Author: ishika-banerjee

  • SIR: এসআইআর-এর জন্য কোনও ওটিপি চাওয়া হচ্ছে না! ভোটারদের সাবধান করল কমিশন

    SIR: এসআইআর-এর জন্য কোনও ওটিপি চাওয়া হচ্ছে না! ভোটারদের সাবধান করল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর-এর (SIR) জন্য কোনও ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) দিতে হবে না। সোমবার একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্পষ্ট ভাবে তা জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। সোমবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতের নির্বাচন কমিশন কিংবা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর এসআইআর-এর জন্য কারও থেকে ওটিপি চাইছে না। এর আগে অভিযোগ উঠেছিল যে, কমিশনের নাম ভাঁড়িয়ে বহু মোবাইল ফোনে ওটিপি পাঠানো হচ্ছে এবং ফোন করে বলা হচ্ছে এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য ওই ওটিপি জরুরি। অনেকেই তা বিশ্বাস করে ওই ভুয়ো ওটিপি নম্বর বলে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ জানায় কমিশনের কাছে। মনে করা হচ্ছে, অসাধু উপায়ে টাকা পয়সা হাতানোর জন্যই একটা চক্র এই কাজ করছে।

    কেন এই বিবৃতি

    ওয়াকিবহাল মহল বলছে, সাইবার প্রতারণা ক্রমশ বাড়ছে। এই অবস্থায় এনুমারেশন ফর্ম পূরণকে হাতিয়ার করে সাইবার প্রতারকরা যাতে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা না করতে পারে, তার জন্য সতর্ক করল কমিশন। কারণ, ফর্ম ঠিকমতো পূরণ হয়েছে কি না, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবে সাধারণ মানুষ বিচলিত থাকবেন। ফলে ফর্মে ভুল রয়েছে জানিয়ে বিএলও কিংবা কমিশনের নাম করে কেউ ফোন করে ওটিপি চাইলে, অনেকে প্রতারকদের ফাঁদে পা-ও দিতে পারেন। তাই রীতিমতো প্রেস বিবৃতি দিয়ে সিইও অফিস জানিয়েছে, জাতীয় নির্বাচন কমিশন কিংবা সিইও অফিস এসআইআর সংক্রান্ত কাজের জন্য কখনও কারও মোবাইলে ওটিপি পাঠায় না। এবং ফোন করে ওটিপি জানতে চায় না। সিইও অফিসের এই প্রেস বিবৃতি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছে কলকাতা পুলিশও। গত ৪ নভেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করা শুরু হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম দিয়ে আসছেন বুথ স্তরের আধিকারিকেরা। ২০০২ সালের ভোটার তালিকা দেখে সেই অনুযায়ী এই ফর্ম পূরণ করতে হচ্ছে। তার পর তা জমা নিয়ে কমিশনের নির্দিষ্ট অ্যাপে এই সংক্রান্ত তথ্য আপলোড করছেন বিএলওরা। রবিবার রাত ৮টার বুলেটিনে কমিশন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ৯৯ শতাংশের বেশি এনুমারেশন ফর্ম বিলি হয়ে গিয়েছে।

    আজ কলকাতায় কমিশনের টিম

    আজ, মঙ্গলবার ১৮ নভেম্বর কলকাতায় আসছে কমিশনের বিশেষ টিম। এদিন কলকাতা উত্তর ও কলকাতা দক্ষিণের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবে তারা। দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত বৈঠক হবে। এরপর বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে কমিশনের বিশেষ টিমের প্রতিনিধিরা বৈঠক করবেন। এদিনই কৃষ্ণনগর রওনা দেবে কমিশনের টিম। রাতে সেখানে থাকবে। তারপর ১৯ নভেম্বর নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে বৈঠক করবে। ২০ নভেম্বর মালদায় পৌঁছবে কমিশনের টিম। সেখানে বৈঠক করে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে চেপে কলকাতায় ফিরে আসবে। কলকাতায় রাতে থাকবে কমিশনের টিম। ২১ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে নিউটাউনে ইভিএমের ফার্স্ট লেভেল চেকিং (FLC) নিয়ে একটি কর্মশালায় যোগ দেবেন কমিশনের প্রতিনিধিরা।

  • Bharat Bangladesh Relation: ‘‘বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভারত’’, হাসিনার মৃত্যুদণ্ড নিয়ে বিবৃতি দিল্লির

    Bharat Bangladesh Relation: ‘‘বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভারত’’, হাসিনার মৃত্যুদণ্ড নিয়ে বিবৃতি দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত চায়, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক। সোমবার ‘বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’-এর তরফে সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina Verdict) বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর এই ইস্যুতে মুখ খুলল ভারত। বিদেশমন্ত্রকের তরফে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ (Bharat Bangladesh Relation) আদালতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হয়েছে তা ভারতের নজরে রয়েছে। পাশাপাশি নয়াদিল্লি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সেখানকার সব রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে সুষ্ঠু যোগাযোগ রাখবে দিল্লি।

    কী বলল ভারতের বিদেশমন্ত্রক

    জুলাই অভ্যুত্থানে দেশছাড়া হওয়ার পর থেকে মহম্মদ ইউনুসের বাংলাদেশে অসংখ্য মামলা হয়েছে হাসিনার বিরুদ্ধে। গুরুতর মামলাগুলির মধ্যে রয়েছে জুলাই বিপ্লবী ছাত্রদের উপর গুলি চালানো তথা মানবতাবিরোধী অপরাধ, আয়নাঘর সংক্রান্ত অভিযোগ ইত্যাদি। সোমবার বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মহম্মদ শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মহম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে। এরপরই সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় হাসিনাকে। বাংলাদেশ আদালতে রায় ঘোষণার পর বিদেশমন্ত্রকের তরফে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, ‘বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হয়েছে তা ভারতের নজরে রয়েছে। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভারত। নয়াদিল্লি চায় বাংলাদেশে শান্তি, গণতন্ত্র, এবং স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক। সেই লক্ষ্যে নয়াদিল্লি সব পক্ষের সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে যোগাযোগ রাখবে।’

    ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি

    বর্তমানে ভারতে (Bharat Bangladesh Relation) রয়েছেন আওয়ামি লিগ নেত্রী হাসিনা। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, হাসিনাকে ফেরাতে চেয়ে ভারতের কাছে আবারও চিঠি দেবেন তাঁরা। তবে বিচারের সম্মুখীন হতে ভারত তাঁকে আদৌ বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে একটি বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী আদালতের রায়ে প্রত্যর্পণ করানোর মতো অপরাধ করে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এক দেশ অপর দেশের হাতে তুলে দেবে। ২০১৩ সালে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তখন কেন্দ্রে মনমোহন সিং-এর নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার। অন্য দিকে, ঢাকার মসনদে হাসিনাই।

    কখন প্রত্যর্পণ হবে না

    চুক্তিতে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে, অপরাধটির যদি রাজনৈতিক চরিত্র থাকে, তা হলে প্রত্যর্পণ করা হবে না। খুন, গুম করা এবং অত্যাচার (যেগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি হাসিনা অভিযুক্ত) রাজনৈতিক অপরাধের তালিকায় রাখা হবে না বলেও চুক্তিতে বলা হয়েছে। চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, সেখানে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে যে, বিচারের নেপথ্যে যদি সৎ কোনও উদ্দেশ্য না-থাকে, তা হলে ভারত বা বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণ করবে না। হাসিনাকে প্রত্যর্পণ না-করার জন্য এই যুক্তিগুলি খাড়া করতে পারে ভারত। হাসিনা নিজেও বারবারই তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন। বিচারের নামে প্রহসনের অভিযোগও তুলেছেন।

    ভারত হাসিনাকে প্রত্যর্পণে বাধ্য নয়

    বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির মধ্যে থাকা বেশ কয়েকটি শর্তের জন্যই ভারত (Bharat Bangladesh Relation) হাসিনাকে ফেরাতে বাধ্য নয় বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ নিয়ে চুক্তি রয়েছে। কিন্তু সোমবারের রায়ের পর বাংলাদেশে হাসিনার প্রাণসংশয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, যদি কোনও দেশে কারও জীবনের ঝুঁকি থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আশ্রয় দেওয়া দেশ তাঁকে ফেরত পাঠাতে বাধ্য নয়। হাসিনার ক্ষেত্রেও এই আইনের কথা তুলে ধরতে পারে ভারত। তাই নানা নিয়ম অনুসারেই ভারত হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করতে বাধ্য নয়। এই প্রসঙ্গে আইনগত দিকও রয়েছে। হাসিনা এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন। কিন্তু দেশে না-থাকার জন্য হাসিনাকে যদি তা করতে বাধা দেওয়া হয়, তবে তা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

    ভারতের বিবৃতি স্পষ্টবার্তা

    গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina Verdict) পাশাপাশি এই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিন আসামির মধ্যে মামুন রাজসাক্ষী। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান পলাতক। দুজনই এখন ভারতে (Bharat Bangladesh Relation) অবস্থান করছেন। মৃত্যুদণ্ডের পরই শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের প্রত্যর্পণের আর্জি জানিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের কাছে ২ জনকে হস্তান্তরের আর্জি জানায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। এই প্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান জানায় দিল্লি। ইউনুসের শাসনে গোটা বাংলাদেশে ভারত বিরোধিতার হাওয়া তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, হাসিনা সরকার ছিল ভারতের বন্ধু। তবে, ভারতের বিবৃতি স্পষ্টবার্তা যে কোনও পক্ষপাত নয়, বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগের পাশাপাশি কূটনৈতিক স্বার্থে সে দেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই সমানভাবে যোগাযোগ রাখবে ভারত। অর্থাৎ, ইউনুসের বাংলাদেশ আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করলেও ভারত সেই দলকে যেমন গুরুত্ব দেবে একইভাবে বিএনপি-সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিকেও সমান গুরুত্ব দেবে ভারত। পাশাপাশি এটাও ইউনুস প্রশাসনকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে ভারত সমর্থন করে না। গণতান্ত্রিক পথে আওয়ামি লিগকে বাকি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

  • IPL Auction 2026: রাসেলকে ছাড়ল কেকেআর! আইপিএল নিলামের আগে কোন কোন দল কাকে-কাকে রাখল?

    IPL Auction 2026: রাসেলকে ছাড়ল কেকেআর! আইপিএল নিলামের আগে কোন কোন দল কাকে-কাকে রাখল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় ১১ বছরের সম্পর্কে ছেদ। আন্দ্রে রাসেলকে ছেড়ে দিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। আইপিএলের ১০টি দল সব মিলিয়ে ৮২ জন ক্রিকেটারকে ছেড়ে দিল। তার মধ্যে ৭৪ জনের দল থাকল না ২০২৬ সালের আইপিএলের আগে। তাঁদের আবার নিলামে নামতে হবে। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে এই তালিকায় রয়েছেন আন্দ্রে রাসেল, ফ্যাফ ডুপ্লেসি, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, রাচিন রবীন্দ্র, রবি বিষ্ণোইয়ের মতো ক্রিকেটার। কেকেআর ছেড়ে দিয়েছে ৯ জন ক্রিকেটারকে। তাঁরা হলেন আন্দ্রে রাসেল, বেঙ্কটেশ আয়ার, কুইন্টন ডি কক, মইন আলি, রহমানুল্লাহ গুরবাজ, স্পেন্সার জনসন, চেতন সাকারিয়া, লাভনিথ সিসোদিয়া এবং অনরিখ নোখিয়া। এ ছাড়া ময়াঙ্ক মার্কন্ডকে বিক্রি করা হয়েছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কাছে। ফলে আগামী আইপিএলের আগে ৯ জনেরই কোনও দল থাকল না।

    রাসেলকে কেন ছাড়ল কেকেআর

    হাতে আর বেশি সময় বাকি নেই। আগামী মাসেই ২০২৬ আইপিএল (IPL 2026) টুর্নামেন্টের নিলাম অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। তবে এই নিলাম অনুষ্ঠানের আগে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ১০ ফ্র্যাঞ্চাইজিকে রিটেনশন তালিকা প্রকাশ করতে বলা হয়েছিল। অর্থাৎ, কোন কোন ক্রিকেটারকে তারা ধরে রাখতে চায়। আর কাদেরই বা দিতে চায় ছেড়ে! এই পূর্ণাঙ্গ তালিকা হাতে থাকলে নিলাম অনুষ্ঠানও সুষ্ঠভাবে আয়োজন করা সম্ভব হবে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তা দেখে সমর্থকদের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গিয়েছে। আন্দ্রে রাসেল (১২ কোটি), ভেঙ্কটেশ আইয়ার (২৩.৭৫ কোটি), কুইন্টন ডি কক (৩.৬ কোটি), মঈন আলি (২ কোটি) এবং অনরিখ নোর্খিয়া (৬.৫ কোটি)।তবে এই তালিকায় যে নামটা সবাইকে হতবাক করেছে, তিনি হলেন আন্দ্রে রাসেল। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সে যোগ দিয়েছিলেন আন্দ্রে রাসেল। গত বছর মেগা অকশনের ঠিক আগে ১২ কোটি টাকার বিনিময়ে তাঁকে রিটেনও করেছিল নাইট ব্রিগেড। কিন্তু, গত আইপিএল মরশুমে রাসেল প্রত্যাশা অনুসারে পারফরম্য়ান্স করতে পারেননি। সেকারণে টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে শেষপর্যন্ত ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

    কেকেআর-এর নতুন বোলিং কোচ

    ২০২৬ সালের আগে পুরো কোচিং স্টাফ বদলে ফেলল কলকাতা নাইট রাইডার্স। প্রধান কোচ, সহকারি কোচের পর এ বার নতুন বোলিং কোচের নাম ঘোষণা করল। KKR-এর প্রাক্তন তারকা ও কিউয়ি কিংবদন্তি টিম সাউদিকে বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ করল। গত বার কেকেআর আইপিএল-এ সপ্তম স্থানে শেষ করে। এর নেপথ্যে ছিল খারাপ বোলিং। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরের বছরেই এই ছবির পর দলে আমূল বদল আনা হয়। চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত, ভরত অরুণ সরে দাঁড়ান। মেন্টর ডোয়েন ব্র্যাভো অবশ্য দায়িত্বে রয়েছেন। অভিষেক নায়ারকে প্রথমে কোচ হিসেবে আনা হয়। এর পর সহকারি কোচ হন শেন ওয়াটসন আর এবার বোলিং কোচ করা হলো টিম সাউদিকে।

    কে কাকে ছাড়ল

    চেন্নাই সুপার কিংস: সিএসকে ছেড়ে দিয়েছে ১২ জনকে। রবীন্দ্র জাডেজা এবং সাম কারেনকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে রাজস্থান রয়্যালসের কাছে। বাকি ১০ জনের দল থাকল না। তাঁরা হলেন রাহুল ত্রিপাঠি, বংশ বেদি, আন্দ্রে সিদ্ধার্থ, রাচিন রবীন্দ্র, ডেভন কনওয়ে, বিজয় শঙ্কর, দীপক হুডা, শেখ রশিদ, কমলেশ নাগরকোটি, মাথিশা পাতিরানা।

    মুম্বই ইন্ডিয়ান্স: এমআই ছেড়ে দিয়েছে ন’জন ক্রিকেটারকে। তাঁদের মধ্যে অর্জুন তেন্ডুলকরকে বিক্রি করা হয়েছে লখনউ সুপার জায়ান্টসের কাছে। দল থাকল না মুম্বইয়ের আট ক্রিকেটারের। তাঁরা হলেন সত্যনারায়ণ রাজু, রিসি টোপলে, কেএল শ্রীজিৎ, কর্ম শর্মা, বেভন জ্যাকবস, মুজির উর রহমান, লিজ়াড উইলিয়ামস এবং ভিগনেশ পুথুর।

    রাজস্থান রয়্যালস: রাজস্থান ছেড়ে দিয়েছে ন’জন ক্রিকেটারকে। তাঁদের মধ্যে সঞ্জু স্যামসনকে বিক্রি করা হয়েছে চেন্নাইয়ের কাছে। নীতীশ রানাকে বিক্রি করা হয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে। এ ছাড়া হয়েছে ওয়ানিন্দু হাসরঙ্গ, মাহিশ থিকশানা, ফজ়লহক ফারুকি, আকাশ মাধওয়াল, অশোক শর্মা, কুনাল রাঠোর এবং কুমার কার্তিকেয়। দল থাকল না সাত ক্রিকেটারের।

    পাঞ্জাব কিংস: পাঞ্জাব ছেড়ে দিয়েছে পাঁচ ক্রিকেটারকে। কাউকেই কোনও দলের কাছে বিক্রি করা হয়নি। ফলে পাঁচ জনেরই দল থাকল না ২০২৬ আইপিএলের আগে। তাঁরা হলেন জশ ইংলিস, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, অ্যারন হার্ডি, কুলদীপ সেন, প্রবীণ দুবে।

    রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু: আরসিবি ছেড়ে দিয়েছে আট জনকে। কাউকেই বিক্রি করা হয়নি। ফলে কারও দল থাকল না। গত বারের চ্যাম্পিয়ন দল থেকে বাদ পড়লেন স্বস্তিক চিকারা, ময়ঙ্ক আগরওয়াল, টিম সেইফার্ট, লিয়াম লিভিংস্টোন, মনোজ ভানদাগে, লুঙ্গি এনগিডি, ব্লেসিং মুজ়ারাবানি এবং মোহিত রাঠি।

    সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ: হায়দ্রাবাদ ছেড়ে দিয়েছে আট জন ক্রিকেটারকে। তাঁদের মধ্যে মহম্মদ শামিকে বিক্রি করা হয়েছে লখনউ সুপার জায়ান্টসের কাছে। দল থাকল না সাত জনের। তাঁরা হলেন অভিনব মনোহর, অথর্ব তাইদে, সচিন বেবি, উইয়ান মুলডার, সিমরজিৎ সিংহ, রাহুল চাহার এবং অ্যাডাম জ়াম্পা।

    দিল্লি ক্যাপিটালস: দিল্লি ছেড়ে দিয়েছে সাত জন ক্রিকেটারকে। কাউকেই বিক্রি করা হয়নি। ফলে কারও দল থাক না ২০২৬ সালের আইপিএলে। নিলামে নাম লেখাতে হবে ফ্যাফ ডুপ্লেসি, জ্যাক ফ্রেজার ম্যাকগার্ক, ডনোভান ফেরেরা, সেদিকুল্লাহ অটল, মন্বন্ত কুমার, মোহিত শর্মা এবং দর্শন নালকান্দে।

    গুজরাট টাইটান্স: শুভমন গিলের ছ’জন সতীর্থকে ছেড়ে দিয়েছেন গুজরাত কর্তৃপক্ষ। তাঁদের মধ্যে শেরফান রাদারফোর্ডকে বিক্রি করা হয়েছে মুম্বইয়ের কাছে। ফলে দল থাকছে না পাঁচ ক্রিকেটারের। তাঁরা হলেন মাহিপাল লোমরোর, করিম জনত, দাসুন শনাকা, জেরাল্ড কোয়েৎজে এবং কুলওয়ান্ত খেজরোলিয়া।

    লখনউ সুপার জায়ান্টস: কলকাতার শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েঙ্কার দল ছেড়ে দিল ডেভিড মিলার-সহ আট ক্রিকেটারকে। শার্দূল ঠাকুরকে বিক্রি করা হয়েছে মুম্বইয়ের কাছে। সব মিলিয়ে এলএসজির সাত ক্রিকেটারের দল থাকল না। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বাংলার আকাশ দীপও। এ ছাড়া রয়েছেন রবি বিশ্নোই, আরিয়ান জুয়াল, যুবরাজ চৌধুরী, রাজ্যবর্ধন হাঙ্গারকর এবং শামার জোসেফ।

  • SSC Scam: তালিকায় অযোগ্যরা? ফল বেরোতেই ফের এসএসসি নিয়ে মামলা বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে

    SSC Scam: তালিকায় অযোগ্যরা? ফল বেরোতেই ফের এসএসসি নিয়ে মামলা বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতিতে জেলে বসেই তোলাবাজি করছেন জীবনকৃষ্ণ সাহা। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এক্স হ্যান্ডলে অডিও পোস্ট করে শুভেন্দুর অভিযোগ, এখনও চাকরির জন্য টাকা তুলছেন জীবনকৃষ্ণ সাহা। অবিলম্বে এই কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করুক ইডি। অপরাধী প্রমাণিত হলে নিয়োগ দুর্নীতির সব মামলা রাজ্য থেকে সরানো হোক। ইডির কাছে এমনই আর্জি জানিয়েছেন শুভেন্দু। সম্প্রতি এসএসসি ২০২৫-এর একাদশ-দ্বাদশের ফল প্রকাশ হয়েছে। তবে তা নিয়েও এক গুচ্ছ বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ না মানার অভিযোগে ফের মামলা দায়ের হয়েছে।

    জেলে বসেই চাকরি বিক্রি করছেন জীবনকৃষ্ণ 

    জেলে বসেই চাকরি বিক্রি করছেন মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। মোবাইল ফোনের স্ক্রিনশট ও অডিও ক্লিপ প্রকাশ করে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এটাই কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সততার প্রতীক’? প্রশ্ন তুলে কণ্ঠস্বর পরীক্ষার জন্য ইডি-র কাছে আর্জি জানিয়েছন তিনি। শুভেন্দু বলেন, এক্সামের রেজাল্টেও যেভাবে প্রভাব খাটিয়েছেন, জেলে উনি ফোন ব্যবহার করছেন। জেলে গিয়ে কিছু হবে না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাতে হবে। এই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো চোরেরা, জীবনকৃষ্ণ সাহাদের মতো চোরেদের ইডি ধরে পাঁচ দিন, দশ দিন পিসি-তে রাখছে, তারপর তো জেলে পাঠাতে হচ্ছে। জেলে তো ফাইভ স্টার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই-এর পর ইডি-র হাতে গ্রেফতার হয়েছেন জীবনকৃষ্ণ সাহা। এদিন তৃণমূল বিধায়কের কণ্ঠস্বর বলে দাবি করে, একাধিক অডিও ক্লিপ প্রকাশ করে, শুভেন্দু অধিকারী আরও লিখেছেন, ইডি-কে অনুরোধ করছি, এই কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করে দেখুন এবং দোষী প্রমাণিত হলে, শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারির মামলাগুলি পশ্চিমবঙ্গের বাইরে সরানোর চেষ্টা করুন।

    নতুন তালিকাতেও অযোগ্যদের নাম 

    শনিবর রাতেই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের জন্য, কল ফর ভেরিফিকেশন তালিকা প্রকাশ করেছে এসএসসি। সেই তালিকা ঘিরেও নতুন করে দানা বেঁধেছে বিতর্ক। ভয়ঙ্কর অভিযোগ, এবারেও তালিকাতে অনেক অযোগ্যের নাম রয়েছে। এখন প্রশ্ন আবারও, কীভাবে তাঁরা পরীক্ষায় বসতে পারলেন? সুপ্রিম কোর্ট যেখানে আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল, অযোগ্যদের সবার আগে বাদ দিতে হবে, তাঁরা যেন কোনওভাবেই পরীক্ষায় না বসতে পারেন। সেখানে মামলাকারীর বক্তব্য, একাদশ দ্বাদশের ফলপ্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, বেশ কয়েকজন অযোগ্যের নাম তালিকায়। এমনকি তাঁদের কয়েকজন ইন্টারভিউতেও ডাক পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষকদের নামেক তালিকায় নাম রয়েছে ক্লার্কদেরও। এই নিয়ে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। মামলা গ্রহণ করেছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। চলতি সপ্তাহেই মামলার শুনানির সম্ভাবনা।

    আদালতমুখী হওয়ার সিদ্ধান্ত

    কাট অফ’ যেখানে ৭০ শতাংশের বেশি, সেখানেই থমকে নতুনরা। পূর্ণ নম্বর ৬০ পেয়েও চাকরি হয়নি একাধিক প্রার্থীর। মোট ২০ হাজারের সামান্য বেশি প্রার্থী ডাক পেয়েছেন। আবার ‘যোগ্য’ চাকরিহারাদের আন্দোলনের প্রথম সারির নেতৃত্বের অনেকেই ডাক পেলেন না। তবে এখনই আন্দোলন বা আদালতমুখী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না তাঁরা। তবে এহেন পরিস্থিতিতে রবিবারই একটি চাঞ্চল্যকর নাম প্রকাশ্যে আসে। নীতীশ রঞ্জন প্রামাণিক! তাঁর নাম রয়েছে অযোগ্যদের তালিকায়। কিন্তু তাঁর নাম রয়েছে একাদশ দ্বাদশের পাশ করা চাকরিপ্রার্থীদের তালিকাতেও। ইন্টারভিউয়ের জন্যও ডাক পেয়েছেন তিনি। অর্থাৎ চিহ্নিত অযোগ্যই ডাকা পেয়েছেন ইন্টারভিউয়ের জন্য। আর এই অভিযোগ সামনে আসতেই SSC-র নতুন ফল নিয়ে নতুন বিতর্ক তুঙ্গে। ধীরে ধীরে আরও অভিযোগ সামনে আসতে থাকে।

    বিশেষভাবে সক্ষম, তাই আবেদন

    সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে চিহ্নিত অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করেছিল এসএসসি। এরপর চিহ্নিত অযোগ্যদের কেউ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বসার জন্য আবেদন জানালেও তাঁদের অ্যাডমিট কার্ড বাতিল করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের তরফে বলা হয়, বিশেষভাবে সক্ষম চাকরিহারারা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন। নীতীশের পরিবার দাবি করছে, বিশেষভাবে সক্ষম, তাই আবেদন করতে পেরেছেন । কিন্তু যাঁদের নাম ‘দাগীদের’ তালিকায়, তাঁরা আদৌ পরীক্ষায় বসতে পারবেন কিনা, তা স্পষ্ট বলা ছিল না সুপ্রিম কোর্টের অর্ডারকপিতে। এবার এই বিষয়টিকে সামনে রেখেই নতুন করে মামলা হল হাইকোর্টে।

     বিচারপতি অমৃতা সিনহা মামলা গ্রহণ করেন

    সোমবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ এক পার্টটাইম শিক্ষক। মামলাকারীর দাবি, অভিজ্ঞতার জন্য কোনো নম্বর পাবেন না পার্টটাইম শিক্ষকরা বলে জানায় এসএসসি। যদিও তার অনেক সহকর্মী অভিজ্ঞতার জন্য নম্বর পেয়েছেন। তাঁর আরও দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কোনও ‘অযোগ্য’ প্রার্থীর নাম ইন্টারভিউ তালিকায় থাকার কথা নয়। তবে তা সত্ত্বেও তালিকায় রয়েছেন বহু ‘অযোগ্য’। ফিরদৌস শামিম বলেন, “ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। তাতে সুবিধা পেয়েছেন ‘অযোগ্য’রা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, কোনও ‘অযোগ্য’ প্রার্থী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। কিন্তু ইন্টারভিউ তালিকায় বহু ‘অযোগ্য’র নাম রয়েছে। এটা অসম্ভব বিষয়।” বিচারপতি অমৃতা সিনহা মামলা গ্রহণ করেন। আগামী বুধবার মামলা শুনানি সম্ভাবনা।

  • Red Fort Blast: দিল্লি বিস্ফোরণ তদন্তে বড় সাফল্য! জালে আই-২০ গাড়ির বর্তমান মালিক উমর-ঘনিষ্ঠ রশিদ

    Red Fort Blast: দিল্লি বিস্ফোরণ তদন্তে বড় সাফল্য! জালে আই-২০ গাড়ির বর্তমান মালিক উমর-ঘনিষ্ঠ রশিদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের (Red Fort Blast) ঘটনায় জোড়া সাফল্য। একদিকে, তদন্তাকারীদের জালে বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়ির বর্তমান মালিক তথা উমর ঘনিষ্ঠ আমির রশিদ আলি। অন্যদিকে, আর এক মহিলা চিকিৎসককে আটক করল জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

    পুলিশের জালে আই২০ গাড়ির বর্তমান মালিক

    দিল্লিতে লালকেল্লায় বিস্ফোরণের পর থেকেই তদন্তকারীদের স্ক্যানারে নাম এসেছিল উমর নবি ঘনিষ্ঠ আমির রশিদ আলির। এবার এনআইএ-র জালে ধরা পড়েছে আমির রশিদও। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই ধৃত আমির রশিদ আলির নামে দিল্লির লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণ হওয়া গাড়িটি রেজিস্টার্ড রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্বোরার পোম্পোরার বাসিন্দা আমির রশিদ। জানা যাচ্ছে, যে গাড়িটি দিল্লি বিস্ফোরণে ব্যবহার হয়েছে আমির দিল্লিতে এসেছিল ওই গাড়িটি কিনতে। এনআইএ-র সঙ্গে একযোগে ফরিদাবাদ বিস্ফোরক উদ্ধার কাণ্ডে তদন্ত করছে দিল্লি পুলিশ, হরিয়ানা পুলিশ, জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশ, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। দিল্লি পুলিশ যে ইউএপিএ ধারায় মামলা দায়ের করেছিল, তা জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    আদিলকে জেরা করে প্রিয়ঙ্কার নাম

    অন্যদিকে, ফরিদাবাদকাণ্ডে ধৃত আদিলের সূত্র ধরে হরিয়ানার রোহতকের বাসিন্দা, কাশ্মীরের অনন্তনাগের সরকারি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক প্রিয়ঙ্কা শর্মাকে আটক করা হয়েছে। এই মুহূর্তে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাকে। কাশ্মীরের অনন্তনাগ থেকে তাকে আটক করা হয়।  আদিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রিয়ঙ্কার নাম উঠে আসে। নাশকতাচক্রে আরও বেশ কয়েক জন যুক্ত রয়েছে, কেউ লজিস্টিক্যাল সাপোর্ট জোগায়, কেউ আবার অর্থনৈতিক, এমনটা তদন্তকারীদের জানায় আদিল। এর পর কল রেকর্ড চেক করে প্রিয়ঙ্কার নাম হাতে পান তদন্তকারীরা। অনন্তনাগে প্রিয়ঙ্কা যেখানে থাকে, সেখানে হানা দিয়ে একটি মোবাইল ফোন এবং একটি সিম কার্ড উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফরেন্সিকদের একটি দলও পৌঁছেছে সেখানে। প্রিয়ঙ্কার ব্যাকগ্রাউন্ড খতিয়ে দেখতে হরিয়ানার রোহতকেও তদন্তকারীদের একটি দল পৌঁছচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

    ২০০ কাশ্মীরি ডাক্তারি পড়ুয়ার উপর নজর

    কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) পাশাপাশি, উত্তরপ্রদেশেও ইতিমধ্যে চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়েছে। সেখানে প্রায় ২০০ কাশ্মীরি ডাক্তারি পড়ুয়ার উপর নজর রয়েছে বলে খবর। সন্ত্রাসদমন শাখার তরফে কানপুর, লখনউ, মেরঠ, সাহারনপুর-সহ বিভিন্ন শহরের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাশ্মীরি পড়ুয়াদের খবর নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি আল-ফালাহ্ ইউনিভার্সিটির আরও দুই চিকিৎসহ-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। ওই দুই চিকিৎসকের নাম মহম্মদ ও মুস্তাকিন, তারা উমর নবীর পরিচিত। লালকেল্লা বিস্ফোরণে ব্যবহৃত আই-২০ গাড়িটি চালাচ্ছিল উমর। মহম্মদ ও মুস্তাকিনের সঙ্গে চিকিৎসক মুজাম্মিলেরও যোগাযোগ ছিল। যাকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

    নজরে সার ও চা বিক্রেতা

    দীনেশ ওরফে ডাব্বু নামের হরিয়ানার আর এক বাসিন্দাকে আটক করেছেন তদন্তকারীরা। দীনেশ বেআইনি ভাবে সার বিক্রি করত বলে অভিযোগ। বিস্ফোরক কেনার জন্য ষড়যন্ত্রকারীদের কাছে হাওয়ালা মাধ্যমে ২৬ লক্ষ টাকা এসেছিল বলে জানা যাচ্ছে। এর মধ্যে এনপিকে সার কিনতে খরচ করা হয় ৩ লক্ষ টাকা। দীনেশ ওই সার সরবরাহ করেছিল কি না, বেআইনি কারবারের বাইরে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে সে যুক্ত ছিল কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওয়াজিরপুর শিল্পতালুকে এক চা বিক্রেতাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে সেখানে নেমেছিল উমর। ১৪০টি মসজিদে গিয়েছেন তদন্তকারীরা। ৪০টি সার ও বীজের দোকানে তল্লাশি চালানো হয়। ২০০ গেস্টহাউসেও তল্লাশি চলে। উপত্যকায় ৫০০ জনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।

  • Bangladesh Crisis: জ্বলছে বাংলাদেশ, ককটেল বোমা, গাড়িতে আগুন! আজ হাসিনার রায় ঘোষণা

    Bangladesh Crisis: জ্বলছে বাংলাদেশ, ককটেল বোমা, গাড়িতে আগুন! আজ হাসিনার রায় ঘোষণা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে বাংলাদেশ (Bangladesh Crisis)। আজ, সোমবার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যা মামলায় রায় ঘোষিত হবে। রায় শোনাবে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার আগের রাতে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়াচ্ছে বাংলাদেশে। রবিবার রাতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টার বাড়ির কাছে ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। বিস্ফোরণ হয়েছে ঢাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টি -র কার্যালয়ের সামনেও।কে বা কারা এই ককটেল হামলা চালিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    বাংলাদেশ জুড়ে ‘লকডাউন’ কর্মসূচি

    রবিবার থেকে দু’দিন ব্যাপী বাংলাদেশ জুড়ে ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ডেকেছে হাসিনার দল আওয়ামি লীগ। বর্তমানে এই দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। শুরু হয়েছে ধরপাকড়ও। এরই মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বোমা বিস্ফোরণ ঘটতে শুরু করেছে। দফায় দফায় অশান্তির খবর আসছে বাং। ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গাড়ি, বাস, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সামনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে। এমনকি, অ্যাম্বুল্যান্সেও ককটেল হামলার খবর মিলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রবিবার সন্ধ্যায় দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা পুলিশ। বলা হয়েছে, কোথাও কাউকে মানুষ, গাড়ি বা পুলিশের উপর অগ্নিসংযোগ বা ককটেল ছুড়তে দেখলেই গুলি করতে হবে। কিন্তু তার পরেও একাধিক জায়গা থেকে এই ধরনের হামলার খবর এসেছে।

    সকাল ১১টা থেকে রায়দান প্রক্রিয়া শুরু

    গত বছর ৫ অগাস্ট হাসিনা গণঅভ্যুত্থানের চাপে পড়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। ইস্তফা দেন প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকেও। সেই থেকে তিনি ভারতে রয়েছেন। জুলাই মাসে বাংলাদেশের ছাত্রযুবদের আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে হাসিনার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তিনি আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই সংক্রান্ত মামলায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ, মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মহম্মদ শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মহম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সোমবার হাসিনার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির রায় ঘোষণা করবেন। আজ প্রথম মামলার রায়দান। সকাল ১১টা থেকে রায়দান প্রক্রিয়া শুরু হবে। গোটা বাংলাদেশ জুড়ে সরকারি ও বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে হাসিনার বিরুদ্ধে রায়দান।

    রায়দানের বিরোধিতা বাংলাদেশ জুড়ে

    শুধু শেখ হাসিনা নন, এই মামলায় বাকি দুইজন অভিযুক্ত হলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং বাংলাদেশ পুলিশের প্রাক্তন আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। যদিও প্রাক্তন পুলিশকর্তা এই মামলায় রাজসাক্ষী হয়েছেন। বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এই মামলায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ডের সাজার দাবি করেছিলেন। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল দেশ ছাড়ার পরই। আজ আদালত কী রায় দেয়, তার দিকেই নজর। তবে তার আগে থেকেই জ্বলছে বাংলাদেশ। রবিবার, রাতভর বিক্ষোভ, হামলা চলে। এমনকী বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বাড়ির সামনেও ককটেল বোমা ছোড়া হয়। শ্যামপুর, গাবতলী, মহাখালী সহ একাধিক জায়গায় ককটেল বোমা ছোড়া হয়েছে। তবে বিশেষ ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। ককটেল বোমায় আহত হয়েছেন কয়েকজন।

    গুলি চালানোর নির্দেশ ইউনূসের

    রোষ আছড়ে পড়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্ট মহম্মদ ইউনূসের তৈরি করা গ্রামীণ ব্যাঙ্কের উপরও। একাধিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। গাছ কেটে রাস্তা অবরোধও করা হয়। ছাত্রলিগও রাস্তায় নেমে মশাল মিছিল করেছে ঢাকা-বরিশালে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকা, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরে মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি। পুলিশ ও সেনাও পথে নামানো হয়েছে। যদি সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয় বা সরকারি দফতরে হামলা করা হয়, তাহলে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

     

     

     

  • India Vs South Africa: ‘‘ইডেনের পিচ বিপজ্জনক ছিল না, আমরা পারিনি’’ দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর মানলেন গম্ভীর

    India Vs South Africa: ‘‘ইডেনের পিচ বিপজ্জনক ছিল না, আমরা পারিনি’’ দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর মানলেন গম্ভীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টেস্টে অপরাজিত রইল বাভুমার নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকা (India Vs South Africa)। ভারতের মাটিতে ১৫ বছর পর টেস্ট ম্যাচে জয় পেল প্রোটিয়ারা। দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৪ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৯৩ রানে অলআউট হয়ে গেল ভারতীয় দল। ইডেন গার্ডেন্সে ৩০ রানে জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচ শেষে দলের ব্যর্থতা মেনে নিলেন কোচ গৌতম গম্ভীর। জানালেন, পিচ নিয়ে কোনও ক্ষোভ নেই তাঁর। ভারতীয় দলের হেড কোচের কথায়, ‘আমরা এই পিচই চেয়েছিলাম। আমরা যে পিচ চেয়েছি সেই পিচই পেয়েছি। এখানকার কিউরেটর আমাদের অনেক সাহায্য করেছেন। আমার মনে হয় না এই উইকেটে ব্যাটিং করা কঠিন ছিল। এই উইকেট মানসিক কাঠিন্যের পরীক্ষা নেয়। যারা ভালোভাবে রক্ষণাত্মক ব্যাটিং করতে পেরেছে, তারা রান করেছে।’

    পিচ নয়, দল পারেনি মানলেন গম্ভীর

    শনিবার খেলার শেষে পুজারা বলেছিলেন, ইডেন গার্ডেন্সের এই পিচে চতুর্থ ইনিংসে ১২০ রান তাড়া করাও কঠিন হতে পারে। তাঁর কথা অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে দিলেন ঋষভ পন্থেরা। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংস ১৫৩ রানে শেষ হওয়ায় ভারতের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১২৪ রান। সেই রান তুলতেই কেঁপে গেল শুভমন গিলহীন ভারতীয় ব্যাটিং লাইন আপ। ৯৩ রানে শেষ হয়ে গেল ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস। নিজেদের পছন্দের পিচে ৩০ রানে হেরে গেল গৌতম গম্ভীরের দল। পিচ নিয়ে তিন দিন ধরে নানা কথা হলেও গম্ভীর ম্যাচ হেরে কোনও অভিযোগ করলেন না। বরং নিজেদের ব্যর্থতা মেনে নিলেন। গম্ভীর মানতে চাননি ইডেনের ২২ গজ স্পিন সহায়ক ছিল। জোরে বোলারদের বেশি উইকেট পাওয়ার তথ্যকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করেছেন। রবিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গম্ভীর বলেছেন, ‘‘ইডেনের পিচ বিপজ্জনক ছিল না। খেলার উপযোগী ছিল। টেম্বা বাভুমা তো রান করল। ওয়াশিংটন সুন্দরও ভাল ব্যাট করল। অক্ষরও তো খেলল। খেলা যাবে না, এমন উইকেট তো ছিল না। জানি না কেন বার বার স্পিন সহায়ক পিচ বলা হচ্ছে! জোরে বোলারেরাই বেশি উইকেট পেয়েছে এই টেস্টে। ব্যাটারদের টেকনিক, মানসিক শক্তি এবং ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিতে হয় এ রকম পিচে। আমরা পারিনি।’’

    ভারতের কাঁটা বাভুমা

    ভারতের (India Vs South Africa) লক্ষ্য ‘কঠিন’ করে দিলেন টেম্বা বাভুমা। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ককে আউট করতেই পারলেন না জসপ্রীত বুমরা, মহম্মদ সিরাজ, রবীন্দ্র জাদেজারা। ৫৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেন চোট সারিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা ব্যাটার। ম্যাচের প্রথম দিনই ইডেনের ২২ ব্যাটারদের বধ্যভূমি হিসাবে চিহ্নিত হয়ে গিয়েছিল। সেই পিচেই অপ্রতিরোধ্য দেখাল বাভুমাকে। ১৩৬ বলের ইনিংসে নিজের দলকে লড়াই করার জায়গায় পৌঁছে দিলেন বাভুমা। একমাত্র ব্যাটার হিসাবে ইডেন টেস্টে অর্ধশতরান করলেন। ৫০ রান করতেই ইডেনের দর্শকেরা দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানালেন তাঁকে। বাভুমার লড়াই ছাড়া রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ভাল ব্যাট করলেন করবিন বসও (২৫)। তিনি আউট হওয়ার পর অবশ্য ভারতকে বেশি বেগ পেতে হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকাকে অল আউট করতে। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সফলতম জাদেজা ৫০ রানে ৪ উইকেট নেন। ২ রানে ২ উইকেট সিরাজের। ৩০ রানে ২ উইকেট কুলদীপ যাদবের। ১টি করে উইকেট নেন অক্ষর এবং বুমরা।

    কেমন খেলল ভারত

    ওয়াশিংটন সুন্দর (৩১) ছাড়া ভারতের আর কারও মধ্যে বাভুমাসুলভ লড়াই দেখা গেল না। প্রথম ওভারেই মার্কো জানসেনের বলে আউট হয়ে যান যশস্বী জয়সওয়াল (০)। তৃতীয় ওভারে জানসেন তুলে নেন লোকেশ রাহুলের (১) উইকেট। ১ রানে ২ উইকেট হারানো দলের ইনিংস মেরামত করার চেষ্টা করেন ওয়াশিংটন এবং ধ্রুব জুরেল। উইকেটে থিতু হয়ে যাওয়ার পর সাইমন হারমারকে অযথা ছক্কা মারতে গিয়ে উইকেট ছুড়ে দিলেন জুরেল (১৩)। এর পর হারমারের বলে তাঁর হাতেই ক্যাচ দিয়ে দলকে খাদের কিনারায় পৌঁছে দেন পন্থ (২)। লাভ হয়নি জাদেজার (১৮) আগ্রাসী ব্যাটিংয়েও। ২২ গজের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে চেষ্টা করে গেলেন ওয়াশিংটন। তাঁকে প্রয়োজনীয় সাহায্য করতে পারলেন না কেউ। অক্ষর শেষবেলায় আগ্রাসী ব্যাটিং করে চেষ্টা করেছিলেন একটা। কিন্তু হারমারের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হয়ে গেলেন ২৬ রান করে। বাউন্ডারির দিকে মুখ করে দৌড়ে দুরন্ত ক্যাচ নিলেন বাভুমা। তাঁর ওই ক্যাচই ১৫ বছর পর ভারতের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট জয় নিশ্চিত করে দেয়। স্পিন সহায়ক উইকেটে সাইমন হারমারের বল খেলতে সমস্যা পড়লেন ভারতীয়েরা। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৪ উইকেট নিলেন। খরচ করলেন ২১ রান। ১৫ রানে ২ উইকেট মার্কো জানসেনের। ৩৭ রানে ২ উইকেট কেশব মহারাজের।

    লজ্জার রেকর্ড

    দেশের মাটিতে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে এটি ভারতের (India Vs South Africa) সর্বনিম্ন স্কোর। এর আগে ২০০৬ সালে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চতুর্থ ইনিংসে ১০০ রানে অল আউট হয়েছিল ভারত। সেই রেকর্ড এ দিন ভেঙে গেল। সব মিলিয়ে টেস্টে এটি ভারতের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রান তাড়া করতে গিয়ে হার। ১৯৯৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে বার্বাডোজে ১২০ রান তাড়া করতে পারেনি ভারত। দেশের মাটিতে এটিই ভারতের সর্বনিম্ন রান তাড়া করতে গিয়ে হার। গত বছর স্পিন সহায়ক উইকেটে খেলতে গিয়ে নিউ জ়িল্যান্ডের কাছে ০-৩ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ় হেরেছিল গম্ভীরের ভারত। এ বার হার দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে। একই ভাবে। দু’টেস্টের সিরিজ় জেতার আর সুযোগ নেই ভারতের সামনে। গুয়াহাটিতে জিতে খুব বেশি হলে ড্র করতে পারেন শুভমনেরা।

  • India vs South Africa:  সব ছাপিয়ে প্রশ্নের মুখে ইডেনের ২২ গজ, রবিতেই শেষ ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ?

    India vs South Africa: সব ছাপিয়ে প্রশ্নের মুখে ইডেনের ২২ গজ, রবিতেই শেষ ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইডেন টেস্ট শুরু হওয়ার আগে থেকেই পিচ নিয়ে প্রচুর জল্পনা হয়েছে। খেলা শুরু হতেই পিচ নিয়ে সমালোচনা তুঙ্গে উঠল। ম্যাচের যা পরিস্থিতি, তাতে রবিবার তৃতীয় দিনেই শেষ হয়ে যেতে পারে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম টেস্ট। ইডেন গার্ডেন্সের ২২ গজে ব্যাটারদের ‘অসহায়তা’ প্রশ্ন তুলে দিয়েছে পিচের মান নিয়ে। অনিল কুম্বলে, চেতেশ্বর পুজারাদের মতো বিশেষজ্ঞেরা বিরক্ত। ম্যাচের প্রথম দিনের খেলার পরই পিচের সমালোচনা করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং কোচ। দু’দিনে পড়ল ২৬ উইকেট, সর্বোচ্চ রান ৩৯।

    ইডেনের পিচ নিয়ে বিরক্ত প্রাক্তনরা

    ইডেনের পিচ প্রস্তুতকারক সুজন মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন, তিনি এমন উইকেট তৈরি করেছেন, যেখানে খেলা পাঁচ দিনই গড়াবে। কিন্তু ম্যাচ বলছে অন্য কথা। সুজন দাবি করেছিলেন, স্পোর্টিং উইকেট তৈরি করেছেন। ব্যাটার-বোলার সকলেই কিছু না কিছু সাহায্য পাবেন। দর্শকেরা উপভোগ্য টেস্ট ক্রিকেট দেখতে পাবেন চার-পাঁচ দিন ধরে। যদিও খেলার গতিপ্রকৃতি তা বলছে না। অসমান বাউন্স থাকা পিচকে বিপজ্জনক বললেন পুজারা। শনিবার চা বিরতির সময় পিচ নিয়ে আলোচনার সময় কিছুটা বিরক্ত মনে হল ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটারকে। তিনি বলেছেন, ‘‘এই পিচ ব্যাটারদের সাহায্য করছে না। আউটগুলো দেখলেই ব্যাটারদের অসহায়তা বোঝা যাবে। তাদের বিশেষ কিছু করার থাকছে না। বল কোন উচ্চতায় আসবে বোঝা যাচ্ছে না। কোনও বল লাফিয়ে উঠছে। আবার কোনওটা নেমে যাচ্ছে। পিচে বেশ কিছু ছোট ফাটল তৈরি হয়েছে। বল পড়ে প্রত্যাশার থেকে বেশি ঘুরছে।’’

    পিচ নিয়ে বিরক্তি দু’শিবিরেই

    পিচ নিয়ে বিরক্তি রয়েছে দু’শিবিরেই। প্রথম দিন চা বিরতির পর থেকেই ধুলো উড়তে শুরু করেছিল ইডেনের পিচে। দ্বিতীয় দিন সকাল থেকেই ফাটল দেখা গিয়েছে। অসমান বাউন্সের সমস্যা তো রয়েছেই। খুশি নন কুম্বলেও। শনিবার বুমরার হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা একটা বলে জোর বেঁচে যান দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার রায়ান রিকেলটন। বড় আঘাত পেতে পারতেন তিনি। তা দেখে কুম্বলে বলেন, ‘‘পিচ কেমন আচরণ করবে বোঝাই যাচ্ছে না। এমন পিচ প্রত্যাশিত নয়। ভারতকে এখানে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করতে হবে। আমার তো মনে হচ্ছে তৃতীয় ইনিংসে ব্যাট করাই কঠিন হবে বেশ। জয়ের লক্ষ্য ১৪০-১৫০ রানের বেশি হলে ভারতীয় দলকেও সমস্যায় পড়তে হতে পারে।’’

    ইডেনের পিচে সমস্যায় ব্যাটাররা

    ঘরের মাঠে ভারতীয় দল কোনও সুবিধা পাচ্ছে না। ইডেন টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার ১৫৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৮৯ রানেই অলআউট হয়ে গেল ভারতীয় দল। গতকাল টেস্টের প্রথম দিনে বল হাতে জাদু দেখিয়েছিলেন জসপ্রীত বুমরা। আর শনিবার বল হাতে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করলেন সাইমন হার্মার। তিনি মাত্র ৩০ রানে ৪ উইকেট নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে সুবিধা করতে পারছেন না প্রোটিয়া ব্যাটারেরাও। জাডেজা, কুলদীপ, অক্ষরেরা বল ঘোরাচ্ছেন। বাউন্সও পাচ্ছেন! বল পিচে পড়ার পর কেমন আচরণ করবে বোঝা যাচ্ছে না। বাভুমা ছাড়া কেউ লড়াই করতে পারলেন না। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক দিনের শেষে অপরাজিত রয়েছেন ২৯ রানে। ৭৮ বলের ইনিংসে প্রমাণ করে দিলেন তাঁর রক্ষণ কতটা মজবুত।

    দায় এড়াতে পারবেন না সৌরভও

    দ্বিতীয় দিনের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা এগিয়ে ৬৩ রানে। তাদের হাতে রয়েছে ৩ উইকেট। বাভুমারা সুবিধাজনক জায়গায় নেই ঠিকই। কিন্তু চতুর্থ ইনিংসে এই রানটা তোলাও কঠিন হতে পারে। শুভমন ব্যাট করতে না পারলে আরও কঠিন। স্বাভাবিক ভাবেই পিচের মান নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে সিএবিকে। নিশ্চিত ভাবে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (ICC)। সিএবি-র সভাপতি হিসেবে দায় এড়াতে পারবেন না সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও। এখন একমাত্র ভারতের জয়ই ইডেনের মান বাঁচাতে পারে।

  • Maithili Thakur: মৈথিলী ম্যাজিকে মাত! সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক, তাঁর হাত ধরেই আলিনগরে প্রথমবার জয়ী বিজেপি

    Maithili Thakur: মৈথিলী ম্যাজিকে মাত! সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক, তাঁর হাত ধরেই আলিনগরে প্রথমবার জয়ী বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মৈথিলী ম্যাজিকে বুঁদ হয়ে রয়েছে আলিনগর। প্রথম বার ভোটে দাঁড়িয়েই জিতলেন বিহারের সঙ্গীতশিল্পী মৈথিলী ঠাকুর (Maithili Thakur)। তাঁর হাত ধরে আলিনগর কেন্দ্রে প্রথমবার জয়ী হল বিজেপি। ১১ হাজারেও বেশি ভোটে আরজেডি প্রার্থীকে হারিয়েছেন তরুণী গায়িকা। মাত্র ছ’বছর বয়সেই গানের তালিম শুরু করেছিলেন মৈথিলী ঠাকুর। তারপর বিহারের ঐতিহ্যবাহী পল্লিগীতি, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে শুরু করে হারমোনিয়াম ও তবলা বাজানোতেও অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছেন মধুবনীর এই শিল্পী। এবার রাজনীতিতে ঢুকে প্রথম প্রতিযোগিতাতেই নজর কাড়লেন তিনি। শুধু বিহার নয়, বর্তমানে দেশের সর্বকনিষ্ঠ বিধায়কও মৈথিলি ঠাকুর। ২০০০ সালের ২৫ জুলাই জন্ম মৈথিলির। তিনি দেশের প্রথম জেন জি বিধায়ক।

    মৈথিলী ম্যাজিক আলিনগরে

    মুসলিম ভোটের দৌলতে ২০০৮ সাল থেকেই আলিনগর কেন্দ্রে মহাগঠবন্ধন জয় পেয়ে এসেছে। এবার সেই আসনে জয় পেল বিজেপি। আর সেটা উচ্চবর্গীয় ঠাকুর সম্প্রদায়ের মৈথিলীর হাত ধরেই। মৈথিলীকে নিয়ে বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে। দেশে-বিদেশে নানা অনুষ্ঠানের ডাক তো বটেই, একইসঙ্গে ফেসবুক-ইউটিউবে তাঁর চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার লক্ষ ছাড়িয়েছে। এহেন এক জনপ্রিয় শিল্পীকে ভোটের লড়াইয়ে নামিয়ে বিজেপি যে কোনও ভুল করেনি সেটাই প্রমাণিত হল। লোকসঙ্গীতের পরিচিত মুখ মৈথিলী ঠাকুর যখন রাজনীতিতে নামেন, তখন অনেকেই তাঁকে ‘নতুন মুখ’ হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু ফলিত ভোটের ধারা বলছে অন্য গল্প। তিনি ২০২৫ বিহার বিধানসভা নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন এবং আরজেডি–র প্রবীণ নেতা বিনোদ মিশ্রকে ১২ হাজারেও বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন। তিনিই বিহারের সবচেয়ে কম বয়সি বিধায়ক।

    মৈথিলীর বড় হওয়া

    ২৫ জুলাই ২০০০ সালে বিহারের মধুবনীতে জন্ম মৈথিলীর, সঙ্গীত-সমৃদ্ধ পরিবারে বড় হয়ে ওঠা। বাবা ও দাদুর কাছে শেখা শাস্ত্রীয় ও লোকসঙ্গীত। মাত্র ১১ বছর বয়সে সা রে গা মা পা জুনিয়র প্রতিযোগিতা ও ১৫ বছর বয়সে ইন্ডিয়ান আইডলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথম নজর কাড়েন মৈথিলী। এবার রাজনীতির ময়দানেও তিনি নজর কাড়লেন। ছেলেবেলায় তাঁকে নিয়ে সঙ্গীতের ভালো তালিমের জন্য পরিবার দিল্লির দ্বারকায় চলে গিয়েছিল। ২০১৭ সালের টিভি রিয়্যালিটি শো ‘রাইজিং স্টার’-এ রানার-আপ হয়ে মৈথিলী পরিচিতি পান। ২০১৯ সালে নির্বাচন কমিশনের তরফে তাঁকে এবং তাঁর ভাইকে মধুবনীর অ্যাম্বাসাডরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে তিনি আগেই অটল মিথিলা সম্মান পুরস্কার পেয়েছেন। ২০২১ সালে তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রকের তরফে তাঁকে লোকমাত সুর জ্যোৎস্না জাতীয় সংগীত পুরস্কার দেওয়া হয়। বিধায়ক হয়ে এবার তাঁর লক্ষ্য মধুবনী শিল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

    গানে গানে উদযাপন

    বিহারে (Bihar Election Result) সুনামি এসেছে। গেরুয়া সুনামি। আরও শক্তি বাড়িয়ে ক্ষমতায় ফিরছে বিজেপি-জেডিইউ জোট। আর সেই পালে ভর দিয়েই প্রথমবার জিতলেন মৈথিলী। সঙ্গীত জীবনে একাধিক মাইলফলক স্পর্শ করার পর মৈথিলী ঠাকুর এবার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক প্রতিশ্রুতিময় পথচলার দিকে এগোচ্ছেন। ভোটের ময়দানে তিনি নবজাতক। জয়ের পর মৈথিলী বলেন,  ‘এটা স্বপ্নের মতো। আমার কাছ থেকে মানুষের অনেক প্রত্যাশা আছে। বিধায়ক হিসাবে এটি আমার প্রথম মেয়াদ হবে এবং আমি আমার নির্বাচনী এলাকার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব। আমি আমার এলাকাবাসীর ঘরের মেয়ে হয়ে তাঁদের সেবা করব। আমি এই মুহূর্তে শুধু আলিনগরকেই দেখতে পাচ্ছি এবং কীভাবে সেখানে কাজ করব সেই ভাবনাচিন্তা করছি’।  মৈথিলী নিজে গায়িকা। ভজন গান। তাই গানে গানে এখন তাঁর জয় সেলিব্রেট করছে বিহার।

  • Jammu Kashmir: লালকেল্লার বিস্ফোরক পরীক্ষা করতে গিয়েই জম্মু-কাশ্মীরের থানায় বিস্ফোরণ! নিহত ৯

    Jammu Kashmir: লালকেল্লার বিস্ফোরক পরীক্ষা করতে গিয়েই জম্মু-কাশ্মীরের থানায় বিস্ফোরণ! নিহত ৯

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের রক্তাক্ত উপত্যকা (Jammu Kashmir)! দিল্লিতে লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণের কয়েক দিন কয়েক যেতে না যেতেই এবার কাশ্মীরে বিস্ফোরণ! শুক্রবার রাতে বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল জম্মু-কাশ্মীরের নওগাঁও থানা। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে ৷ আহত অন্তত ৩২ জন। বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন ৷ তাঁদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে ৷ পুলিশ সূত্রের খবর, দিল্লির বিস্ফোরণের তদন্তে ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার করা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নিয়ে শুক্রবার রাতে থানায় পরীক্ষা চালাচ্ছিলেন ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির একটি বিশেষ দল। সেই সময়ই বিস্ফোরণ ঘটে।

    কীভাবে ঘটল বিস্ফোরণ

    পুলিশ সূত্রে খবর, ফরিদাবাদ থেকে যে বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছিল দিন কয়েক আগে, সেই ৩৬০ কেজি বিস্ফোরক এনে রাখা হয়েছিল নওগাঁও পুলিশ স্টেশনে, যেহেতু এই থানাতেই প্রথম এফআইআর দায়ের হয়েছিল। শুক্রবার রাতে যখন পুলিশ ও ফরেন্সিক টিম এই বিস্ফোরক পরীক্ষা করছিলেন, সেই সময়ে হঠাৎ ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে আশেপাশের বিল্ডিংগুলিও কেঁপে উঠল। থানা থেকে আগুনের শিখা ও কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। বিস্ফোরণের জেরে থানাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩০০ ফুট দূরে ছিটকে যায় দেহাংশ। বিস্ফোরণের খবর পেয়েই আরও পুলিশ, দমকল ও অ্যাম্বুল্যান্স ছুটে আসে। আহতদের উদ্ধার করে নওগাঁও থানার ঘটনায় আহতদের ভারতীয় সেনার ৯২ বেস হাসপাতাল এবং শের-ই-কাশ্মীর ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসে ভর্তি করানো হয়েছে। সূত্রের খবর, মোট ৩২ জন আহত হয়েছেন। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহত ৯ জন। শ্রীনগরের পুলিশ কন্ট্রোল রুমে দেহগুলি নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে

    পুলিশ দুটি বিষয় অনুমান করছে। এক, ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে যখন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সিল করা হচ্ছিল, সেখান থেকে কোনও কারণে বিস্ফোরণ হয়। দুই, এটাও সন্ত্রাসবাদী হামলা। বাজেয়াপ্ত করা একটি গাড়িতে আইইডি বিস্ফোরক লাগানো ছিল। ইতিমধ্যেই জইশ-ই-মহম্মদের ছায়া সংগঠন প্যাফ (PAFF) এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। তবে পুলিশ গোটা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। বিস্ফোরণের পরই গোটা চত্বর সিল করে দেওয়া হয়েছে। আনা হয়েছে স্নিফার ডগ। থানার অন্দরভাগে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে বিস্ফোরক সামগ্রী, ভেঙে পড়ে দেওয়ালের অংশ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে রয়েছেন ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকেরা। প্রসঙ্গত, এই ৩৬০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছিল ফরিদাবাদের ডঃ মুজাম্মিল শাকিলের ভাড়া নেওয়া বাড়ি থেকে। মুজাম্মিল আল ফালাহ্ মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত ছিল। তার সঙ্গে ডঃ শাহিন শাহিদ ও ডঃ উমর নবির যোগাযোগ ছিল। এরাও আল ফালাহ মেডিক্যাল কলেজেই কর্মরত ছিল। সকলেই জইশের হোয়াইট কলার জঙ্গি মডিউলের সদস্য বলে অনুমান।

    নওগাঁও থানাই প্রথম খুঁজে বার করে ফরিদাবাদ ‘টেরর মডিউল’

    দিল্লির বিস্ফোরণের (Delhi Blast) সঙ্গে যে জঙ্গি-যোগ পাওয়া গিয়েছে, নওগাঁও থানার পুলিশই তা প্রথম খুঁজে বার করে। শ্রীনগরের রাস্তায় এক চিকিৎসককে জইশ-ই-মহম্মদের সমর্থনে পোস্টার সাঁটতে দেখা গিয়েছিল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ঘেঁটে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁর লকার থেকে উদ্ধার হয় একটি অ্যাসল্ট রাইফেলও। সেই চিকিৎসক আদিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ফরিদাবাদে মজুত বিস্ফোরকের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। জানা যায়, উচ্চশিক্ষিত, পেশাদার তরুণ, ডাক্তার সহ একাধিক টেরর ডাক্তারদের কথা। তাঁদের পাকিস্তান সহ বিভিন্ন বিদেশি জঙ্গি হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বলে দাবি পুলিশের।

    হোয়াইট কলার টেরর নেটওয়ার্ক

    সোমবার ফরিদাবাদের অভিযানে জইশ এবং আনসার গজওয়াতুল হিন্দের বড় চক্র গুঁড়িয়ে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। ধরা পড়ে পুলওয়ামার চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল ওরফে মুসাইব-সহ কয়েক জন। তদন্তকারীদের মতে, এরা সকলেই উত্তর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সক্রিয় ‘হোয়াইট কলার জঙ্গি নেটওয়ার্ক’-এর সদস্য—যারা আর্থিক সংগ্রহ, রিক্রুটমেন্ট এবং সন্ত্রাস-পরিকল্পনার মুখ্য দায়িত্বে ছিল। সূত্রের খবর, ফরিদাবাদ মডিউলের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য—চিকিৎসক মুজফ্‌ফর রাথর—এখনও অধরা। তাঁর বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস জারি করতে ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হয়েছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। অন্যদিকে, লালকেল্লা বিস্ফোরণের তদন্তে শুক্রবার ভোররাত থেকেই উপত্যকার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ২৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত ২১টি ডিজিটাল ডিভাইস—মোবাইল, ল্যাপটপ-সহ—ফরেন্সিকে পাঠানো হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে সিআইকে-র বিভিন্ন দফতরে।

LinkedIn
Share