Author: ishika-banerjee

  • Manipur Violence: সন্ত্রাসী হামলায় রক্তাক্ত মনিপুর, অসম রাইফেল্‌সের কনভয়ে গুলি! হত দুই জওয়ান, জখম ছয়

    Manipur Violence: সন্ত্রাসী হামলায় রক্তাক্ত মনিপুর, অসম রাইফেল্‌সের কনভয়ে গুলি! হত দুই জওয়ান, জখম ছয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের রক্ত ঝরল মণিপুরে (Manipur Violence)। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিষ্ণুপুর জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী অসম রাইফেল্‌সের গাড়িতে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসবাদীরা হামলা চালায়। গুলির লড়াইয়ে দু’জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অন্তত ছয় জন। হামলার পরেই ওই অঞ্চলে বাড়তি বাহিনী পাঠানো হয়েছে। শুরু হয়েছে পাহাড়-জঙ্গল ঘিরে চিরুনি তল্লাশি।

    কীভাবে হামলা

    প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, অসম রাইফেলসের জওয়ানদের নিয়ে একটি ‘টাকা ৪০৭’ গাড়ি রাজধানী ইম্ফল থেকে বিষ্ণুপুরের উদ্দেশে আসছিল। পথে নাম্বোল সবাল লেইকাই এলাকায় অতর্কিতে ওই গাড়ির উপর হামলা চালায় বন্দুকবাজের দল। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ২ জওয়ানের। গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ৬ জন তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অতর্কিত হামলার পর এলাকা ছেড়ে জঙ্গলের দিকে চম্পট দেয় বন্দুকবাজরা। তাদের খোঁজে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল যে রাস্তার উপর এই হামলা চলেছে কয়েকদিন আগে এই রাস্তা ধরেই গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

    মায়ানমার সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ

    হামলার খবর প্রকাশ্যে আসার পর শহিদ জওয়ানদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মণিপুরের রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লা। এক্স হ্যান্ডেলে মণিপুর রাজভবনের তরফে লেখা হয়েছে, ‘আজ সন্ধ্যায় মণিপুরে নিরাপত্তাবাহিনীর উপর যে হামলা চালানো হয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এই ঘটনায় অসম রাইফেলসের দুই বীর জওয়ান শহিদ হয়েছেন। রাজ্যপাল মর্মান্তিক এই ঘটনায় শহিদ পরিবারের উদ্দেশে সমবেদনা জানিয়েছেন। দেশরক্ষায় তাঁদের বীরত্ব ও নিষ্ঠা স্বীকৃতির দাবিদার। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন রাজ্যপাল।’ একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ‘এই ধরনের কাপুরুষোচিত হামলা কোনওভাবেই সহ্য করা হবে না। এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য প্রশাসন কড়া হাতে পরিস্থিতি সামাল দেবে। অপরাধীরা যোগ্য জবাব পাবে।’ প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, মায়ানমার সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশকারী কুকি জঙ্গিরাই এই হামলা চালিয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গিগোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। সম্প্রতি ওই এলাকা থেকে ‘সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইন’ (AFSPA) প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

  • Yasin Malik: হাফিজ সইদের সঙ্গে বৈঠক, ধন্যবাদ জানান মনমোহন! বিস্ফোরক দাবি ইয়াসিন মালিকের

    Yasin Malik: হাফিজ সইদের সঙ্গে বৈঠক, ধন্যবাদ জানান মনমোহন! বিস্ফোরক দাবি ইয়াসিন মালিকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। দিল্লি হাইকোর্টে রীতিমতো হলফনামা দিয়ে এই দাবি করেছেন জম্মু-কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের নেতা ইয়াসিন মালিক। ২৬/১১ হামলার পরও প্রতিশোধের পথে না হেঁটে শান্তির বার্তা! সন্ত্রাসবাদ এবং পাক নীতি নিয়ে অতীতে বহুবার সমালোচিত হয়েছে মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার। এবার ওই জমানারই এক নয়া এবং বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে আনলেন কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ইয়াসিন।

    ইয়াসিন মালিকের বিতর্কিত মন্তব্য

    জঙ্গি, অনুপ্রবেশকারীদের মদত দেয় কংগ্রেসে। দিন কয়েক আগেই এই দাবি করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোদি। বিজেপির অভিযোগ, সন্ত্রাসবাদ এবং পাক নীতি নিয়ে মনমোহন সরকার খুবই উদাস ছিল। এসবের মধ্যেই সেই আমলের এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে এল। জঙ্গি নেতা মালিকের বিবৃতি অনুসারে, ২০০৫ সালে কাশ্মীরে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর পাকিস্তান সফরের আগে গোয়েন্দা ব্যুরোর (আইবি) তৎকালীন বিশেষ ডিরেক্টর ভি. কে. জোশী দিল্লিতে জম্মু ও কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট (জেকেএলএফ)-এর নেতা ইয়াসিন মালিকের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সেই বৈঠকে জোশীই, ইয়াসিন মালিককে অনুরোধ করেছিলেন যে-তিনি কেবল পাকিস্তানি রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গেই নয়, বরং হাফিজ সইদ-সহ জঙ্গি নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করার সুযোগটি কাজে লাগান। ইয়াসিনের দাবি, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর শান্তি প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার লক্ষ্যেই এই অনুরোধ করেছিলেন জোশী। মালিক দাবি করেন যে তাঁকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে-সন্ত্রাসবাদী নেতাদের আলোচনায় না আনা হলে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা কোনওমতেই অর্থবহ হতে পারে না। জোশীর অনুরোধের ভিত্তিতে ইয়াসিন মালিক পাকিস্তানে একটি অনুষ্ঠানে হাফিজ সইদ এবং ইউনাইটেড জেহাদ কাউন্সিলের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হন।

    কূটনীতির ক্ষেত্রে ইউপিএ-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    ইয়াসিন মালিকের বক্তব্যের সবচেয়ে বিস্ফোরক অংশ হল ভারতে ফিরে আসার পর কী ঘটেছিল তার বর্ণনা। তিনি দাবি করেন যে, আইবি-কে সবকিছু বলার পর তাঁকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি বলতে বলা হয়েছিল। কারাবন্দি নেতার দাবি, রাজধানীতে তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এম. কে. নারায়ণনের উপস্থিতিতে মনমোহন সিয়ের-এর সঙ্গে দেখা করেছিলেন তিনি। সেখানেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে পাকিস্তানের সবচেয়ে কট্টরপন্থী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাঁর প্রচেষ্টা, ধৈর্য এবং নিষ্ঠার জন্য ধন্যবাদ জানান। বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ইয়াসিন মালিকের দাখিল করা হলফনামাকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, যদি এই নতুন দাবিগুলি সত্য হয়, তাহলে জাতীয় নিরাপত্তার আড়ালে কূটনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে ইউপিএ-এর ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপিত হবে।

  • DUSU Election 2025: ফের গেরুয়া ঝড়! দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ ভোটে তিনটি পদে জয়ী এবিভিপি

    DUSU Election 2025: ফের গেরুয়া ঝড়! দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ ভোটে তিনটি পদে জয়ী এবিভিপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের (DUSU Election 2025) ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ফের গেরুয়া ঝড়। সভাপতি, সম্পাদক-সহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদের মধ্যে তিনটিই দখল করল এবিভিপি। কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এর ঝুলিতে গেল শুধু সহ-সভাপতির পদ। ২০২৩ সালের মতোই দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিপুল জয় ছিনিয়ে নিল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। সভাপতি পদে এবিভিপি প্রার্থী আরিয়ান মান তাঁর এনএসইউআই প্রতিদ্বন্দ্বী জসলিন নন্দিতা চৌধরিকে ১৬ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন।

    একচ্ছত্র আধিপত্য এবিভিপি’র

    ভোটগ্রহণ হয়েছিল বৃহস্পতিবার। শুক্রবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ফল ঘোষণা হল। কংগ্রেস প্রভাবিত ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই-কে হারিয়ে সভাপতি পদ পুনর্দখল করল সঙ্ঘ পরিবারের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি (ABVP)। সম্পাদক এবং যুগ্ম সম্পাদক পদ দু’টিও গিয়েছে এবিভিপির ঝুলিতে। ছাত্র সংসদের চারটি পদের জন্য মোট ২১ জন প্রার্থী ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। চলতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন মূল ক্যাম্পাসের পাশাপাশি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালেয়ের অধীনে থাকা ৫০টি কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা। এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৩৯.৪৫ শতাংশ। ছাত্র নির্বাচন হলেও, তা ঘিরে উত্তেজনা ছিল টানটান। ৫২টি কেন্দ্র ও ১৯৫টি বুথে হয়েছে ভোট গ্রহণ। আনা হয়েছিল ৭১১টি ইভিএম।

    প্রত্যেক পড়ুয়ার পাশে থাকার বার্তা

    শুক্রবার প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ২৮ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে এই পদে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়া সভাপতি পদে বসলেন আরিয়ান। অন্যদিকে এনএসইউআই প্রার্থী পেয়েছেন ১২ হাজারের সামান্য অধিক ভোট। শুধুই সভাপতি পদই নয়, সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক পদেও জয় লাভ করেছে আরএসএস-এর ছাত্রদল। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়া সম্পাদক হয়েছেন কুণাল চৌধুরী এবং যুগ্ম সম্পাদক হয়েছে দীপিকা ঝা। একমাত্র সহ-সভাপতি পদে জয় লাভ করেছে এনএসইউআই-র প্রার্থী রাহুল ঝান্সলা। এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল বাম সমর্থিত দুই ছাত্রদল এসএফআই ও আইসা। কিন্তু তাদের হাত আপাতত শূন্যই। আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের কুণাল চৌধরী এনএসইউআই-এর কবীরকে পরাজিত করে সম্পাদকের পদটি ছিনিয়ে নিয়েছেন৷ সেন্ট্রাল প্যানেলের যুগ্ম সম্পাদকের পদটিও পেয়েছেন এবিভিপি’র দীপিকা ঝা৷ তিনি এনএসইউআই-এর লবকুশ ভাডানাকে পরাজিত করেছেন৷ এবিভিপি-র কুণাল চৌধরী বলেন, “আমি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছি৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই৷ করজোড়ে সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি৷ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক পড়ুয়াকে আশ্বস্ত করছি, কখনও কারও কিছু প্রয়োজন হলে, আমি সবসময় পাশে আছি৷”

  • Operation Sindoor: জইশ-এর পর এবার লস্কর জঙ্গির স্বীকারোক্তি, অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের মিথ্যাচার ফাঁস

    Operation Sindoor: জইশ-এর পর এবার লস্কর জঙ্গির স্বীকারোক্তি, অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তানের মিথ্যাচার ফাঁস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাসুদ আজহারের বাহাওয়ালপুর ক্যাম্প নিয়ে পাকিস্তানের দাবি জইশ-ই-মহম্মদের (জইশ) এক কমান্ডারের বক্তব্যে প্রশ্নের মুখে পড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এবার লস্কর-ই-তৈইবার (এলইটি) এক জঙ্গি স্বীকার করেছেন যে, মুরিদকেতে সংগঠনের সদর দফতর ‘মারকাজ তৈইবা’ ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর অপারেশন সিঁদুরে (Operation Sindoor) ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে লস্করের কমান্ডার কাসিম বলেন, ‘‘আমি মুরিদকের ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে একসময় মারকাজ তৈইবা ছিল। ভারতের হামলায় এটি ধ্বংস হয়েছে। এখন আল্লাহর রহমতে এটি আরও বড় করে নির্মাণ করা হচ্ছে।’’ ভিডিওতে কাসিমের পেছনে একটি নির্মীয়মান বাড়ি দেখা যায়।

    মুরিদকে লস্কর ভবন পুনঃনির্মাণ

    ওই ভিডিওয় লস্কর কমান্ডার আরও স্বীকার করেন যে, বহু মুজাহিদ এবং ‘তালাবা’ (ছাত্র) এখানে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতেন এবং ‘ফয়জ’ অর্জন করতেন। যদিও পাকিস্তান সরকার দাবি করেছে যে, এই ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই লস্করের দ্বারা ব্যবহার করা হচ্ছিল না, কাসিমের এই ভিডিও সেই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে খণ্ডন করে। আরেকটি ভিডিওতে কাসিম পাকিস্তানের তরুণদের ‘দাওরা-এ-সুফফা’ নামে পরিচিত লস্করের প্রাথমিক জিহাদি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যোগ দিতে আহ্বান জানান। এই কর্মসূচিতে ধর্মীয় প্ররোচনার পাশাপাশি অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ৭ই মে জম্মু-কাশ্মীরের পাহেলগাঁওয়ে ২৬ জন নিরীহ পর্যটক নিহত হওয়ার পর ভারতীয় বাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর (Operation Sindoor)  অধীনে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) নয়টি জঙ্গি ঘাঁটি একযোগে ধ্বংস করে। এই অভিযানে বাহাওয়ালপুরে জইশ, শিয়ালকোটে হিজবুল মুজাহিদিন, বার্নালা ও মুজাফফরাবাদে লস্করের বিভিন্ন ঘাঁটি ছিল।

    ভারতের দাবিই সত্যি

    একটি ভয়াবহ ভিডিওতে লস্করের ডেপুটি চিফ সাইফুল্লাহ কাসুরি সম্প্রতি দাবি করেন, পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী মারকাজ তইবার পুনর্গঠনের জন্য অর্থ সাহায্য দিয়েছে। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, মুরিদকে লস্করের সদর দফতর গোপনে পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ২০২৬ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি — কাশ্মীর সংহতি দিবসকে সামনে রেখে — নতুন করে নির্মিত মারকাজ তইবা উদ্বোধন করা হবে, যেখানে আবারও প্রশিক্ষণ, প্ররোচনা ও জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর আগে জইশ কমান্ডার মাসুদ ইলিয়াস কাশ্মীরিও এক ভিডিও বার্তায় স্বীকার করেছিলেন, বাহাওয়ালপুরে ভারতীয় হামলায় মাসুদ আজহারের পরিবার “টুকরো টুকরো” হয়ে গিয়েছে। সেই ভিডিওতে তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনির নিহত জঙ্গিদের জানাজায় অংশ নিয়েছেন। এই ভিডিওগুলি প্রমাণ করে ভারতের দাবি সত্যি। কাঁটাতারের ওপার থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে বহু হামলার পরিকল্পনা করা হয়।

     

     

     

     

     

  • Operation Sindoor: ‘‘জঙ্গি-দমনই লক্ষ্য, সাধারণ মানুষ নয়’’! রাত ১টায় কেন অপারেশন সিঁদুর, জানালেন সিডিএস অনিল চৌহান

    Operation Sindoor: ‘‘জঙ্গি-দমনই লক্ষ্য, সাধারণ মানুষ নয়’’! রাত ১টায় কেন অপারেশন সিঁদুর, জানালেন সিডিএস অনিল চৌহান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাধারণ নাগরিকদের ক্ষতি এড়ানোর জন্যই রাত ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) চালান হয়। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে এমনই দাবি করলেন ভারতের সেনা সর্বাধিনায়ক (CDS Anil Chauhan) অনিল চৌহান। এদিন নয়াদিল্লির রাজভবনে এক আলাপচারিতায় অনিলের কথায় উঠে এসেছে ‘সিঁদুর’ অভিযানের সাফল্য এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর দক্ষতার প্রসঙ্গ।

    রাতেও আমরা ছবি তুলতে পারব

    পহেলগাঁও হামলার জবাবে গত ৭ মে পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে অপারেশন সিঁদুর চালিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। রাত ১টায় পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গিঘাঁটিতে অপারেশন চালানো হয়। অনেকের মনেই প্রশ্ন আছে যে রাত ১টাতেই কেন এই অপারেশন চালানো হয়েছিল? তার উত্তর দিলেন ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান জেনারেল অনিল চৌহান। তিনি জানিয়েছেন যে ভারত ইচ্ছাকৃতভাবেই ৭ মে রাত ১টায় অপারেশন সিঁদুর চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের হতাহতের ঘটনা রোখা। ভারতের সেনা সর্বাধিনায়ক জানান, মধ্যরাতে অভিযান করার নেপথ্যে ছিল দু’টি কারণ। তাঁর কথায়, ‘‘প্রথমত, রাতেও আমরা ছবি তুলতে পারব, আমাদের সেই ক্ষমতার উপর আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। আর দ্বিতীয়ত, সাধারণ নাগরিকদের ক্ষতি এড়ানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের কাছে।’’

    নিরীহ মানুষের উপর আঘাত হানতে চায়নি ভারত

    অনিল জানান, ভোর সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে উপযুক্ত সময় ছিল। তার পরেও মধ্যরাতে অভিযান চালানোর জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল। কেন সকালে অভিযান করা হয়নি? অনিলের কথায়, ‘‘ওটা নমাজের সময়। অনেক সাধারণ মানুষ জড়ো হন ওই সময়ে। তাই চিন্তাভাবনা করে ভোরের সময় বাতিল করা হয়।’’ অর্থাৎ, ভোরবেলা অভিযান চালালে সাধারণ মানুষের হতাহতের সম্ভাবনা থাকত বেশি। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের ন’টি জঙ্গি পরিকাঠামোয় আঘাত হেনেছিল ভারতীয় সেনা। এর মধ্যে ছিল মুজফ্‌ফরাবাদ, কোটলি, বহওয়ালপুর, রাওয়ালকোট, চক্‌সওয়ারি, ভিম্বার, নীলম উপত্যকা, ঝিলম এবং চকওয়াল। ছোড়া হয় মোট ২৪টি ক্ষেপণাস্ত্র। রাত ১টা বেজে পাঁচ মিনিটে শুরু হওয়া এই অভিযানের সময়সীমা ছিল ২৫ মিনিট। লশকর-এ-ত্যায়বা ও জইশ-ই-মহম্মদের প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলিই ছিল ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর লক্ষ্য। ভারতের দাবি, জঙ্গিদমন করতেই তাদের এই অভিযান। তাই নিরীহ মানুষের উপর আঘাত হানতে চায়নি ভারত।

    যুদ্ধের পরিবর্তিত চরিত্র

    ভারতীয় বাহিনীর সামরিক প্রধান শুক্রবার ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে স্কুল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিচ্ছিলেন। যেখানে তিনি সামরিক ও অসামরিক মিশনের জন্য সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেন। তিনি জানান, যুদ্ধের পরিবর্তিত চরিত্র এখন প্রযুক্তির দ্বারা বেশি চালিত হয়। যুদ্ধক্ষেত্র আর শুধু স্থল, বায়ু এবং সমুদ্রের মতো ক্ষেত্রগুলিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মহাকাশ, সাইবার, ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম এবং এমনকি নলেজ ডোমেনেও প্রসারিত হয়েছে। সাম্প্রতিক অপারেশনগুলিতে এই পরিবর্তন স্পষ্ট ছিল বলে জানিয়েছেন জেনারেল অনিল চৌহান।

  • Weather Update: পুজোর আগে ফের বৃষ্টি, শহরের আকাশে মেঘের আনাগোনা! মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের

    Weather Update: পুজোর আগে ফের বৃষ্টি, শহরের আকাশে মেঘের আনাগোনা! মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্যালেন্ডারে বর্ষা বিদায় নিয়েছে, এসেছে শরৎ। কিন্তু বৃষ্টি পিছু ছাড়ছে না বঙ্গবাসীর। পুজোর মুখে ফের আকাশের মুখ ভার। সকাল থেকে শহরের আকাশে মেঘের ঘনঘটা। বিক্ষিপ্ত ভাবে চলছে বৃষ্টি। রবিবার মহালয়া। দক্ষিণবঙ্গের অন্তত আটটি জেলায় সে দিনও ঝড়়বৃষ্টি হতে পারে, জানাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর (Weather Update)। রাজ্যের নানা প্রান্তেই বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পুজোর আগে শেষ শনি ও রবিবার বৃষ্টির ফলে বানচাল হতে পারে কেনাকাটা। মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের। পুজোর মধ্যেও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস।

    উত্তর থেকে দক্ষিণে চলছে বৃষ্টি

    শুক্রবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা সাত জেলাতে (Rain in Kolkata)। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা-মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের বেশিরভাগ এলাকাতে। উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। দার্জিলিং-সহ উপরের পাঁচ জেলাতে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি। সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে দমকা ঝোড়ো বাতাস বইবে। আগামিকাল, শনিবার থেকে কমবে বৃষ্টির পরিমাণ। শনিবার থেকে মঙ্গলবার বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা কমবে থাকবে। আজ, শুক্রবার ভারী বৃষ্টির‌ হলুদ সতর্কতা। ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলাতে। শনিবার দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলাতে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা-মাঝারি বৃষ্টি হবে সব জেলাতেই। সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে দমকা ঝোড়ো বাতাসের সতর্কতা।

    সাগরে তৈরি ঘূর্ণাবর্ত

    সাগরে কিছু দিন আগেই ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছিল। এখন তা পূর্ব বিহার এবং সংলগ্ন অঞ্চলের উপরে রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ঘূর্ণাবর্তটি এখন দেড় কিলোমিটার উঁচুতে। মূলত এর প্রভাবেই বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে ঢুকছে। তার ফলে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজ্য জুড়ে। শুক্রবার কলকাতার (Rain in Kolkata) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের তুলনায় ২.৩ ডিগ্রি বেশি। বৃহস্পতিবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে এক ডিগ্রি বেশি। কলকাতায় সকাল থেকেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি। কোথাও টিপটিপ তো কোথাও এক পশলা। মহালয়ায় কলকাতায় আবহাওয়া সংক্রান্ত কোনও সতর্কতা এখনও পর্যন্ত নেই। দু’-এক পশলা বৃষ্টি হতে পারে কোথাও কোথাও। তবে তার পরের দিন কলকাতাও ভিজতে পারে। সোমবার দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস।

  • Election Commission of India: ৫৯৯৪টা আবেদন ভুয়ো! রাহুলের অভিযোগ নিয়ে কী বলল কমিশন?

    Election Commission of India: ৫৯৯৪টা আবেদন ভুয়ো! রাহুলের অভিযোগ নিয়ে কী বলল কমিশন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া সংক্রান্ত রাহুল গান্ধীর অভিযোগ খারিজ করে দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। বৃহস্পতিবার রাতের দিকে একটি বিবৃতি দিয়ে কমিশন জানিয়েছে, কর্নাটকের অলন্দ বিধানসভা এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়ার জন্য ২০২২ সালের ডিসেম্বরে অনলাইনে প্রায় ৬০১৮টা আবেদন জমা পড়েছিল। এত বেশি সংখ্যক আবেদন সন্দেহজনক মনে হওয়ায়, প্রতিটা আবেদন খুঁটিয়ে দেখে কমিশন। দেখা যায় মাত্র ২৪টা আবেদন সঠিক। ৫৯৯৪টা আবেদন ভুয়ো। তাই শুধু ওই ২৪টা গ্রহণ করে বাকি আবেদন বাতিল করে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে কমিশন।

    কী বলল নির্বাচন কমিশন

    রাহুলের অভিযোগকে ‘ভুল এবং ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে কর্নাটক তথা জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। বৃহস্পতিবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করে রাহুল অভিযোগ করেছিলেন, নির্দিষ্ট সফ্‌টঅয়্যারের মাধ্যমে নকল আবেদন করে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “অলন্দ কর্নাটকের একটি লোকসভা কেন্দ্র। কেউ কেউ ৬০১৮টি ভোট মুছে ফেলার চেষ্টা করেছেন। আমরা জানি না ২০২৩ সালের ভোটে (কর্নাটকের বিধানসভা নির্বাচন) ঠিক কত জনের নাম বাদ গিয়েছে। কিন্তু সংখ্যাটা অবশ্যই ৬০১৮-র বেশি হবে।” কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, অনলাইনে কেউ কোনও ভোটারের নাম বাদ দিতে পারেন না। কারও নাম বাদ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য শোনা হয় বলেও জানিয়েছে কমিশন।

    এফআইআর দায়ের করে এর তদন্তে নামে কমিশন

    রাহুল অভিযোগ করেছিলেন, ‘ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া’ সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে কর্নাটকের সিআইডি কমিশনকে ১৮ বার চিঠি দিয়েছিল। কিন্তু উল্টো দিক থেকে কোনও উত্তর মেলেনি বলে দাবি করছিলেন রাহুল। কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, তাদের নির্দেশে কর্নাটকের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক পুলিশকে সব তথ্য দেন। কর্নাটকের একটি বিধানসভা কেন্দ্রের নামোল্লেখ করে কমিশন (Election Commission of India) জানিয়েছে, সেখানে ২০২৩ সালে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হয়। কিন্তু সেই চেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি। সেই সময় একটি এফআইআর দায়ের করে এর তদন্তে নামে কমিশন।

  • Adani Group Companies: কোনও প্রতারণা হয়নি, হিন্ডেনবার্গের অভিযোগ উড়িয়ে সেবির ক্লিনচিট আদানিকে

    Adani Group Companies: কোনও প্রতারণা হয়নি, হিন্ডেনবার্গের অভিযোগ উড়িয়ে সেবির ক্লিনচিট আদানিকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গৌতম আদানি গোষ্ঠীর (Adani Group) বিরুদ্ধে মার্কিন শেয়ার বিশ্লেষক সংস্থা হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের (Hindenburg Research) তোলা অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন বলে জানাল সেবি (SEBI)। ভারতের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মে মাসের শেষে ক্লিনচিট পেয়েছিলেন সেবির প্রাক্তন চেয়ারম্যান মাধবী পুরী বুচ। এবার ক্লিনচিট পেয়ে গেলেন আদানি।

    সেবির ছাড়পত্র

    ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে হিন্ডেনবার্গ দাবি করেছিল, আদানি গোষ্ঠী তার তিনটি সংস্থা, আদিকর্প এন্টারপ্রাইজেস, মাইলস্টোন ট্রেডলিঙ্কস ও রেহভার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যবহার করে গোষ্ঠীর বিভিন্ন কোম্পানির মধ্যে টাকা স্থানান্তর করেছে। প্রসঙ্গত, মাধবী পুরী বুচ ও তাঁর স্বামী ধবল বুচের বিনিয়োগ ছিল মরিশাসের আইপিই প্লাস ফান্ড ও বারমুডার গ্লোবাল ডায়নামিক অপরচুনিটি ফান্ডে। এই দুই সংস্থার সঙ্গেই আদানির যোগ রয়েছে অভিযোগ তুলেছিল হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ। আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে সেবির নাম জড়ানোর পর মাধবী পুরী বুচের বদলে সেবির নয়া চেয়ারম্যান হন তুহিন কান্ত পান্ডে। গত ১ মার্চ থেকে তিনি এই পদে। এবার তাঁর পদে থাকাকালীনই আদানির বিরুদ্ধে থাকা হিন্ডেনবার্গের সব অভিযোগ মিথ্যে বলে খারিজ করে দিল সেবি। বৃহস্পতিবার সেবি দু’টি পৃথক আদেশে জানায়, তদন্তে এমন কোনও অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি। সেবির ব্যাখ্যা, ওই সময় যে ধরনের লেনদেন হয়েছিল, তা তখনকার নিয়মে ‘রিলেটেড পার্টি ট্রানজ্যাকশন’-এর আওতায় পড়ত না। নিয়ম পরিবর্তন হয় ২০২১ সালে। উপরন্তু, সব ঋণ ফেরত দেওয়া হয়েছে, তহবিল ব্যবহার করা হয়েছে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যেই এবং কোথাও প্রতারণা বা বেআইনি লেনদেন হয়নি। তাই আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সমস্ত প্রক্রিয়া বন্ধ করা হয়েছে।

    রাজনৈতিক ও আর্থিক চক্রান্ত

    হিন্ডেনবার্গের রিপোর্টের ফলে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছিল আদানি গোষ্ঠী। প্রায় ১৩ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিল। প্রথম থেকেই আদানিরা এই অভিযোগগুলিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করে আসছিলেন। এই সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে একটি বিশেষজ্ঞদের প্যানেল গঠিত হয়। আদানি সম্পর্কে তাদের অনুসন্ধানের ফলাফলও ছিল সেবি-র অনুরূপ। ওই প্যানেলও তেমন কোনও অনিয়মের প্রমাণ খুঁজে পায়নি। বৃহস্পতিবার সেবি ক্লিনচিট দেওয়ার পর গৌতম আদানি সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘আমরা সবসময় বলে এসেছি, হিন্ডেনবার্গের দাবি ভিত্তিহীন। এত দিনের তদন্তের পর সেবি-ও সেটাই বলল। স্বচ্ছতা এবং সততাই আদানি গোষ্ঠীর সম্পদ। এই ভুয়ো রিপোর্টটির জন্য যাঁদের ক্ষতি হয়েছে, যাঁরা টাকা হারিয়েছেন, আমরা তাঁদের জন্য গভীর ভাবে দুঃখিত। যাঁরা এ ভাবে ভুয়ো খবর ছড়ান, দেশের কাছে তাঁদের ক্ষমা চাওয়া উচিত। ভারতের জনগণের প্রতি আমরা সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সত্যমেব জয়তে! জয় হিন্দ!’’

  • US Army in Chattogram: চট্টগ্রামে মার্কিন সেনার উপস্থিতি, সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি! ভারতের নজরে বাংলাদেশ

    US Army in Chattogram: চট্টগ্রামে মার্কিন সেনার উপস্থিতি, সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি! ভারতের নজরে বাংলাদেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের চট্টগ্রামের (US Army in Chattogram) শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সম্প্রতি অবতরণ করেছে ‘বিদেশি’ সামরিক বিমান। এদিকে কয়েকদি আগেই নাকি চট্টগ্রামে ১২০ জন মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্য যান। তারা চট্টগ্রামের অভিজাত হোটেল ব়্যাডিসন ব্লু-তে আছেন। এই সব মিলে জল্পনা বর্তমানে তুঙ্গে। এই নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চর্চাও চলছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস পরিবহন বিমান চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়োকোটা ঘাঁটি (জাপান) থেকে পরিচালিত একটি ট্যাকটিক্যাল ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফট। একইসাথে চট্টগ্রামের জহুরুল হক বিমানঘাঁটিতে শুরু হয়েছে ‘অপারেশন প্যাসিফিক অ্যাঞ্জেল ২৫-৩’ নামে একটি যৌথ সামরিক মহড়া, যেখানে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী।

    চট্টগ্রামে যৌথ মহড়ায় নজর রাখছে ভারত

    এই মহড়া ও সাম্প্রতিক তৎপরতাগুলোর প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে—ভারতের জন্য কি এই মহড়া উদ্বেগের কারণ? ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের সন্নিকটে চট্টগ্রামে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কী আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্য পরিবর্তন করতে পারে? গত ১০ সেপ্টেম্বর মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি সি-১৩০ জে সুপার হারকিউলিস বিমান শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছিল। এরই সঙ্গে জানা গিয়েছে, প্রায় ১২০ জন মার্কিন সেনা এবং বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন। এসব সৈন্যরা রেডিসন ব্লু হোটেলে অবস্থান করে, যেখানে তাদের নাম রেজিস্টারে লেখা হয়নি। এই অপারেশনটি ‘অপারেশন প্যাসিফিক অ্যাঞ্জেল ২৫-৪’-এর অংশ। ১৫ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার বিমান বাহিনীর মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এই মহড়ার বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা হয়েছিল?

    কি ঘটছে চট্টগ্রামে?

    ‘অপারেশন প্যাসিফিক অ্যাঞ্জেল ২৫-৩’ মূলত একটি মানবিক সহায়তা ও সামরিক সহযোগিতা ভিত্তিক মহড়া, যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এই মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ২৪২ জন সামরিক সদস্য অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৯২ জন মার্কিন ও ১৫০ জন বাংলাদেশি সেনা সদস্য রয়েছেন। মহড়ায় অংশ নিচ্ছে তিনটি সি-১৩০জে পরিবহণ বিমান (দুটি যুক্তরাষ্ট্রের), একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার (বাংলাদেশ বিমান বাহিনী)। এছাড়াও, আমেরিকার চার্জ দ্যা’ফেয়ার ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন মহড়াস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ইউএস প্যাসিফিক এয়ার ফোর্সেসের (PACAF) প্রতিনিধি ও ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    ভারত-মায়ানমার সম্পর্ক

    এর আগে, ৮-১০ সেপ্টেম্বর হাওয়াইতে অনুষ্ঠিত ‘ল্যান্ড ফোর্সেস টকস’-এ ইউএস আর্মি প্যাসিফিক কমান্ড এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছিল। এদিকে বঙ্গোপসাগরে চট্টগ্রামের অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ। সেখানে চিনের প্রভাব বাড়ছে। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র মায়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলিকে (যেমন আরাকান আর্মি) সমর্থন করতে চায়। এই বিদ্রোহীরা জুন্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এদিকে বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন দ্বীপেও আমেরিকার নজর রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে, মায়ানমারের সামরিক জুন্তার সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে প্রতিবেশী দেশের সামরিক বাহিনী ক্ষমতায় রয়েছে। এদিকে মায়ানমারকে নিজেদের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’র একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করে ভারত সরকার। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির সঙ্গে যোগাযোগের জন্য। কালাদান মাল্টি-মোডাল ট্রানজিট প্রজেক্ট (মিজোরাম থেকে সিত্তে বন্দর পর্যন্ত) এর মতো প্রকল্পগুলি জুন্তার সমর্থনের উপর নির্ভর করে। কিন্তু মায়ানমারে আরাকান আর্মি ও অন্যান্য বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধ চলছে। এই অর্থে, এই গোটা বিষয়টি খুব সংবেদনশীল।

    উত্তরপূর্ব ভারতে অশান্তির আশঙ্কা

    এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর মিশর বিমান বাহিনীর একটি পরিবহণ বিমান চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং এর একদিন পরেই মার্কিন সেনারা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পতেঙ্গা বিমান ঘাঁটি পরিদর্শন করেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম থেকে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে মানবিক করিডোর তৈরি করার পরিকল্পনা করছিল মহম্মদ ইউনুসের সরকারের। তবে এই করিডোরের মাধ্যমে উত্তরপূর্ব ভারতে অশান্তি ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। এদিকে এই করিডোরের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজেদের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপস করতে পারে বলে আশঙ্কা শুরু হয়েছিল তাদের দেশের অভ্যন্তরেই। যার জেরে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল ইউনুস সরকারের ওপর। তারপর বেশ কয়েক মাস বিষয়টি নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করা হয়নি ইউনুস সরকারের তরফ থেকে। এমনকী বলা হয়েছিল, এই করিডোরের বিষয়ে সরকার চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তই নেয়নি।

    আমেরিকার লক্ষ্য কি শুধুই চিন-বিরোধিতা?

    বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল মূলত চিনকে প্রতিহত করা। তবে এর প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার ভৌগোলিক ভারসাম্যেও পড়ছে। বাংলাদেশে মার্কিন প্রভাব বৃদ্ধির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ভারত মহাসাগরে ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তার সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে চাইছে—যা একদিকে চিনের প্রভাব ঠেকানোর চেষ্টা, অন্যদিকে ভারতকেও নির্দিষ্ট ছকেই রাখতে চাওয়ার ইঙ্গিত। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অগাস্টে বাংলাদেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে। শেখ হাসিনার সরকার ছাত্র-আন্দোলনের মুখে পড়ে সরে যেতে বাধ্য হয়। এর পিছনে আমেরিকার হাত রয়েছে, বলে অভিযোগ করেন হাসিনা। বলা হয়, শেখ হাসিনা ‘সেন্ট মার্টিন’ দ্বীপ মার্কিন ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র অসন্তুষ্ট ছিল।

    বদলে যাওয়া ভূরাজনীতি

    শেখ হাসিনা সরে যাওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ‘টাইগার লাইটনিং ২০২৫’ নামের একটি ছয় দিনের যৌথ মহড়া জুলাই মাসে সিলেটের জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্টে অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা ন্যাশনাল গার্ড এবং বাংলাদেশের প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড অংশ নেয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ভারতের জন্য একটি কৌশলগত সতর্ক সংকেত হতে পারে। চট্টগ্রাম ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মায়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি। আমেরিক যদি এই অঞ্চলকে লজিস্টিক হাব বা গোয়েন্দা তৎপরতার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলে, তাহলে তা ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও চিন—উভয় দেশই মায়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে, যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহী তৎপরতা ও শরণার্থী সঙ্কটকে জটিল করে তুলতে পারে। এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের যৌথ তৎপরতা মানবিক ও প্রশিক্ষণমূলক দাবি করা হলেও, ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি সরলভাবে দেখার সুযোগ নেই।

  • ICC: এশিয়া কাপে পাকিস্তানের দাবিকে মান্যতা দেয়নি আইসিসি, এই ভারতীয়ের যুক্তির কাছে হারে পিসিবি

    ICC: এশিয়া কাপে পাকিস্তানের দাবিকে মান্যতা দেয়নি আইসিসি, এই ভারতীয়ের যুক্তির কাছে হারে পিসিবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়া কাপ চলাকালীন ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)-এর মধ্যে বিতর্কের সমাধান করলেন আইসিসি সিইও সঞ্জয় গুপ্তা। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু সঞ্জয় গুপ্তা (Sanjay Gupta) একক নেতৃত্বে সেই দাবি কার্যত উড়িয়ে দেন এবং কঠোর বার্তা দেন যে, কোনওরকম প্রমাণ ছাড়া অফিসিয়ালদের অপসারণের দাবি মানা হবে না।

    সঞ্জয় গুপ্তার দৃঢ় অবস্থান

    ১৪ই সেপ্টেম্বর, দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ভারত-পাকিস্তান গ্রুপ ‘এ’ ম্যাচের পরে বিতর্ক শুরু হয়। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে পাক ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকার করে ভারতীয় দল। এই ঘটনার পর, পিসিবি অভিযোগ করে যে ম্যাচ রেফারি পাইক্রফট নাকি দুই অধিনায়ককে টিমশিট বিনিময় করতে বাধা দেন এবং সালমানকে করমর্দনের বিষয়ে নিরুৎসাহিত করেন। এরপর পাকিস্তান আইসিসি-কে লিখিতভাবে পাইক্রফটকে সরিয়ে রিচি রিচার্ডসনকে নিয়োগের প্রস্তাব দেয়। আইসিসি সূত্রে খবর, পিসিবি’র দাবির বিপরীতে কড়া অবস্থান নেন সঞ্জয়। আইসিসি জানায়, পাইক্রফট কোনও কোড অফ কনডাক্ট লঙ্ঘন করেননি এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। দুপক্ষের মধ্যে ৬টি ইমেল বিনিময় হয়, যার মধ্যে তিনটি করে ইমেল পাঠানো হয় দুই পক্ষ থেকে। অন্তর্দ্বন্দ্ব এড়াতে কিছু কর্মকর্তা ১৭ সেপ্টেম্বর আরব-আমিরশাহী ম্যাচে শুধু এক ম্যাচের জন্য পাইক্রফটকে সরানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু সঞ্জয় গুপ্ত তা স্পষ্টভাবে নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, “এভাবে চাপের কাছে নতিস্বীকার করলে ম্যাচ অফিসিয়ালদের কর্তৃত্ব ক্ষুন্ন হবে এবং ভবিষ্যতে ভুল বার্তা যাবে।”

    কে এই সঞ্জয় গুপ্তা?

    ২০২৫ সালের জুলাই মাসে আইসিসি-র সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেন সঞ্জয় গুপ্ত। তিনিই প্রথম ভারতীয় যিনি এই পদে অধিষ্ঠিত হন। ভারতের ক্রীড়া সম্প্রচার মহলের পরিচিত নাম। ২০০২ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইকোনমিক্সে স্নাতক ডিগ্রি (অনার্স)। ২০১০ সালে স্টার ইন্ডিয়ায় যোগ দেন অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে। এরপর একে একে কনটেন্ট, সম্প্রচার, বিপণন স্ট্র্যাটেজি—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব সামলেছেন। ২০২০ সালে সঞ্জয় ডিজনি ও স্টার ইন্ডিয়ার স্পোর্টস বিভাগের সিইও পদে বসেন। কেবল শহরেই নয়, ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও খেলাকে পৌঁছে দিতে চান। তাই তাঁর নেতৃত্বেই উঠে আসে স্লোগান: ‘স্পোর্টস ফর অল’! ২০২৪ সালের নভেম্বরে ভায়াকম ১৮ (Viacom 18) ও ডিজনি স্টার (Disney Star) মিলেমিশে গড়ে ওঠে জিওস্টার (JioStar)। সঞ্জয় সেখানে স্পোর্টস অ্যান্ড লাইভ এক্সপিয়িয়েন্সেস বিভাগের সিইও হন। এরপর আগে-পরে আইপিএলের জনপ্রিয়তা বাড়ানো, আইসিসি ইভেন্টের সম্প্রচারে নতুনত্ব আনা, প্রো কাবাডি লিগ (PKL)-এর উত্থান, ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL)-এর প্রতিষ্ঠা, উইম্বলডন ও ভারতে প্রিমিয়ার লিগ-এর মত আন্তর্জাতিক ইভেন্টের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর এবং ক্রীড়া সম্প্রচারের পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন সঞ্জয় গুপ্তা।

    ক্রিকেট দুনিয়াকে স্পষ্ট বার্তা

    পাইক্রফট বিতর্কে সঞ্জয় গুপ্তের দৃঢ় এবং পেশাদারী পদক্ষেপ ক্রিকেট মহলে প্রশংসিত হয়েছে। রাজনৈতিক চাপের মুখেও তিনি যে নিরপেক্ষতা ও নীতির প্রশ্নে আপসহীন, তা স্পষ্ট। সঞ্জয় বুঝিয়ে দিয়েছেন পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে, তবে প্রমাণ ছাড়া কোনওরকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। ন্যায়বিচার, প্রোটোকল ও পেশাদারিত্বকে সবচেয়ে বেশি মূল্য দেওয়া হবে।

LinkedIn
Share