Blog

  • Jharkhand: ঝাড়খণ্ড রাজ্যসভা নির্বাচনে জয়ী এনডিএ-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী, ক্রস-ভোটিং ঘিরে জোর চর্চা

    Jharkhand: ঝাড়খণ্ড রাজ্যসভা নির্বাচনে জয়ী এনডিএ-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী, ক্রস-ভোটিং ঘিরে জোর চর্চা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) দু’টি রাজ্যসভা আসনের নির্বাচনের ফল বেরল। একটি আসনে জয়ী হয়েছেন এনডিএ-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানি। অন্য আসনটি দখল করেছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)। জয়ী হয়েছেন বৈদ্যনাথ রাম। ভোটগ্রহণে ক্রস-ভোটিংয়ের (Cross Voting) অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

    পরাজিত কংগ্রেস (Jharkhand)

    পরিমল কংগ্রেস প্রার্থী প্রণব ঝাকে পরাজিত করেছেন। আর বৈদ্যনাথ জয়ী হয়েছেন নির্ধারিত আসনে। নির্বাচনের ফল বেরলে দেখা যায়, পরিমল মোট ২৮টি ভোট পেয়েছেন। অথচ ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় এনডিএর মোট বিধায়কের সংখ্যা ২৪। এই অতিরিক্ত চারটি ভোট কোথা থেকে এল, তা নিয়েই শুরু হয়েছে ক্রস-ভোটিংয়ের জল্পনা। পরিমলের কাছে হেরে গিয়েছেন কংগ্রেসের প্রার্থী প্রণব। তিনি পেয়েছেন মাত্র ২০টি ভোট। অন্য আসনে জেএমএম প্রার্থী বৈদ্যনাথ নির্বাচিত হয়েছে ৩০টি ভোট পেয়ে। নির্বাচন পরিচালনাকারী এক আধিকারিকের তথ্য অনুযায়ী, বিজেপির দুই এবং কংগ্রেসের এক বিধায়কের ভোট অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    ভোটের অঙ্ক

    ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় এনডিএর মোট ২৪ জন বিধায়ক রয়েছেন। এর মধ্যে বিজেপির ২১ জন, এবং এলজেপি (রামবিলাস), আজসু পার্টি এবং জেডিইউয়ের একজন করে বিধায়ক রয়েছেন। আর, ইন্ডিয়া জোটের মোট ৫৬ জন বিধায়কের মধ্যে জেএমএমের ৩৪, কংগ্রেসের ১৬, আরজেডির ৪ এবং সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ২ জন সদস্য রয়েছেন। ভোটের আগে এনডিএ তাদের বিধায়কদের রাঁচির একটি হোটেলে রাখায় রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। বিরোধী শিবিরের তরফে বিধায়ক ভাঙানোর আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছিল। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব শুরু থেকেই দাবি করেছিলেন, এনডিএ সমর্থিত প্রার্থীই জয়ী হবেন (Jharkhand)।

    ক্রস-ভোটিং!

    ঝাড়খণ্ডে এ বার প্রার্থীদের জিততে হলে প্রয়োজন ছিল ২৮ জন করে বিধায়কের সমর্থন। এর মধ্যে ‘ইন্ডি’ জোটের পক্ষে ছিল ৫৬ জনের সমর্থন। যার মধ্যে রয়েছেন জেএমএমের ৩৪ জন, কংগ্রেসের ১৬ জন, আরজেডির ৪ জন, এবং সিপিআই (এমএল)-এর ২জন বিধায়ক। নির্বাচনে জেএমএমের বৈদ্যনাথ পেয়েছেন ৩০টি প্রথম পছন্দের ভোট। তাদের সহযোগী কংগ্রেসের প্রণব পেয়েছেন ২০টি। অথচ ‘ইন্ডি’ জোটের ৫৬ জন বিধায়ক ছিলেন। সেই হিসেবে জেএমএমের প্রার্থী ৩০টি ভোট পেলে, কংগ্রেস প্রার্থীর পাওয়ার কথা ছিল ২৬টি। উল্লেখ্য (Cross Voting), জেএমএমের সহ-প্রতিষ্ঠাতা শিবু সোরেনের মৃত্যুর কারণে রাজ্যসভার একটি আসন শূন্য হয়েছিল। আর, বিজেপি সাংসদ দীপক প্রকাশের মেয়াদ শেষ হবে ২১ জুন। তাই নির্বাচন হয়েছে সেই আসনেও (Jharkhand)।

     

  • Manipur: মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান, ৩৬ ঘণ্টায় ধ্বংস ৬১টি অবৈধ বাঙ্কার, সরানো হল একাধিক চেকপোস্ট

    Manipur: মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান, ৩৬ ঘণ্টায় ধ্বংস ৬১টি অবৈধ বাঙ্কার, সরানো হল একাধিক চেকপোস্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মণিপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বড়সড় অভিযান চালাল নিরাপত্তা বাহিনী। গত ৩৬ ঘণ্টায় রাজ্যের পাহাড়ি ও উপত্যকা অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে ৬১টি অবৈধ বাঙ্কার ধ্বংস করা হয়েছে এবং একাধিক বেআইনি চেকপোস্ট সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মণিপুর পুলিশের বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় ৬ হাজার নিরাপত্তা কর্মী এই যৌথ অভিযানে অংশ নেন। রাজ্যের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় তল্লাশি, কম্বিং অপারেশন এবং এলাকা দখলমুক্ত করার অভিযান চালানো হয়।

    যৌথ অভিযান উদ্ধার অস্ত্র

    অভিযানের মূল কেন্দ্র ছিল কাংপোকপি জেলার লেইমাখং এলাকা। লেইলন ভাইফেই, লেইলন খুনৌ, এল. মুনলুই এবং কনসাখুল গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ৩০টি বাঙ্কার, আউটপোস্ট এবং কৌশলগতভাবে স্থাপিত ক্যাম্প ভেঙে দেয়। প্রশাসনের দাবি, এগুলি সমাজবিরোধী গোষ্ঠীগুলির ব্যবহার করা ঘাঁটি ছিল। অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামও উদ্ধার হয়েছে। বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১১টি ১২-বোর সিঙ্গল-ব্যারেল ব্রিচ-লোডিং (SBBL) বন্দুক, ২৯৪ রাউন্ড জীবন্ত গুলি, ৩৪টি ব্যবহৃত কার্তুজ, দুটি গানপাউডারের প্যাকেট এবং ৬টি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট। এছাড়া চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের পরিচয় ও ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে ১৭ জুন কাংপোকপির সাইকুল মহকুমায় অভিযান চালিয়ে থিংফাই ও সি. খোলেন গ্রামে মোট চারটি অবৈধ বাঙ্কার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি চুরাচাঁদপুর জেলায় এস. নাবিল এবং লইলামকোই এলাকায় একটি বাঙ্কার ও একটি বেআইনি চেকপোস্ট অপসারণ করা হয়।

    সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাই উদ্দেশ্য

    প্রশাসনের মতে, সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলিতে অবৈধভাবে তৈরি সুরক্ষিত ঘাঁটি ও চেকপোস্ট সরিয়ে দিয়ে শান্তি ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। উল্লেখ্য, ১৬ জুন উখরুল জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী ২৬টি অবৈধ বাঙ্কার ধ্বংস করেছিল। তদন্তকারীদের দাবি, চলমান উত্তেজনার আবহে প্রতিদ্বন্দ্বী নাগা ও কুকি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত সমাজবিরোধীরা ওই বাঙ্কারগুলি তৈরি করেছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজ্যের অশান্ত ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে, যাতে সশস্ত্র কার্যকলাপ রোধ করা যায় এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

  • Governor R N Ravi: রাজ্যে নতুন সরকারের ভূমিকাকে কুর্নিশ, বাজেট অধিবেশনের শুরুতে ‘ভয়’ কাটিয়ে ভরসা ফেরার বার্তা রাজ্যপালের

    Governor R N Ravi: রাজ্যে নতুন সরকারের ভূমিকাকে কুর্নিশ, বাজেট অধিবেশনের শুরুতে ‘ভয়’ কাটিয়ে ভরসা ফেরার বার্তা রাজ্যপালের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্নীতিদমন থেকে অনুপ্রবেশকারী বিতাড়ন, বেআইনি দখল উচ্ছেদ থেকে নারী নিরাপত্তা— রাজ্যে নতুন সরকারের গত দেড় মাসের প্রায় প্রতিটি উদ্যোগই মানুষের স্বার্থে। নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশনের সূচনায় এমনই দাবি করলেন রাজ্যপাল আর এন রবি (Governor R N Ravi)। রাজ্যের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিধানসভার প্রথম অধিবেশন শুরু হল বৃহস্পতিবার। রীতি মেনে অধিবেশনে প্রারম্ভিক ভাষণ পাঠ করলেন রাজ্যপাল। তাঁর ৩৬ মিনিটের ভাষণে বার বার প্রতিধ্বনিত হল ভয় কাটিয়ে ভরসায় ফেরার বার্তা।

    উন্নয়নের দিশায় এগোতে শুরু করেছে রাজ্য

    বৃহস্পতিবার বিধানসভায় প্রারম্ভিক ভাষণের শুরুতেই আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ দিবস (২০ জুন)-এর জন্য রাজ্যবাসীকে আগাম শুভেচ্ছা জানান রাজ্যপাল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “গত দেড় দশকে এই প্রথম বার পশ্চিমবঙ্গবাসী নতুন সরকারের পক্ষে স্পষ্ট জনমত দিয়েছে। রাজ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ভয় এবং হতাশার যে বাতাবরণ ছিল, তাকে স্পষ্ট ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে রাজ্যবাসী।” রাজ্যের নতুন সরকার ইতিমধ্যে যে উন্নয়নের দিশায় এগোতে শুরু করেছে, সে কথাও তুলে ধরেন রাজ্যপাল। ভাষণে তিনি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার জাতি ধর্ম নির্বিশেষে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন করবে। আগামীর চ্যালেঞ্জ এবং দায়িত্বের বিষয়ে আমার সরকার অবগত।” তিনি আশ্বস্ত করেন রাজ্যে সকলের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করবে নতুন সরকার। রাজ্যের প্রত্যেক সাধারণ মানুষ যাতে সম্মানের সঙ্গে স্বাধীন ভাবে দৈনন্দিন জীবন কাটাতে পারেন, তা-ও নতুন সরকার নিশ্চিত করবে বলে আশাবাদী তিনি।

    আইনের শাসন ফিরিয়ে আনাই লক্ষ্য

    রাজ্যপাল তাঁর ভাষণে স্পষ্ট জানান, নতুন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো রাজ্য থেকে সিন্ডিকেট সংস্কৃতি, তোলবাজি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিকে সমূলে উৎপাটন করে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনা। রাজ্যের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলার বেশ কিছু অংশে জনবিন্যাসের পরিবর্তন (Demographic Changes) একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ (BSF)-কে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

    নারী নির্যাতনে ‘জিরো টলারেন্স’

    নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাজ্যপাল রবি মানব পাচার ও অপরাধমূলক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। ভাষণে বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করে রাজ্যপাল অভিযোগ করেন, আগের জমানায় সাধারণ মানুষ অভিযোগ জানিয়েও ন্যায়বিচার পাননি। চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো উন্নয়নকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে থমকে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে রাজ্যের প্রভূত ক্ষতি হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই সেই সমস্ত থমকে থাকা মেট্রো ও পরিকাঠামো প্রকল্পগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে।

    রাজ্যে নয়া শিল্প সম্ভাবনা

    রাজ্যে আগামিদিনে শিল্প সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন রাজ্যপাল। জানান, নতুন সরকার ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরির পরিকল্পনা করছে। সিঙ্গুরে একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। তুলে ধরেন জলপথে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বন্দর উন্নয়নে নতুন সরকারের উদ্যোগের কথাও। অতীতে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির দিকে পরোক্ষ ইঙ্গিত করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এবার থেকে সরকারি শূন্যপদগুলিতে স্বচ্ছ ও ত্রুটিহীন প্রক্রিয়ায় নিয়োগ করা হবে।

     

     

     

  • CID: কালীঘাটে ফের সিআইডি হানা, এবার অভিষেকের অন্য এক পিসির দুয়ারে গোয়েন্দারা

    CID: কালীঘাটে ফের সিআইডি হানা, এবার অভিষেকের অন্য এক পিসির দুয়ারে গোয়েন্দারা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে ফের হানা সিআইডির। বৃহস্পতিবার দুপুরে আচমকাই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee Relative) বোন রিনা গায়েন ওরফে নান্টির বাড়িতে পৌঁছন সিআইডির (CID) আধিকারিকরা। ঘণ্টাখানেক ধরে চলে তল্লাশি। দুপুর ১টা ৫০ মিনিট নাগাদ শুরু হওয়া এই অভিযান শেষ হয় বিকেল ৩টের খানিক আগে।

    অভিষেকের বিতর্কিত মন্তব্য (CID)

    সূত্রের খবর, বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলার তদন্তেই এই পদক্ষেপ করেছে সিআইডি। অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারে অভিষেক বলেছিলেন, “৪ মে গণনার পর ডিজে বাজানো হবে”, যা উসকানিমূলক মন্তব্য হিসেবে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ২৯/ডি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসিন্দা রিনা। তাঁর মেয়ে অদিতি গায়েনকে বিভিন্ন সময় তৃণমূলের কর্মসূচিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা গিয়েছে। তিনি দলের সোশ্যাল মিডিয়া সংক্রান্ত কার্যকলাপের সঙ্গেও যুক্ত বলে খবর।

    এর আগেও কালীঘাটে হানা দিয়েছে সিআইডি

    এদিন যে বাড়িতে হানা দিল সিআইডি, সেটি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার কালীঘাটের বাসভবন থেকে প্রায় ২৫০ মিটার দূরে। যদিও অভিষেকের মন্তব্য সংক্রান্ত মামলার সঙ্গে মমতার বোন বা বোনঝির কী সম্পর্ক, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এর আগেও একাধিক মামলায় অভিষেকের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে সিআইডি। বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলায় তাঁকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ভবানী ভবনে সিআইডি দফতরে একাধিকবার হাজিরাও দিতে হয়েছে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ডকে। সেই মামলায় দু’দিন এবং উসকানিমূলক মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় একদিন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। দিন কয়েক আগেই অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে খুঁজতে গভীর রাতে কালীঘাটে অভিযান চালিয়েছিল শালবনি থানার পুলিশ। তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকলেও, তাঁর সন্ধান মেলেনি। এবার ওই একই এলাকায় অভিষেকের আর এক পিসির বাড়িতে সিআইডি আধিকারিকদের হাজিরা, নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে রাজনৈতিক মহলে (CID)।

    সই জালিয়াতিকাণ্ড

    প্রসঙ্গত, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে ঘিরে জমা পড়া একটি রেজোলিউশন ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। এই রেজোলিউশনকে কেন্দ্র করেই হাটে ভাঙে সই জালিয়াতির অভিযোগের হাঁড়ি। অভিযোগ, কয়েকজন বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে। অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। অভিষেকের পাশাপাশি এই মামলায় সিআইডি জেরা করেছে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকেও। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে মদন মিত্র-সহ তৃণমূলের একাধিক নেতাকে। এদিকে, এদিন রাজ্যপালের ভাষণের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘরে গিয়ে দেখা করেন মমতাপন্থী (Mamata Banerjee Relative) তৃণমূলের পাঁচ বিধায়ক। এঁরা হলেন, কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, আলিফা আহমেদ এবং অশোক দেব। বেশ কিছু দাবিদাওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা (CID)।

     

  • Operation Tiger: ‘অপারেশন টাইগার’ ঘিরে ফের জল্পনা মহারাষ্ট্রে, ভাঙনের আশঙ্কা উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনায়

    Operation Tiger: ‘অপারেশন টাইগার’ ঘিরে ফের জল্পনা মহারাষ্ট্রে, ভাঙনের আশঙ্কা উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অপারেশন টাইগারে’র (Operation Tiger) পর বুধবার মহারাষ্ট্রের রাজনীতির আকাশে নতুন করে জমেছে ঘোর অনিশ্চয়তার মেঘ। পুনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলি ছয়লাপ ‘শুধু অপেক্ষা করুন এবং দেখুন’ লেখা পোস্টারে। এই ঘটনাই শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে (ইউবিটি) গোষ্ঠীর (Uddhav Thackeray) মধ্যে আরও এবার ভাঙনের জল্পনা উসকে দিয়েছে।এই পোস্টারগুলি এমন একটা সময়ে দেখা গেল, যখন শিবসেনার (ইউবিটি) কয়েকজন সাংসদ দল থেকে বেরিয়ে মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা গোষ্ঠীর সঙ্গে জোট বাঁধার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    ‘অপারেশন টাইগার’ (Operation Tiger)

    যদিও কোনও শিবিরের পক্ষ থেকেই এখনও এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা হয়নি, তবে পোস্টারগুলি এখন রাজনৈতিক মহলে ‘অপারেশন টাইগার’ নামে পরিচিত একটি উদ্যোগের উজ্জ্বল প্রতীক হয়েই উঠেছে। এটি আদতে শিবসেনার মধ্যে আর একটি বড় ধরনের ভাঙন ধরানোর চেষ্টা। ‘অপারেশন টাইগার’ বলতে বোঝায় শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে (ইউবিটি) শিবিরের কয়েকজন সাংসদ ও বিধায়ককে যাঁদের ওই গোষ্ঠী থেকে বের করে শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনায় নিয়ে যাওয়ার একটি ছক।২০২২ সালে একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বে বিদ্রোহ মাথা চাড়া দেয় শিবসেনায়। ভেঙে দু’খান হয়ে যায় প্রয়াত মারাঠি নেতা বালঠাকরের হাতে গড়া দল শিবসেনা। তার জেরে পতন হয় উদ্ধব ঠাকরে সরকারের।

    অশনি সঙ্কেত শিবসেনার সংসদীয় শাখায়

    তার পর এবার অশনি সঙ্কেত শিবসেনার সংসদীয় শাখায়। লোকসভায় রয়েছে শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠীতে রয়েছেন ৯জন সাংসদ। এর মধ্যে ৬জনই পৃথক একটি সংসদীয় দল গঠনের পক্ষে। যদি দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত হয়, তাহলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় আইনি সুরক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হল সংসদের মধ্যে একটি স্বীকৃত আলাদ দল গঠন করা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে উদ্ধব ঠাকরের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করে দেওয়া (Uddhav Thackeray)।

    নয়া গোষ্ঠীতে কারা?

    সংবাদমাধ্যমের দাবি, পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠীর স্বীকৃতির জন্য ইতিমধ্যেই একটি চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে এবং ১৬ জুন সেই চিঠির নীতিগত অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। এই গোষ্ঠীতে থাকতে পারেন বলে যাঁদের নাম উঠে এসেছে, তাঁরা হলেন— সঞ্জয় দিনা পাটিল (মুম্বই উত্তর-পূর্ব), ওমরাজে নিম্বালকর (ধারাশিব), ভাউসাহেব ওয়াকচৌরে (শিরডি), সঞ্জয় যাদব (পারভানি), নাগেশ পাটিল অষ্টিকার (হিঙ্গোলি), এবং সঞ্জয় দেশমুখ (যাবতমল-ওয়াশিম)। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর, শিবসেনার শিন্ডে গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতারা দিল্লিতে গিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে আইনজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন। এই প্রক্রিয়ারই অংশ হিসেবে ওই (বিদ্রোহী) সাংসদদের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সামনে হাজির হওয়ার কথা।

    এই স্বীকৃতির প্রয়োজন কী?

    প্রশ্ন হল, এই স্বীকৃতির প্রয়োজন কী? আসলে কোনও আনুষ্ঠানিক বিভাজনের আগে নীতিগত স্বীকৃতি পাওয়াটা বেশ কয়েকটি কৌশলগত উদ্দেশ্য পূরণ করে। প্রথমত, এটি শিবসেনা (ইউবিটি) নেতৃত্বের জারি করা যে কোনও হুইপের কার্যকারিতাকে দুর্বল করে দেবে। দ্বিতীয়ত, এটি দল ছেড়ে অন্য পার্টিতে যোগ দেওয়া সাংসদদের আইনি সুরক্ষা দেয়। তৃতীয়ত, দলটি যে একটি বৈধ গোষ্ঠী, এমন যুক্তিকেও জোরালো করে। উভয় শিবিরই যখন দলত্যাগ-বিরোধী আইন নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে রীতিমতো আস্তিন গুটিয়ে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনই শিবসেনা (ইউবিটি) দ্রুত পদক্ষেপ করে সাংসদদের সমর্থন একটাই ঝুলিতে পুরতে। দলটি তার সব সাংসদকেই নয়াদিল্লিতে একটি জরুরি সংসদীয় দলীয় সভায় যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিন লাইনের একটি হুইপ জারি করে।

    চিফ হুইপের বক্তব্য

    চিফ হুইপ অনিল দেশাই সাফ জানিয়ে দেন, প্রত্যেক সাংসদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। এও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যেসব সাংসদ দলীয় হুইপ অমান্য করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, মায় দলত্যাগ বিরোধী আইনে ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে (Operation Tiger)। উদ্ধব ঠাকরের শিবিরের পক্ষ থেকে এই বৈঠকটিকে লোকসভায় তাঁদের প্রকৃত শক্তি ঠিক কতটা, তা যাচাই করা এবং আরও একটি সাংগঠনিক বিভাজন রোধ করার গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এদিকে, দুই শিবিরেই যখন তৎপরতা তুঙ্গে, তখন জল্পনা আরও বেড়েছে দুই গোষ্ঠীর সাংসদদের আলাদা আলাদাভাবে দিল্লিতে হাজির হওয়ার ঘটনায়। জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকজন সাংসদ ঘুরপথে দিল্লি গিয়েছেন। তাই রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে (Operation Tiger)।

    অল দ্য রোডস…

    জানা গিয়েছে, শিবসেনার এক সাংসদ দিল্লিতে বিমানে ওঠার আগে হাদগাঁও থেকে সড়কপথে হায়দরাবাদে গিয়েছিলেন। আরও দু’জন একটি চার্টার্ড বিমানে ওঠার আগে গাড়ি চালিয়ে নান্দেদ বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন। আরও এক সাংসদ মুম্বই থেকে এসেছিলেন, অন্য এক সাংসদ এসেছিলেন শিরডি থেকে (Uddhav Thackeray)। শিবসেনার প্রত্যেক সাংসদের দিল্লি যাত্রা আপাতভাবে সাধারণ মনে হলেও, একটু তলিয়ে দেখলে এটি স্পষ্ট হয়ে যায়, পর্দার আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনা চলা জল্পনার নেপথ্যের কারণ ঠিক কী।

    বিদ্রোহের জল্পনা ওড়ালেন শিবসেনা সাংসদ

    ক্রমবর্ধমান জল্পনার আবহে শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ রাজভাউ ওয়াজে বিদ্রোহের খবর উড়িয়ে দিয়েছেন। দিল্লি পৌঁছে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন উদ্ধবের প্রতি তাঁর সমর্থনের কথা। শিন্ডে শিবিরের সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগের কথাও অস্বীকার করেছেন তিনি। ওয়াজে বলেন, “আমি উদ্ধবজির সঙ্গেই আছি, তাঁর সঙ্গেই থাকব। অন্য কারও সঙ্গে আমার কোনও যোগাযোগ নেই। আমি কোনও ফোনও পাইনি, শিন্ডেজির পক্ষ থেকে আমার সঙ্গে কোনও যোগাযোগও করা হয়নি।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন, একটি কমিটির বৈঠকে যোগ দিতেই ঝটিকা সফরে দিল্লিতে এসেছেন (Uddhav Thackeray) তিনি। মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ২০২২ সালের রাজনৈতিক বিদ্রোহের স্মৃতি এখনও টাটকা। সেই প্রেক্ষাপটে ‘অপারেশন টাইগার’ আদৌ নতুন কোনও ভাঙনের রূপ (Operation Tiger) নেয়, নাকি শুধুই রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল—সেদিকেই তাকিয়ে তামাম ভারত।

  • Rare Earth Magnet: এবার কমবে চিনের একচেটিয়া দাপট! ভারতে ২২৫০ কোটির রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট কারখানা গড়ছে জাপানি সংস্থা

    Rare Earth Magnet: এবার কমবে চিনের একচেটিয়া দাপট! ভারতে ২২৫০ কোটির রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট কারখানা গড়ছে জাপানি সংস্থা

    সুশান্ত দাস

    ভারতের বিরল মাটি খনিজ (Rare Earth Elements) শিল্পে বড়সড় অগ্রগতির পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হতে চলেছে। জাপানের শীর্ষস্থানীয় উন্নত উপকরণ প্রস্তুতকারী সংস্থা প্রোটেরিয়াল (Proterial) অন্ধ্রপ্রদেশে ২ হাজার ২৫০ কোটি বিনিয়োগ করে একটি স্থায়ী চুম্বক (Permanent Magnet) উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশে বিরল মাটি-ভিত্তিক চুম্বকের (Rare Earth Magnets) উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং চিনের ওপর আমদানি-নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে। সূত্রের খবর, অন্ধ্রপ্রদেশের অনাকাপল্লি জেলার আচ্যুতাপুরম (Achutapuram) এলাকায় এই উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত রাজ্যের স্টেট ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন কমিটির বৈঠকে প্রকল্পটির অনুমোদন মিলেছে। ফলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    বছরে ১২০০ টন বিরল মাটি চুম্বক উৎপাদনের লক্ষ্য

    প্রস্তাবিত কারখানায় ‘সিন্টার্ড’ (গুঁড়ো ধাতুকে উচ্চ তাপ ও উচ্চ চাপের মধ্য দিয়ে কঠিন পদার্থে পরিণত করা) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিওডিমিয়াম-আয়রন-বোরন (NdFeB) স্থায়ী চুম্বক উৎপাদন করা হবে। কারখানার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১.২ কিলোটন বা ১,২০০ টন। বিশ্বজুড়ে নিওডিমিয়াম চুম্বককে (Rare Earth Magnets) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং উন্নত বিরল খনিজ চুম্বকগুলির অন্যতম বলে মনে করা হয়। বর্তমানে এটি বাণিজ্যিকভাবে উপলব্ধ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী স্থায়ী চুম্বক। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এই চুম্বকের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে এটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উপাদানে পরিণত হয়েছে।

    বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে প্রতিরক্ষা—সব ক্ষেত্রেই অপরিহার্য

    নিওডিমিয়াম (NdFeB) চুম্বক আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বহু শিল্পে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। এর ব্যবহার দেখা যায়—

    • ● বৈদ্যুতিক যানবাহন(EV)
    • ● বায়ুশক্তি বা উইন্ড টারবাইন
    • ● শিল্প কারখানার মোটর
    • ● দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্স ও গ্যাজেট
    • ● মহাকাশ ও বিমান প্রযুক্তি
    • ● প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম

    এই চুম্বকের শক্তিশালী চৌম্বকীয় ক্ষমতা উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতিকে আরও কার্যকর ও দক্ষ করে তোলে। বিশ্বজুড়ে যখন শিল্পক্ষেত্রে বিদ্যুতায়ন এবং উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদনের প্রবণতা বাড়ছে, তখন নিওডিমিয়াম চুম্বকের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।

    বিরল মাটি চুম্বক আত্মনির্ভর ভারতের পথে বড় পদক্ষেপ

    বর্তমানে বিরল মাটি চুম্বকের (Rare Earth Magnets) ক্ষেত্রে বিশ্বের বৃহত্তম সরবরাহকারী দেশ চিন। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের জন্য আমদানির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকার দেশীয় বিরল মাটি শিল্পের উন্নয়নে জোর দিচ্ছে। খনিজ আহরণ থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াকরণ এবং চুম্বক উৎপাদন— পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলকে দেশীয়ভাবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প শুধু উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াবে না, বরং দেশের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা ও কৌশলগত নিরাপত্তাকেও শক্তিশালী করবে।

    কেন্দ্রের নতুন প্রণোদনা প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য

    সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার দেশীয়ভাবে সিন্টার্ড বিরল মাটি স্থায়ী চুম্বক (Rare Earth Magnets) উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে একটি বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচি অনুমোদন করেছে। সরকারের লক্ষ্য, ভবিষ্যতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, বৈদ্যুতিক পরিবহণ এবং উন্নত ইলেকট্রনিক্স শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ দেশে উৎপাদন করা। প্রোটেরিয়ালের বিনিয়োগ সেই নীতিগত উদ্যোগের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    কে এই প্রোটেরিয়াল?

    প্রোটেরিয়াল বিশ্বব্যাপী উন্নত চৌম্বকীয় উপকরণ এবং বিশেষায়িত ধাতব প্রযুক্তির অন্যতম শীর্ষ সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটির পূর্ব নাম ছিল ‘হিটাচি মেটালস’ (Hitachi Metals)। নিওডিমিয়াম (NdFeB) চুম্বক প্রযুক্তির পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে এটি অন্যতম হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং উৎপাদন দক্ষতার মাধ্যমে সংস্থাটি বিশ্ববাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। বর্তমানে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, চিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম রয়েছে। গত অর্থবছরে সংস্থার একত্রিত আয় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি ছিল বলে জানা গেছে।

    কর্মসংস্থান ও শিল্পোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব

    বিশ্লেষকদের মতে, অন্ধ্রপ্রদেশে এই বৃহৎ বিনিয়োগের ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দেশীয় সরবরাহকারী, প্রযুক্তি সংস্থা এবং সহায়ক শিল্পগুলিও উপকৃত হবে। ভারতে বৈদ্যুতিক গাড়ি, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং উন্নত উৎপাদন শিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে বিরল মাটি চুম্বকের চাহিদা আগামী বছরগুলিতে আরও বাড়বে। সেই চাহিদা পূরণে এই কারখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    বিশ্বব্যাপী বিরল মাটি সরবরাহ: ভারতের অবস্থান শক্তিশালী হবে

    বিশ্বজুড়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির প্রসারের ফলে বিরল মাটি চুম্বক (Rare Earth Magnets) এখন কৌশলগত সম্পদে পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রোটেরিয়ালের মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থার ভারতমুখী বিনিয়োগ দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের গুরুত্বও বাড়াবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভারত শুধু আমদানি কমাতেই সক্ষম হবে না, ভবিষ্যতে বিরল মাটি-ভিত্তিক উন্নত প্রযুক্তি উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

  • Abhishek Banerjee: অভিষেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের, ঘোর বিপাকে ‘ভাইপো’!

    Abhishek Banerjee: অভিষেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের, ঘোর বিপাকে ‘ভাইপো’!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গা থেকে খসে পড়ছে একের পর এক রক্ষাকবচ। ক্রমেই শিরঃপীড়া বাড়ছে তৃণমূলের সেনাপতি তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার ওপর দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। খারিজ করে দিয়েছে তাঁর আবেদনও (Defamation Case)।

    অভিষেকের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা (Abhishek Banerjee)

    জানা গিয়েছে, ভোপালের বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালতে দায়ের হওয়া একটি মানহানি মামলায় অভিষেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে ওই পরোয়ানার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। তবে এবার বিচারপতি প্রমোদ কুমার আগরওয়ালের সিঙ্গল বেঞ্চ সেই স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে মামলার আবেদন খারিজ করে দেয়। মামলার সূত্রপাত ২০২১ সালে। বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র ছেলে তথা প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক আকাশ বিজয়বর্গীয় ভোপালের এমপি-এমএলএ আদালতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ, ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে কলকাতার এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আকাশকে ‘গুন্ডা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন তৃণমূলের ভাতিজা।

    স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার

    এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ভোপাল আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর আইনজীবীদের দাবি ছিল, তিনি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, এবং তাঁর পালিয়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। সেই যুক্তির ভিত্তিতেই অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছিল আদালত। বুধবার এই মামলার শুনানির সময় আবেদনকারীর (পড়ুন, অভিষেকের) পক্ষে কোনও আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, আবেদনকারী সম্ভবত মামলাটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়েছেন। এরপরই আদালত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে আবেদন খারিজ করে দেয় এবং আদেশের অনুলিপি অবিলম্বে ভোপাল আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় (Abhishek Banerjee)।

    আদালতের এহেন নির্দেশের ফলে আইনিভাবে অভিষেকের বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর হওয়ার পথ ফের খুলে গেল বলেই মনে করছে আইনজ্ঞদের একাংশ (Defamation Case)। রাজনৈতিক মহলেও এই রায়কে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে (Abhishek Banerjee)।

  • FIFA World Cup 2026: ম্লান রোনাল্ডো, জোড়া গোল হ্যারি কেনের! আটকে গেল পর্তুগাল, জয় দিয়ে শুরু ইংল্যান্ডের

    FIFA World Cup 2026: ম্লান রোনাল্ডো, জোড়া গোল হ্যারি কেনের! আটকে গেল পর্তুগাল, জয় দিয়ে শুরু ইংল্যান্ডের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হোঁচট খেয়ে শুরু করল পর্তুগাল। বুধবার ডিআর কঙ্গোর কাছে আটকে গেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দল। ১-১ ফলে শেষ হল ম্যাচ। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলেও খুঁজে পাওয়া গেল না রোনাল্ডোকে। অন্যদিকে, আট বছর আগে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) শেষ হয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ডের। বুধবার রাতে ডালাসে সেই ক্রোয়েশিয়াকেই চার গোল মেরে ইংল্যান্ড বুঝিয়ে দিল, এ বার তাদের হালকা ভাবে নিলে ভুগতে হবে। দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ড যে ফুটবল খেলেছে তা রোজ দেখা গেলে বিপক্ষ দলগুলির কপালে দুঃখ আছে। তরুণ দল নিয়েও ক্রোয়েশিয়ার কপালে হারই জুটল। রক্ষণ ডোবাল তাদের।

    মেসির সামনে ম্লান রোনাল্ডো

    লিয়োনেল মেসি, আর্লিং হালান্ড, কিলিয়ান এমবাপে— এই মুহূর্তে বিশ্ব ফুটবলে যাঁদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়, তাঁরা প্রত্যেকেই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে গোল পেয়েছেন। মেসি তো হ্যাটট্রিকও করেছেন। ফলে বুধবার রোনাল্ডো কী করেন সে দিকে অনেকেরই নজর ছিল। প্রথম দিনই তাঁরা হতাশ হলেন। রোনাল্ডো আগাগোড়া যা খেললেন তাতে তাঁকে প্রথম একাদশে জোর করে রাখা হচ্ছে কি না, সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। কাতার বিশ্বকাপে রোনাল্ডোর সঙ্গে তৎকালীন পর্তুগালের কোচ ফের্নান্দো সান্তোসের ইগোর লড়াই নিয়ে চর্চা হয়েছিল। রোনাল্ডোকে প্রথম একাদশে রাখতেন না সান্তোস, যা নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। বিশ্বকাপের পর চাকরিও যায়। পর্তুগালের কোচ হওয়ার পর রবার্তো মার্তিনেজ ঘোষণা করেছিলেন, তাঁর দল হবে রোনাল্ডোকে ঘিরেই। তাই দলে একাধিক নেতা থাকা সত্ত্বেও ৪১ বছরের রোনাল্ডো প্রথম একাদশে তো ছিলেনই, তাঁর হাতেই উঠেছিল অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। খেলার শেষে কিন্তু নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারলেন না সিআর৭। পর্তুগাল-কঙ্গো ম্যাচ শেষ হওয়ার পর রোনাল্ডো যখন টানেলের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন গ্যালারিতে থাকা দর্শকেরা তাঁকে দেখে বিদ্রুপ করতে শুরু করেন। মেসির নামে চিৎকার শুরু করেন তাঁরা। রোনাল্ডোদের ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে খেলতে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। হ্যাটট্রিক করে দলকে জিতিয়েছেন মেসি। সেই কারণেই হয়তো তাঁর নাম করে রোনাল্ডোকে টিটকিরি করেন দর্শকেরা।

    হ্যারি কেনের ঝড়

    চলতি বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো বাদে মোটামুটি সব বড় তারকা ফুটবলারই গোল করেছেন। চোখ ছিল হ্যারি কেনের দিকেও। হতাশ করলেন না ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে মরসুমটা ভাল গিয়েছে তাঁর। দেশের জার্সিতেও এই ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখলেন। দু’টি গোল এল তাঁর থেকে। ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে ১০টি গোল করে ফেললেন কেন। একটি করে গোল জুড বেলিংহ্যাম এবং মার্কাস রাশফোর্ডের। ডালাসে প্রথমার্ধেই হয় চার গোল। দু’বার পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ডের আগ্রাসী ফুটবলের সামনে দাঁড়াতে পারেনি তারা। খেলায় ইংল্যান্ডের দাপট ক্রমশ বাড়তে থাকে। বলের নিয়ন্ত্রণ থেকে গোল লক্ষ্য করে শট, সবেতেই তারা এগিয়ে ছিল। কেন যেখানে সাফল্য পেলেন, সেখানে মদ্রিচ একেবারেই নিষ্প্রভ। তাঁকে বাধ্য হয়ে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি তুলে নিতে হল। বুধবারের প্রথম ম্যাচে বিশ্ব দেখেছে কী ভাবে ৪১ বছরের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো নিষ্প্রভ থেকেছেন। পরের ম্যাচে ৪০-এর মদ্রিচেরও একই অবস্থা হল। বয়স ছুঁয়েছে তাঁর খেলাকেও।

  • India Defence Production: ৫ বছরে দ্বিগুণ! প্রতিরক্ষা উৎপাদনে রেকর্ড ভারতের, বদলে যাচ্ছে শক্তির সমীকরণ

    India Defence Production: ৫ বছরে দ্বিগুণ! প্রতিরক্ষা উৎপাদনে রেকর্ড ভারতের, বদলে যাচ্ছে শক্তির সমীকরণ

    সুশান্ত দাস

    প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে ভারত। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের মোট প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল্য পৌঁছেছে রেকর্ড ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায়, যা ২০২০-২১ অর্থবর্ষের ৮৪,৬৪৩ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ১১০ শতাংশ বেশি। সহজ ভাষায়, ৫ বছরে প্রতিরক্ষা উৎপাদন বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তির অন্যতম দ্রুততম সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই সাফল্যকে।

    বৃদ্ধির নেপথ্যে ৫ কারণ

    তবে শুধু সংখ্যার বিচারে এই অগ্রগতি বিচার করলে পুরো ছবিটা ধরা পড়বে না। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে কীভাবে ভারত প্রতিরক্ষা উৎপাদনে এত বড় লাফ দিতে সক্ষম হল? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ— সরকারি নীতিগত সংস্কার, বেসরকারি শিল্পের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ, প্রতিরক্ষা রফতানির বিস্তার, দেশীয় অস্ত্র ও সামরিক প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন এবং বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সামরিক ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে নতুন সুযোগের সৃষ্টি।

    আমদানি-নির্ভরতা থেকে আত্মনির্ভরতার পথে

    দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিকারক দেশ ছিল ভারত। যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন, আর্টিলারি ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও উন্নত সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিদেশি সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরশীলতা ছিল অত্যন্ত বেশি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই নির্ভরতা একটি কৌশলগত দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত হতে শুরু করে। বিশেষ করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আবহে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে গত এক দশকে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের নকশা, গবেষণা, উন্নয়ন ও উৎপাদনকে উৎসাহিত করে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে যেখানে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল্য ছিল ৪৩,৭৪৬ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সম্প্রতি দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, স্থল, জল ও আকাশ—তিন ক্ষেত্রেই ভারত উল্লেখযোগ্য দেশীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তুলেছে এবং জাতীয় নিরাপত্তায় আত্মনির্ভরতার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই উৎপাদন-সাফল্যকে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা-শিল্পভিত্তির প্রমাণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এই অর্জনের পেছনে রয়েছে সরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থা, বেসরকারি শিল্প এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আওতায় গৃহীত বিভিন্ন নীতিগত সংস্কারের সম্মিলিত অবদান।

    নীতিগত সংস্কারেই তৈরি হয়েছে ভিত

    প্রতিরক্ষা উৎপাদনে এই লাফের অন্যতম প্রধান কারণ হল ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কার। কেন্দ্রীয় সরকার ‘পজিটিভ ইন্ডিজেনাইজেশন লিস্ট’ চালু করে, যার ফলে শতাধিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের আমদানি সীমিত বা নিষিদ্ধ করা হয় এবং সেগুলির ক্রয় দেশীয় প্রস্তুতকারকদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। এর পাশাপাশি, প্রতিরক্ষা ক্রয় প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে, যাতে দেশীয় সংস্থাগুলি দ্রুত চুক্তি পেতে পারে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI)-এর সীমাও শিথিল করা হয়েছে। স্টার্ট-আপ এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উন্নয়নের লক্ষ্যে চালু হয়েছে ‘ইনোভেশনস্ ফর ডিফেন্স এক্সিলেন্স’ (iDEX) প্রকল্প। ফলে নতুন প্রযুক্তি, গবেষণা এবং স্থানীয় উৎপাদনে বিনিয়োগের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

    বৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি বেসরকারি শিল্প

    ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলির মধ্যে অন্যতম হল বেসরকারি শিল্পের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা। যদিও এখনও মোট উৎপাদনের প্রায় ৭৬ শতাংশ আসে ডিফেন্স পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিংস (DPSU) এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার কাছ থেকে, তবু বেসরকারি সংস্থাগুলির অংশীদারিত্ব দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বেসরকারি শিল্পের অবদান রেকর্ড ৪২,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট উৎপাদনের ২৪ শতাংশ। এক বছর আগে এই অংশীদারিত্ব ছিল ২২ শতাংশ। বড় শিল্পগোষ্ঠী, বিশেষায়িত প্রতিরক্ষা সংস্থা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক স্টার্ট-আপ মিলিয়ে এখন একটি বিস্তৃত প্রতিরক্ষা উৎপাদন পরিবেশ গড়ে উঠছে। শিল্পমহলের মতে, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয়করণের মতো উদ্যোগগুলিই এই সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করেছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং বেসরকারি খাতের বাড়তি অংশগ্রহণ ভারতের কৌশলগত সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

    দেশীয় যুদ্ধাস্ত্র প্রকল্পের পরিপক্বতা

    প্রতিরক্ষা উৎপাদন বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ হল বহু বছর ধরে চলা দেশীয় অস্ত্র ও সামরিক প্ল্যাটফর্ম উন্নয়ন প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নের পালে হাওয়া লাগা। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর তৈরি তেজস হালকা যুদ্ধবিমান প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে বিলম্ব ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার পর বর্তমানে তেজস এমকে-১এ উৎপাদন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। পাশাপাশি আরও উন্নত এমকে-২ সংস্করণের কাজও এগোচ্ছে। একইভাবে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। আগামী প্রজন্মের আকাশ-এনজি (Akash-NG) প্রকল্প এর পাল্লা, গতিশীলতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা আরও বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধজাহাজ, সাঁজোয়া যান, গোলাবারুদ, রেডার এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থার মতো একাধিক ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    প্রতিরক্ষা রফতানিতে রেকর্ড বৃদ্ধি

    প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পাশাপাশি রফতানিতেও নজির গড়েছে ভারত। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের প্রতিরক্ষা রফতানি পৌঁছেছে রেকর্ড ৩৮,৪২৪ কোটি টাকায়। এর ফলে দেশীয় প্রস্তুতকারকদের জন্য শুধু ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী নয়, আন্তর্জাতিক বাজারও উন্মুক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রফতানি বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হলে কোনও পণ্যের গুণমান, নির্ভরযোগ্যতা এবং খরচ—তিন ক্ষেত্রেই সক্ষমতা প্রমাণ করতে হয়। বিদেশি ক্রেতারা ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামকে এখন ক্রমশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার করছে। এর ফলে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ছে, উৎপাদন খরচ কমছে এবং গবেষণা ও উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

    বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির সুযোগ

    ভারতের এই অগ্রগতি এমন সময়ে এসেছে, যখন গোটা বিশ্বে সামরিক ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় ২.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২.৮৮৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এটি টানা একাদশ বছরের বৃদ্ধির রেকর্ড। ভারতও বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ সামরিক ব্যয়কারী দেশের মধ্যে রয়েছে। চিন ও পাকিস্তান-সংক্রান্ত নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যয় ৮.৯ শতাংশ বেড়ে ৯২.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ইউরোপ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং বিশ্বের অন্যান্য অংশে সামরিক আধুনিকীকরণের প্রবণতা ভারতের মতো উদীয়মান প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্রগুলির জন্য নতুন বাজার ও সুযোগ তৈরি করছে।

    সামনে কী চ্যালেঞ্জ?

    যদিও বর্তমান সাফল্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তবু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন যে ভারতের সামনে এখনও বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। উন্নত এরো ইঞ্জিন, বিশেষ ধরনের প্রোপালশন প্রযুক্তি, অত্যাধুনিক সেমিকন্ডাক্টর, পরবর্তী প্রজন্মের সেন্সর, মাইক্রো-ইলেকট্রনিক্স এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারত এখনও বিদেশি সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরশীল। পরবর্তী ধাপে আরও বড় সাফল্য অর্জনের জন্য গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো, দেশীয় সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা এবং উচ্চমূল্যের উন্নত প্রযুক্তি তৈরি করা অপরিহার্য।

    আত্মনির্ভরতা থেকে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা শক্তির পথে

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের এই রেকর্ড উৎপাদন শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিফলন। যে যাত্রা শুরু হয়েছিল আমদানি-নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে, তা এখন ধীরে ধীরে একটি বৃহত্তর শিল্পনীতিতে রূপ নিচ্ছে—যার লক্ষ্য ভারতকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করা। বিশ্ব যখন ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগ, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সামরিক আধুনিকীকরণের পথে এগোচ্ছে, তখন ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের এই উত্থান আগামী দশকে দেশের অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং কৌশলগত অবস্থানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

  • Donald Trump: হামলার মুখে পড়লে ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস ট্রাম্পের, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হলটা কী?

    Donald Trump: হামলার মুখে পড়লে ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস ট্রাম্পের, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হলটা কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত যদি কখনও হামলার শিকার হয়, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার পাশে দাঁড়াবে”, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) সঙ্গে বৈঠকের পর এমনই আশ্বাস দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পরে করেন যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন। সেখানেই ভারতের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের বার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের এহেন বার্তা থেকেই স্পষ্ট, ভারত-মার্কিন সম্পর্কের বরফ ফের গলছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে ট্রাম্পের এই মন্তব্য ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে নতুন করে মজবুত করারই ইঙ্গিত।

    ভারতের পাশে থাকার বার্তা (Donald Trump)

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প জানান, ভারত ও আমেরিকা এই দুই দেশের মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। তা সত্ত্বেও ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমেরিকা সাহায্য করতে প্রস্তুত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনও প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। কিন্তু ভারত আক্রান্ত হলে আমরা অবশ্যই সাহায্য করতে এগিয়ে আসব।” তাঁর এই মন্তব্যকে ভারতের প্রতি মার্কিন প্রশাসনের অন্যতম শক্তিশালী প্রকাশ্য নিরাপত্তা আশ্বাস হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসাও করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, মোদি বিশ্বের অন্যতম কঠিনতম নেতা এবং সবসময় ভারতের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেন।

    ‘উনি দেবদূতের মতো’

    ট্রাম্পের (Donald Trump) কথায়, “উনি খুবই ভদ্র মানুষ। কিন্তু অত্যন্ত কঠোর এক নেতা, যিনি সব সময় নিজের দেশের মানুষের জন্য লড়াই করেন।” তিনি বলেন, “মোদি যেমন ধীরস্থির, শান্ত এবং একই সঙ্গে কঠোর…আমি কিন্তু ওরকম নই!” ‘দেখতে দেবদূতের মতো’ এই যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্পের গলায় বারবার শোনা গিয়েছে মোদি-প্রশস্তি। কথা প্রসঙ্গে এক সময় রসিকতার সুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, মোদির শান্ত ও নম্র চেহারার আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে অত্যন্ত দৃঢ় এক নেতৃত্বের গুণ।তিনি বলেন, “উনি (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) দেখতে খুবই ভালো। দেখতে দারুণ লাগে, যেন সাক্ষাৎ দেবদূত। তবে, প্রয়োজনে কড়া পদক্ষেপ করতে পিছপা হন না। কিন্তু এত সুন্দর দেখতে যে সবাই চমকে যান। এমন মানুষ খুব কমই দেখা যায়। উনি ভারতীয়দের যেমন ভালবাসেন, আমেরিকাকেও ভালবাসেন। হিউস্টনে ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠান হয়েছিল। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল স্টেডিয়াম। সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে ফের ভারত সফরে যাব কখনও”।

    স্মৃতির সুখসাগরে ডুব ট্রাম্পের

    এর পরেই স্মৃতির সুখসাগরে ডুব দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর (Donald Trump) ভারত সফরের কথা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট জানান, সেই সফরে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিই প্রমাণ করে দিয়েছিল দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কের গভীরতা (PM Modi)। আবারও একবার মোদির প্রশংসা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “উনি বেশ কঠোর।…তবে, একবার মানুষটির দিকে তাকান। অত্যন্ত সুন্দর দেখতে।” ট্রাম্পের (Donald Trump) এই মন্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যেও হাসির রোল পড়ে যায়।

    উষ্ণ বার্তা

    সম্প্রতি উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযানে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত এবং আমেরিকা দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ভারত সরকার ওই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং আন্তর্জাতিক জলপথে অসামরিক নৌযান ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়। এই ঘটনার পর ভারতকে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করার চেষ্টা বলেই মত বিশ্লেষকদের।

    সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা

    দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সরবরাহ শৃঙ্খল, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে বলেই খবর। এছাড়াও, ভারত-আমেরিকার মধ্যে একটি বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আলোচনা এগোচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প (PM Modi)।

    হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

    এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিম এশিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা জানিয়ে দেন। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে হরমুজ প্রণালী সবসময় নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখা জরুরি।” প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্বের সামুদ্রিক খাতে কর্মরত নাবিকদের প্রায় ১০ শতাংশই (Donald Trump) ভারতীয় এবং তাঁদের নিরাপত্তা ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    আমেরিকায় ভারতের লগ্নিরও প্রশংসা

    ট্রাম্প ভারতের অর্থনৈতিক ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করছে, যা দুই দেশেরই অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করছে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদি দীর্ঘদিনের বন্ধু। তাঁর সঙ্গে আবার দেখা হওয়া খুবই আনন্দের।”

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে দুই নেতার মধ্যে শেষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক (PM Modi) হয়েছিল। পরবর্তীকালে শুল্কনীতি ও ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে কিছু মতপার্থক্য তৈরি হলেও, সাম্প্রতিক এই বৈঠক দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে (Donald Trump) আরও এগিয়ে নেওয়ারই বার্তা দিয়েছে বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক মহলের।

     

LinkedIn
Share