Author: ishika-banerjee

  • Iran-US Conflicts: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন! ইরানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা বাহরিন-কুয়েতে তেহরানের ড্রোন হানা

    Iran-US Conflicts: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন! ইরানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা বাহরিন-কুয়েতে তেহরানের ড্রোন হানা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শান্তিচুক্তি জলে। ইরান ও আমেরিকার (Iran-US Conflicts) মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া যুদ্ধে উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য। ফের অশান্ত হরমুজ প্রণালী (Strait Of Hormuz)। বুধবার রাতভর ইরানে গোলাবর্ষণ করেছে আমেরিকা। পালটা জবাব দিয়েছে তেহরানও। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তারা। ইরানের একটি সংবাদমাধ্যম সূত্রে বাহরিন, কুয়েত ও জর্ডনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের এই হামলার নিন্দা করেছে বাহারিন সেনা। কুয়েত ও জর্ডনও এই হামলার বিরোধিতা করেছে। অসামরিক নাগরিকদের উপর এই হামলা চালোনো হয়েছে বলে দাবি করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি।

    ইরানের একাধিক শহরে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র

    ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন আগেই। সেই মতো বুধবার ইরানে আক্রমণের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি করে মার্কিন সেনা। বুধবার রাতভার সিরিক, মিনাব-সহ ইরানের একাধিক শহরে আছড়ে পড়ে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র। মুহুর্মুহু বিস্ফোরণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। সূত্রের খবর, তড়িঘড়ি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে ইরানি সেনা। যদিও এই হামলায় হতাহতের খবর এখনও জানা যায়নি। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলির তরফে জানানো হয়েছে, কেবল সিরিক এবং মিনাব শহরেই নয়, বন্দর আব্বাস, কাশেম দ্বীপেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। ইরানের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন হামলার পালটা জবাব দেয় তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আমেরিকার একাধিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে তারা। ইরানের ইসলামিক রিভ্যালুশিনারী গার্ডের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে প্রত্যাঘাত করে তেহরান। কুয়েত, বাহরিন-সহ একাধিক মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। এই হামলায় একটি মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

    ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, পাল্টা ইরানের

    বুধবারই ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমেরিকা গত কাল জোরালা হামলা চালিয়েছে। আজ আবার ওদের (ইরান) উপর হামলা চালাতে চলেছে। ওরা চুক্তির জন্য সমঝোতা করতে অনেক বেশি সময় নিয়ে ফেলেছে। চুক্তি করলে তা ওদের জন্য খুব ভাল হত। কিন্তু এখন ওদের মূল্য চোকাতে হবে।” ট্রাম্পের কথার সূত্র ধরেই মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ পরে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে আমেরিকা। আমেরিকাকে জবাব দিয়েছে ইরানও। সে দেশের পার্লামেন্টের জাতীয় সুরক্ষা সংক্রান্ত কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজির হুঁশিয়ারি, “যুদ্ধ নির্দিষ্ট কোনও অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না।” মনে করা হচ্ছে, এই মন্তব্য করে ইরান ইঙ্গিত দিতে চেয়েছে যে, পশ্চিম এশিয়ার যে দেশগুলিতে মার্কিন ঘাঁটি আছে, সেই সমস্ত দেশে হামলা চালাবে তারা।

    ফের অশান্ত হরমুজ, তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী

    আমেরিকার পাল্টা কৌশলে হরমুজ প্রণালী ধরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করেছে ইরান। তেহরানের হুঁশিয়ারি, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে কোনও জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করলে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। আমেরিকার যদিও দাবি, হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। মার্কিন সেনার সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে জানানো হয়, ইরানের ‘ধারাবাহিক আগ্রাসন’ মোকাবিলায় সক্রিয় আমেরিকা। তব, হরমুজ প্রণালীতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC)। আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী অবৈধভাবে অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীতে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে। উল্লেখ্য, গত সোমবার হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ইরান সেটি ভূপাতিত করেছে বলে অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা চলছে।

    কেন হামলা,জানাল ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের জবাবে বাহরিন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। আল জাজিরা জানিয়েছে, আইআরজিসি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে বাহরিনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল সালেম ও আহমদ আল-জাবের বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরান দাবি করেছে, গত এপ্রিলে দুই দেশের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র বারবার তা লঙ্ঘন করেছে। এ প্রেক্ষাপটে নিজেদের প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।

    রাষ্ট্রপুঞ্জের সভায় ইরানের দাবি

    বাহরিনে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে ইরানি ড্রোন। রাষ্ট্রপুঞ্জের সভায় বিষয়টিকে ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে ইরান। বুধবার ইরানের বিদেশমন্ত্রকের তরফে রাষ্ট্রপুঞ্জের সভায় বাহরিনে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোটা কতটা জরুরি ছিল, তা বিশদে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দক্ষিণ ইরানে হামলা চালিয়ে আমেরিকা আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদকে উপেক্ষা করেছে— এমন অভিযোগও এনেছে তেহরান। পাশাপাশি, বিষয়টি আমেরিকার পরিকল্পিত আগ্রাসন ছাড়া কিছু নয়, এমনটাও দাবি করেছে ইরান।

    ইরানি হামলার নিন্দা বাহরিন-কুয়েত-সৌদি-মিশরের 

    বাহরিন, কুয়েত, জর্ডন, আরব-আমিরাত ইরানের হামলার নিন্দা করেছে। জর্ডান, বাহরিন এবং কুয়েতের ওপর ইরানের হামলার ঘটনায় ‘কঠোর ভাষায়’ নিন্দা জানিয়েছে মিশরও। একই সঙ্গে এই তিন দেশের প্রতি ‘পূর্ণ সংহতি’ পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই অস্থিরতায় জর্ডন, বাহরিন এবং কুয়েতের পাশে আছে মিশর। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব হামলার ঘটনা ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার চরম লঙ্ঘন। এতে বিপজ্জনক ভাবে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে যা সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। বাহরিন দাবি করেছে, অসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরান, যা কখনওই কাম্য নয়। বাহরিন সেনা এর জবাব দিতে প্রস্তুত। সৌদি আরব ইরানের এই হামলাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছে।

  • PM Modi on Europe Tour: ৬ দিনের বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী, ১৩ জুন ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়ায় যাচ্ছেন মোদি

    PM Modi on Europe Tour: ৬ দিনের বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী, ১৩ জুন ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়ায় যাচ্ছেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi on Europe Tour)। আগামী ১৩ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়া সফরের পাশাপাশি তিনি জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনেও অংশ নেবেন। সোমবার বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সফরের প্রথমভাগে মোদি ফ্রান্সের নিস শহরে যাবেন। ১৪ জুন সেখানে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন তিনি। সেখান থেকে স্লোভাকিয়ায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। ১৪ থেকে ১৬ জুন সেখানে থাকবেন মোদি। স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ১৬ ও ১৭ জুন জি-৭ বৈঠকে যোগ দিতে ফের ফ্রান্সের এভিয়ান শহরে আসবেন মোদি। এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। সূত্রের খবর, এই পর্বে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করতে পারেন মোদি এবং ট্রাম্প। ১৮ জুন প্যারিসে আরও কয়েকটি বৈঠক করবেন মোদি। ভিভাটেক সামিটেও যোগ দেবেন তিনি।

    মোদি-ম্যাক্রঁ বৈঠক

    সফরের প্রথম পর্বে ১৩-১৪ জুন ফ্রান্সের নিস শহরে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ (Emmanuel Macron)-এর সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা। দুই নেতা ভারত-ফ্রান্স সম্পর্কের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করবেন। চলতি বছর দুই দেশের সম্পর্ককে ‘স্পেশাল গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এর স্তরে উন্নীত করা হয়েছে। নিসে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ যৌথভাবে ‘ভারত ইনোভেটস’ (Bharat Innovates) অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন। ভারত-ফ্রান্স ইনোভেশন বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ভারত, ফ্রান্স এবং অন্যান্য দেশের শীর্ষ স্টার্টআপ ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থাগুলি অংশ নেবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    স্লোভাকিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী

    এরপর ১৪-১৬ জুন স্লোভাকিয়া সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। স্লোভাক প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর (Robert Fico) আমন্ত্রণে এই রাষ্ট্রীয় সফর হবে। ১৯৯৩ সালে স্লোভাকিয়ার স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী দেশটি সফর করতে চলেছেন, যা ঐতিহাসিক বলে মনে করা হচ্ছে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মোদি স্লোভাক প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অটোমোবাইল উৎপাদন ও রেলওয়ে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবেন। তিনি স্লোভাক প্রেসিডেন্ট পিটা পেলেগ্রিনি (Peter Pellegrini)-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।

    জি-৭ সম্মেলনে মোদি

    সফরের তৃতীয় পর্বে ১৬-১৭ জুন ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi on Europe Tour)। সেখানে তিনি জি-৭ সদস্য দেশগুলির নেতা, আমন্ত্রিত অংশীদার রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। ‘নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা’, ‘সুষম ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি’ এবং ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) নিরাপদ ও দ্রুত প্রয়োগ’— এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে তিনি বক্তব্য রাখবেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে কানাডায় জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন মোদি। এবারও জি-৭ সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। মনে করা হচ্ছে, বিশ্ব অর্থনীতি, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হবে ওই সম্মেলনে। নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়, ফ্রান্স ও ভারতের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করা এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য। প্রসঙ্গত, জি৭ -এর পুরো কথা হল ‘গ্রুপ অফ সেভেন’। এটি বিশ্বের সাতটি উন্নত অর্থনীতির দেশগুলির একটি গোষ্ঠী। এই সাতটি দেশ বছরে একবার মিলিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে আলোচনা করে। ১৯৭৩ সালে খনিজ তেলের সংকটের কারণে গোটা বিশ্বে অর্থনীতির চাকা স্লথ হয়ে গিয়েছিল। সেই সংকটের মোকাবিলা করতেই জি-৭ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল সাতটি দেশ। জি-৭ গোষ্ঠীর সদস্য দেশগুলি হল ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, ব্রিটেন, জাপান, আমেরিকা এবং কানাডা। ভারত এই গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত নয়। নিয়ম অনুযায়ী, আয়োজক দেশ এই গোষ্ঠীর বাইরে থাকা অন্য একটি দেশকে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। সেই সূত্রেই কয়েক বছর ধরে এই বৈঠকে আমন্ত্রণ পেয়ে আসছে ভারত।

    গ্লোবাল সাউথের প্রধান কণ্ঠস্বর ভারত

    জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে একাধিক বিশ্বনেতার সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সফরের শেষ পর্যায়ে ১৮ জুন প্যারিসে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি ইউরোপের বৃহত্তম প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ সম্মেলন ভিভাটেক সামিটে (VivaTech Summit) অংশ নেবেন। পাশাপাশি প্যারিসে ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের উদ্দেশেও ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। বিদেশ মন্ত্রকের মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদির এই ইউরোপ সফর ফ্রান্স, স্লোভাকিয়া এবং জি-৭-এর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে। একই সঙ্গে গ্লোবাল সাউথের অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে ভারতের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক গুরুত্বও তুলে ধরবে। ‘ভারত ইনোভেটস’ এবং ভিভাটেক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ ভারতের উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর ও উদ্যোক্তা শক্তির বৈশ্বিক পরিচিতিকে আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

     

     

     

     

  • PM Modi: ৪,৩৯৯ দিনের ইতিহাস, বিশ্বমঞ্চে মোদির নতুন রেকর্ড! মেলোনি থেকে মুইজ্জু— শুভেচ্ছার বন্যায় ভাসলেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: ৪,৩৯৯ দিনের ইতিহাস, বিশ্বমঞ্চে মোদির নতুন রেকর্ড! মেলোনি থেকে মুইজ্জু— শুভেচ্ছার বন্যায় ভাসলেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একটানা ভারতের ‘দীর্ঘতম’ সময়ের প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। বুধবার এই নজির গড়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁরা মোদির নেতৃত্ব, ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাঁর প্রভাবশালী ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। সেই তালিকায় রয়েছেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি-সহ অনেকেই। এই নতুন নজির গড়ে প্রধানমন্ত্রী মোদিও (PM Modi Creates History) দেশবাসীকে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন সংস্কৃত শ্লোক। মোদির বার্তা, ‘জনসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করাটাই সুশাসনের সবচেয়ে বড় ধাপ। যে ব্যক্তি বিনয়ের সঙ্গে সমস্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কর্তব্য পালন করে, সেই জনতার বিশ্বাস অর্জন করে। বিনয়ী রাজাই সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হন।’

    মোদিকে শুভেচ্ছা মেলোনির

    ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করে নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি লেখেন, ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য মোদিকে অভিনন্দন। পাশাপাশি কয়েক সপ্তাহ আগে রোমে অনুষ্ঠিত তাঁদের বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন। মেলোনির মতে, ওই বৈঠক ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ এবং সেই সময় ভারত ও ইটালির মধ্যে ‘স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এর সূচনা হয়, যা ভবিষ্যতে দুই দেশ ও দুই দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। এক্স হ্যান্ডেলে মেলোনি লিখেছেন, ‘নির্বাচিত হিসাবে ভারতের দীর্ঘতম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা। তাঁর সঙ্গে কাজ করতে পারাটা আমার সৌভাগ্য।’

    ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক শক্তিশালী

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সেনেটর এবং ইন্ডিয়া ককাসের সহ-সভাপতি জন করনিনও প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক্স-এ দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, তিনটি গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটের মাধ্যমে ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের আস্থা অর্জন করে মোদি ৪,৩৯৯ দিন ধরে ভারতের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কর্নিন দাবি করেন, তাঁর নেতৃত্বে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার ঊর্ধ্বে উঠে এসেছে এবং ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতিগুলির অন্যতম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তিনি আরও বলেন, এই সময়কালে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন

    শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমার দিসানায়েক এক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এই অর্জন শুধু দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনেরই স্বীকৃতি নয়, বরং বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের জনগণের পক্ষ থেকে মোদির প্রতি পুনঃপুন আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। দিসানায়েকে ভারতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরের প্রশংসা করে বলেন, মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্ব ভারতের গণ্ডি ছাড়িয়ে শ্রীলঙ্কাসহ বহু দেশকে অনুপ্রাণিত করেছে। মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ মুইজ্জু এই ঐতিহাসিক মাইলফলকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “ভারতের ইতিহাসে টানা দায়িত্ব পালনের হিসেবে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আন্তরিক অভিনন্দন।” তিনি আরও বলেন, “পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সার্বভৌম সমতা এবং অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যাশা রাখে মালদ্বীপ।”

    বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর

    ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ বিসেসরও মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাঁর নেতৃত্বে ভারত বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি অত্যন্ত সাধারণ পটভূমি থেকে উঠে এসে টানা তিন মেয়াদে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে মোদীর রাজনৈতিক যাত্রাপথের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ভারতের বিদেশনীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মসূচির অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, পাপুয়া নিউ গিনির প্রধানমন্ত্রী জেমস মারাপে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘নেতৃত্বের আদর্শ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ২০ কোটিরও বেশি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করে উন্নত জীবনের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এক অসাধারণ সাফল্য। প্রধানমন্ত্রী মোদির এই মাইলফলককে ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শুভেচ্ছাবার্তাগুলি তাঁর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রভাবের প্রতিফলন বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

  • FIFA World Cup 2026: বিতর্কের বিশ্বকাপ! ‘মার্কিন হানা’য় নিহত ১৬৮ শিশুর স্মারক নিয়ে হাজির ইরান! সেনেগাল-উজবেকিস্তানের ফুটবলারদের দেহ তল্লাশি

    FIFA World Cup 2026: বিতর্কের বিশ্বকাপ! ‘মার্কিন হানা’য় নিহত ১৬৮ শিশুর স্মারক নিয়ে হাজির ইরান! সেনেগাল-উজবেকিস্তানের ফুটবলারদের দেহ তল্লাশি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন মুলুকে ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে বিতর্কের শেষ নেই। বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া সেনেগাল এবং উজবেকিস্তানের ফুটবলারদের দেহ তল্লাশি করা হল আমেরিকায়। নিরাপত্তাকর্মীরা প্রকাশ্যে ফুটবলারদের তল্লাশি নেন। ব্যবহার করা হয় মাদক সন্ধানী কুকুরও। এই ঘটনায় তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। প্রশ্নের মুখে ফিফার ভূমিকাও। ইরানের বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) খেলা নিয়েও বিস্তর টানাপোড়েন চালিয়েছে আমেরিকা। ইরানের এক ডজন ফুটবল আধিকারিকের ভিসা আটকে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যা নিয়ে ইরানি ফুটবলাররা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।

    ইরানের ক্ষোভ

    রবিবারই মেক্সিকো পৌঁছেছে ইরান। সে দেশে পা দেওয়া মাত্র ইরান কোচ আমির ঘালেনোই বলেন, “বারো ঘণ্টার টাইম ডিফারেন্স সামলাতে অন্তত দু’সপ্তাহ আগে এখানে আসা উচিত ছিল আমাদের। পরিবেশের সঙ্গে অ্যাডজাস্টমেন্ট বলেও তো একটা বিষয় থাকে। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে টেকনিক্যাল ব্যাপারস্যাপার দেখার আগে প্রয়োজন মানবিক আর নৈতিক বিষয়গুলো মন দিয়ে দেখা।” তুরস্কে লম্বা সময় ট্রেনিং করার পর মেক্সিকোর সীমান্ত-নিকটবর্তী শহর তিজুয়ানাতে গতকাল এসে পৌঁছেছে ইরান দল। আর নামার পর শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিশানা করা শুধু নয়, বিতর্ক সৃষ্টি করেছে ইরানি প্লেয়ারদের পরিহিত একখানা সোনালি পিন! যা একটা সংখ্যা। ১৬৮! ইরান বনাম ইজরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জোটের যুদ্ধ নতুন কোনও খবর নয়। যে যুদ্ধে ইরানের এক প্রাথমিক স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হানায় প্রাণ যায় ১৬৮ জনের। যাদের বেশিরভাগই শিশু ছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, দক্ষিণ ইরানের মিনাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হানা হয়। যার দায় সম্পূর্ণ ভাবে গিয়ে পড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর। হাঙ্গেরির ইরানীয় দূতাবাস থেকে এই ‘পিন’-এর ব্যাপারে পুরোটা বলে দেওয়া হয়েছে।

    ফুটবলারদের সঙ্গে অপরাধীর মতো আচরণ

    বিভিন্ন দেশের ফুটবলার, রেফারিদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের আচরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। পারদ আরও চড়ল সেনেগাল এবং উজবেকিস্তান দল পৌঁছোনোর পর। বিমান থেকে নামার পর টারম্যাকেই সেনেগালের ফুটবলারদের তল্লাশি করেন নিরাপত্তাকর্মীরা। তল্লাশি শেষ হওয়ার আগে তাঁদের বিমানবন্দরের ভিতরেও প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সেনেগালের ফুটবলারদের সব ব্যাগ খুলেও তল্লাশি চালানো হয়। প্রায় একই ঘটনা ঘটেছে উজবেকিস্তান দলের সঙ্গেও। অনুশীলনের জন্য নিউ ইয়র্কের আইকান স্টেডিয়ামে পৌঁছোনোর পর উজবেক ফুটবলারদের কড়া তল্লাশির মুখে পড়তে হয়। শুধু নিরাপত্তাকর্মীরাই নন, মাদক সন্ধানী কুকুর দিয়েও পরীক্ষা করা হয় প্রত্যেক ফুটবলার এবং সাপোর্ট স্টাফকে।

    ফুটবল-কে অসম্মান

    এর আগে আমেরিকায় পৌঁছেই দীর্ঘ জেরার মুখে পড়তে হয়েছে ইরাকের স্ট্রাইকার আয়মেন হুসেনকে। ১০ ঘণ্টার বেশি জেরা করা হয়েছে ইরাকের বিশ্বকাপ দলের চিত্রগ্রাহক তালাল শাহকে। বিমানবন্দর থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা রেফারি সেনেগালের ওমর আব্দুলকাদির আরতানকে। বিশ্বাব ফুটবলের মহাযজ্ঞে বারবার ট্রাম্প প্রশাসনের এই আচরণে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা। তাঁদের অভিযোগ, নিরাপত্তার অজুহাতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া বিভিন্ন দেশের ফুটবলারদের সঙ্গে অপরাধীর মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফিফা কর্তৃপক্ষও। আয়োজক দেশ নির্বাচন নিয়ে ফিফার উপর ক্ষোভ বাড়ছে।

  • MT Marivex: ওমান উপকূলে ডুবে গেল ক্ষেপণাস্ত্রবিদ্ধ বাণিজ্যিক জাহাজ! উদ্ধার ২৪ ভারতীয় নাবিক

    MT Marivex: ওমান উপকূলে ডুবে গেল ক্ষেপণাস্ত্রবিদ্ধ বাণিজ্যিক জাহাজ! উদ্ধার ২৪ ভারতীয় নাবিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওমানের মাসিরাহ দ্বীপের কাছে বড়সড় সামুদ্রিক দুর্ঘটনার মুখে পড়ে বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমটি মারিভেক্স’ (MT Marivex)। জাহাজটিতে আগুন লাগার পর তা ধীরে ধীরে ডুবে যায়। তবে স্বস্তির খবর, জাহাজে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাবিককেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এর একদিন আগে জাহাজটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হলে জাহাজের ক্রুরা জরুরি ভিত্তিতে এসওএস (SOS) বার্তা পাঠান। ভারতের ওমানে অবস্থিত দূতাবাস জানিয়েছে, জাহাজে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাগরিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাঁরা সুস্থ রয়েছেন। দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য ওমান প্রশাসনকে ধন্যবাদও জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস।

    কীভাবে উদ্ধার নাবিকরা

    কেন্দ্রীয় জাহাজ পরিবহণ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণে দুপুর প্রায় ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ এমটি মারিভেক্সে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় জাহাজটি বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ডুবে যায়। এদিকে অল ইন্ডিয়া সিফেয়ারার্স ইউনিয়ন জানিয়েছে, আগুন লাগার পর জাহাজের এক নাবিক নিলেশ জরুরি সাহায্যের আবেদন জানিয়ে ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপরই পরিস্থিতির ওপর নজরদারি শুরু করে ইউনিয়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখে। জাহাজ পরিবহণ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে ওমানের কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA), বিদেশে অবস্থিত ভারতীয় মিশন, ভারতীয় নৌবাহিনী এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সক্রিয়ভাবে সমন্বয় করেছে।

    ভারত ও ওমান সংযোগ

    এই ঘটনায় ভারত ও ওমানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতারও প্রমাণ মিলেছে। অল ইন্ডিয়া সিফেয়ারার্স ইউনিয়ন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত নাবিক ও তাঁদের পরিবারের পাশে তারা রয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবে। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া ২৪ জন ভারতীয় নাবিকই নিরাপদে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে কীভাবে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর জাহাজে আগুন লাগে এবং শেষ পর্যন্ত তা ডুবে যায়, সেই বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

  • PM Modi: মোদি সরকারের ১২ বছর, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভারতের বিদেশনীতির আমূল পরিবর্তন! কতটা বদলেছে দেশ?

    PM Modi: মোদি সরকারের ১২ বছর, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভারতের বিদেশনীতির আমূল পরিবর্তন! কতটা বদলেছে দেশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) নেতৃত্বে গত ১২ বছরে ভারতের বিদেশনীতি এক উল্লেখযোগ্য রূপান্তরের সাক্ষী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অধীনে অর্থনৈতিক, সামাজিক শাসন ও বিদেশনীতির ক্ষেত্রে দেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে ৷ মোদির নেতৃত্বে ভারত উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও কৌশলগতভাবে আত্মবিশ্বাসী এবং সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিদেশনীতি প্রসঙ্গে ভারত নিজস্ব একটি ব্যাখ্যাও তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন ৷ এমনই দাবি বিদেশ মন্ত্রকের (MEA)। ৯ জুন এক্স (সাবেক টুইটার)-এ করা এক পোস্টে মন্ত্রক জানায়, এই সময়কালে ভারতের বৈশ্বিক অবস্থান, কূটনৈতিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    “ব্র্যান্ড ইন্ডিয়া”-র প্রকাশ

    বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, গত এক দশকেরও বেশি সময়ে ভারতের কূটনৈতিক উদ্যোগ শুধু “ব্র্যান্ড ইন্ডিয়া”-কে শক্তিশালী করেনি, বরং বিশ্বমঞ্চে দেশের মর্যাদাও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক সোলার জোট (International Solar Alliance)-এর মতো উদ্যোগ, সীমান্ত পেরিয়ে ডিজিটাল জন পরিকাঠামো হিসেবে ইউপিআই (UPI)-এর প্রসার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা—সব মিলিয়ে ভারত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

    গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর

    বিদেশ মন্ত্রক তাদের পোস্টে উল্লেখ করেছে, “গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতের বিদেশনীতি অসাধারণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়া থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সংকটের সময়ে ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ হিসেবে ভূমিকা পালন করা—ভারত জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি বৈশ্বিক কল্যাণকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছে।” পাপুয়া নিউ গিনির প্রধানমন্ত্রী জেমস মারাপে (James Marape) একটি ভিডিও বার্তায় মোদিকে “নেতৃত্বের আদর্শ উদাহরণ” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ভারতে কোটি কোটি মানুষকে দারিদ্র্যসীমার ওপরে তুলে আনার সাফল্য বিশ্বের জন্য শিক্ষণীয়।” একইসঙ্গে তিনি ভারত ও পাপুয়া নিউ গিনির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা

    মোদি সরকার শুরু থেকেই দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। যদিও চিন এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চেষ্টা করছে, ভারত তার কানেক্টিভিটি (যোগাযোগ), বাণিজ্য, এবং মানবিক সহায়তা দিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। ত্রিনিদাদ টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কমলা প্রসাদ (Kamla Persad-Bissessar)-ও প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “আজ ভারত বিশ্ব রাজনীতিতে একটি প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”

    মোদির নেতৃত্ব প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে প্রেরণা

    টানা ১২ বছর ক্ষমতায় থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে দীর্ঘতম ধারাবাহিক মেয়াদের নতুন রেকর্ড গড়তে চলেছেন। ১০ জুন তাঁর টানা ৪,৩৯৯ দিন প্রধানমন্ত্রিত্ব পূর্ণ হয়েছে, যা ভারতের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক। এই উপলক্ষে বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রনেতা ও সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী মোদিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনরা কুমারা দিশানায়েক (Anura Kumara Dissanayake) এক চিঠিতে বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের জনগণ বারবার মোদির নেতৃত্বের উপর আস্থা রেখেছেন, আর এই দীর্ঘ মেয়াদ সেই আস্থারই প্রতিফলন। তিনি ভারতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রশংসা করেন এবং বলেন, মোদির নেতৃত্ব প্রতিবেশী দেশগুলির কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।

    বিশ্বমঞ্চে শক্তিশালী উপস্থিতি

    মোদি সরকারের আমলে ভারত জি-২০ (G20) এর মতো শীর্ষ বৈশ্বিক ফোরামের সফল সভাপতিত্ব করেছে এবং ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্স (ISA)-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছে। রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে, ভারত গণতান্ত্রিক রাজনীতির ‘ভারতীয় বৈশিষ্ট্য’ তুলে ধরার জন্য পশ্চিমের সঙ্গে তার গণতান্ত্রিক ঐক্যমত্যের উপর জোর দেওয়া থেকে সরে এসেছে । বর্তমানে, গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভারতীয় উৎসের উপর আরও বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে ৷ এর থেকে বোঝা যাচ্ছে যে ভারত তার ঐতিহাসিক ঔপনিবেশিক ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে ৷ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে ‘বিশ্ব পরামর্শদাতা’ হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করছে ভারত ।

    কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বড় শক্তিগুলোর সাথে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে, ‘কোয়াড’ (Quad)-এর মতো জোটে ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    অর্থনৈতিক কূটনীতি ও আত্মনির্ভর ভারত

    দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বিকাশ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং বিদেশি বিনিয়োগ টানার ক্ষেত্রে বিদেশনীতিকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতিগুলোর মাধ্যমে বিশ্ব সাপ্লাই চেইনে ভারতের অবস্থান সুদৃঢ় করা হচ্ছে। মোদি সরকারের আমলে মেক-ইন-ইন্ডিয়া উদ্যোগ, দ্রুত অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিকাশের সঙ্গে ভারত আরও কৌশলগতভাবে আত্মবিশ্বাসী ও নিজস্ব ব্যাখ্যা তৈরি করতে এবং সেটার বিকাশে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে ।

    সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অবস্থান

    আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায় করা এই সরকারের অন্যতম বড় কূটনৈতিক সাফল্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় বসার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, রাশিয়া ও অন্যান্য দেশ এবং আঞ্চলিক সংস্থাগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে উন্নীত করে বহু-সংখ্যাবদ্ধ কৌশলের পক্ষে কথা বলছেন ৷ ভারত সবসময় নিজেকে একটি বিশ্বশক্তি বলে মনে করে।

    বিশ্বস্ত উদ্ধারকারী ও মানবিক রাষ্ট্র

    বিশ্বের কোথাও কোনো সংকট দেখা দিলে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ভারত তাৎক্ষণিক সাহায্যকারী বা ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশ ও আফ্রিকার সাথে সহযোগিতার ক্ষেত্রও প্রসারিত হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মতে, গত ১২ বছরে ভারতের বিদেশনীতি শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক বিস্তারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং উন্নয়ন, প্রযুক্তি, জলবায়ু উদ্যোগ এবং মানবিক সহায়তার মাধ্যমে বিশ্বপরিসরে দেশের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারত এখন বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী আলোচনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

  • NEET-UG 2026: নিট পরীক্ষায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা! প্রশ্নপত্র সামলাবে বায়ুসেনা, গোপন ডেরায় ঠাই পেপার-সেটারদের

    NEET-UG 2026: নিট পরীক্ষায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা! প্রশ্নপত্র সামলাবে বায়ুসেনা, গোপন ডেরায় ঠাই পেপার-সেটারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট-ইউজি’ (NEET-UG 2026)-এর পুনর্পরীক্ষা ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলা এই পুনর্পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেশের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে প্রথমবারের মতো ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। নিট পুনর্পরীক্ষাকে (NEET-UG Re-Exam) সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র ও সুরক্ষিত করতে শিক্ষা মন্ত্রক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ স্তরের বৈঠকের পর একটি বিশেষ ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে।

    একাধিক কঠোর পদক্ষেপ

    দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক এবং প্রশ্নফাঁসের গুরুতর অভিযোগের জেরে গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া ‘নিট-ইউজি’ (NEET-UG 2026) পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। আগামী ২১ জুন এই পরীক্ষার রি-টেস্ট বা পুনর্পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং পুনরায় যে কোনও ধরণের জালিয়াতি রুখতে এবার ভারতের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার সরাসরি আসরে নামছে ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF)। এবার যাতে কোনওভাবেই প্রশ্নপত্র ফাঁস বা কারচুপির অভিযোগ না ওঠে, সেজন্য একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান ব্যবহার

    কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র পরিবহনের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ করতে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান ব্যবহার করা হবে। এর ফলে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবহণের সময় কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ বা কারচুপি রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রশাসন। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সমস্ত রকম ঝুঁকি এড়াতে এবার আর সাধারণ ডাক বিভাগ বা সড়কপথের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে না। বায়ুসেনার বিশেষ পরিবহন বিমান এবং শক্তিশালী ‘মি-১৭’ (Mi-17) হেলিকপ্টারের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রগুলি আকাশপথে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠানো হবে।

    ১৮টি স্ট্র্যাটেজিক লোকেশন চিহ্নিতকরণ

    দেশের মোট ১৮টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। বায়ুসেনার তত্ত্বাবধানে মূল বিতরণ কেন্দ্র থেকে এই ১৮টি লোকেশনে প্রশ্নপত্রের গোপন প্যাকেটগুলি উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে প্রশ্নপত্র পৌঁছাবে পরীক্ষাকেন্দ্রে।

    প্রায় ৫ লক্ষ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন

    এছাড়াও, দেশজুড়ে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে প্রায় ৫ লক্ষ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে। পরীক্ষার উপর নজরদারি চালাতে অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারেরও পরিকল্পনা করা হয়েছে। সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এই প্রযুক্তি কাজে লাগানো হবে।

    কঠোর নজরদারির মধ্যে প্রশ্নপত্র তৈরি

    পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের ক্ষেত্রেও নেওয়া হয়েছে কড়া সতর্কতা। বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল কঠোর নজরদারির মধ্যে প্রশ্নপত্র তৈরি করেছেন। তাঁদের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের কোনও সুযোগ দেওয়া হয়নি। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরিকারক, মডারেটর এবং অনুবাদকদের সম্পূর্ণ গোপন একটি সুরক্ষিত আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা একপ্রকার নজরবন্দি অবস্থায় থাকবেন। তাঁদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেটের মতো বাহ্যিক যোগাযোগের সমস্ত মাধ্যম সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

    শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সক্রিয় সরকার

    বিগত দিনে নিট পরীক্ষা নিয়ে হওয়া কেলেঙ্কারি দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা সম্পূর্ণ নাড়িয়ে দিয়েছিল। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI) তদন্ত চালাচ্ছে। এমতাবস্থায় আগামী ২১শে জুনের পুনর্পরীক্ষাকে সরকারের পক্ষ থেকে একটি আস্থা ফেরানোর লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের একটি শিক্ষাগত প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সুরক্ষিত রাখতে সামরিক বাহিনীর সাহায্য নেওয়া যেমন নজিরবিহীন, তেমনই এটি প্রমাণ করে যে সরকার এবার পরীক্ষার শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কতটা মরিয়া ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

    বহুস্তরীয় নিরাপত্তা কাঠামো

    গত ২ মে ২২ লাখ পরীক্ষার্থী নিট পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এরপরই সামনে আসে সেই পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের তথ্য। ঘটনার তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের বেশিরভাগই অধ্যাপক এবং তাঁরা পরীক্ষক সংস্থা এনটিএ-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অর্থাৎ সর্ষের মধ্যেই ছিল ভূত। এই ঘটনায় বিতর্ক চরমে উঠতেই নিটের পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় এনটিএ। আগামী ২১ জুন হতে চলেছে সেই পরীক্ষা। এখানে যাতে কোনওরকম জালিয়াতির ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে কেন্দ্র। নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে শীর্ষ আধিকারিকদের তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখতে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে যার প্রথম ধাপ হল, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারীদের পৃথক রাখা। প্রশ্নপত্র তৈরি ও অনুবাদ থেকে শুরু করে নিরীক্ষণ, মুদ্রণ, প্যাকেজিং, পরিবহন এবং তা পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়কে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। শুধু তাই নয়, প্রশ্নপত্র পরিবহণকে নিরাপদ রাখতে বায়ুসেনার বিমান এবং তা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছন পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মোড়কে মুড়ে ফেলা হচ্ছে।

  • FIFA World Cup 2026: ভারত না খেললেও, ২৬-এর বিশ্বকাপে ভারতীয় বংশোদ্ভূতের ছোঁয়া! জানেন তাঁরা কারা?

    FIFA World Cup 2026: ভারত না খেললেও, ২৬-এর বিশ্বকাপে ভারতীয় বংশোদ্ভূতের ছোঁয়া! জানেন তাঁরা কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আর মাত্র দুই দিনের অপেক্ষা। এরপরই ঢাকে কাঠি পড়ে যাবে বিশ্বকাপ ফুটবলের (Fifa Football World Cup 2026)। কানাডা, মেক্সিকো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের (Football World Cup 2026) আসর বসতে চলেছে। নিঃসন্দেহে এবারের টুর্নামেন্ট উল্লেখযোগ্য থাকবে বিশ্ব ফুটবলের ২ মহারথী ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও লিওনেল মেসির জন্য। দু’জনে তাঁদের কেরিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে খেলতে নামছেন। তবে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ ভারতীয় ফুটবল প্রেমীদের জন্য়ও একটি বিশেষ কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ প্রায় ২০ বছর পর অর্থাৎ ২০০৬ বিশ্বকাপের পর এবারই কোনও ভারতীয় বংশোদ্ভুত ফুটবলার বিশ্বকাপের আসরে নামতে চলেছেন। তাও আবার একজন নয়। চার চারজন।

    ২০০৬-এর পর ২০২৬

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত চার ফুটবলার। ভারতীয় ফুটবল দল (Indian Football Team) এবারও বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হলেও, এই প্রথম একসঙ্গে চারজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার নিজেদের দেশের জার্সিতে বিশ্বকাপ খেলতে চলেছেন। ২০০৬ সালে ফ্রান্সের জার্সিতে বিশ্বকাপ খেলেছিলেন বিকাশ ধোরাসু। তিনি ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত। এরপর ফুটবল বিশ্বকাপের চারটি সংস্করণে কোনও ভারতীয়কে মাঠে দেখা যায়নি। কিন্তু আগামী ১২ জুন থেকে শুরু হতে চলা মেগা টুর্নামেন্টে চারজন ভারতীয় বংশোদ্ভুত চারটি বিভিন্ন দেশের হয়ে খেলতে নামবেন। তাঁরা হলেন তাহসিন মহম্মদ জামশিদ, নিশান ভেলুপিল্লাই, স্যামুয়েল মুতুসামি ও সরপ্রীত সিং।

    তাহসিন মহম্মদ জামশিদ

    সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন কাতারের তরুণ উইঙ্গার তাহসিন মহম্মদ জামশিদ। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই তিনি কাতার স্টার্স লিগে খেলা প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। দোহায় জন্ম নেওয়া তাহসিনের বাবা-মা কেরলের মালয়ালি পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তাঁর বাবা কেরলে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলও খেলেছিলেন। এবার কাতারের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন তিনি।

    সরপ্রীত সিং

    নিউজিল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে চলেছেন সরপ্রীত সিং। পাঞ্জাবি পরিবার থেকে উঠে আসা এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ২০১৮ সাল থেকেই ‘অল হোয়াইটস’ দলে নিয়মিত মুখ। ইউরোপিয় ফুটবলেও তিনি যথেষ্ট পরিচিত নাম। জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে সই করে একসময় বড় চমক দিয়েছিলেন সরপ্রীত। ২০১৯ সালে বায়ার্ন মিউনিখে কুতিনহোর বদলে মাঠে নেমেছিলেন সরপ্রীত। সে দিন তিনি প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভুত হিসেবে খেলেছিলেন বুন্দেশলিগায়। পাঞ্জাব থেকে সরপ্রীতের বাবা–মা পাড়ি দিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডে। অকল্যান্ডের দক্ষিণ প্রান্তে পাপাতোয়তোয় অঞ্চলে বাড়ি তাঁদের। সেখানেই শুরু ফুটবল। তার পরে খেলেছেন ওনেহুঙ্গা ক্লাবে। সেখান থেকেই নজরে পড়ে যান ওয়েলিংটন ফিনিক্স যুব টিমের। তার পরে এই টিমের হয়েই খেলেছেন এ লিগে। তার পরে বায়ার্নের দ্বিতীয় ও প্রথম টিম এবং জার্মানির আরও কয়েকটি টিমে খেলে গত মরশুমে খেলেছেন পর্তুগালের ইউনিয়াও দে লেইরিয়াতে। আর ২০১৮ সালে অভিষেকের পরে ধীরে ধীরে নিয়মিত হয়ে উঠেছেন নিউ জিল্যান্ড টিমে।

    নিশান ভেলুপিল্লাই

    অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন নিশান ভেলুপিল্লাই। এই আগুন গতির উইঙ্গারের মা অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান এবং বাবা মালয়েশিয়ান তামিল বংশোদ্ভূত। ইতিমধ্যেই ‘সকারুজ়’ দলে নিজের জায়গা পাকা করতে শুরু করেছেন নিশান।

    স্যামুয়েল মাউতোসামি

    ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর হয়ে খেলবেন স্যামুয়েল মাউতোসামি। ফ্রান্সের প্যারিসে জন্ম হলেও, মায়ের সূত্রে তিনি কঙ্গোর প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাঁর বাবা ইন্দো-গুয়াডেলুপিয়ান তামিল বংশোদ্ভূত। ফরাসি লিগ ওয়ানে দীর্ঘদিন খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

    কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ

    ভারতীয় ফুটবল দল বিশ্বকাপে না থাকলেও, ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই চার ফুটবলারের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে গর্বের মুহূর্ত হয়ে থাকবে। উল্লেখ্য, এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে রেকর্ড ৪৮টি দল অংশ নিতে চলেছে। মোট ১০৪টি ম্য়াচ হবে। ১১ জুন উদ্বোধনী ম্য়াচে আয়োজক দেশ মেক্সিকো মুখোমুখি হতে চলেছে দক্ষিণ আফ্রিকার। আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই ফাইনাল ম্য়াচ। গত বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়েছিল কাতারে। সেবার ফাইনালে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল আর্জেন্তিনা। লিওনেল মেসির হাতে উঠেছিল বিশ্বকাপ ট্রফি। ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে দিয়েছিল তারা। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো কি পারবেন নিজের শেষ বিশ্বকাপ স্মরণীয় করে রাখতে?

    ৩৯ দিন ধরে চলবে এই মেগা টুর্নামেন্ট

    মোট ৩৯ দিন ধরে চলবে এই মেগা টুর্নামেন্ট। তিনটি দেশের ১৬টি স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হবে মোট ১০৪টি ম্যাচ। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবার ৪৮টি দল অংশ নেবে। এর আগে বিশ্বকাপে ৩২টি দল খেলত। শেষবার ১৯৯৮ সালে দলসংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। দলসংখ্যা বাড়ায় এবার ম্যাচের সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪-এ, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক। এই বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিতে চলেছে কেপ ভার্দে, কুরাকাও, জর্ডন এবং উজবেকিস্তান। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এই চার দেশের অভিষেক বিশ্বকাপকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ৪৮টি দলের মোট ১,২৪৮ জন ফুটবলার এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেবেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এত সংখ্যক ফুটবলার আগে কখনও অংশ নেননি। এই ফুটবলাররা বিশ্বের ৭১টি দেশের ৪৪৯টি ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

  • India-China Relation: ‘ভারত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, সহযোগী’ বার্তা চিনের! বেজিংয়ের সুরে কি বরফ গলছে?

    India-China Relation: ‘ভারত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, সহযোগী’ বার্তা চিনের! বেজিংয়ের সুরে কি বরফ গলছে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত, রাশিয়া এবং চিনের (India-China Relation) মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পক্ষে সওয়াল করল বেজিং। চিনের মতে, ইউরেশিয়ার এই তিন প্রধান শক্তির মধ্যে গঠনমূলক সম্পর্ক শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলির স্বার্থেই নয়, বিশ্বব্যাপী শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সোমবার নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠকে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানান, রাশিয়া-ভারত-চিন (RIC) কাঠামোর অধীনে সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যেতে বেজিং নয়াদিল্লি ও মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে প্রস্তুত।

    ভারত-রাশিয়া-চিন সম্পর্কের গুরুত্ব

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারত ও চিনের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, দুই নেতা পারস্পরিক সমস্যার সমাধান এবং সংলাপ বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছেন। লিন জিয়ান বলেন, “চিন, রাশিয়া এবং ভারত—তিনটিই উদীয়মান অর্থনীতি। এই তিন দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা তাদের নিজস্ব স্বার্থের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্যও সহায়ক।” তিনি আরও বলেন, “তিন দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে চিন প্রস্তুত।”

    আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা

    রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন সম্প্রতি মন্তব্য করেন যে, ভারত ও চিনের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক স্বতন্ত্রভাবে বিকশিত হয়েছে এবং তা কোনও তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। ভারত-চিন সম্পর্ককে তিনি “জটিল কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” বলে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলির সমাধানে বাইরের হস্তক্ষেপ বিশেষ সাহায্য করবে না। পুতিন আরও উল্লেখ করেন, সীমান্ত-সহ একাধিক ইস্যুতে নয়াদিল্লি ও বেজিং নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশের এই সহনশীল ভূমিকা সারা বিশ্বের কাছে শিক্ষনীয় অভিমত পুতিনের।

    সীমান্ত পরিস্থিতি ‘সাধারণভাবে স্থিতিশীল’

    ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে লিন জিয়ান জানান, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর পরিস্থিতি বর্তমানে “সাধারণভাবে স্থিতিশীল” রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের বিভিন্ন ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। তিনি বলেন, ভারত ও চিনের উচিত একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে সহযোগী হিসেবে দেখা। লিন জিয়ান বলেন, “দুই দেশকে সঠিক কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে। ভারত ও চিন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহযোগী। উভয় দেশের উন্নয়নের জন্য একে অপর সুযোগ, হুমকি নয়।” লিনের মতে, দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি, বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করার পথে এগোনো উচিত দুই দেশের।

    ভারত-পাক সম্পর্ক নিয়েও অবস্থান স্পষ্ট 

    ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে চিনের মুখপাত্র জানান, নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে মতপার্থক্য শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “আমরা দুই পক্ষকেই সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে মতভেদ মেটানোর এবং যৌথভাবে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাই।”

    মতপার্থক্য দূর হওয়ার পথে

    বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তন, বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত এবং নতুন অর্থনৈতিক জোটের উত্থানের প্রেক্ষাপটে আরআইসি কাঠামোর গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভারত ও চিনের মধ্যে এখনও নানা মতপার্থক্য থাকলেও, বেজিংয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য তিন দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও কৌশলগত সংলাপ বাড়ানোর প্রতি নতুন আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক

    জিয়ানের এই মন্তব্য চিন-ভারত সুসম্পর্ক পুনর্নির্মাণের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তুলেছে। কিছুদিন আগেই অরুণাচল প্রদেশকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’ হিসেবে দাবি করে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বিকৃত’ মানচিত্র নিয়মিত প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে চিনকে। গালওয়ান ক্ষতের উপর নুন ছিটিয়েছে করাচির সঙ্গে বেজিংয়ের সখ্যতা। চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ মেটেনি। এই আবহে জিয়ানের এই মত, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ— সেরকমটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

    চিনকে বিশ্বাস করা যায়!

    উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালের ‘হিন্দি চিনি ভাই ভাই’ স্লোগানকে পদদলিত করে ৬২-তেই যুদ্ধে নেমেছিল চিন। এর পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের গ্রাফ নেমেছে। সীমান্তবর্তী উত্তেজনা ছাড়াও নিউক্লিয়ার সাপ্লাই গ্রুপের সদস্যপদ গ্রহণ, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার — একাধিক বিষয়ে ভারতের সামনে প্রাচীর তুলেছে চিন। ১৯৬২-র যুদ্ধ এবং ১৯৬৭-র সীমান্ত সংঘর্ষের পর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) তুলনামূলক শান্ত ছিল। ২০১৭ সাল থেকে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হতে শুরু করে। সে বছর ডোকলামে টানা ৭৩ দিন দু’দেশের বাহিনী পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল। পরে কূটনৈতিক পথে সমস্যার সমাধান হয়। এর পর ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গলওয়ানে সংঘর্ষ হয় ভারতীয় সেনার সঙ্গে চিনের বাহিনীর। তার পরে কূটনৈতিক এবং সামরিক স্তরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরেছে।

    ‘রাশিয়া-ভারত-চিন ত্রিশক্তি জোট’

    ভারত এবং চিনের কূটনৈতিক শৈত্য সম্প্রতি অনেকটাই কেটে গিয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা শান্ত। অতিমারিও এখন অতীত। কূটনীতিকদের মতে, সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে এই তিন দেশ পৃথক বলয় তৈরি করলে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ বাড়বে। ‘রাশিয়া-ভারত-চিন ত্রিশক্তি জোট’ বা ‘রিক ট্রয়িকা’ বিশ্বকে চাপে রাখবে।

  • Sabyasachi Dutta: তোলাবাজি থেকে খুনের হুমকির অভিযোগ, এবার গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত

    Sabyasachi Dutta: তোলাবাজি থেকে খুনের হুমকির অভিযোগ, এবার গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তোলবাজির অভিযোগে গ্রেফতার বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত (Sabyasachi Dutta)। সোমবার গভীর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। সব্যসাচীর বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ী থানায় এফআইআর দায়ের করেন। সেই এফআইআরের ভিত্তিতেই তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ককে গ্রেফতার করে পুলিশ। উল্লেখ্য, ছাব্বিশের নির্বাচনে বারাসত থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রার্থী হয়েছিলেন সব্যসাচী। এর আগে তিনি রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক ছিলেন। বিধাননগর পুরসভার মেয়রও ছিলেন সব্যসাচী।

    সব্যসাচীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

    পুলিশ সূত্রে খবর, বিপুল টাকা তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে সব্যসাচী দত্তর (Sabyasachi Dutta Arrested) বিরুদ্ধে। সল্টলেকের এক বাসিন্দা, পেশায় ব্যবসায়ী, মধুসূদন চক্রবর্তী অভিযোগ করেছিলেন যে, এই তৃণমূল নেতা তাঁর কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা তোলা চেয়েছিলেন। তোলাবাজি ছাড়াও মানসিকভাবে নির্যাতন, খুনের হুমকির অভিযোগ করেছেন ওই ব্যবসায়ী। এর ভিত্তিতেই সব্যসাচী দত্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার সন্ধে সাড়ে ৭টা নাগাদ তাঁর রাজারহাটের ফ্ল্যাটে প্রথমে যান বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ আধিকারিকরা। সেখানে গিয়ে প্রথমে এক পর্ব তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ চলে। তাঁর বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়ার পর রাজারহাটের ফ্ল্যাট থেকে তাঁকে থানায় নিয়ে আসা হয়। দ্বিতীয়বার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বিধাননগর উত্তর থানায়। রাত ১০টা নাগাদ আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয় তাঁকে। রাত ১০টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ-পর্ব চলে। তারপর সোমবার গভীর রাতেই সব্যসাচী দত্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    সব্যসাচীর বিরুদ্ধে রয়েছে প্রমাণ

    পুলিশের তরফে জানানো হয়, সল্টলেকের যে ব্যবসায়ী সব্যসাচীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তিনি বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ আধিকারিকদের কাছে একটি সি সি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ জমা দিয়েছেন। সেই ফুটেজ এবং অন্যান্য যে তথ্যপ্রমাণ তা সামনে রেখেই পুলিশ সব্যসাচী দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ যখন তাঁর বিরুদ্ধে যায়, তখনই পুলিশের তরফে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। আজ, মঙ্গলবার তাঁকে বিধাননগর আদালতে পেশ করা হবে। যদিও এই বিষয়ে বিধাননগর উত্তর থানা পুলিশের তরফে এখনও কিছু জানানো হয়নি। জানা গিয়েছে, মধুসূদন চক্রবর্তী এর আগেও একাধিকবার পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু, তৃণমূল সরকারের আমলে পুলিশি নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলা হয়। পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। কিন্তু, পালাবদল হতেই সেই পুলিশই এবার সক্রিয়। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিজেপি সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্তদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না।

LinkedIn
Share