Blog

  • West Bengal Industrial Policy: বাংলার শিল্পের পুনরুত্থানে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের! বিনিয়োগ টানতে নয়া শিল্পনীতিতে একগুচ্ছ সুবিধা

    West Bengal Industrial Policy: বাংলার শিল্পের পুনরুত্থানে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের! বিনিয়োগ টানতে নয়া শিল্পনীতিতে একগুচ্ছ সুবিধা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এবং বাংলাকে নতুন করে শিল্প বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগী হল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার। নতুন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার লক্ষ্ণী বারে পশ্চিমবঙ্গের নয়া শিল্পনীতি (West Bengal Industrial Policy) ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু নতুন শিল্প স্থাপন নয়, দীর্ঘদিনের শিল্প সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো, বন্ধ ও রুগ্‌ণ কারখানার পুনরুজ্জীবন, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং পিছিয়ে থাকা এলাকায় শিল্পের প্রসার—সবকিছুকেই এই নীতির আওতায় আনার চেষ্টা হয়েছে।

    রাজ্যের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে এই নীতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে শুধু করছাড় বা আর্থিক অনুদানের ঘোষণা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন স্থায়ী নীতিগত সহায়তা, পরিকাঠামোগত সুবিধা, দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদন এবং দক্ষ কর্মী পাওয়ার নিশ্চয়তা। নয়া শিল্পনীতিতে এই বিষয়গুলির উপরেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান তৈরির সঙ্গে আর্থিক সুবিধাকে যুক্ত করা, মহিলা কর্মীদের নিয়োগে বাড়তি উৎসাহ এবং ভবিষ্যৎমুখী শিল্পক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধার সংস্থান রাজ্যের শিল্প অর্থনীতিকে নতুন দিশা দেখাতে পারে।

    বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা, কর্মসংস্থানই অগ্রাধিকার

    • ● নয়া শিল্পনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে শিল্প সংস্থাগুলিকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া। যোগ্য কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার ইপিএফ (EPF) অবদানের একটি অংশ ফেরত দেবে রাজ্য সরকার। এর ফলে নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে শিল্পোদ্যোগীদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে।
    • ● ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) ক্ষেত্রে মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তার ইপিএফ অবদানের ১০০ শতাংশ এবং পুরুষ কর্মীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে। এই সুবিধা সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে।
    • ● পরিষেবা ক্ষেত্রের যোগ্য সংস্থাগুলির ক্ষেত্রেও মহিলা কর্মীদের নিয়োগে ৭৫ শতাংশ এবং পুরুষ কর্মীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ইপিএফ সহায়তার সংস্থান রাখা হয়েছে। ২০০-র বেশি কর্মী থাকা যোগ্য পরিষেবা ইউনিটগুলি পাঁচ বছর পর্যন্ত এই সুবিধা পেতে পারে।
    • ● বৃহৎ শিল্প ও মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রেও রয়েছে পিএফ সহায়তা। অগ্রাধিকার এলাকায় অন্তত ২০০ জন এবং অন্যত্র অন্তত ৪০০ জন কর্মী থাকা যোগ্য শিল্প ইউনিট পাঁচ বছর পর্যন্ত নিয়োগকর্তার ইপিএফ অবদানের ৫০ শতাংশ সহায়তা পেতে পারে।
    • ● এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একদিকে যেমন নতুন নিয়োগে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে মহিলা কর্মসংস্থান এবং শিল্পক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থানের উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    নতুন শিল্পের পাশাপাশি পুরনো শিল্পের পুনরুজ্জীবনেও নজর

    বাংলার শিল্পের পুনরুত্থান বলতে শুধু নতুন কারখানা তৈরি বোঝায় না। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা রুগ্‌ণ অবস্থায় থাকা শিল্প ইউনিটগুলিকে পুনরায় উৎপাদনের উপযোগী করে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নয়া শিল্পনীতিতে সেই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    • ● অনুমোদিত পুনরুজ্জীবন পরিকল্পনার আওতায় রুগ্‌ণ ও বন্ধ শিল্পের জন্য বিশেষ বিদ্যুৎ সহায়তা, জমির ঊর্ধ্বসীমায় ছাড় এবং জমির বিকল্প ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট পুনরুজ্জীবন সেলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে।

    এর ফলে রাজ্যের বিদ্যমান শিল্প সম্পদকে নতুন করে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। নতুন করে বিপুল পরিমাণ জমি ও পরিকাঠামো তৈরি করার পাশাপাশি আগে থেকেই থাকা শিল্প পরিকাঠামোর পুনর্ব্যবহারও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    • ● শুধু তাই নয়, পুরনো শিল্প ইউনিট সম্প্রসারণ করেও সরকারি সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে সেক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির শর্ত পূরণ করতে হবে। কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকারের অনুমতির শর্ত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান ধরে রাখার বিষয়টিও নীতিতে গুরুত্ব পেয়েছে।

    পিছিয়ে থাকা এলাকাতেও শিল্পের প্রসারের পরিকল্পনা

    • ● শিল্পায়নের সুফল যাতে শুধু কয়েকটি পরিচিত শিল্পাঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। শিল্প ও পরিকাঠামোর বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে রাজ্যের নির্দিষ্ট মহকুমাগুলিকে অগ্রাধিকার এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এই সমস্ত এলাকায় বিনিয়োগ করলে তুলনামূলক বেশি আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি, কিছু সুবিধার ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের ন্যূনতম শর্তও কম রাখা হবে।

    এই উদ্যোগের গুরুত্ব যথেষ্ট। কারণ, পিছিয়ে থাকা এলাকায় শিল্প স্থাপিত হলে শুধু প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানই তৈরি হয় না, স্থানীয় পরিবহণ, আবাসন, বাজার, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রেও নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হয়।

    • ● অগ্রাধিকার এলাকার তালিকা প্রতি তিন বছর অন্তর পর্যালোচনা করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ফলে সময়ের সঙ্গে এলাকার শিল্প ও পরিকাঠামোগত পরিস্থিতির পরিবর্তন বিবেচনা করে নীতিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ থাকবে।

    বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১২০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ

    শিল্পোদ্যোগীদের কাছে আর্থিক নিশ্চয়তা একটি বড় বিষয়। সেই দিকটি বিবেচনা করেই প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতিতে অনুমোদিত বিনিয়োগের ভিত্তিতে সরকারি সহায়তার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    • ● সাধারণ শিল্প ইউনিটের ক্ষেত্রে অনুমোদিত বিনিয়োগের ১০০ শতাংশ পর্যন্ত, থ্রাস্ট সেক্টর অথবা অগ্রাধিকার এলাকার শিল্প ইউনিটের ক্ষেত্রে ১১০ শতাংশ পর্যন্ত এবং অগ্রাধিকার এলাকায় অবস্থিত থ্রাস্ট সেক্টরের ইউনিটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তার সীমা রাখা হয়েছে।

    তবে এই সহায়তা এককালীন নগদ অনুদান নয়। উৎপাদন শুরু হওয়ার পর নির্দিষ্ট নিয়মে ধাপে ধাপে তা পাওয়া যাবে। বার্ষিক সীমা এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও প্রযোজ্য। নির্ধারিত ঊর্ধ্বসীমায় পৌঁছলে অথবা ১০ বছর পূর্ণ হলে, যেটি আগে হবে, সেই অনুযায়ী সহায়তা বন্ধ হবে।

    ভবিষ্যতের শিল্পে বাংলাকে এগিয়ে রাখার পরিকল্পনা

    • ● বিশ্বজুড়ে শিল্প ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্যের নয়া শিল্পনীতি। সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, গ্রিন হাইড্রোজেন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বস্ত্রশিল্প, ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনের মতো ক্ষেত্রগুলিতে বাড়তি সুবিধার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    এই শিল্পগুলি আগামী দিনে বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। ফলে এই ধরনের শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারলে বাংলার শিল্প অর্থনীতির বহুমুখীকরণের সুযোগ তৈরি হবে।

    বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর ও বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ এলে তার সঙ্গে যুক্ত আনুষঙ্গিক শিল্প, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং দক্ষ কর্মীর চাহিদাও বাড়তে পারে। অর্থাৎ, একটি বড় শিল্প প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

    মেগা প্রকল্পের জন্য বিশেষ প্যাকেজ, পরিকাঠামোতেও সহায়তা

    • ● বড় বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য কৌশলগত ও মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রে পৃথক বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিনিয়োগের পরিমাণ, শিল্পক্ষেত্র এবং একসঙ্গে অন্তত ৫০০ জনের কর্মসংস্থানের মতো নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে প্রকল্পভিত্তিক বিশেষ সুবিধার আবেদন করা যাবে।
    • ● বড় শিল্প প্রকল্পের ক্ষেত্রে রাস্তা, জল সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ সংযোগের মতো পরিকাঠামো তৈরিতেও সহায়তার সুযোগ রয়েছে।

    এই সংস্থান বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ, একটি বড় শিল্প প্রকল্পের ক্ষেত্রে জমি ও মূলধনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করাও বড় চ্যালেঞ্জ। সেই ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক বাধা কমাতে পারে।

    উৎপাদন ও পরিষেবা—দুই ক্ষেত্রেই পৃথক সুবিধা

    • ● উৎপাদনকারী শিল্পের জন্য এসজিএসটি-সংযুক্ত আর্থিক সহায়তা, পাঁচ বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ শুল্ক প্রতিপূরণ, প্রকল্পের জমিতে স্ট্যাম্প ডিউটি ফেরত এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনে সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।
    • ● পরিষেবা ক্ষেত্রের জন্যও পৃথক প্যাকেজ রাখা হয়েছে। পাঁচ বছর পর্যন্ত এসজিএসটি-সংযুক্ত সহায়তা, ইপিএফ প্রতিপূরণ, বিদ্যুৎ শুল্কে সুবিধা এবং লিজে নেওয়া জায়গার ভাড়ায় সহায়তা দেওয়া হতে পারে।
    • ● এছাড়া, হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতো পরিকাঠামো ক্ষেত্রকেও নির্দিষ্ট শর্তে শিল্পনীতির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্তত ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং নির্ধারিত পরিষেবা দেওয়ার শর্ত পূরণ করলে এই প্রতিষ্ঠানগুলিও সুবিধা পেতে পারে। পিএম-শ্রী মডেলে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রেও সুযোগ রাখা হয়েছে।

    সবুজ শিল্প ও প্রশাসনিক সরলীকরণে বিশেষ গুরুত্ব

    • ● আধুনিক শিল্পায়নের অন্যতম শর্ত পরিবেশবান্ধব উৎপাদন। সেই বিষয়টিও নয়া শিল্পনীতিতে গুরুত্ব পেয়েছে। পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুতের ওপেন অ্যাক্সেসের ক্ষেত্রে মার্চ ২০৩০ পর্যন্ত সারচার্জ মকুবের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে শিল্প সংস্থাগুলি বিকল্প ও পরিচ্ছন্ন শক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত হতে পারে।
    • ● অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীদের প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে সিঙ্গল উইন্ডো পোর্টালের মাধ্যমে একটিমাত্র আবেদনে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
    • ● নীতিতে নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগ স্থির হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে সার্টিফিকেট অব ইনটেন্ট এবং উৎপাদন শুরু হওয়ার পর ৪৫ দিনের মধ্যে সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর্থিক সহায়তার দাবি মঞ্জুর এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প ইউনিটের অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রেও ৩০ দিনের সময়সীমা রাখা হয়েছে।

    প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় গতি আনা গেলে বিনিয়োগকারীদের কাছে রাজ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে যে সংস্থাগুলি একাধিক রাজ্যে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে, তাদের কাছে দ্রুত অনুমোদন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

    শিল্পের পুনরুত্থানে নীতিগত পদক্ষেপ, এবার নজর বাস্তবায়নে

    সামগ্রিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের নয়া শিল্পনীতি রাজ্যের শিল্প অর্থনীতিকে নতুন করে গতিশীল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি পুরনো শিল্পের পুনরুজ্জীবন, মহিলা কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসার, পিছিয়ে থাকা এলাকার উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ শিল্পে বিনিয়োগ—একাধিক দিককে একই ছাতার তলায় আনার চেষ্টা হয়েছে।

    এই নীতির ইতিবাচক দিক হল, শিল্প সংস্থাকে শুধু আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়নি, বরং কর্মসংস্থান তৈরি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে সরকারি সহায়তাকে যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার উদ্যোগও উল্লেখযোগ্য।

    অবশ্যই, কোনও শিল্পনীতি ঘোষণার পরই রাতারাতি শিল্পের চেহারা বদলে যায় না। বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন, জমি ও পরিকাঠামোর জোগান, দক্ষ শ্রমশক্তি, বিদ্যুৎ এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বাস্তব প্রয়োগ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক কাজ প্রয়োজন। সেই সঙ্গে ঘোষিত সুবিধা যাতে যোগ্য শিল্প সংস্থার কাছে সময়মতো পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

    তবে নীতিগতভাবে শিল্পের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির যে বার্তা এই নয়া শিল্পনীতিতে দেওয়া হয়েছে, তা তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলার শিল্পের পুনরুত্থান এবং কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্যে সরকারের এই উদ্যোগ কতটা সফল হয়, এবার তার প্রমাণ মিলবে বাস্তব বিনিয়োগ ও নতুন শিল্প প্রকল্পের হাত ধরে।

  • JD Vance to President Trump: ইরান যুদ্ধকেই রিপাবলিকানদের নির্বাচনী হারের কারণ বললেন জেডি ভ্যান্স, ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে?

    JD Vance to President Trump: ইরান যুদ্ধকেই রিপাবলিকানদের নির্বাচনী হারের কারণ বললেন জেডি ভ্যান্স, ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কি ক্রমশ দূরত্ব বাড়ছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের? ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে (Midterm Election) রিপাবলিকান পার্টির শোচনীয় পরাজয়ের পর ভ্যান্সের একটি দীর্ঘ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। তাঁর বক্তব্যে কার্যত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকেই নির্বাচনে দলের হারের প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। যা ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে ভ্যান্সের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের মতপার্থক্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

    ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন কেন

    গত বুধবার, ৪ নভেম্বর, নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে নির্বাচনী বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভ্যান্স লেখেন, ২০২৪ সালে যাঁরা ট্রাম্প-ভ্যান্স জুটিকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই ২০২৬ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন করেছেন। কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হল, তা নিয়ে দলের অন্দরে অনেক বিতর্ক ও মতবিরোধ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তাঁর মতে, নির্বাচনে হারের আসল কারণ প্রায় সকলের কাছেই স্পষ্ট। এক রাজনৈতিক সমীক্ষকের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে ভ্যান্স জানান, ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া বহু মানুষ এবার রিপাবলিকানদের উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কেন তাঁরা আবার রিপাবলিকান শিবিরে ফিরতে পারেন, তা জানতে চাওয়া হলে চারটি প্রধান বিষয় উঠে আসে।

    কেন আবার ভোট দেবেন রিপাবলিকানদের

    ভ্যান্সের পোস্ট অনুযায়ী, সেই চারটি দাবি হল—প্রথমত, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করা। দ্বিতীয়ত, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে নজর দেওয়া। তৃতীয়ত, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং চতুর্থত, ইজরায়েলের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা। এর পরেই সরাসরি ভ্যান্সের মন্তব্য, নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ হল যুদ্ধ। তাঁর এই বক্তব্যকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে মার্কিন রাজনৈতিক মহল। ভ্যান্সের পোস্টে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি এবং দ্বিতীয় মেয়াদের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে একাধিক পরোক্ষ সমালোচনা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের জন্য এমন বড় নির্বাচনী ধাক্কার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভাইস প্রেসিডেন্টের এই ধরনের মন্তব্যকে যথেষ্ট নজিরবিহীন।

    ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতির ইঙ্গিত

    যদিও ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনও বিরোধের কথা বলেননি ভ্যান্স। বরং নিজের পোস্ট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ার একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন তিনি। সেখানে ট্রাম্প বলেন, ভ্যান্সের মনোভাব তিনি জানেন এবং তাঁর বক্তব্য যথেষ্ট ভালো বলেই মনে হয়েছে। তবে এই পোস্টের মধ্যে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতির ইঙ্গিতও দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। সিএনএন-এর সাংবাদিক স্টিফেন কলিনসনের মতে, মঙ্গলবার থেকেই ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার শুরু হবে বলে রাজনৈতিক মহলে মশকরা চলছিল। কিন্তু ভ্যান্সের এই মন্তব্য কার্যত সেই নির্বাচনী লড়াইয়ের সূচনা করে দিল।

  • CAIT Writes to Rahul Gandhi: প্রতিবাদের অধিকার কি ব্যবসার অধিকারের চেয়ে বড়?’ রাহুলকে প্রশ্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের, দেশজুড়ে ধিক্কার দিবসের ডাক

    CAIT Writes to Rahul Gandhi: প্রতিবাদের অধিকার কি ব্যবসার অধিকারের চেয়ে বড়?’ রাহুলকে প্রশ্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের, দেশজুড়ে ধিক্কার দিবসের ডাক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীপাবলির আগে রাজনৈতিক কর্মসূচির জেরে দিল্লির ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে (CAIT Writes to Rahul Gandhi) বিপুল প্রভাব পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (CAIT)। এই ঘটনায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে দায়ী করে তাঁকে চিঠি পাঠিয়েছে ব্যবসায়ীদের সর্বভারতীয় সংগঠনটি। গত এক মাস ধরে দিল্লিতে একের পর এক রাজনৈতিক সভা, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির কারণে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ী সংগঠনের। বিশেষ করে গত ১ নভেম্বর রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ইন্ডি জোটের সভাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে ব্যবসায়ীদের।

    রাহুল গান্ধীর চিঠির উত্তরের অপেক্ষা

    সংগঠনের দাবি, উৎসবের মরশুমে রামলীলা ময়দান ও তার আশপাশের একাধিক দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কংগ্রেস-সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সিএআইটি । সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, রাহুল গান্ধীর চিঠির উত্তরের অপেক্ষা করা হবে। তবে দীপাবলির পরেই দিল্লিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যিক নেতৃত্বকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্তরের বৈঠক ডাকা হবে। সেই বৈঠকেই পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি এই ইস্যুতে দেশজুড়ে ‘ধিক্কার দিবস’ পালনেরও ঘোষণা করেছে সিএআইটি (CAIT।) জাতীয় বৈঠকেই এই কর্মসূচির দিনক্ষণ চূড়ান্ত হবে।

    ব্যবসায়ী সংগঠনের মত

    সিএআইটি (CAIT)-এর নেতা প্রবীণ খণ্ডেলওয়াল (Bhartia) বলেন, “রাহুল গান্ধী একই সঙ্গে দুটি পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিতে পারেন না। একদিকে তিনি মানুষকে স্থানীয় বাজার থেকে কেনাকাটা করার আহ্বান জানান, অন্যদিকে এমন রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সমর্থন করেন, যার ফলে ক্রেতারা সেই বাজারে পৌঁছতেই পারেন না। এটি শুধু রাজনৈতিক অবস্থানের অসঙ্গতি নয়, সাধারণ ব্যবসায়ীদের জীবিকা ও রোজগারের উপর সরাসরি আঘাত।” সংগঠনের জাতীয় সভাপতি রাহুল গান্ধীকে সরাসরি প্রশ্ন করেছেন— “প্রতিবাদের অধিকার কি ব্যবসার অধিকারের চেয়ে বড়?” রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে সাধারণ মানুষের জীবিকা ও বাজার অচল করে দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।

    সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

    সম্প্রতি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ একটি মামলার শুনানিতে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে যে, প্রতিবাদের অধিকার পরম বা সীমাহীন নয়। প্রতিবাদের অধিকারের সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ ও ব্যবসার অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন। অনির্দিষ্টকালের জন্য কোনো জনবহুল স্থান বা রাস্তা আটকে রাখা যায় না। সিএআইটি-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিষয়টি আর শুধু দিল্লির ব্যবসায়ীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আজ জাতীয় রাজধানীতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে আগামী দিনে দেশের অন্য শহরগুলিতেও একই পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। তাই এটি এখন একটি গুরুতর জাতীয় সমস্যা। ব্যবসায়ী সমাজ আর এ ধরনের পরিস্থিতি মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে।

    প্রতিবাদ করার অধিকার অধিক গুরুত্বপূর্ণ!

    রাজনৈতিক নেতাদের সংবিধানের অধিকার নিয়ে বেছে বেছে অবস্থান নেওয়ারও সমালোচনা করেছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি। খণ্ডেলওয়ালের বক্তব্য, সংবিধানের ১৯(১)(এ) অনুচ্ছেদে নাগরিকদের বাক্‌স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ১৯(১)(জি) অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের পেশা গ্রহণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য করার অধিকারও সুনিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “রাহুল গান্ধী কি মনে করেন, প্রতিবাদ করার অধিকার ব্যবসা ও জীবিকা অর্জনের অধিকারের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ? সংবিধানের ১৯(১)(জি) অনুচ্ছেদ কি শুধুমাত্র বক্তৃতা ও বইয়ের জন্য, নাকি লক্ষ লক্ষ ছোট ব্যবসায়ী, দোকানদার, ফুটপাতের হকার এবং কর্মজীবী পরিবারের দৈনন্দিন রোজগারের অধিকারও এর আওতায় পড়ে? রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের সুবিধামতো সংবিধানের অধিকার তুলে ধরতে পারেন না, অথচ অন্যদের অধিকার উপেক্ষা করতে পারেন না।”

    দিল্লি শুধু রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ নয়

    ভারতিয়ার বক্তব্য, রাজনৈতিক দলগুলিকে বুঝতে হবে যে দিল্লি শুধু রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ নয়, এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র। দিল্লির বাজারগুলি লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকার ভিত্তি এবং জাতীয় অর্থনীতি ও সরকারি রাজস্বে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তিনি বলেন, দেশের ব্যবসায়ীরা কারও রাজনৈতিক লড়াইয়ের ‘পাঞ্চিং ব্যাগ’ নন। তাঁরা দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড, কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম চালিকাশক্তি এবং দেশ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাঁরা কোনও বিশেষ সুযোগ-সুবিধা চাইছেন না, শুধু নিজেদের সাংবিধানিক অধিকারকে সম্মান জানানোর দাবি জানাচ্ছেন। সরকারের বিরোধিতা করা গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে অন্যের জীবিকা ধ্বংস করা গণতান্ত্রিক বা ন্যায়সংগত হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন সিএআইটি-এর জাতীয় সভাপতি।

    ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির দায় কে নেবে

    ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তুলেছে সিএআইটি (CAIT।)। খণ্ডেলওয়ালের বক্তব্য, এই ধরনের বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে ব্যবসায়ী এবং কর্মজীবী পরিবারগুলির যে বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ কে দেবে? কংগ্রেস বা এই ধরনের কর্মসূচির আয়োজক ও সমর্থকদের কি ক্ষতির দায় নেওয়ার কোনও ব্যবস্থা রয়েছে? রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের জন্য কি সাধারণ মানুষের জীবিকা ও রোজগারকে এভাবে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া যায়? এই সমস্ত প্রশ্নের জবাব চেয়েই রাহুল গান্ধীকে চিঠি পাঠিয়েছে সিএআইটি (CAIT।)। এখন ওই চিঠির উত্তরের পাশাপাশি দীপাবলির পর জাতীয় বৈঠকে ব্যবসায়ী সংগঠনটি কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

  • Pakistan: ধর্মীয় বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে ভারতে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ ছড়ানোর ছক কষছে পাকিস্তান-তুরস্ক! সতর্কবার্তা মার্কিন বিশ্লেষকের

    Pakistan: ধর্মীয় বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে ভারতে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ ছড়ানোর ছক কষছে পাকিস্তান-তুরস্ক! সতর্কবার্তা মার্কিন বিশ্লেষকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ধর্মীয় ও সামাজিক বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। রাজনৈতিক প্রচার, সংবাদমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন সংগঠনকে হাতিয়ার করে ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে এই দুই দেশ। এমনই (India Civil War Warning) আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে ‘দ্য সানডে গার্ডিয়ানে’ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে। সেখানে বলা হয়েছে, কাশ্মীর প্রশ্নে দীর্ঘদিনের অবস্থানের পাশাপাশি এবার ভারতের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় সমীকরণকেও নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইছে ইসলামাবাদ (Pakistan) ও আঙ্কারা (তুরস্কের রাজধানী)। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সামাজিক সংহতির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

    ‘কুড ইন্ডিয়া ফেস আ সেক্টারিয়ান সিভিল ওয়ার?’ শীর্ষক ওই নিবন্ধটি ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত হয়। লেখক মাইকেল রুবিন ওয়াশিংটন ডিসির মিডল ইস্ট ফোরামের নীতি বিশ্লেষণ বিভাগের পরিচালক এবং উসানাস ফাউন্ডেশনের বিশিষ্ট ফেলো। তাঁর দাবি, সুন্নি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তান ও তুরস্ক রাজনৈতিক বক্তব্য, সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যে এমন একটি ধর্মীয় রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে, যা ভারতের বহুধর্মীয় ও গণতান্ত্রিক পরিচয়কে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

    রুবিনের মতে, ভারতের বিভিন্ন ধর্মীয় অসন্তোষকে রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করার চেষ্টা করছে এই দুই দেশ। এর ফলে বৃহত্তর সাম্প্রদায়িক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্বাধীন তুরস্ক ভারতের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় পরিস্থিতিকে নিজেদের ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান এখনও দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ধর্মীয় রাজনৈতিক মতাদর্শকে সামনে রেখে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

    দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রচার থেকে নতুন রাজনৈতিক বয়ান (Pakistan)

    নিবন্ধে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের একাধিক বক্তব্যের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, অ-মুসলিম রাজনৈতিক কর্তৃত্বের অধীনে মুসলিমদের বসবাসের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলার প্রবণতা দেখা গিয়েছে।

    ২০১৯ সালের ৬ অগাস্ট পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে মুহাম্মদ আলি জিন্নার পৃথক মুসলিম রাষ্ট্রের দাবির বিষয়টি উঠে আসে। পাশাপাশি তিনি এমন ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন যে, ভবিষ্যতে ভারত শুধুমাত্র হিন্দুদের দেশ হয়ে উঠতে পারে।

    ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের মুখেও একই ধরনের বক্তব্য শোনা গিয়েছিল। পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ভিত্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, জীবনযাপনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে এবং তারা দু’টি পৃথক জাতি।

    রুবিনের মতে, এই ধরনের বক্তব্য শুধুমাত্র জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ভূখণ্ডগত দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এর মধ্যে বৃহত্তর ধর্মীয় রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিফলন রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের কৌশলগত সহযোগী তুরস্কও ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে একই ধরনের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

    ভারতের মুসলিমদের পরিস্থিতি নিয়ে এরদোয়ানের বক্তব্য

    ভারতের মুসলিমদের পরিস্থিতি নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের একাধিক মন্তব্যকে এই প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন রুবিন।

    ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পার্শ্ববৈঠকে পাকিস্তান ও তুরস্কের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিদ্বেষমূলক বক্তব্য সংক্রান্ত একটি আলোচনামঞ্চে ভারতের মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিংসার অভিযোগ তোলেন এরদোয়ান।

    এর পাঁচ মাস পর নিজের রাজনৈতিক দলের তরুণ সদস্যদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ভারতকে এমন একটি দেশ হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে হিন্দুদের হাতে মুসলিমরা গণহত্যার শিকার হচ্ছেন (Pakistan) বলে তাঁর অভিযোগ।

    রুবিনের ব্যাখ্যা, এই ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে তুরস্ক ভৌগোলিক সীমানার বাইরেও বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। একই সঙ্গে ভারতের বিরুদ্ধে বিতর্কিত বয়ান তুলে ধরে নিজেদের ধর্মীয় রাজনৈতিক বিদেশনীতি আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে আঙ্কারা।

    ভারতবিরোধী প্রচারে তুরস্ক-পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম

    ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচার ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তুরস্কের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম এবং পাকিস্তানের বিশিষ্ট ভাষ্যকারদের ভূমিকারও উল্লেখ করেছেন রুবিন।

    বিশেষভাবে উঠে এসেছে তুরস্কের সংবাদপত্র ‘ইয়েনি সাফাকে’র নাম। সংবাদপত্রটিকে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের রাজনৈতিক শিবিরের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়। ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল পত্রিকাটির সম্পাদক ইব্রাহিম কারাগুল একটি নিবন্ধে দাবি করেন, চিন ও তুরস্ক পাকিস্তানকে সমর্থন করলে ভারত ভেঙে যেতে পারে। ভারতকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রসঙ্গে তিনি মুঘল, সেলজুক এবং উসমানীয় সাম্রাজ্যের ঐতিহাসিক প্রসঙ্গও টেনে আনেন।

    ৮ মে ওই সংবাদপত্রে পাকিস্তানি ভাষ্যকার ফুরকান হামিদের একটি অতিথি সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়। তিনি তুরস্কের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের উর্দু বিভাগের প্রধান। ওই লেখায় ভারতকে সংখ্যালঘুদের বসবাসের পক্ষে ক্রমশ প্রতিকূল দেশ হিসেবে তুলে ধরা হয় (India Civil War Warning)।

    পরের দিন তুরস্কের ‘সাবাহ’ সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি লেখায় ভাষ্যকার হিলাল কাপলান ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যা সংঘটিত হওয়ার অভিযোগ তোলেন।

    রুবিনের মতে, এই ধরনের প্রকাশনা নিছক ভারত সরকারের নীতির সমালোচনা নয়। বরং ধারাবাহিকভাবে ভারতকে মুসলিমবিরোধী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি ধর্মীয় মেরুকরণকে উৎসাহিত করার (Pakistan) প্রচেষ্টা।

    তাঁর আশঙ্কা, সোশ্যাল মিডিয়া, দাতব্য সংস্থা এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠীর একাংশের মধ্যে ধর্মীয় অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তোলা হতে পারে। এর ফলে উগ্রপন্থী মনোভাব এবং রাজনৈতিক অধিকারবোধের নামে সংঘাতের প্রবণতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    পাকিস্তানে হিন্দু, খ্রিস্টান ও শিখদের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন

    ভারতের বিরুদ্ধে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের অভিযোগ তোলা পাকিস্তান ও তুরস্কের নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে নিজেদের দেশের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতির তুলনাও করেছেন রুবিন।

    তাঁর দাবি, স্বাধীনতার পর থেকে পাকিস্তানে হিন্দু ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সামাজিক অবস্থানের উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। দেশটির স্বাধীনতার সময় এই দুই সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এমনকী তাঁদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলিকে জাতীয় ছুটির মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টিও একসময় বিবেচনা করা হয়েছিল।

    কিন্তু পরবর্তী সময়ে বৈষম্য, ধর্মীয় নিপীড়ন, হামলা এবং ধর্ম অবমাননা সংক্রান্ত আইনের অপব্যবহারের কারণে সংখ্যালঘুদের একাংশ দেশ ছাড়তে বাধ্য হন বলে নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে।

    পাকিস্তানে শিখ সম্প্রদায়ের অবস্থার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। রুবিনের বক্তব্য, ভারতে খালিস্তানপন্থী আন্দোলনকে পাকিস্তানের সমর্থনের সঙ্গে সে দেশের পাঞ্জাবে শিখ সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক অবক্ষয়ের বিষয়টি স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করে।

    তুরস্কের ক্ষেত্রেও এরদোয়ান সরকারের ধর্মীয় রাজনৈতিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করেছেন তিনি।

    ভারতের বৈচিত্র্যই সবচেয়ে বড় শক্তি

    রুবিন তাঁর নিবন্ধে ভারতের ধর্মীয় ও ভাষাগত বৈচিত্র্যের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং অন্যতম বৈচিত্র্যপূর্ণ সমাজ। এখানে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, জরথুষ্ট্রী-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন।

    বিশ্বের বৃহত্তম হিন্দু ও জৈন জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠীর বাস ভারতেই। দেশের খ্রিস্টান জনসংখ্যা অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। পাশাপাশি ভারতে অন্তত ১০ হাজার মানুষের মাতৃভাষা হিসেবে ব্যবহৃত ২৭০টিরও বেশি ভাষা এবং ৭০০-র বেশি জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব রয়েছে।

    রাজনৈতিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা ফ্রিডম হাউসের বিভিন্ন মূল্যায়নের উল্লেখ করে রুবিনের দাবি, রাজনৈতিক স্বাধীনতার একাধিক মাপকাঠিতে ভারতের অবস্থান পাকিস্তান ও তুরস্কের তুলনায় ভালো। তাঁর আরও বক্তব্য, আন্তর্জাতিক সংস্থাটির বিভিন্ন সময়ে ভারতের সমালোচনা সত্ত্বেও ধর্মীয় সহাবস্থানের ক্ষেত্রে ভারতের রেকর্ড একাধিক মুসলিম (Pakistan) সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের তুলনায় উন্নত।

    সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় নতুন চ্যালেঞ্জ?

    নিবন্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হল, পাকিস্তান ও তুরস্ক প্রচলিত সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত প্রচারের মাধ্যমে ভারতের ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে।

    রুবিন বিংশ শতাব্দীর ভূখণ্ডগত সংঘাতের সঙ্গে একবিংশ শতাব্দীর নতুন ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের পার্থক্য তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, চিনের আকসাই চিন দখল, জম্মু ও কাশ্মীরের একটি বড় অংশে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ, তুরস্কের উত্তর সাইপ্রাস দখল এবং ইরাকের কুয়েত আক্রমণ ছিল প্রচলিত ভূখণ্ডগত আগ্রাসনের উদাহরণ।

    কিন্তু বর্তমান সময়ে সংঘাতের ধরন বদলেছে। এখন বিদ্রোহ, অপপ্রচার, অনিয়মিত নেটওয়ার্ক, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে কাজে লাগানোর প্রবণতা বাড়ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার পদক্ষেপ এবং বাল্টিক অঞ্চলের রুশভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছেন।

    এই প্রেক্ষাপটে রুবিনের আশঙ্কা, এরদোয়ানের নেতৃত্বাধীন তুরস্ক ভারতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রসংঘের কূটনৈতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের পথও খুঁজতে পারে আঙ্কারা।

    রাষ্ট্রসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদে তুরস্কের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী এবং বর্তমানে ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার মহাসচিব ফেরিদুন সিনিরলিওগলুকে প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার জন্য এরদোয়ানের প্রচেষ্টার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন তিনি।

    রুবিনের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে ধর্মীয় নিপীড়নের অভিযোগ তুলে নয়াদিল্লির উপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে।

    খালিস্তান আন্দোলনের উদাহরণ টেনে সতর্কবার্তা

    আটের দশকে পাকিস্তানের সমর্থনপুষ্ট খালিস্তানপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের প্রসঙ্গও টেনেছেন রুবিন। তাঁর মতে, সেই সময় বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসবাদ ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সামনে গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল।

    তাঁর আশঙ্কা, ভারতের প্রায় ২০ কোটি মুসলিম জনগোষ্ঠীর সামান্য একটি অংশকেও যদি উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলেও তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। দেশের জাতীয় স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বিনিয়োগের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    রুবিনের মূল্যায়ন, সাম্প্রদায়িক সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে কয়েক দশক পিছিয়ে দিতে পারে। এমনকী পরিস্থিতি পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধের পর্যায়ে না পৌঁছলেও তার প্রভাব মারাত্মক হতে পারে।

    নিবন্ধের উপসংহারে বলা হয়েছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সমস্যাকে শুধুমাত্র পাকিস্তান বা চিনের মতো প্রতিবেশী দেশের সামরিক হুমকির নিরিখে বিচার করলে চলবে না। ইসলামাবাদ ও আঙ্কারার মধ্যে ক্রমবর্ধমান মতাদর্শগত ঘনিষ্ঠতা, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে প্রচার এবং ধর্মীয় বয়ানে প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টাকেও গুরুত্ব দিয়ে (Pakistan) দেখতে হবে।

    রুবিনের মতে, ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে এই ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় রাজনৈতিক প্রচারের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক বিভাজনকে কাজে লাগানোর (India Civil War Warning) যে কোনও প্রচেষ্টা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না করলে অদূর ভবিষ্যতে তৈরি হতে পারে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকট।

     

  • Dhanteras 2026: শুক্রবার বিরল যোগে ধনতেরাস ২০২৬! কখন পুজো, কখন কেনাকাটার শুভ সময়?

    Dhanteras 2026: শুক্রবার বিরল যোগে ধনতেরাস ২০২৬! কখন পুজো, কখন কেনাকাটার শুভ সময়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। বিশেষ করে শরৎ থেকে হেমন্ত—এই দুই ঋতু যেন উৎসবের আবহে মোড়া। মহালয়ার হাত ধরে শুরু হয় উৎসবের মরশুম। তারপর একে একে দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো, কালীপুজো। আলোর উৎসব দীপাবলির ঠিক দু’দিন আগে পালিত হয় ধনতেরাস। ধনসম্পদ, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্যের কামনায় এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরাসে সোনা, রুপো, বাসনপত্র কিংবা নতুন কোনও সামগ্রী কেনা শুভ। তবে ২০২৬ সালের ধনতেরাসে রয়েছে বিশেষ জ্যোতিষ সংযোগও। শুক্রবারে এই উৎসব পালনের পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে মালব্য রাজযোগ। ফলে এবারের ধনতেরাসের মাহাত্ম্য আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন জ্যোতিষশাস্ত্রের অনুরাগীরা।

    কেন পালন করা হয় ধনতেরাস?

    ধনতেরাস শব্দটি এসেছে দুটি শব্দের সংমিশ্রণে—‘ধন’ অর্থাৎ সম্পদ এবং ‘তেরাস’ অর্থাৎ ত্রয়োদশী। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। ধনত্রয়োদশী নামেও পরিচিত এই দিনটি।

    ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরাসে ভগবান ধন্বন্তরী, দেবী লক্ষ্মী এবং ধনদেবতা কুবেরের আরাধনা করা হয়। ধনসম্পদ ও আর্থিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য এবং পরিবারের মঙ্গল কামনাও এই উৎসবের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রচলিত রীতি অনুসারে, এদিন মূল্যবান ধাতু, সোনা-রুপোর গয়না, বাসনপত্র কিংবা গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকে শুভ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস, এর মাধ্যমে সংসারে সুখ-সমৃদ্ধির আগমন ঘটে।

    ২০২৬ সালের ধনতেরাসে কেন বিশেষ শুক্রবারের যোগ?

    এবারের ধনতেরাস পালিত হবে ৬ নভেম্বর, শুক্রবার। হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাসে শুক্রবার দেবী লক্ষ্মীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত। লক্ষ্মী হলেন ধন, ঐশ্বর্য, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের প্রতীক। ফলে লক্ষ্মীপুজোর বিশেষ দিন শুক্রবারে ধনতেরাস পড়ায় এই তিথির ধর্মীয় গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এই দিনে ভক্তরা দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা, প্রদীপ প্রজ্বলন এবং দান-ধ্যানের মাধ্যমে তাঁর আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। পাশাপাশি ধনদেবতা কুবের ও ভগবান ধন্বন্তরীর পুজোরও বিশেষ রীতি রয়েছে।

    ধনতেরাসে তৈরি হচ্ছে মালব্য রাজযোগ, কী এর তাৎপর্য?

    ২০২৬ সালের ধনতেরাসের অন্যতম আকর্ষণ জ্যোতিষশাস্ত্রের একটি বিশেষ যোগ—মালব্য রাজযোগ। পঞ্জিকা ও জ্যোতিষীয় গণনা অনুযায়ী, এই সময়ে শুক্র নিজের রাশি তুলাতে অবস্থান করবে।

    জ্যোতিষশাস্ত্রে শুক্রকে সৌন্দর্য, বিলাসিতা, সুখ, ঐশ্বর্য এবং পার্থিব সমৃদ্ধির কারক গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শুক্র নিজের রাশিতে অবস্থান করলে মালব্য রাজযোগ তৈরি হয় বলে প্রচলিত বিশ্বাস। এটি পঞ্চ মহাপুরুষ যোগের অন্যতম।

    জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, এই যোগ সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, আর্থিক সমৃদ্ধি ও বিলাসবহুল জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেই কারণেই ধনতেরাসের মতো সম্পদ ও সমৃদ্ধির উৎসবে মালব্য রাজযোগের উপস্থিতিকে বিশেষ শুভ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এগুলি জ্যোতিষশাস্ত্রীয় বিশ্বাস, এর কোনও বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নেই।

    কবে ধনতেরাস ২০২৬? ত্রয়োদশী তিথির সময়

    এ বছর ৬ নভেম্বর, শুক্রবার ধনতেরাস পালিত হবে। কলকাতার স্থানীয় সময় অনুযায়ী, ত্রয়োদশী তিথি শুরু হবে ৬ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩১ মিনিটে। তিথি শেষ হবে ৭ নভেম্বর সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে। অর্থাৎ, ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় পুজোর সময়ও ত্রয়োদশী তিথি বজায় থাকবে।

    ধনতেরাস ২০২৬: পুজোর শুভ সময় কখন?

    ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, ধনতেরাসের সন্ধ্যায় প্রদোষ কালে পুজো করা বিশেষ শুভ বলে মনে করা হয়। ২০২৬ সালে প্রদোষ কাল থাকবে বিকেল ৫টা ৪৯ মিনিট থেকে রাত ৮টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে ভগবান ধন্বন্তরী ও দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করতে পারেন ভক্তরা। সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রার্থনা নিবেদনেরও প্রচলন রয়েছে।

    ধনতেরাসে কেনাকাটার তিনটি শুভ মুহূর্ত

    ধনতেরাসে সোনা, রুপো, বাসনপত্র কিংবা নতুন গৃহস্থালির সামগ্রী কেনার পরিকল্পনা থাকলে নজরে রাখতে পারেন এই তিনটি সময়।

    • ● ১. চৌঘরিয়া মুহূর্ত: কেনাকাটার প্রথম শুভ সময় সকাল ৮টা ১৬ মিনিট থেকে সকাল ৯টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়ে সোনা, রুপো, বাসনপত্র এবং অন্যান্য গৃহস্থালির সামগ্রী কেনার রীতি রয়েছে।
    • ● ২. অভিজিৎ মুহূর্ত: দ্বিতীয় শুভ সময় বেলা ১১টা ৪৮ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়েও সোনা-রুপোর গয়না, বাসনপত্র এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা যেতে পারে বলে প্রচলিত বিশ্বাস।
    • ● ৩. সন্ধ্যার প্রদোষ কাল: কেনাকাটার তৃতীয় শুভ সময় বিকেল ৫টা ৪৯ মিনিট থেকে রাত ৮টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়টি পুজোর জন্যও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সন্ধ্যায় পুজো ও কেনাকাটা—দুই-ই করতে পারেন।

    সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের ধনতেরাসে শুক্রবারের বিশেষ তাৎপর্য, মালব্য রাজযোগ এবং কেনাকাটার একাধিক শুভ মুহূর্ত উৎসবের আকর্ষণ বাড়িয়েছে। ধনসম্পদ ও সমৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবারের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনায় এই দিনটি পালন করবেন বহু মানুষ।

    DISCLAIMER: পঞ্জিকা অনুযায়ী তিথি, প্রদোষ কাল এবং তিনটি কেনাকাটার মুহূর্ত একবার যাচাই করে নেওয়া ভালো। বিশেষত চৌঘরিয়া ও অভিজিৎ মুহূর্তের সময় স্থানভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।
  • BLA: বালোচিস্তানে ২৫টিরও বেশি হামলার দাবি বালোচ স্বাধীনতাকামীদের, হত ৪০-এর বেশি পাক সেনা-নিরাপত্তাকর্মী

    BLA: বালোচিস্তানে ২৫টিরও বেশি হামলার দাবি বালোচ স্বাধীনতাকামীদের, হত ৪০-এর বেশি পাক সেনা-নিরাপত্তাকর্মী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশে গত ২৬ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বরের মধ্যে ২৫টিরও বেশি হামলা চালানোর দাবি করেছে বিএলএ (BLA)। সংগঠনটির দাবি, এই হামলাগুলিতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং রাষ্ট্রসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৪০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। জখম হয়েছেন আরও কয়েক ডজন। একাধিক সামরিক ও রসদ পরিবহণকারী গাড়িও ধ্বংস করা হয়েছে (Pakistani Troops) বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

    বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিএলএ-র মুখপাত্র জিয়াঁদ বালোচ জানান, তাঁদের যোদ্ধারা বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিত অভিযান এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা বিভাগের কর্মী এবং সংগঠনটির ভাষায় ‘ডেথ স্কোয়াড’গুলিকে নিশানা করেছে। এই অভিযানে একাধিক সামরিক যানবাহন ধ্বংস করা হয়েছে।

    এই সংঘর্ষের জেরে বালোচিস্তানজুড়ে কয়েক দিনের জন্য রেল পরিষেবা বন্ধ রেখেছিল পাক প্রশাসন। জাফর এক্সপ্রেসে হামলার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কয়েক বছর আগে বালোচ জাতীয়তাবাদী বিদ্রোহীদের হাতে অপহৃত হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছিল এই ট্রেন। তার পরেও একাধিকবার ট্রেনটিকে নিশানা করা হয়েছে। সাধারণত এই ট্রেনে সামরিক কর্মীদের যাতায়াতের কারণেই হামলার ঝুঁকি বেশি বলে মনে করা হয়।

    সেনা হতাহতের তথ্য প্রকাশে অনীহা পাকিস্তানের (BLA)

    একসময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সংবাদ ও জনসংযোগ বিভাগ নিয়মিতভাবে সেনা হতাহতের তথ্য প্রকাশ করত। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র সঙ্গে সংঘর্ষ কিংবা বালোচ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে লড়াইয়ের বিবরণও নিয়মিত জানানো হত। কিন্তু দুই অশান্ত প্রদেশেই সেনাবাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির পর থেকে সেই স্বচ্ছতা অনেকটাই কমেছে বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যম ‘দ্য বালোচিস্তান পোস্ট’।

    কোনও অভিযানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিক নিহত হলে অবশ্য কখনও কখনও তা স্বীকার করতে বাধ্য হয় সেনার জনসংযোগ বিভাগ। গত ১৯ অক্টোবর লাহোরের বাসিন্দা মেজর ওয়াজাহাত ওয়াহিদের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছিল তারা। একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা হাতে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্রের হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য সেনাকর্মীদের হতাহত হওয়ার বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    বর্তমানে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ কিংবা হতাহতের বিস্তারিত বিবরণ খুব কমই সামনে আনে ওই বিভাগ। অধিকাংশ বিবৃতিতে বরং টিটিপি বা পাকিস্তানি নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত বালোচ বিদ্রোহীদের ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই ঘটনার দুই সপ্তাহ কিংবা এক মাস পরে অভিযানের বিবরণ প্রকাশ করা হয়।

    ৩০টিরও বেশি গাড়ির কনভয়ে হামলা

    বিএলএর দাবি, গত ২৬ অক্টোবর খুজদার জেলার কারখ এলাকায় পাকিস্তানি নিরাপত্তাবাহিনীর ৩০টিরও বেশি গাড়ির একটি কনভয়ে অতর্কিতে হামলা চালান তাদের যোদ্ধারা। ওই কনভয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ, সন্ত্রাসদমন বিভাগ এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী বাহিনীর গাড়ি ছিল। খুজদার রেঞ্জের ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল ইমরান কুরেশি এবং জেলার পুলিশ সুপারের জন্য বরাদ্দ গাড়িও ওই কনভয়ে ছিল। হামলায় অন্তত ৯ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তিনটি গাড়ি অকেজো হয়ে গিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

    সংগঠনটির আরও দাবি, আগের দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত কোয়েটা-করাচি সড়ক অবরোধ করে রেখেছিলেন তাদের সদস্যরা। ওই সময় যাতায়াতকারী গাড়ি থামিয়ে তল্লাশিও চালানো হয়।

    খারান জেলাতেও একাধিক সংঘর্ষের দাবি করেছে বিএলএ। গত ২৮ অক্টোবর বরশোনকিতে একটি নিরাপত্তাবাহিনীর গাড়ির কনভয়ে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে তারা। ওই ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি সংগঠনটির।

    এর পর ১ নভেম্বর লেজাই এবং সংলগ্ন এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ সংঘর্ষ চলে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, অগ্রসরমান সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পাশাপাশি দূরনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরক যন্ত্রের সাহায্যে একটি সামরিক গাড়ি ধ্বংস করা হয়। তিনটি পৃথক এলাকায় পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সংঘর্ষ চলে। তাতে আটজনেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি বিএলএর। পরদিন একই এলাকায় আরও একটি সামরিক গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এর ফলে সেনাদের পিছিয়ে যেতে হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

    গত ৩ নভেম্বর খারানেই আরও দুটি হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে সংগঠনটি (BLA)। সকালে জোমি এলাকায় এবং রাতে নওরোজ কালাতে সামরিক গাড়ি নিশানা করা হয়। জোমির হামলায় অন্তত তিনজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন বলে দাবি। একই দিনে রোটিনকো এলাকায় একটি সামরিক চৌকিতেও ভারী অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। তাতে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএলএ।

    তুরবত, বাসিমা ও নুশকিতেও হামলার দাবি

    বিবৃতি অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর তুরবত জেলার গিবান এলাকায় একটি সামরিক গাড়ির কনভয়ে হামলা চালান বিএলএ-র সদস্যরা। দু’টি গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো ওই হামলায় তিনজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। একই দিনে কেচ জেলার হিররঙ্ক কানরাক এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি টহলদারি দলের উপর দূরনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরক যন্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়।

    ২৮ অক্টোবর বাসিমায় সাজিদের কাছে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ির কনভয়ে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তাতে চারজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং অন্তত সাতজন গুরুতর জখম হন। একই দিনে পাঞ্জগুর জেলার গোয়ারগো এলাকায় আর একটি সামরিক গাড়িতে হামলা চালানো হয়। তাতে এক নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি।

    নুশকির আহমদ ওয়াল এলাকায় গত ২৬ অক্টোবর ভারী অস্ত্র নিয়ে সেনাবাহিনীর প্রধান শিবিরে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে বিএলএ। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি। চার দিন পর ওই এলাকাতেই সেনাবাহিনীর ট্রাকের একটি বহরে অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। তাতে দুজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত, বেশ কয়েকজন আহত এবং একটি ট্রাক ধ্বংস হয় বলে সংগঠনটির দাবি।

    গত ২ নভেম্বর আহমদ ওয়াল এলাকায় পায়ে হেঁটে এবং গাড়িতে যাতায়াতকারী সেনাদের ফের নিশানা করা হয়। ওই হামলায় আরও তিনজন নিহত এবং কয়েকজন জখম হয়েছেন বলে দাবি বিএলএর। একই দিনে মাস্তুংয়ের প্রধান সড়কে মদিনা হোটেলের কাছে একটি সামরিক গাড়ির কনভয়ে হামলা চালানো হয়। তাতে চারজনেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে (Pakistani Troops) দাবি সংগঠনটির। এ ছাড়াও ৩০ অক্টোবর হোশাবের গোয়ান্ড সারিন এলাকায় বিস্ফোরণে একটি সামরিক গাড়ি ধ্বংস করার দায়ও স্বীকার করেছে বিএলএ।

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান

    বিএলএর মুখপাত্র জিয়াঁদ বালোচ জানিয়েছেন, সংগঠনটির গোয়েন্দা শাখা জিরাবের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেও একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, ২৬ অক্টোবর ডালবান্দিনের কোহ-এ-তারান এলাকায় শাহজাহান ওরফে শাহুর গাড়ি বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়। এর পর তাঁর গোষ্ঠীর অন্য সদস্যদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। শাহু-সহ তিনজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি সংগঠনটির (BLA)। বিএলএর অভিযোগ, শাহু পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর একজন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, স্থানীয় সহযোগীদের নিয়োগ এবং ডালবান্দিন ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সংগঠনটির ভাষায় ‘মৃত্যুদল’ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    গত ২৮ অক্টোবর রাতে গোয়াদরের ঘাট্টি ডোর এলাকায় লাহোরের বাসিন্দা রানা মহম্মদ আহমেদকে হত্যার দায়ও স্বীকার করেছে বিএলএ। সংগঠনটির দাবি, তিনি পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরিচয় গোপন রেখে তথ্য সংগ্রহ এবং সামরিক অভিযানে সহযোগিতা করতেন তিনি। এ ছাড়াও ২৮ অক্টোবর তুরবতের নোদিজ এলাকায় রাষ্ট্রসমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের বহনকারী গাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। এতে গাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভিতরে থাকা ব্যক্তিরা আহত হন।

    পুলিশ থানা দখল ও সড়ক অবরোধ

    গত ৩১ অক্টোবর খারান জেলার মুসকান কালাত পুলিশ থানার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে বিএলএ। সংগঠনটির বক্তব্য, থানার সমস্ত পুলিশকর্মীকে আটক করার পাশাপাশি তাঁদের অস্ত্রশস্ত্র ও তদন্তের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়। পরে বিস্ফোরক ব্যবহার করে থানার ভবনটি ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি। এর আগে ২৬ অক্টোবর বাব-এ-খারানের কাছে নির্মীয়মাণ ডেপুটি কমিশনারের দফতরে বিস্ফোরক হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। হামলার পর ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসা নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদেরও নিশানা করা হয়। এতে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি।

    বাসিমার দোরুগ এলাকায় ৩০ অক্টোবর একটি ফাঁকা সামরিক চৌকি বিস্ফোরক দিয়ে ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছে বিএলএ। একই দিনে পাসনি জিরো পয়েন্টের কাছে একটি হোটেলে লাগানো নজরদারি ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়। সংগঠনটির অভিযোগ, পাকিস্তানি নিরাপত্তাবাহিনী ওই ক্যামেরাগুলি নজরদারির কাজে ব্যবহার করত। সামরিক রসদ ও বাণিজ্যিক যানবাহন আটক করার একাধিক ঘটনার কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ২৭ অক্টোবর নুশকির জারিন জঙ্গলে সেনাবাহিনীর একটি রসদবাহী গাড়ি আটক করা হয় বলে দাবি। ৩০ অক্টোবর ডালবান্দিন ও ইয়াকমাচের মধ্যবর্তী প্রধান সড়ক থেকে পাকিস্তানি সেনাদের জন্য খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বহনকারী আরও একটি গাড়ি আটক করা হয়। এর পর ৩১ অক্টোবর কোয়েটা-তাফতান সড়কের চেয়াহতর এলাকায় দুটি বাণিজ্যিক গাড়ি আটক করা হয়। বিএলএ এই পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক অবরোধে’র অংশ বলে উল্লেখ করেছে। ২ নভেম্বর একই সড়কে অবরোধ চলাকালীন আরও একটি বাণিজ্যিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি সংগঠনটির (BLA)।

    সাত সদস্যের মৃত্যুর কথা স্বীকার বিএলএর

    একদিকে পাকিস্তানি নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে একের পর এক হামলার দাবি করলেও, অক্টোবর মাসে সংঘর্ষে নিজেদের সাত সদস্যের মৃত্যুর কথাও স্বীকার করেছে বিএলএ। সংগঠনটির বিবৃতি অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর কালাতের রোডিনজো এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে চার সদস্যের মৃত্যু হয়। তাঁদের নাম ফরিদ ওরফে আবিয়ান, মুনির ওরফে নূরা, শাহজেব ওরফে এহসান এবং জলিল। এ ছাড়া ২৪ অক্টোবর মাঙ্গুচারের চোটাঙ্ক এলাকায় ঔরঙ্গজেব ওরফে আসিফ নিহত হন। একই দিনে সুরাবের গিদার এলাকায় সংঘর্ষে নোমান জামালদিনি ওরফে কমরেড সামির এবং পারভেজ মহম্মদ হাসনি ওরফে (Pakistani Troops) কাদিরের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। নিহত সাত সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বাধীন বালোচিস্তানের দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ফের অঙ্গীকারও করেছে বিএলএ (BLA)।

     

  • Social Media Safe Harbor: প্রতিটি পোস্টের দায় নিতে হতে পারে মেটা, ইউটিউব ও এক্স-কে! সোশ্যাল মিডিয়ার আইনি সুরক্ষা তুলে দেওয়ার ভাবনা

    Social Media Safe Harbor: প্রতিটি পোস্টের দায় নিতে হতে পারে মেটা, ইউটিউব ও এক্স-কে! সোশ্যাল মিডিয়ার আইনি সুরক্ষা তুলে দেওয়ার ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media Safe Harbor) ব্যবহারকারীদের পোস্ট, ছবি, ভিডিও কিংবা মন্তব্যের দায় এবার সরাসরি বর্তাতে পারে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলির উপর। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব এবং এক্স-এর মতো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলিকে দেওয়া আইনি সুরক্ষা বা ‘সেফ হারবার’ তুলে দেওয়ার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট নিয়মে পরিবর্তন আনার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

    ‘সেফ হারবার’ বা আইনি দায়মুক্তি!

    বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ নম্বর ধারায় সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলি ‘সেফ হারবার’ বা আইনি দায়মুক্তির সুবিধা পেয়ে থাকে। এই বিধান অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কোনও পোস্ট, ভিডিও বা মন্তব্যের জন্য সাধারণত সরাসরি দায়ী করা যায় না সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলিকে। তবে প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে সেই আইনি সুরক্ষা থেকে বাদ পড়তে পারে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলি। পরিবর্তে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী, টেলিকম এবং মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলির জন্য এই সুবিধা সীমাবদ্ধ রাখার কথা বিবেচনা করছে কেন্দ্র।

    কেন এই আইনি সুরক্ষা তুলে দেওয়ার ভাবনা?

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের একাংশের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media Safe Harbor) সংস্থাগুলি এখন আর শুধুমাত্র তথ্য আদানপ্রদানের মাধ্যম নয়। বিভিন্ন অ্যালগরিদম ব্যবহার করে কোন পোস্ট কত মানুষের কাছে পৌঁছবে, কোন ভিডিও বেশি প্রচার পাবে কিংবা কোন বিষয় ব্যবহারকারীদের সামনে তুলে ধরা হবে, তা অনেকাংশে নির্ধারণ করে এই প্ল্যাটফর্মগুলি। পাশাপাশি, সংস্থাগুলি নিজেদের কমিউনিটি গাইডলাইন অনুযায়ী বিভিন্ন পোস্ট মুছে দেয় কিংবা সেগুলির প্রচার সীমিত করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এই নীতিমালার সঙ্গে ভারতীয় আইনের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেন্দ্রের একাংশের যুক্তি, কনটেন্টের প্রচার ও প্রসারে যখন প্ল্যাটফর্মগুলির সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে, তখন ব্যবহারকারীদের পোস্টের দায় থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দেওয়া উচিত কি না, তা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট নিয়ে বিতর্ক

    এর আগেও মেটা পরিচালিত ইনস্টাগ্রামের বিরুদ্ধে ভারতে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত আপত্তিকর কনটেন্ট বা চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ মেটেরিয়াল (CSAM) অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচারের অভিযোগ উঠেছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC) দিল্লি পুলিশকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি, পকসো (POCSO) আইনের আওতায় প্রযুক্তি সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষ বাধ্যতামূলকভাবে রিপোর্ট করার দায়িত্ব পালন করেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

    সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশ

    ১৮ বছরের কম বয়সি শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে পুজোর আগেই কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শিশুদের জন্য ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী নয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আর এখানে মূল প্রশ্ন হল, ১৮ বছরের কম বয়সিরা নিজের নামে স্বাধীনভাবে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খুলতে এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের শর্তাবলিতে চুক্তিবদ্ধ হতে পারবে কি না। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক কার্যপ্রণালীতে এই বিষয়টির সম্ভাবনা নিয়ে কেন্দ্রকে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

    ভারতে কাজের ধরন বদলাতে হবে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে

    তবে এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ভারতে কাজের ধরন বদলাতে হতে পারে বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তি সংস্থাগুলির। কারণ, ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কনটেন্টের জন্য সরাসরি আইনি দায় এড়ানোর সুযোগই এত দিন এই সংস্থাগুলির ব্যবসার অন্যতম ভিত্তি। ২০০০ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ নম্বর ধারায় ইন্টারনেট মধ্যস্থতাকারী সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট শর্তে আইনি দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ব্যবহারকারীরা কোনও পোস্ট, ছবি, ভিডিও বা মন্তব্য করলে তার জন্য সাধারণত সরাসরি দায়ী করা যায় না সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মকে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে এই সুরক্ষা বজায় থাকে। কেন্দ্রের আলোচনায় এখন প্রশ্ন উঠছে, এই সুবিধা কি শুধুমাত্র সেই সব সংস্থার জন্য রাখা উচিত, যারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় তথ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে? যেমন ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা, টেলিকম সংস্থা কিংবা পিয়ার-টু-পিয়ার মেসেজিং পরিষেবা।

    নতুন পণ্য আনলেও আগাম জানাতে হতে পারে

    শুধু সেফ হারবার নয়, আরও কয়েকটি বিষয়ে বদলের কথা ভাবছে কেন্দ্র। সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media Safe Harbor) বা মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে, এমন কোনও বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনলে আগাম সরকারকে জানানোর ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের ইউজারনেম ফিচার নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিরোধের পর এই ভাবনা সামনে এসেছে। ওই ফিচারের মাধ্যমে ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই ব্যবহারকারীরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন। পরিচয় জালিয়াতি, ফিশিং এবং আর্থিক প্রতারণার আশঙ্কা দেখিয়ে জুলাইয়ে ফিচারটির চালু হওয়া স্থগিত রাখতে বলেছিল মন্ত্রক। পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও ঢেলে সাজাতে চাইছে সরকার। ডিপফেক, সম্মতি ছাড়া ছড়ানো যৌন বা ব্যক্তিগত ছবি এবং পরিচয় অপব্যবহারের মতো ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত কনটেন্ট সরানোর ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বড়সড় বদলের ভাবনা কেন্দ্রের

    সব মিলিয়ে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বেআইনি ও আপত্তিকর কনটেন্টের প্রচার রুখতে প্ল্যাটফর্মগুলির দায়বদ্ধতা বাড়ানোর বিষয়ে কেন্দ্রের এই ভাবনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আইন পরিবর্তন হলে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব কিংবা এক্স— সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা কোনও বিষয়বস্তুর দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকেই। সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের আইনি কাঠামোয় বড়সড় বদলের কথা ভাবছে কেন্দ্রের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। তবে প্রস্তাবিত পরিবর্তন এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ভারতের ডিজিটাল দুনিয়ায় তার বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে।

  • Elon Musk: মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরেই বড় ধাক্কা খেলেন ইলন মাস্ক! কোন সমস্যায় পড়তে পারেন মার্কিন ধনকুবের?

    Elon Musk: মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরেই বড় ধাক্কা খেলেন ইলন মাস্ক! কোন সমস্যায় পড়তে পারেন মার্কিন ধনকুবের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা খেয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ক্ষতির নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি ইলন মাস্ক। তিনি নিজে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি (Elon Musk)। টেক্সাস, জর্জিয়া, ওহাইও কিংবা অন্য কোনও অঙ্গরাজ্যের ব্যালটেও ছিল না তাঁর নাম। তবু এই নির্বাচনের ফলের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থ গভীরভাবে জড়িয়ে ছিল (US Midterm Elections)।

    গত কয়েক বছরে রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম বড় আর্থিক পৃষ্ঠপোষক হয়ে উঠেছিলেন মাস্ক। বিপুল ব্যক্তিগত সম্পদ ব্যবহার করে রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে অর্থ জুগিয়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া এক্সকে কাজে লাগিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছেন তিনি। ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতা পেলে আমেরিকার কী পরিণতি হতে পারে, তা নিয়েও বারবার সতর্ক করেছেন তাঁর অনুগামীদের।

    কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ে সেই অর্থ, প্রভাব কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচার কোনও কিছুই কাজে আসেনি। প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান যেমন বড় ধাক্কা খেল, তেমনই রিপাবলিকানদের পরাজয় মাস্কের রাজনৈতিক কৌশলকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। বিশেষ করে টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যে, যেখানে মাস্ক বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন, সেখানেও প্রত্যাশিত ফল পেল না রিপাবলিকান শিবির।

    মাস্কের কাছে এই পরাজয় শুধু বিব্রতকর নয়। আমেরিকার ভোটারদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা, তাঁর রাজনৈতিক বিচারবুদ্ধি এবং একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে নিজের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যকে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত—সব কিছু নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

    ব্যর্থ মাস্ক (Elon Musk)

    রিপাবলিকানদের নির্বাচনী লড়াইয়ে মাস্কের আর্থিক অবদান ছিল নজিরবিহীন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রায় ৪৭৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন তিনি। এই নির্বাচনী পর্বে ব্যক্তিগতভাবে অর্থদানকারী ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই ছিলেন শীর্ষে।

    এর আগে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, অক্টোবর মাসের মধ্যেই তাঁর নির্বাচনী ব্যয়ের পরিমাণ ৩৬৬ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। রিপাবলিকানপন্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন এবং নির্বাচনী প্রচার সংস্থার মাধ্যমে এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় করা হয়।

    আমেরিকা পিএসি, সেনেট লিডারশিপ ফান্ড-সহ একাধিক রিপাবলিকানপন্থী সংগঠনের মাধ্যমে অর্থ ঢেলেছিলেন মাস্ক। উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট—কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা এবং ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের পরিকল্পনাকে বাধাহীনভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা।

    টেক্সাসের সেনেট নির্বাচনেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের বিরুদ্ধে লড়াই করেন (Elon Musk) ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো।

    টেক্সাসের সঙ্গে মাস্কের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। নিজের বাসস্থান এবং একাধিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম এই অঙ্গরাজ্যে সরিয়ে এনেছেন তিনি। টেসলা ও স্পেসএক্সের মতো সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিও রয়েছে সেখানে। ফলে টেক্সাসের সেনেট নির্বাচন তাঁর কাছে নিছক একটি রাজনৈতিক লড়াই ছিল না। যে রাজনৈতিক ব্যবস্থার কাছ থেকে তিনি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন, সেই ব্যবস্থাকে নিজের বিপুল আর্থিক ক্ষমতা দিয়ে রক্ষা করতে পারবেন কি না, তারও পরীক্ষা ছিল এই নির্বাচন। কিন্তু ভোটারদের রায় ছিল সম্পূর্ণ উল্টো।

    কেন প্যাক্সটনকে হারিয়ে জয়ী হন জেমস টালারিকো। এর ফলে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসেও ডেমোক্র্যাটদের উত্থান নতুন করে আলোচনায় আসে। জয়ের পর ভাষণে টালারিকো সেই ধনকুবের অর্থদাতাদের প্রসঙ্গ তোলেন, যাঁরা নির্বাচনী ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন। ভোটাররা গলিয়াথকে পরাজিত করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। অথচ এই ফল ঠেকাতেই কয়েকশো মিলিয়ন ডলার খরচ করেছিলেন মাস্ক। ঘটনার মধ্যে রয়েছে গভীর তাৎপর্য। যাঁর ব্যক্তিগত সম্পদ বিশ্বের বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে বিপুল প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তিনিও যে নিজের পছন্দমতো রাজনৈতিক ফল কিনে নিতে পারবেন না, তা এই নির্বাচন আবারও দেখিয়ে দিল।

    মাস্কের রাজনৈতিক বোঝা

    মাস্কের নির্বাচনী বিপর্যয়ের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে তাঁর বিতর্কিত ভূমিকার সম্পর্কও রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর প্রশাসনের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়ে ওঠেন মাস্ক। সরকারি দক্ষতা বৃদ্ধি দফতর বা ডিওজিই-র সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি প্রশাসনিক ব্যয় কমানো, অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে ফেলা এবং সরকারি কাজের গতি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। রক্ষণশীলদের একাংশের কাছে মাস্ক ছিলেন এমন এক উদ্যোক্তা, যিনি বেসরকারি শিল্পক্ষেত্রের দক্ষতা ও জবাবদিহির ধারণাকে সরকারি ব্যবস্থায় প্রয়োগ করতে পারবেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই এই উদ্যোগ বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে।

    কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ছাঁটাই, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো এবং একাধিক প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়। পাশাপাশি, নির্বাচিত প্রতিনিধি না হয়েও একজন ধনকুবের কীভাবে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে এতটা প্রভাব বিস্তার করছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে (Elon Musk)।

    প্রশাসন থেকে সরে যাওয়ার পরেও সেই বিতর্কের ছায়া পুরোপুরি কাটেনি। বরং মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে মাস্ক বুঝিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তিনি ছেড়ে দেননি।

    সমস্যা হল, এত দিনে তিনি শুধুমাত্র প্রযুক্তি ও শিল্পক্ষেত্রের একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। বরং মার্কিন রাজনীতির অন্যতম বিতর্কিত ও মেরুকরণ সৃষ্টিকারী ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন।

    একজন ব্যবসায়ীর রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে তাঁর সমস্ত গ্রাহক একমত না-ও হতে পারেন। কিন্তু কোনও ব্যবসায়ী যখন বারবার প্রকাশ্যে রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন, তখন সেই মতবিরোধ তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থাগুলির উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে।

    মাস্কের বিপদের কারণ

    মাস্কের জন্য নির্বাচনের ফল অস্বস্তিকর হয়ে ওঠার আরও একটি বড় কারণ রয়েছে। তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের সঙ্গে মার্কিন সরকারের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। স্পেসএক্সের ব্যবসার বড় অংশ সরকারি চুক্তি ও অংশীদারিত্বের উপর নির্ভরশীল। টেসলার ব্যবসাও সরকারি নীতি, নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনার দ্বারা প্রভাবিত হয়। অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত তাঁর উদ্যোগগুলির জন্যও প্রয়োজন অনুকূল সরকারি নীতি, পরিকাঠামো এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহযোগিতা। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পূর্ববর্তী ঘনিষ্ঠতার কারণে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণাধীন কংগ্রেস মাস্কের কাছে তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধাজনক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছিল।কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কাজকর্ম খতিয়ে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। এর মধ্যে সরকারি দফতরে মাস্কের পূর্ববর্তী ভূমিকা এবং তাঁর ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে সরকারি সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য সংঘাতও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

    কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় মাস্কের সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে যে ধরনের তদন্তের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম থাকত, এবার সেই পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।

    অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের তদন্তের নিশানায় থাকতে পারেন মাস্ক-সহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি।

    অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে, অবিলম্বে তাঁর ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে কিংবা সরকারি চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। তবে তাঁর জন্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে আগের তুলনায় অনেক বেশি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট।

    যে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রগুলিতে সরকারি সিদ্ধান্তের উপর বিপুল আর্থিক স্বার্থ নির্ভর করে, সেখানে এই অনিশ্চয়তা মাস্কের কাছে যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয় (US Midterm Elections)।

    এক্সকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করেও লাভ হল না

    মাস্কের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তাঁর মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া এক্সের ভূমিকা।২০২২ সালে টুইটার অধিগ্রহণ করার সময় বাক্‌স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং মতাদর্শগত সেন্সরশিপ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মাস্ক। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এক্স তাঁর রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে।

    রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থন, ডেমোক্র্যাট নেতাদের আক্রমণ এবং আমেরিকার রাজনৈতিক বিতর্কে নিজের মতামত প্রতিষ্ঠা করার জন্য বারবার এই মাধ্যমকে ব্যবহার করেছেন তিনি।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারেও রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

    বিশেষ করে টেক্সাসের সেনেট নির্বাচনে জেমস টালারিকোর বিরুদ্ধে তাঁর আক্রমণ ছিল যথেষ্ট তীব্র। ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর বিরুদ্ধে আমেরিকার গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দিতে পারে, এমন নীতির সমর্থক হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন মাস্ক। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্যও করেছিলেন। কিন্তু তাতেও টালারিকোর জয় আটকানো যায়নি। এখানেই উঠে আসছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এক্সের মাধ্যমে বাস্তবে কতটা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম মাস্ক?

    কোনও সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকশো মিলিয়ন অনুগামী থাকা মানেই যে তাঁদের প্রত্যেককে নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শের পক্ষে নিয়ে আসা সম্ভব, এমন নয়। একইভাবে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সোশ্যাল মিডিয়ার মালিক হলেই সেই মাধ্যমের ব্যবহারকারীরা মালিকের রাজনৈতিক অবস্থান মেনে নেবেন, তারও নিশ্চয়তা নেই (Elon Musk)। বরং রাজনৈতিক বিষয়ে মাস্কের ক্রমবর্ধমান প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ উল্টে তাঁর জন্য সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, মহাকাশ গবেষণা কিংবা প্রযুক্তিক্ষেত্রে তাঁর সাফল্যের প্রশংসা করেন এমন অনেক মানুষই তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে একমত নন। বারবার দলীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার ফলে নিজের অনুগামী ও গ্রাহকদের একাংশকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে তাঁর। এই নির্বাচনের ফল থেকে অবশ্য বলা যায় না যে, এক্সের রাজনৈতিক প্রভাব সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গিয়েছে। তবে এটুকু স্পষ্ট, শুধুমাত্র এই মাধ্যমকে ব্যবহার করে ভোটের ফল নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবসাতেও বাড়তে পারে রাজনৈতিক চাপ

    মাস্কের রাজনৈতিক সমস্যার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। আমেরিকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বিপুল পরিকাঠামোসমৃদ্ধ তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে। এক্সএআই এবং তাঁর বৃহত্তর প্রযুক্তি ব্যবসার মাধ্যমে এই ক্ষেত্রেও বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে মাস্কের। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য প্রচুর বিদ্যুৎ, জমি, বিনিয়োগ এবং সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা এখন আর শুধুমাত্র পরিবেশকর্মী কিংবা ডেমোক্র্যাটদের একাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

    বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বড় তথ্যকেন্দ্রের বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহার, জলসম্পদের উপর চাপ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে তার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন।

    নির্বাচনের আগে বিজনেস ইনসাইডারের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা ক্রমশ নির্বাচনী ইস্যু হয়ে উঠছে। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা এই জনমতকে নিজেদের প্রচারের কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন।

    এমন পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণাধীন কংগ্রেস প্রযুক্তি সংস্থাগুলির দ্রুত সম্প্রসারণের পথে আরও বেশি বাধা তৈরি করতে পারে। মাস্ক হয়তো ভেবেছিলেন, রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করলে তাঁর ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনার জন্য অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় থাকবে। কিন্তু নির্বাচনের ফল তাঁর সেই প্রত্যাশায় কার্যত জল ঢেলে দিয়েছে।

    মাস্কের মস্ত বড় ভুল

    মাস্কের এই রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে একটি বড় শিক্ষা রয়েছে। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর সাফল্যের অন্যতম কারণ হল নতুন সম্ভাবনা চিহ্নিত করা, বড় ঝুঁকি নেওয়া এবং প্রতিষ্ঠিত শিল্পক্ষেত্রের প্রচলিত ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষমতা।

    টেসলাকে বিশ্বের অন্যতম বড় বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা সংস্থায় পরিণত করেছেন তিনি। স্পেসএক্সকে বাণিজ্যিক মহাকাশ অভিযানের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহ প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু ব্যবসা এবং রাজনীতি এক জিনিস নয়।

    অর্থ দিয়ে নির্বাচনী বিজ্ঞাপন চালানো যায়, জনসভার আয়োজন করা যায়, প্রচারকর্মী নিয়োগ করা যায় এবং নির্বাচনী সংগঠনকে শক্তিশালী করা যায়। কিন্তু অর্থ ব্যয় করে মানুষের সমর্থন নিশ্চিত করা যায় না।

    মাস্ক সম্ভবত মনে করেছিলেন, তাঁর বিপুল সম্পদ, এক্সের উপর নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাম্পের সঙ্গে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা তাঁকে রিপাবলিকান রাজনীতির অপরিহার্য শক্তিতে পরিণত করবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল সেই ধারণার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে দিয়েছে।

    সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, কয়েকশো মিলিয়ন ডলার খরচ করেও রিপাবলিকানদের কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো আটকাতে পারেননি তিনি। নির্বাচনী অর্থের নিরিখে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের জয়ের গতি রুখতে ব্যর্থ হয়েছে।

    পরাজয়ের পর এক্সে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করেছেন মাস্ক। নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে কৌতুকের ছলে বলেছেন, তাঁর তথাকথিত মহাকাশভিত্তিক লেজার অস্ত্রও নাকি কাজ করেনি। পাশাপাশি মহাকাশেই তথ্যকেন্দ্র তৈরির সম্ভাবনা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে এই রসিকতার আড়ালে ঢাকা পড়ছে না নির্বাচনী বিপর্যয়ের বাস্তবতা।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনে দ্বিতীয় বড় পরাজিত মাস্ক?

    মধ্যবর্তী নির্বাচনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরাজিত নিঃসন্দেহে ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ, এই নির্বাচন কার্যত তাঁর রাষ্ট্রপতিত্বের উপর গণভোটে পরিণত হয়েছিল। তাঁর দল কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। তাঁর পছন্দের একাধিক প্রার্থীও পরাজিত হয়েছেন। ফলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাকি সময়ে তাঁর পক্ষে আইন প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠবে। তবে দ্বিতীয় বড় ধাক্কা যে ইলন মাস্কের, তা বলাই যায়।

    ট্রাম্পের মতো নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করার কোনও সাংবিধানিক দায়িত্ব মাস্কের ছিল না। তা সত্ত্বেও স্বেচ্ছায় কয়েকশো মিলিয়ন ডলার, নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা এবং জনপরিসরে প্রতিষ্ঠিত ভাবমূর্তিকে রিপাবলিকানদের জয়ের স্বার্থে বাজি রেখেছিলেন তিনি। বস্তুত, সেই বাজিতে হেরে গেলেন বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই নির্বাচনের ফল দেখিয়ে দিয়েছে যে বিপুল সম্পদ কিংবা শক্তিশালী সোশ্যাল মিডিয়ার মালিকানা থাকলেই সাধারণ আমেরিকানদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।

    মহাকাশে রকেট পাঠাতে পারেন মাস্ক, বিপুল সংখ্যায় বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করতে পারেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে পারেন। কিন্তু শুধুমাত্র অর্থের জোরে নির্বাচনী জয় নিশ্চিত করা তাঁর পক্ষেও সম্ভব নয়। যে ব্যক্তি প্রতিষ্ঠিত শিল্পব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিজের সাফল্যের ভিত গড়েছেন, তিনিই এবার বুঝতে পারলেন, ধনকুবেরের চেকবই (US Midterm Elections) দিয়ে গণতন্ত্রের ফল বদলে দেওয়া যায় না। ট্রাম্পের কাছে এই নির্বাচন রাজনৈতিক সতর্কবার্তা। আর মাস্কের কাছে এটি নিজের প্রভাব ও ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বোঝার বড় শিক্ষা হয়ে উঠতে পারে (Elon Musk)। রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে খরচ হওয়া বিপুল অর্থের ক্ষতির থেকেও এই উপলব্ধি তাঁর ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Suvendu Adhikari: নয়া শিল্পনীতি ঘোষণার আগে নবান্নে জিন্দাল, বাংলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন-কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি

    Suvendu Adhikari: নয়া শিল্পনীতি ঘোষণার আগে নবান্নে জিন্দাল, বাংলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন-কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নয়া শিল্পনীতি ঘোষণা করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার ঠিক আগে রাজ্যে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে তাঁর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে বৈঠক করলেন জেএসডব্লিউ গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান সজ্জন জিন্দাল। বুধবার সন্ধ্যায় নবান্নে দু’পক্ষের এই বৈঠকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ঐতিহাসিক মন্দিরের সংস্কার-সহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা হয় (Sajjan Jindal)। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এটাই সজ্জন জিন্দালের প্রথম বৈঠক। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক সম্পর্কে শুভেন্দু জানান, রাজ্যে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। সেই সূত্রেই এদিন জিন্দাল গোষ্ঠীর চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সজ্জন জিন্দাল অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী। তিনি আমার সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা করেছেন।”

    শালবনীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা (Suvendu Adhikari)

    বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী বিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্প্রসারণ। প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রকল্পের প্রয়োজনীয় জনশুনানি সম্পন্ন হবে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দ্বিতীয় পর্যায়ের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূমিপুজো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “দ্বিতীয় পর্যায়ের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূমিপুজো হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে জনশুনানি শেষ হয়ে যাবে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আমি সেখানে যাব বলে জানিয়েছি।” শুধু দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প নয়, শালবনীতে তৃতীয় পর্যায়ের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র গড়ার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জিন্দাল। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বাংলার সঙ্গে জিন্দাল গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। রাজ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকাঠামো আরও সম্প্রসারণে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ইউনিট গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শিল্পপতি।

    স্থানীয় যুবকদের চাকরিতে অগ্রাধিকার

    শিল্পের সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টিও বৈঠকে উঠে এসেছে। দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য জিন্দাল গোষ্ঠীর উদ্যোগে যে প্রশিক্ষণকেন্দ্র তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে প্রশিক্ষিত যুবকদের চাকরির সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রশিক্ষণকেন্দ্রটির পরিধি বাড়ানোর উপরেও জোর দিয়েছেন তিনি।

    শুভেন্দুর কথায়, “দক্ষতা প্রশিক্ষণের জন্য আপনারা একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র তৈরি করেছেন। সেখানকার ছেলেদের চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে এই উদ্যোগের পরিধিও বাড়াতে হবে।”

    মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের উন্নয়নে আগ্রহ

    শিল্পের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও বড় উদ্যোগ নিতে আগ্রহী জিন্দাল গোষ্ঠী। বিশেষ করে স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো উন্নয়নে পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন জিন্দাল। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই এই উদ্যোগ নিতে চান তাঁরা।

    মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) জানিয়েছেন, এই প্রস্তাব খতিয়ে দেখার জন্য ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে চান তিনি। বিষয়টি বাণিজ্যিকভাবে নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে করতে চান। আমি স্বাস্থ্যসচিবকে প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখতে বলেছি।”

    প্রাচীন মন্দির সংস্কারেও উদ্যোগ

    রাজ্যের ঐতিহাসিক ও প্রাচীন মন্দিরগুলির সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণেও আগ্রহ দেখিয়েছে জিন্দাল গোষ্ঠী। বৈঠকে জিন্দাল জানিয়েছেন, অতীতে কেদারধামের সংস্কারের কাজেও তাঁরা যুক্ত ছিলেন। এবার বাংলার কয়েকটি প্রাচীন মন্দিরের দায়িত্ব নিতে চান তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের প্রাচীন মন্দিরগুলির একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সেই তালিকা জিন্দাল গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হবে। সেখান থেকে চার-পাঁচটি মন্দির বেছে নিয়ে সেগুলির সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন শিল্পপতি।

    রাজ্যের শিল্প-পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট জিন্দাল

    বৈঠকে রাজ্যের বর্তমান শিল্প ও ব্যবসার পরিবেশ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে শিল্পগোষ্ঠী কী ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছে, তা জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী।শুভেন্দুর দাবি, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং শ্রমিক সরবরাহ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জিন্দাল। উৎপাদন চালানোর ক্ষেত্রেও বড় কোনও সমস্যা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে সিমেন্ট কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ওড়িশা থেকে নিয়ে আসতে হবে। সেজন্য পরিবহণ খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে বাজারে অন্য সংস্থার সঙ্গে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন শিল্পপতি।

    লগ্নির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে জিন্দাল গোষ্ঠী

    বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করার কথা। তার আগেই জিন্দাল গোষ্ঠীর সঙ্গে এই বৈঠককে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে শিল্পমহল। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন শিল্পনীতিতে কী কী বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে জিন্দাল গোষ্ঠীকে বলা হয়েছে। নীতিটি পর্যালোচনা করার পর পরবর্তী বৈঠকে নিজেদের মতামত ও পরিকল্পনা জানাবে সংস্থাটি।

    তৃণমূল জমানা নিয়ে নীরব জিন্দাল

    বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পূর্বতন সরকারের আমলে শিল্পের অভিজ্ঞতা নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করেননি জিন্দাল। তবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কের কথার উল্লেখ করেছেন। জিন্দালের বক্তব্য, ব্যক্তিগতভাবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে সম্পর্কও যথেষ্ট ভালো ছিল। তবে তৎকালীন বাম সরকারের আমলে ট্রেড ইউনিয়নগুলির ভূমিকা শিল্পের পক্ষে ইতিবাচক ছিল না বলেই মনে করেন তিনি। এদিকে, গত পনেরো বছরের তৃণমূল সরকারের আমলে শিল্পের অভিজ্ঞতা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি জিন্দাল (Sajjan Jindal)। সব মিলিয়ে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার ঠিক আগে জিন্দাল গোষ্ঠীর এই তৎপরতা রাজ্যের (Suvendu Adhikari) শিল্পায়নের ক্ষেত্রে নতুন ভোরের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই ধারণা শিল্পমহলের।

     

  • Suvendu DA Announcement: দীপাবলির উপহার! চলতি মাস শেষ হওয়ার আগেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu DA Announcement: দীপাবলির উপহার! চলতি মাস শেষ হওয়ার আগেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি মাসের মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) মেটাতে আরও চার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করল রাজ্য সরকার। বুধবার রাতে নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu DA Announcement) স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এই টাকা দিয়ে দেওয়া হবে। তিনি এ-ও উল্লেখ করেছেন যে, এই বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গেছে। শুধু বকেয়া মিটিয়ে দেওয়াই নয়, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) গঠনের কাজও রাজ্য দ্রুত সেরে ফেলতে চায় বলে জানান তিনি। কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ হাতে আসার পর চলতি আর্থিক বছরের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।

    বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোর ঘোষণা

    নবান্ন সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ এবং আর্থিক দায়ভারের অঙ্ক মেলাতেই এই সিদ্ধান্ত। ডিএ প্রসঙ্গে অতীতের টানাপড়েন টেনে এনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে তৈরি হিসেব বলছে কর্মীদের ১২ হাজার কোটি টাকা মতো প্রাপ্য ছিল। আগের সরকার কিছুটা দিয়ে গিয়েছিল। আমরা আসার পরেও কিছুটা দিয়েছি। তিন-সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা মতো দিলে সরকারি কর্মচারীদের বিষয়টা নিষ্পত্তি হবে।” তবে সরকারি কর্মীদের টাকা দ্রুত মিটলেও সাহায্যপ্রাপ্ত বা অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অপেক্ষা করতে হতে পারে আরও কিছুদিন। আদালতের তৈরি বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টের উপরেই তাঁদের ভাগ্য নির্ভর করছে। আগামী ১৪ ডিসেম্বর এই কমিটির সদস্যদের কলকাতায় এসে সমস্ত পক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। সাহায্যপ্রাপ্ত কর্মীদের দাবি খারিজ না করে সরকার যে পরিস্থিতির মধ্যে ভারসাম্য রাখতে চাইছে, তা মনে করিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “আমরা মনে করি ডিএ কর্মচারী থেকে শুরু করে শিক্ষক সবার অধিকার। আমরা ২০ শতাংশ ডিএ সবাইকে দিয়েছি। সরকার পোষিত এবং সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ব্যাপারে কমিটি যা বলবে আমরা সেই ধরনের ব্যবস্থা নেব। কিন্তু নীতিগতভাবে আমরা মনে করি মহার্ঘভাতা সবার অধিকার।”

    আশার আলো দেখছেন সরকারি কর্মীরা

    রাজ্য মন্ত্রিসভায় সপ্তম বেতন কমিশন তৈরির ছাড়পত্র মেলায় আশার আলো দেখছেন সরকারি কর্মী থেকে শুরু করে পুরসভা, পঞ্চায়েত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অশিক্ষক কর্মীরাও। কেন্দ্র ও রাজ্যের বেতন ফারাক কমাতে পে কমিশনের রূপরেখা তৈরির কাজ এগোচ্ছে। তবে এই বিরাট অঙ্কের অর্থ জোগাড়ের পাশাপাশি রাজ্য যে অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পেও টান পড়তে দিচ্ছে না, সে কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। উৎসবের মরসুমে সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা দীপাবলির আগে মানে ৭ তারিখের আগে ৮৪ লক্ষ বার্ধক্য ভাতা, দিব্যাঙ্গ ভাতা, লোকপ্রসার শিল্পী ভাতা এবং ১ কোটি ৬৫ লক্ষ প্রাপককে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ট্রান্সফার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

LinkedIn
Share