Author: ishika-banerjee

  • Suvendu Adhikari: ফলতাকাণ্ডে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী, অন্যদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: ফলতাকাণ্ডে জাহাঙ্গিরের স্ত্রী, অন্যদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফলতায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে। কেউ যদি মনে করেন আইন হাতে তুলে নেবেন, তা হবে না। ফলতাকাণ্ডে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় (Falta Assembly) তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে হওয়া নজিরবিহীন হিংসার ঘটনায় কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কঠোর বার্তা, কোনও গুন্ডামি, জঙ্গিপনা চলতে দেওয়া হবে না।

    রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা রুজু করার নির্দেশ

    মঙ্গলবার ফলতার ধৃত তৃণমূল নেতা ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখান এক দল লোকজন। জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর নেতৃত্বে তাঁরা থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। তবে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বুধবার ফলতায় জলকল্যাণ শিবিরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। সেখান থেকেই তিনি মঙ্গলবারের ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। নাম না করেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘টিভিতে দেখলাম এখানে কিছু লোক এক জন মাফিয়ার স্ত্রীর নেতৃত্বে পুলিশ এবং আধাসেনাকে আক্রমণ করতে গিয়েছিল।’’ এই ধরনের গুন্ডামি কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে জানান তিনি। তার পরই শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, ‘‘এসপি-কে বলে গেলাম, ভিডিয়োতে যত জনকে দেখা গিয়েছে, কেউ যেন বাড়িতে না থাকে। তাঁদের সকলকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’’ শুধু তা-ই নয়, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় (বিএনএস) রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা রুজু করার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য

    ফলতাবাসীদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, ‘‘আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন, যত বড় মাফিয়া বা ডন হোক না কেন, রাজ্যের বিজেপি সরকার তাদের সবক শেখানোর কাজ করবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য।’’ এই সরকার কাউকে ছাড়বে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘যাঁরা হামলা করেছেন, তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামে চড়ানো হবে। এমন শিক্ষা দেওয়া হবে যাতে কোনও দিন কোনও পুলিশ, সরকারি কর্মী এবং আধাসেনাকে আক্রমণ করতে না পারেন।’’ বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে ফলতায় হওয়া একাধিক আর্থিক দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন,‘‘গত আমফান ঘূর্ণিঝড়ের সময় ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেকটি বাড়ির মেরামতের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল, সেই টাকাও এরা চুরি করেছে। চোরদের সেই সম্পূর্ণ তালিকা আমার হাতে চলে এসেছে, খুব শীঘ্রই তার আইনি ব্যবস্থা হবে।’’ এখানেই শেষ নয়, ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি অভিযোগ করেন যে, এই প্রকল্পের নামে ৬০ হাজার টাকা করে প্রায় ৮,০০০ ইউনিটের টাকা কারা তুলে নিজেদের পকেটে পুরেছেন, তা ফলতার সব মানুষ ভাল করেই জানেন। নতুন সরকার এই সমস্ত টাকা চুরির হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

  • Messi on Arup Biswas: প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপের নামে বিধাননগর পুলিশে চিঠি পাঠাল মেসির টিম, কী কী অভিযোগ?

    Messi on Arup Biswas: প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপের নামে বিধাননগর পুলিশে চিঠি পাঠাল মেসির টিম, কী কী অভিযোগ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরও বিপাকে অরূপ বিশ্বাস। লিয়োনেল মেসিদের ই-মেল পৌঁছে গেল বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে। গত ডিসেম্বরে যুবভারতীকাণ্ডের জন্য তাঁরা সরাসরি অরূপ বিশ্বাসকে দায়ী করেছেন। বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারকে এই মেল করেছেন মেসির দলের এক জন। তিনি ডিসেম্বরের ‘গোট ট্যুর’-এ মেসির পরামর্শদাতা হিসেবে এসেছিলেন। সে দিন যুবভারতীতে তিনি নিজেও মেসির সঙ্গে মাঠে ছিলেন। ওই ই-মেলে লেখা হয়েছে, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মাঠে ঢোকার পরেই যাবতীয় ঝামেলার সূত্রপাত। সরাসরি অরূপের নাম করে বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে মেসির টিম। বলা হয়েছে, মাঠে ঢুকে অরূপ যে সব কাজকর্ম শুরু করেছিলেন, তা নির্ধারিত সূচিতে ছিল না। এর ফলে ইতিমধ্যেই নানা বিতর্কে জড়িয়ে থাকা প্রাক্তন মন্ত্রীর আইনি অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

    অরূপ কী কী করেছিলেন

    ওই অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, তখনকার ক্রীড়ামন্ত্রী বার বার মেসিকে স্পর্শ করছিলেন, ছবি তোলার জন্য কাঁধে এবং কোমরে হাত দিচ্ছিলেন। অরূপের সঙ্গে বহু মানুষ সে দিন মাঠে ঢুকেছিলেন, যাঁদের মাঠে ঢোকার অধিকার ছিল না— এটিও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগে। যেখানে তিন জন আলোকচিত্রীর থাকার কথা ছিল, সেখানে প্রায় ৪০ জন মাঠে ছিলেন। এতেই মেসি বিরক্ত হন এবং তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয় বলে জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, এর পর মেসির পক্ষে আর ইভেন্টে থাকা সম্ভব হয়নি। মেসির দলের পক্ষে এটাও জানানো হয়েছে, ওই ট্যুরের যিনি আয়োজক, সেই শতদ্রু দত্তের নিয়ন্ত্রণে ছিল না বিষয়টি। বলা হয়েছে, মেসির তাড়াতাড়ি যুবভারতী ছাড়ার জন্য শতদ্রু কোনও ভাবেই দায়ী নন। সংশ্লিষ্ট চিঠিতে লেখা হয়েছে, প্রোটোকল অনুযায়ী লিওনেল মেসিকে সকলে স্পর্শ করতে পারেন না। তাঁকে দেখা যায়, কিন্তু ছোঁয়া যায় না। তবে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী গা ঘেঁষাঘেঁষি করে ছবি তুলেছিলেন। কাঁধে-কোমরে হাত দিয়ে ছবি তুলেছিলেন। চিঠিতে এও লেখা হয়েছে, প্রচুর মানুষ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে মাঠে ঢুকে গিয়েছিলেন। যার ফলে দ্রুত মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। নিরাপত্তার গাফিলতিরও অভিযোগ করা হয়েছে।

    আগেই অভিযুক্ত অরূপ

    কলকাতায় যে দিন মেসি এসেছিলেন তাঁকে দেখার জন্য হাজার-হাজার ভক্তের ভিড় হয়েছিল মাঠে। তবে আগত দর্শকদের অভিযোগ, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর সঙ্গীরা মেসিকে এমনভাবে ঘিরে রেখেছিলেন যে দর্শকরা এই ফুটবলারকে দেখতে পাননি। এই নিয়ে বিস্তর ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তাঁরা। পরবর্তীতে অরূপ এবং মেসির একটি ছবি ভাইরাল। যে ছবিতে দেখা যায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ফুটবলারের পেটে-কাঁধে হাত দিয়ে রয়েছেন। মেসিকাণ্ড নিয়ে আগেই থানা পুলিশ হয়েছে। এবার খোদ ফুটবলারের টিম থেকে আসল চিঠি। মেসির কলকাতা সফরে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় অরূপের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ এনেছেন শতদ্রু। এই মামলায় অরূপের যে রক্ষাকবচ রয়েছে, তাকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছেন তিনি।

  • Modi-Meloni Meeting: ‘ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি আমরা’, জি-৭ সম্মেলনে ফের ‘মেলোডি’ মুহূর্ত

    Modi-Meloni Meeting: ‘ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি আমরা’, জি-৭ সম্মেলনে ফের ‘মেলোডি’ মুহূর্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আলাপচারিতা ও সৌজন্য বিনিময়ে ব্যস্ত জি৭ সম্মেলনে উপস্থিত রাষ্ট্রনেতারা। একে অপরের সঙ্গে চলছে করমর্দন। হালকা মেজাজে কথাবার্তা বলছেন। সেখানে ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। সেই জটলায় ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি হাজির হতেই মোদি এগিয়ে যান। সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক গ্রুপ ফটোর আগে দুই নেতাকে একে অপরের সঙ্গে উষ্ণ অভ্যর্থনা বিনিময় করতে দেখা যায়। সেই সময়েই ঘটে এক মজার মুহূর্ত, যা মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। মেলোনি হাসিমুখে মোদিকে বলেন, “আবার দেখা হয়ে ভালো লাগছে।” এরপর রসিকতার সুরে যোগ করেন, “আমরাই তো ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি!” প্রধানমন্ত্রী মোদিও হাসিমুখে সেই মন্তব্যের জবাব দেন।

    ফের ‘মেলোডি’

    গত কয়েক বছরে ‘মেলোডি’ (Melodi) শব্দটি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি জনপ্রিয় ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। ‘মোদি’ এবং ‘মেলোনি’— দুই নেতার পদবির সংমিশ্রণ থেকেই তৈরি হয়েছে এই নাম। মাসখানেক আগে ইটালি সফরে মেলোনির সঙ্গে মোদির ‘রসায়ন’ আলোচনায় ছিল। মেলোনিকে এক প্যাকেট মেলোডি চকোলেট উপহার দিয়েছিলেন মোদি। চকোলেট উপহার পেয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি হালকা মেজাজের ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী। সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছিল, পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রয়েছেন মোদি এবং মেলোনি। একটি মেলোডি চকোলেটের প্যাকেট ধরে রেখেছেন দু’জনে। দু’জনেই হাসছেন।

    মোদি-মেলোনি সম্পর্ক, কূটনৈতিক গুরুত্ব

    মঙ্গলবার ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতারা। সম্মেলনের ফাঁকে তাঁরা একই মঞ্চে নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতা সেরে নেন। ‘গ্রুপ ফটো’ তোলেন। ছবি তোলার সময় যখন রাষ্ট্রনেতারা লাইন দিয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন তার ঠিক আগে মোদি-মেলোনি একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান। করমর্দন করেন দু’জনে। ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, তাঁরা দু’জনে কিছু কথা বলছেন। তবে কী কথা হয়েছে, তা খুব স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ, অর্থনীতি, জলবায়ু সংকট— একের পর এক গুরুতর বিষয় নিয়ে আলোচনা আর কূটনৈতিক জটিল সমীকরণের হিসেবনিকেশের ফাঁকে এক টুকরো চেনা হাসি। বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলে ঠিক যেমন আগের আড্ডার রেশ থাকে, মেলোনিও সেই সুরে বলে ওঠেন, ‘আবার দেখা হয়ে গেল, খুব ভালো লাগছে।’ মোদি তোলেন ‘মেলোডি’ ভিডিওর ভাইরাল হওয়ার কথা। সুযোগ হাতছাড়া করেনননি ইটালির প্রধানমন্ত্রী। হাসতে হাসতে রসিকতার সুরে বলেন, ‘হ্যাঁ, ইনস্টাগ্রামে এখন আমরাই সবচেয়ে জনপ্রিয়।’ জি-৭ সম্মেলনের সাম্প্রতিক এই ঘটনা প্রমাণ করে, আন্তর্জাতিক কূটনীতির গম্ভীর পরিবেশের মাঝেও মোদি ও মেলোনির বন্ধুত্বপূর্ণ রসায়ন বিশ্বজুড়ে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, মোদি-মেলোনির সম্পর্ক নিছক ছবি বা ভিডিয়োয় সীমাবদ্ধ নয়। এই সম্পর্ক ইটালি এবং ভারতের চলমান বিদেশনীতির অংশ। ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ইটালি। উভয় দেশই ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে।

  • FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপে নেমেই হ্যাটট্রিক! মেসির পায়ে আলজেরিয়াকে হেলায় হারাল আর্জেন্টিনা, জয় পেল ফ্রান্সও

    FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপে নেমেই হ্যাটট্রিক! মেসির পায়ে আলজেরিয়াকে হেলায় হারাল আর্জেন্টিনা, জয় পেল ফ্রান্সও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কে বলবে ৩৯-এর কোঠায় তিনি! কে বলবে এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ! যেন পার্কে বেড়াতে বেরিয়েছেন। লিয়োনেল মেসিকে দেখে এমনটাই মনে হচ্ছিল। আলজেরিয়ার ডিফেন্ডারদের মধ্যে কোনও পরিকল্পনাই দেখা যাচ্ছিল না তাঁকে আটকানোর। তার ফল যা হওয়ার তাই হল। আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমে ৭৮ মিনিট মাঠে থাকলেন মেসি। করলেন হ্যাটট্রিক। বিশ্বকাপে প্রথম বার। মেসির পায়ে আলজেরিয়াকে হেলায় হারাল আর্জেন্টিনা। মেসি প্রথম ম্যাচেই বুঝিয়ে দিলেন, আরও এক বার চ্যাম্পিয়ন হতেই নেমেছেন তাঁরা। মঙ্গলবার বিশ্বকাপের অন্য ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারাল ফ্রান্স। জোড়া গোল করলেন কিলিয়ান এমবাপে।

    সমালোচকদের জবাব

    ৩৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপে খেলতে নেমেছেন। মেসি আদৌ ভাল খেলতে পারবেন তো? কত ক্ষণ খেলতে পারবেন? বিশ্বকাপের আগে চোট পেয়েছিলেন। সেই চোট কতটা সেরেছে? এমনই বেশ কিছু প্রশ্ন উঠেছিল গত বারের বিশ্বজয়ী অধিনায়ককে নিয়ে। তিন শটে তার জবাব দিয়ে দিলেন তিনি। আপাতত চুপ করে যাবেন সমালোচকেরা। মেসিকে শুরু থেকেই নামিয়ে দেন কোচ লিয়োনেল স্কালোনি। তিনি চাইছিলেন, শুরুতেই গোল তুলে নিতে। আর তার জন্য মেসির উপরেই ভরসা রাখেন তিনি। কোচকে হতাশ করেননি মেসি। চ্যাম্পিয়নের মতোই খেলল আর্জেন্টিনা। চ্যাম্পিয়নের মতোই খেললেন লিয়োনেল মেসি। তাঁর খেলার দেখে বাক্‌রুদ্ধ দলের কোচ লিয়োনেল স্কালোনি। খেলা শেষে বেশি কথা বলতে পারেননি তিনি। শুধু বলেছেন, “আমি ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। লিয়োকে নিয়ে আর কী বলব। আমি বাক্‌রুদ্ধ। ও দুর্দান্ত।”

    তিন গোল করে তিনটি রেকর্ড মেসির

    • বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলদাতা: আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিকের পর বিশ্বকাপে মেসির গোলের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬। বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলদাতার তালিকায় যুগ্মভাবে শীর্ষে তিনি। এত দিন এই রেকর্ড ছিল মিরোস্লাভ ক্লোজের দখলে। পরের ম্যাচেই জার্মানির ফুটবলারকে টপকে বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের মালিক হওয়ার সুযোগ মেসির সামনে।
    • বয়স্কতম ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপে একাধিক গোল: সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপে একাধিক গোল করলেন মেসি। আগে এই রেকর্ড ছিল ক্যামেরুনের রজার মিল্লার দখলে। ৩৮ বছর ৩৪ দিন বয়সে ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে একাধিক গোল করেছিলেন মিল্লা। মেসির বয়স ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন। ৩৬ বছরের পুরনো রেকর্ড ভাঙলেন মেসি।
    • ছুঁয়ে ফেললেন রোনাল্ডোকে: সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ডে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে ছুঁয়ে ফেলেছেন মেসি। মোট পাঁচটি বিশ্বকাপে গোল করেছেন মেসি। সেগুলি হল ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ। রোনাল্ডো ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে গোল করেছেন। এ বারের বিশ্বকাপে গোল করলে অবশ্য মেসিকে ছাপিয়ে যাবেন রোনাল্ডো।

    চোখে জল লিয়োনেল মেসির

    প্রথম গোলের পর কয়েক সেকেন্ডের উল্লাস। তার পরেই দেখা গেল মাথা নিচু। চোখে জল লিয়োনেল মেসির। জার্সি দিয়ে মুছলেন জল। তার পর আবার শুরু করলেন খেলা। খেলার পর মেসি স্বীকার করে নিয়েছেন যে, কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু তার নেপথ্যে ফুটবল নয়। মেসি বলেন, “হ্যাঁ, আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। তবে ফুটবলের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই। গত কয়েকটা দিন খুব কঠিন ছিল। কঠিন সময় কাটিয়েছি। জটিল সময় কাটিয়েছি। সেগুলোই মনে পড়ছিল। ফুটবলের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই।” সেই কঠিন সময়ের কথা বিস্তারিত ভাবে জানাননি মেসি। তবে কঠিন সময়ে কী ভাবে সতীর্থেরা তাঁর পাশে থেকেছেন সেই কথা শোনা গিয়েছে মেসির মুখে। তিনি বলেন, “আমি গোটা দলের কাছে কৃতজ্ঞ। সতীর্থদের কাছে কৃতজ্ঞ। ওরা অনেক চেষ্টা করেছে আমাকে ভাল রাখার। ওদের এই সাহায্যের কথা ভুলব না।” ৩৯ বছর বয়সেও গোল করে চলেছেন মেসি। এমনকি, বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিক এত দিনে এসেছে তাঁর। মেসি জানিয়েছেন, এখন খেলা উপভোগ করছেন তিনি। মেসি বলেন, “এখন খেলা উপভোগ করি। এটা কেকের উপর চেরির মতো বিষয়। দুর্দান্ত একটা দলের হয়ে খেলতে পেরে আমি খুব খুশি। খেলা উপভোগ করছি।”

    দেশঁর চালে ফ্রান্সের বাজিমাত

    মঙ্গলবার বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় বার মুখোমুখি হচ্ছিল ফ্রান্স ও সেনেগাল। আগের বারের স্মৃতি ফ্রান্সের জন্য সুখকর ছিল না। পাপা বৌবা দিওফের নাম জিদান অন্তত কোনও দিন ভুলবেন না। ২৪ বছর আগে সেনেগালের কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ যেতে হয়েছিল ফ্রান্সকে। কিন্তু এবার তা হল না। ফ্রান্সের এই দলের কোচের নাম দিদিয়ের দেশঁ। বিরতিতে দেশঁর একটি চালে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারাল ফ্রান্স। সেনেগাল জানতে ফ্রান্সের সব আক্রমণের লক্ষ্য থাকবেন এমবাপে। তাই তারা রক্ষণ সে ভাবেই সাজিয়েছিল। এমবাপের সঙ্গে জোঁকের মতো লেগেছিলেন কৌলিবালি। ব্যস, প্রথমার্ধে সেখানেই ঢাকা পড়ে গেলেন এমবাপে। প্রথমার্ধে খুব বেশি হলে চার থেকে পাঁচ বার বল পেয়েছেন এমবাপে। তা-ও রাখতে পারেননি। প্রথম টাচ দেখে মনে হচ্ছিল, এমবাপের মুখোশ পরে হয়তো অন্য কেউ খেলছেন।

    জোড়া গোল এম-বাপের

    বিরতিতে একটিই বদল করেন দেশঁ। প্রথমার্ধে দলের নম্বর ১০ পজিশনে খেলছিলেন এমবাপে। ফলে তাঁকে বল দিতে হলে সেন্টার অফ দ্য পার্ক দিয়ে খেলতে হচ্ছিল। সেই কারণে এমবাপে বল পেলেই কৌলিবালি তাঁকে আটকে দিচ্ছিলেন। দ্রুত তিন থেকে চার জন ঘিরে ধরছিলেন ফরাসি ফুটবলারদের। ফাঁকা জায়গা পাচ্ছিলেন না তাঁরা। দেশঁ এমবাপেকে প্রান্তে আনলেন। কখনও ডান, কখনও বাঁ প্রান্ত থেকে উঠলেন তিনি। নম্বর ১০ পজিশনে নিয়ে গেলেন ওলিসেকে। প্রথমার্ধে এমবাপেকে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন সেনেগালের সেন্টার ব্যাক কৌলিবালি। কিন্তু এমবাপে প্রান্তে চলে যাওয়ায় কৌলিবালির নাগপাশ থেকে মুক্ত হয়ে গেলেন। ওলিসের গতি কৌলিবালিকে সমস্যায় ফেলল। এই এক চালেই খেলার ছবি বদলে গেল। দ্বিতীয়ার্ধে অনেকটা ফাঁকা জায়গায় বল পেতে শুরু করলেন এমবাপে। দেখা গেল তাঁর পরিচিত দৌড়। ৬৬ মিনিটের মাথায় ওলিসের পাস ধরে মেন্ডির পায়ের পাশ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন এমবাপে। এগিয়ে যায় ফ্রান্স। এমবাপে অবশ্য বরাবরই দ্বিতীয়ার্ধের ফুটবলার। বিশ্বকাপে করা তাঁর ১৪ গোলের মধ্যে ১৩টিই দ্বিতীয়ার্ধে করা। এদিনও দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপের সর্বাধিক গোলের লড়াই জমিয়ে দিলেন এমবাপে।

  • Modi-Trump Meeting: ‘‘বিশ্ব সম্পদের অভাবে নয়, বিশ্বাসের অভাবে ভুগছে’’ জি-৭ সামিটে ট্রাম্পকে পাশে বসিয়েই পরোক্ষ-বার্তা মোদির

    Modi-Trump Meeting: ‘‘বিশ্ব সম্পদের অভাবে নয়, বিশ্বাসের অভাবে ভুগছে’’ জি-৭ সামিটে ট্রাম্পকে পাশে বসিয়েই পরোক্ষ-বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জি-৭-এর মঞ্চে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পাশে বসিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ সামিটে (G7 Summit) মঙ্গলবার নজর কাড়লেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সম্মেলনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনের আগে দুই রাষ্ট্রনেতাকে করমর্দন করতে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যায় চেয়ারে বসে ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, মোদি সেখানে যেতেই উঠে দাঁড়িয়ে করমর্দন করেন। করমর্দনের পর দু’জনকে পাশাপাশি বসে কথোপকথন করতেও দেখা যায়। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল, জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য— এই সব বিষয়ই জি-৭ সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।

    পারস্পরিক বিশ্বাস, সবচেয়ে দামি

    এদিন জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি, কার্যত তাঁর সমালোচনাও করেন মোদি। জি-৭ সামিটে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘‘আজ বিশ্ব আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে বেশি সংযুক্ত এবং পরস্পর নির্ভরশীল। একটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি শুধুমাত্র তার সীমানার মধ্যেই নির্ধারিত হয় না। তথ্য, পুঁজি এবং প্রযুক্তি—এই সবই আমাদের সংযুক্ত করে। ফলে এই বিশ্বে পার্টনারশিপের গুরুত্ব স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু পার্টনারশিপ তখনই সফল হয় যখন তার মূলে থাকে বিশ্বাস। আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক সম্পদ খনিজ, প্রযুক্তি বা বাজার নয়, বরং পারস্পরিক বিশ্বাস।’’

    পার্টনারশিপের ভবিষ্যৎ বিশ্বাসের উপরই নির্ভরশীল

    প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থা অস্ত্র হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক কল্যাণে ব্যবহৃত হবে। উন্নয়নের সুযোগ কয়েকটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বৈশ্বিক সংস্থাগুলো সকল দেশের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে সক্ষম হবে। গত শতাব্দীতে মানবজাতি দুটি বিশ্বযুদ্ধ সহ্য করেছে। বহু ত্যাগের পর, শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে বিশ্ব। এই ব্যবস্থাগুলোও বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, কিন্তু বহু প্রজন্মের অবদানের মাধ্যমে কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা সেই বিশ্বাস আজ ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। কোভিড আমাদের দেখিয়েছে, বিশ্বাস এবং সংহতির দাবিগুলো কতটা অন্তঃসারশূন্য ছিল। আজ বিশ্ব সম্পদের অভাবে নয়, বরং বিশ্বাসের অভাবে ভুগছে এবং আমাদের পার্টনারশিপের ভবিষ্যৎ এই বিশ্বাসের উপরই নির্ভর করছে।’’

    ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু নিয়ে সরব প্রধানমন্ত্রী মোদি

    প্রধানমন্ত্রী মোদি হরমুজ প্রণালী ও তার আশেপাশে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, ‘‘পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, আমরা তাকে স্বাগত জানাই। এই সংঘাত পশ্চিম এশিয়ায় আমাদের মিত্র দেশগুলোর জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি করেছে। হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। নাবিকদের নিরাপত্তা, যাঁরা বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক বাণিজ্যের মাধ্যমে সমস্ত দেশকে সংযুক্ত করেন, তা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, সমুদ্রপথ যাতে নিরাপদ থাকে এবং নাবিকরা নির্ভয়ে তাঁদের কাজ করতে পারেন।’’

    ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক!

    ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে প্রায় ১৬ মাস পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেখা হল। সূত্রের খবর, দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে। বাণিজ্য, কৌশলগত সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে সাক্ষাতের পরে এটাই মোদি ও ট্রাম্পের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-মার্কিন সম্পর্ক বর্তমানে কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে দুই নেতার এই সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, মোদী-ট্রাম্প পার্শ্ববৈঠকে বাণিজ্যচুক্তি, কৌশলগত সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধ-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

    বাণিজ্য ও কূটনৈতিক ইস্যুতে নজর

    এই বৈঠক এমন এক সময়ে হতে চলেছে, যখন ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনাও আলোচনায় উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা চাপের মুখে পড়েছিল। তার সঙ্গে ভারতীয় পণ্যের উপর মার্কিন প্রশাসনের উচ্চ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছে। বাণিজ্যিক সম্পর্ক এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে। গত ফেব্রুয়ারিতে মোদি ও ট্রাম্প একটি অন্তর্বর্তীকালীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। বর্তমানে সেই চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। বৈঠকে সেই অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হতে পারে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

  • Road Tunnel Beneath Hooghly: হুগলির তলদেশে দেশের প্রথম পণ্যবাহী সড়ক টানেল, খরচ প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা

    Road Tunnel Beneath Hooghly: হুগলির তলদেশে দেশের প্রথম পণ্যবাহী সড়ক টানেল, খরচ প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গঙ্গার তলদেশ দিয়ে মেট্রোর সফল চলাচলের পর এবার দেশের পরিবহণ পরিকাঠামোয় আরও এক নতুন মাইলফলক গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হুগলি নদীর তলদেশ দিয়ে ভারতের প্রথম পণ্যবাহী সড়ক টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য কলকাতা বন্দরকে জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে যুক্ত করা। সম্প্রতি নবান্নে কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়ালের সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে নীতিগত অনুমোদনের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (এনএইচএআই)-এর যৌথ উদ্যোগে এই টানেল নির্মিত হবে।

    কেন এই টানেল?

    বর্তমানে কলকাতা বন্দরে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে পণ্যবাহী ট্রাকগুলিকে প্রায়শই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। নতুন টানেল চালু হলে ২৪ ঘণ্টাই নির্বিঘ্নে যান চলাচল সম্ভব হবে। ফলে বন্দরের সঙ্গে জাতীয় সড়কের সংযোগ আরও দ্রুত হবে এবং পণ্য পরিবহণে সময় ও খরচ—দুই-ই কমবে।

    প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য

    প্রস্তাবিত সড়কপথের মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১৫.৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে হুগলি নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত জোড়া টিউব টানেলের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৮.৫ কিলোমিটার। নদীর তলদেশ থেকে প্রায় ৩৮ মিটার গভীরে এই টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    কলকাতা প্রান্তে সংযোগ

    কলকাতা অংশে টানেলে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য দু’টি পৃথক র‌্যাম্প তৈরি হবে। একটি র‌্যাম্প থাকবে এনএসডি-র ৮ নম্বর গেট ও গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স সংলগ্ন এলাকায়।
    অন্য র‌্যাম্পটি শুরু হবে তারাতলা রোডের জিঞ্জিরা বাজার সংলগ্ন অঞ্চল থেকে। এই সংযোগস্থলে তারাতলা রোড, বজবজ রোড, হাইড রোড এবং উপেন ব্যানার্জি রোড মিলিত হওয়ায় এটি পণ্য পরিবহণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

    হাওড়া প্রান্তে সংযোগ

    নদী পার হওয়ার পর টানেলটি হাওড়ার সাঁকরাইল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় মাটির উপরে উঠে আসবে। সাঁকরাইল গুডস ইয়ার্ডের কাছেও দু’টি র‌্যাম্প নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে একটি র‌্যাম্প সরাসরি ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। অন্যটি কলকাতামুখী যান চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হবে। এর ফলে কলকাতা বন্দর থেকে জাতীয় সড়কে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হবে।

    ১০ হাজার ট্রাকের জন্য পার্কিং ব্যবস্থা

    প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল বৃহৎ ট্রাক পার্কিং অবকাঠামো। হাওড়া প্রান্তে টোল প্লাজার কাছে দু’টি বিশাল পার্কিং লট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ১০ হাজার ট্রাক ও অন্যান্য পণ্যবাহী যান রাখা যাবে। টোল প্লাজা অতিক্রম করার পর সংযোগকারী রাস্তা সরাসরি আলমপুরে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে।

    কমবে যানজট, বাড়বে বন্দরের ক্ষমতা

    বর্তমানে কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যে যোগাযোগের প্রধান ভরসা হাওড়া ব্রিজ, বিদ্যাসাগর সেতু এবং বালি এলাকার সেতুগুলি। কিন্তু ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপে এই রুটগুলিতে প্রায়শই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন টানেল চালু হলে একদিকে যেমন সড়ক পরিবহণের গতি বাড়বে, অন্যদিকে কলকাতা বন্দরের পণ্য পরিবহণ ক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

    পূর্ব ভারতের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত

    শিল্প ও বাণিজ্য মহলের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পূর্ব ভারতের লজিস্টিকস ও বাণিজ্যিক পরিকাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসবে। যানজট হ্রাস, পরিবহণ ব্যয় কমানো এবং নতুন শিল্প বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে এই টানেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, হুগলি নদীর তলদেশের এই পণ্যবাহী সড়ক টানেল শুধু দেশের প্রথম প্রকল্প হিসেবেই নয়, পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন চালিকাশক্তি হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

  • Monsoon Rain Update: বর্ষা ঢুকে গেছে দেশে, কিন্তু ঝেঁপে বৃষ্টি কই? কবে থেকে ভারী বর্ষণ, জানাল হাওয়া অফিস

    Monsoon Rain Update: বর্ষা ঢুকে গেছে দেশে, কিন্তু ঝেঁপে বৃষ্টি কই? কবে থেকে ভারী বর্ষণ, জানাল হাওয়া অফিস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃষ্টি নেমেছে শহরে। কিন্তু গরম কমেনি। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও বেশি। ক্যালেন্ডারের পাতায় বর্ষা (Monsoon Rain Update) এসে গেলেও বাস্তবে বৃষ্টির দেখা খুবই কম। দেশের বিস্তীর্ণ অংশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবেশও করে গিয়েছে। কিন্তু গরমে এখনও হাঁসফাঁস করছে দেশের একটা বড় অংশ। এর মধ্যেই আরও দুঃসংবাদ শোনাল আবহাওয়া দফতর। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী অন্তত এক সপ্তাহ দেশজুড়ে ব্যাপক বা ভারী বৃষ্টির (Rain in Bengal) কোনও সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়ার মডেলগুলি বলছে, ২৩ জুনের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা খুবই ক্ষীণ।

    দুর্বল মৌসুমি বায়ু

    আবহাওয়াবিদদের মতে, মধ্য ও পূর্ব ভারতের বেশ কিছু এলাকায় বর্ষা প্রবেশ করলেও বর্তমান আবহাওয়া ব্যবস্থা (Weather System) অস্বাভাবিক রকমের দুর্বল। স্যাটেলাইট চিত্রেও বৃষ্টির অনুকূল মেঘের সেভাবে দেখা মিলছে না। যার জেরে ১৫ থেকে ২১ জুনের মধ্যে দেশের এক বিশাল অংশে কার্যত বৃষ্টিহীন পরিস্থিতি থাকবে। ফলে আগামী দিনে দেশে সার্বিক বৃষ্টির ঘাটতি আরও অনেকটাই বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশে বর্ষা বা মৌসুমি বায়ু এবার বিলম্বিতই। তার উপর চলছে বেশ ধীরগতিতে। এতদিনে দক্ষিণ ভারত, পূর্ব ও মধ্য ভারত স্বাভাবিক ছন্দে পার করে পুরোপুরি উত্তর ভারতের কিছু অংশে বর্ষা ঢুকে পড়ার কথা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত মধ্য ও উত্তর ভারতে বর্ষা প্রবেশ করেনি। এমনকি শুরু হয়নি দক্ষিণ ভারতের সমগ্র অংশেও। আপাতত কেরল ও তামিলনাড়ু, গোয়া এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে বর্ষা পুরোপুরি প্রবেশ করেছে। পূর্ব ভারতের মধ্যে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গে, প্রায় গোটা রাজ্যে বর্ষাকাল শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ করলেও শুধু উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও লাগোয়া এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি আছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। রাজ্যের বাকি অংশে যেখানে বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি হচ্ছে সেখানেই কিছুটা বৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিই আপাতত থাকবে।

    কবে থেকে ভারী বৃষ্টি?

    আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, ২২ জুন থেকে ২৮ জুনের মধ্যে বাড়তে পারে বৃষ্টির সম্ভাবনা। বিশেষত, অভ্যন্তরীণ অঞ্চল, আন্ধ্রপ্রদেশ-কর্নাটক সীমান্ত, দক্ষিণ তামিলনাড়ু এবং কেরলের পশ্চিমঘাট এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলীয় কেরল ও কর্নাটক, পাশাপাশি মুম্বই পর্যন্ত বিস্তৃত পশ্চিমঘাট অঞ্চলেও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে। ২৯ জুন থেকে ৫ জুলাই, মাসের একেবারে শেষলগ্নে গিয়ে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে। আবহাওয়ার বিভিন্ন মডেল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই সময়পর্বে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ফের সক্রিয় হয়ে উঠবে এবং দেশজুড়ে বৃষ্টির ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করবে। আপাতত জুনের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বৃষ্টির এই লুকোচুরি খেলা চলবে বলেই মনে করছে হাওয়া অফিস। উল্লেখ্য, চলতি মাসের প্রথম ১৬ দিনে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গেও বেশকিছু অংশে বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে।

  • Abhishek Banerjee: ভবানী ভবনে জেরা, কালীঘাটে বাড়ি মাপছে পুরসভা— জোড়া চাপে অভিষেক

    Abhishek Banerjee: ভবানী ভবনে জেরা, কালীঘাটে বাড়ি মাপছে পুরসভা— জোড়া চাপে অভিষেক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বাড়ি মাপল কলকাতা পুরসভার কর্মীরা। মঙ্গলবার দুপুর ১টা নাগাদ কালীঘাটের পটুয়াপাড়ায় অবস্থিত অভিষেকের ওই বাড়ির সামনে পুরসভার একটি দল পৌঁছে ফিতে দিয়ে বিভিন্ন অংশ পরিমাপ করতে শুরু করে। এদিন সকালেই ডিজে মামলায় সিআইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি যখন দফতরে, তখনই ১২১ নম্বর কালীঘাটে এসে পৌঁছলেন কলকাতা পৌরনিগমের আধিকারিকরা। পুরসভা সূত্রে খবর, বাড়ির আউটসাইড মাপ, লেন , ফুটপাত ঠিকমতো ছাড় দেওয়া হয়েছে কিনা, ফুটপাতের কোনও অংশ দখল করা রয়েছে কিনা , সেইসব মাপ নিচ্ছেন আধিকারিকরা।

    কেন অভিষেকের বাড়িতে পুর আধিকারিকরা

    আগেই কলকাতা পৌরনিগমের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অভিষেকের বাড়ির অন্দরমহলের নতুন স্কেচ-সহ এলিভিশন কপি জমা দিতে হবে। অভিষেকের সম্পত্তিতে নির্মাণ নকশা নিয়ে নির্দেশ দিয়েছে পুর প্রশাসন। জানা যাচ্ছে, বর্তমানে বাড়ির ভিতরে নতুন করে কী কী অংশ তৈরি হয়েছে, সেটা এলিভিশন কপিতে এঁকে জমা করতে হবে, সে নির্দেশ আগেই দেওয়া হয়েছিল। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সমস্ত মাপ করে একটি রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জমা দিতে হবে। তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই ১৮৮ এ হরিশ মুখার্জি রোডে শান্তিনিকেতনে মাপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি পুরসভার পক্ষ থেকে অভিষেকের কালীঘাট রোড এবং হরিশ মুখার্জি রোডে অবস্থিত অভিষেক ও তাঁর সংস্থার একাধিক সম্পত্তিতে ৪০১ ধারায় নোটিস পাঠানো হয়। সেখানে অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ও নির্মাণ সংক্রান্ত নথি চাওয়া হয়। অভিষেকের আত্মীয়দের মিলিয়ে মোট ১৭টি সম্পত্তিতে এই নোটিস পাঠানো হয় বলে সূত্রের খবর। পুরসভার অভিযোগ, অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত নির্মাণ করা হয়েছে। সেই বিষয়টিই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    অভিষেক বাড়িতে ছিলেন না

    তবে পুরসভার এই পরিদর্শনের সময় অভিষেক বাড়িতে ছিলেন না। সকাল প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিটে তিনি ভবানী ভবনের উদ্দেশে রওনা দেন। ‘ডিজে বাজানো’ সংক্রান্ত উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল সিআইডি। একদিকে যখন ভবানী ভবনে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হচ্ছিলেন তিনি, অন্যদিকে তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে শুরু হয় পুরসভার এই মাপজোক। অভিষেকের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে দাবি করেছেন, ২৯-সি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িটি সম্পূর্ণ বৈধ অনুমোদন নিয়েই নির্মিত হয়েছে।

  • Bangladesh: ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’— বাংলাদেশে রামমূর্তি অবমাননার অভিযোগে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি হিন্দু শিক্ষার্থীদের

    Bangladesh: ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’— বাংলাদেশে রামমূর্তি অবমাননার অভিযোগে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি হিন্দু শিক্ষার্থীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলায় ভগবান রামের মূর্তির অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেন। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা। ‘সচেতন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্রীনিবাসের বাসিন্দারাও অংশ নেন। পরে মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ মোড়ে পৌঁছয়। এরপর তাঁরা রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান।

    বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক

    সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক রাম প্রসাদ সাহা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তাঁর অভিযোগ, কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠী ভগবান রামকে নিয়ে গুজব ছড়িয়ে ধর্মীয় উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “শ্রী রামচন্দ্র আমাদের কাছে অবতার। তাঁর প্রতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপের ঘটনা সনাতন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত হেনেছে। আমরা ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই। কিন্তু কিছু গোষ্ঠী বিভেদ ও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।” সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থী নেতা দীপজয় সরকার দীপ্ত ও সুদীপ্ত প্রামাণিক। তাঁরা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে বারবার বৈষম্য দেখা যায়। একই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিও তোলেন তাঁরা। সুদীপ্ত প্রামাণিক বলেন, “নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু পরে সেগুলোর অনেকটাই বাস্তবায়িত হয় না। আমরা চাই, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।” তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামী শুক্রবার আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    বিক্ষোভকারীদের দাবি

    বিক্ষোভকারীরা সমাবেশ থেকে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে—গাইবান্ধার ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ, উগ্রবাদী কার্যকলাপ দমনে কার্যকর উদ্যোগ এবং গাইবান্ধায় প্রস্তাবিত ভগবান রামের বৃহত্তম মূর্তি নির্মাণের কাজ পুনরায় শুরু করা। ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

  • India-Slovakia Relation: ভারত-স্লোভাকিয়া সম্পর্ক ‘পূর্ণাঙ্গ অংশীদারিত্ব’-এ উন্নীত, স্বাক্ষরিত ১১টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি

    India-Slovakia Relation: ভারত-স্লোভাকিয়া সম্পর্ক ‘পূর্ণাঙ্গ অংশীদারিত্ব’-এ উন্নীত, স্বাক্ষরিত ১১টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্লোভাকিয়া (PM Modi in Slovakia) সফরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছল। সোমবার স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর সঙ্গে বৈঠকের পর ভারত ও স্লোভাকিয়া (India-Slovakia Relation) তাদের সম্পর্ককে ‘কমপ্রিহেনসিভ পার্টনারশিপ’ বা পূর্ণাঙ্গ অংশীদারিত্বে উন্নীত করার কথা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি শ্রম অভিবাসন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, উচ্চশিক্ষা ও কোয়ান্টাম যোগাযোগ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে ১১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে দুই দেশ। সোমবার স্লোভাকিয়ার রাষ্ট্রপতি পিটার পেলেগ্রিনির সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    অভিন্ন বিশ্বাস, অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যতের প্রতীক

    ইউরোপ সফরের অংশ হিসেবে ব্রাতিস্লাভায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এটি স্লোভাকিয়ায় কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর। স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মোদি বলেন, “আমরা আমাদের সম্পর্ককে কমপ্রিহেনসিভ পার্টনারশিপের মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি আমাদের অভিন্ন বিশ্বাস, অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যতের প্রতীক।” ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তকরণে সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদি ফিকো-রও প্রশংসা করেন। দুদিনের এই সফরে স্লোভাকিয়ার প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনি (President Peter Pellegrini) এবং প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর (Prime Minister Robert Fico) সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্য জগতের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তাঁর আলোচনা হয়। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অটোমোবাইল শিল্প, রেল উৎপাদন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম মেধা ও উদ্ভাবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়নে জোর

    দুই নেতার বৈঠকে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA)-র দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, এই চুক্তি কার্যকর হলে দুই দেশের শিল্প, স্টার্টআপ ও ব্যবসায়ীরা উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে। স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোও এই চুক্তিকে বিশ্বের অন্যতম উচ্চাকাঙ্ক্ষী বাণিজ্য চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে তাঁর দেশ।

    জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা

    দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক শক্তি ও ভূ-তাপীয় শক্তি ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “অটোমোবাইল, রেলওয়ে, উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি এবং সবুজ প্রযুক্তি আমাদের সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।” প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে দুই দেশ একটি লেটার অফ ইনটেন্ট (LOI) চূড়ান্ত করেছে। মোদির মতে, এটি দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে সহযোগিতায় নতুন গতি আনবে এবং পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে।

    ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার

    যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে ভারত ও স্লোভাকিয়া আঞ্চলিক সংযোগ, মুক্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে একসঙ্গে কাজ করবে।

    দক্ষ কর্মীদের চলাচল সহজ করতে সমঝোতা

    দুই দেশ দক্ষ পেশাজীবীদের নিরাপদ ও বৈধ চলাচলকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে শ্রম অভিবাসন সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে। পাশাপাশি কর্মরত পেশাজীবীদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাগ্রিমেন্ট চূড়ান্ত করার বিষয়েও একমত হয়েছে উভয় পক্ষ।

    রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের সমর্থন

    বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে দুই নেতা রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারকে সমর্থন করেছেন। এই প্রেক্ষিতে, সংস্কারিত ও সম্প্রসারিত নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিতে স্লোভাকিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য ভারত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

    সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যৌথ অবস্থান

    মোদি ও ফিকো সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের, বিশেষ করে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের তীব্র নিন্দা করেন। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলারও কড়া নিন্দা জানান ফিকো। সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশ একটি যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী কর্মগোষ্ঠী (Joint Working Group on Counter-Terrorism) গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রসংঘের কাঠামোর আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেছে দুই দেশ। দুই নেতা সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও মদতদাতাদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

    ভারত-স্লোভাকিয়া সম্পর্ক

    ভারত-স্লোভাকিয়া বৈঠকের এই সিদ্ধান্তগুলি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেওয়ার পাশাপাশি ইউরোপে ভারতের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল। বিদেশ মন্ত্রকের (Ministry of External Affairs) মতে, গত কয়েক বছরে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ যে নতুন গতি পেয়েছে, মোদির এই সফর সেই সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুসংহত করার দিকেই বড় পদক্ষেপ। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (President Droupadi Murmu) স্লোভাকিয়া সফর এবং এবছর স্লোভাকিয়ার রাষ্ট্রপতি পেলেগ্রিনির ভারত সফরের পর মোদির এই সফর দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল সহ শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিরা এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ভারত ও স্লোভাকিয়ার সম্পর্কের (India-Slovakia relations) ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

LinkedIn
Share