Author: ishika-banerjee

  • Bhutan Flash Flood: ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ফেটে হড়পা বান, বন্যা সতর্কতা জারি অসম ও বাংলার ৫ জেলায়

    Bhutan Flash Flood: ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ফেটে হড়পা বান, বন্যা সতর্কতা জারি অসম ও বাংলার ৫ জেলায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের পর ভুটান। হিমবাহ হ্রদ ফেট হড়পা বান আছড়ে পড়ল ভুটানের (Bhutan Flash Flood) গাসা জেলায়। জলের তোড়ে বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারেও। ভুটানের লেমথাং (Lemthang) এলাকায় বড়সড় হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটেছে, ঠিক যেমনটা ঘটেছিল দুই মাস আগে নেপালে। গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড (GLOF) বা হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণে উপচে পড়েছে হ্রদের জল। এই চলকে পড়া জলই মফু নদী হয়ে নামছে সঙ্কোশ নদীর দিকে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুটানের গাসা জেলার ওয়াকিলা পর্বতের নীচে অবস্থিত শিনতাফু হ্রদ (Shintaphu Tsho) থেকে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত। হড়পা বানের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ প্রকল্প। পাশাপাশি পাহাড়ি রাস্তার একটি অংশে জমেছে বিপুল পরিমাণ পাথর, মাটি ও ধ্বংসাবশেষ। এই ঘটনার জেরে ভারতের উত্তরবঙ্গ ও অসমের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে হড়পা বানের জেরে ভুটানে ক্ষয়ক্ষতি হলেও উত্তরবঙ্গে সঙ্কোশ নদীর জলস্তর খুব একটা বাড়েনি। ফলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন আলিপুরদুয়ার জেলার ভুটান সীমান্তবর্তী কুমারগ্রাম ব্লকের বাসিন্দারা।

    কীভাবে ঘটল বিপর্যয়?

    ভুটানের গাসা জেলার ওয়াকিলা পর্বতের নীচে অবস্থিত শিনতাফু হ্রদটি মো চু নদী অববাহিকার উচ্চ পার্বত্য এলাকায় অবস্থিত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই হ্রদের জল উপচে পড়ে। হ্রদটি ভুটানের ১৭টি সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদের মধ্যে অন্যতম। ভুটানের ন্যাশনাল সেন্টার ফর হাইড্রোলজি অ্যান্ড মেটিওরোলজি (NCHM)-এর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, তাকতসিমাখাং এলাকায় জলস্তর পর্যবেক্ষণের একটি কেন্দ্র রয়েছে। তবে প্রাথমিক খবর পাওয়ার সময় সেখানে কোনও সতর্কবার্তা সক্রিয় হয়নি। হ্রদ থেকে ঠিক কতটা জল বেরিয়েছে এবং তার প্রভাব কতদূর পর্যন্ত পড়তে পারে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ভুটানের পুনাখা জেলার গুমা গেওগের অন্তর্গত দোচুখা-জোমলিংথাং-রিতসা চিওগ এলাকায় সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ উত্তোলন ব্যবস্থা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি বছরেই স্থানীয় বাসিন্দাদের জলের সমস্যা মেটাতে এই প্রকল্পটি চালু করা হয়েছিল। হড়পা বানের জেরে বর্তমানে প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, পুনাখা-গাসা হাইওয়ের জোমলিংথাং এলাকার একটি অংশে বানের জলে ভেসে আসা পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ জমে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ভুটানের দুর্গম লায়া অঞ্চল।

    কী এই হিমবাহ হ্রদ ফেটে হড়পা বান?

    হিমবাহ গলে তৈরি হওয়া হ্রদে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ জল জমা থাকে। প্রাকৃতিকভাবে তৈরি বরফ, পাথর বা মাটির বাঁধ ভেঙে গেলে কিংবা কোনও কারণে সেই বাঁধ অতিক্রম করে জল বেরিয়ে এলে ভয়াবহ হড়পা বান তৈরি হতে পারে। একেই বলা হয় গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড (Glacial Lake Outburst in Bhutan)। পাহাড়ি উপত্যকা দিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নেমে আসে এই জলস্রোত। সঙ্গে থাকে পাথর, কাদা, গাছের গুঁড়ি এবং অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ। ফলে মুহূর্তের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বসতি, সেতু, রাস্তা, কৃষিজমি ও অন্যান্য পরিকাঠামো। শিনতাফু হ্রদটি পুনাতসাংছু নদী অববাহিকার মধ্যে অবস্থিত। এই নদী ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করার পর সঙ্কোশ নামে পরিচিত। ফলে ভুটানে হ্রদ ফেটে যাওয়ার ঘটনায় ভারতের নিম্ন অববাহিকার এলাকাগুলিতেও বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    উত্তরবঙ্গ ও অসমের পাঁচ জেলায় সতর্কতা

    ভুটানে হড়পা বানের খবর পাওয়ার পর ভারতের তরফে সঙ্কোশ নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার এবং অসমের ধুবড়ি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে নদী সংলগ্ন নিচু এলাকা ও বসতিগুলির বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ ও বক্সিরহাট এলাকায় এনডিআরএফ এবং এসডিআরএফ-এর দল মোতায়েন করা হয়েছে। দুই এলাকাই সঙ্কোশ নদীর কাছাকাছি এবং অসম সীমান্ত সংলগ্ন। সম্ভাব্য বিপদের কথা জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। প্রশাসনিক সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছিল, ভুটান থেকে নেমে আসা বন্যার জল ছয় থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে ভারত-ভুটান সীমান্তে পৌঁছতে পারে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিকে।

    বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরানোর আবেদন মন্ত্রীর

    সঙ্কোশ নদীর জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কায় আলিপুরদুয়ার জেলার নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বনমন্ত্রী তথা কুমারগ্রামের বিধায়ক মনোজ কুমার ওরাঁও। ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, আগামী এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে কুমারগ্রাম এলাকায় সঙ্কোশ নদীতে জলের প্রবাহ বাড়তে পারে। তাই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে আগাম নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য বাসিন্দাদের অনুরোধ করেন তিনি। পাশাপাশি প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতার আবেদনও জানান। দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তাও সমাজমাধ্যমে জনসাধারণের উদ্দেশে সতর্কবার্তা জারি করেন। তাঁর দাবি, ভুটানের লেমথাং এলাকায় হিমবাহ হ্রদ ফেটে হড়পা বান তৈরি হয়েছে। সেই জল মফু নদী হয়ে সংকোশ নদীর দিকে এগিয়ে আসছে। সংকোশ এবং তার শাখা নদীগুলির অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। দার্জিলিং পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের বাসিন্দাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সাংসদ।

    আশ্রয়কেন্দ্রে কয়েক হাজার মানুষ

    প্রশাসনের সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হড়পা বানের সম্ভাব্য বিপজ্জনক সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের ভারতীয় অংশে এখনও পর্যন্ত সব বাসিন্দাই নিরাপদ রয়েছেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে কয়েক হাজার মানুষকে সরিয়ে ত্রাণশিবিরে রাখা হয়েছে। আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিত কুমার শ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ভুটানের প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমন্বয় রেখে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই প্রায় ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ মানুষকে স্কুলবাড়িতে তৈরি ত্রাণশিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়াও ৬,০০০-এর বেশি মানুষকে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এসডিআরএফ-এর কর্মীরা মোতায়েন রয়েছেন। এনডিআরএফ-এর একটি দলও পৌঁছনোর পথে রয়েছে। প্রস্তুতিতে সাহায্য করছে সিভিল ডিফেন্সের দল।

    ভারতীয় এলাকায় সবাই নিরাপদ

    ভুটান থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নদীতে জলের প্রবাহের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। তবে সঙ্কোশ নদী ব্যবস্থায় এখনও রেড অ্যালার্ট জারি রয়েছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, নদীর জলের সঙ্গে মৃত মাছ, বড় বড় গাছের গুঁড়ি, কাঠ এবং কংক্রিটের ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসতে পারে। কুমারগ্রাম ব্লক প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্লকের ১৮টি ত্রাণশিবিরে বাসিন্দাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্কুল, কমিউনিটি হল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং চা-বাগানের বিভিন্ন পরিকাঠামোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অসমের কিছু এলাকার বাসিন্দারাও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। ত্রাণশিবিরগুলিতে শুকনো খাবার, পানীয় জল এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। সব মিলিয়ে ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ফেটে হড়পা বানের ঘটনায় উত্তরবঙ্গ ও অসমের নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।

     

     

     

     

     

     

  • Jiu-jitsu to Capt Smit: মাথার সেলাই দেখে চমকে উঠল বিশ্ব! সুস্থ হয়ে উঠলে জিউ-জিৎসু শেখাব, ভারতীয় পাইলটকে ইউএই প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রস্তাব

    Jiu-jitsu to Capt Smit: মাথার সেলাই দেখে চমকে উঠল বিশ্ব! সুস্থ হয়ে উঠলে জিউ-জিৎসু শেখাব, ভারতীয় পাইলটকে ইউএই প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েলগামী বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা রুখে দিয়ে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর (Captain Smit Machchhar)। তাঁর সাহসিকতার স্বীকৃতি দিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। তবে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সকলের নজর কাড়ল তাঁর মাথার পিছনে থাকা সেলাইয়ের দীর্ঘ দাগ। পাইলটের ভয়াবহ আঘাতের চিহ্ন দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। সেই সাক্ষাতেই স্মিতকে সুস্থ হয়ে ওঠার পর জিউ-জিৎসু (Jiu-jitsu to Capt Smit) শেখানোর প্রস্তাব দিলেন তিনি।

    জিউ-জিৎসু শেখানোর প্রস্তাব

    বুধবার ইউএই-তে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছর এবং ফ্লাইদুবাইয়ের (Fly Dubai Attack) অন্যান্য কর্মীদের সম্মানিত করা হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইজরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে হামলার ঘটনায় ১৭৪ জন যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তাঁরা। সেই সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘ফার্স্ট ক্লাস অর্ডার অফ জায়েদ ২’ সম্মান। অনুষ্ঠানে স্মিতের বাঁ হাত ছিল স্লিংয়ে বাঁধা। মাথার পিছনে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল সেলাইয়ের দীর্ঘ দাগ। তাঁর এই শারীরিক অবস্থা থেকেই হামলার ভয়াবহতা সম্পর্কে প্রথমবার স্পষ্ট ধারণা পেল বিশ্ব। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে স্মিতের সঙ্গে ইউএই-র প্রেসিডেন্টের কথোপকথনের একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। সেখানে প্রেসিডেন্টকে স্মিতের মাথার আঘাতের দাগ ও হাতের স্লিংয়ের দিকে নজর দিতে দেখা যায়। স্মিত কবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন, তা জানতে চান তিনি। উত্তরে ভারতীয় পাইলট জানান, সুস্থ হতে সম্ভবত আরও দু’মাস সময় লাগতে পারে। এরপরই প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমার একটা পরিকল্পনা আছে। তুমি সুস্থ হয়ে উঠলে আমি তোমার সঙ্গে একটি সেশন করতে চাই। তোমাকে লড়াই করতে শেখাব—একটি জিউ-জিৎসু সেশন।” প্রেসিডেন্টের এই প্রস্তাবে হেসে ফেলেন স্মিত। তিনি বলেন, “এটা আমার কাছে সবচেয়ে বড় সম্মান।” এরপর দু’জনকে হাসিমুখে আলিঙ্গন করতেও দেখা যায়।

    মাথায় কুড়ুলের আঘাত, তবুও হাল ছাড়েননি স্মিত

    ঘটনাটি ঘটে যখন বিমানটি ইজরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে চলেছিল। অভিযোগ, সেই সময় ৩৮ বছর বয়সি স্মিত মাচ্ছরের উপর পিছন থেকে ক্র্যাশ অ্যাক্স বা ভারী কুড়ুল দিয়ে হামলা চালান তাঁর ওমানি সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি। বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তেল আভিভের একটি বহুতলে বিমানটি আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া সত্ত্বেও স্মিত দমে যাননি। প্রচণ্ড যন্ত্রণা ও দ্রুত রক্তক্ষরণের মধ্যেও তিনি ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। এরপর বিমানকর্মী ও যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে কাবু করেন। এই তীব্র বিশৃঙ্খলার মধ্যে মাত্র দু’মিনিটে বিমানটি প্রায় ১৭ হাজার ফুট নীচে নেমে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিমানে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলটের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    ভেঙে গিয়েছিল মাথার খুলি

    এই হামলায় স্মিতের মাথার খুলি ভেঙে যায়। তাঁর বাঁ হাতেও গুরুতর আঘাত লাগে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর ‘ডিপ্রেসড স্কাল ফ্র্যাকচার’ হয়েছিল। এই ধরনের আঘাতে খুলির ভাঙা হাড়ের একটি অংশ ভিতরের দিকে মস্তিষ্কের দিকে ঢুকে যায়। সৌদি আরবে জরুরি চিকিৎসার সময় চিকিৎসকেরা তাঁর খুলির পুনর্গঠন করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ইউএই-তে নিয়ে যাওয়া হয়। মাথা ও হাতের পাশাপাশি তাঁর হাত-পা, বুক এবং পেটের উপরিভাগেও আঘাতের চিহ্ন ছিল। স্মিত মাচ্ছরের মাথার আঘাতের একটি ক্লোজ-আপ ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন ব্রিটেনের অতি-ডানপন্থী নেতা টমি রবিনসন। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, সব নায়ক কেপ পরে থাকেন না, কেউ কেউ যুদ্ধের ক্ষতচিহ্ন বহন করেন। ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরকে নায়ক হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেন তিনি।

    জিউ-জিৎসু কী

    জিউ-জিৎসু একটি মার্শাল আর্ট বা আত্মরক্ষার কৌশল। ইউএই-তে, বিশেষত আবু ধাবিতে, এই খেলার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। দেশটি আন্তর্জাতিক স্তরেও জিউ-জিৎসুর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ইউএই-র এই সম্মান স্মিতের প্রাপ্ত স্বীকৃতির তালিকায় আরও একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। গুজরাট সরকার তাঁকে ‘বিশিষ্ট গুজরাট গরিমা’ সম্মানে ভূষিত করেছে। অন্যদিকে, ইজরায়েল সরকারও তাঁকে বেসামরিক সাহসিকতার জন্য প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। গত সপ্তাহে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরকে ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মশাল প্রজ্বলনের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মাথায় গুরুতর আঘাত, শরীরে অসংখ্য ক্ষত—সবকিছুকে উপেক্ষা করে ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন রক্ষায় স্মিতের ভূমিকা আজ আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত। তাঁর সাহসিকতার কাহিনি আরও একবার প্রমাণ করল, বিপদের মুহূর্তে দায়িত্ববোধ ও উপস্থিত বুদ্ধিই হয়ে উঠতে পারে বহু মানুষের জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

  • NVS-03 Launch: ন্যাভিককে পুনরুজ্জীবিত করতে শুক্রে ইসরোর-র এনভিএস-০৩ উৎক্ষেপণ, এবার নতুন কৌশলে নজর মহাকাশ বিজ্ঞানীদের

    NVS-03 Launch: ন্যাভিককে পুনরুজ্জীবিত করতে শুক্রে ইসরোর-র এনভিএস-০৩ উৎক্ষেপণ, এবার নতুন কৌশলে নজর মহাকাশ বিজ্ঞানীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের নিজস্ব স্যাটেলাইট-ভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থা ‘ন্যাভিক’ (NavIC)-কে ফের সক্রিয় ও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)। আগামী ৩০ অক্টোবর, শুক্রবার রাত ১১টা ৫১ মিনিটে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হবে নেভিগেশন স্যাটেলাইট এনভিএস-০৩ (NVS-03 Launch)। জিএসএলভি-এফ১৮ (GSLV-F18) রকেটের মাধ্যমে মহাকাশে পাঠানো হবে এই স্যাটেলাইট। ভারতের জিএসএলভি রকেটের এটি ২০তম উড়ান। প্রায় ৫০ মিটার লম্বা এবং উৎক্ষেপণের সময় প্রায় ৪২০ টন ওজনের এই রকেটের মাধ্যমে প্রায় ২,২৫০ কেজি ওজনের এনভিএস-০৩-কে জিওসিঙ্ক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে স্থাপন করা হবে।

    কেন ভালভ নিয়ে বাড়তি সতর্কতা?

    গত বছর এনভিএস-০২ (NVS-02) স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভালভ না খোলায় স্যাটেলাইটটির (ISRO NVS-03 Satellite) প্রপালশন ব্যবস্থা প্রত্যাশিতভাবে কাজ করতে পারেনি। এর ফলে স্যাটেলাইটটি নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছতে ব্যর্থ হয় এবং কক্ষপথেই আটকে থাকে। এই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই উৎক্ষেপণের আগেই এনভিএস-০৩ (NVS-03)-এর পাইরোটেকনিক ভালভ খুলে রাখার পরিকল্পনা করেছে ইসরো। উৎক্ষেপণের আগেই ভালভ খুলে রাখলে পরবর্তী সময়ে সেই ভালভ খোলার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য যান্ত্রিক সমস্যা এড়ানো যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এর ফলে উৎক্ষেপণের সময় চাপের পরিবর্তন বা জ্বালানি ও গ্যাস লিকের মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে কি না, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নতুন পদ্ধতির কার্যকারিতা নির্ভর করবে উৎক্ষেপণের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলি কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করছে, তার উপর।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এনভিএস-০৩ উৎক্ষেপণ?

    ভারতের নিজস্ব আঞ্চলিক ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা (Indian Regional Navigation Satellite System)-এর আধুনিক সংস্করণ হল ন্যাভিঅ্যাক (Navigation with Indian Constellation)। দেশের ভৌগোলিক সীমানার পাশাপাশি তার বাইরে প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় অবস্থান নির্ণয়, দিকনির্দেশ এবং সময় নির্ধারণের পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে আমেরিকার জিপিএস-সহ বিদেশি ন্যাভিগেশন ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব।

    কী কী বিশেষত্ব রয়েছে এনভিএস-০৩ স্যাটেলাইটে?

    ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা ‘ন্যাভিক’-এর পরবর্তী প্রজন্মের স্যাটেলাইট সিরিজের অংশ এনভিএস-০৩। এই সিরিজের মূল লক্ষ্য, দেশের নেভিগেশন পরিষেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ব্যবস্থাটিকে আরও কার্যকর করে তোলা। এনভিএস-০৩-এ থাকছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি পারমাণবিক ঘড়ি (Atomic Clock), পাশাপাশি সংগ্রহ করা অন্যান্য ঘড়িও। স্যাটেলাইটটিতে আগে ব্যবহৃত এল৫ ও এস ব্যান্ডের সিগন্যালের পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে এল১ সিগন্যাল। এর ফলে আরও বেশি ধরনের ব্যবহারকারীর যন্ত্রের সঙ্গে ন্যাভিকের সামঞ্জস্য বাড়তে পারে। বিশেষ করে সাধারণ নাগরিকদের নেভিগেশন পরিষেবা এবং কৌশলগত ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উৎক্ষেপণ?

    ভারতের নিজস্ব আঞ্চলিক নেভিগেশন ব্যবস্থা ন্যভিঅ্যাক বর্তমানে একাধিক সমস্যার মুখে। পুরনো হয়ে যাওয়া স্যাটেলাইট, পারমাণবিক ঘড়ির ত্রুটি এবং নতুন স্যাটেলাইট পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যর্থতার কারণে এই ব্যবস্থায় কার্যকর স্যাটেলাইটের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কমে গিয়েছে। ফলে পর্যাপ্ত সংখ্যক কার্যকর স্যাটেলাইটের মাধ্যমে স্বতন্ত্র অবস্থান নির্ণয় পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, মৌলিক অবস্থান নির্ণয়ের পরিষেবা দিতে কক্ষপথে অন্তত চারটি সচল উপগ্রহ প্রয়োজন। ২০১৬ সালের মার্চে উৎক্ষেপিত আইআরএনএসএস-১এফ (IRNSS-1F) স্যাটেলাইটের পারমাণবিক ঘড়িতে ত্রুটি দেখা দেওয়াও ন্যাভিকের সমস্যাগুলির অন্যতম কারণ। যদিও বিভিন্ন সামাজিক প্রয়োজনে স্যাটেলাইটটির কক্ষপথে থাকা অবস্থায় পরিষেবা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ইসরো আশ্বাস দিয়েছে।

    কী ঘটেছিল এনভিএস-০২ তে

    এর আগে ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি জিএসএলভি এফ-১৫ (GSLV-F15) রকেটে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল এনভিএস-০২ কে। উপগ্রহটি সফলভাবে রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয় এবং তার সৌরপ্যানেলও খুলে যায়। কিন্তু নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছনোর জন্য প্রয়োজনীয় অরবিট-রেইজিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ইসরোর বিশেষজ্ঞ কমিটির তদন্তে জানা যায়, উপগ্রহের অরবিট-রেইজিং ইঞ্জিনের অক্সিডাইজার লাইনের পাইরো ভালভে প্রয়োজনীয় ড্রাইভ সিগন্যাল পৌঁছয়নি। ফলে ইঞ্জিন চালু করা যায়নি। মূল ও বিকল্প—দুই সংযোগপথের অন্তত একটি করে কন্ট্যাক্ট বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াই এর সম্ভাব্য কারণ বলে মনে করা হয়। এই ধরনের ত্রুটি যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে, তার জন্য সংযোগ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা ও বিকল্প ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে কমিটি। ইসরোর দাবি, সেই সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংশোধন ইতিমধ্যেই করা হয়েছে।

    এনভিএস-০৩ সফল হলেও এখনই স্বস্তি নয়

    এনভিএস-০৩ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা গেলে ন্যভিঅ্যাক-এর উপগ্রহভিত্তিক পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। কিন্তু শুধু উৎক্ষেপণ সফল হলেই যে ন্যাভিগেশন পরিষেবা পুরোপুরি ফিরে আসবে, তা নয়। উপগ্রহটিকে প্রথমে নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছতে হবে, প্রয়োজনীয় কক্ষপথ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং পরিষেবা দেওয়ার উপযুক্ত কি না, তা যাচাই করতে হবে।

    সামনে কী পরিকল্পনা ইসরোর?

    শুধু এনভিএস-০৩ উৎক্ষেপণ করলেই ন্যাভিকের সমস্ত সমস্যা মিটে যাবে না। ব্যবস্থাটিকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে প্রয়োজন অতিরিক্ত কার্যকর স্যাটেলাইট। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এনভিএস-০৪ ও এনভিএস-০৫ স্যাটেলাইট তৈরির কাজও উন্নত পর্যায়ে রয়েছে। ফলে আগামী দিনে পরবর্তী স্যাটেলাইটগুলির সফল উৎক্ষেপণ এবং কক্ষপথে সেগুলির কার্যকারিতা নিশ্চিত করাই ন্যাভিককে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে। এনভিএস-০৩-এর উৎক্ষেপণ সেই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে চলেছে।

     

     

     

     

  • PM-Kisan Scheme: ৩০ অক্টোবর কৃষকদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে পিএম-কিষানের ২৪তম কিস্তির টাকা, বরাদ্দ ১৮,৬৮০ কোটি

    PM-Kisan Scheme: ৩০ অক্টোবর কৃষকদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে পিএম-কিষানের ২৪তম কিস্তির টাকা, বরাদ্দ ১৮,৬৮০ কোটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৃষকদের জন্য বড় ঘোষণা। আগামী ৩০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি (PM-Kisan) প্রকল্পের ২৪তম কিস্তির টাকা প্রকাশ করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গুজরাটের বনসকাঁঠা জেলার ভিলডি শহরে আয়োজিত একটি জাতীয় স্তরের অনুষ্ঠানে এই অর্থ বিতরণ করা হবে। বুধবার এই কথা জানিয়েছেন গুজরাটের কৃষিমন্ত্রী জিতু ভাঘানি। কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রকল্পের আওতায় দেশের ৯.৩৪ কোটিরও বেশি কৃষক পরিবারের জন্য মোট ১৮,৬৮০ কোটি টাকার বেশি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

    ১,০৫১ কোটি টাকার বেশি আর্থিক সাহায্য

    প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি (PM-Kisan) প্রকল্পে গুজরাটের ৫২.৩৩ লক্ষেরও বেশি কৃষক পরিবার পাবে ১,০৫১ কোটি টাকার বেশি আর্থিক সাহায্য। এই উপলক্ষে আয়োজিত ‘পিএম কিষান উৎসব দিবস’-এর প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, পিএম-কিষান প্রকল্পের অধীনে যোগ্য কৃষক পরিবারগুলিকে বছরে ৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তিনটি সমান কিস্তিতে সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা পাঠানো হয়। এখনও পর্যন্ত প্রকল্পের আগের ২৩টি কিস্তিতে দেশজুড়ে ৪.৪৭ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। গুজরাতে উপভোক্তাদের দেওয়া হয়েছে ২৪,১৩৭ কোটি টাকার বেশি।

    বায়ো-সিএনজি প্ল্যান্টেরও শিলান্যাস

    কৃষকদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি ৩০ অক্টোবর গুজরাটে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন প্রধানমন্ত্রী। বনস ডেয়ারির উদ্যোগে থারাদ ও রাধনপুরে তৈরি হতে চলা দুটি কমপ্রেসড বায়োগ্যাস (CBG) প্ল্যান্টের শিলান্যাস করবেন তিনি। থারাদের প্ল্যান্টে প্রতিদিন ৭৫ টন গোবর প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা থাকবে। অন্যদিকে, রাধনপুরের প্ল্যান্টে দৈনিক ১০০ টন গোবর প্রক্রিয়াকরণ করা যাবে। এই দুটি প্ল্যান্ট চালু হলে ‘বনস মডেল’-এর অধীনে বায়ো-সিএনজি প্ল্যান্টের সংখ্যা বেড়ে হবে ছয়। সব মিলিয়ে এই প্ল্যান্টগুলিতে প্রতিদিন ৫১৫ টন গোবর প্রক্রিয়াকরণ করা সম্ভব হবে। গোবর থেকে উৎপাদিত বায়ো-সিএনজি ভর্তুকিযুক্ত দামে বিক্রি করা হয়। বর্তমানে বনসকাঁঠানা ডেয়ারি প্রতিদিন প্রায় ৬,১০০ কেজি বায়ো-সিএনজি সরবরাহ করছে। ছয়টি প্ল্যান্টের মাধ্যমে বছরে আনুমানিক ৩৩,৪০০ থেকে ৩৪,৬০০ টন কার্বন নির্গমন কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    উদ্বোধন হবে গবেষণা কেন্দ্র ও আলু প্রক্রিয়াকরণ প্রকল্পের

    ৩০ অক্টোবর ৩২৮.৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি ‘ভারত বোভাইন ব্রিডিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ (BBBRC)-এরও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বনস ডেয়ারির নতুন আলু প্রক্রিয়াকরণ প্রকল্পের সম্প্রসারিত অংশ এবং তাদের আল্ট্রা-হাই টেম্পারেচার (UHT) ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় স্টোরেজ ও রিট্রিভাল সিস্টেমের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তাঁর। এই উপলক্ষে গুজরাট জুড়ে ৩৪টি জেলা স্তরের এবং ২,১০০-রও বেশি ক্লাস্টার স্তরের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। মূল অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচার দেখানো হবে বিভিন্ন জায়গায়। কৃষি ও উদ্যানপালন দফতরের একাধিক সরকারি প্রকল্পের অনুমোদনপত্রও উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

    ৩১ অক্টোবর জাতীয় ঐক্য দিবসের অনুষ্ঠানে মোদি

    ৩০ ও ৩১ অক্টোবর দু’দিনের গুজরাট সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ৩১ অক্টোবর নর্মদা জেলার একতা নগরে জাতীয় ঐক্য দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

  • Vedanta Invest in Bengal: ৮০ হাজার কোটির বিনিয়োগ! আসানসোলে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা গড়তে আগ্রহী বেদান্ত

    Vedanta Invest in Bengal: ৮০ হাজার কোটির বিনিয়োগ! আসানসোলে অ্যালুমিনিয়াম কারখানা গড়তে আগ্রহী বেদান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় বড় শিল্প গড়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেন বেদান্ত গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান অনিল আগরওয়াল (Anil Agarwal Vedanta)। বুধবার নবান্নে এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল রাজ্যে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। সূত্রের খবর, আসানসোলে (Asansol) অ্যালুমিনিয়াম কারখানা (aluminium smelter) গড়তে চান অনিল। অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও ভাবছে বেদান্ত। দুই ক্ষেত্র মিলিয়ে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। রাজ্যে বিনিয়োগ করার জন্য বেদান্ত গ্রুপের চেয়ারম্যানকে বার্তা দিয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রী। বুধবার কলকাতায় ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্সের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন অনিল আগরওয়াল।

    ৩ বছরের মধ্যে আসানসোলে অ্যালুমিনিয়াম কারখানার ভাবনা

    বাংলা তথা কলকাতার সঙ্গে অনিলের (Vedanta Invest in Bengal) পুরনো সম্পর্ক রয়েছে। বড়বাজারের তুলাপট্টিতে ছিল অনিলদের পারিবারিক দোকান। কলকাতাতেই কেটেছে ছোটবেলার বেশ কয়েকটি বছর। সেই শহরে ফের কিছু করতে চান অনিল। বাংলার সঙ্গে নতুন বন্ধনে বাঁধতে চান। সূত্রের খবর, আসানসোলে (Asansol) অ্যালুমিনিয়াম কারখানা (aluminium smelter) গড়তে চায় বেদান্ত। প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজও দ্রুত এগিয়ে নিতে আগ্রহী তারা। কয়লার জোগান এবং চালু পরিকাঠামোর সুবিধা থাকায় প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলির জন্য আসানসোলকেই সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করছে বেদান্ত। তা ছাড়া আসানসোলে গোষ্ঠীর প্রায় ৩০০ একর জমি রয়েছে। সেখানে কারখানা গড়া সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে প্রকল্পের জন্য আরও জমির প্রয়োজন হতে পারে। অনিল আগরওয়াল জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সমীক্ষার ফল অনুকূল হলে এবং সরকারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া গেলে ৩ বছরের মধ্যে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলি চালু করা সম্ভব হতে পারে।

    কর্মসংস্থানের পরিসর বাড়ানোর লক্ষ্যে রাজ্য সরকার

    মুখ্যমন্ত্রীও বৈঠকে কর্মসংস্থানের বিষয়টিতেই বিশেষ জোর দিয়েছেন। নবান্ন সূত্রে খবর, অনিলকে তিনি বলেছেন, রাজ্যে ১০ হাজার মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি করতে হবে। বেদান্তার বিবৃতিতেও বিনিয়োগ ও ১০ হাজার কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনার কথা জানানো হয়েছে। বাংলায় শিল্পে বিনিয়োগ টানার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কাজের সুযোগ বাড়ানো রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলেছেন, তিনি শ্রমনিবিড় শিল্পে বিনিয়োগ টানতে আগ্রহী। সেই প্রেক্ষাপটে খনি ও ধাতুশিল্পের আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী বেদান্তর আগ্রহ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে বিনিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পরেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আগরওয়াল। আসানসোলে বড় কারখানা হলে তার চারপাশে ছোট ও মাঝারি শিল্পের সুযোগও তৈরি হতে পারে। আগরওয়ালের বক্তব্য, অ্যালুমিনিয়ামকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে নানা পণ্য তৈরির উদ্যোগ নিতে পারবেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁর মতে, বড় শিল্পের সঙ্গে সরবরাহকারী সংস্থা ও ছোট উদ্যোগের যোগসূত্র তৈরি হলে কর্মসংস্থানের পরিসরও বাড়বে। বুধবার কলকাতায় ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স এবং তার ইয়ং লিডার্স ফোরামের অনুষ্ঠানেও বাংলার শিল্পসম্ভাবনার কথা বলেছেন বেদান্তা চেয়ারম্যান। দক্ষ কর্মী, মেধাসম্পদ এবং শিল্পের দীর্ঘ ঐতিহ্যকে রাজ্যের বড় শক্তি হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। বিনিয়োগ, উদ্যোগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগাতে সরকারের সঙ্গে শিল্পমহলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

  • India Pakistan Trade: বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা, তবু ভারত থেকে পণ্য আমদানি বাড়াল পাকিস্তান! কীভাবে পৌঁছচ্ছে ইসলামাবাদে?

    India Pakistan Trade: বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা, তবু ভারত থেকে পণ্য আমদানি বাড়াল পাকিস্তান! কীভাবে পৌঁছচ্ছে ইসলামাবাদে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদ ও বাণিজ্য একসঙ্গে চলতে পারে না—এই অবস্থানেই অনড় ভারত (India Pakistan Trade)। ২০২৫ সালে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য কার্যত বন্ধ। বন্ধ হয়েছে ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত দিয়ে পণ্য পরিবহণও। অথচ বাণিজ্য বন্ধ থাকার পরেও ভারত থেকে পাকিস্তানে পণ্য আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারত থেকে ৫,৮৭৬ কোটি টাকার পণ্য আমদানি (Pak’s India Imports Spike) করেছে পাকিস্তান। গত অর্থবর্ষের একই সময়ে এই আমদানির পরিমাণ ছিল ৩,৪৭৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরে আমদানি বেড়েছে প্রায় ৬৯ শতাংশ। অন্যদিকে, ওই সময়ে পাকিস্তান থেকে ভারতে কোনও পণ্য আমদানি হয়নি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তৃতীয় দেশের মাধ্যমে আসছে ভারতীয় পণ্য?

    প্রশ্ন উঠছে, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য বন্ধ থাকলে কীভাবে পাকিস্তানে পৌঁছচ্ছে ভারতীয় পণ্য? পাকিস্তানের স্টেট ব্যাঙ্কের পরিসংখ্যানে এই পণ্য পরিবহণের নির্দিষ্ট পথের উল্লেখ নেই। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের অনুমান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সিঙ্গাপুর ও শ্রীলঙ্কার মতো তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পাকিস্তানে পৌঁছচ্ছে ভারতীয় পণ্য। ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ রবিন্দর সিং রবিনের মতে, ভারতীয় পণ্যের চাহিদা পাকিস্তানে এখনও যথেষ্ট। সরাসরি বাণিজ্য বন্ধ থাকলে এই পণ্যগুলি কোন পথে পৌঁছচ্ছে এবং নথিতে উৎপত্তির দেশ হিসেবে কোন দেশের নাম উল্লেখ করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    কোন কোন ভারতীয় পণ্যের চাহিদা পাকিস্তানে বেশি?

    ভারত থেকে পাকিস্তানের আমদানি করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ওষুধ ও ওষুধ তৈরির কাঁচামাল, প্লাস্টিক, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, রং, জৈব রাসায়নিক, রবার, কফি, চা, শাকসবজি, মশলা, দুগ্ধজাত পণ্য এবং খাদ্যশস্য। বিশেষ করে ওষুধ ও ওষুধ তৈরির কাঁচামালের ক্ষেত্রে ভারতের উপর পাকিস্তানের নির্ভরতার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানে ভারতের ওষুধ রফতানির পরিমাণ ছিল ২০৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগেও নিষেধাজ্ঞার পর ভারত থেকে পাকিস্তানে পণ্য আমদানির নজির সামনে এসেছে। আরব নিউজের একটি প্রতিবেদনে পাকিস্তানের স্টেট ব্যাঙ্কের তথ্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছিল, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভারত থেকে প্রায় ৩৬.৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল পাকিস্তান। সেই আমদানির সিংহভাগই ছিল ওষুধ তৈরির কাঁচামাল।

    কীভাবে কার্যকর হচ্ছে ‘গ্রে-জোন’ কৌশল?

    গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (GTRI)-এর মতে, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ঘুরপথে পাকিস্তানে ভারতীয় পণ্য রফতানির একটি বড় বাজার রয়েছে। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব এই পদ্ধতিকে ‘গ্রে-জোন স্ট্র্যাটেজি’ বলে উল্লেখ করেছেন। এই পদ্ধতিতে ভারতীয় পণ্য প্রথমে দুবাই, সিঙ্গাপুর বা কলম্বোর মতো বাণিজ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে বন্ডেড ওয়্যারহাউসে পণ্য মজুত রাখা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট পণ্যের নথি ও লেবেল পরিবর্তন করে অন্য দেশের পণ্য হিসেবে পুনরায় রফতানি করা হতে পারে। এর ফলে পণ্যের মূল উৎস আড়াল করে পাকিস্তানে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় বলে বিশেষজ্ঞদের দাবি। জিটিআরআই-এর অনুমান, এই ধরনের অনানুষ্ঠানিক ও ঘুরপথে বাণিজ্যের মাধ্যমে পাকিস্তানে ভারতীয় পণ্যের রফতানি বছরে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে। তবে এই অঙ্ক একটি অনুমান, সরকারি ভাবে যাচাই করা সরাসরি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিসংখ্যান নয়।

    কেন বন্ধ হয়েছিল ভারত-পাকিস্তান বাণিজ্য?

    ২০১৯ সালে পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানকে দেওয়া ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ মর্যাদা প্রত্যাহার করে ভারত। এরপর দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০২৫ সালে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৫ জন পর্যটকের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। এর পর ভারত ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত বন্ধ করে দেয় এবং পাকিস্তানে উৎপত্তি হওয়া বা পাকিস্তান থেকে রফতানি করা পণ্যের সরাসরি কিংবা পরোক্ষ আমদানি ও ট্রানজিটের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ৪ মে পাকিস্তানও তৃতীয় দেশের মাধ্যমে বাণিজ্য-সহ ভারতের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্য বন্ধ করার ঘোষণা করে।

    ক্রমশ কমেছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২.৪১ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ১.২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। ২০১৯ সালে ভারতে পাকিস্তানের রফতানির পরিমাণ ছিল ৫৪৭.৫ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালে কমে মাত্র ৪৮০,০০০ ডলারে দাঁড়ায়। পাকিস্তান থেকে ভারতে রফতানি হওয়া পণ্যের মধ্যে ছিল কাচের সামগ্রী, তামা, গন্ধক, ফল ও বাদামজাতীয় পণ্য। ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ভারত পাকিস্তানে ৪৪৭.৬৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছিল। বিপরীতে পাকিস্তান থেকে ভারতে রফতানির পরিমাণ ছিল মাত্র ০.৪২ মিলিয়ন ডলার। সরাসরি বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ভারতীয় পণ্যের চাহিদা যে পাকিস্তানে এখনও রয়েছে, সাম্প্রতিক আমদানির পরিসংখ্যান সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। তবে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে আসা পণ্যগুলির প্রকৃত উৎস, পরিবহণের পথ এবং নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন।

  • Indian Railways: রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ট্রেনে মোবাইল চার্জে নিষেধাজ্ঞা, যাত্রী সুরক্ষায় কড়া পদক্ষেপ রেলের

    Indian Railways: রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ট্রেনে মোবাইল চার্জে নিষেধাজ্ঞা, যাত্রী সুরক্ষায় কড়া পদক্ষেপ রেলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাতের ট্রেনযাত্রায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে বড় পদক্ষেপ ভারতীয় রেলের (Indian Railways)। রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ট্রেনের কামরায় মোবাইল চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করার পাশাপাশি আচমকা পরিদর্শনের নির্দেশও দিয়েছে রেল বোর্ড। সম্প্রতি ট্রেনের কামরায় মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাঙ্কে (Railways Bans Mobile Charging) আগুন লাগার একাধিক ঘটনার পরেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।

    ছয় ঘণ্টা চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ

    রেল বোর্ডের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ছয় ঘণ্টা চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে ট্রেনে কর্তব্যরত কর্মীদের। এই নিয়মে কোনও ব্যতিক্রম বরদাস্ত করা হবে না বলেও নির্দেশে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রেলকর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণের উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। গত ২৪ অক্টোবর মুম্বই-হাওড়া মেলে এমনই একটি ঘটনা ঘটে। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের অধীন ওই ট্রেনের একটি এসি কামরায় রাতে চার্জে বসানো অবস্থায় এক যাত্রীর পাওয়ার ব্যাঙ্ক বিস্ফোরিত হয়। রেল বোর্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ না করার কারণেই ওই ঘটনা ঘটেছিল। এরপরেই নিরাপত্তা বিধি কার্যকর করার বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে রেল।

    কেন বিপজ্জনক পাওয়ার ব্যাঙ্ক?

    পাওয়ার ব্যাঙ্কে সাধারণত লিথিয়াম-আয়ন অথবা লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি থাকে। ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হলে, অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে কিংবা ভিতরে কোনও বৈদ্যুতিক ত্রুটি দেখা দিলে তা থেকে আগুন লাগতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাটারি বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটতে পারে। ব্যাটারির তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে গিয়ে আগুন ধরে যাওয়ার এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘থার্মাল রানঅ্যাওয়ে’। এ ছাড়া বালিশের নীচে, বিছানার মধ্যে কিংবা ঠাসাঠাসি ব্যাগের ভিতরে রেখে পাওয়ার ব্যাঙ্ক চার্জ করলে তাপ বেরিয়ে যাওয়ার পথ বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে। ফলে যন্ত্রটি অতিরিক্ত গরম হয়ে উঠলেও তা সহজে নজরে নাও আসতে পারে। ট্রেনের কামরায় এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও বিপজ্জনক। কারণ, রাতে অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে থাকেন। ফলে ধোঁয়া বা আগুনের সূত্রপাত হলেও তা বুঝতে দেরি হতে পারে। বন্ধ কামরায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে বিপদের আশঙ্কা বেশি।

    কেন রাতে বন্ধ থাকবে চার্জিং পয়েন্ট?

    দীর্ঘ দূরত্বের ট্রেনযাত্রায় মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট ও পাওয়ার ব্যাঙ্ক চার্জ করার জন্য যাত্রীরা কামরার চার্জিং পয়েন্টের উপর নির্ভর করেন। আধুনিক মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাঙ্কে সাধারণত চার্জ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকে। তাই দীর্ঘক্ষণ চার্জে থাকলেই যে বিপদ ঘটবে, এমন নয়। তবে যন্ত্রে কোনও ত্রুটি দেখা দিলে নজরদারি না থাকার কারণে দুর্ঘটনা শনাক্ত করতে দেরি হতে পারে। রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে থাকেন। এই সময় চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ রাখলে চার্জিং সংক্রান্ত দুর্ঘটনা এবং সম্ভাব্য অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে মনে করছে রেল।

    যাত্রীদের কী কী সতর্কতা নেওয়া উচিত?

    রেলের নির্দেশ কার্যকর করার দায়িত্ব কর্মীদের হলেও যাত্রীদেরও কিছু সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—

    • ● মোবাইল ও পাওয়ার ব্যাঙ্ক চার্জ করার জন্য আসল বা উপযুক্ত চার্জার এবং অক্ষত কেবল ব্যবহার করুন।
    • ● ফুলে যাওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত বা অস্বাভাবিক গরম হয়ে ওঠা ফোন কিংবা পাওয়ার ব্যাঙ্ক চার্জ করবেন না।
    • ● চার্জে থাকা ফোন বা পাওয়ার ব্যাঙ্ক বালিশ, কম্বল কিংবা বিছানার নীচে রাখবেন না।
    • ● চার্জ দেওয়ার সময় যন্ত্রের তাপমাত্রা ও অস্বাভাবিক গন্ধের দিকে নজর রাখুন।
    • ● কোনও যন্ত্র থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখলে বা আগুন লাগলে দ্রুত ট্রেনের কর্মীদের জানান।

    রেলের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য, রাতের যাত্রায় বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা ব্যাটারিজনিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমিয়ে যাত্রীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা।

  • UAE Honours Indian Captain: ককপিটে হামলার মুখেও অসীম সাহসিকতা! ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছরকে সম্মান জানাল আমিরশাহি

    UAE Honours Indian Captain: ককপিটে হামলার মুখেও অসীম সাহসিকতা! ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছরকে সম্মান জানাল আমিরশাহি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঝআকাশে ভয়াবহ বিপদের মুখেও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। তাঁর সেই বীরত্বের স্বীকৃতি দিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। দুবাইয়ের বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ায় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর এবং সংশ্লিষ্ট বিমানকর্মীদের সম্মানিত করল সে দেশের সরকার। গত ৩০ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন ক্যাপ্টেন মাচ্ছর। এরপর বিমানকর্মী ও যাত্রীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে আসেন। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সম্ভাব্য বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয় বলে জানা গিয়েছে।

    জায়েদ সম্মানে সম্মানিত বিমানকর্মীরা

    সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সংশ্লিষ্ট বিমানকর্মীদের ‘ফার্স্ট ক্লাস অর্ডার অফ জায়েদ ২’ সম্মানে ভূষিত করেন। জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিমানটিকে নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে তাঁদের সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান প্রদান করা হয়েছে। দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উপ-প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং দুবাইয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শেখ হামদান বিন মহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম বিমানকর্মীদের হাতে সম্মান তুলে দেন। মঙ্গলবার শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের উপস্থিতিতে বিমানকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সে দেশের নেতৃত্ব। তাঁদের সাহসিকতার প্রশংসা করে যাত্রীদের নিরাপত্তা রক্ষাকে দেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করা হয়।

    হাসপাতালে গিয়ে ক্যাপ্টেনকে কুর্নিশ শেখ হামদানের

    এর আগে গত ৩ অক্টোবর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করেছিলেন শেখ হামদান। ভারতীয় পাইলটের সাহস, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের জীবনের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার প্রশংসা করেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে শেখ হামদান জানান, কঠিন পরিস্থিতিতেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছর অসাধারণ সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর কথায়, দেশের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ক্যাপ্টেনের প্রতি রয়েছে পূর্ণ শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। মাচ্ছরকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির পরিবারের একজন সদস্য হিসেবেও উল্লেখ করেন শেখ হামদান। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে মানবিকতা, শান্তি এবং জীবনের প্রতি সম্মান জানানোর বার্তা। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটিও ক্যাপ্টেন মাচ্ছর, বিমানকর্মী এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করা যাত্রীদের ভূমিকার প্রশংসা করেছিল।

    ভারত, ইজরায়েল ও আমেরিকার নেতাদের প্রশংসা

    ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের সাহসিকতা আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খোলার তাঁর প্রচেষ্টার কথা উঠে এসেছে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে ‘নায়ক’ বলে অভিহিত করেন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে মাচ্ছরের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়। ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে নাগরিক বীরত্বের পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে ইজরায়েলও। তবে চোট থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পর তাঁকে ওই পুরস্কার প্রদান করা হবে বলে জানা গিয়েছে। মাঝআকাশে সংকট, গুরুতর চোট এবং প্রাণের ঝুঁকি—সবকিছুর মধ্যেও দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে যাননি ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। তাঁর সাহসিকতা এবং বিমানকর্মী ও যাত্রীদের সম্মিলিত উদ্যোগ ফের মনে করিয়ে দিল, বিপদের মুহূর্তে উপস্থিত বুদ্ধি ও দায়িত্ববোধ কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

  • Abhishek Sharma: এক ইনিংসেই ছক্কার ঝড়! রোহিত শর্মার বিশ্বরেকর্ড ভাঙলেন অভিষেক শর্মা

    Abhishek Sharma: এক ইনিংসেই ছক্কার ঝড়! রোহিত শর্মার বিশ্বরেকর্ড ভাঙলেন অভিষেক শর্মা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়লেন ভারতের তারকা ওপেনার অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma)। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে বিধ্বংসী ব্যাটিং করে প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মার বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দিলেন তিনি। পূর্ণ সদস্য দেশের ব্যাটারদের মধ্যে এক ক্যালেন্ডার বছরে সর্বাধিক ছক্কা হাঁকানোর নজির গড়লেন অভিষেক। মঙ্গলবার ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের (India vs New Zealand) বিরুদ্ধে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ৩৮ বলে ১১৩ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। ২০২৬ সালে তাঁর মোট ছক্কার সংখ্যা দাঁড়াল ৮৫। এর আগে ২০২৩ সালে ৮০টি ছক্কা মেরে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন রোহিত শর্মা। সেই নজির টপকে নতুন ইতিহাস লিখলেন অভিষেক।

    ১৫ বলে অর্ধশতরান, ৩৫ বলে শতরান

    ব্যাট হাতে এ দিন কার্যত তাণ্ডব চালান বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটার। মাত্র ১৫ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। এরপর মাত্র ৩৫ বলেই পৌঁছে যান শতরানে। তাঁর ইনিংসে ছিল ১১টি ছক্কা ও ৯টি চার। অভিষেকের এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে নিউজিল্যান্ডের বোলিং বিভাগ। ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল ভারত। ইনিংসের প্রথম ওভারেই জ্যাকব ডাফির বলে ২৬ রান তুলে নেয় ভারতীয় দল। মাত্র ১৫ বছর বয়সি বৈভব সূর্যবংশীর সঙ্গে ওপেনিংয়ে নেমে অভিষেক শুরু করেন ছক্কার বৃষ্টি।

    পাওয়ারপ্লেতে বিশ্বরেকর্ড ভারতের

    অভিষেক ও বৈভবের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে প্রথম ছয় ওভারেই ১১৮ রান তুলে নেয় ভারত। টি-টোয়েন্টি ইনিংসের প্রথম ছয় ওভারে কোনও দলের এটাই সর্বোচ্চ রানের নজির বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মাত্র সাত ওভারে ১৩৩ রানের পার্টনারশিপ গড়েন দুই ওপেনার। বৈভব ১৮ বলে ৪৫ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি ছক্কা। অন্যদিকে, অভিষেকও জুটিতে আটটি ছক্কা হাঁকান। বৈভব আউট হওয়ার পরেও অভিষেকের ঝোড়ো ব্যাটিং থামেনি। শেষ পর্যন্ত গ্লেন ফিলিপসের বলে আউট হওয়ার আগে নিজের ইনিংসকে স্মরণীয় করে রাখেন তিনি। শতরান পূর্ণ করার পর তাঁর পরিচিত মেডিটেশন ভঙ্গিতে উদ্‌যাপনও নজর কাড়ে। এদিন বল হাতেও নজির গড়েছেন ভারতের অর্শদীপ সিং। নিউজিল্যান্ডের ওপেনার টিম সাইফার্টকে আউট করে এক ক্যালেন্ডার বছরে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩৯টি উইকেট নেওয়ার নজির স্পর্শ করেন তিনি। এই রেকর্ডের পূর্ববর্তী মালিক ছিলেন আয়ারল্যান্ডের জশ লিটল।

    সিরিজ জিতে ইতিহাস ভারতের

    অভিষেকের ব্যাটিংয়ের দাপটে মাত্র ১৩.২ ওভারেই ১৯৯ রানের লক্ষ্য টপকে যায় ভারত। এর ফলে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে অপ্রতিরোধ্য লিড নিশ্চিত করে ভারতীয় দল। এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ড্যারিল মিচেলের অপরাজিত ৮৯ রানের ইনিংসের সুবাদে ৩ উইকেটে ১৯৮ রান তুলেছিল নিউজিল্যান্ড। ৫২ বলে ৮৯ রান করেন মিচেল। ফিন অ্যালেনের অবদান ২৫ বলে ৪০ রান। বেভন জেকবস ২৩ বলে অপরাজিত ৩৯ রান করেন। তবে নিউজিল্যান্ডের এই বড় রানও ভারতের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনে যথেষ্ট হয়নি। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টানা তৃতীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের নজিরও গড়ল ভারত। এর আগে ২০২০ সালে ৫-০ ব্যবধানে এবং ২০২২ সালে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল ভারত।

  • Cyclone Arnab: মধ্যরাতে অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, ১৩৫ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া! বিপর্যস্ত জনজীবন

    Cyclone Arnab: মধ্যরাতে অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, ১৩৫ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া! বিপর্যস্ত জনজীবন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যরাতে অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব (Cyclone Arnab)। প্রবল আকারেই তার ‘ল্যান্ডফল’ হচ্ছে। ভারতের মৌসম ভবন জানিয়েছে, বুধবার রাত ১টা ২০ মিনিটে ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়ার নিকটবর্তী পুদুচেরির ইয়ানামের কাছে ‘ল্যান্ডফল’ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঝড় বইছে ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার বেগে। প্রবল ঝড়, মুষলধারে বৃষ্টি সঙ্গে উত্তাল সমুদ্র। ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবে’র প্রভাবে বিপর্যস্ত অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায় সতর্কতা জারি হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে স্কুল, সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের ঊপকূলভাগেও। দিঘা, মন্দারমনি একাধিক জায়গায় ইতিমধ্যেই বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশাখাপত্তনমে ২১৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে এখনও।

    অন্ধ্র উপকূলে ঝড়ের দাপট

    আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম-মধ্য অংশ থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল অতিক্রম করেছে অর্ণব। ইয়ানামের দক্ষিণে স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু হয় বুধবার রাত দেড়টা নাগাদ। ভোরের পরেও সেই প্রক্রিয়া চলছে। কাকিনাড়া, বিশাখাপত্তনম, অনকাপল্লি ও কোনাসীমা জেলায় ভারী বৃষ্টি এবং প্রবল হাওয়ার খবর মিলেছে। বিভিন্ন জায়গায় গাছ উপড়ে পড়েছে। কাকিনাড়ার কয়েকটি এলাকায় বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতির খবরও সামনে এসেছে। ‘ল্যান্ডফল’ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর ঝড়ের দাপট আরও বেড়ে গিয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশে। জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগেও বেড়েছে। বেশ কিছু জায়গায় বিচ্ছিন্ন হয়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবা। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে ইয়ানামের কাছে জাতীয় সড়ক ২১৬-এ বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মাঝরাস্তা থেকে গাছগুলি দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা করছে।

    ব্যাহত বিমান ও রেল পরিষেবা

    ঝড়ের কারণে অন্ধ্রপ্রদেশের তিনটি বিমানবন্দরে বিমান পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে। বেশ কিছু বিমান বাতিলও করা হয়েছে। পাশাপাশি বাতিল করা হয়েছে ট্রেন পরিষেবাও। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু জানান, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যাতে কারও কোনও ক্ষতি না হয়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রায় দু’হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। উপকূল এলাকা থেকে ‌ইতিমধ্যেই বহু মানুষকে সরিয়ে এই কেন্দ্রগুলিতে নিরাপদে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গর্ভবতী মহিলাদের চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় একাধিক ট্রেন বাতিল করেছে রেল। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কমিটির বৈঠকে প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সচিব সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষতি যথাসম্ভব কমানোর নির্দেশ দেন। অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায় পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন। স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শেষ হলেও বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাব কিছু সময় বজায় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা।

    ৮৯ হাজার মানুষকে অন্যত্র স্থানান্তর

    অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। তার মধ্যে বিশাখাপত্তনমে ২০০ মিলিমিটারের বেশি এবং কোঠাবল্লসায় ১৬২ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে নিচু এলাকা ও রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। কাঁকিনাড়া ও ইয়ানাম উপকূলে সমুদ্রের জলের উচ্চতা দেড় থেকে আড়াই মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, যার ফলে উপকূলীয় গ্রামগুলো প্লাবিত। অন্ধ্রপ্রদেশ প্রশাসন প্রাথমিক সমীক্ষার পরে জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পূর্ব ও পশ্চিম গোদাবরী জেলার কমবেশি ৪০ হাজার হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধান ও অন্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া, ঝড়ে বহু মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। প্রশাসন কমবেশি ৮৯ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও পুলিশ আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার ও রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চালাচ্ছে।

    ওড়িশায় প্রস্তুত উদ্ধারকারী দল

    ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় ওড়িশায় ৩১৩টি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৬০টি দল, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৯টি দল এবং দমকল ও জরুরি পরিষেবার ২৪৪টি দল। পাশাপাশি প্রস্তুত রয়েছে ২,০৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র। ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভবতী মহিলাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আগেই। মৎস্যজীবীদেরও উপকূলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে সোমবারের মধ্যে। প্রশাসনের লক্ষ্য, কোনও প্রাণহানি যাতে না হয়। ওড়িশা প্রশাসন সূত্রে খবর, সেখানেও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বিভিন্ন জায়গায় প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে ও ঝোড়ো হাওয়া বইছে। গজপতি, গঞ্জাম, রায়গাড়া, কোরাপুট, নওরংপুর, মালকানগিরি জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। পুরী, খুর্দা, সম্বলপুর, দেওগড়, কালাহান্ডি, কান্ধামাল, নুয়াপাড়াতেও ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি চলছে। রাজ্যের দক্ষিণ অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলি থেকে কমবেশি ৪৮ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে ও মাল্টিপারপাস ফ্লাড সেন্টারে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।  পুরী-সহ বিভিন্ন সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নামা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং লাল সতর্কতা নিশান ওড়ানো হচ্ছে।

    স্থলভাগে  প্রবেশের পর শক্তিক্ষয় অর্ণবের

    ঝাড়খণ্ডের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। রাঁচি, খুঁটি, সিমডেগা, গুমলা, লোহারদাগা-সহ কয়েকটি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে স্থলভাগে ঢোকার পর দ্রুত শক্তিক্ষয়ের ইঙ্গিত মিলেছে ঘূর্ণিঝড়ের। ছত্তিশগড়েই সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে অর্ণব। স্থলভাগে আছড়ে পড়ার পর ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ধীরে ধীরে উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

    বাংলায় বৃষ্টি, দিঘায় উত্তাল সমুদ্র

    ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কলকাতায় মঙ্গলবার বৃষ্টি হয়েছে হালকা। বুধবার ভোর থেকে আকাশের মুখ ভার। যদিও আপাতত রোদ উঠেছে। অর্ণবের দাপট খুব বেশি বোঝা যাচ্ছে না। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলা, বিশেষ করে উপকূলীয় জেলাগুলির অবস্থা যদিও এমন নয়। দিঘায় উত্তাল সমুদ্র, আকাশ অন্ধকার, পাশাপাশি প্রবল হাওয়ার দাপট রয়েছে মঙ্গলবার রাত থেকেই। উপকূলবর্তী সমস্ত এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। আবহাওয়া খারাপ দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু জায়গাতেও। বুধবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় রয়েছে হলুদ সতর্কতা। ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। চার জেলায় রয়েছে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে ভারী (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ওই চার জেলায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বৃহস্পতিবারও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। ওই দিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া। শুক্রবার ঝড়বৃষ্টির জন্য সতর্কতা রয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়ায়।

    উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস

    পুজোর মরশুমে পাহাড়ে এখন লোকের ঢল। মোবাইলের পর্দায় চোখ রাখলেই ভেসে উঠছে ঝকঝকে কাঞ্চনজঙ্ঘা। তবে, নিম্নচাপের প্রভাবে বৃহস্পতি এবং শুক্রবার ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি জেলায়। বাকি জেলাগুলিতেও রয়েছে ঝড়বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা। বর্ষণের জেরে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামতে পারে বলে সতর্ক করেছে হাওয়া অফিস। আগামী শনিবার পাহাড় এবং সংলগ্ন পাঁচ জেলায় রয়েছে ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা।

LinkedIn
Share