Blog

  • BJP: নতুন জাতীয় কমিটিতে বড়সড় রদবদল বিজেপির, বাংলায় গুরুত্ব উত্তরবঙ্গের

    BJP: নতুন জাতীয় কমিটিতে বড়সড় রদবদল বিজেপির, বাংলায় গুরুত্ব উত্তরবঙ্গের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সর্বভারতীয় সংগঠনে বড়সড় রদবদল করল বিজেপি (BJP)। সোমবার দলের নয়া  জাতীয় পদাধিকারীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে একদিকে যেমন একাধিক অভিজ্ঞ নেতাকে তাঁদের পুরনো দায়িত্বেই রাখা হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা দেওয়া হয়েছে নতুন মুখকে। বিশেষ নজর কেড়েছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুই নেতার অন্তর্ভুক্তি (New National Committee)। জাতীয় সহ-সভাপতি পদে জায়গা পেয়েছেন মধুছন্দা কর এবং জাতীয় সম্পাদক করা হয়েছে আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গাকে। ফলে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে বাংলার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গও বিশেষ গুরুত্ব পেল বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

    নয়া কমিটিতে কারা (BJP)

    নতুন কমিটি ঘোষণা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। সোমবার থেকেই নতুন কমিটি দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করেছে। আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, রাজ্যগুলিতে সাংগঠনিক বিস্তার বাড়ানো এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে দলের প্রভাব বাড়ানোই নতুন কমিটির অন্যতম লক্ষ্য বলেই অনুমান। নতুন তালিকায় জাতীয় সহ-সভাপতি পদে একাধিক পুরনো মুখকে বহাল রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া, তীর্থ সিং রাওয়াত, রাম মাধব, বৈজয়ন্ত জয় পাণ্ডা, ডি. পুরানদ্বেশ্বরী, রেখা বর্মা, বর্ষাবেন নরেন্দ্রভাই জোশী, ভারতী প্রবীণ পাওয়ার, মনপ্রীত সিং বাদল, লাল সিং আর্য, এম নাগরাজ এবং তারিক মনসুর। এই তালিকায়ই নতুন করে জায়গা পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মধুছন্দা। জাতীয় সহ-সভাপতিদের তালিকায় মোট ১৩ জনের মধ্যে পাঁচ জন মহিলা রয়েছেন। ফলে সংগঠনের শীর্ষস্তরে মহিলা নেতৃত্বকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাও এই তালিকা থেকে স্পষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মধুছন্দার অন্তর্ভুক্তি রাজ্য সংগঠনের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    বাংলার প্রতিনিধিত্ব

    জাতীয় সম্পাদক পদেও বাংলার প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজকে জাতীয় সম্পাদক করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের এই বিজেপি নেতার সর্বভারতীয় সংগঠনে অন্তর্ভুক্তি আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক গুরুত্ব আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরবঙ্গকে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে তুলে ধরা হয়। সেই অঞ্চলের এক সাংসদকে জাতীয় স্তরের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়ার ফলে উত্তরবঙ্গে দলীয় সংগঠন আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা (BJP)। জাতীয় সাধারণ সম্পাদক পদেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে রাখা হয়েছে। বিনোদ তাওড়ে, সুনীল বনশল, বিপ্লব কুমার দেব, স্মৃতি ইরানি, সতীশ পুনিয়া, গজেন্দ্র প্যাটেল, হরিশ দ্বিবেদী এবং সঞ্জয় ভাটিয়া এই পদে থাকছেন। আট জন জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে একমাত্র মহিলা হিসেবে জায়গা পেয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। তাঁর অন্তর্ভুক্তি নতুন কমিটির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক। এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। এবার দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় তাঁকে জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হল।

    জাতীয় সাধারণ সম্পাদক

    জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিএল সন্তোষকেও বহাল রাখা হয়েছে। সংগঠনের ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের ভূমিকার উপর দল যে আস্থা রাখছে, নতুন তালিকায়ও তার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। জাতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিবপ্রকাশ ও সওদান সিংকে (New National Committee)। জাতীয় সম্পাদকদের তালিকায়ও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম রয়েছে। কবিতা পাটিদার, কে সুরেন্দ্রন, ভোলা সিং, প্রদীপ বর্মা, জগদীশ ঈশ্বরভাই প্যাটেল, সন্দীপ পাঠক, ফ্যাংনন কোন্যাক, সঙ্গীতা যাদব, অনিল অ্যান্টনি, এম ভেঙ্কটেশন, মনোজ টিগ্গা, সিদ্ধার্থ শম্ভু, স্বদেশ সিং, মৃগাঙ্ক দেব বর্মন, রোহন গুপ্ত এবং জয় প্রকাশকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায়ও বিভিন্ন রাজ্য ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব রাখার চেষ্টা করা হয়েছে (BJP)। দলের আর্থিক কাঠামোয়ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে জাতীয় কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর সহকারী হিসেবে জাতীয় যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ পদে রাজেশ মঙ্গলকে রাখা হয়েছে। পীযূষের মতো অভিজ্ঞ নেতাকে দলের আর্থিক দায়িত্বে আনা নতুন কমিটির অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত।

    কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তন

    কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তন হয়েছে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকছেন তরুণ চুগ। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সম্পাদক করা হয়েছে মহেন্দ্র পাণ্ডেকে। উত্তর-পূর্ব ভারতের সংগঠনের ক্ষেত্রেও পৃথক দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। উত্তর-পূর্ব সমন্বয়কের দায়িত্ব পেয়েছেন সম্বিত পাত্র এবং যুগ্ম সমন্বয়কের দায়িত্ব পেয়েছেন রাজীব বব্বর। দলের বিভিন্ন শাখায়ও নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যুব মোর্চার সভাপতি হয়েছেন হেমাঙ্গ যোশী। মহিলা মোর্চার দায়িত্ব পেয়েছেন রূপকুমারী চৌধুরি। অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির মোর্চার দায়িত্বে রয়েছেন অমরপাল মৌর্য। কৃষক মোর্চার সভাপতি হয়েছেন বংশীলাল গুর্জর। তফশিলি জাতি মোর্চার দায়িত্ব পেয়েছেন শিবেশ কুমার রাম এবং তফশিলি জনজাতি মোর্চার সভাপতি হয়েছেন মান্নালাল রাওয়াত। সংখ্যালঘু মোর্চার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুঁওয়ার বাসিত আলিকে। গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রেও নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। গণমাধ্যম আহ্বায়ক হয়েছেন অনিল বলুনি। সহ-আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন আশিস ঊষা আগরওয়াল, প্রদীপ ভাণ্ডারী এবং সিদ্ধার্থ যাদব। সোশ্যাল মিডিয়ার আহ্বায়ক করা হয়েছে দীপক মাসকেকে। সহ-আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন প্রীতি গান্ধী, শিবানন্দ দ্বিবেদী, অলোক ভাট এবং অরুণ যাদব।

    ভারসাম্য রাখার চেষ্টা

    সব মিলিয়ে নতুন জাতীয় কমিটিতে অভিজ্ঞতা ও নতুন নেতৃত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব (New National Committee)। পুরনো মুখের উপর আস্থা রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্য, মহিলা নেতৃত্ব এবং সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে মধুছন্দা এবং মনোজের অন্তর্ভুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মনোজের জাতীয় সম্পাদক হওয়া উত্তরবঙ্গের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের (BJP)। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এখনও দূরে। কিন্তু তার আগেই জাতীয় স্তরে সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিজেপি। নতুন কমিটির দায়িত্ব বণ্টন থেকে স্পষ্ট, রাজ্যভিত্তিক সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি মহিলা, যুব, কৃষক, অনগ্রসর শ্রেণি, তফশিলি জাতি, তফশিলি উপজাতি এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে দলের সাংগঠনিক উপস্থিতি বাড়ানোর উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও নতুন দুই মুখকে জাতীয় দায়িত্ব দিয়ে (New National Committee) রাজ্যে দলের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে পদ্ম-শিবির (BJP)।

     

  • Lashkar-e-Taiba: ‘দিল্লিকে কনে সাজানো হবে, মুম্বইয়ে উড়বে পাকিস্তানের পতাকা’! সীমান্তপার থেকে ফের ভারতকে হুমকি লস্কর জঙ্গির

    Lashkar-e-Taiba: ‘দিল্লিকে কনে সাজানো হবে, মুম্বইয়ে উড়বে পাকিস্তানের পতাকা’! সীমান্তপার থেকে ফের ভারতকে হুমকি লস্কর জঙ্গির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতকে ফের প্রকাশ্যে হুমকি দিল পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার ( Lashkar-e-Taiba) সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত ইমরান লিয়াকত ভাট্টি। ১৪ অগাস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে কাসুরের একটি লস্কর শিবির থেকে দেওয়া বলে দাবি করা একটি ভিডিওতে ভাট্টিকে উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে দেখা গিয়েছে। সেখানে সে দাবি করে, একদিন দিল্লিকে ‘কনে সাজানো হবে’ এবং ‘মুম্বইয়ে পাকিস্তানের পতাকা উড়বে’। ভিডিও এবং অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ভাট্টি শুধু দিল্লি ও মুম্বই নয়, কাশ্মীর, গুজরাট, হায়দরাবাদ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল নিয়েও বিতর্কিত ও আগ্রাসী মন্তব্য করে। তার বক্তব্যে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রসঙ্গ টেনে ভারতের ভূখণ্ড দখলের উগ্রপন্থী বয়ান তুলে ধরা হয়। এই ভিডিও আবারও প্রমাণ করল প্রকাশ্যে পাকিস্তানের মাটি থেকে ভারত-বিরোধী প্রচার চালানো হচ্ছে।

    কাসুরের লস্কর শিবির থেকেই হুমকি

    ঘটনার সময় ও স্থানকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের দিন ভারতের সীমান্তের কাছাকাছি কাসুর শহর থেকে এই বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ, ভাট্টির বক্তব্যের সঙ্গে একটি লস্কর শিবিরের যোগসূত্রের কথাও উঠে এসেছে। ভাট্টি ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে নিশানা করার অভিযোগ তোলে এবং আফগানিস্তানে ‘অবিশ্বাসীদের’ উপস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করে। এরপর দেশভাগের ইতিহাসকে সামনে এনে কাশ্মীর-সহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল দখলের উগ্রপন্থী বক্তব্য দেয় বলে অভিযোগ।

    মুম্বইয়ে পাকিস্তানের পতাকা

    ভাট্টির বক্তব্যের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অংশ ছিল দিল্লি ও মুম্বইকে ঘিরে তার মন্তব্য। হুমকির সুরে বলে, ‘দিল্লিকে কনে সাজানো হবে’ এবং দাবি করে, মুম্বইয়ে একদিন পাকিস্তানের পতাকা উড়বে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দিল্লি ভারতের রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র এবং মুম্বই দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র। ফলে এই দুই শহরকে নিশানা করে এমন বক্তব্যকে শুধু ভূখণ্ডগত দাবি নয়, ভারতীয় রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে উসকানিমূলক প্রচার হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, কোনও জঙ্গি নেতার প্রকাশ্য হুমকি নিজে থেকেই আসন্ন হামলার প্রমাণ নয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সাধারণত প্রচার, নিয়োগের বার্তা, অপারেশনাল পরিকল্পনা এবং বিশ্বাসযোগ্য হামলার হুমকির মধ্যে পার্থক্য করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে।

    লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে ভাট্টির যোগসূত্র

    বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইমরান লিয়াকত ভাট্টিকে লস্করের ক্যাডার এবং পাকিস্তান মার্কাজি মুসলিম লিগের (PMML) দক্ষিণ পাঞ্জাবের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে বাহাওয়ালপুরে একটি জনসভায় সে হাফিজ মহম্মদ সইদকে পিএমএমএল-এর প্রকৃত নেতা বলে দাবি করেছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই বক্তব্যকে পিএমএমএল-এর সঙ্গে নিষিদ্ধ লস্কর নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য যোগসূত্রের একটি ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনের যোগাযোগের অভিযোগ নতুন নয়। রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মতাদর্শ প্রচার, সমর্থক সংগঠিত করা এবং প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    মুম্বই হামলার ছায়া

    ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে লস্কর-ই-তৈবার। ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গেও সংগঠনটির নাম জড়িত। ওই হামলায় মুম্বইয়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জঙ্গি হামলা চালানো হয়েছিল। ফলে লস্কর ঘনিষ্ঠ কোনও ব্যক্তির মুখে দিল্লি ও মুম্বই নিয়ে প্রকাশ্য হুমকি ফের নিরাপত্তা মহলের নজর কাড়ার মতো ঘটনা। বিশেষ করে যখন বক্তব্যের সঙ্গে কাশ্মীর, দেশভাগ এবং ভারতের অন্যান্য অঞ্চল দখলের উগ্রপন্থী বয়ান যুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি লস্করের পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলিকে শক্তিশালী করার বিষয়ে জুলাই ২০২৬-এ বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল। ওই রিপোর্টগুলিতে ভাট্টিকে কাসুরে দায়িত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংগঠনটি নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি রাজনৈতিক কাঠামোকেও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।

    নজরে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি

    ভাট্টির বক্তব্যে ভারতের একাধিক অঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ শহরকে সরাসরি নিশানা করা হয়েছে। ফলে ভিডিও এবং সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বক্তব্য ভারতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির নজরে আসা স্বাভাবিক। ভিডিওর সঙ্গে সোশাল মিডিয়া পোস্টগুলিতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককেও ট্যাগ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এই ঘটনায় মূল প্রশ্ন শুধু ভাট্টির বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পাকিস্তানের মাটিতে নিষিদ্ধ বা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত ব্যক্তিরা কীভাবে প্রকাশ্যে ভারত-বিরোধী প্রচার চালানোর সুযোগ পাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

    পাকিস্তানের জঙ্গি-চ্যালেঞ্জ ফের সামনে

    ইমরান লিয়াকত ভাট্টির কথিত হুমকি পাকিস্তানে সক্রিয় ভারতবিরোধী উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কগুলির একটি বৃহত্তর চিত্র সামনে এনেছে। আন্তর্জাতিক চাপ, সন্ত্রাসবাদী অর্থায়নের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পাকিস্তানভিত্তিক কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রকাশ্য উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। দিল্লি ও মুম্বইয়ে পাকিস্তানের পতাকা ওড়ানোর দাবি কিংবা কাশ্মীর ও ভারতের অন্যান্য অঞ্চল ‘দখল’ বা ‘মুক্ত’ করার উসকানিমূলক বক্তব্য তাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে দেখার বিষয় নয়। এর মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ, উগ্রপন্থী মতাদর্শ এবং সীমান্তপারের প্রচারের যে বৃহত্তর নেটওয়ার্ক কাজ করে, তারই আরেকটি দিক সামনে এসেছে। তবে ভাট্টির বক্তব্যকে তাৎক্ষণিক হামলার নিশ্চিত ইঙ্গিত হিসেবে না দেখে, উগ্রপন্থী প্রচার ও হুমকির অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করাই নিরাপত্তা সংস্থাগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাছে এখন মূল বিষয় হল—এই বক্তব্যের পিছনে কোনও বাস্তব অপারেশনাল পরিকল্পনা রয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলি কীভাবে কাজ করছে, তা খুঁজে দেখা।

  • Jharkhand: ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলন, এবার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

    Jharkhand: ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলন, এবার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাঁচিতে ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে (Student Protest)। রবিবার, ১৬ অগাস্ট বিক্ষোভকারীরা মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের কুশপুতুল পোড়ান। ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের নিয়োগ পরীক্ষায় সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা মঞ্চের নেতৃত্বে এই আন্দোলন টানা ২৩ দিনে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে তাঁদের একাধিক দাবির বিষয়ে ক্ষমতাসীন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-কংগ্রেস জোট এখনও পর্যন্ত কার্যকরী কোনও পদক্ষেপ করেনি। রবিবার রাঁচির জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়াম থেকে আলবার্ট এক্কা চকের দিকে মশাল মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে পৌঁছে তাঁরা কুশপুতুল পোড়ান এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হলে ২০ অগাস্ট মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবন ঘেরাও করা হবে। অবশ্য ১৮ অগাস্টের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

    ক্ষমতাসীন জোটকে নিশানা (Jharkhand)

    নিয়োগ পরীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের সমস্যার যথাযথ সমাধান করছে না ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-কংগ্রেস সরকার। কংগ্রেসের কাছেও তাঁরা ঝাড়খণ্ডে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন।

    রাহুল গান্ধী এবং তেজস্বী যাদবের কুশপুতুল পোড়ানোর ঘটনা থেকে স্পষ্ট, আন্দোলন এখন আর শুধু নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই। ক্ষমতাসীন জোটের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও সরাসরি নিশানা করছেন আন্দোলনকারীরা।

    এর আগে রাজ্য বিধানসভার দিকে মিছিল করার সময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকেই আন্দোলনের সুর আরও আক্রমণাত্মক হয়েছে।

    হেমন্ত সোরেন ও রাহুল গান্ধীর ‘শোক’ পালন

    রবিবারের বিক্ষোভে এক আন্দোলনকারী মাথা ন্যাড়া করে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। হেমন্ত ও রাহুলের প্রতি ‘শোক’ প্রকাশের প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে তিনি ন্যাড়া হন। নিজেকে দুই নেতারই “ছোট ভাই” বলে দাবি করে ওই আন্দোলনকারী অভিযোগ করেন, পড়ুয়াদের সমস্যার প্রতি তাঁরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

    তাঁর আরও অভিযোগ, সরকারি চাকরি প্রত্যাশী তরুণদের সমস্যা সমাধানের চেয়ে রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের রাজনৈতিক ও পারিবারিক স্বার্থ নিয়েই বেশি ব্যস্ত (Jharkhand)।

    আর এক বিক্ষোভকারী রাহুলের ছাত্র-সংক্রান্ত অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের অন্যত্র পরীক্ষা নিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে রাহুল সরব হলেও, ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়াদের অভিযোগের সমাধানে তিনি যথেষ্ট উদ্যোগী নন।

    তবে এর আগে ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের মিছিলে পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছিলেন রাহুল। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ শোনার জন্য তিনি রাজ্য সরকারের কাছে আবেদনও জানিয়েছিলেন (Student Protest)।

    কী কী দাবি পড়ুয়াদের?

    নিয়োগ পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য একাধিক দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের প্রধান দাবিগুলি হল—১. অনিয়মের অভিযোগ ওঠা পরীক্ষাগুলি বাতিল করতে হবে।

    ২. নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করতে হবে।

    ৩. তদন্তের ফল প্রকাশ করতে হবে।

    ৪. অনিয়মের জন্য দায়ী আধিকারিক ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ৫. ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা আনতে হবে।

    ৬. অর্থ দফতরের শাখা আধিকারিক সন্তোষ কুমার মাস্তানার সাসপেনশন প্রত্যাহার করতে হবে। আন্দোলনকারীরা তাঁকে অনিয়মের বিষয়টি সামনে আনা এক তথ্যপ্রকাশকারী হিসেবে দাবি করছেন।

    ৭. মাস্তানার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহার করতে হবে।

    আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তাঁদের সমস্যা কোনও একটি নির্দিষ্ট পরীক্ষাকে ঘিরে নয়। গোটা সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে এই দাবি যুক্ত (Jharkhand)। ২০ অগাস্টের প্রস্তাবিত ঘেরাও কর্মসূচিতে যোগ দিতে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন প্রান্তের পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের রাঁচিতে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    ফের আলোচনায় বসার ডাক সরকারের

    পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার মধ্যেই ঝাড়খণ্ড সরকার ১৭ অগাস্ট আন্দোলনরত পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

    এর আগে সরকার ও পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও অচলাবস্থা কাটেনি। সরকারের পক্ষ থেকে পড়ুয়াদের কয়েকটি দাবি মেটানোর চেষ্টা করা হলেও, আন্দোলনকারীরা পরীক্ষা বাতিল এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে অনড় রয়েছেন।

    ২০ অগাস্টের ঘেরাও কর্মসূচির আগে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়া ঠেকানোর চেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে (Student Protest)।

    নিয়োগ পরীক্ষায় সংস্কারের ঘোষণা হেমন্তর

    সরকারি নিয়োগ পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে তিনি স্বীকার করেন, নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সরকারি চাকরি প্রত্যাশী তরুণদের আস্থায় প্রভাব পড়েছে।

    তিনি জানান, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত নিরপেক্ষভাবে করা হবে এবং যে-ই দোষী প্রমাণিত হোন না কেন, তাঁর পদমর্যাদা বা প্রভাব বিবেচনা না করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট বার্ষিক পরীক্ষা-পঞ্জি, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সময়মতো উত্তরপত্রের কী ও ওএমআর শিট প্রকাশ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক স্তরে জবাবদিহির ব্যবস্থা।

    পড়ুয়া, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের কাছ থেকে পরীক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করার পরামর্শ নিতে রাজ্য সরকার ‘পড়ুয়াদের সঙ্গে পড়ুয়াদের কণ্ঠস্বর’ উদ্যোগও শুরু করেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলেও ফের জানিয়েছেন (Jharkhand) সোরেন।

    নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা করবে কংগ্রেস

    নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে আলোচনার কথা জানিয়েছে কংগ্রেসও। ঝাড়খণ্ড কংগ্রেসের গণমাধ্যম দায়িত্বপ্রাপ্ত রাকেশ সিং জানান, ১৮ অগাস্ট রাজ্য কংগ্রেস একটি বৈঠক করবে। সেখানে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের পরিচালিত পরীক্ষায় সংস্কার নিয়ে আলোচনা হবে।

    দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পড়ুয়াদের উদ্বেগের বিষয়গুলি নিয়ে  আলোচনা হবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হবে (Student Protest)।

    রাজনৈতিক মাত্রা বাড়ছে আন্দোলনে

    দীর্ঘস্থায়ী এই আন্দোলন ক্রমশ রাজনৈতিক মাত্রা পাচ্ছে। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন এখন ক্ষমতাসীন জোটের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সরাসরি সমালোচনায় পরিণত হয়েছে। হেমন্তর পাশাপাশি রাহুল ও তেজস্বীর কুশপুতুল পোড়ানো সেই উত্তেজনা আরও ইন্ধন জুগিয়েছে।

    ১৭ অগাস্ট সরকারের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার সুযোগ অচলাবস্থা কাটাতে পারে। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তাঁদের দাবি পূরণ না হলে ২০ অগাস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করা হবে (Jharkhand)।

     

  • Air India Pilots Drug Test: ফের অস্বস্তিতে এয়ার ইন্ডিয়া, প্রাথমিক দফার মাদক পরীক্ষায় ব্যর্থ আরও ২ পাইলট

    Air India Pilots Drug Test: ফের অস্বস্তিতে এয়ার ইন্ডিয়া, প্রাথমিক দফার মাদক পরীক্ষায় ব্যর্থ আরও ২ পাইলট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফুকেট-দিল্লি এয়ার ইন্ডিয়া বিমানে ভয়াবহ ঘটনার পর পাইলটদের মাদক পরীক্ষা আরও জোরদার করেছে টাটা গোষ্ঠীর মালিকানাধীন এয়ার ইন্ডিয়া। এরই মধ্যে আরও দুই পাইলটের প্রাথমিক ড্রাগ স্ক্রিনিং পরীক্ষায় রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে সূত্রের খবর। তবে তাঁদের চূড়ান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও আসেনি। আপাতত দু’জনকেই ডিউটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফুকেট-দিল্লি বিমানের কমান্ডার অবতরণের পর করা পরপর দুটি ইউরিন ড্রাগ টেস্টে ব্যর্থ হওয়ার পরই পাইলটদের নিয়ে ব্যাপকভাবে ড্রাগ স্ক্রিনিং শুরু করে এয়ার ইন্ডিয়া। ওই পরীক্ষায় তাঁর শরীরে মারিজুয়ানা বা গাঁজার উপস্থিতি ধরা পড়েছিল বলে জানা যায়।

    কতজন পাইলটের ড্রাগ স্ক্রিনিং

    সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত ৩০০-রও বেশি এয়ার ইন্ডিয়া পাইলটের ড্রাগ স্ক্রিনিং করা হয়েছে। মাদক পরীক্ষার ক্ষেত্রে নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা এসওপি কার্যকর করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে সংস্থা। সাধারণত চূড়ান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে। এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস-এর প্রায় ৫,০০০ পাইলটকে এই বিশেষ ড্রাগ টেস্টের আওতায় আনা হয়েছে। ১৩ অগস্ট থেকে শুরু হয়েছে এই পরীক্ষা।

    কেন শুরু হলো এই ড্রাগ টেস্ট?

    ঘটনার কেন্দ্রে থাকা এয়ার ইন্ডিয়ার এয়ারবাস এ৩২০এনইও (Airbus A320neo) বিমানটি গত ৪ অগাস্ট উড়ানের সময় আচমকাই প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে যায়। ফুকেট-দিল্লি বিমানের এক কেবিন ক্রু সদস্য আগেই অভিযোগ করেছিলেন যে ওই পাইলট ‘পট’ বা গাঁজা সেবন করেছিলেন। সেই অভিযোগের পর ঘটনাটি আরও গুরুত্ব পায়। এই ঘটনার পরে বিমানের মুখ্য পাইলটের ড্রাগ টেস্ট করা হয়। প্রথম পরীক্ষার পরে তাঁর নমুনার মারিজুয়ানার টেস্ট পজিটিভ আসে বলে সূত্রের খবর। এর পরেই এয়ার ইন্ডিয়া গোষ্ঠীর সমস্ত পাইলটের ড্রাগ স্ক্রিনিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    যান্ত্রিক ত্রুটিও ছিল

    ফুকেট-দিল্লি বিমানের ঘটনায় বিমানের টেকনিক্যাল বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিমানের সিস্টেম লগ এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, প্রায় চার সেকেন্ড ধরে বিমানের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনা ঘটেছিল। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিমানের তিনটি হাইড্রলিক সিস্টেমে একাধিক ত্রুটির পর পাইলটের কমান্ড ছাড়াই এলিভেটর এবং আইলারন নড়াচড়া করেছিল। এর পাশাপাশি স্পয়লারগুলিও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

    ক্রু সদস্যদের নিয়মিত ড্রাগ টেস্ট

    বিমানের প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ফ্লাইট কন্ট্রোল পরিচালনায় হাইড্রলিক সিস্টেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এলিভেটর বিমানের নাক ওপরে বা নীচে ওঠানামা করে পিচ নিয়ন্ত্রণ করে। আইলারন বিমানের ডান-বাঁ দিকের ভারসাম্য বা রোল নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে স্পয়লার লিফট কমিয়ে ড্র্যাগ বাড়াতে সাহায্য করে এবং অবতরণের সময় বিমানকে ধীর করা ও ব্রেকিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ‘তীব্র টার্বুলেন্স’-এর সঙ্গে যুক্ত করা হলেও পরে বিমানের সিস্টেম লগ থেকে উঠে আসে যান্ত্রিক ত্রুটির আরও স্পষ্ট ছবি। ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছিল, অসামরিক বিমান চলাচলের নিয়ম মেনে তাদের ক্রু সদস্যদের নিয়মিত ড্রাগ টেস্ট করা হয় এবং ফুকেট-দিল্লি বিমানের ঘটনার কারণেই এই পরীক্ষা শুরু করা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাইলটদের উপর ব্যাপক ড্রাগ স্ক্রিনিং এবং দুই পাইলটের প্রাথমিক পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা বিমান সংস্থার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কড়াকড়ি করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

  • Bihar Temple Stampede: বিহারের মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে ৭ পুণ্যার্থীর মৃত্যু, আহত ১২, শোক রাষ্ট্রপতি-মোদি-রাজনাথের

    Bihar Temple Stampede: বিহারের মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে ৭ পুণ্যার্থীর মৃত্যু, আহত ১২, শোক রাষ্ট্রপতি-মোদি-রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিহারের লাখিসরাই জেলার অশোকধাম মন্দিরে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত সাত পুণ্যার্থীর। আহত হয়েছেন প্রায় ১২ জন। সোমবার ভোরে শ্রাবণ মাসের সোমবার উপলক্ষে মন্দিরে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়েছিল (President Droupadi Murmu)। সেই সময়ই আচমকাই ভিড়ের চাপ বেড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। মৃতদের অধিকাংশই মহিলা বলে সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর (Temple Stampede)। ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, “বিহারের লাখিসরাইয়ের অশোকধাম মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহানির খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানাই। আহত সকলের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”

    শ্রাবণী সোমে ব্যাপক ভিড় (President Droupadi Murmu)

    প্রশাসন সূত্রে খবর, সোমবার সকাল ৬টা ৪০ মিনিট নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। শ্রাবণ মাসের সোমবার হওয়ায় ভোর থেকেই অশোকধাম মন্দিরে পুণ্যার্থীদের থিকথিকে ভিড় জমতে শুরু করেছিল। শিবের উদ্দেশে প্রার্থনা ও জলাভিষেক করতে দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ মন্দিরে এসেছিলেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিড় ক্রমশ বাড়তে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মন্দিরে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় পুণ্যার্থীদের একাংশ ব্যারিকেড ঠেলে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ভিড় চলে যায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ঠেলাঠেলির চোটে আচমকাই কয়েক জন মাটিতে পড়ে যান। তাঁদের উপর দিয়েই অন্যরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মন্দির চত্বরে। ওই সময়ই স্থানীয় রেলস্টেশনে চলে আসে পর পর আরও দু’টি ট্রেন। তার জেরে মন্দিরে ভিড় আরও বেড়ে যায়। ভিড়ের চাপে মন্দির চত্বরে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে। সেই কারণেও ভয়ে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় পুণ্যার্থীদের মধ্যে। তবে ঠিক কীভাবে দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।

    ভিড় নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ

    দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। আহতদের কাছাকাছি বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই অনুমান। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনাক্রম খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে তদন্ত। অশোকধাম মন্দিরটি ইন্দ্রমণেশ্বর মহাদেব মন্দির নামেও পরিচিত। লাখিসরাই জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিবমন্দির এটি (President Droupadi Murmu)। শ্রাবণ মাসে এই মন্দিরে পুণ্যার্থীদের ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে সোমবারগুলিতে শিবলিঙ্গে জল ঢেলে জলাভিষেক করেন ভক্তরা। সোমবারের দিনগুলিতে তাই মন্দিরে ভিড় নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় (Temple Stampede)। এবার ভিড় আরও বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল শ্রাবণের তৃতীয় সোমবার। ধর্মীয় উৎসবের আবহের সঙ্গে বিপুল পুণ্যার্থী সমাগম এবং রেলপথে মানুষের আগমন—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।

    মৃতদের পরিবারকে ৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ

    দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে বিহার সরকার। মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী প্রতিটি মৃত পুণ্যার্থীর পরিবারের জন্য ৪ লাখ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছেন। মন্দিরে ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্দিরের ব্যারিকেড ব্যবস্থা, প্রবেশ ও বেরিয়ে আসার পথ, নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের অন্যান্য ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।

    শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

    অশোকধাম মন্দিরের দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিহারের লাখিসরাইয়ে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহানির ঘটনায় আমি অত্যন্ত ব্যথিত। এই শোকের সময়ে আমার ভাবনা শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির সঙ্গে রয়েছে। আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করছে (President Droupadi Murmu)।”

    প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও ঘটনায় গভীর দুঃখপ্রকাশ করেছেন। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেন। এক বার্তায় নীতীশ কুমার বলেন, “লাখিসরাইয়ের অশোকধাম মন্দিরে পদপিষ্টের ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। দুর্ঘটনায় পুণ্যার্থীদের মৃত্যুর খবর আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি (Temple Stampede)।”

    শোক প্রকাশ রাজনাথের

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, “বিহারের লাখিসরাইয়ের অশোকধাম মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”

    শ্রাবণ মাসে দেশের বিভিন্ন শিবমন্দিরে বিপুল পুণ্যার্থী সমাগম হয়। ফলে এই সময় মন্দিরগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রবেশ ও বেরোনোর পৃথক পথ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অশোকধাম মন্দিরের এই দুর্ঘটনা সেই ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাকেই আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে। প্রশাসনের তদন্তে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন (Temple Stampede) ঘটনা রুখতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, এখন সেদিকেই নজর সকলের (President Droupadi Murmu)।

     

  • Kolkata Rainfall: কলকাতার উপরেই গভীর নিম্নচাপ! শহরের নানা প্রান্ত জলমগ্ন, প্রবল বৃষ্টিতে তোলপাড় দক্ষিণবঙ্গ, জারি রেড অ্যালার্ট

    Kolkata Rainfall: কলকাতার উপরেই গভীর নিম্নচাপ! শহরের নানা প্রান্ত জলমগ্ন, প্রবল বৃষ্টিতে তোলপাড় দক্ষিণবঙ্গ, জারি রেড অ্যালার্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্রাবণের শেষ লগ্নে ঝোড়ো ব্যাটিং বর্ষার। চলতি বছর কম-বেশি মিলিয়ে প্রতিটা স্পেলেই ভালো খেলেছেন বর্ষারানি। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন নিম্নচাপ। স্বাধীনতা দিবসে একটু পরিষ্কার হলেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হয়েছে শহরের নানা প্রান্তে। রবিবারও ছোট ছোট স্পেলে ভিজেছে তিলোত্তমা। তবে, সোমবার নিম্নচাপ আর সক্রিয় বর্ষার যুগলবন্দিতে সকাল থেকে অঝোরে বৃষ্টি চলছে কলকাতা এবং শহরতলিতে। প্রথমে ঝিরঝিরে বৃষ্টি হলেও বেলা যত গড়াচ্ছে, বৃষ্টির দাপট তত বাড়ছে। হাওয়া অফিস আগেই জানিয়েছিল, নিম্নচাপের কারণে কলকাতায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে সোমবার। গোটা রাজ্যেই ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

    কলকাতার ঠিক উপরেই নিম্নচাপ

    আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপ অঞ্চলটি গত কয়েক ঘণ্টায় আরও সুস্পষ্ট হয়েছে। হাওয়া অফিস বলছে, বর্তমানে কলকাতার ঠিক উপরেই অবস্থান করছে নিম্নচাপ। এর জেরে আরও বৃষ্টি হবে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছে হাওয়া অফিস। বর্ষাকালীন অক্ষরেখা পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড হয়ে নিম্নচাপ অঞ্চলটির উপর দিয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। বঙ্গোপসাগরে জন্ম হওয়া নিম্নচাপ আরও শক্তি বাড়িয়ে অতিগভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। ধীরে ধীরে সেটি প্রবেশ করছে স্থলভাগে। বর্তমানে এর অবস্থান কলকাতার ঠিক মাথার উপর। ধীরে ধীরে সেটি দক্ষিণবঙ্গ হয়ে সরে যাবে ঝাড়খন্ডের দিকে। তবে, তার জেরে ভাসবে বাংলা। শুধু তাই নয়, ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বইবে দমকা বাতাসও। বাজ পড়লে কংক্রিটের নিচে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ আবহবিদের। নিম্নচাপের প্রভাবে মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টি চলবে।

    কোথায় কত বৃষ্টিপাত

    আগামী ২৪ ঘণ্টায় ১১৫ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির সতর্কতা মহানগরে। ঘণ্টায় ২০-৩০ মিলিমিটার বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে কলকাতায়। যত সময় যাবে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়বে। নিম্নচাপের কারণে সমুদ্রে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। তার বেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার। এর প্রভাবে সমুদ্র আপাতত উত্তাল রয়েছে। মৎস্যজীবীদের মঙ্গলবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

    • সোমবার চরম ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা থাকছে:  পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া।
    • সোমবার অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা: হাওড়া, হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান।
    • সোমবার ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা: কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং।
    • মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা: পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার

    শহরের বিভিন্ন প্রান্তে জল-যন্ত্রণা!

    প্রবল বৃষ্টিতে শহরের নিচু এলাকাগুলিতে জল জমতে শুরু করেছে। বন্ধ করা হতে পারে আন্ডারপাসগুলি। প্রবল বৃষ্টিতে রাস্তায় জল জমে ব্যাপক যানজটের আশঙ্কা। সোমবার সপ্তাহের প্রথম দিনে সকাল থেকে বৃষ্টিতে অফিস যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। বেলা বাড়তে বৃষ্টি বাড়ায় স্কুল থেকে বাড়ি ফিরতে সমস্যায় পড়েছে ছোটরা। সোমবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি কম। রাত থেকে দফায় দফায় চলা বৃষ্টিতে জলমগ্ন সল্টলেক, পাঁচ নম্বর সেক্টর, রাজারহাট-নিউ টাউন, দমদমের একাধিক এলাকা। বাগজোলা, কেষ্টপুর, নোয়াই, ইস্টার্ন ড্রেনেজ চ্যানেল-সহ একাধিক খাল জলে টইটম্বুর। সকাল থেকে তার জেরে দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসযাত্রীরা। অটো, টোটো, বাসের সংখ্যা তুলনায় কমেছে। কোথাও গোড়ালি সমান, কোথাও তারও বেশি জল জমেছে। ভিআইপি রোডে একাধিক জায়গা থেকে শুরু করে রাজারহাট-গোপালপুরের নিচু জায়গা জলমগ্ন। দমদম রোড, পি কে গুহ রোড-সহ দমদমের একাধিক রাস্তা ও এলাকার ছবিটাও কমবেশি একই। জল সরানোর চেষ্টা করছেন পুর কর্মীরা। তবে খাল, জলাশয়গুলি জলে ভরে থাকায় এলাকা থেকে জল সরতে সময় লাগছে। একই ছবি লেক টাউন, পাতিপুকুর, দক্ষিণ দমদমের একাধিক এলাকায়। উত্তর দমদম থেকে নিউ ব্যারাকপুরের নিচু এলাকায় জল জমেছে।

    যানজট ও গণপরিবহণে প্রভাব

    সপ্তাহের প্রথম দিনেই ব্যস্ত সময়ে এই টানা বৃষ্টির ফলে গণপরিবহণ ব্যবস্থা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। রাস্তায় অটো ও ট্যাক্সির সংখ্যা ছিল অন্য দিনগুলির তুলনায় বেশ কম। যে কয়েকটি ক্যাব বা ট্যাক্সি মিলছিল, অ্যাপে সেগুলির ভাড়া ছিল আকাশছোঁয়া। ফলে অফিসযাত্রী ও স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ বাস ও অন্যান্য যানবাহনের জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। পার্ক স্ট্রিট, ইএম বাইপাস এবং শিয়ালদা স্টেশন সংলগ্ন এলাকাগুলিতে গাড়ির চাকা প্রায় স্তব্ধ হয়ে যায়। কলকাতা পুরসভা ও ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেন্ট্রাল এভিনিউ, মহাত্মা গান্ধী রোড, ঠনঠনিয়া, কলেজ স্ট্রিট, আমহার্স্ট স্ট্রিট, পার্ক সার্কাস কানেক্টর এবং খিদিরপুর এলাকাগুলির প্রধান রাস্তায় হাঁটু সমান জল জমে যায়। এছাড়াও দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর, গড়িয়াহাট, বালিগঞ্জ সার্কুলার রোড এবং বেহালা ট্রাম ডিপো সংলগ্ন এলাকাগুলোতে জল জমে যাওয়ার কারণে গাড়ি চলাচলের গতি মারাত্মকভাবে কমে গেছে। বেশ কিছু জায়গায় বাস ও ছোট গাড়ির ইঞ্জিনে জল ঢুকে পথেই বিকল হয়ে পড়তে দেখা যায়, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যে শহরের প্রধান রাস্তাগুলিতে দেখা দেয় দীর্ঘ যানজট।

    বানভাসি বিভিন্ন জেলা!

    প্রবল বৃষ্টির জেরে বানভাসী হওয়ার আশঙ্কা থাকছে জেলাগুলিতে। ইতিমধ্যেই জল ছাড়তে শুরু করেছে ডিভিসি। মরশুমে এই প্রথম ৩২ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়ছে ডিভিসি। সেই কারণে প্লাবনের আশঙ্কা থাকছে জেলাগুলিতে। অপরদিকে, হলদিয়ার পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। ৫ দিনে ৫৫২ মিলিমিটার বৃষ্টি হলদিয়ায়। জলমগ্ন হলদিয়ায় শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টি। ২৪ ঘণ্টায় ১৩৭ মিলিমিটার সাগরদ্বীপে। দিঘায় ১১৪ মিমি, ডায়মন্ড হারবারে ১১২ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। কাঁথিতে বৃষ্টির পরিমাণ ৮০ মিলিমিটার। উপকূলে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে দমকা বাতাস বইবে।

    উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টি

    দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গেই উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টি চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত। সোমবার ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে শুধু জলপাইগুড়ি এবং কালিম্পঙে। মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিঙেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, কোচবিহারের মতো উত্তরের বাকি জেলায় মঙ্গলবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে।

  • BJP: ১০০ দিনে সরকারের খতিয়ান নিয়ে প্রচারে বিজেপি, শাহের সফর ঘিরে পদ্ম শিবিরে তৎপরতা তুঙ্গে

    BJP: ১০০ দিনে সরকারের খতিয়ান নিয়ে প্রচারে বিজেপি, শাহের সফর ঘিরে পদ্ম শিবিরে তৎপরতা তুঙ্গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বিজেপি (BJP) সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে ৪১ পাতার বিশেষ বই প্রকাশ করল বঙ্গ বিজেপি। ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংকল্প এবং সাফল্যের ১০০ দিন’ (Sankalp Achievements) শীর্ষক এই বইয়ে নয়া সরকারের প্রথম ১০০ দিনের বিভিন্ন কাজ, সামাজিক প্রকল্প, বিনিয়োগ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশ রুখতে গৃহীত পদক্ষেপের খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। বইয়ের প্রচ্ছদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের পরিকল্পনা, এই বইয়ের তথ্য নিয়েই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাবেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা।

    প্রথম ১০০ দিনের সাফল্য (BJP)

    রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনের সাফল্যকে সামনে রেখে জনসংযোগ বাড়ানোই পদ্মশিবিরের মূল লক্ষ্য। নিউটাউনে আয়োজিত প্রশিক্ষণ শিবিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা কত মানুষ পেয়েছেন, রাজ্যে কত বিনিয়োগ এসেছে এবং উন্নয়নমূলক ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, প্রকাশিত বইটিতে এ সংক্রান্ত একাধিক পরিসংখ্যানও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা। নতুন রাজ্য সরকার ক্ষমতায় আসার পর মহিলাদের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার এই প্রকল্প চালু করেছে। সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২৮ লাখেরও বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে এই আর্থিক সহায়তা পৌঁছনোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীও জানিয়েছিলেন, দেড় মাসের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মহিলা এই সুবিধা পেয়েছেন এবং যোগ্য বাকি প্রাপকদেরও প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পরে প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।

    একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প

    শুধু অন্নপূর্ণা যোজনাই নয়, বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, নারীকল্যাণ, কর্মসংস্থান এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথাও বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে খবর। জুন মাসে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরগুলিতেও অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, সুকন্যা সমৃদ্ধি, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে সাহায্য করা হয়েছিল (Sankalp Achievements)। শিল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রথম ১০০ দিনের সাফল্যের হিসাব সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি। রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ, শিল্পের সম্ভাবনা এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতিকে সরকারের সাফল্যের অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে বইয়ে উল্লিখিত মোট বিনিয়োগের অঙ্ক দলীয় প্রকাশনার পরিসংখ্যান হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে (BJP)।

    সীমান্ত সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ

    সীমান্ত সুরক্ষাও এই প্রচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের বিষয়টি নতুন সরকারের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। মে মাসে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফকে দ্রুত হস্তান্তর করা হবে। পরে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৭২.৬ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে মোট ১,০২৪.৭৫ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুপ্রবেশ রোখার বিষয়টিও বিজেপির প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, বিএসএফকে জমি দেওয়া এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বারবার জানিয়েছে রাজ্য সরকার। দলীয় প্রকাশনায় কতজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বা এই বিষয়ে কতগুলি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানও রাখা হয়েছে বলে দাবি বিজেপির।

    সংগঠন নিয়ে কড়া বার্তা

    ১০০ দিন পূর্তির এই প্রচারের পাশাপাশি সংগঠন নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। নিউটাউনের প্রশিক্ষণ শিবিরে দলীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তোলাবাজি বা কাটমানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল কোনওরকম আপস করবে না। শিবিরে তিনি বলেন, “বিধায়ক বা জেলা স্তরের কোনও নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজি বা কাটমানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল তাঁকে বরখাস্ত করতে দ্বিধা করবে না।” এই বক্তব্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অনুমতি নিয়েই বলা হয়েছে বলেও জানান শমীক। দলীয় সূত্রের দাবি, বর্তমানে বিজেপির বিধায়কদের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ জন দল ছেড়ে চলে গেলেও, সংগঠনের উপর তার বিশেষ প্রভাব পড়বে না—এমন বার্তাও শিবিরে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ব্যক্তির চেয়ে সংগঠনই যে বড়, এই অবস্থানও স্পষ্ট করতে চাইছেন রাজ্য নেতৃত্ব। ক্ষমতায় আসার পর দলের অভ্যন্তরে ‘শুদ্ধিকরণে’র যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার সঙ্গেও এই বার্তার যোগ রয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা (BJP)।

    দুর্নীতির অভিযোগে সাসপেন্ড বহু নেতা-কর্মী

    বিজেপির অন্দরে ইতিমধ্যেই একাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দলবিরোধী কার্যকলাপ, তোলাবাজি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, সাসপেন্ডের সংখ্যা আড়াইশো ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে জেলা স্তরের সংগঠন নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের মধ্যে। কয়েকটি জেলায় সভাপতিরা সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও (Sankalp Achievements) দলের অন্দরে আলোচনা রয়েছে। সেই কারণেই খুব শীঘ্রই এক ডজনেরও বেশি জেলা সভাপতিকে সরিয়ে সাংগঠনিক স্তরে বড়সড় রদবদল করা হতে পারে বলে খবর।

    বঙ্গ সফরে আসছেন শাহ!

    এমন আবহে শাহের সম্ভাব্য বঙ্গ সফর ঘিরে রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়ছে। বিজেপি সূত্রে খবর, তিন দিনের সফরে আগামী ২০ অগাস্ট কলকাতায় আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ২১ ও ২২ অগাস্ট তাঁর একাধিক দলীয় ও সরকারি কর্মসূচি থাকতে পারে। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি, প্রশাসনিক কাজকর্ম এবং রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সেই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। শুধু প্রশাসনিক বৈঠক নয়, শাহ নবান্নেও যেতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। সেখানে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গ বিজেপির কোর কমিটি এবং রাজ্য কমিটির বর্ধিত বৈঠকেও উপস্থিত থাকতে পারেন শাহ। ফলে তাঁর সফরকে একই সঙ্গে প্রশাসনিক এবং সাংগঠনিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পদ্ম নেতৃত্ব।

    বিজেপির অন্দরে তৎপরতা তুঙ্গে

    আগামী ১৯ অগাস্ট রাজ্যে বিজেপি সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। সেই উপলক্ষে একদিকে যেমন সরকারের কাজের প্রচারকে তৃণমূল স্তরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে তেমনি সংগঠনের ভিতরে শৃঙ্খলা ফেরাতে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে (BJP)। ১০০ দিনের সাফল্যের খতিয়ান সম্বলিত বই সামনে রেখে নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি প্রচার, সামাজিক প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তথ্য তুলে ধরা, সীমান্ত সুরক্ষায় জমি হস্তান্তরের পরিসংখ্যান জানানো এবং সরকারের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। তার মধ্যেই শাহের সম্ভাব্য সফর এবং জেলা স্তরে সাংগঠনিক (Sankalp Achievements) রদবদলের জল্পনা—সব মিলিয়ে সরকারের ১০০ দিন পূর্তিকে কেন্দ্র করে রাজ্য বিজেপির অন্দরে তৎপরতা এখন তুঙ্গে (BJP)।

  • West Bengal STF: রানা রউফকে কাঠমান্ডু থেকে কলকাতায় আনল কে? তপসিয়া থেকে গ্রেফতার আরও এক

    West Bengal STF: রানা রউফকে কাঠমান্ডু থেকে কলকাতায় আনল কে? তপসিয়া থেকে গ্রেফতার আরও এক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় সন্দেহভাজন জঙ্গি-যোগ এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে তদন্তে বড়সড় অগ্রগতি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের (STF)। ধৃত পাকিস্তানি নাগরিক রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমকে নেপালের কাঠমান্ডু থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা এবং তার জন্য ভুয়ো ভারতীয় নথি তৈরিতে সাহায্য করার অভিযোগে তপসিয়া থেকে আরও এক যুবককে গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। ধৃতের নাম ইমরান হোসেন। এর আগে রানার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে তপসিয়া থেকেই মহম্মদ ইজাজ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ফলে রানা-কাণ্ডে কলকাতা থেকে গ্রেফতারের সংখ্যা আরও বাড়ল।

    কাঠমান্ডু থেকে রানাকে কলকাতায় আনার অভিযোগ

    গত ১২ অগাস্ট উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে রানা রউফকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। তদন্তকারীদের অভিযোগ, পাকিস্তানের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে কলকাতায় বসবাস করছিল সে। নেপালের কাঠমান্ডু হয়ে ভারতে ঢুকে কলকাতায় ঘাঁটি গেড়েছিল রানা। তদন্তে উঠে এসেছে, ইমরান হোসেনই কাঠমান্ডু থেকে রানাকে কলকাতায় নিয়ে এসেছিল। শুধু তাই নয়, রানার জন্য ভুয়ো ভারতীয় নথি তৈরিতেও ইমরান সাহায্য করেছিল বলে অভিযোগ। সোমবার তাকে বারাসত আদালতে পেশ করা হবে। তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছেন তদন্তকারীরা। এসটিএফের ধারণা, ইমরানকে জেরা করলে রানা-যোগে আরও কয়েকজনের নাম সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে এসটিএফ।

    আইএসআই-যোগের অভিযোগ, তৈরি হচ্ছিল ‘সেল’?

    রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর হয়ে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভারতে একটি ‘সেল’ তৈরি করার দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে পুলিশ।অভিযোগ, সেনা ও বিএসএফের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছিল রানা। কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি, ভিডিও এবং মানচিত্র সংগ্রহেরও চেষ্টা করেছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। পুলিশের হাতে রানার পাকিস্তানি পাসপোর্টের নম্বর আসার পর তার আসল পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল সে। পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার ছক ছিল বলে অভিযোগ। বাংলাদেশ সীমান্তে রানার জন্য পাভেল নামে এক সহযোগী অপেক্ষা করছিল বলেও তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। তবে এখনও তার সন্ধান মেলেনি। বাংলাদেশেও কোনও মডিউল তৈরির পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে এসটিএফ।

    রানার ডায়েরিতে একাধিক দেশের নম্বর

    রানা নিজের মোবাইল নষ্ট করে দিয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। তবে তার কাছ থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার করা হয়েছে। সেই ডায়েরিতে নেপাল, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কার বেশ কিছু ফোন নম্বর পাওয়া গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই নম্বরগুলির সঙ্গে রানার কী ধরনের যোগাযোগ ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। ফলে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে।

    আল কায়দার মতাদর্শে জেহাদি মডিউল তৈরির অভিযোগ, ধৃত ২

    অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে আল কায়দার মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জেহাদি মডিউল তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় এবং বিড়লাপুরে অভিযান চালিয়ে জানাদুল বেগ ও সফিক শেখকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত দু’জনকে সোমবার আলিপুর আদালতে পেশ করা হবে। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, সমাজমাধ্যমে দেশবিরোধী ও সরকারবিরোধী প্রচার চালানোর অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে নোদাখালি থানায় মামলা হয়েছিল। সেই মামলার তদন্তে নেমে এসটিএফ তাদের সঙ্গে জেহাদি কার্যকলাপের যোগসূত্রের সন্ধান পায়।

    ‘মুঘলেজম’ ও ‘জেহাদ কি সবিবিল্লা’ নামে পেজ

    তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তেরা ‘মুঘলেজম’ এবং ‘জেহাদ কি সবিবিল্লা’ নামে দুটি সমাজমাধ্যমের পেজ খুলেছিল। ওই পেজগুলির মাধ্যমে উস্কানিমূলক ও দেশবিরোধী প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। শুধু প্রচার নয়, সমাজমাধ্যমকে ব্যবহার করে নিজেদের সংগঠনও বিস্তারের চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ। তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের সংগঠনে যুক্ত করার চেষ্টা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, জেহাদি মডিউল তৈরির পাশাপাশি অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টাও চলছিল। তবে এই অভিযোগগুলির বিস্তারিত প্রমাণ এবং মডিউলের পরিধি জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে এসটিএফ।

    হামিম মণ্ডল-কাণ্ডের পর ফের বড় অভিযান

    এর আগে, বর্ধমানে অভিযান চালিয়ে হামিম মণ্ডল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছিল রাজ্য এসটিএফ। তার সঙ্গে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এবং পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি গোষ্ঠীর যোগাযোগ থাকার অভিযোগ উঠেছিল। তারপরই হাবড়া থেকে পাকিস্তানি নাগরিক রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তপসিয়া থেকে মহম্মদ ইজাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এবার একই ঘটনায় ইমরান হোসেনের গ্রেফতারি তদন্তকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল। একই সময়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জেহাদি মডিউল তৈরির অভিযোগে জানাদুল বেগ ও সফিক শেখের গ্রেফতারি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, পশ্চিমবঙ্গে কোনও সংগঠিত নেটওয়ার্ক তৈরির চেষ্টা চলছিল কি না। রানা-যোগ এবং জেহাদি মডিউল— দুই মামলার তদন্তেই এখন নজর রয়েছে এসটিএফের। তবে দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

  • Ayushman Bharat In Bengal: স্বাস্থ্যসাথীর গণ্ডি পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চালু হল আয়ুষ্মান ভারত! জোড়া স্বাস্থ্য প্রকল্পের সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর

    Ayushman Bharat In Bengal: স্বাস্থ্যসাথীর গণ্ডি পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চালু হল আয়ুষ্মান ভারত! জোড়া স্বাস্থ্য প্রকল্পের সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। রাজ্যে চালু হয়ে গেল কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যবিমা যোজনা আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat In Bengal)। এর আওতায় ১৯৫০ ধরনের রোগের চিকিৎসার সুযোগ পাবেন গ্রাহকেরা। মিলবে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগও। একই সঙ্গে রাজ্যে চালু হল ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’। রবিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘আয়ুষ্মান দিবস’-এর মূল মঞ্চ থেকে এই জোড়া স্বাস্থ্য প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ দিন তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, পূর্বতন সরকারের আমলে ১৬ অগাস্ট দিনটিতে ‘খেলা হবে দিবস’ পালন করা হলেও বর্তমান সরকার মানুষের দীর্ঘায়ু কামনায় দিনটিকে ‘আয়ুষ্মান দিবস’ হিসেবে বেছে নিয়েছে।

    স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প বনাম আয়ুষ্মান ভারত

    পূর্বতন সরকারের আমলে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে পরিষেবা ঘিরে প্রায়শই অভিযোগ উঠত। বেড পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়তে হত রোগী এবং তাঁর পরিজনদের। এ বার সরকারবদলের পর রাজ্য এবং কেন্দ্রের জোড়া স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প চালু হল পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্য। কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা। পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে প্রথমে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগ থাকলেও তাতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। একটি পর্যায়ে তা বন্ধও হয়ে যায়। পরে আবার শর্তসাপেক্ষে চালু হয়েছিল। এ বার আয়ুষ্মান ভারতের হাত ধরে সরকারি স্বাস্থ্যবিমায় ফিরছে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুবিধা।

    রাজ্যে আয়ুষ্মান দিবস-এর গুরুত্ব

    রবিবার বিকেলে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু হল আয়ুষ্মান ভারত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্তারা। যাঁরা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমার আওতায় পড়ছেন না, তাঁদের জন্য চালু করা হল মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনাও। পাশাপাশি রাজ্যে সরকারি হাসপাতালগুলিতেও সুলভ মূল্যে ওষুধ এবং চিকিৎসাসামগ্রীর বিক্রয়কেন্দ্র চালু করতেও উদ্যোগী হয়েছে সরকার। ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত তুলে ধরে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন,“আজকের দিন ১৯৪৬: দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং ডে। ১০ হাজার হিন্দুকে খুন করা হয়েছিল কলকাতাতে। আগের সরকার খেলা হবে দিবস করত। আর বর্তমান সরকার আয়ুষ্মান ভব, আয়ুষ্মান দিবস পালন করছে আপনাদের শতায়ু প্রার্থনা করে।” তিনি কলকাতার ত্রাতা গোপাল মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করে প্রণাম জানান।

    চালু হবে ‘অমৃত ফার্মাসি’

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুধু চিকিৎসা পরিষেবা নয়, এবার সরকারি সহয়াতায় মিলবে ওষুধও। রাজ্যের ১০টি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চালু হবে ‘অমৃত ফার্মাসি’। এখান থেকে ৫০-৮০ শতাংশ ছাড়ে ওষুধ পাওয়া যাবে। এর জন্য ‘হিন্দুস্তান লাইফ কেয়ার লিমিটেড’-এর টেকনিক্যাল ডিরেক্টর (অপারেশনস) বেনি জোসেফের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর হয় রাজ্যের। ‘অমৃত ফার্মাসি’ গড়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাঁদের কথায়, এটি একটি ভাল উদ্যোগ। এর মানের সঙ্গে আপস করা হবে না, বলেও আশাপ্রকাশ করেন চিকিৎসকরা। এ দিন ‘হিন্দুস্তান লাইফ কেয়ার লিমিটেড’-এর সঙ্গে একটি মউ স্বাক্ষর করে রাজ্য। এই মউ-এর মাধ্যমে রাজ্যের ১০০টি সরকারি হাসপাতালে ‘অমৃত ফার্মাসি’ চালু করার বিষয়ে গাঁটছড়া বাঁধল সরকার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া জানান, ইতিমধ্যে বেশ কিছু রাজ্যে এই অমৃত ফার্মাসি চালু হয়ে গিয়েছে। এ বার পশ্চিমবঙ্গেও তা চালু হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ওষুধ এবং চিকিৎসাসামগ্রী ৫০-৮০ শতাংশ ছাড়ে কেনা যাবে। এখান থেকে ক্যানসার এবং হৃদ্‌রোগের চিকিৎসার জন্য ব্র্যান্ডেড এবং জেনেরিক ওষুধ পাওয়া যাবে। পাশাপাশি স্টেন্ট, পেসমেকারের মতো সরঞ্জামও পাওয়া যাবে সস্তায়।

    সুবিধা পাবেন ৬ কোটি রাজ্যবাসী

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাবে প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার। অর্থাৎ, প্রায় ৬ কোটি রাজ্যবাসী এর সুবিধা পাবেন। সত্তরোর্ধ্ব প্রত্যেক রাজ্যবাসীই এর সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি ৮০ লক্ষ রাজ্যবাসী পাবেন মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা। এ দিন যে দু’টি প্রকল্প চালু হল, তাতে সারা দেশের ৩৮,৬০৪টি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পূর্বতন সরকারের আমলে স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পে ১৭০০ রোগের চিকিৎসা পাওয়া যেত। এখন ১৯৫০ রোগের চিকিৎসা পাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, এর সঙ্গে ৪৬৭টি ‘প্রধানমন্ত্রী জনঔষধী কেন্দ্র’ এবং চোখের নিখরচায় চিকিৎসার জন্য ‘সুদৃষ্টি’ প্রকল্প রূপায়ণের কথাও।

    মিলবে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগ

    রাজ্যে নতুন দুই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের সূচনার সময়েই হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, আয়ুষ্মান ভারত, মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা— উভয় ক্ষেত্রেই এই সুবিধা মিলবে। শুভেন্দু বলেন, “স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাকে বলতে বারণ করেছিলেন। তা-ও বলে দিলাম।” বস্তুত, রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে প্রথমে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগ ছিল। কিন্তু সরকারি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকেরা ডিপার্টমেন্টে না থেকে নার্সিংহোমে গিয়ে হাঁটু প্রতিস্থাপন করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। স্বাস্থ্য ভবন হাঁটু অস্ত্রোপচারের বিল দেখে হতবাক হয়ে যায়‌। শুরু হয় তদন্ত। তার পর থেকে স্বাস্থ্যসাথীতে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়। পরে শর্তসাপেক্ষে তা চালুও হয়েছিল। এ বার ফের তা পুরোদমে চালু হচ্ছে নতুন দুই সরকারি স্বাস্থ্যবিমার হাত ধরে।

    গরিব মানুষ ভাল পরিষেবা পাবেন

    রাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশনের সদস্য তথা চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি ভীষণ ভাবে উপকৃত হবেন। তিনি বলেন, “এটা অনেক আগে হওয়ার কথা ছিল। আমরা জানি আয়ুষ্মান দিবস (কেন্দ্রীয় সরকারের) এপ্রিল মাসে। কিন্তু আজ প্রথম শুরু হল পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্যে কালো দিন ছিল। কালো দিনটা এ বার ভাল দিন হল। এর মাধ্যমে অনেকে, বিশেষ করে গরিবেরা ভাল রকম পরিষেবা পাবেন।” বস্তুত, ২০১৮ সালে দেশে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করে নরেন্দ্র মোদির সরকার। তবে পূর্বতন রাজ্য সরকারের আমলে তা পশ্চিমবঙ্গে বাস্তবায়িত হয়নি। এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল্‌স অ্যান্ড নার্সিংহোমস-এর সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে বলেন, “এটা আমাদের কাছে খুশির খবর। অন্য রাজ্যের রোগীরাও আমাদের কাছে আসতে পারবেন। এখানের বাসিন্দারা অন্য রাজ্যে গেলেও চিকিৎসা করাতে পারবেন।”

  • Fatty Liver: লিভারে চর্বি জমছে? প্রাতঃরাশের পাতে রাখুন এই খাবারগুলি, মিলবে উপকার

    Fatty Liver: লিভারে চর্বি জমছে? প্রাতঃরাশের পাতে রাখুন এই খাবারগুলি, মিলবে উপকার

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দেশ জুড়ে বাড়ছে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা। বিশেষত নন অ্যালকোহল ফ্যাটি লিভারের বিপদ আরও বাড়ছে। একাধিক সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে ফ্যাটি লিভারের সমস্যার ভুগছেন শিশু থেকে প্রৌঢ়! বিশেষত চল্লিশোর্ধ্বদের মধ্যে এই সমস্যা আরও বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদি ফ্যাটি লিভারের সমস্যা শরীরের একাধিক রোগের কারণ হয়ে উঠছে। লিভারের বড় জটিল সমস্যা, অন্ত্রের রোগ, হজমের গোলমাল এমনকি একাধিক হরমোন ঘটিত অসুখের নেপথ্যে থাকছে ফ্যাটি লিভার। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই রোগের প্রকোপ থেকে বাদ নেই শিশুরাও। ভারতীয় শিশুদের মধ্যেও ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বয়স দশ কিংবা বারো বছর। কিন্তু তারাও এই ধরনের সমস্যায় ভুগছে। ফলে দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপন মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত মদ্যপানের অভ্যাস থাকলেই ফ্যাটি লিভার হয়। কিন্তু গত এক দশকে সেই ভাবনা বদলে গিয়েছে। জীবন যাপনের ধরনের জেরেই ফ্যাটি লিভারের সমস্যা হচ্ছে। যার নাম নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার। তবে, এই সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে জলখাবার। এমনটাই জানাচ্ছেন, পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রাতঃরাশে কী খাওয়া হচ্ছে, তার উপরে নির্ভর করছে সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি। বিশেষত ফ্যাটি লিভারের মতো রোগের মোকাবিলায় প্রাতঃরাশ খুবই জরুরি।‌ এই ধরনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে প্রাতঃরাশের খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    প্রাতঃরাশের কোন খাবার ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে?

    মুগের ডালের ছিলা!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রাতঃরাশে সুষম খাবার নিয়মিত খেলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার লিভারে অপ্রয়োজনীয় চর্বি তৈরি করে। ফলে লিভারের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। জলখাবারে মুগ ডালের ছিলার মতো খাবার খেলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমে। তাঁদের পরামর্শ, মুগ ডালের পেস্ট বানিয়ে প্যানকেকের মতো তৈরি করতে হবে। তার মধ্যে কিছু সবুজ সব্জি যেমন ক্যাপসিকাম, বিনস কিংবা ভূট্টার মতো দানাশস্য ও দেওয়া যেতে পারে। তাহলে একসঙ্গে শরীরে প্রোটিন ও ভিটামিনের উপাদান পৌঁছবে। সকালে এই জাতীয় খাবার খেলে পেট ভরে থাকবে। অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়ার ঝুঁকি কমবে। আবার ভিটামিন ও ভালো প্রোটিন শরীরের ক্লান্তি কমাবে। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা মোকাবিলা সহজ হবে।

    ডিম ও সব্জি দিয়ে রুটি!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডিম, সবুজ সব্জি ও পরিমাণ মতো দানাশস্য একসঙ্গে নিয়মিত প্রাতঃরাশে থাকলে লিভারের কার্যক্ষমতা ভালো থাকবে। ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমবে। তাই তাঁদের পরামর্শ, নিয়মিত আটা, মিলেট বা বাজরার রুটি সব্জির পুর এবং ডিম দিয়ে বানিয়ে প্রাতঃরাশে খাওয়া যেতে পারে। সব্জির মধ্যে পালং শাক, গাজরের মতো সব্জি দেওয়া যেতে পারে। যেখান থেকে শরীর সহজেই ভিটামিন‌ সংগ্রহ করতে পারবে। আবার মাশরুম ও খাওয়া যেতে পারে।

    দই এবং বেরি মেশানো!

    টক দই লিভারের জন্য খুবই উপকারি।‌ তাই পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, ফ্যাটি লিভারের মতো রোগের মোকাবিলায় টক দই হাতিয়ার হতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেক সময় সকালের জলখাবার ভারি খেতে ইচ্ছে হয় না। কখনো কখনো হালকা খাবার খেতে ইচ্ছে হয়। এমন সময় বেরি মেশানো টক দই খাওয়া যেতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, টক দই অন্ত্রের জন্য উপকারি। এতে প্রচুর পরিমাণে উপকারি ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। ফলে লিভার, পাকস্থলী, অন্ত্র ভালো রাখে। আবার বেরিও শরীরের জন্য উপকারি। এতে মেদ জমে না। বরং স্থুলতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। ফলে, ফ্যাটি লিভারের মতো রোগ মোকাবিলা সহজ‌ হয়। তাই, ফ্যাটি লিভারের বিপদ রুখতে বেরি মেশানো টক দই খাওয়া যেতে পারে।

    সব্জি ও ডিম দেওয়া স্যান্ডুইচ!

    শশা, পিঁয়াজ, টমেটো, গাজর, লেটুস পাতার মতো রঙিন সব্জি শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এগুলোতে শরীরে মেদ জমে না।‌ বরং এই ধরনের খাবার ক্যালোরি ক্ষয় করতে সাহায্য করে। ফ্যাটি লিভার রুখতে এই ক্যালোরি ক্ষয় করা জরুরি। তাই সকালের জলখাবারে পাউরুটির ভিতরে শশা, পিঁয়াজ, টমেটো, লেটুস পাতা দিয়ে ভরে স্যান্ডুইচ বানিয়ে খাওয়া যেতে পারে। তবে এরসঙ্গে পাতে একটা বা দুটো সেদ্ধ ডিম রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদেরা।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন, ফাইবারের সঙ্গে প্রোটিন থাকা জরুরি। তাই সিদ্ধ ডিম থাকলে সুষম আহার হবে। ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিও কমবে। সুস্থ জীবন যাপনের জন্য প্রাতঃরাশে স্বাস্থ্যকর খাবার রাখা খুবই জরুরি। ফ্যাটি লিভারের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে লুচি, পরোটা, অতিরিক্ত তেলেভাজা জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে। পাশাপাশি, প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন বার্গার, পিৎজা এগুলো কখনোই খাওয়া যাবে না। কারণ এগুলো লিভারের ক্ষতিকারক চর্বির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
LinkedIn
Share