Blog

  • Nepal Flood: পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে বিদেশি সাহায্যে সায় নেপালের, ১১ জনের বিশেষজ্ঞ দল পাঠাল ভারত, প্রস্তুত আরও

    Nepal Flood: পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে বিদেশি সাহায্যে সায় নেপালের, ১১ জনের বিশেষজ্ঞ দল পাঠাল ভারত, প্রস্তুত আরও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালের পাশে আরও জোরালো ভাবে দাঁড়াল ভারত। বন্যায় ইতিমধ্যেই ৫০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একাধিক এলাকায় সড়ক ও সেতু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজে সাহায্য করতে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা নেপালকে সহযোগিতা করবেন।

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে চিকিৎসক ও মেডিক্যাল টিমও পাঠানো হবে। নেপাল অনুরোধ করলে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ-কেও পাঠাতে প্রস্তুত ভারত। পাশাপাশি বন্যায় ধুয়ে যাওয়া সেতুগুলির জায়গায় দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করতে বেইলি ব্রিজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সুড়ঙ্গে আটকদের উদ্ধারে বিশেষজ্ঞ দল

    নেপালের ভোতেকোশি অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার জেরে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই নেপাল সেনা প্রায় ৩৫০ জন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করেছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিকও ছিলেন।  তবে ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় এখনও প্রায় ১০০ জন আটকে থাকতে পারেন বলে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে। তাঁদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নেপালি বাহিনী। এই পরিস্থিতিতে সুড়ঙ্গ উদ্ধারে বিশেষ দক্ষতা রয়েছে এমন ভারতীয় দল পাঠানো হচ্ছে।

    বিদেশি উদ্ধারকারী দল নিয়ে অবস্থান বদল নেপালের

    বন্যার পর প্রথমে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলকে ক্ষতিগ্রস্ত ভোতেকোশি এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দিতে চায়নি নেপাল সরকার। বুধবার নেপাল জানিয়েছিল, নিজেদের উদ্ধারকারী বাহিনীই পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম এবং বিদেশি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিমের প্রয়োজন নেই। কিন্তু বিভিন্ন দেশের নাগরিক নিখোঁজ থাকায় আন্তর্জাতিক মহলের চাপ বাড়তে থাকে। এরপরই অবস্থান বদল করে কাঠমান্ডু। এখন নির্দিষ্ট কিছু প্রযুক্তিগত ও বিশেষায়িত ক্ষেত্রে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    নেপালের এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মহলের কাছ থেকে বিদেশি উদ্ধারকারী দল এবং বিশেষজ্ঞদের অনুমতি দেওয়ার জন্য ব্যাপক চাপ এসেছিল। সেই কারণেই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সীমিত সংখ্যক বিশেষজ্ঞকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালও জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গ উদ্ধার, ডিএনএ পরীক্ষা এবং ফরেন্সিক তদন্তের মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। তবে সাধারণ সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অভিযানের জন্য নেপাল বিদেশি সাহায্য চাইছে না।

    জাতীয় বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভারত, চিন, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিবিদদের সাহায্য নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে নেপালের আন্তঃমন্ত্রক সমন্বয় কমিটি।

    সেতু পুনর্নির্মাণে ভারত পাঠাচ্ছে বেইলি ব্রিজ

    বন্যায় নেপালের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেসে যাওয়ায় বহু এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভারত বেইলি ব্রিজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেইলি ব্রিজ হল এমন এক ধরনের পোর্টেবল, প্রিফ্যাব্রিকেটেড ট্রাস ব্রিজ, যা ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়াই তুলনামূলক দ্রুত জোড়া লাগানো যায়। ফলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত পুনরুদ্ধারে এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, চিকিৎসা এবং পরিকাঠামোগত সহায়তা দেওয়ার জন্য ভারত প্রস্তুত রয়েছে।

    তৃতীয় বিমানও পাঠাল ভারত

    নেপালে ইতিমধ্যেই দু’টি বিমানে ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত। শুক্রবার ২৮ অগস্ট আরও একটি বিমান কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা দেয়। তৃতীয় দফার এই ত্রাণবাহী বিমানে প্রায় ১০ টন মানবিক সহায়তা পাঠানো হয়েছে।

    এই বিমানে রয়েছে—

    • ● পোর্টেবল জেনারেটর সেট
    • ● ডিগনিটি কিট
    • ● খাদ্যসামগ্রী
    • ● জল পরিশোধনের ট্যাবলেট

    এছাড়াও ১১ সদস্যের একটি দল পাঠানো হয়েছে। সেই দলে চিকিৎসক, প্যারামেডিক এবং সুড়ঙ্গ উদ্ধারে বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন।

    এখনও যোগাযোগ নেই ৩১৫-র বেশি ভারতীয়র সঙ্গে

    নেপালে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধারের পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের কাজও চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, এখনও ৩১৫-র বেশি ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ৮৫ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে।

    উদ্ধার হওয়া ভারতীয়দের মধ্যে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা থেকে ফেরা ২১ জন তীর্থযাত্রীও রয়েছেন। তাঁদের নেপাল সেনা দুর্গম এলাকা থেকে উদ্ধার করে কাঠমান্ডুতে নিয়ে আসে। পরে কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাস তাঁদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে। নেপাল সেনার উদ্ধার অভিযানের জন্য ওই তীর্থযাত্রীরা বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ বলেও জানিয়েছেন জয়শঙ্কর।

    নেপালের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে জয়শঙ্করের কথা

    শুক্রবার নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি জানান, বিপর্যয়ের এই সময়ে ভারত নেপালের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, চিকিৎসা ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি নেপালকে সুড়ঙ্গ উদ্ধারের বিশেষজ্ঞ দল, মেডিক্যাল টিম এবং প্রয়োজন হলে NDRF পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে কোন ধরনের সহায়তা কখন প্রয়োজন, তা নেপাল সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঠিক করবে।

    পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিদেশ মন্ত্রক

    নেপালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকদের পাশাপাশি কাঠমান্ডু ও বেজিংয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জয়শঙ্কর। বৈঠকে নেপালের পরিস্থিতি এবং সেখানে পাঠানো ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের জেরে নেপালের বিস্তীর্ণ অংশে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। একাধিক সেতু ও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিশেষজ্ঞ দল, ত্রাণসামগ্রী এবং পরিকাঠামোগত সহায়তা নেপালের উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

  • Suvendu Adhikari in Jadavpur: ‘হয় ওই বেয়াদবেরা থাকবেন, নয় রাষ্ট্রবাদীরা’! যাদবপুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে দেশ বিরোধিতা নয়

    Suvendu Adhikari in Jadavpur: ‘হয় ওই বেয়াদবেরা থাকবেন, নয় রাষ্ট্রবাদীরা’! যাদবপুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে দেশ বিরোধিতা নয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের দখল নেবে ভারত। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে যে ‘ফ্রি ফ্রি প্যালেস্তাইন’ লেখা আছে, সেটার পরিবর্তে ‘ফ্রি পিওকে (পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর)’ লিখতে হবে। কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি তুলতে হবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। শুক্রবার, রাখিবন্ধন উৎসব উপলক্ষে এইট-বি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ‘দশ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম্’ অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari in Jadavpur)। পূর্বতন বাম এবং তৃণমূল সরকার যা করেছে, তাঁর সরকার সেই পথে হাঁটবে না। যাদবপুরে দাঁড়িয়েই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জানালেন, এ বার হয় ওই ‘বেয়াদবেরা’ থাকবেন, নয় ‘রাষ্ট্রবাদীরা’। তাঁর কথায়, যাদবপুরের পড়ুয়ারা নিট-কেন্দ্রিক কর্মসূচিতেও ভারতকে নিয়ে কোনও স্লোগান দেয় না। বদলে বলে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’। তাঁরা সিঁদুর অভিযানের সময় পথে নেমে বলে ‘যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই’। বর্তমান রাজ্য সরকার এই দাবি মানবে না, বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    কোনও সমঝোতা নয়

    বাম সরকার ৩৪ বছর ধরে তাঁদের মদত দিয়েছে। তৃণমূল সরকার ১৫ বছর ধরে নিজের স্বার্থে ‘সমঝোতা’ করেছে। কিন্তু এবার হিসেব শেষ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘দীর্ঘ দিন ধরে যাদবপুরে বিদেশি প্রভাবযুক্ত কমিউনিস্টদের রাজত্ব ছিল, যাদের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছবি কোনও দিন পাবেন না।’’ শুভেন্দুর অভিযোগ, সেই কমিউনিস্টরাই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের স্বাধীনতা দিবস, সাধারণতন্ত্র দিবস, সনাতন সংস্কৃতি, ভারতীয় সংস্কৃতি, বাঙালিদের পরম্পরা, মুনি-ঋষিদের পরম্পরা থেকে বিচ্যুত করেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বামেদের পরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে মদত দিয়েছে তৃণমূল। পড়ুয়াদের সঙ্গে সমঝোতা করেছে নিজেদের স্বার্থে। তাঁর কথায়, ‘‘৩৪ বছরের কমিউনিস্টরা খোলাখুলি রাষ্ট্রবিরোধী কাজ, সনাতনবিরোধী কাজ, ভারতীয় বাঙালি পম্পরাকে ধ্বংস করতে মদত করেছে। পরে তৃণমূলও এদের সঙ্গে সমঝোতা করে চলত।’’ কেন সমঝোতা করত, তা-ও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘ডিভিডেন্ড একটাই দিত। নির্বাচন এলে এরা (পড়ুয়ারা) বলত, নো ভোট টু বিজেপি। নোট ভোট টু নরেন্দ্র মোদি। তার সুফল ঘুরিয়ে পেতেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, যিনি দু’বার আমার কাছে হেরেছেন। তাই এই শক্তিকে এর ভিতরে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।’’তার পরেই শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, বর্তমান সরকারের আমলে এ সব চলবে না।

    কিসের আজাদি? প্রশ্ন শুভেন্দুর

    যাদবপুরের পড়ুয়াদের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘কিসের আজাদি চান? হেরোইন খাওয়ার আজাদি? গাঁজা খাওয়ার, ড্রাগ নেওয়ার আজাদি? টুকরে টুকরে গ্যাংয়ের আজাদি?’’ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘এই পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকে হাতে গীতা নিয়ে ক্ষুদিরাম বসুরাই আজাদি দিয়ে গিয়েছেন। এই পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে মাতঙ্গিনী হাজরা এক হাতে তেরঙ্গা, এক হাতে শঙ্খ নিয়ে তমলুকের বানপুকুরে ব্রিটিশের গুলি খেয়ে আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গিয়েছেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, আরও পিছিয়ে গেলে ঋষি অরবিন্দ, রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়, বিনয়-বাদল-দীনেশ, মাস্টারদা সূর্যসেন থেকে শুরু করে অসংখ্য বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আপনারা কীসের আজাদি চান?’’

    হয় এরা থাকবে, নয় আমরা

    শুভেন্দু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘হিসেবের শেষ পর্যায়ে এসে গিয়েছে। নয় এরা থাকবে, নয় আমরা। মাঝে আর কিছু হবে না! কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি? এই বেয়াদবেরা শুনে রাখো, অপারেশন সিঁদুরে মাসুদ আজহারের বংশকে নির্বংশ করেছে ভারতীয় বাহিনী। আমরা পাক অধিকৃত কাশ্মীরও দখল করব।’’ তাঁর আরও হুঁশিয়ারি, নন্দীগ্রাম থেকে যে ভাবে ‘কমিউনিস্টদের সাফাই’ করা হয়েছে, জঙ্গলমহল থেকে যে ভাবে ‘মাওবাদীদের সাফাই’ করা হয়েছে, সে ভাবে যাদবপুরেও অভিযান চলবে। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘এত সাহস, আর্টস হোস্টেলের দেওয়া লিখছেন রেড স্যালুট কিষেণজি? লিখছেন ফ্রি কাশ্মীর? ড্রোন ওড়াব। কোথায় ফেনসিডিল, নেশার দ্রব্য নিয়ে যাচ্ছেন, কোথায় পাতা পুড়িয়ে টানছেন, আমি দেখব। আমি পুলিশমন্ত্রী। আমি জঞ্জাল সাফাই করতে জানি।’’

    ভয় দেখিয়ে আন্দোলন নয়

    শুভেন্দুর কথায়, দিল্লিতে নিট-আন্দোলনের সময় সেখানে যে স্লোগান ওঠেনি, তা যাদবপুরে দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু এ-ও জানিয়েছেন, ওই মিছিলে হোস্টেল থেকে জোর করে পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের ভয় দেখানো হয়েছে। সেই পড়ুয়াদের অধিকাংশেরই অভিভাবকেরা ‘রাষ্ট্রবাদী’ সরকারের পক্ষে। কিন্তু তাঁদের বক্তব্যকে আমল না দিয়েই পড়ুয়াদের জোরে করে চে গেভারার টি-শার্ট পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘না যেতে চাইলে বলা হয়, রানাঘাটের দরিদ্র পরিবারের ছাত্রের যে পরিণতি হয়েছিল, তাদেরও তা-ই হবে। সেই মিছিলে নিট নিয়ে স্লোগান নেই। ভারতকে সমৃদ্ধ করার স্লোগান নেই। মমতা ২৬ হাজার চাকরি চুরি করলেন, সেই নিয়ে স্লোগান নেই তাঁর বিরুদ্ধে। স্লোগান কী? আজাদি।’’

    ‘রাষ্ট্রবাদের বন্ধনকে সুদৃঢ়’ করতেই বন্দে মাতরম

    এদিন, বক্তৃতার আগে হাজার কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গান যখন গাওয়া হয়, তখন খালি পায়ে জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পরে তিনি বলেন, ‘‘রাষ্ট্রবাদের বন্ধনকে অটুট করার জন্য ১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরমের আহ্বান করি। হাজার হাজার মানুষ ভিজছিলেন। জাতীয় পতাকাকে সম্মান দিয়ে আমিও শামিল হলাম।’’ তিনি এ-ও জানান, ‘রাষ্ট্রবাদের বন্ধনকে সুদৃঢ়’ করতেই তাঁর সরকারের তরফে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিন রাজ্যজুড়ে পালিত হয় রাখি বন্ধন উৎসব (Raksha Bandhan Festival)। শুক্রবার ভবানীপুরে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে একদিকে যেমন রাখি বন্ধনের মাধ্যমে সৌভাতৃত্ব ও সম্পর্কের বন্ধনের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। পাশাপাশি স্বাধীনতার এত বছর পরেও পরও ‘দেশবিরোধী’দের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। সাফ বুঝিয়ে দিলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের দেওয়ালে ‘রেড স্যালুট কিষেনজি’ লেখা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বঙ্গভঙ্গের সময়ে রাখি বন্ধন উৎসব নিয়ে রবি ঠাকুরের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি বাংলায় এই উৎসব ঘিরে পুনর্জাগরণের বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • Praggnanandhaa: পিছিয়ে পড়েও ইতিহাস! প্রথম ভারতীয় হিসাবে গ্র্যান্ড চেজ ট্যুর খেতাব জয় প্রজ্ঞানন্দের

    Praggnanandhaa: পিছিয়ে পড়েও ইতিহাস! প্রথম ভারতীয় হিসাবে গ্র্যান্ড চেজ ট্যুর খেতাব জয় প্রজ্ঞানন্দের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিহাস রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দের (Praggnanandhaa)। প্রথম ভারতীয় দাবাড়ু হিসাবে গ্র্যান্ড চেজ ট্যুর (Grand Chess Tour) খেতাব জিতলেন ২১ বছরের এই তরুণ তুর্কি। পিছিয়ে থেকেও ফাইনালে ফ্যাবিয়ানো কারুয়ানাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলেন প্রজ্ঞানন্দ। ফাইনালে এক সময় ছ’পয়েন্টে পিছিয়ে ছিলেন তিনি। এরপর কারুয়ানাকে দু’টি র‌্যাপিড গেমে হারিয়ে দেন। তার পর ব্লিৎজ গেমে ১৫-১৩ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন রমেশবাবু। ফাইনালে কঠিন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হয়েছে ভারতের গ্র্যান্ডমাস্টারকে। তবে, আগ্রাসী দাবা খেলে ফাইনাল জমিয়ে দেন তিনি।

    ভারতীয় দাবায় ঐতিহাসিক মুহূর্ত

    ভারতীয় দাবাকে আরও একবার নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন প্রজ্ঞানন্দ।এই খেতাব জিতে ২ লক্ষ মার্কিন ডলার পুরস্কার পেলেন প্রজ্ঞানন্দ। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১ কোটি ৯১ লাখ টাকার সমান। প্রজ্ঞানন্দের কেরিয়ারে এটিই এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় শিরোপা। এদিন র‌্যাপিড রাউন্ডে চাপে ছিলেন দুই দাবাড়ুই। কারণ চার গেমের এই রাউন্ডই হয়ে ওঠে আসল ফাইনাল। সেখানেই চাপ সামলে কিস্তিমাত করেছেন প্রজ্ঞানন্দ। প্রথম গেমে কিছুটা চাপে পড়ে যান ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার। জয়ের কাছাকাছি পৌঁছেও সময়ের চাপে ভুল চাল দিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে ফেলেন। কারুয়ানাও ভুল করলে ম্যাচ ড্র হয়। পরের ম্যাচগুলি জিতে ১৫-১৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন প্রজ্ঞানন্দ।

    পরবর্তী লক্ষ্য দাবা অলিম্পিয়াড

    বছরের শুরুটা প্রজ্ঞানন্দের জন্য ভাল হয়নি। ক্যান্ডিডেটস টুর্নামেন্টে দ্বিতীয়বার নেমেই ব্যর্থ। কিন্তু এরপর স্বপ্নের ফর্মে ফেরেন। নরওয়ে চেসে ম্যাগনাস কার্লসেনকে (Magnus Carlsen) দু’বার হারিয়ে শিরোপা জয়। জেতেন সেন্ট লুইস র‍্যাপিড ও ব্লিটজ খেতাবও। সিঙ্কফিল্ড কাপেও যুগ্মভাবে শীর্ষস্থান দখল করেন। প্রজ্ঞানন্দের কথায়, ‘ক্যান্ডিডেটস জিতলে ভাল লাগত ঠিকই। কিন্তু এই টুর্নামেন্ট জেতাও দারুণ একটা ব্যাপার। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পরেই এই টুর্নামেন্টের স্থান। এই স্তরের প্রতিযোগিতায় জিততে গেলে অনেক মানসিক দৃঢ়তা লাগে। আমি শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে পেরে খুশি।’টানা একমাস দাবার বোর্ডে মগ্ন থাকার পর প্রজ্ঞার পরবর্তী লক্ষ্য এখন দাবা অলিম্পিয়াড (Chess Olympiad)। আগামী ১৬ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর উজবেকিস্তানের সমরকন্দে খেতাব ধরে রাখার লড়াইয়ে নামবে ভারতীয় দল। সেখানেও অন্যতম প্রধান ভরসা প্রজ্ঞানন্দ।

  • Bangladesh Hindu Crisis: বাংলাদেশে ফের নিখোঁজ হিন্দু পরিবার! ব্যবসায়ী-সহ নিখোঁজ চারজন, চাঁদপুরে উদ্বেগ

    Bangladesh Hindu Crisis: বাংলাদেশে ফের নিখোঁজ হিন্দু পরিবার! ব্যবসায়ী-সহ নিখোঁজ চারজন, চাঁদপুরে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে হিন্দু (Bangladesh Hindu Crisis) ব্যবসায়ী, তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলের নিখোঁজের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চাঁদপুর জেলায়। গত ২৬ আগস্ট থেকে চাঁদপুর শহরের ভাড়া বাড়ি থেকে নিখোঁজ পিন্টু দাস, তাঁর স্ত্রী রিমি দাস এবং দুই ছেলে প্রিয়ম দাস ও রূপম দাস। এখনও পর্যন্ত তাঁদের কোনও সন্ধান মেলেনি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে আর্থিক সংকটের কারণে পরিবারটি আত্মগোপন করেছে, নাকি নিখোঁজের পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। চাঁদপুর শহরের মদিনা মার্কেটে ‘এসকে শিল্পালয়’ নামে ব্যবসা চালাতেন পিন্টু দাস। তাঁর বড় ছেলে প্রিয়ম দশম শ্রেণির ছাত্র। দুই ছেলেই কিশোর এবং পড়াশোনা করত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

    ঋণের চাপে ছিলেন ব্যবসায়ী?

    পরিবারের আত্মীয়দের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই আর্থিক সমস্যায় ভুগছিলেন পিন্টু। ব্যবসার জন্য নেওয়া ঋণের চাপও বাড়ছিল। সম্প্রতি এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি হুমকিও পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ। পিন্টুর আত্মীয় এবং জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে জানিয়েছেন, চাঁদপুর শহরের ভাড়া বাড়ি থেকেই নিখোঁজ হয়েছে গোটা পরিবার। তাঁর দাবি, ঋণের কারণে পিন্টু মানসিক চাপে ছিলেন এবং তাঁকে হুমকি দেওয়ার কথাও তাঁরা শুনেছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিন্টু সোনা ভরাট এবং বন্ধক রাখার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অর্থের বিনিময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে সোনার গয়না বন্ধক রাখতেন তিনি। অভিযোগ, ব্যবসার নামে একাধিক সমবায় সমিতি ও বিভিন্ন সংগঠন থেকে ঋণ নিয়েছিলেন পিন্টু। ফলে তাঁর উপর বড়সড় আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।

    গ্রাহকদের সোনা ও টাকা আটকে

    পিন্টু দাসের নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগে পড়েছেন তাঁর ব্যবসার গ্রাহকরাও। বহু মানুষ তাঁর কাছে সোনার গয়না বন্ধক রেখে টাকা নিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। রঘুনাথপুরের বাসিন্দা রাসেল খান জানান, তিনি ২৯.১৬ গ্রাম সোনার গয়না বন্ধক রেখে পিন্টুর কাছ থেকে ৫০ হাজার বাংলাদেশি টাকা নিয়েছিলেন। পরে গয়না ছাড়ানোর জন্য টাকা জোগাড় করে পিন্টুর কাছে গেলে তাঁকে পরের দিন আসতে বলা হয়। কিন্তু পরদিন তিনি জানতে পারেন, পিন্টু ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যই নিখোঁজ। এরপর তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। আরও দুই গ্রাহক জাহিদুল ইসলাম এবং শুভঙ্কর মজুমদারও পিন্টুর কাছে সোনা বন্ধক রাখার কথা জানিয়েছেন। জাহিদুলের দাবি, তিনি ১২ আনা সোনা দিয়েছিলেন। অন্যদিকে শুভঙ্কর জানিয়েছে, সে ১০ আনা সোনা বন্ধক রেখেছিল।

    একাধিকবার বদলেছিলেন ব্যবসার জায়গা

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঁদপুরের মদিনা মার্কেটে ব্যবসা শুরু করার আগে পিন্টু একাধিকবার তাঁর ব্যবসার জায়গা পরিবর্তন করেছিলেন। প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে মদিনা মার্কেটে ‘এসকে শিল্পালয়’ চালু করেন তিনি। পিন্টুর আদি বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। তাঁর কয়েকজন আত্মীয় কুমিল্লা ও মুরাদনগরেও থাকেন বলে জানা গিয়েছে। আত্মীয় এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানিয়েছেন, পিন্টু, তাঁর স্ত্রী রিমি এবং দুই ছেলে—কেউই এখন তাঁদের ভাড়া বাড়িতে নেই। ২৬ আগস্ট থেকে তাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ ওই ব্যবসায়ীর আত্মীয়রা স্থানীয় থানায় মিসিং ডায়েরি করেছেন। তবে ওই ব্যবসায়ীর মাসতুতো বোন উপমা দে অভিযোগ করেছেন মোটা টাকা তোলা চেয়ে পিন্টু দাসকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। প্রসঙ্গত বাংলাদেশে শাসক দল বিএনপির বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ অতীতের সব নজির ছাপিয়ে গিয়েছে।

    তদন্তে পুলিশ

    চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারটির নিখোঁজ হওয়ার খবর তারা সম্প্রতি পেয়েছে। এরপরই চারজনকে খুঁজে বের করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক জানিয়েছেন, নিখোঁজ চারজনকে উদ্ধারের পাশাপাশি কী কারণে তাঁরা নিখোঁজ হয়েছেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের মধ্যেই চাঁদপুরের এই ঘটনা সামনে এসেছে। চাঁদপুরের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি যে পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে কোনও হুমকি, ঋণের চাপ বা অন্য কোনও ঘটনার সরাসরি যোগ রয়েছে কি না। চারজনেরই বর্তমান অবস্থান অজানা। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি পিন্টুর ব্যবসার গ্রাহকরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন—উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে নিখোঁজ চারজনের নিরাপত্তার পাশাপাশি বন্ধক রাখা সোনা ও আটকে থাকা টাকাও।

    বাংলাদেশে হিন্দু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

    চারদিন আগে বাংলাদেশের উত্তর ভাগের জেলার রংপুরের এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক এবং তাঁর স্ত্রী ও পুত্র কন্যাকে নিজের বাড়িতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় পুলিশ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুই তরুণকে গ্রেফতার করে দাবি করে তারা মাদকাসক্ত অবস্থায় গণপতি চক্রবর্তী নামে ওই শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে। যদিও পুলিশের ওই বয়ান নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে রংপুরে। প্রকৃত হত্যাকারীদের আড়াল করতে পুলিশ নিরীহ দুই তরুণকে ফাঁসিয়েছে বলে নানা মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। ধৃতদের পরিবারও খুনের মত গুরুতর অপরাধে ছেলে দুটি যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছে পরিবার। রংপুরের ঘটনার পর চাঁদপুরে হিন্দু পরিবারের চারজনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত চাঁদপুর বাংলাদেশে ইলিশ মাছের জন্য বিখ্যাত। ওই এলাকাকে ইলিশের বাড়ি বলা হয়ে থাকে। রংপুরের মত চাঁদপুরেও বহু হিন্দু বাস করেন এবং অনেকেই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। কোনও কোনও মহল থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে সরাসরি সম্প্রদায়িক সহিংসতার পথে না হেঁটে প্রচলিত অপরাধে হিন্দুসহ সংখ্যালঘুদের বেশি করে নিশানা করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য তাদের ভয় দেখিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা।

  • Nepal Flood Alert: চিনে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্পের পরই তিব্বতে হ্রদ ভাঙার খবর! বন্যা-বিধ্বস্ত নেপালে নতুন করে প্লাবনের আতঙ্ক, বন্ধ উদ্ধারকাজ

    Nepal Flood Alert: চিনে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্পের পরই তিব্বতে হ্রদ ভাঙার খবর! বন্যা-বিধ্বস্ত নেপালে নতুন করে প্লাবনের আতঙ্ক, বন্ধ উদ্ধারকাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনের সিচুয়ান প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর তিব্বতে ফের একটি জলাধার বা ব্যারেজ লেক ভেঙে যাওয়ার খবর ঘিরে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নেপাল প্রশাসন নদী তীরবর্তী এবং নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সম্ভাব্য ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায় নেপালের ধাদিং ও নুওয়াকোট জেলায় চলা উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধানের কাজও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তিব্বতের কিছু এলাকাতেও একই কারণে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।

    ভূমিকম্পের পর নতুন বিপদ

    শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ চিনের সিচুয়ান প্রদেশে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর পরেই তিব্বতের একটি নতুন হ্রদ ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে নেপালকে সতর্ক করে চিন। জানা গিয়েছে, শুওকেন এবং পোয়েক সাংপো নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে তৈরি হওয়া একটি হ্রদে বিপুল পরিমাণ জল জমেছিল। সেই হ্রদের বাঁধ ভেঙে জল নীচের দিকে নেমে এলে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নেপালজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন শাহ প্রশাসনের সমস্ত স্তরকে উচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। চিনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে নেপাল সরকার। পরিস্থিতির উপর প্রতি মুহূর্তে নজর রাখা হচ্ছে।

    নদীর ধারে থাকা মানুষদের সরে যাওয়ার নির্দেশ

    হ্রদ ভেঙে যাওয়ার খবর সামনে আসার পরই নেপালের রাসুয়া জেলার প্রশাসন নদীর কাছাকাছি এবং নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে বলেছে। তাঁদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চলমান উদ্ধার অভিযানে যুক্ত নিরাপত্তাকর্মীদেরও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে। কারণ, আচমকা জলস্তর বেড়ে গেলে উদ্ধারকারীরাও বিপদের মুখে পড়তে পারেন।এদিকে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে থাকা আরও একটি ব্যারেজ লেকে জল ক্রমশ বাড়ছে। সেটিও ভেঙে গেলে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন।

    ৫০ লক্ষ ঘনমিটার পর্যন্ত জল জমতে পারে

    চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনের জলসম্পদ মন্ত্রক জানিয়েছে, চোচেন খোলা এবং পুরপু সাংপো নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে নতুন একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে আনুমানিক ২০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমেছিল। ইতিমধ্যেই হ্রদটি উপচে পড়তে শুরু করেছিল বলে জানানো হয়েছে। চিনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল ওই হ্রদে ঢুকতে পারে। সেক্ষেত্রে হ্রদটির মোট জলধারণের পরিমাণ প্রায় ৫০ লক্ষ ঘনমিটার হয়ে যেতে পারে। ফলে হ্রদটির বাঁধ ভেঙে আকস্মিক বন্যা বা ‘গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট’ ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিনের জলসম্পদ মন্ত্রক হ্রদটির উপর নজরদারি চালাচ্ছে। সম্ভাব্য বন্যার গতিপথ বুঝতে জলপ্রবাহের সিমুলেশন এবং ঝুঁকি মূল্যায়নও করা হচ্ছে। জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ ব্যবস্থার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

    এখনও নিখোঁজ শত শত মানুষ

    নতুন করে বন্যার আশঙ্কা এমন সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন চিন ও নেপাল—দুই দেশেই আগের বিপর্যয়ের পর শত শত মানুষ এখনও নিখোঁজ। চিনা সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে এখনও ৫৫৮ জন নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। ওই এলাকায় এখনও পর্যন্ত অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। অন্যদিকে, চিনের বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, নেপালের ভূখণ্ডেও প্রায় ১০০ জন চিনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে হ্রদ ভেঙে বন্যা হলে নিখোঁজদের সন্ধান এবং উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। সেই কারণেই ধাদিং ও নুওয়াকোটে চলা উদ্ধার অভিযান আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল প্রশাসন।

    আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    গত ২৬ তারিখ, চিন এবং নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেন্দে নদীর তীর থেকে বিশাল আকারের কাদা এবং ধ্বংসস্তূপ খসে পড়ার ফলেই নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের সৃষ্টি হয়। তীব্র স্রোত ভোটেকোশী এবং ত্রিশূলী নদীর গতিপথের গ্রাম এবং শহরগুলির ওপর আছড়ে পড়ে। বহু ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ভেসে যায় নিমেষে। ওই হড়পা বানে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ সহস্রাধিক। সেই ভয়াবহতার মধ্যেই এখন ভূমিকম্প, পাহাড়ি এলাকায় জল জমে হ্রদ তৈরি হওয়া এবং সেই হ্রদ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় নেপাল-তিব্বত সীমান্তে পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য এখন নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং সম্ভাব্য আকস্মিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানো। নেপাল সরকার জানিয়েছে, চিনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। নতুন হ্রদের জলস্তর এবং সম্ভাব্য জলপ্রবাহের গতিপথের উপর নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ।

  • Abhishek Banerjee: ৩ মামলা দায়ের, গ্রেফতার ১৩! ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসের বিলবোর্ড-কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ পুলিশের

    Abhishek Banerjee: ৩ মামলা দায়ের, গ্রেফতার ১৩! ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসের বিলবোর্ড-কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে কালীঘাট তৃণমূলের সেনাপতি তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের বেআইনি বিলবোর্ড খোলা ঘিরে বৃহস্পতিবার বিকেলে তৈরি হওয়া উত্তেজনার ঘটনায় এবার বড়সড় আইনি পদক্ষেপ করল কলকাতা পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনও পর্যন্ত তিনটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে এবং ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা, পুলিশ ও পুরকর্মীদের উপর হামলা এবং এক মহিলা পুলিশ কর্মীর সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগও সামনে এসেছে। দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনা চলার পর শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ কলকাতা পুরসভার কর্মীরা বিতর্কিত বিলবোর্ডটি খুলে ফেলেন।

    বেআইনি হোর্ডিং সরাতে পুলিশের সাহায্য চেয়েছিল পুরসভা

    পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটে থাকা একটি বেআইনি হোর্ডিং সরানোর জন্য কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে লিখিতভাবে পুলিশি সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই পুর আধিকারিকদের নিরাপত্তা দিতে শেক্সপিয়ার সরণি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কিন্তু পুলিশের অভিযোগ, পুরকর্মী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর সেখানে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, হুমায়ুন কবীর, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ বহু সমর্থক জমায়েত করেন। অভিযোগ, ওই জমায়েতের জেরে পুরকর্মী ও পুলিশ আধিকারিকদের নির্ধারিত কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়।

    পুরকর্মীদের সঙ্গে ‘ধস্তাধস্তি, মহিলা পুলিশকর্মীকে ‘শ্লীলতাহানি

    পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর পুলিশ ও পুরসভার কর্মীদের সঙ্গে উপস্থিত কয়েকজনের ধস্তাধস্তি শুরু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। সরকারি কর্মীদের উপর বলপ্রয়োগ এবং হামলার অভিযোগও উঠেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের কর্মচারীদের সঙ্গে পুরসভা ও পুলিশের কর্মীদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং হাতাহাতির অভিযোগ সামনে আসে।  পুলিশের বিবৃতিতে আরও গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে। ডিউটিতে থাকা এক মহিলা পুলিশ কর্মীকে মারধর করার পাশাপাশি তাঁর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ জমা পড়েছে। একই সঙ্গে কর্তব্যরত সরকারি কর্মীদের হুমকি ও ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনটি পৃথক মামলা দায়ের এবং ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    অভিষেককে তীব্র আক্রমণ সুকান্ত মজুমদারের

    ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। সুকান্তের দাবি, ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের বিলবোর্ডটি বেআইনি ছিল এবং সেটি নিয়ে কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে আগেই নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, বেআইনি নির্মাণ নিয়ম মেনে অপসারণ করার অধিকার পুরসভার রয়েছে এবং সেই কাজ করতেই পুরকর্মীরা সেখানে গিয়েছিলেন। অভিষেক ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগ তুলে সুকান্ত বলেন, “ইনি সাংসদ না গুন্ডা, সেটাই বোঝা যাচ্ছে না!”

    ‘অক্ষয় কুমার’ ও ‘সুনীল শেট্টি’ প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ

    অভিষেককে আক্রমণ করতে গিয়ে আরও কটাক্ষের সুর শোনা যায় সুকান্তের বক্তব্যে। তিনি বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কি নিজেকে অক্ষয় কুমার মনে করছেন নাকি?” পাশাপাশি ডেরেক ও’ব্রায়েনকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি সুকান্ত। বলেন, ‘‘আর পাশে থাকা ষণ্ডামার্কা লোকটা নিজেকে কি সুনীল শেট্টি ভাবছে?’’ সুকান্তের দাবি, বেআইনি কাজের অভিযোগ ওঠার পরেও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া বা দাদাগিরি বরদাস্ত করা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশের দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এই প্রসঙ্গেই হিন্দি প্রবাদ ‘চোরি, চোরি কে উপর সিনা জোড়ি’ উল্লেখ করে অভিষেক ও তাঁর সহযোগীদের কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতা।

    বিলবোর্ড-কাণ্ডে এখন নজর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপে

    একদিকে বেআইনি হোর্ডিং অপসারণকে কেন্দ্র করে পুরসভা-পুলিশের সঙ্গে অভিষেকের অফিসের কর্মীদের সংঘাত, অন্যদিকে পুলিশের একের পর এক মামলা ও গ্রেফতার— সব মিলিয়ে ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। পুলিশের বিবৃতিতে ওঠা হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং মহিলা পুলিশ কর্মীর সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগ এখন তদন্তের আওতায়। অন্যদিকে, ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি। ফলে বিলবোর্ড সরানোর ঘটনাটি শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

  • Mohan Bhagwat in US: ‘সতর্ক থাকুন’! ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে নিউইয়র্কের মেয়রকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আর্জি হিন্দু সংগঠনের

    Mohan Bhagwat in US: ‘সতর্ক থাকুন’! ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে নিউইয়র্কের মেয়রকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আর্জি হিন্দু সংগঠনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat in US) নিউইয়র্ক সফর এবং ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে তাঁর প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানের আগে নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করল হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন (HAF)। নিউইয়র্ক প্রশাসনের কাছে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ২৯ আগস্ট ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে ভাগবতের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই কয়েকটি মহল থেকে বিরোধিতা এবং অনুষ্ঠান বাতিলের দাবি উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিন্দু অধিকার ও শিক্ষা বিষয়ক সংগঠন এইচএএফ (HAF)আমেরিকার হিন্দু সম্প্রদায়কে ‘সতর্ক থাকতে’ এবং চারপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

    মামদানিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আর্জি

    সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম-এ দেওয়া এক বার্তায় এইচএএফ (HAF) হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি সকলের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও সংযত আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আয়োজিত ‘ইউনিভার্সাল ওয়ননেস সেলিবরেশন (Universal Oneness Celebration)’ অনুষ্ঠানটি আয়োজনে বাধা দেওয়া হবে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি (Zohran Mamdani)-র উদ্দেশে হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন -এর বার্তা, অনুষ্ঠানে উপস্থিত নিউইয়র্কের প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাঁর দায়িত্ব। একইসঙ্গে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের নাগরিক অধিকারও রক্ষা করতে হবে।

    অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেছেন মামদানি

    ভাগবতের অনুষ্ঠানের বিষয়ে প্রকাশ্যেই নিজের আপত্তির কথা জানিয়েছেন মামদানি। তবে একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, কোনও বেসরকারি অনুষ্ঠান বাতিল করার আইনি ক্ষমতা শহর প্রশাসনের আদৌ রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এক সাংবাদিক বৈঠকে মামদানি বলেন, তিনি এই সমাবেশকে সমর্থন করেন না। তবে একটি বেসরকারি অনুষ্ঠান বাতিল করার ক্ষেত্রে শহর প্রশাসনের কোনও আইনি এখতিয়ার রয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। নিজের ভারতীয়-আমেরিকান পরিচয়ের কথাও তুলে ধরেন নিউইয়র্কের মেয়র। তাঁর বক্তব্য, তাঁর পরিবারের কাছে ভারতের পরিচয় ছিল একটি বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ হিসেবে, যেখানে প্রত্যেকেরই জায়গা রয়েছে। মামদানির অভিযোগ, বর্জনমূলক রাজনৈতিক আন্দোলনের উত্থান তাঁকে উদ্বিগ্ন করছে।

    নিউইয়র্কে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন

    এই পরিস্থিতিতে মার্কিন গায়িকা-অভিনেত্রী মেরি মিলবেন মেয়র মামদানি-সহ সমালোচকদের পাল্টা আক্রমণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি-র প্রতি বিরোধিতার কারণেই মামদানি ও অন্যান্য সমালোচকরা ভাগবতের অনুষ্ঠানকে নিশানা করছেন। ২৯ আগস্টের নির্ধারিত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    প্রচার বন্ধের অসফল প্রয়াস

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর প্রধান মোহন ভাগবতের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যায় আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফোরাম (American Hindus for Engagement and Dialogue Forum)-এর সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট। এই সংগঠন ভাগবতের অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। তবে পুনরায় তাদের অ্যাকাউন্ট চালু করেছে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স। বুধবার সংগঠনটির @AheadForum1 হ্যান্ডেলটি হঠাৎই অনুপলব্ধ হয়ে যায়। অ্যাকাউন্টটি বন্ধ হওয়ার পর সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, ঘটনাটি সম্ভবত ভুলবশত ঘটেছে। তাদের বক্তব্য ছিল, সংগঠনের যোগাযোগমূলক প্রচারে ‘সার্বজনীন শান্তি, একতা, সম্প্রীতি’ এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপের বার্তা তুলে ধরা হয়।

    বিশ্বসম্প্রীতি নিয়ে ভয় কেন

    পরে অ্যাকাউন্টটি পুনরায় চালু হলে আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফোরাম X-এ পোস্ট করে জানায়, “আমরা আবার ফিরে এসেছি!” একই সঙ্গে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার এবং ‘বট’ সরিয়ে দেওয়ার জন্য সমাজ-মাধ্যম-কে ধন্যবাদ জানায় তারা। সংগঠনটির অভিযোগ, তাদের বিরোধীরা বিভ্রান্তিকরভাবে বট ব্যবহার করে X-এর অ্যালগরিদমকে প্রভাবিত করে অ্যাকাউন্টটি ব্লক করানোর চেষ্টা করেছিল। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ভারতীয় ঐতিহ্য, ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপকে সামনে আনা। অনুষ্ঠানে হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন প্রতিনিধি, মন্দির, যোগ সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের উপস্থিত থাকার কথা। রাখিবন্ধন উপলক্ষেও অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ঐক্য, নাগরিক দায়িত্ব ও বিশ্বসম্প্রীতি নিয়ে বক্তব্যের আয়োজন করা হয়েছে।

    কেন বন্ধ করা হয়েছে অ্যাকাউন্ট

    তবে X-এর পক্ষ থেকে অ্যাকাউন্টটি কেন সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আসেনি। পাশাপাশি, এই পদক্ষেপের সঙ্গে ভাগবতের নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে চলা প্রতিবাদের সরাসরি কোনও যোগসূত্রেরও প্রকাশ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বেশ কয়েকটি নাগরিক অধিকার সংগঠন ভাগবতের অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে। তাদের অভিযোগ, আরএসএস একটি ‘বর্জনমূলক সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী’ মতাদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আরএসএসের শতবর্ষ উদযাপনের বছরেই আন্তর্জাতিক সফরে বেরিয়েছেন মোহন ভাগবত। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ব্রিটেন—এই তিন দেশ নিয়ে তাঁর এই সফর। বিদেশে বিভিন্ন সংগঠনের আমন্ত্রণে এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

  • Nepal-Tibet Flash Flood: নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ হড়পা বানে মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯, এখনও নিখোঁজ ২৯০ ভারতীয় সহ ১,৪৬৮! নতুন বিপদ ‘ব্যারিয়ার লেক’

    Nepal-Tibet Flash Flood: নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ হড়পা বানে মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯, এখনও নিখোঁজ ২৯০ ভারতীয় সহ ১,৪৬৮! নতুন বিপদ ‘ব্যারিয়ার লেক’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল ও তিব্বত। হিমবাহ ধসের পর বরফ-পাথরের বিশাল ধস এবং জলস্রোতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এখনও পর্যন্ত ৪৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুই দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও ১,৪৬৮ জন নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে ভোতে কোশি নদীর উৎসের কাছে তৈরি হওয়া একটি নতুন ‘ব্যারিয়ার লেক’। সেটি ভেঙে গেলে ফের ভয়াবহ বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নেপাল পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, হেলিকপ্টারে ৫০ জন বিদেশি-সহ ৭৯৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। স্থলপথে আরও ৭৯৬ জনকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নেপালে ৯১০ জন এবং তিব্বতে ৫৫৮ জনের এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি।

    ২৯০ ভারতীয় এখনও নিখোঁজ

    বন্যার জেরে নেপালে ২৯০ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। তাঁদের মধ্যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী এবং বিভিন্ন রাজ্য থেকে যাওয়া পর্যটকরাও রয়েছেন। ভারত ইতিমধ্যেই ৮৪ জন নাগরিককে উদ্ধার করেছে। তাঁদের মধ্যে ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৬৩ জন কর্মী এবং তামিলনাড়ুর ২১ জন রয়েছেন। পাশাপাশি তিব্বতের দিকে আটকে থাকা প্রায় ২০০ ভারতীয়ও ভারতের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, নেপাল সরকার, বিভিন্ন মন্ত্রক, রাজ্য সরকার, পর্যটন সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজ ভারতীয়দের সন্ধানে জরুরি পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তার জন্য ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুমও চালু করা হয়েছে।

    উদ্ধার ১১ ভারতীয় পর্যটক

    নেপালের রসুয়া জেলা থেকে ২৭ জন বিদেশি পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ১১ জন ভারতীয়। এছাড়া চার জন দক্ষিণ কোরীয়, দুই জন ইতালীয় এবং দুই জন মার্কিন নাগরিক ছিলেন। নেপাল আর্মির হেলিকপ্টারে তাঁদের কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বন্যার কারণে দিল্লি-কাঠমান্ডু বাস পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

    নতুন ব্যারিয়ার লেক নিয়ে বড় আশঙ্কা

    উদ্ধারকাজ চলার মধ্যেই নতুন বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভোতে কোশি নদী ব্যবস্থার উৎসের কাছে তৈরি হয়েছে একটি প্রাকৃতিক ব্যারিয়ার লেক। চিনা কর্তৃপক্ষের অনুমান, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে প্রায় ২০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমেছিল। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল সেখানে জমতে পারে। প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে ফের প্রবল জলস্রোত নেমে আসতে পারে। নেপালের জল ও আবহাওয়া দফতর ভোতে কোশি এবং ত্রিশুলি নদীর তীরবর্তী মানুষকে সতর্ক করে নদীর কাছ থেকে দূরে নিরাপদ জায়গায় থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

    হিমবাহ ধসেই বিপর্যয়, ভূমিকম্প নয়

    প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প বলে মনে করা হলেও নেপালি কর্তৃপক্ষ এবং মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থার সংশোধিত বিশ্লেষণে জানা গিয়েছে, ভূমিকম্প নয়, হিমবাহ ধস এবং বরফ-পাথরের ধসই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। হিমবাহ ধসের পর লহেন্দে নদীর গতিপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেই প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে বিপুল জল, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ ভোতে কোশি এবং ত্রিশুলি নদী ব্যবস্থার দিকে নেমে আসে।

    ধ্বংসস্তূপে চাপা রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎ প্রকল্প

    বন্যায় নেপালের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেত্রাবতী থেকে রাসুওয়াগাধি পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার রাস্তার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু কংক্রিট ও ঝুলন্ত সেতু ভেসে গিয়েছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩৫টি মোটরযোগ্য সেতু, ৪৫টি ঝুলন্ত সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রিশুলি ও দেবীঘাট-সহ একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতির মুখে পড়েছে।

    এদিকে হাসপাতাল, উদ্ধারকেন্দ্র এবং নদীর তীরে নিখোঁজ পরিজনদের খুঁজছেন অসংখ্য পরিবার। বহু এলাকায় এখনও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। নেপাল আর্মি, পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং হেলিকপ্টার ও ড্রোনের সাহায্যে উদ্ধার অভিযান চলছে। ধ্বংসের পূর্ণ চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়। তবে শত শত পরিবার এখনও প্রিয়জনের খবরের অপেক্ষায়, আর নতুন ব্যারিয়ার লেকের আশঙ্কায় বিপর্যয় আরও ভয়াবহ আকার নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

  • Suvendu Adhikari: ৪৩ হাজার শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ, প্রতি থানায় ৪টি ‘১১২’ গাড়ি! বাংলার পুলিশে বড় বদলের ঘোষণা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ৪৩ হাজার শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ, প্রতি থানায় ৪টি ‘১১২’ গাড়ি! বাংলার পুলিশে বড় বদলের ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা শূন্যপদ পূরণ এবং থানাগুলির পরিকাঠামো ঢেলে সাজাতে বড়সড় উদ্যোগের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য পুলিশে বর্তমানে প্রায় ৪৩ হাজার পদ খালি রয়েছে। পর্যাপ্ত পুলিশকর্মীর অভাবে একাধিক থানা সিভিক ভলান্টিয়ারের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি কাটাতে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু নিয়োগ নয়, পুলিশের গাড়ি, থানার পরিকাঠামো, মহিলা থানা, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা এবং জরুরি পরিষেবায় পুলিশের পৌঁছনোর সময় কমানো—একাধিক ক্ষেত্রে একসঙ্গে পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন তিনি।

    প্রতি এক লক্ষে পুলিশ মাত্র ১০৬ জন!

    রাজ্যে পুলিশের লোকবল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শুভেন্দু জানান, পশ্চিমবঙ্গে প্রতি এক লক্ষ মানুষের জন্য বর্তমানে মাত্র ১০৬ জন পুলিশকর্মী রয়েছেন। দেশের বহু রাজ্যের তুলনায় এই সংখ্যা যথেষ্ট কম বলেই দাবি করেছেন তিনি। সরকারের লক্ষ্য আগামী দিনে প্রতি এক লক্ষ মানুষের জন্য পুলিশের সংখ্যা অন্তত ২০০-তে নিয়ে যাওয়া। সেই লক্ষ্যে প্রথম ধাপে ৪৩ হাজার শূন্যপদ পূরণের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পুলিশ পদ তৈরি করার সম্ভাবনাও রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সুপ্রিম কোর্টের জট কেটে গিয়েছে। নিয়োগ শুরু করুন। পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান এখানে রয়েছেন। আপনাকে বলছি, পুলিশে ম্যানপাওয়ার বাড়াতে হবে। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করব।”

    মহিলা থানা ও সাইবার অপরাধে বাড়তি গুরুত্ব

    নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ মোকাবিলায় রাজ্যের মহিলা থানাগুলিকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তদন্তের জন্য প্রশিক্ষিত কর্মী এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় রাজ্য পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন শুভেন্দু। তবে শুধু তদন্ত নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।সাইবার প্রতারণার ভয়াবহতা বোঝাতে একটি ঘটনার উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেউ হয়তো পিএফ ও গ্র্যাচুইটির টাকা জমিয়ে রেখেছিলেন, নাতনিকে ডাক্তার করবেন বলে। মাত্র ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে সব টাকা চলে গেল।”

    বিপর্যয় মোকাবিলায় আসছে ২০০ সদস্যের ‘অর্জুন’

    প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অগ্নিকাণ্ড এবং বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত কাজ করার জন্য সিভিল ডিফেন্সের অধীনে ২০০ সদস্যের একটি বিশেষ বাহিনী গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই বাহিনীর নাম রাখা হয়েছে ‘অর্জুন’। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্য সৈনিক বোর্ডের মাধ্যমে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত ৮০ জন প্রাক্তন সেনাকর্মীকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী দিনে অগ্নিবীরদেরও এই বাহিনীতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    আমফানের সময় গাছ কেটে রাস্তা পরিষ্কার করতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল বলে অভিযোগ তুলে পুরনো অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, “আগের সরকারের মন্ত্রী থাকাকালীন দেখেছিলাম, আমফানের সময় তিনদিনে একটাও গাছ সরাতে পারেনি। ৩০০ পুলিশের ওডিএমজি পাঠিয়েছিল ওড়িশা পুলিশ, তারা এসে ১২ ঘণ্টায় কাজ করে দিয়েছিল। আমরা দাঁড়িয়ে দেখলাম।” নতুন বাহিনীর মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার ও রাস্তা পরিষ্কারের কাজ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    চার হাজার পুরনো পুলিশ গাড়ি বদলের পরিকল্পনা

    রাজ্য পুলিশের যানবাহনের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পুলিশের ডিজির সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন যে প্রায় ৪ হাজার পুলিশ গাড়ি বদলানো প্রয়োজন। একসঙ্গে এতগুলি গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই ধাপে ধাপে পুরনো গাড়ি সরিয়ে নতুন গাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু বলেন, “একসঙ্গে চার হাজার গাড়ি দিতে না পারলেও বছরে এক হাজার করে দেব। পুলিশের লজিস্টিক্স এবং পরিকাঠামো বাড়ানো হবে।”

    প্রতিটি থানায় ৪টি করে ‘১১২’ গাড়ি

    জরুরি পরিষেবায় পুলিশের ‘রেসপন্স টাইম’ কমানোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, উত্তরপ্রদেশে জরুরি ফোন পাওয়ার প্রায় ৬ মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কলকাতায় রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা তুলনামূলক ভাল হওয়ায় সাড়া দ্রুত মিললেও রাজ্যের বহু এলাকায় পরিস্থিতি ভিন্ন।শুভেন্দুর দাবি, রাজ্যের বহু জায়গায় পুলিশের গড় রেসপন্স টাইম প্রায় তিন ঘণ্টা। এই সময় কমাতে প্রতিটি থানায় জরুরি পরিষেবা নম্বর ‘১১২’-এর জন্য চারটি ডেডিকেটেড গাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবারের বাজেটে এর জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “বেঙ্গল পুলিশে লোকবল বাড়াতে হবে। প্রতি থানায় ৪টি ১১২ ডেডিকেটেড গাড়ি দিতে হবে। এবারের বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্যের ৫৫২টি থানায় একটি করে ১১২ গাড়ি পৌঁছে যাবে পুজোর আগেই। মহালয়াতেই ব্রিগেডে ৫৫২টি গাড়ির উদ্বোধন করা হবে।” পরবর্তী বাজেটে থানাপিছু আরও দু’টি গাড়ি দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

    দুর্নীতিতে কড়া বার্তা, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর হিংসা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে দুর্নীতি দমন শাখার কাজেও আরও নজরদারি বাড়ানোর বার্তা দিয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ, নারী নির্যাতন এবং পকসো আইনের আওতায় আসা অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন শুভেন্দু। তাঁর বার্তা, “রাষ্ট্রবিরোধীদের শায়েস্তা করতে কারও কথা শুনবেন না। আরজি কর বা পকসো আইনের আওতায় যে সব ঘটনা ঘটবে, তার মোকাবিলা করতে কারও নির্দেশের অপেক্ষা করার দরকার নেই। যত কঠোর হতে হয় হবেন, আপনাদের হয়ে শিল্ড হয়ে দাঁড়াব আমি।”

    পুলিশকর্মীদের রেশন ভাতা বাড়ল

    পুলিশ বাহিনীর নিচুতলার কর্মীদের জন্য আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উৎসবের মাসে পুলিশকর্মীদের রেশন ভাতা ১,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করা হয়েছে বলে ঘোষণা করেন তিনি। পুজোর মাসেই ৩৮ শতাংশ ডিএ-সহ আগাম বেতন দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ১৫ বছর চাকরি সম্পূর্ণ করা নিচুতলার পুলিশকর্মীদের নিজস্ব জেলা অথবা সংলগ্ন জেলায় পোস্টিংয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    তবে বাহিনীর একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। ঝাড়গ্রামের এক কনস্টেবলকে ৫ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা-সহ ধরার প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, “এসিবি অনেককে ধরছে, তার মধ্যে ঝাড়গ্রামে এক কনস্টেবলও ৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা-সহ ধরা পড়েছে। এই লোভগুলো সম্বরণ করতে হবে।”

    নিয়োগ থেকে পরিকাঠামো—পুলিশ ব্যবস্থায় বড় রদবদলের ইঙ্গিত

    সব মিলিয়ে রাজ্য পুলিশের ক্ষেত্রে একাধিক স্তরে পরিবর্তনের পরিকল্পনা সামনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একদিকে ৪৩ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ, অন্যদিকে পুরনো গাড়ি বদল, থানার পরিকাঠামো উন্নয়ন, মহিলা থানা ও সাইবার ইউনিটকে শক্তিশালী করা এবং ‘১১২’ পরিষেবার রেসপন্স টাইম কমানোর উদ্যোগ—সব মিলিয়ে পুলিশ ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্য সরকার। এখন নজর থাকবে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড কত দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে এবং শূন্যপদ পূরণের ক্ষেত্রে সরকার কতটা দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ করে।

  • Nepal Flash Floods: ‘বোমা বিস্ফোরণের মতো’—২,০০০ ফুট চওড়া হিমবাহ ভেঙেই নেপালে ভয়াবহ বন্যা! কী অনুমান বিশেষজ্ঞদের?

    Nepal Flash Floods: ‘বোমা বিস্ফোরণের মতো’—২,০০০ ফুট চওড়া হিমবাহ ভেঙেই নেপালে ভয়াবহ বন্যা! কী অনুমান বিশেষজ্ঞদের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিমালয়ের প্রায় ১৭,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে বিশাল একটি হিমবাহের অংশ ভেঙে পড়ার ফলেই নেপালের হিমালয়-সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা (Nepal Flash Floods) হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বুধবারের এই বিপর্যয়ে নেপাল ও তিব্বতের বিস্তীর্ণ এলাকায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। নেপাল ও তিব্বতে এই ভয়াবহ বন্যায় ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১,৫০০ জন এখনও নিখোঁজ। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, প্রায় ৩০০ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে খবর পাওয়া যায়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন ভারতীয়কে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে।

    হিমবাহ ধসেই ভয়াবহ বন্যা!

    বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এটি একটি ‘আইস অ্যাভাল্যাঞ্চ’ বা হিমবাহ ধসের ঘটনা হতে পারে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে, প্রায় ২,০০০ ফুট চওড়া হিমবাহের একটি অংশ প্রায় পরিষ্কারভাবে মূল হিমবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১৭,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে ভেঙে পড়া বরফের সেই বিশাল অংশ প্রায় ৪,০০০ ফুট নিচে উপত্যকার তলায় আছড়ে পড়ে। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগারির ভূতত্ত্ববিদ ড্যানিয়েল শুগার স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, হিমবাহের ওই অংশটি প্রায় এক কিলোমিটার উল্লম্ব দূরত্ব অতিক্রম করে উপত্যকায় পড়ে। প্রচণ্ড অভিঘাতে বরফ কার্যত গুঁড়িয়ে গিয়ে জল, বরফ ও পাথরের ধ্বংসাবশেষের ভয়াবহ স্রোত তৈরি করে। শুগারের কথায়, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে “যেন একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে”—ভেঙে যাওয়া হিমবাহের বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে চারদিকে।

    কীভাবে বরফের ধস ভয়াবহ বন্যায় পরিণত হল?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এত উচ্চতা থেকে বিশাল বরফের খণ্ড নীচে পড়ায় প্রচুর সম্ভাব্য শক্তি তৈরি হয়। ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ সাইমন কুকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রচণ্ড আঘাতে বরফ গুঁড়িয়ে গিয়ে দ্রুতগতির জল ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে পরিণত হতে পারে। এই স্রোত উপত্যকা দিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে লহেন্দে খোলা বা নদীতে গিয়ে পড়ে। পরে তা ভোটেকোশি নদী হয়ে নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। আচমকা নেমে আসা সেই স্রোতে বসতি, রাস্তা, সেতু এবং জলবিদ্যুৎ পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের তরফে আরও একটি বন্যার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে। কারণ, লহেন্দে খোলার উজানে এখনও একটি বড় বাধা আটকে রয়েছে বলে জানা গেছে।

    ভূমিকম্প নাকি হিমবাহ ধস?

    বিপর্যয়ের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। বুধবার ভোরে ওই অঞ্চলে ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। ফলে ভূমিকম্পের সঙ্গে হিমবাহ ধসের কোনও সম্পর্ক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আবার জলবায়ু ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এটি বরফ-পাথরের ধস -এর ফলও হতে পারে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে কোনও একটি কারণকে চূড়ান্তভাবে দায়ী করা ঠিক হবে না।

    উষ্ণ হচ্ছে হিমালয়, বাড়ছে বিপদের আশঙ্কা

    এই বিপর্যয়ের সঙ্গে হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তিত জলবায়ুর সম্পর্ক নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক পর্বত উন্নয়ন সংস্থা আইসিআইএমওডি (ICIMOD)-এর বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ১৪ মাসে লহেন্দে খোলা এলাকায় একই ধরনের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। গত বছরের একটি আকস্মিক বন্যার সঙ্গে তিব্বতের একটি হিমবাহ-হ্রদের জল উপচে পড়ার সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিশেষজ্ঞ শশ্বত সান্যালের মতে, নেপালের দিকের একটি হিমবাহ থেকে বরফ-পাথরের ধস নেমে নদীর গতিপথ আটকে দেওয়ার পর আচমকা সেই বাধা ভেঙে গিয়ে ভয়াবহ স্রোত তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তাঁর মতে, দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা হিমালয়ে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ দ্রুত বরফ হারাচ্ছে। এর ফলে বন্যা, ভূমিধস, হিমবাহ-সংক্রান্ত বিপর্যয় এবং আকস্মিক জলস্রোতের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।

    এখনও কতজন ভারতীয় নিখোঁজ?

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে আটকে রয়েছেন তামিলনাড়ুর ৩৭ জন, পশ্চিমবঙ্গের ৩২ জন, কেরলের ৩৩ জন এবং বিভিন্ন রাজ্যের ৬১ জন বাসিন্দা। ত্রিশূলী নদীর উপর নির্মীয়মাণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করা ৭৩ জন ভারতীয়ও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন। অন্য দিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, এই রাজ্যের ৩২ জন বাসিন্দার সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা যায়নি। তাঁদের নাম-ঠিকানাও প্রকাশ করেছে রাজ্য প্রশাসন। রাজ্য প্রশাসনের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেট এলাকার ছ’জন বাসিন্দার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকার তিন বাসিন্দার এখনও খোঁজ নেই। কলকাতার চার বাসিন্দাও এই ৩২ জনের তালিকায় রয়েছেন।

    উদ্ধারকাজে বড় বাধা

    ভয়াবহ বন্যায় নেপাল ও তিব্বতে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আরও শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক, শ্রমিক এবং তীর্থযাত্রীও রয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলি ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর চেষ্টা চালালেও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, বিপুল পরিমাণ পলি ও ধ্বংসাবশেষ এবং এখনও অস্থিতিশীল পাহাড়ি পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। হিমালয়ের দুর্গম উপত্যকায় বসবাসকারী মানুষের কাছে এই বিপর্যয় ফের প্রমাণ করে দিল—পাহাড়ের অনেক উপরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে নীচের জনপদে জল, বরফ ও পাথরের ভয়াবহ মৃত্যুফাঁদ তৈরি করতে পারে।

LinkedIn
Share