Blog

  • Commonwealth Games 2026: কমনওয়েলথ শুরুর আগেই পদক নিশ্চিত! ভারতকে স্বস্তি দিলেন লভলীনা

    Commonwealth Games 2026: কমনওয়েলথ শুরুর আগেই পদক নিশ্চিত! ভারতকে স্বস্তি দিলেন লভলীনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই পদক নিশ্চিত করে ফেলল ভারত। ২৩ জুলাই অর্থাৎ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে কমনওয়েলথ গেমস। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় আয়োজিত হবে এই টুর্নামেন্ট। চলবে আগামী ২ অগাস্ট পর্যন্ত। এখনও শুরুই হয়নি কমনওয়েলথ গেমস। তার আগেই একটি পদক নিশ্চিত করে ফেলেছে ভারত। জানা গিয়েছে, মহিলা বক্সার লভলীনা বরগোহাঁই একটি পদক জিতবেনই। বক্সিং রিংয়ে নামার আগেই তা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের বক্সিংয়ের ৭৫ কেজি বিভাগে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল হচ্ছে। কিন্তু সেখানে আট বক্সার নেই। তিন বক্সার নাম তুলে নিয়েছেন। ফলে তিন বক্সার সরাসরি সেমিফাইনালে উঠে গিয়েছেন। তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন লভলীনা।

    ব্রোঞ্জ নিশ্চিত

    বক্সিংয়ে সেমিফাইনালে খেলা চার প্রতিযোগীই পদক জিতবেন। যাঁরা সেমিফাইনালে হারবেন, তাঁরা ব্রোঞ্জ জিতবেন। সেই হিসাবেই লভলীনা অন্তত পক্ষে ব্রোঞ্জ জিতবেন। সেমিফাইনালে লভলীনার প্রতিপক্ষ টুভালুর তাফাকি। সেই ম্যাচ জিতলে সোনা বা রুপো কিছু একটা পাবেন ভারতীয় বক্সার। ২০২৪ সালে টোকিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পেয়েছিলেন লভলীনা। এবার কমনওয়েলথ গেমস শুরু হওয়ার আগেই এই বিভাগে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করলেন তিনি।

    পদকের দৌড়ে কারা

    বার্মিংহ্যামে কমনওয়েলথ গেমসে ছিল ২১০জন ক্রীড়াবিদ। এবার ১২৫ জন ক্রীড়াবিদ। এবার ১৯টি ইভেন্টের বদলে রয়েছে ১০টি ইভেন্ট। অ্যাথলেটিক্স, সাইক্লিং, ভারোত্তোলন, সাঁতারসহ একগাদা বিভাগে পদক পেতে পারে ভারত। গতবছর ভারত পদক পেয়েছিল ৬১টি, যার মধ্যে সোনা ছিল ২২টি। এবার ভারতের লক্ষ্য আরও বেশী পদক আনা। ৩০ জুলাই পুরুষদের বিভাগে কোয়ালিফাই করতে নামবেন নীরজ চোপড়া। সেখান থেকে ১ অগাস্ট ফাইনালে নামবেন নীরজ। এছাড়াও পদকের দৌড়ে রয়েছেন মীরাবাঈ চানু।

    ১২৪ সদস্যের ভারতীয় দল গ্লাসগোয়

    বৃহস্পতিবার ১২৪ সদস্যের ভারতীয় দল গ্লাসগোয় তাঁদের অভিযান শুরু করছে। এবারের গেমসে ইভেন্টের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কম হলেও ভারতীয় দল সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই নামছে। ভারতের প্রথম প্রতিযোগিতা হবে লন বোলসে। ২০২২ কমনওয়েলথ গেমসে ঐতিহাসিক পদকজয়ী ভারতীয় লন বোলস দল এবারও বিশ্বের সেরাদের চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত। তবে গেমস শুরুর আগেই ভারতীয় শিবিরে বড় ধাক্কা। কমনওয়েলথ থেকে ছিটকে গেলেন জুডো তারকা অরুণ কুমার। ডোপ পরীক্ষায় অ্যানাবলিক স্টেরয়েডে পজিটিভ ধরা পড়ায় টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলেন। ৩১ জুলাই থেকে পুরুষদের জুডো প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার কথা। এছাড়া একাধিক অ্যান্টি ডোপিং নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য ভারতের ভারোত্তোলন দলের কোটা কমে ১১-তে নেমে এসেছে। সেই কারণেই ভারোত্তোলক দিলবাগ সিংকেও গেমস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এক সূত্র জানিয়েছে, পিঠের চোটের জন্য দিলবাগ প্রস্তুতি শিবিরে অনুশীলনই করতে পারেননি। তাই নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

  • Suvendu Adhikari: ‘গেটম্যানের গাফিলতি ক্ষমার অযোগ্য’, কর্ণসুবর্ণে শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে শুভেন্দু, চাকরির আশ্বাস

    Suvendu Adhikari: ‘গেটম্যানের গাফিলতি ক্ষমার অযোগ্য’, কর্ণসুবর্ণে শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে শুভেন্দু, চাকরির আশ্বাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে পুলকার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো পাঁচ জনের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দুর্ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় বৃহস্পতিবার তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। প্রত্যেক পরিবারের হাতে পাঁচ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার (Compensation for Victims) চেক তুলে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের এক জনকে চাকরির আশ্বাসও দেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে অভিযুক্ত গেটম্যানের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, এই ঘটনা “ক্ষমার অযোগ্য” এবং আইন অনুযায়ী তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

    কী ঘটেছিল কর্ণসুবর্ণে?

    গত ১৭ জুলাই মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে রেলগেট পার হওয়ার সময় একটি পুলকারে ট্রেনের ধাক্কা লাগে। ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনায় চার শিশু-সহ মোট পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আহত আরও দু’জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই দুর্ঘটনা ঘিরে গোটা রাজ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। রেলগেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গেটম্যানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। পরে অভিযুক্ত গেটম্যানকে গ্রেফতার করা হয়।

    শোকস্তব্ধ পরিবারগুলির পাশে মুখ্যমন্ত্রী

    এদিন কর্ণসুবর্ণে গিয়ে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রত্যেক পরিবারের হাতে পাঁচ লক্ষ টাকার সরকারি আর্থিক সহায়তার (Compensation for Victims) চেক তুলে দেন তিনি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির এক জন সদস্যকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাসও দেন। মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “ছোট্ট ছোট্ট ফুলের মতো বাচ্চাগুলো দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। দুঃখপ্রকাশের ভাষা আমার জানা নেই। অর্থ দিয়ে এই ক্ষতিপূরণ হয় না। যে অর্থ দিয়েছি, সেটা সরকারি অর্থ, আমার নয়।”

    গেটম্যানকে নিয়ে কড়া বার্তা

    দুর্ঘটনার প্রসঙ্গে অভিযুক্ত গেটম্যানের বিরুদ্ধেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, “এই ঘটনা এড়ানো যেত। প্রাথমিক তদন্তে রেল ও পুলিশ আমাকে জানিয়েছে, গেটম্যান দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো কাজ করেছে। আইন অনুযায়ী তার চূড়ান্ত শাস্তি হবে।” তবে, শুধু কঠোর মন্তব্যেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, অভিযুক্ত জেলে থাকাকালীনই দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি কাস্টডি ট্রায়ালের মাধ্যমে যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা যায়, সে দিকেও নজর রাখতে বলেছেন।

    আহতদের খোঁজ নিলেন শুভেন্দু

    এদিন হাসপাতালে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত দু’জনের শারীরিক অবস্থারও খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।

    ভেঙে পড়েছেন আজিজা

    এই দুর্ঘটনায় নিজের একমাত্র ছেলে ইশানুর রহমানকে হারিয়েছেন আজিজা খাতুন। মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) সামনে কান্নায় ভাঙলেন তিনি। আজিজা জানান, তাঁর স্বামী কর্মসূত্রে সৌদি আরবে থাকেন। একমাত্র সন্তানকে হারানোর পর তিনি কার্যত একা হয়ে পড়েছেন। তাই স্বামীর জন্য রাজ্যেই একটি চাকরির আবেদন জানিয়েছেন। আজিজা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, ১৫ দিনের মধ্যে চাকরির ব্যবস্থা করে দেবেন।”

    ‘ছোট মেয়েটাকে মানুষ করতে চাই’

    দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো জেসিকা শবনমের মা শেফালি খাতুনও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিজের অসহায়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমার মেয়ে বড় হয়ে অনেক কিছু করতে পারত। কিছুই হল না। এখন একটাই আশা, কোনও ছোটখাটো চাকরিও যদি দেয় আমাকে, ছোট মেয়েটাকে মানুষ করতে পারি। আমার স্বামীর কোনও আয় নেই। আমি ওই গেটম্যানের শাস্তি চাই।”

    স্বজন হারিয়েও মানবিক বার্তা

    স্বজনহারা দিলার হোসেনের বক্তব্যে উঠে এসেছে এক ভিন্ন অনুভূতি। দিলারের কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী পাঁচ লক্ষ টাকার চেক দিয়েছেন। গেটম্যানের তো ভুল আছেই। সরকার যা করার করবে। আসল মানুষটা তো চলেই গিয়েছে। গেটম্যানকে এখন শাস্তি দিয়েই বা কী হবে! তারও তো পরিবার আছে!”

    তদন্তের পাশাপাশি নজর পুনর্বাসনেও

    দুর্ঘটনার পর ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত গেটম্যানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) নির্দেশে দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির আর্থিক সহায়তা ও চাকরির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকেও নজর রয়েছে প্রশাসনের। কর্ণসুবর্ণের এই দুর্ঘটনা শুধু পাঁচটি প্রাণ কেড়ে নেয়নি, একাধিক পরিবারের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। তদন্তে ঠিক কী উঠে আসে এবং প্রশাসনের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

  • NEET Paper Leak Row: সংসদে প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আলোচনায় রাজি কেন্দ্র, সংসদে এনডিএ ও ইন্ডি জোটের মুখোমুখি বিক্ষোভ

    NEET Paper Leak Row: সংসদে প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আলোচনায় রাজি কেন্দ্র, সংসদে এনডিএ ও ইন্ডি জোটের মুখোমুখি বিক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সংসদে আলোচনায় রাজি কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানালেন, শিক্ষার্থীরাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তবে সরকার শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠ আলোচনা চাইলেও নিট ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সংসদের ভিতরে ও বাইরে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের ছবি দেখা গেল। সংসদ ভবনের বাইরে এনডিএ (NDA) এবং ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের সাংসদরা পাল্টা বিক্ষোভে সামিল হন। উভয় পক্ষের স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে সংসদের নিরাপত্তারক্ষীরা মানবশৃঙ্খল তৈরি করে দুই পক্ষকে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত রাখেন।

    সংসদ চত্বরে উত্তেজনা

    বিক্ষোভ চলাকালীন সিপিআই(এম)-এর সাংসদ জন ব্রিটাসকে বিজেপি নেতা অরুণ সিংয়ের হাতে থাকা একটি পোস্টার টেনে নিতে দেখা যায়। এরপরই দুই পক্ষের সাংসদরা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তীব্র স্লোগান দিতে থাকেন, যার জেরে সংসদ চত্বরে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এদিকে, নিট ইউজি NEET-UG) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-এর সমর্থকদের জন্তর মন্তরে টানা ৩৪ দিনের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি একই দাবিতে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন বৃহস্পতিবার ২৬তম দিনে পড়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের স্বচ্ছ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

    সংসদে আলোচনায় রাজি কেন্দ্র

    কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, নিট ইউজি NEET-UG) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে সংসদে আলোচনার জন্য তারা প্রস্তুত। একই সঙ্গে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এই বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র বলেন, প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর বিষয় নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া উচিত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রুখতে কঠোর আইন প্রণয়ন প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস সংসদে আলোচনা না করে বিষয়টিকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করতে চাইছে।অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদীও দাবি করেন, এনডিএ সাংসদরা সংসদের বাইরে দাঁড়িয়ে নিট এবং শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন, কিন্তু কংগ্রেস সেই আলোচনা আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

    মোদিকে পাল্টা আক্রমণ রাহুলের

    প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁর অভিযোগ, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজেই দায়ী এবং অভিযুক্তদের রক্ষা করেছেন। রাহুল গান্ধী বলেন, ছাত্রদের দাবি স্পষ্ট—

    • > শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ করতে হবে।
    • > ছাত্রদের কাছে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে।
    • > আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর হামলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

    জয়রাম রমেশের কটাক্ষ

    কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশও প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেন, ছাত্র আন্দোলনের চাপে পড়েই ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছেন মোদি। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী সংসদে এসে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি আলোচনা করার সাহস দেখাননি। পাশাপাশি তিনি “ভোট চুরি, আসন চুরি, চাঁদা চুরি, প্রশ্নপত্র চুরি” ইস্যু তুলে কেন্দ্রকে নিশানা করেন।

    রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র

    নিট ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র আন্দোলন জোরদার হয়েছে। সংসদে সরকার ও বিরোধীদের এই মুখোমুখি অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আগামী দিনেও এই ইস্যু জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক হিসেবে সামনে থাকবে। নিট প্রশ্ন ফাঁস (NEET Paper Leak Case) নিয়ে প্রথম থেকেই সরব বিরোধীরা। সেই সঙ্গে আন্দোলন শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টিও (সিজেপি)। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি জানান তারা। নিট কাণ্ডের প্রতিবাদে সংসদীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু লেন, “আলোচনার সময় বিরোধীরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারে। তাদের কেউ বাধা দেবে না। কিন্তু আলোচনার আগেই যদি শর্তের পাহাড় তুলে ধরা হয়, তাহলে এর অর্থ হল – আপনারা আসলে আলোচনা চান না। আমরা খোলা মনেই জানিয়েছি যে, নিট প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আমরা আলোচনায় প্রস্তুত।”

    সরকার আলোচনায় রাজি

    প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে সংসদে আলোচনার বার্তা দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডাও। তিনি জানিয়েছেন, সংসদে এই বিষয়ে আলোচনা করতে চান তাঁরা। নাড্ডা বলেন, ‘বিএসিতে সব দল মিলে আলোচনার সময় স্থির করুক, আমরা ১০ ঘণ্টা -১২ ঘণ্টা ধরে আলোচনা করব। সময় স্থির করুক বিরোধী শিবির। পড়ুয়ারা আমাদের সবার সন্তান, দেশের ভবিষ্যৎ।’  বুধবারই সাংবাদিক সম্মেলন করে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছিলেন গত ১০ বছরে ১৫২টি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। পাল্টা মন্ত্রী জেপি নাড্ডার অভিযোগ, জম্মু কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, তেলেঙ্গানা, কেরালা, কর্ণাটক, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ুতে আগে পেপার লিক হয়েছে – এই রাজ্যগুলিতে বিরোধী দলের সরকার ছিল। রাহুল যে দাবি করেছেন, সেটা তদন্তের বিষয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। রাহুল গান্ধী উদ্দেশ্য ছাত্রদের ভালোর জন্য নয় বলেও অভিযোগ তাঁর। তাঁর দাবি, ‘রাহুল গান্ধী রাজনৈতিক ফায়দা তুলছেন, পড়ুয়াদের স্বার্থ দেখছেন না।’

  • Manoj Agarwal: এসআইআর-এ ধরা পড়েছে ‘অনিয়ম’, জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রের নিয়মে বড় বদল! মুখ্যসচিবের কড়া বার্তা

    Manoj Agarwal: এসআইআর-এ ধরা পড়েছে ‘অনিয়ম’, জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রের নিয়মে বড় বদল! মুখ্যসচিবের কড়া বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রকে কেন্দ্র করে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। সম্প্রতি ভুয়ো শংসাপত্র ইস্যু ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসছিল, তারপরেই একগুচ্ছ কড়া সিদ্ধান্ত নবান্নের (Nabanna)। এবার থেকে আর পুরপ্রধান বা পঞ্চায়েত প্রধানরা জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যু করতে পারবেন না। সেই দায়িত্ব যাবে সরকারি আধিকারিকদের হাতে। একইসঙ্গে ১৯৯৭ সাল থেকে নথিভুক্ত সমস্ত শংসাপত্র পুনরায় যাচাই, রাজ্যজুড়ে পুলিশের অভিযান এবং অভিন্ন ডিজিটাল তথ্যভান্ডার তৈরির মতো একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়ালের (Manoj Agarwal)।

    কেন এই সিদ্ধান্ত?

    নবান্নের (Nabanna) দাবি, জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র বিতরণে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসছিল। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) চলাকালীন বিপুল সংখ্যক ভুয়ো জন্ম শংসাপত্রের সন্ধান মিলেছে বলে অভিযোগ। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে প্রশাসন ও পুলিশের কাছেও একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই পুরো ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    মুখ্যসচিবের বার্তা

    মুখ্যসচিবের (Manoj Agarwal) কথায়, “জন্ম শংসাপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি নথি। নির্বাচনের পরে অনেক অভিযোগ পেয়েছি। SIR করতে গিয়ে বহু ভুলভ্রান্তি ধরা পড়েছে। পুলিশের কাছেও অনেক অভিযোগ এসেছে। অনেক জায়গায় নকল জন্ম শংসাপত্র পাওয়া গিয়েছে। এই ভুয়ো নথির মাধ্যমে অনেকেই সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। নিয়ম থাকলেও বহু ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে।”

    দায়িত্বে থাকবেন সরকারি আধিকারিক

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যুর ক্ষমতা আর কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির হাতে থাকবে না। পুরপ্রধান, চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত প্রধানদের পরিবর্তে নির্দিষ্ট সরকারি আধিকারিকরাই এই শংসাপত্র ইস্যু করবেন। স্বাস্থ্য দফতর খুব শীঘ্রই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের তালিকা প্রকাশ করবে। সরকারের দাবি, এই পরিবর্তনের ফলে শংসাপত্র ইস্যুর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অনিয়মের সুযোগ অনেকটাই কমবে।

    ১৯৯৭ সাল থেকে সব নথির পুনর্যাচাই

    নবান্ন (Nabanna) সূত্রে খবর, ১৯৯৭ সাল থেকে নথিভুক্ত হওয়া সমস্ত জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ধাপে ধাপে পুনরায় যাচাই করা হবে। সমস্ত তথ্য ডিজিটালভাবে স্ক্যান করে একটি অভিন্ন তথ্যভান্ডার (ডেটাবেস) তৈরি করা হবে। পরে সেই তথ্যভান্ডার কেন্দ্রীয় পোর্টালের সঙ্গেও যুক্ত করা হবে। যাতে ভবিষ্যতে সহজেই নথির সত্যতা যাচাই করা যায়। এদিন মুখ্যসচিব (Manoj Agarwal) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই স্ক্যানিং ও ডিজিটাল রেকর্ড তৈরির উদ্দেশ্য শুধুমাত্র তথ্য যাচাই। তা শেষ হলেই সমস্ত রেজিস্টার সংশ্লিষ্ট দফতরে ফেরত দেওয়া হবে।

    বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা, শুনানির সুযোগও

    তবে, শুধু নথি যাচাই করেই থেমে থাকবে না প্রশাসন। প্রয়োজন হলে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষাও করা হবে। যাঁদের কাছে বৈধ জন্ম শংসাপত্র নেই, তাঁদের শুনানির সুযোগ দেওয়া হবে। সমস্ত তথ্য যাচাইয়ের পর প্রয়োজন হলে নতুন করে শংসাপত্র দেওয়া হবে। অন্যদিকে, কোনও ভুয়ো বা বেআইনি শংসাপত্র ধরা পড়লে তা বাতিল করা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কীভাবে সেই নথি পেয়েছেন? তা নিয়েও তদন্ত হবে।

    ‘কোনও অবৈধ বিদেশি নাগরিক থাকতে পারবেন না’

    যাচাই অভিযানের প্রসঙ্গে মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়াল (Manoj Agarwal) বলেন, “কোনও অবৈধ বিদেশি নাগরিক এখানে থাকতে পারবেন না। ভুয়ো নথির মাধ্যমে কেউ যাতে বেআইনিভাবে সরকারি সুবিধা নিতে বা পরিচয় গোপন করে থাকতে না পারেন, তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।”

    স্কুলের নথিতেও ভুয়ো শংসাপত্রের অভিযোগ

    মুখ্যসচিবের (Manoj Agarwal) অভিযোগ, শুধু সরকারি প্রকল্প নয়, স্কুলের নথিতেও বহু ক্ষেত্রে ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত আবেদনকারীরা সমস্যার মুখে পড়েছেন। তাই সব তথ্য স্ক্যান করে পুনরায় যাচাই করা হবে।

    মুখ্যসচিবের আশ্বাস

    তবে সাধারণ মানুষের ভয়ের যে কোনও কারণ নেই, এদিন তাও আশ্বস্ত করলেন মুখ্যসচিব (Manoj Agarwal)। তিনি বলেন, “এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। এটি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। শুধুমাত্র সরকারি আধিকারিকরাই এই যাচাই করবেন। কোনও চুক্তিভিত্তিক কর্মীকে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে না।”

    রাজ্যজুড়ে পুলিশের কড়া অভিযান

    মুখ্যসচিবের নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার থেকেই কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তল্লাশি ও নথি যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। বীরভূম, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম-সহ একাধিক জেলার পুরসভা ও পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে জন্ম-মৃত্যুর রেজিস্টার পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, এসআইআর চলাকালীন বেআইনিভাবে শংসাপত্র ইস্যুর অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান চলছে।

    সরকারের লক্ষ্য

    নবান্নের (Nabanna) স্পষ্ট বার্তা, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা নয়, বরং জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নির্ভুল ও দুর্নীতিমুক্ত করা। বৈধ নথি থাকা সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। কোথাও কারচুপির প্রমাণ মিললে বা কোনও সরকারি আধিকারিক ইচ্ছাকৃতভাবে বেআইনি কাজ করে থাকলে, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই উদ্যোগে আরও স্পষ্ট হল বিজেপি সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি।

  • Weather Update: ১০ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত বৃষ্টির মেঘ! ভারত সহ এশিয়া জুড়ে বাম্পার বর্ষার পূর্বাভাস

    Weather Update: ১০ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত বৃষ্টির মেঘ! ভারত সহ এশিয়া জুড়ে বাম্পার বর্ষার পূর্বাভাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্ষা যেন এবার নতুন রূপে ধরা দিল মহাকাশ থেকে। বঙ্গোপসাগর থেকে আরব সাগর, আর সেখান থেকে সোজা উত্তর ভারত পেরিয়ে সুদূর দক্ষিণ কোরিয়া- আকাশ জুড়ে যেন মেঘের এক সুবিশাল মহাসড়ক (Rain Cloud Band)! সম্প্রতি উপগ্রহ চিত্রে (Satellite Image) এমনই এক বিরল ও অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য সামনে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, উত্তর ভারত থেকে শুরু করে হিমালয় পর্বতমালা, চিন এবং জাপান পার হয়ে দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে এক প্রকাণ্ড মেঘের বলয় (Rain Cloud Band)। দৈর্ঘ্য প্রায় ৭,০০০ থেকে ১০,০০০ কিলোমিটার। আবহাওয়ার এই বিশেষ অবস্থাকে বলা হয় ‘মনসুন কনভারজেন্স জোন’ (Monsoon Convergence Zone)। আবহাওয়াবিদদের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর এই তাণ্ডব আসলে এশিয়া জুড়ে বাম্পার বর্ষারই এক বড়সড় সংকেত।

    কীভাবে তৈরি হলো এই মেঘের সাগর?

    আবহাওয়াবিদদের মতে, ভারত মহাসাগর থেকে উঠে আসা প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ বাতাস এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলের আবহাওয়া ব্যবস্থার সঙ্গে মুখোমুখি ধাক্কা খেতেই এই কাণ্ড! বায়ুমণ্ডলে বাতাসের প্রবল মেলবন্ধনের কারণে জলীয় বাষ্প দ্রুত উপরে উঠে ঠান্ডা হয়ে জমাট বাঁধছে। আর তাতেই উত্তর ভারত, মধ্য ভারত, হিমালয় অঞ্চল, চিন হয়ে একেবারে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের তীরবর্তী দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত তৈরি হয়ে গিয়েছে বৃষ্টিবাহী ঘন মেঘের এক অবিচ্ছিন্ন করিডোর (Rain Cloud Band)।

    খরা কেটে বন্যার মেঘ! 

    এই সুবিশাল মেঘের সারণি (Rain Cloud Band) ভারতে যেন আক্ষরিক অর্থেই বর্ষার ‘অন্নপূর্ণা’ রূপ নিয়ে দেখা দিয়েছে। বিগত কয়েক সপ্তাহে দেশের একাধিক রাজ্যে বৃষ্টির মারাত্মক ঘাটতি দেখা গিয়েছিল, তা এবার এক ঝটকায় উধাও হওয়ার মুখে! গত ৪৮ ঘণ্টায় দেশজুড়ে গড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১৭০% থেকে ১৮০% বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এটিই চলতি বর্ষা মরশুমের সবচেয়ে জলীয় এবং আর্দ্রতম সময়। দাবি আবহাওয়া দফতরের।

    কোথায় কোথায় তাণ্ডব? উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি- এনসিআর এবং রাজস্থানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলমগ্নের সম্ভাবনা। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া জোড়া নিম্নচাপের টানে ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতেও ঝরছে নাগাড়ে বৃষ্টি (Heavy Rainfall)।

    ধস আর ফ্ল্যাশ ফ্লাডের শঙ্কা! 

    তবে এই বাম্পার বৃষ্টি যেমন স্বস্তি এনেছে, তেমনই পাহাড়ি ও নিচু এলাকাগুলোতে বয়ে এনেছে মারাত্মক আশঙ্কার মেঘ! ইতিমধ্যেই পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে লাল সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।

    বিপদের মেঘ কোথায় কোথায়? আবহাওয়া দফতরের মতে, উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশে টানা বর্ষণে নামতে পারে পাহাড়ি ধস (Landslides)। হতে পারে মেঘভাঙা বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা বা ‘ফ্ল্যাশ ফ্লাড’ (Flash Floods)। বিপদসীমার উপর দিয়ে বইতে পারে পাহাড়ি নদীগুলো। উত্তর ভারতের একাধিক বড় শহরের নিচু এলাকাগুলো জলমগ্ন হওয়ার প্রবল আশঙ্কা।

    চাষিদের মুখে হাসি, ভরছে জলাশয়!

    আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই বর্ষা দেশের কৃষির জন্য একপ্রকার বরদান হতে চলেছে। বর্ষার শুরুতে যেসব রাজ্যে বৃষ্টির ঘাটতি ছিল, সেখানে খরিফ মরশুমের (Kharif Crop) চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন কৃষকরা। এই লাগাতার বর্ষণে জলাশয় ও নদীগুলো যেমন দ্রুত কানায় কানায় পূর্ণ হচ্ছে, তেমনই ধানের চাষসহ অন্যান্য কৃষিকাজে এক অভূতপূর্ব গতি আসবে বলেও মনে করা হচ্ছে।

    শুধু ভারত নয়, জলচক্রে বাঁধা পুরো এশিয়া!

    সাধারণত ভারতের মৌসুমি বায়ুকে কেবল একটি আঞ্চলিক আবহাওয়া বলেই গণ্য করা হয়। কিন্তু মহাকাশ থেকে তোলা ১০,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিশাল মেঘের ছবি প্রমাণ করে দিল- আরব সাগর থেকে শুরু করে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত পুরো এশিয়া মহাদেশের আবহাওয়া আসলে অদৃশ্য এক সুতোয় বাঁধা! আগামী গোটা সপ্তাহ জুড়ে এই মেঘের দাপট বজায় থাকবে বলে পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতরের। অর্থাৎ, এশিয়া জুড়ে ব্যাপক বর্ষা এখনই যে থামছে না, তা আর বলার অপেক্ষা থাকে না।

  • ABVP at CJP Protest: সিজেপির আন্দোলনে সংঘর্ষের নিন্দা এবিভিপির, ছাত্রদের দাবি মেটাতে সংলাপ ও সংস্কারের আহ্বান

    ABVP at CJP Protest: সিজেপির আন্দোলনে সংঘর্ষের নিন্দা এবিভিপির, ছাত্রদের দাবি মেটাতে সংলাপ ও সংস্কারের আহ্বান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত নিট ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিক্ষোভকে ঘিরে ছাত্র ও নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আরএসএস-ঘনিষ্ঠ ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)। বুধবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি ঘটনায় জড়িত সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে ছাত্রদের ন্যায্য দাবি শান্তিপূর্ণ সংলাপ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। এবিভিপি (ABVP at CJP Protest) তাদের বিবৃতিতে জানায়, নিট ইউজি (NEET-UG) এবং শিক্ষা সংস্কার নিয়ে ছাত্রদের উদ্বেগ ও ক্ষোভকে তারা সমর্থন করে। তবে যন্তর মন্তরে যে বিশৃঙ্খলা, জনজীবন ব্যাহত হওয়া এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, তার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। সংগঠনের দাবি, কিছু “অসামাজিক” এবং “রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী” গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করেছে, যার ফলে ছাত্রছাত্রী এবং নিরাপত্তারক্ষী—উভয় পক্ষেরই আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

    এবিভিপির দাবি

    সংগঠনটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উচ্চপর্যায়ের সরকারি কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি নিট ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁসের মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারেরও আহ্বান জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ছাত্রদের ন্যায্য দাবি সংলাপ, সহমর্মিতা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। কোনও অবস্থাতেই ছাত্র আন্দোলনকে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি, অরাজকতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়।

    যন্তর মন্তরে কী ঘটেছিল?

    গত ২০ জুলাই নিট ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহির দাবিতে সিজেপির (ABVP at CJP Protest) ডাকা ‘পার্লামেন্ট মার্চ’-এ হাজার হাজার ছাত্র অংশ নেন। বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে কিছু ছাত্রছাত্রীকে পুলিশের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলতে দেখা যায়। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ হাইকোর্টে জানিয়েছে, বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল না এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর কিছু বিক্ষোভকারী পাথর ছোড়ে। পুলিশের দাবি, ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল এবং সহিংসতার আশ্রয় নেওয়া হয়। বর্তমানে সিজেপির আন্দোলন এবং জলবায়ু আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকের অনশন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীরা নিট ইউজি (NEET-UG) পুনঃপরীক্ষা, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি এবং একাধিক ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনার দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছেন।

  • Kolkata Metro: এ বার ভোর ৬টা থেকেই মেট্রো, রাতেও বাড়ছে পরিষেবার সময়! কলকাতার যাতায়াতে বড় স্বস্তি, বদল এই মাস থেকেই

    Kolkata Metro: এ বার ভোর ৬টা থেকেই মেট্রো, রাতেও বাড়ছে পরিষেবার সময়! কলকাতার যাতায়াতে বড় স্বস্তি, বদল এই মাস থেকেই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার থেকে কলকাতার ব্যস্ত জীবনযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও এক ধাপ এগোতে চলেছে মেট্রো পরিষেবা। অফিসগামী, ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে প্রতিদিনের হাজার হাজার যাত্রীর সুবিধার্থে বড় সিদ্ধান্ত কলকাতা মেট্রোর (Kolkata Metro)। এবার ব্লু ও গ্রিন- দুই গুরুত্বপূর্ণ করিডরেই প্রথম ও শেষ মেট্রোর সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত। তবে শুধু সময়ই নয়, বাড়ছে ট্রেনের সংখ্যাও (Metro Service Increase)। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে আগামী ২৭ জুলাই (সোমবার) থেকে এই নতুন সূচি কার্যকর হবে।

    ভোর ৬টা থেকেই প্রথম মেট্রো

    এখনও পর্যন্ত ব্লু লাইনে দক্ষিণেশ্বর-শহিদ ক্ষুদিরাম করিডরে দুই প্রান্ত থেকেই দিনের প্রথম মেট্রো ছাড়ে সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে। নতুন সূচি অনুযায়ী, সোমবার থেকে সেই সময় এগিয়ে এসে হবে ভোর ৬টা। একই পরিবর্তন হচ্ছে হাওড়া ময়দান- সল্টলেক সেক্টর ফাইভ অর্থাৎ গ্রিন লাইনেও। বর্তমানে এই লাইনে প্রথম ট্রেন ছাড়ে সকাল ৬টা ৩৯ মিনিটে। ২৭ জুলাই থেকে এখানেও প্রথম মেট্রো পাওয়া যাবে সকাল ৬টায়।

    রাতেও বাড়ছে পরিষেবার সময় 

    শুধু সকালেই নয়, রাতেও যাত্রীদের জন্য বাড়ছে মেট্রোর সময়সীমা। বর্তমানে ব্লু লাইনে দক্ষিণেশ্বর ও শহিদ ক্ষুদিরাম- দুই প্রান্ত থেকেই শেষ মেট্রো ছাড়ে রাত ৯টা ৪৪ মিনিটে। নতুন সূচিতে তা পিছিয়ে রাত ১০টা ৩০ মিনিট করা হচ্ছে। একইভাবে গ্রিন লাইনে এখন শেষ ট্রেন ছাড়ে রাত ১০টা ৫ মিনিটে। আগামী সোমবার থেকে হাওড়া ময়দান ও সল্টলেক সেক্টর ফাইভ- দুই প্রান্ত থেকেই শেষ মেট্রো ছাড়বে রাত ১০টা ৩০ মিনিটে।

    সপ্তাহের কোন দিন কী নিয়ম?

    নতুন সময়সূচি কার্যকর থাকবে সোমবার থেকে শনিবার পর্যন্ত। তবে রবিবার কিছুটা আলাদা নিয়ম থাকবে। ওই দিন ব্লু ও গ্রিন- দুই লাইনেই প্রথম মেট্রো চলবে সকাল ৯টায়। তবে শেষ মেট্রোর সময় থাকবে রাত ১০টা ৩০ মিনিট।

    শুধু সময় নয়, বাড়ছে ট্রেনের সংখ্যাও (Metro Service Increase)

    যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাপ সামলাতে দুই লাইনেই পরিষেবার সংখ্যাও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। ব্লু লাইনে সোমবার থেকে শুক্রবার- ২৬০ থেকে বেড়ে ২৭২টি পরিষেবা। শনিবার- ২৪৬ থেকে বেড়ে ২৫৮টি ও রবিবার- ১৫২ থেকে বেড়ে ১৫৮টি মেট্রো চলবে। পাশাপাশি, গ্রিন লাইনে সোমবার থেকে শুক্রবার চলবে ২২৮ থেকে বেড়ে ২৩৬টি মেট্রো। শনিবার- ২০৪ থেকে বেড়ে ২১২টি ও রবিবার- ১০৮ থেকে বেড়ে ১১১টি মেট্রো চলবে।

    আপাতত পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা

    কলকাতা মেট্রোর (Kolkata Metro) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই সময়সূচি প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হচ্ছে। যাত্রীদের সাড়া, যাতায়াতের চাহিদা এবং পরিষেবার কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে এই সময়সূচিকেই স্থায়ী করা হতে পারে। তবে পরীক্ষামূলক পর্যায় কতদিন চলবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। কলকাতার জনজীবনে মেট্রো এখন শুধু একটি পরিবহণ ব্যবস্থা নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনযাত্রার অপরিহার্য অংশ। সেই কারণেই ভোরের পরিষেবা আরও আগে শুরু হওয়া এবং রাত পর্যন্ত ট্রেন চলার সময় বাড়ানো- দুই মিলিয়ে শহরের যাত্রীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির খবর। অফিসের তাড়া হোক কিংবা রাতের বাড়ি ফেরা, নতুন সূচি কলকাতার চলার গতি আরও কিছুটা বাড়িয়ে দেবে।

  • Delhi Protest Update: ইট-পাথর, কাচের বোতল, লাঠি…! দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে তাণ্ডব, আহত দুই এসিপি, নিশানায় র‌্যাফ-ও

    Delhi Protest Update: ইট-পাথর, কাচের বোতল, লাঠি…! দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে তাণ্ডব, আহত দুই এসিপি, নিশানায় র‌্যাফ-ও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কার্যত অশান্ত রাজধানী (Delhi Protest)। টানা কয়েক দিনের বিক্ষোভে একের পর এক হিংসার অভিযোগ সামনে আসছে। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের একাংশের ইট-পাথর, কাচের বোতল ও লাঠি দিয়ে হামলায় আহত হয়েছেন দিল্লি পুলিশের দুই এসিপি এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-এর দুই জওয়ান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিল্লিতে মোতায়েন অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী। ইতিমধ্যেই ১০টি এফআইআর দায়ের করে ২৫০-র বেশি সিসিটিভি ও মোবাইলের ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সাহায্যে খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ।

    পুলিশের উপর হামলা (Connaught Place Violence)

    আন্দোলনের আঁচ এতটাই প্রবল হয়ে উঠেছে যে পুলিশের উপরও হামলা চালানো হয়। দিল্লি পুলিশের দাবি, বুধবার রাত প্রায় সাড়ে ৮টা নাগাদ কনট প্লেসের টলস্টয় মার্গ এলাকার আচমকাই পুলিশের উপর হামলায় চালায় বেশ কিছু দুষ্কৃতী। পুলিশকে লক্ষ্য় করে ছোড়া হয় ইট-পাথর (Stone Pelting) ও কাচের বোতল। সেই হামলায় আহত হন কনট প্লেসের এসিপি বিবেক ভগত। তাঁকে দ্রুত ড. রাম মনোহর লোহিয়া (RML) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর হাত, পা ও কাঁধে একাধিক আঘাত রয়েছে। মাথার পিছনের অংশেও চোট লেগেছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    যন্তর মন্তরেও সংঘর্ষ (Delhi Protest)

    এদিকে, এই ঘটনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভেও (Jantar Mantar Protest) পুলিশের সঙ্গে কার্যত ধস্তাধস্তি হয় আন্দোলনকারীদের। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা সংসদ মার্গের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। এরপরই শুরু হয় ইট-পাথর ছোড়াছুড়ি (Stone Pelting)। একটি পাথর এসে লাগে পাঞ্জাবি বাগের এসিপি জয় প্রকাশের কপালে। আহত অবস্থায় তাঁকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল থেকেই এসিপি জয় প্রকাশ জানান, “পুলিশ মানবশৃঙ্খল তৈরি করে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করছিল। সেই সময়ই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশের দিকে বোতল ও পাথর ছোড়া হয়।”

    র‌্যাফ-এর জওয়ানদের উপর হামলার অভিযোগ

    শুধু দিল্লি পুলিশই নয়, কনট প্লেসে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-এর দুই জওয়ানের উপরও হামলার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনা থামাতে গেলে র‌্যাফ-এর জওয়ানদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বচসা শুরু হয়। সেই সময় এক জওয়ান নিজের দলের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। অভিযোগ, এরপর তলোয়ার ও লাঠি হাতে একদল লোক তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করে। তাঁকে উদ্ধার করতে গেলে আরও এক জওয়ানও আক্রান্ত হন। এরইমধ্যে সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল বেশকিছু ভিডিও। সেখানেই না কি দেখা যাচ্ছে আক্রান্ত জওয়ান প্রাণ বাঁচাতে দৌড়চ্ছিলেন। যদিও ভিডিওগুলির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় পৃথক এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (নয়াদিল্লি) আনন্দ কুমার মিশ্র।

    ২৫০-র বেশি ভিডিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ

    গোটা ঘটনার তদন্তে এবার প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ২৫০-রও বেশি সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ভিডিও এবং সোশাল মিডিয়ার ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI Investigation)-র সাহায্যে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ২০ জুলাইয়ের সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিলেন? কারা হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন? কোথা থেকে ভিড়কে উস্কানি দেওয়া হয়েছিল? সেই সব তথ্য খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এছাড়াও, তদন্তকারীরা BitChat নামে একটি ইন্টারনেট ছাড়াই চলতে সক্ষম মেসেজিং অ্যাপের কথোপকথনও খতিয়ে দেখছেন। সংঘর্ষটি আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল কি না, সেই দিকটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    ১০টি এফআইআর, একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা

    ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০টি এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। তার মধ্যে- ৪টি সংসদ মার্গ থানায়, ৩টি কনট প্লেস থানায়, এবং মন্দির মার্গ, বারাখম্বা রোড ও কর্তব্য পথ থানায় একটি করে মামলা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা, পুলিশকে আক্রমণ, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অস্ত্র আইনে অপরাধ, সংসদ অধিবেশন চলাকালীন অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ানো- সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

    রাজধানীতে বাড়ানো হল নিরাপত্তা

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দিল্লিতে অতিরিক্ত ৩০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। ফলে আগামী ২৭ জুলাই পর্যন্ত দিল্লি পুলিশের হাতে মোট ৪৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, অর্থাৎ প্রায় ৪,৫০০ জওয়ান থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে-  ২৪ কোম্পানি সিআরপিএফ, ১৫ কোম্পানি র‌্যাফ, ৩ কোম্পানি বিএসএফ, ১ কোম্পানি আইটিবিপি ও ২ কোম্পানি এসএসবি। পাশাপাশি পার্লামেন্ট স্ট্রিট, যন্তর মন্তর, কনট প্লেস-সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ত্রিপুরা রাইফেলস এবং BSF-এর অতিরিক্ত বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

    কেন এই আন্দোলন?

    নিট (NEET) পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) পদত্যাগের দাবিতে কয়েক দিন ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলছে। এই আন্দোলনে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকরাও অংশ নিয়েছেন। দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের নির্ধারিত স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে আন্দোলনকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে সংসদ মার্গের দিকে এগোনোর চেষ্টা করে এবং বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও পরিস্থিতি অশান্ত করে তোলে। এরপর পুলিশের উপর ইট-পাথর, বোতল ও অন্যান্য বস্তু ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় একাধিক পুলিশকর্মী ও আধিকারিক আহত হয়েছেন।

    কী বলছেন জে পি নাড্ডা?

    কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যসভার সাংসদ জে পি নাড্ডা (J P Nadda) বলেন, ‘‘প্রশ্নফাঁসের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে রাজনৈতিক রং দেওয়া উচিত নয়। এই ইস্যুতে সংসদে বিস্তারিত আলোচনায় সরকার প্রস্তুত। আন্দোলনকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সংলাপের পথ খোলা রয়েছে।’’

    সরকারের সাফ বার্তা

    এদিকে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, নিট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় এবং তা নিয়ে রাজনীতি না করে তথ্যভিত্তিক আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যসভার নেতা জে পি নাড্ডা জানিয়েছেন, সরকার এই ইস্যুতে সংসদে বিস্তারিত আলোচনায় প্রস্তুত এবং আন্দোলনকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সংলাপের দরজা খোলা রয়েছে। একইসঙ্গে সরকারের স্পষ্ট বার্তা, গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদের অধিকার সকলের থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা বা পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের উপর হামলার মতো ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যারা হিংসায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

  • S Jaishankar: ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সীমান্তে শান্তিই প্রধান শর্ত, ম্যানিলায় ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠকে বার্তা জয়শঙ্করের

    S Jaishankar: ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সীমান্তে শান্তিই প্রধান শর্ত, ম্যানিলায় ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠকে বার্তা জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন এবং আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের (India China Ties) সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। বৈঠকে ভারত-চিন সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণ, বাণিজ্যিক ভারসাম্য, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

    ভারত-চিন সম্পর্ক (S Jaishankar)

    বৈঠকের শুরুতেই জয়শঙ্কর বলেন, “গত কয়েক মাসে ভারত ও চিনের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগিয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে কাজানে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের পর থেকেই ইতিবাচক অগ্রগতি শুরু হয়েছে। পরে তিয়ানজিনে দুই দেশের নেতার আরও একটি বৈঠকে সেই ইতিবাচক দিকটি আরও জোরদার হয়েছে। জয়শঙ্কর বলেন, “ভারত বিশ্বাস করে, পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ এবং পারস্পরিক সংবেদনশীলতার ভিত্তিতেই ভারত ও চিনের মধ্যে একটি স্থিতিশীল এবং সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। এমন একটি সম্পর্ক শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, বহুমেরুকেন্দ্রিক এশিয়া এবং বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।” তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় না থাকলে দুই দেশের সম্পর্ক কখনও স্বাভাবিক হতে পারে না। তাঁর কথায়, “সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় থাকাই স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্বশর্ত।”

    দুই দেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ থাকাটা স্বাভাবিক

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে কাজানে দুই দেশের নেতাদের বৈঠকের পর থেকে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে উভয় দেশই ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ রেখে চলেছে। এই লক্ষ্য পূরণে যে সব দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া ও আলোচনা ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলিকে পূর্ণ সমর্থন এবং আরও শক্তিশালী উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। ভারত ও চিন উভয়ই বৃহৎ এবং প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় দুই দেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ থাকাটা স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব আগেই একমত হয়েছিলেন যে মতপার্থক্য কখনও বিরোধে পরিণত হওয়া উচিত নয় (S Jaishankar)। তিনি বলেন, “দু’টি বৃহৎ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত ও চিনের নিজস্ব স্বার্থ থাকবেই। কিন্তু আমাদের নেতারা স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, মতভেদ যেন বিরোধে পরিণত না হয়। সেই মতভেদকে সঠিকভাবে পরিচালনা করাই কূটনীতির দায়িত্ব (India China Ties)।”

    কী বললেন জয়শঙ্কর

    বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা ফের চালু করার উদ্যোগ, ভিসা ব্যবস্থার আপডেট, আবারও কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রা শুরু এবং সীমান্ত বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত করার মতো পদক্ষেপ সম্পর্কের উন্নতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকাই রাখছে। তবে জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে দেন, এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সমাধান হওয়া বাকি রয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য ন্যায্য বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতির ভারসাম্য আনা, সরবরাহ শৃঙ্খলের পূর্বানুমানযোগ্যতা বজায় রাখা এবং সরকারি ও সাধারণ মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সহজ করার বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি প্রয়োজন। তিনি বলেন, “ন্যায্য বাজারে প্রবেশাধিকার, বাণিজ্যে ভারসাম্য, সরবরাহ শৃঙ্খলের নির্ভরযোগ্যতা এবং সরকারি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে আমাদের আরও মনোযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি পারস্পরিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া ও বৈঠকের সময়সূচিও নির্ধারণ করা জরুরি (S Jaishankar)।”

    বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়

    বৈঠকে বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ও গুরুত্ব পায়। চলতি বছরে ব্রিকস গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করছে ভারত। এই প্রসঙ্গে চিনের সহযোগিতার প্রশংসা করেন জয়শঙ্কর। বলেন, “এ বছর ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। এই সময়ে ব্রিকসের বিভিন্ন কর্মসূচি ও উদ্যোগে চিন যে সহযোগিতা করেছে, তার জন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই (India China Ties)।” আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল। তাই এই বৈঠক ছিল আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে মতবিনিময়ের জন্য একটি উপযুক্ত সুযোগ।” বিশ্লেষকদের মতে, ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনার পর ভারত-চিন সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে চাপে ছিল। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশই ধীরে ধীরে আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা, যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলি বর্তমানে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

    সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা

    ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত এই (S Jaishankar) বৈঠককেও সেই ধারাবাহিকতার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, সীমান্ত সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি বাণিজ্য, যোগাযোগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক মঞ্চে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও ভারত ও চিন নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তুলতে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে। জয়শঙ্কর বর্তমানে দু’দিনের সফরে ফিলিপিন্সে রয়েছেন। এই সফরে তিনি আসিয়ান কাঠামোর আওতায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে আসিয়ান-ভারত বিদেশমন্ত্রী বৈঠক, পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলনের বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক এবং আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের বৈঠক। এই (India China Ties) সব বৈঠকে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে ভারত (S Jaishankar)।

     

  • India: জুনেই রুশ তেলের আমদানি ছাড়াল ২৩ লাখ ব্যারেলের গন্ডি, সস্তা জ্বালানির খোঁজে নয়া কৌশল ভারতের

    India: জুনেই রুশ তেলের আমদানি ছাড়াল ২৩ লাখ ব্যারেলের গন্ডি, সস্তা জ্বালানির খোঁজে নয়া কৌশল ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞা, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও, রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কিনে (India) চলেছে ভারত। বলা ভালো, রুশ তেল (Russian Oil) কেনার ক্ষেত্রে ভারত আরও সক্রিয় হয়েছে। বিশ্বের বহু দেশ এখনও রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখলেও, ভারতীয় শোধনাগার সংস্থাগুলি রেকর্ড পরিমাণে রুশ তেল আমদানি করছে। এর ফলে একদিকে যেমন রাশিয়া তার তেলের জন্য একটি বড় ও নির্ভরযোগ্য বাজার পাচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে ভারত তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি জোগাড় করে নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও মজবুত করছে।

    জুন মাসের খতিয়ান (India)

    জানা গিয়েছে, জুন মাসে ২৩ লাখেরও বেশি ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল ভারতের বিভিন্ন বন্দরে এসে পৌঁছেছে। যার আর্থিক মূল্য ৫১৪ কোটি মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জুলাই মাসেও এই আমদানির পরিমাণ প্রায় একই স্তরে থাকতে পারে। ইউরোপের বড় অংশের বাজার হারানোর পর রাশিয়া এখন মূলত এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ওপর নির্ভর করছে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের ধারাবাহিক চাহিদা রাশিয়ার তেল রফতানির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত কেন এত বেশি পরিমাণে রাশিয়ার তেল কিনছে, তার সবচেয়ে বড় কারণ হল তুলনামূলক কম দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মানের অপরিশোধিত তেলের তুলনায় রুশ তেল এখনও উল্লেখযোগ্য ছাড়ে মিলছে। ফলে ভারতীয় শোধনাগার সংস্থাগুলি কম খরচে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারছে। এতে তাদের উৎপাদন ব্যয় কমছে, লাভের পরিমাণ বাড়ছে এবং দেশের জ্বালানি সরবরাহও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হচ্ছে।

    তেল আমদানি বাড়িয়েছে ভারত

    তাছাড়া, পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক সংঘাত ভারতের আমদানি নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সেই কারণে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবহণ ব্যয় বেড়েছে এবং সরবরাহের ধারাবাহিকতাও ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত শুধু রাশিয়া থেকেই নয়, লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকেও তেল আমদানি বাড়িয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি জোগাড় নিশ্চিত করা। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে ভারতে অপরিশোধিত তেলের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তার পরিবর্তে রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে। জুন মাসে ভারতে মোট যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি হয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই এসেছে রাশিয়া থেকে। এই পরিসংখ্যানই স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে রুশ তেলের গুরুত্ব গত কয়েক বছরে কতটা বেড়েছে (Russian Oil)।

    অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী

    এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে ব্রেন্ট মানের অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ মার্কিন ডলারের ওপরে উঠে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তুলনামূলক কম দামে রুশ তেল পাওয়া ভারতীয় সংস্থাগুলির কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আরও বাড়ে, তাহলে রাশিয়া থেকে আমদানির প্রবণতাও বজায় থাকতে পারে (India)। রাশিয়ার ক্ষেত্রেও ভারতের এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপীয় দেশগুলি রাশিয়ার ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে ইউরোপে রুশ তেলের বাজার অনেকটাই ছোট হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমী দেশগুলির নানা বিধিনিষেধের কারণে জাহাজ পরিবহণ, বিমা এবং আর্থিক লেনদেনেও রাশিয়া নানা সমস্যায় জর্জরিত। সেই সময় থেকেই এশিয়ার দেশগুলির দিকে ঝুঁকতে শুরু করে ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ।

    নয়াদিল্লির সাফ কথা

    ২০২২ সালের আগে পর্যন্ত ভারত রাশিয়া থেকে খুব সীমিত পরিমাণে তেল আমদানি করত। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারত ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ক্রেতায়। বর্তমানে চিন ও ভারতের মতো দেশগুলির চাহিদাই রাশিয়ার তেল রফতানিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে (India)। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে বারবার উঠেছে প্রশ্ন। যদিও নয়াদিল্লি বরাবরই জানিয়ে এসেছে, তাদের তেল কেনার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণই বাণিজ্যিক বিবেচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয় (Russian Oil)। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তুলনামূলক কম দামে তেল সংগ্রহ করা এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখাই সরকারের পাখির চোখ। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন প্রশাসন অস্থায়ীভাবে কিছু রুশ তেলবাহী চালানের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিয়েছিল। পরে সেই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হলেও, ভারত সাফ জানিয়ে দেয়, তাদের আমদানি নীতির মূল ভিত্তি থাকবে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা কূটনৈতিক চাপের ভিত্তিতে নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই নেওয়া হবে সিদ্ধান্ত (India)।

    ভারতের বহুমুখী আমদানি কৌশল

    শিল্পমহলের পর্যবেক্ষণ, বর্তমানে ভারত একাধিক দেশ থেকে তেল আমদানি করছে এবং প্রয়োজনীয় মজুতও বজায় রেখেছে। ফলে কোনও একটি অঞ্চলে সংঘাত বা সরবরাহ ব্যাহত হলেও, দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম। এই বহুমুখী আমদানি কৌশল ভবিষ্যতেও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। বিশ্ব রাজনীতিতে জ্বালানি এখন শুধু অর্থনীতির বিষয় নয়, কৌশলগত ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট—যেখানে সুলভ মূল্যে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি মিলবে, সেখান থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহ করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যতদিন রাশিয়া আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় কম দামে অপরিশোধিত তেল বিক্রি করবে এবং বিকল্প উৎসগুলিতে অনিশ্চয়তা বজায় থাকবে, ততদিন (Russian Oil) ভারত মস্কো থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে চলবে বলেই ধারণা (India) সংশ্লিষ্টমহলের।

     

LinkedIn
Share