Author: pranabjyoti

  • Malloujula Venugopal Rao: এবার আত্মসমর্পণ করলেন নিহত মাওবাদী নেতা কিষেনজির ভাই বেণুগোপালও

    Malloujula Venugopal Rao: এবার আত্মসমর্পণ করলেন নিহত মাওবাদী নেতা কিষেনজির ভাই বেণুগোপালও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার আত্মসমর্পণ করলেন নিহত মাওবাদী নেতা (Maoist Leader) কিষেনজির ভাই মাল্লোজুলা বেণুগোপাল রাও ওরফে সোনু (Malloujula Venugopal Rao)। তিনি একা নন, এদিন তাঁর সঙ্গে আত্মসমর্পণ করেছেন আরও ৬০ মাওবাদী। বেণুগোপাল আত্মসমর্পণ করায় মাওবাদীরা হারাল দলের পলিটব্যুরো এবং কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে।

    আত্মসমর্পণ করলেন বেণুগোপালও (Malloujula Venugopal Rao)

    বেণুগোপাল ওরফে সোনু পরিচিত ছিলেন ভূপতি ওরফে রাজন ওরফে বিবেক ওরফে অভয় নামেও। দলের আদর্শিক প্রধান হওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগ সংক্রান্ত বিষয়গুলিও দেখতেন বছর সত্তরের এই মাওবাদী নেতা। আটের দশকে তিনি যোগ দেন পিপলস ওয়ার গ্রুপে। ২০১০ সালে নিযুক্ত হন সিপিআই (মাওবাদী)-র মুখপাত্র। পশ্চিমবঙ্গের লালগড় অভিযান চলাকালীন কিষেনজির মৃত্যুর পর অভিযানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনিই। মাস কয়েক আগে আত্মসমর্পণ করেছিলেন বেণুগোপালের স্ত্রী বিমলা চন্দ সিদাম ওরফে তারাক্কা। তিনি ছিলেন পিএলজিএর কমান্ডার এবং দণ্ডকারণ্য জোনাল কমিটির নেত্রী। তাঁর আত্মসমর্পণের ১০ মাসের মধ্যেই সমাজের মূলধারায় ফিরতে চেয়ে আত্মসমর্পণ করলেন বেণুগোপালও।

    আত্মসমর্পণ করলেন আরও ৬০

    সোমবার গভীর রাতে গড়ছিরৌলিতে ৬০ জন মাওবাদী সদস্যকে নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন বেণুগোপাল। গত সেপ্টেম্বরেই অস্ত্র সমর্পণের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর তরফে জারি করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বেণুগোপাল লিখেছিলেন, দল বাঁচাতে সশস্ত্র সংগ্রাম বন্ধ করার সময় এসেছে। গত এপ্রিল মাসেও তাঁর নাম করে একটি শান্তিবার্তা এসেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে। তাতে বলা হয়েছিল, হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত মাওবাদী পলিটব্যুরো বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেন্দ্রকে শান্তি আলোচনা ও সংঘর্ষবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। সেই থেকেই বিভিন্ন মহলে জল্পনা চলছিল, শীঘ্রই আত্মসমর্পণ করতে পারেন তিনি। শেষমেশ তা-ই হল (Malloujula Venugopal Rao)।

    প্রসঙ্গত, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে দেশকে মাওবাদী মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই লক্ষ্য পূরণে কোমর কষে মাঠে নামে ছত্তিশগড়, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলঙ্গনার সরকার। এই তিন রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় মাওবাদীদের নির্মূল করতে চালানো হয় একের পর এক অভিযান। যৌথ বাহিনীর লাগাতার অভিযানে খতম হন মাওবাদীদের একাধিক শীর্ষ নেতা। তার পর থেকেই আত্মসমর্পণ করতে থাকেন একের পর (Maoist Leader) এক নেতা। সেই তালিকায় জুড়ে গেল বেণুগোপাল ও তাঁর ৬০ সহযোদ্ধার নাম (Malloujula Venugopal Rao)।

  • Bihar Assembly Elections: বিহারে প্রথম দফায় ৭১ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করল বিজেপি

    Bihar Assembly Elections: বিহারে প্রথম দফায় ৭১ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিহার বিধানসভা নির্বাচনের (Bihar Assembly Elections) প্রথম দফায় ৭১ জন প্রার্থীর নামের তালিকা প্রকাশ করল বিজেপি (BJP)। মঙ্গলবার এক সরকারি বিবৃতিতে একথা জানিয়েছে পদ্মশিবির। বিহার বিধানসভার আসন সংখ্যা ২৪৩টি। নির্বাচন হবে দু’দফায় – ৬ নভেম্বর ও ১১ নভেম্বর। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠক ১২ অক্টোবর জেপি নাড্ডার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

    কে কোন আসনে লড়ছেন (Bihar Assembly Elections)

    কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি বিহার বিধানসভা নির্বাচনের জন্য আরও বেশ কয়েকটি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। জানা গিয়েছে, সিওয়ান থেকে মঙ্গল পাণ্ডে, কাটিহার থেকে তারকিশোর প্রসাদ, দানাপুর থেকে রামকৃপাল যাদব, বানকিপুর থেকে নীতিন নবীন, বেতিয়া থেকে রেণু দেবী, গয়া টাউন থেকে প্রেম কুমার, জামুই থেকে শ্রেয়সী সিংহ, লখিসরাই থেকে উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা এবং তারাপুর থেকে আর এক উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী লড়াই করবেন। এই তারাপুর সম্রাটের পারিবারিক ঘাঁটি। এই কেন্দ্রের বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন সম্রাটের বাবা শকুনি চৌধুরী এবং মা পার্বতী দেবী। সম্রাট অবশ্য বিধায়ক নন, তিনি বিহার বিধান পরিষদের সদস্য। যে কেন্দ্রে এবার তিনি প্রার্থী হয়েছেন, গত পনের বছরেরও বেশি সময় ধরে সেটি রয়েছে নীতীশ কুমারের দল জেডিইউয়ের হাতে। এই তারাপুরেই ২০২১ সালের উপনির্বাচনেও জয়ী হয়েছিলেন জেডিইউ প্রার্থী। এবার জোটসঙ্গী বিজেপিকে ওই আসনটি ছেড়ে দিয়েছে নীতীশের দল।

    বিজেপির রাজ্য সভাপতির বক্তব্য

    বিহারের আর (BJP) এক উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয়কুমার এবারও লড়ছেন তাঁর ঘাঁটি লখিসরাই থেকে। ২০১০ সাল থেকে পর পর তিনবার এই কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হয়েছেন তিনি (Bihar Assembly Elections)। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ জয়সওয়াল বলেন, “অনেকেই আশা করেননি যে প্রার্থীদের তালিকা এত দ্রুত প্রকাশিত হবে। প্রথমেই এনডিএ জোট আসন বণ্টনের কাজ সম্পন্ন করে। মহাগটবন্ধন এখনও আলোচনা চালাচ্ছে। অথচ এনডিএ জোট আসন বিলি চূড়ান্ত করে ফেলল। আজ ভোরেই তারা জনসমর্থন জোগাড় করার পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে। যেমনটা আমি আগেই বলেছিলাম, এনডিএ হল পঞ্চ পাণ্ডবের মতো একটি শক্তিশালী জোট। নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের জন্য প্রস্তুত।”

    তাওড়ের পোস্ট

    এর আগে ১২ অক্টোবর আসন্ন বিহার নির্বাচনের জন্য ক্ষমতাসীন এনডিএ তাদের আসন বিলির কথা ঘোষণা করে। জোটের তরফে জানানো হয়, বিজেপি  এবং জেডিইউ প্রত্যেকে লড়বে ১০১টি করে আসনে, এলজেপি (রামবিলাস) লড়বে ২৯টি আসনে, রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ৬টি আসনে এবং হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা-ও (এইচএএম) ৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে (Bihar Assembly Elections)। প্রসঙ্গত, এডিএর সদস্য দলগুলি হল বিজেপি, জনতা দল (ইউনাইটেড), লোক জনশক্তি পার্টি (রাম বিলাস), হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (সেক্যুলার) এবং রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা। আসন রফা চূড়ান্ত হওয়ার পর এক্স হ্যান্ডেলে বিজেপির বিহারের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা বিনোদ তাওড়ে লিখেছিলেন, “সংগঠিত ও নিবেদিতপ্রাণ এনডিএ। আসন্ন বিহার (BJP) বিধানসভা নির্বাচনের জন্য এনডিএ পরিবারের সব সদস্য বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে আসন বণ্টন সম্পন্ন করেছে, যা নিম্নরূপ —

    • বিজেপি – ১০১টি আসন
    • জেডিইউ – ১০১টি আসন
    • এলজেপি (রাম বিলাস) – ২৯টি আসন
    • আরএলএম – ৬টি আসন
    • এইচএএম – ৬টি আসন

    সব এনডিএ দলের নেতা ও কর্মীরা আনন্দের সঙ্গে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। সবাই আবারও বিহারে এনডিএ সরকার গঠনের লক্ষ্যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

    ভোট কূশলী প্রাশান্ত কিশোরের দল

    বিহারের আসন্ন নির্বাচনে এনডিএর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছে তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বাধীন আরজেডি (RJD), কংগ্রেস, দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন সিপিআই (এমএল), সিপিআই, সিপিএম এবং মুকেশ সহানির বিকাশশীল ইনসান পার্টি (ভিআইপি)-র নেতৃত্বাধীন আইএনডিআই (INDI) জোট। লড়াইয়ের ময়দানে থাকছে ভোট কূশলী প্রাশান্ত কিশোরের দল জন সুরাজও। তাঁর দল লড়ছে এবারই প্রথম (Bihar Assembly Elections)।

    উল্লেখ্য যে, বিহার বিধানসভা নির্বাচনের গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি হবে ১০ অক্টোবর। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত। যাচাইয়ের জন্য সময় মিলবে ১৮ তারিখ পর্যন্ত। প্রার্থীরা নাম প্রত্যাহার করতে (BJP) পারবেন ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ হবে ১১ নভেম্বর। প্রথম দফায় নির্বাচন হবে ১২১টি আসনে, দ্বিতীয় দফায় ১২২টিতে। দ্বিতীয় দফার গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে ১৩ অক্টোবর। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত। ফল ঘোষণা হবে ১৪ নভেম্বর (Bihar Assembly Elections)।

  • Durgapur Gangrape: “সর্বস্তরে চাপ সৃষ্টি করা হবে”, দুর্গাপুরের নির্যাতিতার পরিবারকে আশ্বাস ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর

    Durgapur Gangrape: “সর্বস্তরে চাপ সৃষ্টি করা হবে”, দুর্গাপুরের নির্যাতিতার পরিবারকে আশ্বাস ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “চিন্তা করবেন না। ওড়িশা সরকার আপনাদের পাশে আছে। আমরা সবরকমভাবে সাহায্য করব। ধৈর্য রাখুন, সাহস হারাবেন না।” সোমবার ফোনে দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ডে (Durgapur Gangrape) নির্যাতিতার পরিবারকে এই বার্তাই দিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী (Odisha CM) বিজেপির মোহন চরণ মাঝি। বিরোধীদের দাবি, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নির্যাতিতার পরিবারকে পাশে থাকার আশ্বাস দিলেও, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও পর্যন্ত নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেননি। উল্টে তিনি ঘটনার দায় চাপিয়েছেন ওই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ঘাড়ে।

    দুর্গাপুরে ওড়িশা মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন

    সোমবারই দুর্গাপুরে গিয়ে নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন ওড়িশা মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন শোভনা মোহান্তি। তখনই ফোনে নির্যাতিতা ও তাঁর মায়ের সঙ্গে কথা বলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী। মেডিক্যাল কলেজের ওই নির্যাতিতা (Durgapur Gangrape) ছাত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে তিনি বলেন, “তোমার পড়াশোনা যেন কোনওভাবে বন্ধ না হয়, তার জন্য সব ব্যবস্থা করা হবে।” অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলতে সর্বস্তরে চাপ সৃষ্টি করা হবে।”

    ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস

    জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কলেজ পরিবর্তনের আবেদন জানিয়েছেন। তিনি চান, ওড়িশার কোনও সরকারি মেডিক্যাল কলজে স্থানান্তরিত হতে। প্রত্যুত্তরে মোহন তাঁকে বলেন, “আপনি বেসরকারি কলেজের ছাত্রী, তাই নিয়মকানুন দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” তরুণীর মাকে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, এই নৃশংস অপরাধের জন্য দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে। ওড়িশা সরকার ন্যায়বিচার আদায়ের জন্য সব দিক থেকে চাপ সৃষ্টি করবে (Odisha CM)। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, ওড়িশা মহিলা কমিশনের প্রধান যেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিষয়টি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, সে-ই নির্দেশও দেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী। আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার সুনীল চৌধুরী জানান, নির্যাতিতার (Durgapur Gangrape)পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাঁদের নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হবে। তিনি নিজে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছেন, আশ্বাস দিয়েছেন পূর্ণ সহযোগিতার।

    হাসপাতালে ঢুকতে বাধা মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিদের

    এদিকে, দুর্গাপুরের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নির্যাতিতা। সেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা করে গোটা ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিতে গিয়েছিলেন ওড়িশার মহিলা কমিশনের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। কিন্তু হাসপাতালে ঢোকার ক্ষেত্রে তাঁদের বাধার মুখে পড়তে হয়। বাধা দেন হাসপাতালের (Odisha CM) কর্মীরাই। মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিদের আটকে দেওয়া হয় হাসপাতালের বাইরে ব্যারিকেডেই (Durgapur Gangrape)। হাসপাতালের তরফে তাঁদের জানানো হয়, ভেতরে রাজ্যপাল রয়েছেন। তাই তাঁদের বাইরেই অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু এত বড় একটা হাসপাতালে কেন ভিন রাজ্য থেকে আসা প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ভেতরে পর্যন্ত ঢুকতে দেওয়া হল না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বেশ খানিকক্ষণ রাস্তায়ই দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ওড়িশার ওই প্রতিনিধিদের। ওড়িশা মহিলা কমিশনের প্রতিনিধি দলের এক সদস্য বলেন, “আমার এলাকার মেয়ে, আমার রাজ্যের মেয়ে, তার সঙ্গে এমনটা হয়েছে। আমরা বাইরে দাঁড়িয়েই অপেক্ষা করব।”

    দুর্গাপুরে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও

    এদিকে, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। ঘটনায় উদ্বেগপ্রকাশ করেন তিনি। দুর্গাপুর যাওয়ার আগে রাজ্যপাল সাংবাদিকদের জানান, আগে তিনি নির্যাতিতার (Durgapur Gangrape) সঙ্গে কথা বলবেন। তিনি আক্রান্ত এবং তাঁর বাবা-মায়ের পরিস্থিতি বুঝতে পারছেন। যারা এ কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানান তিনি। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে কিনা, এ প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যপাল জানান, আগে তিনি ওই মেডিক্যাল ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন (Odisha CM)। তাঁর কাছ থেকে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করবেন। এই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই পাঁচজনের বিরুদ্ধেই দায়ের হয়েছিল অভিযোগ। ঘটনায় তৃণমূল যোগের তত্ত্বও খাড়া করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, মূল অভিযুক্ত তৃণমূলের ক্যাডার। তাঁর বাবা দলের পদাধিকারী। শুভেন্দুর কথায়, “আজ (সোমবার) যাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তিনি দুর্গাপুর পুরসভার অস্থায়ী কর্মী, তৃণমূলের ক্যাডার। ওঁর বাবা পার্টির পোর্টফোলিও হোল্ডার। এই গণধর্ষণের সঙ্গে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের পদাধিকারী জড়িত। শাসক যেখানে শোষক, সেখানে আইনের শাসন ও বিচার পাওয়ার কোনও জায়গা নেই।”

    প্রসঙ্গত, দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের নির্যাতিতা ওড়িশার ওই ছাত্রীর অভিযোগ, শুক্রবার রাতে ক্যাম্পাসের বাইরে বেরিয়ে তিনি গণধর্ষণের শিকার হন (Odisha CM)। ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। আটক করা হয়েছে ওই তরুণীর সহপাঠীকেও (Durgapur Gangrape)।

  • Durgapur Gangrape: কেউ তৃণমূল নেতার ছেলে, কেউ ওই হাসপাতালেরই অস্থায়ী কর্মী! দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ডে ধৃতদের পরিচয় জানুন

    Durgapur Gangrape: কেউ তৃণমূল নেতার ছেলে, কেউ ওই হাসপাতালেরই অস্থায়ী কর্মী! দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ডে ধৃতদের পরিচয় জানুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ওড়িশা থেকে পড়তে আসা এক তরুণীকে ক্যাম্পাসের মধ্যেই গণধর্ষণের অভিযোগে (Durgapur Gangrape) তোলপাড় গোটা রাজ্য। ওই ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা সকলেই ওই বেসরকারি কলেজ লাগোয়া গ্রামের বাসিন্দা। ধৃতদের মধ্যে একজন আবার ওই হাসপাতালেরই প্রাক্তন নিরাপত্তারক্ষী। আর একজন দুর্গাপুরেরই একটি হাসপাতালের অস্থায়ী কর্মী। আর একজন আবার স্থানীয় তৃণমূল নেতার ছেলে! এবার আসুন, অভিযুক্তদের চিনে নিই। প্রসঙ্গত, গণধর্ষণকাণ্ডে (Durgapur Gangrape) রবিবার গ্রেফতার করা হয় শেখ রেয়াজউদ্দিন, অপু বাউড়ি এবং ফিরদৌস শেখকে। পরের দিন পুলিশ গ্রেফতার করে শেখ নাসিরউদ্দিন এবং সফিক শেখকে।

    হাসপাতালেরই প্রাক্তন নিরাপত্তারক্ষী ররেয়াজউদ্দিন 

    বছর একত্রিশের রেয়াজউদ্দিনের বাড়ি ওই মেডিক্যাল কলেজের পাশেই দুর্গাপুর বি জোনের বিজড়া ডাঙাপাড়ায়। বছর কয়েক আগে এই কলেজ হাসপাতালেই নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করত সে। রেয়াজউদ্দিনের বৌদি বলেন, “পুলিশ এসে দেওরকে ধরে নিয়ে গিয়েছে। ও নিজের ইচ্ছেয় কাজ ছেড়ে দিয়েছিল। এখন কিছু করে না। এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়ায়।”

    হাসপাতালেরই অস্থায়ী কর্মী ফিরদৌস শেখ

    দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালে জেনারেল ডিউটি অ্যাটেনডেন্টের কাজ করত বছর তেইশের ফিরদৌস শেখ। গণধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সে-ও। ঘটনার দিনও মর্নিং শিফটে কাজ করেছিল। তার কাছ থেকেই উদ্ধার হয় নির্যাতিতার মোবাইল ফোন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, এজেন্সির মাধ্যমে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা হয় (Durgapur Gangrape)। তাই তারা এ ব্যাপারে কিছু জানে না।

    তৃণমূল নেতার পুরকর্মী ছেলে নাসিরউদ্দিন!

    বিজড়া ডাঙাপাড়ারই বাসিন্দা আর এক অভিযুক্ত বছর একুশের অপু বাউড়ি। পরিবারের দাবি, সে পেশায় দিনমজুর। তার স্ত্রী মামণির দাবি, তাঁরা এক সঙ্গেই ঘুমোচ্ছিলেন, ফাঁসানো হয়েছে তাঁর স্বামীকে। গ্রেফতার করা হয়েছে শেখ নাসিরউদ্দিনকেও। বছর তেইশের নাসিরউদ্দিন দুর্গাপুর পুরসভার অস্থায়ী কর্মী বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। তার বাবা তৃণমূল করেন। গ্রেফতার করা হয়েছে সফিক শেখকেও। তার বয়স তিরিশের কাছাকাছি। সে-ও এলাকারই বাসিন্দা।

    প্রসঙ্গত, সোমবারই দুর্গাপুরের এই ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে তৃণমূল-যোগের অভিযোগে সরব হয়েছিলেন শুভেন্দু। তিনি বলেছিলেন, “আজকে (সোমবার) যাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তিনি দুর্গাপুর পুরসভার অস্থায়ী কর্মী, তৃণমূলের ক্যাডার। ওঁর বাবা পার্টির পোর্টফোলিও হোল্ডার।” শুভেন্দু এও বলেছিলেন, “এই গণধর্ষণের সঙ্গে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের পদাধিকারী জড়িত। শাসক যেখানে শোষক, সেখানে আইনের শাসন ও বিচার পাওয়ার কোনও জায়গা নেই (Durgapur Gangrape)।”

  • Supreme Court: সুপ্রিম কোর্টে মুখ পুড়ল রাহুলের, ‘ভোট চুরি’ নিয়ে জনস্বার্থ মামলা শুনলই না আদালত

    Supreme Court: সুপ্রিম কোর্টে মুখ পুড়ল রাহুলের, ‘ভোট চুরি’ নিয়ে জনস্বার্থ মামলা শুনলই না আদালত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ভোট চুরি’ নিয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা সাংসদ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠন করে তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) দায়ের হয়েছিল জনস্বার্থ মামলাও। সেই মামলায় হস্তক্ষেপই করল না দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, যেখানে ইচ্ছা প্রতিকার চান। এখানে জনস্বার্থ মামলা শোনা হবে না। আবেদনকারী চাইলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে পারেন বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছে বেঞ্চ। মামলাকারীর আবেদন, এই বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্ট সময় বেঁধে দিক নির্বাচন কমিশনকে। তাতেও না করে দিয়েছে বেঞ্চ। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “আমরা আবেদনকারীর কথা শুনেছি। জনস্বার্থ মামলার আকারে দায়ের হওয়া এই মামলা আমরা শুনতে ইচ্ছুক নই। আবেদনকারী চাইলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে পারেন।”

    জনস্বার্থ মামলা (Supreme Court)

    দেশের শীর্ষ আদালতে যিনি দায়ের করেছিলেন জনস্বার্থ মামলা, তিনি তাতে উল্লেখ করেছিলেন রাহুলের সাংবাদিক বৈঠকের কথা। তিনি জানিয়েছেন, রাহুল ৭ অগাস্ট জানিয়েছিলেন ভোটার তালিকায় অপরাধমূলক জালিয়াতি হয়েছে। কর্নাটকের একটি লোকসভা কেন্দ্রে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগও করেছিলেন রাহুল। আবেদনকারী জানান, সংবিধানেই অবাধ এবং স্বচ্ছ নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। প্রশাসনিক পদক্ষেপের কারণে সংবিধানের এই প্রাথমিক নীতি লঙ্ঘিত হতে পারে না। রাহুলের অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় তাঁকে এ সংক্রান্ত সমস্ত প্রামাণ্য নথি দিতে বলেন মহারাষ্ট্র এবং কর্নাটকের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। ১৭ অগাস্ট দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পরের সাতদিনের মধ্যে রাহুলকে হলফনামা জমা দিতে বলেন। মামলাকারী সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) জমা করা নিজের আবেদনে জানান, ভোটপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হোক। সেই আবেদনও শুনতে রাজি হয়নি দেশের শীর্ষ আদালত।

    রাহুলের বক্তব্য

    প্রসঙ্গত, গত অগাস্ট মাসে রাহুল বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল আসনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে একহাত নেন। তাঁর দাবি, ভোটে জালিয়াতি করার পাঁচটি ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। রাহুল (Rahul Gandhi) মহাদেবপুরা বিধানসভা এলাকার কংগ্রেসের তদন্তের ফলও তুলে ধরেন। এটি ওই লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখ্য, ওই আসনে বিজেপি ৩২ হাজার ৭০৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিল (Supreme Court)।

  • Tripura: ত্রিপুরায় ধর্ষণের শিকার সংখ্যালঘু শিশুকন্যা, অপরাধী কে?

    Tripura: ত্রিপুরায় ধর্ষণের শিকার সংখ্যালঘু শিশুকন্যা, অপরাধী কে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ত্রিপুরায় (Tripura) ধর্ষণের শিকার ১৪ মাসের সংখ্যালঘু শিশুকন্যা (Infant Raped)! পরে খুন করে পুঁতে দেওয়া হয় বাচ্চাটিকে। ঘটনায় অভিযুক্ত শিশুটিরই সম্পর্কিত মামাদাদু। শিশুটিকে ধর্ষণ, হত্যা এবং মাটিতে পুঁতে দেওয়ার অভিযোগে কাঠগড়ায় উত্তর ত্রিপুরার পানিসাগর মহকুমার জয়নালউদ্দিন। ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় অসমের নীলম বাজার এলাকা থেকে জয়নালকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তের জন্য তাকে নিয়ে আসা হয়েছে ত্রিপুরায়।

    শিশুটি নিখোঁজ (Tripura)

    জানা গিয়েছে, শিশুটিকে নিয়ে তার মা বেড়াতে গিয়েছিলেন মামাদাদুর বাড়িতে। ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় ওই মহিলা শিশুটিকে তাঁর কাকার কাছে রেখে কাছের বাজারে যান। বাড়ি ফিরে দেখেন, শিশুটি নিখোঁজ। এক প্রত্যক্ষদর্শী তাঁকে জানান, জয়নালউদ্দিন শিশুটিকে কাছের ধানক্ষেতে নিয়ে গিয়েছে। রাত ৮টা পর্যন্ত তারা বাড়ি ফিরে না আসায় শিশুকন্যাটির মা এবং পরিবার পুলিশে খবর দেয়। তদন্তে নামে পুলিশ। শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। দেখা যায়, ঘরের পেছনের উঠোনে পুঁতে রাখা হয়েছে শিশুটিকে। দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় পানিসাগর মহকুমা হাসপাতালে।

    যৌন নির্যাতনের ফলে মৃত্যু

    ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায়, যৌন নির্যাতনের ফলে মৃত্যু হয়েছে ওই একরত্তির। অভিযুক্ত জয়নাল গা-ঢাকা দেন। রবিবার সকালে শিশুটির মামাদাদু এফআইআর দায়ের করেন। এদিনই অভিযান শুরু করে পুলিশ। জয়নালকে গ্রেফতার করা হয় অসমের শ্রীভূমি জেলার নীলম বাজার এলাকা থেকে (Tripura)। জানা গিয়েছে, অসমের শিলচর রেল স্টেশন থেকে ট্রেনে করে পশ্চিমবঙ্গে পালানোর পরিকল্পনা করেছিল জয়নাল। তার সেই পরিকল্পনায় জল ঢেলে দেয়  পুলিশ। এসডিপিও রাহুল বলহারা জানান, অভিযুক্ত জয়নালউদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ শিশুটির ময়নাতদন্তের সরকারি রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে (Infant Raped)। এই অমানবিক ও জঘন্য অপরাধে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ত্রিপুরাবাসী (Tripura)।

  • PM Modi: কানাডার বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ মোদির, কী নিয়ে আলোচনা হল?

    PM Modi: কানাডার বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ মোদির, কী নিয়ে আলোচনা হল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার কানাডার বিদেশমন্ত্রী (Canadian FM) অনিতা আনন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। আনন্দ এই প্রথম ভারত সফরে এসেছেন। চলতি সফরে তাঁর তিনটি দেশে যাওয়ার কথা। সেই সফরে বেরিয়েই আনন্দ প্রথম এসেছেন ভারত সফরে। সরকারের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আনন্দের সফরকে ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বে নতুন গতি সঞ্চারের একটি সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    মোদি-আনন্দ সাক্ষাৎ (PM Modi)

    এদিন কানাডার বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেন চলতি বছরের জুন মাসে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে কানাডায় গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তাঁর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছিল। বিবৃতিতে বলা হয়েছে “প্রধানমন্ত্রী বিদেশমন্ত্রী আনন্দকে স্বাগত জানান এবং উল্লেখ করেন যে তাঁর এই সফর ভারত–কানাডা দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বে নতুন গতি সঞ্চারের চলমান প্রচেষ্টায় সাহায্য করবে।” প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার গুরুত্বও তুলে ধরেন (PM Modi)।

    কী বললেন কানাডার বিদেশমন্ত্রী

    এক্স হ্যান্ডেলে নিজের সাক্ষাৎ সম্পর্কিত বিস্তারিত শেয়ার করে আনন্দ লেখেন, “আজ সকালে আমি নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী @নরেন্দ্রমোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। এই বছরের গ্রীষ্মে জি৭ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী @মার্ককার্নি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির বৈঠকের গতিকে ভিত্তি করে কানাডা ও ভারত আমাদের দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে—একইসঙ্গে আইন প্রয়োগ ও নিরাপত্তা আলোচনা বজায় রেখে আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্কও সম্প্রসারিত করছে।”

    রবিবার আনন্দ পৌঁছন নয়াদিল্লিতে। বৈঠক করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে। আলোচনার বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকি কমাতে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা পুনর্গঠনের জন্য দুই দেশের সম্পর্ককে সর্বাঙ্গীনভাবে আরও মজবুত করা উচিত।” চলতি সফরে আনন্দের (Canadian FM) বৈঠক করার কথা বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গেও। ওই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা হবে। নয়াদিল্লি সফর শেষে কানাডার বিদেশমন্ত্রী যাবেন চিন এবং সিঙ্গাপুরে (PM Modi)।

  • Durgapur Gangrape: “ওড়িশার এক মেয়েকে আমরা এখানে সুরক্ষিত রাখতে পারলাম না!”, আক্ষেপ শুভেন্দুর

    Durgapur Gangrape: “ওড়িশার এক মেয়েকে আমরা এখানে সুরক্ষিত রাখতে পারলাম না!”, আক্ষেপ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ওড়িশার এক মেয়েকে আমরা এখানে সুরক্ষিত রাখতে পারলাম না! আমরা লজ্জিত, ক্ষমাপ্রার্থী।” সোমবার দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ডের (Durgapur Gangrape) শিকার নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কথাগুলি বললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী (Shuvendu Adhikari)। সোমবার দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের সামনে ধর্ষণকাণ্ডের প্রতিবাদে ধর্না মঞ্চ বেঁধেছিল বিজেপি। পদ্মশিবিরকে সেই মঞ্চ বাঁধায় পুলিশ প্রথমে বাধা দিয়েছিল বলে অভিযোগ। তা নিয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে উপস্থিত পুলিশ কর্তাদের তর্কাতর্কি পর্যন্ত শুরু হয়ে যায়। পরে ওই মঞ্চে উপস্থিত হন শুভেন্দু। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অভিযোগে সোচ্চার হন তিনি।

    ‘আমরা লজ্জিত’ (Durgapur Gangrape)

    এই মঞ্চ থেকেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সটান চলে যান নির্যাতিতার বাড়িতে। পরে বলেন, “ওঁর পরিবার জানিয়েছে, আরও ভালো চিকিৎসার জন্য মেয়েটিকে ওরা ভুবনেশ্বর এইমসে নিয়ে যেতে চায়। আমি শুনে আরও লজ্জিত হয়েছি যে, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসেননি, ফোনও করেননি। অথচ ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝি ফোন করে সহানুভূতি জানিয়েছেন।” এদিকে, দুর্গাপুরের ওই গণধর্ষণকাণ্ডে (Durgapur Gangrape) সোমবার পর্যন্ত গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫। রবিবার তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সোমবার সকালে আরও একজনকে ধরা হয়। তাকে জেরা করে পরে আরও একজনকে গ্রেফতার করে আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের পুলিশ।

    শুভেন্দুর তোপ

    অন্যদিকে, দুর্গাপুরকাণ্ডের মেডিক্যাল রিপোর্টে ইতিমধ্যেই ধর্ষণের ইঙ্গিত মিলেছে। দুর্গাপুরের এই কাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে তৃণমূল-যোগের অভিযোগে সরব হন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “এখনও পর্যন্ত মোট চারজন গ্রেফতার হয়েছে। আজকে যাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তিনি দুর্গাপুর পুরসভার অস্থায়ী কর্মী, তৃণমূলের ক্যাডার। ওঁর বাবা পার্টির পোর্টফোলিও হোল্ডার।” তিনি বলেন, “এই গণধর্ষণের সঙ্গে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের পদাধিকারী জড়িত। শাসক যেখানে শোষক, সেখানে আইনের শাসন ও বিচার পাওয়ার কোনও জায়গা নেই।” এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বয়ানেও একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে।

    তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা যখন জঙ্গলের মধ্যে নির্যাতিতা ও তাঁর সহপাঠীকে ঘিরে ধরেছিলেন, তখন বেশ কিছুক্ষণের জন্য তাঁর সহপাঠী তাঁকে সেখানে ফেলে চলে এসেছিলেন। আধঘণ্টা পরে তিনি আবারও সেখানে যান এবং নির্যাতিতাকে নিয়ে আসেন। কেন তিনি প্রথমে চলে গিয়েছিলেন, কেনই বা পরে সহপাঠীকে ফেরত নিতে এসেছিলেন (Shuvendu Adhikari), সেই সব মিসিং লিঙ্ক খোঁজার চেষ্টা করছে পুলিশ (Durgapur Gangrape)।

  • Pakistan TLP: টিএলপি কর্মীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন পাক পুলিশের, গুলিতে হত ১১

    Pakistan TLP: টিএলপি কর্মীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন পাক পুলিশের, গুলিতে হত ১১

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তেহরিক-ই-লাবাইক পাকিস্তান (টিএলপি) কর্মীদের (Pakistan TLP) ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালাল পাকিস্তানের পাঞ্জাব পুলিশ।  মুরিদকেতে (Islamabad Violence) পাকিস্তানি পুলিশের এই অভিযানে মৃত্যু হয় ১১ জনের, জখম হন ৫০ জনেরও বেশি। জানা গিয়েছে, ইজরায়েল-গাজা সংঘাতের জেরে গাজার সপক্ষে মিছিল করে ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা দেন টিএলপির নেতা-কর্মী-সমর্থকরা। পার্টির প্রধান সাদ হুসাইন রিজভির নেতৃত্বে লাহোর থেকে ওই মিছিল শুরু হয়। অভিযোগ, মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের রুখতে নিরাপত্তা বাহিনী লাঠিচার্জ করে, ছোড়ে টিয়ার গ্যাসের সেলও। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে পাকিস্তান রেঞ্জার্সও। এর পরেই বিক্ষোভকারীরা ইসলামাবাদের পথে পুলিশি বাধা অতিক্রম করে মুরিদকে শিবির করে। জানা গিয়েছে, টিএলপি নেতৃত্ব ‘রণাঙ্গন’ থেকে পিছু হটার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি।

    গুলিতে হত ১১ (Pakistan TLP)

    পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর এই অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। গত সপ্তাহে পুলিশ যখন প্যালেস্তাইনপন্থীদের পূর্বনির্ধারিত সমাবেশের জন্য রাজধানীর দিকে টিএলপির মিছিল রোধ করার চেষ্টা করছিল, তখন লাহোরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় নিরাপত্তারক্ষীদের। টিএলপির অভিযোগ, পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। তাতে তাদের ১১ জন কর্মী নিহত হয়, জখম হয় ৫০ জনেরও বেশি (Pakistan TLP)।

    কী বললেন টিএলপি নেতা

    প্রতিবাদের একটি ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে গুলির শব্দ শোনা গিয়েছে। এক টিএলপি নেতাকে বলতে শোনা গিয়েছে, “আজ সকাল থেকে টিএলপির ১১ জন নিহত হয়েছে। অবিরাম শেলিং ও গুলিবর্ষণ চলছে।” প্রসঙ্গত, ৯ অক্টোবর গাজায় ইজরায়েলি বিমান হামলার প্রতিবাদে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ১১ অক্টোবর তা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। পুলিশ টিয়ার গ্যাসের সেল নিক্ষেপ করে, লাঠিচার্জ করে। পাল্টা ইট-পাটকেল ছোড়েন বিক্ষোভকারীরা। শুক্রবার জুম্মার নমাজের সময় লাহোরে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে টিএলপির প্রধান বলেন, “গ্রেফতার কোনও সমস্যা নয়, গুলি কোনও সমস্যা নয়, শেলও কোনও সমস্যা নয় – শহিদ হওয়া আমাদের নিয়তি (Islamabad Violence)।” পাকিস্তানের মন্ত্রী তালাল চৌধুরী টিএলপির নিন্দে করে বলেন, “গোষ্ঠীটি গাজা সঙ্কটকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য ব্যবহার করছে।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন, সরকার কোনও সংগঠনের (Pakistan TLP) হিংসা বা জবরদস্তি সহ্য করবে না।

  • Pakistan Taliban War: পাক-আফগানিস্তানের সংঘাতের কারণ কী? কোন অবস্থান নেবে ভারত?

    Pakistan Taliban War: পাক-আফগানিস্তানের সংঘাতের কারণ কী? কোন অবস্থান নেবে ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক সপ্তাহের জন্য ভারত সফরে এসেছেন আফগানিস্তানের (Pakistan Taliban War) বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি (Amir Muttaqi)। ৯ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে এসে পৌঁছন তিনি। তাঁর ভারত সফর চলাকালীনই পাক যুদ্ধবিমান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং আশপাশ এলাকায় হামলা চালায়। পাল্টা জবাব দেয় আফগানিস্তানের তালিবান সরকারও। তালিবানরা ২৫টি পাক সামরিক চৌকি দখল করে, হত্যা করে ৫৮ জন সৈন্যকে। পাকিস্তান-আফগানিস্তান দ্বন্দ্বের এই আবহে দুই দেশই পরস্পরকে পাল্টা আক্রমণের হুমকি দিচ্ছে। দুই মুসলিম রাষ্ট্রের এহেন রণহুঙ্কারে উদ্বিগ্ন আরও দুই ইসলামিক রাষ্ট্র – সৌদি আরব এবং কাতার। দ্বন্দ্বের অবসানে মধ্যস্থতা করতে এগিয়ে এসেছে এই দুই দেশই।

    বিরোধের মূল কারণ (Pakistan Taliban War)

    প্রশ্ন হল, দুই মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের (Pakistan Taliban War) বিরোধের মূল কারণ কী? ভারতে কি এর কোনও প্রভাব পড়তে পারে? এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে আমাদের দেখে নিতে হবে পাক-আফগান সীমান্তে বর্তমান পরিস্থিতি কী? যুদ্ধের সম্ভাবনাই বা কতটা? এর উত্তর পেতে হলে আমাদের দেখে নিতে হবে আফগান বিদেশমন্ত্রীর ভারত সফরের দিনগুলিতে ঠিক কী ঘটেছিল ‘আফিমের দেশে’। ৯ অক্টোবর রাতে পাকিস্তান শুধু কাবুলেই নয়, খোস্ত, জলালাবাদ ও পাকতিকা প্রদেশেও বিমান হামলা চালায়। টার্গেট ছিল তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর প্রধান নূর ওয়ালি মেহসুদ। ১০ অক্টোবর টিটিপি পাকিস্তানে একটি পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে হামলা চালায়। এতে এক মেজর, এক লেফটেন্যান্ট কর্নেল, ২০ জন সৈন্য এবং ৩ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হন।

    দাবি, পাল্টা দাবি

    পরের রাতে তালিবান বাহিনী সীমান্ত বরাবর পাল্টা আক্রমণ চালায়। কাবুলে সাংবাদিক বৈঠকে তালিবান মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, এই সংঘর্ষে ৫৮ জনেরও বেশি পাক সেনা নিহত এবং ৩০ জন জখম হয়েছে। তালিবান বাহিনী অস্থায়ীভাবে ২৫টি পাকিস্তানি চৌকি দখল করেছিল। সংঘর্ষ শেষের পরে সেগুলি পাকিস্তানকে ফেরতও দিয়ে দেওয়া হয় (Amir Muttaqi)। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি জানান, পাকিস্তান কঠোর জবাব দিয়েছে। এতে ৯ জন তালিবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। তাঁর হুঁশিয়ারি, “পাকিস্তান চুপ করে থাকবে না, ইটের জবাব পাটকেল দিয়ে দেওয়া হবে।” আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, তাদের অভিযান মধ্যরাতে শেষ হয়েছে। ভবিষ্যতে পাকিস্তানের কোনও সীমান্ত লঙ্ঘন হলে পূর্ণ শক্তি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে (Pakistan Taliban War)। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে তালিবান আফগানিস্তানের রাশ হাতে নেয়। তার পর এই প্রথম পাকিস্তান সরাসরি কাবুলে ড্রোন ও জেট হামলা চালিয়েছে। অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের বিবেক মিশ্র বলেন, “সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতে পারে। তবে হামলা চলতে থাকলে সম্পূর্ণ যুদ্ধের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”

    মুত্তাকির ভারত সফরের জেরেই কি পাকিস্তান ক্ষুব্ধ?

    মুত্তাকি ভারতে পৌঁছন ৯ অক্টোবর। সেই দিনই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আফগানিস্তানকে সবচেয়ে বড় শত্রু আখ্যা দিয়েছিলেন। তিনি এও বলেছিলেন, “সেনাবাহিনী ও সরকারের ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে। আফগান মাটি থেকে সন্ত্রাসবাদ আর সহ্য করা হবে না।” বস্তুত, এরই কয়েক ঘণ্টা পরে পাকিস্তান কাবুলে বিমান হামলা চালায়। পরের দিন এক (Amir Muttaqi) সাক্ষাৎকারে আসিফ অভিযোগের আঙুল তোলেন ভারতের দিকে। তাঁর অভিযোগ, “আফগানিস্তানকে ব্যবহার করে প্রতিশোধ নিচ্ছে ভারত।” তিনি দাবি করেন, “একই ধর্মের পড়শি হওয়া সত্ত্বেও আফগানিস্তান কখনও ভাইয়ের মতো আচরণ করেনি (Pakistan Taliban War)।”

    আরও খেপে যায় পাকিস্তান

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও মুত্তাকির বৈঠকের পর আরও খেপে যায় পাকিস্তান। কারণ যৌথ বিবৃতিতে তালিবান জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার নিন্দে করে। এর পরেই পাকিস্তান তড়িঘড়ি করে আফগান রাষ্ট্রদূতকে তলব করে প্রবল আপত্তি জানায়। এও জানিয়ে দেয়, জম্মু ও কাশ্মীর সম্পর্কিত মন্তব্য রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাব ও ওই অঞ্চলের আইনানুগ মর্যাদা লঙ্ঘনের শামিল।ভারতের প্রাক্তন কূটনীতিক বীণা সিক্রি বলেন, “মুত্তাকির ভারত সফর নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছে পাকিস্তান।” জেএনইউয়ের অধ্যাপক রাজন কুমার বলেন, “পাকিস্তানের হামলার সময়সূচি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে মুত্তাকির ভারত সফরের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এর ইঙ্গিতও স্পষ্ট। আফগানিস্তান যদি ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়, তবে তার মাশুল গুণতে হবে তাদের (Pakistan Taliban War)।”

    সংঘাতের ৩ কারণ

    প্রশ্ন হল, পাকিস্তান ও তালিবানের সংঘাতের প্রকৃত কারণ কী? নয়ের দশকে পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকতায় জন্ম হয় তালিবানের। তালিবান যোদ্ধাদের অস্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং সহায়তা দেয় পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। ১৯৯৬ সালে কাবুল পতনের পর তালিবান সরকারকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিল যারা, তাদের মধ্যে ছিল পাকিস্তানও। ২০০১ সালে মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তানে ঢুকলে আমেরিকার পাশে দাঁড়ায় পাকিস্তান। এর জেরে তালিবান নেতা মোল্লা ওমর পাকিস্তানকে বিশ্বাসঘাতক আখ্যা দেন। এর পর থেকেই সম্পর্কের অবনতি শুরু হয় পাকিস্তানের সঙ্গে তালিবানদের। ২০২১ সালে তালিবান ফের আফগানিস্তানের ক্ষমতায় এলে পাকিস্তান সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করে। তাতে অবশ্য কোনও লাভ হয়নি। বরং, তিনটি বড় ইস্যুতে সংঘাত তীব্র হয়।

    সংঘাতের ইস্যু

    এই ইস্যুগুলি হল, টিটিপিকে (TTP) আশ্রয় দেওয়া। টিটিপি পাকিস্তানের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জঙ্গি হুমকি, যারা ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৪ হাজারেরও বেশি পাকিস্তানিকে হত্যা করেছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান তালিবান সীমান্তের ওপারে টিটিপি জঙ্গিদের আশ্রয় ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এর ওপর রয়েছে সীমান্ত বিরোধ। ২ হাজার ৬৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ ডুরান্ড লাইনকে  (Durand Line) (১৮৯৩ সালে এই রেখা টেনেছিলেন ব্রিটিশ অফিসার মোর্টিমার ডুরান্ড) আফগানিস্তান কৃত্রিম ঔপনিবেশিক সীমারেখা হিসেবে অস্বীকার করে। এই রেখাই পশতুন ও বেলুচ সম্প্রদায়কে বিভক্ত করে রেখেছে (Amir Muttaqi)। ২০২১ সালের পর জঙ্গি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পাকিস্তান সীমান্তে বেড়া দিতে শুরু করে। তালিবান প্রশাসন একে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে মনে করে। আফগান শরণার্থীদের বহিষ্কারও, দুই দেশের দ্বন্দ্বের একটি বড় কারণ। সোভিয়েত আগ্রাসনের সময় থেকে পাকিস্তান লক্ষাধিক আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। রাষ্ট্রসংঘের শরণার্থী সংস্থা (UNHCR) জানিয়েছে, এখনও প্রায় ১৫ লাখ আফগান পাকিস্তানে রয়েছে। ২০২৩ সালে পাকিস্তান নিরাপত্তা উদ্বেগ ও অর্থনৈতিক বোঝার কথা বলে অ-নথিভুক্ত আফগানদের বহিষ্কার করতে শুরু করে। তালিবান একে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি বলে অভিহিত করে। তারা কবুল করে, আফগানিস্তানের পক্ষে এই শরণার্থীদের পুনর্বাসন দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ নেই (Pakistan Taliban War)।

    তালিবানি কৌশল

    প্রশ্ন হল, যদি সত্যিই যুদ্ধ বাঁধে, তাহলে কী হবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে তালিবানরা পাকিস্তানের তুলনায় অনেক দুর্বল। তবে পাকিস্তানকে সামরিকভাবে চাপে ফেলতে তারা গেরিলা কৌশল অবলম্বন করতে পারে। রাজন কুমার বলেন, “অস্বীকার করলেও, তালিবান টিটিপিকে মদত দিয়ে চলেছে। তার কারণ উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে যাতে পাকিস্তানকে দু’টি ফ্রন্টে লড়াই করতে বাধ্য করা যায়।এদিকে, সম্প্রতি, সৌদি আরব এবং পাকিস্তান একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যাতে বলা হয়েছে একটির ওপর আক্রমণ উভয়ের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে সৌদি আরব। তাই দ্বন্দ্ব মেটাতে এগিয়ে এসেছে তারা। এগিয়ে এসেছে মুসলিম রাষ্ট্র কাতারও (Pakistan Taliban War)।

    ভারতের ওপর প্রভাব

    প্রশ্ন হল, পাক-তালিবান সংঘাত ভারতের ওপর কী প্রভাব ফেলবে? আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান ও তালিবানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা আফগানিস্তানে ভারতের প্রভাব বিস্তারের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করছে। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যখন কাশ্মীরে পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ভারতকে (Amir Muttaqi)। রাজন কুমারের পর্যবেক্ষণ, তালিবান ভারতের মতাদর্শগত মিত্র না হলেও, তারা নয়াদিল্লির কাছে অর্থনৈতিক, চিকিৎসা ও প্রযুক্তিগত সাহায্য চায়। তবে ভারত সম্ভবত মানবিক ও উন্নয়নমূলক সাহায্যের মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখবে, এড়িয়ে চলবে সামরিক জটিলতা (Pakistan Taliban War)।

LinkedIn
Share