Author: ishika-banerjee

  • Laxmi Puja 2026: বিভিন্ন পঞ্জিকায় তিথির পার্থক্য! জেনে নিন ২৫ অক্টোবর কোজাগরী পূর্ণিমায় লক্ষ্মীপুজোর শুভ সময় কখন?

    Laxmi Puja 2026: বিভিন্ন পঞ্জিকায় তিথির পার্থক্য! জেনে নিন ২৫ অক্টোবর কোজাগরী পূর্ণিমায় লক্ষ্মীপুজোর শুভ সময় কখন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উমা বিদায়ের পরই বাঙালির ঘরে ঘরে চলে মা লক্ষ্মীকে বরণ করার প্রস্তুতি। ২০২৬ সালে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন, পুজো ২৫ অক্টোবর হবে, নাকি ২৬ অক্টোবর? পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর, রবিবার সন্ধ্যাতেই লক্ষ্মীপুজো করা হবে। কারণ, পূর্ণিমা তিথি ২৫ অক্টোবর সকালেই শুরু হচ্ছে এবং রাতেও থাকছে। ২৬ অক্টোবর সকালে তিথি শেষ হয়ে যাবে। তাই কোজাগরী পূর্ণিমার রাতেই দেবী লক্ষ্মীর আরাধনার আয়োজন করতে পারেন ভক্তরা। তবে বিভিন্ন পঞ্জিকায় তিথি শুরুর সময়ে কিছু পার্থক্য রয়েছে। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকায় পূর্ণিমা তিথি শুরু হচ্ছে সকাল ১১টা ৫৮ মিনিটে এবং শেষ হচ্ছে পরের দিন সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে। অন্যদিকে, গুপ্ত প্রেস পঞ্জিকায় তিথি শুরুর সময় সকাল ১০টা ৫৭ মিনিট ৩০ সেকেন্ড।

    এসো মা লক্ষ্মী, বসো ঘরে

    দুর্গাপুজো শেষ হওয়ার পর আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে বাঙালি হিন্দু পরিবারে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পালিত হয়। সংসারে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও আর্থিক উন্নতির কামনায় দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়। ‘কোজাগরী’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ‘কো জাগর্তি’ থেকে, যার অর্থ ‘কে জেগে আছো?’ প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী মর্ত্যে পরিভ্রমণ করেন এবং যাঁরা রাত জেগে তাঁর আরাধনা করেন, তাঁদের আশীর্বাদ করেন। সেই বিশ্বাস থেকেই কোজাগরী পূর্ণিমায় রাত জেগে পুজো করার রীতি প্রচলিত রয়েছে। কথিত রয়েছে, এই পূর্ণিমার রাতে নাকি দেবী লক্ষ্মী জগৎ পরিক্রমায় বেরন। তিনি দেখেন কেউ সারারাত জেগে আছেন কিনা। অনেকে এ-ও বলে থাকেন, ওইদিন রাতে যে ব্যক্তি জেগে থাকেন তাঁকে মা লক্ষ্মী ধনসম্পত্তি দান করেন।

    কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পালনের রীতি

    প্রথমে পুজোর স্থান পরিষ্কার করে লক্ষ্মীর আসন সাজিয়ে নিন। বাংলায় বাড়ির প্রবেশপথে চালের গুঁড়ি দিয়ে আলপনা ও লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ আঁকার রীতি রয়েছে। ফুল, ফল, মিষ্টি, নারকেল, চিঁড়ে, খই ও অন্যান্য নৈবেদ্য দিয়ে পুজোর আয়োজন করতে পারেন। পরিবারের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রদীপ জ্বালিয়ে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করুন। রাত জেগে পুজো করার রীতি থাকলেও নিজের পারিবারিক প্রথা ও পুরোহিতের পরামর্শ মেনে চলুন। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন বাংলার প্রতিটি ঘর মুখরিত হয়ে ওঠে শঙ্খধ্বনিতে। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রয়েছে কৃষি সমাজ। এই পুজো হয় মূলত প্রতিমা, সরা, নবপত্রিকা কিংবা থোড়ের তৈরি নৌকোয়। লক্ষ্মীর সরাও হয় নানারকমের। যেমন – ঢাকাই সরা, ফরিদপুরি, সুরেশ্বরী এবং শান্তিপুরী সরা।

  • Jordan Church Shootout: চার্চে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালীন এলোপাথাড়ি গুলি! জর্ডনে বন্দুকবাজদের হামলায় মৃত অন্তত ৭, আহত ৪০

    Jordan Church Shootout: চার্চে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলাকালীন এলোপাথাড়ি গুলি! জর্ডনে বন্দুকবাজদের হামলায় মৃত অন্তত ৭, আহত ৪০

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জর্ডনের রাজধানী আম্মানের থেকে ১৮০ কিলোমিটার (১১০ মাইল) দক্ষিণে একটি চার্চের ভিতরে চলছিল অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। সেই সময়েই তিন বন্দুকবাজ ঢুকে পড়ে সেখানে। এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে তারা। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৭ জনের। আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। জর্ডনের একটি চার্চে এই ভয়ঙ্কর হামলার ঘটনা ঘটেছে। জানা গিয়েছে, জর্ডনের কারাক (Karak) এলাকায় রয়েছে গ্রিক অর্থোডোক্স চার্চ। সেখানেই এই ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে গোটা জর্ডনজুড়ে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ঠিক কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। হামলাকারীদের খোঁজে গোটা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান ও চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

    চার্চে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি তিন বন্দুকবাজের

    জর্ডনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, কারাকের হামুদ (Hammoud) গ্রামের একটি গ্রিক অর্থোডক্স চার্চে (Greek Orthodox Church) যখন একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান চলছিল, ঠিক সেই সময়ই সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। প্রার্থনা সভাতে সেই সময় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন মানুষ উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎই বেশ কয়েকজন বন্দুকবাজ বৃষ্টির মতো গুলি চালাতে শুরু করে। আকস্মিক এই হামলায় ঘটনাস্থলেই হতাহতের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। জর্ডনের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে যে ফুটেজ দেখানো হয়েছে, সেখানে দেখা গিয়েছে প্রথমে হাতে পিস্তল নিয়ে চার্চে ঢুকেছে ২ জন। চার্চের ভিতরের দিকে এগোতে এগোতে নাগাড়ে গুলি চালাচ্ছে তারা। তৃতীয় আরেক বন্দুকবাজকেও দেখা গিয়েছে এই ফুটেজে। তার হাতে আবার ছিল সেমি-অটোম্যাটিক রাইফেল। চার্চে ঢুকে দিকবিদিকজ্ঞানশূন্য এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে এই তিনজন বন্দুকবাজ। চার্চে থাকা এই ঘটনার অনেক প্রত্যক্ষদর্শীই বন্দুকবাজদের হামলার সময়ে ছবি, ভিডিও মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করেছেন।

    কারা হামলা চালাল, কঠোর শাস্তি

    চার্চে থাকা অনেকে বলেছেন চারজন বন্দুকবাজ ছিল। গুলি চালানোর ঘটনায় কতজন যুক্ত ছিল তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। কে বা কারা এই হামলার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের উদ্দেশ্যই বা কী ছিল, কেন এভাবে চার্চের ভিতর গুলি চালানো হল – কোনও কিছুই স্পষ্টভাবে জানা যায়নি এখনও। এই ঘটনায় জর্ডনে ৩ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন জর্ডনের প্রধানমন্ত্রী জাফর হাসান (Jafar Hassan)। হামলাকারীদের উদ্দেশে তাঁর হুঁশিয়ারি, এভাবে নিরীহ মানুষজনের প্রাণ কেড়ে নেওয়া অপরাধীদের কোনওভাবেই ছাড়া হবে না। এই হামলাকে সন্ত্রাসবাদী ও উগ্রপন্থী মতাদর্শের ফল বলে উল্লেখ করেছেন জর্ডনের প্রধানমন্ত্রী। এই ভয়াবহ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন জর্ডনের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ (King Abdullah II)। এক্স (X)-এ এক বার্তার মাধ্যমে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “কারাককে লক্ষ্য করে চালানো এই সন্ত্রাসী হামলাকে কঠোরতম উপায়ে দমন করা হবে।” নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।

  • Health Minster Of Bengal: ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো টানা ছুটি নয়! সরকারি হাসপাতালে ‘৭৯ বছরের রীতি’ বন্ধ করার ঘোষণা রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

    Health Minster Of Bengal: ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো টানা ছুটি নয়! সরকারি হাসপাতালে ‘৭৯ বছরের রীতি’ বন্ধ করার ঘোষণা রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী বছর দুর্গাপুজো থেকে আর টানা ছুটি পাবেন না রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের কর্মীরা। দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী থেকে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত, প্রায় ১০ দিন ছুটি আর হবে না। শুক্রবার দ্বাদশীর দিন এ কথা ঘোষণা করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আর পাঁচটা সরকারি দফতরের মতো স্বাস্থ্য দফতর নয়। স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গকে জরুরি পরিষেবা দিতে হয়। মানুষের স্বার্থে পুজোর মধ্যে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত রস্টার ডিউটি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    ‘৭৯ বছরের রীতি’ বন্ধ!

    রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানান, স্বাধীনতার পর থেকে রাজ্যে অঘোষিত একটি রেওয়াজ ছিল যে, ষষ্ঠী মানেই অফিস-কাছারিতে পুজো-পুজো ভাব। সেই ছুটির রেশ চলে যায় একেবারে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত। শারদ্বতের কথায়, ‘‘ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত ছুটি নেওয়া বন্ধ হোক। এত দিন ধরে এটা রীতি-রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ১৯৪৭ সালের পর থেকে ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো হাসপাতালে একটা ছুটি-ছুটি ভাব ছিল। এটাই চলে আসছিল।’’ তার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ‘‘পরের বার থেকে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমীর জন্য শুধু পুজো রস্টার হবে। আজ থেকেই যাঁরা ছুটিতে ছিলেন তাঁদের ছুটি বাতিল করে কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে।’’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এ বছরই বাকি সরকারি দফতরের মতো মেডিক্যাল কলেজগুলোর শিক্ষক, অধ্যক্ষ, এমএসভিপি, নন-মেডিক্যাল সুপারিনটেন্ডেন্ট থেকে সাফাইকর্মী, সকলেই কাজে ফিরে এসেছেন। চোরবাগানের দুর্ঘটনার পরে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও আধিকারিকদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় শুক্রবার স্বাস্থ্য ভবনে মেডিক্যাল কলেজগুলির অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মন্ত্রী।

    স্বাস্থ্য পরিষেবা জরুরি পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, পুজোর সময়ে হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসক ও অন্য কর্মীদের উপস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়েই একাংশের অনুপস্থিতির বিষয়টি নজরে আসে। পুজোর সময়ে পুরলিয়ার দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে সাফাইয়ের দুরবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো সরাসরি ফোন করে বিষয়টি জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে। তাতে অনুপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে আরও জলঘোলা হয়। মন্ত্রীর বক্তব্য, ‘স্বাস্থ্য পরিষেবা জরুরি পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত। ফলে উৎসবের মরশুমেও দায়িত্ব পালনে কোনও শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না।’ সরকারি কর্মীদের জনগণের করের টাকায় চলা পরিষেবার প্রতি দায়বদ্ধতার কথা মনে করিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কাজ করানোর জন্যেও কি নির্দেশিকা জারি করতে হবে?’এ বারও পুজোর চার দিনের জন্যে বিশেষ রস্টার চালু থাকলেও আগামী বছর থেকে চিকিৎসক ও নার্সদের ক্ষেত্রে তা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্য কর্মীদের জন্য আগের মতোই রস্টার ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। আগাম ছুটি নিয়ে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার প্রবণতা বন্ধ করতেও কড়া অবস্থান নিচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর।

  • Weather Update: লক্ষ্মীপুজোতেও দুর্যোগ! ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়, আছড়ে পড়তে পারে কোন উপকূলে?

    Weather Update: লক্ষ্মীপুজোতেও দুর্যোগ! ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়, আছড়ে পড়তে পারে কোন উপকূলে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লক্ষ্মীপুজোর আগেই বঙ্গোপসাগরে চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড়ের ভ্রুকুটি। নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়ে গিয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সোমবার সকালের মধ্যেই সাগরে তৈরি হয়ে যেতে পারে ঘূর্ণিঝড়। তা ক্রমে উপকূলের দিকে ধেয়ে যাবে। তার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের তাণ্ডবের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোই আবহাওয়া ঠিক থাকবে বলেই পূর্বাভাস। হাওয়া বদল ঘটতে পারে বুধবার থেকে। সোমবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে কোনও সতর্কতা নেই। মঙ্গলবার থেকে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। জারি হয়েছে লাল সতর্কতা। ওই দিন থেকে উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। দমকা হাওয়ার বেগ পৌঁছে যেতে পারে ৬০ কিলোমিটারেও। ফলে সমুদ্র উত্তাল থাকবে।

    কোথায় তৈরি হয়েছে নিম্নচাপ!

    হাওয়া অফিস জানিয়েছে, পূর্ব-মধ্য এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর শুক্রবার নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়েছে। তার আশপাশে ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে সমুদ্রতল থেকে ৫.৮ কিলোমিটার উচ্চতায়। নিম্নচাপ অঞ্চলটি আরও ঘনীভূত হয়ে শনিবার নিম্নচাপে পরিণত হবে। ক্রমশ পশ্চিম-উত্তর পশ্চিমে সরতে সরতে তা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে রবিবার। সোমবার সকালের মধ্যে সমুদ্রেই গভীর নিম্নচাপ থেকে জন্ম নিতে পারে ঘূর্ণিঝড়। সেটি পরবর্তী দু’দিনে আরও শক্তি সঞ্চয় করে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে এগিয়ে যাবে। তার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে বুধবার থেকে। উত্তরবঙ্গেও ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারে। উত্তরের বাকি জেলাগুলিতে ওই দু’দিন বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে।

    দক্ষিণবঙ্গের ছ’টি জেলায় ভারী বৃষ্টি!

    কলকাতায় বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা বৃষ্টি এবং বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। ঝোড়ো হাওয়ার বেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার। একই পূর্বাভাস রয়েছে হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায়। দক্ষিণবঙ্গের ছ’টি জেলায় ভারী বর্ষণের (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) সম্ভাবনা রয়েছে বুধবার থেকে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরে বুধবার, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত টানা ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার। মঙ্গলবার বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং দুই মেদিনীপুরে।

     

  • India Pakistan: কার্গিল যুদ্ধে নিহত পাক সেনাদের দেহ ফিরিয়ে নেয়নি ইসলামাবাদ! রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তীব্র আক্রমণ ভারতের

    India Pakistan: কার্গিল যুদ্ধে নিহত পাক সেনাদের দেহ ফিরিয়ে নেয়নি ইসলামাবাদ! রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তীব্র আক্রমণ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরে নিহত ব্যক্তিদের শেষকৃত্য ও তাঁদের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল পাকিস্তান। রাষ্ট্রসংঘে সেই অভিযোগের কড়া জবাব দিল ভারত। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে নয়াদিল্লি মনে করিয়ে দিল, নিজেদের সেনাদের মৃত্যুর ঘটনাও একসময় স্বীকার করতে চায়নি ইসলামাবাদ। অথচ আজ তারাই ধর্মীয় স্বাধীনতা, বিশ্বাস ও শেষকৃত্যের অধিকার নিয়ে সরব হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রসংঘে বিশেষ পরিস্থিতিতে শেষকৃত্যের অধিকার সংক্রান্ত এক আলোচনায় ভারতের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ভাবিকা মঙ্গলানন্দন।

    শেষকৃত্যের অধিকার খর্ব করার অভিযোগ

    ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের অধিকার সংক্রান্ত রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত নাজিলা ঘানিয়ার একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্টকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। ওই রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়, জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ব্যক্তিদের শেষকৃত্যের অধিকার পদ্ধতিগতভাবে খর্ব করা হয়েছে। পরিবারের হাতে মৃতদেহ তুলে না দেওয়া এবং দূরবর্তী স্থানে গোপনে দেহ সমাধিস্থ করার মতো ঘটনাও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় রীতিনীতির সঙ্গে এই ধরনের ঘটনার অসঙ্গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

    পাকিস্তানকে নিশানা ভারতের

    এর জবাবে পাকিস্তানকে নিশানা করে ভাবিকা মঙ্গলানন্দন বলেন, “যে রাষ্ট্র ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধে নিহত নিজেদের সেনাদের মৃতদেহ পর্যন্ত গ্রহণ করেনি, সেই রাষ্ট্রই আজ ধর্মবিশ্বাস, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমাধিস্থ করার অধিকার নিয়ে জোরালো বক্তব্য রাখছে—এ এক গভীর পরিহাস।” উল্লেখ্য, কার্গিল যুদ্ধের সময় পাকিস্তান তাদের সেনা সদস্যদের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছিল। সেই পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী নিহত পাকিস্তানি সেনাদের দেহ উদ্ধার করে সামরিক মর্যাদায় এবং ইসলামি রীতি মেনে তাঁদের সমাধিস্থ করেছিল বলে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়। জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের লাগাতার মন্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেন ভারতের প্রতিনিধি। তিনি বলেন, ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অতিরিক্ত আগ্রহ না দেখিয়ে তাদের উচিত পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন অঞ্চলের পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া। এ প্রসঙ্গে তিনি রাওয়ালকোটের কথাও উল্লেখ করেন।

    সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়েও পাকিস্তানকে আক্রমণ

    রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মঙ্গলানন্দন। তাঁর অভিযোগ, দেশটিতে সংখ্যালঘুদের জনসংখ্যা ক্রমশ কমছে এবং তাঁদের অধিকার বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “যে রাষ্ট্র নিজের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, ভারতকে উপদেশ দেওয়ার কোনও নৈতিক অধিকার তার নেই।” পাকিস্তানে হিন্দু, খ্রিস্টান ও শিখ-সহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এই মন্তব্য করেন। এদিকে, হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তানের প্রকাশিত সপ্তম বার্ষিক রিপোর্টেও (Sanctuary Denied: Freedom of Religion or Belief in 2025/26) দেশটির সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। রিপোর্টে ধর্মনিন্দা সংক্রান্ত আইনের অপব্যবহার, জোরপূর্বক বিয়ে ও ধর্মান্তর এবং বৈষম্যমূলক আচরণের মতো বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছে।

    সন্ত্রাসবাদীদের শেষকৃত্য নিয়ে প্রশ্ন ভারতের

    রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শেষকৃত্যের অধিকার নিয়েও আপত্তি জানান ভারতের প্রতিনিধি। তাঁর বক্তব্য, রিপোর্টে রাষ্ট্রের তরফে সন্ত্রাসবাদীদের শেষকৃত্যের অধিকার সীমিত করার সুযোগ স্বীকার করা হলেও সেই ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছে। মঙ্গলানন্দনের মতে, এই আইনি সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সার্বভৌম অধিকারের বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদীরা নিরীহ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি একটি গোটা জাতির মানসিকতার উপর গভীর আঘাত হানে। ভারতের প্রতিনিধির অভিযোগ, রিপোর্টে সন্ত্রাসবাদীদের অধিকারের উপর যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, সন্ত্রাসের শিকার হওয়া মানুষদের অধিকারের ক্ষেত্রে ততটা গুরুত্ব দেখা যায়নি। তিনি আরও দাবি করেন, রিপোর্টে ভারতের প্রসঙ্গ টানতে প্রায় পাঁচ বছর আগের ঘটনাগুলির উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলে এবং উন্নত দেশগুলিতে ঘটে যাওয়া গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনাগুলিকে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।

    কোভিড পরিস্থিতি নিয়েও রিপোর্টকে নিশানা

    কোভিড-১৯ মহামারির সময় মৃতদেহের শেষকৃত্য ও ধর্মীয় আচরণ নিয়ে বৈষম্যের প্রসঙ্গেও রিপোর্টের সমালোচনা করেন মঙ্গলানন্দন। তাঁর বক্তব্য, রিপোর্টে এমনভাবে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, যেন এই ধরনের ঘটনা মূলত গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলিতেই ঘটেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, উন্নত দেশগুলিতে একই ধরনের মর্মান্তিক পরিস্থিতির উল্লেখ করা হয়নি কেন। মানুষের যন্ত্রণা ও মৃত্যুকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন ভারতের প্রতিনিধি। রাষ্ট্রসংঘে এই বক্তব্যের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অভিযোগের পাল্টা জবাব দেওয়ার পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের অধিকার, সন্ত্রাসবাদ এবং আন্তর্জাতিক রিপোর্টের নিরপেক্ষতা নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করল নয়াদিল্লি।

  • WhatsApp Telegram: ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে সক্রিয় সিম ছাড়া চলবে না হোয়াটসঅ্যাপ! কী বদল আসছে ব্যবহারকারীদের জন্য?

    WhatsApp Telegram: ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে সক্রিয় সিম ছাড়া চলবে না হোয়াটসঅ্যাপ! কী বদল আসছে ব্যবহারকারীদের জন্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp), টেলিগ্রাম (Telegram)-সহ একাধিক জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য আসতে চলেছে নতুন নিয়ম। কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ দফতর (DoT)-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মোবাইল নম্বরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সক্রিয় সিম কার্ডের সংযোগ বজায় রাখতে হবে নির্দিষ্ট মেসেজিং অ্যাপগুলিকে। সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা এবং ভুয়ো পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের মতো ঘটনা রুখতেই এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছে। এই নির্দেশিকা মেনে চলার সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর করা হয়েছে। ফলে নতুন বছরের শুরু থেকেই নিয়মটি কার্যকর হওয়ার কথা।

    কী এই সিম-বাইন্ডিং নিয়ম?

    এতদিন হোয়াটসঅ্যাপ-এর মতো অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় মোবাইল নম্বর যাচাই করলেই সাধারণত চলত। একবার অ্যাকাউন্ট চালু হয়ে গেলে, সংশ্লিষ্ট সিম কার্ড ফোন থেকে খুলে নিলেও অনেক ক্ষেত্রে অ্যাপ ব্যবহার করা যেত। একইভাবে লিঙ্কড ডিভাইসের মাধ্যমে ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট থেকেও মেসেজিং পরিষেবা ব্যবহার করা সম্ভব হত। নতুন নিয়মে সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে। সিম-বাইন্ডিং ব্যবস্থার অধীনে, অ্যাকাউন্টের পরিচয় হিসেবে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত সক্রিয় সিম কার্ডের উপস্থিতি ও সংযোগ বজায় রাখার শর্ত কার্যকর হবে। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট সিম কার্ড সরিয়ে নেওয়া, নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া কিংবা নির্দিষ্ট ডিভাইসে সিমের সংযোগ না থাকলে অ্যাপ ব্যবহারে সমস্যা হতে পারে। তবে ঠিক কীভাবে এই নিয়ম কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলির বাস্তবায়ন পদ্ধতির উপর নির্ভর করবে। কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ দফতর (DoT)-এর নির্দেশিকার আওতায় রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp), টেলিগ্রাম (Telegram), সিগনাল (Signal), স্ন্যাপচ্যাট (Snapchat), শেয়ারচ্যাট (ShareChat), জিওচ্যাট (JioChat), আরাতাই (Arattai) এবং জোশ (Josh)-সহ মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করে এমন একাধিক পরিষেবা।

    কেন এই পদক্ষেপ কেন্দ্রের?

    সাইবার অপরাধ দমনে কড়া পদক্ষেপ হিসেবেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতারকরা ভারতীয় মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে একবার অ্যাকাউন্ট যাচাই করার পর সংশ্লিষ্ট সিম সরিয়ে ফেলেও দূর থেকে সেই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারে। এর ফলে প্রতারণার উৎস শনাক্ত করা এবং অপরাধীদের নাগাল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষত, পরিচয় জালিয়াতি, ফিশিং, ভুয়ো বিনিয়োগের প্রলোভন এবং ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর নামে প্রতারণার মতো অপরাধ মোকাবিলায় এই ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছে সরকার। কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ দফতর (DoT)-এর বক্তব্য, দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত সাইবার প্রতারণার ক্ষেত্রেও এই ধরনের ব্যবস্থার অপব্যবহার হচ্ছে। তাই মোবাইল নম্বর, সক্রিয় সিম কার্ড এবং মেসেজিং পরিষেবার মধ্যে ধারাবাহিক সংযোগ বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দফতরের ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতে সাইবার প্রতারণার কারণে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২২,৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল।

    হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব ব্যবহারকারীদের কী হবে?

    নতুন নির্দেশিকায় ওয়েব-ভিত্তিক পরিষেবা এবং লিঙ্কড ডিভাইস ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। প্রাথমিক নির্দেশিকায় হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব (WhatsApp Web)-এর মতো পরিষেবার সেশন সর্বোচ্চ ছ’ঘণ্টার মধ্যে লগ-আউট করার কথা বলা হয়েছিল। লগ-আউটের পর কিউআর কোড স্ক্যান করে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের সুযোগ রাখার কথাও ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সরকার জানিয়েছে, ওয়েব সেশনের লগ-আউটের সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে ঝুঁকি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে। ফলে সব ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ছ’ঘণ্টার সময়সীমা বাধ্যতামূলক হবে কি না, তা স্পষ্টভাবে আলাদা করে দেখা জরুরি। অর্থাৎ, অফিসে দীর্ঘক্ষণ হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব (WhatsApp Web) ব্যবহার করেন যাঁরা, তাঁদের ভবিষ্যতে নতুন করে কিউআর কোড স্ক্যান করে লগ-ইন করতে হতে পারে। তবে এর সুনির্দিষ্ট নিয়ম সংশ্লিষ্ট পরিষেবার বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করবে।

    সরকার কী জানিয়েছে?

    রাজ্যসভায় এক লিখিত উত্তরে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী পেম্মাসানি চন্দ্র শেখর জানান, গ্রাহক বা ব্যবহারকারীর পরিচয় নির্ধারণ কিংবা পরিষেবা প্রদানের জন্য ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিম কার্ডকে মেসেজিং অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশিকা মেনে চলার সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর।

    সাধারণ ব্যবহারকারীদের কী করণীয়?

    নতুন নিয়ম কার্যকর হলে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি—

    • ● সিম সক্রিয় রাখুন: যে মোবাইল নম্বর দিয়ে মেসেজিং অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, তার সঙ্গে যুক্ত সিম কার্ড সক্রিয় রাখুন।
    • ● সিম ছাড়া অন্য ডিভাইস ব্যবহারে সতর্ক থাকুন: ওয়াই-ফাই-নির্ভর ট্যাবলেট বা সিমবিহীন দ্বিতীয় ফোনে পরিষেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।
    • ● হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব (WhatsApp Web)-এর জন্য প্রস্তুত থাকুন: প্রয়োজনে পুনরায় কিউআর কোড স্ক্যান করে লগ-ইন করতে হতে পারে।
    • ● নম্বর পরিবর্তনের আগে সতর্ক হন: সিম নিষ্ক্রিয় করা বা মোবাইল নম্বর বদলানোর আগে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের পরিষেবা সংক্রান্ত নির্দেশিকা দেখে নিন।

    বন্ধ হচ্ছে না হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রাম

    নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার অর্থ এই নয় যে ভারতে হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রাম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বরং ভারতীয় মোবাইল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত কার্যকর হতে চলেছে। সাইবার প্রতারণা রুখতে সরকারের এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয় এবং একই সঙ্গে সাধারণ ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন কাজে কতটা প্রভাব ফেলে, তা বোঝা যাবে নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর।

  • PM Modi Attacks Congress: ‘কংগ্রেস ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, দলকে নিয়ন্ত্রণ করছে দিমাগি নকশালরা’, আক্রমণ প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi Attacks Congress: ‘কংগ্রেস ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, দলকে নিয়ন্ত্রণ করছে দিমাগি নকশালরা’, আক্রমণ প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভারতের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Attacks Congress)। তাঁর অভিযোগ, ‘দিমাগি নকশালরা’ কংগ্রেসের চিন্তাভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এর ফলে দলটি কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। বৃহস্পতিবার একটি সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কংগ্রেসের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে সরব হন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, দেশের সাফল্য ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে তুলে ধরার পরিবর্তে কংগ্রেস নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। রাহুল (Modi to Rahul) গান্ধীকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রশ্ন, আর কতদিন নিজেদের ‘ব্যর্থ প্রোডাক্ট’ লঞ্চ করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে হাত শিবির? একই সঙ্গে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশিদের হস্তক্ষেপে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

    ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের নেতৃত্বে প্রতিবাদের আবহেই প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মোদি বলেন, “যখন গোটা বিশ্ব নতুন বিশ্বব্যবস্থার সন্ধান করছে, তখন কিছু মানুষ ভারতে বিশৃঙ্খলার স্বপ্ন দেখছেন।” কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিদেশের মাটিতে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রত্যাশা করার অভিযোগও তোলেন তিনি। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, নিজেদের ‘ব্যর্থ পণ্য’কে সামনে আনতে কংগ্রেস আর কত দিন দেশের স্বার্থকে বাজি রাখবে?

    ‘বিক্ষোভের আওয়াজে চাপা পড়ছে অন্য বিরোধীদের বক্তব্য’

    প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যুক্তিসংগত বক্তব্য তুলে ধরতে চাওয়া বিরোধী নেতাদের কণ্ঠস্বর কংগ্রেসের হট্টগোলে চাপা পড়ছে। তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে যাঁরা বৈধ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিজেদের বক্তব্য জানাতে চান, কংগ্রেসের বিক্ষোভ ও হইচইয়ের কারণে তাঁদের বক্তব্য মানুষের কাছে পৌঁছতে পারছে না। কংগ্রেসের আদর্শগত অবস্থান নিয়ে আক্রমণ আরও তীব্র করে মোদি দাবি করেন, একসময় যারা জঙ্গলে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালাত, তারাই এখন কংগ্রেসের চিন্তাভাবনার মধ্যে ঢুকে পড়েছে এবং দেশের ক্ষতি করার পথে এগোচ্ছে। এই প্রসঙ্গেই তিনি ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন।

    ‘পরিবারতন্ত্রই কংগ্রেসের বোঝা’

    কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পরিবারতন্ত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দেশের উন্নয়ন, সাফল্য এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্জনকে রাজনৈতিক সংঘাতের বিষয় করে তোলা হচ্ছে। নেতৃত্বের বারবার ব্যর্থতা থেকে নজর ঘোরাতেই এই কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মোদির দাবি, কংগ্রেসের অন্দরেও দলের সমস্যাগুলি সম্পর্কে প্রবীণ নেতারা অবগত। কিন্তু অসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও তাঁরা প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। তিনি বলেন, “এই পরিবার কংগ্রেস দলের কাছে বোঝা হয়ে উঠেছে। দলের প্রবীণ নেতারাও বিষয়টি উপলব্ধি করছেন।” প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, কংগ্রেসের এই রাজনৈতিক আচরণ সরকারের সমালোচনা করতে চাওয়া অন্য নেতাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং গণতান্ত্রিক পরিসরকে দুর্বল করছে।

    ‘ব্যর্থ প্রোডাক্ট লঞ্চ করতে আর কত চেষ্টা করবে কংগ্রেস?’

    রাহুল গান্ধীর নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও তাঁকে লক্ষ্য করেই কংগ্রেসের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার বারবার চেষ্টা নিয়ে কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। মহাকাশ গবেষণায় একের পর এক উৎক্ষেপণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শ্রীহরিকোটায় এক বছরে যত উৎক্ষেপণ হয়, তার চেয়েও বেশি বার কংগ্রেস তাদের নেতাকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “কংগ্রেস তাদের ব্যর্থ প্রোডাক্ট লঞ্চ করার জন্য দেশের স্বার্থকে আর কতদিন বাজি রাখবে, তা আমি জানি না। শ্রীহরিকোটায় এক বছরে যত লঞ্চ হয়, কংগ্রেস তার নেতাকে লঞ্চ করার ব্যর্থ চেষ্টা তার চেয়েও বেশি বার করে।” এখানেই থামেননি মোদি। তাঁর অভিযোগ, একটি পরিবারকে ব্যর্থতার দাগ থেকে বাঁচাতে গিয়ে কংগ্রেস দেশের সাফল্য, গৌরব ও উন্নয়নকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। আঙুর টক হওয়ার উপমা টেনে তিনি বলেন, কংগ্রেস এখন নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতার জেরে গোটা ব্যবস্থাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইছে।

    কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ বলেও কটাক্ষ

    এদিন কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ বলেও আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, অন্য রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় কংগ্রেস। ক্ষমতা হারানোর পর দলটির রাজনৈতিক অবস্থানেও ক্ষোভ ও বিরূপ মনোভাবের প্রতিফলন দেখা যায় বলে দাবি করেন তিনি। মোদির বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু সেই মতপার্থক্যের কারণে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি কিংবা উন্নয়নের সাফল্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলা উচিত নয়। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন এই মন্তব্য ঘিরে কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়ার দিকে। রাহুল গান্ধীকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণ জাতীয় রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাতকে আরও তীব্র করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সংসদ অচল করার অভিযোগ

    সংসদে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মোদি। তাঁর অভিযোগ, সংসদের কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে কংগ্রেস বিরোধী শিবিরের তরুণ সাংসদদের নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে। একই সঙ্গে বিরোধী শিবিরের অন্য নেতাদের গুরুত্ব কমিয়ে একজন নেতাকেই বারবার সামনে রাখা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রশাসনিক দুর্বলতা তুলে ধরা কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের দাবি জানিয়ে আয়োজিত প্রতিবাদগুলিকে কংগ্রেস রাজনৈতিক সংঘাতে পরিণত করছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। সবশেষে কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ বলে কটাক্ষ করেন মোদি। তাঁর বক্তব্য, দলের এই রাজনৈতিক কৌশল অন্য বিরোধী নেতাদের নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার পথে বাধা সৃষ্টি করছে। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • India on Saudi Attack: সৌদিতে বিমানবন্দর ও তেলকূপে হামলায় মৃত এক ভারতীয়, নিন্দা নয়াদিল্লির

    India on Saudi Attack: সৌদিতে বিমানবন্দর ও তেলকূপে হামলায় মৃত এক ভারতীয়, নিন্দা নয়াদিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো, বিমানবন্দর ও তেলকূপে ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানাল ভারত। এই হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক-সহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আটজন, যাঁদের মধ্যে দু’জন ভারতীয়। বুধবার রাতে সৌদি আরবের দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তি আহত হন। তাঁদের মধ্যে ভারতীয়, পাকিস্তানি, বাংলাদেশিও রয়েছেন। ২১ অক্টোবর সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সৌদি আরামকোর শায়বাহ তেলকূপেও হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। এই হামলার ঘটনায় নিন্দা করেছে ভারত।

    সৌদির ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা

    বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর এই ধরনের হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। অবিলম্বে এই হামলা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশটির সরকার ও জনগণের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছে নয়াদিল্লি। হামলায় নিহত ভারতীয় নাগরিকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়েছে। রিয়াধে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা করছে বলেও জানানো হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই হামলার নিন্দা করে বিবৃতি দিয়েছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, ‘‘আমরা আবারও জোর দিয়ে বলছি, সাধারণ নাগরিক এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর উপর এ ধরনের হামলা কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে এমন হামলা বন্ধ হওয়া উচিত। সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে আমরা সে দেশের জনগণ এবং সরকারের পাশে আছি। আশা করি, দ্রুত ওই অঞ্চলে শান্তি এবং স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে।’’

    হামলার নেপথ্যে কারা 

    রিয়াধে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তারা হামলার ঘটনা সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে। শুধু তা-ই নয়, নিহত এবং আহত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তবে কে বা কারা এই হামলার নেপথ্যে রয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও অতীতে সৌদির বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার দায় স্বীকার করেছিল ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। সৌদি আরবের অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, হামলার ফলে কিং ফাহদ বিমানবন্দরে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা মূল্যায়ন করে দেখা হচ্ছে। বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ ছিল। তবে কিছুক্ষণ পরে আবার পরিষেবা স্বাভাবিক হয় বিমানবন্দরের।

    সৌদি-আরবে অশান্তি চেষ্টা

    চলতি মাসে প্রায় প্রতি দিনই সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে হুথি। দিন কয়েক আগেই রিয়াধ থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে দামাম বিমানবন্দরে হামলা চালায় ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী। গত কয়েক দিন ধরেই সৌদির রাজধানী রিয়াদে কিং খলিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে নিশানা করে যাচ্ছে হুথি গোষ্ঠী। গত ১০ অক্টোবর বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তারা। তাতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়। জখম হন তিন শতাধিক। জখমদের মধ্যে রয়েছে ১১ জন ভারতীয়ও। হামলার নিন্দা জানিয়েছিল ভারতও। সৌদির দামাম বিমানবন্দর এবং জ্বালানি সংস্থা আরামকোর বেশ কয়েকটি শোধনাগারেও হামলা চালায় হুথি।

    নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা মোদির

    পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে ইতিমধ্যেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই নেতা ভারত-ইজরায়েল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং দুই দেশের বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের বিবৃতি অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়। অবিলম্বে ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার উপর তাঁরা জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি পুনরায় স্পষ্ট করে দেন, আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিক পথেই এই সংকটের সমাধান খুঁজে বের করা উচিত।

    আটকে পড়া ওমরাহ যাত্রীদের ফেরাতে উদ্যোগ

    পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির অবনতির জেরে বিমান পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরবে আটকে পড়া ভারতীয় ওমরাহ যাত্রীদের দেশে ফেরাতে তৎপর হয়েছে কেন্দ্র। রিয়াধ ও জেদ্দায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস বিমান সংস্থা এবং ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে প্রায় ৩,০০০ আটকে পড়া ওমরাহ যাত্রী উপলব্ধ বিমান পরিষেবার মাধ্যমে সৌদি আরব থেকে ভারতে ফিরেছেন। পাশাপাশি, আগে থেকেই উপলব্ধ বিমানের টিকিট বুক করা আরও ১০,০০০-এর বেশি ওমরাহ যাত্রীও ওই সময়ের মধ্যে দেশে ফিরেছেন। বাকি যাত্রীদের দ্রুত দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তার জন্য ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে এবং নিয়মিত সতর্কবার্তা ও পরামর্শ জারি করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক।

     কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফেরানোর বার্তা

    সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় বহু ভারতীয় তীর্থযাত্রী আটকে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তাঁদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি। আটকে পড়া যাত্রীদের ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত বিমানের ব্যবস্থা করারও আহ্বান জানিয়েছেন ওয়েইসি। পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে একদিকে সৌদি আরবে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে আটকে পড়া তীর্থযাত্রীদের দেশে ফেরানো—এই দুই বিষয়েই তৎপরতা বাড়িয়েছে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর বার্তাও দিয়েছে ভারত সরকার।

  • ABVP: ‘অরাজকতা রুখুন, গণতন্ত্রকে গ্রহণ করুন’—লখনউয়ে এবিভিপির বিশাল ছাত্র সমাবেশ

    ABVP: ‘অরাজকতা রুখুন, গণতন্ত্রকে গ্রহণ করুন’—লখনউয়ে এবিভিপির বিশাল ছাত্র সমাবেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অরাজকতা রুখুন, গণতন্ত্রকে গ্রহণ করুন’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ে বিশাল ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। রবিবার, ১৮ অক্টোবর, লখনউ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাজরতগঞ্জের গান্ধী চৌক পর্যন্ত এই মিছিলে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ও সংগঠনের সদস্য অংশ নেন। গণতন্ত্র এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা রক্ষার বার্তাই ছিল এই কর্মসূচির মূল বক্তব্য। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এবিভিপির সর্বভারতীয় সম্পাদক অভয় প্রতাপ সিং, কাশী প্রান্তের সম্পাদক শিবম সিং, গোরক্ষ প্রান্তের সম্পাদক মঙ্গল গুপ্ত, অবধ প্রান্তের সম্পাদক অর্পণ কুশওয়াহা এবং কানপুর প্রান্তের সম্পাদক দীনেশ যাদব।

    গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তনের অধিকার

    সমাবেশ থেকে এবিভিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তনের অধিকার একমাত্র জনগণের হাতে। ভোটের মাধ্যমেই সরকার গঠন বা পরিবর্তন সম্ভব; রাস্তায় শক্তি প্রদর্শন, জনতার চাপ কিংবা অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিপন্থী। বাংলাদেশ ও নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের অনুকরণে ভারতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির প্রচেষ্টাও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন সংগঠনের নেতারা।

    নির্বাচন কমিশন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা নিয়ে বক্তব্য

    নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে উপযুক্ত প্রমাণ-সহ সাংবিধানিক ও আইনি পদ্ধতিতে তার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে জানায় এবিভিপি। সংগঠনের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন বা সুপ্রিম কোর্টের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থে প্রশ্ন তোলা কিংবা প্রতিষ্ঠানগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রসঙ্গেও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে সংগঠনটি। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা প্রমাণ-সহ যথাযথ সাংবিধানিক মঞ্চে পেশ করা উচিত। কেরল, পাঞ্জাব ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থানের পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন তোলে এবিভিপি। সংগঠনের আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যার ফলে ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়।

    ‘জনগণের ভোটেই নির্ধারিত হবে সরকারের ভবিষ্যৎ’

    এবিভিপির সর্বভারতীয় সম্পাদক অভয় প্রতাপ সিং বলেন, ভারতের গণতন্ত্রের ভিত্তি হল জনগণের আস্থা, ভোটাধিকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা। রাজনৈতিক মতবিরোধ গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হলেও, জনতার চাপ বা অরাজকতার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ থাকলে প্রমাণ পেশ করে আইনি ও সাংবিধানিক পথ অনুসরণ করতে হবে। বাংলাদেশ ও নেপালের ঘটনাপ্রবাহের অনুকরণে ভারতে সরকার পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি করা সম্ভব বলে যাঁরা মনে করেন, তাঁদের বুঝতে হবে যে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র ভারতীয় জনগণের। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরাখণ্ড, কেরল ও ওড়িশায় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এবিভিপির সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, লখনউয়ের সমাবেশে ছাত্রছাত্রীদের ব্যাপক উপস্থিতি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদার প্রতি তাঁদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

    ‘জাতি গঠনে যুবসমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ’

    এবিভিপির অবধ প্রান্তের সম্পাদক অর্পণ কুশওয়াহা বলেন, ভারতের যুবসমাজের শক্তির উৎস দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সভ্যতাগত চেতনা এবং জাতির প্রতি কর্তব্যবোধ। বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ভারতের বাস্তবতার সঙ্গে এক করে দেখা দেশের স্বতন্ত্র সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যকে উপেক্ষা করার শামিল। তাঁর বক্তব্য, ভারতের যুবসমাজ নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে গর্বিত এবং দেশের সমস্যার সমাধানে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিশ্বাসী। যুবসমাজের ভূমিকা শুধু পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নিজেদের চিন্তাভাবনা, আচরণ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ গঠনেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। লখনউয়ের এই ছাত্র সমাবেশের মাধ্যমে যুবসমাজ জাতীয় স্বার্থ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছে বলে দাবি করে এবিভিপি। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা রক্ষায় দেশের ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

  • India China: চিনা গোয়েন্দাদের ‘অ্যাকাডেমিক’ পরিচয়ের ফাঁদ! সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগ

    India China: চিনা গোয়েন্দাদের ‘অ্যাকাডেমিক’ পরিচয়ের ফাঁদ! সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনা গোয়েন্দাদের কৌশলী ফাঁদে পড়ে দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগ উঠল এক উচ্চপদস্থ সেনা (India China) আধিকারিকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের দাবি, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের শিক্ষাবিদ বা অ্যাকাডেমিশিয়ান পরিচয় দিয়ে ওই মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাঁদের প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্ত মহিলা তেলঙ্গানার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে জম্মুর গান্ধীনগর থানা এলাকার অধীনে বসবাস করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে গান্ধীনগর থানায় ২৯০/২০২৬ নম্বর এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে ভারতীয় সরকারি গোপনীয়তা আইন, ১৯২৩-এর ৩ ও ৫ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৫২ ও ৬১(২) নম্বর ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।

    পরিবেশ ও ভূ-রাজনীতি থেকে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়

    প্রাথমিক তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা প্রথমে পরিবেশ ও ভূ-রাজনীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ এবং নিবন্ধ লেখার জন্য ওই মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ধীরে ধীরে তাঁকে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়েও লেখালেখি করতে উৎসাহিত করা হয় বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের অনুমান, শিক্ষাবিদ পরিচয়ের আড়ালে ওই ব্যক্তিরা কৌশলে মহিলার কাছ থেকে কৌশলগত ও সামরিক কার্যকলাপ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে থাকতে পারেন। গোয়েন্দা মহলে এই ধরনের কৌশলকে ‘ইন্টেলেকচুয়াল ট্র্যাপ’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক ফাঁদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এনক্রিপ্টেড মাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদানের সন্দেহ

    সূত্রের দাবি, একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই মহিলার গতিবিধি ও যোগাযোগের উপর নজরদারি শুরু হয়। অভিযোগ, দেশের নিরাপত্তার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ নথি, ছবি এবং ইলেকট্রনিক তথ্য সংগ্রহ, নিজের কাছে রাখা ও অন্যের কাছে পাঠানোর সঙ্গে তিনি যুক্ত থাকতে পারেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছে ওই তথ্য পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। চিন-সহ একাধিক বিদেশি দেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উঠে এসেছে বলে তদন্ত সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

    এখনও স্পষ্ট নয় তথ্য পাচারের পরিমাণ

    তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ঠিক কী ধরনের নথি বা তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল, সন্দেহভাজন বিদেশি যোগাযোগগুলির পরিচয় কী এবং বাস্তবে কতটা তথ্য আদানপ্রদান হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনও বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি। অভিযুক্তের কাছ থেকে কোনও নথি বা ইলেকট্রনিক সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে কি না, কিংবা তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে কি না, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। কীভাবে ওই মহিলার সঙ্গে বিদেশি যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল, সেই যোগাযোগের প্রকৃতি কী ছিল এবং দেশের নিরাপত্তার উপর এর কোনও প্রভাব পড়েছে কি না—এখন সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

LinkedIn
Share