Author: ishika-banerjee

  • Assembly Election 2026: হুমকি দিয়ে ভোটার কার্ড হাতানোর অভিযোগ! ফলতায় অভিষেক ঘনিষ্ঠ টিএমসি প্রার্থীকে হুঁশিয়ারি ‘সিংহম’-এর

    Assembly Election 2026: হুমকি দিয়ে ভোটার কার্ড হাতানোর অভিযোগ! ফলতায় অভিষেক ঘনিষ্ঠ টিএমসি প্রার্থীকে হুঁশিয়ারি ‘সিংহম’-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হুমকি দিয়ে ভোটার কার্ড হাতানোর অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে গেল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। দ্বিতীয় দফার ভোটের (Assembly Election 2026) আগে সোমবার সকালে ভোটারদের ভয় দেখানো এবং পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের (Jahangir Khan) বাড়িতে অতর্কিতে হানা দেয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের দুঁদে আইপিএস অফিসার তথা নির্বাচন কমিশনের পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা। তবে খুঁজে পাওয়া যায়নি জাহাঙ্গিরকে। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক ধারণা, গ্রেফতারি বা জিজ্ঞাসাবাদ এড়াতে প্রার্থী এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। এরপরই জাহাঙ্গিরের উদ্দেশে তাঁর পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের রীতিমতো ধমক দিতে দেখা যায় অজয় পাল শর্মাকে। তিনি বলেন, “ওর বাড়ির লোককে বলে দেবেন, উনি যা করছেন, তাতে পরে যেন কাঁদতে না হয়।”

    জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে মূলত দুটি গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে কমিশনের কাছে। সাধারণ মানুষকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া। পরিচয়পত্র কেড়ে নিয়ে ভোটারদের ভোটাধিকারে বাধা দেওয়া। কমিশন সূত্রে খবর, সোমবার সকাল ১০টা নাগাদ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে জাহাঙ্গিরের বাড়ির সদর দরজায় পৌঁছন পুলিশ পর্যবেক্ষক। তবে তল্লাশি শুরু হলেও বাড়িতে খোঁজ মেলেনি খোদ প্রার্থীর। বাড়ির সামনে তাঁর ব্যবহৃত লাল রঙের বিলাসবহুল গাড়িটি দাঁড়িয়ে থাকলেও জাহাঙ্গির খান কোথায়, সে বিষয়ে পরিবারের তরফে সদুত্তর মেলেনি। এদিন প্রচারেও দেখা যায়নি জাহাঙ্গিরকে। সম্ভবত তিনি বেপাত্তা, এমনই খবর নির্বাচন কমিশন সূত্রে।

    আইপিএস অফিসারের কড়া হুঁশিয়ারি

    তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে অভিযান চলাকালীন মেজাজ হারাতে দেখা যায় আইপিএস অজয় পাল শর্মাকে। জাহাঙ্গিরের পরিবার ও অনুগামীদের উদ্দেশে তিনি কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ওর খবর আমরা ভালোভাবেই নেব। ওকে পরিষ্কার বুঝিয়ে দেবেন যে, বারবার লোকজনকে ভয় দেখানোর যে অভিযোগ আসছে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে যেন কান্নাকাটি না করে।” এই অভিযানকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ভোটের আগে প্রার্থীকে মানসিক চাপে ফেলতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে এই অত্যাচার চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। তবে তৃণমূল যাই বলুক, জাহাঙ্গিরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ওই এলাকার সাধারণ মানুষ অবশ্য পুলিশি তৎপরতায় একটু নিশ্চিন্তে। জাহাঙ্গিরকে সমর্থন নিয়ে তৃণমূলের পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিজেপির অমিত মালব্যও। এক্স মাধ্যমে পোস্ট শেয়ার করেছেন তিনি। বলেছেন ‘ কমিশনের বার্তা পরিষ্কার: জেলায় বহাল থাকবে আইনের শাসন, চলবে না হুমকি, অভিষেক ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে তাই সময় নষ্ট নয়, দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে।’

    কে এই জাহাঙ্গির

    জেলার রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী জাহাঙ্গির। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে পরিচিত তিনি। ২০১৪ সালে অভিযেক ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই জাহাঙ্গিরের উত্থান শুরু হয়ে জেলার রাজনীতিতে। ফলতা, বজবজ পুরসভা এলাকায় ধীরে ধীরে তাঁর প্রভাব বাড়ে। জাহাঙ্গির ফলতার যুব তৃণমূলের সভাপতি হন। বজবজ বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের পর্যবেক্ষকও হন তিনি। অভিষেকের নির্দেশেই জাহাঙ্গিরের উত্থান। গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে এই জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ নতুন নয়। আগেও একাধিক ভোটে তাঁর বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    কে এই অজয় পাল শর্মা?

    অজয় পালের প্রোফাইল ঘাঁটলে যে কেউ চমকে উঠতে পারেন। তিনি ২০১১ সালের উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার। তবে তাঁর কেরিয়ার শুরু হয়েছিল অন্যভাবে। লুধিয়ানার ভূমিপুত্র অজয় আসলে একজন ডাক্তার। পাটিয়ালার সরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে তিনি ডেন্টাল সার্জারি বা বিডিএস (BDS) পাশ করেন। কিন্তু সেই পেশা ছেড়ে তিনি তুলে নেন পুলিশের উর্দি। বর্তমানে প্রয়াগরাজের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের অপরাধী দমনে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। কড়া মেজাজ আর নির্ভীক দাপটের জন্যই তাঁকে ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ উপাধি দেওয়া হয়েছে তাঁকে। দক্ষিণ ২৪ পরগণার ভোটে দুষ্কৃতীদের বুকে ত্রাস তৈরি করতে যোগীরাজ্য থেকে আনা হচ্ছে ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ এই আইপিএস অফিসারকে। দ্বিতীয় দফার (West Bengal Election Second Phase) হাইভোল্টেজ ভোটের আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক হয়ে এসেছেন অজয় পাল শর্মা (Ajay Pal Sharma Police Observer)। উত্তরপ্রদেশের পুলিশ মহলে যাঁর পরিচয় ‘সিংহম’ হিসেবে।

    কমিশনের নজরে দক্ষিণ ২৪ পরগণা

    গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ১৫২টি আসনের ভোট মোটের ওপর নির্বিঘ্নেই মিটেছে। কিন্তু আসল পরীক্ষা আগামী ২৯ তারিখ। ওই দিন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ। আর এই দফার অন্যতম স্নায়ুকেন্দ্র হল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা। ভাঙড় থেকে ক্যানিং, মিনাখাঁ থেকে বাসন্তী – এই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত বারবার রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভোট নিয়ে বরাবরই নালিশ জানায় বিরোধীরা। অভিযোগ ওঠে দেদার ছাপ্পা ও রিগিংয়ের। তাই নির্বাচন কমিশনের তরফে এবার অজয় পাল শর্মার মতো অফিসারকে এখানে পাঠানো হয়েছে। এর অর্থ হল, অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করলেই চরম ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখা।

  • Lashkar Commander Shot Dead: পাকিস্তানে ফের ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ বন্দুকবাজের হামলায় খতম লস্করের শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার

    Lashkar Commander Shot Dead: পাকিস্তানে ফের ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ বন্দুকবাজের হামলায় খতম লস্করের শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:পাকিস্তানের মাটিতে ফের ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ বন্দুকবাজের হামলা। এবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে রহস্যজনক আততায়ীর গুলিতে খুন হল লস্কর-ই-তৈবার (LeT) শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার শেখ ইউসুফ আফ্রিদি (Sheikh Yousuf Afridi)। মুম্বই হামলার মূল চক্রী হাফিজ সইদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং লস্কর জঙ্গি সংগঠনের অত্যন্ত পরিচিত মুখ ইউসুফকে দীর্ঘ বেশ কয়েকদিন ধরেই টার্গেটে (Lashkar Commander Died) রাখা হয়েছিল, বলে খবর।

    ছক কষে কীভাবে গুপ্তহত্যা

    প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, আফ্রিদিকে লক্ষ্য করে আচমকা এলোপাথাড়ি গুলি চালায় অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা। আত্মরক্ষার কোনও সুযোগই পায়নি সে। গুলির আওয়াজ পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সুযোগ নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। পাক নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত গুপ্তহত্যা। এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেনি। পুলিশ ও নিরাপত্তা রক্ষীরা গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে। ফরেন্সিক দল ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছে। অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন পাক তদন্তকারীরা। এই মৃত্যু লস্কর-ই-তৈবার জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    টার্গেট লস্করের শীর্ষ নেতারা

    বিগত কয়েক বছর ধরে একেবারে বেছে বেছে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্করের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের হত্যা করছে দুষ্কৃতীরা। এর আগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে হাফিজ সইদের শ্যালক তথা লস্করের রাজনৈতিক শাখার প্রধান মৌলানা কাশিফ আলিও গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছিল। নিরাপত্তা সংস্থা সূত্রে খবর, শেখ ইউসুফ আফ্রিদি দীর্ঘদিন ধরে লস্করের সাংগঠনিক কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাথা ছিল। পাকিস্তানে গত এক বছরে একাধিক শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি নেতার রহস্যমৃত্যু ঘটেছে। শেখ ইউসুফ আফ্রিদি দীর্ঘদিন ধরে লস্কর প্রধানের অনুগামী ছিল। পাঠান অধ্যুষিত খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে মুজাহিদকে প্রস্তুত করার কাজ করত সে। এখান থেকে জঙ্গিদের দলে নিয়ে কাশ্মীর এবং অন্যান্য জায়গায় পাঠাত আফ্রিদি। লস্করের খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রধান হিসাবে বিবেচনা করা হত এই আফ্রিদিকে। হফিজ সইদের সঙ্গে একাধিকবার প্রকাশ্যে হাজির হয়েছে আফ্রিদি। এহেন লস্কর কমান্ডারের মৃত্যু নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, একটি অটোতে করে দুই বন্দুকধারী রাস্তায় নেমে একটি সাদা এসইউভি গাড়ির ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় এবং তারপর তারা ফের সেই অটোতে চড়ে পালিয়ে যায়। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম

    ভারতবিরোধী জঙ্গি-নিধন!

    সাম্প্রতিক কালে পাকিস্তানে মাঝেমাঝেই অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা ভারতবিরোধী জঙ্গিদের খতম করে চলেছে। এই সব জঙ্গি নেতাদের জামাই আদর করে রেখেছিল পাকিস্তানি সেনা। আর তাদের মৃত্যুতে বারংবার ইসলামাবাদের কান্নাকাটি দেখা গিয়েছে। স্বভাবতই, প্রতিবার এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটার পরই পাকিস্তানের তরফ থেকে ভারতের দিকে আঙুল তোলা হয়। যদিও আজও পর্যন্ত একটি ঘটনাতেও ভারতের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ পাকিস্তান দিতে পারেনি। ভারত সরকারের অবস্থান স্পষ্ট, তারা কোনও দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে না বা কোনও মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত নয়।

  • Rajya Sabha Realignment: রাঘব চাড্ডা সহ আপ-এর ৭ জনকে বিজেপি সাংসদ হিসেবে ঘোষণা রাজ্যসভায়, বদলে গেল উচ্চকক্ষের সমীকরণ

    Rajya Sabha Realignment: রাঘব চাড্ডা সহ আপ-এর ৭ জনকে বিজেপি সাংসদ হিসেবে ঘোষণা রাজ্যসভায়, বদলে গেল উচ্চকক্ষের সমীকরণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যসভায় (Rajya Sabha Realignment) বড় রাজনৈতিক পালাবদল। আপ (Aam Aadmi Party)-এর সাতজন সাংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি-তে (Bharatiya Janata Party) যোগ দিলেন। আম আদমি পার্টি-র ৭ জন সাংসদকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি সাংসদ হিসেবে ঘোষণা করলেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি। এর ফলে উচ্চকক্ষে বিজেপির সাংসদ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১৩-এ। এই মর্মে অনুমোদন দিয়েছেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণণ (C. P. Radhakrishnan)। এই ঘটনায় আপের শক্তি বড় ধাক্কা খেল। আগে যেখানে তাদের ১০ জন সাংসদ ছিল, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩-এ। অন্যদিকে, বিজেপি আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে এবং একক বৃহত্তম দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে।

    একসঙ্গে দলবদল, আইনি বিতর্ক শুরু

    আপ সাংসদ রাঘব চাড্ডা (Raghav Chadha)-সহ সঞ্জীব পাঠক, অশোক মিত্তল, হরভজন সিং, বিক্রমজিৎ সাহনি, স্বাতী মালিওয়াল ও রাজিন্দর গুপ্তা একযোগে চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন জানান বিজেপিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য। আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর রাজ্যসভার ওয়েবসাইটে তাদের নাম বিজেপির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই দলবদল ঘিরে ‘দলত্যাগ বিরোধী আইন’ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, যদি কোনো দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একসঙ্গে অন্য দলে যোগ দেন, তাহলে তা বৈধ ‘মার্জার’ হিসেবে গণ্য হয়—ফলে অযোগ্য ঘোষণার সম্ভাবনা কম।

    জনসেবার স্বার্থেই বিজেপিতে যোগ

    এই ঘটনায় আপ তীব্র প্রতিবাদ করে সাত সাংসদের সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছে। রাজনৈতিক মহল আপের জন্য এই ঘটনাকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে পাঞ্জাবে সরকারে থাকা দলটির জাতীয় স্তরের প্রভাব কমে গেল। অন্যদিকে, বিজেপির ক্ষেত্রে এটি একটি কৌশলগত সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে, যা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে। দলত্যাগী সাংসদরা জানিয়েছেন, আপের মধ্যে কাজের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছিল এবং জনসেবার স্বার্থেই তারা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত শুক্রবার, আম আদমি পার্টির সাংসদ রাঘব চাড্ডা-সহ ছ’জন দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন। জানা গেছে, দলত্যাগী এই সাংসদদের বিজেপির সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সময় চেয়েছিল আপ। তবে সেই আবেদন কার্যকর হওয়ার আগেই সংযুক্তির সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়।

  • IPL 2026: ধোনির রেকর্ড ভাঙলেন রিঙ্কু! লখনউ ম্যাচে ইতিহাস কেকেআর তারকার, সুপার ওভারে জয় নাইটদের

    IPL 2026: ধোনির রেকর্ড ভাঙলেন রিঙ্কু! লখনউ ম্যাচে ইতিহাস কেকেআর তারকার, সুপার ওভারে জয় নাইটদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাহির রেকর্ড ভেঙে এখন কেকেআর-এর ‘সঙ্কটমোচন’ রিঙ্কু সিং। দলের বিপদে রিঙ্কু যখন ক্রিজে নামেন, কেকেআর সমর্থকরা তখন ভরসা পান। মাঝে যদিও সময়টা ভালো যাচ্ছিল না কিন্তু আবারও নিজেকে প্রমাণ করলেন রিঙ্কু (Rinku Singh)। লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে ৫১ বলে অপরাজিত ৮৩ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে কেবল দলকে জেতাননি, বরং আইপিএলের ইতিহাসে (IPL 2026) কিংবদন্তি মহেন্দ্র সিং ধোনির এক দীর্ঘস্থায়ী রেকর্ড নিজের নামে করে নিলেন কেকেআরের এই বাঁহাতি ব্যাটার।

    ধোনির রেকর্ড-এ থাবা

    আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম ইনিংসে ৬ নম্বর বা তার নিচে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি এতদিন ছিল এমএস ধোনির দখলে। ২০১১ সালে আরসিবির বিরুদ্ধে ধোনি করেছিলেন ৭০ রান। দীর্ঘ ১৫ বছর পর সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেন রিঙ্কু সিং। লখনউয়ের বিপক্ষে তাঁর অপাজিত ৮৩ রানের ইনিংসটি এখন তালিকার শীর্ষে। এই তালিকায় তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছেন যথাক্রমে দীনেশ কার্তিক (৬৯) এবং শার্দূল ঠাকুর (৬৮)। প্রথম ইনিংসে লোয়ার অর্ডারে (৬ বা তার নিচে) নেমে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে দ্বিতীয় সর্বাধিক রানের মালিকও এখন রিঙ্কু। এখানে তাঁর আগে রয়েছেন কেবল কেকেআরের সতীর্থ আন্দ্রে রাসেল, যিনি ২০১৮ সালে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে ৮৮ রান করেছিলেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে আইপিএল ইতিহাসে ৬ বা তার নিচে নেমে সর্বাধিক রানের এলিট ক্লাবেও এখন জ্বলজ্বল করছে রিঙ্কুর নাম। যেখানে হার্দিক (৯১), আন্দ্রে রাসেল (৮৮), জিতেশ শর্মা (৮৫) এবং মহেন্দ্র সিং ধোনির (৮৪) মতো বিগ হিটাররা রয়েছেন। সেখানে পাঁচ নম্বরে রয়েছেন রিঙ্কু সিং।

    সুপার ফিনিশার রিঙ্কু

    ইডেনে রাজস্থান রয়‌্যালসের বিরুদ্ধে টিমকে প্রথম জয় এনে দিয়েছিলেন। আর লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে রিঙ্কু যা করলেন, সেটা এককথায় অতিমানবীয়। টস হেরে প্রথমে ব‌্যাট করে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় কেকেআর। ৩১ রানের মধ্যে চারটে উইকেট চলে যায়। সেখান থেকেই টিমকে টানতে থাকেন রিঙ্কু। শেষ ওভারে টানা চারটে ছয়। সেটাই কেকেআরকে লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছে দেয়। তারপর ফিল্ডিংয়ে পাঁচটা ক‌্যাচ (একটা সুপার ওভারে)। রিঙ্কুর দৌলতেই সুপার ওভারে লখনউকে হারিয়ে ম্যাচে নাটকীয় জয় পায় নাইটরা। ম্যাচ শেষে হর্ষ ভোগলে তাঁকে ‘সঙ্কটমোচন’ বলে ডাকলেও ম্যাচের সের রিঙ্কু তা বিনম্রভাবে হাসিমুখে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে পরিসংখ্যান বলছে, ধোনির উত্তরসূরি হিসেবে একজন নিখুঁত ফিনিশারের খোঁজে থাকা ভারতীয় ক্রিকেটে রিঙ্কু সিং এখন এক অপরিহার্য নাম।

  • Assembly Election 2026: দফায় দফায় আক্রান্ত বিজেপি প্রার্থী! থানার সামনেই সংঘর্ষ, জওয়ানকে লক্ষ্য করে ‘গুলি’, উত্তপ্ত জগদ্দল

    Assembly Election 2026: দফায় দফায় আক্রান্ত বিজেপি প্রার্থী! থানার সামনেই সংঘর্ষ, জওয়ানকে লক্ষ্য করে ‘গুলি’, উত্তপ্ত জগদ্দল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের (Assembly Election 2026) আগে উত্তপ্ত ভাটপাড়ার জগদ্দল এলাকা। অভিযোগ, নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং-এর উপর হামলা চালায় রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের কর্মীরা। হামলা চালানো হয় ভাটপাড়ার বিজেপি প্রার্থী পবন কুমার সিংয়ের বাড়িতেও। থানার ভিতরে পুলিশের সামনেই আক্রান্ত হন জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন আইপিএস অফিসার রাজেশ কুমার। রবিবার রাতেই জগদ্দল থানার (TMC-BJP Clash Jagaddal) সামনে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সময় দুই দলের কর্মীরা একে অপরের দিকে পাথর ছোড়ে বলে প্রাথামিকভাবে অভিযোগ। যার জেরে ইতিমধ্যেই পুলিশ স্টেশনের বাইরে কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় রয়েছে চাপা উত্তেজনা। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ান। অভিযোগ, বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংয়ের বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। গুলিও চালানো হয়। সেইসময়ই গুলিবিদ্ধ হন এক সিআইএসএফ জওয়ান। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তৃণমূল কাউন্সিলর-সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন।

    বিজেপি প্রার্থীদের উপর দফায় দফায় হামলা

    নির্বাচনের আগে নৈহাটি থেকে জগদ্দল বা ভাটপাড়ায় উত্তেজনা-সংঘর্ষ নতুন নয়। তবে গত কয়েক দিন সে ভাবে অশান্তি দেখা যায়নি। কিন্তু দ্বিতীয় দফা ভোটের দু’দিন আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে। ওই বিধানসভা এলাকার আটচালা বাগানে তৃণমূল এবং বিজেপির সংঘর্ষ হয়। সে নিয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার এবং নোয়াপাড়ার প্রার্থী অর্জুন সিং-এর উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। থানা থেকে বেরিয়ে প্রাক্তন আইপিএস অফিসার তথা বিজেপি প্রার্থী রাজেশের কটাক্ষ, ‘‘চটিচাটা পুলিশ গুন্ডা দিয়ে আক্রমণ করিয়েছে।’’ জগদ্দল এলাকায় রবিবার সন্ধ্যায় দুই দলের সংঘর্ষের খবর পেয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং র‌্যাফ নামে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে জগদ্দল থানায় অর্জুনকে নিয়ে উপস্থিত হন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার তথা বিজেপি প্রার্থী রাজেশ।

    তৃণমূল নেত্রী মমতার প্ররোচনাতেই হামলা

    বিজেপির অভিযোগ, থানার সামনেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাদের উপর হামলা চালিয়েছে। তাঁদের উপর ইটবৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ করেন অর্জুন। থানা থেকে বেরিয়ে রাজেশ আঙুল তোলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। তাঁর কথায়, ‘‘আমার বিরুদ্ধে বিদায়ী চিফ মিনিস্টার মানুষকে উস্কেছেন। বলেছেন, সকলে বদলা নেবেন কি না। একটা থানার ভিতরে আমাদের উপর হামলা করা হয়েছে। আইসি-রা পালিয়েছেন। গুন্ডারা এসে আমাদের লোকেদের পিটিয়েছে।’’ অশান্তির সূত্রপাত গতকাল রাতে। জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী রাজেশ শর্মার অভিযোগ, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন। এফআইআর করা হয়নি। কবে করবে তিনি জানেন না। তারপরই দেখা যায় তৃণমূলের একটা গুণ্ডাবাহিনী থানায় ঢুকে যায়। প্রায় দেড়-দুশো লোক ছিল। তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। সেইসময় পুলিশ পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ তোলেন রাজেশ শর্মা। খবর পেয়ে থানায় পৌঁছন অর্জুন সিং।

    তালা মেরে বসেছিল পুলিশ!

    নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন জানান, হামলার খবর পেয়ে তিনি থানায় আসেন। তৃণমূলের প্রচুর লোক সেইসময় ঘটনাস্থলে ছিল। সেইসময় ভয়ে তালা মেরে থানার ভিতরে বসেছিল পুলিশ। এমনই অভিযোগ অর্জুন সিংয়ের। এই আবহে অর্জুনকে ঘিরে একপ্রস্থ ধস্তাধস্তি চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।

    গুলিবিদ্ধ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান

    এরপরই বিজেপি প্রার্থী পবন সিংয়ের বাড়িতে হামলা অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, আচমকা তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইট ছুড়তে শুরু করেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। সেইসময় বেরিয়ে আসেন পবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফ জওয়ান যোগেশ শর্মা। তখনই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। তাঁর পায়ে গুলি লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আহত জওয়ানকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে।

    তৃণমূল কাউন্সিলর-সহ ৪ জনকে গ্রেফতার

    ঘটনার পর থেকে থমথমে ভাটপাড়া। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। অশান্তির ঘটনার পরই ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। তৃণমূল কাউন্সিলর-সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও এক তৃণমূল কাউন্সিলরের খোঁজে পলিশ। ভাটপাড়ার ভাইস চেয়ারম্যানের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান।

    হিংসাই তৃণমূলের হাতিয়ার

    বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল। এই দফাতেও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে চায় নির্বাচন কমিশন। যদিও নির্বাচনের আগে একের পর এক অশান্তির খবর আসছে। যেমন ভাঙড়ে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর তাজা বোমা। তৃণমূলকর্মীর বাড়ি থেকেই মিলেছে বোমাগুলি। এর পিছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যার ফলে এই ঘটনার তদন্তের ভার পুলিশের থেকে এনআইএর কাঁধে চলে গিয়েছে। তারপর আবার জগদ্দলে এমন ঘটনা ঘটল। তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত হল এলাকা। আক্রান্ত হলেন একের পর এক বিজেপি প্রার্থী-সহ কর্মী-সমর্থকেরা।  গেরুয়া শিবিরের দাবি, প্রথম দফায় শান্তিপূর্ণ মানুষের বিপুল ভোটদান রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের মনে ভয় ধরিয়েছে। তাই দ্বিতীয় দফা ভোটে হিংসাকেই হাতিয়ার করতে চাইছে তারা।

  • Assembly Election 2026: বোমা তৈরির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান, ভাঙড়ে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ

    Assembly Election 2026: বোমা তৈরির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান, ভাঙড়ে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে দ্বিতীয় দফা ভোটের (Assembly Election 2026) মুখে ষড়যন্ত্রের আভাস পেল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। সতর্ক নির্বাচন কমিশনও। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের মাঝেরহাট এলাকায় পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে কাঁচা বোমা উদ্ধারের ঘটনায় এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বোমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করতে বিশেষ অভিযান চালানোর জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে প্রথম দফা ভোটের মতোই নির্বিঘ্নে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনা করতে বদ্ধপরিকর কমিশন। কিন্তু তা পণ্ড করার উদ্দেশে নানারকম ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সন্দেহ

    শনিবার কলকাতা পুলিশের একটি দল গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর কাশীপুর থানা এলাকার মাঝেরহাটের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে হানা দেয়। সেখান থেকে ৭৯টি কাঁচা বোমা উদ্ধার হয়। মেলে বোমা তৈরির নানা কাঁচামাল, প্রায় ৩.৩৭ কেজি গান পাউডার, ১.৬১ কেজি সালফার, পাটের দড়ি ইত্যাদি। কয়েক জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি নিষিদ্ধ জিনিসগুলো জড়ো করেছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সন্দেহ, কোনও ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা হচ্ছিল ওই স্থানে। ইতিমধ্যে এনআইএ একটি এফআইআর-ও দায়ের করেছে। রবিবার অমিত শাহের মন্ত্রকের ওই ঘটনার ‘গুরুত্ব’ বিচার করে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। নোটিসে বলা হয়েছে, অবৈধ জিনিসপত্র জড়ো করা, বিস্ফোরক তৈরি করা ইত্যাদি সাধারণ মানুষের মনে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। তাঁদের নিরাপত্তার খাতিরে এবং ষড়যন্ত্রীদের ধরার জন্য জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেফতার

    পুলিশ বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে। কিন্তু অভিযুক্তদের কেউ এখনও গ্রেফতার হননি। আগামী বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট রয়েছে। রাজ্যের সাত জেলায় মোট ১৪২টি আসনে হবে ভোটগ্রহণ। প্রথম দফার ভোট মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ভাবেই মিটেছে। প্রথম দফায় কোনও বুথেই পুনর্নির্বাচন হচ্ছে না। এই অবস্থায় দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ পর্বও শান্তিপূর্ণ ভাবে করার লক্ষ্যে। দ্বিতীয় দফার ভোটের মুখে বোমা নিষ্ক্রিয় করতে পুলিশকে অবিলম্বে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। বলা হয়েছে, ভোটের দিন যে কোনও ভাবেই বোমা বিস্ফোরণের মতো ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) তদন্ত চালাচ্ছে, এমন ক্ষেত্রেও পুলিশ পদক্ষেপ করতে পারবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

    পুলিশকেও পড়তে হবে শাস্তির মুখে

    রাজ্যে অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনের সময়ে বোমাবাজির অভিযোগ উঠছে। তবে গত বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৬ জেলার ১৫২টি আসনের কোথাও বোমাবাজির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসেনি। দ্বিতীয় দফার ভোটও সেই রকমই শান্তিপূর্ণ রাখার লক্ষ্যে নজরদারি আরও বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে বুথমুখী রাস্তাগুলিতেও থাকবে কমিশনের ‘চোখ’। এত দিন বুথের মধ্যে একটি এবং বাইরে একটি করে সিসি ক্যামেরা বসানো থাকত। এবার বুথমুখী রাস্তাতেও বসবে সিসি ক্যামেরা। কমিশন সূত্রে খবর, কলকাতার পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে ডিসি, এসপি, আইসি এবং ওসি স্তর পর্যন্ত সকল পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশেও কড়া বার্তা দিয়ে রেখেছে নির্বাচন কমিশন। তারা জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের এলাকা থেকে যদি কোনও বিস্ফোরক উদ্ধার হয় বা কেউ ভয় দেখানোর কৌশল ব্যবহার করেন, তবে সংশ্লিষ্ট ওসি বা আইসি-কে নজিরবিহীন পরিণতির মুখে পড়তে হবে। সে ক্ষেত্রে কাউকেই যে ছাড় দেওয়া হবে না, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বলেই কমিশন সূত্রে খবর।

    ভাঙড় আছে ভাঙড়ে

    ভাঙড় আছে ভাঙড়ে। এই রাজ্যে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক হিংসার সাক্ষী থাকা জায়গাগুলির তালিকায় ওপরের দিকে নাম রয়েছে ভাঙড়ের। সেই ভাঙড়েই ভোটের আগেই গত ১৮ এপ্রিল তৃণমূল নেতার পরিত্যক্ত বাড়িতে থেকে দুই ড্রাম ভর্তি বোমা উদ্ধার হয়েছিল। রবিবারই ভাঙড়ে আর একটি বিস্ফোরণের ঘটনায় অহিদুল ইসলাম মোল্লা নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। দীর্ঘ দিন পলাতক থাকার পর শনিবার তাঁকে একটি গাড়িতে দেখে মারধর করেছিলেন স্থানীয় কয়েক জন। পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। গত মার্চে বিস্ফোরণে এক জনের মৃত্য এবং তিন জন জখম হওয়ার ঘটনায় ওই অভিযুক্তকে পরে এনআইএ গ্রেফতার করেছে। উল্লেখ্য, এবার ভাঙড়ে লড়াই মূলত আইএসএফের বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি বনাম তৃণমূলের শওকত মোল্লার। আবার একদা তৃণমূলের ‘তরতাজা সৈনিক’ আরাবুল ইসলাম দল বদল করে আইএসএফে যোগ দিয়েছেন। আরাবুল ক্য়ানিং পূর্ব থেকে লড়ছেন। তবে ভাঙড়ের এই নেতার দলবদলে আইএসএফ-তৃণমূল সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে ওই এলাকায়। সব মিলিয়ে ভোটের আগে উত্তপ্ত ভাঙড়।

    বিরোধীদের অভিযোগ

    এই ঘটনা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে ভোটদান থেকে বিরত রাখতেই অন্ধকারের সুযোগ নেওয়া হচ্ছে। এর আগে এই ভাঙড়েই বহুবার বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছিল। ভোটের মুখে এভাবে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিরোধীরা। এই আবহে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে কমিশন। ভাঙড়ে এবারের বিজেপি প্রার্থী জয়ন্ত গায়েনের দাবি, বরাবরই এই অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন সাধারণ মানুষ। আগামী ২৯ এপ্রিল যাতে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন কমিশনের কাছে সেই আর্জি রাখেন তিনি।

     

     

     

     

  • Assembly Election 2026: “দিদির খেলা শেষ, সিন্ডিকেটরাজ বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলব”, বর্ধমানে বিস্ফোরক ভাষণে তোপ দাগলেন শাহ

    Assembly Election 2026: “দিদির খেলা শেষ, সিন্ডিকেটরাজ বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলব”, বর্ধমানে বিস্ফোরক ভাষণে তোপ দাগলেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্ধমানের জামালপুর থেকে শাহি আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জানালেন বাংলায় এবার পদ্মফুল ফুটছেই। একইসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ৪ মে বর্ধমানের সীতাভোগ খাইয়ে মিষ্টিমুখ করাবেন বলেও জানান। তিনি বলেন, ‘‘প্রথম দফায় (Assembly Election 2026) বিজেপি ১১০ আসন জিতবে দিদির খেলা শেষ করে দেবে। সব সরকারি কর্মচারীকে সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় আনা হবে। মা বোনেদের প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। বেকার যুবকদেরও প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। মা-বোনেদের সরকারি বাসে কোনও টিকিট কাটতে হবে না। আলুর দাম কম হতে দেওয়া যাবে না। কৃষকদের ধানের দাম দেওয়া হবে। ৫ তারিখে বিজেপির সরকার বানিয়ে দিন, ৬ তারিখে সব সিন্ডিকেটরাজ বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলব।’’

    সন্ত্রাস হয়েছে মা-বোনেদের উপর

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনামলে গত ১৫ বছরে মহিলাদের ওপর সবচেয়ে বেশি অত্যাচার হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শাহ। তাঁর কথায়, দেশের ২০টি রাজ্যে বিজেপি সরকার রয়েছে, কিন্তু কোথাও কোনও মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের সময় বেঁধে দেননি। শাহ বলেন, ‘‘১৫ বছরে মমতাদিদির জমানায় সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাস হয়েছে মা-বোনেদের উপর। আরজি কর, সন্দেশখালি প্রতি জায়গায় মা-বোনেদের উপর অত্যাচার হয়েছে। কিন্তু দিদি বলেন, মা-বোনেরা সন্ধ্যা ৭টা পর বাড়ি থেকে বেরোবেন না। কিন্তু আমি বলে যাচ্ছি, বিজেপি সরকার এলে মাঝরাতেও মা-বোনেরা বেরোতে পারবেন। দেশের ২০ রাজ্যে বিজেপির সরকার আছে। কোনও মুখ্যমন্ত্রী এ কথা বলেননি মহিলারা ৭টার পর ঘরের বাইরে বেরোবেন না। লজ্জা করুন দিদি, মহিলাদেরর আপনি সুরক্ষা দিতে পারেননি। কিন্তু বিজেপির সরকার এলে কোনও গুন্ডা মা-বোনেদের দিকে চোখ তুলে তাকালে জেলের হাওয়া খাওয়াব।’’

    মতুয়াদের ভয় দেখানো হচ্ছে

    বাংলা থেকে গুন্ডা-রাজ সরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে শাহ বলেন,‘‘প্রতি বার ভোটের সময় দিদির গুন্ডারা ঝামেলা করে। দিদির গুন্ডাদের তাই বলে যাচ্ছি, ২৯ তারিখে ঘরের বাইরে যেন না দেখতে পাই। যদি বার হয়, তা হলে ৫ তারিখের পর উল্টো করে ঝোলাব। দিদি আমার উপর ক্ষেপে যাচ্ছে যে, অমিত ভাই গুন্ডাদের ধমকাচ্ছেন। এখন তো শুধু ধমকাচ্ছি, শুধরে যাও। না হলে জেলে ভরব।’’ মতুয়া সমাজকে নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘দিদি মতুয়াদের ভয় দেখাচ্ছেন, যদি বিজেপি আসে তা হলে আপনাদের ভোট চলে যাবে। কিন্তু দিদি, এই মতুয়া সমাজ আমাদের প্রাণ। ওদের কেউ ছুঁতে পারবে না। মতুয়া সমাজ, নমশূদ্র সমাজের ব্যক্তিদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। সিএএ করতে দিচ্ছে না দিদি। আপনারা বিজেপির সরকার বানিয়ে দিন, ৫ তারিখের পর মতুয়া সমাজের সব ভাই-বোনদের নাগরিকত্ব দেবে বিজেপি। টিএমসি সব সময় এসসি সমাজের অপমান করেছে। আর বিজেপি সম্মান করেছে। এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করেছে। মতুয়া আর শূদ্র সমাজকে বলে দিয়ে যাচ্ছি, বিজেপির প্রাণ বাংলার মতুয়া সমাজ। বাংলায় কারও চারটে বিয়ে করা উচিত? ৫ তারিখের পর আমরা ইউসিসি (অভিন্ন দেওয়াবিধা বিধি) আনব। কেউ চারটে বিয়ে করতে পারবে না।’’

    স্থানীয় স্তরে উন্নয়নের অঙ্গীকার

    স্থানীয় উন্নয়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘কেন্দ্র সরকার গরিবদের পাকাবাড়ি, পরিশ্রুত পানীয় জল, শিক্ষার জন্য টাকা পাঠিয়েছে। কিন্তু এই কোথায় গেল? এই সব টাকা টিএমসি-র সিন্ডিকেট আর ভাইপো-ট্যাক্সে চলে গিয়েছে। গোটা বাংলায় বেকারত্ব বাড়িয়েছে দিদির সরকার। ৭ হাজার কারখানা বাংলা ছেড়ে চলে গিয়েছে। আমরা ২ বছরে সব কারখানা আবার বাংলায় ফিরিয়ে নিয়ে আসব। যুব সম্প্রদায়ের চাকরির রাস্তা খুলবে।’’

  • Assembly Election 2026: কড়া নিরাপত্তা! দ্বিতীয় দফার ভোটে আরও ১১ পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করল নির্বাচন কমিশন

    Assembly Election 2026: কড়া নিরাপত্তা! দ্বিতীয় দফার ভোটে আরও ১১ পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন (Assembly Election 2026) হয়েছে শান্তিতেই। দ্বিতীয় দফার ভোট একেবারে ‘ঘটনাবিহীন’ করতে রাজ্যে পুলিশ পর্যবেক্ষকের সংখ্যা বাড়াল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে আরও ১১ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হল। আগামী ২৯ এপ্রিল ভোটে নজরদারি আরও আঁটোসাঁটো করার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ। কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম দফার ভোটে যেটুকু অশান্তি হয়েছে, দ্বিতীয় দফায় তার সম্ভাবনাও দূর করতে চাইছে কমিশন। সেই কারণে পুলিশ পর্যবেক্ষকের সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    মোট ৯৫ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক

    এ বারের নির্বাচনের জন্য পশ্চিমবঙ্গে ৮৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছিল কমিশন, যা অন্যান্য বারের তুলনায় বেশি। দ্বিতীয় দফায় সংখ্যা আরও বাড়ানো হল। এখন মোট ৯৫ জন পুলিশ পর্যবেক্ষককে স্পর্শকাতর এলাকাগুলি চিহ্নিত করে বাড়তি নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন পুলিশ পর্যবেক্ষকেরা প্রত্যেকেই ভিন্‌রাজ্য থেকে আসছেন। তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্য পুলিশকেই। বহু দিন পর পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় ভোট হচ্ছে। কমিশন ভোট ঘোষণার দিনই জানিয়েছিল, দফা কমানো হলেও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সবরকম পদক্ষেপ করা হবে। সেই মতো এবার কার্যত নজিরবিহীন ভাবে রাজ্যের ২৯৪টি কেন্দ্রের জন্য আলাদা আলাদা সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। পুলিশ পর্যবেক্ষকের সংখ্যাও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

    বাড়তি ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন

    প্রথম দফার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হলেও দ্বিতীয় দফায় কলকাতা-সহ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বাড়তি ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন (Election Commission)। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী-সহ অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী বা বিভিন্ন দলের হেভিওয়েট প্রার্থী এই দফার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শহর কলকাতা (Kolkata) ছাড়াও ভাঙড়-সহ উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, হাওড়া (Howrah), হুগলি ও পূর্ব বর্ধমানের বেশ কিছু অতি-উত্তেজনাপ্রবণ বুথ (Sensitive Booths) বা এলাকা রয়েছে, যেখানে আরও বেশি পরিকল্পনামাফিক কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কলকাতা বা রাজ্যের পুলিশ অথবা ভিন রাজ্যের পুলিশ বাহিনীকে কাজে লাগাতে চায় কমিশন।

    দ্বিতীয় দফায় বাহিনী বাড়ছে না

    পর্যবেক্ষকের সংখ্যা বাড়লেও দ্বিতীয় দফায় বাহিনী বাড়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। রাজ্যে যে ২৫৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Forces) রয়েছে, তাদের মধ্যে একাংশকে প্রথম দফা নির্বাচনী কেন্দ্রগুলির স্ট্রংরুমের নিরাপত্তায় রাখা হচ্ছে। বাকি বাহিনীকে দ্বিতীয় দফার ৮ নির্বাচনী জেলায় নিরাপত্তা রক্ষার কাজে লাগানো হবে। শুক্রবার থেকেই সিইও দপ্তরে রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচন নিয়ে দফায় দফায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক, ভিডিয়ো কনফারেন্স হয়েছে। সিইও ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক এন কে মিশ্র, ওড়িশা পুলিশের আইজি তথা পুলিশ পর্যবেক্ষক হীরালাল, সিআরপিএফ কর্তা থেকে ভিন রাজ্যের পুলিশ কর্তারাও। সব মিলিয়ে ভোটের বুথ এবং বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে বা বুথ সন্নিহিত এলাকাকে শান্তিপূর্ণ রেখে বঙ্গের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনেও রেকর্ড ভোটদানের নজির অক্ষুণ্ণ রাখতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন।

  • Bengaluru CET Row: বেঙ্গালুরু পরীক্ষা কেন্দ্রে পৈতে খুলতে বাধ্য করার অভিযোগে ৩ শিক্ষক সাসপেন্ড

    Bengaluru CET Row: বেঙ্গালুরু পরীক্ষা কেন্দ্রে পৈতে খুলতে বাধ্য করার অভিযোগে ৩ শিক্ষক সাসপেন্ড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে সেট (Common Entrance Test) পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঁচজন ব্রাহ্মণ ছাত্রকে তাঁদের পবিত্র সুতো (যজ্ঞোপবীত বা পৈতে) খুলতে বাধ্য করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে পরীক্ষার প্রথম দিনেই। এই ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন কর্নাটকের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী এমসি সুধাকর। তদন্তের (Bengaluru CET Row) নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি সাসপেন্ড করা হয়েছে ওই কলেজের তিন অধ্যাপককে। তাতেও বিতর্কে লাগাম টানা যায়নি। এই ঘটনায় ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে দাবি বিজেপি এবং বিরোধী দলগুলির। এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

    কেন পবিত্র সুতো খুলতে হবে?

    একজন ছাত্র জানিয়েছেন, “পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার সময় আমার কানের দুল খুলতে বলা হয়, সেটা মেনে নিয়েছিলাম কারণ ধাতব জিনিস নিষিদ্ধ। কিন্তু আমাকে শরীর থেকে পবিত্র সুতো খুলতেও বাধ্য করা হয়।” পরিস্থিতির চাপে ওই ছাত্র নির্দেশ মানতে বাধ্য হয় বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, শুধু পৈতে নয়, অনেক ছাত্রের হাতে বাঁধা লাল-হলুদ ‘মৌলি’ বা ‘কলাভা’ও খুলতে বলা হয়। ঘটনার পর অভিভাবকরা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে কর্তৃপক্ষের কাছে এর কারণ জানতে চান। তাঁদের দাবি, পবিত্র সুতো না খুলতে পূর্বেই নির্দেশিকা জারি ছিল। উল্লেখ্য, গত বছরও একই ধরনের বিতর্ক তৈরি হলে সরকার জানিয়েছিল যে সেট পরীক্ষায় পবিত্র সুতো খুলতে হবে না।

     ঘটনাটি “দুর্ভাগ্যজনক”

    কর্নাটকের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী এম সি সুধাকর ঘটনাটিকে “দুর্ভাগ্যজনক” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, “প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তিনজনকে বরখাস্ত করার বিষয়ে আমাকে জানানো হয়েছে। আমি বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং ইতিমধ্যে দফতরের আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “আগামী বছর থেকে এই ধরনের বিষয় সম্পর্কে আগেভাগেই স্পষ্ট নির্দেশিকা দিতে হবে এবং আইনি কাঠামোর মধ্যে কী শাস্তি হতে পারে, সেটাও সকলকে জানাতে হবে।”অন্যদিকে, কর্নাটক বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আর অশোক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, “কংগ্রেস সরকারের ‘হিন্দু-বিরোধী’ কার্যকলাপ অব্যাহত রয়েছে। গত বছরও পরীক্ষায় মঙ্গলসূত্র ও পৈতে খুলতে বাধ্য করা হয়েছিল, এ বছরও সেই একই ঘটনা ঘটছে।” সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারায় এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ।

  • Satellite Image of Green India: ‘শস্যশ্যামলাং মাতরম’ মহাকাশ থেকে ঝলমলে সবুজ ভারতের ছবি, নজর কাড়ছে বিশ্বের

    Satellite Image of Green India: ‘শস্যশ্যামলাং মাতরম’ মহাকাশ থেকে ঝলমলে সবুজ ভারতের ছবি, নজর কাড়ছে বিশ্বের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ধনধান্যে পুষ্পে ভরা…সকল দেশের সেরা’ ভারতের ছবি ধরা পড়ল রাশিয়ার উপগ্রহে। রসকসমসের (Roscosmos) ইলেকট্রো-এল হাইড্রোমেটারোলজিক্যাল স্যাটেলাইটের (Electro-L satellite) তোলা এই ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। রাশিয়ার এই কৃত্রিম উপগ্রহ গোটা পৃথিবীর আবহাওয়ার হিসেব রাখে। এটি পৃথিবীর বিষুবরেখা থেকে প্রায় ৩৬,০০০ কিলোমিটার উঁচুতে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে স্থির হয়ে ভেসে থাকে এবং ঠিক পৃথিবীর আবর্তনের সমান গতিতে চলাচল করে। আর সেই উপগ্রহের তোলা ছবিতে ধরা পড়েছে সবুজ ভারতের ছবি।

    কী এই ইলেকট্রো-এল স্যাটেলাইট?

    ইলেকট্রো-এল একটি জিওস্টেশনারি কক্ষপথে অবস্থানকারী আবহাওয়া উপগ্রহ। সাবাবছর নিরবচ্ছিন্নভাবে পৃথিবীর উপর নজর রাখে এই উপগ্রহ। এই উপগ্রহে রয়েছে মাল্টিস্পেকট্রাল স্ক্যানিং ডিভাইস, যা একসঙ্গে বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো ধরতে পারে। এর মাধ্যমে ভারত মহাসাগর, ইউরেশিয়া, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও অ্যান্টার্কটিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধরা পড়ে। ইলেকট্রো-এল (Electro-L) মোট ১০টি স্পেকট্রাল ব্যান্ডে ছবি তোলে। যার মধ্যে দুটি দৃশ্যমান (সবুজ ও নীল) এবং বাকি ইনফ্রারেড রেঞ্জে। ইনফ্রারেড প্রযুক্তির সাহায্যে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং মেঘের গতিবিধি নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়। উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত তথ্য পাঠানো হয় রাশিয়ার আবহাওয়া দফতরে। এছাড়া বিশ্বের একাধিক আবহাওয়া বিভাগ এই তথ্য বিশ্লেষণ করে আবহাওয়ার পূর্বাভাস তৈরি ও দুর্যোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। শুধু তাই নয়, এই উপগ্রহ আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট উদ্ধার ব্যবস্থা কসপাস সারস্যাট (COSPAS-SARSAT)-এর সংকেতও রিলে করে, যা বিপদগ্রস্ত অবস্থায় উদ্ধার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    সবচেয়ে ঝলমলে সবুজ ভারত

    রাশিয়ার মোট ১৫৫৯টি কৃত্রিম উপগ্রহ রয়েছে। এর মধ্যে বহু উপগ্রহ রুশ সেনার সিস্টেম মেনে কাজ করে। আলোচ্য উপগ্রহটি এই বছরেরর ফেব্রুয়ারিতেই উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। সম্প্রতি এর পাঠানো ছবিগুলির মধ্যে অন্যতম একটি ছবি, কালো অন্তরীক্ষের প্রেক্ষাপটে নীল রঙের ঝলমলে পৃথিবী। যার মধ্যে সবচেয়ে ঝলমলে রঙিন সবুজ ভারত। মহাকাশযানের জানালা দিয়ে তোলা আরেকটি চমৎকার ছবিতে প্রশান্ত মহাসাগর ও মেঘমালার ঘূর্ণায়মান নীল ও সাদা বিন্যাসের এক উচ্চ-রেজোলিউশনে পৃথিবীকে দেখা গিয়েছে। হয়তো যা দেখে মহাকাশচারীদের মনে পড়ছিল মাত্র কয়েক দিন আগেই পেছনে ফেলে আসা নিজেদের গ্রহটাকে!

LinkedIn
Share