Author: ishika-banerjee

  • Hydrogen Train: পরিবেশবান্ধব যাতায়াতে নয়া বিপ্লব! দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী মোদির, কী এর বিশেষত্ব?

    Hydrogen Train: পরিবেশবান্ধব যাতায়াতে নয়া বিপ্লব! দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী মোদির, কী এর বিশেষত্ব?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিহাস তৈরি করল ভারতীয় রেল। বৃহস্পতিবার দেশের প্রথম হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেনের (Hydrogen Train) উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রাথমিকভাবে হরিয়ানায় ৮৯ কিলোমিটার দূরত্বের জিন্দ-সোনিপত রুটে চলবে দূষণমুক্ত আধুনিক ইকো-ফ্রেন্ডলি প্রযুক্তির এই ট্রেন। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী হরিয়ানার জিন্দ রেলস্টেশন থেকে সবুজ পতাকা নেড়ে ওই পরিবেশবান্ধব ট্রেন যাত্রার সূচনা করেন। এর ফলে, হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন পরিচালনাকারী দেশগুলির তালিকায় নাম জুড়ে গেল ভারতের। এদিন জিন্দের একলব্য স্টেডিয়ামে প্রায় ১৪,৭০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং উদ্বোধনও করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

    যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও উন্নয়ন যাত্রা অব্যাহত

    ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন যাত্রার সূচনা করে এনডিএ সরকারের জমানায় নানা উন্নয়ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। পাশাপাশি সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে সঙ্কটের প্রসঙ্গ তুলে এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেলের সঙ্কট হলেও আমাদের কোনও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হয়নি। ২০১৪-র আগে হরমুজ সঙ্কট হলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যেত!’’ পূর্বতন ইউপিএ সরকারের জমানায় জ্বালানি মজুত ও সরবরাহের বিষয়টি উপেক্ষিত ছিল— এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেন মোদি।

    হাইড্রোজেন ট্রেনকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র উদাহরণ

    হাইড্রোজেন ট্রেনকে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র আদর্শ উদাহরণ বলেও চিহ্নিত করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে মোদির দাবি, তাঁর ১২ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বে দেশের ৯৯ শতাংশ রেলপথেরই বৈদ্যুতিকরণ হয়েছে। হাইড্রোজেন ট্রেনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার জিন্দের একলব্য স্টেডিয়াম থেকে কুরুক্ষেত্র অঞ্চলে নির্মিত এলিভেটেড রেলওয়ে ট্র্যাক জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। সেই সঙ্গে ১২,৪৭০ কোটি টাকার জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। ভিওয়ানির ‘পণ্ডিত নেকি রাম শর্মা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ’ এবং মহেন্দ্রগড়ের কোরিওয়াসে ‘মহর্ষি চ্যবন মেডিক্যাল কলেজ’ এবং ‘রাও তুলারাম হাসপাতাল’ হরিয়ানাবাসীর উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। ঘটনাচক্রে, আর মাস সাতেক পরেই হরিয়ানার পড়শি রাজ্য পঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে মোদি শুক্রবার আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে শিখ ধর্মের ইতিহাস ও গুরুদের অবদান তুলে ধরার উদ্দেশ্যে নেটমাধ্যমে কুরুক্ষেত্রের ‘শিখ মিউজিয়াম’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।

    কী বিশেষত্ব হাইড্রোজেন ট্রেনের?

    গত ২২ মে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন–চালিত ট্রেনে যাত্রী পরিবহণের অনুমোদন দিয়েছিল ভারতীয় রেল বোর্ড। জানানো হয়েছিল, এটি বিশ্বের দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেন–চালিত ব্রডগেজ ট্রেন হতে চলেছে। হয়েছিল ট্রায়াল রানও। এ বার যাত্রী নিয়ে ট্র্যাকে ছুটবে রেল। হাইড্রোজেনকে বিশ্বের অন্যতম ‘পরিচ্ছন্ন জ্বালানি’ হিসেবে ধরা হয়। তাই ইকো-ফ্রেন্ডলি পরিবহণের দুনিয়ায় নতুন দিশা খুলে যেতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। হাইড্রোজেন থেকে তৈরি হয় বিদ্যুৎ। তা দিয়েই ছুটবে এই ট্রেন। এই প্রক্রিয়ায় কোনও ধোঁয়া বা ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয় না। বেরয় শুধু জলীয় বাষ্প। কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য বললেই চলে। এই কারণেই বিশ্বের উন্নত দেশগুলিতে ফসিল ফুয়েলের জায়গায় ধীরে ধীরে জায়গা নিচ্ছে হাইড্রোজেন জ্বালানি। জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও চিনের মতো দেশে ট্রেন-বাস চলছে হাইড্রোজেনে। এ বার এই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে ভারতের নাম। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হয়েছে এই হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন। রেল বোর্ডের তরফে এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘Hydrogen for Heritage’।

    হাইড্রোজেন ট্রেনে নীল রঙের নকশা

    ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের নীল রঙটি শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। বিশ্বের প্রথম হাইড্রোজেন যাত্রীবাহী ট্রেনটি (যা ২০১৮ সাল থেকে জার্মানিতে চলছে) উজ্জ্বল নীল রঙের। কানাডা, জাপান এবং চীনে চলাচলকারী হাইড্রোজেন ট্রেনগুলোও নীল রঙের। আসলে, হাইড্রোজেন ট্রেন জলের (H₂O) সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। সাধারণ ট্রেন ডিজেল বা বিদ্যুতে চলে, কিন্তু হাইড্রোজেন ট্রেন সম্পূর্ণ ভিন্ন উপায়ে কাজ করে। এর জন্য ট্রেনের বিশেষ ট্যাঙ্কে হাইড্রোজেন গ্যাস ভরা হয়। ফুয়েল সেলে হাইড্রোজেন + অক্সিজেন বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে এবং শুধুমাত্র জলীয় বাষ্প নির্গত হয়। এতে কোনও ধোঁয়া বা দূষণ হয় না, এবং একে সবুজ বা পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি বলা হয়। হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলে যখন হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন মিলিত হয়, তখন শুধু জল (H₂O) উৎপন্ন হয়। নীল রঙকে জল, আকাশ এবং পরিচ্ছন্নতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাপানের হাইবারি ট্রেনটিও নীল রঙের এবং এতে জলের নকশা রয়েছে। জার্মানির হাইড্রোজেন ট্রেন, কোরাডিয়া আইলিন্ট, সেটিও উজ্জ্বল নীল রঙের। ফলস্বরূপ, ভারতের হাইড্রোজেন ট্রেনটিও নীল রঙের হবে।

    কোন কোন রুটে চলবে?

    হরিয়ানার জিন্দ (Jind) থেকে সোনিপত (Sonipat) পর্যন্ত ৮৯ কিলোমিটার রুটে চলবে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন। পথে পান্ডু পিন্দারা জংশন, ললিত খেরা হল্ট, ভামভেওয়া, ইসাপুর খেরি হল্ট, বুটানা হল্ট, খান্দরাই হল্ট, রাবরাহ হল্ট, লাথ হল্ট, মোহানা এবং বারওয়াসনি হল্ট-সহ একাধিক স্টেশনে থামবে। ভারতীয় রেলওয়ে জানিয়েছে, এই রুটে সফল যাত্রার পরে কালকা-শিমলা রুটেও চালু হতে পারে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন।

    কত হবে ট্রেনের গতি?

    ভারতীয় রেল জানিয়েছে, ২৪০০ কিলোওয়াটের ইঞ্জিন নিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৫ কিমি বেগে ছুটতে পারবে এই ট্রেন। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। জিন্দে হাইড্রোজেল রিফুয়েলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি ভরা হবে। তবে শুধু গতি নয়, ট্রেনের ডিজ়াইন ও পরিষেবাতেও রয়েছে চমক। থাকছে দু’টি হাইড্রোজেন ড্রাইভিং পাওয়ার কার এবং আটটি যাত্রিবাহী কোচ। ২,৬০০ জন যাত্রী নিয়ে মোট ১০টি কোচ ছুটবে। প্রতিটি পাওয়ার কারে থাকছে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল, লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারি এবং হাইড্রোজেন সংরক্ষণের বিশেষ সিলিন্ডার। পাওয়ার কারগুলি ১,২০০ কিলোওয়াট (প্রায় ১,৬০০ হর্সপাওয়ার) শক্তি উৎপাদনে সক্ষম।

  • Parliament Monsoon Session: সংসদের বাদল অধিবেশনে আসছে ৫টি নতুন বিল, কর ও বিচার ব্যবস্থায় বড় সংস্কারের উদ্যোগ

    Parliament Monsoon Session: সংসদের বাদল অধিবেশনে আসছে ৫টি নতুন বিল, কর ও বিচার ব্যবস্থায় বড় সংস্কারের উদ্যোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংসদ অধিবেশন নিয়ে টানটান উত্তেজনা। আসন্ন বাদল অধিবেশনে (Parliament Monsoon Session) গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস নিয়ে চরম তৎপরতা শুরু শাসক শিবিরে। অন্যদিকে, বিল নিয়ে অবস্থানের ইস্যুতে আরও ভাঙ্গনের মুখে ইন্ডিয়া জোট (INDIA Alliance)। আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু সংসদের বাদল অধিবেশন। লোকসভার সচিবালয়ের জারি করা বুলেটিনে জানানো হয়েছে, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ, আলোচনা ও পাশ করানোর প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। শিক্ষা, কর ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, এমএসএমই (MSME) খাত, জাতীয় প্রশাসন ও বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে মোট সাতটি বিল সংসদে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি বিল বিবেচনা ও পাসের জন্য, এবং পাঁচটি নতুন বিল উত্থাপনের জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, এটি প্রাথমিক আইন প্রণয়ন সূচি। অধিবেশন চলাকালীন প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বিল আনা হতে পারে।

    বাদল অধিবেশনে সংসদে কোন সাতটি বিল

    বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল ২০২৬ (FCRA): মূলত বেসরকারি এনজিও-গুলির সম্পদ এবং তাদের সাহায্যের নামে আসা বিদেশি অনুদানের উপরে নজরদারি আরও কড়া করতেই এই বিলের উদ্দেশ্য৷ গত মার্চ মাসেও বিলটি লোকসভায় পেশ করা হয়৷ প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, কোনও সংস্থার এফসিআরএ নিবন্ধন বাতিল, স্বেচ্ছায় সমর্পণ বা নবীকরণ না হলে, তাদের বিদেশি অনুদান ও সংশ্লিষ্ট সম্পদ সরকার-নির্ধারিত একটি ‘অথরিটির অধীনে ন্যস্ত হবে।

    বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল ২০২৫: এই বিলটি আগেই যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল৷ তাদের রিপোর্ট জমা পড়লেই এই বিলটি সংসদে পেশ হতে পারে৷  এই বিলের মাধ্যমে দেশের উচ্চশিক্ষা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউজিসি, এআইসিটিই এবং এনসিটিু-এর পরিবর্তে একটি একক নিয়ন্ত্রক কাঠামো গঠন করা হবে। জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) ২০২০-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সংস্কারের লক্ষ্য হলো নিয়মকানুন সহজ করা, অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাসনব্যবস্থা আরও কার্যকর করা। যৌথ সংসদীয় কমিটির (JPC) রিপোর্ট জমা পড়ার পর বিলটি আলোচনায় আসতে পারে।

    সংসদে আসছে ৫টি নতুন বিল

    • ১. ইনকাম ট্যাক্স (সংশোধনী) বিল ২০২৬

    এই বিলের লক্ষ্য ভারতের সার্বভৌম ঋণ বাজারকে আরও শক্তিশালী করা, বাজারে তারল্য বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যও রয়েছে।

    • ২. সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতিদের সংখ্যা সংক্রান্ত) সংশোধনী বিল ২০২৬

    সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব আনা হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সংখ্যা ৩৩ থেকে ৩৭-এ নিয়ে যাওয়ার জন্য এই বিল আনা হচ্ছে ৷ এর মাধ্যমে বিচারাধীন মামলার চাপ কমানো এবং সর্বোচ্চ আদালতের বিচারিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই সরকারের লক্ষ্য।

    • ৩. জন্ম মৃত্যু নিবন্ধীকরণ (সংশোধনী) বিল ২০২৬

    জন্ম মৃত্যু নিবন্ধীকরণের প্রক্রিয়ায় জোর দিতে আরও কড়া আইন আনতে চায় কেন্দ্র৷ যাতে জন্ম মৃত্যু নিবন্ধীকরণ প্রক্রিয়ায় দেরি না হয় এবং হলেও কড়া জরিমানা গুনতে হয়৷ এই লক্ষ্যেই জন্ম মৃত্যু নিবন্ধীকরণ (সংশোধনী) বিল ২০২৬ পেশ করা হবে৷ জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আরও নির্ভুল ও কার্যকর করতে এই সংশোধনী বিল আনা হচ্ছে।

    • ৪. জাতীয় সম্মানের অবমাননা (সংশোধনী) বিল ২০২৬

    ১৯৭১ সালের আইন সংশোধন করে সংবিধান, জাতীয় পতাকা, জাতীয় প্রতীক বা জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননার ক্ষেত্রে আরও কঠোর শাস্তির বিধান আনতে চায় কেন্দ্র। পাশাপাশি আইন প্রয়োগের ব্যবস্থাও আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    • ৫. এমএসএমই ডেভেলপমেন্ট (সংশোধনী) বিল, ২০২৬

    ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি ব্যবসাকে আরও উৎসাহ দিতে রাজ্য সরকারগুলির হাতে আরও ক্ষমতা দেওয়ার লক্ষ্য পেশ করা হবে এই বিল৷ ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME)-গুলিকে সময়মতো অর্থপ্রদান নিশ্চিত করতে নতুন ব্যবস্থা আনা হবে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারগুলিকে এমএসএমই কাউন্সিল গঠনে আরও নমনীয়তা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে, যাতে ব্যবসায়িক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়।

    আর্থিক বিষয়েও আলোচনা

    আইন প্রণয়নের পাশাপাশি সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের অতিরিক্ত ব্যয়ের (Demands for Excess Grants) অনুমোদন সংক্রান্ত আর্থিক বিষয়ও উত্থাপিত হবে।

    শৃঙ্খলাতেও থাকবে কড়া নজর

    অধিবেশন শুরুর আগেই সাংসদদের জন্য কড়া আচরণবিধিও জারি করেছে লোকসভার সচিবালয়। প্ল্যাকার্ড, বিক্ষোভ, সংসদ চত্বরে ধরনা, আগ্নেয়াস্ত্র বহন, ধর্মীয় আচার পালন, এমনকি এআই-নির্মিত ছবি বা অবমাননাকর পোস্টার ও স্লোগান ব্যবহার থেকেও সদস্যদের বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংসদের গেটের সামনে কোনও ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারের বার্তা স্পষ্ট— অধিবেশনে আইন পাশের পাশাপাশি শৃঙ্খলাতেও থাকবে কড়া নজর।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

    আজ, ১৭ জুলাই এনডিএ-র গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠকে বসতে চলেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। সূত্রের খবর, নিট (NEET), ইথানল, রাম মন্দির-সহ একাধিক ইস্যুতে বিরোধী আক্রমণের মুখে এনডিএ শরিক দলের সাংসদের প্রতিরোধের এক সুর নিশ্চিত করতেই বৈঠক। একই সঙ্গে আলোচনা হবে একাধিক বিলের স্ট্র্যাটেজি নিয়েও। সংসদে অস্তিত্বের সংকটে রয়েছে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস। ইন্ডিয়া জোট ছেড়েছে ডিএমকে, আম আদমি পার্টি। এবার বর্ষীয়ান শরদ পাওয়ার হাত ছাড়লে বিরোধী বৃত্তে আরও একা হবে কংগ্রেস।

  • Vikram-1 Launch: ইতিহাস গড়ার পথে স্কাইরুট! ১৮ জুলাই মহাকাশে উড়বে ভারতের প্রথম বেসরকারি অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’

    Vikram-1 Launch: ইতিহাস গড়ার পথে স্কাইরুট! ১৮ জুলাই মহাকাশে উড়বে ভারতের প্রথম বেসরকারি অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত হতে চলেছে। দেশের প্রথম বেসরকারি সংস্থার তৈরি অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’ (Vikram-1) উৎক্ষেপণ হবে ১৮ জুলাই, শনিবার, সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে। হায়দরাবাদ-ভিত্তিক মহাকাশ প্রযুক্তি সংস্থা স্কাইরুট অ্যারোস্পেস (Skyroot Aerospace) তাদের প্রথম অরবিটাল মিশন ‘আগমন’ (Mission Aagaman)-এর উৎক্ষেপণের দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের (SDSC-SHAR) প্রথম লঞ্চ প্যাড থেকে এই উৎক্ষেপণ হবে। ইতিমধ্যেই ইন স্পেস (IN-SPACe)-এর অনুমোদন মিলেছে।

    আত্মনির্ভর ভারতের প্রমাণ

    ২০১৮ সালে প্রাক্তন ইসরো বিজ্ঞানী পবন কুমার চন্দনা ও নাগা ভারত দাকা স্কাইরুট অ্যারোস্পেস প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২২ সালে সংস্থাটি বিক্রম-এস (Vikram-S) সাবঅরবিটাল রকেটের সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দেয়। এবার বিক্রম-১-এর সফল উৎক্ষেপণ ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতিমধ্যেই রকেটটি হায়দরাবাদ থেকে বিভিন্ন অংশে শ্রীহরিকোটায় এনে জোড়া লাগিয়ে উৎক্ষেপণ মঞ্চে স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রথম কোনও ভারতীয় বেসরকারি সংস্থার নকশা, উন্নয়ন ও উৎপাদিত অরবিটাল রকেট শ্রীহরিকোটার লঞ্চ প্যাডে স্থাপিত হল।

    কী এই ‘বিক্রম-১’?

    হায়দরাবাদ-ভিত্তিক স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের (Skyroot Aerospace) তৈরি চার-ধাপের রকেট ‘বিক্রম–১’-এর (Vikram-I) নাম দেওয়া হয়েছে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জনক বিক্রম সারাভাই-এর (Vikram Sarabhai) নামে। প্রায় ২০ মিটার লম্বা ও ১.৭ মিটার ব্যাসের এই রকেটটি মূলত ছোট স্যাটেলাইট দ্রুত ও কম খরচে বিভিন্ন কক্ষপথে পাঠানোর লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছে। রকেটের ২০ থেকে ২৪ মিটার উচ্চতার কার্বন-কম্পোজিট কাঠামো একদিকে ওজন হালকা করেছে, অন্যদিকে বাড়িয়েছে শক্তি ও স্থায়িত্ব। সংস্থার দাবি, পুরো রকেটটি মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমবেত করে যে কোনও লঞ্চসাইট (Launchsite) থেকে উৎক্ষেপণ সম্ভব। প্রথম তিনটি ধাপে কঠিন জ্বালানির মোটর এবং চূড়ান্ত ধাপে হাইপারগলিক তরল জ্বালানির ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা কক্ষপথে অত্যন্ত সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ দেয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, রকেটটিতে ব্যবহৃত ৩ডি-প্রিন্টেড ইঞ্জিনগুলি আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ হালকা এবং উৎপাদন-সময়ে ৮০ শতাংশ সাশ্রয় করে।

    ক্ষমতা কত?

    বিক্রম–১ (Vikram-I) সর্বোচ্চ ৩৫০ কিলোগ্রাম পে-লোড নিম্ন কক্ষপথে (Low Earth Orbit) এবং ২৬০ কিলোগ্রাম সান-সিঙ্ক্রোনাস অরবিটে তুলতে সক্ষম। নির্দিষ্ট মিশন অনুযায়ী এই ক্ষমতা বদলে যেতে পারে। সে কারণে একাধিক স্যাটেলাইট একসঙ্গে বহন করা বা আলাদা কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়াও সম্ভব।প্রথম পরীক্ষামূলক উড়ানে রকেটটি প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় এবং ৬০ ডিগ্রি ইনক্লিনেশন-এ কক্ষপথে প্রবেশ করবে। বিক্রম-১-এর প্রথম তিনটি ধাপে ব্যবহার করা হয়েছে সলিড ফুয়েল ইঞ্জিন, আর সর্বোচ্চ ধাপে রয়েছে লিকুইড-ফুয়েল ‘অরবিট অ্যাডজাস্টমেন্ট মডিউল’, যা একাধিকবার পুনরায় চালু করা যায়। ফলে ভবিষ্যতে একাধিক উপগ্রহকে ভিন্ন ভিন্ন কক্ষপথে নির্ভুলভাবে স্থাপন করা সম্ভব হবে।

    ‘বিক্রম–১’-এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ

    বিক্রম–১ (Vikram-I)-এর এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের মূল লক্ষ্য হল রকেটের প্রপালশন সিস্টেম, স্টেজ সেপারেশন, গাইডেন্স, ন্যাভিগেশন ও কন্ট্রোল সিস্টেমের কার্যকারিতা যাচাই করা। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে দ্রুত ও নিয়মিত বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উড়ান-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহও এই মিশনের অন্যতম উদ্দেশ্য। এই অভিযান সফল হলে স্কাইরুট অ্যারোস্পেসই হবে ভারতের প্রথম বেসরকারি সংস্থা, যারা নিজস্ব অরবিটাল রকেট সফলভাবে উৎক্ষেপণ করবে। স্কাইরুট অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের আগে সমস্ত প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে। বিমান চলাচল এবং সমুদ্রপথে নিরাপত্তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কিছু এলাকাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, যাতে উৎক্ষেপণের সময় কোনও সমস্যা না হয়।

    ‘বিক্রম–১’-এর নানান কাজ

    বিক্রম-১ রকেটে একাধিক পেলোড বা বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম পাঠানো হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ‘মিশন এমব্রেস’ নামে একটি বিশেষ প্রযুক্তি। এটি তৈরি করেছে হায়দরাবাদের আর একটি মহাকাশ সংস্থা কসমোসার্ভ স্পেস। এই প্রযুক্তির লক্ষ্য মহাকাশে ঘুরে বেড়ানো অকেজো উপগ্রহ এবং মহাকাশের আবর্জনা বা স্পেস ডেব্রিস নিরাপদে ধরার ব্যবস্থা তৈরি করা। এর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ ধরনের নরম ও নমনীয় রোবোটিক বাহু। এই বাহুগুলি ক্ষতিগ্রস্ত বা অকেজো উপগ্রহকে আলতোভাবে ধরে ভবিষ্যতে নিরাপদে সরিয়ে দেওয়ার প্রযুক্তি পরীক্ষা করবে। বর্তমানে মহাকাশে হাজার হাজার অকেজো উপগ্রহ ও ধ্বংসাবশেষ ঘুরে বেড়াচ্ছে। এগুলি ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযান এবং সক্রিয় উপগ্রহগুলির জন্য বড় বিপদ হয়ে উঠেছে। তাই এই সমস্যা সমাধানে নতুন প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। কসমোসার্ভের এই উদ্যোগ সেই দিকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    একাধিক প্রযুক্তি প্রদর্শনী

    মিশনে একাধিক প্রযুক্তি প্রদর্শনী ও বাণিজ্যিক পেলোডও রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল স্কাইরুটের স্কোপ (SCOPE) উপগ্রহ, জার্মানির ডিসিইউ-বেড (DCUBED)-এর প্রযুক্তি প্রদর্শনী, গ্রাহা স্পেস (Grahaa Space)-এর সোলারাস এস-৩ (SOLARAS S3), এবং কসমোসার্ভ স্পেস (Cosmoserve Space)-এর মহাকাশের আবর্জনা সংগ্রহের জন্য তৈরি এমব্রেস (Embrace) রোবোটিক বাহু। এছাড়াও প্রতীকী পেলোড হিসেবে থাকছে বেঙ্গালুরুতে তৈরি ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ডের শিল্পকর্ম ‘Cosmic Bloom’ এবং শিল্পী অজয় কুমার ম্যাট্টেওয়াডার তৈরি ১৮ ক্যারেট সোনার ক্ষুদ্র রকেট, যা ভারতীয় মহাকাশ বিজ্ঞানের পথিকৃৎ বিক্রম সারাভাই, সি. ভি. রমন এবং ড. এ. পি. জে. আব্দুল কালাম-কে উৎসর্গ করা হয়েছে।

    ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণ সরাসরি পর্যবেক্ষণ

    ছোট স্যাটেলাইটের বাজার বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে, আর ভারতীয় মহাকাশ শিল্প ২০৩০ সালে ৭৭ বিলিয়ন ডলারের আকারে পৌঁছবে বলে অনুমান। সেই বাজারে নিজেদের জায়গা পাকা করতেই স্কাইরুটের এই নতুন উদ্যোগ। শ্রীহরিকোটা থেকে এই ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণ সরাসরি দেখার জন্য এসডিএসসি-এসএইচএআর (SDSC-SHAR)-এর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের জন্যও নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পে এই মিশনকে ইতিমধ্যেই এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফল হলে ছোট উপগ্রহ উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে ভারতের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ বাজারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

  • Railway Land Encroachment: রেলের ১,০৬৮ হেক্টর জমি জবর-দখলে! আরটিআই-তে বেরল চাঞ্চল্যকর তথ্য

    Railway Land Encroachment: রেলের ১,০৬৮ হেক্টর জমি জবর-দখলে! আরটিআই-তে বেরল চাঞ্চল্যকর তথ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জমি সমস্যায় জর্জরিত ভারতীয় রেল। পশ্চিমবঙ্গে রেলের জমি (Rail Land Encroachment) পুনরুদ্ধার নিয়ে টানাপড়েন তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতেই দেশজুড়ে রেলের বিপুল সম্পত্তি বেদখল হয়ে থাকার খতিয়ান সামনে এল। তথ্যের অধিকার আইনের (RTI) আওতায় রেল বোর্ডের দেওয়া সাম্প্রতিক এক জবাবে জানা গেছে, ২০২৫ সালের মার্চ মাস (২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ) পর্যন্ত দেশজুড়ে রেলের প্রায় ১০৬৮.৫৪ হেক্টর জমি বেআইনিভাবে দখল হয়ে রয়েছে (এক হেক্টর প্রায় আড়াই একরের সমান)। দেশের অন্যতম বৃহৎ সরকারি সম্পদের মধ্যে ভারতীয় রেলের জমি অন্যতম। কিন্তু সেই জমির বড় অংশই বছরের পর বছর বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে দেশের জনগণের একাংশ। তার জেরে পরিষেবা সম্প্রসারণ ক্ষেত্রে ব্যাপক অসুবিধার মুখে পড়েছে এশিয়ার বৃহত্তম রেল নেটওয়ার্ক।

    ৪২টি নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের সমান

    সম্প্রতি তথ্যের অধিকার (RTI) আইনে পাওয়া রেল বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ভারতীয় রেলের ১,০৬৮.৫৪ হেক্টর জমি অবৈধ ভাবে জবরদখলকারীদের হাতে রয়েছে। রেলওয়ের বেদখল হওয়া এই জমি প্রায় ৪২টি নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের সমান। গুজরাটের মোতেরায় ‘নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম’ দর্শকাসনের দিক থেকে এই মুহূর্তে পৃথিবীর বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়াম। প্রায় ২৫.৫ হেক্টর জায়গা জুড়ে গড়ে উঠেছে এই ক্রীড়াক্ষেত্র। রেলের বেদখল হয়ে থাকা এই জমিতে (Railway Land Encroachment) অনায়াসেই এমন ৪২টি আস্ত মোদি স্টেডিয়াম তৈরি করে ফেলা সম্ভব!

    কতগুলো ফুটবল মাঠের পরিমাণ জমি

    এছাড়াও ১,৪৯৬টি ফিফা-মানের ফুটবল মাঠ এঁটে যাবে এই জমিতে। রিপোর্টে উল্লেখ, শেষ পাঁচ বছরে রেলের জমি অবৈধ ভাবে দখলের প্রবণতা আরও বেড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে আগের থেকে প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে জবরদখল। ফলে রেলের জমির সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

    বিগত পাঁচ বছরে রেলের জমি দখলের ছবি—

    • ২০২০-২১ অর্থবর্ষ: রেলের ৮১০.৩১ হেক্টর জমি অন্যের দখলে ছিল।
    • ২০২১-২২ অর্থবর্ষ: সামান্য কমে বেদখল জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৮২.৮১ হেক্টরে।
    • ২০২২-২৩ অর্থবর্ষ: গ্রাফ আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ৮০০ হেক্টরের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়।
    • ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ: মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দখলদারির হার বেনজিরভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রায় ২৬৮ হেক্টর জমি নতুন করে বেদখল হওয়ায় মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ১০৭৮.৫৫ হেক্টরে।
    • ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ: গত মার্চ মাস পর্যন্ত জবরদখল হয়ে থাকা জমির পরিমাণ সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ১০৬৮.৫৪ হেক্টরে।

    রেলের মোট জমির পরিমাণ কত?

    সংসদে রেল মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত ভারতীয় রেলের মোট জমির (Railway Land Encroachment) পরিমাণ ছিল প্রায় ৪.৯৯ লক্ষ হেক্টর। তার মধ্যে ১,০৬৮ হেক্টর, অর্থাৎ মোট জমির মাত্র ০.২১ শতাংশ অবৈধ দখলের আওতায় রয়েছে। যদিও শতাংশের হিসেবে এই সংখ্যা কম, বাস্তবে জমির পরিমাণ অত্যন্ত বড়। ২০২১-২২ সালে জবরদখলের প্রবণতা সামান্য কমলেও, পরের দুই বছরে দখলের পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যায়। বিশেষ করে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে এক বছরে প্রায় ২৬৮ হেক্টর জমি নতুন করে জবরদখল হয়ে যায়, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৪-২৫ সালে বেদখলের প্রবণতা সামান্য হ্রাস পেলেও সামগ্রিক রিপোর্ট উদ্বেগজনক।

    মাত্র পাঁচ বছরের হিসেব

    প্রসঙ্গত, আরটিআই-তে আবেদনকারী গত ২৫ বছরের জমি দখলের তথ্য চেয়েছিলেন। কিন্তু রেল বোর্ড জানিয়েছে, তারা মাত্র পাঁচ বছরের তথ্য সংরক্ষণ করে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়। এ ছাড়াও, কোন রাজ্যে সবচেয়ে বেশি রেল জমি দখল হয়েছে, সেই সংক্রান্ত তথ্যও রেল বোর্ডের কাছে নির্দিষ্ট ভাবে নেই। বোর্ড জানিয়েছে, রাজ্য বা জ়োনভিত্তিক তথ্য সংশ্লিষ্ট জ়োনাল রেলের পাবলিক ইনফরমেশন অফিসারের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হবে। অর্থাৎ, সারা দেশের জমি দখলের কোনও কেন্দ্রীয় ডেটাবেস বর্তমানে রেল বোর্ডের কাছে নেই।

    উদ্ধারের গুরুদায়িত্ব ও অন্তহীন চ্যালেঞ্জ

    জমি (Railway Land Encroachment) হারানোর এই দ্রুত হারের বিপরীতে দাঁড়িয়ে তা পুনরুদ্ধারের কাজ রেলের কাছে এখন মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ। লোকালয় গড়ে ওঠা, আইনি জটিলতা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সমীকরণের কারণে বেদখল জমি উদ্ধার করা রীতিমতো দুরূহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাঁচ বছরে মাত্র ৯৮.০২ হেক্টর জমি উদ্ধার করতে পারার পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, হারিয়ে যাওয়া রেলভূমি ফিরে পাওয়ার লড়াই কতটা কঠিন ও দীর্ঘমেয়াদি। রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন রেললাইন, মালবাহী করিডর, স্টেশন পুনর্নির্মাণ এবং পরিকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য বিপুল জমির প্রয়োজন। সেই পরিস্থিতিতে রেলের নিজস্ব জমির উপর অবৈধ দখলদারি ভবিষ্যতের প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। একই সঙ্গে, পুরোনো তথ্যের অভাব এবং রাজ্যভিত্তিক কেন্দ্রীয় রেকর্ড না থাকায় সমস্যার গভীরে ঢুকে প্রকৃত চিত্র মূল্যায়নকে কঠিন করে তুলছে।

  • Koel Mallick: রথযাত্রার সকালে ধাক্কা তৃণমূলের! রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কোয়েল মল্লিক

    Koel Mallick: রথযাত্রার সকালে ধাক্কা তৃণমূলের! রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কোয়েল মল্লিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যসভার সাংসদপদ থেকে ইস্তফা দিলেন কোয়েল মল্লিক। রথের দিন (১৬ই জুলাই) বৃহস্পতিবার দিল্লিতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন অভিনেত্রী কোয়েল অর্থাৎ রুক্মিনী মল্লিক (Koel Mallick)। তার পরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সম্প্রতি ভূপেন্দ্রের হাত ধরেই রাজ্যসভার তিন সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ দেন। তাঁদের তিন জনকেই রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে বিজেপি। এ বার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে কোয়েলের সাক্ষাতের পরেই জল্পনা, তবে কি তিনিও বিজেপি-তে যাচ্ছেন!

    ইস্তফাপত্র জমা দিলেন কোয়েল

    সূত্রের খবর, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি রাধাকৃষ্ণণের কাছে ইমেল করে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছিলেন কোয়েল। কিন্তু নিয়ম অনুসারে, রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিতে হলে সাংসদকে সশরীরে হাজিরা দিতে হয়। সেই মতো বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের হাতে নিজের ইস্তফাপত্র তুলে দেন রুক্মিণী, যিনি কোয়েল নামেই সমধিক পরিচিত। তার পরেই তিনি দেখা করেন ভূপেন্দ্রের সঙ্গে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার পরে এক বারও সংসদের কোনও অধিবেশনে যোগ দেওয়া হয়নি কোয়েলের। সোমবার থেকে বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সাংসদপদ পাওয়ার পরে সেটাই হতে পারত কোয়েলের প্রথম অধিবেশন। কিন্তু তার আগেই তিনি ইস্তফা দিলেন। তবে, মনে করা হচ্ছে বাদল অধিবেশনের আগেই তাঁকে বিজেপি থেকে ওই আসনে প্রার্থী করা হতে পারে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত?

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের সঙ্গে গত কয়েকদিন ধরেই কোয়েলের দূরত্ব বাড়ছিল। সূত্রের খবর, অভিনেত্রী বিদেশে থাকায় ইস্তফা দিতে কিছুটা সময় লেগেছে, তবে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। কোয়েল মল্লিকের এই দলবদলকে তৃণমূলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন অনেকে। মল্লিক পরিবারের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং টলিউডের ওপর কোয়েলের প্রভাব বিজেপির পালে বাড়তি হাওয়া দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে, বর্তমানে টলিউডের সঙ্গে দুর্নীতির নানা অভিযোগ জড়িয়ে পড়ার আবহে কোয়েলের মতো একজন হেভিওয়েট তারকার বিজেপিতে যোগদান পদ্মশিবিরের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।

    গুঞ্জনই সত্যি হল

    রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর সঙ্গে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল তৃণমূল। তার কয়েক দিন আগে তদানীন্তন রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের খতিয়ান নিয়ে মল্লিকবাড়িতে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরে এপ্রিল মাসে দিল্লিতে রাজ্যসভার সাংসদপদে শপথ নিতে যান কোয়েল। সঙ্গে ছিল তাঁর গোটা পরিবার। শপথের পরে অভিনেত্রী বলেছিলেন, “অনেক ভেবে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তা নয়। এটা তো একটা মহৎ দায়িত্ব, দেশের সেবা, মানুষের সেবা— এর থেকে তো বড় মহৎ কাজ হতে পারে না। সেই জায়গা থেকে আমি নিজেকে ভীষণ ভাগ্যবতী মনে করি যে, আমার নাম মনোনীত হয়েছে এবং আমি এত গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গায় আসতে পেরেছি।” রাজ্যে পালা বদলের পর গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতির অন্দরে গুঞ্জন ছিল, তৃণমূলের আরও এক তারকা সাংসদের সঙ্গে ঘাসফুল শিবিরের দূরত্ব বাড়ছে। অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন, সেই তিনি হলেন প্রবীণ অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের মেয়ে তথা অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক।

    রইল বাকি ৯

    গত ৬ এপ্রিল সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন কোয়েল মল্লিক। তিন মাসেই পদত্যাগ! যদিও ৪ মে রাজ্যে পালাবদলের পরে তৃণমূলের রাজনৈতিক বৃত্তের ছবিটাই রাতারাতি বদলাতে শুরু করে। লোকসভার সিংহভাগ সাংসদই তৃণমূল ছেড়েছেন। এখন রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ হিসেবে রইলেন বাবুল সুপ্রিয়, মেনকা গুরুস্বামী, রাজীব কুমার, নাদিমুল হক, মমতাবালা ঠাকুর, সাগরিকা ঘোষ, ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, সামিরুল ইসলাম।

    ভূপেন্দ্রর প্রচ্ছন্ন ভূমিকা

    গত ৯ জুলাই বিজেপি-তে যোগ দেন সুখেন্দু, সুস্মিতা, প্রকাশ। যোগদানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিন জনকে রাজ্যসভার উপনির্বাচনের প্রার্থী করে বিজেপি। উল্লেখ্য, সুস্মিতা, প্রকাশ চিক এবং সুখেন্দুশেখরের পদত্যাগের কারণে রাজ্যসভার তিনটি আসন খালি হয়। তাঁদেরই আবার ওই আসনে প্রার্থী করে পাঠায় বিজেপি। অর্থাৎ, প্রার্থীরা একই, কেবল দল বদলে যায়। ভোট হয়নি। শুক্রবার ওই তিন জনের হাতে রাজ্যসভার সাংসদপদের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হবে। অনুমান করা হচ্ছে, কোয়েলও সেই পথেই হাঁটবেন। এর আগে ভূপেন্দ্রের হাত ধরেই তৃণমূলের ২০ জন লোকসভা সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছিলেন। জুন মাসে ভূপেন্দ্রের দিল্লির বাড়িতেই দফায় দফায় বৈঠক করে তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী। নেতৃত্বে ছিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তার পরেই তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদেরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে জানান, তাঁদের ব্লক এনসিপিআই-এ মিশে যাচ্ছে। সূত্রের খবর, বিদ্রোহীদের মধ্যে সমন্বয় সাধনের নেপথ্যে অন্যতম ভূমিকা ছিল ভূপেন্দ্রের।

  • Modi- Shah Meet: মোদি-শাহ বৈঠকে বিজেপির বড় রদবদলের ইঙ্গিত, শীঘ্রই ঘোষণা হতে পারে নতুন সাংগঠনিক টিম

    Modi- Shah Meet: মোদি-শাহ বৈঠকে বিজেপির বড় রদবদলের ইঙ্গিত, শীঘ্রই ঘোষণা হতে পারে নতুন সাংগঠনিক টিম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপির সাংগঠনিক স্তরে বড় রদবদলের জল্পনা আরও জোরালো হল। বুধবার গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, (Modi- Shah Meet) বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বিএল সন্তোষ এবং দলের জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক হয়। সূত্রের খবর, এই বৈঠকেই দলের নতুন সাংগঠনিক টিম এবং সম্ভাব্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু আগামী ২০ জুলাই থেকে। শোনা যাচ্ছে, তার আগেই মন্ত্রিসভায় রদবদল চূড়ান্ত করে ফেলতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অন্তত ৭-৮ জন সাংসদ নতুন করে মন্ত্রী হতে পারেন।

    গভীর রাতে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক

    দলীয় সূত্রের দাবি, নিতিন নবীন সভাপতি হওয়ার পর ৬-৭ মাস কাটতে চলল। এখনও তাঁর নিজস্ব নতুন টিম তৈরি হয়নি। শোনা যাচ্ছে, মন্ত্রিসভায় রদবদল এবং বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল একসঙ্গে হবে। বিজেপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কাঠামোয় নতুন পদাধিকারীদের তালিকা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে এই বৈঠক হয়। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পর রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, চলতি সপ্তাহেই নীতিন নবীনের নেতৃত্বে বিজেপির নতুন কেন্দ্রীয় টিম ঘোষণা করা হতে পারে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিজেপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন নিয়ে একাধিক দফায় আলোচনা চলছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত ছিল। এবার সেই প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, নতুন সাংগঠনিক টিমে যেমন অভিজ্ঞ নেতাদের রাখা হবে, তেমনই একাধিক নতুন মুখকেও সুযোগ দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেল-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে নতুন নিয়োগের সম্ভাবনাও রয়েছে।

    মন্ত্রিসভায় রদবদল

    রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন যে সাংগঠনিক রদবদলের পরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বড়সড় রদবদল হতে পারে। সম্প্রতি কয়েকজন প্রতিমন্ত্রীকে বিভিন্ন রাজ্যে সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়ায় কিছু পদ কার্যত শূন্য হয়েছে। সেই শূন্যস্থান পূরণে নতুন মুখকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে বলে খবর। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবার মহিলা, যুব নেতা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতাদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। বিজেপি নেতৃত্বের লক্ষ্য, ২০ জুলাই থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত চলা সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর আগেই সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার রদবদলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। কারণ, ২০২৭ সালে উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক শক্তি আরও মজবুত করতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

  • FIFA World Cup: খেলা শেষে স্টেডিয়ামেই মারামারি! ‘ফকল্যান্ড আমাদের’ ব্যানার আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের হাতে, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিতর্কে মেসিরা

    FIFA World Cup: খেলা শেষে স্টেডিয়ামেই মারামারি! ‘ফকল্যান্ড আমাদের’ ব্যানার আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের হাতে, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিতর্কে মেসিরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এই ম্যাচ শুধু ফুটবলের লড়াই ছিল না। এই ম্যাচ ছিল একে অপরকে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার লড়াই। ৬০ বছর আগে যা শুরু হয়েছিল, সেই লড়াইয়ে এগিয়ে যাওয়ার যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধে বাজিমাত করল আর্জেন্টিনা। দিয়েগো মারাদোনা যা করেছিলেন তা-ই করলেন লিয়োনেল মেসি। খানিকটা অন্য ভাবে। মারাদোনা জোড়া গোল করেছিলেন। মেসি জোড়া অ্যাসিস্ট করলেন। আর তাতেই ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। মাঠের উত্তাপ ছড়াল মাঠের বাইরেও। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের পর স্টেডিয়াম ও স্টেডিয়ামের বাইরে মারামারি হয়েছে দু’দলের সমর্থকদের। বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    উত্তেজনা, হাতাহাতি মাঠ ও মাঠের বাইরে

    খেলার মাঝেই উত্তপ্ত হচ্ছিল গ্যালারির পরিস্থিতি। কথা কাটাকাটি চলছিল। শেষ দিকে জোড়া গোল দিয়ে আর্জেন্টিনা জেতার পর সে দেশের সমর্থকেরা উল্লাস শুরু করেন। ইংল্যান্ডের সমর্থকদের তরফে কটূ কথা ভেসে আসে। বিবাদ আরও বাড়ে। তার পরেই শুরু হয় মারামারি। একই পরিস্থিতি স্টেডিয়ামের বাইরেও হয়। নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকা পুলিশকর্মীরা প্রথমে বিবাদ থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করলেন পদক্ষেপ করেন তাঁরা। দু’দলের বহু সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুধু আটলান্টা নয়, নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সির মতো আমেরিকার বেশ কিছু শহরে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। এমনকি, বিশ্বকাপের কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে ইংল্যান্ডের বার্মিংহ্যামেও হাতাহাতি হয়েছে দু’দলের সমর্থকদের।

    মেসির সতীর্থকে চড় বেলিংহ্যামের

    উত্তেজনা চরমে উঠেছে মাঠের ভিতরেও। ৮৪ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও হেরেছে ইংল্যান্ড। সাত মিনিটের মধ্যে আর্জেন্টিনার জোড়া গোলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। এগিয়ে গিয়েও এই হার মানতে পারেননি জুড বেলিংহ্যাম। খেলা শেষে আর্জেন্টিনার বেঞ্চে থাকা ভ্যালেন্টিন বার্কোকে চড় মারেন তিনি। খেলা শেষে উল্লাস করছিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলারেরা। সেখানে ছিলেন ভ্যালেন্টিন বার্কোও। কাছেই দাঁড়িয়েছিলেন বেলিংহ্যাম। ঠিক তখনই বেলিংহ্যাম পিছন থেকে এসে বার্কোর ঘাড়ের কাছে চড় মারেন। এই ঘটনা ভাল ভাবে নেননি আর্জেন্টিনার ফুটবলারেরা। শুরু হয় বিবাদ। যদিও রেফারি বেলিংহ্যামকে কার্ড দেখাননি। খেলা শেষে আবার আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় ইংল্যান্ডের মর্গ্যান রজার্সের। আর্জেন্টিনার ফুটবলারেরা রজার্সের সামনে উল্লাস করছিলেন। সেটা পছন্দ হয়নি তাঁর। তিনি গিয়ে লাউতারোকে ধাক্কা মারেন। তার পর শুরু হয় ঝামেলা।

    মেসির সঙ্গেও বিবাদ বেলিংহ্যামের

    প্রথমার্ধেই অবশ্য লিয়োনেল মেসির সঙ্গে বিবাদ হয় বেলিংহ্যামের। একটি বলের দখল নিতে গিয়ে দুই তারকা পড়ে যান। মেসির মনে হয়েছিল, বেলিংহ্যাম তাঁকে ফাউল করেছেন। তিনি রেফারিকে বলেন। ঠিক তখনই বেলিংহ্যাম তাঁকে পাল্টা কিছু বলেন। মেসিও জবাব দেন। দুই তারকা একে অপরের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। রেফারি তাঁদের সরিয়ে দেন। মেসির মুখ দেখে মনে হচ্ছিল, বেলিংহ্যামের কথায় অবাক হয়েছেন তিনি। অবশ্য সৌহার্দ্যের ছবিও দেখা গিয়েছে মাঠে। খেলা শেষে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন মেসি ও হ্যারি কেন। দুই তারকা একে অপরের সঙ্গে কিছু ক্ষণ কথাও বলেন।

    ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি

    গত ৬০ বছর ধরে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ মানেই অন্য রকমের উত্তাপ। ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর তা আরও বেড়েছে। এই ম্যাচেও ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি উস্কে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার ও সমর্থকেরা। ফলে লড়াই শুধু ফুটবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তা ছড়িয়ে পড়েছে মাঠের বাইরেও। আর্জেন্টিনা থেকে ৪৮০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের মধ্যে থাকা দ্বীপ ফকল্যান্ড। এই দ্বীপের দখল নেওয়া ঘিরে বার বার বিবাদে জড়িয়েছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ১৯৮২ সালের ২ জুলাই ইংল্যান্ডের অধিকারে থাকা ফকল্যান্ড দ্বীপ আক্রমণ করে আর্জেন্টিনা। ৭৪ দিন ধরে চলেছিল সেই যুদ্ধ। শেষে আত্মসমর্পণ করে আর্জেন্টিনা। সেই যুদ্ধে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ ও ইংল্যান্ডের ২৫৫ সেনা প্রাণ হারান। নিহত হয়েছিলেন ফকল্যান্ড দ্বীপের তিন বাসিন্দা।

    ফকল্যান্ড দ্বীপ তাঁদেরই

    এদিনও খেলার শেষে ফুটবলারদের হাতে ছিল ব্যানার। সেই একই ব্যানার ছিল সমর্থকদের হাতেও। খেলা শেষে বিশেষ ব্যানার নিয়ে উল্লাসে মাতলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার ও সমর্থকেরা। সেমিফাইনাল চলাকালীন আর্জেন্টিনার ফুটবলার জিয়োভানি লো সেলসোর হাতে একটি ব্যানার দেখা যায়। তাতে লেখা, ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস।’ স্প্যানিশে এই কথার বাংলা অর্থ, ‘মালভিনাস আমাদেরই।’ ফকল্যান্ড দ্বীপকে মালভিনাস বলে ডাকেন আর্জেন্টিনার বাসিন্দারা। অর্থাৎ, ম্যাচের মধ্যে তাঁরা স্লোগান তোলেন যে, ফকল্যান্ড দ্বীপ তাঁদেরই। খেলা শেষে নিকোলাস ওটামেন্ডি ও লো সেলসো সেই ব্যানার তুলে ধরেন। আর্জেন্টিনার বাকি ফুটবলারেরাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। গ্যালারিতে থাকা আর্জেন্টিনার সমর্থকদের হাতেও ছিল একই ব্যানার। অর্থাৎ, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেই ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি আরও এক বার উস্কে দিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার ও সমর্থকেরা। সেই ব্যানার হাতেই উল্লাস করলেন তাঁরা। রাজনৈতিক স্লোগান লেখা ব্যানার দেখিয়ে আর্জেন্টিনা নিয়ম ভেঙেছে কি না, তা অবশ্য এখনও জানা যায়নি। এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ফিফা সরকারী ভাবে কিছু বলেনি। তবে খেলা দেখতে মাঠে গিয়েছিলেন ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তাঁর সামনেই পুরো ঘটনা ঘটেছে।

  • FIFA World Cup 2026: ৮৪ মিনিট পিছিয়ে থেকে প্রত্যাবর্তন! আর্জেন্টিনার ৭ মিনিটের ঝড়ে বেসামাল ইংল্যান্ড, বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসিরা

    FIFA World Cup 2026: ৮৪ মিনিট পিছিয়ে থেকে প্রত্যাবর্তন! আর্জেন্টিনার ৭ মিনিটের ঝড়ে বেসামাল ইংল্যান্ড, বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসিরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পিছিয়ে পড়া, হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা, তারপর হঠাৎই প্রত্যাবর্তন। চলতি বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) এক অবিশ্বাস্য মহাকাব্য লিখে চলেছেন মেসিরা। বলা ভাল আর্জেন্টিনা। এই দল দেখিয়ে দিচ্ছে, মেসি (Lionel Messi) গোল না করলেও জিততে পারে তারা। মেসিকে যে প্রতিপক্ষ বোতলবন্দি করার চেষ্টা করবে, এ আর নতুন কী? একমাত্র আলজেরিয়া বাদে বাকি সব ম্যাচে তা দেখা গিয়েছে। ইংল্যান্ডও আটকে রেখেছিল তাঁকে। গোটা ম্যাচে বক্সে বার দু’য়েকের বেশি ঢুকতে পারেননি তিনি। তাতে কী? দলের জয় আটকায়নি। ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। শেষ ৭ মিনিটের আর্জেন্টিনীয় ঝড়েই হারিয়ে গেলেন হ্যারি-কেনরা।

    এই ম্যাচ অন্য সাধারণ ম্যাচের মতো নয়

    এই ম্যাচ অন্য সাধারণ ম্যাচের মতো ছিল না। একে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। তার উপর আবার প্রতিপক্ষের নাম ইংল্যান্ড। যে দেশের বিরুদ্ধে খেলা শুধুমাত্র ফুটবলে সীমাবদ্ধ থাকে না। তা হয়ে ওঠে যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধ জিতেছে আর্জেন্টিনা। ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকে জিতেছে। মেসি-সহ পুরো আর্জেন্টিনা দল এই প্রথম বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলল। কিন্তু ১৯৬৬, ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের লড়াইয়ের কথা তাঁদের জানা। ফকল্যান্ড যুদ্ধ তাঁদের স্মৃতিতে। তাই পিছিয়ে পড়ার পর যে লড়াইটা আর্জেন্টিনা করেছে তা ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। জয়ের পর মেসি জানালেন, এই জয় আর্জেন্টিনার প্রত্যেকের জয়। খেলা শেষে মেসি বলেন,“এটা বিশ্বকাপের আরও একটা ম্যাচ হলেও বাকি ম্যাচের থেকে আলাদা। সমর্থকেরা এই জয়টা চেয়েছিল। কারণ, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার মতো আনন্দ আর কিছুতে নেই। সেটা আমরা সমর্থকদের দিতে পেরেছি।”

    পুরোপুরি সফল স্কালোনি

    প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় আকাশ-পাতাল ফারাক। লড়াই শুধু ফুটবলারদের ছিল না, লড়াই ছিল দু’দলের কোচেরও। প্রথমার্ধে লিয়োনেল স্কালোনির পরিকল্পনা দেখে মনে হল, গোল করতে নয়, হ্যারি কেনদের থামাতে নেমেছে আর্জেন্টিনা। রদ্রিগো ডি পলের বদলে জিউলিয়ানো সিমিয়োনেকে নামানোর কারণই ছিল তাই। নিজের কাজ করলেন তিনি। দেখে মনে হচ্ছিল, বাবা দিয়েগো সিমিয়োনের কাছ থেকে ট্রেনিং নিয়ে নেমেছেন। প্রথমার্ধের ফুটবলে মন ভরেনি। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার খেলা দেখে। নিজেদের খেলা না খেলে ইংল্যান্ডের খেলা নষ্ট করতে নেমেছিল তারা। পর পর ফাউল হচ্ছিল। খেলার ছন্দ নষ্ট করছিলেন সিমিয়োনে, লিয়োনার্দো পারেদেসরা। স্কালোনি অবশ্য তাঁর পরিকল্পনায় পুরোপুরি সফল। প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের ছন্দ নষ্ট করেছেন তাঁর ফুটবলারেরা। ফলে আক্রমণ করলেও গোলের মুখ খুলতে পারেননি কেনেরা। সেটাই পরিকল্পনা ছিল তাঁর।

    নিজের ভুলেই আটকে গেলেন টমাস টুখেল

    প্রথমার্ধে ১৯টি ফাউল হয়। ১২টি করে আর্জেন্টিনা। সাতটি ইংল্যান্ড। মাঝে মাঝেই খেলা থামছিল। ধাক্কাধাক্কি করছিলেন দু’দলের ফুটবলারেরা। সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন রেফারি। তিনিও হয়তো চাইছিলেন তাড়াতাড়ি বিরতি নিতে। তাই এত ফাউলের পরেও মাত্র ৩ মিনিট সংযুক্তি সময় দেওয়া হল। দ্বিতীয়ার্ধে বদলে গেল খেলা। আর্জেন্টিনাকে আক্রমণে উঠতে দেখা গেল। আর তাতে জায়গা পেয়ে গেল ইংল্যান্ড। তাতেই গোল। ৫৫ মিনিটের মাথায় ডান প্রান্ত ধরে উঠে রিস জেমসের ক্রসে গোল করলেন অ্যান্টনি জর্ডন। পিছিয়ে পড়়ে বেরিয়ে এল আর্জেন্টিনার আসল খেলা। খোলস ছেড়ে বেরাল তারা। কারণ, গোল করা ছাড়া আর উপায় ছিল না। সেখানেই দুই কোচের দুই চালে খেলা ঘুরে গেল। যেখানে স্কালোনি একের পর এক আক্রমণ ভাগে ফুটবলার নামালেন, পারেদেস, লিসান্দ্রোদের তুলে ঝুঁকি নিলেন, সেখানেই টমাস টুখেল পার্ক দ্য বাস নীতিতে চলে গেলেন। এতটা রক্ষণাত্মক না হলেই পারতেন তিনি। এক গোলে এগিয়ে থেকে মেসিদের বিপক্ষে এতটা রক্ষণাত্মক হওয়া যায় না।

    শেষ ৭ মিনিটের ঝড়ে উড়ে গেল ইংল্যান্ড

    ডি পল, লাউতারোরা নামার পর মেসিরও সুবিধা হল। মিশর ম্যাচে যা করেছিলেন, তাই করলেন। সরে গেলেন ডান প্রান্তে। মার্কারকে এড়িয়ে গেলেন। তখন রক্ষণ করতে লোক বাড়াতে গিয়ে মেসিকে নজরে রাখতে পারলেন না স্পেন্স, গেহিরা। ফলে অনেক বেশি বল পেতে শুরু করলেন মেসি। জর্ডন পিকফোর্ড না থাকলে আরও আগেই গোল খেত ইংল্যান্ড। এঞ্জো ফের্নান্দেজের হেড দুর্দান্ত বাঁচান তিনি। ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্ট লেগে ফেরে। কিন্তু বার বার আক্রমণে শেষ পর্যন্ত ভাঙে তাদের রক্ষণ। ৮৫ মিনিটের মাথায় মেসির পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে গোল করেন ফের্নান্দেজ। সমতা ফিরিয়ে আর্জেন্টিনা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। তারা বুঝতে পারছিল, এই ঝড়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণ আবার ভেঙে পড়তে পারে। হলও তাই। ম্যাক অ্যালিস্টারের আরও একটি শট পোস্টে লেগে ফেরে। পর পর আক্রমণে খেই হারিয়ে ফেলেছিল ইংল্যান্ড। তাতেই কাল হল। সংযুক্তি সময়ে মেসির ক্রসে হেড করে গোল করলেন লাউতারো। আর ফিরতে পারেনি ইংল্যান্ড।

    এই দলটা কখনও হাল ছাড়ে না

    মেসি জানিয়েছেন, এই ম্যাচে হারার উপায় ছিল না। তাঁদের জিততেই হত। সেটাই করেছেন তাঁরা। মেসি বলেন, “আর্জেন্টিনার কেউ এই ম্যাচটা হারতে চায়নি। এই হার হজম করতে পারতাম না। সেটা সকলেই জানে। তাই হয়তো আনন্দ কিছুটা বেশিই হচ্ছে। আমি জানি, গোটা আর্জেন্টিনা এখন আনন্দে লাফাচ্ছে।” কিন্তু ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকে জয় সহজ কথা নয়। চলতি বিশ্বকাপে বারবার পিছিয়ে পরেই জিতেছে আর্জেন্টিনা। কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়ে জিতেছে আর্জেন্টিনা। মিশরের বিরুদ্ধে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ০-২ পিছিয়ে থেকেও ৩ গোল করেছে তারা। কিন্তু সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মতো দলের বিরুদ্ধে পিছিয়ে থেকে জেতা সহজ ছিল না। মেসি বলেন, “এই দলটা কখনও হাল ছাড়ে না। হারার ভয় আমাদের নেই। খালি জানি, শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করতে হবে। এই ম্যাচেও সেটাই করেছি। ওদের অর্ধেই ওদের মাটিতে ফেলে হারিয়েছি। আমরা অতিরিক্ত সময় খেলতে চাইনি। ৯০ মিনিটেই জিততে চেয়েছিলাম। সেটা করে দেখিয়েছি।”

    বিজয়ীর মুকুট কার মাথায়?

    ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে এবার স্পেন। এক নতুন চ্যালেঞ্জ, এক নতুন পরীক্ষা। ফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি হবে দুই প্রজন্মের দুই প্রতীক। একদিকে ৩৯ বছরের বৃদ্ধ সিংহ লিওনেল মেসি। অন্যদিকে ১৯ বছরের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল। একজন মহাকাব্যের শেষ অধ্যায় লিখতে চলেছেন। আরেক জন ইতিহাস তৈরি করতে চান। সময় বলবে ইতিহাস কাকে বিজয়ীর মুকুট পরাবে।

  • Mira Bhattacharya Security: রাজ্য-রাজনীতিতে সৌজন্যের বার্তা! বুদ্ধ-জায়া মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা ফেরাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    Mira Bhattacharya Security: রাজ্য-রাজনীতিতে সৌজন্যের বার্তা! বুদ্ধ-জায়া মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা ফেরাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য-রাজনীতিতে সৌজন্যের বার্তা। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও আসতে শুরু করেছে বদল। এবার সেই তালিকায় যোগ হল একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের (Buddhadeb Bhattacharjee) স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যের (Mira Bhattacharya) জন্য ফের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। রাজনৈতিক মতাদর্শে বিস্তর ফারাক থাকা সত্ত্বেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)সম্মান প্রদর্শনের এই সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

    শীঘ্রই পাম অ্যাভিনিউয়ের ফ্ল্যাটে ফের নিরাপত্তারক্ষী

    ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট প্রয়াত হন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তাঁর মৃত্যুর পর পাম অ্যাভিনিউয়ের ৫৯এ নম্বরের ছোট্ট ফ্ল্যাটেই আগের মতো বসবাস করে আসছেন তাঁর স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য। তবে মীরা দেবীর জীবনযাত্রায় কোনও জৌলুস আসেনি। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অত্যন্ত সাধারণ ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করছেন, যা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের রাজনৈতিক জীবনেরও অন্যতম পরিচয় ছিল। সূত্রের খবর, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মৃত্যুর পর তৎকালীন রাজ্য সরকার ওই ফ্ল্যাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নেয়। সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর সেই অবস্থান বদলাতে চলেছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। খুব শীঘ্রই পাম অ্যাভিনিউয়ের ফ্ল্যাটে ফের নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হবে।

    সহজ-সরল জীবনযাত্রা মীরা-দেবীর

    বর্তমানে মীরা দেবী একাই থাকেন ওই ফ্ল্যাটে। স্বামী বুদ্ধদেব থাকাকালীন যেমন সহজ ও সাধারণ জীবনযাত্রা ছিল এখনও তাই। এই ছোট্ট ফ্ল্যাট বদলানোর কথা স্বয়ং জ্যোতি বসুও নাকি একসময়ে বলেছিলেন। কিন্তু বুদ্ধবাবু চেয়েছিলেন এখানেই থাকতে। স্বামীর মৃত্যুর পর মীরা দেবীও সেই সিদ্ধান্তেই অটল থেকেছেন। রাজ্যে পরিবর্তনের পর তাকে স্বাগতও জানিয়েছিলেন। মতাদর্শগত ফারাক মাথায় রেখেও নতুন সরকারের প্রশংসা করতে দেখা যায় তাঁকে। প্রার্থনা করেছিলেন, ২০১১ সালের আগে যেমন সিন্ডিকেট রাজ ছিল না, সেই পরিস্থিতিই যেন ফিরে আসে বাংলায়। ভোটের সময় যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল গেরুয়া শিবির, তা পূরণ হবে বলেই আশা প্রকাশ করেন মীরা।

    রাজনৈতিক সৌজন্যের অনন্য নজির

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং রাজনৈতিক সৌজন্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। কারণ, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং শুভেন্দু অধিকারী সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিনিধি। তবুও রাজনৈতিক বিরোধিতাকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা সম্মানের পথে বাধা হতে দেননি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি এই সম্মান প্রদর্শন বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে বলেই মত অনেকের।

  • Drug Allegations Against Pakistan: শোয়েবরা ভারতে মাদক পাচার করতেন, বিরোধিতাতেই মৃত্যু উলমারের! বিস্ফোরক দাবি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রাক্তন আমলার

    Drug Allegations Against Pakistan: শোয়েবরা ভারতে মাদক পাচার করতেন, বিরোধিতাতেই মৃত্যু উলমারের! বিস্ফোরক দাবি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রাক্তন আমলার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের (Drug Allegations Against Pakistan) বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রাক্তন আন্ডার সেক্রেটরি আরভিএস মণি। তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানি ফাস্ট বোলার শোয়েব আখতার এবং মহম্মদ আসিফ (Shoaib Akhtar-Mohammad Asif) যখনই ভারতে আসতেন, তখনই নিজেদের সঙ্গে মাদক নিয়ে আসতেন। তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের টিম মাদক চালানের সঙ্গে জড়িত ছিল। এই ড্রাগ ট্র্য়াফিকিংয়ের ক্ষেত্রে আইএসআই-এর হাত ছিল। মাদক পাচারের বিরোধিতা করার জন্যই পাকিস্তানের প্রাক্তন কোচ বব উলমারকে খুন হতে হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।

    মাদক পাচারের বিরোধিতা করাই কাল উলমারের

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রাক্তন আমলার বক্তব্য ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে ক্রিকেটমহলে। ২০০৬ সালের একটি ঘটনার উল্লেখ করে আরভিএস মণি বলেছেন, ‘‘পাকিস্তান ক্রিকেট দল বা কোনও প্রতিনিধি দল ভারতে এলে সঙ্গে মাদক নিয়ে আসত। এ ভাবে ভারতে মাদক পাচারের চেষ্টা করত পাকিস্তান। নিজেদের ব্যবহারের জন্য মোটেও মাদক নিয়ে আসতেন না পাক প্রতিনিধি বা খেলোয়াড়েরা। পাকিস্তানের প্রাক্তন কোচ উলমার ক্রিকেটারদের দিয়ে মাদক পাচারের বিরোধিতা করেছিলেন। বিষয়টি পাচারকারীদের পছন্দ ছিল না। তার পর ২০০৭ সালে তাঁর রহস্যজনক মৃত্যুর কথা সকলে জানেন।’’ উল্লেখ্য, বব উলমার ২০০৭ সালে ১৮ মার্চ মারা যান। তখন তিনি পাকিস্তান দলের কোচ ছিলেন। আয়ারল্যান্ডের কাছে কিংসস্টোন, জামাইকাতে হারের পর তাঁকে হোটেলে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। কিন্তু বাঁচানো যায়নি।

    জঙ্গি হামলার ৩০ শতাংশ অর্থই মাদক পাচার থেকে

    আসলে আরভিএস রবি ছিলেন একজন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট সার্ভিস অফিসার। ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ইন্টারনাল সিকিউরিটি ডিভিশনে কাজ করেছেন। এখন তিনি অবসর কাটাচ্ছেন। ২০১৩ সালের অগাস্টে ভলান্টারি রিটায়ারমেন্ট নেন। ওই সময় তিনি নগরোন্নয়ন দফতরের আন্ডার সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করছিলেন। সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর একটি পোডকাস্টেই তিনি ড্রাগ ট্র্যাফিকিং নিয়ে বোমা ফাটিয়েছেন। এই পডকাস্টে তিনি অভিয়োগ করেন, জঙ্গি হামলার ৩০ শতাংশ ফান্ডিং আসে মাদক পাচার থেকে। তাঁর কথায়, ‘‘ভারতে জঙ্গি হামলার ৩০ শতাংশ অর্থই আসত মাদক ব্যবসা থেকে। আসলে পাকিস্তানের সরকারি নীতিই হল ভারতে মাদক পাচার করা। সে কারণেই আমরা সে সময় বলতাম, জালালাবাদে ফলন বেশি হলে ভারতের উপর হামলাও বেশি হবে।’’

    ক্রিকেটারদের মাধ্যমেও চলত মাদক পাচার

    মণির দাবি, ‘‘ক্রিকেটারদের মাধ্যমেও বেশ কয়েক বার মাদক পাচারের চেষ্টা হয়েছে। শোয়েব আখতার এবং মহম্মদ আসিফ যুক্ত ছিল। এই দুই ক্রিকেটারই মাদক নিয়ে আসার কথা স্বীকার করেছিলেন। তার পর পাকিস্তানের দূতাবাস তাঁদের দেশে ফেরত পাঠিয়েছিলেন।’’ উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে শোয়েব এবং আসিফের শরীরে নিষিদ্ধ ড্রাগ পাওয়া গিয়েছিল। ডোপিংয়ের জন্য শোয়েবক দু’বছরের জন্য এবং আসিফকে এক বছরের জন্য নির্বাসিত করেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। দু’জনকেই সে বার ভারতে আয়োজিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল থেকে শেষ মুহূর্তে বাদ পড়তে হয়েছিল। ডোপ টেস্টে ব্যর্থ হওয়ায় পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। মণির দাবি, শুধু এই দু’জন নন। পাকিস্তানের আরও কয়েক জন ক্রিকেটার ভারতে মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের নাম প্রকাশ্যে আসেনি।

LinkedIn
Share