Author: ishika-banerjee

  • Israel Election 2026: ‘ইজরায়েলের নির্বাচন চুরি করেছে বিদেশি শক্তি’, বিস্ফোরক নেতানিয়াহু! ভোটে কারচুপি ও বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ

    Israel Election 2026: ‘ইজরায়েলের নির্বাচন চুরি করেছে বিদেশি শক্তি’, বিস্ফোরক নেতানিয়াহু! ভোটে কারচুপি ও বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ইজরায়েলের নির্বাচন চুরি করেছে বিদেশি শক্তি’, বিস্ফোরক অভিযোগ নেতানিয়াহুর! ভোটে কারচুপি ও ঘুষের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ দিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি। কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে কাতারকে। ইজরায়েলের নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে ক্রমশ জটিল হচ্ছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। কোনও রাজনৈতিক দলই এককভাবে সরকার গড়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। নির্বাচনের ফল অনুযায়ী,  প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন শিবির ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরের ঝুলিতে রয়েছে ৪৮টি আসন। আর আরব দলগুলি পেয়েছে ১৯টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে এখনও ৮টি আসন দূরে রয়েছে নেতানিয়াহুর শিবির। ইজরায়েলের সংসদ নেসেটে মোট ১২০টি আসন রয়েছে। সেখানে সরকার গঠন করতে প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। ফলে কোনও শিবিরই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

    শিন বেটকে তদন্তের নির্দেশ

    এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ, ভোটারদের ঘুষ দেওয়া এবং ভোটে কারচুপির অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইজরায়েলের রাজনীতি। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি তথা সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির (CEC) চেয়ারম্যান নোয়াম সোলবার্গ নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের ‘গুরুতর সন্দেহ’ খতিয়ে দেখার জন্য ইজরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেটকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। হিব্রু সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আরব ভোটারদের প্রভাবিত করতে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছিল কাতার। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির অভিযোগ, আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলি ভোটে কারচুপি এবং ভোটারদের ভয় দেখিয়ে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে প্রভাবিত করেছে।

    ইজরায়েলের গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত

    গত ২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, সমাজমাধ্যমে দলের বক্তব্য তুলে ধরে নেতানিয়াহু লেখেন, “রামগেট কাণ্ড একটি ভূমিকম্পের সমান। ইজরায়েলের নির্বাচন চুরি করা হয়েছে। আরব দলগুলির পক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করতে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ও ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে বিচারপতি সোলবার্গের মন্তব্য নজিরবিহীন ধাক্কা।” লিকুদ পার্টির বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, এটি ইজরায়েলের গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত। এর উদ্দেশ্য বিদেশি শক্তির মাধ্যমে নেসেটে প্রভাব বিস্তার, ইজরায়েলের ইসলামিকরণ এবং দক্ষিণপন্থী শাসনের অবসান ঘটানো। পাশাপাশি, ইরান-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইজরায়েলি সেনাবাহিনীকে (IDF) পিছিয়ে আসতে বাধ্য করার চক্রান্তও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    বিদেশি শক্তি নেসেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টায়

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বিদেশি শক্তি নেসেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ সামনে আসার পর কোনও জায়নবাদী দলেরই রা’আম বা জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে হাত মেলানো উচিত নয়। নগদ অর্থের বিনিময়ে ভোট কিনে নেসেটের স্পিকার পরিবর্তন কিংবা ইজরায়েলের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক সরকার গঠনের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছে লিকুদ পার্টি। এই ঘটনায় অবিলম্বে শিন বেট ও পুলিশকে পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগ করে তদন্তের দাবি জানিয়েছে তারা। বুধবার শিন বেটের প্রধান ডেভিড জিনিকে চিঠি দিয়ে বিচারপতি সোলবার্গ জানান, বিদেশি শক্তির অর্থায়নের মাধ্যমে ইজরায়েলের স্বার্থবিরোধী নির্বাচনী প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে তাঁর কাছে গুরুতর সন্দেহের তথ্য এসেছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে তিনি নিজে নিশ্চিত নন, তবে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি চিঠিতে শিন বেট প্রধানকে সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ করে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের ফলাফল জমা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    অভিযোগ অস্বীকার করেছে কাতার

    এদিকে, ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যম কান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তদন্তের সঙ্গে যুক্ত এক সূত্র জানিয়েছে, গত দু’সপ্তাহের মধ্যে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। বিষয়টিতে কিছু সমস্যাজনক তথ্য পাওয়া গিয়েছে এবং সমস্ত তথ্য সামনে আনতে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে ওই সূত্র। ‘দ্য টাইমস অফ ইজরায়েল’-এ এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির ডিরেক্টর জেনারেল ডিন লিভনে। কাতারের বিদেশ মন্ত্রকও তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করেছে। তা সত্ত্বেও ইজরায়েলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

    আরব সংগঠনে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছিল কাতার

    নিরাপত্তা সংস্থা এবং নির্বাচনী কমিশনের একাধিক সূত্রের দাবি, আরব ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করার নামে বিভিন্ন আরব সংগঠনের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছিল কাতার। এর মাধ্যমে ভোটের হার ও নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। দাবি করা হয়েছে, ওই সংগঠনগুলির কাছে অর্থ পাঠানোর জন্য যে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছিল, তার সঙ্গে অতীতে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত নেটওয়ার্কের যথেষ্ট মিল রয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। ফলে ইজরায়েলের নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

     

  • India Poverty: বিশ্বে দ্রুততম দারিদ্র্য হ্রাসের নজির ভারতে, ১২ বছরে দারিদ্র্যসীমার উপরে ৪৯.৬ কোটি মানুষ

    India Poverty: বিশ্বে দ্রুততম দারিদ্র্য হ্রাসের নজির ভারতে, ১২ বছরে দারিদ্র্যসীমার উপরে ৪৯.৬ কোটি মানুষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দারিদ্র্য দূরীকরণে (India Poverty) উল্লেখযোগ্য সাফল্য ভারতের। বিশ্বের দ্রুততম দারিদ্র্য হ্রাসের নজির গড়েছে দেশ। বিশ্বব্যাঙ্কের (World Bank) সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে উঠে এসেছে এমনই তথ্য। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতে প্রায় ৪৯.৬ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠে এসেছেন। দৈনিক ৪.২ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করা মানুষের হার ২০১১ সালে যেখানে ছিল ৫৭.৭ শতাংশ, ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬.১ শতাংশে। ২০২৮ সালের মধ্যে এই হার আরও কমে ১২.১ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    কীভাবে সম্ভব হল এই সাফল্য?

    চরম দারিদ্র্যের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিশ্বব্যাঙ্কের সংজ্ঞা অনুযায়ী, দৈনিক ৩ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করা মানুষের হার ২০১১ সালে ছিল ২৭.১ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা কমে হয়েছে মাত্র ২.৬ শতাংশ। দেশের অধিকাংশ রাজ্যেই মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হয়েছে। তবে উত্তরপ্রদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি ভৌগোলিক অঞ্চলে এখনও দেশের মোট দরিদ্র জনসংখ্যার প্রায় ৫৭ শতাংশ বসবাস করেন। ফলে দারিদ্র্য দূরীকরণে আঞ্চলিক বৈষম্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্টে দারিদ্র্য কমার অন্যতম কারণ হিসেবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশে অতিরিক্ত ১৩.৪ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এই বৃদ্ধির হার কর্মক্ষম জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রায় দ্বিগুণ। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় মহিলাদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। এর ফলে পরিবারের উপার্জনকারী সদস্যের সংখ্যাও বেড়েছে।

    ১৪০ কোটি দেশবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন

    পাশাপাশি মানুষের ভোগব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা ও খাদ্য ভর্তুকির সম্প্রসারণকেও দারিদ্র্য কমার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাঙ্ক। কোভিড অতিমারির সময় ২০২০ সাল থেকে কেন্দ্রীয় সরকার দেশের অন্তত ৮১ কোটি উপভোক্তাকে প্রতি মাসে পাঁচ কেজি করে বিনামূল্যে খাদ্যশস্য দিয়ে আসছে। এই বিনামূল্যের রেশন প্রকল্পও দরিদ্র পরিবারগুলির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। এদিকে, সরকারি পরিষেবায় ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দারিদ্র্য দূরীকরণে ভারতের এই অগ্রগতিকে ১৪০ কোটি দেশবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছেন।

    বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার পথে ভারত

    তবে দারিদ্র্য হ্রাসের এই সাফল্যের পাশাপাশি সতর্কবার্তাও দিয়েছে বিশ্বব্যাঙ্ক। রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন আয়ের কর্মীদের মধ্যে উপার্জনের ব্যবধান এখনও যথেষ্ট বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ উপার্জনকারীর আয় সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ উপার্জনকারীদের তুলনায় প্রায় ১৩ গুণ। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে ভারত। সেই যাত্রাপথে দারিদ্র্য হ্রাসে এই অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও আয়বৈষম্য দূর করা এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়াই আগামী দিনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

  • Amit Shah Attacks Rahul: ‘ভোট চুরি’ নিয়ে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকতে প্রস্তুত বিজেপি! আগ্রহী নয় বিরোধীরা, দাবি শাহের

    Amit Shah Attacks Rahul: ‘ভোট চুরি’ নিয়ে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকতে প্রস্তুত বিজেপি! আগ্রহী নয় বিরোধীরা, দাবি শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ভোট চুরি’ বিতর্কে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার জন্য বিজেপি প্রস্তুত। কিন্তু বিরোধী দলগুলি সংসদে এই বিষয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী নয়। শুক্রবার লখনউয়ে দলীয় কর্মীদের সভায় এমনই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah Attacks Rahul)। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলিকে ভিত্তিহীন বলেও খারিজ করেছেন তিনি। এদিন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে অমিত শাহ বলেন, “সংসদের ভিতরে প্রতিটি অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করতে বিজেপি প্রস্তুত। আমরা কিছু লুকোতে চাই না। সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হোক। কিন্তু বিরোধীরা সেখানে আলোচনা করতে চায় না। তারা সংসদ চলতে দেয় না, বরং হইচই করে।”

    আম্পায়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে

    বিজেপির একাধিক নির্বাচনী জয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শাহ বলেন, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, বিহার, দিল্লি, পুদুচেরি, অসম এবং পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর বিরোধীরা বুঝতে পেরেছে যে তারা নির্বাচনে জিততে পারছে না। তাঁর কথায়, “কোনও দল বা টিম ম্যাচে হারলে তাদের আরও অনুশীলন করা উচিত। কিন্তু পরাজয় মেনে নেওয়ার পরিবর্তে তারা আম্পায়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। বলছে, ভোট চুরি হয়েছে।” অন্যদিকে, অমিত শাহের এই মন্তব্যের মধ্যেই শনিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘জনতার অভিশংসন’ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। পাশাপাশি রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।

    রাস্তায় নেমে বিশৃঙ্খলাই লক্ষ্য

    জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার ফলে বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সেই অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগও দাবি করেছে বিরোধী দলগুলি। এই আবহে উত্তরপ্রদেশে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রণকৌশল ঠিক করতে শুক্রবার লখনউয়ে বৈঠকে বসেছিল রাজ্য বিজেপি। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শাহ। বৈঠকে বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপর জোর দেন তিনি। তবে একই সঙ্গে বিরোধীদের আক্রমণও শানান। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিরোধী শিবির ভোট চুরির যে অভিযোগ তুলেছে, তা নিয়ে সরব হয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী নেতানেত্রীদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে শাহ সংসদে বিশেষ অধিবেশনের কথা বলেন। জানান, ‘ভোট চুরি’ নিয়ে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকতে প্রস্তুত তিনি। তবে তার পরেই বলেন, ‘‘রাহুল বাবা কখনওই রাজি হবেন না। সংসদে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা না-করে উনি রাস্তায় নেমে বিশৃঙ্খলা করতে চান।’’

    শাহী নিশানায় অখিলেশও

    শুধু রাহুল নন, সমাজবাদী পার্টির প্রধান তথা সাংসদ অখিলেশ যাদবকে নিশানা করেছেন শাহ। তাঁর কথায়, ‘‘রাহুল এবং অখিলেশকে প্রতিটি অভিযোগ নিয়ে সংসদের ভিতরে আলোচনার জন্য আমি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি।’’ তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। ওঁরা (বিরোধী) আলোচনা চান না, চান রাস্তায় নাটক করতে।’’উল্লেখ্য, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে রবিবারের মিছিলে বিপুল সংখ্যায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এই কর্মসূচি দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষার লড়াইয়ের অংশ।

    কীভাবে আটকানো হয়েছে তার প্রমাণ দিক কংগ্রেস

    রাহুলের অভিযোগ, সভায় যোগ দিতে আসা মানুষজনকে দিল্লি প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন যাতে মানুষ দিল্লিতে আসতে না পারে। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানা, তেলেঙ্গানা, পাঞ্জাব থেকে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও আমাদের কর্মীদের আটকানো হচ্ছে। তবে সভায় আসা মানুষকে আটকানোর অভিযোগের পালটা বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, “ডাহা মিথ্যে কথা বলছেন উনি। কাকে, কোথায়, কীভাবে আটকানো হয়েছে তার প্রমাণ দিক কংগ্রেস।”

    ৩০ বছরেও উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় আসতে পারবেন না

    উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ায় দেশজুড়ে মোট ১৩.৩৯ কোটি ভোটারের নাম ‘অনুপস্থিত’, ‘স্থানান্তরিত’, ‘মৃত’ এবং ‘একাধিকবার নথিভুক্ত’ (ASDD) শ্রেণিতে চিহ্নিত হওয়ার পর থেকেই বিতর্ক তীব্র হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা থেকে অযোগ্য ও ভুয়ো নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ। তবে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ে থাকলে তা পুনরায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছে কমিশন। প্রসঙ্গত, শুক্রবারের বৈঠকে উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন নিয়ে ভবিষ্যদ্ববাণী করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, আগামী ৩০ বছরেও উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় আসতে পারবেন না অখিলেশেরা। অখিলেশকে নিশানা করে শাহ বলেন, ‘‘আপনারা নিজের চেষ্টায় একটা নির্বাচনও জিততে পারেননি। রাহুল বাবার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।’’

    সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতিক্রমেই গৃহীত

    এদিকে, এসআইআর এবং ভোটার তালিকা পরিচালনা সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়েছিল। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।

     

     

     

  • Census 2027: ২৫ জানুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংখ্যা গণনা, থাকছে জাতিগত পরিচয়ের তথ্যও

    Census 2027: ২৫ জানুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংখ্যা গণনা, থাকছে জাতিগত পরিচয়ের তথ্যও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রথম ডিজিটাল জনগণনা বা সেনসাস (Census 2027)-এর চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল। আগামী ১০ জানুয়ারি, ২০২৭ থেকে শুরু হবে স্ব-গণনা বা সেল্ফ এনুমারেশন প্রক্রিয়া। এরপর ২৫ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশজুড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংখ্যা গণনা করবেন সরকারি কর্মীরা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এই সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের জনগণনায় তফসিলি জাতি (SC) ও তফসিলি উপজাতি (ST)-র পাশাপাশি অন্যান্য জাতিগত পরিচয়ের তথ্যও প্রথমবারের মতো সংগ্রহ করা হবে।

    কী কী প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে

    মোট ৪০টি প্রশ্নের একটি প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ১৩টি নতুন প্রশ্ন যুক্ত হয়েছে। জাতি, ধর্ম, জাতীয়তা, ডিজিটাল সাক্ষরতা, ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত তথ্য এবং ব্যক্তিগত পরিচয়পত্রের মতো বিষয়গুলি উঠে আসবে এই প্রশ্নপত্রে। পাশাপাশি জানতে চাওয়া হবে বাবা ও মায়ের জন্মস্থান ও জন্মতারিখ, স্বামী বা স্ত্রীর নাম, স্থায়ী ঠিকানা, কোভিড টিকাকরণের স্থান, পাসপোর্ট নম্বর এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে কি না, সেই তথ্যও। এছাড়াও, উত্তরদাতাদের কাছে মোবাইল নম্বর, আধার নম্বর এবং ভোটার কার্ডের নম্বর চাওয়া হতে পারে, যদি সেগুলি তাঁদের কাছে থাকে।

    ভোটমুখী রাজ্যে আগে শুরু প্রক্রিয়া

    চারটি ভোটমুখী রাজ্য—উত্তরপ্রদেশ, গোয়া, উত্তরাখণ্ড ও পাঞ্জাবে এই প্রক্রিয়া কিছুটা আগেই শুরু হবে। ওই রাজ্যগুলিতে ২০২৬ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে স্ব-গণনার সুযোগ। এরপর ১ ডিসেম্বর থেকেই শুরু হবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংখ্যা গণনা। অন্যদিকে, দেশের বাকি অংশে ১০ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে স্ব-গণনা। এরপর ২৫ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মূল জনসংখ্যা গণনার কাজ হবে। ১ থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে সংশোধনী বা পুনরীক্ষণ পর্ব। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৭ সালের ১ মার্চ মধ্যরাতকে জনগণনার নির্ধারিত রেফারেন্স তারিখ হিসেবে ধার্য করা হয়েছে। ১৯৪৮ সালের জনগণনা আইন এবং ১৯৯০ সালের জনগণনা বিধির সংশ্লিষ্ট ধারার ভিত্তিতে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

    কয়েকটি জায়গায় চলছে কাজ

    ইতিমধ্যেই লাদাখ এবং জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত দুর্গম এলাকাগুলিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর জনসংখ্যা গণনার কাজ শেষ হয়েছে। তবে হিংসা কবলিত মণিপুরে আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য এই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে প্রথম পর্যায়ের হাউস লিস্টিং অপারেশনস (HLO) বা বাড়ির তালিকাভুক্তির কাজ শুরু হয়েছিল। মণিপুর বাদে দেশের সর্বত্র ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ১৬ জুন ২০২৭ সালের জনগণনা সংক্রান্ত প্রথম বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল কেন্দ্র। এবার চূড়ান্ত পর্যায়ের সময়সূচিও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হল।

  • PM Modi on NVS-03 Launch: সফল উৎক্ষেপণ এনভিএস-০৩ উপগ্রহের! দেশের গর্ব ইসরোর বিজ্ঞানীরা, অভিনন্দন বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi on NVS-03 Launch: সফল উৎক্ষেপণ এনভিএস-০৩ উপগ্রহের! দেশের গর্ব ইসরোর বিজ্ঞানীরা, অভিনন্দন বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মহাকাশ গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। জিএসএলভি এফ-১৮ (GSLV-F18) রকেটের মাধ্যমে সফলভাবে এনভিএস-০৩ (NVS-03) নেভিগেশন উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)। এই সাফল্যের জন্য ইসরোর বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারদের অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের মহাকাশ বিজ্ঞানীদের নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টা গোটা দেশকে গর্বিত করে। শনিবার সমাজমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই উৎক্ষেপণ ভারতের নিজস্ব স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা ‘ন্যাভিক’ (NavIC)-কে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

    প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারত

    বিজ্ঞানীদের মতে, উন্নত প্রযুক্তি ও সক্ষমতাসম্পন্ন এনভিএস-০৩ (NVS-03) উপগ্রহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা অর্জনের প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। পাশাপাশি দেশবাসীর জন্য নেভিগেশন পরিষেবার মান ও কার্যকারিতা উন্নত করতেও সাহায্য করবে এই উপগ্রহ। প্রধানমন্ত্রী মোদি লেখেন, “আমাদের মহাকাশ বিজ্ঞানীদের নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বারবার দেশকে গর্বিত করে।” এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ইসরোর বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দনও জানান তিনি। শুক্রবার রাত ১১টা ৫১ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্রের দ্বিতীয় উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু করে জিএসএলভি এফ-১৮ (GSLV-F18) রকেট। উৎক্ষেপণের ২০ মিনিটের কিছু বেশি সময় পর নির্দিষ্ট জিওসিনক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে (GTO) সফলভাবে এনভিএস-০৩ (NVS-03) উপগ্রহকে স্থাপন করে রকেটটি। মিশনের সাফল্য ঘোষণা করেন ইসরোর চেয়ারম্যান ড. ভি নারায়ণন। এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত শিল্প সংস্থা, বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারদের অভিনন্দন জানান তিনি।

    ন্যাভিক পরিষেবার গুরুত্ব

    ভারতের জিওসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল বা জিএসএলভি-এর এটি ছিল ২০তম উড়ান। প্রায় ২,২৫০ কেজি ওজনের এনভিএস-০৩ (NVS-03) হল ইসরোর দ্বিতীয় প্রজন্মের নেভিগেশন উপগ্রহ সিরিজের তৃতীয় উপগ্রহ। ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা নেভিগেশন উইথ ইন্ডিয়ান কনস্টিলেশন (Navigation with Indian Constellation) বা ন্যাভিক (NavIC)-এর পরিষেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং তার কার্যকারিতা ও পরিসর আরও উন্নত করাই এই উপগ্রহের অন্যতম লক্ষ্য। বর্তমানে নাগরিক পরিষেবা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক ক্ষেত্র এবং দেশের কৌশলগত নিরাপত্তা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট-নির্ভর অবস্থান নির্ণয়, নেভিগেশন ও সময় নির্ধারণের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষিতে এনভিএস-০৩ (NVS-03)-এর সফল উৎক্ষেপণ ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Deepawali in Ayodhya: দীপাবলির আগে আলোকমালায় সেজে উঠল অযোধ্যার রাম মন্দির, নজরকাড়া আলোকসজ্জায় মুগ্ধ ভক্তরা

    Deepawali in Ayodhya: দীপাবলির আগে আলোকমালায় সেজে উঠল অযোধ্যার রাম মন্দির, নজরকাড়া আলোকসজ্জায় মুগ্ধ ভক্তরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীপাবলির (Deepawali in Ayodhya) আগে আলোর অপরূপ সাজে সেজে উঠেছে রামনগরী অযোধ্যা। আসন্ন দীপোৎসবকে কেন্দ্র করে ঝলমলে আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দির চত্বর। আধুনিক আলোর সাজে মন্দিরের অপূর্ব রূপ ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে ভক্তদের। উৎসবের আবহে মন্দিরের এই অপরূপ দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছে শ্রী রাম জন্মভূমি (Ram Janmabhoomi Mandir Ayodhya) তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। মন্দিরের স্থাপত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়েছে বিশেষ আলোকসজ্জা। ট্রাস্টের তরফে প্রকাশিত একাধিক ছবিতে দেখা গিয়েছে, বর্ণিল আলোর সাজে ঝলমল করছে গোটা মন্দির চত্বর। দীপোৎসবের আগে এই সাজে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে রাম জন্মভূমি মন্দিরের আধ্যাত্মিক পরিবেশ।

    দীপোৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রামচন্দ্রের অযোধ্যা প্রত্যাবর্তনের কাহিনি

    দীপোৎসবের সঙ্গে অযোধ্যার সম্পর্ক বহু প্রাচীন। রামায়ণের কাহিনি অনুযায়ী, ১৪ বছরের বনবাস শেষে ভগবান শ্রী রাম, মাতা সীতা এবং লক্ষ্মণের অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে নগরবাসী সারি সারি মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে তাঁদের স্বাগত জানিয়েছিলেন। সেই ঐতিহ্য থেকেই দীপাবলিতে প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা চলে আসছে। অন্ধকারের উপর আলোর জয় এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক হিসেবেই পালিত হয় দীপাবলি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিশ্বের নানা জায়গায় এই উৎসব পালিত হলেও রামচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত অযোধ্যার দীপোৎসবের মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য আলাদা।

    ভক্তির প্রদীপ জ্বালাতে আহ্বান, মন্দির ট্রাস্টের

    ট্রাস্টের সাম্প্রতিক পোস্টেও সেই ভক্তি ও ঐতিহ্যের কথাই তুলে ধরা হয়েছে। ট্রাস্টের বার্তায় জানানো হয়েছে, দীপোৎসবের অপেক্ষায় দিব্য আলোয় সেজে উঠেছে গোটা শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দির প্রাঙ্গণ। বড় বড় গেট লাগানো হয়েছে রাজপথে। রাস্তার দু’ধারে মায়াবী আলো। একই সঙ্গে ভক্তদের এই পুণ্যলগ্নে ভক্তির প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসবে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে দীপাবলির আগে আলোয় সেজে ওঠা রাম জন্মভূমি মন্দির যেন ভক্তি, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য ছবি তুলে ধরছে। ভগবান শ্রী রামের নামে দীপাবলি উদযাপনের প্রস্তুতিতে এখন উৎসবমুখর রামনগরী অযোধ্যা।

  • Saurav Das: ‘ককরোচ’ নেতা সৌরভ দাসের নাগরিকত্ব ও পরিচয় নিয়ে তদন্তের আর্জি, মাদ্রাজ হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলায় নোটিস জারি

    Saurav Das: ‘ককরোচ’ নেতা সৌরভ দাসের নাগরিকত্ব ও পরিচয় নিয়ে তদন্তের আর্জি, মাদ্রাজ হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলায় নোটিস জারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র মুখপাত্র তথা সাংবাদিক সৌরভ দাসের নাগরিকত্ব ও ব্যক্তিগত পরিচয় খতিয়ে দেখার দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় নোটিস জারি করল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। পাশাপাশি, বিচারব্যবস্থা এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে তাঁর কথিত অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগ তুলে সমাজমাধ্যমে সৌরভের এক্স ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করারও আবেদন জানানো হয়েছে। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, প্রধান বিচারপতি এস এ ধর্মাধিকারী এবং বিচারপতি জি অরুল মুরুগনের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। কাঞ্চিপুরম জেলার বাসিন্দা গণেশ কুমার এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন। গত ২৬ অক্টোবর মামলাটি দায়ের করা হয় এবং ২৮ অক্টোবর তা নথিভুক্ত হয়। আগামী ১১ ডিসেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।

    সৌরভ দাসের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে তদন্ত

    আবেদনকারীর দাবি, সৌরভ দাসের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। মামলায় তাঁকে ‘যোগেশ শর্মা ওরফে সৌরভ দাস’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর বাবা-মায়ের পরিচয়-সহ পারিবারিক পটভূমিও খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছেন মামলাকারী। তদন্তে তিনি বিদেশি নাগরিক বলে প্রমাণিত হলে তাঁর পাসপোর্ট এবং আধার কার্ড বাতিলের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়ার আর্জিও জানানো হয়েছে। শুক্রবারের শুনানিতে মামলাকারীর আইনজীবী বি জগন্নাথ, সৌরভ দাসের পরিচয় ও ঠিকানা সংক্রান্ত কয়েকটি নথি আদালতের সামনে পেশ করেন। বিচারপতিরা সেই নথিগুলি খতিয়ে দেখেন এবং তাতে উল্লেখ করা কয়েকটি তথ্য সম্পর্কে ব্যাখ্যা চান বলে জানা গিয়েছে।

    বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে সৌরভের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন

    এছাড়াও বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে সৌরভ দাসের কথিত মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন মামলাকারীর আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য, বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে আদালতও প্রশ্ন তোলে। হাইকোর্ট জানতে চায়, আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার আগে মামলাকারী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও অভিযোগ জানিয়েছিলেন কি না। এর উত্তরে আইনজীবী জানান, গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে গণেশ কুমার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই আবেদনের কোনও জবাব মেলেনি। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ওই আবেদনের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

    সোশ্যাল সাইটে সৌরভ দাসের অ্যাকাউন্ট বন্ধের দাবি

    সৌরভ দাসের নাগরিকত্ব নিয়ে তদন্তের পাশাপাশি তাঁর নামে পরিচালিত এক্স এবং ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার জন্য কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রককে নির্দেশ দেওয়ার আর্জিও জানিয়েছেন মামলাকারী। একই সঙ্গে, বিচারব্যবস্থা ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সম্পর্কে ভবিষ্যতে কোনও অবমাননাকর মন্তব্য করা থেকে তাঁকে বিরত রাখার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। এই মামলায় যাঁদের নোটিস পাঠানো হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চেন্নাইয়ের আঞ্চলিক পাসপোর্ট আধিকারিক, ইউআইডিএআই-এর চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব, বিদেশসচিব এবং আইন ও বিচার মন্ত্রক ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের আধিকারিকরা। অন্যদিকে, এই মামলার প্রতিক্রিয়ায় ককরোচ জনতা পার্টির সদস্য আশুতোষ রাঙ্কা আবেদনটির সমালোচনা করেছেন।

  • Railway Recruitment 2026: রেলে চাকরির বড় সুযোগ! স্টেশন মাস্টার পদে ১,২৬৫ জন নিয়োগ, আবেদন শেষ ২৫ নভেম্বর

    Railway Recruitment 2026: রেলে চাকরির বড় সুযোগ! স্টেশন মাস্টার পদে ১,২৬৫ জন নিয়োগ, আবেদন শেষ ২৫ নভেম্বর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় রেলে চাকরি করতে ইচ্ছুক স্নাতক চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় সুযোগ। স্টেশন মাস্টার পদে মোট ১,২৬৫টি শূন্যপদে নিয়োগের ঘোষণা করা হয়েছে। সেন্ট্রালাইজড এমপ্লয়মেন্ট নোটিফিকেশন (CEN) নম্বর ০৮/২০২৬-এর অধীনে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। প্রকাশিত নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন ২০২৬ সালের ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত। দেশের বিভিন্ন রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের (RRB) অধীনে এই নিয়োগ করা হবে। রেলে স্থায়ী চাকরির সুযোগ খুঁজছেন, এমন প্রার্থীদের জন্য এই নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে আবেদন করার আগে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া সমস্ত শর্ত ও যোগ্যতার মাপকাঠি ভালো করে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    কোন আরআরবি-তে কত শূন্যপদ?

    প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ডে স্টেশন মাস্টার পদের শূন্যপদের সংখ্যা নিম্নরূপ—
    – আরআরবি মুম্বই: ১৭৭টি পদ
    – আরআরবি জম্মু-শ্রীনগর: ১২২টি পদ
    – আরআরবি চেন্নাই: ১১৯টি পদ
    সব মিলিয়ে এই নিয়োগ অভিযানে মোট ১,২৬৫টি শূন্যপদ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    কারা আবেদন করতে পারবেন?

    স্টেশন মাস্টার পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের স্নাতক হতে হবে। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি বয়সসীমা, সংরক্ষণ সংক্রান্ত নিয়ম এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। এই সমস্ত বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খতিয়ে দেখা জরুরি। নিয়োগের নির্বাচন পদ্ধতি, পরীক্ষার ধরন এবং অন্যান্য শর্ত সম্পর্কেও বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে।

    কীভাবে করবেন আবেদন?

    আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন সংক্রান্ত তথ্য এবং বিজ্ঞপ্তি দেখতে নিচের ওয়েবসাইটগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে—
    – সরকারি আরআরবি ওয়েবসাইট: rrb.indianrailways.gov.in
    – অনলাইন আবেদন পোর্টাল: rrbapply.gov.in
    – নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি: CEN 08/2026-এর স্টেশন মাস্টার নিয়োগ

    আবেদনের পদ্ধতি অনলাইন

    অনলাইনে আবেদন করার আগে সরকারি বিজ্ঞপ্তি থেকে শূন্যপদের সংখ্যা, বয়সসীমা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পরীক্ষার পদ্ধতি এবং আবেদনের শেষ তারিখ যাচাই করে নিন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত সমস্ত শর্ত পূরণ করলেই আবেদন করা উচিত।

  • Supreme Court on Firecracker: দীপাবলিতে বাজি নিষিদ্ধ করতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট, উৎসবের আনন্দ বজায় রেখেই দূষণ নিয়ন্ত্রণের বার্তা

    Supreme Court on Firecracker: দীপাবলিতে বাজি নিষিদ্ধ করতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট, উৎসবের আনন্দ বজায় রেখেই দূষণ নিয়ন্ত্রণের বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীপাবলি এলেই দূষণের কথা মনে পড়ে! ক্রিসমাস, নববর্ষের সময়ও বাজি ফাটে, তখন এই উদ্বেগ কেন চোখে পড়ে না? দূষণ রোধ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ মানুষের উৎসব উদযাপনের অধিকার। একটা ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। দীপাবলিতে দিল্লি-এনসিআর এলাকায় বাজি পোড়ানোর উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির পক্ষে নয় সুপ্রিম কোর্ট। পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেও মানুষের উৎসব পালনের অধিকার ও আনন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, দূষণ রোধ করতে হবে ঠিকই, তবে তার জন্য উৎসবের আনন্দকে সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। তাই বাজি নিয়ে কোনও চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপের পক্ষেই মত আদালতের। দীপাবলি উদ্‌যাপনের সময় আমজনতাকে কম দূষণকারী বিকল্প গ্রহণ করার পরামর্শও দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

    বেআইনিভাবে বাজি বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, বিচারপতি এম এম সুন্দ্রেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চ এ বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। বেঞ্চটি মন্তব্য করে, “প্রতি বছরই আমরা এই বিষয়ে নির্দেশ জারি করি… কিন্তু আমাদের কাছে এটি এখন কেবল একটি ‘তাত্ত্বিক চর্চা’য় পরিণত হয়েছে। আমাদের নির্দেশগুলো মানার চেয়ে অমান্যই বেশি করা হয়।” আদালত আরও বলে, এখন সময় এসেছে “নতুন ও উদ্ভাবনী কিছু” করার। বাজি সংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়ে শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট জানায়, বেআইনিভাবে বাজি বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উপরেও জোর দেয় আদালত। প্রতি বছর একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে কতটা সুফল মিলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত। কারণ, বারবার নির্দেশ দেওয়া হলেও তার যথাযথ পালন হচ্ছে না। ফলে শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

    ভারতীয় ক্রিকেটার বিরাট কোহলির সহায়তা!

    দিল্লি-এনসিআরে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে দীপাবলিতে বাজি পোড়ানো থেকে মানুষকে বিরত রাখতে সচেতনতামূলক প্রচারে বিরাট কোহলির (Virat Kohli) মতো জনপ্রিয় ক্রিকেটারদের যুক্ত করার প্রস্তাব দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, রাজধানী অঞ্চলের বায়ুদূষণ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কেন্দ্র ও দিল্লির কর্তৃপক্ষকে এই পরামর্শ দেয় বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চ। আদালতের মতে, জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের মাধ্যমে মানুষের কাছে পরিবেশবান্ধব দীপাবলির বার্তা পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, উৎসবের সময় মানুষের উৎসাহ ও উদ্দীপনায় বাধা দিতে চায় না তারা। বর্তমান প্রজন্মও বাজি পোড়ানোর ফলে পরিবেশের ক্ষতি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন।

    দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপের প্রস্তাব

    সম্পূর্ণ বাজি নিষিদ্ধের বিষয়ে আপত্তি থাকলেও দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দিল্লি-এনসিআরের বায়ুদূষণের ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শুনানিতে দিল্লি সরকার দূষণ মোকাবিলায় একাধিক প্রস্তাবের কথা জানিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে বিএস-৬ নির্গমন মান পূরণ করে না, এমন পুরনো গাড়ির প্রবেশে বিধিনিষেধ, সরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্মগ গান ব্যবহারের মতো পদক্ষেপ। শীতের মরশুমে দিল্লির বাতাসের গুণমান ক্রমশ খারাপ হওয়ার বিষয়টিও আদালতের নজরে রয়েছে। একাধিক কারণে এই সময় দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। তাই শুধু বাজির উপর বিধিনিষেধ আরোপ না করে সামগ্রিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে শুনানিতে।

    বাজির ধোঁয়ায় স্বাস্থ্যের ঝুঁকি, উদ্বেগ আদালতের

    শুনানিতে আদালত নিযুক্ত অ্যামিকাস কিউরিয়েও বাজির ধোঁয়া থেকে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। বিশেষ করে পিএম২.৫-এর মতো সূক্ষ্ম দূষিত কণার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করা হয়। জানানো হয়, এই অতি সূক্ষ্ম কণাগুলি শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে পারে। এর ফলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে এই দূষিত কণাগুলি। এমনকী, পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন ক্র্যাকারও সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত নয় বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। সাধারণ বাজির তুলনায় এগুলি কম দূষণ ছড়ালেও বায়ুদূষণে এর প্রভাব থেকে যায়।

    শুধু দীপাবলিতেই কেন দূষণ নিয়ে এত বিতর্ক?

    সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণের পর নতুন করে সামনে এসেছে উৎসব ও পরিবেশ দূষণ নিয়ে বিতর্ক। প্রতি বছর দীপাবলি এলেই বাজি পোড়ানো এবং বায়ুদূষণ নিয়ে সংবাদমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। বাজি নিষিদ্ধ করার দাবিও ওঠে। পরিবেশ দূষণ যে একটি বাস্তব সমস্যা এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। তবে প্রশ্ন উঠছে, অন্যান্য উৎসব বা উদযাপনের ক্ষেত্রেও কি একইভাবে দূষণ নিয়ে আলোচনা ও সচেতনতা দেখা যায়? দেশের বিভিন্ন জায়গায় বর্ষবরণ কিংবা বড়দিনের উদযাপনেও আতশবাজি ব্যবহার করা হয়। সেক্ষেত্রেও কি একই ধরনের পরিবেশগত পর্যালোচনা হওয়া উচিত নয়?

    পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব সবার

    পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব কোনও নির্দিষ্ট উৎসব বা সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। দূষণের মাত্রা, নির্গমনের পরিমাণ, নিয়ম মেনে চলা এবং প্রশাসনিক নজরদারি—সব ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দীপাবলির মতো ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে প্রতি বছর দূষণের একমাত্র কারণ হিসেবে তুলে না ধরে, সমস্ত উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিবেশবিধি মেনে চলার উপর জোর দেওয়া উচিত বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের। বাজির ব্যবহার কমানো, পরিবেশবান্ধব বিকল্প বেছে নেওয়া এবং সচেতনভাবে উৎসব পালনের উদ্যোগকে উৎসাহিত করার প্রয়োজনীয়তাও উঠে আসছে।

     

     

     

     

     

  • Kolkata Police Recruitment: কলকাতা পুলিশে ৫,৮৯৩ পদে নিয়োগে রাজ্যের অনুমোদন, শীঘ্রই প্রকাশিত হতে পারে বিজ্ঞপ্তি

    Kolkata Police Recruitment: কলকাতা পুলিশে ৫,৮৯৩ পদে নিয়োগে রাজ্যের অনুমোদন, শীঘ্রই প্রকাশিত হতে পারে বিজ্ঞপ্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা পুলিশে (Kolkata Police Recruitment) একসঙ্গে প্রায় ৫,৯০০ শূন্যপদে নিয়োগের প্রশাসনিক অনুমোদন দিল রাজ্য সরকার (West Bengal Govt)। দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা থাকা মোট ৫,৮৯৩টি পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করার সবুজ সংকেত মিলেছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের (WBPRB) মাধ্যমে সম্পূর্ণ মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এই নিয়োগ সম্পন্ন হবে। নবান্ন সূত্রে খবর, গত ২৭ অক্টোবর এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, কলকাতা পুলিশের প্রশাসনিক কাজকর্ম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর একাধিক পদে নিয়োগের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। সেই প্রস্তাব পর্যালোচনার পর অর্থ দফতর এবং রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়ায় নিয়োগের ক্ষেত্রে আর কোনও প্রশাসনিক বাধা রইল না।

    কোন কোন পদে নিয়োগ

    অনুমোদিত শূন্যপদগুলির মধ্যে রয়েছে ৬৪৮টি সার্জেন্ট এবং ৪২৫টি সাব-ইনস্পেক্টর পদ। সাব-ইনস্পেক্টর পদগুলির মধ্যে ৭০টি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। পাশাপাশি ৪,৩১৯টি কনস্টেবল পদেও নিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে মহিলা প্রার্থীদের জন্য রয়েছে ৪৩০টি পদ। তবে কবে থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি কবে প্রকাশিত হবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানানো হয়নি। নির্দেশিকায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর কর্মসংস্থান ও সরকারি নিয়োগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে নতুন সরকার। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া ফের চালু করা—একাধিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছে প্রশাসন। এর আগে বিভিন্ন সরকারি দফতরে ১৪ হাজার ৪৫৪টি পদে নিয়োগের প্রস্তাবেও মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিলেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় কলকাতা পুলিশের এই নিয়োগকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এক লক্ষ সরকারি চাকরি

    কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারি চাকরি নিয়ে রাজ্যের যুবক-যুবতীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে নিয়োগে অনিয়ম এবং ওবিসি তালিকা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বহু নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই আইনি ও প্রশাসনিক সমস্যা কাটিয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ইতিমধ্যেই ১২ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (PSC) দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা পরীক্ষাগুলিও ফের চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও আশ্বাস দিয়েছেন, চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই ধাপে ধাপে এক লক্ষ সরকারি চাকরি দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হবে। যোগ্য প্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

LinkedIn
Share