Author: pranabjyoti

  • Pakistan: ধর্মীয় বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে ভারতে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ ছড়ানোর ছক কষছে পাকিস্তান-তুরস্ক! সতর্কবার্তা মার্কিন বিশ্লেষকের

    Pakistan: ধর্মীয় বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে ভারতে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ ছড়ানোর ছক কষছে পাকিস্তান-তুরস্ক! সতর্কবার্তা মার্কিন বিশ্লেষকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ধর্মীয় ও সামাজিক বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। রাজনৈতিক প্রচার, সংবাদমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন সংগঠনকে হাতিয়ার করে ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে এই দুই দেশ। এমনই (India Civil War Warning) আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে ‘দ্য সানডে গার্ডিয়ানে’ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে। সেখানে বলা হয়েছে, কাশ্মীর প্রশ্নে দীর্ঘদিনের অবস্থানের পাশাপাশি এবার ভারতের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় সমীকরণকেও নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইছে ইসলামাবাদ (Pakistan) ও আঙ্কারা (তুরস্কের রাজধানী)। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সামাজিক সংহতির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

    ‘কুড ইন্ডিয়া ফেস আ সেক্টারিয়ান সিভিল ওয়ার?’ শীর্ষক ওই নিবন্ধটি ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত হয়। লেখক মাইকেল রুবিন ওয়াশিংটন ডিসির মিডল ইস্ট ফোরামের নীতি বিশ্লেষণ বিভাগের পরিচালক এবং উসানাস ফাউন্ডেশনের বিশিষ্ট ফেলো। তাঁর দাবি, সুন্নি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তান ও তুরস্ক রাজনৈতিক বক্তব্য, সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যে এমন একটি ধর্মীয় রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে, যা ভারতের বহুধর্মীয় ও গণতান্ত্রিক পরিচয়কে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

    রুবিনের মতে, ভারতের বিভিন্ন ধর্মীয় অসন্তোষকে রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করার চেষ্টা করছে এই দুই দেশ। এর ফলে বৃহত্তর সাম্প্রদায়িক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্বাধীন তুরস্ক ভারতের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় পরিস্থিতিকে নিজেদের ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান এখনও দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ধর্মীয় রাজনৈতিক মতাদর্শকে সামনে রেখে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

    দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রচার থেকে নতুন রাজনৈতিক বয়ান (Pakistan)

    নিবন্ধে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের একাধিক বক্তব্যের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, অ-মুসলিম রাজনৈতিক কর্তৃত্বের অধীনে মুসলিমদের বসবাসের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলার প্রবণতা দেখা গিয়েছে।

    ২০১৯ সালের ৬ অগাস্ট পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে মুহাম্মদ আলি জিন্নার পৃথক মুসলিম রাষ্ট্রের দাবির বিষয়টি উঠে আসে। পাশাপাশি তিনি এমন ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন যে, ভবিষ্যতে ভারত শুধুমাত্র হিন্দুদের দেশ হয়ে উঠতে পারে।

    ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের মুখেও একই ধরনের বক্তব্য শোনা গিয়েছিল। পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ভিত্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, জীবনযাপনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে এবং তারা দু’টি পৃথক জাতি।

    রুবিনের মতে, এই ধরনের বক্তব্য শুধুমাত্র জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ভূখণ্ডগত দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এর মধ্যে বৃহত্তর ধর্মীয় রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিফলন রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের কৌশলগত সহযোগী তুরস্কও ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে একই ধরনের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

    ভারতের মুসলিমদের পরিস্থিতি নিয়ে এরদোয়ানের বক্তব্য

    ভারতের মুসলিমদের পরিস্থিতি নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের একাধিক মন্তব্যকে এই প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন রুবিন।

    ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পার্শ্ববৈঠকে পাকিস্তান ও তুরস্কের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিদ্বেষমূলক বক্তব্য সংক্রান্ত একটি আলোচনামঞ্চে ভারতের মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিংসার অভিযোগ তোলেন এরদোয়ান।

    এর পাঁচ মাস পর নিজের রাজনৈতিক দলের তরুণ সদস্যদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ভারতকে এমন একটি দেশ হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে হিন্দুদের হাতে মুসলিমরা গণহত্যার শিকার হচ্ছেন (Pakistan) বলে তাঁর অভিযোগ।

    রুবিনের ব্যাখ্যা, এই ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে তুরস্ক ভৌগোলিক সীমানার বাইরেও বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। একই সঙ্গে ভারতের বিরুদ্ধে বিতর্কিত বয়ান তুলে ধরে নিজেদের ধর্মীয় রাজনৈতিক বিদেশনীতি আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে আঙ্কারা।

    ভারতবিরোধী প্রচারে তুরস্ক-পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম

    ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচার ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তুরস্কের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম এবং পাকিস্তানের বিশিষ্ট ভাষ্যকারদের ভূমিকারও উল্লেখ করেছেন রুবিন।

    বিশেষভাবে উঠে এসেছে তুরস্কের সংবাদপত্র ‘ইয়েনি সাফাকে’র নাম। সংবাদপত্রটিকে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের রাজনৈতিক শিবিরের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়। ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল পত্রিকাটির সম্পাদক ইব্রাহিম কারাগুল একটি নিবন্ধে দাবি করেন, চিন ও তুরস্ক পাকিস্তানকে সমর্থন করলে ভারত ভেঙে যেতে পারে। ভারতকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রসঙ্গে তিনি মুঘল, সেলজুক এবং উসমানীয় সাম্রাজ্যের ঐতিহাসিক প্রসঙ্গও টেনে আনেন।

    ৮ মে ওই সংবাদপত্রে পাকিস্তানি ভাষ্যকার ফুরকান হামিদের একটি অতিথি সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়। তিনি তুরস্কের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের উর্দু বিভাগের প্রধান। ওই লেখায় ভারতকে সংখ্যালঘুদের বসবাসের পক্ষে ক্রমশ প্রতিকূল দেশ হিসেবে তুলে ধরা হয় (India Civil War Warning)।

    পরের দিন তুরস্কের ‘সাবাহ’ সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি লেখায় ভাষ্যকার হিলাল কাপলান ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যা সংঘটিত হওয়ার অভিযোগ তোলেন।

    রুবিনের মতে, এই ধরনের প্রকাশনা নিছক ভারত সরকারের নীতির সমালোচনা নয়। বরং ধারাবাহিকভাবে ভারতকে মুসলিমবিরোধী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি ধর্মীয় মেরুকরণকে উৎসাহিত করার (Pakistan) প্রচেষ্টা।

    তাঁর আশঙ্কা, সোশ্যাল মিডিয়া, দাতব্য সংস্থা এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠীর একাংশের মধ্যে ধর্মীয় অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তোলা হতে পারে। এর ফলে উগ্রপন্থী মনোভাব এবং রাজনৈতিক অধিকারবোধের নামে সংঘাতের প্রবণতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    পাকিস্তানে হিন্দু, খ্রিস্টান ও শিখদের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন

    ভারতের বিরুদ্ধে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের অভিযোগ তোলা পাকিস্তান ও তুরস্কের নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে নিজেদের দেশের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতির তুলনাও করেছেন রুবিন।

    তাঁর দাবি, স্বাধীনতার পর থেকে পাকিস্তানে হিন্দু ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সামাজিক অবস্থানের উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। দেশটির স্বাধীনতার সময় এই দুই সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এমনকী তাঁদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলিকে জাতীয় ছুটির মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টিও একসময় বিবেচনা করা হয়েছিল।

    কিন্তু পরবর্তী সময়ে বৈষম্য, ধর্মীয় নিপীড়ন, হামলা এবং ধর্ম অবমাননা সংক্রান্ত আইনের অপব্যবহারের কারণে সংখ্যালঘুদের একাংশ দেশ ছাড়তে বাধ্য হন বলে নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে।

    পাকিস্তানে শিখ সম্প্রদায়ের অবস্থার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। রুবিনের বক্তব্য, ভারতে খালিস্তানপন্থী আন্দোলনকে পাকিস্তানের সমর্থনের সঙ্গে সে দেশের পাঞ্জাবে শিখ সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক অবক্ষয়ের বিষয়টি স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করে।

    তুরস্কের ক্ষেত্রেও এরদোয়ান সরকারের ধর্মীয় রাজনৈতিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করেছেন তিনি।

    ভারতের বৈচিত্র্যই সবচেয়ে বড় শক্তি

    রুবিন তাঁর নিবন্ধে ভারতের ধর্মীয় ও ভাষাগত বৈচিত্র্যের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং অন্যতম বৈচিত্র্যপূর্ণ সমাজ। এখানে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, জরথুষ্ট্রী-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন।

    বিশ্বের বৃহত্তম হিন্দু ও জৈন জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠীর বাস ভারতেই। দেশের খ্রিস্টান জনসংখ্যা অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। পাশাপাশি ভারতে অন্তত ১০ হাজার মানুষের মাতৃভাষা হিসেবে ব্যবহৃত ২৭০টিরও বেশি ভাষা এবং ৭০০-র বেশি জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব রয়েছে।

    রাজনৈতিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা ফ্রিডম হাউসের বিভিন্ন মূল্যায়নের উল্লেখ করে রুবিনের দাবি, রাজনৈতিক স্বাধীনতার একাধিক মাপকাঠিতে ভারতের অবস্থান পাকিস্তান ও তুরস্কের তুলনায় ভালো। তাঁর আরও বক্তব্য, আন্তর্জাতিক সংস্থাটির বিভিন্ন সময়ে ভারতের সমালোচনা সত্ত্বেও ধর্মীয় সহাবস্থানের ক্ষেত্রে ভারতের রেকর্ড একাধিক মুসলিম (Pakistan) সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের তুলনায় উন্নত।

    সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় নতুন চ্যালেঞ্জ?

    নিবন্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হল, পাকিস্তান ও তুরস্ক প্রচলিত সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত প্রচারের মাধ্যমে ভারতের ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে।

    রুবিন বিংশ শতাব্দীর ভূখণ্ডগত সংঘাতের সঙ্গে একবিংশ শতাব্দীর নতুন ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের পার্থক্য তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, চিনের আকসাই চিন দখল, জম্মু ও কাশ্মীরের একটি বড় অংশে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ, তুরস্কের উত্তর সাইপ্রাস দখল এবং ইরাকের কুয়েত আক্রমণ ছিল প্রচলিত ভূখণ্ডগত আগ্রাসনের উদাহরণ।

    কিন্তু বর্তমান সময়ে সংঘাতের ধরন বদলেছে। এখন বিদ্রোহ, অপপ্রচার, অনিয়মিত নেটওয়ার্ক, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে কাজে লাগানোর প্রবণতা বাড়ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার পদক্ষেপ এবং বাল্টিক অঞ্চলের রুশভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছেন।

    এই প্রেক্ষাপটে রুবিনের আশঙ্কা, এরদোয়ানের নেতৃত্বাধীন তুরস্ক ভারতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রসংঘের কূটনৈতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের পথও খুঁজতে পারে আঙ্কারা।

    রাষ্ট্রসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদে তুরস্কের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী এবং বর্তমানে ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার মহাসচিব ফেরিদুন সিনিরলিওগলুকে প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার জন্য এরদোয়ানের প্রচেষ্টার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন তিনি।

    রুবিনের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে ধর্মীয় নিপীড়নের অভিযোগ তুলে নয়াদিল্লির উপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে।

    খালিস্তান আন্দোলনের উদাহরণ টেনে সতর্কবার্তা

    আটের দশকে পাকিস্তানের সমর্থনপুষ্ট খালিস্তানপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের প্রসঙ্গও টেনেছেন রুবিন। তাঁর মতে, সেই সময় বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসবাদ ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সামনে গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল।

    তাঁর আশঙ্কা, ভারতের প্রায় ২০ কোটি মুসলিম জনগোষ্ঠীর সামান্য একটি অংশকেও যদি উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলেও তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। দেশের জাতীয় স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বিনিয়োগের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    রুবিনের মূল্যায়ন, সাম্প্রদায়িক সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে কয়েক দশক পিছিয়ে দিতে পারে। এমনকী পরিস্থিতি পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধের পর্যায়ে না পৌঁছলেও তার প্রভাব মারাত্মক হতে পারে।

    নিবন্ধের উপসংহারে বলা হয়েছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সমস্যাকে শুধুমাত্র পাকিস্তান বা চিনের মতো প্রতিবেশী দেশের সামরিক হুমকির নিরিখে বিচার করলে চলবে না। ইসলামাবাদ ও আঙ্কারার মধ্যে ক্রমবর্ধমান মতাদর্শগত ঘনিষ্ঠতা, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে প্রচার এবং ধর্মীয় বয়ানে প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টাকেও গুরুত্ব দিয়ে (Pakistan) দেখতে হবে।

    রুবিনের মতে, ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে এই ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় রাজনৈতিক প্রচারের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক বিভাজনকে কাজে লাগানোর (India Civil War Warning) যে কোনও প্রচেষ্টা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না করলে অদূর ভবিষ্যতে তৈরি হতে পারে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকট।

     

  • BLA: বালোচিস্তানে ২৫টিরও বেশি হামলার দাবি বালোচ স্বাধীনতাকামীদের, হত ৪০-এর বেশি পাক সেনা-নিরাপত্তাকর্মী

    BLA: বালোচিস্তানে ২৫টিরও বেশি হামলার দাবি বালোচ স্বাধীনতাকামীদের, হত ৪০-এর বেশি পাক সেনা-নিরাপত্তাকর্মী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশে গত ২৬ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বরের মধ্যে ২৫টিরও বেশি হামলা চালানোর দাবি করেছে বিএলএ (BLA)। সংগঠনটির দাবি, এই হামলাগুলিতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং রাষ্ট্রসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৪০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। জখম হয়েছেন আরও কয়েক ডজন। একাধিক সামরিক ও রসদ পরিবহণকারী গাড়িও ধ্বংস করা হয়েছে (Pakistani Troops) বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

    বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিএলএ-র মুখপাত্র জিয়াঁদ বালোচ জানান, তাঁদের যোদ্ধারা বিভিন্ন এলাকায় পরিকল্পিত অভিযান এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা বিভাগের কর্মী এবং সংগঠনটির ভাষায় ‘ডেথ স্কোয়াড’গুলিকে নিশানা করেছে। এই অভিযানে একাধিক সামরিক যানবাহন ধ্বংস করা হয়েছে।

    এই সংঘর্ষের জেরে বালোচিস্তানজুড়ে কয়েক দিনের জন্য রেল পরিষেবা বন্ধ রেখেছিল পাক প্রশাসন। জাফর এক্সপ্রেসে হামলার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কয়েক বছর আগে বালোচ জাতীয়তাবাদী বিদ্রোহীদের হাতে অপহৃত হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছিল এই ট্রেন। তার পরেও একাধিকবার ট্রেনটিকে নিশানা করা হয়েছে। সাধারণত এই ট্রেনে সামরিক কর্মীদের যাতায়াতের কারণেই হামলার ঝুঁকি বেশি বলে মনে করা হয়।

    সেনা হতাহতের তথ্য প্রকাশে অনীহা পাকিস্তানের (BLA)

    একসময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সংবাদ ও জনসংযোগ বিভাগ নিয়মিতভাবে সেনা হতাহতের তথ্য প্রকাশ করত। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে নিষিদ্ধ সশস্ত্র সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র সঙ্গে সংঘর্ষ কিংবা বালোচ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে লড়াইয়ের বিবরণও নিয়মিত জানানো হত। কিন্তু দুই অশান্ত প্রদেশেই সেনাবাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির পর থেকে সেই স্বচ্ছতা অনেকটাই কমেছে বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যম ‘দ্য বালোচিস্তান পোস্ট’।

    কোনও অভিযানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিক নিহত হলে অবশ্য কখনও কখনও তা স্বীকার করতে বাধ্য হয় সেনার জনসংযোগ বিভাগ। গত ১৯ অক্টোবর লাহোরের বাসিন্দা মেজর ওয়াজাহাত ওয়াহিদের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছিল তারা। একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা হাতে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্রের হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য সেনাকর্মীদের হতাহত হওয়ার বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    বর্তমানে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ কিংবা হতাহতের বিস্তারিত বিবরণ খুব কমই সামনে আনে ওই বিভাগ। অধিকাংশ বিবৃতিতে বরং টিটিপি বা পাকিস্তানি নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত বালোচ বিদ্রোহীদের ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই ঘটনার দুই সপ্তাহ কিংবা এক মাস পরে অভিযানের বিবরণ প্রকাশ করা হয়।

    ৩০টিরও বেশি গাড়ির কনভয়ে হামলা

    বিএলএর দাবি, গত ২৬ অক্টোবর খুজদার জেলার কারখ এলাকায় পাকিস্তানি নিরাপত্তাবাহিনীর ৩০টিরও বেশি গাড়ির একটি কনভয়ে অতর্কিতে হামলা চালান তাদের যোদ্ধারা। ওই কনভয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ, সন্ত্রাসদমন বিভাগ এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী বাহিনীর গাড়ি ছিল। খুজদার রেঞ্জের ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল ইমরান কুরেশি এবং জেলার পুলিশ সুপারের জন্য বরাদ্দ গাড়িও ওই কনভয়ে ছিল। হামলায় অন্তত ৯ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তিনটি গাড়ি অকেজো হয়ে গিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

    সংগঠনটির আরও দাবি, আগের দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত কোয়েটা-করাচি সড়ক অবরোধ করে রেখেছিলেন তাদের সদস্যরা। ওই সময় যাতায়াতকারী গাড়ি থামিয়ে তল্লাশিও চালানো হয়।

    খারান জেলাতেও একাধিক সংঘর্ষের দাবি করেছে বিএলএ। গত ২৮ অক্টোবর বরশোনকিতে একটি নিরাপত্তাবাহিনীর গাড়ির কনভয়ে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে তারা। ওই ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি সংগঠনটির।

    এর পর ১ নভেম্বর লেজাই এবং সংলগ্ন এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ সংঘর্ষ চলে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, অগ্রসরমান সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পাশাপাশি দূরনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরক যন্ত্রের সাহায্যে একটি সামরিক গাড়ি ধ্বংস করা হয়। তিনটি পৃথক এলাকায় পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সংঘর্ষ চলে। তাতে আটজনেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি বিএলএর। পরদিন একই এলাকায় আরও একটি সামরিক গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এর ফলে সেনাদের পিছিয়ে যেতে হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

    গত ৩ নভেম্বর খারানেই আরও দুটি হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে সংগঠনটি (BLA)। সকালে জোমি এলাকায় এবং রাতে নওরোজ কালাতে সামরিক গাড়ি নিশানা করা হয়। জোমির হামলায় অন্তত তিনজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন বলে দাবি। একই দিনে রোটিনকো এলাকায় একটি সামরিক চৌকিতেও ভারী অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। তাতে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএলএ।

    তুরবত, বাসিমা ও নুশকিতেও হামলার দাবি

    বিবৃতি অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর তুরবত জেলার গিবান এলাকায় একটি সামরিক গাড়ির কনভয়ে হামলা চালান বিএলএ-র সদস্যরা। দু’টি গাড়ি লক্ষ্য করে চালানো ওই হামলায় তিনজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। একই দিনে কেচ জেলার হিররঙ্ক কানরাক এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি টহলদারি দলের উপর দূরনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরক যন্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়।

    ২৮ অক্টোবর বাসিমায় সাজিদের কাছে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ির কনভয়ে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তাতে চারজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং অন্তত সাতজন গুরুতর জখম হন। একই দিনে পাঞ্জগুর জেলার গোয়ারগো এলাকায় আর একটি সামরিক গাড়িতে হামলা চালানো হয়। তাতে এক নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি।

    নুশকির আহমদ ওয়াল এলাকায় গত ২৬ অক্টোবর ভারী অস্ত্র নিয়ে সেনাবাহিনীর প্রধান শিবিরে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে বিএলএ। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি। চার দিন পর ওই এলাকাতেই সেনাবাহিনীর ট্রাকের একটি বহরে অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। তাতে দুজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত, বেশ কয়েকজন আহত এবং একটি ট্রাক ধ্বংস হয় বলে সংগঠনটির দাবি।

    গত ২ নভেম্বর আহমদ ওয়াল এলাকায় পায়ে হেঁটে এবং গাড়িতে যাতায়াতকারী সেনাদের ফের নিশানা করা হয়। ওই হামলায় আরও তিনজন নিহত এবং কয়েকজন জখম হয়েছেন বলে দাবি বিএলএর। একই দিনে মাস্তুংয়ের প্রধান সড়কে মদিনা হোটেলের কাছে একটি সামরিক গাড়ির কনভয়ে হামলা চালানো হয়। তাতে চারজনেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে (Pakistani Troops) দাবি সংগঠনটির। এ ছাড়াও ৩০ অক্টোবর হোশাবের গোয়ান্ড সারিন এলাকায় বিস্ফোরণে একটি সামরিক গাড়ি ধ্বংস করার দায়ও স্বীকার করেছে বিএলএ।

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান

    বিএলএর মুখপাত্র জিয়াঁদ বালোচ জানিয়েছেন, সংগঠনটির গোয়েন্দা শাখা জিরাবের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেও একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, ২৬ অক্টোবর ডালবান্দিনের কোহ-এ-তারান এলাকায় শাহজাহান ওরফে শাহুর গাড়ি বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়। এর পর তাঁর গোষ্ঠীর অন্য সদস্যদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। শাহু-সহ তিনজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি সংগঠনটির (BLA)। বিএলএর অভিযোগ, শাহু পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর একজন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, স্থানীয় সহযোগীদের নিয়োগ এবং ডালবান্দিন ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সংগঠনটির ভাষায় ‘মৃত্যুদল’ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    গত ২৮ অক্টোবর রাতে গোয়াদরের ঘাট্টি ডোর এলাকায় লাহোরের বাসিন্দা রানা মহম্মদ আহমেদকে হত্যার দায়ও স্বীকার করেছে বিএলএ। সংগঠনটির দাবি, তিনি পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরিচয় গোপন রেখে তথ্য সংগ্রহ এবং সামরিক অভিযানে সহযোগিতা করতেন তিনি। এ ছাড়াও ২৮ অক্টোবর তুরবতের নোদিজ এলাকায় রাষ্ট্রসমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের বহনকারী গাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। এতে গাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভিতরে থাকা ব্যক্তিরা আহত হন।

    পুলিশ থানা দখল ও সড়ক অবরোধ

    গত ৩১ অক্টোবর খারান জেলার মুসকান কালাত পুলিশ থানার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে বিএলএ। সংগঠনটির বক্তব্য, থানার সমস্ত পুলিশকর্মীকে আটক করার পাশাপাশি তাঁদের অস্ত্রশস্ত্র ও তদন্তের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়। পরে বিস্ফোরক ব্যবহার করে থানার ভবনটি ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি। এর আগে ২৬ অক্টোবর বাব-এ-খারানের কাছে নির্মীয়মাণ ডেপুটি কমিশনারের দফতরে বিস্ফোরক হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। হামলার পর ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসা নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদেরও নিশানা করা হয়। এতে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি।

    বাসিমার দোরুগ এলাকায় ৩০ অক্টোবর একটি ফাঁকা সামরিক চৌকি বিস্ফোরক দিয়ে ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছে বিএলএ। একই দিনে পাসনি জিরো পয়েন্টের কাছে একটি হোটেলে লাগানো নজরদারি ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়। সংগঠনটির অভিযোগ, পাকিস্তানি নিরাপত্তাবাহিনী ওই ক্যামেরাগুলি নজরদারির কাজে ব্যবহার করত। সামরিক রসদ ও বাণিজ্যিক যানবাহন আটক করার একাধিক ঘটনার কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ২৭ অক্টোবর নুশকির জারিন জঙ্গলে সেনাবাহিনীর একটি রসদবাহী গাড়ি আটক করা হয় বলে দাবি। ৩০ অক্টোবর ডালবান্দিন ও ইয়াকমাচের মধ্যবর্তী প্রধান সড়ক থেকে পাকিস্তানি সেনাদের জন্য খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বহনকারী আরও একটি গাড়ি আটক করা হয়। এর পর ৩১ অক্টোবর কোয়েটা-তাফতান সড়কের চেয়াহতর এলাকায় দুটি বাণিজ্যিক গাড়ি আটক করা হয়। বিএলএ এই পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক অবরোধে’র অংশ বলে উল্লেখ করেছে। ২ নভেম্বর একই সড়কে অবরোধ চলাকালীন আরও একটি বাণিজ্যিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি সংগঠনটির (BLA)।

    সাত সদস্যের মৃত্যুর কথা স্বীকার বিএলএর

    একদিকে পাকিস্তানি নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে একের পর এক হামলার দাবি করলেও, অক্টোবর মাসে সংঘর্ষে নিজেদের সাত সদস্যের মৃত্যুর কথাও স্বীকার করেছে বিএলএ। সংগঠনটির বিবৃতি অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর কালাতের রোডিনজো এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে চার সদস্যের মৃত্যু হয়। তাঁদের নাম ফরিদ ওরফে আবিয়ান, মুনির ওরফে নূরা, শাহজেব ওরফে এহসান এবং জলিল। এ ছাড়া ২৪ অক্টোবর মাঙ্গুচারের চোটাঙ্ক এলাকায় ঔরঙ্গজেব ওরফে আসিফ নিহত হন। একই দিনে সুরাবের গিদার এলাকায় সংঘর্ষে নোমান জামালদিনি ওরফে কমরেড সামির এবং পারভেজ মহম্মদ হাসনি ওরফে (Pakistani Troops) কাদিরের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। নিহত সাত সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বাধীন বালোচিস্তানের দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ফের অঙ্গীকারও করেছে বিএলএ (BLA)।

     

  • Elon Musk: মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরেই বড় ধাক্কা খেলেন ইলন মাস্ক! কোন সমস্যায় পড়তে পারেন মার্কিন ধনকুবের?

    Elon Musk: মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরেই বড় ধাক্কা খেলেন ইলন মাস্ক! কোন সমস্যায় পড়তে পারেন মার্কিন ধনকুবের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা খেয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ক্ষতির নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি ইলন মাস্ক। তিনি নিজে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি (Elon Musk)। টেক্সাস, জর্জিয়া, ওহাইও কিংবা অন্য কোনও অঙ্গরাজ্যের ব্যালটেও ছিল না তাঁর নাম। তবু এই নির্বাচনের ফলের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থ গভীরভাবে জড়িয়ে ছিল (US Midterm Elections)।

    গত কয়েক বছরে রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম বড় আর্থিক পৃষ্ঠপোষক হয়ে উঠেছিলেন মাস্ক। বিপুল ব্যক্তিগত সম্পদ ব্যবহার করে রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে অর্থ জুগিয়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া এক্সকে কাজে লাগিয়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছেন তিনি। ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতা পেলে আমেরিকার কী পরিণতি হতে পারে, তা নিয়েও বারবার সতর্ক করেছেন তাঁর অনুগামীদের।

    কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ে সেই অর্থ, প্রভাব কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচার কোনও কিছুই কাজে আসেনি। প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান যেমন বড় ধাক্কা খেল, তেমনই রিপাবলিকানদের পরাজয় মাস্কের রাজনৈতিক কৌশলকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। বিশেষ করে টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যে, যেখানে মাস্ক বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন, সেখানেও প্রত্যাশিত ফল পেল না রিপাবলিকান শিবির।

    মাস্কের কাছে এই পরাজয় শুধু বিব্রতকর নয়। আমেরিকার ভোটারদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা, তাঁর রাজনৈতিক বিচারবুদ্ধি এবং একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে নিজের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যকে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত—সব কিছু নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

    ব্যর্থ মাস্ক (Elon Musk)

    রিপাবলিকানদের নির্বাচনী লড়াইয়ে মাস্কের আর্থিক অবদান ছিল নজিরবিহীন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রায় ৪৭৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন তিনি। এই নির্বাচনী পর্বে ব্যক্তিগতভাবে অর্থদানকারী ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই ছিলেন শীর্ষে।

    এর আগে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, অক্টোবর মাসের মধ্যেই তাঁর নির্বাচনী ব্যয়ের পরিমাণ ৩৬৬ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। রিপাবলিকানপন্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন এবং নির্বাচনী প্রচার সংস্থার মাধ্যমে এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় করা হয়।

    আমেরিকা পিএসি, সেনেট লিডারশিপ ফান্ড-সহ একাধিক রিপাবলিকানপন্থী সংগঠনের মাধ্যমে অর্থ ঢেলেছিলেন মাস্ক। উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট—কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা এবং ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের পরিকল্পনাকে বাধাহীনভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা।

    টেক্সাসের সেনেট নির্বাচনেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের বিরুদ্ধে লড়াই করেন (Elon Musk) ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো।

    টেক্সাসের সঙ্গে মাস্কের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। নিজের বাসস্থান এবং একাধিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম এই অঙ্গরাজ্যে সরিয়ে এনেছেন তিনি। টেসলা ও স্পেসএক্সের মতো সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিও রয়েছে সেখানে। ফলে টেক্সাসের সেনেট নির্বাচন তাঁর কাছে নিছক একটি রাজনৈতিক লড়াই ছিল না। যে রাজনৈতিক ব্যবস্থার কাছ থেকে তিনি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন, সেই ব্যবস্থাকে নিজের বিপুল আর্থিক ক্ষমতা দিয়ে রক্ষা করতে পারবেন কি না, তারও পরীক্ষা ছিল এই নির্বাচন। কিন্তু ভোটারদের রায় ছিল সম্পূর্ণ উল্টো।

    কেন প্যাক্সটনকে হারিয়ে জয়ী হন জেমস টালারিকো। এর ফলে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসেও ডেমোক্র্যাটদের উত্থান নতুন করে আলোচনায় আসে। জয়ের পর ভাষণে টালারিকো সেই ধনকুবের অর্থদাতাদের প্রসঙ্গ তোলেন, যাঁরা নির্বাচনী ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন। ভোটাররা গলিয়াথকে পরাজিত করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। অথচ এই ফল ঠেকাতেই কয়েকশো মিলিয়ন ডলার খরচ করেছিলেন মাস্ক। ঘটনার মধ্যে রয়েছে গভীর তাৎপর্য। যাঁর ব্যক্তিগত সম্পদ বিশ্বের বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে বিপুল প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তিনিও যে নিজের পছন্দমতো রাজনৈতিক ফল কিনে নিতে পারবেন না, তা এই নির্বাচন আবারও দেখিয়ে দিল।

    মাস্কের রাজনৈতিক বোঝা

    মাস্কের নির্বাচনী বিপর্যয়ের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে তাঁর বিতর্কিত ভূমিকার সম্পর্কও রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর প্রশাসনের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়ে ওঠেন মাস্ক। সরকারি দক্ষতা বৃদ্ধি দফতর বা ডিওজিই-র সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি প্রশাসনিক ব্যয় কমানো, অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে ফেলা এবং সরকারি কাজের গতি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। রক্ষণশীলদের একাংশের কাছে মাস্ক ছিলেন এমন এক উদ্যোক্তা, যিনি বেসরকারি শিল্পক্ষেত্রের দক্ষতা ও জবাবদিহির ধারণাকে সরকারি ব্যবস্থায় প্রয়োগ করতে পারবেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই এই উদ্যোগ বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে।

    কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ছাঁটাই, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো এবং একাধিক প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়। পাশাপাশি, নির্বাচিত প্রতিনিধি না হয়েও একজন ধনকুবের কীভাবে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে এতটা প্রভাব বিস্তার করছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে (Elon Musk)।

    প্রশাসন থেকে সরে যাওয়ার পরেও সেই বিতর্কের ছায়া পুরোপুরি কাটেনি। বরং মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে মাস্ক বুঝিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তিনি ছেড়ে দেননি।

    সমস্যা হল, এত দিনে তিনি শুধুমাত্র প্রযুক্তি ও শিল্পক্ষেত্রের একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। বরং মার্কিন রাজনীতির অন্যতম বিতর্কিত ও মেরুকরণ সৃষ্টিকারী ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন।

    একজন ব্যবসায়ীর রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে তাঁর সমস্ত গ্রাহক একমত না-ও হতে পারেন। কিন্তু কোনও ব্যবসায়ী যখন বারবার প্রকাশ্যে রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন, তখন সেই মতবিরোধ তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থাগুলির উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে।

    মাস্কের বিপদের কারণ

    মাস্কের জন্য নির্বাচনের ফল অস্বস্তিকর হয়ে ওঠার আরও একটি বড় কারণ রয়েছে। তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের সঙ্গে মার্কিন সরকারের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। স্পেসএক্সের ব্যবসার বড় অংশ সরকারি চুক্তি ও অংশীদারিত্বের উপর নির্ভরশীল। টেসলার ব্যবসাও সরকারি নীতি, নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনার দ্বারা প্রভাবিত হয়। অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত তাঁর উদ্যোগগুলির জন্যও প্রয়োজন অনুকূল সরকারি নীতি, পরিকাঠামো এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহযোগিতা। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পূর্ববর্তী ঘনিষ্ঠতার কারণে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণাধীন কংগ্রেস মাস্কের কাছে তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধাজনক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছিল।কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কাজকর্ম খতিয়ে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। এর মধ্যে সরকারি দফতরে মাস্কের পূর্ববর্তী ভূমিকা এবং তাঁর ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে সরকারি সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য সংঘাতও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

    কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় মাস্কের সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে যে ধরনের তদন্তের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম থাকত, এবার সেই পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।

    অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের তদন্তের নিশানায় থাকতে পারেন মাস্ক-সহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি।

    অবশ্য এর অর্থ এই নয় যে, অবিলম্বে তাঁর ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে কিংবা সরকারি চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। তবে তাঁর জন্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে আগের তুলনায় অনেক বেশি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট।

    যে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রগুলিতে সরকারি সিদ্ধান্তের উপর বিপুল আর্থিক স্বার্থ নির্ভর করে, সেখানে এই অনিশ্চয়তা মাস্কের কাছে যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয় (US Midterm Elections)।

    এক্সকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করেও লাভ হল না

    মাস্কের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তাঁর মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া এক্সের ভূমিকা।২০২২ সালে টুইটার অধিগ্রহণ করার সময় বাক্‌স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং মতাদর্শগত সেন্সরশিপ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মাস্ক। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এক্স তাঁর রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে।

    রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থন, ডেমোক্র্যাট নেতাদের আক্রমণ এবং আমেরিকার রাজনৈতিক বিতর্কে নিজের মতামত প্রতিষ্ঠা করার জন্য বারবার এই মাধ্যমকে ব্যবহার করেছেন তিনি।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারেও রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

    বিশেষ করে টেক্সাসের সেনেট নির্বাচনে জেমস টালারিকোর বিরুদ্ধে তাঁর আক্রমণ ছিল যথেষ্ট তীব্র। ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর বিরুদ্ধে আমেরিকার গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দিতে পারে, এমন নীতির সমর্থক হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন মাস্ক। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্যও করেছিলেন। কিন্তু তাতেও টালারিকোর জয় আটকানো যায়নি। এখানেই উঠে আসছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—এক্সের মাধ্যমে বাস্তবে কতটা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম মাস্ক?

    কোনও সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকশো মিলিয়ন অনুগামী থাকা মানেই যে তাঁদের প্রত্যেককে নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শের পক্ষে নিয়ে আসা সম্ভব, এমন নয়। একইভাবে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সোশ্যাল মিডিয়ার মালিক হলেই সেই মাধ্যমের ব্যবহারকারীরা মালিকের রাজনৈতিক অবস্থান মেনে নেবেন, তারও নিশ্চয়তা নেই (Elon Musk)। বরং রাজনৈতিক বিষয়ে মাস্কের ক্রমবর্ধমান প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ উল্টে তাঁর জন্য সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, মহাকাশ গবেষণা কিংবা প্রযুক্তিক্ষেত্রে তাঁর সাফল্যের প্রশংসা করেন এমন অনেক মানুষই তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে একমত নন। বারবার দলীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার ফলে নিজের অনুগামী ও গ্রাহকদের একাংশকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে তাঁর। এই নির্বাচনের ফল থেকে অবশ্য বলা যায় না যে, এক্সের রাজনৈতিক প্রভাব সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গিয়েছে। তবে এটুকু স্পষ্ট, শুধুমাত্র এই মাধ্যমকে ব্যবহার করে ভোটের ফল নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবসাতেও বাড়তে পারে রাজনৈতিক চাপ

    মাস্কের রাজনৈতিক সমস্যার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। আমেরিকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বিপুল পরিকাঠামোসমৃদ্ধ তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে। এক্সএআই এবং তাঁর বৃহত্তর প্রযুক্তি ব্যবসার মাধ্যমে এই ক্ষেত্রেও বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে মাস্কের। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য প্রচুর বিদ্যুৎ, জমি, বিনিয়োগ এবং সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা এখন আর শুধুমাত্র পরিবেশকর্মী কিংবা ডেমোক্র্যাটদের একাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

    বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বড় তথ্যকেন্দ্রের বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহার, জলসম্পদের উপর চাপ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে তার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এই অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন।

    নির্বাচনের আগে বিজনেস ইনসাইডারের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা ক্রমশ নির্বাচনী ইস্যু হয়ে উঠছে। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা এই জনমতকে নিজেদের প্রচারের কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন।

    এমন পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণাধীন কংগ্রেস প্রযুক্তি সংস্থাগুলির দ্রুত সম্প্রসারণের পথে আরও বেশি বাধা তৈরি করতে পারে। মাস্ক হয়তো ভেবেছিলেন, রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করলে তাঁর ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনার জন্য অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় থাকবে। কিন্তু নির্বাচনের ফল তাঁর সেই প্রত্যাশায় কার্যত জল ঢেলে দিয়েছে।

    মাস্কের মস্ত বড় ভুল

    মাস্কের এই রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে একটি বড় শিক্ষা রয়েছে। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর সাফল্যের অন্যতম কারণ হল নতুন সম্ভাবনা চিহ্নিত করা, বড় ঝুঁকি নেওয়া এবং প্রতিষ্ঠিত শিল্পক্ষেত্রের প্রচলিত ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষমতা।

    টেসলাকে বিশ্বের অন্যতম বড় বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা সংস্থায় পরিণত করেছেন তিনি। স্পেসএক্সকে বাণিজ্যিক মহাকাশ অভিযানের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহ প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু ব্যবসা এবং রাজনীতি এক জিনিস নয়।

    অর্থ দিয়ে নির্বাচনী বিজ্ঞাপন চালানো যায়, জনসভার আয়োজন করা যায়, প্রচারকর্মী নিয়োগ করা যায় এবং নির্বাচনী সংগঠনকে শক্তিশালী করা যায়। কিন্তু অর্থ ব্যয় করে মানুষের সমর্থন নিশ্চিত করা যায় না।

    মাস্ক সম্ভবত মনে করেছিলেন, তাঁর বিপুল সম্পদ, এক্সের উপর নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাম্পের সঙ্গে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা তাঁকে রিপাবলিকান রাজনীতির অপরিহার্য শক্তিতে পরিণত করবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল সেই ধারণার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে দিয়েছে।

    সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, কয়েকশো মিলিয়ন ডলার খরচ করেও রিপাবলিকানদের কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো আটকাতে পারেননি তিনি। নির্বাচনী অর্থের নিরিখে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের জয়ের গতি রুখতে ব্যর্থ হয়েছে।

    পরাজয়ের পর এক্সে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করেছেন মাস্ক। নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে কৌতুকের ছলে বলেছেন, তাঁর তথাকথিত মহাকাশভিত্তিক লেজার অস্ত্রও নাকি কাজ করেনি। পাশাপাশি মহাকাশেই তথ্যকেন্দ্র তৈরির সম্ভাবনা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে এই রসিকতার আড়ালে ঢাকা পড়ছে না নির্বাচনী বিপর্যয়ের বাস্তবতা।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনে দ্বিতীয় বড় পরাজিত মাস্ক?

    মধ্যবর্তী নির্বাচনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরাজিত নিঃসন্দেহে ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ, এই নির্বাচন কার্যত তাঁর রাষ্ট্রপতিত্বের উপর গণভোটে পরিণত হয়েছিল। তাঁর দল কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। তাঁর পছন্দের একাধিক প্রার্থীও পরাজিত হয়েছেন। ফলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বাকি সময়ে তাঁর পক্ষে আইন প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠবে। তবে দ্বিতীয় বড় ধাক্কা যে ইলন মাস্কের, তা বলাই যায়।

    ট্রাম্পের মতো নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করার কোনও সাংবিধানিক দায়িত্ব মাস্কের ছিল না। তা সত্ত্বেও স্বেচ্ছায় কয়েকশো মিলিয়ন ডলার, নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা এবং জনপরিসরে প্রতিষ্ঠিত ভাবমূর্তিকে রিপাবলিকানদের জয়ের স্বার্থে বাজি রেখেছিলেন তিনি। বস্তুত, সেই বাজিতে হেরে গেলেন বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই নির্বাচনের ফল দেখিয়ে দিয়েছে যে বিপুল সম্পদ কিংবা শক্তিশালী সোশ্যাল মিডিয়ার মালিকানা থাকলেই সাধারণ আমেরিকানদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।

    মহাকাশে রকেট পাঠাতে পারেন মাস্ক, বিপুল সংখ্যায় বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করতে পারেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে পারেন। কিন্তু শুধুমাত্র অর্থের জোরে নির্বাচনী জয় নিশ্চিত করা তাঁর পক্ষেও সম্ভব নয়। যে ব্যক্তি প্রতিষ্ঠিত শিল্পব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিজের সাফল্যের ভিত গড়েছেন, তিনিই এবার বুঝতে পারলেন, ধনকুবেরের চেকবই (US Midterm Elections) দিয়ে গণতন্ত্রের ফল বদলে দেওয়া যায় না। ট্রাম্পের কাছে এই নির্বাচন রাজনৈতিক সতর্কবার্তা। আর মাস্কের কাছে এটি নিজের প্রভাব ও ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বোঝার বড় শিক্ষা হয়ে উঠতে পারে (Elon Musk)। রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারে খরচ হওয়া বিপুল অর্থের ক্ষতির থেকেও এই উপলব্ধি তাঁর ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Suvendu Adhikari: নয়া শিল্পনীতি ঘোষণার আগে নবান্নে জিন্দাল, বাংলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন-কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি

    Suvendu Adhikari: নয়া শিল্পনীতি ঘোষণার আগে নবান্নে জিন্দাল, বাংলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন-কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নয়া শিল্পনীতি ঘোষণা করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার ঠিক আগে রাজ্যে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে তাঁর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে বৈঠক করলেন জেএসডব্লিউ গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান সজ্জন জিন্দাল। বুধবার সন্ধ্যায় নবান্নে দু’পক্ষের এই বৈঠকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ঐতিহাসিক মন্দিরের সংস্কার-সহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা হয় (Sajjan Jindal)। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এটাই সজ্জন জিন্দালের প্রথম বৈঠক। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক সম্পর্কে শুভেন্দু জানান, রাজ্যে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। সেই সূত্রেই এদিন জিন্দাল গোষ্ঠীর চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সজ্জন জিন্দাল অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী। তিনি আমার সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা করেছেন।”

    শালবনীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা (Suvendu Adhikari)

    বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী বিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্প্রসারণ। প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রকল্পের প্রয়োজনীয় জনশুনানি সম্পন্ন হবে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দ্বিতীয় পর্যায়ের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূমিপুজো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “দ্বিতীয় পর্যায়ের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূমিপুজো হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে জনশুনানি শেষ হয়ে যাবে। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আমি সেখানে যাব বলে জানিয়েছি।” শুধু দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প নয়, শালবনীতে তৃতীয় পর্যায়ের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র গড়ার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জিন্দাল। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বাংলার সঙ্গে জিন্দাল গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। রাজ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকাঠামো আরও সম্প্রসারণে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ইউনিট গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শিল্পপতি।

    স্থানীয় যুবকদের চাকরিতে অগ্রাধিকার

    শিল্পের সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টিও বৈঠকে উঠে এসেছে। দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য জিন্দাল গোষ্ঠীর উদ্যোগে যে প্রশিক্ষণকেন্দ্র তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে প্রশিক্ষিত যুবকদের চাকরির সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রশিক্ষণকেন্দ্রটির পরিধি বাড়ানোর উপরেও জোর দিয়েছেন তিনি।

    শুভেন্দুর কথায়, “দক্ষতা প্রশিক্ষণের জন্য আপনারা একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র তৈরি করেছেন। সেখানকার ছেলেদের চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে এই উদ্যোগের পরিধিও বাড়াতে হবে।”

    মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের উন্নয়নে আগ্রহ

    শিল্পের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও বড় উদ্যোগ নিতে আগ্রহী জিন্দাল গোষ্ঠী। বিশেষ করে স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো উন্নয়নে পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন জিন্দাল। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই এই উদ্যোগ নিতে চান তাঁরা।

    মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) জানিয়েছেন, এই প্রস্তাব খতিয়ে দেখার জন্য ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে চান তিনি। বিষয়টি বাণিজ্যিকভাবে নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে করতে চান। আমি স্বাস্থ্যসচিবকে প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখতে বলেছি।”

    প্রাচীন মন্দির সংস্কারেও উদ্যোগ

    রাজ্যের ঐতিহাসিক ও প্রাচীন মন্দিরগুলির সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণেও আগ্রহ দেখিয়েছে জিন্দাল গোষ্ঠী। বৈঠকে জিন্দাল জানিয়েছেন, অতীতে কেদারধামের সংস্কারের কাজেও তাঁরা যুক্ত ছিলেন। এবার বাংলার কয়েকটি প্রাচীন মন্দিরের দায়িত্ব নিতে চান তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের প্রাচীন মন্দিরগুলির একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সেই তালিকা জিন্দাল গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হবে। সেখান থেকে চার-পাঁচটি মন্দির বেছে নিয়ে সেগুলির সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন শিল্পপতি।

    রাজ্যের শিল্প-পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট জিন্দাল

    বৈঠকে রাজ্যের বর্তমান শিল্প ও ব্যবসার পরিবেশ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে শিল্পগোষ্ঠী কী ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছে, তা জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী।শুভেন্দুর দাবি, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং শ্রমিক সরবরাহ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জিন্দাল। উৎপাদন চালানোর ক্ষেত্রেও বড় কোনও সমস্যা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে সিমেন্ট কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ওড়িশা থেকে নিয়ে আসতে হবে। সেজন্য পরিবহণ খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে বাজারে অন্য সংস্থার সঙ্গে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন শিল্পপতি।

    লগ্নির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে জিন্দাল গোষ্ঠী

    বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করার কথা। তার আগেই জিন্দাল গোষ্ঠীর সঙ্গে এই বৈঠককে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে শিল্পমহল। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন শিল্পনীতিতে কী কী বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে জিন্দাল গোষ্ঠীকে বলা হয়েছে। নীতিটি পর্যালোচনা করার পর পরবর্তী বৈঠকে নিজেদের মতামত ও পরিকল্পনা জানাবে সংস্থাটি।

    তৃণমূল জমানা নিয়ে নীরব জিন্দাল

    বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পূর্বতন সরকারের আমলে শিল্পের অভিজ্ঞতা নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করেননি জিন্দাল। তবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কের কথার উল্লেখ করেছেন। জিন্দালের বক্তব্য, ব্যক্তিগতভাবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে সম্পর্কও যথেষ্ট ভালো ছিল। তবে তৎকালীন বাম সরকারের আমলে ট্রেড ইউনিয়নগুলির ভূমিকা শিল্পের পক্ষে ইতিবাচক ছিল না বলেই মনে করেন তিনি। এদিকে, গত পনেরো বছরের তৃণমূল সরকারের আমলে শিল্পের অভিজ্ঞতা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি জিন্দাল (Sajjan Jindal)। সব মিলিয়ে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার ঠিক আগে জিন্দাল গোষ্ঠীর এই তৎপরতা রাজ্যের (Suvendu Adhikari) শিল্পায়নের ক্ষেত্রে নতুন ভোরের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই ধারণা শিল্পমহলের।

     

  • Suvendu Adhikari: ‘‘যিনি এদের মাথা, তাঁর এক ঘণ্টার রোজগারও বলা যেতে পারে’’, সরিষায় নগদ উদ্ধারে নাম না করে অভিষেককে নিশানা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘‘যিনি এদের মাথা, তাঁর এক ঘণ্টার রোজগারও বলা যেতে পারে’’, সরিষায় নগদ উদ্ধারে নাম না করে অভিষেককে নিশানা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার সরিষায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার হল নগদ ১ কোটি ২ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই বিপুল পরিমাণ টাকার হদিশ পেয়েছে (Suvendu Adhikari) ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। বুধবার পুলিশের তরফে এই টাকা উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে। যে দলীয় কার্যালয় থেকে নগদ উদ্ধার হয়েছে, সেটি মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শামিম আহমেদের বলে পরিচিত। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়েছে (Hidden Cash Recovery)।

    সুমিতকে জেরা করেই টাকার হদিশ (Suvendu Adhikari)

    পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৩১ অক্টোবর প্রায় ৩০০ কোটি টাকার মাটি চুরির অভিযোগে সুমিতকে গ্রেফতার করে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কালীতলা আশুতি থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় সুমিত-সহ মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আদালত তাঁকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

    পুলিশি হেফাজতে সুমিতকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সরিষার ওই দলীয় কার্যালয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ মজুত থাকার বিষয়টি সামনে আসে। এরপর সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ১ কোটি ২ লাখ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

    প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, কালীতলা থানা এলাকায় বেআইনিভাবে মাটি কাটা ও বিক্রির যে অভিযোগ উঠেছে, তার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া টাকার যোগ থাকতে পারে। তবে এই অর্থের প্রকৃত মালিক কে, কী উদ্দেশ্যে তা দলীয় কার্যালয়ে রাখা হয়েছিল এবং কারা এই লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    প্রায় ৩০০ কোটি টাকার মাটি চুরির অভিযোগ

    তদন্তকারীদের দাবি, ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ন’বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট জমি থেকে বিভিন্ন সময়ে বেআইনিভাবে মাটি কাটা ও বিক্রি করা হয়েছে। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০০ কোটি টাকা। এই কারবার থেকে পাওয়া বিপুল অর্থ বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও বেআইনি মাটি কাটার টাকা জমা পড়েছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।

    এই ঘটনায় শুধু সুমিত নন, ডায়মন্ড হারবারের একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রশাসনিক আধিকারিকের নামও তদন্তের আওতায় এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এর আগে জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক মামলায় সুমিতের নাম জড়িয়েছিল (Suvendu Adhikari)।

    টাকা উদ্ধারে রাজনৈতিক তরজা, নিশানায় তৃণমূল

    সরিষার দলীয় কার্যালয় থেকে এত বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধারের ঘটনায় তৃণমূলকে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এই ধরনের টাকা তোলা দীর্ঘদিনের ঘটনা। তিনি বলেন, “দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এই ধরনের টাকা তোলার ঘটনা নতুন কিছু নয়। ওরা সেখানে সীমাহীন টাকা তুলেছে। কোথায় রেখেছিল, তারও ঠিক ছিল না। এটা ওদের প্রতিদিনের রোজগারের মতো বিষয় ছিল।”

    নাম না করেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে শুভেন্দুর কটাক্ষ, “যিনি এদের মাথা, তাঁর এক ঘণ্টার রোজগারও বলা যেতে পারে।”

    শুধু নগদ উদ্ধারের ঘটনা নয়, রাজ্যের রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যান তুলে ধরেও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৩৩ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের একই সময়সীমায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ২৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ, রাজস্ব আদায় বেড়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

    শুভেন্দুর প্রশ্ন, নতুন করে কোনও করের বোঝা না চাপিয়েই রাজস্ব আদায় এতটা বাড়ল কীভাবে? তাঁর দাবি, তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতির টাকা কোথায় কোথায় রয়েছে, সে সম্পর্কে তাঁরা তথ্য পেয়েছেন। ওই অর্থের একটি বড় অংশ আবাসন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হচ্ছে এবং বেনামে জমি কেনা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এমনকী, দুর্নীতির টাকা বিদেশেও পাচার করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।

    সরিষার দলীয় কার্যালয়ে নগদ উদ্ধারের ঘটনাকে ‘মিসফায়ার’ বলেও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সেখানে টাকা রেখে যাওয়ার পর তা সরিয়ে ফেলার কথা সম্ভবত তৃণমূল নেতারা ভুলে গিয়েছিলেন।

    পুলিশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তৃণমূলের

    অন্যদিকে, সুমিতের হয়ে তৃণমূলের আইনজীবী অর্ক নাগ পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, সুমিতকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই পুলিশ তাঁকে ওই দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে গিয়েছিল। এই অভিযোগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, “যা জানানোর, আদালতে গিয়ে জানান।”

    তদন্তকারীদের নজরে টাকার উৎস ও মালিকানা

    সরিষার তৃণমূল কার্যালয় থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে এত টাকা কেন রাখা হয়েছিল? কোথা থেকে এসেছিল এই অর্থ? বেআইনি মাটি কাটার কারবারের সঙ্গে এর সরাসরি যোগ রয়েছে কি না? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

    উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস, মালিকানা এবং আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই অর্থের সঙ্গে আরও কোনও রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী কিংবা প্রশাসনিক আধিকারিকের যোগ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Hidden Cash Recovery) সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আপাতত সরিষার দলীয় কার্যালয় থেকে (Suvendu Adhikari) উদ্ধার হওয়া টাকার নেপথ্যে থাকা রহস্যের জট খোলাই পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

     

  • Rahul Gandhi: বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ, ধাক্কা উৎপাদনে! রাহুল গান্ধীর ভারতীয় বস্ত্রশিল্প ধ্বংসের দাবি নিয়ে প্রশ্ন

    Rahul Gandhi: বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ, ধাক্কা উৎপাদনে! রাহুল গান্ধীর ভারতীয় বস্ত্রশিল্প ধ্বংসের দাবি নিয়ে প্রশ্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ এবং একের পর এক কারখানায় উৎপাদন বন্ধের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতের বস্ত্রশিল্পের প্রতিযোগিতার প্রশ্ন। কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) সম্প্রতি একাধিকবার দাবি করেছেন, আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশ শুল্কছাড়ের সুবিধা পেলে ভারতের বস্ত্র ও পোশাকশিল্প কার্যত ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তাঁর সেই আশঙ্কার যৌক্তিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

    চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে রাহুল বারবার অভিযোগ করেছিলেন, আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশকে শূন্য শতাংশ শুল্কে পণ্য রফতানির সুযোগ দেওয়া হলে ভারতীয় বস্ত্রশিল্প মারাত্মক প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে। তাঁর দাবি ছিল, এর ফলে ভারতের রফতানিকারী ও কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং আন্তর্জাতিক পোশাকের বাজারে ভারতের জায়গা দখল করে নেবে বাংলাদেশ (Bangladesh Textile Industry)।

    কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি যে এতটা সরল নয়, তা স্পষ্ট হচ্ছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক শ্রমিক আন্দোলন থেকেই। গত ২ নভেম্বর মজুরি বৃদ্ধি ও কাজের পরিবেশের উন্নতির দাবিতে বিক্ষোভের জেরে বাংলাদেশের প্রায় ৬৯০টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হন ১৭ লাখেরও বেশি শ্রমিক। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের এই অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিয়েও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

    বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন (Rahul Gandhi)

    হরিয়ানার একটি পোশাক কারখানা পরিদর্শনের পর থেকেই ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরব হয়েছিলেন রাহুল। সংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনসভা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিয়োতেও তিনি বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সমঝোতা ভারতীয় পোশাক রফতানিকারীদের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিয়েছে।

    রাহুলের বক্তব্য, “আমেরিকা বাংলাদেশের জন্য শুল্ক কমিয়ে শূন্য শতাংশ করেছে, অথচ আমাদের ক্ষেত্রে শুল্কের হার ১৮ শতাংশ। আপনারা ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের কাছে কী আশা করছেন? তাঁরা তো কার্যত শেষ। বাংলাদেশের মতো প্রতিযোগীর সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে ভারতের গোটা বস্ত্রশিল্পই ধ্বংস হয়ে যাবে।”

    তিনি আরও দাবি করেছিলেন, “বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্প ভারতের বস্ত্রশিল্পকে শেষ করে দেবে।”

    রাহুলের আশঙ্কা ছিল, এই বাণিজ্যিক সমঝোতার কারণে বস্ত্রশিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রায় পাঁচ কোটি পরিবারের জীবিকা বিপন্ন হবে। তিনি এই সমঝোতাকে ভারতীয় কৃষক ও রফতানিকারীদের জন্য একটি ফাঁদ বলেও অভিহিত করেছিলেন।

    বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম এবং মহিলা শ্রমিকের অংশগ্রহণ বেশি—এই দু’টি বিষয়কেও তিনি বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রীয় সরকার এই বাণিজ্যিক সমঝোতার সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব আড়াল করছে এবং ভারতীয় উৎপাদক ও তুলোচাষিদের স্বার্থরক্ষায় যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

    তবে সরকারের বাণিজ্যনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং তার ভিত্তিতে গোটা একটি শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চূড়ান্ত নেতিবাচক পূর্বাভাস দেওয়া এক বিষয় নয়। বাংলাদেশের সুবিধা রয়েছে বলেই ভারতের বস্ত্রশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে, এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে একাধিক বাস্তব তথ্য রয়েছে কি না, তা নিয়েই এখন চর্চা শুরু হয়েছে।

    শ্রমিক বিক্ষোভে বিপর্যস্ত বাংলাদেশের পোশাকশিল্প

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। কিন্তু সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষ সেই শিল্পের দুর্বলতাগুলিকে সামনে নিয়ে এসেছে।

    গত ২ নভেম্বর মজুরি বৃদ্ধি এবং উন্নত কাজের পরিবেশের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভের জেরে প্রায় ৬৯০টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। শিল্পক্ষেত্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে ১৭ লাখেরও বেশি শ্রমিক প্রভাবিত হন।

    ঢাকা, গাজিপুর, সাভার, আশুলিয়া ও মিরপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকদের দাবি, তাঁদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে।

    বিক্ষোভ চলাকালীন বিভিন্ন জায়গায় সড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং কারখানা ও যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

    বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২ নভেম্বর সাভার ও আশুলিয়ার ২৬৪টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে দেওয়া হয়। অন্য একটি সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হিংসা ও ভাঙচুরের পরিস্থিতিতে সাভার, আশুলিয়া ও গাজিপুরের প্রায় ৪০০টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখা হয় (Rahul Gandhi)।

    শ্রমিকদের দাবি খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশের সরকার ছয় সদস্যের একটি ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। তবে আন্দোলন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ফলে উৎপাদনের নির্ধারিত সময়সীমা, রফতানি বরাত এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    বাংলাদেশের মোট রফতানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে রেডিমেড পোশাকশিল্প থেকে। এই শিল্পে কর্মরত প্রায় ৪০ লাখ মানুষ। ফলে সেখানে দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে তার প্রভাব শুধু শ্রমিকদের জীবিকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়বে।

    অবশ্য কারখানা বন্ধ হওয়ার অর্থ বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্প ধসে পড়েছে, এমন নয়। তবে এই ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, কম শ্রমমূল্য, নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন এবং স্থিতিশীল শিল্পসম্পর্কের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার ঝুঁকি (Bangladesh Textile Industry) কতটা।

    আমেরিকার শুল্কনীতি নিয়ে কী বলছে তথ্য?

    রাহুলের বক্তব্যের অন্যতম ভিত্তি ছিল আমেরিকার বাজারে ভারত ও বাংলাদেশের রফতানি ক্ষেত্রে শুল্কের পার্থক্য।

    তবে ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত আমেরিকা-বাংলাদেশ বাণিজ্য সমঝোতায় বাংলাদেশের সমস্ত বস্ত্র ও পোশাকজাত পণ্যের জন্য নিঃশর্ত শূন্য শতাংশ শুল্কের ব্যবস্থা করা হয়নি।

    হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের জন্য পাল্টা শুল্কের হার কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছিল। পাশাপাশি একটি বিশেষ ব্যবস্থার কথা বলা হয়, যার আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ বাংলাদেশি বস্ত্র ও পোশাকজাত পণ্য শূন্য শতাংশ পাল্টা শুল্কের সুবিধা পেতে পারে।

    তবে এই সুবিধার সঙ্গে শর্তও যুক্ত ছিল। আমেরিকায় উৎপাদিত তুলো এবং কৃত্রিম তন্তুর মতো বস্ত্রের কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এই ছাড় পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল। অর্থাৎ বাংলাদেশের সমস্ত পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে শুল্ক সম্পূর্ণ মকুব করা হয়নি।

    অন্যদিকে, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সমঝোতার আওতায় ভারতীয় বস্ত্রপণ্যের উপর পাল্টা শুল্কের হার ছিল ১৮ শতাংশ। বস্ত্র মন্ত্রকের বক্তব্য, বাংলাদেশের সাধারণ পাল্টা শুল্ক হারের তুলনায় ভারতের ক্ষেত্রে এই হার কম। তবে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষ শুল্কছাড়ের ব্যবস্থাটিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

    ফলে শুধু শুল্কের হার তুলনা করে ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যথেষ্ট নয়।

    ভারতের বস্ত্র রফতানি বেড়েছে

    রাহুলের আশঙ্কার প্রেক্ষিতে সরকারি পরিসংখ্যানে চোখ বোলালে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের বস্ত্র ও পোশাকজাত পণ্যের রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

    বস্ত্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, হস্তশিল্প-সহ ভারতের বস্ত্র ও পোশাকজাত পণ্যের রফতানির পরিমাণ ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ছিল ৩ লাখ ১৯ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে রফতানি বৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১.৮ শতাংশ।

    ২০১৯-২০ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের মধ্যে এই শিল্পের বার্ষিক চক্রবৃদ্ধির গড় বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৪.৫ শতাংশ। শুধু তাই নয়, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের ৫৪৮টি জেলা থেকে বস্ত্র ও রেডিমেড পোশাকজাত পণ্য বিদেশে রফতানি হয়েছে (Rahul Gandhi)।

    ভারতের বস্ত্রশিল্পের পরিধিও বাংলাদেশের রেডিমেড পোশাকশিল্পের তুলনায় অনেক বিস্তৃত। এর মধ্যে রয়েছে তুলোভিত্তিক বস্ত্র, কৃত্রিম তন্তু, ঐতিহ্যবাহী কাপড়, হস্তশিল্প, গৃহসজ্জার বস্ত্র, প্রযুক্তিগত বস্ত্র এবং তৈরি পোশাক।

    নীতি আয়োগের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন শিল্প হল বস্ত্রশিল্প। দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে এই শিল্পের অবদান প্রায় ২ শতাংশ এবং উৎপাদন ক্ষেত্রে মোট মূল্য সংযোজনে অবদান প্রায় ১১ শতাংশ। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই শিল্পের উপর নির্ভরশীল ৪ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ।

    অবশ্য ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের সামনে কোনও চ্যালেঞ্জ নেই, এমন দাবি করা হচ্ছে না। উৎপাদন খরচ, প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবহণ ব্যবস্থা, উৎপাদনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে ভারতীয় উৎপাদকদের এখনও একাধিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

    কিন্তু এই সমস্যাগুলিকে গোটা শিল্পের অবসানের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রফতানির পরিসংখ্যান বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের বস্ত্রশিল্প এখনও সক্রিয় এবং প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।

    বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্যও বাড়ছে ঝুঁকি

    বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছে। তা হল, একটি মাত্র রফতানিনির্ভর শিল্পের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার বিপদ।

    দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রেডিমেড পোশাকশিল্প বাংলাদেশের রফতানি আয় ও কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস। কিন্তু শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার ওঠানামা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং উৎপাদন ব্যবস্থায় বিঘ্ন—সব কিছুর প্রভাব এই শিল্পের উপর পড়তে পারে।

    সাম্প্রতিক বিক্ষোভে উৎপাদকদের সামনে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন খরচ বজায় রাখার চাপ, অন্যদিকে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও উন্নত কর্মপরিবেশের দাবি। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

    দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে নির্ধারিত সময়ে পণ্য পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থাতেও প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে শ্রমিকদের বক্তব্য, জীবনযাত্রার খরচ যে হারে বেড়েছে, সেই (Rahul Gandhi) অনুপাতে তাঁদের মজুরি বাড়েনি।

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনও গুরুত্বপূর্ণ

    বস্ত্রশিল্পের প্রতিযোগিতা নিয়ে এই বিতর্কের পিছনে ভারত ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

    ২০২৪ সালের অগাস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে একাধিক টানাপোড়েন তৈরি হয়। ভারতবিরোধী বক্তব্য, সীমান্ত সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করে।

    ২০২৬ সালের নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়। এরপর নয়াদিল্লি ও ঢাকা—দুই পক্ষের তরফেই সম্পর্ক উন্নত করার আগ্রহের ইঙ্গিত মেলে।

    এই সংবেদনশীল কূটনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই রাহুল বারবার বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাকে তুলে ধরে ভারতের শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্যে সরকারের বাণিজ্যনীতি নিয়ে সমালোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের শিল্পকে ভারতের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতাও দেখা গিয়েছে।

    অর্থনৈতিক বাস্তবতাও জরুরি

    বিরোধী দলনেতা হিসেবে সরকারের বাণিজ্যনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার রয়েছে রাহুলের। বাণিজ্য চুক্তির শর্ত নিয়ে আলোচনা করা, রফতানিকারীদের স্বার্থরক্ষার দাবি জানানো এবং ভারতীয় উৎপাদকদের সমস্যাগুলি তুলে ধরা বিরোধী রাজনীতিরই অংশ।

    কিন্তু অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার মতো জটিল বিষয়কে একপাক্ষিক রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। শুল্কের হার ছাড়াও উৎপাদন খরচ, কাঁচামালের জোগান, প্রযুক্তি, শ্রমিকের দক্ষতা, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা—সব কিছুই একটি শিল্পের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা নির্ধারণ করে।

    বাংলাদেশের সাম্প্রতিক শ্রমিক আন্দোলন দেখিয়েছে, কম উৎপাদন খরচ থাকলেই একটি দেশের শিল্প দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। একইভাবে ভারতের বস্ত্রশিল্পের সামনে চ্যালেঞ্জ থাকলেও তাকে অপরিহার্যভাবে ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে বলে ধরে নেওয়ার (Bangladesh Textile Industry) কারণ নেই।

    ভারতের প্রয়োজন উন্নত প্রযুক্তি, উৎপাদন খরচ হ্রাস, দক্ষ শ্রমশক্তি, উন্নত সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার। একই সঙ্গে প্রয়োজন এমন একটি বিরোধী রাজনৈতিক পরিসর, যেখানে সরকারের সমালোচনা হবে তথ্য ও বাস্তবতার ভিত্তিতে।

    বাংলাদেশের পরিস্থিতি তাই ভারতের জন্য শুধু প্রতিযোগিতার প্রশ্ন নয়, বরং শিল্পের স্থিতিশীলতা, শ্রমিকদের অধিকার এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার গুরুত্ব বোঝারও একটি (Rahul Gandhi) সুযোগ। ভারতের বস্ত্রশিল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে তার উৎপাদনক্ষমতা, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার দক্ষতার ভিত্তিতে—রাজনৈতিক আশঙ্কা বা অতিরঞ্জিত পূর্বাভাসের ভিত্তিতে নয়।

     

  • Suvendu Adhikari: পঞ্চায়েতে ৭১৯০ পদে নিয়োগের ঘোষণা শুভেন্দুর, নিউটাউনে তৈরি হবে নয়া ভবন

    Suvendu Adhikari: পঞ্চায়েতে ৭১৯০ পদে নিয়োগের ঘোষণা শুভেন্দুর, নিউটাউনে তৈরি হবে নয়া ভবন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রামীণ প্রশাসনে কর্মী সঙ্কট মেটাতে বড়সড় নিয়োগের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরে মোট ৭১৯০ জন কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি (Suvendu Adhikari)। মূলত পঞ্চায়েত স্তরে ইঞ্জিনিয়ারের ঘাটতি মেটাতেই এই নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিউটাউনে পাঁচ একর জমির উপর নতুন পঞ্চায়েত ভবন তৈরির পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।

    বুধবার সল্টলেকের প্রশাসনিক ভবনে (Panchayat Staff Recruitment) পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের কাজকর্ম নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, পঞ্চায়েত প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক-সহ দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা। বিভিন্ন জেলাশাসক এবং ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকেরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন। গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় সেখানে।

    বিপুল নিয়োগ (Suvendu Adhikari)

    বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মোট ৭১৯০ জনকে নিয়োগ করা হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “৭১৯০ জন নিয়োগ পাবেন। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পুজোর পর বিধানসভার অধিবেশনে এ সংক্রান্ত বিল পাশ করানো হবে। মূলত ইঞ্জিনিয়ারের যে ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণ করতেই এই নিয়োগ।”

    পঞ্চায়েতের প্রশাসনিক কাজকর্মে অচলাবস্থা কাটানোর বিষয়েও রাজ্য সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পঞ্চায়েত প্রধান বা উপপ্রধানের পদত্যাগের কারণে যেসব জায়গায় প্রশাসনিক কাজ আটকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সেখানে বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিধানসভায় আইন সংশোধনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে। ফলে ওই সব জায়গায় প্রশাসকেরা দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

    পঞ্চায়েত দফতরের পরিকাঠামো উন্নয়নেও নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিউটাউনে পাঁচ একর জমির উপর গড়ে তোলা হবে নতুন পঞ্চায়েত ভবন। প্রস্তাবিত বিধানসভা ও প্রশাসনিক ভবনের কাছেই এই নির্মাণকাজ হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দফতরের কাজকর্মে মন্ত্রী ও আধিকারিকদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দিলীপ ঘোষ, শান্তনু প্রামাণিক এবং (Suvendu Adhikari) আধিকারিক পি উলাগানাথনের কাজে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

    পঞ্চায়েতের কাজকর্মে অনিয়মের অভিযোগ

    এদিন পূর্ববর্তী প্রশাসনের আমলে পঞ্চায়েতের কাজকর্মে অনিয়মের অভিযোগও তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, রাজ্যে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। তাঁর কথায়, “আমরা বেশিদিন দায়িত্বে আসিনি। আগে অনেক অনিয়ম হয়েছে। ৯৮ শতাংশ পঞ্চায়েতে বিরোধীরা ক্ষমতায় ছিল। আসল কাজ হয় গ্রামে। একশো দিনের কাজের প্রকল্পে যাঁদের কাজের নথি ছিল, তাঁদের আধার সংযুক্তিকরণের সময় প্রায় ৩১ লাখ নাম বাদ পড়েছে।”

    গ্রামীণ কর্মসংস্থান এবং কেন্দ্রীয় বরাদ্দের হিসাবও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে রাজ্য সরকার দ্রুত কাজ করছে। তাঁর দাবি, ২২ কোটি শ্রমদিবস তৈরি এবং ২২ হাজার কোটি টাকার কাজের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের তরফে ১২০০ কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ৬৫ লাখ ৬২ হাজার কর্মদিবস তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় সাত লাখ কর্মদিবস তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

    নতুন সরকারের কর্মসংস্থানমূলক প্রকল্পের (Panchayat Staff Recruitment) অগ্রগতি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নতুন সরকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিদিন ২২ লাখ মানুষকে কাজ দিচ্ছে। আমাদের হাতে সময় কম। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

    ভিনরাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আবেদন, ভিনরাজ্যে কর্মরত শ্রমিকেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে রাজ্যে ফিরে এসে সরকারি কর্মসংস্থান প্রকল্পে কাজের সুযোগ গ্রহণ (Suvendu Adhikari) করুন। গ্রামীণ এলাকায় কাজের সুযোগ তৈরি এবং পঞ্চায়েতের প্রশাসনিক পরিকাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই রাজ্য সরকার একাধিক পদক্ষেপ করছে বলেও বৈঠক শেষে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

     

  • Amit Shah: মাওবাদ ইস্যুতে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শাহের, ছত্তিশগড়কে দেশের প্রথম সারির পর্যটনকেন্দ্র করার লক্ষ্য

    Amit Shah: মাওবাদ ইস্যুতে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শাহের, ছত্তিশগড়কে দেশের প্রথম সারির পর্যটনকেন্দ্র করার লক্ষ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাওবাদ এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রশ্নে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই মাওবাদীদের প্রতি নরম মনোভাব পোষণ করে আসছে। মাওবাদীদের তৈরি অসাংবিধানিক সমান্তরাল প্রশাসনিক ব্যবস্থাকেও সমর্থন করেছে তারা। ছত্তিশগড়ের মাওবাদী (Naxalism) প্রভাবিত এলাকায় চালু হওয়া তথাকথিত ‘জনতানা সরকার’র প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেসের সাংবিধানিক মূল্যবোধের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি (Amit Shah)। সংসদীয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে কংগ্রেস প্রতীকী সংসদ আয়োজন করে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে উপহাস করছে বলেও অভিযোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    ৩ নভেম্বর রায়পুরে ছত্তিশগড় রাজ্যোৎসবের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন শাহ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন-সহ বিরোধীদের উত্থাপিত যে কোনও বিষয়ে সংসদে আলোচনায় বসতে কেন্দ্র প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, সংসদীয় অধিবেশন বারবার অচল করে না রেখে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে দেওয়া উচিত বলেও জানান শাহ।

    কংগ্রেসকে নিশানা (Amit Shah)

    ছত্তিশগড়ের মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় জনতানা সরকার গঠনের প্রসঙ্গ তুলে শাহ প্রশ্ন করেন, ভারতের সংবিধানের বাইরে এ ধরনের সমান্তরাল সরকার চালানোর অনুমতি তাদের কে দিয়েছিল? মাওবাদীদের নিজস্ব মুখ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং অন্যান্য আধিকারিক থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এভাবে দেশের সংবিধানের সমান্তরালে পৃথক প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল।

    তাঁর অভিযোগ, মাওবাদীদের তথাকথিত জন আদালতে বিচার চালিয়ে সাংবাদিক, সমাজকর্মী এবং ছাত্রছাত্রী-সহ একাধিক নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁদের গাছে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটেছে। এই ধরনের অসাংবিধানিক ব্যবস্থাকে কংগ্রেসের নেতারা সংসদে সমর্থন করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    ২০১০ সালে তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল জোট সরকারের এক প্রবীণ মন্ত্রীর মন্তব্যের প্রসঙ্গও তোলেন শাহ। তাঁর দাবি, ওই মন্ত্রী বলেছিলেন, মাওবাদীদের অস্ত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই, শুধু অশান্তি সৃষ্টি করা বন্ধ করলেই চলবে।

    এই অবস্থানের বিরোধিতা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অস্ত্র হাতে রাখা সশস্ত্র চরমপন্থীদের অনুমতি দিয়ে হিংসা বন্ধ করা সম্ভব নয়। সরকারের নীতি স্পষ্ট। যারা আত্মসমর্পণ করে মূলস্রোতে ফিরতে চান, তাঁদের সেই সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু যারা অস্ত্র হাতে হিংসা চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তাবাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

    শাহের দাবি, মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাঁদের নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ আত্মসমর্পণ করেছেন এবং প্রায় ১০ শতাংশ নিহত হয়েছেন। আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসনের নীতির ফলে ইতিবাচক ফল মিলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ

    কংগ্রেসের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও সরব হন শাহ। তাঁর অভিযোগ, সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে কংগ্রেস প্রতীকী সংসদ আয়োজন করে রাজনৈতিক প্রচারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ব্যঙ্গ করার চেষ্টা করছে।

    বিরোধী দলনেতার উদ্দেশে তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদির সরকার বিরোধীদের উত্থাপিত প্রতিটি বিষয়ে সংসদে আলোচনা করতে প্রস্তুত। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে আলোচনার দাবি উঠলে সরকার সেই আলোচনার জন্য সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতেও প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

    তাঁর বক্তব্য, সংবিধানের একটি অনুলিপি হাতে রাখলেই সাংবিধানিক মূল্যবোধের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা প্রমাণিত হয় না। রাজনৈতিক আচরণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি সম্মানের মধ্যে দিয়েই সেই দায়বদ্ধতা প্রকাশ পায়।

    সংসদীয় অধিবেশন বারবার ব্যাহত করার পরিবর্তে কংগ্রেস নেতাদের আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শাহের মতে, সংসদে খোলামেলা বিতর্ক হলে দেশের মানুষই বুঝতে পারবেন কে সত্য তুলে ধরছেন এবং কে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।

    আদিবাসীদের মানবাধিকার উপেক্ষা করা যায় না

    দীর্ঘদিনের মাওবাদী হিংসার কারণে ছত্তিশগড়ের আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলগুলির উন্নয়ন কীভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে, তা তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, মাওবাদী কার্যকলাপের কারণে প্রজন্মের পর প্রজন্ম আদিবাসী শিশুরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

    বস্তার অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে শাহ বলেন, যেখানে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের করিডর গড়ে ওঠার কথা ছিল, সেখানে তৈরি হয়েছে লাল করিডর। মহুয়া, তেন্দুপাতা এবং লোকসংগীতের জন্য পরিচিত হওয়ার কথা ছিল যে বনাঞ্চলের, তা মাওবাদী হিংসা, ল্যান্ডমাইন এবং সশস্ত্র সংঘর্ষের কারণে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

    তাঁর বক্তব্য, যে শিশুদের হাতে বই ও কলম থাকার কথা, তাদের স্কুল থেকে তুলে নিয়ে অস্ত্র ধরতে বাধ্য করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার পরিবর্তে স্কুলবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। রাস্তা ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক পরিকাঠামো নির্মাণের কাজে যুক্ত ব্যক্তিরাও মাওবাদী হিংসার শিকার হয়েছেন।

    মানবাধিকারের নামে মাওবাদীদের সমর্থনকারীদের উদ্দেশে শাহ প্রশ্ন তোলেন, মানবাধিকার কি শুধুমাত্র উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করা সশস্ত্র চরমপন্থীদের জন্য, নাকি দরিদ্র আদিবাসীদেরও সমান মানবাধিকার রয়েছে?

    তিনি জানান, গত তিন দশকে মাওবাদীদের বোমা হামলায় হাত-পা হারানো বহু মানুষকে কৃত্রিম অঙ্গ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে তাঁরা সম্মানজনকভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।

    বস্তারের পরিস্থিতি নিয়ে দূর থেকে মন্তব্য করা বিভিন্ন লেখক ও সমাজকর্মীদেরও ওই অঞ্চলে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি চাক্ষুষ করার আহ্বান জানান তিনি। স্থানীয় মানুষের দুর্দশা, হিংসার প্রভাব এবং বর্তমানে যে পরিবর্তন ঘটছে, তা প্রত্যক্ষ করে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরার পরামর্শ দেন শাহ (Amit Shah)।

    উন্নয়নের পথে ছত্তিশগড়

    মাওবাদ দমনে ছত্তিশগড় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন শাহ। তাঁর মতে, নিরাপত্তাবাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং কেন্দ্রের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ফলেই রাজ্যকে মাওবাদমুক্ত করার লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হয়েছে।

    ছত্তিশগড়ে বিজেপি ক্ষমতায় ফেরার পর স্বল্প সময়ের মধ্যে মাওবাদ নির্মূল করার সংকল্প নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি সশস্ত্র হিংসার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের নীতি অনুসরণ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

    শাহ বলেন, যাঁরা আইন মেনে চলবেন, তাঁদের সাধারণ নাগরিক হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। কিন্তু যাঁরা হিংসার পথ বেছে নেবেন এবং আইন ভাঙবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বস্তার, উত্তর-পূর্ব ভারত কিংবা জম্মু ও কাশ্মীর—যেখানেই হোক, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তাঁর মতে, মাওবাদ নির্মূল হলে দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত অঞ্চলগুলিতে পরিকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য জনপরিষেবা সম্প্রসারণের পথ আরও প্রশস্ত হবে।

    সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ

    ছত্তিশগড়ের উন্নয়নের পাশাপাশি রাজ্যের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের উপরেও গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গুরু ঘাসিদাস এবং গুরু নানক দেবজির শিক্ষা ও আদর্শের উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেবা, সাম্য এবং সত্যের মতো মূল্যবোধ ছত্তিশগড়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

    লোকসংস্কৃতি ও আদিবাসী ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত ছত্তিশগড় পাণ্ডুম এবং বস্তার অলিম্পিকের প্রশংসা করেন তিনি। পন্থী, পাণ্ডবানি, রাউত নাচ, কর্মা ও শৈলা নৃত্যের মতো ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি ঢোকরা শিল্প, ঘণ্টাধাতুর কারুশিল্প, কাঠের কাজ এবং কোসা রেশমের কথাও তুলে ধরেন।

    বস্তার দশেরার বিশেষ ৭৫ দিনের ঐতিহ্যকে ওই অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সম্পদ হিসেবে বর্ণনা করেন শাহ। তাঁর দাবি, বস্তার পাণ্ডুম এবং বস্তার অলিম্পিকের মতো উদ্যোগের ফলে আদিবাসী সমাজের প্রাচীন খেলাধুলা, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস, গান ও নৃত্যের পুনরুজ্জীবন ঘটছে। লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী এই সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন।

    আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সাংস্কৃতিক সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধির উপরেও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

    উন্নয়নের খতিয়ান

    ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই এবং উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মার উপস্থিতিতে রাজ্য সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, তুলনামূলকভাবে স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিজেপির দেওয়া প্রতিশ্রুতির ৭০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দুই উপমুখ্যমন্ত্রী।

    মহতারি বন্দন যোজনার উল্লেখ করে শাহ জানান, এই প্রকল্পের ৩৩তম কিস্তির অর্থ মহিলা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ধান সংগ্রহ, কৃষি, বনজ সম্পদ, পশুপালন এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    কৃষক, মহিলা, আদিবাসী এবং সমাজের অন্যান্য অংশের মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটানোই রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান শাহ।

    প্রথম তিন পর্যটন রাজ্যের মধ্যে ছত্তিশগড়

    ছত্তিশগড়ের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পর্যটনকে চিহ্নিত করেন অমিত শাহ। তাঁর প্রত্যাশা, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই পর্যটনক্ষেত্রে দেশের প্রথম তিনটি রাজ্যের মধ্যে জায়গা করে নেবে ছত্তিশগড়।

    রাজ্যের জলপ্রপাত, অরণ্য, বন্যপ্রাণী, মন্দির এবং বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মধ্যে বিপুল পর্যটন সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

    পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে চিত্রকোট জলপ্রপাত, তীরথগড় জলপ্রপাত, কাঙ্গের উপত্যকা জাতীয় উদ্যান, মা বমলেশ্বরী মন্দির এবং দান্তেওয়াড়ার মা দন্তেশ্বরী মন্দিরের কথার উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি বস্তার দশেরাকেও দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার উপর জোর দেন।

    শাহের মতে, মাওবাদী হিংসা কমে যাওয়ায় রাজ্যে পর্যটনের প্রসার ঘটানো সহজ হবে। এর ফলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বিকল্প জীবিকার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প, স্থানীয় খাবার, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং অন্যান্য শিল্পের জন্য নতুন বাজার তৈরি হতে পারে।

    বিপুল পরিমাণ বেড়েছে রাজ্যের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন

    ছত্তিশগড় গঠনের পর থেকে রাজ্যের অর্থনৈতিক অগ্রগতির পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন শাহ। তিনি জানান, একসময় প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও সাধারণ মানুষের আর্থিক অবস্থার নিরিখে পিছিয়ে ছিল ছত্তিশগড়। আগামী দশকের মধ্যে সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটবে বলে আশাবাদী তিনি।

    শাহের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্য গঠনের পর থেকে ছত্তিশগড়ের বার্ষিক বাজেট বেড়েছে ৩০ গুণ। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ১৭ গুণ এবং রাজ্যের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বেড়েছে ২৫ গুণ।

    শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের পরিকাঠামো সম্প্রসারণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, রাজ্যে শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সংখ্যা বেড়েছে তিন গুণ এবং পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছয় গুণ হয়েছে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও বেড়েছে ছয় গুণ। অন্যদিকে, রাজ্যের সাক্ষরতার হার ৬৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৯ শতাংশে পৌঁছেছে।

    শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানকে দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে শাহ বলেন, গ্রামাঞ্চল ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার সাধারণ মানুষের কাছেও উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে (Naxalism) সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার

    বক্তব্যের শেষপর্বে ছত্তিশগড়কে নিরাপত্তাহীনতা ও অনুন্নয়নের পরিচিতি থেকে বের করে একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী রাজ্যে পরিণত করার লক্ষ্য তুলে ধরেন শাহ।

    তাঁর (Amit Shah) কথায়, রাজ্যে বিজেপি সরকারের চতুর্থ মেয়াদের মূল লক্ষ্য হবে মানুষের মনে ভয় দূর করে আস্থা তৈরি করা এবং প্রাকৃতিক সম্পদকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ভিত্তিতে পরিণত করা।

    শুধু খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার নয়, সেই সম্পদ থেকে সৃষ্ট উন্নয়নের সুফল যাতে রাজ্যের সাধারণ মানুষ সমানভাবে পান, তা নিশ্চিত করার উপরেও জোর দেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাইয়ের নেতৃত্বে ছত্তিশগড় আগামী দিনে উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির একটি আদর্শ রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর মতে, মাওবাদ নির্মূলের মধ্য দিয়ে রাজ্যের সামনে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলে গিয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাংস্কৃতিক পরিচয় অক্ষুণ্ণ রেখে আগামী প্রজন্মের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

     

  • US Midterm Elections: মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে, বড় ধাক্কা ট্রাম্পের রিপাবলিকান শিবিরে! অতঃকিম?

    US Midterm Elections: মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে, বড় ধাক্কা ট্রাম্পের রিপাবলিকান শিবিরে! অতঃকিম?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ঐতিহাসিক সাফল্য পেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ চলে গেল ডেমোক্র্যাটদের হাতে। এর ফলে কংগ্রেসে (US Midterm Elections) সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। আগামী দিনে নতুন আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ট্রাম্প প্রশাসনকে বিরোধীদের বাধার মুখে পড়তে হতে পারে।

    নির্বাচনের এই ফল ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্ষমতার ক্ষেত্রে (Democrats) বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে আগামী দিনে প্রশাসনিক ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ট্রাম্পকে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতার পথে হাঁটতে হতে পারে।

    প্রশ্ন হল, এরপর কী? নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে রিপাবলিকানদের প্রস্তাবিত একতরফা আইন আটকে দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। শুধু তা-ই নয়, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর প্রথম ১০০ ঘণ্টার জন্য একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করেছে তারা। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কর্মসূচি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে একাধিক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা।

    কী রয়েছে পরিকল্পনায়? (US Midterm Elections)

    এই পরিকল্পনায় রয়েছে মার্কিন শুল্কনীতি প্রত্যাহারের লক্ষ্যে বিল আনা, ইরানের সঙ্গে চলা যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ এবং স্বাস্থ্যবিমার খরচ কমানোর প্রস্তাব। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও এই পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।

    তবে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও নিজেদের সমস্ত প্রস্তাব সহজে আইনে পরিণত করতে পারবেন না। এর পিছনে রয়েছে দু’টি সাংবিধানিক বাধা।

    প্রথমত, সেনেটে কোনও বিল ভোটাভুটির জন্য পেশ করার ক্ষেত্রে সাধারণত অন্তত ৬০ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হয়। সেনেটের মোট আসন ১০০টি। ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ৬০টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করাতে তাঁদের রিপাবলিকানদের একাংশের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। তবে সরকারি ব্যয় ও কর সংক্রান্ত বাজেট সমন্বয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আনা কিছু বিলের ক্ষেত্রে এই নিয়মের ব্যতিক্রম রয়েছে।

    দ্বিতীয়ত, কোনও বিল কংগ্রেসে পাস হলেও প্রেসিডেন্ট চাইলে তাতে ভেটো দিতে পারেন। সেই ভেটো অগ্রাহ্য করে বিলটি কার্যকর করতে হলে প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেট—উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।

    ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তে নামতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা

    নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের হাতে গুরুত্বপূর্ণ তদন্তমূলক ক্ষমতা এসেছে। এই ক্ষমতা ব্যবহার করে তাঁরা সরকারি নথি তলব করতে পারবেন, সাক্ষীদের হাজিরার নির্দেশ দিতে পারবেন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কাজকর্ম নিয়ে কংগ্রেসীয় তদন্ত শুরু করতে পারবেন।

    ইতিমধ্যেই ট্রাম্প এবং তাঁর পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের প্রশাসনিক ক্ষমতার সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীরাও তদন্তের আওতায় আসতে পারেন।

    সম্প্রতি এক নির্বাচনী জনসভায় ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদের নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেন, “যাঁরা আমেরিকার মানুষের অর্থ চুরি করেছেন, তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন কিংবা সাধারণ মানুষের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন, নতুন কংগ্রেসের প্রথম দিন থেকেই তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।”

    ডেমোক্র্যাট দলের একাংশ বিচার বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই সংস্থাগুলির নেতৃত্বে রয়েছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশানা করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে (US Midterm Elections)।

    গত মাসে মেইনে আয়োজিত এক জনসভায় প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট নেত্রী আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ বলেন, “প্রথম দিন থেকেই এই সমস্ত সরকারি সংস্থার প্রধানদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা প্রয়োজন।”

    তৃতীয়বার ইমপিচমেন্টের মুখে ট্রাম্প?

    ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তৃতীয়বারের জন্য ইমপিচমেন্টের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন ডেমোক্র্যাট দলের কয়েকজন সদস্য। তবে এই বিষয়ে দলের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

    প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ডেমোক্র্যাটরা চাইলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাস করাতে পারেন। কিন্তু তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে সরাতে হলে সেনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই সমর্থন পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।

    কমলা হ্যারিস এবং হিলারি ক্লিন্টনের মতো ডেমোক্র্যাট নেত্রীরা অবশ্য ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে নন। তাঁদের মতে, এই বিষয়ে শক্তি ব্যয় না করে দলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক লক্ষ্যে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

    তবে ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য নিশানায় পরিণত হতে পারেন। তাঁকে অভিশংসনের দাবিতে ইতিমধ্যেই একটি প্রস্তাব এনেছেন বিদায়ী রিপাবলিকান প্রতিনিধি টমাস ম্যাসি। ইরান, ভেনেজুয়েলা, ইয়েমেন-সহ বিভিন্ন দেশে আমেরিকার সামরিক পদক্ষেপের সঙ্গে এই প্রস্তাবের সম্পর্ক রয়েছে।

    অন্যদিকে, নির্বাচনী প্রচারে জেফ্রিস একাধিকবার জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটরা পিট হেগসেথকে তাঁর পদ থেকে সরানোর চেষ্টা করবেন।

    গত মাসের শেষ দিকে এক সাক্ষাৎকারে জেফ্রিস বলেন, “প্রেসিডেন্টের উচিত পিট হেগসেথকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া। তা না হলে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে আমাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।”

    তবে হেগসেথ কিংবা ট্রাম্প—কারও বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়াকে তিনি সরাসরি সমর্থন করেছেন কি না, তা স্পষ্ট (US Midterm Elections) করেননি।

    নতুন কংগ্রেসের আগে গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন

    নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হলেও নতুন কংগ্রেসের সদস্যরা আগামী ৩ জানুয়ারির আগে শপথ নেবেন না। তার আগে বর্তমান কংগ্রেসের সদস্যরা ৯ নভেম্বর থেকে আবার অধিবেশনে বসবেন। তাঁদের সামনে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

    সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল, আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন সরকারি ব্যয় বরাদ্দ সংক্রান্ত বিল পাস করানো। কারণ ওই দিনই বর্তমান সরকারি অর্থায়নের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন অর্থ বরাদ্দের বিল পাস না হলে মার্কিন সরকারের একাধিক পরিষেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ ফের সরকারি অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    এমনটা হলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্সির সময়ে চতুর্থবারের মতো সরকারি পরিষেবা বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বছরের শেষ দিকে এই ঘটনা আমেরিকার রাজনীতিতে আরও অস্থিরতা বাড়াতে পারে।

    নিয়োগ-বরখাস্তেও বাড়বে ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব

    মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সেনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়োগের প্রস্তাব সেনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন পেলে তবেই কার্যকর হয়।

    ফলে সেনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ট্রাম্পের কাছে বড় রাজনৈতিক বাধা হয়ে উঠতে পারে। তাঁর পছন্দের প্রার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে (Democrats) নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিরোধীরা বাধা সৃষ্টি করতে পারবেন।

    গত সেপ্টেম্বরে ডেমোক্র্যাটদের সেনেট নেতা চাক শুমার এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আমরা সেনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে চাই, কারণ ট্রাম্প যাতে সুপ্রিম কোর্ট এবং নিম্ন আদালতগুলিতে তাঁর পছন্দের চরম রক্ষণশীল বিচারপতিদের নিয়োগ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”

    বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন বিচারপতির বয়স অবসরের সাধারণ বয়সসীমার অনেকটাই বেশি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রক্ষণশীল বিচারপতি ক্লারেন্স টমাস এবং স্যামুয়েল আলিটো।

    তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের আগেই অবসর নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন বিচারপতি আলিটো। বিচারপতি টমাসও দায়িত্বে থেকে যেতে চান বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (US Midterm Elections)।

    রিপাবলিকানদের হাতে সেনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকতেই তাঁদের অবসরের জন্য চাপ দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁরা দায়িত্ব ছাড়বেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত তাঁদের নিজেদেরই।

    অন্যদিকে, ট্রাম্প চাইলে তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের বরখাস্ত করে নতুন ব্যক্তিদের নিয়োগ করতে পারবেন। কারণ মন্ত্রিসভার সদস্যদের সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে রয়েছে। ফলে প্রশাসনের অভ্যন্তরে রদবদলের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের বাধা দেওয়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত।

    সব মিলিয়ে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে নয়া রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আইন প্রণয়ন, প্রশাসনিক (Democrats) নিয়োগ এবং সরকারি নীতির বাস্তবায়ন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এখন বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হতে পারে হোয়াইট হাউসকে। আগামী দু’বছর আমেরিকার রাজনীতিতে এই ক্ষমতার ভারসাম্য (US Midterm Elections) কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

     

  • Suvendu Adhikari: পরিবারতন্ত্রকে নিশানা করে ‘৪জি-৩জি-২জি’ তত্ত্ব শুভেন্দুর, শিলিগুড়ির উন্নয়নে গুচ্ছের প্রতিশ্রুতি

    Suvendu Adhikari: পরিবারতন্ত্রকে নিশানা করে ‘৪জি-৩জি-২জি’ তত্ত্ব শুভেন্দুর, শিলিগুড়ির উন্নয়নে গুচ্ছের প্রতিশ্রুতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বার্তা দিয়ে উত্তরবঙ্গে মিছিল করল বিজেপি। মঙ্গলবার শিলিগুড়িতে বিশাল মিছিলের নেতৃত্ব দিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদলকে আক্রমণ শানান রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একই সঙ্গে কংগ্রেস, আঞ্চলিক দল এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবারতন্ত্রকে নিশানা করে সামনে আনলেন ‘৪জি, ৩জি ও ২জি’ তত্ত্ব। মিছিলের মঞ্চ থেকে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নেও একাধিক প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি।

    শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্ক থেকে শুরু হয়ে এয়ারভিউ মোড়ে শেষ হয় মিছিল (Siliguri Rally)। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা, বিধায়ক নিশীথ প্রামাণিক, শঙ্কর ঘোষ-সহ বিজেপির একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি।

    মিছিল শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাম না করেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে বিরোধী শিবিরের নেতারা এখন দিল্লিতে গিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। এই প্রসঙ্গে বামপন্থী দলগুলিকেও নিশানা করেন তিনি।

    জামাতি ও মৌলবাদী শক্তির প্রভাব (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দুর কথায়, “এঁরা সবাই রাজনৈতিকভাবে পরাজিত। এখন দিল্লিতে গিয়ে একজোট হয়েছেন। বাংলাদেশে যেমন জামাতি ও মৌলবাদী শক্তির প্রভাব রয়েছে, তেমন পরিস্থিতি ভারতেও তৈরি করতে চাইছে কিছু শক্তি। দেশকে বিভক্ত করার রাজনীতি এবং উৎখাত হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক নেতৃত্ব একসঙ্গে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন।”

    বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দিমাগি নকশাল, জিহাদি, জঙ্গি কিংবা দেশবিরোধী শক্তিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, তা আমাদের জানা আছে। রাজনীতি করতে হলে নির্বাচনে লড়াই করতে হবে। নরেন্দ্র মোদি যতদিন দেশের নেতৃত্বে থাকবেন, ততদিন তোমাদের পক্ষে নির্বাচনে জয় পাওয়া কঠিন।”

    পরিবারতন্ত্র বোঝাতে নয়া তত্ত্ব

    ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধী দলগুলিকে নতুন আঙ্গিকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দেশের একাধিক রাজনৈতিক দল নির্দিষ্ট কিছু পরিবারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রবণতাকে বোঝাতেই তিনি ৪জি, ৩জি ও ২জি-র উদাহরণ সামনে আনেন।

    শুভেন্দুর ব্যাখ্যায়, নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী ও রাহুল গান্ধীকে নিয়ে ৪জি। শেখ আবদুল্লা, ফারুক আবদুল্লা ও ওমর আবদুল্লাকে নিয়ে ৩জি। একইভাবে করুণানিধি, এম কে স্ট্যালিন ও উদয়নিধি স্ট্যালিনের রাজনৈতিক পরিবারকেও ৩জি-র উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি (Suvendu Adhikari)।

    অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মুলায়ম সিং যাদব ও অখিলেশ যাদব, লালুপ্রসাদ যাদব ও তেজস্বী যাদব এবং মুফতি পরিবারের উদাহরণ টেনে ২জি-র প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর দাবি, নরেন্দ্র মোদির ক্ষেত্রে এমন পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের নজির নেই। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি দেশ ও দেশের স্বার্থ।

    মোদির নেতৃত্বে ভারতের অগ্রগতির দাবি

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ২০১৪ সালে বিশ্বের অর্থনীতিতে ভারতের অবস্থান ছিল দ্বাদশ স্থানে। বর্তমানে দেশ তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দিকে এগিয়ে চলেছে।

    করোনা অতিমারির সময় প্রতিষেধক তৈরির উদ্যোগ এবং বিভিন্ন দেশকে টিকা সরবরাহের বিষয়টিও বক্তব্যে তুলে ধরেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “অতিমারি শুরু হওয়ার মাত্র ১১ মাসের মধ্যে তিনটি প্রতিষেধক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিশ্বের ৫৫টি দরিদ্র দেশকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন (Siliguri Rally) নরেন্দ্র মোদি। এই কারণেই তিনি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের জায়গায় পৌঁছেছেন।”

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ভারতীয় পড়ুয়াদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গেরও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক তৎপরতায় সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা হয়েছিল এবং প্রায় ৩০ হাজার ভারতীয়কে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল।

    পুরভোটে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী

    আসন্ন পুরসভা নির্বাচন নিয়েও যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম, ফলতা ও রেজিনগরের নির্বাচনী সাফল্যের উদাহরণ দিয়ে কলকাতা, হাওড়া ও শিলিগুড়িতেও জয়ের আশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, আগামী ফেব্রুয়ারিতে শিলিগুড়িতেও বিজেপি ভালো ফল করবে।

    শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “নন্দীগ্রাম, ফলতা ও রেজিনগরের মতো কলকাতাতেও আমরা জয় পাব। এরপর কলকাতা, হাওড়া এবং শিলিগুড়িতে রাজনৈতিক সাফল্য অর্জন করাই আমাদের লক্ষ্য।”

    উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে একগুচ্ছ ঘোষণা

    উত্তরবঙ্গকে রাজ্যের উন্নয়ন পরিকল্পনার বাইরে রাখা হবে না বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ এবং পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়নে একাধিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন তিনি।

    তাঁর ঘোষণার মধ্যে রয়েছে, রায়গঞ্জে সর্বভারতীয় চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, জলপাইগুড়িতে ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণ, বালুরঘাট, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন, শিলিগুড়িতে প্রযুক্তি অথবা ব্যবস্থাপনা শিক্ষার উচ্চমানের প্রতিষ্ঠান গড়ার পরিকল্পনা, হাসিমারা, কলাইকুন্ডা, বালুরঘাট ও পুরুলিয়ায় বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ এবং সামসিং-সহ বন্ধ হয়ে থাকা ২১টি চা বাগান ফের খোলার ব্যবস্থা করা।

    উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে উন্নয়নের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যবাসী ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল পাবেন বলেও দাবি করেন তিনি। আগামী রাসপূর্ণিমায় কোচবিহারে উপস্থিত থাকার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    ভাওয়াইয়া ও বৈষ্ণব সংগীতশিল্পীদের বাদ্যযন্ত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন মুখ্যমন্ত্রী। স্থানীয় সংস্কৃতি ও শিল্পীদের পাশে থাকার বার্তাও দেন তিনি।

    পরিকাঠামো উন্নয়নে বৈঠক

    মিছিল শেষ হওয়ার পর শিলিগুড়ির পুর কমিশনার, প্রশাসক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় এবং দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্ত-সহ প্রশাসনের আধিকারিকেরা।

    বৈঠক শেষে রাজু জানান, কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত রোপওয়ে নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই প্রকল্পে রাজ্য সরকারের অনুমোদন আগেই মিলেছে বলে জানান তিনি।

    আগামী ৯ ডিসেম্বর কালিম্পং মেডিক্যাল কলেজের শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী। দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং, মিরিক ও শিলিগুড়ির হাসপাতালগুলির সংস্কার এবং আধুনিকীকরণের বিষয়েও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    লেবং গ্রাউন্ডকে আধুনিক ক্রীড়া স্টেডিয়ামে রূপান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এদিকে, দার্জিলিঙের মহাকাল মন্দির চত্বরের সৌন্দর্যায়ন, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১৯ কোটি টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে (Siliguri Rally)।

    সব মিলিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণ, পরিবারতন্ত্রের বিরোধিতা এবং উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই শিলিগুড়ির মিছিল থেকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

     

LinkedIn
Share