Blog

  • TCS: টিসিএস কাণ্ডে নয়া মোড়, মূল অভিযুক্ত নিদা খানকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে চার্জশিটে নাম প্রাক্তন সাংসদ ইমতিয়াজ জলিলের

    TCS: টিসিএস কাণ্ডে নয়া মোড়, মূল অভিযুক্ত নিদা খানকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে চার্জশিটে নাম প্রাক্তন সাংসদ ইমতিয়াজ জলিলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের নাসিকে টিসিএস কার্যালয়ে মহিলা কর্মীদের যৌন হেনস্থা (TCS) এবং ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগকে ঘিরে তদন্তে নয়া মোড়। এই ঘটনায় পুলিশের জমা দেওয়া অতিরিক্ত অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠল প্রাক্তন সাংসদ তথা অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) নেতা ইমতিয়াজ জলিলের। মূল অভিযুক্ত নিদা খান (Nashik Controversy) পুলিশের গ্রেফতারি এড়িয়ে পালিয়ে বেড়ানোর সময় তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা করার অভিযোগ উঠেছে জলিলের বিরুদ্ধে। তিনি বর্তমানে মহারাষ্ট্রে এআইএমআইএমের রাজ্য সভাপতি।

    কী বলছে পুলিশ (TCS)

    পুলিশের দাবি, নিদাকে আত্মগোপনে থাকতে সাহায্য করার ঘটনায় জলিলের ভূমিকার প্রমাণ পাওয়ার পর তাঁকে এই মামলার ১১ জন অভিযুক্তের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বিষয়ে তাঁর বয়ানও নথিভুক্ত করেছে তদন্তকারী দল।

    নাসিক পুলিশের অপরাধ দমন শাখার সহকারী পুলিশ কমিশনার সন্দীপ মিটকে জানিয়েছেন, “সম্ভাজিনগরের প্রাক্তন এআইএমআইএম সাংসদকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। নিদা খান যখন পুলিশের নাগালের বাইরে ছিলেন, তখন তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা করার ঘটনায় জলিলের ভূমিকা সামনে এসেছে। এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্যও রেকর্ড করা হয়েছে।”

    এদিকে, শিবসেনা নেতা তথা মহারাষ্ট্রের মন্ত্রিসভার সদস্য সঞ্জয় শিরসাটও এই ঘটনায় জলিলকে নিশানা করেছেন। ৬ নভেম্বর এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, “ইমতিয়াজ জলিল এই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত। নাসিক পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। তাঁকে জেলে যেতে হবে। সরকার বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং পুলিশও সেই অনুযায়ী তদন্ত চালাচ্ছে। জলিলের ফোনের কথোপকথনের রেকর্ড এবং কণ্ঠস্বরের নমুনার সঙ্গে পাওয়া তথ্যের মিল রয়েছে।”

    জলিলের নির্দেশেই সব কিছু!

    শিরসাটের আরও অভিযোগ, “দলের এক পুরপিতা আসলে এই ঘটনায় কেবল দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছেন। বিষয়টি একদিনে ঘটেনি। নিদা আত্মীয়দের সঙ্গে এখানে ৩৫ দিন ছিলেন। জলিলের নির্দেশেই সব কিছু হয়েছে।”

    অন্যদিকে, এক নির্যাতিতার আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, নাসিকের অতিরিক্ত দায়রা আদালতের বিচারক অমিত খরকারের এজলাসে এই অভিযোগপত্র পেশ করা হয়েছে। দেওলালি ক্যাম্প থানায় দায়ের হওয়া মামলার অভিযোগপত্রে জলিলের নাম অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছে। আদালতে তাঁকে হাজির হতে বলা হলেও তিনি হাজির হননি। বিচারকের তরফে সমন জারি হলে তাঁকে আদালতে উপস্থিত হতে হবে অথবা জামিনের আবেদন করতে হবে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী এগোবে।

    তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, নিদাকে যখন পুলিশ খুঁজছিল, তখন মহারাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত সম্ভাজিনগরে তাঁকে আশ্রয় দিয়েছিলেন এআইএমআইএমের স্থানীয় পুরপিতা মতিন প্যাটেল। নাসিক থেকে ওই শহরের দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। প্যাটেল নরেগাঁও এলাকার জনপ্রতিনিধি। এর আগেও নিদাকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে আটক করেছিল পুলিশ।

    এই সূত্র ধরেই ইমতিয়াজের সঙ্গে মতিন প্যাটেলের যোগাযোগের বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে আসে। ঘটনার প্রায় এক মাস আগে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৩৫(৩) ধারায় জলিলকে হাজির হওয়ার নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। ৮ অগাস্ট মতিনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর হেফাজতে নেওয়া হয়। যে ফ্ল্যাটে নিদা আত্মগোপন করেছিলেন, সেটির মালিক হানিফ খানকেও এই মামলায় অভিযুক্ত (TCS) করা হয়েছে।

    মহিলা কর্মীদের নির্যাতন

    টিসিএসের নাসিক শাখায় মহিলা কর্মীদের নির্যাতন, জোরপূর্বক ধর্মান্তরের চেষ্টা, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত, শ্লীলতাহানি এবং মানসিক হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে বিশেষ তদন্তকারী দল। এখনও পর্যন্ত মোট ন’টি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। এর মধ্যে আটটি অভিযোগ জমা পড়েছে নাসিকের মুম্বই নাকা থানায় এবং একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে দেওলালি ক্যাম্প থানায়।

    তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের জুলাই মাস থেকেই ওই কার্যালয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটে আসছিল বলে অভিযোগ। সম্প্রতি আট মহিলা কর্মী প্রকাশ্যে এসে তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা জানানোর পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই (Nashik Controversy) বিশেষ তদন্তকারী দল এই মামলায় দু’টি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। অতিরিক্ত অভিযোগপত্রে ইমতিয়াজের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় গোটা ঘটনায় নতুন করে চর্চা শুরু (TCS) হয়েছে রাজনৈতিক মহলেও।

     

  • Paraguay: ভয়াবহ আর্থিক সংকটে প্যারাগুয়ে, বিপাকে ৩০ লাখ গ্রাহক! গৃহবন্দি দেশের প্রেসিডেন্ট

    Paraguay: ভয়াবহ আর্থিক সংকটে প্যারাগুয়ে, বিপাকে ৩০ লাখ গ্রাহক! গৃহবন্দি দেশের প্রেসিডেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ আর্থিক সংকটে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে। দেশের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল ব্যাঙ্ক উয়েনো ব্যাঙ্কের পতনের জেরে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ ব্যবহার করতে পারছেন না। একই সঙ্গে কয়েকশো মিলিয়ন ডলারের সরকারি আমানত ও বিনিয়োগের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই আর্থিক বিপর্যয় ক্রমশ রাজনৈতিক (Paraguay) সংকটের রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতির জেরে ইমপিচমেন্টের মুখে পড়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন দেশের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা।

    গত ৬ নভেম্বর ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় পেনাকে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করে (President Faces Impeachment) পুলিশ। বর্তমানে তাঁকে গৃহবন্দি রাখা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সংসদে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তাঁর পদত্যাগ কার্যকর হয়নি। পরবর্তীতে দায়িত্বে অনিয়ম এবং ব্যাঙ্কের আর্থিক বিপর্যয়ের সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হয়।

    ইমপিচমেন্টের পক্ষে ভোট (Paraguay)

    সংসদের উচ্চকক্ষে উপস্থিত ৪৪ জন সদস্যই পেনার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের পক্ষে ভোট দেন। দায়িত্ব পালনে গুরুতর ব্যর্থতার অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দেশের উপ-রাষ্ট্রপতি পেদ্রো আলিয়ানা নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অন্যদিকে, উয়েনো ব্যাঙ্কের মালিকানাধীন ব্যবসায়িক গোষ্ঠী গ্রুপো ভাসকেসের সঙ্গে পেনার পূর্ববর্তী ব্যবসায়িক সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসায় তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক ফৌজদারি তদন্তও শুরু হয়েছে।

    গত ৩ নভেম্বর প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক উয়েনো ব্যাঙ্কের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিদর্শনে দেখা যায়, ব্যাঙ্কটির আর্থিক সক্ষমতার অনুপাত আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ন্যূনতম মাত্রার অর্ধেকেরও নীচে নেমে গিয়েছে। এরপরই ব্যাঙ্কটির বিরুদ্ধে বিশেষ নিয়ন্ত্রণমূলক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। আমানতকারীদের অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। ব্যাঙ্কের শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারির পদক্ষেপ করা হয়। এর প্রতিবাদে এবং নিজেদের সঞ্চয়ের নিরাপত্তার দাবিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভে সামিল হন সাধারণ মানুষ।

    প্যারাগুয়ের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশই উয়েনো ব্যাঙ্কের গ্রাহক। ফলে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করা এই ব্যাঙ্কের বিপর্যয় সাধারণ মানুষের কাছে কার্যত বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহকের সঞ্চয় আটকে যাওয়ার পাশাপাশি সরকারি তহবিলের কয়েকশো মিলিয়ন ডলারের অর্থও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

    একসময় ছোট একটি আর্থিক সংস্থা হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল এই প্রতিষ্ঠান। কিন্তু পাঁচ বছরেরও কম সময়ে গোটা দেশে নিজেদের ব্যবসা ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয় তারা। ২০২১ সালে গ্রুপো ভাসকেস ফিনানসিয়েরা এল কোমেরসিও অধিগ্রহণ করে। পরবর্তীতে সেটির নাম পরিবর্তন করে ফিনানসিয়েরা উয়েনো রাখা হয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হয় তাদের ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং পরিষেবা। ২০২৩ সালে পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙ্ক হিসেবে কাজ করার অনুমতি পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির নতুন পরিচয় হয় উয়েনো ব্যাঙ্ক। এরপর ২০২৪ সালে ভিশন ব্যাঙ্ক অধিগ্রহণ ও সংযুক্তিকরণের মাধ্যমে গ্রাহকসংখ্যা এবং ব্যবসার পরিধি আরও বাড়ায় তারা।

    উয়েনো ব্যাঙ্কের পতনের কারণ

    আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একাধিক গুরুতর দুর্বলতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ প্রদানের সিদ্ধান্তই উয়েনো ব্যাঙ্কের পতনের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, ব্যাঙ্কটি তার মালিকপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন সংস্থাকে বিপুল পরিমাণ ঋণ দিয়েছিল। অর্থাৎ, মালিকপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ সতর্কতা ও নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়নি (Paraguay)।

    প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ সংক্রান্ত হিসাবনিকাশে একাধিক অসংগতি, পর্যাপ্ত নথিপত্র ছাড়া আর্থিক লেনদেন এবং গ্রুপো ভাসকেসের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলিকে দেওয়া ঋণের বিষয়টি উঠে এসেছে। ব্যাঙ্কের হিসাবপত্র খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তার মূলধনের পরিমাণ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ন্যূনতম মাত্রার অর্ধেকেরও নীচে নেমে গিয়েছে। ফলে আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।

    এই বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে প্যারাগুয়ের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের উপর। উয়েনো ব্যাঙ্কে জমা থাকা প্রায় ৩৮০ মিলিয়ন ডলারের আমানত ও বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুধু সাধারণ গ্রাহকই নন, ব্যাঙ্কটির মাধ্যমে পেনশন পাওয়া প্রায় ৩২ হাজার অবসরপ্রাপ্ত মানুষও এই সংকটের শিকার হয়েছেন।

    একটি দ্রুত সম্প্রসারিত ডিজিটাল ব্যাঙ্কের আর্থিক বিপর্যয় কীভাবে গোটা দেশের অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিতে (President Faces Impeachment) পারে, প্যারাগুয়ের সাম্প্রতিক ঘটনা তারই বড় উদাহরণ। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আমানতকারীরা কবে তাঁদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত পাবেন এবং এই বিপুল আর্থিক ক্ষতির দায় শেষ পর্যন্ত কার উপর (Paraguay) বর্তাবে।

     

  • Nisha Bhagat: ফেসবুক লাইভে প্রশাসন ও হেমন্ত সোরেন সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, রাঁচিতে আত্মঘাতী আদিবাসী নেত্রী নিশা ভগত

    Nisha Bhagat: ফেসবুক লাইভে প্রশাসন ও হেমন্ত সোরেন সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, রাঁচিতে আত্মঘাতী আদিবাসী নেত্রী নিশা ভগত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে মর্মান্তিক ঘটনা। ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচার করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আত্মহত্যা করলেন আদিবাসী নেত্রী তথা সমাজকর্মী নিশা ভগত (Nisha Bhagat)। ৬ নভেম্বরের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত্যুর আগে ফেসবুক লাইভে রাজ্যের হেমন্ত সোরেন সরকার এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক হেনস্থা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করার অভিযোগ করেন তিনি। সরকারের অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার মূল্য তাঁকে নিজের জীবন দিয়ে চোকাতে (Tribal Woman Suicide Case) হচ্ছে বলেও দাবি করেন নিশা। ওরাঁও আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য নিশার আদি বাড়ি ঝাড়খণ্ডের গুমলা জেলায়। ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গুমলা কেন্দ্র থেকে ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। যদিও জয়ী হতে পারেননি। দীর্ঘদিন ধরেই ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় আন্দোলন করে আসছিলেন নিশা। আদিবাসীদের জমি দখলের সঙ্গে যুক্ত জমি মাফিয়াদের পাশাপাশি ধর্মান্তকরণ কার্যকলাপেরও বিরোধিতা করেছিলেন তিনি।

    সরকারের বিরুদ্ধে নিশার ক্ষোভ (Nisha Bhagat)

    মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগে প্রকাশিত প্রায় ১০ মিনিটের ফেসবুক লাইভে কার্যত ভেঙে পড়তে দেখা যায় নিশাকে। সেখানে রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে তাঁকে এবং তাঁর বাবা-মাকে লাগাতার হেনস্থা করার অভিযোগ করেন তিনি। কান্নায় ভেঙে পড়ে নিশাকে বলতে শোনা যায়, “হেমন্ত সোরেন সরকার এক মহিলাকে অপমান ও অসম্মান করার সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে। আর সহ্য করতে পারছি না। আমার বাবা-মাকে আর কত কষ্ট সহ্য করতে হবে?”

    তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের দালাল হওয়ার অভিযোগ তোলা হচ্ছিল বলেও দাবি করেন নিশা। সেই অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, “আমি কারও দালাল নই। নিজের আদিবাসী সমাজের সুরক্ষার জন্যই দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছি।”

    লাইভ সম্প্রচারের সময় বারবার প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, নিজের সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে কার্যত একা হয়ে পড়েছিলেন তিনি। পিঠোরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককেও ফোন করেন নিশা। নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা তাঁকে জানানোর পাশাপাশি যাঁরা তাঁকে হেনস্থা করছেন এবং সামাজিকভাবে হেয় করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন। এই চরম সিদ্ধান্তের জন্য নিশা সরাসরি ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার সরকার, অজয় তিরকে নামে এক ব্যক্তি এবং স্থানীয় প্রশাসনের লাগাতার হয়রানিকে দায়ী করেন। খবর পেয়ে পুলিশ নিশার বাড়িতে পৌঁছয়। সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করে রাঁচির হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিশার বাবার অভিযোগ

    নিশার (Nisha Bhagat) মৃত্যুর পর তাঁর বাবা হান্ডু ভগত পিঠোরিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অজয় তিরকে, জ্যোৎস্না কেরকেট্টা-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। পিঠোরিয়া থানার কর্তা সুনীল কুমার দাস অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেছেন।

    হান্ডুর অভিযোগ, সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁর মেয়েকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নিশাকে মানসিক ও সামাজিকভাবে হেনস্থা করা হচ্ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সম্মানহানি করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে।

    নিশার বাবার আরও অভিযোগ, লাগাতার অপমান, হয়রানি ও চরিত্রহননের কারণে তাঁর মেয়ে এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছে গিয়েছিলেন যে, বাড়ির বাইরে বেরোতেও ভয় পেতেন।

    আদিবাসীদের অধিকার রক্ষায় দীর্ঘদিনের আন্দোলন

    আদিবাসী সমাজের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরেই সরব ছিলেন নিশা। তাঁর আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল আদিবাসীদের জন্য পৃথক সারনা ধর্মীয় পরিচয় ও ধর্মীয় বিধির স্বীকৃতি। জল, জঙ্গল ও জমির অধিকার সুরক্ষিত করা, ছোটনাগপুর প্রজাস্বত্ব আইন এবং সাঁওতাল পরগনা প্রজাস্বত্ব আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও পঞ্চায়েত (তফসিলি এলাকায় সম্প্রসারণ) আইন কার্যকর করার (Tribal Woman Suicide Case) দাবিও তুলেছিলেন তিনি।

    আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মান্তকরণ কার্যকলাপেরও তীব্র বিরোধিতা করতেন নিশা। তাঁর মৃত্যুর (Nisha Bhagat) ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তাঁর বাবার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, এখন সেটাই দেখার।

     

  • France Unrest Threat: ফ্রান্সে অশান্তি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, আশঙ্কা প্রাক্তন গোয়েন্দাপ্রধানের

    France Unrest Threat: ফ্রান্সে অশান্তি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, আশঙ্কা প্রাক্তন গোয়েন্দাপ্রধানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সে সামাজিক অস্থিরতা আগামী দিনে আরও ঘন ঘন এবং হিংসাত্মক হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করলেন দেশটির প্রাক্তন গোয়েন্দাপ্রধান পিয়ের ব্রোশঁ। তাঁর দাবি, ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও দাঙ্গার সময় কট্টর বামপন্থী কর্মী এবং অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকার তরুণ মুসলিমদের একসঙ্গে সক্রিয় (France Unrest Threat) হতে দেখা যাচ্ছে। এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ক্রমবর্ধমান সমন্বয় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন (Mass Migration) তিনি।

    গত সপ্তাহে ফরাসি সংবাদপত্র ল্য ফিগারো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রোশঁ বলেন, ফ্রান্সের সামাজিক ও জনবিন্যাসগত টানাপোড়েন সম্পর্কে যাঁদের ধারণা রয়েছে, তাঁদের কাছে সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনা মোটেই অপ্রত্যাশিত নয়। তাঁর মতে, সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতা এবং জাতীয় আনুগত্যের অভাববোধে ভোগা কিছু মানুষের কারণে বারবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে দেশের জনশৃঙ্খলা।

    দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে ব্রোশঁ ইজরায়েল, হাঙ্গেরি ও পর্তুগালে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাতের দশকে ভিয়েতনামে জুনিয়র কূটনীতিক থাকাকালীন সায়গনের পতনের ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ২০০২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএসই-র প্রধান ছিলেন এই প্রাক্তন কূটনীতিক।

    দাঙ্গায় সংগঠকের ভূমিকা নিচ্ছে কট্টর বামপন্থী গোষ্ঠীগুলি (France Unrest Threat)

    ব্রোশঁর দাবি, কট্টর বামপন্থী সংগঠনগুলির সাংগঠনিক ক্ষমতাকে তিনি আগে বিশেষ গুরুত্ব দেননি। বিশেষ করে ব্ল্যাক ব্লক এবং অ্যান্টিফা-র মতো গোষ্ঠীগুলি ফ্রান্সের বড় শহরগুলিতে অস্থিরতা তৈরির ক্ষেত্রে ক্রমশ প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, রাস্তায় বিক্ষোভ বা সংঘর্ষের সময় এই সংগঠনগুলি নিজেদের মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করতে সক্ষম।

    তাঁর ব্যাখ্যা, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে আদর্শগত মতপার্থক্য থাকলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তারা কৌশলগতভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। কট্টর বামপন্থীরা আন্দোলনের সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করে, অন্যদিকে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ সংখ্যার জোর এবং রাস্তায় সংঘর্ষের শক্তি জোগায়।

    অর্থাৎ, এটি কোনও ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, বরং স্বার্থের প্রয়োজনে গড়ে ওঠা সাময়িক সমঝোতা। ব্রোশঁর মতে, অভিন্ন আদর্শ না থাকলেও এই ধরনের সমন্বয় বিক্ষোভকে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলায় পরিণত করতে পারে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফরাসি প্রশাসন ও পুলিশের সামনে চ্যালেঞ্জ আরও বাড়বে।

    এই পরিস্থিতি বোঝাতে প্রাক্তন চিনা প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাইয়ের নামে প্রচলিত একটি মন্তব্যের উল্লেখ করেছেন ব্রোশঁ। তাঁর কথায়, “তারা একই বিছানায় ঘুমোয়, কিন্তু তাদের স্বপ্ন এক নয়।”

    সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে তরুণ মুসলিমরাও

    ব্রোশঁর দাবি, প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রী এবং অভিজ্ঞ দাঙ্গাকারীরা কট্টর বামপন্থীদের আন্দোলনের প্রথম সারির শক্তি হিসেবে কাজ করছে। তাঁদের অনেকেই ইউরোপীয় মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা। অন্যদিকে, অভিবাসী অধ্যুষিত শহরতলির তরুণ মুসলিমদেরও পরবর্তী পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।

    সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও দাঙ্গার বিভিন্ন দৃশ্যের উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, জনতার মুখে বারবার আরবি শব্দ “ওয়াল্লাহ” শোনা গিয়েছে। শব্দটির অর্থ, “আল্লাহর নামে শপথ করছি।” সাক্ষাৎকারে মুসলিম অভিবাসন এবং ফরাসি সমাজে তাঁদের একীভূত হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে (France Unrest Threat)।

    ব্রোশঁর বর্ণনা অনুযায়ী, একটি দিনের মধ্যেই কীভাবে বিক্ষোভের চরিত্র বদলে যেতে পারে, তার একটি ধারাবাহিক চিত্র রয়েছে। প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্তিপূর্ণ মিছিল হতে পারে। এরপর কট্টর বামপন্থী কর্মীদের একাংশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাঙচুরে জড়িয়ে পড়তে পারে। পরবর্তী পর্যায়ে শহরতলির তরুণ মুসলিমদের একাংশ লুটপাটে অংশ নিতে পারে বলে তাঁর দাবি।

    এই প্রক্রিয়াকে তিনি বহুস্তরীয় মহাকাশযানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। যেখানে একের পর এক জ্বালানি-সহায়ক অংশ মহাকাশযানকে গতি জোগায় এবং কাজ শেষ হলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন গোষ্ঠীকে একই সময়ে সক্রিয় হতে হবে, এমন কোনও প্রয়োজন নেই। তাদের পর্যায়ক্রমিক অংশগ্রহণই অশান্তিকে দীর্ঘায়িত করার পক্ষে যথেষ্ট।

    রাষ্ট্রের প্রতি আস্থার সংকট

    ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে মুসলিম অভিবাসন এবং জনসংখ্যার পরিবর্তন ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন ব্রোশঁ। তাঁর দাবি, আগামী বছরগুলিতে ফ্রান্সের জনসংখ্যায় ইউরোপের বাইরের দেশগুলি থেকে আসা জনগোষ্ঠীর প্রভাব বাড়বে। এর ফলে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দূরত্বও ক্রমশ কমতে পারে।

    জনসংখ্যা সংক্রান্ত কিছু পূর্বাভাসের উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ২০৪০ সালের মধ্যে ফ্রান্সে ইউরোপের বাইরের জনগোষ্ঠীর শিশু জন্মের হার মোট জন্মের সংখ্যার অর্ধেকের বেশি হতে পারে। ২০৭০ সালের মধ্যে দেশের মোট জনসংখ্যার ক্ষেত্রেও এই জনগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে উঠতে পারে বলে তাঁর পূর্বাভাস। তাঁর মতে, এই জনবিন্যাসগত পরিবর্তন দেশের ভবিষ্যৎকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে। একই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাপূর্ণ সামাজিক পরিবেশে হিংসাত্মক সংঘর্ষের ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হতে পারে। বিষয়টিকে নিছক আশঙ্কা নয়, বরং নিশ্চিত পরিণতি হিসেবেই দেখছেন তিনি।

    ফ্রান্সে হিংসা ও লুটপাটের ঘটনা রাষ্ট্রের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা দুর্বল করে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন প্রাক্তন গোয়েন্দাপ্রধান। তাঁর বক্তব্য, নাগরিকরা কর দেন মূলত এই আশায় যে রাষ্ট্র তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখবে। কিন্তু প্রশাসন যদি সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ বলে প্রতীয়মান হয়, তা হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি মানুষের বিশ্বাসে চিড় ধরতে পারে।

    সামাজিক আস্থার বিরুদ্ধে গণবিধ্বংসী অস্ত্র

    এই আস্থার সংকটকে ব্যাঙ্ক থেকে একযোগে আমানত তুলে নেওয়ার পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেছেন ব্রোশঁ। তাঁর কথায়, হিংসা হল সামাজিক আস্থার বিরুদ্ধে গণবিধ্বংসী অস্ত্র। আর সামাজিক আস্থাই সম্মিলিত কল্যাণের মূল ভিত্তি। তাঁর সতর্কবার্তা, হিংসার শিকার মানুষের সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন, এমনকী অসম্ভবও হয়ে উঠতে পারে।

    সাম্প্রতিক বামপন্থী ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলির সংশ্লিষ্টতায় সংঘটিত অশান্তির মধ্যেও সংযম বজায় রাখার জন্য সাধারণ ফরাসি নাগরিকদের প্রশংসা করেছেন ব্রোশঁ। তাঁর মতে, পুলিশের নানা সীমাবদ্ধতা এবং হিংসা ও লুটপাটের চাপ সত্ত্বেও অধিকাংশ মানুষ নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন।

    পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে

    তবে এই সংযমকে চিরস্থায়ী বলে ধরে নেওয়া উচিত নয় বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, সাধারণ মানুষ যদি মনে করতে শুরু করেন যে রাষ্ট্র তাঁদের নিরাপত্তা দিতে অক্ষম এবং নিজেদের সুরক্ষার দায়িত্ব তাঁদের নিজেদেরই নিতে হবে, তা হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ ও অপূরণীয় পরিণতির দিকে এগোতে পারে।

    সব মিলিয়ে ব্রোশঁর সতর্কবার্তা, কট্টর বামপন্থীদের সাংগঠনিক তৎপরতা, অভিবাসী অধ্যুষিত শহরতলির তরুণদের একাংশের সংঘর্ষে অংশগ্রহণ এবং ক্রমবর্ধমান জনবিন্যাসগত পরিবর্তন—এই তিনের সম্মিলিত প্রভাবে ফ্রান্সের জনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সংহতি আগামী দিনে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে (France Unrest Threat)।

    উল্লেখ্য, জনসংখ্যা পরিবর্তন, অভিবাসন এবং ভবিষ্যৎ সংঘর্ষ নিয়ে ব্রোশঁ যে পূর্বাভাস দিয়েছেন, সেগুলি তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন ও আশঙ্কা। এগুলিকে (Mass Migration) প্রতিষ্ঠিত পরিসংখ্যানগত সত্য বা নিশ্চিত ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখার অবকাশ নেই বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের।

     

  • Kali Puja 2026: কালীপুজোয় অমাবস্যা কখন? জেনে নিন পুজোর দিনক্ষণ ও নিশীথপুজোর সময়

    Kali Puja 2026: কালীপুজোয় অমাবস্যা কখন? জেনে নিন পুজোর দিনক্ষণ ও নিশীথপুজোর সময়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবারই শ্যামাপুজো (Kali Puja 2026)। উৎসবের প্রস্তুতিতে সেজে উঠছে শহর থেকে শহরতলি। পাড়ায় পাড়ায় তৈরি মণ্ডপ, চলছে প্রতিমা সাজানোর শেষ মুহূর্তের কাজ। তবে পুজোর প্রস্তুতির পাশাপাশি অনেকের মনেই রয়েছে একটি প্রশ্ন—এ বছর অমাবস্যা তিথি কখন শুরু হচ্ছে? কলকাতায় নিশীথপুজোর শুভ সময়ই বা কখন? ২০২৬ সালে ৮ নভেম্বর, রবিবার পালিত হবে কালীপুজো। দৃক পঞ্চাঙ্গের কলকাতার সময়সূচি অনুযায়ী, রবিবার সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে শুরু হচ্ছে অমাবস্যা তিথি। এই তিথি স্থায়ী হবে পরের দিন, অর্থাৎ ৯ নভেম্বর সোমবার দুপুর ১২টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত। ফলে রবিবার রাতেই হবে শ্যামাপুজো।

    কালীপুজোর নির্ঘণ্ট একনজরে

    • কালীপুজো: রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
    • অমাবস্যা তিথি শুরু: ৮ নভেম্বর, সকাল ১১টা ২৭ মিনিট
    • অমাবস্যা তিথি শেষ: ৯ নভেম্বর, দুপুর ১২টা ৩১ মিনিট
    • কলকাতায় নিশীথপুজোর সময়: ৮ নভেম্বর, রাত ১০টা ৫৫ মিনিট থেকে ১১টা ৪৬ মিনিট

    নিশীথকাল মানেই কি রাত ১২টা?

    কালীপুজোর সঙ্গে গভীর রাতের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। তবে পঞ্জিকা অনুযায়ী নিশীথকাল বলতে ঠিক রাত ১২টাকে বোঝায় না। স্থানীয় সূর্যাস্ত এবং পরের দিনের সূর্যোদয়ের সময়ের হিসাব ধরে রাতের মধ্যভাগ নির্ধারণ করা হয়। সেই কারণেই বিভিন্ন শহরে নিশীথপুজোর সময়ের কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। কলকাতার ক্ষেত্রে এ বছর নিশীথপুজোর নির্ধারিত সময় রাত ১০টা ৫৫ মিনিট থেকে ১১টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত।

    কখন পুজোয় বসবেন?

    বাড়িতে কালীপুজোর আয়োজন হোক কিংবা পাড়ার বারোয়ারি পুজো, সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুরোহিতের পরামর্শ এবং অনুসৃত পঞ্জিকার নিয়ম মেনে চলাই ভাল। বিভিন্ন মন্দিরে নিজস্ব রীতি অনুযায়ী পুজোর সময় নির্ধারিত হতে পারে। তাই মন্দিরের পুজোয় অংশ নিতে চাইলে আগে থেকেই সময় জেনে নেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, অমাবস্যা তিথির শুরু ও শেষের সময় এবং নিশীথপুজোর মুহূর্ত এক নয়। আবার কলকাতার সময়সূচি অন্য শহরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তাই পুজোর প্রস্তুতির আগে নিজের এলাকার পঞ্জিকা ও নির্দিষ্ট পুজোর সময় মিলিয়ে নেওয়াই শ্রেয়।

  • Deepotsav In Ayodhya: ২১০০ ড্রোনের রামায়ণ প্রদর্শনী! ১০ম দীপোৎসবে ৩০ লক্ষ প্রদীপে আলোকিত অযোধ্যা

    Deepotsav In Ayodhya: ২১০০ ড্রোনের রামায়ণ প্রদর্শনী! ১০ম দীপোৎসবে ৩০ লক্ষ প্রদীপে আলোকিত অযোধ্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৪ বছরের বনবাস শেষে অযোধ্যায় রামচন্দ্রের প্রত্যাবর্তনের স্মরণে দীপাবলির (Deepotsav In Ayodhya) আবহে সেজে উঠছে রামনগরী। দশম বর্ষের দীপোৎসব উপলক্ষে শনিবার, ৭ নভেম্বর, অযোধ্যায় জ্বালানো হবে ৩০ লক্ষেরও বেশি মাটির প্রদীপ। সরযূ নদীর তীর থেকে রাম কি পৈড়ি-সহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে চলেছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আলোর উৎসবকে বর্ণময় করে তুলতে থাকছে ২১০০টি ড্রোনের বিশেষ প্রদর্শনী, রামায়ণের বিভিন্ন দৃশ্যের উপস্থাপনা এবং পাঁচটি দেশের শিল্পীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গত ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী এই দীপোৎসব। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে এবারের আয়োজনকে বিশেষ রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।

    দশম বর্ষে দীপোৎসব

    ২০১৭ সালে প্রথম দীপোৎসবে প্রায় ১ লক্ষ ৭১ হাজার প্রদীপ জ্বালানো হয়েছিল। সেখান থেকে সংখ্যাটা বেড়ে এ বছর পৌঁছেছে ৩০ লক্ষেরও বেশি। অযোধ্যার ৫৬টি ঘাট জুড়ে জ্বলবে এই প্রদীপ। উল্লেখ্য, গত বছর ২০২৫ সালে ২৬ লক্ষ ১৭ হাজার প্রদীপ জ্বালিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছিল অযোধ্যা। এ বছর সেই রেকর্ডকেও ছাপিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রদীপ জ্বালানোর কাজে যুক্ত হয়েছেন অযোধ্যার বিভিন্ন কলেজের প্রায় ৩৫ হাজার পড়ুয়া। রাম কি পৈড়ির ৫৬টি ঘাটে প্রদীপ সাজানো এবং উৎসবের অন্যান্য প্রস্তুতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তাঁরা।

    সরযূ নদীর তীরে মহাআরতি

    এবারের দীপোৎসবের অন্যতম আকর্ষণ সরযূ নদীর তীরে মহাআরতি। এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ২১৪৭ জন। জনপ্রতিনিধি, কাউন্সিলর এবং সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে আরতির অনুষ্ঠান। আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনও থাকছে এবারের উৎসবে। দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, লাওস এবং থাইল্যান্ডের রামলীলা দল অংশ নেবে অনুষ্ঠানে। পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ২১০০টি ড্রোনের সাহায্যে রাতের আকাশে ফুটিয়ে তোলা হবে রামায়ণের বিভিন্ন পর্ব। ড্রোনের সমন্বিত আলোকসজ্জা ও বিশেষ বিন্যাসে তুলে ধরা হবে মহাকাব্যের নানা দৃশ্য। এ ছাড়াও থাকবে ভাসমান মঞ্চে রামচন্দ্রের অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তনের কাহিনি। নৃত্য, সঙ্গীত এবং হিন্দি ভাষায় বর্ণনার মাধ্যমে পরিবেশিত হবে সেই বিশেষ অনুষ্ঠান। থাকছে আট মিনিটের লেজার শো, ২০ মিনিটের প্রজেকশন ম্যাপিং এবং সঙ্গীতের তালে আতশবাজির প্রদর্শনী।

    ১৩টি থিমভিত্তিক প্রবেশদ্বার

    শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় তৈরি করা হয়েছে ১৩টি থিমভিত্তিক প্রবেশদ্বার এবং ২০টি সেলফি পয়েন্ট। লতা মঙ্গেশকর চক থেকে রাম কি পৈড়ি পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় রামায়ণের নানা ঘটনার আদলে তৈরি হয়েছে বিশেষ ইনস্টলেশন। সাতটি কাণ্ডের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে ২২টি ট্যাবলো। সেখানে থাকবে রামরথ, রাম দরবার এবং পুষ্পক বিমানের প্রতিরূপ। রামকথা পার্কে থাকছে বালির ভাস্কর্য এবং অন্যান্য আকর্ষণীয় শিল্পকর্ম।

    সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ২৫০০ শিল্পী

    সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রায় ২৫০০ শিল্পী। শহরের ১২টি মঞ্চে চলবে অনুষ্ঠান। এর মধ্যে ছ’টি ছোট, চারটি মাঝারি এবং দু’টি বড় মঞ্চ। উত্তরপ্রদেশের ১৬টি জেলার শিল্পীদের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য রাজ্যের শিল্পীরাও অংশ নেবেন। কর্নাটকের ডোল্লু কুনিথা, রাজস্থানের ঘুমর, বিহারের ঝিঝিয়া, পিলিভীতের থারু লোকসংস্কৃতি এবং গোরক্ষপুরের বনটাঙ্গিয়া সম্প্রদায়ের পরিবেশনা বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১০০০টি শিল্পীদলও এই উৎসবে অংশ নেবে বলে জানা গিয়েছে।

    বিশেষ ড্রোন শোয়ের আয়োজন

    শনিবার মূল অনুষ্ঠান হলেও ৯ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে দীপোৎসব। ৮ নভেম্বরও থাকছে একাধিক সাংস্কৃতিক কর্মসূচি। অন্যদিকে, ৯ নভেম্বর শুধুমাত্র অযোধ্যার বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ ড্রোন শোয়ের আয়োজন করা হয়েছে। দীপোৎসবে অংশগ্রহণের জন্য বিদেশে নিযুক্ত ৩৪ জন ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দীপোৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মৃৎশিল্পীদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। অযোধ্যার গিয়াসপুর এবং বারাবাঁকির কাজিয়াপুর ও ভাগড় ঝিল এলাকার ২৫ জন মহিলা মৃৎশিল্পীর কাছ থেকে ১ লক্ষ ৬০ হাজার প্রদীপের বরাত দেওয়া হয়েছে। যার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। প্রদীপ উৎপাদন বাড়াতে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৯৭ জন মৃৎশিল্পীকে বৈদ্যুতিক কুমোরের চাকা দেওয়া হয়েছে।

    ৩০ লক্ষেরও বেশি প্রদীপে আলোকিত অযোধ্যা

    উত্তরপ্রদেশের পর্যটন, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিষয়ক দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব অমৃত অভিজাত জানিয়েছেন, পর্যটকদের জন্য অযোধ্যার পরিকাঠামো আরও উন্নত করাই সরকারের লক্ষ্য। তাঁর বক্তব্য, পর্যটন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ যাতায়াত, নির্ভরযোগ্য পরিষেবা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয়তার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।সব মিলিয়ে, ধর্মীয় আবেগ, লোকসংস্কৃতি এবং আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে দশম দীপোৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করতে প্রস্তুত অযোধ্যা। ৩০ লক্ষেরও বেশি প্রদীপের আলোয় সরযূর তীর হয়ে উঠবে আলোকময়।

  • CJP Protests: বিদেশি অর্থে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ, ‘আরশোলা’ পার্টিকে নিশানা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

    CJP Protests: বিদেশি অর্থে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ, ‘আরশোলা’ পার্টিকে নিশানা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা ছড়াতে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা এবং ভারতবিরোধী নেটওয়ার্কের কাছ থেকে বেআইনি অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ উঠল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিরুদ্ধে (CJP Protests)। অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং স্বয়ং। তাঁর দাবি, বিদেশি অর্থপুষ্ট স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গোপন রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক এবং ভারতবিরোধী শক্তির মদতে (Pakistan Linked Funding) সরকারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রচার চালানো হচ্ছে।

    বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ! (CJP Protests)

    সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জিতেন্দ্র সিং দাবি করেন, ককরোচ জনতা পার্টির কার্যকলাপ বৃহত্তর একটি ষড়যন্ত্রের অংশ। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি অর্থপুষ্ট বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গোপন রাষ্ট্রীয় তৎপরতায় যুক্ত ব্যক্তিরা এবং ভারতবিরোধী শক্তি একযোগে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির চেষ্টা করছে।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য, “তাদের বেআইনি ও অননুমোদিত বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ জোগানো হচ্ছে, যার মধ্যে দেশের ভিতরে ও বাইরে সক্রিয় ভারতবিরোধী সংগঠনও রয়েছে। বিদেশি অর্থপুষ্ট স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং ভারতবিরোধী শক্তিগুলি পরিকল্পিতভাবে এই প্রচার চালাচ্ছে। অভিজিৎ দীপকে আমেরিকাভিত্তিক অনুদানকারীদের কাছ থেকে অর্থ পেয়েছেন এবং আশুতোষ রাঙ্কা পাকিস্তানি রাজনীতিকদের কাছ থেকে অর্থ পেয়েছেন।”

    বিজেপির মুখপাত্র তুহিন এ সিনহাও ককরোচ জনতা পার্টির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, উৎসবের মরশুমে দেশের রাজধানীতে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতেই সাম্প্রতিক বিক্ষোভ কর্মসূচিগুলি পরিকল্পিতভাবে সংগঠিত করা হয়েছিল।

    বিদ্রোহের পরিস্থিতি তৈরির লক্ষ্য!

    সিনহার কথায়, “গত এক মাস ধরে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য ছিল বিদ্রোহের পরিস্থিতি তৈরি করা। উৎসবের মরশুমে দেশের রাজধানীতে অরাজকতা ছড়ানোর চেষ্টা চলেছে। এর পিছনে যে অসৎ উদ্দেশ্য এবং পরিকল্পিত অভিসন্ধি ছিল, তা স্পষ্ট।”

    এর আগে নিষিদ্ধ খালিস্তানপন্থী সংগঠন শিখস ফর জাস্টিসের প্রধান গুরপতবন্ত সিং পান্নুন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ আন্দোলনে ১০ লাখ মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেছেন বলে খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধকৌশলের অংশ হিসেবেই এই আর্থিক সহায়তার কথা বলা হয়েছিল বলে (CJP Protests) জানা গিয়েছে।

    এদিকে, বিক্ষোভ ঘিরে আইনি পদক্ষেপও শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। বৃহস্পতিবার ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে পুলিশের অপরাধ দমন শাখা। তাঁদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অমান্য, অনুমতি ছাড়া যন্তর মন্তরে প্রবেশ এবং অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে।

    পুলিশি পদক্ষেপ

    বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন সংগঠনের সদস্যরা। সেই (Pakistan Linked Funding) বিক্ষোভের জেরেই পুলিশের এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।

    এর আগে অক্টোবর মাসেও সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছিল। পরে ৫০ হাজার টাকা করে মুচলেকা দিয়ে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। তবে পুলিশের অভিযোগ, মুক্তির ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁরা যন্তর মন্তরের বন্ধ ফটক টপকে প্রবেশ করে (CJP Protests) মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ করেন।

     

  • Ladakh Rail: লাদাখে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলস্টেশন! উচ্চতা ১৭,২৪৪ ফুট, চিনের রেকর্ড ভাঙার পথে ভারত

    Ladakh Rail: লাদাখে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলস্টেশন! উচ্চতা ১৭,২৪৪ ফুট, চিনের রেকর্ড ভাঙার পথে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে রেল যোগাযোগের নতুন ইতিহাস তৈরি করতে চলেছে ভারত। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে লাদাখে (Ladakh Rail) তৈরি হবে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলস্টেশন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যার উচ্চতা হবে প্রায় ১৭,২৪৪ ফুট বা ৫,২৫৬ মিটার। এর ফলে চিনের তিব্বতে অবস্থিত বিশ্বের বর্তমান সর্বোচ্চ রেলস্টেশন (World’s Highest Railway Station) তাংগুলার রেকর্ড ভেঙে যাবে। লাদাখ পর্যন্ত রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে আরও একবার জায়গা করে নেবে ভারতীয় রেল। কেন্দ্রীয় আধিকারিক সূত্রে খবর, বিলাসপুর-মানালি-লে রেলপথ প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

    আনুমানিক খরচ প্রায় ১ লক্ষ ৩১ হাজার কোটি টাকা

    প্রস্তাবিত এই রেলপথ (Ladakh Rail) হিমাচল প্রদেশের বিলাসপুর থেকে শুরু হয়ে মানালি, সিসু, দারচা, কেলং, সারচু, পাং, রুমসে, উপশি এবং খারু হয়ে পৌঁছবে লেহতে। মোট ৪৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। রেল মন্ত্রক সূত্রে খবর, প্রকল্পের বিস্তারিত সম্ভাব্যতা ও নির্মাণ সংক্রান্ত রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরি হয়ে গিয়েছে। সমীক্ষার কাজও শেষ। প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, এই প্রকল্পে খরচ হতে পারে প্রায় ১ লক্ষ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

    বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলস্টেশন!

    এই প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ টাংলাং লা গিরিপথের নীচে প্রস্তাবিত রেলস্টেশন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫,২৫৬ মিটার উচ্চতায় তৈরি হলে এটিই হবে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলস্টেশন (World’s Highest Railway Station)। বর্তমানে এই রেকর্ড রয়েছে চিনের তিব্বতে অবস্থিত তাংগুলা রেলস্টেশনের দখলে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যার উচ্চতা প্রায় ৫,০৬৮ মিটার। অর্থাৎ, চিনের সেই রেকর্ডের থেকেও প্রায় ১৮৮ মিটার বেশি উচ্চতায় রেলস্টেশন তৈরি করতে চলেছে ভারত।

    রেলপথের অর্ধেকেরও বেশি অংশ পাহাড়ের ভিতরে

    ভারতের অন্যতম উচ্চতম মোটরযান চলাচলের উপযোগী গিরিপথ টাংলাং লা লে-মানালি জাতীয় সড়কের উপর অবস্থিত। তবে সেখানে রেলপথ তৈরি করা মোটেই সহজ কাজ নয়। বরং ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়া এবং পাহাড়ের গঠন নির্মাণকাজকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং করে তুলবে। প্রস্তাবিত রেলপথের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার অংশ সুড়ঙ্গের ভিতর দিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, মোট রেলপথের অর্ধেকেরও বেশি অংশ থাকবে পাহাড়ের ভিতরে।

    ভারতীয় রেলের অন্যতম কঠিন প্রকল্প

    হিমালয়ের কঠিন ভূপ্রকৃতি, পাহাড়ের ভিতরের শিলাস্তরের অনিশ্চয়তা, খাড়া ঢাল এবং প্রচণ্ড ঠান্ডার সঙ্গে মোকাবিলা করেই এগোতে হবে নির্মাণকাজ। ফলে প্রযুক্তিগত দিক থেকে এটি ভারতীয় রেলের অন্যতম কঠিন প্রকল্প হতে চলেছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথ

    শুধু পর্যটন নয়, জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকেও এই রেলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। লাদাখ ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী অঞ্চল। বর্তমানে দেশের অন্যান্য অংশ থেকে লেহতে পৌঁছনোর প্রধান মাধ্যম সড়ক ও বিমানপথ। শীতকালে তুষারপাত এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মানালি-লে সড়কপথে যাতায়াত অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে রেল যোগাযোগ চালু হলে যাত্রী পরিবহণের পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী, নির্মাণের উপকরণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়া অনেক সহজ হবে। কমবে পরিবহণের খরচ। উপকৃত হবেন হিমাচল প্রদেশ ও লাদাখের প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দারা। পর্যটনের প্রসার, স্থানীয় অর্থনীতির উন্নতি এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও তৈরি হবে।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এই রেলপথের ভূমিকা

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও এই রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রেলপথের মাধ্যমে দ্রুত ও বৃহৎ পরিমাণে সেনা, অস্ত্র, জ্বালানি এবং ভারী সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে লাদাখের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়। এমনকী রেলপথের কয়েকটি স্টেশনে সামরিক প্রয়োজনে বিশেষ লুপ লাইন তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এখনও এই প্রকল্পের নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি। কবে কাজ শুরু হবে বা কবে শেষ হবে, তা-ও নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।

    রেল যোগাযোগে গত এক দশকে বড় পরিবর্তন

    লাদাখের এই প্রস্তাবিত প্রকল্পের পাশাপাশি গত এক দশকে দেশের রেল পরিকাঠামো সম্প্রসারণেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি কেন্দ্রের। ২০১৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশে ৩৪,৪২৮ কিলোমিটার নতুন রেললাইন চালু হয়েছে। তুলনায় ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে নতুন রেললাইন চালু হয়েছিল ৭,৫৯৯ কিলোমিটার। অর্থাৎ, আগের পাঁচ বছরের তুলনায় নতুন রেললাইন সম্প্রসারণের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুলা রেলপথ এবং মিজোরামের বাইরাবি-সাইরাং রেলপথের মতো প্রকল্পের মাধ্যমে দুর্গম এলাকাও দেশের রেল মানচিত্রে যুক্ত হয়েছে। একসময় ভৌগোলিক প্রতিকূলতার কারণে যে সমস্ত অঞ্চলে রেল যোগাযোগ পৌঁছনো কঠিন ছিল, সেখানে এখন ট্রেন চলাচলের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    রেললাইনের সংস্কার ও পুনর্নবীকরণ

    ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ৫৪,৬০০ কিলোমিটার রেললাইনের সংস্কার ও পুনর্নবীকরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের ৮৫ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি রেলপথে ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে ট্রেন চালানোর পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে। ২০১৪ সালে এই পরিমাণ ছিল ৩১,৪৪৫ কিলোমিটার। ফলে ট্রেন চলাচলের গতি ও দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে।

    বন্দে ভারত, দেশে প্রথম সেমি হাইস্পিড ট্রেন 

    ২০১৯ সালে দেশে প্রথম সেমি হাইস্পিড ট্রেন বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালু করে কেন্দ্র। দেশীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদনের উপর জোর দিয়ে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির আওতায় তৈরি এই ট্রেন ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে বন্দে ভারত পরিষেবা। যাত্রীদের জন্য দ্রুত ও উন্নতমানের রেল পরিষেবার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    উত্তর-পূর্ব রেল মানচিত্রে নতুন সংযোজন

    উত্তর-পূর্ব ভারতেও রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। মিজোরামের সাইরাং পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালু হওয়া তার অন্যতম উদাহরণ। অন্যদিকে, সিকিমও শীঘ্রই দেশের রেল মানচিত্রে যুক্ত হতে চলেছে সেভক-রংপো রেলপথের মাধ্যমে। কাশ্মীর উপত্যকাকেও দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে রেলপথে যুক্ত করা হয়েছে। ভারত ও ভুটানের মধ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও বৃহত্তর আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

    রেলপথের প্রায় ৯৯.৬ শতাংশ বিদ্যুতায়ন

    রেল পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণে আরও একটি বড় পদক্ষেপ হল রেলপথের বিদ্যুতায়ন। বর্তমানে দেশের ব্রডগেজ রেল নেটওয়ার্কের প্রায় ৯৯.৬ শতাংশ বিদ্যুতায়িত। ২০১৪ সালের আগে এই হার ছিল প্রায় ২০ শতাংশ। এর ফলে ডিজেলের উপর নির্ভরতা কমেছে। বিদ্যুৎচালিত ট্রেন পরিচালনায় খরচও তুলনামূলকভাবে কম। কেন্দ্রের দাবি, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রেলের বিদ্যুতায়নের ফলে প্রায় ১৮০ কোটি গ্যালন ডিজেল সাশ্রয় হয়েছে। ডিজেলচালিত ট্রেনের তুলনায় বিদ্যুৎচালিত ট্রেন পরিচালনায় প্রায় ৭০ শতাংশ কম খরচ হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে বছরে প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।

    পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর

    পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর (ডিএফসি)। পশ্চিম ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরের শেষ তিনটি অংশ গত সেপ্টেম্বরে দেশকে উৎসর্গ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০০৬ সালে তৎকালীন মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার এই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছিল। জমি অধিগ্রহণ, চুক্তি সংক্রান্ত জটিলতা এবং নির্মাণের নানা সমস্যায় দীর্ঘদিন আটকে ছিল কাজ। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের বাকি কাজ সম্পন্ন হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য, রেলপথের বিদ্যুতায়ন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি বিদেশ থেকে তেল আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতেও সাহায্য করেছে।

    চেনাব সেতুর পর লাদাখে নতুন রেকর্ডের অপেক্ষা

    ইতিমধ্যেই বিশ্বের সর্বোচ্চ রেল আর্চ ব্রিজের মালিক ভারত। জম্মু-কাশ্মীরে চেনাব নদীর উপর নির্মিত চেনাব রেল সেতু নদীর জলস্তর থেকে প্রায় ১,১৭৮ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। উচ্চতার নিরিখে প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের থেকেও প্রায় ৩৫ মিটার উঁচু এই সেতু। গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সেতুর উদ্বোধন করেন। এবার বিলাসপুর-মানালি-লে রেলপথ (Ladakh Rail) বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলস্টেশনের (World’s Highest Railway Station) রেকর্ডও ভারতের দখলে আসবে। তবে তার আগে রয়েছে কঠিন নির্মাণ চ্যালেঞ্জ, বিপুল আর্থিক বিনিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদনের প্রশ্ন। সব বাধা অতিক্রম করে প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় রেলের ইতিহাসে তা নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকবে।

  • Anti Indian Rhetoric: ভারত-বিদ্বেষের খেসারত! ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের সমর্থন হারাচ্ছে ট্রাম্প শিবির, দাবি ডেমোক্র্যাট নেতার

    Anti Indian Rhetoric: ভারত-বিদ্বেষের খেসারত! ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের সমর্থন হারাচ্ছে ট্রাম্প শিবির, দাবি ডেমোক্র্যাট নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন’ বা ‘আমেরিকাকে আবার মহান করে তোলার’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রিপাবলিকানদের একাংশের ভারতবিরোধী প্রচার নির্বাচনে তাঁদের জন্য বুমেরাং হয়ে উঠেছে বলে দাবি করলেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি। তাঁর বক্তব্য (Anti Indian Rhetoric), ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে বৈষম্য ও বিদ্বেষের আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে। তার প্রভাব পড়তে পারে নির্বাচনী রাজনীতিতে (MAGA)।

    এক সাক্ষাৎকারে কৃষ্ণমূর্তি বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফল রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য সতর্কবার্তা। বিশেষ করে যাঁরা ভারতীয় ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মানুষদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য রেখেছেন, তাঁদের এই ফল থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।

    টেক্সাসের রেলপথ কমিশনার পদের নির্বাচনের প্রসঙ্গ (Anti Indian Rhetoric)

    নিজের বক্তব্যের সমর্থনে টেক্সাসের রেলপথ কমিশনার পদের নির্বাচনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। ওই নির্বাচনে ভারতবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত বো ফ্রেঞ্চের পরাজয়কে ভোটারদের প্রতিবাদের উদাহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন কৃষ্ণমূর্তি। তাঁর কথায়, “সাম্প্রতিক সময়ে আমরা সম্ভবত সবচেয়ে বড় ভারতবিদ্বেষী ব্যক্তিকে দেখেছি। তিনি টেক্সাসের রেলপথ কমিশনার পদে নির্বাচনে লড়েছিলেন। কিন্তু জন রোজেনথালের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে গিয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “জন রোজেনথাল নিঃসন্দেহে একজন ভালো প্রার্থী ছিলেন। তবে আমার বিশ্বাস, বো ফ্রেঞ্চের বিদ্বেষমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে ভোটারদের ক্ষোভও তাঁর জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।”

    বিদ্বেষের মূল্য চোকাতে হতে পারে

    কৃষ্ণমূর্তির মতে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত এবং দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ালে তার রাজনৈতিক মূল্য চোকাতে হতে পারে রিপাবলিকান প্রার্থীদের। এই ধরনের প্রচার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “দয়া করে এই পথে এগোবেন না। নইলে নির্বাচনে আপনাদেরও এর ফল ভোগ করতে হবে।”

    তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানেই বৈষম্য ও বিদ্বেষের বিরুদ্ধে সরব থাকবেন। তবে নির্বাচনের ফলের এই ব্যাখ্যা যে তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন, তা-ও স্পষ্ট। ভারতবিরোধী প্রচারই সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের পরাজয়ের একমাত্র কারণ, এমন কোনও প্রমাণিত তথ্য তিনি তুলে ধরেননি।

    ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটাররা?

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের মধ্যে হিন্দুবিদ্বেষ এবং এশীয়বিরোধী মনোভাব বাড়ার কারণে তাঁদের ভোটদানের প্রবণতায় পরিবর্তন এসেছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে কৃষ্ণমূর্তি বলেন, “আমি নিশ্চিতভাবে জানি না।” তবে তাঁর পর্যবেক্ষণ, ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের মধ্যে নিজেদের সম্প্রদায়কে ঘিরে বিরূপ মনোভাব ও বৈষম্যের আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে।

    কৃষ্ণমূর্তির অনুমান, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনের হার কমে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। সাম্প্রতিক নির্বাচনে তা ফের বেড়ে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশে পৌঁছতে পারে। তাঁর কথায়, “আমার ধারণা, এই পরিস্থিতি তাঁদের ভোটদানের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।” তবে এই পরিসংখ্যানগুলি কৃষ্ণমূর্তির ব্যক্তিগত অনুমান। এগুলির সমর্থনে কোনও পরিসংখ্যান (Anti Indian Rhetoric) তিনি পেশ করেননি।

    ভারত-মার্কিন সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদী কৃষ্ণমূর্তি

    ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক শিবিরের সমালোচনা করলেও, ওয়াশিংটনে ভারতের প্রতি দ্বিদলীয় সমর্থন এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী বলে মনে করেন কৃষ্ণমূর্তি। তাঁর কথায়, “আমি মনে করি, ভারতের প্রতি আমেরিকায় এখনও দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যেই যথেষ্ট জোরালো সমর্থন রয়েছে।”

    তবে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বিরুদ্ধে বৈষম্য, বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসাধারীদের প্রতি বিরূপ আচরণ, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

    সাক্ষাৎকারে ইলিনয়ের অরোরা শহরের একটি হিন্দু মন্দিরে গণহত্যার চেষ্টার প্রসঙ্গও তোলেন কৃষ্ণমূর্তি। তাঁর দাবি, অস্ত্রধারী এক হামলাকারী মন্দিরে পৌঁছনোর সময় তিনি নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    সবশেষে ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের আরও বেশি করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান (MAGA) তিনি। তাঁর মতে, বৈষম্য ও বিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গেও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে জাতীয় আইনসভা পর্যন্ত সর্বস্তরে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো জরুরি। তবেই (Anti Indian Rhetoric) তাঁদের স্বার্থ সুরক্ষিত করার পাশাপাশি ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক আরও মজবুত করা সম্ভব হবে বলেই মনে করেন কৃষ্ণমূর্তি।

     

  • Bhoot Chaturdashi: ভূত চতুর্দশীর রাতে সত্যিই মর্ত্যে নেমে আসেন প্রেতাত্মারা! কী বলে প্রচলিত বিশ্বাস?

    Bhoot Chaturdashi: ভূত চতুর্দশীর রাতে সত্যিই মর্ত্যে নেমে আসেন প্রেতাত্মারা! কী বলে প্রচলিত বিশ্বাস?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হয় ভূত চতুর্দশী। এই তিথি আবার নরক চতুর্দশী নামেও পরিচিত। কালীপুজোর একদিন আগে এবং ধনতেরসের একদিন পর পালিত হয় এই বিশেষ দিনটি। ছোট দীপাবলি, রূপ চতুর্দশী বা নরকাসুর চতুর্দশী নামেও পরিচিত এই তিথি। তবে ভূত চতুর্দশী বলতেই বাঙালির মনে প্রথমে আসে অশরীরী আত্মা, প্রেতাত্মা এবং চোদ্দ পুরুষের স্মৃতির কথা। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশেষ রাতে বিদেহী আত্মারা মর্ত্যে নেমে আসেন। তাঁদের যাতায়াতের পথ আলোকিত রাখতেই বাড়িতে আলো জ্বালানোর প্রথা প্রচলিত হয়েছে। এই তিথিকে ঘিরে রয়েছে নানা পৌরাণিক কাহিনী ও ধর্মীয় বিশ্বাস।

    ভূত চতুর্দশীর রাতে কেন মর্ত্যে আসেন প্রেতাত্মারা?

    প্রচলিত লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ভূত চতুর্দশীর রাতে অশরীরী আত্মা ও প্রেতাত্মারা মর্ত্যলোকে ঘুরে বেড়ান। মনে করা হয়, চোদ্দ পুরুষের আত্মারাও এদিন তাঁদের বংশধরদের বাড়িতে আসেন। তাই এই রাতকে ঘিরে বাঙালি সমাজে রয়েছে নানা আচার ও প্রথা।

    আর একটি পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, ভূত চতুর্দশীর রাতে রাজা বলি মর্ত্যে আসেন পুজো নিতে। তাঁর সঙ্গে আসেন অনুচররাও। এই কারণে প্রাচীনকাল থেকেই অমাবস্যার আগের এই রাতকে ঘিরে নানা সতর্কতামূলক লোকাচার প্রচলিত রয়েছে। অন্ধকারে যাতে অশুভ শক্তির প্রবেশ না ঘটে, সেই বিশ্বাস থেকেই বাড়িতে প্রদীপ জ্বালানোর রীতি গড়ে উঠেছে বলে মনে করা হয়।

    ভূত চতুর্দশীকে কেন নরক চতুর্দশী বলা হয়?

    ভূত চতুর্দশীর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নরকাসুর বধের কাহিনীও। বিষ্ণু পুরাণ ও শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণের কাহিনী অনুযায়ী, নরকাসুর নামে এক অসুর নিজের ক্ষমতা ও শক্তির দাপটে দেবতা এবং সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। ১৬ হাজার নারী ও সাধুকে বন্দি করে রেখেছিল সে। নরকাসুরের অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে মুনি-ঋষিরা ভগবান কৃষ্ণের দ্বারস্থ হন।

    কিন্তু নরকাসুরের মৃত্যুর পিছনে ছিল একটি বিশেষ শর্ত। কেবল কোনও নারীর হাতেই তার মৃত্যু হবে, এমন অভিশাপ পেয়েছিল সে। সেই কারণে কৃষ্ণ নিজের স্ত্রী সত্যভামাকে সঙ্গে নেন। সত্যভামার সাহায্যেই নরকাসুরকে বধ করেন তিনি। যে দিন এই অসুরের বিনাশ হয়েছিল, সেটি ছিল কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথি। সেই থেকেই এই তিথির নাম হয় নরক চতুর্দশী।

    ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এদিন সূর্যোদয়ের আগে স্নান করলে নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। অকালমৃত্যুর ভয় থেকে রক্ষা পেতে এবং যমের আশীর্বাদ লাভের আশায় এই দিনে মৃত্যুর দেবতা যমের পুজো করার প্রথাও রয়েছে।

    কেন জ্বালানো হয় ১৪টি প্রদীপ?

    ভূত চতুর্দশীর অন্যতম পরিচিত রীতি হল সন্ধ্যায় বাড়িতে ১৪টি প্রদীপ বা বাতি জ্বালানো। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, চোদ্দ পুরুষের আত্মারা যাতে তাঁদের যাতায়াতের পথে অন্ধকারে বাধা না পান, সেই জন্যই এই প্রদীপ জ্বালানো হয়। আবার অশুভ আত্মার প্রভাব থেকে বাড়িকে রক্ষা করার বিশ্বাসও এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।

    এদিন অনেক বাঙালি পরিবারে চোদ্দ শাক খাওয়ার প্রথাও রয়েছে। তবে ভূত চতুর্দশীর মূল লোকাচার ও বিশ্বাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিত হয়ে রয়েছে প্রেতাত্মা এবং পূর্বপুরুষদের স্মরণ করার বিষয়টি।

    হ্যালোউইনের সঙ্গে ভূত চতুর্দশীর মিল কোথায়?

    ভারতে যেমন কালীপুজোর আগের দিন পালিত হয় ভূত চতুর্দশী, পশ্চিমী দুনিয়ায় তেমনই অক্টোবরের ৩১ তারিখে পালিত হয় হ্যালোউইন। মৃত আত্মাদের স্মরণ এবং বিভিন্ন লোকাচারকে কেন্দ্র করে এই উৎসবের প্রচলন। গত কয়েক বছরে ভারতেও হ্যালোউইন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

    স্কটিশ শব্দ ‘অল হ্যালোজ ইভ’ থেকে হ্যালোউইন শব্দটির উৎপত্তি। শব্দটির অর্থ পবিত্র সন্ধ্যা। হ্যালোউইনের কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে কুমড়ো কেটে তৈরি করা ভৌতিক মুখের ছবি। কুমড়োর মধ্যে চোখ, নাক ও মুখের আকৃতি তৈরি করে তার ভিতরে মোমবাতি জ্বালিয়ে দেওয়ার রীতি রয়েছে। অন্ধকারে সেই আলো জ্বলতে থাকলে কুমড়োর মুখটি আরও ভৌতিক দেখায়। পাশাপাশি নানা ধরনের ভৌতিক পোশাক পরে অন্যকে ভয় দেখিয়ে মজা করেন অনেকে।

    ভূত চতুর্দশী ও হ্যালোউইনের মধ্যে কিছুটা মিল থাকলেও, দুটির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট আলাদা। তবে অশরীরী আত্মা, পূর্বপুরুষের স্মরণ এবং অন্ধকারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা লোকবিশ্বাস দুই উৎসবকেই এক বিশেষ মাত্রা দিয়েছে।

LinkedIn
Share