Blog

  • Iran War: নিষেধাজ্ঞা শিথিল আমেরিকার, ইরান থেকে তেল কেনার পরিকল্পনা ভারতীয় রিফাইনারির

    Iran War: নিষেধাজ্ঞা শিথিল আমেরিকার, ইরান থেকে তেল কেনার পরিকল্পনা ভারতীয় রিফাইনারির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ওয়াশিংটন। তাই ভারতীয় রিফাইনারিগুলি ফের ইরান থেকে তেল কেনার পরিকল্পনা করছে। এশিয়ার অন্যান্য রিফাইনারিরাও এমন পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বলে শনিবার জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ভারতের তিনটি রিফাইনিং সূত্র জানিয়েছে, তারা ইরানি তেল কিনতে প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশ ও ওয়াশিংটনের কাছ থেকে অর্থপ্রদানের শর্ত-সহ অন্যান্য বিষয়ে স্পষ্টতা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

    ইরানি তেল কেনার ছাড়পত্র (Iran War)

    এশিয়ার অন্যান্য বড় তেল আমদানিকারী দেশের তুলনায় ভারতে তেলের মজুত কম। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি রাশিয়ান তেলের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর ভারতীয় রিফাইনারিগুলি দ্রুত রাশিয়ান তেল বুকিং করতে শুরু করে। এ বিষয়ে অবশ্য ভারত সরকারের কোনও মন্তব্য আপাতত মেলেনি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকজন জানিয়েছেন, এশিয়ার অন্যান্য রিফাইনারিগুলিও ইরানি তেল কেনা সম্ভব কিনা তা যাচাই করছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসন সমুদ্রে থাকা ইরানি তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। এই ছাড় প্রযোজ্য হবে এমন সব তেলের ক্ষেত্রে, যা ২০ মার্চের মধ্যে কোনও জাহাজে তোলা হয়েছে এবং ১৯ এপ্রিলের মধ্যে খালাস করা হবে। এই তথ্য জানিয়েছে অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (OFAC)। যুদ্ধ শুরুর পর এটি তৃতীয়বারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তেলের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করল।

    হ্রাস পাচ্ছে জ্বালানি রফতানি

    কেপলারের সিনিয়র ডেটা ম্যানেজার ইম্যানুয়েল বেলোস্ত্রিনোর মতে, বর্তমানে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল সমুদ্রে রয়েছে। এগুলি মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগর থেকে শুরু করে চিনের নিকটবর্তী জলসীমা পর্যন্ত বিভিন্ন জাহাজে রয়েছে। এনার্জি অ্যাসপেক্টস নামের পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ১৯ মার্চ জানিয়েছিল, সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলের পরিমাণ ১৩০ থেকে ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেলের মধ্যে, যা বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদন ঘাটতির তুলনায় ১৪ দিনেরও কম। এশিয়া তার মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৬০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। এই মাসে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় অঞ্চলের রিফাইনারিগুলি উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে এবং জ্বালানি রফতানিও হ্রাস পাচ্ছে।

    কেপলারের তথ্য

    ট্রাম্প ২০১৮ সালে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশটির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এরপর থেকে চিন ইরানের প্রধান ক্রেতা হয়ে ওঠে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর চিনের স্বাধীন রিফাইনারিগুলি দৈনিক ১৩.৮ লাখ ব্যারেল তেল কিনেছে। কারণ অধিকাংশ দেশ নিষেধাজ্ঞার কারণে এই তেল এড়িয়ে চলে এবং এতে বড় ধরনের মূল্যছাড় পাওয়া যায়। ইরানি তেল কেনার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতাও রয়েছে। যেমন, অর্থ দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং এর বড় অংশ পুরনো ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জাহাজে বহন করা হচ্ছে। এছাড়া, আগে যারা ইরানি তেল কিনত, তাদের অনেকেরই জাতীয় ইরানি তেল কোম্পানির (NIOC) সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে ২০১৮ সালের শেষ দিকে নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপের পর ইরানি তেলের বড় অংশ তৃতীয় পক্ষের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে। সিঙ্গাপুরের এক ব্যবসায়ী বলেন, “নিয়মনীতি, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে কিছুটা সময় লাগে। তবে সবাই যত দ্রুত সম্ভব এগোতে চাইবে।” উল্লেখ্য যে, কোম্পানির নীতির কারণে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিল। চিন ছাড়া নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের আগে ইরানি তেলের বড় ক্রেতাদের মধ্যে ছিল ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান এবং তুরস্ক।

     

  • West Bengal Elections 2026: অবশিষ্ট ৩৯ আসনের প্রার্থী জট কাটাতে তৎপর বিজেপি: রবিবার অমিত শাহের বাসভবনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

    West Bengal Elections 2026: অবশিষ্ট ৩৯ আসনের প্রার্থী জট কাটাতে তৎপর বিজেপি: রবিবার অমিত শাহের বাসভবনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) রণকৌশল চূড়ান্ত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party)। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের অবশিষ্ট ৩৯টি আসনে কাদের প্রার্থী করা হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া বাকি। এই জট কাটাতেই আগামী রবিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে।

    বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়সমূহ

    বিজেপির (Bharatiya Janata Party) রবিবারের এই বৈঠকে মূলত তিনটি প্রধান দিক নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে:

    • প্রার্থী বাছাইয়ের মাপকাঠি: যে ৩৯টি আসনে এখনও প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি, সেখানে জয়ের সম্ভাবনা বা ‘উইনেবিলিটি’ (Winability)-কেই প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
    • আঞ্চলিক সমীকরণ: সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর জনবিন্যাস এবং স্থানীয় নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বিচার করে তবেই চূড়ান্ত তালিকায় সিলমোহর দেওয়া হবে।
    • অভ্যন্তরীণ সমন্বয়: দলের পুরনো কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমন এবং নবাগতদের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে একটি শক্তিশালী তালিকা প্রস্তুত করাই এখন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ।

    কেন এই ৩৯টি আসন তাৎপর্যপূর্ণ?

    বিজেপি (Bharatiya Janata Party) সূত্রের খবর, এই আসনগুলোর মধ্যে এমন কিছু কেন্দ্র রয়েছে যেখানে গত নির্বাচনে লড়াই অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি হয়েছিল। তাই এবার কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে দীর্ঘ বিচার-বিবেচনার পর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে চাইছে দিল্লি।

    রবিবারের এই বৈঠকের পর যে তালিকা তৈরি হবে, তা অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় সংসদীয় বোর্ডের কাছে পাঠানো হবে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই অবশিষ্ট ৩৯টি আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে আসতে পারে। উৎসবের আমেজ কাটতে না কাটতেই এই তৎপরতা প্রমাণ করছে যে, বিজেপি হাইকম্যান্ড পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে (West Bengal Elections 2026) কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।

    প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় ১৪২ জনের নাম প্রকাশ করেছে বিজেপি। পরের দফায় ১৩৯ জনের নাম প্রকাশ করা হয় দলের তরফে। যদিও একাধিক আসনে প্রার্থী তালিকায় রদবদল হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে দু’ফায় হচ্ছে বিধানসভা নির্বাচন। প্রথম দফার ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে।

  • Kumbh Mela Viral Girl Monalisa: কুম্ভ মেলার ‘ভাইরাল’ গার্ল মোনালিসা নাবালিকা! শংসাপত্র অনুযায়ী বয়স ১৬, মামলা দায়েরের প্রস্তুতি পুলিশের

    Kumbh Mela Viral Girl Monalisa: কুম্ভ মেলার ‘ভাইরাল’ গার্ল মোনালিসা নাবালিকা! শংসাপত্র অনুযায়ী বয়স ১৬, মামলা দায়েরের প্রস্তুতি পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রয়াগরাজ কুম্ভ মেলায় রাতারাতি ইন্টারনেটে পরিচিতি পাওয়া মোনালিসাকে (Kumbh Mela Viral Girl Monalisa) নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া এই কিশোরী এখনও নাবালিকা। তাঁর জন্ম শংসাপত্র (Birth Certificate) অনুযায়ী বর্তমান বয়স মাত্র ১৬ বছর ২ মাস (Minor Birth Certificate)।

    তদন্তকারী সংস্থা এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাবালিকা মনবালিসার চাঞ্চাল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। উল্লেখ্য কেরলে মুসলিম যুবকের সঙ্গে বিয়ের পর থেকে পরিবারের তরফে নাবালিকার বিবাহ, লাভ জিহাদ এবং ধর্মান্তরকরণের মতো অভিযোগ করে সরব হয়েছিলেন। মোনালিসার বাবা মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের কাছে বিচার চেয়ে আবেদনপত্রও জমা করেছিলেন। এরপর জন্মের প্রমাণপত্র নিয়ে শুরু হয় বিস্তর জল্পনা।

    বয়স সংক্রান্ত তথ্য (Kumbh Mela Viral Girl Monalisa)

    মোনালিসার বার্থ সার্টিফিকেট (Kumbh Mela Viral Girl Monalisa) বা জন্ম শংসাপত্র যাচাই করে দেখা গেছে যে, তাঁর বয়স এখনও আঠারো বছর পূর্ণ হয়নি। অর্থাৎ আইনত তিনি একজন নাবালিকা। নাবালিকা (Minor Birth Certificate) হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় বা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরা হয়েছে, তা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। পুলিশ এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    ভাইরাল হওয়ার প্রভাব

    কুম্ভমেলার (Kumbh Mela Viral Girl Monalisa) সময় তাঁর ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, যা তাঁকে রাতারাতি লাইমলাইটে নিয়ে আসে। তবে তাঁর প্রকৃত বয়স সামনে আসায় এখন সেই জনপ্রিয়তার নেপথ্যে থাকা আইনি ও নৈতিক দিকগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    কেন এই মামলা গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতের আইন অনুযায়ী, একজন নাবালিকার (Minor Birth Certificate) পরিচয় বা তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। পুলিশের মতে, এই ঘটনায় নাবালিকার সুরক্ষা ও অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। এই খবরটি সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের ক্ষেত্রে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে, যেখানে বয়সের প্রমাণপত্র (Kumbh Mela Viral Girl Monalisa) ছাড়া যে কোনও তথ্য বা ব্যক্তিকে প্রচার করার ঝুঁকি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে মোনালিসার বিবাহকে ঘিরে এখন তাঁর জন্মের প্রমাণপত্র ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। একাধিক রাজনৈতিক নেতা এবং মুসলিম নেতাদের কাঠগড়ায় তোলার ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

  • INS Taragiri: নীল-জলের যুদ্ধে আরও শক্তিশালী হওয়ার পথে ভারত, ৩ এপ্রিল নৌসেনায় কমিশন্ড হচ্ছে স্টেলথ ফ্রিগেট ‘তারাগিরি’

    INS Taragiri: নীল-জলের যুদ্ধে আরও শক্তিশালী হওয়ার পথে ভারত, ৩ এপ্রিল নৌসেনায় কমিশন্ড হচ্ছে স্টেলথ ফ্রিগেট ‘তারাগিরি’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামুদ্রিক সার্বভৌমত্বের লক্ষ্যে আরও শক্তিশালী হতে চলেছে ভারতীয় নৌসেনা (Indian Navy)। আগামী ৩ এপ্রিল, বিশাখাপত্তনমে ভারতীয় নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন করা হবে অত্যাধুনিক স্টেলথ ফ্রিগেট ‘আইএনএস তারাগিরি (INS Taragiri)’। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর। ‘আইএনএস তারাগিরি’-র কমিশন হওয়া শুধুমাত্র একটি নতুন যুদ্ধজাহাজের অন্তর্ভুক্তি নয়, বরং ভারতের সামুদ্রিক কৌশল ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

    শক্তিশালী স্টেলথ ফ্রিগেট আইএনএস তারাগিরি…

    প্রজেক্ট ১৭এ-র অধীনে নির্মিত এই ফ্রিগেটটি সিরিজের চতুর্থ জাহাজ। প্রায় ৬,৬৭০ টন ওজনের ‘তারাগিরি’ শুধুমাত্র একটি যুদ্ধজাহাজ নয়, বরং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মুম্বইয়ের মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (MDL)-এ নির্মিত এই জাহাজটি দেশীয় শিপবিল্ডিং শিল্পের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পূর্ববর্তী শিবালিক-শ্রেণির উপর ভিত্তি করে এই ফ্রিগেট তৈরি হলেও, ‘তারাগিরি’ নকশাগত দিক থেকে এক প্রজন্ম এগিয়ে। এর আধুনিক নকশা এবং কম রেডার ক্রস-সেকশন একে শত্রুপক্ষের নজর এড়িয়ে কার্যকরভাবে অভিযান চালাতে সক্ষম করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতীয় নৌবাহিনীর স্টেলথ ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে।

    ব্রহ্মসে সজ্জিত তারাগিরি যে কোনও মোকাবিলায় প্রস্তুত

    উল্লেখযোগ্যভাবে, ‘তারাগিরি’-তে ব্যবহৃত উপকরণের ৭৫ শতাংশেরও বেশি দেশীয়ভাবে তৈরি। এর নির্মাণে ২০০-রও বেশি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) অংশ নিয়েছে, যা ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও জাহাজটি অত্যন্ত আধুনিক। কম্বাইন্ড ডিজেল অর গ্যাস (CODOG) প্রোপালশন ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি উচ্চগতি ও দীর্ঘ সময় সমুদ্রে টিকে থাকার ক্ষমতা রাখে। ‘আইএনএস তারাগিরি’-র অস্ত্রসজ্জা বহুমাত্রিক হুমকি মোকাবিলার জন্য তৈরি। এর অস্ত্রভান্ডারে রয়েছে সুপারসনিক সারফেস-টু-সারফেস ব্রহ্মস মিসাইল, মিডিয়াম রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (MRSAM) এবং উন্নত অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থা। এর কমব্যাট স্যুটে রয়েছে MFSTAR, একটি ৭৬ মিমি সুপার র‍্যাপিড গান, এবং ৩০ মিমি ও ১২.৭ মিমি ক্লোজ-ইন অস্ত্র ব্যবস্থার সমন্বয়। জলের নিচে বিপদের মোকাবিলায় এতে রয়েছে অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট ও টর্পেডো। অত্যাধুনিক কমব্যাট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে এই সব ব্যবস্থা একত্রে পরিচালিত হয়, যা যেকোনও পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করে।

    ভারত মহাসাগরে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মহাসাগর অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা—বিশেষত চিনের নৌবাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে—‘আইএনএস তারাগিরি’-র মতো স্টেলথ ফ্রিগেট ভারতের সামুদ্রিক প্রতিরোধ ক্ষমতা (maritime deterrence) বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রেও ‘আইএনএস তারাগিরি’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে সক্ষম। এর বহুমুখী ব্যবহারিকতা একে কূটনৈতিক মিশন থেকে শুরু করে জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পর্যন্ত বিভিন্ন কাজে উপযোগী করে তুলেছে। ভারতীয় নৌবাহিনী ক্রমেই একটি আধুনিক, সক্ষম এবং আত্মনির্ভর শক্তিতে পরিণত হচ্ছে। ‘আইএনএস তারাগিরি’-র কমিশনিং সেই যাত্রারই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা আরও মজবুত করবে এবং ভারতের উত্থানশীল নৌশক্তির প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

     

  • IPL 2026: ফের ধাক্কা কেকেআর শিবিরে! এবার আইপিএল থেকে ছিটকে গেলেন আকাশদীপও

    IPL 2026: ফের ধাক্কা কেকেআর শিবিরে! এবার আইপিএল থেকে ছিটকে গেলেন আকাশদীপও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইপিএল (IPL 2026) শুরুর সাত দিন আগে ফের ধাক্কা কলকাতা নাইট রাইডার্স (Kolkata Knight Riders) শিবিরে। হর্ষিত রানার পর চোটের জন্য আইপিএল থেকে ছিটকে গেলেন বাংলার জোরে বোলার আকাশদীপ। শনিবার সরকারি ভাবে আকাশদীপকে না পাওয়ার কথা জানিয়েছে কেকেআর। ফলে আইপিএল শুরুর আগে আরও দুর্বল হল কেকেআরের বোলিং আক্রমণ।

    চোট পেয়ে অনিশ্চিত আকাশদীপ

    গত ১৮ মার্চ থেকে ইডেন গার্ডেন্সে প্রস্তুতি শিবির শুরু করেছে কেকেআর। এই শিবিরে যোগ দেননি আকাশদীপ। তিনি বেঙ্গালুরুতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে রিহ্যাব করছেন। তাঁর অবস্থা সম্পর্কে কেকেআর কর্তৃপক্ষ বা বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাবে কিছু বলা হয়নি। তবে শনিবার কেকেআর-এর তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, ‘‘চোটের জন্য গোটা আইপিএলেই আকাশদীপকে পাওয়া যাবে না। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।’’ ২৯ বছরের বোলারকে ১ কোটি টাকায় দলে নিয়েছিল কেকেআর। হর্ষিতের পরিবর্ত বোলার এখনও নির্বাচন করতে পারেননি কেকেআর কর্তৃপক্ষ। তার মধ্যে আকাশদীপের চোট আরও বিপদে ফেলে দিল রাহানাদের। আগামী ২৮ মার্চ থেকে শুরু হবে আইপিএল। কেকেআরের প্রথম ম্যাচ ২৯ মার্চ মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে।

    চিন্তায় কেকেআর বোলিং 

    কদিন আগেই দলের বড় তারকা পেসার হর্ষিত রানা চোটের কারণে ছিটকে গিয়েছেন। টি-২০ বিশ্বকাপের আগে চোট পেয়ে টিম ইন্ডিয়ার স্কোয়াড থেকেও ছিটকে গিয়েছিলেন হর্ষিত। শ্রীলঙ্কার তারকা পেসার মাথিশা পাথিরানাও চোটের কারণে এপ্রিলের মাঝ পর্যন্ত খেলতে পারবেন না। ফলে দলের পেস আক্রমণ নিয়ে মাথায় হাত অজিঙ্কা রাহানের দলের। এখন শাহরুখ খানের দলের পেসার হিসাবে থাকছেন বৈভব আরোরা, কার্তিক ত্যাগী, উমরন মালিক ও জিম্বাবোয়ের ব্লেসিং মুজারাবানি। খুব সম্ভবত উমরন মালিক ও কার্তিক ত্যাগীকে প্রথম ম্য়াচে স্পেশালিস্ট পেসার হিসাবে খেলানো হতে পারে। দুই স্পিনার হিসাবে খেলতে পারেন সুনীল নারিন ও বরুণ চক্রবর্তী। থাকছেন কিউই স্পিনার-অলরাউন্ডার রচিন রবীন্দ্রকেও। হাত ঘোরাতে দেখা যেতে পারে ২৫ কোটি ২৯ লক্ষ টাকার অজি পেস-অলরাউন্ডার ক্যামেরুন হোয়াইটকেও।

    কেকেআর পূর্ণাঙ্গ দল: অজিঙ্কা রাহানে, আংকৃশ রঘুবংশী, অনুকুল রায়, মনীশ পান্ডে, রমনদীপ সিং, রিঙ্কু সিং, ⁠রোভমান পাওয়েল, সুনীল নারিন, উমরান মালিক, বৈভব অরোরা, বরুণ চক্রবর্তী, ক্যামেরন গ্রিন, তেজস্বী সিং, টিম সাইফার্ট, ফিন অ্যালেন, রাহুল ত্রিপাঠি, কার্তিক ত্যাগী, দক্ষ কামরা, রাচিন রবীন্দ্র, মাথিশা পাথিরানা, সার্থক রঞ্জন।
  • West Bengal Assembly Election: ‘দ্রুত দায়িত্ব বুঝে নিন’, বৈঠকে নবনিযুক্ত আধিকারিকদের বলল কমিশন

    West Bengal Assembly Election: ‘দ্রুত দায়িত্ব বুঝে নিন’, বৈঠকে নবনিযুক্ত আধিকারিকদের বলল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দফায় বঙ্গে হবে বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election)। এই নির্বাচন যাতে ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার’ হয়, তাই চেষ্টার ত্রুটি রাখছে না নির্বাচন কমিশন (ECI)। শুক্রবার রাজ্যের সদ্য নিয়োজিত ডিএম, এসপি, ডিজি এবং সিপির সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন। এই বৈঠকে তাঁদের দ্রুত দায়িত্বভার গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যাঁদের বদলি করা হয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট জেলায় গিয়ে দায়িত্ব বুঝে নিতে হবে। কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, ডিএম-এসপিদের বাংলো এবং সংশ্লিষ্ট লজিস্টিক ব্যবস্থাও যথা শীঘ্র সম্ভব নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে বলা হয়েছে।

    বাংলোর দখল নিন (West Bengal Assembly Election)

    জানা গিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় বিদায়ী আধিকারিকরা বাংলো ছাড়তে দেরি করে, কোনও কোনও ক্ষেত্রে আবার প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ঠিকঠাক হস্তান্তর করেন না। কখনও কখনও এই প্রক্রিয়ায় ইচ্ছে করে দেরি করার অভিযোগও ওঠে। এই পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সেই জন্যই কড়া নির্দেশ দিয়েছেন কমিশনের আধিকারিকরা। বৈঠকে কমিশনের তরফে নবনিযুক্ত আধিকারিকদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনায় তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দায়িত্বভার গ্রহণ থেকে শুরু করে ফিল্ড পর্যায়ের কাজ, সব ক্ষেত্রেই দ্রুত এবং স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করতে হবে। কমিশন জানিয়েছে, সদ্য বদলি হওয়া ডিএম এবং এসপিরা যাতে নির্বিঘ্নে কাজ শুরু করতে পারেন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট বাংলোগুলি তাড়াতাড়ি খালি করে দিতে হবে। প্রশাসনিক বৈঠক, সমন্বয় এবং অন্যান্য সরকারি কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সব পরিকাঠামোও প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। এজন্য ২২ মার্চের মধ্যেই আবিশ্যকভাবে বাংলোগুলি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, রাজ্যের কয়েকটি জেলায় বদলি হওয়ার পরেও বাংলো আটকে রেখেছেন জেলাশাসকরা। তাঁদের দ্রুত বাংলো খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কোনওভাবেই দখল করে রাখা যাবে না বাংলো।

    ৬টি মূল লক্ষ্য স্থির করে দিল কমিশন

    আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে ৬টি মূল লক্ষ্যও স্থির করেছে কমিশন (West Bengal Assembly Election)। এগুলি হল বুথ দখল রোধ করা, ভুয়ো ভোট প্রতিরোধ করা, অশান্তিমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করা, কোনও প্রভাব ছাড়াই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা, ভোটারদের জন্য ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি করা এবং রাস্তা আটকানো, ভোটারদের বেরতে বাধা বা ভয় দেখিয়ে বুথে যাওয়া থেকে আটকানো রোধ করা। এদিকে, এদিনই জানা গিয়েছে, দিন কয়েকের মধ্যেই দু’দিনের বঙ্গ সফরে আসছেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। নির্বাচন (ECI) সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিয়ে একাধিক বৈঠক করবেন তিনি। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (West Bengal Assembly Election) মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গেও কথা বলবেন তিনি।

  • Strait of Hormuz: শীঘ্রই মিটতে চলেছে জ্বালানি সংকট! হরমুজ পেরোচ্ছে ভারতের আরও ২ এলপিজি ট্যাঙ্কার

    Strait of Hormuz: শীঘ্রই মিটতে চলেছে জ্বালানি সংকট! হরমুজ পেরোচ্ছে ভারতের আরও ২ এলপিজি ট্যাঙ্কার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরও দুই অপরিশোধিত তেলবাহী ভারতীয় জাহাজ পার করবে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে অস্থির হয়ে উঠেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতীয় পতাকাবাহী আরও দুইটি এলপিজি ট্যাঙ্কার—‘পাইন গ্যাস’ (Pine Gas) এবং ‘জগ বসন্ত’ (Jag Vasant)—আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রণালী অতিক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজা উপকূলের কাছে অবস্থান করছে ওই দুই জাহাজ। মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, দুটি জাহাজই যাত্রার সংকেত পাঠাতে শুরু করেছে। বাণিজ্যিক সূত্রের দাবি, খুব শীঘ্রই তারা রওনা দিতে পারে।

    ভারতীয় জাহাজগুলির অবস্থান

    ২ দিন আগের রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে ২২টি ভারতীয় জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে রয়েছে। এর মধ্যে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (Indian Oil Corporation)-এর ‘পাইন গ্যাস’ এবং ভারত পেট্রোলিয়ম-এর (Bharat Petroleum) ‘জগ বসন্ত’ ও রয়েছে। দু’টি জাহাজই এলপিজি ট্যাঙ্কার। সহজ ভাষায় বললে, রান্নার গ্যাস আসছে। জাহাজ দু’টি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজার কাছে নোঙর করে রয়েছে। তবে শীঘ্রই রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় নৌপরিবহণ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছেন, এই দু’টি জাহাজ চলাচলের বিষয়ে এখনও নিখুঁত তথ্য পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্রিয়। গত সপ্তাহে ইরান দু’টি ভারতীয় এলপিজি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দেয়। ইতিমধ্যেই এলপিজি নিয়ে সেই জাহাজগুলি ভারতে এসেও গিয়েছে বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও ইরানের সুসম্পর্ক এবং ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থানের ফলেই এই সুযোগ মিলেছে।

    তেল পরিবহণে স্থবিরতা, সীমিত চলাচল

    গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে কোনও ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কার চলাচল করেনি। ইরানের হুঁশিয়ারির পর বহু জাহাজই নোঙর করে অপেক্ষা করছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। তবে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের হামলার পর ইরান ওই প্রণালীর উপর ‘দখল’ রেখেছে। হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, কোনও পণ্যবাহী জাহাজকে প্রণালী পার করতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি এগোনোর চেষ্টা করে, তবে পরিণতি ‘সাংঘাতিক’ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান। কয়েকটি জাহাজে হামলাও হয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। কয়েকটি দেশের জাহাজ পারাপারের ‘অনুমতি’ দেয় ইরান।

    ভারতের কূটনৈতিক উদ্যোগ

    এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার নিরাপদ নৌ-চলাচলের ওপর জোর দিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা ভারতের ২২টি জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও আন্তর্জাতিক স্তরে যোগাযোগ রাখছেন। গত সপ্তাহে ইরান দু’টি ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কারকে পারাপারের অনুমতি দিয়েছিল। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে সীমিত পরিসরে জাহাজ চলাচল এখনও সম্ভব। এই দুই ভারতীয় ট্যাঙ্কারের সম্ভাব্য যাত্রা এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কারণ, এটি ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হবে কিনা, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।

    ইরান থেকে তেল আমদানি!

    আগেই হরমুজ দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচলে বারবার ছাড়পত্র দিয়েছে ইরান। সেদেশ থেকে ফের অপরিশোধিত তেল কেনার পরিকল্পনা করছে ভারতের বিভিন্ন রিফাইনারি। তেল কেনা নিয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আপাতত কিছুটা শিথিল করেছেন ট্রাম্প। এমতাবস্থায়, সেই সুযোগই কাজে লাগাতে চাইছিল ভারত। যদিও ইরান জানিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির মতো অতিরিক্ত তেলের জোগান এই মুহূর্তে তাদের হাতে নেই। সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, ভারতের তৈল শোধনাগারগুলি ইরান থেকে পুনরায় ক্রুড অয়েল আমদানি শুরু করার বিষয়ে প্ল্যান করছে। তেহরানে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা ছাড় দিচ্ছে। সেই সুযোগেই ভারত বিকল্প উৎস হিসেবে ইরানের দিকে ঝুঁকছে। তবে ইরানের তেল মন্ত্রকের বক্তব্যই কিছুটা চিন্তার বিষয়। তাদের দাবি, বর্তমানে কোনও ‘ফ্লোটিং ক্রুড’ বা অতিরিক্ত মজুত নেই।

    ইরান-মার্কিন সংঘাতে তেলের দামে আগুন

    হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল-গ্যাসের দাম হুহু করে বেড়েছে (Global Oil Crisis)। ইরানের বক্তব্য, পথ শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ট্যাঙ্কারদের জন্যই বন্ধ, অন্য দেশের জাহাজ চলাচলে আপাতত বাধা নেই। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “হরমুজ খোলা। শুধু যারা আমাদের শত্রু বা আমাদের আক্রমণ করছে এবং তাদের মিত্রদের জন্যই এটি বন্ধ।”

    ভারতের জন্য কী বার্তা?

    কয়েকদিন আগেই ভারতের দু’টি জাহাজ ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দাদেবী’ নিরাপদে হরমুজ পেরিয়ে গুজরাতে পৌঁছেছে। এখন নজর আরও দুই জাহাজের গতিপ্রকৃতিতে। হরমুজে এলপিজি ট্যাঙ্কার জগ বসন্ত (Jag Vasant), বিডব্লিউ এল্ম (BW Elm), বিডব্লিউ লয়্যালিটি (BW Loyalty), পাইন গ্যাস (Pine Gas), গ্রিন সাংভি (Green Sanvi), জগ বিক্রম (Jag Vikram) এবং গ্রিন আশা (Green Asha) আটকে ছিল। এর মধ্যে কমপক্ষে চারটি ‘ভেরি লার্জ গ্যাস ক্যারিয়ার’, বাকি তিনটি মিড-সাইজ ক্যারিয়ার। ভারতের মাসিক চাহিদার এক-পঞ্চমাংশ বহন করছে এই জাহাজগুলি। এই ৬টি ট্যাঙ্কার মিলিয়ে বহন করছে প্রায় ৩.৩৪ লক্ষ মেট্রিক টন এলপিজি (LPG), যা ভারতের মাসিক চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ। তুলনায়, সম্প্রতি নিরাপদে দেশে এসে পৌঁছনো শিবালিক (Shivalik) ও নন্দা দেবী (Nanda Devi) নামের দুটি ট্যাঙ্কার এনেছিল প্রায় ৪৬ হাজার টন করে এলপিজি (LPG)। ‘পাইন গ্যাস’ ও ‘জগ বসন্ত’-এও ৪৫ থেকে ৪৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি থাকতে বলে জানা যাচ্ছে।

  • India: আফগানিস্তানের দিকে ‘মানবিকতা’র হাত বাড়াল ভারত, পাঠানো হল জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী

    India: আফগানিস্তানের দিকে ‘মানবিকতা’র হাত বাড়াল ভারত, পাঠানো হল জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের একবার আফগানিস্তানের দিকে ‘মানবিকতা’র হাত বাড়াল নরেন্দ্র মোদির ভারত (India)। ১৬ মার্চ পাকিস্তানের হামলায় যাঁরা জখম হয়েছেন, তাঁদের চিকিৎসা এবং তাঁরা যাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন, তাই কাবুলে ২.৫ টন জরুরি চিকিৎসা সামগ্রীর (Medical Aid) একটি চালান পাঠিয়েছে নয়াদিল্লি।

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য (India)

    ১৬ মার্চের ওই নৃশংস হামলায় বহু মানুষ জখম হন। তার জেরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বিদেশমন্ত্রকের (MEA) মতে, এই চালানে জরুরি ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, কিট এবং অন্যান্য উপকরণ রয়েছে, যা আপৎকালীন চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করতে পাঠানো হয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “১৬ মার্চের নৃশংস হামলায় আহতদের চিকিৎসা ও দ্রুত আরোগ্যের সহায়তায় ভারত কাবুলে ২.৫ টন জরুরি ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, কিট এবং যন্ত্রপাতি পাঠিয়েছে।” তিনি এও বলেন, “ভারত (India) আফগান জনগণের পাশে রয়েছে এবং এই কঠিন সময়ে সব ধরনের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে।”

    মোদি সরকারের মানবিক মুখ

    এই প্রথম নয়, মোদি সরকারের মানবিক মুখ আগেও দেখেছেন আফগানরা। গত সেপ্টেম্বরে ভূমিকম্পের জেরে বস্তুত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল তালিবান-শাসিত আফগানিস্তান। তার পরে পরেই ভারত আফগানিস্তানে মানবিক সাহায্য পাঠিয়েছিল। ওই ভূমিকম্পে মৃত্যু হয়েছিল কমবেশি ১৪০০ জনের। এক্স হ্যান্ডেলে শোকপ্রকাশও করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করও জানিয়েছিলেন, আফগানিস্তানকে সর্বতোভাবে মানবিক সাহায্য করতে প্রস্তুত ভারত। পরে নয়াদিল্লি কাবুলে পাঠিয়েছিল চালের বস্তা, তাঁবু এবং অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী বোঝাই ট্রাক। সেই সময় জয়শঙ্কর জানিয়েছিলেন, ভারত কাবুলে হাজারটি পরিবারের জন্য তাঁবু পাঠিয়েছে। খাদ্য সামগ্রী পাঠানো হয়েছে ১৫ টন।

    প্রসঙ্গত, সোমবারই পাক বিমানবাহিনী হামলা চালায় কাবুলের একটি বড় রিহ্যাব হাসপাতালে। আফগানিস্তানের দাবি, ওই হামলায় নিহত হয়েছেন ৪০০জন। জখম হয়েছেন ২৫০ জন। পাক হামলার (Medical Aid) সময় হাসপাতালটি ভর্তি ছিল রোগী এবং স্বাস্থ্যকর্মীতে (India)। তা সত্ত্বেও সেখানে হামলা চালানো হয়েছিল বলেই দাবি কাবুলের।

     

  • DA: এবার ষষ্ঠ বেতন কমিশন কার্যকর করতে হাইকোর্টে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা, ভোটের মুখে আরও চাপে মমতা

    DA: এবার ষষ্ঠ বেতন কমিশন কার্যকর করতে হাইকোর্টে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা, ভোটের মুখে আরও চাপে মমতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত মহার্ঘ ভাতা (DA) সংক্রান্ত আইনি লড়াই বর্তমানে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিয়েছে। এবার ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ এবং অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI)-এর তথ্যকে ভিত্তি করে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার জন্য দাবি করেছে কর্মচারীরা। ভোটের আগে মামলা মমতা সরকারকে চাপে ফেলবে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের থেকে এখনও ৪০ শতাংশ ডিএ পাওয়ার বিষয়ে পিছিয়ে রয়েছে রাজ্যের কর্মীরা।

    ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ (Calcutta High Court)

    বিচারপতি (Calcutta High Court) মধুরেশ প্রসাদের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের করেছে ইউনিটি ফোরাম নামে একটি সংস্থা। ইতিমধ্যে শুনানি হয়েছে কোর্টে। তাতে রাজ্য প্রশাসনের আর্থিক অবস্থান ও কর্মীদের অধিকারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সরকারি কর্মচারীদের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সূচক অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা যে হারে ডিএ (DA) পান, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও সেই সমতা বজায় রাখা উচিত। রাজ্য সরকার ষষ্ঠ বেতন কমিশন কার্যকর করার সময় ডিএ-র যে হিসেব দিয়েছিল, তা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    আর্থিক সামর্থ্য বনাম আইনি বাধ্যবাধকতা

    রাজ্য সরকার বারবারই তাদের সীমিত আর্থিক সংস্থানের কথা উল্লেখ করেছে। তবে আদালতের (Calcutta High Court) পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ডিএ কেবল দয়ার দান নয়, বরং এটি সরকারি কর্মচারীদের আইনি অধিকারের আওতায় পড়ে। ডিএ মামলাটি এখন কেবল আইনি লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, এটি একটি বড় সামাজিক ও প্রশাসনিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ষষ্ঠ বেতন (DA) কমিশনের কাঠামো সংস্কার এবং কেন্দ্র-রাজ্য ডিএ-র ফারাক কমানোর বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই বলে দেবে, রাজ্যের অর্থভাণ্ডার ও কর্মচারীদের অধিকারের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে।

    পিটিশনে মূলত তিনটি প্রধান বিষয়

    কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, ষষ্ঠ বেতন কমিশন (DA) যে পদ্ধতিতে বেতন ও ভাতার হার নির্ধারণ করেছে, তা বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দীর্ঘ সময় ধরে কেন্দ্র ও রাজ্যের মহার্ঘ ভাতার মধ্যে যে বিস্তর ফারাক তৈরি হয়েছে, তা মেটানোর কোনো সুনির্দিষ্ট দিশা রাজ্য সরকার দেখায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। মামলাকারীদের (Calcutta High Court) মতে, মহার্ঘ ভাতা কোনো দয়া বা অনুদান নয়, বরং এটি সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান বজায় রাখার জন্য একটি বিধিবদ্ধ অধিকার। রাজ্য সরকার এই অধিকার থেকে কোনও ভাবেই কর্মচারীদের বঞ্চনা করা যাবে না।

  • Hormuz Strait Crisis: মোদির কূটনৈতিক জয়! লোহিত সাগর দিয়ে ভারতে অপরিশোধিত তেল পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

    Hormuz Strait Crisis: মোদির কূটনৈতিক জয়! লোহিত সাগর দিয়ে ভারতে অপরিশোধিত তেল পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে খুশির খবর পেল ভারত। নরেন্দ্র মোদির দেশে অপরিশোধিত তেল পাঠাতে একটি নয়া পথ ব্যবহার করতে শুরু করেছে সৌদি আরব (Hormuz Strait Crisis)। ইতিমধ্যেই লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে একাধিক ট্যাঙ্কার ভারতের বিভিন্ন (Saudi Arabia) বন্দরের দিকে রওনা দিয়েছে। এই পদক্ষেপ এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্নের কারণে উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলি বিকল্প সরবরাহপথ খুঁজতে বাধ্য হয়েছে।

    নয়া পথে আসছে তেল (Hormuz Strait Crisis)

    মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। ইরান ওই এলাকায় কিছু জাহাজকে টার্গেট করায় অনেক জাহাজ এই পথ এড়িয়ে চলছে। সাধারণত, বিশ্বব্যাপী তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ভারতের উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে জ্বালানি আমদানিও মূলত এই পথের ওপরই নির্ভরশীল। এখন সৌদি আরব লোহিত সাগর হয়ে ভারতে তেল সরবরাহ শুরু করেছে। ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব থেকে চারটি অপরিশোধিত তেলের ট্যাঙ্কার বর্তমানে ভারতের পথে রয়েছে। এগুলিতে সব মিলিয়ে প্রায় ৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রয়েছে। চলতি মাসের শেষে আরও ৯ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ভারতে পৌঁছনোর কথা। এই নয়া লোহিত সাগর রুটের খবর ১৬ মার্চ প্রথম প্রকাশ করে ব্লুমবার্গ। যদিও সৌদি আরব এই জ্বালানি সরবরাহে একটি শর্ত দিয়েছে, সেটি হল মাসিক বরাদ্দের কেবল একটি অংশই এই পথে পাঠানো হবে।

    ‘সামনের দরজা’ বনাম ‘পেছনের দরজা’

    সাধারণত উপসাগরীয় অঞ্চলের অধিকাংশ তেলই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। একে ‘সামনের দরজা’ বলা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে এই পথটি জাহাজ চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে (Saudi Arabia)। এদিকে, ‘পেছনের দরজা’ হিসেবে বিবেচিত লোহিত সাগর রুটে ইয়ানবু থেকে ১২০০ কিমি দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহণ করা হয়। অবশ্য এই পাইপলাইনের ক্ষমতা সীমিত। তাই এই পথে হরমুজ প্রণালী রুটের তুলনায় কম পরিমাণ তেল পরিবহণ করা যায়। লোহিত সাগর রুটও ঝুঁকিমুক্ত নয়। এটি বাব আল-মানডাব প্রণালী দিয়ে যায়, যা ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার আওতায় রয়েছে। এর আগে ইজরায়েল-হামাস দ্বন্দ্ব চলাকালীন হুথিরা লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলিকে টার্গেট করেছিল। তাই সেই সময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্নের সৃষ্টি হয়েছিল (Saudi Arabia)। সেই কারণেই অনেক জাহাজ লোহিত সাগর এড়িয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। এর ফলে পরিবহণ খরচ বেড়ে যায় (Hormuz Strait Crisis)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যদি হুথিরা ফের হামলা শুরু করে, তাহলে এই রুটেও জাহাজ চলাচল ফের সমস্যার মুখে পড়তে পারে।

     

LinkedIn
Share