Author: ishika-banerjee

  • Bangladesh Crisis: নৈরাজ্যের বাংলাদেশে ফের নিশানায় হিন্দু, গণপিটুনি থেকে বাঁচতে খালে ঝাঁপ যুবকের, ডুবে মৃত্যু

    Bangladesh Crisis: নৈরাজ্যের বাংলাদেশে ফের নিশানায় হিন্দু, গণপিটুনি থেকে বাঁচতে খালে ঝাঁপ যুবকের, ডুবে মৃত্যু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) হিন্দুদের (Hindu Community) উপর আক্রমণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। নৈরাজ্যের বাংলাদেশে আরও একটি মর্মান্তিক ঘটনার খবর সামনে এসেছে। মঙ্গলবার বিকেলে চোর সন্দেহে একদল মানুষের তাড়া খেয়ে প্রাণ বাঁচাতে খালে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৫ বছর বয়সি এক হিন্দু যুবকের (Hindu Young Man)। মৃতের নাম মিঠুন সরকার। তিনি বাংলাদেশের ভান্ডারপুর গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ খাল থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে। অভিযোগ, চোর সন্দেহে একদল উন্মুক্ত জনতা তাঁকে তাড়া করে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসন। এমনকী মিঠুনের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ নিয়েও কিছু জানাতে ব্যর্থ বাংলাদেশ পুলিশ। তাহলে কী সত্যিই সে চোর নাকি শুধু হিন্দু হওয়ার অপরাধেই ফের অকালে ঝড়ে গেল আরও একটি প্রাণ?

    কী ঘটেছিল মিঠুনের সঙ্গে

    পুলিশ এবং প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চোর সন্দেহে মঙ্গলবার দুপুরে হাট চকগৌরি বাজার এলাকায় বেশ কিছু যুবক মিঠুনকে ধাওয়া করে। প্রাণে বাঁচতে দৌড় শুরু করেন মিঠুন। জনতার হাত থেকে প্রাণে বাঁচতে রাস্তার পাশে একটি খালে ঝাঁপ দেন। এরপর থেকেই আর মিঠুনের খোঁজ মিলছিল না। বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরেও তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। শেষমেশ রাজশাহী এলাকা থেকে ডুবুরি আনিয়ে শুরু হয় খোঁজ। জানা যায়, বিকেলের দিকে ভেসে ওঠে মিঠুনের নিথর দেহ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। মহাদেবপুর উপজেলার নওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গোলাম মোস্তাফা জানিয়েছেন, দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে চুরির যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে তদন্ত চলছে বলে জানান ওই পুলিশ আধিকারিক।

    বাংলাদেশে হিন্দুদের উপরে নির্যাতনের ছবি ক্রমশ ভয়ংকর

    বছরের শেষদিনে খোকন দাস নামের এক হিন্দু ব্যক্তিকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে উন্মত্ত জনতা। প্রাণে বাঁচতে পুকুরে ঝাঁপা দেন। কিন্তু মার খেয়ে আধ-মরা হয়ে যান খোকন। দিনদুয়েক পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। এরও আগে ময়মনসিংহের ভালুকায় খুন হন বজেন্দ্র বিশ্বাস। সহকর্মীর গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবার যশোর জেলায় অজ্ঞাত হামলাকারীরা এক হিন্দু ব্যবসায়ী ও একটি খবরের কাগজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে মাথায় গুলি করে হত্যা করে। একই দিনে নরসিংদী শহরে ৪০ বছরের এক হিন্দু মুদি দোকানদারকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয়। সবমিলিয়ে গত তিন সপ্তাহে বাংলাদেশে হিংসার শিকার হয়েছেন একাধিক সংখ্যালঘু হিন্দু। বাদ পড়ছেন না মহিলারাও। সম্প্রতি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক বিধবা হিন্দু মহিলাকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এমনকী নারকীয় নির্যাতনের ভিডিও করে তা সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয় দুই অভিযুক্ত। সামগ্রিক ভাবেই সংখ্যালঘুদের উপরে নির্যাতনের ছবিটা ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে উঠেছে ইউনূসের ‘নতুন’ বাংলাদেশে।

    মিথ্যা অপবাদ, অসহায় মৃত্যু

    পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, চোর সন্দেহে তাড়া করা হয়েছিল মিঠুন সরকারকে। মারমুখি মানুষের হাত থেকে রক্ষা পেতে পালাচ্ছিলেন তিনি। শেষে বাঁচার তাগিদে খালের জলে ঝাঁপ মেরেছিলেন ২৫ বছর বয়সি যুবক। সেই অবস্থায় প্রবল ঠান্ডায় জলে ডুবে মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁয়ের মহাদেবপুরে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। তবে তিনি চুরি করেছিলেন কি না এই বিষয়ে কোনও প্রমাণ পুলিশ পায়নি বলে জানানো হয়েছে। ফলে এই ঘটনায় ফের একবার প্রশ্নের মুখে ইউনুস সরকার।

    ভোটের আগে সংখ্যালঘুদের আতঙ্কিত করাই উদ্দেশ্যে

    বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান একতা পরিষদ জানিয়েছে, শুধুমাত্র ডিসেম্বর মাসেই অন্তত ৫১টি লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে রয়েছে ১০টি হত্যাকাণ্ড। এছাড়াও অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও লুটপাটের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। ইউনিটি কাউন্সিল একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, এর মধ্যে ১০টি খুন, চুরি ও ডাকাতির ১০টি ঘটনা, বাড়িঘর বা কোনও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান জবরদখল করার পাশাপাশি মন্দির ও জমি লুটের ২৩টি ঘটনা ঘটেছে ৷ ধর্মের নামে ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর চর হওয়ার মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার ও অত্যাচারের ঘটনা ঘটেছে ৪টি ৷ শুধু তাই নয়, একটি ধর্ষণের চেষ্টা এবং তিনটি শারীরিক নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৷ হিংসার এই ধারাবাহিকতা জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহেও বজায় রয়েছে ৷পরিষদের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই সহিংসতা সম্ভবত ফেব্রুয়ারি ১২-এর ভোটের আগে সংখ্যালঘুদের আতঙ্কিত করার উদ্দেশ্যে সংগঠিত। পরিষদের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, “বাংলাদেশ আগেও রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখোমুখি হয়েছে, তবে এই মুহূর্তের পরিস্থিতি বিপজ্জনক, সংস্থা-নির্ভরতা দুর্বল এবং সংখ্যালঘুদের ওপর আঘাতের ঝুঁকি বেড়েছে।”

    আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ

    একটি প্রতিবেদনে ঐক্য পরিষদ উল্লেখ করেছে, “বাংলাদেশ অতীতেও রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখোমুখি হয়েছে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও সাম্প্রদায়িক আতঙ্ক একসঙ্গে বিপজ্জনক রূপ নিচ্ছে।” মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং রাষ্ট্র নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থতা সেটাই বারে বারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে সেই উত্তর নেই কারও কাছে।

  • T20 World Cup 2026: ‘ভারতেই খেলতে আসতে হবে’, বাংলাদেশকে স্পষ্ট বার্তা আইসিসি’র

    T20 World Cup 2026: ‘ভারতেই খেলতে আসতে হবে’, বাংলাদেশকে স্পষ্ট বার্তা আইসিসি’র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতেই খেলতে হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) বাংলাদেশকে স্পষ্ট বলল আইসিসি। ‘ভারতে খেলতে যাব না, পাকিস্তানের মতো আমাদেরও ম্যাচও শ্রীলঙ্কায় দিতে হবে’। এটা ছিল আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের দাবি। তাদের এই দাবি প্রথমে উড়িয়ে দিয়েছিল বিসিসিআই। এবার একই পথে হাঁটল আইসিসি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের তরফে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়, ভারতে কোনও নিরাপত্তা সমস্যা নেই। আইসিসির স্পষ্ট বার্তা, ‘ভারতেই খেলতে আসতে হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে। আর না আসলে, কাটা যাবে পয়েন্ট।’

    বাংলাদেশের আবেদন নাকচ

    বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারত থেকে স্থানান্তরিত করার দাবিতে গত রবিবার, ৪ জানুয়ারি দুপুরে আইসিসিকে ই-মেল করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের চিঠির জবাব দেয়নি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। শেষ পর্যন্ত মিলল উত্তর। বাংলাদেশের আবেদনকে পাত্তাই দিল না আইসিসি। ফিরিয়ে দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অনুরোধ। বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে ভারতেই আসতে হবে বাংলাদেশকে। নাহলে কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে হবে তাদের। ভার্চুয়াল বৈঠকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে জানিয়ে দিল আইসিসি। ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশ কলকাতা ও মুম্বইয়ে খেলবে। প্রস্তুতি সারা। এই পরিস্থিতিতে ম্যাচ সরে গেলে সবদিক থেকে সমস্যা হবে আয়োজকদের। তাই বিসিবিকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, বিশ্বকাপ খেলতে হলে তাদের ভারতেই আসতে হবে। যদি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না আসে, তা হলে পয়েন্ট কাটা যাবে। অর্থাৎ, বিপক্ষকে ওয়াকওভার দেওয়া হবে।

    কী করবে, নিরুপায় বাংলাদেশ

    প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকেই বাংলাদেশে চরমে উঠেছে ভারত বিরোধিতা (India-Bangladesh)। সাম্প্রতি হিন্দু যুবক দীপু দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর আন্তর্জাতিক মহলেও মুখ পোড়ে বাংলাদেশের। তবে তারপরেও হিন্দু নিধন থামেনি। এদিকে বাংলাদেশে একের পর এক ঘটনার প্রতিবাদের রেশ পড়েছে ভারতেও। চলছে কূটনৈতিক টানাপোড়েন। শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া নিয়েও ভারতের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েই চলেছেন ওপারের প্রশাসনিক কর্তারা। এরইমধ্যে আবার আইপিএল থেকে বাদ পড়েছেন মুস্তাফিজুর। নিষেধাজ্ঞার কারণে তাঁকে আর নিতে পারছে না কেকেআর। এ নিয়ে চাপানউতোরের মধ্যেই আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে দেওয়ার জন্য আইসিসি-র কাছে দরবার করে বাংলাদেশ। তবে আইসিসি সেই দাবি নাকচ করে দেয়। এই সিদ্ধান্তে ফলে বাংলাদেশের সামনে খোলা রইল দুটো রাস্তা। তাদের খেলতে আসতে হবে। আর যদি না আসে তা হলে তাদের বিপক্ষকে ওয়াকওভার দেওয়া হবে। যদিও আরও একটা কাজ করতে পারে আইসিসি, তারা বাংলাদেশের জায়গায় অন্য দলকে ডাকতে পারে বিশ্বকাপের জন্য।

  • Trump-Modi: ‘‘মোদির মতো জনপ্রিয় নন ট্রাম্প’’, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ইয়ান ব্রেমারের

    Trump-Modi: ‘‘মোদির মতো জনপ্রিয় নন ট্রাম্প’’, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ইয়ান ব্রেমারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কখনও শুল্ক চাপানোর হুমকি। কখনও আবার পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে ভারতবিরোধী মন্তব্য। প্রায় প্রতি দিনই ‘বিতর্কিত’ বিবৃতি দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Trump-Modi) হু-হু করে কমছে জনপ্রিয়তা। অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এমনই অভিমত, ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়ান ব্রেমার।

    কেন ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাঁটা

    ইয়ান ব্রেমার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন— যেমন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের সামরিক অভিযান— কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদী সুফল তিনি নাও পেতে পারেন। তিনি বলছেন, ট্রাম্পের পদক্ষেপগুলি স্বল্পমেয়াদী রাজনৈতিক লাভ এনে দিতে পারে, কিন্তু ভবিষ্যতে তা বদলে যেতে পারে। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে ট্রাম্পের তুলনা করে বলেছেন, মোদি দীর্ঘসময় ধরে জনপ্রিয়তার কারণে দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যা তাঁর সিদ্ধান্তগুলিকে স্থিতিশীল করে তুলেছে। কিন্তু দেশের ভিতরেই ট্রাম্পের বিরোধিতা অনেক বেশি। ট্রাম্পের বয় ৮০ বছর। প্রেসিডেন্ট পদে তাঁর মেয়াদ ২০২৯ পর্যন্ত সীমিত—এবং পরবর্তী কোনও প্রেসিডেন্ট তাঁর অনেক সিদ্ধান্ত বাতিল বা পরিবর্তন করে দিতে পারে। ব্রেমার বলেন, চিনের শি জিনপিং, রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের মোদির মতো স্থায়ী নেতৃত্ব নেই মার্কিন নেতৃত্বে, যেখানে প্রতি চার বছর পরপর শাসক পরিবর্তন হয় এবং সেই কারণে অনেক নীতি ও পদক্ষেপ কার্যবসিত হয় না।

    ভেনেজুয়েলার তেল, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ

    ভেনেজুয়েলাতে তেলের বড় মজুদ থাকলেও সেটি কাজে লাগাতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ প্রয়োজন, বলে মনে করেন ব্রেমার। বর্তমানে দেশটি দৈনিক প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে, যা আগের ৩০ লাখ ব্যারেলের তুলনায় অনেক কম। তেলের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগগুলোতে বিশ্বাস থাকতে হয়— তাই মাত্র কয়েক বছর মেয়াদি একজন প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা তা রূপান্তর করতে সর্বদা যথেষ্ট নয়। ব্রেমার বলেন, “তাই এমন ভাবনা ঠিক নয় যে আমেরিকান কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার সব তেল দখল করে নেবে।”

    মোদির জনপ্রিয়তা বেশি

    ব্রেমার মনে করেন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের কথা বলে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করেছেন ট্রাম্প। দ্বিতীয়ত, তাঁর শুল্কনীতির জেরে ক্ষতি হচ্ছে দেশের তাবড় বড় শিল্পপতিদের। তা ছাড়া বর্ষীয়ান রিপাবলিকান নেতার বিদেশনীতি নিয়েও সেখানকার আমজনতার মধ্যে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। তাঁদের একাংশের দাবি, ‘বন্ধু’দের সঙ্গে শত্রুতা তৈরি করছেন ট্রাম্প। আর ‘সুপার পাওয়ার’ থাকার গর্বে আন্তর্জাতিক স্তরে ধীরে ধীরে একা হচ্ছে আমেরিকা। দেশেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কম ও মেয়াদ সীমাবদ্ধ। ফলে তাঁর অনেক সিদ্ধান্ত পরবর্তী প্রেসিডেন্টের সময় বাতিল বা বদলে যেতে পারে। মোদি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে দেশে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করেছেন। ভারতে তাঁর স্থিতিশীলতা ধরে রেখেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে নেই।

  • JNU: জেএনইউ-তে মোদি বিরোধী স্লোগান! ‘এটা মোদির ভারত, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নয়’, পালটা হুঁশিয়ারি গিরিরাজের

    JNU: জেএনইউ-তে মোদি বিরোধী স্লোগান! ‘এটা মোদির ভারত, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নয়’, পালটা হুঁশিয়ারি গিরিরাজের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU) ক্যাম্পাসে সোমবার রাতে হওয়া বিক্ষোভের ঘটনায় জেএনইউ স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (JNUSU) কয়েকজন নেতাকে নোটিস পাঠিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সুপ্রিম কোর্ট উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের জামিন আবেদন খারিজ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই বিক্ষোভ হয়। এরপরই মঙ্গলবার বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানায় বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে “দেশবিরোধী” মতাদর্শ প্রচার করা হচ্ছে। সবরমতী হোস্টেলের বাইরে ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত।

    সবরমতী হোস্টেলের সামনে বিক্ষোভ

    বিজেপি নেতা প্রদীপ ভাণ্ডারি দাবি করেন, সবরমতী হোস্টেলের কাছে হওয়া বিক্ষোভ কোনও স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র আন্দোলন নয়, বরং চরমপন্থী মতাদর্শ ছড়ানোর একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। তাঁর অভিযোগ, জেএনইউ-এর মতো বৌদ্ধিক পরিসরকে “দেশবিরোধী চিন্তাধারা” জোরদার করতে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা জাতীয় ঐক্যের জন্য ভয়ঙ্কর। বিক্ষোভ চলাকালীন কেন্দ্রীয় সরকার ও দেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে স্লোগান তোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। যার জেরে ক্যাম্পাস রাজনীতি নিয়ে নজরদারি আরও বেড়েছে। দিল্লির মন্ত্রী আশিস সুদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে ওঠা স্লোগানের নিন্দা করেন। তিনি বলেন, “এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। শরজিল ইমাম উত্তর-পূর্ব ভারতকে বিচ্ছিন্ন করার কথা বলেছিলেন। উমর খালিদ ‘ভারত টুকরো টুকরো হবে’—এই ধরনের স্লোগান তুলেছিলেন এবং ২০২০ সালের দাঙ্গায় তাঁর জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর ফলেই জেএনইউ-তে দায়িত্বজ্ঞানহীন উপাদান মাথাচাড়া দিচ্ছে।”

    মোদি-শাহ বিরোধী স্লোগান

    ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গায় অভিযুক্ত উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিনের আবেদন সোমবার খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, ওই দাঙ্গার ঘটনায় ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা ও দাঙ্গা সংগঠিত করার ক্ষেত্রে খালিদ এবং ইমামের কেন্দ্রীয় ভূমিকা ছিল। যদিও তাঁদের সঙ্গে জেলবন্দি বাকি ৫ জনকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। খালিদের জামিন খারিজ হওয়ার পর, সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে জেএনইউ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে সেখানকার পড়ুয়ারা। স্লোগান তোলা হয়, ‘জেএনইউ কী ধরতী পর মোদি-শাহ কী কবর খুদেগী।’ অর্থাৎ ‘জেএনইউ-এর মাটিতেই মোদি শাহের কবর খোঁড়া হবে।’ মুহূর্তের মধ্যে সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় এই স্লোগান।

    দেশবিরোধী মানসিকতা

    মোদি বিরোধী এই স্লোগানে যারপরনাই ক্ষুব্ধ বিজেপি। মঙ্গলবার সকালে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং বলেন, “জেএনইউ টুকরে টুকরে গ্যাং, আরজেডি, তৃণমূল, বাম দল ও রাহুল গান্ধীর মতো দেশবিরোধী মানসিকতার লোকের কার্যালয় হয়ে উঠেছে। ওদের মনে রাখা উচিত এটা ভারত এবং একবিংশ শতাব্দীর নরেন্দ্র মোদির ভারত। বিবেকানন্দ বলেছিলেন গেরুয়া রং-ই থাকবে। আমি এইসব টুকরে টুকরে গ্যাংকে বলতে চাই, যারা উমর খালিদ ও শরজিল ইমামকে সমর্থন করে, যারা পাকিস্তানের মানসিকতায় বিশ্বাস করে যারা চিকেন নেক আলাদা করার কথা বলে, তাঁরা দেশদ্রোহী।”

  • IPL 2026: বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ! লাভের অঙ্কে ক্ষতি নেই ভারতের

    IPL 2026: বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ! লাভের অঙ্কে ক্ষতি নেই ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে ক্রমাগত হিন্দুদের উপর অত্যাচার বাড়ছে। প্রতিদিন ভারত-বিরোধিতার সুর চড়ছে বাংলাদেশে। এই আবহে একমাত্র বাংলাদেশি (Bangladesh) ক্রিকেটার হিসেবে আইপিএল ২০২৬ (IPL 2026) সুযোগ পেয়েও শেষ মুহূর্তে বাদ পড়তে হয় মুস্তাফিজুর রহমানকে। এর পরই বাংলাদেশে আইপিএল-এর সম্প্রচার বন্ধের কথা ঘোষণা করে বিসিবি। কিন্তু এর ফলে লিগের বৈশ্বিক আয়প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম—এমনটাই মত শিল্প বিশেষজ্ঞদের। বিসিসিআই-এর নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার পর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ।

    আইপিএলের ক্ষতি নেই

    প্রশ্ন উঠছে—টেলিভিশনে বাংলাদেশের দর্শকদের হারালে কি আইপিএলের ক্ষতি হবে? বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এ উদ্ধৃত তিনজন ব্যবসায়িক বিশেষজ্ঞের মতে, তাৎক্ষণিক প্রভাব খুবই সীমিত থাকবে। ডি অ্যান্ড পি অ্যাডভাইসরি সার্ভিসেস-এর ম্যানেজিং পার্টনার সন্তোষ এন বলেন, “বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করার এই সিদ্ধান্তে বড় কোনও প্রভাব পড়বে বলে আমি মনে করি না। এতে বিসিসিআই-এর আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, কিংবা সম্প্রচারকারী সংস্থা যে অর্থ দেয়, তাতেও কোনও পরিবর্তন আসবে না। তিনি আরও জানান, আগের বছরগুলোতে আইপিএলে মাত্র দুই-তিনজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার অংশ নিয়েছেন। ফলে বাংলাদেশের দর্শকসংখ্যায় বড় ধরনের পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং সামগ্রিক ভিউয়ারশিপও প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইপিএলের মূল আয় আসে ভারতীয় বাজার ও অন্যান্য বড় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে। সেই কারণে বাংলাদেশের মতো একটি একক বাজারে সম্প্রচার বন্ধ হলেও লিগের মোট রাজস্ব কাঠামোতে বড় কোনও ধাক্কা লাগার আশঙ্কা নেই।

    ভারতের টিভি সম্প্রচার স্বত্ব

    স্টার ইন্ডিয়া বিসিসিআই-কে দিয়েছে প্রায় ২৩,৫৭৫ কোটি টাকা ভারতের ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্ব। ভায়াকম ১৮ দিয়েছে প্রায় ২৩,৭৫৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ শুধুমাত্র ভারতীয় বাজার থেকেই বিসিসিআই-এর আয় প্রায় ৪৭,৩৩৩ কোটি টাকা। এর বিপরীতে, ভারত বাদে বিশ্বের প্রায় ১২০টি দেশে (বাংলাদেশ সহ) আইপিএল সম্প্রচারের জন্য বিসিসিআই পায় মোটামুটি ১,০৫৭ কোটি টাকা। এই তুলনাতেই পরিষ্কার হয়ে যায়, ভারতীয় বাজারের তুলনায় আন্তর্জাতিক বাজার, বিশেষ করে বাংলাদেশের আর্থিক অবদান কতটা সীমিত। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্প্রচার স্বত্ব ও বিজ্ঞাপন মিলিয়ে আইপিএল-এর মোট রেভিনিউয়ের মাত্র ২-৩ শতাংশ আসে বাংলাদেশ থেকে। ফলে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ হলেও বিসিসিআই বা আইপিএল সামগ্রিক আয়ে বড়সড় কোনও ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা কার্যত নেই। অন্য ভাষায় বললে, আইপিএল-এর বিশাল অর্থনৈতিক কাঠামোর সামনে বাংলাদেশের বাজার তুলনামূলক ভাবে খুবই ছোট।

  • ISI Target Children: আইএসআই-এর টার্গেটে শিশুরা! ভারতের নাবালকদের ফাঁদে ফেলে গুপ্তচরবৃত্তি করাচ্ছে পাকিস্তান?

    ISI Target Children: আইএসআই-এর টার্গেটে শিশুরা! ভারতের নাবালকদের ফাঁদে ফেলে গুপ্তচরবৃত্তি করাচ্ছে পাকিস্তান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর (ISI) নয়া কৌশল। এবার নাবালকদের ব্যবহার করে ভারতে গুপ্তচরবৃত্তি। পঞ্জাবের পাঠানকোট পুলিশ সম্প্রতি এক ১৫ বছরের কিশোরকে গ্রেফতার করেছে, যে গত এক বছর ধরে পাকিস্তানে অবস্থিত আইএসআই হ্যান্ডলারদের কাছে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল তথ্য পাঠাচ্ছিল। এই ঘটনা দেশের নিরাপত্তা মহলে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, কারণ তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে যে এটি একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্কের অংশ এবং পঞ্জাবের বিভিন্ন জেলায় আরও কয়েকজন নাবালক আইএসআই-এর সংস্পর্শে রয়েছে।

    শিশুদের গুপ্তচর হিসেবে নিয়োগের আশঙ্কা

    পাঠানকোট পুলিশের দাবি, কিশোরটি যে যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় শিশুদের গুপ্তচর হিসেবে নিয়োগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা, যা রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাঞ্জাবের আরও কিছু নাবালকের আইএসআই অপারেটিভদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রাজ্যজুড়ে সব থানাকে সতর্ক থাকতে এবং এ ধরনের কার্যকলাপের উপর কড়া নজর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাঠানকোটের এসএসপি দলজিন্দর সিং ধিলোঁ বলেন, “আমরা ১৫ বছর বয়সি সঞ্জীব কুমারকে গ্রেফতার করেছি। সে আমাদের দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য আইএসআই-এর ফ্রন্টাল সংগঠন ও পাকিস্তানের সামরিক কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাচ্ছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে।” তিনি আরও জানান, “সামাজিক মাধ্যমে পাকিস্তানি সংস্থাগুলির ফাঁদে পড়েছিল সে। বাবার খুন হওয়ার সন্দেহে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। তবে তদন্তে এমন কোনও ঘটনার প্রমাণ মেলেনি।”

    কে এই ১৫ বছরের কিশোর?

    পুলিশ জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা সঞ্জীবকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে। তারা তাকে বিশ্বাস করায় যে তার বাবাকে খুন করা হয়েছে—এই মানসিক ধাক্কায় সে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সেই সুযোগই নেয় হ্যান্ডলাররা। পুলিশের দাবি, কিশোরটি একাধিক সংবেদনশীল স্থানের ভিডিও পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠিয়েছিল, যারা সন্ত্রাসী মডিউল পরিচালনা করে। ঠিক কতটা তথ্য পাচার হয়েছে এবং কারা এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতত নাবালকটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির উপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    মানসিকভাবে দুর্বল করে ফাঁদ পাতে আইএসআই

    পাঠানকোটের সিনিয়র সুপারিনটেন্ডেন্ট অফ পুলিশ (SSP) দলজিন্দর সিং ধিলোঁ সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, ধৃত সঞ্জীব কুমার জম্মুর সাম্বা জেলার বাসিন্দা। তদন্তে দেখা গেছে, সে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের ফাঁদে পড়ে। কিশোরটি বিশ্বাস করত যে তার বাবাকে খুন করা হয়েছে, যা তাকে মানসিকভাবে দুর্বল করে তুলেছিল। পাকিস্তানি এজেন্টরা এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাকে প্রলোভিত করে এবং সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের কাজে লাগায়। যদিও তদন্তে বাবার খুনের কোনও প্রমাণ মেলেনি, কিন্তু এই মিথ্যা বিশ্বাসের জন্যই সে আইএসআই-এর জালে জড়িয়ে পড়ে। গত এক বছর ধরে সে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সামরিক ঘাঁটি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ভিডিও ও ছবি পাঠিয়েছে পাকিস্তানি টেরর মডিউলের সঙ্গে যুক্ত গ্যাংস্টারদের কাছে। এই গ্রেফতারি পাঠানকোটের কৌশলগত গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। পাঠানকোট বিমানঘাঁটি ২০১৬ সালে জঙ্গি হামলার শিকার হয়েছিল, যার পিছনে আইএসআই-এর হাত ছিল বলে অভিযোগ।

    দেশের নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জ

    নাবালকদের ব্যবহার করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের এই নতুন কৌশল দেশের নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জ করছে। পুলিশ সূত্রে খবর, কিশোরটির ফোন ক্লোন করা হয়েছিল এবং হ্যান্ডলাররা তার উপর নজর রাখছিল। তদন্তে আরও জানা গেছে যে সে একা নয় পাঞ্জাবের অন্যান্য জেলায়ও কয়েকজন নাবালক আইএসআই-এর সংস্পর্শে রয়েছে। এর ফলে রাজ্যজুড়ে পুলিশ স্টেশনগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে এবং নাবালকদের অনলাইন অ্যাকটিভিটি নজরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কেন নাবালকদের ব্যববহার

    এই ঘটনা ডিজিটাল যুগের নতুন হুমকিকে তুলে ধরছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা (ISI Target Children) ফেক অ্যাকাউন্ট খুলে ভারতীয় যুবক-যুবতীদের টার্গেট করছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী নাবালকরা সহজ শিকার হচ্ছে, কারণ তাদের মানসিক পরিপক্কতা কম এবং অনলাইনে প্রলোভনের ফাঁদে সহজে পড়ে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইএসআই-এর এই নতুন কৌশল অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ নাবালকদের গ্রেফতার করলে আইনি জটিলতা বেশি এবং তাদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা সহজ। গত কয়েক মাসে পঞ্জাব এবং হরিয়ানায় একাধিক গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যার মধ্যে এই নাবালকের কেস সবচেয়ে উদ্বেগজনক।

    আইএসআই-এর নয়া অস্ত্র

    উপমহাদেশের সবচেয়ে পুরনো গুপ্তচর সংস্থা হিসেবে পরিচিত পাকিস্তানের আইএসআই তথা ইন্টার সার্ভিস ইন্টিলিজেন্স (ISI Target Children)। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দেশের অভ্যন্তরে তাদের কার্যক্রম না চালালেও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম আইএসআই। শুধু তাই নয় রাজনৈতিক নজরদারির অভিযোগও রয়েছে সামরিক এ গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে। এর আগে দেখা গিয়েছে ভারতের যুব সম্প্রদায়কে নিশানা করেছে আইএসআই। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতজুড়ে অপরাধ এবং সামাজিক অশান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে মাদককে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। তাদের লক্ষ্য দুই দিকেই প্রথমত, ভারতীয় যুবকদের মাদকাসক্ত করে তছনছ করা, দ্বিতীয়ত, সেই মাদক ব্যবসার টাকা দিয়ে জঙ্গি পরিকাঠামো গড়ে তোলা। তথ্য বলছে, আইএসআই এখন ডি কোম্পানিকে পুরোপুরি সামনে রেখে নেশার বাজারে আগ্রাসী ঢেউ তুলতে চাইছে। দাউদ ইব্রাহিমের এই সিন্ডিকেট বাংলাদেশে একাধিক মাদক উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিয়েছে। সেখান থেকেই ভারতমুখী বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা চলছে। এবার যুব সম্প্রদায়কে ছেড়ে নাবালকদের নিশানা করল আইএসআই।

  • Weather Update: ১০.২ ডিগ্রি! জানুয়ারিতে কলকাতায় শীতের সর্বকালীন রেকর্ড, নেপথ্যে নিম্নচাপ?

    Weather Update: ১০.২ ডিগ্রি! জানুয়ারিতে কলকাতায় শীতের সর্বকালীন রেকর্ড, নেপথ্যে নিম্নচাপ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জানুয়ারিতে সর্বকালীন রেকর্ড! ১০-এর ঘরে নামল কলকাতার পারদ (Weather Update)। মঙ্গলবার সকালে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, দমদমে তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ৯ ডিগ্রির ঘরে। আলিপুর এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকাতে এক ধাক্কায় পারদ নেমেছিল ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। রাত থেকেই হাড় কাঁপানো ঠান্ডা টের পেয়েছে কলকাতা। আর ভোরবেলা রীতিমতো তীব্র হয় শীতের কামড়। সকলেরই চোখ মোবাইলে তাপমাত্রার আপডেটের দিকে। গরম চা-য়ে চুমুক দিয়েই দিনের শুরু, তবু যেন লেপ-কম্বল ছাড়তে ইচ্ছে করছে না শহরবাসীর।

    কলকাতায় আরও পারদ-পতনের সম্ভাবনা

    মঙ্গলবার কলকাতা (Winter in Bengal) সাক্ষী থেকেছে প্রায় দেড় দশকের সবচেয়ে শীতলতম দিনের। ভেঙে দিয়েছে প্রায় সব রেকর্ড। জানুয়ারি মাসে এটিই কলকাতায় শীতের সর্বকালীন রেকর্ড। এর আগে গত ১৫ বছরে জানুয়ারি মাসে এক বারই ১১ ডিগ্রির নীচে নেমেছিল কলকাতার পারদ। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ১০.৯ ডিগ্রিতে। এ বার তা-ও ছাপিয়ে গিয়েছে। এর আগে ২০১২ সালে এক বার ডিসেম্বর মাসে ১০ ডিগ্রিতে নেমেছিল কলকাতার পারদ। তা ছাড়া ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বরেও এক বার ৭.২ ডিগ্রিতে নেমে গিয়েছিল। চলতি সপ্তাহে কলকাতা-সহ গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আরও কয়েক ডিগ্রি পারদপতনের সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের থেকে ৩.৭ ডিগ্রি কম। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৮.৪ ডিগ্রি। সেটিও স্বাভাবিকের থেকে ৬.৭ ডিগ্রি কম। আলিপুর আবহাওয়া দফতর বলছে, সোমবার দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের বুকে জন্ম নিয়েছে নতুন নিম্নচাপ। সেই সূত্র ধরেই ধীরে ধীরে আরও পারদ পড়ছে বাংলার। মঙ্গলবার কলকাতা সাক্ষী থেকেছে প্রায় দেড় দশকের সবচেয়ে শীতলতম দিনের। ভেঙে দিয়েছে প্রায় সব রেকর্ড। আবহবিদরা বলছেন, এই নিম্নচাপ বাংলা থেকেই অনেকটাই দূরে রয়েছে। তাই আপাতত বৃষ্টির বিন্দুমাত্র সম্ভবনা নেই। বাংলাজুড়ে এখন দাপট বজায় রাখবে উত্তুরে হাওয়ার।

    জেলায় জেলায় শীত-ঘুম

    কলকাতা-সহ রাজ্যজুড়ে কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। মঙ্গলবার ভোরের দিকে কলকাতায় হালকা কুয়াশার চাদরও দেখা গিয়েছে। তবে সংলগ্ন জেলাগুলি সোমবার বেশি রাতের দিক থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকতে শুরু করে। মঙ্গলবার ভোরের দিকেও কুয়াশায় ঢেকে ছিল শহরতলি এবং সংলগ্ন এলাকায়। বুধবার এবং বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গে রাতের তাপমাত্রা আরও ২ ডিগ্রি কমতে পারে। তার পরের ৪-৫ দিন তাপমাত্রার বিশেষ হেরফর হবে না। এই সময়ে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৫ ডিগ্রি কম থাকবে।মঙ্গলবার দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ার কিছু জায়গায় ‘শীতল দিন’ (দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যাওয়া)-এর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বুধবারও বাঁকুড়া বাদে বাকি জেলাগুলিতে থাকতে পারে ‘শীতল দিন’-এর পরিস্থিতি। মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় ঘন কুয়াশারও সতর্কতা রয়েছে।

    দার্জিলিংয়ে তুষারপাতের সম্ভাবনা

    শীতে কাঁপছে উত্তরবঙ্গ। সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন জায়গা কুয়াশাচ্ছন্ন। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলা দার্জিলিং সহ তিন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে । বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং , কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ি জেলাতে। দার্জিলিংয়ের পার্বত্য উঁচু এলাকায় তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সান্দাকফু, ঘুম, ধোত্রে, চটকপুরের মত উঁচু পার্বত্য এলাকায় তুষারপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বা রাতের তাপমাত্রার সঙ্গে সঙ্গে দিনের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের নিচেই থাকবে এখন। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তিন থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে থাকতে পারে।

  • Bangladesh Hindu Murder: ‘মোদিও জিজিয়া আটকাতে পারবে না’, লাগাতার হুমকি! বাংলাদেশে একই দিনে জোড়া হিন্দু হত্যা

    Bangladesh Hindu Murder: ‘মোদিও জিজিয়া আটকাতে পারবে না’, লাগাতার হুমকি! বাংলাদেশে একই দিনে জোড়া হিন্দু হত্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে একই দিনে দু’জায়গায় হিন্দু নিধনের (Bangladesh Hindu Murder) অভিযোগ। নৈরাজ্যের বাংলাদেশ ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক পরিসরে। সোমবার একদিকে যশোরের কপালিয়া বাজারে গলা কেটে খুন করা হয় ব্যবসায়ী তথা সাংবাদিক রাণাপ্রতাপ বৈরাগীকে। এই ঘটনার ক্ষণিকের ব্যবধানেই আরও এক সংখ্য়ালঘু হিন্দুকে খুন করার অভিযোগ ওঠে। যা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহতের নাম শরৎ চক্রবর্তী মণি। তিনি ঢাকার নরসিংদীর বাসিন্দা। পেশায় ব্যবসায়ী। গত ১৮ দিনে এই নিয়ে বাংলাদেশে এটা ষষ্ঠতম হিন্দু নিধনের অভিযোগ। বাংলাদেশে এক হিন্দুর রক্ত শুকনোর আগেই আর এক হিন্দুকে খুন করা হচ্ছে। রাণার মৃত্যুর রেশ কাটার আগেই শরৎকে খুন করা হস। বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দুদের আশঙ্কা, এভাবে চললে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দুদের অস্তিত্বই থাকবে না।

    নর‌সিংদী‌তে খুন হিন্দু ব্যবসায়ী

    নর‌সিংদীর পলাশ উপ‌জেলার চরসিন্দুর বাজারে নিজের মুদি দোকানে খুন হন শরৎ চক্রবর্তী ম‌ণি, বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। বাজারে তাঁর ভালই পরিচিত ছিল। শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিল মণি। কারওর সঙ্গে কোনও বিবাদের খবর পাওয়া যায়নি। তা হলে সেই ব্যক্তির পরিণতি কী ভাবে? ধর্মের দোহাই দিয়েই মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হল না তো? প্রশ্ন তুলছেন একাংশ। সোমবার রাতে প্রতিদিনের মতোই নিজের দোকানপাট নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন মণি। তখন বাজারে ঠাসা ভিড়। রাত হলেও মানুষের আনাগোনা কমেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এমন সময়ই কয়েকজন অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তি মণির উপর চড়াও হয়। অতর্কিতেই হামলা চালায় তাঁর উপর। গুরুতর ভাবে আহত হন মণি। বাজারের অন্য ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটাই সময় পেরিয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে।

    সাংবাদিক রানা খুন

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে লাগাতার হিংসা চলছেই। যশোরে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তি রানা প্রতাপ (৪৫)। তিনি একটি আইস ফ্যাক্টরির মালিক ছিলেন এবং একই সঙ্গে একটি দৈনিক পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, সোমবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কোপালিয়া বাজার এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কয়েকজন যুবক মোটরসাইকেলে করে এসে রানা প্রতাপকে তার আইস ফ্যাক্টরি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে একটি গলিতে নিয়ে গিয়ে তাকে মাথায় গুলি করে এবং গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। রানা নড়াইল জেলা থেকে প্রকাশিত দৈনিক বিডি খবর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকও ছিলেন।

    ১৮ দিন ষষ্ঠতম হত্যা

    • ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫: ময়মনসিংহে (ধর্ম অবমাননার অভিযোগে) দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করে জনতা।
    • ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫: রাজবাড়িতে জনতা অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যা করে।
    • ২৯-৩০ ডিসেম্বর ২০২৫: বজেন্দ্র বিশ্বাসকে (পোশাক কারখানায় কর্তব্যরত অবস্থায়) গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫: শরীয়তপুরে খোকন চন্দ্র দাসকে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং তারপর পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলা হয়। ৩ জানুয়ারি তিনি হাসপাতালে মারা যান।
    • ৫ জানুয়ারি ২০২৬: যশোরে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৫ জানুয়ারি ২০২৬: নরসিংদীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয় শরৎ চক্রবর্তী মণিকে।

    শুরু হয়েছিল দীপু দাসকে দিয়ে। ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে প্রথমে গণপিটুনি। তারপর গাছে বেঁধে দীপুর গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল উগ্রপন্থীরা। সেই পৈশাচিক দৃশ্য ছিল ভয়াবহ, হিমস্রোত বইয়ে দেওয়ার মতো। তারপর থেকে বাংলাদেশের নানা উপজেলা থেকে উঠে এসেছে হিন্দু নিধনের অভিযোগ। অমৃত মণ্ডল থেকে শুরু করে বজেন্দ্র বিশ্বাস, খোকন চন্দ্র দাস— উঠে এসেছে একের পর এক নাম। এবার সেই নিহতদের তালিকায় যোগ হল শরৎ চক্রবর্তী, রানা প্রতাপ বৈরাগীর নামও। কিন্তু বিচার? তা এখনও অধরা। দেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বাংলাদেশের সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। ভারত এই ঘটনাগুলিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অব্যাহত বৈরিতাকে গুরুতর বিষয় হিসাবে বর্ণনা করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলিও বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং সংখ্যালঘুদের উপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের নিন্দা জানিয়েছে।

    আমার জন্মভূমি মৃত্যু উপত্যকা

    জানা গিয়েছ, ৫ ডিসেম্বর স্থানীয় সম রাত ১০টা নাগাদ এই হামলা হয়েছিল শরৎ চক্রবর্তী মণির ওপর। নিহত মণি শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন। শরতের স্ত্রী অন্তরা মুখোপাধ্যায় গৃহবধূ। তাঁদের ছেলে অভীক চক্রবর্তীর বয়স ১২ বছর। আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত ছিলেন শরৎ। কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে ফিরেছিলেন। জানা গিয়েছে, গত ১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ফেসবুকে নিজের উদ্বেগ ব্যক্ত করে একটি পোস্ট করেছিলেন শরৎ। লিখেছিলেন, ‘‘চারিদিকে এত আগুন, এত হিংসা। আমার জন্মভূমি মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে।’’ আর সেই উদ্বেগ প্রকাশের একমাস যেতে না যেতেই তাঁকে খুন হতে হল।

    হিন্দু হওয়াই অপরাধ

    পাড়া-প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, শরৎ অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছিলেন, অত্যন্ত মানবিক ছিলেন, সামাজিক ভাবে দায়বদ্ধ ছিলেন। কোনও শত্রু ছিল না তাঁর। হিন্দু বলেই শরৎকে খুন করা হল কি না, সেই প্রশ্ন তুলছেন প্রতিবেশীরাই। বাংলাদেশের সমাজকর্মী বাপ্পাদিত্য বসু এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁর কথায়, রাষ্ট্রের মদতেই সংখ্যালঘু হিন্দুদের হত্যা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, দুষ্কৃতীরা শরতের থেকে মোটা টাকা ‘জিজিয়া’ দাবি করছিল। পুলিশের কাছে গেলে স্ত্রীকে অপহরণ করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তাঁকে খুন করা হল তাঁরই দোকানে। এই আবহে ইউনুস সরকারকে তোপ দেগে বাপ্পাদিত্য ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘‘যে‌ দে‌শে সরকা‌রের সুস্পষ্ট প‌রিকল্পনায় হিন্দুদের জা‌তিগত নিধন বা এথ‌নিক ক্লেন‌জিং চ‌লে, সেই দে‌শে হিন্দু হওয়াটাই তো খুন হ‌য়ে যাবার প‌ক্ষে বড় কারণ।’’

    মোদি এলেও আটকতে পারবে না

    বাংলাদেশে হিন্দু হলেই মেরে ফেলা হতে পারে, এমনই দাবি বাপ্পাদিত্যের। শরৎকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনতেন বাপ্পাদিত্য। তিনি জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীরা শরতের থেকে মোটা টাকা দাবি করছিল। বাংলাদেশে থাকতে হলে টাকা দিতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল তাঁকে। ‘জিজিয়া’ দিতে বলা হয় শরৎকে। পুলিশের কাছে গেলে স্ত্রীকে অপহরণ করার হুমকিও দেওয়া হয়। বাপাদিত্য বলেন, ‘‘দুষ্কৃতীরা শরৎকে বলে, ‘চুপচাপ টাকা দিয়ে দে। বেশি চিৎকার করিস না। তোর ভারত বা তোর বাবা নরেন্দ্র মোদি এলেও জিজিয়া আদায় করা আটকাতে পারবে না’।’’ ইসলামি রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিমদের কাছ থেকে যে কর আদায় করার চল রয়েছে, তাকেই বলা হত ‘জিজিয়া’। অমুসলিমদের জীবন, সম্পত্তি রক্ষা এবং ধর্মাচারণের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে ওই কর নেওয়ার চল ছিল। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মুখপাত্র কাজল দেবনাথ বলেন, ‘‘শুধুমাত্র ডিসেম্বর মাসেই হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর সাতটি হামলা এবং পাঁচটি হত্যার খবর পাওয়া গেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলি সংখ্যালঘুদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে।’’

  • Indian In America: ট্রাম্পের অভিবাসী কল্যাণ তালিকায় রয়েছে পাকিস্তান, চিন! জানেন কেন নেই ভারত?

    Indian In America: ট্রাম্পের অভিবাসী কল্যাণ তালিকায় রয়েছে পাকিস্তান, চিন! জানেন কেন নেই ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকায় থাকা অভিবাসীরা কতটা সরকারি সাহায্য পান, তার খতিয়ান তুলে ধরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে ওই অভিবাসীদের দেশের নামও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ১২০টি দেশের তালিকায় পাকিস্তান, বাংলাদেশ, চিন, নেপাল, ভুটানের নাম থাকলেও নেই ভারতের নাম। চার্টটির শিরোনাম ছিল ‘Immigrant welfare recipient rates by country of origin’। এতে দেশভিত্তিকভাবে দেখানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশের কত শতাংশ অভিবাসী পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে কোনো না কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা গ্রহণ করে।

    কারা কত সহায়তা

    কর্মসূত্রে বা অন্য কারণে বিভিন্ন দেশের মানুষ দীর্ঘ সময় বা পাকাপাকি ভাবে আমেরিকায় থাকেন। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মানলে তবেই তাঁরা নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন। না-হলে অভিবাসী হিসাবে থাকতে হয় তাঁদের। আমেরিকায় বসবাসকারী অভিবাসীদের জন্য সরকারি কোষাগার থেকে কিছু অর্থ খরচ করা হয়। এই অর্থ তাঁদের সামগ্রিক উন্নয়নে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন দেশের কতগুলি অভিবাসী পরিবার সরকারি সুবিধা পেয়েছে, তালিকায় তার উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারতের প্রতিবেশী দেশ নেপাল। সে দেশের ৮১.৪ শতাংশ অভিবাসী পরিবার আমেরিকার সরকারি সাহায্য পেয়েছে। তার পর যথাক্রমে রয়েছে ইয়েমেন (৭৫.২), সোমালিয়া (৭১.৯)। তালিকায় রয়েছে আফগানিস্তান (৬৮.১), বাংলাদেশ (৫৪.৮), পাকিস্তান (৪০.২), চিন (৩২.৯) শতাংশ। কিন্তু কোথাও নেই ভারতের নাম।

    কেন নেই ভারত?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উচ্চ আয় ও তুলনামূলক কম ওয়েলফেয়ার নির্ভরতা। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় আমেরিকানরা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি আয়কারী জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অন্যতম। ফলে তাদের মধ্যে সরকারি সহায়তা নেওয়ার হার তুলনামূলকভাবে কম। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় আমেরিকানদের মধ্যম পারিবারিক আয় যুক্তরাষ্ট্রের গড় আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। এই কারণেই উচ্চ সহায়তা গ্রহণকারী দেশগুলোর তালিকায় ভারতের নাম উঠে আসেনি। আমেরিকায় সরকারি সাহায্য তাঁরাই পান, যাঁদের রোজগার কম। তাই সকল অভিবাসী পরিবারকে সরকারি সাহায্য করা হয় না। আমেরিকায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের সংখ্যার বিচারে ভারতের স্থান দ্বিতীয়। আবার রিপোর্ট বলছে, ভারতীয় অভিবাসীরাই আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি রোজগার করে থাকেন। সে দিক দিয়ে দেখলে তাঁদের সরকারি সাহায্য না পেলেও চলে।

    যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় আমেরিকানদের চিত্র

    ২০২৩ সালের মার্কিন সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫২ লক্ষ মানুষ নিজেদের ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এরা যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম এশীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী, যা মোট এশীয় জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ। এই শ্রেণিতে ভারতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূতরাও অন্তর্ভুক্ত।

    আয়ের পরিসংখ্যান কী বলছে?

    ২০২৩ সালে ভারতীয় পরিবারপ্রধানদের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ১,৫১,২০০ ডলার। সব এশীয় পরিবারপ্রধানের ক্ষেত্রে এই আয় ছিল ১,০৫,৬০০ ডলার। ভারতীয় অভিবাসী পরিবারপ্রধানদের মধ্যম আয় ছিল ১,৫৬,০০০ ডলার, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ভারতীয় পরিবারপ্রধানদের আয় ছিল ১,২০,২০০ ডলার। ব্যক্তিগত আয়ের ক্ষেত্রেও ভারতীয়রা এগিয়ে। ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী ভারতীয় আমেরিকানদের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ৮৫,৩০০ ডলার। সব এশীয় গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই আয় ছিল ৫২,৪০০ ডলার। পূর্ণকালীন কর্মীদের মধ্যে ভারতীয়দের মধ্যম আয় ১,০৬,৪০০ ডলার, যেখানে এশীয়দের সামগ্রিক গড় ৭৫,০০০ ডলার।

    শিক্ষার প্রভাব

    উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতাও ভারতীয় আমেরিকানদের সাফল্যের অন্যতম কারণ। ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ভারতীয় আমেরিকানদের ৭৭ শতাংশের স্নাতক বা তার ঊর্ধ্বতন ডিগ্রি রয়েছে। এর মধ্যে ৩১ শতাংশের স্নাতক এবং ৪৫ শতাংশের স্নাতকোত্তর বা তার বেশি ডিগ্রি আছে। সব এশীয় গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই হার ৫৬ শতাংশ। অভিবাসী ও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া—উভয় শ্রেণির ভারতীয়দের মধ্যেই উচ্চশিক্ষার হার প্রায় সমান।

    দারিদ্র্য ও গৃহস্বত্ব

    দারিদ্র্যের হার কম হওয়াও ভারতের অনুপস্থিতির আরেকটি কারণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয়দের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন। সব এশীয় গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই হার ১০ শতাংশ। অভিবাসী ও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া—উভয় ক্ষেত্রেই ভারতীয়দের দারিদ্র্যের হার একই, ৬ শতাংশ। বাড়ির মালিকানার ক্ষেত্রেও ভারতীয়রা এশীয় গড়ের কাছাকাছি। ভারতীয় পরিবারপ্রধানদের ৬২ শতাংশ নিজস্ব বাড়ির মালিক। অভিবাসী ভারতীয়দের মধ্যে এই হার ৬৩ শতাংশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ভারতীয়দের মধ্যে ৫৪ শতাংশ।

    ভারতীয়দের দাপট

    দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় এসেই অভিবাসন নীতি কঠোর করার বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। অভিবাসীদের জন্য সরকারি ব্যয়বরাদ্দ কাটছাঁট করার কথাও বলেছেন। এই আবহে তাঁর এই তালিকা প্রকাশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় ভারতের নাম সেই তালিকায় না-থাকা। তবে, বিশেষজ্ঞদের মতে এর পিছনে রয়েছে মার্কিন মুলুকে ভারতীয়দের দাপট। উচ্চ আয়, উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কম দারিদ্র্যের হার—এই তিনটি প্রধান কারণের সম্মিলিত প্রভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা ওয়েলফেয়ার বা সরকারি সহায়তার ওপর তুলনামূলকভাবে কম নির্ভরশীল। সেই কারণেই ট্রাম্প প্রকাশিত অভিবাসী কল্যাণ তালিকায় ভারত জায়গা পায়নি।

     

     

     

  • ICC T-20 World Cup: বাংলাদেশকে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে সরানোর দাবি আইসল্যান্ডের, কেন জানেন?

    ICC T-20 World Cup: বাংলাদেশকে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে সরানোর দাবি আইসল্যান্ডের, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশকে আসন্ন আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ (ICC T-20 World Cup) থেকে সরানোর দাবি তুলল আইসল্যান্ড। ভারতে প্লেয়ারদের নিরাপত্তা নেই বলে এ দেশে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ। তারা আইসিসি-কে চিঠি পাঠিয়েছে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে। আগামী আইপিএলে মুস্তাফিজুর রহমানকে কেকেআর তথা টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকার করেছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ট্রোল করল আইসল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। তারা টুইট করে সরাসরি খোঁচা মারল বাংলাদেশকে। আইসল্যান্ড ক্রিকেট বরাবরই কোনও বিষয়ে ট্রোল করার জন্য জনপ্রিয়। আন্তর্জাতিক ম্যাচ হোক বা ঘরোয়া ক্রিকেটে কোনও চর্চিত বিষয়, আইসল্যান্ড সবসময় খোঁজা মেরে পোস্ট করে থাকে। এবার তাদের নিশানায় বাংলাদেশ।

    বাংলাদেশকে তোপ

    বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে সরাসরি তোপ দাগল আইসল্যান্ড। তারা দাবি করল, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে তাদের সুযোগ দেওয়ার জন্য। এক ট্যুইট বার্তায় আইসল্যান্ড ক্রিকেটের তরফে লেখা হয়, ‘আমাদের জিজ্ঞাসা করার আগেই আমরা বলছি, হ্যাঁ। আসন্ন টি-টোটেন্টি বিশ্বকাপে আইসল্যান্ড বাংলাদেশের জায়গা নিতে পারে। এবং আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।’ এই টুইটটা মজার ছলে হলেও বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত বদলে আইসল্যান্ড ক্রিকেট যে খুশি নয় সেটার প্রমাণ তারা দিল।

    আইপিএল বয়কট বাংলাদেশের

    মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে আসবে না। এই মর্মে তারা চিঠি পাঠিয়েছে। রবিবার বিসিবির পরিচালন সমিতির বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয় দল ভারত সফরে যাবে না। বিসিবির এক কর্তা স্পষ্ট করে বলেন যে, একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে গোটা দলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এই অবস্থায় ভারতের মাটিতে খেলা সম্ভব নয়। যদিও বিসিসিআই বাংলদেশের দাবি খারিজ করে দিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে তারা এ বার আইপিএল সম্প্রচার করবে না তাদের দেশে। যার অর্থ, ২০২৬ সালের আইপিএল বাংলাদেশে সম্প্রচার করা হবে না।

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share