Blog

  • Bangladesh: জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলায় ভারতের দ্বারস্থ বাংলাদেশ, স্কুল-কলেজে দেওয়া হল ছুটি

    Bangladesh: জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলায় ভারতের দ্বারস্থ বাংলাদেশ, স্কুল-কলেজে দেওয়া হল ছুটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধোপে টিকল না ভারত দখলের হম্বিতম্বি! শেষমেশ সেই ভারতের কাছেই হাত পাততে হল বাংলাদেশকে। জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলায় বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশ ভারতের কাছেও সাহায্য চেয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ভারতীয় তেল সংস্থা ইন্ডিয়ান ওয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (IOCL) এবং অসমের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (NRL) থেকে চার মাসের মধ্যে ৫০,০০০ টন ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে।

    জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলা (Bangladesh)

    এদিকে, নিদারুণ জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলা করতে আজ, সোমবার থেকে  জেরে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে যে সংঘাত চলছে, তার জেরে দেশে জ্বালানি সঙ্কট আরও তীব্র হয়ে ওঠায় ঈদের ছুটি এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। এই পদক্ষেপের ফলে বিদ্যুতের ব্যবহার কমবে এবং যানজটও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার জেরে সাশ্রয় হবে জ্বালানি। বাংলাদেশ সরকারের কর্তাদের মতে, আবাসিক হল, শ্রেণিকক্ষ, ল্যাবরেটরি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র চালানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে প্রচুর পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। তাই ঈদের ছুটি আগেই ঘোষণা করলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে।

    স্কুল-কলেজে তালা

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলি ইতিমধ্যেই পুরো রমজান মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে প্রতিদিনের সীমা নির্ধারণ করেছে। এর পাশাপাশি বেসরকারি কোচিং সেন্টার এবং বিদেশি পাঠ্যক্রমভিত্তিক স্কুলগুলিকে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি সঙ্কটের দরুন বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত চারটি সার কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এ বিষয়ে এক সরকারি আধিকারিক বলেন, “বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং আমদানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ব্যবহার কমাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”

     

  • BJP Fact Checks: তৃণমূলকে ‘ফেক নিউজ ফ্যাক্টরি’ বলে কটাক্ষ, মুখের মতো জবাব দিল বিজেপি

    BJP Fact Checks: তৃণমূলকে ‘ফেক নিউজ ফ্যাক্টরি’ বলে কটাক্ষ, মুখের মতো জবাব দিল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাম্প্রতিক বঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করে বিজেপি-তৃণমূলের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়েছে। তৃণমূলের একটি দাবিকে ‘ফেক নিউজ ফ্যাক্টরি’ বলে উল্লেখ করে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখা সেটির সত্যতা যাচাই করে পাল্টা জবাব দেয়।

    তৃণমূলের দাবি (BJP Fact Checks)

    রাষ্ট্রপতির সফরের সময় প্রোটোকল ভঙ্গের অভিযোগ তুলে তৃণমূল একটি ভিডিও-সহ পোস্টে দাবি করে, “প্রধানমন্ত্রী বারবার রাষ্ট্রপতির পদকে সম্মান করার বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু এই ছবিটি ভালো করে দেখুন। দেশের প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আছেন, আর প্রধানমন্ত্রী আরামে চেয়ারে বসে রয়েছেন। রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মানের সব দাবি তখনই ফাঁপা মনে হয়, যখন এমন দৃশ্য তাঁর পদকে অবহেলার ইঙ্গিত দেয়।” ভিডিওতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা যায়, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এটা আপনার জন্য। আপনি কি রাষ্ট্রপতিকে—যিনি একজন নারী এবং একজন আদিবাসী নেতা—সম্মান করেন? তাহলে রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আর আপনি বসে আছেন কেন? আমি আপনাদের সবাইকে দেখালাম, আমরা রাষ্ট্রপতিকে সম্মান করি, কিন্তু তারা করে না। এই ছবিই প্রমাণ করে কে সম্মান করে, আর কে করে না।”

    বিজেপির জবাব

    এর জবাবে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির তরফে এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছে, “টিএমসির ফেক নিউজ ফ্যাক্টরি আবার সক্রিয়। টিএমসির তৈরি করা ক্ষোভের আসল সত্য হল, ভারতরত্ন প্রদান অনুষ্ঠানের সময় সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী, পুরস্কার প্রদান চলাকালীন উপস্থিত অন্যরা বসে থাকেন। এখানে শিষ্টাচার ভঙ্গের কোনও ঘটনা ঘটেনি।” তারা আরও বলে, “মাননীয়া রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ভারতরত্ন এলকে আডবাণীকে ঘিরে একটি মর্যাদাপূর্ণ মুহূর্তকে তুচ্ছ রাজনৈতিক লাভের জন্য বিকৃত করা অত্যন্ত লজ্জাজনক। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির মর্যাদা রক্ষা করুন এবং ভুয়ো তথ্য ছড়াবেন না।” এ কথা বলার সময় বিজেপি প্রায় দু’বছরের পুরানো একটি ভিডিও-ও শেয়ার করে। ঘটনাটি ঘটে ৩১ মার্চ ২০২৪-এ, যখন রাষ্ট্রপতি মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী মোদি এলকে আডবাণীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত করেন।

    রাষ্ট্রপতির উষ্মা

    শনিবার রাষ্ট্রপতি দার্জিলিংয়ে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গ সফরে এলে শুরু হয় বিতর্ক। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি প্রশ্ন তোলেন, কেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা রাজ্যের কোনও মন্ত্রী তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন না? তিনি বলেন, “সাধারণত রাষ্ট্রপতি এলে মুখ্যমন্ত্রীর উচিত উপস্থিত থেকে স্বাগত জানানো, এবং অন্য মন্ত্রীরাও থাকেন। কিন্তু তিনি আসেননি। রাজ্যপাল বদল হওয়ায় তিনি আসতে পারেননি। তবে তারিখ নির্ধারিত থাকায় আমি এসেছি।” তিনি আরও বলেন, “মমতা আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলার মেয়ে। তিনি কেন অসন্তুষ্ট, তা আমি জানি না।” অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি এও বলেন, “আমি জানি না কেন রাজ্য প্রশাসন সেখানে সভা করার অনুমতি দেয়নি। আজকের অনুষ্ঠান এমন জায়গায় হচ্ছে যেখানে মানুষের আসা কঠিন। হয়তো রাজ্য সরকার আদিবাসীদের কল্যাণ চায় না!”

    প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

    এই ঘটনাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘লজ্জাজনক ও নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করেন। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “যাঁরা গণতন্ত্র ও আদিবাসী সমাজের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করেন, তাঁরা সবাই হতাশ। নিজে আদিবাসী সমাজ থেকে উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশ করা বেদনা ও ক্ষোভ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সৃষ্টি করেছে।” ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাষ্ট্রপতির সফরে কোনও প্রোটোকল লঙ্ঘন হয়নি। বিজেপি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।” তিনি আরও দাবি করেন, অনুষ্ঠানস্থলের দুর্বল প্রস্তুতি সম্পর্কে রাজ্য সরকার আগেই জানিয়েছিল রাষ্ট্রপতির দফতরকে।

     

  • Britain: ঘোর জ্বালানি সঙ্কটের মুখোমুখি ব্রিটেন, এবার কী হবে?

    Britain: ঘোর জ্বালানি সঙ্কটের মুখোমুখি ব্রিটেন, এবার কী হবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘোর জ্বালানি সঙ্কটের মুখোমুখি ব্রিটেন (Britain)। সে দেশের আধিকারিকরা সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছেন, দেশটিতে বর্তমানে মাত্র দু’দিনের প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত (Energy Crisis) রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ার পর এবং ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ (হরমুজ প্রণালী) বন্ধ করে দেওয়ায় এই সঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে। ন্যাশনাল গ্যাসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটেনের গ্যাস সংরক্ষণাগারে বর্তমানে প্রায় ৬,৭০০ গিগাওয়াট-ঘণ্টা প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাভাবিক ব্যবহারের হারে এই গ্যাস মাত্র দেড় দিন দেশের চাহিদা পূরণ করতে পারবে। ব্রিটেনের কাছে প্রায় একই পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) সংরক্ষিত রয়েছে। তবে দু’ধরনের মজুত গ্যাস একত্রিত করলেও, মোট সরবরাহ এখনও অত্যন্ত কম।

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশের অবস্থা (Britain)

    এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলি তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে তারা বড় পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত করেছে। অনেক ইউরোপীয় দেশের কাছেই কয়েক সপ্তাহ চলার মতো গ্যাস রয়েছে। ব্রিটেনের সীমিত মজুত তাকে জ্বালানি বাজারে দুর্বল অবস্থানে ফেলেছে। ফলে অতিরিক্ত গ্যাস আমদানির জন্য দেশটিকে ইউরোপীয় ক্রেতাদের সঙ্গে কঠোর প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ীরা ব্রিটেনে গ্যাস সরবরাহের জন্য অতিরিক্ত দাম দাবি করতে শুরু করেছেন। এর ফলে বর্তমানে ব্রিটেন ইউরোপে সর্বোচ্চ পাইকারি দরে গ্যাস মূল্য চোকাচ্ছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবহণে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। ইরানের হামলার পর পশ্চিম এশিয়ার কিছু এলাকায় উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ হওয়ায় সঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে। এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি কোনও বিঘ্ন ঘটলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে (Britain)।

    জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

    এর আগে এই সপ্তাহে কাতার ঘোষণা করেছিল, ইরানের হামলার কারণে তারা সাময়িকভাবে বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র রাস লাফান (Ras Laffan)-এ উৎপাদন বন্ধ করেছে। কাতারের রাস লাফান শিল্পনগরী ইউরোপ ও এশিয়ার বড় বাজারগুলিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে (Energy Crisis)। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাতের জেরে বিশ্বব্যাপী দ্রুত বাড়তে পারে তেল ও গ্যাসের দাম। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছবে। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে দাম ১৫০ ডলার পর্যন্তও বাড়তে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে। এদিকে সংঘাতপ্রবণ পশ্চিম এশিয়া অঞ্চল থেকে আটকে পড়া নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে পদক্ষেপ করছে ব্রিটিশ সরকার। বিদেশ দফতর একটি বিশেষ অনলাইন বুকিং পোর্টাল চালু করেছে, যেখানে ব্রিটিশ নাগরিকরা দুবাই থেকে ছেড়ে যাওয়া চার্টার্ড ফ্লাইটে আসন সংরক্ষণ করতে পারবেন (Britain)।

    নাগরিকদের দেশে ফেরাতে পদক্ষেপ

    সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে হাজার হাজার ব্রিটিশ নাগরিক আটকে পড়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, চার্টার ফ্লাইটের আসন বুকিংয়ে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিদেশ দফতর আরও জানিয়েছে, যাঁরা সরকারি ভ্রমণ রেজিস্ট্রি ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান রেজিস্ট্রি করেছেন, তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হবে। গত সপ্তাহে জরুরি উদ্ধার কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সরকার পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন জায়গা থেকে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে। ওমানের মাসকাট থেকে দু’টি ফ্লাইট ইতিমধ্যেই আটকে পড়া নাগরিকদের নিয়ে ব্রিটেনে পৌঁছেছে। দুবাই থেকে যাত্রিবাহী আর একটি ফ্লাইট এই সপ্তাহের শুরুতে ব্রিটেনে পৌঁছনোর কথা। তবে উদ্ধার অভিযান চললেও, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমির শাহিতে ইরানের হামলা অব্যাহত। শনিবার দুবাইয়ে একটি গাড়ির ওপর গুলি করে নামানো হয় একটি ইরানি ড্রোন। তার ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন একজন (Britain)।

    স্টারমারের বক্তব্য

    অন্যদিকে, সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই ব্রিটেনের সিদ্ধান্ত, ইরানের বিরুদ্ধে যে সামরিক অভিযান চলছে, তাতে সরাসরি অংশ না নেওয়া নিয়ে আমেরিকা ও ব্রিটেনের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে (Energy Crisis)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার দুই দেশের ঐতিহ্যগত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্যে ফোনে কথা বলেছেন। উল্লেখ্য যে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম দুই নেতা কথা বললেন। তবে দুই মিত্র দেশের সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা চাপের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। ব্রিটেন সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকার করেছে। স্টারমার বলেছেন, “ইরান যদি সরাসরি হামলা করে এবং প্রতিরক্ষামূলক সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তখনই আমেরিকাকে সাহায্য করবে ব্রিটেন (Britain)। এর আগে ট্রাম্প প্রকাশ্যে স্টারমারের  সমালোচনা করেন এবং জানান যে তিনি মিত্রদের যথেষ্ট সমর্থন পাচ্ছেন না। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথে ট্রাম্প দাবি করেন, স্টারমার যুদ্ধে অংশ না নিয়েও কূটনৈতিক কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

    ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য

    এ বিষয়ে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার (Yvette Cooper) কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “ব্রিটেন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কূটনীতি পরিচালনা করে না এবং সে তার বৈদেশিক নীতির সিদ্ধান্ত অন্য কারও হাতে ছেড়ে দেয় না (Energy Crisis)।” তবে ব্রিটেন আমেরিকাকে শুধুমাত্র প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, স্টারমার ও ট্রাম্প তাঁদের আলোচনায় সামরিক সহযোগিতা সম্পর্কিত বিষয় নিয়েও আলোচনা করেছেন। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কুপার ফের মনে করিয়ে দেন, ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা করা ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থে নয়। তারা অগ্রাধিকার দেবে সরকারের কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপকেই (Britain)।

     

  • Maharashtra Radicalisation: জইশের সক্রিয় “স্লিপার সেল”! মহারাষ্ট্রে গ্রেফতার ২১ বছরের ইঞ্জিনিয়ার ছাত্র

    Maharashtra Radicalisation: জইশের সক্রিয় “স্লিপার সেল”! মহারাষ্ট্রে গ্রেফতার ২১ বছরের ইঞ্জিনিয়ার ছাত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুম্বইয়ের রাস্তায় সাধারণ ছেলেদের মতোই কলেজ যাওয়া-আসা করছিল ২১ বছরের আয়ান শেখ (Ayan Sheikh)। কেউ ভাবেনি যে এই ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রের পিছনে লুকিয়ে আছে জঙ্গি সংগঠনের ছায়া। মহারাষ্ট্র অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস) কয়েকদিন আগে তাকে গ্রেফতার করেছে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (জেএম) এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে।

    কীভাবে জঙ্গিদের জালে

    এটিএস-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা সূত্র থেকে খবর আসে যে মুম্বইয়ের কুর্লা, গোভান্ডি এবং শিবাজী নগর এলাকায় কয়েকজন যুবক অনলাইনে জইশ এবং ইসলামিক স্টেট-এর প্রচারমূলক উপাদান ছড়াচ্ছে। গত ২ মার্চ রাতে এই তিন জায়গায় সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আয়ান শেখের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই ডিভাইসগুলোয় জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের অডিও এবং ভিডিও ক্লিপ রয়েছে। এছাড়া টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে জইশ এবং আইএসআইএস-এর প্রোপাগান্ডা শেয়ার করা হয়েছে।

    “স্লিপার সেল”-এর সক্রিয় সদস্য

    তদন্তে জানা গিয়েছে, গত ছয় মাস ধরে সে মুম্বইয়ে জইশ-ই-মহম্মদের একটি “স্লিপার সেল” হিসেবে সক্রিয় ছিল। তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল যুবসমাজকে উগ্রপন্থায় প্রভাবিত করা এবং জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য নতুন সদস্য নিয়োগ করা। এটিএস সূত্রে জানা যায়, আয়ান তার দুই সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে উগ্রপন্থায় প্রভাবিত করেছিল। এমনকি তাদের ওপর এতটাই চাপ সৃষ্টি করেছিল যে তারা বিদেশে গিয়ে জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনাও করেছিল। ওই দুই ছাত্রের বয়ান ইতিমধ্যেই রেকর্ড করেছে এটিএস, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে। অভিযানের সময় আয়ান ও অন্য দুই ছাত্রের একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-সমর্থকদের সঙ্গে তার যোগাযোগের প্রমাণ এবং সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারের ভিডিও উদ্ধার হয়েছে।

    পাকিস্তান ও সৌদি আরবে থাকা হ্যান্ডলারদের থেকে সাহায্য

    এছাড়াও তদন্তে জানা গিয়েছে, পাকিস্তান ও সৌদি আরবে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তাও পেত আয়ান। এই অর্থ ব্যবহার করে জঙ্গি সংগঠনের প্রচার ও নিয়োগ কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এটিএস-এর দাবি, আয়ান টেলিগ্রামের মতো এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জইশ ও আইএসআইএসের প্রচারমূলক কনটেন্ট ছড়াত এবং বন্ধুদের বিভিন্ন উগ্রপন্থী গ্রুপে যুক্ত করত। এসব গ্রুপে বিদেশি নাগরিক এবং সম্ভাব্য জঙ্গি হ্যান্ডলাররাও উপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। তদন্তে আরও জানা গেছে, জইশ-ই-মহম্মদ ভবিষ্যতে মুম্বইয়ে সম্ভাব্য জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য আয়ানকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছিল। আয়ান শেখের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (UAPA)-এর ধারা ৩৮ (জঙ্গি সংগঠনের সদস্যপদ) এবং ৩৯ (জঙ্গি সংগঠনকে সহায়তা) সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১৫২, ১৯৬ ও ১৯৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    সোশ্যাল মিডিয়া জঙ্গিদের প্রধান অস্ত্র

    দুই যুবকের ভূমিকা এখনও তদন্তাধীন। এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে অনলাইন জগত কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। যুবকরা সহজেই জঙ্গি প্রোপাগান্ডার ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে। আয়ান একজন ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র যার জীবনের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছিল। কিন্তু কোনও অজানা কারণে সে জঙ্গি আদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এটিএস জানিয়েছে, তাঁর ডিভাইসে মাসুদ আজহারের বক্তৃতা, জেএম-এর প্রশিক্ষণ ভিডিও এবং আইএসআইএস-এর ক্যালিফেটের প্রচার ছিল। এগুলো দেখে তিনি অন্যদেরও প্রভাবিত করতে চেয়েছিল। মুম্বইয়ের এই গ্রেফতারি দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। অনেকে বলছেন, শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে র‌্যাডিকালাইজেশনের প্রবণতা বাড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং মেসেজিং অ্যাপগুলো এখন জঙ্গিদের প্রধান অস্ত্র। এটিএস-এর এই অভিযান সময়মতো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদি না ধরা পড়ত, তাহলে হয়তো আরও বড় কোনও ষড়যন্ত্র জন্ম নিত।

  • India T20 World Cup 2026 Champions: টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ ফাইনালে ইতিহাস গড়ে চ্যাম্পিয়ন ভারত, রেকর্ডের বন্যা মেন ইন ব্লু-র

    India T20 World Cup 2026 Champions: টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ ফাইনালে ইতিহাস গড়ে চ্যাম্পিয়ন ভারত, রেকর্ডের বন্যা মেন ইন ব্লু-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখল ভারত। আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে নিল ভারতীয় দল। এর ফলে টি-২০ বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করল ভারত। এই জয়ের নেপথ্যে ছিল ভারতের টপ অর্ডারের বিস্ফোরক ব্যাটিং এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং। ওপেনার সঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা এবং ইশান কিশানের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৫৫ রানের বিশাল স্কোর দাঁড় করায় ভারত। টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে এটি অন্যতম সর্বোচ্চ দলগত সংগ্রহ।

    টপ অর্ডারের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ম্যাচের মোড়

    ভারতের ইনিংসের ভিত গড়ে দেন সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই দ্রুত রান তুলে নিউ জিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণকে চাপে ফেলে দেন তাঁরা। পরে ইশান কিশান দ্রুতগতির ইনিংস খেলে স্কোরবোর্ডকে বিশাল উচ্চতায় পৌঁছে দেন। তিন ব্যাটারের সম্মিলিত আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ফলে ফাইনালে ভারত রেকর্ড গড়া রান তোলে।

    বুমরার আগুনে বোলিংয়ে ভেঙে পড়ে কিউই ব্যাটিং

    ২৫৬ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ভারতের পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দেন জসপ্রীত বুমরা। তাঁর বিধ্বংসী স্পেলে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন তিনি। বুমরার ধারালো বোলিং এবং অন্যান্য বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে নিউ জিল্যান্ড কখনও ম্যাচে ফিরতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় বোলিং আক্রমণের সামনে কিউই ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে এবং ৯৬ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় ভারত।

    ফাইনালে ভারতের একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ড

    এই ম্যাচে একাধিক নজির গড়েছে ভারতীয় দল। ফাইনালে ভারতের গড়া উল্লেখযোগ্য রেকর্ডগুলির তালিকা নিচে দেওয়া হল—

    • ● ১ – নিজেদের মাটিতে টি২০ বিশ্বকাপ জয়ী প্রথম দল হল ভারত।
    • ● ১ – টি২০ বিশ্বকাপের শিরোপা সফলভাবে রক্ষা করার নজিরও প্রথমবার গড়ল একটি দল।
    • ● ২ – ২০২১ সালের পর দ্বিতীয়বার টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে হারল নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তান (২০০৭, ২০২২) ও শ্রীলঙ্কার (২০০৯, ২০১২) সঙ্গে যৌথভাবে এটি সর্বাধিক ফাইনাল হারার রেকর্ড।
    • ● ৩ – টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে তিনটি শিরোপা জিতল ভারত। ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের রয়েছে দুটি করে।
    • ● ৩ – টি২০ বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়া তৃতীয় ভারতীয় হলেন সঞ্জু স্যামসন। এর আগে এই সম্মান পেয়েছিলেন বিরাট কোহলি (২০১৪, ২০১৬) ও জসপ্রীত বুমরাহ (২০২৪)।
    • ● ৪ – জসপ্রীত বুমরার ৪/১৫ টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনো পেসারের সেরা বোলিং এবং সামগ্রিকভাবে দ্বিতীয় সেরা।
    • ● ৭ – টি২০ বিশ্বকাপে টানা তিনটি ম্যাচে ৫০ বা তার বেশি রান করা সপ্তম ব্যাটার হলেন সঞ্জু স্যামসন।
    • ● ১৪ – ২০২৬ টি২০ বিশ্বকাপে সর্বাধিক উইকেট নেওয়ার তালিকায় শীর্ষে ছিলেন জসপ্রীত বুমরা ও বরুণ চক্রবর্তী।
    • ● ৮৯ – ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সঞ্জু স্যামসনের ৮৯ রান টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনও ব্যাটারের সর্বোচ্চ স্কোর।
    • ● ৯২ – পাওয়ারপ্লেতে ভারতের ৯২ রান টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের সর্বোচ্চ।
    • ● ৯৬ – নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৯৬ রানের জয় টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের সবচেয়ে বড় জয়।
    • ● ৯৮ – সঞ্জু স্যামসন ও ঈশান কিষানের ৯৮ রানের ওপেনিং জুটি টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ।
    • ● ২৫৫ – টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে ৫ উইকেটে ভারতের ২৫৫ রান সর্বোচ্চ দলগত স্কোর এবং পুরো টুর্নামেন্টের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ।
    • ● ৩২১ – মাত্র পাঁচ ম্যাচে সঞ্জু স্যামসনের ৩২১ রান টি২০ বিশ্বকাপের এক সংস্করণে কোনো ভারতীয় ব্যাটারের সর্বাধিক রান।

    ভারতের আধিপত্যের নতুন যুগ

    ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে ভারতের ধারাবাহিক আধিপত্যের প্রতীক। তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে তৈরি এই দল ভবিষ্যতের বিশ্ব ক্রিকেটেও বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে। টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর এই ঐতিহাসিক জয় ভারতীয় ক্রিকেটকে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে গেল।

  • Pakistan: শ্যাম রাখি না কুল! তেহরান-রিয়াধের উত্তেজনার মাঝে পড়ে ‘চিঁড়েচ্যাপ্টা’ হওয়ার জোগাড় পাকিস্তানের

    Pakistan: শ্যাম রাখি না কুল! তেহরান-রিয়াধের উত্তেজনার মাঝে পড়ে ‘চিঁড়েচ্যাপ্টা’ হওয়ার জোগাড় পাকিস্তানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান (Pakistan)। তেহরান ও রিয়াধের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইসলামাবাদ একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য (West Asia Test) বজায় রাখার চেষ্টা করছে। কেন? কারণ একদিকে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘ ও সংবেদনশীল সীমান্ত রয়েছে, অন্যদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে রয়েছে প্রতিরক্ষা চুক্তি ও আর্থিক সম্পর্ক। ইরানকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত এই যুদ্ধ পশ্চিম এশিয়া এবং এর বাইরেও প্রভাব ফেলেছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ড্রোন আক্রমণ বা বিস্ফোরণের ধাক্কায় প্রায় সব দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হতাহত, গুরুত্বপূর্ণ দূতাবাস বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান তার দুই মিত্র—সৌদি আরব ও ইরানের—মাঝে আটকে পড়েছে। এর পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার ছ’টি দেশ ইতিমধ্যেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে, যা ইসলামাবাদের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

    গুরুত্বপূর্ণ ৩ চ্যালেঞ্জ (Pakistan)

    বর্তমানে পাকিস্তানের সামনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলি হল— পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মধ্যে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা, দেশের সংখ্যালঘু শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্ষোভ সামাল দেওয়া এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামাবাদের কাছে তেহরান ও রিয়াধ—দু’টিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শ্যাম রাখি না কুল দশা হয়েছে পাকিস্তানের। সৌদি আরব পাকিস্তানের মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময় সৌদি আরব পাকিস্তানকে আর্থিক সহায়তা, বিলম্বিত অর্থপ্রদানের ভিত্তিতে তেল এবং লগ্নির ব্যবস্থা করে দেয়। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীও ঐতিহাসিকভাবে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া লাখ লাখ পাকিস্তানি শ্রমিক ও নাগরিক সৌদি আরবে বসবাস করেন এবং সেখানেই জীবিকা নির্বাহ করেন।

    পাকিস্তানের পড়শি ইরান

    এদিকে, ইরান পাকিস্তানের পড়শি। পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইরানের সঙ্গে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ (Pakistan)। ২০২৫ সালের অগাস্টে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদ সফর করেন। অব্যাহত রয়েছে এই দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ (West Asia Test)। পাকিস্তানের প্রধান চ্যালেঞ্জ হল, কোনও পক্ষ না নিয়ে তার কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখা। কিন্তু গত বছর স্বাক্ষরিত পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পাকিস্তানের নেতারা নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছেন। সেনাপ্রধান আসিম মুনির পর্যন্ত সৌদি আরবে উড়ে গিয়ে দেশটির শীর্ষ মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ্ আলি খামেনেই নিহত হন, তখন পাকিস্তান ওই হামলাকে ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির ওপর ইরানের পাল্টা হামলাকে ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন’ বলে নিন্দে করে।

    পাক বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার জানান, তিনি ইরানকে পাকিস্তানের সৌদি আরবের প্রতি প্রতিরক্ষা দায়বদ্ধতার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন (Pakistan)। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানতে চান, সৌদি ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা করা হবে না, এ বিষয়ে কি নিশ্চয়তা আছে। দার জানান, তিনি রিয়াধ থেকে সেই নিশ্চয়তা পেয়েছেন (West Asia Test)। এর পরপরই ইরানি ড্রোন সৌদির গুরুত্বপূর্ণ জায়গা, যার মধ্যে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও রয়েছে, টার্গেট করে হামলা চালায়। টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আরসালান খান সংবাদমাধ্যমে বলেন, “পাকিস্তান একদিকে ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে অভ্যন্তরীণ শান্তি বজায় রাখতে চাইছে, অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের কারণে যুদ্ধের ঘূর্ণিতে টেনে নেওয়ার ঝুঁকিতেও রয়েছে।” ইরানের পর পাকিস্তানেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া সম্প্রদায় রয়েছে। খামেনেইর মৃত্যুর পর করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে বিক্ষোভের ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হওয়ায় শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে (Pakistan)।

    মার্কিন মেরিনরা গুলি চালায়

    বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেটের দেওয়াল ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে মার্কিন মেরিনরা গুলি চালায় বলে সংবাদ সংস্থার খবর। এতে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন (West Asia Test)। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাদিহা তাহির বলেন, “এই প্রতিক্রিয়ার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসেরও।” আটের দশকে জেনারেল জিয়া-উল-হক সুন্নি ইসলামীকরণের নীতি চালু করেন। একই সময়ে ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লব পাকিস্তানের শিয়াদের জন্য নতুন সমর্থনের উৎস হয়ে ওঠে। পাকিস্তানের প্রায় ২৪ কোটি মানুষের মধ্যে এক-পঞ্চমাংশের কাছাকাছি শিয়া মুসলিম, বাকি অংশের অধিকাংশই সুন্নি। এদিকে, ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর পাকিস্তান-মার্কিন সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এতে ওয়াশিংটনের কালো তালিকায় থাকা এক দশকের বেশি সময়ের অধ্যায়ের অবসান ঘটে (Pakistan)।

    আসিম মুনির

    ট্রাম্পের সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে (West Asia Test)। ট্রাম্পের রাজত্বকালে পাকিস্তান ‘গাজা বোর্ড অফ পিস’ নামের একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে জায়গা পেয়েছে, সেখানে রয়েছে ইজরায়েলও। অবশ্য বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্পর্ক কৌশলগত স্বার্থের চেয়ে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক স্বার্থ দ্বারা বেশি প্রভাবিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ, জ্বালানি এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে (Pakistan)। এ বছর পাকিস্তান ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো ব্যবসা ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়ালের সঙ্গে একটি চুক্তি করে, যাতে তাদের ইউএসডি১ স্টেবলকয়েন আন্তর্জাতিক লেনদেনে ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয় (West Asia Test)। এরকম হাইভোল্টেজ পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের পক্ষে এমন কোনও পক্ষ নেওয়া কঠিন, যা ট্রাম্প ও আমেরিকার স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় (Pakistan)।

  • T20 World Cup 2026: পাকিস্তানের ঝুলিতে মাত্র সাড়ে ৩ কোটি! বিশ্বসেরা হয়ে কত টাকা পুরস্কার পেল ভারত?

    T20 World Cup 2026: পাকিস্তানের ঝুলিতে মাত্র সাড়ে ৩ কোটি! বিশ্বসেরা হয়ে কত টাকা পুরস্কার পেল ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভুবনজয়ী ভারত। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে একপেশে ম্যাচে গুঁড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন সূর্যকুমার যাদবের টিম ইন্ডিয়া। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে সেলিব্রেশন। আসলে এই বিশ্বকাপ জয় (T20 World Cup 2026) বিশ্বক্রিকেটে ভারতের আধিপত্য আবারও শক্তপোক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করে দিল। একই সঙ্গে আর্থিকভাবেও লাভবান করল টিম ইন্ডিয়াকে। বিজয়ী দল হিসেবে ভারত পেয়েছে ২.৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার সমান। অর্থাৎ প্রতিযোগিতার মোট আর্থিক পুরস্কারের পাঁচ ভাগের এক ভাগ ঢুকেছে টিম ইন্ডিয়ার পকেটে।

    কোনও দেশই খালি হাতে ফেরেনি

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা কোনও দেশই খালি হাতে ফেরেনি। যারা অংশ নিয়েছে, তারা প্রত্যেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পেয়েছে। যে দল যতটা এগোতে পেরেছে, তার পুরস্কারের অঙ্ক তত বেড়েছে। রবিবার আমেদাবাদের মাঠে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। ফলে সবচেয়ে বেশি টাকা পেয়েছেন সূর্যকুমার যাদবেরা। কোনও দেশই খালি হাতে ফেরেনিএ বারের বিশ্বকাপের জন্য ১২০ কোটি টাকার পুরস্কার ধার্য করেছিল আইসিসি। প্রতিটি ধাপে টাকার অঙ্ক নির্দিষ্ট ছিল। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ যাওয়া দলগুলি পেয়েছে ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। যে দলগুলি সুপার এইট পর্বে বাদ গিয়েছে তারা পেয়েছে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, পাকিস্তান সাড়ে ৩ কোটি টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।

    রেকর্ড অঙ্কের পুরস্কার

    এ বছর টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup) রেকর্ড অঙ্কের পুরস্কার দিল আইসিসি। ২০২৪ বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে ১০০ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল আইসিসি। এবার সেটা ২০ শতাংশ বেড়ে ১২০ কোটি করা হয়েছে। পুরস্কার মূল্য বেড়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে চ্যাম্পিয়ন, সব দলেরই। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ড। তারা পেয়েছে ৭ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা। ফাইনালে রানার্স দল নিউজিল্যান্ড পেয়েছে ১৪ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা। আর বিশ্বকাপ জিতে ভারত পেয়েছে ২৭ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা।

    বিশ্বকাপের পুরস্কার মূল্য (ICC Prize Money)

    চ্যাম্পিয়ন (ভারত)
    ২৭.৪৮ কোটি

    রানার্স আপ (নিউজিল্যান্ড)
    ১৪.৬৫ কোটি

    সেমিফাইনাল
    ৭.২৪ কোটি

    সুপার এইট
    ৩.৪৮ কোটি

    গ্রুপ পর্ব
    ২.২৯ কোটি

  • Tamal Roy Chowdhury: ঘুমের মধ্যেই স্ট্রোক, প্রয়াত প্রবীণ অভিনেতা তমাল রায়চৌধুরী, চলচ্চিত্র জগতে শোকের ছায়া

    Tamal Roy Chowdhury: ঘুমের মধ্যেই স্ট্রোক, প্রয়াত প্রবীণ অভিনেতা তমাল রায়চৌধুরী, চলচ্চিত্র জগতে শোকের ছায়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলা চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতের (Tollywood Actor) এক পরিচিত মুখ, বিশিষ্ট অভিনেতা তমাল রায়চৌধুরী (Tamal Roy Chowdhury) আর নেই। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা এবং শারীরিক নানা জটিলতার কারণে রবিবার রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর প্রয়াণে টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয় জীবনে তিনি তাঁর সাবলীল অভিনয় এবং গম্ভীর কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিলেন। জানা গিয়েছে তাঁর ঘুমের মধ্যেই আচমকা স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর প্রয়াণে চলচ্চিত্র জগতে শোকের ছায়া। আসুন এক নজরে দেখে নিই তাঁর বর্ণময় জীবন ও কর্ম সম্পর্কে।

    চলচ্চিত্র ও মঞ্চ (Tamal Roy Chowdhury)

    কেবল রুপালি পর্দায় নয়, পেশাদার থিয়েটার বা মঞ্চেও তমাল (Tamal Roy Chowdhury) ছিলেন সমানভাবে জনপ্রিয়। বহু কালজয়ী নাটকে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের মনে অমলিন। চরিত্রাভিনেতা হিসেবে তাঁর পরিচিতি দর্শকের মন জয় করে নিয়েছিল। সত্যজিৎ রায়ের ‘শাখা-প্রশাখা’ থেকে শুরু করে সমসাময়িক বহু বাণিজ্যিক ও শৈল্পিক চলচ্চিত্রে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গিয়েছে। পার্শ্বচরিত্রেও যে গভীর প্রভাব ফেলা যায়, তিনি ছিলেন উজ্জ্বল উদাহরণ। তাঁর অভিনীত (Tollywood Actor) সিনেমার তালিকায় রয়েছে ‘চ্যালেঞ্জ’, ‘লে হালুয়া লে’, ‘বিন্দাস’, ‘জাতিশ্মর’, ‘অ্যামাজন অভিযান’ এবং ‘চাঁদের পাহাড়’। সবশেষে তাঁকে দেখা গিয়েছিল পরিচালক তথাগত মুখোপাধ্যায়ের ছবি ‘ভটভটি’-তে। টেলিভিশন জগৎ-এর বড় পর্দার পাশাপাশি বাংলা ছোটপর্দাতেও তিনি ছিলেন এক অতি পরিচিত মুখ। অসংখ্য জনপ্রিয় মেগা সিরিয়ালে তাঁর বলিষ্ঠ উপস্থিতি দর্শকদের মুগ্ধ করত। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন নাটকের দলে অভিনয় করতেন। পাড়ার নাটকেও তাঁর অভিনয় দেখে প্রশংসা করতেন সবাই। ১৯৬২ সাল থেকে থিয়েটারের প্রতি তাঁর উৎসাহ আরও বাড়তে শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে সিনেমা, নাটক এবং বিনোদনের জগতে কাজ করে গিয়েছেন।

    শোকবার্তা ও শেষ বিদায়

    আর্টিস্ট ফোরামের তরফে তমাল রায় চৌধুরীর (Tamal Roy Chowdhury) প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোক প্রকাশ করেছেন টলিউডের বিশিষ্ট অভিনেতা, পরিচালক এবং কলাকুশলীবৃন্দ। অনেকের মতেই, তমাল রায়চৌধুরীর চলে যাওয়া মানে একটি যুগের অবসান এবং অভিনয় জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর অনুরাগী এবং সহকর্মীরা সামাজিক মাধ্যমে তাঁদের প্রিয় অভিনেতার (Tollywood Actor) প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। প্রথাগত নিয়ম মেনেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা। বাংলা সংস্কৃতি জগতের এই নিষ্ঠাবান শিল্পীর প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।

  • T20 World Cup 2026: “সাজঘরের ৩০ জনের বাইরে কাউকে আমার জবাবদিহির প্রয়োজন নেই”, বললেন গুরু গম্ভীর

    T20 World Cup 2026: “সাজঘরের ৩০ জনের বাইরে কাউকে আমার জবাবদিহির প্রয়োজন নেই”, বললেন গুরু গম্ভীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাহুল দ্রাবিড়ের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যখন তাঁকে কোচ করে আনা হয়েছিল, দ্রাবিড়ের সঙ্গে গৌতম গম্ভীরের সম্পর্ক নিয়ে মুচমুচে খবর ছড়িয়েছিল। যেভাবে দ্রাবিড়কে সরে যেতে হয়েছিল ভারতীয় দলের কোচের পদ থেকে, গম্ভীরকে যেভাবে কলকাতা নাইট রাইডার্সের মেন্টর পদ থেকে ভাঙিয়ে এনে বসানো হয়েছিল টিম ইন্ডিয়ার কোচের চেয়ারে, অনেকে যার নেপথ্যে রাজনৈতিক যোগ দেখেছিলেন। কোচ হিসেবে প্রথম বিশ্বকাপ জেতার পর গম্ভীর সাফল্যের কৃতিত্ব দিলেন সেই দ্রাবিড়কেই! ২০২৬ টি–২০ বিশ্বকাপ জয়ের (T20 World Cup 2026) পর যেন একরকম স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন গুরু গম্ভীর (Gautam Gambhir)। গত দু’বছর ধরে তাঁর কোচিং নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। জয় শাহের ঘনিষ্ঠ তাই কোচের পদে এমন কথাও শুনতে হয়েছিল। নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে হার, সমালোচনা, সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ—সব মিলিয়ে সময়টা সহজ ছিল না। কিন্তু বিশ্বকাপ জিতে টিম ইন্ডিয়ার হেডস্যার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কারুর কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন তিনি। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারা।

    জয়ের কৃতিত্ব চার জনকে

    এই বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব চার জনকে দিতে চান গম্ভীর। তবে তাঁরা কেউ দলের খেলোয়াড় বা সাপোর্ট স্টাফ নন। গম্ভীর নাম নিয়েছেন রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষ্মণ, অজিত আগরকর ও জয় শাহের। ভারতীয় কোচ বলেন, “এই ট্রফি আমি উৎসর্গ করতে চাই রাহুল ভাই আর লক্ষ্মণ ভাইকে। ভারতীয় ক্রিকেটকে এই জায়গায় নিয়ে আসার নেপথ্যে রাহুল ভাই কি না করেছে। পাশাপাশি লক্ষ্মণ ভাইও চুপচাপ নিজের দায়িত্ব সামলেছে। সিওএ আছে বলেই ভারতের ক্রিকেট এত উন্নত। অজিতের কথাও বলব। এত সমালোচনার পরেও ও নিজের কাজ করে গিয়েছে।”

    জয় ভাই ফোন করেছিলেন

    তাঁর জীবনে জয় শাহের কতটা ভূমিকা রয়েছে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন গম্ভীর। তিনি বলেন, “জয় ভাই আমাকে কোচের দায়িত্ব দিয়েছিল। এর আগে তো কোথাও কোচিং করাইনি। তার পরেও জয় ভাই ভরসা রেখেছিল। সেই ভরসা আজও আছে। নিউজিল্যান্ডের ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে চুনকামের পর একমাত্র জয় ভাই ফোন করেছে। আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। তাই এই সাফল্যের কৃতিত্ব ওদের।” ভারতীয় ক্রিকেটের দর্শন বদলে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন গম্ভীর। তিনি বলেন, “আমরা আর ১৬০ বা ১৭০ রান করার জন্য খেলি না। ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে হবে। ঝুঁকি নিতে হবে। ঝুঁকি না নিলে সফল হওয়া যাবে না। তাতে ১০০ রানে অল আউটও হয়ে যেতে পারি। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে সেটাই হয়েছে। তাতে ভয়ের কিছু নেই। চেষ্টা করতে হবে ২০০-র বেশি রান করার। সেই চেষ্টাই আমরা করছি।”

    আগে দল, পরে প্লেয়ার

    তিনি নিজে খেলোয়াড় জীবনে সবসময় দলের স্বার্থের কথা আগে ভেবেছেন। কোচ হিসাবেও সেই দর্শনেই বিশ্বাস করেন গম্ভীর। তিনি বলেন, “আমি মনে করি, আগে দল। পরে নিজের সাফল্য। আপনি যদি ৯৬ রান থেকে ১০০ করতে চার বল খেলেন, তা হলে আপনি দলের ২০ রানের ক্ষতি করলেন। ওই চার বলে চারটে ছক্কা হতে পারত। তাই যদি কেউ ৯৬ রান থেকে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হয় তাতে আমার কোনও দুঃখ নেই। ওই ৯৬ আমার কাছে শতরানের সমান। এই দর্শন দলের সকলকে দিয়েছি। আমি ভাগ্যবান, দলের সকলে সেটা মেনেছে। আমরা সে ভাবেই খেলি। সকলেই দলকে আগে রাখে।”

    সমাজমাধ্যমে কাউকে জবাব দেব না

    বিশ্বকাপ জেতার পর সাংবাদিক বৈঠকে গম্ভীরকে প্রশ্ন করা হয়, তাঁর দলের সাজঘরের পরিবেশ কেমন। জবাবে গম্ভীর বলেন, “আশা করছি, এ বার সাজঘর নিয়ে জল্পনা বন্ধ হবে। দেখুন, সাজঘরের পরিবেশ ভালো ছিল বলেই আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। বার বার সাজঘর নিয়ে কথা হয়েছে। আমাকে নিয়ে কথা হয়েছে। লেখালিখি হয়েছে। সমাজমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। আমি অবশ্য কাউকে জবাব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করিনি। সাজঘরের ওই ৩০ জনের বাইরে কাউকে আমার জবাবদিহির প্রয়োজন নেই।”

    খেলোয়ার ও কোচ হিসেবে বিশ্বজয়ের নজির

    গৌতম গম্ভীর ইতিহাসের পাতায় নাম লিখে ফেললেন। প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তিনি ডাবল জিতলেন। ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন গম্ভীর। আবার এই ২০২৬ সালে গম্ভীর ভারতীয় দলের হেড কোচ। কোচ ও প্লেয়ার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বজয়ী আর নেই ভূভারতে। হেড কোচ হওয়ার আগে গৌতম গম্ভীর ছিলেন আইসিসি টুর্নামেন্টের সবথেকে সফল পারফরমার। ২০০৭ বিশ্বকাপের ফাইনালে গম্ভীর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৫৪ বলে ৭৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ২০১১ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ফাইনালে গম্ভীর ৯৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছিলেন। কোচ হয়ে আসার পরই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিলেন তিনি। গোটা টুর্নামেন্টে অপরাজিত থাকার পরে ভারত নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। প্রায় এক যুগের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির খরা কাটিয়েছিল ভারতীয় দল। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে গম্ভীরের ভারত ধরাছোঁয়ার বাইরের এক কক্ষপথে পৌঁছে গিয়েছে।

    ‘‘কোচ সাহেব, আপনার হাসি আপনাকে খুবই মানিয়েছে’’

    ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে দলকে অভিনন্দন জানান। দীর্ঘদিন পর তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন। তিনি ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁর মুখের হাসি এই জয়ের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলোর একটি। ধোনি তাঁর বার্তায় বলেন, ‘‘আমেদাবাদে ভারতীয় দল ইতিহাস তৈরি করেছে।’’ তিনি দল, কোচিং স্টাফ এবং সব সমর্থকদের অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, নতুন নেতৃত্বে দল যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা দেখতে খুবই আনন্দের। ধোনি লেখেন,“আমেদাবাদে ইতিহাস তৈরি হয়েছে। দল, সহকারী কর্মী এবং বিশ্বজুড়ে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সব সমর্থককে অনেক অভিনন্দন। তোমাদের সবাইকে খেলতে দেখা সত্যিই দারুণ আনন্দের। কোচ সাহেব, আপনার হাসি আপনাকে খুবই মানিয়েছে। হাসির সঙ্গে সেই তীব্র মনোভাব—দুটো মিলে অসাধারণ এক সমন্বয়। দারুণ কাজ করেছেন। সবাই এই সাফল্য উপভোগ করো।”

    সাদা বলের ক্রিকেটের রাজা

    তাঁকে নিয়ে কত কথা। কত আলোচনা। দেশজুড়ে তাঁকে নিয়ে সমালোচনার ঝড়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেও গৌতম গম্ভীরকে নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল না দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। রবি-রাতের পরে বলাই যায় ভারতের হেডস্যর গৌতম গম্ভীর একই সঙ্গে নিন্দিত ও নন্দিত ব্যক্তি। এবার তাঁর জবাব দেওয়ার পালা। গম্ভীর কোচ বা ক্রিকেটার হিসেবে কোনও ফাইনাল হারেননি । আইপিএল হোক বা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, ওয়ান ডে বিশ্বকাপ, টি-২০ বিশ্বকাপ – কখনও হারেননি গম্ভীর। সে ক্রিকেট কেরিয়ারে হোক বা কোচ হিসেবে। লাল বলের ক্রিকেটে না হলেও সাদা বলের ক্রিকেটের রাজা তিনি।

  • West Bengal Assembly Election: রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশনের দ্বারস্থ বিজেপি, ১-২ দফায় ভোটের আর্জি

    West Bengal Assembly Election: রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশনের দ্বারস্থ বিজেপি, ১-২ দফায় ভোটের আর্জি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ বর্তমানে কলকাতায় এসেছে। সোমবার সকালে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের প্রতিনিধিদের যে বৈঠক হয়েছে, সেখানে ভারতীয় জনতা পার্টির (Bengal BJP) পক্ষ থেকে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে মূলত অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং ভীতিমুক্ত নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

    সংক্ষিপ্ত দফায় নির্বাচন (West Bengal Assembly Election)

    বিজেপির (Bengal BJP) পক্ষ থেকে কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে রাজ্যজুড়ে নির্বাচন (West Bengal Assembly Election) প্রক্রিয়া ১ থেকে ২ দফার মধ্যে সম্পন্ন করা হয়। তাদের মতে, পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে দ্রুত ভোট গ্রহণ শেষ করলে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতে পারে। উল্লেখ্য ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে মোট ৮ দফায় ভোট হয়েছিল। যদিও সেই সময় নির্বাচন চলাকালীন এবং নির্বাচন উত্তর হিংসার রূপ মারাত্মক আকার নিয়েছিল। তাই বিজেপি হিংসামুক্ত করার দাবিতে অনড়।

    ১৬ দফা দাবি

    এদিন বিজেপির (Bengal BJP) তরফে প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন তাপস রায়, শিশির বাজোরিয়া এবং জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়৷ কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে নির্বাচন নিয়ে (West Bengal Assembly Election) ১৬ দফা দাবি পেশ করেছে বিজেপি। কমিশনকে জানানো হয়, ৭-৮ দফায় নির্বাচন করা দরকার নেই। সেনসিনিটিভ বুথ চিহ্নিত করা প্রয়োজন৷ রাজ্য পুলিশ যেভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করছে, তা নিয়েও কমিশনের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিজেপির প্রতিনিধি দল।

    কেন্দ্রীয় বাহিনীর কার্যকর ব্যবহার

    এদিন রাজ্য বিজেপির তরফে নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে যথাযথ ভাবে ব্যবহার করার কথা জানানো হয়েছে। প্রতিটি বুথে কেবল রাজ্য পুলিশ নয়, বরং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) মোতায়েন করার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া বুথের বাইরেও যাতে বাহিনী টহল দেয়, সে বিষয়ে কমিশনকে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। ভোট কেন্দ্রে (West Bengal Assembly Election) কোনও ভাবেই দুষ্কৃতীদের দ্বারা যাতে ভোট লুট না হয় সেই বিষয়েও আবেদন করা হয়।

    ভোটার তালিকা সংশোধন

    ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া বা ভুয়া নাম থাকা নিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের বিধানসভায় যাতে একটি ত্রুটিমুক্ত এবং স্বচ্ছ ভোটার তালিকা নিশ্চিত করা হয় সেই দিকে নজর দিয়ে জোরালো দাবি করেছে বিজেপি।

    নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা

    ভোটের সময় স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের প্রয়োজনীয়তা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও বিজেপি সরব হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ সোমবার দিনভর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার পর বিকেলে রাজ্যের প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। বিজেপির এই ১-২ দফায় ভোট (West Bengal Assembly Election) করানোর প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধেই নানামুখী আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ সাধারণত পশ্চিমবঙ্গে বড় নির্বাচনগুলো বেশ কয়েকটি দফায় অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

    ভারতের নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ যখন পশ্চিমবঙ্গ সফরে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়েই রাজ্যের এক রাজনৈতিক নেতার বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নানা সময়ে অভব্য মন্তব্য করে সাংবিধানিক পদকে অপমান করেছেন বলে বার বার বিজেপি সরব হয়েছে।

    কল্যাণের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপের দাবি

    সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত অবমাননাকর ও প্রচ্ছন্ন হুমকিমূলক ভাষা প্রয়োগ করেছেন। শুধু তাই নয় জ্ঞানেশ কুমারের ‘আঙুল কাটা’-র মতো উস্কানি মন্তব্য করেছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। বিজেপি (Bengal BJP) দাবি করেছে এই আচরণ অগণতান্ত্রিক এবং শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে। এই বিষয়টি নিয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। তাঁদের মতে, সাংবিধানিক পদের অধিকারী কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ ধরনের কুরুচিকর আক্রমণ কেবল ব্যক্তিগত অপমান নয়, বরং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মর্যাদাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা।

LinkedIn
Share