Author: ishika-banerjee

  • FIFA World Cup 2026: প্রাণবন্ত ফুটবল ইরানের, মিশরের কাছে আটকে গেল বেলজিয়াম, সৌদির বিপক্ষে জয়য় পেল না উরুগুয়েও

    FIFA World Cup 2026: প্রাণবন্ত ফুটবল ইরানের, মিশরের কাছে আটকে গেল বেলজিয়াম, সৌদির বিপক্ষে জয়য় পেল না উরুগুয়েও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইরান। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ঠিক মতো বিশ্বকাপের প্রস্ততি নিতে পারেননি ইরানের ফুটবলাররা। তা-ও নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে বেশ উজ্জীবিত ফুটবল খেলল এশিয়ার সেরা দল। দু’বার পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েননি মহম্মদ মোহেবিরা। খেলা শেষ হল ২-২ গোলে। ফুটবল বিশ্বযুদ্ধে (FIFA World Cup 2026) সোমবারের কোনও ম্যাচেই ফয়সালা হয়নি। বেলজিয়াম-মিশর ম্যাচও অমীমাংসিত থাকে ১-১ গোলে। অপর ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে আটকে যায় উরুগুয়েও।

    ইরানের প্রাণবন্ত ফুটবল

    পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানকে নিয়ে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। মাঠও নিজেদের খেলার ঝাঁঝ বজায় রাখল ইরানিরা। ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় নিউ জিল্যান্ড। ৭ মিনিটে গোল করেন ইলিজা জাস্ট। ৩২ মিনিটে সমতা ফেরান রামিন রেজাইন। পিছিয়ে পড়ার পরও হতাশ দেখায়নি ইরানের ফুটবলারদের। সমানে নিউ জিল্যান্ডের অর্ধে চাপ বজায় রেখেছিলেন তাঁরা। ছোট ছোট পাসে আক্রমণ তৈরি করেছেন, সময় মতো জায়গা নিয়েছেন ইরানের ফুটবলারেরা। মাঠ জুড়ে ফুটবল খেলেছেন। বেশ কয়েক বার কিউয়ি বক্সে চাপ তৈরি হয়েছিল। দূর পাল্লার শটেও ইরানের ফুটলারেরা প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। প্রথমার্ধের খেলা ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় নিউ জিল্যান্ড। ইরানের ডিফেন্স কিছুটা চাপে পড়ে যায়। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৫৫ মিনিটে দলকে দ্বিতীয় বার এগিয়ে দেন জাস্ট। পদ্বিতীয় বার পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি ইরান। ১০ মিনিটের মধ্যে সমতা ফেরায় তারা। মাঝ মাঠ এবং আক্রমণের সুন্দর বোঝাপড়ায় ৬৪ মিনিটে দলের হয়ে দ্বিতীয় গোল করেন মহম্মদ মোহেবি।

    বেলজিয়াম-মিশর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

    সিয়াটলের তীব্র গরমে বেলজিয়াম-মিশর খেলা দেখতে এসেছিলেন প্রায় ৬৬ হাজার ফুটবলপ্রেমী। অধিকাংশেরই প্রত্যাশা ছিল বেলজিয়ামের জয়। মহম্মদ সালাহরাও প্রস্তুত হয়েই মাঠে নেমেছিলেন। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। শুরুতে বেলজিয়ামের আধিপত্য থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দাপট বাড়াতে থাকে মিশর। ২০ মিনিটে সালাহ ডান দিকে বল পেয়ে দুর্দান্ত পাস বাড়ান এমাম আশুরকে। ‘ডি’ বক্স থেকে নেওয়া আশুরের শক্তিশালী শট জালে জড়িয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় বেলজিয়াম। চাপে পড়ে যায় মিশর। ৬৬ মিনিটে মহম্মদ হানির আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম।

    আটকে গেল উরুগুয়ে

    বিশ্বকাপের শুরুটা ভাল করতে পারল না উরুগুয়েও। প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে আটকে গেল প্রথম দু’বারের বিশ্বজয়ীরা। বেলজিয়ামের মতোই পিছিয়ে পড়ে ড্র করেছেন ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাহুরা। ৪১ মিনিটে আব্দুল্লা আল আমরির গোলে এগিয়ে যায় সৌদি। ৮০ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেই জিততে পারল না সৌদি। চাপের মুখে উরুগুয়েকে ৮০ মিনিটে সমতায় ফেরেন আরাহু। গত বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল সৌদি। এ বার লিয়োনেল মেসিদের প্রতিবেশী দেশকেও আটকে দিল।

    মাঠে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার

    মঙ্গলবার বিশ্বকাপে অভিষেক হল আরও এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলারের। নিউ জিল্যান্ডের হয়ে খেললেন সরপ্রীত সিং। ৯০ মিনিট পর্যন্ত মাঠে ছিলেন ২৭ বছরের মিডফিল্ডার। সরপ্রীতের পারফরম্যান্স যথেষ্ট ভাল। পঞ্জাবি পরিবারের সন্তান সরপ্রীত। নিউ জিল্যান্ডেই জন্ম তাঁর। কাজের সন্ধানে তাঁর বাবা-মা অকল্যান্ডে চলে গিয়েছিলেন। সেখানে একটি মুদিখানার দোকান রয়েছে সরপ্রীতের বাবার। গ্রামের আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে রায়ার্ন মিউনিখের হয়ে খেলা ফুটবলারের। ২০১৯ সালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ খেলতে ভারতে এসেছিলেন। উল্লেখ্য, দু’দিন আগেই অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মাঠে নেমেছিলেন আর এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার নিশান ভেলুপিল্লাই।

  • B-52 Bomber Crashes: ক্যালিফোর্নিয়ায় ভেঙে পড়ল মার্কিন বোমারু বিমান! মুহূর্তে পরিণত ধ্বংসস্তূপে, নিহত ৮ বিমানকর্মী

    B-52 Bomber Crashes: ক্যালিফোর্নিয়ায় ভেঙে পড়ল মার্কিন বোমারু বিমান! মুহূর্তে পরিণত ধ্বংসস্তূপে, নিহত ৮ বিমানকর্মী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে (US Air Force) ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা (California Plane Crash)। ক্যালিফোর্নিয়ার মোহাভি মরুভূমিতে অবস্থিত এডওয়ার্ডস এয়ার ফোর্স বেসে পরীক্ষামূলক উড়ানের সময় ভেঙে পড়ে একটি বি-৫২ (B-52) স্ট্র্যাটোফরট্রেস বোমারু বিমান। ঘটনাস্থল থেকে যে ছবি এবং ভিডিও সামনে এসেছে, তা ভয়াবহ। বোমারু বিমানটির (B-52 Bomber Crashes) কিছুই অবশিষ্ট নেই। শুধু কালো ছাই মিশে রয়েছে মাটিতে। ধোঁয়া বেরোচ্ছে ছাইয়ের রাশি থেকে। বিমানে থাকা আটজনেরই মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার বেলা প্রায় ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

    কীভাবে ঘটে দুর্ঘটনা, শুরু তদন্ত

    এডওয়ার্ডস এয়ার ফোর্স বেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমানে মোট আটজন আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনার মাত্রা এতটাই ভয়াবহ যে কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জরুরি পরিষেবা ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। প্রাথমিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু হলেও পরে তা মৃতদেহ উদ্ধারের অভিযানে রূপান্তরিত হয়। এডওয়ার্ডস এয়ার ফোর্স বেসের ৪১২তম টেস্ট উইংয়ের ডেপুটি কমান্ডার কর্নেল জেমস হেইস জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার পর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয়েছে যে বিমানের কেউই বেঁচে থাকার সুযোগ পাননি। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তও শুরু হয়েছে। বায়ুসেনা সূত্রে জানা গেছে, বিমানটিকে ঘোরানোর সময় কোনও ধরনের প্রযুক্তিগত বা নিয়ন্ত্রণজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদিও সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীদের মতে, প্রকৃত কারণ জানতে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। মার্কিন বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বিমানটি একটি রাডার আধুনিকীকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরীক্ষামূলক উড়ান পরিচালনা করছিল।

    আমেরিকার সামরিক বিমান নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

    সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের আকাশপথে সাময়িকভাবে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, দুর্ঘটনার পর বহু দূর থেকে আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছিল। আগুন দ্রুত পুরো বিমানটিকে গ্রাস করে নেয়। ফলে বিশাল এই বোমারু বিমানটির প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই। উল্লেখ্য, বোয়িং নির্মিত B-52 স্ট্র্যাটোফরট্রেস বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘদিনের সক্রিয় সামরিক বিমান। ১৯৫৫ সালে প্রথম পরিষেবায় যুক্ত হওয়া এই দূরপাল্লার ভারী বোমারু বিমানটি প্রচলিত ও পারমাণবিক—দুই ধরনের অস্ত্র বহনে সক্ষম। ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে শুরু করে ইরাক অভিযান পর্যন্ত একাধিক সামরিক অভিযানে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধেও ওই বোমারু বিমানটি ব্যবহার করে আমেরিকা। বড় আকারের বিমানটি থেকে একাধিক অস্ত্রশস্ত্র নিক্ষেপ করা যায়, যার মধ্যে রয়েছে বোমা, ক্রুজ মিসাইল। নিউক্লিয়ার পেলোডও বহন করতে সক্ষম। এই দুর্ঘটনা আমেরিকার সামরিক বিমান নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

  • Divyanshi Singh: দেশের সামরিক ইতিহাসে নজির দিব্যাংশীর! এনডিএ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বায়ুসেনায় যোগ

    Divyanshi Singh: দেশের সামরিক ইতিহাসে নজির দিব্যাংশীর! এনডিএ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বায়ুসেনায় যোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের সামরিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন ফ্লাইট ক্যাডেট দিব্যাংশী সিং (Divyanshi Singh)। তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি (NDA) থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রথম মহিলা ক্যাডেট হিসেবে ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রাউন্ড ডিউটি শাখায় কমিশন লাভ করলেন। হায়দ্রাবাদের ডুন্ডিগালে অবস্থিত এয়ার ফোর্স অ্যাকাডেমিতে (এএফএ) অনুষ্ঠিত ২১৭তম কোর্সের কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েশন প্যারেডে দিব্যাংশীর হাতে প্রেসিডেন্টস কমিশন তুলে দেওয়া হয়। তাঁর সঙ্গে আরও ২৩১ জন ফ্লাইট ক্যাডেট কমিশন পান, যাঁদের মধ্যে ছিলেন ১৯৪ জন পুরুষ এবং ৩৬ জন মহিলা ক্যাডেট।

    এনডিএ-তে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রথম মহিলা অফিসার

    বিশেষ তাৎপর্যের বিষয় হল, এই ব্যাচেই ছিলেন এনডিএ-তে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রথম মহিলা অফিসারদের দল। ২০২১ সালে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো মহিলাদের জন্য এনডিএ-র দরজা খুলে দেওয়া হয়। সেই প্রথম ব্যাচের অন্যতম সদস্য ছিলেন দিব্যাংশী সিং। পুনের খড়গওয়াসলায় অবস্থিত ত্রি-সেনা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এনডিএ-তে তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর তিনি বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য ডুন্ডিগালের এয়ার ফোর্স অ্যাকাডেমিতে যোগ দেন। এনডিএ-তে প্রশিক্ষণকালীন সময়েই দিব্যাংশী ‘ক্যাডেট কোয়ার্টার মাস্টার সার্জেন্ট’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেন। সামরিক শৃঙ্খলা, শারীরিক সক্ষমতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং দলগত কাজের মতো বিষয়গুলিতে তিনি পুরুষ সহপাঠীদের সমানভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

    নারীশক্তির ক্রমবর্ধমান ভূমিকা

    ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এনডিএ-র প্রথম মহিলা ক্যাডেট ব্যাচ প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করে। এরপর তাঁরা নিজ নিজ বাহিনীর বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যোগ দেন এবং চূড়ান্ত প্রশিক্ষণ শেষে কমিশন লাভ করেন। এদিনের প্যারেড পরিদর্শন করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। তিনি স্নাতক ক্যাডেটদের হাতে প্রেসিডেন্টস কমিশন তুলে দেন। দিব্যাংশী সিংয়ের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নারীশক্তির ক্রমবর্ধমান ভূমিকার এক শক্তিশালী প্রতীক। তাঁর এই কৃতিত্ব দেশের অসংখ্য তরুণীকে ইউনিফর্ম পরে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগের স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে।

  • Abhishek Banerjee: ‘১৫ কোটি না দিলে জয়েনিং আটকে যাবে’! প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে অভিষেককে জেরা ইডির

    Abhishek Banerjee: ‘১৫ কোটি না দিলে জয়েনিং আটকে যাবে’! প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে অভিষেককে জেরা ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিজিও কমপ্লেক্সে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। রক্ষাকবচ ছাড়াই ইডি দফতরে হাজির হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির (Primary Recruitment Case) মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সোমবার তলব করেছে ইডি। এই মামলায় সিবিআইয়ের দেওয়া তৃতীয় অতিরিক্ত চার্জশিটের সূত্র ধরেই অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, বলে খবর। সেখানে ১৫ মিনিটের একটি কথোপকথনের উল্লেখ রয়েছে। তাতে একাধিক বার জনৈক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম এসেছে। চাকরি বিক্রি, ঘুষের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের কথা শোনা গিয়েছে সেই কথোপকথনে। সে বিষয়ে অভিষেককে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

    কেন ইডির তলব অভিষেককে?

    ২০১৭ সালে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডানহাত বলে পরিচিত ছিলেন। সিবিআই সূত্রে খবর, তাঁর বাড়িতেই একটা বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কুন্তল ঘোষ, শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়রা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, ওই বৈঠকে একাধিক বিস্ফোরক বিষয় আলোচনা করা হয়েছিল, তারই উল্লেখ রয়েছে চার্জশিটে। বৈঠকে কী কী আলোচনা হয়েছিল? চার্জশিট সূত্রে খবর, সুজয় বৈঠকে কুন্তল, শান্তনুদের জানিয়েছিলেন, অভিষেক জানতে পেরেছেন যে প্রাথমিক নিয়োগে পার্থ চট্টোপাধ্যায় মোটা টাকা নিচ্ছেন। পার্থ যে টাকা নিয়েছেন, তার ভাগ তিনি কেন পাননি, সেই বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন অভিষেক। এমনকী, টাকা ভাগাভাগি নিয়ে পার্থ ও অভিষেকের মধ্যে দ্বন্দ্ব বেঁধে গিয়েছিল। সিবিআই চার্জশিট সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই যে বেআইনি নিয়োগ হয়ে গিয়েছিল, তার জন্য ১৫ কোটি টাকা চেয়েছিলেন অভিষেক। টাকা না পেলে প্রত্যেক চাকরিপ্রার্থীকে গ্রেফতারির হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এমনকী, জয়েনিং আটকানোরও হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

     অভিষেকের আর্থিক লেনদেন ইডির নজরে?

    ইডি সূত্রে খবর, প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতির (Primary Recruitment Case) ১৫ মিনিটের ওই অডিও ক্লিপে যে অভিষেকের কথা বলা হচ্ছে, সেই অভিষেকই তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কি না, স্পষ্ট নয়। ইডি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এ ছাড়া, কথোপকথনে এসেছে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে অন্যতম অভিযুক্ত প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নামও। অভিষেকের সংস্থা লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডসের কর্মচারী ছিলেন সুজয়কৃষ্ণ। সেই সংস্থার আর্থিক লেনদেনও ইডির নজরে রয়েছে। তা নিয়ে এর আগে অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল। পাশাপাশি অভিষেকের অন্য সংস্থাগুলিকেও ইডি এ বার তদন্তের আওতায় আনতে চাইছে। সোমবার তা নিয়েও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

  • FIFA World Cup 2026: জার্মানির ৭, সুইডেনের ৫! ঐতিহাসিক, বিশ্বকাপে এক দিনে চার ম্যাচে ১৯ গোল

    FIFA World Cup 2026: জার্মানির ৭, সুইডেনের ৫! ঐতিহাসিক, বিশ্বকাপে এক দিনে চার ম্যাচে ১৯ গোল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক দিনে চার ম্যাচে ১৯ গোল। এত গোল বিশ্বকাপে আগে কবে হয়েছে, তা ভেবে দেখতে হবে। ভারতীয় সময় রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত চার ম্যাচে মোট ১৯ গোল হল। বড় জয় পেল জার্মানি, সুইডেন। ড্র হল নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান ম্যাচ। জিতল আইভরি কোস্টও।

    কুরাসাওকে ৭ গোল জার্মানির

    শেষ বার বিশ্বকাপে জার্মানি ৭-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছিল ১২ বছর আগে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আয়োজক ব্রাজিলকে এই ব্যবধানেই হারিয়েছিল তারা। একই ফলাফল ফিরল এ বারের বিশ্বকাপে। হিউস্টনে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারাল জার্মানি। ১২ বছর পর ‘বন্ধু’ পেল ব্রাজিল। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বর এবং চার বারের বিশ্বজয়ী জার্মানির বিরুদ্ধে ম্যাচ যে সহজ হবে না এটা অতি বড় কুরাসাও সমর্থকও বুঝতে পেরেছিলেন। তবে সাত গোল খেতে হবে এটা অনেকেই ভাবতে পারেননি। ম্যাচের শুরুতেই গোল করে এগিয়ে যায় জার্মানি। ২১ মিনিটে গোল শোধ করে দেয় কুরাসাও। ওই একটা গোল হজম জার্মানির খেলার মেজাজটাই বদলে দেয়। বাকি যে সময়টা খেলা হল, তাতে দাপট শুধু জার্মানির। বল নিয়ন্ত্রণ, শট, আগ্রাসন— সবেতেই এগিয়ে থেকেছে তারা। সাতটি গোলের মধ্যে ছ’জন আলাদা স্কোরার। এতেই বোঝা গিয়েছে জার্মানি কতটা দলগত খেলা উপহার দিয়েছে।

    নেদারল্যান্ডসকে রুখল জাপান

    রবিবার নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান ম্যাচের প্রথমার্ধে ঘুমপাড়ানি ফুটবল চলছিল। দুই দলের খেলায় না ছিল তাগিদ, না ছিল আগ্রাসন। দ্বিতীয়ার্ধে সেই দুই দলের খেলাই আমূল বদলে গেল। খেলায় গতি এল, প্রাণ ফিরে পেল ম্যাচ। দেখা গেল লড়াকু, আগ্রাসী জাপানকে। এশিয়ার দল রুখে দিল নেদারল্যান্ডসকে। শেষ মুহূ্র্তের করা গোলে ২-২ ড্র হল ম্যাচ। সাম্প্রতিক অতীতে ইংল্যান্ড, ব্রাজ়িলের মতো দেশকে হারিয়েছে জাপান। গত বারের বিশ্বকাপে হারিয়েছে জার্মানির মতো দলকে।

    টিউনিশিয়াকে হারাল সুইডেন

    সুইডেনের খেলা দেখে মনে হল, এ বারের বিশ্বকাপের কালো ঘোড়া তারা। গত বার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি পোল্যান্ডের কাছে হেরে। এ বার সেই পোল্যান্ডকে হারিয়েই বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে তারা। প্রথম ম্যাচেই সুইডেন বুঝিয়ে দিল, তাদেরকে হালকা ভাবে নিলে ভুগতে হবে। এদিন পাঁচ গোল করলেও অন্তত সাত গোল করার সুযোগ পেয়েছিল সুইডেন। জাপান ও নেদারল্যান্ডস ড্র করায় এই গ্রুপ থেকে আপাতত শীর্ষে সুইডেন। তারা যে খেলাটা দেখাল, তাতে জাপান ও নেদারল্যান্ডসের সামনেও কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে।

    ইকুয়েডরকে হারাল আইভরি কোস্ট

    বাকি তিন ম্যাচে ১৮ গোল হলেও এই ম্যাচে মাত্র এক গোল হল। তা-ও একেবারে শেষ মুহূর্তে। দেখে মনে হচ্ছিল, ড্র হবে খেলা। কিন্তু ৯০ মিনিটের মাথায় আমাদ দিয়ালোর গোলে জেতে আইভরি কোস্ট। হারতে হল লাতিন আমেরিকার দল ইকুয়েডরকে।

  • India vs Pakistan: কোন মন্ত্রে পাকবধ? জানালেন হরমন-দীপ্তি, টি২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ৬৪ রানে হারাল ভারত

    India vs Pakistan: কোন মন্ত্রে পাকবধ? জানালেন হরমন-দীপ্তি, টি২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ৬৪ রানে হারাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের বাইশ গজে দাপট ভারতের। পুরুষ হোক বা মহিলা, একই ছবি দেখা যাচ্ছে গত কয়েক বছরে। বিশ্বক্রিকেটে ভারতের সামনে খেলতে নামলেই এক অজানা আতঙ্ক গ্রাস করে পাকিস্তানকে (India vs Pakistan)। শুরুটা ভাল করলেও যত ম্যাচ গড়ায় তত পিছিয়ে পড়ে তারা। মহিলাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও (ICC Women T20I World Cup 2026) সেই ছবি দেখা গেল। ভারতের সামনে দাঁড়াতে পারল না পাকিস্তান। বার্মিংহ্যামে দাপট দেখালেন হরমনপ্রীত কৌরেরা। পাকিস্তানকে ৬৪ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হল তাঁদের। ব্যাট হাতে নায়ক স্মৃতি মন্ধানা ও রিচা ঘোষ। বল হাতে ৫ উইকেট নিয়ে দাপট দেখালেন দীপ্তি শর্মা।

    দুরন্ত বাংলার রিচা

    এই জয়ের রহস্য ফাঁস করেছেন ভারতের অধিনায়ক হরমনপ্রীত ও ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় দীপ্তি। হরমনপ্রীত দুই ক্রিকেটারকে জয়ের প্রধান কৃতিত্ব দিয়েছেন। তাঁরা হলেন স্মৃতি মন্ধানা ও দীপ্তি শর্মা। অধিনায়ক বলেন, “যখনই দরকার পড়ে, ওরা এগিয়ে আসে। দলকে জেতায়। ওদের নিয়ে বেশি কিছু বলার নেই। ওদের খেলায় আমি খুব খুশি। আশা করছি, আগামী দিনেও ওরা এ ভাবে খেলবে।” ব্যাট করতে নেমে শুরুতে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল ভারত। দেখে মনে হচ্ছিল, এই পিচে ব্যাট করা কঠিন। পিচ ততটাও কঠিন ছিল না বলে জানিয়েছেন হরমনপ্রীত। তিনি বলেন, “পিচ ঠিকই ছিল। আমার মনে হয়, শুরুতে অকারণে বেশি চাপ নিয়ে ফেলেছিলাম। পরে আমি ও স্মৃতি জুটি বাঁধলাম। সেখান থেকে খেলায় ফিরলাম।” ভারতের রান ১৭০ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব রিচা ঘোষের। ১৭ বলে ৩৪ রানের ইনিংস খেলেন বাংলার রিচা। হরমন চান, রিচা শুরু থেকে খেলুন। কিন্তু তা সম্ভব নয়। হরমনপ্রীত বলেন, “আমি চাই রিচা প্রথম বল থেকে ব্যাট করুক। আমার হাতে ক্ষমতা থাকলে ওকে শুরুতে নামাতাম। কিন্তু এই দলে ওর নির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। সেটাই ও খুব ভাল ভাবে পালন করছে।”

    দীপ্তির আভায় উজ্জ্বল ভারত

    ভারতের জয়ের নেপথ্যে একটা বড় ভূমিকা রয়েছে টিম ইন্ডিয়ার অলরাউন্ডার দীপ্তি শর্মার (Deepti Sharma)। এই ম্য়াচে তিনি ক্রিকেট ইতিহাসে এক নয়া অধ্যায় যোগ করেছেন। রবিবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীপ্তি ৫ উইকেট শিকার করেন। ভারতীয় টি-২০ ক্রিকেট ইতিহাসে এটাই সর্বকালের সেরা পরিসংখ্যান। কোন মন্ত্রে এই সাফল্য! ম্য়াচ শেষ হতেই ফাঁস করলেন সিক্রেট। টিম ইন্ডিয়ার ম্য়াজিশিয়ান বললেন, একটি ছোট্ট পরিবর্তন করেই সফল হয়েছেন তিনি। দীপ্তি বলেন, “আমি এই ধরনের পিচে বল করতে ভালবাসি। বলের গতি কিছুটা কম রাখছিলাম। উইকেট লক্ষ্য করে বল করছিলাম। বাকিটা পিচ করে দিয়েছে।” যে ভাবে সমর্থকেরা তাঁদের উৎসাহ দিয়েছেন সে কথাও জানিয়েছেন হনুমানজির ভক্ত দীপ্তি। পাশাপাশি স্মৃতি ও হরমনপ্রীতের ব্যাটিংয়ের প্রশংসাও করেছেন তিনি।

  • US-Iran Peace Deal: তেলের বাজারে স্বস্তি! ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের, ১০০ দিন পর খুলছে হরমুজ প্রণালী

    US-Iran Peace Deal: তেলের বাজারে স্বস্তি! ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের, ১০০ দিন পর খুলছে হরমুজ প্রণালী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে স্বস্তি! দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত অবসানের পথে। যুদ্ধ থামিয়ে ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (US President Donald Trump)। রবিবার, ১৪ জুন তিনি ঘোষণা করলেন যে আমেরিকা ও ইরান শান্তিচুক্তিতে (US-Iran Peace Deal) সম্মত হয়েছে। লেবানন সহ সমস্ত জায়গায় মিলিটারি অপারেশন বন্ধ করা হবে অবিলম্বে। একইসঙ্গে তিনি জানান যে হরমুজ প্রণালীও খুলে গিয়েছে (Strait of Hormuz Re-Opening)। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের জন্য কোনও জাহাজকে টোল বা ট্যাক্স দিতে হবে না। ট্রাম্প বলেন যে এই শান্তিচুক্তি ওই এলাকায় স্থিতাবস্থা ফেরাতে বিরাট বড় পদক্ষেপ। শান্তিচুক্তিতে কী কী শর্ত রয়েছে, তাও তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়ে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে। এই চুক্তির আওতায় লেবানন-সহ সমস্ত ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান প্রথম এই ঘোষণা করে। পরে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়ই বিষয়টি নিশ্চিত করে। আগামী ১৯ জুন, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পূর্ণ হয়েছে। আমি হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে ও বিনামূল্যে উন্মুক্ত করার অনুমোদন দিচ্ছি। একইসঙ্গে মার্কিন নৌ অবরোধও প্রত্যাহার করা হবে। বিশ্বের জাহাজগুলো আবার চলাচল শুরু করুক, তেলের প্রবাহ স্বাভাবিক হোক।” এর কিছুক্ষণ পরেই ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানান, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে চলা যুদ্ধের “তাৎক্ষণিক সমাপ্তি” ঘটছে। পাশাপাশি আগামী দুই মাসের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতার লক্ষ্যে নতুন আলোচনা শুরু হবে।

    চুক্তিতে কী কী শর্ত আছে?

    • হরমুজ প্রণালী: প্রথমেই ট্রাম্প জানান যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত সম্পূর্ণ টোল ফ্রি বা কর মুক্ত হবে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতে যাতে কোনও বাধা সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করবে শান্তিচুক্তি। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলতে হবে চুক্তির নিয়মে।
    • ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা নয়: আমেরিকা ইরানের বন্দরে যাওয়া-আসার যে পথগুলি বন্ধ করে রেখেছিল, তাও তুলে নেবে ৩০ দিনের মধ্যে। যুদ্ধের সময় ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রিতে যে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল আমেরিকা, তা প্রত্যাহার করা হবে।
    • ইরানকে আর্থিক সাহায্য: খসড়া প্রস্তাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে ইরানে যুদ্ধের জেরে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পুনর্নির্মাণের জন্য আমেরিকা ও তার বন্ধু দেশগুলি অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সাহায্য করবে। ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলার আটকে রয়েছে বিদেশি ভাঁড়ারে। সেই টাকাও ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইরান। শান্তিচুক্তিতে সই করার আগেই এই তহবিলের অর্ধেক টাকা দাবি করা হয়েছে।
    • ইরানের পরমাণু প্রোগ্রাম: ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নাকি এই চুক্তিতে আপত্তি করেছিলেন। ট্রাম্প সে কথা ফাঁস করে দেন সাংবাদিক বৈঠকে। একইসঙ্গে তিনি বলেন যে নেতানিয়াহুর আপত্তি থাকলেও, এই চুক্তি ইজরায়েলকে সম্ভাব্য বিরাট বড় বিপর্যয় থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। ইরানের পরমাণু প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনাও হবে এই শান্তিচুক্তিতে, তা উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদি ইরান আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু শক্তি নিয়ে চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ফের মিলিটারি অভিযান শুরু হবে।

    আন্তর্জাতিক মহলে স্বস্তি

    চুক্তির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তাঁর মতে, এটি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনের পথে একটি “গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ”। অন্যদিকে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইটালি জানিয়েছে, তারা ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে।

    বাজারে ইতিবাচক প্রভাব

    শান্তিচুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করে। সোমবার এশিয়ার বাজার খুলতেই তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে যায়। একইসঙ্গে জাপানের নিক্কেই সূচক প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে যায়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় গত কয়েক মাসে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছিল। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, “এই চুক্তির ফলে শুধু এখনই নয়, দীর্ঘমেয়াদেও জ্বালানির দাম কমবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন পথ খুলবে।”

    যুদ্ধের অবসান!

    গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা হয়। পাল্টা জবাবে ইরান ইজরায়েল এবং মধ্য প্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলির বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপ করে। দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে যুদ্ধবিরতির পথে দুই দেশ এগোলেও, চূড়ান্ত চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে এখনও বহু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তবে আপাতত বিশ্ববাসীর নজর ১৯ জুনের জেনেভা বৈঠকের দিকে, যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা।

    শান্তিচুক্তি না হলে কী হবে?

    ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে যদি পরমাণু শক্তি নিয়ে আলোচনায় ইরান সম্মতি না দেয়, তাহলে ফের সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। আর যদি এই চুক্তিই ভেঙে যায়, তাহলে তিনি হয় তেহরানে ফের হামলা শুরু করবেন, নয়তো আমেরিকাকে মধ্য প্রাচ্যের অভিভাবক (Guardian of the Middle East) করে তুলবেন। এর বিনিময়ে তাদের ওই অঞ্চল থেকে পাওয়া রাজস্বের ২০ শতাংশ দেওয়া হতে পারে।

  • India’s Protest: ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর পর নয়া নাটক! মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে সরব ভারত, পিঠ বাঁচাতে পাল্টা দাবি ট্রাম্পের

    India’s Protest: ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর পর নয়া নাটক! মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে সরব ভারত, পিঠ বাঁচাতে পাল্টা দাবি ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত কয়েক দিনে ওমান উপসাগর এলাকায় ভারতীয় নাবিকদের নিয়ে চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কার— এমটি মার্টিভেক্স (MT Marivex), এমটি সেটেবলো (MT Settebello) এবং এমটি জলভীর (MT Jalveer)— হামলার মুখে পড়ে। এর মধ্যে এমটি সেটেবলো-তে হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত সরকার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। নয়াদিল্লি ইতিমধ্যেই দু’বার মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জেসন মিকসকে তলব করেছে। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজের উপর এই ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে।

    ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া

    গত চার-পাঁচ দিনে ওমান উপকূলের কাছে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। সেই হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। মার্কিন বাহিনীর এই ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভারত। মার্কিন হানার তীব্র নিন্দা করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শুক্রবার এই ঘটনা নিয়ে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি হামলার তীব্র নিন্দাও করেছেন জয়শঙ্কর। গত বুধবার নয়াদিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসের শীর্ষ কূটনীতিককে তলবও করা হয়। কিন্তু তার পরেও বৃহস্পতিবার আরও একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে। বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ১২ জুন এক্স (সাবেক টুইটার)-এ জানান, তিনি মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছেন। জয়শঙ্কর লেখেন, “ওমান উপসাগরে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু নিয়ে ভারতের তীব্র আপত্তির কথা আমি পুনরায় জানিয়েছি। বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রাণঘাতী পদক্ষেপ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা দাবি

    ভারতের কড়া অবস্থানের পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান নাকি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলির উপর একাধিক ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছিল। মার্কিন বাহিনী সেই সমস্ত ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে। সেন্টকম (CENTCOM) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ইরান একাধিক একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করেছিল। মার্কিন বাহিনী সবকটি ড্রোন ধ্বংস করেছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।” এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও এক ধাপ এগিয়ে দাবি করেন, ইরানের লক্ষ্য ছিল ‘ভারতীয় জাহাজ’। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলি ভারতের মালিকানাধীন ছিল না। এমটি জলভীর (MT Jalveer) ছিল গিনি-বিসাউ পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার এবং এমটি মার্টিভেক্স (MT Marivex) ও এমটি সেটেবলো (MT Settebello) ছিল পালাউ-নিবন্ধিত জাহাজ। যদিও ওই জাহাজগুলির ক্রুদের মধ্যে বহু ভারতীয় নাবিক ছিলেন।

    ট্রাম্পের পোস্ট ঘিরে বিতর্ক

    আরব দুনিয়ায় উত্তেজনার আবহে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালী ছেড়ে বেরিয়ে আসা ভারতীয় জাহাজগুলিকে লক্ষ্য করে মানববিহীন উড়ন্ত যানের মাধ্যমে হামলার চেষ্টা চালিয়েছিল ইরান। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, আগের রাতে ভারতীয় জাহাজগুলির বিরুদ্ধে যে হামলার চেষ্টা হয়েছিল, তা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শুধু জাহাজে হামলার অভিযোগই নয়, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও কড়া ভাষায় সরব হয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, যে খসড়া সমঝোতার কথা ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে আনা হয়েছে, তার সঙ্গে প্রকৃত আলোচনার কোনও মিল নেই। ইরানের বিরুদ্ধে অসততার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তেহরানের সঙ্গে সদিচ্ছার ভিত্তিতে আলোচনা করা অত্যন্ত কঠিন।

    ট্রাম্পের দাবি খারিজ করল ইরান

    তবে, মার্কিন দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ভারতে অবস্থিত ইরানের কনস্যুলেট এক বিবৃতিতে বলেছে, “হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন হামলা চালিয়েছে— মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। গত এক সপ্তাহে তিনটি জাহাজে হামলা ও তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক সমালোচনা থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।” ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাইয়ের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তেহরান আরও দাবি করেছে, ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনার দায় এড়াতেই নতুন এই অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে।

    উত্তপ্ত হরমুজ ও ওমান উপসাগর

    বর্তমানে হরমুজ প্রণালী এবং ওমান উপসাগর ঘিরে পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে সামরিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। ভারত শুরু থেকেই সংঘাতের বদলে শান্তি ও সংলাপের পক্ষে সওয়াল করে আসছে। এদিকে ভারতীয় নাবিকদের প্রাণহানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক চাপও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন ও নৌ-নিরাপত্তার প্রশ্নে গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি এবং ইরানের পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে সত্যতা নিয়ে এখনও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতময় পরিস্থিতি আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

     

     

     

     

  • El Nino: তৈরি ‘এল নিনো’, শক্তিশালী হয়ে উঠছে উষ্ণ বায়ুর প্রভাব! ভারতের বর্ষা মঙ্গলে অশনি সংকেত

    El Nino: তৈরি ‘এল নিনো’, শক্তিশালী হয়ে উঠছে উষ্ণ বায়ুর প্রভাব! ভারতের বর্ষা মঙ্গলে অশনি সংকেত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামনেই বর্ষা। তার আগে এক বড় আশঙ্কার কথা শোনাল ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD)। প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’ (El Nino) পরিস্থিতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে নিশ্চিত করেছেন আবহাওয়াবিদরা। শুধু তাই নয়, সতর্কবার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, চলতি বছর বর্ষার মরশুম (Weather Update) যত এগোবে, এটি আরও বেশি শক্তিশালী ও দাপুটে হয়ে ওঠার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই আবহাওয়া পরিস্থিতির জেরে ভারতে বর্ষার মানচিত্র পুরো বদলে যেতে পারে। এর জেরে বিলম্বিত বর্ষা থেকে, কম বৃষ্টিপাত ও অসময়ে অতিবৃষ্টির সঙ্কট তৈরি হতে পারে। সেই সঙ্গে প্রাণান্তকর গরমে ছটফট করতে পারে মানুষ।

    ভারতে বর্ষার উপর এল-নিনো-র প্রভাব

    দেশে বর্ষার উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়াগত পরিবর্তনের কথা জানাল ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। আইএমডি-র বুলেটিন অনুযায়ী, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের জলপৃষ্ঠের তাপমাত্রা (Sea Surface Temperatures) স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ‘এল নিনো’ সক্রিয় হওয়ার নির্দিষ্ট সীমারেখা অতিক্রম করে গিয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, সমুদ্রপৃষ্ঠের এই উষ্ণায়নের সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলও সমান্তরালভাবে সাড়া দিতে শুরু করেছে। এর অর্থ, সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের এই যৌথ বা কাপল্ড সিস্টেমটি এখন সম্পূর্ণভাবে ‘এল নিনো’র গ্রাসে চলে গিয়েছে। বুলেটিন অনুযায়ী, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে আনুষ্ঠানিকভাবে এল নিনো (El Nino) পরিস্থিতির সূচনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, চলতি দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মরশুমে এই এল নিনো আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    আরও শক্তিশালী হবে ‘এল নিনো’

    মৌসম ভবনের বুলেটিনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বর্তমানে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মরশুমে এটি আরও শক্তিশালী রূপ ধারণ করতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মাসগুলিতে ‘এল নিনো’র তীব্রতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, জুন ২০২৬-এ মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ‘এল নিনো’র জন্য নির্ধারিত মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতি পরিমাপের অন্যতম প্রধান সূচক তথা ‘নিনো ৩.৪ ইনডেক্স’ (Niño 3.4 index)-এর গত তিন মাসের গড় তাপমাত্রা +০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে চলে গিয়েছে, যা ‘এল নিনো’র আনুষ্ঠানিক আগমনকে সিলমোহর দেয়। এ ছাড়াও, প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশেও তাপমাত্রার ব্যাপক অসঙ্গতি বা উষ্ণতা লক্ষ্য করা গেছে, যার অর্থ গভীরের এই গরম জল আগামী দিনগুলিতে অনবরত সমুদ্রপৃষ্ঠে উঠে এসে ‘এল নিনো’কে আরও বেশি শক্তিশালী করে তুলবে।

    দেশে বর্ষার উপর কী প্রভাব?

    সাধারণত ‘এল নিনো’ হল একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রশান্ত মহাসাগরের জলপৃষ্ঠের অতিরিক্ত উষ্ণায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারতের আবহাওয়ার ইতিহাসে এই ‘এল নিনো’র রেকর্ড মোটেও ভাল নয়। ঐতিহাসিকভাবে, ‘এল নিনো’ সক্রিয় থাকলে ভারতে বর্ষার বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই কমে যায়। এর ফলে দেশের একাধিক রাজ্যে তীব্র দাবদাহ, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক মরশুম এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভয়াবহ খরার (Drought) ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। তবে আইএমডি জোর দিয়ে বলেছে যে, ভারতের বর্ষা কেবল ‘এল নিনো’র ওপর নির্ভর করে না, অন্যান্য অনেক আঞ্চলিক উপাদানও এর সঙ্গে জড়িত।

    ‘এল নিনো’ কী?

    সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব থেকে পশ্চিমে বয়ে চলা হাওয়া গরম জলকে ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু কয়েক বছর পরপর এই হাওয়া দুর্বল হয়ে পড়লে গরম জল উল্টো অভিমুখে, অর্থাৎ দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলের দিকে চলে যায়। প্রশান্ত মহাসাগরের এই অস্বাভাবিক উষ্ণ হয়ে ওঠার চেনা নামই হল ‘এল নিনো’। গ্রীষ্মকালে ভারতের ভূখণ্ড প্রচণ্ড উত্তপ্ত হলে ভারত মহাসাগর থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস দেশের দিকে ছুটে আসে, যা বর্ষা ডেকে আনে। কিন্তু এল নিনো এই বাতাসের গতিপথকে ভারত থেকে দূরে, প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। ফলে মেঘ ও বৃষ্টির চাকা থমকে যায়। তথ্য বলছে, ১৯৫১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে হওয়া প্রায় ৬০ শতাংশ এল নিনোর বছরগুলিতেই ভারতে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশ কমে গিয়েছিল।

    ভারতের নিজস্ব ‘রক্ষাকবচ’

    এল নিনো এলেই যে খরা হবে, তা নয়। অনেক সময় ভারতের ত্রাতা হয়ে ওঠে ভারত মহাসাগর নিজেই। একে বলা হয় ‘ইন্ডিয়ান ওশেন ডাইপোল’ বা আইওডি (IOD)।

    • পজিটিভ আইওডি : যখন পূর্ব আফ্রিকার উপকূলবর্তী পশ্চিম ভারত মহাসাগর উত্তপ্ত হয় এবং ইন্দোনেশিয়ার দিকের পূর্ব অংশ শীতল থাকে। এই পরিস্থিতি এল নিনোর নেতিবাচক প্রভাবকে রুখে দিয়ে ভারতে বাড়তি বৃষ্টির জোগান দেয়।
    • নেগেটিভ আইওডি: এর উল্টো পরিস্থিতি বর্ষাকে আরও দুর্বল করে। ২০০২ এবং ২০১৫ সালের মতো এল নিনো ও নেগেটিভ আইওডির যুগলবন্দি ভারতের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ খরা ডেকে এনেছিল।
    • নিরপেক্ষ আইওডি: আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে ভারত মহাসাগরে ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ বা আইওডি (IOD) পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ‘নিরপেক্ষ’ বা নিউট্রাল অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা জুড়েই এই পরিস্থিতি বজায় থাকার সম্ভাবনা। নিরপেক্ষ আইওডি থাকার অর্থ হল – এটি এবার ‘এল নিনো’র ক্ষতিকারক প্রভাবকে কমাতেও পারবে না, আবার বাড়িয়ে তুলতেও ভূমিকা নেবে না।
  • Suvendu in Malda: দুই নতুন পুরসভা, এমসের সঙ্গে মেডিক্যাল কলেজ, গঙ্গার ভাঙন রোধ থেকে সীমান্ত সমস্যা, মালদায় একগুচ্ছ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu in Malda: দুই নতুন পুরসভা, এমসের সঙ্গে মেডিক্যাল কলেজ, গঙ্গার ভাঙন রোধ থেকে সীমান্ত সমস্যা, মালদায় একগুচ্ছ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সবার জন্য উন্নয়ন,সবার জন্য সরকার। সবার সঙ্গে কথা বলেই তৈরি হবে রাজ্যে উন্নয়নের গতিপথ। শুক্রবার বিকেলে মালদায় চার জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে প্রশাসনিক কর্তাদের সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu in Malda)৷ এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে৷ তাঁদের অনেকে অ্যাপিলেট ট্র্যাইবুনালে আবেদন করেছেন, অনেকে আবার সিএএ-তে আবেদন করেছেন ৷ যতদিন না তাঁরা যথাযথ বিচার পাচ্ছেন, তাঁদের কাউকে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা হবে না ৷ এক্ষেত্রে ধর্ম, বর্ণ কিংবা রাজনৈতিক পরিচিতি বিচার্য নয়, বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী ৷ জানান, উত্তরবঙ্গে তৈরি হবে দুটি এমস্। মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মুর্শিদাবাদে সীমান্ত সমস্যাও দ্রুত মিটিয়ে ফেলা হবে, বলে দাবি শুভেন্দুর।

    মালদা জেলায় দুটি নতুন পুরসভা নির্মাণ

    এদিন মালদা জেলায় দুটি নতুন পুরসভা নির্মাণের কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ তিনি বলেন, ‘‘মালদা জেলায় চাঁচল ও গাজোল পুরসভার দাবি বহুদিনের ৷ প্রাথমিকভাবে এই দুটি পুরসভা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৷ তার প্রাথমিক কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে ৷ বাকিটা বাজেটে ঘোষিত হবে ৷”

    গঙ্গা ভাঙন রোধের কাজ

    আগামী বর্ষার আগেই গঙ্গা ভাঙন রোধের কাজ করার আশ্বাসও দেন ৷ মালদা, মুর্শিদাবাদের বন্যা ও ফি বছর নদী ভাঙন এই দুই জেলার বাসিন্দাদের কাছে একটা আতঙ্ক। এতদিন এ নিয়ে কেন্দ্র–রাজ্য পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপ করেছে। শুক্রবার শুভেন্দু জানান, এখন থেকে এই দুই জেলায় বন্যা ও ভাঙন রোধে কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করবে।

    চার জেলায় নতুন মেডিক্যাল কলেজ

    একইসঙ্গে চার জেলায় নতুন মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণের জন্য কাজ শুরু করতে স্বাস্থ্য কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান৷ শুভেন্দু এদিন জানান, দক্ষিণ দিনাজপুরে মেডিক্যাল কলেজের প্রস্তাব রয়েছে ৷ তা দ্রুত খতিয়ে দেখতে হবে ৷ একইসঙ্গে আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও মেডিক্যাল কলেজ করতে হবে ৷

    উত্তরবঙ্গে এমস্

    উত্তরবঙ্গে এমস্ হাসপাতাল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোনওরকম সমস্যা হবে না, বলেও এদিন মত প্রকাশ করেন শুভেন্দু । সূত্রের খবর, এমস্ হাসপাতাল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সম্ভবত রায়গঞ্জের মাটিকেই বেছে নেওয়া হবে। এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। চার জেলায় আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোর মান উন্নত করার ব্যাপারে জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    সরকারি প্রকল্পের সুবিধা

    মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘‘ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৫০ লক্ষের বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা ঢুকে গিয়েছে ৷ এই প্রক্রিয়া এখন চলবে ৷ একইভাবে বার্ধক্য ও বিধবা ভাতা-সহ অন্যান্য সামাজিক প্রকল্পগুলি নিয়েও আমরা চিন্তাভাবনা করছি ৷” শুভেন্দু এদিন আরও জানান, রাজ্য সরকার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় যুক্ত হয়েছে ৷ প্রত্যেক গরিব মানুষ এবার সরকারি বাড়ি পাবেন ৷ আগামী ২০ জুলাইয়ের মধ্যে তার নতুন তালিকা তৈরিও হয়ে যাবে ৷ বিধায়ক ও প্রশাসনিক কর্তাদের সহযোগিতায় এই কাজ হবে ৷ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘বিগত সরকার চার মাসের বাজেট করে গিয়েছিল ৷ আগামী ১৮ জুন বিধানসভার অধিবেশন শুরু হবে ৷ ২২ তারিখ পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হবে ৷” রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের বক্তব্য, ‘‘আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন রাজ্যে জনকল্যাণ শিবির হবে ৷ বিধায়ক, সাংসদ ও বিডিওরা শিবিরগুলি পর্যবেক্ষণ করবেন ৷ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে অনেক ভুয়ো খবর ছড়িয়েছে ৷ সেসব বাদ দিয়ে মানুষকে এই স্কিম নিয়ে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে ৷ এই প্রকল্পের কার্ড গোটা ভারতে কাজ করে ৷ একইভাবে আমরা রেশন কার্ডেও এই ব্যবস্থা চালু করার কথা ভাবছি ৷ তার ফলে রাজ্যের বাইরে থাকলেও ওই কার্ডে রেশন তোলা যাবে৷”

    পুলিশকে বার্তা শুভেন্দুর

    পুলিশের উদ্দেশেও বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ তাঁর বার্তা, ‘‘ক্রশিং ছাড়া জাতীয় সড়ক জুড়ে ব্যারিকেড লাগানো যাবে না ৷ যানজটের জন্য কালিয়াচক-ফরাক্কায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকে ৷ ওভারলোডিং সংক্রান্ত অনেক অভিযোগও আসে ৷ এসব চলবে না ৷ কোথাও কোনও সমস্যা থাকলে তা যাত্রীরা সোশাল মিডিয়ায় জানাতে পারবেন ৷ যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা সরকার নেবে ৷ প্রতিটি থানায় মহিলাদের জন্য হেল্প ডেস্ক চালু করতে হবে ৷ আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় 12 হাজার কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে ৷ প্রায় ৪ হাজার ভিলেজ পুলিশও নিয়োগ হবে ৷ মোথাবাড়ি, কালিয়াচক, বেলডাঙা, সামশেরগঞ্জের মতো ঘটনা আর যাতে না ঘটে তার জন্য পুলিশকে দায়িত্ব নিতে হবে ৷” পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, ‘‘কোনও রাজনৈতিক দল আন্দোলন করার অধিকার হারাক তা আমরা চাই না ৷”

    সীমান্ত সমস্যা সমাধান

    মুখ্যমন্ত্রী এদিন সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়েও মন্তব্য করেন ৷ বিএসএফ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন ৷ এক্ষেত্রে পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চেয়েছেন শুভেন্দু ৷ ধরা পড়া বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত ডিপোর্ট করার নির্দেশ দেন ৷ তিনি জানান, সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলিকে সাজিয়ে তোলার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ সাহায্য করতে প্রস্তুত ৷ তার সুযোগ জেলাশাসকদের নিতে হবে৷ দুই দিনাজপুর ও মালদায় বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। ক্ষমতায় এসেই বিজেপি সরকার ঘোষণা করেছিল যে, উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে বিএসএফকে জমি হস্তান্তর করা হবে। এদিনের বৈঠকে এখনও পর্যন্ত কত জমি বিএসএফকে হস্তান্তর করা হলো, তা জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী।

    বিরোধী বিধায়কদের সমান গুরুত্ব

    এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো উত্তরের তিন জেলার তৃণমূলের সব বিধায়কই উপস্থিত ছিলেন। বিরোধী দলের বিধায়কদের অভাব–অভিযোগ মন দিয়ে শোনেন শুভেন্দু। মালদা মেডিক্যাল কলেজে হার্ট কেয়ার ইউনিট, মালদা বিমান বন্দরের জন্য জমি, কালিয়াচকে দমকল কেন্দ্র, মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে বিড়ি শ্রমিকদের জন্যে বন্ধ হয়ে থাকা হাসপাতালের আধুনিকীকরণ–সহ বিভিন্ন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। কালিয়াচক, মোথাবাড়ি, বেলডাঙ্গায় বিগত দিনের গন্ডগোল প্রসঙ্গ উত্থাপন করে শুভেন্দু বলেন, ‘আশা করব আগামীতে এই ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।’ এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে তিনি বিরোধী বিধায়কদেরও সাহায্য চান। এদিন দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে এক বেনজির সৌজন্যের আবহ তৈরি হয়েছিলো মালদার প্রশাসনিক বৈঠকে।

LinkedIn
Share