Author: ishika-banerjee

  • India’s GDP: বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার মাঝেও চমক! ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৭%

    India’s GDP: বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার মাঝেও চমক! ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৭%

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখল ভারত। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের প্রকৃত (রিয়েল) জিডিপি বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৭ শতাংশ, যা আগের অর্থবর্ষের ৭.১ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একই সঙ্গে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিক অর্থাৎ জানুয়ারি-মার্চ পর্বে জিডিপি বৃদ্ধির হার পৌঁছেছে ৭.৮ শতাংশে। শুক্রবার প্রকাশিত পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রকের (MoSPI) প্রভিশনাল জিডিপি অনুমানে এই তথ্য উঠে এসেছে।

    ৩২৩ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়াল প্রকৃত জিডিপি

    মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ ভিত্তিবর্ষের নিরিখে দেশের প্রকৃত জিডিপি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২৩.১২ লক্ষ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবর্ষে ছিল ২৯৯.৮৯ লক্ষ কোটি টাকা। বর্তমান মূল্যে (নমিনাল) ভারতের জিডিপি হয়েছে ৩৪৬.৩৬ লক্ষ কোটি টাকা, যা এক বছরে ৮.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই অঙ্ক ছিল ৩১৮.০৭ লক্ষ কোটি টাকা।

    জিভিএ-তেও শক্তিশালী বৃদ্ধি

    অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড (GVA)-তেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রকৃত জিভিএ বৃদ্ধি পেয়েছে ৭.৯ শতাংশ, যা আগের বছরে ছিল ৭.৩ শতাংশ। প্রকৃত জিভিএর পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ২৯৪.৯১ লক্ষ কোটি টাকা। অন্যদিকে, নমিনাল জিভিএ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৪.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা, যা বছরে ৯.১ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করছে।

    শেষ ত্রৈমাসিকে আরও গতি

    অর্থবর্ষের শেষ তিন মাসে অর্থনীতির গতি আরও বেড়েছে। জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬ ত্রৈমাসিকে প্রকৃত জিডিপি দাঁড়িয়েছে ৮৭.৭৭ লক্ষ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৮১.৪০ লক্ষ কোটি টাকা। ফলে ত্রৈমাসিক বৃদ্ধির হার হয়েছে ৭.৮ শতাংশ। এই সময়ে নমিনাল জিডিপি বেড়ে ৯৪.৬৫ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে, যা ৯.১ শতাংশ বৃদ্ধির সমান। একইসঙ্গে প্রকৃত জিভিএ ৭.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮০.১৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন, নির্মাণ, পরিষেবা, পরিবহণ এবং কৃষি খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স এই প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।

    কৃষি ও পরিকাঠামো খাতের বড় অবদান

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক চিত্র দেখা গিয়েছে। খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়েছে ৫.৩ শতাংশ। ধান, গম এবং অন্যান্য শস্যের উৎপাদন বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ। পরিকাঠামো খাতে সিমেন্ট উৎপাদন বেড়েছে ৮.৭ শতাংশ এবং সমাপ্ত ইস্পাতের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে ৮ শতাংশ, যা নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে জোরালো কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এছাড়া বাণিজ্যিক যানবাহন বিক্রি বেড়েছে ১২.৬ শতাংশ এবং তিন চাকার গাড়ির বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে ১২.৮ শতাংশ। গৃহস্থালি যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন ১৭.৪ শতাংশ, যাত্রী পরিবহণ যান ১৪.৭ শতাংশ এবং পণ্যবাহী যান ১৮.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    পরিষেবা ও রফতানি খাতের শক্তিশালী ভূমিকা

    ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে পরিষেবা খাতও বড় ভূমিকা পালন করেছে। আন্তর্জাতিক বিমান যাত্রী ও কার্গো পরিবহণ বেড়েছে ৯.৭ শতাংশ, আর অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৩.৭ শতাংশ। রেলপথে যাত্রী পরিবহণও ৫.৩ শতাংশ বেড়েছে, যা ভ্রমণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণকে নির্দেশ করছে। বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ছবি দেখা গিয়েছে। পণ্য ও পরিষেবা রফতানি বেড়েছে ৯.৩ শতাংশ, যদিও আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১১.১ শতাংশ। বিশেষভাবে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম আমদানি ১৯.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া শিল্প বিনিয়োগ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    রাজস্ব আদায়েও উন্নতি

    কেন্দ্র সরকারের রাজস্ব সংগ্রহেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। শুল্ক (কাস্টমস) আদায় বেড়েছে ১৩.৫ শতাংশ, কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক বেড়েছে ১৩.৯ শতাংশ এবং সিজিএসটি সংগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে ৬.৪ শতাংশ। অন্যদিকে কৃষকদের সহায়তায় সার ভর্তুকি ২১.৭ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই পরিসংখ্যানগুলি ২০২২-২৩ ভিত্তিবর্ষ ধরে তৈরি নতুন জিডিপি সিরিজের আওতায় প্রস্তুত করা হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এই নতুন সিরিজ চালু করা হয়। চতুর্থ ত্রৈমাসিক পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রভিশনাল অনুমানগুলি দ্বিতীয় অগ্রিম অনুমানের পরিবর্তে প্রকাশ করা হয়েছে। শিল্প উৎপাদন, জিএসটি সংগ্রহ, কর্পোরেট ফলাফল, কৃষি উৎপাদন, পরিবহণ, বাণিজ্য এবং সরকারি আর্থিক তথ্যের মতো একাধিক সূচকের ভিত্তিতে এই হিসেব তৈরি করা হয়েছে।

    বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির অন্যতম ভারত

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭.৭ শতাংশে পৌঁছানো এবং শেষ ত্রৈমাসিকে ৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন ভারতের অর্থনীতির দৃঢ়তা ও স্থিতিশীলতার প্রমাণ বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিষেবা খাতের ধারাবাহিক সম্প্রসারণের ফলে ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতিগুলির মধ্যে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করেছে।

  • Firhad Hakim: ছোট লালবাড়িতেও তৃণমূলের শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান! কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা ফিরহাদের

    Firhad Hakim: ছোট লালবাড়িতেও তৃণমূলের শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান! কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা ফিরহাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে মেয়র পদে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। শুক্রবার কলকাতা পুরসভায় একটি সাংবাদিক বৈঠক করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে প্রায় সাড়ে সাত বছর মেয়র পদে ছিলেন কলকাতা বন্দরের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ। শুক্রবার কলকাতা পুরসভার চেয়ারম্যান মালা রায়ের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ফিরহাদ। এর ফলে বিধাননগরের পর এবার ভাঙল কলকাতা পুরসভাও (KMC)। পালাবদলের রাজ্যে পদ ছাড়লেন কলকাতার মেয়র। তিনি এও বলেন, ‘অনেক কাজ অসম্পূর্ণ থেকে গেল’।

    কেন ইস্তফা ফিরহাদের

    ইস্তফা দেওয়ার কারণ জানিয়ে ফিরহাদ বলেন, “দাপটের সঙ্গে কাজ করেছি। যাঁরা পুরসভায় আসতেন, তাঁদের সমস্যার সমাধান করার কাজ করতাম। এখন সেটা সম্ভব হচ্ছে না। চেয়ারের সম্মানহানি করতে পারি না। চেয়ার ধরে বসে থাকলাম অথচ ঢাল নেই, তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার। তাই আমি আজ ইস্তফা দিচ্ছি।” ইস্তফায় দলনেত্রী অনুমোদন দিয়েছেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে ফিরহাদ বলেন, “দলের তরফে আমি অনুমতি চেয়েছিলাম। সসম্মানে চলে যেতে চাই। উনি (মমতা) বলেছেন ঠিক আছে।” রাজ্যের নতুন সরকার ও নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে আবেদনও করেন তিনি। রাজ্যের প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী বললেন, “নতুন সরকারের কাছে ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য। আমরা সকলের এখানে মানুষের জন্য রয়েছি। আমরা মানুষকে সহায়তা করব। মানুষের জন্য কাজ করব। আর যে সর্বতকৃষ্ট কাজ করবে, মানুষ তাঁকেই নির্বাচিত করবে। তাই শুভেচ্ছা দিয়ে আমি এই চেয়ার আজ খালি করলাম।”

    মেয়াদ শেষ হওয়ার মাস পাঁচেক আগেই ইস্তফা

    ফিরহাদ কলকাতা পুরসভার ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। ২০০০, ২০০৫ এবং ২০১০ সালে এই ওয়ার্ড থেকেই তৃণমূলের টিকিটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে ফিরহাদ পুরভোটে লড়েননি। ২০১৫ সালে ৮২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রণব বিশ্বাস। ২০১৮ সালে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পর কলকাতার মেয়র হওয়ার পর ওই ওয়ার্ড থেকেই উপনির্বাচনে জিতে আসেন ফিরহাদ। ২০২১ সালে ৮২ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই পুনর্নির্বাচিত হয়েছিলেন। মেয়র হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ার মাস পাঁচেক আগেই ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ। ফিরহাদের ইস্তফার সঙ্গেই ছোট লালবাড়িতে (কলকাতার পুরসভার লালরঙা ভবন) তৃণমূল শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান হল বলেই মনে করা হচ্ছে।

  • K Annamalai Quits BJP: মিলল না দৃষ্টিভঙ্গি! দল ছাড়লেন আন্নামালাই, তামিল রাজনীতিতে নয়া চমক

    K Annamalai Quits BJP: মিলল না দৃষ্টিভঙ্গি! দল ছাড়লেন আন্নামালাই, তামিল রাজনীতিতে নয়া চমক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জল্পনার অবসান। ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) ছাড়লেন তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu BJP) প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি কে আন্নামালাই (K Annamalai)। আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করেছে দল। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের কাছে পাঠানো ইস্তফাপত্র গ্রহণের মাধ্যমেই দক্ষিণের রাজনীতিতে এক বড় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘ফ্যান’ কে আন্নামালাই ২০২০ সালে আইএএস পদ থেকে ইস্তফা দেন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য। তবে ৬ বছরেই সেই যাত্রার ইতি হল।

    আন্নামালাইয়ের ইস্তফা গ্রহণ

    শুক্রবার বিজেপির তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন তামিলনাড়ুর প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি কে আন্নামালাইয়ের দলের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা গ্রহণ করেছেন। চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবারই দিল্লিতে গিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির সঙ্গে দেখা করেন আন্নামালাই। উভয় সম্মতিতেই তিনি দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চান বলে জানান। এরপরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষের সঙ্গেও দেখা করেন। তখন দলের তরফে তাঁকে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল। সূত্রের খবর, আন্নামালাইকে রাজ্যসভার সাংসদ পদও অফার করা হয়, কিন্তু তিনি নিজের সিদ্ধান্তেই অনড় ছিলেন। আজ শেষ পর্যন্ত ইস্তফা দিলেন তিনি।

    নতুন দল গঠন আন্নামালাই-এর

    ইস্তফাপত্রে আন্নামালাই লিখেছেন, “জাতীয় দলগুলি কখনও এমন ভাষায় কথা বলে না যা তামিলনাড়ুর মানুষেরা বোঝেন। আমি এই ধারণা বদল করতে চেয়েছিলাম এবং ভিতরে-বাইরে নানা বাধা বিপত্তি সত্ত্বেএ বেশ কিছু সাফল্য পেয়েছিলাম।” বিগত ১৮ মাস ধরে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর বনিবনা হচ্ছে না বলেই জানিয়েছেন আন্নামালাই। ইস্তফাপত্রে লিখেছেন, “আমি শীর্ষ নেতৃত্বের উপরে আর বোঝা চাপাতে চাই না তামিলনাডুর রাজনীতি নিয়ে। শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে আমি এই সিদ্ধান্তে এসেছি যে তামিলনাড়ু নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি মেলে না।” ইস্তফার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন দল গঠনের কথা প্রকাশ্যে জানান তিনি। পাশাপাশি, আগামী তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে নিজের নতুন দলের ব্যানারেই লড়াই করার ইঙ্গিত দেন আন্নামালাই।

    কেন দলত্যাগ আন্নামালাইয়ের

    ৪১ বছর বয়সী প্রাক্তন এই আমলার দলত্যাগ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। সূত্রের খবর, বিজেপি ছেড়ে এবার আন্নামালাই নিজের রাজনৈতিক দল তৈরি করতে পারেন। ২০২০ সালে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্য়েই তাঁকে রাজ্য় বিজেপির ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হয়। এক বছর পরে বিজেপি তাঁকে রাজ্য সভাপতি করে। মাত্র ৩৭ বছর বয়সেই এত বড় পদ পান আন্নামালাই। এরপরে ২০২৩ সালে কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে কো-ইনচার্জও করা হয়। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এআইএডিএমকে-র সঙ্গে জোট বাধা নিয়েই দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। আন্নামালাই যে আসনে লড়তে চেয়েছিলেন, সেই আসন না দেওয়াতেই আরও বিরোধ তৈরি হয়। এআইএডিএমকে-র ইকে পালানিস্বামীর সঙ্গে তাঁর বিরোধের জেরেই এই ইস্তফা বলে মনে করা হচ্ছে।

  • West Bengal Assembly: জাতীয় ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশনে যুক্ত পশ্চিমবঙ্গ, দেশের সব আইনসভা এখন এক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে

    West Bengal Assembly: জাতীয় ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশনে যুক্ত পশ্চিমবঙ্গ, দেশের সব আইনসভা এখন এক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্র সরকারের ‘ওয়ান নেশন–ওয়ান অ্যাপ্লিকেশন’ উদ্যোগের আওতায় জাতীয় ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশন (NeVA)-এ যোগ দিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। বুধবার (৪ জুন) একটি ত্রিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ দেশের শেষ রাজ্য হিসেবে এই ডিজিটাল আইনসভা ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত হল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক ও সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju), আইন ও বিচার প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল (Arjun Ram Meghwal) তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এল মুরুগান (L. Murugan) এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোস (Rathindra Bose)। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    দেশের ৩৩টি আইনসভা একই প্ল্যাটফর্মে

    সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্তির ফলে দেশের ৩৩টি আইনসভা প্রতিষ্ঠান এখন নেভা (NeVA) প্ল্যাটফর্মের আওতায় এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে লোকসভা, রাজ্যসভা এবং ২৮টি রাজ্য ও দিল্লি, জম্মু ও কাশ্মীর এবং পুদুচেরি—এই তিন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা। এছাড়াও অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, তেলঙ্গানা এবং উত্তরপ্রদেশের ছয়টি বিধান পরিষদও ইতিমধ্যে নেভা-র সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এদিন সমঝোতা স্মারকে কেন্দ্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব ড. সত্য প্রকাশ, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পক্ষে প্রধান সচিব সৌমেন্দ্রনাথ দাস এবং রাজ্যের সংসদ বিষয়ক দফতরের বিশেষ সচিব সম্পা ধর।

    পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এই প্রকল্পে যোগ দিতে অনীহা দেখিয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন সরকার বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মতো ‘ওয়ান নেশন–ওয়ান অ্যাপ্লিকেশন’ উদ্যোগেও অংশগ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মতো বৃহৎ আইনসভায় এখনও কাগজের মাধ্যমে ভোটাভুটি হত। কোনও ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা বা কার্যবিবরণীর লাইভ স্ট্রিমিং চালু ছিল না। পূর্ববর্তী সরকার এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি।” মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এর ফলে রাজ্যের মানুষ আধুনিক ও স্বচ্ছ ডিজিটাল আইনসভা ব্যবস্থার সুবিধা থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিলেন।

    কী এই ন্যাশনাল ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশন?

    ন্যাশনাল ই-বিদান অ্যাপ্লিকেশন (NeVA) হল সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের একটি মিশন মোড প্রকল্প, যার উদ্দেশ্য দেশের সব আইনসভার কার্যক্রমকে ডিজিটাল ও কাগজবিহীন করা। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রশ্নোত্তর, বিল, নোটিস, আশ্বাস, কমিটির কার্যবিবরণী, কার্যতালিকা ও বুলেটিনসহ আইনসভার সমস্ত কাজ ডিজিটালভাবে পরিচালনা করা যায়। পাশাপাশি আইনসভার নথিপত্রের একটি স্থায়ী ডিজিটাল ভান্ডারও তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু পশ্চিমবঙ্গকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল আইনসভায় রূপান্তরের জন্য কেন্দ্রের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই উদ্যোগকে রাজ্যের প্রশাসনিক আধুনিকীকরণ ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন।

     

     

     

     

     

  • Modi on World Environmental Day: বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির, নলবনে বৃক্ষরোপণ মুখ্যমন্ত্রীর

    Modi on World Environmental Day: বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির, নলবনে বৃক্ষরোপণ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণে প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। তিনি পরিবেশ রক্ষায় নিবেদিত সকল ব্যক্তি ও সংগঠনকে অভিনন্দন জানান এবং বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা সময়ের দাবি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একাধিক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী (Modi on World Environmental Day) উল্লেখ করেন যে, গত এক দশকে কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের সবুজ আচ্ছাদন বৃদ্ধি এবং বহু বন্যপ্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাঁর মতে, জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, কার্যকর নীতি, বিজ্ঞানভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং উদ্ভাবন পরিবেশের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

    ভারতীয় সংস্কৃতিতে প্রকৃতির গুরুত্ব

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ভারতের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য দেশের গর্ব। দেশের বিভিন্ন বাস্তুতন্ত্র অসংখ্য প্রাণী ও মানুষের জীবিকা রক্ষা করে চলেছে।’’ তিনি বিশেষভাবে গ্রেট ইন্ডিয়ান বাস্টার্ড, স্নো লেপার্ড, স্লথ বিয়ার এবং চিতাবাঘ সংরক্ষণ কর্মসূচির সাফল্যের কথা তুলে ধরে জানান, ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বন্যপ্রাণী ও বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। তিনি আরও জানান, ‘এক পেড় মা কে নাম’ (Ek Ped Maa Ke Naam) উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ১.১৯ লক্ষ হেক্টর নতুন বনাঞ্চল যুক্ত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ভারতীয় সংস্কৃতিতে প্রকৃতি সংরক্ষণের গভীর ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা ও প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানের এই বার্তা ভারতীয় ঐতিহ্য ও জ্ঞানের এক অনন্য প্রতিফলন। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রধানমন্ত্রী দেশের নাগরিকদের পরিবেশ রক্ষায় আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

    কবে থেকে পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস

    প্রতিবছর ৫ ই জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব পরিবেশ দিবস। ১৯৭২ সালে ইউনাইটেড নেশনস-এর উদ্যোগে এই দিবসের সূচনা হয়। পরিবেশ রক্ষা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই ছিল যাদের মূল উদ্দেশ্য়। অতিরিক্ত শিল্পায়ন, প্লাস্টিকের ব্যবহার, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এর প্রভাব হিসেবে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা বাড়ছে। তাই পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

    বিশ্ব পরিবেশ দিবসে শাহি বার্তা

    বিশ্ব পরিবেশ দিবসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশবাসীকে প্রকৃতি সংরক্ষণের বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পরিবেশ রক্ষা একটি যৌথ দায়িত্ব। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদন এবং বার্ষিক বনভূমি বৃদ্ধিতে বিশ্বে শীর্ষ তিনটি দেশের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। তাঁর কথায়, পরিবেশ রক্ষা শুধুমাত্র সরকারের কাজ নয়, এটি সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে পরিবেশ সংরক্ষণ আজ একটি বিশ্বজনীন আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণে ভারতের পদক্ষেপের কথাও বলেন তিনি। সৌরশক্তি, ন্যাশনাল গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন এবং লক্ষ লক্ষ বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে ভারত টেকসই উন্নয়নের পথে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। ভারতের বার্ষিক বনভূমি বৃদ্ধির হার বিশ্বের প্রথম তিনটি দেশের মধ্যে অন্যতম। কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) প্রকৃতি রক্ষায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। গত ৬ বছরে তারা ৭.৫ কোটিরও বেশি গাছের চারা রোপণ করেছে এবং সেগুলির সম্পূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ করছে। অমিত শাহ আরও স্পষ্ট করেছেন যে, প্রকৃতি ও পরিবেশকে সুরক্ষিত রেখে একটি সবুজ, নিরাপদ এবং সুস্থ ভারত গড়ে তুলতে ভারত সরকার দায়বদ্ধ।

    পরিবেশ দিবসে মুখ্যমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ

    আজ, শুক্রবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বছরভর বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা করেছে রাজ্য সরকার। এ দিন সকালে সল্টলেকের নলবনে সেই কর্মসূচির সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তু ‘একটি গাছ মায়ের নামে ২০২৬’। নলবনে এ দিন বৃক্ষরোপণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। হাজির ছিলেন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া, লকেট চট্টোপাধ্যায়, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শদাতা সুব্রত গুপ্ত এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্তারা। বৃক্ষরোপণের পরে নলবন ভেড়িতে মাছের চারা ছাড়েন মুখ্যমন্ত্রী।

    রাজ্যেও “এক পেড় মা কে নাম”

    প্রধানমন্ত্রীর “এক পেড় মা কে নাম” প্রকল্পের আদলে রাজ্যেও শুরু হচ্ছে বড়সড় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ। ২০২৪ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন, এবার সেই পথ অনুসরণ করেই পশ্চিমবঙ্গে গাছ লাগানোর বিশেষ অভিযান শুরু করতে চলেছে প্রশাসন। এই কর্মসূচির আওতায় রাজ্যে মোট প্রায় ১.১ কোটি চারাগাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ মানুষকেও এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে জেলা ও কলকাতা পুরসভা স্তরে প্রায় ৫ হাজার করে চারাগাছ রোপণ করা হবে। ব্লক স্তরে ১০০টি করে এবং পুরসভা এলাকায় ২০০টি করে চারাগাছ লাগানো হবে। পাশাপাশি বরো স্তরে ৩০০টি করে চারা রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এছাড়া প্রত্যেক বিধায়ককে তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় ১ হাজারটি করে গাছ লাগানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরো প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি সমন্বয় টিমও গঠন করা হয়েছে। এই কর্মসূচি চলবে আগামী ৫ জুন থেকে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত। পরিবেশ রক্ষায় জনসাধারণকে আরও বেশি করে যুক্ত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।

  • Suvendu Adhikari: রাজ্যে নতুন ৪৪টি জেটি, পৃথক জাহাজ দফতর! জাহাজমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শুভেন্দু অধিকারীর

    Suvendu Adhikari: রাজ্যে নতুন ৪৪টি জেটি, পৃথক জাহাজ দফতর! জাহাজমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শুভেন্দু অধিকারীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে নবান্নে বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল। বৈঠকে সঙ্গে ছিলেন জাহাজ মন্ত্রকের অন্যান্য আধিকারিকরাও। জানা গিয়েছে, রাজ্যের নতুন বন্দরের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতেই এই বৈঠক। এ ছাড়াও রাজ্যের বর্তমান বন্দরগুলোর পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয় এই বৈঠকে। পশ্চিমবঙ্গের উন্নতির জন্য সর্বাগ্রে প্রস্তুত ডাবল ইঞ্জিন সরকার, নবান্নে বৈঠকের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী।

    ৪৪টি নতুন জেটি

    শুভেন্দু জানিয়েছেন, ৪৪টি নতুন জেটি তৈরি করা হবে। তার অনুমোদন এত দিন ঝুলে ছিল। তবে সম্প্রতি ৪১টি জেটির জন্য সরকার অনুমোদন পেয়ে গিয়েছে। সেই অনুযায়ী কাজ শুরু হবে। কপিল মুনির আশ্রম এবং সাগর দ্বীপ নিয়ে সার্বিক ভাবে রাজ্য সরকারের যা অনুরোধ ছিল, কেন্দ্র তা মেনে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরের মেলায় রূপান্তরিত করতে কেন্দ্রের সব রকম সহযোগিতা পাওয়া যাবে। বলাগড়েও বন্দর যোগাযোগ সংক্রান্ত কাজ এবং ভাঙন রোধের পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে। রাজ্যে পৃথক জাহাজ দফতর তৈরি করতে চায় শুভেন্দুর সরকার। কেন্দ্রের সঙ্গে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। যোগ্য আধিকারিকদের এ বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু।

    মমতা সরকারের অপরিকল্পিত ভাবনা

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ২০২২ সালে আদানি গোষ্ঠীকে লেটার অফ ইন্টেন্ট দিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু তারপর দু বছরের বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও কাজ না শুরু হওয়ায় রাজ্য সরকার টেন্ডার বাতিলের চিন্তাভাবনা শুরু করে। এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে তত্‍কালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার বৈঠকে আদানি গোষ্ঠীকে দেওয়া লেটার অফ ইন্টেন্ট বাতিল করা হয়। যার নির্যাস, তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্প (Tajpur Deep Sea Port) বিশবাঁও জলে। ২০২৩ সালের বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্পের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করবে রাজ্য সরকার। টেন্ডার মূল্য প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকা। এরপর তাজপুর নিয়ে আরও কোনও আলোচনাই হয়নি। রাজ্যের প্রস্তাবিত ওই প্রকল্প নিয়ে ফের চর্চা শুরু হয় বুধবার অর্থাত্‍ ৩ জুন আদানি পোর্টের এমডি করণ আদানির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মিটিংয়ের পর।

    কেন দাঁড়ায়নি প্রকল্প

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর কথায়,‘‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরে মুল্যায়ন করতে গিয়ে দেখেছি, সরকারের হাতে কোনও জমিই ছিল না। আমি তখন বিরোধী দলনেতা হিসেবেও বারবার বলেছিলাম, তাজপুর বন্দরের প্রকল্প কখনও দাঁড়াবে না, যতদিন না রেল, জাতীয় সড়ক যোগাযোগ ও ওয়্যারহাউসের জন্য কয়েক হাজার একর জমি না পাওয়া যায়। ফাইনালি সরকার পরিবর্তন হওয়ার পরে আমাদের আধিকারিকরা যা মূল্যায়ন করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে, ওখানে পোর্ট সম্ভবই নয়। কারণ রাজ্য সরকারের হাতে কোনও জায়গাই নেই। কিন্তু মানুষকে আমরা আশাহত করছি না, আমরা একটি প্রস্তাব দিয়েছি, তাজপুর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবাড়, যেখানে নুনের পুরনো ফ্যাক্টরি ছিল, সেখানে ১৭০০ একর জমি রাজ্য সরকারের হাতে রয়েছে। আমরা এবার এই জমি নিয়েই এগোবো। ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার রেভিনিউ শেয়ারিংয়েও আমরা রাজি আছি।’’

    ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) আরও জানান, সাগরমালায় যুক্ত হবে বাংলা। শিপিং, লজিস্টিকস এবং আমদানি রপ্তানি ব্যবসার জন্য পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প সাগরমালা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, পূর্বতন সরকার ‘অনিচ্ছা এবং অপদার্থতার’ জন্য এই প্রকল্পের অংশ হয়নি। তার ফলে সাগরমালা ১ হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে। এবার কেন্দ্র সরকারের উদ্যোগে বাংলা সাগরমালা ২-এর অধীনে এল। তার ফলে রাজ্যে ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাংলায় হবে বলেই আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর।

     

     

     

     

  • Suvendu Adhikari: দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর! কলকাতায় ওয়াটার মেট্রো, সাগরমালায় যুক্ত হবে বাংলা একগুচ্ছ ঘোষণা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর! কলকাতায় ওয়াটার মেট্রো, সাগরমালায় যুক্ত হবে বাংলা একগুচ্ছ ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জমি না থাকার ফলে তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর (Tajpur Seaport) হওয়া সম্ভব নয়। বিকল্প হিসেবে দাদনপত্রবাড়ে হতে পারে গভীর সমুদ্রবন্দর। বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে এমনটাই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানিয়েছেন, তাজপুরের প্রকল্পটি সম্পর্কে আদানিদের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে। ওই প্রকল্পের জন্য পর্যাপ্ত জমি রাজ্য সরকারের কাছে নেই। তাই তাজপুর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে দাদনপাত্রবাড়কে কেন্দ্র করে নতুন পরিকল্পনা সাজিয়েছে সরকার। সেখানে ১৭০০ একর জমি রাজ্যের মালিকানাধীন। বন্দর, উপকূলবর্তী এলাকা এবং কলকাতার নদী সংলগ্ন এলাকা নিয়ে বৃহস্পতিবার নবান্নে একটি বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই নির্দিষ্ট কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর

    পূর্বতন রাজ্য সরকারের আমল থেকেই শোনা গিয়েছিল তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি হবে। তার ফলে বদলে যাবে তাজপুরের চেহারা। বাড়বে কর্মসংস্থান। তবে সে প্রকল্প আজও বাস্তবায়িত হয়নি। রাজ্য সরকারের পালাবদলের পর এই বিষয়ে নজর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার করণ আদানির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বাস্তব সমস্যা উপলব্ধি করেই শিল্পের জন্য বিকল্প পথ খুঁজলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন শুভেন্দু বলেন, “তাজপুরে সরকারের কাছে জমি নেই। তাই সেখানে গভীর সমুদ্রবন্দর হওয়া সম্ভব নয়। তার পরিবর্তে তাজপুর থেকে ১০ কিমি দূরে দাদনপাত্রবাড়ে যেখানে নুনের পুরনো কারখানা ছিল সেখানে ১ হাজার ৭০০ একর জমি রয়েছে। ওই জায়গাটির কথা করণ আদানিকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।” পরবর্তীকালে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলেও জানান তিনি।

    কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা

    কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের সঙ্গেও তাজপুর নিয়ে কথা হয়ে গিয়েছে শুভেন্দুর। তিনি বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে। তিনি অনুমতি দিয়েছেন। তাজপুরের বদলে দাদনপত্রবাড়ে আমরা বাস্তবসম্মত ভাবে এগোব।’’

    ওয়াটার মেট্রো কলকাতায়

    রাজ্য সরকারের পালাবদলের পরই কলকাতার জলপথ পরিবহণে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ভাবনাচিন্তায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, এবার কলকাতায় চালু হতে চলেছে ওয়াটার মেট্রো। এখনও পর্যন্ত দেশের মোট ১৭টি জায়গায় এই পরিষেবা চালু রয়েছে। ১৮ তম শহর হিসাবে যুক্ত হল তিলোত্তমার নাম। প্রথম পর্যায়ে গুয়াহাটি, শ্রীনগর, বারাণসী, অযোধ্যা, প্রয়াগরাজ, পাটনায় চালু হবে ওয়াটার মেট্রো। তেজপুর এবং ডিব্রুগড়েও চালু হওয়ার কথা ওয়াটার মেট্রো। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী বলেন, এবার কলকাতাতেও (Kolkata) চালু হবে ওয়াটার মেট্রো। বলে রাখা ভালো, নদী, খাল, হ্রদ বা জলপথ ব্যবহার করে একটি আধুনিক নৌযান হল ওয়াটার মেট্রো। এটি কলকাতা মেট্রোর মতোই সময় ধরে চলাচল করবে। কলকাতা ও হাওড়ায় রয়েছে হুগলি নদী। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করেন। তাই জলপথে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হলে উপকৃত হবেন বহু যাতায়াতকারী। যন্ত্রচালিত হওয়ায় অতি দ্রুত এক স্থান থেকে অন্যত্র যাতায়াতে সম্ভব। তাই স্বাভাবিকভাবে ওয়াটার মেট্রোর মাধ্যমে যাত্রীরা অতি দ্রুত নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছতে পারবেন। তার উপর আবার এই ওয়াটার মেট্রো পরিবেশবান্ধব। তার ফলে পরিবেশেরও কোনও ক্ষতি হবে না। ভাড়ায় মানুষের নাগালের মধ্যে। তাছাড়া পর্যটনের ক্ষেত্রেও এই ওয়াটার মেট্রো যথেষ্ট আকর্ষণীয়। তাই ওয়াটার মেট্রো চালু হলে কলকাতাবাসী যে যথেষ্ট উপকৃত হবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

    সাগরমালায় যুক্ত হবে বাংলা

    কেন্দ্রের ‘সাগরমালা ২’ প্রকল্পেও পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দুর সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সাগরমালা ১ প্রকল্পে আগের সরকার যুক্ত হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি কমিটি গঠন করার কথা ছিল। কিন্তু ‘সাগরমালা ২’ আবার শুরু হচ্ছে। আমরা তাতে যুক্ত হব। এই প্রকল্পের একটি প্রস্তাবনা আমরা প্রস্তুত করব। পাঁচ বছরের জন্য ২২৭০০ কোটি টাকার প্রস্তাব তৈরি করা হবে। তাতে বন্দরের যোগাযোগ ব্যবস্থা, উপকূল অঞ্চলে মাছ ধরার পরিকাঠামো, সাগর, কাকদ্বীপ, নামখানা, নয়াচর, খেজুরি থেকে শুরু করে ওড়িশার সীমান্ত পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের কষ্ট দূর করতে উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হবে।’’

    কলকাতার সমস্ত ঘাটের সৌন্দর্যায়ন

    কলকাতা নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। শহরের সমস্ত ঘাটের সৌন্দর্যায়ন এবং পুনর্নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, বাগবাজার ঘাট, শোভাবাজার ঘাট, আহিরিটোলা ঘাট, মল্লিকঘাট, বাবুঘাট, রামকৃষ্ণপুর ঘাট, বান্দা ঘাট নিয়ে সরকার কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে দু’টি ঘাটের সৌন্দর্যায়নের কাজ শেষ। বাকিগুলির কাজও দ্রুত শেষ করতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। দুর্গাপুজোর মধ্যেই ঘাটগুলির নবীকরণ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে সরকার। ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব এবং মা সারদাদেবীর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহ্যকে এই ঘাটগুলির সৌন্দর্যায়নে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হবে।

    কলকাতা বন্দরে অবৈধ সিন্ডিকেট

    শহরে জমি জবরদখল এবং বিপজ্জনক বাড়িতে বসতি নিয়েও নবান্নের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, পুরসভাকে এই সংক্রান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। যদি তাঁরা জমি দেন, সরকার আর্থিক ভাবে দুর্বল শ্রেণিকে ঘর বানিয়ে দেবে। এ ছাড়া, কলকাতা বন্দরে অবৈধ সিন্ডিকেট, তোলাবাজি রুখতে এ বার থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষ, পুরসভা, পুলিশ, সিআইএসএফ, কাস্টম্‌স এবং গোয়েন্দা বিভাগ একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

     

     

     

  • FIR Against Mamata: হাদি হত্যা নিয়ে দেশবিরোধী মন্তব্য মমতার! দেশের তথ্য ফাঁসের অভিযোগে এফআইআর দায়ের

    FIR Against Mamata: হাদি হত্যা নিয়ে দেশবিরোধী মন্তব্য মমতার! দেশের তথ্য ফাঁসের অভিযোগে এফআইআর দায়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের ওসমান হাদি হত্যা নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিতর্কিত মন্তব্য গুরুত্ব পেল না পদ্মাপাড়েই। উল্টে ফের মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হল। উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখার জন্য শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পদ থেকে সরতেই কীভাবে দেশের অন্দরের তথ্য ফাঁস করলেন মমতা, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। গত ২ জুন রানি রাসমণি রোডের ভরা সভা থেকে নাম না করে বাংলাদেশের ওসমান হাদি হত্যা নিয়ে বিতর্কিত কথা বলেন মমতা। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে জড়িয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য ছুঁড়ে দেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

    কেন অভিযোগ দায়ের

    আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায় মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে খুন হন বিতর্কিত ওসমান হাদি। হাদির হত্যাকারীরা গত জানুয়ারিতে মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে এ রাজ্যে এলে দুজনকে গ্রেফতার করে রাজ্যের এসটিএফ। এরপর এই নিয়ে ২ জুনের ভরা সভা থেকে মমতা নাম উল্লেখ না করলেও সেই প্রসঙ্গ তুলে ইঙ্গিত করেন, অন্য দেশে খুন হলেও কারা জড়িত তিনি জানেন। নাম জড়ান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরও। এতে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। সেই কারণেই রিঙ্কি শিলিগুড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

    বাংলাদেশকে ভারতের বিরুদ্ধে করার প্রয়াস

    রিঙ্কি বলেন, “উনি মুখ্য়মন্ত্রী থাকাকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যাই কথা হোক, সেটা এখন বাংলাদেশের একটা হত্যাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে সংগঠিত হত্যা বলে চালাচ্ছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করলেন। বিশ্বদরবারে ভারতের মাথা নত করলেন। বাংলাদেশের হিন্দুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেন। পদে আসার সময় শপথ নিয়েছিলেন যে উনি কোনওদিন দেশের গোপনীয়তা বজায় রাখবেন। যেই না পদ চলে গেছে অমনি উনি মৌলবাদীদের উস্কে দিলেন।” আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ধরনা মঞ্চ থেকে মমতা যে উক্তি করেছেন তা সাংঘাতিক। বাংলাদেশকে ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা। এর ফলে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর আক্রমণ বাড়বে।

    মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

    • ● ১৫২- দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC)
    • ● ১৫৩-দাঙ্গা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উস্কানি, জাতি ও ধর্মের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো
    • ● ১৫৩ এ- ধর্ম, জাতি, ভাষা, বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা, হিংসা, বা ঘৃণা ছড়ানো
    • ● ১৯১ ও ১৯২ ধারা- দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা
    • ● ১৯৬ ধারা-ধর্ম,বর্ণ,ভাষা বা অঞ্চলের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা বা বিদ্বেষ ছড়ানো এবং জনসম্প্রীতি বিনষ্ট করলে
    • ● ৩৫১- কোনও ব্যক্তিকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কাজ করতে বাধ্য করার চেষ্টা
    • ● ৩৫২-ইচ্ছাকৃত ভাবে শান্তি ভঙ্গ করার উদ্দেশ্য

    পাত্তা দিল না বাংলাদেশ

    তবে, বাংলাদেশের মূলধারা রাজনৈতিক দলগুলি তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্য নিয়ে তেমন একটা আগ্রহ দেখায়নি। কোন দলই পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর (West Bengal Ex CM) বক্তব্যকে গুরুত্ব দিতে চায়নি। বাংলাদেশের শাসক দল বিএনপি (BNP) সরকারিভাবে কোন প্রতিক্রিয়া না দিলেও সে দেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ মমতার বক্তব্যকে গুরুত্ব দেননি। তিনি বলেন, উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সদ্য নির্বাচনে হেরে গিয়েছেন। একজন ব্যক্তি বিশেষের কথা নিয়ে সরকারের‌ তরফে প্রতিক্রিয়া দেওয়া উচিত হবে না।

    কী বলেছেন মমতা

    মঙ্গলবার ধর্মতলায় তৃণমূলের ধর্না কর্মসূচিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের একটি হত্যা মামলার আসামি ভারতের মেঘালয় দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের পর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। হোম মিনিস্টার তখন আমাকে ফোন করে বলেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ যেন দেশের স্বার্থে এই ব্যাপারে মুখ না খোলে। তিনি আরও বলেন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? সবটাই জানি।’ তৃণমূল নেত্রীর ওই মন্তব্যের পর আলোচনায় আসে বাংলাদেশের ইসলামিক ঐক্য জোটের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ। গত বছর ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় দিন দুপুরে তাঁকে খুন করা হয়। তারই হত্যাকারীদের ভারতীয় পুলিশ গ্রেফতার করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে অনেকেই ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ বলে ধরে নিচ্ছেন। হোম মিনিস্টার বলতে তিনি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ইঙ্গিত করেছেন বলেও মনে করা হচ্ছে। যদিও তিনি অমিত শাহের নাম মুখে আনেননি। ‌ উল্লেখ করেননি হাদির নামও।

    মমতার মন্তব্য উদ্দেশ্য প্রণোদিত

    মঙ্গলবার ধর্মতলার কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত তাদের নাম যদি বলি তাহলে বাংলাদেশের তোলপাড় হবে। ওয়াকিবহাল মহলের অনেকের মতে, মমতার কথায় বাংলাদেশে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছিল। বাস্তবে সে‌ দেশের শাসক-বিরোধী কোনও দলই তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর বক্তব্যকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। বাংলাদেশের একাধিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রের খবর বিএনপি নেতৃত্ব একান্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছে। তারা মনে করছে নির্বাচনে ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রে শাসকদল বিজেপিকে নিশানা করতে এই মন্তব্য করেছেন। বিএনপির এক বর্ষীয়ান নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। সেখানে বিজেপি সরকার গড়েছে। এই পরিস্থিতিতে তার কোন মন্তব্য নিয়ে ভারতের সঙ্গে বিবাদে জড়াতে চায় না বিএনপি। ওই নেতার কথায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে একটি দেশ-বিরোধী পদক্ষেপ। ভারতের রাজনীতির এই অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে, তাই বিএনপি মাথা গলাতে আগ্রহী নয়। হাদির হত্যাকারীদের প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলে আবেদন জানিয়ে রেখেছে। দুই দেশ যৌথভাবে ওই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চালাচ্ছে।

  • PM Modi: টলছে নেহরুর আসন! ভারতে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী থাকার নজির গড়ার পথে মোদি

    PM Modi: টলছে নেহরুর আসন! ভারতে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী থাকার নজির গড়ার পথে মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঐতিহাসিক নজির গড়তে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে সবথেকে দীর্ঘ সময় ধরে একটানা দেশের প্রধান (Longest Serving Head of Government) হয়ে কাজ করার রেকর্ড গড়তে চলেছেন তিনি। আগামী ১০ জুন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচিত হতে চলেছে। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) একটানা দেশের দীর্ঘতম সময় দায়িত্বে থাকা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়বেন। তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর (Jawaharlal Nehru) ৬২ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে নতুন নজির স্থাপন করবেন।

    নেহরুর রেকর্ড ভাঙবেন মোদি

    ২০১৪ সালের ২৬ মে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে ১০ জুন, ২০২৬-এ মোদির টানা দায়িত্বকাল দাঁড়াবে ৪,৩৯৯ দিনে। এর ফলে তিনি নেহরুর ৪,৩৯৮ দিনের ধারাবাহিক প্রধানমন্ত্রিত্বের রেকর্ড অতিক্রম করবেন। নেহরু ১৯৫২ সালের ১৩ মে স্বাধীন ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন এবং ১৯৬৪ সালের ২৭ মে তাঁর মৃত্যুর আগে পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। এর আগেই ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই মোদি ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর (Indira Gandhi) দীর্ঘতম টানা প্রধানমন্ত্রিত্বের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যান। ইন্দিরা গান্ধী ১৯৬৬ সালের ২৪ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৭ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত মোট ৪,০৭৭ দিন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

    নেহরু ও মোদির শাসনকাল দুই ভিন্ন যুগের ছবি

    বিশেষজ্ঞদের মতে, নেহরু ও মোদির শাসনকাল দুই ভিন্ন যুগের প্রতিচ্ছবি। নেহরুর সময় ভারতের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৩৪ কোটি। অন্যদিকে ২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার সময় দেশের জনসংখ্যা ১৩১ কোটির বেশি ছিল, যা বর্তমানে ১৪৬ কোটিরও বেশি। দেশের গণতান্ত্রিক পরিসরও কয়েক দশকে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ১৯৫১-৫২ সালের প্রথম লোকসভা নির্বাচনে যেখানে ৫৩টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল, সেখানে ২০১৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয় ৪৬৪ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তা দাঁড়ায় ৭৪৪-এ। একইভাবে ভোটারের সংখ্যা প্রথম সাধারণ নির্বাচনের প্রায় ১৭ কোটি থেকে বেড়ে ২০১৪ সালে ৮৩ কোটিরও বেশি হয়।

    রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও পার্থক্য

    রাজনৈতিক পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও নেহরু ও মোদির সময়ের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। নেহরুর সময় কংগ্রেসের একচ্ছত্র প্রভাব ছিল। ১৯৫২ সালের নির্বাচনে দলটি ৪৮৯টির মধ্যে ৩৬৪টি আসনে জয়ী হয়েছিল। বিপরীতে, মোদির নেতৃত্বে ভারত বহু আঞ্চলিক দল, জোট রাজনীতি এবং তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুগে পরিচালিত হয়েছে। মোদি আরও একটি অনন্য কৃতিত্বের অধিকারী। তিনি প্রথম অ-কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী যিনি টানা দুইবার পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সরকার গঠন করেছেন। পাশাপাশি নেহরুর পর তিনিই প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি ক্ষমতাসীন নেতা হিসেবে পরপর তিনটি লোকসভা নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন।

    দুই যুগের প্রযুক্তিগত পার্থক্য

    প্রধানমন্ত্রী মোদির শাসনামলে দেশের উচ্চশিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোরও উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হয়েছে। ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে আইআইটির সংখ্যা ১৬ থেকে ২৩, আইআইএমের সংখ্যা ১৩ থেকে ২১ এবং এআইআইএমএসের সংখ্যা ৭ থেকে ২৩-এ উন্নীত হয়েছে। প্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও দুই যুগের মধ্যে বিশাল পার্থক্য দেখা যায়। নেহরু এমন এক সময় দেশ পরিচালনা করেছিলেন, যখন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, সামাজিক মাধ্যম বা তাৎক্ষণিক ডিজিটাল যোগাযোগের অস্তিত্ব ছিল না। অন্যদিকে মোদির শাসনকাল কেটেছে ২৪ ঘণ্টার সংবাদমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিবিড় নজরদারির মধ্যে।

    নির্বাচিত সরকার প্রধানের স্বীকৃতি

    প্রসঙ্গত, চলতি বছর মোদি ইতিমধ্যেই গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর সম্মিলিত দায়িত্বকাল ৮,৯৩০ দিন অতিক্রম করে দেশের দীর্ঘতম সময়ের নির্বাচিত সরকারপ্রধানের স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ারে আগেও একাধিক রেকর্ড গড়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনিই গুজরাটের সবথেকে বেশি সময় ধরে থাকা মুখ্যমন্ত্রী। সবথেকে বেশি সময় মুখ্যমন্ত্রীর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রধানমন্ত্রীও মোদিই। একইসঙ্গে তিনি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী যার জন্ম স্বাধীনতার পর। ২০১৪ সাল থেকে পরপর তিনবার লোকসভা নির্বাচনে জয়ের রেকর্ডও রয়েছে তাঁর।

    মোদির একাধিক রেকর্ড

    ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসেন নরেন্দ্র মোদি। ২০১৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন তিনি। এরপর জাতীয় রাজনীতিতে পা রাখেন। ২০১৪ সালের ২৬ মে দেশের ১৪তম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন। তিনিই প্রথম অ-কংগ্রেসী নেতা, যিনি লোকসভায় সম্পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন। অ-কংগ্রেসী প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও তিনি দুইবারের মেয়াদ পূরণ করে, তৃতীয় মেয়াদে দেশ সামলাচ্ছেন। এই বছর ডিজিটাল মাধ্যমেও একাধিক রেকর্ড গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ইউটিউবে তাঁর চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ৩০ মিলিয়ন অর্থাৎ ৩ কোটি পার করেছে। বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রনেতার থেকে তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যা বেশি। ইন্সটাগ্রামে প্রধানমন্ত্রী মোদির ফলোয়ার্সের সংখ্যা পার করেছে ১০০ মিলিয়ন। তিনিই বিশ্বের প্রথম রাজনৈতিক নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধান, যার ফলোয়ার্সের সংখ্যা ১০ কোটির বেশি। এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী মোদির ফলোয়ার্সের সংখ্যা ১০৬.৪ মিলিয়ন। প্রধানমন্ত্রী মোদির দীর্ঘ সময়ের শাসনামলে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ছাপ পড়েছে। বিশ্লেষকের মতে, মোদির নেতৃত্বে ভারত এক নতুন রাজনৈতিক ধারায় প্রবেশ করেছে, যার প্রভাব আগামী প্রজন্মেও পড়বে।

  • India Vs New Zealand: ‘ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সিরিজ’! শতবর্ষ উদযাপনে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে খেলবে ভারত

    India Vs New Zealand: ‘ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সিরিজ’! শতবর্ষ উদযাপনে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে খেলবে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইপিএল (IPL 2026) শেষ হতেই ফ্র্যাঞ্চাইজির জার্সি ছেড়ে দেশের জার্সি পরতে দেখা যাবে কোহলি (Virat Kohli), গিলদের (Shubman Gill)। চলতি বছরে নিউজিল্যান্ড সফরে যাচ্ছে ভারতীয় দল (India Vs New Zealand)। যেখানে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে বড় একটি সিরিজ খেলবে তারা। ৪০ দিনের সফরে মোট ১২ ম্যাচের এই সিরিজই হতে চলেছে কিউয়িদের মাটিতে ভারতের অন্যতম বৃহত্তম সফর। এর মধ্যে পাঁচ ম্যাচে মাঠে নামবেন তারকা ক্রিকেটাররা। সবার নজর বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার দিকে। বুধবার পূর্ণাঙ্গ সূচি ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট।

    কবে থেকে শুরু হচ্ছে সিরিজ

    নিউজিল্যান্ড বোর্ডের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২২ অক্টোবর থেকে ১ ডিসেম্বর হতে চলেছে এই সিরিজ। নিউজিল্যান্ডের প্রধান ৫ ভেন্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে ৫ টি-টোয়েন্টি, ৫ ওয়ান ডে ও ২ টেস্ট ম্যাচ খেলবেন স্যান্টনার, গ্লেন ফিলিপ্সরা। মোট ১২ ম্যাচের এই সফর আসলে কিউয়িদের ক্রিকেট ইতিহাসে সবথেকে বড় দ্বিপাক্ষিক সফর হতে চলেছে। অকল্যান্ডে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। দুটি টেস্ট খেলা হবে ওয়েলিংটন ও ক্রাইস্টচার্চে। যেহেতু এই সিরিজের মধ্যে ওয়ান ডে ম্যাচও রয়েছে, তাই এই সিরিজে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাকে খেলতে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে সমর্থকদের কাছে। ওয়ান ডে ম্যাচগুলি শুরু হবে ৪ নভেম্বর থেকে। দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্কের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে এই বিশেষ সিরিজ আয়োজন করা হয়েছে। সফর শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে। তারপর ওয়ানডে সিরিজ এবং শেষে টেস্ট।

    ভারতের বিরুদ্ধে খেলা সব সময় আকর্ষণীয়

    নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের মুখ্য বাণিজ্যিক কর্তা গ্লেন ক্রিচলি এই সিরিজ নিয়ে বলেন, “ক্রিকেটের দুনিয়ায় ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজের মতো বড় আকর্ষণ খুব কমই আছে। আমরা চাই সমর্থকদের এমন অভিজ্ঞতা দিতে, যা তারা আগে পায়নি। শুধু খেলা নয়, ভারত-নিউজিল্যান্ডের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের বন্ধনও উদ্‌যাপন করা হবে। বিরাট কোহলি, জশপ্রীত বুমরাহদের মতো তারকাদের খেলা দেখার সুযোগ পাওয়া সত্যিই বিশেষ ব্যাপার।” অন্যদিকে, আইসিসি তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ‘আয়োজকরা ভারতের মুখোমুখি হবে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি, পাঁচটি ওয়ানডে এবং দু’টি টেস্ট ম্যাচে। মোট ম্যাচের সংখ্যার দিক থেকে এই ১২ ম্যাচের সূচিটি নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের ইতিহাসে বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সফর হতে চলেছে।’ উল্লেখ্য, ২০১৯-২০ মরশুমের পর এই প্রথম নিউজিল্যান্ডে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে ভারত। যদিও কিউয়িরা সম্প্রতি দু’বার ভারত সফরে এসেছে। ২০২৪-২৫ মরশুমে ভারতকে হোয়াইটওয়াশও করেছে। নিউজিল্যান্ডের ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্পিনার ইশ সোধি বলেন, “ভারতের বিরুদ্ধে খেলা সব সময়ই উপভোগ করি। ওরা অসাধারণ দল। তারকা ও প্রতিভায় ভরপুর। সিরিজটা খুব কঠিন হতে চলেছে।”

    ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড সিরিজের সূচি

    টি-টোয়েন্টি

    ২২ অক্টোবর, ক্রাইস্টচার্চ
    ২৪ অক্টোবর, ক্রাইস্টচার্চ
    ২৭ অক্টোবর, ওয়েলিংটন
    ৩০ অক্টোবর, অকল্যান্ড
    ১ নভেম্বর, হ্যামিল্টন

    ওয়ানডে

    ৪ নভেম্বর, অকল্যান্ড
    ৭ নভেম্বর, ওয়েলিংটন
    ১০ নভেম্বর, হ্যামিল্টন
    ১৩ নভেম্বর, মাউন্ট মাউনগানুই
    ১৫ নভেম্বর, মাউন্ট মাউনগানুই

    টেস্ট

    ১৯-২৩ নভেম্বর, ওয়েলিংটন
    ২৭ নভেম্বর-১ ডিসেম্বর, ক্রাইস্টচার্চ

LinkedIn
Share