Blog

  • Swadeshi Jagran Manch: জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে স্টারলিঙ্ককে ভারতে অনুমতি না দেওয়ার দাবি স্বদেশি জাগরণ মঞ্চের

    Swadeshi Jagran Manch: জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে স্টারলিঙ্ককে ভারতে অনুমতি না দেওয়ার দাবি স্বদেশি জাগরণ মঞ্চের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন তুলে ইলন মাস্কের সংস্থা স্টারলিঙ্ককে ভারতে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানাল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত সংগঠন স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ (Swadeshi Jagran Manch)। গত ১৩ অক্টোবর এই বিষয়ে কেন্দ্রের কাছে নিজেদের আপত্তির কথা জানায় সংগঠনটি। স্বদেশি জাগরণ মঞ্চের জাতীয় সহ-আহ্বায়ক অশ্বিনী মহাজনের দাবি, স্টারলিঙ্কের প্রযুক্তি ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মকানুন কার্যকর করার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে, স্যাটেলাইটের মধ্যে লেজার-ভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি তথ্য আদানপ্রদান হওয়ায় সেই তথ্য ভারতীয় গ্রাউন্ড স্টেশনে পৌঁছনোর আগে সরকারি নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

    ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ জরুরি’

    এসজেএমের বক্তব্য, বর্তমানে ভারতে বিভিন্ন ধরনের আইনশৃঙ্খলাজনিত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে গুজব ও দেশবিরোধী প্রচার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। বিচ্ছিন্নতাবাদ, সন্ত্রাসবাদ, দাঙ্গা, বিক্ষোভ-সহ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অনেক সময় ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ন্ত্রণ বা সাময়িকভাবে বন্ধ করা জরুরি হয়ে পড়ে। অশ্বিনী মহাজনের বক্তব্য, স্টারলিঙ্কের মতো স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার ক্ষেত্রে সরকার নির্দেশ দিলে দ্রুত ও নির্দিষ্ট এলাকায় পরিষেবা বন্ধ করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, স্টারলিঙ্ক এখনও এই শর্ত পূরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়নি। অথবা সংস্থাটির প্রযুক্তিগত কাঠামোতেই এই ধরনের নিয়ন্ত্রণের সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।

    ইলন মাস্কের অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক

    ভারতে স্টারলিঙ্কের পরিষেবা চালুর অনুমতি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইলন মাস্ক অভিযোগ করেছিলেন, ভারতের কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী স্টারলিঙ্কের পরিষেবা চালুর পথে বাধা সৃষ্টি করছে। তবে কেন্দ্র সেই অভিযোগ খারিজ করে জানিয়েছে, ভারতের স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার নিয়ন্ত্রক কাঠামো ন্যায্য ও বৈষম্যহীন। মাস্কের এই মন্তব্যের সমালোচনা করে মহাজনের দাবি, ভারতের নির্দিষ্ট নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করার পরিবর্তে জনমতকে কাজে লাগিয়ে সরকারের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করছে স্টারলিঙ্ক। তাঁর মতে, সংস্থাটি যদি ভারতীয় নিয়ম মেনে চলতে প্রস্তুত না থাকে, তা হলে পরিষেবা চালুর অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।

    ইউক্রেন থেকে তাইওয়ান—বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার উল্লেখ

    স্টারলিঙ্কের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইউক্রেন, ইরান, রাশিয়া, চিন, তাইওয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, ভেনেজুয়েলা ও সুদানের মতো বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছে স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ। সংগঠনটির দাবি, এই দেশগুলির অভিজ্ঞতা থেকে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার কৌশলগত ও নিরাপত্তাগত প্রভাব খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। মহাজনের বক্তব্য, দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হতে সামান্য দেরি হলেও তাতে সমস্যা নেই। বরং দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে স্টারলিঙ্কের তুলনায় কম খরচে পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে বলে দাবি তাঁর।

    লাইসেন্স পেলেও বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরুর ছাড়পত্র মেলেনি

    উল্লেখ্য, ভারতে স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড পরিষেবা চালুর জন্য স্টারলিঙ্ক আবেদন করেছে। রিলায়েন্স জিও এবং ভারতী গোষ্ঠী-সমর্থিত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েবও এই পরিষেবা চালুর ক্ষেত্রে অনুমোদন পেয়েছে। তবে লাইসেন্স থাকলেই বাণিজ্যিক পরিষেবা চালু করা যাবে না। স্পেকট্রাম বরাদ্দ ও পরিষেবা চালুর আগে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনটি সংস্থারই নিরাপত্তা সংক্রান্ত মূল্যায়ন চলছে এবং নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে তারা মোটামুটি একই পর্যায়ে রয়েছে। কেন্দ্রীয় যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াও জানিয়েছেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আওতাধীন। ফলে স্টারলিঙ্কের ভারতে বাণিজ্যিক পরিষেবা চালুর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত পূরণ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদনের উপর। স্বদেশি জাগরণ মঞ্চের আপত্তি এই বিতর্ককে আরও জোরালো করল।

  • World Food Day 2026: খাদ্যে স্বনির্ভরতা থেকে পুষ্টি সুরক্ষা, কৃষিক্ষেত্রে মোদি সরকারের একাধিক উদ্যোগ

    World Food Day 2026: খাদ্যে স্বনির্ভরতা থেকে পুষ্টি সুরক্ষা, কৃষিক্ষেত্রে মোদি সরকারের একাধিক উদ্যোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস। ২০২৬ সালের জন্য রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-র নির্ধারিত থিম ‘ইনোভেট টুডে, নারিশ টুমরো’—অর্থাৎ, ‘আজ উদ্ভাবন, আগামী দিনের পুষ্টি সুনিশ্চিতকরণ’। এই প্রেক্ষাপটে খাদ্য উৎপাদন, কৃষকদের আর্থিক সহায়তা এবং পুষ্টি সুরক্ষার ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। একসময় খাদ্যসংকট মোকাবিলায় বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভর করতে হত ভারতকে। ১৯৬০-এর দশকে ‘শিপ-টু-মাউথ’ পরিস্থিতিতে বিদেশ থেকে আসা খাদ্যশস্যের উপর নির্ভরশীল ছিল দেশ। সেখান থেকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে আজ ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কৃষি বাজারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার গত এক দশকে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচের সম্প্রসারণ, উন্নত বীজের ব্যবহার এবং খাদ্যবণ্টন ব্যবস্থার উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ করেছে।

    ৮১ কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্য সুরক্ষা

    কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের মোট খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়ে ৩৭৬.৫৬ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। চাল উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি দুধ ও মিলেট উৎপাদনে ভারত বিশ্বে প্রথম এবং মাছ, ফল ও সবজি উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রের অন্যতম বড় কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা (PMGKAY)। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন (NFSA)-এর আওতায় প্রায় ৮১.৩৫ কোটি উপভোক্তা এই ব্যবস্থার সুবিধা পাচ্ছেন। কোভিড অতিমারির সময় চালু হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে খাদ্যশস্য সরবরাহের মেয়াদ ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আরও পাঁচ বছর, অর্থাৎ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারগুলির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের আর্থিক চাপও কমানো সম্ভব হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য মোট ১১.৮০ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি হিসেবে এই প্রকল্প দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি মানুষের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

    পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল ও অপুষ্টি মোকাবিলায় উদ্যোগ

    শুধু পেট ভরলেই খাদ্য নিরাপত্তা সম্পূর্ণ হয় না। শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের অভাব বা ‘হিডেন হাঙ্গার’ দূর করাও সমান জরুরি। বিশেষত মহিলা ও শিশুদের মধ্যে রক্তাল্পতা এবং অন্যান্য পুষ্টির ঘাটতি মোকাবিলায় চালের পুষ্টিগুণ বৃদ্ধির উপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশজুড়ে পুষ্টিসমৃদ্ধ চাল সরবরাহের কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই চালের সঙ্গে আয়রন, ফলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন বি১২ যুক্ত করা হচ্ছে। গণবণ্টন ব্যবস্থা (PDS) এবং পিএম-পোষণ প্রকল্পের আওতায় এই চাল সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য মোট ১৭,০৮২ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ (ICAR) ১০০টিরও বেশি পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসলের নতুন জাত তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই উদ্যোগগুলির লক্ষ্য, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের খাদ্যতালিকায় পুষ্টির পরিমাণ বাড়ানো।

    ‘শ্রী অন্ন’-এর প্রচার, মিলেটে বিশ্ববাজারের নজর

    জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং জলের ক্রমবর্ধমান চাহিদার মধ্যে মিলেট বা বাজরা-জাতীয় শস্যের গুরুত্ব বাড়ছে। তুলনামূলকভাবে কম জলে এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় এই শস্য চাষ করা সম্ভব হওয়ায় কৃষকদের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। ভারতের উদ্যোগে রাষ্ট্রসংঘ ২০২৩ সালকে আন্তর্জাতিক মিলেট বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। দেশীয় এই শস্যকে ‘শ্রী অন্ন’ নামে প্রচারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা চলছে। মিলেট প্রক্রিয়াকরণ, কৃষিভিত্তিক স্টার্টআপ এবং রফতানি বৃদ্ধির উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই শস্যের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানো গেলে একদিকে যেমন কৃষকদের আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে তেমনই জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় কৃষিক্ষেত্রের সহনশীলতাও বাড়তে পারে।

    ডাল ও ভোজ্যতেলে স্বনির্ভরতার লক্ষ্য

    খাদ্যশস্য উৎপাদনে ভারত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও ডাল ও ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। সেই নির্ভরতা কমাতে কেন্দ্র ডাল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং তৈলবীজ চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৫-২৬ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত জাতীয় ডাল স্বনির্ভরতা মিশনের জন্য ১১,৪৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে। ২০৩১ সালের মধ্যে ডালের চাহিদা মেটাতে দেশীয় উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। অন্যদিকে, দেশের মোট ভোজ্যতেলের চাহিদার প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই নির্ভরতা কমাতে জাতীয় ভোজ্যতেল মিশন—অয়েল পাম প্রকল্পের অধীনে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে পাম তেলের চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় এবং দেশীয় কৃষকদের আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

    ডিজিটাল কৃষি ও কৃষকদের আর্থিক সহায়তা

    কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতেও একাধিক প্রকল্প চালু করেছে কেন্দ্র। ডিজিটাল এগ্রিকালচার মিশন বা এগ্রিস্ট্যাকের জন্য ২,৮১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর আওতায় কৃষকদের জমির ডিজিটাল তথ্যভান্ডার, কৃষিকাজে ড্রোনের ব্যবহার এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসের মতো প্রযুক্তির উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই প্রকল্পে ১১ কোটিরও বেশি কৃষকের অ্যাকাউন্টে সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর বা DBT-র মাধ্যমে ৩ লক্ষ কোটি টাকার বেশি অর্থ পাঠানো হয়েছে। কৃষকদের বীজ, সার এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ কেনার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা জোগানোই এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। এর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষিকাজের খরচ নিয়ন্ত্রণেও সুবিধা হতে পারে।

    কৃষি রফতানি ও বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তায় ভারতের ভূমিকা

    দেশীয় খাদ্য চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও ভারতের কৃষিপণ্যের গুরুত্ব বাড়ছে। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের মোট কৃষিপণ্য রফতানির পরিমাণ ৫৩.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। নন-বাসমতি চাল রফতানির উপর ন্যূনতম রফতানি মূল্য ও অন্যান্য বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় চালের সরবরাহ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশে খাদ্যশস্য সরবরাহের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটের সময় খাদ্য সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ভারতের ভূমিকা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—অর্থাৎ, ‘সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার’—দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তায় ভারতের অবদান তুলে ধরছে কেন্দ্র।

    খাদ্য নিরাপত্তা থেকে পুষ্টি সুরক্ষা—নতুন চ্যালেঞ্জ

    বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৬-এ ভারতের কৃষিক্ষেত্রের অগ্রগতি যেমন সামনে এসেছে, তেমনই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, বিনামূল্যে রেশন, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য, কৃষকদের আর্থিক সহায়তা এবং কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার—এই সমস্ত উদ্যোগের লক্ষ্য দেশের খাদ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা। তবে উৎপাদনের সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদি পুষ্টি সুরক্ষায় রূপান্তরিত করতে হলে অপুষ্টি মোকাবিলা, কৃষকদের ন্যায্য আয়, জলসম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার উপরও গুরুত্ব দিতে হবে। বিদেশি সাহায্যনির্ভরতা থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য উৎপাদক দেশে পরিণত হওয়ার যাত্রায় ভারত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এখন সেই অগ্রগতির পরবর্তী লক্ষ্য—প্রতিটি মানুষের কাছে পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য পৌঁছে দেওয়া এবং একই সঙ্গে কৃষিক্ষেত্রকে আরও স্বনির্ভর ও টেকসই করে তোলা।

  • US Midterm Elections: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তলানিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, মূল্যবৃদ্ধি ও ইরান যুদ্ধ ঘিরে বাড়ছে ক্ষোভ

    US Midterm Elections: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তলানিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, মূল্যবৃদ্ধি ও ইরান যুদ্ধ ঘিরে বাড়ছে ক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের (US Midterm Elections) আগে বড়সড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। এর জেরে একাধিক জনমত সমীক্ষায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কয়েকটি সমীক্ষায় তাঁর অনুমোদনের হার ৩১ থেকে ৩৪ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। ফলে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা রিপাবলিকানদের কাছে কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    মূল্যবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ

    ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের অসন্তোষ ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানির খরচ এবং পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বহু মানুষ। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্টের ভূমিকা নিয়েও সন্তুষ্ট নন অধিকাংশ ভোটার। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-নরক-এর সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মাত্র ১৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর প্রতি সমর্থনের হার ২৬ শতাংশ। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ৬৫ শতাংশের মতে, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পের নীতিই বহুলাংশে দায়ী। কর্মসংস্থানের ছবিও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। সেপ্টেম্বরে মার্কিন অর্থনীতিতে মাত্র ২৯ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রত্যাশার তুলনায় এই সংখ্যা অনেকটাই কম। ফলে মার্কিন শ্রমবাজারের শক্তি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

    ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন অত্যন্ত কম

    ফিনান্সিয়াল টাইমস-ফোকালডেটার একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন অত্যন্ত কম। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ভোটারদের ৪৫ শতাংশের ধারণা, ট্রাম্পের অবস্থান রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী জয়ের সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলছে। অন্যদিকে, দেশের অর্থনীতি ভুল পথে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি উত্তরদাতা। এপি-নরক-এর ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের সমীক্ষা অনুযায়ী, ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে। প্রায় ৪৬ শতাংশের দাবি, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর সময়ের তুলনায় তাঁদের পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। জ্বালানি ও খাবারের খরচ বহন করা নিয়েও প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প

    ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আরেকটি বড় রাজনৈতিক সমস্যা হয়ে উঠেছে ইরানের সঙ্গে সংঘাত। যুদ্ধের মেয়াদ, আর্থিক ব্যয় এবং তার কৌশলগত পরিণতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মূল্য দেওয়া সার্থক হয়নি। মাত্র ২৮ শতাংশ এই সংঘাত মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এমনকী, রিপাবলিকান সমর্থকদের একাংশের মধ্যেও যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণে বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে তেল ও জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মার্কিন পরিবারগুলির দৈনন্দিন ব্যয়ে। প্রথমদিকে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানকে ঘিরে সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় যুদ্ধের আর্থিক ও কৌশলগত মূল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সমীক্ষায় প্রায় ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন, ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিন চলতে পারে। রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও এই আশঙ্কা রয়েছে।

    শুল্কনীতি নিয়েও বাড়ছে বিরোধিতা

    ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি ও আমদানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তও জনসমর্থন হারানোর অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। সমীক্ষায় প্রায় ৬৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছেন। জানুয়ারিতে এই মত পোষণকারীর হার ছিল ৫৮ শতাংশ। অন্য দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩০ শতাংশের কাছাকাছি উত্তরদাতা। প্রশাসনের দাবি, শুল্কনীতি মার্কিন শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। কিন্তু বিরোধীদের বক্তব্য, এই নীতির ফলে আমদানি করা পণ্য ও বিভিন্ন উপকরণের খরচ বাড়তে পারে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের উপরেই পড়বে।

    হিস্পানিক ভোটারদের সমর্থনেও ভাঙন

    ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল হিস্পানিক বা লাতিনো বংশোদ্ভূত মার্কিন ভোটারদের মধ্যে সমর্থন কমে যাওয়া। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন ট্রাম্পের জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সমীক্ষায় মাত্র ২৪ শতাংশ হিস্পানিক মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মাত্র ২৬ শতাংশ হিস্পানিক ভোটার। অন্যদিকে, ৫২ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। বয়স্ক ভোটারদের মধ্যেও রিপাবলিকানদের ব্যবধান কমেছে। ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সি ভোটারদের মধ্যে রিপাবলিকানদের এগিয়ে থাকার ব্যবধান নেমে এসেছে মাত্র দুই শতাংশে। গত ডিসেম্বরে এই ব্যবধান ছিল আট শতাংশ। অন্যদিকে, ৫০ বছরের কম বয়সি ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা ১৮ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন।

    কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা নিয়ে উদ্বেগ

    আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সেনেটের ৩৫টি আসনে নির্বাচন হবে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই সামান্য। ফলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে ফলের পরিবর্তনই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করতে পারে। সাম্প্রতিক নির্বাচনী মূল্যায়নে ১৮টি প্রতিনিধি পরিষদের আসনের লড়াই ডেমোক্র্যাটদের অনুকূলে সরে গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেই মূল্যায়ন অনুযায়ী, নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা ৯ থেকে ১৯টি আসন বাড়াতে পারেন। মূল্যবৃদ্ধি, দুর্বল কর্মসংস্থান, ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ এবং হিস্পানিক ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে সমর্থন হ্রাস—সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে কঠিন পরিস্থিতির মুখে রিপাবলিকানরা। ট্রাম্পের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হল, অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে ভোটারদের আস্থা ফেরানো এবং দলের নির্বাচনী সমর্থন ধরে রাখা।

     

  • Dipke Neha Face Chaos: নেহা-দিপকের বিরুদ্ধে ‘দূর হটো’ স্লোগান! সাংবাদিক সম্মেলনে বিশৃঙ্খলা

    Dipke Neha Face Chaos: নেহা-দিপকের বিরুদ্ধে ‘দূর হটো’ স্লোগান! সাংবাদিক সম্মেলনে বিশৃঙ্খলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধীরে ধীর প্রভাব কমছে! সামনে আসছে চরিত্র! দিল্লিতে সিজেপির (CJP Protest) সাংবাদিক বৈঠকে চরম বিশৃঙ্খলা এবং হট্টগোলের ঘটনায় কী সের ইঙ্গিত? অভিজিৎ দিপকে (Abhijeet Dipke) এবং ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা)-র সভানেত্রী নেহা বোরার আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত একাংশের প্রবল চিৎকারের জেরে উত্তেজক পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই ঘটনায় আবার রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে আইসা সভানেত্রী নেহা বোরা এবং সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে যখন তাঁদের বক্তব্য রাখছিলেন, ঠিক সেই সময়ই হঠাৎ করে উপস্থিত দর্শকদের মধ্য থেকে চরম বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। একাংশ তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলতে শুরু করেন, “বন্ধ কর তোমাদের সম্মেলন। দূর হটো।”

    বাংলাদেশ মন্তব্যে অস্বস্তিতে নেহা-দিপকে

    এই পরিস্থিতিতে নেহা বোরার চোখে-মুখে স্পষ্ট বিরক্তি ও অসন্তোষ ফুটে ওঠে। ঘটনার জেরে বাধ্য হয়েই তিনি এবং অভিজিৎ দিপকে তাঁদের আসন ছেড়ে উঠে চলে যান। তবে আসন ছাড়ার আগে নেহা আয়োজকদের স্পষ্টভাবে অনুরোধ করেন, যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও গোলমাল পাকানো ব্যক্তিদের দ্রুত বের করে দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক কিছু অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে এই প্রতিবাদের সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি আইসা সভানেত্রী নেহা বোরা এবং প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের দুটি মন্তব্যকে হাতিয়ার করে শাসক দল বিজেপি কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করতে শুরু করেছে। বিগত দিনে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত প্রতিবাদের অন্যতম পরিচিত ছাত্র মুখ হিসেবে উঠে আসা নেহা সম্প্রতি প্রকাশ্যে ২০২৪ সালের বাংলাদেশের জেন জি (Gen Z) ছাত্র আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দাবি করেন যে সেই আন্দোলনই তাঁদের পথ দেখিয়েছে।

    বাংলাদেশ অনুপ্রেরণা!

    বিজেপির প্রকাশিত একটি ভিডিও ক্লিপে আইসা সভানেত্রীকে বলতে শোনা গেছে যে, ভারতে তরুণ সমাজকে গণতন্ত্র এবং ভোটাধিকারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ করার পেছনে মূলত ২০২৪ সালের বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের বড় অনুপ্রেরণা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহত্তম ছাত্র সংগঠনের একটি ভার্চুয়াল সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন যে, ভারতে যে জেন জি আন্দোলন এখন দেখা যাচ্ছে, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে এবং সঠিক পথ দেখিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি তাঁদের অভিনন্দন জানান। উল্লেখ্য, শুক্রবার দিল্লিতে নতুন বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে দিপকে। ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বা ‘তেরঙা ওড়াও’ অভিযানে দেশের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে তরুণ প্রজন্মকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষ এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির কর্মী-সমর্থকদেরও উদ্দেশেও বার্তা দিয়েছেন।

  • Calling Name Presentation: ১ নভেম্বর থেকে অজানা নম্বর থেকেও ফোন এলে দেখা যাবে কলারের নাম! বাধ্যতামূলক হচ্ছে সিএনএপি পরিষেবা

    Calling Name Presentation: ১ নভেম্বর থেকে অজানা নম্বর থেকেও ফোন এলে দেখা যাবে কলারের নাম! বাধ্যতামূলক হচ্ছে সিএনএপি পরিষেবা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফোনে আর অচেনা নম্বর দেখে চিন্তায় পড়তে হবে না! আগামী ১ নভেম্বর, ২০২৬ থেকে দেশে ৪জি ও তার পরবর্তী প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্কে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হতে চলেছে কলারের নাম শনাক্তকরণ পরিষেবা (Calling Name Presentation)। কেন্দ্রের টেলিযোগাযোগ দফতর (DoT) টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে এই নির্দেশ দিয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় ফোন আসার সঙ্গে সঙ্গেই স্ক্রিনে কলারের মোবাইল নম্বরের পাশাপাশি তাঁর নামও দেখা যাবে। এই পরিষেবার নাম কলিং নেম প্রেজেন্টেশন (CNAP)। এর মাধ্যমে টেলিকম সংস্থার গ্রাহক-তথ্যভাণ্ডারে নথিভুক্ত নাম ব্যবহার করে কলারের পরিচয় সামনে আনা হবে। মূলত অজানা নম্বর থেকে আসা ফোন শনাক্ত করা এবং প্রতারণামূলক কল মোকাবিলায় এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    কীভাবে কাজ করবে নতুন ব্যবস্থা?

    টেলিযোগাযোগ দফতর-এর নির্দেশ অনুযায়ী, ফোন এলে মোবাইলের স্ক্রিনে প্রথমে দেখা যাবে কলারের নম্বর। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে প্রদর্শিত হবে কলারের নাম। নম্বরটি ফোনের কনট্যাক্টে সেভ করা থাকলে সেখানে থাকা নাম দেখা যাবে। আর নম্বরটি সেভ করা না থাকলে, দেশীয় কলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট টেলিকম সংস্থার গ্রাহক-তথ্যভাণ্ডারে নথিভুক্ত নাম দেখানো হবে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক কলের ক্ষেত্রে স্ক্রিনে ‘ইন্টারন্যাশনাল কল’ লেখা দেখা যাবে।

    কোন কোন নেটওয়ার্কে চালু হবে?

    প্রাথমিকভাবে ৪জি এবং ৫জি-সহ উন্নত প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্কে সিএনএপি পরিষেবা ডিফল্টভাবে চালু করা হবে। অর্থাৎ, গ্রাহকদের আলাদা করে এই পরিষেবা সক্রিয় করার আবেদন করতে হবে না। তবে ২জি, ৩জি এবং ল্যান্ডলাইন নেটওয়ার্কে এই ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি পরবর্তী পর্যায়ে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে। তবে কলারের নাম দেখা গেলেই যে ফোনটি সম্পূর্ণ নিরাপদ, তা নয়। প্রতারণার ঝুঁকি এড়াতে ব্যক্তিগত তথ্য, ওটিপি বা ব্যাঙ্কের গোপন তথ্য কাউকে জানানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

    ব্যবসায়িক নম্বরের ক্ষেত্রে কী হবে?

    ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং বাল্ক সংযোগের ক্ষেত্রে টেলিকম সংস্থাগুলি গ্রাহকদের পছন্দের নাম দেখানোর সুযোগ দিতে পারে। তবে সেই নাম অবশ্যই নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নথিভুক্ত হতে হবে। যেমন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রি থেকে নথিভুক্ত ট্রেডমার্ক অথবা জিএসটি পোর্টালে নথিভুক্ত ব্যবসায়িক নাম ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে নাম ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করবে টেলিকম সংস্থাগুলি। ইতিমধ্যে যাঁরা সংযোগ নিয়েছেন, তাঁদের পছন্দের নাম যুক্ত করতে আবেদন করতে হবে।

    গোপনীয়তা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা

    কলারের নাম প্রদর্শনের পাশাপাশি গ্রাহকদের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে নির্দেশিকায়। টেলিকম সংস্থাগুলিকে নিরাপত্তা-নির্ভর প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কল শেষ হওয়ার পর নাম যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত প্রশ্ন-উত্তর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কলারের নাম সংরক্ষণ করা যাবে না। এছাড়া, যাঁরা কলিং লাইফ আইডেন্টিফিকেশন রেসট্রিকশন (CLIR) পরিষেবা ব্যবহার করেন, তাঁদের নাম প্রদর্শন করা হবে না। গত কয়েক মাসে ৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্কে এই পরিষেবার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছে। টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (TRAI)-এর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির সুপারিশও এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে।

     

     

     

     

     

  • Millben Targets Dipke: ২০২৯-এও জিতবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি! ফের দীপকেকে আক্রমণ মার্কিন গায়িকা মিলবেনের

    Millben Targets Dipke: ২০২৯-এও জিতবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি! ফের দীপকেকে আক্রমণ মার্কিন গায়িকা মিলবেনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের কক্‌রোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে নিশানা করলেন মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেন (Millben Targets Dipke)। বুধবার রাতে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমেরিকার সমর্থনের কোনও প্রয়োজন নেই। তাঁর পাশে রয়েছেন দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ। একই সঙ্গে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও মোদির জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন তিনি।

    দীপকের উদ্দেশে মিলবেন

    প্রধানমন্ত্রী মোদির (Mary Millben about PM Modi) প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনের জন্য পরিচিত মিলবেন দীপকের উদ্দেশে লেখেন, “সত্য সকলকে মুক্তি দেয়। আপনাকেও।” তাঁর অভিযোগ, আমেরিকাভিত্তিক অনুদানদাতারা রাজনৈতিক সাফল্য না এলে দীপকের পাশ থেকে সরে যাবেন। তাঁর বক্তব্য, “আইনহীনতা কখনও জয়ী হয় না।” এর পরেই সিজেপি নেতাকে নিজের রাজনৈতিক কৌশল পরিবর্তনের পরামর্শ দেন মিলবেন। দীপকের মার্কিন শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রতিভাকে ইতিবাচক কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভারতের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা নিতে দীপকের উচিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসা। তাঁর মতে, সঠিক কাজ করার সাহসের প্রমাণ দিতে হলে দীপককে আগামী দিনে নিজের পদক্ষেপের মাধ্যমে তা দেখাতে হবে।

    মোদির পাশে ভারতীয়রা, দাবি মিলবেনের

    ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী মোদির জনসমর্থনের পক্ষে সওয়াল করেছেন মার্কিন গায়িকা। তাঁর দাবি, মোদি আমেরিকার সমর্থনের উপর নির্ভরশীল নন। বরং দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষের সমর্থন পেয়ে আসছেন তিনি। মিলবেনের কথায়, “প্রধানমন্ত্রীর আমেরিকার সমর্থনের প্রয়োজন নেই। তাঁর পাশে রয়েছেন ১৫০ কোটি ভারতীয় নাগরিক।” ২৫ বছরের জনজীবন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১২ বছরের দায়িত্ব এবং পরপর তিনটি লোকসভা নির্বাচনে জয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, ২০২৯ সালেও মোদি জয়ী হবেন।

    কী নিয়ে সংঘাত দীপকে ও মিলবেনের?

    মিলবেন ও দীপকের এই বাক্‌যুদ্ধের সূত্রপাত বিদেশি অনুদান এবং ভারতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। এর আগে মিলবেন অভিযোগ করেছিলেন, আমেরিকাভিত্তিক কিছু অনুদানদাতা ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অস্থির করার উদ্দেশ্যে দীপক ও তাঁর দলকে অর্থ জোগাচ্ছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, বিদেশি অনুদানদাতারা কখনও কখনও আমেরিকায় শিক্ষিত ব্যক্তিদের বেছে নিয়ে তাঁদের উগ্রপন্থী করে তোলেন এবং পরে নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য অর্থ সাহায্য করেন।মমিলবেনের অভিযোগের জবাবে দীপকে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে বিদেশি নাগরিকদের হস্তক্ষেপের অধিকার কে দিয়েছে? তাঁর বক্তব্য, ভারতীয়রা নিজেদের সমস্যার সমাধান নিজেরাই করতে সক্ষম। দীপকে আরও দাবি করেন, বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর পড়াশোনার খরচ মিটেছিল বৃত্তি ও শিক্ষাঋণের মাধ্যমে। বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন।

    মোদিকে সম্মান মেরি মিলবেনের

    মেরি মিলবেন একজন আফ্রিকান-আমেরিকান অভিনেত্রী ও গায়িকা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি তাঁর সমর্থন বহুবার প্রকাশ্যে এসেছে। ২০২৩ সালে মোদির রাষ্ট্রীয় আমেরিকা সফরের সময় তিনি ভারতের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেছিলেন। সম্প্রতি মোদির ২৫ বছরের জনজীবনের প্রশংসা করে তাঁকে ‘ভারতীয় স্বপ্নের উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

     

  • US Teen’s Plot To Kill Indians: রাইফেলে যান্ত্রিক ত্রুটি, তাই রক্ষা! শিকাগোর হিন্দু মন্দিরে ভারতীয়দের হত্যার ছক ১৯ বছরের যুবকের

    US Teen’s Plot To Kill Indians: রাইফেলে যান্ত্রিক ত্রুটি, তাই রক্ষা! শিকাগোর হিন্দু মন্দিরে ভারতীয়দের হত্যার ছক ১৯ বছরের যুবকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় একটি হিন্দু মন্দিরে বিপুল সংখ্যক ভারতীয়কে হত্যার (US Teen’s Plot To Kill Indians) পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ১৯ বছরের এক যুবককে। অভিযুক্তের নাম আলেকজান্দ্রোস পাপোরাকিস। পেশায় তিনি একটি টাকো বেল (Taco Bell) রেস্তরাঁর ক্যাশিয়ার। গত ১১ অক্টোবর শিকাগোর শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর স্বামী বালাজি মন্দিরে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে তিনি গিয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। কিন্তু তাঁর রাইফেলে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এর মধ্যেই তাঁর এক সহকর্মী সময়মতো পুলিশকে খবর দেওয়ায় সম্ভাব্য বড়সড় হত্যাকাণ্ড এড়ানো সম্ভব হয়। অভিযুক্তের লক্ষ্য ছিল মন্দিরে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক ভারতীয়কে হত্যা করা। রবিবার মন্দিরটিতে সাধারণত তিন হাজারেরও বেশি ভক্তের সমাগম হয়। তার উপর নবরাত্রি উপলক্ষে ভক্তদের ভিড় আরও বাড়ার সম্ভাবনা ছিল। সেই পরিস্থিতিতে হামলার পরিকল্পনা আরও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারত বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

    সহকর্মীদের কাছে প্রকাশ্যে ভারতীয়দের হত্যার হুমকি

    আদালতে জমা দেওয়া নথি এবং সহকর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, পাপোরাকিস কর্মস্থলে নিজেকে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী (White Supremacist) বলে পরিচয় দিতেন। তিনি সহকর্মীদের কাছে ভারতীয়দের হত্যা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলেও অভিযোগ। এমনকী, ১১ অক্টোবরের রবিবারকে তিনি ‘বিশেষ দিন’ বলে উল্লেখ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবীরা। তবে তাঁর বয়স কম হওয়ায় সহকর্মীরা প্রথমে এই হুমকিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেননি বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু ১১ অক্টোবর সংশোধিত এআর-ধাঁচের রাইফেল নিয়ে তিনি মন্দিরের উদ্দেশে রওনা হন বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, মন্দিরে পৌঁছে তিনি গুলি চালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু রাইফেলটি জ্যাম হয়ে যাওয়ায় গুলি বেরোয়নি। এরপর তিনি মায়ের বাড়িতে ফিরে যান এবং কীভাবে রাইফেলের ত্রুটি সারানো যায়, তা জানতে ইন্টারনেটে খোঁজাখুঁজি করেন। এরই মধ্যে এক সহকর্মীকে ফোন করে গণহত্যার পরিকল্পনার কথা জানায় আলেকজান্দ্রোস। সেই সহকর্মী পুলিশকে বিষয়টি জানালে তদন্ত শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত মন্দিরে ফিরে যাওয়ার আগেই পাপোরাকিসকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    বাড়ি থেকে উদ্ধার ৩০০ রাউন্ড গুলি, নাৎসি প্রতীক

    অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তদন্তকারীরা বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর সামগ্রী উদ্ধার করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৩০০ রাউন্ড গুলি, বডি আর্মার, একটি গ্যাসের ক্যানিস্টার এবং নাৎসি প্রতীক ও স্বস্তিকা-চিহ্নযুক্ত একাধিক সামগ্রী। গ্যাসের ক্যানিস্টারে দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে অবমাননাকর শব্দও লেখা ছিল বলে জানা গিয়েছে। এ ছাড়াও উদ্ধার হয়েছে একটি ইস্তাহার বা ম্যানিফেস্টো। সেখানে অভিযুক্ত নিজেকে ‘অরোরা শুটার’ বলে উল্লেখ করেছেন। লেখায় ভারতীয়, ইহুদি, আফ্রিকান-আমেরিকান-সহ বিভিন্ন অশ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর প্রতি তাঁর বিদ্বেষের প্রতিফলন রয়েছে। নিজেকে ‘শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী নব্য-নাৎসি’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিদিন গণহত্যার কল্পনা করার কথাও ওই লেখায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

    এই ঘটনা আমেরিকায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক এবং হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষত, ধর্মীয় উৎসবের সময় মন্দিরে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তদন্তকারীদের কাছে এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অভিযুক্তের সঙ্গে কোনও বৃহত্তর উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল কি না এবং হামলার পরিকল্পনায় অন্য কেউ যুক্ত ছিল কি না। এই ঘটনা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বর্ণবিদ্বেষী ও নব্য-নাৎসি মতাদর্শের বিস্তার নিয়ে তুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

  • Suvendu on Recruitment: চতুর্থীর সন্ধ্যায় ৪৫ হাজার চাকরির ঘোষণা শুভেন্দুর! বোনাস পাবেন বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকরাও

    Suvendu on Recruitment: চতুর্থীর সন্ধ্যায় ৪৫ হাজার চাকরির ঘোষণা শুভেন্দুর! বোনাস পাবেন বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকরাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেবীপক্ষের শুরুতেই সুখবর। বুধবার, চতুর্থীর সন্ধ্যায় ৪৫ হাজার নিয়োগের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu on Recruitment)। একই সঙ্গে পুজোর জন্য বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকদের ৫ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণাও করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, ‘এটাই তো আসল পরিবর্তন। রাজ্যএ ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল। ’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বুধবার তাঁকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সর্বসম্মত প্রস্তাব পাশ করল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মন্ত্রিসভা। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এ কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মন্ত্রিসভার বিশেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক অবদানের প্রশংসা করার পাশাপাশি রাজ্যে বিপুল কর্মসংস্থান এবং চা-শ্রমিকদের জন্য বিশেষ বোনাস ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।

    প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ধন্যবাদ

    শুভেন্দু জানান, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ও দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘ ২৫ বছরের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাবটি অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হবে। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল ইংরাজি এবং বাংলায় এই প্রস্তাব প্রধামন্ত্রীর দফতরে পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বাংলাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দেওয়া থেকে শুরু করে শান্তিনিকেতনকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দেওয়ার কাজ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।’’ স্বামী বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম, ইসকন থেকে শুরু করে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধার কথাও এদিন স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের সব স্কুল ও মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং তা চালুও হয়ে গিয়েছে। ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ বড় ভূমিকা নেবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    রাজ্যে কোথায় কত নিয়োগ

    কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এদিন বড়সড় ঘোষণা করেছে রাজ্য মন্ত্রিসভা (Bengal Cabinet)। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মোট ৪৫ হাজার ১৮৫টি নতুন শূন্যপদে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল শিক্ষা দফতরেই নিয়োগ হবেন ৩৩ হাজার ১৯৯ জন। প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, সহকারী শিক্ষক থেকে শুরু করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শুভেন্দুর ঘোষণা অনুযায়ী, স্কুলেই সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হচ্ছে। ৩৩,১৯১ জনের মধ্যে অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার (প্রাইমারি) ৪৪৩২ জন, আপার প্রাইমারিতে ৬০৫২ জন, অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার ১২,৩৪৩ জন, ফার্স্ট গ্রেড টিচার ১০৩২ জন, অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার (পিজি) ২৩ জন, এবং ৪,৩৯৪ জন হেডমাস্টার নিয়োগ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরে ৭ হাজার ১১৯ জন, পুলিশে ৯৯৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন দফতরে ১ হাজার ৮৮৬ জন কর্মী নিয়োগ করা হবে। অর্থ দফতর এই পদগুলিতে ছাড়পত্র দিয়েছে এবং নিয়ম মেনে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    কবে শুরু হবে নিয়োগ-প্রক্রিয়া

    নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার কথা বলা হলেও, কোন পদে কবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে, আবেদন করার যোগ্যতা কী হবে এবং পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি কী—সেই বিষয়ে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা করতে হবে। চাকরিপ্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট দফতরের সরকারি বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মহালয়াতেই রাজ্যের ১১ হাজার পুলিশ কনস্টেবলের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, নভেম্বরের শেষে আরও ৯ হাজার চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এরই মধ্যে ৪৫ হাজার চাকরি নিয়ে বড় সুখবর দিয়েছেন তিনি।

    চা-শ্রমিকদের জন্য বোনাসের ঘোষণা

    উত্তরবঙ্গের বন্ধ চা-বাগানগুলির শ্রমিকদের মুখে হাসি ফোটাতে বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে রাজ্য। ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বন্ধ থাকা ২১ টি চা-বাগানের ১৯ হাজার ৫২৪ জন শ্রমিককে ৫ হাজার টাকা করে পুজো বোনাস দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন হল শ্রমিকরা কাজ হারিয়েছেন। বেতন বা বোনাস পাওয়ার প্রশ্নই নেই। আর তাই বন্ধ চা শ্রমিকদের জন্য মানবিক সরকারের ছোট্ট প্রয়াস।’’ যাঁদের বয়স ৬০ ছরের নীচে, মূলত তাঁরাই শ্রম দফতরের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা পাবেন। পাশাপাশি, উৎসবের মরশুমে দুর্গাপুজো থেকে ছটপুজো পর্যন্ত সাধারণ রেশনের ৩৫ কেজি চালের সঙ্গে এই পরিবারগুলিকে অতিরিক্ত 50 কেজি করে চাল দেওয়া হবে। চা-শ্রমিকদের পরিকাঠামো উন্নয়নে ৩১২ কোটি টাকার একটি প্রকল্পেও ছাড়পত্র মিলেছে বলে নবান্ন জানিয়েছে।

    পুজো থেকে ফুটবল

    রাজ্যের দুর্গাপুজো নিয়ে পরিসংখ্যান দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত বছর রাজ্যে ৪৫ হাজার পুজো হলেও এ বছর তা বেড়ে ৫৮ হাজার হয়েছে। একেবারে শেষ মুহূর্তে আরও ৮০০টি ক্লাবকে পুজোর অনুমতি ও অনুদান দেওয়া হয়েছে। হিন্দু সমাজকে ‘অপমান’ করার অভিযোগে কড়া আইনি ব্যবস্থার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি ওসব ভয়টয় করার লোক নই। সিপিএমের সূর্য যখন মধ্যগগনে তখন আমি লক্ষণ শেঠকে হারিয়েছি। আমি দু’বার মমতা ব্যানার্জিকে হারিয়েছি ওর বাড়িতে এসে।” এর পাশাপাশি পুজোয় অগ্নিবিধি মেনে চলতে এবং মণ্ডপগুলিকে বিপদমুক্ত রাখতে দমকলের একটি সচেতনতামূলক প্রচার ভিডিও-ও এদিন প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য বড় বড় ফুটবল ম্যাচ সুষ্ঠভাবে আয়োজনের প্রসঙ্গ উঠলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতা ফুটবল ভালবাসে। এ বিষয়ে ক্রীড়ামন্ত্রীকে সবরকম স্বাধীনতা দেন তিনি।

     

     

     

  • Pandal Hopping Health Risks: সারারাত ঠাকুর দেখার প্ল্যান? এই নিয়মগুলি না মানলেই বাড়তে পারে বিপদ!

    Pandal Hopping Health Risks: সারারাত ঠাকুর দেখার প্ল্যান? এই নিয়মগুলি না মানলেই বাড়তে পারে বিপদ!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শহর থেকে জেলা, সেজে উঠেছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের মেজাজে! রাস্তা জুড়ে মানুষের ঢল! দুর্গাপুজোর আনন্দে মেতেছে আট থেকে আশি, সব বয়সের মানুষ!
    দুর্গাপুজোয় রাত জেগে মণ্ডপে মণ্ডপে ঠাকুর দেখা বাঙালির বহু দিনের অভ্যাস। কিন্তু একটানা দীর্ঘক্ষণ জেগে থাকা, ভিড়ের মধ্যে হাঁটাহাঁটি, অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া, কম জল খাওয়া এবং ক্লান্ত শরীর নিয়ে ফেরার পথে যাতায়াত—সব মিলিয়ে শরীরের উপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। বিশেষত শিশু, প্রবীণ এবং আগে থেকে অসুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। তাই রাত জেগে প্রতিমা দর্শন করলে কয়েকটি দিকে, বাড়তি নজর না রাখলেই বিপদ বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    রাত জেগে ঠাকুর দেখার কী বিপদ আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা?

    ঘুমের ঘাটতি ও মানসিক ক্লান্তি!

    রাত জেগে ঠাকুর দেখা মানেই পর্যাপ্ত ঘুমের ব্যাঘাত! এর জেরেই একাধিক সমস্যা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ঘুম কম হলে পরের দিন ঝিমুনি, মাথাব্যথা, মনোযোগের অভাব, খিটখিটে মেজাজ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে অস্থিরতা, বিরক্তি এবং মনোযোগের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    জলশূন্যতা ও দুর্বলতা

    প্রতিমা দর্শন মানেই ভিড়ে হাঁটতে হয়! ভিড় ঠেলে এক প্যান্ডেল থেকে আরেক প্যান্ডেল যাওয়া। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘক্ষণ হাঁটা, ঘাম হওয়া, গরমে ভিড়ের মধ্যে থাকা এবং পর্যাপ্ত জল না খাওয়ার ফলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা ও প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।

    শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ ও অ্যালার্জি

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, দূষণ এবং নানান পরিবেশগত সমস্যার কারণে শিশু থেকে বয়স্ক কম বেশি সকলেই ফুসফুসের নানান সমস্যায় ভোগেন। উৎসবের মরশুমে ভিড় এলাকায় ভাইরাসজনিত সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ে। তাই একনাগাড়ে ধুলো, ধোঁয়া ও দূষণ থেকে হাঁপানি বা অ্যালার্জির উপসর্গও বেড়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা।

    পায়ে ব্যথা ও পেশির ক্লান্তি

    ভিড় ঠেলে ঠাকুর দেখা বাঙালির দুর্গা পুজোর চির পরিচিত ছবি। কিন্তু অনেক সময়েই অতিরিক্ত ভিড়ের জন্য প্রতিমা দর্শনের জন্য কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটা বা দাঁড়িয়ে থাকার ফলে পায়ের পেশিতে ব্যথা, কোমরে অস্বস্তি, পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া এবং আগে থেকে থাকা হাঁটু বা কোমরের সমস্যার বেড়ে যেতে পারে।

    হজমের গোলমাল ও রক্তে শর্করার ওঠানামা

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষত হজমের গোলমাল দেখা দেয়। তার উপরে উৎসবের দিনে অনেক সময়েই খাবারের অনিয়মিত দেখা দেয়। ঠিকমতো খাবার না খাওয়া, আবার অনিয়মিত খাবার, অতিরিক্ত ভাজাভুজি, মশলাদার খাবার এবং রাতের দেরিতে ভারী খাবার খাওয়া বিপদ বাড়ায়। এতে অম্বল, গ্যাস ও পেটের অস্বস্তি হতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে খাবার ও ওষুধের সময়ের পরিবর্তনে রক্তে শর্করার মাত্রাও ওঠানামা করতে পারে।

    হৃদরোগীদের জন্য বাড়তি সতর্কতা

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ঘুমের ঘাটতি, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, মানসিক চাপ ও জলের ঘাটতি, একসঙ্গে হলে শরীরের উপর চাপ বাড়তে পারে। তবে রাত জাগলেই হার্টের বড় সমস্যা হবে, এমন নয়। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ঘাম হলে সেটিকে ক্লান্তি ভেবে উপেক্ষা করা উচিত নয়।

    বিপদ এড়াতে কী কী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন?

    চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সাধারণ স্বাস্থ্য-পরামর্শের ভিত্তিতে পুজোর রাতে কয়েকটি নিয়ম মেনে চলা জরুরি। ঘুমের ঘাটতি এড়ানো, পর্যাপ্ত জল পান এবং ভিড়ের মধ্যে বিরতি নেওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    ঘুমের সময়ের সঙ্গে আপস নয়!

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রাত জেগে ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা এমনভাবে করতে হবে, যাতে পর্যাপ্ত ঘুম হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত অন্তত ৭ ঘণ্টা এবং ৬–১২ বছরের শিশুদের ৯–১২ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। পরপর কয়েক রাত ঘুম কমিয়ে ঠাকুর দেখতে বেরোনো এড়িয়ে চলুন। বরং একটা রাত ঠিকমতো ঘুম না হলে, পরের দিন অন্তত যাতে পর্যাপ্ত ঘুম হয় সেদিকে নজর দিতে হবে।

    পর্যাপ্ত জল পান করুন

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিমা দর্শনে বেরনোর সময় সঙ্গে জলের বোতল রাখতে হবে। তেষ্টা পাওয়ার অপেক্ষা না করে নিয়মিত জল পান করতে হবে। অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীরের অবস্থা অনুযায়ী তরল গ্রহণ করুন। অপ্রয়োজনীয়ভাবে এনার্জি ড্রিঙ্ক বা অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় খাবেন না।

    খাবারের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ঠিকমতো খাবার খেলে তবেই শরীরের একাধিক সমস্যা এড়ানো সহজ হয়। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, ঠাকুর দেখতে বেরোনোর আগে হালকা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া দরকার। দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকা চলবে না । রাস্তার খাবার খেলে পরিষ্কারভাবে তৈরি, ভালোভাবে রান্না করা খাবার বেছে নিতে হবে এবং নিরাপদ পানীয় জল ব্যবহার করতে হবে।

    শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে কী বিশেষ সতর্কতা জরুরি?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রাত জাগার পরিবর্তে সন্ধ্যার দিকে ঠাকুর দেখানোর পরিকল্পনা ভালো। শিশুর ঘুম, খাবার ও জল খাওয়ার দিকে নজর রাখতে হবে। ভিড়ে মাস্ক ব্যবহার এবং ক্লান্ত হলে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। প্রবীণদের ক্ষেত্রেও বাড়তি নজরদারি জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির সমস্যা থাকলে দীর্ঘক্ষণ হাঁটা ও ভিড়ের মধ্যে থাকার পরিকল্পনা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে। চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া ওষুধের সময় বা মাত্রা পরিবর্তন করা উচিত নয়। এতে বিপদ বাড়তে পারে।

  • Durga Puja 2026: মোট ৫৭,৫০০টি দুর্গাপুজোর অনুমোদন, প্রতিটি কমিটিকে ১ লক্ষ টাকা অনুদানের ঘোষণা! বিরাট উদ্যোগ শুভেন্দু-সরকারের

    Durga Puja 2026: মোট ৫৭,৫০০টি দুর্গাপুজোর অনুমোদন, প্রতিটি কমিটিকে ১ লক্ষ টাকা অনুদানের ঘোষণা! বিরাট উদ্যোগ শুভেন্দু-সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে দুর্গাপুজোর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পুজো (Durga Puja 2026) কমিটিগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোয় প্রায় ১২,৪০০টি অতিরিক্ত পুজোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এর ফলে রাজ্যে মোট দুর্গাপুজোর সংখ্যা বেড়ে হল প্রায় ৫৭,৫০০। পাশাপাশি প্রতিটি পুজো কমিটিকে ১ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। পুজোর অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের যাতে অযথা প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে পুজোর অনুমতি ও প্রশাসনিক বিধিনিষেধ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে বর্তমান পদক্ষেপের তুলনা টেনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়।

    ২০২৫ সালের তুলনায় বেড়েছে পুজোর সংখ্যা

    সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাজ্যে প্রায় ৪৫,০০০টি কমিউনিটি দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হয়েছিল। চলতি বছরে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫৭,৫০০ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নতুন করে অনুমোদন পাওয়া পুজো কমিটিগুলিও উৎসব আয়োজনের অনুমতি পেয়েছে। কলকাতায় অতিরিক্ত পুজোর সংখ্যা প্রায় ৪০০ বলে জানানো হয়েছে। নতুন পুজোর অনুমোদন এবং আর্থিক সহায়তার ফলে বিভিন্ন এলাকার পুজো উদ্যোক্তারা উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের বছরের তুলনায় এ বছর ১২,৪০০টি পুজো বেড়েছে। পুজোর অনুমতি পেতে উদ্যোক্তাদের যাতে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ঘুরতে না হয়, সেই ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলেও তাঁর বক্তব্য।

    পুজো কমিটিকে ১ লক্ষ টাকা করে অনুদান

    দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিতে আর্থিক সহায়তা দিতে প্রতিটি পুজো কমিটিকে ১ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। ১১ অক্টোবর থেকে অনুদান বণ্টন শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ২০০টিরও বেশি পুজো কমিটি এই অনুদান নিতে অস্বীকার করেছে। তাদের একাংশের অনুরোধ, শহরের বড় পুজোর পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের পুজো কমিটি এবং মহিলাদের পরিচালিত পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হোক। প্যান্ডেল নির্মাণ, আলোকসজ্জা, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং অন্যান্য আয়োজনের খরচ সামলাতে এই অনুদান পুজো উদ্যোক্তাদের কাজে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    দেবীপক্ষে উৎসবে ভেসেছে রাজ্য

    দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য ও ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পিতৃপক্ষ চলাকালীন পুজোর উদ্বোধন না করে দেবীপক্ষের সূচনার সঙ্গে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তা মেনে নিয়েছে পুজো উদ্যোক্তাগুলি। প্রচলিত হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, পিতৃপক্ষ পূর্বপুরুষদের স্মরণের সময়। মহালয়ার মধ্য দিয়ে পিতৃপক্ষের অবসান ঘটে এবং দেবীপক্ষের সূচনা হয়। দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছে রাজ্য সরকার। সেই মতোই দেবীপক্ষের শুরু থেকেই উৎসবে ভেসেছে রাজ্যবাসী।

    জেলায় ভার্চুয়ালি নয়, সরাসরি পুজো উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী

    এবার দুর্গোৎসবে শুধু কলকাতা নয়, জেলার পুজোতেও বিশেষ গুরুত্ব মুখ্যমন্ত্রীর। ভার্চুয়ালি নয়, সরাসরি পুজোমণ্ডপে উপস্থিত হয়ে উদ্বোধনের কর্মসূচি নিয়েছেন তিনি। তৃতীয়ার দিন নদিয়ার রানাঘাট থেকে জেলা সফরে পুজো উদ্বোধন কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক পুজোর উদ্বোধন করেছিলেন তিনি। পঞ্চমীতে দ্বিতীয় দফায় জেলা সফরে বেরিয়ে মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব মেদিনীপুরের পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেবেন মুখ্যমন্ত্রী। সপ্তমীতেও জেলা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে পরপর কয়েক দিন জেলা সফরের কর্মসূচি সাজানো হয়েছে। প্রশাসনিক কাজকর্মের পাশাপাশি উৎসবের দিনগুলিতে জেলার মানুষের সঙ্গে সরাসরি জনসংযোগেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া, নন্দীগ্রাম-সহ একাধিক এলাকায় পাঁচটি দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর।দুর্গাপুজোর আবহকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে ষষ্ঠীর আগের চার দিন দুর্গাপুর, বিষ্ণুপুর, শিলিগুড়ি, কোচবিহার, মালদহ, বহরমপুর এবং দীঘায় বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে। কলকাতায় বড় পুজোর পাশাপাশি জেলা ও মফস্বলের উৎসবেও যাতে সমানভাবে সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি হয়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানানো হয়েছে।

    বিদ্যুতের চাহিদা ও নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি প্রস্তুতি

    বিপুল সংখ্যক পুজো এবং আলোকসজ্জার কারণে রাজ্যে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যুৎ দফতরের অনুমান অনুযায়ী, উৎসবের দিনে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৪,০০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। যাদবপুর পুলিশ ডিভিশনের অধীনে প্রায় ৬৮৫টি দুর্গাপুজো পরিচালনার দায়িত্ব রয়েছে।

    প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

    রাজ্যে পুজোর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং ভিড় সামলানো প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। পুজোর অনুমোদন দ্রুত দেওয়া এবং আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি উৎসবের দিনগুলিতে নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা কতটা সম্ভব হয়, সেদিকেও নজর থাকবে। পুজো উদ্যোক্তাদের কাছে এখন বড় প্রশ্ন, প্রশাসনিক সহযোগিতার পাশাপাশি বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা ও যান চলাচলের ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।

LinkedIn
Share