Pakistan: ধর্মীয় বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে ভারতে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ ছড়ানোর ছক কষছে পাকিস্তান-তুরস্ক! সতর্কবার্তা মার্কিন বিশ্লেষকের

pakistan-turkey-islamist-outreach-india-civil-war-warning

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ধর্মীয় ও সামাজিক বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। রাজনৈতিক প্রচার, সংবাদমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন সংগঠনকে হাতিয়ার করে ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে এই দুই দেশ। এমনই (India Civil War Warning) আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে ‘দ্য সানডে গার্ডিয়ানে’ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে। সেখানে বলা হয়েছে, কাশ্মীর প্রশ্নে দীর্ঘদিনের অবস্থানের পাশাপাশি এবার ভারতের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় সমীকরণকেও নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইছে ইসলামাবাদ (Pakistan) ও আঙ্কারা (তুরস্কের রাজধানী)। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সামাজিক সংহতির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

‘কুড ইন্ডিয়া ফেস আ সেক্টারিয়ান সিভিল ওয়ার?’ শীর্ষক ওই নিবন্ধটি ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত হয়। লেখক মাইকেল রুবিন ওয়াশিংটন ডিসির মিডল ইস্ট ফোরামের নীতি বিশ্লেষণ বিভাগের পরিচালক এবং উসানাস ফাউন্ডেশনের বিশিষ্ট ফেলো। তাঁর দাবি, সুন্নি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তান ও তুরস্ক রাজনৈতিক বক্তব্য, সংবাদমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যে এমন একটি ধর্মীয় রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে, যা ভারতের বহুধর্মীয় ও গণতান্ত্রিক পরিচয়কে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

রুবিনের মতে, ভারতের বিভিন্ন ধর্মীয় অসন্তোষকে রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করার চেষ্টা করছে এই দুই দেশ। এর ফলে বৃহত্তর সাম্প্রদায়িক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্বাধীন তুরস্ক ভারতের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় পরিস্থিতিকে নিজেদের ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান এখনও দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা ধর্মীয় রাজনৈতিক মতাদর্শকে সামনে রেখে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রচার থেকে নতুন রাজনৈতিক বয়ান (Pakistan)

নিবন্ধে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের একাধিক বক্তব্যের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, অ-মুসলিম রাজনৈতিক কর্তৃত্বের অধীনে মুসলিমদের বসবাসের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলার প্রবণতা দেখা গিয়েছে।

২০১৯ সালের ৬ অগাস্ট পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে মুহাম্মদ আলি জিন্নার পৃথক মুসলিম রাষ্ট্রের দাবির বিষয়টি উঠে আসে। পাশাপাশি তিনি এমন ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন যে, ভবিষ্যতে ভারত শুধুমাত্র হিন্দুদের দেশ হয়ে উঠতে পারে।

২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের মুখেও একই ধরনের বক্তব্য শোনা গিয়েছিল। পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ভিত্তি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, জীবনযাপনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে এবং তারা দু’টি পৃথক জাতি।

রুবিনের মতে, এই ধরনের বক্তব্য শুধুমাত্র জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ভূখণ্ডগত দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এর মধ্যে বৃহত্তর ধর্মীয় রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিফলন রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের কৌশলগত সহযোগী তুরস্কও ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে একই ধরনের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

ভারতের মুসলিমদের পরিস্থিতি নিয়ে এরদোয়ানের বক্তব্য

ভারতের মুসলিমদের পরিস্থিতি নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের একাধিক মন্তব্যকে এই প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন রুবিন।

২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পার্শ্ববৈঠকে পাকিস্তান ও তুরস্কের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিদ্বেষমূলক বক্তব্য সংক্রান্ত একটি আলোচনামঞ্চে ভারতের মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিংসার অভিযোগ তোলেন এরদোয়ান।

এর পাঁচ মাস পর নিজের রাজনৈতিক দলের তরুণ সদস্যদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ভারতকে এমন একটি দেশ হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে হিন্দুদের হাতে মুসলিমরা গণহত্যার শিকার হচ্ছেন (Pakistan) বলে তাঁর অভিযোগ।

রুবিনের ব্যাখ্যা, এই ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে তুরস্ক ভৌগোলিক সীমানার বাইরেও বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। একই সঙ্গে ভারতের বিরুদ্ধে বিতর্কিত বয়ান তুলে ধরে নিজেদের ধর্মীয় রাজনৈতিক বিদেশনীতি আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে আঙ্কারা।

ভারতবিরোধী প্রচারে তুরস্ক-পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম

ভারত সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচার ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তুরস্কের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম এবং পাকিস্তানের বিশিষ্ট ভাষ্যকারদের ভূমিকারও উল্লেখ করেছেন রুবিন।

বিশেষভাবে উঠে এসেছে তুরস্কের সংবাদপত্র ‘ইয়েনি সাফাকে’র নাম। সংবাদপত্রটিকে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের রাজনৈতিক শিবিরের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়। ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল পত্রিকাটির সম্পাদক ইব্রাহিম কারাগুল একটি নিবন্ধে দাবি করেন, চিন ও তুরস্ক পাকিস্তানকে সমর্থন করলে ভারত ভেঙে যেতে পারে। ভারতকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রসঙ্গে তিনি মুঘল, সেলজুক এবং উসমানীয় সাম্রাজ্যের ঐতিহাসিক প্রসঙ্গও টেনে আনেন।

৮ মে ওই সংবাদপত্রে পাকিস্তানি ভাষ্যকার ফুরকান হামিদের একটি অতিথি সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়। তিনি তুরস্কের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের উর্দু বিভাগের প্রধান। ওই লেখায় ভারতকে সংখ্যালঘুদের বসবাসের পক্ষে ক্রমশ প্রতিকূল দেশ হিসেবে তুলে ধরা হয় (India Civil War Warning)।

পরের দিন তুরস্কের ‘সাবাহ’ সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি লেখায় ভাষ্যকার হিলাল কাপলান ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যা সংঘটিত হওয়ার অভিযোগ তোলেন।

রুবিনের মতে, এই ধরনের প্রকাশনা নিছক ভারত সরকারের নীতির সমালোচনা নয়। বরং ধারাবাহিকভাবে ভারতকে মুসলিমবিরোধী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি ধর্মীয় মেরুকরণকে উৎসাহিত করার (Pakistan) প্রচেষ্টা।

তাঁর আশঙ্কা, সোশ্যাল মিডিয়া, দাতব্য সংস্থা এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠীর একাংশের মধ্যে ধর্মীয় অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তোলা হতে পারে। এর ফলে উগ্রপন্থী মনোভাব এবং রাজনৈতিক অধিকারবোধের নামে সংঘাতের প্রবণতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পাকিস্তানে হিন্দু, খ্রিস্টান ও শিখদের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন

ভারতের বিরুদ্ধে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের অভিযোগ তোলা পাকিস্তান ও তুরস্কের নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে নিজেদের দেশের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতির তুলনাও করেছেন রুবিন।

তাঁর দাবি, স্বাধীনতার পর থেকে পাকিস্তানে হিন্দু ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সামাজিক অবস্থানের উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। দেশটির স্বাধীনতার সময় এই দুই সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এমনকী তাঁদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলিকে জাতীয় ছুটির মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টিও একসময় বিবেচনা করা হয়েছিল।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে বৈষম্য, ধর্মীয় নিপীড়ন, হামলা এবং ধর্ম অবমাননা সংক্রান্ত আইনের অপব্যবহারের কারণে সংখ্যালঘুদের একাংশ দেশ ছাড়তে বাধ্য হন বলে নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে।

পাকিস্তানে শিখ সম্প্রদায়ের অবস্থার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। রুবিনের বক্তব্য, ভারতে খালিস্তানপন্থী আন্দোলনকে পাকিস্তানের সমর্থনের সঙ্গে সে দেশের পাঞ্জাবে শিখ সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক অবক্ষয়ের বিষয়টি স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করে।

তুরস্কের ক্ষেত্রেও এরদোয়ান সরকারের ধর্মীয় রাজনৈতিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করেছেন তিনি।

ভারতের বৈচিত্র্যই সবচেয়ে বড় শক্তি

রুবিন তাঁর নিবন্ধে ভারতের ধর্মীয় ও ভাষাগত বৈচিত্র্যের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং অন্যতম বৈচিত্র্যপূর্ণ সমাজ। এখানে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, জরথুষ্ট্রী-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন।

বিশ্বের বৃহত্তম হিন্দু ও জৈন জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠীর বাস ভারতেই। দেশের খ্রিস্টান জনসংখ্যা অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। পাশাপাশি ভারতে অন্তত ১০ হাজার মানুষের মাতৃভাষা হিসেবে ব্যবহৃত ২৭০টিরও বেশি ভাষা এবং ৭০০-র বেশি জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব রয়েছে।

রাজনৈতিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা ফ্রিডম হাউসের বিভিন্ন মূল্যায়নের উল্লেখ করে রুবিনের দাবি, রাজনৈতিক স্বাধীনতার একাধিক মাপকাঠিতে ভারতের অবস্থান পাকিস্তান ও তুরস্কের তুলনায় ভালো। তাঁর আরও বক্তব্য, আন্তর্জাতিক সংস্থাটির বিভিন্ন সময়ে ভারতের সমালোচনা সত্ত্বেও ধর্মীয় সহাবস্থানের ক্ষেত্রে ভারতের রেকর্ড একাধিক মুসলিম (Pakistan) সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের তুলনায় উন্নত।

সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় নতুন চ্যালেঞ্জ?

নিবন্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হল, পাকিস্তান ও তুরস্ক প্রচলিত সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত প্রচারের মাধ্যমে ভারতের ধর্মীয় বৈচিত্র্যকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে।

রুবিন বিংশ শতাব্দীর ভূখণ্ডগত সংঘাতের সঙ্গে একবিংশ শতাব্দীর নতুন ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের পার্থক্য তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, চিনের আকসাই চিন দখল, জম্মু ও কাশ্মীরের একটি বড় অংশে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ, তুরস্কের উত্তর সাইপ্রাস দখল এবং ইরাকের কুয়েত আক্রমণ ছিল প্রচলিত ভূখণ্ডগত আগ্রাসনের উদাহরণ।

কিন্তু বর্তমান সময়ে সংঘাতের ধরন বদলেছে। এখন বিদ্রোহ, অপপ্রচার, অনিয়মিত নেটওয়ার্ক, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে কাজে লাগানোর প্রবণতা বাড়ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার পদক্ষেপ এবং বাল্টিক অঞ্চলের রুশভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছেন।

এই প্রেক্ষাপটে রুবিনের আশঙ্কা, এরদোয়ানের নেতৃত্বাধীন তুরস্ক ভারতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রসংঘের কূটনৈতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের পথও খুঁজতে পারে আঙ্কারা।

রাষ্ট্রসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদে তুরস্কের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী এবং বর্তমানে ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার মহাসচিব ফেরিদুন সিনিরলিওগলুকে প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার জন্য এরদোয়ানের প্রচেষ্টার বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন তিনি।

রুবিনের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে ধর্মীয় নিপীড়নের অভিযোগ তুলে নয়াদিল্লির উপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে।

খালিস্তান আন্দোলনের উদাহরণ টেনে সতর্কবার্তা

আটের দশকে পাকিস্তানের সমর্থনপুষ্ট খালিস্তানপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের প্রসঙ্গও টেনেছেন রুবিন। তাঁর মতে, সেই সময় বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসবাদ ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সামনে গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল।

তাঁর আশঙ্কা, ভারতের প্রায় ২০ কোটি মুসলিম জনগোষ্ঠীর সামান্য একটি অংশকেও যদি উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলেও তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। দেশের জাতীয় স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বিনিয়োগের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রুবিনের মূল্যায়ন, সাম্প্রদায়িক সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে কয়েক দশক পিছিয়ে দিতে পারে। এমনকী পরিস্থিতি পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধের পর্যায়ে না পৌঁছলেও তার প্রভাব মারাত্মক হতে পারে।

নিবন্ধের উপসংহারে বলা হয়েছে, ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সমস্যাকে শুধুমাত্র পাকিস্তান বা চিনের মতো প্রতিবেশী দেশের সামরিক হুমকির নিরিখে বিচার করলে চলবে না। ইসলামাবাদ ও আঙ্কারার মধ্যে ক্রমবর্ধমান মতাদর্শগত ঘনিষ্ঠতা, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে প্রচার এবং ধর্মীয় বয়ানে প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টাকেও গুরুত্ব দিয়ে (Pakistan) দেখতে হবে।

রুবিনের মতে, ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে এই ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় রাজনৈতিক প্রচারের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক বিভাজনকে কাজে লাগানোর (India Civil War Warning) যে কোনও প্রচেষ্টা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না করলে অদূর ভবিষ্যতে তৈরি হতে পারে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকট।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share