Author: ishika-banerjee

  • Commonwealth Games 2026: লভপ্রীতের রুপো, সীমার ব্রোঞ্জ! পাকিস্তানের আরশাদ নাদিমকে পিছনে ফেলে জ্যাভলিন ফাইনালে নীরজ-সহ ভারতের ৩

    Commonwealth Games 2026: লভপ্রীতের রুপো, সীমার ব্রোঞ্জ! পাকিস্তানের আরশাদ নাদিমকে পিছনে ফেলে জ্যাভলিন ফাইনালে নীরজ-সহ ভারতের ৩

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্লাসগোয় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এর অষ্টম দিনে বৃহস্পতিবার ভারতের ঝুলিতে যোগ হল আরও দুটি পদক। পুরুষদের ১১০ প্লাস কেজি ভারোত্তোলন ইভেন্টে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে লভপ্রীত সিং রৌপ্য পদক জয় করেছেন। অন্যদিকে, মহিলাদের ডিসকাস থ্রো-তে সীমা কালিরামনা ব্রোঞ্জ পদক জিতে ভারতের সাফল্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। এদিকে, কমনওয়েলথ গেমসের (Commonwealth Games 2026) জ্যাভলিন ইভেন্টের ফাইনালে উঠে গেলেন নীরজ চোপড়া (Neeraj Chopra)। তিনটি থ্রোয়ের পর পাঁচ নম্বরে শেষ করলেন তিনি। আরও দুই ভারতীয়, রোহিত যাদব এবং যশবীর সিংও ফাইনালে উঠেছেন। তাঁরা শেষ করেছেন যথাক্রমে নবম এবং দশম স্থানে। জ্যাভলিন ইভেন্টের ফাইনালে ভারতের ৩ প্রতিযোগী জায়গা করে নেওয়ায় পদক জয়ের সম্ভাবনা বাড়ল।

    ভারোত্তোলনে ভারতের দাপট

    ভারোত্তোলনে ভারতের দাপট চলছেই। বৃহস্পতিবার, পুরুষদের ১১০ কেজি বিভাগে রুপোর পদক জিতলেন লভপ্রীত সিং। প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে তিনি মোট ৩৮৮ কেজি (স্ন্যাচে ১৭৬ কেজি + ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ২১২ কেজি) ওজন তোলেন। লভপ্রীত স্ন্যাচ রাউন্ডে ১৭৬ কেজি ওজন তুলে কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে নতুন স্ন্যাচ রেকর্ড গড়েন। নিউজিল্যান্ডের ডেভিড লিটি (David Liti) মোট ৩৮৯ কেজি তুলে মাত্র ১ কেজির ব্যবধানে সোনা জেতায় লভপ্রীতকে রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। এর আগে ২০২২ বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে লভপ্রীত ১০৯ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন। এবার তিনি নিজের পদকের রঙ বদলে রুপো করলেন।

    নারীশক্তির জয়

    বৃহস্পতিবার মহিলাদের ডিসকাস থ্রো ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশের ঝুলিতে আরও একটি সাফল্য যোগ করলেন সীমা কালিরামনা। তাঁর সেরা নিক্ষেপ ছিল ৫৮.৬৫ মিটার। প্রতিযোগিতার শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি সীমার। প্রথম প্রচেষ্টায় তিনি ফাউল করেন। তবে দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ৫৭.৩২ মিটার ছুড়ে পদকের লড়াইয়ে ফিরে আসেন। তৃতীয় প্রচেষ্টায় ৫৮.৬৫ মিটার নিক্ষেপ করে তিনি ব্রোঞ্জ পদকের জায়গা কার্যত নিশ্চিত করে ফেলেন। ২০২৫ সালের জাতীয় গেমসে সোনা জয়ের পর জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাও পুনরুদ্ধার করেন। ক্রীড়াজীবনের পাশাপাশি তিনি বর্তমানে পিএইচডি-ও করছেন। আবার সন্তানও সামলাচ্ছেন। নিজের সাফল্যের পিছনে পরিবার এবং সহায়তাকারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা একাধিকবার উল্লেখ করেছেন সীমা।

    ভারতের পদক সংখ্যা

    সীমা ও লভপ্রীতের দুই পদক নিয়ে কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের মোট পদকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭। এর মধ্যে রয়েছে ৩টি সোনা, ১০টি রুপো এবং ৪টি ব্রোঞ্জ। বর্তমানে পদক তালিকায় ভারত ১০ম স্থানে রয়েছে। এছাড়া পুরুষদের ডেকাথলনে তেজস্বিন শঙ্কর নিজের সেরা ইভেন্ট হাই জাম্পে ২.১৫ মিটার টপকে ৯৪৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন। পাঁচটি ইভেন্ট শেষে তাঁর মোট পয়েন্ট ৪,৩৩৯। তিনি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন এবং শীর্ষে থাকা কানাডার ড্যামিয়ান ওয়ার্নারের থেকে মাত্র ১৪ পয়েন্ট পিছিয়ে। ফলে ডেকাথলনেও ভারতের পদকের সম্ভাবনা যথেষ্ট উজ্জ্বল।

    পদকের দৌড়ে নীরজ

    গতবার বার্মিংহ্যাম কমনওয়েলথে চোটের জন্য অংশ নেননি ভারতের সোনার ছেলে। তিনি সোনা জিতেছিলেন ২০১৮ গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথে। দ্বিতীয়বার সোনার পদক জেতার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামার আগে নীরজ জানিয়ে দিলেন, তিনি সাফল্য পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তবে এদিন ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের কড়া চ্যালেঞ্জের থেকে প্রতিকূল আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে হল। বলা ভালো, এলোমেলো হাওয়া যে কোনও থ্রোয়ারের জন্যই পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছিল। উল্লেখ্য, কোয়ালিফায়ারে অংশ নিয়েছিলেন ১৮ অ্যাথলিট। তাঁদের মধ্যে ১২ জন শুক্রবার গভীর রাতে ফাইনাল যুদ্ধে নামবেন। কমনওয়েলথ গেমস ও এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছেন নীরজ। সুইৎজারল্যান্ডে ৪৭ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন।

  • Iran US War: ইরানে ৪০০ এয়ার ডিফেন্স ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার পাঠাচ্ছে চিন! হতাশার সুর ট্রাম্পের, অস্বীকার করল বেজিং

    Iran US War: ইরানে ৪০০ এয়ার ডিফেন্স ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার পাঠাচ্ছে চিন! হতাশার সুর ট্রাম্পের, অস্বীকার করল বেজিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধের আবহে ইরানকে শক্তিশালী করতে পাকিস্তানের মাধ্যমে চিনের তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য প্রায় ৪০০টি এয়ার ডিফেন্স ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার (MANPADS) পাঠানো হতে পারে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে চিন। একইভাবে পাকিস্তানও এই প্রতিবেদন অস্বীকার করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পাকিস্তান হয়ে ইরানের কাছে প্রথম চালান পৌঁছতে পারে। চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আওতায় চিনের তৈরি ৩০০ থেকে ৪০০টি ম্যান-পোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (MANPADS) কেনার কথা রয়েছে।

    প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইরানের উদ্যোগ

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তিটি হংকং-ভিত্তিক এক মধ্যস্থতাকারী সংস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। যদি এই সরবরাহ বাস্তবায়িত হয়, তবে তা ইরানের স্বল্প-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পর নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটিকে ইরানের অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে, পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে ইসলামাবাদ নিজেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরলেও, অন্যদিকে পাকিস্তান ইরানকে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের মে মাসে এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছিল যে, মার্কিন হামলা থেকে রক্ষা করতে পাকিস্তান তাদের বিমানঘাঁটিতে ইরানের সামরিক বিমান রাখার অনুমতি দিয়েছিল। তবে চিনের বিদেশ মন্ত্রক এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, “সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চিন সবসময় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংঘাতের অবসানে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে।”

    ট্রাম্পের হতাশার সুর

    ইরানের কাছে চিনের অস্ত্র সরবরাহের সম্ভাব্য খবর নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যদি চিন সত্যিই ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে তিনি অত্যন্ত হতাশ হবেন। এক সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে বেজিং এই সংঘাতে জড়াবে না। ট্রাম্পের কথায়, “তিনি (শি জিনপিং) খুব দৃঢ়ভাবে আমাকে বলেছেন যে তাঁরা এতে অংশ নেবেন না। যদি তাঁরা তা করেন, তাহলে আমি অবশ্যই হতাশ হব। তিনি সম্ভবত ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসছেন।” এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, শি জিনপিং তাঁকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন যে চিন তেহরানে অস্ত্র পাঠাচ্ছে না। একই সঙ্গে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানকে অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলির ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

  • Brazil India Tour: প্রতিপক্ষ ভারত! পুজোর আগেই শহরে সাম্বার ঝলক, অক্টোবরে কলকাতায় খেলবে ব্রাজিল

    Brazil India Tour: প্রতিপক্ষ ভারত! পুজোর আগেই শহরে সাম্বার ঝলক, অক্টোবরে কলকাতায় খেলবে ব্রাজিল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর আগেই সাম্বার ছন্দে মাতবে কলকাতা। শারদীয়ার মরশুমে ভারতে প্রীতি ম্যাচ খেলতে আসছে ব্রাজিল। একাধিক ব্রাজিলিয়ান মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, আসন্ন ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে আগামী ৩ অক্টোবর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে ৫ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ কে হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারতের নাম উঠে আসছে। তবে, আরেকটি সূত্রের খবর, বিএফএ প্রাথমিকভাবে মিশরকে চাইছে। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি।

    কেন ভারতে ব্রাজিলের ম্যাচ

    ইএসপিএন ব্রাজিলের এক প্রতিবেদনে আগেই উল্লেখ করা হয়েছে বিশ্বকাপের পরে প্রথম আন্তর্জাতিক সূচি চূড়ান্ত করেছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (CBF)। জানা গিয়েছে, সেই সূচিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দু’টি প্রীতি ম্যাচ খেলবেন ভিনিসিয়াসরা। পাশাপাশি ভারতে আরও একটি ম্যাচ হবে। কলকাতাতেই হবে সেই ম্যাচ। ইএসপিএন ব্রাজিল (ESPN Brasil)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর টাউন্সভিল এবং ২৯ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত দুটি ম্যাচের পাশাপাশি সিবিএফ (ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন) অক্টোবরের শুরুর দিকে ভারতে তৃতীয় ম্যাচ খেলবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালীনই সিবিএফ এবং আয়োজকদের মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। এর মূল কারণ ছিল টুর্নামেন্ট চলাকালে এই অঞ্চলে ব্রাজিলের প্রতি ব্যাপক সমর্থন। প্রতিযোগিতা চলাকালীন সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজার হাজার ভক্তকে ব্রাজিলের জার্সি পরিহিত অবস্থায় দেখা গিয়েছিল। চুক্তিটি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরিত হওয়ার আগে এখন কেবল শেষ কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে।

    ফের নজরে কলকাতা

    বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবল দল ব্রাজিলকে কলকাতায় খেলতে দেখার সুযোগ পেলে তা ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম বড় ঘটনা হয়ে উঠতে পারে। ম্যাচটি চূড়ান্ত হলে কলকাতা আবারও আন্তর্জাতিক ফুটবলের এক ঐতিহাসিক সন্ধ্যার সাক্ষী হতে পারে। প্রসঙ্গত আর্জেন্টিনার জার্সিতে অধিনায়ক লিয়োনেল মেসির অভিষেক হয়েছিল কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। তবে গত বছরের ডিসেম্বরে কলকাতায় মেসি আসার পর বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল। তার পর আবার আরও একটি বড় ইভেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব পেতে পারে কলকাতা। তাই গোটা দেশের ফুটবল মহলের নজর এখন কলকাতার দিকে।

     

     

     

  • Meta To PM Modi Post: ভিআইপি অ্যাকাউন্টের জন্য কড়া সুরক্ষা ব্যবস্থা! প্রধানমন্ত্রী মোদির ফেসবুক পোস্ট সরানো নিয়ে ব্যাখ্যা মেটার

    Meta To PM Modi Post: ভিআইপি অ্যাকাউন্টের জন্য কড়া সুরক্ষা ব্যবস্থা! প্রধানমন্ত্রী মোদির ফেসবুক পোস্ট সরানো নিয়ে ব্যাখ্যা মেটার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Meta To PM Modi Post) ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সুরক্ষায় এবার বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলল মেটা। কেন্দ্রের একটি সূত্রের দাবি, মেটা কর্তৃপক্ষের তরফে এই বিষয়ে চিঠি দিয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ওই সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী মোদি-সহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট দেখভালের ক্ষেত্রে আরও যত্নবান হওয়ার কথা জানিয়েছে মেটা। এই ধরনের ব্যক্তিদের পোস্ট শুধু মেটার উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরাই খতিয়ে দেখবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যাও দিয়েছে মেটা। সংস্থার দাবি, এটি একটি “প্রযুক্তিগত ত্রুটি” (Technical Glitch)-র কারণে ঘটেছিল।

    কঠোর পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চালু

    ভারত সরকারকে পাঠানো চিঠিতে মেটা জানিয়েছে, ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Facebook Post), কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ পদাধিকারী এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জননেতাদের অ্যাকাউন্টে পোস্ট সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও কঠোর পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় প্রধানমন্ত্রী-সহ নির্বাচিত উচ্চ-প্রোফাইল অ্যাকাউন্টগুলির কোনও পোস্ট সরানো বা তার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের আগে একাধিক স্তরে পর্যালোচনা করা হবে। মেটার দাবি, এর ফলে ভুলবশত কোনও কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

    মেটার ব্যাখ্যায় খুশি ছিল না কেন্দ্র

    খোদ প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা ফেসবুক থেকে মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল মেটা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ফেসবুকের নিয়ন্ত্রক এই সংস্থা ভুল স্বীকার করলেও তাদের বক্তব্য সন্তুষ্ট হয়নি কেন্দ্র। এর আগে ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) মেটার প্রাথমিক ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে সেটিকে “অপর্যাপ্ত” বলে মন্তব্য করেছিল। বিষয়টি নিয়ে সরকারের তরফে মেটার এক শীর্ষ আধিকারিককেও তলব করা হয়েছিল। সরকারের আপত্তির পর মেটা জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে তাদের কনটেন্ট মডারেশন প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এখন থেকে এই ধরনের অ্যাকাউন্টের পোস্টের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার আগে একাধিক উচ্চ আধিকারিকের পর্যালোচনা বাধ্যতামূলক হবে। সংস্থা আরও জানিয়েছে, ঘটনার একটি অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন (Internal Assessment) করা হয়েছে, যেখানে কীভাবে এই ভুল ঘটেছিল এবং ভবিষ্যতে তা এড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তার বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।

    আরও সতর্ক থাকবে মেটা

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত যে কোনও মডারেশন সিদ্ধান্ত মেটা-র অন্তত দু’জন উচ্চ আধিকারিকের অনুমোদন ছাড়া কার্যকর করা যাবে না। সংস্থার দাবি, এই অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি কমাবে এবং সংবেদনশীল অ্যাকাউন্টগুলির ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা নিশ্চিত করবে। যদিও মেটার নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে শীঘ্রই এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান প্রকাশ পেতে পারে। কেন্দ্রের সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষে মেটা-র একটি প্রতিনিধিদল সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করবে। সেখানে এই বিষয়টি নিয়ে সবিস্তার আলোচনা হতে পারে।

    কেন সরানো হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট?

    নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ছাত্রবিক্ষোভের মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই রাতে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছিলেন, প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনছে সরকার। ২৮ জুলাই ভোরে ফেসবুক থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে মেটা সেটি পুনরুদ্ধার করে জানায়, এটি একটি অনিচ্ছাকৃত প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল। এই ঘটনার জন্য মঙ্গলবার ক্ষমা চায় ফেসবুকের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেটা। একটি বিবৃতি দিয়ে মেটা-র এক মুখপাত্র জানান, ভুল করে ওই ভিডিওটি মুছে গিয়েছিল। তার পর সেটিকে ফেরানো হয় বলে জানান তিনি। মেটা-র তরফে যান্ত্রিক গোলযোগের কথাও বলা হয়। মেটা-র এই ব্যাখ্যায় অবশ্য সন্তুষ্ট হয়নি কেন্দ্র। সরকারের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানায়, বিষয়টি এখনই মিটে যাওয়ার লক্ষণ নেই। এই ঘটনার জন্য মেটা যে যুক্তি দিয়েছে, তাকে যুক্তিযুক্ত মনে করছে না সরকার। পোস্টটি মুছে দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর ওই ভিডিও বার্তার ক্যাপশনটি অবিকল থাকলেও ভিডিওর অংশে লেখা ছিল, “আইনি অনুরোধের কারণে এই পোস্টটি ভারতে পাওয়া যাচ্ছে না।”

    বিজেপি নেতাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া

    জনপ্রিয় সমাজমাধ্যম ফেসবুক, হোয়াট্‌সঅ্যাপ এবং ইনস্টাগ্রাম মেটা-র নিয়ন্ত্রণাধীন। এই তিনটি সমাজমাধ্যমের সঙ্গে কেন্দ্রের সম্পর্কে প্রায়ই টানাপড়েন দেখা যায়। সম্প্রতি ‘ইউজ়ারনেমস’ ফিচার নিয়ে কেন্দ্রের আতশকাচের তলায় এসেছিল হোয়াট্‌সঅ্যাপ। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র বিক্ষোভ-আন্দোলনেও সমাজমাধ্যমের বড় ভূমিকা ছিল। ছাত্রদের বিক্ষোভ উঠে যাওয়ার পর সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ‘আপত্তিকর’ ছবি, ভিডিও শনাক্ত করে কেন্দ্র। সেগুলি ফেসবুক-সহ অন্য সমাজমাধ্যম থেকে সরিয়ে দিতে বলা হয়। সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট ‘মুছে দেওয়ার’ ঘটনা। ঘটনার পর বিজেপি নেতাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিজেপি নেতা তাজিন্দর বাগ্গা এক্স-এ পোস্ট করে অভিযোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী মোদির কাগজ ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান সম্পর্কিত পোস্ট ভারতের দর্শকদের কাছ থেকে আড়াল করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী কী পড়বেন বা ভারতীয়রা কী দেখবেন, তা নির্ধারণ করার অধিকার একটি বিদেশি প্ল্যাটফর্মকে কে দিয়েছে?” উল্লেখ্য, পোস্টটি ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ ভিউ অর্জন করেছিল। ফলে সাময়িকভাবে সেটি সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে পোস্টটি পুনরায় দৃশ্যমান করা হলে মেটা সেটিকে প্রযুক্তিগত ভুল বলেই ব্যাখ্যা করে।

     

  • Kanya Ratna and Sarathi: কন্যাশ্রী ‘কন্যারত্ন’, সবুজ সাথী ‘সারথি’! বদলাচ্ছে রাজ্যের সামাজিক প্রকল্পের নাম, নবান্নে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Kanya Ratna and Sarathi: কন্যাশ্রী ‘কন্যারত্ন’, সবুজ সাথী ‘সারথি’! বদলাচ্ছে রাজ্যের সামাজিক প্রকল্পের নাম, নবান্নে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় নতুন সরকারের আমলে লক্ষ্মীর ভান্ডার হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana)। বেড়েছে বরাদ্দ। অন্যদিকে, যুবসাথী হয়েছে যুবশক্তি। এবার সেই তালিকায় জুড়ল আরও দু’টি নাম। কন্যাশ্রী (Kanyashree) ও সবুজসাথী (Sabujsathi) প্রকল্প। তৃণমূল সরকারের আমলের এই দু’টি প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করা হল। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে প্রকল্পের নতুন নাম ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। নারীকল্যাণ ও বাল্যবিবাহ রোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করা ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের নতুন নামকরণ করা হচ্ছে ‘কন্যারত্ন’। অন্য দিকে, স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে বাইসাইকেল বণ্টনের বহুল পরিচিত প্রকল্প ‘সবুজ সাথী’-র নাম বদলে রাখা হচ্ছে ‘সারথি’।

    পালিত হবে ‘কন্যারত্ন দিবস’

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে চালু হওয়া দু’টি জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। বুধবার নবান্নে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করা হলেও এর মৌলিক সুযোগ-সুবিধা কিংবা আর্থিক সহায়তার কাঠামোয় কোনও প্রকার বদল আসবে না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রতি বছর ১৪ অগস্ট রাজ্য জুড়ে যে ভাবে ‘কন্যাশ্রী দিবস’ উদ্‌যাপন করা হত, সেই ধারা আগামী দিনেও বজায় থাকবে। তবে এ বার থেকে তা নতুন পরিচয় নিয়ে ‘কন্যারত্ন দিবস’ হিসেবে পালিত হবে।”

    কন্যাশ্রী থেকে কন্যারত্ন

    ২০১৩ সালে কন্যাশ্রী প্রকল্প চালু করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আন্তর্জাতিক মঞ্চেও এই প্রকল্প প্রশংসিত হয়েছিল। এই প্রকল্পে ছাত্রীদের এককালীন ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। মূলত এই প্রকল্পের লক্ষ্য় হল ছাত্রীদের স্কুলছুট আটকানো, বাল্যবিবাহ রোধ ও ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান। প্রকল্পের ২৫ হাজার টাকা মূলত তিন ধাপে দেওয়া হত। প্রথমে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি ছাত্রীদের প্রতি বছর এক হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া। এরপর পরের ধাপে অবিবাহি ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া ছাত্রীকে এককালীন ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। এছাড়া, বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের স্নাতকোত্তর ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়।

    সবুজ সাথী হল সারথি

    সবুজ সাথী প্রকল্পে ছাত্র-ছাত্রীদের দেওয়া হত সাইকেল। বিনামূল্যেই সাইকেল বিতরণ করত বিগত সরকার। নতুন সরকারও একইভাবে সাইকেল বিতরণ করবে। শুধু নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে ‘সারথি’। উল্লেখ্য, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরই শুভেন্দু অধিকারীর সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে চালু থাকা কোনও জনকল্যাণমুখী প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না ৷ প্রতিশ্রুতি মতোই সব প্রকল্প চালু রাখা হচ্ছে। উল্টে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। শুধু বদলে দেওয়া হচ্ছে বিগত সরকারের দেওয়া প্রকল্পের নাম।

  • Commonwealth Games 2026: কমনওয়েলথে নজির দিলীপের, একদিনেই ভারতের ঝুলিতে সোনা-রুপো সহ একাধিক পদক

    Commonwealth Games 2026: কমনওয়েলথে নজির দিলীপের, একদিনেই ভারতের ঝুলিতে সোনা-রুপো সহ একাধিক পদক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games 2026) ভারতের বিজয়রথ এগিয়ে চলেছে। বুধবার, চলতি গেমসের তৃতীয় সোনা এল ভারতের ঝুলিতে। প্যারা অ্যাথলেটিক্সে নজির গড়ে সোনা জিতলেন দিলীপ মহাদু গাভিত। মহম্মদ বাসিল রুপোর পদক জিতলেন। অন্যদিকে, লং জাম্পে মুরলি শ্রীশঙ্কর টানা দ্বিতীয় কমনওয়েলথ গেমসে রুপোর পদক জিতেছেন। এখানেই শেষ নয়, কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় বক্সারেরা বুধবার পাঁচটি পদক নিশ্চিত করলেন। সব মিলিয়ে বক্সিংয়ে ভারতের ন’টি পদক নিশ্চিত হল। বুধবার বক্সিংয়ের পাঁচটি কোয়ার্টার ফাইনালেই জয় পেলেন ভারতীয়েরা। পদকজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    গাভিত ও বাসিলের ঐতিহাসিক সাফল্য

    বুধবার প্যারা অ্যাথলেটিক্সে ভারতের অন্যতম সেরা সাফল্য আসে। পুরুষদের ১০০ মিটার টি৪৭ বিভাগে দিলীপ মহাদু গাভিত সোনা জিতে নিয়েছেন। আবার তাঁরই সতীর্থ মহম্মদ বাসিল মোরসিংগানাকাথ রুপোর পদক জিতে ভারতের ঐতিহাসিক ১-২ ফিনিশ নিশ্চিত করেন। গাভিত ১০.৭১ সেকেন্ড সময় নিয়ে নতুন কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ড গড়েন। একইসঙ্গে এটি ছিল তাঁর মরসুমের সেরা পারফরম্যান্স। অন্যদিকে বাসিল ১০.৮৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে নিজের মরসুমের সেরা টাইমিং করে রুপো জেতেন। এই সোনার পদকের মাধ্যমে গ্লাসগো গেমসে ভারতের তৃতীয় সোনা এল। এর আগে মহিলাদের ৪৮ কেজি ভারোত্তোলনে মীরাবাই চানু এবং মহিলাদের এফ৫৭ শট পুটে শর্মিলা ধানকর সোনা জিতেছিলেন।

    গুরু পূর্মিমায় কোচকে পদক উৎসর্গ গাভিতের

    গুরু পূর্ণিমার দিন নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য কোচকে উৎসর্গ করলেন ভারতের প্যারা স্প্রিন্টার দিলীপ মাহাদু গাভিত। কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ পুরুষদের টি৪৭ বিভাগের ১০০ মিটার দৌড়ে সোনা জয়ের পর তিনি এই পদক তাঁর কোচ বৈজনাথ কালের হাতে উৎসর্গ করেন। গ্রামের খামারে কাজ করার সময় তাঁর প্রতিভা চিনে নিয়ে যিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছেন, সেই গুরুকেই কৃতজ্ঞতা জানালেন গাভিত। সোনা জয়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় দিলীপ বলেন, “শুরুরটা একটু ধীর ছিল। পরে গতি বাড়াতে পেরেছি। আগামীবার আরও ভালো করব। সাধারণত আমি ৪০০ মিটার দৌড়াই, সেটাই আমার মূল ইভেন্ট। কিন্তু এখানে শুধু ১০০ মিটার দৌড়ানোর সুযোগ ছিল এবং আমি দারুণ উপভোগ করেছি। আমি নাসিকের তোরণ ডোঙ্গারি গ্রামের ছেলে। আগে গ্রামের খামারে কাজ করতাম। তখনই আমার স্যার বৈজনাথ কালে আমাকে দৌড়তে দেখে নাসিকে প্রশিক্ষণের জন্য ডাকেন। তিনি বলেছিলেন, সমস্ত খরচ তিনিই বহন করবেন। আজ গুরু পূর্ণিমা, তাই এই পদক আমার গুরুকে উৎসর্গ করলাম।”

    গুরু-শিষ্যের প্রেরণার সম্পর্ক

    মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার তোরণ ডোঙ্গারি গ্রামের অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে জন্ম দিলীপের। পাঁচ সদস্যের আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারে বড় হওয়া এই অ্যাথলিটের আন্তর্জাতিক ক্রীড়াজগতে পৌঁছনোর স্বপ্ন একসময় ছিল অনেক দূরের। কিন্তু কোচ বৈজনাথ কালের নজরে পড়ার পরই বদলে যায় তাঁর জীবন। প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে সমস্ত খরচের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন কালে। ডান হাতের কনুইয়ের নীচের অংশ হারিয়েও নিজের লড়াই থামাননি দিলীপ। সুরগানা তহসিলের শহিদ ভগৎ সিং স্কুলে পড়াশোনা করার পর সম্পূর্ণভাবে অ্যাথলেটিক্সে মনোনিবেশ করেন তিনি। বর্তমানে অলিম্পিক গোল্ড কোয়েস্টের সহায়তায় ভারতের অন্যতম সফল প্যারা স্প্রিন্টার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দিলীপের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কোচ বৈজনাথ কালে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল রেকর্ড গড়া। আবহাওয়ার কারণে শুরুটা পরিকল্পনামতো হয়নি। কিন্তু ঠিক কৌশল মেনে প্রথম ৫০ মিটারের পর দিলীপ দুর্দান্তভাবে গতি বাড়ায়। আসলে ওর মূল ইভেন্ট ৪০০ মিটার। দুর্ভাগ্যবশত, কমনওয়েলথ গেমসে ৪০০ মিটার ছিল না। তাই আমরা ১০০ মিটারে নামার সিদ্ধান্ত নিই। সেই ইভেন্টেই যোগ্যতা অর্জন করে শেষ পর্যন্ত সোনা জিতে নিল।” গুরু পূর্ণিমার দিনে শিষ্যের এই সাফল্য শুধু ভারতের পদক তালিকায় আর একটি সোনা যোগ করেনি, বরং একজন কোচ ও তাঁর ছাত্রের অনন্য সম্পর্কের এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্তও তুলে ধরেছে।

    ভারতীয় বক্সারদের দাপট

    পুরুষ এবং মহিলা বিভাগ মিলিয়ে মোট ১৪ জন বক্সারের দল পাঠিয়েছে ভারত। চার জন হেরে গিয়েছেন কোয়ার্টার ফাইনাল বা তার আগেই। নিজেদের বিভাগের শেষ চারে পৌঁছে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছেন অঙ্কুশ যাদব, সাক্ষী চৌধরী, অরুন্ধতী চৌধরী, সচিন সিওয়াচ এবং নরেন্দ্র বেরওয়াল। পুরুষদের ৮০ কেজি বিভাগে অঙ্কুশ ৫-০ ব্যবধানে হারিয়েছেন সেশেলসের জেড মিকককে। সেমিফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ কানাডার জোসুয়া ওফোরি। সচিন ৬০ কেজি বিভাগের সেমিফাইনালে পৌঁছেছেন বতসোয়ানার ট্রেসর মোরেমিকে। সচিনের পক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ফল ৫-০। শেষ চারের লড়াইয়ে তাঁর প্রতিপক্ষ ওয়েলসের হ্যারিস অ্যালান। নরেন্দ্র ৯০+ কেজি বিভাগের কোয়ার্টার ফাইনালে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছেন সামোয়ার মাইকেল সেকোকে। সেমিফাইনালে তাঁকে লড়াই করতে হবে ত্রিনিদাদ এবং টোবাগোর নিগেল পলের বিরুদ্ধে।

    নারীশক্তির প্রভাব

    মহিলাদের ৫১ কেজি বিভাগের সেমিফাইনালে উঠেছেন সাক্ষী। তিনি ৫-০ ব্যবধানে হারিয়েছেন নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ক্যাটলিন ফ্রায়ার্সকে। সেমিফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ কানাডার জেন ওয়াল। অরুন্ধতী জয় পেয়েছেন মহিলাদের ৭০ কেজি বিভাগে। তিনি কোয়ার্টার ফাইনালে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের মরগ্যান হেন্ডারসনকে। সেমিফাইনালে তাঁর লড়াই ওয়েলসের রোজি একসেলের সঙ্গে। সেমিফাইনালে উঠে আগেই পদক নিশ্চিত করেছেন আরও চার জন। তাঁরা হলেন লভলীনা বরগোহাঁই (৭৫ কেজি), প্রিয়া ঘাংহাস (৬০ কেজি), প্রীতি পাওয়ার (৫৪ কেজি) এবং যদুমণি সিং (৫৫ কেজি)।

    ভারতের ঝুলিতে পদকের সম্ভাবনা!

    এছাড়া অ্যাথলেটিক্সে অনিমেষ কুজুর ২০০ মিটারের সেমিফাইনালে উঠেছেন। আর শট পুটে তাজিন্দরপাল সিং তুর ও সমরদীপ সিং গিল ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন। লন বোলসেও ভারত দুরন্ত ছন্দে রয়েছে। নবনীত সিং ও দিনেশ কুমারের জুটি নামিবিয়াকে হারিয়ে এগিয়ে চলেছে। যার ফলে ভারতের মেডেলের ঝুলি আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পুরুষদের ৪০০ মিটার হার্ডলসেও এগিয়ে চলেছে ভারত। এক্ষেত্রে যশস পালক্ষা ও সন্তোষ কে তামিলারাসান ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন। হিট-২-এ সন্তোষ ৪৯.৫১ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হন। হিট-১-এ যশস ৪৯.৬৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেন।

    আজ নামছেন নীরজ

    কমনওয়েলথ গেমসে আজ অভিযান শুরু নীরজ চোপড়ার। জ্যাভলিনের কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে নামছেন ২০২০ সালের অলিম্পিক্স চ্যাম্পিয়ন নীরজ। দু’বছর আগের অলিম্পিক্সে অবশ্য রুপো জিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাঁকে। ২০১৮ সালের কমনওয়েলথ গেমস চ্যাম্পিয়ন নীরজ এ বার কি পারবেন? যোগ্যতা অর্জন পর্ব দুপুর ২:৫৫ থেকে। সম্প্রচারিত হবে সোনি স্পোর্টস চ্যানেল ও সোনি লিভ অ্যাপে।

  • Digital Census: দেশে প্রথমবার ডিজিটাল জনগণনা! শনিবার শুরু হচ্ছে রাজ্যে, কীভাবে করবেন ‘সেলফ এনুমারেশন’?

    Digital Census: দেশে প্রথমবার ডিজিটাল জনগণনা! শনিবার শুরু হচ্ছে রাজ্যে, কীভাবে করবেন ‘সেলফ এনুমারেশন’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রথম বার জনগণনা শুরু হচ্ছে ভারতে। শনিবার জনগণনার (Census) প্রথম ধাপ শুরু হবে পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal Census)। রয়েছে সেল্‌ফ এনুমারেশন বা স্ব-শুমারি প্রক্রিয়া (Digital Census), যাতে নিজেদের তথ্য নিজেরাই নথিবদ্ধ করতে পারবেন নাগরিকেরা। আগামী ১ থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত প্রথম ১৫ দিন স্ব-শুমারির জন্য নির্দিষ্ট করেছে সরকার। এই সময়ের মধ্যে নাগরিকেরা অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। সে জন্য তাঁদের জনগণনা সম্পর্কিত পোর্টাল https://se.census.gov.in-এ লগ ইন করতে হবে প্রথমে। জনগণনার প্রয়োজনীয় যাবতীয় তথ্য সেখানেই পূরণ করা যাবে।

    কী ভাবে, কোথায় তথ্য নথিভুক্ত করবেন

    সংশ্লিষ্ট পোর্টালে লগ ইনের পর দেখা যাবে রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিকল্প। যিনি যে রাজ্যের বাসিন্দা, তাঁকে সেই রাজ্য ‘সিলেক্ট’ করতে হবে। তার পর দিতে হবে ক্যাপচা (বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা, যা ব্যবহারকারী আসলে মানুষ, না কোনও ক্ষতিকর কম্পিউটার বট, তা যাচাই করতে ব্যবহৃত হয়)। পরের ধাপে বাড়ির কর্তা বা কর্ত্রীর নাম প্রদান করতে হবে। পাশেই থাকবে মোবাইল নম্বর এবং ইমেল আইডি দেওয়ার জায়গা। এটি ঐচ্ছিক। তৃতীয় ধাপে থাকছে ভাষা পছন্দের বিষয়। তাতে ‘ক্লিক’ করার পর ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) যাবে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে। চতুর্থ ধাপে দিতে হবে জেলা, পিন নম্বর, গ্রাম/শহর/এলাকার নাম। ওই ধাপ সম্পূর্ণ হলে একটি মানচিত্র দেখাবে। যা থেকে নিজের বাড়ির অবস্থান দেখাতে পারবেন নাগরিক। ষষ্ঠ ধাপে হাউসলিস্টিংয়ের তথ্য চাওয়া হবে। এই ঘর ও তার ব্যবহার সংক্রান্ত ৩৩টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর জমা দিতে হবে। ৩৩টি প্রশ্নের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যের মধ্যে রয়েছে, বাড়ির ধরন; মেঝে ও দেয়ালে ব্যবহৃত উপকরণ, ঘরের সংখ্যা, মালিকানাধীন বা ভাড়া এবং বাড়ির অবস্থা, বাসিন্দার সংখ্যা, পানীয় জল ও বিদ্যুতের উৎস। প্রদত্ত তথ্য খুঁটিয়ে দেখে নিন, প্রয়োজনে সংশোধন করুন এবং তথ্য সেভ করে রাখুন। যদি কোনও পরিবর্তনের প্রয়োজন না থাকে, তবে নির্ধারিত সময়সীমার আগে তথ্য জমা দিন।সেটি দেওয়ার পর আসবে ‘প্রিভিউ স্ক্রিন’। সব তথ্য ঠিকঠাক দিয়েছেন কি না, মিলিয়ে দেখে নিতে হবে। এর পর শেষ ধাপ— ‘ফাইনাল সাবমিট’। সেখানে ক্লিক করলে এগারো অঙ্কের একটি স্বতন্ত্র নম্বর বা ‘এসই* আইডি’ চলে যাবে সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বর বা ইমেলে। জনগণনার দায়িত্বে থাকা সরকারি আধিকারিকেরা যখন বাড়িতে যাবেন, ওই নম্বরটি তাঁদের দেখাতে হবে। তথ্য যাচাই করার পর নির্দিষ্ট সার্ভারে আপলোড করা হবে।

    ৩০ লক্ষেরও বেশি কর্মী জড়িত

    অনলাইন স্ব-গণনা পর্ব শেষ হওয়ার পর, ১৬ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণনা করা হবে। এই সময়, অবশ্যই অনলাইনে স্ব-গণনা সম্পন্ন করার সময় প্রাপ্ত ১১ সংখ্যার নম্বরটি দেখাতে হবে। অনলাইনে সেল্ফ এনুমারেশন না করলেও, বাড়িতে আসা গণনাকারীর কাছে বিবরণ নথিভুক্ত করা যাবে। ১১ সংখ্যার নম্বরটি হারিয়ে ফেললেও চিন্তা নেই। গণনাকারীরা তা খুঁজে নিয়ে জনগণনার কাজ করতে পারবেন। গণনাকারীদের রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য স্মার্টফোন এবং বিশেষ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। এই বিশাল দেশব্যাপী প্রকল্পে ৩০ লক্ষেরও বেশি কর্মী জড়িত এবং এর আনুমানিক ব্যয় ১১,৭১৮ কোটি টাকা।

    জনগণনা দু’টি পর্যায়ে পরিচালিত হবে

    এ বারের জনগণনা (Digital Census) দু’টি পর্যায়ে পরিচালিত হবে। প্রথম পর্যায়ে বাড়ি তালিকাভুক্তি ও গৃহগণনা হবে। যেখানে বাড়ির অবস্থা, পরিবারের বৈশিষ্ট্য, পানীয় জল, শৌচাগার, বিদ্যুৎ, রান্নার জ্বালানি, ইন্টারনেট সংযোগের মতো পরিষেবা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। রেডিয়ো, টেলিভিশন, কম্পিউটার, দুই এবং চার চাকার গাড়ির মতো সম্পদের তথ্যও নেওয়া হবে। ১৬ অগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে ওই পর্ব। এই সময়ের মধ্যেই বাড়ি তালিকাভুক্তি ও গৃহগণনার কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে প্রশাসন। তার পর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায়। তাতে প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের নাম, বয়স, লিঙ্গ, জাতি ও ধর্ম সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে প্রকৃত জনসংখ্যা গণনা করা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির শাসনে এই প্রথম জনগণনা

    ২০১১ সালে শেষবার জনগণনা হয়েছিল দেশে। সাধারণত ১০ বছর অন্তর এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সেই হিসেবে ২০২১ সালে জনগণনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময়ে কোভিড অতিমারীর প্রকোপ থাকায় কা‌শ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, কচ্ছ থেকে কোহিমা এই বিপুল ভারতে জনগণনার মতো কর্মযজ্ঞ করা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী মোদির শাসনে এই প্রথম জনগণনা হতে চলেছে দেশে। প্রসঙ্গত, ২০২৭ সালের জনগণনার প্রস্তুতি হিসাবে কলকাতা শহরকে মোট ৮,১১২টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি ব্লকে গড়ে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ জন বাসিন্দা থাকছেন। গণনার কাজ সুষ্ঠু ও নির্ভুল ভাবে যাতে সম্পন্ন করা যায়, তার সমস্ত রকম উদ্যোগ এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

     

     

     

     

  • Commonwealth Games 2026: কমনওয়েলথ গেমসে দশ হাজার মিটারে ভারতের প্রথম পদক, রুপো জিতে ইতিহাস গুলবীরের

    Commonwealth Games 2026: কমনওয়েলথ গেমসে দশ হাজার মিটারে ভারতের প্রথম পদক, রুপো জিতে ইতিহাস গুলবীরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পঞ্চম দিনের মতো সোনালি সাফল্য না এলেও কমনওয়েলথ গেমসের ষষ্ঠ দিনটা মন্দ গেল না ভারতের। মঙ্গলবার, গ্লাসগোতে কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ গুলবীর সিং পুরুষদের ১০,০০০ মিটারে দেশের হয়ে প্রথম পদক জিতে ইতিহাস তৈরি করেছেন। হরজিন্দর কৌর ভারোত্তোলনে রুপো জিতেছেন। এর পাশাপাশি, তিনজন ভারতীয় বক্সার সেমিফাইনালে উঠে দেশের জন্য অন্তত আরও তিনটি পদক নিশ্চিত করেছেন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতীয় অ্যাথলিট গুলবীর সিং এবং হরজিন্দর কৌরকে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ রুপোর পদক জেতার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন (Commonwealth Games 2026)।

    গুলবীর সিং-এর ঐতিহাসিক রুপো

    কমনওয়েলথ গেমসের অ্যাথলেটিক্সে নতুন ইতিহাস লিখলেন ভারতের দীর্ঘদূরত্বের দৌড়বিদ গুলভীর সিং। পুরুষদের ১০,০০০ মিটার দৌড়ে রুপোর পদক জিতে নজির গড়লেন এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জজয়ী এই অ্যাথলিট। এই ইভেন্টে কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে প্রথমবার কোনও ভারতীয় অ্যাথলিট পদক জিতলেন। বৃষ্টিভেজা ট্র্যাক, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে গুলভীরের এই সাফল্য ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। স্কটল্যান্ডের স্কটস্টাউন স্টেডিয়ামে টানা বৃষ্টির মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতাটি। ভেজা ট্র্যাকে দৌড়ানো সহজ ছিল না। তবুও শুরু থেকেই গুলভীর নিজেকে শীর্ষ প্রতিযোগীদের মধ্যে ধরে রাখেন। শেষ কয়েকটি ল্যাপে অসাধারণ গতি বাড়িয়ে তিনি রুপোর পদক নিশ্চিত করেন। ২৭ মিনিট ৪৯.৭৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন ভারতীয় অ্যাথলিট। সোনা জিতেছেন অস্ট্রেলিয়ার কাই রবিনসন। তাঁর সময় ছিল ২৭ মিনিট ৪৮.৯৩ সেকেন্ড। মাত্র এক সেকেন্ডেরও কম ব্যবধানে সোনার হাতছাড়া হলেও গুলভীরের লড়াই দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। আইল অব ম্যানের ডেভিড মুলার্কি ২৭ মিনিট ৫০.২৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে ব্রোঞ্জ জেতেন।

    হরজিন্দর কৌরের রুপোর পদক

    ষষ্ঠ দিনে ভারতের হয়ে প্রথম পদকটি আনেন হরজিন্দর কৌর। তিনি মহিলাদের ৬৯ কেজি ভারোত্তোলন বিভাগে রুপো জেতেন। পাঞ্জাবের এই লিফটার মোট ২২৭ কেজি ওজন তোলেন, যা তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য সেরা। তার মধ্যে স্ন্যাচে ১০১ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১২৬ কেজি। তিনি কানাডার শার্লট সিমোনোর পিছনে থেকে দ্বিতীয় হন। হরজিন্দর এই প্রতিযোগিতায় দু’বার কমনওয়েলথ গেমসের স্ন্যাচ রেকর্ডও ভাঙেন। বার্মিংহাম ২০২২ গেমসে জেতা ব্রোঞ্জ পদকের পর এবার তিনি রুপো জিতে নিজের পারফরম্যান্স আরও উন্নত করলেন। বক্সিং রিংয়ে এদিন মহিলাদের ৫৪ কেজি কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের প্রীতি পাওয়ার সেমিফাইনাল উঠে অন্তত ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে ফেলেছেন। উত্তর আয়ারল্যান্ডের নিকোল ক্লাইডকে কোয়ার্টার ফাইনালে হারিয়ে সেমির টিকিট নিশ্চিত করেন প্রীতি। যার ফলে প্রীতির ব্রোঞ্জজয় নিশ্চিত। সেমিতে জিতলে বদলাবে পদকের রং। একইভাবে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করে ফেলেছেন ভারতের বক্সার প্রিয়া। কোয়ার্টার ফাইনালে স্কটল্যান্ডের নিমাহ মিচেলকে হারান তিনি। ফলে প্রিয়াও সেমিতে উঠে পদক নিশ্চিত করে ফেলেছেন।

  • Misir Besra Arrested: মাথার দাম ১ কোটি! গিরিডি থেকে গ্রেফতার একমাত্র জীবিত মাও পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরা

    Misir Besra Arrested: মাথার দাম ১ কোটি! গিরিডি থেকে গ্রেফতার একমাত্র জীবিত মাও পলিটব্যুরো সদস্য মিসির বেসরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাওবাদী-মুক্ত ভারত! কিছুদিন আগেই ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে ঝাড়খণ্ডের শীর্ষ মাওবাদী নেতা মিসির বেসরা অধরাই ছিলেন। অবশেষে কোবরা বাহিনীর ‘জালে’ ধরা পড়লেন তিনি। ঝাড়খণ্ড পুলিশ এবং সিআরপিএফ-র এলিট কোবরা ব্যাটালিয়নের রুদ্ধশ্বাস যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হলেন মাওবাদী এই শীর্ষ নেতা (Misir Besra Arrested)। তাঁর মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। ধানবাদ-গিরিডি সীমানার মানিয়াদি এলাকা থেকে বেসরা ও তাঁর দুই দুর্ধর্ষ সহযোগীকে পাকড়াও করে নিরাপত্তা বাহিনী। মিসির ছিলেন একমাত্র জীবিত মাওবাদী পলিটব্যুরো সদস্য।

    কীভাবে ধরা পড়লেন মিসির

    পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, গত প্রায় দুই দশক ধরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল মিসির। সম্প্রতি পুলিশের কাছে খবর আসে শীর্ষ এই মাওবাদী নেতা ঝাড়খণ্ডের পারশনাথ পাহাড় সংলগ্ন জঙ্গলে কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে লুকিয়ে রয়েছে। এরপরই সিআরপিএফ, গিরিডি ও ধানবাদ থানার পুলিশ একযোগে তল্লাশি শুরু করে। রাত ৯টা নাগাদ ধানবাদ-গিরিডি সীমানার জঙ্গলে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে। তার সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে সংগঠনের আঞ্চলিক কমিটির সদস্য মেহনত ওরফে মোচ্ছু এবং সক্রিয় সদস্য গৌরব ওরফে সৌরভ। অভিযানে দুই গ্রামবাসীকেও আটক করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মাওবাদী সংগঠনের নেটওয়ার্ক, পলাতক সদস্যদের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। মিসিরের বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন থানায় ১৫৪টির বেশি মামলা রয়েছে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) দ্বারা তদন্ত করা হচ্ছে এমন তিনটি মামলাতেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

    প্রায় দু’ দশক ধরে অধরা

    ধানবাদ পুলিশের একটি সূত্র জানাচ্ছে. প্রায় দু’ দশক ধরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দাদের চোখে ধুলো দিয়ে মিসির পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। ২০০৭ সালে ঝাড়খণ্ড থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে বিহার পুলিশের হেফাজত থেকে মিসির পালিয়ে গিয়েছিলেন। ওই বছর তাঁকে বিহারের লখিসরাই জেলার আদালতে পুরোনো একটি মামলায় হাজির করানোর জন্য পুলিশ নিয়ে গিয়েছিল। সেই সময়ে মাওবাদীরা আদালত চত্বরে মিসির বেসরাকে ছাড়াতে আচমকা হামলা চালায়। তাতেই পালিয়ে যান মিসির। মিসিরের গ্রেফতার নিয়ে তাঁর ছেলে সিদ্ধার্থর দাবি, পুলিশ বা সিআরপিএফ-এর তরফ থেকে তাঁর বাবার গ্রেফতার নিয়ে বুধবার সকাল পর্যন্ত তাঁকে খবর দেওয়া হয়নি। তিনি সূত্র মারফত জেনেছেন তাঁর বাবার গ্রেফতার হওয়ার খবর। সিদ্ধার্থর দাবি, ১৫ দিন আগেও পুলিশ তাঁদের বাড়িতে এসে তাঁকে বলেছিল, বাবাকে চিঠি লিখে আত্মসমর্পণের ব্যাপারে অনুরোধ করতে। একই সঙ্গে মিসিরের ছেলে জানিয়েছেন, ২০ বছর তিনি বাবাকে দেখেননি। বাবা জীবিত রয়েছেন জেনে তিনি খুশি।

    মিসির বেসরা কে?

    মিসিরের আদি বাড়ি ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার হারলাডিহিতে। ঝাড়খণ্ড পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, মাওবাদীদের সংগঠনের শীর্ষস্তরের নেতা ও তাদের পলিটব্যুরোর শেষ জীবিত সদস্য মিসির। পলিটব্যুরোর অন্য সদস্যরা হয় পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন, নয়ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হয়েছেন। ৬৬ বছর বয়সি ওই নেতার মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকা। সংগঠনের তাত্ত্বিক নেতা ও অপারেশনাল কম্যান্ডার ছিলেন তিনি। সংগঠনের নেতা ও কর্মীদের কাছে তিনি ভাস্কর ও সাগর নামেও পরিচিত। নিষিদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী)-র সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক সংস্থা পলিটব্যুরোর সদস্য হিসেবে ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশায় মাওবাদী কার্যকলাপ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল মিসিরের। নিরাপত্তা সংস্থার দাবি, সারান্ডা, পোরাহাট ও কোলহানের জঙ্গল এলাকায় সংগঠনের ঘাঁটি শক্তিশালী করা, সশস্ত্র হামলার পরিকল্পনা, নতুন ক্যাডার নিয়োগ, তোলাবাজি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মাওবাদী ইউনিটের মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিল সে।

    পলাতক মাওবাদীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

    ধৃত মেহনত ওরফে মোচ্ছু, বিভীষণ বা কুম্বা মুর্মু ধানবাদ জেলার বারওয়াড্ডা থানার ঘোড়াবান্ধা গ্রামের বাসিন্দা। সংগঠনের আঞ্চলিক কমিটির সদস্য ছিল মোচ্ছু। তার গ্রেফতারির জন্য ঝাড়খণ্ড সরকার ১৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। তদন্তকারীদের দাবি, মিসির বেসরার অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে সারান্ডা-পোডাহাট অঞ্চলে সংগঠনের কার্যকলাপ, তোলাবাজি, ক্যাডার পরিচালনা এবং প্রচার কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা ছিল মোচ্ছুর। আর এক ধৃত গৌরব ওরফে সৌরভও সংগঠনের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার কাছ থেকেও সংগঠনের কাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য পলাতক মাওবাদীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

    মাওবাদীদের সাংগঠনিক কাঠামোয় শেষ পেরেক!

     ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী দমনে আরও একটি বড় সাফল্যের কথা জানায় পুলিশ। মোট ১৬ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনের মাথার দাম মিলিয়ে ছিল ৩৯ লক্ষ টাকা। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন সন্তোষ মাহাত ওরফে বাসুদেব দা ওরফে দিলীপ। তাঁর বিরুদ্ধে ১২৮টি মামলা রয়েছে এবং মাথার দাম ছিল ১৫ লক্ষ টাকা। এছাড়া সংগঠনের দুই সাব-জোনাল কমিটি সদস্য ও দুই এরিয়া কমিটি স্তরের নেতাও অস্ত্র ছেড়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী বিরোধী অভিযানে এখনও পর্যন্ত ৯৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আত্মসমর্পণ করেছেন ৪৫ জন। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ২২ জন মাওবাদী। ঝাড়খণ্ড পুলিশ জানিয়েছে, মিসির বেসরার গ্রেফতরি রাজ্যে মাওবাদী সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধাক্কা। পুলিশের দাবি, বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে সক্রিয় মাওবাদীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। রাজ্যজুড়ে মাত্র ১৭ জন সক্রিয় মাওবাদী জঙ্গি বর্তমানে পলাতক।

  • POK Elections 2026: মুনিরের দমনপীড়নে রক্তাক্ত পিওকে, মৃত বেড়ে ৬৭! ‘লোক দেখানো নির্বাচন’ দাবি ভারতের

    POK Elections 2026: মুনিরের দমনপীড়নে রক্তাক্ত পিওকে, মৃত বেড়ে ৬৭! ‘লোক দেখানো নির্বাচন’ দাবি ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে নির্বাচন (POK Elections 2026) আসলে একটা প্রহসন। গায়ের জোরে অধিকৃত কাশ্মীরে ভোট করাচ্ছে পাক সরকার। শাহবাজ সরকারের বিরুদ্ধে সেখানকার জনগণের আগে থেকেই ক্ষোভ ছিল। ভোটের প্রথম দফায় সেই ক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে অধিকৃত কাশ্মীরে। এই পরিস্থিতিতে অধিকৃত কাশ্মীরের ভোট নিয়ে ইসলামাবাদকে তোপ দাগল নয়াদিল্লি। তারা জানিয়েছে, এই নির্বাচন দখলদারি আড়ালের চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। এই নির্বাচন শুধুই লোক দেখানো। ইতিমধ্যেই, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭-এ পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি।

    দখলদারি আড়ালের প্রচেষ্টা মাত্র

    অধিকৃত কাশ্মীরে ৩ দফা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট ছিল গত সোমবার। নির্বাচন শুরু হতেই নানা জায়গা থেকে হিংসার খবর আসতে থাকে। একাধিক জায়গায় ব্যালট পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “অধিকৃত কাশ্মীরে চলমান গণবিক্ষোভ হল পাক সরকারের অর্থনৈতিক শোষণ, জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্খন এবং দমন-পীড়নের প্রত্যক্ষ পরিণতি।” ভারত সরকার এই নির্বাচনকে “Cosmetic Electoral Exercise” বা লোক দেখানো নির্বাচন বলে উল্লেখ করেছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, পিওকের জনগণের মৌলিক অধিকার দীর্ঘদিন ধরে খর্ব করা হয়েছে বলেই সেখানে ব্যাপক জনবিক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভারত। তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে সেখানে যে লোকদেখানো নির্বাচন হচ্ছে, তা আসলে দখলদারি আড়ালের প্রচেষ্টা মাত্র। সেখানে যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলি ঘটছে, সেগুলিও গোপন করার প্রচেষ্টা।” রণধীর স্পষ্ট করেছেন, “বর্তমানে পাকিস্তানের অবৈধ ও জোরপূর্বক দখলে থাকা এলাকাগুলি-সহ জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ।”

    কার্যত যুদ্ধক্ষেত্র রাওয়ালকোট

    ভোটের দিন কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয় রাওয়ালকোট, কোটলির মতো এলাকাগুলি। গত ৫২ দিন ধরে রাওয়ালকোটে বিক্ষোভ কর্মসূচি চালাচ্ছিল জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি। এই বিক্ষোভ দমনে এলোপাথাড়ি গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ মিছিলে উপর অতর্কিতে গুলিবৃষ্টি শুরু করে পুলিশ। এই হামলায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ২৮ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। বহুমানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। সংগঠনটির দীর্ঘ মিছিল মুজাফফরাবাদের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পরই পাকিস্তানি বাহিনী আরও কঠোর দমন অভিযান চালায় বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার পিওকের মিরপুরের একটি ব্যস্ত বাজারে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৫ থেকে ৬ জন নিহত হন বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে ছুটতে থাকেন সাধারণ মানুষ। গুলির শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে, একটি দোকান থেকে ধোঁয়া উঠতেও দেখা যায়।

    ৩৮ দফা দাবিতে আন্দোলন

    পিওকের নাগরিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির প্রতিবাদে গত ৯ জুন থেকে হাজার হাজার সমর্থক রাওয়ালাকোটের ঈদগাহ ময়দানে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। সংগঠনটির ৩৮ দফা দাবির অন্যতম ছিল তথাকথিত আইনসভায় পাকিস্তানের প্রভাবাধীন ১২টি আসন বাতিল করা। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আলোচনার পথে না গিয়ে ইসলামাবাদ বলপ্রয়োগের পথই বেছে নিয়েছে।

    ভোট নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

    পিওকের নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC) এবং পাকিস্তান তেহরক-ই ইনসাফ (PTI)-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র প্রায় ফাঁকা দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাপক কারচুপির অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ, প্রথম দফার ১৩টি আসনের মধ্যে ৯টিতেই জয়ী হয়েছে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (PML-N)।

    পাকিস্তানের হাত থেকে মুক্তি চাই

    এদিকে ফ্রান্সে দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন। এরপর পাকিস্তানের রাষ্ট্রসংঘে প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত মালিহা লোধি (Maleeha Lodhi) প্রশ্ন তোলেন, পিওকে-তে নিহত সাধারণ মানুষের জন্য একই ধরনের সহানুভূতি কেন দেখানো হচ্ছে না। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পিওকের বিভিন্ন এলাকায় “পাকিস্তানের হাত থেকে মুক্তি চাই” স্লোগানও শোনা গেছে। আন্দোলনকারীদের একাংশ পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীকে “অবৈধ দখলদার” বলেও অভিযোগ তুলেছেন।

    শুধু পিওকে নয়, কেপিতেও চাপ বাড়ছে

    পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকট কেবল পিওকেই সীমাবদ্ধ নয়। খাইবার পাখতুনখোয়ায় কারাবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান (Imran Khan)-এর বোন আলীমা খান (Aleema Khan) তাঁর মুক্তির দাবিতে প্রচার শুরু করেছেন। তিনি ইমরান খানের কথিত একাকী বন্দিত্বের অবসান এবং দ্রুত চিকিৎসার দাবিও জানিয়েছেন।

    বাড়ছে চাপ

    বালোচিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, পিওকের নির্বাচন কি শুধুই আন্তর্জাতিক মহলের নজর ঘোরানোর চেষ্টা, নাকি ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ আড়াল করার একটি রাজনৈতিক কৌশল? একইসঙ্গে ভোটে কারচুপির অভিযোগ এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন অভিযানের জেরে পাকিস্তান আরও চাপে পড়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

LinkedIn
Share