Blog

  • Modi Xi Meeting: “প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, ভারত-চিনকে পার্টনার হিসেবে দেখতে হবে”, বলল উচ্ছ্বসিত বেজিং

    Modi Xi Meeting: “প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, ভারত-চিনকে পার্টনার হিসেবে দেখতে হবে”, বলল উচ্ছ্বসিত বেজিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের (Modi Xi Meeting) বৈঠকে ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। দুই দেশ একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পার্টনার হিসেবে দেখবে—এই বিষয়টিকেই বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হিসেবে তুলে ধরেছেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই (Wang Yi)।

    গত ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে দু’দিনের সফরে আসা জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। উচ্ছ্বসিত ওয়াং জানিয়েছেন, বৈঠকে দুই নেতা ভারত-চিন সম্পর্কের কৌশলগত, দীর্ঘমেয়াদি এবং বৃহত্তর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা ও গভীর আলোচনা করেন।

    ভারত-চিন অংশীদারিত্বে জোর (Modi Xi Meeting)

    ওয়াং বলেন, দুই নেতার মধ্যে যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, তা হল ভারত ও চিনকে পরস্পরের অংশীদার হিসেবে দেখা উচিত। চিনের বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, জিনপিং বৈঠকে বলেন, দুই দেশ একে অপরের শক্তির সদ্ব্যবহার করতে পারে, পরস্পরকে সহযোগিতা করতে পারে এবং যৌথ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে।

    ওয়াং আরও বলেন, মোদি এবং জিনপিংয়ের বৈঠক আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-চিন সম্পর্কের যে উন্নতি হয়েছে, তা শুধুমাত্র সম্পর্ক পুনরায় শুরু করার পর্যায়ে নেই; বরং তা নয়া উচ্চতায় উন্নীত হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রও।

    সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বার্তা

    ভারত ও চিন সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা যৌথভাবে বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওয়াং। তিনি বলেন, দুই পক্ষ রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি মতপার্থক্য ও বিরোধগুলি যথাযথভাবে পরিচালনা করার এবং সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।

    মোদির সঙ্গে বৈঠকে জিনপিং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে বাধাগুলি তৈরি হয়েছে, সেগুলি কাটিয়ে উঠতে পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। ভারত-চিন সম্পর্ক এবং সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে অগ্রগতির পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। তাঁর মতে, এই দুই ক্ষেত্রে অগ্রগতি পরস্পরকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

    ওয়াং জানিয়েছেন, জিনপিংয়ের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইতিবাচক সাড়া দেন। মোদি স্পষ্ট করেন, ভারত কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই চিনের সঙ্গে সম্পর্ককে দেখে (Modi Xi Meeting)।

    চিনের প্রতিপক্ষ নয়, অংশীদার হতে প্রস্তুত ভারত

    বৈঠকের বিষয়ে ওয়াংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, ভারত চিনের প্রতিপক্ষ নয়, পার্টনার হতে প্রস্তুত। মোদি আরও বলেছেন, দুই দেশের উন্নয়নকে ভারত কোনও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে না; বরং এটিকে একটি সুযোগ হিসেবেই দেখতে চায়। ওয়াং বলেন, পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার ভিত্তিতে চিনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আদান-প্রদান বজায় রাখা, কৌশলগত যোগাযোগ আরও জোরদার করা এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    ব্রিকস-সহ বহুপাক্ষিক মঞ্চে সহযোগিতা

    ব্রিকসে একে অপরের সভাপতিত্বকে সমর্থন করার বিষয়েও মোদি ও জিনপিং একমত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওয়াং (Wang Yi)। রাষ্ট্রসংঘ, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা এবং জি২০-সহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক মঞ্চে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    এর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও জনসংযোগমূলক আদান-প্রদান এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে। ওয়াং বলেন, ভারত ও চিনের উচিত পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে সহযোগিতা আরও গভীর করা এবং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখা (Modi Xi Meeting)।

    ঐকমত্য বাস্তবায়নে ভারতের সঙ্গে কাজ করবে চিন

    চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানিয়েছেন, মোদি ও জিনপিংয়ের বৈঠকে যে বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে ভারতের সঙ্গে কাজ করবে বেজিং। তিনি বলেন, সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করা, দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও আদান-প্রদান আরও গভীর করা এবং বহুপাক্ষিক মঞ্চগুলিতে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে (Modi Xi Meeting)।

    গুও আরও জানান, ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির জন্য চিন তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে দুই দেশ পরস্পরের উন্নয়নকে সমর্থন করবে, যাতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্তরে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা যায়।

    ব্রিকস বৈঠকের পর চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং (Wang Yi) ফের জোর দিয়ে বলেন, ভারত ও চিনের সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত অংশীদারিত্ব, প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়। সীমান্তে শান্তি, ব্রিকসে সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে (Modi Xi Meeting)।

  • BRICS Summit Success: ব্রিকসের সাফল্যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস! ৫ রাজ্যে আসন্ন ভোটে বিরোধীদের আক্রমণ ভোঁতা করতে হাতিয়ার বিজেপির

    BRICS Summit Success: ব্রিকসের সাফল্যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস! ৫ রাজ্যে আসন্ন ভোটে বিরোধীদের আক্রমণ ভোঁতা করতে হাতিয়ার বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকসের সাফল্য দেশবাসীর কাছে বিজেপির গ্রহণযোগ্যতা ফের প্রমাণ করেছে। সফলভাবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন (BRICS Summit Success) আয়োজনের পর কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির আত্মবিশ্বাস এখন পাহাড়ের চূড়ায়। এমনই অভিমত রাজনৈতিক মহলের। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে জি-২০-র পর ফের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনকে মোদি সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি। দলের আশা, এই সাফল্য নিট বিতর্ক ও ছাত্র আন্দোলনের ধাক্কা কাটিয়ে ফের বিজেপির জমি শক্ত করবে।

    ব্রিকসের বাজিমাত

    সফলভাবে ব্রিকস সম্মেলন (BRICS Summit Success) আয়োজন ভারতের আন্তর্জাতিক প্রভাব ফের সামনে এনে দিয়েছে বলে মনে করছে বিজেপি। সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশকে ভারতীয় কূটনীতি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। ঘোষণাপত্রে পাহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলার তীব্র নিন্দাও ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক কালে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হয়েছিল। পাশাপাশি, যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে কংগ্রেসের লাগাতার আক্রমণের জেরে সংসদের বাদল অধিবেশন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। ওই অধিবেশনে সরকার কোনও বড় সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাশ করাতে পারেনি। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট পেশও পিছিয়ে দিতে হয়। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকসের সাফল্যে বিজেপি বাজিমাত করেছে বলেই অনুমান রাজনৈতিক মহলের।

    ভারতের দাবির পক্ষে রাশিয়া ও চিন

    রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারতের দাবির পক্ষে রাশিয়া ও চিনের সমর্থন পাওয়াকেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে বিজেপি। সম্মেলনের ফাঁকে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইরানের মধ্যে আলোচনা, ইরানের প্রেসিডেন্টকে উষ্ণ অভ্যর্থনা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা এবং টানা তৃতীয় বছর চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ব্রিকসের যৌথ ঘোষণাকে কংগ্রেসও স্বাগত জানিয়েছে, যদিও দলের তরফে কিছু আপত্তি ও শর্তের কথা জানানো হয়েছে।

    ব্রিকস সম্মেলনের কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী মোদি

    আয়োজক দেশের নেতা হিসেবে তিন দিন ধরে ব্রিকস সম্মেলনের কেন্দ্রে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে তাঁর উষ্ণ সম্পর্ক এবং ব্যস্ত কর্মসূচি বিশেষ নজর কেড়েছে। তিন দিনে ১৫ জন রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি। পাশাপাশি একাধিক অনানুষ্ঠানিক আলোচনাতেও অংশ নেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের দিকে বিশেষ নজর ছিল আন্তর্জাতিক মহলের। বিজেপির মতে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে ভারত যে এই ধরনের বৃহৎ আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষমতা রাখে, তাও প্রমাণিত হয়েছে। এর ফলে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের জন্য ভারতের দাবিও আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করছে দলটি।

    আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কর্মসূচি

    আন্তর্জাতিক কূটনীতিকে ঘিরে দেশীয় রাজনৈতিক আবহ বদলে দেওয়া অবশ্য মোদি সরকারের জন্য নতুন ঘটনা নয়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সফল জি-২০ সম্মেলনের সময়ও সরকারের বিদেশনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক দক্ষতা নিয়ে ব্যাপক প্রচার হয়েছিল। এর আগে ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের নিয়ে রোডশো আয়োজনের ঘটনাও দেখা গিয়েছে। বিজেপির কাছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কর্মসূচিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর এই কৌশল যথেষ্ট কার্যকর বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন ব্রিকসের সাফল্যকে কীভাবে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটাই বিজেপি ও সরকারের সামনে বড় প্রশ্ন।

    ব্রিকস নিয়ে কংগ্রেসকে নিশানা

    দলীয় সূত্রের খবর, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্মদিন থেকে শুরু হতে চলা এক মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এ ব্রিকস সম্মেলনের সাফল্যকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে। ৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী মোদির জনজীবনে ২৫ বছর পূর্তির বিষয়টিও এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হবে। তাঁর বিদেশনীতি ও কূটনৈতিক সাফল্যের তালিকায় ব্রিকস সম্মেলনকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি। ইতিমধ্যেই ব্রিকস সম্মেলন নিয়ে কংগ্রেসকে নিশানা করতে শুরু করেছে বিজেপি। সম্মেলনের আগে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম ব্রিকস আয়োজন করে ভারতের কী লাভ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই বক্তব্যকেই হাতিয়ার করে বিরোধীদের আক্রমণ করতে চাইছে বিজেপি।

    ব্রিকস থেকে ভারতের প্রাপ্তি

    ব্রিকস থেকে ভারতের প্রাপ্তি এবং সম্মেলনের সাফল্য দেশজুড়ে প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে দলের। একই সঙ্গে ব্রিকসের নৈশভোজে সম্পূর্ণ নিরামিষ মেনু নিয়ে রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেস নেতাদের সমালোচনাকেও কটাক্ষ করছে বিজেপি। দলের নেতাদের বক্তব্য, এত বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সমালোচনা করার মতো বিষয় না পেয়ে শুধুমাত্র নৈশভোজের মেনু নিয়ে আপত্তি তোলাই বিরোধীদের অবস্থানকে স্পষ্ট করে দিয়েছে। এর মধ্যেই সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ডিলিমিটেশন বিল নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। সংসদ এখনও স্থগিত বা প্রোয়োগ করা হয়নি। ফলে প্রয়োজনে সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাশ করাতে বিশেষ অধিবেশন ডাকার সম্ভাবনা খোলা রয়েছে।

    বিধানসভা নির্বাচনে ব্রিকস নিয়ে প্রচার

    একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়েও আলোচনা চলছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নতুন টিম গঠনের পর দলের সংসদীয় বোর্ড, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি, জাতীয় কার্যনির্বাহী এবং জাতীয় পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়াও দ্রুত শেষ করার প্রস্তুতি চলছে বলে খবর। সব মিলিয়ে, ব্রিকস সম্মেলনের সাফল্যকে সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে নতুন করে সক্রিয় হচ্ছে বিজেপি। এর পাশাপাশি আগামী বছরের গোড়ায় পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করেছে দল।

  • UPI: ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ইউপিআই লেনদেনে কোনও চার্জ নয়, স্পষ্ট করল কেন্দ্র

    UPI: ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ইউপিআই লেনদেনে কোনও চার্জ নয়, স্পষ্ট করল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআইয়ের (UPI) মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনে ব্যাঙ্ক কোনও ধরনের চার্জ নিতে পারবে না। একইসঙ্গে রুপে-চালিত ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত পেমেন্টের (Free Bank Charges) ক্ষেত্রেও কোনও চার্জ নেওয়া যাবে না বলে জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার।

    সরকারের বিজ্ঞপ্তি (UPI)

    সরকারের প্রকাশিত গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এই ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে টাকা পাঠানো বা গ্রহণকারী কোনও ব্যক্তির উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনও চার্জ চাপাতে পারবে না কোনও ব্যাঙ্ক বা পেমেন্ট ব্যবস্থার পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা।

    ইউপিআই লেনদেনে চার্জ সংক্রান্ত নিয়ম আরও স্পষ্ট করতে অর্থমন্ত্রক পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস্ আইনের আওতায় এই পরিবর্তন এনেছে। বিজ্ঞপ্তিতে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ইউপিআই লেনদেন এবং রুপে-চালিত ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত পেমেন্টকে নির্দিষ্টভাবে “ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ব্যবস্থা” হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।

    এর আগে গত মাসে কেন্দ্র জানিয়েছিল, ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টাকা পরিশোধের জন্য সাধারণ গ্রাহকদের কোনও চার্জ দিতে হবে না। তবে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট সীমার বেশি কিছু লেনদেনের ক্ষেত্রে বণিকদের কাছ থেকে সীমিত পরিসরে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর নেওয়ার ব্যবস্থা করা হতে পারে।

    ইউপিআই লেনদেন

    অর্থমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে হওয়া সমস্ত ইউপিআই লেনদেন আগের মতোই বিনামূল্যে থাকবে। ব্যবসায়ীদের উপরও কোনও সার্বিক এমডিআর চাপানো হবে না।

    সরকার আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কোনও ধরনের চার্জ চালু করা হলেও তা ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের লেনদেনে বর্তমানে প্রযোজ্য মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেটের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হবে (UPI)।

    ২০০৭ সালের পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস আইনে সাম্প্রতিক সংশোধনের পর ইউপিআই ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে চার্জ নেওয়া হতে পারে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সেই বিতর্কের মধ্যেই কেন্দ্রের এই অবস্থান সামনে (Free Bank Charges) এল। নতুন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ইউপিআই ও রুপে ডেবিট কার্ডের লেনদেনে কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চার্জ নেওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নাকচ করে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে (UPI)।

     

  • PM Modi for Rajasthan: ‘মিথ্যার প্রতিধ্বনির বিরুদ্ধে সত্যের জয়’, রাজস্থানের পুরভোটে বিজেপির সাফল্যে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi for Rajasthan: ‘মিথ্যার প্রতিধ্বনির বিরুদ্ধে সত্যের জয়’, রাজস্থানের পুরভোটে বিজেপির সাফল্যে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজস্থানের পুর নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi for Rajasthan)। তাঁর দাবি, এই ফলাফল রাজ্যে বিজেপির ‘ডাবল-ইঞ্জিন’ সরকারের সুশাসন ও উন্নয়নমূলক কাজের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতিফলন। সোমবার সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ রাজ্যের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাজস্থানের মানুষকে আন্তরিক ধন্যবাদ বিজেপিকে পুর নির্বাচনে (BJP’s Victory in Rajasthan Polls) বিপুল জয় এনে দেওয়ার জন্য। এটি মিথ্যার প্রতিধ্বনির বিরুদ্ধে সত্যের জয়ের প্রমাণ।” মোদি আরও বলেন, এই নির্বাচনী রায়ের মাধ্যমে রাজস্থানের মানুষ ফের বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তাঁরা সুশাসন ও উন্নয়নের নীতির পাশে রয়েছেন। এই জনসমর্থন রাজ্যকে আরও উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে সমৃদ্ধি আনার সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও জানান তিনি। বিজয়ী প্রার্থী এবং দলের কর্মীদেরও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

    অমিত শাহের অভিনন্দন

    রাজস্থানের পুর নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের জন্য রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব ও কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের সুশাসন ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি মানুষের আস্থারই প্রতিফলন এই ফলাফল। শাহের দাবি, কংগ্রেসের ‘অপশাসন ও দুর্নীতি’ থেকে রাজ্যকে মুক্ত করে বিজেপি সরকার উন্নয়নের গতি বাড়িয়েছে। রাজস্থানের মানুষ যে সমর্থন দিয়েছেন, তা ‘বিকশিত রাজস্থান’ গড়ার সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ৪,১৭৯টি ওয়ার্ডে জয় বিজেপির

    রাজস্থানের পুর নির্বাচনে বিজেপি একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে। মোট ১০,২৪৫টি ওয়ার্ডের ফলাফলে বিজেপি জয় পেয়েছে ৪,১৭৯টি আসনে। কংগ্রেস পেয়েছে ৩,৬১৩টি আসন, আর নির্দল প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ২,২৭৩টি ওয়ার্ডে। চারটি পুরনিগম—জয়পুর, কোটা, উদয়পুর এবং ভিলওয়াড়ায় বোর্ড গঠনের পথে বিজেপি। অন্যদিকে বিকানের পুরনিগমে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে কংগ্রেস। তবে আজমের, যোধপুর, ভরতপুর, আলওয়ার ও পালি-সহ বেশ কয়েকটি পুরসভা ও পুরনিগমে কোনও দলই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে বোর্ড গঠনে নির্দল কাউন্সিলরদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    জয়পুরে বিজেপির বোর্ড গঠন প্রায় নিশ্চিত

    জয়পুর পুরনিগমে বিজেপি পেয়েছে ৭৮টি আসন, কংগ্রেসের দখলে এসেছে ৫৩টি, আর নির্দলরা জিতেছেন ১৫টি ওয়ার্ডে। ফলে জয়পুরে বিজেপির বোর্ড গঠন কার্যত নিশ্চিত। অন্যদিকে যোধপুর পুরনিগমে বিজেপি ও কংগ্রেস—দুই দলই ৪৪টি করে আসন পেয়েছে। ফলে সেখানে নির্দল কাউন্সিলরদের সমর্থনই বোর্ড গঠনে নির্ণায়ক হতে পারে। রাজ্যের ৪৭টি পুর পরিষদের মধ্যে বিজেপি ১২টিতে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েছে ৮টি পুর পরিষদে। বাকি ২১টি পুর পরিষদে কোনও দলই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এছাড়া রাজ্যের ২৫২টি পুরসভার মধ্যে বিজেপি ৬৬টিতে, কংগ্রেস ৩৮টিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। প্রায় ১২১টি পুরসভায় বোর্ড গঠনে নির্দল কাউন্সিলরদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

  • Child Nutrition: ভাত-রুটিতে পেট ভরানো নয়, চাই ‘রামধনু খাবার’! শিশুর পাতে কী কী থাকা জরুরি?

    Child Nutrition: ভাত-রুটিতে পেট ভরানো নয়, চাই ‘রামধনু খাবার’! শিশুর পাতে কী কী থাকা জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    পুষ্টিকর খাবার সরাবরাহতেই দায়িত্ব শেষ নয়। বরং পুষ্টির সামগ্রিক দায়িত্ব অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রের। বিশেষত শিশু এবং মহিলাদের পুষ্টির ঘাটতির দিক বিশ্লেষণ করা, স্থানীয় খাদ্যাভ্যাস বুঝে, প্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া এবং স্বাস্থ্যের উন্নতির উপরে নজরদারি, এই সবকিছুই অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রের হাত ধরেই হবে।
    সেপ্টেম্বর মাস জাতীয় পুষ্টি মাস।‌ দেশজুড়ে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা কর্মসূচি চালানো হবে। আর কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং পুষ্টি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে সবচেয়ে অগ্রনী ভূমিকায় থাকবে অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র!

    কেন অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রগুলোকে বাড়তি গুরুত্ব?

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশ জুড়ে ১৪ লাখের বেশি অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলো নিয়মিত প্রায় ৮ কোটি শিশুর কাছে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেয়। তাই ভারতীয় শিশুদের পুষ্টির সমস্যা কমাতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে পারে অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র। শুধু খাবার সরাবরাহের দায়িত্বেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ না রেখে, তাই আরও বড় দায়িত্বের পথে হাঁটার পরিকল্পনা রয়েছে।
    স্বাস্থ্য প্রশাসনের একাংশ জানাচ্ছেন, পুষ্টিকর খাবার কী, কোন ধরনের খাবার খাওয়া উচিৎ, কোনটা এড়িয়ে চলা দরকার, বিশেষত, তাজা খাবার গরম রান্না করে খেলে কী ধরনের বাড়তি পুষ্টি পাওয়া যায়, এই সম্পর্কে একেবারে তৃণমূল স্তর থেকে সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করবে অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র। পাশপাশি, শিশুদের স্বাস্থ্যের উন্নতি হচ্ছে কিনা, পুষ্টি পাচ্ছে কিনা, বিকাশ সময়োপযুক্ত কিনা, সেগুলো নিয়মিত যাচাই করবে অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র। কারণ, তাঁদের স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ। নিয়মিত দেখা হওয়ার সুযোগ বেশি।‌
    শিশুদের পাশপাশি অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র থেকেই গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টির সচেতনতা পাঠ দেওয়া হবে। মা ও গর্ভস্থ শিশুর সুস্থ জীবনের জন্য কোন ধরনের খাদ্যাভ্যাস জরুরি, সেটা বোঝানো ও সেদিকে নজরদারির দায়িত্ব থাকবে।

    শিশুর পুষ্টিতে অঙ্গনওয়ারির গুরুত্ব কতখানি?

    স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, সদ্যোজাত থেকে শিশুর ছ’বছর বয়স পর্যন্ত পুষ্টির অনেকটাই দায়িত্ব অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রের উপরে থাকছে। একবেলা খাবার দেওয়ার পাশপাশি, বিকাশের পর্যবেক্ষণ করা, অভিভাবকদের পুষ্টি সম্পর্কে সচেতন করা এবং প্রাক প্রাথমিক পর্বে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ কতখানি হচ্ছে, সেদিকে খেয়াল রাখার দায়িত্ব অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রের।
    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শিশুর বিকাশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ছ’মাস থেকে ছয় বছর বয়স। এই সময়ে শারীরিক বিকাশের পাশপাশি মানসিক বিকাশ হয়। যার প্রভাব সারা জীবন থাকে। পুষ্টি শুধু শরীরের জন্য নয়। মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য পুষ্টির গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ঠিকমতো হবে না। তার বৌদ্ধিক শক্তি বিকশিত হবে না।
    তাই শিশুদের নিয়মিত কোন ধরনের খাবার দেওয়া হচ্ছে, কোথায় ঘাটতি থাকছে, কীভাবে সেই ঘাটতি কমানো যাবে, এই সবকিছুই অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র নজরে রাখবে। নিয়মিত প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে স্থানীয় স্তরের পুষ্টির সমস্যা সমাধান করবে।
    ভারতে শিশু পুষ্টির সবচেয়ে বড় সমস্যা সুষম খাবার দেওয়া হয় না। কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি প্রোটিন, ভিটামিন এবং মিনারেল নিয়মিত শিশু শরীরে পৌঁছনো জরুরি। যা অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুর কাছে সহজেই নিয়মিত পৌঁছে যায়।

    ভারতীয় শিশুর পুষ্টিতে ঘাটতি কোথায়?

    স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় শিশুদের খাবারে পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে। মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের ১২ শতাংশ শিশু পেট ভরা খাবার পেলেও, পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে না। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন এবং মিনারেলের ঘাটতি থাকছে। সুষম খাবারের অভাব হচ্ছে। ওই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের ৩৫ শতাংশ শিশুর বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম। ভারতের ১৯ শতাংশ শিশুর উচ্চতার অনুপাতে ওজন কম। ভারতের ৩২ শতাংশ শিশু প্রয়োজনের তুলনায় কম ওজন থাকছে। এগুলো স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে। ফলে, ঠিকমতো শারীরিক ও মানসিক বিকাশ হচ্ছে না।

    পেট ভরানো নয়, পুষ্টিতে ভরপুর খাবারেই বাড়তি গুরুত্ব!

    শিশুর শরীর ও মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য পেট ভরানো খাবারে নয়, বরং পুষ্টিকর খাবারেই বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতের খাদ্যাভ্যাস বৈচিত্র্যময়। উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম, একেকটি রাজ্যে, খাবারের ধরণ আলাদা। তাই অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রের দায়িত্ব, স্থানীয় খাদ্যাভ্যাসের ধরণ বুঝে, শিশুদের পুষ্টিকর খাবার নজর দেওয়া।

    ভাত কিংবা রুটির মতো খাবার বেশি দিয়ে পেট ভরিয়ে রাখলে শিশুর পুষ্টিতে ঘাটতি দেখা দেবে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের পরামর্শ, শিশুকে পরিমিত পরিমাণে ভাত বা রুটি দিতে হবে। তার সঙ্গে পেট ভরানোর মতো নানান রকমের সবজি, বাদাম বা দানাশস্য জাতীয় খাবার দিতে হবে যাতে ভিটামিন ও মিনারেলের চাহিদা পূরণ হয়। আর শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান হলো প্রোটিন। তাই নিয়মিত শিশুকে প্রোটিন দিতে হবে। শিশু যাতে প্রত্যেক দিন ডিম, মাংস, মাছ, মাশরুম, পনীর কিংবা সোয়াবিনের মতো প্রোটিন জাতীয় খাবার খায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তবেই শিশুর বিকাশ ঠিকমতো হবে।

    পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, শিশুর পাতে পড়বে রামধনু খাবার। অর্থাৎ, ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে গাজর, পালং শাক, বেগুনের মতো নানান রকমের সবজি থাকবে, তার সঙ্গে ডাল থাকবে, আর থাকবে ডিম, মাংস বা পনীরের মতো প্রোটিন। নানান রকমের খাবার খেলে তবেই পুষ্টিতে ভরপুর খাবার হবে। বিকাশ ঠিকমতো হবে।

  • Bangladesh: ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের বার্তা বাংলাদেশের, পর্যালোচনায় ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি

    Bangladesh: ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের বার্তা বাংলাদেশের, পর্যালোচনায় ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে সাজাতে চায় বাংলাদেশ। অতীতের রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে পিছনে ফেলে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নয়াদিল্লির সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার বার্তা দিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশের (Bangladesh) বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর জানিয়েছেন, বহুপাক্ষিক মঞ্চের পরিবর্তে সরাসরি (BRICS Summit) দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করতে চায় বাংলাদেশ।

    এই বক্তব্য এমন একটা সময়ে এল, যখন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী নয়, বর্তমান নির্বাচিত সরকার শেখ হাসিনার আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছিলেন, এসব চুক্তির কোনগুলি বহাল থাকবে, কোনগুলি সংশোধন করা হবে এবং কোনগুলি বাতিল করা হতে পারে, তা পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    ভারতের সঙ্গে ‘নতুন সম্পর্ক’ চায় ঢাকা (Bangladesh)

    হুমায়ুন কবির বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, নয়াদিল্লির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেও বাংলাদেশের উচিত নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা।

    তিনি বলেন, “আমরা একটি নতুন সম্পর্কের দিকে এগোতে চাই। এই সম্পর্ক বহুপাক্ষিক মঞ্চের মাধ্যমে নয়, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত।”

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অতিরিক্ত নির্ভরতার সমালোচনাও করেন তিনি। তাঁর কথায়, “ভারতকে নিয়ে এই অতিরিক্ত মোহ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ভারত অন্য সব দেশের মতোই একটি দেশ এবং বাংলাদেশের সঙ্গে তার ভালো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক থাকা উচিত।”

    ভারতকেন্দ্রিক অতিরিক্ত মনোযোগ বোঝাতে তিনি বলেন, “ভারতে প্রাতরাশ, ভারতে মধ্যাহ্নভোজ, ভারতে নৈশভোজ—তা হলে নিজের দেশের খাবার খাবেন কখন?”

    হুমায়ুন কবির আরও জানান, শেখ হাসিনার সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসন কালে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক “অস্বস্তিকর” হয়ে উঠেছিল। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে পারস্পরিক স্বার্থ ও সরাসরি আলোচনার ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে এগোতে চায় (Bangladesh)।

    ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে ঘিরে টানাপোড়েন

    সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসের এই বার্তার ঠিক আগে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবে ভারতীয় পক্ষের আমন্ত্রণ ছিল বঙ্গোপসাগরীয় বহুমাত্রিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগের চেয়ারম্যান হিসেবে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য। পাশাপাশি ফেব্রুয়ারি থেকেই দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য পৃথক আমন্ত্রণও ছিল (BRICS Summit)।

    দু’দিনের ব্রিকস সম্মেলন রবিবার শেষ হয়েছে। সম্মেলনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ না করা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে অসন্তোষ তৈরি হয়।

    ভারতের সঙ্গে ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা

    এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছিলেন, হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার।

    তিনি বলেন, “আমরা ১০১টি সমঝোতা স্মারক-সহ চুক্তিগুলি পর্যালোচনা করছি। খুব শিগগিরই এর ফলাফল জানতে পারবেন (Bangladesh)।”

    চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যবস্থার প্রসঙ্গও ওঠে। নূরুল ইসলাম মনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে এমন কিছু ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যাতে একই সময়ে বাংলাদেশি ও বিদেশি জাহাজ বন্দরে এলে বিদেশি জাহাজ সুবিধা পেত। জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলি পরিবর্তন বা বাতিল করার কথাও জানান তিনি।

    তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। কিন্তু সেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থই অগ্রাধিকার পাবে।

    হাসিনা প্রসঙ্গ এখনও সম্পর্কে বড় বাধা

    ২০২৪ সালের অগাস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন রয়েছে। হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয় হয়ে রয়েছে (Bangladesh)।

    এই পরিস্থিতিতে হুমায়ুন কবিরের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ঢাকা অতীতের রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পরিবর্তে সরাসরি যোগাযোগ এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে যেতে চাইছে।

    ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক যাচ্ছেন তারেক

    এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তাঁর এই সফর। তিনি ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে থাকবেন বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির।

    সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে তারেকের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হতে পারে কি না, সেই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন কবির বলেন, বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সময় এই ধরনের বৈঠক অনেক ক্ষেত্রেই শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত হয় (BRICS Summit)।

    তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মূল উদ্দেশ্য সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখা। পার্শ্ববৈঠকগুলির বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানা যাবে (Bangladesh)।

    সব মিলিয়ে, ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন এবং ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনার ঘোষণার পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এবার সম্পর্ক পুনর্গঠনের স্পষ্ট বার্তা এল। তবে সেই নতুন সম্পর্কের ভিত্তি হবে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ এবং (BRICS Summit) দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ—এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছে ঢাকা (Bangladesh)।

     

  • Bengal BJP: রাজ্য বিজেপিতে সাংগঠনিক রদবদল, মিডিয়া-আইটি-সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগে নতুন দায়িত্ব

    Bengal BJP: রাজ্য বিজেপিতে সাংগঠনিক রদবদল, মিডিয়া-আইটি-সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগে নতুন দায়িত্ব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচন ও পুরভোটের আগে রাজ্য বিজেপিতে (Bengal BJP) সাংগঠনিক রদবদল। দলের মিডিয়া বিভাগ, আইটি সেল এবং সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগে (Social Media Team) কনভেনার, কো-কনভেনার ও মুখপাত্র স্তরে একাধিক পরিবর্তন করা হয়েছে। সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের অনুমোদনে এই রদবদল চূড়ান্ত হয়েছে।

    কে, কোন দায়িত্বে (Bengal BJP)

    মিডিয়া বিভাগে কনভেনার করা হয়েছে অনুপম ঘোষকে। কো-কনভেনার হয়েছেন পার্থসারথী চৌধুরী ও চন্দ্রশেখর ভুটিয়া। আইটি বিভাগে কনভেনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জয় মল্লিক। কো-কনভেনার করা হয়েছে রত্নেশ সিং, রাম্যাজ্যোতি সরকার, শুভজিৎ কর্মকার এবং সব্যসাচী রায়কে। সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগে কনভেনার হয়েছেন উপমন্যু ভট্টাচার্য। কো-কনভেনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রীতম ভট্টাচার্য ও ক্যামেলিয়া সান্যাল। দলের চিফ স্পোকসপার্সন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেবজিৎ সরকারকে। স্পোকসপার্সন হিসেবে রয়েছেন রীতেশ তিওয়ারি, সায়ন্তন বোস, কেয়া ঘোষ, প্রণয় রায়, ডা. তন্ময় মুখার্জি, সপ্তর্ষী চৌধুরী, ওফেলিয়া সিনহা, অঙ্কণ দত্ত, মেঘা সেন রায়, ডা. নিখিল প্রসূন সিং এবং শমীক দাশগুপ্ত।

    উল্লেখ্য, আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচন ও পুরভোটকে সামনে রেখে বাংলায় বিজেপি ২৭০ সদস্যের রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করেছে। সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পাশাপাশি রাজ্য কমিটিতে একাধিক নতুন মুখকেও জায়গা দেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক জেলা থেকে বেশ কয়েকজন নেতাকে রাজ্য কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে (Bengal BJP)।

    উপনির্বাচন, নির্বাচন

    আগামী মাসের প্রথম দিকেই রয়েছে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচন। পুজোর পরেই হওয়ার কথা কলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভার নির্বাচনও। তার আগে রীতিমত টিম গুছিয়ে নিয়ে ভোটের ময়দানে নামতে চলেছে পদ্ম শিবির। সেই কারণেই ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে সংগঠনে। সিংহভাগ ক্ষেত্রেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অপেক্ষাকৃত তরুণ তুর্কিদের।

    ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে চলতি বছরই রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে (Social Media Team) বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যে প্রথম সরকার গড়েছে বিজেপি। তার পরেই হতে চলেছে দুই বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন এবং একাধিক পুরসভার নির্বাচন (Bengal BJP)।

     

  • Rajnath Singh: পুরভোটের আগে বঙ্গ বিজেপিতে তৎপরতা, ১৫-১৬ সেপ্টেম্বর বাংলায় নিতিন নবীন-রাজনাথ

    Rajnath Singh: পুরভোটের আগে বঙ্গ বিজেপিতে তৎপরতা, ১৫-১৬ সেপ্টেম্বর বাংলায় নিতিন নবীন-রাজনাথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজো মিটলেই কলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুরসভায় বেজে যাবে ভোটের বাদ্যি। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই ঘর গোছাতে শুরু করে দিয়েছে বঙ্গ বিজেপি (Rajnath Singh)। দফায় দফায় সাংগঠনিক বৈঠক, নতুন কমিটি গঠন এবং শীর্ষ নেতৃত্বের সফর—সব মিলিয়ে পুরভোটের প্রস্তুতিতে জোরকদমে ময়দানে নামতে চাইছে গেরুয়া শিবির। এই আবহেই (Municipality Elections) আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর দু’দিনের সফরে বাংলায় আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। পরের দিন, ১৬ সেপ্টেম্বর কলকাতায় আসার কথা প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের। একই সময়ে কলকাতায় দুই শীর্ষ নেতার উপস্থিতিকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    আসছেন রাজনাথও (Rajnath Singh)

    বিজেপি সূত্রে খবর, ১৬ সেপ্টেম্বর কলকাতায় এসে একটি সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দেবেন রাজনাথ। তবে তাঁর সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হতে চলেছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক। এদিকে, ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলায় এসে নিতিন নবীনও রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করবেন। তাঁর সঙ্গে থাকবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সাংগঠনিক) বিএল সন্তোষ।

    সদ্য গঠিত রাজ্য কার্যকরী কমিটি এবং কোর কমিটি নিয়েও এই সফরে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে খবর। রাজ্য সভাপতি নির্বাচনের প্রায় ১৪ মাস পর পূর্ণাঙ্গ রাজ্য কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করেছে বঙ্গ বিজেপি। সেখানে পুরনো ও নতুন নেতৃত্বের একাধিক মুখকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তৈরি হয়েছে নতুন কোর কমিটিও।

    সূত্রের দাবি, রাজনাথ এবং নিতিন নবীন—দুই শীর্ষ নেতা রাজ্য কোর কমিটি ও নতুন রাজ্য কমিটির সদস্যদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করবেন। পুরসভা নির্বাচনে শাসকদলের মোকাবিলায় বিজেপির কৌশল কী হবে, কোন কোন ইস্যুকে সামনে রেখে প্রচারে নামা হবে, সংগঠনকে কীভাবে আরও সক্রিয় করা হবে—এসব বিষয়েই আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা।

    ‘সেবা’ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা

    পুরভোটের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত মাসব্যাপী ‘সেবা’ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে এই কর্মসূচি কীভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হবে, তার সাংগঠনিক রূপরেখাও শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকে চূড়ান্ত হতে পারে বলে বিজেপি সূত্রে খবর (Rajnath Singh)।

    বিশেষ করে পুজোর পর কলকাতা ও হাওড়া-সহ একাধিক পুরসভায় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে এই বৈঠকগুলিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পদ্ম শিবিরের বঙ্গ শাখা। রাজ্য নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই সাংগঠনিক স্তরে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। এবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে সেই প্রস্তুতিকে আরও গতি দেওয়াই লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

    নিতিন নবীনের ক্ষেত্রে এই সফরের গুরুত্ব আরও বেশি। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম বাংলা সফর। কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পরপরই তাঁর এই সফর এবং তার আগে বঙ্গ বিজেপির পূর্ণাঙ্গ রাজ্য কার্যকরী কমিটি ঘোষণা—দুই ঘটনাকে একই সূত্রে দেখছে দলের একাংশ। ফলে পুরভোটের আগে রাজ্য বিজেপির সংগঠন ও রণকৌশল নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কী বার্তা দেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

    রাজনাথের সফরের তাৎপর্য

    অন্যদিকে, রাজনাথের কলকাতা সফরও আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে (Municipality Elections) তাঁর বৈঠক হলে সেখানে পুরভোটের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে সাংগঠনিক পরিস্থিতি—একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সব মিলিয়ে ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর বিজেপির এই দুই হেভিওয়েট নেতার সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে (Rajnath Singh)।

     

  • DRDO Junput Project: চাঁদিপুরের পাশে এবার জুনপুট! বাংলায় ডিআরডিও-র ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র ঘিরে খুলছে সম্ভাবনার নতুন দরজা

    DRDO Junput Project: চাঁদিপুরের পাশে এবার জুনপুট! বাংলায় ডিআরডিও-র ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র ঘিরে খুলছে সম্ভাবনার নতুন দরজা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী জুনপুটে ডিআরডিও-র (DRDO) নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ এবার বাস্তবায়নের পথে। রাজ্য সরকারের অনুমোদন মেলার পর এই প্রকল্প ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে প্রত্যাশা। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরের শিল্প, পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও এই প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশের মত।

    চাঁদিপুরের বিকল্প নয়, পরিপূরক পরিকাঠামো

    ওড়িশার চাঁদিপুরে থাকা ডিআরডিও-র ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (ITR)-এর পরিপূরক হিসেবে জুনপুটে এই নতুন পরীক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ডিআরডিও এই প্রকল্পের জন্য উদ্যোগ নেয় বলে জানা গিয়েছে। বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী এলাকায় পরীক্ষাকেন্দ্রটি তৈরি হলে ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার এবং বিভিন্ন আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির পরীক্ষা চালানোর ক্ষেত্রে দেশের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।

    বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষণ পরিকাঠামো রয়েছে ওড়িশার ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জে। চাঁদিপুর-অন-সি এলাকায় লঞ্চ কমপ্লেক্স-III এবং ওড়িশা উপকূলের কাছে লঞ্চ কমপ্লেক্স-IV-এর মাধ্যমে বিভিন্ন পরীক্ষা পরিচালিত হয়। সেই ব্যবস্থার পাশাপাশি জুনপুটে নতুন পরিকাঠামো তৈরি হলে পরীক্ষার পরিধি বাড়ানো এবং বিদ্যমান পরিকাঠামোর উপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    দিঘা থেকে জুনপুটের দূরত্ব প্রায় ৪০-৪৫ কিলোমিটার। কৌশলগত অবস্থানের দিক থেকেও বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী এই এলাকা প্রতিরক্ষা পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    জমি-জট কাটিয়ে মিলল অনুমোদন

    এই প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ ছিল। সূত্রের দাবি, প্রয়োজনীয় জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ এগোয়নি। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকল্পটিতে অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। একটি অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ডিআরডিও-র তরফে প্রকল্প নিয়ে চিঠি এলেও আগের সরকারের সময়ে তার জবাব দেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, “আমি অনুমোদন দিয়েছি। পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের জন্য এটি একটি বড় প্রকল্প হবে।”

    অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও প্রকল্পটি নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁর দাবি, আগে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিকিরণ ও অসুস্থতার আশঙ্কা তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে প্রকল্পে বাধা দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, জুনপুট প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টি তিনি রাজ্যসভাতেও তুলেছিলেন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন।

    পাশাপাশি পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প আটকে রাখার অভিযোগও করেছেন শমীক ভট্টাচার্য। যদিও এই রাজনৈতিক অভিযোগ নিয়ে তৃণমূলের বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।

    শুধু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নয়, বদলাতে পারে শিল্পের ছবিও

    জুনপুটে ডিআরডিও-র পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরি হলে এর প্রভাব শুধু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে স্থানীয় ও সহযোগী শিল্পের ক্ষেত্রে।

    ডিআরডিও-র মতো কৌশলগত জাতীয় সংস্থার পরিকাঠামোকে কেন্দ্র করে যন্ত্রাংশ নির্মাণ, ধাতব কাঠামো, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থার জন্য নতুন বাজার তৈরি হতে পারে। প্রতিরক্ষা সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে স্থানীয় শিল্পের সংযোগ তৈরি হলে পূর্ব মেদিনীপুরে শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়তে পারে।

    এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে হলদিয়া শিল্পাঞ্চল ও বন্দর। জুনপুট-হলদিয়া অঞ্চলের ভৌগোলিক নৈকট্য কাজে লাগিয়ে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, যন্ত্রাংশ ও প্রয়োজনীয় উপকরণের উৎপাদন, পরিবহণ এবং সরবরাহের জন্য ভবিষ্যতে একটি সমন্বিত শিল্পভিত্তি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বাড়তে পারে কর্মসংস্থান, পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ

    প্রস্তাবিত কেন্দ্রকে ঘিরে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে। প্রযুক্তিবিদ, দক্ষ কারিগর, তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞের পাশাপাশি নির্মাণ, পরিবহণ, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন পরিষেবা ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ বাড়তে পারে।

    কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ধরনের পরিকাঠামো গড়ে উঠলে রাস্তা, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ এবং পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নেও বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। স্থানীয় ব্যবসা, আবাসন, পরিষেবা এবং অন্যান্য সহযোগী ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

    গবেষণায় নতুন দরজা

    জুনপুট প্রকল্পের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য দিক হল উচ্চপ্রযুক্তি গবেষণা। ভবিষ্যতে রাজ্যের প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা কেন্দ্রগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সেন্সর, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উন্নত উপকরণ নিয়ে গবেষণার সহযোগিতা তৈরি হতে পারে।

    সব মিলিয়ে, জুনপুটের ডিআরডিও পরীক্ষাকেন্দ্রকে শুধুমাত্র একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিকাঠামো হিসেবে দেখলে এর সম্ভাব্য প্রভাবের পরিধি ছোট করে দেখা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ার পাশাপাশি জুনপুট-হলদিয়া করিডরকে ঘিরে নতুন শিল্প ও বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। আগামী কয়েক বছরে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি এবং তার সঙ্গে যুক্ত শিল্পনীতিই ঠিক করবে, এই সম্ভাবনা কতটা বাস্তবে রূপ নেয়।

  • Bangladesh Bengali Hindus:  চিন্ময় প্রভুর ঘটনায় নীরবতা কেন, প্রশ্ন উঠল বাঙালি সংহতি-ধর্মনিরপেক্ষতার মানদণ্ড নিয়েও

    Bangladesh Bengali Hindus:  চিন্ময় প্রভুর ঘটনায় নীরবতা কেন, প্রশ্ন উঠল বাঙালি সংহতি-ধর্মনিরপেক্ষতার মানদণ্ড নিয়েও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাঙালি পরিচয় কি সত্যিই ধর্মের ঊর্ধ্বে, নাকি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সেই সংহতিও হয়ে ওঠে বেছে নেওয়া? বাংলাদেশে (Bangladesh Bengali Hindus) হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, যিনি চিন্ময় প্রভু নামেই পরিচিত, তাঁর গ্রেফতারি ও তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে এমনই একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। বিশেষ করে, যাঁরা নিয়মিত বাঙালি পরিচয়, মানবতাবাদ, সংখ্যালঘু অধিকার ও ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে সরব হন, তাঁদের একাংশের নীরবতা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন।

    চিন্ময় প্রভুর গ্রেফতারি (Bangladesh Bengali Hindus)

    চিন্ময় প্রভু বাংলাদেশের এক হিন্দু সন্ন্যাসী। তাঁর গ্রেফতারিকে ঘিরে বহু মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে (Bengali Prem)। রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত অবস্থান যা-ই হোক না কেন, প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা, আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার এবং হিংসা থেকে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার থাকা উচিত—এটাই হওয়া উচিত মূল প্রশ্ন। চিন্ময় প্রভুকে ঘিরে তৈরি হওয়া মানবিক পরিস্থিতি সেই প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

    বছর একাত্তরের সন্ধ্যা রানি ধর চট্টগ্রামে তাঁর ছেলের আশ্রমে মারা যান। জেলে থাকা ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি তাঁর। একজন মায়ের কারাবন্দি সন্তানকে না দেখে মৃত্যুবরণ করার ঘটনায় অন্তত মানবিক সহানুভূতি প্রকাশ পাওয়া উচিত ছিল বলেই অভিমত ওয়াকিবহাল মহলের।

    কিন্তু ওই ঘটনায় যথেষ্ট প্রতিবাদ হয়নি বলেই খবর। যাঁরা নিয়মিত মানবতাবাদ, সংখ্যালঘু অধিকার এবং বাঙালির বিবেক নিয়ে ‘বক্তৃমে’ করেন, তাঁদের সুরও কেন চড়ল না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।

    দুর্গাপুজোর সময় খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিতর্ক কিংবা বাঙালি সংস্কৃতির পরিচয় নিয়ে আলোচনা হলে সমাজের বিভিন্ন অংশে প্রবল আবেগ দেখা যায়। কিন্তু হিন্দু ধর্মীয় স্থান বা দুর্গাপ্রতিমা ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটলে সেই প্রতিক্রিয়া অনেক সময় তুলনামূলকভাবে সতর্ক বা শর্তসাপেক্ষ হয়ে পড়ে বলেই অভিযোগ।

    ধর্মনিরপেক্ষতার বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন

    এখানেই ধর্মনিরপেক্ষতার বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নটি সামনে আসে। ধর্মনিরপেক্ষতা যদি সত্যিই সর্বজনীন হয়, তাহলে আক্রান্ত ব্যক্তির ধর্ম দেখে তাঁর পক্ষে দাঁড়ানোর মাত্রা বদলানো উচিত নয়। কোনও মুসলিম আক্রান্ত হলে যেমন প্রতিবাদ করা উচিত, কোনও খ্রিস্টান নিপীড়িত হলেও তেমনই প্রতিবাদ করা উচিত। একইভাবে কোনও বৌদ্ধ বা হিন্দু আক্রান্ত হলেও সমান দৃঢ়তার সঙ্গে কথা বলা জরুরি। তা না হলে সর্বজনীন মানবতাবাদের বদলে বেছে নেওয়া সহানুভূতির চর্চা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠবেই।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে রাজনৈতিক ভাষার ব্যবহার নিয়েও একই ধরনের দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। ‘গেরুয়া সন্ত্রাসবাদ’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে হিন্দু বা জাতীয়তাবাদী পরিচয়ের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদকে যুক্ত করার প্রবণতার সমালোচনা করা হয়েছে। বস্তুত, সন্ত্রাসবাদের বিচার হওয়া উচিত প্রমাণ, অপরাধী এবং তার মতাদর্শের ভিত্তিতে; কোনও সম্পূর্ণ সম্প্রদায়ের পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।

    একইভাবে, ইসলামপন্থী সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গ উঠলে যেমন বলা হয় যে সন্ত্রাসবাদের কোনও ধর্ম নেই এবং কোনও জঙ্গির অপরাধের জন্য সাধারণ মুসলিমদের দায়ী করা যায় না, একই নীতি হিন্দুদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। কোনও ব্যক্তি হিন্দুধর্মের নামে অপরাধ করলেই তার দায় গোটা হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর চাপানো যেমন যুক্তিসঙ্গত নয়, তেমনই কোনও সন্ত্রাসবাদীর দাবি করা ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে গোটা মুসলিম সমাজকে দায়ী করাও (Bengali Prem) অনুচিত।

    হিন্দুর নিরাপত্তার প্রশ্ন

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিসেবে বসবাসকারী কোনও হিন্দুর নিরাপত্তার প্রশ্নকে ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সমাজের প্রেক্ষাপটে বিচার করাও ঠিক নয়। সংখ্যালঘু পরিচয় সর্বদা সংশ্লিষ্ট সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। সেই কারণে বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা এবং অধিকারও একটি স্বতন্ত্র মানবাধিকার প্রশ্ন (Bangladesh Bengali Hindus)।

    এই প্রসঙ্গেই তথাকথিত ‘জাগ্রত উদারপন্থা’র দ্বিচারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংখ্যালঘুর অধিকার, বিভিন্ন পরিচয়ের আন্তঃসম্পর্ক এবং সামাজিক ন্যায়ের পক্ষে যাঁরা সরব, তাঁদের একাংশের প্রতিবাদ কেন কখনও কখনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত বয়ানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে—সেই প্রশ্নও উঠেছে। লেখাটির বক্তব্য, অন্যায়ের শিকার ব্যক্তি কোন পরিচয়ের মানুষ তার ওপর যদি প্রতিবাদের মাত্রা নির্ভর করে, তাহলে তা ন্যায়বিচার নয়, বরং মতাদর্শের প্রকাশ।

    বাংলাদেশকে বাঙালিদের কাছে কোনও সাংস্কৃতিকভাবে বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড হিসেবেও দেখা যায় না। বাংলার সভ্যতা ও ইতিহাসের সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর যোগ রয়েছে। ঢাকেশ্বরী মন্দির সেই ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। মাস্টারদা সূর্য সেন, অনন্ত সিংহের মতো বিপ্লবীরাও দুই বাংলার অভিন্ন ঐতিহাসিক স্মৃতির অংশ। কিন্তু ঐতিহ্যকে শুধু বক্তৃতা ও স্মরণানুষ্ঠানে উদ্‌যাপন করলেই তার সুরক্ষা হয় না। সেই ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারীরা কীভাবে জীবনযাপন করছেন, তাঁদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত—তার মধ্যেও ঐতিহ্যের প্রকৃত মূল্য প্রতিফলিত হয়।

    হিন্দুদের জন্য কোনও বিশেষ সুবিধা দাবি করা হচ্ছে না বলেই লেখাটিতে স্পষ্ট করা হয়েছে। দাবি হল সমান অধিকার ও সম মর্যাদার। চিন্ময় প্রভু বাঙালি, তিনি সন্ন্যাসী এবং তিনি হিন্দু—এই পরিচয়গুলির কোনওটিই পরস্পরবিরোধী নয় (Bangladesh Bengali Hindus)।

    তাই বাঙালি বুদ্ধিজীবির প্রকৃত পরীক্ষা কেবল বাঙালি সংস্কৃতিকে উদ্‌যাপন করার মধ্যে নয়। বরং সেই সময়ে একজন বাঙালি হিন্দুর পাশে দাঁড়াতে পারার মধ্যেই তার প্রকৃত পরীক্ষা, যখন সেই অবস্থান প্রচলিত বা পছন্দের রাজনৈতিক বয়ানের সঙ্গে সংঘাতে যেতে পারে।

    ‘বাঙালি-প্রেম’

    মতামতভিত্তিক একটি লেখায় বলা হয়েছে, “আমাদের সহমর্মিতার যদি শর্ত থাকে, তবে তা সহমর্মিতা নয়। আমাদের ধর্মনিরপেক্ষতার যদি পছন্দের মানুষ থাকে, তবে তা ধর্মনিরপেক্ষতা নয়। আর কোনও বাঙালি হিন্দু হলেই যদি বাংলার প্রতি আমাদের ভালোবাসা হারিয়ে যায়, তাহলে ‘বাঙালি-প্রেম’ বলতে (Bengali Prem) আমরা আসলে কী বুঝি, সেই প্রশ্ন নিজেদেরই করা উচিত।”

    মনে রাখতে হবে, অন্যায় চোখের সামনে ঘটলেও নীরব থাকাটা নিরপেক্ষতা নয়, বরং সেই নীরবতাও একটি (Bangladesh Bengali Hindus) অবস্থান।

     

LinkedIn
Share