Blog

  • Congress: কংগ্রেসের সঙ্গে ‘আরশোলা’ পার্টির সংঘাত প্রকাশ্যে, ‘পর্দার আড়ালে সাহায্যে’র দাবি রীতম সিংয়ের

    Congress: কংগ্রেসের সঙ্গে ‘আরশোলা’ পার্টির সংঘাত প্রকাশ্যে, ‘পর্দার আড়ালে সাহায্যে’র দাবি রীতম সিংয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলিকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস (Congress)। কিন্তু সেই বিরোধী ঐক্যের মধ্যেই কংগ্রেস এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মধ্যে টানাপোড়েন ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। দুই দলের নেতাদের মধ্যে বারবার প্রকাশ্যে বাগ্‌যুদ্ধও হয়েছে। সম্প্রতি অসম কংগ্রেসের মুখপাত্র রীতম সিং এবং সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কার মধ্যে প্রকাশ্য বাক্‌যুদ্ধকে ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে (Jantar Mantar Protests) দু’পক্ষের সংঘাত। রীতমের অভিযোগ, রাঙ্কা এবং তাঁর দল আম আদমি পার্টির নির্দেশে কাজ করছে এবং একটি স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র আন্দোলনের কৃতিত্ব নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, অতীতে সিজেপিকে পর্দার আড়াল থেকে কংগ্রেসের সাহায্য করার দাবিও।

    সংঘাতের সূত্রপাত (Congress)

    শনিবার রাঙ্কার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই সংঘাতের সূত্রপাত। রাঙ্কা কংগ্রেসকে নিশানা করে দাবি করেছিলেন, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে আক্রমণ করার জন্য একটি গোটা স্বঘোষিত উদারপন্থী পরিসর সক্রিয় হয়ে উঠেছে। রাঙ্কা লিখেছিলেন, “একটি গোটা ‘স্বঘোষিত উদারপন্থী’ পরিসরকে সক্রিয় করা হয়েছে অভিজিৎ দীপকেকে আক্রমণ করার জন্য। দীর্ঘ, দীর্ঘ সময় পর তিনি লাখ লাখ ভারতীয়ের কল্পনাকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছেন। মজার বিষয় হল, এই পরিসরটি শুধু টুইটারে রয়েছে, অথচ কোনওভাবে মনে করে তারাই গণতন্ত্রের একমাত্র রক্ষক।” রাঙ্কার এই মন্তব্যের পরেই পাল্টা আক্রমণে নামেন রীতম। তিনি রাঙ্কার “ষড়যন্ত্র” এবং “মিথ্যা আত্মগরিমা” প্রকাশ্যে আনার হুঁশিয়ারি দেন।

    রীতমের দাবি, অসম পুলিশ রাঙ্কা এবং তাঁর দলের কর্মীদের আটক করার পর তাঁদের মুক্ত করতে কংগ্রেস সাহায্য করেছিল। কিন্তু সেই সাহায্যের প্রতিদান হিসেবে কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেও রাঙ্কা অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, আম আদমি পার্টির নির্দেশেই কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকার করেছিলেন রাঙ্কা।

    রীতম বলেন, “অসম পুলিশ যখন আপনাকে আটক করেছিল, তখন আমরা কংগ্রেসের লোকজন সিজেপির সদস্যদের বাইরে বের করে আনতে সাহায্য করেছিলাম। অথচ আপনি স্পষ্টভাবে আমাদের কংগ্রেস নেতাদের এবং গৌরব স্যারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেও অস্বীকার করেছিলেন। আপনি তা করেছিলেন কারণ আম আদমি পার্টি আপনাকে তা করতে বারণ করেছিল।”

    তিনি আরও দাবি করেন, গুয়াহাটিতে রাঙ্কার আতিথেয়তার দায়িত্বে থাকা কুনকি চৌধুরী তখন কংগ্রেস প্রার্থীর হয়ে নগাঁওয়ে অসম জনতা পরিষদের সভাপতি লুরিন গগৈয়ের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে ছিলেন। তাঁরাও রাঙ্কাকে কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার অনুরোধ করেছিলেন বলে দাবি রীতমের।

    তিনি বলেন, “তবুও আপনি একবারও কংগ্রেস বা আমাদের ছাত্র শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করার সিদ্ধান্ত নেননি। আপনি কংগ্রেস (Congress) নেতাদের বলেছিলেন, ‘এর বাইরে থাকুন’। আপনি বলেছিলেন, এটি আম আদমি পার্টির উদ্যোগ।” উল্লেখ্য, ছাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে সিজেপির সংগঠন বিস্তারের নামে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি চালানোর সময় রাঙ্কা-সহ দলের কয়েকজন কর্মীকে অসম পুলিশ আটক করেছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    রীতমের অভিযোগ

    রীতমের আরও অভিযোগ, আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সরাসরি নির্দেশে সাম্প্রতিক যন্তর মন্তরের আন্দোলনে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় সভাপতি নেহা বোরাকে পাশ কাটিয়ে গিয়েছিলেন সিজেপি নেতৃত্ব। তাঁর দাবি, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে যোগাযোগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় নেহা বোরাকে আন্দোলন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

    তাঁর আরও অভিযোগ, সিজেপি একটি ছাত্র আন্দোলনকে নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং সোনম ওয়াংচুকের অনশন কর্মসূচির ওপর ভর করে তার কৃতিত্ব নিজেদের নামে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

    তিনি বলেন, “ছাত্রদের সমস্যার পক্ষে দাঁড়ানো এক বিষয়। কিন্তু কোনও আন্দোলনকে নিজেদের দখলে নেওয়া সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। আম আদমি পার্টি অন্যদের ইস্যুতে ভর করে সেগুলিকে নিজেদের করে নেওয়ার জন্য পরিচিত।”

    কংগ্রেস মুখপাত্র অতীতের বিভিন্ন ঘটনাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় অন্না হাজারের কর্মসূচিকে ব্যবহার করা থেকে শুরু করে সোনম ওয়াংচুকের অনশন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে আম আদমি পার্টি অন্যদের আন্দোলনের কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

    রীতম বলেন, “প্রথমে অন্না হাজারেকে সামনে রেখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভারতের নামে আপনাদের সেই সাজানো প্রদর্শনী। এরপর সোনম ওয়াংচুক স্যার যখন অনশনে ছিলেন, তখন তাঁকে পুলিশ তুলে নিয়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত আপনারা নিষ্ক্রিয় ছিলেন। আর যখন সমস্ত ছাত্র সংগঠন স্পষ্টভাবে প্রতিবাদ করছিল, তখন আপনারা পুরো বিষয়টিকে সিজেপির আম আদমি পার্টির আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন।”

    কী বলছে কংগ্রেস

    কংগ্রেস মুখপাত্রের দাবি, সিজেপি ছাত্র আন্দোলনের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার দাবি করে অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে নতুন করে রাজনৈতিকভাবে সামনে আনার চেষ্টা করছে। এদিকে, কংগ্রেস এবং সিজেপির সংঘাতের মধ্যে বিজেপির সঙ্গে সিজেপির যোগসাজশের অভিযোগও সম্প্রতি সামনে এসেছিল। এক কংগ্রেস সমর্থককে বলতে শোনা যায়, “অভিজিৎ দীপকে বলছেন নির্বাচন বয়কট করা উচিত। বিজেপিও চায় সবাই নির্বাচন বয়কট করুক।”

    তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আম আদমি পার্টির মদতপুষ্ট সিজেপি বিজেপির সঙ্গে কাজ করছে বলে তিনি ইঙ্গিত করছেন কি না। জবাবে ওই কংগ্রেস সমর্থক বলেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই। একশো শতাংশ। এটাই সত্যি। কখনও কখনও বড় নেতাদের, যেমন রাহুল গান্ধীর, গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার জন্য নতুন নেতাদের সামনে আনা হয়।”

    কংগ্রেস এবং সিজেপির এই সংঘাত অবশ্য নতুন নয়। গত মাসেও যন্তর মন্তরে ২০ থেকে ২৫ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত হওয়া বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর বাতিলের সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের কৃতিত্ব নেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা যায়। একই মাসে রাজস্থানের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী এবং সম্প্রতি পাঞ্জাবের কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা শচীন পাইলটও বিভিন্ন (Jantar Mantar Protests) রাজ্যে স্কুল পরিদর্শনের নামে সিজেপির রাজনৈতিক সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ফলে বিরোধী শিবিরে (Congress) মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্যের বার্তা সামনে এলেও, কংগ্রেস ও সিজেপির পারস্পরিক সংঘাত যে এখনও অব্যাহত, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিতে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

     

  • Kusum Group Pharma Plant: রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ভারতীয় ওষুধ সংস্থার কারখানা বিধ্বস্ত, নিহত ১

    Kusum Group Pharma Plant: রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ভারতীয় ওষুধ সংস্থার কারখানা বিধ্বস্ত, নিহত ১

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেনের সুমি শহরে ভারতীয় কুসুম গোষ্ঠীর মালিকানাধীন একটি বৃহৎ ওষুধ কারখানায় রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন (Kusum Group Pharma Plant)। হামলায় কারখানাটির মূল ভবনটি প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয় আধিকারিকেরা জানিয়েছেন (Russian Drone Attack)।হামলার পরে ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। ড্রোনগুলি কারখানা চত্বরে আঘাত হানার পরেই আগুন ও ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা।

    কুসুম গোষ্ঠী (Kusum Group Pharma Plant)

    কুসুম গোষ্ঠীর যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৪ সালে। সেই সময় ভারতীয় ওষুধ ইউক্রেনে রফতানি করার মাধ্যমে সংস্থাটি বাণিজ্য শুরু করেছিল। বর্তমানে ভারতীয় নাগরিক রাজীব গুপ্তের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গোষ্ঠী ২০০২ সালে অন্য সংস্থার পণ্য বিতরণের কাজ বন্ধ করে নিজেদের ব্র্যান্ডের ওষুধ বাজারজাত করা শুরু করে।

    পরবর্তীকালে সংস্থাটি ওষুধ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও প্রবেশ করে। ২০০৭ সালে ভারতে কারখানা স্থাপনের পর ২০০৯ সালে ইউক্রেনের সুমিতে একটি উৎপাদন কেন্দ্র চালু করে কুসুম গোষ্ঠী। এরপর ভারতে আরও দু’টি উৎপাদনকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে সংস্থাটি ৫০টিরও বেশি মূলত জেনেরিক ওষুধ তৈরি করে এবং ন’টিরও বেশি দেশে সেগুলি বিক্রি করে। ইউক্রেন ছাড়াও উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান ও ফিলিপাইন তাদের গুরুত্বপূর্ণ বাজার।

    কুসুম গোষ্ঠী নিজেদের ভারতীয় শিকড়-সমৃদ্ধ একটি ইউক্রেনীয় সংস্থা হিসেবে পরিচয় দেয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পুরো সময় জুড়েই সুমির কারখানাটি উৎপাদন চালিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলায় সেটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ৪০০ কোটি টাকা।

    হামলার তীব্র নিন্দা ইউক্রেনের

    হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় তিনি নিহত ব্যক্তির পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান। জেলেনস্কি বলেন, “আজ সকালে রুশ বাহিনী ফের কিয়েভের পিভনিচনি সেতুতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তারা সুমিতে একটি সাধারণ ওষুধের গুদামেও ড্রোন দিয়ে হামলা করেছে। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, এই হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির পরিবার ও স্বজনদের প্রতি আমার সমবেদনা। দিনিপ্রোতেও একটি যোগাযোগকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলাগুলিতে ছ’জন জখম হয়েছেন (Kusum Group Pharma Plant)।”

    গত গ্রীষ্ম থেকে মস্কো ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিদিন বহু দ্রুতগতির ও তুলনামূলকভাবে কম খরচের জেটচালিত শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়ে আসছে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে এগুলি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ড্রোন ধ্বংসে ব্যবহৃত প্রতিরোধী ড্রোনগুলির গতি তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় দ্রুতগতির শাহেদ ড্রোনকে আটকাতে সমস্যা হচ্ছে (Russian Drone Attack)।

    এর মধ্যেই ইউক্রেন চলতি সপ্তাহে নিজেদের তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এফপি-৭ প্রথমবারের মতো যুদ্ধে ব্যবহারের কথা জানিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ২৫০ কিলোমিটার (Kusum Group Pharma Plant)।

     

  • Durga Puja 2026: দুর্গাপুজোকে ঘিরে অশান্তি, পশ্চিমবঙ্গে এক দশকের খতিয়ান

    Durga Puja 2026: দুর্গাপুজোকে ঘিরে অশান্তি, পশ্চিমবঙ্গে এক দশকের খতিয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে দুর্গাপুজো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। পুজো কমিটি, মণ্ডপ, প্রতিমা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং বিসর্জনের শোভাযাত্রা—সব মিলিয়ে প্রতি বছরই রাজ্যের জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে দুর্গাপুজো। কলকাতার দুর্গাপুজো  (Durga Puja 2026) আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। মানবতার বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধি তালিকায় কলকাতার দুর্গাপুজোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে ইউনেস্কো।

    তবে গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে একাধিক বিতর্ক, অশান্তি এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ সামনে এসেছে। কোথাও পুজো মণ্ডপে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে, কোথাও ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ, আবার কোথাও বিসর্জনের শোভাযাত্রায় হামলা, প্রতিবাদীদের গ্রেফতার, পুলিশি পদক্ষেপ এবং প্রশাসনিক বিধিনিষেধ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে (Pandal Vandalism Incidents)।

    রাজনৈতিক বিতর্ক (Durga Puja 2026)

    ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও দুর্গাপুজোর মণ্ডপ সংলগ্ন সিপিআই(এম)-এর বইয়ের স্টলকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। “শারদোৎসবে”র বদলে ‘দুর্গোৎসব’ শব্দ ব্যবহার করতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তা না করলে পুজো কমিটিগুলিকে সিপিআই(এম)-এর বইয়ের স্টল বসানোর অনুমতি না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাল্টা সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এই পদক্ষেপকে “ফ্যাসিবাদী আক্রমণ” বলে আখ্যা দেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় আবেগ উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। দীর্ঘদিন ধরেই পুজো মণ্ডপের আশপাশে সিপিআই(এম) ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলির বইয়ের স্টল বসানোর রীতি রয়েছে। সেখানে দলীয় প্রকাশনা, মার্কসবাদী সাহিত্য এবং বিভিন্ন বই বিক্রি করা হয়।

    ২০২৪ সালের দুর্গাপুজোর সময় একাধিক ঘটনাও বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। কলকাতার গার্ডেন রিচ এলাকায় নিউ বেঙ্গল স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোয় অষ্টমী ও নবমীর আচার-অনুষ্ঠানের সময় গান ও ভক্তিগীতি বাজানোকে কেন্দ্র করে আপত্তির অভিযোগ ওঠে। পুজো কমিটির অভিযোগ ছিল, একটি দল পুজোর অনুষ্ঠান বন্ধ করার হুমকি দেয় এবং দুর্গাপ্রতিমা ভাঙচুরেরও হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা করে।

    দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে অশান্তি

    হাওড়ার শ্যামপুরে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে অশান্তির অভিযোগ ওঠে। পুজো সংলগ্ন এলাকায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। পরে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং এলাকায় নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ জারি করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

    এদিকে, দুর্গাপুজোর বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিবাদকে কেন্দ্র করেও পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। কলকাতা পুলিশ পুজোর সময় জুনিয়র চিকিৎসকদের “অভয়া পরিক্রমা” কর্মসূচি থামিয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করে। পুজো মণ্ডপের বাইরে চিকিৎসকদের আন্দোলনের সমর্থনে প্রতিবাদ করার অভিযোগে আলিপুরে নয় যুবককে গ্রেফতার করা হলেও পরে কলকাতা হাই কোর্ট তাঁদের অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, তাঁদের উদ্দেশ্য ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো বা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা ছিল না (Durga Puja 2026)।

    দুর্গাপুজোর সরকারি কার্নিভালেও এক চিকিৎসকের গ্রেফতারি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। আরজি কর-কাণ্ডে আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের সমর্থনে ব্যাজ পরে পুজো কার্নিভালে অংশ নেওয়া কর্তব্যরত সরকারি চিকিৎসক তপাব্রত রায়কে কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর গ্রেফতারির প্রতিবাদে চিকিৎসক ও অন্যদের বিক্ষোভের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে কলকাতা হাই কোর্ট ওই মামলায় তাঁকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষাও দেয়।

    নদিয়ার রানাঘাটে প্রায় ৫০ বছর ধরে দুর্গাপুজো করে আসা একটি ক্লাবকে ১১২ ফুট উচ্চতার প্রতিমা পুজোর অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। আইনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে অনুমতি না দেওয়ায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ক্লাবটি ওই বছর পুজো না করার সিদ্ধান্ত নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অশান্তি বিসর্জনের শোভাযাত্রায়ও

    দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত বিসর্জনের শোভাযাত্রাতেও একাধিকবার অশান্তির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর কলকাতার পার্ক সার্কাস ও নারকেলডাঙা এলাকায় কালী ও লক্ষ্মীপ্রতিমা বিসর্জনের সময় পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পুজো কমিটি ও শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ভক্তদের অভিযোগ, রাজাবাজার এলাকায় হঠাৎ করে পাথর, কাচের বোতল এবং ইট ছোড়া হয়। আশপাশের বাড়ি থেকেও পাথর ছোড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। আতঙ্কে অনেকে দৌড়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেন এবং কয়েকটি শোভাযাত্রার যাত্রাভঙ্গ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরে অবশ্য বিসর্জন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয় (Durga Puja 2026)।

    এই ঘটনার পর জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদার রাজ্যপালকে চিঠি দিয়ে নারকেলডাঙার হিংসার অভিযোগ জানান। তাঁর দাবি ছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সময় পুলিশ আধিকারিকদের আচরণও যথাযথ ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁর সঙ্গে তর্ক হয় এবং পরে বিসর্জনের শোভাযাত্রায় থাকা আক্রান্তদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয় (Pandal Vandalism Incidents)।

    ২০২০ সালের বিজয়া দশমীতে বীরভূমে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশি লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছিল। পুজো কমিটির সদস্য ও ভক্তদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। ঘটনার ভিডিয়োয় এক পুলিশকর্মীকে এক যুবকের জামার কলার ধরে রাস্তায় টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    দুর্গাপুজোর মণ্ডপের থিম এবং ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। ২০২১ সালে কলকাতার বড়িশা ক্লাবের দুর্গাপুজোকে ঘিরে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির বিরোধিতায় বিভ্রান্তিকর বার্তা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মণ্ডপে দুর্গাপ্রতিমার পাশাপাশি ঢাকার ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছিল। মণ্ডপসজ্জায় একটি দৃশ্যে দুর্গাপ্রতিমার সঙ্গে এক হিন্দু মহিলা ও তাঁর শিশুকে ভারতের একটি আটককেন্দ্রে বন্দি দেখানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে—এমন ইঙ্গিতও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া কিছু দুর্গাপুজোয় প্রতিমার সামনে আজান দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। আজান ইসলামে নমাজের আহ্বান। এই ঘটনাকে ঘিরেও ধর্মীয় প্রতীক ও পুজোর পরিবেশ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

    খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ড

    দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনাগুলির একটি হল বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলা। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমানের একটি দুর্গাপুজোর মণ্ডপে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের একটি মডিউলের সঙ্গে এই ঘটনার যোগ ছিল। বিস্ফোরণে মণ্ডপের বেশ কয়েকটি প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিস্ফোরক তৈরির সময় দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণ ঘটে এবং দু’জনের মৃত্যু হয়। পরে বিশেষ এনআইএ আদালত মামলায় ১৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে, যাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন (Durga Puja 2026) চারজন।

    দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ ও গ্রেফতারের ঘটনাও সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আলিপুরে পুজোর মণ্ডপ থেকে আরজি কর-কাণ্ডে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সমর্থনে প্রতিবাদ করার অভিযোগে নয় যুবককে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়।

    পুজো মণ্ডপে জুনিয়র চিকিৎসক ও প্রতিবাদীদের আটক এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়েও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কলকাতা পুলিশের কাছে জবাব চেয়েছিল। ত্রিধারা সম্মিলনী দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই নোটিশ দেওয়া হয়। সর্বভারতীয় ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কলকাতা পুলিশের কাছে ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপের রিপোর্ট চায়।

    সব মিলিয়ে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোকে ঘিরে নানা ধরনের বিতর্ক ও সংঘাতের ঘটনা সামনে এসেছে। কোথাও পুজোর মণ্ডপে ভাঙচুর, কোথাও ধর্মীয় আচার পালনে বাধা, কোথাও বিসর্জনের শোভাযাত্রায় হিংসা, আবার কোথাও প্রতিবাদীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ—বিভিন্ন ঘটনায় উৎসবের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক পরিসর প্রশ্নের মুখে পড়েছে (Pandal Vandalism Incidents)।

    বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়ার অভিযোগ

    বিশেষ করে ২০২৪ সালের ঘটনাগুলিতে দুর্গাপুজোর মণ্ডপ ও তার আশপাশের জনপরিসর একাধিক পৃথক সংঘাতের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। গার্ডেন রিচে পুজোর আচার ঘিরে বিরোধ, শ্যামপুরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, নারকেলডাঙায় বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়ার অভিযোগ, পুজোর মণ্ডপের কাছে প্রতিবাদকারীদের গ্রেফতার এবং সরকারি পুজো কার্নিভালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের আটক—সবক’টি ঘটনায়ই নতুন করে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    এর পাশাপাশি প্রতিমা বিসর্জন, বিজয়া দশমীতে পুলিশি পদক্ষেপ, পুজোর মণ্ডপের থিম ও ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার এবং বর্ধমান বিস্ফোরণ মামলার মতো পুরনো ঘটনাগুলিও এই বিতর্কের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করেছে।

    ২০২৬ সালের “শারদোৎসব” বিতর্ক সেই চলমান চর্চায় নয়া মাত্রা যোগ করেছে। দুর্গাপুজোর পরিচয়, নামকরণ, সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা এবং পুজোকে ঘিরে (Durga Puja 2026) জনপরিসরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য ফের প্রকাশ্যে এসেছে (Pandal Vandalism Incidents)।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর হামলা, ধর্মান্তরের চাপ, মন্দির ও প্রতিমার অবমাননা, জমি দখল, হিংসা এবং বৈষম্যের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের ঘটনাবলি তুলে ধরে একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এমনই (Hindus Under Attack) দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ঘটনাগুলির প্রকৃতি ও ব্যাপ্তি নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হয় না (Weekly Roundup)। প্রতিবেদনটিতে হত্যাকাণ্ড, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও প্রতিমা অবমাননা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্যের মতো অভিযোগের উল্লেখ করা হয়েছে।

    অসমে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু (Hindus Under Attack)

    অসমের গুয়াহাটির উপকণ্ঠে একটি অতিথিশালায় বছর বাইশের গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নিমিষা ঠাকুরিয়ার মৃত্যু ঘিরে তদন্ত শুরু হয়েছে। তাঁর সঙ্গে থাকা বছর ছাব্বিশের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।ওই যুবকের নাম বিভিন্ন প্রতিবেদনে আসিফ, আশিক বা আশিক আলি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, নিমিষা আত্মহত্যা করেছিলেন। অন্যদিকে, মৃতার পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল। মৃত্যুর কারণ জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত।

    কাঠামো নিয়ে বিতর্ক

    মহারাষ্ট্রের তালোদায় গণেশ বিসর্জন শোভাযাত্রায় সমাধির মতো দেখতে একটি কাঠামো প্রদর্শন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় কিছু হিন্দু সংগঠন ও বাসিন্দাদের মধ্যে এ নিয়ে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগ ও বিভিন্ন উপকরণের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, গণেশ উৎসব উপলক্ষে নেমসুশীল বিদ্যামন্দিরের সঙ্গে যুক্ত একটি বিসর্জন শোভাযাত্রায় ওই কাঠামো প্রদর্শিত হয়। বিষয়টিতে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    তামিলনাড়ুতে ধর্মান্তরের অভিযোগ

    তামিলনাড়ুর গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে যুক্ত কয়েকজন মহিলা শ্রমিককে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরের জন্য প্রভাবিত করার অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

    ভিডিওগুলিতে কর্মসংস্থান প্রকল্পে অংশ নেওয়া মহিলাদের কাছে ধর্মান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে ভিডিওগুলির সত্যতা, স্থান এবং ঘটনাগুলির প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

    নিষিদ্ধ সংগঠনে তরুণদের যুক্ত করার অভিযোগ

    তামিলনাড়ুর বিশেষ তদন্ত শাখা তরুণদের উগ্রপন্থায় প্রভাবিত করা এবং নিষিদ্ধ সংগঠন হিজব-উত-তাহরির ও খিলাফত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টার অভিযোগে ছ’জনকে গ্রেফতার করেছে। শুরু হয়েছে তদন্ত (Hindus Under Attack)।

    বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা

    প্রতিবেদনে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ধারাবাহিক হামলা ও নিপীড়নের অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে। মন্দিরে হামলা ও অবমাননা, জমি দখল, ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগকে কেন্দ্র করে জনতার হামলা, নারী নির্যাতন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মতো বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের একটি গবেষণার উল্লেখ করে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত নিপীড়ন অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

    স্বর্ণকারকে হত্যার অভিযোগ

    ময়মনসিংহে নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর নামে এক স্বর্ণকার নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর তাঁর দেহাবশেষ উদ্ধার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ, তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে একটি ড্রামের মধ্যে ঢুকিয়ে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পর পুলিশ এখনও মামলা নথিভুক্ত করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে ধর্মীয় বিদ্বেষের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত।

    ধর্মীয় বিদ্বেষ-বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত কিছু অপরাধের পেছনে ধর্মীয় বিদ্বেষ এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে। একই সঙ্গে মুসলিম-প্রধান দেশগুলির বাইরে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং জনপরিসরেও হিন্দুদের বিরুদ্ধে সূক্ষ্ম বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ভারতে দীপাবলির সময় আতশবাজি ব্যবহারের উপর আরোপিত বিধিনিষেধকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের বক্তব্য, পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণের যুক্তি থাকলেও বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের প্রয়োগে সমতার প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে আতশবাজি সংক্রান্ত বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের কারণও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে (Hindus Under Attack)।

    সামগ্রিকভাবে, প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে হিংসা ও বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও নজরদারি এবং মানবাধিকারভিত্তিক আলোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে বিভিন্ন ঘটনার অভিযোগ, পরিসংখ্যান এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিরপেক্ষ তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করাই প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ (Weekly Roundup)।

     

  • India vs Brazil: মাঠ ফুটবলারের, রাজনৈতিক নেতাদের নয়! যুবভারতীতে ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ সুষ্ঠ আয়োজন করে দেখিয়ে দিল শুভেন্দু-প্রশাসন

    India vs Brazil: মাঠ ফুটবলারের, রাজনৈতিক নেতাদের নয়! যুবভারতীতে ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ সুষ্ঠ আয়োজন করে দেখিয়ে দিল শুভেন্দু-প্রশাসন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঠ ফুটবলারের, রাজনৈতিক নেতাদের নয়। মাঠে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে সুকান্ত মজুমদার। ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী-সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। কিন্তু ফুটবলারদের বিব্রত করে মাঠে নেমে সেলফি তুলতে দেখা যায়নি কাউকে। বিনা ঝঞ্ঝাটে ভারত বনাম ব্রাজিল ম্যাচ সম্পন্ন হওয়ার পর শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)  বললেন, এটাই আসল পরিবর্তন। মেসিকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তি ব্রাজিলের বিরুদ্ধে বহুল প্রতীক্ষিত আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলে হার স্বীকার করতে হল ভারত দলকে (India vs Brazil Match)।

    মেসি-ম্যাচে বিশৃঙ্খলা, মন্ত্রীদের সেফলি

    তৃণমূল আমলে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে চরম বিশৃঙ্খলার জেরে ভেস্তে গিয়েছিল লিওনেল মেসির ম্যাচ। মাঠে নেমেও ভিড় ও ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়ে ফিরে যান লিওনেল মেসি। ওই ঘটনায় ম্যাচ ও অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তৎকালীন রাজ্য সরকারের দিকেই অভিযোগের আঙুল উঠেছিল। একাধিক নেতা-মন্ত্রীরা মাঠে নেমে মেসির সঙ্গে সেলফি তোলেন বলেও অভিযোগ উঠে। মোটা টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও হাজার হাজার দর্শক মেসিকে দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরেছিলেন। ক্ষোভে ভাঙচুর করা হয় স্টেডিয়াম। সেই সময় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। শনিবার যুবভারতীতে সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয় ব্রাজিল-ভারতের খেলা।

    কোনও নেতা-মন্ত্রী সেলফি তোলেনি

    এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমরা অনেক সাবধানে করেছি, ফিফার নিয়ম মেনে করেছি। ফুটবল মানে কলকাতা। আমাদের কোনও মন্ত্রী থেকে শুরু করে পুলিশ কাউকেই দেখেননি সেলফি তুলতে। আমরা বলেছিলাম, সব টিকিট সেল করবেন না। যাতে ডিসিপ্লিন ভাবে সবটা কন্ট্রোল করা যায়।” যুবভারতী স্টেডিয়ামের দর্শকাসন প্রায় ৬৬ হাজার। শনিবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হল যে, ৫১,৪০২ দর্শক খেলা দেখছেন। ম্যাচের শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, মেসি-কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রুখতে ২০ হাজার টিকিট কম বিক্রি করা হয়েছিল। অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী, ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বসে খেলা দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী। ম্যাচের শেষে মাঠ ছেড়ে বেরনোর সময় তিনি বললেন, ‘আমরা ২০ হাজার আসন ফাঁকা রেখেছিলাম, যাতে বিশৃঙ্খলা না হয়। আমাদের কোনও নেতা-মন্ত্রী বা প্রশাসনিক কর্তা সেলফি তোলার চেষ্টা করেনি। মেসি কাণ্ড আর হতে দেব না, এ নিয়ে বদ্ধপরিকর ছিলাম আমরা। সেই কারণেই ৫১ হাজার আসনে দর্শক ছিলেন, আর ২০ হাজার টিকিট ছাড়া হয়নি।’

    উরুগুয়ে ম্যাচের বিনামূল্যে টিকিট

    ব্রাজিল-ভারতের খেলা শেষে সুখবর ঘোষণা করেন মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, রাজ্য মন্ত্রিসভায় আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত পাস করানো হবে। সূত্রের খবর, মেসি ম্যাচের টিকিট যাঁরা অনলাইনে কেটেছিলেন, তাঁদের কাছে উরুগুয়ের ম্যাচের বিনামূল্যের টিকিটের নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে। যুবভারতীতে লিওনেল মেসিকে দেখতে গিয়ে যাঁরা টিকিট কেটেও প্রতারিত হয়েছিলেন, তাঁদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ৬ অক্টোবর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে ভারত। সেই ম্যাচে ২২ হাজার টিকিট বিনামূল্যে বিতরণ করবে রাজ্য সরকার। লিওনেল মেসিকে দেখতে যাঁরা অনলাইনে টিকিট কেটেছিলেন, তাঁদেরকেই ওই বিনামূল্যের টিকিট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

  • Netanyahu: বিমানের ককপিটে হামলা ঠেকিয়ে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানো পাইলটকে ‘নায়ক’ আখ্যা নেতানিয়াহুর

    Netanyahu: বিমানের ককপিটে হামলা ঠেকিয়ে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানো পাইলটকে ‘নায়ক’ আখ্যা নেতানিয়াহুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিমানের ককপিটে সহ-পাইলটের হামলার পরেও অসীম সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে ‘নায়ক’ বলে প্রশংসা করলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Netanyahu)। শনিবার টেলিফোনে পাইলটের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁকে ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মশাল প্রজ্বলনের জন্য (Israel Independence Day) আমন্ত্রণও জানান নেতানিয়াহু। স্মিত মচ্ছরের সঙ্গে ফোনালাপে নেতানিয়াহু বলেন, “আপনি ইজরায়েল, ভারত এবং গোটা বিশ্বের কাছে একজন নায়ক।”

    নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণ (Netanyahu)

    এর পরেই তিনি মচ্ছর এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান। নেতানিয়াহু বলেন, “আমি আপনাকে ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মশাল প্রজ্বলনের জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।” তাঁর কথায়, স্বাধীনতা দিবসে মশাল প্রজ্বলন ইজরায়েলের দেওয়া সর্বোচ্চ সম্মানগুলির একটি। তিনি বলেন, “সাধারণত এই সম্মান ইজরায়েলের নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু আমি মনে করি, এই ক্ষেত্রে ইজরায়েলের সমস্ত নাগরিক আপনাকে আপন করে নেবেন।”

    গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ উড়ানে ঘটে নজিরবিহীন ঘটনা। অভিযোগ, ওমানের সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি কুঠার দিয়ে পাইলট স্মিত মচ্ছরকে আঘাত করেন এবং বিমানটিকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। হামলার জেরে মাত্র দু’মিনিটের মধ্যে বিমানটি ১৭ হাজার ফুটেরও বেশি নীচে নেমে যায়। এর পরেই বিমান ছিনতাইয়ের জরুরি সংকেত পাঠানো হয়।

    হামলার পরেও মচ্ছর ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। ফলে অন্য যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে সহ-পাইলটকে কাবু করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিতে সাহায্য করেন। তাঁর এই সাহসিকতার প্রশংসা হয়েছে বিশ্বজুড়ে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীও।

    ঠিক কী ঘটেছিল

    ফোনে নেতানিয়াহু মচ্ছরের কাছে জানতে চান, ঠিক কী ঘটেছিল। জবাবে ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট গোটা ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি জানান, সহ-পাইলট নমাজ আদায়ের জন্য তাঁর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সরে গিয়েছিলেন। আচমকাই মাথার পিছনে প্রচণ্ড আঘাত অনুভব করেন (Netanyahu) তিনি।

    মচ্ছর বলেন, “প্রথমে আমি ভেবেছিলাম, বিমানে কোনও সমস্যা হয়েছে। কিন্তু তার পর একের পর এক আঘাত আসতে থাকে। তখন বুঝতে পারি, বিমানে কোনও সমস্যা হয়নি। আমার সঙ্গে ককপিটে থাকা অন্য ব্যক্তিই আমাকে আক্রমণ করছে।”

    তিনি আরও জানান, প্রথম দিকে আঘাতের কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তি প্রায় ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল। হামলাকারীকে থামানোর চেষ্টা করেও প্রথমে সফল হননি তিনি। একবার ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করলে আক্রমণকারী তা বন্ধ করে দেন।

    এর পর নিজের শেষ শক্তিটুকু দিয়ে দরজা খোলার সিদ্ধান্ত নেন মচ্ছর। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়েছিল, আমার মধ্যে যদি শেষ লড়াইটুকুও না থাকে, তাহলে আমি মারা যাব। তখন আমি সমস্ত শক্তি দিয়ে দরজার দিকে ধাক্কা দিই। আমার যা শক্তি ছিল, সবটুকু দিয়ে (Netanyahu) দরজা খুলে ফেলি।”

    পাইলটের মুখে পুরো ঘটনা শুনে তাঁর সাহসের প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, অসম্ভব পরিস্থিতির মধ্যে আপনার সাহস এবং ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেখে আমি (Israel Independence Day) অভিভূত।”

    নেতানিয়াহুর সমবেদনা

    নেতানিয়াহু আরও বলেন, “আপনি এত মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। আমার এবং আমার স্ত্রীর পক্ষ থেকে আপনার স্ত্রীকেও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাবেন। আমি জানি, আপনার একটি পরিবার রয়েছে এবং আপনি বিভিন্ন দেশের মানুষের বৃহত্তর পরিবারেরও অংশ। যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হয়ে উঠুন।”

    এর আগে নেতানিয়াহু জানিয়েছিলেন, আহত পাইলট (Israel Independence Day), যাত্রী এবং বিমানের অন্য কর্মীরা মিলে “৯/১১-এর মতো একটি ভয়াবহ বিপর্যয় ঠেকাতে সক্ষম হয়েছেন (Netanyahu)।”

     

  • Asian Games 2026: হকিতে প্রথম বার জোড়া সোনা! হরমনপ্রীতের গোল খেতাব ধরে রাখল ভারত, সোনা জিতে নজির আমনের

    Asian Games 2026: হকিতে প্রথম বার জোড়া সোনা! হরমনপ্রীতের গোল খেতাব ধরে রাখল ভারত, সোনা জিতে নজির আমনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালয়েশিয়াকে হারিয়ে ছেলেদের হকিতেও সোনা জিতল ভারত। শনিবার ফাইনালে মালয়েশিয়াকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে খেতাব ধরে রাখল ভারত। প্রথম বার এশিয়ান গেমসে হকির দুই বিভাগেই সোনা জিতল ভারত। সোনা জিতলেন কুস্তিগির আমন সেহরাওয়াত। সব মিলিয়ে নাগোয়া গেমসে ভারত ২১টি সোনা, ২৭টি রুপো এবং ৩৭টি ব্রোঞ্জ পদক পেল। মোট ৮৫টি পদক নিয়ে তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত। প্রথম তিনটি স্থানে রয়েছে যথাক্রমে চিন, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া।

    হকিতে অলিম্পিক্সে জায়গা পাকা

    ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল ভারত। ১১ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে দুর্দান্ত ড্র্যাগ-ফ্লিকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। যদিও তিন মিনিটের মধ্যেই ম্যাচে সমতা ফেরায় মালয়েশিয়া। ১৪ মিনিটে শেলো সিলভেরিয়াসের গোলে প্রথম কোয়ার্টার শেষ হয় ১-১ ব্যবধানে। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ফের এগিয়ে যায় ভারত। আট মিনিটের মাথায় পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করেন জুগরাজ সিং। ফলে প্রথমার্ধের শেষে ভারত এগিয়ে ছিল ২-১ গোলে। তৃতীয় কোয়ার্টারে ভারতের দাপট আরও বাড়ে। ১২ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন হার্দিক সিং। এরপর শেষ কোয়ার্টারে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ভারত। ম্যাচ শেষ হতে ছ’ মিনিট বাকি থাকতে শিলানন্দ লাকরার গোলে ভারত ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টায় মালয়েশিয়া আক্রমণে খেলোয়াড় বাড়িয়ে দেয়। সেই সুযোগেই ফের পেনাল্টি কর্নার আদায় করে ভারত এবং সেখান থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন হরমনপ্রীত। শেষ পর্যন্ত ৫-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ভারত। এই জয়ের সুবাদে লস অ্যাঞ্জেলেস ২০২৮ অলিম্পিক্সের জন্য সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করল তারা।

    কুস্তিতে কেরামতি ভারতীয়দের

    ছেলেদের ফ্রিস্টাইল কুস্তির ৫৭ কেজি বিভাগে সোনা জিতলেন আমন। এই প্রথম ভারত এশিয়ান গেমসে এই ইভেন্টে সোনা জিতল। ফাইনালে উত্তর কোরিয়ার হান চং সংকে ১১-৭ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলেন আমন। একটা সময় ৬-২ ব্যবধানে এগিয়ে যান আমন। ডান পায়ের হাঁটুতে চোট পান সং। তা-ও দুর্দান্ত ভাবে লড়াইয়ে ফেরেন তিনি। আমনের রক্ষণের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যান ৭-৬ ব্যবধানে। হাল ছাড়েননি ভারতীয় কুস্তিগিরও। শেষ মিনিটে সংকে বাগে পেয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ১১-৭ ব্যবধানে জিতে যান আমন। মেয়েদের ফ্রিস্টাইল কুস্তির ৫৩ কেজি বিভাগের ফাইনালে হেরে গেলেন অন্তিম পাঙ্ঘাল। জাপানের মো কিয়োকার কাছে ৯-১ ব্যবধানে হারায় রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থকতে হল তাঁকে। ছেলেদের ৯৭ কেজি ফ্রিস্টাইল কুস্তিতে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন দীপক পুনিয়া। ৬০ বছর পর এশিয়াডের এই ইভেন্টে পদক পেল ভারত। ১৯৬৬ সালে রুপো পেয়েছিলেন বিশ্বনাথ সিং এবং ব্রোঞ্জ পেয়েছিলেন ভীম সিং।

     

  • Flydubai Hijacking: আল-কায়েদা নেতার ছবি, উগ্র মতাদর্শের অভিযোগ! ফ্লাইদুবাই বিমানে কো-পাইলটের হামলা ‘সন্ত্রাসী হুমকি’ দাবি আমিরাতের

    Flydubai Hijacking: আল-কায়েদা নেতার ছবি, উগ্র মতাদর্শের অভিযোগ! ফ্লাইদুবাই বিমানে কো-পাইলটের হামলা ‘সন্ত্রাসী হুমকি’ দাবি আমিরাতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আল-কায়েদা নেতাদের ছবি, উগ্রপন্থী ওয়েবসাইটে যাতায়াতের অভিযোগ, নারীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এবং গভীর ধর্মীয় বিশ্বাস—ইজরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে সহ-পাইলটের কথিত হামলার পর তার অতীত নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। আল-আরাবিয়ার প্রতিবেদনে ওই সহ-পাইলটের নাম হামাম আল-হামামি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ৩০ তারিখে ফ্লাইদুবাইয়ের (Flydubai Hijacking) ওই ফ্লাইটে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর হামলা চালিয়ে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ঘটনাটি বিমানটি বিধ্বস্ত করার সম্ভাব্য প্রচেষ্টা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের হেফাজতে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এর আগে দাবি করেছিলেন, ওই ব্যক্তি ‘ইসলামপন্থী উগ্রবাদী মতাদর্শে দীক্ষিত’ হয়েছিলেন।

    কে এই ফ্লাইদুবাইয়ের সহ-পাইলট?

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-হামামির বাবা একজন ওমানি ও মা সিরিয়ার বাসিন্দা। জীবনের বড় অংশ তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে কাটিয়েছেন। তবে ওমান সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাগরিকত্ব নিশ্চিত করেনি। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকতে পারে। এই তথ্য সত্য হলে ইজরায়েলগামী ফ্লাইটের ক্রুতে তিনি কীভাবে যুক্ত হলেন, তা তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। ফ্লাইদুবাইয়ে (Flydubai Co-Pilot Attacked) যোগ দেওয়ার আগে তিনি ওমানের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা ওমান এয়ার এবং মরক্কোর জাতীয় বিমান সংস্থা রয়্যাল এয়ার মরক্কো-এ কাজ করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    ওমান এয়ার-এ থাকাকালীন নজরে?

    প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে, ওমান এয়ার (Oman Air)-এ কর্মরত থাকাকালীন আল-হামামির উগ্র মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এমনকি তিনি কিছু ‘র‌্যাডিক্যাল’ বা উগ্রপন্থী ওয়েবসাইট পরিদর্শন করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এরপর তাকে উড়ান-সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অফিসের কাজে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অফিসের কাজে অসন্তুষ্ট হয়ে পরবর্তীতে তিনি ওমান এয়ার (Oman Air) ছেড়ে দেন বলে জানা গেছে। আল-হামামি প্রায় সাত বছর ওমান এয়ার-এ কাজ করার পর ২০২৫ সালের জুনে রয়্যাল এয়ার মরক্কো (Royal Air Maroc)-এ যোগ দেন এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সেখান থেকে চলে যান।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আল-কায়েদা নেতাদের ছবি

    ঘটনার পর তার নামে থাকা একটি প্রোফাইল নিয়ে বিশেষ আলোচনা শুরু হয়েছে। সিএনএন (CNN)-এর প্রতিবেদনের দাবি, প্রোফাইলে মাত্র দুটি পোস্ট ছিল এবং সেগুলো ঘটনার দিন প্রকাশিত হয়েছিল। পোস্ট দুটি আগে থেকে নির্ধারিত ছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। একটি ভিডিওতে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স (Boeing 737 Max)-এর ককপিটের দৃশ্য এবং দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইজরায়েলি বিমান সংস্থার একটি বিমানের দৃশ্য ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরেকটি ক্লিপে ওমান এয়ার-এর একটি ফ্লাইটের ককপিটের দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওটিতে ১১ অক্টোবর ২০২৩ তারিখও দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হিসেবে ভিডিওটির শেষে আল-কায়েদার সাবেক নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরির ছবি থাকার কথা বলা হয়েছে। ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর জাওয়াহিরি আল-কায়েদার নেতৃত্ব নেন। ২০২২ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন। ভিডিওটিতে ২০০৯ সালের আত্মঘাতী হামলার সঙ্গে জড়িত আল-কায়েদা সদস্য হুমাম খলিল আবু-মুলাল আল-বালাওয়ির ছবিও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। আরেকটি পোস্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেমের তিন পবিত্র স্থানকে দেখানো একটি ছবি ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    নারী ও মিশ্র কর্মপরিবেশ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য

    সিএনএন ২০২১ ও ২০২২ সালে আল-হামামির নামে থাকা কিছু পোস্ট বিশ্লেষণ করেছে বলে জানিয়েছে। এসব পোস্টে নারীদের পোশাক, কর্মক্ষেত্র এবং নারী-পুরুষের মেলামেশা নিয়ে তার রক্ষণশীল ও বিতর্কিত মতামত প্রকাশ পেয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। একটি পোস্টে তিনি নিজের বিয়ের জন্য কিছু শর্তের কথা উল্লেখ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে কনের নিকাব পরা এবং বিয়ের পর চাকরি না করার বিষয় ছিল বলে বলা হয়েছে। আরেকটি পোস্টে তিনি নারী-পুরুষের মিশ্র কর্মপরিবেশের বিরোধিতা করে দাবি করেছিলেন, এ ধরনের পরিবেশ নারীদের ওপর ‘ক্ষতিকর প্রভাব’ ফেলতে পারে। তবে এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট সত্যিই অভিযুক্ত সহ-পাইলটের নিজের লেখা কি না, তা তদন্ত সাপেক্ষ।

    তদন্তে এখন বড় প্রশ্ন

    ঘটনার পর তদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন। অতীতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো কতটা সত্য, সেগুলো বিমান সংস্থাগুলোর নজরে এসেছিল কি না, এবং যদি এসে থাকে তাহলে কী ধরনের নিরাপত্তা যাচাইয়ের পর তিনি ফের পাইলট হিসেবে কাজের সুযোগ পেলেন—এসবই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। ইজরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নেতানিয়াহু শুক্রবার বলেন, সময়ের সঙ্গে ঘটনাটির একটি ‘পরিষ্কার ছবি’ সামনে আসছে। তাঁর দাবি, হামলাকারী ‘ইসলামপন্থী উগ্রবাদে’ প্রভাবিত হয়েছিলেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, কথিত উগ্র মতাদর্শ বা অতীতের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে আল-হামামির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত বলে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না। তদন্তের ফলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে, কী কারণে তিনি ওই ফ্লাইটে হামলার চেষ্টা করেছিলেন এবং বিমান সংস্থার নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোথায় ঘাটতি ছিল।

     

     

     

     

  • Asian Games 2026: এশিয়ান গেমসেও ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট উত্তাপ! অভিষেক-তিলকের ব্যাটে পাক-বধ করে সোনা ভারতের

    Asian Games 2026: এশিয়ান গেমসেও ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট উত্তাপ! অভিষেক-তিলকের ব্যাটে পাক-বধ করে সোনা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসের (Asian Games 2026) ২২ গজে ভারত-পাকিস্তান দূরত্ব মিটল না। বদলাল না বড় আসরে ফলাফলও। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি পাকিস্তানকে হারিয়ে সোনা জিতল ভারত (India vs Pakistan)। ফাইনালে ১৯ রানে জয় পেয়েছে ভারত। বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, এশিয়া কাপ কিংবা এশিয়ান গেমস। যেখানেই দেখা হোক, ফলাফল একটাই। পাকিস্তানকে হেলায় হারানো অভ্যাসে পরিণত করেছে ভারত। এবার জাপানে এশিয়ান গেমসেও একই ফল। ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে সোনা জিতল শ্রেয়স আইয়ারের ভারত। অভিষেক শর্মা, তিলক বর্মার ব্যাটিং বিক্রমের সামনে পাত্তাই পেল না সাহিবজাদা ফারহানার দল।

    করমর্দন নয় দুই দলের ক্রিকেটারদের

    ভলিবল, স্কোয়াশ, হকির মতো খেলাগুলিতে দু’দেশের খেলোয়াড়দের হাসিমুখে জড়িয়ে ধরতে, করমর্দন করতে বা একসঙ্গে ছবি তুলতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু ক্রিকেট মাঠে আলাদা ছবি। শনিবার টসের পর শ্রেয়স আয়ার হাত মেলালেন না পাকিস্তানের অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহানের সঙ্গে। ২০২৫ সালের এশিয়া কাপ থেকেই ভারত-পাক ক্রিকেট সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানর ক্রিকেটারদের সবরকম ভাবে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন সূর্যকুমার যাদবেরা। সেই ধারা বজায় রইল নাগোয়া গেমসেও। টসের পর ফারহানের সঙ্গে হাত মেলালেন না শ্রেয়স। শুধু ছেলেদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই নয়, এই দূরত্ব তৈরি হয়েছে মেয়েদের ক্রিকেট-সহ বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ক্রিকেটেও।

    পাক স্পিনারের বিদ্রুপ

    ভারত-পাক ক্রিকেট সম্পর্কের উত্তাপের আঁচ পাওয়া গেল ম্যাচের মধ্যেও। বৈভব সূর্যবংশীকে আউট করার পর তাকে বিদ্রুপ করলেন পাক স্পিনার সাইম আয়ুব। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। প্রথম ওভারে মাত্র ৪ রান দেন সাইম আয়ুব। তারপরের ওভারে তাণ্ডব শুরু হয় বৈভব সূর্যবংশীর। শান মাসুদের পরপর দু’বলে ছক্কা হাঁকায়। ছক্কার খেলায় মাতেন ভারতের আরেক ওপেনার অভিষেক শর্মাও। কিন্তু তার পরের ওভারেই অঘটন। সাইমের বল অযথা রিভার্স সুইপ করতে যায় বৈভব। বল ব্যাটের কোণায় লেগে সোজা উইকেটকিপারের হাতে জমা পড়ে। মাত্র ১৫ রানে আউট হয় বৈভব। আর সে যখন ফিরে যাচ্ছে, তখন হাত দিয়ে কোলে বাচ্চা দোলানোর ইঙ্গিত করেন পাক অলরাউন্ডার। ভারতের ১৫ বছরের ব্যাটারকে সাইম বিদ্রুপ করলেও পাকিস্তানের অন্য ক্রিকেটারেরা সংযত ছিলেন। বৈভবও কোনও প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। শান্ত ছিলেন ভারতের অন্য ওপেনার অভিষেক শর্মাও।

    ব্যাটেই বদলা ভারতের

    তবে এই ঘটনার বদলা কথায় নয় ব্যাটেই নিয়েছেন অভিষেক শর্মারা। অভিষেক ২৮ বলে ৬১ রান করেন। চার-ছক্কায় পাক বোলারদের রীতিমতো চাপে ফেলে দেন অভিষেক। তাঁর ব্যাট থেকে আসে তিনটে চার ও ৭টা ছক্কা। কিন্তু রান পাননি সঞ্জু স্যামসন। অন্যদিকে অধিনায়ক শ্রেয়স ২১ রান করতে নিয়ে নেন ২৪ বল। ওই সময় ভারতের রানের গতি কিছুটা কমে যায়। ঈশান কিষান (২০) এই ম্যাচে বড় রান পাননি। তবে শেষবেলায় ঝড় তোলেন তিলক বর্মা ও শিবম দুবে। তিলক ২২ বলে ৫১ ও শিবম ১৫ বলে ২৭ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট হারিয়ে ২১১ রান তোলে ভারত। জবাবে পাকিস্তানের শুরুটা খারাপ হয়নি। তবে অক্ষর প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দররা আঁটসাঁট বোলিং করে রানের ধারা আটকে দেন। ৬ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের দৌড় থেমে যায় ১৯২ রানে। ভারত ১৯ রানে ম্যাচ জিতে ক্রিকেটে সোনা পকেটে ভরে নেয়। যা এশিয়ান গেমসে ভারতের ১৯তম সোনা।

LinkedIn
Share