Author: ishika-banerjee

  • Lashkar-e-Taiba: ‘দিল্লিকে কনে সাজানো হবে, মুম্বইয়ে উড়বে পাকিস্তানের পতাকা’! সীমান্তপার থেকে ফের ভারতকে হুমকি লস্কর জঙ্গির

    Lashkar-e-Taiba: ‘দিল্লিকে কনে সাজানো হবে, মুম্বইয়ে উড়বে পাকিস্তানের পতাকা’! সীমান্তপার থেকে ফের ভারতকে হুমকি লস্কর জঙ্গির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতকে ফের প্রকাশ্যে হুমকি দিল পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার ( Lashkar-e-Taiba) সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত ইমরান লিয়াকত ভাট্টি। ১৪ অগাস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে কাসুরের একটি লস্কর শিবির থেকে দেওয়া বলে দাবি করা একটি ভিডিওতে ভাট্টিকে উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে দেখা গিয়েছে। সেখানে সে দাবি করে, একদিন দিল্লিকে ‘কনে সাজানো হবে’ এবং ‘মুম্বইয়ে পাকিস্তানের পতাকা উড়বে’। ভিডিও এবং অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ভাট্টি শুধু দিল্লি ও মুম্বই নয়, কাশ্মীর, গুজরাট, হায়দরাবাদ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল নিয়েও বিতর্কিত ও আগ্রাসী মন্তব্য করে। তার বক্তব্যে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রসঙ্গ টেনে ভারতের ভূখণ্ড দখলের উগ্রপন্থী বয়ান তুলে ধরা হয়। এই ভিডিও আবারও প্রমাণ করল প্রকাশ্যে পাকিস্তানের মাটি থেকে ভারত-বিরোধী প্রচার চালানো হচ্ছে।

    কাসুরের লস্কর শিবির থেকেই হুমকি

    ঘটনার সময় ও স্থানকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের দিন ভারতের সীমান্তের কাছাকাছি কাসুর শহর থেকে এই বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ, ভাট্টির বক্তব্যের সঙ্গে একটি লস্কর শিবিরের যোগসূত্রের কথাও উঠে এসেছে। ভাট্টি ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে নিশানা করার অভিযোগ তোলে এবং আফগানিস্তানে ‘অবিশ্বাসীদের’ উপস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করে। এরপর দেশভাগের ইতিহাসকে সামনে এনে কাশ্মীর-সহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল দখলের উগ্রপন্থী বক্তব্য দেয় বলে অভিযোগ।

    মুম্বইয়ে পাকিস্তানের পতাকা

    ভাট্টির বক্তব্যের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অংশ ছিল দিল্লি ও মুম্বইকে ঘিরে তার মন্তব্য। হুমকির সুরে বলে, ‘দিল্লিকে কনে সাজানো হবে’ এবং দাবি করে, মুম্বইয়ে একদিন পাকিস্তানের পতাকা উড়বে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দিল্লি ভারতের রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র এবং মুম্বই দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র। ফলে এই দুই শহরকে নিশানা করে এমন বক্তব্যকে শুধু ভূখণ্ডগত দাবি নয়, ভারতীয় রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে উসকানিমূলক প্রচার হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, কোনও জঙ্গি নেতার প্রকাশ্য হুমকি নিজে থেকেই আসন্ন হামলার প্রমাণ নয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সাধারণত প্রচার, নিয়োগের বার্তা, অপারেশনাল পরিকল্পনা এবং বিশ্বাসযোগ্য হামলার হুমকির মধ্যে পার্থক্য করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে।

    লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে ভাট্টির যোগসূত্র

    বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইমরান লিয়াকত ভাট্টিকে লস্করের ক্যাডার এবং পাকিস্তান মার্কাজি মুসলিম লিগের (PMML) দক্ষিণ পাঞ্জাবের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে বাহাওয়ালপুরে একটি জনসভায় সে হাফিজ মহম্মদ সইদকে পিএমএমএল-এর প্রকৃত নেতা বলে দাবি করেছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই বক্তব্যকে পিএমএমএল-এর সঙ্গে নিষিদ্ধ লস্কর নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য যোগসূত্রের একটি ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনের যোগাযোগের অভিযোগ নতুন নয়। রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মতাদর্শ প্রচার, সমর্থক সংগঠিত করা এবং প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    মুম্বই হামলার ছায়া

    ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে লস্কর-ই-তৈবার। ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গেও সংগঠনটির নাম জড়িত। ওই হামলায় মুম্বইয়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জঙ্গি হামলা চালানো হয়েছিল। ফলে লস্কর ঘনিষ্ঠ কোনও ব্যক্তির মুখে দিল্লি ও মুম্বই নিয়ে প্রকাশ্য হুমকি ফের নিরাপত্তা মহলের নজর কাড়ার মতো ঘটনা। বিশেষ করে যখন বক্তব্যের সঙ্গে কাশ্মীর, দেশভাগ এবং ভারতের অন্যান্য অঞ্চল দখলের উগ্রপন্থী বয়ান যুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি লস্করের পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলিকে শক্তিশালী করার বিষয়ে জুলাই ২০২৬-এ বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল। ওই রিপোর্টগুলিতে ভাট্টিকে কাসুরে দায়িত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংগঠনটি নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি রাজনৈতিক কাঠামোকেও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।

    নজরে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি

    ভাট্টির বক্তব্যে ভারতের একাধিক অঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ শহরকে সরাসরি নিশানা করা হয়েছে। ফলে ভিডিও এবং সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বক্তব্য ভারতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির নজরে আসা স্বাভাবিক। ভিডিওর সঙ্গে সোশাল মিডিয়া পোস্টগুলিতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককেও ট্যাগ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এই ঘটনায় মূল প্রশ্ন শুধু ভাট্টির বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পাকিস্তানের মাটিতে নিষিদ্ধ বা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত ব্যক্তিরা কীভাবে প্রকাশ্যে ভারত-বিরোধী প্রচার চালানোর সুযোগ পাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

    পাকিস্তানের জঙ্গি-চ্যালেঞ্জ ফের সামনে

    ইমরান লিয়াকত ভাট্টির কথিত হুমকি পাকিস্তানে সক্রিয় ভারতবিরোধী উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কগুলির একটি বৃহত্তর চিত্র সামনে এনেছে। আন্তর্জাতিক চাপ, সন্ত্রাসবাদী অর্থায়নের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পাকিস্তানভিত্তিক কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রকাশ্য উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। দিল্লি ও মুম্বইয়ে পাকিস্তানের পতাকা ওড়ানোর দাবি কিংবা কাশ্মীর ও ভারতের অন্যান্য অঞ্চল ‘দখল’ বা ‘মুক্ত’ করার উসকানিমূলক বক্তব্য তাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে দেখার বিষয় নয়। এর মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ, উগ্রপন্থী মতাদর্শ এবং সীমান্তপারের প্রচারের যে বৃহত্তর নেটওয়ার্ক কাজ করে, তারই আরেকটি দিক সামনে এসেছে। তবে ভাট্টির বক্তব্যকে তাৎক্ষণিক হামলার নিশ্চিত ইঙ্গিত হিসেবে না দেখে, উগ্রপন্থী প্রচার ও হুমকির অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করাই নিরাপত্তা সংস্থাগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাছে এখন মূল বিষয় হল—এই বক্তব্যের পিছনে কোনও বাস্তব অপারেশনাল পরিকল্পনা রয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলি কীভাবে কাজ করছে, তা খুঁজে দেখা।

  • Air India Pilots Drug Test: ফের অস্বস্তিতে এয়ার ইন্ডিয়া, প্রাথমিক দফার মাদক পরীক্ষায় ব্যর্থ আরও ২ পাইলট

    Air India Pilots Drug Test: ফের অস্বস্তিতে এয়ার ইন্ডিয়া, প্রাথমিক দফার মাদক পরীক্ষায় ব্যর্থ আরও ২ পাইলট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফুকেট-দিল্লি এয়ার ইন্ডিয়া বিমানে ভয়াবহ ঘটনার পর পাইলটদের মাদক পরীক্ষা আরও জোরদার করেছে টাটা গোষ্ঠীর মালিকানাধীন এয়ার ইন্ডিয়া। এরই মধ্যে আরও দুই পাইলটের প্রাথমিক ড্রাগ স্ক্রিনিং পরীক্ষায় রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে সূত্রের খবর। তবে তাঁদের চূড়ান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও আসেনি। আপাতত দু’জনকেই ডিউটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফুকেট-দিল্লি বিমানের কমান্ডার অবতরণের পর করা পরপর দুটি ইউরিন ড্রাগ টেস্টে ব্যর্থ হওয়ার পরই পাইলটদের নিয়ে ব্যাপকভাবে ড্রাগ স্ক্রিনিং শুরু করে এয়ার ইন্ডিয়া। ওই পরীক্ষায় তাঁর শরীরে মারিজুয়ানা বা গাঁজার উপস্থিতি ধরা পড়েছিল বলে জানা যায়।

    কতজন পাইলটের ড্রাগ স্ক্রিনিং

    সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত ৩০০-রও বেশি এয়ার ইন্ডিয়া পাইলটের ড্রাগ স্ক্রিনিং করা হয়েছে। মাদক পরীক্ষার ক্ষেত্রে নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা এসওপি কার্যকর করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে সংস্থা। সাধারণত চূড়ান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে। এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস-এর প্রায় ৫,০০০ পাইলটকে এই বিশেষ ড্রাগ টেস্টের আওতায় আনা হয়েছে। ১৩ অগস্ট থেকে শুরু হয়েছে এই পরীক্ষা।

    কেন শুরু হলো এই ড্রাগ টেস্ট?

    ঘটনার কেন্দ্রে থাকা এয়ার ইন্ডিয়ার এয়ারবাস এ৩২০এনইও (Airbus A320neo) বিমানটি গত ৪ অগাস্ট উড়ানের সময় আচমকাই প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে যায়। ফুকেট-দিল্লি বিমানের এক কেবিন ক্রু সদস্য আগেই অভিযোগ করেছিলেন যে ওই পাইলট ‘পট’ বা গাঁজা সেবন করেছিলেন। সেই অভিযোগের পর ঘটনাটি আরও গুরুত্ব পায়। এই ঘটনার পরে বিমানের মুখ্য পাইলটের ড্রাগ টেস্ট করা হয়। প্রথম পরীক্ষার পরে তাঁর নমুনার মারিজুয়ানার টেস্ট পজিটিভ আসে বলে সূত্রের খবর। এর পরেই এয়ার ইন্ডিয়া গোষ্ঠীর সমস্ত পাইলটের ড্রাগ স্ক্রিনিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    যান্ত্রিক ত্রুটিও ছিল

    ফুকেট-দিল্লি বিমানের ঘটনায় বিমানের টেকনিক্যাল বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিমানের সিস্টেম লগ এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, প্রায় চার সেকেন্ড ধরে বিমানের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনা ঘটেছিল। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিমানের তিনটি হাইড্রলিক সিস্টেমে একাধিক ত্রুটির পর পাইলটের কমান্ড ছাড়াই এলিভেটর এবং আইলারন নড়াচড়া করেছিল। এর পাশাপাশি স্পয়লারগুলিও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

    ক্রু সদস্যদের নিয়মিত ড্রাগ টেস্ট

    বিমানের প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ফ্লাইট কন্ট্রোল পরিচালনায় হাইড্রলিক সিস্টেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এলিভেটর বিমানের নাক ওপরে বা নীচে ওঠানামা করে পিচ নিয়ন্ত্রণ করে। আইলারন বিমানের ডান-বাঁ দিকের ভারসাম্য বা রোল নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে স্পয়লার লিফট কমিয়ে ড্র্যাগ বাড়াতে সাহায্য করে এবং অবতরণের সময় বিমানকে ধীর করা ও ব্রেকিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ‘তীব্র টার্বুলেন্স’-এর সঙ্গে যুক্ত করা হলেও পরে বিমানের সিস্টেম লগ থেকে উঠে আসে যান্ত্রিক ত্রুটির আরও স্পষ্ট ছবি। ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছিল, অসামরিক বিমান চলাচলের নিয়ম মেনে তাদের ক্রু সদস্যদের নিয়মিত ড্রাগ টেস্ট করা হয় এবং ফুকেট-দিল্লি বিমানের ঘটনার কারণেই এই পরীক্ষা শুরু করা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাইলটদের উপর ব্যাপক ড্রাগ স্ক্রিনিং এবং দুই পাইলটের প্রাথমিক পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা বিমান সংস্থার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কড়াকড়ি করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

  • Kolkata Rainfall: কলকাতার উপরেই গভীর নিম্নচাপ! শহরের নানা প্রান্ত জলমগ্ন, প্রবল বৃষ্টিতে তোলপাড় দক্ষিণবঙ্গ, জারি রেড অ্যালার্ট

    Kolkata Rainfall: কলকাতার উপরেই গভীর নিম্নচাপ! শহরের নানা প্রান্ত জলমগ্ন, প্রবল বৃষ্টিতে তোলপাড় দক্ষিণবঙ্গ, জারি রেড অ্যালার্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্রাবণের শেষ লগ্নে ঝোড়ো ব্যাটিং বর্ষার। চলতি বছর কম-বেশি মিলিয়ে প্রতিটা স্পেলেই ভালো খেলেছেন বর্ষারানি। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন নিম্নচাপ। স্বাধীনতা দিবসে একটু পরিষ্কার হলেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হয়েছে শহরের নানা প্রান্তে। রবিবারও ছোট ছোট স্পেলে ভিজেছে তিলোত্তমা। তবে, সোমবার নিম্নচাপ আর সক্রিয় বর্ষার যুগলবন্দিতে সকাল থেকে অঝোরে বৃষ্টি চলছে কলকাতা এবং শহরতলিতে। প্রথমে ঝিরঝিরে বৃষ্টি হলেও বেলা যত গড়াচ্ছে, বৃষ্টির দাপট তত বাড়ছে। হাওয়া অফিস আগেই জানিয়েছিল, নিম্নচাপের কারণে কলকাতায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে সোমবার। গোটা রাজ্যেই ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

    কলকাতার ঠিক উপরেই নিম্নচাপ

    আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপ অঞ্চলটি গত কয়েক ঘণ্টায় আরও সুস্পষ্ট হয়েছে। হাওয়া অফিস বলছে, বর্তমানে কলকাতার ঠিক উপরেই অবস্থান করছে নিম্নচাপ। এর জেরে আরও বৃষ্টি হবে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছে হাওয়া অফিস। বর্ষাকালীন অক্ষরেখা পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড হয়ে নিম্নচাপ অঞ্চলটির উপর দিয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। বঙ্গোপসাগরে জন্ম হওয়া নিম্নচাপ আরও শক্তি বাড়িয়ে অতিগভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। ধীরে ধীরে সেটি প্রবেশ করছে স্থলভাগে। বর্তমানে এর অবস্থান কলকাতার ঠিক মাথার উপর। ধীরে ধীরে সেটি দক্ষিণবঙ্গ হয়ে সরে যাবে ঝাড়খন্ডের দিকে। তবে, তার জেরে ভাসবে বাংলা। শুধু তাই নয়, ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বইবে দমকা বাতাসও। বাজ পড়লে কংক্রিটের নিচে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ আবহবিদের। নিম্নচাপের প্রভাবে মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টি চলবে।

    কোথায় কত বৃষ্টিপাত

    আগামী ২৪ ঘণ্টায় ১১৫ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির সতর্কতা মহানগরে। ঘণ্টায় ২০-৩০ মিলিমিটার বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে কলকাতায়। যত সময় যাবে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়বে। নিম্নচাপের কারণে সমুদ্রে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। তার বেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার। এর প্রভাবে সমুদ্র আপাতত উত্তাল রয়েছে। মৎস্যজীবীদের মঙ্গলবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

    • সোমবার চরম ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা থাকছে:  পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া।
    • সোমবার অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা: হাওড়া, হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান।
    • সোমবার ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা: কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং।
    • মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা: পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার

    শহরের বিভিন্ন প্রান্তে জল-যন্ত্রণা!

    প্রবল বৃষ্টিতে শহরের নিচু এলাকাগুলিতে জল জমতে শুরু করেছে। বন্ধ করা হতে পারে আন্ডারপাসগুলি। প্রবল বৃষ্টিতে রাস্তায় জল জমে ব্যাপক যানজটের আশঙ্কা। সোমবার সপ্তাহের প্রথম দিনে সকাল থেকে বৃষ্টিতে অফিস যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। বেলা বাড়তে বৃষ্টি বাড়ায় স্কুল থেকে বাড়ি ফিরতে সমস্যায় পড়েছে ছোটরা। সোমবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি কম। রাত থেকে দফায় দফায় চলা বৃষ্টিতে জলমগ্ন সল্টলেক, পাঁচ নম্বর সেক্টর, রাজারহাট-নিউ টাউন, দমদমের একাধিক এলাকা। বাগজোলা, কেষ্টপুর, নোয়াই, ইস্টার্ন ড্রেনেজ চ্যানেল-সহ একাধিক খাল জলে টইটম্বুর। সকাল থেকে তার জেরে দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসযাত্রীরা। অটো, টোটো, বাসের সংখ্যা তুলনায় কমেছে। কোথাও গোড়ালি সমান, কোথাও তারও বেশি জল জমেছে। ভিআইপি রোডে একাধিক জায়গা থেকে শুরু করে রাজারহাট-গোপালপুরের নিচু জায়গা জলমগ্ন। দমদম রোড, পি কে গুহ রোড-সহ দমদমের একাধিক রাস্তা ও এলাকার ছবিটাও কমবেশি একই। জল সরানোর চেষ্টা করছেন পুর কর্মীরা। তবে খাল, জলাশয়গুলি জলে ভরে থাকায় এলাকা থেকে জল সরতে সময় লাগছে। একই ছবি লেক টাউন, পাতিপুকুর, দক্ষিণ দমদমের একাধিক এলাকায়। উত্তর দমদম থেকে নিউ ব্যারাকপুরের নিচু এলাকায় জল জমেছে।

    যানজট ও গণপরিবহণে প্রভাব

    সপ্তাহের প্রথম দিনেই ব্যস্ত সময়ে এই টানা বৃষ্টির ফলে গণপরিবহণ ব্যবস্থা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। রাস্তায় অটো ও ট্যাক্সির সংখ্যা ছিল অন্য দিনগুলির তুলনায় বেশ কম। যে কয়েকটি ক্যাব বা ট্যাক্সি মিলছিল, অ্যাপে সেগুলির ভাড়া ছিল আকাশছোঁয়া। ফলে অফিসযাত্রী ও স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ বাস ও অন্যান্য যানবাহনের জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। পার্ক স্ট্রিট, ইএম বাইপাস এবং শিয়ালদা স্টেশন সংলগ্ন এলাকাগুলিতে গাড়ির চাকা প্রায় স্তব্ধ হয়ে যায়। কলকাতা পুরসভা ও ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেন্ট্রাল এভিনিউ, মহাত্মা গান্ধী রোড, ঠনঠনিয়া, কলেজ স্ট্রিট, আমহার্স্ট স্ট্রিট, পার্ক সার্কাস কানেক্টর এবং খিদিরপুর এলাকাগুলির প্রধান রাস্তায় হাঁটু সমান জল জমে যায়। এছাড়াও দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর, গড়িয়াহাট, বালিগঞ্জ সার্কুলার রোড এবং বেহালা ট্রাম ডিপো সংলগ্ন এলাকাগুলোতে জল জমে যাওয়ার কারণে গাড়ি চলাচলের গতি মারাত্মকভাবে কমে গেছে। বেশ কিছু জায়গায় বাস ও ছোট গাড়ির ইঞ্জিনে জল ঢুকে পথেই বিকল হয়ে পড়তে দেখা যায়, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যে শহরের প্রধান রাস্তাগুলিতে দেখা দেয় দীর্ঘ যানজট।

    বানভাসি বিভিন্ন জেলা!

    প্রবল বৃষ্টির জেরে বানভাসী হওয়ার আশঙ্কা থাকছে জেলাগুলিতে। ইতিমধ্যেই জল ছাড়তে শুরু করেছে ডিভিসি। মরশুমে এই প্রথম ৩২ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়ছে ডিভিসি। সেই কারণে প্লাবনের আশঙ্কা থাকছে জেলাগুলিতে। অপরদিকে, হলদিয়ার পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। ৫ দিনে ৫৫২ মিলিমিটার বৃষ্টি হলদিয়ায়। জলমগ্ন হলদিয়ায় শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টি। ২৪ ঘণ্টায় ১৩৭ মিলিমিটার সাগরদ্বীপে। দিঘায় ১১৪ মিমি, ডায়মন্ড হারবারে ১১২ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। কাঁথিতে বৃষ্টির পরিমাণ ৮০ মিলিমিটার। উপকূলে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে দমকা বাতাস বইবে।

    উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টি

    দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গেই উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টি চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত। সোমবার ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে শুধু জলপাইগুড়ি এবং কালিম্পঙে। মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিঙেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, কোচবিহারের মতো উত্তরের বাকি জেলায় মঙ্গলবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে।

  • Ayushman Bharat In Bengal: স্বাস্থ্যসাথীর গণ্ডি পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চালু হল আয়ুষ্মান ভারত! জোড়া স্বাস্থ্য প্রকল্পের সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর

    Ayushman Bharat In Bengal: স্বাস্থ্যসাথীর গণ্ডি পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চালু হল আয়ুষ্মান ভারত! জোড়া স্বাস্থ্য প্রকল্পের সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। রাজ্যে চালু হয়ে গেল কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যবিমা যোজনা আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat In Bengal)। এর আওতায় ১৯৫০ ধরনের রোগের চিকিৎসার সুযোগ পাবেন গ্রাহকেরা। মিলবে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগও। একই সঙ্গে রাজ্যে চালু হল ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’। রবিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘আয়ুষ্মান দিবস’-এর মূল মঞ্চ থেকে এই জোড়া স্বাস্থ্য প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ দিন তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, পূর্বতন সরকারের আমলে ১৬ অগাস্ট দিনটিতে ‘খেলা হবে দিবস’ পালন করা হলেও বর্তমান সরকার মানুষের দীর্ঘায়ু কামনায় দিনটিকে ‘আয়ুষ্মান দিবস’ হিসেবে বেছে নিয়েছে।

    স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প বনাম আয়ুষ্মান ভারত

    পূর্বতন সরকারের আমলে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে পরিষেবা ঘিরে প্রায়শই অভিযোগ উঠত। বেড পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়তে হত রোগী এবং তাঁর পরিজনদের। এ বার সরকারবদলের পর রাজ্য এবং কেন্দ্রের জোড়া স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প চালু হল পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্য। কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা। পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে প্রথমে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগ থাকলেও তাতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। একটি পর্যায়ে তা বন্ধও হয়ে যায়। পরে আবার শর্তসাপেক্ষে চালু হয়েছিল। এ বার আয়ুষ্মান ভারতের হাত ধরে সরকারি স্বাস্থ্যবিমায় ফিরছে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুবিধা।

    রাজ্যে আয়ুষ্মান দিবস-এর গুরুত্ব

    রবিবার বিকেলে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু হল আয়ুষ্মান ভারত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্তারা। যাঁরা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমার আওতায় পড়ছেন না, তাঁদের জন্য চালু করা হল মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনাও। পাশাপাশি রাজ্যে সরকারি হাসপাতালগুলিতেও সুলভ মূল্যে ওষুধ এবং চিকিৎসাসামগ্রীর বিক্রয়কেন্দ্র চালু করতেও উদ্যোগী হয়েছে সরকার। ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত তুলে ধরে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন,“আজকের দিন ১৯৪৬: দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং ডে। ১০ হাজার হিন্দুকে খুন করা হয়েছিল কলকাতাতে। আগের সরকার খেলা হবে দিবস করত। আর বর্তমান সরকার আয়ুষ্মান ভব, আয়ুষ্মান দিবস পালন করছে আপনাদের শতায়ু প্রার্থনা করে।” তিনি কলকাতার ত্রাতা গোপাল মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করে প্রণাম জানান।

    চালু হবে ‘অমৃত ফার্মাসি’

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুধু চিকিৎসা পরিষেবা নয়, এবার সরকারি সহয়াতায় মিলবে ওষুধও। রাজ্যের ১০টি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চালু হবে ‘অমৃত ফার্মাসি’। এখান থেকে ৫০-৮০ শতাংশ ছাড়ে ওষুধ পাওয়া যাবে। এর জন্য ‘হিন্দুস্তান লাইফ কেয়ার লিমিটেড’-এর টেকনিক্যাল ডিরেক্টর (অপারেশনস) বেনি জোসেফের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর হয় রাজ্যের। ‘অমৃত ফার্মাসি’ গড়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাঁদের কথায়, এটি একটি ভাল উদ্যোগ। এর মানের সঙ্গে আপস করা হবে না, বলেও আশাপ্রকাশ করেন চিকিৎসকরা। এ দিন ‘হিন্দুস্তান লাইফ কেয়ার লিমিটেড’-এর সঙ্গে একটি মউ স্বাক্ষর করে রাজ্য। এই মউ-এর মাধ্যমে রাজ্যের ১০০টি সরকারি হাসপাতালে ‘অমৃত ফার্মাসি’ চালু করার বিষয়ে গাঁটছড়া বাঁধল সরকার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া জানান, ইতিমধ্যে বেশ কিছু রাজ্যে এই অমৃত ফার্মাসি চালু হয়ে গিয়েছে। এ বার পশ্চিমবঙ্গেও তা চালু হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ওষুধ এবং চিকিৎসাসামগ্রী ৫০-৮০ শতাংশ ছাড়ে কেনা যাবে। এখান থেকে ক্যানসার এবং হৃদ্‌রোগের চিকিৎসার জন্য ব্র্যান্ডেড এবং জেনেরিক ওষুধ পাওয়া যাবে। পাশাপাশি স্টেন্ট, পেসমেকারের মতো সরঞ্জামও পাওয়া যাবে সস্তায়।

    সুবিধা পাবেন ৬ কোটি রাজ্যবাসী

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাবে প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার। অর্থাৎ, প্রায় ৬ কোটি রাজ্যবাসী এর সুবিধা পাবেন। সত্তরোর্ধ্ব প্রত্যেক রাজ্যবাসীই এর সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি ৮০ লক্ষ রাজ্যবাসী পাবেন মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা। এ দিন যে দু’টি প্রকল্প চালু হল, তাতে সারা দেশের ৩৮,৬০৪টি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পূর্বতন সরকারের আমলে স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পে ১৭০০ রোগের চিকিৎসা পাওয়া যেত। এখন ১৯৫০ রোগের চিকিৎসা পাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, এর সঙ্গে ৪৬৭টি ‘প্রধানমন্ত্রী জনঔষধী কেন্দ্র’ এবং চোখের নিখরচায় চিকিৎসার জন্য ‘সুদৃষ্টি’ প্রকল্প রূপায়ণের কথাও।

    মিলবে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগ

    রাজ্যে নতুন দুই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের সূচনার সময়েই হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, আয়ুষ্মান ভারত, মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা— উভয় ক্ষেত্রেই এই সুবিধা মিলবে। শুভেন্দু বলেন, “স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাকে বলতে বারণ করেছিলেন। তা-ও বলে দিলাম।” বস্তুত, রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে প্রথমে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুযোগ ছিল। কিন্তু সরকারি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকেরা ডিপার্টমেন্টে না থেকে নার্সিংহোমে গিয়ে হাঁটু প্রতিস্থাপন করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। স্বাস্থ্য ভবন হাঁটু অস্ত্রোপচারের বিল দেখে হতবাক হয়ে যায়‌। শুরু হয় তদন্ত। তার পর থেকে স্বাস্থ্যসাথীতে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়। পরে শর্তসাপেক্ষে তা চালুও হয়েছিল। এ বার ফের তা পুরোদমে চালু হচ্ছে নতুন দুই সরকারি স্বাস্থ্যবিমার হাত ধরে।

    গরিব মানুষ ভাল পরিষেবা পাবেন

    রাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশনের সদস্য তথা চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি ভীষণ ভাবে উপকৃত হবেন। তিনি বলেন, “এটা অনেক আগে হওয়ার কথা ছিল। আমরা জানি আয়ুষ্মান দিবস (কেন্দ্রীয় সরকারের) এপ্রিল মাসে। কিন্তু আজ প্রথম শুরু হল পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্যে কালো দিন ছিল। কালো দিনটা এ বার ভাল দিন হল। এর মাধ্যমে অনেকে, বিশেষ করে গরিবেরা ভাল রকম পরিষেবা পাবেন।” বস্তুত, ২০১৮ সালে দেশে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করে নরেন্দ্র মোদির সরকার। তবে পূর্বতন রাজ্য সরকারের আমলে তা পশ্চিমবঙ্গে বাস্তবায়িত হয়নি। এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল্‌স অ্যান্ড নার্সিংহোমস-এর সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে বলেন, “এটা আমাদের কাছে খুশির খবর। অন্য রাজ্যের রোগীরাও আমাদের কাছে আসতে পারবেন। এখানের বাসিন্দারা অন্য রাজ্যে গেলেও চিকিৎসা করাতে পারবেন।”

  • Suvendu Adhikari on Red Road: বন্দে মাতরম থেকে শ্যামাপ্রসাদের ট্যাবলো, স্বাধীনতা দিবসে বর্ণাঢ্য রেড রোড, বাংলাকে হারানো গৌরব ফেরানোর অঙ্গীকার মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari on Red Road: বন্দে মাতরম থেকে শ্যামাপ্রসাদের ট্যাবলো, স্বাধীনতা দিবসে বর্ণাঢ্য রেড রোড, বাংলাকে হারানো গৌরব ফেরানোর অঙ্গীকার মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার রেড রোডে ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি দেশবাসীকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক সংকীর্ণতা দূরে সরিয়ে রেখে হাতে হাত মিলিয়ে বাংলা গড়ার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সকলকে একসঙ্গে বাংলার উন্নয়নে কাজ করতে হবে। কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, সুরক্ষা এবং নগরায়নের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে ফের তার পুরনো গৌরবের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। রেড রোডে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়কেরা।

    রাজনৈতিক সংকীর্ণতা দূর করুন

    বদলের বাংলায় রেড রোডে ইতিহাস। স্বাধীনতা দিবসে রেড রোডে বাজল বন্দে মাতরম। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদানের পর পতাকা উত্তোলন করেন। কর্মক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ১৪ জন আইপিএসকে ‘মুখ্যমন্ত্রীর পদক’ প্রদান করেন। তার আগে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে ভিডিওবার্তায় সকলকে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘আসুন রাজনৈতিক সংকীর্ণতা দূরে সরিয়ে রেখে, হাতে হাত মিলিয়ে বাংলা গড়ার কাজ করি।’’ তাঁর বক্তব্যে বাংলার উন্নয়নের জন্য দলমত নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণের উপর জোর দেওয়া হয়। স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গ গৌরবের মাটি। এই মাটিতেই জন্মেছেন বীর বিপ্লবী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ক্ষুদিরাম বসু এবং মাতঙ্গিনী হাজরার মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীরা। তাঁদের আত্মত্যাগ ও আদর্শকে সামনে রেখে নতুন বাংলা গড়ার সংকল্প নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

    উন্নয়ন ও ঐক্যের বার্তা

    শুভেন্দুর কথায়, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মহিলাদের ক্ষমতায়ন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং পরিকল্পিত নগরায়নের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে আবারও দেশের অন্যতম অগ্রণী রাজ্যে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য। স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকেই উন্নয়ন ও ঐক্যের বার্তা দিয়ে সেই লক্ষ্যে সকলকে একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, ‘‘কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, সুরক্ষাকে সুদৃঢ় করতে চাই। যে সংকল্প নিয়ে সরকারে এসেছি, তাকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করব।’’ এই প্রথমবার রেড রোডে প্যারেডে কম্যান্ডার এবং সহকারী দু’জনে ছিলেন। কুচকাওয়াজের পর মোট ১২টি ট্যাবলো প্রদর্শিত হয়। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্য়ায়ের ট্যাবলো দেখানো হয়। তারপর একে একে অন্নামৃত, কন্যারত্ন ও অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির, দুর্গাশক্তি বাহিনী, কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভার ট্যাবলো প্রদর্শিত হয়।

    পুলিশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী

    স্বাধীনতা দিবসে রেড রোডের নিরাপত্তায় এবছরই পুলিশের সঙ্গে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কলকাতাজুড়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব অতিরিক্ত প্রায় তিন হাজার পুলিশ। রেড রোডকে ১৩টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেক সেক্টরের দায়িত্বে একজন করে ডিসি পদমর্যাদার পুলিশকর্তা। ১৩টি জোনের আওতায় ৮০টি সেক্টর। এ ছাড়াও নিরাপত্তার দায়িত্বে পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, ২০ জন ডিসি, ৪০ জন অ‌্যাসিস্ট‌্যান্ট পুলিশ কমিশনার। সারা শহরজুড়ে টহল দিচ্ছে ন’টি পিসিআর ভ্যান, তিনটি কুইক রেসপন্স টিম। নজরদারির জন্য শহরে ১৯টি পুলিশ পিকেট, মেট্রো স্টেশনে ২৫টি পিকেট, ২৪টি পিকেট শহরের বিভিন্ন বাজার ও শপিং মলে, কালীঘাট মন্দির ছাড়াও সাতটি ধর্মস্থানে। শহরের ২৩টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় নাকা চেকিংয়ের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। যে কোনওরকম নাশকতা এড়াতে দর্শকদের সঙ্গে মিশে রয়েছে সাদা পোশাকের পুলিশ।

    দূরদর্শনে শুভেন্দুর বক্তব্য

    দীর্ঘ ২০ বছর পর বাংলার কোনও মুখ্যমন্ত্রী আবারও বার্তা দিলেন দূরদর্শনে। শুভেন্দু অধিকারী এদিন প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে। দূরদর্শনে তাঁর বক্তব্য সম্প্রচারিত হয় দিল্লিতে লালকেল্লার অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার ঠিক পরেই। বক্তব্যের শুরুতেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে স্মরণ করলেন তিনি। তারপর নিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নাম। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বন্দে মাতরম। প্রিয় পশ্চিমবঙ্গ বাসী, আজ স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষপূর্তির পবিত্র দিনে প্রতিটি নাগরিককে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি সেই সকল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যাঁদের সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতার মুক্ত আকাশ।’ এরপরই একে একে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বিনয়-বাদল দীনেশের নাম।

    বিকশিত ভারতে পশ্চিমবঙ্গ অন্যতম চালিকাশক্তি

    আড়াই মিনিটের এই বার্তায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক জয় নয়, বরং দেশকে আরও এগিয়ে যাওয়ার এক পবিত্র অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকারকে সঙ্গে নিয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর স্বপ্ন দেখেছেন। সেই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে পশ্চিমবঙ্গ হবে অন্যতম চালিকাশক্তি। সেই লক্ষ্যে যুব সমাজের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা, মা-বোনেদের আরও স্বনির্ভর করে তোলা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, কৃষি-শিল্প থেকে সমাজের প্রতিটি স্তরে উন্নয়ন পৌঁছে দিতে আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর।’

    এই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মুখ্যমন্ত্রী তেরঙার তাৎপর্যও এদিনের বার্তায় তুলে ধরেন। তিনি জানান, এটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের গর্ব। জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় গানের মর্যাদাও অক্ষুন্ন রাখার কথা বলেন শুভেন্দু। উল্লেখ্য, এর আগে ২০০৬ সালে স্বাধীনতা দিবসে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য দূরদর্শনে বার্তা দিয়েছিলেন। তারপর বাংলার আর কোনও মুখ্যমন্ত্রী স্বাধীনতা দিবসে দুরদর্শনে বক্তব্য রাখেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় দুরদর্শনে মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ বন্ধ ছিল ১৫ বছর। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবার চালু হল সেই রীতি। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এবারের স্বাধীনতা দিবসটা অন্যরকম। রয়েছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম তারা উদযাপন করছে ১৫ অগাস্ট। মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর এই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

     

     

  • Aurobindo Ghosh: বিপ্লবী থেকে ঋষি! সংগ্রাম থেকে যোগের পথে, ভারতের ইতিহাসে রহস্য নায়ক অরবিন্দ ঘোষ

    Aurobindo Ghosh: বিপ্লবী থেকে ঋষি! সংগ্রাম থেকে যোগের পথে, ভারতের ইতিহাসে রহস্য নায়ক অরবিন্দ ঘোষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথম জীবনে তিনি ছিলেন বিপ্লবী নায়ক। কাঁপন ধরিয়ে ছিলেন ব্রিটিশ শাসকের বুকে। জীবনের দ্বিতীয় পর্বে সেই তিনিই হয়ে উঠলেন যোগী ও দার্শনিক। আধ্যাত্মিকতার আলো জ্বেলে দিলেন অসংখ্য মানুষের প্রাণে। প্রথম জীবনের দুর্ধর্ষ বিপ্লবী অরিবিন্দ ঘোষ (Aurobindo Ghosh), পরে তিনিই ঋষি অরবিন্দ। ১৫ আগস্ট (15 August), ভারতের স্বাধীনতা দিবস তাঁরও জন্মতারিখ। থিয়েটার রোডের মামার বাড়িতে (এখন অরবিন্দ ভবন) অরবিন্দর জন্ম ১৮৭২ সালের ১৫ আগস্ট। তা হলেও, জেলের অ্যাডমিশন রেজিস্টারে শ্রীঅরবিন্দর ঠিকানা ঘোষপাড়া, কোন্নগর, হুগলি। বিংশ শতকের শুরুতেই বিপ্লবী নেতা অরবিন্দ ঘোষের নেতৃত্বে বাংলা সহ ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ওঠে বিপ্লববাদের ঢেউ।

    আগামী প্রজন্মের প্রেরণা ঋষি অরবিন্দ

    স্বাধীনতা সংগ্রামী দার্শনিক ঋষি অরবিন্দের ১৫৩-তম জন্ম বার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় আজ পালিত হচ্ছে। দেশকে ব্রিটিশ শাসনের হাত থেকে মুক্ত করতে অরবিন্দ ঘোষ যোগ দিয়েছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলনে। বন্দেমাতরম সংবাদপত্র সম্পাদনের পাশাপাশি বহু জাতীয়তাবাদী পত্র-পত্রিকার সম্পাদনার কাজ করেছেন তিনি। আলিপুর বোমা মামলায় এক বছর জেল বন্দি থাকার পর মুক্তি পেয়ে তিনি ফিরে যান আধ্যাত্মিক জীবনে। হয়ে ওঠেন ঋষি অরবিন্দ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ ঋষি অরবিন্দের জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে শাহ (Amit Shah on Rishi Aurobindo) বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামে ঋষি অরবিন্দের চেতনা এবং আধ্যাত্মিকতা ও দর্শনে তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত ও আলোকিত করে।

    বিপ্লবী অরবিন্দ, আলিপুর বোমা মামলা

    অরবিন্দের বাবা ছিলেন চিকিৎসক কৃষ্ণধন ঘোষ। মা স্বর্ণলতা দেবী ছিলেন রাজনারায়ণ বসুর কন্যা। দার্জিলিংয়ের ইংরেজি স্কুলে লেখাপড়ার সূত্রপাত তাঁর। এরপর পড়াশোনা ইংল্যান্ডে। ইংল্যান্ডে থাকার সময়ই ইতালি ও আয়ারল্যান্ডের ভাবধারার সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তবে দেশে স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন ভারতে ফেরার পর। ১৮৯০-তে কংগ্রেসের নরমপন্থী আন্দোলের কট্টর সমালোচনার মধ্য দিয়ে। সংগ্রামশীল জাতীয়তাবাদী মতবাদের অন্যতম নেতা ছিলেন তিনি। ভারতীয় যুব সমাজকে নিজের লেখা, বক্তব্যের মাধ্যমে বিপ্লবী মতাদর্শে দীক্ষিত করার কাজ করেছেন তিনি। বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে স্বদেশি আন্দোলনে উজ্জ্বল ভূমিকার জন্য তিনি দেশের প্রথম সারির নেতা হিসেবে পরিচিত পেয়েছিলেন তিনি। দেশমাতৃকার মুক্তিই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। অরবিন্দ জাতীয়তাবাদকে ধর্মের আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। দেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি ততদিনে বিপ্লবী গুপ্ত সংগঠনগুলির নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন। গীতার নিষ্কাম কর্মের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি তরুণ সমাজকে দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। ১৯০৮-এ আলিপুর বোমা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেফতার হন তিনি। ১৯০৯ সালে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান অরবিন্দ।

    জেলের অভ্যন্তরেই নারায়ণ দর্শন

    জেলে থাকার সময়ই তাঁর রাজনৈতিক ভাবাদর্শে আধ্যাত্মিকার সংস্পর্শ ঘটে। তাঁর জীবনে পরিবর্তন শুরু হয়। আধ্যাত্মিকতার টানে জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর তিনি যেন এক অন্য মানুষ! ঋষি শ্রীঅরবিন্দ। রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে চলে যান সুদূর পণ্ডিচেরিতে। গোটা বিশ্বের সামনে আর্বিভূত হন এক মহান ভারতীয় যোগী ও দার্শনিক। । ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় শ্রীঅরবিন্দ আশ্রম। ১৯৫০ সালের ৫ ডিসেম্বর ৭৮ বছর বয়সে প্রয়াত হন ঋষি শ্রীঅরবিন্দ। ভারতের স্বাধীনতার বয়স তখন আড়াই বছর।

  • PM Modi on Independence Day:  ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘শক্তির সপ্তধারা’র ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

    PM Modi on Independence Day: ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘শক্তির সপ্তধারা’র ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্যে ‘সপ্তসিন্ধু’র এক বিশাল মাহাত্ম্য রয়েছে। সাতটি নদীর অববাহিকাতেই গড়ে উঠেছিল প্রাচীন ভারতের সভ্যতা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi on Independence Day) দেশের ৮০ তম স্বাধীনতা দিবসে সেই আদি রসটাকেই ফিরিয়ে আনতে চাইলেন আধুনিক অর্থনীতির ময়দানে। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগামী দিনে দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে গেলে যে নতুন গতির প্রয়োজন, তার মূল চালিকাশক্তি হবে এই ‘সপ্তধারা’ (PM Modi Saptdhara Vision)। তাঁর কথায়, “বিগত সাত দশকে যা সম্ভব হয়নি, আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে এই সপ্তধারার শক্তিতে আমরা সেই অধরা স্বপ্ন সত্যি করব।”

    সাত দফা সংস্কার কর্মসূচি

    ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে ‘শক্তির সপ্তধারা’ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সপ্তসিন্ধুর প্রসঙ্গ টেনে জানিয়েছেন, এই সাতটি ধারাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার যে লক্ষ্য স্থির করেছে মোদি সরকার, তার কান্ডারি হয়ে থাকবে সাত শক্তি। মোদি জানিয়েছেন, স্বপ্ন সফল করার জন্য সাতটি ক্ষেত্রেই জোর দেওয়া হচ্ছে। দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে সাত দফা সংস্কার কর্মসূচির কথা বলেছেন মোদি।

    উৎপাদন শক্তি: এই কর্মসূচির মধ্যে প্রথমেই রয়েছে উৎপাদন শক্তি। দেশের নানা প্রান্তে উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে জোর দেবে সরকার। তবেই বিকাশের পথ প্রশস্ত হবে। প্রধানমন্ত্রী কথায়, দুনিয়া যখন কেবল নিজের কথা ভাবছে, তখন ভারত শুধু অন্যের তৈরি জিনিসের বাজার হয়ে বসে থাকতে পারে না। খরচে, গুণমানে আর বিপুল উৎপাদনে ভারতীয় পণ্যকে বিশ্বের দরবারে সেরা হতে হবে। ভারতকে হয়ে উঠতে হবে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জোগানদার বা গ্লোবাল সাপ্লায়ার।

    কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ: ভারতের মাটি ও কৃষকের হাতে যে জাদু আছে, তাকে বিশ্বের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়াই দ্বিতীয় লক্ষ্য। এখন আর কেবল দেশের পেট ভরানো নয়, ভারতীয় কৃষকের উৎপাদিত ফসল যাবে বিদেশের বাজারে। ফ্রি ট্রেড চুক্তিগুলোকে কাজে লাগিয়ে ভারতীয় মশলা, মিলেট, ট্র্যাডিশনাল খাবার, শাকসবজি আর ফুলকে বিশ্বের দরবারে এক একটি বিশ্বমানের ‘ব্র্যান্ড’ করে তোলাই এখন আসল চ্যালেঞ্জ।

    প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন: প্রযুক্তির মাঠে ভারত যে পিছিয়ে নেই, তা ইউপিআই (UPI) আর ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার দিয়েই প্রমাণ হয়ে গেছে। কিন্তু মোদীর চোখ এখন আরও দূরে। এআই (AI), কোয়ান্টাম টেকনোলজি, স্পেস, রোবোটিক্স এবং ডেটা সেন্টারের মতো ভবিষ্যতের প্রযুক্তিকে ভারতে ডানা মেলতে হবে। লক্ষ্য একটাই – দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ ৬জি যেন পৌঁছে যায় ভারতের শেষ প্রান্তের মানুষটির কাছেও।

    গতিশক্তি: যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হলে উন্নয়ন অধরাই থেকে যায়। তাই গতিশক্তি প্রকল্পে জোর দেওয়া হচ্ছে দেশের আধুনিকতম গণপরিবহনে। বুলেট ট্রেন ও হাই-স্পিড রেলে যেমন শহরের সঙ্গে শহর জোড়া হবে, ঠিক তেমনই নজর থাকবে ‘পোর্ট-লেড ডেভেলপমেন্ট’ বা বন্দরভিত্তিক বাণিজ্যের ওপর।

    প্রতিরক্ষা: ভারতের প্রতিরক্ষা খাতকে স্বাবলম্বী করা এই রূপরেখার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিদেশ থেকে স্রেফ আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র কিনে আনা নয়, ভারত নিজে সেই সমস্ত হাইপারসনিক প্রযুক্তির অস্ত্র তৈরি করবে এবং বিশ্বের বাজারে অন্যতম বড় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবে।

    অর্থনীতি: অর্থনীতির ক্ষেত্রে দু’ধরনের বিষয়ে জোর দেওয়ার কথা বলেছেন মোদি— পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি (গ্রিন ইকোনমি) এবং সমুদ্রবান্ধব অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি)। প্রথমটির ক্ষেত্রে পরিবেশের ক্ষতি না-করে কর্মসংস্থান তৈরি এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির উপায় সন্ধান হবে সরকারের প্রাধান্য। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে সমুদ্র, নদী বা যে কোনও জলাশয়ের জলকে কাজে লাগিয়ে অর্থনীতির উন্নয়নের কথা বলা হয়। তবে সমুদ্র বা পরিবেশের ক্ষতি না করা এ ক্ষেত্রেও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

    সফ্‌ট পাওয়ার: সফ্‌ট পাওয়ার বলতে ভারতের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনীতির মাধ্যমে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলা হয়। মোদf উল্লেখ করেছেন যোগা, আয়ুর্বেদ এবং পর্যটনের কথা। সামরিক শক্তি প্রয়োগ না করেই এগুলির মাধ্যমে দেশকে বিশ্বের দরবারে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। মোদি সেই ক্ষমতার কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন স্বাধীনতা দিবসের উদ্‌যাপনে। হস্তশিল্প, চলচ্চিত্র, ভিএফএক্স, অ্যানিমেশন, গেমিং এবং ডিজিটাল কন্টেন্টকে কাজে লাগিয়ে ভারতের সৃজনশীল অর্থনীতিকে গ্লোবাল ব্র্যান্ড করার কথা বলেছেন তিনি। বিদেশি শিল্পীদের ভারতে পারফর্ম করার ইচ্ছার কথা উল্লেখ করে দেশের ক্রমবর্ধমান ‘কনসার্ট ইকোনমি’-র কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    ‘পাঁচ প্রতিজ্ঞা’ থেকে ‘সপ্তসিন্ধু’

    এর আগে ২০২২ সালে দেশের ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে লালকেল্লা থেকে ‘পাঁচ প্রতিজ্ঞা’-র কথা বলেছিলেন মোদি। এ বার শক্তির সপ্তধারায় জোর দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করলেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি কেবল পরিকল্পনার কথা বলেই থেমে থাকেননি, ভারতীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রাও বেঁধে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী এক দশকের মধ্যে বিশ্বের ‘ফর্চুন ৫০০’ তালিকায় ভারতের ৫০টি কোম্পানিকে দেখতে চান তিনি। পাশাপাশি বিশ্বের শীর্ষ ৫টি ব্যাঙ্কের মধ্যে অন্তত একটি ভারতীয় ব্যাঙ্ক এবং বিশ্বের ৫টি বৃহত্তম ফার্মা কোম্পানির মধ্যে একটি ভারতীয় ফার্মা কোম্পানি থাকার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছেন। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসন এবং সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে জানান, পুরনো নিয়ম ও নীতি দিয়ে ভারত আর চলতে পারে না, ২০৪৭-এর উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা মাথায় রেখে নতুন নিয়ম তৈরি করতে হবে।

  • PM Modi in Red Fort: তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই বিকশিত ভারত-এর স্বপ্নপূরণ! লাল কেল্লায় ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গঠনে জোর প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi in Red Fort: তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই বিকশিত ভারত-এর স্বপ্নপূরণ! লাল কেল্লায় ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গঠনে জোর প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের তরুণ প্রজন্মই ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ সম্ভব করে তুলতে পারে। ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে দিল্লির লালকেল্লা থেকে দেশের তরুণ প্রজন্মকেই বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Red Fort)। তিনি জানান, দেশকে নিয়ে তিনি যে স্বপ্ন দেখেছেন, তা সত্যি করার জন্য তরুণ প্রজন্মের উপর ভরসা রাখা হয়েছে।

    তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতিও চোখে পড়ল

    স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লালকেল্লায় দর্শকাসনে তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। কিছু দিন আগে এই লালকেল্লাতেই নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল হয়েছিল তরুণ প্রজন্ম। কিছু দিন আগে দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে শামিল হয়েছিল তরুণ প্রজন্ম। সংসদ ভবন অভিযানেও বহু তরুণ-তরুণী যোগ দিয়েছিলেন। সেই সময়ে বার বার সমাজমাধ্যমে ভিডিয়োবার্তার মাধ্যমে যুবসমাজের পাশে থাকার কথা বলেছিলেন মোদি। স্বাধীনতা দিবসের উদ্‌যাপনের কেন্দ্রেও রাখা হল সেই প্রজন্মকেই। শনিবার প্রথমে রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মোদি। তার পর লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

    ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গঠনে জোর

    শনিবার দেশ জুড়ে ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস পালিত হচ্ছে। এ বারের লালকেল্লার অনুষ্ঠানে ‘যুবশক্তি’ এবং ২০৪৭-এর ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, তরুণ প্রজন্মকে প্রাধান্য দিয়েই স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখান থেকে মোদি (PM Modi On Independence Day) বলেন, ‘‘আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মের উপর আমার ভরসা আছে।’’ বিকশিত ভারতের স্বপ্ন সফল করার জন্য দেশের নারীশক্তি, কৃষক, শ্রমিক সকলের সহযোগিতাই চেয়েছেন তিনি। তবেই ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়া যাবে। দ্রুত অগ্রগতি এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ পরিকল্পনার উপরেও প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েছেন। “দ্রুত পালটাচ্ছে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্র। রকেট গতিতে বদলাচ্ছে প্রযুক্তি। ভারত শুধু বাজার হয়ে থাকবে না। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হবে। ড্রোন থেকে শুরু করে কাউন্টার ড্রোন সিস্টেম, হাইপারসোনিক মিসাইল টেকনোলজিতে আত্মনির্ভর হবে দেশ”, শনিবার লালকেল্লায় বার্তা মোদির। মোদি বলেন, “আমাদের কর্ম সংস্কৃতি বদল ঘটানোর সময় এসেছে। ছোট কলকবজা থেকে বড় পণ্য তৈরি করতে হবে। পণ্য়ের গুণমানে কোনও আপস নয়। ৫ দশকে যা হয়নি তা ৫ বছরে হয়েছে। উৎপাদন ক্ষেত্রের উন্নতি করতে হবে। শক্তির সপ্তধারার আহ্বান জানাচ্ছি।”

    বিশেষ এআই প্রশিক্ষণ

    যুবসমাজের জন্য নতুন প্রকল্প ঘোষণা করতে গিয়ে মোদি জানান, বিশ্ব জুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঝড়ের গতিতে চলছে। তাই দেশের এক কোটি যুবক-যুবতীকে প্রতি বছর বিশেষ এআই প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের শক্তি উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় কাজে লাগানো হবে। দেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে একমাত্র তরুণরাই সফল করতে পারেন বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তরুণদের সহযোগিতার আর্জি মোদির

    তরুণদের বিশেষ বার্তা মোদির, “দেশের উন্নতিতে নেতৃত্ব দিন তরুণরা। আপনাদের দেওয়া ১-২ ঘণ্টা সময়ে আরও এগিয়ে যাবে দেশ। আপনার মনে হতে পারে এই ১-২ ঘণ্টা সময়ে কী-ই বা হবে। দেশে জনগণনার কাজ চলছে। সেনসাসের কাজে অংশ নিন।” মহিলা সংরক্ষণ বিলের পক্ষে সওয়াল করে মোদি বলেন, “মহিলা সংরক্ষণ বিল আনা হয়েছে। বিল পাশ করাতে সহযোগিতা করুন। বিকশিত ভারত তখনই হবে যখন মহিলারাও বিধানসভা, লোকসভায় আসার সুযোগ পাবেন।”

    কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের বার্তা মোদির

    মোদি বলেন, “অনেকে বলছেন ইউক্রেনে যুদ্ধ হচ্ছে। গ্যাস পাবেন না। পেট্রল পাম্পে তেল পাবেন না। কিছু লোকের আনন্দ হচ্ছিল দেশবাসীকে ভয় দেখিয়ে। চাষিদের ভয় দেখানো হচ্ছে ইউরিয়া পাবেন না। তবে যাতে কারও কোনও সমস্যা না হয় ভারত প্রস্তুত ছিল। করোনা থেকে জ্বালানি নিয়ে অপপ্রচার করেছেন বিরোধীরা।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালে দেশের মাত্র ৭০টি শহরে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে সেই পরিষেবা প্রায় ৭০০টি শহরে পৌঁছে গিয়েছে। রেলপথের বৈদ্যুতিকরণের কাজও সম্পূর্ণ হয়েছে । দেশে হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  তিনি বলেন, ‘বিশ্বমাণের উৎপাদন করতে হবে। রফতানিতে নজর দিতে হবে। গ্লোবাল ব্র্যান্ড তৈরি করতে হবে।

    পরমাণু পথে ভারত

    মোদি বলেন, “ভারতে ৩ সেমি কন্ডাক্টর প্লান্ট কাজ করছে। ভারতে তৈরি সেমি কন্ডাক্টর রপ্তানি হচ্ছে। আগামী দিনে ৮টি সেমি কন্ডাক্টর প্লান্ট হবে। ৫টি নতুন পরমাণু চুল্লি এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পরমাণু শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে ভারত। আমাদের নিজেদের ক্ষমতাবৃদ্ধি করতে হবে। নিজের স্বার্থ নিজেকে রক্ষা করতে হবে।” যুদ্ধের আবহে আত্মনির্ভর ভারতের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর। বলেন, “নিজেদের স্বার্থ নিজেদের রক্ষা করতে হবে। অন্যের উপর ভরসা করে দেশ গড়া যায় না।”

    মোদির মুখে নেহরু-শ্যামাপ্রসাদ

    মাও সন্ত্রাস দমন প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “অস্ত্রধারী মাওবাদীদের নিমূল করার লক্ষ্যে দেশ। মাও সন্ত্রাসে শহিদ হয়েছেন ৩ হাজার পুলিশ। মাওবাদী মানসিকতার মানুষ সব জায়গায় রয়েছে। জঙ্গলে যারা বন্দুক হাতে লড়াই করে তাদের চেয়েও বেশি ভয়ংকর ‘মস্তিষ্ক নকশাল’। তাদের নির্মূল করা এখনও বাকি।” ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ দ্রুত কাজ করছে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, জওহরলাল নেহরু, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নাম দিয়ে লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসে ভাষণ শেষ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

  • Rahul Gandhi: প্রধানমন্ত্রীর বিদেশনীতি নিয়ে সমালোচনাকে সস্তা রাজনৈতিক নাটক বানিয়েছেন রাহুল, দাবি বিজেপির

    Rahul Gandhi: প্রধানমন্ত্রীর বিদেশনীতি নিয়ে সমালোচনাকে সস্তা রাজনৈতিক নাটক বানিয়েছেন রাহুল, দাবি বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশনীতিকে উপহাস করতে গিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) যে ভাষা প্রয়োগ করেছেন তা ‘অস‌ংযত ও অশালীন’ বলে অভিযোগ করল বিজেপি (BJP Attacks Rahul)। এমন ভাষার ব্যবহার তাঁর পদমর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। এই প্রসঙ্গে রাহুলের উদ্দেশে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী বলেন, ‘‘মনে হয় এবার অন্তত ওঁর সাবালকের মতো আচরণ করা উচিত।’’

    রাহুলকে পরিণত হতে বার্তা

    দিল্লিতে বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের নতুন মঞ্চ ‘রচনাত্মক কংগ্রেস’-এর প্রথম জাতীয় সম্মেলনে রাহুল দাবি করেছিলেন, মোদি সরকারের একের পর এক জনবিরোধী সিদ্ধান্তে দেশের আমজনতার আক্রোশ ক্রমশ বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘‘আমজনতার প্রতিবাদ, বিক্ষোভের কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না!’’ সেই সঙ্গে মোদি সরকারের বিদেশনীতিরও কড়া সমালোচনা করেন রাহুল। তাঁর মতে, আরএসএস এবং বিজেপির বর্তমান কর্তারা হলেন ‘একদল ভাঁড়’। প্রহ্লাদ শুক্রবার অভিযোগ করেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে আদতে ভারতের জনগণকে অপমান করেছেন রাহুল।’’ এর পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘‘রাহুল গান্ধী, আপনি কবে পরিণত হবেন? ভারত চালানোর জন্য পরিণত নেতৃত্ব প্রয়োজন, অপেশাদার নাট্যাভিনয় নয়। গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত একটি সরকারকে ‘ভাঁড়’ বলা প্রমাণ করে যে আপনি সীমা লঙ্ঘন করছেন।’’

    ব্যর্থ স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ানের মতো আচরণ রাহুলের

    রাহুল ছাড়াও কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির প্রসঙ্গ টেনে মোদির বিরুদ্ধে মন্তব্য করায় বিষয়টি আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে। বিজেপির অভিযোগ, বিদেশনীতি নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনার পরিবর্তে রাহুল গান্ধী ব্যক্তিগত ইঙ্গিত ও রসিকতার আশ্রয় নিয়েছেন। বিজেপির দাবি, সরকারের বিদেশনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কিংবা প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কূটনীতি নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন তোলার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কিন্তু সেই সমালোচনা তথ্য, নীতি ও কূটনৈতিক ফলাফলের ভিত্তিতে হওয়া উচিত, ব্যক্তিগত ইঙ্গিত বা মঞ্চস্থ করা রাজনৈতিক রসিকতার মাধ্যমে নয়। বিজেপি সাংসদ বাঁসুরি স্বরাজ রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তাঁর আচরণ তাঁকে ‘লোকসভার বিরোধী দলনেতার চেয়ে ব্যর্থ স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ানের মতো’ বেশি তুলে ধরেছে। তাঁর অভিযোগ, রাহুল গান্ধী ‘লকার-রুম টক’ এবং ‘সস্তা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য’-এর আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁর মতে, দেশের মানুষ এমন একজন বিরোধী দলনেতা প্রত্যাশা করেন যিনি সাংবিধানিক পদটির মর্যাদা বজায় রাখবেন।

    ব্যক্তিগত ইঙ্গিত বা কটাক্ষ কেন

    বিজেপি নেতা শেহজাদ পুনাওয়ালাও রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক বিতর্ক আর কতটা নীচে নামতে পারে। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে এবং তাঁকে কঠোরভাবে আক্রমণ করাও বিরোধীদের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু একজন মহিলা বিদেশি রাষ্ট্রনেতাকে টেনে এনে ব্যক্তিগত রসিকতা করা কোনওভাবেই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা বা রসবোধের পরিচয় নয়। বিজেপির বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কিংবা কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি নিয়ে বিরোধীরা যতটা আগ্রাসী সমালোচনা করতে চান, করতে পারেন। কিন্তু ব্যক্তিগত ইঙ্গিত বা কটাক্ষ দিয়ে সেই রাজনৈতিক বক্তব্যের শক্তি বাড়ে না, বরং মূল ইস্যু থেকে আলোচনা সরে যায়।

    কার্যকর রাজনৈতিক বার্তার অভাব

    এখানেই ‘রচনাত্মক কংগ্রেস’ নামের অনুষ্ঠান নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ‘রচনাত্মক বিরোধিতা’র অর্থ হওয়া উচিত বেকারত্ব, অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা, বিদেশনীতি এবং প্রশাসনিক কার্যকলাপ নিয়ে সরকারকে তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে জবাবদিহির মুখে দাঁড় করানো। লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর কাছে সেই রাজনৈতিক মঞ্চ এবং সাংবিধানিক সুযোগ দুটোই রয়েছে। তাই তাঁর সমালোচনা ব্যক্তিগত কটাক্ষের পরিবর্তে নীতি, তথ্য ও সরকারের বাস্তব ফলাফলের উপর কেন্দ্রীভূত হলে তা আরও কার্যকর রাজনৈতিক বার্তা দিতে পারত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

  • Bastar: বদলাচ্ছে বস্তার! বন্দুক হাতে জঙ্গল থেকে ফ্যাশন শো-এর মঞ্চে, প্রাক্তন মহিলা নকশালদের নয়া জীবনের বার্তা

    Bastar: বদলাচ্ছে বস্তার! বন্দুক হাতে জঙ্গল থেকে ফ্যাশন শো-এর মঞ্চে, প্রাক্তন মহিলা নকশালদের নয়া জীবনের বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একসময় বস্তারের জঙ্গলে হাতে অস্ত্র নিয়ে ঘুরতেন। আজ সেই মহিলারাই আত্মসমর্পণের পর পা রাখলেন ফ্যাশন র‍্যাম্পে। জাতীয় হ্যান্ডলুম দিবস উপলক্ষে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে আয়োজিত একটি আদিবাসী ফ্যাশন শো-তে অংশ নিলেন বস্তারের ওই একদল মহিলা। ঐতিহ্যবাহী তাঁতের পোশাকে তাঁদের আত্মবিশ্বাসী র‍্যাম্প ওয়াক দর্শকদের নজর কাড়ে। তাঁদের হাঁটার সময় দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। কারও কারও র‍্যাম্পে কিছুক্ষণ থেমে পোশাক প্রদর্শন করতে দেখা যায়। পরে ঘুরে আবার মঞ্চের দিকে ফিরে এসে হাসিমুখে দর্শকদের অভিবাদন গ্রহণ করেন তাঁরা।

    জঙ্গল থেকে ফ্যাশন র‍্যাম্পে

    সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদা নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকা ওই মহিলারা রঙিন ঐতিহ্যবাহী তাঁতের পোশাকে র‍্যাম্পে হাঁটছেন। তাঁদের চলাফেরায় ছিল আত্মবিশ্বাস ও স্বচ্ছন্দতা। তবে তাঁদের কাছে এই অনুষ্ঠান শুধুমাত্র একটি ফ্যাশন শো ছিল না। বরং এটি ছিল তাঁদের জীবনের আমূল পরিবর্তনের একটি প্রতীক। একসময় নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে বস্তারের জঙ্গলে সশস্ত্র জীবন কাটানো এই মহিলারা আত্মসমর্পণের পর ধীরে ধীরে মূলস্রোতের সমাজে ফিরে এসেছেন।

    আত্মসমর্পণের পর নতুন জীবনের সন্ধান

    বস্তারে আত্মসমর্পণকারী প্রাক্তন নকশালদের পুনর্বাসন ও জীবিকার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তাঁদের স্বনির্ভর করে তুলতে জীবিকামূলক প্রকল্প, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। র‍্যাম্পে তাঁদের উপস্থিতিও সেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার একটি ইতিবাচক ছবি তুলে ধরেছে। অস্ত্রের জীবন ছেড়ে সমাজের সামনে নিজেদের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন তাঁরা। এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ছত্তিশগড় সরকার বস্তারে নকশাল হিংসার অবসান এবং উন্নয়নের উপর জোর দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই সম্প্রতি দাবি করেছেন, কয়েক দশকের নকশাল সমস্যার পর বস্তার এখন নকশালমুক্ত হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। এএনআই-কে সাই বলেন, “৪০-৫০ বছর পর আমাদের বস্তার অঞ্চল অবশেষে নকশালমুক্ত হয়েছে। এখন উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। উন্নয়নের দৃষ্টিকোণ থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” এই আবহে প্রাক্তন মহিলা নকশালদের হাতে অস্ত্রের পরিবর্তে ঐতিহ্যবাহী তাঁতের পোশাক নিয়ে র‍্যাম্পে হাঁটার দৃশ্য বস্তারের পরিবর্তিত বাস্তবতার একটি মানবিক ছবি তুলে ধরেছে।জঙ্গল থেকে র‍্যাম্পে তাঁদের এই যাত্রা শুধু পোশাক বা ফ্যাশনের গল্প নয়—এটি আত্মসমর্পণ, পুনর্বাসন, আত্মনির্ভরতা এবং মূলস্রোতের সমাজে ফিরে আসার এক প্রতীকী কাহিনি।

LinkedIn
Share