Author: ishika-banerjee

  • ABVP at CJP Protest: সিজেপির আন্দোলনে সংঘর্ষের নিন্দা এবিভিপির, ছাত্রদের দাবি মেটাতে সংলাপ ও সংস্কারের আহ্বান

    ABVP at CJP Protest: সিজেপির আন্দোলনে সংঘর্ষের নিন্দা এবিভিপির, ছাত্রদের দাবি মেটাতে সংলাপ ও সংস্কারের আহ্বান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত নিট ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিক্ষোভকে ঘিরে ছাত্র ও নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আরএসএস-ঘনিষ্ঠ ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)। বুধবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি ঘটনায় জড়িত সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে ছাত্রদের ন্যায্য দাবি শান্তিপূর্ণ সংলাপ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। এবিভিপি (ABVP at CJP Protest) তাদের বিবৃতিতে জানায়, নিট ইউজি (NEET-UG) এবং শিক্ষা সংস্কার নিয়ে ছাত্রদের উদ্বেগ ও ক্ষোভকে তারা সমর্থন করে। তবে যন্তর মন্তরে যে বিশৃঙ্খলা, জনজীবন ব্যাহত হওয়া এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, তার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। সংগঠনের দাবি, কিছু “অসামাজিক” এবং “রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী” গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করেছে, যার ফলে ছাত্রছাত্রী এবং নিরাপত্তারক্ষী—উভয় পক্ষেরই আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

    এবিভিপির দাবি

    সংগঠনটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উচ্চপর্যায়ের সরকারি কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি নিট ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁসের মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারেরও আহ্বান জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ছাত্রদের ন্যায্য দাবি সংলাপ, সহমর্মিতা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। কোনও অবস্থাতেই ছাত্র আন্দোলনকে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি, অরাজকতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়।

    যন্তর মন্তরে কী ঘটেছিল?

    গত ২০ জুলাই নিট ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহির দাবিতে সিজেপির (ABVP at CJP Protest) ডাকা ‘পার্লামেন্ট মার্চ’-এ হাজার হাজার ছাত্র অংশ নেন। বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে কিছু ছাত্রছাত্রীকে পুলিশের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলতে দেখা যায়। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ হাইকোর্টে জানিয়েছে, বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল না এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর কিছু বিক্ষোভকারী পাথর ছোড়ে। পুলিশের দাবি, ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল এবং সহিংসতার আশ্রয় নেওয়া হয়। বর্তমানে সিজেপির আন্দোলন এবং জলবায়ু আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকের অনশন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীরা নিট ইউজি (NEET-UG) পুনঃপরীক্ষা, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি এবং একাধিক ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনার দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছেন।

  • Suvendu Attacks Abhishek: ‘বাইরে থাকলে তবে তো হিসেব’, ২১ জুলাইয়ের মন্তব্যে অভিষেককে পাল্টা শুভেন্দুর

    Suvendu Attacks Abhishek: ‘বাইরে থাকলে তবে তো হিসেব’, ২১ জুলাইয়ের মন্তব্যে অভিষেককে পাল্টা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘২০৩১ সালে হিসেব মেটানোর’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এবার পাল্টা আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Attacks Abhishek)। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, সাহস থাকলে আগামী লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার থেকেই লড়াই করুন অভিষেক। ২০৩১ সালে তিনি কোথায় থাকবেন, তা বিজেপিই ঠিক করবে বলেও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্নীতির প্রশ্নে বিধানসভা থেকে বুধবার বাম-তৃণমূল দুই প্রাক্তন শাসক দলকে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তবে তাঁর আক্রমণের ঝাঁঝ অনেক বেশি ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে।

    শুভেন্দুর আল্টিমেটাম

    স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট আলোচনার জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দুর হুমকি, ‘‘ভাইপোপন্থী তৃণমূলের নাম ও নিশান পশ্চিমবঙ্গে থাকবে না। এটা আমার দায়িত্ব।’’ তৃণমূলের শহিদ দিবস নিয়ে খোঁচা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কালকে তো শহিদ দিবস হয়নি। কেউ বলছে, ভাইপো প্যারাশুটে নেমেছে। আর ভাইপো বলছে, নোট-খাতা খুলে রাখো, একত্রিশে হিসেব হবে। আরে তুমি বাইরে থাকলে তো হিসাব হবে।” রাজ্যে পালাবদলের পর ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেককে কেন আর তাঁর কেন্দ্রে দেখা যায় না, তা নিয়ে খোঁচা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “৪ মের পর ডায়মন্ড হারবার গিয়েছ? জোকা পেরিয়েছ? যাও না ডায়মন্ড হারবার। পান্নালাল হালদার নিয়ে যান চ্যাম্পিয়ন এমপি-কে।”

    ৩১-এ কোথায় থাকে দেখব

    বুধবার ক্যাথিড্রাল রোডের সভামঞ্চ থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করেছিলেন অভিষেক। কর্মীদের সাহস ও উপস্থিতির প্রশংসা করে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, “যাঁরা ভয় উপেক্ষা করে এসেছেন, তাঁদের দেখে মনে হচ্ছে আজ নতুন করে তৃণমূলের জন্ম হল। এই নতুন তৃণমূল আগামী ৪০ বছর বাংলার রাজনীতিতে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং ৩১ সালে সব হিসেব বুঝে নেবে।” মন্তব্যের পাল্টা শুভেন্দু বলেন, “গতকাল বড় বড় আওয়াজ দেওয়া হয়েছে। ও ৩১-এ কোথায় থাকে আমি দেখব।”

    ‘‘ফলতার মতো দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হবে’’

    অভিষেককে তীব্র আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ভোটে লড়ুন, তারপর কোথায় থাকবেন, তা দেখবেন। ফলতার মতো দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হবে। নির্বাচনের আগে অনেক বড় বড় কথা বলা হয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারী, অমিত শাহ—সবাই বলেছিলেন, ডি-জে বাজাবেন। কিন্তু ৪ তারিখে পশ্চিমবঙ্গের মানুষই ডি-জে বাজিয়ে দিয়েছেন।” এরপর আরও কড়া সুরে তিনি মন্তব্য করেন, “এই সরকার ভদ্রতা বজায় রেখেছে বলেই এখনও কেউ ২ হাজার লোকের সামনে নায়কোচিত ভঙ্গিতে পকেটে হাত ঢুকিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারছেন। প্রতিষ্ঠিত চোর ভিতরে থাকবেন না বাইরে থাকবেন, তা ভবিষ্যৎই বলবে।”

    ‘‘শওকত, পুষ্পার থেকেও অবস্থা খারাপ হবে’’

    ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ডায়মন্ড হারবারে লড়ুন। সেখানে ৪০ শতাংশ মুসলিম ভোট রয়েছে। তারপরও আপনি যে ব্যবধানে জিতেছেন, সেই ব্যবধানেই যদি আপনাকে হারাতে না পারি, তাহলে আমার কথাই ভুল প্রমাণিত হবে। আপনার অবস্থা শওকত বা পুষ্পার থেকেও খারাপ হবে।’’ বিধানসভায় একাধিক ইস্যুতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আগের রাজ্য সরকারেরও সমালোচনা করেন। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘পুলিশকে কোথায় নিয়ে গিয়েছিলেন? এই ভাইপোপন্থী তৃণমূলের কোনও অস্তিত্ব পশ্চিমবঙ্গে থাকবে না, সেটাই আমার দায়িত্ব। ফলতা তো সবে শুরু, রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম এখনও বাকি।’’

    ‘‘পাশের বাড়ির মানুষও আপনাকে ভোট দেন না’’

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘তিনি বলছেন, আবার ফিরে আসবেন। সবাই নাকি গদ্দার, সব চোর নাকি অন্য দলে চলে গিয়েছে। এত বড় নেত্রী হয়েও মিত্র ইন্সটিটিউশনের চারটি বুথেই আমার কাছে হেরেছেন। পাশের বাড়ির মানুষও আপনাকে ভোট দেন না, অথচ নিজেকে জননেত্রী বলেন। একসময় অটল বিহারী বাজপেয়ীর আশীর্বাদ পেয়েছিলেন।’’

    আমফান দুর্নীতি নিয়ে অভিষেককে তোপ

    তার আগেই বিধানসভায় সিএজি (ক্যাগ) রিপোর্ট পেশ করার সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রসঙ্গেই উঠে আসে আমফান নিয়ে দুর্নীতির প্রসঙ্গ। আমপানের পর কেন্দ্রের বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল থেকে আসা বিপুল অর্থ নয়ছয় হয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে সরব হয়েছেন শুভেন্দু। এমনকি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় পুনর্নির্বাচনে জয়ের পর সভা করার সময়ও আমফান দুর্নীতির প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই দুর্নীতি নিয়ে আগেও অভিষেককে নিশানা করেছেন তিনি। সেই আমফান দুর্নীতি নিয়ে সিএজি রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করে রাজ্যপালের কাছে এফআইআর করার অনুমতি চাওয়া হবে বলেও জানান শুভেন্দু।

    পুলিশের দুর্নীতি রুখতে দাওয়াই শুভেন্দুর

    পুলিশমন্ত্রী হিসেবে দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু এদিন বলেন, ‘‘ওটা (অভিষেক) বাঘ না, বেড়াল। যত চুরি করেছে সব গর্ত খুঁড়ে বার করব।’’ ‘আঞ্চলিক দলের’ সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলে অভিষেককে কটাক্ষ করে আক্রমণ শানিয়েছেন মমতার দিকেও। তাঁর নাম না-করে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, ‘‘আপনি বেঁচে থাকতে থাকতে প্রমাণ করে দেব আপনি প্রতিষ্ঠিত চোর।’’পুলিশমন্ত্রী হিসেবে তাঁর অভিযোগ, বিগত সরকার পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে পুলিশের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কিছুই করেনি। রাজ্য পুলিশে অনুমোদিত পদের এক তৃতীয়াংশই (৪৩ হাজার ৭৩) শূন্য রয়েছে বলে বিধানসভায় জানান শুভেন্দু। তবে আশ্বাস দেন পুজোর আগেই ১৬ হাজার কনস্টেবল নিযুক্ত হবে। আরও ২০ হাজার পুলিশকর্মী অবিলম্বে নিয়োগ করা হবে বলেও ঘোষণা করেন শুভেন্দু। পুলিশের দুর্নীতি রুখতে তাঁর দাওয়াই, ‘‘হেল্পলাইন নম্বর চালু হয়েছে। কোথাও কাউকে রাস্তায় হাত পাততে দেখলেই জানান।’’

    ‘জিরো টলারেন্সের’ নির্দেশ

    ধানতলা, বানতলা থেকে শুরু করে নন্দীগ্রামে গুলিচালনার ঘটনা বা সূচপুরের ঘটনা উল্লেখ করে শুভেন্দু দাবি করেন, যে ঘটনাগুলিকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা, সেই সমস্ত ক্ষেত্রে মানুষকে বিচার পাইয়ে দিতে পারেননি তিনি। মহিলা এবং নারীদের উপর অপরাধের ক্ষেত্রে ফের ‘জিরো টলারেন্সের’ কথা বলে তিনি পুলিশকে নির্দেশ দেন, ‘‘এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে নির্দেশের অপেক্ষা করবেন না। যা করার দরকার তাই করবেন। মনে রাখবেন আপনাদের সবচেয়ে বড় ঢাল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।’’ বিগত সরকারের জমানায় ধর্ষণের ঘটনায় নিম্ন আদালত একের পর এক ফাঁসির সাজা দিলেও তা কার্যকর কেন হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলে মূলত তাদের গাফিলতিকেই দায়ী করেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি বারুইপুরের শিশুকন্যা ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকাকে কার্যত মডেল হিসেবে ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ঘটনা ঘটলে তা কী ভাবে মোকাবিলা করতে হয় তা বারুইপুরের ঘটনায় প্রমাণ করে দিয়েছে আমাদের সরকার।’’

    দুর্নীতির প্রশ্নে নিশানা তৃণমূলকে

    এর পরেই দুর্নীতির প্রশ্নে নিশানা করেন তৃণমূল কংগ্রেসকে। গত পনেরো বছরে যাঁরা অবৈধ সম্পত্তি করেছেন, সেই সব বাজেয়াপ্ত করে নিলাম করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে বামেদেরও বিঁধেছেন শুভেন্দু। সিপিএমকে চিটফান্ডের ‘ক্যাম্পেইনার’ বলে অভিযোগ করে, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে এ রাজ্যের সিপিএম নেতাদের একাংশের ফাইল খোলার কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে।

    ডায়মন্ড হারবারে লড়বেন!

    কালীঘাট তৃণমূলের শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে ভিড় নিয়ে এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিড়লা তারামণ্ডলে ওইটুকু জায়গায় কত লোক হয়েছে? পুলিশ রিপোর্ট দিয়েছে। আড়াই হাজারের একটু বেশি হয়েছে।” মমতা অভিষেককে বাঘ বলে উল্লেখ করেছেন। এদিন তা নিয়েও কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওটা বাঘ না বিড়াল। ওকে আমি কাউন্টার করব না। ও অনেক বড়-বড় কথা বলে। তবে একটাই কথা বলব, সাহস থাকলে আগামী লোকসভা ভোটে ডায়মন্ড হারবারে লড়বে। যত ভোটে জিতেছে, তত ভোটে হারাব। আপনার অবস্থা পুষ্পার চেয়েও খারাপ হবে।”

  • Delhi Protest: মার্কিন দূতাবাসের আগাম বিক্ষোভ সতর্কতা ঘিরে বিতর্ক, দিল্লির সিজেপি আন্দোলনের ব্যাপারে এত নির্দিষ্ট তথ্য পেল কীভাবে?

    Delhi Protest: মার্কিন দূতাবাসের আগাম বিক্ষোভ সতর্কতা ঘিরে বিতর্ক, দিল্লির সিজেপি আন্দোলনের ব্যাপারে এত নির্দিষ্ট তথ্য পেল কীভাবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকা বিক্ষোভকে ঘিরে মার্কিন দূতাবাসের জারি করা একটি আগাম নিরাপত্তা সতর্কতা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগে, ১৭ জুলাই প্রকাশিত ওই সতর্কতায় ২০ ও ২১ জুলাই দিল্লিতে সম্ভাব্য বিক্ষোভ, ভিড়, যান চলাচলে বিঘ্ন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছিল। এর পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, মার্কিন দূতাবাস এত আগে এবং এত নির্দিষ্ট তথ্য কীভাবে পেল। ঘটনার সূত্রপাত নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র আন্দোলনের ডাক দেওয়া হলেও, আন্দোলনে অ-ছাত্র গোষ্ঠী, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন এবং অন্যান্য স্বার্থান্বেষী মহলের অংশগ্রহণ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও এই অভিযোগগুলির পক্ষে কোনও সরকারি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

    মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতায় কী বলা হয়েছিল?

    ১৭ জুলাই প্রকাশিত মার্কিন দূতাবাসের “ডেমনস্ট্রেশন অ্যালার্ট”-এ মার্কিন নাগরিকদের ২০ জুলাই সংসদ ভবন ও যন্তর মন্তর সংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। সতর্কতায় বলা হয়েছিল, ওই দিন বড় জমায়েত হতে পারে এবং দিল্লি পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ব্যাপক যানজট ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হতে পারে। এছাড়াও ২১ জুলাই কিষাণ ঘাটে আরেকটি বিক্ষোভের কথাও উল্লেখ করা হয়। সেখানে প্রায় ২৫০টি কৃষক সংগঠনের অংশগ্রহণ এবং মোটরসাইকেল মিছিলের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছিল।

    মার্কিন নাগরিকদের জন্য দূতাবাসের পরামর্শ ছিল—

    বড় জমায়েত ও বিক্ষোভ এড়িয়ে চলুন।
    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসরণ করুন।
    ট্রাফিক বিলম্ব ও রাস্তা বন্ধ থাকার সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুত থাকুন।
    স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলুন।
    পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন।
    স্টেপ (Smart Traveler Enrollment Program)-এ নিবন্ধন করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আপডেট গ্রহণ করুন।

    বিতর্কের কারণ কী?

    দিল্লি পুলিশ ১৮ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশন উপলক্ষে ট্রাফিক সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ করে। তবে তার আগেই মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতায় বিক্ষোভের সম্ভাব্য স্থান, তারিখ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কৃষক সংগঠনগুলির সম্ভাব্য অংশগ্রহণের মতো বিশদ তথ্য উল্লেখ থাকায় রাজনৈতিক মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে। তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, বিভিন্ন দেশের দূতাবাস নিয়মিতভাবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম, প্রশাসনিক সূত্র, প্রকাশ্য তথ্য এবং নিজস্ব নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে তাদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শ জারি করে থাকে। ফলে এমন সতর্কতা জারি করা কোনও অস্বাভাবিক বিষয় নয়।

    ‘ডিপ স্টেট’ ও জর্জ সোরোস প্রসঙ্গ

    বিতর্কের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু রাজনৈতিক মহলে তথাকথিত “ডিপ স্টেট” বা মার্কিন ধনকুবের জর্জ সোরোস-এর নামও টানা হচ্ছে। তবে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতা এবং এসব অভিযোগের মধ্যে কোনও সম্পর্কের পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। একইভাবে সিজেপি-র সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত অভিজিৎ দিপকে-র অতীত রাজনৈতিক পরিচয় ও যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। জানা গিয়েছে, তিনি আগে আম আদমি পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তবে তাঁর ব্যক্তিগত শিক্ষাগত বা রাজনৈতিক অতীতের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কতার কোনও যোগসূত্র রয়েছে বলে কোনও সরকারি সংস্থা দাবি করেনি।

    সরকারি অবস্থান

    প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রস্তাবিত সংসদ অভিযানের অনুমতি দেওয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও সম্ভাব্য বিক্ষোভের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা বাহিনী আগে থেকেই সতর্ক ছিল এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে মার্কিন দূতাবাসের আগাম সতর্কতা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও, দূতাবাসের তথ্য সংগ্রহ বা এর সঙ্গে কোনও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের যোগ রয়েছে—এমন দাবির পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রত্যক্ষ ও প্রমাণিত তথ্য সামনে আসেনি।

  • Jammu And Kashmir: কাশ্মীরের অনন্তনাগে পুলিশ বাহিনীর উপর জঙ্গিদের গুলি, নিহত হেড কনস্টেবল

    Jammu And Kashmir: কাশ্মীরের অনন্তনাগে পুলিশ বাহিনীর উপর জঙ্গিদের গুলি, নিহত হেড কনস্টেবল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের রক্তাক্ত কাশ্মীর (Jammu And Kashmir)। পুলিশবাহিনীর উপর জঙ্গি হামলা হল জম্মু ও কাশ্মীরে। গোলাগুলিতে এক পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। অনন্তনাগের (Attacks in Anantnag) লালচকে এই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার বেলা ১২টা নাগাদ লালচকে টহল দিচ্ছিল পুলিশের একটি দল। আচমকাই সেই দলের উপর গুলি চলে। পুলিশকর্তাদের মতে, সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীরা জঙ্গলের আড়াল থেকে গুলি চালায়। সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা জবাব দেয় পুলিশ। ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হামলায় গুরুতর জখম হন হেড কনস্টেবল আশিক হুসেন।

    হামলাকারীদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত পুলিশকর্মীকে দ্রুত অনন্তনাগের গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ (GMC) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত আশিক হুসেনের বাড়ি বুদগাম জেলার বীরওয়াহ এলাকায়। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে এবং হামলাকারীদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং অনন্তনাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জঙ্গিরা যাতে পালাতে না-পারে, তা নিশ্চিত করতে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। ড্রোন দিয়েও নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিগত কয়েক মাসে বার বার সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়েছে। জঙ্গি বা অনুপ্রবেশকারীদের উপস্থিতি লক্ষ করে জবাব দিয়েছে ভারতীয় সেনা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী। সেনার দাবি, কঠোর নজরদারির জেরেই অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। দিনচারেক আগেই জম্মু ও কাশ্মীরের রজৌরি সেক্টরে নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলওসি) অনুপ্রবেশ আটকেছে সেনা।

    নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

    উল্লেখ্য, অমরনাথ যাত্রা উপলক্ষে ইতিমধ্যেই জম্মু ও কাশ্মীরজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার তীর্থযাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তার মধ্যেই অনন্তনাগে এই জঙ্গি হামলার ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান এখনও চলছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ। সঙ্গে রয়েছে সেনাবাহিনীও।

  • India vs Bangladesh: ক্রীড়া কূটনীতিতে ভরসা! ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট-সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে, আশায় বাংলাদেশ

    India vs Bangladesh: ক্রীড়া কূটনীতিতে ভরসা! ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট-সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে, আশায় বাংলাদেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় ক্রিকেট দলের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বাংলাদেশ। ক্রীড়া কূটনীতির মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশের সাম্প্রতিক দূরত্ব কাটিয়ে উঠতে আশাবাদী বাংলাদেশ। সে দেশের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক (Aminul Haque)মঙ্গলবার জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরে ভারতীয় ক্রিকেট দলকে বাংলাদেশে স্বাগত জানানোর জন্য সরকার অপেক্ষা করছে। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা ভারত সরকারের তরফে কোনও বিবৃতি না মিললেও, মনে করা হচ্ছে নতুন করে কোনও সমস্যা তৈরি না হলে এ বছরের সেপ্টেম্বের বাংলাদেশ সফরে যাবে ভারতীয় দল (India vs Bangladesh)।

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে ফাটল!

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চলতি বছরের শুরুতেই ঘোষণা করেছিল, ২০২৫ সালে স্থগিত হওয়া ভারত সফরের পরিবর্তে ২০২৬ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ভারত তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) ও তিনটি টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসবে। ২০২৫ সালের নির্ধারিত সফরটি দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে বাতিল হয়েছিল। একই পরিস্থিতির জেরে তৎকালীন মহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন ঢাকার সরকার নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ থেকে সরে দাঁড়ায়। এরপর থেকেই ভারত সফর আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

    সিরিজের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু

    তবে চলতি মাসের শুরুতে ভারত সিরিজের টেলিভিশন ও মিডিয়া সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করায় সফরটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা জোরালো হয়। পাশাপাশি আগস্টে ভারতের শ্রীলঙ্কা সফরের সূচিতে টি-২০ ম্যাচ না থাকায় বাংলাদেশ সফরের জন্য সময় বের হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। বিসিবি জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে ভারতের সিরিজে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে। যদিও মিডিয়া স্বত্ব বিক্রির দরপত্র আহ্বান করার পরও ভারত সেই প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

    ক্রীড়া কূটনীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব

    এ প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, “বর্তমান সরকার ক্রীড়া কূটনীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্রিকেট আমাদের জন্য গর্বের বিষয় এবং বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের শক্ত অবস্থান রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। সবাই সেপ্টেম্বরে ভারতের বাংলাদেশ সফরের অপেক্ষায় রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “ভারত বাংলাদেশে এলে অতীতে ঘটে যাওয়া একটি ছোট ঘটনার কারণে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব বলে আশা করছি। ক্রীড়া কূটনীতির মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।”

    ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ধাক্কা

    এমনিতে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয় ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে। মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বাংলাদেশে ভারত বিরোধিতার সুর বেচে তথাকথিত নেতারা নিজেদের কেরিয়ারের গ্রাফ উপরে তোলার চেষ্টা করতেন। যার প্রভাব পড়ে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও। সঙ্গে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছিল। তারইমধ্যে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে ২০২৬ সালের আইপিএল (IPL 2026) থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) ছেড়ে দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স (Kolkata Knight Riders)। সামনেই ছিল বাংলাদেশের নির্বাচন। ভোটের ময়দানে ফায়দা লুটতে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে আসেনি বাংলাদেশের ক্রিকেট দল। তবে তাতেও নির্বাচনে ফায়দা লুটতে পারেনি সংশ্লিষ্ট মহল। বরং ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। যে সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার উপরে জোর দেওয়া হয়েছে।

    ভারত-বাংলাদেশের ক্রিকেট-তিক্ততা

    ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট তিক্ততা দূর করতে এবার ভারতীয় দল বাংলাদেশ সফরে যাবে বলে আশা করছে বাংলাদেশের ক্রীড়ামহল। এর আগে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোর কারণ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ ক্রীড়া মন্ত্রক। পাশাপাশি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি কূটনৈতিক ব্যর্থতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতেও পৃথক একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ

    আগামী সেপ্টেম্বরে ভারত যদি বাংলাদেশে খেলতে যায় সে ক্ষেত্রে চার বছর পর ঢাকা সফরে যাবেন গিলরা। এই সফরে দুই দল তিনটি করে ওডিআই ও টি-২০ ম্যাচ খেলবে। ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজের জন্য বিসিবি হঠাৎ সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির তোড়জোড় শুরু করার পরই আশার আলো দেখছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। বিসিবির এক কর্তা সর্বভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘আমরা সিরিজ নিয়ে আশাবাদী। যদিও এখনও বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে সবুজ সঙ্কেত আসেনি। দল পাঠাবে না, এমন কথাও বলেনি ভারতীয় বোর্ড। আশা করছি, খুব দ্রুত বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে আমরা ইতিবাচক সাড়া পাব।’’ বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল স্কটল্যান্ডে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) বৈঠকে গিয়েছিলেন। তিনি ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ় আয়োজনের ব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিত পেয়েছেন। উল্লেখ্য, তামিম বিসিবির দায়িত্ব নেওয়ার পর জানিয়েছিলেন ভারতের সঙ্গে ক্রিকেটীয় সুসম্পর্ক রক্ষা করতে চান।

     

     

     

     

  • 7th Pay Commission: আগামী মার্চের মধ্যেই সপ্তম পে কমিশন! মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি হবে নয়া বেতন কাঠামো

    7th Pay Commission: আগামী মার্চের মধ্যেই সপ্তম পে কমিশন! মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি হবে নয়া বেতন কাঠামো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) চালুর চেষ্টা করবে রাজ্য। সেই হিসেবে আগামী বছরের মার্চের মধ্যেই তা চালু হতে পারে। মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari on DA)। রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য একুশে জুলাইয়েই বড়সড় ঘোষণা রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর। সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মেটানো এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র ব্যবধান ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করেছেন, একলপ্তে ৪২ শতাংশ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ১০ শতাংশ — কোনওটাই দেওয়া হয়নি, হিসেব করে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সপ্তম পে কমিশন নিয়ে ইতিমধ্যেই ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ তৈরি হয়েছে। তা চূড়ান্ত হলে শীঘ্রই কমিশন গঠন করা হবে।

    কী বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘২০০৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দেওয়ার কাজ আগের সরকার শুরু করেছিল। আমি আরও অনেকটা দিয়ে দিয়েছি। বাকি রয়েছে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের, সেটা আমরা দিয়ে দেব।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘২০ শতাংশ ডিএ আগেই বাজেটে ঘোষণা হয়েছে। অক্টোবর মাস, পুজোর মাসেই অগ্রিম বেতন পাবেন। তখনই পেয়ে যাবেন ২০ শতাংশ ডিএ। এসেই গেল‌ সময়। নকিং দ্য ডোর।’’ অর্থাৎ, আগামী অক্টোবর মাসেই, উৎসবের আগে সরকারি কর্মীদের বেতনের সঙ্গে ২০ শতাংশ বর্ধিত ডিএ যোগ হবে।

    পুরনো লড়াইয়ের প্রসঙ্গ

    পুরনো লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৫ সালে অভিরূপ সরকারের কমিটি হয়। আমি ২০১৬-তে মন্ত্রী হই। ২০১৯-এ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছিলাম। উনি বলেছিলেন, অর্থমন্ত্রী বলছেন কমিশনের রিপোর্ট তৈরি নেই। আমি বলেছিলাম, অর্থমন্ত্রী ভুল বলছেন, কমিশনের চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসা করুন। আমার সামনেই জিজ্ঞাসা করা হয়, আর তখন কমিশনার জানান অর্থমন্ত্রী রিপোর্ট জমা দিতে বারণ করেছেন, কারণ টাকা নেই। আমি বলি, এটা দিয়ে দিন। সেই ২০২০-তে আপনারা ষষ্ঠ পে কমিশন পান। তবে ডিএ তুলে দেওয়া হয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টে লড়াই হয়, তাতে আমারও একটা ছোটখাটো ভূমিকা ছিল। যাঁরা থার্ড পার্টির মাধ্যমে টাকা পান, তাঁদের বিষয়টিও দেখা হচ্ছে।’

    সরকারি কর্মীদের পাশে রাজ্য সরকার

    পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে বেতন কমিশন এবং ডিএ নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে নতুন সরকারের প্রথম বাজেটেই সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় ঘোষণা করা হয়। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেন। এর ফলে সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ দিনের অন্যতম প্রধান দাবি ডিএ নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হয়। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুও জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করা হবে। সেই ঘোষণার পর ইতিমধ্যেই সপ্তম পে কমিশন গঠনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে।

    সপ্তম পে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া

    মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কমিশনের ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ বা কাজের পরিধি ও দায়িত্বের খসড়া ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। সেই ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ চূড়ান্ত হলেই দ্রুত সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করা হবে। এর পর কমিশন তার কাজ শুরু করবে এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই সপ্তম পে কমিশন চালুর চেষ্টা করছে তাঁর সরকার। সেই লক্ষ্য পূরণ হলে আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যেই কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

    কীভাবে নতুন বেতন কাঠামো

    সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ করতে পারে সপ্তম বেতন কমিশন। এর ফলে রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের বেতন এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকার ইতিমধ্যেই ২০২৮-২৯ অর্থবর্ষে অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) কার্যকর করার সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়েও ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে।

    বকেয়া ডিএ নিয়ে বড় বার্তা

    ডিএ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বর্তমানে সব মিলিয়ে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ-র ব্যবধান এখনও রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, সেই ব্যবধান একবারে নয়, ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের যে বকেয়া ডিএ রয়েছে, সেটিও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে সরকার।

    বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা

    দীর্ঘ সময় ধরে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এবং নতুন বেতন কমিশন গঠনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন। শুভেন্দুর সরকার ক্ষমতায় এসেই কর্মচারীদের সেই ক্ষোভে প্রলেপ দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। ডিএ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রের গ্যাপ ধীরে ধীরে মেটাব। আপনারা ভেবেছিলেন হয়তো একলপ্তে ৪২ শতাংশ দিয়ে দেব। সোশ্যাল মিডিয়ায় আবার ১০ শতাংশের কথাও বলা হচ্ছিল। ৪২ বা ১০ — কোনওটাই দিইনি, হিসেব করে দিয়েছি। আগামী দিনে বাকিটা মেকআপ করে দেব।’ বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই দফতরে ভয়ভীতি কাটিয়ে মন খুলে কাজ করুন।’ মঙ্গলবার করুণাময়ীতে বিদ্যুৎ দফতরে এক কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই কর্মসূচিতেই রাজ্যের সরকারি কর্মীদের জন্য নয়া কমিশন নিয়ে বড়সড় ঘোষণা করেছেন তিনি।

  • 21 July Rally: কোনও রাস্তাতেই নেই ২১ জুলাইয়ের ভিড়! বিতর্ক, বিরোধ, বিবাদেই কাটল খণ্ড-বিখণ্ড তূণমূলের শহিদ দিবস

    21 July Rally: কোনও রাস্তাতেই নেই ২১ জুলাইয়ের ভিড়! বিতর্ক, বিরোধ, বিবাদেই কাটল খণ্ড-বিখণ্ড তূণমূলের শহিদ দিবস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বদলের ছোঁয়া ২১-এও। ২১ জুলাই কলকাতায় এবার পরিবর্তনের ছবি। গত ১৫ বছর ধরে ২১ জুলাই এক অঘোষিত ছুটির চেহারা নিয়েছিল। জেলা থেকে কলকাতায় আসত সমর্থক বোঝাই বাস। আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতা। মঞ্চে থাকতেন প্রথম সারির নেতা-মন্ত্রী থেকে তারকারা। আর এবার অন্য ছবি। খণ্ডবিখণ্ড তৃণমূল। তিন শিবির আলাদা করে ২১ জুলাই পালন করেছে। ক্যাথিড্রাল রোডে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর সমাবেশ করেছে। মেয়ো রোডে ২১ জুলাই পালন করছে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’। শহিদ মিনার চত্বরে ২১ জুলাই পালন করছে কংগ্রেসও। চার দিকে ২১ জুলাই পালন হচ্ছে, অথচ ভিড়-যানজটের সেই চেনা ছবি উধাও।

    কোথায় গেল মমতার ২১-এ জুলাই!

    কলকাতার কোনও রাস্তাতেই এদিন ২১ জুলাইয়ের ভিড় কার্যত ছিল না। ট্রেন, বাস, ট্রাম, মেট্রো- কোথাও চোখে পড়ছে না অতিরিক্ত ভিড়। ২১ জুলাইয়ের সভাস্থল ছাড়া কার্যত কোথাও নেই তৃণমূলের পতাকা। হাওড়া-শিয়ালদা স্টেশনেও অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক। হাওড়ার ফেরিঘাটেও ২১ জুলাইয়ের জন্য় আলাদা চাপ নেই । কলকাতা থেকে জেলা, ২১ জুলাইয়ের উন্মাদনা ক্ষীণ হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোন সভায় যাবেন তা নিয়ে বিভ্রান্ত ছিলেন বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক।

    রাজনীতির হাতিয়ার ২১ জুলাই!

    ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযান করেছিলেন কংগ্রেসের তৎকালীন যুবনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতি বসু। মিছিলের উপর গুলি চালিয়েছিল পুলিশ। ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতি বছর ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু কর্মী-সমর্থক আসতেন শহরে। সেই উপলক্ষে কার্যত ভিড়ে থিকথিক করত শহর। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হত। কিন্তু, এবার আর সেই চেনা ছবি দেখা যাচ্ছে না। আসলে সর্বদাই ২১ জুলাইকে হাতিয়ার করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শহিদ পরিবারগুলো আখেড়ে কিছুই পায়নি।

    শহিদ পরিবারগুলি উপেক্ষিত

    প্রতি বছর ২১ জুলাই পালন করেচে তৃণমূল কিন্তু প্রায় এক যুগ পরে রাজ্যের বিজেপি সরকার প্রকাশ্যে আনে ২১ জুলাইয়ের ঘটনা নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট। ক্ষমতায় আসার ঠিক পরেই ২০১১ সালের ৪ নভেম্বর প্রাক্তন বিচারপতি সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তদন্ত কমিশনটি গঠন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। দু’বছর পরে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে কমিশন তার চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করে। কিন্তু ১৯৯৩ সালের ওই ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেনি মমতার সরকার। সোমবার তা বিধানসভায় পেশ করলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগ করলেন, ‘‘২১ জুলাইয়ের আবেগ ও শহিদদের রক্তকে ব্যবহার করে অনেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও রাজনৈতিক আখের গুছিয়েছেন, কিন্তু শহিদ পরিবারগুলি আজ চরম উপেক্ষিত।’’

    দলত্যাগী নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ মমতার

    ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে দলত্যাগী নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যারা তৃণমূল ছেড়ে অন্য দলে যেতে চান, তাঁদের সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। মমতা বলেন, ‘‘যাদের যাওয়ার, তারা বিজেপিতে যান। বিজেপির পাশবালিশ হয়ে না থেকে সরাসরি বিজেপি করুন।’’ ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ঋতব্রতদের (Ritbrata Banerjee) এক্সপায়ারি ডেট বেঁধে দিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ২০২৯ সালই ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কদের এক্সপায়ারি ডেট। তার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। একইসঙ্গে, বিড়লা তারামণ্ডলের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে কল্যাণের (Kalyan Attacks Ritabrata) স্পষ্ট বার্তা, মমতা ছাড়া তৃণমূল হয় না। কর্মীরাই আগামী দিনে নেতা তৈরি করবে।

    এবার মমতা-কল্যাণ বাদানুবাদ

    তবে নিজের বক্তৃতা শেষ করেই ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে নেমে সটান বাড়ি চলে গেলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতা শোনার জন্যও অপেক্ষা করলেন না। কালীঘাটপন্থীদের একটি সূত্র বলছে, নেত্রী সংক্ষেপে বক্তৃতা শেষ করার নির্দেশ দিলেও কানে তোলেননি শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ। প্রায় সাড়ে ২২ মিনিট বক্তৃতা করেছেন। তার জেরে তালিকায় থাকলেও বাদ পড়তে হয়েছে কয়েক জন সাংসদ-বক্তাকে। তা নিয়েই ‘কথা কাটাকাটি’ হয়েছে নেত্রীর সঙ্গে। বিড়লা তারামণ্ডলের সামনের মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যান নেত্রীর অনুগত বলে পরিচিত কল্যাণ। পরে তিনি জানান, অসুস্থতার কারণেই মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন। বাদানুবাদের কোনও প্রশ্নই নেই।

    শহিদ পরিবারগুলিকে আর্থিক অনুদানের ঘোষণা ঋতব্রতের

    এদিন মেয়ো রোডের সভায় ঋতব্রত বলেন, “নির্বাচন কমিশন যদি আমাদের স্বীকৃতি দেয়, তা হলে পার্টির এই যে বিপুল টাকা, সেই টাকা থেকে ২১ জুলাইয়ের শহিদ পরিবারদের প্রতি মাসে আমরা ১০ হাজার টাকা করে দেব।” একই সঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার সংযোজন, “তৃণমূলের যে টাকা, বছরে তার সুদই হয় ১০০০ কোটি টাকা। সেই টাকা কোথায় গেল?” ঋতব্রতের দাবি, বিজেপির সঙ্গে সেটিং করে সংসদে একের পর এক বিল পাস করাতে তৃণমূল সাহায্য করেছে। ২১ জুলাইয়ের ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট কেন এত দিন প্রকাশ্যে আসেনি, সেই প্রশ্নও তোলেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী (মমতা)-র কাছে জানতে চাই, দিদি কেন এই তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করলেন না? কী বাধা ছিল? কাদের বাঁচানোর ছিল?”

  • UPI Payment: ইন্টারনেট ছাড়াই ইউপিআই পেমেন্ট! কীভাবে, কত টাকা পর্যন্ত হবে লেনদেন?

    UPI Payment: ইন্টারনেট ছাড়াই ইউপিআই পেমেন্ট! কীভাবে, কত টাকা পর্যন্ত হবে লেনদেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফোনে নেট নেই! মেট্রোয় রয়েছেন চিন্তা নেই যে কোনও জায়গায় যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট নেই, সেখানেও সহজেই টাকা পাঠানো বা কোনও পেমেন্ট করা যাবে ইউপিআই-এর মাধ্যমে (UPI Payment)। ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI) একটি নতুন এনএফসি (Near Field Communication)-ভিত্তিক ইউপিআই পেমেন্ট এই প্রযুক্তি নিয়ে আসতে চলেছে, বলে জানা গিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এই ব্যবস্থা ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট পরিকাঠামোর একটি বড় ঘাটতি পূরণ করবে। যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ নেই, সেখানেও ইউপিআই পরিষেবা পৌঁছে দেবে।

    কীভাবে সম্ভব?

    বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর পিছনে থাকছে নিয়ার-ফিল্ড কমিউনিকেশন (NFC) প্রযুক্তি। এটি একটি কম রেঞ্জের ওয়্যারলেস টেকনোলজি। কাছাকাছি দূরত্বে ব্লুটুথের চেয়ে দ্রুত এবং আরও সুরক্ষিতভাবে কাজ করে। তবে এভাবে সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকাই পেমেন্ট করা যাবে। গ্রাহকদের প্রথমে অনলাইনে ইউপিআই লাইট (UPI Lite) নামক একটি অন-ডিভাইস ডিজিটাল ওয়ালেটে টাকা লোড করতে হবে। এরপর তাঁরা ইউপিআই পিন প্রবেশ ছাড়াই, ইন্টারনেট কানেকশন ছাড়াই সেই ব্যালেন্স ব্যবহার করতে পারবেন। মনে করা হচ্ছে, এই ব্যবস্থা ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট পরিকাঠামোর একটি বড় ঘাটতি পূরণ করবে। যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ নেই, সেখানেও ইউপিআই পরিষেবা পৌঁছে দেবে।

    অফলাইন ডিজিটাল পেমেন্ট

    অফলাইন ডিজিটাল পেমেন্ট যদিও একেবারে নতুন কিছু নয়। *99# এবং UPI 123Pay এর মতো পরিষেবা আছে। তাতে ইন্টারনেট কানেকশান ছাড়াই, ইউএসএসডি কোড বা সাধারণ ফোন কলের মাধ্যমে টাকা পাঠানো যায়। কিন্তু তা বেশ জটিল ব্যাপার। পার্থক্যটা এখানেই। এই প্রচলিত অফলাইন পদ্ধতিগুলিতেও কোনও না কোনও নেটওয়ার্কের প্রয়োজন হয়। যেমন ধরুন ইউএসএসডি কোডের জন্য জিএসএম সিগন্যাল অথবা ভয়েস কলের জন্য ফোন লাইন। নতুন এনএফসি-বেসড ইউপিআই ফিচারের জন্য হয়তো সেটারও প্রয়োজন হবে না। আপনার ডিভাইসে এনএফসি সাপোর্ট করলেই, কোনও মোবাইল নেটওয়ার্ক ছাড়াই কম রেঞ্জের ওয়্যারলেস কানেকশানের মাধ্যমে পেমেন্ট করা যেতে পারে।

    কোথায় কাজে আসতে পারে?

    এই প্রযুক্তিটি এমন সব জায়গায় কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ নেই বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সমস্যা রয়েছে। যেমন- বিমান, ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশন, গ্রামীণ এলাকা এবং বড় বড় ভবন যেখানে সেলুলার নেটওয়ার্কের ওপর অত্যধিক চাপ থাকে। এই ধরনের পরিবেশে প্রচলিত ইউপিআই লেনদেন প্রায়শই ব্যর্থ হয়, কারণ সেগুলোর ক্ষেত্রে পেমেন্টকারী এবং মার্চেন্ট – উভয়কেই অনলাইনে থাকার প্রয়োজন হয়। আপাতত, এনপিসিআই -এর পক্ষ থেকে এই নতুন ফিচারের নির্দেশিকা বা গাইডলাইন নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। অফলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থার জন্য আরবিআই-এর বর্তমান নির্দেশিকাগুলোতে বিভিন্ন ধরনের লেনদেন সীমা নির্ধারিত রয়েছে।

  • Delhi Violence: পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া-ভাঙচুর! একাধিক এফআইআর, দিল্লিতে ককরোচ পার্টি-র ‘সংসদ চলো’ মিছিল ঘিরে তাণ্ডব

    Delhi Violence: পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া-ভাঙচুর! একাধিক এফআইআর, দিল্লিতে ককরোচ পার্টি-র ‘সংসদ চলো’ মিছিল ঘিরে তাণ্ডব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানী দিল্লিতে সোমবার ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকা ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার একাধিক এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেস (Connaught Place) এবং পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্দোলন চলাকালীন দুষ্কৃতীরা পুলিশকর্মীদের উপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, পুলিশের গাড়িতে ক্ষয়ক্ষতি, সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি এবং পুলিশকর্মীদের জ্যাকেট ও হেলমেট ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনায় জড়িত ছিল। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    রণক্ষেত্র রাজধানী

    ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযানকে ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রাজধানী। দিল্লি পুলিশের দাবি, কনট প্লেসের আউটার সার্কেলের রিগ্যাল সিনেমা সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করে এবং একাধিক পুলিশ গাড়ি ভাঙচুর করে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে স্পেশাল কমিশনার, জয়েন্ট কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার, একাধিক আইপিএস অফিসার-সহ অন্তত ১১৮ জন পুলিশ কর্মী জখম হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন ৬০ জন আন্দোলনকারীও। ৭০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। আহত পুলিশকর্মীদের মেডিকো-লিগ্যাল পরীক্ষা (MLC) এখনও চলছে।

    সিসিটিভি ও মোবাইল ভিডিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

    ঘটনার তদন্তে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল ফোনের ভিডিও বিশ্লেষণ করছে। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০টি ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। পুলিশের দাবি, অনেক দুষ্কৃতী মুখে রুমাল বা কাপড় বেঁধে নিজেদের পরিচয় গোপন করে ব্যারিকেড ভাঙচুর ও হামলায় অংশ নিয়েছিল। আন্দোলনকারীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যারিকেড হামলা করেন, পাথর ছোড়েন বলে অভিযোগ করেছে দিল্লি পুলিশ। প্রায় ১৫-২০টি সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ। শাংগ্রি-লা হোটেলের কাছে এক মহিলা হেড কনস্টেবল মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে চার থেকে পাঁচটি সেলাই করতে হয়েছে। রাজীব চৌক, জনপথ, প্যাটেল চৌক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবা তীর্থ-সহ দিল্লি মেট্রোর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন দীর্ঘক্ষণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ধাপে ধাপে স্বাভাবিক হয় পরিষেবা।

    দিল্লি পুলিশের বিবৃতি

    দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র বিক্ষোভকারীরা “উচ্ছৃঙ্খল, আক্রমণাত্মক এবং হিংসাত্মক আচরণ” করেছে। পুলিশের বারবার সতর্কবার্তা এবং আইনানুগ নির্দেশ উপেক্ষা করে তারা নিষেধাজ্ঞা ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। পুলিশ সাধারণ মানুষের উদ্দেশে গুজব বা ভুয়ো খবর ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়ে বলেছে, শুধুমাত্র সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যের উপর ভরসা করতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করতে।

    ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে উত্তেজনা

    নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহির দাবিতে ককরোচ পার্টি-র ডাকা ‘সংসদ চলো’ মিছিল যন্তর মন্তর থেকে সংসদের উদ্দেশে রওনা দেয়। পুলিশের দাবি, পার্লামেন্ট স্ট্রিট এলাকায় কর্মসূচির অনুমতি না থাকায় বিক্ষোভকারীদের আটকানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় এবং লাঠিচার্জ করে। এর পাল্টা বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদ অভিযান

    বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও হাজার হাজার আন্দোলনকারী যন্তর-মন্তরে জড়ো হন। সংসদমুখী রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে পুলিশও। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে সংসদের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। তখনই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংবিধান ক্লাব, প্যাটেল চৌক, শাস্ত্রী ভবন, আরবিআই ভবন এবং সংসদ মার্গ এলাকায় পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কিছু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়।

    নিরাপত্তা জোরদার

    ঘটনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত এখনও চলছে।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আশ্বাস

    এরই মধ্যে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের তরফে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন। সৌরভ দাস জানিয়েছেন, নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে তাঁরা দলের দাবিগুলি লিখিত ভাবে তুলে দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সৌরভ দাস জানান, জেপি নাড্ডার সঙ্গে তাঁর বাসভবনে প্রায় ১০ মিনিট বৈঠক করেন তাঁরা। তাঁদের দাবি সম্বলিত একটি চিঠি নাড্ডার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। দলের দাবি, বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ ভাবে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

     

     

     

  • PM Modi Congratulates Burnham: যুক্তরাজ্যের নয়া প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে শুভেচ্ছা মোদির, ভারত-ব্রিটেন সম্পর্ক আরও জোরদারের বার্তা

    PM Modi Congratulates Burnham: যুক্তরাজ্যের নয়া প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে শুভেচ্ছা মোদির, ভারত-ব্রিটেন সম্পর্ক আরও জোরদারের বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউনাইটেড কিংডম-এর সপ্তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন অ্যান্ডি বার্নহাম (Andy Burnham)। যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Congratulates Burnham)। মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যম এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ এক বার্তায় তিনি বলেন, ভারত ও ব্রিটেনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে। এই প্রথমবার কোনও ক্যাথোলিক ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হলেন, যা ব্রিটেনের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি গত কয়েক বছর ধরে ব্রিটেনের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা হয়ে উঠেছেন।

    মোদির শুভেচ্ছা বার্তা

    প্রধানমন্ত্রী বার্নহামকে শুভেচ্ছা বার্তায় মোদি লেখেন, ‘‘ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে আন্তরিক অভিনন্দন। ভারত ও ব্রিটেন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী দুই দেশ। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা বিস্তৃত। চলতি মাসে সিইটিএ (CETA) কার্যকর হওয়ায় এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ভারত-ব্রিটেনের সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব (Comprehensive Strategic Partnership) আরও গভীর করতে এবং ‘ভিশন ২০৩৫’-এর যৌথ লক্ষ্য বাস্তবায়নে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছি।’’

    ব্রিটেনের নয়া নেতা

    এর আগে ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে যে, দলের নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের প্রাক্তন মেয়র বার্নহ্যাম, কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তিনি। লন্ডনের ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস (TUC) সদর দফতরে লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারপার্সন তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানান, বার্নহ্যাম ৩৭৯ জন লেবার সাংসদের সমর্থন পেয়েছেন। প্রয়োজনীয় মনোনয়নের সীমা অতিক্রম করা একমাত্র প্রার্থী হওয়ায় দলীয় সদস্যদের ভোটাভুটি ছাড়াই তাঁকে নেতা ঘোষণা করা হয়।

    সমগ্র ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করব

    মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে সম্প্রতি সংসদে ফিরে আসেন বার্নহ্যাম। এরপর ২২ জুন কিয়ার স্টারমার লেবার পার্টির নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা করেন। নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার কথা জানান। নেতৃত্ব গ্রহণের পর প্রথম ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, গত কয়েক দশকে ব্রিটেনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিতে একাধিক ভুল সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ হয়েছে এবং আবাসন, জল, বিদ্যুৎ ও পরিবহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবার বেসরকারিকরণের কারণে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বেড়েছে। তাঁর দাবি, এর ফলে দেশের বহু প্রাক্তন শিল্পাঞ্চল পুনর্গঠনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমি উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম—সমগ্র ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করব।’’ মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ের পর লেবার পার্টির সাংসদদের মধ্যে বার্নহ্যামের প্রতি সমর্থন আরও বৃদ্ধি পায়, যার ফলেই তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের নেতৃত্ব এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী বার্নহামের পাঁচ দফা প্রতিশ্রুতি

    নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের প্রথম ভাষণেই ব্রিটিশ আমজনতার উদ্দেশ্যে পাঁচ দফা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বার্নহাম। তাঁর দেওয়া সেই ৫টি মূল অঙ্গীকার হল- দলীয় ঐক্য বজায় রাখা, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা, আদর্শগত ভিত্তি, আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। ব্রিটিশ রাজনীতির ইতিহাস বলছে, গত এক দশকে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ছয়জন প্রধানমন্ত্রী এসেছেন এবং চলে গেছেন। কিয়ের স্টার্মারের পূর্বসূরিদের তালিকায় ছিলেন ঋষি সুনক, লিজ ট্রাস, বরিস জনসন, টেরেসা মে এবং ডেভিড ক্যামেরন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই পাঁচজনই ছিলেন লেবার পার্টির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা। টানা রাজনৈতিক টালমাটালের পর কিয়ের স্টার্মারের হাত ধরে লেবার পার্টি ক্ষমতায় এলেও তিনি বেশিদিন টিকতে পারেননি। এবার কনজারভেটিভদের হারিয়ে আসা লেবার পার্টির অন্দরে ও দেশের শাসনভার সামলাতে অ্যান্ডি বার্নহাম কতটা সফল হন এবং ব্রিটেনকে কতটা রাজনৈতিক স্থায়িত্ব দিতে পারেন, এখন সেটাই দেখার।

    বাকিংহাম প্যালেসে আমন্ত্রণ

    ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে গত ১০ বছর ধরে চলছে প্রধানমন্ত্রীদের যাওয়া আসা। স্বাভাবিক হিসাবে ১০ বছরে ২জন প্রধানমন্ত্রী থাকা উচিত। কিন্তু গ্রেট ব্রিটেনের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা বহু বেশি। গত ১০ বছরে ষষ্ঠ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সোমবার নির্বাচিত হলেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। প্রথামাফিক তাঁকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। ক্ষমতায় এসেই রাজনীতিতে আস্থা ফেরাতে অর্থনৈতিক শক্তি ফেরাতে প্রচেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। দেশের জন্য কী রূপরেখা তৈরি করতে চান তিনি, কী ভাবনা রয়েছে, তা এদিন বক্তব্যে তুলে ধরেন। ইতিহাস অনুসারে বার্নহাম ইউকে-র ৫৯ তম প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর বাকিংহাম প্যালেসে তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কিং চার্লস।

    কিং অফ দ্য নর্থ নামে পরিচিত

    ব্রিটিশ রাজনৈতিক মহল তাঁকে ‘কিং অফ দ্য নর্থ’ নামে চেনে। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আপাতত তাঁকেই ভোট দিয়ে বেছে নিয়েছে লেবার পার্টি। রাজার আমন্ত্রণ পেয়ে এবার ব্রিটিশ মন্ত্রিসভা ঢেলে সাজাতে হবে তাঁকে। নতুন দায়িত্ব পেয়েই নতুন ব্রিটেন গড়ে তোলার ডাক দিয়েছেন অ্যান্ডি। জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডের পাশাপাশি স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের জন্যও তিনি সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবেন। আপাতত ৬ সপ্তাহের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তাঁর কুর্সি সুরক্ষিত। সেপ্টেম্বরে ব্রিটেনে হাউস অফ কমন্সের অধিবেশন হবে, সেখানে এমপিদের চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে অ্যান্ডিকে।

LinkedIn
Share