Author: ishika-banerjee

  • India Bangladesh Electricity: সস্তার দিন শেষ বাংলাদেশের! বিদ্যুৎ কিনতে ভারতকে দিতে হবে অতিরিক্ত টাকা

    India Bangladesh Electricity: সস্তার দিন শেষ বাংলাদেশের! বিদ্যুৎ কিনতে ভারতকে দিতে হবে অতিরিক্ত টাকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে রফতানি করা বিদ্যুতের উপর ইউনিট পিছু বাড়তি চার্জ ধার্য করল ভারত। বিদ্যুৎ রফতানি ক্ষেত্রে গ্রিড পরিচালনা ও বিদ্যুৎ লেনদেনের হিসেব-নিকাশ নিষ্পত্তির জন্য সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি (এসএনএ) চার্জ আরোপ করা হচ্ছে। যার জেরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ভারতীয় মুদ্রায় ০.০০৫ টাকা (New Charges on Electricity) বেশি দিতে হবে বাংলাদেশকে (India Bangladesh Electricity)। এমনিতেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে ভুগছে বাংলাদেশ। এরই মাঝে ভারতের এই আধা পয়সার অতিরিক্ত চার্জে বাংলাদেশের মাথায় হাত পড়তে পারে। এই নতুন চার্জ নিয়ে ইতিমধ্যেই চুক্তি করার আগে অর্থ মন্ত্রকের মতামত চেয়েছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রক।

    কেন নেওয়া হচ্ছে এই নতুন চার্জ

    ভারত থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ কেনে বাংলাদেশ। এবার সেই বিদ্যুৎ কিনতেই জুড়তে চলেছে নতুন চার্জ। জানা যাচ্ছে, বিদ্যুতের মূল দামের থেকে আলাদাভাবে নেওয়া হবে এই এনএসএ চার্জ। গ্রিড পরিচালনা, শিডিউলিং, মিটারিং, বিদ্যুতের হিসাব-নিকাশ ও আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ লেনদেন নিষ্পত্তির ব্যয় মেটাতে এই বাড়তি অর্থ ধার্য করা হচ্ছে। এই বিষয়ে ভারতের সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থা এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি বা এসএনএ চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সংক্রান্ত একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট বাংলাদেশের অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। চিঠিতে বলা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে চুক্তিতে দেরি হলে এনভিভিএনের মাধ্যমে ১১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানিতে সমস্যা তৈরি হতে পারে। ভারত শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ০.০১ টাকা হারে এই চার্জ দাবি করেছিল। পরে তা কমিয়ে ০.০০৫ করা হয়।

    বাংলাদেশের খুব বেশি খরচ বাড়বে না

    বাংলাদেশি আধিকারীদের তরফে বলা হয়েছে, এই বাড়তি অর্থ বিদ্যুতের দাম নয়, এটি বিদ্যুৎ গ্রিড পরিচালনা ও অন্যান্য খরচের জন্য একটি বিশেষ চার্জ। আন্তদেশীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্যে গ্রিড পরিচালনা এবং লেনদেন নিষ্পত্তির খরচ হিসেবেই এই চার্জ নেওয়া হবে। শিডিউল ঠিক করা, মিটার থেকে তথ্য নেওয়া, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ব্যবহারের হিসেব মেলানো—সব কিছুর জন্যই এই টাকা। এতে বাংলাদেশের খুব বেশি খরচ বাড়বে না। বরং একবার এনভিভিএনের সঙ্গে চুক্তি হয়ে গেলে লেনদেন আরও সহজ হবে। আলাদা আলাদা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে বিল মেটানোর ঝামেলাও কমবে।

    নেপাল ও ভুটানের থেকেও এই চার্জ নেওয়া হয়

    এদিকে ভারতের তরফে জানানো হয়েছে, নেপাল ও ভুটানের থেকেও একই হারে এসএনএ চার্জ নেওয়া হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের জন্য বিষয়টা ভিন্ন কিছু নয়। প্রতিবেশী দেশগুলির বিদ্যুৎ বাণিজ্যে একই ব্যবস্থা চালু করেছে সিইআরসি। ভারতের আঞ্চলিক গ্রিডে বাংলাদেশকে একটি আলাদা কন্ট্রোল এরিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ আমদানির জন্য মিটারিং, এনার্জি অ্যাকাউন্টিং ও সেটেলমেন্টের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে।

    কোন কোন কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ যায় বাংলাদেশে

    বহু বছর ধরে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে বাংলাদেশ। বর্তমানে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে মোট ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে এনটিপিসি থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন থেকে ৩০০ মেগাওয়াট, ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট, পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার কেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট ও সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়া থেকে আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসে। এই পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য এসএনএ চার্জ বিষয়ক চুক্তি হচ্ছে। এর বাইরে আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশের। সেখানে অবশ্য আগে থেকেই যুক্ত রয়েছে এই চার্জ। ফলে গড্ডা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আলাদা করে চুক্তির প্রয়জন পড়বে না।

    ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি অপরিহার্য

    বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গ্যাসের সংকট, জ্বালানি আমদানির ব্যয় ও দেশীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের চাহিদা পূরণে ভারতের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা দেখা দিয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসেবে, আদানি পাওয়ার, এনভিভিএন, পিটিসি ইন্ডিয়া ও সেম্বকর্ণ—এই চার উৎস থেকে বাংলাদেশ প্রায় ১ হাজার ৬৪১ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ আমদানি করেছে। বিদ্যুতের মূল মূল্য হিসেবে এ সময় পরিশোধ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯৯৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে আদানি পাওয়ার থেকে প্রায় ৮০৩ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনতে ব্যয় হয়েছে ১১ হাজার ৯৩৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এনভিভিএনের বিদ্যুতের জন্য ৩ হাজার ৪৫৭ কোটি ৮২ লাখ, পিটিসি ইন্ডিয়ার জন্য ১ হাজার ৬৫১ কোটি ৩২ লাখ এবং সেম্বকর্পের বিদ্যুতের জন্য ১ হাজার ৯৫৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এনভিভিএনের বিদ্যুতের জন্য হুইলিং চার্জ হিসেবে আরও ২১১ কোটি ৭১ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে চার উৎস থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে মোট ব্যয় হয়েছে ১৭ হাজার ২১১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। নতুন এ চুক্তি কার্যকর হলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির মূল বিদ্যুৎমূল্যের পাশাপাশি এসএনএ চার্জও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানি ব্যয়ের একটি অংশ হিসেবে যুক্ত হবে।

  • Pakistani-Sindhi Brides: অপেক্ষার অবসান! অপারেশন সিঁদুরের পর ভিসা জট কাটিয়ে ভারতে এলেন ১৫০ পাকিস্তানি সিন্ধি কনে

    Pakistani-Sindhi Brides: অপেক্ষার অবসান! অপারেশন সিঁদুরের পর ভিসা জট কাটিয়ে ভারতে এলেন ১৫০ পাকিস্তানি সিন্ধি কনে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ভিসা পরিষেবা এবং ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত। এর জেরে পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের (Pakistani-Sindhi Brides) বহু পরিবারের মেয়েদের ভারতীয় পাত্রদের সঙ্গে বিয়ে কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। অবশেষে সেই জট কাটিয়ে অন্তত ১৫০ জন পাকিস্তানি সিন্ধি কনে ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বিকল্প ট্রানজিট রুটে ভারতে এসে পৌঁছেছেন। সিন্ধি সম্প্রদায়ের নেতা রাজেশ ঝামবিয়া সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার পরবর্তীতে ওই কনেদের এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ভিসা মঞ্জুর করে। তবে তাঁদের সরাসরি আটারি সীমান্ত দিয়ে নয়, তৃতীয় কোনও দেশের মাধ্যমে বিমানে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। ঝামবিয়ার কথায়, “অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয়েছে।” তাঁর দাবি, কনে ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা মাসকাট, দুবাই, শ্রীলঙ্কা এবং অন্যান্য ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে ভারতে পৌঁছেছেন।

    আটারি সীমান্ত বন্ধের পর বদলে যায় পরিস্থিতি

    দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের সিন্ধি পরিবারগুলি বিয়ের জন্য ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত ব্যবহার করে ভারতে যাতায়াত করতেন। কিন্তু অপারেশন সিঁদুরের পর সেই পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। ঝামবিয়া বলেন, আটারি রুটে ভারতে আসার পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছিল। ফলে ভারতে বিয়ের জন্য অপেক্ষায় থাকা বহু পাকিস্তানি তরুণীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এরপর রায়পুরের সন্ত যুধিষ্ঠিরলাল শাদানি, যিনি পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের ঘোটকিতে অবস্থিত শাদানি দরবারের আধ্যাত্মিক প্রধান, এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হন। ভারতে যাঁদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছিল, এমন পাকিস্তানি তরুণীদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়।

    কেন্দ্রের কাছে আবেদন

    শাদানি দরবারের পক্ষ থেকে ওই তালিকা ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে পাঠানো হয়। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভারতে আসার জন্য ভিসা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। ঝামবিয়ার দাবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আবেদন বিবেচনা করে তাঁদের ভারতে আসার অনুমতি দেয়। তবে শর্ত ছিল—সীমান্ত দিয়ে নয়, বিমানে করে তৃতীয় কোনও দেশের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করতে হবে। তিনি জানান, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে প্রায় ১৫০ জন কনে ও তাঁদের পরিবারের সদস্য পাকিস্তান থেকে দুবাই, ওমান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন দেশের ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে ভারতে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে শুধু নাগপুরেরই প্রায় ১৫টি বিয়ের ঘটনা রয়েছে।

    এখনও অপেক্ষায় প্রায় ৩০০ কনে

    তবে সমস্যা পুরোপুরি মেটেনি। ঝামবিয়ার দাবি, পাকিস্তানে এখনও প্রায় ৩০০ জন সিন্ধি তরুণী রয়েছেন, যাঁদের ভারতীয় যুবকদের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছে। ভিসা জটিলতার কারণে তাঁরাও ভারতে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। এই তরুণীদেরও যাতে ভারতীয় ভিসা দেওয়া হয়, সেই জন্য ভারত সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিন্ধি সম্প্রদায়ের নেতারা। অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও এই বিয়েগুলির ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ দুই দেশের সিন্ধি পরিবারগুলির জন্য স্বস্তির বার্তা এনেছে।

  • Jaishankar Putin Meet: সেপ্টেম্বরেই ভারতে পুতিন! মস্কোয় বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্টকে মোদির বার্তা পৌঁছে দিলেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর

    Jaishankar Putin Meet: সেপ্টেম্বরেই ভারতে পুতিন! মস্কোয় বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্টকে মোদির বার্তা পৌঁছে দিলেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর (Jaishankar Putin Meet)। সোমবার ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর একটি ব্যক্তিগত বার্তাও পুতিনের হাতে তুলে দেন। একই সঙ্গে ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতির কথাও রুশ প্রেসিডেন্টকে জানান জয়শঙ্কর। দু’দিনের রাশিয়া সফরের অংশ হিসেবে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিদেশমন্ত্রী। এর আগে তিনি রাশিয়ার প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মান্তুরভের সঙ্গে ভারত-রাশিয়া আন্তঃসরকারি কমিশনের ২৭তম বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন। বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে টানাপড়েনের আবহে পুতিন-জয়শঙ্করের সাক্ষাৎ ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করছেন কূটনীতিবিদদের একাংশ।

    কী কী নিয়ে বৈঠকে আলোচনা

    বৈঠকে জয়শঙ্কর জানান, ভারত-রাশিয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাণিজ্য, জ্বালানি, সার, পরমাণু শক্তি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জয়শঙ্কর বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসন্ন সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) শীর্ষ সম্মেলনে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করছেন। পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানানোর জন্যও প্রধানমন্ত্রী মোদির আমন্ত্রণ তিনি পৌঁছে দেন। ভবিষ্যতে দুই দেশের বার্ষিক শীর্ষ বৈঠক নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানান বিদেশমন্ত্রী।

    পুতিন-জয়শঙ্কর সাক্ষাত

    এর আগে গত বছরের ২১ আগস্ট ক্রেমলিনে গিয়ে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর। এক বছর পরে পুতিনের মুখোমুখি হয়ে জয়শঙ্কর সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে রুশ প্রেসিডেন্টকে শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁর লেখা একটি ব্যক্তিগত চিঠি হাতে তুলে দেন। বৈঠকে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৯ লক্ষ ৫৭ হাজার কোটি টাকা) নিয়ে যাওয়ার রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা হয়। গুরুত্ব দেওয়া হয় ওষুধ (ফার্মাসিউটিক্যালস) এবং শিপিং সেক্টরকে (জাহাজ চলাচল)। পাশাপাশি, জ্বালানি ও পরমাণু সহযোগিতা বৃদ্ধি, দ্বিপাক্ষিক সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে গঠিত আন্তঃসরকারি কমিশনের রিপোর্ট, ইউক্রেন যুদ্ধের মতো বিষয়ও এসেছে আলোচনায়।

    মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের আশা পুতিনের

    জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জয়শঙ্করের সফর গত কয়েক দশকে গড়ে ওঠা দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতারই প্রতিফলন। সরকারি ও সংসদীয় যোগাযোগের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে চলেছে বলে জানান তিনি। চলতি বছরে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করেন পুতিন। ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত মনোযোগের প্রশংসা করে তিনি তাঁর শুভেচ্ছা মোদির কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন। পাশাপাশি এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের আশাও প্রকাশ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

    ভারতের পাশে থাকার বার্তা রাশিয়ার

    ফের ভারতের পাশে থাকার বার্তা রাশিয়ার। পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতের কারণে যে ব্যাঘাত ঘটেছে তারমধ্যেই ভারতকে জ্বালানি ও সার সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ক্রমবর্ধমান ভারসাম্যহীনতা-যা ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, তা নিরসনের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছেন। পুতিন উল্লেখ করেছেন যে, ২০২৫ সালে কিছুটা কমে যাওয়ার পর এ বছর আবার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে । তিনি জানান যে, রাশিয়া ভারতে সার সরবরাহ বাড়াচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইআরআইজিসি-টিইসি (IRIGC-TEC) বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, “এর মধ্যে বিষয় কেবল জ্বালানি নয়- অবশ্যই সার সরবরাহও… ভারতীয় কৃষক ও কৃষিখাতের স্বার্থে এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। আমরা এই সরবরাহ বৃদ্ধি করছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত।”

    সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন

    আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলন। ভারত এই সম্মেলনের আয়োজক দেশ। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি—এই ১১টি দেশ বর্তমানে ব্রিকস-এর সদস্য। বিশ্ব ও আঞ্চলিক রাজনীতি, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে আলোচনা ও সহযোগিতার অন্যতম মঞ্চ ব্রিকস। আসন্ন সম্মেলনে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং সহযোগিতা আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ভারত-রাশিয়া সহযোগিতায় জোর

    ভারত-রাশিয়া আন্তঃসরকারি কমিশনের বৈঠকে বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি এদিন বৈঠকে পরমাণু সহযোগিতা বৃদ্ধি, দুই দেশের বাণিজ্যপথ সহজ করতে আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহণ করিডর ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করেন জয়শংকর-পুতিন।ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মতে, সমসাময়িক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক এখনও অত্যন্ত স্থিতিশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিরক্ষা, পরমাণু শক্তি ও মহাকাশের মতো ঐতিহ্যগত ক্ষেত্রের পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। পাশাপাশি বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।

  • Suvendu Adhikari on Jadavpur: যাদবপুরের বয়েজ হস্টেল চত্বরে ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন! ভিডিও প্রকাশ, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari on Jadavpur: যাদবপুরের বয়েজ হস্টেল চত্বরে ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন! ভিডিও প্রকাশ, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস চত্বরকে বিকৃত প্রচার এবং ভারত-বিরোধী মনোভাব ছড়ানোর মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। যাদবপুর ক্যাম্পাসে কোনওভাবেই দেশবিরোধী কার্যকলাপ বরদাস্ত করবে না রাজ্য সরকার। স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari on Jadavpur)। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের ছাত্রদের হস্টেল চত্বরে দেশবিরোধী দেওয়াল লিখন বা ছবি রয়েছে! শুভেন্দু অধিকারী জানান, মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ সেলে এমনই কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই অভিযোগগুলি এসেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশের তরফে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কিছু আপত্তিকর ভিডিয়ো এবং ছবি পেয়েছেন তিনি। যদি তা সত্যি হয় অবিলম্বে পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    ক্যাম্পাস চত্বরে ‘আপত্তিকর’ ভিডিও

    সোমবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের ‘আপত্তিকর’ ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আর্টস ডিভিশন বয়েজ হস্টেল’-এর চত্বরে আপত্তিকর, দেশবিরোধী দেওয়াল লিখন এবং ছবি আঁকার অভিযোগ পেয়েছেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উচ্চশিক্ষা দফতরের প্রধান সচিব এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘তদন্তের প্রথম ধাপ হিসেবে ওই হস্টেল চত্বরে গিয়ে বিষয়টা যাচাই করতে হবে। যদি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা যায়, তবে এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে হবে।’’ মুখ্যমন্ত্রীর মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ এবং মর্যাদার সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই হবে সকলকে। তার পরেই যাদবপুরের হস্টেল চত্বরের এই সব দেওয়াল লিখনের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, ‘‘যদি এমন দেশবিরোধী বার্তা এবং বিকৃত মানসিকতার ছবির উপস্থিতি প্রমাণিত হয়, তবে অবিলম্বে সেই দেওয়াল লিখন মুছে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে।’’ কারা এ ধরনের দেওয়াল লিখন বা ছবি আঁকার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের চিহ্নিত করে কঠোর প্রশাসনিক এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশবিরোধী কার্যকলাপে ‘জিরো টলারেন্স’

    শুভেন্দু স্পষ্ট করেছেন, ‘‘কোনও অবস্থাতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস চত্বরকে বিকৃত প্রচার এবং ভারত-বিরোধী মনোভাব ছড়ানোর মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।’’ মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, রাজ্যের যে কোনও প্রান্তের যে কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তাঁর সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করে চলে। সংশ্লিষ্ট দফতর এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবশ্যই সেই কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হবে। তাঁর বার্তা, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে অবশ্যই মেধা এবং শৃঙ্খলার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বজায় রাখতে হবে। নজর রাখতে হবে যাতে কখনওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি অসামাজিক কার্যকলাপের ক্ষেত্র হয়ে না-ওঠে।’’

    যাদবপুরে জাতীয়বাদ প্রতিষ্ঠা

    যাদবপুরের অশান্তি নিয়ে আগেই মুখ খুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ও বাইরে জাতীয়বাদ প্রতিষ্ঠা করবেনই। শুভেন্দু অভিযোগ করেন, ‘‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দে মাতরম্‌ গাইতে দেয় না। জাতীয় পতাকা ওড়ে না সেখানে। শিক্ষা দফতরকে ঢুকতে দেয়নি। সিসিক্যামেরা লাগাতে দেয় না। দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রবাদের সঙ্গে কোনও আপস নয়। যাঁরা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান তুলছেন, তাঁদের মুখ সেলাই করে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। এ রাজ্যে থাকতে গেলে বন্দে মাতরম্‌ গাইতে হবে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘পুলওয়ামার ঘটনা নিয়ে চুপ থাকেন। অপারেশন সিঁদুরের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন। কিন্তু এখন বিজেপি শাসিত রাজ্যে তা চলবে না।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবার রাখির দিন দেশপ্রেম দিবসের ঘোষণা করেছে সরকার। গোটা পশ্চিমবঙ্গে চার হাজার অনুষ্ঠান হবে। এমনকী সেদিন যাদবপুরে সম্পূর্ণ বন্দেমাতরম গাওয়া হবে বলেও জানান ।

    ‘‘কিষেনজি রেড স্যালুট চলবে না”

    গত কয়েকদিন ধরে সংবাদ শিরোনামে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংঘর্ষ। গেরুয়াপন্থী ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের মধ্যে অশান্তি, প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দেশের নামী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে বিশিষ্ট শিল্পী নন্দলাল বসুর আঁকা এমব্লেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়তে থাকে। এনিয়ে আরও একবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ‘‘যাদবপুরে কিষেনজি রেড স্যালুট চলবে না। সব ডকুমেন্ট আছে। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সোমবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই যাদবপুর ইস্যুতে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘যাদবপুরে কিছু হয়নি। সব স্বাভাবিক রয়েছে। আজও ক্লাস হয়েছে। কোনও সমস্যা নেই।”

    যাদবপুর নিয়ে মিথ্যা প্রচার

    মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট দাবি, যাদবপুরে নতুন করে কিছুই ঘটেনি। একটি বিশেষ সংবাদ মাধ্যমের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা প্রচারের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘যাদবপুরে কী হয়েছে? কিছুই তো হয়নি। একটি নির্দিষ্ট চ্যানেল এবং তাদের প্রিন্ট মিডিয়ার নিজেদের স্বার্থ আছে। আমাদের কোনও স্বার্থ নেই।” ওই সংবাদ মাধ্যমের নির্বাচনী সমীক্ষা যে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে, তাও মনে করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ওই সংবাদ মাধ্যমের টক শো-তে যারা যায়, তারা বলছিল যে বিজেপি কীভাবে লড়বে! এরা তো হিন্দুদের দল, দেড়শো আসনে লড়ছে, ১১০-১২০টি আসন পেতে পারে। ওই বড় মিডিয়া গ্রুপের সব প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষা ডাহা ফেল করেছে। তাই ওরা এখন এসব হজম করতে পারছে না। আমি এসব নিয়ে কথা বলতে একেবারেই আগ্রহী নই। আমাকে দেশভক্ত নাগরিকরাই মুখ্যমন্ত্রী বানিয়েছেন, ওরা বানায়নি।”

  • Kashmiri Pandits: জম্মুতে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ফের হুমকি, চিঠিতে বাড়ির নম্বর-ঠিকানারও উল্লেখ

    Kashmiri Pandits: জম্মুতে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ফের হুমকি, চিঠিতে বাড়ির নম্বর-ঠিকানারও উল্লেখ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Kashmiri Pandits) লক্ষ্য করে ফের হুমকি চিঠি ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে জম্মুতে। রবিবার, ২৩ আগস্ট, প্রকাশ্যে আসা এই চিঠিতে প্রায় ছয় জন কাশ্মীরি পণ্ডিতের ব্যক্তিগত তথ্য, বাড়ির নম্বর ও রাস্তার নাম উল্লেখ রয়েছে। এর প্রায় দু’সপ্তাহ আগে একই সম্প্রদায়ের কর্মীদের সতর্ক করে একটি হুমকি চিঠি প্রকাশ্যে এসেছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি চিঠিটির সত্যতা যাচাই করছে। পাশাপাশি, এর পিছনে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। জম্মুর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী পণ্ডিতদের এই স্পর্শকাতর ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে দুষ্কৃতীদের হাতে পৌঁছল, তা নিয়ে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির অন্দরে বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

    চিঠিতে নাম ও ঠিকানা

    চিঠিতে জম্মুর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Fresh Threat to Kashmiri Pandits) নাম উল্লেখ করে তাঁদের ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাসবাদী’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। দিল্লিতে তাঁদের ‘প্রভুদের’ হয়ে কাজ করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। কাশ্মীরে ‘আরএসএসের এজেন্ডা’ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ‘আহমেদ বিলাল’-এর নামে স্বাক্ষর করা চিঠিতে বলা হয়েছে, “আপনারা যেখানেই থাকুন, যেখানেই যান, আমরা আপনাদের প্রতিটি পদক্ষেপের উপর নজর রাখছি।” চিঠিটি ‘ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল’ বা ইউএলসি-এর নামে প্রকাশিত হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সন্দেহ, এটি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার (LeT) একটি ফ্রন্ট সংগঠন হতে পারে। চিঠিতে উপত্যকায় থেকে যাওয়া কাশ্মীরি পণ্ডিত এবং উপত্যকা ছেড়ে জম্মু-সহ অন্যত্র চলে যাওয়া পণ্ডিতদের মধ্যে বিভাজন তৈরিরও চেষ্টা করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, যারা উপত্যকায় থেকে গিয়েছেন তাঁরা নিরাপদ, কিন্তু সরকারি চাকরির জন্য উপত্যকায় ফিরে আসা অভিবাসী কাশ্মীরি পণ্ডিতরা হামলার নিশানায় রয়েছেন।

    কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ

    এর আগে চলতি মাসেই প্রথম হুমকি চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর জম্মু-কাশ্মীর সরকার বিভিন্ন দফতরকে কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল। তাঁদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়। আগের চিঠিতে রাজস্ব দফতরের কয়েকজন কর্মীর নাম ও ফোন নম্বর উল্লেখ ছিল। পুলিশ সূত্রের দাবি, সন্ত্রাসবাদীদের সম্পত্তির বিরুদ্ধে সরকারি পদক্ষেপের সঙ্গে ওই কর্মীদের কাজকে যুক্ত করে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এর প্রায় এক সপ্তাহ আগে, ৩১ জুলাই, কুলগামে একটি ইটভাটায় দুই পরিযায়ী শ্রমিককে জঙ্গিরা হত্যা করে। জুলাই মাসে হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একটি পোস্টার প্রকাশ করার পর ইউএলসি সংগঠনটি নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরে আসে। এদিকে, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকায় ফেরানো ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারের উদ্যোগের মধ্যেই এই নতুন হুমকি সামনে এল। প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের আওতায় সরকারি চাকরি পেয়ে বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত ইতিমধ্যেই উপত্যকায় ফিরেছেন।

  • Annapurna Yojana: দুর্গাপুজোর আগেই সব যোগ্য মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণার টাকা! বড় বার্তা রাজ্য বিজেপি সভাপতির

    Annapurna Yojana: দুর্গাপুজোর আগেই সব যোগ্য মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণার টাকা! বড় বার্তা রাজ্য বিজেপি সভাপতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা থেকে কোনও যোগ্য মহিলা বঞ্চিত হবেন না। প্রত্যেকেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রাপ্য টাকা পেয়ে যাবেন। স্পষ্ট জানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচাৰ্য। রবিবার হাওড়ায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমনই দাবি করেন তিনি। তিনি সরকারের প্রতিনিধি নন জানিয়ে শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) এও বলেন, ‘‘মানুষের অভিযোগ, দুঃখ কষ্টের কথার পাশাপাশি আমাদের দলের সংকল্পপত্রের কথা সরকারকে স্মরণ করানো আমার দায়িত্ব। ভরসা রাখুন।’’ তাঁর কথায়, ‘‘প্রায় ৫০ লক্ষ আরও মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ উপভোক্তা এখনও টাকা পাননি। সকলেই টাকা পাবেন।’’

    কোথাও কোথাও অন্তর্ঘাতের চেষ্টা চলছে

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প পর্যালোচনার পর নতুন করে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করেছে বিজেপি সরকার। যোগ্য উপভোক্তাদের বাছাই করতে নতুন করে আবেদন নেওয়া হয় এবং অনলাইন-সহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে আবেদন যাচাই করা হয়েছে। সেই যাচাই প্রক্রিয়ার পরই উপভোক্তাদের টাকা দেওয়ার কথা। তবে টাকা পেতে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়া নিয়ে রাজ্যজুড়ে একাধিক জায়গায় যখন বিক্ষোভ চলছে, তখনই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। অন্নপূর্ণা যোজনার যোগ্য মহিলাদের টাকা পেতে দেরি হওয়ার জন্য তিনি ‘সিস্টেমের সমস্যা’র পাশাপাশি কোথাও কোথাও অন্তর্ঘাতের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘সিস্টেমে কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি এবং সমস্যা রয়েছে। কোথাও কোথাও অন্তর্ঘাতের চেষ্টা চলছে। সেই কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’’

    তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে নিশানা

    এদিন শমীক ভট্টাচার্য আগের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়েও তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে প্রকল্পে নানা অনিয়ম হয়েছিল। এমনকি পুরুষেরাও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। বিজেপি সভাপতির বক্তব্য, অন্নপূর্ণা যোজনায় সেই ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। বঙ্গ পদ্ম সেনাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই বলেছেন আরও পঞ্চাশ লক্ষ মহিলা শীঘ্রই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন। কিন্তু অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে একটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এটা কাঙ্খিত নয়। দুর্গাপুজোর মধ্যেই সমস্ত যোগ্য মহিলারাই তিন হাজার টাকা করে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়ে যাবেন।’’

    কারা পাবেন অন্নপূ্র্ণার টাকা

    যাঁরা ইনকাম ট্যাক্স দেন না, সরকারি কর্মচারী নন, যাঁদের সরকারের থেকে অন্য কোনও রোজগার নেই, এই ধরনের একজন মহিলাও অন্নপূর্ণা যোজনার আওতার বাইরে থাকবেন না বলেও বার্তা দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বললেন, ‘‘সরকার কাউকে বঞ্চিত করবে না। এই সরকার সকলের সরকার। বিভাজনের সরকার নয়। বাংলার প্রকৃত যোগ্য মহিলারা সবাই অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা করে পাবেন।’’ এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন। প্রয়োজনে আরও ২০ থেকে ৩০ লক্ষ মহিলাকে প্রকল্পের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। সেই সংখ্যাই আরও বাড়তে পারে বলে রবিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন শমীক।

    ফের খুলেছে অন্নপূর্ণা পোর্টালও

    অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়া নিয়ে এখনও অনেকের মনে অনেক প্রশ্ন। রাজ্যজুড়ে একাধিক জায়গায় বহু মহিলা যেমন সরকারকে ধন্যবাদও জানাচ্ছে, তেমনই কিছু কিছু জায়গায় রয়েছে অসন্তোষ। এই আবহে রাজ্য বিজেপি সভাপতির আশ্বাসে সন্তুষ্ট সাধারণ মানুষ। অন্নপূর্ণা যোজনার স্ট্যাটাস (Annapurna Yojana Status) নিয়ে নানা জায়াগায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সেই ভ্রম দূর করতে ২০ অগাস্ট থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার সোশ্যাল রেজিস্ট্রি পোর্টাল (Social Registry Portal) ফের খুলে দেওয়া হয়েছে। আবারও দেখা যাচ্ছে স্ট্যাটাস। রাজ্য সরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যাঁদের আপাতত বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের নামের পাশে কারণ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই কারণ দেখে আবার ক্লেইম ও অবজেকশন করতে পারবেন। কিন্তু, স্ট্যাটাস চেক (Annapurna Yojana Status Check) করতে গিয়ে অনেকেই দেখতে পাচ্ছেন ‘আন্ডার প্রসেস’ (Under Process)।

    ‘আন্ডার প্রসেস’-এর পরে অ্যাপ্রুভড

    মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি দূর করতে,বিজেপির তরফে একটি অন্নপূর্ণা বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যাঁদের আন্ডার প্রসেস দেখাচ্ছে, তাঁদের কিছুই করতে হবে না। অর্থাৎ তাঁদের নতুন করে কোথাও কোনও আবেদন করতে হবে না। যাঁদের ফার্দার ভেরিফিকেশন, রিজেক্টেড মে বি ফার্দার ভেরিফিকেশন ইত্যাদি দেখাচ্ছে, কেবলমাত্র তাঁরা সোশ্যাল রেজিস্ট্রি পোর্টালে গিয়ে ক্লেম করবেন। রাজ্য সরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগস্ট মাসে মোট ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। ১০ জুলাই পর্যন্ত যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের অ্যাকাউন্টেই টাকা ঢুকবে ১৭ আগস্ট থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত। কিন্তু, দেখা গিয়েছে ২০ আগস্টের পরেও অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে। মূলত, যাঁদের স্ট্যাটাস আন্ডার প্রসেস রয়েছে, তাঁদের আবেদন অ্যাপ্রুভড হচ্ছে। তারপরই ঢুকছে তিন হাজার টাকা। এই প্রক্রিয়া গোটা আগস্ট মাসজুড়ে চলতে পারে বলে সূত্রের খবর। মুখ্যমন্ত্রী বারবার জানিয়ে দিয়েছেন, যোগ্যরা প্রত্যেকেই টাকা পাবেন।

  • One Nation One Election: ভাবনায় ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’! ২০২৯ লোকসভার সঙ্গেই ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচন?

    One Nation One Election: ভাবনায় ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’! ২০২৯ লোকসভার সঙ্গেই ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই ২২টি এনডিএ-শাসিত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচন করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’-এর প্রথম ধাপ ২০৩৪-এর পরিবর্তে ২০২৯ সালেই শুরু হতে পারে বলে সূত্রের খবর। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তা ভেঙে দিয়ে লোকসভা নির্বাচনের সময়ের সঙ্গে ভোটের সময়সূচি মিলিয়ে দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ (One Nation One Election) সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটি (JPC) বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, বিধায়ক, সরকারি আধিকারিক এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে একসঙ্গে নির্বাচন করাতে কী ধরনের সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তন প্রয়োজন, তা-ও খতিয়ে দেখছে কমিটি।

    কীভাবে ২২টি রাজ্যকে ২০২৯-এর ভোটচক্রে আনা হতে পারে?

    বিবেচনায় থাকা ২২টি এনডিএ-শাসিত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে ১১টিতে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগের দুই বছরের মধ্যে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। অন্যদিকে অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচলপ্রদেশ, সিকিম এবং ওড়িশায় লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই বিধানসভা নির্বাচন হয়। প্রস্তাবটি কার্যকর করতে হলে বাকি কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা স্বাভাবিক মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে দিতে হতে পারে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যে এনডিএ সরকার ক্ষমতায় থাকলে এবং তারা এই পরিকল্পনায় সম্মতি দিলে ২০২৯ সালের জানুয়ারির মধ্যেই বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংবিধানের ১৭৪(২)(বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দিতে পারেন। সাধারণত মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার পরামর্শেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিধানসভা ভেঙে গেলে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নতুন নির্বাচন করতে হয়। এর ফলে কয়েকটি রাজ্যে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ কয়েক বছর পর্যন্ত কমে যেতে পারে। যেমন গোয়া, গুজরাট, মণিপুর, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে প্রায় তিন বছর পর্যন্ত মেয়াদ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, রাজস্থান ও ত্রিপুরায় এই মেয়াদ কমার পরিমাণ প্রায় চার বছর হতে পারে।

    একসঙ্গে নির্বাচনের পক্ষে কয়েক এনডিএ মুখ্যমন্ত্রী

    এই পরিকল্পনার প্রতি ইতিমধ্যেই কয়েকটি এনডিএ-শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সমর্থন জানিয়েছেন। গোয়া, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীরা সংসদীয় কমিটির সঙ্গে আলোচনায় নির্বাচনগুলির সময়সূচি সমন্বয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে বিধানসভার মেয়াদে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে দিল্লি সরকার প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় স্তরে নির্বাচনের সময়সূচি এক করার জন্য দিল্লির মেয়াদে উপযুক্ত সমন্বয় প্রয়োজন হলে সরকার ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে তা বিবেচনা করবে। ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের সঙ্গে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচন করতে হলে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ প্রায় এক বছর কমাতে হতে পারে। যৌথ সংসদীয় কমিটি ইতিমধ্যে মহারাষ্ট্র, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, পঞ্জাব, হিমাচলপ্রদেশ, কর্নাটক, গুজরাট, দিল্লি, গোয়া এবং উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে আলোচনা করেছে। বিধানসভা আগাম ভেঙে দেওয়া, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন এবং নির্বাচনী সময়সূচি সমন্বয়ের সাংবিধানিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    বিরোধীদের আপত্তি: গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন

    বিধানসভাগুলির মেয়াদ আগাম শেষ করার সম্ভাবনা সামনে আসায় ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচিত রাজ্য সরকারের মেয়াদ কমিয়ে দিলে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন, দলের অবস্থানের কোনও পরিবর্তন হয়নি। কংগ্রেস ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’-এর বিরোধী। তাঁর দাবি, এই প্রস্তাব অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক এবং জবাবদিহির পরিপন্থী। কংগ্রেস ও ডিএমকে-র সাংসদরা ২০২৪ সালে সংসদে বিলগুলি পেশ করার সময়ই আপত্তি জানিয়েছিলেন। কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারও যৌথ সংসদীয় কমিটি-র সামনে হাজির হয়ে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। পাঞ্জাব, হিমাচলপ্রদেশ, কর্নাটক, মিজোরাম এবং তেলঙ্গানার মতো বিরোধী-শাসিত রাজ্যগুলিতেও ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। তবে এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলির মতো এই রাজ্যগুলির সরকারগুলি স্বেচ্ছায় বিধানসভার মেয়াদ কমাতে আগ্রহী হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

    কী রয়েছে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ বিলের প্রস্তাবে?

    ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ ব্যবস্থার জন্য ২০২৪ সালে সংবিধান (১২৯তম সংশোধনী) বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল আনা হয়। তৎকালীন আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিলটি পেশ করেন। পরে ২৬৯ জন সাংসদ বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর পক্ষে ভোট দেন এবং ১৯৬ জন এর বিরোধিতা করেন। প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনীতে ৮২, ৮৩, ১৭২ এবং ৩২৭ নম্বর অনুচ্ছেদে পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। এর লক্ষ্য হল লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলির নির্বাচনকে একটি নির্দিষ্ট সময়চক্রে নিয়ে আসা। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনও সাধারণ নির্বাচনের পর লোকসভার প্রথম বৈঠকের পর যে বিধানসভাগুলি নির্বাচিত হবে, তাদের মেয়াদ প্রয়োজন অনুযায়ী সামঞ্জস্য করা যেতে পারে, যাতে পরবর্তী সময়ে লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই ওই বিধানসভাগুলির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই পরিকল্পনার ভিত্তি মূলত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ওই কমিটি গঠিত হয়েছিল। বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও গবেষণার পর কমিটি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে রিপোর্ট জমা দেয়। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যৌথ সংসদীয় কমিটি-র মেয়াদ সম্প্রতি শীতকালীন অধিবেশন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে আরও আলোচনা ও পরামর্শের পরই ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ নিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ সামনে আসবে। ২০২৯ সালেই একসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন হবে কি না, এখন সেই প্রশ্নই জাতীয় রাজনীতিতে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

  • Jadavpur Incident: যাদবপুরে দেশবিরোধী কাজ! এনআইএ তদন্তের দাবি এবিভিপির, অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহার বিরুদ্ধেও অভিযোগ

    Jadavpur Incident: যাদবপুরে দেশবিরোধী কাজ! এনআইএ তদন্তের দাবি এবিভিপির, অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহার বিরুদ্ধেও অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) ক্যাম্পাসের ভেতরে দেশবিরোধী কার্যকলাপ চলছে অভিযোগ এবিভিপির। ঠিক কীভাবে এবং কার মদতে এই কাজ হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে এবার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা ‘এনআইএ’ (NIA)-কে দিয়ে তদন্তের দাবি তুলল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি- ABVP)। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ‘জুটা’ (JUTA)-র সাধারণ সম্পাদক তথা বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহার বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠন। তাঁদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের ঐতিহ্যবাহী এমব্লেম বা প্রতীকচিহ্ন ভাঙার নেপথ্যে হাত রয়েছে ওই অধ্যাপকেরই, আর সেই অপরাধে রাজ্যের থানায় থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হবে।

    সাংবাদিক বৈঠকে এবিভিপি

    ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার রাতে। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ ‘ফেটসু’ (FETSU)-র জিবি মিটিংকে কেন্দ্র করে আচমকাই তেতে ওঠে যাদবপুর ক্যাম্পাস। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে এবিভিপি সমর্থকদের তুমুল হাতাহাতি ও সংঘর্ষ বেঁধে যায়। ঘটনার জেরে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিলে নামলে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। ভেঙে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এমব্লেম। সাংবাদিক বৈঠক ডাকে এসএফআই। ঘটনার ৩৭ ঘণ্টা পর সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন উপাচার্য। সেই বিক্ষোভের ঘটনার রেশ টেনেই রবিবার একটি সাংবাদিক বৈঠকের ডাক দেয় এবিভিপি নেতৃত্ব।

    এনআইএ-কে দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

    সাংবাদিক বৈঠকে এবিভিপির নেতা-নেত্রীরা অভিযোগ করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে আস্তানা বানিয়ে এক শ্রেণির সমাজবিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি কাজ করছে। তাই বিষয়টি কেবল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে না রেখে সরাসরি উচ্চ শিক্ষা দফতর এবং এনআইএ-কে দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করানো প্রয়োজন। এবিভিপির দাবি, সংঘর্ষের দিন তাঁদের একাধিক ছাত্রকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। অন্যদিকে, সংঘর্ষ চলাকালীন ক্যাম্পাসে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক এমব্লেমটির একটি অংশ ভেঙে পড়ে। উল্লেখ্য, এই ঐতিহ্যবাহী এমব্লেমের নকশা তৈরি করেছিলেন স্বয়ং নন্দলাল বসু। দুই পক্ষের মারামারির মধ্যেই শিল্পাচার্যের আঁকা সেই এমব্লেমের পদ্মের পাপড়ির বলয়টি ভেঙে টুকরো হয়ে যায়।

    মিথ্যে অপবাদ দেওয়ার অভিযোগ

    এবিভিপির দাবি, এমব্লেম ভাঙার সঙ্গে তাদের সংগঠনের কোনও কর্মী জড়িত নন। বরং এর পেছনে রয়েছেন জুটার সম্পাদক তথা বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহা। এবিভিপি নেতৃত্ব জানান, এবিভিপির কেউ যে প্রতীকচিহ্ন ভেঙেছে, তার কোনও ছবি বা ভিডিও প্রমাণ নেই। তাই মিথ্যে অপবাদ দেওয়ার অভিযোগে ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। তবে সংগঠনের কোনও সদস্য যদি নিরপেক্ষ তদন্তে অপরাধী প্রমাণিত হন, তবে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

  • Durand Cup 2026: লাল-হলুদ ঝড়ে ডুবে গেল নৌকা! ২২ বছর পর ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল, হ্যাটট্রিক এডমুন্ডের

    Durand Cup 2026: লাল-হলুদ ঝড়ে ডুবে গেল নৌকা! ২২ বছর পর ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল, হ্যাটট্রিক এডমুন্ডের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  লাল-হলুদের দুরন্ত ঝড়ে কার্যত উড়ে গেল সবুজ-মেরুন নৌকা। ডুরান্ড কাপের (Durand Cup 2026) ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের কাছে ৪-১ গোলে হারল মোহনবাগান। গোটা ম্যাচেই ইস্টবেঙ্গলের সামনে সেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি সবুজ-মেরুন। এডমুন্ড লালরিন্দিকার হ্যাটট্রিকই হল ইস্টবেঙ্গলের জয়ের মূল। ২০২৩ সালের পর আবার ৩ বছর পর ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। ফাইনালে শেষ সাক্ষাতে জিতেছিল মোহনবাগান। গোল করেছিলেন বাগানের দিমিত্রি পেত্রাতোস। এই বছরেও ডুরান্ড কাপ শুরু হয়েছিল ডার্বি ম্যাচ দিয়েই। সেই ম্যাচে ১-০ জিতেছে সবুজ-মেরুন। গোল করেছিলেন সাহাল আব্দুল সামাদ। কিন্তু এই রবিবাসরীয় সন্ধ্যা ছিল লাল হলুদের। গ্যালারি জুড়ে জ্বলছিল মশাল।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর অভিনন্দন-বার্তা

    ডুরান্ড কাপ ২০২৬ জেতার জন্য ইস্টবেঙ্গলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং কলকাতায় মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ফাইনালে দলটির দৃঢ়সংকল্প, দলগত প্রচেষ্টা ও পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন। সিং বলেন, এই জয় ভারতীয় ফুটবলের প্রকৃত স্পিরিটকে তুলে ধরেছে এবং এতে এডমন্ড লালরিন্দিকার হ্যাটট্রিক ও দলের নিখুঁত নৈপুণ্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যা ইস্ট বেঙ্গলকে ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই মর্যাদাপূর্ণ শিরোপা জিততে সাহায্য করেছে। এদিন ডুরান্ড ফাইনাল দেখতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন রাজনাথ। ম্যাচ শেষে তিনি ফুটবলারদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

    প্রথম ২২ মিনিটেই খেলা শেষ

    মোহনবাগানকে ৪-১ ব্যবধানে চূর্ণ করে ২২ বছর পর ডুরান্ড কাপ জিতল ইস্টবেঙ্গল। গ্রুপ পর্বে এই মোহনবাগানের কাছেই হারতে হয়েছিল। তার মধুর প্রতিশোধ নিলেন হাবাস। মোহনবাগানের কোচ হিসাবে অতীতে বহু বার হারিয়েছেন ইস্টবেঙ্গলকে। এ বার লাল-হলুদের কোচ হিসাবে মস্তিষ্কের যুদ্ধে দাপটে জিতে হাবাস বুঝিয়ে দিলেন, আইএসএলের লিগ-শিল্ড জেতার পরেও তাঁকে ছেড়ে কতটা ভুল করেছে মোহনবাগান। প্রতিটি গোলের পর তাঁর উল্লাস বুঝিয়ে দিয়েছে, মোহনবাগানকে মুখের উপর জবাব দিয়েছেন। ফাইনাল ম্যাচ। তার উপর ডার্বি। সেখানে কোনও দল যদি ২২ মিনিটেই ৩-০ গোলে এগিয়ে যায়, তা হলে সেই ম্যাচের আর কী-ই বা পড়ে থাকে! এ দিন ইস্টবেঙ্গল প্রথম ২২ মিনিটেই ম্যাচ শেষ করে দিল। এডমুন্ডের জোড়া গোল, বিপিন সিং-এর গোলে ম্যাচ শুরুতেই পকেটে পুরে নিল তারা। মাঝে মনবীর সিং একক প্রয়াসে একটি গোল শোধ করলেন। তবে প্রথমার্ধের মধ্যেই একক দক্ষতায় গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণ করলেন এডমুন্ড।

    এডমুন্ডই সেরার সেরা

    সামনে মোহনবাগানকে দেখলেই জ্বলে ওঠেন তিনি। রবিবারের পর থেকে তিনি যে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের চোখের মণি হয়ে উঠবেন, তা বলাই বাহুল্য। ২৯ বছর পর ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে কোনও ফুটবলার ডার্বিতে হ্যাটট্রিক করলেন। ইস্টবেঙ্গলের প্রথম এবং একমাত্র ফুটবলার হিসাবে এত দিন এই নজির ছিল বাইচুং ভুটিয়ার। ১৯৯৭-এর সেই ঐতিহাসিক ফেডারেশন কাপে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। তার পর এডমুন্ডই হ্যাটট্রিক করলেন। মিজোরামের লুংলেই গ্রামে জন্ম এডমুন্ডের। ভারতীয় দলের নিয়মিত সদস্য তিনি। ডুরান্ডে দুরন্ত ফুটবল উপহার দিয়ে ৩ লক্ষ টাকার আর্থিক পুরস্কার পেলেন এডমুন্ড। ডুরান্ড কাপ রানার্স হওয়ার ফলে ৬০ লক্ষ টাকা পুরস্কার পেল মোহনবাগান। চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইস্টবেঙ্গল পেল ১ কোটি ২১ লক্ষ টাকা।

    • গোল্ডেন গ্লাভস – বিশাল কাইথ (মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট)
    • গোল্ডেন বুট – আলাদিন আজারাই (নর্থইস্ট ইউনাইটেড)। ৯ গোল করেছেন আলাদিন।
    • গোল্ডেন বল – এডমুন্ড (ইস্টবেঙ্গল)
  • 26/11 Trial: ২৬/১১ হামলায় হাফিজ সইদ-সহ ৬ পাকিস্তানি নাগরিকের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের সাহায্য চাইছে মুম্বই পুলিশ

    26/11 Trial: ২৬/১১ হামলায় হাফিজ সইদ-সহ ৬ পাকিস্তানি নাগরিকের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের সাহায্য চাইছে মুম্বই পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই হামলার (26/11 Trial) মামলায় পাকিস্তানে থাকা ছয় পলাতক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা ‘প্রোক্লেমেশন অর্ডার’ কার্যকর করতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাইল মুম্বই পুলিশ। এই ছয় অভিযুক্তের মধ্যে রয়েছে লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদ (Hafiz Saeed) এবং জাকি-উর-রহমান লখভি। মুম্বই পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানানো হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫৬ ধারায় এই আবেদন করা হয়েছে। বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি উজ্জ্বল নিকাম শুক্রবার একটি অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে আর্জি

    শুক্রবার ২৬/১১ মামলার বিশেষ আদালতে সরকারি আইনজীবী উজ্জ্বল নিকম জানান, গত জুলাইয়ে জারি হওয়া প্রোক্লেমেশন অর্ডার নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। নিকম আদালতকে জানান, পাকিস্তানে থাকা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রোক্লেমেশন অর্ডার কার্যকর করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। গত ৩ আগস্ট মন্ত্রক সেই আবেদন গ্রহণ করেছে এবং পরবর্তী অগ্রগতির রিপোর্ট দিতে সময় চেয়েছে। আদালতের নির্দেশে যাঁদের বিরুদ্ধে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাঁরা হলেন—হাফিজ সইদ, জাকি-উর-রহমান লখভি, সাজিদ মীর, আবু আলকামা, আসিম ওরফে আবু কাহাফা এবং মেজর আবদুর রহমান পাশা। প্রত্যেকেই পাকিস্তানি নাগরিক। মুম্বই হামলায় তাঁদের কথিত ভূমিকার উল্লেখ রয়েছে হামলার একমাত্র জীবিত জঙ্গি আজমল কাসাব এবং পরে রাজসাক্ষী হওয়া ডেভিড কোলম্যান হেডলির বয়ানে।

    অনুপস্থিতিতেই হতে পারে বিচার

    ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS), ২০২৩-এর ৩৫৬ ধারায়, কোনও অভিযুক্ত বিচার এড়াতে দীর্ঘদিন আত্মগোপন করলে এবং তাঁকে দ্রুত গ্রেফতার করার সম্ভাবনা না থাকলে আদালত তাঁর অনুপস্থিতিতেই পূর্ণাঙ্গ ফৌজদারি বিচার চালাতে পারে। সেই আইনি ব্যবস্থার আওতাতেই এবার ২৬/১১ মামলার বাকি অভিযুক্তদের বিচার এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০০৮ সালের নভেম্বরে ১০ জন পাকিস্তানি জঙ্গি মুম্বইয়ে একের পর এক হামলা চালিয়ে শহরকে ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। তাজ হোটেল, ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে ছয়জন ছিলেন মার্কিন নাগরিক। একমাত্র জীবিত ধৃত জঙ্গি আজমল কাসাবকে গণহত্যা এবং ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মৃত্যুদণ্ডের সাজা কার্যকর করে ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর পুণের ইয়েরওয়াড়া কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁর ফাঁসি হয়।

    প্রোক্লেমেশন অর্ডার কার্যকর হওয়ার অপেক্ষা

    ২৬/১১ হামলার সঙ্গে যুক্ত মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপকে মামলার বিচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে। ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রোক্লেমেশন অর্ডার কার্যকর হলে পাকিস্তানে থাকা অভিযুক্তদের অনুপস্থিতিতেই বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ আরও সুগম হতে পারে। বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি উজ্জ্বল নিকামের প্রতিনিধিত্বে পুলিশ শুক্রবার পলাতক অভিযুক্তদের অনুপস্থিতিতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য চলতি বছরের জুলাই মাসে জারি করা ঘোষণাপত্রের ওপর একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন দাখিল করেছে। সন্ত্রাস মামলার শুনানি চলা বিশেষ আদালতে নিকাম বলেন, “পাকিস্তানে বসবাসকারী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ঘোষণাপত্র জারির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে (এমএইচএ) চিঠি দিয়েছি। ৩ আগস্ট এমএইচএ আমাদের অনুরোধটি স্বীকার করে নিয়েছিল এবং এর অবস্থা জানানোর জন্য সময় চেয়েছিল।” হাফিজের বিরুদ্ধে ট্রায়াল ইন অ্যাবসেনশিয়া শুরু হলে যদি হাফিজ সইদ এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহলে তাকে যখনই ভারতে আনা হবে, তখনই তাকে শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

    পাকিস্তানে বাড়ানো হল হাফিজের নিরাপত্তা!

    ভারত যখন লস্কর প্রধান হাফিজের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়ার গতি বাড়াচ্ছে তখনই পাকিস্তানে ‘বন্দি’ হাফিজের নিরাপত্তা আগের থেকেও বাড়িয়ে দিয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। যে বাড়িতে হাফিজ রয়েছে, সেখান নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আইবি গোয়েন্দা অফিসারদের মতে, এর আগে, বহুবার হাফিজকে খুন করার চেষ্টা দেখা গিয়েছে অতীতে। হাফিজ ঘনিষ্ঠ অনেকেই খুন হয়েছে, যার জেরেই তড়িঘড়ি আইএসআই হাফিজের নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। জানা যাচ্ছে, হাফিজকে ঘিরে টার্গেট গত কয়েক মাসে বেড়ে গিয়েছে। যার জেরে হাফিজকে লস্করের ট্রেনিং ক্যাম্পেও যেতে দেওয়া হচ্ছে না পাকিস্তানের নিরাপত্তার খাতিরে। শুধু তাই নয়, লস্করের যে জায়গায় উগ্রপন্থায় যুবকদের মগজধোলাই হয়, সেই ক্যাম্পেও হাফিজ যাচ্ছে না বলে খবর। আর এই সবই তার নিরাপত্তা বাড়িয়ে তোলার জেরে হয়েছে। এর আগে, এই সমস্ত জায়গায় হাফিজের আনাগোনা ছিল।

    কোথায় রয়েছেন হাফিজ?

    প্রসঙ্গত, পাকিস্তান দাবি করছে, লাহোরের কোট লখপত জেলে নাকি ‘বন্দি’ রয়েছে হাফিজ সইদ। তবে ভারতীয় গোয়েন্দাদের মতে, জেলে নয়, লাহোরের মোহাল্লা জোহার এলাকার এক সেফ হাউজ-এ হাফিজকে রেখে দিয়েছে পাকিস্তান। যে সেফ হাউজকে কার্যত দুর্গের মতো করে নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে শেহবাজ শরিফ, আসিম মুনিরের দেশ। আরও একটি রিপোর্ট দাবি করছে, লাহোরের মিঞা মীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একটি বাড়িতে হাফিজকে নিয়ে রাখা হচ্ছে। সেখানে তার নিরাপত্তা বাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একদিকে, অপারেশন সিঁদুরে গুঁড়িয়ে যাওয়া তাদের জঙ্গি শিবিরকে ফের গড়ে তোলার চেষ্টায় রয়েছে লস্কর ই তৈবা, তারই মাঝে হাফিজ সইদকে কোনও জঙ্গি ট্রেনিং সেন্টারে দেখা যাচ্ছে না। জানা গিয়েছে, সে শুধু ভিডিয়ো কল-এ কথা বলে ক্যাডারদের সঙ্গে। তাও শুধু বড় মাপের বৈঠকেই এমন কল হয়, সেখানে কড়া নিরাপত্তা থাকে।

LinkedIn
Share