Blog

  • New Industrial Policy: নভেম্বরেই নবান্ন থেকে নয়া শিল্পনীতি ঘোষণা, বড় বিনিয়োগ টানতে একাধিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা

    New Industrial Policy: নভেম্বরেই নবান্ন থেকে নয়া শিল্পনীতি ঘোষণা, বড় বিনিয়োগ টানতে একাধিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন ও নতুন বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করতে নয়া শিল্পনীতি ঘোষণা করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর আগামী ৫ নভেম্বর নবান্ন সভাঘর থেকে এই নীতি (New Industrial Policy) প্রকাশ্যে আনার কথা। দুর্গাপুজোর আগে নীতি ঘোষণার সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা পিছিয়ে যায়। নতুন শিল্পনীতিতে বড় শিল্প সংস্থাকে আকৃষ্ট করতে আর্থিক প্রণোদনা, দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদন এবং জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা থাকতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে (West Bengal) খবর।

    জমি ব্যবহারে কড়া শর্ত (New Industrial Policy)

    নতুন শিল্পনীতিতে দ্রুত শিল্প স্থাপনের অনুমোদন দেওয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। সূত্রের খবর, ১০০ একর বা তার বেশি জমিতে শিল্প গড়তে আগ্রহী সংস্থাগুলির জন্য এক জানালা ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন দফতরের অনুমতির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করার সমস্যা কমতে পারে।

    শিল্পের জন্য বরাদ্দ জমি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজে লাগানোর বিষয়েও কড়া শর্ত থাকতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, জমি পাওয়ার তিন বছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু না হলে সংশ্লিষ্ট জমি ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তও বিবেচনা করা হতে পারে। তবে এই শর্তগুলির চূড়ান্ত রূপ নতুন শিল্পনীতি প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে।

    কৃষি প্রকল্প ও জনজাতি দিবস নিয়েও সিদ্ধান্ত

    দুর্গাপুজোর পর রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে শিল্পনীতির পাশাপাশি কৃষি ও প্রশাসনিক বিষয়েও কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর। রাজ্য সরকারের বহুল প্রচলিত ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মাননিধি’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ৫ নভেম্বর হুগলির পুরশুড়ায় একটি জনসভা থেকে প্রায় ৪৮ লাখ নথিভুক্ত কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ২,০০০ টাকা সরাসরি পাঠানোর কথা রয়েছে। ওই কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডলের উপস্থিত থাকার কথা।

    এছাড়া, যেসব প্রশাসনিক দফতর ইতিমধ্যেই তাদের বরাদ্দ বাজেটের অন্তত ৩৫ শতাংশ জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করেছে, তাদের পরবর্তী কিস্তির অর্থ দ্রুত ছাড়ার জন্য অর্থ দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    আগামী ১১ নভেম্বর থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জনজাতি গৌরব দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জনজাতি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অবদানের কথা তুলে ধরতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

    আসন্ন কালীপুজো উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনসেবা এবং প্রশাসনিক তদারকি জোরদার করতে রাজ্যের প্রত্যেক মন্ত্রীকে একটি করে জেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উৎসবের সময় যাতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় কোনও ঘাটতি না থাকে, সে দিকে নজর রাখতেই এই উদ্যোগ বলে সূত্রের (New Industrial Policy) খবর।

    তোলাবাজি রুখতে হেল্পলাইন

    এর আগে নতুন শিল্পনীতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে শিল্পের প্রসারের বদলে ভাতা দেওয়ার উপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে মানুষ ভাতার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

    একই সঙ্গে রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, শিল্প স্থাপন বা ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে কোথাও হুমকি কিংবা তোলাবাজির মুখে পড়লে নির্দিষ্ট টোল-ফ্রি নম্বর ১৫৫-৩৩৫-এ অভিযোগ জানানো যাবে। অভিযোগ পাওয়ার পর সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে বলেও আশ্বাস (West Bengal) দিয়েছেন তিনি।

    সব মিলিয়ে, নতুন শিল্পনীতিতে বিনিয়োগের সুযোগ, প্রশাসনিক অনুমোদনের গতি এবং জমির যথাযথ ব্যবহার কতটা গুরুত্ব পায়, এখন সেদিকেই নজর শিল্পমহলের। আগামী ৫ নভেম্বর নীতি প্রকাশ্যে এলে রাজ্যে শিল্প স্থাপনের শর্ত ও বিনিয়োগকারীদের জন্য ঘোষিত সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট (New Industrial Policy) ধারণা মিলবে বলেই খবর।

     

  • Bangladesh: বাংলাদেশে জমি বিবাদের মীমাংসা করতে যাওয়া হিন্দু শিক্ষককে পিটিয়ে খুন

    Bangladesh: বাংলাদেশে জমি বিবাদের মীমাংসা করতে যাওয়া হিন্দু শিক্ষককে পিটিয়ে খুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) দিনাজপুর জেলায় জমি বিবাদের মীমাংসা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল এক হিন্দু শিক্ষকের। মৃতের নাম মনোরঞ্জন রায় (৫৫)। রবিবার, ২৫ অক্টোবর, প্রতিবেশীদের মধ্যে বিবাদ মেটানোর চেষ্টা করার সময় তাঁকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় (Hindu Teacher) বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনায় আসাদুজ্জামান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হামলায় জড়িত অন্যদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

    সালিশি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মনোরঞ্জন (Bangladesh)

    জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার রাবেয়া বাজারের সোনাপুকুর নয়াপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। মনোরঞ্জন চিরিরবন্দর উপজেলার পূর্ব সুখদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। এলাকার পরিচিত ও সম্মানীয় ব্যক্তি হিসেবে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে রাস্তা ও জমি সংক্রান্ত বিবাদ মেটানোর জন্য আয়োজিত সালিশি বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি।

    অভিযোগ, বৈঠক চলাকালীন বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং দু’পক্ষকে থামাতে এগিয়ে যান মনোরঞ্জন। সেই সময় আসাদুজ্জামান ও তাঁর সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষকের উপর লাঠি নিয়ে হামলা চালান। মাথা-সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে তাঁর। মারধরের পর পাশের একটি ধানখেতে পড়ে যান তিনি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

    এই বিবাদের নেপথ্যে অবশ্য একাধিক কারণের কথা উঠে এসেছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আল রোমান নামে এক প্রতিবেশীর সঙ্গে জমি নিয়ে বিবাদ চলছিল আসাদুজ্জামানের। আল রোমানের বাড়িতে নির্মাণকাজ করা ছুতোর ফরতাজ হোসেনের সঙ্গেও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ হয়েছিল রোমানের।

    প্রয়াত বন্ধুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি

    প্রায় ১৩ বছর আগে আল রোমানের বাবা আজিজুল মাস্টারের মৃত্যু হয়। মনোরঞ্জন ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আজিজুলের মৃত্যুর পর থেকে রোমান ও তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মনোরঞ্জন। পরিবারের অভিভাবকের মতো তাঁদের দেখাশোনা করতেন। রোমান ও তাঁর ভাইবোনদের পড়াশোনা-সহ নানা প্রয়োজনেও সাহায্য করতেন তিনি।

    এদিকে, ফরতাজ হোসেন আজিজুল মাস্টারের বাড়িতে নির্মাণকাজ করছিলেন। সেই কাজের পারিশ্রমিক নিয়ে (Bangladesh) তাঁর সঙ্গে আল রোমানের বিরোধ বাধে। বাড়ির পাশের এক টুকরো জমিতে থাকা কয়েকটি ইউক্যালিপটাস গাছ কাটা নিয়েও রোমানের সঙ্গে আসাদুজ্জামানের বিবাদ চলছিল। রোমানের অভিযোগ ছিল, তাঁর অনুমতি না নিয়েই ওই জমির গাছ কাটা হয়েছে। ফরতাজ গাছগুলি করাতকলে নিয়ে গিয়েছিলেন কাঠ চেরাই করানোর জন্য। পরে কাঠের পরিমাণ এবং তা বিক্রি করে পাওয়া টাকার হিসাব নিয়েও রোমানের সন্দেহ তৈরি হয়।

    রবিবার দুপুরে ফরতাজ হোসেন আসাদুজ্জামান ও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রোমানের বাড়িতে যান। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। গোলমালের খবর পেয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে যান মনোরঞ্জন। অভিযোগ, তখনই ফরতাজ, আসাদুজ্জামান ও তাঁদের সহযোগীরা তাঁর উপর হামলা চালান।

    গ্রেফতার অভিযুক্ত

    আল রোমানই পুলিশকে ঘটনার খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসাদুজ্জামানকে গ্রেফতার করে। হামলায় জড়িত অন্যদের সন্ধান চলছে (Hindu Teacher)।

    দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রয়াত বন্ধুর পরিবারের বিবাদ মেটাতে চিরিরবন্দর থেকে এসেছিলেন ওই শিক্ষক। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় (Bangladesh) তিনি আহত হন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

     

  • Diwali: দীপাবলির আগে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী-পেনশনভোগীদের সুখবর, ডিএ বাড়ল ৩ শতাংশ

    Diwali: দীপাবলির আগে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী-পেনশনভোগীদের সুখবর, ডিএ বাড়ল ৩ শতাংশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীপাবলির (Diwali) আগে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের সুখবর দিল কেন্দ্রীয় সরকার। ডিএ এবং ডিআর (মহার্ঘ ত্রাণ) ৩ শতাংশ বাড়ানোর (DA Hike) সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা মূল বেতনের ৬০ শতাংশ থেকে বেড়ে হবে ৬৩ শতাংশ। একইভাবে, পেনশনভোগীদের মহার্ঘ ত্রাণও ৩ শতাংশ বাড়বে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে এই বর্ধিত ভাতা কার্যকর হবে।

    উপকৃত হলেন যাঁরা (Diwali)

    তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা দীপাবলির আগে সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য এই ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ৪৮.৫৪ লাখ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী এবং ৬৮.৭১ লাখ পেনশনভোগী উপকৃত হবেন। ভাতা বৃদ্ধির কারণে কেন্দ্রীয় কোষাগারের উপর বছরে আনুমানিক ১০,০১৬ কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা পড়বে।

    সপ্তম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ

    সরকারি সূত্রে খবর, সপ্তম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে গৃহীত নির্ধারিত সূত্র মেনেই এই ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়ার প্রভাব সামাল দিতে সরকারি কর্মীদের মূল বেতনের নির্দিষ্ট শতাংশ হিসেবে মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের পেনশনের সঙ্গে যে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হয়, তা মহার্ঘ ত্রাণ নামে পরিচিত। মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে কর্মী ও পেনশনভোগীদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়াই এই দুই ভাতার মূল উদ্দেশ্য (Diwali)।

    উল্লেখ্য, প্রকাশিত তথ্যে আগের ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে মহার্ঘ ভাতা ও মহার্ঘ ত্রাণ মূল বেতন বা পেনশনের ২৬২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৬৯ শতাংশ করা হয়েছিল, অর্থাৎ বৃদ্ধি হয়েছিল ৭ শতাংশ (DA Hike)। তবে এই তথ্যের সঙ্গে বর্তমান ঘোষণার সময়কাল ও হার সংক্রান্ত অসংগতি রয়েছে। ফলে আগের বৃদ্ধির তথ্যটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি থেকে যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন (Diwali)।

     

  • India Pakistan Trade: বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা, তবু ভারত থেকে পণ্য আমদানি বাড়াল পাকিস্তান! কীভাবে পৌঁছচ্ছে ইসলামাবাদে?

    India Pakistan Trade: বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা, তবু ভারত থেকে পণ্য আমদানি বাড়াল পাকিস্তান! কীভাবে পৌঁছচ্ছে ইসলামাবাদে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদ ও বাণিজ্য একসঙ্গে চলতে পারে না—এই অবস্থানেই অনড় ভারত (India Pakistan Trade)। ২০২৫ সালে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য কার্যত বন্ধ। বন্ধ হয়েছে ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত দিয়ে পণ্য পরিবহণও। অথচ বাণিজ্য বন্ধ থাকার পরেও ভারত থেকে পাকিস্তানে পণ্য আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারত থেকে ৫,৮৭৬ কোটি টাকার পণ্য আমদানি (Pak’s India Imports Spike) করেছে পাকিস্তান। গত অর্থবর্ষের একই সময়ে এই আমদানির পরিমাণ ছিল ৩,৪৭৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরে আমদানি বেড়েছে প্রায় ৬৯ শতাংশ। অন্যদিকে, ওই সময়ে পাকিস্তান থেকে ভারতে কোনও পণ্য আমদানি হয়নি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তৃতীয় দেশের মাধ্যমে আসছে ভারতীয় পণ্য?

    প্রশ্ন উঠছে, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য বন্ধ থাকলে কীভাবে পাকিস্তানে পৌঁছচ্ছে ভারতীয় পণ্য? পাকিস্তানের স্টেট ব্যাঙ্কের পরিসংখ্যানে এই পণ্য পরিবহণের নির্দিষ্ট পথের উল্লেখ নেই। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের অনুমান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সিঙ্গাপুর ও শ্রীলঙ্কার মতো তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পাকিস্তানে পৌঁছচ্ছে ভারতীয় পণ্য। ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ রবিন্দর সিং রবিনের মতে, ভারতীয় পণ্যের চাহিদা পাকিস্তানে এখনও যথেষ্ট। সরাসরি বাণিজ্য বন্ধ থাকলে এই পণ্যগুলি কোন পথে পৌঁছচ্ছে এবং নথিতে উৎপত্তির দেশ হিসেবে কোন দেশের নাম উল্লেখ করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    কোন কোন ভারতীয় পণ্যের চাহিদা পাকিস্তানে বেশি?

    ভারত থেকে পাকিস্তানের আমদানি করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ওষুধ ও ওষুধ তৈরির কাঁচামাল, প্লাস্টিক, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, রং, জৈব রাসায়নিক, রবার, কফি, চা, শাকসবজি, মশলা, দুগ্ধজাত পণ্য এবং খাদ্যশস্য। বিশেষ করে ওষুধ ও ওষুধ তৈরির কাঁচামালের ক্ষেত্রে ভারতের উপর পাকিস্তানের নির্ভরতার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানে ভারতের ওষুধ রফতানির পরিমাণ ছিল ২০৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগেও নিষেধাজ্ঞার পর ভারত থেকে পাকিস্তানে পণ্য আমদানির নজির সামনে এসেছে। আরব নিউজের একটি প্রতিবেদনে পাকিস্তানের স্টেট ব্যাঙ্কের তথ্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছিল, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভারত থেকে প্রায় ৩৬.৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল পাকিস্তান। সেই আমদানির সিংহভাগই ছিল ওষুধ তৈরির কাঁচামাল।

    কীভাবে কার্যকর হচ্ছে ‘গ্রে-জোন’ কৌশল?

    গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (GTRI)-এর মতে, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ঘুরপথে পাকিস্তানে ভারতীয় পণ্য রফতানির একটি বড় বাজার রয়েছে। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব এই পদ্ধতিকে ‘গ্রে-জোন স্ট্র্যাটেজি’ বলে উল্লেখ করেছেন। এই পদ্ধতিতে ভারতীয় পণ্য প্রথমে দুবাই, সিঙ্গাপুর বা কলম্বোর মতো বাণিজ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে বন্ডেড ওয়্যারহাউসে পণ্য মজুত রাখা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট পণ্যের নথি ও লেবেল পরিবর্তন করে অন্য দেশের পণ্য হিসেবে পুনরায় রফতানি করা হতে পারে। এর ফলে পণ্যের মূল উৎস আড়াল করে পাকিস্তানে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় বলে বিশেষজ্ঞদের দাবি। জিটিআরআই-এর অনুমান, এই ধরনের অনানুষ্ঠানিক ও ঘুরপথে বাণিজ্যের মাধ্যমে পাকিস্তানে ভারতীয় পণ্যের রফতানি বছরে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে। তবে এই অঙ্ক একটি অনুমান, সরকারি ভাবে যাচাই করা সরাসরি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিসংখ্যান নয়।

    কেন বন্ধ হয়েছিল ভারত-পাকিস্তান বাণিজ্য?

    ২০১৯ সালে পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানকে দেওয়া ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ মর্যাদা প্রত্যাহার করে ভারত। এরপর দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০২৫ সালে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৫ জন পর্যটকের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। এর পর ভারত ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত বন্ধ করে দেয় এবং পাকিস্তানে উৎপত্তি হওয়া বা পাকিস্তান থেকে রফতানি করা পণ্যের সরাসরি কিংবা পরোক্ষ আমদানি ও ট্রানজিটের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ৪ মে পাকিস্তানও তৃতীয় দেশের মাধ্যমে বাণিজ্য-সহ ভারতের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্য বন্ধ করার ঘোষণা করে।

    ক্রমশ কমেছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২.৪১ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ১.২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। ২০১৯ সালে ভারতে পাকিস্তানের রফতানির পরিমাণ ছিল ৫৪৭.৫ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালে কমে মাত্র ৪৮০,০০০ ডলারে দাঁড়ায়। পাকিস্তান থেকে ভারতে রফতানি হওয়া পণ্যের মধ্যে ছিল কাচের সামগ্রী, তামা, গন্ধক, ফল ও বাদামজাতীয় পণ্য। ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ভারত পাকিস্তানে ৪৪৭.৬৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছিল। বিপরীতে পাকিস্তান থেকে ভারতে রফতানির পরিমাণ ছিল মাত্র ০.৪২ মিলিয়ন ডলার। সরাসরি বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ভারতীয় পণ্যের চাহিদা যে পাকিস্তানে এখনও রয়েছে, সাম্প্রতিক আমদানির পরিসংখ্যান সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। তবে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে আসা পণ্যগুলির প্রকৃত উৎস, পরিবহণের পথ এবং নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন।

  • Indian Railways: রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ট্রেনে মোবাইল চার্জে নিষেধাজ্ঞা, যাত্রী সুরক্ষায় কড়া পদক্ষেপ রেলের

    Indian Railways: রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ট্রেনে মোবাইল চার্জে নিষেধাজ্ঞা, যাত্রী সুরক্ষায় কড়া পদক্ষেপ রেলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাতের ট্রেনযাত্রায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে বড় পদক্ষেপ ভারতীয় রেলের (Indian Railways)। রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ট্রেনের কামরায় মোবাইল চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করার পাশাপাশি আচমকা পরিদর্শনের নির্দেশও দিয়েছে রেল বোর্ড। সম্প্রতি ট্রেনের কামরায় মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাঙ্কে (Railways Bans Mobile Charging) আগুন লাগার একাধিক ঘটনার পরেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।

    ছয় ঘণ্টা চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ

    রেল বোর্ডের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ছয় ঘণ্টা চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে ট্রেনে কর্তব্যরত কর্মীদের। এই নিয়মে কোনও ব্যতিক্রম বরদাস্ত করা হবে না বলেও নির্দেশে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রেলকর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণের উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ অক্টোবর মুম্বই-হাওড়া মেলে এমনই একটি ঘটনা ঘটে। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের অধীন ওই ট্রেনের একটি এসি কামরায় রাতে চার্জে বসানো অবস্থায় এক যাত্রীর পাওয়ার ব্যাঙ্ক বিস্ফোরিত হয়। রেল বোর্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ না করার কারণেই ওই ঘটনা ঘটেছিল। এরপরেই নিরাপত্তা বিধি কার্যকর করার বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে রেল।

    কেন বিপজ্জনক পাওয়ার ব্যাঙ্ক?

    পাওয়ার ব্যাঙ্কে সাধারণত লিথিয়াম-আয়ন অথবা লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি থাকে। ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হলে, অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে কিংবা ভিতরে কোনও বৈদ্যুতিক ত্রুটি দেখা দিলে তা থেকে আগুন লাগতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাটারি বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটতে পারে। ব্যাটারির তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে গিয়ে আগুন ধরে যাওয়ার এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘থার্মাল রানঅ্যাওয়ে’। এ ছাড়া বালিশের নীচে, বিছানার মধ্যে কিংবা ঠাসাঠাসি ব্যাগের ভিতরে রেখে পাওয়ার ব্যাঙ্ক চার্জ করলে তাপ বেরিয়ে যাওয়ার পথ বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে। ফলে যন্ত্রটি অতিরিক্ত গরম হয়ে উঠলেও তা সহজে নজরে নাও আসতে পারে। ট্রেনের কামরায় এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও বিপজ্জনক। কারণ, রাতে অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে থাকেন। ফলে ধোঁয়া বা আগুনের সূত্রপাত হলেও তা বুঝতে দেরি হতে পারে। বন্ধ কামরায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে বিপদের আশঙ্কা বেশি।

    কেন রাতে বন্ধ থাকবে চার্জিং পয়েন্ট?

    দীর্ঘ দূরত্বের ট্রেনযাত্রায় মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট ও পাওয়ার ব্যাঙ্ক চার্জ করার জন্য যাত্রীরা কামরার চার্জিং পয়েন্টের উপর নির্ভর করেন। আধুনিক মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাঙ্কে সাধারণত চার্জ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকে। তাই দীর্ঘক্ষণ চার্জে থাকলেই যে বিপদ ঘটবে, এমন নয়। তবে যন্ত্রে কোনও ত্রুটি দেখা দিলে নজরদারি না থাকার কারণে দুর্ঘটনা শনাক্ত করতে দেরি হতে পারে। রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে থাকেন। এই সময় চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখলে চার্জিং সংক্রান্ত দুর্ঘটনা এবং সম্ভাব্য অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে মনে করছে রেল।

    যাত্রীদের কী কী সতর্কতা নেওয়া উচিত?

    রেলের নির্দেশ কার্যকর করার দায়িত্ব কর্মীদের হলেও যাত্রীদেরও কিছু সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—

    • ● মোবাইল ও পাওয়ার ব্যাঙ্ক চার্জ করার জন্য আসল বা উপযুক্ত চার্জার এবং অক্ষত কেবল ব্যবহার করুন।
    • ● ফুলে যাওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত বা অস্বাভাবিক গরম হয়ে ওঠা ফোন কিংবা পাওয়ার ব্যাঙ্ক চার্জ করবেন না।
    • ● চার্জে থাকা ফোন বা পাওয়ার ব্যাঙ্ক বালিশ, কম্বল কিংবা বিছানার নীচে রাখবেন না।
    • ● চার্জ দেওয়ার সময় যন্ত্রের তাপমাত্রা ও অস্বাভাবিক গন্ধের দিকে নজর রাখুন।
    • ● কোনও যন্ত্র থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখলে বা আগুন লাগলে দ্রুত ট্রেনের কর্মীদের জানান।

    রেলের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য, রাতের যাত্রায় বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা ব্যাটারিজনিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমিয়ে যাত্রীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা।

  • India: ভেটো ক্ষমতা ছাড়া রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ মানে ‘দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা’, স্পষ্ট বার্তা ভারতের

    India: ভেটো ক্ষমতা ছাড়া রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ মানে ‘দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা’, স্পষ্ট বার্তা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের  নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) সংস্কারের নামে ভেটো ক্ষমতা ছাড়া নতুন কোনও ধরনের স্থায়ী সদস্যপদ চালু করা হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে ‘দ্বিতীয় শ্রেণির’ সদস্যের মর্যাদায় নামিয়ে আনা হবে। এর ফলে পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় বর্তমান পাঁচ স্থায়ী সদস্যের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। সোমবার এমনই স্পষ্ট অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে ভারত (India)।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে আন্তঃসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়ার অধীনে ভেটো ক্ষমতা সংক্রান্ত বিতর্কের একটি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত পি হরিশ বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের পরেও যদি ভেটো ক্ষমতার বিধান বহাল থাকে, তবে সমস্ত স্থায়ী সদস্যকেই সেই ক্ষমতা দিতে হবে।

    তাঁর কথায়, “ভেটো ক্ষমতা নিয়ে ভারতের অবস্থান নীতিগত এবং সুপরিচিত। আমরা আবারও স্পষ্ট করে জানাচ্ছি, যত দিন ভেটো ক্ষমতা থাকবে, তত দিন সংস্কার করা নিরাপত্তা পরিষদের সমস্ত স্থায়ী সদস্যের হাতেই সেই ক্ষমতা থাকতে হবে।”

    নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশ (India)

    বর্তমানে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশ ভেটো ক্ষমতা ভোগ করে। দেশগুলি হল চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রিটেন এবং আমেরিকা। বাকি ১০টি অস্থায়ী সদস্য দেশকে দু’বছরের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

    ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, ১৯৪৫ সালের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে তৈরি এই কাঠামো একুশ শতকের বাস্তবতার সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ভারতের বক্তব্য, ভেটো ক্ষমতা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সদস্যদের জন্য আলাদা একটি শ্রেণি তৈরি করলে নিরাপত্তা পরিষদের ক্ষমতার ভারসাম্যে মৌলিক কোনও পরিবর্তন আসবে না।

    হরিশ বলেন, “ভেটো ক্ষমতা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সদস্যদের জন্য নতুন একটি শ্রেণি তৈরি করে নিরাপত্তা পরিষদের সম্প্রসারণ ঘটালে কার্যত তাঁদের ‘দ্বিতীয় শ্রেণির’ সদস্যে পরিণত করা হবে। এতে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার সমীকরণে কোনও পরিবর্তন আসবে না।”

    শুধু ভেটো ক্ষমতা ছাড়া নতুন সদস্যপদ চালুর প্রস্তাবই নয়, নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ক্ষমতা থাকুক বা না থাকুক, স্থায়ী সদস্যদের জন্য নতুন কোনও শ্রেণি তৈরিরও বিরোধিতা করেছে ভারত। নয়াদিল্লির মতে, এমন ব্যবস্থা চালু হলে যে বৈষম্য দূর করার লক্ষ্য নিয়ে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেই বৈষম্যই আরও শক্তিশালী হবে।

    হরিশের সাফ কথা

    ভারতের রাষ্ট্রদূত বলেন, “নিয়মিত নির্বাচন এবং স্থায়ী সদস্যপদের ধারণা মৌলিকভাবেই পরস্পরবিরোধী।” ১৯৬৫ সালে নিরাপত্তা পরিষদের শেষ সম্প্রসারণের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। সেই সময় পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে অস্থায়ী সদস্যের সংখ্যা ছয় থেকে বাড়িয়ে ১০ করা হয়েছিল। এর ফলে স্থায়ী ও নির্বাচিত সদস্যের অনুপাত পাঁচ অনুপাত ছয় থেকে পরিবর্তিত হয়ে পাঁচ অনুপাত দশ হয়। ভারতের (India) বক্তব্য, এই পরিবর্তন আপেক্ষিকভাবে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছিল।

    ভারত তাই নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের ক্ষেত্রে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। সদস্যপদের বিভিন্ন শ্রেণি, আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব, পরিষদের মোট সদস্যসংখ্যা, ভেটো ক্ষমতা এবং কাজের পদ্ধতি—সংস্কারের আলোচনায় এই সমস্ত বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে সওয়াল করেছে নয়াদিল্লি।

    ভেটো ক্ষমতার পাশাপাশি আন্তঃসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়ায় সর্বসম্মতির নীতির ব্যবহার নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে ভারত। ভারতের মতে, এই পদ্ধতি কার্যত আড়াল থেকে ভেটো প্রয়োগের কৌশলে পরিণত হতে পারে। হরিশ বলেন, “সতেরোটি আলোচনা-পর্ব পেরিয়ে গেলেও আমরা এখনও দেখানোর মতো কোনও ফল পাইনি।” তিনি স্পষ্ট সময়সীমা ও নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে প্রকৃত খসড়া প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

    নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার

    নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান হল, কেবল অস্থায়ী সদস্যের সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যে সংস্কারের উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকলে তা কার্যত ব্যর্থতার মুখে পড়বে। ভারতের মতে, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রগুলির অন্যতম এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী দেশ হিসেবে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার ন্যায্য দাবিদার ভারত।

    এদিকে, ২০২৮-২৯ মেয়াদের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার লক্ষ্যে উদ্যোগী হয়েছে নয়াদিল্লি। এই পদের নির্বাচন হবে ২০২৭ সালের জুন মাসে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত একমাত্র আসনে তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ভারত।

    সব মিলিয়ে, নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) সংস্কার নিয়ে ভারতের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট। নয়াদিল্লির বক্তব্য, প্রকৃত সংস্কার করতে হলে কেবল সদস্যসংখ্যা বাড়ালেই চলবে না, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার ক্ষেত্রেও সমতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হলেও পরিষদের পুরনো ক্ষমতার কাঠামোই অক্ষুণ্ণ থেকে যাবে (India)।

     

  • Rajnath Singh: ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা রাজনাথ-হেগসেথের

    Rajnath Singh: ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা রাজনাথ-হেগসেথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফিলিপিন্সের সেবু শহরে আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের ত্রয়োদশ বৈঠকের পাশাপাশি মার্কিন যুদ্ধসচিব পিট হেগসেথের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা কাঠামোর আওতায় গত এক বছরে কী কী অগ্রগতি হয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা। সামরিক প্রযুক্তি, তথ্য আদানপ্রদান এবং যৌথ উৎপাদন-সহ একাধিক ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়েও পর্যালোচনা করেন দুই (India US Defence Framework) দেশের প্রতিনিধিরা।

    বৈঠকের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনাথ লেখেন, “আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের ত্রয়োদশ বৈঠকের পাশাপাশি মার্কিন যুদ্ধসচিব পিট হেগসেথের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “ভারত-মার্কিন দশ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা কাঠামোর অগ্রগতি আমরা পর্যালোচনা করেছি। সামরিক প্রযুক্তি, তথ্য আদানপ্রদান এবং যৌথ উৎপাদনের ক্ষেত্রে কৌশলগত সমন্বয় বাড়ানোই আমাদের লক্ষ্য। অবাধ, উন্মুক্ত ও সুরক্ষিত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমাদের দৃঢ় অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।”

    বৈঠক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পিট হেগসেথও। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি খুশি। তাঁর কথায়, “আমাদের প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের কাঠামোর এক বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করেছি এবং সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেছি।”

    তিন দফায় প্রতিরক্ষা কাঠামো নবীকরণ (Rajnath Singh)

    ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রথম প্রতিরক্ষা কাঠামো স্বাক্ষরিত হয় ২০০৫ সালের ২৮ জুন। তার আগে ১৯৯৫ সালে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নিয়ে একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছিল। প্রথম কাঠামোটির মেয়াদ ছিল দশ বছর। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালের ৩ জুন নয়াদিল্লিতে দ্বিতীয় দশ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা কাঠামো স্বাক্ষরিত হয়।

    ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকের সময় তৃতীয় দশ বছর মেয়াদি প্রতিরক্ষা কাঠামো স্বাক্ষরিত হয়। ভারতের পক্ষে রাজনাথ এবং আমেরিকার পক্ষে হেগসেথ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী করাই এই কাঠামোর অন্যতম লক্ষ্য।

    আসিয়ান বৈঠকে ভারতের সক্রিয় ভূমিকা

    তিন দিনের সফরে মঙ্গলবার সেবু শহরে পৌঁছন রাজনাথ। ২৮ ও ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দু’দিনের আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিন্ন সমস্যাগুলি নিয়ে বৈঠকে বক্তব্য রাখবেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। অংশগ্রহণকারী দেশগুলির প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গেও একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।

    সফর সম্পর্কে রাজনাথ সিং জানান, ভারতের ‘পূর্বমুখী নীতি’র আওতায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা, আসিয়ানের কেন্দ্রীয় ভূমিকা বজায় রাখা এবং ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি (Rajnath Singh) বলেন, “এই সফরে অংশগ্রহণকারী দেশগুলির প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করব। এই আলোচনাগুলি আমাদের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক পর্যালোচনা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও মজবুত করার নতুন সুযোগ খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।”

    আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকের গুরুত্ব

    ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, আসিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠক দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলির সংগঠনের মধ্যে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত পরামর্শ ও সহযোগিতার সর্বোচ্চ মঞ্চ। এর সম্প্রসারিত বিন্যাসে আসিয়ানের ১১টি সদস্য দেশের পাশাপাশি আটটি সহযোগী দেশ অংশগ্রহণ করে।

    আসিয়ানের সদস্যদেশগুলি হল ব্রুনেই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মায়ানমার, ফিলিপিন্স, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তিমুর-লেস্তে এবং ভিয়েতনাম। আটটি সহযোগী দেশ হল ভারত, আমেরিকা, চিন, রাশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড।

    ১৯৯২ সালে আসিয়ানের সঙ্গে (India US Defence Framework) সংলাপ-সহযোগী দেশ হিসেবে যুক্ত হয় ভারত। ২০১০ সালের ১২ অক্টোবর ভিয়েতনামের হ্যানয়ে প্রথম সম্প্রসারিত প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৭ সাল থেকে এই মঞ্চের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা প্রতি বছর বৈঠকে বসছেন। আসিয়ান সদস্যদেশ এবং আটটি সহযোগী দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করাই এই বার্ষিক বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।

    ২০২৬ সালে এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করছে ফিলিপিন্স। পাশাপাশি, ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের কার্যচক্রে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কর্মীগোষ্ঠীর সহ-সভাপতিত্ব করছে ভারত ও মালয়েশিয়া।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মঞ্চে ভারতের (Rajnath Singh) অংশগ্রহণ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রচেষ্টারই প্রতিফলন। ‘পূর্বমুখী নীতি’র আওতায় আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি এবং ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এই বৈঠক ভারতের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

     

     

  • UAE Honours Indian Captain: ককপিটে হামলার মুখেও অসীম সাহসিকতা! ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছরকে সম্মান জানাল আমিরশাহি

    UAE Honours Indian Captain: ককপিটে হামলার মুখেও অসীম সাহসিকতা! ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছরকে সম্মান জানাল আমিরশাহি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঝআকাশে ভয়াবহ বিপদের মুখেও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। তাঁর সেই বীরত্বের স্বীকৃতি দিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। দুবাইয়ের বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ায় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর এবং সংশ্লিষ্ট বিমানকর্মীদের সম্মানিত করল সে দেশের সরকার। গত ৩০ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন ক্যাপ্টেন মাচ্ছর। এরপর বিমানকর্মী ও যাত্রীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে আসেন। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সম্ভাব্য বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয় বলে জানা গিয়েছে।

    জায়েদ সম্মানে সম্মানিত বিমানকর্মীরা

    সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সংশ্লিষ্ট বিমানকর্মীদের ‘ফার্স্ট ক্লাস অর্ডার অফ জায়েদ ২’ সম্মানে ভূষিত করেন। জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিমানটিকে নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে তাঁদের সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান প্রদান করা হয়েছে। দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উপ-প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং দুবাইয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শেখ হামদান বিন মহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম বিমানকর্মীদের হাতে সম্মান তুলে দেন। মঙ্গলবার শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের উপস্থিতিতে বিমানকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সে দেশের নেতৃত্ব। তাঁদের সাহসিকতার প্রশংসা করে যাত্রীদের নিরাপত্তা রক্ষাকে দেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করা হয়।

    হাসপাতালে গিয়ে ক্যাপ্টেনকে কুর্নিশ শেখ হামদানের

    এর আগে গত ৩ অক্টোবর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করেছিলেন শেখ হামদান। ভারতীয় পাইলটের সাহস, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের জীবনের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার প্রশংসা করেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে শেখ হামদান জানান, কঠিন পরিস্থিতিতেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছর অসাধারণ সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর কথায়, দেশের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ক্যাপ্টেনের প্রতি রয়েছে পূর্ণ শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। মাচ্ছরকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির পরিবারের একজন সদস্য হিসেবেও উল্লেখ করেন শেখ হামদান। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে মানবিকতা, শান্তি এবং জীবনের প্রতি সম্মান জানানোর বার্তা। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটিও ক্যাপ্টেন মাচ্ছর, বিমানকর্মী এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করা যাত্রীদের ভূমিকার প্রশংসা করেছিল।

    ভারত, ইজরায়েল ও আমেরিকার নেতাদের প্রশংসা

    ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের সাহসিকতা আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খোলার তাঁর প্রচেষ্টার কথা উঠে এসেছে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে ‘নায়ক’ বলে অভিহিত করেন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে মাচ্ছরের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়। ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে নাগরিক বীরত্বের পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে ইজরায়েলও। তবে চোট থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পর তাঁকে ওই পুরস্কার প্রদান করা হবে বলে জানা গিয়েছে। মাঝআকাশে সংকট, গুরুতর চোট এবং প্রাণের ঝুঁকি—সবকিছুর মধ্যেও দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে যাননি ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। তাঁর সাহসিকতা এবং বিমানকর্মী ও যাত্রীদের সম্মিলিত উদ্যোগ ফের মনে করিয়ে দিল, বিপদের মুহূর্তে উপস্থিত বুদ্ধি ও দায়িত্ববোধ কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

  • China AI Stocks: চিনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সেমিকন্ডাক্টর শেয়ারে মহাধস, উধাও ৪৮ হাজার কোটি ডলারের বাজারমূল্য

    China AI Stocks: চিনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সেমিকন্ডাক্টর শেয়ারে মহাধস, উধাও ৪৮ হাজার কোটি ডলারের বাজারমূল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বড়সড় গাড্ডায় চিন! ড্রাগনের দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টর সংস্থাগুলির শেয়ারবাজারে (China AI Stocks) ব্যাপক ধস নেমেছে। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারের দর যখন টালমাটাল, তখন চিনের প্রযুক্তিনির্ভর শেয়ারগুলির পতন আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দরপতনে চিনের শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি ডলারের বাজারমূল্য মুছে গিয়েছে। গত চার মাসেরও কম সময়ে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির প্রধান সূচক স্টার৫০ প্রায় ৪০ শতাংশ পড়ে গিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা নিয়ে সংশয়, চিনা পণ্যের রফতানিতে বিধিনিষেধ এবং সংস্থাগুলির অত্যধিক মূল্যায়ন—সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা টাল খেয়েছে (Market Loss) বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

    বিশ্বের দুর্বল শেয়ারবাজারের জন্য এই পতন যথেষ্ট উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পের সম্প্রসারণে অর্থ জোগাতে সাধারণ মানুষকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার বেজিংয়ের উদ্যোগও ধাক্কা খেয়েছে। গত দু’বছরের ঊর্ধ্বমুখী বাজারের প্রবণতা থমকে গিয়েছে। পুরনো উত্থান-পতনের চক্রের বদলে বাজারকে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যে পরিকল্পনা চিন সরকার করেছিল, তা-ও বাধার মুখে। দেশের প্রধান বৃহৎ সংস্থাগুলির সূচক সিএসআই৩০০ জুন মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ২০ শতাংশ নেমে এসেছে।

    বেজিংয়ের বিনিয়োগ তহবিল পরিচালনাকারী ডং বাওঝেনের কথায়, “শেয়ারবাজার এক উন্মত্ত জল্পনানির্ভর ঊর্ধ্বগতিতে পরিণত হয়েছিল। আর এখন আমরা সেই বুদ্‌বুদ ফেটে যেতে দেখছি।”

    নেমেছে নাসডাক সূচক (China AI Stocks)

    চিনের বাজারে এই পতন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, গত কয়েক বছরে চিনের প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারের উত্থান পশ্চিমের দেশগুলি এবং এশিয়ার অন্যান্য বাজারকেও ছাপিয়ে গিয়েছিল। তুলনায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থাগুলির শেয়ারে এখনও পর্যন্ত বড় ধাক্কা লাগেনি। তবে তিন সপ্তাহ আগে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছনোর পর নাসডাক সূচক প্রায় ৬ শতাংশ নেমেছে।

    বাজারের লেনদেনকারীদের মতে, চিনের শেয়ারবাজারে এই পতনের পিছনে কোনও একটি নির্দিষ্ট কারণ নেই। শেয়ারের অত্যধিক দাম, করের বোঝা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ অন্য দেশগুলির তরফে তথ্যকেন্দ্রে চিনা যন্ত্রপাতি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারির আশঙ্কা—এই সবই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

    গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাব অনুযায়ী, চিনের মূল ভূখণ্ডের ‘এ’ শ্রেণির শেয়ার এবং হংকংয়ের ‘এইচ’ শ্রেণির শেয়ার মিলিয়ে বাজারের মোট মূলধনের ৪২ শতাংশ দখল করেছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সম্পর্কিত সংস্থাগুলি। মোট লেনদেনের ক্ষেত্রেও তাদের অংশ ছিল ৫৭ শতাংশ। চিনের বাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের প্রভাব বেশি হওয়ায় এই পতনের ধাক্কা এড়ানো অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়েছে (China AI Stocks)।

    ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পছন্দের সংস্থাগুলির শেয়ারেও ধস

    চিনের রোবট নির্মাতা সংস্থা ইউনিট্রির শেয়ারের দর অগাস্টে বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পর থেকে অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। সংস্থাটির শেয়ার কেনার জন্য সাধারণ বিনিয়োগকারীদের চাহিদা এতটাই বেশি ছিল যে, প্রস্তাবিত শেয়ারের তুলনায় প্রায় আট হাজার গুণ বেশি আবেদন জমা পড়েছিল।

    চিনের চিপ নির্মাতা সংস্থা সিএক্সএমটির বাজারমূল্য গত এক মাসে এক-চতুর্থাংশেরও বেশি কমেছে। অন্য দুই চিপ নির্মাতা মেটাএক্স ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটস এবং মুর থ্রেডস টেকনোলজির শেয়ার গত বছর বাজারে আত্মপ্রকাশের সময় যথাক্রমে ৭০০ শতাংশ ও ৪০০ শতাংশ বেড়েছিল। কিন্তু জুলাই মাসের পর থেকে উভয় সংস্থার শেয়ারের মূল্যও অর্ধেক হয়ে গিয়েছে।

    দক্ষিণ চিনের হাইনান প্রদেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী চেন ওয়েনশেং জানান, সরকারি সমর্থন রয়েছে—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বগতিতে অংশ নিয়েছিলেন। ইউনিট্রির মতো সংস্থায় সরকারি সমর্থনপুষ্ট বিনিয়োগ তহবিলের অংশগ্রহণ তাঁর আস্থার অন্যতম কারণ ছিল। কিন্তু এখন চেন এবং তাঁর বন্ধুরা বিনিয়োগে লোকসানের মুখে পড়েছেন।

    হতাশা বেড়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে…

    বেজিংয়ের সমর্থনপুষ্ট একটি বিনিয়োগের প্রবণতা এভাবে শেষ হয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বেড়েছে। অনেকেই ঝুঁকি কম এমন সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির পক্ষে নতুন করে শেয়ার ছেড়ে অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যেতে পারে (Market Loss)।

    যন্ত্রাংশ নির্মাতা সংস্থা ঝংজি ইনোলাইট এবং ইওপ্টোলিংক টেকনোলজির শেয়ারের দর জুন ও জুলাই মাসের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ৬০ শতাংশ কমেছে। এর অন্যতম কারণ, মার্কিন প্রশাসন চিনা সংস্থাগুলিকে আমেরিকার তথ্যকেন্দরে যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা থেকে বিরত রাখার পথে এগোচ্ছে। একসময় যে সংস্থাগুলির শেয়ার বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ছিল, তারাই এখন অনিশ্চয়তার (China AI Stocks) মুখে।

    পতনের পরেও স্টার৫০ সূচকের সংস্থাগুলির শেয়ার তাদের গত এক বছরের আয়ের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ দামে লেনদেন হচ্ছে। একসময় এই অনুপাত প্রায় ২৫০ গুণে পৌঁছেছিল। তবু তা মার্কিন নাসডাক১০০ সূচকের প্রায় ৩০ গুণ আয়ের অনুপাতের তুলনায় অনেক বেশি। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আগে শেয়ারের দাম আরও কমতে পারে।

    হংকংয়ের লোটাস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা অংশীদার ও প্রধান বিনিয়োগ আধিকারিক হং হাও বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতির ফলে বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা বহু সংস্থার পরিকল্পনা থমকে যাবে।”

    ‘সব বুদ্‌বুদই শেষ পর্যন্ত ফেটে যায়’

    শেয়ারবাজারে এই উন্মত্ত উত্থান এবং পরবর্তী পতন চিন সরকারের বাজারকে স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ঋণনির্ভর বিনিয়োগ এবং অতিদ্রুত লেনদেনের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে শেয়ারবাজারের অস্থিরতা কমানো ও বিনিয়োগকারীদের মুনাফা বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল প্রশাসন। বাজারের অতিরিক্ত উত্থান ঠেকাতে সরকারি সমর্থনপুষ্ট বিনিয়োগকারীরাও শেয়ার বিক্রি করেছিলেন।

    গত সপ্তাহে সংবাদ সংস্থার পাঠানো প্রশ্নের জবাবে চিনের শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা চিন সিকিউরিটিজ রেগুলেটরি কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

    নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের গোড়ায় সংস্থাটির চেয়ারম্যান উ ছিং শেয়ারবাজারের বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে বৈঠক করেন। মূলধনবাজারের উন্নতির উপায় নিয়ে তাঁদের পরামর্শ শোনাই ছিল বৈঠকের উদ্দেশ্য। তবে বিনিয়োগ মহলের একাংশের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর সংস্থাগুলির অতিরিক্ত উত্থান বাজারের কাঠামোকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে (China AI Stocks)।

    ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টায় বহু বিনিয়োগকারী…

    বেজিংয়ের কিয়ানচুয়াং ক্যাপিটালের অংশীদার লিও ওয়াং বলেন, “প্রযুক্তিগত গুরুত্বকে অতিরিক্ত প্রাধান্য দেওয়া—অর্থাৎ বড় সূচকগুলিতে বাজারমূল্যের নিরিখে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির অংশ বাড়িয়ে তোলা—মূলধনের ব্যবহারে বিচ্যুতি, এমনকি বিকৃতিও তৈরি করে। এর ফলে কিছু ক্ষেত্রে ভয়াবহ জল্পনামূলক বুদ্‌বুদ তৈরি হয়েছে এবং অন্য ক্ষেত্রগুলি থেকে বিপুল পরিমাণ মূলধন সরে গিয়েছে।”

    তবে কিছু বিনিয়োগকারী মনে করছেন, এই পতন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাঁদের যুক্তি, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাজারের সংস্কার এবং বিনিয়োগকারীদের আয়, বিশেষত নিয়মিত আয়ের সুযোগ বাড়ানোর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার পক্ষে এই পতন অস্বাভাবিক বা ক্ষতিকর নয়।

    এইচএসবিসির গবেষণা অনুযায়ী, গত তিন মাসে চিনা শেয়ার বিক্রি করলেও এশিয়ার বিনিয়োগ তহবিলগুলির বড় অংশ এখনও চিনের বাজারে তুলনামূলক বেশি বিনিয়োগ ধরে রেখেছে।

    চলতি মাসের গোড়ায় প্রকাশিত নতুন সুপারিশের তালিকায় গোল্ডম্যান স্যাকস চিনের কয়েক ডজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সম্পর্কিত সংস্থার মধ্যে ইনোলাইট এবং সিএক্সএমটিকে রেখেছে। অন্যদিকে, বিএনপি পারিবাস সিকিউরিটিজের কৌশলবিদ উইলিয়াম ব্র্যাটন মনে করেন, সতর্ক বিনিয়োগকারীদের জন্য এই বাজারে শেয়ার কেনার সুযোগ রয়েছে (China AI Stocks)।

    অন্য শিল্পক্ষেত্রে নজর বিনিয়োগকারীদের

    তবু চিনের মূল ভূখণ্ডের বহু বিনিয়োগকারী এখন অন্য শিল্পক্ষেত্রের দিকে নজর দিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার শেয়ারের দাম আরও কমার অপেক্ষা করছেন।

    সাংহাইয়ের ঝুওঝু ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের অংশীদার ও তহবিল পরিচালনাকারী ওয়াং ঝুও বলেন, “চিনের অন্যান্য উৎপাদনকারী সংস্থার মতো চিপ নির্মাতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সংক্রান্ত সরবরাহকারী সংস্থাগুলিও শেষ পর্যন্ত মূল্যযুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে (Market Loss)।” তিনি আরও বলেন, “এর কোনও ব্যতিক্রম নেই। সব বুদ্‌বুদই শেষ পর্যন্ত ফেটে যায়।”

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে চিনের শেয়ারবাজারে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি প্রযুক্তি শিল্পের ভবিষ্যৎ, বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। অতিরিক্ত মূল্যায়ন কাটিয়ে ওঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই (China AI Stocks) আপাতত বাজারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

     

  • Abhishek Sharma: এক ইনিংসেই ছক্কার ঝড়! রোহিত শর্মার বিশ্বরেকর্ড ভাঙলেন অভিষেক শর্মা

    Abhishek Sharma: এক ইনিংসেই ছক্কার ঝড়! রোহিত শর্মার বিশ্বরেকর্ড ভাঙলেন অভিষেক শর্মা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়লেন ভারতের তারকা ওপেনার অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma)। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে বিধ্বংসী ব্যাটিং করে প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মার বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দিলেন তিনি। পূর্ণ সদস্য দেশের ব্যাটারদের মধ্যে এক ক্যালেন্ডার বছরে সর্বাধিক ছক্কা হাঁকানোর নজির গড়লেন অভিষেক। মঙ্গলবার ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের (India vs New Zealand) বিরুদ্ধে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ৩৮ বলে ১১৩ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। ২০২৬ সালে তাঁর মোট ছক্কার সংখ্যা দাঁড়াল ৮৫। এর আগে ২০২৩ সালে ৮০টি ছক্কা মেরে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন রোহিত শর্মা। সেই নজির টপকে নতুন ইতিহাস লিখলেন অভিষেক।

    ১৫ বলে অর্ধশতরান, ৩৫ বলে শতরান

    ব্যাট হাতে এ দিন কার্যত তাণ্ডব চালান বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটার। মাত্র ১৫ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। এরপর মাত্র ৩৫ বলেই পৌঁছে যান শতরানে। তাঁর ইনিংসে ছিল ১১টি ছক্কা ও ৯টি চার। অভিষেকের এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে নিউজিল্যান্ডের বোলিং বিভাগ। ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল ভারত। ইনিংসের প্রথম ওভারেই জ্যাকব ডাফির বলে ২৬ রান তুলে নেয় ভারতীয় দল। মাত্র ১৫ বছর বয়সি বৈভব সূর্যবংশীর সঙ্গে ওপেনিংয়ে নেমে অভিষেক শুরু করেন ছক্কার বৃষ্টি।

    পাওয়ারপ্লেতে বিশ্বরেকর্ড ভারতের

    অভিষেক ও বৈভবের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে প্রথম ছয় ওভারেই ১১৮ রান তুলে নেয় ভারত। টি-টোয়েন্টি ইনিংসের প্রথম ছয় ওভারে কোনও দলের এটাই সর্বোচ্চ রানের নজির বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মাত্র সাত ওভারে ১৩৩ রানের পার্টনারশিপ গড়েন দুই ওপেনার। বৈভব ১৮ বলে ৪৫ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি ছক্কা। অন্যদিকে, অভিষেকও জুটিতে আটটি ছক্কা হাঁকান। বৈভব আউট হওয়ার পরেও অভিষেকের ঝোড়ো ব্যাটিং থামেনি। শেষ পর্যন্ত গ্লেন ফিলিপসের বলে আউট হওয়ার আগে নিজের ইনিংসকে স্মরণীয় করে রাখেন তিনি। শতরান পূর্ণ করার পর তাঁর পরিচিত মেডিটেশন ভঙ্গিতে উদ্‌যাপনও নজর কাড়ে। এদিন বল হাতেও নজির গড়েছেন ভারতের অর্শদীপ সিং। নিউজিল্যান্ডের ওপেনার টিম সাইফার্টকে আউট করে এক ক্যালেন্ডার বছরে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩৯টি উইকেট নেওয়ার নজির স্পর্শ করেন তিনি। এই রেকর্ডের পূর্ববর্তী মালিক ছিলেন আয়ারল্যান্ডের জশ লিটল।

    সিরিজ জিতে ইতিহাস ভারতের

    অভিষেকের ব্যাটিংয়ের দাপটে মাত্র ১৩.২ ওভারেই ১৯৯ রানের লক্ষ্য টপকে যায় ভারত। এর ফলে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে অপ্রতিরোধ্য লিড নিশ্চিত করে ভারতীয় দল। এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ড্যারিল মিচেলের অপরাজিত ৮৯ রানের ইনিংসের সুবাদে ৩ উইকেটে ১৯৮ রান তুলেছিল নিউজিল্যান্ড। ৫২ বলে ৮৯ রান করেন মিচেল। ফিন অ্যালেনের অবদান ২৫ বলে ৪০ রান। বেভন জেকবস ২৩ বলে অপরাজিত ৩৯ রান করেন। তবে নিউজিল্যান্ডের এই বড় রানও ভারতের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনে যথেষ্ট হয়নি। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টানা তৃতীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের নজিরও গড়ল ভারত। এর আগে ২০২০ সালে ৫-০ ব্যবধানে এবং ২০২২ সালে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল ভারত।

LinkedIn
Share