Author: ishika-banerjee

  • India Pakistan Trade: পুলওয়ামা হামলার পর ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ, ৪০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি পাকিস্তানের

    India Pakistan Trade: পুলওয়ামা হামলার পর ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ, ৪০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি পাকিস্তানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার পর ২০১৯ সালে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক (India Pakistan Trade) কার্যত ছিন্ন করেছিল পাকিস্তান। এবার সেই সিদ্ধান্তের মাশুল যে কতটা চড়া, তা কার্যত স্বীকার করে নিলেন সে দেশের ব্যবসায়ী মহলের প্রতিনিধিরাই। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ রাখার কারণে গত ছ’বছরেরও বেশি সময়ে পাকিস্তানের অর্থনীতির ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সম্প্রতি এমনই দাবি করেছেন পাক-ইন্ডিয়া বিজনেস কাউন্সিলের (PIBC) চেয়ারম্যান নুর মহম্মদ কাসুরি। প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া (PTI)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ক্ষতির পরিমাণ আগের হিসাবের তুলনায় অনেকটাই বেশি।

    পণ্য পরিবহণের খরচ বেড়েছে

    কাসুরির বক্তব্য, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরায় চালু হলে দুই দেশের ব্যবসায়ী মহলই লাভবান হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ, পর্যটন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। তাঁর মতে, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ থাকায় পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের অত্যাবশ্যকীয় কাঁচামাল ও পণ্য আমদানির জন্য দূরবর্তী দেশগুলির উপর নির্ভর করতে হয়েছে। ফলে পরিবহণ খরচ, পণ্য পরিবহণের ভাড়া এবং সরবরাহের সময়—সবই বেড়েছে।

    ওষুধ ও বস্ত্রশিল্পে বিপুল ক্ষতি

    ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানের ওষুধ ও বস্ত্রশিল্পে। কাসুরির দাবি, ভারত থেকে কাঁচামাল আমদানি করতে পারলে পাকিস্তানের ওষুধ শিল্পের বছরে প্রায় ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতে পারে। অন্যদিকে, দেশে তুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় বস্ত্রশিল্পকে ব্রাজিল, মিশর, চিন এবং আমেরিকার মতো দেশ থেকে তুলো আমদানি করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে বলে দাবি তাঁর। শুধু তাই নয়, ভারতের তেল শোধনাগারগুলি ভৌগোলিকভাবে পাকিস্তানের অনেক কাছাকাছি হওয়ায় ভারত থেকে পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করলে খরচ ও সময়—দু’টোই কমতে পারে বলে মনে করেন কাসুরি। ভারতের কৃষি ও শিল্পজাত পণ্য সহজলভ্য হলে পাকিস্তানের উৎপাদন খরচও অনেকটাই কমানো সম্ভব।

    ভারতের অর্থনৈতিক গুরুত্ব স্বীকার পাকিস্তানের?

    আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রসঙ্গে কাসুরি শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময় ভারতের আর্থিক সহায়তার উদাহরণও তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, প্রতিবেশী দেশগুলি একে অপরের সঙ্কটের সময় পাশে দাঁড়ালে গোটা অঞ্চলের অর্থনীতিই উপকৃত হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে কাসুরি দাবি করেছিলেন, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ থাকার কারণে ছ’বছরে পাকিস্তানের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে বছরে ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। এবার সেই ক্ষতির হিসাব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ বিলিয়ন ডলারে।

    ভারতের সঙ্গে সু-সম্পর্কের গুরুত্ব

    দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক বাস্তবতাও এই পরিস্থিতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায় ৪ লক্ষ কোটি ডলারের অর্থনীতি নিয়ে ভারত যেখানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি, সেখানে পাকিস্তানের অর্থনীতির আকার তুলনায় অনেক ছোট। দীর্ঘদিন বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধ রাখার ফলে পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি, কাঁচামালের সঙ্কট এবং বাণিজ্যের সুযোগ হারানোর মতো সমস্যায় পড়তে হয়েছে পাকিস্তানকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের দাবি আসলে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে ভারতের গুরুত্বকেই আরও একবার সামনে আনছে।

  • Indian-Flagged Vessel: ওমান উপকূলে ভারতের পতাকাবাহী জাহাজে হামলা! মৃত ১ ভারতীয় নাবিক, উদ্ধার ১৩ জন

    Indian-Flagged Vessel: ওমান উপকূলে ভারতের পতাকাবাহী জাহাজে হামলা! মৃত ১ ভারতীয় নাবিক, উদ্ধার ১৩ জন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরব দুনিয়ায় (Middle East) চলমান অশান্তির আবহে ওমান উপকূলে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা। ভয়াবহ ওই হামলায় প্রাণ হারালেন এক ভারতীয় নাবিক (Indian Sailor Death)। আক্রান্ত ‘আল ইউসুফি’ (Al Jusufi) নামের পণ্যবাহী ওই জাহাজটিতে ঘটনার সময় জাহাজটিতে মোট ১৪ জন ভারতীয় নাবিক উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও একজনের মৃত্যু হয়েছে। কেন্দ্রীয় জাহাজ চলাচল মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে হামলার তীব্র নিন্দা করেছে ভারত। বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, গত ২ নভেম্বর ওমানের উপকূলের কাছে লিমাহ (Limah) এলাকায় ভারতীয় জাহাজ ‘এমএসভি আল জুসুফি’ (MSV AL JUSUFI)-তে ড্রোন হামলা হয়।

    হামলায় মৃত গুজরাটের নাবিক

    মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিদেশমন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে এই ঘটনার কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাহাজে থাকা ১৪ জন ভারতীয়ের মধ্যে ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওমানের কোস্ট গার্ড তাঁদের উদ্ধার করে। আহত অবস্থায় এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছে বিদেশমন্ত্রক। পাশাপাশি, ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং উদ্ধার হওয়া ভারতীয়দের পাশাপাশি মৃত নাবিকের দেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ওমান প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বিদেশমন্ত্রক। এই ঘটনায় গুজরাটের বাসিন্দা নাবিক গন্ধর নাহিম আজিজ (Gandhar Nahim Ajij)-এর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।

    হামলার নিন্দা ভারতের, উত্তেজনা প্রশমনের বার্তা

    এই হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে নিশানা করে একের পর এক হামলার ঘটনা অত্যন্ত চিন্তার। অবিলম্বে এই উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে চলতি কূটনৈতিক আলোচনা দ্রুত শেষ করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খোঁজার বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং অসামরিক পরিকাঠামোর উপর হামলা বন্ধ করতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন মেনে ওই অঞ্চলের জলপথে অবাধ ও নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচল এবং বাণিজ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    কারা এই হামলা চালিয়েছে

    কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে, কী ধরণের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়। তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করা পণ্যবাহী জাহাজগুলি ওমান উপকূল হয়েই চলাচল করে। আন্তর্জাতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ গত কয়েক মাস ধরেই অশান্ত হয়ে রয়েছে। আমেরিকা-ইরান সংঘাতের মাঝে এই জলপথ দিয়ে চলাচল করা একাধিক জাহাজে হামলা হয়েছে। তবে সেগুলি ছিল অন্য দেশের জাহাজ। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে শুরুর দিকে ভারতের পতাকাবাহী জাহাজগুলি মোটের উপর নিরাপদেই হরমুজ এবং সংলগ্ন জলপথ পেরিয়ে আসতে পারছিল। তবে গত কয়েক মাসে বার বার ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের পণ্যবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে। সোমবারের হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগও দানা বাঁধতে শুরু করেছে।

    পরপর হামলা ভারতীয় জাহাজে

    কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল সমাজমাধ্যমে জানান, গান্ধার নাহিম আজিজ নামে ওই নিহত নাবিক গুজরাতের বাসিন্দা। গোলার আঘাতে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। বাকি ১৩ জন নাবিককে নিরাপদে ওই ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ থেকে উদ্ধার করেছে ওমানের উপকূলরক্ষী বাহিনী। মন্ত্রী জানান, নাহিমের দেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ওমানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাস যোগাযোগ রাখছে। বাকি নাবিকদেরও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে দূতাবাস। উল্লেখ্য, গত মে মাসে গোলার আঘাতে ওমান উপকূলের কাছে ডুবে যায় একটি ভারতীয় জাহাজ। ওই হামলারও নিন্দা জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। তার পরে গত জুনেও ওমান উপকূলে ভারতীয় জাহাজের উপরে হামলা হয়েছিল।

    ওই অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ফেরানোর দাবি

    পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীকে (Strait of Hormuz) কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিয়ে বার বার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। পণ্যবাহী অসামরিক জাহাজে হামলা যাতে কোনও ভাবেই কাম্য নয়, তা স্পষ্ট করেছে নয়াদিল্লি। এই পরিস্থিতির জন্য পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাকেই দায়ী করে ভারত বিভিন্ন সময়ে বুঝিয়ে দিয়েছে, কূটনৈতিক পদ্ধতিতে সমস্যার সমাধানেরই পক্ষপাতী নয়াদিল্লি। ওই অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ফেরানো যে জরুরি, তা-ও স্পষ্ট করেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আরব দুনিয়ার এই সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও পারস্য উপসাগরে জাহাজে হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত অন্তত ২২ জন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ১৪ জনই নাবিক। গত মাসে এক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সমুদ্রপথে নাবিকদের সম্মিলিত নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছিলেন। নয়াদিল্লির বক্তব্য, সমুদ্রপথে নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই জলপথে অস্থিরতা বাড়লে শুধু নাবিকদের জীবন নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহও বিপর্যস্ত হতে পারে।

  • Twin Cyclone in India: পরপর দুই ঘূর্ণিঝড় সামলে নজির ভারতের, বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা

    Twin Cyclone in India: পরপর দুই ঘূর্ণিঝড় সামলে নজির ভারতের, বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় (Twin Cyclone in India) মোকাবিলায় ভারতের প্রস্তুতি, নির্ভুল আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং আগাম সতর্কতা মূলক ব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করল বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO)। বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে কীভাবে মানুষের প্রাণ ও জীবিকা রক্ষা করা সম্ভব, ভারত তার উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। পরপর দুটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় ভারতের ভূমিকার কথা তুলে ধরে এমনই মন্তব্য করেছেন বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো। তাঁর মতে, দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাস এবং সময়মতো সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত এখন বিশ্বের বহু দেশের কাছে আদর্শ হয়ে উঠেছে।

    কী বললেন বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব?

    সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ সোমবার গভীর রাতে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ে। এর প্রভাবে উপকূলবর্তী এলাকায় শুরু হয় ঝড় ও বৃষ্টিপাত। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগেই একই অঞ্চলে আঘাত হেনেছিল আরও একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। পরপর দুটি ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও আগাম সতর্কতা জারি এবং প্রশাসনিক তৎপরতার মাধ্যমে বহু মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। ভারতের এই বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থারই প্রশংসা করেছেন সাউলো। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে সেলেস্তে সাউলো জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে কেবল আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়াই যথেষ্ট নয়। সেই পূর্বাভাসের ভিত্তিতে দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভারত এই গোটা প্রক্রিয়াটি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছে। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি উল্লেখ করেছেন, বঙ্গোপসাগর থেকে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে এগিয়ে আসার কয়েক দিন আগেই ওই অঞ্চলে আছড়ে পড়েছিল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। এমন পরিস্থিতিতেও আগাম পূর্বাভাসের ভিত্তিতে প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। তাঁর মতে, বিপর্যয়ের আগাম সতর্কতা এবং দ্রুত পদক্ষেপের ক্ষেত্রে ভারতের এই সাফল্য বিশেষভাবে প্রশংসনীয়।

    বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে ভারত

    বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিবের মতে, দুর্যোগ মোকাবিলায় ভারতের এই অভিজ্ঞতা বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছেও অত্যন্ত শিক্ষণীয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস তৈরি করা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং বিপর্যয়ের সময় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভারতের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। এই সাফল্য রাষ্ট্রপুঞ্জের ‘আর্লি ওয়ার্নিংস ফর অল’ উদ্যোগের লক্ষ্যপূরণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল, বিশ্বের প্রতিটি মানুষের কাছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া, যাতে দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই মানুষ ও প্রশাসন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও সঠিক সময়ে নির্ভুল পূর্বাভাস এবং সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে পারলে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো যায়। পরপর দুটি ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় ভারতের সাম্প্রতিক প্রস্তুতি সেই বার্তাই আরও একবার তুলে ধরেছে।

  • Nitin Nabin in Kolkata: ‘বাংলায় হেরে দিল্লিতে কাঁদছেন’, কলকাতায় দাঁড়িয়ে মমতাকে নিশানা! রাহুলকে বিদেশি শক্তির টুলকিট বললেন নবীন

    Nitin Nabin in Kolkata: ‘বাংলায় হেরে দিল্লিতে কাঁদছেন’, কলকাতায় দাঁড়িয়ে মমতাকে নিশানা! রাহুলকে বিদেশি শক্তির টুলকিট বললেন নবীন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ ইতিমধ্যেই পুরোপুরি মমতামুক্ত হয়েছে। নিজের রাজ্যে হারের ধাক্কা সামলাতে না পেরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এখন দিল্লিতে গিয়ে কান্নাকাটি করছেন। এবার দিল্লিকেও দ্রুত রাহুলমুক্ত করতে হবে। সোমবার শহর কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে একযোগে নিশানা করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin in Kolkata)। এদিন নিতিন বলেন, ‘‘বাংলা বিজেপিময়, ৪ মে অরাজকতা শেষ হয়েছে। বাংলায় হেরে দিল্লিতে গিয়ে কাঁদছেন মমতা। বিরোধীদের কাছে ব্যক্তিস্বার্থ আগে, দেশ পরে। বিজেপির কাছে দেশ সবার প্রথমে, বাকি সব পরে। রাহুলের নেতৃত্বে দেশে অরাজকতার চেষ্টা করছে বিরোধীরা। গণতন্ত্র বাঁচানোই বিজেপির আসল উদ্দেশ্য। মমতা-মুক্ত বাংলা, এবার দিল্লি রাহুল-মুক্ত করব।’’

    ভোট বাঁচাও-এর পরিবর্তে গণতন্ত্র বাঁচাও

    রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলে ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও কর্মসূচি করেছিল ‘ইন্ডিয়া’ (INDI Alliance)। সোমবার তার পাল্টা কলকাতায় বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ পদযাত্রা ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল তৈরি হল। কলেজ স্ট্রিট থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলের নেতৃত্ব দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin), রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। পদযাত্রা শেষে আয়োজিত জনসভা থেকে তৃণমূলের বিগত শাসনকাল, ও দিল্লিতে কংগ্রেস শাসনকে একযোগে নিশানা করলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব। এই জনসভার মঞ্চ থেকে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যাখ্যা তুলে ধরে তৃণমূল ও বিরোধীদের তুলোধনা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘‘বিরোধীদের কাছে এসআইআর যাই হোক না কেন, আমাদের কাছে এসআইআরের আসল অর্থ হল – অনুপ্রবেশকারী হঠাও, ভারত বাঁচাও।’’

    পরিবারতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে তোষণের রাজনীতি

    বিরোধী শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, ‘‘দুর্নীতি ও জেলযাত্রা থেকে নিজেদের বাঁচাতে, পরিবারতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে এবং তোষণের রাজনীতিকে ব্যাকডোরে ফিরিয়ে আনতে যারা আজ একজোট হয়েছে, তাদের মনে করিয়ে দিই – ২০২৬ সালের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের জনগণ ২ কোটি ৯২ লক্ষ ভোট দিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টিকে নির্বাচিত করেছে। তাই তারা আজ বাংলায় অরাজকতা তৈরি করতে চাইছে।’’ এর পাশাপাশি দিমাগী নকশাল, জেহাদি, মাওবাদী, অরাজকতাবাদী ও ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দেন যে, আগামী কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা নির্বাচনে ব্যালট বাক্সে বিরোধীদের এর উপযুক্ত জবাব বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

    পুরসভা ভোটে ট্রিপল ইঞ্জিন সরকারের বার্তা

    এদিনও পুরসভা ভোট প্রসঙ্গে ট্রিপল ইঞ্জিন সরকারের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার মানুষের উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়নের মূলমন্ত্রে ভরসা রেখে আপনারা রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার গড়েছিলেন। এবার মুখ্যমন্ত্রীর আর্জিতে আপনাদের পুরসভাগুলিতে ‘ট্রিপল ইঞ্জিন’ দিতে হবে। হাওড়া ও কলকাতা পুরসভা আমাদের দিতে হবে, তবেই শহরের পরিকাঠামো ও নাগরিক পরিষেবায় আমূল পরিবর্তন সম্ভব হবে।’’

    বিদেশি শক্তির ইশারায় চলেন রাহুল

    মমতা-ইন্ডি জোটকে আক্রমণ করে এদিন নিতিন নবীন বলেন,‘‘পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কড়া জবাব দিয়েছে মমতাকে। বাংলার মানুষ মুক্তি পয়েছেন মমতার হাত থেকে। উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি গড়াগড়ি খাচ্ছে। রাহুল গান্ধী ভোটের আগে মমতার হয়ে বড় বড় কথা বলেছিল। এখন মমতা হেরে গিয়ে দিল্লিতে গিয়ে কাঁদছে। এখনও রাহুলকে পরামর্শ দিতে চাই। নিজেদের ব্যর্থতা থেকে শিখুন, না হলে দেশে আর কংগ্রেস থাকবে না। রাহুল শুধু নিজের পরিবারের কথা ভাবে। দুর্নীতি, তোষণ, পরিবারবাদ বাঁচাতে বিরোধীদের জোট। বিদেশি শক্তির ইশারায় চলেন রাহুল গান্ধী। ১৪০ কোটি জনতার কথা ভাবেন প্রধানমন্ত্রী। দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াবোই, পশ্চিমবঙ্গ থেকেও সরাব।’’

    তৃণমূলের গুন্ডাগিরি বন্ধ করে দিয়েছে শুভেন্দু

    মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা শোনা গেল বিজেপি সভাপতির গলায়। তিনি বলেন,‘‘অনুপ্রবেশকারী হঠাতে বিরোধীদের রামলীলা-যাত্রা। যখন কেউ মোদিজিকে অপমান করেন, মানুষ তখনই তাদের সরিয়ে দিয়েছে। বাংলায় রাম রাজ্য চলছে, কংগ্রেস, তৃণমূলকে দেখলেই দয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রীকে বলব জান-প্রাণ দিয়ে লড়াই করুন। আপনি সরকার বানিয়েছেন বাংলার মানুষকে পরিষেবা দেবেন। রাজ্যের মানুষের জন্য কাজ করবেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৯-এ ফের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। ২০২৯-লালকেল্লায় তিরঙ্গা উড়াবেন প্রধানমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গ থেকে তোলাবাজি সমাপ্ত, তোলাবাজি এখন তালাবন্ধ। তৃণমূলের গুন্ডাগিরি বন্ধ করে দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারী।’’

    বাংলা এখন বিজেপিময়

    জাতীয় পতাকা হাতে কয়েকশো কর্মী-সমর্থক এদিন কলেজ স্কোয়ার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিলে হাঁটেন। বিরোধী জোটের এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনের পালটা হিসেবেই দেশজুড়ে এই কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এদিন বলেন, ‘‘বাংলা এখন বিজেপিময়, বাংলা এখন রামময়। বাংলায় রামরাজ্য ফিরে এসেছে।’’ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান এবং তাঁদের কোনও অধিকার না দেওয়ার নীতির কথা উল্লেখ করেন তিনি। বিজেপির বক্তব্য, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অনুপ্রবেশের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    রাহুল বিদেশি শক্তির টুলকিট

    ধর্মতলার সভা থেকে রাহুল গান্ধীকে সরাসরি নিশানা করেন নিতিন নবীন। তাঁর অভিযোগ, নেপাল-সহ ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তার নেপথ্যে থাকা শক্তিগুলির ‘টুলকিট’হিসেবে কাজ করছেন রাহুল। বিজেপি সভাপতির দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অরাজকতা তৈরির পিছনেও ওই শক্তিগুলির ভূমিকা রয়েছে। রাহুলের নেতৃত্বেই সেই শক্তিগুলি সক্রিয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বাংলা ও বিহারের পর উত্তরপ্রদেশেও বিরোধী শিবিরের পতন নিশ্চিত। কংগ্রেসের অতীতের দুর্নীতির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। টুজি কেলেঙ্কারি-সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসের পরাজয় থেকে রাহুল গান্ধীর শিক্ষা নেওয়া উচিত। ২০১৪ সালে দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার বাইরে এসেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে নিতিন নবীনের বক্তব্য, নির্বাচনে পরাজয়ের দায় নির্বাচন কমিশনের উপর চাপিয়ে লাভ নেই। তাঁর প্রশ্ন, এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণেই যদি বিরোধীরা হেরে থাকে, তা হলে কেরল ও তামিলনাড়ুতে তারা জয় পেল কী ভাবে? তাঁর দাবি, ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশকারীদের নাম থাকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ছ’কোটি নামের মধ্যে তিন কোটি অনুপ্রবেশকারীর প্রভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    ২০২৯ সালে নরেন্দ্র মোদিই ক্ষমতায় থাকবেন

    কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নীতিন নবীন। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কংগ্রেস নেতারা যখনই কটূক্তি করেছেন, তখনই দেশের মানুষ ভোটের মাধ্যমে তার জবাব দিয়েছেন। বিরোধীদের ২০২৯ সালের রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি । তাঁর দাবি, যারা বলছে ২০২৯ সালে মোদি আর ক্ষমতায় ফিরবেন না, তাদের জেনে রাখা উচিত, ওই নির্বাচনেও নরেন্দ্র মোদিই ফিরে আসবেন। বিজেপি সভাপতি আরও বলেন, বিরোধী দলগুলি ভোটের সময় সক্রিয় থাকলেও ভোট মিটে গেলে অনেক সময় জনজীবন থেকে উধাও হয়ে যায়। অন্য দিকে বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা ২৪ ঘণ্টা মানুষের পাশে থেকে কাজ করেন বলে দাবি তাঁর ।

  • Cyclone Murasu: আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’! তছনছ অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকা, বাংলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস

    Cyclone Murasu: আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’! তছনছ অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকা, বাংলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যরাতেই অন্ধ্র্র উপকূলে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় মুরাসু (Cyclone Murasu)। সোমবার রাত ১টা নাগাদ প্রকাশম জেলার ওঙ্গোলের কাছে শুরু হয় ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া। ঝড়ের দাপট ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতিবেগ পৌঁছে যাচ্ছে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত। সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় প্রমাদ গুনছে অন্ধ্রবাসী। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের তরফে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কলকাতাতোও মঙ্গলের ভোর থেকেই আকাশ মেঘলা।

    নিচু এলাকাগুলিতে বন্যার আশঙ্কা

    ঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণ উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের নিচু এলাকাগুলিতে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। বাপটলা, কৃষ্ণা এবং প্রকাশম জেলায় জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ার আশঙ্কা। প্রকাশম জেলার ওঙ্গোল-সহ বিভিন্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে অতিভারী বৃষ্টি হচ্ছে। মঙ্গলবার উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানামের অধিকাংশ জায়গায় এবং রায়লসীমার অনেক এলাকায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পালনাড়ু, তিরুপতি ও নন্দিয়াল জেলায় এক-দু’টি জায়গায় অত্যন্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এলুরু, এনটিআর, কৃষ্ণা, গুন্টুর, বাপটলা, প্রকাশম, নেল্লোর-সহ একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। ৪ ও ৫ নভেম্বরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সময় ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

    ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির জন্য ৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ

    অন্ধ্রপ্রদেশের সরকার উপকূলের বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বেরনোর পরামর্শ দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির জন্য ৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। ঝড়ের জেরে সোমবার বিজয়ওয়াড়া, তিরুপতি এবং বিশাখাপত্তনম বিমানবন্দরে অন্তত ১৯টি বিমান বাতিল করা হয়েছে। ট্রেন পরিষেবাতেও ব্যাঘাত ঘটেছে। বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চিরালা এলাকায় বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়েছে। সেগুলি সরানোর কাজ শুরু করেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

    পশ্চিমবঙ্গে তেমন দুর্যোগের আশঙ্কা নেই

    মুরাসুর’-এর সরাসরি প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গে তেমন দুর্যোগের আশঙ্কা নেই (Bengal weather update)। তবে এর পরোক্ষ প্রভাবেই মঙ্গলবার পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গলবার উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার থেকে রাজ্যের আবহাওয়া শুকনো থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস।

  • India’s 1st Bullet Train: ২৫০ কিমি গতিতে ছুটবে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন! ৮টি কোচে সফর করতে পারবেন ৫৫৭ জন যাত্রী

    India’s 1st Bullet Train: ২৫০ কিমি গতিতে ছুটবে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন! ৮টি কোচে সফর করতে পারবেন ৫৫৭ জন যাত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। এবার ভারতের মাটিতেই তৈরি হচ্ছে প্রথম দেশীয় প্রযুক্তির বুলেট ট্রেন (India’s 1st Bullet Train)। মুম্বই-আমেদাবাদ হাইস্পিড রেল করিডরের জন্য তৈরি এই অত্যাধুনিক ট্রেনের উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বেঙ্গালুরুর ভারত আর্থ মুভার্স লিমিটেড (BEML)-এর কারখানায়। বিদেশি প্রযুক্তির উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীলতা কাটিয়ে ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের হাত ধরেই তৈরি হচ্ছে এই ট্রেন। দেশের আবহাওয়া, জলবায়ু এবং রেল চলাচলের বিশেষ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এর নকশা তৈরি করা হয়েছে।

    কত গতিতে ছুটবে বুলেট ট্রেন?

    নতুন এই বুলেট ট্রেনের সর্বোচ্চ পরীক্ষামূলক গতি ঘণ্টায় ২৮০ কিলোমিটার। তবে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেনটি ঘণ্টায় ২৪৯ কিলোমিটার গতিতে চলবে। ট্রেনটির মোট দৈর্ঘ্য হবে ২০২ মিটার। থাকবে মোট ৮টি কোচ। এর মধ্যে চারটি মোটর কার এবং চারটি ট্রেলার কার। একসঙ্গে মোট ৫৫৭ জন যাত্রী সফর করতে পারবেন। বিশেষভাবে সক্ষম এবং চলাফেরায় অসুবিধা রয়েছে এমন যাত্রীদের জন্যও থাকছে দুটি নির্দিষ্ট আসন। ট্রেনটিতে সাতটি স্ট্যান্ডার্ড ক্লাসের কোচ থাকবে, যেখানে ৩×২ আসন বিন্যাসে বসার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি একটি এক্সিকিউটিভ ক্লাসের কোচে থাকবে ২×২ আসন বিন্যাস। ট্রেনের দু’প্রান্তেই থাকবে চালকের কেবিন। অত্যাধুনিক অনবোর্ড কন্ট্রোল সিস্টেমের মাধ্যমে ট্রেন পরিচালনা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যবস্থা থাকবে।

    যাত্রীদের আরামের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

    যাত্রীদের আরামদায়ক সফরের কথা মাথায় রেখে ট্রেনের ভিতরের নকশা তৈরি করা হয়েছে। থাকবে প্রশস্ত আসন, পর্যাপ্ত লেগরুম এবং আধুনিক অভ্যন্তরীণ সজ্জা। প্রতিটি কোচের মধ্যে সংযোগকারী বিশেষ সিল করা গ্যাংওয়ে থাকবে, যার সাহায্যে যাত্রীরা সহজেই এক কোচ থেকে অন্য কোচে যেতে পারবেন। প্রতিটি আসনের সারির পাশে থাকবে বড় জানালা। ফলে যাত্রাপথের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন যাত্রীরা। আধুনিক এলইডি আলো, মাথার উপরে লাগেজ রাখার জায়গা এবং বড় ব্যাগ রাখার জন্য আলাদা স্ট্যান্ডের ব্যবস্থাও থাকছে। মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ চার্জ দেওয়ার জন্য প্রতিটি আসনের কাছে থাকবে পৃথক পাওয়ার আউটলেট। এছাড়াও পরিবেশবান্ধব বায়ো-ডাইজেস্টার টয়লেট থাকবে ট্রেনটিতে। এর ফলে বর্জ্যের পরিবেশগত প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।

    থাকছে আধুনিক তথ্য ও বিনোদন ব্যবস্থা

    যাত্রাপথে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে প্রতিটি কোচে থাকবে এলসিডি ডিসপ্লে। ইংরেজি, হিন্দি এবং আঞ্চলিক ভাষায় ট্রেনের বিভিন্ন তথ্য দেখতে পারবেন যাত্রীরা। পাশাপাশি থাকবে পাবলিক অ্যাড্রেস এবং স্বয়ংক্রিয় ঘোষণার ব্যবস্থা। যাত্রীদের বিনোদনের জন্য থাকছে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই নির্ভর ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম। এর মাধ্যমে আগে থেকে লোড করা বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন তাঁরা। জরুরি পরিস্থিতিতে ট্রেনের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য থাকবে বিশেষ ইমার্জেন্সি টক-ব্যাক ইউনিট।

    বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা

    সকলের যাতায়াত সহজ করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ট্রেনের মেঝে এবং প্ল্যাটফর্মের উচ্চতা একই রাখা হবে, যাতে সহজেই ওঠানামা করা যায়। ট্রেনের দরজায় থাকবে প্রত্যাহারযোগ্য ফুটস্টেপ, যা প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের মধ্যবর্তী ফাঁক কমাতে সাহায্য করবে। বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের উপযোগী করে তৈরি করা হবে দরজা ও শৌচাগার। দৃষ্টিহীন যাত্রীদের জন্য থাকবে ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখা নির্দেশিকা ও তথ্যচিহ্ন। সারা বছর যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে প্রতিটি কোচে থাকবে ডুয়াল-ইউনিট এইচ-ভ্যাক ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে কোচের ভিতরের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। পাশাপাশি শব্দদূষণ কমানোর জন্য ট্রেনের বডি এবং মেঝেতে বিশেষ সাউন্ড ইনসুলেশন ও নয়েজ ড্যাম্পিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

    শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি

    ২৫ কেভি এসি ওভারহেড বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় চলবে এই বুলেট ট্রেন। শক্তি সাশ্রয়ের জন্য থাকছে অত্যাধুনিক রিজেনারেটিভ ব্রেকিং সিস্টেম। ট্রেনের গতি কমানোর সময় উৎপন্ন শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুতে রূপান্তর করে বৈদ্যুতিক গ্রিডে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ফলে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো সম্ভব হবে। এছাড়াও ট্রেনের সামনের অংশ এবং সম্পূর্ণ বডি বিশেষ অ্যারোডাইনামিক পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছে। কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে এর নকশা তৈরি করেছেন ইঞ্জিনিয়াররা। এর ফলে বাতাসের বাধা কমবে, টানেলের মধ্যে প্রবেশের সময় বায়ুর চাপজনিত শব্দ ও অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। সব মিলিয়ে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই বুলেট ট্রেন ভারতের রেল পরিকাঠামোয় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে চলেছে। গতি, আরাম, নিরাপত্তা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মেলবন্ধনে ভারতের হাইস্পিড রেল পরিষেবাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

  • INDI Bloc Rally:  ‘ক্ষতিপূরণ দেবে কে?’ ইন্ডি জোটের সমাবেশে ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতির দাবি দিল্লির ব্যবসায়ীদের

    INDI Bloc Rally: ‘ক্ষতিপূরণ দেবে কে?’ ইন্ডি জোটের সমাবেশে ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতির দাবি দিল্লির ব্যবসায়ীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উৎসবের মরশুমে রাজধানী দিল্লিতে ইন্ডি জোটের (INDI Bloc Rally) সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক ব্যবসায়িক ক্ষতির অভিযোগ উঠল। রবিবার রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের সমাবেশের জেরে দিল্লিতে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করল ব্যবসায়ীদের সংগঠন চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CTI)। সংগঠনের দাবি, সমাবেশের কারণে আশপাশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাজার বন্ধ থাকায় কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় ব্যবসা-বাণিজ্য। ব্যবসায়ীদের দাবি, দীপাবলির পর সমাবেশ করার জন্য আগেই বিরোধী নেতাদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। এমনকী, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকেও একাধিক চিঠি দিয়ে সমাবেশ পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিল সিটিআই। কিন্তু সেই আবেদন কার্যকর হয়নি। ফলে উৎসব ও কেনাকাটার মরশুমে ব্যবসায়ীদের বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ।

    প্রায় আড়াই লক্ষ দোকান সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল

    সিটিআই-এর চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েলের দাবি, ১ নভেম্বর দিল্লিতে সরাসরি প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে। সংগঠনের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, খুচরো ও পাইকারি ব্যবসায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮,৮০০ কোটি টাকা। রামলীলা ময়দানের পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ব্যবসায়িক কাজকর্ম প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। কাশ্মীরি গেট, মোরি গেট, চাঁদনি চক, চাওড়ি বাজার, খারি বাওলি, নয়াবাজার, সদর বাজার, আজমেরি গেট, দরিয়াগঞ্জ, পাহাড়গঞ্জ, কমলা মার্কেট, জামা মসজিদ, ভাগীরথ প্যালেস, লাজপত রাই মার্কেট, কিনারি বাজার, দারিবা কালান, বল্লিমারান, ফতেপুরি, কনট প্লেস, পালিকা বাজার, গাফফার মার্কেট এবং করোলবাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলিতে দোকানপাট বন্ধ ছিল বলে দাবি ব্যবসায়ী সংগঠনের। সিটিআই-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বাজারগুলিতে প্রায় ৩ লক্ষ দোকান রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় আড়াই লক্ষ দোকান সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। ফলে প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবসায়িক কার্যকলাপ স্তব্ধ হয়ে যায়।

    পণ্য পরিবহণও ব্যাহত

    শুধু খুচরো ও পাইকারি ব্যবসা নয়, পরিবহণ ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাতেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বলে দাবি সংগঠনের। তাদের হিসেব অনুযায়ী, ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হওয়ায় এই ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, হোটেল, রেস্তরাঁ, গেস্ট হাউস এবং পর্যটন শিল্পে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। মধ্য দিল্লির ২ হাজারেরও বেশি হোটেল, রেস্তরাঁ, গেস্ট হাউস ও ধাবায় বুকিং বাতিল হয়েছে বলেও জানিয়েছে সিটিআই। সমাবেশের প্রভাব পড়েছে অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের উপরেও। বণিক মহলের দাবি, প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন শ্রমিক, পণ্য ওঠানো-নামানোর কর্মী, অটো ও ই-রিকশা চালক, ফুটপাতের বিক্রেতা, কুলি এবং দিনমজুর, তাঁরা এক দিনের রোজগার হারিয়েছেন। এই ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

     

  • Kolkata Film Festival: নতুন লোগো প্রকাশে শুরু কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের প্রস্তুতি! ফোকাস কান্ট্রি আয়ারল্যান্ড, ফিল্ম বাজার ঘিরে এবার বিশেষ চমক কলকাতায়

    Kolkata Film Festival: নতুন লোগো প্রকাশে শুরু কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের প্রস্তুতি! ফোকাস কান্ট্রি আয়ারল্যান্ড, ফিল্ম বাজার ঘিরে এবার বিশেষ চমক কলকাতায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজো, কালীপুজো, ছট, জগদ্ধাত্রী তারপর বড়দিন! কলকাতা এখন উৎসব মুখর। ডিসেম্বরে তিলোত্তমা মাতবে চলচ্চিত্র উৎসবে (Kolkata Film Festival)। ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল শহরে। এখন তার প্রস্তুতিই তুঙ্গে। রবিবার উন্মোচিত হল ৩২ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লোগো। জানানো হল, চেনা মঞ্চ ছেড়ে এবার ইতিহাসের শহরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে বসতে চলেছে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী আসর। উৎসব ঘিরে এবার রয়েছে চমকের পর চমক। দক্ষিণী ছবির মহাতারকা রজনীকান্ত থেকে প্রভাস, বলিউডের অক্ষয় কুমার, সঞ্জয় দত্ত, অনুপম খের, পরেশ রাওয়াল, কঙ্গনা রানাউত- উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে চলা তারকাদের তালিকা দীর্ঘ। সব মিলিয়ে ডিসেম্বরে কলকাতা দেখতে চলেছে তারকার মেলা।

    কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের নতুন লোগো

    রবিবার নন্দনে ২- প্রেক্ষাগৃহে সাংবাদিক বৈঠকে উৎসবের নতুন লোগো প্রকাশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির সূচনা হল। পরিচালক সন্দীপ রায়ের পরিকল্পনায় তৈরি হয়েছে এবারের লোগো। সেটির উদ্বোধন করেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। উপস্থিত ছিলেন টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ এবং উৎসব কমিটির পদাধিকারীরা। সাংবাদিক বৈঠকের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন মিঠুন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎ, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী-সহ বিশিষ্টরা। এ’বছর কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের ফোকাস কান্ট্রি আয়ারল্যান্ড। ৫ নভেম্বর থেকে www.kiff.in ওয়েবসাইট থেকে চলচ্চিত্র উৎসব সংক্রান্ত সব তথ্য পাওয়া যাবে, আবেদন করা যাবে কার্ডেরও।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য অতিথিদের তালিকা

    লোগো প্রকাশের মঞ্চ থেকেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য অতিথিদের তালিকা প্রকাশ্যে এনে কার্যত চমক দেন মহাগুরু। তাঁর কথায়, রজনীকান্ত, প্রভাস, অক্ষয় কুমার, সঞ্জয় দত্ত, পরেশ রাওয়াল, অনুপম খের, জনি লিভার এবং কঙ্গনা রানাউতের মতো তারকাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। পাশাপাশি পরিচালক অনুরাগ বসু ও মধুর ভাণ্ডারকরও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। তবে এই তালিকার আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত ঘোষণা উৎসব কমিটির তরফে এখনও বাকি। তবে এবারের উৎসবে মোট কতগুলি ছবি দেখানো হবে, কোন কোন দেশের ছবি জায়গা পাবে, কিংবা প্রতিযোগিতা বিভাগের তালিকায় কারা থাকবে- সে বিষয়ে এখনও মুখ খোলেনি আয়োজকরা। প্রসেনজিৎ জানিয়েছেন, ছবি বাছাইয়ের কাজ চলছে। প্রথম সাংবাদিক বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল লোগো প্রকাশ এবং উৎসবের প্রাথমিক পরিকল্পনা জানানো । নির্দিষ্ট সময়ে বাকি তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

    পরিবেশগত বিধিনিষেধের প্রশ্ন

    এবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে আয়োজনের সিদ্ধান্ত ঘিরে পরিবেশগত বিধিনিষেধের প্রশ্নে উৎসব কমিটির এক কর্তা আশ্বস্ত করেছেন, পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম মেনেই অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে। কোনও আইন বা বিধি লঙ্ঘন করা হবে না। উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, উদ্বোধনের দিনে যে ছবি প্রদর্শিত হবে, প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে সেটি অন্য কোনও প্রেক্ষাগৃহে আবারও দেখানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে। অর্থাৎ ভিক্টোরিয়ায় উদ্বোধনী আয়োজন হলেও দর্শকদের জন্য ছবিটি দেখার বিকল্প ব্যবস্থা রাখার ভাবনা রয়েছে কমিটির। উৎসবের থিম মিউজিক এবং বিশেষ প্রোমো তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন রাতুল শঙ্কর ও অতনু।

    ‘ফিল্ম বাজার’-এর আয়োজন

    কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবকে কেন্দ্র করে এবার বড় আকারে ‘ফিল্ম বাজার’ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যোগাযোগ ও কাজের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে। সবমিলিয়ে এবারের কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শুধু ছবির প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ভিক্টোরিয়ার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে উদ্বোধন, মহাতারকাদের সম্ভাব্য উপস্থিতি, আয়ারল্যান্ডকে ফোকাস কান্ট্রি নির্বাচন এবং ফিল্ম বাজারের পরিকল্পনা জমজমাট কলকাতা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি।

    ডেলিগেট কার্ডের জন্য নাম নথিভুক্তকরণ

    ডেলিগেট কার্ডের জন্য নাম নথিভুক্তকরণ এবং আবেদন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রাথমিক তথ্য জানানো হয়েছে। উৎসব কমিটির সদস্য অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ জানান, আগামী ৫ নভেম্বর থেকে উৎসবের নিজস্ব ওয়েবসাইটে আবেদন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে। অনলাইনে আবেদনের পাশাপাশি প্রচলিত পদ্ধতিতেও ডেলিগেট কার্ড সংগ্রহের সুযোগ থাকবে।

    চলচ্চিত্র উৎসব উৎসাহী মুখ্যমন্ত্রী

    হাওড়ার সাঁতরাগাছি থেকে নতুন একটি ট্রেনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবছর বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু৷ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, ‘চলতি বছরের কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অনেক জাতীয় স্তরের কর্মসূচি পালন করা হবে। প্রবাসী ভারতীয় সম্মেলন হবে।” প্রতি বছরই দুর্গাপুজো শেষ হতেই কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এ বার রাজনৈতিক পালাবদলের পরে প্রথম চলচ্চিত্র উৎসব। ফলে এবারের উৎসব ঘিরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্র মহলে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর থেকে আগ্রহ দ্বিগুণ হয়েছে সিনেমাপ্রেমীদের৷ চলচ্চিত্রপ্রেমী থেকে শুরু করে সিনেদুনিয়ার কলাকুশলীরা, সকলেই এখন ১৭ ডিসেম্বরের দিকে তাকিয়ে। রবিবারের সাংবাদিক সম্মেলনে উৎসবের লোগো প্রকাশের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল প্রস্তুতি পর্ব।

    নন্দন চত্বরে পরিবর্তনের ছোঁয়া

    বদলের বাংলায় নন্দন চত্বরেও এল পরিবর্তন। শহরের সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ফলকের উপরে সাদা রং করে দেওয়া হয়েছে। তবে অক্ষত রয়েছে জ্যোতি বসুর নামাঙ্কিত ফলক। ১৯৮০–তে নন্দনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু যা স্থাপন করেছিলেন। তার ঠিক বছর পাঁচেক পর ১৯৮৫–তে সত্যজিৎ রায় নন্দনের উদ্বোধন করেছিলেন। ২০১১–তে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হয়। ২০১৬–য় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত ফলকও লাগানো হয়েছিল নন্দন–রবীন্দ্রসদন চত্বরে সৌন্দর্যায়নের কাজের পরে। ২০২৬–এ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ফের পালাবদল হয়েছে। ১৫ বছরের তৃণমূলের শাসন শেষে রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রিত্বে হতে চলেছে ৩২তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। মিঠুন চক্রবর্তী জানিয়েছেন যে এখানে নতুন ফলক আবার বসবে। মিঠুন জানান সেখানে বাংলার কারুরই নাম আসবে, তবে কার কী নামের ফলক বসবে, সেটা তিনি এখনই জানাতে চাননি।

  • BJP Rally in Kolkata: আজ রাজপথে বিজেপি! ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ ইস্যুতে নিতিন নবীনের নেতৃত্বে মহা মিছিল, সভাতে শুভেন্দু- শমীকরা

    BJP Rally in Kolkata: আজ রাজপথে বিজেপি! ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ ইস্যুতে নিতিন নবীনের নেতৃত্বে মহা মিছিল, সভাতে শুভেন্দু- শমীকরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজপথে মহা মিছিলের (BJP Rally in Kolkata) ডাক দিল গেরুয়া শিবির। ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের (Nitin Nabin in Kolkata) নেতৃত্বে আদ, সোমবার কলকাতার কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ শীর্ষক মহামিছিল হতে চলেছে। গত কয়েক দিন ধরে জেলায় জেলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ ইস্যুকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে বিজেপি। আগামী দিনেও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে হবে মিছিল, সমাবেশ।

    কারা কারা থাকবেন?

    আজ মেগা এই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে মহা মিছিলে অংশ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব এদিনের মিছিলে পা মেলাবেন। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, শান্তনু ঠাকুর, রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য স্বপন দাশগুপ্ত, দিলীপ ঘোষ, তাপস রায়, অগ্নিমিত্রা পাল, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, দুধকুমার মণ্ডল, অর্জুন সিং, ক্ষুদিরাম টুডু, ইন্দ্রনীল খাঁ, সুমনা সরকার, মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, দীপঙ্কর জানা, উমেশ রাই-সহ মন্ত্রীরা। উপস্থিত থাকবেন সজল ঘোষ, বিজয় ওঝা, রীতেশ তিওয়ারি, পাপিয়া অধিকারী, শর্বরী মুখোপাধ্যায়, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, দেবাশিস ধর, শঙ্কর শিকদার, কৌস্তভ বাগচী, রাজেশ কুমার, দেবদাস মণ্ডল, শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়, পীযূষ কানোরিয়া, তরুণজ্যোতি তিওয়ারি, বিমান ঘোষ, সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়, বঙ্কিম ঘোষ – সহ বিধায়করা। এছাড়া, পাঁচ রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, বিজন গোস্বামী, শশী অগ্নিহোত্রী, সৌমিত্র খাঁ সহ বিভিন্ন পদাধিকারীদের থাকার কথা।

    বিশেষ বিমানে কলকাতায় নিতিন

    দুপুর আড়াইটে নাগাদ বিশেষ বিমানে কলকাতায় পৌঁছোনোর কথা বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের। বিকেলে কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করবে বিজেপি। সেখানে যোগ দেবেন নিতিন। মিছিল শেষে বক্তৃতাও করার কথা তাঁর। ইতিমধ্যেই রবিবার রাতে কর্মসূচি স্থলের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য ও জেলা নেতৃত্ব। সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, অমিতাভ চক্রবর্তী, তমোঘ্ন ঘোষ-সহ অন্যান্য পদ্ম নেতৃত্ব প্রস্তুতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। প্রসঙ্গত, দেশ জুড়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছে বিরোধীরা। সরব হচ্ছে ভোট চুরির অভিযোগ নিয়েও। রবিবার ইন্ডি জোটের দিল্লির আন্দোলনে শামিল হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এর ঠিক পরের দিনই কলকাতায় বিজেপির মেগা রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে রাজনীতির পারদ চড়ছে।

    বিরোধীদের আন্দোলন অরাজকতা সৃষ্টি করছে

    বিরোধীদের আন্দোলন বর্তমানে আর শুধু রাজনীতির দৈনন্দিন কর্মসূচিতে আটকে নেই। তা অরাজকতা সৃষ্টি করছে, তেমনটাই মনে করছেন দেশের শাসক দল বিজেপি। এই আবহে বিরোধীদের পাল্টা রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েছে পদ্ম শিবির। কর্মসূচির পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও অরাজকতা হটাও।’ গত শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের নিউ ইন্ডিয়ান মাঠে গণতন্ত্র বাঁচাও অরাজকতা হটাও শীর্ষক সভার আয়োজন করেছিল বিজেপি। গত শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতাতেও একই ইস্যুকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। যে দুই কর্মসূচির প্রধান বক্তা ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    একাধিক রাজ্যে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা

    রবিবার একাধিক রাজ্যে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা করে বিজেপি। একদিকে যখন ভোটচুরির অভিযোগকে হাতিয়ার করে দিল্লিতে মেগা কর্মসূচি করছে বিরোধী জোট, সেদিনই একাধিক রাজ্যে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা করল বিজেপি। হরিয়ানার রোহতকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে হয় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা। কোথাও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। সিমলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রায় নেতৃত্ব দেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। মিছিলে ছিলেন অনুরাগ ঠাকুর-সহ অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব।

  • Cyclone Murasu: ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’! ল্যান্ডফল কখন-কোথায়? কালীপুজোর মুখে আবারও তুমুল ঝড়-বৃষ্টি?

    Cyclone Murasu: ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’! ল্যান্ডফল কখন-কোথায়? কালীপুজোর মুখে আবারও তুমুল ঝড়-বৃষ্টি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অর্ণবের ক্ষত শুকোতে এখনও সময় লাগবে, তার আগেই ফের ঘূর্ণিঝড় অন্ধ্র ঊপকূলে। বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ-পশ্চিম ও সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া এই ঘূর্ণিঝড় উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে। আজ, সোমবার সেটি শক্তি বাড়িয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের (আইএমডি) পূর্বাভাস, আগামিকাল, মঙ্গলবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। তবে এই ঘূর্ণিঝড়ের (Cyclone Murasu) সরাসরি প্রভাব বাংলায় পড়বে না বলে মনে করছে হাওয়া অফিস।

    ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’-র গতিপথ ও শক্তি

    আবহাওয়া দফতরের ১ নভেম্বর, ২০২৬-এর বুলেটিন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ গত ৬ ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্রায় ২৫ কিলোমিটার বেগে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়েছে। হাওয়া অফিসের (Weather Update) পূর্বাভাস মতোই আজ ২ নভেম্বর ভোরের মধ্যে এটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এরপর উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২ নভেম্বর মধ্যরাত থেকে ৩ নভেম্বর ভোরের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী এলাকায় ওঙ্গোলের কাছাকাছি স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০-১১০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছতে পারে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

    কীভাবে সৃষ্টি হয় ঘূর্ণিঝড়

    আবহবিদরা জানাচ্ছেন, বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বেশি থাকলেই বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের জোগান বাড়ে। এর পরে অনুকূল বায়ুপ্রবাহ, ‘ভার্টিক্যাল উইন্ড শিয়ার’ অর্থাৎ বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উচ্চতায় বাতাসের গতিবেগ ও গতিপথের পরিবর্তন এবং বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতাও ঘূর্ণাবর্তকে শক্তি জুগিয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিমত হতে সাহায্য করে। তাই একটি ঘূর্ণিঝড় চলে গেলেই সমুদ্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অনুকূল পরিস্থিতি রাতারাতি বদলে যায় না। ফলে একই মরশুমে অল্প ব্যবধানে একাধিক ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে। অর্ণবের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই তাই নতুন বিপদের আশঙ্কা অন্ধ্র উপকূলে।

    ব্যাক-টু-ব্যাক ঘূর্ণিঝড়ের ইতিহাস

    সমুদ্রে পর পর ঘূর্ণিঝড়ের আবির্ভাব অস্বাভাবিক নয়। ১৯৭১–এ বঙ্গোপসাগরে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ নভেম্বরের মধ্যে তিনটি ঘূর্ণিঝড় এসেছিল। পুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মিটিওরোলজির (আইআইটিএম) রেকর্ড অনুযায়ী, প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘১০বি’ ৩০ সেপ্টেম্বর সুন্দরবন অঞ্চলে, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘১২বি’ ২৯–৩০ অক্টোবর ওডিশার পারাদ্বীপের কাছে এবং প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘১৪বি’ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ল্যান্ডফল করেছিল। এই তিন ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে ‘১২–বি’ সবচেয়ে বেশি বিধ্বংসী ছিল। এটির ল্যান্ডফলের সময়ে ২ থেকে ৬ মিটার উচ্চতার সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়। সেই জলোচ্ছ্বাস উপকূল থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার ভিতরে ঢুকে পড়েছিল। ঝড়ের ফলে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ‘ব্যাক–টু–ব্যাক’ ঘূর্ণিঝড়ের পর্ব এখানেই শেষ নয়। ২০২৩–এও অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের শুরুতে পর পর তৈরি হয়েছিল ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ ও ‘মিধিলি’।

    ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’-র নামকরণ

    ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ নাম রেখেছিল বাংলাদেশ। এবার ‘মুরাসু’র নামকরণ করল ভারত। মূলত তামিল শব্দ এটি। তামিলনাড়ুর ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের নাম ‘মুরাসু’। এককালে তা বাজিয়ে যুদ্ধ বা বড় কোনও সংবাদ দেওয়া হত জনগণকে। এর বাজনা শুনলেই বোঝা যেত, বড় কোনও খবর আসছে। এবার ঘূর্ণিঝড়ের আগমন বার্তা জানাতে এই ‘মুরাসু’ নামকরণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    কালীপুজোর মুখে ঘূর্ণিঝড়

    দুর্গা পুজোর পর ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ বেশ কিছুটা দাপট দেখিয়েছিল দক্ষিণবঙ্গে। ভিজেছিল বেশ কয়েকটি জেলা। এরপর ‘মুরাসু’র জেরে রাজ্যের আবহাওয়ায় কেমন প্রভাব পড়ে, কালীপুজোর আগে তা নিয়ে চিন্তা ছিল বঙ্গবাসীর। মেঘলা আকাশে বৃষ্টির ভ্রূকুটি কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল বাজি ব্যবসায়ীদের। আপাতত চিন্তার নিরসন করেছে হাওয়া অফিস। পূর্বাভাস বলছে, চলতি সপ্তাহে উত্তরবঙ্গে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকবে, মূলত শুস্ক আবহাওয়া। দু, এক জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে পুরোপুরি শুকনো আবহাওয়া। দক্ষিণবঙ্গেও প্রায় একই আবহাওয়া থাকার সম্ভাবনা। সোম, মঙ্গল আংশিক মেঘলা আকাশ, দু-এক পশলা বৃষ্টির পর বুধবার থেকে মূলত শুষ্ক আবহাওয়া।

    বাংলার আবহাওয়ায় কী প্রভাব পড়বে?

    ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আপাতত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ৩ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ৩ নভেম্বর দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে কয়েক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তবে বাকি জেলাগুলিতে মূলত শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে। দক্ষিণবঙ্গেও ৩ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত সব জেলাতেই এক-দু’জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ৩ নভেম্বর থেকে ৪ নভেম্বরের মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার কিছু এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। এরপর ৪ নভেম্বর থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত দুই বঙ্গেই মূলত শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকার সম্ভাবনা।

    মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কবার্তা

    ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র উত্তাল থেকে অতি উত্তাল হতে পারে। ২ নভেম্বর সকাল থেকে সমুদ্রে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার, দমকা হাওয়ার গতিবেগ ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ৩ নভেম্বর দুপুর পর্যন্ত হাওয়ার গতিবেগ আরও বেড়ে ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ২ নভেম্বর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের পশ্চিম-মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরে ২ নম্বর দূরবর্তী সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে। সাগরদ্বীপ বন্দরে ২ নম্বর এবং ৪ নম্বর স্থানীয় সংকেত জারি রয়েছে।

     

     

     

     

LinkedIn
Share