Blog

  • World Indigenous Day: প্রকৃতিই প্রথম পবিত্র স্থান! বিশ্ব আদিবাসী দিবসে উঠে আসুক জনজাতি ঐতিহ্যের কথা

    World Indigenous Day: প্রকৃতিই প্রথম পবিত্র স্থান! বিশ্ব আদিবাসী দিবসে উঠে আসুক জনজাতি ঐতিহ্যের কথা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতি বছর ৯ অগাস্ট পালিত হয় বিশ্ব আদিবাসী দিবস (World Indigenous Day)। বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও স্বাতন্ত্র্যকে তুলে ধরাই এই দিনের মূল উদ্দেশ্য। ভারতের ক্ষেত্রেও এই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের জনজাতি সম্প্রদায়গুলি বহন করে চলেছে বহু প্রাচীন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য। ভারতের জনজাতি বা তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৃহত্তর হিন্দু ঐতিহ্যের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই ইতিহাস, নৃতত্ত্ব ও রাজনীতির আলোচনার বিষয়। এই সম্পর্কের মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান, পারস্পরিক প্রভাব এবং বহু অভিন্ন পবিত্র ঐতিহ্য। মধ্য, পূর্ব, পশ্চিম ও হিমালয়-সংলগ্ন ভারতের বহু জনজাতি ঐতিহাসিকভাবে মহাদেব বা শিব, শক্তির স্থানীয় রূপ, গ্রামদেবতা, পূর্বপুরুষের আত্মা, পাহাড়, বন, নদী ও পবিত্র বনভূমির আরাধনা করে এসেছে।

    প্রকৃতিই প্রথম পবিত্র স্থান

    ভারতের প্রাচীনতম জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি বড় অংশ জনজাতি সমাজে (Janajatiya Culture) সংরক্ষিত রয়েছে। বন, পাহাড়, নদী উপত্যকা ও মালভূমিতে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বসবাস করতে গিয়ে তাঁরা প্রকৃতি, পূর্বপুরুষ ও স্থানীয় দেবতাকে কেন্দ্র করে নিজস্ব ধর্মীয় পরম্পরা গড়ে তুলেছেন। সংগঠিত মন্দির সংস্কৃতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার বহু আগে থেকেই পবিত্র বন, পাহাড়, নদী, গুহা ও প্রাচীন গাছ ছিল উপাসনার স্থান। প্রকৃতি তাঁদের কাছে শুধু জীবিকার উৎস নয়, আধ্যাত্মিক বিশ্বাসেরও কেন্দ্র।

    পবিত্র ভূদৃশ্য ও প্রকৃতির প্রতীক

    বিভিন্ন জনজাতি অঞ্চলের পাহাড়, নদী, বন ও উপত্যকার সঙ্গে স্থানীয় দেবতা, পূর্বপুরুষ এবং ধর্মীয় কাহিনি জড়িয়ে রয়েছে। গাছ, পশুপাখি, সূর্য, চাঁদ, মাটি ও নদীর মতো প্রাকৃতিক উপাদানও অনেক সম্প্রদায়ের কাছে পবিত্র প্রতীক। পবিত্র বন বা ‘সেক্রেড গ্রোভ’-কে ঘিরে উপাসনা ও নানা আচার আজও বহু জায়গায় প্রচলিত। একইসঙ্গে এই বনগুলি স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

    জনজাতি ঐতিহ্যে মহাদেব

    শিবকে শুধু মহাজাগতিক দেবতা নয়, বন, পাহাড়, পশু, সাধক, শিকারি ও জনজাতি মানুষের সঙ্গেও যুক্ত দেবতা হিসেবে দেখা হয়। ‘মহাদেব’, ‘পশুপতি’, ‘গিরিশ’, ‘কিরাত’ ও ‘ভূতেশ্বর’-এর মতো উপাধিতে তাঁর সঙ্গে জঙ্গল, পাহাড়, পশুজগৎ ও জনবসতির প্রান্তবর্তী জীবনের সম্পর্কের প্রতিফলন পাওয়া যায়। বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় দেবতা ও প্রকৃতি-কেন্দ্রিক বিশ্বাসের সঙ্গে শিব-আরাধনার সাংস্কৃতিক সংযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই সম্পর্ক সব সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে একরকম নয়, প্রত্যেকের নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে।

    শক্তির স্থানীয় রূপ

    শক্তি বা দেবী-উপাসনাতেও জনজাতি সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ছাপ রয়েছে। বহু স্থানীয় দেবীকে উর্বরতা, কৃষি, বন, নদী, রোগ থেকে সুরক্ষা, মাটি ও জীবনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। কোথাও তাঁরা গ্রামরক্ষাকারী, কোথাও ফসলের রক্ষক, আবার কোথাও পাহাড় বা অরণ্যের অধিষ্ঠাত্রী শক্তি। এই স্থানীয় দেবী-পরম্পরার সঙ্গে বৃহত্তর শক্তি-উপাসনার বিভিন্ন ধারারও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।

    নিজস্ব ঐতিহ্যের স্বাতন্ত্র্য

    তবে জনজাতি সংস্কৃতিকে শুধুমাত্র বৃহত্তর কোনও ধর্মীয় কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় না। প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষা, দেবতা, লোককথা, আচার, উৎসব ও সামাজিক রীতি রয়েছে। কোথাও প্রকৃতি ও পূর্বপুরুষের উপাসনা প্রধান, কোথাও স্থানীয় দেবতার গুরুত্ব বেশি, আবার কোথাও শিব-শক্তির সঙ্গে স্থানীয় বিশ্বাসের মেলবন্ধন ঘটেছে। এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই রয়েছে ভারতের জনজাতি সংস্কৃতির নিজস্ব পরিচয়।

    ঔপনিবেশিক শ্রেণিবিন্যাস ও ভিন্ন বয়ান

    ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশ প্রশাসন ভারতের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে সামাজিক ও ধর্মীয় শ্রেণিতে ভাগ করার চেষ্টা করে। বহু জটিল স্থানীয় বিশ্বাসকে তখন নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মধ্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। বিভিন্ন ঔপনিবেশিক নথি ও গবেষণায় কখনও জনজাতি সমাজকে মূলধারার ভারতীয় সংস্কৃতি থেকে পৃথক হিসেবে দেখানো হয়েছে, আবার কখনও বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিসরের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের কথাও উঠে এসেছে। ফলে জনজাতি পরিচয় নিয়ে একাধিক বয়ান তৈরি হয়।

    গবেষণা ও পরিচয়ের প্রশ্ন

    আধুনিক ইতিহাস ও নৃতত্ত্বের গবেষণায় জনজাতি ধর্মীয় ঐতিহ্যকে প্রকৃতি, পূর্বপুরুষ, স্থানীয় দেবতা, সামাজিক কাঠামো এবং বৃহত্তর ভারতীয় সংস্কৃতির পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে দেখার চেষ্টা করা হয়। আধুনিক ভারতেও জনজাতি পরিচয়, ধর্মীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য নিয়ে আলোচনা রয়েছে। নিজস্ব ভাষা, আচার ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের দাবি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই বৃহত্তর ভারতীয় সাংস্কৃতিক পরিসরের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রশ্নও আলোচিত।

    সংবিধানে স্বীকৃতি

    ভারতের সংবিধান তফসিলি উপজাতি (Tribal Culture India) সম্প্রদায়গুলির জন্য বিশেষ সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছে। তাঁদের সামাজিক, শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্ব আদিবাসী দিবস তাই শুধু অধিকার ও পরিচয়ের কথা বলার দিন নয়; এটি বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রাচীন সংস্কৃতি, প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক এবং পবিত্র ঐতিহ্যকে স্মরণ করারও দিন। ভারতের জনজাতি সমাজের প্রকৃতি-কেন্দ্রিক জীবনদর্শন, পবিত্র বন, স্থানীয় দেবদেবী, পূর্বপুরুষের স্মরণ, লোকাচার ও উৎসব দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বৃহত্তর ভারতীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক যোগাযোগ যেমন এই ইতিহাসের একটি দিক, তেমনই প্রতিটি জনজাতি সম্প্রদায়ের নিজস্ব পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অভিন্ন বিশ্বাস ও পবিত্র ঐতিহ্যের এই বহুস্বরই ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

  • Mamata Banerjee: মমতাকে ঘিরে নজিরবিহীন বিক্ষোভ, ছোড়া হল কাদা-জুতো! ‘মরে যেতাম’- বলছেন ভয়ে কাতর মমতা?

    Mamata Banerjee: মমতাকে ঘিরে নজিরবিহীন বিক্ষোভ, ছোড়া হল কাদা-জুতো! ‘মরে যেতাম’- বলছেন ভয়ে কাতর মমতা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এতদিন যে নেত্রীকে চোখে হারাতেন সাধারণ মানুষ, যে নেত্রীকে বসিয়েছিলেন শীর্ষ আসনে, আজ তাঁরই কনভয়ে লক্ষ্য করে ছোড়া হল জুতো-কাদা! উঠল চোর স্লোগানও। সত্যিই তো ভাবতেই অবাক লাগে। আসলে কী বলুন তো? এত বছরের দীর্ঘ তৃণমূল শাসনে যে পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি হয়েছে, যেভাবে রাজ্যের জনগণকে দিনের পর দিন শোষণ করে এসেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সাধের নেতারা, আজ তারই পরিণাম হয়তো ভোগ করছেন তাঁরা। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ কতদিনই বা আর চাপা থাকতে পারে? এবার আসা যাক মূল কথায়।

    ডিমের পর এবার ‘কাদা-থেরাপি’?

    রবিবার হালিশহরে (Halisahar) পুলিশি হেফাজতে নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান মমতা।সেখানে ‘কালীঘাট তৃণমূল সুপ্রিমো’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) দেখা মাত্রই ধেয়ে আসে জনরোষ। বীজপুর থানা এলাকার হালিশহরে পৌঁছনো মাত্রই সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তৃণমূল নেত্রীকে। তাঁর কনভয় লক্ষ্য করে ছোড়া হয় কাদা-জুতো। গাড়ির কাচে কাদা লেপে দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। দেওয়া হয় চোর স্লোগান। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই এলাকাকে রাজনৈতিক স্বার্থে উত্তপ্ত করতেই সেখানে যান মমতা (Mamata Banerjee)।

    আমরা সবাই মরে যেতাম!

    সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের মুখে পড়ে নিজের চিরাচরিত ক্ষোভ আর ধরে রাখতে পারেননি নেত্রী। উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “মাথা ফেটে যেত, আমরা সবাই মরে যেতাম! পুলিশের সামনে এমন হামলা আগে কখনও দেখিনি। পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল। পুলিশ শুধুমাত্র বিজেপিকেই সুরক্ষা দেয়।”

    কল্যাণের অভিযোগ

    উল্লেখ্য এদিন তাঁর সঙ্গে ঘটনাস্থলে (Halisahar) উপস্থিত ছিলেন দোলা সেন (Dola Sen) এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “বাইরে থেকে বিজেপির লোকজনকে জোগাড় করেছেন মূল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আইসি। আমাদের গাড়ি লক্ষ্য করে অনবরত অশালীন গালিগালাজ করা হয়। বড় বড় ইট ছুড়ে মারা হয়। গাড়িটির অবস্থা দেখলেই বোঝা যাবে- পুরো গাড়িতে ইট মারতে মারতেই ধাওয়া করা হয়েছে।”

    তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু

    ঘটনার সূত্রপাত হালিশহর (Halisahar) থানার লকআপে বিরজু কেয়ট নামে এক তৃণমূল কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। নিহত বিরজুর স্ত্রী জেনি শর্মা কেয়ট নদিয়ার কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর। কয়েক দিন আগে হালিশহরের এক মহিলার দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিরজুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ভয় দেখানো, আর্থিক প্রতারণা এবং বেআইনি অস্ত্র আইনের মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরে ব্যারাকপুর আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। এর পর শনিবার সকালে থানা হেফাজতে থাকা অবস্থাতেই তিনি আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে দাবি পুলিশের। তড়িঘড়ি তাকে কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন বিরজুকে। যদিও পুলিশের এই দাবি মানতে নারাজ বিরজুর পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, থানা হেফাজতে বেধড়ক মারধরের ফলেই মৃত্যু হয়েছে বিরজুর। যদিও মারধর ও পুলিশি নির্যাতনের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ। এদিন এই বিরজুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলে মমতা(Mamata Banerjee)।

    মমতাকে দেখতেই ক্ষোভের বন্যা

    এদিন মমতা (Mamata Banerjee) ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। নেত্রীর কনভয় আটকে চারদিক থেকে দেওয়া হয় চোর স্লোগান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। হালিশহরের (Halisahar) এই ঘটনা নিছক একটি রাজনৈতিক বিক্ষোভের ছবি নয়, বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভেরও বহিঃপ্রকাশ বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। এক সময় যাঁর সভায় মানুষের ঢল নামত, সেই নেত্রীর কনভয় ঘিরেই উঠল চোর স্লোগান, ছোড়া হল কাদা-জুতো। ফলে হালিশহরের (Halisahar) এই বিক্ষোভ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর সকলের।

  • ECI: ভোটার তালিকা সংশোধনে বড় পদক্ষেপ, ১২ রাজ্য-কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাদ ১.৫৮ কোটিরও বেশি নাম

    ECI: ভোটার তালিকা সংশোধনে বড় পদক্ষেপ, ১২ রাজ্য-কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাদ ১.৫৮ কোটিরও বেশি নাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকা আপডেট এবং অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) তৃতীয় পর্যায়ে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা (ECI) থেকে এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৫৮ লক্ষ ৫৯ হাজার ৮৩৪টি নাম বাদ দিয়েছে (SIR) ভারতের নির্বাচন কমিশন। কমিশনের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসেব সামনে এসেছে। এই ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সংশোধন প্রক্রিয়া শুরুর আগে মোট ভোটার ছিলেন ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ২৭ হাজার ৮০৭ জন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই এবং অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁদের মধ্যে ১১.৫১ শতাংশের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

    যাঁরা বাদ গেলেন (ECI)

    বাদ পড়া নামগুলির মধ্যে রয়েছেন এমন ভোটার, যাঁদের দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি, অন্যত্র চলে গিয়েছেন, মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে অথবা একাধিক জায়গায় তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় ছিল। ভোটার তালিকাকে নির্ভুল ও আপডেট রাখাই এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য। তবে এখনও চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা নির্ধারিত হয়নি। খসড়া তালিকায় নাম সংযোজন বা বাদ দেওয়া নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যোগ্য নাগরিকেরা নতুন করে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার আবেদনও করতে পারবেন। ফলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে সংখ্যায় আরও পরিবর্তন হতে পারে।

    অন্ধ্রপ্রদেশে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ

    পরম সংখ্যার বিচারে অন্ধ্রপ্রদেশে সব চেয়ে বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সেখানে ৪৪.৮৯ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সংশোধনের আগে থাকা মোট ভোটারের ১০.৭৮ শতাংশ। এর ফলে খসড়া ভোটার তালিকায় ভোটারের সংখ্যা ৪ কোটি ১৬ লাখ থেকে কমে প্রায় ৩ কোটি ৭১ লাখ হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে বাদ পড়া ৪৪.৮৯ লাখ নামের মধ্যে ২২.৩০ লাখ ভোটার অন্যত্র চলে গিয়েছেন অথবা তাঁদের ঠিকানায় গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ১৫.২২ লাখ ভোটারের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া ৭.৩৭ লাখ ভোটারের নাম একাধিক জায়গার ভোটার তালিকায় ছিল। নাম বাদ পড়ার সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হরিয়ানা। সেখানে ৩৩.৮৩ লাখ নাম বাদ পড়েছে। ওড়িশায় বাদ পড়েছে ২০.১২ লাখ নাম। এদিকে, সিকিমে সবচেয়ে কম নাম বাদ পড়েছে—৩৭ হাজার ৭২৪টি। মিজোরামে বাদ পড়েছে ৪৬ হাজার ১৬২টি নাম।

    শতাংশের হিসাবে শীর্ষে দাদরা ও নগর হাভেলি

    মোট ভোটারের তুলনায় নাম বাদ পড়ার হারে সব চেয়ে এগিয়ে রয়েছে দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউ। সেখানে ২৯.৬৪ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। এর পরেই রয়েছে অরুণাচল প্রদেশ, যেখানে বাদ পড়ার হার ১৯.০৯ শতাংশ। হরিয়ানায় এই হার ১৬.৩৮ শতাংশ এবং চণ্ডীগড়ে ১২.৮ শতাংশ। মিজোরামে নাম বাদ পড়ার হার সবচেয়ে কম—৫.২ শতাংশ। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে ওড়িশায় ৬.০২ শতাংশ, মণিপুরে ৭.৫ শতাংশ, উত্তরাখণ্ডে ১০.৩৯ শতাংশ, মেঘালয়ে ৭.৬৭ শতাংশ এবং ঝাড়খণ্ডে ১৬.৪৮ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। সিকিমে আগের তালিকার ৮ শতাংশ নাম বাদ গিয়েছে (ECI)।

    ১৬ রাজ্য ও ৩ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলছে তৃতীয় পর্যায়

    বিশেষ নিবিড় সংশোধনের তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে মোট ১৬টি রাজ্য ও ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। এগুলি হল দিল্লি, ওড়িশা, মিজোরাম, সিকিম, মণিপুর, উত্তরাখণ্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, তেলঙ্গনা, পাঞ্জাব, কর্নাটক, মেঘালয়, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং দাদরা ও নগর হাভেলি ও দমন ও দিউ। এর মধ্যে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। দিল্লি, পাঞ্জাব, তেলঙ্গনা, কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য যাচাই ও গণনার কাজের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। ফলে ওই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা এখনও প্রকাশিত হয়নি। ত্রিপুরা ও নাগাল্যান্ডের খসড়া তালিকাও (SIR) এখনও প্রকাশের অপেক্ষায়।

    একাধিক রাজ্যে ইতিমধ্যেই শেষ সংশোধন

    এর আগেই বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল, পুদুচেরি, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, ছত্তিশগড়, গোয়া, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং লক্ষদ্বীপে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ শেষ হয়েছে। অসমে অবশ্য নাগরিকদের জাতীয় পঞ্জি সংক্রান্ত আইনি বিষয় বিবেচনা করে পৃথকভাবে বিশেষ সংশোধন করা হয়েছে (ECI)। বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং বিরোধী দলগুলির মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। বিষয়টি আদালতেও চ্যালেঞ্জ করা হয়। চলতি বছরের মার্চে সুপ্রিম কোর্ট সর্বসম্মতভাবে বিশেষ নিবিড় সংশোধন পরিচালনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রাখে।

    তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চলাকালীন নির্বাচন কমিশন ভোটারদের তথ্য যাচাই এবং ভোটার তালিকা আপডেটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যোগ্য ভোটারদের নাম যাতে তালিকায় থাকে এবং একই ব্যক্তির একাধিক নাম বা পুরনো ও অযোগ্য নাম যাতে তালিকায় না (SIR) থাকে, তা নিশ্চিত করাই এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকায় যোগ্য নাগরিকেরা নিজেদের নাম সংশোধন, সংযোজন বা পুনরায় অন্তর্ভুক্তির (ECI) আবেদন করতে পারবেন।

     

  • Qari Saeed Abdul Aziz: অচেনা রেস্তোরাঁর খাবার, তারপর মসজিদের গেটেই মৃত্যু! লস্কর কমান্ডারের রহস্যমৃত্যু- কী চলছে পাকিস্তানে?

    Qari Saeed Abdul Aziz: অচেনা রেস্তোরাঁর খাবার, তারপর মসজিদের গেটেই মৃত্যু! লস্কর কমান্ডারের রহস্যমৃত্যু- কী চলছে পাকিস্তানে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মসজিদের গেটেই আচমকা মৃত্যু! পাকিস্তানের ইসলামাবাদে (Islamabad) নমাজ পড়তে গিয়ে আচমকাই মৃত্যু হল লস্কর-ই-তৈবার (Lashkar-e-Taiba) শীর্ষ কমান্ডার ক্বারি সইদ আবদুল আজিজের (Qari Saeed Abdul Aziz)। কুবা মসজিদে নমাজ পড়তে গিয়েছিলেন তিনি। মসজিদের গেটের কাছে আচমকাই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপরেই তাঁর মৃত্যু হয়। তবে কী কারণে তাঁর মৃত্যু (Lashkar Commander Death) হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    মৃত্যুর (Lashkar Commander Death) আগে কোথায় গিয়েছিলেন?

    ক্বারি সইদ (Qari Saeed Abdul Aziz) মসজিদে পৌঁছনোর আগে একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। তবে খাবারের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না? সেই বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য সামনে আসেনি।

    লস্করের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন

    লস্কর-ই-তৈবার (Lashkar-e-Taiba) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতেন ক্বারি সইদ (Qari Saeed Abdul Aziz)। জম্মু ও কাশ্মীরে সংঘর্ষে নিহত জঙ্গিদের পরিবারের জন্য সাহায্য ও সহায়তার ব্যবস্থা করার দায়িত্বে থাকা বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। অর্থাৎ সংগঠনের অন্দরে তাঁর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

    ‘অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের’ নিশানায় লস্কর?

    ক্বারি সইদের রহস্যমৃত্যুর (Lashkar Commander Death) খবরের মধ্যেই সামনে এসেছে আরও বিস্ফোরক দাবি। লস্করের (Lashkar-e-Taiba) সদস্য রিজওয়ান হানিফ একটি ভিডিয়োয় দাবি করেছেন, গত তিন থেকে চার বছরে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনের প্রায় ৩০ জন সদস্যকে ‘অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা’ হত্যা করেছে।

    একাধিক জায়গায় হত্যা

    রিজওয়ানের দাবি, পেশোয়ার, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, রাওয়ালাকোট এবং মুজাফফরাবাদে লস্কর সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে নিষিদ্ধ এই সংগঠনের বহু সদস্যকে টার্গেট করা হয়েছে।

    মুম্বই হামলার (Mumbai Terror Attack) সঙ্গে জড়িত সংগঠন

    লস্কর-ই-তৈবা (Lashkar-e-Taiba) সেই জঙ্গি সংগঠন, যার বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের মুম্বই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ওই ভয়াবহ হামলায় মৃত্যু হয়েছিল ১৬৬ জনের। রাষ্ট্রসংঘ ২০০৫ সালে আল-কায়দা ও তালিবানের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগে লস্কর-ই-তৈবাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

    প্রথমবার প্রকাশ্যে এমন দাবি

    লস্কর-ই-তৈবার (Lashkar-e-Taiba) সঙ্গে যুক্ত কোনও সদস্যের মুখে পাকিস্তানের (Pakistan) মাটিতে সংগঠনের সদস্যদের ‘অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের’ হাতে ধারাবাহিক হত্যার দাবি প্রকাশ্যে আসার ঘটনা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। আর তার কয়েক দিনের মধ্যেই লস্করের এক গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডারের রহস্যমৃত্যু—দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।

    মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে রহস্য

    অচেনা রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়া, কয়েক ঘণ্টা পরে মসজিদের গেটে আচমকা মৃত্যু (Lashkar Commander Death)—তার উপর সংগঠনের সদস্যদের একের পর এক ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ হামলায় নিহত হওয়ার দাবি। ক্বারি সইদ আবদুল আজিজের (Qari Saeed Abdul Aziz) মৃত্যু তাই নিছক একটি আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা নয়, বরং পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলির (Pakistan Terrorism) অন্দরমহলে কী চলছে, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রহস্যের জট খুলবে কবে, এখন সেটাই দেখার।

  • Auqib Nabi: স্কুল শিক্ষকের ছেলে থেকে টিম ইন্ডিয়ায়! ইতিহাস গড়লেন কাশ্মীরের আকিব নবি

    Auqib Nabi: স্কুল শিক্ষকের ছেলে থেকে টিম ইন্ডিয়ায়! ইতিহাস গড়লেন কাশ্মীরের আকিব নবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক সময় ক্রিকেট খেলাকে ভবিষ্যৎহীন পেশা মনে করতেন বাবা। ছেলেকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু সেই ছেলের জেদ, পরিশ্রম আর প্রতিভাই আজ তাঁকে এনে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেটের দরজায়। জম্মু-কাশ্মীরের বারামুল্লার আকিব নবি গড়লেন ইতিহাস। ছোটবেলায় ক্রিকেট তারকা আকিব নবিকে (Auqib Nabi) তাঁর ভাইপো বিলাল আহমদ দার একদিন প্রশ্ন করেছিলেন, ‘‘এত ক্রিকেট তারকার সঙ্গে খেলো, তাঁদের সঙ্গে সেলফি তোলো না কেন?’’ আকিবের উত্তর ছিল, ‘‘একদিন এমন জায়গায় পৌঁছব, যখন ওরাই আমার সঙ্গে সেলফি তুলতে চাইবে।’’ বছর কয়েক পর সেই কথাই সত্যি হয়েছে।

    কাশ্মীর থেকে প্রথম টেস্টে ডাক (India Test Team)

    বছর ঊনত্রিশের অলরাউন্ডার আকিব নবি (Auqib Nabi) হলেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম ক্রিকেটার, যিনি ভারতীয় টেস্ট দলে (India Test Team) ডাক পেলেন। জসপ্রীত বুমরাহর পরিবর্তে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দলে জায়গা পেয়েছেন তিনি। সিরিজ শুরু ১৫ অগাস্ট। সংঘাত, দীর্ঘ শীত, তুষারপাত এবং সীমিত পরিকাঠামোর কারণে জম্মু-কাশ্মীরে ক্রিকেটের পথ বরাবরই কঠিন। ১৯৫৭ সালে BCCI-র সঙ্গে যুক্ত হলেও বর্তমানে গোটা অঞ্চলে মাত্র দু’টি বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম রয়েছে, দুটিরই সুযোগ-সুবিধা সীমিত।

    ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলেন বাবা

    বারামুল্লা জেলার একটি ছোট গ্রামে বড় হয়েছেন আকিব (Auqib Nabi)। তাঁর বাবা গুলাম নবি দার পেশায় স্কুল শিক্ষক। শুরুতে তিনি ক্রিকেটকে ভবিষ্যৎহীন মনে করতেন এবং ছেলেকে পড়াশোনা করে ডাক্তার হতে বলতেন। কিন্তু ক্রিকেটের প্রতি আকিবের অদম্য আগ্রহ দেখে শেষ পর্যন্ত বাবা মত বদলান। তিনি বুঝতে পারেন, নিজের পছন্দের পথে ছেলেকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।

    অনুশীলনের জন্য পাড়ি ৭০ কিমি

    ছোটবেলায় ভালো ক্রিকেট পরিকাঠামোর অভাবে আকিবকে (Auqib Nabi) প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে শ্রীনগরে নিয়মিত অনুশীলন করতে যেতে হতো। প্রথম ক্রিকেট ট্রায়ালে যাওয়ার সময় তাঁর নিজের একজোড়া স্পাইক জুতোটুকুও ছিল না। শৈশবের বন্ধু জুনেইদ দার জানান, তাঁদের এলাকায় পেশাদার ক্রিকেটের ধারণাই প্রায় ছিল না। পরিকাঠামোও ছিল অপ্রতুল। কিন্তু আকিব ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট নিয়ে ভীষণ একাগ্র ছিলেন। ভাইপো বিলালের কথায়, আকিব প্রতিদিন ভোরে জিমে যেতেন এবং তারপর সারাদিন অনুশীলন করতেন। প্রায় ১০ বছর ধরে এই রুটিন বজায় রেখেছিলেন তিনি।

    রঞ্জিতে শুরু সাফল্য

    ২০২০ সালে জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক হয় আকিবের। অভিষেকেই ঝাড়খণ্ডের বিরুদ্ধে ৫ উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন তিনি। ২০২৪-২৫ মরশুমে ৪৪টি উইকেট নিয়ে প্রতিযোগিতার সেরা পেসার হন। তবে এত সাফল্যের পরেও জাতীয় স্তরে তাঁর পরিচিতি সেভাবে তৈরি হয়নি। বাবা গুলাম নবি বলেন, ভালো খেলেও স্বীকৃতি না পাওয়াটা কষ্টের ছিল। তবুও তিনি ছেলের সময় আসবে বলেই বিশ্বাস রেখেছিলেন।

    ৬০ উইকেটে বদলে গেল ভাগ্য

    পরের মরশুমে আকিব (Auqib Nabi) করেন তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। মাত্র ১০ ম্যাচে ৬০টি উইকেট নিয়ে রঞ্জি ট্রফির সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হন। তাঁর এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জম্মু-কাশ্মীর ৬৭ বছর পরে প্রথমবার রঞ্জি ট্রফি জেতে। এই পারফরম্যান্সের পর ৮.৪ কোটি টাকার আইপিএল চুক্তি পান দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে। আইপিএলে সুযোগ খুব বেশি না পেলেও, লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর ধারাবাহিকতা জাতীয় নির্বাচকদের নজরে আসে।

    পারভেজের গর্ব

    জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার তথা আকিবের (Auqib Nabi) দীর্ঘদিনের অধিনায়ক পারভেজ রসুল বলেন, আকিবের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিকতা। রসুলের নিজেরও টেস্ট খেলার স্বপ্ন ছিল। তাই আকিবের টেস্ট ডাককে তিনি শুধু একজন ক্রিকেটারের সাফল্য হিসেবে দেখছেন না। তাঁর মতে, জম্মু-কাশ্মীরের বহু ক্রিকেটারের যে স্বপ্ন ছিল, নবির হাত ধরে তা বাস্তব হয়েছে।

    নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা

    রসুলের কথায়, অন্য জায়গার তুলনায় জম্মু-কাশ্মীর থেকে ভারতীয় দলে পৌঁছনোর চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। সীমিত পরিকাঠামো, কম সুযোগ, দীর্ঘ শীত ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আকিব নিজের উপর বিশ্বাস রেখেছেন। তাঁর এই সাফল্য কাশ্মীরের নতুন প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে বলেই মনে করেন রসুল। তাঁর মতে, কোথা থেকে এসেছেন বা কী বাধার মুখে পড়েছেন, তা নয়- পরিশ্রম, মানসিক শক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছনো সম্ভব।

    বাবার গর্ব

    আজ বারামুল্লায় গুলাম নবি যেখানেই যান, মানুষ তাঁকে চিনে ফেলেন। অনেকে কাছে এসে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘‘ইনি আকিবের বাবা।’’ যে বাবা একসময় ক্রিকেটকে ভবিষ্যৎহীন মনে করে ছেলেকে ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলেন, আজ সেই ছেলের ইতিহাস গড়ার সাক্ষী হয়ে তাঁর একটাই অনুভূতি- অপরিসীম গর্ব।

  • LPG e-KYC: ১৬ অগাস্টের মধ্যে এই কাজ না করলেই বড় ধাক্কা! ৯৬৮ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হতে পারে ২ হাজারের বেশি টাকায়?

    LPG e-KYC: ১৬ অগাস্টের মধ্যে এই কাজ না করলেই বড় ধাক্কা! ৯৬৮ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হতে পারে ২ হাজারের বেশি টাকায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  রান্নার গ্যাসের গ্রাহকদের জন্য বড় সতর্কবার্তা। ১৬ অগাস্টের মধ্যে আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাই (LPG e-KYC) সম্পূর্ণ না করলে ঘরোয়া দামে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার (LPG Cylinder) কেনার সুযোগ হারাতে পারেন গ্রাহকরা। শুধু তাই নয়, ভর্তুকি পাওয়া গ্রাহকদেরও ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে কলকাতায় বর্তমানে ৯৬৮ টাকায় পাওয়া ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের জন্য গুনতে হতে পারে অনেক বেশি টাকা।

    ১৬ অগাস্টের মধ্যেই পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক

    রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই রান্নার গ্যাসের গ্রাহকদের মোবাইলে বার্তা পাঠিয়ে আধার-ভিত্তিক পরিচয় (LPG e-KYC) যাচাই সম্পূর্ণ করার জন্য সতর্ক করছে। জানানো হয়েছে, ১৬ অগাস্টের মধ্যে পরিচয় যাচাই না করলে ঘরোয়া দামে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়ার অধিকার থাকবে না। পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই সুবিধা বন্ধ থাকতে পারে। বাড়িতে বসেই এই পরিচয় যাচাই করা যাবে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার মোবাইল পরিষেবা ব্যবহার করা যাবে। এছাড়াও গ্যাস সরবরাহকারীর কাছে গিয়ে অথবা বাড়িতে সিলিন্ডার পৌঁছে দিতে আসা কর্মীর মাধ্যমেও পরিচয় যাচাই করানো যাবে।

    কলকাতায় এখন ৯৬৮ টাকা ১৪.২ কেজির সিলিন্ডার

    বর্তমানে কলকাতায় (Kolkata) ১৪.২ কেজির ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের (LPG Cylinder) দাম ৯৬৮ টাকা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিচয় যাচাই না করলে এই ঘরোয়া দাম আর প্রযোজ্য হবে না বলেই জানানো হয়েছে। গ্যাস সরবরাহকারীদের বক্তব্য, পরিচয় যাচাই না করা গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি দাম নেওয়া হতে পারে। তবে তাঁদের ক্ষেত্রে সরাসরি বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম নেওয়া হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সর্বভারতীয় রান্নার গ্যাস সরবরাহকারী সংগঠনের সহ-সভাপতি বিজনবিহারী বিশ্বাস জানিয়েছেন, পরিচয় যাচাই না করা গ্রাহকরা নিশ্চিতভাবেই নির্ধারিত ঘরোয়া দামে সিলিন্ডার পাবেন না। ফলে তাঁদের বেশি দাম দিতে হতে পারে।

    ভর্তুকি পাওয়া গ্রাহকদের জন্যও সতর্কবার্তা

    শুধু সিলিন্ডারের দাম নয়, পরিচয় যাচাই না করলে রান্নার গ্যাসের (LPG Cylinder) ভর্তুকিও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা বর্তমানে ভর্তুকি পান, তাঁদের ১৬ অগাস্টের মধ্যে পরিচয় (LPG e-KYC) যাচাই সম্পূর্ণ করা জরুরি। কলকাতায় বর্তমানে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য প্রতি ঘরোয়া সিলিন্ডারে ভর্তুকির পরিমাণ ১৯ টাকা ৫৭ পয়সা। অন্যদিকে, উজ্জ্বলা প্রকল্পের গ্রাহকরা প্রতি সিলিন্ডারে ৩০০ টাকা ভর্তুকি পান। ফলে তাঁদের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই না করলে আর্থিক চাপ আরও বেশি হতে পারে।

    কত টাকা লাগতে পারে?

    কলকাতায় বর্তমানে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের (LPG Cylinder) দাম ৩,০৮১ টাকা ৫০ পয়সা। তেল সংস্থাগুলি যদি পরিচয় যাচাই না করা ঘরোয়া গ্রাহকদের কাছ থেকে বাণিজ্যিক হারে দাম নেয়, তাহলে ১৪.২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য ২ হাজার টাকারও বেশি খরচ হতে পারে। যদিও পরিচয় যাচাই না করা গ্রাহকদের জন্য ঠিক কত দাম নেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট করে জানানো হয়নি।

    কতজনের পরিচয় যাচাই হয়েছে?

    তেল সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে কলকাতা-সহ মোট প্রায় ২ কোটি ৭০ লক্ষ ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ গ্রাহক আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণ করেছেন। অর্থাৎ, এখনও একটি বড় অংশের গ্রাহকের পরিচয় যাচাই বাকি রয়েছে।

    কীভাবে করবেন পরিচয় যাচাই?

    গ্রাহকরা তিনভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে পারবেন- বাড়িতে বসে সংশ্লিষ্ট সংস্থার মোবাইল পরিষেবার মাধ্যমে। নিজের গ্যাস সরবরাহকারীর কাছে গিয়ে। সিলিন্ডার পৌঁছে দিতে আসা কর্মীর মাধ্যমে। তাই শেষ মুহূর্তের ভিড় বা সমস্যার আশঙ্কা এড়াতে দ্রুত পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    শেষ তারিখের আগে কাজ না সারলেই বাড়তে পারে খরচ

    অর্থাৎ, রান্নার গ্যাসের গ্রাহকদের জন্য এখন সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৬ অগাস্টের পর আধার-ভিত্তিক পরিচয় (LPG e-KYC) যাচাই না করা থাকলে ৯৬৮ টাকার ঘরোয়া সিলিন্ডার আর সেই দামে নাও মিলতে পারে। ভর্তুকি পাওয়া গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বন্ধ হয়ে যেতে পারে ভর্তুকিও। বাণিজ্যিক হারে দাম নেওয়া হলে ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের খরচ ২ হাজার টাকার গণ্ডিও পেরিয়ে যেতে পারে। তাই শেষ দিনের অপেক্ষা না করে এখনই আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণ করুন, নইলে রান্নার গ্যাসের জন্য বাড়তি টাকা গুনতে হতে পারে।

  • CID: পরীক্ষার আগেই হাতে উত্তর! হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়েছিল জেএসএসসির ১২০ টি প্রশ্নের উত্তর, সিআইডি রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    CID: পরীক্ষার আগেই হাতে উত্তর! হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়েছিল জেএসএসসির ১২০ টি প্রশ্নের উত্তর, সিআইডি রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের স্নাতক স্তরের পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে (JSSC CGL Paper Leak) সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাজ্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত শাখার রিপোর্ট অনুযায়ী, পরীক্ষার ১৫০টি প্রশ্নের মধ্যে ১২০টির উত্তর আগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সেই উত্তর ছড়িয়ে পড়েছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই রিপোর্ট সামনে আসার পর রাজ্য সরকার তা কার্যত সরিয়ে রেখে দ্বিতীয়বার তদন্তের নির্দেশ দেয়। সেই দ্বিতীয় তদন্তে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ খারিজ করে পরীক্ষাকে ক্লিনচিট দেওয়া হয়।

    কীভাবে ছড়িয়েছিল ফাঁস হওয়া প্রশ্নের উত্তর?

    সিআইডির (CID) প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ফাঁস হওয়া প্রশ্নের উত্তর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। যারা টাকা দিয়ে সেই উত্তর নিয়েছিলেন, তাঁদের বিভিন্ন জায়গায় বসিয়ে উত্তর সরবরাহ করা হয়েছিল। তদন্তে হজারিবাগ, জামশেদপুর, পটনা, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা এবং এমনকী নেপালের নামও উঠে এসেছে। অর্থাৎ, শুধু ঝাড়খণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না এই চক্রের কার্যকলাপ- এমনই ইঙ্গিত মিলেছে সিআইডির(CID) রিপোর্টে।

    ইন্টারনেট বন্ধ করেও আটকানো যায়নি ফাঁস

    এর আগে প্রশ্নফাঁসের (JSSC CGL Paper Leak) অভিযোগের জেরে জেএসএসসির পরীক্ষা বাতিল হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর ফের পরীক্ষা নেওয়া হয়। পুনরায় যাতে প্রশ্নফাঁস না হয়, সেই আশঙ্কায় পরীক্ষার সময় গোটা ঝাড়খণ্ডে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও প্রশ্নফাঁস চক্রকে আটকানো যায়নি বলে অভিযোগ। এক পরীক্ষার্থীর দাবি, এবার সরাসরি প্রশ্ন নয়, তাঁদের কাছে উত্তরও পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। ইন্টারনেট না থাকায় ল্যান্ডলাইন ফোন ব্যবহার করেও উত্তর জানানো হয়েছিল। ফোনে উত্তর বলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল।

    ‘প্রশ্ন নয়, উত্তর পেয়েছিলাম’

    পরীক্ষার্থী জিৎ কুমারের দাবি, তাঁদের কাছে প্রশ্ন পাঠানো হয়নি, পাঠানো হয়েছিল উত্তর। তাঁর কথায়, পরীক্ষার পর তাঁরা জানতে পারেন যে হাতে পাওয়া উত্তরগুলি সঠিক ছিল। এ সংক্রান্ত প্রমাণ আদালতেও জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। জিৎ কুমার এবং আরও কয়েকজন পরীক্ষার্থী রাঁচির আদালতে মামলাও করেছেন। তাঁদের কাছে থাকা উত্তরগুলির ফটোকপিও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে। পরীক্ষার্থীদের দাবি, কেউ কেউ উত্তরগুলি লিখে রেখেছিলেন এবং পরে বন্ধুদের সঙ্গে প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করে সেগুলির মিল খুঁজে পান।

    সকাল ৭টা ২৩ মিনিটের ছবি ঘিরে রহস্য

    মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে একটি ছবির কথা উঠে এসেছে। ছবিটিতে সময় দেখা যাচ্ছে সকাল ৭টা ২৩ মিনিট, তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪। অর্থাৎ, পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই ওই ছবি তোলা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ছবিটির অবস্থান হিসেবে জামশেদপুরের বিষ্ণুপুর এলাকার লোকেশন পাওয়া গিয়েছে। এই ছবিই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

    সিআইডির (CID) রিপোর্টে কী বলা হয়েছিল?

    রাজ্য সিআইডি ২০২৫ সালের মার্চে তদন্ত শেষ করে। তাদের প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়, মোট ১৫০টি প্রশ্নের মধ্যে ১২০টির উত্তর ফাঁস হয়েছিল। এই রিপোর্ট সামনে আসার পর বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। কিন্তু এরপরই রাজ্য সরকার সিআইডির রিপোর্টটি কার্যত সরিয়ে রেখে নতুন করে তদন্তের জন্য দ্বিতীয় একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে।

    দ্বিতীয় তদন্তে মিলল না প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ!

    দ্বিতীয় বিশেষ তদন্তকারী দলের তদন্তের ফল ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ কার্যত খারিজ করে দেওয়া হয়। পরীক্ষাকেও ক্লিনচিট দেওয়া হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে আর তেমন অগ্রগতি হয়নি। কিন্তু প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সরব থাকা পড়ুয়াদের ক্ষোভ থামেনি।

    জেএসএসসির পর জেপিএসসি, ফের প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ

    এর মধ্যেই ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায়ও একই ধরনের প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে এসেছে। এরপর রাজ্যজুড়ে পড়ুয়াদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও সংস্কারের দাবিতে শুরু হয় বড়সড় আন্দোলন।

    ১৬ দিন ধরে আন্দোলনে পড়ুয়ারা

    ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহতোর নেতৃত্বে রাঁচির জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়ামে আন্দোলন চলছে। ইতিমধ্যেই সেই আন্দোলন ১৬ দিনে পড়েছে। সরকারের সঙ্গে পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের একাধিক দফায় বৈঠক হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সমাধান হয়নি।

    ‘পড়ুয়াদের দাবি যুক্তিসঙ্গত’

    পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনায় থাকা ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী দীপিকা সিং জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের উদ্বেগকে সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তাঁর বক্তব্য, পড়ুয়ারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন এবং তাঁদের দাবিগুলিও যুক্তিসঙ্গত। সরকার সেই বিষয়গুলি সমাধানের জন্য প্রস্তুত। তবে এজন্য আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। ফলে ২০২৪ সালের জেএসএসসি প্রশ্নফাঁসের পুরনো অভিযোগ, সিআইডির (CID) বিস্ফোরক রিপোর্ট এবং পরবর্তী সময়ে দেওয়া ক্লিনচিট- সব মিলিয়ে ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক ফের নতুন করে সামনে এসেছে।

  • Baloch Students: রাত ২টোর অভিযান, তারপরই উধাও ৫ ছাত্র! করাচিতে বালোচ পড়ুয়াদের ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ

    Baloch Students: রাত ২টোর অভিযান, তারপরই উধাও ৫ ছাত্র! করাচিতে বালোচ পড়ুয়াদের ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) করাচিতে পাঁচ বালোচ ছাত্রকে (Baloch Students) জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পাক রেঞ্জার্সের বিরুদ্ধে। বালোচ ছাত্রদের সংগঠন বালোচ স্টুডেন্টস অ্যাকশন কমিটি (Baloch Students Action Committee) জানিয়েছে, ৫ অগাস্ট গভীর রাতে করাচির (Karachi) গুলশান-ই-ইকবাল এলাকার একটি আবাসনে অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচ ছাত্রকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি সংগঠনটির।

    কারা নিখোঁজ? (Baloch Students)

    বিএসএসি (Baloch Students Action Committee)-র বিবৃতি অনুযায়ী, নিখোঁজ পাঁচ ছাত্র হলেন- আজহার বালোচ ও গওস বখশ বালোচ, দু’জনেই জনৈক হায়াতের ছেলে, শাহিদের ছেলে শেহজাদ বালোচ, আজিমের ছেলে আনিস বালোচ এবং মহম্মদ আমিনের ছেলে ওয়াসিম বালোচ। আজহার গওয়াদরের বাসিন্দা এবং করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তাঁর ভাই গওস বখশ একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে পড়ছেন। গওয়াদরের বাসিন্দা শেহজাদ পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। নওশকির বাসিন্দা আনিস দর্শন নিয়ে পড়ছেন। আর কালাতের বাসিন্দা ওয়াসিম পলিটিক্যাল সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করছেন।

    গভীর রাতে আবাসনে অভিযান

    বিএসএসির দাবি, ৫ অগাস্ট রাত প্রায় ২টোর সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পাক রেঞ্জার্সের সদস্যরা গুলশান-ই-ইকবালের ওই আবাসনে ঢোকেন। সংগঠনটির অভিযোগ, সেখানে ছাত্রদের শারীরিকভাবে হেনস্থা ও ভয় দেখানোর পর তাঁদের সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র-সহ তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে ওই পাঁচ ছাত্র কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে পরিবারের কাছে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে বিএসএসি।

    আগে আরও দুই ছাত্র নিখোঁজ

    বিএসএসি জানিয়েছে, এই পাঁচজনের আগেও আরও দুই বালোচ ছাত্র নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের (Karachi University) এমফিলের ছাত্র খলিল বালোচ। সংগঠনটির দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকেই তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অন্য ছাত্র জুবেইর বালোচ নূর মহম্মদের ছেলে। তিনি হাব ডিগ্রি কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতক। চতুর্থ তফশিলের একটি মামলায় শুনানি শেষে বাড়ি ফেরার সময় হাব এলাকা থেকে তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। ফলে বিএসএসির দাবি, মোট সাত বালোচ ছাত্র বর্তমানে নিখোঁজ।

    ‘শিক্ষার জন্য বাড়ি ছেড়েও নিরাপদ নন’

    বালোচ ছাত্রদের (Baloch Students) সংগঠনটির অভিযোগ, উচ্চশিক্ষার জন্য নিজেদের এলাকা ছেড়ে করাচিতে আসা ছাত্রদেরই বারবার নিশানা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্রাবাস এবং ব্যক্তিগত বাসস্থান- কোনও জায়গাই তাঁদের জন্য নিরাপদ থাকছে না বলে দাবি সংগঠনটির। বিএসএসি বলেছে, এই ধরনের ঘটনার ফলে শুধু ছাত্রদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, তাঁদের পরিবারও তীব্র মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে পড়ছে। সংগঠনটির দাবি, অবিলম্বে বালোচ ছাত্রদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে, সাতজনকেই নিরাপদে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং তাঁদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

    ‘এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়’

    বালোচ (Baloch) ইয়াকজেহতি কমিটির নেত্রী সাবিহা বালোচের দাবি, বালোচ ছাত্রদের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি ধারাবাহিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা তরুণদের বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্রাবাস এবং ব্যক্তিগত বাসস্থান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর ফলে পরিবারগুলির মধ্যে ভয় ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক আঘাত তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। আর এক বালোচ নেত্রী সামি দীন বালোচ জানিয়েছেন, নিখোঁজ সাতজনের মধ্যে ছয়জনই করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তাঁদের মধ্যে এমফিলের ছাত্র খলিল বালোচও রয়েছেন। তাঁর দাবি, রেঞ্জার্স এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সংস্থার সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকেই খলিলকে নিয়ে গিয়েছিলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাত্রদের নিরাপদ জায়গা হওয়া উচিত, নিখোঁজ করে দেওয়ার কেন্দ্র নয়। কোনও ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়া মেনে আদালতে হাজির করা উচিত। অভিযোগ না থাকলে অবিলম্বে তাঁদের খুঁজে বের করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

    মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগ

    হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল অব বালোচিস্তানও সাত ছাত্রের (Baloch Students) নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির দাবি, কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে ছাত্রদের অবস্থান জানাতে হবে এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও বৈধ অভিযোগ থাকলে আইন মেনে আদালতে হাজির করতে হবে। তা না হলে অবিলম্বে তাঁদের মুক্তি দিতে হবে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ, পাকিস্তান রেঞ্জার্স এবং করাচি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছাত্রদের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

    নিখোঁজ বৃদ্ধের দেহ উদ্ধার

    এরই মধ্যে বালোচিস্তানে (Balochistan) আরও একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত মাসে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নিখোঁজ হওয়া এক বৃদ্ধের দেহ লাসবেলা জেলা থেকে উদ্ধার হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম হাইবাতান। তিনি মালো মাররির ছেলে এবং বেলার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ৯ জুলাই বেলা ক্রস এলাকা থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে হাব-সাকরান সড়কের গরিবাবাদ এলাকার কাছে রাস্তার ধারে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দেহে নির্যাতনের চিহ্ন এবং গুলির আঘাতের চিহ্ন ছিল।

    বালোচিস্তানে বাড়ছে উদ্বেগ

    বালোচিস্তানে (Balochistan) জোর করে নিখোঁজ করে দেওয়া ব্যক্তিদের পরে মৃত অবস্থায় উদ্ধারের অভিযোগ নতুন নয়। পরিবার এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলির অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়া অনেক ব্যক্তিকে পরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা বেআইনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। করাচিতে সাত বালোচ ছাত্রের (Baloch Students) নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ এবং লাসবেলায় এক বৃদ্ধের দেহ উদ্ধারের ঘটনা নতুন করে সেই উদ্বেগই সামনে এনেছে।

  • Congress: বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করবে কংগ্রেস, জানালেন খাড়গে

    Congress: বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করবে কংগ্রেস, জানালেন খাড়গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনী বিলের তীব্র বিরোধিতা করবে কংগ্রেস (Congress)। সোমবার বিরোধী দলগুলির সংসদীয় দলনেতাদের বৈঠকে বিলটি নিয়ে কৌশল নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। শনিবার উত্তরাখণ্ডের হালদোয়ানির (FCRA Bill) এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি। পরে সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাড়গে জানান, আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের কর্মীদের চাঙা করতেই তাঁর উত্তরাখণ্ড সফর। রাজ্য সফরের সময় তিনি এদিন রুদ্রপুরে নবনিযুক্ত রাজ্য ও জেলা সভাপতিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

    বিলের বিরোধিতা করব! (Congress)

    সংসদের বাদল অধিবেশনের শেষ সপ্তাহে লোকসভায় বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনী বিলটি পেশ হতে পারে বলে খবর। রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা খাড়গে বলেন, “আমরা বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংক্রান্ত এই উদ্যোগের বিরোধিতা করব। আগামীকাল সংসদীয় দলনেতাদের বৈঠকের পরে আমরা কৌশল সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেব।” উত্তরাখণ্ডে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে কংগ্রেস কর্মীরা কাজ করছেন বলেও দাবি করেন খাড়গে। দলের কর্মীদের উজ্জীবিত করতে তাঁর নিয়মিত রাজ্য সফরের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সভাপতি। প্রতিদিন এখানে আসা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, কিন্তু আমাদের বাহিনী এখানে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি কি প্রতিদিন এখানে আসেন? অমিত শাহ কি এখানে আসেন? নাড্ডা, যিনি এই অঞ্চল থেকেই এসেছেন, তিনিও কি এখানে আসেন? নতুন বিজেপি সভাপতিও কি এখানে আসেন?”

    সরকার বিল চাপিয়ে দিতে পারে না

    তিনি এও বলেন, “দলের কর্মীদের উজ্জীবিত করার প্রয়োজন হলে আমরা তখনই এবং সেখানেই যাই। তার অর্থ এই নয় যে পর্যটকের মতো এসে শুধু চলে যাই।” বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনী বিলের বিরোধিতা ইতিমধ্যেই একাধিক বিরোধী দল করেছে। কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল শুক্রবার জানিয়েছিলেন, দল এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করবে। তাঁর কথায়, “সরকার এই ধরনের বিল জোর করে চাপিয়ে দিতে পারে না।” ২০১০ সালের বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের লক্ষ্যে বিলটি আনা হচ্ছে। বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোই এই সংশোধনের ঘোষিত উদ্দেশ্য।

    বিল নিয়ে মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

    এদিকে, মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একাধিক সুপারিশ এবং আঞ্চলিক উদ্বেগ তুলে ধরেন। পরে লালদুহোমা জানান, শাহের কাছে তিনি ছ’টি বিষয় উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে যে বিষয়টি খুব স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, তা হল এই আইন অতীত থেকে কার্যকর হবে না। আমাদের সেই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বাকি বিষয়গুলিতে তিনি অনুচ্ছেদ ধরে মন্তব্য করবেন এবং চলতি মাসের ১২ তারিখ থেকে সংসদে আলোচনা শুরু করবেন (Congress)।” বিলের কয়েকটি বিধানের বিরোধিতা করে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্য ও প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সংসদে বৈঠক করেছেন অমিত শাহ।

    বিল প্রত্যাহারের দাবি

    তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা দ্রাবিড় মুনেত্র কড়গমের সভাপতি এমকে স্টালিনও শনিবার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনী বিল প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে ২০১০ সালের ওই আইনের ১৫ নম্বর ধারা বাতিলের দাবিও জানান তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় স্টালিন জানান, সংখ্যালঘুদের যৌথ কর্মসূচি মঞ্চের একটি প্রতিনিধিদল ৬ আগস্ট কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে বিলটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দ্রাবিড় মুনেত্র কড়গমের রাজ্যসভার সাংসদ পি উইলসন। বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতারাও ওই দলে ছিলেন। শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টিও এই বিলের বিরোধিতা করেছে।

    আত্মবিশ্বাসী খাড়গে

    এদিকে, শনিবার হালদোয়ানির জনসভায় খাড়গে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরাখণ্ডে কংগ্রেস সরকার গঠন করবে (FCRA Bill)। দিল্লিতে প্রতিবাদী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পুলিশের দমন-পীড়ন নিয়েও বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি উত্তরাখণ্ডে মন্দিরের অনুদান, বেকারত্ব, নিয়োগ পরীক্ষা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো বিষয় নিয়েও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন খাড়গে (Congress)।

     

  • Hindus Under Attack: দেশে-বিদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, ধর্মান্তর ও বৈষম্যের অভিযোগ

    Hindus Under Attack: দেশে-বিদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, ধর্মান্তর ও বৈষম্যের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের উপর হামলা, ধর্মীয় বিদ্বেষ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, মন্দির ও মূর্তির অবমাননা, উৎসবে বাধা, হিংসা এবং (Hindus Under Attack) প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের অভিযোগ ক্রমেই সামনে আসছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বহু ক্ষেত্রে এই ঘটনাগুলি বিচ্ছিন্ন নয়, বরং হিন্দু পরিচয় ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি বৈষম্যের বৃহত্তর চিত্রের অংশ (Roundup Week)। ১ থেকে ৮ অগাস্ট ২০২৬ সময়ের ঘটনাগুলির একটি সাপ্তাহিক সংকলনে এমনই কয়েকটি অভিযোগ ও বিতর্কের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

    বিবিসির সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    বিবিসির সাংবাদিক সৌতিক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মুঘল শাসকদের অত্যাচারকে আড়াল করা থেকে শুরু করে দোষী সাব্যস্ত তথ্য-জালিয়াতদের পক্ষ নেওয়া পর্যন্ত এমন এক ধরনের বয়ান প্রচার করেছেন, যা ধারাবাহিকভাবে হিন্দুদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে এবং ইসলামপন্থী চরমপন্থাকে আড়াল করে। প্রতিবেদনে তাঁর সাংবাদিকতার ধরনকে হিন্দুবিদ্বেষী মানসিকতার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। হায়দরাবাদের দুধবাউলি এলাকার শান্তিনিকেতন হাইস্কুলে একটি অনুষ্ঠানকে ঘিরে গুরুতর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, বাধ্যতামূলক প্রাতঃকালীন সমাবেশে কয়েকশো অপ্রাপ্তবয়স্ক পড়ুয়ার সামনে একটি বিদেশি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট-সম্পর্কিত বক্তব্য তুলে ধরা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বহিরাগত অতিথিকে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ে পড়ুয়াদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিয়োকে ঘিরে অভিযোগ ওঠে, পড়ুয়াদের মধ্যে ইরানের জাতীয় পতাকা বিলি করা হয়েছিল এবং বিদ্যালয় চত্বরে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ছবি-সহ একটি পোস্টার প্রদর্শিত হয়েছিল। স্কুলের পরিবেশে এমন কর্মসূচির যথার্থতা নিয়ে এরপর প্রশ্ন ওঠে।

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করার অভিযোগ

    সংসদে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক অধ্যাপক ভি কামাকোটিকে গোমূত্র বিশেষজ্ঞ বলে কটাক্ষ করার ঘটনাও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এটি নিছক একটি রাজনৈতিক কটাক্ষ নয়, বরং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক পরিসরের একটি অংশে হিন্দু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতি দীর্ঘদিনের অবজ্ঞার প্রকাশ। তাঁদের আরও অভিযোগ, হিন্দু ঐতিহ্যের বৈচিত্র্যময় বিশ্বাস ও আচারকে বিদ্রূপ করার প্রবণতাও এর মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। পাঞ্জাবের মোহালি জেলায় দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন, শারীরিক অত্যাচার এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারী মোহালির ধাকোলি এলাকার এক হিন্দু মহিলা। তিনি মোহালির পুলিশ সুপারের দফতরে লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন, বিহারের আরারিয়া জেলার বাসিন্দা মীর আরফাক আলি বিয়ের প্রতিশ্রুতির নামে প্রায় পাঁচ বছর ধরে তাঁকে একটি জবরদস্তিমূলক সম্পর্কে আটকে রাখেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং তড়িঘড়ি বিয়ের পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয় (Hindus Under Attack)। অভিযুক্ত যুবক বর্তমানে বিহারের নিজের গ্রামে পালিয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ।

    শপিং মলে একী কাণ্ড!

    উত্তরপ্রদেশের ইন্দিরাপুরমের একটি শপিং মলে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রায় ২১ সেকেন্ডের ওই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, হাতে বড় একটি ছুরি নিয়ে এক যুবক ক্যালিফোর্নিয়া বুরিটো খাবারের দোকানের এক হিন্দু মহিলা কর্মীকে পরপর চড় মারছেন। এক মহিলা সহকর্মী তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলে তাঁকেও ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। রাজস্থান-হরিয়ানা সীমান্তে গবাদি পশু পাচারচক্রের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় নুহ পুলিশ ৩০ বছর বয়সি জাবির নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের দাবি, জাবির দীগ জেলার পাহাড়ি থানার ঘাটমিকা গ্রামের বাসিন্দা এবং গরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত। পুলিশের পাল্টা গুলিচালনার সময় তাঁর বাঁ হাঁটুতে গুলি লাগে। পরে তাঁকে নালহারের শহিদ হাসান খান মেওয়াতি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। তাঁর সহযোগী সাহুন পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। তাঁকে ধরতে শুরু হয়েছে (Roundup Week) তল্লাশি। বেঙ্গালুরুর দেবরা জীবনহল্লি এলাকায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা এক সরকারি আধিকারিক কর্তব্যরত অবস্থায় আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। ঘটনায় দস্তগীর, ইয়ারব এবং ইকবালের বিরুদ্ধে পুলিশ ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে।

    বিদেশের ছবি

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসক করিশ্মা রেড্ডির অভিযোগ, তাঁর নিজের কপালের টিপ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করার পর তিনি বর্ণবিদ্বেষী ও বিদেশিবিদ্বেষী আক্রমণের শিকার হন। পেশায় প্লাস্টিক সার্জন করিশ্মা জানান, ভিডিওটিতে তিনি এক রোগীর সঙ্গে একটি হালকা মেজাজের কথোপকথনের ঘটনা তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু তার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক বিদ্বেষমূলক মন্তব্য আসতে শুরু করে। কয়েকজন ইউজার তাঁকে ভারতে ফিরে যেতে বলেন। উল্লেখ্য, করিশ্মার জন্ম ও বেড়ে ওঠা (Hindus Under Attack) যুক্তরাষ্ট্রেই।

    হিন্দুবিদ্বেষ নিয়ে উদ্বেগ

    বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে নিহিত হিন্দুবিদ্বেষ বহু ঘৃণাজনিত অপরাধের অন্যতম চালিকাশক্তি। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুবিদ্বেষের প্রকাশ তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হলেও, ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করা দেশগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও হিন্দুদের প্রতি অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম বৈষম্য দেখা যায় বলেই অভিযোগ। এই ধরনের দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় সরাসরি চোখে পড়ে না। তাই সংশ্লিষ্ট আইন, সরকারি নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে এর প্রকৃতি আরও স্পষ্ট হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি নিষিদ্ধ বা সীমিত করার প্রবণতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাইরে থেকে দেখলে এর কারণ পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু প্রতিবেদনের বক্তব্য, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির উপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং সেগুলির ক্ষেত্রে নীতির সমতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে বিষয়টি অন্যভাবে দেখা যায় (Hindus Under Attack)।

    মনে রাখতে হবে, ওপরের ঘটনাগুলির বেশিরভাগই অভিযোগ, দাবি কিংবা বিতর্কের ভিত্তিতে উপস্থাপিত, সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যায়নি, আদালতেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে—এমন দাবিও এই প্রতিবেদনে করা হচ্ছে (Roundup Week) না।

     

LinkedIn
Share