং প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিরক্ষা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি (DPSUs) সেগুলি নির্মাণ করবে। ভারতের নিজস্ব যুদ্ধজাহাজের নকশা তৈরি এবং নির্মাণের সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    কী কী বিশেষ ক্ষমতা থাকবে নেক্সট জেনারেশন করভেটে?

    আধুনিক যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হবে এই ৮টি যুদ্ধজাহাজ। অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র এবং আধুনিক সেন্সর স্যুটে সজ্জিত থাকবে নেক্সট জেনারেশন করভেটগুলি। ফলে আকাশপথ, সমুদ্রপৃষ্ঠ এবং সমুদ্রের গভীরে—তিনটি ক্ষেত্রেই সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা থাকবে এই যুদ্ধজাহাজগুলির।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক নৌযুদ্ধে শুধুমাত্র শক্তিশালী অস্ত্র থাকাই যথেষ্ট নয়। শত্রুপক্ষের গতিবিধি শনাক্ত করা, দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং বিভিন্ন সামরিক ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত সেন্সর ও অস্ত্র ব্যবস্থার সমন্বয় এই করভেটগুলিকে বহুমুখী সামুদ্রিক অভিযানে কার্যকর করে তুলবে।

    ভারতীয় নৌসেনার শক্তি কতটা বাড়বে?

    নতুন করভেটগুলি অন্তর্ভুক্ত হলে ভারতীয় নৌসেনার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অভিযান চালানোর ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে—

    • ● সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের সুরক্ষা: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নজরদারি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    • ● অ্যান্টি-সারফেস ওয়ারফেয়ার: শত্রুপক্ষের জলযান ও যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো।

    • ● অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার: শত্রু ডুবোজাহাজ শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনে সেগুলির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান।

    • ● উপকূলীয় প্রতিরক্ষা: ভারতের দীর্ঘ উপকূলরেখার নিরাপত্তা আরও মজবুত করা।

    • ● অগভীর জলে যুদ্ধ: উপকূল সংলগ্ন অগভীর জলসীমায় সামরিক অভিযান পরিচালনা।

    • ● সামুদ্রিক নজরদারি: গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখা এবং সন্দেহজনক গতিবিধির উপর নজর রাখা।

    ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান নৌ-তৎপরতা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের কৌশলগত গুরুত্বের প্রেক্ষাপটে এই যুদ্ধজাহাজগুলি ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় জলসীমা থেকে শুরু করে বিস্তৃত সমুদ্রাঞ্চলে নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে নতুন সক্ষমতা তৈরি হবে।

    ১০ বছরে বিপুল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

    এই প্রকল্পের গুরুত্ব শুধু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। ভারতের দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্প, বেসরকারি শিপইয়ার্ড, শিল্প সহযোগী সংস্থা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রের (MSMEs) জন্যও বড় সুযোগ তৈরি হতে চলেছে।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে এই প্রকল্পের মাধ্যমে—

    • ● জাহাজ নির্মাণ সংস্থাগুলিতে প্রায় ৭২ লক্ষ কর্মদিবস কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

    • ● সহযোগী শিল্প এবং এমএসএমই ক্ষেত্রগুলিতে প্রায় ৪৬০ লক্ষ কর্মদিবস কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

    অর্থাৎ, প্রত্যক্ষভাবে শিপইয়ার্ডের পাশাপাশি যন্ত্রাংশ উৎপাদন, ইলেকট্রনিক্স, বিশেষায়িত সরঞ্জাম, প্রযুক্তি ও বিভিন্ন সহায়ক শিল্পের সঙ্গেও যুক্ত হবে বিপুল সংখ্যক কর্মী ও সংস্থা। ফলে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের সরবরাহ শৃঙ্খল আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বড় পদক্ষেপ

    এই প্রকল্পে দেশীয় উপকরণ, ভারতীয় প্রযুক্তি, সরঞ্জাম এবং দক্ষ মানবসম্পদের ব্যবহারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর ফলে বিদেশি প্রযুক্তি ও আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের সঙ্গেও এই প্রকল্পের সরাসরি যোগ রয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় নৌসেনার নিজস্ব নকশায় যুদ্ধজাহাজ তৈরি এবং দেশীয় শিল্প সংস্থাগুলির মাধ্যমে তার নির্মাণ—প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

    সব মিলিয়ে, ৫৩,৮৬৬.৫০ কোটি টাকার এই চুক্তি শুধুমাত্র ৮টি যুদ্ধজাহাজ কেনার প্রকল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, দেশীয় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা। বিশেষ করে কলকাতার জিআরএসই-র হাতে ৫টি করভেট নির্মাণের দায়িত্ব আসায় বাংলার প্রতিরক্ষা শিল্পের কাছেও এই প্রকল্পের গুরুত্ব যথেষ্ট।

  • BJP Rally in Kolkata: আজ রাজপথে বিজেপি! ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ ইস্যুতে নিতিন নবীনের নেতৃত্বে মহা মিছিল, সভাতে শুভেন্দু- শমীকরা

    BJP Rally in Kolkata: আজ রাজপথে বিজেপি! ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ ইস্যুতে নিতিন নবীনের নেতৃত্বে মহা মিছিল, সভাতে শুভেন্দু- শমীকরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজপথে মহা মিছিলের (BJP Rally in Kolkata) ডাক দিল গেরুয়া শিবির। ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের (Nitin Nabin in Kolkata) নেতৃত্বে আদ, সোমবার কলকাতার কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ শীর্ষক মহামিছিল হতে চলেছে। গত কয়েক দিন ধরে জেলায় জেলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ ইস্যুকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে বিজেপি। আগামী দিনেও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে হবে মিছিল, সমাবেশ।

    কারা কারা থাকবেন?

    আজ মেগা এই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে মহা মিছিলে অংশ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব এদিনের মিছিলে পা মেলাবেন। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, শান্তনু ঠাকুর, রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য স্বপন দাশগুপ্ত, দিলীপ ঘোষ, তাপস রায়, অগ্নিমিত্রা পাল, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, দুধকুমার মণ্ডল, অর্জুন সিং, ক্ষুদিরাম টুডু, ইন্দ্রনীল খাঁ, সুমনা সরকার, মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, দীপঙ্কর জানা, উমেশ রাই-সহ মন্ত্রীরা। উপস্থিত থাকবেন সজল ঘোষ, বিজয় ওঝা, রীতেশ তিওয়ারি, পাপিয়া অধিকারী, শর্বরী মুখোপাধ্যায়, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, দেবাশিস ধর, শঙ্কর শিকদার, কৌস্তভ বাগচী, রাজেশ কুমার, দেবদাস মণ্ডল, শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়, পীযূষ কানোরিয়া, তরুণজ্যোতি তিওয়ারি, বিমান ঘোষ, সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়, বঙ্কিম ঘোষ – সহ বিধায়করা। এছাড়া, পাঁচ রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, বিজন গোস্বামী, শশী অগ্নিহোত্রী, সৌমিত্র খাঁ সহ বিভিন্ন পদাধিকারীদের থাকার কথা।

    বিশেষ বিমানে কলকাতায় নিতিন

    দুপুর আড়াইটে নাগাদ বিশেষ বিমানে কলকাতায় পৌঁছোনোর কথা বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের। বিকেলে কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করবে বিজেপি। সেখানে যোগ দেবেন নিতিন। মিছিল শেষে বক্তৃতাও করার কথা তাঁর। ইতিমধ্যেই রবিবার রাতে কর্মসূচি স্থলের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য ও জেলা নেতৃত্ব। সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, অমিতাভ চক্রবর্তী, তমোঘ্ন ঘোষ-সহ অন্যান্য পদ্ম নেতৃত্ব প্রস্তুতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। প্রসঙ্গত, দেশ জুড়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছে বিরোধীরা। সরব হচ্ছে ভোট চুরির অভিযোগ নিয়েও। রবিবার ইন্ডি জোটের দিল্লির আন্দোলনে শামিল হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এর ঠিক পরের দিনই কলকাতায় বিজেপির মেগা রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে রাজনীতির পারদ চড়ছে।

    বিরোধীদের আন্দোলন অরাজকতা সৃষ্টি করছে

    বিরোধীদের আন্দোলন বর্তমানে আর শুধু রাজনীতির দৈনন্দিন কর্মসূচিতে আটকে নেই। তা অরাজকতা সৃষ্টি করছে, তেমনটাই মনে করছেন দেশের শাসক দল বিজেপি। এই আবহে বিরোধীদের পাল্টা রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েছে পদ্ম শিবির। কর্মসূচির পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও অরাজকতা হটাও।’ গত শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের নিউ ইন্ডিয়ান মাঠে গণতন্ত্র বাঁচাও অরাজকতা হটাও শীর্ষক সভার আয়োজন করেছিল বিজেপি। গত শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতাতেও একই ইস্যুকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। যে দুই কর্মসূচির প্রধান বক্তা ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    একাধিক রাজ্যে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা

    রবিবার একাধিক রাজ্যে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা করে বিজেপি। একদিকে যখন ভোটচুরির অভিযোগকে হাতিয়ার করে দিল্লিতে মেগা কর্মসূচি করছে বিরোধী জোট, সেদিনই একাধিক রাজ্যে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা করল বিজেপি। হরিয়ানার রোহতকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে হয় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা। কোথাও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। সিমলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রায় নেতৃত্ব দেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। মিছিলে ছিলেন অনুরাগ ঠাকুর-সহ অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব।

  • Diwali 2026: দীপাবলিতে বাজি পোড়ানোর আনন্দেই লুকিয়ে বিপদ! অগ্নিদগ্ধ থেকে শ্বাসকষ্ট, সুস্থ থাকতে মানুন চিকিৎসকদের পরামর্শ

    Diwali 2026: দীপাবলিতে বাজি পোড়ানোর আনন্দেই লুকিয়ে বিপদ! অগ্নিদগ্ধ থেকে শ্বাসকষ্ট, সুস্থ থাকতে মানুন চিকিৎসকদের পরামর্শ

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আর মাত্র কয়েক দিন! শহর থেকে জেলা, বহুতল থেকে পাড়া সেজে উঠবে আলোর উৎসবে! প্রদীপের আলো আর বাজির উৎসবে মাতবেন আট থেকে আশি, সকলেই। কিন্তু দীপাবলির এই আনন্দে বাধা হতে পারে অসাবধানতা! সামান্য অসতর্কতাও আনন্দের তাল কাটতে পারে। তাই কয়েকটি দিকে বাড়তি নজরদারির পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কোন বিপদের ইঙ্গিত করছেন বিশেষজ্ঞরা?

    অগ্নিদগ্ধের ঝুঁকি!

    সামান্য অসতর্কতাও বড় বিপদ তৈরি করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দীপাবলির পরেই প্রত্যেক বছর উল্লেখযোগ্য ভাবে অগ্নিদগ্ধ রোগীর সংখ্যা বাড়ে। শিশু থেকে প্রৌঢ়, সব‌ বয়সেই এই বিপদ দেখা দিতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা জরুরি।

    শ্বাসকষ্টের রোগীর জটিলতা!

    দীপাবলির পরে অনেকেই হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভোগেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাজি পোড়ানোর ফলে এক ধরনের ধোঁয়া হয়। সেই ধোঁয়া থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ শিশু ও বয়স্কদের এই সমস্যা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

    শ্রবণশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা!

    শব্দবাজির দাপটে শ্রবণশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনটাই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত তীব্র শব্দ কানের ভিতরে গভীর ক্ষত তৈরি করে। এর ফলে শ্রবণশক্তি হারিয়ে যেতে পারে। তাই এই নিয়ে সচেতনতা জরুরি।

    ত্বক ও চোখের সংক্রমণ!

    বাজির মধ্যে থাকে নানান রাসায়নিক পদার্থ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকের সেই রাসায়নিক পদার্থ সংস্পর্শে এসে নানান ধরনের অ্যালার্জি হয়। আবার, চোখের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ও বছরের এই সময়ে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যায় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন বাজির ধোঁয়ায় চোখ জ্বালা করে। সেখান থেকেই সংক্রমণ ঘটতে থাকে।

    কীভাবে সুস্থ থেকে উৎসব উদযাপন সম্ভব?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখলেই দীপাবলির উৎসব নিশ্চিন্তে উদযাপন সম্ভব। এড়ানো যেতে পারে হয়রানি।

    খোলা জায়গায় বাজি পোড়ানো!

    বাজির উৎসবে সবচেয়ে বেশি চিন্তা বাড়ায় আগুন। অসাবধানতা বড় বিপদ‌ তৈরি করে। তাই খোলা জায়গায় বাজি পোড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাজি পোড়ানোর সময় হালকা সুতির কাপড় পরা জরুরি। পা ঢাকা জুতো পরতে হয়। এতে আগুন লাগার ঝুঁকি কমে।
    আবার বাজি পোড়ানোর সময় আশপাশে জলের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। যাতে বিপদ হলেও সামাল দেওয়া সহজ হয়‌।
    শিশুদের একেবারেই একা ছাড়া চলবে না। বাজি পোড়ানোর সময় অবশ্যই অভিভাবকদের সঙ্গে থাকতে হবে। ফুলবাজি, রং মশালের মতো বাজি তুলনামূলক নিরাপদ মনে হলেও এই বাজি আগুন ধরাতে পারে। বিপদের ঝুঁকি রয়েছে।

    সিওপিডি আক্রান্তদের বাড়তি সতর্কতা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি আক্রান্ত। এই সময়ে তাঁদের বাড়তি শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। বাজির ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট শুরু হতে পারে। আবার নতুন করে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, এই সময়ে বাড়ির বাইরে গেলেই মাস্ক পরা জরুরি। অস্বাস্থ্যকর ধোঁয়া আটকাবে। আবার সংক্রমণের ঝুঁকিও কমবে। তাছাড়া প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞর পরামর্শ মতো ইনহেলার ব্যবহার করতে হবে।

    বাজি পোড়ানোর পরে হাত ও চোখ জল দিয়ে পরিষ্কার করা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাজি পোড়ানোর পরে ভালোভাবে হাত ও চোখ পরিষ্কার করা জরুরি। জল দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করলে বাজির রাসায়নিক থেকে ত্বক ও চোখের সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

    শব্দবাজির ব্যবহারে হ্রাস!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শব্দবাজি নিয়ে সচেতনতা জরুরি। আইন মেনে বাজির উৎসব উদযাপন করলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি এড়ানো সহজ হয়। পরিবেশবান্ধব বাজি পোড়ালে নানান ক্ষতির ঝুঁকি কমে। শব্দ বাজি এড়িয়ে চললে শুধু কানের ক্ষতি নয়। পাশপাশি হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো যায়। মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতিও এড়ানো যেতে পারে। তাই উৎসবের উদযাপনে সচেতন ও সতর্ক থাকলে যেকোনো বড় বিপদ আটকানো সহজ হবে বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা!

  • Cyclone Murasu: ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’! ল্যান্ডফল কখন-কোথায়? কালীপুজোর মুখে আবারও তুমুল ঝড়-বৃষ্টি?

    Cyclone Murasu: ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’! ল্যান্ডফল কখন-কোথায়? কালীপুজোর মুখে আবারও তুমুল ঝড়-বৃষ্টি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অর্ণবের ক্ষত শুকোতে এখনও সময় লাগবে, তার আগেই ফের ঘূর্ণিঝড় অন্ধ্র ঊপকূলে। বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ-পশ্চিম ও সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া এই ঘূর্ণিঝড় উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে। আজ, সোমবার সেটি শক্তি বাড়িয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের (আইএমডি) পূর্বাভাস, আগামিকাল, মঙ্গলবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। তবে এই ঘূর্ণিঝড়ের (Cyclone Murasu) সরাসরি প্রভাব বাংলায় পড়বে না বলে মনে করছে হাওয়া অফিস।

    ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’-র গতিপথ ও শক্তি

    আবহাওয়া দফতরের ১ নভেম্বর, ২০২৬-এর বুলেটিন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ গত ৬ ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্রায় ২৫ কিলোমিটার বেগে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়েছে। হাওয়া অফিসের (Weather Update) পূর্বাভাস মতোই আজ ২ নভেম্বর ভোরের মধ্যে এটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এরপর উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২ নভেম্বর মধ্যরাত থেকে ৩ নভেম্বর ভোরের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী এলাকায় ওঙ্গোলের কাছাকাছি স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০-১১০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছতে পারে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

    কীভাবে সৃষ্টি হয় ঘূর্ণিঝড়

    আবহবিদরা জানাচ্ছেন, বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বেশি থাকলেই বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের জোগান বাড়ে। এর পরে অনুকূল বায়ুপ্রবাহ, ‘ভার্টিক্যাল উইন্ড শিয়ার’ অর্থাৎ বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উচ্চতায় বাতাসের গতিবেগ ও গতিপথের পরিবর্তন এবং বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতাও ঘূর্ণাবর্তকে শক্তি জুগিয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিমত হতে সাহায্য করে। তাই একটি ঘূর্ণিঝড় চলে গেলেই সমুদ্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অনুকূল পরিস্থিতি রাতারাতি বদলে যায় না। ফলে একই মরশুমে অল্প ব্যবধানে একাধিক ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে। অর্ণবের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই তাই নতুন বিপদের আশঙ্কা অন্ধ্র উপকূলে।

    ব্যাক-টু-ব্যাক ঘূর্ণিঝড়ের ইতিহাস

    সমুদ্রে পর পর ঘূর্ণিঝড়ের আবির্ভাব অস্বাভাবিক নয়। ১৯৭১–এ বঙ্গোপসাগরে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ নভেম্বরের মধ্যে তিনটি ঘূর্ণিঝড় এসেছিল। পুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মিটিওরোলজির (আইআইটিএম) রেকর্ড অনুযায়ী, প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘১০বি’ ৩০ সেপ্টেম্বর সুন্দরবন অঞ্চলে, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘১২বি’ ২৯–৩০ অক্টোবর ওডিশার পারাদ্বীপের কাছে এবং প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘১৪বি’ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ল্যান্ডফল করেছিল। এই তিন ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে ‘১২–বি’ সবচেয়ে বেশি বিধ্বংসী ছিল। এটির ল্যান্ডফলের সময়ে ২ থেকে ৬ মিটার উচ্চতার সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়। সেই জলোচ্ছ্বাস উপকূল থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার ভিতরে ঢুকে পড়েছিল। ঝড়ের ফলে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ‘ব্যাক–টু–ব্যাক’ ঘূর্ণিঝড়ের পর্ব এখানেই শেষ নয়। ২০২৩–এও অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের শুরুতে পর পর তৈরি হয়েছিল ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ ও ‘মিধিলি’।

    ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’-র নামকরণ

    ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ নাম রেখেছিল বাংলাদেশ। এবার ‘মুরাসু’র নামকরণ করল ভারত। মূলত তামিল শব্দ এটি। তামিলনাড়ুর ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের নাম ‘মুরাসু’। এককালে তা বাজিয়ে যুদ্ধ বা বড় কোনও সংবাদ দেওয়া হত জনগণকে। এর বাজনা শুনলেই বোঝা যেত, বড় কোনও খবর আসছে। এবার ঘূর্ণিঝড়ের আগমন বার্তা জানাতে এই ‘মুরাসু’ নামকরণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    কালীপুজোর মুখে ঘূর্ণিঝড়

    দুর্গা পুজোর পর ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ বেশ কিছুটা দাপট দেখিয়েছিল দক্ষিণবঙ্গে। ভিজেছিল বেশ কয়েকটি জেলা। এরপর ‘মুরাসু’র জেরে রাজ্যের আবহাওয়ায় কেমন প্রভাব পড়ে, কালীপুজোর আগে তা নিয়ে চিন্তা ছিল বঙ্গবাসীর। মেঘলা আকাশে বৃষ্টির ভ্রূকুটি কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল বাজি ব্যবসায়ীদের। আপাতত চিন্তার নিরসন করেছে হাওয়া অফিস। পূর্বাভাস বলছে, চলতি সপ্তাহে উত্তরবঙ্গে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকবে, মূলত শুস্ক আবহাওয়া। দু, এক জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে পুরোপুরি শুকনো আবহাওয়া। দক্ষিণবঙ্গেও প্রায় একই আবহাওয়া থাকার সম্ভাবনা। সোম, মঙ্গল আংশিক মেঘলা আকাশ, দু-এক পশলা বৃষ্টির পর বুধবার থেকে মূলত শুষ্ক আবহাওয়া।

    বাংলার আবহাওয়ায় কী প্রভাব পড়বে?

    ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আপাতত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ৩ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ৩ নভেম্বর দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে কয়েক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তবে বাকি জেলাগুলিতে মূলত শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে। দক্ষিণবঙ্গেও ৩ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত সব জেলাতেই এক-দু’জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ৩ নভেম্বর থেকে ৪ নভেম্বরের মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার কিছু এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। এরপর ৪ নভেম্বর থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত দুই বঙ্গেই মূলত শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকার সম্ভাবনা।

    মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কবার্তা

    ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র উত্তাল থেকে অতি উত্তাল হতে পারে। ২ নভেম্বর সকাল থেকে সমুদ্রে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার, দমকা হাওয়ার গতিবেগ ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ৩ নভেম্বর দুপুর পর্যন্ত হাওয়ার গতিবেগ আরও বেড়ে ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ২ নভেম্বর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের পশ্চিম-মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরে ২ নম্বর দূরবর্তী সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে। সাগরদ্বীপ বন্দরে ২ নম্বর এবং ৪ নম্বর স্থানীয় সংকেত জারি রয়েছে।

     

     

     

     

  • INDIA Bloc Rally: দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশকে ‘সুপার ফ্লপ’ কটাক্ষ বিজেপির, কী বলল পদ্মশিবির?

    INDIA Bloc Rally: দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশকে ‘সুপার ফ্লপ’ কটাক্ষ বিজেপির, কী বলল পদ্মশিবির?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোট চুরির অভিযোগ এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রতিবাদে রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশ করেছিল বিরোধীদের ইন্ডিয়া জোট (INDIA Bloc Rally)। সেই সমাবেশ ‘সুপার ফ্লপ’ বলে দাবি করল (Ramlila Maidan) বিজেপি। সমাবেশে প্রত্যাশিত ভিড় না হওয়া নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষও করেন বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র।

    এদিনের সমাবেশে হাজির ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। ভাই রাহুল গান্ধীর ভোট চুরির অভিযোগকে সমর্থন করেন তিনিও। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক-সহ একাধিক রাজ্যে এবং চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ভোটার তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। রাহুলের অভিযোগের উল্লেখ করে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ১৫ শতাংশ। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীদের তুলনায় এনডিএর ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। সেই পরিস্থিতিতে ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এই কারণেই তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনকে ‘অবৈধ’ বলে দেগে দিয়েছেন।

    সমাবেশে হাজির মমতাও (INDIA Bloc Rally)

    দিল্লির সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মমতাও। তিনি আক্রমণ শানান বিজেপিকে। ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্ব এবং নবীন প্রজন্মের আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) প্রক্রিয়াকে হাতিয়ার করে বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিকে নিশানা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। মমতার অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিজেপি কার্যত বাংলাকে লুট করেছে। নির্বাচনী কারচুপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও করেন তিনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “ভ্যানিশ কুমারজি, আপনি কবে ভ্যানিশ হবেন?” একই সঙ্গে গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, শেষ পর্যন্ত বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত।

    বিরোধীদের সমাবেশকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র। রাহুলের বক্তব্যের পাশাপাশি সমাবেশে লোকসমাগম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, সকাল থেকেই বিজেপি এই সমাবেশের দিকে নজর রেখেছিল এবং রাহুলের বক্তব্যও শোনা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোটা অনুষ্ঠানকে সময়ের অপচয় বলেই মনে হয়েছে তাঁর।

    সম্বিতের দাবি, রামলীলা ময়দানের আয়তন ১০ থেকে ১২ একর। সেখানে প্রায় ২৮ হাজার আসনের ব্যবস্থা ছিল। মঞ্চ ও তার সামনের নির্দিষ্ট অংশ বাদ দিলে মাঠের প্রায় ৪০ শতাংশ জায়গাই ফাঁকা ছিল।তাঁর বক্তব্য, প্রায় ১৫ শতাংশ জায়গা মঞ্চ ও সংশ্লিষ্ট ঘেরাটোপের জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল। বিকেল ৩টে থেকে সাড়ে ৩টের মধ্যে তোলা একটি ভিডিয়োর উল্লেখ করে তিনি জানান, সেই ছবি দেখিয়েই সমাবেশে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা নিয়ে নিজের হিসাব তুলে ধরবেন (INDIA Bloc Rally)।

    কংগ্রেসকে নিশানা বিজেপির

    রাহুলকে নিশানা করে সম্বিত বলেন, “রাহুল গান্ধী বক্তব্য রাখছেন, অথচ সামনে ফাঁকা চেয়ার পড়ে রয়েছে। রামলীলা ময়দানও কংগ্রেস সম্পূর্ণ ভরাতে পারেনি। এই সমাবেশ পুরোপুরি ব্যর্থ।”

    তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, বিরোধীরা যে ১০ লাখ মানুষের জমায়েতের দাবি করেছিল, সেই বিপুল সংখ্যক মানুষ কোথায় গেলেন? তাঁর কথায়, “১০ লাখ মানুষ কোথায়? তাঁদের দেখান। এই ধরনের কৌশল করে কেউ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন না। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অর্থ শুধু প্রধানমন্ত্রীর পদ পাওয়া নয়। এখানে ‘পি’ অর্থ ঘাম এবং ‘এম’ অর্থ পরিশ্রম। ঘাম ঝরিয়ে এবং কঠোর পরিশ্রম করেই প্রধানমন্ত্রী হওয়া যায়। এতগুলি রাজনৈতিক দল ও পতাকা একত্রিত করেও তাঁরা ১০ লাখ মানুষের জমায়েত করতে পারেননি।”

    সমাবেশে বেশি মানুষের উপস্থিতি দেখানোর জন্য ক্যামেরার বিশেষ দৃষ্টিকোণ ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিজেপি সাংসদ। তাঁর দাবি, ছবিতে ভিড় বেশি দেখানোর এই কৌশল আসলে দৃশ্যের কারসাজি। রাহুলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “রাহুলজি, হিন্দুস্তান আপনার পূর্বপুরুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এই দেশ দেশের মানুষের। এখানে একজন চা-বিক্রেতাও প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। আর সেটাই আপনাদের অস্বস্তির কারণ।”

    শুধু সমাবেশের ভিড় নয়, রাহুলের বিদেশ সফর নিয়েও কটাক্ষ করেন সম্বিত। তাঁর পাসপোর্টে ভিয়েতনাম ও ব্যাঙ্ককের ছাপ থাকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, রাহুল গান্ধী কখনও দিল্লির চাঁদনি চক বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েছেন কি না। তাঁর দাবি, রাহুল কেনাকাটা করতে যাওয়ার কথা বললেও কোথায় কেনাকাটা করবেন, তা স্পষ্ট করেননি। তবে তাঁর গন্তব্য সম্পর্কে উপস্থিত সকলেই অবগত বলে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন বিজেপি সাংসদ।

    সম্বিতের নিশানায় মমতাও

    মমতা, রাহুল ও তাঁদের সহযোগী বিরোধী নেতাদেরও আক্রমণ শানান সম্বিত। তাঁর অভিযোগ, অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করছেন বিরোধীরা। তিনি বলেন, ভারতের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র এ দেশের নাগরিকদের রয়েছে। অথচ অনুপ্রবেশকারীরা দেশে ঢুকে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতার কটাক্ষের জবাবে সম্বিত জানান, তাঁকে কী নামে ডাকা হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। অনুপ্রবেশকারীরা যাতে ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে না পারে, তার জন্য বিজেপি প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করবে।

    উল্লেখ্য, ভোটার তালিকায় অনিয়ম এবং তথাকথিত ভোট চুরির অভিযোগকে সামনে রেখেই দিল্লিতে এই সমাবেশের (Ramlila Maidan) আয়োজন করেছিল ইন্ডিয়া জোট। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল দাবি করেন, ভবিষ্যতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানো হবে এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তাঁকে জেলের মুখোমুখি হতে হবে। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা (INDIA Bloc Rally) এবং গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত যে আরও বাড়তে চলেছে, তা স্পষ্ট।

     

  • 1984 Sikh Genocide: ১৯৮৪ সালের শিখ নিধন যজ্ঞ, অসহায় পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছিল আরএসএস, দাবি

    1984 Sikh Genocide: ১৯৮৪ সালের শিখ নিধন যজ্ঞ, অসহায় পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছিল আরএসএস, দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর। নিজের দেহরক্ষী বিয়ন্ত সিং ও সতবন্ত সিংয়ের গুলিতে নিহত হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। তাঁর হত্যার পরবর্তী পাঁচ দিন ভারতের স্বাধীনতা-উত্তর ইতিহাসে এক ভয়াবহ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে (1984 Sikh Genocide)। দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের উপর নেমে এসেছিল সংগঠিত হিংসার ভয়াবহতা। অভিযোগ, হাজার হাজার নিরপরাধ শিখকে খুন করা হয়, জীবন্ত পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা চালানো হয়। সেই সময় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও উঠেছিল গুরুতর প্রশ্ন (RSS)।

    এই পরিস্থিতিতে আরএসএস এবং তাদের স্বেচ্ছাসেবকরা শিখ পরিবারগুলিকে আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিতে এগিয়ে এসেছিলেন বলে দাবি করা হয়। হিংসার পরিবেশে বহু শিখ পরিবারকে রক্ষা করতে সঙ্ঘের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন মহলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    পরিকল্পিত হিংসার অভিযোগ (1984 Sikh Genocide)

    ইন্দিরা হত্যার পর দিল্লিতে শিখবিরোধী হিংসা কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা নিয়ে একাধিক তদন্ত, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ এবং রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ, তৎকালীন শাসকদল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতাদের একাংশ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে শিখ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। এমন কথাও বলা হয় যে, শিখদের এমন শিক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, যা তাঁরা কোনও দিন ভুলতে পারবেন না।

    অভিযোগ, দলীয় কর্মীদের সংগঠিত করা হয়েছিল এবং বস্তি ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলির সমাজবিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। শিখদের বাড়ি ও দোকান চিহ্নিত করা হয়। হামলার জন্য ট্রাক জোগাড় করা হয়েছিল। লোহার রড, কেরোসিন ও পেট্রল সংগ্রহেরও অভিযোগ ওঠে।

    ১ নভেম্বর ভোর থেকেই দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় হামলা শুরু হয়। লোহার রড এবং কেরোসিন ও পেট্রলভর্তি পাত্র নিয়ে দুষ্কৃতীরা দলবদ্ধভাবে ঘুরে গুরুদ্বার-সহ শিখদের ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ।

    রকাবগঞ্জ সাহিব গুরুদ্বারে হামলার চেষ্টার ঘটনাও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তেজিত জনতা গুরুদ্বারের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করলে ভিতরে থাকা লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক এক ব্যক্তি হামলাকারীদের ভয় দেখাতে শূন্যে গুলি চালান। পরবর্তী সময়ে জনতার সংখ্যা আরও বাড়ে। ওই এলাকায় কংগ্রেস নেতা কমলনাথ ও বসন্ত সাঠেকেও দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

    কমলনাথের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    রকাবগঞ্জ সাহিব গুরুদ্বারে হিংসার ঘটনায় কমলনাথের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তাঁর দেওয়া হলফনামায় উল্লেখ ছিল, ১ নভেম্বর দুপুরে গুরুদ্বার ও তার আশপাশে হিংসার খবর পেয়ে তিনি কংগ্রেসের একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে ঠিক কখন তিনি পৌঁছেছিলেন এবং কতক্ষণ সেখানে ছিলেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

    বিভিন্ন সাক্ষ্যপ্রমাণ অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত গুরুদ্বার চত্বরের পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত ছিল। অভিযোগ, দুপুর প্রায় ২টো নাগাদ কমলনাথকে উত্তেজিত জনতার মধ্যে দেখা গিয়েছিল। অন্যদিকে, পুলিশ কমিশনার সেখানে পৌঁছন বিকেল সাড়ে ৩টেয়। এই সময়ের ব্যবধানকে কেন্দ্র করে তাঁর উপস্থিতির উদ্দেশ্য ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে (1984 Sikh Genocide)।

    শিখদের রক্ষায় আরএসএসের ভূমিকা

    ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার সময় শিখ পরিবারগুলিকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন বিশিষ্ট শিখ বুদ্ধিজীবী তথা লেখক খুশবন্ত সিং। বিখ্যাত গ্রন্থ ‘এ হিস্ট্রি অব দ্য শিখস’-এর লেখক খুশবন্তের বক্তব্য অনুযায়ী, হিংসার সময় কংগ্রেসের সদস্যদের একাংশ যখন শিখদের নিশানা করছিলেন, তখন আরএসএসের সদস্যরা তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ঢাল হয়ে।

    খুশবন্ত সিংয়ের বক্তব্য ছিল, ইন্দিরা হত্যার আগে ও পরে দিল্লি-সহ বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু-শিখ ঐক্য বজায় রাখতে আরএসএস সম্মানজনক ভূমিকা পালন করেছিল। তাঁর অভিযোগ, ১৯৮৪ সালে কংগ্রেসের নেতাদের একাংশ জনতাকে উসকে দিয়েছিলেন, যার পরিণতিতে তিন হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

    তিনি আরও বলেছিলেন, “সেই কঠিন সময়ে অসহায় শিখদের রক্ষা করতে সাহস দেখানোর জন্য আরএসএস এবং বিজেপিকে যথাযথ কৃতিত্ব দেওয়া উচিত। অটলবিহারী বাজপেয়ীর মতো ব্যক্তিও কয়েকটি জায়গায় নিজে হস্তক্ষেপ করে অসহায় ট্যাক্সিচালকদের সাহায্য করেছিলেন।”

    সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ১৯৮৪ সালের সেই ভয়াবহ সময়ে দিল্লি-সহ বিভিন্ন শহরে শিখ পরিবারগুলিকে রক্ষা করতে আরএসএসের স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের এই উদ্যোগ হিন্দু-শিখ ভ্রাতৃত্বের এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে (RSS)।

    রাজীব গান্ধীর বিতর্কিত মন্তব্য

    ইন্দিরার মৃত্যুর পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর একটি মন্তব্যও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। ১৯৮৪ সালের ১৯ নভেম্বর এক ভাষণে তিনি বলেছিলেন, “ইন্দিরাজির হত্যার পর দেশে কিছু দাঙ্গা হয়েছিল। মানুষ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল এবং কয়েক দিন ধরে মনে হয়েছিল যেন গোটা ভারত কেঁপে উঠেছে। যখন একটি বিশাল গাছ পড়ে যায়, তখন তার আশপাশের মাটি কিছুটা কেঁপে ওঠা স্বাভাবিক।”

    এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। সমালোচকদের বক্তব্য, শিখদের উপর সংগঠিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করার পরিবর্তে রাজীবের বক্তব্যে সেই হিংসাকে একপ্রকার স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষের মৃত্যুর প্রেক্ষিতে এই মন্তব্য বিশেষভাবে সংবেদনশীল হয়ে ওঠে (1984 Sikh Genocide)।

    কংগ্রেস নেতাদের বৈঠক ও অস্ত্র বিলির অভিযোগ

    ১ নভেম্বর সকালে দিল্লির একাধিক এলাকায় কংগ্রেস সাংসদ সজ্জন কুমারকে দেখা গিয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে উঠে এসেছে। পালাম কলোনিতে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে, কিরণ গার্ডেনে সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে এবং সুলতানপুরীতে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে তাঁর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    পালাম কলোনির বাসিন্দা রাজকুমার নামে এক হিন্দু প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অনুযায়ী, পালাম রেলওয়ে প্রধান সড়কে পৌঁছে তিনি একটি জিপে সজ্জন কুমারকে দেখতে পান। জিপটির পিছনে স্কুটার ও মোটরসাইকেলে চড়ে একদল উত্তেজিত মানুষ যাচ্ছিলেন।

    অভিযোগ, সজ্জন কুমারের বক্তব্যে উজ্জীবিত হয়ে ওই জনতা শিখবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিল। তাদের মুখে শোনা যাচ্ছিল, “শিখদের মেরে ফেলো!” এবং “ইন্দিরা গান্ধী আমাদের মা, আর এরাই তাঁকে হত্যা করেছে!” এই প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়ানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।

    জগদীশ টাইটলারের ভূমিকা

    ১৯৮৪ সালের ৫ নভেম্বরের একটি ঘটনা তুলে ধরেছিলেন সাংবাদিক সুদীপ মজুমদার। তাঁর বিবরণ অনুযায়ী, ওই দিন বিকেল ৫টা নাগাদ দিল্লির পুলিশ কমিশনার এস সি ট্যান্ডন সাংবাদিকদের সঙ্গে শহরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছিলেন।

    সেই সময় এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, শিখবিরোধী হিংসার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া দুষ্কৃতীদের মুক্তি দিতে কংগ্রেস সাংসদ এবং দলের শীর্ষ নেতারা পুলিশকে চাপ দিচ্ছেন কি না। পুলিশ কমিশনার এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কংগ্রেস বা অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের তরফে পুলিশকে কোনও চাপ দেওয়া হচ্ছে না।

    কিন্তু তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হাজির হন দিল্লির সদর কেন্দ্রের কংগ্রেস সাংসদ জগদীশ টাইটলার। তাঁর সঙ্গে আরও তিনজন ছিলেন।

    সাংবাদিকের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘরে ঢুকেই টাইটলার পুলিশ কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ট্যান্ডন সাহেব, কী হচ্ছে? আমি যে কাজের কথা বলেছিলাম, তা এখনও করেননি কেন?”

    এই ঘটনায় পুলিশ কমিশনার অস্বস্তিতে পড়েন। উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যেও হাসির প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। টাইটলার এরপরও কমিশনারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। এক সাংবাদিক তাঁকে সংবাদ সম্মেলনে বিঘ্ন না ঘটানোর অনুরোধ জানালে তিনি পাল্টা বলেন, “এটা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

    এরপর সাংবাদিকরা টাইটলারকে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়ে হিংসার ঘটনায় তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানান। টাইটলার সেখানে বসে পুলিশ কমিশনারকে বলেন, “আমার লোকজনকে হেফাজতে রেখে আপনারা ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি করছেন।”

    সুদীপ মজুমদারের দাবি, এই ঘটনার পর কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে পুলিশ কমিশনারকে আর কোনও প্রশ্ন করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি সেই সময়ের প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করে (1984 Sikh Genocide)।

    দীর্ঘদিন পর বিচারপ্রক্রিয়ায় গতি

    নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলে ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার একাধিক পুরনো মামলা নতুন করে সক্রিয় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কংগ্রেস নেতা সজ্জন কুমার এবং জগদীশ টাইটলারের বিরুদ্ধে চলা মামলাগুলিও ফের বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় আসে।

    ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লির একটি আদালত সরস্বতী বিহার এলাকায় বাবা ও ছেলেকে হত্যার মামলায় অভিযুক্ত কংগ্রেস নেতা সজ্জন কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনায়। ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার সঙ্গে যুক্ত এই মামলার রায় দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রত্যাশী পরিবারগুলির কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

    অন্যদিকে, ২০২৩ সালে সিবিআই জগদীশ টাইটলারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে। কয়েক দশক ধরে অভিযুক্তদের রাজনৈতিক সুরক্ষা পাওয়ার অভিযোগের পর এই পদক্ষেপগুলি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মধ্যে নতুন করে বিচারের আশা জাগায়।

    সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তথা শিখ অধিকারকর্মী এইচ এস ফুলকা অতীতে ১৯৮৪ সালের ঘটনাকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন শিখবিরোধী হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কংগ্রেসের কিছু মুসলিম সমর্থকও হিংসায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। অন্যদিকে, বহু সাধারণ হিন্দু নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিখদের রক্ষা করেছিলেন (RSS)।

    ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়

    ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হত্যাকাণ্ড ভারতের স্বাধীনতা-পরবর্তী ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কজনক অধ্যায়। শুধু ব্যাপক প্রাণহানি ও নৃশংসতাই নয়, এই হিংসার পিছনে রাজনৈতিক মদত এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও ঘটনাটিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।

    সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আরএসএসের স্বেচ্ছাসেবকরা শিখ পরিবারগুলিকে আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিয়েছিলেন বলে যে দাবি উঠে এসেছে, তা হিন্দু-শিখ সম্প্রীতি এবং বিপদের সময়ে মানবিক দায়িত্ব পালনের দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়।

    তবে ১৯৮৪ সালের ঘটনাবলির পূর্ণাঙ্গ বিচার এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় নির্ধারণের প্রশ্ন আজও ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। নিহতদের পরিবারগুলির ন্যায়বিচার, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের মূল্যায়ন এবং ঐতিহাসিক সত্যের পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানই এই অধ্যায়ের প্রকৃত নিষ্পত্তির জন্য অপরিহার্য (1984 Sikh Genocide)।

     

  • Centre CESL MoU: পঞ্চায়েতের জমিতে বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জিং কেন্দ্র, হাল ফিরবে গ্রামীণ অর্থনীতির

    Centre CESL MoU: পঞ্চায়েতের জমিতে বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জিং কেন্দ্র, হাল ফিরবে গ্রামীণ অর্থনীতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রামীণ পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং পঞ্চায়েতের নিজস্ব আয়ের উৎস বাড়াতে নয়া উদ্যোগ কেন্দ্রের। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পঞ্চায়েতের জমিতে তৈরি করা হবে বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জ দেওয়ার (Centre CESL MoU) কেন্দ্র এবং ব্যাটারি বদলের পরিকাঠামো। এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন গ্রামীণ এলাকায় পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর (EV Charging) পরিকল্পনা রয়েছে, তেমনি অন্যদিকে পঞ্চায়েতগুলির জন্য নিয়মিত আয়ের পথও খুলে যাবে।

    এই মর্মে কনভার্জেন্স এনার্জি সার্ভিসেস লিমিটেডের সঙ্গে একটি সমঝোতাপত্রও স্বাক্ষর করেছে কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রক। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৪০০-রও বেশি প্রতিনিধির উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি কর্মশালায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং।

    সরকারি জমিতে চার্জিং কেন্দ্র (Centre CESL MoU)

    চুক্তি অনুযায়ী, পঞ্চায়েত ভবন চত্বর-সহ উপযুক্ত সরকারি জমিতে এই চার্জিং কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি রাজ্য ও জাতীয় সড়কের পাশেও উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করে পরিকাঠামো তৈরি করা হবে। দু’চাকা, তিন চাকা, চার চাকা এবং মাঝারি ও ভারী বাণিজ্যিক বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য চার্জ দেওয়া ও ব্যাটারি বদলের ব্যবস্থা থাকবে।

    কনভার্জেন্স এনার্জি সার্ভিসেস লিমিটেড বিদ্যুৎ সাশ্রয় সংক্রান্ত পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা এনার্জি এফিসিয়েন্সি সার্ভিসেস লিমিটেডের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী সংস্থা। এটি কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রকের অধীনে কাজ করে। প্রকল্পের আওতায় সংস্থাটি সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন, চাহিদা নিরূপণ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ, পরিকাঠামো স্থাপন, পরীক্ষা, চালু করা এবং পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সামলাবে।

    অন্যদিকে, পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রক রাজ্য সরকারগুলির সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে। অর্থাৎ, কোথায় চার্জিং কেন্দ্র তৈরি করা সম্ভব, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত ও রাজ্য প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।

    এই প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হল পঞ্চায়েতের আয়ের সংস্থান। কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, চার্জিং কেন্দ্র এবং ব্যাটারি বদলের পরিষেবার জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রির বদলে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত পাবে এক টাকা করে (Centre CESL MoU)।

    চার্জিং কেন্দ্র থেকে মাসে আয়

    প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১০ বাই ১০ বর্গমিটার জায়গায় তৈরি একটি ছোট চার্জিং কেন্দ্র থেকে মাসে আনুমানিক ৩ হাজার টাকা আয় হতে পারে। অন্যদিকে, ২০ বাই ২৫ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে তৈরি বড় চার্জিং কেন্দ্র থেকে মাসিক প্রায় ১০ হাজার টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই হিসাবে বছরে একটি বড় কেন্দ্র থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে।

    কেন্দ্রের এই যৌথ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল পঞ্চায়েতের অব্যবহৃত বা উপযুক্ত জমিকে আয়ের উৎস হিসেবে গড়ে তোলা। এর ফলে স্থানীয় প্রশাসনের হাতে নিয়মিত অর্থ আসবে, যা নাগরিক পরিষেবা, স্থানীয় পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।

    পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জ দেওয়ার সুবিধা বাড়লে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহারও (EV Charging) উৎসাহিত হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রেও এই পরিকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। সব মিলিয়ে, পঞ্চায়েতের জমিকে সম্পদে পরিণত করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থার বিকাশ ঘটানোই এই (Centre CESL MoU) প্রকল্পের লক্ষ্য।

     

LinkedIn
Share