Blog

  • PM Modi: দেশের ইতিহাসে নয়া নজির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির, জানুন বিশদে

    PM Modi: দেশের ইতিহাসে নয়া নজির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির, জানুন বিশদে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার দেশের ইতিহাসে নয়া নজির গড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তিনি দেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ধরে সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি। এদিন তিনি সিকিমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পবন কুমার চামলিংকে (Pawan Kumar Chamling) ছাপিয়ে গিয়েছেন। প্রথমে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোট ৮,৯৩১ দিন দায়িত্ব পালন করে মোদি ভেঙে দিয়েছেন চামলিংয়ের ৮,৯৩০ দিনের রেকর্ড। এই মাইলফলক ভারতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যা দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক জনসেবা ও নেতৃত্বের প্রতিফলন। মোদি এর আগেও গুজরাটের দীর্ঘতম মেয়াদের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং তিনি এমন এক প্রধানমন্ত্রী, যাঁর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

    মোদির রেকর্ড (PM Modi)

    তিনি স্বাধীনতার পর জন্ম নেওয়া প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি ২০১৪, ২০১৯ ও ২০২৪- পরপর তিনটি লোকসভা নির্বাচনে নিজের দলকে জয়ী করেছেন। গত বছরের অক্টোবরে, সরকারের প্রধান হিসেবে ২৫তম বর্ষে পদার্পণের সময় প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) ভারতের জনগণকে ধন্যবাদ জানান। ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে নিজের যাত্রার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং জাতীয় অগ্রগতিতে অবদান রাখা আমার নিরন্তর প্রচেষ্টা। আমি অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম—যখন গুজরাট ভয়াবহ ভূমিকম্প, সুপার সাইক্লোন, ধারাবাহিক খরা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে গিয়েছিল।”

    রাজ্যকে পুনর্গঠনের দৃঢ় সংকল্প

    মোদি জানান, এই চ্যালেঞ্জগুলিই তাঁকে নতুন উদ্যম ও আশায় রাজ্যকে পুনর্গঠনের দৃঢ় সংকল্প দিয়েছে। একটি ব্যক্তিগত স্মৃতি তুলে ধরে তিনি জানান, তাঁর মা তাঁকে সবসময় গরিব মানুষের জন্য কাজ করতে এবং কখনও ঘুষ না নিতে পরামর্শ দিয়েছিলেন, যা তাঁর জীবনের পথপ্রদর্শক হয়ে রয়েছে (PM Modi)। তিনি তাঁর আমলে গুজরাটের রূপান্তরের কথাও তুলে ধরেন, যেখানে খরাপ্রবণ ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল একটি রাজ্য থেকে “সুশাসনের শক্তিকেন্দ্রে” পরিণত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে কৃষি, শিল্প ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে।

    বিকশিত ভারত গড়ার প্রতিশ্রুতি

    ২০১৩ সালে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়, যাকে তিনি “বিশ্বাস ও শাসনের সংকটে”র সময় হিসেবে উল্লেখ করেন। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁর দলকে নিরঙ্কুশ সমর্থন করার কৃতিত্ব তিনি দেন দেশবাসীকে। তিনি জানান, গত ১১ বছরে ২৫ কোটিরও বেশি মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছেন এবং বিশ্ব অর্থনীতির মধ্যে ভারত একটি উজ্জ্বল অবস্থানে পৌঁছেছে (Pawan Kumar Chamling)। ক্ষমতায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন উদ্যোগ নারী শক্তি, যুব  শক্তি এবং কৃষকদের উপকার করেছে। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের সেবা করা তাঁর কাছে সর্বোচ্চ সম্মানের বিষয় এবং সংবিধানের মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত “বিকশিত ভারত” গড়ার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি (PM Modi)।

     

  • PM Balendra Shah: নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ, রামনবমীতে জনকপুরেই শপথ গ্রহণ

    PM Balendra Shah: নেপালের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ, রামনবমীতে জনকপুরেই শপথ গ্রহণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র তথা জনপ্রিয় নেতা বালেন্দ্র শাহ পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী (PM Balendra Shah) হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন। সূত্রের খবর, শপথ গ্রহণের জন্য রামনবমীর (Ram Navami) দিন ২৬ মার্চকেই বেছে নিয়েছেন তিনি।

    রামনবমীর দিন শপথ কেন(PM Balendra Shah)?

    নেপালের ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (RSP)-র নিরঙ্কুশ জয়ের পর ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ এখন প্রধানমন্ত্রীর (PM Balendra Shah) পদে শপথ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তাঁর এই শপথ গ্রহণের সময় এবং স্থান নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।  বালেন্দ্র তাঁর শপথ গ্রহণের জন্য ‘রামনবমী’র (Ram Navami) দিনটিকে বেছে নিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি ধর্মীয় তিথি নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বার্তা। সাংস্কৃতিক সংযোগের মাধ্যমে তিনি নেপালের সনাতন হিন্দু ঐতিহ্য এবং ভারতের সঙ্গে থাকা সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধার প্রতিফলন ঘটাচ্ছেন। নতুন দায়িত্বের শুরু অর্থাৎ রামনবমীকে মন্দের বিনাশ এবং সুশাসনের রামরাজ্য প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। বালেন্দ্র সম্ভবত নেপালের পুরনো দুর্নীতিগ্রস্ত বাম রাজনৈতিক ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে একটি নতুন স্বচ্ছ যুগের সূচনা করতে চাইছেন।

    জনকপুর থেকে ‘মধেসি’ কার্ড

    বালেন্দ্র তাঁর নির্বাচনী প্রচারের মূল কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন জনকপুরকে। এটি মা জানকীর (সীতা) জন্মভূমি হিসেবে পরিচিত। তিনি নিজেকে মধেশের সন্তান (Son of Madhesh) হিসেবে তুলে ধরেছেন। নেপালের ইতিহাসে তিনি হতে চলেছেন প্রথম মধেশি বংশোদ্ভূত প্রধানমন্ত্রী (PM Balendra Shah)। জনকপুর থেকে প্রচার শুরু করার মাধ্যমে তিনি নেপালের তরাই বা মধেসি অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    রাজনৈতিক সংকেত

    এই ঘটনাগুলি নেপালের রাজনীতিতে কয়েকটি বড় পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে। পোড়খাওয়া নেতা কেপি শর্মা ওলির মতো আধিপত্যবাদকে ভেঙে দিয়ে জেন-জি (Gen Z) এবং তরুণ প্রজন্মের উত্থান হয়েছে। এতদিন নেপালের রাজনীতি মূলত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। বালেন্দ্রের (PM Balendra Shah) উত্থান মধেসি এবং মধেশে-পাহাড়ি মিশ্র সংস্কৃতির মেলবন্ধনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    বিদেশনীতিতে জোর

    প্রচারের ভাষা এবং শপথের দিন নির্বাচন দেখে মনে করা হচ্ছে, বালেন্দ্রের শাসন কালে ভারতের সঙ্গে নেপালের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হতে পারে, যা বিগত কয়েক বছরে কিছুটা শীতল ছিল। বালেন্দ্রর (PM Balendra Shah) এই শপথ গ্রহণ নেপালের জন্য কেবল একজন নতুন প্রধানমন্ত্রী পাওয়া নয়, বরং একটি নতুন রাজনৈতিক দর্শনের জন্ম দেওয়া—যেখানে ঐতিহ্য এবং আধুনিকতা একসঙ্গে হাত মিলিয়ে চলবে।

  • Kerala Polls: কেরলে ফের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ বিজেপির, নাম ঘোষণা ১১ জনের

    Kerala Polls: কেরলে ফের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ বিজেপির, নাম ঘোষণা ১১ জনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরল বিধানসভা নির্বাচনের (Kerala Polls) প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিল বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ। বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর (Rajeev Chandrashekhar) বলেন, “এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও স্পষ্টতার প্রতিফলন, যা প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলির তুলনায় ভিন্ন”।

    কী বললেন চন্দ্রশেখর (Kerala Polls)

    রবিবার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চন্দ্রশেখর বলেন, “আপনি স্পষ্টভাবেই দেখতে পাবেন, আমাদের আসন বণ্টন কীভাবে হয়েছে এবং সবকিছু কতটা খোলামেলা ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে, দলের ভেতরে তো বটেই, এনডিএর শরিকদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি জাতীয় কংগ্রেস এবং সিপিআই (মার্ক্সবাদী)-এ যে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে, তা একেবারেই ভিন্ন ছবি।” তিনি জানান, এই পদ্ধতি রাজ্যে শাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে জোটের উদ্দেশ্যকে তুলে ধরে। চন্দ্রশেখর বলেন, “এটি কেরলের মানুষকে বোঝাবে আমাদের উদ্দেশ্য কী, আমরা কীভাবে একসঙ্গে রাজ্যে পরিবর্তন আনতে চাই, এবং এটি এনডিএর প্রতিটি কর্মীর লক্ষ্য, আকাঙ্ক্ষা ও সংকল্প।”

    কোন কেন্দ্রে কে দাঁড়াচ্ছেন?

    প্রসঙ্গত, শনিবার (Kerala Polls) বিজেপি আরও ১১ জন প্রার্থীর নামের তালিকা প্রকাশ করে। তার পরেই এমন মন্তব্য করা হয়, যা ১৪০ আসন বিশিষ্ট কেরল বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়। নয়া ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, ভি রথীশ (পিরুমেদে), রাভীন্দ্রনাথ বাকাথানাম (পুথুপল্লি), আজিমন (মাভেলিক্কারা), পাণ্ডালাম প্রতাপান (আদুর), কে আর রাজেশ (চাভারা), আর এস অর্জুন রাজ (চাডায়ামঙ্গলাম), বি এস অনুপ (চিরায়িনকীঝু), করামানা জয়ন (তিরুবনন্তপুরম), বিবেক গোপন (আরুভিক্কারা), টিএন সুরেশ (কোভালাম) এবং এস রাজশেখরন নায়ার (নেয়্যাত্তিনকারা)।

    এর আগে ৮৬টি আসনের জন্য দু’দফায় তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল পদ্মশিবিরের তরফে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জর্জ কুরিয়েন, ভি মুরলীধরন, কে সুরেন্দ্রন এবং নব্যা হারিদাস-সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন। মুরলীধরন কাজাকুট্টম কেন্দ্র থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, আর চন্দ্রশেখর নেমম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন (Rajeev Chandrashekhar)। কেরল বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে ৯ এপ্রিল এক দফায়। ভোটগণনা হবে ৪ মে। বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২৩ মে (Kerala Polls)।

     

  • USCIRF Report: ভারত নিয়ে আমেরিকার ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের রিপোর্টের কড়া সমালোচনা বিশিষ্টদের

    USCIRF Report: ভারত নিয়ে আমেরিকার ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের রিপোর্টের কড়া সমালোচনা বিশিষ্টদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত নিয়ে আমেরিকার আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের (USCIRF Report) সর্বশেষ রিপোর্টের কড়া সমালোচনা করলেন ২৭৫ জন বিচারপতি, অবসরপ্রাপ্ত আমলা, কূটনীতিক এবং সশস্ত্র বাহিনীর আধিকারিকদের একটি অংশ।  তাঁরা একে “অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সম্পূর্ণভাবে বাস্তবতা থেকে বিচ্যুত” বলে অভিহিত করেন। যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা ইউএসসিআইআরএফের সেই সুপারিশের বিরোধিতা করেন, যেখানে ভারতকে “বিশেষ উদ্বেগের দেশ” (country of particular concern) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আরএসএস (RSS) এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগে ভারতের বিদেশমন্ত্রক এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান (Former Judges Officers) করে দিয়েছে। তারা একে “প্রণোদিত ও পক্ষপাতদুষ্ট” বলে উল্লেখ করেছে।

    বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা (USCIRF Report)

    এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি আদর্শ কুমার গোয়েল ও বিচারপতি হেমন্ত গুপ্ত, হিমাচল প্রদেশের প্রাক্তন রাজ্যপাল বিচারপতি বিষ্ণু সদাশিব কোকজে, প্রাক্তন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ওপি রাওয়াত এবং সুনীল অরোরা, প্রাক্তন বিদেশসচিব কানওয়াল সিবাল-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ১৩০-এরও বেশি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্তা। তাঁরা ইউএসসিআইআরএফ কমিশনারদের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং প্রতিবেদনে ব্যবহৃত পদ্ধতি – উভয়েরই সমালোচনা করেন। তাঁদের মতে, ধর্মীয় স্বাধীনতার মূল্যায়ন দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যাগত প্রবণতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত, নির্বাচিত বা বিচ্ছিন্ন ঘটনার বর্ণনার ওপর নয়।

    জনগণনার তথ্য

    স্বাক্ষরকারীরা জনগণনার তথ্য তুলে ধরে জানান, ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ১৯৫১ সালে ৯.৮ শতাংশ থেকে ২০১১ সালে ১৪.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে খ্রিস্টান ও শিখ জনসংখ্যা যথাক্রমে ২.৩ শতাংশ ও ১.৭ শতাংশে স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, অবিভক্ত (USCIRF Report) পাকিস্তানে হিন্দু জনসংখ্যা ২০-২২ শতাংশ থেকে বর্তমানে পাকিস্তানে প্রায় ১.৫-২ শতাংশ এবং বাংলাদেশে ৭-৮ শতাংশে নেমে এসেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতাগুলি ইঙ্গিত দেয় যে ভারতে সামগ্রিক পরিবেশ এমন নয় যা সংখ্যালঘুদের ধারাবাহিক জনসংখ্যা হ্রাস করে, যা সাধারণত প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়ন বা ব্যবস্থাগত বর্জনের লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়।

    ইউএসসিআইআরএফের নিষেধাজ্ঞার আহ্বানের বিরোধিতা

    স্বাক্ষরকারীরা ইউএসসিআইআরএফের নিষেধাজ্ঞার আহ্বান, যার মধ্যে আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং যাতায়াতের বিধিনিষেধও অন্তর্ভুক্ত, তারও তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁরা এসব সুপারিশকে “অত্যন্ত প্রণোদিত” এবং “বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্ব ও বিকৃত সিদ্ধান্তের (USCIRF Report) প্রতিফলন” আখ্যা দেন। তাঁরা এও বলেন, ইউএসসিআইআরএফ বারবার ভারতীয় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলিকে উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়াই নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে। যদিও তাঁরা স্বীকার করেন, আরএসএসের মতো সংগঠন সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়, তবে এই সমালোচনা অবশ্যই “যাচাইযোগ্য প্রমাণ ও প্রাসঙ্গিক বোঝাপড়ার” ভিত্তিতে হওয়া উচিত, সরলীকরণের ওপর নয়।

    স্বাক্ষরকারীরা ভারতকে একটি “মজবুত গণতন্ত্র” হিসেবে উল্লেখ করেন। জানিয়ে দেন, এখানে সুপ্রতিষ্ঠিত বিচারব্যবস্থা ও সংসদীয় কাঠামো রয়েছে। তাঁরা মার্কিন সরকারকে ইউএসসিআইআরএফের রিপোর্টের ভিত্তি (Former Judges Officers) এবং এর যাথার্থ পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, এই অঞ্চলে ধর্মীয় স্বাধীনতার যে কোনও অর্থবহ মূল্যায়নের জন্য আরও নিরপেক্ষ, দীর্ঘমেয়াদি এবং ভারতীয় উপমহাদেশজুড়ে তুলনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা জরুরি (USCIRF Report)।

     

  • Ghar Wapsi: ওড়িশার কালাহান্ডিতে ‘ঘর ওয়াপসি’, ১৩৬ জন আদিবাসী সদস্যের প্রত্যাবর্তন সনাতন ধর্মে

    Ghar Wapsi: ওড়িশার কালাহান্ডিতে ‘ঘর ওয়াপসি’, ১৩৬ জন আদিবাসী সদস্যের প্রত্যাবর্তন সনাতন ধর্মে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওড়িশার কালাহান্ডি (Kalahandi-Odisha) জেলার একটি প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রাম ভিরিমুহানা আমপানিতে ২২ মার্চ, ২০২৬ তারিখে এক বিশেষ ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে ১৩৬ জন ব্যক্তি, যাঁরা অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন, তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের পূর্বপুরুষের সনাতন ধর্মে ফিরে (Ghar Wapsi) এলেন।

    ধর্ম জাগরণ সমন্বয় বিভাগ উদ্যোগী (Ghar Wapsi)

    অনুষ্ঠানের মূল দিকগুলি বেশ উৎসাহজনক। অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল হিন্দু সংগঠন। এই কর্মসূচিটি ‘ধর্ম জাগরণ সমন্বয় বিভাগে’র  তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে। এখানে হিন্দু আচার-অনুষ্ঠান এবং বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতির মাধ্যমে এই প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আগত ব্যক্তিদের পা ধুইয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও স্বাগত জানানো হয়। এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ধর্মগুরু এবং স্থানীয় নেতৃত্ব। ‘ঘর ওয়াপসি’-র (Kalahandi-Odisha) সর্বভারতীয় প্রধান প্রবল প্রতাপ সিং জুদেব এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিজেই অংশগ্রহণকারীদের পা ধুইয়ে দেওয়ার আচারটি পালন করেন এবং তাঁদের সনাতন ধর্মে ফেরার প্রক্রিয়াকে সহজতর করেন। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে ছিলেন স্বামী জনকানন্দ গিরি, গুরুকুল আশ্রম আমসেনার কুঞ্জদেও ঋষি, ধর্ম জাগরণের আঞ্চলিক প্রধান বিনয় কুমার ভুইঁয়া এবং ওড়িশা রাজ্য প্রধান বীর বিক্রম আচার্য-সহ অনেক ধর্মীয় নেতা ও সংগঠক।

    শেকড়ে ফিরে যাওয়ার একটি বড় পদক্ষেপ

    এই অনুষ্ঠানটিকে ওই অঞ্চলের আদিবাসী সম্প্রদায়ের (Kalahandi-Odisha) মধ্যে তাঁদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় শেকড়ে ফিরে (Ghar Wapsi) আসার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আয়োজকদের মতে, এটি কেবল ধর্ম পরিবর্তন নয়, বরং নিজেদের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও পরিচয়ের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হওয়া। ধর্মীয় প্রলোভন এবং আর্থিক সুবিধার নামে খ্রিষ্টান মিশনারি এবং ইসলামী একাধিক জেহাদি সংগঠন অনেক দিন ধরেই দেশের নানা প্রান্তে ধর্মান্তকরণের কাজ করছে। কখনও লাভ জেহাদ, কখনও ল্যান্ড জেহাদের নামে আবার কখনও দারিদ্রতাকে ঢাল করে আর্থিকভাবে লাভবান করার মতো লোভ দেখিয়ে সহজ সরল মানুষকে নিজেদের সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে। এবার এই সব সংগঠনের বিরুদ্ধে হিন্দু সংগঠনগুলি এককভাবে কাজ করছে।

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু নির্যাতন, দেখে নেওয়া যাক সপ্তাহের ছবিটা

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু নির্যাতন, দেখে নেওয়া যাক সপ্তাহের ছবিটা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশ তো বটেই, বিদেশেও হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ (Hindus Under Attack) ঘটছে নিরবচ্ছিন্নভাবে। বিশ্বের অনেক অঞ্চলে এই নির্যাতন এমন এক রূপ নিচ্ছে, যা ধীরে ধীরে সংঘটিত হওয়া গণহত্যার মতো মনে হচ্ছে। বহু দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণগুলির প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে এসেছে, যা আদতে উদ্বেগজনক হিন্দু-বিরোধী পক্ষপাতিত্বের ফল (Roundup Week)। খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমিদখল, উৎসবে-অনুষ্ঠানে হামলা, মন্দির-মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক এবং আইনি বৈষম্য—সব মিলিয়ে হিন্দুরা আজ তাদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের মুখোমুখি। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত ছবিটা। বিশ্বজুড়ে মানুষ যাতে এই মানবাধিকার সঙ্কট সম্পর্কে সচেতন হয়, তাই এহেন তথ্য প্রকাশ।

    ভারতের ছবি (Hindus Under Attack)

    উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে একটি ডিগ্রি কলেজের গেটে তিন যুবককে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ, এরা এক হিন্দু ছাত্রীকে উত্যক্ত, বিয়ের জন্য চাপ এবং ধর্মান্তরের চেষ্টা করছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে অনুসরণ ও ভয় দেখাচ্ছিল এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিকাহ করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। ছাত্রীটির কাকা ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্তদের আটক করেন। পরে তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে। নয়ডার ফেজ-৩ এলাকায় এক হিন্দু তরুণীর অভিযোগ, এক মুসলিম যুবক নিজের ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে, যৌন নির্যাতন চালায়। গত কয়েক (Roundup Week) মাস ধরে টাকাও আদায় করে। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে শুরু হয়েছে প্রতিবাদ(Hindus Under Attack)।

    অ্যাসিড হামলা

    চিত্রদুর্গে উগাদি উৎসবের সময় ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। সুহাইল বাশা নামে এক ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে অ্যাসিড হামলা চালায় তার স্ত্রী এবং হিন্দু শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ওপর। মালাপ্পানাহাট্টি গ্রামের এই হামলায় এক শিশু-সহ পাঁচজন গুরুতর আহত হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার চুনাখালি শ্যামবাজার এলাকায় কালীর প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মহারাষ্ট্রের পুনেতে বিতর্কিত জমিতে রমজানের ইফতার করার অভিযোগে মুসলিমদের একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে (Hindus Under Attack)। উদুপি জেলায় ২০–২২ মার্চ চলছে ‘সমাধান মহোৎসব’। এই উৎসব নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তামিলনাড়ুর খ্রিস্টান প্রচারক মোহন সি লাজারাসের নেতৃত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটির বিরোধিতা করছে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন (Roundup Week)।

    হিন্দুদের ওপর আক্রমণ

    বাংলাদেশের ছবিটাও একই রয়েছে। সে দেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ ধারাবাহিকভাবে চলছে। অনেক ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ধীরে ধীরে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে এই আক্রমণ হচ্ছে বলে অভিযোগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের এক গবেষণা অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নের ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দুর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতে পারে (Hindus Under Attack)। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আক্রমণ, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর, এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য—এসবই হিন্দুদের ভয় দেখানো ও দেশছাড়া করার উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৬ বছর বয়সী শান্ত কুমার সাহা ডাকাতদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সেই সময় তাকে ধরে রাস্তার ওপর ফেলে দেওয়া হয়। দ্রুত চলে আসা একটি গাড়ির নীচে চাপা পড়ে মারা যায় সে।

    আমেরিকার ছবি

    পিরোজপুরের নেসারাবাদে গোপাল চন্দ্র দাসের মুণ্ডুহীন দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনায় এলাকায় ছড়িয়েছে ব্যাপক আতঙ্ক (Roundup Week)।খুলনার পাইকগাছায় এক পুলিশ আধিকারিকের মা ভারতী মণ্ডলকে গলা কেটে খুন করা হয়। বাড়ির পাশের মাছের ভেড়ি থেকে দেহ উদ্ধার হয় তাঁর (Hindus Under Attack)। আমেরিকায় ‘ওভারসিজ ফ্রেন্ডস অব বিজেপি ইউকে’ সংস্থা হ্যারোয় হোলি উদযাপন ব্যাহত হওয়ার পর বিভিন্ন হিন্দু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছে।

    বস্তুত, বেশিরভাগ ঘৃণাজনিত অপরাধের পেছনে কাজ করছে হিন্দু-বিরোধী মনোভাব। এই মনোভাব কিছু ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত। ইসলামিক দেশগুলিতে এই বিদ্বেষ স্পষ্ট হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলিতেও সূক্ষ্মভাবে রয়ে গিয়েছে হিন্দু-বিরোধী মনোভাব। এই ধরনের সূক্ষ্ম বৈষম্য আইন ও সামাজিক আচরণের মধ্যে লুকিয়ে থাকে। তাই সহজে চোখে পড়ে না। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে বাজি নিষিদ্ধ করার বিষয়টির উল্লেখ করা যায়। এটি পরিবেশগত (Roundup Week) কারণ হিসেবে উপস্থাপিত হলেও, অন্যান্য উৎসবের ক্ষেত্রে একই ধরনের বিধিনিষেধ না থাকায় প্রকাশ্যে চলে আসে দ্বিচারিতা ((Hindus Under Attack))।

     

  • Delhi Police: চুক্তির শর্ত না মানায় হাইকোর্টের নির্দেশে ইউএনআই সংবাদ মাধ্যমের অফিস সিল করল পুলিশ

    Delhi Police: চুক্তির শর্ত না মানায় হাইকোর্টের নির্দেশে ইউএনআই সংবাদ মাধ্যমের অফিস সিল করল পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লি হাইকোর্টের (Delhi Police) নির্দেশ এবং তার প্রেক্ষিতে সংবাদ সংস্থা ইউএনআই (United News of India)-এর অফিস সিল করে দেওয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাটি নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক চর্চা চলছে। ৪৫০ কোটি টাকা মূল্যের এই পাবলিক প্রপার্টি বা সরকারি জমি দীর্ঘ সময় ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকায় এবং চুক্তির শর্ত না মানায় আদালত জমিটি সরকারের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ভারতের অন্যতম প্রাচীন এই সংবাদ সংস্থা ইউএনআইয়ের কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানের পর রাজধানীতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার, ২০ মার্চ সন্ধ্যায়, দিল্লি পুলিশের কর্তারা আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আদালতের নির্দেশে রফি মার্গে ইউএনআইয়ের কার্যালয়ে পৌঁছন, চালান উচ্ছেদ অভিযান। এরপর থেকেই শুরু হয় ব্যাপক বিতর্ক। তবে পুলিশের এই অভিযানে বামপন্থীরা ক্ষুব্ধ। তাঁদের দাবি, ঘটনাটি সংবাদ মধ্যেমের ওপর আক্রমণ।

    হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী সিল (Delhi Police)

    দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ শচীন শর্মা বলেন, “পুলিশ শুধুমাত্র সরকারি কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করার জন্যই সেখানে উপস্থিত ছিল। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী, আমরা এলঅ্যান্ডডিও আধিকারিকদের নিরাপত্তা দিতে সেখানে ছিলাম। ইউএনআইয়ের (United News of India) সকল কর্মীকে চত্বরটি খালি করে দিতে বলেছিলাম।” তবে জমি বরাদ্দ বাতিলের বিরুদ্ধে ইউএনআইয়ের করা আবেদন দিল্লি হাইকোর্ট খারিজ করে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর পরপরই প্রশাসন সম্পত্তিটি সিল করে দেয়।

    কেন সিল করা হল অফিস?

    ইউএনআইয়ের অফিসটি দিল্লি পুলিশ এবং ভূমি ও উন্নয়ন দফতর সিল করে দিয়েছে। এর প্রধান কারণগুলি হল, জমি বরাদ্দের শর্ত লঙ্ঘন। ১৯৭৯ সালে এই জমিটি ইউএনআই (Delhi Police)-কে দেওয়া হয়েছিল একটি বহুতল অফিস কমপ্লেক্স তৈরি করার জন্য। কিন্তু দীর্ঘ ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও, সংস্থাটি সেখানে কোনও স্থায়ী নির্মাণ কাজ করেনি।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি শচীন দত্তের পর্যবেক্ষণ, মূল্যবান সরকারি জমি এভাবে দশকের পর দশক ধরে ‘বন্দি’ করে রাখা হয়েছে। আদালত একে বেআইনিভাবে দখল করে রাখা হিসেবে বর্ণনা করছে।

    ভাড়া বা বাণিজ্যিক ব্যবহার

    অভিযোগ, যে উদ্দেশ্যে জমি দেওয়া হয়েছিল, তা পূরণ না করে সংস্থাটি জায়গাটি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে (যেমন, ক্যান্টিন) ব্যবহার করার চেষ্টা করছিল।

    পুলিশি অ্যাকশন ও বিতর্ক

    আদালতের নির্দেশের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) এবং আধাসামরিক বাহিনী অফিসটি খালি করতে শুরু করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সংস্থাটি (Delhi Police) এবং কিছু বাম-লিবারেল বুদ্ধিজীবী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

    ৪৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেনি

    বিগত বছরগুলোতে ১৯৮৬, ১৯৯৯ এবং ২০০০ সালে একাধিক সংশোধিত বরাদ্দপত্র জারি করা হয়েছিল, এবং প্রতিবারই ভবনটি নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও কাজে সামান্যই অগ্রগতি হয়েছিল বা একেবারেই হয়নি। এমনকি ২০১২ সালে নির্মাণের অনুমোদন পাওয়ার পরেও প্রকল্পটি স্থবির হয়ে গিয়েছিল।

    ২০২৩ সাল নাগাদ, কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করার পর অসন্তোষজনক জবাব পেয়ে, এলএন্ডডিও ইজারার শর্ত লঙ্ঘনের কারণ দেখিয়ে বরাদ্দটি বাতিল করে দেয়। ইউএনআই (United News of India) এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করে, কিন্তু তাদের আবেদনটি শেষ পর্যন্ত খারিজ হয়ে যায়। হাইকোর্ট আরও উল্লেখ করেছে যে, “৪৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্রমাগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতাকে” কেবল এই কারণে ক্ষমা করা যায় না যে সংস্থাটি এখন পদক্ষেপ করতে ইচ্ছুক।

    সংবাদ সংস্থাটির অভিযোগ

    সংবাদ সংস্থাটির দাবি, কর্মীদের আগাম কোনও নোটিশ না দিয়েই জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। মহিলা সাংবাদিকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ এবং কর্মীদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। তারা একে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ বলে অভিহিত করেছে। পুলিশ (Delhi Police) অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের মতে, আদালতের নির্দেশ পালন করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং তারা কেবল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    বাম-লিবারেল প্রতিক্রিয়া

    সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক (United News of India) তৈরি হয়েছে তাকেই ‘মেল্টডাউন’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বাম সমালোচকদের মতে, একটি ঐতিহাসিক সংবাদ সংস্থাকে এভাবে উচ্ছেদ করা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। অন্যদিকে, সরকার এবং আদালতের পক্ষের মানুষের দাবি, আইনের শাসন সবার জন্য সমান। চার দশক ধরে শর্ত লঙ্ঘন করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া অনিবার্য।

  • Bangladesh: হিন্দুর ২৬ লাখ একর জমি বেদখল, ১২ লাখ পরিবারের ৩৫০,৪১২ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি, রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    Bangladesh: হিন্দুর ২৬ লাখ একর জমি বেদখল, ১২ লাখ পরিবারের ৩৫০,৪১২ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি, রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ (Bangladesh) গণতন্ত্র, মুক্তি ও স্থিতিস্থাপকতা নিয়ে গর্ব করে। অথচ দশকের পর দশক ধরে একটি বড় অবিচার প্রায় অনুচ্চারিতই থেকে গিয়েছে। হিন্দু সংখ্যালঘুদের পরিকল্পিতভাবে ভূমিহীন (Hindu crisis) করে দেওয়া হয়েছে। ১৯৬৫ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে হিন্দুরা ২৬ লাখ একর জমি খুইয়েছে—যা কয়েকটি ছোট দেশের চেয়েও বড়—এবং এক কোটিরও বেশি মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ১২ লাখ পরিবারের ওপর এর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৩৫০,৪১২ কোটি টাকা।

    ২৬ লাখ একর জমি হারিয়েছেন হিন্দুরা (Bangladesh)

    সংবাদ মাধ্যমের করা সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে, পদ্মাপারের এই দেশে এই ব্যাপক ভূমি দখলের পেছনে রয়েছে পাঁচ লাখ প্রভাবশালী (Hindu crisis) ব্যক্তি। এরা রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত। মোট জমির মধ্যে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িতরা ১৭,৪৯,৫০০ একর, আওয়ামী লিগের সঙ্গে যুক্তরা ৩,৬১,৪০০ একর এবং জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠনগুলি ২,২৬,২০০ একর জমি দখল করেছে। জাতীয় পার্টির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ১,৮২,০০০ একর, মুসলিম লিগ ১,৮২০ একর এবং ছোট দলগুলির সঙ্গে যুক্ত অন্যরা ১০,৪০০ একর জমি লুট করেছে। ওই রিপোর্টেই জানা গিয়েছে, হিন্দুরা ১৯৬৫ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে ২৬ লাখ একর জমি হারিয়েছেন। বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের (Bangladesh) ওপর দশকের পর দশক ধরে চলা পদ্ধতিগত ভূমি দখল এবং তাঁদের দেশত্যাগে বাধ্য করার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এর প্রধান দিকগুলি হল-

    বিপুল পরিমাণ ভূমি দখল ও আর্থিক ক্ষতি

    বাংলাদেশে (Bangladesh) ভূমি দখলের এই সংস্কৃতিতে প্রায় সব বড় রাজনৈতিক দলেরই সায় রয়েছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অধিকার বঞ্চনার (Hindu crisis) শেকড় দেশটির রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত। কোনও প্রধান দলের হাতই পরিষ্কার নয়। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে মাত্র সাত লাখ একর জমিকে স্বত্বাধিকারী সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যার ফলে বাজেয়াপ্ত করা জমির সিংহভাগই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী দখলদারদের হাতে রয়ে গিয়েছে। এটি কেবল একটি আমলাতান্ত্রিক ত্রুটি (Hindu crisis) নয়—এটি একটি নৈতিক ব্যর্থতা। জমি শুধু সম্পত্তি নয়, এটি পরিচয়, ঐতিহ্য এবং নিরাপত্তাও। পরিকল্পিত চুরির অনুমতি দেওয়া মানে নাগরিকদের তাঁদের সবচেয়ে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা।

    ন্যায়বিচারের অভাব

    বর্তমানে সরকার (Bangladesh) মাত্র ৭ লাখ একর জমিকে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা মোট বেদখল হয়ে যাওয়া জমির একটি সামান্য অংশ মাত্র। তবে ভূমি কেবল সম্পত্তি নয়, এটি একজন মানুষের পরিচয় এবং নিরাপত্তার অংশ। পদ্ধতিগতভাবে এই জমি কেড়ে নেওয়া মানে হল নাগরিকদের মৌলিক অধিকার অস্বীকার করা।

    প্রস্তাবিত সমাধান

    বাংলাদশের (Bangladesh) হিন্দুদের এই সমস্যার সামধান কীভাবে সম্ভব এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ওই সংবাদ মাধ্যমের সমাজতাত্ত্বিক গবেষণায় বলা হয়েছে, একটি ‘ভেস্টেড প্রপার্টি ব্যাঙ্ক’ বা স্বচ্ছ তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা যাতে দখল হওয়া জমির সঠিক হিসেব রাখা যায়। অবৈধভাবে দখল হওয়া জমি উদ্ধার করে প্রকৃত মালিক বা ভূমিহীন হিন্দু পরিবারগুলিকে ফিরিয়ে দেওয়া। সরকারকে রাজনৈতিক সাহসিকতা দেখিয়ে এই ঐতিহাসিক অন্যায়ের বিচার করতে হবে। বাংলাদেশ যখন বৈষম্যের (Hindu crisis) বিরুদ্ধে লড়াই করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, তখন সংখ্যালঘুদের ওপর এই দীর্ঘস্থায়ী অবিচারকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমাধান করার কথা ভাবা হয়নি। আদর্শকে অসম্পূর্ণ করে রেখেছে বাংলাদেশের দেশের সরকার। যতক্ষণ পর্যন্ত না অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে এবং সমানাধিকার নিশ্চিত হবে, ততক্ষণ এই নৈতিক সঙ্কট থেকে উদ্ধার পাওয়া যাবে না।

  • West Bengal Elections 2026: লক্ষ্য হিংসামুক্ত-শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, রাজ্যে আসছে আরও ১৯২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী

    West Bengal Elections 2026: লক্ষ্য হিংসামুক্ত-শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, রাজ্যে আসছে আরও ১৯২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Elections 2026) কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে বড়সড় পদক্ষেপ করছে নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ করতে ২৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে অতিরিক্ত আরও ১৯২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Armed Police Forces) মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যে নিরাপত্তার এমন ব্যাপক প্রস্তুতি নজিরবিহীন।

    কত কত বাহিনী আসবে (West Bengal Elections 2026)?

    নিরাপত্তা প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে কমিশন এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। হিংসামুক্ত এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন (West Bengal Elections 2026) করতে কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ ও লক্ষ্য রয়েছে। ইতিমধ্যেই মার্চে রাজ্যে মোতায়েন হয়ে গিয়েছে ৪২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। আরও অতিরিক্ত ১৯২০ কোম্পানি বাহিনী পাঁচটি ধাপে আসবে রাজ্যে। প্রথম দফায় ৩১ মার্চ রাজ্যে আসছে মোট ৩০০ কোম্পানি। এর মধ্যে সিআরপিএফ ১২৫ কোম্পানি, বিএসএফ ১০০ কোম্পানি, সিআইএসএফ ২৫ কোম্পানি। আইটিবিপি এবং এসএসবি ২৫ কোম্পানি করে। দ্বিতীয় দফায় ৭ এপ্রিল রাজ্যে আসছে আরও ৩০০ কোম্পানি বাহিনী। এর মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীর এবং ত্রিপুরা থেকে কিছু বাহিনী পাঠানো হচ্ছে। তৃতীয় ধাপে ১০ এপ্রিল আসবে আরও ৩০০ কোম্পানি। এই ধাপে জম্মু-কাশ্মীরের পাশাপাশি মণিপুর থেকেও আসছে বাহিনী । চতুর্থ ধাপে ১৩ এপ্রিল ২৭৭ কোম্পানি বাহিনী আসবে। অসম, হরিয়ানা ও উত্তরাখণ্ড থেকে আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানরা বাংলায় আসবেন। পঞ্চম ধাপে ১৭ এপ্রিল আসবে সর্বোচ্চ ৭৪৩ কোম্পানি বাহিনী। অসম থেকে আসবে ৪৪৩ কোম্পানি সিএপিএফ। কেরল, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, ত্রিপুরা, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, সিকিম, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, গোয়া, চণ্ডীগড়, পাঞ্জাব এবং রাজস্থান-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে মোট ৩০০ কোম্পানি বাহিনী (Central Armed Police Forces) আসবে।

    কীভাবে নির্বাচনে কাজ করবে বাহিনী?

    বাহিনীর প্রত্যেক দিনের কাজের বিবরণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দফতরে রিপোর্ট আকারে পাঠাতে হবে। বিধানসভা ভোটের (West Bengal Elections 2026) কথা মাথায় রেখে কমিশন পশ্চিমবঙ্গে সিআরপিএফের সেক্টরের আইজি শলভ মাথুরকে বাহিনী মোতায়েনের জন্য ‘স্টেট ফোর্স কোঅর্ডিনেটর’ হিসেবে নিযুক্ত করেছে। প্রতিটি কোম্পানিতে (Central Armed Police Forces) অন্তত ৭২ জন করে জওয়ান থাকবেন। ৯টি সেকশনের মধ্যে ৮টি পোলিং স্টেশনে ব্যবহার করা হবে এবং ১টি সেকশন কুইক রেসপন্স টিম হিসেব কাজ করবে ৷ ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর বাহিনীর একটি বড় অংশ রাজ্য থেকে চলে যাবে। তবে ২০০ কোম্পানিকে রাজ্যে রাখা হবে যারা ইভিএম, স্ট্রং রুম এবং কাউন্টিং সেন্টারের নিরাপত্তা দেবে। ভোটের পর গণনা পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ৫০০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকবে রাজ্যে। বাকি কোম্পানি ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরেই ফিরে যাবে।

    শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ

    ভোটাররা যাতে ভয়ভীতি বা চাপের ঊর্ধ্বে উঠে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই বাহিনীর মূল লক্ষ্য। নিজের ভোট নিজে দেওয়া এবং প্রার্থী চয়নে কোনও চাপের মুখে না পড়াই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজ।

    স্পর্শকাতর বুথে নজরদারি

    রাজ্যের যে সব এলাকা বা বুথকে ‘স্পর্শকাতর’ চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে আগেভাগেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে এরিয়া ডোমিনেশন (Area Domination) বা রুট মার্চ শুরু করা হবে। ২০২১ সালের নির্বাচনের পর ভোটে মনোনয়ন থেকে ফল ঘোষণা পর্যন্ত ব্যাপকভাবে হিংসার শিকার হয়েছেন রাজ্যবাসী। তাই কমিশন নিরাপত্তা নিয়ে ভীষণ তৎপর।

    আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা

    ভোটের দিন তো বটেই, নির্বাচনের আগের ও পরের দিনগুলিতেও যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তাই এই বিশাল বাহিনীকে (Central Armed Police Forces) কৌশলগতভাবে ব্যবহার করা হবে।

    বাহিনী মোতায়েনের পরিসংখ্যান এক নজরে

    বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। একদিকে বিরোধী দলগুলি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলছে যে, এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বাড়বে। শাসক শিবিরের বক্তব্য, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখা প্রয়োজন ছিল। তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

    ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Elections 2026) ঘিরে বাংলার রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। ১৯২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর আগমন এই ইঙ্গিতই দিচ্ছে যে, নির্বাচন কমিশন এবার কোনও প্রকার আপোশ করবে না। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই বাহিনী (Central Armed Police Forces) ধাপে ধাপে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাবে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে।

  • West Bengal Assembly Election: রাজকোষ শূন্য, অথচ তৃণমূলের ইস্তাহারে প্রতিশ্রুতির বন্যা

    West Bengal Assembly Election: রাজকোষ শূন্য, অথচ তৃণমূলের ইস্তাহারে প্রতিশ্রুতির বন্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নবান্নের গদি ধরে রাখতে বাংলায় খয়রাতির রাজনীতি আমদানি করেছেন রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তার জেরে (West Bengal Assembly Election) রাজকোষ শূন্য। তা সত্ত্বেও ফের নবান্নের দখল নিতে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ওড়ালেন তৃণমূল সুপ্রিমো। নির্বাচনের আগে তিনি ১০টি প্রতিজ্ঞার কথা জানিয়েছেন ইস্তাহারে। বিরোধীদের মতে, এই প্রতিশ্রুতি নিছকই ভাঁওতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

    বেহাল দশাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা (West Bengal Assembly Election)

    ভোটারদের বিভ্রান্ত করাতেই এই ‘বেওসা’। এই প্রতিশ্রুতিগুলি আসলে তৃণমূলের পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি থেকে জনগণের নজর ঘোরানোর মরিয়া চেষ্টা। এটি বাংলার ভবিষ্যতের কোনও রোডম্যাপ নয়, বরং গত এক দশকে বাংলার বেহাল দশাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা মাত্র। তৃণমূলের ইস্তাহারে যা বলা হয়েছে, তা আক্ষরিক অর্থেই ‘ঢপের চপ’। রাজ্যের ঘাড়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণ দেনার বোঝা। বর্তমানে জিএসডিপি (GSDP) ৩৮.৪ শতাংশের এক ভয়াবহ স্তরে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে এটি ৮.১৫ লাখ কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়াবে বলেই ধারণা অর্থনীতিবিদদের একাংশের। তাঁদের মতে, বাংলার খরচ করা প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে ৩৮ টাকা চলে যায় ঋণ বাবদ নেওয়া টাকার সুদ দিতে। বর্তমানে বাংলায় জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুর ঘাড়ে ৮১ হাজার ১৬৫ টাকারও বেশি ঋণের বোঝা।

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মূল্যহীন!

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে বাড়ানো হয়েছে ৫০০ টাকা করে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল “প্রতি পরিবারকে ন্যূনতম মাসিক আয়ের” প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যদিও সামান্য কিছু সরকারি অনুদানকে পরিবারের মাসিক আয় নাম দিয়ে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের হাতে কাজ নেই, তার ওপর জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া। চালের মতো অতি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর সিন্ডিকেটের তোলাবাজি কিংবা “তৃণমূল ট্যাক্সে”র কারণে বাজারে জিনিসের দাম বর্তমানে ৭.০৯ শতাংশ হারে বাড়ছে। অঙ্কের হিসেবে জিনিসপত্রের এই মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ওই বাড়তি ৫০০ টাকাকে কার্যত মূল্যহীন করে দিচ্ছে, বাংলার মুদ্রাস্ফীতিকে রাখছে জাতীয় গড়ের চেয়ে ঢের বেশি ওপরে।   রাজ্যের মানুষের গড় বার্ষিক আয় ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে কমে দাঁড়িয়েছে ১.৭১ লাখ টাকা। ২০১১ সালে দেশের গড় আয় ছিল ৯২ শতাংশ। সেটাই এখন কমে হয়েছে ৮৬.৮ শতাংশ। ওড়িশা এবং ছত্তিশগড়ের মতো বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিও এখন আয়ের দৌড়ে বাংলাকে  পেছনে ফেলে দিয়েছে। রাজ্যের ভেতরেও আয়ের পার্থক্য চোখ টাটাবে। উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলিতে মাথাপিছু আয় মাত্র ৮০,১৫২ টাকা, যা রাজ্যের গড়ের অর্ধেকও (৪৬.৮%) নয়। এটি প্রমাণ করে যে, তৃণমূল জমানায় উত্তরবঙ্গ কতটা অবহেলিত হয়েছে (West Bengal Assembly Election)।

    দুয়ারে চিকিৎসা”র আশ্বাসও অন্তঃসার শূন্য

    ইস্তাহারে দেওয়া হয়েছে “দুয়ারে চিকিৎসা”র আশ্বাসও। ২০২১-এ তৃণমূলের “সুস্থ বাংলা”র প্রতিশ্রুতি আজ প্রশাসনিক ব্যর্থতায় কার্যত ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায় ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য শিবিরের প্রতিশ্রুতি (Mamata Banerjee) দেওয়া বাতুলতার শামিল মাত্র। ২০২৪-এর সমীক্ষায় বাংলার ‘মহিলাদের ঝুঁকি সূচক’ ৮.২/১০—যা পূর্ব ভারতে সর্বোচ্চ। নারীর শারীরিক ও চিকিৎসা নিরাপত্তা আজ কেবলই ‘গালগল্প’। গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে  ৩৪৯ জন সার্জেন, ৩২০ জন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ২৯৭ জন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পদ শূন্য। ফলে গরিব রোগীদের চিকিৎসার জন্য খসাতে হচ্ছে মোট আয়ের ৬২ শতাংশ। নিজের চালু করা ‘স্বাস্থ্যসাথী’র ঢাক পেটাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে বঞ্চিত করেছেন কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প থেকে। হিসেব বলছে, রাজ্যের প্রায় ৩.৫ কোটি মানুষকে ৫ লাখ টাকার ওই বিমার সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছেন তিনি।

    “বাংলার যুবসাথী”র আসল পরিচয়

    ইস্তাহারে ঘোষণা করা হয়েছে “বাংলার যুবসাথী”র কথাও। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল সুপ্রিমো গ্যারান্টি দিয়েছিলেন ২৫ লাখ বেকারের চাকরির। পূরণ হয়নি সেই প্রতিশ্রুতিও। তার বদলে বেকারদের হাতে গুঁজে দেওয়া হচ্ছে মাসিক খয়রাতির ১৫০০ টাকা। যার অর্থ হল, একজন শিক্ষিত বেকারকে ফি দিন মাত্র ৫০ টাকা করে দেওয়া। “যুবসাথী” প্রকল্প আসলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তৃণমূলের চরম ব্যর্থতারই কবুলনামা। ২০১৫ থেকে ’২৩ সালের মধ্যে এ রাজ্যে বন্ধ হয়েছে ১৮,৪৫০টি ক্ষুদ্র শিল্প। কাজ হারিয়েছেন ৩০.০৪ লাখ মানুষ। সিন্ডিকেটের জুলুমে ৬,৬৮৮টি কোম্পানি রাজ্য ছেড়েছে। বড় কোনও আইটি (IT) বিনিয়োগ নেই। তাই ২৩ লাখ নথিভুক্ত চাকরিপ্রার্থী আজ দিশেহারা। ৫ লাখ সরকারি পদ শূন্য পড়ে রয়েছে। ৪০,০০০ কোটি টাকার বকেয়া ডিএ (DA) মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট অবধি। আরজি করের ভাঙা লিফটে রোগীর মৃত্যু এবং মেদিনীপুরে রাজনৈতিক প্রভাবে কেনা মেয়াদ-উত্তীর্ণ স্যালাইনে কয়েকজন অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু এ রাজ্যে ঘুন ধরা স্বাস্থ্য ব্যবস্থারই প্রমাণ (West Bengal Assembly Election)।

    “বাংলার শিক্ষায়তন”

    ইস্তাহারের ৪ নম্বরে রয়েছে “বাংলার শিক্ষায়তন” (Mamata Banerjee)। একুশের “শিক্ষিত বাংলা”র স্লোগান দেওয়া সরকার যখন শিক্ষক পদকে নিলামে তোলে, তখন পরিকাঠামো নিয়ে কথা বলা তার সাজে না। এসএসসি (SSC) কেলেঙ্কারিতে বিক্রি হয়েছে ২৬,০০০ চাকরি। ৩,৮০০টি স্কুলে কোনও পড়ুয়া নেই, সেখানে বেতন দেওয়া হচ্ছে ১৮,০০০ ভুতুড়ে শিক্ষককে। বিদেশি ছাত্রদের কাছে বাংলা এখন আর গন্তব্য নয়। ২০২৬-এর ইকনোমিক সার্ভে অনুযায়ী, রাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কার ও গুণমানের অভাব স্পষ্ট। স্কুলে ইন্টারনেট সংযোগের হার মাত্র ১৬ শতাংশ, যেখানে জাতীয় গড় ৬৩.৫ শতাংশ। ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৮,২০৭টি স্কুল বন্ধ হওয়ায় বেসরকারি স্কুলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে রাজ্যের ৯ লাখ পড়ুয়াকে।

    সিন্ডিকেট আর ফড়েদের কবল

    একুশের “সুখী কৃষক” প্রতিশ্রুতিও আজ সিন্ডিকেট আর ফড়েদের কবলে। ১০,০০০ কোটি টাকার পিডিএস (PDS) কেলেঙ্কারির জেরে কালোবাজারে পাচার হয়েছে ২০-৪০ শতাংশ শস্য। ইলিশের উৎপাদন ১৬,৫০০ টন থেকে কমে হয়েছে ৬,৮০০ টন। আলুর উৎপাদন খরচ বিঘা প্রতি ২৫,০০০ টাকা হলেও, চাষিরা পাচ্ছেন মাত্র ৫৪০ টাকা। রাজনৈতিক অহংকারের জেরে ‘পিএম-কিষান’ প্রকল্প থেকে  বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে রাজ্যের ৪২ লাখ চাষিকে। ৪০ শতাংশ ভাগচাষি ও ভূমিহীন কৃষক কিষান ক্রেডিট কার্ড পাননি। তাই মহাজনদের ৬০ শতাংশ সুদের ঋণে ডুবছেন তাঁরা (West Bengal Assembly Election)। শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারও তলানিতে। এমএসএমই (MSME) রফতানিতে বাংলার অবদান মাত্রই ৪ শতাংশ (Mamata Banerjee)। বিনিয়োগকারীরা যেখানে রাজ্য ছাড়ছেন, সেখানে ‘ইস্টার্ন গেটওয়ে’র দাবি আদতেই  একটি প্রহসন। ইজ অফ ডুইং বিজনেসে বাংলা ১৪তম। জমি বিবাদের জেরে দেউচা-পাঁচামির মতো বড় প্রকল্প রয়েছে থমকে। সরাসরি বিদেশি লগ্নির পরিমাণ কমেছে ৩০ শতাংশ। ভারতের নয়া বিনিয়োগের মাত্রই ৩ শতাংশ আসে বাংলায়।

    তৃণমূল ক্যাডারদের পকেট ভরার মাধ্যম

    সকলের জন্য আবাসনের কথাও বলা হয়েছে তৃণমূলেরইস্তাহারে। এই আবাসন প্রকল্পই এখন তৃণমূল ক্যাডারদের পকেট ভরার মাধ্যম। সুন্দরবন-সহ বিভিন্ন জেলায় গ্রামীণ আবাসন থেকে ৯,৪০০ কোটি টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। পিএম আবাস যোজনায় ১৭ লাখ ভুয়ো নাম ঢুকিয়ে নেতাদের অট্টালিকা বানাতে ১.২ লাখ টাকা করে পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২৪-এর স্কিমে ২৮ লাখ যোগ্য পরিবার ঘর পায়নি। দরিদ্ররা আজও ঘুমোন প্লাস্টিকের নীচে (West Bengal Assembly Election)। বার্ধক্যভাতা এবং নিরাপত্তার আশ্বাসও ফাঁপা। বস্তুত, দেউলিয়া রাজকোষ নিয়ে বর্ধিত ভাতার প্রতিশ্রুতি আসলে রাজ্যের চরম আর্থিক সঙ্কট লুকোনোর চেষ্টা। দলিত ও আদিবাসীদের ওপর অত্যাচারের ক্ষেত্রে সাজা দেওয়ার হার জাতীয় গড়ের তুলনায় অতি নগণ্য (Mamata Banerjee)। ইমাম-মোয়াজ্জেনদের ভাতা দিলেও, হিন্দু পুরোহিতদের এক দশক ধরে এ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান রাজস্ব ঘাটতির ফলে বাজার থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এই অনুদান দেওয়া কার্যত অসম্ভব।

    পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও পরিহাস!

    পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও নিছকই পরিহাস। গ্রামীণ বাংলার মানুষের কাছে এই প্রতিশ্রুতি আজও অধরা মাধুরী। জল জীবন মিশনে ২৪,৬৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও, রাজ্য সরকারের অপদার্থতার দরুন খরচ হয়েছে মাত্রই ১৩,০২৭ কোটি টাকা। ফলে ১১,৬১৭ কোটি টাকার এক বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, ১৭০ কোটি টাকার জল প্রকল্পের কাজ করা বেসরকারি সংস্থাগুলি প্রকৃত পরিকাঠামো তৈরি না করে ১২ থেকে ১৬ কোটি টাকা সরাসরি পাঠিয়ে দিয়েছে তৃণমূল ঘনিষ্ঠদের ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (West Bengal Assembly Election)। প্রশাসনিক সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল। ২০২১ সালে তৃণমূল ঢালাও “সুশাসনের” প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এই সরকারের আমলে ভৌগোলিক পুনর্গঠন আসলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ নয়, বরং এটি তোলাবাজি সিন্ডিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়া এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে জনবিন্যাস পরিবর্তনের এক সুপরিকল্পিত কৌশল। আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জনবিন্যাসের আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি সরকারের নরম মনোভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে (Mamata Banerjee)। ২০২৩ সালের পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতিতে ১৫টি পুরসভায় ১,৫০০টি অবৈধ নিয়োগ হয়েছে। ওই চাকরি বিক্রি হয়েছে ৩ থেকে ১০ লক্ষ টাকায়। এটি প্রমাণ করে যে, নতুন নতুন পুরসভা বা প্রশাসনিক এলাকা তৈরি করা আসলে দুর্নীতির নতুন রাস্তা তৈরি করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

    বিরোধীদের মতে, তৃণমূলের এই ‘১০ প্রতিজ্ঞা’ আসলে কোনও উন্নয়নের নীল নকশা নয়, বরং ব্যর্থতা ঢাকার এক রঙিন প্রলেপ মাত্র (West Bengal Assembly Election)।

     

LinkedIn
Share