মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ফিফা ফ্রেন্ডলি খেলতে নামে ভারতীয় ফুটবল দল (Indian Football Team)। উরুগুয়ে যে ভাল খেলবে, তা আগে থেকেই সকলের ধারণা ছিল। কিন্তু, টিম ইন্ডিয়া এদিন যেভাবে লড়াই করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। চেষ্টার কোনও কমতি ছিল না। ৯০ মিনিট মাঠে নিজেদের নিংড়ে দিলেন মনবীর, আপুইয়া, অনিরুদ্ধ থাপারা। কিন্তু দিনের শেষে ভারত এবং উরুগুয়ের মধ্যে দক্ষতার ফারাক যে আকাশ-পাতাল। সেই ফারাক চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল মঙ্গলবারের যুবভারতী। পানামা ম্যাচে ড্র এবং ব্রাজিল ম্যাচের লড়াকু ফলাফল ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের উরুগুয়ে ম্যাচে ভালো ফলের যে স্বপ্ন দেখিয়েছিল, সেই স্বপ্ন বাস্তবের রুক্ষ্ম মাটিতে আছড়ে পড়ল। অনিরুদ্ধ থাপা ইতিহাস গড়ে একটি গোল করলেন বটে। কিন্তু শেষমেশ ফোরল্যানের দলের বিরুদ্ধে ১-৬ গোলে হারল ব্লু টাইগার্স।
শুরুতেই গোল উরুগুয়ের
উরুগুয়ের (India vs Uruguay) হয়ে প্রথম গোল করেন ডারউইন নুনিয়েজ। অন্য়দিকে, ভারতের হয়ে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান অনিরুদ্ধ থাপা। এদিন জলপানের বিরতির ঠিক পরই কলকাতার আকাশে বিদ্যুৎ চমকাতে শুরু করে। ফিফার নিয়ম অনুসারে, এই কারণেই খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এদিন খেলা শুরুতেই। পরমবীরের ভুল ট্যাকলে পেনাল্টি উপহার পায় উরুগুয়ে। ম্যাচের ১১ মিনিটে পেনাল্টি স্পট থেকে শট নেওয়ার আগে দৌড়ে সামান্য থমকে যান নুনিয়েজ। এরপর গুরপ্রীতকে ভুল দিকে পাঠিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি!
সমতা ফেরালেন অনিরুদ্ধ থাপা
দুর্দান্ত কামব্যাক ভারতীয় ফুটবল দলের ২২ মিনিট মাঠের মাঝখানে বল দখলে নেন রায়ান উইলিয়ামস। সামনে দৌড়ে যাওয়ার জন্য বেশ কিছুটা জায়গাও ছিল তাঁর। সতীর্থদের পাস দেওয়ার সুযোগ থাকলেও নিজেই শট নেন উইলিয়ামস। তবে সেই শট বাঁচিয়ে দেন উরুগুয়ের গোলকিপার কারদোজো। কিন্তু বলটি মুঠোয় ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ঠিক সেখানেই ওত পেতে ছিলেন থাপা। ফিরতি বল পেয়ে জালে জড়িয়ে দেন অনিরুদ্ধ থাপা। এই গোলের ফলে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে গোল করা দ্বিতীয় ভারতীয় ফুটবলার হলেন অনিরুদ্ধ থাপা। ১৯৮২ সালে ইডেন উদ্যানে নেহরু গোল্ড কাপের ম্যাচে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে প্রথম ভারতীয় হিসেবে গোল করেছিলেন মানস ভট্টাচার্য।
বজ্রপাতে বেসামাল রক্ষণ
এরপর বজ্রপাতের জন্য আধঘণ্টা বন্ধ রাখতে হয়েছিল খেলা। সেটাই সম্ভবত কাল হল ভারতের। ওই আধ ঘণ্টার বিরতির পর আচমকা ভারতের রক্ষণ যেন নড়বড়ে হয়ে যায়। অবশ্য সেটার নেপথ্যে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে ৩ ম্যাচ খেলার ক্লান্তি এবং কোচ খালিদ জামিলের তরুণদের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তও কাজ করেছে। বিজয় ভার্গেস যিনি আগের দু’ম্যাচে আনোয়ারের পাশে স্তম্ভের মতো রক্ষণ সামলেছেন তাঁকে এদিন বিশ্রাম দেন খালিদ। সেটাই কাল হয়। ভারতের নড়বড়ে রক্ষণের সুযোগ নিতে ছাড়েনি উরুগুয়ে। ২৮ মিনিটে প্রথমে গোল করে দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে দেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরাউও। প্রথমার্ধে ভারত পিছিয়ে ছিল ২-১ গোলে।
দ্বিতীয়ার্ধে অন্য উরুগুয়ে
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই যেন অন্য উরুগুয়েকে দেখা যায়। একের পর এক গোলে ব্যবধান বাড়াতে থাকে ফোরল্যানের দল। ভারত যখনই আক্রমণে গিয়েছে প্রতিআক্রমণে বিপদ তৈরি করেছে উরুগুয়ে, ক্লান্তি আর গতির অভাবে সেই আক্রমণ রুখতে পারেননি আকাশ মিশ্ররা। ৫৩ মিনিটে জালাজার, ৫৯ মিনিটে আরাউওর দ্বিতীয় গোল, ৭১ মিনিটে সানব্রিয়া এবং ৮৬ মিনিটে আগুয়ের গোল করেন। এর মাঝে দলে একাধিক বদল এনেও রক্ষণের ফাঁকফোঁকর বন্ধ করতে পারেননি খালিদ জামিল। দিনের শেষে খেলার ফল ১-৬।









