Author: ishika-banerjee

  • Assembly Election 2026: ইভিএমে টেপ থেকে বন্ধ ক্যামেরা! ডায়মন্ড হারবার-মগরাহাট-পশ্চিম ফলতায় একাধিক বুথে রিপোলের সুপারিশ

    Assembly Election 2026: ইভিএমে টেপ থেকে বন্ধ ক্যামেরা! ডায়মন্ড হারবার-মগরাহাট-পশ্চিম ফলতায় একাধিক বুথে রিপোলের সুপারিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের (Assembly Election 2026) দিন ফলতায় ইভিএমে টেপ লাগানো শুধু নয় একাধিক বুথে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ক্যামেরাও। রিপোল স্ক্রুটিনিতে উঠে আসছে এমনই কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, একাধিক বুথে ক্যামেরা বন্ধ হয়ে গেলেও ওয়েব কাস্টিংয়ের কন্ট্রোল রুমে আসেনি। কারণ, হিসাবে উঠে আসছে নেটওয়ার্ক সমস্যার কথা। তবে, সূত্রের খবর, নেটওয়ার্কের কারণে কন্ট্রোল রুমে ক্যামেরা বন্ধ সংক্রান্ত কোনও তথ্য আসেনি। ফলতার পাশাপাশি নজরে ডায়মন্ড হারবার, মগরাহাট পশ্চিমও। মগরাহাট পশ্চিমের ১১টি বুথে পুনর্নিবাচনের প্রস্তাব উঠেছে।

    ফলতায় বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত

    ফলতায় রয়েছে মোট ২৩৮টি বুথ। সূত্রের খবর, বেশ কিছু বুথে ১০০ শতাংশ ভোট পড়েছে। অনেক জায়গা থেকেই একাধিক অভিযোগ এসেছিল। সন্ধ্যায় তো গোটা ফলতা বিধানসভাতেই পুনর্নিবাচনের দাবি ওঠে। অভিযোগ এতটাই গুরুতর ছিল যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ফোন পেয়ে পরের দিন সরাসরি সেখানে চলেও যান বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। কমিশনের কর্তা প্রিসাইডিং অফিসারের খাতাও দেখেন। সেখানে দেখা যায় দুপুর ১টা পর্যন্ত তিনি রিপোর্ট পাঠান। সেখানে বলা হয়েছিল ইভিএম থেকে টেপ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বেলা ১টা পর্যন্ত আবার সেখানে প্রায় ৫৮ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে যায়। অর্থাৎ সেই সময় যাঁরা গিয়েছিলেন তাঁরা একটি দল ছাড়া আর কোনও অপশন পাননি বলেই মনে করা হচ্ছে। সে কারণেই পুনর্নিবাচনের দাবি জোরালো হচ্ছে। ফলতায় বুথের সংখ্যা প্রায় ৩০টি বলে জানা যাচ্ছে।সবকটিতেই পুনর্নির্বাচন হতে পারে। কারণ, শুরুতেই কমিশন বলেছিল ক্যামেরা যদি কোনওভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, কালো কাপড় দিয়ে দেওয়া হলেই রিপোল হবে।

    সবদিক খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত

    ডামন্ড হারবারের অবজার্ভার ও রিটার্নিং অফিসার চারটি রিপোলের প্রস্তাব দিয়েছেন। এবার রিপোর্ট দেখে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই এগুলি ছাড়াও একাধিক বুথে পুনর্নিবাচনের সুপারিশও করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সুব্রত গুপ্ত বলেন, বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়েছে, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সমস্ত ফুটেজ পর্যবেক্ষণ শেষ হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করে আগামীকাল সকালেই নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হবে। বিরোধী দলগুলো ইতিমধ্যেই অভিযোগ তুলেছে যে একাধিক বুথে ইভিএম ব্যবস্থাপনায় গুরুতর ত্রুটি ও সম্ভাব্য কারচুপি হয়েছে। তাদের দাবি, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং সাধারণ ভোটারদের আস্থা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। (EVM Tampering) অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা প্রতিটি অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে। শুধুমাত্র মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রযুক্তিগত প্রমাণ যেমন ওয়েবকাস্টিং ফুটেজ, ইভিএম লগ, এবং পর্যবেক্ষকদের রিপোর্ট বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কমিশনের মতে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

  • Assembly Election 2026: কলকাতার ৭টি স্ট্রং রুমের বাইরে ১৬৩ ধারা, ২৪ ঘণ্টা থাকবেন কমিশনের আধিকারিকরা

    Assembly Election 2026: কলকাতার ৭টি স্ট্রং রুমের বাইরে ১৬৩ ধারা, ২৪ ঘণ্টা থাকবেন কমিশনের আধিকারিকরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ভোট (Assembly Election 2026) শেষ। এবার পালা গণনার। জনমত এই মুহূর্তে ইভিএমে সুরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভোট-পরবর্তী নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে উদ্যোগী হয়েছে নির্বাচন কমিশন। নিরাপত্তা বাড়ছে স্ট্রং রুমের। স্ট্রং রুমের সামনে এ বার ২৪ ঘণ্টা থাকবেন কমিশনের (Election Commission) আধিকারিকরা। নজরদারিতে থাকবেন রিটার্নিং অফিসার বা অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার মনোনীত একজন আধিকারিক। এতদিন থাকতেন পুলিশ বা পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, স্ট্রং রুমে যে ঢুকবেন তাঁকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি নিয়ে তবেই ঢুকতে হবে। স্ট্রং রুমের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর যে ঘেরাটোপ রয়েছে, সেখানে বাড়ানো হচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা। পাশাপাশি স্ট্রং রুমে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-র ১৬৩ ধারাও জারি করা হচ্ছে। স্ট্রং রুমের নিরাপত্তার জন্য এই তিন পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

    নজিরবিহীন নিরাপত্তা বেষ্টনী

    ইভিএম, স্ট্রংরুম এবং গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এর আগে ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হলেও, কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে সেই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। প্রাথমিকভাবে মোতায়েন করা ২০০ কোম্পানির মধ্যে ছিল ১০০ কোম্পানি সিআরপিএফ, ২০ কোম্পানি বিএসএফ, ১৫ কোম্পানি আইটিবিপি এবং ১৫ কোম্পানি এসএসবি। প্রতিটি স্ট্রংরুমে ন্যূনতম ২৪ জন কেন্দ্রীয় জওয়ান পাহারায় রয়েছেন। রাজ্যের মোট ২০২টি স্ট্রংরুমে ইভিএম সংরক্ষিত রয়েছে এবং সেগুলির নিরাপত্তায় মোতায়েন রয়েছে মোট ৬০৭ সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী।

    ৭টি স্ট্রং রুমের বাইরেই ১৬৩ ধারা জারি

    কলকাতার ৭টি স্ট্রং রুমের বাইরেই জারি হয়েছে ১৬৩ ধারা। ৩০ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত জারি থাকবে ১৬৩ ধারা। স্ট্রং রুমের ২০০ মিটারের মধ্যে কোনও জমায়েত করা যাবে না। বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় চার ঘণ্টা শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রের স্ট্রং রুমে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। মমতা জানান, রাজ্য পুলিশ নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে না পারলে সেটা তাদের দোষ। পুলিশ এখন আর তাঁর হাতে নেই। তার পরেই তিনি অভিযোগ করেন, ‘পোস্টাল ব্যালট এ দিক-ও দিক করা হচ্ছে।’

    ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে বসেছে গার্ডরেল

    ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রং রুমের ভিতরে ‘সন্দেহজনক গতিবিধির’ অভিযোগ তুলে তৃণমূলের দুই প্রার্থী ও এজেন্টরা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের গেটের বাইরে অবস্থানে বসেন। তৃণমূলের জমায়েতের খবর পেয়ে রাতে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে পৌঁছে যান দুই বিজেপি প্রার্থী তাপস রায় ও সন্তোষ পাঠকও। শুক্রবারই ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র ঘিরে বসেছে গার্ডরেল। অপ্রয়োজনীয় কোনও ব্যক্তি যাতে ঢুকতে না পারে, কড়া হাতে নিশ্চিত করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সকাল থেকেই কেন্দ্রের বাইরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বেষ্টনী।

    কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কমিশন?

    ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রকে দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। বিধানসভা অভিযান বা নবান্ন অভিযানে যে ব্যারিকেড ব্যবহার করা হয় সেগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। তালা এবং শিকল দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। বাইরে প্রচুর কলকাতা পুলিশের আধিকারিক ও বাহিনী এবং ভেতরে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ছেয়ে দেওয়া হয়েছে। একটি গেট বানানো হয়েছে। এই গেট দিয়ে শুধুমাত্র নিজের পরিচয়পত্র দেখিয়ে এজেন্ট ও প্রার্থীরা প্রবেশ করতে পারবেন। তারপর আবার একজন অফিসার কথা বলে তাঁকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। একমাত্র সার্টিফায়েড রাজনৈতিক নেতাদের প্রবেশের অনুমতি আছে। আর কাউকেই ধরে কাছে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। পরিচয় পত্র ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে আর লিখে রাখা হচ্ছে। স্কুলের ২০০ মিটারের মধ‍্যে স্থানীয়দের গাড়ি ছাড়া অন‍্যদের প্রবেশ নিষেধ রয়েছে। ২০০ মিটারের মধ‍্যে ঢুকতে হলে দেখাতে হচ্ছে পরিচয় পত্র।

    কমানো হল গণনা কেন্দ্রের সংখ্যা

    গতকালের তৃণমূলের তৈরি করা গণ্ডগোলের থেকে শিক্ষা নিয়ে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা আরও কমিয়ে ফেলছে নির্বাচন কমিশন। আগে ৮৭টি জায়গায় গণনা হওয়ার কথা থাকলেও, নতুন তালিকায় তা কমিয়ে ৭৭টি করা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে ২০১৬ সালের নির্বাচনে ছিল ৯০টি এবং ২০২১ সালে ছিল ১০৮টি গণনাকেন্দ্র। কমিশন ইতিমধ্যেই জেলা ভিত্তিক গণনাকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করেছে। রাজ্যে সবচেয়ে বেশি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনায়। সূত্রের খবর, কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫টি ছোট গণনাকেন্দ্রকে একটি বড় কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি কেন্দ্রেই ১০টি বিধানসভা আসনের গণনা চলবে। পুরো এলাকাতেই সর্বক্ষণ চলবে সিসিটিভি-র নজরদারি। ইতিমধ্যেই গণনাকেন্দ্র ও ইভিএম রাখা স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করছে কমিশন।

    তৃণমূলের অভিযোগ ভিত্তিহীন

    শুক্রবার সকালে পুরুলিয়া জেলার দু’টি গণনাকেন্দ্র পরিদর্শনে যান রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালট নিয়ম মেনে এক্সচেঞ্জ করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলিকে নিয়ম মেনে মেসেজ করা হয়েছে। তারপর রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

  • Jabalpur Tragedy: একটা লাইফ জ্যাকেটে সন্তানকে বুকে আগলে মা! জবলপুরের নৌকাডুবিতে মর্মান্তিক দৃশ্য

    Jabalpur Tragedy: একটা লাইফ জ্যাকেটে সন্তানকে বুকে আগলে মা! জবলপুরের নৌকাডুবিতে মর্মান্তিক দৃশ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডোবার মুহূর্তেও সন্তানকে আগলে রেখেছিলেন মা। মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের কাছে বরগি বাঁধে পর্যটকবাহী ক্রুজ উল্টে যাওয়ার ঘটনায় সামনে এল এক অত্যন্ত হৃদয়বিদারক দৃশ্য। শুক্রবার সকালে উদ্ধারকারীরা যখন নর্মদা নদী থেকে এক মহিলা ও তাঁর চার বছরের সন্তানের নিথর দেহ উদ্ধার করেন, দেখা যায় মৃত্যুর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মা তাঁর সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টায় বুকের সঙ্গে শক্ত করে জাপটে রেখেছিলেন। একটি লাইফজ্যাকেট। সেই লাইফজ্যাকেটে চার বছরের সন্তানকেও ঢুকিয়ে নিয়েছিলেন। তার পর জাপটে ধরে রেখেছিলেন। শেষ সময়েও আলগা হয়নি মায়ের হাত। এই দৃশ্য উদ্ধারকারীদেরও কাঁদিয়ে দিয়েছে। শুক্রবার সকাল উদ্ধার হয়েছে ওই মহিলা ও তাঁর সন্তানের দেহ। মৃত মা ও শিশুটি দিল্লির বাসিন্দা। তাঁরা সপরিবারে নর্মদায় ভ্রমণে এসেছিলেন। চার জনের ওই পরিবারটিতে বাবা ও মেয়ে কোনওক্রমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন।

    কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

    বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে নৌকাডুবি হয়েছে। সেই দুর্ঘটনায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ন’জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ওই মহিলা এবং তাঁর চার বছরের সন্তান। এখনও নিখোঁজ অনেকে। উদ্ধারকাজ চলছে। ঘটনাস্থলে রয়েছেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র লোধী। বিজেপি বিধায়ক আশিস দুবে। তিনি বলেন, ‘‘বেশির ভাগ পর্যটককেই উদ্ধার করা হয়েছে।’’ জানা গিয়েছে, জবলপুরের এই বাঁধটি পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ। বাঁধের জলে নৌকাসফরের বন্দোবস্ত আছে। ছোট ছোট ক্রুজ়ে করে পর্যটকদের ঘোরানো হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি ক্রুজ নর্মদার মাঝ বরাবর যেতেই হঠাৎ ঝড় শুরু হয়ে যায়। নদীর জলের ঢেউ বাড়তে থাকে। জল উথালপাথাল করতে থাকে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রচণ্ড বেগে হাওয়া চলছিল। বেশ কিছু ক্ষণ ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করার পর ক্রুজ়টি এক দিকে হেলে যায়। তার পর সেটি ধীরে ধীরে জলে তলিয়ে যায়।

    সবরকম সহায়তার আশ্বাস সরকারের

    স্থানীয়েরা কয়েক জনকে দড়ির সাহায্যে উদ্ধার করেন। তাঁদের পরনে লাইফজ্যাকেট ছিল। ক্রুজ়টির ছাদের দিক জলের নীচে চলে যায়। ফলে অনেকে লাইফজ্যাকেট পরে থাকা সত্ত্বেও ভিতরে আটকে পড়েছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সব যাত্রীকে লাইফজ্যাকেট দেওয়া হয়নি। কয়েক জন পেয়েছিলেন। তবে মৃতের আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) এবং আরও কয়েকটি উদ্ধারকারী দল যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এখনও ৫ শিশু-সহ মোট ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ক্রুজটির ক্যাপ্টেন মহেশ প্যাটেল লাইফ জ্যাকেট পরে থাকায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব (Mohan Yadav) ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সবরকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “রাজ্য সরকার পূর্ণ সহানুভূতির সঙ্গে পাশে রয়েছে। নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকাজ শেষ হলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • Suvendu Adhikari: ‘এক্সিট পোলের দরকার নেই, মানুষের ভোটে বিজেপি আসছেই’, মমতাকে স্পষ্ট বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘এক্সিট পোলের দরকার নেই, মানুষের ভোটে বিজেপি আসছেই’, মমতাকে স্পষ্ট বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পরিবর্তনের (Assembly Election 2026) ঢেউ উঠেছে এবং বিজেপি সরকার গঠন করতে চলেছে। বুথ ফেরত সমীক্ষার ফল দেখার প্রয়োজন নেই, প্র্যাকটিক্যাল পোল-এর উপর ভরসা রাখলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার, নন্দীগ্রামে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, হিন্দুরা জোটবদ্ধ হয়ে ভোট দিয়েছে এবং মুসলিম ভোটের একটি বড় অংশও (প্রায় ৮ শতাংশ) বিজেপির পক্ষে এসেছে। মানুষ রাজ্যে উন্নয়ন চায়, তাই বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। ২০১১ সালের থেকেও এবার পরিবর্তনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা মানুষের মধ্যে অনেক বেশি।

    তৃণমূলের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নেই

    বুথ ফেরত সমীক্ষা বা তৃণমূলের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরে তৃণমূলের এজেন্ট খুঁজে না পাওয়া এবং গণনাকেন্দ্রে গণ্ডগোল করার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। শুভেন্দু বলেন, ‘ভবানীপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের এজেন্টরা বসতে না চাওয়ায় ছোট ছোট ছেলেদের ২-৩ হাজার টাকা দিয়ে এজেন্ট হিসেবে বসানো হয়েছিল। গণনার দিনও তৃণমূলের লোকই খুঁজে পাওয়া যাবে না।’ তৃণমূলের পক্ষ থেকে ইভিএম চুরির আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছে, সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা তাদের দীর্ঘ ১৫ বছরের পুরনো অভ্যাস যা সহজে যাবে না।’ ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামে বুথ ভিত্তিক পর্যালোচনা শেষ করেছে বিজেপি। এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু জানান, তাঁরা গণনার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং তৃণমূলের কোনও বাধা কাজে আসবে না।

    কোনওরকম কারচুপি নয় মমতাকে, শুভেন্দু

    দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের ভোটগণনা কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে চার ঘণ্টা ধরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ‘কোনও নিয়ম বহির্ভূত কাজ’ করতে পারেননি মমতা। শুক্রবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে শুভেন্দু লিখেছেন, ‘‘ভবানীপুর নির্বাচনী এলাকা-সহ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোটার ভদ্রমণ্ডলীকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, এই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী, মাননীয়াকে কোনওরকম বাড়তি সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করা হয়েছে।’’ এর পরেই মমতাকে নিশানা করে শুভেন্দুর ‘আশ্বাসবার্তা’— ‘‘উনি যতই চেষ্টা চালান না কেন, কোনও রকম নিয়ম বহির্ভূত কাজ তিনি করতে পারেননি। উনি যতক্ষণ স্ট্রংরুম প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন, আমার ইলেকশন এজেন্ট অ্যাডভোকেট সূর্যনীল দাস নিজে উপস্থিত থেকে ওঁকে কড়া নজরদারির মধ্যে রেখেছিলেন যাতে উনি কোনও অসৎ উপায় অবলম্বন করতে না পারেন।’’

  • Assembly Election 2026: পালাবদলের দেওয়াল-লিখন পড়ে ফেলেছেন মমতা! তাই কি অজুহাত তৈরি করে রাখলেন তৃণমূল সুপ্রিমো?

    Assembly Election 2026: পালাবদলের দেওয়াল-লিখন পড়ে ফেলেছেন মমতা! তাই কি অজুহাত তৈরি করে রাখলেন তৃণমূল সুপ্রিমো?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটপর্ব মেটার পরে এবার স্ট্রংরুম নিয়ে বিতর্ক। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তৃণমূলের ধর্না-বিক্ষোভ এবং বিজেপির পাল্টা জমায়েত নিয়ে সরগরম রইল উত্তর এবং দক্ষিণ কলকাতার দুই গণনাকেন্দ্র। প্রথমে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র। তার পরে দক্ষিণ কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল। স্ট্রংরুমে সন্দেহজনক গতিবিধির পাশাপাশি নিয়ম না মেনে পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কাজের অভিযোগ তোলা হয় তৃণমূলের তরফে। ভোট গণনা-কেন্দ্রের নিরাপত্তা (Assembly Election 2026) নিয়ে তৃণমূলের অভিযোগ ভিত্তিহীন। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের করিডরে বসে যে পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণের কাজ চলছিল, সেই বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলিকে আগেই ই-মেল করে জানানো হয়। বৃহস্পতিবার রাতে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের অভিযোগ নিয়ে এমনটাই জানাল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। তাদের তরফে আরও জানানো হয়, স্ট্রংরুমে বিদ্যুৎ সংযোগ রাখা যায় না। আইন মেনে তাই টর্চ নিয়ে কাজ চলছিল। এখনও সেই কাজ চলছে। এই ঘটনা দেখে রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, তাহলে কি পালাবদলের দেওয়াল-লিখন পড়ে ফেলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

    নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা

     নির্বাচন কমিশনের পাল্টা দাবি, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের করিডরে বসে যে পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণের কাজ চলছিল, সেই বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলিকে আগেই ই-মেল করে জানানো হয়েছিল। মনোজের সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন উত্তর কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) স্মিতা পাণ্ডে। তিনি বলেন, ‘‘অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসারেরা করিডরের মধ্যে বসেই পৃথকীকরণের কাজ করছিলেন। টর্চ লাইট নিয়ে এখনও সেই কাজ চলছে। (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় সব রাজনৈতিক দলকে ইমেইল করে জানানো হয়েছে, বিকেল ৪টে থেকে ওই কাজ শুরু হবে। রিটার্নিং অফিসারদের আমরা বলেছিলাম প্রার্থী এবং তাঁদের এজেন্টকে এই বিষয়টি জানাতে। তাই জানানো হয়নি এই অভিযোগ মিথ্যা।’’ সাখাওয়াত মেমোরিয়ালের গণনাকেন্দ্রের স্ট্রংরুমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী ভাবে গেলেন, সেই নিয়ে বিধিগত প্রশ্নও তুলেছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল।

    বিধিবদ্ধ ভাবেই পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণ করা হচ্ছে

    মনোজের সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন উত্তর কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) স্মিতা পাণ্ডে। তিনি জানান, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম রয়েছে। বুধবার ভোটগ্রহণ হয়েছে। ভোটগ্রহণের পরে ইভিএমগুলি স্ট্রংরুমে সিল করা রয়েছে। স্ট্রংরুমগুলি সিল করা এবং বন্ধ রয়েছে। ভিতরে সিসি ক্যামেরা বসানো রয়েছে, তার ফুটেজ বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে। তিনি জানান, বিধিবদ্ধ ভাবেই পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণ করা হচ্ছে। বিধি অনুযায়ী ভোটকর্মীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেন। দ্বিতীয় দফার ভোটে সরকারি কর্মচারীরা ট্রেনিং সেন্টারে ভোট দিয়েছেন। সেই পোস্টাল ব্যালটগুলি জমা করে রেখে দেওয়া হয়েছিল। কমিশনের তরফে স্মিতা আরও জানান, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে সাতটি ইভিএমের স্ট্রংরুম রয়েছে এবং একটি পোস্টাল ব্যালটের স্ট্রংরুম রয়েছে। বৃহস্পতিবার সারা রাজ্য জুড়েই বিধানসভা অনুযায়ী পোস্টাল ব্যালট পৃথকীকরণের কাজ চলছে। অন্য বিধানসভার পোস্টাল ব্যালট তাঁদের দেওয়া হবে এবং তাঁদের সাতটি বিধানসভার পোস্টাল ব্যালট তাঁরা নিয়ে নেবেন।

    দক্ষিণে যেতে পারেন, উত্তরে কেন যাবেন?

    তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার রাতে পৌঁছে যান সাখাওয়াত মেমোরিয়ালের গণনাকেন্দ্রের স্ট্রংরুমে। সেখানে যান কলকাতা বন্দর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী ফিরহাদ হাকিমও। স্ট্রংরুম পর্যবেক্ষণের পরে মমতা তৃণমূল প্রার্থীদের রাত জেগে পাহারা দেওয়ার বার্তা দেন। সেই নিয়ে মনোজ বলেন, ‘‘নিয়ম অনুযায়ী ওই স্ট্রংরুমে যে সাতটি আসনের ইভিএম রয়েছে, শুধু সেখানকার প্রার্থী এবং তাঁদের এজেন্টরাই যেতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরের প্রার্থী। তিনি উত্তর কলকাতার ওই সাতটি আসনের কোনওটিতেই প্রার্থী নন। দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে যেখানে স্ট্রংরুম, সেখানে তিনি যেতে পারেন।’’ সিইও আরও বলেন, ‘‘এখানে গন্ডগোলের কোনও সুযোগ নেই। আগামিকাল থেকে গণনাকেন্দ্রগুলিতে যাচ্ছি। সব জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের জন্য একটি প্রোটোকল তৈরি করা হয়েছে। তাঁদের সার্টিফিকেট দিতে হবে যে, কমিশনের আইন ও নিয়ম মেনে গণনা কেন্দ্রগুলিতে বন্দোবস্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে গণনাকেন্দ্রে ১৬৩ ধারা জারি করা হবে। স্ট্রংরুমে যথেষ্ট নিরাপত্তা রয়েছে। যা হচ্ছে সেটা দুর্ভাগ্যজনক। সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’’

    দেওয়াল লিখনটা পড়ে ফেলেছেন মমতা!

    ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের ভিতরে ‘সন্দেহজনক গতিবিধির’ অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের গেটের বাইরে অবস্থানে বসেছিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল এবং শ্যামপুকুরের শশী। তারই মধ্যে মমতা পৌঁছে যান সাখাওয়াতের স্ট্রংরুমে। গিয়েছিলেন ববিও! স্ট্রংরুম পর্যবেক্ষণের পরে মমতা তৃণমূল প্রার্থীদের রাত জেগে পাহারা দেওয়ার বার্তা দেন। এর পরে ভিতরে প্রায় চার ঘণ্টা কাটানোর পরে বাইরে বেরিয়ে নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এমনকি পুলিশের কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। সূত্রের খবর, উত্তর কলকাতার এক তৃণমূল প্রার্থীকে মমতা সর্ব ক্ষণ নজরদারি করার নির্দেশ দেন। শৌচকর্মের জন্য বাইরে গেলে তাঁদের বদলে যেন অন্য লোক মোতায়েন থাকেন, তাও বলেন। জল ও খাবারের ব্যবস্থা করে রাখতেও বলেছেন তিনি। আসলে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, ইডির কাছ থেকে যেমনভাবে ফাইল হাতিয়ে নিতে পারেন, সেভাবেই যেকোনও গণনাকেন্দ্রেও পৌঁছে যেতে পারেন ভাবছেন তৃণমূল নেত্রী। কিন্তু তাঁর পুলিশ তাঁর হাতে নেই একথা খুবই দুঃখজনক, অভিমত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। তাহলে কি রাজ্যে পালাবদলের দেওয়াল লিখনটা পড়ে ফেলেছেন মমতা? তাই এত ভয়? তাই কি পোস্টাল ব্যালট কারচুপির ভুয়ো অভিযোগ তুলে গণনাকেন্দ্রে গিয়ে অজুহাত তৈরি করে রাখলেন তৃণমূল সুপ্রিমো?…

  • Assembly Election 2026: গণনাকেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তা, কিউআর-ভিত্তিক আইডি চালু করছে নির্বাচন কমিশন

    Assembly Election 2026: গণনাকেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তা, কিউআর-ভিত্তিক আইডি চালু করছে নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোট (Assembly Election 2026) গণনা প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। এবার থেকে গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের জন্য চালু করা হচ্ছে কিউআর কোড-ভিত্তিক ফটো আইডেন্টিটি কার্ড। গণনা কেন্দ্রে যে কোনও অচেনা ব্যক্তির প্রবেশ বন্ধ করতে কমিশন ‘ECINET’-এ কিউআর কোড-ভিত্তিক ফটো আইডেন্টিটি কার্ড মডিউল চালু করেছে। আগামী সোমবার গণনা। তার আগে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে কমিশন। ২৪ ঘণ্টা ধরে সিসিটিভি-র নজরদারি চলছে। সব দলের সই সম্মতিতে ইভিএম সিল করে দেওয়া হয়েছে।

    কেন এই নতুন পরিচয়-পত্র

    গণনা কেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা বাড়াতে কিউআর-ভিত্তিক পরিচয়পত্র ব্যবস্থা চালু করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। গণনা কেন্দ্রগুলিতে কোনও অননুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশের সম্ভাবনা দূর করতে, নির্বাচন কমিশন ‘ইসিআইনেট’ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে একটি কিউআর কোড-ভিত্তিক পরিচয়পত্র চালু করেছে। অসম, কেরল, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ এবং পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচন এবং ৫টি রাজ্যের ৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের জন্য আগামী ৪ মে ভোট গণনা হবে। গণনা কেন্দ্রগুলিতে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য একটি ত্রি-স্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরে রিটার্নিং অফিসার পরিচয়পত্র যাচাই করবেন। এর পরে, কিউআর কোড স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে সফল যাচাই পর্বের পরেই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। কমিশনের মতে, এই উদ্যোগ গত এক বছরে নেওয়া ৩০টিরও বেশি সংস্কারের অংশ। এর আগে বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) জন্যও কিউআর কোড-যুক্ত পরিচয়পত্র চালু করা হয়েছিল।

    কারা পাবেন কিউআর পরিচয়-পত্র

    কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবিষ্যতে সব লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে এই ব্যবস্থা চালু করা হবে। তিন স্তরের নিরাপত্তা শেষ স্তরে কিউআর স্ক্যানের পরেই মিলবে প্রবেশের অনুমতি। নতুন কিউআর কোড-ভিত্তিক পরিচয়পত্রগুলি গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের জন্য অনুমোদিত বিভিন্ন শ্রেণির ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য হবে। যার মধ্যে রয়েছেন রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, গণনা কর্মী, কারিগরি কর্মী, প্রার্থী, ইলেকশন এজেন্ট এবং কাউন্টিং এজেন্টরা। অনুমোদিত গণমাধ্যম কর্মীদের সুবিধার জন্য প্রতিটি গণনাকেন্দ্রের কাছে একটি মিডিয়া সেন্টার স্থাপন করা হবে। অনুমোদিত সাংবাদিকদের প্রবেশ আগের মতোই কমিশন প্রদত্ত অনুমতিপত্রের ভিত্তিতেই হবে; তাঁদের জন্য আলাদা কিউআর আইডি চালু করা হচ্ছে না। জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DEO) এবং রিটার্নিং অফিসারদের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট চেকপয়েন্টে প্রশিক্ষিত কর্মী মোতায়েন করে যাতে নির্বিঘ্ন ও সুরক্ষিত প্রবেশ নিশ্চিত করা যায়, সেদিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভোট গণনা প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

     

     

     

     

  • Supreme Court on Abortions: ‘আইন বদলান’, ধর্ষণের শিকার হওয়া মহিলাদের স্বেচ্ছায় গর্ভপাতের বিষয়ে কেন্দ্রকে বলল সুপ্রিম কোর্ট

    Supreme Court on Abortions: ‘আইন বদলান’, ধর্ষণের শিকার হওয়া মহিলাদের স্বেচ্ছায় গর্ভপাতের বিষয়ে কেন্দ্রকে বলল সুপ্রিম কোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোনও নাবালিকাকে গর্ভপাত না-করানোর জন্য জোর করা যায় না— বৃহস্পতিবার এক মামলার শুনানিতে এমনটাই জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মন্তব্য, কেন্দ্রের উচিত আইন সংশোধন করা, যাতে ধর্ষণের শিকার হওয়া মহিলারা গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহের পরেও (বিশেষ ক্ষেত্রে ২৪ সপ্তাহ পরে) স্বেচ্ছায় গর্ভপাত করানোর অনুমতি পান। চলতি মাসেই শুরুর দিকে ৩০ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় ১৫ বছর বয়সি এক কিশোরীকে গর্ভপাতের অনুমতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। একজন ১৫ বছরের কিশোরীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত।

    গর্ভাবস্থার শেষের দিকে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়

    একজন অপ্রাপ্তবয়স্কের শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা নিঃসন্দেহে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কিন্তু গর্ভধারণ যখন সাত মাসে পৌঁছে যায়, তখন বিষয়টি কেবল চিকিৎসাবিজ্ঞানের নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে জটিল নৈতিক প্রশ্নও। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট একটি ১৫ বছরের কিশোরীকে ৩১ সপ্তাহে গর্ভপাতের অনুমতি দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, তাকে এই গর্ভধারণ চালিয়ে যেতে বাধ্য করা হলে তার মর্যাদা ও মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুতর ক্ষতি হতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, কিশোরী তীব্র মানসিক চাপে ছিল, এমনকী আত্মহত্যার চেষ্টার কথাও উঠে এসেছে। এই রায় সংশ্লিষ্ট পরিবারকে স্বস্তি দিলেও, একসঙ্গে সামনে নিয়ে এসেছে এমন এক বাস্তবতা, গর্ভাবস্থার শেষের দিকে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কখনওই সহজ নয়।

    মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়েছে!”

    আদালতের ওই নির্দেশের পুনর্বিবেচনা করার জন্য আর্জি জানিয়েছিল এমস। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। এমসের ওই আর্জি নিয়ে প্রশ্ন তোলে দুই বিচারপতির বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। গর্ভপাতের অনুমতি না দিলে ওই শিশুকে সারাজীবন সেই মানসিক ক্ষত বয়ে যেতে হবে। সে ক্ষেত্রে নাবালিকা মায়ের কোনও শারীরিক অক্ষমতা না থাকলে গর্ভপাত করানো উচিত বলেই মনে করছে আদালত। এমসের উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্ট বলে, কেউ না চাইলে তাঁর উপর জোর করে গর্ভাবস্থা চাপিয়ে দেওয়া যায় না। বেঞ্চের মন্তব্য, “এক বার ভেবে দেখুন, সে তো এখনও ছোট। এখন তার পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকার কথা। অথচ আমরা তাকে জোর করে মা বানাতে চাইছি। ভাবুন তো এই গোটা প্রক্রিয়ায় নাবালিকা কী পরিমাণ মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়েছে!”

    আইনেও সংশোধনী আনা দরকার

    স্বেচ্ছায় গর্ভপাত করানোর জন্য আইনেও সংশোধনী আনা দরকার বলে মনে করছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। কেন্দ্রের উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, “দয়া করে আপনারা আইনটি সংশোধন করুন। ধর্ষণ বা এই ধরনের ঘটনায় কেউ অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ করলে স্বেচ্ছায় গর্ভপাতের জন্য যেন কোনও সময়সীমা না থাকে।” আইনের আরও প্রগতিশীল হওয়া এবং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা দরকার বলে মনে করছে আদালত। কেন্দ্রের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, আইনকে এমন ভাবে সংশোধন করতে হবে যাতে এই ধরনের আবেদনগুলির এক সপ্তাহের মধ্যেই বিচার হয়ে যায়। এমস-কে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, তারা যেন নির্যাতিতা নাবালিকার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে এবং সঠিক কাউন্সেলিং করে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যে ওই নাবালিকারই হবে, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

    ৩১ সপ্তাহে গর্ভপাত কঠিন

    চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ৩১ সপ্তাহে গর্ভপাত আর সাধারণ অ্যাবরশন নয়। এই সময়ে ভ্রূণ অনেকটাই পরিণত হয় এবং মায়ের শরীরের বাইরে বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও তৈরি হয়। ফলে প্রক্রিয়াটি অনেকটা আগাম প্রসব (প্রিটার্ম ডেলিভারি)-এর মতো হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণত এই পর্যায়ে গর্ভপাত করতে হলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, সংক্রমণ, এমনকী অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়তে পারে। শারীরিক ঝুঁকির পাশাপাশি মানসিক অভিঘাতও কম নয়। অন্যদিকে ২৮ সপ্তাহের পর গর্ভপাত করলে অনেক ক্ষেত্রেই জীবিত শিশুর জন্ম হতে পারে, যাকে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা (এনআইসিইউ)-এর সাহায্যে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। এখানেই তৈরি হয় আরেকটি জটিলতা, একদিকে মায়ের অধিকার ও সুস্থতা, অন্যদিকে ভ্রূণের সম্ভাব্য জীবন। এই দ্বন্দ্বের সমাধান নেই।

    কিশোরী মায়েদের ঝুঁকি বেশি

    ১৫ বছর বয়সে শরীর পুরোপুরি গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুত থাকে না। তাই এ সময় গর্ভধারণে রক্তাল্পতা, উচ্চ রক্তচাপ, প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া বা প্রসবজনিত জটিলতার ঝুঁকি বেশি থাকে। গর্ভপাত করালেও এই ঝুঁকিগুলো পুরোপুরি এড়ানো যায় না, বরং প্রক্রিয়ার ধরন অনুযায়ী নতুন জটিলতা যোগ হতে পারে। ১৫ বছরে গর্ভধারণ শুধু শারীরিক নয়, গভীর মানসিক চাপও তৈরি করে। অনেক ক্ষেত্রে এর সঙ্গে থাকে ভয়, লজ্জা, সামাজিক চাপ এবং কখনও কখনও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা। এই পরিস্থিতিতে মানসিক স্বাস্থ্যকে উপেক্ষা করলে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক সহায়তাও অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের ক্ষেত্রে সাধারণত একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ একসঙ্গে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন। তারা মায়ের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, গর্ভাবস্থার সময়কাল এবং ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেন।

  • US Returns Indian Antiquities: ড্যান্সিং গণেশ থেকে বিরল বুদ্ধ—চুরি যাওয়া ৬৫৭ টি নিদর্শন ভারতকে ফেরত দিল আমেরিকা

    US Returns Indian Antiquities: ড্যান্সিং গণেশ থেকে বিরল বুদ্ধ—চুরি যাওয়া ৬৫৭ টি নিদর্শন ভারতকে ফেরত দিল আমেরিকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য (US Returns Indian Antiquities) রক্ষায় বড় সাফল্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরল ৬৫৭টি চুরি হওয়া প্রাচীন নিদর্শন, যার মূল্য প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দফতর ভারতে ফিরিয়ে দিল ওই চুরি হওয়া প্রাচীন নিদর্শনগুলি। আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘ তদন্তের পর এই বিরল সংগ্রহ উদ্ধার করা হয়। মোট মূল্য প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার। নিউ ইয়র্কে ভারতীয় কনস্যুলেটের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এক অনুষ্ঠানে এই নিদর্শনগুলি হস্তান্তর করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, এই চোরাচালান চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল কুখ্যাত পাচারকারী সুভাষ কপুর এবং দোষী সাব্যস্ত আর্ট ডিলার ন্যান্সি উইনার।

    উদ্ধার হওয়া উল্লেখযোগ্য নিদর্শন

    ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অ্যালভিন এল ব্র্যাগ জুনিয়র বলেন, “ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে লক্ষ্য করে যে পাচারচক্র কাজ করেছে, তার পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। এই পুনরুদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ হলেও, হারানো ঐতিহ্য ফেরানোর কাজ এখনও চলবে। ফিরিয়ে দেওয়া সামগ্রীগুলির মধ্যে রয়েছে বহু ঐতিহাসিক ও উচ্চমূল্যের শিল্পকর্ম—

    • ব্রোঞ্জ অবলোকিতেশ্বর মূর্তি: মূল্য প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার। রায়পুরের মহন্ত ঘাসিদাস মেমোরিয়াল মিউজিয়াম থেকে চুরি হয়ে ১৯৮২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার হয়। ২০২৫ সালে একটি ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে উদ্ধার করা হয়।
    • লাল বেলেপাথরের বুদ্ধ মূর্তি: মূল্য আনুমানিক ৭.৫ মিলিয়ন ডলার। সুভাষ কপুরের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পাচার হয়ে নিউ ইয়র্কের একটি গুদাম থেকে উদ্ধার।
    • নৃত্যরত গণেশ মূর্তি: মধ্যপ্রদেশের একটি মন্দির থেকে ২০০০ সালে চুরি হয়। জাল নথির মাধ্যমে বিক্রি হয়ে ২০১২ সালে ক্রিস্টিজ নিলামে ওঠে। চলতি বছরে এক সংগ্রাহক তা স্বেচ্ছায় ফিরিয়ে দেন।

    আন্তর্জাতিক পাচারচক্রে বড় ধাক্কা

    গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সুভাষ কপুরের পাচারচক্রের (US Returns Indian Antiquities) বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। ২০২২ সালে ভারতে দোষী সাব্যস্ত হন কপুর এবং বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া চলছে। ভারতের কনসাল জেনারেল বিনয় প্রধন এই উদ্যোগের জন্য মার্কিন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই নিদর্শনগুলি আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।” উল্লেখ্য, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬,২০০টি নিদর্শন উদ্ধার করা হয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ৪৮৫ মিলিয়ন ডলার। এগুলি ৩৬টি দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সাম্প্রতিক এই হস্তান্তর খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

  • Assembly Election 2026: “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বিশ্রাম নিন, আমরা ১৮০-র বেশি আসন জিতব”, বড় দাবি শুভেন্দুর

    Assembly Election 2026: “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বিশ্রাম নিন, আমরা ১৮০-র বেশি আসন জিতব”, বড় দাবি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল নিশ্চিত। ভোটপর্ব (Assembly Election 2026) মেটার পর এমনই দাবি করলেন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, বিজেপি (BJP) ১৮০-র বেশি আসন জিতে সরকার গড়বে। ভবানীপুর আসন থেকে ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতবেন তিনি। তাঁর কথায়,“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বিশ্রাম নিন, আমরা ১৮০-র বেশি আসন জিতব। ভবানীপুরে ৯০ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়েছে। হিন্দু ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।”

    ভয় দেখানোর রাজনীতি মমতার

    শুভেন্দুর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্থানীয় পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও অন্যদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুষ্কৃতীদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। আমি সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছি।” জামাত-এ-ইসলামি সমর্থকরা তাঁর উপর হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলে তাঁকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করে একদল দুষ্কৃতী। দ্বিতীয় দফায় হাইপ্রোফাইল কেন্দ্র ভবানীপুর (Bhabanipur) কেন্দ্র। এবার হেভিওয়েট প্রার্থীদের লড়াই ভবানীপুর কেন্দ্রে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। বুধবার সকাল থেকেই সেই কেন্দ্রে দেখা গিয়েছে উত্তেজনার ছবি।

    নিজের বুথেই হারবেন মমতা

    শুভেন্দুর দাবি, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড বাদে বাকি সমস্ত ওয়ার্ডেই তিনি লিড পাবেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল (TMC) অশান্তি করার চেষ্টা করলেও কেন্দ্রীয় বাহিনী তা রুখে দিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর সবথেকে বড় দাবিটি ছিল মুখ্যমন্ত্রীর নিজের বুথ নিয়ে। তিনি বলেন, “মিত্র ইনস্টিটিউশন, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের বুথ, সেখানেই উনি (মমতা) অন্তত ২০০ ভোটে হারবেন।” শুভেন্দু আরও জানিয়েছেন, রাজ্যে দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে (Assembly Election 2026) ফলতায় ইভিএমে টেপ আটকে দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, সেই ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) তাঁকে ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন। সিইও-র সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি দেখতে বলেছেন অমিত শাহ।

  • Assembly Election 2026: ভয়হীন ভোটদান! দুই দফাতেই পড়ল রেকর্ড সংখ্যক ভোট, কোন রাজ্যের রেকর্ড ভেঙে ভারত-সেরা বাংলা?

    Assembly Election 2026: ভয়হীন ভোটদান! দুই দফাতেই পড়ল রেকর্ড সংখ্যক ভোট, কোন রাজ্যের রেকর্ড ভেঙে ভারত-সেরা বাংলা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত সেরা বাংলা। ভোটদানে (Assembly Election 2026) রেকর্ড গড়েছে পশ্চিমবঙ্গ। বুধবার দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ শেষে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ঘোষণা করেছেন যে, স্বাধীনতার পর থেকে এবারই দুই দফার নির্বাচনে রাজ্যে সর্বোচ্চ শতাংশ ভোট পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের ‘ECINet’ অ্যাপের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ছিল ৯২.৬৩ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলায় মোট ভোট পড়েছে ৯২.৯৩ শতাংশ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের দাবি, স্বাধীনতার পর যত ভোট হয়েছে এবারই রেকর্ড হয়েছে বাংলায়। ভোটদানের এই হার সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোর সমস্ত রেকর্ডকে ছাপিয়ে গিয়েছে।

    সারা দেশে ভোটদানে নজির বাংলার

    প্রথম দফাতেই ইঙ্গিত মিলেছিল। দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ ভোটের হারের রেকর্ড গড়ে ফেলল পশ্চিমবঙ্গ। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের পর এ রাজ্যে রাত ১২টা পর্যন্ত কমিশন ৯২.৬৩ শতাংশ ভোট পড়ার কথা জানিয়েছে। এখনও কমিশনের তরফে চূড়ান্ত ভোটের হার প্রকাশ করা হয়নি। তবে এ পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান এসেছে, তাতে দেশের এর আগের সমস্ত নজির ভেঙে গিয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফা মিলিয়ে রাজ্যে মোট ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৯৩ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয় গত ২৩ এপ্রিল। ভোট পড়েছিল ৯৩.১৯ শতাংশ। সে দিনই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়ে দিয়েছিলেন, স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে এত ভোট কখনও পড়েনি। দ্বিতীয় দফাতেও ভোটের হারে নজির তৈরি হল।

    কোন রাজ্যের রেকর্ড ভাঙল বাংলা

    এর আগে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ ভোটদানের রেকর্ড ছিল ত্রিপুরার দখলে। সেখানে ২০১৩ সালে‌ ৯১.৮২ শতাংশ ভোট পড়েছিল, যা এত দিন পর্যন্ত দেশে বিধানসভা নির্বাচনের নিরিখে সর্বোচ্চ ছিল। ১৩ বছর ধরে ওই নজির অক্ষত ছিল। পশ্চিমবঙ্গের ভোট তা ভেঙে দিল। উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে বরাবরই ভোট বেশি পড়ে। কমিশনের পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, ১৯৯৩ সালে নাগাল্যান্ডে ৯১.৫৩ শতাংশ, ১৯৯৫ সালে মণিপুরে ৯১.৪১ শতাংশ, ২০০৮ সালে মেঘালয়ে ৮৮.৯৯ শতাংশ, ২০২৪ সালে অরুণাচল প্রদেশে ৮২.২৯ শতাংশ, ১৯৯৯ সালে সিকিমে ৮১.৮৩ শতাংশ, মিজোরামে ১৯৮৯ সালে ৮১.৩০ শতাংশ সর্বোচ্চ ভোট পড়েছিল। এসআইআর-এর পর ২০২৬ সালে অসমেও ভোটের হারে নজির তৈরি হয়েছে। সেখানে ভোট পড়েছে ৮৫.৩৮ শতাংশ, এখনও পর্যন্ত ওই রাজ্যের নিরিখে সর্বোচ্চ।

    রাজনৈতিক চাপানউতোর

    ভোটের এই পরিসংখ্যান নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে। কলকাতার হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, তাঁর কেন্দ্রে এবার ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে, যা এই আসনের জন্য একটি নতুন রেকর্ড। ২০২১ সালে এখানে ৮২ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ৭৮ শতাংশ ভোট পড়েছিল। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, বিগত নির্বাচনে শাসকদল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিল, কিন্তু এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশি কড়াকড়ির কারণে তারা সফল হতে পারেনি।

    অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন

    ভোট দানে রেকর্ড গড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এমন অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন শেষ কবে দেখেছে পশ্চিমবঙ্গ তা ভেবে বলতে হয়। এইভাবে ভোট করানোই ছিল মূলত নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) কাছে চ্যালেঞ্জ। ভোটাররা যাতে ভয়হীন ভাবে ভোট দিতে যেতে পারেন, সেই দিকে বারেবারে নজর রেখেছে কমিশন। ভোট শুরুর অনেক আগেই আস্থা জোগাতে বঙ্গে হাজির করানো হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীকে (Central Force)। আর তার ফল মিলল ২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল হাতে নাতে।  নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে এ বার ৫১ লক্ষ ভোটার কম ছিল। তবে ভোট পড়েছে আগের বারের তুলনায় ৩০ লক্ষেরও বেশি।

    রাজ্যে প্রাণহানি হয়নি, ভয়হীন ভোটদান

    কমিশনের দেওয়া তথ্য বলছে, এবারের ভোটে পাঁচ লক্ষ কর্মী কাজ করেছেন। ফলস ভোটিংয়ের অভিযোগ বেশি এসেছে ঠিকই, তবে হিংসা কম হয়েছে। সব থেকে উল্লেখযোগ্য, দুই দফা ভোটেই কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। অথচ পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ২৪ জনের প্রাণ গিয়েছিল বাংলায়। আবার তারও পাঁচ বছর আগে অর্থাৎ ২০১৬ সালে সাত জন নির্বাচনী হিংসার বলি হয়েছিলেন। কিন্তু এবার সেই সংখ্যাটাই শূন্য। এটা যে কমিশনের বড় সাফল্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আবার ২০২১ সালে ৬৯টি বোমা উদ্ধার হয়েছিল। কিন্তু এবার একটিও বোমা উদ্ধারের খবর নেই। কমিশন বলছে- একটা সময়ে এক শ্রেণির মানুষ ছিলেন যাঁরা ভোট দানে বিরত থাকতেন। তবে অবাধ ভয়হীন ভোটদানের প্রতি মুহূর্তে প্রচারের জন্য এমন হয়েছে তাঁরাও ভোট দিয়েছেন। বুথ থেকে পোলিং এজেন্টকে বের করে দেওয়া বিশেষ করে বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টকে বের করে দেওয়ার ঘটনা বাংলায় নতুন কিছু নয়, তবে উল্লেখযোগ্য ভাবে এবার এমন কিছুই হয়নি। একটাও ঘটনা এমন নয় যেখানে পোলিং এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে।

    দুই দফাতেই শান্তিপূর্ণ ভোট

    কমিশনের পদক্ষেপ নির্বাচনে যাঁরা যাঁরা সমস্যা তৈরি করতে পারেন, তেমন ৬৮৭ জন-কে প্রিভেন্টিভ গ্রেফতার করা হয়েছিল। ব্যাক টেপ-সেলো টেপ, আতর ইত্যাদি অভিযোগ এসেছে মোট ৭৭টি বুথ থেকে। পুনরায় নির্বাচন হবে ফলতার ৩২, মগরাহাটে ১৩, ডায়মণ্ডহারবারে ২৯, বজবজ ৩ বুথে। বাংলার সিইও মনোজ আগরওয়াল বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ দেখিয়ে দিয়েছে, দুই দফাতেই শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে সাত-আট দফার থেকে। কোনও মৃত্যু হয়নি। বড়সড় কোনও গণ্ডগোল হয়নি। ছোটখাটো তো সব জায়গায় হয়। তবে, এবার পশ্চিমবঙ্গ দেখিয়ে দিয়েছে।” পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব নজির তৈরি হল এই বিপুল উৎসাহকে ‘ভোটের উৎসব, বাংলার গর্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

    পশ্চিমবঙ্গে এত দিন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভোটদানের নজির ছিল ২০১১ সালে। ভোট পড়েছিল ৮৪.৩৩ শতাংশ এবং সেই ভোটে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান হয়েছিল। পরিবর্তনের হাওয়ায় রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। এ বারের পশ্চিমবঙ্গে এই বিপুল সংখ্যক বাড়তি ভোট কোন পক্ষে যায়, সেটাই দেখার।

LinkedIn
Share