Blog

  • Modi Trump Phone Call: কমল শুল্ক উদ্বেগ! মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি নিয়ে আলোচনা

    Modi Trump Phone Call: কমল শুল্ক উদ্বেগ! মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি নিয়ে আলোচনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Modi Trump Phone Call)। ৩০ সেপ্টেম্বর দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে টেলিফোনে এই কথোপকথন হয়। প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO)-এর তরফে জানানো হয়েছে, দুই নেতা ভারত-মার্কিন ‘বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ (Comprehensive Global Strategic Partnership) আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দুই দেশের মানুষের স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়েও তাঁরা সম্মত হয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বার্তা

    ফোনালাপে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন মোদি ও ট্রাম্প। বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার চলমান প্রচেষ্টা নিয়েও তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা পর্যালোচনা করেছি। বৃহত্তর আন্তর্জাতিক পরিসরে কৌশলগত অংশীদারিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে আমরা একমত হয়েছি।’’ এর পরেই প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘‘আমরা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেছি। যার মধ্যে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার অগ্রগতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিক প্রচেষ্টাও রয়েছে।’’

    মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপের তাৎপর্য

    বিদেশ মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনার উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই রাষ্ট্রনেতা। পাশাপাশি, আলোচনায় এসেছে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও। ঘটনাচক্রে, ইরানের পড়শি দেশ ইরাক থেকে আমেরিকার সেনা প্রত্যাহারপর্ব সাঙ্গ হওয়ার দিনেই মোদি ও ট্রাম্পের কথা হল। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষে পাশ হওয়া ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া এবং ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ শীর্ষক বিল ট্রাম্প সরকার কার্যকর করলে রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘অপরাধে’ ভারতীয় পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারে ওয়াশিংটন। বর্তমানে ভারতের পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্কের পরিমাণ ১২ শতাংশের কাছাকাছি। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে মোদির ফোন ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করছেন কূটনীতি পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

    বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা

    ভারত ও আমেরিকার মধ্যে (India-US Relation) দীর্ঘদিন ধরে একটি পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি মার্কিন সফরের সময় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছিলেন, দুই দেশ এখন একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। জয়শঙ্করের বক্তব্য অনুযায়ী, দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে যে প্রত্যাশা ছিল, বাস্তব পরিস্থিতি তার তুলনায় অনেক বেশি জটিল হয়েছে। তবে বর্তমানে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে “মোটামুটি একটি বোঝাপড়া” তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান। মার্কিন শুল্কনীতির পরিবর্তন এবং সেকশন ৩০১-এর প্রক্রিয়াকেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন বিদেশমন্ত্রী। মার্কিন বাণিজ্য নীতি ১৯৭১-এর সেকশন৩০১-এর অধীনে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের এমন বাণিজ্যিক নীতি বা কার্যকলাপ তদন্ত করতে পারে, যেগুলিকে তারা অন্যায্য বলে মনে করে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত শুল্ক-সহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও এই ধারায় রয়েছে।

    রাশিয়া ও ইরান নিয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব

    এদিকে রাশিয়া ও ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া আইন (SRIA) নিয়েও ভারতের উদ্বেগ রয়েছে। ওই আইনের আওতায় রাশিয়া এবং রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলির বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের সুযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে আসতে পারে। ভারত ও চিনও সম্ভাব্যভাবে এর প্রভাবের মধ্যে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের পক্ষ থেকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত বৈচিত্র্যময় উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের নীতি বজায় রাখবে এবং পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। ভারতের তরফে আরও জানানো হয়েছে, এই বিষয়টি সাম্প্রতিক কালে একাধিক মার্কিন প্রতিনিধির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় তোলা হয়েছে। সম্ভাব্য প্রভাব শুধু ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ভারতীয় পক্ষের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে।

    বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় ভারতের অবস্থান

    বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ভারতীয় শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠনগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলেও জানানো হয়েছে। এদিকে বিদেশসচিব বিক্রম মিসরি মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করে এসআরআইএ-সংক্রান্ত ভারতের উদ্বেগ তুলে ধরেন। বিশেষ করে এই আইনের সম্ভাব্য প্রভাব ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে কীভাবে পড়তে পারে, তা নিয়ে ভারতের অবস্থান প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে ধরা হয়। বর্তমানে কঠিন বৈশ্বিক কূটনৈতিক ঘূর্ণাবর্তে রয়েছে দেশ। একদিকে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে আগ্রহী ভারত, অন্যদিকে রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানির কেনার রাস্তাও খোলা রাখতে চাইছে দিল্লি। ব্রিকস-এ জিনপিং আসার পর আন্তজার্তিক কূটনীতি কোন পথে এগোয় সেদিকে নজর ছিল গোটা বিশ্বের। এই অবস্থায় মোদি-ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ফোনালাপ দুই দেশ তথা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।

     

     

     

     

  • India Vs Pakistan: লাস্ট মিনিট থ্রিলারে এশিয়াড হকিতে পাক বধ! এশিয়ান গেমস ফাইনালে ২২ গজে ভারত-পাকিস্তান ‘মহারণ’

    India Vs Pakistan: লাস্ট মিনিট থ্রিলারে এশিয়াড হকিতে পাক বধ! এশিয়ান গেমস ফাইনালে ২২ গজে ভারত-পাকিস্তান ‘মহারণ’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসে পুরুষদের হকি সেমি ফাইনালে পাকিস্তানকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালে প্রবেশ করল ভারত, সঙ্গে পদকও নিশ্চিত করল। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানে শেষ মিনিট পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা। এই ম্যাচেও তার অন্যথা ছিল না। বৃহস্পতিবার জাপানের গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে দেখা গেল সেই ছবি। ভারত একটা সময়ে ৩-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে পরে ৩-৩ সমতায় আটকে যায়। আর সেখান থেকে অন্তিম মিনিটে রুদ্ধশ্বাস জয় ছিনিয়ে নেয়। নাটকীয়তায় মোড়া এই সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালে প্রবেশ করল ভারত। অন্যদিকে , ক্রিকেটে সোনার পদকের জন্য মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত ও পাকিস্তান (India vs Pakistan)। ৩ অক্টোবর হবে বহু প্রতীক্ষিত এই ফাইনাল। এশিয়ার দুই ক্রিকেট শক্তির লড়াই এবার এশিয়ান গেমসের মঞ্চে নতুন মাত্রা পেতে চলেছে।

    শুরু থেকে ভারতের আক্রমণ

    এদিন হকির ময়দানে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল টিম ইন্ডিয়া। পঞ্চম মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার থেকে নিজের ট্রেডমার্ক ড্র্যাগ-ফ্লিকে বল জালে জড়িয়ে ভারতকে ১-০ এগিয়ে দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। অষ্টম মিনিটে দিলপ্রীতের একটি গোল ব্যাক-স্টিকের কারণে ভিডিয়ো রিভিউতে বাতিল হলেও ভারতীয় আক্রমণ থামেনি। ১৩ মিনিটে রিভার্স হিটে পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নিখুঁত ফিনিশে ব্যবধান ২-০ করেন সেই হরমনপ্রীতই। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের ২৩ মিনিটে মনপ্রীত ও শীলানন্দের দুর্দান্ত সমন্বয়ে পাকিস্তানের ডি-বক্সে বল পান সুখজিত সিং, যিনি আলতো টোকায় স্কোরলাইন ৩-০ করে দেন। কিন্তু এরপরেই ম্যাচে শুরু হয় পাকিস্তানের নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। ৩০তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোলরক্ষক মোহিতকে পরাস্ত করে পাকিস্তানের আবু মাহমুদ ব্যবধান ৩-১ করেন। বিরতির পর তৃতীয় কোয়ার্টারে ভারত অনেকটাই স্লো হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে ৪৫ মিনিটে ভারতীয় ডিফেন্সের ব্যর্থতার ফায়দা তুলে হান্নান শাহিদ ৩-২ করেন। চতুর্থ কোয়ার্টারের শুরুতে অর্থাৎ ৪৯ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে আসা পাসে রানা ওয়াহিদ স্টিক ছুঁইয়ে ৩-৩ সমতা ফেরান। টানা তিনটে গোল খেয়ে অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে যায় ভারতীয় শিবির।

    টানা ২১টা ম্যাচে অপরাজিত ভারত

    ম্যাচের শেষ দশ মিনিট ছিল চরম উত্তেজনায় ভরা। খেলার ঘড়িতে যখন ঠিক ৬০ মিনিট, সার্কেলের ডান প্রান্তে সামান্য ফাঁকা জায়গা পেয়ে বিদ্যুৎগতিতে ঢুকে পড়েন অভিষেক। দুরূহ কোণ থেকে তাঁর নেওয়া জোরালো শট গোলরক্ষক রাজার পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে যায়। আর এর পরেই ম্যাচ শেষের হুটার বাজে। শেষ মুহূর্তের এই গোলে উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটা ভারতীয় দল। এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টানা ২১টা ম্যাচে অপরাজিত রইল ভারত। পাশাপাশি ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার এশিয়াডের ইতিহাসে পুরুষ ও মহিলা উভয় দলকেই ফাইনালে তুলে এক অনন্য কীর্তি স্থাপন করল ভারত।

    ক্রিকেটে ফাইনালে ভারত-পাক মহারণ

    এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর ক্রিকেটে সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ভারত। ব্যাট হাতে প্রথমে ২০ ওভারে ১৬৯ রান তোলে টিম ইন্ডিয়া। ঈশান কিষানের অপরাজিত ৮০ রানের ইনিংস ভারতের বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেয়। বৈভব সূর্যবংশীর ৩৮ রানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। জবাবে মাত্র ৪৫ রানেই অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ভারতের হয়ে জসপ্রীত বুমরাহ, অভিষেক শর্মা ও অক্ষর প্যাটেল দুটি করে উইকেট নেন। শ্রীলঙ্কার তিন ব্যাটার রান-আউট হন। এবার ৩ অক্টোবর মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান। অর্থাৎ এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর ক্রিকেটে সোনার পদক নির্ধারণ হবে দুই প্রতিবেশী দেশের লড়াইয়ে। ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে দুই দলের লড়াই বরাবরই আলাদা গুরুত্ব পায়। এবার সেই দ্বৈরথই দেখা যাবে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মঞ্চে।

    ইতিহাস নীতেশ কুমারের

    এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর ১২তম দিনটি ভারতের জন্য ছিল সাফল্যে ভরা। ক্রিকেট-হকির সঙ্গেই গ্রিকো-রোমান কুস্তিতে ইতিহাস গড়েছেন নীতেশ কুমার। পাশাপাশি তিরন্দাজি, নৌক্রীড়া, স্কোয়াশ ও সেপাক তাকরায়ও পদক ও সাফল্য এসেছে ভারতের ঝুলিতে। পুরুষদের ৯৭ কেজি গ্রিকো-রোমান বিভাগে মঙ্গোলিয়ার গাঙ্কহুয়াগ গানবাতারকে ৯-০ ব্যবধানে টেকনিক্যাল সুপিরিয়রিটিতে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছেন নীতেশ কুমার। এর ফলে ১৯৬২ সালের পর প্রথম ভারতীয় গ্রিকো-রোমান কুস্তিগির হিসেবে এশিয়ান গেমসের ফাইনালে পৌঁছলেন তিনি। এবার সোনার পদকের জন্য লড়বেন নীতেশ। গ্রিকো-রোমান কুস্তিতে এশিয়ান গেমসে ভারতের শেষ সোনা এসেছিল ১৯৬২ সালে। এদিকে মহিলাদের ৬২ কেজি বিভাগে মানসি আহলাওয়াত সেমিফাইনালে উঠলেও জাপানের নোনোকা ওজাকির কাছে ৬-০ ব্যবধানে হেরে যান। এবার ব্রোঞ্জের জন্য লড়বেন তিনি।

    স্কোয়াশে ভারতের ব্রোঞ্জ

    মহিলাদের দলগত স্কোয়াশে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেছে ভারত। সেমিফাইনালে হংকং চায়নার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় ভারতীয় দল। প্রথম ম্যাচে আনাহত সিং চ্যান সিন ইউকের কাছে পরাজিত হন। এরপর তানভি খান্না ৩-১ ব্যবধানে লি কা ই-কে হারিয়ে ভারতকে সমতায় ফেরান। তবে নির্ণায়ক ম্যাচে জোশনা চিনাপ্পা হো তসে লোকের কাছে হেরে যান। ফলে ফাইনালে পৌঁছে যায় হংকং চায়না এবং ভারত পায় ব্রোঞ্জ। পুরুষদের কম্পাউন্ড ব্যক্তিগত বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছেন গণেশ মণি রত্নম থিরুমুরু। ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে ভিয়েতনামের দাং কং ডাককে ১৪৯-১৪৪ ব্যবধানে হারান তিনি। সেমিফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার কিম জংহোর কাছে হেরে গেলেও ব্রোঞ্জের ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান গণেশ। কম্পাউন্ড তিরন্দাজিতে ভারতীয় দলগত ইভেন্ট থেকে তিনটি সোনা এবং ব্যক্তিগত ইভেন্টে একটি ব্রোঞ্জ জিতেছে।

    নৌক্রীড়ায় রুপো ভারতের

    পুরুষদের স্কিফ ইভেন্টে রুপোর পদক জিতেছেন ভারতের মানু ফ্রান্সিস ও প্রিন্স কুরিসিঙ্কাল নোবেল। ভারতীয় জুটি মোট ২৩ নেট পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করে। ফাইনাল রেসের আগে চতুর্থ স্থানে থাকা ভারতীয় জুটি শেষ দৌড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। পুরুষদের কোয়াড্রান্ট বিভাগে সেমিফাইনালে পৌঁছে পদক নিশ্চিত করেছে ভারত। গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকেই শেষ চারে জায়গা করে নেয় ভারতীয় দল। এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর ১২তম দিন শেষে মোট ৬৩টি পদক নিয়ে পদক তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছে ভারত। সোনা ১০টি, রুপো ২২টি ও ৩১টি ব্রোঞ্জ পদক রয়েছে ভারতের ঝুলিতে।

     

     

     

     

  • Rafale Indian Weapons: পুরো সোর্স কোড নয়, তবু রাফালে যুক্ত হবে দেশীয় অস্ত্র! ভারতের জন্য ‘পথ’ খুলছে ফ্রান্স?

    Rafale Indian Weapons: পুরো সোর্স কোড নয়, তবু রাফালে যুক্ত হবে দেশীয় অস্ত্র! ভারতের জন্য ‘পথ’ খুলছে ফ্রান্স?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনার রাফাল যুদ্ধবিমানে দেশীয় অস্ত্র ও প্রযুক্তি সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে নয়াদিল্লিকে আরও বেশি স্বাধীনতা দেওয়ার পথ খোঁজা যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ফ্রান্স। ১১৪টি অতিরিক্ত রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব নিয়ে ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে আলোচনা চলার মধ্যেই এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ভবিষ্যতে বিদেশি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করলেও তার অস্ত্রভাণ্ডার ও প্রযুক্তিগত আপগ্রেডের ক্ষেত্রে ভারত আরও বেশি আত্মনির্ভর হতে চাইছে।

    ফরাসি এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সের ভাইস চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডমিনিক তার্দিফ বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। ‘তরঙ্গ শক্তি’ মহড়ার আবহে তিনি জানিয়েছেন, ভারতীয় বায়ুসেনার প্রয়োজনীয়তা ফ্রান্স বুঝতে পারছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, রাফালকে এমনভাবে ব্যবহারের একটি ব্যবস্থা খোঁজা হচ্ছে, যাতে ভারত ভবিষ্যতে শুধু বিমানের সঙ্গে আগে থেকেই সংযুক্ত অস্ত্রের উপর নির্ভরশীল না থাকে।

    ভারতের ‘সার্বভৌমত্ব’ ও আত্মনির্ভরতার প্রশ্ন

    তার্দিফ বলেন, একটি দেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং সার্বভৌমত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রান্সও এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্বের সঙ্গে দেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতাও ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।

    ভারত গত কয়েক বছরে প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আত্মনির্ভরতার উপর বিশেষ জোর দিয়েছে। দেশীয় অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র, সেন্সর, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিকে বিদেশি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংযুক্ত করার বিষয়টিও সেই বৃহত্তর নীতির অংশ। রাফাল যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রেও নয়াদিল্লির লক্ষ্য একই—বিদেশি বিমান ব্যবহার করলেও গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যাতে সম্পূর্ণভাবে বিদেশি সরবরাহকারীর উপর নির্ভর করতে না হয়।

    তার্দিফের বক্তব্য, এমন একটি ব্যবস্থা খুঁজে বের করাই মূল বিষয়, যার মাধ্যমে ভারতীয় বায়ুসেনা রাফালের সঙ্গে মূলত আগে থেকে সংযুক্ত নয়—এমন অস্ত্রও ব্যবহার করতে পারে। এই বিষয়ে ফরাসি প্রতিরক্ষা সংস্থা, ভারতীয় শিল্প সংস্থা এবং দুই দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনা হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    সম্পূর্ণ সোর্স কোড না পেলেও কি দেশীয় অস্ত্র যুক্ত করা সম্ভব?

    রাফাল নিয়ে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক এখানেই। আধুনিক যুদ্ধবিমানের সফটওয়্যার অত্যন্ত জটিল। বিমানের মিশন সিস্টেম, রেডার, সেন্সর, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং অস্ত্র ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলি সফটওয়্যার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে কোনও নতুন অস্ত্রকে বিমানের সঙ্গে সংযুক্ত করতে গেলে বিমানের অভ্যন্তরীণ সফটওয়্যার সম্পর্কে নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত তথ্যের প্রয়োজন হয়।

    তবে এর অর্থ এই নয় যে পুরো যুদ্ধবিমানের ‘সোর্স কোড’ হাতে তুলে দিতে হবে। বরং একটি সম্ভাব্য সমাধান হতে পারে ইন্টারফেস কন্ট্রোল ডকুমেন্ট বা আইসিডি-র মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত তথ্য দেওয়া।

    সহজভাবে বললে, আইসিডি হল এমন একটি প্রযুক্তিগত নথি, যেখানে একটি অস্ত্র, সেন্সর বা অন্য কোনও সরঞ্জাম কীভাবে বিমানের বিভিন্ন সিস্টেমের সঙ্গে যোগাযোগ করবে, তার নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রয়োজনীয় তথ্য থাকে। এই ধরনের ইন্টারফেস-স্তরের তথ্য পাওয়া গেলে সম্পূর্ণ সোর্স কোডের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই দেশীয় অস্ত্রকে রাফালের সঙ্গে সংযুক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    ভারতের দৃষ্টিতে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সম্পূর্ণ সোর্স কোড পাওয়া একদিকে যেমন প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত নানা প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত, অন্যদিকে দেশীয় অস্ত্র সংযুক্ত করার জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সফটওয়্যার কাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া অপরিহার্য নাও হতে পারে।

    ১১৪ রাফালের প্রস্তাবিত চুক্তিতে কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারত ইতিমধ্যেই ফ্রান্সের কাছ থেকে পাওয়া ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে। এবার আরও ১১৪টি রাফাল কেনার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকার কথা রয়েছে। ফলে শুধু বিমান কেনাই নয়, ভারতের নিজস্ব শিল্পক্ষেত্রকে এর সঙ্গে কতটা যুক্ত করা যায়, সেটিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    এই বৃহত্তর কাঠামোর মধ্যেই দেশীয় অস্ত্র ও প্রযুক্তি রাফালে সংযুক্ত করার দাবি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ, ভারত যদি ভবিষ্যতে নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র, সেন্সর বা অন্যান্য যুদ্ধ-প্রযুক্তি তৈরি করে, তা হলে প্রতিটি নতুন ব্যবস্থাকে বিদেশি যুদ্ধবিমানের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হতে চাইছে না নয়াদিল্লি।

    অর্থাৎ, ১১৪ রাফালের সম্ভাব্য চুক্তিতে ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শুধু কতগুলি বিমান আসবে তা নয়। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে—বিমানগুলির সঙ্গে ভারতীয় শিল্পের সম্পর্ক কতটা গভীর হবে এবং ভবিষ্যতে ভারত নিজস্ব অস্ত্র ও প্রযুক্তি কতটা স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারবে।

    রাফাল এফ৪ থেকে এফ৫—ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

    রাফাল নিজেও ক্রমাগত আধুনিকীকরণের মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে ফ্রান্স রাফালের উন্নত এফ৪ মানের দিকে এগোচ্ছে। পাশাপাশি ২০৩০-এর দশকের জন্য পরবর্তী বড় আধুনিকীকরণ ধাপ হিসেবে এফ৫ নিয়ে কাজ চলছে।

    ফরাসি সংসদের নথি অনুযায়ী, রাফাল এফ৫ কর্মসূচিতে সেন্সর, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং প্রপালশন-সহ একাধিক ক্ষেত্রে উন্নতির পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে আজ রাফালের সঙ্গে কোন অস্ত্র বা প্রযুক্তি সংযুক্ত করা যাবে, সেই প্রশ্নটি শুধুমাত্র বর্তমান ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত নয়। আগামী এক-দুই দশকে ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতা কীভাবে গড়ে উঠবে, তার সঙ্গেও বিষয়টি সম্পর্কিত।

    ভারত ইতিমধ্যেই দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির পরিসর দ্রুত বাড়াচ্ছে। ভবিষ্যতে সেই প্রযুক্তি যদি রাফালের মতো অত্যাধুনিক বিদেশি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সহজে যুক্ত করা যায়, তা হলে একটি নির্দিষ্ট যুদ্ধবিমানকে কেন্দ্র করে তৈরি করা দেশীয় অস্ত্র ও প্রযুক্তির ব্যবহারিক পরিসরও বাড়তে পারে।

    শুধু রাফাল নয়, বৃহত্তর আত্মনির্ভরতার প্রশ্ন

    রাফালে দেশীয় অস্ত্র সংযুক্তির বিষয়টি তাই একটি নির্দিষ্ট চুক্তির প্রযুক্তিগত শর্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা-আত্মনির্ভরতার প্রশ্নও জড়িত।

    বিদেশি যুদ্ধবিমান কেনার পর তার অস্ত্র, সফটওয়্যার এবং আপগ্রেডের ক্ষেত্রে যদি ব্যবহারকারী দেশকে প্রতিবার মূল নির্মাতার অনুমতির উপর নির্ভর করতে হয়, তা হলে যুদ্ধবিমানের পূর্ণ অপারেশনাল স্বাধীনতা সীমিত হতে পারে। ভারত সেই নির্ভরতা কমিয়ে এমন একটি মডেল চাইছে, যেখানে বিদেশি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সমন্বয় করা সম্ভব হবে।

    ফ্রান্সের সাম্প্রতিক বার্তা সেই আলোচনাকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। তবে ঠিক কী ধরনের প্রযুক্তিগত তথ্য ভারত পাবে, দেশীয় কোন কোন অস্ত্র রাফালের সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভব হবে এবং প্রস্তাবিত ১১৪টি বিমানের চুক্তিতে এই বিষয়টি কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে—তা এখনও আলোচনার বিষয়।

  • Smit Machchhar: ‘গোটা বিশ্ব গর্বিত’, স্মিত মাচ্ছরের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী, ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতাকে কুর্নিশ রাষ্ট্রপতির

    Smit Machchhar: ‘গোটা বিশ্ব গর্বিত’, স্মিত মাচ্ছরের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী, ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতাকে কুর্নিশ রাষ্ট্রপতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঝআকাশে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েও নিজের প্রাণের কথা না ভেবে যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ (FlyDubai FZ1073) বিমানে সহ-পাইলটের হামলায় গুরুতর জখম হওয়ার পরও ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এর ফলে যাত্রী ও কেবিন ক্রুরা ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ পান। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে। বিমানে থাকা ১৭৪ জনের প্রাণ রক্ষা পায়।

    এই অসাধারণ সাহসিকতার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা-সহ দেশের একাধিক শীর্ষ নেতা ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের প্রশংসা করেছেন। বর্তমানে তাবুকের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    মাচ্ছরের পরিবারের সঙ্গে কথা মোদির, দ্রুত আরোগ্যের জন্য প্রার্থনার আবেদন

    বৃহস্পতিবার ইউপিএসসির শতবর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, তিনি ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের বাবা-মা এবং স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। আহত পাইলটের দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীকে প্রার্থনা করার আবেদনও জানান তিনি।

    মোদি বলেন, ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত নিজের উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর এই ভূমিকার জন্য গোটা বিশ্ব গর্বিত। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও ঘটনার পর ভারতীয় পাইলটের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। মোদি জানান, মাচ্ছর বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন তিনি।

    কী ঘটেছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে?

    ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩। মাঝআকাশে ককপিটের ভিতরে ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সঙ্গে সহ-পাইলটের সংঘর্ষ বাধে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহ-পাইলট মাচ্ছরকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং হামলার কারণ এখনও তদন্তাধীন।

    এরপর বিমানটির উচ্চতা অত্যন্ত দ্রুত কমে যায়। ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দশ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি প্রায় ১৪,৩০০ ফুট নেমে যায়। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছর গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নেন—আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলে দেন।

    ককপিটের দরজা খুলে যাওয়ার পর যাত্রী ও কেবিন ক্রু সেখানে পৌঁছে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। বিমানে থাকা অন্য পাইলটরাও পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্য করেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটিকে ইজরায়েলের পরিবর্তে সৌদি আরবের তাবুকে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

    আহত অবস্থাতেও যাত্রীদের কথা মাথায়

    ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের দ্রুত সিদ্ধান্ত। গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজা খুলে দেন, যাতে বাইরের মানুষ ভিতরে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বর্ণনা অনুযায়ী, সেই মুহূর্তে তিনি ককপিটের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় ছিলেন। তাঁর এই পদক্ষেপের ফলেই যাত্রী ও ক্রুদের হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হয়।

    প্রায় ১৭৪ জনকে নিয়ে উড়ছিল বিমানটি। ফলে পরিস্থিতি সামান্য অন্যরকম হলে বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদে তাবুকে অবতরণ করায় বিমানে থাকা প্রত্যেকের প্রাণ রক্ষা পায়।

    রাষ্ট্রপতি মুর্মুর কুর্নিশ

    ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও। তিনি জানান, গুরুতর বিপদের মধ্যেও মাচ্ছর অন্যদের জীবন রক্ষার জন্য দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    রাষ্ট্রপতির বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর সাহস এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকাতে সাহায্য করেছে। আহত অবস্থাতেও অন্যদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি এবং দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

    রাজনাথ, বিড়লা, যোগী থেকে খড়্গে—প্রশংসা সর্বত্র

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, নিজের জীবন বিপন্ন করেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছর বিমানে থাকা সকলের জীবন রক্ষায় দায়িত্ব ও কর্তব্যের সর্বোচ্চ নজির তৈরি করেছেন।

    লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও তাঁকে প্রকৃত নায়ক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মাচ্ছরের উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহস বহু মানুষের জীবন রক্ষা করতে সাহায্য করেছে।

    উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও ক্যাপ্টেনের সাহস, কর্তব্যবোধ এবং উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করেছেন। গুরুতর আহত হয়েও অন্য যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য তাঁর ভূমিকার উল্লেখ করে দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জানান, আচমকা বিমানটির উচ্চতা প্রায় ১৪ হাজার ফুট কমে যাওয়ার পরও মাচ্ছর পরিস্থিতি সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর মতে, এই সাহসিকতা ভারতীয় বিমানচালকের দায়িত্ববোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এবং শিবরাজ সিং চৌহানও একইভাবে ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে ক্যাপ্টেন, বিমানের ক্রু এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করা সকলের সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।

    কে এই ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর?

    ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর একজন ভারতীয় নাগরিক এবং বর্তমানে ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট। এর আগে প্রায় ১১ বছর স্পাইসজেটে কাজ করেছেন তিনি। ২০২২ সালের জুন থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের বোয়িং ৭৩৭ বহরে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর পেশাগত প্রোফাইল অনুযায়ী, ৭৩৭-৮০০ এবং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮/৯ বিমানে তাঁর প্রায় ৯,৭৫০ ঘণ্টার উড়ান অভিজ্ঞতা রয়েছে।

    এই দীর্ঘ উড়ান অভিজ্ঞতাই চরম সংকটের মুহূর্তে তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রতিটি খুঁটিনাটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।

    তদন্তে একাধিক প্রশ্ন

    ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ককপিটের ভিতরে কীভাবে এই হামলা ঘটল, সহ-পাইলটের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং কীভাবে তিনি হামলা চালানোর সুযোগ পেলেন—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হামলার উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

    ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা হিসেবে দেখছে। ঘটনার পর বিমান নিরাপত্তা এবং পাইলটদের ককপিটে প্রবেশ-সংক্রান্ত বিধি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলার উদ্দেশ্য বা ঘটনাটির নির্দিষ্ট চরিত্র নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা হচ্ছে না।

    আপাতত নজর ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সুস্থতার দিকে

    একদিকে ভয়াবহ মাঝআকাশের ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে, অন্যদিকে তাবুকের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের দ্রুত আরোগ্যের দিকে নজর রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দেশবাসীকে প্রার্থনার আবেদন জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা—দলমত নির্বিশেষে মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।

    একটি উড়ন্ত বিমানে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হওয়া চরম সংকটে আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। তাই এফজেড ১০৭৩-এর এই ঘটনা শুধু বিমান নিরাপত্তার প্রশ্নই তুলছে না, চরম বিপদের মধ্যেও পাইলটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দায়িত্ববোধ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

  • India Vs Brazil: আজ শহরে ব্রাজিল! মেসি-কাণ্ড থেকে শিক্ষা, কড়া নিরাপত্তা, ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ নিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    India Vs Brazil: আজ শহরে ব্রাজিল! মেসি-কাণ্ড থেকে শিক্ষা, কড়া নিরাপত্তা, ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ নিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। রাত আটটায় শহরে পা রাখবেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র, গুইমারেজ, মারকুইনসরা। প্রথমে শোনা গিয়েছিল, সন্ধ্যে সাড়ে ছ’টা থেকে সাতটার মধ্যে কলকাতায় পৌঁছবে ব্রাজিল দল (India Vs Brazil)। কিন্তু সেটা পিছিয়ে গিয়েছে। ব্রিসবেন থেকে দীর্ঘ ১০-১১ ঘণ্টার যাত্রা অতিক্রম করে চার্টার্ড বিমানে রাত আটটায় কল্লোলিনী কলকাতায় পা রাখার কথা সেলেকাওদের। আগামী ৩ অক্টোবর সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ঐতিহাসিক ম্যাচ। মুখোমুখি হবে ভারত ও ব্রাজিল। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ হলেও এই খেলাকে কেন্দ্র করে শহরে উত্তাপ চরমে।

    কঠোর নিরাপত্তা রাজ্য সরকারের

    ম্যাচ ঘিরে প্রস্তুতিও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট আঁটোসাঁটো রাখা হচ্ছে। কোনও রকম ফাঁক রাখতে চাইছে না রাজ্য সরকার। বুধবার রাতে ভারত বনাম ব্রাজিলের ঐতিহাসিক ফুটবল ম্যাচের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির খতিয়ান নিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ডা. ইন্দ্রনীল খান এবং এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে। বিধাননগর পুলিশের আওতাধীন সল্টলেক স্টেডিয়ামে আগামী ৩ অক্টোবর ভারত বনাম ব্রাজিলের ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট আঁটোসাঁটো করা হচ্ছে। বিধাননগর পুলিশ সূত্রে খবর, স্বেচ্ছাসেবক-সহ প্রায় তিন হাজার পুলিশ মোতায়ন থাকবে। যার মধ্যে থাকছে পুলিশের ব়্যাফ বাহিনী। এছাড়াও থাকছে কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি)। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হবে সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে। তবে ড্রোন দিয়ে নজরদাড়ি বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেই জানিয়েছে বিধাননগর পুলিশ।

    বিশেষ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী

    ভারত বনাম ব্রাজিল ঐতিহাসিক ফুটবল ম্যাচের চূড়ান্ত প্রস্তুতি বৈঠকে বুধবার উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যুবভারতীর ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে বাড়তি কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে ৷ মেসি ইভেন্টে বিশৃঙ্খলা ঘটনার পরে এখন বাড়তি সতর্ক বিধাননগর পুলিশ। ভারত বনাম ব্রাজিল ম্যাচ আয়োজিত হবে ৩ অক্টোবর। মোট ২৫০০ পুলিশ থাকবে সেই ম্যাচের নিরাপত্তার দায়িত্বে। ২০০-র কাছাকাছি অফিসার পদমর্যাদার পুলিশ থাকবেন। এবং ২০ জন আইপিএস অফিসার থাকবেন। রাজ্যের অন্য প্রান্ত থেকে এবং অন্য কমিশনারেট থেকে ২০ জন অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসার নিযুক্ত থাকবেন। বিধাননগর ট্রাফিক বিভাগ সূত্রের খবর, সাধারণ মানুষকে জানানো হয়েছে, গণপরিবহন ব্যবহার করতে, নিজস্ব গাড়ি যতটা সম্ভব ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে যানজটের সম্ভাবনা অনেকটাই এড়ানো যাবে বলেই দাবি বিধাননগর পুলিশের। তবে কোন রাস্তা বন্ধ থাকবে তা এখনও বিধাননগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ জানায়নি। খুব জরুরি অবস্থা না হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও যানজট এড়ানোর জন্য কোনও রাস্তা বন্ধ রাখার নির্দেশ এখনও দেওয়া হয়নি।

    দু’ঘণ্টা আগে মাঠে ঢুকতে হবে

    মাঠে দর্শকদের জন্য তিন স্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকছে। এই প্রথম দর্শকদের সিট নম্বর দেখে, অর্থাৎ টিকিটে যে নম্বর থাকবে, সেখানেই তাঁদের বসতে হবে। এগুলি সবটাই গাইড করে দেবে পুলিশ এবং খেলা শুরুর দু’ঘণ্টা আগে মাঠে ঢুকতে হবে দর্শকদের। ব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে প্রত্যাশিতভাবেই ভারতীয় ফুটবল মহলে সাজ সাজ রব। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন এবং রাজ্য সরকার প্রস্তুতির কোনও খামতি রাখতে চাইছে না। ওই মেগা ম্যাচ ঘিরে একাধিক চমকও থাকছে। সূত্রের খবর, ম্যাচের একদিন আগে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ব্রাজিল এবং উরুগুয়ে দলকে সান্ধ্যকালীন ভোজনে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তাতে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ব্রাজিল ও উরুগুয়ে দু’দলের প্রতিনিধিরা ছাড়াও ভারতীয় দলও থাকবে ওই সান্ধ্যভোজনে।

    সামনে পাঁচবারের বিশ্বজয়ীরা

    যুবভারতীতে ৩ অক্টোবর ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ফিফা ফ্রেন্ডলি। ভিনিসিয়াসদের আটকানোর কঠিন পরীক্ষায় খালিদ জামিলের ভারত। কিছুদিন আগে বিশ্বকাপ খেলা পানামার সঙ্গে ঐতিহাসিক ড্র করেছে ভারত। প্রথমার্ধে রায়ান উইলিয়ামসের দুর্দান্ত ফিনিশে এগিয়ে গিয়েছিল ব্লু টাইগার্স। এবার সামনে পাঁচবারের বিশ্বজয়ীরা। ব্রাজিল কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি জানিয়েছিলেন ভারতে নাকি ‘ফুটবল সংস্কৃতি’ নেই। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৩৮ নম্বরে থাকলেও ভারতের ফুটবল সংস্কৃতি বহু পুরনো। সিনিয়র পুরুষদের ফুটবলে দুই দেশের মধ্যে এটিই প্রথম সাক্ষাৎ। কার্লো আনচেলত্তি এই সফরের জন্য একটি তারকাখচিত দল ঘোষণা করেছেন। দলে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও এনড্রিক এবং বার্সেলোনার রাফিনহা। শনিবার ভারতীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই সফরে এটি ব্রাজিলের তৃতীয় ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দু’টি ম্যাচ খেলে ভারতে আসছে সেলেকাওরা।

    শহরে ব্রাজিলের নিরাপত্তা দল

    পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে উন্মাদনা তুঙ্গে। বিমানবন্দরে জমায়েত হবেন হাজার হাজার ব্রাজিল সমর্থক। তবে, প্রিয় তারকাদের চাক্ষুষ করতে বেগ পেতে হবে অনুরাগীদের। সূত্রের খবর, বিমানবন্দরের ভিতর থেকে ভিআইপি গেট দিয়ে ব্রাজিল দলকে টিম বাসে তুলে দেওয়া হবে। সেখান থেকে এসকর্ট করে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হবে বাইপাস সংলগ্ন পাঁচতারা হোটেলে। বিমানবন্দরের বাইরের ভিড় এড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত। ব্রাজিল দলের সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ম্যাচের আগে বুধবার কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছে ব্রাজিলের আট সদস্যের নিরাপত্তা প্রতিনিধি দল। সেই দলে রয়েছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং প্রাক্তন সেনাকর্মীরা। কলকাতা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল দায়িত্ব।

    মেসি কাণ্ড থেকে শিক্ষা

    ব্রাজিলের নিজস্ব নিরাপত্তা দল মূল দলের অনেক আগেই কলকাতায় এসেছে। ফুটবলার, প্রতিনিধি এবং দলের অন্যান্য সদস্যদের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবেন তাঁরা। মেসি কাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে শহরে আগাম আগমন ব্রাজিলের নিজস্ব নিরাপত্তা দলের। গত বছর ডিসেম্বরে কলকাতায় এসেছিলেন লিওনেল মেসি। সল্টলেক স্টেডিয়ামে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় পুলিশ। চূড়ান্ত অব্যবস্থার জন্য মেসি মাত্র ২৫ মিনিট স্টেডিয়ামে থাকার পর বেরিয়ে যান। অবশ্য এখন সরকার বদলেছে। তৃণমূল আমলের মতো বিশৃঙ্খলা এড়াতে সদা সক্রিয় শুভেন্দু-সরকার। মেসি ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সেই কারণেই ব্রাজিলও এবার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে অনুশীলন মাঠের চারপাশে নতুন ফেন্সিংও বসানো হচ্ছে। ঐতিহাসিক মুহূর্তের অপেক্ষায় কলকাতা।

  • Grant for Female College Students: কলেজে পড়লেই মেয়েদের ৫০ হাজার টাকা দেবে রাজ্য! কোন শর্তে, কীভাবে মিলবে এই সাহায্য?

    Grant for Female College Students: কলেজে পড়লেই মেয়েদের ৫০ হাজার টাকা দেবে রাজ্য! কোন শর্তে, কীভাবে মিলবে এই সাহায্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উচ্চশিক্ষায় ছাত্রীদের (Grant for Female College Students)  ড্রপ আউট কমানোর লক্ষ্যে নতুন স্কিম চালু করছে রাজ্য সরকার। সরকার বা সরকারি পোষিত কলেজে আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কোর্সে ভর্তির সময়ে ছাত্রীদের জন্য এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে। এই স্কিমে অবিবাহিত ছাত্রীদের ৫০,০০০ টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকার বাজেটে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। রাজ্যে ছাত্রীদের জন্য বিশেষ এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    মোট তিন ধাপে দেওয়া হবে এই সাহায্য

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ছাত্রীদের গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। ছাত্রীদের গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। অনার্স নিতে হবে। এখন থেকে রাজ্যের কোনও সরকারি ও সরকারি সাহায্য বা অনুদান প্রাপ্ত কলেজে স্নাতক বা গ্র্যাজুয়েট কোর্সে ভর্তি হলে ৫০,০০০ টাকা করে দেবে রাজ্য সরকার। কলেজে প্রথম বর্ষে এই স্কলারশিপে ছাত্রীদের ১৭ হাজার টাকা দেওয়া হবে। দ্বিতীয় বর্ষেও ১৭ হাজার টাকা মিলবে। তৃতীয় বর্ষে মিলবে ১৬ হাজার টাকা। মোট ৫০ হাজার টাকার স্কলারশিপ দেওয়া হবে।মূলত, উচ্চ শিক্ষায় ছাত্রীদের মাঝপথে পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ার প্রবণতাকে লক্ষ্য করেই এই স্কলারশিপ চালু করেছে রাজ্য সরকার। বাজেটে বলা হয়েছিল উচ্চশিক্ষায় মেয়েরা যাতে উৎসাহ পান তার জন্যেই এবার থেকে অবিবাহিত মেয়েদের জন্য আর্থিক সাহায্যের প্রস্তাব রেখেছে রাজ্য সরকার। এই খাতে বাজেটে মোট ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে রাজ্য সরকার।

    কী কী মানদণ্ড থাকলে তবেই ছাত্রীরা পাবেন এককালীন টাকা

    এই প্রকল্পের টাকা পেতে কী কী প্রাথমিক শর্ত দেখা হবে, তাও বাজেট ঘোষণায় স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী দাশগুপ্ত। ছাত্রীকে অবিবাহিত হতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোনও সরকারি বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজে স্নাতক স্তরে ভর্তি হতে হবে ওই ছাত্রীকে। মাসে মাসে কোনও টাকা পাওয়া যাবে না। এই কর্মসূচিতে সব মিলিয়ে ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সরকারি সাহায্য পাবেন ছাত্রীরা। মূলত উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের উৎসাহ দিতে ও সার্বিক ভাবে ড্রপ আউট কমাতেই এই সিদ্ধান্ত সরকারের।

    কবে ও কী ভাবে আবেদন করবেন

    এখনও পর্যন্ত এই স্কিমে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়নি। নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমেই এই আবেদন নেওয়া হবে বলেই সূত্রের খবর। এর জন্য পোর্টাল চালু করা ও সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ডক্যুমেন্ট ইত্যাদি এবং পরিচয়পত্র হিসেবে কী কী লাগবে তা দ্রুত জানিয়ে দেবে সংশ্লিষ্ট কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি দফতর। এই সংক্রান্ত গাইডলাইন্স সরকার শীঘ্রই নির্দেশ দিয়ে জানাবে। আলাদা অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে বা সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষের সুপারিশ অনুযায়ী উপযুক্ত ছাত্রীর আবেদন দেওয়া হতে পারে। সেই সঙ্গে অফলাইনে এলাকার প্রশাসনিক অফিস থেকে ফর্ম ফিল আপের ব্যবস্থা করা হবে খুব শিগগিরই। তথ্য সমীক্ষা করে তবেই আবেদন গৃহীত হবে আগামী দিনে।

  • Dhakuria Private School: ঢাকুরিয়ার স্কুলের দেওয়ালে টাঙানো মাও-মার্ক্স-চে! ৭ দিনের মধ্যে ‘বিদেশি’দের সব ছবি সরানোর আশ্বাস

    Dhakuria Private School: ঢাকুরিয়ার স্কুলের দেওয়ালে টাঙানো মাও-মার্ক্স-চে! ৭ দিনের মধ্যে ‘বিদেশি’দের সব ছবি সরানোর আশ্বাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার ঢাকুরিয়ার প্রাইভেট স্কুলে (Dhakuria Private School) টিচার্স রুমে টাঙানো কার্ল মার্ক্স, মাও সে তুং-সহ কয়েকজন বিদেশি ব্যক্তিত্বের ছবি নিয়ে আপত্তি জানাল আরএসএস-ঘনিষ্ঠ শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ। বুধবার সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্কুলে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে (Marx Mao Pictures) আপত্তি জানান। এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষ টিচার্স রুম থেকে কার্ল মার্ক্স ও মাও সে তুংয়ের ছবি সরিয়ে দেয়। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদীপ্ত দে জানিয়েছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে স্কুলের অন্যান্য জায়গা থেকেও এমন ছবি সরিয়ে দেওয়া হবে।

    স্কুল আলো করে বিদেশি ‘প্রভু’রা! (Dhakuria Private School)

    সংগঠনের অভিযোগ, স্কুলে কার্ল মার্ক্স, মাও সে তুং, হো চি মিন, চে গেভারা এবং স্তালিনের মতো বিদেশি ব্যক্তিত্বদের ছবি থাকলেও দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কয়েকজনের ছবি সেখানে ছিল না। সংগঠনের দাবি, বিআর আম্বেদকর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, এপিজে আবদুল কালাম এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর মতো ভারতীয় মনীষী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি স্কুলে থাকা উচিত।

    অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের কলকাতা শাখার সভাপতি প্রদীপ পাল বলেন, “স্কুলের করিডরে ঢুকলেই মাও সে তুং, চে গেভারা এবং স্তালিনের ছবি দেখা যাচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের ঘরে এপিজে আবদুল কালামের ছবি নেই, দ্রৌপদী মুর্মুর ছবিও নেই। অথচ সেখানে ভেনেজুয়েলার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুগো শাভেজের ছবি রয়েছে। বিআর আম্বেদকর ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবিও নেই। অথচ স্টাফরুমে কার্ল মার্ক্সের ছবি রয়েছে। আমাদের আপত্তির জায়গাটা এখানেই।” প্রদীপের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “২০ বছর ধরে এগুলো চলে আসছে। ২০ বছর ধরে একটি স্কুলে কার্যত রাজনৈতিক বিষয়গুলো চলেছে, নাকি রাষ্ট্রচিন্তায় ছাত্র তৈরি করা হয়েছে, সেই প্রশ্নটা সবার কাছেই রয়েছে (Dhakuria Private School)।”

    এদিকে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদীপ্ত দে জানিয়েছেন, ছবিগুলি দীর্ঘদিন ধরেই স্কুলে ছিল। তিনি মে মাসের শেষে দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর কথায়, “বহু বছর ধরেই ছবিগুলি রয়েছে। আপত্তি ওঁরা তুলেছেন ছবিগুলি নিয়ে। এই মুহূর্তে বিষয়টি খুব যুক্তিযুক্তই মনে হচ্ছে। কেউ আগে অভিযোগ জানাননি। কোনও আধিকারিক এসেও কিছু বলেননি, ছাত্ররাও বলেনি। ফলে আমাদের মাথায় আসেনি।”

    ছবি সরানোর প্রতিশ্রুতি

    তিনি আরও বলেন, “ওঁরা যখন বিষয়টি তুলে ধরেছেন, আমি কথা দিচ্ছি, সাত দিনের মধ্যে আমরা এই সমস্ত ছবি একেবারে সরিয়ে দেব। আর যে ছবিগুলি দরকার, অবশ্যই ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ছবি আমরা টাঙাব। ভবিষ্যতে এটাই বজায় থাকবে।”

    স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, টিচার্স রুমে থাকা কয়েকটি ছবি ইতিমধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে স্কুলের অন্যান্য জায়গাতেও বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হবে। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কারণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশ-বিদেশের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ছবি রাখা, সেই ছবিগুলির নির্বাচন এবং তা সরানোর দাবি—সবকিছুকেই ঘিরে ভিন্নমত রয়েছে (Marx Mao Pictures)। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই ঘটনাকে ঘিরে বামপন্থী শিক্ষক সংগঠনের আপত্তির কথাও উঠে এসেছে (Dhakuria Private School)।

     

  • Ambuja Neotia Investment: ৫ বছরে ১৫ হাজার কোটি! আদানি, রিলায়েন্সের পর নেওটিয়ারও বাংলায় বড় লগ্নির পরিকল্পনা

    Ambuja Neotia Investment: ৫ বছরে ১৫ হাজার কোটি! আদানি, রিলায়েন্সের পর নেওটিয়ারও বাংলায় বড় লগ্নির পরিকল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুম্বই সফরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি এবং অনন্ত আম্বানির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বৈঠকের পরই বাংলায় নতুন লগ্নির সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সেই আবহেই বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন (Reliance Investment) অম্বুজা নেওটিয়া গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান হর্ষবর্ধন নেওটিয়া। বৈঠকে রাজ্যে সংস্থার একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অম্বুজা নেওটিয়া গোষ্ঠী আগেই পশ্চিমবঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। স্বাস্থ্য, আতিথেয়তা, পর্যটন, আবাসন এবং বাণিজ্যিক পরিকাঠামো—একাধিক ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। সংস্থার ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাঁচটি নতুন হাসপাতাল, একাধিক হোটেল এবং একটি বড় গল্ফভিত্তিক আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার কথা রয়েছে। এদিকে রিলায়েন্স গোষ্ঠীর সঙ্গেও রাজ্যে নতুন লগ্নি নিয়ে আলোচনা এগিয়েছে। বুধবার নবান্নে রিলায়েন্সের শীর্ষ আধিকারিকদের একটি প্রতিনিধি দল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। আলোচনায় পরিকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, স্বাস্থ্য পরিষেবা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির মাধ্যমেও কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    ইন্টারনেট সংযোগ পরিকাঠামো (Reliance Investment)

    প্রশাসনিক সূত্রের খবর, রিলায়েন্সের সঙ্গে আলোচনায় দিঘায় সংস্থার তৈরি করা সমুদ্রতলের কেবল লাইন কেন্দ্রের বিষয়টিও উঠে আসে। এই প্রকল্প চালু হলে রাজ্যের ইন্টারনেট সংযোগ ও তথ্য আদানপ্রদানের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে মুম্বইয়ে মুকেশ আম্বানি ও অনন্ত আম্বানির সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যে শিল্প বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রিলায়েন্সের পাশাপাশি রাজ্যে অন্য বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ নিয়েও ইতিমধ্যে আলোচনা চলছে। আদানি গোষ্ঠী ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। সেই বিনিয়োগের মধ্যে বন্দর, পরিবহণ, বিদ্যুৎ, তথ্যকেন্দ্র, সড়ক ও সেতু এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো একাধিক ক্ষেত্র রয়েছে।

    ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ পরিকল্পনা অম্বুজা নেওটিয়ার

    অম্বুজা নেওটিয়ার ঘোষিত ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ পরিকল্পনার মধ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবায় ১,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা বলা হয়েছিল। এই অর্থে কলকাতা, দুর্গাপুর ও শিলিগুড়িতে পাঁচটি নতুন হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। আবাসন ও বাণিজ্যিক পরিকাঠামোয় প্রায় ৬,৫০০ কোটি টাকা এবং (Reliance Investment) গল্ফভিত্তিক একটি বড় আবাসন প্রকল্পে প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে। হোটেল ও পর্যটন ক্ষেত্রেও বড় পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থার। দার্জিলিং, কালিম্পং, ডুয়ার্স, দীঘা, সুন্দরবন, শান্তিনিকেতন ও রায়চকে হোটেল তৈরির পরিকল্পনার কথা সংস্থা জানিয়েছিল। কলকাতা ও শিলিগুড়িতে সম্মেলনকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলির কোনটি কবে বাস্তবায়িত হবে, কোথায় কোন প্রকল্প গড়ে উঠবে এবং প্রত্যেক ক্ষেত্রে কত কর্মসংস্থান তৈরি হবে, তার বিস্তারিত চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়। বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছলে রাজ্যের শিল্প, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও আবাসন ক্ষেত্রে তার প্রভাব আরও পরিষ্কার হবে।

    রাজ্য সরকারের শিল্পনীতির অন্যতম লক্ষ্য এখন বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরি করা। ফলে (Suvendu Adhikari) রিলায়েন্স, অম্বুজা নেওটিয়া এবং অন্যান্য শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনাকে সেই বৃহত্তর বিনিয়োগ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে (Reliance Investment)।

     

  • Modi Praises Smit Machchhar: ‘আপনি হিরো’, ১৭৪ বিমানযাত্রীর প্রাণ বাঁচানো ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা মোদির

    Modi Praises Smit Machchhar: ‘আপনি হিরো’, ১৭৪ বিমানযাত্রীর প্রাণ বাঁচানো ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঝআকাশে ককপিটের ভিতর ছুরি নিয়ে হামলা। গুরুতর আহত ভারতীয় পাইলট। একইসঙ্গে আচমকা প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতা হারাল বিমান। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তৈরি হয়েছিল ভয়াবহ বিপদের পরিস্থিতি। কিন্তু সেই অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। এরপর যাত্রী ও কেবিন ক্রু সদস্যরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করেন। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করে ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান।

    ঘটনার পর ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মাচ্ছরের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।

    মাঝআকাশে কী ঘটেছিল?

    ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে যাচ্ছিল। বিমানে ছিলেন ১৭৪ জন। উড়ানের মাঝপথে ককপিটের ভিতরে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর এবং তাঁর সহ-পাইলটের মধ্যে হিংসাত্মক সংঘর্ষ শুরু হয়।

    অভিযোগ, সহ-পাইলট ছুরি দিয়ে মাচ্ছরকে আক্রমণ করেন। একইসঙ্গে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সেই সময়ই বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে।

    রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নেমে যায়। আচমকা উচ্চতা পরিবর্তনে কেবিনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রীদের একাংশ পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই বিমানটি বিপজ্জনকভাবে নিচে নেমে আসে।

    গুরুতর আহত অবস্থাতেও বড় সিদ্ধান্ত

    হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন ক্যাপ্টেন মাচ্ছর। কিন্তু সেই অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। দরজা খোলার পর যাত্রী এবং কেবিন ক্রু সদস্যরা দ্রুত ককপিটে ঢুকে পড়েন।

    তাঁরা হামলাকারী সহ-পাইলটকে কাবু করার চেষ্টা করেন। এ সময় বিমানে থাকা আরও দু’জন ফ্লাইদুবাই পাইলটও পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন। শেষ পর্যন্ত তাঁদের নিয়ন্ত্রণে আসে বিমানটি।

    এরপর বিমানটির গন্তব্য পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করানো হয়। বিমানটি নিরাপদে মাটিতে নামার পর যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফেরে।

    ‘ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর একজন হিরো’, বললেন মোদি

    ঘটনার পর ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর একজন হিরো।” প্রধানমন্ত্রী জানান, গুরুতর আহত হয়েও মাচ্ছর অন্যদের জীবন রক্ষায় অসীম সাহস এবং দৃঢ় সংকল্প দেখিয়েছেন। তাঁর সাহসিকতা শতাধিক মানুষের জীবন রক্ষা করতে এবং বড় বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছে বলেও উল্লেখ করেন মোদি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সাহসিকতার জন্য ভারত গর্বিত।

    নেতানিয়াহুর মন্তব্য, ‘৯/১১-এর মতো বিপর্যয় ঠেকিয়েছেন’

    ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও ভারতীয় পাইলটের প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য, ছুরিকাহত হওয়ার পরও মাচ্ছর প্রতিরোধ করেন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেন। এর ফলে যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করার সুযোগ পান। নেতানিয়াহু মাচ্ছরকে ‘সত্যিকারের হিরো’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপের ফলে বিমানে থাকা ১৭৪ জনের জীবন রক্ষা পেয়েছে।

    পরে সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ভারতীয় পাইলটের পদক্ষেপ একটি ‘৯/১১-এর মতো বিপর্যয়’ ঠেকাতে সাহায্য করেছে। তবে এই মন্তব্যকে ঘটনার সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে নেতানিয়াহুর মূল্যায়ন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির প্রকৃত উদ্দেশ্য বা সহ-পাইলটের আচরণের কারণ নিশ্চিত নয়।

    ট্রাম্পও বললেন ‘হিরো’

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, গুরুতর আহত অবস্থাতেও মাচ্ছর ককপিটের দরজা খুলে সাহায্যের সুযোগ তৈরি করেন। তাঁর এই পদক্ষেপের জন্য তাঁকে ‘হিরো’ বলেও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে সহ-পাইলটের আচরণের পিছনে কী কারণ ছিল, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।

    তদন্তেই মিলবে আসল উত্তর

    এই ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কেন সহ-পাইলট ক্যাপ্টেন মাচ্ছরকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করলেন? কেনই বা তিনি বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন?এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ফ্লাইদুবাইও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও অনুমান বা সিদ্ধান্তে না পৌঁছনোর জন্য সতর্ক করেছে। অর্থাৎ, পাইলটের সাহসিকতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা শুরু হলেও ঘটনার নেপথ্যের কারণ এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

    বিমান নিরাপত্তায় উঠছে নতুন প্রশ্ন

    ঘটনাটি শুধু একজন পাইলটের সাহসিকতার কাহিনি নয়। বিমান নিরাপত্তা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। ককপিটের ভিতর দুই পাইলটের মধ্যে যদি আচমকা এমন হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে বিমানের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে দ্রুত পুনরুদ্ধার করা সম্ভব—এই প্রশ্ন এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    এই ঘটনায় ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের প্রতিরোধ, ককপিটের দরজা খোলার সুযোগ তৈরি হওয়া, যাত্রী ও ক্রুদের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং বিমানে থাকা অতিরিক্ত পাইলটদের উপস্থিতি—সবকিছু মিলেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে। তবে কোন পদক্ষেপ কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।

    মাঝআকাশে ছুরিকাহত হয়েও ককপিটের দরজা খুলে দিয়ে সাহায্যের সুযোগ তৈরি করেছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ১৭৪ যাত্রী ও ক্রু সদস্যকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এখন তদন্তের অপেক্ষা—ঠিক কী কারণে ককপিটের ভিতর এমন ভয়াবহ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল।

  • Indranil Sen: দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, ইডির দফতরে হাজির ইন্দ্রনীল সেন

    Indranil Sen: দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, ইডির দফতরে হাজির ইন্দ্রনীল সেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সল্টলেকে ইডির দফতরে হাজির হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)। বুধবার সকাল ১১টার আগেই সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন তিনি। দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ এবং পুজো পরিক্রমার নামে ইউনেস্কোর নাম ও প্রতীক ব্যবহার করে চড়া দামে পাস বিক্রি এবং বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে তাঁকে তলব করেছে (Durga Puja Pass Scam) কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

    মঙ্গলবারই ইন্দ্রনীল, তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় ইডি। কলকাতার পাশাপাশি সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীলের বাগানবাড়িতেও অভিযান চালানো হয়। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে দাবি, তল্লাশিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে। তার মধ্যে জমি সংক্রান্ত নথিও রয়েছে।

    অভিযোগের কেন্দ্রে ‘মাস আর্ট’ (Indranil Sen)

    অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থা। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’-এর নামে কলকাতার নির্বাচিত পুজোমণ্ডপগুলিতে প্রবেশের জন্য সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের কাছে কয়েক হাজার টাকা দামে পাস বিক্রি করা হয়েছিল। অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের দাবি, সংস্থাটি নিজেদের ইউনেস্কোর সরকারি সহযোগী হিসেবে তুলে ধরে ওই আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম ও প্রতীক ব্যবহার করেছিল। তবে এই অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন এবং ইন্দ্রনীল আগেই অভিযোগগুলিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছিলেন।

    জানা গিয়েছে, ২০২২ সালে প্রায় ১৯ হাজার, ২০২৩ সালে প্রায় ৩৪ হাজার এবং ২০২৪ সালে প্রায় ৬১ হাজার মানুষ এই ধরনের পাসের জন্য নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, গোটা ঘটনায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে।

    অভিযোগের সূত্রপাত কীভাবে?

    চলতি বছরের জুনে কলকাতার বউবাজার থানায় ইন্দ্রনীল, মধুছন্দা এবং ‘মাস আর্টে’র কয়েকজন পদাধিকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সাল থেকে দুর্গাপুজোর নির্বাচিত মণ্ডপগুলিকে ঘিরে ‘প্রিভিউ শো’ আয়োজন করে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছিল। অভিযোগকারীর দাবি, ইউনেস্কোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক বা অনুমোদনের ধারণা তৈরি করে ওই পাসগুলি বাজারজাত করা হয়েছিল।

    পুলিশে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়। পরে আর্থিক তছরুপের অভিযোগের তদন্তে ইডিও নামে এবং আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনের অধীনে মামলা সংক্রান্ত নথি তৈরি করে তদন্ত শুরু করে (Indranil Sen)।

    ২৪টি পুজোমণ্ডপ ঘিরে পাস বিক্রির অভিযোগ

    অভিযোগ অনুযায়ী, কলকাতার ২৪টি নির্বাচিত পুজোমণ্ডপের ‘প্রিভিউ শো’-এর জন্য পাস বিক্রি করা হত। পাসের দাম ছিল কয়েক হাজার টাকা। তদন্তকারীরা দেখছেন, এই পাস বিক্রির মাধ্যমে কত টাকা সংগ্রহ হয়েছিল, সেই অর্থ কোথায় গিয়েছিল এবং গোটা ব্যবস্থার সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিলেন।

    অভিযোগ, এই পাস থাকলে শহরের বিভিন্ন বড় পুজোমণ্ডপে সাধারণ দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইনে না দাঁড়িয়ে প্রবেশের সুযোগ মিলত। সেই পাস বিক্রির সঙ্গে বিভিন্ন পুজো কমিটির ভূমিকা কী ছিল, তা-ও তদন্তের আওতায় এসেছে বলে সূত্রের খবর।

    ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের মন্ত্রী হন ইন্দ্রনীল। তিনি পর্যটন, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের দায়িত্বেও ছিলেন। তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা ‘মাস আর্টে’র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে (Durga Puja Pass Scam)।

    দুর্গাপুজোকে ঘিরে কলকাতায় প্রতি বছর দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক আসেন। বিভিন্ন সংস্থা পুজো পরিক্রমার আয়োজন করে এবং নির্দিষ্ট পরিষেবার জন্য টিকিট বা পাস বিক্রি করা হয়। এই ব্যবস্থার আড়ালে ইউনেস্কোর নাম বা প্রতীক বেআইনিভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, পাস বিক্রির অর্থের প্রকৃত উৎস ও গন্তব্য কী এবং এর সঙ্গে আরও কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যুক্ত ছিল কি না—এই বিষয়গুলিই খতিয়ে দেখছেন (Indranil Sen) তদন্তকারীরা।

     

LinkedIn
Share