Blog

  • Asian Games 2026: আজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, এশিয়ান গেমসে আবাসন সমস্যা সামলাতে নাগোয়ায় ২,০০০ ভারতীয় প্রস্তুত

    Asian Games 2026: আজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, এশিয়ান গেমসে আবাসন সমস্যা সামলাতে নাগোয়ায় ২,০০০ ভারতীয় প্রস্তুত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসে ভারতীয় অ্যাথলিটদের আবাসন সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে তা সামাল দিতে এবার অভিনব বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করেছে ভারত। জাপানের নাগোয়ায় বসবাসকারী প্রায় ২,০০০ ভারতীয়কে জরুরি পরিস্থিতিতে ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের থাকার ব্যবস্থা করতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এশিয়ান গেমসে ভারতীয় দলের একাংশ জাপানে পৌঁছনোর পর থেকেই আবাসন, অ্যাক্রেডিটেশন এবং পরিবহণ নিয়ে সমস্যার মুখে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতীয় দূতাবাসও স্থানীয় ভারতীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। ভারতের চিফ দ্য মিশন সহদেব যাদব জানিয়েছেন, প্রথম দিকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন অ্যাথলিটের নাম সরকারি আবাসনের তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাওয়ায় তাঁদের থাকার ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। আক্রান্তদের মধ্যে ব্যাডমিন্টন ও শুটিং-সহ বিভিন্ন ক্রীড়ার অ্যাথলিট ছিলেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতীয় কর্তারা দ্রুত অতিরিক্ত হোটেল কক্ষের ব্যবস্থা করেন। প্রাথমিকভাবে ১৮টি অতিরিক্ত হোটেল রুম বুক করা হয়েছে এবং আরও ১০টি রুমের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    তিন স্তরের সহায়তা ব্যবস্থা

    এশিয়ান গেমসে আগত ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের যাতে ফের একই ধরনের সমস্যায় পড়তে না হয়, তার জন্য কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রক নাগোয়ায় তিন স্তরের সহায়তা ব্যবস্থা তৈরি করেছে। প্রথম স্তরে বিমানবন্দরে দু’জন আধিকারিককে রাখা হয়েছে। তাঁরা জাপানে পৌঁছনোর পর ভারতীয় দলের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা করবেন। দ্বিতীয় স্তরে অ্যাথলিট ওয়েলকাম সেন্টারে আরও তিনজন আধিকারিক রয়েছেন, যাঁরা আবাসন ও অন্যান্য আগমন-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে সাহায্য করছেন। তৃতীয় স্তরে রয়েছে নাগোয়ায় বসবাসকারী প্রায় ২,০০০ ভারতীয়ের স্থানীয় সম্প্রদায়। সরকারি আবাসন ব্যবস্থায় ফের কোনও সমস্যা দেখা দিলে প্রয়োজনে তাঁদের সাহায্য নেওয়া হতে পারে।

    আপাতত ব্যক্তিগত বাড়িতে থাকার প্রয়োজন নেই

    তবে ভারতীয় কর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে কোনও অ্যাথলিটকে ব্যক্তিগত বাড়িতে থাকার প্রয়োজন হয়নি। জাপানে পৌঁছনো সমস্ত ভারতীয় ক্রীড়াবিদের জন্য ইতিমধ্যেই আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় ভারতীয় সম্প্রদায়ের সহায়তার এই ব্যবস্থা তাই আপাতত শুধুমাত্র জরুরি বিকল্প বা ব্যাকআপ ব্যবস্থা হিসেবে রাখা হয়েছে। এশিয়ান গেমসের মতো বৃহৎ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অ্যাথলিটদের আবাসন ও অন্যান্য লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে। নাগোয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের এই স্বেচ্ছাসহায়তা প্রয়োজন হলে ভারতীয় দলের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও সহায়তার স্তর হিসেবে কাজ করতে পারে।

    এশিয়ান গেমস নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক

    শুরু হওয়ার আগেই একের পর এক বিতর্কে পড়ছে এশিয়ান গেমস। এর আগে সামনে এসেছিল অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড যাচাই ও থাকার ব্যবস্থা নিয়ে অব্যবস্থা। এবার আবাসন সংক্রান্ত অব্যবস্থা নিয়ে আবার চর্চায় জাপানের এশিয়ান গেমস। বাঙালি জিমন্যাস্ট প্রণতি নায়েক ও তাঁর কোচ অশোক মিশ্রকে একই ঘরে থাকতে দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। এশিয়ান গেমসের শুরু থেকেই একের পর এক বিশৃঙ্খলাতে ভুগছে নানা দল। আয়োজকদের তরফ থেকে পরে দুঃখপ্রকাশ করা হয়। এর আগে, ভারতের শুটিং দল পৌঁছনোর পর ঘর না পেয়ে সারা রাত তাদের লবির সোফায় শুয়ে কাটাতে হয়েছিল। একইভাবে দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে ভারতীয় কবাডি দলকেও। পর্যাপ্ত অনুশীলনের জায়গার অভাব, দূরের ভেন্যু এবং খাবার নিয়ে ভোগান্তির জেরে ক্ষোভে ফুঁসছে অন্য দেশও; দক্ষিণ কোরিয়া তো প্রকাশ্যেই এই গেমসকে তাদের অভিজ্ঞতার ‘নিকৃষ্টতম’ বলে কটাক্ষ করেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে এশিয়ান গেমসের ২০তম আসর শুরু হবে ১৯ সেপ্টেম্বর, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। তবে তার আগেই ফুটবল, বাস্কেটবল, ক্রিকেট, সফ্ট টেনিস, টেকবলসহ বেশ কয়েকটি ইভেন্ট শুরু হয়ে গিয়েছে।

    এশিয়ান গেমস-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

    এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর (Asian Games 2026) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষা শেষ হতে চলেছে। জাপানের আইচি-নাগোয়ায় বসছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের ২০তম সংস্করণ। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে প্রতিযোগিতা। যদিও ফুটবল, ক্রিকেট-সহ কয়েকটি খেলায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে লড়াই, শনিবারই হবে এশিয়ান গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। ভারতীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কখন শুরু হবে? আয়োজকদের দেওয়া সূচি অনুযায়ী, জাপানের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। জাপান ভারতের থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা এগিয়ে থাকায় ভারতীয় সময় অনুযায়ী ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ২:৩০টায় শুরু হবে অনুষ্ঠান। আয়োজক কমিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলবে এবং জাপানের স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে শেষ হওয়ার কথা। অর্থাৎ ভারতীয় সময় অনুযায়ী আনুমানিক বিকেল ৪:৩০টা পর্যন্ত চলতে পারে অনুষ্ঠান। তবে অনুষ্ঠানসূচিতে পরিবর্তন হলে সময়েও সামান্য হেরফের হতে পারে।

    ভারতের পতাকা বহন করবেন কারা

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের হয়ে পতাকা বহন করবেন শুটিংয়ের তারকা মনু ভাকের এবং অ্যাথলেটিক্সের তাজিন্দরপাল সিং তূর। মনু ভাকের দু’বারের অলিম্পিক পদকজয়ী, আর তাজিন্দরপাল সিং তূর এশিয়ান গেমসে শট পাটের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। তাঁদের হাতেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতীয় দলের নেতৃত্বের প্রতীকী দায়িত্ব থাকবে। ভারতে এশিয়ান গেমসের সম্প্রচার ও লাইভ স্ট্রিমিংয়ের দায়িত্ব রয়েছে সোনি স্পোর্টস নেটওয়ার্ক এবং সোনি লিভ-এর হাতে। ফলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও ভারতীয় দর্শকরা টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুসরণ করতে পারবেন।

  • TMC Symbol: দুই তৃণমূলের বিকল্প নাম এবং প্রতীক চূড়ান্ত করল নির্বাচন কমিশন, কী পেলেন মমতা?

    TMC Symbol: দুই তৃণমূলের বিকল্প নাম এবং প্রতীক চূড়ান্ত করল নির্বাচন কমিশন, কী পেলেন মমতা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রামচন্দ্রের অভিশাপেই এখন কার্যত সর্বহারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে আপাতত দলের ‘নাম’ গেল, দলের ‘প্রতীক’ (TMC Symbol) গেল, নন্দীগ্রামে শেষ মুহূর্তে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়েরও প্রার্থীও ভোট থেকে সরে দাঁড়ালেন। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলছেন,‘রামচন্দ্রের অভিশাপেই সব ধ্বংস হয়ে গিয়েছে’। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলছেন, ‘এটা উপরওয়ালার বিচার’। আপাতত উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের দুই শিবিরের দ্বৈরথে দুই নতুন প্রতীকের আর্বিভাব ঘটল পশ্চিমবঙ্গের ভোট রাজনীতিতে! ‘কালীঘাট-শিবিরে’র প্রার্থীরা লড়বেন ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীকে। ‘খাম’ প্রতীকে লড়বে ‘ঋতব্রত-শিবির’। মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের শিবির লড়বে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে। ঋতব্রতদের শিবির ভোট যুদ্ধ করবে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে।

    ঋতব্রত-দের প্রতীক কী

    কমিশনের নির্দেশিকার পর ঋতব্রত জানান, প্রতীকের ক্ষেত্রে তাঁদের প্রথম পছন্দকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই নাম তাঁদের পছন্দের তালিকায় তৃতীয় ছিল। ঋতব্রতের কথায়, ‘‘আমাদের প্রথম পছন্দ ছিল, জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস। দ্বিতীয় পছন্দ ছিল পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস। কমিশন জানিয়েছে, প্রথম দুটো নাম কোনও কারণে দেওয়া সম্ভব নয়। প্রতীকের ক্ষেত্রে যা চেয়েছিলাম। তা-ই দেওয়া হয়েছে। কমিশনের যোগ্যতা নিয়ে আমাদের প্রশ্ন তোলার জায়গা নেই। তাদের নির্দেশকে সম্মান জানাই।’’ মমতা শিবিরের নামকরণকে কটাক্ষ করে ঋতব্রত আরও বলেন, ‘‘আমাদের দলের নামে কিন্তু কোনও ব্যক্তির নাম নেই। নৈব নৈব চ। আমাদের আলোচনার মধ্যেই ছিল না কোনও ব্যক্তির নাম। গণতন্ত্রে আমরা জোর দিচ্ছি। এটা কোনও ব্যক্তিগত মালিকানার দল নয়। তা গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকর।’’

    কী ভাবছেন মমতাপন্থীরা

    অন্য দিকে, কমিশনের নির্দেশের পরেই সমাজমাধ্যমে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছেন কালীঘাটপন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষ। পায়ে ফুটবল নিয়ে খেলোয়াড়ের পোশাক পরা নিজের ছবি দিয়েছেন তিনি। সঙ্গে লিখেছেন, ‘‘খেলা হবে। মমতাদির নামটাই যথেষ্ট। তৃণমূল কংগ্রেস তো তাঁরই সৃষ্টি, তাঁরই অধিকার।’’ আগামী ৬ অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে বিধানসভার উপনির্বাচন রয়েছে। সব পক্ষই তার জন্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছে। কিন্তু তৃণমূলের দুই শিবির কোন প্রতীক বা নামে লড়বে, তা স্পষ্ট ছিল না। কমিশনের নির্দেশ সেই জল্পনাতে সিলমোহর দিল।

  • Vishwakarma Puja: বিশ্বকর্মা পুজোয় কেন ওড়ে ঘুড়ি? ‘ভোক্কাট্টা’র নেপথ্যে রয়েছে চমকপ্রদ ইতিহাস

    Vishwakarma Puja: বিশ্বকর্মা পুজোয় কেন ওড়ে ঘুড়ি? ‘ভোক্কাট্টা’র নেপথ্যে রয়েছে চমকপ্রদ ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ বিশ্বকর্মা পুজো (Vishwakarma Puja)। আর বিশ্বকর্মা তথা দেবশিল্পীর পুজো মানেই দুর্গাপুজোর ফাইনাল কাউন্টডাউন শুরু। এই দিনটির আরও এক বিশেষ আকর্ষণ ঘুড়ি ওড়ানো (Kite Flying)। নীল আকাশের বুকে রং-বেরঙের ঘুড়ির মেলা—একসময় বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে যা ছিল অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

    একটা সময় ছিল, যখন মানুষের ব্যস্ততা এত বিরামহীন ছিল না। সেই সময় কলকাতা তথা বাংলার আকাশে বিশ্বকর্মা পুজোর কয়েক দিন আগে থেকেই দখল নিতে শুরু করত ঘুড়ি। পুজোর দিন ভোর থেকেই বাচ্চা থেকে বয়স্ক—নাটাই, মাঞ্জাসুতো হাতে সকলে মেতে উঠতেন ঘুড়ির প্যাঁচের প্রতিযোগিতায়। সকাল থেকে বিকেল আকাশজুড়ে দেখা যেত ঘয়লা, পেটকাটি, চাপরাস, চাঁদিয়াল, মোমবাতি, ময়ূরপঙ্খী, বগ্গা-সহ নানা ধরনের ঘুড়ি। বাতাস মুখরিত হত একটাই শব্দে—‘ভোক্কাট্টা!’

    এখন অবশ্য সেই দিন অনেকটাই অতীত। ব্যস্ততার আড়ালে হারিয়ে গিয়েছে সেই উন্মাদনা ও আমেজ। শহরের আকাশে আগের মতো ঘুড়ির মেলাও আর দেখা যায় না। ইতিউতি কোথাও, এদিক-ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে ঘুড়ি ওড়ে (Kite Flying)। তবু বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই ঐতিহ্য আজও বাঙালির নস্টালজিয়ার অন্যতম অংশ।

    পুরাণ মতে কেন বিশ্বকর্মা পুজোয় ঘুড়ি ওড়ানো হয়?

    পুরাণ মতে, বিশ্বকর্মা হলেন দেবতাদের শিল্পী। স্বর্গে দেবতাদের যে কোনও ধরনের কারিগরি সহায়তার প্রয়োজন পড়লেই মুশকিল আসান একমাত্র বিশ্বকর্মা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশ্বকর্মাই দেবতাদের জন্য উড়ন্ত রথ তৈরি করেছিলেন। সেই উড়ন্ত রথের স্মৃতিকে ঘিরেই বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে আকাশে ঘুড়ি ওড়ানোর রীতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হয়।

    ঋগ্বেদের সঙ্গে যুক্ত ব্যাখ্যায় বিশ্বকর্মাকে সৃষ্টিশীলতা, নির্মাণ ও কারিগরি বিদ্যার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। পুরাণের কাহিনিতে কৃষ্ণের বাসস্থান দ্বারকা নগরী নির্মাণের সঙ্গেও বিশ্বকর্মার নাম জড়িয়ে রয়েছে। সেই কারণেই শ্রমিক থেকে ইঞ্জিনিয়ার—কারিগরি ও নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত মানুষের কাছে বিশ্বকর্মা পুজোর গুরুত্ব বরাবরই বিশেষ।

    বাংলায় কবে থেকে ঘুড়ি ওড়ানোর চল?

    ইতিহাসের বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, বাংলায় ঘুড়ি ওড়ানোর প্রচলন ঊনবিংশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে জোরালো হয়ে ওঠে। প্রায় ১৮৫০ সাল নাগাদ কলকাতা ও গ্রাম বাংলার কিছু বিত্তশালী জমিদার ঘুড়িতে টাকা বেঁধে ওড়াতেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। সেই সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে ঘুড়ি ওড়ানোর চল ততটা জনপ্রিয় ছিল না; মূলত ধনী ও অভিজাতদের মধ্যেই এই শখ সীমাবদ্ধ ছিল।

    তবে কলকাতায় ঘুড়ি ওড়ানোর সংস্কৃতির বিস্তারের সঙ্গে নবাব ওয়াজেদ আলি শাহের নামও জড়িয়ে রয়েছে। ১৮৫৬ সালে অওধের সিংহাসন হারিয়ে কলকাতায় আসেন তিনি। পরে মেটিয়াবুরুজে নিজের আবাস গড়ে তোলেন। তাঁর সঙ্গে কলকাতায় আসে লখনউয়ের নানা সাংস্কৃতিক রীতি ও বিনোদনের ধারা। তারই অন্যতম ছিল ঘুড়ি ওড়ানো ও ঘুড়ির লড়াই।

    ওয়াজেদ আলি শাহের মেটিয়াবুরুজের ‘ছোটা লখনউ’-এ ঘুড়ি ওড়ানো ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পরে সেই সংস্কৃতি কলকাতার রাজা, জমিদার ও অভিজাত সমাজেও ছড়িয়ে পড়ে। ঐতিহাসিক সূত্রে এমনও উল্লেখ রয়েছে যে, সেই সময় ঘুড়ি ওড়ানো শুধু বিনোদন ছিল না, বরং আভিজাত্য ও ঐশ্বর্য প্রদর্শনেরও একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছিল।

    আজ অবশ্য শহরের আকাশে সেই পুরনো দিনের মতো ঘুড়ির ভিড় নেই। উঁচু বহুতল, খোলা জায়গার অভাব, মানুষের ব্যস্ততা এবং মোবাইল-নির্ভর বিনোদনের কারণে কলকাতায় ঘুড়ি ওড়ানোর ঐতিহ্য অনেকটাই ফিকে হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলিতেও উঠে এসেছে।

    তবু বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে নীল আকাশে হঠাৎ কোনও রঙিন ঘুড়ি ভেসে উঠলে আজও যেন ফিরে আসে পুরনো কলকাতার সেই দিনগুলি। নাটাই হাতে ছাদে দাঁড়ানো ছোট-বড় সকলের চোখে তখন একটাই অপেক্ষা—কখন প্রতিপক্ষের ঘুড়ি কাটা যাবে, আর চারপাশে শোনা যাবে সেই চেনা ডাক—‘ভোক্কাট্টা!’

  • TMC Symbol Freeze: জোড়া ফুল চিহ্ন ছাড়াই লড়তে হবে মমতাকে! তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করল কমিশন

    TMC Symbol Freeze: জোড়া ফুল চিহ্ন ছাড়াই লড়তে হবে মমতাকে! তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ (TMC Symbol Freeze) করল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূলের আঠাশ বছরের ইতিহাসে বড় ধাক্কা। অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নামও ব্যবহার করা যাবে না। বেছে নিতে হবে বিকল্প নাম। অন্তর্বর্তী নির্দেশে এমনটাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া হল নিজের তৈরি দলের নাম ও প্রতীক। ব্যবহার করতে পারবে না ঋতব্রত শিবিরও। দু-পক্ষকেই উপনির্বাচনে লড়তে হবে নতুন নাম ও প্রতীকে। শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে নতুন নাম ও প্রতীক বেছে কমিশনকে জানাবে দু-পক্ষ।

    নির্বাচন কমিশন-এর অন্তর্বর্তী নির্দেশ

    বৃহস্পতিবার তৃণমূলের দুই শিবিরকেই ডেকে পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে প্রস্তাবিত নাম ও প্রতীকের তালিকা জমা দিতে হবে দুই শিবিরকে। প্রত্যেক পক্ষকে তিনটি বিকল্প ও পছন্দের নাম নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল শব্দ ব্যবহার করে নাম দিতে পারবে দুই পক্ষ। তবে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি ব্যবহার করতে পারবে না কোনও পক্ষই। নিজেদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন নাম বেছে নিতে পারবে দুই শিবিরই। চাইলে তাঁদের নাম মূল দল “সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস”-এর সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে। এছাড়াও, উভয় পক্ষকে তাদের প্রার্থীদের জন্য তিনটি পছন্দের নির্বাচনী প্রতীকও জমা দিতে হবে। চলতি উপনির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বিজ্ঞাপিত অবাধ নির্বাচনী প্রতীকের তালিকা থেকে উভয় পক্ষের প্রার্থীদের পৃথক প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। কমিশন চলতি উপনির্বাচনের জন্য এই অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নিয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকবে।

    ২৮ বছর পর জোড়া-ফুল প্রতীক নেই

    ১৯৯৮ সালের পর পথ চলা শুরু হয়েছিল তৃণমূলের (TMC)। ২৮ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে কোনও ভোট হবে জোড়াফুল চিহ্ন ছাড়াই। উল্লেখ্য, দলের প্রতীক জোড়াফুল চিহ্ন নিজের হাতে এঁকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রতীকই এখন তাঁর হাতে রইল না। ঋতব্রত পন্থী বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম যে ঘাষের উপর জোড়াফুল প্রতীকটা আমাদেরই থাকবে। আমরাই পাব। কারণ মূল তৃণমূল কংগ্রেস আমরাই। বাংলার জনপ্রতিনিধির প্রায় ৮০ শতাংশ আমাদের সঙ্গে আছে। আর আমরা নির্বাচন কমিয়শনকে কাগজপত্রে দিয়ে প্রমাণ করার জন্য সক্ষমও হয়েছিলাম। কিন্তু জানিনা কেন এটা হল। যাই হোক আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। তবে আশা করব আগামী দিনে ঘাষের উপর জোড়াফুল আমাদের সঙ্গে থাকবে। সেইভাবে আমরা এগোব।”অন্যদিকে কালীঘাট তৃণমূল শিবিরে থাকা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন , “এই অর্ডার আমরা মানছি না।”

  • Tarique Rahman: তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য দু’বার আমন্ত্রণ করা হয়েছে, জানাল নয়াদিল্লি

    Tarique Rahman: তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য দু’বার আমন্ত্রণ করা হয়েছে, জানাল নয়াদিল্লি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে (Tarique Rahman) ভারত সরকার দু’বার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। একটি আমন্ত্রণ ছিল দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য। অন্যটি ছিল বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানিয়েছেন।

    নয়াদিল্লিতে (India) গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে তারেক রহমান যোগ দেননি। একই সঙ্গে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এখনও ভারত সফরে যাননি তিনি। তাঁর প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে এখনও কোনও নিশ্চিত বার্তাও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ভারত।

    রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। পরে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁকে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। অর্থাৎ, তিনি দু’টি আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন—একটি দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য এবং অন্যটি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের জন্য।” তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে আমরা এখনও কিছু শুনিনি।”

    ব্রিকসের আমন্ত্রণ নিয়ে বাংলাদেশের বক্তব্য (Tarique Rahman)

    ভারতের এই বক্তব্যের আগে বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাঁর দাবি, আমন্ত্রণটি দেওয়া হয়েছিল বিমসটেকের চেয়ারম্যানকে।

    হুমায়ুন কবিরের কথায়, “আমরা কীভাবে যাব? বাংলাদেশের সরকারের কাউকে কি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল? আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কে আপনাদের বলেছে যে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল? বিমসটেকের চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।”

    ভারত অবশ্য জানিয়েছে, ব্রিকসের সম্প্রসারিত অধিবেশনে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভুটান, ভারত, মায়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডকে নিয়ে গঠিত বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান বাংলাদেশ।

    এর আগে জুলাই মাসেও বাংলাদেশের (Tarique Rahman) বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছিল, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

    দ্বিপাক্ষিক সফরেই জোর ঢাকার

    বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আগে থেকেই বলা হয়েছে, তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর বহুপাক্ষিক কোনও সম্মেলনকে কেন্দ্র করে না হয়ে দ্বিপাক্ষিক সফর হওয়াই প্রত্যাশিত। হুমায়ুন কবিরও জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ঢাকা।

    আগস্টের শেষ দিকে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে সফরের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দুই দেশ পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সময়সূচিতে একমত হলেই সফরটি হবে।

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকা একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে। ভারত জানিয়েছে, প্রত্যর্পণের অনুরোধটি পর্যালোচনাধীন রয়েছে।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে তারেক রহমান

    ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই তারেক রহমানের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কর্মসূচি হতে চলেছে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা তাঁর। এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখবেন তিনি।

    সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর। এই অধিবেশনের সভাপতি বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য, “আস্থা পুনর্গঠন, পরিবর্তন পরিচালনা: সবার জন্য কার্যকর একটি রাষ্ট্রসংঘ”।

    নিউইয়র্ক সফরে তারেক রহমান বাংলাদেশের (Tarique Rahman) দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলি বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নিয়েও একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করার কথা (India) রয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এ বছরের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশেষ আলোচনা হবে বলেও বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

     

  • India new Zealand Trade Deal: ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকরের পথে আরও এক ধাপ, আইন পাস নিউজিল্যান্ডের সংসদে

    India new Zealand Trade Deal: ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকরের পথে আরও এক ধাপ, আইন পাস নিউজিল্যান্ডের সংসদে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকরের জন্য প্রয়োজনীয় আইন পাস করেছে নিউজিল্যান্ডের (India new Zealand Trade Deal) সংসদ। বুধবার ৯৩-২৯ ভোটে বিলটি পাস হয়। বিরোধী লেবার পার্টিও বিলটির পক্ষে (Tariff Relief) ভোট দিয়েছে।

    চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হলে ভারতে রফতানি করা নিউজিল্যান্ডের প্রায় ৯৫ শতাংশ পণ্যের উপর শুল্ক হয় তুলে দেওয়া হবে, নয়তো তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনেই নিউজিল্যান্ডের মোট রফতানির ৫৭ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। পরবর্তী সময়ে এই সুবিধার ক্ষেত্র আরও বাড়বে।

    নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী টড ম্যাকলে বলেন, “রফতানিকারীদের জন্য এর সুফল তাৎক্ষণিক এবং উল্লেখযোগ্য। আমরা আশা করছি, এই উচ্চমানের চুক্তি চলতি বছরেই কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে এই মেয়াদে ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে।”

    শুল্ক তুলে নেওয়ার কথা (India new Zealand Trade Deal)

    চুক্তি অনুযায়ী, ভারত থেকে নিউজিল্যান্ডে আমদানি করা পণ্যের উপরও চুক্তি কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই শুল্ক তুলে নেওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে নিউজিল্যান্ডের বাজারে ভারতীয় পণ্যের দাম কমার সুযোগ তৈরি হবে।

    চুক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টিও রয়েছে। নিউজিল্যান্ড আগামী ১৫ বছরে ভারতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করবে। এই বিনিয়োগ বাড়াতে ভারত নিউজিল্যান্ডের বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থাও গড়ে তুলবে (India new Zealand Trade Deal)।

    ভারত ও নিউজিল্যান্ড চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। চুক্তিটি কার্যকর করার আগে দুই দেশকেই নিজেদের আইনি ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

    দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ

    দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া এক বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩.৯৯ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার, যা ভারতকে নিউজিল্যান্ডের পণ্য ও পরিষেবার নবম বৃহত্তম রফতানি বাজারে পরিণত করেছে।

    নতুন চুক্তির ফলে ফল, মধু, কাঠ, উল, মৎস্যজাত পণ্য, মদ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের পণ্য ভারতে আরও সুবিধাজনক বাজার-প্রবেশাধিকার পাবে। অন্যদিকে, ভারতীয় পণ্যও নিউজিল্যান্ডের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাবে।

    উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডের সংসদে চুক্তি কার্যকরের জন্য আইন পাস হলেও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি এখনও কার্যকর হয়নি। দুই দেশের নিজ (Tariff Relief) নিজ অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই তা কার্যকর হবে (India new Zealand Trade Deal)।

     

  • India Pakistan Navy Ship Collision: আরব সাগরে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজকে ধাক্কা পাকিস্তানের নৌযানের! পাক কূটনীতিককে ডেকে কড়া প্রতিবাদ দিল্লির

    India Pakistan Navy Ship Collision: আরব সাগরে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজকে ধাক্কা পাকিস্তানের নৌযানের! পাক কূটনীতিককে ডেকে কড়া প্রতিবাদ দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরব সাগরে ভারত ও পাকিস্তানের নৌবাহিনীর দুই জাহাজের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে ফের কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হল। মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উত্তর আরব সাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটনাটি ঘটে। বুধবার নয়াদিল্লিতে পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত।

    ভারতীয় সরকারি সূত্রের দাবি, ওই সময় ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ নিয়মিত নজরদারি মিশনে ছিল। সেই সময় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একটি জাহাজ দ্রুত গতিতে ভারতীয় জাহাজটির কাছে চলে আসে এবং ‘অপেশাদার ও অনিরাপদ’ পদ্ধতিতে গতিপথ পরিবর্তন করে। এর জেরেই দুই জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ হয় বলে ভারতীয় সূত্রের দাবি। তবে ঘটনায় কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই।

    পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব

    ঘটনার পর বুধবার পাকিস্তান হাইকমিশনের চার্জ দ্যা’ফেয়ার্সকে বিদেশ মন্ত্রকে তলব করে ভারত। পাকিস্তানি নৌ-ইউনিটের আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার’ বলে উল্লেখ করে শক্ত প্রতিবাদ জানানো হয়। একইসঙ্গে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকেও পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের কাছে একই বিষয় উত্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ১৯৯১ সালের চুক্তির প্রসঙ্গ কেন?

    ঘটনাটিকে শুধু নৌ-দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছে না নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি নৌ-জাহাজের আচরণ ১৯৯১ সালের ভারত-পাকিস্তান ‘অ্যাডভান্স নোটিশ অন মিলিটারি এক্সারসাইজেস, ম্যানুভার্স অ্যান্ড ট্রুপস মুভমেন্টস’ চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে বিপজ্জনক পরিস্থিতি এড়ানো এবং আস্থা তৈরির ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই ওই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে ২০১১ সালেও পাকিস্তানি নৌজাহাজের ঝুঁকিপূর্ণ গতিবিধি নিয়ে ভারত একই ১৯৯১ সালের চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

    আন্তর্জাতিক জলসীমায় সংঘর্ষ, তদন্তের অপেক্ষা

    এবারের ঘটনাটি কোনও দেশের territorial waters-এ নয়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে। এখনও পর্যন্ত দুই নৌযানের নাম বা সংঘর্ষের ঠিক আগের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত সরকারি তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও বুধবার পর্যন্ত ঘটনার কোনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং দুই পক্ষের গতিবিধি নিয়ে আরও তথ্য ও তদন্তের অপেক্ষা রয়েছে।

    প্রাণহানি বা বড় ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ভারত-পাকিস্তানের মতো সংবেদনশীল সামরিক সম্পর্কে আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুই দেশের যুদ্ধজাহাজের এমন সংঘর্ষকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সমুদ্রে সামরিক ইউনিটগুলির নিরাপদ দূরত্ব, যোগাযোগ এবং নির্ধারিত প্রোটোকল মেনে চলার বিষয়টি ফের সামনে এসেছে।

  • Hilsa: উলটপূরাণ! প্রথমবার ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করছে বাংলাদেশ, ওপার বাংলায় যাচ্ছে ৭০০ টন ‘রুপোলি শস্য’

    Hilsa: উলটপূরাণ! প্রথমবার ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করছে বাংলাদেশ, ওপার বাংলায় যাচ্ছে ৭০০ টন ‘রুপোলি শস্য’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে ইলিশ (Hilsa) বাণিজ্যের চেনা ছবিটাই যেন বদলে যাচ্ছে। গত বছর বাংলাদেশ (Bangladesh) থেকে ভারত যে পরিমাণ ইলিশ আমদানি করেছিল, তার চার গুণেরও বেশি ইলিশ এবার বাংলাদেশে রফতানি করতে চলেছে ভারত। চলতি বছরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ৬৫০ থেকে ৭০০ টন পর্যন্ত ইলিশ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    গত দু’মাসে পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে ঢুকেছে। চলতি সপ্তাহান্তের মধ্যে আরও ১৫০ থেকে ২০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছেন পেট্রাপোলের ছাড়পত্রের কাজের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরা। তাঁদের দাবি, চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরু থেকেই এই রফতানি শুরু হয়েছে।

    অধিকাংশ ইলিশ এসেছে গুজরাট থেকে (Hilsa)

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বাংলাদেশে যাওয়া অধিকাংশ ইলিশ এসেছে গুজরাট থেকে। সেগুলি ভারুচ বন্দর দিয়ে পাঠানো হয়েছে। কিছু ইলিশ আবার হাওড়ার পাইকারি মাছের বাজার হয়ে বাংলাদেশে গিয়েছে। প্রায় সমস্ত রফতানিই করেছেন হাওড়ার ব্যবসায়ীরা।

    হাওড়া পাইকারি মাছ বাজারের সম্পাদক সৈয়দ মকসুদ আনোয়ার বলেন, “আমরা সাধারণত বাংলাদেশে বোয়াল, রুই, পার্শে ও ট্যাংরা-সহ বিভিন্ন ধরনের মাছ রফতানি করি। সেখানে ইলিশের জোগান কম থাকায় এই প্রথম ভারতীয় ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেছি। গুজরাট থেকে বিপুল পরিমাণ ইলিশ আসার পর তার কিছুটা বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিই। বাংলাদেশের বাজারে সেই ইলিশ ভালো সাড়া পায়। পরে আরও ইলিশ রফতানি শুরু করি। এখনও পর্যন্ত ৫০০ টন ইলিশ রফতানি করেছি। দু’দিন আগে গুজরাটে আরও ৫০০ টন ইলিশের বড়সড় জোগান এসেছে। তার মধ্যে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ টন বাংলাদেশে পাঠাব আশা করছি।”

    গুজরাটের ইলিশে ডিম বা মাছের ডিমের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কলকাতায় এই ইলিশের চাহিদা সীমিত। তবে এই বৈশিষ্ট্যই বাংলাদেশি ক্রেতাদের কাছে গুজরাতের ইলিশকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারের মাছ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলিতে এই ইলিশের ডিম সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। পরে তা ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে রফতানি করা হয়। ওই দেশগুলিতে প্রচুর বাংলাদেশি বসবাস করেন।

    কী বলছেন বাংলাদেশের আমদানিকারী 

    বাংলাদেশের এক আমদানিকারী বলেন, “ইলিশের ডিম বের করে নেওয়ার পর মাছের মাংস শুকিয়ে নুন দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। তাজা ইলিশের মতো করে এই মাছ খাওয়া হয় না।”

    পেট্রাপোলের ছাড়পত্রের কাজের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশে যাওয়া অধিকাংশ ইলিশের ওজন ৭০০ গ্রাম থেকে দেড় কিলোগ্রামের মধ্যে। গুণমানের উপর নির্ভর করে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যে রয়েছে (Hilsa)।

    পেট্রাপোল ছাড়পত্রকর্মী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, “মাছগুলির প্রয়োজনীয় খাদ্যমান পরীক্ষা করা হয়। প্রাণী কোয়ারেন্টাইন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শংসাপত্র নেওয়া হয়। পণ্য পাঠানোর আগে সমস্ত প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া মেনে চলা হয়।”

    ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় অভ্যন্তরীণ মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা প্রদীপ দে-র মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের ইলিশের উৎপাদন, প্রাপ্যতা এবং ক্রেতাদের চাহিদার ধরনে পরিবর্তনের প্রতিফলন এই ঘটনায় দেখা যাচ্ছে।

    প্রদীপ বলেন, “ইলিশের বিপরীতমুখী বাণিজ্যপ্রবাহ দেখাচ্ছে যে, দেশের অভ্যন্তরে মাছের পর্যাপ্ত জোগান, গুণমান এবং সরবরাহ ব্যবস্থা যদি চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা হলে ভারত প্রতিবেশী দেশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহকারী হিসেবে উঠে আসতে পারে।”

    পদ্মা-মেঘনার ইলিশ ভারতে আনার দাবি

    এদিকে বাংলাদেশে ভারতীয় ইলিশের রফতানি চললেও বাংলাদেশ থেকে পদ্মা ও মেঘনার ইলিশ ভারতে আনার দাবিতে তৎপরতা চালাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। মাছ আমদানিকারী সমিতির সম্পাদক ও সৈয়দ মকসুদ আনোয়ার অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে বাংলাদেশ সফর করেছেন। সেখানে বাংলাদেশের বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান এবং ভারতীয় হাইকমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পদ্মা ও মেঘনার ইলিশ ভারতে রফতানির বিষয়টি তুলে ধরেন তাঁরা।

    মকসুদ বলেন, “আমরা রফতানির জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ইলিশ ঠিক করে দেওয়ার অনুরোধ করেছি। তবে (Bangladesh) কোনও সময়সীমা নির্ধারণের দাবি জানাইনি। কারণ নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে বরাদ্দ করা ইলিশের (Hilsa) সামান্য অংশই ভারতে পৌঁছতে পারে।”

     

  • India: মাসুদ আজহারের মাথার দাম ঘোষণা নিয়ে পাকিস্তানকে কটাক্ষ ভারতের, কী বলল নয়াদিল্লি?

    India: মাসুদ আজহারের মাথার দাম ঘোষণা নিয়ে পাকিস্তানকে কটাক্ষ ভারতের, কী বলল নয়াদিল্লি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারের (Masood Azhar) বিরুদ্ধে পুরস্কার ঘোষণাকে ‘লোকদেখানো পদক্ষেপ’ বলে আখ্যা দিয়ে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিল ভারত (India)। নয়াদিল্লির বক্তব্য, নিজেদের মাটিতে নিষিদ্ধ জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে এই ধরনের ‘ভাঁওতা ঘোষণা’ করে কোনও লাভ নেই।

    মঙ্গলবার ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে সাংবাদিক বৈঠকে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মাসুদ আজহার প্রসঙ্গে বলেন, “পাকিস্তানের এই ধরনের লোকদেখানো কৌশল এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা নতুন কিছু নয়। অতীতেও আমরা একই ধরনের কৌশল দেখেছি।”

    তিনি এও বলেন, “সন্ত্রাসবাদে মদতদাতা একটি রাষ্ট্র যখন এই ধরনের ভাঁওতা দেয়, তখন তার ফাঁপা চরিত্র আমরা সকলেই জানি। পাকিস্তানের উচিত পদক্ষেপ করা, এমন ঘোষণা নয়, যার কোনও বাস্তব ফল নেই।”

    পাকিস্তান সম্প্রতি মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে তাঁকে গ্রেফতার বা দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়তা করলে ৭০ লাখ পাকিস্তানি রুপি পুরস্কারের কথা জানিয়েছে। পাকিস্তানের ফেডারেল তদন্ত সংস্থার ২০২৬ সালের ‘রেড বুক’-এও আজহারের নাম রয়েছে।

    মাসুদ আজহার (India)

    ভারতের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই ওয়ান্টেড মাসুদ আজহার। ২০০১ সালের সংসদে হামলা, ২০১৬ সালের পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা বিস্ফোরণ-সহ একাধিক জঙ্গি হামলার সঙ্গে তার নাম জড়িয়েছে। ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর মাসে কাঠমান্ডু থেকে কান্দাহারগামী আইসি-৮১৪ বিমান ছিনতাইয়ের পর যাত্রীদের মুক্তির বিনিময়ে ভারত আজহার-সহ তিন জঙ্গিকে মুক্তি দিয়েছিল।

    পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করে আসছে, আজহারের বর্তমান অবস্থান তাদের জানা নেই এবং সে আফগানিস্তানে পালিয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, নয়াদিল্লির অভিযোগ, পাকিস্তানই জইশ-ই-মহম্মদ প্রধানকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। আফগানিস্তানের তালিবান সরকারও আজহার আফগানিস্তানে রয়েছে বলে পাকিস্তানের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

    ২০২৫ সালের মে মাসে পহেলগাঁও হামলার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ভারত বাহাওয়ালপুরে জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান ঘাঁটিতে হামলা চালায়। সেই হামলায় আজহারের কয়েকজন আত্মীয় নিহত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে (India)।

    এফএটিএফের চাপ

    এদিকে, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ও আর্থিক অপরাধ দমনের নজরদারি সংস্থা এফএটিএফের চাপের মধ্যেই পাকিস্তানের এই ঘোষণা সামনে এসেছে। আগামী মাসে বৈঠকে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে।

    সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ঠেকাতে যথেষ্ট ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান এফএটিএফের বর্ধিত নজরদারির ‘ধূসর তালিকা’য় ছিল। বিশেষ করে জইশ-ই-মহম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈবার মতো সংগঠনের অর্থায়ন নিয়ে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আন্তর্জাতিক চাপের পর পাকিস্তান ওই দুই সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছিল (India)।

    ২০১৯ সালের মে মাসে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মাসুদ আজহারকে (Masood Azhar) আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। চিন আপত্তি তুলে নেওয়ার পরেই পরিষ্কার হয়েছিল তার তালিকাভুক্তির পথ।

     

  • UPI: বড় অঙ্কের ইউপিআই লেনদেনেও গ্রাহকের মাশুল নেই, ২ হাজার টাকার বেশি বাণিজ্যিক পেমেন্টে বসছে নতুন হার

    UPI: বড় অঙ্কের ইউপিআই লেনদেনেও গ্রাহকের মাশুল নেই, ২ হাজার টাকার বেশি বাণিজ্যিক পেমেন্টে বসছে নতুন হার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিত্যদিনের ডিজিটাল লেনদেনকে সাধারণ মানুষের জন্য মাশুলমুক্ত রাখার বিষয়টি স্পষ্ট করে নয়া কাঠামো ঘোষণা করল কেন্দ্র। নতুন নিয়মে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে ইউপিআইয়ের (UPI) মাধ্যমে টাকা পাঠানো বা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনও মাশুল দিতে হবে না। লেনদেনের অঙ্ক যতই বড় হোক, এই পরিষেবা বিনামূল্যেই থাকবে। অর্থ মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি লেনদেনে কোনও লেনদেন মাশুল, প্ল্যাটফর্ম মাশুল বা গোপন মাশুল আরোপ করা যাবে না (P2P Transaction)। নয়া কাঠামোটি ২০০৭ সালের পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস আইনের আওতায় চালু করা হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন মাশুল কাঠামো কার্যকর হবে। তবে সাধারণ গ্রাহকদের উপর এর সরাসরি কোনও মাশুল চাপছে না।

    বন্ধু-পরিজনকে টাকা পাঠানো থাকছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (UPI)

    বন্ধু, আত্মীয় বা পরিবারের সদস্যকে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠালে কোনও অতিরিক্ত খরচ হবে না। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে সমস্ত লেনদেনই মাশুলমুক্ত থাকবে। অর্থের পরিমাণের উপরও কোনও সীমা ধরে মাশুল বসানো হবে না। এই ধরনের লেনদেন ইউপিআইয়ের মোট লেনদেনের পরিমাণের প্রায় ৭০ শতাংশ। লেনদেনের সংখ্যার হিসাবে এর অংশ প্রায় ৩৭ শতাংশ।

    ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দোকানে পেমেন্টেও মাশুল নেই

    দোকান, ব্যবসায়ী বা পরিষেবা প্রদানকারীকে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত পেমেন্ট করলেও কোনও মাশুল লাগবে না। এই ক্ষেত্রে গ্রাহক বা ব্যবসায়ী—কাউকেই বণিক ছাড়ের হার দিতে হবে না। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর পরেও ব্যক্তি থেকে ব্যবসায়ীর প্রায় ৯৬ শতাংশ লেনদেন মাশুলের আওতার বাইরে থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন এবং ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত শূন্য-মাশুল ব্যবস্থা।

    ২ হাজার টাকার বেশি পেমেন্টে ব্যবসায়ীর উপর ০.৪ শতাংশ মাশুল

    তবে ২ হাজার টাকার বেশি মূল্যের নির্দিষ্ট ব্যক্তি-থেকে-ব্যবসায়ী ইউপিআই লেনদেনে ০.৪ শতাংশ বণিক ছাড়ের হার কার্যকর হবে। ৭৫ হাজার টাকা বা তার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে এই মাশুল সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে। অর্থাৎ ৭৫ হাজার টাকার বেশি লেনদেন হলেও নির্ধারিত মাশুল ৩০০ টাকার বেশি হবে না।

    এই মাশুল গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়ার কথা নয়। এটি ব্যবসায়ীর দিকের পেমেন্ট ব্যবস্থার অংশীদারদের মধ্যে বণ্টিত হবে। অর্থমন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, এই মাশুল সরকার বা জাতীয় পেমেন্ট কর্পোরেশন সংগ্রহ করবে না; ব্যাংক ও পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী-সহ পেমেন্ট ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশীদারের মধ্যে তা বণ্টিত হবে।

    ছোট দোকান ও রাস্তার ব্যবসায়ীদের জন্য ছাড়

    ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য শূন্য-মাশুলের সুবিধা বহাল থাকছে। কোনও ছোট ব্যবসায়ী ইউপিআইয়ের কিউআর কোডের মাধ্যমে মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করলে ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি-থেকে-ব্যবসায়ী শ্রেণির আওতায় তাঁর সমস্ত লেনদেনেই শূন্য বণিক ছাড়ের হার প্রযোজ্য থাকবে। ফলে রাস্তার হকার, পাড়ার ছোট মুদিখানা এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উপর নতুন মাশুলের চাপ পড়বে (UPI) না।

    রেল, টেলিকম, বিমা ও জ্বালানিতে আলাদা হার

    কিছু অত্যাবশ্যক পরিষেবার ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকার বেশি ইউপিআই পেমেন্টে ০.৪ শতাংশের পরিবর্তে প্রতি লেনদেনে ৫ টাকা হারে বণিক ছাড়ের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রেল পরিষেবা, টেলিকম, বিমা, জ্বালানি এবং কৃষি-উপকরণ সংক্রান্ত পেমেন্ট।

    সরকারের হিসাবে, এই ক্ষেত্রগুলি ইউপিআইয়ের ব্যক্তি-থেকে-ব্যবসায়ী লেনদেনের সংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ এবং ব্যবসায়ী লেনদেনের মোট মূল্যের প্রায় ৪৬ শতাংশ জুড়ে রয়েছে।

    মিউচুয়াল ফান্ড ও শেয়ারবাজারে আরও কম হার

    মিউচুয়াল ফান্ড, সিকিউরিটিজ, শেয়ারবাজারের দালাল ও ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে বণিক ছাড়ের হার আরও কম রাখা হয়েছে। এখানে হার হবে ০.০২ শতাংশ এবং প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত মাশুল নেওয়া যাবে।

    ইউপিআই অ্যাপে গোপন মাশুলও নয়

    নতুন কাঠামোয় ইউপিআই অ্যাপগুলিকে কোনও প্ল্যাটফর্ম মাশুল বা গোপন মাশুল বসানোর অনুমতি দেওয়া হবে না। পাশাপাশি ব্যাংকগুলিকে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ীরা যেন নতুন বণিক মাশুলের খরচ কোনওভাবেই গ্রাহকের উপর চাপিয়ে না দেন (P2P Transaction)।

    সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর ফলে মোট বাণিজ্যিক ইউপিআই লেনদেনের মাত্র প্রায় ৪ শতাংশ প্রভাবিত হবে। অধিকাংশ লেনদেন হয় ২ হাজার টাকার নীচে থাকবে, নয়তো ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য নির্ধারিত শূন্য-মাশুল ব্যবস্থার আওতায় পড়বে।

    ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি হবে বিশেষ তহবিল

    ছোট ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইউপিআই ব্যবহারের প্রসার ঘটাতে একটি বিশেষ তহবিলও গঠন করা হবে। মোট সংগৃহীত বণিক ছাড়ের হারের ৫ শতাংশ এই তহবিলে রাখা হবে। গ্রামীণ ও আধা-শহরাঞ্চলে ইউপিআইয়ের ব্যবহার বাড়ানো এবং ছোট ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় আরও বেশি করে আনার কাজে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।

    নতুন কাঠামোর মূল লক্ষ্য হল সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ইউপিআই পরিষেবা বিনামূল্যে রেখে বড় অঙ্কের বাণিজ্যিক লেনদেন থেকে (P2P Transaction) পেমেন্ট ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি পরিকাঠামো ও সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করা (UPI)।

     

LinkedIn
Share