Tag: pakistan

pakistan

  • India Pakistan Trade: বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা, তবু ভারত থেকে পণ্য আমদানি বাড়াল পাকিস্তান! কীভাবে পৌঁছচ্ছে ইসলামাবাদে?

    India Pakistan Trade: বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা, তবু ভারত থেকে পণ্য আমদানি বাড়াল পাকিস্তান! কীভাবে পৌঁছচ্ছে ইসলামাবাদে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদ ও বাণিজ্য একসঙ্গে চলতে পারে না—এই অবস্থানেই অনড় ভারত (India Pakistan Trade)। ২০২৫ সালে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য কার্যত বন্ধ। বন্ধ হয়েছে ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত দিয়ে পণ্য পরিবহণও। অথচ বাণিজ্য বন্ধ থাকার পরেও ভারত থেকে পাকিস্তানে পণ্য আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারত থেকে ৫,৮৭৬ কোটি টাকার পণ্য আমদানি (Pak’s India Imports Spike) করেছে পাকিস্তান। গত অর্থবর্ষের একই সময়ে এই আমদানির পরিমাণ ছিল ৩,৪৭৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরে আমদানি বেড়েছে প্রায় ৬৯ শতাংশ। অন্যদিকে, ওই সময়ে পাকিস্তান থেকে ভারতে কোনও পণ্য আমদানি হয়নি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তৃতীয় দেশের মাধ্যমে আসছে ভারতীয় পণ্য?

    প্রশ্ন উঠছে, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য বন্ধ থাকলে কীভাবে পাকিস্তানে পৌঁছচ্ছে ভারতীয় পণ্য? পাকিস্তানের স্টেট ব্যাঙ্কের পরিসংখ্যানে এই পণ্য পরিবহণের নির্দিষ্ট পথের উল্লেখ নেই। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের অনুমান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সিঙ্গাপুর ও শ্রীলঙ্কার মতো তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পাকিস্তানে পৌঁছচ্ছে ভারতীয় পণ্য। ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ রবিন্দর সিং রবিনের মতে, ভারতীয় পণ্যের চাহিদা পাকিস্তানে এখনও যথেষ্ট। সরাসরি বাণিজ্য বন্ধ থাকলে এই পণ্যগুলি কোন পথে পৌঁছচ্ছে এবং নথিতে উৎপত্তির দেশ হিসেবে কোন দেশের নাম উল্লেখ করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    কোন কোন ভারতীয় পণ্যের চাহিদা পাকিস্তানে বেশি?

    ভারত থেকে পাকিস্তানের আমদানি করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ওষুধ ও ওষুধ তৈরির কাঁচামাল, প্লাস্টিক, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, রং, জৈব রাসায়নিক, রবার, কফি, চা, শাকসবজি, মশলা, দুগ্ধজাত পণ্য এবং খাদ্যশস্য। বিশেষ করে ওষুধ ও ওষুধ তৈরির কাঁচামালের ক্ষেত্রে ভারতের উপর পাকিস্তানের নির্ভরতার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানে ভারতের ওষুধ রফতানির পরিমাণ ছিল ২০৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগেও নিষেধাজ্ঞার পর ভারত থেকে পাকিস্তানে পণ্য আমদানির নজির সামনে এসেছে। আরব নিউজের একটি প্রতিবেদনে পাকিস্তানের স্টেট ব্যাঙ্কের তথ্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছিল, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভারত থেকে প্রায় ৩৬.৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল পাকিস্তান। সেই আমদানির সিংহভাগই ছিল ওষুধ তৈরির কাঁচামাল।

    কীভাবে কার্যকর হচ্ছে ‘গ্রে-জোন’ কৌশল?

    গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (GTRI)-এর মতে, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ঘুরপথে পাকিস্তানে ভারতীয় পণ্য রফতানির একটি বড় বাজার রয়েছে। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব এই পদ্ধতিকে ‘গ্রে-জোন স্ট্র্যাটেজি’ বলে উল্লেখ করেছেন। এই পদ্ধতিতে ভারতীয় পণ্য প্রথমে দুবাই, সিঙ্গাপুর বা কলম্বোর মতো বাণিজ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে বন্ডেড ওয়্যারহাউসে পণ্য মজুত রাখা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট পণ্যের নথি ও লেবেল পরিবর্তন করে অন্য দেশের পণ্য হিসেবে পুনরায় রফতানি করা হতে পারে। এর ফলে পণ্যের মূল উৎস আড়াল করে পাকিস্তানে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় বলে বিশেষজ্ঞদের দাবি। জিটিআরআই-এর অনুমান, এই ধরনের অনানুষ্ঠানিক ও ঘুরপথে বাণিজ্যের মাধ্যমে পাকিস্তানে ভারতীয় পণ্যের রফতানি বছরে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে। তবে এই অঙ্ক একটি অনুমান, সরকারি ভাবে যাচাই করা সরাসরি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিসংখ্যান নয়।

    কেন বন্ধ হয়েছিল ভারত-পাকিস্তান বাণিজ্য?

    ২০১৯ সালে পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানকে দেওয়া ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ মর্যাদা প্রত্যাহার করে ভারত। এরপর দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০২৫ সালে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৫ জন পর্যটকের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। এর পর ভারত ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত বন্ধ করে দেয় এবং পাকিস্তানে উৎপত্তি হওয়া বা পাকিস্তান থেকে রফতানি করা পণ্যের সরাসরি কিংবা পরোক্ষ আমদানি ও ট্রানজিটের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ৪ মে পাকিস্তানও তৃতীয় দেশের মাধ্যমে বাণিজ্য-সহ ভারতের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্য বন্ধ করার ঘোষণা করে।

    ক্রমশ কমেছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২.৪১ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ১.২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। ২০১৯ সালে ভারতে পাকিস্তানের রফতানির পরিমাণ ছিল ৫৪৭.৫ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালে কমে মাত্র ৪৮০,০০০ ডলারে দাঁড়ায়। পাকিস্তান থেকে ভারতে রফতানি হওয়া পণ্যের মধ্যে ছিল কাচের সামগ্রী, তামা, গন্ধক, ফল ও বাদামজাতীয় পণ্য। ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ভারত পাকিস্তানে ৪৪৭.৬৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছিল। বিপরীতে পাকিস্তান থেকে ভারতে রফতানির পরিমাণ ছিল মাত্র ০.৪২ মিলিয়ন ডলার। সরাসরি বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ভারতীয় পণ্যের চাহিদা যে পাকিস্তানে এখনও রয়েছে, সাম্প্রতিক আমদানির পরিসংখ্যান সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। তবে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে আসা পণ্যগুলির প্রকৃত উৎস, পরিবহণের পথ এবং নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন।

  • India Mocks at Pakistan: রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে ভারতের কটাক্ষ, ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’ বলে তোপ! কী এই শব্দবন্ধ, কারা ব্যবহার করে?

    India Mocks at Pakistan: রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে ভারতের কটাক্ষ, ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’ বলে তোপ! কী এই শব্দবন্ধ, কারা ব্যবহার করে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘে কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে সে দেশের সরকারকে ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’ (Form 47 Government) বলে কটাক্ষ করল ভারত। গত ২৪ অক্টোবর রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি রঘু পুরী (Raghoo Puri) পাকিস্তানের (India Mocks at Pakistan) অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে দাবি করেন, নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর ঘোরাতেই ভারতকে নিশানা করছে ইসলামাবাদ। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানে নির্বাচিত সরকারের উপরে সেনাবাহিনীর প্রভাবই সবচেয়ে বেশি।

    কী এই ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’?

    ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’ কথাটি মূলত পাকিস্তানের ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং তাদের সমর্থকদের অভিযোগ, নির্বাচনে জনসমর্থন পেলেও তাঁদের প্রার্থীদের জিততে দেওয়া হয়নি। বরং নির্বাচনের ফলাফল বদলে দিয়ে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)-র সমর্থনপুষ্ট জোট সরকারকে ক্ষমতায় আনা হয়েছে। পিটিআইয়ের দাবি, এই নির্বাচনী কারচুপির নেপথ্যে ছিল পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। যদিও এই অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখা যায় না; বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে।

    ফর্ম ৪৫ ও ফর্ম ৪৭-এর পার্থক্য কী?

    পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণ ও ফলাফল সংক্রান্ত তথ্য নথিবদ্ধ করতে একাধিক সরকারি ফর্ম ব্যবহার করে। তার মধ্যে ফর্ম ৪৫ এবং ফর্ম ৪৭ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    ফর্ম ৪৫: প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভোট গণনার পর প্রিসাইডিং অফিসার এই ফর্মে ফলাফল নথিবদ্ধ করেন। সেখানে প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের হিসেব-সহ সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের নির্বাচনী তথ্য থাকে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদেরও এই নথি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

    ফর্ম ৪৭: একটি নির্বাচনী কেন্দ্রের অধীন সমস্ত ভোটকেন্দ্রের ফলাফল একত্র করে রিটার্নিং অফিসার এই ফর্ম প্রস্তুত করেন। এতে প্রার্থীদের মোট প্রাপ্ত ভোট-সহ সামগ্রিক ফলাফলের হিসেব থাকে। প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত এই ফলাফল পরবর্তী যাচাই ও চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার অংশ।

    পিটিআইয়ের অভিযোগ, ২০২৪ সালের নির্বাচনে একাধিক আসনে ফর্ম ৪৫-এ তাদের সমর্থিত নির্দল প্রার্থীরা এগিয়ে ছিলেন বা জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু ফর্ম ৪৭-এ প্রকাশিত সামগ্রিক ফলাফলে অন্য প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তাদের আরও দাবি, বেশ কিছু ক্ষেত্রে প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের ফর্ম ৪৫-এর কপি পেতেও সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল। ইমরান খানের দাবি ছিল, সরকারি ফলাফলের তুলনায় তাঁর দল অনেক বেশি আসনে জয়ী হয়েছিল। ফর্ম ৪৫-এর হিসাবের ভিত্তিতে পিটিআই-সমর্থিত প্রার্থীরা ১৭০টি আসনে জয় পেয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছিল। তবে এই সংখ্যাকে সরকারি ভাবে স্বীকৃত ফলাফল হিসেবে দেখা যায় না। ভোটের ফল প্রকাশে বিলম্ব এবং নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার ঘটনাও সেই সময় কারচুপির অভিযোগকে ঘিরে বিতর্ক বাড়িয়েছিল।

    রাষ্ট্রসংঘে ঠিক কী বলেছে ভারত?

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে সংখ্যালঘুদের অধিকার সংক্রান্ত আলোচনায় পাকিস্তানের বক্তব্যের জবাব দেন ভারতের প্রতিনিধি রঘু পুরী। তাঁর অভিযোগ, নিজেদের দেশের সংখ্যালঘুদের অধিকার, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে নজর সরাতেই ভারতকে নিশানা করছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সে দেশের প্রকৃত ক্ষমতা সেনার হাতেই রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সেনাবাহিনীর নির্দেশ অগ্রাহ্য করার মতো স্বাধীনতা পাকিস্তানের বর্তমান সরকারের নেই। জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে পুরী বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের উচিত নিজেদের দেশের নাগরিকদের কল্যাণে মনোযোগ দেওয়া এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) থেকে সরে আসা। ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে পাকিস্তানের বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা নিয়েও কটাক্ষ করেন ভারতীয় প্রতিনিধি।

    ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক কেন?

    ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ইমরান খানের দল পিটিআই সরাসরি দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারায় তাদের বহু প্রার্থী নির্দল হিসেবে লড়েছিলেন। ফলাফল ঘোষণার পর পিটিআই-সমর্থিত প্রার্থীদের আসনসংখ্যা এবং সরকার গঠনের সমীকরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। পিটিআইয়ের অভিযোগ ছিল, ভোটের প্রকৃত ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচনের সরকারি ফলাফলের ভিত্তিতে শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে জোট সরকার গঠিত হয়। নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনা হলেও ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’ শব্দবন্ধটি মূলত পিটিআইয়ের রাজনৈতিক প্রচার এবং বিরোধিতার একটি পরিচিত ভাষা হয়ে ওঠে। ২০২৪ সালের মার্চে মার্কিন কংগ্রেসের প্রায় ৩১ জন সদস্য তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং বিদেশসচিব অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনকে চিঠি লিখে পাকিস্তানের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

    ইমরান খানের ক্ষমতাচ্যুতি 

    ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান খান। তাঁর সমর্থকদের একাংশের অভিযোগ, তাঁর সরকারকে সরানোর পিছনে বিদেশি শক্তির ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে আমেরিকার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ তোলেন ইমরান খান। তবে এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০২২ সালের ৭ মার্চ ওয়াশিংটনে পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান এবং মার্কিন বিদেশ দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক তৎকালীন সহকারী বিদেশসচিব ডোনাল্ড লু-র মধ্যে একটি বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠক সংক্রান্ত একটি গোপন কূটনৈতিক বার্তা বা সাইফার পরবর্তীকালে বিতর্কের কেন্দ্রে আসে।

    আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

    ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত বলে উল্লেখ করা কিছু প্রতিবেদনে ওই নথির বিষয়বস্তু নিয়ে নতুন করে আলোচনা হয়। নথিটি থেকে আমেরিকা ও পাকিস্তানের সম্পর্ক এবং ইমরান খানের রাশিয়া নীতিকে ঘিরে ওয়াশিংটনের মনোভাব সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করা হয়। তবে ওই নথির উল্লেখ থেকেই ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য আমেরিকা ষড়যন্ত্র করেছিল—এমন সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় না ইমরান খানের ক্ষমতাচ্যুতির পর শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকার আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত করার চেষ্টা করে। একই সময়ে ইউক্রেনকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে আলোচনা হয়। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার (আইএমএফ) পাকিস্তানের জন্য ৩০০ কোটি ডলারের একটি স্ট্যান্ডবাই ব্যবস্থা অনুমোদন করেছিল। তবে এই আর্থিক সহায়তার সঙ্গে ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিয়ে প্রকাশিত অভিযোগকে সতর্কতার সঙ্গে বিচার করা প্রয়োজন।

    কেন তাৎপর্যপূর্ণ ভারতের এই মন্তব্য?

    রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে ভারত শুধু পাকিস্তানের কাশ্মীর সংক্রান্ত বক্তব্যের জবাব দেয়নি, বরং সে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক এখনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই বিতর্ককেই আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে তুলে ধরে ইসলামাবাদের উপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করেছে নয়াদিল্লি। সব মিলিয়ে, ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’ কোনও সরকারি সাংবিধানিক পরিচয় নয়। এটি মূলত পাকিস্তানের ২০২৪ সালের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগকে কেন্দ্র করে জনপ্রিয় হওয়া একটি রাজনৈতিক কটাক্ষ। এর মাধ্যমে পিটিআই-সমর্থকরা শাহবাজ শরিফের সরকারের জনসমর্থন ও নির্বাচনী বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বিতর্ককেই নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

     

     

     

     

     

  • Kashmir: শরজিল ইমামের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, জাতীয়তাবাদ, কাশ্মীর ও জিন্নাহ-ভাবনা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

    Kashmir: শরজিল ইমামের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, জাতীয়তাবাদ, কাশ্মীর ও জিন্নাহ-ভাবনা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের জাতীয় পরিচয়, ধর্মনিরপেক্ষতা, কাশ্মীরের (Kashmir) রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং মহম্মদ আলি জিন্নাহর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে শরজিল ইমামের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের বিভিন্ন পোস্ট, শেয়ার করা সংবাদ প্রতিবেদন এবং রাজনৈতিক মন্তব্যের ভিত্তিতে (Sharjeel Imam) তাঁর মতাদর্শ, ভারতীয় জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি এবং ধর্ম ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে একটি সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ। তবে পোস্টগুলির ব্যাখ্যা, সেগুলির প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের অবস্থান আলাদা করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    কে এই শরজিল ইমাম? (Kashmir)

    শরজিল জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) প্রাক্তন ছাত্র, গবেষক এবং রাজনৈতিক কর্মী। ২০১৯-২০ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং প্রস্তাবিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)-বিরোধী আন্দোলনের সময় জাতীয় স্তরে পরিচিতি পান তিনি। ওই আন্দোলনের সময় তাঁর কয়েকটি বক্তব্য, বিশেষত উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ অবরোধের প্রসঙ্গে করা মন্তব্য, বিতর্কের জন্ম দেয়।

    ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরেরই ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সংঘটিত দাঙ্গার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের মামলাতেও তাঁর নাম জড়ায়। ওই হিংসাত্মক ঘটনায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি এক নয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর নিয়মিত জামিনের আবেদন খারিজ করে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও দিল্লি হাইকোর্ট তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওই ঘটনায় উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

    ভারতীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন

    ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরের একটি ফেসবুক পোস্টে শরজিল দেশভাগের পর ভারতে থেকে যাওয়া মুসলিমদের প্রসঙ্গে ‘আমরা ভারতকে বেছে নিয়েছিলাম’—এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তাঁর মতে, ‘হামনে হিন্দোস্তান কো চুনা থা’ বা ‘আমরা হিন্দুস্তানকে বেছে নিয়েছিলাম’—এই বক্তব্যকে মুসলিমদের অপমান করার জন্য হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভাষ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

    ইমামের যুক্তি ছিল, দেশভাগের সময় বহু পরিবার হিংসা, অনিশ্চয়তা এবং বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কার মধ্যে পড়েছিল। ফলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাধীনভাবে একটি দেশ বেছে নেওয়ার সুযোগ সবার ছিল না। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সম্পত্তি এবং ঐতিহাসিক শিকড়ের মতো বিষয়গুলিও সহজে সীমান্তের অন্য পারে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব ছিল না।

    পোস্টে তিনি লেখেন, “ইসকো ‘দেশ’ কি মোহব্বত কহনা ঝুঠ হ্যায়, অউর উন মুসলমানোঁ কি তৌহিন হ্যায়।” অর্থাৎ, একে দেশের প্রতি ভালোবাসা বলা মিথ্যা এবং ওই মুসলিমদের অপমান করার শামিল।

    এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে দেশভাগ-পরবর্তী মুসলিমদের জাতীয় পরিচয় ও দেশপ্রেমের প্রচলিত ব্যাখ্যাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করান তিনি।

    কেন্দ্রের নীতির সমালোচনা

    ২০১৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বরের একটি পোস্টে ইমাম লেখেন, “কাশ্মীর বন্ধের এক মাস এবং কাশ্মীরে এক মাসের ভারতীয় অবরোধ।”

    ২০১৯ সালের অগাস্টে কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার করে এবং রাজ্যটিকে জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখ—এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পুনর্গঠিত করে। ওই সময় নিরাপত্তা বিধিনিষেধ এবং যোগাযোগের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল। এর প্রভাব পড়েছিল মানুষের চলাচল, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে।

    ইমামের পোস্টে ‘অবরোধ’ শব্দটির ব্যবহার বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই শব্দের মাধ্যমে তিনি কাশ্মীরের পরিস্থিতিকে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও বলপ্রয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরেন। সমালোচকদের মতে, এমন ভাষ্য কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং জঙ্গি কার্যকলাপের মতো অন্যান্য বিষয়কে যথেষ্ট গুরুত্ব না-ও দিতে পারে।

    ‘জিন্নাহর প্রশ্ন আজও প্রাসঙ্গিক’

    ২০১৮ সালের ১৩ মে একটি পোস্টে মহম্মদ আলি জিন্নাহকে নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ শেয়ার করেন ইমাম। সেখানে তিনি লেখেন, “জিন্নাহর উত্থাপিত প্রশ্নগুলি আজও প্রাসঙ্গিক।”

    তিনি আরও লেখেন, “প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি লক্ষ লক্ষ মুসলিমের সংগ্রামই বহুত্ববাদী গণতন্ত্রের অর্থ নির্ধারণ করবে।”

    একই পোস্টে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় (এএমইউ) থেকে জিন্নাহর প্রতিকৃতি সরানোর বিরোধিতা করে তিনি লেখেন, “বরং এমন আরও হাজার হাজার ছবি আমাদের প্রয়োজন (Sharjeel Imam)। ”

    জিন্নাহর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ভারতের ইতিহাসে বিতর্কিত। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রথম পর্বে সাংবিধানিক রাজনীতি ও হিন্দু-মুসলিম সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান থাকলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মুসলিম লিগের পাকিস্তান দাবির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হন। দেশভাগের পরিণতিতে ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি, হিংসা এবং ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতার ইতিহাসও জড়িয়ে রয়েছে। তাই বর্তমান ভারতের রাজনীতিতে জিন্নাহর কোন রাজনৈতিক ভাবনাকে প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন ইমাম, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে (Kashmir)।

    ‘ধর্মনিরপেক্ষ কংগ্রেসের মিথ’

    ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারির একটি ফেসবুক পোস্টে ইমাম জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবনকে সামনে রেখে ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

    তিনি জানান, জিন্নাহ পেপার্স পড়ার পর তাঁর মনে হয়েছে, জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবনের বড় অংশ ছিল প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজের সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষার জন্য এক সংখ্যালঘু নেতার লড়াই। ইমাম লেখেন, “৭০ বছর পর ভারতের মুসলিম এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুরা জিন্নাহ কী বোঝাতে চেয়েছিলেন, তা ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন।”

    তিনি আরও লেখেন, “ধর্মনিরপেক্ষ কংগ্রেসের মিথ বুঝতে হলে জিন্নাহকে গুরুত্ব দিয়ে অধ্যয়ন করা প্রয়োজন।”

    এই বক্তব্যে শুধু জিন্নাহর রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করার বিষয়টি নেই, বরং কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি মুসলিমদের জন্য বাস্তব রাজনৈতিক সমতা নিশ্চিত করতে পেরেছিল কি না, সেই প্রশ্নও রয়েছে।

    ‘ভারতীয় সংবিধানে মুসলিমবিরোধী পক্ষপাত’, বিতর্ক

    ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ইমাম টিআরটি ওয়ার্ল্ডে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ শেয়ার করেন। তার সঙ্গে তিনি লেখেন, “ভারতীয় সংবিধানে মুসলিমবিরোধী পক্ষপাত নিয়ে তাঁর লেখা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।” সেটি পড়ে শেয়ার করার আহ্বানও জানান তিনি।

    ভারতীয় সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতা, আইনের চোখে সমতা এবং নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। এই সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই মুসলিম-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নাগরিকেরা নিজেদের ধর্ম পালন ও জনজীবনে অংশগ্রহণের অধিকার ভোগ করেন।

    সংবিধান বা সরকারি নীতির সমালোচনা গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। তবে সংবিধানকেই সামগ্রিকভাবে মুসলিমবিরোধী বলে চিহ্নিত করা একটি বিস্তৃত অভিযোগ। এই ধরনের দাবি মূল্যায়নের জন্য নির্দিষ্ট সাংবিধানিক বিধান, তার প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    ‘ধর্মনিরপেক্ষতা, দহর-পরস্তি’

    ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বরের একটি ফেসবুক পোস্টে ইমাম কয়েকটি রাজনৈতিক ও সামাজিক ধারণার সঙ্গে ধর্মীয় অনুষঙ্গযুক্ত শব্দ ব্যবহার করেন।

    তাঁর তালিকায় ছিল জাতীয়তাবাদ: ওয়াতান-পরস্তি, মূর্তিপূজা: বুত-পরস্তি, ধর্মনিরপেক্ষতা: দহর-পরস্তি বা জামানা-পরস্তি, বর্ণবাদ ও জাতপাতবাদ: নসল-পরস্তি, উদারবাদ: নফস-পরস্তি, মানবতাবাদ: ইনসান-পরস্তি

    এখানে ‘পরস্তি’ শব্দটি কোনও কিছুর প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্য বা উপাসনার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, উদারবাদ এবং মানবতাবাদের মতো ধারণাগুলিকে ধর্মীয় পরিভাষার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

    তবে ধর্মনিরপেক্ষতা ও উদারবাদের মতো রাজনৈতিক দর্শনের বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতা রাষ্ট্র ও ধর্মের সম্পর্ক নির্ধারণের একাধিক পদ্ধতিকে বোঝাতে পারে। একইভাবে উদারবাদ ব্যক্তিস্বাধীনতা, অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমা নিয়ে বিভিন্ন মতের সমষ্টি।

    এই পোস্ট থেকে ধর্মীয় বিশ্বাস ও রাজনৈতিক নীতির সম্পর্ক নিয়ে ইমামের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে প্রশ্ন ওঠে। ভিন্ন ধর্মবিশ্বাসের নাগরিকদের সমান অধিকার বজায় রেখে ধর্মীয় আদর্শ অনুসরণ করা সম্ভব কি না, তা-ও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

    ইসলামের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য

    ২০১৯ সালের ২০ নভেম্বরের একটি স্ক্রিনশটে পুঁজিবাদ ও মার্কসবাদ-পরবর্তী রাজনৈতিক চিন্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি বক্তব্য দেখা যায়।

    সেখানে বলা হয়েছে, “পুঁজিবাদ ও মার্কসবাদকে পরিত্যাগ করার মধ্য দিয়ে যে ভবিষ্যৎ শুরু হবে, তা আগে থেকে নির্ধারিত বা তৈরি করা নয়; বরং তা গড়ে তুলতে হবে।”

    এর পরেই বলা হয়েছে, “সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণে ইসলামের উপযুক্ত ভূমিকা থাকবে।”

    বক্তব্যটিতে অন্যান্য মতাদর্শের সঙ্গে ইসলামের সংঘাত ও বিরোধিতার পরিসর নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে এই অংশ থেকে একা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে ইমাম একটি ইসলামভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে ছিলেন, নাকি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চিন্তায় ইসলামের অবদান নিয়ে আলোচনা করছিলেন। বিষয়টি নির্ধারণের জন্য মূল লেখার পূর্ণ প্রেক্ষাপট ও তাঁর অন্যান্য বক্তব্য বিবেচনা করা প্রয়োজন (Kashmir)।

    গর্বাচেভকে খোমেইনির চিঠি শেয়ার

    ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর ইমাম সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভকে আয়াতোল্লা রুহোল্লা খোমেইনির ১৯৮৯ সালের চিঠির অংশবিশেষ শেয়ার করেন বলে স্ক্রিনশটে দেখা যায়।

    সেখানে বলা হয়েছিল, “আজকের বিশ্বে কমিউনিজম বলে আর কিছুই নেই।” একই সঙ্গে, গর্বাচেভকে ‘পশ্চিমের কারাগার এবং মহাশয়তানে’র ফাঁদে না পড়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল বলে উদ্ধৃতিতে উল্লেখ রয়েছে।

    ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সঙ্গে খোমেইনির রাজনৈতিক উত্তরাধিকার যুক্ত। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনে ধর্মীয় কর্তৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। চিঠিটিতে কমিউনিজমের সমালোচনার পাশাপাশি পশ্চিমী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মডেল গ্রহণের বিরুদ্ধেও সতর্কতা ছিল (Sharjeel Imam)।

    ইমামের এই পোস্টকে ইসলামের ভূমিকা নিয়ে তাঁর শেয়ার করা পূর্ববর্তী বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে পড়া যেতে পারে। তবে একটি ঐতিহাসিক চিঠি শেয়ার করাই তার সমস্ত বক্তব্য বা রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি সমর্থনের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।

    ‘সিয়াচেন সমাধানের পথে ভারতীয় সেনা বাধা’

    ২০১১ সালের ২ জুন ইমাম পাকিস্তানের সংবাদপত্র ডন-এর একটি শিরোনাম শেয়ার করেন বলে উল্লেখ রয়েছে। শিরোনামটি ছিল, “সিয়াচেন সমস্যার সমাধানের পথে ভারতীয় সেনাবাহিনী বাধা।”

    সিয়াচেন হিমবাহ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি সংবেদনশীল সামরিক ও কৌশলগত এলাকা। এই শিরোনামে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে বিরোধ নিষ্পত্তির পথে বাধা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

    ইমাম কেন এই শিরোনামটি শেয়ার করেছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ। তবে কোনও সংবাদ প্রতিবেদন শেয়ার করার কারণ নির্ধারণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট পোস্টের পূর্ণ বক্তব্য এবং তৎকালীন প্রেক্ষাপট জানা প্রয়োজন। শুধু একটি শিরোনাম শেয়ার করার ভিত্তিতে তাঁর জাতীয় আনুগত্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

    কাশ্মীরের খবর পরিবেশন নিয়ে অভিযোগ

    ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ ইমাম একটি প্রবন্ধ শেয়ার করে লেখেন, “কাশ্মীর সংঘাতের ক্ষেত্রে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের অসততা নিয়ে তাঁর লেখা প্রবন্ধ পড়া, মন্তব্য করা এবং শেয়ার করার আহ্বান জানান তিনি”।

    সংবাদমাধ্যমের খবর পরিবেশনে পক্ষপাত, অতিরঞ্জন, সরকারি সূত্রের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, তথ্য বাদ দেওয়া কিংবা উসকানিমূলক ভাষার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলা গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাভাবিক। তবে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে অসততার অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করতে হলে নির্দিষ্ট প্রতিবেদন, ভুল তথ্য বা বাদ পড়া তথ্যের প্রমাণ প্রয়োজন (Kashmir)।

    এই পোস্টের মাধ্যমে ইমাম কাশ্মীর নিয়ে মূলধারার সংবাদ পরিবেশনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্ন করেছিলেন। তাঁর অভিযোগের যথার্থতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন ও প্রমাণ বিশ্লেষণ করা জরুরি।

    ‘হিন্দুত্ববাদীর কেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত নয়’

    ২০১২ সালের ২৯ জুন ইমাম “হিন্দুত্ববাদীর কেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত নয়” শিরোনামের একটি লিঙ্ক শেয়ার করেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

    শিরোনামটি হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী কোনও ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিরোধিতা প্রকাশ করে। তাঁর অন্যান্য পোস্টের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে হিন্দুত্বের রাজনীতি, কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি এবং ভারতের সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

    তবে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিরোধিতা করা এবং বিকল্প হিসেবে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে থাকা এক বিষয় নয়। তাঁর প্রকৃত রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যগুলির পূর্ণ প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    ‘ভারতকে হিন্দু সন্ত্রাসের মুখোমুখি হতে হবে’

    ২০১১ সালের ২৮ অগাস্ট ইমাম দ্য গার্ডিয়ান-এ প্রকাশিত “ভারতকে হিন্দু সন্ত্রাসের মুখোমুখি হতে হবে” শিরোনামের একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেন বলে স্ক্রিনশটে উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদনের লেখক হিসেবে কপিল কোমিরেড্ডির নাম দেওয়া হয়েছে।

    ‘হিন্দু সন্ত্রাস’ শব্দবন্ধটি ভারতীয় রাজনৈতিক আলোচনায় বিতর্কিত। সমালোচকদের মতে, নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংগঠনের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে বৃহত্তর ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করলে একটি সম্পূর্ণ সম্প্রদায় সম্পর্কে সাধারণীকরণের ঝুঁকি তৈরি হয়।

    অন্যদিকে, কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের ধর্মীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সন্ত্রাসবাদ ও হিংসার অভিযোগ প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করা জরুরি। ইসলামি চরমপন্থা-প্রণোদিত সন্ত্রাসবাদ যেমন নথিভুক্ত বাস্তবতা, তেমনই অন্য মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও পৃথকভাবে বিচার করা প্রয়োজন।

    ইমাম কেন এই শিরোনামটি শেয়ার করেছিলেন এবং তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় পরিচয় ও সন্ত্রাসবাদের সম্পর্ক কীভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল, তা নির্ধারণের জন্য মূল প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট পোস্টের সম্পূর্ণ বিষয়বস্তু যাচাই করা প্রয়োজন (Kashmir)।

    আল জাজিরার প্রতিবেদন শেয়ার

    ২০১১ সালের ১১ অগাস্ট ইমাম আল জাজিরা ইংলিশের “কাশ্মীরে দমন-পীড়ন ও প্রতিরোধ — কাশ্মীর: বিস্মৃত সংঘাত” শিরোনামের একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

    প্রতিবেদনটির শিরোনামে কাশ্মীরের পরিস্থিতিকে দমন-পীড়ন ও প্রতিরোধের ভাষায় তুলে ধরা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে কাশ্মীরকে ‘ভারতীয় অবরোধে’র মধ্যে থাকা অঞ্চল হিসেবে বর্ণনা করা তাঁর পোস্টের সঙ্গে এই বিষয়টির তুলনা করা হয়েছে।

    কাশ্মীর নিয়ে ভারতের রাষ্ট্রীয় অবস্থান, স্থানীয় মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং মানবাধিকার—সব ক’টি বিষয়ই জটিল ও বহুমাত্রিক। কোনও নির্দিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদন শেয়ার করার মাধ্যমে ইমাম ঠিক কোন রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করেছিলেন, তা নির্ধারণ করতে তাঁর বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট জানা প্রয়োজন।

    হায়দরাবাদের সংযুক্তি ও সর্দার প্যাটেলের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য

    ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবরের একটি পোস্টে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ভূমিকার প্রশংসা করে করা একটি বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান ইমাম।

    তাঁর মন্তব্য ছিল, ‘কাজ করেছে’ বলতে যদি কিছু বোঝানো হয়, তবে তার অর্থ এই-ও যে রাষ্ট্র ব্রিটিশদের কাছ থেকে পাওয়া ক্ষমতা ব্যবহার করে হায়দরাবাদের নিরস্ত্র কৃষক ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছিল।

    ১৯৪৮ সালে হায়দরাবাদকে ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সংযুক্ত করার সময় সামরিক অভিযান ও তার পরিণতি নিয়ে ঐতিহাসিক বিতর্ক রয়েছে। ইমামের মন্তব্যে সেই প্রক্রিয়ায় বলপ্রয়োগ এবং সাধারণ মানুষের উপর তার প্রভাবের বিষয়টি সামনে আসে।

    হায়দরাবাদের সংযুক্তিকে কেবল রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হবে, নাকি সেই সময়ের সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা ও ক্ষয়ক্ষতিও বিবেচনা করা হবে—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রশ্ন। তবে মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করতে ঐতিহাসিক নথি, অভিযানের প্রেক্ষাপট এবং নাগরিকদের উপর তার প্রভাব সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।

    ‘মোদির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি বাড়ছে’

    ২০১১ সালের ১৯ জুনের একটি স্ক্রিনশটে ইমামের শেয়ার করা এশিয়ান এজ-এর একটি শিরোনাম দেখা যায়: “মোদির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে।”

    এই পোস্টটি নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেকার। পরবর্তী সময়ে হিন্দুত্বের রাজনীতি এবং কাশ্মীর নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির সমালোচনার সঙ্গে এই পোস্টকে মিলিয়ে ইমামের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

    পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে হতাহতের পরিসংখ্যান তুলে ধরা

    ২০১১ সালের ১৪ জুলাই ইমাম পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী হামলায় ৩৫ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর এবং ৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির দাবি-সংবলিত পরিসংখ্যান শেয়ার করেন বলে উল্লেখ রয়েছে। তিনি ‘২০০১ সাল থেকে পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলাগুলির তালিকা’ শিরোনামের একটি উইকিপিডিয়া পাতার লিঙ্কও দিয়েছিলেন।

    পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ বহু বছর ধরে নিরাপত্তা ও অর্থনীতির উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তবে ওই পোস্টে ব্যবহৃত পরিসংখ্যানের উৎস, সময়সীমা এবং হিসাবের পদ্ধতি যাচাই করা প্রয়োজন।

    এই পোস্টকে কেন্দ্র করে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের শিকার মানুষের দুর্দশা তুলে ধরলেও ইমাম একইভাবে ভারতে সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিহত নাগরিক ও নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ে সরব হয়েছিলেন কি না।

    ২০০১ সালের সংসদ হামলা থেকে ২০০৮ সালের মুম্বই হামলা—ভারতেও সন্ত্রাসবাদী হিংসার কারণে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দুই দেশের সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতিই যথাযথ গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।

    তাই মূল প্রশ্নটি হল, ইমামের পোস্টে সন্ত্রাসবাদের মানবিক মূল্য নিয়ে আলোচনা কতটা সামগ্রিক ছিল এবং বিভিন্ন দেশের ভুক্তভোগীদের প্রতি তাঁর বক্তব্যে কোনও বাছাই করা দৃষ্টিভঙ্গি ছিল কি না (Sharjeel Imam)।

    ধর্মীয় ভাষা ব্যবহারের বিতর্ক

    ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বরের একটি রোমান উর্দু পোস্টে ইমাম লেখেন যে পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং উৎসবের পরে ফ্যাসিবাদ ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ‘বিপ্লবী সংগ্রাম’ আবার শুরু হবে।

    তিনি লেখেন, “পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তাই ফ্যাসিবাদ ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বিপ্লবী সংগ্রাম, ইনশাআল্লাহ, পুজোর পরে আবার শুরু করা হবে।”

    পোস্টের পরবর্তী অংশে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী)-এর কয়েকজন সহকর্মী পুজোর সময়ে হিন্দু ধর্মীয় আচারে অংশ নেন—এমন প্রসঙ্গ তুলে ব্যঙ্গ করা হয় বলে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে ‘বুত-পরস্তি’ বা মূর্তিপূজার মতো ধর্মীয় শব্দও ব্যবহার করা হয়েছে (Kashmir)।

    এই ভাষার ব্যবহারকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, অন্য ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতি সম্মান দাবি করার পাশাপাশি হিন্দু ধর্মাচারকে ব্যঙ্গ করা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। ধর্মতাত্ত্বিক মতভেদ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই মতভেদ প্রকাশ এবং অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসকে উপহাস করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

    হিন্দুদের পুজো করার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই মুসলিমদের ইসলাম পালন করার অধিকারও রয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতার নীতি সব সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।

    জিন্নাহর প্রতিকৃতি নিয়ে বিতর্ক

    ২০১৮ সালের ১৩ মে জিন্নাহর প্রতিকৃতি নিয়ে করা পোস্টে ইমাম লিখেছিলেন, “

    এএমইউ থেকে জিন্নাহর ছবি সরানো উচিত নয়; বরং এমন আরও হাজার হাজার ছবি প্রয়োজন।”

    ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর প্রতিকৃতি থাকা উচিত কি না, তা নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। জিন্নাহ ছিলেন পাকিস্তান আন্দোলনের প্রধান নেতাদের একজন। ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগের দাবি এবং তার পরিণতি তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবন ও দেশভাগে তাঁর ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করা এক বিষয়; তাঁর প্রতিকৃতি স্থায়ীভাবে প্রদর্শনের দাবি অন্য বিষয়। ইমামের বক্তব্যে জিন্নাহকে সমসাময়িক মুসলিম রাজনীতির জন্য আদর্শ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা ছিল কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    তবে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে গবেষণা বা তাঁর ছবি রাখার পক্ষে মত প্রকাশ করলেই কোনও ব্যক্তির সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করা যায় না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে তাঁর বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন প্রয়োজন।

    জিন্নাহর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও বর্তমান মুসলিম রাজনীতি

    জিন্নাহকে নিয়ে ইমামের ২০১৮ সালের মে মাসের পোস্টের পাশাপাশি ওই বছরের জানুয়ারির বক্তব্যটিও গুরুত্বপূর্ণ। জানুয়ারির পোস্টে তিনি জিন্নাহর রাজনৈতিক প্রশ্নগুলিকে সমসাময়িক সংখ্যালঘু রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। মে মাসে তিনি এএমইউতে জিন্নাহর প্রতিকৃতি রাখার পক্ষে আরও জোরালো অবস্থান নেন।

    দেশভাগের ইতিহাসে জিন্নাহর ভূমিকা, পাকিস্তান আন্দোলনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং দেশভাগের পরিণতি নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।

    এই প্রেক্ষাপটে ইমামের বক্তব্য নিয়ে মূল প্রশ্ন হল, তিনি জিন্নাহকে ইতিহাসের একটি বিতর্কিত চরিত্র হিসেবে বিশ্লেষণের আহ্বান জানাচ্ছেন, নাকি তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে বর্তমান ভারতের মুসলিম পরিচয় ও রাজনৈতিক সংগঠনের আদর্শ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন।

    এই দুই অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই বক্তব্যের ব্যাখ্যা করতে হলে শুধু প্রতিকৃতি নিয়ে মন্তব্য নয়, জিন্নাহর রাজনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কে ইমামের সামগ্রিক অবস্থানও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

    ‘কংগ্রেস পশ্চাৎমুখী হিন্দু গোষ্ঠী’

    ২০১৮ সালের ১২ নভেম্বরের একটি পোস্টে ইমাম কংগ্রেসকে “একটি পশ্চাৎপদ হিন্দু গোষ্ঠী” বলে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, কংগ্রেস একটি পশ্চাৎমুখী হিন্দু গোষ্ঠী, যারা নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করতে পারে।

    তিনি আরও লেখেন, “১৯৪৭ সালের পর মৌলানা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন।”

    পোস্টে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত এক মুসলিম নেতার রাজনৈতিক অবস্থানের তুলনা বিজেপির শাহনওয়াজ হুসেনের সঙ্গে করা হয়েছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। এর মাধ্যমে মুসলিম নেতাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাস্তবে সম্প্রদায়ের স্বার্থ কতটা পূরণ করতে পেরেছে, সেই প্রশ্ন তোলা হয়।

    কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংখ্যালঘু স্বার্থের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার দাবি করে এসেছে। আবার বিরোধী দলগুলি প্রায়ই দলটির বিরুদ্ধে মুসলিম তোষণের অভিযোগ তোলে। ইমামের মন্তব্য এই প্রচলিত রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে একটি ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরে।

    তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসে মুসলিম নেতাদের উপস্থিতি থাকলেই মুসলিমদের রাজনৈতিক স্বার্থ যথাযথভাবে পূরণ হচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

    এই মন্তব্য দেশভাগের পর ভারতে থেকে যাওয়া মুসলিম নেতাদের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় তাঁদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

    জাতীয় পরিচয়, ধর্মনিরপেক্ষতা ও কাশ্মীর নিয়ে বৃহত্তর বিতর্ক

    শরজিল ইমামের নামে প্রচারিত এই পোস্টগুলিতে ভারতীয় জাতীয়তাবাদ, কাশ্মীর, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক, জিন্নাহর উত্তরাধিকার, কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক পরিসরে ইসলামের ভূমিকা—বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।

    সমালোচনামূলক বিশ্লেষণটির দাবি, পোস্টগুলির মধ্যে এমন কিছু বক্তব্য রয়েছে, যা ভারতীয় রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থান ও জাতীয় পরিচয়ের প্রচলিত ব্যাখ্যাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে। বিশেষত কাশ্মীরকে ‘ভারতীয় অবরোধে’র মধ্যে থাকা অঞ্চল হিসেবে বর্ণনা, ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সমালোচনা করা পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম শেয়ার এবং জিন্নাহর প্রতিকৃতি নিয়ে তাঁর মন্তব্য আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে (Kashmir)।

    তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও বক্তব্য, সংবাদ শিরোনাম বা ঐতিহাসিক দলিল শেয়ার করার অর্থ সব ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের প্রতিটি অংশকে সমর্থন করা নয়। একইভাবে কোনও রাজনৈতিক মতের সমালোচনা করা এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগও পৃথক বিষয়। অভিযোগের ক্ষেত্রে আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রমাণ এবং চূড়ান্ত রায়কে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    শিলিগুড়ি করিডর অবরোধের প্রসঙ্গে ইমামের বক্তব্যও এই বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উত্তর-পূর্ব ভারতকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত রাখার ক্ষেত্রে এই করিডর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ওই পথ অবরোধের আহ্বানকে কেন্দ্র করে জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    সব মিলিয়ে, ইমামের রাজনৈতিক বক্তব্যের মূল্যায়নে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—তাঁর প্রকাশিত বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ, সেই বক্তব্যের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলাগুলির অবস্থান। জাতীয় নিরাপত্তা, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণ ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখাই জরুরি।

     

  • India Pakistan: কার্গিল যুদ্ধে নিহত পাক সেনাদের দেহ ফিরিয়ে নেয়নি ইসলামাবাদ! রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তীব্র আক্রমণ ভারতের

    India Pakistan: কার্গিল যুদ্ধে নিহত পাক সেনাদের দেহ ফিরিয়ে নেয়নি ইসলামাবাদ! রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তীব্র আক্রমণ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরে নিহত ব্যক্তিদের শেষকৃত্য ও তাঁদের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল পাকিস্তান। রাষ্ট্রসংঘে সেই অভিযোগের কড়া জবাব দিল ভারত। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে নয়াদিল্লি মনে করিয়ে দিল, নিজেদের সেনাদের মৃত্যুর ঘটনাও একসময় স্বীকার করতে চায়নি ইসলামাবাদ। অথচ আজ তারাই ধর্মীয় স্বাধীনতা, বিশ্বাস ও শেষকৃত্যের অধিকার নিয়ে সরব হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রসংঘে বিশেষ পরিস্থিতিতে শেষকৃত্যের অধিকার সংক্রান্ত এক আলোচনায় ভারতের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ভাবিকা মঙ্গলানন্দন।

    শেষকৃত্যের অধিকার খর্ব করার অভিযোগ

    ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের অধিকার সংক্রান্ত রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত নাজিলা ঘানিয়ার একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্টকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। ওই রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়, জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ব্যক্তিদের শেষকৃত্যের অধিকার পদ্ধতিগতভাবে খর্ব করা হয়েছে। পরিবারের হাতে মৃতদেহ তুলে না দেওয়া এবং দূরবর্তী স্থানে গোপনে দেহ সমাধিস্থ করার মতো ঘটনাও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় রীতিনীতির সঙ্গে এই ধরনের ঘটনার অসঙ্গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

    পাকিস্তানকে নিশানা ভারতের

    এর জবাবে পাকিস্তানকে নিশানা করে ভাবিকা মঙ্গলানন্দন বলেন, “যে রাষ্ট্র ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধে নিহত নিজেদের সেনাদের মৃতদেহ পর্যন্ত গ্রহণ করেনি, সেই রাষ্ট্রই আজ ধর্মবিশ্বাস, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমাধিস্থ করার অধিকার নিয়ে জোরালো বক্তব্য রাখছে—এ এক গভীর পরিহাস।” উল্লেখ্য, কার্গিল যুদ্ধের সময় পাকিস্তান তাদের সেনা সদস্যদের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছিল। সেই পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী নিহত পাকিস্তানি সেনাদের দেহ উদ্ধার করে সামরিক মর্যাদায় এবং ইসলামি রীতি মেনে তাঁদের সমাধিস্থ করেছিল বলে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়। জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের লাগাতার মন্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেন ভারতের প্রতিনিধি। তিনি বলেন, ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অতিরিক্ত আগ্রহ না দেখিয়ে তাদের উচিত পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন অঞ্চলের পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া। এ প্রসঙ্গে তিনি রাওয়ালকোটের কথাও উল্লেখ করেন।

    সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়েও পাকিস্তানকে আক্রমণ

    রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মঙ্গলানন্দন। তাঁর অভিযোগ, দেশটিতে সংখ্যালঘুদের জনসংখ্যা ক্রমশ কমছে এবং তাঁদের অধিকার বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “যে রাষ্ট্র নিজের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, ভারতকে উপদেশ দেওয়ার কোনও নৈতিক অধিকার তার নেই।” পাকিস্তানে হিন্দু, খ্রিস্টান ও শিখ-সহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এই মন্তব্য করেন। এদিকে, হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তানের প্রকাশিত সপ্তম বার্ষিক রিপোর্টেও (Sanctuary Denied: Freedom of Religion or Belief in 2025/26) দেশটির সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। রিপোর্টে ধর্মনিন্দা সংক্রান্ত আইনের অপব্যবহার, জোরপূর্বক বিয়ে ও ধর্মান্তর এবং বৈষম্যমূলক আচরণের মতো বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছে।

    সন্ত্রাসবাদীদের শেষকৃত্য নিয়ে প্রশ্ন ভারতের

    রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শেষকৃত্যের অধিকার নিয়েও আপত্তি জানান ভারতের প্রতিনিধি। তাঁর বক্তব্য, রিপোর্টে রাষ্ট্রের তরফে সন্ত্রাসবাদীদের শেষকৃত্যের অধিকার সীমিত করার সুযোগ স্বীকার করা হলেও সেই ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছে। মঙ্গলানন্দনের মতে, এই আইনি সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সার্বভৌম অধিকারের বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদীরা নিরীহ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি একটি গোটা জাতির মানসিকতার উপর গভীর আঘাত হানে। ভারতের প্রতিনিধির অভিযোগ, রিপোর্টে সন্ত্রাসবাদীদের অধিকারের উপর যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, সন্ত্রাসের শিকার হওয়া মানুষদের অধিকারের ক্ষেত্রে ততটা গুরুত্ব দেখা যায়নি। তিনি আরও দাবি করেন, রিপোর্টে ভারতের প্রসঙ্গ টানতে প্রায় পাঁচ বছর আগের ঘটনাগুলির উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলে এবং উন্নত দেশগুলিতে ঘটে যাওয়া গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনাগুলিকে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।

    কোভিড পরিস্থিতি নিয়েও রিপোর্টকে নিশানা

    কোভিড-১৯ মহামারির সময় মৃতদেহের শেষকৃত্য ও ধর্মীয় আচরণ নিয়ে বৈষম্যের প্রসঙ্গেও রিপোর্টের সমালোচনা করেন মঙ্গলানন্দন। তাঁর বক্তব্য, রিপোর্টে এমনভাবে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, যেন এই ধরনের ঘটনা মূলত গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলিতেই ঘটেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, উন্নত দেশগুলিতে একই ধরনের মর্মান্তিক পরিস্থিতির উল্লেখ করা হয়নি কেন। মানুষের যন্ত্রণা ও মৃত্যুকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন ভারতের প্রতিনিধি। রাষ্ট্রসংঘে এই বক্তব্যের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অভিযোগের পাল্টা জবাব দেওয়ার পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের অধিকার, সন্ত্রাসবাদ এবং আন্তর্জাতিক রিপোর্টের নিরপেক্ষতা নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করল নয়াদিল্লি।

  • Riyadh Airport: রিয়াধের বিমানবন্দরে হুথি হামলায় পাইলট-সহ নিহত ৩, ইয়েমেনে সংঘর্ষ তীব্র

    Riyadh Airport: রিয়াধের বিমানবন্দরে হুথি হামলায় পাইলট-সহ নিহত ৩, ইয়েমেনে সংঘর্ষ তীব্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (Riyadh Airport) বৃহস্পতিবার হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক পাইলট-সহ তিনজন হত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দু’জন সৌদি নাগরিক। আহত হয়েছেন বিভিন্ন দেশের একাধিক নাগরিক। শুক্রবার সৌদি আরবের অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছেন। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জাতীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়ার একটি বিমান-সহ একাধিক সম্পত্তি। তবে বিমানবন্দরের কার্যক্রম ইতিমধ্যেই স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি (Houthi Attack) সংবাদমাধ্যম।

    শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত বিবৃতিতে সৌদি আরবের অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক বিমানচালক এবং আরও দুই সৌদি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন জাতীয়তার একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত সামান্য হলেও অনেকে গুরুতর জখম হয়েছেন।

    গভীর শোক প্রকাশ (Riyadh Airport)

    দেশের জাতীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়া এক বিবৃতিতে পাইলট ক্যাপ্টেন হামুদ আলি আলকালথামির মৃত্যুর খবর জানিয়ে বলেছে, রিয়াধ বিমানবন্দরের একটি ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। সংস্থার তরফে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

    গত কয়েক দিনে সৌদি আরবের একাধিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মনে করা হচ্ছে, সৌদি আরবের বিমান চলাচল পরিকাঠামোই এখন তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    একাধিক বিমানবন্দরে হামলা, বাড়ছে উদ্বেগ

    সৌদি আরবের অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বুধবার জানিয়েছিলেন, সপ্তাহের গোড়ায় আবহা এবং কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন অসামরিক নাগরিক নিহত হন। আহত হন অন্তত ৩৬ জন। ইয়েমেন সীমান্তের কাছে জিজান ও নজরান বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার হুথিদের এক সামরিক মুখপাত্র দাবি করেন, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে সফল হয়েছে। এর ফলে ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বিমান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।

    গত মাসেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। ১৮ সেপ্টেম্বর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটবাহিনী দাবি করেছিল, কিং খালিদ বিমানবন্দরের দিকে ছোড়া হুথিদের একটি সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে। এর পরের দিন রিয়াধ বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। জ্বালানি সংরক্ষণ এলাকায় কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উঠতেও দেখা যায়।

    ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী, যারা ‘আনসার আল্লাহ’ নামেও পরিচিত, বিমান সংস্থাগুলিকে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের দাবি, মক্কা ও মদিনার পবিত্র শহরগুলির উপর দিয়ে যাওয়া বিমান ছাড়া সৌদি আকাশসীমায় চলাচলকারী অন্য যে কোনও বিমান তাদের হামলার লক্ষ্য হতে পারে।

    ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদক ইউসুফ মাওরি জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সমস্ত বিমানবন্দরে অবরোধ আরোপ করতে চাইছে হুথিরা।

    মাওরির কথায়, “এটি অবরোধের বদলে অবরোধ এবং বিমানবন্দরের বদলে বিমানবন্দরের সমীকরণের অংশ। সানা এখনও সৌদি আরবের অবরোধের মধ্যে রয়েছে। তাই আনসার আল্লাহ হুথিরা সৌদি আরবের সমস্ত বিমানবন্দরে অবরোধ আরোপ করতে চায়।”

    তাঁর আরও বক্তব্য, ইয়েমেনের সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং হুদেইদা বিমানবন্দরে সৌদি আরবের হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলে দাবি করছে (Riyadh Airport) হুথিরা।

    ইয়েমেনে সংঘর্ষ আরও তীব্র

    সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলিতে নতুন করে হামলার ঘটনা এমন সময় ঘটছে, যখন ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী হুথিদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

    শুক্রবার গভীর রাতে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিমান হামলার খবর পাওয়া যায়। ২০১৪ সালে শহরটির নিয়ন্ত্রণ দখল করেছিল হুথি বিদ্রোহীরা। এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে সানা।

    এ ছাড়া ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী এডেনেও জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার এই শহর থেকেই কাজ চালায়।

    ইয়েমেন সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট শুক্রবার জানিয়েছে, হুথিদের ব্যবহৃত তিনটি রকেট উৎক্ষেপণ মঞ্চ ধ্বংস করা হয়েছে। জোটের দাবি, ওই মঞ্চগুলি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

    জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালিকির হুঁশিয়ারি, অসামরিক নাগরিক এবং অসামরিক পরিকাঠামোর উপর হুথিদের যে কোনও হামলার জবাব দৃঢ়ভাবে দেওয়া হবে (Houthi Attack)।

    গত মাসে ইরান-ঘনিষ্ঠ হুথি বিদ্রোহীরা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কাছে ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ দখল করে। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এই প্রণালী। হুথিদের এই অগ্রগতির পরেই সরকারি বাহিনী এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট পাল্টা অভিযান শুরু করে।

    চলতি সপ্তাহে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী বাব আল-মান্দেব উপকূলবর্তী এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের দাবি করেছে। তবে সেখানে তীব্র সংঘর্ষ এখনও অব্যাহত (Riyadh Airport)।

    সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে আরও দেশ

    বহু বছর ধরে কার্যত স্তিমিত থাকা ইয়েমেনের সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর ফলে এমন একটি অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ছে, যা ইতিমধ্যেই গাজা ও লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে বিপর্যস্ত।

    এ বার এই সংঘাতের আঁচ আরও কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের গোড়ায় সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পাকিস্তান ও তুরস্ক সেনা মোতায়েনে সম্মত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    শুক্রবার পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান জানান, রিয়াধে এখন পাকিস্তানের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা এবং সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে।

    তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “হুথিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য পাকিস্তানি সেনারা অন্য পক্ষের সীমান্ত অতিক্রম করবে না। তবে তারা অবশ্যই ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষায় কাজ করবে।”

    হুথি হামলার নিন্দা রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে

    এ দিকে শুক্রবার রাষ্ট্রসংঘে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকার এবং সৌদি আরব নিরাপত্তা পরিষদের কাছে ইয়েমেনের ক্রমবর্ধমান সংঘাত মোকাবিলায় পদক্ষেপ করার আবেদন জানিয়েছে।

    নিরাপত্তা পরিষদে সৌদি আরবের প্রতিনিধি আবদুলআজিজ আল-ওয়াসিল বলেন, “অসামরিক নাগরিকদের উপর ক্রমবর্ধমান হামলা, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তার উপর লাগাতার হুমকি এবং তার ফলে ইয়েমেন ও এই অঞ্চলের বাইরেও যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে (Riyadh Airport)।”

    ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারের রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আলি ফাদেল আল-সাদি বলেন, “হুথিদের কাছ থেকে তৈরি হওয়া হুমকি এখন আর ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, যা আমাদের দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব (Houthi Attack)।”

    সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলিতে ধারাবাহিক হামলা, ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর পাল্টা অভিযান এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলির সম্ভাব্য সামরিক সম্পৃক্ততা—সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে (Riyadh Airport) বলেই অভিমত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের।

     

  • Pak Espionage Case: সমাজমাধ্যমে বন্ধুত্ব, প্রেমের ফাঁদ, ভয় দেখিয়ে কৌশলে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া! কীভাবে পাক গোয়েন্দাদের ফাঁদে ১৬ নৌসেনাকর্মী?

    Pak Espionage Case: সমাজমাধ্যমে বন্ধুত্ব, প্রেমের ফাঁদ, ভয় দেখিয়ে কৌশলে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া! কীভাবে পাক গোয়েন্দাদের ফাঁদে ১৬ নৌসেনাকর্মী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘটনার শুরু মাস ছয়েক আগে। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে নৌসেনাঘাঁটির এক গাড়িচালক আন্নাম সাই ভারাপ্রসাদের কাছে সমাজমাধ্যমে এক মহিলা ‘ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট’ পাঠান। নিজেকে ওই মহিলা জাহাজ নির্মাণ সংস্থার কর্মী বলে পরিচয় দেন। পাশের রাজ্যেরই বাসিন্দা বলে দাবি করেন। তদন্তকারী সূত্রের খবর, ভারাপ্রসাদের প্রথমে একটু সন্দেহ হয়েছিল। কিন্তু সেই মহিলা ধীরে ধীরে তাঁর বিশ্বাস অর্জন করেন। শুরু হয় সমাজমাধ্যমে দু’জনের কথোপকথন। তারপর প্রেম ও যৌনতার গল্প। এভাবেই বেড়ে চলে আলাপ। তারপর শুরু হয় অন্য খেলা (Pak Espionage Case)।

    সন্দেহ দূর করতে দেখা করার প্রতিশ্রুতি

    প্রথম দিকে, ওই মহিলা ভারাপ্রসাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জানতে চেয়েছিলেন। কোথায় থাকেন, কী করেন, কেন এখনও বিয়ে করছেন না ইত্যাদি। এ ছাড়াও তাঁর কাজ, বেতন, কী ধরনের গাড়ি চালান— ছোট ছোট এই তথ্যগুলি ভারাপ্রসাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন। তদন্তকারী সূত্রে খবর, একটু ঘনিষ্ঠতা বাড়তেই ওই মহিলা ভারপ্রসাদকে ইঙ্গিতপূর্ণ নানা রকম মেসেজ এবং ভিডিয়ো, ছবি পাঠানো শুরু করেন। শুধু তা-ই নয়, ভারাপ্রসাদের মনের সন্দেহ দূর করতে বিশাখাপত্তনমে তাঁর সঙ্গে দেখা করারও প্রতিশ্রুতি দেন। আলাপচারিতার সময় ভারাপ্রসাদ যখন জানিয়েছিলেন যে, তিনি নৌসেনা আধিকারিকদের গাড়ি চালান, তাঁর কাছ থেকে ওই আধিকারিকদের তথ্য কৌশলে সংগ্রহ করে নেন মহিলা।

    গ্রেফতারির ভয়, ব্ল্যাকমেল

    তার পর ভারাপ্রসাদের কাছে নৌঘাঁটি সম্পর্কে আরও কিছু জানতে চাইলে তিনি দিতে নারাজ হন। তখন ওই মহিলা ভারাপ্রসাদকে গ্রেফতারির ভয় দেখান। তাঁর সিনিয়রদের কাছে রিপোর্ট করার হুমকি দিতে থাকেন। তদন্তকারী সূত্রের খবর, এ ভাবে ক্রমাগত ব্ল্যাকমেল করে ভারাপ্রসাদের কাছ থেকে নৌসেনা সংক্রান্ত তথ্য, কোথায় রণতরী নোঙর করা, কোথায় রণতরী বানানো হচ্ছে ইত্যাদি তথ্য হাতিয়ে নেন মহিলা। নৌসেনা সংক্রান্ত আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করেন ওই মহিলা। তবে যেহেতু নৌঘাঁটির অভ্যন্তরীণ বিষয় ভারাপ্রসাদের নাগালের মধ্যে ছিল না, তাই সেই তথ্য পাচার করতে পারেননি বলেই তদন্তকারীরা মনে করছেন। ভারাপ্রসাদের গতিবিধির উপর এক মাস ধরে নজরদারি চালাচ্ছিল অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স (সিআই)।

    সমাজ মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি করে যৌনতার ফাঁদ

    তদন্তকারী সূত্রের খবর, ভারাপ্রসাদের মাধ্যমেই বাঙালি নৌসেনাকর্মী প্রদীপ মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন ওই মহিলা। তার পর ঠিক একই কৌশলে প্রদীপের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন। তাঁর কাছ থেকে বিশাখাপত্তনম এবং কোয়েম্বাটুরের নৌসেনাঘাঁটি সম্পর্কে তথ্য আদায় করেন ব্ল্যাকমেল করে। ভারাপ্রসাদ এবং প্রদীপকে ঢাল বানিয়ে ঠিক একই কৌশলে দেশের ১০ রাজ্যে ১৬ নৌসেনাকর্মীকে যৌনতার ফাঁদে ফেলেন পাক গোয়েন্দারা। তার পর তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে ভারাপ্রসাদ এবং প্রদীপকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি করে যৌনতার ফাঁদে ফেলা এবং পরে ব্ল্যাকমেলের মাধ্যমে সামরিক তথ্য সংগ্রহই ছিল এই চক্রের কৌশল।

  • OIC: সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ওআইসিকে রাষ্ট্রপুঞ্জে কড়া জবাব ভারতের, ‘আক্রান্ত ও সন্ত্রাসীকে আলাদা করতে ব্যর্থ’

    OIC: সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ওআইসিকে রাষ্ট্রপুঞ্জে কড়া জবাব ভারতের, ‘আক্রান্ত ও সন্ত্রাসীকে আলাদা করতে ব্যর্থ’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ভারতের পদক্ষেপ নিয়ে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাল ভারত। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর (OIC) রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতীয় জনতা পার্টির সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব বলেন, সন্ত্রাসবাদের জন্য দায়ী ব্যক্তি এবং সন্ত্রাসের শিকারদের মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের ষষ্ঠ কমিটিতে আন্তর্জাতিক আইনি বিষয় নিয়ে (Pakistan Terror Infrastructure) আলোচনা চলাকালীন এই মন্তব্য করেন দেব। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় ভারতের জাতীয় বক্তব্য পেশ করছিলেন তিনি। এর আগে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার হয়ে সৌদি আরব একটি বক্তব্য পেশ করে। সেই বক্তব্যেরই জবাব দেন ভারতীয় সাংসদ।

    সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত (OIC)

    ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করে দেব বলেন, পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ভারত “সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত” পদক্ষেপ করেছে। তাঁর কথায়, “আমি এখন ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার সভাপতির দেওয়া সেই বক্তব্যের জবাব দিচ্ছি, যেখানে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতের সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এই অঞ্চল থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী হামলার পরিকল্পনা ও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার অবস্থানের সমালোচনা করে দেব আরও বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক যে বক্তা সত্য ও কল্পনার মধ্যে পার্থক্য করতে পারছেন না এবং আক্রান্ত ও অপরাধীর মধ্যেও তফাত করতে পারছেন না।” তিনি বলেন, “পাকিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে আসা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজের নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখার পূর্ণ অধিকার ভারতের রয়েছে। সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত থাকার পরিণতি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”

    পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ তুলল ভারত

    রাষ্ট্রপুঞ্জে নিজের বক্তব্যে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং তার ভয়াবহ মানবিক মূল্যও তুলে ধরেন দেব। তাঁর বক্তব্য, ভারতের কাছে সন্ত্রাসবাদের হুমকি কোনও তাত্ত্বিক বিষয় নয়, বরং এটি “প্রতিনিয়ত এবং প্রতিদিনের বাস্তবতা”। দেবের মতে, সন্ত্রাসবাদ শুধু দেশের নিরাপত্তাকেই প্রভাবিত করে না, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং মানবাধিকারকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ প্রসঙ্গে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হওয়া সন্ত্রাসবাদী হামলার কথা উল্লেখ করেন তিনি। ওই হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। দেব এই হামলাকে ভারতের সার্বভৌমত্বের উপর পরিকল্পিত আক্রমণ বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিম সীমান্তের ওপার থেকে সমর্থন পাওয়া সংগঠনগুলিই এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছিল। দেব বলেন, “সন্ত্রাসবাদ রাষ্ট্রপুঞ্জের মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। নিরীহ নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে নিশানা করার কোনওভাবেই ন্যায্যতা থাকতে পারে না। ভালো সন্ত্রাসবাদ ও খারাপ সন্ত্রাসবাদের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। ভারত সন্ত্রাসবাদী হামলাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অবস্থানও পুনরায় তুলে ধরে তিনি বলেন, “একটিও হামলা অনেক বেশি, আর একটি প্রাণহানিও অনেক বেশি (OIC)।”

    জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির মন্তব্যের বিরোধিতা

    জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মন্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন দেব। তিনি ওই মন্তব্যকে “অযাচিত উল্লেখ” বলে অভিহিত করেন। দেব বলেন, “ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার সভাপতির উচিত পাকিস্তানের বেআইনি দখলের দিকে আরও বেশি নজর দেওয়া। বিশেষ করে রাওয়ালাকোটে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড, নৃশংস হিংসা এবং সেখানে বসবাসকারী মানুষের মৌলিক অধিকার অস্বীকার করার বিষয়গুলি অত্যন্ত স্পষ্ট।” ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার বিরুদ্ধে “ইচ্ছাকৃত অন্ধত্বের” অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের অবস্থান পক্ষপাতিত্ব ও অসহিষ্ণুতারই প্রতিফলন।

    সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি

    রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবিরই অংশ। দেব দ্রুত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক সর্বাঙ্গীণ কনভেনশন গ্রহণের দাবি জানান। ভারত ১৯৯৬ সালেই এই প্রস্তাব প্রথম উত্থাপন করেছিল। শুধু সন্ত্রাসবাদীদের নয়, তাদের সংগঠক, অর্থদাতা এবং মদতদাতাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। এছাড়াও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি কীভাবে নতুন প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে সদস্য সংগ্রহ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা, প্রচার, হামলার পরিকল্পনা এবং অর্থসংগ্রহ করছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত। রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি পরিচিতিমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়া ১৫ সদস্যের ভারতীয় সংসদীয় প্রতিনিধিদলের অন্যতম (Pakistan Terror Infrastructure) সদস্য বিপ্লব কুমার দেব। জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাকিস্তান-সংযুক্ত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারত ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মধ্যে চলতে থাকা কূটনৈতিক মতপার্থক্যের আবহেই রাষ্ট্রপুঞ্জে তাঁর এই বক্তব্য সামনে এল (OIC)।

     

  • ICC World Cup 2027 Schedule: ২০২৭ বিশ্বকাপে ভারতের অভিযান শুরু অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে, ১০ অক্টোবর পাকিস্তানের মুখোমুখি

    ICC World Cup 2027 Schedule: ২০২৭ বিশ্বকাপে ভারতের অভিযান শুরু অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে, ১০ অক্টোবর পাকিস্তানের মুখোমুখি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রকাশিত হল ২০২৭ সালের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের সূচি (ICC World Cup 2027 Schedule)। আগামী ২ অক্টোবর থেকে শুরু হবে ক্রিকেটের মহাযজ্ঞ। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়া যৌথভাবে আয়োজন করবে ১৪ দলের এই বিশ্বকাপ। ২১ নভেম্বর জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। ফাইনালের জন্য ২২ নভেম্বর রাখা হয়েছে রিজার্ভ ডে। এবারের বিশ্বকাপে থাকছে নতুন ফরম্যাট। প্রথমে উইন্ডহোকে হবে তিন দলের সুপার সিরিজ। এরপর ১২ দলকে নিয়ে হবে গ্রুপ পর্ব। গ্রুপ পর্বের পর শুরু হবে ‘সুপার ৭’ পর্ব। সেখান থেকে সেরা চার দল জায়গা করে নেবে সেমিফাইনালে।

    অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শুরু ভারতের বিশ্বকাপ অভিযান

    ভারত রয়েছে গ্রুপ এ-তে। এই গ্রুপে ভারতের সঙ্গে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, জিম্বাবোয়ে এবং কোয়ালিফায়ার এ। ৭ অক্টোবর কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ভারত (India Australia Pakistan)। ফলে ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতি আবারও ফিরে আসবে। ২০২৩ সালে আহমেদাবাদের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। ভারতের দ্বিতীয় ম্যাচই রয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই। ১০ অক্টোবর জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্সে মুখোমুখি হবে দুই প্রতিবেশী দেশ। বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হিসেবে এই লড়াই ঘিরে ইতিমধ্যেই ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে।

    কোন গ্রুপে কারা?

    গ্রুপ এ: ভারত, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, জিম্বাবোয়ে ও কোয়ালিফায়ার এ।

    গ্রুপ বি: নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ ও কোয়ালিফায়ার বি।

    গ্রুপ পর্ব চলবে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। দুই গ্রুপের প্রথম তিনটি করে দল এবং চতুর্থ স্থানে থাকা দুই দলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকা দল—মোট সাতটি দল—সুপার ৭ পর্বে জায়গা করে নেবে।

    নভেম্বরেই সেমিফাইনাল ও ফাইনাল

    সুপার ৭ পর্বের শেষে সেরা চার দল সেমিফাইনালে উঠবে। প্রথম সেমিফাইনাল ১৭ নভেম্বর কেপটাউনে এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ১৮ নভেম্বর তাসওয়ানে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২১ নভেম্বর জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্সে হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। ফাইনালের রিজার্ভ ডে হিসেবে রাখা হয়েছে ২২ নভেম্বর। এবারের বিশ্বকাপে মোট ৫৭টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়ার মোট ১২টি ভেন্যুতে হবে ম্যাচগুলি। এই বিশ্বকাপের মাধ্যমে প্রথমবার সিনিয়র পুরুষদের বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন করবে নামিবিয়া।

  • Baloch Women BLF: বালোচিস্তানের মহিলা ইউনিটের হামলা! নিহত ৯ পাক সেনা

    Baloch Women BLF: বালোচিস্তানের মহিলা ইউনিটের হামলা! নিহত ৯ পাক সেনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বালোচিস্তানে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী (Baloch Women BLF) তৎপরতায় নয়া মাত্রা যোগ! বালোচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্টের পক্ষ (Pakistan) থেকে তাদের সদ্য গঠিত মহিলা সশস্ত্র ইউনিট ‘কারিমা আর্মড অ্যাসল্ট ডিভিশনে’র প্রথম সশস্ত্র অভিযানের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ২২ সেপ্টেম্বর তুরবতের কাছে পাক সেনাবাহিনীর একটি কনভয়ে হামলা চালায় ওই ইউনিট। হামলায় ৯ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হলেও, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি।

    ভাইরাল হওয়া ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, তিনটি গাড়ির একটি সেনা কনভয় চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় সেটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। গাড়িগুলির মধ্যে একটি সাঁজোয়া গাড়িও ছিল। ভিডিওর একটি অংশে এক মহিলা কমান্ডারকে অভিযানের আগে সদস্যদের নির্দেশ দিতে দেখা যায়। এরপর সশস্ত্র সদস্যরা পজিশন নিয়ে খুব কাছ থেকে কনভয় লক্ষ্য করে গুলি চালান।

    বিএলএফের দাবি (Baloch Women BLF)

    বালোচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্টের মুখপাত্র মেজর ঘওহরাম বালোচের দাবি, হামলায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একাধিক গাড়ি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সংগঠনটির কুরবান ইউনিটের সদস্যরা মহিলা ইউনিটটিকে অভিযানে সহায়তা করেন। হামলার পর পাকিস্তানি বাহিনী হামলাকারীদের ঘিরে ফেলার চেষ্টা করলে কুরবান ইউনিটের সদস্যরা তাঁদের সঙ্গে লড়াই করেন এবং মহিলা ইউনিটের সদস্যদের এলাকা থেকে সরে যেতে সাহায্য করেন। ওই অভিযানে কুরবান ইউনিটের যোদ্ধা চকোর মুরাদ, যিনি দিলীপ জান নামেও পরিচিত, নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি। ভিডিওটির আর একটি অংশে কালাতের মাংচার এলাকায় কারিমা আর্মড অ্যাসল্ট ডিভিশনের সদস্যদের গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালাতে দেখা যায়। এর মাধ্যমে সংগঠনটি বোঝাতে চেয়েছে, নয়া মহিলা ইউনিটটিকে শুধু সশস্ত্র হামলা নয়, অন্যান্য সশস্ত্র তৎপরতাতেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

    কারিমা আর্মড অ্যাসল্ট ডিভিশনের নামকরণ করা হয়েছে বালোচ স্বাধীনতাকামী কর্মী কারিমা বালোচের নামে। তিনি বালোচ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন-আজাদের প্রথম মহিলা চেয়ারপার্সন ছিলেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে কানাডার টরন্টোয় তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। সেই সময়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কানাডীয় কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুকে দুর্ঘটনাজনিত বলে জানিয়েছিল (Baloch Women BLF)।

    ডেরা বুগতিতে জ্বালানি সংস্থার স্থাপনায়ও হামলার দাবি

    এদিকে আর এক বালোচ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালোচ রিপাবলিকান আর্মি ডেরা বুগতি জেলার বেহ লোটি এলাকায় মারি এনার্জিস লিমিটেডের একটি স্থাপনায় হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটির মুখপাত্র সরবাজ বালোচের দাবি, হামলায় রকেট ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এতে সংস্থাটির তিন কর্মী নিহত এবং আরও কয়েকজন জখম হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

    সরবাজের আরও দাবি, হামলার পর পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে একটি স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষ হয়। ওই গোষ্ঠীকে বালোচ রিপাবলিকান আর্মি রাষ্ট্রের মদতপুষ্ট স্থানীয় সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংগঠনটির দাবি, সংঘর্ষে ৯ জন পাকিস্তানি সেনা এবং ওই গোষ্ঠীর তিন সদস্য নিহত হন। পাশাপাশি তাদের ছয় যোদ্ধাও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বালোচ রিপাবলিকান আর্মি।

    সরকারি স্থাপনা দখলের দাবিও

    অন্যদিকে, বালোচ রিপাবলিকান গার্ডসের দাবি, তাদের যোদ্ধারা হাজি শহর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একটি পুলিশ স্টেশন বিস্ফোরক ব্যবহার করে ধ্বংস করেছেন। সংগঠনটির দাবি, তারা শহরের প্রবেশ ও বেরোনোর পথে নাকা চেকিং বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালায়।

    বালোচ রিপাবলিকান গার্ডসের আরও দাবি, বালোচ রিপাবলিকান আর্মির যোদ্ধারা এরি শহরে ঢুকে সরকারি স্থাপনাগুলির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং অভিযান শেষ হওয়ার পর এলাকা ছেড়ে যায়।

    বালোচিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। পাক নিরাপত্তা বাহিনী, সরকারি স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত পরিকাঠামো বিভিন্ন হামলার টার্গেট হয়েছে। কারিমা আর্মড অ্যাসল্ট ডিভিশনের আত্মপ্রকাশ সেই ঘটে চলা সশস্ত্র সংঘাতের পরিসরে (Pakistan) মহিলা সদস্যদের পৃথক সশস্ত্র ইউনিট হিসেবে সংগঠিত করার একটি নতুন দাবি হিসেবে সামনে এসেছে (Baloch Women BLF)।

     

  • S Jaishankar: “পাকিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আমেরিকার যথেষ্ট বোঝাপড়া নেই, এরই প্রভাব পড়েছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে”, বললেন জয়শঙ্কর

    S Jaishankar: “পাকিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আমেরিকার যথেষ্ট বোঝাপড়া নেই, এরই প্রভাব পড়েছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে”, বললেন জয়শঙ্কর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগ আমেরিকা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে না বুঝলে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তার প্রভাব পড়তে পারে। নিউ ইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। তিনি এও বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা ক্রমশ আরও বহুমেরুকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, পরস্পরনির্ভরতার কৌশলগত ব্যবহার, দুর্বল সরবরাহ-শৃঙ্খল এবং শক্তির পরিবর্তিত ভারসাম্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে (Indias Terrorism) আরও জটিল করে তুলেছে।

    ভারত-মার্কিন সম্পর্কের প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের পাশাপাশি বাণিজ্যিক জটিলতার কথাও উল্লেখ করেন। পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ থেকে দীর্ঘদিন ধরে যে ধরনের সন্ত্রাসবাদের মুখোমুখি ভারত হয়েছে, তা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান উদ্বেগ।

    জয়শঙ্করের কথায়, “সম্ভবত খুব কম দেশই আছে, যারা বহু দশক ধরে কোনও প্রতিবেশী দেশের সুপরিকল্পিত ও সচেতন নীতির অংশ হিসেবে আমাদের মতো সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, ভারতের কাছে যে বিষয়টি মৌলিক গুরুত্ব বহন করে, কোনও অংশীদার দেশ যদি সেটি যথেষ্ট পরিমাণে না বোঝে বা গুরুত্ব না দেয়, তাহলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তার প্রভাব পড়বেই। তাঁর কথায়, “আমার অন্যতম প্রধান উদ্বেগ যদি আমার অংশীদার সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি না করেন, তাহলে তার প্রভাব সম্পর্কের উপর পড়বে।”

    এই মন্তব্য এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার প্রশাসনের সময়ে আমেরিকা ও পাকিস্তানের মধ্যে যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। ভারতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিবর্তন পাকিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে (S Jaishankar)।

    সীমান্তে স্বাভাবিক পরিস্থিতিই ভারত-চিন সম্পর্কের পূর্বশর্ত (S Jaishankar)

    ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, আগের কয়েক বছরের তুলনায় বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক ভালো অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও উন্নতি দেখা যাচ্ছে।

    জয়শঙ্কর বলেন, “আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, ২০২৫ সালের তুলনায় আজ সম্পর্ক কি ভালো? আমি বলব, হ্যাঁ। ২০২৪ সালের তুলনায় বললে, আরও বেশি।”

    তবে এই উন্নতিকে দুই দেশের সম্পর্কের মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিদেশমন্ত্রী। তাঁর মতে, ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘাতের পর দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থার কারণে ভারত ও চিনের মধ্যে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছিল। সরকারি পর্যায়ের যোগাযোগ, ভিসা প্রদান এবং সরাসরি বিমান পরিষেবাতেও তার প্রভাব পড়েছিল।

    সীমান্ত পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বৃহত্তর কূটনৈতিক যোগাযোগও ধীরে ধীরে ফিরেছে বলে জানান তিনি। নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই বেজিংকে জানিয়ে এসেছে যে সীমান্তে উত্তেজনা দুই দেশের কারও স্বার্থে নয় (S Jaishankar)।

    জয়শঙ্কর বলেন, “যে সমস্যা অন্যদের সুবিধা দেয়, সেই সমস্যার মধ্যে নিজেদের আটকে রাখা উচিত নয়।”

    ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্যের মূল নীতি হল, “সীমান্তের পরিস্থিতিই সম্পর্কের পরিস্থিতি নির্ধারণ করে।” তাঁর কথায়, “সীমান্তে উত্তেজনা থাকবে, আবার সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকবে—এটা হতে পারে না।” সীমান্তে স্বাভাবিক পরিস্থিতি যত এগোবে, ততই বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নতির পরিবেশ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।

    বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের দিকে এগোচ্ছে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা

    দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাইরে বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়েও বক্তব্য রাখেন জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, বিশ্ব ক্রমশ আরও বহুমেরুকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে।

    একসময় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্থিতিশীল শক্তি এবং ব্যবস্থার রূপ নির্ধারণকারী দেশ হিসেবে আমেরিকার যে ভূমিকা ছিল, তাতেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিভিন্ন জোটের ক্ষেত্রে পরিবর্তনের পাশাপাশি আমেরিকা এখন আরও বেশি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা দেখাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    আমেরিকা ও চিনের সম্পর্কের প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, দুই দেশ কিছু বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছতে পারলেও সামগ্রিক সম্পর্ক এখনও প্রতিযোগিতামূলক। তাঁর কথায়, “বিশ্বের বাকি দেশগুলির বিষয়ে তারা দু’জনে কতটা একমত হতে পারে, তারও সীমা রয়েছে।”

    এই পরিস্থিতিতে ভারত-সহ অন্যান্য দেশের সামনে অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনা এবং কোনও একটি দেশের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

    জয়শঙ্করের কথায়, “আমরা কীভাবে ঝুঁকি কমাব? কীভাবে অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনব? নতুন অংশীদার কারা হতে পারে? ইতিমধ্যে থাকা কোনও অংশীদারিত্ব থেকে কীভাবে আরও বেশি মূল্য পাওয়া যেতে (Indias Terrorism) পারে?”

    “পরস্পরনির্ভরতা বাস্তবতা, প্রতিযোগিতা মানসিকতা”

    বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জয়শঙ্কর যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ, দুর্বল সরবরাহ-শৃঙ্খল এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ককে কৌশলগত চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরেন।

    তিনি পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির উপর তৈরি হওয়া চাপের কথা উল্লেখ করেন। খাদ্য, জ্বালানি, সার ও অর্থব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন দেশের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি (S Jaishankar)।

    জয়শঙ্কর বলেন, “আমাদের সময়ের পরস্পরবিরোধী বাস্তবতা হল, দেশগুলি গভীরভাবে পরস্পরনির্ভরশীল হয়েও একই সময়ে সেই পরস্পরনির্ভরতাকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। পরস্পরনির্ভরতা বাস্তবতা, প্রতিযোগিতা হল মানসিকতা।”

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ, নিষেধাজ্ঞা, ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞা এবং বাজারে প্রবেশাধিকারের মতো বিষয়গুলিকেও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থার উপর যেসব দেশের প্রভাব রয়েছে, তারা প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের বিরুদ্ধে সেই প্রভাব ব্যবহার করার সুযোগ পায়।

    জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি আন্তর্জাতিক কৌশলগত হিসাবকে আরও জটিল করে তুলেছে বলেও মন্তব্য করেন বিদেশমন্ত্রী। নতুন সামরিক সক্ষমতা দেশগুলিকে আরও বেশি ঝুঁকি নেওয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও (Indias Terrorism) সতর্ক করেন তিনি।

    এই পরিস্থিতিতে কূটনীতিকে তিনি চরম কঠিন এক খেলা হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, সরকারগুলিকে একদিকে তাৎক্ষণিক সংকট সামলাতে হয়, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি বিরোধ মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় ধৈর্যও (S Jaishankar) ধরে রাখতে হয়।

     

LinkedIn
Share